শুক্রবার, ২ জানুয়ারি ২০২৬
১৯ পৌষ ১৪৩২

অবসরে যাওয়া লক্ষাধিক পুলিশ সদস্য রেশন-চিকিৎসাসেবা বঞ্চিত

বাংলাদেশ পুলিশ
এস এম নূরুজ্জামান
প্রকাশিত
এস এম নূরুজ্জামান
প্রকাশিত : ১৫ অক্টোবর, ২০২৩ ০০:০৭

পুলিশবাহিনীতে অবসরে যাওয়া সদস্যদের রেশন ও চিকিৎসা সেবা দেয়া নিয়ে দ্বৈতনীতির কারণে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। ৯৯ ভাগ অবসরপ্রাপ্ত সদস্যই রেশন সুবিধার বাইরে থাকায় এক শতাংশের রেশন প্রাপ্তিতে তাদের দাবি সঠিকভাবে বাস্তবায়ন হয়নি বলে মনে করছেন অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের দুটি সংগঠনের নেতারা। তাই অবসরপ্রাপ্ত শতভাগ সদস্যকে রেশন বরাদ্দের দাবি তুলেছেন তারা।

তিন বছর আগে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে পুলিশ বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের জন্য রেশন বরাদ্দ করে অর্থ মন্ত্রণালয়। তবে প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে অবসরে যাওয়া পুলিশ সদস্যদের এই সুবিধা দেয়া হয়। এর ফলে যারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে এই দাবি তুলেছিলেন তারাই এই সুবিধার বাইরে রয়েছেন, সংখ্যার বিচারে যারা ৯৯ ভাগ। তাদের দাবি, এই রেশন সুবিধা পুলিশের অবসরপ্রাপ্ত শতভাগ সদস্যের জন্য বরাদ্দ দিতে হবে।

অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের দুটি সংগঠন হচ্ছে বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার্স কল্যাণ সমিতি ও অনূর্ধ্ব সাব-ইন্সপেক্টর অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কল্যাণ অ্যাসোসিয়েশন। এই দুই সংগঠনের নেতাদের দাবি, স্বাধীনতার পর থেকে ২০২০ সালের আগ পর্যন্ত গত ৪৮ বছরে অবসরে যাওয়া লক্ষাধিক পুলিশ সদস্য অবসরকালীন রেশন সুবিধা ও চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাই বিষয়টি আবারও বিবেচনায় নিতে আহ্বান জানিয়েছে এই দুটি সংগঠন। এই দাবিতে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইজিপির কাছে লিখিত অনুরোধ করেছেন উভয় সংগঠনের নেতারা।

অবসরে যাওয়া পুলিশ সদস্যরা দৈনিক বাংলাকে জানান, দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ৬ জানুয়ারি রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে অনুষ্ঠিত পুলিশ সপ্তাহ উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ‘অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের জন্য আজীবন রেশন প্রদানের বিষয়টিও আমাদের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। আমরা সেটারও ব্যবস্থা করে দেব।’ তবে প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার পর সাড়ে তিন বছর পার হয়ে গেলেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।

তারা জানান, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার পরের বছর অর্থাৎ ২০২০ সালে পুলিশ সপ্তাহ চলাকালে বিষয়টি নিয়ে আবারও প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। সে সময় অবসরপ্রাপ্তদের রেশন ও চিকিৎসা সুবিধা দেয়ার ঘোষণা বাস্তবায়নের জন্য তিনি আবারও নির্দেশ দেন।

সাবেক পুলিশ সদস্যরা বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ওই ঘোষণার পর অর্থ মন্ত্রণালয় তড়িঘড়ি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পুলিশ সদর দপ্তরে সম্ভাব্য খরচের পরিমাণ জানতে চেয়ে চিঠি দেয়। পুলিশ সদর দপ্তর দেশের সব পুলিশ সুপারের মাধ্যমে সম্ভাব্য খরচসংক্রান্ত তথ্য অনুসন্ধান চালায়। পুলিশ সদর দপ্তর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অবসরকালীন পুলিশ সদস্যদের সংখ্যা ও খরচের হিসাব পাঠায়।

কর্মকর্তারা আরও জানান, ২০২০ সালের ২৯ জানুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয় অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের রেশন দেয়ার নির্দেশ দেয়; কিন্তু অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা প্রজ্ঞাপন দেখে সারা দেশের কর্তব্যরত ও অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা হতাশ হয়ে পড়েন। জারিকৃত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয় যে ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে যেসব পুলিশ সদস্যরা অবসরে গিয়েছেন, কেবল তাদের প্রত্যেক পরিবারের দুজন সদস্য রেশন সুবিধা পাবেন। এ ক্ষেত্রে দুজনের জন্য ২০ কেজি চাল, ২০ কেজি আটা, দুই কেজি চিনি, সাড়ে চার লিটার তেল ও দুই কেজি ডাল বরাদ্দ ঘোষণা করা হয়। এই আদেশ কার্যকর হওয়ার পর তা সংশোধন করে আরেক আদেশ জারি করা হয়। সেখানে চিনি ও ডালের পরিমাণ কমিয়ে দুই কেজির পরিবর্তে ১ কেজি নির্ধারণ করা হয়।

ফলে, আদেশে গত সাড়ে তিন বছরে অবসর যাওয়া পুলিশ সদস্যরাই কিছুটা উপকারভোগী হলেও এর আগে অবসরে যাওয়া লক্ষাধিক সদস্যের ভাগ্যে কিছু্ই জোটেনি।

