আগামী ১৫ নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালে হজে যাওয়ার জন্য নিবন্ধন শুরু হবে। নিবন্ধনের শেষ সময় ১০ ডিসেম্বর, ২০২৩।
বৃহস্পতিবার ২০২৪ সালের হজের নিবন্ধন বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়, সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনার (হজ এজেন্সি) হজযাত্রীরা ১৫ নভেম্বর থেকে নিবন্ধনের টাকা জমা দিতে পারবেন। নিবন্ধনের টাকা জমা নেওয়া হবে ১০ ডিসেম্বর, ২০২৩ পর্যন্ত।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী বছরের ১৬ জুন (১৪৪৫ হিজরি সনের ৯ জিলহজ) পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। চলতি বছরের মতো আগামী বছরও (২০২৪ সাল) বাংলাদেশ থেকে এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজ করতে পারবেন। এরমধ্যে সরকারি মাধ্যমের কোটায় ১০ হাজার ১৯৮ জন ও বেসরকারি এজেন্সির কোটায় এক লাখ ১৭ হাজার জন হজ পালন করতে পারবেন বলে ধর্ম মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে।
সরকারিভাবে আগামী বছর হজে যেতে সাধারণ প্যাকেজে ৫ লাখ ৭৮ হাজার ৮৪০ টাকা খরচ ধরা হয়েছে। বিশেষ হজ প্যাকেজের মাধ্যমে হজ পালনে খরচ হবে ৯ লাখ ৩৬ হাজার ৩২০ টাকা। সরকারি হজ প্যাকেজের সঙ্গে সমন্বয় করে হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) হজ প্যাকেজ ঘোষণা করবে।
প্রাক-নিবন্ধনের সময় নেওয়া ২৯ হাজার টাকা বাদে প্যাকেজের বাকি টাকা দিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা এবং অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও গভীর করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে বাগেরহাটের মোংলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে এই দ্বিপক্ষীয় চুক্তিটি সম্পন্ন হয়।
সমঝোতা স্মারকে বাংলাদেশের পক্ষে ইনভেস্ট বাংলাদেশের ইন্ডাস্ট্রিয়াল জোন বিভাগের সদস্য সালেহ আহমেদ এবং চীনের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের (সিআরসিসি) সহযোগী সংস্থা চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশনের চেয়ারম্যান লি চংইয়াং স্বাক্ষর করেন। আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পাদনকালে ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং সিআরসিসির চেয়ারম্যান দাই হেগেন উপস্থিত ছিলেন।
স্বাক্ষরিত এই চুক্তির আওতায় পরিবহন ও যোগাযোগ পরিকাঠামো, আধুনিক লজিস্টিকস ব্যবস্থাপনা, ভারী শিল্পায়ন, টেকসই জ্বালানি, পরিবেশ সুরক্ষা এবং কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নসহ নানাবিধ কৌশলগত খাতে বৃহৎ আকারে কোর ও বৈদেশিক বিনিয়োগের সুযোগ প্রসারিত হবে। চুক্তি স্বাক্ষর পর্বের পর প্রধানমন্ত্রী সফররত উচ্চপর্যায়ের চীনা প্রতিনিধিদলের সঙ্গে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সরাসরি মতবিনিময় করেন।
এদিকে সরকারি এ সফরের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মোংলা বন্দর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণসহ সংলগ্ন সহায়ক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।
সাম্প্রতিক তীব্র শ্রমিক অসন্তোষের ধাক্কা কাটিয়ে সাভার ও আশুলিয়ার শিল্পাঞ্চলে কর্মচাঞ্চল্য এবং স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরতে শুরু করেছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ঢাকা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলসহ (ডিইপিজেড) আশপাশের তৈরি পোশাক কারখানাগুলোতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সকাল থেকেই শ্রমিকেরা নিজস্ব পরিবহন কিংবা পায়ে হেঁটে নির্বিঘ্নে নিজ নিজ কর্মস্থলে প্রবেশ করে কাজে যোগ দেন।
শিল্প পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাই এলাকার শিল্প কারখানাগুলোতে উৎপাদন ব্যবস্থা পুরোপুরি সচল রয়েছে এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে হাতে গোনা দু-একটি কারখানায় শ্রমিকেরা সকালে প্রবেশ করলেও পরবর্তীতে কাজে অংশ না নিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার মতো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটেছে। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি প্রতিরোধ ও সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আশুলিয়া ও হেমায়েতপুরের গুরুত্বপূর্ণ কারখানাসমূহের প্রধান ফটকে অতিরিক্ত পুলিশ ও বিজিবি সদস্য মোতায়েন রয়েছে।
শিল্পাঞ্চলে নাশকতা, সড়ক অবরোধ ও যেকোনো ধরনের ভাঙচুর প্রতিহত করতে শিল্প পুলিশের সঙ্গে সমন্বিতভাবে বিজিবির বিশেষ দল সার্বক্ষণিক টহল কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পাশাপাশি সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ এবং তাৎক্ষণিক শৃঙ্খলা নিশ্চিতে নয়জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালতের তদারকি অব্যাহত রয়েছে।
বাগেরহাটের মোংলায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি মোংলা বন্দরের হেলিপ্যাডে অবতরণ করে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি।
