বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
১২ চৈত্র ১৪৩২

প্রধান বিচারপতির সংবর্ধনায় যাবে না ইউএলএফ

মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির দক্ষিণ হলে সংবাদ সম্মেলন করে ইউনাইটেড লইয়ার্স ফ্রন্ট (ইউএলএফ)। ছবি: দৈনিক বাংলা
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা
প্রকাশিত : ৩ অক্টোবর, ২০২৩ ১৭:১২

দেশের নতুন প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে ইউনাইটেড লইয়ার্স ফ্রন্ট (ইউএলএফ)।

মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির দক্ষিণ হলে এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন সংগঠটির নেতারা।

তারা ‘দায়িত্ব পালন শুরু করতে না করতেই সংবর্ধনার মেলা এবং নানাবিধ বক্তব্য দিয়ে সাংবিধানিক বিচারিক পদকে প্রশ্নবিদ্ধ করার’ অভিযোগ এনে এ ঘোষণা দিয়েছেন।

আগামী ৮ অক্টোবর আপিল বিভাগের ১নং কোর্টে নতুন প্রধান বিচারপতিকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ইউএলএফের আহ্বায়ক ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘লুণ্ঠিত ভোটাধিকার, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, আইনের শাসন, স্বাধীন বিচার বিভাগ প্রতিষ্ঠা, আপসহীন দেশনেত্রী খালেদা জিয়াসহ সব গণতন্ত্রকামী রাজনীতিক, পেশাজীবী এবং মানবাধিকার কর্মীর মুক্তি, মিথ্যা মামলা ও ফরমায়েশি রায় বাতিলের দাবিতে আইনজীবীদের সঙ্গে নিয়ে ইউএলএফের আন্দোলন চলমান আছে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, খুলনা, রাজশাহী, বগুড়া, বরিশালসহ প্রায় সব বিভাগীয় বার সমিতিতে আইনজীবী সমাবেশ ও পদযাত্রা সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘গত ২৫ সেপ্টেম্বর বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি হিসেবে অবসর গ্রহণ করেছেন। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি গত ১২ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসানকে দেশের ২৪তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেন। তিনি শপথ গ্রহণ করেন ২৬ সেপ্টেম্বর। সুপ্রিম কোর্ট বারের আইনজীবীসহ দেশের সব শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ প্রত্যাশা করেছিল, প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান বিচারালয়ের সর্বোচ্চ চেয়ারের মর্যাদা, ভাবগাম্ভীর্য এবং দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা বিচারিক প্রথা বজায় রাখবেন। যদিও তার রাজনৈতিক অতীত এবং আইনজীবী থাকাবস্থায় বর্তমান সরকার ও সরকারি দলের সব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে প্রশ্নাতীতভাবে তার নিয়মিত অংশগ্রহণ আইনজীবী সমাজের জানা আছে।’

জয়নুল আবেদীন আরও বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত বেদনাহত মন নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত হয়েছি। দেশের প্রধান বিচারপতি নিয়োগের পর থেকে ফুলের শুভেচ্ছা নিতে নিতে, এক পর্যায়ে সরকারি দলের ছাত্র সংগঠন এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের কাছ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণ করেন, যার সচিত্র প্রতিবেদন গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। এটি সুপ্রিম কোর্টের ৫২ বছরের ইতিহাসে একটি নজিরবিহীন ঘটনা এবং প্রবীণ আইনজীবীদের ভাষায় বিচার বিভাগের জন্য চরম বেদনার মুহূর্ত। শুধু তাই নয়, শপথ গ্রহণের দুই দিনের মাথায় একটি জেলা সমিতির সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বিতর্কিত পুলিশ অফিসার, আইনজীবী নিপীড়নকারী এবং নিয়মিত মানবাধিকার লঙ্ঘনকারী ডিবিপ্রধান হারুন অর রশীদের কাছ থেকে একটি বৃহদাকার তলোয়ার উপহার হিসেবে প্রধান বিচারপতির গ্রহণ করার ছবি গণমাধ্যমে প্রচারের পর দেশের আইনজীবী সমাজ হতাশ এবং বিস্মিত হয়েছে। আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব পালন শুরু করতে না করতেই তার সংবর্ধনার মেলা এবং নানাবিধ বক্তব্যে প্রধান বিচারপতির মত সর্বোচ্চ সাংবিধানিক বিচারিক পদকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।’

