সমাবেশের নামে ২৮ অক্টোবর বিএনপির সাংবাদিক নির্যাতন ও পুলিশ হত্যার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এগুলো আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে তুলে ধরে তাদের আসল চেহারা সামনে নিয়ে আসতে সাংবাদিক সমাজের প্রতি আহবান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ‘আমি সাংবাদিকদের বলবো, এসব সন্ত্রাসী কর্মকান্ড এবং দায়িত্ব পালনকালে আপনাদের ওপর যারা আক্রমণ করেছে তাদের আসল চরিত্র আন্তজাতিকভাবে আপনাদের তুলে ধরা উচিত।’
তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকদের মাটিতে ফেলে পিটানো আমার মনে হয় বাংলাদেশে এধরনের ন্যাক্কারজনক হামলার ঘটনা আর দেখা যায়নি। এর জবাব বিএনপিকে দিতে হবে।’
বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) আয়োজিত প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় সাংবাদিক ও পুলিশের ওপর আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘কোনো কোনো পত্রিকা এটাকে আবার কভার দেয়ারও চেষ্টা করেছে। তাদের ধিক্কার জানাই।’
সেদিন গায়ের জ্যাকেটে ‘প্রেস’ স্টিকার লাগিয়ে যুবদল কর্মীর সন্ত্রাস ও অগ্নিসংযোগে অংশ নেয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রকাশ্যে যারা এ ধরনের অপকর্ম করেছে তারা ধরা পড়ে গেছে। সাংবাদিক নির্যাতন ও পুলিশ হত্যার শাস্তি এদেরকে পেতেই হবে।’
প্রধানমন্ত্রী এ সময় নির্যাতিত ও ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ সাংবাদিকদের পাশে থাকার বিষয়েও সকলকে আশ্বস্ত করেন।
অনেক মিডিয়ায় নবম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন না হওয়াকে দুঃখজনক আখ্যায়িত করে প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের জন্য নতুন ১০ম ওয়েজ বোর্ড ঘোষণার প্রস্ততি চলছে বলেও জানান। আগামীতে জেলায় জেলায় সাংবাদিকদের আবাসনের জন্য প্লট বরাদ্দের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন।
বিএফইউজে সভাপতি ওমর ফারুক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। সহসভাপতি মধুসুদন মন্ডল শোক প্রস্তাব পাঠ করেন। পরে সকলে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক দীপ আজাদ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন।
বিএফইউজে’র সাবেক সভাপতি ও মহাসচিবদের অনুষ্ঠানে সম্মাননা দেয়া হয়। প্রবীণ সাংবাদিক নেতা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল, আব্দুল জলিল ভুঁইয়া, শাবান মাহমুদ এবং ওমর ফারুক প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সম্মাননা গ্রহণ করেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে জাতীয় তথ্যচিত্র নির্মাণে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পাশাপাশি নব্বইয়ের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস অন্তর্ভুক্তের ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মাধ্যমে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্যচিত্র ও প্রামাণ্য দলিলে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির পাশাপাশি এ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্তে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে ওই বৈঠকে।
আজ জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি আমানউল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় বৈঠকে এ ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করা হয়।
বৈঠকে কমিটির সদস্য এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, সংসদ সদস্য মো. আশরাফ উদ্দিন, মো. মজিবুর রহমান, নিলোফার চৌধুরী মনি, ফাহমিদা হক, মো. শফিকুল ইসলাম এবং মোসা. নাজমুন নাহার অংশগ্রহণ করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) অনুষ্ঠান ও সংবাদ পরিবেশনের সামাজিক প্রভাব বিবেচনায় নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এসময় বলা হয়, বিটিভির দায়িত্ব ও ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিটিভির উদ্দেশ্য কোনো বাণিজ্যিক টেলিভিশন চ্যানেলে রূপান্তরিত হওয়া নয়; বরং রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ একটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা। তাই বিটিভির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সুনির্দিষ্ট করা প্রয়োজন।
বৈঠকে আরো বলা হয়, সংবাদের গুরুত্ব অনুধাবন করে সংবাদ পরিবেশন করতে হবে। প্রাসঙ্গিকতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য অনুষ্ঠান নির্মাণ ও প্রচারের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করতে হবে।
বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোতে গত ১৭ বছরে অনৈতিকভাবে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো এবং পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত কর্মকর্তাদের নাম ও পদবিসহ তালিকা পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হয়। একই সময়ে বাতিল করা অনুষ্ঠান ও কর্মসূচির তালিকাও উপস্থাপনের কথা বলা হয়। মন্ত্রণালয়ের অধীন সব কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বিএফডিসি পরিদর্শনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।
আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে ও স্বাধীনভাবে ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করতে পারে, সে লক্ষ্যে বৈঠকে উপস্থিত সবাইকে সহযোগিতা ও সক্রিয় ভূমিকা রাখার সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকের শুরুতে কমিটির প্রথম বৈঠকের কার্যবিবরণী সংশোধনী সাপেক্ষে নিশ্চিত করা হয়।
বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, মন্ত্রণালয়ের অধীন অধিদপ্তরসমূহের মহাপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের প্রধানগণ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, তরুণদের ভূমিকার কারণেই দেশ আবার ঘুরে দাঁড়াতে এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে পেরেছে।
তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনামলে ভয়াবহ দুঃশাসনের মধ্যেও তরুণরা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র নিয়ে ভেবেছেন এবং সাহসের সঙ্গে নিজেদের চিন্তা তুলে ধরেছেন। তাদের এই প্রচেষ্টা প্রশংসার দাবিদার।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ‘দীর্ঘ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি: রাজনীতিবিদ ও পেশাজীবীদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জনঅধিকার পার্টি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, দীর্ঘদিনের ভয়াবহ দুঃশাসনের পর ছাত্র-জনতার উত্থান ঘটে। এরপর প্রায় দেড় বছরের মাথায় একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সরকার ক্ষমতায় এসেছে। তবে নতুন সরকারকে উত্তরাধিকার সূত্রে ব্যাংক লুটপাট, অর্থ পাচার, আর্থিক খাতের চরম অব্যবস্থাপনা ও লুটপাটের মতো নানা সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে দেশের ব্যাংক, বীমা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছিল। দেশে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যেখানে ক্ষমতাসীনদের ইচ্ছাই ছিল শেষ কথা। সরকারি প্লট থেকে শুরু করে কৃষিজমি ও গৃহস্থের গবাদিপশু পর্যন্ত প্রভাবশালীদের পছন্দ অনুযায়ী দখল করা হতো। দেশ তখন ভয়াবহ অন্ধকারের মধ্যে ছিল।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, দেশের প্রায় ৬ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণের বোঝা এখন সরকারের ওপর পড়েছে। আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা ঋণের নামে লুটপাট করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। এসব অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার দায় বর্তমান বিএনপি সরকারের নয়, বরং অতীতের লুটপাটনির্ভর অর্থনীতি থেকে দেশকে পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম ১২ দিনে দেশে ১২৯ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।
গত বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ১১৮ কোটি ১০ লাখ ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে এ সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ৯ দশমিক ২ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১২ অক্টোবর একদিনেই প্রবাসীরা ১২ কোটি ৪০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন।
এদিকে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে মোট ৯৮৮ কোটি ১০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৮৭৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার।
সে হিসাবে চলতি অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ১২ দশমিক ৭ শতাংশ।
মধ্যপ্রাচ্যের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প শ্রমবাজার সন্ধান এবং বিদেশফেরত কর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসনে বর্তমান সরকার নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে সাময়িকভাবে কিছু প্রবাসী কর্মহীন হয়ে পড়লেও যুদ্ধ বা সংকট নিরসন হওয়ার পর অঞ্চলটির পুনর্গঠন কার্যক্রমে বড় পরিসরে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) ৩০ বছরপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘সোনার মানুষ সম্মেলন ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোতে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের চিকিৎসাসেবা প্রদান এবং নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় সরকারগুলো সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দূতাবাসও অত্যন্ত তৎপর রয়েছে এবং রিয়াদে হামলার ঘটনার পরই রাষ্ট্রদূতসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীন প্রবাসীদের খোঁজখবর নিয়েছেন।
