গণমাধ্যমের ওপর ভিসানীতি প্রয়োগের বিষয়ে ঢাকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের বক্তব্যে হতাশা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশের ১৯০ জন বিশিষ্ট নাগরিক।
শনিবার এক যৌথ বিবৃতিতে তারা বলেন, ‘গণমাধ্যমে ভিসানীতি প্রয়োগের ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নীতির পরিপন্থী। বাংলাদেশের গণমাধ্যম উগ্রবাদী শক্তি, জঙ্গি, জামায়াত ইসলামীর মতো যুদ্ধাপরাধীর দল, সন্ত্রাসী গোষ্ঠী যারা প্রগতিশীল ও ধর্মনিরপেক্ষ শক্তিগুলোকে নির্মূল করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরিতে সোচ্চার ভূমিকা রাখছে। এর ফলে বাংলাদেশ তালেবানের মতো একটি রাষ্ট্রে পরিণত হয়নি।’
বিবৃতিতে বিশিষ্ট নাগরিকরা বলেন, ‘গণমাধ্যমের ওপর ভিসানীতি নিয়ে হাসের বক্তব্যটিকে কট্টরপন্থী ও স্বাধীনতাবিরোধীরা স্বাগত জানিয়েছে। এই পক্ষটি অন্যান্য নীতিতে পশ্চিমাদের নিন্দা করে, মুক্তচিন্তকদের শত্রু মনে করে এবং তারা ১৯৭১ সালে যুদ্ধাপরাধীদের দায়মুক্তির পক্ষে।’
“হাসের বক্তব্যকে জামায়াতে ইসলামীর মুখপত্র হিসেবে পরিচিত ‘বাঁশের কেল্লা’ নামের ফেসবুক পেজ থেকে স্বাগত জানিয়ে পোস্ট করা হয়েছে। যেখানে হাসকে ‘একজন সত্যিকারের বন্ধু’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অতীতে এই পেজে ব্লগার ও মুক্তচিন্তকদের হত্যার পক্ষে নানা বক্তব্য প্রচার করা হয়েছে। ফলে, এই পেজে হাসের বিবৃতি নিয়ে উল্লাস আসলে ধর্মনিরপেক্ষ নাগরিকদের জন্য নিগূঢ় বার্তা দেয়।”
বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরা দেখেছি, জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের মুক্তিযুদ্ধকালের মানবতাবিরোধী অপরাধ, ধর্মনিরপেক্ষ নাগরিকদের কণ্ঠরোধ ও সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বক্তব্য নিয়ে ‘বাঁশের কেল্লা’ পেজে আস্ফালন চলছে।”
এতে বলা হয়, ‘আমরা দেখেছি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা ভিসানীতিতে গণমাধ্যমের কথা উল্লেখ করা থেকে বিরত ছিলেন। কিন্তু হাস তার বক্তব্য প্রত্যাহার না করায় ধারণা করা যায়, গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে এই পদক্ষেপ নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়তো চূড়ান্ত। এরই মধ্যে সম্পাদক ও সাংবাদিকেরা এটির নিন্দা করেছেন। হাসের এই বক্তব্যের কারণে সংবাদমাধ্যমগুলো সমালোচনামূলক প্রতিবেদন প্রকাশে বাধাপ্রাপ্ত হবে বলে অনেকেই মত দিয়েছেন।’
হাসের দ্বৈতনীতির বিষয়টি তার বক্তব্যে উঠে এসেছে উল্লেখ করে বিশিষ্ট নাগরিকরা বিবৃতিতে বলেন, ‘বাংলাদেশে আসার পর থেকে তিনি গণমাধ্যমের স্বাধীনতার পক্ষে সোচ্চার ছিলেন। কিন্তু তার এখনকার অবস্থান গণমাধ্যমের স্বাধীনতার মৌলিক অবস্থানকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।’
‘মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা ছিল, গণমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে না দিলে তারাও ভিসানীতির আওতায় আসবে। কিন্তু হাসের বিবৃতিতে দেখা যায়, বাংলাদেশের সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের যে প্রতিশ্রুতি, আর সেখানে গণমাধ্যমের ভূমিকার যে সুযোগ ছিল, সেটিকে মারাত্মক বাধাগ্রস্ত করবে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক প্রচেষ্টা দেখেছি, যা দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে বিপন্ন করার সম্ভাবনা রাখে। র্যাবের বিরুদ্ধে মার্কিন সরকারের নিষেধাজ্ঞার দাবি উত্থাপনে বড় ভূমিকা রেখেছেন দেশটির বিতর্কিত মার্কিন সিনেটর বব মেনেন্ডেজ। এ ছাড়া ছয় মার্কিন কংগ্রেসম্যানের স্বাক্ষরে একটি বিবৃতি প্রদান করা, যেখানে দাবি করা হয়েছে, বর্তমান সরকারের আমলে সংখ্যালঘুদের সংখ্যা অর্ধেক হয়ে গেছে, যা একেবারে বাস্তবতাবিবর্জিত এবং ন্যায়সঙ্গত নয়। ফলে, এই বিষয়গুলো আমাদের চিন্তা করতে বাধ্য করে যে এ ধরনের কার্যক্রমের পেছনে ভিন্ন কোনো ইচ্ছা রয়েছে কি না।’
বিশিষ্টজনদের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘অতীতে ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালে জামায়াত এবং সাম্প্রদায়িক শক্তির সংখ্যালঘুদের ওপর সাম্প্রদায়িক হামলা থেকে শুরু করে হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের হামলা আমরা দেখেছি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা ব্যতীত এসব সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা অসম্ভব। বিএনপি-জামায়াত সর্বশেষ যেই জোট সরকার গঠন করেছিল, সে সময়ও ২৮ হাজারের বেশি হামলা চালানো হয় সংখ্যালঘুদের ওপর, যেখানে তাদের সম্পত্তি, বাড়িঘর দখলসহ মন্দিরে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়, জীবন্ত মানুষকে জ্বালিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু এ বিষয়ে তৎকালীন সরকারকে কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি। কিন্তু বর্তমান সরকার নির্বাচিত হয়ে আসার পর রাষ্ট্রের সহায়তায় সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন বন্ধ হয়েছে। আর সাম্প্রদায়িক এই সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা দেখতে পেলাম, ন্যায়বিচার সমুন্নত রাখার প্রতি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন ঘটেনি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দণ্ডপ্রাপ্ত এবং আত্মস্বীকৃত খুনিদের ক্ষেত্রে, যাদের যুক্তরাষ্ট্র আশ্রয় প্রদান করছে। এটি বাংলাদেশের জন্য এমন এক জঘন্য হত্যাকাণ্ড, যা মৌলবাদী শক্তির উত্থান ঘটায়। সুতরাং আমরা মনে করি যে ভিসানীতিটি কীভাবে প্রয়োগ করা হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করা যৌক্তিক। কারা এর অনুমোদন দেবে এবং এই ধরনের পদক্ষেপের বৈধতা নিয়ে কারা সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তা বোঝাটাও জরুরি। কারণ, আমরা রাষ্ট্রদূতের কার্যকলাপ দেখেছি এবং অন্যান্য কার্যাবলিও দেখেছি, যা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাওয়া মৌলবাদী শক্তিগুলোর জন্য বারুদ হিসেবে কাজে এসেছে।’
