প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার বেলজিয়াম ও লুক্সেমবার্গকে ইবিএ (অস্ত্র ছাড়া সবকিছু) পরিকল্পনার আওতায় ২০৩২ সাল পর্যন্ত দেশ দুটির বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের শুল্ক ও কোটামুক্ত প্রবেশ সুবিধা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন প্রধানমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘উত্তরণকে শাস্তি নয় বরং পুরস্কৃত করতে ২০২৯ সালের পরিবর্তে ২০৩২ সাল পর্যন্ত ইবিএ সুবিধা অব্যাহত রাখুন।’
মোমেন বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার ডি ক্রু এবং লুক্সেমবার্গের প্রধানমন্ত্রী জেভিয়ার বেটেলের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর এফপিএস চ্যান্সেলারিতে এবং বাসভবনে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক এ আহ্বান জানান।’
বৈঠকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ ২০২৬ সালে এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উন্নীত হতে যাচ্ছে এবং বাংলাদেশ কোভিড-১৯ মহামারি এবং যুদ্ধের জন্য সমস্যায় রয়েছে। সুতরাং, আমরা চাই আপনাদের দুটি দেশই ২০২৯ থেকে আরও তিন বছরের জন্য ইবিএ সুবিধা অব্যাহত রাখুন, কারণ ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই সুবিধা আমাদের উন্নয়নের জন্য সহায়ক হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বেলজিয়ামকে বাংলাদেশে বিশেষ করে ওষুধ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং জাহাজ নির্মাণে বৃহত্তর বিনিয়োগ করার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আপনি নবায়নযোগ্য শক্তির পাশাপাশি জাহাজ নির্মাণ খাতে আমাদের সঙ্গে কাজ করতে পারেন। আমরা এখন জাহাজ তৈরি করছি, আপনি আমাদের কাছ থেকে উচ্চমানের জাহাজ তৈরি করিয়ে নিতে পারেন।’
উভয় নেতা ফার্মাসিউটিক্যাল খাতে একটি অংশীদারিত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করতে সম্মত হয়েছেন। দুটি দেশই এই খাতে অনেক সমৃদ্ধ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ বর্তমানে ১১৭টি দেশে ওষুধ রপ্তানি করছে ‘ ব্যাংকিং খাতে ভালো হওয়ায় শেখ হাসিনা বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতকে তাদের দক্ষতা বিনিময়ের মাধ্যমে পরিণত করতে লুক্সেমবার্গের প্রতি আহ্বান জানান।
দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের চমৎকার সম্পর্ক থাকায় তিনি লুক্সেমবার্গের কাছ থেকে আরও সহযোগিতা চেয়েছেন।
মোমেন বলেন, ‘বৈঠকে বেলজিয়াম ও লুক্সেমবার্গের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বে গত ১৫ বছরে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করেন।’
তিনি বলেন, ‘দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও ব্যবসা বাড়াতে শিগগিরই বাংলাদেশ ও লুক্সেমবার্গের মধ্যে একটি এয়ার সার্ভিস চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে।’
এছাড়া বৈঠকে আইসিটি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়।
ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম উপস্থিত ছিলেন।
আগামী ১৪ এপ্রিল ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণে প্রি-পাইলট কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এদিন সকাল ১০টায় টাঙ্গাইল সদরের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এক চিঠিতে জানানো হয়েছে, এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের ১০টি উপজেলায় একযোগে ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রমের যাত্রা শুরু হবে।
উপজেলাগুলো হলো—টাঙ্গাইল সদর, পঞ্চগড় সদর, পঞ্চগড়ের বোদা, বগুড়ার শিবগঞ্জ, ঝিনাইদহের শৈলকুপা, পিরোজপুরের নেছারাবাদ, কক্সবাজারের টেকনাফ, কুমিল্লার আদর্শ সদর, জামালপুরের ইসলামপুর, রাজাবাড়ীর গোয়ালন্দ এবং মৌলভীবাজার জুড়ী।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবি ভারতের কাছে পুনর্ব্যক্ত করেছে ঢাকা। গত শুক্রবার (১০ এপ্রিল) মরিশাসের পোর্ট লুইসে নবম ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলন থেকে দেশে ফেরার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের বিষয়েও আভাস দিয়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
