অবশেষে ২০ শর্তে নয়াপল্টনে বিএনপি এবং বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে আওয়ামী লীগকে সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। তবে জামায়াতে ইসলামীকে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি।
গতকাল সন্ধ্যায় ডিএমপির পক্ষ থেকে দুই দলকেই তাদের নিজ নিজ পছন্দের স্থানেই সমাবেশের অনুমতির কথা জানানো হয়।
ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন বলেন, বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে আওয়ামী লীগ ও নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের অনুমতি পেয়েছে বিএনপি। তবে সমাবেশ করার জন্য উভয় দলকেই ২০টি শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে।
এদিকে আজ রাজধানী ঢাকা হতে যাচ্ছে সমাবেশের নগরী। দেশের দুই বৃহৎ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি সমাবেশ ঘিরে মহানগরে বিরাজ করছে টানটান উত্তেজনা। নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের মনে ভীতি ও আতঙ্ক কাজ করছে। কিন্তু নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তারা শহরজুড়ে টহল জোরদার করেছে। রাজধানীর প্রবেশমুখগুলোসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসেছে চেকপোস্ট (নিরাপত্তা চৌকি)।
ইতোপূর্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নয়াপল্টনে তাদের দলীয় কার্যালয়ের সামনে মহাসমাবেশ এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ আহ্বান করেছে। তা ছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশ করার জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশকে (ডিএমপি) জানিয়েছিল। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমাবেশের অনুমতি পেলেও জামায়াতের সমাবেশ করার অনুমতি মেলেনি। সমাবেশ সফল করতে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা-কর্মীরা ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
এর আগে শুক্রবার বিকেলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানিয়েছেন, শনিবার আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মহাসমাবেশের অনুমতি পাবে। স্থান নির্ধারণ হয়নি। স্থানের বিষয়টিও খুব দ্রুতই তাদের জানিয়ে দেয়া হবে বলে জানান তিনি। তবে জামায়াতের সমাবেশের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স (শূন্য সহনশীলতা) অবস্থানে রয়েছে ডিএমপি। তাদের সমাবেশের অনুমতি দেয়া হবে না। এ বিষয়ে ডিবিপ্রধান হারুন অর রশিদ বলেন, রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন যদি না থাকে, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সমাবেশের কথা বললেই তাদেরকে সমাবেশ করতে দেয়া হবে না।
এদিকে পুলিশের অনুমতি পাওয়ার আগেই বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটের সামনে আওয়ামী লীগের মঞ্চ নির্মাণ বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ। গতকাল বেলা সাড়ে ৩টার দিকে মঞ্চের কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়।
বিএনপির ডাকা মহাসমাবেশের একই দিনে রাজধানী ঢাকায় আওয়ামী লীগের শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ। গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় লাঠিসোঁটা নিয়ে মিছিল করেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিট আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। রাজপথ দখলের এই মহড়া শুরু হয় গত বৃহস্পতিবার। সতর্ক অবস্থানে থেকে রাজধানীর বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিটে সমাবেশের জন্য তৈরি হওয়ার প্রস্তুতি নেয়ার খবর পাওয়া গেছে।
পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, শনিবার দুপুর দুইটায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে শুরু হবে আওয়ামী লীগের শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের ঢাকার দুই মহানগরের অন্তর্গত সব থানা ও ওয়ার্ড থেকে নেতাকর্মীরা সমাবেশে যোগ দেবেন। একই সঙ্গে গাজীপুর, কেরানীগঞ্জ, সাভার, আশুলিয়া, ধামরাই, নারায়ণগঞ্জ ও রূপগঞ্জসহ আশপাশের জেলা এবং উপজেলা থেকে নেতা-কর্মীরা যোগ দেবেন এই সমাবেশে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের সমাবেশের মঞ্চ প্রায় প্রস্তুত।
গতকাল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নেতা-কর্মীদের বলেছেন, দলের ডাকা শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ শেষ হলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে গেছে মনে না করতে। তিনি বলেছেন, সতর্ক পাহারায় থাকতে হবে। এদের দুরভিসন্ধি আছে। সাম্প্রদায়িক আরও দু-একটি শক্তিকে নিয়ে তাদের অশুভ খেলার পরিকল্পনা রয়েছে। সার্বক্ষণিক সতর্ক পাহারায় থাকতে হবে। মিটিং শেষ, চলে গেলেই হবে না। কালকে একটু দেখেশুনে যাবেন। অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা।
রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে গতকাল শুক্রবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, সবাই নিজে নিজে দায়িত্ব নেবেন, সবার দায়িত্ব আছে। এই যুদ্ধ আমাদের সবার। এটা বাংলাদেশের আরেক মুক্তিযুদ্ধ। এটা মনে করেই মাঠে থাকতে হবে। ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, শেখ হাসিনার হাতকে আরও শক্তিশালী করতে পারব, যদি আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকি। বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখতে হবে। এটা মাথায় রেখেই নৌকা বিজয়ের বন্দরে পৌঁছাতে হবে।
সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে থাকার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বারবার অপশক্তিকে মাথা তুলে দাঁড়াবার সুযোগ দেয়া উচিত না। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা গণতন্ত্র ব্যাহত হতে দেবে না, এটা তাদের প্রতিজ্ঞা।
এদিকে বিএনপি ও তাদের সমমনা দলগুলো অভিযোগ করছে, সমাবেশ সামনে রেখে নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেছে।
