ভারত বাংলাদেশে গণতন্ত্র সমুন্নত রাখতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেন, ‘ভারত বিশ্বে সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ। তারা চায় প্রতিবেশী রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে যাতে কোনো ভাটা না পড়ে।’
গতকাল সোমবার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জাপানি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব বলেন। জাপানিরা বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য, বিদ্যুৎ খাত, বন্দর ও পর্যটন নিয়ে আগ্রহ জানিয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ঢাকা-নয়াদিল্লি পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ের বৈঠক, ফরেন অফিস কনসালটেশনে (এফওসি) যোগ দিতে আগামী ২৩ নভেম্বর ভারত যাচ্ছেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন। এই বৈঠকে নির্বাচন প্রসঙ্গে কোনো আলোচনা হবে কি না- এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটি রুটিন ওয়ার্ক (নিয়মিত বৈঠক)। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও বিষয় নিয়েই আলোচনা হবে।’ রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নির্বাচন নিয়ে আলাপ হবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে তো ভারতের সঙ্গে আলাপ হয়েই গেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তো আগেই আলোচনা করেছেন। ভারত বিশ্বে সবচেয়ে বড় গণতান্ত্রিক দেশ। তারা এই অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা চায়।’
কমনওয়েলথের প্রাক নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দল এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠক করেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তারা নির্বাচনের প্রস্তুতি বিষয়ে জানতে চেয়েছেন। আমরা জানিয়েছি ‘ভেরি স্ট্রং প্রসেসেস’ (মজবুত উদ্যোগ)। এর মাধ্যমে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।’
মোমেন জানান, জাপানের কয়েকটি কোম্পানি মিয়ানমারে রয়েছে। তারা বাংলাদেশে বিনিয়োগ চায়। এ দেশে কয়েকটি জায়গা নির্বাচন করেছে তারা।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সমুদ্র অর্থনীতিতে অন্তত পাঁচ বিলিয়ন ডলারের মতো বিনিয়োগ করতে চায় জাপানের ব্যবসায়ীরা। এ ছাড়া নবায়নযোগ্য শক্তিসহ বেশকিছু সেক্টরের প্রায় ৩১টি কোম্পানি বাংলাদেশে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে। এটা সুখবর। আমরা তাদের নির্বাচনের পরে আসতে বলেছি।
বিগত সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি ও বিশৃঙ্খলার মাঝে বর্তমান সরকারের ছয় মাস (১৮০ দিন) পূর্ণ করে দেশ পরিচালনা করতে পারাই একটি বড় সফলতা বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বেলা ১২টায় প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘শাপলা’ হলে সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাস বা ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় স্বাগত বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, আজকে বর্তমান সরকারের ১৮০ দিন পূর্ণ হলো। বিগত সরকার যে জঞ্জাল ও ভঙ্গুর অবস্থায় দেশকে রেখে গিয়েছিল, সেই পরিস্থিতির মধ্যেও বর্তমান সরকার যে স্বাভাবিকভাবে দেশ পরিচালনা করতে পারছে- এটাই আমাদের কাছে অনেক বড় প্রাপ্তি।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীর সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান ও রুহুল কবির রিজভী, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বক্তব্য রাখেন। সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন মন্ত্রী ও উপদেষ্টারা।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম, তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান, প্রধাননমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, প্রধানমন্ত্রীর পরিবেশ, বন ও জলবায়ু বিষয়ক বিশেষ সহকারী সাইমুম পারভেজ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক এসএম আব্দুল আউয়াল উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া আরো উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিশেষ সহকারী রাশেদ খান, তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানা, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমেদ, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাষ্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামাল, প্রধানমন্ত্রীর স্ক্রিপট রাইটার মাহফুজুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি, মো. সুজাউদ্দৌলা, শাহাদাৎ স্বাধীন,সহকারি প্রেস সচিব কেএম নাজমুল হক, আবদুল্লাহ আল মাহমুদ শাহরিয়ার ও আশরোফা ইমদাদ।
জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার প্রতিনিয়ত দেশবাসীর কাছে জবাবদিহি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
তিনি বলেন, ‘সরকারের ৫ বছর মেয়াদের প্রথম ১৮০ দিন ছিল রাষ্ট্র ও সমাজের বিদ্যমান ধ্বংসস্তূপের জঞ্জাল পরিষ্কার করার পর্ব, যা ভবিষ্যৎ পরিকল্পিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উপযোগী ও সুদৃঢ় ভিত্তি তৈরি করেছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের কর্মকাণ্ড ও অগ্রগতি জনগণের সামনে তুলে ধরতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
ব্রিফিংয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণবিস্ফোরণ ও গণবিদ্রোহ ছিল দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে জনগণের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান (বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী) তারেক রহমানের স্বদেশে প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে লাখো-কোটি মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল জনগণের সেই ক্ষোভের বিপরীতে ভবিষ্যৎ পুনর্গঠনের প্রত্যাশা ও স্বপ্নের রূপকার।’
