সুষ্ঠু নির্বাচনে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, তবে নির্বাচনকে সংঘাতহীন করতে সব দলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।
রোববার সফররত মার্কিন প্রাক-নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন মন্ত্রী।
এই প্রতিনিধি দলের সঙ্গে নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের শাসনতন্ত্র মেনে নির্বাচন হবে বলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলকে জানানো হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মার্কিন পর্যবেক্ষক দল জানতে চায় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন কীভাবে হবে। আমরা তাদের জানিয়েছি, সুষ্ঠু নির্বাচন হবে, তবে সংঘাতহীন হবে কি না তার নিশ্চয়তা দিতে পারছি না। এজন্য সব দলকে সহযোগিতার পাশাপাশি দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। তবেই সংঘাতহীন নির্বাচন হবে।’
মোমেন বলেন, ‘নির্বাচনকালীন সরকার নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। দুনিয়াতে যেভাবে নির্বাচন হয় শাসনতন্ত্র মেনে, আমরা সেভাবে নির্বাচন করব বলে তাদের জানিয়েছি। আমাদের শাসনতন্ত্রে নির্বাচনকালীন সরকার বলতে কিছু নেই।’
পর্যবেক্ষক দলের সঙ্গে আলোচনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘এরা সবাই অত্যন্ত পরিপক্ব লোক। এরা এসেছে একটা অবাধ নির্বাচন অ্যাসেসমেন্ট করতে। তারা জানতে এসেছে, একটা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করার ক্ষেত্রে আমরা কী কী কাজ করেছি। তাদের নিজেদের কোনো মতামত নেই। তারা শুধু জানতে চেয়েছে, কীভাবে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। আমরা বলেছি, আমাদের এসব দেশে বেশ সংঘাত হয়, নির্বাচন হলেই সংঘাত হয়।’
মোমেন বলেন, ‘আমরা তাদের বলেছি, আমরা অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন করব। আমরা একটা উদাহরণ সৃষ্টি করতে চাই। যেখানে ভায়োলেন্সও হবে না। কিন্তু আমরা চাইলেই তা হবে না। সব দল ও মতের স্বঃতস্ফূর্ত অংশগ্রহণ থাকতে হবে। কেউ কেউ বলছেন, ভোট বর্জন করতে। আমরা চাই সবাই নির্বাচন করুক। যার গ্রহণযোগ্যতা বেশি সে দল জয়লাভ করবে এবং সরকার গঠন করবে।’
পর্যবেক্ষক দল সব দলের অংশগ্রহণ নিয়ে কোনো বার্তা দিয়েছে কি না, জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘কিছু বলেনি। এ সম্পর্কে কোনো আলোচনা করিনি। তবে আমরা চাই, সবাই নির্বাচনে অংশ নিক। কিন্তু আমরা জোর করে কাউকে বলি না, নির্বাচনে অংশ নাও।’
সব দলকে ভোটে নিয়ে আসতে সরকার কোনো উদ্যোগ নেবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য, ‘এ ব্যাপারে আমাদের দিক থেকে…। যারা নির্বাচন করতে চায় আমাদের দিক থেকে স্বাগতম। আসা না আসা তাদের সিদ্ধান্ত।’
ভোট কারচুপি নিয়ে এবং বেচাকেনা নিয়ে সরকার সতর্ক অবস্থানে থাকবে বার্তা দিয়ে মোমেন বলেন, ‘আমরা কাউকে জোর করে ভোট দেওয়াই না বা কোনো দলের পক্ষে ভোট দেওয়ার জন্য জোর করব না। আমরা চাই, তারা ইচ্ছেমতো ভোট দেবে। এ রকম ব্যবস্থা আমরা করেছি।’
‘আমরা বলেছি, ক্যাম্পেইন প্রসেসে যেন কোনো ধরনের ভায়োলেন্স না হয়। যেন ভোট বেচাকেনা না হয় বা ভোট কারচুপি না হয়, সে ব্যাপারে আমরা সতর্ক। আমরা চাই না কেউ জোর করে কাউকে ভোট দিতে বাধ্য করুক’, যোগ করেন মন্ত্রী।
এর আগে রোববার বিকেল তিনটার দিকে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল রিপাবলিকান ইনস্টিটিউট (আইআরআই) ও ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ইনস্টিটিউট (এনডিআই)-এর যৌথ প্রাক-নির্বাচন মূল্যায়ন মিশনের ছয় সদস্য দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্ব পরিস্থিতি যাচাই করতে ঢাকায় পৌঁছান। আগামী ১২ অক্টোবর পর্যন্ত তারা সরকারি কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, নির্বাচন কর্তৃপক্ষ, সুশীল সমাজসহ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট অন্যান্যদের সঙ্গে দেখা করবেন।
এনডিআই এবং আইআরআই হল নির্দলীয়, বেসরকারি সংস্থা; যা বিশ্বব্যাপী গণতন্ত্রের অনুশীলনকে সমর্থন ও শক্তিশালী করতে কাজ করে। সংস্থা দুটি সম্মিলিতভাবে গত ৩০ বছরে ৫০টিরও বেশি দেশে ২০০টিরও বেশি নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছে।
