দেশের নতুন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে ইউনাইটেড লইয়ার্স ফ্রন্ট (ইউএলএফ)।
মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির দক্ষিণ হলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন সংগঠটির নেতারা।
তারা ‘দায়িত্ব পালন শুরু করতে না করতেই সংবর্ধনার মেলা এবং নানাবিধ বক্তব্য দিয়ে সাংবিধানিক বিচারিক পদকে প্রশ্নবিদ্ধ করার’ অভিযোগ এনে এ ঘোষণা দিয়েছেন।
আগামী ৮ অক্টোবর আপিল বিভাগের ১নং কোর্টে নতুন প্রধান বিচারপতিকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ইউএলএফের আহ্বায়ক ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘লুণ্ঠিত ভোটাধিকার, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, আইনের শাসন, স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা, আপসহীন দেশনেত্রী খালেদা জিয়াসহ সব গণতন্ত্রকামী রাজনীতিক, পেশাজীবী এবং মানবাধিকার কর্মীর মুক্তি, মিথ্যা মামলা ও ফরমায়েশি রায় বাতিলের দাবিতে আইনজীবীদের সঙ্গে নিয়ে ইউএলএফের আন্দোলন চলমান আছে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, খুলনা, রাজশাহী, বগুড়া, বরিশালসহ প্রায় সব বিভাগীয় বার সমিতিতে আইনজীবী সমাবেশ ও পদযাত্রা সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘গত ২৫ সেপ্টেম্বর বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি হিসেবে অবসর গ্রহণ করেছেন। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি গত ১২ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসানকে দেশের ২৪তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন। তিনি শপথ গ্রহণ করেন ২৬ সেপ্টেম্বর। সুপ্রিম কোর্ট বারের আইনজীবীসহ দেশের সব শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ প্রত্যাশা করেছিল, প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বিচারালয়ের সর্বোচ্চ চেয়ারের মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য এবং দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা বিচারিক প্রথা বজায় রাখবেন। যদিও তার রাজনৈতিক অতীত এবং আইনজীবী থাকাবস্থায় বর্তমান সরকার ও সরকারি দলের সব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে প্রশ্নাতীতভাবে তার নিয়মিত অংশগ্রহণ আইনজীবী সমাজের জানা আছে।’
জয়নুল আবেদীন আরও বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত বেদনাহত মন নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়েছি। দেশের প্রধান বিচারপতি নিয়োগের পর থেকে ফুলের শুভেচ্ছা নিতে নিতে, এক পর্যায়ে সরকারি দলের ছাত্র সংগঠন এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন, যার সচিত্র প্রতিবেদন গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। এটি সুপ্রিম কোর্টের ৫২ বছরের ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনা এবং প্রবীণ আইনজীবীদের ভাষায় বিচার বিভাগের জন্য চরম বেদনার মুহূর্ত। শুধু তাই নয়, শপথ গ্রহণের দুই দিনের মাথায় একটি জেলা সমিতির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিতর্কিত পুলিশ অফিসার, আইনজীবী নিপীড়নকারী এবং নিয়মিত মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদের কাছ থেকে একটি বৃহদাকার তলোয়ার উপহার হিসেবে প্রধান বিচারপতির গ্রহণ করার ছবি গণমাধ্যমে প্রচারের পর দেশের আইনজীবী সমাজ হতাশ এবং বিস্মিত হয়েছে। আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন শুরু করতে না করতেই তার সংবর্ধনার মেলা এবং নানাবিধ বক্তব্যে প্রধান বিচারপতির মত সর্বোচ্চ সাংবিধানিক বিচারিক পদকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।’
বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘বিশেষ করে গত ১ অক্টোবর নেত্রকোনা স্টেডিয়ামে নেত্রকোনা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির সভাপতিত্বে ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের সঞ্চালনায় প্রধান বিচারপতির সংবর্ধনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন সরকারের প্রতিমন্ত্রী, ২০১৮ সালের নিশিরাতের ভোটের সংসদ সদস্য, বিচারপতি, বিচারকসহ স্থানীয় আমলা, পুলিশের কর্মকর্তা ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান আওয়ামী লীগের দলীয় সংবর্ধনা গ্রহণ করার মধ্য দিয়ে প্রধান বিচারপতির মত নিরপেক্ষ পদের মর্যাদা ও সম্মানহানি ঘটিয়েছেন। এতে বিচার বিভাগের ওপর সাধারণ মানুষের অনাস্থা আরও গভীরতর হচ্ছে। বিচার বিভাগ নিপতিত হবে গভীর সংকটে। এরপরও আমরা মনে করি, জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটানোর লক্ষ্যে বিচার বিভাগের প্রধান হিসাবে আপনার দায়িত্ব থাকবে, নিরপেক্ষ থাকবেন এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অক্ষুন্ন রাখবেন।’
‘ইউএলএফ অত্যন্ত ব্যথিত চিত্তে বিচার বিভাগের মর্যাদা, সম্মান, প্রধান বিচারপতি পদের ভাবগাম্ভীর্য এবং বিচার বিভাগের ওপর বাংলাদেশের জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে আগামী ৮ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট বারের তথাকথিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বর্জনের এডহক কমিটির সিদ্ধান্তের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছে। আগামী ৮ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট বার চত্বরে বর্জনের সিদ্ধান্তের সমর্থনে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল এবং আইনজীবী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।’
জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, দেশের প্রধান বিচারপতি আইনজীবীদের এই সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে অনুধাবন করবেন। দেশে যখন ভোটাধিকার লুণ্ঠিত, গণতন্ত্র এবং আইনের শাসনের জন্য জনগণের অবিরাম আন্দোলন চলছে, তখন আমাদের প্রত্যাশিত বিচার বিভাগ নতুন করে আর কোনো বিতর্কের মধ্যে না জড়িয়ে সংবিধান অর্পিত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সাংবিধানিক দায়িত্ব এবং জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য দৃঢ় ভূমিকা নেবে।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইউএলএফের কো-কনভেনর সিনিয়র আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী, বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, অ্যাডভোকেট মহসিন রশিদ প্রমুখ।
নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মুখ্য সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন প্রশাসনের অভিজ্ঞ ও সাবেক সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার। প্রশাসনের ৮২ ব্যাচের এই চৌকশ কর্মকর্তাকে সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী চুক্তিভিত্তিতে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ রফিকুল হক স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। নতুন সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম গতিশীল করতে এই নিয়োগকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, যোগদানের তারিখ থেকে পরবর্তী এক বছর মেয়াদে এবিএম আব্দুস সাত্তার প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, এই দায়িত্ব পালনকালে তিনি অন্য কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিদ্যমান সব ধরনের কর্মসম্পর্ক পরিত্যাগ করতে বাধ্য থাকবেন। তাঁর নিয়োগের অন্যান্য শর্তাবলি একটি পৃথক চুক্তিনামার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে সরকার।
এবিএম আব্দুস সাত্তার একজন সজ্জন, মেধাবী ও দক্ষ কর্মকর্তা হিসেবে প্রশাসনিক মহলে সুপরিচিত। রাষ্ট্র পরিচালনার শীর্ষ পর্যায়ের কাজের ক্ষেত্রে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। গত ৩ জানুয়ারি থেকে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের একান্ত সচিব হিসেবে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এর আগে তিনি দীর্ঘ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার একান্ত সচিব হিসেবেও কাজ করেছেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে কাজ করার ফলে তাঁর গভীর জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা নতুন সরকারের নীতি নির্ধারণে সহায়ক হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের পর আজ থেকেই নতুন সরকার পূর্ণ উদ্যমে কাজ শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব পদের এই নিয়োগ মূলত নতুন প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দুতে একজন বিশ্বস্ত ও অভিজ্ঞ ব্যক্তিত্বকে রাখারই একটি প্রতিফলন। আগামীকাল থেকে নবনিযুক্ত এই মুখ্য সচিব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তাঁর দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করবেন বলে জানা গেছে। একই দিনে প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব (পিএস), সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) ও প্রটোকল অফিসার পদেও নতুন নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের শীর্ষ নির্বাহী দপ্তরের প্রশাসনিক কাঠামোটি পূর্ণতা পেল।
জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন ৪৯ জন। তাদের শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ঘোষিত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে তিনজন টেকনোক্র্যাট কোটায় জায়গা পেয়েছেন।
বিএনপির দেওয়া তালিকায় দেখা গেছে, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের খলিলুর রহমান (টেকনোক্র্যাট), খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
আব্দুল আউয়াল মিন্টুকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদকে এবং ভূমি ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে যথাক্রমে মিজানুর রহমান মিনু ও নিতাই রায় চৌধুরীকে।
আ ন ম এহসানুল হক মিলনকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়; সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়; ফকির মাহবুব আনামকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, শেখ রবিউল আলমকে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
আরিফুল হক চৌধুরীকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়; জহির উদ্দিন স্বপন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়; মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ পাচ্ছেন কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়; আফরোজা খানম বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিকে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।
আসাদুল হাবিব দুলু দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়; মো. আসাদুজ্জামান আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়; জাকারিয়া তাহের গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং দীপেন দেওয়ান পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।
প্রতিমন্ত্রীরা কে কোন দপ্তর পেলেন :
প্রতিমন্ত্রী হিসেবে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত (এমপি) বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়; অনিন্দ্য ইসলাম অমিত (এমপি) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়; মো. শরিফুল আলম (এমপি), বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, শিল্প মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়; শামা