২০২০ সালের আগে অবসরে যাওয়া একাধিক পুলিশ সদস্য জানান, একই পুলিশ বিভাগে এমন দ্বৈত নিয়ম চালু করায় ২০২০ সালের আগে ও পরে অবসরে যাওয়া পুলিশ সদস্যদের মধ্যে বৈষম্য ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। বৈষম্যের কারণে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যগণ বিশেষ করে কনস্টেবল ও এসআই পদর্মযাদার পুলিশ সদস্যরা একদিকে যেমন রেশনসুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, অন্যদিকে পুলিশ হাসপাতালে সার্বজনীন চিকিৎসাসেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন।

অনুর্ধ্ব সাব- ইন্সপেক্টর অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কল্যাণ অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব মো. আনিচুর রহমান হাওলাদার দৈনিক বাংলাকে বলেন, পুলিশ বাহিনীতে আমরা কম বেতনে চাকরি করছি। কম দামের রেশন পেয়েছি। পেনশনও কম পেয়েছি। এজন্য আমরাই সুযোগ সুবিধার দাবি করছি দীর্ঘদিন ধরে। অথচ আমাদেরকেই বঞ্চিত করে অর্থ মন্ত্রণালয় নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করে। এতে লক্ষাধিক সদস্য মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

তিনি আরও বলেন, একই বাহিনীতে এমন দ্বৈত নিয়ম বাতিল করে সুবিধাবঞ্চিত সকল অবরসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের অবসরকালীন পারিবারিক পেনশনের দাবিতে আমরা প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করার প্রস্তুতি নিয়ে এগুচ্ছি।

পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার একাধিক কর্মকর্তা জানান, ১৯৭২ সাল থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বেঁচে থাকা অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের সংখ্যা প্রায় এক লাখ। এদের মধ্যে ৯০ হাজার সদস্যই হলেন কনস্টেবল থেকে এসআই পদ মর্যাদার সদস্যরা। যারা কর্মজীবনে স্বাধীনতা যুদ্ধ ও পরবর্তী যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠন, দেশের অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, জঙ্গি কার্যক্রম ও অবৈধ মাদক নির্মূল ক্ষেত্রে অকুতোভয় দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে সর্বপ্রথম পুলিশই পাকহানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। ৭৫ এর ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারকে রক্ষা করতে গিয়ে এদেরই অনেক সদস্য নিহত হন।

সূত্র জানায়, ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের একটি অংশের রেশন চালু করায় একই বিভাগে দ্বৈতনীতির সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে অবসরে যাওয়া সিংহভাগ সদস্যই রেশন পাচ্ছেন না, সংখ্যার বিচারে যারা ৯৯ ভাগ। অন্যদিকে মাত্র ১ ভাগ অবসরপ্রাপ্ত সদস্য রেশন সুবিধা পাচ্ছেন।

বিষয়:

বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠায় অধ্যাদেশ জারি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে বাণিজ্যিক বিরোধ দ্রুত ও কার্যকরভাবে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে ‘বাণিজ্যিক আদালত’ প্রতিষ্ঠার জন্য একটি বিশেষ অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় এই অধ্যাদেশটি জারি করে। মূলত বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।

বর্তমানে জাতীয় সংসদ অকার্যকর থাকা অবস্থায় জরুরি পরিস্থিতি বিবেচনায় গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৯৩(১) অনুচ্ছেদে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি এই অধ্যাদেশটি প্রণয়ন ও জারি করেছেন।

এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য বিশেষায়িত আদালত গঠনের পাশাপাশি এ সংক্রান্ত আনুষঙ্গিক সব আইনি বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সরকারের প্রত্যাশা, এই উদ্যোগের ফলে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বিচারিক দীর্ঘসূত্রতা কমবে, যা দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি এবং একটি টেকসই বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এর আগে, গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্ট থেকে সারা দেশে বিশেষায়িত বাণিজ্যিক আদালত প্রতিষ্ঠার একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল, যারই ধারাবাহিকতায় এই অধ্যাদেশ জারি করা হলো।


বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে অশ্রুসজল মানুষের শ্রদ্ধা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক তিন বারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে সর্বস্তরের মানুষের ঢল নেমেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে তার সমাধিস্থলে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ এসে চোখের জলে শেষ শ্রদ্ধা জানান।
এদিন দুপুর ১২টার পর খালেদা জিয়ার সমাধিস্থল সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। এরপর থেকেই জিয়া উদ্যানে একে একে প্রবেশ করেন সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতাকর্মীরা। অনেকেই ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান, কেউ কেউ দোয়া-মোনাজাতে অংশ নেন। এসময় শোকাবহ পরিবেশে অনেকেই ছিলেন অশ্রুসজল।
এর আগে, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টা থেকেই সাধারণ মানুষ কবর জিয়ারত করতে জিয়া উদ্যানে আসতে থাকেন। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে তখন প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়নি। পরে দুপুর ১২টার দিকে প্রবেশমুখ খুলে দেওয়া হলে শ্রদ্ধা নিবেদন শুরু হয়। প্রবেশমুখ খুলে দিলে বিএনপির নেতা–কর্মী ও সাধারণ মানুষ খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করতে যান। যারা এসেছেন, তাদের মধ্যে নারী ছিলেন বেশি।
জিয়া উদ্যানে আসা মানুষদের মধ্যে অনেকেই ঢাকার বাইরে থেকেও এসেছেন। বেগম খালেদা জিয়ার টানে শুধু বিএনপি নেতা-কর্মীরাই নন, বরং সাধারণ মানুষের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো।
মুন্সিগঞ্জ থেকে আসা ফাতেমা শারমিন জানান, তিনি রাজনীতি করেন না, তবুও কেবল শ্রদ্ধা থেকে শেষবারের মতো প্রিয় নেত্রীর কবরের মাটি ছুঁয়ে দেখতে এসেছেন।
ফেনী থেকে আসা মবিনুল ইসলাম বলেন, আমি কোনো দল করি না, কিন্তু বেগম জিয়ার শাসনকাল আমার কাছে সোনালী সময় মনে হয়। তাই তাকে শেষ বিদায় জানাতে ছুটে এসেছি।
আগতদের মধ্যে নারী ও ঢাকার বাইরে থেকে আসা মানুষের সংখ্যা ছিল উল্লেখযোগ্য। পঞ্চগড় জেলা বিএনপির সভাপতি জাহিরুল ইসলামসহ তৃণমূলের অনেক নেতা-কর্মীকেও সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে কবর জিয়ারত করতে দেখা গেছে।
গত বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নামাজে জানাজা শেষে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বেগম খালেদা জিয়াকে শেরেবাংলা নগরে স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশে সমাহিত করা হয়।
দীর্ঘদিন ধরে নানা জটিলতায় অসুস্থ ‘আপসহীন নেত্রী’ খ্যাত খালেদা জিয়া গত মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইন্তেকাল করেন। তার মৃত্যুতে দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে।


যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৪টি বিমান কিনছে সরকার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

যুক্তরাষ্ট্রের বিমান সংস্থা বোয়িং থেকে ১৪টি বিমান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বোর্ড মিটিংয়ে নীতিগতভাবে এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। বোর্ড সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বোয়িংয়ের কাছ থেকে ১৪টি বিমান ক্রয় নিয়ে মূল্য ও শর্তাবলি সংক্রান্ত আলোচনা আনুষ্ঠানিকভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে।

বিমান সূত্রে জানা যায়, বোর্ড সভায় বোয়িংয়ের ২৪ নভেম্বর ২০২৫ তারিখের বিমান বিক্রয় প্রস্তাব এবং ২০ ডিসেম্বর ২০২৫-এ পাঠানো সংশোধিত খসড়া চুক্তি পর্যালোচনা করা হয়। প্রস্তাব অনুযায়ী, বোয়িং কোম্পানি বিমানের কাছে দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯, ৮টি বোয়িং ৭৮৭-১০ এবং ৪টি বোয়িং ৭৩৭-৮ মডেলের উড়োজাহাজ বিক্রি করতে আগ্রহ প্রকাশ করে। বোর্ড সভায় এ প্রস্তাবে নীতিগতভাবে সম্মতি দেওয়া হয় এবং আলোচনা অব্যাহত রাখার অনুমোদন দেওয়া হয়।

এই সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এলো, যখন বাংলাদেশ সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের অংশ হিসেবে বোয়িং থেকে বড় পরিসরে বিমান কেনার পরিকল্পনা নিয়েছে, যা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং রপ্তানি শুল্ক ইস্যুতে দ্বিপক্ষীয় বোঝাপড়ার ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

বোয়িং কোম্পানির বাণিজ্যিক বিমান বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল রিঘির কাছে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক চিঠিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শফিকুর রহমান লিখেছেন- বোর্ডের এই অনুমোদন চূড়ান্ত চুক্তির আগে আলোচনার একটি আনুষ্ঠানিক সূচনা মাত্র। চিঠিতে আরো উল্লেখ করা হয়, চুক্তি স্বাক্ষর না হওয়া পর্যন্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স কোনো ধরনের আর্থিক বা আইনি দায়ে আবদ্ধ থাকবে না।

সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বহর সম্প্রসারণের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বিমানের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়বে এবং দেশের বিমান পরিবহন খাতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে।

এদিকে মঙ্গলবার বোর্ড সভার গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন বিমান কর্তৃপক্ষ একটি কমিটি গঠন করবে। এই কমিটি বোয়িং কেনার দরদামসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ইস্যুতে আলোচনা করবে বোয়িং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে।

গত বছরের ২৭ জুলাই সচিবালয়ে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, পাল্টা শুল্ক নিয়ে দর কষাকষির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের উড়োজাহাজ কোম্পানি বোয়িংয়ের কাছ থেকে ২৫টি বিমান কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে কিছু বিমান আগামী এক-দুই বছরের মধ্যে পাওয়া যাবে।

তিনি বলেন, ‘বোয়িংয়ের ব্যবসা যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নয়, এটি বোয়িং কোম্পানি করে। বাংলাদেশ মোট ২৫টি বোয়িংয়ের ক্রয়াদেশ দিয়েছে। অন্য দেশও এমন ক্রয়াদেশ দিয়েছে। এখন বোয়িং কোম্পানি তাদের সক্ষমতা অনুযায়ী সরবরাহ করবে। অর্ডারের বোয়িং পেতে অনেক সময় লাগবে। যারা আগে অর্ডার দিয়েছে, তাদের আগে দেবে কিংবা প্রতিষ্ঠানটি তাদের ব্যবসার ধরন অনুযায়ী বিমান সরবরাহ করবে। বাংলাদেশের অতিদ্রুত কিছু বোয়িং দরকার। আগামী দুয়েক বছরের মধ্যে হয়তো কয়েকটি বিমান পাওয়া যাবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বোয়িং কেনার বিষয়ে বাণিজ্য সচিবের ঘোষণার পর এয়ারবাস বিক্রির জন্য জোরেশোরে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেন ইউরোপের কূটনীতিকরা। এমনকী প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গেও সরাসরি এয়ারবাসের বিষয়ে আলাপ করেন কূটনীতিকরা।