প্রতিনিধি দলের কো-চেয়ার স্টেট ফর সাউথ এশিয়ান অ্যাফেয়ার্সের সাবেক অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি কার্ল এফ ইনডারফুর্থ বলেন, ‘যেহেতু বাংলাদেশ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, তাই দেশটিকে আজ সমর্থনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।’
আইআরআই ও এনডিআই মিশন নির্বাচনের প্রস্তুতি অবস্থার মূল্যায়ন শুরু করেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে বিভিন্ন অংশীজনের কথা শুনতে এবং একটি স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আমাদের সমর্থন জানাতে এসেছি।’
প্রতিনিধিদলে কো-চেয়ার হিসেবে আছেন ইনডারফুর্থ এবং ইউএসএআইডি অ্যাডমিনিস্ট্রেটরের সাবেক ডেপুটি বনি গ্লিক। আরও আছেন মালয়েশিয়ার সাবেক হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস সদস্য মারিয়া চিন আবদুল্লাহ, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সাবেক সহযোগী কাউন্সেল জামিল জাফর, এশিয়া-প্যাসিফিকের এনডিআই রিজিওনাল ডিরেক্টর মনপ্রীত সিং আনন্দ ও এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে আইআরআইয়ের সিনিয়র ডিরেক্টর জোহানা কাও।
অন্তর্বর্তী সরকারের টিকা কেনায় গাফিলতির কারণেই শিশুদের মৃত্যু বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী। তিনি বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় টিকা কেনার যে গাফিলতিটি হয়, সেই গাফিলতির কারণেই ওই সময়ে জন্ম নেওয়া শিশুরা আজ মৃত্যুঝুঁকিতে পড়েছে। অর্থাৎ এটি হচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ করে যিনি নির্বাহী স্বাস্থ্য উপদেষ্টা তার অদূরদর্শিতা, অবহেলা অথবা অক্ষমতা।
ডা. লেলিন চৌধুরী আরো বলেন, ‘প্রতি বছর আমাদের দেশে কমবেশি ৩০ লাখ শিশু জন্মগ্রহণ করে। জন্মের পরে-আগে এদের প্রায় ৯৮ শতাংশকে টিকার আওতায় আনা হতো। কিন্তু তিনি আরো বলেন, পুরো বিষয়টির একটা নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া দরকার এবং কেন এটি ঘটল সেই দায়ী ব্যক্তি অথবা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা দরকার।
আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হবে বলে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।
কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান লিখিত প্রশ্নে জানতে চান, পবিত্র হজ পালনে খরচ কমাতে সরকার কোনো উদ্যোগ নিয়েছে কি না। জবাবে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের হজ প্যাকেজ ঘোষণার মাধ্যমে হজের কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্যাকেজ অনুযায়ী সৌদি আরব ও বাংলাদেশ পর্বের বিভিন্ন খরচ ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। সৌদি সময়সূচি অনুযায়ী ভিসাসহ সব কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি জানান, আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হবে। এছাড়া ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজ প্রণয়ন ও ঘোষণার সময় হজযাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা ও চাহিদার ভিত্তিতে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য খাতের সংকটের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের সিদ্ধান্তকে দায়ী করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন। তিনি বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় টিকা ক্রয়ের সিস্টেমে একটা পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। উদ্যোগটি ভালো, কিন্তু সেটি গ্রহণ করা হয়েছে প্রয়োজনীয় পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়াই। তাদের এমন অদূরদর্শী পদক্ষেপের ফলে টিকা কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়েছে এবং দেশের স্বাস্থ্য খাতে অবধারিতভাবে সেটির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