ওবায়েদ ইসলাম (এমপি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়; সুলতান সালাউদ্দিন টুকু (এমপি) কৃষি মন্ত্রণালয়; মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় ও খাদ্য মন্ত্রণালয়; ব্যারিস্টার কায়সার কামাল (এমপি) ভূমি মন্ত্রণালয়; ফরহাদ হোসেন আজাদ (এমপি) পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়; মো. আমিনুল হক (টেকনোক্র্যাট) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়; মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন (এমপি) পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়; হাবিবুর রশিদ (এমপি) সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়; মো. রাজিব আহসান (এমপি) রেলপথ মন্ত্রণালয় ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়; মো. আব্দুল বারী (এমপি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়; মীর শাহে আলম (এমপি) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়; মো. জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি (এমপি) অর্থ মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়; ইশরাক হোসেন (এমপি) মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়; ফারজানা শারমীন (এমপি) মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়; শেখ ফরিদুল ইসলাম (এমপি) পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়; মো. নুরুল হক নুর (এমপি) শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়; ইয়াসের খান চৌধুরী (এমপি) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়; এম ইকবাল হোসেইন (এমপি) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়; এম এ মুহিত (এমপি) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়; ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়; আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর (এমপি) গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়; ববি হাজ্জাজ (এমপি) শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম (এমপি) সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।
বাবা জিয়াউর রহমান ছিলেন সেনাপ্রধান ও রাষ্ট্রপতি। তার হাতে গড়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির হয়ে বেগম খালেদা জিয়া তিনবার প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন। এবার তাদের বড় ছেলে তারেক রহমান ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল জয় নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নিলেন। এর মধ্য দিয়ে তারেক রহমান এবং তার পরিবারের ঝুলিতে যুক্ত হলো নতুন এক রেকর্ড। দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে শুভ সূচনা হলো নতুন অধ্যায়ের, গণতন্ত্রের। বাংলাদেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৪টার পর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি শপথ নেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে শপথ পাঠ করান। একই অনুষ্ঠানে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরাও শপথ নেন। চব্বিশের গণঅভ্যূত্থানের দেড় বছর পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন যাত্রা শুরু হলো বাংলাদেশের। এর মধ্য দিয়ে দুই দশক পর আবার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিল বিএনপি। আর তিন দশক পর নতুন একজন রাজনীতিবিদকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে পেল বাংলাদেশ।
রেওয়াজ ভেঙে বঙ্গভবনের বদলে এবারের শপথ অনুষ্ঠান হয় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায়। মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় জাতীয় সংগীত এবং তারপর কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রী পদে তারেক রহমানের নাম ঘোষণা করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি।
তারেক রহমান নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছ থেকে প্রথমে সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনের এবং তারপর গোপনীয়তার শপথ নেন। সব শেষে তিনি শপথের নথিতে স্বাক্ষর করেন।
নতুন প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিক অভিনন্দন জানানোর পর মন্ত্রিপরিষদে জায়গা পাওয়া নেতাদের নাম ঘোষণা করা হয় এবং শপথ গ্রহণের জন্য আহ্বান জানানো হয়।
এরপর নতুন মন্ত্রীদের পর্যায়ক্রমে শপথ এবং গোপনীয়তার শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
সবশেষে প্রতিমন্ত্রীদের নাম ঘোষণা করে তাদেরকে শপথগ্রহণের জন্য আহ্বান জানিয়ে মঞ্চে ডাকেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।
সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খোলামেলা এই শপথ অনুষ্ঠানে ১ হাজার ২০০ অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে এসেছিলেন তার মেয়ে দীনা আফরোজকে সঙ্গে নিয়ে। উপদেষ্টাদের মধ্যে আসিফ নজরুল, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, চৌধুরী রফিকুল আববারকেও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে দেখা গেছে।
মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী দাশো শেরিং তোবগে, ভারতীয় লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল, শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্য ও গণমাধ্যম বিষয়ক মন্ত্রী নালিন্দা জয়াসিতা, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মাসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী, প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক, তিন বাহিনীর প্রধান, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকসহ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
তারেক রহমানের স্ত্রী জুবাইদা রহমান এবং তাদের মেয়ে জাইমা রহমান ও পরিবারের সদস্যরাওে উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানে।
বিশ্বে অল্প কয়েকটি রাজনৈতিক পরিবার আছে, যাদের পরিববারের তিন সদস্য কোনো দেশের রাষ্ট্র কিংবা সরকারপ্রধানের গুরুদায়িত্ব সামলেছেন। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদে তারেক রহমানের আসীন হওয়ার মধ্য দিয়ে এই পরিবারগুলোর তালিকায় নাম লেখাল জিয়া পরিবারও।
তারেক রহমানের বাবা জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালে বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৮১ সালে তারেক যখন কিশোর, তখন এক সামরিক অভ্যুত্থানে নিহত হন জিয়াউর রহমান। এর পর থেকে খালেদা জিয়া দলের নেতৃত্ব দেন এবং ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে সরকার গঠন করেন। বাংলাদেশের একাধিক সাধারণ নির্বাচনে একাধিক আসনে দাঁড়িয়ে কখনোই কোনোটিতে না হারার অনন্য রেকর্ড রয়েছে খালেদা জিয়ার দখলে। গত ৩০ ডিসেম্বর তিনি ইন্তেকাল করেন।
