রাজধানীর শ্যামপুর থেকে বিদেশি পিস্তল ও শর্টগানের গুলিসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা-উত্তরা বিভাগ।
সোমবার দুপুরে ডিএমপির ডিবি কম্পাউন্ডে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।
গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন- মো. বাবু শেখ, মো. দেলোয়ার হোসেন, মো. মামুন ও মো. রুহুল আমিন। গ্রেপ্তারের সময় তাদের কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, শর্টগানের ১৩টি গুলি ও একটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়। গত রোববার রাতে শ্যামপুরের পশ্চিম দোলাইপাড় এলাকা থেকে তারা গ্রেপ্তার হন।
হারুন অর রশীদ বলেন, একটি সংঘবদ্ধ দল অস্ত্র-গুলিসহ প্রাইভেটকারে মুন্সিগঞ্জ থেকে ঢাকার দিকে আসছে, এমন গোয়েন্দা তথ্যে শ্যামপুর থানার পশ্চিম দোলাইপাড় সেইফ কেয়ার জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনের রাস্তায় চেকপোস্ট বসানো হয়। রাত পৌনে ৯টার দিকে সন্দেহভাজন প্রাইভেটকারটি এলে পুলিশের গাড়ি দিয়ে ব্যারিকেড দেওয়া হয়। ওই সময় পালানোর চেষ্টা করলে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিদের দেয়া তথ্যের বরাতে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার বলেন, গ্রেপ্তার আসামিরা বিভিন্ন সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে আগ্নেয়াস্ত্র সংগ্রহ করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করতেন। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে দু’দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণা, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
আজ স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টায় জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কান্তেই’তে উভয় প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় এ শীর্ষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ কথা জানান।
এছাড়া বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও শিল্পায়নের লক্ষ্য অর্জনে জাপান সরকার ও দেশটির বেসরকারি খাতকে আরও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশকে একটি অর্থনৈতিক, প্রযুক্তি ও উৎপাদনশিল্পের কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনা নিয়ে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতিতে পরিণত হতে পারে এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।'
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, 'বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপানের বিশেষ স্থান রয়েছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর জাপান প্রথমদিকের স্বীকৃতিদানকারী দেশগুলোর একটি এবং স্বাধীনতার পর থেকে দেশটি বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে ভূমিকা রেখে আসছে। দুই দেশের সম্পর্ক পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা, শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার অভিন্ন আকাঙ্ক্ষার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে।'
প্রধানমন্ত্রী তাঁর পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দুইবার জাপান সফর এবং তাঁর মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক জোরদারে অবদানের কথা স্মরণ করেন। তাঁদের পদাঙ্ক অনুসরণ করে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।
বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখতে নির্ভরযোগ্য ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা অপরিহার্য।'
এ ক্ষেত্রে জাপানের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এশিয়ায় জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে ‘পার্টনারশিপ ফর পাওয়ার এশিয়া’ উদ্যোগের আওতায় সাম্প্রতিক ৫০ বিলিয়ন জাপানি ইয়েনের জরুরি সহায়তা ঋণের কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) অবকাঠামো, দক্ষ বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে জাপানি বিনিয়োগ ও অংশগ্রহণ বাড়ানোর আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
গবেষণা ও প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যে বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ উদ্যোগের মাধ্যমে জাপানের কোম্পানি, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বাংলাদেশের তরুণ মেধাবী, উদ্যোক্তা ও প্রযুক্তি খাতের দক্ষ জনশক্তির সংযোগ স্থাপনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।প্রস্তাবিত টেক পার্কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস এবং ইলেকট্রনিকস উৎপাদনের মতো খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
পাশাপাশি মহাকাশবিজ্ঞান, স্যাটেলাইট প্রকৌশল ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তিতে জাপানের অগ্রসর সক্ষমতার সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা সম্প্রসারণেও তিনি আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এছাড়া দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে আধুনিক ও সমন্বিত যোগাযোগ অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
এ লক্ষ্যে দেশের ছয়টি প্রধান বিভাগীয় শহরকে যুক্ত করে দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্ক এবং দেশব্যাপী উড়াল সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।এ ধরনের বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পের পরিকল্পনা প্রণয়ন, কারিগরি সহায়তা, বিনিয়োগ ও অর্থায়নে জাপানের সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
জাপানের অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের উন্নয়ন আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে বৈঠকে জ্বালানি, অবকাঠামো ও আইসিটি খাতে ১ ট্রিলিয়ন জাপানি ইয়েন (৬.৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বেসরকারি বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয় এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে দ্রুত বাংলাদেশে জাপানি টিম পাঠানোর বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়৷
বাংলাদেশে জাপানি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর নতুন বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ উন্নয়নে তাঁর সরকার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, করনীতি, শুল্ক ছাড়করণ এবং অর্থ স্থানান্তর প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, পূর্বানুমানযোগ্যতা ও দক্ষতা বাড়াতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি দ্রুত কার্যকর করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এ চুক্তির সুফল দুই দেশের জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে উভয় পক্ষকে একযোগে কাজ করতে হবে।'
