রোববার, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২৬ মাঘ ১৪৩২

বেলজিয়ামের পথে প্রধানমন্ত্রী

বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ২৪ অক্টোবর, ২০২৩ ১২:৪৬

ইউরোপীয় কমিশনের (ইসি) প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেইনের আমন্ত্রণে ২৫-২৬ অক্টোবর বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে অনুষ্ঠেয় ‘গ্লোবাল গেটওয়ে ফোরামে’ যোগ দিতে মঙ্গলবার সকালে ঢাকা ত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইট (বিজি ২০৭) বেলা ১১টা ১২ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (এইচএসআইএ) ত্যাগ করে।

বিমানটি ২৪ অক্টোবর (ব্রাসেলস সময়) ১৮টা ৪৫ মিনিটে ব্রাসেলসের জাভেনটেম বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।

সফরে প্রধানমন্ত্রী ফোরামে যোগ দেয়ার ফাঁকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে বেশ কয়েকটি দ্বি-পাক্ষিক বৈঠক করবেন।

প্রধানমন্ত্রী ২৫ অক্টোবর সকালে ইসির নির্বাহী ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং ইউরোপীয় বাণিজ্য কমিশনার ভালদিস ডোমব্রোভস্কিসের সাথে দ্বি-পাক্ষিক বৈঠক করবেন। পরে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ইসি প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডের লেইনের সঙ্গে দ্বি-পাক্ষিক বৈঠক করবেন।

দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর বাংলাদেশ সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এবং ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ৩৫ কোটি ইউরোর একটি ঋণ সহায়তা চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।

ইউরোপীয় কমিশন এবং ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের মধ্যে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সাড়ে ৪ কোটি ইউরোর একটি অনুদান চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে।

এ ছাড়া বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বাংলাদেশ সরকার এবং ইউরোপীয় কমিশনের মধ্যে একটি ১ কোটি ২০ লাখ ইউরো অনুদান চুক্তিও স্বাক্ষরিত হবে।

এই সফরে বাংলাদেশ সরকার এবং ইউরোপীয় কমিশন বাংলাদেশের সামাজিক খাতে ৭ কোটি ইউরোর পাঁচটি বিভিন্ন অনুদান চুক্তি স্বাক্ষর করবে।
একই দিন শেখ হাসিনা গ্লোবাল গেটওয়ে ফোরামের প্লেনারী সেশনে যোগদান ও ভাষণ দেবেন।

বিকেলে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ড. ওয়ার্নার হোয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করবেন।

ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিষয়ক ইসি কমিশনার জেনেজ লেনারসিক এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব বিষয়ক ইসি কমিশনার জুটা উরপিলাইনেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন।

সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী গ্লোবাল গেটওয়ে ফোরামে অংশগ্রহণকারী রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের সম্মানে উরসুলা ভন ডের লেইনের দেয়া নৈশভোজে যোগ দেবেন।

প্রধানমন্ত্রী ২৬ অক্টোবর বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডি ক্রুর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। প্রধানমন্ত্রী লুক্সেমবার্গের প্রধানমন্ত্রী জেভিয়ার বেটেলের সঙ্গেও দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন।

একই দিন বিকেলে শেখ হাসিনা বেলজিয়ামে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেয়া সংবর্ধনায় যোগ দেবেন। টিভি চ্যানেল ইউরোনিউজ এবং পলিটিকো বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎকার নেবে। এরপর আগামী ২৭ অক্টোবর দেশে ফিরবেন প্রধানমন্ত্রী।


জামায়াত আমিরের প্রার্থিতা বাতিলের দাবিতে সিইসিকে স্মারকলিপি

বাংলাদেশ জামায়াতের ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। ফাইল ফটো
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিলের জোরালো দাবি জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের নিকট লিখিত আবেদন পেশ করেছেন দেশের বিভিন্ন নারী নেত্রী ও অধিকারকর্মীরা। জামায়াত আমিরের ভেরিফায়েড ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মজীবী নারীদের নিয়ে করা অবমাননাকর ও নারীবিদ্বেষী মন্তব্যের প্রতিবাদে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এই স্মারকলিপি জমা দেন তারা।

সাক্ষাৎ শেষে গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু সাংবাদিকদের জানান যে, “একজন শীর্ষ রাজনৈতিক নেতার কাছ থেকে এ ধরনের মন্তব্য শুধু অগ্রহণযোগ্যই নয়, বরং তা সংবিধানস্বীকৃত নারী মর্যাদা ও সমতার সরাসরি লঙ্ঘন।” লিখিত আবেদনে নারী নেত্রীরা উল্লেখ করেন যে, সম্প্রতি জামায়াত আমিরের অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মজীবী নারীদের সম্পর্কে যে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করা হয়েছে, তা দেশের কোটি কোটি শ্রমজীবী নারীর আত্মমর্যাদা ও জাতীয় অর্থনীতিতে তাদের অবদানের প্রতি চরম অবজ্ঞার শামিল। যদিও জামায়াতের পক্ষ থেকে উক্ত বক্তব্যকে ‘হ্যাকিং’-এর ফলাফল বলে দাবি করা হয়েছে, তবে আবেদনকারীরা এই ব্যাখ্যা গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তাদের মতে, একটি ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে প্রচারিত বক্তব্যের বিষয়ে কোনো নিরপেক্ষ তদন্ত প্রতিবেদন বা প্রামাণ্য তথ্য ছাড়াই হ্যাকিংয়ের দাবি তোলা সন্দেহজনক।