জিয়াউর রহমান: ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে অধিষ্ঠিত হন বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত জিয়াউর রহমান। সেনাপ্রধান হন তিনি। এরপর প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক করা হয় তাকে। বিএনপির ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৭৭ সালের ২১ এপ্রিল তৎকালীন রাষ্ট্রপতি এ এস এম সায়েম পদত্যাগ করলে জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হন।
১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর জিয়াউর রহমান নিজে চেয়ারম্যান হিসেবে থেকে নতুন রাজনৈতিক দল বিএনপি গঠন করেন। ১৯৯১ সালের পর থেকে তার প্রতিষ্ঠিত দলটি এবার নিয়ে চারবার রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হলো। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্যের হাতে জিয়াউর রহমান নিহত হন।
বেগম খালেদা জিয়া: স্বামীর মৃত্যুর পর ১৯৮১ সালে দলের হাল ধরেন পুরোদস্তুর গৃহবধূ খালেদা জিয়া। দুই সন্তানকে নিয়ে তখন ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থান করছিলেন। সে সময় খালেদা জিয়া রাজনীতিতে যোগ দেন নেতাকর্মীদের আগ্রহে।
১৯৮২ সালের দলের প্রাথমিক সদস্য হওয়ার পর এক বছরের মাথায় ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হন খালেদা জিয়া। ১৯৮৪ সালের নির্বাচিত হন দলীয় চেয়ারপারসন। সেই থেকে চার দশকের বেশি সময় ধরে তিনি বিএনপিকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। রাজনীতিতে এসে রাজপথের আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান খালেদা জিয়া। চষে বেড়ান দেশের নানা প্রান্ত। এর ফলও পান। ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি জয়ী হলে খালেদা জিয়া দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন। এরপর তিনি তিন দফা সরকারপ্রধানের দায়িত্ব সামলেছেন।
তারেক রহমান: নানা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে তিনি দেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দলের নেতা, দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির বিপুল বিজয় সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম সেরা রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তন। গত বছর ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরে লাখো জনতার সংবর্ধনা সমাবেশে তারেক রহমান তার একটি পরিকল্পনা আছে বলে জানিয়েছিলেন। মার্কিন অধিকারকর্মী মার্টিন লুথার কিংয়ের ঐতিহাসিক উক্তির অনুকরণে বলেছিলেন, ‘আই হ্যাভ আ প্ল্যান।’ নির্বাচনী প্রচারের সময় সারাদেশে তিনি সেই পরিকল্পনার কথাই বলে বেড়িয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে জনমত গঠন করেছেন, পাশাপাশি দলের তৃণমূলকেও সংগঠিত করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের এই উত্থান গত তিন দশক ধরে দেশের রাজনীতিতে চলে আসা দ্বিমেরুকরণের দীর্ঘদিনের ব্যবস্থাকে ভেঙে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যে দীর্ঘ নির্বাসনে থাকা ৬০ বছর বয়সি তারেক রহমান ১৭ বছরের বেশি সময় পর দেশে ফেরেন। দেশে ফেরার পাঁচ দিনের মধ্যে তার মা বেগম খালেদা জিয়া মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুর ১০ দিন পর দলের হাল ধরেন তারেক। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি দলকে সুসংগঠিত করতে বিরামহীন কাজ করেন। দেশের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, দুর্নীতি দমন এবং নির্বাচনী সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে চষে বেড়িয়েছেন দেশের বিভিন্ন জেলা। লাখো নেতাকর্মী আর সমর্থক তার প্রচারণায় অংশ নেন। টানা ৪০ দিনের অক্লান্ত পরিশ্রমের মধ্য দিয়ে দলকে তুলে দেন ক্ষমতার শীর্ষে। তারেক রহমান ১৯৬৭ সালের ২০ নভেম্বর জন্মগ্রহণ করেন। তিনি এর আগে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ও সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম এবং রাজনৈতিক উত্থান-পতনের একজন সাক্ষী ও অংশগ্রহণকারী। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়, যখন তার পিতা জিয়াউর রহমান বীরউত্তম বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং দেশকে স্বাধীন করার জন্য যুদ্ধ শুরু করেন, তখন তাকে, তার মা ও ভাইকে অন্য অনেক মুক্তিযোদ্ধা সামরিক কর্মকর্তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়।
শৈশব ও কৈশোর ঢাকায় কাটানো তারেক রহমান ১৯৮৮ সালে ২২ বছর বয়সে বগুড়ার গাবতলী উপজেলা বিএনপির সদস্য হন। তবে দলীয় রাজনীতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেওয়ার আগে থেকেই তিনি এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এরশাদবিরোধী আন্দোলনে মায়ের সঙ্গে রাজপথে ছিলেন। ১৯৮৬ সালে এরশাদ সরকারের পাতানো নির্বাচনের প্রাক্কালে স্বৈরাচারী সরকার তাকে তার মায়ের সঙ্গে গৃহবন্দি করে একাধিকবার।
২০০১ সালে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পর ২০০২ সালের জুনে তাকে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব করা হয়। ২০০৫ সালে তিনি দেশব্যাপী তৃণমূল সম্মেলনের আয়োজন করেন এবং বাংলাদেশের প্রতিটি উপজেলা ইউনিটের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এই সম্মেলনের সময় তিনি তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলা, স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময় করা এবং সমর্থকদের চিন্তাধারা শোনেন এবং জনগণের কাছে বিএনপির কর্মসূচি প্রচার করেন। তিনি কৃষকদের জন্য সরকারি ভর্তুকি, বয়স্কদের জন্য ভাতা, পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য প্লাস্টিক ব্যাগবিরোধী আন্দোলন এবং নারী শিক্ষার্থীদের জন্য উপবৃত্তি বিতরণ সম্পর্কে জনগণকে অবহিত করেন, যা স্কুলে লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য কমিয়ে ভারসাম্য আনতে সহায়ক হয়। তিনি ব্যক্তিগতভাবে সম্মেলনে নিবন্ধনকারীদের অন্তত ১৮ হাজার চিঠির উত্তর দেন।
