রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, ‘হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় অন্যান্য পরিষেবার উন্নয়ন ও আধুনিকায়ন আকাশ পথে যাত্রী চলাচলের ক্ষেত্রে সুযোগসুবিধা, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করবে।’
শনিবার ‘হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের সফট ওপেনিং’ উপলক্ষ্যে শুক্রবার দেয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় তৃতীয় টার্মিনালের সফট ওপেনিং হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। এই টার্মিনাল এবং আনুষঙ্গিক অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এক নতুন যুগে প্রবেশ করল। এর ফলে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।’
তিনি বলেন, ‘বৈশ্বিক যোগাযোগ, টেকসই অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে বিমান পরিবহন সেবা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির প্রয়োজনে আকাশপথে যোগাযোগ বৃদ্ধি করা জরুরি। এ লক্ষ্যে সরকার ব্যাপক উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ২ লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার আয়তনের নতুন তৃতীয় টার্মিনাল ভবনটিতে অত্যাধুনিক ফ্যাসিলিটিজসহ অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাধনের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ এয়ার ট্রাফিক মুভমেন্টের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিতকরণের কার্যক্রম চলমান রয়েছে, যা দেশের ভৌত অবকাঠামো উন্নয়ন ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আমি মনে করি। নবনির্মিত এ টার্মিনালের মাধ্যমে বছরে অতিরিক্ত ১৬ মিলিয়ন যাত্রী পরিবহন করা সম্ভব হবে যা যোগাযোগ ও পরিবহন ক্ষেত্রে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।’
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্ন বাস্তবায়ন এবং ২০৪১ সালের মধ্যে একটি সুখী-সমৃদ্ধ, উন্নত, স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে তাঁরই সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। সরকারের দূরদর্শিতা, সঠিক দিক-নির্দেশনা এবং সময়োপযোগী পদক্ষেপের ফলে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের নির্মাণ কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। আমি আশা করি, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দেশের যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটাবে, ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারিত করবে এবং নতুন নতুন গন্তব্য বাংলাদেশের আকাশপথের সঙ্গে যুক্ত হবে।’
তিনি বলেন, ‘নতুন টার্মিনাল ভবন নির্মাণের পাশাপাশি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় নতুন আমদানি-রপ্তানি কার্গো কমপ্লেক্স নির্মাণের ফলে আকাশপথে ব্যবসা যোগাযোগ বৃদ্ধিসহ ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। বিমান পরিবহন খাতের উন্নয়ন ও এ খাতকে যুগোপযোগী করার নিমিত্ত সংশ্লিষ্ট সকলে নিষ্ঠার সাথে কাজ করবেন- এটাই দেশবাসীর প্রত্যাশা।’
রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল আকাশ পথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে সফলতা বয়ে আনবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১০ জুলাই দেশের শীর্ষতম চিকিৎসাকেন্দ্র ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) পরিদর্শনে যাবেন বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ঢামেকের প্যাথলজি বিভাগে অত্যাধুনিক চিকিৎসাসামগ্রী ও ল্যাবরেটরি যন্ত্রপাতি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “আগামী ১০ জুলাই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শনে আসবেন। তার সঙ্গে ডা. জুবাইদা রহমানও থাকবেন।” তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মাধ্যমে হাসপাতালের সার্বিক সেবার মানোন্নয়নে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হবে এবং ঢাকা মেডিকেলের সামগ্রিক চিত্র বদলে যাবে।
অনুষ্ঠানে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সতর্কবার্তা প্রদান করে বলেন, আগামী জুলাই ও আগস্ট মাসে দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ ও ভয়াবহতা বাড়তে পারে। তবে যে কোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। মন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে থানা, উপজেলা এবং জেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু শনাক্তের এনএসওয়ান পরীক্ষার কিট পর্যাপ্ত পরিমাণে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “ঢাকা এবং দেশের বড় শহরগুলোর হাসপাতালগুলো প্রস্তুত রাখা হয়েছে। রোগীর সংখ্যা বেড়ে গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী এসব হাসপাতালের সক্ষমতা আরও বাড়ানো হবে এবং চিকিৎসাসেবা জোরদার করা হবে।”
ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ইউনিয়ন পর্যায় থেকে শুরু করে মসজিদের ইমামসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। তিনি দেশের চিকিৎসাসেবার সামগ্রিক সক্ষমতা তুলে ধরে বলেন যে, বর্তমানে সব ধরনের ভ্যাকসিন, রি-এজেন্ট এবং স্যালাইনের পর্যাপ্ত মজুত ও সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে। এমনকি ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে ‘মোবাইল হাসপাতাল’ চালুর মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা প্রদান করার পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।
অনুষ্ঠানে ক্যানসার নির্ণয় প্রক্রিয়ায় আধুনিকতা আনতে ঢামেকের প্যাথলজি বিভাগে একটি অত্যাধুনিক মাইক্রোস্কোপ হস্তান্তর করা হয়। এর মাধ্যমে রোগীদের ক্যানসার শনাক্তকরণ আরও সহজ, দ্রুত ও নির্ভুল হবে বলে চিকিৎসকরা আশা প্রকাশ করেছেন।
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দেশজুড়ে ‘নজরুল বর্ষ’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি বছরব্যাপী এই আয়োজনের ঘোষণা দেন। চলতি বছরের ২৫ মে থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ বর্ষের কার্যক্রম আগামী বছরের ২৫ মে পর্যন্ত চলমান থাকবে। কবির সাহিত্য ও দর্শনের প্রচার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, "জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সৃষ্টিকে বিস্তৃতভাবে তুলে ধরতে হবে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে।"
প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে নজরুলের কালজয়ী সৃষ্টিকর্মকে নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি তৃণমূল পর্যায়ে এই আয়োজনের সার্থকতা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, "নানা আয়োজনের মাধ্যমে এটিকে কাজে লাগিয়ে সারাদেশে জেলা-উপজেলা এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে বছরজুড়ে সফলভাবে পালন করা অত্যন্ত জরুরি।" কবির সাম্য ও বিদ্রোহের বাণী যেন প্রতিটি স্তরে ছড়িয়ে পড়ে, সরকার সেই লক্ষ্যেই এক বছর মেয়াদী এই কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।
নজরুল বর্ষকে ঘিরে দেশব্যাপী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও জেলা-উপজেলা পর্যায়ে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, সেমিনার ও উৎসবের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। জাতীয় কবির অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও মানবিক দর্শনকে জাতীয় ও বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে আরও জোরালোভাবে উপস্থাপনের জন্য বছরজুড়ে বিশেষ উদ্যোগ নেবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো। প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে বিদ্রোহী কবির স্মৃতি স্মরণে জাতীয় পর্যায়ের এক বিশাল কর্মযজ্ঞের সূচনা হলো।
সন্ত্রাসবাদের বর্তমান ও পরিবর্তিত রূপ মোকাবিলায় বিশ্বজুড়ে আরও কার্যকর ও জোরালো সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), এনক্রিপটেড যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং ভার্চুয়াল অ্যাসেটের মতো আধুনিক ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহার করে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলো যেভাবে তাদের নেটওয়ার্ক বিস্তৃত করছে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্র। নিউইয়র্ক স্থানীয় সময় বুধবার (১ জুলাই) জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদবিরোধী কৌশল বিষয়ক এক বিতর্কে বাংলাদেশের এই অবস্থান তুলে ধরেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) স্থায়ী মিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রাষ্ট্রদূত তাঁর বক্তব্যে সন্ত্রাসবাদ ও সহিংস উগ্রবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতির কথা পুনরুল্লেখ করেছেন। তিনি সংসদকে অবহিত করে বলেন যে, সন্ত্রাসবাদ ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন দমনে বাংলাদেশে অত্যন্ত শক্তিশালী আইনগত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো বিদ্যমান। বর্তমানে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিটের (বিএফআইইউ) সমন্বিত প্রচেষ্টায় সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম আরও জোরালো করা হয়েছে। তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, সন্ত্রাসবাদ দমনে গৃহীত প্রতিটি পদক্ষেপ অবশ্যই আইনের শাসন ও মানবাধিকারের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল হতে হবে।
রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কেবল সন্ত্রাস দণ্ড নয়, বরং সন্ত্রাসবাদের মূল কারণগুলো খুঁজে বের করে তা নির্মূল করতে হবে। তিনি ক্রমবর্ধমান ইসলামবিদ্বেষ ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য প্রতিরোধের পাশাপাশি উন্নয়নশীল দেশগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে উন্নত রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতা আরও বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বৈশ্বিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত করার যে কোনো অপচেষ্টা রুখতে বাংলাদেশ জাতিসংঘের সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে তেহরানের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে একটি বিশেষ ফ্লাইটে তিনি ইরানের উদ্দেশে রওনা হন। স্পিকারের দপ্তর সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, জানাজায় অংশগ্রহণ ও শোক সন্তপ্ত ইরানি জনগণের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন শেষে আগামী ৪ জুলাই তাঁর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
উল্লেখ্য, ১৯৩৯ সালে মাশহাদে জন্মগ্রহণকারী আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ১৯৭৯ সালের ইসলামী বিপ্লবের পর ইরানের আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেন। তিনি দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির মৃত্যুর পর থেকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ইরানের রাজনীতি ও ধর্মীয় অঙ্গনে তিনি ছিলেন অবিসংবাদিত নেতা। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর এক হামলায় ৮৬ বছর বয়সী এই নেতা নিহত হন।
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুতে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক শোকের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ তেহরানে সমবেত হচ্ছেন। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকারের এই সফরকে ইরানের সাথে বাংলাদেশের বিদ্যমান সুসম্পর্কের প্রতিফলন হিসেবে দেখা হচ্ছে। তেহরানে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় খামেনির দাফন ও জানাজার যাবতীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে জাপানের বৈদেশিক সম্পর্কবিষয়ক সংসদীয় ভাইস মিনিস্টার শিমাদা তোমাকির নেতৃত্বে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্টসহ একটি প্রতিনিধি দল সাক্ষাৎ করেছে। বুধবার (১ জুলাই) বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ হয়।
সাক্ষাৎকালে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, এমআরটি (MRT) লাইনসমূহ, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালসহ জাইকার অর্থায়নে বাংলাদেশে চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ডিসেম্বরের মধ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল উদ্বোধনের লক্ষ্যে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ ছাড়া বৈঠকে জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশকে জাপানের ৩১২ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সহায়তা ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত করার বিষয়ে জাপান ইতিবাচক সাড়া দেয়।
বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ–জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (Bangladesh–Japan Economic Partnership Agreement—EPA) দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে উভয় পক্ষ তাদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।
এ সময় জাপানি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ নৌবাহিনীকে জাপানের পক্ষ থেকে পাঁচটি প্যাট্রোল বোট (Patrol Boat) প্রদান করা হবে বলে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করে।
বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিয়েও আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপদে, স্বেচ্ছায়, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে জাপানের অব্যাহত সহযোগিতা ও আন্তর্জাতিক পরিসরে আরও ভূমিকা আশা করেন।
প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীকে জাপান সফরের আমন্ত্রণ জানায়। প্রধানমন্ত্রী সুবিধাজনক সময়ে জাপান সফরের আশা প্রকাশ করেন।
সাক্ষাতে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং প্রধানমন্ত্রীর এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান।
নগদ টাকার ব্যবহার কমিয়ে ক্যাশলেস বা ডিজিটাল অর্থনীতিতে রূপান্তরের চূড়ান্ত ধাপে প্রবেশ করলো বাংলাদেশ। বুধবার (১ জুলাই) থেকে ‘বাংলা কিউআর’ বাধ্যতামূলক করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। দেশের প্রতিটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে এখন থেকে বাধ্যতামূলকভাবে চালু হয়েছে সর্বজনীন আন্তঃলেনদেন ব্যবস্থা ‘বাংলা কিউআর’। এই পদ্ধতিতে লেনদেনে গ্রাহকের প্রতি হাজারে সর্বোচ্চ খরচ হবে সাড়ে ১১ টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রত্যাশা, সর্বজনীন এই ব্যবস্থার ফলে আর্থিক লেনদেনে প্রতারণা ঠেকানো সম্ভব হবে।
ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, নতুন এই ব্যবস্থার ফলে লেনদেনে যেমন স্বচ্ছতা আসবে, তেমনি কমবে দুর্নীতি এবং বাড়বে সরকারের রাজস্ব আদায়। ‘বাংলা কিউআর’ পুরোপুরি সচল হলে টাকা ছাপানো ও এর ব্যবস্থাপনা বাবদ রাষ্ট্রের বছরে যে ২০ হাজার কোটি টাকা খরচ হয়, তার সিংহভাগ সাশ্রয় করা সম্ভব হবে।
নতুন এই নিয়মের ফলে এখন থেকে দোকানে দোকানে আলাদা আলাদা ব্যাংক বা মোবাইল আর্থিক সেবার (এমএফএস) কিউআর কোড ঝুলিয়ে রাখার প্রয়োজন হবে না। একটিমাত্র ‘বাংলা কিউআর’ কোড থাকলেই যেকোনো ব্যাংকিং বা এমএফএস অ্যাপ থেকে সরাসরি বিক্রেতার অ্যাকাউন্টে মুহূর্তেই টাকা চলে যাবে। অর্থাৎ, একজন ব্যবসায়ী একটিমাত্র কোড ব্যবহার করেই যেকোনো ব্যাংক বা বিকাশ-রকেটের মতো এমএফএস গ্রাহকের কাছ থেকে পেমেন্ট নিতে পারবেন।
সাবেক ব্যাংকার সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ বলেন, শুধু বড়ো শপিংমল আর সুপারশপগুলোতেই নয়, সবাই এগিয়ে এলে ফুটপাতের চায়ের দোকান থেকে শুরু করে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সবজি আর মুদি দোকানেও পৌঁছে যাবে বাংলা কিউআর কোড। এর ফলে একসময় মানিব্যাগ বা ছেঁড়া-ফাটা কাগুজে নোটের ব্যবহার অতীত হয়ে যাবে।
এর আগে গত এক এপ্রিল সব ব্যাংক ও আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে একটি নির্দেশনা দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সেখানে পরিষ্কার বলা হয়েছিলো, ৩০ জুনের মধ্যে প্রতিটি ব্যবসায়িক স্থান থেকে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব কিউআর কোড সরিয়ে সেখানে বাধ্যতামূলকভাবে ‘বাংলা কিউআর’ বসাতে হবে। এক জুলাই থেকে এই নিয়ম কার্যকর হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অমান্য করে নিজস্ব কোড বহাল রাখলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে।
আষাঢ়ের রিমঝিম বৃষ্টির হাত ধরে দেশজুড়ে যখন স্বস্তির আবহ নামার কথা, ঠিক তখনই এক নিঃশব্দ ঘাতকের ডানার গুঞ্জনে ভারি হয়ে উঠছে দেশের বাতাস। সে ঘাতকের নাম-এডিস মশা। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এবার বর্ষার আগেই এ মশার লার্ভার ঘনত্ব উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু ওষুধ ছিটিয়ে নয়, নাগরিকদের নিজ উদ্যোগে এডিসের প্রজননস্থল ধ্বংস করা সবচেয়ে জরুরি বলে মনে করছেন গবেষকরা। আর ঝুঁকি কমাতে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট ভাষায় সতর্ক করে দিয়েছেন, মশা নিয়ন্ত্রণে যদি এখনই যুদ্ধকালীন তৎপরতায় কার্যকর ও জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তবে চলতি জুলাই মাসেই ডেঙ্গুর প্রকোপ জুনের তুলনায় দ্বিগুণ হতে পারে। আর আগামী আগস্টে তা রূপ নিতে পারে এক প্রলয়ংকরী সুনামি-যা বর্তমানের চেয়ে তিন থেকে চারগুণ পর্যন্ত সংক্রমণ বাড়িয়ে দিতে পারে। নতুবা সময়ের এক ফোঁড়, অসময়ের দশ ফোঁড়-ডেঙ্গুর এই ঊর্ধ্বমুখী রেখাকে টেনে ধরার সময়ও ফুরিয়ে যাবে।
এদিকে, সারাদেশে নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও একজনের মুত্যু হয়েছে। আর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১৬৩ জন।
বুধবার (১ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৪৬ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৭ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৩ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৮ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১৪ জন এবং খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৪ জন রয়েছেন।
এই সময়ে ১৬১ জন ডেঙ্গুরোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর এ পর্যন্ত হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৫ হাজার ৭৯৩ জন।
এ বছরে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৬ হাজার ২৬৭ জন। এর মধ্যে ৬২ দশমিক ২ শতাংশ পুরুষ ও ৩৭ দশমিক ৮ শতাংশ নারী। চলতি বছরে ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ৮৬১ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৪১৩ জনের মৃত্যু হয়।
২০২৪ সালে মোট ডেঙ্গু আক্রান্ত হয় ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং ডেঙ্গুতে মোট ৫৭৫ জনের মৃত্যু হয়।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বছরের পর বছর ধরে কর্তৃপক্ষের ধারাবাহিক ব্যর্থতা, দায়সারা মশক নিধন অভিযান এবং বছরব্যাপী বৈজ্ঞানিক নজরদারির অভাব আজ পুরো দেশের জনস্বাস্থ্যকে এক ভয়াবহ ও নির্মম পরিণতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। আবহাওয়া বা জলবায়ু পরিবর্তনের ওপর দায় চাপিয়ে হাত ধুয়ে ফেলার চিরাচরিত চেষ্টা এবার আর খাটছে না; কীটতত্ত্ববিদরা আঙুল তুলে দেখিয়েছেন—প্রকৃতি নয়, বরং বিজ্ঞানভিত্তিক ও সমন্বিত ব্যবস্থাপনার চরম অভাবই এই আসন্ন বিপর্যয়ের মূল কারিগর।
