রোববার, ৩ মার্চ ২০২৪

গাছে নম্বর-জিপিআরএস’র কাজ শুরু

ছবি: সংগৃহীত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ১৮ নভেম্বর, ২০২৩ ২২:৪০

রাজধানী ঢাকার উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) ও বিভিন্ন বস্তিতে সাড়ে পাঁচ হাজার গাছ লাগানো হয়েছে। শহরের প্রতিটি গাছকে জিপিআরএস অ্যাপের মাধ্যমে আইডি নাম্বার দিয়ে রোপণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম।

আতিকুল ইসলাম বলেন, এখন পর্যন্ত আমরা যেসব গাছ লাগিয়েছি সবগুলোর ম্যাপিং আমাদের আছে। গাছ কত ইঞ্চি লাগানো হয়েছে, গাছ কীভাবে বড় হচ্ছে ও পরিচর্যা করা হচ্ছে- বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ আছে। চ্যালেঞ্জের মধ্যেই গাছগুলোকে পরিচর্যা করা হচ্ছে। আজকে গাছ লাগালে অবশ্যই দুই বছর পরে ফল পাওয়া যাবে। আমি নতুন কিছু গাছ লাগাচ্ছি। রসকাউ গাছ রোপণ করছি। এ গাছের ফল পাখির খুবই প্রিয়। আমরা সবুজ ও পাখির কিচিরমিচির দেখতে চাই।

মেয়র বলেন, একটি সিটিকে দূষণ মুক্ত করার একমাত্র উৎস হলো গাছ লাগানো, এর কোনো বিকল্প নাই। গাছ আমাদের অক্সিজেন, ছায়া ও ফল দেয়। এছাড়াও পাখির খাবারের ব্যবস্থা করে দেয়। আমাদের গাছ কত প্রয়োজনীয় আমরা বুঝি না। কেউ হাসপাতালে ভর্তি হলে যদি অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়, সিলিন্ডার কিনতে হয়। অক্সিজেনের সিলিন্ডার কিনতে ৬-৭ হাজার টাকা লাগে। অক্সিজেনগুলোকে (গাছ) আমরা মেরে ফেলছি। আক্ষরিক অর্থে আমি একটি কথা বলেছিলাম, যদি কেউ গাছ কাটে, আমি তার হাত কেটে দেব। মোহাম্মদপুরের রাস্তার পাশে একটি বাড়ির সামনের গাছ হেলে পড়েছিল। সেই গাছটি কেউ কাটেনি। এটাই হলো সার্থকতা। যদি কোনো গাছ কাটতে হয়, ওই এলাকার মুরুব্বি ও আমাদের সাথে আলোচনা করে কাটতে হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, ইমপ্রেস টেলিফিল্ম লিমিটেড ও চ্যানেল আই'র প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও বার্তাপ্রধান শাইখ সিরাজ, শক্তি ফাউন্ডেশনের উপ-নির্বাহী পরিচালক ইমরান আহমেদ, মেটলাইফ বাংলাদেশের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা আলা আহমদ প্রমুখ।


শুল্ক কমালেও খেজুরের দাম নাগালের বাইরে

উচ্চ শুল্কের কারণে বাড়তি দাম, বলছেন ব্যবসায়ীরা
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৩ মার্চ, ২০২৪ ০০:১৬
রতন কান্তি দেবাশীষ, চট্টগ্রাম

খেজুর আমদানিতে শুল্ক ছিল ৫৩ শতাংশ, ৮ ফেব্রুয়ারি ১০ শতাংশ কমিয়ে করা হয়েছে ৪৩ শতাংশ। শুল্ক কমানোর পরও দাম কমেনি খেজুরের। উল্টো দাম বেড়েছে। যদিও বন্দর থেকে খেজুর খালাসের পরিমাণও বেড়েছে। গত কয়েক দিনে ৬০৫ কনটেইনার খেজুর খালাসের কার্যক্রম চলছে এবং প্রতিদিনই খালাস অব্যাহত রয়েছে।

জানা গেছে, আগামী ১২ মার্চ পবিত্র রমজান মাস শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা রমজান মাসজুড়ে সিয়াম সাধনা করেন। দিনভর রোজা রাখার পর সন্ধ্যায় ইফতারের অন্যতম অনুষঙ্গ হচ্ছে খেজুর। খেজুর ছাড়া এখন আর ইফতারের কথা ভাবা যায় না। প্রায় সব রোজাদারই খেজুর দিয়ে ইফতার শুরু করেন। এ কারণে রমজান মাসে চাহিদা বেশি থাকা পণ্যগুলোর একটি খেজুর। পণ্যটির দাম নিয়ন্ত্রণে চলতি মাসে আমদানি শুল্ক ১০ শতাংশ কমিয়েছে সরকার। এর পাশাপাশি বাজারে তদারকি ও বিভিন্ন উদ্যোগ নিলেও তা কোনো কাজেই আসছে না। গত বছরের তুলনায় বর্তমানে দেশের বাজারে খেজুরের দাম প্রায় ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ বেড়েছে।

৮ ফেব্রুয়ারি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) একটি আদেশে খেজুরের আমদানি শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশে আনার ঘোষণা দেয়। এর আগে খেজুর আমদানিতে সর্বমোট ৫৩ শতাংশ শুল্ক পরিশোধ করতে হতো। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্তমানে খেজুরের শুল্কায়ন মূল্য প্রতি টন ১ হাজার থেকে ২ হাজার ৭৫০ ডলার। এর সঙ্গে কাস্টমস ডিউটি ১৫ শতাংশ, রেগুলেটরি ডিউটি ৩ শতাংশ ও ভ্যাট ১৫ শতাংশ। পাশাপাশি অগ্রিম আয়কর ও অগ্রিম কর ৫ শতাংশ হারে দিতে হচ্ছে। এতে বর্তমানে সর্বমোট ৪৩ শতাংশ শুল্ক দিতে হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা জানান, গত রোজার আগে মানভেদে প্রতি কেজি খেজুরে শুল্ক দিতে হতো ৫ দশমিক ৪৫ থেকে ২১ দশমিক ৮৪ টাকা। তবে এবার খেজুরকে ‘বিলাসীপণ্যের’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে খেজুরের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে ৫৩ শতাংশ করা হয়। ফলে চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই বেড়ে গেছে। এবার শুল্ক দাঁড়িয়েছে ৫৪ থেকে ২০৮ টাকা। মূলত শুল্কের প্রভাব পড়েছে খেজুরের দামে। গত বছরের তুলনায় প্রতি কেজি খেজুরে জাতভেদে দাম বেড়েছে ১০০-৬০০ টাকা পর্যন্ত। দেশে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া খেজুরের মধ্যে রয়েছে দাবাস, জাহিদি, বরই ও গলা খেজুর।

চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি গলা বা বাংলা খেজুর বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা, জাহিদি খেজুর ২৪০-২৬০ ও মানভেদে দাবাস খেজুর ৪৫০-৫৫০ টাকায়। এ ছাড়া বরই খেজুর মানভেদে বিক্রি হচ্ছে ৪৪০-৫৪০ টাকায়। গত বছর এসব খেজুরের দাম ছিল বর্তমান দরের অর্ধেকেরও কম।