মোংলায় পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত; পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম; নৌপরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান, খুলনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য আলী আসগর লবি এবং খুলনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য এস কে আজিজুল বারী হেলাল।
তিনি বলেন, মোংলায় প্রধানমন্ত্রীর দুটি কর্মসূচি রয়েছে। এসব কর্মসূচি শেষে তিনি বাগেরহাট জেলা সদরে হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। এরপর সড়কপথে খুলনায় যাবেন প্রধানমন্ত্রী।
সেখানে জেলা স্টেডিয়ামে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)-এর উদ্বোধন শেষে বিকেল সাড়ে ৪টায় হেলিকপ্টারে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। বিকেল ৫টা ১৫ মিনিটে ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দরে অবতরণের কথা রয়েছে তাঁর।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, বিএনপির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধা, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের (এসএসএফ) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুস সামাদ চৌধুরী, প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) কমান্ড্যান্ট ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলাম অরিকুল আলম, প্রটোকল অফিসার কামরুল ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর এডিসি স্কোয়াড্রন লিডার সৈয়দ নাজমুল হোসেন। সূত্র: বাসস
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ও টেলিভিশন চ্যানেল ডিবিসির সাবেক চেয়ারম্যান ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে যাত্রাবাড়ী থানার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
বুধবার দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) মো. শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে যাত্রাবাড়ী থানার বৈষম্যবিরোধী হত্যা মামলায় (মামলা নাম্বার ২৩) গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। যাত্রাবাড়ী থানার ২৬ আগস্ট ২০২৪ তারিখের একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়। সে মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
এর আগে বুধবার দুপুরে মহাখালীর ডিবিসি কার্যালয় থেকে ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে মিন্টু রোডের ডিবি কার্যালয়ে তুলে আনেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের সদস্যরা।
প্রধানমন্ত্রীর শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেছেন, নতুন মজুরি বোর্ডের ওপর সরকারের পূর্ণাঙ্গ আস্থা রয়েছে। বোর্ড শ্রমিক ও মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে যৌক্তিক, গ্রহণযোগ্য ও ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ করবে।
বুধবার (৪ নভেম্বর) সচিবালয়ে শ্রম মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে শ্রমিক, মালিক ও সরকারের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মাহদী আমিন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী।
মাহদী আমিন বলেন, আগে পাঁচ বছর অন্তর মজুরি বোর্ড গঠন করা হলেও এবার তিন বছর অন্তর নতুন বোর্ড গঠন করা হয়েছে। বোর্ডের প্রথম বৈঠকও স্বল্পতম সময়ের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে। দ্বিতীয় বৈঠক দ্রুত আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
নভেম্বর ও ডিসেম্বরের মধ্যে আলোচনা শেষ করে ডিসেম্বরেই নিম্নতম মজুরি ঘোষণা করা হবে বলে বোর্ড জানিয়েছে। মাহদী বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, সেখানে অবশ্যই শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা হবে, শিল্পের স্বার্থ রক্ষা হবে এবং বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা হবে।’
পোশাকশিল্পের স্বার্থে শ্রমিক, মালিক ও সরকারকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে এবং তৈরি পোশাকশিল্পের স্বার্থ রক্ষা করতে সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই এ খাতের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে।
মাহদী আমিন আরও বলেন, ঐতিহাসিকভাবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার শাসনামলে এ খাতের উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বর্তমান সরকারও পোশাকশিল্পের উন্নয়ন ও শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করতে চায়।
শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, বৈঠকে মালিক, শ্রমিক ও সরকারের প্রতিনিধিদের মধ্যে যে আন্তরিকতা দেখা গেছে, তা কারখানাগুলোতেও বজায় রাখা প্রয়োজন। আজ বৃহস্পতিবার থেকে শ্রমিকেরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কাজে ফিরবেন বলে সরকার প্রত্যাশা করে। তবে মজুরি বোর্ডের সঙ্গে সংলাপ, পরামর্শ ও আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