এর আগে চলতি সপ্তাহে ৮ এপ্রিল দিল্লি সফরকালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ) অজিত দোভাল এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। বৈঠকের বিষয়ে খলিলুর রহমান বলেন, ‘বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় আমরা আগেই শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়েছি। এই সফরে আমরা সেই দাবিরই পুনরাবৃত্তি করেছি।’ তবে কৌশলগত কারণে আলোচনার সব তথ্য এখনই প্রকাশ করতে রাজি হননি তিনি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকায় ছাত্র-জনতার তীব্র গণআন্দোলনের মুখে দেশ ছাড়ার পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অবস্থান করছেন। দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, তাকে এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াটি বর্তমানে ভারত সরকারের বিবেচনাধীন।
২০২৫ সালের নভেম্বরে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (বর্তমানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী) খলিলুর রহমানের দিল্লি সফরের কয়েক দিন পরই বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠায়। বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাদের প্রত্যর্পণের জন্য এই আবেদন জানানো হয়েছিল।
সে সময় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (এমইএ) মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক বিবৃতিতে জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রত্যর্পণের অনুরোধটি বর্তমানে ভারতের নিজস্ব বিচারিক এবং অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ভারত বাংলাদেশের জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থ রক্ষার বিষয়ে সব সময় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সফরটি অবশ্যই হবে, তবে আমরা এখনো তারিখ চূড়ান্ত করিনি। এই সফরের প্রস্তুতির জন্য আগামী কয়েক সপ্তাহে অনেকগুলো কার্যক্রম পরিচালিত হবে।’ তিনি আরও জানান, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে চিঠি আদান-প্রদান করেছেন এবং টেলিফোনে কথা বলেছেন। দুই পক্ষই এই গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে অত্যন্ত আগ্রহী।
দিল্লির বৈঠকগুলো নিয়ে ‘যথেষ্ট আশাবাদী’ বলে জানিয়ে খলিলুর রহমান বলেন, ‘আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আমরা সম্পর্কের এই অগ্রযাত্রা দেখতে পাব বলে আশা করছি।’
দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ভারত কর্তৃক গত এক বছরে সীমিত রাখা ভিসা প্রক্রিয়া পুনরায় চালু করার বিষয়টিও উত্থাপন করেছে বাংলাদেশ। এ ছাড়া পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট জ্বালানি ঘাটতি মোকাবিলায় ভারতের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, ‘এই সংকট আরও ঘনীভূত হবে। ১৯৭০-এর দশকের তেলসংকটের মতো এটিও উন্নয়নের ধারাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে এটি মোকাবিলা করতে হবে, অন্যথায় আমরা আলাদাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হব।’
খলিলুর রহমান বলেন, এ বছর বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ এই আঞ্চলিক জোটকে সক্রিয় করতে আগ্রহী। পাশাপাশি দীর্ঘদিন স্থগিত থাকা সার্ক সম্মেলন পুনরায় শুরু করার ওপরও জোর দেন তিনি। তিনি বলেন, ‘যদি আমরা সবাই মিলে কাজ করি এবং নির্দিষ্ট কিছু দেশ কেন অংশ নিতে চাইছে না; সেই কারণগুলো দূর করতে পারি, তবে সার্ক সম্মেলন অনুষ্ঠানে কোনো বাধা থাকার কথা নয়। এটি মূলত অন্যদের কাছে পৌঁছানোর বিষয়।’
চাঁদাবাজদের একটি নিরপেক্ষ তালিকা তৈরি করছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তালিকা প্রস্তুত শেষে সব অপরাধীর বিরুদ্ধে যেকোনো সময় দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে র্যাব।
শনিবার (১১ এপ্রিল) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।
ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে চাঁদাবাজদের একটি ‘আনবায়াসড’ তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। র্যাবের ১৫টি ব্যাটালিয়ন ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। যারাই তালিকায় থাকবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
র্যাব পরিচালক জানান, চাঁদাবাজি শুধু একটি নির্দিষ্ট খাতে সীমাবদ্ধ নয়। পরিবহন খাতে মহাসড়ককেন্দ্রিক চাঁদাবাজি, বাজারে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাপ সৃষ্টি, সব ধরনের চাঁদাবাজিকে এই তালিকার আওতায় আনা হচ্ছে। ছোট থেকে বড় সব স্তরের অপরাধীকেই বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা ভয় বা নিরাপত্তাজনিত কারণে অভিযোগ করেন না। সে ক্ষেত্রে গোয়েন্দা তথ্য, মাঠ পর্যায়ের অনুসন্ধান এবং বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করে তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।
