অবশেষে ২০ শর্তে নয়াপল্টনে বিএনপি এবং বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে আওয়ামী লীগকে সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। তবে জামায়াতে ইসলামীকে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি।
গতকাল সন্ধ্যায় ডিএমপির পক্ষ থেকে দুই দলকেই তাদের নিজ নিজ পছন্দের স্থানেই সমাবেশের অনুমতির কথা জানানো হয়।
ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন বলেন, বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে আওয়ামী লীগ ও নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের অনুমতি পেয়েছে বিএনপি। তবে সমাবেশ করার জন্য উভয় দলকেই ২০টি শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে।
এদিকে আজ রাজধানী ঢাকা হতে যাচ্ছে সমাবেশের নগরী। দেশের দুই বৃহৎ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি সমাবেশ ঘিরে মহানগরে বিরাজ করছে টানটান উত্তেজনা। নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের মনে ভীতি ও আতঙ্ক কাজ করছে। কিন্তু নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তারা শহরজুড়ে টহল জোরদার করেছে। রাজধানীর প্রবেশমুখগুলোসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসেছে চেকপোস্ট (নিরাপত্তা চৌকি)।
ইতোপূর্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নয়াপল্টনে তাদের দলীয় কার্যালয়ের সামনে মহাসমাবেশ এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ আহ্বান করেছে। তা ছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশ করার জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশকে (ডিএমপি) জানিয়েছিল। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমাবেশের অনুমতি পেলেও জামায়াতের সমাবেশ করার অনুমতি মেলেনি। সমাবেশ সফল করতে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা-কর্মীরা ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
এর আগে শুক্রবার বিকেলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানিয়েছেন, শনিবার আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মহাসমাবেশের অনুমতি পাবে। স্থান নির্ধারণ হয়নি। স্থানের বিষয়টিও খুব দ্রুতই তাদের জানিয়ে দেয়া হবে বলে জানান তিনি। তবে জামায়াতের সমাবেশের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স (শূন্য সহনশীলতা) অবস্থানে রয়েছে ডিএমপি। তাদের সমাবেশের অনুমতি দেয়া হবে না। এ বিষয়ে ডিবিপ্রধান হারুন অর রশিদ বলেন, রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন যদি না থাকে, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সমাবেশের কথা বললেই তাদেরকে সমাবেশ করতে দেয়া হবে না।
এদিকে পুলিশের অনুমতি পাওয়ার আগেই বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটের সামনে আওয়ামী লীগের মঞ্চ নির্মাণ বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ। গতকাল বেলা সাড়ে ৩টার দিকে মঞ্চের কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়।
বিএনপির ডাকা মহাসমাবেশের একই দিনে রাজধানী ঢাকায় আওয়ামী লীগের শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ। গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় লাঠিসোঁটা নিয়ে মিছিল করেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিট আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। রাজপথ দখলের এই মহড়া শুরু হয় গত বৃহস্পতিবার। সতর্ক অবস্থানে থেকে রাজধানীর বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিটে সমাবেশের জন্য তৈরি হওয়ার প্রস্তুতি নেয়ার খবর পাওয়া গেছে।
পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, শনিবার দুপুর দুইটায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে শুরু হবে আওয়ামী লীগের শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের ঢাকার দুই মহানগরের অন্তর্গত সব থানা ও ওয়ার্ড থেকে নেতাকর্মীরা সমাবেশে যোগ দেবেন। একই সঙ্গে গাজীপুর, কেরানীগঞ্জ, সাভার, আশুলিয়া, ধামরাই, নারায়ণগঞ্জ ও রূপগঞ্জসহ আশপাশের জেলা এবং উপজেলা থেকে নেতা-কর্মীরা যোগ দেবেন এই সমাবেশে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের সমাবেশের মঞ্চ প্রায় প্রস্তুত।
গতকাল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নেতা-কর্মীদের বলেছেন, দলের ডাকা শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ শেষ হলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে গেছে মনে না করতে। তিনি বলেছেন, সতর্ক পাহারায় থাকতে হবে। এদের দুরভিসন্ধি আছে। সাম্প্রদায়িক আরও দু-একটি শক্তিকে নিয়ে তাদের অশুভ খেলার পরিকল্পনা রয়েছে। সার্বক্ষণিক সতর্ক পাহারায় থাকতে হবে। মিটিং শেষ, চলে গেলেই হবে না। কালকে একটু দেখেশুনে যাবেন। অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা।
রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে গতকাল শুক্রবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, সবাই নিজে নিজে দায়িত্ব নেবেন, সবার দায়িত্ব আছে। এই যুদ্ধ আমাদের সবার। এটা বাংলাদেশের আরেক মুক্তিযুদ্ধ। এটা মনে করেই মাঠে থাকতে হবে। ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, শেখ হাসিনার হাতকে আরও শক্তিশালী করতে পারব, যদি আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকি। বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখতে হবে। এটা মাথায় রেখেই নৌকা বিজয়ের বন্দরে পৌঁছাতে হবে।
সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে থাকার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বারবার অপশক্তিকে মাথা তুলে দাঁড়াবার সুযোগ দেয়া উচিত না। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা গণতন্ত্র ব্যাহত হতে দেবে না, এটা তাদের প্রতিজ্ঞা।
এদিকে বিএনপি ও তাদের সমমনা দলগুলো অভিযোগ করছে, সমাবেশ সামনে রেখে নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেছে।
আওয়ামী লীগ নেতারা উসকানিমূলক কথা বলছেন জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে, শান্তিপূর্ণভাবে সরকারের পতন ঘটাতে চাই।’ শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এতকিছুর পরেও ইতোপূর্বে আমরা অনেক কর্মসূচি পালন করেছি। এর আগেও রেইড দিয়েছে, গ্রেপ্তার করেছে, মারপিট করেছে, মেরেও ফেলেছে গুলি করে। তারপরও আমরা আমাদের জায়গা থেকে সরিনি। আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে শান্তিপূর্ণভাবে সরকারের পতন ঘটাতে চাই। তবে ক্ষমতাসীন দল কোনো ধরনের বাড়াবাড়ি করলে তার দায়-দায়িত্ব সরকারকেই বহন করতে হবে।’
লগি-বৈঠা আওয়ামী লীগের কালচার মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আর লাঠির কথা বলছে‑ এগুলো উসকানিমূলক ৷ একদিকে তাদের প্রধান একরকম কথা বলছেন, আরেকদিকে তারা পুরো জনগণকে জিম্মি করে ফেলেছে- তাদের এই দমননীতি দিয়ে। আমরা কোনো উসকানি দিচ্ছি না।’
অপরদিকে গোয়েন্দা নজরদারির জন্য নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও আশপাশের এলাকায় ৬০টির বেশি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সিসি ক্যামেরা বসাচ্ছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। শুক্রবার বিকেলে থেকে এসব ক্যামেরা বসানো শুরু হয়েছে। ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক দলগুলোর সমাবেশ ঘিরে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সিসি ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে ডিএমপি। ডিএমপি সদর দপ্তর থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্যামেরাগুলো থেকে পাওয়া ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হবে। সকাল থেকেই রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও প্রবেশমুখ গাবতলী, আব্দুল্লাহপুর ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে ঢাকায় আসা যাত্রী ও গাড়িতে তল্লাশি করা হচ্ছে।
সকালে ঢাকার প্রবেশপথ গাবতলী সেতুর মুখে নিরাপত্তা চৌকি বসিয়েছে দারুস সালাম থানা পুলিশ। এ বিষয়ে দারুস সালাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জামাল হোসেন জানান, সকাল থেকেই নিরাপত্তা চৌকি বসিয়ে যানবাহন ও সন্দেহভাজনদের তল্লাশি করা হচ্ছে।
এদিকে, উত্তরার আব্দুল্লাহপুরে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন ও যাত্রীদের তল্লাশির বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তরা জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) জ্যোতির্ময় সাহা জানান, পুলিশের নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবেই চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করা হচ্ছে।
অপরদিকে পোস্তগোলা সেতুর মুখে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি কার্যক্রম চালাচ্ছে শ্যামপুর থানা পুলিশ। এ বিষয়ে শ্যামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম দৈনিক বাংলাকে বলেন, সমাবেশ সামনে রেখে নিরাপত্তার স্বার্থে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। দুষ্কৃতকারীরা যেন কোনো বোমা বা অস্ত্র নিয়ে ঢাকায় ঢুকতে না পারে, সে জন্যই চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।
সম্প্রতি র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেছেন, রাজনৈতিক কর্মসূচির সুযোগ নিয়ে স্বার্থান্বেষী কোনো মহল নাশকতার চেষ্টা করলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। গতকাল বিকেলে র্যাব সদর দপ্তর থেকে জানানো হয়, রাজধানীতে জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ও যেকোনো ধরনের নাশকতা প্রতিরোধে দেড় হাজারের অধিক র্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। র্যাব সদস্যরা রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় চেকপোস্ট পরিচালনা, টহল কার্যক্রম, সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি পরিচালনা করছে। র্যাব-১ রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর, রামপুরা, পূর্বাচল ৩০০ ফিট ও আমতলীতে চেকপোস্ট কার্যক্রম পরিচালনা করছে। র্যাব-২ রাজধানীর বসিলা, আগারগাঁও ও শিশুমেলার সামনে চেকপোস্ট কার্যক্রম পরিচালনা করছে। র্যাব-৩ রাজধানীর কমলাপুর, সচিবালয় ও নটর ডেম কলেজের সামনে চেকপোস্ট কার্যক্রম পরিচালনা করছে। র্যাব-৪ রাজধানীর কচুক্ষেত, টেকনিক্যাল, মিরপুর কাজীপাড়া, সাভার ও মানিকগঞ্জে চেকপোস্ট কার্যক্রম পরিচালনা করছে। র্যাব-১০ রাজধানীর ডেমরা, পোস্তগোলা ও সায়েদাবাদে চেকপোস্ট কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে তাদের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, এটি মিথ্যা কথা। কোনো রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশ ঘিরে ডিএমপি কাউকে গ্রেপ্তার করে না। আমাদের ক্রাইম ডিভিশনের প্রত্যেক থানার ওসি ও ডিসিকে বলা আছে, যারা ওয়ারেন্টের আসামি, সন্দেহজনক আসামি, মামলা বা তদন্তভুক্ত আসামি, নাশকতা হতে পারে এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করার জন্য বলা হয়েছে। এর বাইরে অন্য সাধারণকে হয়রানি বা গ্রেপ্তার করার সুযোগ নেই।