তিনি আরো বলেন, দেশে হামের মহামারি চলছে। মহামারি বললে সরকার ভয় পায়। অন্তর্বর্তী সরকারও একই কাজ করেছে। মহামারির সংজ্ঞা অনুযায়ী, কোনো রোগের বিস্তার যদি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়, এবং দেশের স্বাস্থ্য এটা সামাল দিতে না পারে, তখন এটাকেই মহামারি বলা হয়। সরকার রোগটির বিস্তারের তথ্য আগে জানলেও প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান। একই সঙ্গে তিনি নীতি ও কৌশল এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করছেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে বর্তমান সরকার তদন্ত করবে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, নিশ্চয়ই করবে। আপনারা জানেন, দুর্নীতি দমন কমিশন এখনো পুনর্গঠিত হয়নি। কমিশন পুনর্গঠিত হলে এসব কাজ তাদের মাধ্যমেই শুরু হবে। দুর্নীতি মানেই কে করেছে, শুধু সেই বিষয় নয়; এই সরকারের সময়েও এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটছে কিনা- সেটিও দেখা হবে।
অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচ এবং এ যান নিয়ন্ত্রণে সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, অটোরিকশা অবশ্যই নিয়মের মধ্যে আনতে হবে। এটি শুধু বিদ্যুতের বিষয় নয়; সড়ক নিরাপত্তার সঙ্গেও জড়িত।
তিনি বলেন, অনেক চালক প্রশিক্ষিত নন এবং অনেক যানবাহন প্রযুক্তিগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ। আগে এসব যান মূলত অলিগলিতে চলাচল করলেও সাম্প্রতিক সময়ে প্রধান সড়কেও চলাচল করছে, যা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
উপদেষ্টা আরও বলেন, অনিয়মিত ও অনুপযুক্ত চালক এবং ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন এভাবে চলতে পারে না। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে সরকার কাজ করছে।
ব্যাংক খাত নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে জাহেদ উর রহমান জানান, আগের সরকারের সময়ে এ খাত দুর্বল হয়ে পড়েছে; তবে পুনর্গঠনের কাজ এরইমধ্যে শুরু হয়েছে। কেউ কেউ দ্রুত বড় ধরনের পরিবর্তন আশা করলেও সরকার বলছে, ব্যাংকিং খাত অত্যন্ত সংবেদনশীল। হঠাৎ বড় পরিবর্তন আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে, যা ঝুঁকিপূর্ণ। তাই ধীরে ও পরিকল্পিতভাবে সংস্কার করা হচ্ছে। অর্থনীতি সচল রাখতে এবং সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যাংক খাত ঠিক করা জরুরি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
একই সঙ্গে ইচ্ছাকৃত ঋণখেলাপি—যারা শুরু থেকেই ঋণ পরিশোধের ইচ্ছা রাখে না—তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি। অর্থনীতির পুনরুজ্জীবন, ব্যবসা-বাণিজ্য বৃদ্ধি এবং রাজস্ব আয় বাড়াতে এসব পদক্ষেপ প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।
ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) অ্যামেন্ডমেন্ট অ্যাক্ট সংসদে পাস হয়েছে। গুমের অংশটা ট্রাইব্যুনালের আইনের সঙ্গে যুক্ত হওয়ায় আমি শুকরিয়া জানাচ্ছি। গুম অধ্যাদেশ একটা অপ্রয়োজনীয় আইন ছিল, ট্রাইব্যুনালের আইনেই গুমের বিচার সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।
মঙ্গলবার দুপুরে এক ব্রিফিং এ সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘গুম অধ্যাদেশ যদি বাতিল হয়ে থাকে এবং এটাকে যদি আমাদের এই ট্রাইব্যুনালে অ্যাক্টের সঙ্গে যদি ট্যাগ করে দেয়া হয়, তাহলে আমি এটা আইনমন্ত্রী বা সংসদ সদস্যদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। কারণ এই গুম অধ্যাদেশটা একটা অপ্রয়োজনীয় আইন ছিল।’
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘গুম অধ্যাদেশের আওতাধীন যে অপরাধটা ছিল, সেটা ইতোমধ্যেই আমাদের আইনে সেটা সংবিধিবদ্ধ ছিল। আমাদের আইনে যে গুমের অভিযোগ বিচারের এখতিয়ার ছিলো, সেখানে আবার আরেকটা আইন করে, আরেকটা ট্রাইব্যুনাল গঠন করার প্রয়োজনীয়তা ছিল বলে আমার কাছে মনেই হয়নি। সেই কারণে অন্ততপক্ষে ব্যক্তিগতভাবে শুরু থেকেই আমার কাছে মনে হয়েছিল যে, এই গুম অধ্যাদেশ যেটা করা হয়েছিল এটা অপ্রয়োজনীয়। এখন ট্রাইব্যুনালের অ্যাক্টের সঙ্গে একীভূত হওয়াটাকে একটা ভালো কাজ হয়েছে এবং এটা সঠিক হয়েছে, যথার্থ হয়েছে বলে আমি মনে করি।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ‘মায়ের ডাকের দাবি হচ্ছে তারা গুমের ১০১টা অভিযোগ প্রসিকিউশনে দাখিল করেছে, কিন্তু আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে ৭১টা অবেদন পেয়েছি। ১০১টা অ্যাপ্লিকেশন মানে কমপক্ষে ১০১টা ভিকটিম। খুব সঙ্গত কারণেই এত বৃহৎ সংখ্যক ভিকটিমদের ইনভেস্টিগেশন একটা সময় সাপেক্ষ।’