মায়ের প্রতি আপনাদের শ্রদ্ধা ও সম্মান হৃদয় স্পর্শ করেছে : তারেক রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মা খালেদা জিয়ার জানাজা ও দাফনে সহযোগিতার জন্য দায়িত্ব পালনরত সবাইকে নিজের ও পরিবারের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শেষবিদায়কে ঐতিহাসিক বিদায় উল্লেখ করেছেন তারেক রহমান। দেশের মানুষের জন্য যথাযথ শ্রদ্ধা ও মর্যাদার সঙ্গে এই বিদায় সম্পন্ন হয়েছে বলে জানান তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সকাল সোয়া সাতটার কিছু আগে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে এ কথা লেখেন তারেক রহমান।

পোস্টে তিনি দেশবাসী ও খালেদা জিয়ার জানাজা-দাফনকাজে দায়িত্ব পালনরত সংশ্লিষ্ট সবার উদ্দেশে লেখেন, ‘গভীর শোকের এই সময়ে আপনারা যে সহমর্মিতা, সম্মান এবং দায়িত্ববোধ দেখিয়েছেন, তা আমাদের হৃদয় স্পর্শ করেছে।’

পোস্টে তারেক রহমান সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রধান উপদেষ্টা ও অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ও সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানান।

ফেসবুক পোস্টে তারেক রহমান লেখেন, ‘গতকাল, আমার জীবনের এক গভীর শোকের মুহূর্তে, আমি আমার মায়ের শেষ বিদায় দিতে পেরেছি। এটি এমন এক ঐতিহাসিক বিদায়, যা দেশের মানুষের জন্য যথাযথ শ্রদ্ধা ও মর্যাদার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে। আর সেটি সম্ভব হয়েছে যাদের যত্ন, দায়িত্ববোধ ও পেশাদারত্বের কারণে; তাদের সবাইকে আমি অন্তরের গভীর থেকে ধন্যবাদ জানাই। দেশনেত্রীর অন্তিম যাত্রায় অবিরত দায়িত্ব পালন করেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যরা। আপনারা শুধু শৃঙ্খলা বজায় রাখেননি, শোকময় পরিবেশেও মানবিকতার উদাহরণ দেখিয়েছেন। আপনারা আমাদের সবাইকে নিরাপদে রেখেছেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে জানাজায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়েছেন। নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সকল নারী ও পুরুষ সদস্যদেরও আমি ধন্যবাদ জানাই, যার মাঝে রয়েছেন মাননীয় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও ভিডিপি, র‍্যাব এবং এপিবিএন। আপনাদের ধৈর্য, সততা ও দায়িত্ববোধের কারণে লক্ষ-লক্ষ মানুষ নিরাপদে একত্রিত হতে পেরেছে, স্বতঃস্ফূর্তভাবে শোক প্রকাশ ও শ্রদ্ধা জানাতে পেরেছে, এবং শান্তিপূর্ণভাবে ফিরে যেতে পেরেছে। যাদের কাজ অনেক সময় চোখে পড়ে না, ডিজিএফআই, এনএসআই এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চের নিবেদিত সদস্যদের প্রতিও আমি সমানভাবে কৃতজ্ঞ। আপনাদের সতর্কতা ও দায়িত্ববোধের কারণে দিনটি নিরাপদ এবং নির্বিঘ্নভাবে সম্পন্ন হয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের পিএসও, ডিজি এসএসএফ, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত, তথ্য ও সম্প্রচার, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক, সংস্কৃতি ও ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়সমূহের উপদেষ্টাগণ, ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অবদানও আমি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছি। আপনাদের সমন্বয় এবং উপস্থিতির মাধ্যমে, আমরা শান্তিতে শোক প্রকাশ ও শ্রদ্ধা জানাতে পেরেছি।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরও ধন্যবাদ। তাদের আন্তরিক প্রচেষ্টার কারণে বিদেশি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা সরাসরি উপস্থিত হয়ে সমবেদনা জানাতে পেরেছেন। এটা প্রমাণ করে, দেশের সীমানার বাইরে থেকেও আমার মার প্রতি কতটা গভীর সম্মান ছিল।

কয়েক বর্গ কিলোমিটারজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বিশাল জনসমুদ্রের মধ্যে এই অনুষ্ঠান কভার করা সাংবাদিকদের জন্য খুবই কঠিন ছিল। এত প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও দেশ-বিদেশের মিডিয়াকর্মীরা আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে জানাজার নামাজ ও দাফনের খবর, ছবি ও ভিডিও সারা বিশ্বে পৌঁছে দিয়েছেন। তাদের সবার প্রতি আমার আন্তরিক শ্রদ্ধা ও হৃদয়ের গভীর থেকে ধন্যবাদ। আমি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং তার উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদেরও অন্তরের গভীর থেকে ধন্যবাদ জানাই। জাতীয় শোকের এই কঠিন সময়ে তারা ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থেকে প্রতিটি মুহূর্তে শান্তি ও যত্ন বজায় রাখতে সাহায্য করেছেন, যা আমাদের পরিবারের জন্য অমূল্য সমর্থন হিসেবে অনুভূত হয়েছে।