জাতিসংঘ, ইন্দো-প্যাসিফিক ও রোহিঙ্গা সংকট আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনায় বহুপাক্ষিকতা, আন্তর্জাতিক শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখার বিষয়ে দুই দেশের অভিন্ন অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের নির্বাচনে জাপানের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
তাঁর সভাপতিত্বে বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদার এবং বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় জাপানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান একটি অবাধ, উন্মুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির কথা পুনর্ব্যক্ত করে আঞ্চলিক যোগাযোগ, বাণিজ্যের অবাধ প্রবাহ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির স্বার্থে দুই দেশের সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
এ সময় মিয়ানমারের ক্রমাবনতিশীল পরিস্থিতি এবং এর ফলে সৃষ্ট রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুতি সংকট নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে সব ধরনের সহিংসতা বন্ধ, নির্বিঘ্ন মানবিক সহায়তা নিশ্চিত এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সংলাপের আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশের মানবিক প্রচেষ্টায় জাপানের সহযোগিতার প্রশংসা করেন তারেক রহমান।
এ সময় রাখাইনে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সবপক্ষের সঙ্গে জাপানের সক্রিয় সম্পৃক্ততা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এ সংকটের স্থায়ী সমাধান মিয়ানমারেই নিহিত। রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে ও মর্যাদার সঙ্গে দ্রুত নিজ দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে।'
যৌথ কমিশন গঠনের প্রস্তাব, সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বৈঠকের সমাপনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, 'বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্কের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি এ শীর্ষ বৈঠক দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। এ অধ্যায় আরও গভীর আস্থা, বিস্তৃত অর্থনৈতিক সহযোগিতা, শক্তিশালী বিনিয়োগ সম্পর্ক এবং শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির অভিন্ন অঙ্গীকারের ভিত্তিতে গড়ে উঠবে।'
দুই দেশের অগ্রাধিকারভিত্তিক খাতগুলো চিহ্নিত ও সেগুলোর বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা এবং সহযোগিতার সুযোগগুলোকে কার্যকর উদ্যোগে রূপ দিতে মন্ত্রীপর্যায়ের একটি যৌথ কমিশন প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে দুই দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বৈঠকে গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের অভিন্ন আকাঙ্ক্ষা আরও সুদৃঢ় হয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি এ সময়ে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আশা প্রকাশ করেন, পারস্পরিক আস্থা, সহযোগিতা ও অভিন্ন সমৃদ্ধির ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও জাপানের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও গভীর ও বিস্তৃত হবে। সূত্র: বাসস
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করেছেন, "বর্তমান সরকার ধ্বংসস্তূপ থেকে কাজ শুরু করেছে, সেই বিবেচনায় স্বাস্থ্যখাতে অগ্রযাত্রা অনেক ভালো হচ্ছে। তবে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও জনমুখী করতে পরিকল্পিত উদ্যোগ, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।"
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সোসাইটি অব কোলন অ্যান্ড রেক্টাল সার্জনসের উদ্যোগে আয়োজিত ‘বিএসসিআরএস কংগ্রেস ২০২৬’-এর শুভ উদ্বোধনকালে তিনি এসব প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনাহীনতা ও অনিয়ম-দুর্নীতির করাল গ্রাসে দেশের স্বাস্থ্যখাত প্রত্যাশিত অগ্রগতি স্পর্শ করতে পারেনি। চিকিৎসাসেবার সার্বিক মানোন্নয়ন এবং পরিকাঠামোকে অধিকতর শক্তিশালী রূপ দিতে চলমান সংকটগুলো দ্রুত শনাক্ত করার পাশাপাশি সুদূরপ্রসারী কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে।
সরকারি বরাদ্দের প্রসঙ্গ টেনে রাষ্ট্রপতি স্মরণ করিয়ে দেন যে, বর্তমান প্রশাসন চিকিৎসা খাতকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে তহবিল বণ্টন করেছে। তবে কেবল আর্থিক বরাদ্দ বাড়ানোই শেষ কথা নয়; ব্যয়িত প্রতিটি অর্থের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার কাম্য। রাষ্ট্রীয় তহবিল ব্যয়ের ক্ষেত্রে যথার্থতা, স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা অক্ষুণ্ন রাখতে পারলে সাধারণ মানুষ আরো উন্নত মানের সেবা ভোগ করতে পারবে।
আর্থিক অসচ্ছলতার অজুহাতে কোনো নাগরিক যেন ন্যুনতম চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সে লক্ষ্যে সর্বস্তরের মানুষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। মানুষের মৌলিক চাহিদার সঙ্গে চিকিৎসা গভীর সম্পর্কযুক্ত হওয়ায় অর্থনৈতিক সংকটের কারণে কাউকে যেন অসহনীয় ভোগান্তির শিকার হতে না হয়, তা নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক।
দেশের অভ্যন্তরেই বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবার পরিধি বিস্তারের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে তিনি জানান, উন্নত চিকিৎসার প্রত্যাশায় নাগরিকদের যাতে অনাবশ্যকভাবে বিদেশে ছুটতে না হয়, সে লক্ষ্যে দেশীয় চিকিৎসা পরিকাঠামোর সক্ষমতা বৃদ্ধি অপরিহার্য। বিশেষায়িত অবকাঠামো রূপায়ন, পর্যাপ্ত দক্ষ জনবল তৈরি এবং যুগোপযোগী চিকিৎসা কৌশলের সম্প্রসারণের মাধ্যমেই সামগ্রিক চিকিৎসাসেবার মানকে সমৃদ্ধ করা সম্ভব।
কোলন ও রেক্টাল সার্জারিসহ আধুনিক চিকিৎসাক্ষেত্রে পারদর্শী বিশেষজ্ঞ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি তরুণ প্রজন্মের সার্জনদের প্রতি গভীর আস্থা জ্ঞাপন করেন। তাঁর বিশ্বাস, উদীয়মান তরুণ চিকিৎসকদের নেতৃত্বেই এ দেশের স্বাস্থ্যসেবা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে এবং সাধারণের দোরগোড়ায় উন্নত সেবা নিশ্চিত হবে।
চিকিৎসক সমাজের পারস্পরিক অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান বিনিময়ের মঞ্চ হিসেবে ‘বিএসসিআরএস কংগ্রেস ২০২৬’-এর মতো সম্মেলন অত্যন্ত অর্থবহ ভূমিকা রাখবে। এই ধরনের পেশাগত আয়োজন আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের অগ্রগতি, বিশেষায়িত শল্যচিকিৎসার বিস্তার এবং স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে অনন্য সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করতে সক্ষম।
ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে ফিরে এলে তাঁকে স্বাগত জানানো হবে, তবে প্রত্যাবর্তনের পর কোনো বেআইনি আচরণ নয় বরং সম্পূর্ণ প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ায় তাঁকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে বলে স্পষ্ট করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে কোনো প্রকার মব বা উচ্ছৃঙ্খল পরিস্থিতির মুখোমুখি হবেন না এবং প্রতিহিংসার বদলে আইনের শাসনের মাধ্যমেই তাঁর বিচার সম্পন্ন হবে। সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতিবিষয়ক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরা সংক্রান্ত আলোচনার বিষয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা যাকে চাই, তিনি আসবেন, আমরা হ্যাপি। আমাদের তাহলে ধরে বেঁধে আনতে হলো না, উনি আসলেন। উনি আসলে উনি বিচারের মুখোমুখি হবেন। উনি ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। উনি আসার পর লিগাল প্রসেসে যা যা হওয়ার, তাই হবে।’ আগামী ডিসেম্বরে তাঁর দেশে ফেরার গুঞ্জন প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, এ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানামুখী চর্চা চলছে; ফলে ভিত্তিহীন অনুমান ও রাজনৈতিক জল্পনা নিয়ে বারবার জনপরিসরে আলোচনা না করাই সমীচীন।
আইনি প্রক্রিয়ার নিশ্চয়তা তুলে ধরে সরকারের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘এটলিস্ট ১৮ বছর পরে। তবে হ্যাঁ, উনি দেশে ফিরে আসলে ন্যায়বিচার ফেস করবেন। উনি কোনো মব ফেস করবেন না, উনি কোনো রকম কোনো বেআইনি কিছু ফেস করবেন না।’ এ সময় তিনি আরও যোগ করেন, ‘আমরা ন্যায়বিচার দিয়ে উনার বিরুদ্ধে যে আমাদের প্রতিশোধগুলি, সেটা ন্যায়বিচার দিয়ে। উনি ন্যায়বিচার করেন নাই, আমরা ন্যায়বিচার করে সেটা করব। আসুক, উনাকে ধন্যবাদ, উনাকে ওয়েলকাম করি।’
ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে ঘিরে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থানের কথা তুলে ধরে উপদেষ্টা জানান, এ বিষয়ে ঢাকার অবস্থান পূর্বের মতোই অনড় ও পরিষ্কার। মূলত এই অমীমাংসিত সংকটের কারণেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরটি আটকে রয়েছে। পাশাপাশি ভারতে বসে ওয়াশিংটন ডিসির প্রেস ক্লাবের অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি দেওয়া তাঁর বক্তব্যকেও ঢাকা কোনোভাবেই ইতিবাচক হিসেবে গ্রহণ করেনি।
প্রেস ব্রিফিংয়ে সমসাময়িক অন্যান্য বিষয় টেনে তথ্য উপদেষ্টা জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের (ক্রুড অয়েল) মূল্যবৃদ্ধি আমদানিনির্ভর দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ওপর বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে এখন থেকে ফুটপাতের পিঠাপুলি ও ভাজাপোড়াসহ সব ধরনের খাদ্যপণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের লাইসেন্স গ্রহণের বাধ্যবাধকতা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণে আগামী ৩ থেকে ৫ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য সোলার এক্সপোর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরিশেষে প্রধানমন্ত্রীর চলমান টোকিও সফরকে অত্যন্ত ফলপ্রসূ আখ্যা দিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে এ সফরটি বাংলাদেশের শিল্প ও উৎপাদন খাতে বৃহৎ জাপানি বিনিয়োগ আকর্ষণে ঐতিহাসিক মাইলফলক হয়ে থাকবে।
পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও এর সংলগ্ন অঞ্চলে অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’ পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম অভিমুখে অগ্রসর হয়ে একই অঞ্চলে অবস্থান করছে। বর্তমান গতিপ্রকৃতি বজায় থাকলে এটি আরও ঘনীভূত হয়ে পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে এবং আগামীকাল বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর নাগাদ ভারতের অন্ধ্র উপকূল অতিক্রম করার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।
বিদ্যমান আবহাওয়ার প্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে বিচরণরত সব মাছ ধরার ট্রলার ও নৌকাকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত গভীর সাগরে না গিয়ে উপকূলের কাছাকাছি থেকে অত্যন্ত সাবধানে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৬টায় ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৪০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৮৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯০৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।
পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটার পরিধির মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ১৪০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তীব্র এই ঘূর্ণিবায়ুর কারণে ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটবর্তী এলাকায় সমুদ্র প্রচণ্ড উত্তাল ও বিক্ষুব্ধ রয়েছে।
দুর্যোগপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে সরকারি বিভিন্ন সংস্থা, স্থানীয় প্রশাসন ও সমুদ্রবন্দর কর্তৃপক্ষ ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর গতিপথ সার্বক্ষণিক নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছে। যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় জরুরি প্রস্তুতি সম্পন্ন রাখার পাশাপাশি উপকূলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং নিয়মিত সরকারি নির্দেশনার দিকে নজর রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর সম্মানে আয়োজিত জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মধ্যাহ্নভোজে অংশ নিয়েছেন।
দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক ও যৌথ সংবাদ সম্মেলনের পর আজ স্থানীয় সময় দুপুরে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কান্তেই’তে আয়োজিত এ মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন তিনি।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা: জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার নির্ধারিত শীর্ষ দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের সরকারি সফরে বর্তমানে জাপানে রয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শীর্ষ বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধির উপায় নিয়ে আলোচনা করেন দুই প্রধানমন্ত্রী।
এ ছাড়া তাঁরা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়েও মতবিনিময় করেন।