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয় যে, হ্যাকিংয়ের অভিযোগে বঙ্গভবনের এক কর্মীকে গ্রেপ্তার করা হলেও পরবর্তীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারাই স্বীকার করেছেন যে তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এই পুরো ঘটনাপ্রবাহ তথাকথিত হ্যাকিংয়ের দাবিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে বলে তারা মনে করেন। নারী নেত্রীরা বলেন, বাংলাদেশের পোশাক শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে নারীদের পরিশ্রম জাতীয় অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। এমতাবস্থায় নারীদের মর্যাদা ও শ্রমকে হেয় করা সংবিধান, মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারের পরিপন্থি। এ ধরনের বক্তব্য নারীদের প্রতি ঘৃণা ও সহিংসতার সংস্কৃতিকে উসকে দিয়ে তাদের কর্মপরিবেশকে সরাসরি হুমকির মুখে ঠেলে দেয়।

এই প্রেক্ষাপটে অধিকারকর্মীরা নির্বাচন কমিশনের কাছে ডা. শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিলের পাশাপাশি ওই অবমাননাকর বক্তব্য প্রকাশ্যে প্রত্যাহার এবং কর্মজীবী নারীদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার দাবি জানান। সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলনের সভাপতি শবনম হাফিজ, এনপিএ মুখপাত্র ফেরদৌস আরা রুমী, নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরামের সংগঠক নাফিসা রায়হানা এবং মানবাধিকারকর্মী তাবাসসুম মেহেনাজ মিমি উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য যে, উক্ত হ্যাকিংয়ের ঘটনায় বঙ্গভবনের আইটি শাখার সহকারী প্রোগ্রামার মোহাম্মদ ছরওয়ারে আলমকে আটক করা হলেও গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সাইবার সুরক্ষা আইনের এক মামলায় আদালত তার জামিন মঞ্জুর করেন। শুনানিকালে আসামিপক্ষের আইনজীবী মো. আলমগীর জামিনের আবেদন করলে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তা মঞ্জুর করেন। জামায়াত আমিরের পক্ষ থেকে হ্যাকিংয়ের বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করা হলেও নারী নেত্রীরা বিষয়টিকে রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্বহীনতা হিসেবেই দেখছেন।


বেতন কাঠামোর সুপারিশ পর্যালোচনায় উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করল অন্তর্বর্তী সরকার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি কর্মচারীদের বেতন ও ভাতার নতুন কাঠামো নির্ধারণে আরও একধাপ এগিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন ২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি ২০২৫-এর পক্ষ থেকে ইতিপূর্বে দাখিল করা প্রতিবেদনগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে চূড়ান্ত সুপারিশ প্রদানের জন্য একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন ও বেতন কাঠামোতে সামঞ্জস্য আনার লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নবগঠিত এই সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মন্ত্রিপরিষদ সচিব। অত্যন্ত শক্তিশালী ও প্রতিনিধিত্বমূলক এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তাদের। তালিকায় রয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, অর্থ বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং আইন ও বিচার বিভাগের সচিবগণ। এছাড়া অর্থ সংক্রান্ত কারিগরি বিষয়গুলো সুচারুভাবে পর্যালোচনার জন্য এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে রাখা হয়েছে হিসাব মহানিয়ন্ত্রককেও (সিজিএ)।

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই কমিটি জাতীয় বেতন কমিশন, জুডিশিয়াল সার্ভিস এবং সশস্ত্র বাহিনীর জন্য গঠিত পৃথক তিনটি বেতন কমিটির দাখিলকৃত প্রতিবেদনগুলোর প্রতিটি দিক গভীরভাবে বিশ্লেষণ করবে। মূলত বেতন ও ভাতা সংক্রান্ত জটিলতা নিরসন এবং প্রশাসনিক ও আর্থিক সামঞ্জস্য নিশ্চিত করে কমিটি তাদের চূড়ান্ত সুপারিশ প্রণয়ন করবে। কমিটির তৈরি করা এই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে সরকার বেতন স্কেল বা নতুন সুবিধা সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করবে। মূলত সিভিল প্রশাসন, বিচার বিভাগ এবং সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য একটি সমন্বিত ও সময়োপযোগী বেতন কাঠামো নিশ্চিত করাই এই কমিটির মূল লক্ষ্য। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই কমিটির মাধ্যমে সরকারি চাকুরেদের বেতন বৈষম্য দূর করার পাশাপাশি একটি টেকসই অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সংস্কারের পথ প্রশস্ত হবে।