পোশাক শিল্পে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন মাহদী আমিন। তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ শ্রমিকদের মধ্যে কিছু বহিরাগত ঢুকে উসকানি দিচ্ছেন এবং উত্তেজনা সৃষ্টি করছেন। বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের ঘটনা ঘটছে। এতে সাধারণ শ্রমিকদের রক্ত ঝরছে।
এ পরিস্থিতিতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে মাহদী আমিন বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আন্তরিকতা ও ধৈর্যের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করবে বলে সরকার আশা করে।
শ্রমিকদের অবদানের কথা উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, শ্রমিকদের ত্যাগ ও সংগ্রামের ওপর ভিত্তি করেই ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ স্লোগান বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে। সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও মমত্ববোধ নিয়ে শ্রমিকদের পাশে থাকবে। মজুরি বোর্ডও নিরপেক্ষভাবে মজুরি ঘোষণা করবে বলে সরকারের বিশ্বাস।
এ উপদেষ্টা বলেন, দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক পরিবর্তনেও শ্রমিকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনেও তাদের বড় অবদান ছিল। বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় পরিচয় হলো, সবাই বাংলাদেশি। তাই সবাইকে একসঙ্গে দেশের পুনর্গঠনে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
মেট্রোরেল, সেতু ও রেলকোচ কেনার মতো তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো প্রকল্পে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে অর্থায়ন চেয়েছে বাংলাদেশ। দেশটির সঙ্গে ২০২৩–২০২৭ মেয়াদে ৩০০ কোটি ডলারের অর্থনৈতিক উন্নয়ন সহযোগিতা তহবিল (ইডিসিএফ) থেকে এসব প্রকল্পে অর্থায়নের সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল দক্ষিণ কোরিয়া সফরের দ্বিতীয় দিনে গত মঙ্গলবার দেশটির এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক অব কোরিয়া (কেক্সিম), কোরিয়া ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন (কেআইসি), শীর্ষস্থানীয় কোম্পানি ও প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। এসব আলোচনায় বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রকল্পে অর্থায়ন, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয় গুরুত্ব পায়।
বুধবার (৪ নভেম্বর) অর্থ মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশের অর্থায়ন চাওয়া তিন প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে ঢাকা এমআরটি লাইন-৫-এর দক্ষিণ রুট, মতলব উত্তর–গজারিয়া সেতু এবং ২৬০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী রেলকোচ কেনা। এসব প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়ে কোরীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের ৩০০ কোটি ডলারের ইডিসিএফ কাঠামোগত চুক্তি চলমান রয়েছে। ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ তহবিল থেকে ৩০টি প্রকল্পে ২৭৮ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন করা হয়েছে। অবশিষ্ট অর্থ ব্যবহারে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে একটি সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার কেক্সিমের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী হোয়াং কিয়নের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়। কেক্সিম জানায়, তহবিলের অগ্রাধিকার প্রকল্পগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কোরীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে মেট্রোরেলসহ তিন প্রকল্পে অর্থায়নের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
এদিকে দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থ ও অর্থনীতি মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় উপমন্ত্রী চ্যাং হুর সঙ্গে বৈঠকে দুই দেশের সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও কৌশলগত পর্যায়ে উন্নীত করার আহ্বান জানান অর্থমন্ত্রী। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় পরিচালিত সমন্বিত প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়ন (আইজিএনডি) উদ্যোগের মহাপরিকল্পনা প্রণয়নে দক্ষিণ কোরিয়ার কারিগরি সহায়তাকে স্বাগত জানান তিনি।
বৈঠকে কোরীয় পক্ষ এআই, ডিজিটাল রূপান্তর, বিকল্প অর্থায়ন এবং ভবিষ্যতে ইডিসিএফ সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করে। আইজিএনডি উদ্যোগে আরও বিস্তৃত অংশগ্রহণ নিয়েও আলোচনা অব্যাহত রাখার কথা জানায় দেশটি।
বাংলাদেশের অবকাঠামো, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও ডিজিটাল খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়েও কেআইসির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ১০০ থেকে ২০০ কোটি ডলারের বাংলাদেশ সার্বভৌম তহবিলকে সম্ভাব্য বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। কোরীয় তহবিল ব্যবস্থাপকদের মাধ্যমে কেআইসির ইকুইটি বিনিয়োগের সঙ্গে কেক্সিমের অর্থায়ন যুক্ত করার সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখেছে দুই পক্ষ।