তিনি বলেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে আমি যখন এই প্রসিকিউশনের দায়িত্বে আসিনি তখনও আমি প্রত্যাশা করেছিলাম যে, মায়ের ডাকের যে অভিযোগগুলো, সেগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেগুলো ইনভেস্টিগেশন হবে। যেকোনো কারণেই করা যায়নি। তো আমি মায়ের ডাকের যারা ভিকটিম পরিবারগুলো সঙ্গে দেখা করেছে। আমি তাদেরকে আশ্বস্ত করেছি এইভাবে যে, অন্তত আগামী এক মাসের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটা অগ্রগতি ইনশাল্লাহ আমরা তাদের দেখাতে পারব।’
আগামী বাজেটে ভ্যাট ও আমদানি শুল্কে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেছেন, গতবার থেকে ৫০ শতাংশ আয় বাড়াতে বলা হয়েছে। ৪ থেকে ৬ লাখ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় দরকার। বিশাল রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে কঠোর পদক্ষেপের বিকল্প নেই। সামনে নানা খাতের কর অব্যাহতি সুবিধা তুলে দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে রাজস্ব ভবনের সম্মেলন কক্ষে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় রাজস্ব বাজেট প্রণয়নের লক্ষ্যে পরিবহন খাতের সংগঠনগুলোর নেতাদের সঙ্গে প্রাক-বাজেট আলোচনায় তিনি এ কথা বলেছেন।
এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, পাবলিক ট্রান্সপোর্টে সর্বোচ্চ ছাড় দেবে সরকার। টার্নওভার ট্যাক্স কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। কর ফাঁকির কারণে নানাক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হচ্ছে।
দেশে গত এক দশকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে উল্লেখযোগ্য সম্প্রসারণ ঘটেছে। ২০২৪ সালের অর্থনৈতিক শুমারির চূড়ান্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে, দেশে মোট অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ১৭ লাখ ২ হাজার ৭৯২টি, যা ২০১৩ সালে ছিল ৭৮ লাখ ১৮ হাজার ৫৬৫টি। অর্থাৎ ১০ বছরের ব্যবধানে দেশে অর্থনৈতিক ইউনিট বেড়েছে ৩৮ লাখ ৮৪ হাজার ২২৭টি, যা শতাংশের হিসেবে ৪৯.৬৫ শতাংশ বৃদ্ধি নির্দেশ করে। মঙ্গলবার প্রকাশিত বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর ‘অর্থনৈতিক শুমারি ২০২৪’-এর চূড়ান্ত ফলাফলে এ তথ্য উঠে এসেছে।
শুমারির তথ্য অনুযায়ী, দেশের অর্থনৈতিক ইউনিটগুলোতে বর্তমানে মোট ৩ কোটি ৬ লাখ ৩২ হাজার ৬৬১ জন মানুষ কর্মরত রয়েছেন। ২০১৩ সালে এই সংখ্যা ছিল ২ কোটি ৪৫ লাখ ৮৫০ জন। অর্থাৎ এক দশকে কর্মসংস্থান বেড়েছে ২৫.০৩ শতাংশ। মোট কর্মসংস্থানের মধ্যে পুরুষের অংশগ্রহণ ৮৩.২৮ শতাংশ, নারীর অংশগ্রহণ ১৬.৭১ শতাংশ এবং তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ ০.০১ শতাংশ হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে, যা অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির একটি সূচক হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।
বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশের মোট অর্থনৈতিক ইউনিটের সর্বোচ্চ ২৭.০৮ শতাংশই ঢাকা বিভাগে অবস্থিত। এর পরেই রয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ, যেখানে ১৭.৫১ শতাংশ ইউনিট রয়েছে, এবং রাজশাহী বিভাগে রয়েছে ১৪.৩৬ শতাংশ। অন্যদিকে সবচেয়ে কম অর্থনৈতিক ইউনিট রয়েছে সিলেট বিভাগে, যার হার ৪.৬৭ শতাংশ। এছাড়া খুলনায় ১২.৭৩ শতাংশ, রংপুরে ১১.৪১ শতাংশ, ময়মনসিংহে ৬.৬৩ শতাংশ এবং বরিশালে ৫.৬১ শতাংশ ইউনিট রয়েছে।
খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে স্পষ্ট হয়েছে যে দেশের অর্থনীতিতে সেবা খাতের আধিপত্য অত্যন্ত বেশি। মোট অর্থনৈতিক ইউনিটের ৯০.০২ শতাংশই সেবা খাতের অন্তর্ভুক্ত, যার সংখ্যা ১ কোটি ৫ লাখ ৩৪ হাজার ৪৪৩টি। বিপরীতে শিল্প খাতের ইউনিটের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম, যা মোটের মাত্র ৯.৯৮ শতাংশ। ব্যবসার ধরন অনুযায়ী ‘পাইকারি ও খুচরা ব্যবসা এবং মোটরযান মেরামত’ খাত সবচেয়ে বড় অংশ দখল করে আছে, যার হার ৪১.৮২ শতাংশ।