১ হাজার ৭১৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির প্রক্রিয়া শুরু: শিক্ষা মন্ত্রণালয়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ এক পদক্ষেপ হিসেবে ১ হাজার ৭১৯টি বেসরকারি স্কুল ও কলেজকে প্রথম পর্যায়ে এমপিওভুক্ত করার প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করেছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। সরকারের ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জনবলকাঠামো ও এমপিও নীতিমালা-২০২৫’ অনুযায়ী এই কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। আজ রবিবার মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয় যে, স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত এই প্রতিষ্ঠানগুলোর এমপিওভুক্তির বিষয়ে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের সম্মতি চেয়ে ইতিমধ্যে অর্থ বিভাগে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, নতুন নীতিমালা অনুযায়ী আবেদন আহ্বান করা হলে সারাদেশ থেকে মোট ৩ হাজার ৬১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনলাইনে এমপিওভুক্তির আবেদন জমা দেয়। এর মধ্যে নিম্নমাধ্যমিক পর্যায়ের ৮৫৯টি, মাধ্যমিক পর্যায়ের ১ হাজার ১৭০টি, উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের ৬৮৭টি এবং স্নাতক ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ের বিভিন্ন স্তরের প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত ছিল। এসব আবেদন থেকে নীতিমালায় নির্ধারিত মানদণ্ড, গ্রেডিং এবং আঞ্চলিক সামঞ্জস্যতা বজায় রেখে ১ হাজার ৭১৯টি প্রতিষ্ঠানকে প্রথম পর্যায়ের এমপিওভুক্তির জন্য প্রাথমিকভাবে বিবেচনাযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

তবে এমপিওভুক্তির এই প্রক্রিয়াটি চূড়ান্ত করার আগে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্য অত্যন্ত কঠোরভাবে যাচাই করা হবে বলে মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করেছে। এক্ষেত্রে ভূমি মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনলাইন ডাটাবেজ ব্যবহার করে তথ্যের সঠিকতা যাচাই করা হবে। এছাড়া প্রয়োজনবোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ মাঠ পর্যায়ে সরেজমিনে তদন্ত পরিচালনা করবে। মন্ত্রণালয় স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, পুরো প্রক্রিয়াটি ডিজিটাল ও স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে সম্পন্ন করা হচ্ছে, যার ফলে এখানে কোনো পর্যায়েই কোনো ধরনের ব্যক্তিগত সুপারিশ বা আর্থিক লেনদেনের সুযোগ নেই।

অনৈতিক লেনদেন বা তদবির রোধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি এ বিষয়ে অনৈতিক যোগাযোগের চেষ্টা করে, তবে তৎক্ষণাৎ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ধরনের কোনো অভিযোগ থাকলে সাধারণ মানুষকে মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে (+৮৮০১৩৩৯-৭৭৪৫২৮) খুদে বার্তার মাধ্যমে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তিকরণকে একটি চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকেও এই সুবিধার আওতায় আনা হবে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের অসত্য তথ্য বা বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রচার না করে শিক্ষা ব্যবস্থাপনার মানোন্নয়নে সরকারকে সহায়তা করার জন্য সর্বসাধারণের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে।


অচল চট্টগ্রাম বন্দর: শ্রমিকদের লাগাতার ধর্মঘটে স্থবির আমদানি-রপ্তানি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
চট্রগ্রাম জেলা প্রতিনিধি

নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি কোম্পানিকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিলসহ চার দফা দাবিতে আবারও উত্তাল হয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম বন্দর। পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে লাগাতার ধর্মঘট শুরু করেছে ‘চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ’। এর ফলে দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দরের জেটিগুলোতে পণ্য ও কনটেইনার ওঠানামা থেকে শুরু করে সব ধরনের অপারেশনাল কার্যক্রম এবং পণ্য ডেলিভারি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে করে বন্দরে আসা হাজার হাজার কোটি টাকার আমদানি-রপ্তানি পণ্য আটকা পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

রোববার সকাল থেকেই বন্দরের ভেতরে কোনো ধরনের পণ্যবাহী ট্রেলার বা ট্রাক প্রবেশ করতে দেখা যায়নি। শ্রমিক ও কর্মচারীরা কাজে যোগ না দিয়ে বন্দরের প্রবেশপথ ও আশেপাশে অবস্থান নিয়েছেন। বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের অন্যতম সমন্বয়ক মো. ইব্রাহীম খোকন জানিয়েছেন, সাধারণ শ্রমিকদের শতভাগ সমর্থনে এই ধর্মঘট পালিত হচ্ছে। তিনি দাবি করেন, দেশের সম্পদ রক্ষার এই আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দমন-পীড়নমূলক আচরণ করছে। তাঁদের অভিযোগ, আন্দোলন চলাকালে শামসু মিয়া ও আবুল কালাম আজাদ নামে তাঁদের দুজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্যকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তুলে নিয়ে গেছে। তবে এই বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বর্তমানে বন্দর এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি রুখতে বন্দর ও এর আশপাশের এলাকায় বিপুল সংখ্যক পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। আন্দোলনকারীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাঁদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কোনো আলোচনা বা কাজ হবে না। তাঁদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—এনসিটি পরিচালনার ভার ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করা, আন্দোলনরত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা প্রত্যাহার করা এবং চট্টগ্রাম বন্দরের বর্তমান চেয়ারম্যানকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে নেওয়া।