বিএনপির এ নেতা বলেন, ‘বিশেষ করে গত ১ অক্টোবর নেত্রকোনা স্টেডিয়ামে নেত্রকোনা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতির সভাপতিত্বে ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের সঞ্চালনায় প্রধান বিচারপতির সংবর্ধনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন সরকারের প্রতিমন্ত্রী, ২০১৮ সালের নিশিরাতের ভোটের সংসদ সদস্য, বিচারপতি, বিচারকসহ স্থানীয় আমলা, পুলিশের কর্মকর্তা ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতিসহ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান আওয়ামী লীগের দলীয় সংবর্ধনা গ্রহণ করার মধ্য দিয়ে প্রধান বিচারপতির মত নিরপেক্ষ পদের মর্যাদা ও সম্মানহানি ঘটিয়েছেন। এতে বিচার বিভাগের ওপর সাধারণ মানুষের অনাস্থা আরও গভীরতর হচ্ছে। বিচার বিভাগ নিপতিত হবে গভীর সংকটে। এরপরও আমরা মনে করি, জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটানোর লক্ষ্যে বিচার বিভাগের প্রধান হিসাবে আপনার দায়িত্ব থাকবে, নিরপেক্ষ থাকবেন এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অক্ষুন্ন রাখবেন।’

‘ইউএলএফ অত্যন্ত ব্যথিত চিত্তে বিচার বিভাগের মর্যাদা, সম্মান, প্রধান বিচারপতি পদের ভাবগাম্ভীর্য এবং বিচার বিভাগের ওপর বাংলাদেশের জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে আগামী ৮ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট বারের তথাকথিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠান বর্জনের এডহক কমিটির সিদ্ধান্তের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছে। আগামী ৮ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্ট বার চত্বরে বর্জনের সিদ্ধান্তের সমর্থনে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত বিক্ষোভ মিছিল এবং আইনজীবী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।’

জয়নুল আবেদীন বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, দেশের প্রধান বিচারপতি আইনজীবীদের এই সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে অনুধাবন করবেন। দেশে যখন ভোটাধিকার লুণ্ঠিত, গণতন্ত্র এবং আইনের শাসনের জন্য জনগণের অবিরাম আন্দোলন চলছে, তখন আমাদের প্রত্যাশিত বিচার বিভাগ নতুন করে আর কোনো বিতর্কের মধ্যে না জড়িয়ে সংবিধান অর্পিত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সাংবিধানিক দায়িত্ব এবং জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষার জন্য দৃঢ় ভূমিকা নেবে।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ইউএলএফের কো-কনভেনর সিনিয়র আইনজীবী সুব্রত চৌধুরী, বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার এএম মাহবুব উদ্দিন খোকন, ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, অ্যাডভোকেট মহসিন রশিদ প্রমুখ।


১৮ বছর পর জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে ফিরল স্বাধীনতা দিবসের কুচকাওয়াজ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘ ১৮ বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে জাতীয় প্যারেড ময়দানে আবারও অনুষ্ঠিত হলো সশস্ত্র বাহিনীর বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে জাঁকজমকপূর্ণ এই আয়োজনে অংশ নিয়ে সম্মিলিত বাহিনীর অভিবাদন ও সালাম গ্রহণ করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ২০০৮ সালের পর এই প্রথম স্বাধীনতা দিবসের আনুষ্ঠানিকতায় এমন বড় মাপের সামরিক প্রদর্শনী ও কুচকাওয়াজ যুক্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জাতীয় প্যারেড ময়দানে কুচকাওয়াজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সকাল ১০টার দিকে মিলিটারি পুলিশের সুসজ্জিত মোটর শোভাযাত্রার মাধ্যমে অভিবাদন মঞ্চে এসে উপস্থিত হন সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক ও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। রাষ্ট্রপতিকে অনুষ্ঠানস্থলে অভ্যর্থনা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান, প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন এবং সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান ও বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন। এর আগে সকাল ৯টা ৫৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্যারেড মাঠে পৌঁছালে তাঁকে সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে স্বাগত জানানো হয়।

কুচকাওয়াজের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পর রাষ্ট্রপতির সম্মানে চৌকস দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। এরপর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন একটি খোলা জিপে চড়ে প্যারেড পরিদর্শন করেন। প্যারেড অধিনায়ক মেজর জেনারেল এস এম আসাদুল হকের সাথে জিপে চড়ে তিনি বিভিন্ন কন্টিনজেন্টের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করেন এবং শেষে অভিবাদন মঞ্চে ফিরে সালাম গ্রহণ করেন। এ সময় প্যারেড স্কয়ারজুড়ে সম্মিলিত বাহিনীর শৃঙ্খল ও সাহসিকতাপূর্ণ পদচারণা এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা করে। অনুষ্ঠানে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য এবং বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূতসহ দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০০৮ সালের পর থেকে স্বাধীনতা দিবসে এই ধরনের কুচকাওয়াজ বা প্যারেড প্রদর্শনী নিয়মিত আয়োজন করা হয়নি। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়কালেও স্বাধীনতা দিবসের এই ঐতিহ্যবাহী জাঁকজমকপূর্ণ প্যারেড বন্ধ ছিল, যদিও বিজয় দিবসে এটি আয়োজন করা হতো। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর ২৬ শে মার্চের এই রাষ্ট্রীয় প্যারেড পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেয়। এই আয়োজন সফল করতে পবিত্র রমজান মাসের শুরু থেকেই প্যারেড স্কয়ার মাঠে কঠোর অনুশীলন ও প্রস্তুতি শুরু হয় এবং গত মঙ্গলবার চূড়ান্ত মহড়ার মাধ্যমে প্রস্তুতির সমাপ্তি ঘটে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দীর্ঘ বিরতির পর স্বাধীনতা দিবসের এই জাঁকজমকপূর্ণ কুচকাওয়াজ জাতীয় ঐক্য ও সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা প্রদর্শনের ক্ষেত্রে এক নতুন মাইলফলক হয়ে থাকবে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং দেশপ্রেমের চেতনা জাগ্রত করতে এই ধরনের রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কুচকাওয়াজ শেষে বিভিন্ন বাহিনীর পক্ষ থেকে প্যারেড গ্রাউন্ডে তাদের রণকৌশল ও আধুনিক সরঞ্জাম প্রদর্শন করা হয়, যা উপস্থিত দর্শকদের বিমোহিত করে। মহান স্বাধীনতা দিবসের এই উৎসব প্যারেড ময়দান ছাড়িয়ে দেশজুড়ে এক নতুন প্রাণের সঞ্চার করেছে।