২০০৭ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে গ্রেপ্তার হন তারেক রহমান। অভিযোগ রয়েছে, ১৮ মাস কারাগারে থাকাকালে তিনি নির্যাতনের শিকার হন। ওই সময়ের সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, আদালতে হাজির করার সময় তিনি অসুস্থ ছিলেন এবং মেরুদণ্ডে আঘাত পেয়েছিলেন। ২০০৮ সালের ২৮ আগস্ট চিকিৎসার জন্য তিনি জামিন এবং ৩ সেপ্টেম্বর কারাগার থেকে মুক্তি পান। এর এক সপ্তাহ পর স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান তিনি। সে সময় দেশে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা চলছিল। প্রবাসে থাকাকালেই তিনি দলের নীতি-কৌশল ঠিক করতেন। ২০১৮ সালে খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার পর তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। এর মাঝে ২০১৫ সালে ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুতে ব্যক্তিগত শোক সইতে হয় তাকে। দীর্ঘ প্রবাস জীবন তারেক রহমানকে রাজনীতিতে আরও সহনশীল ও ধীর-স্থির করেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তার বিরুদ্ধে থাকা সকল মিথ্যা, উদ্দেশ্যমূলক মামলা ও দণ্ড বাতিল হলে দেশে ফেরার আইনি বাধা কাটে। গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর তিনি দেশে ফিরলে তাকে বিপুল সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় ১০ জনকে উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মন্ত্রী পদমর্যাদায় মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ ও রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরকে উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
আর প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে হুমায়ুন কবির, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলাম, জাহেদ উর রহমান, মাহাদি আমিন ও রেহান আসিফ আসাদকে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। বিএনপির মিডিয়া সেলের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও নিয়োগের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) জয়ী সংসদ সদস্যরা সরকারি সুবিধার আওতায় শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট নেবেন না। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার পর সংসদীয় দলের সভাকক্ষে বৈঠক করেছেন বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। শপথ নেওয়ার পর এই বৈঠক হয়। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান এ তথ্য জানিয়েছেন। ওই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
সংসদীয় দলের প্রথম বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করা হয় বলে জানান শায়রুল কবির খান।
এর আগে বেলা পৌনে ১১টার কিছু আগে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন বিএনপির নির্বাচিত প্রার্থীরা। তাদের শপথ পড়ান প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন। তবে তারা সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি।
দেশের টেকসই জ্বালানি উন্নয়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টির মাধ্যমে সবুজ অর্থনীতির বিকাশে অবদান রাখতে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর শ্রেডা অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং ‘Sustainable and Renewable Energy Development Authority (SREDA)’-এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ, আধুনিক ল্যাব স্থাপন এবং দক্ষ কর্মী গড়ে তোলার মাধ্যমে গ্রামীণ পর্যায়ে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও আত্মনির্ভরশীলতা জোরদার করাই এ অংশীদারিত্বের মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন উপ-মহাপরিচালক (প্রশিক্ষণ) মো. রফিকুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রেডার চেয়ারম্যান ড. মো. মোজাফফ্ আহমেদ, পিএইচডি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন GIZ Bangladesh-এর প্রতিনিধি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শ্রেডা-র সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের জাতীয় প্রকল্প পরিচালক। বক্তারা জ্বালানি রূপান্তর প্রক্রিয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই দক্ষ জনবল গঠন এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষে বক্তব্য প্রদানকালে উপমহাপরিচালক (প্রশিক্ষণ) বলেন, ‘টেকসই উন্নয়ন ও জ্বালানি রূপান্তরের এ সময়োপযোগী উদ্যোগে অংশীদার হতে পেরে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি গর্বিত।’
তিনি উল্লেখ করেন, দেশের গ্রামীণ পর্যায়ে বিস্তৃত বিপুলসংখ্যক সদস্যকে দক্ষ ও উৎপাদনশীল মানবসম্পদে রূপান্তরের ক্ষেত্রে এ সমঝোতা স্মারক একটি তাৎপর্যপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে এবং জাতীয় উন্নয়ন অভিযাত্রায় নতুন গতি সঞ্চার করবে।
তিনি আরও বলেন, প্রায় ৬০ লাখ সদস্যের এ বাহিনী, যাদের প্রায় অর্ধেক নারী দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। পাশাপাশি সদস্যদের দক্ষতা উন্নয়ন, আয়বর্ধক কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে অধিকতর অবদান রাখার লক্ষ্যে বাহিনী ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। এ সমঝোতা সেই চলমান উন্নয়ন কর্মসূচিকে আরও সুসংহত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রদান করবে।
সমঝোতা স্মারকের আওতায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও জ্বালানি দক্ষতাবিষয়ক বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ (ToT), পাইলট প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং এনএসডিএ অনুমোদিত আধুনিক ল্যাব স্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে সৌর বিদ্যুৎ প্রযুক্তিবিদ, বয়লার অপারেটরসহ জ্বালানি খাতে দক্ষ কর্মী তৈরি করা সম্ভব হবে। ফলে বাহিনীর সদস্যদের আত্মকর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং প্রাতিষ্ঠানিক চাকরির সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হবে।