উল্লেখ্য, গত ৩১ জানুয়ারি থেকে এই আন্দোলনের সূত্রপাত হয়। শুরুতে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল আন্দোলন শুরু করলেও পরে এটি বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে সাধারণ শ্রমিক-কর্মচারীদের আন্দোলনে রূপ নেয়। এর আগে গত বৃহস্পতিবার নৌপরিবহন উপদেষ্টা এম সাখাওয়াত হোসেন বন্দর পরিদর্শন করতে এলে আন্দোলনকারীদের তোপের মুখে পড়েন। তাঁর সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনার পর পরিস্থিতি শান্ত করতে শ্রমিকরা দুই দিনের জন্য ধর্মঘট স্থগিত করেছিলেন। তবে উপদেষ্টা পরিষদের সঙ্গে সেই আলোচনার সুনির্দিষ্ট কোনো ফলাফল না আসায় শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পুনরায় রোববার থেকে লাগাতার ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হয়। বর্তমানে বন্দরের সব প্রবেশপথে কড়া পাহারা এবং ভেতরে কাজের পরিবেশ স্থবির হয়ে পড়ায় ব্যবসায়ীদের মাঝে গভীর উদ্বেগ বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দ্রুত রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সমাধান না এলে চট্টগ্রাম বন্দরে এক ভয়াবহ পণ্যজট ও অর্থনৈতিক সংকট তৈরি হতে পারে।


উখিয়ায় যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে ১৫০০ রোহিঙ্গা আটক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা নিশ্চিতে কক্সবাজারের উখিয়ায় এক বিশাল বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে সেনাবাহিনী নেতৃত্বাধীন যৌথ বাহিনী। রোববার ভোর থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে শরণার্থী ক্যাম্পের সীমানা পেরিয়ে বাইরে অবৈধভাবে বসবাস করা অন্তত ১ হাজার ৫০০ রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে। উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নের বালুখালীসহ আশপাশের এলাকায় এই ঝটিকা অভিযান চালানো হয়। অভিযানটি এখনো অব্যাহত থাকায় আটককৃতের সংখ্যা সময়ের সঙ্গে আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।

যৌথ বাহিনীর একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি বিশেষ গোষ্ঠী রোহিঙ্গাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অপব্যবহার করতে পারে—এমন সুনির্দিষ্ট আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, রোহিঙ্গাদের জন্য নির্দিষ্ট ক্যাম্প নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও অনেক ক্ষেত্রে তারা নিয়ম ভঙ্গ করে স্থানীয় বাঙালিদের জমি দখল করে ক্যাম্পের বাইরে অবস্থান করছে। এটি কেবল আইনি লঙ্ঘনই নয়, বরং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তার জন্যও বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচনী আবহে এই বিশাল অনিবন্ধিত জনগোষ্ঠীকে নাশকতামূলক কাজে ব্যবহারের ঝুঁকি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

আটককৃত রোহিঙ্গাদের বর্তমানে একটি নির্দিষ্ট স্থানে জড়ো করা হচ্ছে। সেখান থেকে সরাসরি ক্যাম্পে ফেরত না পাঠিয়ে প্রথমে নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে যে, তারা কেন এবং কাদের সহায়তায় ক্যাম্পের নির্ধারিত সীমানা থেকে বেরিয়ে এসেছে। বিশেষ করে নির্বাচনের আগে কোনো রাজনৈতিক পক্ষ তাদের ভাড়াটে হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করছে কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রাথমিক অনুসন্ধান ও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর তাদের স্থানীয় জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পুনরায় নির্ধারিত শরণার্থী ক্যাম্পে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

কক্সবাজারের স্থানীয় সংবাদিকরা জানিয়েছেন, ক্যাম্পের বাইরে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা রোহিঙ্গাদের নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা রুখতে গত কয়েক দিন ধরেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থান নিয়েছে। নিয়মিত টহলের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের দিন পর্যন্ত এই ধরনের তল্লাশি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে যাতে কোনো বহিরাগত বা ভাসমান জনগোষ্ঠী নির্বাচনী পরিবেশ ব্যাহত করতে না পারে। উখিয়া ও টেকনাফ সীমান্তবর্তী এলাকায় সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী ও অন্যান্য বাহিনীর এই সমন্বিত অভিযান এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।


নদীর পাশে তামাক চাষ মৎস্যসম্পদের জন্য হুমকি: উপদেষ্টা ফরিদা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, নদী তীরবর্তী তামাক চাষ মৎস্যসম্পদের জন্য হুমকি। ফসলি জমিতে তামাক চাষ নিষিদ্ধের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় কিছুটা সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।

শনিবার রাজধানীর বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি)-এ একটি কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের কাজ কেবল অর্থনীতি বা বিজ্ঞানের বিষয় নয়; এটি ধর্ম, সংস্কৃতি ও সামাজিক আচরণের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পৃক্ত।