এমন পরিস্থিতিতে রাজধানীসহ দেশব্যাপী চলছে জল্পনা-কল্পনা। সময় যতই ঘনিয়ে আসছে জনমনে বাড়ছে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা। এ ছাড়া, গত কয়েকদিন ধরে রাজনৈতিকদলগুলোর পাল্টাপাল্টি আক্রমণাত্মক বক্তব্যে জনমনে বাড়ছে শঙ্কা।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে উন্নত চিকিৎসার জন্য আজ দুপুর ১২টায় সিঙ্গাপুর নেওয়া হবে। তাকে বহন করতে যাওয়া এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি সকাল ৯টা ১০ মিনিটে ঢাকায় এসে পৌঁছেছে।
রোববার (১৫ মার্চ) মির্জা আব্বাসের ব্যক্তিগত সচিব মিজানুর রহমান সোহেল বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, আজ সকাল ৯টা ১০ মিনিটে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি ঢাকায় অবতরণ করেছে। দুপুর ১২টায় এটি সিঙ্গাপুরের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবে।
জানা গেছে, মির্জা আব্বাসের সঙ্গে যাবেন তার সহধর্মিণী আফরোজা আব্বাস এবং জ্যেষ্ঠ পুত্র মির্জা ইয়াসির আব্বাস।
গত বৃহস্পতিবার ইফতারের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে মির্জা আব্বাসকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে সিটি স্ক্যান রিপোর্টে জটিলতা ধরা পড়লে মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্তে শুক্রবার তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়।
অস্ত্রোপচার পরবর্তী নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকা অবস্থায় শনিবার সকালে তার পুনরায় সিটি স্ক্যান করা হয় এবং চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যে পরীক্ষার ফলাফল সন্তোষজনক। বর্তমানে সিঙ্গাপুরে উন্নত চিকিৎসার জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের মুলতবি অধিবেশন শুরু হয়েছে। দুই দিন বিরতির পর রোববার বেলা ১১টার পর এ অধিবেশন শুরু হয়।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার এই নতুন সংসদের যাত্রা শুরু হয়। ওই দিন রাষ্ট্রপতির ভাষণের পর সংসদ মুলতবি ঘোষণা করেছিলেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে পাওয়া দিনের কার্যসূচিতে রয়েছে—প্রশ্ন জিজ্ঞাসা এবং উত্তর (মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়)। জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ (বিধি-৭১)-এর আওতায় প্রাপ্ত নোটিশসমূহ নিষ্পত্তি। রাষ্ট্রপতির ভাষণ সম্পর্কে ধন্যবাদ প্রস্তাব এবং রাষ্ট্রপতির ভাষণ সম্পর্কে আনীত ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনা।
এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে বলে জাতীয় সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির প্রথম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন বিকাল ৩টায় অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। শনিবার সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কমিটির সভাপতি জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সভাপতিত্ব করেন।
বৈঠকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের কার্যাদি নিষ্পন্নের জন্য সময় বরাদ্দকরণ ও অধিবেশনের স্থায়িত্বকাল নিয়ে আলোচনা হয়। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর মোট ৫০ ঘণ্টা আলোচনার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য আটটি ও অন্যান্য মন্ত্রীর জন্য ৪৬০টি প্রশ্নসহ মোট ৪৬৮টি প্রশ্ন পাওয়া গেছে। বিধি-৭১ এ মনোযোগ আকর্ষণের নোটিশ পাওয়া গেছে ২৭টি এবং সিদ্ধান্ত-প্রস্তাব সংখ্যা (বিধি-১৩১) এ ৯৭টি নোটিশ পাওয়া গেছে।
এর আগে প্রথম অধিবেশনের শুরুতে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান স্পিকার হিসেবে মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের নাম প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে সমর্থিত হয়।
একইভাবে ডেপুটি স্পিকার হিসেবে ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নাম ঘোষণা করা হয়। নির্বাচনের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথবাক্য পাঠ করান।
খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করতে আগামীকাল সোমবার (১৬ মার্চ) প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান দিনাজপুর সফরে আসছেন।