উপমহাপরিচালক (প্রশিক্ষণ) তার বক্তব্যে বাহিনীর মহাপরিচালক মহোদয়ের দূরদর্শী নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি শ্রেডার নেতৃত্ব এবং Skills for Sustainable Energy Solutions (Skills4SE) প্রকল্পের মাধ্যমে জ্বালানি খাতে দক্ষ জনবল তৈরির উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান। একই সঙ্গে জিআইজেড বাংলাদেশের কারিগরি সহায়তা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে এ উদ্যোগের সফল বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি এ কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে প্রশিক্ষণ সুবিধা প্রদান, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিতকরণ, উপর্যুক্ত প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন এবং সার্বিক সমন্বয় কার্যক্রমে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করবে। সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সমন্বিত প্রয়াসের মাধ্যমে পরিকল্পিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আনসার-ভিডিপি কর্তৃপক্ষ মনে করে, ভবিষ্যতে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম দেশব্যাপী সম্প্রসারণের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, গ্রামীণ অর্থনীতির গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন নিশ্চিত হবে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, নারী ক্ষমতায়ন জোরদার এবং দক্ষতাভিত্তিক কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের মাধ্যমে এ উদ্যোগ দেশের সবুজ প্রবৃদ্ধি কৌশলকে ত্বরান্বিত করবে। দীর্ঘমেয়াদে এ অংশীদারিত্ব টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) অর্জন, জ্বালানি নিরাপত্তা সুসংহতকরণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভাইস চেয়ারম্যান ও কুমিল্লা-৩ আসনে ষষ্ঠবারের মতো নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকাল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তিনি শপথ গ্রহণ করেন। তাকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শপথ বাক্য পড়ান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিপক্ষকে অর্ধ লাখেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেছেন তিনি।
নির্বাচনে কায়কোবাদ পেয়েছেন ১ লাখ ৫৯ হাজার ২৫১ ভোট। অপরদিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ইউসুফ সোহেল পেয়েছেন ১ লাখ ৯ হাজার ৫৯৯ ভোট।
এর আগে ১৯৮৬, ১৯৮৮, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন কায়কোবাদ। ২০০২ সালের ৩ আগস্ট থেকে ২০০৩ সালের ১ জুলাই পর্যন্ত তিনি ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
নতুন সরকারে মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন যারা
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর (অবসরপ্রাপ্ত) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, আবু জাফর জাহিদ হোসেন, খলিলুর রহমান, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, মিজানুর রহমান মিনু, নিতাই রায় চৌধুরী, আব্দুল মুক্তাদির, আরিফুল হক চৌধুরী, জহির উদ্দিন স্বপন, আমিনুর রশিদ, আফরোজা রিতা, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী অ্যানি, আসাদুল হাবিব দুলু, মো. আসাদুজ্জামান, জাকারিয়া তাহের, দীপেন দেওয়ান, আ ন ম এহছানুল হক মিলন, কায়সার সাখাওয়াত হোসেন, জাকির আলম, শেখ রবিউল আলম।
প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন যারা
এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, মো. শরিফুল আলম, শামা ওবায়েদ ইসলাম, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ফরহাদ হোসেন আজাদ, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, হাবিবুর রশিদ, মো. রাজিব আহসান, মো. আব্দুল বারী, মীর শাহে আলম, মো. জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি (জুনায়েদ সাকি), ইশরাক হোসেন, ফারজানা শারমিন, শেখ ফরিদুল ইসলাম, মো. নুরুল হক নুর (ভিপি নুর), ইয়াসের খান চৌধুরী, এম ইকবাল হোসেইন, এম এ মুহিত, আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর, ববি হাজ্জাজ ও আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম।
জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নতুন সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন ৪৯ জন। নির্বাচনী আসন ও জন্মসূত্রে তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঢাকা বিভাগের-১৩ জন। বিপরীতে মাত্র দুজন পূর্ণ মন্ত্রী পেয়েছেন সিলেট বিভাগের বাসিন্দারা।
সংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে চট্টগ্রাম বিভাগ-১১ জন। পাঁচজন করে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী রাজশাহী, রংপুর ও বরিশাল বিভাগের। খুলনা ও ময়মনসিংহে চারজন করে। নির্বাচনী আসন ও জন্মসূত্রে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা কে কোন বিভাগের তা নিচে তুলে ধরা হলো;
ঢাকা বিভাগ: খলিলুর রহমান (পররাষ্ট্র, টেকনোক্র্যাট), শামা ওবায়েদ ইসলাম (পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী) আফরোজা খানম রিতা (বেসামরিক বিমান ও পর্যটন), সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন (স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা), ফকির মাহবুব আনাম (ডাক ও টেলিযোগাযোগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি), শেখ রবিউল আলম (সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহন), শরিফুল আলম (বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী), সুলতান সালাউদ্দিন টুকু (কৃষি ও মৎস্য প্রতিমন্ত্রী), আমিনুল হক (যুব ও ক্রীড়া-টেকনোক্র্যাট), হাবিবুর রশিদ (সড়ক ও সেতু প্রতিমন্ত্রী), ইশরাক হোসেন (মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী), ববি হাজ্জাজ (শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী) এবং আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম (সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী)।