আমরা যে মৎস্যসম্পদ নিয়ে কাজ করি, তা আমাদের সামগ্রিক জীবনবোধের অংশ। বিষয়টিকে কেবল অর্থনৈতিক বা প্রযুক্তিগত দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে পূর্ণতা আসবে না।

তিনি বলেন, হালদা নদী সাধারণ মানুষের সম্পদ। তাই গবেষণার উপস্থাপনা ও চূড়ান্ত প্রতিবেদন এমন ভাষায় হওয়া উচিত, যা সাধারণ মানুষ সহজে বুঝতে পারে।

প্রেজেন্টেশন ও শিরোনাম ইংরেজিতে হতে পারে, তবে চূড়ান্ত প্রতিবেদন অবশ্যই বাংলায় প্রকাশ করা প্রয়োজন।

সামাজিক-অর্থনৈতিক গবেষণায় নারীদের অন্তর্ভুক্তির ওপর গুরুত্বারোপ করে উপদেষ্টা বলেন, হালদা পাড়ের বাস্তবতা বোঝার জন্য সেখানকার নারীদের অভিজ্ঞতা ও অবস্থান বিবেচনায় নেওয়া জরুরি। নারীদের অংশগ্রহণ ছাড়া কোনো সামাজিক-অর্থনৈতিক গবেষণা পূর্ণাঙ্গ হতে পারে না। গবেষণা পদ্ধতিতেই বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।

হালদা নদীর বর্তমান ঝুঁকির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মানুষের ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডই নদীর জন্য প্রধান হুমকি। ‘এনথ্রোপোজেনিক’ শব্দ ব্যবহার করে বিষয়টিকে আড়াল না করে একে মানুষের ভুল ও ক্ষতিকর কাজ হিসেবে স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করতে হবে। ভুজপুর রাবার ড্যাম ক্ষতিকর হলে তা অপসারণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি তুলে ধরেন। গবেষণা চলমান থাকলেও কিছু ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক সংশোধনমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।

তামাক চাষের ক্ষতিকর প্রভাব উল্লেখ করে তিনি বলেন, নদীতীরবর্তী তামাক চাষ মৎস্যসম্পদের জন্য হুমকি।

তিনি ফসলি জমিতে তামাক চাষ নিষিদ্ধের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট নীতিমালায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় কিছুটা সুরক্ষা নিশ্চিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

স্লুইসগেট ব্যবস্থাপনা ও আগ্রাসী প্রজাতি ‘সাকার ফিস’ নিয়ন্ত্রণেও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন উপদেষ্টা। তিনি বলেন, এই ফিস লুটেরা শ্রেণির মতো। এ মাছের মতো জাতীয় সংসদেও লুটেরা যেন প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য ভালো মানুষ নির্বাচিত করতে হবে।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্রের সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান ও অতিরিক্ত সচিব মো. ইমাম উদ্দীন কবীর এবং সম্মাননীয় অতিথি ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবদুর রউফ।


ভিজিটর ভিসায় কাজ করার অনুমোদন নেই, জানাল মার্কিন দূতাবাস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

যুক্তরাষ্ট্রে ভিজিটর ভিসায় গিয়ে চাকরি করা বা পারিশ্রমিক গ্রহণের বিষয়ে কঠোর সতর্কবার্তা জারি করেছে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস। ভিজিটর ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে কাজ করার অনুমোদন নেই বলে এক বার্তায় এ কথা জা‌নিয়েছে দূতাবাস।

শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) এক বিশেষ বার্তার মাধ্যমে দূতাবাস স্পষ্ট করেছে যে, বি১ ও বি২ তথা ভিজিটর ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে কিছু নির্দিষ্ট ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা সম্ভব হলেও কোনো ধরনের চাকরি বা পারিশ্রমিক গ্রহণ সম্পূর্ণ আইনত নিষিদ্ধ। দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, ‘বি১/বি২ ভিসার আওতায় চুক্তি নিয়ে আলোচনা, দর-কষাকষি কিংবা বিভিন্ন সম্মেলনে অংশগ্রহণ করা যেতে পারে।’ তবে মার্কিন ভূখণ্ডের ভেতরে থেকে কোনো নিয়োগকর্তার অধীনে কাজ করা কিংবা পারিশ্রমিক গ্রহণ করার সুযোগ নেই। ওই বার্তায় আরও বলা হয়েছে যে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে থেকে পারিশ্রমিক নেওয়া কিংবা কোনো মার্কিন নিয়োগকর্তার জন্য কাজ করা আইনত অনুমোদিত নয়।’

মার্কিন দূতাবাস গুরুত্ব দিয়ে জানিয়েছে যে, ভিসার শর্তাবলি যথাযথভাবে পালন করা প্রতিটি ভিসাধারীর ব্যক্তিগত দায়িত্ব এবং এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে ভবিষ্যতে দেশটিতে প্রবেশের ক্ষেত্রে বড় ধরনের জটিলতা বা বাধার সৃষ্টি হতে পারে।


বাংলাদেশ সংবাদপত্র প্রতিনিধি পরিষদের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ সংবাদপত্র প্রতিনিধি পরিষদ (বিএসপিপি)-এর আগামী মেয়াদের জন্য একটি শক্তিশালী কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে। সম্প্রতি আয়োজিত সংগঠনের এক সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এই নতুন নেতৃত্বের তালিকা চূড়ান্ত ও ঘোষণা করা হয়। ন