শিল্পের আকার অনুযায়ী দেখা যায়, দেশের অর্থনীতিতে মাইক্রো ও কুটির শিল্পের প্রাধান্য রয়েছে। মোট ইউনিটের মধ্যে মাইক্রো শিল্পের সংখ্যা ৬৬ লাখ ৩১ হাজার ৪৮২টি, যা ৫৬.৬৭ শতাংশ। কুটির শিল্প রয়েছে ৪৫ লাখ ৩৩ হাজার ৫৮৯টি বা ৩৮.৭৪ শতাংশ। অন্যদিকে ক্ষুদ্র শিল্প ৪.২০ শতাংশ, মাঝারি শিল্প ০.৩১ শতাংশ এবং বৃহৎ শিল্প মাত্র ০.০৮ শতাংশ, যা শিল্প কাঠামোর বৈশিষ্ট্যকে তুলে ধরে।
মালিকানার ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, দেশের অধিকাংশ অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানই ব্যক্তিগত বা পারিবারিক মালিকানাধীন। এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের হার ৮৭.৩৬ শতাংশ। প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির হার ১.৮২ শতাংশ এবং অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে পরিচালিত প্রতিষ্ঠান ১.৪৪ শতাংশ।
এছাড়া গ্রামীণ অর্থনীতিতে অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা শহরের তুলনায় বেশি। বর্তমানে পল্লী এলাকায় ৭৩ লাখ ৮৫ হাজার ৮২৮টি ইউনিট রয়েছে, যেখানে শহর এলাকায় রয়েছে ৪৩ লাখ ১৬ হাজার ৯৬৪টি ইউনিট। ২০১৩ সালের তুলনায় উভয় এলাকাতেই উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি লক্ষ্য করা গেছে, যা সামগ্রিক অর্থনৈতিক বিস্তারের ইঙ্গিত দেয়।
প্রতিষ্ঠানের ধরন অনুযায়ী, মোট অর্থনৈতিক ইউনিটের ৫৩.৫৭ শতাংশ স্থায়ী, ৪.৯১ শতাংশ অস্থায়ী এবং ৪১.৫২ শতাংশ খানা-ভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে। সব মিলিয়ে অর্থনৈতিক শুমারির এই চিত্র দেশের অর্থনীতিতে গত এক দশকে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি এবং ক্ষুদ্র ও সেবা খাতনির্ভর কাঠামোর বাস্তবতা স্পষ্টভাবে তুলে ধরেছে।
বাংলাদেশের বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা জোরদার ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সাথে সামঞ্জস্য নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) এভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক) বিভাগ তিন দিনব্যাপী Supplementary Station Procedure (SSP) প্রস্তুতিবিষয়ক কর্মশালা আয়োজন করেছে।
৫ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত বেবিচক সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় দেশের বিভিন্ন বিদেশি এয়ারলাইন্সের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলাদেশে পরিচালনাকারী বিদেশি বিমান সংস্থাগুলোকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনায় সক্ষম করে তোলা এবং বেবিচকের বিধিমালা অনুযায়ী SSP প্রস্তুত, জমা ও অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা প্রদান করা। এ সময় CAAB-এর প্রণীত ‘মডেল SSP’-এর প্রতিটি ধাপ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বেবিচকের সদস্য (নিরাপত্তা) এয়ার কমডোর মো. আসিফ ইকবাল। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন উপপরিচালক (চিফ এভসেক ইন্সপেক্টর), ICAO অডিটর ও সার্টিফায়েড ইন্সট্রাক্টর মোহাম্মদ আলমগীর।
এ ছাড়া আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিচালক (এভসেক পলিসি অ্যান্ড সার্টিফিকেশন) ইফতেখার জাহান হোসেন, সিনিয়র কনসালটেন্ট গ্রুপ ক্যাপ্টেন (অব.) খান শাহীনুল বারি এবং নিরাপত্তা কর্মকর্তা মো. আরিফুল ইসলাম।
কর্মশালায় বাংলাদেশে পরিচালনাকারী ৩৬টি বিদেশি এয়ারলাইন্সের মোট ৬৫ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা প্রোগ্রাম (NCASP) অনুযায়ী, প্রতিটি বিদেশি অপারেটরের জন্য সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দরের ভিত্তিতে SSP প্রণয়ন এবং তা বেবিচকের অনুমোদন গ্রহণ বাধ্যতামূলক।