বিবৃতিতে লেখক, অধিকারকর্মী, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতা, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শহীদ বুদ্ধিজীবী পরিবারের সদস্য, যুদ্ধাপরাধবিরোধী প্রচারক, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মীসহ মোট ১৯০ জন বিশিষ্ট নাগরিক স্বাক্ষর করেছেন।
তাদের মধ্যে রয়েছেন সাংবাদিক শাহরিয়ার কবীর, নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, অধ্যাপক মুনতাসীর মামুন, শহীদজায়া শিক্ষাবিদ শ্যামলী নাসরিন চৌধুরী, কথাশিল্পী অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল, শহীদজায়া সালমা হক, বীর মুক্তিযোদ্ধা বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, আইনজীবী ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত, চলচ্চিত্রনির্মাতা নাসির উদ্দিন ইউসুফ, বীর মুক্তিযোদ্ধা ক্যাপ্টেন (অব.) আলমগীর সাত্তার, চিকিৎসক আমজাদ হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা চিকিৎসক নূরন নবী, অধ্যাপক শিল্পী আবুল বারক আলভী, অধ্যাপক মেজবাহ কামাল, চিকিৎসক শেখ বাহারুল আলম, চিকিৎসক ইকবাল কবীর, বীর মুক্তিযোদ্ধা সমাজকর্মী সুব্রত চক্রবর্ত্তী, বীর মুক্তিযোদ্ধা ভূতত্ত্ববিদ মকবুল-ই এলাহী চৌধুরী, অধ্যাপক আবদুল গাফ্ফার, কবি জয়দুল হোসেন, সমাজকর্মী কাজী লুৎফর রহমান, সমাজকর্মী কামরুননেসা মান্নান, আইনজীবী আজাহার উল্লাহ্ ভূঁইয়া, বাংলাদেশ খ্রিষ্টান অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নির্মল রোজারিও, বুড্ডিস্ট ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ভিক্ষু সুনন্দপ্রিয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনায় দেশের ৭০ হাজারের বেশি শিক্ষক-কর্মচারীকে অবসর সুবিধা ও কল্যাণ ভাতা প্রদানের জন্য ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। আজ শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট ও অবসর সুবিধা বোর্ডের অর্থ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আজকের দিনটি জাতির ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে। এই দিন আমাদের দেশমাতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জন্মগ্রহণ করেছিলেন। আর এই দিনে আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে শিক্ষকদের অশ্রু মুছতে যাচ্ছি। এই দিনটি এমন একটি দিন, যেদিন হাজারো কোটি টাকা খরচ করে দিনটি উদযাপন করা হতো। আর আজকে এই দিনে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের ২ হাজার ১০০ কোটি টাকা দিয়েছেন।’
ভাতা প্রাপ্তির পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, আজ সারা দেশে ৭০ হাজার ১৯ জন শিক্ষককে তাঁদের অংশভাতা এবং ৫৩ হাজার শিক্ষককে কল্যাণ ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। বর্তমান সরকারের ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মসূচির অগ্রগতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সময়ের স্বল্পতার কারণে ‘প্রাইম মিনিস্টার গোল্ড কাপ’ এবং কারিগরি শিক্ষা মেলার মতো কিছু কাজ এখনও বাকি রয়ে গেছে, যা দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।
পূর্ববর্তী সরকারের সমালোচনা করে ড. মিলন অভিযোগ করেন, ‘ইতিমধ্যে বিগত সরকার এই খাত থেকে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে। ইতিমধ্যে তারা ৫৮ কোটি ৭৯ লাখ টাকা আটটি দুর্বল ব্যাংকে জমা রেখেছে, যেখান থেকে টাকা পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। তবে সরকারি ব্যাংকে আমাদের কিছু টাকা রয়েছে, সেগুলো আমরা পেতে যাচ্ছি।’
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যে বন্ড কেনার টাকা দিয়েছেন, সেগুলো নিয়ে বর্তমানে আমাদের মোট ৮৮ হাজার কোটি টাকার বন্ডের সম্পদ রয়েছে। এই আয় থেকে আজকে যে যাত্রা আমরা শুরু করলাম, ১ লাখ ২৩ হাজার সুবিধা কল্যাণ ট্রাস্ট অ্যান্ড অবসর ভাতা প্রদানের মাধ্যমে, আগামী বছরে আমরা ক্রমান্বয়ে আপনাদের বাকি সকল টাকা পরিশোধ করব ইনশাআল্লাহ।’
শিক্ষকদের কল্যাণে গৃহীত বিভিন্ন ঐতিহাসিক পদক্ষেপের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের স্মরণ রাখতে হবে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া উপলব্ধি করেছিলেন, শিক্ষকদের শুধু একটি ছাতা বা লাঠি দিয়ে বিদায় দেওয়া যায় না। এ কারণেই প্রধানমন্ত্রী প্রথম কল্যাণ ট্রাস্টে ১৪ কোটি টাকা এবং পরবর্তীতে ৮৯ কোটি টাকা দিয়ে এই যাত্রা শুরু করেছিলেন।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা স্মরণ করব শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে, যিনি এই বেসরকারি শিক্ষকদের শতকরা ৫০ ভাগ বেতন দিয়ে এই সিস্টেম চালু করেছিলেন।’