বগঠিত এই কমিটিতে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ‘বাংলাদেশের খবর’-এর মোঃ মোয়াজ্জেম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক পদের দায়িত্ব পেয়েছেন ‘মানবজমিন’-এর সেলিম রেজা। এছাড়া সহ-সভাপতি হিসেবে ‘দৈনিক আমাদের সময়’-এর কামরুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ‘দৈনিক রূপালী বাংলাদেশ’-এর আতিয়ার রহমান এবং সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে ‘দৈনিক করতোয়া’-এর মনসুর রহমান মনোনীত হয়েছেন।

সাংগঠনিক এই কাঠামোতে ‘দৈনিক আজকালের খবর’-এর মোঃ সাইদ হাসান খান হিসাব রক্ষক এবং ‘দৈনিক বাংলা’-এর মোঃ ইব্রাহীম হোসেন দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন ‘দৈনিক ইত্তেফাক’-এর মোঃ বরকত উল্লাহ, ‘দৈনিক জনতা’-এর বিষ্ণু কুমার দাস, ‘দৈনিক পূর্বদেশ’-এর মোঃ নজরুল ইসলাম, ‘দৈনিক স্বদেশ সংবাদ’-এর মোঃ মফিজুর রহমান এবং ‘দৈনিক কালবেলা’-এর আবিদা সুলতানা। সংবাদপত্রের প্রতিনিধিদের এই নতুন পর্ষদ সংগঠনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সম্মিলিতভাবে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।


বিআরটিসির নিজস্ব অর্থায়ন ও প্রযুক্তিতে নির্মিত এসি বাসের শুভ উদ্বোধন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

গাজীপুরের সমন্বিত কেন্দ্রীয় মেরামত কারখানায় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) নিজস্ব অর্থায়ন ও ব্যবস্থাপনায় নির্মিত দুটি আধুনিক এসি বাসের উদ্বোধন হয়েছে। শনিবার সকাল সাড়ে ১১টায় এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দুটি অত্যাধুনিক এসি বাসের শুভ উদ্বোধন করা হয়। রাষ্ট্রীয় এই পরিবহন সংস্থার কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধির অনন্য নজির হিসেবে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়) জনাব শেখ মইনউদ্দিন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক।

বিআরটিসি চেয়ারম্যান জনাব আব্দুল লতিফ মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জনাব শেখ মইনউদ্দিন বিআরটিসির এই উদ্ভাবনী প্রচেষ্টাকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, “বিআরটিসি’র নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় বাস তৈরির সক্ষমতা আমাদের জন্য গর্বের ও অহঙ্কারের।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এটি কেবল দুটি নতুন বাসের উদ্বোধন নয়, বরং এটি সংস্থার স্বনির্ভরতার এক বলিষ্ঠ বহিঃপ্রকাশ। সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমাদের বহরের বাসগুলো যাতে এখানে সংযোজন করতে পারি- সেই সক্ষমতায় যেতে হবে। সক্ষমতা এতোটা বাড়াতে হবে যাতে বাইরের গাড়িও এখানে সংযোজন করা যায়।” বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক এই অর্জনকে বিআরটিসির উত্তরোত্তর উন্নতির পথে একটি মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করে বলেন, “বিআরটিসি'র নিজস্ব কারখানায় এই দুইটি এসি বাস তৈরি করা শুধু সূচনা মাত্র। আমরা যেন আমাদের মেধার সর্বোচ্চ উৎকর্ষ সাধন করি।”

সভাপতির বক্তব্যে বিআরটিসি চেয়ারম্যান জনাব আব্দুল লতিফ মোল্লা সংস্থার সমন্বিত কাঠামো ও সেবার পরিধি ব্যাখ্যা করে বলেন, “বিআরটিসি কেবল একটি পরিবহন সংস্থা নয় এটি একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় সেবা প্রতিষ্ঠান।” তিনি জানান যে, দীর্ঘদিন বহরে নতুন যানবাহন যুক্ত না হওয়া সত্ত্বেও প্রযুক্তিনির্ভর মনিটরিং ও অপব্যয় হ্রাসের মাধ্যমে সংস্থার আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করা হয়েছে। বর্তমানে ভেহিক্যাল ট্র্যাকিং সিস্টেম (VTS) ব্যবহারের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে সারা দেশের যানবাহন রিয়েল টাইম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। চেয়ারম্যান আরও তথ্য প্রদান করেন যে, চলতি বছরের মধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ৩৪০টি অত্যাধুনিক বাস আমদানির প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং ভবিষ্যতে নতুন ট্রাক ও কোস্টার বাস যুক্ত করার মাধ্যমে বিআরটিসি বহরকে আরও আধুনিক ও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এই উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিআরটিসির বিভিন্ন বিভাগের পরিচালকগণসহ সংস্থার মাঠ পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে নতুন যুগের এই সূচনালগ্নকে স্বাগত জানান।