আওয়ামী লীগ নেতারা উসকানিমূলক কথা বলছেন জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে, শান্তিপূর্ণভাবে সরকারের পতন ঘটাতে চাই।’ শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এতকিছুর পরেও ইতোপূর্বে আমরা অনেক কর্মসূচি পালন করেছি। এর আগেও রেইড দিয়েছে, গ্রেপ্তার করেছে, মারপিট করেছে, মেরেও ফেলেছে গুলি করে। তারপরও আমরা আমাদের জায়গা থেকে সরিনি। আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে শান্তিপূর্ণভাবে সরকারের পতন ঘটাতে চাই। তবে ক্ষমতাসীন দল কোনো ধরনের বাড়াবাড়ি করলে তার দায়-দায়িত্ব সরকারকেই বহন করতে হবে।’
লগি-বৈঠা আওয়ামী লীগের কালচার মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আর লাঠির কথা বলছে‑ এগুলো উসকানিমূলক ৷ একদিকে তাদের প্রধান একরকম কথা বলছেন, আরেকদিকে তারা পুরো জনগণকে জিম্মি করে ফেলেছে- তাদের এই দমননীতি দিয়ে। আমরা কোনো উসকানি দিচ্ছি না।’
অপরদিকে গোয়েন্দা নজরদারির জন্য নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও আশপাশের এলাকায় ৬০টির বেশি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সিসি ক্যামেরা বসাচ্ছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। শুক্রবার বিকেলে থেকে এসব ক্যামেরা বসানো শুরু হয়েছে। ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক দলগুলোর সমাবেশ ঘিরে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সিসি ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে ডিএমপি। ডিএমপি সদর দপ্তর থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্যামেরাগুলো থেকে পাওয়া ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হবে। সকাল থেকেই রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও প্রবেশমুখ গাবতলী, আব্দুল্লাহপুর ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে ঢাকায় আসা যাত্রী ও গাড়িতে তল্লাশি করা হচ্ছে।
সকালে ঢাকার প্রবেশপথ গাবতলী সেতুর মুখে নিরাপত্তা চৌকি বসিয়েছে দারুস সালাম থানা পুলিশ। এ বিষয়ে দারুস সালাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জামাল হোসেন জানান, সকাল থেকেই নিরাপত্তা চৌকি বসিয়ে যানবাহন ও সন্দেহভাজনদের তল্লাশি করা হচ্ছে।
এদিকে, উত্তরার আব্দুল্লাহপুরে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন ও যাত্রীদের তল্লাশির বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তরা জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) জ্যোতির্ময় সাহা জানান, পুলিশের নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবেই চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করা হচ্ছে।
অপরদিকে পোস্তগোলা সেতুর মুখে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি কার্যক্রম চালাচ্ছে শ্যামপুর থানা পুলিশ। এ বিষয়ে শ্যামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম দৈনিক বাংলাকে বলেন, সমাবেশ সামনে রেখে নিরাপত্তার স্বার্থে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। দুষ্কৃতকারীরা যেন কোনো বোমা বা অস্ত্র নিয়ে ঢাকায় ঢুকতে না পারে, সে জন্যই চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।
সম্প্রতি র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেছেন, রাজনৈতিক কর্মসূচির সুযোগ নিয়ে স্বার্থান্বেষী কোনো মহল নাশকতার চেষ্টা করলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। গতকাল বিকেলে র্যাব সদর দপ্তর থেকে জানানো হয়, রাজধানীতে জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ও যেকোনো ধরনের নাশকতা প্রতিরোধে দেড় হাজারের অধিক র্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। র্যাব সদস্যরা রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় চেকপোস্ট পরিচালনা, টহল কার্যক্রম, সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি পরিচালনা করছে। র্যাব-১ রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর, রামপুরা, পূর্বাচল ৩০০ ফিট ও আমতলীতে চেকপোস্ট কার্যক্রম পরিচালনা করছে। র্যাব-২ রাজধানীর বসিলা, আগারগাঁও ও শিশুমেলার সামনে চেকপোস্ট কার্যক্রম পরিচালনা করছে। র্যাব-৩ রাজধানীর কমলাপুর, সচিবালয় ও নটর ডেম কলেজের সামনে চেকপোস্ট কার্যক্রম পরিচালনা করছে। র্যাব-৪ রাজধানীর কচুক্ষেত, টেকনিক্যাল, মিরপুর কাজীপাড়া, সাভার ও মানিকগঞ্জে চেকপোস্ট কার্যক্রম পরিচালনা করছে। র্যাব-১০ রাজধানীর ডেমরা, পোস্তগোলা ও সায়েদাবাদে চেকপোস্ট কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে তাদের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, এটি মিথ্যা কথা। কোনো রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশ ঘিরে ডিএমপি কাউকে গ্রেপ্তার করে না। আমাদের ক্রাইম ডিভিশনের প্রত্যেক থানার ওসি ও ডিসিকে বলা আছে, যারা ওয়ারেন্টের আসামি, সন্দেহজনক আসামি, মামলা বা তদন্তভুক্ত আসামি, নাশকতা হতে পারে এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করার জন্য বলা হয়েছে। এর বাইরে অন্য সাধারণকে হয়রানি বা গ্রেপ্তার করার সুযোগ নেই।
এমন পরিস্থিতিতে রাজধানীসহ দেশব্যাপী চলছে জল্পনা-কল্পনা। সময় যতই ঘনিয়ে আসছে জনমনে বাড়ছে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা। এ ছাড়া, গত কয়েকদিন ধরে রাজনৈতিকদলগুলোর পাল্টাপাল্টি আক্রমণাত্মক বক্তব্যে জনমনে বাড়ছে শঙ্কা।
দেশে হাম ও হামের উপসর্গে আরও নয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এসময় নতুন করে হাম শনাক্ত ও উপসর্গ পাওয়া গেছে ১ হাজার ৪৩৫ শিশুর মধ্যে।
শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে মারা যাওয়া নয় শিশুর মধ্যে তিনজন নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে এবং ছয়জন হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে। দেশজুড়ে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া তিন শিশুই বরিশাল বিভাগের। সন্দেহজনক হামের উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়াদের মধ্যে তিনজন ঢাকা, দুজন খুলনা এবং একজন সিলেট বিভাগের।
এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরো ১ হাজার ৪৩৫ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ পাওয়া গেছে। এরমধ্যে নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৮৯ জন।
এ নিয়ে গত ৫৫ দিনে হাম ও হামের উপসর্গে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫২ জনে।
বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে আগামীকাল রবিবার (১০ মে) শুরু হচ্ছে পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬। ‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’এ প্রতিপাদ্যে চারদিনব্যাপী ১০ থেকে ১৩ মে উদযাপিত হচ্ছে এবারের পুলিশ সপ্তাহ।
আগামীকাল রবিবার সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স মাঠে বার্ষিক পুলিশ প্যারেডের মধ্য দিয়ে পুলিশ সপ্তাহ শুরু হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পুলিশের বিভিন্ন কন্টিনজেন্ট ও পতাকাবাহী দলের সুশৃঙ্খল, দৃষ্টিনন্দন ও বর্ণিল প্যারেড পরিদর্শন এবং অভিবাদন গ্রহণ করবেন। তিনি পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ প্রদান করবেন।
পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী এবং ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি), বাংলাদেশ মো. আলী হোসেন ফকির পৃথক বাণী দিয়েছেন।
রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে বলেন, পুলিশ বাহিনীর সততা, নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও শৃঙ্খলার ওপর একটি রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা, সুশাসন ও উন্নয়ন অগ্রযাত্রা অনেকাংশে নির্ভর করে। বিভিন্ন জাতীয় আয়োজন ও ক্রান্তিকালীন সময়েও পুলিশ বাহিনীর নৈর্ব্যক্তিক, পেশাদার ও জনবান্ধব ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্প্রতি আয়োজিত ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে আয়োজনে বাংলাদেশ পুলিশ সততা ও দক্ষতার সাথে ভূমিকা পালন করেছে। এজন্য পুলিশ বাহিনীর সকল সদস্যকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
তিনি বলেন, বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে অপরাধের ধরন দিন দিন জটিল ও বহুমাত্রিক হয়ে উঠছে। সাইবার স্পেস, এআই ও ডিপফেক ইত্যাদি আধুনিক প্রযুক্তি-মিথ্যাচার, চরিত্রহনন, জনবিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, আর্থিক প্রতারণা, জঙ্গিবাদ, মাদকদ্রব্য পাচার, মানবপাচারসহ নানা অপরাধমূলক কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় পুলিশ সদস্যদের এআই, ডেটা অ্যানালিটিকস, সিসিটিভি নজরদারি, ডিজিটাল ফরেনসিকসসহ অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে। বাহিনীর ভাবমূর্তিকে সমুন্নত রাখতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। কমিউনিটি পুলিশিং জোরদারকরণ, সেবামুখী মনোভাব গড়ে তোলা এবং মানবাধিকার সমুন্নত রাখার মাধ্যমে পুলিশ-জনগণের সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন, বর্তমান সরকার একটি সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর ন্যায়ভিত্তিক গণতান্ত্রিক মানবিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিস্তারিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে চলছে। তবে ঘরে-বাইরে জনমনে নিরাপত্তা, স্বস্তি না থাকলে লক্ষ্য অর্জন দুরূহ হয়ে উঠবে। এজন্য পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নই এই মুহূর্তে আমাদের অগ্রাধিকার।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা উন্নয়ন, অপরাধ দমন এবং জাতীয় অগ্রগতির সঙ্গে পুলিশের উন্নয়ন নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত। এ কারণে পুলিশের উন্নয়নে বিনিয়োগকে সরকার জননিরাপত্তার অপরিহার্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করে। গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিশ্চিত করা জরুরি। মব সহিংসতা, কিশোর গ্যাং এবং মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধে পুলিশকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে তার বাণীতে বলেন, প্রত্যেক পুলিশ সদস্যকে পেশাদারিত্বের আর্দশে উজ্জীবিত হয়ে মানুষের নিকট সেবা ও আস্থার প্রতীক হয়ে উঠতে হবে, ভুক্তভোগীকে তার প্রাপ্য আইনি সেবা পেতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে হবে। প্রকৃত অপরাধীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে, কোন নিরপরাধ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হয়- সে ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তার বাণীতে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রতিরোধ এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বাংলাদেশ পুলিশ যে নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও ত্যাগের পরিচয় দিয়ে আসছে, তা প্রশংসার দাবীদার। দেশের সার্বিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে একটি কার্যকর, আধুনিক ও জনবান্ধব পুলিশ বাহিনীর বিকল্প নেই।
আইজিপি তার বাণীতে বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে আমরা পুলিশের কার্যক্রমকে আরো জনবান্ধব, গতিশীল ও জবাবদিহিমূলক করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ। এবারের পুলিশ সপ্তাহের শ্লোগান নির্ধারণ করা হয়েছে, ‘আমার পুলিশ, আমার দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। আমরা জনগণের পুলিশ হিসেবে তাদের পাশে থেকে আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সাথে সেবা দিতে চাই।
এবারের বার্ষিক পুলিশ প্যারেডে অধিনায়ক হিসেবে নেতৃত্বে রয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার। তার নেতৃত্বে বিভিন্ন কন্টিনজেন্টের পুলিশ সদস্যরা প্যারেডে অংশ নেবেন।
বার্ষিক পুলিশ প্যারেড অনুষ্ঠানে ২০২৫ সালে অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)’, ‘রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)’ এবং গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, দক্ষতা, কর্তব্যনিষ্ঠা, সততা ও শৃঙ্খলামূলক আচরণের মাধ্যমে প্রশংসনীয় অবদানের জন্য ‘বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম)-সেবা’ এবং ‘রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক (পিপিএম)-সেবা’ দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী পদকপ্রাপ্তদের পদক পরিয়ে দিবেন।
বার্ষিক পুলিশ প্যারেড অনুষ্ঠানে মন্ত্রীবর্গ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি), বাংলাদেশ, বিদেশী কূটনীতিকগণ, অতিরিক্ত আইজিগণ, সকল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার পুলিশ সুপার এবং নগরীর বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকবেন।
