রোববার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৯ ভাদ্র ১৪৩৩

সেপ্টেম্বরে ১৯২ কোটি টাকার চোরাচালান জব্দ: বিজিবি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৩ অক্টোবর, ২০২৩ ১৯:৫০

সেপ্টেম্বর মাসে দেশের সীমান্তসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ১৯২ কোটি ৪৭ লাখ ৯৮ হাজার টাকা মূল্যের বিভিন্ন প্রকার চোরাচালান পণ্যসামগ্রী এবং অস্ত্র ও গোলাবারুদ জব্দ করেছে বিজিবি।

সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম জানান, জব্দ চোরাচালান দ্রব্যের মধ্যে রয়েছে— ৩১ কেজি ১৯ গ্রাম স্বর্ণ, ২৬ কেজি ৭০৬ গ্রাম রূপা, ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৪৬৮ পিস কসমেটিক্স সামগ্রী, ১৯ হাজার ৫৬ পিস ইমিটেশন গহনা, ২৪ হাজার ৩১২টি শাড়ি, ১০ হাজার ৮০৬ থ্রিপিস, শার্টপিস, চাদর ও কম্বল, ১ হাজার ৭২০ ঘনফুট কাঠ, ৬ হাজার ৫৩৫ কেজি চা পাতা, ১ লাখ ১৮ হাজার ৯১০ কেজি কয়লা, ১১টি কষ্টি পাথরের মূর্তি, ৩টি ট্রাক, ৫টি পিকআপ, ৬টি প্রাইভেটকার, ৪টি চাঁন্দের গাড়ি, ৩৫টি সিএনজি ও ইজিবাইক এবং ৮৭টি মোটরসাইকেল।

অভিযানকালে ৪টি পিস্তল, বিভিন্ন প্রকার গান ৯টি, ম্যাগজিন ৭টি এবং ২৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে।

এছাড়া গত মাসে বিপুল পরিমাণ মাদক ও নেশাজাতীয় দ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৮ লাখ ৬৯ হাজার ৫৫৭ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১০ কেজি ৯৯১ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ আইস, ৩০ কেজি ৪১৫ গ্রাম হেরোইন, ১১ হাজার ৭০৬ বোতল ফেনসিডিল, ২৩ হাজার ৮৩৯ বোতল বিদেশি মদ, ৬৪১ লিটার বাংলা মদ, ৫ হাজার ৭১৯ ক্যান বিয়ার, ১ হাজার ২১২ কেজি গাঁজা, ৪ লাখ ৫৩ হাজার ১০৬ প্যাকেট বিড়ি ও সিগারেট, ৩৫ হাজার ৬৭৮টি নেশাজাতীয় ইনজেকশন, ৪ হাজার ১০৭টি ইস্কাফ সিরাপ, ৩ কেজি ৮ গ্রাম কোকেন, ২ হাজার ৭৪৪ বোতল এমকেডিল বা কফিডিল, ২ হাজার ৮০২টি অ্যানেগ্রা বা সেনেগ্রা ট্যাবলেট, ১৪ লাখ ৩৩ হাজার ১০৬ পিস বিভিন্ন প্রকার ওষুধ এবং ১ হাজার ৪৪৮টি অন্যান্য ট্যাবলেট রয়েছে।

বিষয়:

নির্বাচিত

বেকারি পণ্যের দাম ২০ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা, বাজারে ৫০ শতাংশের ধাক্কা

# কোথাও কমছে ওজন, কোথাও সরবরাহ # সামনে আরও দাম বাড়ার শঙ্কা # অস্তিত্ব সংকটে ক্ষুদ্র বেকারি
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

১০ টাকার পাউরুটি ১৫ টাকা। ১৫ টাকারটি ২০ টাকা। ২০ টাকার পাউরুটির দাম ঠেকেছে ২৫ টাকায়। শুধু পাউরুটি নয়, বিস্কুট, কেকসহ প্রায় সব ধরনের বেকারি পণ্যের দামই এখন বাড়তি। অথচ সংশ্লিষ্ট সমিতির ঘোষণা ছিল, দাম বাড়বে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ। বাস্তবে সেই ঘোষণার সীমা ছাড়িয়ে কোথাও ৩০, কোথাও ৪০, এমনকি ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে বেকারি পণ্য। মূল্যস্ফীতির চাপে যখন সাধারণ মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন তুলনামূলক সাশ্রয়ী হিসেবে পরিচিত পাউরুটি, বিস্কুট ও কেকের বাজারেও শুরু হয়েছে নতুন চাপ। অনেক পরিবারের কাছে এখন পাউরুটি আর শুধু নাশতার খাবার নয়; এটি হয়ে উঠেছে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার অংশ। ফলে এসব পণ্যের দাম বাড়ার প্রভাবও সরাসরি পড়ছে সংসারের বাজেটে।

বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট অ্যান্ড কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি চিনির দাম প্রতি কেজিতে বেড়েছে ১৫ টাকা। আটা-ময়দায় বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকা, ভোজ্যতেলে ৫ টাকা এবং ডালডায় প্রতি কার্টনে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লাইন গ্যাসের সংকট।

গ্যাস না থাকায় অনেক বেকারিকে বাড়তি দামে এলপিজি কিনে উৎপাদন চালাতে হচ্ছে। একই সঙ্গে ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের দাম বাড়ায় ওভেন, মিক্সারসহ বিভিন্ন যন্ত্র চালানোর খরচও বেড়েছে। এসব কারণ দেখিয়ে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে বেকারি পণ্যের দাম ২০ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা দেয় সমিতি। কিন্তু বাজারে সেই ঘোষণার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বরং অনেক ক্ষেত্রেই ঘোষিত হারের চেয়ে বেশি দাম নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান আবার দাম না বাড়িয়ে পণ্যের আকার বা ওজন কমিয়ে দিয়েছে। এতে একই দামে কম পণ্য পাচ্ছেন ক্রেতারা।

দাম বাড়ার পাশাপাশি নতুন করে দেখা দিয়েছে সরবরাহ সংকট। কয়েকটি বেকারি গত কয়েক দিন ধরে দোকানে পণ্য সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন খুচরা বিক্রেতারা।

পুরানা পল্টনের টং দোকানি রাইসুল মিয়া বলেন, ‘১০ টাকার ব্রেড ১৫ টাকা, ১৫ টাকারটা ২০ টাকা এবং ২০ টাকার ব্রেড এখন ২৫ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। গত পাঁচ দিন ধরে কোম্পানির সরবরাহ কমে যাওয়ায় দোকানে ব্র্যান্ডের পণ্যই বেশি রাখতে হচ্ছে।’

অর্থাৎ একদিকে দাম বাড়ছে, অন্যদিকে পছন্দের বা নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের পণ্যও সব সময় পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে ক্রেতাদের বাড়তি দাম দিয়েই পণ্য কিনতে হচ্ছে।

বেকারি পণ্যের দাম বাড়ার সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি লাগছে দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবনে। তেজগাঁওয়ের রিকশাচালক তমিজউদ্দিন বলেন, ‘সারাদিন রিকশা চালিয়ে ভারী খাবারের বদলে রুটি-কলা খেয়েই দিন পার করি। আগে যা খরচ হতো, এখন দিনে তিনবার রুটি-কলা খেতেই বাড়তি ৩০ থেকে ৪০ টাকা চলে যাচ্ছে। আমাদের মতো মানুষের পেটে টান পড়ছে।’

বেসরকারি হাসপাতালের চাকরিজীবী জুয়েল রানার হিসাবও একই রকম। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন ব্রেড, বিস্কুট, কেক খেয়ে ৩০ টাকা করে বাড়তি খরচ হলে মাস শেষে তা প্রায় হাজার টাকায় গিয়ে দাঁড়ায়, যা আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বড় চাপ।’ ছোট ছোট বাড়তি খরচ মিলিয়েই যে মাসের বাজেটে বড় ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, তাদের কথায় সেটিই স্পষ্ট।

শুধু ভোক্তারাই চাপে নেই। উৎপাদন ব্যয় সামলাতে গিয়ে অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে ক্ষুদ্র বেকারি শিল্পও।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের বেকারি শিল্পের সিংহভাগই অসংগঠিত ও হস্তচালিত। সারাদেশে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৭ হাজার বেকারি কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকাতেই রয়েছে প্রায় ৭০০টি। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ খাতের সঙ্গে জড়িত লক্ষাধিক শ্রমিক ও কর্মী।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট এবং মাত্রাতিরিক্ত উৎপাদন ব্যয়ের কারণে ইতোমধ্যে ৫০০ থেকে ৬০০ ক্ষুদ্র বেকারি কারখানা বন্ধের ঝুঁকিতে রয়েছে।

ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে, কারণ বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মতো তাদের উৎপাদন ব্যয় কমানোর সুযোগ সীমিত। ফলে কাঁচামাল থেকে জ্বালানি—প্রতিটি স্তরে ব্যয় বাড়লে তার চাপ গিয়ে পড়ে পণ্যের দামে।

তবে বাজারে ঘোষিত ২০ শতাংশের চেয়ে বেশি দাম নেওয়ার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করছে না সংশ্লিষ্ট সংগঠন। বরং কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সুযোগটি কাজে লাগাচ্ছে বলে স্বীকার করেছেন সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন।