আপনারা ছিলেন সেই শক্তি, যার কারণে আমাদের পরিবার এবং পুরো জাতি মর্যাদার সঙ্গে আমার মার স্মৃতিকে সম্মান জানাতে পেরেছে, আলহামদুলিল্লাহ।’


দিল্লি-ঢাকা সম্পর্ক জোরদারে খালেদা জিয়ার অবদান স্মরণীয় হয়ে থাকবে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে গেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। তার এই উল্লেখযোগ্য অবদান সব সময় স্মরণ করা হবে। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানিয়ে এই বার্তাই দিয়েছেন রাজনাথ সিং।

বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দুপুরে দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে যান রাজনাথ সিং। তিনি বাংলাদেশ মিশনে গিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জন্য রাখা শোক বইতে এই বার্তা লেখেন। খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

রাজনাথ সিং লিখেছেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ভারতের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে আন্তরিক সমবেদনা জানাই। ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক জোরদারে তার উল্লেখযোগ্য অবদান সব সময় স্মরণ করা হবে।

শোকবার্তায় রাজনাথ সিং লেখেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ভারতের সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে আন্তরিক সমবেদনা জানাই। ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক জোরদারে তার উল্লেখযোগ্য অবদান সব সময় স্মরণ করা হবে।

এরপর এক এক্স পোস্টে তিনি বলেন, ‘নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে গিয়েছিলাম। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে শোক বইতে স্বাক্ষর করেছি। তার পরিবার এবং বাংলাদেশের জনগণের প্রতি আমাদের সমবেদনা।’

এ নিয়ে দুবার দিল্লির বাংলাদেশ হাইকমিশনে গেলেন রাজনাথ সিং। এর আগে ২০২১ সালের ২২ নভেম্বর বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে দিল্লির মিশনে গিয়েছিলেন তিনি।


কার্যকর হলো ধূমপান ও তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ ২০২৫

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর করা হয়েছে। বিদ্যমান ২০০৫ সালের আইনটিকে আরও শক্তিশালী ও যুগোপযোগী করতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত এই অধ্যাদেশটি গত ৩০ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর আজ ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হলো। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তার মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়েছে। নতুন এই অধ্যাদেশের প্রধান লক্ষ্য হলো তামাক ও নিকোটিনজাত দ্রব্যের মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব থেকে জনগণকে সুরক্ষা দেওয়া এবং দেশে তামাক ব্যবহারের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা। এর মাধ্যমে ই-সিগারেট, ভ্যাপ এবং হিটেড টোব্যাকোসহ সব ধরনের উদীয়মান তামাকজাত পণ্যকে বাংলাদেশে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

নতুন এই আইনে তামাকজাত দ্রব্যের সংজ্ঞাকে আরও বিস্তৃত করা হয়েছে, যার ফলে ই-সিগারেট, ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম, এবং নিকোটিন পাউচসহ সমসাময়িক সব পণ্য এখন থেকে তামাকের আওতায় পড়বে। সরকার চাইলে ভবিষ্যতে যেকোনো নতুন ক্ষতিকর পণ্যকে গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে তামাকজাত দ্রব্য হিসেবে ঘোষণা করার ক্ষমতা রাখে। জনস্বার্থ রক্ষায় পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপানের পাশাপাশি সব ধরনের তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নিয়ম অমান্যকারীদের ক্ষেত্রে জরিমানার পরিমাণও কয়েকগুণ বাড়ানো হয়েছে; আগে যেখানে এই অপরাধের জরিমানা ছিল মাত্র ৩০০ টাকা, এখন তা বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি সর্বসাধারণের জন্য একটি ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করা হচ্ছে।

তামাক পণ্যের প্রচারণা বন্ধে এই অধ্যাদেশে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে প্রিন্ট মিডিয়া, ইলেকট্রনিক মিডিয়া, ইন্টারনেট, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এমনকি ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও তামাকজাত দ্রব্যের কোনো বিজ্ঞাপন প্রচার করা যাবে না। বিক্রয়কেন্দ্রে তামাকের প্যাকেট প্রদর্শন করা এবং করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতা বা সিএসআর কার্যক্রমের নামে তামাক কোম্পানির লোগো বা নাম ব্যবহার করাও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তরুণ প্রজন্মকে এই নেশা থেকে দূরে রাখতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলার মাঠ এবং শিশুপার্কের ১০০ মিটারের মধ্যে তামাকজাত দ্রব্য বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই সীমানার মধ্যে তামাক পণ্য বিক্রি করলে তাকে কঠোর আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে হবে।

ই-সিগারেট ও আধুনিক তামাক পণ্যের বিস্তার রোধে এই অধ্যাদেশে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। এসব পণ্যের উৎপাদন, আমদানি, রপ্তানি, সংরক্ষণ এবং বিক্রয়কে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং আইন অমান্য করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানার সম্মুখীন হতে হবে। এছাড়া কুম্ভি পাতা ও টেন্ডু পাতার বিড়ির উৎপাদন ও বিপণন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং তামাকের সাথে যেকোনো ধরনের ক্ষতিকর বা আসক্তিমূলক রাসায়নিক মিশ্রণকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তামাকজাত দ্রব্যের প্যাকেটের ৭৫ শতাংশ জায়গা জুড়ে রঙিন ছবি ও স্বাস্থ্য সতর্কবার্তা সংবলিত স্ট্যান্ডার্ড প্যাকেজিং এখন থেকে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