রোববার (১৫ মার্চ) সকালে নীলফামারীর সৈয়দপুর রাজনৈতিক জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুর গফুর সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আব্দুর গফুর সরকার বলেন, আগামীকাল সকাল ৯টায় বিমান যোগে তিনি সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পোঁছাবেন। সেখানে থেকে তাকে বহনকারী বিশেষ বুলেটপ্রুফ বাস যোগে তিনি সৈয়দপুর শহর হয়ে দিনাজপুরের দিকে রওনা হবেন।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমনমন্ত্রী তারেক রহমান দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলার বলরামপুর সাহাপাড়া নামকস্থানে ১২ কিলোমিটার খাল পুনঃখনন কাজের মাধ্যমে একযোগে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। একই সঙ্গে তিনি ভার্চুয়ালি দেশের ৫৩টি জেলার খাল খনন কর্মসূচিরও উদ্বোধন করবেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী দিনাজপুর শহরের ফরিদপুর গোরস্তানে যাবেন। সেখানে তিনি তার নানা মরহুম মো. ইস্কান্দার মজুমদার, নানি মরহুমা তৈয়বা মজুমদার এবং খালা খুরশীদ জাহান হকসহ (চকলেট) নিকট আত্মীয়দের কবর জিয়ারত করবেন।
অপরদিকে বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা। ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পূর্ণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভোটের কালি নখ থেকে মোচনের আগেই বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছি। প্রতিটি নাগরিকের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার মাধ্যমে আমরা আমাদের দেশকে এমন একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে চাই, যাতে করে আর কোনো ফ্যাসিবাদ কিংবা তাবেদার অপশক্তি মানুষের স্বাধীনতা কেড়ে নিতে না পারে। আমি বারবার একটি কথা বলি, নাগরিকদের দুর্বল রেখে রাষ্ট্র কখনো শক্তিশালী হতে পারে না। শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের হাতে সরকারি সম্মানী তুলে দিয়ে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে ধর্মীয় নেতাদের সরকারি সম্মানী প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া নারীদের জন্য আমরা ইতোমধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করেছি। পর্যায়ক্রমিকভাবে এই কার্ড সারাদেশে সবাই পাবেন। আগামী ১৪ এপ্রিল তথা পয়লা বৈশাখ থেকে চালু হচ্ছে ‘ফারমার্স কার্ড’ বা ‘কৃষক কার্ড’। ১৬ মার্চ দিনাজপুর থেকে শুরু হচ্ছে খাল খনন কর্মসূচি। আজ থেকে চালু হলো খতিব-ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং অন্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি। যাদের প্রয়োজন সারাদেশে তাদের প্রত্যেককে পর্যায়ক্রমিকভাবে এই সহায়তা দেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে প্রতিটি শ্রেণিপেশার মানুষ তথা প্রত্যেক নাগরিকের আর্থিক সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকার রাষ্ট্রীয় সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করবে। নাগরিক হিসেবে আমরা যদি যে যার অবস্থান থেকে রাষ্ট্র এবং সমাজের প্রতি যার যার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করি, তাহলে আগামী ১০ বছরের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিকভাবে আমরা একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ দেখতে পারব ইনশা আল্লাহ।
তিনি বলেন, আমরা আজ সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে বসেছি। এক কাতারে রয়েছি। এটিই আমাদের আবহমানকালের ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশ। কেউ যেন আমাদের মধ্যে বিভেদ বিরোধ সৃষ্টি করতে না পারে। মুসলমান হিন্দু বৌদ্ধ কিংবা খ্রিষ্টান, বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী কিংবা সংশয়বাদী আমরা সবাই মিলেই ভালো থাকব।
বগুড়ার বায়তুল রহমান সেন্ট্রাল মসজিদের ইমাম হোসাইন আহমেদ আবদুল্লাহর হাতে সম্মানীর চেক হস্তান্তরের মাধ্যমে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। পরে আইবাস সিস্টেমে ‘সেন্ট বাটন’ প্রেস করে সম্মানীর টাকা নির্ধারিত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে ধর্ম সচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ, ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদের খতিব মুফতি সাইফুল ইসলাম, বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মহিবুল্লাহি বাকি, শায়েখে চরমোনাই ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম বক্তব্য দেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, আজ থেকে চালু হলো খতিব, ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং অন্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের জন্য আর্থিক সহায়তা কর্মসূচি। যাদের প্রয়োজন সারাদেশে তাদের প্রত্যেককে পর্যায়ক্রমিকভাবে এই সহায়তা দেওয়া হবে। এই কর্মসূচির অধীনে প্রথম পর্যায়ে পাইলটিং স্কিমের আওতায় ৪ হাজার ৯০৮ মসজিদ, ৯৯০ মন্দির এবং ১৪৪ বৌদ্ধ বিহারের ১৬ হাজার ৯৯২ জন মাসিক সম্মানী পাচ্ছেন। পর্যায়ক্রমে সবাইকে এই কর্মসূচির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের জন্য সরকারের এসব কর্মসূচি উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে নাগরিকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সরকারের সময় দেশে প্রথমবারের মতো'ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি’ চালু করা হয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে প্রায় সাড়ে তিন লক্ষ মসজিদ রয়েছে। আমরা সারাদেশের এই মসজিদগুলোকে ধর্মীয় সামাজিক এবং নৈতিক শিক্ষা কার্যক্রমের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে পারি। স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সরকারের সময় দেশে প্রথমবারের মতো ‘ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি’ চালু করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, ১৯৯৩ সালে বেগম খালেদা জিয়ার সরকারের সময় দেশে মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা' কার্যক্রম চালু হয়েছিল। বর্তমান সরকারও ইমাম-মুয়াজ্জিনদের একটি নির্দিষ্ট হারে সম্মানী ভাতা প্রদানের পাশাপাশি আপনাদের যোগ্যতাকে আরো কিভাবে রাষ্ট্রীয় উন্নয়নে কাজে লাগানো যায় সেই পরিকল্পনা গ্রহণ করছে।
ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ রাষ্ট্র মানুষের জীবনে হয়তো আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করে কিন্তু ধৈর্য, সততা, কৃতজ্ঞতাবোধ, শ্রদ্ধা, আনুগত্য, সংহতি, সহনশীলতা, উদারতা, বন্ধুত্ব, বিনয়, দায় কিংবা দয়া, এই সকল বৈশিষ্টগুলো অর্জন ছাড়া একজন ব্যক্তি মানবিক গুণাবলি সম্পন্ন হয়ে উঠতে পারে না। এ ধরনের মানবিক বৈশিষ্টগুলো অর্জনের জন্য ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত হওয়া জরুরি।
‘যার আমানতদারি নেই, যার কাছে নিরাপত্তা নেই, সে প্রকৃত ইমানদার নয়। যার ওয়াদা ঠিক নেই, তার কোনো ধর্মই নেই’ পবিত্র হাদিসের এই উক্তি টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্র ও সমাজ এবং পরিবেশ ও প্রতিবেশ থেকে অর্জিত আচরণ থেকেই মানুষ তার শুদ্ধ জীবন এবং সুস্থ চিন্তার মানসিক নির্দেশনা পায়।
তিনি বলেন, ‘প্রতিহিংসা এবং সহিংসতা; মুক্ত একটি নিরাপদ সমাজ বিনির্মাণের ক্ষেত্রে ধর্মের এই উদারনৈতিক শিক্ষণীয় বক্তব্যগুলো অতুলনীয়। আমার বিশ্বাস, একটি নৈতিকতা সমৃদ্ধ মানব সমাজের গঠনের জন্য প্রতিটি ধর্মেই এ ধরণের ইতিবাচক বার্তা রয়েছে। সুতরাং, একটি ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ মানসিকতা তৈরীর ক্ষেত্রে আপনাদের মতো ধর্মীয় জ্ঞান সম্পন্ন মা ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুনিয়ার কল্যাণের পাশাপাশি আখেরাতের কল্যাণের জন্য প্রার্থনার কথা পবিত্র কোরআনে কারীমে রয়েছে। ইহকালীন পরকালীন কল্যাণ বিষয়ক নির্দেশনা নিঃসন্দেহে অন্য ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় বিধিবিধান অনুযায়ীও নির্দেশিত রয়েছে। সুতরাং, ধর্মীয় বিধিবিধানের আলোকেই আপনারা আপনাদের শিক্ষা-দীক্ষা, যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাকে কিভাবে আরো বেশি করে দেশ এবং জনগণের কল্যাণে কাজে লাগাতে পারেন সেই চিন্তা এবং চেষ্টা অব্যাহত রাখাও জরুরি।
জামিনে মুক্তি পেয়েছেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর। শনিবার (১৪ মার্চ) কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার-২ থেকে তিনি কারামুক্ত হয়েছেন।
জামিনে মুক্তি পাওয়া সাংবাদিক আনিস আলমগীর গণমাধ্যমকে বলেছেন, ‘শুধু অন্যায় নয়, আমার সঙ্গে জুলুম করা হয়েছে। আপনি আমাকে বলতেছেন যে আমার সমালোচনা করেন, তারপর সমালোচনা করার ফলে আমাকে জেলে দিয়ে দিলেন। এটা তো বড় বাটপারি। এর থেকে তো বড় বাটপারি গত এক হাজার বছরে কেউ দেখেনি। সমালোচনা করলে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে জেলে দিচ্ছেন। সমালোচনা কী কখনো সন্ত্রাস হতে পারে। আমি কি কোনো সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত আছি?’
কারাগারটির সিনিয়র জেল সুপার আল মামুন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, আনিস আলমগীরের জামিন সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এক দিন আগেই কারাগারে পৌঁছায়। সেগুলো যাচাই-বাছাই শেষে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে মুক্তি দেওয়া হয়।
এর আগে গত বুধবার দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) দায়ের করা একটি মামলায় আদালত আনিস আলমগীরকে জামিন দেন। এর ফলে তার বিরুদ্ধে থাকা দুটি মামলাতেই তিনি জামিন পান। তার আইনজীবী তাসলিমা জাহান জানান, উভয় মামলায় জামিন পাওয়ায় তার মুক্তিতে আর কোনো আইনগত বাধা ছিল না।
প্রসঙ্গত, গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর রাতে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার একটি ব্যায়ামাগার থেকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে নিয়ে যায় ঢাকা মহানগর পুলিশর গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। পরদিন ১৫ ডিসেম্বর তাকে উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
পরে ওই মামলায় তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ড শেষে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। তবে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গত ৫ মার্চ উচ্চ আদালত তাকে জামিন দেন।
নিউজ পেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ-নোয়াব এর সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন দৈনিক মানবজমিন-এর প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী।