তিনি আরও বলেন, ‘একইভাবে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর বাংলাদেশের গণতন্ত্রের দীর্ঘ সংগ্রামের প্রধান নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণে মানুষের যে অভূতপূর্ব ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শন, তা ছিল জনগণের আরেকটি শক্ত প্রতীকী বার্তা। অর্থাৎ ৫ আগস্টের ক্ষোভ, ২৫ ডিসেম্বরের ভালোবাসা-আস্থা এবং ৩১ ডিসেম্বরের শ্রদ্ধা ও সংহতি-এই তিনটি ঘটনাই আজকের বাংলাদেশ পরিচালনায় আমাদের মূল অনুপ্রেরণা।’
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, জনগণ তাদের দীর্ঘদিনের অপহৃত ভোটাধিকার ফিরে পেয়ে নির্বাচনের মাধ্যমে স্পষ্ট ম্যান্ডেট দিয়েছে এবং সেই ম্যান্ডেট নিয়েই তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার পরিচালিত হচ্ছে। সরকার জানে যে জনগণের কাছে তাদের জবাবদিহিতার দায় রয়েছে। নিয়মিতভাবে জনগণের সামনে এসে কর্মকাণ্ড তুলে ধরা এবং সাংবাদিকদের সকল প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মাধ্যমেই এই জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে।
নতুন ভবন নির্মাণের উপমা দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘ধ্বংসস্তূপের ওপর নতুন ভবন নির্মাণের আগে জঞ্জাল পরিষ্কার করা আবশ্যক। ঠিক একইভাবে বিগত শাসনের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানকে পুনর্গঠন করতে হচ্ছে, যাতে আমাদের প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ঐতিহাসিক ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’ বাস্তবসম্মত ও টেকসই কর্মসূচিতে রূপ দেওয়া যায়।’
তিনি বলেন, সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের মূল লক্ষ্যই ছিল রাষ্ট্রকে নতুন কর্মসূচি বাস্তবায়নের পূর্ণ উপযোগী করে তোলা। প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষত চিহ্নিত করে তা মেরামত করা এবং ভবিষ্যৎ অগ্রযাত্রার পথ সুগম করাই ছিল এই পর্বের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
প্রেস ব্রিফিংয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে ঘোষিত দলীয় ইশতেহার ও পরিকল্পনার কতটুকু এ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়েছে, তার ধারাবাহিক চিত্র প্রতিনিয়ত জনগণের সামনে প্রকাশ করা হবে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রাথমিক পুনর্গঠনের এই কঠিন পর্ব অতিক্রম করে জনগণের সব প্রত্যাশা পূরণ করতে সরকার সফল হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ব্রিফিং শেষে তথ্যমন্ত্রী সরকারের ১৮০ দিনের সার্বিক কর্মকাণ্ড, সাফল্য ও ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের বিস্তারিত উত্তর দেন।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এ সভা সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী। এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও কৃষি উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও শিল্প উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
সভায় তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক এস এম আব্দুল আওয়াল এবং প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনিসহ প্রেস উইংয়ের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দেশটির ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান বিন আবদুল আজিজ আল সৌদ। সোমবার (১৭ আগস্ট) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফের এইচ. বিন আবিয়াহ এই আমন্ত্রণপত্রটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে হস্তান্তর করেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
এই আমন্ত্রণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের দীর্ঘদিনের বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও জোরদার করার নতুন উদ্যোগের ইঙ্গিত মিলছে। দুই দেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিকভাবে ধর্মীয় ও জনসম্পৃক্ততার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শ্রমবাজারের পাশাপাশি বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রেও এর পরিধি বাড়ছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের আগস্ট মাসেও সৌদি আরব বাংলাদেশে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ এবং আরও দক্ষ বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার ক্ষেত্রে সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্কের শুরুটা কিছুটা বিলম্বিত হলেও ১৯৭৫ সালে দুই দেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক ধীরে ধীরে আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। হজ, ধর্মীয় যোগাযোগ ও জনশক্তি রপ্তানির মধ্য দিয়ে সম্পর্কের যে ভিত্তি তৈরি হয়েছিল, তা পরবর্তী সময়ে বিস্তৃত অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সহযোগিতায় প্রসারিত হয়েছে।
সৌদি আরব বর্তমানে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজারগুলোর একটি। দেশটিতে কর্মরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মীর পাঠানো রেমিট্যান্স বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের একটি প্রধান উৎস। একই সঙ্গে সৌদি আরব বাংলাদেশের প্রধান হজ গন্তব্য এবং দুই দেশের জনগণের মধ্যে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক যোগাযোগও অত্যন্ত সুদৃঢ়। ফলে রিয়াদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রাখা বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনৈতিক কূটনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