যাদের ভিসার মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়ে আসছে, তাদের বিষয়ে তিনি বলেন, দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমেই এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরব নিজে একটি দুর্যোগপূর্ণ সময়ের মধ্য দিয়ে যাওয়ায় এখনই তা নিয়ে তাড়াহুড়ো করে আলোচনা করার উপযুক্ত সময় নয়। সেখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে প্রবাসীদের কর্মস্থলে ফেরত যাওয়ার সুবিধার্থে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা শুরু করা হবে।
সংঘাতের শিকার বা ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীদের সহায়তার বিষয়ে নুরুল হক নুর উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের পরীক্ষিত ও দীর্ঘদিনের বন্ধু রাষ্ট্র সৌদি আরব। দেশটি যখন নিজেই একটি কঠিন সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন কেবল তাদের কাছে সহযোগিতা চাওয়া নয়, বরং তাদের পাশে দাঁড়ানোও বাংলাদেশের নৈতিক দায়িত্ব। যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ও নিহতদের পরিবারের জন্য সরকারিভাবে আর্থিক অনুদান দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় শ্রমচুক্তির আওতায় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিপূরণ দিলেও ছোট বা ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সহায়তার পরিমাণ কম হতে পারে। এ পর্যন্ত নির্দিষ্ট কমিটির মাধ্যমে নিহতদের পরিবারকে প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ টাকা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডার-ওয়েবার (Kirill Lander-Weber) এর হারিয়ে যাওয়া ল্যাপটপ উদ্ধার করে তাকে ফেরত দেয়া হয়েছে। ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি), বাংলাদেশ মোঃ আলী হোসেন ফকির বিপিএম আজ মঙ্গলবার সকালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে আনুষ্ঠানিকভাবে ল্যাপটপটি হস্তান্তর করেন। এসময় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত আইজিগণসহ অন্যান্য উধ্বর্তন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, জনাব ক্রিল বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান পরিদর্শনের উদ্দেশে গত ২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আসেন। তিনি গত ৭ অক্টোবর নাটোর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাওয়ার জন্য স্টেশনের ওয়েটিং রুমে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় তিনি তাঁর ল্যাপটপ ও ক্যামেরা ওয়েটিং রুমে রেখে পাশের একটি এটিএম বুথে টাকা উত্তোলনের জন্য যান। ফিরে এসে তিনি তাঁর ল্যাপটপ ও ক্যামেরা খুঁজে না পেয়ে নাটোর থানায় গিয়ে পুলিশের সহযোগিতা কামনা করেন। হারিয়ে যাওয়া ল্যাপটপে তাঁর গত ছয় মাসের কার্যক্রম ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট ছিল। তাঁর লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নাটোর সদর থানা পুলিশ, নাটোর জেলা পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ এবং ট্যুরিস্ট পুলিশের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একাধিক টিম হারানো ল্যাপটপ ও ক্যামেরা উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশ নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে গত ১১ অক্টোবর রাত আনুমানিক সাড়ে নয়টায় নাটোর সদর থানাধীন কাপুড়িয়াপট্টি এলাকার নূর ক্লোথিং স্টোর থেকে জার্মান পর্যটকের ল্যাপটপটি (ম্যাকবুক) উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
ক্রিল, বাংলাদেশ পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ ভ্রমণকালে তাঁর ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।
বিদেশি পর্যটকের অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি, হারানো ল্যাপটপ উদ্ধার এবং বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদারিত্ব ও ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আইজিপি আজ নাটোর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মনসুর রহমান ও সাব-ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেনকে আর্থিক পুরস্কার প্রদান করেন।
আইজিপি এ প্রশংসনীয় কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের কর্মদক্ষতা, আন্তরিকতা, দায়িত্ববোধ ও দলগত সাফল্যের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ পুলিশের সকল ইউনিটকে দ্রুত ও পেশাদার পুলিশি সেবা প্রদান, দেশি-বিদেশি সকল নাগরিককে নিরাপত্তা প্রদান ও আস্থা অর্জন, পর্যটনবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং জনমুখী পুলিশিংয়ের ক্ষেত্রে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনের নির্দেশনা প্রদান করেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে অতীতের কোনো কলঙ্ক বা বিতর্কের দায় বর্তমান সরকার নিতে প্রস্তুত নয় বলে সাফ জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শতভাগ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে প্রশাসনকে কঠোর ও পক্ষপাতহীন ভূমিকা পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো প্রার্থী বিশেষ সুবিধা পাওয়ার সুযোগ না পান।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে গ্রাম পুলিশ সমাবেশ আয়োজনের প্রস্তুতিমূলক সভার শুরুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, সরকার নির্বাচন পরিচালনায় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না; বরং নির্বাচন কমিশন যাঁদের দায়িত্ব দেবে, মাঠপর্যায়ের বেসামরিক প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনী তাদের নির্দেশনা অনুযায়ীই কাজ করবে। অতীতের বিতর্কিত নির্বাচনগুলোর পুনরাবৃত্তি এড়াতে একটি নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর পরিবেশ উপহার দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
আসন্ন নির্বাচনগুলো সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্বাচন শেষ না হলে এই অর্থ অব্যবহৃত থেকে পরবর্তী অর্থবছরে চলে যাবে, তাই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার নির্বাচন কমিশনের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য হলো আগামী জুনের মধ্যে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন সম্পন্ন করা। তবে পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে নির্বাচন কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও কর্মপরিকল্পনার ওপর।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভোট শেষ করতে কমিশনকে বারবার অনুরোধ ও তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট সচিবদের সঙ্গে বৈঠক করে ইতিমধ্যে কিছু তারিখ প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করেছে এবং বাকিগুলোর রূপরেখাও আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে। নির্বাচন আয়োজনের মূল দায়িত্ব ইসির হলেও, একটি সফল নির্বাচন উপহার দিতে তাদের সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে সরকার।
ডেঙ্গুর প্রকোপ ঠেকাতে এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করে তুলতে প্রতিটি পাড়া ও মহল্লায় নিয়মিত মাইকিংয়ের পাশাপাশি জুমার নামাজের খুতবায় সচেতনতামূলক বক্তব্য প্রচারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়া রোধে সব সরকারি সংস্থাকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিশেষ বৈঠকে এই নির্দেশনা প্রদান করেন সরকারপ্রধান।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আগামী কয়েক মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে সংশ্লিষ্ট সব সরকারি সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেশি, সেসব এলাকায় প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।
মশা নিধনে জনগণের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান, পাড়া-মহল্লায় মাইকিংয়ের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জুমার খুতবায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে আলোচনা করতে হবে।
এ ছাড়া সরকারি আবাসিক কোয়ার্টার ও হাসপাতাল প্রাঙ্গণ সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গু মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর কাজের মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়াতে হবে।
উক্ত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। এ ছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বৈঠকে অংশ নেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক শহরের জন এফ কেনেডি বা জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অবমাননা ও হেনস্তা করার যে ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটেছে, তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করবে সরকার। সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান এই কথা স্পষ্ট করেছেন।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যায় যে, বিমানবন্দরের ভেতরের অংশে হুইলচেয়ারে বসে থাকা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ঠিক কাছাকাছি গিয়ে কিছু লোক অত্যন্ত উগ্র ও উচ্চস্বরে নানা স্লোগান দিচ্ছেন। সেই সময় বিক্ষোভকারীরা তাকে লক্ষ্য করে অবমাননাকর শব্দ ব্যবহার করে চিৎকার করছিলেন। এছাড়া ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধ্বংস করে দেওয়ার ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলার পাশাপাশি দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন ধরনের উসকানিমূলক স্লোগান দেওয়া হয়। পরবর্তীতে তার সঙ্গে থাকা একজন সহযোগীর তাৎক্ষণিক সহায়তায় তিনি সেখান থেকে সামনের দিকে এগিয়ে যান।