সরকার আশা করছে যে, এই অধ্যাদেশটি যথাযথভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। আইন লঙ্ঘনের দায়ে কোম্পানিগুলোর লাইসেন্স বাতিল এবং মালামাল জব্দ করার মতো কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের ক্ষমতা এখন থেকে প্রশাসনের হাতে থাকবে। তামাকের মতো একটি মরণঘাতী উপাদানের বিরুদ্ধে লড়াই করতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে একটি সুস্থ ও তামাকমুক্ত সমাজ উপহার দিতে এই আইনটি একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে দেশে ধূমপানের হার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনাই এখন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।


মোবাইল ফোন আমদানিতে ট্যাক্স কমানো হয়েছে: প্রেস সচিব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম মোবাইল ফোন আমদানিতে ট্যাক্স কমানোর বিষয়ে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান যে, মোবাইল ফোন আমদানির ক্ষেত্রে আগে কাস্টমস ডিউটি ছিল ২৫ শতাংশ, যা বর্তমানে কমিয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশে উৎপাদিত মোবাইল ফোনের ওপর আরোপিত ট্যাক্স ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। সরকারের এই ইতিবাচক পদক্ষেপের ফলে দেশের মোবাইল ফোন শিল্পে ব্যাপক গতিশীলতা আসবে এবং সাধারণ ক্রেতাদের জন্য স্মার্টফোন কেনা আরও সহজসাধ্য হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রেসসচিব শফিকুল আলম তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, দেশে বিদেশ থেকে প্রচুর পরিমাণে ব্যবহৃত বা 'ইউজড' মোবাইল ফোন আনা হয় এবং সেগুলো কিছুটা মেরামত বা রিফারবিশড করে বাজারে বিক্রি করা হয়। এতে একদিকে যেমন সাধারণ ক্রেতারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন, তেমনি সরকারও বড় অংকের রাজস্ব হারায়। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং দেশীয় শিল্পের বিকাশে কর হ্রাসের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এতে করে দেশে উৎপাদিত মোবাইল ফোনের চাহিদা বাড়বে এবং বাজারে মানসম্মত ফোনের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে চলে আসবে বলে সরকার মনে করছে।

সংবাদ সম্মেলনে নতুন বছরের পাঠ্যপুস্তক বিতরণ নিয়েও হালনাগাদ তথ্য প্রদান করা হয়। প্রেসসচিব জানান যে, আগামী ১৫ জানুয়ারির মধ্যে সকল শিক্ষার্থীর হাতে পাঠ্যপুস্তক পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে এবং শিক্ষকদের পরামর্শ অনুযায়ী ইতিমধ্যে ১২৩টি বইয়ের ভুল সংশোধন করা হয়েছে। এ সময় প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেসসচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানান যে, ইতিমধ্যে মোট পাঠ্যপুস্তকের প্রায় ৮৩ শতাংশ বই শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। সময়মতো বাকি বইগুলো পৌঁছে দেওয়ার জন্য সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। সরকারের এই সমন্বিত উদ্যোগ শিক্ষা ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন নিয়ে আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।


ডিএমপির সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার ও তাঁর স্ত্রীর ২৮টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন অ্যান্ড গোয়েন্দা-দক্ষিণ) বিপ্লব কুমার সরকার এবং তাঁর স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগমের নামে থাকা ২৮টি ব্যাংক হিসাব ও দুটি বিও (বেনিফিশিয়ারি ওনার্স) হিসাব অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষ থেকে করা একটি বিশেষ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের ভারপ্রাপ্ত বিচারক মো. আলমগীর এই আদেশ প্রদান করেন। আদালতের সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, দুদকের সহকারী পরিচালক রাসেল রনি অভিযুক্তদের অবৈধ আয়ের উৎস আড়াল করার চেষ্টা এবং সম্পদ বেহাত হওয়ার আশঙ্কার বিষয়টি আদালতে গুরুত্বের সাথে তুলে ধরেন।

আবেদনে দুদকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বিপ্লব কুমার সরকার ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরিতে থাকাকালীন ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগের বিষয়ে বর্তমানে গভীর অনুসন্ধান চলছে। সংস্থার দাবি, অভিযুক্তরা অবৈধভাবে অর্জিত আয়ের উৎস গোপন করার লক্ষ্যে বিভিন্ন অপকৌশল অবলম্বন করছেন, যা মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের আওতায় একটি গুরুতর অপরাধ। তদন্ত চলাকালে দুদক লক্ষ্য করেছে যে, সংশ্লিষ্ট ব্যাংক ও বিও হিসাবগুলো থেকে অর্থ অন্যত্র স্থানান্তর বা হস্তান্তরের চেষ্টা করা হচ্ছে। যদি এই অর্থগুলো সরিয়ে ফেলা হয়, তবে পরবর্তীতে তা উদ্ধার করা রাষ্ট্রের জন্য দুরূহ হয়ে পড়বে বলে আদালতকে অবহিত করা হয়।