প্রযুক্তি সহযোগিতার ক্ষেত্রে এআইকে নতুন সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এলজি এআই রিসার্চের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ভাষার উপযোগী বৃহৎ ভাষা মডেল (এলএলএম) তৈরির বিষয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, উৎপাদনশিল্প ও সরকারি সেবায় এআই ব্যবহারের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়।
অন্যদিকে, ইয়ংওনের আয়োজনে কোরীয় বিনিয়োগবিষয়ক ব্যবসায়িক গোলটেবিল বৈঠকে বাংলাদেশের হালকা প্রকৌশল ও যন্ত্রাংশ উৎপাদন খাতের সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়। কোরীয় কোম্পানিগুলোকে যৌথ উদ্যোগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং মূল্য সংযোজনভিত্তিক সরবরাহব্যবস্থায় বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়।
দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে চলমান অর্থনৈতিক সহযোগিতাকে কাজে লাগিয়ে অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি খাতে নতুন সুযোগ তৈরির লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশের এ সফর চলছে।
বাংলাদেশে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা উপস্থিতির কারণে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানে চীনের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ হাইশিংয়ের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ আহ্বান জানান।
বুধবার (৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য জানান।
সাক্ষাৎকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে পৌঁছে দেন লিউ হাইশিং। জবাবে প্রধানমন্ত্রীও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ও দেশটির প্রিমিয়ার (প্রধানমন্ত্রী) লি ছিয়াংকে শুভেচ্ছা জানান।
লিউ হাইশিং বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বেইজিং সফরের সময় দুই দেশের ভবিষ্যৎ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের একটি নতুন যুগের যৌথ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সেই ঘোষণার আলোকে পারস্পরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো আরও সম্প্রসারিত হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে চীনের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশের প্রতি চীনের অঙ্গীকার অপরিবর্তিত রয়েছে এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর ও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের সম্ভাবনার প্রতিও আস্থা প্রকাশ করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপিত হয়েছিল শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়। দীর্ঘদিন ধরে দুই দেশের জনগণের হৃদয়ে এ সম্পর্কের বিশেষ স্থান রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঐতিহাসিক এই সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তা এগিয়ে নেওয়া এখন তাদের দায়িত্ব। তিনি আশা করেন, নতুন প্রজন্মের হাত ধরে দুই দেশের বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার এ ঐতিহ্য আরও এগিয়ে যাবে।
তারেক রহমান বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের চীন সফরের পর বাংলাদেশে খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়, যা পরবর্তী সময়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। এ কর্মসূচি কৃষির উন্নয়নে ব্যাপক অবদান রাখে। বর্তমান সরকারও ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ নিয়েছে, যা কৃষক ও সাধারণ মানুষের উপকারে আসবে। সেই সাথে জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায়ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে৷
চীনের কমিউনিস্ট পার্টি ও বিএনপির মধ্যে দলীয় পর্যায়ে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন উভয় পক্ষ।
লিউ হাইশিং বলেন, দুই দলের সম্পর্ক আরও বিস্তৃত ও বহুমাত্রিক করার বিষয়ে চীন আগ্রহী। এ সময় তিনি বিএনপির মহাসচিবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলকে চীন সফরের আমন্ত্রণ জানান।
বৈঠকে বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার অর্থনৈতিক করিডর নিয়েও আলোচনা হয়। পাশাপাশি রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনোমিক পার্টনারশিপ (আরসিইপি) এ বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির জন্য চীনের সমর্থনের কথা জানান লিউ হাইশিং।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৩ লাখ রোহিঙ্গার দীর্ঘদিনের উপস্থিতির কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতি, সমাজ, জনমিতি ও পরিবেশের ওপর সৃষ্ট চাপের বিষয়টি তুলে ধরেন। এ সংকট সমাধানে চীনের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
