অবশেষে ২০ শর্তে নয়াপল্টনে বিএনপি এবং বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে আওয়ামী লীগকে সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। তবে জামায়াতে ইসলামীকে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি।
গতকাল সন্ধ্যায় ডিএমপির পক্ষ থেকে দুই দলকেই তাদের নিজ নিজ পছন্দের স্থানেই সমাবেশের অনুমতির কথা জানানো হয়।
ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন বলেন, বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে আওয়ামী লীগ ও নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের অনুমতি পেয়েছে বিএনপি। তবে সমাবেশ করার জন্য উভয় দলকেই ২০টি শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে।
এদিকে আজ রাজধানী ঢাকা হতে যাচ্ছে সমাবেশের নগরী। দেশের দুই বৃহৎ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি সমাবেশ ঘিরে মহানগরে বিরাজ করছে টানটান উত্তেজনা। নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের মনে ভীতি ও আতঙ্ক কাজ করছে। কিন্তু নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তারা শহরজুড়ে টহল জোরদার করেছে। রাজধানীর প্রবেশমুখগুলোসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসেছে চেকপোস্ট (নিরাপত্তা চৌকি)।
ইতোপূর্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নয়াপল্টনে তাদের দলীয় কার্যালয়ের সামনে মহাসমাবেশ এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ আহ্বান করেছে। তা ছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশ করার জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশকে (ডিএমপি) জানিয়েছিল। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমাবেশের অনুমতি পেলেও জামায়াতের সমাবেশ করার অনুমতি মেলেনি। সমাবেশ সফল করতে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা-কর্মীরা ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
এর আগে শুক্রবার বিকেলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানিয়েছেন, শনিবার আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মহাসমাবেশের অনুমতি পাবে। স্থান নির্ধারণ হয়নি। স্থানের বিষয়টিও খুব দ্রুতই তাদের জানিয়ে দেয়া হবে বলে জানান তিনি। তবে জামায়াতের সমাবেশের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স (শূন্য সহনশীলতা) অবস্থানে রয়েছে ডিএমপি। তাদের সমাবেশের অনুমতি দেয়া হবে না। এ বিষয়ে ডিবিপ্রধান হারুন অর রশিদ বলেন, রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন যদি না থাকে, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সমাবেশের কথা বললেই তাদেরকে সমাবেশ করতে দেয়া হবে না।
এদিকে পুলিশের অনুমতি পাওয়ার আগেই বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটের সামনে আওয়ামী লীগের মঞ্চ নির্মাণ বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ। গতকাল বেলা সাড়ে ৩টার দিকে মঞ্চের কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়।
বিএনপির ডাকা মহাসমাবেশের একই দিনে রাজধানী ঢাকায় আওয়ামী লীগের শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ। গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় লাঠিসোঁটা নিয়ে মিছিল করেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিট আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। রাজপথ দখলের এই মহড়া শুরু হয় গত বৃহস্পতিবার। সতর্ক অবস্থানে থেকে রাজধানীর বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিটে সমাবেশের জন্য তৈরি হওয়ার প্রস্তুতি নেয়ার খবর পাওয়া গেছে।
পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, শনিবার দুপুর দুইটায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে শুরু হবে আওয়ামী লীগের শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের ঢাকার দুই মহানগরের অন্তর্গত সব থানা ও ওয়ার্ড থেকে নেতাকর্মীরা সমাবেশে যোগ দেবেন। একই সঙ্গে গাজীপুর, কেরানীগঞ্জ, সাভার, আশুলিয়া, ধামরাই, নারায়ণগঞ্জ ও রূপগঞ্জসহ আশপাশের জেলা এবং উপজেলা থেকে নেতা-কর্মীরা যোগ দেবেন এই সমাবেশে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের সমাবেশের মঞ্চ প্রায় প্রস্তুত।