শনিবার (১৪ মার্চ) অনুষ্ঠিত সভায় ২০২৬-২০২৭ মেয়াদে কমিটির সদস্যরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। নোয়াব নির্বাচন বোর্ড এর চেয়ারম্যান এম. মাশরুর রিয়াজ নতুন কমিটি ঘোষণা করেন।
কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন সহ-সভাপতি নিউএজ-এর সম্পাদকমণ্ডলীর চেয়ারম্যান এএসএম শহীদুল্লাহ খান, কোষাধ্যক্ষ দৈনিক সংবাদের প্রকাশক আলতামাশ কবির, সদস্য দৈনিক সমকালের প্রকাশক এ কে আজাদ, প্রথম আলো সম্পাদক ও প্রকাশক মতিউর রহমান, দ্য ডেইলি স্টার সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনাম, ইত্তেফাক সম্পাদক তাসমিমা হোসেন, ইনকিলাব সম্পাদক এএমএম বাহাউদ্দীন, বণিক বার্তা সম্পাদক দেওয়ান হানিফ মাহমুদ, করতোয়া সম্পাদক মোজাম্মেল হক, আজাদী সম্পাদক এমএ মালেক, পূর্বকোণ সম্পাদক ডা. রমীজউদ্দিন চৌধুরী ও দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস এর প্রকাশক নাসিম মনজুর।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের মধ্যে কাতারে আটকে পড়া ৪৩০ বাংলাদেশিকে দেশে ফেরানো হয়েছে। গত শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাতে কাতার এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে করে তারা ঢাকায় পৌঁছান বলে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক এস এম রাগীব সামাদ জানিয়েছেন।
তিনি জানিয়েছেন, দেশে ফেরা বাংলাদেশিদের মধ্যে ট্রানজিটে থাকা যাত্রী ও দূতাবাসের কর্মীরা ছিলেন।
ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় তারা দেশে ফিরতে পারছিলেন না। এমন অবস্থায় কাতার সরকার এবং কাতার এয়ারওয়েজের সঙ্গে সমন্বয় করে তাদের দেশে ফেরাতে এই বিশেষ ফ্লাইটের ব্যবস্থা করে বাংলাদেশ সরকার।
গত বুধবার কাতারে আটকে পড়া বাংলাদেশি যাত্রীদের ঢাকায় ফেরাতে এই বিশেষ ফ্লাইটের উদ্যোগের কথা বলেছিল বাংলাদেশ দূতাবাস।
নারী এবং বয়স্ক সদস্যদের এই বিশেষ ফ্লাইটে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে তুলে ধরে আগ্রহী যাত্রীদের তালিকা করার জন্য দূতাবাসের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ এবং অন্যান্য সোশাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে একটি গুগল ফর্ম শেয়ার করে আবেদন আহ্বান করা হয়েছিল।
মধ্যপ্রাচ্যের পেট্রোলিয়াম সমৃদ্ধ দেশ কাতারে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকের সংখ্যা ৪ লাখের বেশি, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ১২.৫ শতাংশ।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সংসদে স্বাভাবিক বিতর্কের সুযোগ তৈরি হয়েছে। শনিবার (১৪ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাবে মশিউর রহমান যাদু মিয়ার ৪৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় মন্ত্রী এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক রাজনীতির সবচেয়ে বড় অনুষঙ্গ বাস্তবায়ন হয়েছে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। বাংলাদেশে ৯১ সালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে যেভাবে সংসদীয় গণতন্ত্র চালু হয়েছিল, শেখ হাসিনা তা ভূলুণ্ঠিত করেছিলেন। কিন্তু এখন আবার তারেক রহমানের নেতৃত্বে সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, কোনো কোনো মহল মাত্রা অতিক্রম করে নিয়মতান্ত্রিক তর্ক-বিতর্ককে মব কালচারে পরিণত করার চেষ্টা করছে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হলে জাতি স্বাভাবিকভাবেই সতর্ক হয়ে ওঠে- আবারও কোনো ভিন্ন মনোজগতের প্রক্রিয়া ফিরে আসছে কি না, সে প্রশ্নও সামনে আসে। এ সময় তিনি সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
বর্তমানে দেশে সুস্থ ধারার রাজনীতিতে তিনটি উপাদান বিরাজ করছে জানিয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, দেশনায়ক তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান নির্বাচিত সরকার বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, বহুদলীয় গণতন্ত্র ও ধর্মীয় মূল্যবোধ রক্ষায় পুরোপুরি বদ্ধপরিকর। মন্ত্রী আরও বলেন, ‘ধর্ম ব্যবসায়ীদের হাত থেকে ধর্মীয় মূল্যবোধের সীমানাকে রক্ষা করতে পারলে, বাংলাদেশকে পরাজিত করার মতো কোনো শক্তি আর থাকবে না।’
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘মশিয়ূর রহমান যাদু মিয়া ছিলেন সেই দূরদর্শী নেতা, যিনি মাওলানা ভাসানীর ধানের শীষ প্রতীককে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরেই ধানের শীষের নেতৃত্ব আজ তারেক রহমানের হাতে।’
জহির উদ্দিন স্বপন দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ‘আমাদের সরকার অত্যন্ত সচেতনভাবে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদকে মূর্তমান করার কাজ করছে। আমাদের স্পষ্ট কথা—সবার আগে বাংলাদেশ।’
এ সময় মন্ত্রী যোগ করে বলেন, দিল্লির প্রতি যাদের মোহ রয়েছে কিংবা পিন্ডির প্রতি যাদের টান রয়েছে, আমরা ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান দিয়ে সেই মোহগ্রস্তদের ঘুম ভাঙাতে চাই।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘আজ তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশে আবারও সংসদীয় গণতন্ত্র ও রাজনীতির যাত্রা শুরু হয়েছে।’
