দেশের চার বিভাগের কয়েক জায়গায় বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। মঙ্গলবার এক আবহাওয়ার পূর্বাভাসে এ তথ্য জানায় অধিদপ্তর।
সংস্থাটি জানায়, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের দু-এক জায়গায় হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।
সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা ১ থেকে ২ ডিগ্রি হ্রাস পেতে পারে এবং দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে।
আজ সকাল ৬টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘন্টায় গোপালগঞ্জ, সাতক্ষীরা ও কক্সবাজারে সামান্য বৃষ্টিপাত হয়েছে।
সোমবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা সন্দীপে ৩৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং আজ মঙ্গলবার তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন ১৫ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।
পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে, এর বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।
আজ ঢাকায় উত্তর অথবা উত্তর-পূর্ব দিক থেকে ঘন্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। সকালে ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আদ্রতা ছিল ৭৬ শতাংশ।
ঢাকায় আজ সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৫টা ১১ মিনিটে এবং আগামীকাল ঢাকায় সূর্যোদয় ভোর ৬টা ১৮ মিনিটে।
ডেঙ্গু মশার বিপজ্জনক বংশবিস্তার রোধে দেশের প্রতিটি নাগরিক ও পরিবারকে প্রতি সপ্তাহে অন্তত দুই দিন, কমপক্ষে আধা ঘণ্টা করে নিজেদের ঘরবাড়ি এবং চারপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
একটি নির্বাচিত সরকার তখনই প্রকৃত অর্থে সফল হয়, যখন তারা সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দেশের যেকোনো সংকট মোকাবিলায় কাজ করতে পারে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকার সর্বদাই জনতা ও সরকারের যৌথ অংশগ্রহণের মাধ্যমে দেশের সব সমস্যার স্থায়ী সমাধান করতে বদ্ধপরিকর।
বুধবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় প্রধানমন্ত্রী এই বিশেষ আহ্বান জানান। রাত সাড়ে আটটার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত চার মিনিট একান্ন সেকেন্ড দীর্ঘ এই ভিডিও বার্তায় তিনি ডেঙ্গুর ভয়াবহতা মোকাবিলায় দলমত নির্বিশেষে সবাইকে একযোগে কাজ করার অনুরোধ জানান।
ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘আসুন, আমরা প্রত্যেক ব্যক্তি ও পরিবার সপ্তাহে অন্তত দুই দিন আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা সময় দিয়ে আমাদের ঘরবাড়ি, আশপাশের এলাকা এবং প্রতিদিন চলাচলের পথে যেসব স্থানে ডেঙ্গু মশার বংশবিস্তার হতে পারে, সেসব জায়গা পরিষ্কার করি।’
প্রধানমন্ত্রী আরও জোর দিয়ে বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশার প্রধান প্রজননস্থলগুলো ধ্বংস করা, বিশেষ করে বিভিন্ন পাত্রে বা স্থানে জমে থাকা পরিষ্কার পানি এবং যত্রতত্র ছড়িয়ে থাকা ময়লা-আবর্জনা সাফ করাই হলো সবচেয়ে কার্যকারী উপায়।
তিনি উল্লেখ করেন, আমাদের ঘরবাড়ির অন্দরমহল থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট কিংবা জনবহুল বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা stagnant পানিতেই ডেঙ্গু মশা নির্বিঘ্নে বংশ বিস্তার করে থাকে। তাই আমরা যদি নিজ দায়িত্বে এই প্রজননস্থলগুলো সময়মতো ধ্বংস করতে পারি, তবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে আমাদের সফলতা বহুগুণ বেড়ে যাবে।
বর্তমান সময়ে বিভিন্ন বয়সের মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হচ্ছেন এবং অনেকেই প্রাণ হারাচ্ছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের সামান্য সচেতনতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই বহু পরিবারকে তাদের প্রিয়জন হারানোর নির্মম বেদনা থেকে রক্ষা করা সম্পূর্ণ সম্ভব।
ইতিহাসের বিভিন্ন সংকটময় মুহূর্তে ঐক্যবদ্ধ হয়ে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ অনেক বড় বড় ঐতিহাসিক অর্জন তুলে এনেছে স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ দেশের মানুষ ১৯৭১ সালে বীরের মতো রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন করেছে, ১৯৯০ সালে ঐতিহাসিক স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে চূড়ান্ত সফলতা অর্জন করেছে এবং সর্বশেষ ২০২৪ সালে সর্বস্তরের ছাত্র-জনতার অদম্য প্রচেষ্টায় সফল করেছে ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থান।
এ সময় দেশবাসীর উদ্দেশে একটি যৌক্তিক প্রশ্ন রেখে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা যদি সবাই মিলে অতীতে এত বড় বড় ঐতিহাসিক অর্জন সফল করতে পারি, তবে দেশের সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষাকারী অন্যান্য জনস্বাস্থ্য সমস্যা সমাধানে কেন আমরা সম্মিলিতভাবে অবদান রাখতে পারব না?