এর আগে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কান্তেইতে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান সানায়ে তাকাইচি।
এ সময় জাপানের সশস্ত্র বাহিনীর একটি দল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। দুই দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়।
পরে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী নিজ নিজ প্রতিনিধিদলের সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর উভয়ে শীর্ষ বৈঠকে বসেন।
সোমবার সকালে টোকিও পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান জাপানের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইয়াসুতাকা নাকাসোনে।
সফরকালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন এবং জাপানের ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
সফরের প্রথম দিন তিনি জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের সংসদীয় প্রতিনিধিদল, মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকি এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন। সূত্র: বাসস
টোকিওতে অনুষ্ঠিত শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতি দৃঢ় সমর্থনের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ১২টায় জাপানের সরকারপ্রধানের দাপ্তরিক কার্যালয় ‘কানতেই’-তে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে এই ফলপ্রসূ দ্বিপক্ষীয় আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকপরবর্তী যৌথ ব্রিফিংয়ে জাপানি প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বঙ্গোপসাগর অঞ্চলকে কেন্দ্র করে ঢাকার সঙ্গে অংশীদারত্ব আরও সুসংহত করতে আগ্রহী টোকিও।
বাণিজ্য ও বিনিয়োগের ক্ষেত্র সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতা বেগবান করার অভিন্ন লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এর আগে কার্যালয় প্রাঙ্গণে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান সানায়ে তাকাইচি। সেখানে জাপানের সশস্ত্র বাহিনীর একটি চৌকস দল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে গার্ড অব অনার প্রদান করে এবং বাজানো হয় উভয় দেশের জাতীয় সংগীত। অভিবাদন গ্রহণের পর তিনি গার্ড পরিদর্শন করেন।
আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা শেষে দুই দেশের সরকারপ্রধান নিজ নিজ প্রতিনিধিদলের সদস্যদের পরস্পরের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর পরিদর্শক বইতে স্বাক্ষর করে একান্ত বৈঠকে বসেন তারেক রহমান ও সানায়ে তাকাইচি। বৈঠক শেষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে ‘কানতেই’-তে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করেন জাপানি প্রধানমন্ত্রী, যেখানে প্রথাগত শুভেচ্ছা পানপাত্র বিনিময়ের মাধ্যমে উভয় নেতা বক্তব্য দেন। শীর্ষ এই বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় অগ্রাধিকারমূলক সম্পর্ক, বাণিজ্যিক স্বার্থ এবং আন্তর্জাতিক নানা প্রসঙ্গের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এদিকে বাংলাদেশের সরকারপ্রধানের আগমন উপলক্ষে টোকিওতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় অভিমুখী সড়ক সাজানো হয়েছিল দুই দেশের জাতীয় পতাকায়।
চার দিনের এই রাষ্ট্রীয় সফরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন ছাড়াও স্থানীয় শীর্ষ ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। এর আগে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে সোমবার সকালে টোকিওর নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাঁকে স্বাগত জানান দেশটির পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইয়াসুতাকা নাকাসোনে। সফরের প্রথম দিনেই তিনি জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর নেতৃত্বাধীন সংসদীয় প্রতিনিধিদল, মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকি এবং জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।
তারো আসোর সঙ্গে আলোচনায় ২০০৬ সালের পূর্ববর্তী সাক্ষাতের স্মৃতিচারণ করে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উন্নয়নে তাঁর ভূমিকার প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান বলে নিশ্চিত করেন পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। অন্যদিকে মারুবেনির শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠকে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) কার্যকর করা, তথ্যপ্রযুক্তি ও শিল্প খাতে জাপানি বিনিয়োগ টানার পাশাপাশি কাফকোর আধুনিকায়ন ও দ্বিতীয় একটি সার কারখানা প্রতিষ্ঠার সম্ভাব্যতা নিয়ে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া জাইকা প্রধানের সঙ্গে বৈঠকে চলমান উন্নয়ন প্রকল্পের গতি বাড়ানো, দক্ষতা অংশীদারত্ব প্রতিষ্ঠা, প্রযুক্তি গ্রাম ও উদ্ভাবন নগরী গড়ে তোলা এবং কৃষি ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পায়।
এই সফরে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিনিধিদলে রয়েছেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহণ ও পর্যটনমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। প্রতিনিধিদলে আরও রয়েছেন ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম, সচিব সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব ও নেজামে ইসলাম পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী এবং আমজনতার দলের সাধারণ সম্পাদক মো. তারেক রহমান। চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতা গ্রহণের পর মালয়েশিয়া, চীন এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন উপলক্ষে নিউইয়র্ক সফরের ধারাবাহিকতায় এটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তৃতীয় দ্বিপক্ষীয় বিদেশ সফর।
রাশিয়া থেকে আনা রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানির (ইউরেনিয়াম) নতুন আরেকটি বহর সর্বোচ্চ সতর্কতায় প্রকল্প এলাকায় নিয়ে আসা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকাল ৭টা ৪৬ মিনিটে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সরাসরি তত্ত্বাবধান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়ের মধ্য দিয়ে ইউরেনিয়ামবাহী তিনটি যানবাহন প্রকল্প এলাকায় প্রবেশ করে।
এর আগে, সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ৮টা ১৪ মিনিটে ৪১ টন জ্বালানিসমৃদ্ধ রাশিয়ার একটি বিশেষ কার্গো বিমান ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিশেষায়িত ওই উড়োজাহাজে ১২টি টিপিএসের মাধ্যমে মোট ৪১ টন পারমাণবিক জ্বালানি পরিবহন করা হয়েছিল।