এ বিষয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. কবিরুল বাশার বলেন, এখন থেকে প্রতিদিনই ডেঙ্গুরোগীর সংখ্যা বাড়বে। জুলাই ও আগস্টে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। এবার ঢাকার চেয়ে ঢাকার বাইরে সংক্রমণ বেশি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।
তিনি বলেন, অনেক রোগী চিকিৎসার জন্য দূর-দূরান্ত থেকে ঢাকায় আসছেন। দীর্ঘ সময় যাতায়াতের কারণে রোগীর শরীরে পানিশূন্যতা ও প্লাজমা লিকেজের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই জেলা-উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত করতে হবে, যাতে সব রোগীকেই রাজধানীতে আসতে না হয়।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শুধু ফগিং কার্যকর নয় বলেও মন্তব্য করেন ড. কবিরুল বাশার। তিনি বলেন, মশার প্রজননস্থল শনাক্ত করে সেখানে লার্ভা ধ্বংস করতে হবে। এভিডেন্সভিত্তিক লক্ষ্য-নির্দিষ্ট নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ছাড়া ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। পাশাপাশি জনগণকে সম্পৃক্ত করে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের উদ্যোগ নিতে হবে।
পরিসংখ্যানে রক্তের দাগ: মে মাস আক্রান্ত হয় ৭১৪ জন আর মারা যায় একজন। পরিস্থিতি ছিল তুলনামূলক শান্ত ও নিয়ন্ত্রণে। জুন মাস ৫,৯২৪ জন আক্রান্ত। এক মাসে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে আট গুণেরও বেশি! এই গাণিতিক হারের বৃদ্ধি প্রমাণ করে যে, এডিস মশার বংশবৃদ্ধি এবং ডেঙ্গু ভাইরাসের বিস্তার কতটা জ্যামিতিক গতিতে ছড়াচ্ছে। জুনের এই ভয়াবহতা জুলাই এবং আগস্টে আরও কতটা নৃশংস হতে পারে, তা সহজেই অনুমেয়।
আগস্টের মহাবিপদ সংকেত: ঢাকার বাইরে সংক্রমণের নতুন ফ্রন্টলাইন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের খ্যাতিমান কীটতত্ত্ববিদ অধ্যাপক কবিরুল বাশার আগামী দুই মাসকে (জুলাই ও আগস্ট) ডেঙ্গু মোকাবিলার জন্য অত্যন্ত ‘সংকটাপন্ন ও ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
তার তৈরি করা গাণিতিক পূর্বাভাস মডেল অনুযায়ী, এবারের ডেঙ্গুর চরিত্র অন্য বছরের চেয়ে আলাদা এবং আরও বেশি বিপজ্জনক। এতদিন ডেঙ্গুকে মূলত রাজধানী ঢাকার রোগ মনে করা হলেও, এবার ঢাকার বাইরের জেলাগুলো মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে।
হটস্পট জোন: পূর্বাভাস মডেল অনুযায়ী, বিশেষ করে বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জেলা এবং দেশের আরও কয়েকটি অববাহিকায় ডেঙ্গু এবার মহামারি আকার ধারণ করতে পারে।
এই সম্ভাব্য সংক্রমণের বিস্ফোরণ রুখতে হলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে এখনই নড়েচড়ে বসতে হবে। প্রতিটি জেলা শহর ও পৌরসভায় মশক নিধন কার্যক্রমকে জরুরি ভিত্তিতে বিকেন্দ্রীকরণ ও জোরদার করতে হবে।
অব্যবস্থাপনার ব্যবচ্ছেদ: যেখানে গলদজাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ জিএম সাইফুর রহমান ডেঙ্গু পরিস্থিতির এই লাগামহীন অবনতির পেছনের ভেতরের গল্পটি উন্মোচন করেছেন। উচ্চ আর্দ্রতা, তীব্র তাপমাত্রা আর ঘন ঘন বৃষ্টিপাত এডিস মশার প্রজননের জন্য আদর্শ পরিবেশ তৈরি করেছে সত্য, কিন্তু কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত ব্যর্থতাই পরিস্থিতিকে হাতের বাইরে নিয়ে গেছে।
আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেমের অনুপস্থিতি: উন্নত বিশ্বে মশার ঘনত্ব এবং ভাইরাসের উপস্থিতি দেখে আগেই বিপদ সংকেত বা ‘আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম’ চালু করা হয়। বাংলাদেশে বছরের পর বছর ধরে তা কেবল কাগজ-কলমেই সীমাবদ্ধ।
সংক্রমণ ক্লাস্টার চিহ্নিত না করা: কোন এলাকায় ডেঙ্গুরোগী বেশি (হটস্পট বা ক্লাস্টার), তা সময়মতো নিখুঁতভাবে চিহ্নিত করে অবরুদ্ধ করার কোনো বৈজ্ঞানিক প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো এখনো গড়ে ওঠেনি।
পূর্বাভাসকে অবহেলা: বিশেষজ্ঞরা আগেই এই ভয়াবহ বৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন, কিন্তু নীতিনির্ধারকদের উদাসীনতায় তা মাঠপর্যায়ে কোনো কাজে আসেনি।