তালিকায় রাজনৈতিক ব্যক্তিরা থাকলে কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, তালিকা হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ। কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব থাকবে না। যে অপরাধী, তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যত দ্রুত সম্ভব কাজ শেষ করে মাঠে অভিযান শুরু করা হবে।
৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বা ৫ বছর বয়সি সব শিশুকে হামের টিকার আওতায় আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী। শনিবার (১১ এপ্রিল) বিশ্ব পারকিনসন দিবস উপলক্ষে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড হসপিটালে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘গত ৪ বছর টিকাদান কর্মসূচিতে কিছুটা ছেদ পড়ায় বর্তমানে হামের এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, যা মোকাবিলায় সরকার কাজ করছে।’
স্বাস্থ্য সচিব বলেন, ‘রোববার (১২ এপ্রিল) থেকে ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশনে হামের টিকা কার্যক্রম শুরু হবে। দেশে টিকার কোনো ঘাটতি নেই।’
দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব হঠাৎ বেড়ে গেছে, বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় উপসর্গ নিয়ে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১,১৭৭ শিশু এবং শনাক্ত হয়েছে ১৬৮ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে জানা গেছে, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ১৪৪ শিশু, নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ২৩ জনের। মোট আক্রান্ত ২,৪০৯ জন, আর সন্দেহজনকভাবে ভর্তি হয়েছে ৮,৯১০ শিশু—যাদের মধ্যে ৬,৬০৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। ৫ এপ্রিল থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কার্যক্রম চলছে, ১২ এপ্রিল কয়েকটি সিটিতে এবং ২০ এপ্রিল সারাদেশে টিকাদান শুরু হবে। ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সি সব শিশুকে টিকা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, তবে অসুস্থ থাকলে টিকা নেওয়া যাবে না।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, ফরিদপুরের দিপালীসহ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে যারা নিহত হয়েছেন তাদের মরদেহ পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে সরকার সচেষ্ট রয়েছে। যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে যেসব বাংলাদেশি প্রবাসী আটকা পড়েছেন তাদের ভিসাসংক্রান্ত জটিলতাসহ অন্যান্য সমস্যা বাংলাদেশ সরকার দেখছে। ওইসব দেশে যারা কর্মরত রয়েছেন তারা যেন আবার ফেরত যেতে পারেন, তাদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টিও আমরা দেখছি।
শনিবার বিকেলে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়ায় নিজ বাসভবনে হিন্দু সম্প্রদায়ের সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেছেন।
ফিরে আসা শ্রমিকদের পুনর্বাসন ও নতুন কর্মসংস্থানের বিষয়ে শামা ওবায়েদ আরও বলেন, ক্ষমতাসীন বিএনপির ম্যানুফেস্টোতেই রয়েছে, আরও বেশি কর্মসংস্থান তৈরি করা। যারা কর্ম হারিয়ে বাংলাদেশে ফেরত আসছেন, তাদের পুনর্বাসনের বিষয়ে চেষ্টা করছি। এছাড়া যারা ফেরত যেতে চায়, তাদের বিষয়েও কিন্তু আমরা সচেষ্ট রয়েছি। বিদেশে নতুন নতুন কর্মসংস্থান কীভাবে তৈরি করা যায়, সে বিষয়ে কাজ করছি।
ফরিদপুর পূজা উদযাপন ফন্টের আহ্বায়ক অজয় কুমার করের সভাপতিত্বে উক্ত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খন্দকার ফজলুল হক টুলু, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার, এবং নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম মুকুল। এছাড়া নগরকান্দা ও সালথা উপজেলার হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানীতে বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত এবং আর্থিক অসচ্ছল সাংবাদিক কন্যাদের হাতে ২০২৬ সালের শিক্ষাবৃত্তি তুলে দিয়েছে ‘সামস-সন্ধ্যা ট্রাস্ট’। শনিবার রামপুরার বনশ্রীতে মিডিয়া ফ্রন্টলাইনের প্রধান কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষা বৃত্তির নগদ অর্থ দেওয়া হয়। গবেষণাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘মিডিয়া ফ্রন্টলাইন’ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিডিয়া ফ্রন্টলাইনের চেয়ারম্যান ও দৈনিক খবর সংযোগের সম্পাদক শেখ নজরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে নারীর শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘একজন মা একটি শিক্ষিত জাতি গড়ে তুলতে পারেন। তাই সুশিক্ষিত জাতি গঠনের মাধ্যমে সুন্দর আগামী বিনির্মাণে নারীর শিক্ষালাভের গুরুত্ব অপরিসীম।’