দ্বিপক্ষীয় কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব সুসংহত করার লক্ষ্যে শীর্ষ বৈঠকের প্রাক্কালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। মঙ্গলবার জাপানের স্থানীয় সময় বেলা সাড়ে ১১টায় টোকিওস্থ জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ‘কান্তেই’-এ পৌঁছালে তাঁকে এ আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনা দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে জাপানের সশস্ত্র বাহিনীর একটি সুসজ্জিত দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। এ সময় সামরিক ব্যান্ডে উভয় দেশের জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয় এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সালাম গ্রহণ ও গার্ড পরিদর্শন করেন। আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী নিজ নিজ প্রতিনিধিদলের সদস্যদের পারস্পরিক পরিচয় করিয়ে দেন। এরপর কান্তেই ভবনের পরিদর্শন বইয়ে আনুষ্ঠানিক স্বাক্ষর শেষে দুই সরকারপ্রধান একান্ত বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠক পরবর্তী সময়ে দুই নেতা যৌথ সংবাদ সম্মেলনে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আয়োজিত আনুষ্ঠানিক মধ্যাহ্নভোজে যোগ দেন।
শীর্ষ এ বৈঠকে ঢাকা ও টোকিওর মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, তথ্যপ্রযুক্তি হস্তান্তর, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর বিস্তারিত মতবিনিময় স্থান পায়। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে কান্তেই কার্যালয় অভিমুখী প্রধান সড়কের দুই পাশে বাংলাদেশ ও জাপানের জাতীয় পতাকা স্থাপন করা হয়।
এর আগে চার দিনের সরকারি সফরে সোমবার টোকিও পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী, যেখানে নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ইয়াসুতাকা নাকাসোনে। সফরের প্রথম দিনেই প্রধানমন্ত্রী সাবেক জাপানি প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর নেতৃত্বাধীন সংসদীয় মৈত্রী লীগের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ ছাড়া মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকির সঙ্গে বৈঠকে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) কার্যকর করা, আইসিটি, জ্বালানি এবং কাফকোর আধুনিকায়নসহ দেশে দ্বিতীয় সার কারখানা স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি জাইকার প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রকল্প বাস্তবায়ন ত্বরান্বিতকরণ, একটি প্রযুক্তি গ্রাম ও উদ্ভাবন নগরী গড়ে তোলা এবং কৃষির আধুনিকায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন সরকারপ্রধান।
প্রধানমন্ত্রীর এ রাষ্ট্রীয় সফরে সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম, সচিব সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী, ইআরডি সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী এবং আমজনতার দলের সাধারণ সম্পাদক মো. তারেক রহমান। দায়িত্ব গ্রহণের পর মালয়েশিয়া ও চীনের পর এটি সরকারপ্রধান হিসেবে তারেক রহমানের তৃতীয় দ্বিপক্ষীয় বিদেশ সফর।
বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও যৌথ সমৃদ্ধির চালিকাশক্তিতে রূপ দেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ লক্ষ্য অর্জনে জাপানি বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধানের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, রেলপথ, অবকাঠামো ও গভীর সমুদ্রবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে সহযোগিতা বাড়িয়ে দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিতে চায় বাংলাদেশ।
মঙ্গলবার টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কান্তেইয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ও জাপানের অংশীদারত্ব কয়েক দশকের বন্ধুত্ব, আস্থা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে। আজ এই সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ এসেছে। বাংলাদেশে বিদ্যমান বিনিয়োগের সুযোগগুলো অনুসন্ধান করতে এবং আমাদের উন্নয়নের পরবর্তী ধাপে অংশীদার হতে আমি জাপানি বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আন্তরিকভাবে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং পারস্পরিকভাবে লাভজনক ব্যবসায়িক উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে তাঁর সরকার জাপানি অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা একসঙ্গে কাজ করলে আমাদের দুই মহান দেশের জন্য আরও সহনশীল ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারব।’
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দুই দেশের নেতারা দ্বিপক্ষীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করেছেন এবং দীর্ঘদিনের অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
বিভিন্ন খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি), রেলপথ ও অবকাঠামো, গভীর সমুদ্রবন্দর এবং প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের (এফডিআই) ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে দুই দেশ অভিন্ন অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে।’
প্রধানমন্ত্রী জানান, সফরকালে বাংলাদেশ ও জাপান গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ক্ষেত্রে একাধিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বিনিময় করেছে।
দুই দেশের আলোচনার ফলাফল ও অভিন্ন অগ্রাধিকারগুলো একটি যৌথ বিবৃতিতে তুলে ধরা হবে।
উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে জাপানের দীর্ঘদিনের ভূমিকার কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষের হৃদয়ে জাপানের একটি বিশেষ স্থান রয়েছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা এবং শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার অভিন্ন লক্ষ্যের ভিত্তিতে আমাদের বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে।’
তিনি বলেন, ‘শান্তিপ্রিয় দেশ জাপান ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর প্রথম দিকেই বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদানকারী দেশগুলোর অন্যতম।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে জাপান বাংলাদেশের অন্যতম মূল্যবান উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে আথর্-সামাজিক অগ্রগতি ও অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। আমরা এই দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের জন্য গভীরভাবে কৃতজ্ঞ।’