গতকাল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নেতা-কর্মীদের বলেছেন, দলের ডাকা শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ শেষ হলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে গেছে মনে না করতে। তিনি বলেছেন, সতর্ক পাহারায় থাকতে হবে। এদের দুরভিসন্ধি আছে। সাম্প্রদায়িক আরও দু-একটি শক্তিকে নিয়ে তাদের অশুভ খেলার পরিকল্পনা রয়েছে। সার্বক্ষণিক সতর্ক পাহারায় থাকতে হবে। মিটিং শেষ, চলে গেলেই হবে না। কালকে একটু দেখেশুনে যাবেন। অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা।
রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে গতকাল শুক্রবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, সবাই নিজে নিজে দায়িত্ব নেবেন, সবার দায়িত্ব আছে। এই যুদ্ধ আমাদের সবার। এটা বাংলাদেশের আরেক মুক্তিযুদ্ধ। এটা মনে করেই মাঠে থাকতে হবে। ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, শেখ হাসিনার হাতকে আরও শক্তিশালী করতে পারব, যদি আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকি। বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখতে হবে। এটা মাথায় রেখেই নৌকা বিজয়ের বন্দরে পৌঁছাতে হবে।
সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে থাকার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বারবার অপশক্তিকে মাথা তুলে দাঁড়াবার সুযোগ দেয়া উচিত না। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা গণতন্ত্র ব্যাহত হতে দেবে না, এটা তাদের প্রতিজ্ঞা।
এদিকে বিএনপি ও তাদের সমমনা দলগুলো অভিযোগ করছে, সমাবেশ সামনে রেখে নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেছে।
আওয়ামী লীগ নেতারা উসকানিমূলক কথা বলছেন জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে, শান্তিপূর্ণভাবে সরকারের পতন ঘটাতে চাই।’ শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এতকিছুর পরেও ইতোপূর্বে আমরা অনেক কর্মসূচি পালন করেছি। এর আগেও রেইড দিয়েছে, গ্রেপ্তার করেছে, মারপিট করেছে, মেরেও ফেলেছে গুলি করে। তারপরও আমরা আমাদের জায়গা থেকে সরিনি। আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে শান্তিপূর্ণভাবে সরকারের পতন ঘটাতে চাই। তবে ক্ষমতাসীন দল কোনো ধরনের বাড়াবাড়ি করলে তার দায়-দায়িত্ব সরকারকেই বহন করতে হবে।’
লগি-বৈঠা আওয়ামী লীগের কালচার মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আর লাঠির কথা বলছে‑ এগুলো উসকানিমূলক ৷ একদিকে তাদের প্রধান একরকম কথা বলছেন, আরেকদিকে তারা পুরো জনগণকে জিম্মি করে ফেলেছে- তাদের এই দমননীতি দিয়ে। আমরা কোনো উসকানি দিচ্ছি না।’
অপরদিকে গোয়েন্দা নজরদারির জন্য নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও আশপাশের এলাকায় ৬০টির বেশি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সিসি ক্যামেরা বসাচ্ছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। শুক্রবার বিকেলে থেকে এসব ক্যামেরা বসানো শুরু হয়েছে। ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক দলগুলোর সমাবেশ ঘিরে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সিসি ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে ডিএমপি। ডিএমপি সদর দপ্তর থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্যামেরাগুলো থেকে পাওয়া ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হবে। সকাল থেকেই রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও প্রবেশমুখ গাবতলী, আব্দুল্লাহপুর ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে ঢাকায় আসা যাত্রী ও গাড়িতে তল্লাশি করা হচ্ছে।
সকালে ঢাকার প্রবেশপথ গাবতলী সেতুর মুখে নিরাপত্তা চৌকি বসিয়েছে দারুস সালাম থানা পুলিশ। এ বিষয়ে দারুস সালাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জামাল হোসেন জানান, সকাল থেকেই নিরাপত্তা চৌকি বসিয়ে যানবাহন ও সন্দেহভাজনদের তল্লাশি করা হচ্ছে।
এদিকে, উত্তরার আব্দুল্লাহপুরে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন ও যাত্রীদের তল্লাশির বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তরা জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) জ্যোতির্ময় সাহা জানান, পুলিশের নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবেই চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করা হচ্ছে।