যথাযথ মর্যাদায় পালিত হচ্ছে মহান স্বাধীনতা দিবস: জাতীয় স্মৃতিসৌধে লাখো মানুষের ঢল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিনম্র শ্রদ্ধা, যথাযথ মর্যাদা আর গভীর ভালোবাসার মধ্য দিয়ে আজ পালিত হচ্ছে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। একাত্তরের সেই অকুতোভয় বীর শহীদদের স্মরণে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে আজ সকাল থেকেই নেমেছে সর্বস্তরের মানুষের উপচে পড়া ঢল। রাজনৈতিক নেতা, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে স্মৃতিসৌধ এলাকা এক বিশাল জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে। ফুলে ফুলে ভরে উঠেছে শহীদ বেদি, আর বাতাসের অনুরণিত হচ্ছে দেশাত্মবোধক গান ও বীরদের প্রতি কৃতজ্ঞতার সুর।

দিবসের শুরুতে ভোর ৬টার দিকে কুয়াশাভেজা সকালে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তারা কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন, যা এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে। এ সময় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় অভিবাদন প্রদান করে এবং বিউগলে বেজে ওঠে করুণ সুর। রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের নিয়ে পুনরায় শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে তাঁর প্রতিও গভীর শ্রদ্ধা জানান।

রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্মৃতিসৌধ এলাকা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। এরপর থেকেই ৮৪ একরজুড়ে বিস্তৃত এই স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে মানুষের স্রোত বাড়তে থাকে। ঢাকা ও এর আশপাশের এলাকা থেকে আসা হাজার হাজার মানুষ ব্যানার, ফেস্টুন আর লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা হাতে বীর সন্তানদের শ্রদ্ধা জানাতে ভিড় করেন। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এই জমায়েত এক বিশাল মিলনমেলায় রূপ নেয়। শহীদ বেদিতে ফুল দিতে আসা মানুষের কণ্ঠে ছিল অসাম্প্রদায়িক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় অঙ্গীকার।

এদিকে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি দলীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও সংসদ সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন এবং শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন। এছাড়া বিএনপি, জাতীয় পার্টিসহ দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, ছাত্র সংগঠন ও পেশাজীবী সংগঠনগুলো পৃথকভাবে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়।

বাঙালির ইতিহাসের এই গৌরবোজ্জ্বল দিনে সারা দেশে সরকারি ছুটি পালিত হচ্ছে। ১৯৭১ সালের এই ২৬শে মার্চেই জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে এ দেশের মুক্তিকামী মানুষ পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামের ডাক দিয়েছিল। দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৬ই ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয়ের মাধ্যমে অর্জিত হয় কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা। সেই স্বাধীনতার চেতনাকে বুকে ধারণ করে নতুন প্রজন্মকে একটি উন্নত ও বৈষম্যহীন দেশ উপহার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আজকের নেতৃবৃন্দ। মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।


স্বাধীনতা দিবসে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানালেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতির গৌরবময় ইতিহাসের অন্যতম অধ্যায় মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) ভোর ৬টায় তারা জাতীয় স্মৃতিসৌধে উপস্থিত হয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এ সময় সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত একটি চৌকস দল রাষ্ট্রীয় অভিবাদন জানায়। পরে প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রী পরিষদ সদস্যদের নিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের তথ্য অনুযায়ী, সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সেখান থেকে ঢাকা ফেরার সময় সকাল ৭টার মধ্যে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিস্থলে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন তিনি।

এরপর সকাল ৯টা ৪৫ মিনিট জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে ‘কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে’ মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন।

এদিকে, মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে দেশবাসীর জন্য বাণী দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাণীতে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণসহ প্রবাসে বসবাসরত সকল বাংলাদেশিকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে তিনি লিখেন, ২৬ মার্চ আমাদের জাতীয় জীবনের এক গৌরবময় ও ঐতিহাসিক দিন। এই দিনে আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি জাতির শ্রেষ্ঠ সূর্যসন্তানদের, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ। একই সঙ্গে আমি মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা, নির্যাতিতা মা, বোন ও স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মনিবেদিত সকলকে গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি এবং সকল শহীদের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।


শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া’র সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত শহীদ জিয়া’র মাজারে উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা জানান।

এরপর মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের নিয়ে সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিএনপি চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র পক্ষ থেকে দলের নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়ে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

পরে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সকল বীর সন্তানের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী।


৫ সচিবকে প্রত্যাহার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরে সচিব পদে বড় ধরনের পরিবর্তন করা হয়েছে। নতুন সরকারের ১২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে নতুন সচিব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে দায়িত্বে থাকা পাঁচজন সচিবকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বুধবার (২৫ মার্চ) রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা পৃথক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনের তথ্য অনুযায়ী, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব (চুক্তিভিত্তিক) ড. মো. নেয়ামত উল্লাহ ভুইয়াকে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য করা হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এস এম এবাদুর রহমানকে এক বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিকভাবে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরীন জাহানকে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলাকে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিব করা হয়েছে।

এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. দেলোয়ার হোসেনকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ফাহমিদা আখতারকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব কাজী আনোয়ার হোসেনকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) জাকারিয়াকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব করা হয়েছে। ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহা. রায়হান কাওছার পেয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্ব। খুলনার বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মো. মোখতার আহমেদকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয়েছে।

ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের এসডিএস (অতিরিক্ত সচিব) ইয়াসমীন পারভীনকে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং ওয়েজ আর্নার্স বোর্ডের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়াকে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) জাহেদা পারভীন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারক এবং বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের সচিব সিরাজুন নূর চৌধুরীকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।


প্রশাসনে বড় রদবদল, ১২ মন্ত্রণালয় ও বিভাগে নতুন সচিব নিয়োগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরে সচিব পদে বড় ধরনের পরিবর্তন করা হয়েছে। একসঙ্গে ১২ মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরে নতুন সচিব নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পদোন্নতি, বদলি ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে এসব পরিবর্তন করা হয়েছে।

বুধবার রাতে পৃথক প্রজ্ঞাপনে এসব সিদ্ধান্ত জানিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

সচিব পদে পদোন্নতি দিয়ে যাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তারা হলেন ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়াকে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব, ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের এসডিএস (অতিরিক্ত সচিব) ইয়াসমিন পারভীনকে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে, খুলনার বিভাগীয় কমিশনার মো. মোখতার আহমেদকে প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রায়হান কাওছারকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান জাকারিয়াকে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে, স্থানীয় সরকার বিভাগের অতিরিক্ত সচিব কাজী আনোয়ার হোসেনকে তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগে, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ফাহমিদা আখতারকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব দেলোয়ার হোসেনকে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব করা হয়েছে।

এ ছাড়া এসএম এবাদুর রহমানকে এক বছরের চুক্তিতে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

অপর দিকে সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলাকে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগে, বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব নাসরীন জাহানকে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়াকে পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য পদে বদলি করা হয়েছে। আর চারজন সচিবকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।


মহান স্বাধীনতা দিবস আজ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি

স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত লড়াই যেদিন শুরু হয়েছিল; সেই স্মৃতিময় ২৬ মার্চ আজ। বাঙালির গৌরবময় স্বাধীনতা দিবস ও জাতীয় দিবস। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ৫৫তম বার্ষিকী। ১৯৭১ সালের এই দিনে ৩০ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ এবং দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে অর্জিত হয় বহুল প্রত্যাশিত মহান স্বাধীনতা। বিশ্ব মানচিত্রে আত্মপ্রকাশ ঘটে নতুন রাষ্ট্র স্বাধীন বাংলাদেশের। তাইতো কবির ভাষায় গাইতে হয়- এক সাগর রক্তের বিনিময়ে, বাংলার স্বাধীনতা আনলে যারা আমরা তোমাদের ভুলব না। দুঃসহ বেদনার কন্টক পথ বেয়ে শোষণের নাগপাশ ছিঁড়লে যারা আমরা তোমাদের ভুলব না। নতুন স্বদেশ গড়ার পথে তোমরা চিরদিন দিশারী রবে, আমরা তোমাদের ভুলব না।

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ রাতে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান (পরবর্তীকালে রাষ্ট্রপতি) চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং পাকিস্তানি সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেন। চট্টগ্রামে তার অধীনস্থ বাঙালি সেনাদের সংগঠিত করে তিনি এই সশস্ত্র বিদ্রোহের সূচনা করেন। শুরু হয় স্বাধীনতার যুদ্ধ, মহান মুক্তিযুদ্ধ। স্বাধীনতা ঘোষণার পর জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বাংলার সর্বস্তরের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। ২৫ মার্চের কালরাতে শুরু হওয়া গণহত্যা চলতে থাকে মুক্তিযুদ্ধের পুরো সময়জুড়ে। দীর্ঘ নয় মাসের রক্তক্ষয়ী সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠা লাভ করে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।