সরকারি সফরে উষ্ণ অভ্যর্থনা ও আন্তরিক আতিথেয়তার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এবং দেশটির জনগণের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য সুস্পষ্ট-দুই দেশের বন্ধুত্বকে অর্থনৈতিক সুযোগ ও অভিন্ন সমৃদ্ধির শক্তিশালী চালিকা শক্তিতে রূপান্তর করা।’
জাপান সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘আসুন, আমরা এমন একটি অংশীদারত্ব গড়ে তুলি, যা আমাদের জনগণের কল্যাণে কাজ করবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য এক স্থায়ী উত্তরাধিকার রেখে যাবে।’
এর আগে বেলা ১১টা ৩২ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় কান্তেইয়ে এসে পৌঁছালে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান সানায়ে তাকাইচি। এ সময় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। পরে দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে বসেন।
বৈঠকে যোগ দেওয়ার আগে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী নিজ নিজ প্রতিনিধিদলের সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেন।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সোমবার চার দিনের সরকারি সফরে টোকিও পৌঁছান। নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান জাপানের পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইয়াসুতাকা নাকাসোনে।
সফরের প্রথম দিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তারো আসোর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের সংসদীয় প্রতিনিধিদল, মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকি এবং জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. আকিহিকো তানাকার সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন।
চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তৃতীয় বিদেশ সফর। এর আগে তিনি মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেন। এ ছাড়া গত সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে তিনি নিউইয়র্ক সফর করেন। সূত্র: বাসস
সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল অনুযায়ী বেতন নির্ধারণের কাজ এরই মধ্যে শেষ হয়েছে। গত ৫ অক্টোবর থেকে আইবাসে হালনাগাদ তথ্য পূরণ করছেন কর্মচারীরা। এতে চলতি মাসের বেতনের সঙ্গে আগের তিন মাসের বাড়তি টাকা পেলেও ভাতা বাড়ছে না। সম্প্রতি জারি করা প্রজ্ঞাপনে অর্থ বিভাগ জানিয়েছে, গত ৩০ জুন যে হারে ভাতা দেওয়া হবে, আপাতত সেই হারই বহাল থাকবে। এই সিদ্ধান্তের আওতায় রয়েছেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, দপ্তর, সংস্থা, রাষ্ট্রায়ত্ত ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা।
এ বিষয়ে লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সাবেক সচিব এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার বলেন, ‘মনিটরিং জোরদার না করলে এবং দুর্নীতিবাজদের কঠোরভাবে দমন না করলে মাসিক বেতন এক কোটি টাকা করলেও যারা দুর্নীতি করেন, তারা তা করতেই থাকবেন। আর যারা দুর্নীতি করেন না, তারা করবেন না। বেতন বাড়ানো ভালো কথা। এটি একেবারেই প্রয়োজন ছিল। তবে এখন দুর্নীতিবাজদের ধরতে হবে। তা না হলে বেতন বাড়ালেই দুর্নীতি কমবে, এমন ধারণা একেবারেই অলীক।’
তবে নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের পাশাপাশি এর সুফল কতটা মিলছে, তা নিয়মিত মূল্যায়নের ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশ্লেষকরা।
এদিকে বিআইবিএমের সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী জানান, এ সিদ্ধান্তের প্রভাব কী হবে, তা বিচার-বিবেচনা করা উচিত। এর প্রভাব সবার ওপর সমান হবে না, বরং ভিন্ন ভিন্ন হবে। সরকারি কর্মকর্তা দুই লাখ বা তিন লাখ, আর সারা দেশের মানুষের সংখ্যা ১৭ কোটি। ফলে এর কারণে অর্থের সরবরাহ বা মানি সাপ্লাই এতটা বেড়ে যাবে যে মূল্যস্ফীতি হবে, বিষয়টি এমন নয়।
তিনি আরও বলেন, ‘হ্যাঁ, মানি সাপ্লাই কিছুটা বাড়বে; কিন্তু তা এমন পর্যায়ে বাড়বে না, যার কারণে মূল্যস্ফীতিকে এ সিদ্ধান্তের ফল হিসেবে ব্যাখ্যা করা যায়। তাই মূল্যস্ফীতির ওপর যতটুকু প্রভাব পড়ার কথা, বাস্তবে ততটুকুও পড়ছে না। বরং এর প্রভাব পুরো অর্থনীতির ওপর পড়ছে। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি ও সরকারি খাতের মধ্যে সমন্বয় থাকা উচিত।’
নতুন বেতনকাঠামো অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের সর্বনিম্ন মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার টাকা। আর সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা।
বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর ও শিল্পায়নের সম্ভাবনা নিয়ে জাপানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারে ব্যস্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে প্রায় ৬৩৫ কোটি মার্কিন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগের উদ্যোগ, উন্নয়ন প্রকল্পে জাপানের সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং সহজ শর্তে ঋণসহায়তা অব্যাহত রাখার আলোচনা তার চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, গাড়ি উৎপাদন, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, সার উৎপাদন ও উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি দুই দেশের বাণিজ্য সম্প্রসারণও সফরের অন্যতম লক্ষ্য।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির আমন্ত্রণে চার দিনের এই সফর করছেন তারেক রহমান। গত রোববার রাত ১২টা ১০ মিনিটে বাংলাদেশ বিমানের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে তিনি ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) জাপানের স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৫ মিনিটে তার ফ্লাইট নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানান জাপানের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নাকাসোনে ইয়াসুতাকা। পরে আনুষ্ঠানিক মোটর শোভাযাত্রায় প্রধানমন্ত্রীকে টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে নেওয়া হয়। সফর শেষে আগামী বৃহস্পতিবার তার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সফরে রয়েছেন তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী, উপদেষ্টা, প্রতিমন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। অর্থনীতি, বিনিয়োগ, কূটনীতি, জ্বালানি ও প্রযুক্তি খাতের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তি সফরের অর্থনৈতিক গুরুত্বকে তুলে ধরে।
সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