অপরদিকে পোস্তগোলা সেতুর মুখে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি কার্যক্রম চালাচ্ছে শ্যামপুর থানা পুলিশ। এ বিষয়ে শ্যামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম দৈনিক বাংলাকে বলেন, সমাবেশ সামনে রেখে নিরাপত্তার স্বার্থে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। দুষ্কৃতকারীরা যেন কোনো বোমা বা অস্ত্র নিয়ে ঢাকায় ঢুকতে না পারে, সে জন্যই চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।
সম্প্রতি র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেছেন, রাজনৈতিক কর্মসূচির সুযোগ নিয়ে স্বার্থান্বেষী কোনো মহল নাশকতার চেষ্টা করলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। গতকাল বিকেলে র্যাব সদর দপ্তর থেকে জানানো হয়, রাজধানীতে জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ও যেকোনো ধরনের নাশকতা প্রতিরোধে দেড় হাজারের অধিক র্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। র্যাব সদস্যরা রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় চেকপোস্ট পরিচালনা, টহল কার্যক্রম, সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি পরিচালনা করছে। র্যাব-১ রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর, রামপুরা, পূর্বাচল ৩০০ ফিট ও আমতলীতে চেকপোস্ট কার্যক্রম পরিচালনা করছে। র্যাব-২ রাজধানীর বসিলা, আগারগাঁও ও শিশুমেলার সামনে চেকপোস্ট কার্যক্রম পরিচালনা করছে। র্যাব-৩ রাজধানীর কমলাপুর, সচিবালয় ও নটর ডেম কলেজের সামনে চেকপোস্ট কার্যক্রম পরিচালনা করছে। র্যাব-৪ রাজধানীর কচুক্ষেত, টেকনিক্যাল, মিরপুর কাজীপাড়া, সাভার ও মানিকগঞ্জে চেকপোস্ট কার্যক্রম পরিচালনা করছে। র্যাব-১০ রাজধানীর ডেমরা, পোস্তগোলা ও সায়েদাবাদে চেকপোস্ট কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে তাদের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, এটি মিথ্যা কথা। কোনো রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশ ঘিরে ডিএমপি কাউকে গ্রেপ্তার করে না। আমাদের ক্রাইম ডিভিশনের প্রত্যেক থানার ওসি ও ডিসিকে বলা আছে, যারা ওয়ারেন্টের আসামি, সন্দেহজনক আসামি, মামলা বা তদন্তভুক্ত আসামি, নাশকতা হতে পারে এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করার জন্য বলা হয়েছে। এর বাইরে অন্য সাধারণকে হয়রানি বা গ্রেপ্তার করার সুযোগ নেই।
এমন পরিস্থিতিতে রাজধানীসহ দেশব্যাপী চলছে জল্পনা-কল্পনা। সময় যতই ঘনিয়ে আসছে জনমনে বাড়ছে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা। এ ছাড়া, গত কয়েকদিন ধরে রাজনৈতিকদলগুলোর পাল্টাপাল্টি আক্রমণাত্মক বক্তব্যে জনমনে বাড়ছে শঙ্কা।
আসন্ন ঈদুল ফিতর ও স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে মার্কিন নাগরিকদের বাংলাদেশ ভ্রমণের বিষয়ে বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর। বুধবার (১৮ মার্চ) প্রকাশিত এক বার্তায় জানানো হয়েছে যে, বাংলাদেশে ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত ঈদের ছুটি এবং ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসের সরকারি ছুটি থাকায় অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকতে পারে এবং সেবামূলক কার্যক্রম সীমিত হতে পারে। এই সময়ে পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত জনসমাগম এবং তীব্র যানজটের কারণে স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটার সম্ভাবনা রয়েছে।
সতর্কবার্তায় আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, জ্বালানি সাশ্রয় ও মজুত সংরক্ষণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার কিছু বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে জ্বালানি ক্রয়ের ওপর সীমা নির্ধারণ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি ছুটির মেয়াদ বৃদ্ধির মতো সিদ্ধান্ত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যার ফলে দৈনন্দিন যাতায়াত ও সাধারণ পরিষেবা গ্রহণে ভ্রমণকারীরা কিছুটা অসুবিধার সম্মুখীন হতে পারেন।
এছাড়া আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে পাসপোর্টের মেয়াদের প্রয়োজনীয়তার কথা মনে করিয়ে দিয়ে নাগরিকদের দ্রুত পাসপোর্ট নবায়নের পরামর্শ দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া ও আরিচা-কাজিরহাট নৌপথে এবারের ঈদযাত্রা বেশ স্বস্তিদায়ক হয়েছে। ঘরমুখো মানুষের ভিড় থাকলেও এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো ভোগান্তির খবর পাওয়া যায়নি এবং যাত্রী ও যানবাহন পারাপার স্বাভাবিক গতিতে চলছে।
বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী মো. রাজীব আহসান এই নৌপথের সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান যে, সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের আন্তরিকতা এবং নিয়মিত তদারকির কারণে এবারের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করা সম্ভব হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ঘাটগুলোতে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে কাজ করছে। বিশেষ করে পাটুরিয়া লঞ্চঘাটে যাতে অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে কোনো লঞ্চ ছেড়ে না যায়, সেদিকে কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে। নৌপথের পাশাপাশি সড়ক ও রেলপথেও বিকল্প ব্যবস্থা থাকায় এবারের ঈদযাত্রা সাধারণ মানুষের জন্য আরামদায়ক হচ্ছে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
রাজধানীর সদরঘাটে ট্রলার দিয়ে লঞ্চে ওঠার সময় দুই লঞ্চের মাঝখানে চাপা পড়ে দুইজন যাত্রী নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৮ মার্চ) সন্ধ্যায় পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রার ষষ্ঠ দিনে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনাটি ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্র জানায়, একটি লঞ্চে ট্রলারের মাধ্যমে যাত্রী তোলার সময় এমভি জাকের-৩ নামক একটি লঞ্চ পেছন থেকে জোরে ধাক্কা দিলে দুই লঞ্চের মাঝে পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় আরও দুইজন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন এবং এখন পর্যন্ত আরও দুইজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিখোঁজদের উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করেছে। বর্তমানে সদরঘাট এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সাভারে ঈদকে কেন্দ্র করে সড়কে নেমেছে ঘরমুখো মানুষের ঢল। একই সঙ্গে সড়ক ও মহাসড়কে বেড়েছে গণপরিবহনের চাপ। তবে ঘরমুখো মানুষের চাপ ও গণপরিবহনের বাড়তি চাপে সৃষ্টি হয়েছে ধীরগতি। এতে ভোগান্তিতে পড়েছে ঘরমুখো মানুষ।
বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক, নবীনগর-চন্দ্রা সড়ক ও আব্দুল্লাহপুর - আশুলিয়া - ডিইপিজেড সড়কের বিভিন্ন পয়েন্ট এ চিত্র লক্ষ্য করা যায়।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের হেমায়েতপুর, উল্লাইল, গেন্ডা, সিন্ডবি ও সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডে সড়কে ৩ কিলোমিটার গাড়ির ধীরগতি রয়েছে। এছাড়া নবীনগর-চন্দ্রা সড়কের বাইপাইল, নবীনগর, ডিইপিজেড ও জিরানী সড়কে ৩ কিলোমিটার এবং আব্দুল্লাহপুর-আশুলিয়া-ডিইপিজেড সড়কের জামগড়া, জিরাবোতে ২ কিলোমিটার সড়কে গাড়ির ধীরগতি লক্ষ্য করা যায়।
রংপুরগামী সাভার পরিবহনের যাত্রীরা বলেন, আমি সাভারের হেমায়েতপুর থেকে রংপুর যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছি। তবে আশুলিয়ার বাইপাইল পর্যন্ত আসতে প্রায় দেড় ঘন্টা সময় লেগেছে বলে জানান তিনি।
বাসের চালক বলেন, সড়কে কিছু জায়গায় আজকে দাঁড়াতে হচ্ছে। গতকালের থেকে আজ যাত্রী ও গাড়ির চাপ বেড়েছে। তাই যানজটের সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান তিনি।
সাভার হাইওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ শাজাহান বলেন, সড়কে যাত্রীর চাপ ও গাড়ি চাপ তুলনামূলক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে যানজট নিরসনে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে রোগীদের চিকিৎসার সুবিধার্থে বিজ্ঞানসম্মত ডিজিটাল হেলথ কার্ড বিতরণ করা হবে। বুধবার (১৮ মার্চ) দুপুরে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলা পরিষদ হলরুমে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দুস্থ ও গরিব জনসাধারণের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিল থেকে অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, এই কার্ডের মাধ্যমে রোগীর জিন থেকে শুরু করে পূর্ববর্তী চিকিৎসার সমস্ত রেকর্ড সংরক্ষিত থাকবে। ফলে দেশের যেকোনো স্থানে চিকিৎসকের কাছে গেলে রোগীকে মুখে কিছু বলতে হবে না, কার্ড দেখেই চিকিৎসক সব বুঝতে পারবেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি যা দিয়েছি তা বাস্তবায়ন শুরু করেছি। ইতোমধ্যে আপনারা দেখেছেন ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের মাধ্যমে আমরা আমাদের কথা রেখেছি। পর্যায়ক্রমে প্রতিমাসেই আমরা সারা বাংলাদেশে এই কার্ড বিতরণ করব।’