জবাবে লিউ হাইশিং বলেন, চীন রোহিঙ্গা সংকট সম্পর্কে অবগত। তিনি এ বিষয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উদ্বেগের কথা চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে অবহিত করবেন বলে জানান। বৈঠকে চীনের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের উন্নয়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার পাশাপাশি দুই দেশের রাজনৈতিক দল ও জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সাক্ষাৎকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে, লিউ হাইশিংয়ের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনা দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ড. লিউ ইউয়িন, চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক পেং শিউবিন এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশ আজ বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বহির্বিশ্বের সাথে যে কোনো সময়ের চেয়ে বেশি সংযুক্ত। এ অবস্থায় আন্তর্জাতিক যাতায়াত ও বাণিজ্য সহজতর করার পাশাপাশি সীমান্ত অতিক্রমকারী ঝুঁকি মোকাবিলায় প্রযুক্তিনির্ভর ও আন্তর্জাতিক মানের ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে।
তিনি বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকায় হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও-এর মেঘনা হলে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে ইমিগ্রেশন ও বর্ডার গভর্নেন্স সংক্রান্ত আইওএম কৌশলগত রূপরেখা (২০২৭-২০৩১)’ শীর্ষক ব্রিফিং অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আধুনিক, সমন্বিত ও প্রযুক্তিভিত্তিক নিরাপদ সীমান্ত ব্যবস্থাপনা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি জাতীয় নিরাপত্তা সুসংহত করতে অপরিহার্য ভূমিকা পালন করে।
মন্ত্রী বলেন, সীমান্ত পরিচালনায় জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বৈধ ভ্রমণ ও বাণিজ্যকে গতিশীল করতে হবে। সরকার গৃহীত জাতীয় সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কৌশল এবং পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত সংস্কার ও উন্নয়ন রূপরেখা(২০২৭-২০৩১)-এর ওপর আলোকপাত করে তিনি জানান, ডিজিটাল রূপান্তর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দায়িত্বশীল ব্যবহার, কাগজবিহীন প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং সরকারি সেবাগুলোর মধ্যে আন্তঃকার্যক্ষমতা বৃদ্ধিই বর্তমান সরকারের মূল অগ্রাধিকার।
ইমিগ্রেশন ব্যবস্থায় বাংলাদেশ পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, নীতি ও আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে আমাদের বিমানবন্দর, স্থলবন্দর ও ইমিগ্রেশন চেকপোস্টগুলোর কার্যক্রমগত সক্ষমতা বহুগুণ বৃদ্ধি করতে হবে। একই সাথে সীমান্ত ব্যবস্থাপনাকে কেবল প্রযুক্তিনির্ভর না করে মানবিক অধিকার ও সুরক্ষার প্রতি সংবেদনশীল এবং পেশাদার মানদণ্ডে উন্নীত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
বহুজাতিক অপরাধ, মানব পাচার ও অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের ওপর জোর দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা কোনো একক সংস্থার দায়িত্ব নয়। এর জন্য সকল সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যৌথ প্রয়াস প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইওএম-এর প্রস্তাবিত ২০২৭–-২০৩১ মেয়াদের কৌশলগত রূপরেখাকে স্বাগত এবং বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মানের সীমান্ত কাঠামো গঠনে তাদের সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান। একই সাথে তিনি উন্নয়ন সহযোগী সংস্থাগুলোকে প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহযোগিতা বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়ে বলেন, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ কেবল বাংলাদেশের সীমান্তকেই সুরক্ষিত করবে না, বরং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও নিরাপদ বিশ্বায়নে বড় অবদান রাখবে।
ব্রিফিং অনুষ্ঠানে আইওএম বাংলাদেশ মিশনের প্রধান ড. লরা টম বন্ডে বলেন, ‘অভিবাসন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। ভ্রমণের ধরন ও কার্যক্রমের প্রয়োজনীয়তা পরিবর্তিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কার্যকর ব্যবস্থা, দক্ষ জনবল এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে আরও ভালো সমন্বয়ের প্রয়োজন বাড়বে। কারিগরি দক্ষতা ও অংশীদারত্বের মাধ্যমে সরকারের অগ্রাধিকার বাস্তবায়নে আইওএম সহযোগিতা করতে আগ্রহী।’
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান, পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. কামরুল আহসান এবং উপপুলিশ মহাপরিদর্শক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশে নিযুক্ত কানাডার হাইকমিশনার অজিত সিং এবং ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রোসহ বিভিন্ন অংশীদার সংস্থার প্রতিনিধিগণ আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