এদিকে অভিজাত শ্রেণির কাছে পছন্দের খেজুরের মধ্যে রয়েছে সৌদি আরবের মেডজুল, মাবরুম, আজওয়া ও মরিয়ম। গত এক মাসের ব্যবধানে এসব খেজুরের দাম কেজিতে ২০০-৩০০ টাকা বেড়েছে। জাম্বো মেডজুল মানভেদে প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা, সাধারণ মেডজুল ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৪০০, মাবরুম খেজুর ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ৫০০, আজওয়া খেজুর মানভেদে ৯০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সবচেয়ে ভালো জাতের মরিয়ম বিক্রি হয় প্রতি কেজি ৯০০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায়। এ ছাড়া কালমি মরিয়ম ৮০০-৯০০ টাকা, সুফরি মরিয়ম ৭৫০-৮০০, আম্বার ও সাফাভি ৯০০ টাকা থেকে ১ হাজার ২০০ ও সুক্কারি খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৮০০-৯০০ টাকায়।

খাতুনগঞ্জে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২৩ সালে রোজার আগে জাহিদি জাতের খেজুরের দাম ছিল কার্টনপ্রতি (১০ কেজি) ১ হাজার ২৫০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা। শুল্ক আরোপের কারণে দাম বাড়ার পর গত বছরের শেষ সপ্তাহেও একই জাতের খেজুরের দাম ছিল কার্টনপ্রতি ১ হাজার ৮০০ টাকা। তবে এখন ১০ শতাংশ শুল্ক কমিয়েও এই জাতের খেজুরের কার্টন হাঁকা হচ্ছে ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা।

পাইকারি ও ট্রেডিং প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্যে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি ৫ কেজির এক কার্টন মেডজুল খেজুর বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার টাকায়। গত বছর এ খেজুর বিক্রি হয়েছিল ৩ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৮০০ টাকায়। অন্যদিকে সাধারণ খোলা খেজুর প্রতি কেজি ফেব্রুয়ারির শুরুতে কেজিপ্রতি পাইকারি দাম ছিল ১২৮-১৩০ টাকা। বর্তমানে দাম বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ১৫০-১৫৫ টাকায়।

পাইকারি বাজার সূত্রে জানা গেছে, বাজারে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় জাহিদি জাতের খেজুর। এক বছর আগে প্রতি কেজি খেজুর খুচরা পর্যায়ে ১৫০ টাকায় পাওয়া যেত। শুল্ক কমানোর পর বর্তমানে এ খেজুর খুচরায় বিক্রি করতে হবে ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা। অন্যদিকে সাধারণ মানুষের জন্য আমদানি করা খোলা (বস্তায় বিক্রি হওয়া ভেজা খেজুর) রোজা আসার আগেই কেজিপ্রতি পাইকারি দাম ১৫৫ টাকায় উঠে গেছে। ফলে খুচরা পর্যায়ে এ মানের খেজুর বিক্রি করতে হবে কমপক্ষে ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকায়। অবশ্য গতকাল বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল হক টিটু ঘোষণা দিয়েছেন, সাধারণ মানুষের কাছে খেজুর পৌঁছে দিতে বস্তায় আসা জাহিদি খেজুরের দাম কমানো হবে। আজ রোববার (৩ মার্চ) এই খেজুরের দাম কমানোর ঘোষণা আসার কথা জানিয়েছেন তিনি।

বন্দর সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ দিনে সবচেয়ে বেশি খেজুর বন্দর থেকে খালাস নিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। আগে বন্দর থেকে দিনে খেজুরভর্তি ছয় কনটেইনার খালাস হলেও এখন সেটা ৭০ কনটেইনারে গিয়ে টেকেছে। কিন্তু দাম কমছে না।

ক্যাবের সহসভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, সরকার শুল্ক কমানোর পর ব্যবসায়ীরা খেজুর খালাসে তোড়জোড় শুরু করেছে। শুল্ক কমানোর পরও ভোক্তারা কম দামে খেজুর কিনতে পারছেন না। শুল্ক কমানোর পর পর্যাপ্ত আমদানি হলেও দাম কেন কমছে না বিষয়টি তদারকি করতে হবে। তদারকি না করলে রোজায় খেজুর কিনতে পারবে না ভোক্তারা।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্যে দেখা যায়, গত বছরের ১ অক্টোবর থেকে চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২২ হাজার ৬৬৩ টন খেজুর চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে খালাস করেছেন আমদানিকারকরা। ১৪৫ দিনের মধ্যে গত ১৫ দিনেই বেশি খেজুরের চালান খালাস হয়েছে। ২৮ ধরনের খেজুর দেশের ৮২টি প্রতিষ্ঠান সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, জর্দান, মিসর, আলজেরিয়া, নামিবিয়া, তিউনিশিয়া ও আফগানিস্তান থেকে আমদানি করেছে।

জানা গেছে, চার মাস আগে খেজুর আমদানি করলেও শুল্ক কমবে এ আশায় ব্যবসায়ীরা পণ্যটি চট্টগ্রাম বন্দরে গুদাম করে রেখেছিলেন। ফলে বেসরকারি ১৯টি ডিপোতে ১ হাজার কনটেইনার (প্রতি কনটেইনারে ২২-২৪ হাজার কেজি খেজুর থাকে) খেজুর পড়ে ছিল। এখন খেজুরভর্তি ৬০৫টি কনটেইনার খালাস চলছে। এখনো খেজুরভর্তি ৩৯৫টি কনটেইনার খালাসের উদ্যোগ নেয়নি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের ডেপুটি কমিশনার কাজী ইরাজ ইশতিয়াক বলেন, প্রচুর পরিমাণে খেজুর খালাস হচ্ছে। প্রতিদিনই খালাস করছেন আমদানিকারকরা। তিনি বলেন, খেজুরের শুল্ক ১০ শতাংশ কমানো হয়েছে।

তিনি জানান, খেজুরের চারটি ক্যাটাগরি রয়েছে। একেকটি ক্যাটাগরির একেক রকম শুল্কহার হয়। মিথ্যা ঘোষণায় আমদানির প্রবণতাও রয়েছে। অনেক সময় উচ্চ শুল্কহারে খেজুর এনে কম শুল্কহারে ঘোষণা দেওয়া হয়। এমন বেশ কিছু ঘটনাও ঘটেছে। এ জন্য আমরাও সতর্ক আছি, যেন সরকার রাজস্ব বঞ্চিত না হয়।

উচ্চ শুল্কহার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটা এনবিআর নির্ধারিত, এ ব্যাপারে আমাদের বলার বা করার কিছু নেই। আমরা নির্ধারিত শুল্ক নিয়ে খালাসের ব্যবস্থা করি। খেজুর বিলাসী পণ্য কি না, এ বিষয়েও তিনি কিছু বলতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

খাতুনগঞ্জের ডেটস অ্যান্ড ড্রাই ফ্রুটস আমদানিকারক মো. ওমর ফারুক বলেন, খেজুর আমদানিতে কাস্টমস ট্যাক্স ১০ শতাংশ কমালেও অন্যান্য শুল্ক ঠিক রেখেছে এনবিআর। ফলে উচ্চমাত্রায় ট্যাক্স দিয়েই আনতে হচ্ছে। ডলারের মূল্য বৃদ্ধির কারণে সামান্য এ শুল্ক কমানোয় খেজুরের দামে প্রভাব পড়বে না।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার সুলতান আরেফিন বলেন, শুল্ক কমানোর পর থেকে আমদানিকারকরা খেজুর খালাস নিতে শুরু করেছেন। বর্তমানে খেজুর খালাসের পরিমাণও বেড়েছে। আগে প্রতিদিন গড়ে খেজুরভর্তি ছয় কনটেইনার খালাস হলে এখন সেটি ৭০ কনটেইনার খালাস হচ্ছে।

বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রতি কেজি খেজুর ১১০ টাকায় কিনলে ১৪০-১৫০ টাকা শুল্ক দিতে হয়। ১২০ টাকায় কিনলে ২০৮ টাকা শুল্ক দিতে হয়। গত বছর ৯০ টাকায় ডলার কিনতে পারতাম। এ বছর ১২০-১২২ টাকা দিতে হচ্ছে। কাস্টমস থেকে অ্যাসেসমেন্ট ভ্যালু ইচ্ছেমতো করা হচ্ছে। এলসি যে মূল্যে খুলছি সে অনুযায়ী শুল্ক নির্ধারণ করা হলে খেজুরের দাম অর্ধেকে নেমে আসে। কিন্তু সেটা করা হচ্ছে না।

বন্দর সচিব ওমর ফারুক বলেন, পণ্য বন্দরে আসার পর শুল্ক পরিশোধ করে খালাস করতে হয়। এসব কাস্টমসের বিষয়।

খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ ছগীর আহমেদ বলেন, ডলারের দাম বাড়াতে পণ্যের আমদানি খরচ বেড়ে যায়। এর পরও ব্যবসায়ীরা সহনীয় পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করছেন।


স্বস্তিতে শেষ প্রাণের মেলা, ৬০ কোটি টাকার বই বিক্রি

আজ শনিবার ছিল একুশে বইমেলার শেষ দিন । ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ

শেষ হলো বাঙালির প্রাণের অমর একুশে বইমেলা। বিদায়ের সুরে পর্দা নামল এবারের অধিবর্ষের বইমেলার। তবে এ বছর মেলায় বেড়েছে বেচাকেনা, এসেছে নতুন বইও। এবারের মেলায় ৬০ কোটি টাকারও অধিক বই বিক্রি হয়েছে। আর নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে ৩ হাজার ৭৫১টি।

মেলায় পহেলা মার্চ পর্যন্ত দর্শনার্থীর সংখ্যা ৬০ লাখের কাছাকাছি। এ বছর নতুন ৬০০ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করা হয়েছে। এবারের মেলায় ৯ শতাধিকের বেশি স্টল ও ৬৭০টি প্রকাশনী ছিল। এদিকে গত বছর মেলায় বিক্রি হয়েছিল ৪৭ কোটি টাকার বেশি। গত বছর নতুন বইয়ের সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৭৩০টি৷

এদিকে শেষ দিন বইমেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা মেলে ভিন্ন চিত্র। অন্তিম দিনে ছিল না অন্যান্য দিনের মতো ভিড়, অন্য দিনের তুলনায় জমেনি মেলাও। এদিন স্টলে স্টলে শুধুই ক্রেতা ও পাঠকদের ভিড় দেখা গেছে। তবে মেলার শেষ দিনে আড্ডাবাজ দর্শনার্থীদের সংখ্যা ছিল একেবারেই কম। মেলার শেষ সময়ে বইপ্রেমীদের ব্যাগ ভর্তি বই কিনতেই দেখা যায়। অধিকাংশ পাঠককে হাতে বই নিয়ে ঘুরতে দেখা গেছে। বই ছাড়া মেলা প্রাঙ্গণ ছাড়ছিলেন না কেউই।

এদিন ব্যস্ত সময় পার করছিলেন বিক্রেতা ও প্রকাশকরা, সঙ্গে ছিলেন লেখকরাও। মেলার শেষ দিন হওয়ায় বই গুছিয়ে ফেলছিলেন স্টলের কর্মীরা। কেবল ক্রেতারা বই চাইলেই বাড়িয়ে দিচ্ছিলেন। ফলে ক্রেতাদেরই তাগিদ ছিল কাঙ্ক্ষিত বইটি চেয়ে নেওয়ার। অবশ্য বাংলা একাডেমির নির্দেশনায় কোনো প্রকাশনীই এদিন অবশিষ্ট বই মেলা থেকে নিয়ে যেতে পারেনি।

বেশ কয়েকজন বিক্রয়কর্মী জানান, মেলায় শেষ দিন দর্শনার্থী কম হলেও বেচাকেনা ভালো হয়েছে। যারা স্টলে আসছেন তাদের প্রায় সবাই বই কিনেছেন। ঘুরতে আসা মানুষের সংখ্যা খুবই কম।

মেলায় আসা দর্শনার্থী লিমন ইসলাম লিটন বলেন, শেষ দিন মেলায় এসেছি। প্রথম দিকে একবার এসেছিলাম। এখন শুধু নাম দেখে বই নিয়েছি। এবারের মেলায় এখনো আগের ফিকশনগুলোই চলছে। তবে বইমেলা বেশ ভালো চলেছে বলে মনে হয়েছে।

শব্দশৈলী প্রকাশনীর প্রকাশক ইফতেখার আমীন বলেন, মেলার সময় বাড়ানোর কারণে বেশ ভালো বিক্রি হয়েছে। বই কেনেননি- এমন ক্রেতা চোখে পড়েনি। প্রবন্ধ, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাস্থ্যবিষয়ক ও শিশুদের উপযোগী নৈতিকতার বই বেশি বেচাকেনা হয়েছে।

অনুপম প্রকাশনীর প্রকাশক মিলন কান্তি নাথ জানান, এবারে বইমেলার সময় দুই দিন বাড়ানোতে বড় বড় প্রকাশনীগুলো লাভবান হয়েছে। আমাদের বেচাকেনা বেশ ভালোই হয়েছে। ক্রেতারা এসেছেন, বই কিনেছেন। এবারের বইমেলা বেশ ভালোভাবেই গেল।

এদিকে অমর একুশে বইমেলার ৩১তম দিনে মেলা শুরু হয় সকাল ১১টায় এবং চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। শেষ দিন মেলায় নতুন বই এসেছে ১৪৯টি।

অমর একুশে বইমেলা ২০২৪-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে বিকেল ৫টায় শুভেচ্ছা ভাষণ প্রদান করেন একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা। ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৪’-এর সদস্য-সচিব ডা. কে এম মুজাহিদুল ইসলামের লিখিত প্রতিবেদন তার পক্ষে পাঠ করেন একাডেমির উপপরিচালক ড. সাহেদ মন্তাজ।

এ সময় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বেগম নাহিদ ইজাহার খান, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব খলিল আহমদ। বক্তব্য প্রদান করেন সহযোগী প্রতিষ্ঠান বিকাশ লিমিটেডের সিএমও মীর নওবত আলী।
সভাপতিত্ব করেন বাংলা একাডেমির সভাপতি কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন। অনুষ্ঠানে সম্প্রতি বেইলি রোডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা বলেন, এবার ছিল অধিবর্ষের বইমেলা। নির্ধারিত ২৯ দিনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় অতিরিক্ত দুই দিন যুক্ত হয়ে ৩১ দিনের দীর্ঘ বইমেলা শেষ হয়েছে। ২০২৪-এর বইমেলা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় ছিল বিস্তৃত, ব্যাপক ও বর্ণাঢ্য। শীতে শুরু হয়ে বইমেলা স্পর্শ করেছে বসন্ত-বাতাস। একুশের রক্তপলাশের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে মার্চের চেতনার রং।