কৃষকদের সুবিধার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, কৃষকের কৃষি ঋণের ১০ হাজার টাকা সমুদয় সুদসহ মওকুফ করে দেয়া হয়েছে। এছাড়া আগামী মাসের ভেতরে কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড দেয়া হবে। এভাবে প্রত্যেকটা মন্ত্রণালয়ে সজাগ দৃষ্টি রেখে সরকার কাজ শুরু করেছে, যাতে জনগণের উপকার হয়।
সরকারের দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা যেই ভোট দিয়েছেন তার বিনিময়ে এই দুনিয়ায় যেন কিছু কল্যাণ দিয়ে যেতে পারি, সেই চেষ্টাই আমরা করছি। যেন আপনারা বোঝেন, ভোট দিয়ে যাদের এমপি বানিয়েছেন তারা আপনাদের কাছে দায়বদ্ধ। আপনাদের খোঁজখবর রাখাসহ আমাদের জবাবদিহিতাও আছে।
পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার তথ্য পর্যালোচনা ও মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদ-উল ফিতরের তারিখ নির্ধারণ করতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বৈঠকে বসতে যাচ্ছে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি।
বুধবার (১৮ মার্চ) ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে অবস্থিত বাংলাদেশ ইসলামী ফাউন্ডেশন-এর সম্মেলন কক্ষে সন্ধ্যা ৬টায় বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। এতে আরও বলা হয়, এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন ধর্ম মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।
বাংলাদেশের আকাশে কোথাও শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে ০২-৪১০৫৩২৯৪, ০২-২২৬৬৪০৫১০ এবং ০২-২২৩৩৮৩৩৯৭- এই ফোন নম্বরগুলোতে অথবা সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক অথবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানানোর জন্য অনুরোধ জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।
সূত্র: বাসস।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের সরকারি ছুটিতেও গুলশানে নিজের বাসভবন থেকে সরকারি জরুরি কাজ করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি বিভিন্ন সিটি কর্পোরেশনের কার্যক্রম সম্পর্কেও খোঁজ-খবর নিচ্ছেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, ঈদের ছুটি শুরু হলেও প্রধানমন্ত্রী গুলশান এভিনিউ’র বাসভবন থেকে সরকারি জরুরি কাজ সারছেন। পাশাপাশি খোঁজ খবরও নিচ্ছেন কোথায় কী হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচির অগ্রগতি যাচাই করছেন। কাজের গতি, সময়মতো সম্পন্ন হচ্ছে কিনা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলেও তদারকি করছেন।
অতিরিক্ত প্রেস সচিব আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী সিটি কর্পোরেশনগুলোর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার জন্য সংশ্লিষ্ট মেয়র ও প্রশাসকদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। যোগাযোগ রাখছেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের সঙ্গেও।
গতকাল মঙ্গলবার সরকারি ছুটি থাকলেও প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে অফিস করেছেন। কৃষক কার্ড বাস্তবায়ন কমিটির সভা এবং মন্ত্রিসভার বৈঠকেও অংশ নিয়েছেন।
সরকারি ছুটি ১৭ মার্চ (গতকাল) থেকে শুরু হয়েছে, যা ২৩ মার্চ পর্যন্ত চলবে।
সূত্র: বাসস
ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানী ছাড়তে শুরু করেছেন ঘরমুখো মানুষ। সেহরির পর থেকেই ঢাকার প্রধান বাস টার্মিনালগুলোতে যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে।
মহাখালী, কল্যাণপুর ও গাবতলী থেকে অধিকাংশ বাস নির্ধারিত সময় মেনেই ছেড়ে যাচ্ছে। তবে পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এবার ঈদে টিকিট বিক্রি আশানুরূপ নয়। জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে যাত্রী পরিবহনে। যদিও তাদের আশা, সন্ধ্যার পর যাত্রীর চাপ আরো বাড়বে।
অন্যদিকে যাত্রীদের ভাষ্য, অতীতের মতো টিকিট পেতে তেমন বিড়ম্বনায় পড়তে হয়নি। অনলাইনে সহজেই ন্যায্য দামে টিকিট পাওয়া গেছে। তবে তাৎক্ষণিক যাত্রার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ৫০ থেকে ১০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগও করেছেন কেউ কেউ।
এদিকে ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনেও বেড়েছে যাত্রীচাপ। বুধবার সকালে বিভিন্ন রুটের ট্রেন নির্ধারিত সময়েই ছেড়ে যেতে দেখা গেছে। যাত্রীরা জানিয়েছেন, নির্বিঘ্নেই ট্রেনে যাতায়াত করছেন তারা।