আলোচনায় বৈধ যাতায়াত ও বাণিজ্য সহজ করার পাশাপাশি মানবপাচার, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ এবং পরিচয় জালিয়াতির মতো চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার উপায় নিয়ে মতবিনিময় করা হয়।
উল্লেখ্য, কৌশলগত রূপরেখাতে (কাঠামোটিতে) সম্ভাব্য সহযোগিতার চারটি ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হলো সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল ব্যবস্থা ও তথ্য আদান-প্রদান, প্রাতিষ্ঠানিক ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নির্বাচিত সীমান্ত পয়েন্টে অবকাঠামো ও সেবার উন্নয়ন। এ কাঠামো বা রূপরেখা প্রণয়নে সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত সংস্কার ও উন্নয়ন রূপরেখা (জুলাই ২০২৬ - জুন ২০৩১) বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয় র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে আবারও শীর্ষস্থান অর্জন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। যুক্তরাজ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও গবেষণা সংস্থা কোয়াককোয়ারেলি সায়মন্ডসের (কিউএস) ‘ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিংস: এশিয়া ২০২৭’-এ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে প্রথম অবস্থানে রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ১৩৬তম এবং দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ১৬তম।
গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) কিউএস এশিয়া ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিং প্রকাশ করে। বুধবার (৪ নভেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। গত বছরও বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে শীর্ষস্থান অর্জন করেছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। ফলে আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ধারাবাহিকভাবে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়টির এ অর্জন গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এবারের র্যাঙ্কিংয়ে এশিয়ার ২৬টি দেশের মোট ১ হাজার ৭২২টি বিশ্ববিদ্যালয় স্থান পেয়েছে। তালিকায় প্রথম অবস্থান অর্জন করেছে হংকং বিশ্ববিদ্যালয়। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে চীনের পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়। এশিয়ার বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষা, গবেষণা, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার মূল্যায়নের ভিত্তিতে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এ অবস্থানকে আনন্দ ও গর্বের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ অবস্থান আমাদের জন্য আনন্দ ও গর্বের। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ধারাবাহিকভাবে শীর্ষস্থান ধরে রাখা শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক ও সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টার স্বীকৃতি।
উপাচার্য আরও বলেন, শুধু র্যাঙ্কিংয়ে অবস্থান ধরে রাখাই বিশ্ববিদ্যালয়ের লক্ষ্য নয়। শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়নের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে কাজ চলছে।
তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশকে আরও সমৃদ্ধ করা, গবেষণায় সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক মানের দক্ষতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করা কর্তৃপক্ষের অন্যতম অগ্রাধিকার।
উপাচার্যের মতে, এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অ্যালামনাই ও সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
কিউএস এশিয়া ইউনিভার্সিটি র্যাঙ্কিংয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান নির্ধারণে একাধিক সূচক বিবেচনা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে একাডেমিক সুনাম, শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত, গবেষণার মান ও প্রভাব, পিএইচডিধারী শিক্ষকের সংখ্যা, আন্তর্জাতিক গবেষণা সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি।
এসব সূচকের ভিত্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সামগ্রিক অবস্থান মূল্যায়ন করা হয়। শিক্ষা ও গবেষণার মান, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার বিভিন্ন দিক এতে প্রতিফলিত হয়।
বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষস্থান ধরে রাখার এ অর্জন দেশের উচ্চশিক্ষা খাতের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। তবে আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে আরও এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়ন, গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের ঘোষিত অগ্রাধিকারের মধ্যে এসব বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। শিক্ষা ও গবেষণার পরিবেশকে আরও উন্নত করার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিসরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান শক্তিশালী করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।