পাকিস্তানের পশ্চিমা শাসকগোষ্ঠী তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের (বাংলাদেশের) জনগণের স্বাধিকারের দাবি কখনো মেনে নিতে পারেনি। ব্রিটিশ শাসনের অবসানে দ্বিজাতিতত্ত্বের। ভেতর দিয়ে ১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠা হয় পাকিস্তান রাষ্ট্র। শুরু থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানিরা সংখ্যাগরিষ্ঠ পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের ওপর শোষণ ও দমন-পীড়ন চালাতে থাকে। তাদের নীল নকশার প্রথম আঘাত আসে বাঙালির মাতৃভাষা বাংলার ওপর। ১৯৫২ সালে বুকের রক্ত দিয়ে জাতির বীর সন্তানরা মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠা করেন। তাদের এ আত্মদানের ভেতর দিয়ে জাতি উদ্বুদ্ধ হয়ে ওঠে স্বাধিকারের চেতনায়। ক্রমে তা রূপ নেয় স্বাধীনতা সংগ্রামে। মুক্তিকামী বাঙালিকে চিরতরে দমনের ঘৃণ্য ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে পশ্চিম পাকিস্তানের কতিপয় রাজনীতিবিদ ও সেনাবাহিনী।

আওয়ামী লীগ ১৯৭০ সালের নির্বাচনে জাতীয় পরিষদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও পাকিস্তানি সামরিক জান্তা ক্ষমতা হস্তান্তরে নানা টালবাহানা শুরু করে। বৈঠকের মাধ্যমে সময়ক্ষেপণ করে তারা নিরস্ত্র বাঙালি নিধনের গোপন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়। চলমান আন্দোলনের এক পর্যায়ে শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালের ২ মার্চ অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন এবং ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণে দীর্ঘ ২৩ বছরের শাসন-শোষণ থেকে মুক্তির লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তুলে ধরেন। সেই সঙ্গে ১৫ মার্চ থেকে ৩৫ দফা নির্দেশনা পালনের আহ্বান জানান। এতে পূর্ব বাংলায় বেসামরিক শাসনব্যবস্থা পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে পড়ে। ঢাকায় শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের আলোচনা চলতে থাকলেও তা প্রহসনে পরিণত হয়; আলোচনার নামে শাসকগোষ্ঠী কালক্ষেপণ করতে থাকে। একপর্যায়ে ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর নির্বিচারে বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস গণহত্যা চালায়। ‘অপারেশন সার্চলাইট’ ছিল বাঙালির একটি প্রজন্মকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার এক নারকীয় পরিকল্পনা। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে ‘পোড়া মাটি নীতি’ বাস্তবায়নে জেনারেল টিক্কা খান বলেছিলেন, ‘আমি পূর্ব পাকিস্তানের মাটি চাই, মানুষ চাই না’। ফলে বাঙালি জাতির জীবনে নেমে আসে বিভীষিকাময় ভয়াল কালরাত্রী—২৫ মার্চ, যা এক ভয়ংকর নিষ্ঠুরতার প্রতীক হয়ে আছে। অবশেষে লাখো শহীদের আত্মদানের পথ ধরে দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে ১৯৭১ সালে আসে কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা।

জাতি আজ সশ্রদ্ধচিত্তে স্মরণ করছে মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদদের, যাদের সর্বোচ্চ ত্যাগের বিনিময়ে এসেছে স্বাধীনতা, জন্ম হয়েছে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের।

কর্মসূচি: আজ সরকারি ছুটি। দিবসটি উপলক্ষে সরকারি ও রাজনৈতিক দলগুলো ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রত্যুষে সূর্যোদয়ের লগ্নে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি জাতির পক্ষে শ্রদ্ধা জানাবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শ্রদ্ধা জানাবেন জাতীয় সংসদের, ডেপুটি স্পিকার, চিফ হুইপ, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধারা, বিদেশি কূটনীতি­ রাজনীতিবিদসহ বিশিষ্টজনরা। এর পরই জাতির গৌরব আর অহংকারের এ দিনটিতে সৌধপ্রাঙ্গণে ঢল নামবে লাখো মানুষের। তাদের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় ফুলে ফুলে ভরে ওঠবে জাতীয় স্মৃতিসৌধ।

বিএনপির কর্মসূচি: ভোর ৬টায় নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ দেশব্যাপী বিএনপির সব দলীয় কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। পাশাপাশি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবরে প্রধানমন্ত্রীসহ জাতীয় নেতাসহ সর্বস্তরের নেতা-কর্মীরা শ্রদ্ধা নিবেদন ও ফাতেহা পাঠ করবেন। জাতীয়তাবাদী ওলামা দলের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল হবে।