এ ছাড়া রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের বৈদেশিক কর্মসংস্থানবিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. মো. শাকিরুল ইসলাম খান, পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম, সচিব সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দীকী। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারাও সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন।
পাঁচ বছরে ৬৩৫ কোটি ডলারের বিনিয়োগ উদ্যোগ: জাপানের সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়ার ২২ অক্টোবরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে এক লাখ কোটি ইয়েন বা প্রায় ৬৩৫ কোটি মার্কিন ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগের ব্যবস্থা করার বিষয়ে জাপানের উদ্যোগ রয়েছে। প্রস্তাবিত পরিকল্পনায় গাড়ি ও অন্য উৎপাদনশিল্প এবং জ্বালানি অবকাঠামো খাত গুরুত্ব পেতে পারে।
বাংলাদেশে জাপানের সংশ্লিষ্টতায় গড়ে ওঠা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অংশগ্রহণ বাড়ানোর সম্ভাবনাও রয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং স্থানীয় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এই বিনিয়োগ উদ্যোগের ঘোষিত পরিমাণকে ইতোমধ্যে সম্পন্ন বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না। পরিকল্পনাটি কতটা বাস্তবায়িত হবে, কোন খাতে কত অর্থ আসবে এবং কী সময়সীমায় প্রকল্পগুলো কার্যকর হবে, তা চুক্তি ও পরবর্তী আনুষ্ঠানিক ঘোষণার মাধ্যমে স্পষ্ট হবে।
আইসিটি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও উৎপাদনশিল্পে বিনিয়োগের আহ্বান: সোমবার (২৬ অক্টোবর) টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে জাপান-বাংলাদেশ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা কমিটির (জেবিসিসিইসি) সভাপতি এবং মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান মাসুমি কাকিনোকির সঙ্গে বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী। জাপানের স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে বৈঠকে বাংলাদেশের তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি), নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদনশিল্পে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে এসব খাতে বিনিয়োগের উল্লেখযোগ্য সুযোগ রয়েছে।’ বিনিয়োগ অনুমোদনের প্রক্রিয়া সহজ করা, নিয়ন্ত্রক সংস্কার এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরির মাধ্যমে জাপানি ব্যবসায়ীদের জন্য সুযোগ সম্প্রসারণে সরকারের উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
বৈঠকে বাংলাদেশ স্পেশাল ইকোনমিক জোনের উন্নয়নে জেবিসিসিইসি ও মারুবেনি করপোরেশনের সহযোগিতা চাওয়া হয়। পাশাপাশি কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের (কাফকো) আধুনিকায়ন এবং বাংলাদেশে দ্বিতীয় একটি সার কারখানা স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে জাপানের সহায়তা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
মাসুমি কাকিনোকি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে দুই দেশের বাণিজ্য বাড়বে, জাপানি বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হবে এবং ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারিত হবে।
এর আগে গত ১১ অক্টোবর ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে মারুবেনি করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসায়ুকি ওমোর নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদলের বৈঠক হয়েছিল। সেখানে তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, সার ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়।
জাইকার সঙ্গে ঋণসহায়তা ও উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে আলোচনা: সোমবার (২৬ অক্টোবর) বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) প্রেসিডেন্ট ড. তানাকা আকিহিকোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে জাইকার সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হারা শোহেইসহ সংস্থাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের অবকাঠামো ও আর্থসামাজিক উন্নয়নে জাপানের দীর্ঘদিনের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারেক রহমান। চলমান বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্পগুলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার পাশাপাশি অনুমোদনের অপেক্ষায় থাকা অগ্রাধিকারমূলক প্রকল্পগুলোর অনুমোদন ও বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সহজ শর্তে ঋণসহায়তা অব্যাহত রাখা এবং কারিগরি সহযোগিতা বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়। বৈশ্বিক জ্বালানি পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের জ্বালানি চাহিদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত বছরের মতো বাজেট সহায়তা দেওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ-জাপান দক্ষতা উন্নয়ন অংশীদারত্ব, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন নগরী প্রতিষ্ঠা, কৃষির আধুনিকায়ন, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়। জাইকার প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের সমৃদ্ধি অর্জনে একসঙ্গে কাজ করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
আজ মঙ্গলবার শীর্ষ বৈঠক, থাকছে একাধিক কর্মসূচি: আজ মঙ্গলবার জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসবেন তারেক রহমান। জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠেয় বৈঠকের পর যৌথ ঘোষণা প্রকাশ এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।
বৈঠকে দুই দেশের কৌশলগত অংশীদারত্ব, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সফরকালে কয়েকটি সমঝোতা স্মারক ও সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়েও আলোচনা চলছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পূর্বঘোষিত তথ্য অনুযায়ী, প্রায় আটটি সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা হয়েছে; এর মধ্যে কয়েকটি চুক্তি চূড়ান্ত করার কাজ চলছিল।
সফরের অন্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নর, জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) প্রেসিডেন্ট এবং বিভিন্ন জাপানি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক। মিতসুই অ্যান্ড কোম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশন ও জেরা-সহ বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সম্ভাব্য বিনিয়োগ ও সহযোগিতা নিয়ে আলোচনার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেবেন। সফরসূচিতে চিবা অঞ্চলের তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র, ইউনিক্লোর প্রধান কার্যালয় এবং নাগোয়া শহরের টয়োটা মোটর করপোরেশনের মোটোমাচি কারখানা পরিদর্শনের কর্মসূচিও রয়েছে। এসব কর্মসূচির লক্ষ্য জাপানের শিল্প ও জ্বালানি খাতের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ধারণা নেওয়া এবং সম্ভাব্য ব্যবসায়িক অংশীদারত্বের সুযোগ তৈরি করা।
