রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে ২৫ হাজার ৫৯২ কোটি ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। এদিন আরও ২৪টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। গতকাল রোববার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বৈঠক শেষে ব্রিফিং করেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ।
২০১৩ সালের অক্টোবরে রূপপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভিত্তি স্থাপন করা হয়। ২০২১ সালের শুরুতে একটি ইউনিট উৎপাদনে আসার কথা থাকলেও মহামারীর জটিলতায় তা পিছিয়ে যায়। পরে ইউক্রেন যুদ্ধসহ নানা জটিলতায় প্রকল্পের কাজ আরও বিলম্বিত হয়। সংশোধিত অনুমোদনের ফলে এর শেষ হওয়ার সময় ধরা হয়েছে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত।
মূল উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) ব্যয় ছিল ১ লাখ ১৩ হাজার ৯২ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত প্রথম সংশোধিত ডিপিপিতে সেটি ২৫ হাজার ৫৯২ কোটি ৮৫ লাখ বাড়িয়ে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৬৮৫ কোটি ৭৬ লাখ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ ২২ দশমিক ৬৩ শতাংশ খরচ বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ব্যয় বৃদ্ধির পুরো অর্থই মিলবে প্রকল্প ঋণ থেকে।
বিদ্যুৎ প্রকল্পে ২৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় বৃদ্ধি প্রসঙ্গে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, ডলারের হিসেবে খুব বেশি ব্যয় বাড়েনি। কিন্তু টাকার অঙ্কে দেখলে অনেক বেশি বৃদ্ধি মনে হয়।
রূপপুর বিদুৎকেন্দ্রসহ একনেকে অনুমোদন পাওয়া ২৫টি প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৪৫ হাজার ১৯১ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিলের ১০ হাজার ৮৮১ কোটি ৪০ লাখ, বৈদেশিক ঋণের ৩২ হাজার ৯৮ কোটি এবং সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ২ হাজার ২৯১ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে।
সভায় পরিকল্পনা, অর্থ, পররাষ্ট্র, খাদ্য, ভূমি, স্বরাষ্ট্র, কৃষি, বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পরিবেশ, পানি সম্পদ, শিক্ষা, বাণিজ্য, বস্ত্র, পাট, বিমান পরিবহন, পর্যটন, স্বাস্থ্য এবং পরিবার কল্যাণ খাতের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুমোদিত উদ্যোগগুলোর মধ্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের আওতায় আঞ্চলিক মহাসড়ক প্রশস্তকরণ এবং জেলা সড়ক উন্নয়ন অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চট্টগ্রাম নগরীর লালখান বাজার থেকে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ কার্যক্রম অনুমোদিত হয়।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রকল্পসমূহের আওতায় চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে শক্তিবৃদ্ধি এবং পার্বত্য অঞ্চলে পর্যটন সুবিধা সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে স্যানিটেশন খাতে নারী উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং কুমিল্লা জেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পুলিশ ফাঁড়ি, তদন্ত কেন্দ্র, নৌ-পুলিশ স্থাপনা, ট্রাফিক ইউনিট এবং হাইওয়ে থানা নির্মাণের পরিকল্পনা অনুমোদন পায়।
রেলপথ খাতে দোহাজারী হয়ে রামু অতিক্রম করে কক্সবাজার পর্যন্ত ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণ প্রকল্প সংশোধিত আকারে অনুমোদিত হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আওতায় ৬৪ জেলায় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সিংভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
স্বাস্থ্য খাতে এক হাজার শয্যার বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল স্থাপন এবং পুষ্টি সেবা উন্নয়ন কর্মসূচি অনুমোদন লাভ করে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীনে সবুজায়ন কার্যক্রম এবং শিল্পভিত্তিক উৎপাদন প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
পানি সম্পদ খাতে নদী ড্রেজিং, তীর সংরক্ষণ, বাঁধ ব্যবস্থাপনা এবং আড়িয়াল বিল এলাকার জীবনমান উন্নয়নে ছয়টি পরিকল্পনা অনুমোদিত হয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ কার্যক্রম সংশোধিত আকারে অনুমোদন পায়।
সভায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের স্থায়ী ক্যাম্পাস সংক্রান্ত প্রকল্পের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।