আলোচনা সভায় মন্ত্রী তার বক্তব্যে ৭৫-এর পটপরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে বলেন, আওয়ামী লীগের একদলীয় শাসনের কারণেই সেই ভয়াল রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল।
মন্ত্রী জহির উদ্দিন বলেন, ‘খন্দকার মোশতাক থেকে শুরু করে বিচারপতি সায়েম সাহেব পর্যন্ত যে নৈরাজ্য তৈরি হয়েছিল, সিপাহী-জনতা শহীদ জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করার মাধ্যমেই সেই নৈরাজ্য থেকে জাতিকে উদ্ধার করেছিল।’
এ সময় মন্ত্রী আরও বলেন, মশিয়ূর রহমান যাদু মিয়ার মতো নেতারা সেদিন শহীদ জিয়ার পাশে দাঁড়িয়েছিলেন বলেই আওয়ামী লীগ দ্বিতীয়বারের মতো জন্ম নিয়ে সংসদে ফিরে আসার সুযোগ পেয়েছিল।
ছড়াকার আবু সালেহে সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ। এতে আরও বক্তব্য রাখেন— গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম নেতা ও ভাসানী জনশক্তি পার্টির চেয়ারম্যান শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ সৈয়দ দিদার বকত ও রাজনীতিবিদ রিটা রহমানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা।
জ্বালানি সংকটের মধ্যে গণপরিবহনের তেলের রেশনিং পদ্ধতি তুলে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।তিনি বলেন, ‘গণপরিবহনের জন্য জ্বালানি তেল রেশনিংয়ের সীমা আর থাকছে না।’
শনিবার (১৪ মার্চ) রাজধানীর গুলিস্তানে সেতুমন্ত্রী এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, ‘দূরপাল্লা ও গণপরিবহনে তেলের রেশনিং আজ (শনিবার) রাত থেকে থাকছে না। রাত থেকে পর্যাপ্ত তেল পাবে বাসগুলো।’
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান এবং ইসরায়েল ও আমেরিকার মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে দেশেও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। এর মধ্যে জ্বালানি সাশ্রয়ে গত ৬ মার্চ ফিলিং স্টেশন থেকে যানবাহনে তেল সরবরাহের সীমা বেঁধে দেয় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। ওই নির্দেশনা অনুযায়ী একটি মোটরসাইকেলে দিনে ২ লিটার পেট্রল বা অকটেন নেওয়া যাচ্ছে।
এ ছাড়া স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকেল বা এসইউভি ও মাইক্রোবাস দিনে পাচ্ছে ২০ থেকে ২৫ লিটার তেল। পিকআপ বা লোকাল বাস দিনে ডিজেল নিতে পারছে ৭০ থেকে ৮০ লিটার। আর দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান বা কনটেইনার ট্রাক দৈনিক ২০০ থেকে ২২০ লিটার তেল নিতে পারছে।
গণপরিবহনের ক্ষেত্রে সরকারের নির্দেশনা পরিবর্তন হলেও ব্যক্তিগত যানবাহনের ক্ষেত্রে নতুন কোনো নির্দেশনা আসেনি।
জাতীয় সংসদেই সংবিধান সংস্কার পরিষদ নিয়ে আলোচনা, সিদ্ধান্ত হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
শনিবার (১৪ মার্চ) জাতীয় সংসদে কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক শেষে তিনি এ কথা জানান।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, সংসদে প্রথম অধিবেশন কতদিন চলবে, কোন কোন বিষয়ে আলোচনা হবে, কী কী আইন উত্থাপন হবে, রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপরে কত ঘণ্টা আলোচনা হবে, সেসব নিয়ে বৈঠকে কথা হয়েছে।
এ সময় তিনি উল্লেখ করেন, রোববার (১৫ মার্চ) অধিবেশনের পর মুলতবি হয়ে ঈদের পর ২৯ মার্চ ফের সংসদ অধিবেশন বসবে। এপ্রিল মাসজুড়ে অধিবেশন চালু থাকবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা অধ্যাদেশ বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হবে। সেখানে যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রতিবেদন আকারে সংসদে উত্থাপন করা হবে।
অমর একুশে গ্রন্থমেলায় আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের লেখা মুক্ত গদ্যের বই ‘শুধু মাধবীর জন্য’ এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অন্যপ্রকাশের স্টলে আয়োজিত এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানে বইটির মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) অনুষ্ঠানে বইটি লেখার প্রেক্ষাপট সম্পর্কে উপস্থিত দর্শক ও পাঠকদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, মাধবীকে লেখা লেখকের চিঠিগুলোতে সুখ, দুঃখ, রাজনীতি এবং একাকিত্বের নানা অনুভূতির প্রকাশ ঘটেছে।
বইটির প্রধান চরিত্র ‘মাধবী’ আসলে কে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মাধবী কে—এটা অনেক বড় প্রশ্ন। এই প্রশ্নের জবাব যদি আগেই দিয়ে দেই, তাহলে পাঠক বইটি পড়ার আগ্রহ হারাতে পারেন। তাই বিষয়টি আপাতত অপ্রকাশিতই থাকুক।
মো. আসাদুজ্জামান আরও বলেন, বইটিতে মানুষের অন্তর্গত একাকিত্বের অনুভূতি তুলে ধরা হয়েছে। চারপাশে অনেক মানুষ থাকা সত্ত্বেও মানুষ অনেক সময় নিজের ভেতরে একা থাকে এবং মনের অনেক কথাই সবার সঙ্গে ভাগ করে নিতে পারে না। সেই অনুভূতিরই প্রকাশ ঘটেছে ‘মাধবী’র কাছে লেখা চিঠিগুলোতে।