তিনি বলেন, ‘কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এই সুযোগে বাড়তি মুনাফা নেওয়ার চেষ্টা করছে। আবার কিছু দোকানি আমাদের সমিতিকে বিব্রত করতে ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। নির্ধারিত ২০ শতাংশের বেশি দাম যাতে কেউ না নিতে পারে, সেজন্য আমরা মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করছি।’

অর্থাৎ উৎপাদন খরচ বেড়েছে—এটি যেমন বাস্তবতা, তেমনি সেই সুযোগে অস্বাভাবিক মুনাফা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। আর এই দুইয়ের মাঝখানে পড়ে সবচেয়ে বেশি চাপ সামলাতে হচ্ছে ভোক্তাকেই।

বেকারি শিল্পের জন্য উদ্বেগের আরেকটি কারণ সামনে থাকা নতুন ব্যয়। সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন জানান, ময়দার মিল মালিকরা প্রতি বস্তায় আরও ১০০ টাকা দাম বাড়িয়েছেন। ফলে বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির রেশ কাটার আগেই নতুন করে দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এতে প্রশ্ন উঠেছে—২০ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণাই যেখানে বাজারে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশের ধাক্কায় পরিণত হয়েছে, সেখানে কাঁচামালের নতুন মূল্যবৃদ্ধির চাপ শেষ পর্যন্ত গিয়ে কোথায় ঠেকবে?

বেকারি পণ্য এখন আর কেবল নাশতা বা বিলাসী খাবার নয়। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের বহু পরিবারের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় এর জায়গা তৈরি হয়েছে। তাই এই বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি শুধু একটি শিল্পের উৎপাদন ব্যয়ের বিষয় নয়; এটি সরাসরি জড়িয়ে গেছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে।

ঘোষণায় ২০ শতাংশ, বাজারে ৫০ শতাংশ—এই ফারাক বন্ধে কার্যকর নজরদারি না হলে বেকারি পণ্যের বাড়তি দাম শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের খাবারের তালিকাকেই আরও ব্যয়বহুল করে তুলবে।


নির্বাচিত

ঝরে পড়া রোধে বিনামূল্যে শিক্ষা উপকরণ দিচ্ছে সরকার: খাদ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:২৩
মো. আজিজুল হাকিম, মানিকগঞ্জ

খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের ঝড়ে পড়া রোধে সরকার বিনামূল্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করছেন এবং খুদে শিক্ষার্থীরা যাতে দুপুরে টিফিন পায়, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সরকার বিএনপি দেশের জনগণের জন্য শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করতে কাজ করছে যাচ্ছে। যে শিক্ষার মাধ্যমে সামাজিক, মানবিক ও জবাবদিহিকতা মূলক সমাজ গড়তে পারব। কারণ শিক্ষা ব্যবস্থার যত উন্নত হবে, দেশ সামনের দিকে তত এগিয়ে যাবে।

রোববার দুপুরে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত খুদে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ (স্কুল পোশাক, স্কুল ব্যাগ) বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের কোনো শিক্ষার্থী যেন অর্থের অভাবে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে সরকার কাজ করছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসচ্ছল পরিবারের সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। শিক্ষার মান যত উন্নত হবে ততই দেশ এগিয়ে যাবে। মানবিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। সুন্দর শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ করাও সরকারের দায়িত্ব।

খাদ্যমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইনির্ভর শিক্ষা দিলেই হবে না। তাদের নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুশিক্ষিত ও দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পরিবার, শিক্ষক ও রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের আন্তরিকতার সঙ্গে পাঠদান এবং শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে ভূমিকা রাখতে হবে।

এ সময় জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোকুল চন্দ্র নাথ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী নাসরিন ও স্কুল পরিচালনা কমিটির সাবেক সদস্য মো. ফরিদ হোসেনসহ স্থানীয় নেতাকর্মী, বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

জিয়াউর রহমানকে গুলি করেন কর্নেল মতিউর, দুদিন আগে চট্টগ্রাম যান এরশাদ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে সরাসরি গুলি করেছিলেন সেনাবাহিনীর তৎকালীন লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মতিউর রহমান এবং ওই হত্যাকাণ্ডের দুই দিন আগে তৎকালীন সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন গ্রেপ্তারকৃত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় দিনভর জিজ্ঞাসাবাদের পর রবিবার বিকেলে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা।

প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা জানান, রবিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় মোজাফফর হোসেনকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং সোমবারও (১৪ সেপ্টেম্বর) তাঁকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাতে তিনি জানান, ১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার আগে ওই বছরের ২৮ মে তৎকালীন সেনাপ্রধান এরশাদ হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে মতিউর রহমানই জিয়াউর রহমানকে লক্ষ্য করে গুলি চালান।