রেলওয়ের বিভাগীয় ব্যবস্থাপক এ বি এম কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, শিডিউল বিপর্যয় এড়াতে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা হচ্ছে। যাত্রীদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে বাড়তি ব্যবস্থা।
তবে যাত্রীচাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই নিয়ম ভেঙে ট্রেনের ছাদে ওঠার চেষ্টাও করছেন। এ বিষয়ে কঠোর নজরদারির কথা জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।
ঈদের দিন কূটনীতিক, শিক্ষাবিদসহ সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় সেদিন সকাল ১০টায় এই শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান শুরু হবে।
বুধবার (১৮ মার্চ) প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় ঈদগাহে ঈদের নামাজ আদায় করবেন। এরপর সকাল ১০টায় যমুনাতে যাবেন। সেখানে কূটনীতিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।
তিনি বলেন, পরে মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, বিশিষ্ট নাগরিক, শিক্ষাবিদ, আলেম-ওলামা, শিল্পী-সাহিত্যিক, উচ্চ পদস্থ সরকারি ও বেসরকারি কর্মকর্তাসহ সর্বস্তরের জনগণের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।
সবকিছু ঠিক থাকলে ঈদের পর সেখানেই উঠবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
গণপূর্ত অধিদফতর জানিয়েছে, এ উপলক্ষে বড় ধরনের কোনো সংস্কার নয়, মূলত রুটিন রক্ষণাবেক্ষণ কাজ চলছে।
গত আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর গণভবনকে ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে। ফলে প্রধানমন্ত্রীর ঐতিহ্যগত সরকারি বাসভবন হিসেবে গণভবনের ব্যবহার বন্ধ রয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য জাতীয় সংসদ ভবন ও আগারগাঁও এলাকায় বাসভবন নির্ধারণের চিন্তা থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
এ অবস্থায় যমুনাকেই সরকার প্রধানের বাসভবন হিসেবে নির্ধারণ করা হয়।
বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী গুলশান থেকে সচিবালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যাতায়াত করছেন। তবে যমুনা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন থেকে এসব স্থানের দূরত্ব তুলনামূলক কম হওয়ায় এটি সুবিধাজনক বলে মনে করছে সংশ্লিষ্টরা।
গণপূর্ত অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী জানান, ভেতরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, রং করা, হাইজিনিক ওয়াশসহ ছোটখাটো সংস্কার কাজ চলছে।
সিলিংয়ের কিছু পুরনো অংশেও মেরামত করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বড় কোনো সংস্কারের প্রয়োজন নেই এবং দুই সপ্তাহের মধ্যেই সব কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।
এরই মধ্যে যমুনায় দুই দফায় ইফতার অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এতে দেশি-বিদেশি কয়েকশ অতিথি উপস্থিত ছিলেন।
ঈদের আনুষ্ঠানিকতা শেষে যমুনাকেই প্রধানমন্ত্রীর নতুন বাসভবন হিসেবে ব্যবহার শুরু হবে বলে জানা গেছে।
ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী পরিবারের সদস্যদের নিয়ে শেরে বাংলানগরে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করবেন।
ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কের ফেনীর রামপুর এলাকায় অবস্থিত সেতুর জরুরি মেরামত কাজের কারণে আগামী ২২ মার্চ থেকে চারদিন চট্টগ্রামমুখী লেন সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ জানিয়েছে, ২২ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত এই লেন দিয়ে কোনো যানবাহন চলাচল করতে পারবে না।
এরপর ২৬ থেকে ৩০ মার্চ পর্যন্ত এক লেন দিয়ে সীমিত আকারে যান চলাচল চালু রাখা হবে।
সওজের ফেনী কার্যালয় থেকে প্রকাশিত গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মেরামতকাজ চলাকালে যান চলাচলের জন্য কয়েকটি বিকল্প সড়ক ব্যবহার করতে হবে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এসব বিকল্প পথের বেশিরভাগই শহরের অভ্যন্তরীণ এবং ভারী যানবাহনের জন্য পুরোপুরি উপযোগী নয়। ফলে শহরের ভেতরে যানজট ও দুর্ভোগ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
পরিবহন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঈদের আগে ও পরে এই মহাসড়ক দেশের অন্যতম ব্যস্ত রুট। বিপুল সংখ্যক মানুষ যাতায়াত করায় এই সময়ে লেন বন্ধ থাকলে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়তে পারে।