এই প্রসঙ্গ টেনে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূস বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন এবং সেখানে বিমানবন্দর চত্বরে তাকে সুপরিকল্পিতভাবে হেনস্তা করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে। মূলত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর তিনি যেভাবে রাষ্ট্রের গুরুদায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়েছিলেন, সেটির ক্ষোভ থেকেই তার ওপর এই ধরনের অনভিপ্রেত হামলা বা হেনস্তার চেষ্টা করা হয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়। ড. ইউনূস সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও নীতি নিয়ে রাজনৈতিক বা আদর্শিক যৌক্তিক সমালোচনা যে কেউ করতেই পারেন, কিন্তু এ ধরনের অপমানজনক হেনস্তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
সরকারের উচ্চপর্যায়ের কোনো কোনো মন্ত্রীর ক্ষেত্রেও অতীতে এই ধরনের অসৌজন্যমূলক আচরণের অপচেষ্টা চালানো হয়েছে বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা। তিনি জানান, বিগত জুলাই মাসের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে সংহতি প্রকাশ করা দেশের একজন জনপ্রিয় অভিনেত্রীও একইভাবে হেনস্তার শিকার হয়েছেন। তাছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকা ব্যক্তিবর্গকেও মাঝেমধ্যেই এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে এই ধরনের বিচ্ছিন্ন ও উগ্র কর্মকাণ্ডগুলোকে সুনির্দিষ্টভাবে সন্ত্রাস হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
উপদেষ্টা আরও স্পষ্ট করে বলেন, এর আগে ঘটে যাওয়া ওই অভিনেত্রীর হেনস্তার ঘটনায় ইতোমধ্যে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। ঠিক একইভাবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তাকারীদের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একজন সাবেক প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে আন্তর্জাতিক প্রটোকল অনুযায়ী ড. ইউনূসের যে ভিভিআইপি মর্যাদা পাওয়ার কথা, মার্কিন ভূমিতে তার প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ও রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাপনায় কোথাও কোনো ঘাটতি বা নিরাপত্তা ব্যবস্থার কোনো ব্যত্যয় ঘটেছিল কি না, তা সরকার খতিয়ে দেখবে।
বিদেশের মাটিতে বসে বাংলাদেশের কোনো নাগরিক বা রাষ্ট্রীয় ব্যক্তির ওপর এ ধরনের হামলা বা অপমানের চেষ্টা বিনা চ্যালেঞ্জে ছেড়ে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে উচ্চারণ করেন যে, বিদেশে অবস্থানরত বা পলায়নপর মহলের কেউ এ ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পাঁয়তারা করলে তার বিরুদ্ধে সরকার সবসময় কঠোর ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোকে সম্পূর্ণ প্রভাবমুক্ত, অবাধ ও নিরপেক্ষ রাখতে সরকার কিংবা প্রশাসন কোনো অবস্থাতেই বিন্দুমাত্র হস্তক্ষেপ করবে না বলে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। সচিবালয়ে গ্রাম পুলিশের সমাবেশ আয়োজনের প্রস্তুতিমূলক সভার প্রাক্কালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সরকারের এই কঠোর অবস্থান পরিষ্কার করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের একদম অবস্থান যেটি, সেটি হচ্ছে যে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকার এবং প্রশাসন হস্তক্ষেপ করবে না। নির্বাচন কমিশন মাঠপর্যায়ে যাদের দায়িত্ব অর্পণ করবে, আমাদের সেই সিভিল ও পুলিশ প্রশাসনকে আমরা পরিষ্কার নির্দেশনা দিয়েছি এবং প্রয়োজনে আবারও দেব, যাতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে এবং সকল প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর জন্য সমান সুযোগ বা সমঅধিকার নিশ্চিত করার স্বার্থে যা যা করা দরকার তারা যেন ঠিক তাই করে। তিনি আরও যোগ করেন, এই নির্বাচন নিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বিন্দুমাত্র কোনো কলঙ্ক এই সরকার কাঁধে নিতে রাজি নয়।