১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোররাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তার হাতে নির্মমভাবে নিহত হন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ঐতিহাসিক এই হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৪৫ বছর পর গত ১৫ জুলাই রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায়ও মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ওই মামলায় গত ২৩ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁকে দুই দিনের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছিলেন। প্রসিকিউটর জানান, জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধ—উভয় বিষয়ের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখতেই তাঁকে এই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।


নির্বাচিত

সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশের তদন্ত সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই: আইজিপি

রাজধানীর মিরপুরে পুলিশ স্টাফ কলেজে সাইবার অপরাধ মামলা তদন্তসংক্রান্ত ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স (টিওটি) কোর্সের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আইজিপি। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ক্রমবর্ধমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ ও উদ্ঘাটনে পুলিশ সদস্যদের আধুনিক প্রযুক্তিগত জ্ঞান এবং তদন্ত সক্ষমতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। রবিবার সকালে রাজধানীর মিরপুরে পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশে আয়োজিত সাইবার অপরাধ মামলা তদন্তবিষয়ক বিশেষ ‘ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স’ (টিওটি) কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

আইজিপি উল্লেখ করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিপফেক প্রযুক্তি, এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ এবং ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের মতো আধুনিক আবিষ্কারগুলো জীবনযাত্রাকে সহজ করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য নিত্যনতুন বহুমুখী চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। এসব প্রযুক্তির অপপ্রয়োগের মাধ্যমে সাইবার অপরাধীরা আর্থিক জালিয়াতি, তথ্য চুরি, হ্যাকিং, ডিজিটাল চাঁদাবাজি এবং অনলাইনে হেনস্তার মতো মারাত্মক অপরাধ ঘটাচ্ছে। এই বাস্তবতায় অপরাধ দমনে পুলিশি কৌশলে যুগোপযোগী রূপান্তর এবং সাইবার তদন্তে আধুনিক সক্ষমতা অর্জন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।

প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে আইজিপি বলেন, ‘এ কোর্সের মাধ্যমে আপনারা শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করবেন না, একই সঙ্গে প্রশিক্ষণ প্রদান ও যোগাযোগ দক্ষতা অর্জনেও সক্ষম হবেন। প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা অন্য তদন্তকারীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে।’ তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই কোর্সের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে সহকর্মীদের দক্ষ করে তুলতে পারলে দেশে কার্যকর সাইবার তদন্তকারীর সংখ্যা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে এ ধরনের বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ মডিউল ও কারিকুলাম নিয়মিতভাবে হালনাগাদ করার ওপর জোর দেন তিনি।

পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশের রেক্টর ও অতিরিক্ত আইজিপি কাজী মো. ফজলুল করিমের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ডিআইজি (ট্রেনিং) মো. একরামুল হাবিব এবং প্রশিক্ষণের সার্বিক রূপরেখা ও রোডম্যাপ উপস্থাপন করেন অতিরিক্ত ডিআইজি ড. মোছা. শেহেলা পারভীন। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের প্রশিক্ষণ শাখার সহযোগিতায় পরিচালিত এই ১০ দিনব্যাপী কোর্সে অংশ নেওয়া ৩৩২ জন কর্মকর্তা পরবর্তীতে মাঠপর্যায়ের সাইবার তদন্তকারীদের দক্ষ করে তোলার দায়িত্ব পালন করবেন।


নির্বাচিত

সরকার নাগরিকের বাক-স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত সুরক্ষার বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের একটি প্রতিনিধিদল সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ’র সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সরকার নাগরিকের বাক-স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত সুরক্ষার বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ সাপেক্ষে প্রতিটি নাগরিকের মতপ্রকাশ ও গঠনমূলক সমালোচনার অধিকার রয়েছে। তবে গঠনমূলক সমালোচনা আর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে চরিত্রহনন এক নয়।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ’র সঙ্গে আজ দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার অফিস কক্ষে আন্তর্জাতিক রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) একটি প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন মন্ত্রী ।

আইআরআই’র রেসিডেন্ট প্রোগ্রাম ডিরেক্টর জন ফ্লুহার্টি’র নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খান, আইআরআই’র টেকনিক্যাল এডভাইজার রুকসানা হক এবং তরুণ রাজনীতিবিদ ও আইআরআই প্রশিক্ষণার্থী চামন ফারিয়া ও মোহাম্মদ প্রিন্স।

বৈঠকে সাইবার অপরাধ ও অনলাইন বুলিং প্রতিরোধ এবং প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন ২০২৬ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