মো. আসিফ ইকবাল বলেন, SSP বাস্তবায়নের মাধ্যমে এয়ারলাইন্সগুলোর অভ্যন্তরীণ মান নিয়ন্ত্রণ জোরদার হবে এবং বেবিচক, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার অডিটে কমপ্লায়েন্স অর্জন সহজ হবে।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে ৬ নভেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বাংলাদেশে বিমান নিরাপত্তাবিষয়ক অডিট পরিচালনা করবে। ২০১৮ সালের পর এই অডিটে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বেশকিছু পরিবর্তন এসেছে, যা দেশের এভিয়েশন খাতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এই কর্মশালাকে আসন্ন ICAO অডিটের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আয়োজকদের মতে, এমন উদ্যোগ দেশের বিমান নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সুনাম বৃদ্ধি করবে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে জারি করা অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে আরও নয়টিকে আইনে রূপ দিতে বিল আকারে পাস হয়েছে জাতীয় সংসদে। বিলগুলোতে দফাওয়ারি কোনো সংশোধনী প্রস্তাব ছিল না। তাই বিলের ওপর সংসদে কোনো আলোচনা হয়নি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা উত্থাপনের পর বিলগুলো সরাসরি কণ্ঠভোটে পাস করা হয়।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) সকালে পাস হওয়া ৯টি বিলের বিষয়ে বিশেষ কমিটির সুপারিশ ছিল, যেন এগুলো হুবহু পাস করা হয়।
এর মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সংক্রান্ত বিলটি পাসের প্রস্তাব করতে গিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘এটি এমন একটি বিল যার মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধের সংজ্ঞায় গুমকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।’ যারা বলছে, সরকার গুমের আইন করতে চাচ্ছে তাদের তিনি এ আইনটি ভালো করে দেখার পরামর্শ দেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার গুমের বিচারে বদ্ধপরিকর সেটার বহিঃপ্রকাশ এই আইনে এসেছে।’
বিলটি পাস হওয়ার পর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়ান বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আইনমন্ত্রী বিল পাসের প্রস্তাব করতে গিয়ে যা বলেছেন তা অনাহূত। এটা না বললেই ভালো হতো। নির্দিষ্ট সময় যখন আসবে তখন এ বিষয়ে তারা কথা বলবেন।’
জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, বাইরে অনেকে গুমের বিচার নিয়ে, সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তোলার চেষ্টা করেছেন। সে কারণে এ বিল উপস্থাপনের আগে ক্লিয়ার করেছেন যে গুমের বিচারে সরকার কতটা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বাইরে কতজন কত কথা বলে। আপনি সংসদের আলোচনার মধ্যে, সংসদ সদস্যদের মধ্যে বক্তব্য সীমাবদ্ধ রাখেন। স্পিকার বলেন, আইনবিধি অনুযায়ী যেটা গৃহীত হবে সেটা নিয়ে কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।’ পরে অন্য বিল পাসের কার্যক্রম শুরু করেন স্পিকার।
পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে ‘হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ বিল’ সংসদে পাসের জন্য প্রস্তাব করেন পানি সম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।
এরপর পৃথকভাবে কোড অব ক্রিমিনাল প্রসিডিউর (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, সিভিল কোর্টস (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস (ট্রাইব্যুনালস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল ও রেজিস্ট্রেশন (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল সংসদে পাসের প্রস্তাব করেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। পৃথকভাবে বিলগুলো কণ্ঠভোটে পাস হয়।
পাস হওয়া অন্য বিলগুলো স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত। মূলত নাম পরিবর্তনে আইন সংশোধন করে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। সেগুলোকে অনুমোদন করতে বিল পাস করা হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে তিনটি বিল সংসদে তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। সেগুলো হলো—ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) বিল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন) বিল ও শেখ হাসিনা মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (সংশোধন)। দ্বিতীয় বিলটি উত্থাপনের সময় সালাহউদ্দিন আহমদ মজা করে বলেন, ‘খুব দুঃখের ব্যাপার। এতক্ষণ তো যা বললাম, এখন আবার শেখ হাসিনা বলতে হচ্ছে!’