ইপিএ বাস্তবায়ন ও রপ্তানি সম্প্রসারণে গুরুত্ব: বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য বিষয়। চুক্তিটির কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাপানের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের প্রবেশাধিকার বাড়ানো, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
একই সঙ্গে জাপানি প্রতিষ্ঠানগুলোর সরবরাহব্যবস্থায় বাংলাদেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করা, স্থানীয় কর্মীদের প্রশিক্ষণ এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ। এতে বিনিয়োগের সুফল শুধু মূলধন প্রবাহে সীমাবদ্ধ না থেকে দেশীয় শিল্পের দক্ষতা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলাদেশের জন্য জাপানের সহযোগিতার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো অবকাঠামো উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন। ঢাকা মেট্রোরেল, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এবং মাতারবাড়ী এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নের মতো বড় প্রকল্পে জাপানের সহযোগিতা রয়েছে। এসব অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দুই দেশের অংশীদারত্বের ভিত্তি তৈরি করেছে।
দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, সামনে নতুন অর্থনৈতিক লক্ষ্য: ১৯৭২ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পর থেকে জাপান বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। অবকাঠামো, যোগাযোগ, জ্বালানি ও মানবসম্পদ উন্নয়নে দুই দেশের দীর্ঘদিনের সহযোগিতা রয়েছে। বর্তমান সফরে সেই সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত করে বেসরকারি বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির দিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বর্তমান সরকার মানবপাচার প্রতিরোধ ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সোমবার (২৬ অক্টোবর) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার অফিসকক্ষে উইনরক ইন্টারন্যাশনাল’র গ্লোবাল প্রেসিডেন্ট ও সিইও মাকসোদা মাকসুদি সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন।
সাক্ষাৎকালে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ডিজিটাল এনআরএম প্ল্যাটর্ফম এবং মানবপাচারের শিকার ভিকটিমদের টেকসই পুনর্বাসন কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার মানব পাচারের শিকার ভিকটিমদের সুরক্ষা, পুনর্বাসন এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে জাতীয় রেফারেল মেকানিজম (এনআরএম) এবং মানবপাচার প্রতিরোধ তহবিল কার্যকরভাবে পরিচালনা করছে। এ সংক্রান্ত এনজিও কার্যক্রম ও নতুন প্রকল্পের অনুমোদন প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করছে।’
তিনি সাম্প্রতিক সময়ে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের নামে সাইবার স্পেস ও বিভিন্ন ভুয়া অনলাইন জব অফারের মাধ্যমে সংঘটিত জালিয়াতি ও মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানান।
উইনরক ইন্টারন্যাশনালের প্রেসিডেন্ট মাকসোদা মাকসুদি বাংলাদেশে মানবপাচার প্রতিরোধে ২০০৮ সাল থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করার জন্য সন্তোষ প্রকাশ করেন।
তিনি মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬ এবং আসন্ন ২০২৬-২০৩০ মেয়াদের জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (এনপিএ) বাস্তবায়নে উইনরক-এর পূর্ণ সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক ও বহিরাগমন) ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান এবং উইনরক ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের প্রজেক্ট ডিরেক্টর দীপ্তা রক্ষিত ও নাসিরউদ্দিন মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আজকের তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে। তোমাদের মধ্যেই আমরা দেখতে পাই নতুন বাংলাদেশ, নতুন স্বপ্ন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) বঙ্গভবন পরিদর্শনে আসা মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এ তথ্য জানান।
সম্প্রতি জারি হওয়া ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীদের বঙ্গভবন ভ্রমণ সংক্রান্ত নীতিমালা-২০২৬’ এর আওতায় প্রথমবারের মতো মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা বঙ্গভবন পরিদর্শন করেন।
কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক লাল মোহাম্মদের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটির সপ্তম থেকে নবম শ্রেণির বাছাই করা সেরা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা এ পরিদর্শনে অংশ নেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা বঙ্গভবনের বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখেন। পরে বঙ্গভবনের দরবার হলে রাষ্ট্রপতি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন এবং তাদের সঙ্গে ফটোসেশনে অংশ নেন। এ সময় শিক্ষার্থীরা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে কুশল বিনিময় ও অনানুষ্ঠানিক আলাপচারিতার সুযোগ পান।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বক্তব্য প্রদানকালে রাষ্ট্রপতি গুরুজন ও শিক্ষকদের যথাযথ সম্মান করার পাশাপাশি সন্তানদের জন্য বাবা-মায়ের আত্মত্যাগের কথা স্মরণে রেখে নিজেদের গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘বাবা-মা, শিক্ষক ও মুরুব্বিদের সবসময় সম্মান করতে হবে। নিজেদের সুশিক্ষিত ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে যেমন বাবা-মায়ের স্বপ্ন পূরণ হবে, তেমনি জাতির প্রত্যাশাও পূরণ হবে।’
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বঙ্গভবন শুধু একটি ভবন নয়, এটি রাষ্ট্রের প্রতীক ও ইতিহাসের সাক্ষী।’ ভবিষ্যতে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের বঙ্গভবন পরিদর্শনে নিয়ে আসা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বঙ্গভবন নিয়ে, রাষ্ট্র নিয়ে, ভবিষ্যতের নেতৃত্ব নিয়ে যেন তোমাদের আগ্রহ সৃষ্টি হয়, সে জন্যই আজ তোমাদের এই পরিদর্শন।’
এ সময় রাষ্ট্রপতি বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত শিক্ষায় দক্ষ হয়ে নতুন নতুন উদ্ভাবনে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিব ও প্রেস সচিবসহ বঙ্গভবনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।