ক্র্যাশ প্রোগ্রাম: বিজ্ঞানভিত্তিক নিধনে বিশেষজ্ঞদের ৪ দফা বিশেষজ্ঞরা সাফ জানিয়েছেন, শুধু লোকদেখানো ড্রেন পরিষ্কার বা নালায় সামান্য লার্ভিসাইড (লার্ভা ধ্বংসকারী ওষুধ) ছিটিয়ে ডেঙ্গুর এই সুনামি ঠেকানো যাবে না। উড়ন্ত ও সংক্রমিত পূর্ণবয়স্ক মশা বেঁচে থাকলে তারা প্রতিনিয়ত ভাইরাস ছড়াতেই থাকবে। প্রাদুর্ভাবের এই শৃঙ্খল ভাঙতে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে অবিলম্বে যুদ্ধকালীন ভিত্তিতে নিচের পদক্ষেপগুলো নিতে হবে- নিখুঁত হটস্পট ম্যানেজমেন্টযেসব বাড়ি বা এলাকায় ডেঙ্গুরোগী শনাক্ত হবে, তার চারপাশের ৫০০ গজ এলাকার মধ্যে অবিলম্বে জরুরি ভিত্তিতে ফগিং এবং আলট্রা-লো-ভলিউম (ULV) স্প্রে করতে হবে, যাতে আক্রান্ত রোগীকে কামড়ানো মশাটি অন্য কাউকে কামড়ানোর আগেই মারা যায়। সঠিক ও কার্যকর অ্যাডাল্টিসাইড প্রয়োগপূর্ণবয়স্ক মশা মারার জন্য শুধু ডিজেলের ধোঁয়া নয়, বরং পরীক্ষিত ও ল্যাবে কার্যকর প্রমাণিত হওয়া মানসম্মত অ্যাডাল্টিসাইড কীটনাশক সঠিক মাত্রায় প্রয়োগ করতে হবে। মশার ওষুধে ভেজাল বা অদক্ষতা কঠোরভাবে দমন করতে হবে। সমন্বিত ও সর্বজনীন সামাজিক আন্দোলনশুধু সরকারের দিকে চেয়ে না থেকে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। প্রতি তিন দিনে একবার জমা পানি ফেলে দেওয়ার স্লোগান ‘৩ দিনে ১ দিন, জমা পানি ফেলে দিন’—এটি প্রতিটি ঘরে ঘরে বাধ্যতামূলক করতে হবে। নির্মাণাধীন ভবন, বহুতল ভবনের বেইজমেন্ট ও ছাদবাগানে নিয়মিত অভিযান চালাতে হবে। ব্যক্তিগত সুরক্ষা কবচ নাগরিকদের নিজেদের সুরক্ষায় কিছু অভ্যাস পরিবর্তন করতে হবে। এই মৌসুমে শরীর ভালোভাবে ঢাকা থাকে এমন লম্বা হাতাওয়ালা পোশাক পরা। এডিস মশার প্রধান কামড়ানোর সময়-অর্থাৎ ভোরে ও বিকেলে বাসার দরজা-জানালা বন্ধ রাখা। দিনে বা রাতে ঘুমানোর সময় আবশ্যিকভাবে মশারি ব্যবহার করা এবং শিশুদের ক্ষেত্রে মশার প্রতিরোধক ক্রিম বা লোশন ব্যবহার করা।
সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেমিট্যান্স আহরণে নতুন ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। এক বছরে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠিয়েছেন ৩৫ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। বুধবার (১ জুলাই) বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য বিদায়ী জুন মাসে দেশে ২ হাজার ৮০৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এর মধ্যে শুধু ৩০ জুনই এসেছে ১২০ মিলিয়ন ডলার। তবে গত বছরের একই সময়ে, অর্থাৎ জুন মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছিল ২ হাজার ৮২৩ মিলিয়ন ডলার।
সব মিলিয়ে ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত দেশে ৩৫ হাজার ৫৬২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। আগের অর্থবছরে (জুলাই ২০২৪ থেকে ৩০ জুন ২০২৫) এ পরিমাণ ছিল ৩০ হাজার ৩২৯ মিলিয়ন ডলার।
এর আগে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে সর্বোচ্চ ৩০ দশমিক ৩২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল।
ভোক্তাপর্যায়ে জুলাই মাসে দেশে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম বাড়বে কি না, বৃহস্পতিবার জানানো হবে।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সৌদি আরামকো কর্তৃক ঘোষিত সৌদি সিপি অনুযায়ী জুলাই মাসে ভোক্তাপর্যায়ে বেসরকারি এলপিজির মূল্য সমন্বয় সম্পর্কে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের আদেশ বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হবে।
আরও বলা হয়, ওই দিন বিকেল ৩টায় রাজধানীর রমনায় অবস্থিত ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইইবি) শহিদ প্রকৌশলী ভবনের (ষষ্ঠ তলা) কমিশন কার্যালয়ের শুনানি কক্ষে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন এই দর ঘোষণা করা হবে।
এ ছাড়া এলপিজির নতুন দর ঘোষণা-সংক্রান্ত আদেশ কমিশনের ওয়েবসাইটে (www.berc.org.bd) পাওয়া যাবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে সবশেষ গত ২ জুন ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৯৪০ টাকা থেকে কমিয়ে ১ হাজার ৮৮৫ টাকা নির্ধারণ করেছিল বিইআরসি। সেই সঙ্গে ওই দিন যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দাম লিটারপ্রতি ৮৯ টাকা ৫০ পয়সা থেকে কমিয়ে ৮৬ টাকা ৯৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
২০২৭ সালে হজ পালনে আগ্রহীদের জন্য ১ জুলাই থেকে প্রাক-নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে। বুধবার (১ জুলাই) ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মন্ত্রণালয় জানায়, সৌদি আরব সরকারের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে হজের নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। এ কারণে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যেই আগ্রহী হজযাত্রীদের প্রাক-নিবন্ধন সম্পন্ন করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এর আগে গত ২৯ মে সৌদি আরবের জেদ্দায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ২০২৭ সালের হজ কার্যক্রমের পূর্ণাঙ্গ রোডম্যাপ প্রকাশ করে সৌদি হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রীদের হাতে রোডম্যাপ তুলে দেওয়া হয়। বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত থেকে রোডম্যাপ গ্রহণ করেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)।