সদস্য-সচিব তার প্রতিবেদনে বলেন, ‘মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানসমূহের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী এবারের বইমেলায় শেষ দিন পর্যন্ত প্রায় ৬০ কোটি টাকার বই বিক্রি হয়েছে। এই বইমেলায় বাংলা একাডেমি এক কোটি ৩৬ লাখ টাকার বই বিক্রি করেছে।’

ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী বলেন, ‘অমর একুশে বইমেলা আজ বাঙালির ভাষা, শিল্প-সাহিত্য ও ঐতিহ্যের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। বইমেলার মাধ্যমে প্রতিবছর আমরা আমাদের সৃজনশীলতাকে উদযাপন করি। এই মেলা আমাদের আবেগের, জাতিসত্তার, ভাষা-সাহিত্য ও ঐতিহ্যের প্রতি ভালোবাসার মেলা।’

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী বেগম নাহিদ ইজাহার খান বলেন, ‘বইমেলা আমাদের প্রাণের মেলা। এই মেলা দেখতে দেখতে চার দশক অতিক্রম করে এখন বিশাল আকার ধারণ করেছে। বিশ্ব বাঙালির কাছে যেমন, ঠিক তেমনি বিশ্বের জ্ঞানপিপাসু মানুষের কাছেও একুশের বইমেলা এক অসাধারণ বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক ঘটনা হিসেবে স্বীকৃত।’

মেলা আয়োজনে বাংলা একাডেমির সহযোগী প্রতিষ্ঠান বিকাশ লিমিটেডের সিএমও মীর নওবত আলী বলেন, বাঙালির প্রাণের মেলা অমর একুশে বইমেলার সঙ্গে সহযোগিতায় থাকতে পেরে বিকাশ লিমিটেড আনন্দিত ও গর্বিত।

সংস্কৃতি সচিব খলিল আহমদ বলেন, ‘আনন্দ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে উদযাপিত এবারের বইমেলা কেবল বই বিক্রির জায়গা নয়; দল, মত, ধর্ম, বর্ণ-নির্বিশেষে সবার প্রাণের মেলা সবার সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সহযোগিতায় সাফল্যমণ্ডিত হয়েছে।’

কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন বলেন, ‘বাংলা একাডেমি আয়োজিত অমর একুশে বইমেলা আমাদের জাতীয় জীবনের এক অসাধারণ বুদ্ধিবৃত্তিক ও সাংস্কৃতিক ঘটনা। তথ্যপ্রযুক্তির বিপুল বিকাশের পরও মুদ্রিত বইয়ের আবেদন যে কোনোমতেই ফুরিয়ে যায়নি তার প্রমাণ একুশে বইমেলায় ক্রমবর্ধমান জনসমাগম।’

গুণীজন স্মৃতি পুরস্কার-২০২৪

অমর একুশে বইমেলা ২০২৪-এর সমাপনী অনুষ্ঠানে ২০২৩ সালে প্রকাশিত বিষয় ও গুণমানসম্মত সর্বাধিক সংখ্যক বই প্রকাশের জন্য কথাপ্রকাশ-কে চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার-২০২৪ প্রদান করা হয়। ২০২৩ সালে প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে শৈল্পিক ও গুণমান বিচারে সেরা বই বিভাগে মনজুর আহমদ রচিত একুশ শতকে বাংলাদেশ : শিক্ষার রূপান্তর গ্রন্থের জন্য প্রথমা প্রকাশন, মঈন আহমেদ রচিত যাত্রাতিহাস : বাংলার যাত্রাশিল্পের আদিঅন্ত গ্রন্থের জন্য ঐতিহ্য এবং আলমগীর সাত্তার রচিত কিলোফ্লাইট প্রকাশের জন্য জার্নিম্যান বুকস-কে মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার-২০২৪ প্রদান করা হয়। ২০২৩ সালে প্রকাশিত শিশুতোষ বইয়ের মধ্য থেকে গুণমান বিচারে সর্বাধিক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য ময়ূরপঙ্খি-কে রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার-২০২৪ প্রদান করা হয়।

২০২৪ সালের অমর একুশে বইমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্য থেকে নান্দনিক অঙ্গসজ্জায় সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে অন্যপ্রকাশ (প্যাভিলিয়ন), নিমফিয়া পাবলিকেশন (২-৪ ইউনিট) এবং বেঙ্গল বুকস (১ ইউনিট)-কে শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার-২০২৪ প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বাংলা একাডেমির পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) ড. শাহাদাৎ হোসেন এবং উপ-পরিচালক সায়েরা হাবীব।


গণপূর্ত ও রাজউকের আরও সজাগ হওয়া উচিত: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ নামের ভবনটিতে আগুন লাগার ঘটনায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) দায়িত্বে গাফিলতির দিকেও আঙুল তুলেছেন। তিনি বলেছেন, ‘গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও রাজউকের আরও বেশি সজাগ হওয়া উচিত ছিল।’

বেইলি রোডের গ্রিন কোজি কটেজ নামের ভবনটিতে গত বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে আগুন লাগে। গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত ৪৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। জীবিত উদ্ধার হয়েছে ৭৫ জন।

এতে আহত হয়ে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ১০ জন ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুজন ভর্তি আছেন।
এমন প্রাণহানির ঘটনায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মন্তব্য, ‘এর চেয়ে মর্মান্তিক আর কিছু হতে পারে না। এর (অনিয়মের) বিরুদ্ধে অভিযান চলা উচিত।’

আজ শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে বাংলাদেশ সোসাইটি অব মেডিসিন আয়োজিত ২৩তম আন্তর্জাতিক সায়েন্টিফিক সেমিনারে এসব কথা বলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

আগুনের ভয়াবহতা ও অনেকের মৃত্যুর পর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন গতকাল শুক্রবার বেইলি রোডে ভবনটি পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের বলেন, ‘ভবনটিতে কোনো অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। ঝুঁকিপূর্ণ জানিয়ে তিনবার চিঠি দেওয়া হয়েছিল; কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’

অন্যদিকে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) জানিয়েছে, ভবনটিতে রেস্তোরাঁ বা পণ্য বিক্রয়কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার কোনো অনুমোদন ছিল না।

এদিকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালে অভিযান চালানো প্রসঙ্গে বলেন, ‘অতীতে কী হয়েছে, সেগুলো মনে রাখা যাবে না। ইচ্ছা করলেই অনিয়ম করে আর হাসপাতাল খোলা যাবে না। অভিযান চলবে। হাসপাতাল থাকবে, সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালও থাকবে। কিন্তু হাসপাতালগুলোকে নিয়ম মেনে চলতে হবে।’

এসময় অবৈধ বা যন্ত্রপাতিহীন হাসপাতাল বন্ধে অভিযান চলবে বলেও জানান তিনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালও থাকবে। কিন্তু সেসব হাসপাতালগুলোকে নিয়ম মেনে, যা যা ক্রাইটেরিয়া দরকার সেগুলো মেনে যদি হাসপাতাল চলে কোন আপত্তি নেই। আমরা একটা সুন্দর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চাচ্ছি, যেন সাধারণ মানুষ উন্নত চিকিৎসা সেবা পাই।

তিনি বলেন, যেখানে সেখানে আইসিইউ খোলা যায় না। আইসিইউ খুলতে গেলে হার্টের রোগী রাখতে হলে সাপোর্টিং জিনিস লাগে। আমরা মানুষের জীবন নিয়ে কাজ করি। জীবন একটাই। আমরা যে অভিযান চালাচ্ছি তা চলবে, বন্ধ হবে না। প্রয়োজনে আমিও যাবো।