তিনি তাঁর বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান তথা স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রায় আড়াই কোটি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। এ ছাড়াও বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), স্কাউটস, গার্ল গাইডস এবং রেড ক্রিসেন্টের মতো স্বনামধন্য বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত রয়েছে আরও প্রায় ৪০ লাখ তরুণ সদস্য।
প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের এসব প্রাণবন্ত শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরা গত প্রায় এক মাস ধরে প্রতি শনিবারে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় সাধ্যমতো ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কারের প্রশংসনীয় উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধের বৈজ্ঞানিক ও কার্যকরী পদক্ষেপ সম্পর্কে আলোকপাত করে তিনি বলেন, কেবল টিকার ওপর নির্ভর করে বসে থাকার চেয়ে জমে থাকা ক্ষতিকর পানি ও আবর্জনা নিজে হাতে পরিষ্কার করে মশার নিরাপদ প্রজননস্থল ধ্বংস করা অনেক বেশি ফলপ্রসূ। বিভিন্ন পরীক্ষামূলক গবেষণায়ও ডেঙ্গুর টিকার কার্যকারিতা যথেষ্ট সীমিত বলে প্রমাণিত হয়েছে।
পরিশেষে, ডেঙ্গুর এই ভয়াল থাবা থেকে দেশকে বাঁচাতে সবাইকে সর্বোচ্চ ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এ রোগে আক্রান্ত বহু রোগীর প্রাণহানি রোধ করা সম্ভব। তাই আসুন, সবাই মিলে চেষ্টা করি। সবাই চেষ্টা করলে আগামী দিনে ডেঙ্গুর অভিশাপ থেকে বহু মানুষের প্রাণ রক্ষা করতে পারব।’
৪৫তম বিসিএসের চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এতে বিভিন্ন ক্যাডারে ১ হাজার ৭০২ জন প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্তদের আগামী ১ নভেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ক্যাডার নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয় বা বিভাগ নির্ধারিত কার্যালয়ে যোগ দিতে বলা হয়েছে।
বুধবার রাতে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ৪৫তম বিসিএস পরীক্ষা-২০২২-এর ফলাফলের ভিত্তিতে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) ১৪ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখের সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে এ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নিয়োগপ্রাপ্তরা জাতীয় বেতন স্কেল ২০২৬ অনুযায়ী নবম গ্রেডে ৪৪ হাজার থেকে ১ লাখ ৫ হাজার ৯০০ টাকা বেতনক্রমে চাকরি করবেন।
৪৫তম বিসিএস নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল ২০২২ সালের নভেম্বরে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে।
২০২৩ সালের মে মাসে প্রিলিমিনারি পরীক্ষা এবং ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর ২০২৫ সালের ৮ জুলাই থেকে ধাপে ধাপে মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়।
সবশেষে ২০২৫ সালের ২৬ নভেম্বর সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি) চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করে, যেখানে ১ হাজার ৮০৭ জন প্রার্থীকে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়। চূড়ান্ত সুপারিশের ১০ মাসেরও বেশি সময় পর বুধবার চূড়ান্ত নিয়োগের গেজেট প্রকাশ করা হলো।
৪৫তম বিসিএসে সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্য ক্যাডারে সহকারী ও ডেন্টাল সার্জন মিলিয়ে ৫৩৯ জন। এরপর সবচেয়ে বেশি শিক্ষা ক্যাডারে নিয়োগ পেয়েছেন ৪৩৭ জন। এরপর পুলিশে ৮০, কাস্টমসে ৫৪ ও প্রশাসনে ২৭৪ জনকে নিয়োগ দেওয়া হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছিল পিএসসি।
সৌদি আরবে কর্মস্থলে যোগ দিতে কিংবা ছুটি শেষে কাজে ফিরতে গিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়েছেন হাজারো বাংলাদেশি কর্মী। ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরগুলোতে ফ্লাইট চলাচল ব্যাহত হওয়ায় ঢাকা থেকে ১০০ ফ্লাইট স্থগিত হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন ১৫ হাজারেরও বেশি যাত্রী। তাদের বড় একটি অংশ প্রবাসী কর্মী। কারও ভিসার মেয়াদ কয়েক দিনের মধ্যে শেষ হবে, কারও আবার নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছাতে না পারলে চাকরি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে জেদ্দা ও মদিনা হয়ে কর্মীদের পাঠানোর চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি সংকট নিরসনে কূটনৈতিক যোগাযোগ জোরদার করেছে সরকার।
বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) বুধবার (১৪ অক্টোবর) এক বার্তায় জানায়, বাতিল বা স্থগিত হওয়া ১০০টি ফ্লাইটের মধ্যে ৪১টি সরাসরি এবং ৫৯টি ট্রানজিট ফ্লাইট। এসব ফ্লাইটের যাত্রীদের দুর্ভোগের পাশাপাশি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শ্রমবাজার সৌদি আরবে কর্মী পাঠানো নিয়ে। তবে যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ঢাকা-রিয়াদ ও ঢাকা-দাম্মাম রুটের সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে। অন্যদিকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ঢাকা-রিয়াদ রুটের ফ্লাইট চলাচল ২১ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ রাখার ঘোষণা রয়েছে। পরবর্তী সিদ্ধান্ত ও নতুন সময়সূচি যাত্রীদের জানানো হবে বলে জানিয়েছে বিমান।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরামর্শ, জরুরি প্রয়োজনে সৌদি আরবে যেতে হলে যাত্রীরা জেদ্দা কিংবা মদিনাগামী ফ্লাইটের বিকল্প বিবেচনা করতে পারেন। এ জন্য বিমানের বিক্রয়কেন্দ্রে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।
ভিসার মেয়াদ শেষ হচ্ছে, অনিশ্চয়তায় কর্মীরা: কাজের জন্য সৌদি আরবের দাম্মাম যাওয়ার কথা ছিল হৃদয়ের। কিন্তু ফ্লাইট স্থগিত হওয়ায় তার যাত্রা আটকে গেছে। আগামী ১৭ অক্টোবর তার ভিসার মেয়াদ শেষ হবে। মঙ্গলবার ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে দেখা যায়। বিকল্প কোনো ফ্লাইটে যাওয়ার ব্যবস্থা হবে কি না, সেই আশায় অপেক্ষা করছিলেন তিনি।
একই পরিস্থিতিতে পড়েছেন মোহাম্মদ নাসির। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে তাঁর রিয়াদ যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তাঁর ভিসার মেয়াদ ২০ অক্টোবর শেষ হলেও রিয়াদগামী ফ্লাইট স্থগিত রয়েছে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত। বিমানবন্দরের কাউন্টারে যোগাযোগ করলে তাকে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। আসন খালি পাওয়া গেলে অন্য কোনো ফ্লাইটে পাঠানোর চেষ্টা করা হবে বলে তাকে জানানো হয়েছে।
মোহাম্মদ রুহুল আমিনের ১১ অক্টোবর রিয়াদ যাওয়ার কথা ছিল। পরে তার রিক্রুটিং এজেন্সি বিকল্প হিসেবে জেদ্দার একটি টিকিটের ব্যবস্থা করে। অন্যদিকে মোহাম্মদ রেজাউল করিমকে আরও দু-এক দিন ঢাকায় অপেক্ষা করতে বলেছে তার এজেন্সি। এর মধ্যে সৌদিগামী অন্য কোনো ফ্লাইটে আসন পাওয়ার চেষ্টা চলছে।
মোহাম্মদ শাহিনের ভিসার মেয়াদ আরও কয়েক মাস থাকায় তিনি ছুটির সময় এক মাস বাড়িয়ে নিয়েছেন। প্রয়োজনে জেদ্দা কিংবা মদিনা হয়ে সৌদি আরবে যাওয়ার কথা ভাবছেন তিনি।
বিকল্প ফ্লাইটের ব্যবস্থা করতে হিমশিম এজেন্সিগুলো: ফ্লাইট সংকটে কর্মীদের ভিসা ও চাকরি রক্ষায় বিকল্প পথ খুঁজছেন রিক্রুটিং এজেন্সির প্রতিনিধিরা। তবে বিকল্প রুটে টিকিট পাওয়া, যাত্রার সময় মেলানো এবং কর্মীদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কর্মস্থলে পৌঁছানো সহজ হচ্ছে না।
এমআরজে গ্লোবালের বেলাল হোসেন জানান, কর্মীদের ভিসা ও চাকরি বাঁচাতে বিকল্প ফ্লাইটে পাঠানোর চেষ্টা চলছে। নিরাপদ ও সচল বিমানবন্দরগুলোর বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
উদয়ন ওভারসিজ এমপ্লয়মেন্ট সার্ভিস এবং জিএম ওভারসিজের প্রতিনিধিরা কর্মীদের ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট এজেন্সির সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে তা নবায়ন করা কঠিন হতে পারে। ফলে ফ্লাইটের অনিশ্চয়তা শুধু যাত্রা বিলম্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এর সঙ্গে কর্মীদের বিদেশে কাজের সুযোগ ধরে রাখার প্রশ্নও জড়িয়ে পড়েছে।
হামলার পর ব্যাহত সৌদির বিমান চলাচল: সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার প্রেক্ষাপটে বিমান চলাচলে বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় ঢাকা-রিয়াদ ও ঢাকা-দাম্মাম রুটেও প্রভাব পড়েছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় বিভিন্ন এয়ারলাইনস ফ্লাইট স্থগিত বা পুনর্বিন্যাস করেছে। তবে হামলা, হতাহত ও বিমানবন্দর বন্ধ থাকার বিষয়ে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে তথ্যের পার্থক্য রয়েছে। তাই নির্দিষ্ট কোনো হামলায় হতাহতের সংখ্যা কিংবা সব বিমানবন্দরের কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ থাকার বিষয়টি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত না করে চূড়ান্ত তথ্য হিসেবে উপস্থাপন করা সমীচীন নয়।
যাত্রীদের তথ্য দিতে এয়ারলাইনসকে নির্দেশ: ফ্লাইট বাতিলের কারণে যাত্রীদের অনিশ্চয়তা কমাতে গত ১২ অক্টোবর বেবিচক সৌদিগামী এয়ারলাইন্সগুলোকে একাধিক নির্দেশনা দেয়। ফ্লাইট বাতিল বা সময় পরিবর্তনের তথ্য এসএমএস, ফোনকল কিংবা ইমেইলের মাধ্যমে দ্রুত জানাতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি টিকিটের অর্থ ফেরত, বিকল্প ফ্লাইটে আসন এবং নতুন সময়সূচি সম্পর্কে যাত্রীদের স্পষ্ট তথ্য দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ভিসা ও ইমিগ্রেশনসংক্রান্ত জটিলতায় পড়া যাত্রীদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া, বিমানবন্দরে আটকে পড়া ব্যক্তিদের সহায়তা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয়ের জন্য এয়ারলাইন্সগুলোকে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করতেও বলা হয়েছে। কিন্তু যাত্রীদের ব্যক্তিগতভাবে ফ্লাইট বাতিলের তথ্য জানানো হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পক্ষ থেকে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