পরিশেষে শিক্ষামন্ত্রী দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন যে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষকদের সম্মাননা প্রদান ও শিক্ষা ব্যবস্থার আধুনিকায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাবে।
বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ভোগান্তি নিরসনে যুগান্তকারী পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শনিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, অবসরের টাকা পাওয়ার জন্য শিক্ষকদের আর কোনো দপ্তরে বা মধ্যস্বত্বভোগীদের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হবে না। জমানো এই অর্থ এখন থেকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতিতে সরাসরি শিক্ষকদের নিজস্ব ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। শিক্ষকদের নিজেদের ন্যায্য পাওনা পেতে ঘুষ দেওয়ার বাধ্যবাধকতাকে তিনি ‘জাতি হিসেবে আমাদের দীনতা-হীনতার প্রকাশ’ বলে অভিহিত করেন।
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, নীতি ও নৈতিকতার শিক্ষা দানকারী শিক্ষকদের হয়রানি মুক্ত রাখা রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। তিনি জানান, আজকের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশের বেসরকারি স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার অবসরপ্রাপ্ত ৭০ হাজার ১১৯ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা দীর্ঘ চার বছর পর তাঁদের জমানো টাকার একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ফেরত পেয়েছেন। এই অর্থপ্রাপ্তির ফলে হাজার হাজার প্রবীণ শিক্ষকের জীবন থেকে অনিশ্চয়তার কালো মেঘ কেটে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
শিক্ষা বিস্তারে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাঁর চালু করা ‘শিক্ষা উপবৃত্তি ও নারী শিক্ষা’ কর্মসূচি আজ বিশ্বজুড়ে একটি মডেল হিসেবে স্বীকৃত। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, বিগত সরকারের আমলে লুটপাটের কারণে ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্ট’ এবং ‘অবসর সুবিধা বোর্ড’—এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ তহবিল পঙ্গু হয়ে গিয়েছিল। বর্তমানে বিশেষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ফান্ডে অর্থ বরাদ্দ দিয়ে শিক্ষকদের এই বকেয়া পাওনা পরিশোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শিক্ষকদের আশ্বস্ত করে বলেন, “শিক্ষকদের অবসরের টাকা পেতে আর অফিসে অফিসে ঘুরতে হবে না। কোনো ভোগান্তি থাকবে না। মধ্যস্বত্বভোগীর দ্বারস্থ হতে হবে না।” তিনি আরও বলেন, আগে টাকা পেতে ঘুষ দেওয়ার যে অঘোষিত নিয়ম চালু হয়েছিল, বর্তমান সরকার তা কঠোরভাবে দমন করেছে। এখন অনলাইনের মাধ্যমে স্বচ্ছতার সাথে লেনদেন সম্পন্ন হচ্ছে। অবসর গ্রহণের পরেও শিক্ষকদের ভূমিকা সমাজে চিরকালীন এবং সর্বজনগ্রাহ্য বলে তিনি তাঁর ভাষণে উল্লেখ করেন।
অভিন্ন ইতিহাস, পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং শক্তিশালী অংশীদারত্বের ওপর ভিত্তি করেই বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি উল্লেখ করেন যে, দুই প্রতিবেশী দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের মূল চালিকাশক্তি হলো জনগণের সাথে জনগণের নিবিড় যোগাযোগ। আজ শনিবার (১৫ আগস্ট) ভারতের ৮০তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনে আয়োজিত এই পতাকা উত্তোলন অনুষ্ঠানে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, “অভিন্ন ইতিহাস, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অংশীদারত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক।” তিনি আরও যোগ করেন যে, সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে বাণিজ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা, নিরাপত্তা এবং জনস্বাস্থ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে দুই দেশের মধ্যকার সহযোগিতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। একটি সমৃদ্ধ অঞ্চল গড়ে তোলার লক্ষ্যে তিনি দুই দেশকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করার উদাত্ত আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে হাইকমিশনার ভারতের রাষ্ট্রপতির পাঠানো বিশেষ শুভেচ্ছা বার্তা উপস্থিত সবার উদ্দেশ্যে পাঠ করে শোনান। যথাযথ মর্যাদায় ভারতের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে তিনি দেশটির জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। স্বাধীনতা দিবসের এই বর্ণাঢ্য আয়োজনে ভারতীয় হাইকমিশনের সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, বাংলাদেশে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকবৃন্দ এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ অংশগ্রহণ করেন।