তদন্তের স্বার্থে এবং রাষ্ট্রের সম্পদ রক্ষায় এই অর্থ উত্তোলন অবিলম্বে অবরুদ্ধ করা একান্ত প্রয়োজন বলে মনে করেছেন আদালত। আদালতের এই আদেশের ফলে বিপ্লব কুমার ও তাঁর স্ত্রীর উল্লেখিত হিসাবগুলো থেকে এখন আর কোনো ধরনের লেনদেন করা সম্ভব হবে না। এর আগেও এই দম্পতির বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত ৯ ডিসেম্বর বিপ্লব কুমার সরকার, তাঁর স্ত্রী হোসনেয়ারা বেগম, ভাই প্রণয় কুমার সরকার এবং হোসনেয়ারার বোন শাহানারা বেগমের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার আদেশ দিয়েছিলেন একই আদালত। দুর্নীতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের এই তদন্তে পর্যায়ক্রমে আরও অনেকের সংশ্লিষ্টতা বেরিয়ে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


জয়শঙ্করের সফর রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে না দেখার আহ্বান পররাষ্ট্র উপদেষ্টার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের আকস্মিক ঢাকা সফরকে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা আন্তঃরাষ্ট্রীয় সম্পর্কের সমীকরণ হিসেবে না দেখার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। উপদেষ্টা বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে শ্রদ্ধা জানাতে জয়শঙ্করের এই সফরটি ছিল মূলত একটি আন্তর্জাতিক শিষ্টাচার এবং মানবিক সৌজন্যের বহিঃপ্রকাশ। এটিকে বিশেষ কোনো রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিচার না করাই শ্রেয় বলে তিনি মনে করেন।

উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন উল্লেখ করেন যে, বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিত্ব ও গ্রহণযোগ্যতা কেবল বাংলাদেশে নয়, বরং পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় অত্যন্ত ইতিবাচক। দল-মত নির্বিশেষে সব স্তরের মানুষের মাঝে তাঁর যে গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, তা আন্তর্জাতিক মহলেও স্বীকৃত। এই জনপ্রিয়তার কারণেই প্রতিবেশী দেশের প্রতিনিধি হিসেবে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নিতে বাংলাদেশে এসেছিলেন। এটি অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত একটি সফর ছিল এবং এর পেছনে গভীর কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য খোঁজা উচিত হবে না বলে তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান।

সফরের সময় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কোনো ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা স্পষ্ট করেন যে, তাঁদের মধ্যে কোনো ধরনের দ্বিপাক্ষিক বা রাজনৈতিক আলাপ-আলোচনা হয়নি। পুরো প্রক্রিয়াটি সবার সামনেই সম্পন্ন হয়েছে এবং সেখানে কেবল শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপনের বিষয়গুলোই প্রাধান্য পেয়েছে। দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্কের টানাপোড়েন এই সফরের মাধ্যমে কমবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এর উত্তর ভবিষ্যতে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পাওয়া যাবে। মূলত বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি আন্তর্জাতিক শ্রদ্ধা প্রদর্শনের বিষয়টিকে কোনো তাত্ত্বিক বিতর্কের ঊর্ধ্বে রাখার পরামর্শ দেন তিনি।


গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে পল্লী বিদ্যুতের শোকবার্তা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় অদ্য ৩০/১২/২০২৫ খ্রি. তারিখ ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনের আপসহীন নেত্রীর মৃত্যুতে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড/পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সকল কর্মকর্তা/কর্মচারী গভীরভাবে শোকাহত ও মর্মাহত। তাঁর প্রয়াণ দেশের জন্য এক বড় ক্ষতি এবং তাঁর সহনশীলতা ও নিষ্ঠা চিরকাল দেশ ও জাতিকে অনুপ্রাণিত করবে।


বাণিজ্য মেলায় বিআরটিসির শাটল বাস সার্ভিস শুরু ৩ জানুয়ারি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপি’র চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ও এক দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণার কারণে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ১লা জানুয়ারি’র পরিবর্তে ৩ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, আগামী ৩ জানুয়ারি শনিবার থেকে ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা শুরু হতে যাচ্ছে।

ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার নতুন নির্ধারিত সময়সূচী অনুযায়ী, বিআরটিসি শাটল বাস সার্ভিস আগামী শনিবার (৩ জানুয়ারি) থেকে শুরু হবে। ঢাকা ও ঢাকার পার্শ্ববর্তী এলাকার বিভিন্ন রুট থেকে বিআরটিসি উক্ত শাটল বাস সার্ভিস মেলা সমাপনী দিন পর্যন্ত চলবে।

বাণিজ্য মেলায় যাতায়াতকারী যাত্রী সাধারণের যাত্রা কে সহজ করতে এবার অনলাইন ও অফলাইন দুইভাবেই টিকেট সংগ্রহ করার সুযোগ রাখা হয়েছে। নির্দিষ্ট কাউন্টারের পাশাপাশি বিআরটিসি’র ওয়েবসাইট থেকেও অনলাইনে টিকিট সংগ্রহ করা যাবে। অনলাইন এ টিকেট প্রাপ্তির ঠিকানা: www.brtc.gov.bd

বিরতি স্থান (স্টপেজ): বাণিজ্য মেলার উদ্দেশ্যে কুড়িল, ফার্মগেট (খেজুরবাগান)/ খামারবাড়ী), চাষাড়া (নারায়ণগঞ্জ), নরসিংদী ও গাজীপুর (শিববাড়ি-ভোগড়া বাইপাস-মিরের বাজার এক্সপ্রেসওয়ে) থেকে প্রতিদিন সকাল ০৮.০০ টা হতে বিআরটিসি'র শাটল বাস চলাচল শুরু হবে। মেলা প্রাঙ্গণ থেকে সর্বশেষ ট্রিপ ছেড়ে আসবে রাত ১১.০০ টায়।