এ ছাড়া মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আগামীকাল শুক্রবার দুপুর আড়াইটায় বিএনপির অলোচনা সভা হবে। সভায় প্রধান অতিথি থাকবেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে আয়োজিত ওই সভায় বিএনপির জাতীয় নেতাসহ দেশবরেণ্য ব্যক্তি উপস্থিত থাকবেন। এদিকে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের ১০ টাকা মূল্যমানের একটি স্মারক ডাকটিকিট উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি ১০ টাকা মূল্যমানের একটি উদ্বোধনী খাম, ৫ টাকা মূল্যমানের একটি ডাটাকার্ড এবং একটি বিশেষ সিলমোহর উদ্বোধন করেন। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৯টায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিজ দপ্তরে তিনি এগুলো উদ্বোধন করেন।


বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসে ভারতের রাষ্ট্রপতির শুভেচ্ছা বার্তা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু। বুধবার (২৫ মার্চ) ভারতীয় হাইকমিশন থেকে পাঠানো এক বার্তায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে শুভেচ্ছা জানান তিনি।

বার্তায় বলা হয়, ভারতের সরকার, জনগণ ও আমার নিজের পক্ষ থেকে আপনাদের জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আপনাকে এবং বাংলাদেশের বন্ধুত্বপূর্ণ জনগণকে আমি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি। ভারত ও বাংলাদেশ একটি অভিন্ন ইতিহাস, সুগভীর সাংস্কৃতিক সংযোগ ও দীর্ঘস্থায়ী ভাষাগত ঐতিহ্যের মাধ্যমে আবদ্ধ, যা আমাদের ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্বের ভিত্তিটিকে রূপদান করে।

শুভেচ্ছা বার্তায় বলা হয়, বছরের পর বছর ধরে আমরা সংযুক্তি, বাণিজ্য, উন্নয়ন অংশীদারত্ব, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ ও শিক্ষাসহ প্রধান খাতগুলোতে জনগণকেন্দ্রিক উন্নয়নকে অগ্রসর করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করে সীমান্তের উভয় পাশের নাগরিকদের কাছে বাস্তবিক সুফল পৌঁছে দিয়েছি।

শুভেচ্ছা বার্তায় আরও বলা হয়, ভারত আমাদের দ্বিপাক্ষিক অংশীদারত্বকে আরও সুদৃঢ় করার জন্য এবং আঞ্চলিক শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধিকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য আগ্রহী। অনুগ্রহ করে পুনরায় আমার সর্বোচ্চ বিবেচনার আশ্বাস এবং বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের প্রতি আন্তরিক শুভকামনা গ্রহণ করুন।


মহান স্বাধীনতা দিবস আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের চেতনাকে উজ্জীবিত করে: প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মহান স্বাধীনতা দিবস আমাদের জীবনে সাহস, আত্মত্যাগ ও দেশপ্রেমের চেতনাকে নতুন করে উজ্জীবিত করে।

‘মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস’ উপলক্ষে বুধবার (২৫ মার্চ) দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণসহ প্রবাসে বসবাসরত সকল বাংলাদেশিকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। সেই লক্ষ্য সামনে রেখে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে এবং দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘২৬ মার্চ আমাদের জাতীয় জীবনের এক গৌরবময় ও ঐতিহাসিক দিন। এই দিনে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি জাতির শ্রেষ্ঠ সূর্যসন্তানদের, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে পেয়েছি একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ। একই সঙ্গে আমি মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা, নির্যাতিত মা, বোন ও স্বাধীনতা সংগ্রামে আত্মনিবেদিত সকলকে গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি এবং সকল শহীদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের প্রিয় মাতৃভূমির অগ্রগতি ও উন্নয়নের ধারাকে আরও বেগবান করতে জাতীয় ঐক্য, পারস্পরিক সহনশীলতা এবং দেশপ্রেমের চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘আসুন, মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের তাৎপর্য থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরা সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশের কল্যাণে আত্মনিয়োগ করি। একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও মর্যাদাশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে আমরা সম্মিলিতভাবে কাজ করি।’

প্রধানমন্ত্রী মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সকল কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।


‘মুক্তিযুদ্ধের দেয়াল’ বানাল শিশুরা, আঁকল মুক্তিযুদ্ধের ছবি

রাজধানীর আগারগাঁওয়ের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রাঙ্গণে শিশু-কিশোরেরা বানিয়েছে ‘মুক্তিযুদ্ধের দেয়াল’। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক 

একদিকে শিশুরা তৈরি করছিল একটি দেয়াল। উপাদান-কাগজের বাক্স। নির্মাণ শেষে শিশুরা দেয়ালের সামনে দাঁড়ায়। তারপরে প্রতীকী গুলি। গুলির আঘাতে শিশুরা লুটিয়ে পড়ে মাটিতে। আরেক দিকে রং-তুলি দিয়ে শিশুদের কেউ আঁকছিল জাতীয় স্মৃতিসৌধ, কেউ রক্তিম সূর্য। আবার কেউবা সবুজ-শ্যামল বাংলাদেশের চিত্র। পরে শিশুদের আঁকা ছবিগুলো সাঁটানো হয় কাগজের বাক্স দিয়ে বানানো দেয়ালে।