সাক্ষাৎকালে আইআরআই’র রেসিডেন্ট প্রোগ্রাম ডিরেক্টর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তাদের চলমান যুব নেতৃত্ব গঠন ও সহিংসতামুক্ত রাজনৈতিক চর্চা সংক্রান্ত কর্মসূচির কথা অবহিত করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের তরুণ সমাজ ও রাজনৈতিক কর্মীরা বর্তমানে সাইবার বুলিং এবং সংগঠিত অপপ্রচারের কারণে হয়রানি ও মানহানির শিকার হচ্ছেন। তিনি এই ক্ষেত্রে সরকারি ও বিরোধী দলগুলোর জন্য একটি সর্বসম্মত নীতি ও আইনগত সুরক্ষার আহ্বান জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিনিধিদলকে আশ্বস্ত করে বলেন, সরকার নাগরিকের বাক-স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষার বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন।

সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন পরিমার্জনের ক্ষেত্রে গত দুই মাস ধরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, সিনিয়র সম্পাদক এবং সুশীল সমাজের অংশীজনদের মতামত গ্রহণ করা হচ্ছে। আইনটির মূল লক্ষ্য হবে ডিজিটাল স্পেসে শালীনতা ফিরিয়ে আনা, নারী ও তরুণদের সাইবার বুলিং থেকে রক্ষা করা এবং একই সাথে সাংবাদিকদের পেশাগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা যাতে আইনের কোনো ধরনের অপব্যবহার না ঘটে।

মন্ত্রী সহিংসতামুক্ত রাজনৈতিক পরিবেশ এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা সুসংহত করতে সরকার আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় অংশীজনদের ইতিবাচক পরামর্শ সাদরে গ্রহণ করবে বলে জানান।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে শেভরনকে বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন শেভরনের বেস অ্যাসেটস জাভিয়ার লা রোসার নেতৃত্বে প্রতিনিধিদল। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার ও ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্রের পাশাপাশি নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক জ্বালানি কোম্পানি শেভরনকে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ রোববার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শেভরনের বেস অ্যাসেটস ও উদীয়মান দেশবিষয়ক প্রেসিডেন্ট জাভিয়ার লা রোসার নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, সাক্ষাতে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে দেশে বিদ্যমান ও পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে শেভরনের বিনিয়োগের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, শেভরন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শু শিয়ংসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই : এলজিআরডি মন্ত্রী

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান রোববার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এবং জনগণের অংশগ্রহণ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।

তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের ভিত্তি তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী না হলে রাষ্ট্রের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক কাঠামো সুদৃঢ় করা সম্ভব নয়।’

আজ রোববার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন।

সাক্ষাৎকালে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মতো বিপুল জনসংখ্যার দেশে জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে শক্তিশালী ও কার্যকর স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

ড. আবদুল মঈন খান বলেন, স্থানীয় সরকারকে সত্যিকার অর্থে কার্যকর ও শক্তিশালী করতে প্রকৃত বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। স্থানীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও জনগণের অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব। একই সঙ্গে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বদ্ধপরিকর বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার, গণতন্ত্র ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলাসহ নানা দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে আলোচনা হয়।

সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলি দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা ও জনগণের কাছে জবাবদিহি বৃদ্ধি এবং নারী ক্ষমতায়নের মতো ক্ষেত্রে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, বৈঠকে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি গণতন্ত্র সুদৃঢ় করার নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ কওে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়ে দুই পক্ষ একমত পোষণ করেছে।

তিনি আরও বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারীদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

দেশের সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে: ডা. জুবাইদা রহমান

ডা. জুবাইদা রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। আজ রবিবার রাজধানীর নভোথিয়েটারে আয়োজিত ‘সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে। স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া কোনো সুবিধা নয়; এটি দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার।’

বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডা. জুবাইদা রহমান উল্লেখ করেন যে, মশাবাহিত এই রোগ প্রতিরোধে রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপের পাশাপাশি সাধারণ জনগণের ব্যক্তিগত পর্যায়ের পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় সমাজের সকল স্তরের মানুষকে সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানান। এ ছাড়া সামগ্রিক জাতীয় অগ্রগতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিটি প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে স্বচ্ছতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘সবক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারলেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব’।