সিলেট বিভাগ: খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির (বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট) এবং আরিফুল হক চৌধুরী (শ্রম ও কর্মসংস্থান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান)।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতাবলে নবগঠিত সরকারের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপদেষ্টা হিসেবে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় নিয়োগ পেয়েছেন ১০ জন।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতাবলে নিম্নলিখিত ব্যক্তিবর্গকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা নিয়োগ করেছেন।
মন্ত্রী পদমর্যাদায় মির্জা আব্বাস উদ্দিন আহমেদ, নজরুল ইসলাম খান, রুহুল কবির রিজভী আহমেদ, মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ ও রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরকে উপদেষ্টা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
আর প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে হুমায়ুন কবির, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব:) শামসুল ইসলাম, জাহেদ উর রহমান, মাহাদি আমিন ও রেহান আসিফ আসাদকে।
এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।
বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করে আজ মঙ্গলবার বিকেলে শপথ নিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যদের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাদের শপথবাক্য পাঠ করান। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সোয়া ৪টার পর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এসময় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিনিধি এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, নেপালসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ঘোষিত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে কে কোন মন্ত্রণালয় পাচ্ছেন তা নিয়ে চলছে জল্পনা।
বিএনপির দেওয়া তালিকায় দেখা গেছে, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব যাচ্ছে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর হাতে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেওয়া হবে বিএনপির সালাহউদ্দিন আহমদকে। ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু পাচ্ছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে দেওয়া হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় পাচ্ছেন আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন খলিলুর রহমান (টেকনোক্র্যাট)।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির পেয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। আব্দুল আউয়াল মিন্টু পাচ্ছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় দেওয়া হচ্ছে কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদকে। ভূমি ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় পাচ্ছেন যথাক্রমে মিজানুর রহমান মিনু ও নিতাই রায় চৌধুরী।
আ ম ন এহসানুল হক মিলন পাচ্ছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়; সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন পাচ্ছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়; ফকির মাহবুব আনাম পাচ্ছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। শেখ রবিউল আলম পাবেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়।
আরিফুল হক চৌধুরী পাচ্ছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়; জহির উদ্দিন স্বপন পাচ্ছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়; মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ পাচ্ছেন কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়; আফরোজা খানম পাচ্ছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি পাচ্ছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
আসাদুল হাবিব দুলু পাচ্ছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়; মো. আসাদুজ্জামান পাচ্ছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়; জাকারিয়া তাহের পাচ্ছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং দীপেন দেওয়ান পাচ্ছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
দেশের টেকসই জ্বালানি উন্নয়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টির মাধ্যমে সবুজ অর্থনীতির বিকাশে অবদান রাখতে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) রাজধানীর শ্রেডা অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং 'Sustainable and Renewable Energy Development Authority (SREDA)'-এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ, আধুনিক ল্যাব স্থাপন এবং দক্ষ কর্মী গড়ে তোলার মাধ্যমে গ্রামীণ পর্যায়ে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও আত্মনির্ভরশীলতা জোরদার করাই এ অংশীদারিত্বের মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন উপ-মহাপরিচালক (প্রশিক্ষণ) মোঃ রফিকুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রেডার চেয়ারম্যান ড. মো. মোজাফফ্ আহমেদ, পিএইচডি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন GIZ Bangladesh-এর প্রতিনিধি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শ্রেডা-র সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের জাতীয় প্রকল্প পরিচালক। বক্তারা জ্বালানি রূপান্তর প্রক্রিয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই দক্ষ জনবল গঠন এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষে বক্তব্য প্রদানকালে উপমহাপরিচালক (প্রশিক্ষণ) বলেন, “টেকসই উন্নয়ন ও জ্বালানি রূপান্তরের এ সময়োপযোগী উদ্যোগে অংশীদার হতে পেরে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি গর্বিত।” তিনি উল্লেখ করেন, দেশের গ্রামীণ পর্যায়ে বিস্তৃত বিপুলসংখ্যক সদস্যকে দক্ষ ও উৎপাদনশীল মানবসম্পদে রূপান্তরের ক্ষেত্রে এ সমঝোতা স্মারক একটি তাৎপর্যপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে এবং জাতীয় উন্নয়ন অভিযাত্রায় নতুন গতি সঞ্চার করবে।