কূটনৈতিক আলোচনায় কর্মীদের চাকরি রক্ষার চেষ্টা: ফ্লাইট সংকটে আটকে পড়া কর্মীদের নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে সরকার। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক জানিয়েছেন, বিশেষ করে যাদের ছুটি শেষ হয়ে আসছে কিংবা ভিসার মেয়াদ ফুরিয়ে যাচ্ছে, তাদের পরিস্থিতি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে সংকট সমাধানের চেষ্টা চলছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেছেন, সংঘাতের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সেবা নিশ্চিত করা সরকারের অগ্রাধিকার। কর্মীদের চাকরি ও জীবিকার ঝুঁকি কমাতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনা চলছে। কোনো কর্মীকে বাধ্য হয়ে দেশে ফিরতে হলে তার পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।
শ্রমবাজারের নির্ভরতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন: সৌদি আরব বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান শ্রমবাজার। দেশটিতে ফ্লাইট চলাচল দীর্ঘ সময় ব্যাহত হলে নতুন কর্মী পাঠানো, ছুটি শেষে কর্মীদের কাজে ফেরা এবং প্রবাসী আয়ের ওপর চাপ তৈরি হতে পারে। তবে এই সংকটের কারণে রেমিট্যান্স বা কর্মসংস্থানে সামগ্রিক প্রভাব কতটা হবে, তা পরিস্থিতির স্থায়িত্ব ও বিকল্প ব্যবস্থা কার্যকর হওয়ার ওপর নির্ভর করবে।
প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে জনশক্তি রপ্তানির পরিকল্পনা কিছুটা ধীর হতে পারে। এ কারণে এশিয়া-প্যাসিফিক ও ইউরোপের দেশগুলোতে বিকল্প শ্রমবাজার অনুসন্ধান এবং কর্মীদের দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) চেয়ারম্যান হোসেন জিল্লুর রহমান মনে করেন, শুধু নতুন দেশে অদক্ষ শ্রমিক পাঠিয়ে এ ধরনের সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। নির্দিষ্ট দক্ষতাসম্পন্ন কর্মী তৈরির পাশাপাশি আগামী এক থেকে দুই বছরের সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় মধ্যমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু হৃদয় ও নাসিরের মতো কর্মীদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার চেয়ে এখন জরুরি ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে সৌদি আরবে পৌঁছানো। তাদের মতো হাজারো কর্মীর ভাগ্য নির্ভর করছে বিকল্প ফ্লাইটে আসন পাওয়া, নিয়োগকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ এবং দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার ওপর। ফ্লাইট চলাচল স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তাদের অনিশ্চয়তা কাটার সম্ভাবনা কম।
সরকারের কঠোর আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি এবং বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) সঙ্গে আলোচনার পর দুই দিনের ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছেন এলপিজি ব্যবসায়ীরা। ফলে বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ও শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সারাদেশে এলপিজি সিলিন্ডারের দোকান বন্ধ রাখার কর্মসূচি আর থাকছে না। ব্যবসায়ীদের দাবি নিয়ে আগামী ২৯ অক্টোবর গণশুনানি করবে বিইআরসি। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে ধর্মঘট প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেডের নেতা আবু তাহের। তিনি জানান, সরকারের পক্ষ থেকে দাবি বিবেচনার আশ্বাস পাওয়ায় তারা কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন। গণশুনানির পর বিইআরসি এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
এর আগে বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ে এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক করেন সরকারের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা। বৈঠক শেষে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট প্রত্যাহারের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে কর্মসূচি অব্যাহত রাখলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।
জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, সরকার এলপিজির দাম ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে চায়। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে ধর্মঘট করে দাম বাড়ানোর চেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। এ ধরনের পরিস্থিতিতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও দামে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়ে, এমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয়। ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটের পথে না গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করতে হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ডিলার পর্যায়ে ধর্মঘটের হুমকির পর সরকার স্পষ্ট বার্তা দিতে চায়। অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ে কারসাজি কিংবা জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানে সরকার প্রস্তুত থাকলেও দেশকে জিম্মি করার চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না।