নির্বাচনে আনসার-ভিডিপি সদস্যদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও প্রযুক্তি ব্যবহারের নির্দেশ মহাপরিচালকের

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ উপলক্ষে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ।

শনিবার গাজীপুরে আয়োজিত এক প্রস্তুতিমূলক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন, যেখানে জায়ান্ট স্ক্রিনের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সদস্যরাও ভার্চুয়ালি সংযুক্ত ছিলেন। মহাপরিচালক তার বক্তব্যে ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালনকালে সকল সদস্যকে অটল পাহাড়ের ন্যায় দৃঢ় অবস্থানে থেকে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, অনিয়ম, ব্যালট বক্স ছিনতাই, জাল ভোট কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিহত করার আহ্বান জানান। তিনি প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে বলেন, “নির্বাচনী সুরক্ষা অ্যাপসহ আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা তাৎক্ষণিকভাবে রিপোর্ট করতে হবে, যাতে দ্রুত টহল টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারে।”

নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাহিনীর আধুনিক কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে মহাপরিচালক জানান যে, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বপ্রাপ্ত ১৩ জন সদস্যের মধ্যে দুইজন সদস্য সরাসরি অ্যাপের মাধ্যমে তাৎক্ষণিক প্রতিবেদন দাখিল করবেন এবং সদর দপ্তর পর্যন্ত একটি শক্তিশালী অবজারভার টিম সার্বক্ষণিক নজরদারি বজায় রাখবে। এই স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার ফলে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে নির্বাচন প্রভাবিত করার সুযোগ থাকবে না বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সদস্য নির্বাচনের মানদণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা বিবেচনায় শারীরিকভাবে সুস্থ, প্রশিক্ষিত ও স্মার্ট সদস্যদেরই এবারের নির্বাচনী দায়িত্বে বাছাই করা হয়েছে।” তিনি আরও জোর দিয়ে উল্লেখ করেন যে, “দেশ ও বাহিনীর পতাকাকে সমুন্নত রেখে রাষ্ট্রের অর্পিত এই পবিত্র দায়িত্ব এবং জনগণের আমানত সঠিকভাবে রক্ষা করাই সকল সদস্যের প্রধান কর্তব্য।”

মহাপরিচালক তার বক্তব্যে আনসার-ভিডিপিকে একটি বৃহৎ ও সম্ভাবনাময় স্বেচ্ছাসেবী শক্তি হিসেবে অভিহিত করেন যা জাতীয় প্রয়োজনে সদা প্রস্তুত থাকে। তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে, পেশাদারিত্ব ও সততার দৃষ্টান্ত স্থাপনের মাধ্যমে বাহিনীর সদস্যরা আগামীতেও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার প্রতি জনআস্থা সুদৃঢ় করতে সক্ষম হবে। প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা এবং বাহিনীর সদস্যদের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় একটি অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এই প্রস্তুতিমূলক সমাবেশটি নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও সংহত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা ও গণতন্ত্র রক্ষায় আনসার-ভিডিপির অপরিহার্য ভূমিকাকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করেছে। মূলত রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালনে সদস্যদের দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে একটি নির্ভরযোগ্য নিরাপত্তা বলয় তৈরি করাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।


পবিত্র রমজান উপলক্ষে সরকারি অফিসের নতুন সময়সূচি নির্ধারণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন পবিত্র রমজান মাসে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের সুবিধার্থে অফিসের নতুন সময়সূচি চূড়ান্ত করেছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রমজান মাসে সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত সব সরকারি ও আধা-সরকারি অফিস চলবে। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সরকারের এই সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, অফিস চলাকালীন দুপুর সোয়া ১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত ১৫ মিনিটের জন্য জোহরের নামাজের বিরতি থাকবে।

প্রেস সচিব আরও জানান, সকল সরকারি দপ্তরের জন্য এই সময়সূচি অভিন্ন হলেও ব্যাংক, বীমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং ডাক ও রেলওয়ের মতো জরুরি সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলো তাদের নিজস্ব বিধিবিধান অনুযায়ী সময় নির্ধারণ করতে পারবে। এছাড়া দেশের উচ্চ আদালত তথা সুপ্রিম কোর্ট এবং অন্যান্য স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলো জনস্বার্থ বিবেচনায় রেখে নিজেদের কাজের ধরণ অনুযায়ী সুবিধামতো অফিস সূচি ঠিক করার এখতিয়ার রাখবে। মূলত ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের সিয়াম সাধনার বিষয়টি মাথায় রেখে এবং ইফতারের আগে সাধারণ মানুষের যাতায়াত সহজতর করতেই প্রতি বছরের মতো এবারও কাজের সময় কিছুটা সমন্বয় করা হয়েছে।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এ বছর পবিত্র রমজান মাস আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়ার একটি সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি বছর রমজান মাসে যানজট নিরসন এবং কর্মজীবীদের সময়মতো ইফতারে শরিক হওয়ার সুযোগ করে দিতে সরকার অফিস সময় কমিয়ে আনে। উপদেষ্টা পরিষদের অনুমোদিত এই নতুন সময়সূচি রমজানের প্রথম দিন থেকেই সারা দেশে কার্যকর হবে। এর ফলে সরকারি সেবাগ্রহীতারাও নির্ধারিত নতুন সময়সীমার মধ্যে তাদের প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করার সুযোগ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।