একটি কল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সরকার দেশে এমন একটি কার্যকর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর যেখানে কোনো নাগরিককে চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে হবে না এবং কেউ অর্থের অভাবে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত হবে না। আজ শনিবার (১৫ আগস্ট) রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালের ৫০০ শয্যার নবনির্মিত সম্প্রসারিত ভবন উদ্বোধন শেষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বাস্থ্য খাতের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী অক্টোবর মাসে দেশের ৫টি অঞ্চল—খুলনা, বরিশাল, রংপুর, রাজশাহী ও কুমিল্লায় একযোগে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট বিশেষায়িত শিশু হাসপাতাল চালু করা হবে। এছাড়া দেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে পর্যায়ক্রমে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করা এবং প্রতিটি ইউনিয়নে পূর্ণাঙ্গ ‘প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ইউনিট’ প্রতিষ্ঠার কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার স্বাস্থ্য খাতে এযাবৎকালের সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ দিয়ে প্রমাণ করেছে যে তাঁরা একটি সুস্থ ও সবল বাংলাদেশ গড়তে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
প্রধানমন্ত্রী চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, সরকার যতই অবকাঠামো ও অর্থ বরাদ্দ দিক না কেন, স্বাস্থ্য খাতের সার্বিক সাফল্য নির্ভর করছে সংশ্লিষ্ট সবার পেশাদারিত্ব ও সেবামূলক মানসিকতার ওপর। তিনি আরও যোগ করেন, “সরকার দেশে একটি কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় যাতে মানুষ দেশের ভেতরেই সব রকমের স্বাস্থ্য সেবা পায়।” দেশের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক ও মানসম্মত চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়াই তাঁর সরকারের মূল লক্ষ্য।
স্নায়ুরোগে আক্রান্ত মানুষের উন্নত চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য ও বিস্তৃত করতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে ৫০০ শয্যার একটি সুসজ্জিত নতুন ভবন উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শনিবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে এই নবনির্মিত ১৫ তলা ভবনটির ফলক উন্মোচন করেন। এর মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতাল হিসেবে নিজের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করল এই প্রতিষ্ঠানটি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী হাসপাতাল প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন এবং পরবর্তীতে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। এরপর তিনি বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে আধুনিক এই চিকিৎসাকেন্দ্রের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেন। এ সময় তাঁর সাথে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও চিকিৎসকবৃন্দ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে প্রথমে ৩০০ শয্যা নিয়ে এই বিশেষায়িত হাসপাতালটি যাত্রা শুরু করেছিল। ক্রমবর্ধমান রোগীর চাপ সামলাতে পরবর্তীতে শয্যা সংখ্যা বাড়িয়ে ৫০০ করা হয়েছিল। আজ নতুন ১৫ তলা ভবনটির উদ্বোধনের ফলে হাসপাতালের মোট শয্যা সংখ্যা ১ হাজারে উন্নীত হলো। আধুনিক সব চিকিৎসা সরঞ্জাম ও বিশ্বমানের সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত এই হাসপাতালটি এখন থেকে আরও বেশি রোগীকে মানসম্মত সেবা প্রদানে সক্ষম হবে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দেশেই বর্তমানে এত বড় এবং বিশেষায়িত নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতাল নেই। এই নতুন ভবন স্নায়ুরোগীদের উন্নত চিকিৎসা ও গবেষণার ক্ষেত্রে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।
আধুনিক ও স্মার্ট কৃষিব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে সারাদেশের কৃষকদের নিকট যথাসময়ে সুষম সার সরবরাহের লক্ষ্যে সরকার বদ্ধপরিকর।
এরই ধারাবাহিকতায় নন-ইউরিয়া সারের নিরাপদ মজুত কার্যকরভাবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় চুক্তির আওতায় কানাডা থেকে এমওপি সার আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) এবং কানাডিয়ান কমার্শিয়াল করপোরেশন (সিসিসি)-এর মধ্যে বিদ্যমান চুক্তি গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) নবায়ন করা হয়।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে সম্পাদিত রাজধানীর একটি হোটেলে এই দ্বিপাক্ষিক নবায়ন চুক্তি অনুযায়ী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কানাডা থেকে ৬.০০ লক্ষ মে.টন (নিশ্চিত ৪.৮০ লক্ষ মে.টন+ ঐচ্ছিক ১.২০ লক্ষ মে.টন) এমওপি সার আমদানি করা হবে।
চুক্তিতে বিএডিসির পক্ষে স্বাক্ষর করেন বিএডিসির চেয়ারম্যান মো. আজিজুল ইসলাম। এ সময় কৃষি সচিব মো. সেলিম খানসহ দুই দেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন পর্যায় থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যায়ের ৫৬ জন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠিয়েছে সরকার। এর মধ্যে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদমর্যাদার ৭ জন এবং বিভিন্ন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) ৪৯ জন পুলিশ পরিদর্শক রয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এই প্রজ্ঞাপনগুলোতে স্বাক্ষর করেছেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।
মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’-এর ৪৫ ধারার বিশেষ বিধান অনুযায়ী জনস্বার্থে এই কর্মকর্তাদের অবসরে পাঠানো হয়েছে। এএসপি পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন র্যাব সদর দপ্তরের নূরে আলম সিদ্দিকী, ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের সহকারী কমিশনার মো. নুরুল মোত্তাকিন, খাগড়াছড়ির কাজী ওয়াজেদ আলী, পটুয়াখালীর মো. সৈয়দুজ্জামান, র্যাব-২-এর মো. গোলাম কিবরীয়া, ঢাকার আরআরএফের মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এবং সিরাজগঞ্জের মো. রবিউল ইসলাম।
অন্যদিকে, ৪৯ জন পুলিশ পরিদর্শকের ক্ষেত্রে জানানো হয়েছে যে, তাঁদের চাকরির মেয়াদ ২৫ বছর পূর্ণ হওয়ায় একই আইনের ক্ষমতাবলে তাঁদের অবসরে দেওয়া হলো। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে বাধ্যতামূলক অবসরে গেলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিধিমোতাবেক তাঁদের সকল অবসরকালীন ও আর্থিক সুবিধা প্রাপ্য হবেন। প্রশাসনের গতিশীলতা আনয়ন এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই জনস্বার্থে এই গণহারে অবসরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেছেন, গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হলো প্রতিদ্বন্দ্বিতা। আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কোনো নিয়ম রক্ষার নির্বাচন নয়। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) নির্বাচন কমিশনে বিএনপি ও দলীয় জোটের পক্ষ থেকে আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের মনোনয়নপত্র দাখিলের পর গণমাধ্যমকে ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর সিনিয়র নেতৃবৃন্দ, সরকারের মন্ত্রী, জাতীয় সংসদের হুইপবৃন্দ এবং সংসদ সদস্যগণ উপস্তিত ছিলেন।
চিফ হুইপ জানান, আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠিতব্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপির পক্ষ থেকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে এবং আজ তার মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়েছে। মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান এবং সমর্থক হিসেবে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় স্বাক্ষর করেছেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জাতীয় সংসদের ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন।
চিফ হুইপ বলেন, ‘গণতন্ত্রের বিউটি বা সৌন্দর্য হলো প্রতিদ্বন্দ্বিতা। বিরোধী দলীয় জোট থেকে প্রার্থীর মনোনয়নপত্র জমা দেয়া হয়েছে। আমরা একে স্বাগত জানাই।’
তিনি বলেন, এটি কোনো ‘নিয়ম রক্ষার নির্বাচন’ নয়। সংবিধান এবং আরপিও অনুযায়ী একটি নির্বাচন যেভাবে হওয়ার কথা, ঠিক সেভাবেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলনের পর একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত এই সংসদ দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে চিফ হুইপ বলেন, সরকার ‘জুলাই সনদের’ প্রতিটি অক্ষর, দাড়ি, কমা ও সেমিকোলন বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সংবিধান নতুন করে লেখার প্রয়োজন নেই; প্রয়োজনীয় সংশোধনের মাধ্যমেই সংবিধান সংস্কার করা হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা একটি কমাও যদি পরিবর্তন করি, সেটাই হবে সংস্কার। আগামী প্রজন্মের জন্য একটি দীর্ঘস্থায়ী সংবিধান নিশ্চিত করতে আমরা সকলের মতামত নিয়েই কাজ করতে চাই।’
চিফ হুইপ বলেন, সংবিধান সংস্কার কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে নয়; বরং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি কার্যকর, টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী সাংবিধানিক কাঠামো নিশ্চিত করাই এর লক্ষ্য।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি আমেরিকান বিনিয়োগকারীদের সরকারি সহায়তা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার আশ্বাস দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সকালে সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে ইউএস–বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের ৫০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় প্রধানমন্ত্রী এ আশ্বাস দেন।
প্রতিনিধিদলে নেতৃত্ব দেন এক্সিলারেট এনার্জির এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও চিফ কমার্শিয়াল অফিসার অলিভার সিম্পসন এবং ইউএস–বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট ও ইউএস চেম্বার অব কমার্সের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্রদূত (অব.) অতুল কেশপ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ছয় মাসের এই দূরদর্শী সরকার চায়, মার্কিন কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে বিনিয়োগ করুক এবং তাদের ব্যবসা সম্প্রসারণ করুক। আমরা আপনাদের পুঁজি, প্রযুক্তি, দক্ষতা ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতাকে স্বাগত জানাই।’
বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে সরকার নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা সহজ করা, ব্যবসাবান্ধব বাজেট এবং উদার অর্থনৈতিক ও রাজস্ব নীতির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। ব্যবসাবান্ধব অর্থনীতি গড়ে তুলতে সরকার বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো বেসরকারি খাতনির্ভর একটি নিয়মভিত্তিক ও বৈশ্বিকভাবে সংযুক্ত অর্থনীতি গড়ে তোলা। আমরা চাই, এই রূপান্তরে মার্কিন ব্যবসাগুলো আমাদের অংশীদার হোক।’
জ্বালানি, অবকাঠামো, প্রযুক্তি, ডিজিটাল সেবা, অর্থ, কৃষি, স্বাস্থ্যসেবা, উৎপাদন ও লজিস্টিকস খাতে মার্কিন ব্যবসার জন্য বাংলাদেশে উল্লেখযোগ্য সুযোগ রয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, সরকার বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা জোরদার, বিধিবিধান সহজীকরণ, কর ও ভ্যাট প্রশাসনের উন্নতি, মুনাফা প্রত্যাবাসন সহজ করা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানো এবং সরকারি সেবার ডিজিটালাইজেশনে কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা অবকাঠামো, বন্দর, লজিস্টিকস ও জ্বালানি নিরাপত্তারও উন্নতি করছি। একই সঙ্গে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও আধুনিক প্রযুক্তিতে বিনিয়োগকে উৎসাহিত করছি।’
সফররত মার্কিন ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ আমার বার্তা খুবই সহজ। সরকার বাংলাদেশে তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থের বিষয়ে শুনতে, সাড়া দিতে এবং সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। আপনারা পুরো সরকারকেই আপনাদের অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করুন। আমরা আপনাদের কথা শুনতে, সাড়া দিতে এবং সহযোগিতা করতে এখানে আছি।’
সরাসরি বিনিয়োগ, যৌথ উদ্যোগ, সরকারি–বেসরকারি অংশীদারত্ব ও পরামর্শক সেবার মাধ্যমে বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী ও পারস্পরিক লাভজনক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে চায়।’
তারেক রহমান বলেন, সরকার দুই দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের রপ্তানি–আমদানি সম্পর্ক আরও জোরদারে কাজ করছে। একই সঙ্গে দুই দেশের অভিন্ন বৃহত্তর কৌশলগত স্বার্থের সঙ্গে অর্থনৈতিক অংশীদারত্বকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকার ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অগ্রাধিকার খাতে লক্ষ্যভিত্তিক প্রণোদনা এবং দক্ষতা ও প্রযুক্তিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে বাংলাদেশকে উৎপাদন ও বিনিয়োগের কেন্দ্রে পরিণত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।’ মার্কিন বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আমাদের উদ্দেশ্য শুধু বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা নয়; বরং একটি দীর্ঘস্থায়ী ও পারস্পরিক লাভজনক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলা।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, রাজনীতিতে আসার আগে তিনি নিজেও একজন ব্যবসায়ী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। ফলে ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য সঠিক নীতি ও অনুকূল পরিবেশের গুরুত্ব তিনি বোঝেন।
সফররত ব্যবসায়ী নেতাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আজ আমার বার্তা খুবই সহজ। সরকার বাংলাদেশে তাদের ব্যবসায়িক স্বার্থের বিষয়ে শুনতে, সাড়া দিতে এবং সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। আপনারা পুরো সরকারকেই আপনাদের অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করুন। আমরা আপনাদের কথা শুনতে, সাড়া দিতে এবং সহযোগিতা করতে এখানে আছি।’
মার্কিন কোম্পানিগুলোকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বিনিয়োগ ও দীর্ঘ মেয়াদে ব্যবসা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ ধরনের বিনিয়োগ কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারে সহায়তা করবে।’ তিনি বলেন, ‘আসুন, আমরা একসঙ্গে প্রবৃদ্ধি অর্জন করি এবং একটি সমৃদ্ধ, প্রতিযোগিতামূলক ও বৈশ্বিকভাবে সংযুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলি।’
প্রতিনিধিদলটি এর আগে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও ব্যবসার সুযোগ নিয়ে কয়েকজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এসব বৈঠক বাংলাদেশ সরকারের অগ্রাধিকার ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা সম্পর্কে সফররত ব্যবসায়ী নেতাদের আরও স্পষ্ট ধারণা দিয়েছে বলে আশা করছেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমি আপনাদের সবার সফল সফর কামনা করছি। আর এ জন্য আমার সরকার সব ধরনের সম্ভাব্য সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত।’
ইউএস–বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের প্রতিনিধিদলে অন্যদের মধ্যে ছিলেন মাস্টারকার্ডের গ্লোবাল পাবলিক পলিসি ও ইন্দো–প্যাসিফিক পলিসি অপারেশনসের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট রবি অরোরা, মাস্টারকার্ড বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার জাকিয়া সুলতানা, মেটার দক্ষিণ এশিয়ার পাবলিক পলিসি পরিচালক চা ইউয়েন টিং, মেটা বাংলাদেশের হেড অব পাবলিক পলিসি রুজান সারওয়ার, ইউএস সয়াবিন এক্সপোর্ট কাউন্সিলের মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক নির্বাহী পরিচালক কেভিন রোপকে, ইউএস সয়াবিন এক্সপোর্ট কাউন্সিলের বাংলাদেশ কান্ট্রি টিম লিড খবিবুর রহমান, ভিসার ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার গভর্নমেন্ট অ্যাফেয়ার্স বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান আনন্দ বিজয় ঝা এবং ভিসার বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানের কান্ট্রি ম্যানেজার সাব্বির আহমেদ।