রাজনীতি ও শাসনের মূল ভিত্তি জনআকাঙ্ক্ষা। একটি নির্বাচিত সরকারের সূচনা মানেই কিছু নীতি-নির্ধারণী কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং তা কোটি মানুষের স্বপ্ন ও প্রত্যাশাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার অঙ্গীকার। পরিবর্তন ও উন্নয়নের যেসব বুনিয়াদী প্রতিশ্রুতি নিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার যাত্রা শুরু করেছিল, তার প্রথম ১৮০ দিন বা ছয় মাস অতিক্রান্ত হলো সোমবার (১৭ আগস্ট)। শাসনের এই প্রারম্ভিক সময়টি একটি ক্যালেন্ডারের হিসাব নয়; এটি মূলত সরকারের লক্ষ্য, গতি ও সদিচ্ছার এক বাস্তব প্রতিচ্ছবি।
বিশ্ব অর্থনীতির টানাপোড়েন, অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ এবং জনপ্রত্যাশার গুরুভারকে সঙ্গী করে সরকারের এই পথচলা নির্বাচনী ইশতেহারে বন্দি না থেকে বাস্তবতার জমিনে ডালপালা মেলতে শুরু করেছে; সূচিত হয়েছে প্রগতির এক নতুন অধ্যায়ের।
এ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সরকারের ছয় মাসের কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
সোমবার (১৭ আগস্ট) তিনি সরকারের ছয় মাসের কর্মকাণ্ডকে ১০টি প্রধান দিকের আলোকে তুলে ধরেছেন। তার বক্তব্যে জনসমর্থন, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন, অর্থনৈতিক সংস্কার, আইনশৃঙ্খলা, অবকাঠামো, পরিবেশ ও পররাষ্ট্রনীতির বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছে।
মাহ্দী আমিন বলেছেন, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার দায়িত্ব নেয়। ১৮০ দিন পূর্তির এই আয়োজন সরকারের জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রতিফলন।
সরকারের সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে জনগণের প্রত্যক্ষ সমর্থনকে উল্লেখ করেছেন মাহ্দী আমিন। তার দাবি, দীর্ঘ সময় পর মানুষ নিজেদের পছন্দের দল ও প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে। নির্বাচনের পর বিভিন্ন কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যেখানেই গেছেন, সেখানেই মানুষের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে। তার ভাষায়, এই আস্থা ও ভালোবাসাকে ধারণ করেই সরকার কাজ করছে। নির্বাচনী ইশতেহারকে শুধু প্রতিশ্রুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তা বাস্তবায়নে সরকার কাজ করছে।
সরকারের কার্যক্রমে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতিফলন ঘটেছে বলে দাবি করে মাহ্দী আমিন বলেন, বাগস্বাধীনতা, মানবাধিকার ও আইনের শাসনের ক্ষেত্রে সরকার সর্বোচ্চ মান বজায় রাখার চেষ্টা করছে। সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা আলোচনা ও সমালোচনার মাধ্যমে বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে তিনি উল্লেখ করেন সংসদের প্রথম অধিবেশনেই শতাধিক অধ্যাদেশ আইনে রূপান্তরের কথাও। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে বিভিন্ন আইন সংস্কার এবং শিক্ষার্থীদের সংসদে উপস্থিত থাকার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি।
ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে উল্লেখ করেন মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এতে প্রায় ১৩ লাখ কৃষক পরিবার উপকৃত হয়েছে। কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড ও প্রবাসী কার্ড চালুর উদ্যোগের কথাও বলেন তিনি। জেলা পর্যায়ে কর্মসংস্থান বিনিময়কেন্দ্র চালু, ধর্মীয় নেতাদের সম্মানী এবং খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন।
দায়িত্ব নেওয়ার সময় রাষ্ট্রব্যবস্থায় নানা সংকট ছিল বলে মন্তব্য করেন মাহ্দী আমিন। তার দাবি, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং বাজারে সিন্ডিকেট ঠেকাতে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহায় শ্রমিক অসন্তোষ হয়নি বলেও উল্লেখ করেন তিনি। শ্রমিকদের বেতন, বকেয়া ও বোনাস পরিশোধে মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে সমন্বয়ের কথা বলেন। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দাম বাড়লেও বাংলাদেশে দীর্ঘ সময় তেলের দাম না বাড়ানোর বিষয়টিও তুলে ধরেন তিনি। এ ছাড়া কোরবানির পশুতে স্বয়ংসম্পূর্ণতা, দ্রুত বর্জ্য অপসারণ এবং এসএসসি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস না হওয়ার বিষয়গুলোও সরকারের সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন।
মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাবে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন মাহ্দী আমিন। একটি এফএসআরইউতে কারিগরি ত্রুটির কথাও বলেন তিনি। তার বক্তব্য অনুযায়ী, জ্বালানি খাতের দীর্ঘদিনের সমস্যা কাটাতে সরকার কাজ করছে। চীন ও মালয়েশিয়ার বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান পেট্রোনাসের মাধ্যমে গ্যাস সংকট মোকাবিলায় অগ্রগতির কথাও জানান তিনি।
দেশের অভ্যন্তরে গ্যাসের বিকল্প উৎস তৈরি এবং জ্বালানি সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
অবসরপ্রাপ্ত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পাওনা পরিশোধের উদ্যোগকে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেন মাহ্দী আমিন। বলেন, অবসর ও কল্যাণ ট্রাস্টের পাওনা বাবদ ২ হাজার কোটি টাকার চেক শিক্ষকদের দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যা বাড়ানো এবং ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসায় আর্থিক সহায়তার কথাও বলেন। শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন বিষয় যুক্ত করা, বিনা মূল্যে ওয়াই-ফাই, শিক্ষার্থীদের পোশাক ও ব্যাগ দেওয়া এবং মিড-ডে মিল চালুর উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