নির্বাচিত

প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফরের নতুন তারিখ ঘোষণা

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফেনী জেলা সফরের পূর্বনির্ধারিত সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বরের পরিবর্তে পুনর্নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী তিনি আগামী ১ অক্টোবর ফেনী সফরে যাবেন। রবিবার দুপুরে ফেনীর জেলা প্রশাসক মো. মাহবুবুল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জেলা প্রশাসক জানান, সরকারপ্রধানের এই গুরুত্বপূর্ণ সফরকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা, ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বিশুদ্ধ পানীয় জলের সংস্থান এবং উন্নত স্যানিটেশনসহ আনুষঙ্গিক যাবতীয় ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন দপ্তর সমন্বিতভাবে নিরবচ্ছিন্ন কাজ করে যাচ্ছে। আগামী ১ অক্টোবরের আগেই সফরের যাবতীয় আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শতভাগ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এদিকে সফরের তারিখ পেছানো হলেও প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে জেলার পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলাজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতিমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে। এই সফরকালে প্রধানমন্ত্রী পরশুরামে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) সম্প্রতি অনুমোদিত ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা ব্যয়ের ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প’-এর আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন করবেন। দীর্ঘপ্রতীক্ষিত এই বাঁধ ও নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলে নদী অববাহিকার বিস্তীর্ণ জনপদের দীর্ঘদিনের বন্যা ও স্থায়ী জলাবদ্ধতার ভোগান্তি থেকে মুক্তি মিলবে।


নির্বাচিত

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিতে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন (ইসি) গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। রবিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের বিধিমালা এবং প্রার্থীদের যোগ্য-অযোগ্যতাটা তৈরি করে নির্বাচন কমিশন। এখন নির্বাচন কমিশন আমাদের আইন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা, সবকিছু নিয়ে ঠিক করবে যে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন, কি পারবেন না।’

স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার মানদণ্ড প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ক্ষেত্রে প্রার্থীদের জন্য কোনো ধরনের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতার আইনি বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। এর আগে সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেতো রেংগলির এক সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রতিমন্ত্রী নিজেও উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

রাজধানীতে প্রতিদিন গড়ে ৫০০ গ্রেপ্তারেও বেপরোয়া মাদক কারবারিরা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীতে মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান চালিয়েও থামানো যাচ্ছে না মাদক কারবার। প্রতিদিন গড়ে পাঁচ শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করছে পুলিশ।

টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হলেও বিভিন্ন এলাকায় প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে ইয়াবা, হেরোইনসহ নানা ধরনের মাদক। পুলিশের হিসাবে, গত এক মাসে বিভিন্ন অভিযোগে ১৫ হাজারের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রয়েছে মাদক কারবারিও।

ডিএমপি সদর দপ্তর সূত্র জানায়, শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৫৪২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রমনা বিভাগে ২২ জন, লালবাগে ২৮, ওয়ারীতে ৬০, মতিঝিলে ৫২, তেজগাঁওয়ে ৯১, মিরপুরে ১৯৩, গুলশানে ৪১, উত্তরা বিভাগে ৪২, গোয়েন্দা বিভাগে ১২ এবং সিটিটিসিতে একজন রয়েছে। এ সময় ৫১টি মামলা করা হয়।

ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন জানান, অভিযানে তিন হাজার ২৯১টি ইয়াবা, ৪৫ কেজি ৪৯০ গ্রাম গাঁজা, একটি শটগানসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীতে চার শতাধিক শীর্ষ মাদক কারবারি রয়েছে। তারা বিভিন্ন এলাকায় মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ করে। তালিকা করে তাদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

পুলিশের তালিকায় থাকা শীর্ষ মাদক কারবারি মো. দিলদার ও তার সহযোগী শাকিরসহ অন্তত ৩৫ জন সীমান্ত থেকে মাদক এনে ঢাকায় বিক্রি করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পকেন্দ্রিক মাদক কারবার নিয়েও রয়েছে অভিযোগ।

ক্যাম্পের হুমায়ূন রোডসহ অন্তত ১২ স্পটে প্রকাশ্যে মাদক বিক্রি হয় বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। ডিএমপির বিভিন্ন এলাকায় এমন চার শতাধিক মাদক বিক্রির স্পট রয়েছে।

সরেজমিনে গত কয়েক দিনে কারওয়ান বাজার রেলগেট, মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্প, মগবাজার রেলগেট, পল্লবী, খিলগাঁও ও উত্তর বাড্ডার কয়েকটি এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক বিক্রির চিত্র দেখা গেছে। মঙ্গলবার রাতে কারওয়ান বাজার রেলগেট এলাকায় কয়েকজন কিশোর-তরুণকে মাদকের ব্যাগ নিয়ে ঘুরতে দেখা যায়। ক্রেতাদের কাছে ইয়াবা বিক্রির পাশাপাশি রেলগেটের পাশে বসে অন্য বিভিন্ন ধরনের মাদক বিক্রি করতে দেখা যায়।

মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পেও গত বুধবার ও গত বৃহস্পতিবার রাতে ইয়াবা, হেরোইনসহ বিভিন্ন মাদক বিক্রির দৃশ্য দেখা যায়। কোথাও কোথাও মাদক কিনতে মানুষের সারিও দেখা গেছে। অথচ ক্যাম্পের চারপাশে পুলিশের একাধিক চেকপোস্ট রয়েছে এবং যৌথ বাহিনী নিয়মিত অভিযান চালায়।