পুলিশ সপ্তাহের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে জাতীয় দৈনিক পত্রিকাসমূহ বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করবে। এ উপলক্ষে সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। পুলিশ সপ্তাহের গুরুত্ব তুলে ধরে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সড়কদ্বীপ বিশেষভাবে সাজানো হবে।
পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬ এর উল্লেখযোগ্য কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) স্টল পরিদর্শন, পুলিশ সদস্যদের সাথে প্রধানমন্ত্রীর কল্যাণ প্যারেড, ঊর্ধ্বতন পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ, আইজি'জ ব্যাজ, শিল্ড প্যারেড, অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার পুরস্কার বিতরণ, পুলিশ কর্মকর্তাগণের সঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীবর্গ এবং আইজিপির সম্মেলন ইত্যাদি।
পুলিশ সপ্তাহের বিভিন্ন কর্ম অধিবেশনে বিগত বছরের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে পরবর্তী বছরের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করা হয়। আগামী ১৩ মে পুলিশ সপ্তাহ শেষ হবে।
যুক্তরাষ্ট্রে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার পিএইচডি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ দেশে আনা হয়েছে। শনিবার সকাল ৯টা ১০ মিনিটে দুবাই হয়ে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তাঁর মরদেহ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। বিমানবন্দরে মেয়ের কফিন ধরে বাবা–মায়ের আহাজারি আর স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ। যুক্তরাষ্ট্রে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার এই শিক্ষার্থীর মরদেহ দেশে পৌঁছালে সেখানে সৃষ্টি হয় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য।
এর আগে গত বুধবার টাম্পায় তাঁর প্রথম জানাজা সম্পন্ন হয় এবং বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাতে ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো বিমানবন্দর থেকে মরদেহটি দেশের উদ্দেশ্যে পাঠানো হয় বলে
একই হত্যাকাণ্ডের শিকার অপর বাংলাদেশি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ গত ৪ মে বাংলাদেশে পৌঁছেছিল। এই মর্মান্তিক ঘটনার প্রেক্ষিতে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষ এক অনন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি নিহত দুই মেধাবী শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন ও নাহিদা সুলতানা বৃষ্টিকে তাদের বসন্তকালীন সমাবর্তনে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করবে। মিয়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেটকে এক চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি অবহিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে সম্মাননা গ্রহণের জন্য কনস্যুলেটের প্রতিনিধিকে উপস্থিত থাকার অনুরোধ জানিয়েছে।
নিহতদের শিক্ষাগত পটভূমি অনুযায়ী, জামিল আহমেদ লিমন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ছিলেন এবং যুক্তরাষ্ট্রে ভূগোল ও পরিবেশবিজ্ঞান বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। অন্যদিকে, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি একই বিশ্ববিদ্যালয়ে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে উচ্চতর গবেষণা করছিলেন। গত ১৬ এপ্রিল নিখোঁজ হওয়ার পর ফ্লোরিডার একটি ব্রিজের নিচ থেকে জামিলের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় পুলিশ।
এই জোড়া খুনের ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে হিশাম আবুঘরবেহ নামক এক মার্কিন নাগরিককে ইতোমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ফার্স্ট ডিগ্রি হত্যার দুটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে।
শনিবার দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া এক পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের চারটি অঞ্চলে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ওইসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, দুপুরের মধ্যে রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া ও টাঙ্গাইল অঞ্চলের ওপর দিয়ে পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা কিংবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এ সময় অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় সংশ্লিষ্ট নদীবন্দরসমূহকে ১ নম্বর সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
এদিকে সারা দেশের জন্য প্রকাশিত অপর এক পূর্বাভাসে জানানো হয়েছে যে, আজ সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ী দমকা হাওয়াসহ বিদ্যুৎ চমকানো এবং বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। দেশের অন্যত্র আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকতে পারে এবং দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় স্থিতিশীল থাকবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির অন্যতম নির্বাচনী ইশতেহার ছিল দেড় বছরে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। সেই ইশতেহার বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় বন্ধ কারখানা চালুর উদ্যোগ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ইতোমধ্যে তিনি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। কোন কারখানাগুলো দ্রুত চালু করা যায়, সেগুলোর তালিকা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং বিনিয়োগ পরিবেশ পুনরুদ্ধারের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক থাকায় বন্ধ কারখানা চালু শুধু অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নয়, বরং সরকারের কৌশলগত জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পাশাপাশি অর্থনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য ইস্যুতেও পরিণত হয়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশে গত এক বছরে সাভার, গাজীপুর, চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জসহ প্রধান শিল্পাঞ্চলগুলোতে তিন শতাধিক কারখানা বন্ধ হয়েছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র পোশাক শিল্প ও টেক্সটাইল খাতেই অধিকাংশ কারখানা বন্ধ হওয়ায় প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার শ্রমিক কাজ হারিয়েছেন। মূলত আর্থিক সংকট, ঋণের উচ্চ সুদ, গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট এবং শ্রমিক অসন্তোষের কারণে কারখানাগুলো বন্ধ হয়েছে।
সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রথম ১৮ মাসে এককোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য পূরণে বন্ধ কারখানা চালুর উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। শুধু তহবিল সহায়তা নয়, কারখানাগুলো কীভাবে দ্রুত উৎপাদনে ফিরিয়ে আনা যায়— সেই লক্ষ্যে নীতি সহায়তার বিষয়গুলোও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের বন্ধ থাকা কারখানাগুলো চালু ও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তিনি সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে কোন কারখানাগুলো দ্রুত চালু করা যায়, সেগুলোর তালিকা তৈরির নির্দেশনা দিয়েছেন।
ওই নির্দেশনার পর কারখানাগুলো চালু করতে ৪০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশাল পুনঃঅর্থায়ন (রিফাইন্যান্স) স্কিম চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রস্তাবিত প্যাকেজের আওতায়– বড় শিল্প খাতে ২০ হাজার কোটি টাকা; কুটির, অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের (সিএমএসএমই) জন্য ১০ হাজার কোটি টাকা এবং কৃষি খাতে ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হবে।
জানা গেছে, তহবিল গঠনের আগে ব্যাংকগুলোর কাছে বন্ধ কারখানার তালিকা ও তাদের ঋণের হালনাগাদ তথ্য চাওয়া হয়েছে। ১০০ কোটি টাকার বেশি ঋণ রয়েছে, শুধু এসব কারখানার তালিকা চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সম্পূর্ণ বন্ধ ও আংশিক বন্ধের তালিকা আলাদাভাবে চাওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর ড. মো. কবির আহাম্মদের নেতৃত্বে গঠিত ১৯ সদস্যের কমিটি এ বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রস্তুত করছে। কমিটিতে নির্বাহী পরিচালক থেকে শুরু করে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা রয়েছেন। ইতোমধ্যে ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করে তাদের মতামতও নেওয়া হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, সরকার বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানা চালুর জন্য নীতিগত সুবিধা দিতে চাচ্ছে। এটি ইতিবাচক উদ্যোগ; এর ফলে নতুন করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতে পারে। তবে এ কারখানাগুলোর জন্য অর্থ কোথা থেকে আসবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
তিনি বলেন, বর্তমানে দুই ডজনের বেশি ব্যাংক তারল্য সংকটে রয়েছে, অনেক ব্যাংকের মূলধনও নেতিবাচক অবস্থায়। অন্যদিকে সরকারের রাজস্ব আদায়ও আশানুরূপ বাড়ছে না। কারণ, বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ কম থাকায় উৎপাদনও কমে গেছে। এর ফলে রাজস্ব সংগ্রহেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি রিফাইন্যান্স স্কিমের আওতায় এসব প্রতিষ্ঠানকে অর্থায়ন করে, তাহলে তা মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। কারণ, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে অর্থ সরবরাহ করা হলে বাজারে টাকার প্রবাহ বেড়ে যাবে। তিনি সরকারকে দুটি পরামর্শ দিয়ে বলেন, প্রথমত, যেসব ব্যাংকের তারল্য পরিস্থিতি ভালো, সেখান থেকে আংশিকভাবে ফান্ড সংগ্রহ করা যেতে পারে। দ্বিতীয়ত, আসন্ন জাতীয় বাজেট থেকে একটি অংশ এই খাতে বরাদ্দ দেওয়া যেতে পারে। পাশাপাশি তিনি ধাপে ধাপে এই স্কিম বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ব্যাংকগুলো থেকে তালিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। বন্ধ কারখানা চালু করতে কী ধরনের সুবিধা দেওয়া যায়, তা নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে। আলোচনা চূড়ান্ত হওয়ার পর তহবিল গঠন ও নীতিমালা জারি করা হবে। এখন মূল্যস্ফীতি বেশি, তাই সরকারি অর্থে তহবিলটি গঠন হতে পারে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা জানান, সহজ শর্তে ঋণ নিয়মিত করে কারখানার কাঁচামাল কিনতে অর্থায়নসুবিধা দিতে হবে। এ জন্য ঋণপত্র খোলার সুবিধা দেওয়া হবে। তবে অর্থ পাচার ও বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো এই সুযোগ পাবে না। নতুন করে যাতে কোনো অনিয়ম–দুর্নীতি না হয়, সেদিকেও বাড়তি নজর রাখা হবে।
ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তারা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তারা বন্ধ কারখানা পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব দিয়েছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য— ঋণ পুনঃতফসিলের ক্ষেত্রে ডাউন পেমেন্টের শর্ত শিথিল করা। কারখানা চালুর সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত অর্থায়ন নিশ্চিত করা। আমদানি-রফতানি কার্যক্রম সহজ করতে ব্যাংকিং সুবিধা বৃদ্ধি। কম মার্জিনে এলসি খোলার সুযোগ দেওয়া।
বিজিএমইএ’র সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, বন্ধ কারখানা পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত ইতিবাচক। এসব কারখানা আগে থেকেই চালু থাকলে অর্থনীতিতে আরও গতি সঞ্চার হতো, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পেত এবং জিডিপিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়ত।
তিনি আরও বলেন, বন্ধ কারখানা পুনরায় চালু করলে দ্বিমুখী সুবিধা পাওয়া সম্ভব। প্রথমত, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই উৎপাদনে ফেরা যায়। দ্বিতীয়ত, তুলনামূলক কম ব্যয়ে এসব কারখানা সচল করা সম্ভব। এর বিপরীতে নতুন কারখানা স্থাপনের ক্ষেত্রে জায়গা নির্বাচন, উচ্চ ব্যয় এবং উৎপাদনে যেতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয়।
মহিউদ্দিন রুবেলের ভাষায়, সরকার যদি কার্যকরভাবে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে পারে, তাহলে অর্থনীতিতে স্থবির হয়ে থাকা অর্থ পুনরায় গতিশীল হবে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
