অবশেষে ২০ শর্তে নয়াপল্টনে বিএনপি এবং বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে আওয়ামী লীগকে সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। তবে জামায়াতে ইসলামীকে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি।
গতকাল সন্ধ্যায় ডিএমপির পক্ষ থেকে দুই দলকেই তাদের নিজ নিজ পছন্দের স্থানেই সমাবেশের অনুমতির কথা জানানো হয়।
ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন বলেন, বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে আওয়ামী লীগ ও নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের অনুমতি পেয়েছে বিএনপি। তবে সমাবেশ করার জন্য উভয় দলকেই ২০টি শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে।
এদিকে আজ রাজধানী ঢাকা হতে যাচ্ছে সমাবেশের নগরী। দেশের দুই বৃহৎ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি সমাবেশ ঘিরে মহানগরে বিরাজ করছে টানটান উত্তেজনা। নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের মনে ভীতি ও আতঙ্ক কাজ করছে। কিন্তু নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তারা শহরজুড়ে টহল জোরদার করেছে। রাজধানীর প্রবেশমুখগুলোসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসেছে চেকপোস্ট (নিরাপত্তা চৌকি)।
ইতোপূর্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নয়াপল্টনে তাদের দলীয় কার্যালয়ের সামনে মহাসমাবেশ এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ আহ্বান করেছে। তা ছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশ করার জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশকে (ডিএমপি) জানিয়েছিল। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমাবেশের অনুমতি পেলেও জামায়াতের সমাবেশ করার অনুমতি মেলেনি। সমাবেশ সফল করতে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা-কর্মীরা ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
এর আগে শুক্রবার বিকেলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানিয়েছেন, শনিবার আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মহাসমাবেশের অনুমতি পাবে। স্থান নির্ধারণ হয়নি। স্থানের বিষয়টিও খুব দ্রুতই তাদের জানিয়ে দেয়া হবে বলে জানান তিনি। তবে জামায়াতের সমাবেশের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স (শূন্য সহনশীলতা) অবস্থানে রয়েছে ডিএমপি। তাদের সমাবেশের অনুমতি দেয়া হবে না। এ বিষয়ে ডিবিপ্রধান হারুন অর রশিদ বলেন, রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন যদি না থাকে, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সমাবেশের কথা বললেই তাদেরকে সমাবেশ করতে দেয়া হবে না।
এদিকে পুলিশের অনুমতি পাওয়ার আগেই বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটের সামনে আওয়ামী লীগের মঞ্চ নির্মাণ বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ। গতকাল বেলা সাড়ে ৩টার দিকে মঞ্চের কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়।
বিএনপির ডাকা মহাসমাবেশের একই দিনে রাজধানী ঢাকায় আওয়ামী লীগের শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ। গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় লাঠিসোঁটা নিয়ে মিছিল করেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিট আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। রাজপথ দখলের এই মহড়া শুরু হয় গত বৃহস্পতিবার। সতর্ক অবস্থানে থেকে রাজধানীর বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিটে সমাবেশের জন্য তৈরি হওয়ার প্রস্তুতি নেয়ার খবর পাওয়া গেছে।
পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, শনিবার দুপুর দুইটায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে শুরু হবে আওয়ামী লীগের শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের ঢাকার দুই মহানগরের অন্তর্গত সব থানা ও ওয়ার্ড থেকে নেতাকর্মীরা সমাবেশে যোগ দেবেন। একই সঙ্গে গাজীপুর, কেরানীগঞ্জ, সাভার, আশুলিয়া, ধামরাই, নারায়ণগঞ্জ ও রূপগঞ্জসহ আশপাশের জেলা এবং উপজেলা থেকে নেতা-কর্মীরা যোগ দেবেন এই সমাবেশে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের সমাবেশের মঞ্চ প্রায় প্রস্তুত।
গতকাল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নেতা-কর্মীদের বলেছেন, দলের ডাকা শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ শেষ হলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে গেছে মনে না করতে। তিনি বলেছেন, সতর্ক পাহারায় থাকতে হবে। এদের দুরভিসন্ধি আছে। সাম্প্রদায়িক আরও দু-একটি শক্তিকে নিয়ে তাদের অশুভ খেলার পরিকল্পনা রয়েছে। সার্বক্ষণিক সতর্ক পাহারায় থাকতে হবে। মিটিং শেষ, চলে গেলেই হবে না। কালকে একটু দেখেশুনে যাবেন। অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা।
রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে গতকাল শুক্রবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, সবাই নিজে নিজে দায়িত্ব নেবেন, সবার দায়িত্ব আছে। এই যুদ্ধ আমাদের সবার। এটা বাংলাদেশের আরেক মুক্তিযুদ্ধ। এটা মনে করেই মাঠে থাকতে হবে। ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, শেখ হাসিনার হাতকে আরও শক্তিশালী করতে পারব, যদি আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকি। বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখতে হবে। এটা মাথায় রেখেই নৌকা বিজয়ের বন্দরে পৌঁছাতে হবে।
সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে থাকার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বারবার অপশক্তিকে মাথা তুলে দাঁড়াবার সুযোগ দেয়া উচিত না। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা গণতন্ত্র ব্যাহত হতে দেবে না, এটা তাদের প্রতিজ্ঞা।
এদিকে বিএনপি ও তাদের সমমনা দলগুলো অভিযোগ করছে, সমাবেশ সামনে রেখে নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেছে।
আওয়ামী লীগ নেতারা উসকানিমূলক কথা বলছেন জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে, শান্তিপূর্ণভাবে সরকারের পতন ঘটাতে চাই।’ শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এতকিছুর পরেও ইতোপূর্বে আমরা অনেক কর্মসূচি পালন করেছি। এর আগেও রেইড দিয়েছে, গ্রেপ্তার করেছে, মারপিট করেছে, মেরেও ফেলেছে গুলি করে। তারপরও আমরা আমাদের জায়গা থেকে সরিনি। আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে শান্তিপূর্ণভাবে সরকারের পতন ঘটাতে চাই। তবে ক্ষমতাসীন দল কোনো ধরনের বাড়াবাড়ি করলে তার দায়-দায়িত্ব সরকারকেই বহন করতে হবে।’
লগি-বৈঠা আওয়ামী লীগের কালচার মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আর লাঠির কথা বলছে‑ এগুলো উসকানিমূলক ৷ একদিকে তাদের প্রধান একরকম কথা বলছেন, আরেকদিকে তারা পুরো জনগণকে জিম্মি করে ফেলেছে- তাদের এই দমননীতি দিয়ে। আমরা কোনো উসকানি দিচ্ছি না।’
অপরদিকে গোয়েন্দা নজরদারির জন্য নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও আশপাশের এলাকায় ৬০টির বেশি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সিসি ক্যামেরা বসাচ্ছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। শুক্রবার বিকেলে থেকে এসব ক্যামেরা বসানো শুরু হয়েছে। ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক দলগুলোর সমাবেশ ঘিরে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সিসি ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে ডিএমপি। ডিএমপি সদর দপ্তর থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্যামেরাগুলো থেকে পাওয়া ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হবে। সকাল থেকেই রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও প্রবেশমুখ গাবতলী, আব্দুল্লাহপুর ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে ঢাকায় আসা যাত্রী ও গাড়িতে তল্লাশি করা হচ্ছে।
সকালে ঢাকার প্রবেশপথ গাবতলী সেতুর মুখে নিরাপত্তা চৌকি বসিয়েছে দারুস সালাম থানা পুলিশ। এ বিষয়ে দারুস সালাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জামাল হোসেন জানান, সকাল থেকেই নিরাপত্তা চৌকি বসিয়ে যানবাহন ও সন্দেহভাজনদের তল্লাশি করা হচ্ছে।
এদিকে, উত্তরার আব্দুল্লাহপুরে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন ও যাত্রীদের তল্লাশির বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তরা জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) জ্যোতির্ময় সাহা জানান, পুলিশের নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবেই চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করা হচ্ছে।
অপরদিকে পোস্তগোলা সেতুর মুখে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি কার্যক্রম চালাচ্ছে শ্যামপুর থানা পুলিশ। এ বিষয়ে শ্যামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম দৈনিক বাংলাকে বলেন, সমাবেশ সামনে রেখে নিরাপত্তার স্বার্থে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। দুষ্কৃতকারীরা যেন কোনো বোমা বা অস্ত্র নিয়ে ঢাকায় ঢুকতে না পারে, সে জন্যই চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।
সম্প্রতি র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেছেন, রাজনৈতিক কর্মসূচির সুযোগ নিয়ে স্বার্থান্বেষী কোনো মহল নাশকতার চেষ্টা করলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। গতকাল বিকেলে র্যাব সদর দপ্তর থেকে জানানো হয়, রাজধানীতে জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ও যেকোনো ধরনের নাশকতা প্রতিরোধে দেড় হাজারের অধিক র্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। র্যাব সদস্যরা রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় চেকপোস্ট পরিচালনা, টহল কার্যক্রম, সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি পরিচালনা করছে। র্যাব-১ রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর, রামপুরা, পূর্বাচল ৩০০ ফিট ও আমতলীতে চেকপোস্ট কার্যক্রম পরিচালনা করছে। র্যাব-২ রাজধানীর বসিলা, আগারগাঁও ও শিশুমেলার সামনে চেকপোস্ট কার্যক্রম পরিচালনা করছে। র্যাব-৩ রাজধানীর কমলাপুর, সচিবালয় ও নটর ডেম কলেজের সামনে চেকপোস্ট কার্যক্রম পরিচালনা করছে। র্যাব-৪ রাজধানীর কচুক্ষেত, টেকনিক্যাল, মিরপুর কাজীপাড়া, সাভার ও মানিকগঞ্জে চেকপোস্ট কার্যক্রম পরিচালনা করছে। র্যাব-১০ রাজধানীর ডেমরা, পোস্তগোলা ও সায়েদাবাদে চেকপোস্ট কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে তাদের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, এটি মিথ্যা কথা। কোনো রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশ ঘিরে ডিএমপি কাউকে গ্রেপ্তার করে না। আমাদের ক্রাইম ডিভিশনের প্রত্যেক থানার ওসি ও ডিসিকে বলা আছে, যারা ওয়ারেন্টের আসামি, সন্দেহজনক আসামি, মামলা বা তদন্তভুক্ত আসামি, নাশকতা হতে পারে এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করার জন্য বলা হয়েছে। এর বাইরে অন্য সাধারণকে হয়রানি বা গ্রেপ্তার করার সুযোগ নেই।