পুলিশের দাবি, ক্যাম্পের বড় একটি অংশের মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে দীর্ঘদিন ধরে মাদকের সঙ্গে জড়িত। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, দারিদ্র্য ও বেকারত্বের সুযোগ নিয়ে মাদক কারবারিরা সেখানে ব্যবসা বিস্তার করেছে।

এ বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ রাজধানীতে মাদক নিয়ন্ত্রণে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কঠোরভাবে অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। মাদকের সঙ্গে জড়িত কাউকে রাজনৈতিক বা সামাজিক পরিচয়ে ছাড় না দেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।


নির্বাচিত

নবম পে-স্কেল নিয়ে সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত, আসছে বড় পরিবর্তন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

‘নবম জাতীয় পে-স্কেল ২০২৬’ বাস্তবায়নে নতুন বেতন কাঠামোর পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণির সরকারি চাকরিজীবীর জন্য ৭টি পৃথক বিধিবদ্ধ নিয়ন্ত্রক আদেশ (এসআরও) জারি করতে যাচ্ছে সরকার। একই সঙ্গে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন অনলাইনে নির্ধারণে আইবাস প্লাস প্লাস ব্যবস্থাকে প্রস্তুত করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রজ্ঞাপন জারির পরই পে-স্কেল বাস্তবায়নের কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে প্রজ্ঞাপনের খসড়া আইনগত পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ভেটিং শেষ হলে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

নতুন কাঠামো বাস্তবায়নে ৭টি পৃথক এসআরও থাকবে। এগুলোতে বিভিন্ন শ্রেণি ও প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এবং সংশ্লিষ্ট বিধান আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হবে। ক্ষেত্রগুলো হলো-বেসামরিক প্রশাসন, পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, সশস্ত্র বাহিনী এবং বিচার বিভাগ।

অর্থ বিভাগের সংশ্লিষ্ট একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা একটি গণমাধ্যমকে বলেন, প্রজ্ঞাপন জারির পরই বাস্তবায়নের কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হবে। বিভিন্ন শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন কাঠামো প্রয়োগের ক্ষেত্রে কারিগরি ও প্রশাসনিক পার্থক্য বিবেচনায় নিয়ে পৃথক এসআরও প্রস্তুত করা হচ্ছে। প্রজ্ঞাপন জারির পর সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে নিয়ে বাস্তবায়নের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। সাতটি পৃথক এসআরও-এর মাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণির চাকরিজীবীর বেতন কাঠামো প্রয়োগের বিষয়গুলো নির্ধারণ করা হবে। পাশাপাশি আইবাস প্লাস প্লাসে তথ্য হালনাগাদ ও নতুন বেতন নির্ধারণের কারিগরি প্রস্তুতিও চলছে।

এর আগে, গত ৩১ আগস্ট মন্ত্রিসভায় নবম পে-স্কেলে বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রাখার সিদ্ধান্ত হয়। এতে ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা এবং প্রথম গ্রেডে সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন বেতন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে বলে সরকার জানিয়েছে।

এদিকে এবার নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নে বড় পরিবর্তন আসছে বেতন নির্ধারণের ডিজিটাল ব্যবস্থায়। অর্থ বিভাগ সরকারি চাকরিজীবীদের ব্যক্তিগত তথ্য আইবাস প্লাস প্লাসের আওতায় আরও পূর্ণাঙ্গভাবে নিয়ে আসতে চায়।

নতুন ব্যবস্থায় প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারী অনলাইনে আইবাস প্লাস প্লাসে প্রবেশ করে চাকরি-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করবেন। এর মধ্যে পদ, গ্রেড, বর্তমান মূল বেতন, চাকরিতে যোগদানের তথ্য, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি, পদোন্নতি, উচ্চতর গ্রেডসহ প্রয়োজনীয় তথ্য থাকবে।

তথ্য পূরণ ও যাচাই শেষে নতুন পে-স্কেলের কাঠামো অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর মূল বেতন ও প্রযোজ্য ভাতা সফটওয়্যারের মাধ্যমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নির্ধারণ করা হবে। ফলে প্রত্যেক কর্মচারী নিজের তথ্যের ভিত্তিতে নতুন বেতন কাঠামোয় তার আর্থিক অবস্থান জানতে পারবেন।

বর্তমানে আইবাস প্লাস প্লাস সরকারি আর্থিক ব্যবস্থাপনা, বেতন, পেনশন, বাজেট ও হিসাব ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত হচ্ছে। এ ব্যবস্থায় অনলাইন বেতন বিল, জিপিএফ, ঋণ ও আয়কর-সংক্রান্ত হিসাব তৈরি এবং ইএফটির মাধ্যমে বেতন-পেনশন দেওয়ার সুবিধা রয়েছে।