তিনি আরও বলেন, ‘নারীরা সুশিক্ষিত হলে সেই প্রভাব শুধু একটি পরিবারের ওপর নয়, বরং পুরো সমাজ ও রাষ্ট্রের ওপর পড়ে। সুতরাং উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে কন্যা সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা এবং তাদের ঝরে পড়া রোধ করা আমাদের সামষ্টিক দায়িত্ব। মূলত সামস-সন্ধ্যা ট্রাস্টের এই উদ্যোগটি সমাজের সেসব পিছিয়ে পড়া বা অসুস্থ সাংবাদিক কন্যাদের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার প্রয়াস।’
মিডিয়া ফ্রন্টলাইনের চিফ কো-অর্ডিনেটর ও মানবাধিকারকর্মী জাকির মজুমদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মিডিয়া ফ্রন্ট লাইনের এডিশনাল চিফ কো-অর্ডিনেটর মাজহারুল হক পাঠান, খবর সংযোগ অনলাইন ও মাল্টিমিডিয়ার প্রধান আবু কাউছার খোকন, মিডিয়া ফ্রন্ট লাইনের ডিভিশনাল কো-অর্ডিনেটর শামশুল আবরার প্রমুখ।
প্রসঙ্গত,, ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে সাংবাদিক কন্যাদের শিক্ষাবৃত্তি দিয়ে আসছে ‘সামস-সন্ধ্যা ট্রাস্ট’। বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত চিকিৎসাধীন ও আর্থিক অসচ্ছল সাংবাদিক কন্যাদের এই বৃত্তি দেওয়া হয়। এই শিক্ষাবৃত্তি পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতা ও তত্ত্বাবধান করছে মিডিয়া ফ্রন্টলাইন ফাউন্ডেশন। বিশিষ্ট ব্যাংকার ও ‘সামস-সন্ধ্যা ট্রাস্ট’-এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের উদ্যোগে দুজন মহীয়সী নারীর স্মরণে সামস-সন্ধ্যা ট্রাস্টের যাত্রা শুরু হয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালামের বিশেষ উদ্যোগে ঢাকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ‘জিয়া সরণি খাল’ পুনরুদ্ধার ও পানিপ্রবাহ সচল করার কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। শনিবার খালের বর্তমান অবস্থা ও পরিষ্কার কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
পরিদর্শনকালে ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, ‘জলাবদ্ধতা নিরসন এবং জনভোগান্তি দূর করতে আমরা এই খালটিকে চলাচলের উপযোগী ও পানিপ্রবাহ সচল করার কাজ শুরু করেছি। বর্তমানে পানিপ্রবাহের দিক পরিবর্তন করে বুড়িগঙ্গা নদীর সঙ্গে সংযুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যাতে দ্রুততম সময়ে পানি নিষ্কাশন সম্ভব হয়।
এই প্রকৌশলগত পরিবর্তনের ফলে নিষ্কাশন পথ কমে আসবে এবং এলাকার জলাবদ্ধতা স্থায়ীভাবে দূর হবে।’
তিনি জানান, ডিএসসিসির নিজস্ব অর্থে বর্তমানে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ ও প্রাথমিক পরিষ্কার কার্যক্রম চলছে।
এ সময় ডিএসসিসির প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জিয়া সরণি খালকে পুনরুদ্ধারে ডিএসসিসিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এই খালকে বুড়িগঙ্গার সঙ্গে সংযুক্ত করতে ইতোমধ্যে ৩০০ কোটি টাকার প্রকল্প বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জুলাই মাস থেকে স্থায়ী গাইডওয়াল নির্মাণ, সৌন্দর্যবর্ধন এবং দুই পাশে ওয়াকওয়ে নির্মাণের কাজ শুরু হবে। এ ছাড়া ৯০০ কোটি টাকা ব্যয়ে শ্যামপুর খাল উন্নয়ন প্রকল্পটিও অনুমোদিত হয়েছে। এখানে আধুনিক নেটিং ব্যবস্থা ও হাঁটার রাস্তা তৈরি করা হবে।’
তিনি আরো বলেন, বিগত সরকার কেবল ‘জিয়া’ নামের কারণে জনগুরুত্বপূর্ণ এই খালটি অবহেলা করেছিল, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।
খাল পরিচ্ছন্ন রাখতে স্থানীয় নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ময়লা সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত ড্রামে ফেলুন। আমরা প্রতিটি ব্লকে সচেতন নাগরিক কমিটি গঠন করব, যারা ডিএসসিসি প্রশাসকের সঙ্গে সমন্বয় করে খালের রক্ষণাবেক্ষণ মনিটর করবেন।’
এদিকে ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ জানায়, সিএস পর্চা ও ম্যাপ অনুযায়ী খালের জায়গা দখলমুক্ত করা হবে। অবৈধ দখলদারদের তালিকা তৈরি করা হয়েছে এবং বিদ্যমান আইনে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আগামী ৬ মাস থেকে ২ বছরের মধ্যে এই অঞ্চলে দৃশ্যমান উন্নয়ন লক্ষ্য করা যাবে।