অতীতে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন বিতর্কিত নির্বাচনের তিক্ত অভিজ্ঞতা পেছনে ফেলে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে একটি অনন্য রোল মডেলে রূপ দেওয়া সম্ভব কি না—এমন এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান যে, রোল মডেলের কথা আমি বলব না, আমরা বলব যে অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য চেষ্টা করব। তিনি আক্ষেপ করে বলেন যে, এ দেশে তো অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় সরকারের ক্ষেত্রে সেভাবে অনুষ্ঠিত হয়নি। তবে আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করব যাতে সাধারণ মানুষ একটি উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যে এবং আনন্দের আমেজে একটি নিরপেক্ষ ভোট উৎসব উপভোগ করতে পারে। এই লক্ষ্য অর্জনে নির্বাচন কমিশনকে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে বলে তিনি ইনশাআল্লাহ ব্যক্ত করেন।
চলমান অর্থবছরের নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের সব ধরনের নির্বাচন সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশনকে সরকারের পক্ষ থেকে আরও একবার অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। এই সমস্ত নির্বাচন সফলভাবে আয়োজনের উদ্দেশ্যে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার একটি উল্লেখযোগ্য বাজেট বরাদ্দ করে রাখা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত সরকারের এই সিদ্ধান্তই বহাল রয়েছে এবং আমরা নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানিয়েছি যে এর মধ্যে যদি তাদের নতুন কোনো তারিখ নির্ধারণ করার প্রয়োজন পড়ে, তবে তা চূড়ান্ত করে এই সমস্ত নির্বাচন যেন তারা আগামী জুনের মধ্যে অবশ্যই শেষ করে দেন।
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন মে মাস পর্যন্ত গড়ালে বাকি নির্বাচনগুলো জুনের মধ্যে আয়োজন করা কি আদৌ সম্ভব হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান যে, এই বিষয়ে নির্বাচন কমিশন আপনাদের সুনির্দিষ্ট জবাব দেবে, কারণ আমরা তাদের বারবার অনুরোধ করেছি যেন বর্তমান এই অর্থবছর শেষ হওয়ার আগেই নির্বাচনগুলো সম্পন্ন করা হয়। তিনি বলেন, আমরা প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকা বাজেট বরাদ্দ রেখেছি। এখন উনারা নির্বাচন শেষ করতে না পারলে বাজেট আমাদের রয়ে যাবে, পরের অর্থবছরে চলে যাবে। এই সিদ্ধান্তটা উনাদেরই নিতে হবে। সরকারের মূল নীতি পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, সরকারের পরিষ্কার অবস্থান হলো জুনের মধ্যে সমস্ত নির্বাচন যেন তারা শেষ করে দেয়, তা সে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা কিংবা ইউনিয়ন পরিষদ যেটাই হোক না কেন।
নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি জানান যে, এটি তো মূলত সচিব পর্যায়ের একটি নিয়মিত সভার মাধ্যমে হয়ে থাকে, যেখানে সরাসরি সরকারের সঙ্গে নির্বাচন কমিশন কোনো রুদ্ধদ্বার বৈঠক করে না; বরং নির্বাচন কমিশন নিজস্ব উদ্যোগে একটি সভা করে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবদের আমন্ত্রণ জানায় এবং সেখানে ক্যাবিনেট সচিবের নেতৃত্বে সচিবরা উপস্থিত থাকেন। সচিবদের সঙ্গে সেই বৈঠকের পরই তারা স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলোর প্রাথমিক তারিখগুলো সম্ভবত নির্ধারণ করে থাকে এবং পরবর্তী নির্বাচনগুলোর কর্মপরিকল্পনা কবে ও কীভাবে সম্পন্ন হবে তা ওই সচিব পর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমেই ঠিক করা হয়।
নির্ধারিত জুনের মধ্যে সমস্ত নির্বাচন শেষ করা আদৌ সম্ভব হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত মন্তব্য নির্বাচন কমিশনের ওপর ছেড়ে দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি আপনাদের নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে জেনে নিতে হবে। কারণ নির্বাচন সফলভাবে পরিচালনা করার মূল দায়িত্ব তো সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশনেরই। এখন তারা কতটুকু সক্ষমতা দেখাতে পারবেন বা পারবেন না, তার জবাব তারাই প্রদান করবেন, কারণ নির্বাচন তো আর আমরা পরিচালনা করব না, নির্বাচন তো নির্বাচন কমিশনকেই করতে হবে। পরিশেষে তিনি গণমাধ্যমের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, আমরা সরকারের পক্ষ থেকে আবারও আপনাদের মাধ্যমে আজকে বলছি যে এই অর্থবছরের মধ্যে যাতে নির্বাচনগুলো তারা শেষ করে দেন, এ ব্যাপারে আপনাদের মাধ্যমে আমি নির্বাচন কমিশনকে আজকে আবারও বিনয়ের সঙ্গে অনুরোধ করছি।