মেয়েদের স্নাতক পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা, তৃতীয় ভাষা শিক্ষা এবং বিদেশগামী শিক্ষার্থীদের ব্যাংক গ্যারান্টির ব্যবস্থার কথাও বলেন মাহ্দী আমিন। এ ছাড়া খেলাধুলা, উদ্যোক্তা তৈরি, স্টার্টআপ, ফ্রিল্যান্সার কার্ড, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বন্ধ কলকারখানা চালুর উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অর্থনৈতিক কাঠামোয় সংস্কার শুরু হয়েছে বলে জানিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য সহজ করতে কর কমানো, আমানতকারীদের সুরক্ষা, বন্ডেড ওয়্যারহাউস সুবিধা সম্প্রসারণ এবং ব্যবসার লাইসেন্স নবায়ন সহজ করা হয়েছে।
দেশীয় শিল্পের সক্ষমতা বাড়াতে কাঁচামাল আমদানির ব্যয় কমানো এবং তৈরি পণ্যের আমদানি নিরুৎসাহিত করতে শুল্ক সমন্বয়ের কথাও বলেন তিনি। জুলাইয়ে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আসা, মূল্যস্ফীতি কমা এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ার বিষয়টিও সরকারের অর্থনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেন তিনি। বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা এবং বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে আলোচনা চলছে বলেও জানান মাহ্দী আমিন। আনোয়ারা ও মোংলায় অর্থনৈতিক অঞ্চল, ইপিজেড এবং বন্দরগুলো ২৪ ঘণ্টা চালুর উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে বলে দাবি করেন মাহ্দী আমিন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, পুলিশ ও প্রশাসনকে রাজনৈতিক হয়রানিমুক্ত ও জনবান্ধব করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরকে সন্ত্রাসীদের দখল থেকে মুক্ত করার কথা উল্লেখ করেন তিনি। নারী ও শিশু নির্যাতনসহ গুরুতর অপরাধের ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার উদ্যোগের কথাও বলেন। তনু হত্যা ও শহীদ ওসমান হাদী হত্যার মতো পুরোনো মামলার তদন্তে অগ্রগতির কথাও জানান তিনি। এ ছাড়া শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের এক আসামিকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি উল্লেখ করেন। মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন করা হয়েছে বলেও জানান মাহ্দী আমিন। এছাড়া জুয়া, মাদক, ধূমপান ও সাইবার অপরাধ দমনে আইন এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির ফলে যুক্তরাষ্ট্রের ভ্রমণ সতর্কতা লেভেল ৩ থেকে ২-এ নামার বিষয়টিও তিনি উল্লেখ করেন।
ঢাকার যানজট কমাতে এআইভিত্তিক ট্রাফিক ব্যবস্থার পরীক্ষামূলক বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে বলে জানান মাহ্দী আমিন। নারীদের জন্য পিংক বাস চালু, ঢাকায় ২০০টি বৈদ্যুতিক বাস নামানো এবং পরিবহন খাতে বিদ্যুতায়নের উদ্যোগের কথাও বলেন তিনি। বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য ট্রেনের ভাড়ায় ছাড় এবং নারীদের জন্য বিশেষ কামরার ব্যবস্থার কথাও তুলে ধরেন।
এছাড়া তিস্তা মহাপরিকল্পনা, পদ্মা ব্যারেজ এবং বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক করিডোর নিয়ে অগ্রগতির কথাও জানান তিনি। মেগা প্রকল্পের নামে অতিরিক্ত ব্যয় ও দুর্নীতির পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী প্রকল্পে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন মাহ্দী আমিন। সরকারি প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের উদ্যোগ, তিনটি এসডিজি ভিলেজ এবং বৃক্ষরোপণ ও খাল খনন কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন তিনি।
সরকারের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বলে উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সম্পর্ক হবে সমতা, ন্যায্যতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পর্যটন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর চীন ও মালয়েশিয়া সফরের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব সফরে বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের নির্বাচিত হওয়ার বিষয়টিও তিনি দেশের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো দেশের হস্তক্ষেপ মেনে নেওয়া হবে না।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের ধরনকে সরকারের আরেকটি স্বাতন্ত্র্য হিসেবে তুলে ধরে মাহ্দী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তথাকথিত ভিআইপি সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে যাচ্ছেন। তৃণমূলের কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। খাল খননে কোদাল হাতে নামছেন। শিশুদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন। ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনের পর রাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্ষেত্রে জমে থাকা সমস্যা ছয় মাসে পুরোপুরি সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে সরকার প্রতিটি ক্ষেত্রে আন্তরিকতা, দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহি নিয়ে কাজ করছে।
মাহ্দী আমিন বলেন, জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সরকারের ক্ষমতার উৎস জনগণ। জনগণই সরকারের অনুপ্রেরণার উৎস। জনগণের সরকার হিসেবেই এই সরকার কাজ করছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশে আল কায়েদার উপস্থিতি নিয়ে জাতিসংঘের রিপোর্ট অনুমাননির্ভর। তিনি জানান, বাংলাদেশে আল কায়েদার উপস্থিতি ও তৎপরতা নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতিবেদনের বিষয়ে সরকার আপাতত কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। তিনি প্রতিবেদনটি এখনো পড়েননি। এতে বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে যেসব কথা বলা হয়েছে, সেগুলো অনুমাননির্ভর হওয়ায় সরকার তা আমলে নিচ্ছে না।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন, ২০২৫’-এর প্রতিবেদন সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সম্প্রতি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশে আল কায়েদার তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে নিজেদের স্থায়ী ঘাঁটি ও গোপন সেল গড়ে তোলার চেষ্টা করছে আল কায়েদা।
এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি শুনেছি, রিপোর্টটা পড়িনি। সেখানে হয়তো কিছু অবজারভেশন দিতে পারে। আমি না দেখে বলতে পারব না।
তিনি বলেন, আমরা এগুলো আমলে নিচ্ছি না। রিপোর্টটা এখনো পড়িনি। তাছাড়া আমি যতটুকু শুনেছি, তারা একটা অ্যাজিউম করেছে। অনুমান করেছে যে এরকম হতে পারে। তো অনুমাননির্ভর রিপোর্টের ওপর আমরা কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছি না।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিগত ছয় মাস বা ১৮০ দিনে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সন্তুষ্টির বিষয়টি দেশের জনগণই মূল্যায়ন করবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের এখন মাত্র ৬ মাস পার হলো। এর মধ্যে আমরা অনেক সংস্কার কাজ করেছি এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন প্রশংসনীয় উদ্যোগ আপনারা দেখেছেন।
তিনি আরও বলেন, বিগত ১৮০ দিনে সরকার কর্তৃক গৃহীত ও বাস্তবায়িত বিভিন্ন উদ্যোগ ও কর্মসূচি জনগণের কাছে প্রশংসিত হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত রূপরেখার আলোকেই প্রথম ১৮০ দিনে একাধিক প্রশংসনীয় উদ্যোগ ও জনকল্যাণমুখী কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি ও গ্যাস সংকটের ধাক্কা বিশ্বব্যাপী অনুভূত হলেও সরকার তাৎক্ষণিকভাবে দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায়নি। বোরো মৌসুমে কৃষকদের স্বার্থ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার প্রায় এক মাস মূল্যবৃদ্ধি স্থগিত রাখে এবং পরবর্তীকালে সহনীয় মাত্রায় সমন্বয়ের সিদ্ধান্ত নেয়। অথচ ওই সময়ে বিশ্ববাজারসহ প্রতিবেশী দেশগুলোতে জ্বালানির দাম প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছিল।
বিগত সরকারের রেখে যাওয়া দীর্ঘদিনের গ্যাস ও জ্বালানি সংকট রাতারাতি সমাধান করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার টেকসই ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার মাধ্যমে এ সংকট উত্তরণে কাজ করছে।
বৈশ্বিক বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আকৃষ্ট করা, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ও উৎপাদন অব্যাহত রাখতে প্রাথমিক জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা আবশ্যক উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর পরিদর্শন শেষে সেখানে একটি পূর্ণাঙ্গ স্থলভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিদ্যমান সামিট এবং এক্সিলারেট এনার্জির ভাসমান টার্মিনালে প্রায়শই যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার সমস্যা নিরসনে একাধিক এফএসআরইউ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আমদানিনির্ভরতা কমাতে দেশের অভ্যন্তরে এবং অফশোর ও অনশোরে নতুন গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়েছে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে এ সমস্যার টেকসই সমাধান অর্জিত হবে।
সামাজিক নিরাপত্তা ও জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপের বিষয়ে তিনি বলেন, প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফের ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত অনুমোদিত ও বাস্তবায়িত হয়েছে। পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড প্রদান করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, দেশের ক্রীড়াবিদ ও সংস্কৃতিবিদদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানসহ একাধিক কল্যাণমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ সংক্রান্ত জাতীয় প্রকিউরমেন্ট কমিটির প্রধান হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সরকারের সঠিক নীতি ও সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের ফলে দেশে খাদ্যের একটি মজবুত ও নিরাপদ মজুদ গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে অন্য কোনো দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে গুঞ্জনের বিষয়ে জানতে চাইলে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আমিও গুঞ্জন শুনতেছি।
সরকারের ১৮০ দিনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অর্জিত সামগ্রিক অগ্রগতির সমন্বিত বিবরণী শিগগিরই প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং অথবা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়/দপ্তর থেকে গণমাধ্যমের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতিটি মানুষের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করাই বর্তমান সরকারের সবচেয়ে বড় সাফল্য বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বেলা ১২টায় প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘শাপলা’ হলে সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ছয় মাস বা ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
সালেহ শিবলী বলেন, ‘বর্তমান সরকার তোষামোদ ও বন্দনার রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে নতুন এক রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা করেছে। অতীতে মঞ্চে উঠে দীর্ঘ সময় বন্দনা করার যে প্রথা ছিল, তা থেকে সরকার সরে এসেছে। সামাজিক ও রাজনৈতিক যেসব বিষয় দীর্ঘদিন চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, সেগুলো থেকেও বেরিয়ে আসা গেছে।’
সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রমের হিসাব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব বলেন, ‘বিশ্বজুড়ে সাধারণত সরকারগুলোর প্রথম ১০০ দিনকে একটি ‘হানিমুন পিরিয়ড’ হিসেবে ধরে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়, যা প্রথাগতভাবে চলে আসছে। এটি সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত কোনো বিষয় ছিল না।’
তিনি বলেন, ‘মূলত কাজের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন ও প্রাথমিক ফল পেতে অন্তত ছয় মাস সময় লাগে।
জনগণের প্রতি সরকারের দায়বদ্ধতা এবং জনগণের তথ্য জানার অধিকার নিশ্চিত করতেই এই ১৮০ দিনের পর্যালোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে।’
সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী ইশতেহারের প্রতিটি দফা ধরে ধরে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। অতীতে নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি এভাবে ধরে ধরে বাস্তবায়নের নজির দেখা যায়নি।’
রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনাকে সরকারের অন্যতম বড় সাফল্য উল্লেখ করে প্রেস সচিব বলেন, ‘রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন আনা হয়েছে। অতীতে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনার দায় সরাসরি সরকারের না থাকলেও জবাবদিহিতার অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে শোকাহত পরিবারের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।’
কিশোরগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্য উদ্ধৃত করে সালেহ শিবলী বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে, যেখানে রাষ্ট্রের প্রতি যেমন নাগরিকের দায়িত্ব রয়েছে, তেমনি নাগরিকের প্রতিও রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা সমান। রাষ্ট্র তার সাধ্য অনুযায়ী প্রতিটি শ্রেণিপেশার মানুষের পাশে দাঁড়াবে। এই রূপকল্প বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী, তার দপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট সবাই মিলে ‘সবার আগে বাংলাদেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’ চেতনা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।’
সালেহ শিবলী বলেন, ‘অতীতে মিরপুরে সেনাবাহিনীর একজন নিহত কর্মকর্তার বাসায় প্রধানমন্ত্রীর নিজে উপস্থিত হওয়া প্রমাণ করে যে সরকার মজলুমের পাশে রয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিশে যেতে পছন্দ করেন। সম্প্রতি বাসযাত্রার সময় রাস্তা অতিমাত্রায় ফাঁকা রাখার বিষয়টি নজরে এলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন, যাতে ভবিষ্যতে সাধারণ মানুষের যাতায়াতে কোনো ভোগান্তি না হয়। একজন রাষ্ট্রপ্রধানের সাধারণ মানুষের মতো চলাফেরা করা এবং নিজেকে আলাদা না ভাবাই নতুন বাংলাদেশের ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রতিফলন।’
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান। একই সঙ্গে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়াকে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এরপর তা গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। দুদক আইন অনুযায়ী তারা পাঁচ বছরের জন্য এই নিয়োগ পেয়েছেন।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪’ এর ধারা ৬-এর উপধারা (১) অনুযায়ী বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান, ড. জাহাঙ্গীর আলম খান এবং ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়াকে দুদকের কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন আইনের ধারা ৫-এর উপধারা (১) অনুযায়ী বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগ করা হয়েছে।
দুদক চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারকের সমান পদমর্যাদা এবং বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা পাবেন।
অন্যদিকে কমিশনার নিয়োগ পাওয়া দুজন কমিশনার সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকের সমান পদমর্যাদা এবং বেতন, ভাতা, অন্যান্য সুবিধা পাবেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ কে এম আসাদুজ্জামান :
বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ১৯৫৯ সালের ১ মার্চ নওগাঁর সাপাহার উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা এম এ সামাদ একজন খ্যাতিমান আইনজীবী ছিলেন।
আসাদুজ্জামান রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি (সম্মান) এবং এলএলএম অর্জন করে ১৯৮৩ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকা জেলা বারে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ১৯৮৫ সালের ৫ সেপ্টেম্বর হাই কোর্টে এবং ২০০১ সালের ২৫ অক্টোবর তিনি আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।
হাই কোর্ট বিভাগে অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে যোগ দেন ২০০৩ সালের ২ আগস্ট । ২০০৫ সালের ২৭ আগস্ট একই বিভাগের স্থায়ী বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত হন।
২০২৫ সালের ২৫ মার্চ আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান এ কে এম আসাদুজ্জামান । দীর্ঘ বিচারিক জীবনে তিনি সংবিধান, ফৌজদারি আইন এবং দেওয়ানি বিষয়াবলীতে অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি ও ঐতিহাসিক রায় প্রদান করেছেন এবং সংবিধান সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ, মানবাধিকার রক্ষা এবং বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণে তাঁর বেঞ্চ থেকে প্রদত্ত একাধিক সিদ্ধান্ত আইন জগতে দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হয়।