তিনি আরও বলেন, প্রায় ৬০ লক্ষ সদস্যের এ বাহিনী—যাদের প্রায় অর্ধেক নারী—দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। পাশাপাশি সদস্যদের দক্ষতা উন্নয়ন, আয়বর্ধক কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে অধিকতর অবদান রাখার লক্ষ্যে বাহিনী ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। এ সমঝোতা সেই চলমান উন্নয়ন কর্মসূচিকে আরও সুসংহত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রদান করবে।
সমঝোতা স্মারকের আওতায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও জ্বালানি দক্ষতা বিষয়ক বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ (ToT), পাইলট প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং এনএসডিএ অনুমোদিত আধুনিক ল্যাব স্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে সৌর বিদ্যুৎ প্রযুক্তিবিদ, বয়লার অপারেটরসহ জ্বালানি খাতে দক্ষ কর্মী তৈরি করা সম্ভব হবে। ফলে বাহিনীর সদস্যদের আত্মকর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং প্রাতিষ্ঠানিক চাকরির সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হবে।
উপমহাপরিচালক (প্রশিক্ষণ) তার বক্তব্যে বাহিনীর মহাপরিচালক মহোদয়ের দূরদর্শী নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি শ্রেডার নেতৃত্ব এবং Skills for Sustainable Energy Solutions (Skills4SE) প্রকল্পের মাধ্যমে জ্বালানি খাতে দক্ষ জনবল তৈরির উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান। একই সঙ্গে জিআইজেড বাংলাদেশের কারিগরি সহায়তা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে এ উদ্যোগের সফল বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি এ কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে প্রশিক্ষণ সুবিধা প্রদান, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিতকরণ, উপযুক্ত প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন এবং সার্বিক সমন্বয় কার্যক্রমে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করবে। সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সমন্বিত প্রয়াসের মাধ্যমে পরিকল্পিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আনসার-ভিডিপি কর্তৃপক্ষ মনে করে, ভবিষ্যতে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম দেশব্যাপী সম্প্রসারণের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, গ্রামীণ অর্থনীতির গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন নিশ্চিত হবে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, নারী ক্ষমতায়ন জোরদার এবং দক্ষতাভিত্তিক কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের মাধ্যমে এ উদ্যোগ দেশের সবুজ প্রবৃদ্ধি কৌশলকে ত্বরান্বিত করবে। দীর্ঘমেয়াদে এ অংশীদারিত্ব টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) অর্জন, জ্বালানি নিরাপত্তা সুসংহতকরণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
একসময় সমাজের মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন ও অবহেলিত ছিল দলিত সম্প্রদায়। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন এসেছে তাদের জীবনে। শিক্ষার প্রসার, সরকারি উদ্যোগ ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে তারা এখন সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠছে।
দলিত সম্প্রদায়ের তরুণ-তরুণীরা এখন শিক্ষা, চাকরি, ব্যবসা ও বিভিন্ন পেশায় যুক্ত হচ্ছে। আগে যারা পরিচ্ছন্নতাকর্মী, জুতো মেরামত বা হস্তশিল্পে সীমাবদ্ধ ছিল, তারাও আজ নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখছে।
লাকুড়তলা গ্রামের রন ঋষি বলেন, “আগে সমাজ থেকে আমরা বিচ্ছিন্ন ছিলাম। বিয়ে, শ্রাদ্ধ বা অন্যান্য অনুষ্ঠানে আমাদের ডাকা হতো না। এখন সামাজিক পরিবর্তনের ফলে আমরাও সমাজের অংশ। প্রতিটি অনুষ্ঠানে এখন সবাই আমাদের আমন্ত্রণ জানায়।"
সামাজিক সচেতনতার ফলে তাদের জীবনের মান উন্নত হচ্ছে। সমাজে তাদের গ্রহণযোগ্যতা যেমন বেড়েছে, তেমনি আত্মমর্যাদাবোধও জেগে উঠেছে নতুনভাবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শেষে আয়োজিত সংসদীয় দলের এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির 'ডা. শফিকুর রহমান' কে মনোনীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংসদ সদস্যদের শপথ শেষে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সংসদীয় দলের সভায় এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
একই বৈঠকে কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জামায়াতে নায়েবে আমির 'ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের' কে বিরোধী দলীয় উপনেতা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক 'নাহিদ ইসলাম' কে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ হিসেবে নির্বাচনের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়। বৈঠকে অংশগ্রহণকারী গাইবান্ধা জেলার জামায়াতের আমির ও গাইবান্ধা-২ আসনের সংসদ সদস্য 'মো. আব্দুল করিম' এই সিদ্ধান্তের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। দলীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, শীঘ্রই ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে একটি যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই ঘোষণাগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে দেশবাসীকে জানানো হবে।