বৈঠকে বক্তব্য দেন বোয়িংয়ের দক্ষিণ এশিয়া ও ভারতের প্রেসিডেন্ট এবং বোয়িং গ্লোবালের ভাইস প্রেসিডেন্ট সলিল গুপ্তে, শেভরন বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রেসিডেন্ট শু শিয়ং, মেটলাইফের বাংলাদেশ, মালয়েশিয়া, নেপাল ও ভিয়েতনাম অঞ্চলের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট এলেনা বুতারোভা, উবারের এশিয়া–প্যাসিফিক অঞ্চলের পাবলিক পলিসি অ্যান্ড গভর্নমেন্ট রিলেশনস বিভাগের প্রধান পিয়া ব্রুনার এবং ইউএস–বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের বাংলাদেশ ও দক্ষিণ এশিয়ার নির্বাহী পরিচালক সিদ্ধান্ত মেহরা।
এ ছাড়া প্রতিনিধিদলে ছিলেন ইউএস চেম্বার অব কমার্সের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক সিনিয়র ডিরেক্টর প্যাট্রিক পিটস, ইউএস–বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক পরিচালক উদয়া অরুণ, ইউএস–বাংলাদেশ বিজনেস কাউন্সিলের পরিচালক দেবী চ্যাটার্জি ও ইউএস চেম্বার অব কমার্সের সিনিয়র সিকিউরিটি কনসালট্যান্ট শেমেই লেভি।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব–২ মো. মেহেদুল ইসলাম, উপপ্রেস সচিব–১ জাহিদুল ইসলাম রনি প্রমুখ।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের মনোনীত স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত ড. আইরিন জুবাইদা খান। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সচিবালয়ে মন্ত্রীর নিজ দপ্তরে তারা সাক্ষাৎ করেন।
সাক্ষাৎকালে বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরা এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অবস্থান ও অর্জনসমূহ যথাযথভাবে উপস্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের যোগদান উপলক্ষে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশের কার্যক্রম ও প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন কর্মসূচি যথাযথভাবে তুলে ধরার বিষয়টি আলোচনায় স্থান পায়।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সফরের মিডিয়া ব্যবস্থাপনা, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে বাংলাদেশের অবস্থান ও অগ্রাধিকারসমূহ তুলে ধরা এবং বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি বিশ্ববাসীর কাছে উপস্থাপনের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।
ড. আইরিন খান বহির্বিশ্বে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরার ক্ষেত্রে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা কামনা করেন। এ বিষয়ে তথ্যমন্ত্রী প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
সাক্ষাৎকালে উভয়েই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে পড়াকে বড়ো চ্যালেঞ্জ ও উদ্বেগের বিষয় হিসেবে চিহ্নিত করেন।
এ ধরনের অপপ্রচার মোকাবিলায় কার্যকর যোগাযোগ কৌশল, দ্রুত তথ্যপ্রবাহ নিশ্চিত করা, সঠিক তথ্য তুলে ধরা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে করণীয় নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। তথ্যমন্ত্রী এ বিষয়ে তথ্য মন্ত্রণালয়ের গৃহীত কার্যক্রমসমূহ তুলে ধরেন।
তিনি অপতথ্য ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের কার্যকর মোকাবিলায় সরকার, গণমাধ্যম এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এ সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও তথ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেছেন, সকলের মতামত নিয়েই সংবিধান সংশোধন ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে মনোনয়নপত্র দাখিলের পর তিনি বলেন, ‘একটা সংবিধান একদিনের জন্য পরিবর্তন হয় না। অনেক দিনের জন্য পরিবর্তন হবে। আমরা সংবিধান নতুন করে লিখব না। আমরা একটা কমাও যদি পরিবর্তন করি, সেটাই হবে সংবিধানের সংস্কার। একটা কমা পরিবর্তন করলে যদি সংস্কারই হয়, প্রত্যেকটা শব্দই সংস্কার আমরা যদি পরিবর্তন করি। আর কাজটাই হবে সংশোধনের কাজ। সেই সংশোধনের জন্য সকলকে আহ্বান করেছি। সংশোধনের জন্য আমরা সবাই বসব।’
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে বিএনপির পক্ষে তিনি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।
এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, গণভোটের সাথে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। পর্যায়ক্রমে সংসদের মধ্যে গণভোট প্রতিফলিত হবে। রাষ্ট্রপতি নির্বাচন একটা আলাদা বিষয়। নিয়ম রক্ষার কথাটি সঠিক নয়।
তিনি বলেন, ‘তাদেরকে স্বাগত জানাই, অভিনন্দন জানাই। যে তারা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে প্রত্যাখ্যান না করে অংশগ্রহণ করছে। এটা গণতন্ত্রের সৌন্দর্য বাড়িয়েছে। সুতরাং এটা কোনোমতেই নিয়ম রক্ষার নির্বাচন নয়। এটা সংবিধান এবং আরপিও সমন্বয়ে যেটা হওয়া উচিত সেটি হচ্ছে।’
চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেন, আমাদের দলের পক্ষ থেকে আজকে মনোনয়নপত্র দাখিল করা হয়েছে। মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান এবং সমর্থক স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।
তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি পদে দলীয় জোট থেকে মনোনীত হয়েছেন মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তাঁকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে আগামী ২০ আগস্ট নির্বাচিত করতে চাই।
চিফ হুইপ বলেন, ‘গণতন্ত্রের সৌন্দার্য হল আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি, নির্বাচন করছি। ১৭ বছর আন্দোলন করে একটা নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে সংসদ গঠন করেছি। সংসদে দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ২০ আগস্ট আমাদের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবে। বাংলাদেশের স্থান এবং গুরুত্ব সবার আগে দিয়ে বাংলাদেশকে প্রতিষ্ঠিত করতে চাই।
এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: বাসস
রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে মোট তিনটি মনোনয়নপত্র জমা পড়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। জমা পড়া আবেদনগুলোর মধ্যে ১১-দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের দুটি এবং বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের একটি মনোনয়নপত্র রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) নির্বাচন কমিশনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সচিব জানান, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১-এর ৫ নম্বর ধারা অনুযায়ী ঘোষিত তফসিলের ধারাবাহিকতায় নির্ধারিত সময় সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে এসব মনোনয়নপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি নিশ্চিত করেন, ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমেদের দুটি ও মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের একটিসহ মোট তিনটি মনোনয়নপত্র নির্বাচন কমিশনের হস্তগত হয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে ১১-দলীয় জোটের প্রার্থীর মনোনয়নপত্র ইসিতে জমা দেন জোটের প্রতিনিধিরা। পরবর্তীতে বেলা আড়াইটার দিকে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মনোনয়নপত্র দাখিল করেন তাদের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা।
আগামী ১৬ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানিয়েছেন আখতার আহমেদ। এই কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে একজন কর্মকর্তা উপস্থিত থাকবেন।
১৬ আগস্ট যাচাই-বাছাই পর্ব সমাপ্ত হওয়ার পর চূড়ান্ত পরিস্থিতি ও বিস্তারিত তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হবে বলে নির্বাচন কমিশন থেকে জানানো হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন ভবনে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তা অর্থাৎ, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে বিএনপির পক্ষে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল তার মনোনয়নপত্র জমা দেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবক হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও নরসিংদী-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান।
এরআগে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দলের স্থায়ী কমিটির এক বৈঠকে বিএনপির পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপতি প্রার্থী মনোনয়নের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম প্রস্তাব করেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে স্থায়ী কমিটির সদস্যরা সর্বসম্মতভাবে সেই প্রস্তাব অনুমোদন করেন।
বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগের বৈঠক কক্ষে বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
গত ৯ আগস্ট রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচনী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এ মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
এর আগে গত ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তফসিল অনুযায়ী, আগামী ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র দাখিলের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে এবং ২০ আগস্ট ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ জানান, ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১’-এর ৫(৩) ধারা অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার স্পিকারের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে এই সময়সূচি চূড়ান্ত করেছেন।
তিনি জানান, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ১৬ আগস্ট মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১৮ আগস্ট (মঙ্গলবার) বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ২০ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদের অধিবেশন কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
আখতার আহমেদ বলেন, ইতোমধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে।
সূত্র : বাসস