সাত দফা দাবিতে ধর্মঘটের ঘোষণা: এর আগে গত ১২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সারাদেশে এলপিজির দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছিল এলপিজি ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড। রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি সেলিম খান এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন। দাবি পূরণ না হলে দুই দিনের কর্মসূচির পর অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটের হুঁশিয়ারিও দিয়েছিলেন তিনি।
ব্যবসায়ীদের সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে পরিবেশকদের কমিশন বৃদ্ধি, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের জরিমানা এবং হয়রানি বন্ধসহ ব্যবসা পরিচালনায় বিভিন্ন সমস্যা সমাধান।
নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি নেওয়ার অভিযোগ: এলপিজির দাম নির্ধারণ ও বাজারে বিক্রির পরিস্থিতি নিয়েও ভোক্তাদের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। গত ৪ অক্টোবর বিইআরসি ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২৫২ টাকা বাড়িয়ে ১ হাজার ৮৩৭ টাকা নির্ধারণ করে। তবে অভিযোগ রয়েছে, নির্ধারিত দামে অনেক স্থানে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও কোথাও ক্রেতাদের কাছ থেকে সিলিন্ডারপ্রতি অতিরিক্ত ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে, এলপিজি অপারেটরদের দাবি, তারা সরকার নির্ধারিত দামেই পরিবেশকদের কাছে গ্যাস বিক্রি করছেন। অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগ তারা অস্বীকার করেছেন।
ধর্মঘট প্রত্যাহারের ফলে আপাতত এলপিজি সরবরাহ ও বিক্রিতে বিঘ্নের আশঙ্কা কমেছে। তবে ব্যবসায়ীদের দাবি, নির্ধারিত দামে গ্যাসের প্রাপ্যতা এবং পরিবেশক পর্যায়ের কমিশনসংক্রান্ত বিরোধের স্থায়ী সমাধান হবে কি না, তা নির্ভর করছে আগামী ২৯ অক্টোবরের গণশুনানি ও পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর।
চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে ঋণনির্ভরতা কমিয়ে ধীরে ধীরে যৌথ ও সরাসরি বিনিয়োগের দিকে যেতে চায় বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বুধবার (১৪ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংকের বার্ষিক সভার ফাঁকে চীনের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
আলোচনায় চীনের সঙ্গে যে-সব বিনিয়োগ উদ্যোগ নেওয়া হবে, সেগুলোতে ঋণের পরিবর্তে অংশীদারত্বভিত্তিক বিনিয়োগ বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে বাংলাদেশ।
অর্থমন্ত্রী বলেন, চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমর্থনকে কাজে লাগিয়ে অর্থায়নের কাঠামোয় পরিবর্তন আনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এখন পর্যন্ত সার্বভৌম ঋণ ও অন্যান্য ঋণভিত্তিক অর্থায়নের ওপর যে নির্ভরতা রয়েছে, সেখান থেকে বেরিয়ে এসে ইকুইটি বা মালিকানাভিত্তিক বিনিয়োগ বাড়ানো প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে যৌথ বিনিয়োগ ও সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে দু’দেশের অংশীদারত্ব জোরদার করার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, আমরা ঋণ থেকে সরে এসে ক্রমান্বয়ে বিনিয়োগের দিকে বেশি যাচ্ছি। চীনের এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা হয়েছে। আমরা আশা করি, এক্ষেত্রে পরিবর্তন আসবে।
সরকারের অর্থনৈতিক নীতিতে বিনিয়োগ বাড়ানোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, শুধু ঋণ নিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিবর্তে এমন অর্থায়ন কাঠামো গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেখানে বিনিয়োগকারী ও বাংলাদেশ যৌথভাবে প্রকল্পের অংশীদার হবে। এতে ভবিষ্যতে সরাসরি ও যৌথ বিনিয়োগের সুযোগ বাড়তে পারে।
চীনের সঙ্গে এ ধরনের অর্থায়ন কাঠামো বাস্তবায়িত হলে ভবিষ্যৎ প্রকল্পগুলোতে ঋণের পাশাপাশি ইকুইটি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে কোন প্রকল্পে এ ধরনের বিনিয়োগ হবে, অর্থায়নের অনুপাত কী হবে কিংবা কবে থেকে নতুন কাঠামো কার্যকর হবে—সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
এদিকে, অপর এক বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারির প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের ঋণ ব্যবস্থাপনা, সামগ্রিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং অনুদানভিত্তিক সহায়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