এদিকে সড়ক বিভাগের দাবি, ঈদ পরবর্তী সময়ে যানবাহনের চাপ তুলনামূলক কম থাকে এবং ভারী যান চলাচলও সীমিত থাকে। তাই এই সময়টিকেই মেরামতের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।
সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী সুনীতি চাকমা জানান, ২০২৪ সালের বন্যায় সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দ্রুত মেরামত জরুরি হয়ে পড়েছে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সাময়িক কিছু চাপ থাকলেও বড় ধরনের কোনো সমস্যা হবে না।
ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক রয়েছে উল্লেখ সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, সব বাস কাউন্টার থেকে নির্ধারিত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের যাত্রীদের ভোগান্তি বা অভিযোগ আমরা পাইনি। রাস্তায় কোনো ধরনের যানজট নেই।
বুধবার (১৮ মার্চ) গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে ঈদযাত্রার সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের যাত্রীদের ভোগান্তি বা অভিযোগ আমরা পাইনি। কোনো ধরনের যানযট নেই। যে দুই-তিনটি অভিযোগ আসছে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, রাজধানী থেকে সময়মতো বাস ছেড়ে যাচ্ছে এবং যাত্রীরা স্বস্তিতেই যাত্রা করছেন।
এ সময় যমুনা সেতুতে স্বাভাবিক দিনের তুলনায় ৩২ হাজারের বেশি যান পারাপার হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেল নিয়ে সংকট হওয়ার গুঞ্জনের মধ্য মন্ত্রী বলেন, গণপরিবহনে কোনো ধরনের তেলের সংকট নেই, পর্যাপ্ত দেওয়া হচ্ছে।
চাঁদ দেখার ওপর নির্ভর করে আগামী শুক্র বা শনিবার পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হবে।
এ দুদিন দেশের বিভিন্ন স্থানে বিচ্ছিন্নভাবে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও শিলাবৃষ্টিও হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
বুধবার (১৮ মার্চ) আবহাওয়া অফিসের ৫ দিনের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী ২০ মার্চ (শুক্রবার) রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
একই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
এছাড়া আগামী ২১ মার্চ (শনিবার) রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
একই সঙ্গে কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এসময় সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।
রাজধানীর শাহবাগ থানাধীন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় গত রোববার রাতে সংঘটিত রাকিবুল ইসলাম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। বুধবার (১৮ মার্চ) সকালে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
যদিও এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দিতে ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে দুপুরে একটি সংবাদ সম্মেলনের কর্মসূচি ছিল, তবে পরবর্তীতে অনিবার্য কারণবশত সেই ব্রিফিং স্থগিত করা হয়। বোরহানুদ্দীন পোস্টগ্র্যাজুয়েট কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাকিবুল গত রোববার রাত সোয়া ৯টার দিকে শহীদ মিনারের সিঁড়িতে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেওয়ার সময় দুর্বৃত্তদের ছুরিকাঘাত ও গুলির শিকার হয়ে নিহত হন।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণে জানা যায় যে, সেদিন কয়েকজন যুবক আকস্মিকভাবে এসে প্রথমে রাকিবুলকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে এবং পরে তাকে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। ওই সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন একজনকে চাপাতিসহ আটক করে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করেন। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে, এই হত্যাকাণ্ডটি মূলত প্রেমঘটিত দ্বন্দ্বের জেরে সুপরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে।
এই নৃশংস হামলায় সাত থেকে আটজন অংশ নিয়েছিলেন এবং ঘাতকদের একটি নির্দিষ্ট এলাকা থেকে বিশেষভাবে ভাড়া করে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়েছিল। নিহত রাকিবুলের গ্রামের বাড়ি ভোলা সদর উপজেলায় এবং তাঁর পিতা তারিকুল ইসলাম খোকন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কুয়েত মৈত্রী হলের একজন কর্মচারী।