পরবর্তীতে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তিনি আপিল বিভাগের বিচারপতি থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় দেশে জরুরি গ্যাসের চাহিদা পূরণে আন্তর্জাতিক কোটেশন সংগ্রহ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দুই কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে ।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির চলতি বছরের ৩৮তম সভায় এ প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়।
সভা সূত্রে জানা যায়, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫-এর বিধি-১০৫(৩)(ক) অনুসরণে আন্তর্জাতিক কোটেশন সংগ্রহ প্রক্রিয়ায় ৫ কার্গো এলএনজি ক্রয়ের প্রস্তাব উত্থাপন করে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। সেখান থেকে দুই কার্গো এলএনজি ক্রয়ের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, ভিটল এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেড থেকে ২৩-২৪ আগস্ট সময়কালের এক কার্গো এলএনজি প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ) ২১.৮৭ মার্কিন ডলার মূল্যে ৪২৪ কোটি ৬০ লাখ ৬০ হাজার ৮০০ টাকা এবং ৪-৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আরও এক কার্গো এলএনজি প্রতি এমএমবিটিইউ ২১.৭৯৬ মার্কিন ডলার মূল্যে ৪২৩ কোটি ২৬ লাখ ৬৬ হাজার ৬৯ টাকা দামে ক্রয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত ১২ আগস্ট গ্যাসের চাহিদা পূরণে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেট থেকে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে ৮ কার্গো এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছিল সরকার।
চলতি বছরেই নতুন পে-স্কেল ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সোমবার সচিবালয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ে ‘বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস পে-কমিশন, ২০২৫’- এর প্রতিবেদন সংক্রান্ত সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির সভা শেষে ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
এ বছরের মধ্যেই নতুন পে স্কেল বাস্তবায়ন হবে কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ‘নতুন পে-স্কেল চলতি বছরের মধ্যেই বাস্তবায়িত হবে।’
তিনি বলেন, ‘সবই হবে, তবে অধিকতর আলোচনার বিষয় আছে। আজকে একটা দিক নিয়ে আলোচনা করেছি। আরও অন্যান্য বিষয় আছে। সেসব আলোচনার পর পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্ত হলে তখন আপনাদের সামনে উপস্থাপন করা হবে।’
পে-স্কেল ঘোষণার ক্ষেত্রে সরকার সব বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে বলেও জানান অর্থমন্ত্রী। এ সময় অর্থমন্ত্রী সবাইকে ধৈর্য ধরার অনুরোধ জানান।
পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর সরকারের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে জানান তিনি।
দেশের অর্থবছরের সময়সীমা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে নয় মাসের ট্রানজিশনাল অর্থবছর হিসেবে ধরে জুলাই-মার্চ পর্যন্ত করার পর ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে এপ্রিল-মার্চ সময়কে নতুন অর্থবছর হিসেবে কার্যকর করা হবে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার ১৭তম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশে অর্থবছর ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন হিসাব করা হয়। এর ফলে জুলাই-আগস্ট মাসে অর্থাৎ বর্ষাকালে অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম চলমান থাকে। ফলে বর্ষার কারণে একদিকে কাজ দীর্ঘায়িত হয়, কাজের গুণগতমান ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ব্যাপক জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়।
এপ্রিল-মার্চ সময়কে অর্থবছর হিসেবে ব্যবহার করা হলে বর্ষার আগেই অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলেও সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
এতে বলা হয়, এজন্য ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ অর্থবছর নির্ধারণ যুক্তিযুক্ত। এক্ষেত্রে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, বাংলাদেশ ব্যাংক, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, লেজিসলেটিভ বিভাগ, অর্থ বিভাগসহ উপযুক্ত অংশীজন সমন্বয়ে একটি কমিটি পরবর্তী কর্মপন্থা নির্ধারণ করবে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের সংবিধান, জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট, ১৮৯৭-এ প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনতে হবে। এছাড়া, অর্থবছর পরিবর্তনের সঙ্গে সরকারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় যুক্ত বিভিন্ন সিস্টেমে প্রযুক্তিগত পরিবর্তন আনতে হবে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবছরকে ট্রানজিশনাল অর্থবছর হিসেবে বিবেচনা করে ৯ মাসে অর্থবছর (জুলাই-মার্চ) শেষ করা এবং অতঃপর ২০২৮-২৯ অর্থবছর থেকে নতুন অর্থবছর (এপ্রিল-মার্চ) অনুযায়ী সরকারের সব কার্যক্রম শুরু করা হবে। এ বিষয়ে মন্ত্রিসভা-বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনিকে পূর্বের চুক্তির ধারাবাহিকতায় আরও এক বছরের জন্য একই পদে পুনর্নিয়োগ দিয়েছে সরকার। সোমবার (১৭ আগস্ট) সন্ধ্যায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তাঁর এই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. গোলাম রাব্বানীর স্বাক্ষরিত ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর ৪৯ ধারা অনুযায়ী এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে এই এক বছর মেয়াদে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তাঁকে অন্য যেকোনো পেশা এবং সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে সকল ধরনের কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া তাঁর নিয়োগের অন্যান্য শর্ত আগের চুক্তির মতোই বহাল থাকবে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