দেশের প্রধান প্রশাসনিক কেন্দ্র সচিবালয়ের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার ও কড়া নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার স্বার্থে সংসদ সদস্যদের ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচলের ক্ষেত্রে নতুন ও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এখন থেকে সম্মানিত সংসদ সদস্যরা তাদের নিজস্ব গাড়িতে যাতায়াতের সময় কেবল নিজ চালক এবং ব্যক্তিগত কর্মকর্তা ছাড়া অন্য কোনো অতিরিক্ত ব্যক্তিকে ভেতরের চত্বরে প্রবেশের সুযোগ দিতে পারবেন না।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে সচিবালয়ের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি উচ্চপর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত বৈঠকে সংশ্লিষ্ট একাধিক মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং দেশের শীর্ষস্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয় যে, এমপিদের ব্যক্তিগত গাড়িতে যাতায়াতের সময় নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের বাইরে অন্য কাউকে সঙ্গে রাখা যাবে না এবং প্রবেশকালে তাদের সঠিক পরিচয় ও বৈধ অনুমোদন কঠোরভাবে যাচাই করা হবে।
বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে দেখা গেছে অনেক সংসদ সদস্য তাদের ব্যক্তিগত গাড়িতে একবারে চার থেকে পাঁচজন বা তারও বেশি অতিরিক্ত ব্যক্তিকে নিয়ে সচিবালয়ে প্রবেশ করতেন। গাড়িতে থাকা এই অতিরিক্ত ব্যক্তিদের পরিচয় ও তারা যথাযথ অনুমোদিত কি না, তা সবসময় যাচাই করা নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াত। বিশেষ করে অতীতে বিভিন্ন দলের সংসদ সদস্যদের গাড়িতে থাকা বাড়তি লোকজনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনকারী সদস্যরা অনেক সময় যথাযথ কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারতেন না বলে নানাবিধ অভিযোগ রয়েছে।
সচিবালয় চত্বরে দেশের গুরুত্বপূর্ণ সব মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় এটি একটি অতি সংবেদনশীল প্রশাসনিক জোন। যথাযথ যাচাই-বাছাই বা পূর্বানুমতি ছাড়া যেকোনো অতিরিক্ত ব্যক্তির অবাধ প্রবেশ সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিতে পারে। সেই সার্বিক দিক বিবেচনা করেই প্রবেশাধিকার সীমিত করার এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন এই নির্দেশনা পুরোপুরি কার্যকর হলে তা সচিবালয়ের প্রবেশদ্বারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে বড় ভূমিকা পালন করবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে অতিরিক্ত ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণসহায়তা পাওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আলোচনা ও পরবর্তী কার্যক্রম সম্পন্ন করতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।
মঙ্গলবার থাইল্যান্ডের ব্যাংককে বিশ্বব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে কোনো সিদ্ধান্ত হচ্ছে না। এটা একটা আলোচনা। এই আলোচনার ভিত্তিতে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। এটি একটি প্রক্রিয়া, যা আগামী কয়েক মাস চলবে।’
তিনি বলেন, আলোচনার মাধ্যমে ভবিষ্যতে দুই পক্ষের করণীয় নির্ধারণ এবং সম্ভাব্য সিদ্ধান্ত গ্রহণের ভিত্তি তৈরি হচ্ছে। এ বিষয়ে ঢাকায়ও আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে আমির খসরু বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক নীতি, কর্মসূচি এবং মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের সমঝোতা রয়েছে। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠা এবং বর্তমান পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সরকারের গৃহীত নীতির সঙ্গেও সংস্থাটি একমত।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশের অর্থনীতি সংকটের মধ্যে ছিল। আগের সময়ের বিভিন্ন দায়দায়িত্বের পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক বিপর্যয়ও মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এসব বিষয় বিশ্বব্যাংক অনুধাবন করছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশের পাশে থাকতে খুবই আগ্রহী। আমরা যে নীতি গ্রহণ করেছি, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার পর আগামী দিনের জন্য যে অর্থনৈতিক কর্মসূচি ও গতিপথ নির্ধারণ করেছি, তার সঙ্গে বিশ্বব্যাংক পুরোপুরি একমত।’
বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে অংশীদারত্বের কাঠামো নিয়েও আলোচনা চলছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি লিখিত প্রস্তাব জমা দেওয়া হয়েছে। বিশ্বব্যাংক বিভিন্ন সুপারিশ ও পরামর্শ দিয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশও নিজেদের প্রস্তাব তুলে ধরেছে।