পরবর্তীতে, জলাবদ্ধতা নিরসনে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে প্রশাসক কুতুবখালী খাল পরিদর্শন করেন। এসময় স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের উপস্থিতিতে রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকায় বিকেলে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন ডিএসসিসি প্রশাসক।
অন্যদিকে যানজট ও জনভোগান্তি নিরসনে সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল এলাকায় অবৈধ কাউন্টার উচ্ছেদে টানা তৃতীয় দিনের মতো ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেছে ডিএসসিসি। এ সময় ৩০টি অবৈধ কাউন্টার উচ্ছেদপূর্বক সিলগালা করে দেওয়া হয়।
চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি–মার্চ ২০২৬) সারাদেশে রাজনৈতিক ও নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় ৩৬ জন নিহত এবং চার হাজারের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। একই সময়ে নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৬৭০ জন এবং মব সহিংসতায় প্রাণ গেছে ৪৯ জনের।
শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)। সংগঠনটি দেশের ১৬টি জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ, নিজস্ব তথ্যসংগ্রহ এবং ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং রিপোর্টের ভিত্তিতে ২০২৬ সালের জানুয়ারি–মার্চ সময়ের মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে ত্রৈমাসিক পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।
রাজনৈতিক সহিংসতা ও সংঘর্ষ: প্রতিবেদনে বলা হয়, তিন মাসে মোট ৬১০টি সহিংসতার ঘটনায় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ৩৬ জন নেতাকর্মী নিহত হয়েছেন এবং ৪০৭৮ জনের বেশি আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বিএনপির ২৮ জন, জামায়াতের চারজন, আওয়ামী লীগের একজন এবং অন্যান্য দলের তিনজন রয়েছেন।
ঘটনাগুলোর মধ্যে ৫৭৩টি (৯৪ শতাংশ) ঘটেছে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল কিংবা বিএনপির সঙ্গে অন্যান্য দলের সংঘর্ষে।
বিএনপির অন্তর্কোন্দলে ১৯৪টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২৪ জন এবং আহত হয়েছেন অন্তত ১৫৮৫ জন। বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে ২৬০টি ঘটনায় নিহত সাত ও আহত ১৬৫৪ জন। বিএনপি-আওয়ামী লীগ সংঘর্ষে ৩৬টি ঘটনায় নিহত তিন ও আহত ২১৯ জন। এছাড়া বিএনপি-এনসিপি সংঘর্ষে ২৩টি ঘটনায় ২০৪ জন এবং অন্যান্য দলগুলোর সংঘর্ষে ১৯৬ জন আহত হন।
দুষ্কৃতকারীদের হামলায় রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের ওপর ৩৪টি ঘটনায় আরও ২২ জন নিহত ও অন্তত ২৯ জন আহত হওয়ার তথ্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে গত তিন মাসে ৩৯৫টি সহিংসতার ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১২ জন এবং আহত হয়েছেন ২ হাজার ৫৭৩ জন। নির্বাচনপূর্ব ও পরবর্তী সময়ে ৬০০টির বেশি বাড়িঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও নির্বাচনী কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। নির্বাচন ঘিরে অন্তত ১২টি ঘটনায় ১৮ জন নারী হেনস্তার শিকার হন এবং ছয়জন আহত হন।
রাজনৈতিক মামলা ও গ্রেপ্তার: প্রতিবেদনে বলা হয়, এ সময়ে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতায় অন্তত ৭৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলায় ১৮৫০ জনের নাম উল্লেখ করা হলেও অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে ২১ হাজার ৭৪ জনকে।
রাজনৈতিক মামলায় গ্রেফতার হয়েছেন কমপক্ষে ৮৫৮ জন নেতাকর্মী—এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ৪৩৬ জন, বিএনপির ৩১৪ জন, জামায়াতের ৭৬ জন এবং এনসিপির ১৭ জন।
এছাড়া যৌথবাহিনীর বিশেষ অভিযানে ছয় হাজারের বেশি ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সাংবাদিক নির্যাতন: গত তিন মাসে ১৭টি সভা-সমাবেশ আয়োজনের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাধার অভিযোগ উঠে এসেছে। এসব ঘটনায় আহত হন ২০৪ জন।
এ সময়ে সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ–২০২৫ এর অধীনে সাতটি মামলায় ৩৪ জনকে অভিযুক্ত এবং চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সাংবাদিক নির্যাতনের বিষয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, ৮২টি হামলার ঘটনায় ১৮৩ জন সাংবাদিক নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়েছেন। আহত হয়েছেন ১২২ জন, লাঞ্ছিত হয়েছেন ২০ জন এবং হুমকির মুখে পড়েছেন ২১ জন সাংবাদিক। দুই সাংবাদিককে আটক এবং আট সাংবাদিককে আসামি করে মামলা হয়েছে।