এমন পরিস্থিতিতে রাজধানীসহ দেশব্যাপী চলছে জল্পনা-কল্পনা। সময় যতই ঘনিয়ে আসছে জনমনে বাড়ছে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা। এ ছাড়া, গত কয়েকদিন ধরে রাজনৈতিকদলগুলোর পাল্টাপাল্টি আক্রমণাত্মক বক্তব্যে জনমনে বাড়ছে শঙ্কা।
বাংলাদেশের উচ্চ শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন ও গুণগত মান নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে আয়োজিত এক বিশেষ কর্মশালা উদ্বোধন করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উপস্থিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘বাংলাদেশে উচ্চ শিক্ষা রূপান্তর: টেকসই উৎকর্ষতার রোডম্যাপ’ শীর্ষক এই গুরুত্বপূর্ণ কর্মশালার সূচনা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
সকাল ১০টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রী এই কর্মশালার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন। অধ্যাপক মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই উদ্বোধনী পর্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। উল্লেখ্য, যুক্তরাজ্য থেকে দীর্ঘ প্রবাস জীবন শেষে দেশে ফেরার পর এটিই প্রধানমন্ত্রীর দ্বিতীয়বার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সফর। এর আগে গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর তিনি ক্যাম্পাসে এসে ওসমান হাদির কবর জিয়ারত করেছিলেন।
দিনব্যাপী এই কর্মশালায় পাঁচটি কারিগরি বা টেকনিক্যাল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে উচ্চ শিক্ষার আধুনিকায়ন নিয়ে বিশদ আলোচনা করা হবে। অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। এছাড়া এই গুরুত্বপূর্ণ সমাপনী আয়োজনে আরও অংশ নেবেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম বদরুজ্জামান, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আবদুল হান্নান চৌধুরী এবং স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতার হোসেন খান।
‘বেশি বয়সেও ত্বক হবে টানটান, দূর হবে কালচে ভাব, বাড়বে উজ্জ্বলতা’—অনলাইনে এমন চটকদার বিজ্ঞাপনের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক ভয়াবহ মরণঘাতী বিষ। নারীদের চিরন্তন সৌন্দর্য সচেতনতাকে পুঁজি করে বাজারে ছড়িয়ে পড়েছে নকল প্রসাধনীর বিশাল মায়াজাল। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের যত্ন নিতে গিয়ে অবলীলায় শরীরে মাখা হচ্ছে ক্ষতিকর রাসায়নিকের প্রলেপ। দেশি-বিদেশি নামিদামি ব্র্যান্ডের মোড়কে ঢাকা এই বিষ কেবল পকেটই কাটছে না; বরং কেড়ে নিচ্ছে ত্বকের স্বাভাবিক সজীবতা, হুমকিতে জনস্বাস্থ্য।
প্রতারণার শিকার ও তিক্ত অভিজ্ঞতা: রাজধানীর রামপুরার গৃহিণী আরজু বেগম ৫৫০ টাকায় একটি ‘কোরিয়ান মিল্ক সুথিং জেল’ কিনেছিলেন ত্বকের যত্নে। সপ্তাহখানেক ব্যবহারের পর সুফলের বদলে তার পুরো মুখ ঘামাচির মতো দানায় ভরে যায়। শেষ পর্যন্ত তিনবার চিকিৎসক দেখিয়ে এবং পাঁচ হাজার টাকার ওষুধ কিনেও পুরোপুরি সেরে ওঠেননি তিনি। আরজু বেগমের আক্ষেপ, ‘আসল আমদানিকারকের স্টিকার ও মেয়াদের তারিখ দেখেই কিনেছিলাম, তবুও প্রতারিত হলাম। তবে কেবল প্রসাধনীই নয়, টুথপেস্ট থেকে শুরু করে শ্যাম্পু—সবকিছুতেই এখন ভেজালের থাবা।
নকলের হটস্পট ও উৎপাদনের নেপথ্য কাহিনী: অনুসন্ধানে জানা গেছে, রাজধানীর চকবাজার, লালবাগ, জিনজিরা, কেরানীগঞ্জ ও সাভার এলাকা এখন নকল প্রসাধনী তৈরির ‘হটস্পট’। পরিত্যক্ত মোড়ক ও কৌটা সংগ্রহ করে সেগুলোতে সাবান-পানি, ক্ষতিকর কেমিক্যাল আর নিম্নমানের সুগন্ধি মিশিয়ে তৈরি হচ্ছে আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের সব পণ্য। লরেল, রেভলন, গার্নিয়ার, নিভিয়া, ডাভ কিংবা ভ্যাসলিন—বাদ যাচ্ছে না কিছুই। এমনকি বিলাসবহুল পারফিউম যেমন হুগো বা ফেরারিও হুবহু নকল হচ্ছে এই ঘরোয়া কারখানাগুলোতে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, নকল কসমেটিকস তৈরির সঙ্গে জড়িত অসাধু চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করার পরও অধিকাংশ ক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে কেবল নামমাত্র কয়েক হাজার টাকা জরিমানা করেই ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। অথচ এসব নকল প্রসাধনী মানবদেহের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
তাদের দাবি, শুধু সামান্য জরিমানা করায় এসব চক্রের সদস্যরা আবারও একই ব্যবসায় ফিরে আসে। তাই আর্থিক জরিমানার পাশাপাশি তাদের সম্পদ জব্দসহ কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
রাজধানীর বেশ কয়েকটি মার্কেট, শপিং মল ও ফুটপাতের দোকান ঘুরে দেখা গেছে, নামিদামি বিদেশি ব্র্যান্ডের লিপস্টিক, ফাউন্ডেশন, ফেসক্রিম, পারফিউম ও স্কিন কেয়ার পণ্য হুবহু নকল করে বিক্রি করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে প্যাকেট, লোগো ও ডিজাইন এতটাই মিল রয়েছে যে সাধারণ ক্রেতাদের পক্ষে আসল-নকল পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
দোকানগুলোতে বিশ্বমানের ব্র্যান্ড গার্নিয়ার, লরেল, রেভলন, হেড অ্যান্ড শোল্ডার, লাক্স লোশন, মাস্ক লোশন, অ্যাকুয়া মেরিন লোশন, পেনটিন, নিভিয়া লোশন, ফেড আউট ক্রিম, ডাভ সাবান, ইমপেরিয়াল সাবান, সুগন্ধির মধ্যে হুগো, ফেরারি, পয়জন, রয়েল, হ্যাভক ও কোবরা, অলিভ অয়েল, কিওকারপিন, আমলা, আফটার সেভ লোশন, জনসন, ভ্যাসলিন হেয়ার টনিক, জিলেট ফোম, প্যানটিন প্রো-ভি ও হারবাল এসেনশিয়াল লোশনের নামে ভেজাল প্রসাধনী বিক্রি হচ্ছে বেশি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্র জানায়, রাজধানীর চকবাজার, পুরান ঢাকা, কেরানীগঞ্জ ও সাভার নকল প্রসাধনীর হটস্পট হিসেবে গড়ে উঠেছে। এসব এলাকায় ভাড়া করা বাসা-বাড়িতে নকল প্রসাধনী তৈরির কারখানা স্থাপন করেছে অসাধু চক্র। তৈরি পণ্য আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের মোড়কে বাজারে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।