কয়েক দিনের বৃষ্টি, জ্বালানি তেলের কারণে পরিবহনের খরচ বেশি হওয়া এবং বেশ কিছু সবজির মৌসুম শেষ হওয়ার কারণে সরবরাহ কম— এমন সব কারণ দেখিয়ে বাজারে সব ধরনের সবজির দাম বাড়তি যাচ্ছে। বেশিরভাগ সবজির কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকার ঘরে। সব মিলিয়ে বাজারে চড়া দাম সব সবজির।
শুক্রবার (৮ মে) রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে সবজির দামের এমন চিত্র দেখা গেছে। বাজারে সবচেয়ে বেশি দামের সবজির তালিকায় রয়েছে কাঁকরোল, শসা ও বেগুন, যেগুলোর কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা।
বাজারে প্রতি কেজি পটল বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়, কাঁকরোল প্রতি কেজি ১২০ টাকা, বেগুন (গোল) প্রতি কেজি ১২০ টাকা, বেগুন (লম্বা) প্রতি কেজি ১০০ টাকা, দেশি শসা প্রতি কেজি ১২০ টাকা, হাইব্রিড শসা প্রতি কেজি ১০০ টাকা, করলা প্রতি কেজি ৮০ টাকা, ঝিঙা প্রতি কেজি ১০০ টাকা, চিচিঙ্গা প্রতি কেজি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া ধুন্দল প্রতি কেজি ১০০ টাকা, ঢেঁড়স প্রতি কেজি ৬০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া প্রতি কেজি ৫০ টাকা, জালি প্রতি পিস ৬০ টাকা, লাউ প্রতি পিস ৭০ টাকা, কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ১৬০ টাকা, পেঁপে প্রতি কেজি ৮০ টাকা এবং কাঁচা কলা প্রতি হালি ৪০ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে, মাংস, ডিম ও মাছের বাজারে এখনো চড়া দামই গুনতে হচ্ছে ক্রেতাদের। বিশেষ করে গরুর মাংস, ডিম ও বিভিন্ন ধরনের মাছের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেক ক্রেতা।
পূর্ব রামপুরা এলাকার বউবাজার ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে পাকিস্তানি কক মুরগি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩৭০ টাকায়। ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৮০ টাকা এবং গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকা কেজি দরে।
ডিমের বাজারেও উচ্চমূল্য বজায় রয়েছে। সাদা ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ১৩০ টাকায়। বাদামি রঙের ছোট ও মাঝারি আকারের মিক্স ডিমের ডজন ১৪০ টাকা এবং অপেক্ষাকৃত বড় আকৃতির বাদামি ডিমের ডজন ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। এছাড়া হাঁসের ডিমের ডজন বিক্রি হচ্ছে ২১০ টাকায়।
অন্যদিকে মাছের বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, কাতল মাছ প্রতি কেজি ৩৬০ টাকা, রুই মাছ ৩২০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ টাকা, সিলভার কার্প ১৮০ টাকা, কই মাছ ২২০ টাকা, পাঙাশ মাছ ২০০ টাকা এবং পাবদা মাছ ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
বাজারে আসা আতাউর রহমান বলেন, ডিমের দাম দেখে অবাক হচ্ছি, ১৫০ টাকা ডজন হলে এক হালি ৫০ টাকা। এই একটা জিনিসই একটু কম ছিল। সেটাও দুই তিন সপ্তাহ যাবত বেশি। আর ২০০ টাকার নিচে তো কোনো মাছই পাওয়া যায় না।
রামপুরা বাজারে বাজার করতে এসেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী সাইদুর রহমান। তিনি বলেন, বাজারে এসে দেখছি সব ধরনের সবজির দাম বাড়তি। এত বেশি দামে সাধারণ মানুষের সবজি কিনে খাওয়া অনেকটাই কঠিন। ৮০ থেকে ১০০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই।
সবজির দাম বাড়ার বিষয়ে মালিবাগ বাজারের সবজি বিক্রেতা চাঁদ মিয়া বলেন, বেশ কিছুদিন ধরে সবজির দাম বাড়তি যাচ্ছে। এর মূল কারণ হলো সবজি পরিবহনের খরচ বেড়ে গেছে, এ ছাড়া কয়েক দিন ধরে বৃষ্টির কারণে কৃষকের সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, চাহিদার তুলনায় বাজারে সবজি সরবরাহ তুলনামূলক কম; সব মিলিয়ে সবজির দাম বাড়তি যাচ্ছে। এ ছাড়া বেশ কিছু সবজির মৌসুম ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে, সে কারণেও সবজির সরবরাহ কিছুটা কম। সবজির দাম বৃদ্ধির সাথে সাথে আমাদের মতো খুচরা ও ছোট ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হয়ে গেছে, আমাদের বিক্রি আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে।
মাদকদ্রব্য ও সাইকোট্রপিক উপাদানের অবৈধ পাচার এবং অপব্যবহার রোধে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান সরকারের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
শুক্রবার (৮ মে) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ মহসিন রাজা নাকভি নিজ নিজ দেশের পক্ষে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
এ সমঝোতা স্মারকের আওতায় উভয় দেশ মাদকপাচার এবং মাদকসংক্রান্ত অর্থপাচার রোধে একে অপরকে প্রয়োজনীয় তথ্য আদান-প্রদান এবং কারিগরি সহায়তা প্রদান করবে। এছাড়া মাদক অপরাধে জড়িত সন্দেহভাজন ব্যক্তি, পাচারকারী সংস্থা এবং পাচারের নতুন পদ্ধতি ও রুট সম্পর্কে নিয়মিত গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করবে দুদেশ। চুক্তির উল্লেখযোগ্য দিকগুলো হলো:
তথ্য আদান-প্রদান: মাদক পাচারকারী ব্যক্তি, অপরাধী সংগঠন (ডিটিওস) এবং মাদক লুকানোর নতুন পদ্ধতি সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য বিনিময় করা হবে।
যৌথ কার্যক্রম: মাদকপাচার রোধে উভয় দেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো পারস্পরিক অনুরোধে গোয়েন্দা কার্যক্রম পরিচালনা এবং ‘কন্ট্রোলড ডেলিভারি অপারেশন’-এর মতো সমন্বিত অভিযান চালাবে।
প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বৃদ্ধি: মাদক নিয়ন্ত্রণ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ, পুনঃপ্রশিক্ষণ এবং বৈজ্ঞানিক গবেষণার ফলাফল বিনিময়ে উভয়পক্ষ সম্মত হয়েছে।
প্রযুক্তিগত সহায়তা: লুকানো মাদক শনাক্ত করার জন্য প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম এবং স্নিফার ডগ ব্যবহারের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা বিনিময় করা হবে।
ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ: নিয়মিত ও অপারেশনাল তথ্য বিনিময়ের জন্য বাংলাদেশের পক্ষে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এবং পাকিস্তানের পক্ষে এএনএফ (এএনএফ) ফোকাল পয়েন্ট হিসেবে কাজ করবে।