বার্ন হাসপাতালে আহতদের জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে প্রধান করে বোর্ড

এদিকে, বেইলি রোডের আগুনে দগ্ধ হয়ে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ৫ জনের চিকিৎসায় স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেনকে প্রধান করে ১৭ সদস্যের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।

আজ শনিবার দগ্ধ রোগীদের দেখতে এসে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, এখানে ভর্তি হওয়া ৬ জনকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। বাকি পাঁচজন এখনও শঙ্কামুক্ত নন। তাদের চিকিৎসার জন্য একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। এরপর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সামন্ত লাল সেনকে প্রধান করে ১৭ সদস্যের ওই মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে।


বঙ্গবন্ধুর ওপর ‘কবিতা’ প্রজন্মের কাছে ছড়িয়ে দিতে হবে: নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জবি প্রতিনিধি

বঙ্গবন্ধুর ওপর ‘কবিতা’ প্রজন্মের কাছে ছড়িয়ে দিতে পারলে সেটা আমাদের সবচেয়ে বড় অর্জন হবে বলে মনে করেন নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। ঢাকায় বাংলা একাডেমিতে ভাষা শহীদ মুক্ত মঞ্চে শনিবার বঙ্গবন্ধু আবৃত্তি পরিষদ আয়োজিত বঙ্গবন্ধু আবৃত্তি উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘যখন বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন হয় তখন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’ গানটি রচনা করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথের এই কবিতাটি বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনে ভূমিকা রাখে। কাজী নজরুল ইসলামকে পেয়েছি বিদ্রোহী ভূমিকায় এবং বিভিন্নভাবে তাকে পেয়েছি। আর এ কাজটি হাতে নিয়েছে বঙ্গবন্ধু আবৃত্তি পরিষদ।’

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলা একাডেমির ভাষাশহীদ মুক্তমঞ্চ থেকে সেটি ৫৬ হাজার বর্গমাইলে ছড়িয়ে যাবে আশা করি। এটাই সময়। কারণ আমাদের সংগ্রাম ছিল সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী, স্বৈরাচার গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সময় জাতীয় কবিতা পরিষদ সংগ্রাম শুরু করেছিল। কবিতা পাঠ করতে করতে, আবৃতি করতে করতে আমরা সফল হয়েছি । আমাদের সংগ্রাম ছিল সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে। সেখানেও আমরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সফল হয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের অসাম্প্রদায়িক চেতনা, ’৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর যেভাবে নির্বাসিত করা হয়েছিল, যেভাবে সাম্প্রদায়িকতাকে সমাজের মধ্যে সাজিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল, যেভাবে আমাদের ইতিহাস, শিক্ষা ও সংস্কৃতিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে, কবিতা সেখানে শক্তিশালী ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে। আজকে আমাদের দেশের সার্বিক উন্নয়ন হয়েছে।’

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারের দিকে তাকাই ‘উন্নয়ন দৃশ্যমান, বাড়বে এবার কর্মসংস্থান’। সঠিকভাবে উচ্চারিত হয়েছে উন্নয়ন দৃশ্যমান। কিন্তু এখন আমাদের মানুষ কাঠামোর উন্নয়ন করতে হবে। সে উন্নয়নটায় কবিতা একটা বিরাট ভূমিকা রাখতে পারে। মানব কাঠামোর যে উন্নয়ন এই উন্নয়নে বঙ্গবন্ধু আবৃত্তি পরিষদ একটি জোরালো ভূমিকা রাখবে। আমাদের স্বপ্ন, ৩০ লাখ শহীদের স্বপ্ন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ‘সোনার বাংলা’। সোনার বাংলা মানে কিন্তু আমরা কখনোই বলি না একটি ধনী দেশ, আমরা বলি সুখী দেশ হতে চাই। কবিতা নিশ্চয়ই সেখানে বিরাট ভূমিকা রাখবে।’

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মোহাম্মদ নুরুল হুদার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির পরিচালক ড. শাহাদাৎ হোসেন নিপু। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ উৎসবের উদ্বোধন করেন।

বিষয়:

৫ হাজার নারী উদ্যোক্তাকে অনুদান দেবেন পলক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের পাঁচ হাজার নারী উদ্যোক্তাকে জনপ্রতি ৫০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। আজ শনিবার রাজধানীর পূর্বাচলে দেশীয় নারী উদ্যোক্তাদের সংগঠন উইমেন অ্যান্ড ই-কমার্স ট্রাস্ট উই-এর উদ্যোগে আয়োজিত উই কালারফুল ফেস্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ ঘোষণা দেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, উইমেন অ্যান্ড ই-কমার্সের মাধ্যমে দেশের ৬৪টি জেলা এবং ৫০০টি উপজেলার নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসা শুরু করার জন্য স্টার্টআপ সিড মানি হিসেবে অনুদান এ অর্থবছরে চালু করা হবে। নারী উদ্যোক্তাদের ব্যবসার মাধ্যমে ই-কমার্স প্রসারিত হচ্ছে। তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে আইসিটি বিভাগ নারী উদ্যোক্তাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছে।

তিনি বলেন, আইসিটি বিভাগের অধীন বিগত দিনে আইডিয়া প্রকল্প থেকে ২ হাজার নারী উদ্যোক্তাদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে অনুদান প্রদান করা হয়েছে। কারণ নারীরা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। এসব কিছুই সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারা বিশ্বে বাংলাদেশকে নারী ক্ষমতায়ন, নারী অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং জেন্ডার সমতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বা রোল মডেল হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি নারী ক্ষমতায়নের ও কর্ম সৃজনের অগ্রদূত। তারই নিরলস পরিশ্রম এবং দূরদৃষ্টি সম্পন্ন চিন্তাধারা, সংবেদনশীলতা এবং সকল কিছুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের নারীরা দৃশ্যমানভাবে প্রতিটি ক্ষেত্রে এগিয়ে এসেছে। সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশও তথ্যপ্রযুক্তির অবাধ সুবর্ণ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের অর্থনীতি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক ফরেন সার্ভিস অফিসার জেমস গার্ডিনার, বাংলাদেশ হাইটেক-পার্ক কর্তৃপক্ষের এমডি জিএসএম জাফরউল্লাহ, ই-ক্যাবের সভাপতি শমী কায়সার, উইমেন ও ই-কমার্স ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা নাসিমা আক্তার নিশা।


সরকার সব মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে অঙ্গীকারবদ্ধ: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী রুমানা আলী বলেছেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবা পাওয়ার ভরসাস্থল। এ কারণে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে সহজে ও স্বাচ্ছন্দ্যে মানুষের চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে।

আজ শনিবার শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মিলনায়তনে হাসপাতাল ম্যানেজমেন্ট কমিটির সভায় প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।

প্রতিমন্ত্রী রুমানা আলী বলেন, ‘বর্তমান সরকার প্রতিটি মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতে অঙ্গীকারবদ্ধ। তাই উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামাদি সম্পন্ন করে তোলার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক পদায়ন করা হয়েছে।’ এ সময় তিনি সততা, নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে সেবা দিতে চিকিৎসকদের প্রতি আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শ্রীপুর উপজেলা চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট শামসুল আলম প্রধান, শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র আনিছুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট নেতারা।