নবম পে-স্কেলে গ্রেড, মূল বেতন, ভাতা, পদোন্নতি, ইনক্রিমেন্ট এবং বিভিন্ন শ্রেণির কর্মচারীর জন্য আলাদা বিধান থাকায় বিদ্যমান সফটওয়্যারকে নতুন কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হচ্ছে।

অর্থ বিভাগের লক্ষ্য হলো কাগজে-কলমে বেতন নির্ধারণের পরিবর্তে তথ্যভিত্তিক ও স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে বেতন পুনর্নির্ধারণ করা। এতে বেতন নির্ধারণের জন্য হিসাবরক্ষণ অফিসে বারবার যাওয়ার প্রয়োজন কমবে। পাশাপাশি ভুল হিসাব, দ্বৈত সুবিধা কিংবা অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের ঝুঁকিও কমানো সম্ভব হবে।


নির্বাচিত

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে সক্রিয় বৈশ্বিক উদ্যোগ চায় ঢাকা

*জান্তাবাহিনী এবং আরাকান আর্মির সংঘাত চলমান *জোরপূর্বক প্রত্যাবাসন কখনো টেকসই হয় না * প্রত্যাবাসন অবশ্যই নিরাপদ ও টেকসই হতে হবে
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মিয়ানমারে সংঘাত চলমান থাকায় এখনো রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পরিবেশ তৈরি হয়নি। বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআরের আবাসিক প্রতিনিধি জানান, রোহিঙ্গাদের জন্য জোরপূর্বক প্রত্যাবাসন কখনো টেকসই হয় না। সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা চায় ঢাকা।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ-মিয়ানমার সমঝোতা সই হয় ২০১৭ সালে। ৯ বছরে কয়েক দফা কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের ফেরানোর উদ্যোগ নিলেও পরে তা ভেস্তে যায়। মিয়ানামের অভ্যন্তরীণ সহিংস সংঘাতের কারণে বাংলাদেশে আশ্রিত ১০ লাখ রোহিঙ্গাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো যাচ্ছে না।

২৯ সেপ্টেম্বর প্রথম ধাপে যাবে ১ হাজার ৪৭৬ জন। তবে এ উদ্যোগ আদৌ বাস্তবায়ন হবে কি না তা নিয়ে সংশয়ের কথা জানান বাংলাদেশে থাকা ইউএনএইচসিআরের আবাসিক প্রতিনিধি।

ইউএনএইচসিআরের আবাসিক প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইজেন বলেন, মিয়ানমারের জান্তা সেনাবাহিনী এবং আরাকান আর্মির মধ্যে আবারও সংঘাত শুরু হয়েছে। এ ধরনের পরিস্থিতি প্রত্যাবাসনের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রে মোটেও ইতিবাচক নয়। যদি আমরা দেখি যে শরণার্থীদের নিজেরা পরিস্থিতি মূল্যায়নের সুযোগ না দিয়েই তাদের ফেরত পাঠানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, তাহলে অবশ্যই আমরা উদ্বিগ্ন হব।

প্রত্যাবাসন প্রশ্নে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের দাবি নিশ্চিত হওয়া জরুরি বলে মনে করেন ইভো। তিনি বলেন, প্রত্যাবাসন অবশ্যই শরণার্থী-কেন্দ্রিক এবং স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ, নিরাপদ এবং সর্বোপরি টেকসই হতে হবে। জোর করে বা তাড়াহুড়ো করে ফিরিয়ে দেয়ার কোনো অর্থ নেই, যদি তারা সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে না পারে। এতে যেমন বড় ধরনের মানবিক দুর্ভোগ সৃষ্টি হবে, তেমনি আর্থিক ব্যয়ও অনেক বেড়ে যাবে, যা অবশ্যই এড়ানো উচিত।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, বিশ্বের কোনো দেশেই মানবিক কারণে এতো বিশাল জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দেওয়ার নজির নেই। আমরা মানবিক কারণে মানুষগুলোকে আশ্রয় দিয়েছি, যাতে তারা হত্যাযজ্ঞের শিকার না হয়। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে, এটি কেবল বাংলাদেশের সমস্যা। এটি পুরো বিশ্বের সমস্যা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়েরও দায়িত্ব। শুধু মুখে সমর্থন জানালেই হবে না, আর্থিক সহায়তা এবং সক্রিয় কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে এ সংকট সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে।

টেকসই ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের মাধ্যমে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের নিরাপদে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোই এ সমস্যার এক মাত্র সমাধান। এ জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরো সক্রিয় হওয়ার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ।


নির্বাচিত

banner close