ঘোষিত রোডম্যাপ অনুযায়ী, ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে হজযাত্রী নিবন্ধন শেষ করতে হবে। আগামী ৮ নভেম্বর বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক হজচুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। ২০২৭ সালের ২৮ জানুয়ারি থেকে হজ ভিসা ইস্যু শুরু হবে। হজ ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে ৮ এপ্রিল থেকে। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ২০২৭ সালের ১৫ মে হজ হবে।
দেশের প্রশাসনিক কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে ৩টি নতুন উপজেলা ও ১টি নতুন থানা গঠনের অনুমোদন দিয়েছে ‘প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)’। বুধবার (১ জুলাই) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত নিকারের ১২১তম বৈঠকে এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানিয়েছেন যে, প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল এবং জনসেবাকে মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতেই এই নতুন প্রশাসনিক ইউনিটগুলো গঠন করা হয়েছে।
অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, চট্টগ্রাম জেলায় ফটিকছড়ি উপজেলার উত্তরাংশের ছয়টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হয়েছে ‘ফটিকছড়ি উত্তর’ উপজেলা। কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলাকে বিভক্ত করে নতুন ‘বাঙ্গরা’ উপজেলা গঠন করা হয়েছে। এছাড়া ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানার আটটি ইউনিয়ন নিয়ে তৈরি করা হয়েছে ‘দক্ষিণ গফরগাঁও’ উপজেলা। চট্টগ্রাম মহানগরীর পার্শ্ববর্তী এলাকার আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অধিকতর উন্নয়নের লক্ষ্যে হাটহাজারী থানাকে দ্বিখণ্ডিত করে নতুন ‘হালদা’ থানা গঠনের প্রস্তাবও বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়েছে।
উপ-প্রেস সচিব আরও জানান, বৈঠকে রাজউকের ‘পূর্বাচল নতুন শহর’ প্রকল্পের ভৌগোলিক বিভক্তি দূর করতে প্রকল্পের নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার অংশগুলো স্থায়ীভাবে ঢাকা জেলার অন্তর্ভুক্ত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রকল্পটির প্রশাসনিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা অনেক সহজ হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ সরকারের শীর্ষস্থানীয় মন্ত্রী ও সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। এই নতুন উপজেলা ও থানাগুলো গঠনের ফলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলগুলোর উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিত হওয়ার পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাও সহজ হবে। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় বাসিন্দারা এসব প্রশাসনিক ইউনিট গঠনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন, যা নিকারের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে পূরণ হলো।
আধুনিক বিশ্বে নিরাপত্তার সনাতন ধারণা পুরোপুরি বদলে গেছে উল্লেখ করে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমান সময়ে একটি বিশাল ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সিন্দুক পাহারা দেওয়ার চেয়ে তার কম্পিউটারকে হ্যাকারমুক্ত রাখা এবং দীর্ঘ সীমান্ত পাহারার চেয়েও সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বুধবার (১ জুলাই) খিলগাঁওস্থ আনসার ও ভিডিপি সদর দপ্তরে বাহিনীর মিডিয়া সেল ‘প্রান্তিক কণ্ঠস্বর’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তহবিল চুরির মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার উদাহরণ টেনে বলেন, “যুদ্ধ কেবলই সমরাস্ত্রের বিষয় নয়, যোগাযোগ কেবলই মানুষের কণ্ঠস্বর বিনিময় করা নয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তহবিল চুরির ঘটনা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে- ডিজিটাল কারসাজির মাধ্যমে কীভাবে নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে।” তিনি আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রায় ৬০ লাখ সদস্যকে সময়ের চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর চিন্তায় উদ্বুদ্ধ করার জন্য বাহিনীর নেতৃত্বের প্রশংসা করেন। মন্ত্রী মনে করেন, ডিজিটাল লিডারশিপ গ্রহণ করার এই মানসিকতা বাহিনীকে আরও সময়োপযোগী করে তুলবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ। আনসার ও ভিডিপির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এএম সাজ্জাদ মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘সময়ের স্পন্দনে, আকাঙ্ক্ষা পূরণে’। তথ্যমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির এই দ্রুত পরিবর্তনের যুগে জ্ঞান ও মনোজগৎকে স্থির রাখার কোনো অবকাশ নেই। তিনি সতর্ক করে বলেন, “এই প্রযুক্তিগত বাস্তবতায় জ্ঞান ও মনোজগতকে স্থিতিশীল রাখার কোনো সুযোগ নেই। প্রতি মুহূর্তে আমাদের চিন্তার দিক থেকে গতিশীল থাকতে হবে এবং চলমান আপগ্রেডিং সিস্টেমের মধ্যে থাকতে হবে। তা না হলে আজকে যিনি আধুনিক, আগামীকালই তিনি অচল হয়ে যেতে পারেন।”
মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন যে, সরকারের তথ্য ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হবে এই ‘প্রান্তিক কণ্ঠস্বর’ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম। তিনি এই উদ্ভাবনী উদ্যোগকে অন্যান্য সরকারি দপ্তরের জন্য একটি শিক্ষণীয় মডেল হিসেবে উপস্থাপন করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে সড়ক ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদও তাঁর বক্তব্যে বাহিনীর আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনটি আনসার বাহিনীর ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়ায় এক নতুন মাত্রা যোগ করল বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
অশ্রু, শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় শেষ বিদায় জানানো হলো দেশের বরেণ্য চিত্রশিল্পী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, পাপেট আন্দোলনের পথিকৃৎ ও একুশে পদকপ্রাপ্ত মুস্তাফা মনোয়ারকে। মঙ্গলবার সকালে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) প্রাঙ্গণে প্রথম জানাজা শেষে তার মরদেহ নেওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে শিল্পী, সাহিত্যিক, সংস্কৃতিকর্মী, শিক্ষার্থী ও সর্বস্তরের মানুষের উপস্থিতিতে তৈরি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ।
এর আগে সকাল ৮টা ৫৫ মিনিটে মুস্তাফা মনোয়ারের মরদেহ বিটিভি প্রাঙ্গণে পৌঁছায়। দীর্ঘদিনের সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও বিভিন্ন অঙ্গনের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা সেখানে শেষ শ্রদ্ধা জানান। সকাল ৯টা ৫২ মিনিটে অনুষ্ঠিত হয় তার প্রথম জানাজার নামাজ।
জানাজায় উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক মো. মাহবুবুল আলম, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব শাইখ সিরাজ, নাট্যব্যক্তিত্ব ম হামিদসহ শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনের অনেক বিশিষ্টজন।
পরে বেলা ১১টার দিকে মরদেহ নেওয়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য কফিন রাখা হলে একে একে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, মামুনুর রশীদ, তারিক আনাম খান, নিমা রহমান, ত্রপা মজুমদার, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দীন স্টালিন, বরেণ্য শিল্পী মনিরুল ইসলাম, চিত্রশিল্পী মনিরুজ্জামান, শারমিন এস মুরশীদ, কেরামত মাওলাসহ অনেকে।
শুধু ব্যক্তিগতভাবে নয়, বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র, বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, গোলাম মোস্তফা একাডেমি, পাঠশালা সাউথ এশিয়ান মিডিয়া ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য, প্রাচ্যনাট, বটতলা, দূরন্ত স্টেশন, বঙ্গরঙ্গ নাট্যদলসহ অসংখ্য সাংস্কৃতিক ও সামাজিক সংগঠনও পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে এই গুণী মানুষটির প্রতি শ্রদ্ধা জানায়।
দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত শহীদ মিনারে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের পর তার মরদেহ নেওয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দ্বিতীয় জানাজার জন্য। এরপর প্রিয় কর্মস্থল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ ও চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়েছে।
গত সোমবার রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯১ বছর। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি।
প্রসঙ্গত, মুস্তাফা মনোয়ার শুধু একজন চিত্রশিল্পী ছিলেন না, ছিলেন বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক জাগরণের অন্যতম পথিকৃৎ। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি শিল্প ও সংস্কৃতিকে মুক্তির সংগ্রামের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন। ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ তৎকালীন পাকিস্তানি শাসনের নির্দেশ অমান্য করে বাংলাদেশ টেলিভিশনের সম্প্রচার কক্ষে সাহসী ভূমিকা রাখেন তিনি।
১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর জন্ম নেওয়া এই গুণী শিল্পী বাংলাদেশে পাপেট থিয়েটারকে জনপ্রিয় করে তোলার পাশাপাশি শিশুদের জন্য অসংখ্য কালজয়ী টেলিভিশন অনুষ্ঠান নির্মাণ করেন। শিল্প ও সংস্কৃতিতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন।