অবশেষে ২০ শর্তে নয়াপল্টনে বিএনপি এবং বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে আওয়ামী লীগকে সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। তবে জামায়াতে ইসলামীকে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি।
গতকাল সন্ধ্যায় ডিএমপির পক্ষ থেকে দুই দলকেই তাদের নিজ নিজ পছন্দের স্থানেই সমাবেশের অনুমতির কথা জানানো হয়।
ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) ড. খন্দকার মহিদ উদ্দিন বলেন, বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে আওয়ামী লীগ ও নয়াপল্টনে দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশের অনুমতি পেয়েছে বিএনপি। তবে সমাবেশ করার জন্য উভয় দলকেই ২০টি শর্ত জুড়ে দেয়া হয়েছে।
এদিকে আজ রাজধানী ঢাকা হতে যাচ্ছে সমাবেশের নগরী। দেশের দুই বৃহৎ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি সমাবেশ ঘিরে মহানগরে বিরাজ করছে টানটান উত্তেজনা। নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে মানুষের মনে ভীতি ও আতঙ্ক কাজ করছে। কিন্তু নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তারা শহরজুড়ে টহল জোরদার করেছে। রাজধানীর প্রবেশমুখগুলোসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বসেছে চেকপোস্ট (নিরাপত্তা চৌকি)।
ইতোপূর্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নয়াপল্টনে তাদের দলীয় কার্যালয়ের সামনে মহাসমাবেশ এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ আহ্বান করেছে। তা ছাড়া বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীও মতিঝিলের শাপলা চত্বরে সমাবেশ করার জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশকে (ডিএমপি) জানিয়েছিল। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি সমাবেশের অনুমতি পেলেও জামায়াতের সমাবেশ করার অনুমতি মেলেনি। সমাবেশ সফল করতে রাজনৈতিক দলগুলোর নেতা-কর্মীরা ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
এর আগে শুক্রবার বিকেলে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান ও অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানিয়েছেন, শনিবার আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মহাসমাবেশের অনুমতি পাবে। স্থান নির্ধারণ হয়নি। স্থানের বিষয়টিও খুব দ্রুতই তাদের জানিয়ে দেয়া হবে বলে জানান তিনি। তবে জামায়াতের সমাবেশের ব্যাপারে জিরো টলারেন্স (শূন্য সহনশীলতা) অবস্থানে রয়েছে ডিএমপি। তাদের সমাবেশের অনুমতি দেয়া হবে না। এ বিষয়ে ডিবিপ্রধান হারুন অর রশিদ বলেন, রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন যদি না থাকে, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সমাবেশের কথা বললেই তাদেরকে সমাবেশ করতে দেয়া হবে না।
এদিকে পুলিশের অনুমতি পাওয়ার আগেই বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটের সামনে আওয়ামী লীগের মঞ্চ নির্মাণ বন্ধ করে দিয়েছে পুলিশ। গতকাল বেলা সাড়ে ৩টার দিকে মঞ্চের কাজ বন্ধ করে দেয়া হয়।
বিএনপির ডাকা মহাসমাবেশের একই দিনে রাজধানী ঢাকায় আওয়ামী লীগের শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ। গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় লাঠিসোঁটা নিয়ে মিছিল করেন ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিট আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা। রাজপথ দখলের এই মহড়া শুরু হয় গত বৃহস্পতিবার। সতর্ক অবস্থানে থেকে রাজধানীর বিভিন্ন থানা, ওয়ার্ড ও ইউনিটে সমাবেশের জন্য তৈরি হওয়ার প্রস্তুতি নেয়ার খবর পাওয়া গেছে।
পূর্ব নির্ধারিত সময় অনুযায়ী, শনিবার দুপুর দুইটায় বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে শুরু হবে আওয়ামী লীগের শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আওয়ামী লীগের ঢাকার দুই মহানগরের অন্তর্গত সব থানা ও ওয়ার্ড থেকে নেতাকর্মীরা সমাবেশে যোগ দেবেন। একই সঙ্গে গাজীপুর, কেরানীগঞ্জ, সাভার, আশুলিয়া, ধামরাই, নারায়ণগঞ্জ ও রূপগঞ্জসহ আশপাশের জেলা এবং উপজেলা থেকে নেতা-কর্মীরা যোগ দেবেন এই সমাবেশে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, আওয়ামী লীগের সমাবেশের মঞ্চ প্রায় প্রস্তুত।
গতকাল আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের নেতা-কর্মীদের বলেছেন, দলের ডাকা শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশ শেষ হলেই দায়িত্ব শেষ হয়ে গেছে মনে না করতে। তিনি বলেছেন, সতর্ক পাহারায় থাকতে হবে। এদের দুরভিসন্ধি আছে। সাম্প্রদায়িক আরও দু-একটি শক্তিকে নিয়ে তাদের অশুভ খেলার পরিকল্পনা রয়েছে। সার্বক্ষণিক সতর্ক পাহারায় থাকতে হবে। মিটিং শেষ, চলে গেলেই হবে না। কালকে একটু দেখেশুনে যাবেন। অবস্থা বুঝে ব্যবস্থা।
রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে গতকাল শুক্রবার বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে ওবায়দুল কাদের বলেন, সবাই নিজে নিজে দায়িত্ব নেবেন, সবার দায়িত্ব আছে। এই যুদ্ধ আমাদের সবার। এটা বাংলাদেশের আরেক মুক্তিযুদ্ধ। এটা মনে করেই মাঠে থাকতে হবে। ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, শেখ হাসিনার হাতকে আরও শক্তিশালী করতে পারব, যদি আমরা ঐক্যবদ্ধ থাকি। বাংলাদেশকে বাঁচাতে হলে শেখ হাসিনাকে ক্ষমতায় রাখতে হবে। এটা মাথায় রেখেই নৌকা বিজয়ের বন্দরে পৌঁছাতে হবে।
সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে থাকার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বারবার অপশক্তিকে মাথা তুলে দাঁড়াবার সুযোগ দেয়া উচিত না। আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা গণতন্ত্র ব্যাহত হতে দেবে না, এটা তাদের প্রতিজ্ঞা।
এদিকে বিএনপি ও তাদের সমমনা দলগুলো অভিযোগ করছে, সমাবেশ সামনে রেখে নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এ অভিযোগ সঠিক নয় বলে দাবি করেছে।
আওয়ামী লীগ নেতারা উসকানিমূলক কথা বলছেন জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে, শান্তিপূর্ণভাবে সরকারের পতন ঘটাতে চাই।’ শুক্রবার রাজধানীর নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এতকিছুর পরেও ইতোপূর্বে আমরা অনেক কর্মসূচি পালন করেছি। এর আগেও রেইড দিয়েছে, গ্রেপ্তার করেছে, মারপিট করেছে, মেরেও ফেলেছে গুলি করে। তারপরও আমরা আমাদের জায়গা থেকে সরিনি। আমরা শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করে শান্তিপূর্ণভাবে সরকারের পতন ঘটাতে চাই। তবে ক্ষমতাসীন দল কোনো ধরনের বাড়াবাড়ি করলে তার দায়-দায়িত্ব সরকারকেই বহন করতে হবে।’
লগি-বৈঠা আওয়ামী লীগের কালচার মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘আর লাঠির কথা বলছে‑ এগুলো উসকানিমূলক ৷ একদিকে তাদের প্রধান একরকম কথা বলছেন, আরেকদিকে তারা পুরো জনগণকে জিম্মি করে ফেলেছে- তাদের এই দমননীতি দিয়ে। আমরা কোনো উসকানি দিচ্ছি না।’
অপরদিকে গোয়েন্দা নজরদারির জন্য নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় ও আশপাশের এলাকায় ৬০টির বেশি উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন সিসি ক্যামেরা বসাচ্ছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। শুক্রবার বিকেলে থেকে এসব ক্যামেরা বসানো শুরু হয়েছে। ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক দলগুলোর সমাবেশ ঘিরে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সিসি ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে ডিএমপি। ডিএমপি সদর দপ্তর থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্যামেরাগুলো থেকে পাওয়া ফুটেজ বিশ্লেষণ করা হবে। সকাল থেকেই রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও প্রবেশমুখ গাবতলী, আব্দুল্লাহপুর ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় চেকপোস্ট বসিয়ে ঢাকায় আসা যাত্রী ও গাড়িতে তল্লাশি করা হচ্ছে।
সকালে ঢাকার প্রবেশপথ গাবতলী সেতুর মুখে নিরাপত্তা চৌকি বসিয়েছে দারুস সালাম থানা পুলিশ। এ বিষয়ে দারুস সালাম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জামাল হোসেন জানান, সকাল থেকেই নিরাপত্তা চৌকি বসিয়ে যানবাহন ও সন্দেহভাজনদের তল্লাশি করা হচ্ছে।
এদিকে, উত্তরার আব্দুল্লাহপুরে চেকপোস্ট বসিয়ে যানবাহন ও যাত্রীদের তল্লাশির বিষয়ে জানতে চাইলে উত্তরা জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) জ্যোতির্ময় সাহা জানান, পুলিশের নিয়মিত কাজের অংশ হিসেবেই চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি করা হচ্ছে।
অপরদিকে পোস্তগোলা সেতুর মুখে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি কার্যক্রম চালাচ্ছে শ্যামপুর থানা পুলিশ। এ বিষয়ে শ্যামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নজরুল ইসলাম দৈনিক বাংলাকে বলেন, সমাবেশ সামনে রেখে নিরাপত্তার স্বার্থে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। দুষ্কৃতকারীরা যেন কোনো বোমা বা অস্ত্র নিয়ে ঢাকায় ঢুকতে না পারে, সে জন্যই চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।
সম্প্রতি র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেছেন, রাজনৈতিক কর্মসূচির সুযোগ নিয়ে স্বার্থান্বেষী কোনো মহল নাশকতার চেষ্টা করলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। গতকাল বিকেলে র্যাব সদর দপ্তর থেকে জানানো হয়, রাজধানীতে জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ও যেকোনো ধরনের নাশকতা প্রতিরোধে দেড় হাজারের অধিক র্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। র্যাব সদস্যরা রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় চেকপোস্ট পরিচালনা, টহল কার্যক্রম, সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি পরিচালনা করছে। র্যাব-১ রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর, রামপুরা, পূর্বাচল ৩০০ ফিট ও আমতলীতে চেকপোস্ট কার্যক্রম পরিচালনা করছে। র্যাব-২ রাজধানীর বসিলা, আগারগাঁও ও শিশুমেলার সামনে চেকপোস্ট কার্যক্রম পরিচালনা করছে। র্যাব-৩ রাজধানীর কমলাপুর, সচিবালয় ও নটর ডেম কলেজের সামনে চেকপোস্ট কার্যক্রম পরিচালনা করছে। র্যাব-৪ রাজধানীর কচুক্ষেত, টেকনিক্যাল, মিরপুর কাজীপাড়া, সাভার ও মানিকগঞ্জে চেকপোস্ট কার্যক্রম পরিচালনা করছে। র্যাব-১০ রাজধানীর ডেমরা, পোস্তগোলা ও সায়েদাবাদে চেকপোস্ট কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে তাদের নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার বলেন, এটি মিথ্যা কথা। কোনো রাজনৈতিক দলের সভা-সমাবেশ ঘিরে ডিএমপি কাউকে গ্রেপ্তার করে না। আমাদের ক্রাইম ডিভিশনের প্রত্যেক থানার ওসি ও ডিসিকে বলা আছে, যারা ওয়ারেন্টের আসামি, সন্দেহজনক আসামি, মামলা বা তদন্তভুক্ত আসামি, নাশকতা হতে পারে এমন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাদের গ্রেপ্তার করার জন্য বলা হয়েছে। এর বাইরে অন্য সাধারণকে হয়রানি বা গ্রেপ্তার করার সুযোগ নেই।
এমন পরিস্থিতিতে রাজধানীসহ দেশব্যাপী চলছে জল্পনা-কল্পনা। সময় যতই ঘনিয়ে আসছে জনমনে বাড়ছে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা। এ ছাড়া, গত কয়েকদিন ধরে রাজনৈতিকদলগুলোর পাল্টাপাল্টি আক্রমণাত্মক বক্তব্যে জনমনে বাড়ছে শঙ্কা।
৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’উপলক্ষে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়।
তবে এ বছর ৭ নভেম্বর পড়েছে শনিবার। যা সাপ্তাহিক ছুটির দিন। যে কারণে ছুটি ভোগ করতে পারছেন না সরকারি চাকরিজীবীরা।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা এ ছুটির আওতায় থাকবেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশের সব তফশিলি ব্যাংকও ওই দিন বন্ধ থাকবে।
প্রতিবছর ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে সাধারণ ছুটি পালন করা হবে। তবে চলতি বছর ৭ নভেম্বর শনিবার হওয়ায় দিনটি সাপ্তাহিক ছুটির মধ্যেই পড়েছে। ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বাড়তি ছুটি উপভোগের সুযোগ থাকছে না।
এর আগে গত ৫ অক্টোবর মন্ত্রিসভার বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপনসংক্রান্ত পরিপত্রে ৭ নভেম্বরকে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে দিনটি ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পালন করা হবে। এ উপলক্ষে প্রতিবছর সাধারণ ছুটি থাকবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছেন। বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে তিনি বাসায় ফেরেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।
তিনি জানিয়েছেন, মঈন খান আগের চেয়ে অনেকটাই সুস্থ। তবে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, তাকে আরো কিছুদিন বিশ্রামে থাকতে হবে।
প্রসঙ্গত, গত ২১ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে মঈন খান হঠাৎ অসুস্থ হয়ে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন মঈন খান।
সেদিন রাতে তাকে দেখতে হাসপাতালে যান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এরপর রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীসহ দলটির জ্যেষ্ঠ নেতা তাঁকে হাসপাতালে দেখতে যান। মঈন খান এভারকেয়ার হাসপাতালের মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নেন।
সংবাদ প্রকাশের কারণে কোনও সাংবাদিক, সংবাদমাধ্যমের মালিক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতারের আগে সংশ্লিষ্ট এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতের পূর্বানুমতি নেওয়ার বিধান রাখার বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্য হয়েছে। সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর খসড়া পর্যালোচনা ও চূড়ান্ত করার জন্য গঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়।
বুধবার (৪ নভেম্বর) ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
সভায় সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে খসড়া আইনটি পরিমার্জন ও চূড়ান্ত করার ওপর জোর দেওয়া হয়। আইনটি যেন সাংবাদিক, সংবাদমাধ্যম বা স্বাধীন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে হয়রানির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত না হয়, তা নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।
সভায় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং হয়রানি প্রতিরোধের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। মানহানি, হেয় প্রতিপন্ন করা ও সাইবার বুলিংয়ের বিষয়গুলো পৃথকভাবে বিবেচনা করে আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাবও আলোচনায় আসে। পাশাপাশি সাইবার স্পেসের সংজ্ঞা আরও সুনির্দিষ্ট করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
মানহানির সংজ্ঞা ও শাস্তির ক্ষেত্রে দণ্ডবিধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। গুজব ও অপতথ্যের সংজ্ঞা আরও স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট করার বিষয়ে মতামত দেওয়া হয়, যাতে আইনের অস্পষ্ট বা অতিব্যাপক সংজ্ঞার কারণে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন না হয়।
এ ছাড়া আইনে মোবাইল কোর্টের বিধান না রাখা, কনটেন্ট অপসারণ বা ব্লক করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কারণ জানানো এবং ব্লক করা কনটেন্ট অবমুক্তির আবেদন নিষ্পত্তির সময়সীমা নির্ধারণের বিষয়েও আলোচনা হয়। কোনও সংবাদমাধ্যম বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে লিখিত নোটিশ দেওয়া এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ রাখার প্রস্তাবও সভায় ওঠে।
সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের সদস্য কাঠামো, সেখানে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিত্ব এবং আন্তর্জাতিক অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শের বিষয়েও আলোচনা হয়। জাতিসংঘসহ উন্নয়ন সহযোগী এবং মেটার মতো আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে আলোচনা করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় অংশীজনদের মতামত ও সুপারিশের ভিত্তিতে সংশোধিত খসড়া আইনটি আবার পরিমার্জন করে ওয়েবসাইটে প্রকাশের বিষয়ে আলোচনা হয়। জনসাধারণের মতামত নিয়ে খসড়াটিকে আরও গ্রহণযোগ্য, কার্যকর ও সময়োপযোগী করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির পক্ষ থেকে একটি উপস্থাপনা দেওয়া হয়। এ সময় আইসিটি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব ড. মো. কামরুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) খুলনা ও বাগেরহাট সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এদিন সকাল ৯টায় ঢাকা থেকে হেলিকপ্টার যোগে প্রথমে মোংলা যাবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর সেখান থেকে সড়কপথে খুলনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
তিনি জানান, ‘প্রধানমন্ত্রীর মোংলায় দুটি এবং খুলনায় একটি নির্ধারিত কর্মসূচি রয়েছে। এ ছাড়া তিনি বাগেরহাট জেলা সদরে হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। মোংলার কর্মসূচি শেষ করে সড়কপথে প্রধানমন্ত্রী খুলনা যাবেন।’
খুলনা স্টেডিয়ামে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)-এর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। সারা দেশে তৃণমূল পর্যায় থেকে ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণে ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে।
এদিকে, খুলনায় প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও উৎফুল্ল। পুরো শহর পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে।
জেলা স্টেডিয়াম ও আশপাশের সড়ক নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)-এর রংবেরঙের ব্যানার-ফেস্টুন দিয়ে সাজানো হয়েছে। শিববাড়ী মোড় থেকে রেলস্টেশনের প্রধান ফটক পর্যন্ত দেয়ালে আঁকা হয়েছে নানা গ্রাফিতি।
এসব গ্রাফিতিতে তুলে ধরা হয়েছে খুলনার ইতিহাস ও ঐতিহ্য। এতে স্থান পেয়েছে জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতিকৃতি, সুন্দরবন ও রয়েল বেঙ্গল টাইগারের ছবি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে স্থাপন করা সব তোরণ ও বিলবোর্ড খুলে ফেলা হয়েছে। সরিয়ে ফেলা হয়েছে নেতা-কর্মীদের লাগানো ফেস্টুনও। এবারই প্রথম সরকারপ্রধানের আগমন উপলক্ষে যত্রতত্র তোরণ, ব্যানার ও ফেস্টুন দেখা যাচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে পুরো খুলনা মহানগরীতে নেওয়া হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা।
ভ্যাকসিন উৎপাদনে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশেই প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জনে গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে বলে মনে করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত বার্ষিক গবেষণা পর্যালোচনা কর্মশালা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
প্রাণিসম্পদ খাতে বর্তমানে দেশের চাহিদার মাত্র ১৫ শতাংশ ভ্যাকসিন দেশীয়ভাবে উৎপাদিত হয়। বাকি ৮৫ শতাংশ আমদানি করতে হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, আমদানিনির্ভরতা হ্রাস এবং খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গবেষণা, উদ্ভাবন ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে নিজেদের সক্ষমতা বাড়িয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।’ দেশের উন্নয়নে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন,
‘বিএলআরআইয়ের বিজ্ঞানীদের গবেষণা ও উদ্ভাবনের ফলে দেশের প্রাণিসম্পদ খাতে নতুন প্রযুক্তি যুক্ত হয়েছে, যা জাতীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের বিকল্প নেই। বিশ্বব্যাপী ওয়ান হেলথ ধারণা গুরুত্ব পাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে প্রাণীর স্বাস্থ্য, প্রাণিজ খাদ্যের নিরাপত্তা এবং জনস্বাস্থ্যের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। তাই প্রাণিসম্পদ খাতে উৎপাদিত প্রতিটি পণ্য যেন নিরাপদ হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রাণিসম্পদ খাতে অপ্রয়োজনীয় ও অপরিকল্পিত অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষ করে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) মোকাবিলায় সচেতনতা বাড়াতে হবে। প্রান্তিক খামারিদের অ্যান্টিবায়োটিকের যথেষ্ট ব্যবহার থেকে বিরত রাখতে প্রশিক্ষণ ও উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। অ্যান্টিবায়োটিকের যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি প্রাণিসম্পদ উৎপাদন ব্যয়ও কমানো সম্ভব হবে।’
বিএলআরআইয়ের উদ্ভাবনের প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে দুটি ভ্যাকসিন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কাছে হস্তন্তর করেছে।’ ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের গতি আরও বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৫৮ হাজার ৮৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত প্রকল্পের মধ্যে ১১টি নতুন এবং দুটি সংশোধিত।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৫০ হাজার ৪১ কোটি টাকা। প্রকল্প ঋণ ও অনুদান থেকে আসবে ৭ হাজার ৯৭৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নিজস্ব অর্থায়ন ৭৩ কোটি ৭ লাখ টাকা।
সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পাঁচটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে বরেন্দ্র অঞ্চলে নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন, বরিশাল নগরের বিভিন্ন খাল পুনরুদ্ধার ও পুনঃখনন, জলবায়ু সহনশীল নগর উন্নয়ন এবং সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প। এ ছাড়া অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধন অনুমোদন পেয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে বিশেষায়িত ও অপারেশনাল যানবাহন কেনার দুটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ঢাকা সেনানিবাসের মঈনুল রোড আবাসিক এলাকায় সেনা কর্মকর্তাদের জন্য বি-টাইপ আবাসন নির্মাণ এবং রাজধানীর জিগাতলার গাবতলা কলোনিতে সরকারি কর্মচারীদের জন্য বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেশের পাঁচটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাসে ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেস (ইনমাস) স্থাপন করা হবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৫) প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে।
জ্বালানি খাতে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে তিতাস-৩২ ও ৩৩ নামে দুটি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপ খননের প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, গ্রামীণ সড়কে ১৫ মিটার পর্যন্ত দৈর্ঘ্যের সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধন অনুমোদন পেয়েছে।
এদিকে, ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ে পরিকল্পনামন্ত্রীর অনুমোদিত আরো পাঁচটি প্রকল্প সম্পর্কে একনেক সভায় অবহিত করা হয়েছে।
প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউটের হৃদরোগ চিকিৎসাসেবার আধুনিকায়ন, শিশু-কিশোর ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার ট্রাফিক অবকাঠামো ও সড়ক নিরাপত্তার উন্নয়ন।
এ ছাড়া ঢাকা কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে আধুনিক যানবাহন ও যন্ত্রপাতি সংগ্রহের প্রকল্প রয়েছে।
সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রিসভার নীতিগত অনুমোদনের পর ২০২৭ সালের জন্য সরকারি ছুটির পূর্ণাঙ্গ তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করতে যাচ্ছে সরকার। বুধবারই এ সংক্রান্ত চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করতে পারে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ রেখে আগামী বছরও পবিত্র ঈদুল ফিতরে পাঁচ দিন, ঈদুল আজহায় ছয় দিন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজায় দুই দিনের ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে দুই ঈদের মূল দিনে যথারীতি সাধারণ ছুটি বহাল থাকবে। তবে ঈদুল ফিতরের আগে দুই দিন ও পরে দুই দিন মিলিয়ে মোট চার দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে। একইভাবে ঈদুল আজহার ক্ষেত্রেও ঈদের পূর্বের দুই দিন এবং পরের তিন দিন মিলিয়ে মোট পাঁচ দিন নির্বাহী আদেশের ছুটির আওতায় আনা হয়েছে। এ ছাড়া শারদীয় দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীতে সাধারণ ছুটি এবং মহানবমীর দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি নির্ধারিত রয়েছে।
সব মিলিয়ে আগামী বছর সাধারণ ও নির্বাহী আদেশ মিলিয়ে মোট ২৯ দিন সরকারি ছুটি উপভোগ করবেন চাকরিজীবীরা। তবে ছুটির এই তালিকার মধ্যে সাত দিনই পড়েছে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্র ও শনিবারে। বিশ্লেষণে দেখা যায়, আগামী বছর সাধারণ ছুটি মোট ১৫ দিন, যার মধ্যে চার দিন সাপ্তাহিক ছুটির দিনে অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে নির্বাহী আদেশে নির্ধারিত ১৪ দিনের ছুটির মধ্যে তিন দিন পড়েছে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে। এর আগে গত ২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে ২০২৭ সালের জন্য ছুটির এই খসড়া প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদন পায়।
হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ৮টা থেকে বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল ৮টার মধ্যে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। একই সময়ের মধ্যে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৪০২ জন।
বুধবার (৪ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে আজকে পর্যন্ত হামের উপসর্গে দেশে ১ হাজার ১৬৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে ১০৫ শিশু। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে শিশুর মৃত্যু ১ হাজার ২৬৯ জনে পৌঁছেছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সন্দেহজনক হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৩২৫ জন এবং নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৭৭ জনের। মোট ১ হাজার ৪০২ শিশু হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে।
১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ৬৩৪ জন। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে ১ লাখ ৯৯ হাজার ৮৯৪ জন হাসপাতাল ছেড়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যমতে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ১৪৮ জনের। এ সময়ের মধ্যে হাম শনাক্ত হয়েছে ২৪ হাজার ১৫০ জনের।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ও প্রবীণ সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। বুধবার দুপুরে রাজধানীর মহাখালী এলাকায় অবস্থিত একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের কার্যালয় থেকে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এই আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে তাঁকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ও সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। সেখানে ডিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাঁর সঙ্গে কথা বলছেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ সম্পন্ন হওয়ার পরই তাঁর বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
পেশাগত জীবনে ১৯৭২ সালে একটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমে প্রতিবেদক হিসেবে সাংবাদিকতা শুরু করেন ইকবাল সোবহান চৌধুরী এবং ১৯৯৮ সালে তিনি সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমটির সম্পাদকের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তিনি দীর্ঘদিন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতৃত্বের পাশাপাশি বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া তিনি রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা গণমাধ্যমের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান পদেও অধিষ্ঠিত ছিলেন। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেন তিনি।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ঘোষিত মূল্যের চেয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দিয়ে এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন ভোক্তারা। সরবরাহ সংকটের পাশাপাশি দফায় দফায় দাম বৃদ্ধির কারণে সাধারণ ক্রেতা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। উল্লেখ্য, সংস্থাটি সম্প্রতি ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২,০৬০ টাকা নির্ধারণ করলেও খুচরা বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ২,৩০০ থেকে ২,৫০০ পর্যন্ত চড়া দামে।
খিলগাঁও ও মিরপুরের বাসিন্দাদের পাশাপাশি স্থানীয় রেস্তোরাঁ ও চা বিক্রেতারা জানান, প্রতি মাসেই বাড়তি মূল্যে গ্যাস রিফিল করতে গিয়ে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও ব্যবসা পরিচালনা ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে খুচরা ব্যবসায়ীরাও সরবরাহ ঘাটতি এবং পাইকারি পর্যায়ে চড়া দামকে এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করছেন। তাদের দাবি, আড়ত বা ডিলার পর্যায় থেকেই তাদের বেশি দামে সিলিন্ডার সংগ্রহ করতে হচ্ছে, যার ফলে নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না।
এছাড়া নির্দিষ্ট কোম্পানির বোতল রিফিল ও আদান-প্রদান সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ক্রেতাদের সাথে প্রায়শই তর্কে জড়াতে হচ্ছে তাদের। ফলে দফায় দফায় দাম বৃদ্ধি এবং বাজার মনিটরিংয়ের অভাবে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয় পক্ষই এখন দিশেহারা।
তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় যেকোনো ধরনের নাশকতা প্রতিহত ও সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বুধবার মিরপুরের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মো. মহিদুল ইসলাম।
তিনি জানান, মিরপুর-১, পল্লবী, রূপনগর, মিরপুর-১২ এবং কাফরুল সড়কসহ সংলগ্ন এলাকার স্পর্শকাতর স্থানগুলোতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে জেলা ও মহানগর পুলিশের পাশাপাশি স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি), কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা যৌথভাবে কাজ করছেন। নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যকার এই নিবিড় সমন্বয়ের ফলে জনদুর্ভোগ ও বিশৃঙ্খলা তৈরির অপচেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।
আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে সড়ক অবরোধ, সরকারি-বেসরকারি যানবাহনে ভাঙচুর এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংসের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে চিহ্নিত নাশকতাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নেওয়া হচ্ছে। তবে আটক ব্যক্তিদের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ না পাওয়া গেলে নিরীহ পথচারী ও সাধারণ শ্রমিকদের তাৎক্ষণিক অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে, যাতে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি প্রশাসনিক হয়রানির শিকার না হন।
মিরপুরের বিদ্যমান পরিবেশ নিয়ে মহিদুল ইসলাম উল্লেখ করেন, বুধবার শ্রমিকেরা সড়কে নেমে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ পাননি এবং এলাকার সার্বিক অবস্থা পুরোপুরি শান্ত রয়েছে। বিভিন্ন কারখানায় পুরোদমে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং শ্রমিকেরা স্বস্তিতে কাজে যোগ দিচ্ছেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, শ্রমিকদের স্বার্থ বিবেচনায় ইতিমধ্যে সরকার আনুষ্ঠানিক মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। ফলে প্রকৃত উৎপাদনমুখী শ্রমিকেরা কোনো ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়াতে পারেন না; বরং দেশের পোশাক খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে এবং রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করতে একটি চক্রান্তকারী মহল পেছন থেকে উসকানি দিচ্ছে। জনগণের জানমাল ও জাতীয় সম্পদ রক্ষায় পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং কোনো ধরনের নাশকতা বরদাশত করা হবে না বলেও তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দেন।
তৈরি পোশাক খাতের কর্মীদের জন্য নতুন ন্যূনতম বেতন কাঠামো কার্যকরের বিষয়ে একমত হয়েছেন মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরা। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বর থেকেই এটি কার্যকর ধরা হবে। তবে বর্ধিত এই মজুরি শ্রমিকরা হাতে পাবেন পরবর্তী বছরের জানুয়ারি মাসে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ নিম্নতম মজুরি বোর্ডের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রথম আনুষ্ঠানিক সভায় মজুরি বাস্তবায়নের সময়সীমা নিয়ে উভয় পক্ষ এই সমঝোতায় পৌঁছায়। পোশাক খাতের ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল।
বৈঠক শেষে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি বাবুল আক্তার বলেন, "নতুন মজুরি ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে এবং শ্রমিকরা জানুয়ারি থেকে তা পাবেন।"
একই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি এ বি এম শামসুদ্দিন জানান, "নতুন মজুরি কাঠামো ডিসেম্বর থেকে কার্যকর করা হবে এবং আগামী বছরের জানুয়ারি মাসে শ্রমিকরা নতুন হারে বেতন পাবেন।"
প্রধানমন্ত্রীর একটি রাজনৈতিক স্লোগানকে হাদিসের সঙ্গে তুলনা করে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়া ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) নির্বাহী পরিচালক (সচিব) মোহাম্মদ মসিউর রহমানকে পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন নিয়োগ-১ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেন উপসচিব জেতী প্রু। জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে গত ১ নভেম্বর রাজধানীতে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে ‘এক রুট, এক কোম্পানি’ উদ্যোগের অধীনে ছয়টি রুটে পরীক্ষামূলক বাস সার্ভিসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি ওই বিতর্কিত মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানের সঙ্গে হাদিসের তুলনা টানেন।
অনুষ্ঠানে মসিউর রহমান নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর স্লোগানকে হাদিস অভিহিত করলে অনেকে ভাবতে পারেন তিনি পরবর্তী কোনো ভালো পদায়নের জন্য তেল মারছেন; তবে তাঁর কাছে এটি চিরন্তন সত্য। তিনি আরও বলেন, ‘আমার আগে আমরা, সবার আগে দেশ—এ কথা কে অস্বীকার করতে পারবেন? স্বার্থপর, যার দেশপ্রেম নেই, সেই বলতে পারে, না, আমি মানি না। আমাকে বাদ দিয়ে আমরা সবাই মিলে থাকব, আর সবার আগে থাকবে দেশ। তারপরে “করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এটা হাদিস, হাদিস। এটা শাশ্বত বাণী।’
বক্তব্যের একপর্যায়ে মসিউর রহমান আরও বলেন, ‘এটা হুজুররা বললে হাদিস হয়ে যেত। তো ওনার মুখে দাড়ি নেই, টুপি পরেন না, এজন্য হাদিস হয়নি! এটা হাদিস।’ ধর্মীয় বাণীর সঙ্গে দলীয় স্লোগানের এমন তুলনামূলক বক্তব্যের ভিডিও মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নিয়ে নানা মহলে তীব্র সমালোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এই ঘটনার পরই সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে ডিটিসিএর দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করার সিদ্ধান্ত এলো।