আমির খসরু বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক বাড়ছে। দেশটি থেকে উড়োজাহাজ, জ্বালানি ও বিভিন্ন পণ্য আমদানির বিষয় তুলে ধরে বাংলাদেশের জন্য আর্থিক সহায়তা ও অনুদানের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের আমদানি বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় নেওয়া পদক্ষেপের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আরও সহায়তা প্রত্যাশা করছে সরকার। এ বিষয়ে মার্কিন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং তারা একমত হয়েছে। তবে কী পরিমাণ অর্থ বা কোন ধরনের সহায়তা দেওয়া হবে, সেই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানাননি তিনি।
অন্যদিকে, জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিলের (ইফাদ) প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বাংলাদেশের কৃষি খাতে সম্ভাব্য সহায়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী।
গণমাধ্যমের সঙ্গে অর্থমন্ত্রী জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে কৃষি খাতে কী ধরনের সহযোগিতা দেওয়া যেতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে। তবে কৃষি খাতে সম্ভাব্য সহায়তার পরিমাণ, প্রকল্প বা অর্থায়নের ধরন সম্পর্কে নির্দিষ্ট কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি।
নতুন চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ রেলওয়েকে ‘এলএইচবি’ ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচের প্রথম চালান পাঠিয়েছে ইন্ডিয়ান রেলওয়েজ। গত মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ভারতের সরকারি প্রতিষ্ঠান রাইটস লিমিটেড জানায়, ২০০টি কোচ সরবরাহের চুক্তির অংশ হিসেবে প্রথম চালানে ১৮টি ব্রডগেজ কোচ বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে। সাত ধরনের ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের এই কোচগুলো ভারতের পাঞ্জাবের কাপুরথালায় অবস্থিত রেল কোচ ফ্যাক্টরিতে (আরসিএফ) নির্মিত হচ্ছে।
রাইটস লিমিটেডের তথ্য অনুযায়ী, ১২ অক্টোবর পাঠানো প্রথম চালানে রয়েছে ১১টি শোভন চেয়ার, তিনটি এসি, দুটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত স্লিপার কোচ এবং দুটি শীতাতপনিয়ন্ত্রিত পাওয়ার কার।
রাইটস আরও জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত তাদের সরবরাহ করা রেল ইঞ্জিনের সংখ্যা ২৮০ টির বেশি। এ ছাড়া তারা ১ হাজার ৮৫টির বেশি কোচ এবং ডিজেলচালিত একাধিক ইউনিটের ট্রেনসেট সরবরাহ করেছে।
ভারতের রেল কোচ কারখানা ও বাংলাদেশ রেলওয়ের মধ্যে সহযোগিতা শুরু হয় ২০১৫-১৬ অর্থবছরে। সে সময় ভারতের ওই কারখানা থেকে বাংলাদেশ রেলওয়েকে ১২০টি এলএইচবি ধরনের ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ সরবরাহ করা হয়েছিল। এই সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ রেলওয়ে ২০২৪ সালে রাইটসের মাধ্যমে নতুন একটি আদেশ দেয় যাতে ২০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ তৈরি ও সরবরাহের কথা বলা হয়।
কোচগুলোতে নকশার বেশ কিছু উন্নয়ন ও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এসব পরিবর্তন বিশেষভাবে এলএইচবি কোচের জন্য তৈরি করা হয়েছে। এর মধ্যে এমন কিছু বৈশিষ্ট্যও রয়েছে, যা এ ধরনের কোচে প্রথমবারের মতো যুক্ত করা হয়েছে।
স্টেইনলেস স্টিলের আর্মরেস্ট ও ফুটরেস্টসহ বিশেষভাবে ডিজাইন করা ‘রিক্লাইনিং সিট’ও রয়েছে নতুন এই বগিগুলোতে। এর ফলে যাত্রীরা প্রয়োজন অনুযায়ী নিজেদের আসনটি কাত করে আরামদায়ক পজিশনে নিতে পারবেন। এ ছাড়া যাত্রীবান্ধব নানা সুবিধাও যোগ করা হয়েছে এসব কোচে। যার মধ্যে রয়েছে— শীতাতপনিয়ন্ত্রিত (এসি) কোচে ফ্যানের ব্যবস্থা, সমন্বিত সিসিটিভি নজরদারি ব্যবস্থা, প্যাসেঞ্জার অ্যালার্ম সিস্টেম, আংশিক খোলার সুবিধাযুক্ত জানালা, বেবি কেয়ার রুম এবং প্রার্থনাকক্ষ।
একই সঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ের বাস্তবতা বিবেচনা করে এতে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরিবর্তনও আনা হয়েছে। যাত্রীদের অতিরিক্ত ভিড়ের সময় ছাদে ওঠার প্রবণতা মাথায় রেখে কোচের ছাদ অতিরিক্ত ওজন সহ্য করার মতো শক্ত করে তৈরি করা হয়েছে।
বাংলাদেশের জন্য এর বৈদ্যুতিক ব্যবস্থাতেও আনা হয়েছে বড় পরিবর্তন। ভারতীয় রেলওয়ের প্রচলিত ৭৫০ ভোল্টের প্রথার বিপরীতে বাংলাদেশ রেলওয়ের চাহিদা মেনে এসব কোচ ৪১৫ ভোল্ট বৈদ্যুতিক সিস্টেমে চলার উপযুক্ত করে তৈরি করা হয়েছে।
সূত্র : টাইমস অব ইন্ডিয়া
শিল্প, বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, পণ্যের সঠিক মান ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর কর্মপরিধি বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নে বিভিন্ন বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) ৫৭তম বিশ্ব মান দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে রাজধানীর অফিসার্স ক্লাবে বিএসটিআই আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এ বছর বিশ্ব মান দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে—‘শেয়ার্ড ভিশন ফর আ বেটার ওয়ার্ল্ড-অ্যাফোর্ডেবল অ্যান্ড ক্লিন এনার্জি’, যার ভাবার্থ ‘অভিন্ন লক্ষ্য উন্নত বিশ্ব: সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানি’।