পরে ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট (সংশোধন) বিল’ পাসের প্রস্তাব করা হয়। বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের ক্যাপ্টেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আমরা কারও কাছে ট্রফি আনতে যাইনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে লন্ডনে গিয়ে ট্রফি দিয়ে নির্বাচনের তারিখ নিয়ে আসছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় দাঁড়িয়ে বগুড়া-২ আসনের সংসদ সদস্য স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। দশম দিনের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, এনসিপির এক নেতা বাইরে (সংসদে নয়) বক্তব্যে বলেছেন, জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে ছাত্র-জনতা খেলেছে আর ট্রফি বিএনপি নিয়ে বসে আছে। আমি বলতে চাই—জুলাই আগস্টের আন্দোলন ছাত্রজনতার সঙ্গে আমরা সবাই ছিলাম, ট্রফি আমরা কারও কাছে আনতে যাইনি। ক্যাপ্টেন কে? অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান ড. ইউনূস লন্ডনে গিয়ে আমাদের ক্যাপ্টেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে ট্রফি দিয়ে নির্বাচনের তারিখ নিয়ে এসেছেন। এতেই প্রমাণিত হয় ছাত্র-জনতার আন্দোলনের নেতৃত্বের মূল ভূমিকা কোন দলের ছিল, কোন নেতার ছিল। আমরা সবাই আন্দোলন করেছি এটি অস্বীকার করা সুযোগ নাই। কিন্তু ক্যাপ্টেন একজন থাকে যে ক্যাপ্টেনের কাছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান লন্ডনে গিয়ে আলোচনা করে নির্বাচনের তারিখ নিয়ে এসেছেন বলেই এদেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়েছে। সেই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বিরোধীদল এবং আমরা আজকে একটি ঐতিহাসিক সংসদে এসে উপস্থিত হতে পেরেছি।
মীর শাহে আলম আরও বলেন, ‘মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে আমি ধন্যবাদ এই কারণে দিতে চাই, বারবার দিতে চাই, কারণ মহামান্য রাষ্ট্রপতিকে নির্বাচিত করেছে আওয়ামী লীগ। শোনেন বিরোধী বন্ধুরা এই মহামান্য রাষ্ট্রপতির মুখ দিয়ে এই রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের মধ্য দিয়ে এই সংসদে আমরা বলিয়েছি মহান স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।’
মীর শাহে আলম বলেন, ‘এই রাষ্ট্রপতির ভাষণের মাধ্যমে আমরা বলেয়েছি গণতন্ত্রের মা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এই মহামান্য রাষ্ট্রপতি আওয়ামী লীগের দ্বারা নির্বাচিত উনি বক্তব্য বলেছেন, আওয়ামী লীগ ফ্যাসিস্ট, আওয়ামী লীগ স্বৈরাচার, আওয়ামী লীগ ভোট চোর। এই কথাগুলো মহামান্য রাষ্ট্রপতি এই সংসদে যখন বলেছেন, এই কৃতিত্ব বিএনপির এবং সংসদ নেতা তারেক রহমানের।’
সরকারের উন্নয়ন তুলে ধরে মীর শাহে আলম বলেন, ‘এই সংসদে দাঁড়িয়ে বিএনপির গৃহীত যে সমস্ত কর্মসূচি উপস্থাপন করেছে, যেমন ফ্যামিলি কার্ড। ইতোমধ্যেই এই ফ্যামিলি কার্ড প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করে সারা বাংলাদেশের গৃহকর্তী এবং নারীদের মধ্যে আলোচনায় চলে এসেছেন। মহামান্য রাষ্ট্রপতি এই সংসদে দাঁড়িয়ে কৃষক কার্ডের ব্যাপারে উপস্থাপন করেছেন এবং এই কৃষক কার্ড ইতোমধ্যেই সারা বাংলাদেশে কৃষকদের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই কৃষক কার্ড প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে আগামী ১৪ এপ্রিল, পয়লা বৈশাখ টাঙ্গাইল সদর থেকে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে।
করোনা মহামারিতে দেশের মানুষের সুরক্ষায় ভ্যাকসিন কেনা বাবদ ৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
মঙ্গলবার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনের দশম দিনে ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবেদিনের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। প্রশ্ন-উত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, করোনা মহামারি মোকাবিলায় সরকার কর্তৃক ভ্যাকসিনসহ করোনা সরঞ্জাম আমদানি ও কেনাকাটার জন্য ২০২০-২১ অর্থবছর থেকে ৪ হাজার ৬৮৫ কোটি ২২ লাখ ২ হাজার ২৯৭ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছিল। এই বরাদ্দ থেকে এখন পর্যন্ত ভ্যাকসিন কেনায় ব্যয় হয়েছে ৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা।