গোপনীয়তা রক্ষা: আদান-প্রদানকৃত সব তথ্য ও নথিপত্রের কঠোর গোপনীয়তা বজায় রাখা হবে এবং তৃতীয় কোনো পক্ষকে তা জানানো হবে না।
চুক্তিটি স্বাক্ষরের দিন থেকে ১০ বছরের জন্য কার্যকর থাকবে এবং পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে পরবর্তীতে এর মেয়াদ বাড়ানো যাবে। এ সহযোগিতার মাধ্যমে দুদেশের নাগরিকদের জনস্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে উভয়পক্ষ আশা প্রকাশ করেছে।
নিয়মিত স্বাস্থ্যপরীক্ষার অংশ হিসেবে শনিবার (৯ মে) যুক্তরাজ্যের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। মূলত গত বছর সম্পন্ন হওয়া কার্ডিয়াক বাইপাস সার্জারির ফলো-আপ হিসেবে চিকিৎসকের পরামর্শে কেমব্রিজের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে তার এই পরীক্ষাগুলো সম্পন্ন করা হবে।
রাষ্ট্রপতির প্রেস উইংয়ের বরাত দিয়ে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) জানিয়েছে যে, রাষ্ট্রপতিকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইট শনিবার (৯ মে) সকালে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে লন্ডনের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে।
এই সফরে রাষ্ট্রপতির সফরসঙ্গী হিসেবে থাকছেন তার সহধর্মিণী ড. রেবেকা সুলতানাসহ পরিবারের সদস্যবৃন্দ, ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং বঙ্গভবনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ১৮ অক্টোবর সিঙ্গাপুরে রাষ্ট্রপতির কার্ডিয়াক বাইপাস সার্জারি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছিল এবং সেই চিকিৎসার পরবর্তী ধাপ হিসেবেই এই সফরটি নির্ধারিত হয়েছে।
সবকিছু ঠিক থাকলে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যপরীক্ষা শেষে আগামী ১৮ মে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে রাষ্ট্রপতির দেশে ফেরার কথা রয়েছে।
নেত্রকোনার মদন উপজেলায় ১১ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীর অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আনা নারী চিকিৎসক ডা. সায়মা আক্তার এখন প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়েছেন। এই গাইনি বিশেষজ্ঞকে বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ও হোয়াটসঅ্যাপে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ গণধর্ষণ ও হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। নিজের এবং পরিবারের চরম নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে মদন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তিনি।
জিডিতে ডা. সায়মা আক্তার উল্লেখ করেন, উপজেলার একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগী দেখার সময় গত ৩০ এপ্রিল এক শিশুর শারীরিক পরীক্ষা করে তিনি জানতে পারেন যে সে ২৭ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা। ওই সময় ভুক্তভোগী শিশুটি তাঁর কাছে স্বীকার করে যে মাদ্রাসার হুজুর তার সঙ্গে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছে। পরবর্তীতে বিভিন্ন গণমাধ্যমে তাঁর এই পর্যবেক্ষণ ও বক্তব্য প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই তিনি একদল দুর্বৃত্তের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন। ডা. সায়মা জানান, বর্তমানে তিনি ও তাঁর পরিবার চরম আতঙ্কের মধ্যে দিনাতিপাত করছেন।
চিকিৎসকের পরিবারের সদস্যরা উদ্বেগের সাথে জানিয়েছেন যে, তাঁরা বর্তমানে কোনো ঝুঁকি নিতে চাইছেন না এবং সার্বক্ষণিক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম সাধারণ ডায়েরি করার বিষয়টি নিশ্চিত করে এক গণমাধ্যমকে বলেন, “ওই নারী চিকিৎসক দুপুরের দিকে আমাদের থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। আমরা তার নিরাপত্তা বিষয়টি নিয়ে কাজ করছি। তবে মামলা তদন্তের স্বার্থে এ বিষয়ে বেশি কিছু বলা যাচ্ছে না।”
এদিকে, মাদ্রাসাছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগরের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। গত বৃহস্পতিবার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মোসসিনা ইসলাম পুলিশি আবেদনের প্রেক্ষিতে আসামির তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। রিমান্ড শেষে আগামী ১০ মে তাকে পুনরায় আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অনিয়মিত অভিবাসন প্রতিরোধ, অভিবাসীদের অধিকার সুরক্ষা এবং অভিবাসন ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে বিশ্বনেতাদের ঐকান্তিক সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে অভিবাসীদের জন্য ন্যায্য পারিশ্রমিক ও ন্যায়বিচারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দপ্তরে আয়োজিত ইন্টারন্যাশনাল মাইগ্রেশন রিভিউ ফোরামের (আইএমআরএফ) সাধারণ বিতর্কে এই আহ্বান জানান প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশ সরকার একটি অংশগ্রহণমূলক পদ্ধতির মাধ্যমে অভিবাসীদের সুরক্ষা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করছে। নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বাংলাদেশ মাইগ্রেশন কমপ্যাক্ট টাস্কফোর্স গঠন করেছে এবং ২০২৬ থেকে ২০৩০ সাল পর্যন্ত মেয়াদী একটি জাতীয় কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। মন্ত্রী জানান, পূর্ববর্তী অঙ্গীকারসমূহের একটি বড় অংশ ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং নতুন করে আরও ছয়টি নতুন অঙ্গীকার দাখিল করা হয়েছে।
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবকে অভিবাসনের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে মন্ত্রী এই সংকটের শিকার ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে নির্ভরযোগ্য অর্থায়ন ও কারিগরি সহায়তা প্রদানের দাবি জানান। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নিরাপদ অভিবাসন ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে কাজ করতে বদ্ধপরিকর।
পবিত্র হজ পালনের জন্য বাংলাদেশ থেকে এ পর্যন্ত ৪৮ হাজার ৬০৫ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। মোট ১২৪টি হজ ফ্লাইটের মাধ্যমে তাঁরা জেদ্দা ও মদিনার বিভিন্ন গন্তব্যে পৌঁছান। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় গিয়েছেন ৪ হাজার ৭১ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় গিয়েছেন ৪৪ হাজার ৫৩৪ জন। হজ সম্পর্কিত সর্বশেষ বুলেটিন সূত্রে এই তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।