মব সহিংসতা ও সংখ্যালঘু নির্যাতন: দেশজুড়ে গণপিটুনি ও মব সহিংসতার ৮৮টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৪৯ জন এবং আহত হয়েছেন ৮০ জন।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ২৭টি হামলায় আহত হয়েছেন ৩১ জন। চারটি মন্দির, দুটি প্রতিমা এবং ১৯টি বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।
সীমান্ত পরিস্থিতি: ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে ১৩টি ঘটনায় বিএসএফের হামলায় একজন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন। বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা থেকে আটক হয়েছেন ১৫ জন।
মিয়ানমার সীমান্তে ১১টি সহিংসতার ঘটনায় একজন নিহত, পাঁচজন আহত এবং ৩২ জন আটক হয়েছেন।
বিচারবহির্ভূত হত্যা ও কারাগারে মৃত্যু: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজত, নির্যাতন, গুলিবর্ষণ ও কথিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় তিন মাসে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে দেশের বিভিন্ন কারাগারে ৩৯ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে—এর মধ্যে ১৬ জন কয়েদি ও ২৩ জন হাজতি।
শ্রমিক, নারী ও শিশু নির্যাতন: শ্রমিক নির্যাতনের ১৩৯টি ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৩০ জন এবং আহত হয়েছেন ৫৭৩ জন। কর্মক্ষেত্রের দুর্ঘটনা ও নিরাপত্তাহীনতায় আরও ৭২ শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে।
নারী ও কন্যাশিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৬৭০ জন। এর মধ্যে ধর্ষণের শিকার ১৪৭ জন, যাদের ৫২ শতাংশই শিশু ও কিশোরী। গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৩৯ জন এবং ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে নয়জনকে। পারিবারিক সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ১৩৬ নারী। শিশু নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৩২৮ জন; এর মধ্যে ১৩৮ জন শিশু প্রাণ হারিয়েছে।
এইচআরএসএসের উদ্বেগ ও সুপারিশ: সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ইজাজুল ইসলাম বলেন, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা এবং মানবাধিকার সুরক্ষায় রাষ্ট্র ও সমাজের সব স্তরে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
তিনি রাজনৈতিক সহিংসতা, মব সহিংসতা, কারাগার ও হেফাজতে মৃত্যু এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মানবাধিকার সুরক্ষায় সরকার, রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও গণমাধ্যমকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানায় এইচআরএসএস।
চিকিৎসকদের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীদের হাতাহাতির ঘটনায় দোষী ব্যক্তিদের শাস্তির দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকেরা। এ সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে দেশব্যাপী কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তারা।
শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের প্রশাসনিক ব্লকের সামনে এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এই ঘোষণা দেওয়া হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন ডাক্তার সোসাইটির (আইডিএস) সাধারণ সম্পাদক নাবিল বিন কাশেম এ ঘোষণা দেন।
নাবিল বিন কাশেম বলেন, ‘হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ চারটি কর্তৃপক্ষের কাছে আমাদের চার দফা দাবি ছিল। বেশির ভাগ দাবিই বাস্তবায়নের জন্য এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি সুপারিশে উল্লেখ করেছে বলে জানতে পেরেছি। এখন সরকারের কাছে দাবি, তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী যেন দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। আমরা আগামী ৪৮ ঘণ্টা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। পরবর্তীতে আমরা কঠোর কর্মসূচির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।’
এর আগে হামলার প্রতিবাদে শনিবার বেলা ১১টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মিলন চত্বর থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা। মিছিল শেষে হামলার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন তারা। পরে সংবাদ সম্মেলন করেন ইন্টার্ন ডাক্তার সোসাইটির নেতারা।