আইনমন্ত্রী জানান, বইটিতে সুখ, দুঃখ, আনন্দ, বেদনা, ক্ষোভের পাশাপাশি রাজনীতি, রাষ্ট্র, সমাজনীতি ও দর্শনের বিভিন্ন দিকও উঠে এসেছে। তিনি মাধবীকে মোট ২৫৩টি চিঠি লিখেছেন, যার মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ১২৫টি চিঠি প্রকাশ করা হয়েছে। পাঠকদের সাড়া বিবেচনা করে পরবর্তীতে দ্বিতীয় পর্ব প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, পাঠকদের আগ্রহই একজন লেখকের অনুপ্রেরণার প্রধান উৎস। পাঠক যদি কোনো লেখাকে গ্রহণ করেন, তাহলে লেখক আরও স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে লিখতে পারেন এবং নতুনভাবে অনুপ্রাণিত হন। এ কারণে তিনি পাঠকদের বইটি পড়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মতামত জানাতে অনুরোধ করেন।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, বইটি সম্পূর্ণ হৃদয়ের অনুভূতি থেকে লেখা। ভালো লাগা এবং একাকিত্বের অভিজ্ঞতা থেকেই এই লেখার সৃষ্টি। তিনি সবাইকে বইটি পড়ার জন্য আন্তরিকভাবে আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে অন্য প্রকাশের স্বত্বাধিকারী, লেখকের সহধর্মিণী, শুভানুধ্যায়ী, বিশিষ্টজন এবং মেলায় আগত দর্শক ও পাঠকরা উপস্থিত ছিলেন।
মোড়ক উন্মোচন শেষে আইনমন্ত্রী ‘শুধু মাধবীর জন্য’ বইটি ক্রয়কারী পাঠকদের জন্য অটোগ্রাফ প্রদান করেন এবং তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ও সহকারী পুলিশ কমিশনার পদমর্যাদার ১০ জন কর্মকর্তাকে পদায়ন করা হয়েছে।
ডিএমপি কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ার বিপিএম-সেবা স্বাক্ষরিত দুই পৃথক আদেশে এসব পদায়ন করা হয়। তবে শনিবার (১৪ মার্চ) ডিএমপি থেকে এ তথ্য জানানো হয়।
ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সের এক আদেশে সহকারী পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা-লালবাগ বিভাগ) এনায়েত কবীর সোয়েবকে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা-মিরপুর বিভাগ) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
অপরদিকে সহকারী পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা-ওয়ারী বিভাগ) এম এম সবুজ রানাকে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা-উত্তরা বিভাগ) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
ডিএমপি হেডকোয়ার্টার্সের আরেক আদেশে সহকারী পুলিশ কমিশনার (ডিপ্লোমেটিক সিকিউরিটি বিভাগ) আরিফুল ইসলাম সরকারকে সহকারী পুলিশ কমিশনার ট্রাফিক-মতিঝিল বিভাগের (ট্রাফিক-রামপুরা জোন) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
সহকারী পুলিশ কমিশনার (সিটি-সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগ) ইমরানুল ইসলামকে মতিঝিল বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (সবুজবাগ জোন) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
সহকারী পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-সবুজবাগ জোন) তৌফিক আহমেদকে মতিঝিল বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (খিলগাঁও জোন) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
সহকারী পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগ-উত্তর) জান্নাতুল ফেরদৌসকে মতিঝিল বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-সবুজবাগ জোন) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
সহকারী পুলিশ কমিশনার (ইকুইপমেন্ট-লজিস্টিক বিভাগ) মো. সাইদুর রহমান শেখকে তেজগাঁও বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল জোন) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
অপরদিকে, সহকারী পুলিশ কমিশনার (পিওএম-পূর্ব বিভাগ) শুভ্র দেবকে ট্রাফিক-রমনা বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-ধানমন্ডি জোন) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
সহকারী-পুলিশ কমিশনার (প্রসিকিউশন বিভাগ) হাসান রাশেদ পরাগকে উত্তরা বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (পেট্রোল-উত্তরা পশ্চিম) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
সহকারী-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-রামপুরা জোন) এ কে এম নছরুত হাসানকে ট্রাফিক-ওয়ারী বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-ডেমরা জোন) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
দেশের আরও পাঁচটি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। শনিবার (১৪ মার্চ) স্থানীয় সরকার বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানা গেছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪' এর ধারা ২৫ক এর উপধারা (১) এর অনুবৃত্তিক্রমে নিম্নবর্ণিত ব্যক্তিগণকে পরবর্তী আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের নামের পাশে বর্ণিত সিটি কর্পোরেশনের পূর্ণকালীন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হলো’।
এর মধ্যে বরিশাল সিটি করপোরেশনে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অ্যাড. বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন, রাজশাহী সিটিতে মো. মাহফুজুর রহমান, ময়মনসিংহ সিটিতে মো, রুকুনোজ্জামান রোকন, রংপুর সিটিতে মাহফুজ উন নবী চৌধুরী এবং কুমিল্লা সিটিতে মো. ইউসুফ মোল্লা।
প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, নিয়োগ পাওয়া প্রশাসকগণ স্থানীয় সরকার (সিটি কর্পোরেশন) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪' এর ধারা ২৫ক এর উপ-ধারা (৩) অনুযায়ী সিটি কর্পোরেশনের মেয়র এর ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করবেন। তারা বিধি মোতাবেক ভাতা পাবেন।