সচিবালয়ের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার, প্রবেশাধিকার নিয়ন্ত্রণ ও সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সার্বক্ষণিক দৃশ্যমান স্থানে প্রবেশ কার্ড (আইডি কার্ড) প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের সচিবালয় নিরাপত্তা শাখার উপসচিব কাজী আরিফুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে গত মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) রাতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
চিঠিতে বলা হয়েছে, সচিবালয়ে প্রবেশ ও অবস্থানকালে সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর আইডি কার্ড দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে নিজ নিজ মন্ত্রণালয় ও বিভাগে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সচিবালয়ে স্থায়ী ও অস্থায়ী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি সভায় অংশ নিতে আসা ব্যক্তি এবং ওটিপির মাধ্যমে বিভিন্ন দর্শনার্থী প্রবেশ করেন। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী প্রতিদিন সচিবালয়ে অফিস করায় এর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিচয় শনাক্তকরণ এবং আইডি কার্ড প্রদর্শন একান্ত প্রয়োজন।
এ অবস্থায় সচিবালয়ে প্রবেশ ও অবস্থানকালে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আইডি কার্ড সার্বক্ষণিক দৃশ্যমান রাখার নির্দেশনা দিতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।
দর্শনার্থী প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে আগের নির্দেশনা: এর আগে গত ২৭ অক্টোবর সচিবালয়ে দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করা হয়। এতে সচিবালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দর্শনার্থীদের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পর্যবেক্ষণ ও তদারকির জন্য প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়।
নির্দেশনায় দর্শনার্থী প্রবেশ ব্যবস্থাপনায় কয়েকটি পদক্ষেপের কথা বলা হয়। এর মধ্যে রয়েছে, সোমবার ও বৃহস্পতিবার দর্শনার্থী প্রবেশ বন্ধের দিনগুলোতে সচিবালয়ের বাইরের অফিসের সঙ্গে সভার সংখ্যা যথাসম্ভব সীমিত রাখা।
এ ছাড়া দর্শনার্থীদের প্রবেশের সময় দুপুর ১২টার পরিবর্তে ২টা নির্ধারণ করায় নতুন সময় অনুযায়ী ওটিপি দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সাধারণ দর্শনার্থীদের সপ্তাহে একটির বেশি ওটিপি না দেওয়ার বিষয়টিও নির্দেশনায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ছুটিতে গমনকারী কর্মকর্তাদের ছুটির সময়ের জন্য ওটিপি প্রদান বন্ধ রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলায় গুরুত্ব: সচিবালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিচয় নিশ্চিত করা এবং দর্শনার্থীদের প্রবেশ কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করার লক্ষ্যেই এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নতুন নির্দেশনায় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পরিচয়পত্র দৃশ্যমান রাখার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। অন্যদিকে, আগের নির্দেশনায় দর্শনার্থীদের প্রবেশের সময়, ওটিপি প্রদান এবং সভা আয়োজনের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট নির্দেশনাগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে সচিবালয়ের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, প্রবেশাধিকার ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা আরও সুসংহত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেছেন, ‘তৃণমূল থেকে শুরু করে বড় বড় হাসপাতালগুলোতে সোলার পাওয়ার বাস্তবায়নের মাধ্যমে জাতীয় এই উদ্যোগের রোলআউটে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে ‘‘প্রথম চ্যাম্পিয়ন’’ হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে কাজ চলছে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ শুধু স্বাস্থ্যসেবা নয় এটি অপরিহার্য।’
বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে সরকারের বিদ্যুৎ বিভাগ এবং ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের আয়োজনে ‘বাংলাদেশ সোলার এক্সপোতে’- ‘সরকারি খাতে ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে দৃষ্টান্ত স্থাপন’- প্যানেল আলোচনায় বক্তব্যে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানের প্যানেল আলোচনায় আরও বক্তব্য রাখেন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) মাহদী আমিন, বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) চেয়ারম্যান কৃষিবিদ মো. হাসান জাকির তুহিন, বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ, ইডকলের হেড অব রিনিউয়েবল এনার্জি এনামুল করিম পাভেল, সোল্যারিকের পরিচালক প্রকৌশলী নাজনীন আক্তার।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সারা দেশে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত সরকারের প্রায় ১৫ হাজার স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্র রয়েছে। এ ছাড়া জেলা সদর হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ ও বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে এক বিশাল অবকাঠামো বিদ্যমান। হাসপাতালের কার্যক্রমের বড় অংশ দিনের বেলা পিক আওয়ারে পরিচালিত হয়, যা সৌরবিদ্যুতের উৎপাদন সময়ের সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ। অপারেশন থিয়েটার, জরুরি সেবা, নিবিড় পরিচর্যা এবং ভ্যাকসিনের কোল্ড চেইনের সুরক্ষায় আমরা ডিজেলনির্ভরতা কমিয়ে পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুতে যেতে বদ্ধপরিকর।’ তিনি জানান, আগামী ৬ মাস থেকে ১ বছরের মধ্যে সব স্বাস্থ্য অবকাঠামোর স্ট্রাকচারাল অডিট এবং জ্বালানি চাহিদার অডিট সম্পন্ন করা হবে।
একই সঙ্গে বেসরকারি খাতের উদ্যোক্তাদের হাসপাতালগুলোতে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে ড. মুহিত বলেন, ‘হাসপাতাল একদিনের জন্যও বন্ধ রাখা সম্ভব নয়, তাই এখানে বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের পূর্ণ নিশ্চয়তা রয়েছে। তবে বিনিয়োগকারীদের নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে, অগ্নিকাণ্ড রোধে সার্টিফাইড যন্ত্রাংশ ব্যবহার করতে হবে এবং প্রত্যন্ত এলাকার প্যানেলগুলোর চুরি বা ক্ষতি রোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থার পরিকল্পনা রাখতে হবে।’
প্যানেল আলোচনায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গ্রিন এনার্জি সম্প্রসারণের রূপরেখা তুলে ধরে বলেন, ‘দেশের স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও বিশ্ববিদ্যালয় মিলিয়ে লক্ষাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে কোন কোন প্রতিষ্ঠানের ছাদ সৌরবিদ্যুতের উপযোগী এবং কোথায় উদ্বৃত্ত জমি রয়েছে, তা আগামী ছয় মাসের মধ্যে যাচাই করে চূড়ান্ত তালিকা করা হবে।’
মাহদী আমিন জানান, ৫০টির বেশি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে ইতোমধ্যে ৩০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে সোলার প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তিনি বলেন, ‘সৌরবিদ্যুৎ খাতে স্বনির্ভও হতে হলে ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্প গড়ে তুলতে হবে। আমাদের ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডকে কাজে লাগিয়ে তরুণ প্রজন্মকে এ খাতের দক্ষ কর্মী হিসেবে গড়ে তুলতে শিক্ষাব্যবস্থাকে সেই রূপান্তরের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে।’
৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’উপলক্ষে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়।
তবে এ বছর ৭ নভেম্বর পড়েছে শনিবার। যা সাপ্তাহিক ছুটির দিন। যে কারণে ছুটি ভোগ করতে পারছেন না সরকারি চাকরিজীবীরা।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা এ ছুটির আওতায় থাকবেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশের সব তফশিলি ব্যাংকও ওই দিন বন্ধ থাকবে।
প্রতিবছর ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে সাধারণ ছুটি পালন করা হবে। তবে চলতি বছর ৭ নভেম্বর শনিবার হওয়ায় দিনটি সাপ্তাহিক ছুটির মধ্যেই পড়েছে। ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বাড়তি ছুটি উপভোগের সুযোগ থাকছে না।
এর আগে গত ৫ অক্টোবর মন্ত্রিসভার বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপনসংক্রান্ত পরিপত্রে ৭ নভেম্বরকে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে দিনটি ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পালন করা হবে। এ উপলক্ষে প্রতিবছর সাধারণ ছুটি থাকবে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছেন। বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে তিনি বাসায় ফেরেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।
তিনি জানিয়েছেন, মঈন খান আগের চেয়ে অনেকটাই সুস্থ। তবে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, তাকে আরো কিছুদিন বিশ্রামে থাকতে হবে।
প্রসঙ্গত, গত ২১ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে মঈন খান হঠাৎ অসুস্থ হয়ে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন মঈন খান।
সেদিন রাতে তাকে দেখতে হাসপাতালে যান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এরপর রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীসহ দলটির জ্যেষ্ঠ নেতা তাঁকে হাসপাতালে দেখতে যান। মঈন খান এভারকেয়ার হাসপাতালের মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নেন।