শুক্রবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হজে গিয়ে এ পর্যন্ত ১০ জন বাংলাদেশি নাগরিক মৃত্যুবরণ করেছেন। এর মধ্যে মক্কায় ৮ জন এবং মদিনায় ২ জন মারা যান। মৃতদের মধ্যে দুই জন নারী রয়েছেন বলে হজ বুলেটিনে জানানো হয়েছে। প্রবাসীদের হজ কার্যক্রম নির্বিঘ্ন করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ নিশ্চিত করেছে।
হজ ফ্লাইটের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস তাদের ৫৭টি ফ্লাইটে ২২ হাজার ৮১৯ জন যাত্রীকে বহন করেছে। সৌদি এয়ারলাইনস ৪৬টি ফ্লাইটে ১৭ হাজার ২৯২ জন এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইনস ২১টি ফ্লাইটে ৮ হাজার ৪৯৪ জন যাত্রীকে গন্তব্যে পৌঁছে দিয়েছে। চলতি বছর বাংলাদেশ থেকে সর্বমোট ৭৮ হাজার ৫০০ জন পবিত্র হজ পালনের সুযোগ পেয়েছেন এবং ৬৬০টি অনুমোদিত এজেন্সি এই বিশাল কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
গত ১৭ এপ্রিল হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বছরের প্রথম হজ ফ্লাইটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এ বছর মোট হজযাত্রীর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৪ হাজার ৫৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৭৩ হাজার ৯৩৫ জন হজের সুযোগ পাচ্ছেন।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২৬ মে সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামী ৩০ মে থেকে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে এবং আগামী ৩০ জুন শেষ ফ্লাইটটি ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবে। বর্তমানে হজযাত্রীরা মক্কা ও মদিনায় অবস্থান করছেন এবং নিয়মিতভাবে হজ ও উমরার আহকামসমূহ পালন করছেন।
জ্বালানি সংকটের কারণে টানা ২৩ দিন বন্ধ থাকার পর পুনরায় চালু হয়েছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড। শুক্রবার (৮ মে) ভোর ৬টা থেকে চট্টগ্রামের এই শোধনাগারে আবারও উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়।
রিফাইনারি সূত্র জানায়, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা অপরিশোধিত জ্বালানির নতুন চালান দেশে পৌঁছানোর পর শোধন কার্যক্রম পুনরায় চালু করা সম্ভব হয়েছে। শুক্রবার সকালে ফায়ার্ড হিটারে ক্রুড অয়েল প্রসেসিং শুরু হয় এবং কিছু সময়ের মধ্যেই পূর্ণমাত্রায় উৎপাদন কার্যক্রম চালু করা হয়।
বর্তমানে শোধনাগারে ক্রুড অয়েল পরিশোধনের মাধ্যমে ডিজেল, পেট্রোল, অকটেন ও কেরোসিনসহ বিভিন্ন জ্বালানি উৎপাদন করে নির্ধারিত ট্যাঙ্ক ফার্মে সংরক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে রিফাইনারির জেটিতে থাকা লাইটারেজ জাহাজ থেকেও অপরিশোধিত তেল খালাসের কাজ চলছে।
ইস্টার্ন রিফাইনারির উপমহাব্যবস্থাপক (অপারেশনস) মামুনুর রশীদ খান জানান, ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ প্রায় ১ লাখ ৯৪ হাজার টন ক্রুড অয়েল নিয়ে কুতুবদিয়া উপকূলে পৌঁছেছে। সেখান থেকে সরবরাহ শুরু হওয়ায় আবারও উৎপাদন সচল করা সম্ভব হয়েছে।
প্রাথমিকভাবে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে তিন হাজার মেট্রিক টন জ্বালানি উৎপাদনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কারিগরি সমন্বয়ের কাজ শেষ হলে উৎপাদন আরও বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্নের কারণে গত ১৪ এপ্রিল ইস্টার্ন রিফাইনারির তিনটি ইউনিটের মধ্যে দুটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে মজুত ফুরিয়ে গেলে পুরো উৎপাদন কার্যক্রম স্থগিত হয়ে পড়ে। পরিস্থিতি সামাল দিতে হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে নতুন চালান আনা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে যে পরিমাণ ক্রুড অয়েল মজুত রয়েছে, তা দিয়ে আগামী ২০ থেকে ২৫ দিন উৎপাদন চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। একই সঙ্গে নতুন চালান আনার প্রক্রিয়াও অব্যাহত রয়েছে। আগামী ২০ মে’র দিকে আরও একটি জ্বালানি চালান দেশে পৌঁছাতে পারে বলেও জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইস্টার্ন রিফাইনারিকে সচল রাখতে নিয়মিত ও পর্যাপ্ত ক্রুড অয়েল আমদানির বিকল্প নেই। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নতুন চালান না এলে আবারও উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বর্তমানে রিফাইনারিটির দুটি ইউনিটে প্রতিদিন প্রায় ৪ হাজার টন জ্বালানি উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। উৎপাদন পুনরায় শুরু হওয়ায় দেশের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় তৈরি হওয়া উদ্বেগ অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আজ শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬ ইং এবং ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ। দিনের শুরুতেই বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি কিংবা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে বলেও পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবহাওয়া অফিসের সর্বশেষ বুলেটিন অনুযায়ী, রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দু’এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার সঙ্গে বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।
এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে চাঁদপুর ও যশোরে, ৩৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অন্যদিকে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল রাজারহাটে, ১৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানী ঢাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়ার সিনপটিক অবস্থায় বলা হয়েছে, বিরাজমান লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। তবে সমুদ্রবন্দর কিংবা দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য এখন পর্যন্ত কোনো সতর্কবার্তা বা সংকেত দেখানো হয়নি।
আজ ঢাকায় সূর্যোদয় হয়েছে ভোর ৫টা ১৯ মিনিটে এবং সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৬টা ৩১ মিনিটে।