বর্তমান সরকারের সময় পীরগঞ্জ হবে স্মার্ট উপজেলা: স্পিকার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিনিধি

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেছেন, ‘বিশ্বায়নের যুগে সবাই দূরে চলে গেলেও নিজের শেকড় ও আত্মপরিচয় আমরা কেউ ভুলতে পারি না। পীরগঞ্জ হচ্ছে আমাদের আত্মপরিচয়ের অংশ।’

তিনি শনিবার নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার রয়েল রিসোর্টে পীরগঞ্জ (রংপুর) সমিতি, ঢাকায় আয়োজিত ‘বার্ষিক সাধারণ সভা ও পিকনিক-২০২৪’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন।

পীরগঞ্জ (রংপুর) সমিতি, ঢাকার সাধারণ সম্পাদক মো. শাহীনুর ইসলামের সঞ্চালনায় পীরগঞ্জ সমিতির সভাপতি আ ন ম আল ফিরোজের সভাপতিত্বে এই সাধারণ সভা হয়। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যসেবা সচিব জাহাঙ্গীর আলম বুলবুল।

স্পিকার বলেন, পীরগঞ্জ সমিতির এই আয়োজন একটি পারস্পরিক মিলনমেলা। এর মধ্য দিয়ে পারিবারিক ও আত্মিক বন্ধন সুদৃঢ় হয়। সমিতির বছরব্যাপী বৃত্তি প্রদান, ইফতার আয়োজনসহ নানা ধরনের সামাজিক কার্যক্রম করোনাকালীন কিছুটা বিঘ্নিত হলেও এখন আবার স্বরূপে ফিরে এসেছে।

ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী বলেন, জনগণের ভোট ও ভালোবাসায় নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে বদলে যাওয়া পীরগঞ্জের অনিষ্পন্ন কাজগুলো আগামী দিনগুলোতে সমাপ্ত করা হবে। পীরগঞ্জের যেকোনো উন্নয়ন ও সহযোগিতার কাজে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকনির্দেশনায় সার্বিক উন্নয়ন কার্যক্রমকে সহজতর করে তুলেছে। বর্তমান সরকারের সময় পীরগঞ্জ হবে স্মার্ট উপজেলা।

ওই সময় স্পিকার ঢাকাস্থ পীরগঞ্জ সমিতির সদস্যসহ তাদের পরিবার-পরিজনদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। তিনি আমন্ত্রিত অতিথিদের নিয়ে একটি বার্ষিক স্যুভেনির মোড়ক উন্মোচন করেন।

পরবর্তী সময়ে সমিতির পক্ষ থেকে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে ড. এম এ ওয়াজেদ মিয়া লিখিত ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে ঘিরে কিছু ঘটনা ও বাংলাদেশ’ গ্রন্থটি স্পিকার হাতে তুলে দেওয়া হয়। এর আগে স্পিকারসহ অতিথিদের জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল্লাহ আল কায়সার, পীরগঞ্জের পৌর মেয়র তাজিমুল ইসলাম শামীম, পীরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি নুরুল আমিন রাজা, ঢাকাস্থ পীরগঞ্জ সমিতির সহসভাপতি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. হুজুর আলী, প্রকাশনা সম্পাদক মো. নেওয়াজুল মওলাসহ সমিতির সর্বস্তরের নবীন ও প্রবীণ সদস্যরা স্বতঃস্ফূর্ত অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ জেলার জেলা প্রশাসক মো. মাহমুদুল হক, পুলিশ সুপার মো. গোলাম মোস্তফা রাসেল, উপজেলা পর্যায়ের নেতারা, রয়েল রিসোর্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তিরা ও গণমাধ্যমকর্মীসহ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


জলবায়ু পরিবর্তনে স্থানচ্যুতদের জাতিসংঘের ‘অভিবাসী’ সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্তির আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কূটনৈতিক প্রতিবেদক

জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতের কারণে মানুষের স্থানান্তর এখন এত প্রকট বাস্তব যে, বাংলাদেশ অবিলম্বে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে ‘জলবায়ু অভিবাসী’ ও ‘শরণার্থীর’ সংজ্ঞা পরিবর্তন করে জাতিসংঘের অভিবাসী ও শরণার্থীদের সংজ্ঞার সঙ্গে সংগতিপূর্ণ করার আহ্বান জানাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ।

আজ শনিবার তুরস্কের পর্যটননগরী আনতালিয়ায় স্থানীয় সময় দুপুরে ‘আনতালিয়া ডিপ্লোম্যাটিক ফোরাম-২০২৪’-এর ‘বিল্ডিং এশিয়া-প্যাসিফিক রিজিওনাল আর্কিটেকচারস: দ্য চ্যালেঞ্জ অব আনম্যাচিং ইন্টারেস্টস’ শীর্ষক প্রথম প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য দেওয়ার সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।

আন্তর্জাতিকবিষয়ক বিশেষজ্ঞ লরেন্স অ্যান্ডারসনের সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী, শ্রীলঙ্কার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী, ভিয়েতনামের পররাষ্ট্র উপমন্ত্রী প্রমুখ আলোচনায় অংশ নেন।

পরিবেশবিদ ড. হাছান বলেন, অনেক ছোট ও দ্বীপ রাষ্ট্রের মতো বাংলাদেশও জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর একটিতে পরিণত হয়েছে। পাশাপাশি গত ৩ দশক ধরে বিশেষত: গ্রিনহাউস গ্যাসের ক্রমবর্ধমান বৃদ্ধির কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে বাংলাদেশের সমগ্র উপকূলীয় এলাকা প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব ঘটনা প্রতিনিয়ত বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক জায়গায় জলবায়ু অভিবাসনের বৃদ্ধি ঘটাচ্ছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনেক পরিবেশ বিজ্ঞানীরা বহু বছর ধরে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাতের বিষয়ে আলোকপাত করে আসছেন। এখন অনেক বিশ্বনেতাসহ সবার কাছেই এটি স্পষ্ট যে, কোনো দেশের স্থানীয় সমস্যাও বিশ্বব্যাপী প্রভাব ফেলে। তবুও ধনী দেশগুলো, যারা বিশ্ব উষ্ণায়নের জন্য প্রধানত দায়ী, তারা এ সমস্যা মোকাবিলা করতে এবং আমাদের পরিবেশ রক্ষার জন্য খুব কমই করছে। বাংলাদেশ এই রূঢ় বাস্তবতার অন্যতম ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে ক্ষতিগ্রস্তদের ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষার জন্য সব পরিবেশকর্মী ও বিশ্বনেতাদের কাছে জলবায়ু অভিবাসী ও শরণার্থীর সংজ্ঞা পরিবর্তনের গুরুত্ব মেনে নিয়ে একটি গ্রহণযোগ্য সংজ্ঞা প্রণয়নের আহ্বান জানাচ্ছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, ‘মহাবিশ্বের দুই ট্রিলিয়ন গ্যালাক্সির মধ্যে আমাদের জানামতে একমাত্র পৃথিবী গ্রহেই প্রাণের বিকাশ ঘটেছে। সেই প্রাণের অস্তিত্ব রক্ষায় বিশ্বের পরিবেশ সুরক্ষা এবং এর ওপর বিরূপ প্রভাবগুলো প্রশমনে সযত্ন গুরুত্বদানের কোনো বিকল্প নেই।’

সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক

এদিন সাইডলাইনে সুইজারল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইগন্যাসিও ক্যাসিসের সঙ্গে বৈঠক করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন ক্ষেত্রসহ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন তারা।

তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম আমানুল হক, মন্ত্রীর একান্ত সচিব আরিফ নাজমুল হাসান, সুইজারল্যান্ডের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তাবিষয়ক পরিচালক রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েল লুশিংগার ও সুইস পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উপদেষ্টা সেড্রিক স্টাকি বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।


বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনায় বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়: ঢাবি উপাচার্য

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঢাবি প্রতিনিধি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল বলেছেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দূরদর্শী চিন্তাভাবনা ও নির্দেশনায় বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা নির্মাণ ও উত্তোলন করা হয়।

শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক বটতলায় ‘পতাকা উত্তোলন দিবস’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য এসব কথা বলেন।

মুক্তিসংগ্রামের ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহে এ জাতীয় পতাকা উত্তোলন অন্যতম উল্লেখযোগ্য অধ্যায় অ্যাখ্যায়িত করে উপাচার্য বলেন, এই পতাকা কখন, কোথায়, কীভাবে নির্মাণ ও উত্তোলন করা হবে তা বঙ্গবন্ধু আগেই নির্ধারণ করে রেখেছিলেন।

অধ্যাপক ড. মাকসুদ কামাল বলেন, ‘জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে পাকিস্তান রাষ্ট্রের মৃত্যু পরোয়ানা রচিত হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু একজন দূরদর্শী নেতা ছিলেন এবং এই মহান নেতা আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে ধাপে ধাপে আমাদের স্বাধীনতার দিকে নিয়ে গেছেন।’

উপাচার্য বলেন, বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন ও সার্বভৌম জাতিরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাস তরুণ প্রজন্মকে জানতে হবে এবং জানাতে হবে। এসব ইতিহাস সঠিকভাবে জানলে তরুণ প্রজন্ম কখনো স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি দ্বারা বিভ্রান্ত হবে না।

সভাপতির ভাষণে উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ পতাকা উত্তোলনের পটভূমি তুলে ধরে বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার ইতিহাস তরুণ প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে পতাকা উত্তোলন দিবসের তাৎপর্য অপরিসীম। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনাদর্শ, ঐতিহাসিক ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধসহ দেশ ও জাতির গৌরবগাথা ইতিহাস, ঐতিহ্য, অর্জন এবং বিভিন্ন দিবসের তাৎপর্য সম্পর্কে তরুণ প্রজন্মকে জানতে হবে।

উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. সীতেশ চন্দ্র বাছার পতাকা উত্তোলন দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, ‘২ মার্চ পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমেই বিশ্বকে বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের অস্তিত্ব জানান দেওয়া হয়েছিল। আমাদের মুক্তিসংগ্রামের যে ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে পতাকা উত্তোলন করা হয়েছিল তার নির্দেশনা ও নেতৃত্বে ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।’

কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মমতাজ উদ্দিন আহমেদ ১৯৭১ সালের ২ মার্চ পতাকা উত্তোলনের ইতিহাস বিস্তারিতভাবে তুলে ধরে বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাস ও অজর্ন প্রজন্য পরম্পরায় বহন করে নিতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ সভায় সভাপতিত্ব করেন। স্বাগত বক্তব্য দেন অনুষ্ঠানের সমন্বয়ক ও কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবদুল বাছির। অনুষ্ঠান সঞ্চালন করেন রেজিস্ট্রার প্রবীর কুমার সরকার।

ওই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, সিনেট ও সিন্ডিকেট সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন হলের প্রাধ্যক্ষ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


আমাদের কাজ হলো ভোটাধিকার নিশ্চিত করা: সিইসি

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী হাবিবুল আউয়াল বলেছেন, আমাদের কাজ হলো ভোটারদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা। সেদিক থেকে নির্বাচন কমিশনের ওপর বড় দায়িত্ব রয়েছে। আমাদের স্বাধীনভাবে ক্ষমতা প্রয়োগ করতে হবে।

আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের অডিটরিয়ামে জাতীয় ভোটার দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি।

সিইসি বলেন, এনআইডির গুরুত্ব অনেক বেড়েছে। এটা এখন অপরিহার্য। এনআইডি-সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতা এখন অনেকটাই সুষ্ঠু অবস্থায় এসে পৌঁছেছে। সম্পত্তি বেহাত করার জন্য যে এনআইডি কার্ড করা হয়, আমি হয়তো ভুল করে দিতে পারি, কিন্তু সচেতনভাবে অপরাধের সঙ্গে অংশ হিসেবে যদি এটা আমরা করে থাকি, তাহলে আমাদের টলারেন্স জিরো হবে। আমরা ওই ধরনের কর্মকর্তাদের পুলিশে হস্তান্তর করতে দ্বিধান্বিত হব না।

তিনি বলেন, এখন এনআইডির বাই প্রোডাক্ট হয়ে গেছে ভোটার কার্ড। এনআইডির বিষয় আজ নয়, আজ ভোটার দিবস। কীভাবে এটি বর্তমান পর্যায়ে এল, এটি ইতিহাসের একটা বিষয়। ভোটারের বিষয় যখন হয়, তখন প্রতিনিধিত্বের বিষয় আসে। আমরা ইতিহাস বেশি জানি না। আগে কলোনি ছিল, তার আগে রাজত্ব ছিল, ভোটাধিকার ছিল না। ব্রিটিশরা এসে ভোটাধিকার দিল। সবচেয়ে বড় নির্বাচন হয় প্রথম ১৯৩৫ সালে।
হাবিবুল আউয়াল বলেন, ভোট কেন গুরুত্বপূর্ণ। ভোটকেন্দ্রকে কেন্দ্র করে মুক্তিযুদ্ধের প্রয়োজন হয়ে পড়েছিল বঙ্গবন্ধুর ডাকে। আমরা স্বাধীনতা পেলাম। এরপর সংবিধান পেলাম, যেখানে নির্বাচনের বিষয়টা আছে। নির্বাচন করতে গেলে ভোটারের প্রয়োজন হয়। এতে ভোটারের রায়েই যেন প্রতিনিধিত্ব আসে- সেটাই লক্ষ্য ছিল।

সিইসি বলেন, নির্বাচন শেষ হয়ে গেছে বলেই দায়িত্ব শেষ হয়েছে এমন নয়। আগামীতে যারা আসবে, তাদের জন্য একটা ক্ষেত্র তৈরি করে যেতে হবে। আজকের গণতন্ত্র আদর্শিক গণতন্ত্র। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জাতিরাষ্ট্র গড়ে ওঠার পর গণতন্ত্রের বিকাশ হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ সময় বেইলি রোডের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মারা যাওয়া সবার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং তাদের বিদেহী আত্মার শান্তি কামনা করা হয়।


আগামীকাল আত্মসমর্পণ করবেন ড. ইউনূস

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা ২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ মামলায় আত্মসমর্পণ করতে যাচ্ছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস। আগামীকাল রোববার তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চাইবেন বলে নিশ্চিত করেছেন তার আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন।

তিনি বলেন, দুদকের মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়ার পর সেখানে হাজির হওয়ার জন্য প্রস্তুত ড. ইউনূস। এ ছাড়া শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালেও জামিন চাইতে হাজির হবেন তিনি।

শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে ড. ইউনূসসহ চারজনের হাজিরার তারিখ ধার্য আছে আগামীকাল। শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় তাদের জামিনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে এ দিন। এ কারণে জামিন স্থায়ী করার আবেদন করা হবে এবার। আগামীকাল সকালে শ্রম আপিল ট্রাইব্যুনালে এবং দুপুরের দিকে ঢাকার সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতে হাজির হয়ে জামিন চাইবেন ড. ইউনূস।

২৫ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের মামলায় গত ৩০ জানুয়ারি গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা ড. ইউনূসসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক। যা ঢাকার সিনিয়র বিশেষ জজ আদালতে উপস্থাপন করা হবে আজ। অভিযোগপত্রে ড. ইউনূসসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করার আবেদন করা হয়েছে।

এর আগে, গত বছরের ৩০ মে গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক-কর্মচারী কল্যাণ তহবিলের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে এই মামলা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে তহবিল থেকে ২৫ কোটি ২২ লাখ ছয় হাজার ৭৮০ টাকা লোপাটের অভিযোগ আনা হয়েছে। মামলায় এজাহারভুক্ত ১৩ আসামির সঙ্গে তদন্তে পাওয়া নতুন আরও একজনের নাম যুক্ত করা হয়েছে। দুদকের উপপরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান বাদী হয়ে ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করেছিলেন।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস ছাড়াও মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামিরা হলেন- গ্রামীণ টেলিকমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. নাজমুল ইসলাম, পরিচালক ও সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আশরাফুল হাসান, পরিচালক পারভীন মাহমুদ, নাজনীন সুলতানা, মো. শাহজাহান, নূরজাহান বেগম, এসএম হুজ্জাতুল ইসলাম লতিফী, আইনজীবী মো. ইউসুফ আলী ও জাফরুল হাসান শরিফ, গ্রামীণ টেলিকম শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. কামরুজ্জামান, সাধারণ সম্পাদক ফিরোজ মাহমুদ হাসান, ইউনিয়নের প্রতিনিধি মো. মাইনুল ইসলাম ও দপ্তর সম্পাদক মো. কামরুল হাসান।


অনলাইন জুয়া রোধে আইন চায় পুলিশ

শনিবার রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে তিন মন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২ মার্চ, ২০২৪ ২৩:৩০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অনলাইনে জুয়া খেলা নিয়ন্ত্রণের জন্য নতুন আইন চাচ্ছেন পুলিশ কর্মকর্তারা। ১৮৬৭ সালের পাবলিক জুয়া আইন অনুযায়ী কেউ যদি প্রকাশ্যে কোনো সরঞ্জাম ব্যবহার করে জুয়া খেলে তবে তা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ।

শনিবার পুলিশ সপ্তাহর পঞ্চম দিনে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে তিনজন মন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এই নতুন আইনের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

সভায় উপস্থিত একাধিক পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, অনলাইন জুয়া নিয়ন্ত্রণে নতুন আইন করা হলে তা হবে যুগোপযোগী।

মতবিনিয়ম সভার বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র ইনামুল হক বলেন, মন্ত্রীরা পুলিশ কর্মকর্তাদের কথাগুলো ধৈর্য নিয়ে শুনেছেন। যৌক্তিক বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন তারা।

সভায় উপস্থিত ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক প্রস্তাবিত বিষয়গুলো গুরুত্বসহ বিবেচনা করবেন বলে আশ্বাস দেন। ওই সময় আরও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখার জন্য পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।

সভায় উপস্থিত ছিলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরী, আইনসচিব গোলাম সারওয়ার, গৃহায়ণ ও গণপূর্তসচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মানজুরুল মান্নান।

বিষয়:

এ সপ্তাহেই আসছে ৫০ হাজার টন ভারতীয় পেঁয়াজ: বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভারতের ৫০ হাজার মেট্রিক টন পেঁয়াজ চলতি সপ্তাহেই দেশে প্রবেশ করবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু। তার আশাবাদ, এর ফলে বাজারে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এ ছাড়া আগামী দু-একদিনের মধ্যে খুচরা বাজারে ভোজ্যতেল প্রতি লিটার ১৬৩ টাকা দরে বিক্রি শুরু হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) নারী উদ্যোক্তাদের আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী।

বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) ত্রয়োদশ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের সময় ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়ালের সঙ্গে তার দ্বিপক্ষীয় আলোচনা হয়েছে। সেখানে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন যে বাংলাদেশে ৫০ হাজার টন পেঁয়াজ পাঠানোর বিষয়ে চিঠি ইস্যু করতে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন। সেই চিঠি গতকাল তারা হাতে পেয়েছেন। ফলে চলতি সপ্তাহ থেকে পেঁয়াজ দেশে আসা শুরু করবে।

সয়াবিন তেলের নতুন দর খুচরা বাজারে কবে কার্যকর হবে জানতে চাইলে আহসানুল ইসলাম টিটু বলেন, ‘গতকাল (১ মার্চ শুক্রবার) থেকে মিলগেটে সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১৬৩ টাকায় ভোজ্যতেল সরবরাহ শুরু হয়েছে। খুচরা বাজারে এর প্রভাব পড়তে দু-একদিন সময় লাগতে পারে। গতকাল থেকে এ বিষয়ে তদারকি শুরু হয়েছে। আজও (গতকাল) প্রতিটি তেলের মিলে আমাদের টিম গেছে।’

প্রসঙ্গত গত ২০ ফেব্রুয়ারি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত দ্রব্যমূল্য ও বাজার পরিস্থিতি পর্যালোচনাবিষয়ক টাস্কফোর্সের সভায় সয়াবিন তেলের দাম কমানোর প্রসঙ্গ তোলেন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী। তখন ভোজ্যতেল উৎপাদক সমিতির সব প্রতিনিধি লিটারে ১০ টাকা করে দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নেন। সে হিসাবে প্রতি লিটার সয়াবিন তেলের দাম ১০ টাকা কমিয়ে ১৬৩ টাকা করার সিদ্ধান্ত হয় যা কার্যকর হওয়ার তারিখ নির্ধারণ হয় ১ মার্চ। তবে প্রথম দুদিনে ওই সিদ্ধান্তের প্রভাব নেই বাজারে, খুচরা বাজারে এখনো নতুন দামে তেল বিক্রি শুরু হয়নি।

খেজুর নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা ওঠায় শুল্ক ছাড় দিয়ে বাজারে সাধারণ মানুষের জন্য নির্দিষ্ট ধরনের খেজুরের দাম কমানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে বলে জানান আহসানুল ইসলাম। তিনি বলেন, বাজারে অন্তত ১০ ধরনের খেজুর রয়েছে। এর মধ্যে সাধারণ মানুষের জন্য ‘জায়েদি খেজুর’, যা বস্তায় করে দেশে আসে, তার দাম কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামীকাল (আজ) রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে জায়েদি খেজুরের খুচরা ও পাইকারি দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হবে।

বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, রমজানের আগে ভোক্তাদের যেন বাড়তি দামে পণ্য কিনতে না হয়, সেই লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। এতে নিত্যপণ্যের দাম যৌক্তিকভাবে কমে আসবে। নিত্যপণ্য নিয়ে ব্যবসায়ী বা অন্য কারও কাছে সরকার জিম্মি থাকবে না। পণ্য আমদানি ও খালাস করা নিয়ে যৌক্তিক কোনো সমস্যা থাকলে তা সমাধান করা হবে। তবে এ ক্ষেত্রে কোনো অজুহাত সহ্য করা হবে না।


banner close