প্রসঙ্গত, ৮ এপ্রিল বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে চিকিৎসকদের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল শিক্ষার্থীর হাতাহাতি ও পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে জরুরি বিভাগে চিকিৎসাসেবা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মানবিক চিকিৎসক কামরুল ইসলাম বলেছেন, ‘রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে মঈন উদ্দিন নামের এক ব্যক্তির চাঁদাবাজি ও কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার প্রতিবাদে দ্রুত রাজনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করায় সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আমি কৃতজ্ঞ।’ শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেছেন।
কামরুল ইসলাম বলেন, ‘গত ৫ আগস্টের পর থেকে মঈন উদ্দিন নিজেকে যুবদলের কর্মী পরিচয় দিয়ে ও কমিশনার প্রার্থী জানিয়ে হাসপাতালের বিভিন্ন সাপ্লাই কাজের জন্য ক্রমাগত চাপ প্রয়োগ করে আসছিল। পরে সরবরাহের কাজের জন্য তিনি অত্যধিক চওড়া দামে চার্জ দিয়ে রোগী সরবরাহ করা শুরু করে। হাসপাতালের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই অনিয়ম বন্ধ করা হলে তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে হুমকি প্রদান করেন।’
তিনি বলেন, ‘শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে হাসপাতালে এসে মব তৈরি এবং কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন মঈন উদ্দিন। এর আগে, গত ২৯ মার্চেও তিনি হাসপাতালে এসে কর্মচারীকে হুমকি প্রদান ও উত্তেজনাকর পরিবেশ তৈরি করেন। এর প্রেক্ষিতে ৩০ মার্চ আমি শেরে বাংলা নগর থানায় একটি জিডি করি।’
কামরুল ইসলাম আরও বলেন, ‘গত ১৭ বছরে দুই হাজারের বেশি কিডনি ট্রান্সফার করেছে সেন্টার ফর কিডনি ডিজিজেস অ্যান্ড ইউরোলজি (সিকেডি) হাসপাতাল। এ ছাড়া এখানে চিকিৎসাধীন রোগী ও স্ট্রাফদের জন্য ৩ বেলা বিনামূল্যে খাবারের ব্যবস্থা চালু আছে।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া ও শেরপুর আসনে ভোটে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। গত শুক্রবার ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত এ গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ (১৯৭২ সালের রাষ্ট্রপতির আদেশ নম্বর-১৫৫)-এর অনুচ্ছেদ ৩৯ এর দফা (৪) অনুসারে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন এতদ্দ্বারা গত ৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদের ১৪৫ শেরপুর-৩ আসনের স্থগিতকৃত সাধারণ নির্বাচন এবং ৪১ বগুড়া-৬ শূন্য আসনের উপনির্বাচনে জাতীয় সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত প্রার্থীগণের নাম, পিতার নাম, মাতার নাম এবং ঠিকানা প্রকাশ করা হচ্ছে।’
কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী নির্বাচিতরা হলেন- শেরপুর-৩ আসনে বিজয়ী মো. মাহমুদুল হক রুবেল, পিতা সেরাজল হক, মাতা মোছা. হেলেন আক্তার, ঠিকানা: সাং- হালগড়া, পো: হালগড়া-২১০০, থানা/উপজেলা-শ্রীবরদী, শেরপুর এবং বগুড়া-৬ আসনে বিজয়ী হয়েছেন মো. রেজাউল করিম বাদশা, পিতা মো. শাহ আলম, মাতা জাহানারা বেগম, ঠিকানা- বাসা/হোল্ডিং: ৩৯৭ বি, হাছনা জাহান স্কুল, শিববাটী, ডাকঘর-বগুড়া-৫৮০০, বগুড়া সদর, বগুড়া পৌরসভা, বগুড়া।
চাকরিপ্রার্থীদের জন্য সামনের দিনে বড় সুখবর আসছে। বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকার বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থায় শূন্যপদে ৫ লাখ জনবল নিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে। আগামী ছয় মাসের মধ্যে এসব নিয়োগ শেষ করতে চায় সরকার।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রমতে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়-বিভাগ ও দপ্তর-সংস্থার শূন্যপদে নিয়োগের পরিকল্পনা ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় পাঠিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
পিএসসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোবাশ্বের মোনেম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মন্ত্রণালয় থেকে জানতে চেয়েছে আগামী ৬ মাসের মধ্যে পিএসসি কতজন জনবল নিয়োগ দেবে। আমরা আমাদের পুরো পরিকল্পনা জানিয়েছি। তবে কোন পদে কতজন নিয়োগ হবে, তা নথি দেখে বলতে হবে।’
বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন ফরম নিলেন সেই সিথীবিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন ফরম নিলেন সেই সিথী