শিল্পমন্ত্রী বলেন, জনসাধারণ যে পণ্য টাকা খরচ করে ব্যবহার করবেন, সেটির ন্যূনতম সন্তুষ্টি ও গুণগত মান নিশ্চিত করা যেকোনো দায়িত্বশীল সরকারের প্রধান দায়িত্ব। যে ভবন বা পরিবেশে মানুষ থাকবে কিংবা যে খাদ্য ও জ্বালানি ব্যবহার করবে, তার মান নিয়ে সংশয় থাকলে সার্বক্ষণিক আতঙ্ক বিরাজ করে। সেই নিরাপত্তাবোধ নিশ্চিত করতেই বিএসটিআই-এর জনবল ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করে সারাদেশে এর পরিধি বিস্তৃত করা হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, একজন নাগরিক যখন পেট্রোল পাম্প থেকে তেল বা এলপিজি গ্যাস নেবেন, তখন তিনি যেন নিশ্চিন্ত থাকেন যে পরিমাপ সঠিক আছে। বাজারে যে দুধ বা জিলাপি বিক্রি হচ্ছে, সেগুলোর বিশুদ্ধতা ও মান যেন নিশ্চিত হয়— যেমন জিলাপিতে ক্ষতিকর হাইড্রোজ বা অন্য কিছু নেই। একই সাথে যে ভবনে মানুষ বসবাস করছে, তার নির্মাণসামগ্রী যেন মানসম্মত হয়।
তিনি বলেন, এই ধরনের একটি নিরাপদ ও বসবাসযোগ্য পরিবেশ তৈরি করতেই বিএসটিআই-এর কাজের পরিধি ক্রমাগত বাড়ানো হচ্ছে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, মানুষের মনে এই নিরাপত্তাবোধ ও সন্তুষ্টি এনে দেওয়া যেকোনো দায়িত্বশীল সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।
বিএসটিআই-এর চলমান উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের তুলে ধরে শিল্পমন্ত্রী আরও জানান, সংস্থাটির সক্ষমতা বাড়াতে তিনটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে বিএসটিআই কমপ্লেক্সের মধ্যে প্রায় ৮৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি ১৩ তলা ভবন নির্মাণ ও ৬৩টি নতুন আধুনিক ল্যাব স্থাপন করা হচ্ছে। এছাড়া ১০টি জেলায় নতুন পরীক্ষাগার স্থাপন ও প্রায় ৪৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি মেট্রোলজি ল্যাব তৈরির প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।
এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বীকৃতির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক মাননিয়ন্ত্রণ সংস্থাগুলোর সাথে বিএসটিআই যেন ‘মিউচুয়াল রিকগনিশন’ (পারস্পরিক স্বীকৃতি) চুক্তি করতে পারে, সে লক্ষ্যে কাজ চলছে। হালাল সার্টিফিকেশনের মতো অন্যান্য ক্ষেত্রেও বৈশ্বিক মান অর্জনে বিএসটিআই উদ্যোগ জোরদার করছে।
এ সময় খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির আরও জানান, সম্প্রতি সয়াবিন তেলে ভারী ধাতু ও সিসা থাকার একটি খবর প্রকাশিত হওয়ার পর বিএসটিআই বিভিন্ন ব্র্যান্ডের সয়াবিন তেলের ১৯৩টি নমুনা পরীক্ষা করেছে। পরীক্ষায় দেখা গেছে বাজারে থাকা সয়াবিন তেল বিশুদ্ধ এবং এতে কোনো ক্ষতিকর উপাদান নেই।
খাদ্যের পূর্ণ বিশুদ্ধতা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম শীর্ষ অগ্রাধিকার বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বিএসটিআই’র মহাপরিচালক (সচিব) কাজী ইমদাদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল-আওয়াল। অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এফবিসিসিআই প্রশাসক মো. ফজলুল হক।
প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধের যথাযথ তদন্ত নিশ্চিত করতে দেশের আটটি বিভাগীয় সদরে খুব দ্রুত ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষাগার স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। একই সঙ্গে সাইবার অপরাধ শনাক্তকরণ, ডিজিটাল আলামত সঠিকভাব বিশ্লেষণ এবং অপরাধ দমনে কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে শুরু করে জেলা ও উপজেলা পর্যন্ত পুলিশের তদন্ত সক্ষমতা বহুগুণ বাড়িয়ে তোলার কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
বুধবার সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ লাইনসের দামপাড়ায় নবনির্মিত সাইবার পুলিশ কেন্দ্র ও ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষাগারের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা জানান। কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের সরকারের আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় নির্মিত এই আধুনিক ভবন ও ল্যাব পুলিশের প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ তদন্তের সক্ষমতাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সালাহউদ্দিন আহমেদ জানান, কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের সরকার এবং দেশটির আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা ‘কোইকা’র সহযোগিতায় পুরো প্রকল্পের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই সহযোগিতার জন্য তিনি কোরিয়ার সরকার, দেশটির রাষ্ট্রদূত, কোইকার প্রতিনিধি এবং সফররত সকল প্রতিনিধিদলকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার শুরু থেকেই একটি বিশেষায়িত পুলিশ সাইবার ইউনিট প্রতিষ্ঠার কথা চিন্তা করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১ অক্টোবর থেকে একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে এই ইউনিটের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়েছে। নতুন এই ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষাগারটি মূলত অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রত্যক্ষ নেতৃত্বে পরিচালিত হবে। তবে ডিজিটাল আলামত বিশ্লেষণ ও সঠিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার ক্ষেত্রে পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে পারস্পরিক কার্যকর সমন্বয় বজায় রাখা হবে।