মূল্যস্ফীতি ও মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি নিয়ে বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) পূর্বাভাস সম্পর্কে জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, সরকার অন্য কোনো সংস্থার প্রক্ষেপণকে বিতর্কিত করতে চায় না। সংস্থাগুলো নিজস্ব হিসাব ও বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এসব পূর্বাভাস দিয়েছে।
তিনি বলেন, সরকার বাজেটে নির্ধারিত অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কাজ করছে। বাজেটে দেওয়া প্রক্ষেপণগুলো পূরণ করা সম্ভব হবে বলেও সরকার আশা করছে। সূত্র: বাসস
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যে কোনো ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলা ও ক্ষয়-ক্ষতি কমাতে আগাম প্রস্ততি গ্রহণ এবং যথাযথ নগর পরিকল্পনার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি মানব সৃষ্ট দুর্যোগও আছে। কিন্তু এটা নিয়ে আমরা খুব কম চিন্তা করি। ঢাকা শহরের দিকে তাকিয়ে আজ যে আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি হয় তা হলো ভূমিকম্প হলে শহরটি একেবারে মিশে যাবে। আমরা দেখেছি বিশ্বের বিভিন্ন শহরে পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থা না থাকার কারণে প্রাণহানির সংখ্যা অনেক বেশি হয়। তাই এই বিষয়গুলোতে আমাদের অনেক বেশি দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন।
তিনি আরো বলেন, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিশেষ করে বাড়িঘর নির্মাণের ক্ষেত্রে নগর ব্যবস্থাপনা, নদীর প্রবাহকে ঠিক রাখা এবং নদীকে দূষণমুক্ত রাখার বিষয়গুলোতে অত্যধিক জোর দেওয়া দরকার।
রাষ্ট্রপতি আজ সকালে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মুন্সী রফিকুল আলম। সূত্র: বাসস
শারদীয় দুর্গোৎসবের সময় সার্বিক আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা বিধানের লক্ষ্যে গোটা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রায় দশ হাজার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েন রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আসন্ন আগামী ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত এই বিশেষ দায়িত্ব পালন করবেন সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা। বিজিবি সদর দপ্তরের অপারেশন ডিরেক্টর লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান যে, এই ধর্মীয় উৎসবটি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করার উদ্দেশ্যে একটি সমন্বিত নিরাপত্তাব্যবস্থা চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই কৌশলের আওতায় নিয়মিত যাতায়াত বা টহল বৃদ্ধি, গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার এবং স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ বাহিনীর পাশাপাশি পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ বজায় রাখা হবে।
যেকোনো ধরনের অপ্রত্যাশিত ঝুঁকি আগেভাগেই শনাক্ত করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্য কোনো মাধ্যমে ছড়ানো গুজব ও সাম্প্রদায়িক প্ররোচনার বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক দৃষ্টি রাখা এবং উদ্ভূত জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর সর্বোচ্চ জোর দেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান আরও জানান, আন্তর্জাতিক সীমান্ত রেখার আট কিলোমিটারের মধ্যে এবং ব্যাটালিয়ন হেডকোয়ার্টারের কাছাকাছি এলাকার মোট ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপে সরাসরি নিরাপত্তা সহায়তা দেবে বিজিবি। এর পাশাপাশি তুলনামূলক দূরবর্তী ও দুর্গম অঞ্চলে দ্রুত গতিতে টহল এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করার স্বার্থে পর্যাপ্তসংখ্যক অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনের পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়েছে।
রাজধানী ঢাকায় বিজিবি মোতায়েন ও তাদের কার্যক্রমের পরিধি সম্পর্কে তিনি বলেন, সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনা এবং সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে তা নির্ধারণ করা হবে। প্রয়োজন সাপেক্ষে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে যৌথভাবে টহল দেওয়া, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা এবং যেকোনো জরুরি মুহূর্তে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে সদা প্রস্তুত থাকবে বিজিবি।
তিনি আরও যোগ করেন যে, দুর্গাপূজা হলো আমাদের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের এক উজ্জ্বল বহিঃপ্রকাশ। সনাতন ধর্মাবলম্বী নাগরিকরা যাতে কোনো ধরনের ভীতি ছাড়াই সম্পূর্ণ নিরাপদে ও আনন্দের সঙ্গে তাদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সর্বদা বদ্ধপরিকর থাকবে।