স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন সম্প্রতি জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সব মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ পরিকল্পনা পেয়েছেন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ আব্দুল ওয়াদুদ চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এখন বাস্তবায়নের কাজ চলছে।’
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারীও বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে ৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের চেষ্টা চলছে।’
সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, পাঁচ লাখ নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিপরীতে সরকারের সাড়ে ৮ কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে চলতি অর্থবছরের (২০২৫-২৬) শেষ চার মাসে (মার্চ-জুন) লাগবে সাড়ে ৪ কোটি টাকা। আর আগামী অর্থবছরের (২০২৬-২৭) জুলাই ও আগস্টে লাগবে ৪ কোটি টাকা।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ‘স্ট্যাটিসটিকস অব পাবলিক সার্ভেন্টস-২০২৪’ অনুযায়ী, সব শ্রেণি মিলিয়ে বর্তমানে ১৪ লাখ ৫০ হাজার ৮৯১ জন সরকারি চাকরিজীবী কর্মরত আছেন। এর বিপরীতে শূন্য আছে ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি পদ। বর্তমানে সরকারি চাকরির প্রথম শ্রেণিতে কর্মরত আছেন ১ লাখ ৯০ হাজার ৭৭৩ জন, এর মধ্যে শূন্য পদ ৬৮ হাজার ৮৮৪টি।
দ্বিতীয় শ্রেণিতে কর্মরত ২ লাখ ৩৩ হাজার ৭২৬ জন, শূন্য ১ লাখ ২৯ হাজার ১৬৬টি পদ। তৃতীয় শ্রেণিতে কর্মরত ৬ লাখ ১৩ হাজার ৮৩৫ জন, শূন্য ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯টি পদ। চতুর্থ শ্রেণিতে কর্মরত ৪ লাখ ৪ হাজার ৫৭৭ জন, শূন্য ১ লাখ ১৫ হাজার ২৩৫টি পদ।
সারাদেশে চাঁদাবাজদের একটি ‘নিরপেক্ষ’ তালিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। তালিকা তৈরির পর এতে অন্তর্ভুক্ত সব অপরাধীর বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।
শনিবার (১১ এপ্রিল) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।
তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে ‘আনবায়াসড’ বা পক্ষপাতহীন তালিকা তৈরির কাজ চলছে। র্যাবের ১৫টি ব্যাটালিয়ন ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ে তৎপরতা শুরু করেছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। তালিকায় যারাই থাকবেন, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
তালিকায় রাজনৈতিক পরিচয়ের ব্যক্তিরা থাকলে কী হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তালিকা সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ হবে এবং কোনও ধরনের পক্ষপাতিত্ব রাখা হবে না। অপরাধী যেই হোক, তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, যত দ্রুত সম্ভব কাজ শেষ করে মাঠে অভিযান শুরু করা হবে। প্রয়োজনে তা তাৎক্ষণিকভাবেও শুরু হতে পারে।
র্যাব জানায়, বিভিন্ন খাতে চাঁদাবাজি বিস্তৃত। বিশেষ করে পরিবহন খাতে মহাসড়কভিত্তিক চাঁদাবাজি, বাজারে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাপ সৃষ্টি—সব ধরনের অপরাধকেই তালিকার আওতায় আনা হচ্ছে। ছোট থেকে বড় সব স্তরের অপরাধীদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
সংস্থাটি আরও জানায়, অনেক ভুক্তভোগী ভয় বা নিরাপত্তাজনিত কারণে অভিযোগ করতে চান না। সেক্ষেত্রে গোয়েন্দা তথ্য, মাঠ পর্যায়ের অনুসন্ধান এবং বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে তালিকা তৈরি করা হচ্ছে।
কল্যাণপুরে একটি হাসপাতালের উদ্যোক্তার কাছ থেকে চাঁদা দাবির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি প্রথমে পুলিশের কাছে গেছে এবং তদন্ত চলছে। পাশাপাশি র্যাবও ছায়া তদন্ত শুরু করেছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়া চট্টগ্রামে সাম্প্রতিক একটি বড় ইয়াবা চালান আটকের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাঠ পর্যায়ে আটক ব্যক্তিরা সাধারণত নিম্নস্তরের সদস্য। তবে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মূল হোতা বা গডফাদারদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর কোনও চাপ রয়েছে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, র্যাব বর্তমানে স্বাধীনভাবেই কাজ করছে এবং কোনও ধরনের বেআইনি চাপ নেই। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কেউই আইনের ঊর্ধ্বে নয়; অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।