ভ্যাকসিন কার্যক্রমের অন্যান্য খাতের ব্যয়ের হিসাব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ভ্যাকসিন দেওয়ার জন্য সিরিঞ্জ ক্রয় বাবদ ৩০ কোটি ৮৮ লাখ ৮০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এছাড়া দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্যাকসিন পৌঁছে দেওয়ার পরিবহন খরচ বাবদ ১৯ কোটি ৫৭ লাখ ৩ হাজার টাকা ৩৫৪ এবং সিরিঞ্জ শিপিং ও চার্জ হিসেবে ৯৯ লাখ ৭৮ হাজার ৯৮০ টাকা ব্যয় হয়েছে।
ভ্যাকসিন আমদানিতে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়েছে কিনা—সংসদ সদস্যের এমন প্রশ্নের জবাবে সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ভ্যাকসিন ক্রয় ও সংরক্ষণ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কাছে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য বা অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে সরকার সবসময় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ সংক্রান্ত কোনো অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্ত্রী আরও জানান, করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের সময়োপযোগী পদক্ষেপের কারণে দেশ দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সক্ষম হয়েছে।
রাজধানীর লালবাগ থানার বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সময়ের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হলো সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বেলা ১১টা ২০ মিনিটের দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) যুগ্ম কমিশনার মো. নাসির উদ্দিন।
তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় ছয়টি মামলা রয়েছে। এরমধ্যে লালবাগ থানার বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের একটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
তাকে কখন আদালতে তোলা হবে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা এটা নিয়ে কাজ করছি। সময় লাগবে।
শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন সাবেক স্পিকার। ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর স্পিকার নির্বাচিত হন আবদুল হামিদ। তাকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা হলে ২০১৩ সালের ৩০ এপ্রিল স্পিকার নির্বাচিত হন শিরীন শারমিন। এর পর থেকে টানা তিনি এ দায়িত্বে ছিলেন।
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে সহিংসতার ঘটনায় শিরীন শারমিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। রংপুরে গুলিবিদ্ধ হয়ে স্বর্ণশ্রমিক মুসলিম উদ্দিন নিহত হওয়ার ঘটনায় ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট শিরীন শারমিন চৌধুরী, সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশিসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়।
এর আগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের নতুন মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) এন এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, শিরীন শারমিন চৌধুরীকে তার এক আত্মীয়ের বাসা থেকে আজ ভোরে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাকে সুনির্দিষ্ট মামলায় আদালতে পাঠানো হবে।
আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হবে বলে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রশ্নোত্তরে তিনি তা জানান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনের দশম দিনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
টেবিলে উত্থাপিত প্রশ্নের জবাবে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান লিখিত প্রশ্নের জবাবে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) বলেন, ২০২৬ সালের হজ প্যাকেজ ঘোষণার মাধ্যমে হজের কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্যাকেজ অনুযায়ী সৌদি আরব ও বাংলাদেশ পর্বের বিভিন্ন খরচ ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। এছাড়াও সম্পন্ন হয়েছে সৌদি টাইম লাইন অনুযায়ী ভিসাসহ সব কার্যক্রম।
তিনি আরও বলেন, আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হবে। হজ ২০২৭-এর প্যাকেজ প্রণয়ন ও ঘোষণার সময় হজযাত্রীর সুযোগ-সুবিধা এবং চাহিদার ভিত্তিতে সামগ্রিক অবস্থা বিবেচনা করে হজ প্যাকেজের ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।