মিয়ানমার সীমান্ত থেকে ছোড়া গুলিতে আহত শিশু হুজাইফার মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে মিয়ানমার থেকে আসা গুলিতে মাথায় গুরুতর আহত হওয়া ৯ বছরের শিশু হুজাইফা সুলতানা আফনান না ফেরার দেশে চলে গেছে। আজ শনিবার সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে রাজধানীর জাতীয় ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। দীর্ঘ প্রায় এক মাস ধরে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে হার মানল এই নিষ্পাপ শিশুটি। হুজাইফার মামা মাহফুজুর রহমান অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে এই মর্মান্তিক মৃত্যুর সংবাদটি নিশ্চিত করেছেন।

গত ১১ জানুয়ারি সকালে টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্ত এলাকায় নিজ বাড়ির আঙিনায় থাকাকালীন মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে ছোড়া একটি গুলি এসে হুজাইফার মাথায় বিদ্ধ হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলেও আঘাত অত্যন্ত গুরুতর হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তীতে তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস ও হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছিল। সেখানে দীর্ঘ সময় নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হলেও শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সকল প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে শিশুটি মারা যায়।

উল্লেখ্য, গত কয়েক মাস ধরে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সরকারি জান্তা বাহিনী ও সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির মধ্যে তীব্র লড়াই চলছে। মংডু টাউনশিপের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চলা এই যুদ্ধে জান্তা বাহিনী নিয়মিত বিমান হামলা, ড্রোন হামলা এবং মর্টার শেল নিক্ষেপ করছে, যার ভয়াবহ প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জনপদগুলোতে। প্রায়শই ওপার থেকে ছোড়া মর্টার শেল ও গুলি এসে পড়ছে বাংলাদেশের সীমানায়, যা সাধারণ মানুষের জানমালের জন্য চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। শিশু হুজাইফার এই অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী সাধারণ মানুষের মনে তীব্র আতঙ্ক ও শোকের ছায়া ফেলে দিয়েছে। সীমান্ত পরিস্থিতির এমন অবনতিতে স্থানীয় বাসিন্দারা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন। এলাকাবাসী এই ধরণের প্রাণহানি রোধে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণসহ সীমান্তে কঠোর নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছেন।


তিন বছরে বাংলাদেশের বিদেশি ঋণ বেড়ে দ্বিগুণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক 

বাংলাদেশে তিন বছরের ব্যবধানে বিদেশি ঋণ প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে মোট বিদেশি ঋণ ৯২ শতাংশ বেড়ে ৯ লাখ ৫১ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ২০২২ সালের জুনে এই ঋণের পরিমাণ ছিল প্রায় অর্ধেক। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই তথ্য।

কোভিড-পরবর্তী সময়ে বাজেটের জন্য অর্থ সংস্থান এবং টাকার ব্যাপক অবমূল্যায়নই এর মূল কারণ। রাজস্ব আদায়ে দুর্বলতা এবং বাজেট ঘাটতি বেড়ে যাওয়ায় সরকার প্রকল্প ঋণের চেয়ে বাজেট সহায়তা ঋণের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। কারণ এই ঋণ দ্রুত পাওয়া যায়।

২০২১-২২ অর্থবছর থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছর পর্যন্ত বাংলাদেশ ৯ দশমিক ৮২ বিলিয়ন ডলার বাজেট সহায়তা পেয়েছে। এর মধ্যে শুধু গত অর্থবছরেই (২০২৪-২৫) এসেছে ৩ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাজেট সহায়তা ঋণ আগের বছরের তুলনায় ৬৯ শতাংশ বেড়েছে, যেখানে প্রকল্প ঋণ কমেছে ২৯ শতাংশেরও বেশি।

পাশাপাশি ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়ার কারণেও ঋণের বোঝা বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) সরকারের মোট ঋণ ১ শতাংশ বেড়ে ২১ লাখ ৪৯ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। এতে জিডিপির তুলনায় ঋণের অনুপাত প্রায় ২ শতাংশ বেড়ে ৩৮ দশমিক ৬১ শতাংশে পৌঁছেছে। মোট ঋণের মধ্যে ১১ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে নেওয়া হয়েছে, বাকিটা বিদেশি ঋণ।

ঋণের বোঝা বাড়ার কারণে সরকারের সুদ পরিশোধের চাপও বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে সুদ বাবদ সরকারের ব্যয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৭ শতাংশ বেড়ে ৩১ হাজার ৬২৯ কোটি টাকা হয়েছে। এর মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ পরিশোধ ১৯ শতাংশ বাড়লেও বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধ বেড়েছে ৮০ শতাংশ। অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ পরিশোধের ক্ষেত্রে ট্রেজারি সিকিউরিটিজ খাতে ব্যয় ২১ শতাংশ এবং জাতীয় সঞ্চয়পত্রের ক্ষেত্রে ১৬ শতাংশ বেড়েছে।


banner close