ভাড়া: কুড়িল থেকে মেলা প্রাঙ্গণ ৪০ টাকা, ফার্মগেট (খেজুরবাগান/খামারবাড়ী) থেকে মেলা প্রাঙ্গণ ৭০ টাকা, সাইনবোর্ড থেকে মেলা প্রাঙ্গণ ১০০ টাকা, চাষাড়া (নারায়ণগঞ্জ) থেকে মেলা প্রাঙ্গণ ১২০ টাকা, নরসিংদী থেকে মেলা প্রাঙ্গণ ১০০ টাকা এবং গাজীপুর থেকে (শিববাড়ি-ভোগড়া বাইপাস-মিরের বাজার এক্সপ্রেসওয়ে হয়ে) মেলা প্রাঙ্গণ ৭৫ টাকা।


প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেলেন অধ্যাপক ডা. সায়েদুর রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশিষ্ট চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমান। বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপনে তাঁর এই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয় যে, প্রধান উপদেষ্টা ডা. সায়েদুর রহমানকে প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় এই দায়িত্ব প্রদান করেছেন। এই নিয়োগের ফলে তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে বিশেষ ভূমিকা রাখার সুযোগ পাবেন এবং তাঁর অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে স্বাস্থ্য সেবার মানোন্নয়নে কাজ করবেন।

প্রজ্ঞাপনের বিস্তারিত তথ্য অনুযায়ী, প্রধান উপদেষ্টা 'রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬'-এর ৩বি (১) ধারা অনুযায়ী অধ্যাপক ডা. মো. সায়েদুর রহমানকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে স্থলাভিষিক্ত করেছেন। একই সঙ্গে রুলস অব বিজনেসের ৩বি (২) ধারা মোতাবেক সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী ক্ষমতাও তাঁর ওপর অর্পণ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে তিনি মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক ও পরিচালনাগত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সরাসরি ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবেন। বিশেষ সহকারী পদে অধিষ্ঠিত থাকাকালে তিনি একজন প্রতিমন্ত্রীর সমান বেতন-ভাতা এবং যাবতীয় আনুষঙ্গিক রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা প্রাপ্ত হবেন।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এই প্রজ্ঞাপনটি জারি করেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশিদ। প্রজ্ঞাপনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। ডা. সায়েদুর রহমানের এই নিয়োগকে স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার ও গতিশীলতা আনয়নের ক্ষেত্রে সরকারের একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ মহলের ধারণা, একজন দক্ষ চিকিৎসককে মন্ত্রণালয়ের নির্বাহী ক্ষমতায় নিয়ে আসায় দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার বিদ্যমান সংকটগুলো নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ সহজতর হবে। মূলত চিকিৎসা সেবার উন্নয়ন এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই হবে তাঁর প্রধান দায়িত্ব।


এয়ারবাস বাদ, অবশেষে ১৪টি বোয়িং কেনার সিদ্ধান্ত নিল বিমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস তাদের বহর ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে ১৪টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। গত ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত বিমানের পরিচালনা পর্ষদের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই মেগা প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়। বিমানের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন এবং আর্থিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরেই বোয়িংয়ের সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে। নতুন এই উড়োজাহাজগুলো বহরে যুক্ত হলে আন্তর্জাতিক রুটে বিমানের নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পাশাপাশি যাত্রীসেবার মান ও বাণিজ্যিক সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিমানের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, কেনার জন্য নির্ধারিত ১৪টি উড়োজাহাজের মধ্যে রয়েছে ৮টি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, ২টি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার এবং ৪টি বোয়িং ৭৩৭-৮ মডেলের বিমান। এই ক্রয়ের প্রক্রিয়াটি শুরু হয়েছিল ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর, যখন বোয়িং আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের বিক্রয় প্রস্তাব পাঠায়। পরবর্তীতে ২০ ডিসেম্বর তারা একটি সংশোধিত খসড়া চুক্তি পাঠালে তা পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে চুলচেরা বিশ্লেষণ করা হয়। বৈঠকে বর্তমান ও ভবিষ্যতের যাত্রী চাহিদা এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বিবেচনা করে বোয়িংয়ের প্রস্তাবিত মূল্য ও শর্তাবলিতে নীতিগত সম্মতি দেওয়া হয়। এই প্রকল্পের মাধ্যমে বিমানের অপারেশনাল কার্যক্রম যেমন শক্তিশালী হবে, তেমনি বহরে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটবে।

উল্লেখ্য যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকার আগে থেকেই বোয়িং থেকে উড়োজাহাজ কেনার বিষয়টি বিবেচনায় রেখেছিল। যদিও এই বিশাল কার্যাদেশ পেতে ইউরোপীয় নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস এবং তাদের পক্ষে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা ব্যাপক তৎপরতা চালিয়েছিলেন, তবে শেষ পর্যন্ত কারিগরি ও বাণিজ্যিক দিক বিবেচনায় বোয়িংকেই বেছে নিল বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। সরকারি সকল আনুষ্ঠানিকতা এবং অর্থায়নের বিষয়টি চূড়ান্ত হওয়ার পর ধাপে ধাপে এসব উড়োজাহাজ বাংলাদেশে আসতে শুরু করবে। এই পদক্ষেপটি দেশের এভিয়েশন খাতে এক নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা বিশ্ব দরবারে বিমানের অবস্থানকে আরও সুসংহত করবে।


banner close