অভিযানে যা মিলছে: ১০ মার্চ বিকেলে রাজধানীর মহাখালী এসকেএস টাওয়ারে জেএস ট্রেডিংসহ দুটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে প্রাথমিকভাবে সতর্ক করে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভোক্তা অধিদপ্তর।
আমদানি করা প্রসাধনী পণ্যের গায়ে কোনো ধরনের লেবেল না থাকায় তাদের জরিমানা করা হয়। এ সময় দুটি প্রতিষ্ঠানকে তাদের পণ্যের গায়ে বিস্তারিত তথ্যসহ লেভেল লাগানোর জন্য সময় বেঁধে দেন।
এর আগে ৩ মার্চ দুপুরে আলোচিত ব্রান্ড প্রোমোটর ফারজানা ইসলামের শোরুম থেকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্রান্ডের নাম ও লোগো ব্যবহার করা বিপুল নকল কসমেটিকস উদ্ধার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র্যাব-২)। নকল কসমেটিক্স বিক্রির অভিযোগে ‘মেক ইট আপ বাই ফারজানা ইসলামের মোহাম্মদপুরে শোরুমে অভিযান চালিয়ে এসব নকল কসমেটিক্স জব্দ করে শোরুমটি সিলগালা করা হয়।
অভিযান শেষে র্যাব-২ এর অধিনায়ক খালেদুল হক বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আমরা শোরুমটিতে অভিযান চালাই। প্রাথমিক যাচাইয়ে দেখেছি, জনপ্রিয় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের নাম ও লোগো ব্যবহার করে নিম্নমানের পণ্য বাজারজাত করা হচ্ছিল। এসব পণ্যের কোনো বৈধ কাগজপত্রও দেখাতে পারেননি প্রতিষ্ঠানটি। তিনি বলেন, এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শো-রুম সিলগালা করা হয়েছে। এ ছাড়া সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে ১৫ এপ্রিল ঝিনাইদহ শহরের মহিলা কলেজ পাড়ায় একটি নকল প্রসাধনী তৈরির কারখানায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভেজাল পণ্য জব্দ করেছে র্যাব-৬।
তখন র্যাব-৬ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে মহিলা কলেজ পাড়ার বকুল হোসেন নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে নকল প্রসাধনী তৈরি করা হচ্ছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে র্যাব সদস্যরা নকল ‘চায়না’ ব্র্যান্ডের পারফিউম, ফেস ক্রিম, তেলসহ বিভিন্ন প্রসাধনী পণ্য জব্দ করেন। এছাড়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের লেবেল ও বোতল, প্রসাধনী তৈরির কাঁচামাল, রাসায়নিক পদার্থ এবং যন্ত্রপাতিও উদ্ধার করা হয়।
এছাড়া গত ১৯ ফেব্রুয়ারি পুরান ঢাকার বংশালের পেয়ালাওয়ালা মসজিদ সংলগ্ন ৫৮ নম্বর বাসার তৃতীয় তলায় নামবিহীন নকল কসমেটিকস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়ে বিপুল নকল প্রসাধনী জব্দ করেছে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে জনসন, ইমামি, সানসিল্ক, ডাভ, হেড অ্যান্ড সোল্ডারস, প্যানটিনসহ বিভিন্ন নামিদামি কোম্পানির নকল প্রসাধনী। এ সময় নামিদামি ব্রান্ডের পণ্যের খালি বোতল, লেবেল, প্রস্তুতকৃত মালামাল এবং উৎপাদনে ব্যবহৃত ক্ষতিকর কেমিক্যালসহ নিম্নমানের কাঁচামাল জব্দ করা হয়।
বাজার পরিসংখ্যান ও আইনি সীমাবদ্ধতা: বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের তথ্যমতে, দেশে প্রসাধনী পণ্যের বার্ষিক চাহিদা প্রায় ৩৪ হাজার কোটি টাকার। এর একটি বিশাল অংশ (প্রায় ২৪ হাজার কোটি টাকা) চোরাচালান ও নকল পণ্যের দখলে।
বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ: ক্যান্সারের ঝুঁকি ও স্থায়ী ক্ষতি: জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও চর্মরোগ চিকিৎসকরা এই বিষয়টিকে ‘নীরব মহামারি’ হিসেবে দেখছেন।
চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এমএন হুদা বলেন, বাজারে সবচেয়ে বেশি চলছে রং ফর্সাকারী ক্রিম। মনে রাখবেন, বিশ্বে স্থায়ীভাবে রং ফর্সাকারী কোনো ক্রিম আজ পর্যন্ত আবিষ্কার হয়নি। এসব নকল পণ্যে থাকা রাসায়নিক ত্বক পুড়িয়ে দেয়, ক্যান্সার তৈরি করে এবং স্নায়ুবিক দুর্বলতা ডেকে আনে।
জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. লেনিন চৌধুরী বলেন, ভারী মেটাল ও সিসা মেশানো এই প্রসাধনীগুলো রক্তের সাথে মিশে কিডনি বিকল করতে পারে এবং সন্তান জন্মদানের ক্ষেত্রেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, আমাদের দেশে সব সময়ই নকল প্রসাধনীর ব্যবহার হয়। এসব পণ্য বেশিরভাগই কেনেন প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষ। তারা সরল বিশ্বাসে দেশের পণ্য কিনে বিপদে পড়েন, তাদের কষ্টার্জিত টাকা দিয়ে এসব নকল পণ্য কেনেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার পেছনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার কিছু লোকের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হলে বিএসটিআই অভিযান করে, কিন্তু শিল্প মন্ত্রণালয় তেমন উদ্যোগ নেয় না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী থেকে শুরু করে সবাই জানে কোথায় নকল প্রসাধনী তৈরি হচ্ছে। তবুও কেন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না? নিশ্চয়ই এখানে কারও না কারও স্বার্থ জড়িত আছে।
এখনো বন্ধ হয়নি, কিন্তু ধুঁকে চলছে- এমন কারখানাগুলোর জন্য প্রণোদনা দেবে সরকার। বন্ধ কারখানা চালু করতে বাংলাদেশ ব্যাংক যে তহবিল গঠন করছে, সেই তহবিল থেকে বন্ধ হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা কারখানাগুলো এই সুবিধা পাবে।
সোমবার (১১ মে) তৈরি পোশাক রপ্তানিকারকদের শীর্ষ দুই সংগঠন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এবং বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নেতারা দেখা করতে এলে এ আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিজিএমইএ প্রেসিডেন্ট মাহমুদ হাসান খান ও বিকেএমইএ প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ হাতেম।
সভায় ব্যবসায়ী নেতারা বাংলাদেশ ব্যাংকের বেশ কিছু নীতির সমালোচনা করেছেন। একই সঙ্গে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সম্প্রসারণে বিভিন্ন ধরনের নীতি সহায়তা চেয়েছেন তারা।
মাহমুদ হাসান খান বলেন, ব্যবসা-বিনিয়োগ সহজ করতে কোন কোন ক্ষেত্রে নীতি সহায়তা প্রয়োজন, তা আমাদের কাছে লিখিতভাবে চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। আমরা লিখিতভাবে প্রস্তাব জমা দিলে সেগুলো বাস্তবায়ন করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি জানান, বিজিএমইএ পরিচালনা পর্ষদের সঙ্গে আগামী ঈদুল আজহার পরে আবারও বৈঠকে বসবেন প্রধানমন্ত্রী।
মোহাম্মদ হাতেম বলেন, এক্সপোর্ট ডাইভারসিফেকশনের ওপর প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়েছেন। এজন্য রাজশাহীতে থাকা সরকারের রেশম শিল্প-কারখানা বেসরকারিখাতে ছেড়ে দেয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মোক্তাদির, পূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের এবং শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন উপস্থিত ছিলেন।
গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) তথ্য অনুযায়ী, গত রোববার (১০ মে) সকাল ৮টা থেকে সোমবার (১১ মে) সকাল ৮টা পর্যন্ত এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
অধিদপ্তরের তথ্যমতে, উল্লেখিত একই সময়ে সারাদেশে হামের মতো উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ৩৪১ জন রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় ১১৮ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছর বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া হামের সংক্রমণে অন্তত ৬৫ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর পাশাপাশি, হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ৩৫০ জন শিশুর। সব মিলিয়ে চলতি বছর হাম ও এর উপসর্গে প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪১৫-তে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে দেখা গেছে, গত ১৫ মার্চ থেকে ১১ মে পর্যন্ত ল্যাবরেটরি পরীক্ষার মাধ্যমে মোট ৬ হাজার ৯৩৭ জন রোগীর শরীরে হাম শনাক্ত করা হয়েছে।
অধিদপ্তরের সর্বশেষ হেলথ বুলেটিন অনুযায়ী, দেশব্যাপী এখন পর্যন্ত মোট ৫০ হাজার ৫০০ জন সন্দেহভাজন হামের রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। তবে এর মধ্যে চিকিৎসা গ্রহণ শেষে সুস্থ হয়ে ইতোমধ্যে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৩১ হাজার ৯৯২ জন রোগী।
সতর্ক করার পরও স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করেননি কথিত পরকীয়া প্রেমিক। সেই ক্ষোভ থেকেই রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায় পরকীয়া প্রেমিককে হত্যা করা হয়। প্রায় ১৩ বছর পর সেই হত্যাকাণ্ডের বিচার শেষ হলো আদালতে।
গতকাল সোমবার ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ-৯ এর বিচারক মাহমুদুল ইসলাম পরকীয়া প্রেমিক আনিস হত্যার দায়ে মো. শাহাদাৎ হোসেনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। একইসঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
রায় ঘোষণার সময় শাহাদাৎ হোসেনকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় শেষে তাকে আবারও কারাগারে পাঠানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম সরকার।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরেই শাহাদাৎ হোসেনের স্ত্রীর সঙ্গে নিহত আনিসের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে একাধিকবার আনিসকে সতর্ক করেছিলেন শাহাদাৎ। স্ত্রী থেকে দূরে থাকতে এবং আর যোগাযোগ না করতে বলা হয়েছিল তাকে। কিন্তু সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে আনিস আবারও শাহাদাতের স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন। এতে ক্ষোভ আরও গভীর হয় আসামির মধ্যে। ২০১২ সালের ৯ সেপ্টেম্বর বিকেল। তেজগাঁও থানাধীন আনোয়ারা পার্কের দক্ষিণ পাশে মা মেডিকেল স্টোরের বিপরীতে ফুটপাতে আনিসের ওপর হামলা চালানো হয়। ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ফেলে রেখে পালিয়ে যান হামলাকারী। পরে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর তেজগাঁও থানার উপপরিদর্শক মো. মাসদুল ইসলাম অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে ২০১৩ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি তেজগাঁও থানার উপপরিদর্শক কাজী সাহান হক শাহাদাৎ হোসেনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট জমা দেন।
একই বছরের ২৭ মে আদালত তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় ১৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে আদালত এ রায় দেন।
সরকার দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। গতকাল সোমবার সচিবালয়ে আসন্ন ঈদুল আজহায় নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিতে প্রস্তুতি সভা শেষে মন্ত্রী এ কথা জানান।
দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া পয়েন্টে দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ হলে সড়ক দুর্ঘটনা অনেক কমে যাবে- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘হ্যাঁ, পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। দ্বিতীয় পদ্মা সেতুটা—তিনটি প্রস্তাবনা আছে। তার এক নম্বর প্রস্তাবনা আপনি যেটা বলেছেন ওই রুটে। আমরা দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণ করতে চলছি, বলব আমি এই মুহূর্তে। ফিজিবিলিটি স্টাডি অলরেডি কমপ্লিট। অর্থায়নের জায়গাটা নিয়ে ভাবছি, কথা বলছি। আর ধরেন অন্যান্য প্রাক-প্রস্তুতি চলছে।’
মন্ত্রী বলেন, ঈদ যাত্রায় নৌপথেও নেওয়া হয়েছে বাড়তি সতর্কতা। আরিচা ঘাটে বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনার তদন্তে গাড়ির ব্রেকে ত্রুটির বিষয় উঠে এসেছে। এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে এবার ফেরিতে গাড়ি ওঠার আগে ব্যারিকেড ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যাতে ফেরি সম্পূর্ণ খালি না হওয়া পর্যন্ত নতুন গাড়ি প্রবেশ করতে না পারে।
এ ছাড়া সদরঘাটে স্পিডবোট ও লঞ্চ চলাচলে নতুন শৃঙ্খলা আনা হয়েছে। এখন থেকে স্পিডবোটের যাত্রীরা সরাসরি লঞ্চে উঠতে পারবেন না। তাদের নির্ধারিত পন্টুন ব্যবহার করতে হবে। এ জন্য নতুন সংযোগ ব্রিজও নির্মাণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, দেড় কোটির বেশি মানুষের ঈদযাত্রা এবং প্রায় এক কোটি কোরবানির পশু পরিবহনকে কেন্দ্র করে এবারের ঈদ ব্যবস্থাপনা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং। তবে সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করলে ভোগান্তি ও দুর্ঘটনা অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়েছে।
গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি বরেণ্য অভিনেতা-নাট্যকার আতাউর রহমান। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছে। সোমবার গণমাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন তার মেয়ে শর্মিষ্ঠা রহমান।
তিনি বলেন, ‘আব্বার অবস্থা আসলে খুব একটা ভালো না। তার শরীরের একাধিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে পড়েছে—চিকিৎসক তেমনটাই জানিয়েছেন। সবার কাছে আমার আব্বার সুস্থতার জন্য দোয়া চাই।’
গত শুক্রবার বাসায় পড়ে গিয়েছিলেন আতাউর রহমান। এরপর প্রথমে তাকে গুলশানের একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে আইসিইউ সুবিধা না পেলে তাকে ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়।
জানা গেছে, ভর্তির পরই তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। ওইদিন শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে লাইফ সাপোর্ট খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু আবারও অবস্থার অবনতি হলে গত রোববার তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছে।
আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশে এক কোটি বেকারের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার ঘোষণা দিয়েছেন সরকারের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেছেন, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে কর্মসংস্থান সৃষ্টির যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, বর্তমান সরকার তা বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করছে।
সোমবার লালমনিরহাট স্টেডিয়ামে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের আয়োজনে এক বিশাল চাকরি মেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
তিনি বলেন, বেকারত্ব বর্তমানে একটি বড় অভিশাপ এবং এটি দেশে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। এই সমস্যা সমাধানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বহুমুখী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন।
সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং শিল্প উদ্যোক্তাদের বিশেষ সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।
তিনি বিশ্বাস করেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে গৃহীত পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীর জন্য উন্নত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।
দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের জীবনমান উন্নয়নের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী আরও বলেন, সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং কৃষিঋণ মওকুফের মতো মানবিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এছাড়া খাল খনন কর্মসূচির মতো প্রকল্পে স্থানীয় পর্যায়ে অনেক দরিদ্র মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। জনগণ বিএনপিকে যে ম্যান্ডেট দিয়েছে, তার ভিত্তিতে একটি সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
চাকরি মেলায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধান, জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাদাত হোসেন সুমা, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাট জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আফজাল হোসেন, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা। দিনব্যাপী এই মেলায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা হাজারো চাকরিপ্রার্থী অংশ নেন।
প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে ক্ষুদ্র, কুটির ও মাঝারি শিল্পে যোগ্যতার ভিত্তিতে নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহ দেওয়া দরকার। নারীদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ, উন্নয়ন ও বাজারজাত সহায়তা দিতে হবে। তাহলে পারিবারিক সচ্ছলতা বৃদ্ধি ও সন্তানদের শিক্ষা এবং দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথ সুগম করা সম্ভব হবে।
ডা. জুবাইদা রহমান সোমবার ‘পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬’ উপলক্ষে রাজারবাগ পুলিশলাইনসে পুলিশ অডিটরিয়ামে ‘বাংলাদেশ পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক)’ এর বার্ষিক সমাবেশ ও আনন্দ মেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেছেন।
পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) সদস্যরা তাদের নিরলস প্রচেষ্টায় সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ে অবদান রাখছেন উল্লেখ করে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘আপনারা কর্মের মাধ্যমে আগামীর প্রজন্মকে সমাজে অবদান রাখার পথ দেখিয়ে দিতে সহায়তা করছেন।’
সবাই যদি নিজ নিজ ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সমাজ গঠনে অবদান রাখে তাহলে নিশ্চয়ই সেই কাজ বাস্তবায়ন করা সম্ভব উল্লেখ করে জুবাইদা রহমান বলেন, অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে গৃহীত সমাজসেবামূলক পরিকল্পনাগুলো সমন্বিতভাবে একটি সুন্দর সুস্থ ও মানবিক সমাজ গঠনের ভিত্তি।
ডা. জুবাইদা রহমান আরও বলেন, পরিবার ও সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে কেন্দ্রে থেকে নারীরা স্বাস্থ্য ও গ্রামীণ উন্নয়নে অংশ নিতে পারে। তাহলে কন্যা শিশুদের নিরাপত্তা ও সুন্দর মানবিক বিকাশ নিশ্চিত করতে প্রতিটি মেয়ে যে ভবিষ্যত নিজের জন্য গড়তে চায়, সেই পথে রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির পরির্বতে তা এগিয়ে নেবে।
পুনাকের সহসভানেত্রী সাবিনা আওলাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সহধর্মিনী হাসিনা আহমেদ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের সহধর্মিনী রওশন আরা শিল্পী ও সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন পুনাক সহসভানেত্রী সাবিনা আওলাদ। পুনাকের বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন সাধারণ সম্পাদিকা কানিজ ফাতেমা। অনুষ্ঠানে সভাপতির একটি লিখিত বক্তব্য পাঠ করে শোনানো হয়।
অনুষ্ঠানে কৃতি শিক্ষার্থীদের মেধাবৃত্তি এবং কম্পিউটার প্রশিক্ষণে কৃতিত্বের অধিকারীদের মাঝে সনদ বিতরণ করা হয়।
‘পুলিশ সপ্তাহ ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত পুনাক মেলায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন জেলার স্টলের মধ্যে প্রথম হয়েছে সাতক্ষীরা, দ্বিতীয় রাজশাহী এবং তৃতীয় লালমনিরহাট জেলা।
প্রধান অতিথি ডা. জুবাইদা রহমান কৃতি শিক্ষার্থী এবং পুনাক স্টল বিজয়ীদের হাতে সনদ ও পুরস্কার তুলে দেন। পরে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানির পশুর হাটে জাল নোটের বিস্তার রোধ করতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে বিশেষ বুথ স্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পশুর কেনাবেচায় যাতে কেউ প্রতারিত না হয়, সেজন্য প্রতিটি হাটে নোট শনাক্তকরণ সেবা নিশ্চিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে জারি করা এক সার্কুলারে প্রতিটি ব্যাংককে আগামী ১৭ মের মধ্যে একজন সমন্বয়কারী কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে তার নাম, পদবি ও মোবাইল নম্বর ই-মেইলে পাঠানোর জন্য বলা হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, রাজধানীর অনুমোদিত পশুর হাটগুলোতে ঈদের আগের রাত পর্যন্ত কোনো বিরতি ছাড়াই নোট যাচাইয়ের এই বিশেষ সেবা প্রদান করতে হবে। সুষ্ঠুভাবে এই কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে স্থানীয় প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন, পৌরসভা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে নিবিড়ভাবে সমন্বয় করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঢাকার বাইরের পশুর হাটগুলোর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাংলাদেশ ব্যাংক অফিস এবং যেসব জেলায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শাখা নেই সেখানে সোনালী ব্যাংক দায়িত্ব বণ্টন ও তদারকি করবে।
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পশুর হাটগুলোর জন্য সুনির্দিষ্ট ব্যাংকের তালিকাও প্রকাশ করা হয়েছে। উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন হাটগুলোতে ইসলামী ব্যাংক, সীমান্ত ব্যাংক, এবি ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক ও মেঘনা ব্যাংকসহ বেশ কয়েকটি ব্যাংক তাদের বুথ পরিচালনা করবে। এছাড়াও তালিকায় রয়েছে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক, সিটি ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, যমুনা ব্যাংক, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক এবং বেসিক ব্যাংক।
অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ১৩টি পশুর হাটে মোট ১৯টি ব্যাংককে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে দ্য প্রিমিয়ার ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক ও ওয়ান ব্যাংক উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি মধুমতি ব্যাংক, কমিউনিটি ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক ও সোনালী ব্যাংকও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ হাটে নোট শনাক্তকরণ বুথ স্থাপন ও পরিচালনা করবে।
বাংলাদেশের মানুষ কাঁটাতার ভয় পায় না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। সোমবার (১১ মে) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
হুমায়ুন কবির বলেন, ‘কাঁটাতার দিয়ে বাংলাদেশের মতো দেশকে এখন ডর দেখানোর মতো কোনো জায়গা নেই। বাংলাদেশে মানুষ কাঁটাতার ভয় পায় না, সরকারও কাঁটাতার ভয় পায় না।যেখানে আমাদের কথা বলা দরকার, আমরা কথা বলব।’
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক এই উপদেষ্টা বলেন, ‘হাসিনা সরকারের আমলে যেভাবে সীমান্তে অনেক মানুষকে গুলি করে হত্যা বা কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখার মতো বিষয়গুলো আমরা দেখেছি, সীমান্ত কোনো দিন ওই নমুনায় আসবে না, ইনশাআল্লাহ। আর ওই নমুনায় যদি কেউ বর্ডার করতেও চায়, এই বাংলাদেশ সেই গোলামির বাংলাদেশ না যে, বসে দেখবে। কী করতে হবে সে বিষয়ে এই বাংলাদেশের পরিকল্পনা আছে।’
প্রতিবেশী দেশগুলোকে অবশ্যই আঞ্চলিক শান্তি বজায় রাখতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে সংলাপ চাই। যেখানে আমরা সবাই ‘ভারসাম্যমূলক’ একটি জায়গায় থাকতে চাই। তবে চ্যালেঞ্জ অবশ্যই থাকবে, আছে এবং থাকবেই। যেমন দেড় হাজার মানুষকে হত্যা করে পালিয়ে যাওয়া সন্ত্রাসী শেখ হাসিনা এখন ভারতে আশ্রয়ে আছে।
তবে শেখ হাসিনা ভারতে বসে যেন বাংলাদেশে কোনো সন্ত্রাস না করতে পারে সে বিষয়টি আমরা ভারত সরকারকে বলেছি এবং তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ভারত সরকার।”
পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠন প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘প্রাইমারিলি (প্রাথমিকভাবে) কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গেই আমাদের সম্পর্ক থাকবে। আমরা তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করতে চাই না।’
সম্প্রতি চীন সফরের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘চীন সফর সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তিস্তা নিয়ে আলোচনায় ভালো অগ্রগতি হয়েছে, ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে।’
এ সময় চীনের এক্সিম ব্যাংক অর্থায়নে আগ্রহ প্রকাশ করেছে বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থাকে সময়োপযোগী, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসইভাবে রূপান্তরের লক্ষ্যে আগামীকাল মঙ্গলবার (১২ মে) শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী ‘উচ্চশিক্ষা রূপান্তরে জাতীয় কর্মশালা।’ কর্মশালার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এ কর্মশালার আয়োজন করেছে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে
কর্মশালাটি অনুষ্ঠিত হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে। কর্মশালার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কর্মশালার উদ্বোধন উপলক্ষে ইউজিসি আজ বিকেল সাড়ে তিনটায় সংবাদ সম্মেলন করবে।
সোমবার (১১ মে) দুপুরে ইউজিসির প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কর্মশালার মূল প্রতিপাদ্য হচ্ছে— ‘বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার রূপান্তর: টেকসই উৎকর্ষের রূপরেখা।’
দিনব্যাপী এ কর্মশালায় সরকারের নীতিনির্ধারক, ইউজিসির সদস্য, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, শিক্ষক, গবেষক, শিল্পখাতের প্রতিনিধি এবং উন্নয়ন সহযোগীরা অংশ নেবেন।
এদিকে কর্মশালা উপলক্ষে সোমবার বিকেল ৩টায় ইউজিসি ভবনে (আগারগাঁও) জরুরি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এতে ইউজিসি চেয়ারম্যান ড. মামুন আহমেদসহ কমিশনের সদস্য ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
দেশের সামাজিক ও পারিবারিক কাঠামোর উন্নয়নে নারীদের অপরিহার্য ভূমিকার কথা পুনর্ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি মনে করেন, গ্রামীণ অর্থনীতি ও জনস্বাস্থ্যের মানোন্নয়নে নারীরাই মূল চালিকাশক্তি হতে পারেন। সোমবার রাজধানী ঢাকায় পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতির (পুনাক) এক বিশেষ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
পুনাক-এর সদস্যদের জনহিতকর কাজের প্রশংসা করে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, “আপনার আপনারা আপনাদের কর্মের মাধ্যমে আগামীর প্রজন্মকে সমাজে অবদান রাখার পথ দেখিয়ে দিতে সহায়তা করছেন। অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যতের সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে গৃহীত সমাজসেবামূলক আপনাদের পরিকল্পনাগুলো সমন্বিতভাবে একটি সুন্দর সুস্থ মানবিক সমাজ গঠনের ভিত্তি। আমরা সকলে যদি নিজ নিজ ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত সমাজ গঠনে অবদান রাখি। তাহলে নিশ্চয়ই সেটা বাস্তবায়ন করা সম্ভব ইনশাআল্লাহ।” তিনি সমিতির মানবিক উদ্যোগগুলোকে একটি সুস্থ সমাজ গঠনের ভিত্তি হিসেবে চিহ্নিত করেন।
কন্যা শিশুদের সুরক্ষা ও তাদের স্বপ্ন পূরণের সুযোগ করে দেওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, “নারীরা পরিবার ও সামাজিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে কেন্দ্রে থেকে স্বাস্থ্য–গ্রামীণ উন্নয়নে অংশ নিতে পারে। কন্যা শিশুদের নিরাপত্তা ও সুন্দর মানবিক বিকাশ নিশ্চিত করার মাধ্যমে প্রতিটি মেয়ে যে ভবিষ্যৎ নিজের জন্য গড়তে চায়, সেই পথে রাষ্ট্র ব্যবস্থা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির পরিবর্তে তা এগিয়ে নেবে।” তিনি মনে করেন, সরকারের দায়িত্ব হলো নারীর অগ্রযাত্রার পথকে আরও মসৃণ ও বাধামুক্ত করা।
এছাড়া নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষে তিনি একগুচ্ছ প্রস্তাবনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে ক্ষুদ্র কুটির ও মাঝারি শিল্পে যোগ্যতার ভিত্তিতে নারী উদ্যোক্তাদের উৎসাহ প্রদান। যেমন- প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং ডেভেলপমেন্ট ও মার্কেটিং সাপোর্ট প্রদান। ফলে পারিবারিক সচ্ছলতা বৃদ্ধি ও সন্তানদের শিক্ষা এবং দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পথ সুগম করা সম্ভব হবে।” অনুষ্ঠানের শেষে তিনি পুনাক-এর সকল সদস্যকে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।