দেশের ২৬তম মন্ত্রিপরিষদ সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী ড. নাসিমুল গনি গত ১৬ ফেব্রুয়ারি, অর্থাৎ বর্তমান সরকার গঠনের ঠিক এক দিন আগে এই পদে নিযুক্ত হয়েছিলেন। এর আগে ২০২৪ সালের ১৭ আগস্ট তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে দুই বছরের চুক্তিতে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় বিভাগের সিনিয়র সচিব হিসেবে নিয়োগ দেয় এবং পরদিন তিনি সেখানে যোগ দেন। পরবর্তীতে তাঁকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয় এবং একই বছরের ২৩ ডিসেম্বর তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
সুদীর্ঘ কর্মজীবনের অধিকারী ড. নাসিমুল গনি বিসিএস ১৯৮২ ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের একজন মেধাবী কর্মকর্তা। ওই ব্যাচের ১৪২ জন কর্মকর্তার মেধাতালিকায় তাঁর অবস্থান ছিল চতুর্থ। কর্মজীবনে নানা উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যাওয়া এই কর্মকর্তাকে ২০০৯ সালে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছিল। প্রায় চার বছর ওএসডি হিসেবে থাকার পর ২০১৩ সালে তাঁকে সরকারি চাকরি থেকে অবসর দেওয়া হয়, যার দীর্ঘ সময় পর তিনি পুনরায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ফিরে আসেন।
ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলোকে আইনি কাঠামোর মধ্যে আনতে রেজিস্ট্রেশনের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। তবে এই রেজিস্ট্রেশন বা নিবন্ধন পাওয়ার ক্ষেত্রে একটি কঠোর শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে; তা হলো—রিকশাগুলোর ব্যাটারি অবশ্যই সৌর বিদ্যুতের (সোলার পাওয়ার) মাধ্যমে রিচার্জ করতে হবে। আজ সোমবার (১৭ আগস্ট) সচিবালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি প্রদান করেছেন।
প্রতিমন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, জাতীয় গ্রিড বা সৌরবিদ্যুৎ ব্যতিরেকে অন্য কোনো উৎসের বিদ্যুৎ ব্যবহার করে রিকশা চার্জ দেওয়া হলে সেই যানবাহনকে কোনোভাবেই নিবন্ধন বা নবায়ন সুবিধা দেওয়া হবে না। এমনকি কেউ এই নিয়ম লঙ্ঘন করলে তাঁকে জরিমানার সম্মুখীন হতে হবে। তিনি বলেন, “সৌরবিদ্যুতের বাহিরে রিচার্জ করলে এই ব্যাটারিচালিত বা ই-রিকশাগুলোকে আমরা রেজিস্ট্রেশন দেব না এবং নবায়ন করব না।” পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারে উৎসাহ দিতেই সরকার এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মীর শাহে আলম আরও পরিষ্কার করেন যে, এখন থেকে ব্যাটারিচালিত রিকশা বা ই-রিকশার নিবন্ধন প্রক্রিয়া আর বিআরটিএ-র অধীনে থাকবে না। পরিবর্তে, সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন এবং পৌরসভাগুলোই এই নিবন্ধনের দায়িত্ব পালন করবে। ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত আইন জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে এবং বর্তমানে এর বিধিমালা তৈরির কাজ চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্রস্তাবিত বিধিমালায় নিবন্ধন ফি, বাৎসরিক নবায়ন ফি এবং চলাচলের অন্যান্য শর্তাবলী সুনির্দিষ্টভাবে নির্ধারণ করা হবে। সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে ব্যাটারিচালিত রিকশা নিয়ে দীর্ঘদিনের চলা বিশৃঙ্খলা নিরসন হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গুম, খুন ও নজিরবিহীন দুর্নীতির এক চরম বিধ্বস্ত অবস্থার মধ্য দিয়ে বর্তমান বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে এবং বর্তমানে সেই ভগ্নস্তূপের ওপর দাঁড়িয়েই রাষ্ট্র পুনর্গঠনের কাজ চলছে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী আহমেদ। আজ সোমবার দুপুরে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের ১৮০ দিন বা ছয় মাস পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী তাঁর বক্তব্যে বিগত সরকারের শাসনামলকে রূপকথার মতো অবিশ্বাস্য এক অরাজকতার কাল হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, “বিগত সরকারের রেখে যাওয়া লিগ্যাসি রাতারাতি পুনর্গঠন করা সম্ভব নয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের ৮৫০ কোটি টাকা উধাও হয়ে ফিলিপাইনের ক্যাসিনোতে চলে গেল, ব্যাংকগুলো লোপাট হয়ে গেল—এসবই ছিল মেগা প্রজেক্টের নামে মেগা দুর্নীতির বাস্তব রূপ।” তিনি অভিযোগ করেন যে, সেই সময় মানুষের জানমালের কোনো নিরাপত্তা ছিল না এবং ভিন্নমত পোষণ করলেই মানুষকে গুম বা বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হতে হতো। এমনকি একজন সাবেক সাংসদকে নৌকার মধ্যে পিটিয়ে হত্যার মতো নৃশংস ঘটনাও সেই দুঃশাসনের অংশ ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রিজভী আরও বলেন, ৫ আগস্টের ঐতিহাসিক পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পথ সুগম হয়েছে এবং জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার বর্তমানে রাষ্ট্র পরিচালনা করছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের পূর্বে দেওয়া প্রতিটি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে প্রথম দিন থেকেই সক্রিয় রয়েছেন। ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা, দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচি এবং পরিবেশ রক্ষায় বৃক্ষরোপণ অভিযানের মাধ্যমে সরকার সাধারণ মানুষের স্বস্তি ফেরানোর চেষ্টা করছে।
দুর্যোগ ও আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মতো প্রতিকূল পরিস্থিতি উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের গতিকে কিছুটা মন্থর করলেও সরকার দমে যায়নি বলে রিজভী দাবি করেন। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও অবকাঠামোসহ প্রতিটি মৌলিক খাতে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ আন্তরিকতার সাথে কাজ করে যাচ্ছে।