বুধবার (২৫ মার্চ) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর প্রাঙ্গণে এমন দৃশ্য দেখা গেল। ঐকতান সংস্কৃতি চর্চাকেন্দ্রের সহযোগিতায় শিশু-কিশোরেরা মুক্তিযুদ্ধের ছবি এঁকে এই দেয়াল নির্মাণ করে। এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘মুক্তিযুদ্ধের দেয়াল’।

বাংলাদেশ গণহত্যা দিবস ও কালরাত্রি স্মরণে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর এ আয়োজন করেছে। আয়োজনে থাকছে দিনব্যাপী বিশেষ অনুষ্ঠানমালা।

শিশুদের নিয়ে আয়োজনের পাশে জাদুঘরের প্রাঙ্গণজুড়ে বসানো হয়েছে কাগজ দিয়ে বানানো সাদা পাখি। শান্তির বার্তা দিতে এই পাখিদের রং সাদা। কোনো পাখির গায়ে রক্তের মতো লাল রঙের ছাপ। যেন পাখির ডানা থেকে রক্ত ঝরছে।

কালো ব্যাজের ওপর পাখিগুলো বসানো হয়েছে। এই দৃশ্য মনে করিয়ে দিচ্ছে, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের কালরাত্রির সেই ভয়াল স্মৃতি। সেদিন গুলি করে নির্বিচার পাখির মতো মানুষ হত্যা করেছিল পাকিস্তানি বাহিনী।

আয়োজকেরা জানিয়েছেন, সন্ধ্যায় এই পাখিদের মাঝে জ্বালানো হবে মোমবাতি। তারা বার্তা দিতে চান, যতই ঝড় আসুক, আলো জ্বলবেই।

আয়োজনে অংশ নেওয়া শিশুদের একজন আদি মদোক প্রভু। তার বয়স ৬ বছর। সে ঐকতান সাংস্কৃতি চর্চাকেন্দ্রের শিক্ষার্থী। সে আঁকছিল জাতীয় স্মৃতিসৌধের ছবি।

শিশুদের চিত্রাঙ্কন পরিদর্শনে এসে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক বলেন, শিশুরা ছবি আঁকছে। মুক্তির দেয়াল, স্বাধীনতার দেয়াল তৈরি করছে। এই ছবিগুলো যখন একটার পর একটা বাক্সের মধ্যে বসানো হবে, তখন অন্য রকম শক্তির বার্তা দেবে। শিশুরা মুক্তিযুদ্ধ দেখেনি। তবে এই দেয়াল তাদের মনস্তত্ত্বে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি এনে দেবে।

শিশুদের নির্মাণ করা এই দেয়াল আগামী এক সপ্তাহ প্রদর্শন করবে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর।

শিশুদের কাজে সহযোগিতা করছিলেন ঐকতান সাংস্কৃতি চর্চাকেন্দ্রের সাবেক শিক্ষার্থী নিরুপমা চক্রবর্তী। তিনি এখন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন। তিনি বলেন, এখানে এসে শিশুদের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে পুরোনো স্মৃতি মনে পড়ল তার। শিশুদের মনস্তত্ত্বে এই কাজগুলোর ছাপ সবসময় থেকে যায়।

শিশুরা যাতে আনন্দের সঙ্গে সহজে মুক্তিযুদ্ধকে বুঝতে পারে, সে জন্য এই আয়োজন বলে জানালেন ঐকতান সাংস্কৃতি চর্চাকেন্দ্রের শিক্ষক সঞ্জয় দাস। তিনি বলেন, শিশুরা জানে না ‘৭১ কী, যুদ্ধ কী, বীরাঙ্গনা কী, লাখ লাখ শহীদের আত্মত্যাগ কী। তাই শিশুদের সহজ ভাষায়, সহজ কাজে, সরল পথে, সত্য বলে মুক্তিযুদ্ধ বোঝাতেই এই দেয়াল নির্মাণ’।

আয়োজনে ঐকতানসহ কয়েকটি সংগঠনের ৩০ জন শিশু-কিশোর অংশ নিয়েছে বলে জানালেন সঞ্জয় দাস। তিনি বলেন, দেয়াল নির্মাণ শেষে শিশুরা জাদুঘর ঘুরে দেখবে। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে জানবে।

আয়োজনের অংশ হিসেবে বিকেল ৪টায় জাদুঘর মিলনায়তনে ‘রিমেম্বারিং দ্য ১৯৭১ জেনোসাইড: মেমোরি, ডিনায়াল অ্যান্ড লেসন্স’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হবে। এ ছাড়া প্যানেল আলোচনা এবং সংগীত ও আবৃত্তি পরিবেশন করা হবে। আলোচনায় অংশ নেবেন তরুণ গবেষকেরা। সংগীত ও আবৃত্তি পরিবেশন করবে যথাক্রমে সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী ও মুক্তধারা আবৃত্তি চর্চাকেন্দ্র।


এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শিক্ষার্থীদের সময় অপচয় কমাতে পাবলিক পরীক্ষার সময়সূচিতে বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন থেকে মূল্যবান সময় সাশ্রয় করতে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা প্রতি বছর ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন করার সম্ভাব্যতা যাচাইসহ একগুচ্ছ সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়ার বিষয়ে কাজ করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।

বুধবার (২৫ মার্চ) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে দশম শ্রেণি শেষের পর পরবর্তী বছরে এসএসসি এবং একইভাবে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ থাকায় শিক্ষার্থীদের প্রায় দুই বছর সময় ব্যয় হয়, যা ব্যক্তি ও জাতীয় পর্যায়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই পরিস্থিতি বদলাতে বছরের শেষের মধ্যেই পরীক্ষা সম্পন্ন করার বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।

সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় দেশের সব শিক্ষা বোর্ডে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হবে। পরীক্ষার স্বচ্ছতা বাড়াতে প্রতিটি কক্ষে বাধ্যতামূলকভাবে সিসিটিভি স্থাপনের বিষয়েও আলোচনা হয়। আসন্ন এসএসসি পরীক্ষার কেন্দ্রগুলোর বাস্তব অবস্থা যাচাই করতে শিক্ষা বোর্ড চেয়ারম্যানদের নিজে বা প্রতিনিধির মাধ্যমে পরিদর্শন করে বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নকল ও অনিয়ম রোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করা হয়েছে। ২০২৩ সালের এসএসসি পরীক্ষায় নীলফামারীর ডিমলায় খগাখড়িবাড়ি দ্বিমুখী উচ্চবিদ্যালয় কেন্দ্রের অনিয়মের ঘটনায় কেন্দ্র সচিবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বিলম্বের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে নথিপত্র তলব করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এমন অনিয়ম প্রতিরোধে সরকার কঠোর অবস্থানে থাকবে বলেও জানানো হয়। এছাড়া এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় বিষয় সংখ্যা কমানোর সম্ভাবনা যাচাইয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, "শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে নকলমুক্ত পরিবেশের কোনো বিকল্প নেই। অতীতে শিক্ষকদের সক্রিয় অংশগ্রহণে যেভাবে নকল প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছিল, আগামীতেও সেই ধারা বজায় থাকবে।" তিনি আরও বলেন, বিভাগীয় শহরগুলোতে কেন্দ্র সচিব ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময়ের মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু পরীক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলামসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানরা উপস্থিত ছিলেন।


নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পদ্মায় যাত্রীবাহী বাস, ২ জনের মরদেহ উদ্ধার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
রাজবাড়ী প্রতিনিধি

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে ফেরিতে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে তলিয়ে যাওয়ার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। কুষ্টিয়া থেকে ঢাকাগামী ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’ নামক বাসটি পন্টুন দিয়ে ওঠার সময় এই দুর্ঘটনার শিকার হয়।

বুধবার (২৫ মার্চ) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত নদী থেকে দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ নিশ্চিত করেছে।

নিহতদের পরিচয় প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার ভয়াবহতা সম্পর্কে জেলার সিভিল সার্জন ডা. এস এম মাসুদ গণমাধ্যমকে জানান, “দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে।”

দুর্ঘটনা কবলিত বাসটিতে অন্তত ৪৫ জন যাত্রী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনার পর তাৎক্ষণিকভাবে ১১ জন যাত্রী সাঁতরে পাড়ে উঠতে সক্ষম হলেও বাকিদের বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফেরার পথে এই অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার কবলে পড়েন যাত্রীরা। বাসটি পন্টুনে ওঠার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মুহূর্তের মধ্যেই গভীর পানিতে তলিয়ে যায় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

খবর পাওয়ার পর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ এবং ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা জানান, “বাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে যাওয়ার খবর পেয়ে দৌলতদিয়া ও পাটুরিয়া ইউনিটের ডুবুরি দল উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা কাজ করছে, তবে এখন পর্যন্ত পানির নিচ থেকে বাসটি শনাক্ত বা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।”

বর্তমানে ঘটনাস্থলে স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. হারুন-অর-রশিদ, জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোরশেদসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে উদ্ধার কার্যক্রম তদারকি করছেন। পানির গভীরতা বেশি হওয়ায় ডুবুরিদের তল্লাশি চালাতে বেগ পেতে হচ্ছে বলে জানা গেছে। নিখোঁজ যাত্রীদের সন্ধানে স্বজনদের আহাজারিতে বর্তমানে ঘাট এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে।


পুলিশের চার এএসপি―কে চাকরি থেকে অপসারণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ পুলিশের ৪ জন শিক্ষানবিশ সহকারী পুলিশ সুপারকে (এএসপি) চাকরি থেকে অপসারণ করা হয়েছে। বুধবার (২৫ মার্চ) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এই প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেছেন জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব তৌছিফ আহমেদ।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে জনস্বার্থে এই আদেশ জারি করা হয়েছে এবং এটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

তবে ঠিক কী কারণে বা কোন সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে এই ৪ কর্মকর্তাকে অপসারণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে সরকারিভাবে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।


banner close