আধুনিক ও পরিবর্তনশীল অপরাধ দমনে প্রযুক্তির কোনো বিকল্প নেই উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে অপরাধের ধরন প্রতিনিয়ত বদলাচ্ছে। ডিজিটাল দুনিয়ায় সাইবার স্পেসের অপব্যবহার করে নানা ধরনের অপরাধ ও প্রতারণা করা হচ্ছে, এমনকি শেয়ারবাজারে কারসাজির মতো ঘটনাও এর মাধ্যমে সংঘটিত হচ্ছে। এসব ডিজিটাল অপরাধ কঠোর হাতে প্রতিরোধ ও দমন করার জন্য এ ধরনের আধুনিক ফরেনসিক ল্যাবের কোনো বিকল্প নেই।
বিচারপ্রক্রিয়াকে আরও দ্রুততর ও গতিশীল করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, বিচারব্যবস্থায় সাধারণ মানুষের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হলে এ ধরনের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ ও সুনির্দিষ্ট সাক্ষ্যপ্রমাণের অত্যন্ত প্রয়োজন রয়েছে। অপরাধের নতুন রূপের সঙ্গে তাল মিলিয়ে পুলিশ বাহিনীকে আধুনিক পরীক্ষাগারের সুবিধা, উন্নত প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণে সমৃদ্ধ করে তোলা হচ্ছে।
সিআইডির বিদ্যমান পরীক্ষাগারের পরিধি বাড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, সিআইডি সূলগ্ন থেকেই রাসায়নিক পরীক্ষাগার সফলভাবে পরিচালনা করে আসছে। বর্তমান বাস্তবতায় সেখানে বিভিন্ন নমুনা পরীক্ষা এবং পুঙ্খানুপুঙ্খ প্রতিবেদন তৈরির কার্যক্রম আরও বেশি সম্প্রসারণ করা অত্যন্ত জরুরি।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য নাশকতা, রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব রয়েছে, তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কোনো চ্যালেঞ্জ বা শঙ্কা নেই।
এ সময় পুলিশের ওপর হামলা এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে বাধা দেওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে অপরাধ দমনে পুলিশ অনেক সময় হামলার শিকার হয়, এটি নতুন কিছু নয়। তবে যেকোনো মূল্যে অপরাধীদের কঠোরহস্তে দমনে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ দায়িত্ব পালনকালে আসামিকে গ্রেফতারে কেউ যদি অযাচিত বাধা বা সহায়তা প্রদান করে, তাদের বিরুদ্ধেও যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা এলএনজি প্রকল্প থেকে উৎপাদিত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের ৩০ শতাংশ তাইওয়ান ক্রয় করবে বলে জানিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এমন ঘোষণার পর তাইওয়ান নিশ্চিত করেছে, তারা এই প্রকল্পে ৪.৪ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পাশাপাশি গ্যাস কেনার আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই খবর জানানো হয়েছে।
তাইওয়ানের অর্থনীতি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন জ্বালানি প্রতিষ্ঠান সিপিসি কর্পোরেশন দীর্ঘ দেড় বছর ধরে মূল্যায়নের পর প্রস্তাবিত প্রকল্পে অংশ নেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী বার্ষিক ২ কোটি মেট্রিক টন উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন এই প্রকল্প থেকে সিপিসি বছরে ৬০ লাখ টন আলাস্কা এলএনজি সংগ্রহ করবে এবং আনুমানিক ৪.৪ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত বিনিয়োগে অংশ নেবে।
আলাস্কার ৮০০ মাইল দীর্ঘ এই পাইপলাইন প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রায় ৫৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের প্রাক্কলন করা হয়েছে, যার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ২০২৬ ও ২০২৭ সালে নির্ধারিত হবে এবং ২০৩১ সালের দিকে প্রথম রপ্তানি শুরু করা সম্ভব হতে পারে। ট্রাম্প প্রশাসন এশিয়ার মিত্রদের কাছে এই প্রকল্পটিকে প্রধান উৎস হিসেবে তুলে ধরছে, যা পানামা খাল বা আফ্রিকা মহাদেশ অতিক্রম না করেই সরাসরি এশিয়ার বাজারে জ্বালানি সরবরাহের সুযোগ করে দেবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আকাশচুম্বী বাণিজ্য উদ্বৃত্ত কমাতে এবং ওয়াশিংটনের অসন্তোষ নিরসন করতে তাইওয়ান এ বছর মোট আমদানিকৃত গ্যাসের এক-তৃতীয়াংশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে নেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছে। গত বছর তাইওয়ানের প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের মহাসচিব প্যান মেন-আন আলাস্কার প্রকল্প স্থান পরিদর্শন করেছিলেন।
তবে দীর্ঘ পাইপলাইন ও অতিরিক্ত খরচের কারণে এই প্রকল্পের বাণিজ্যিক স্থায়িত্ব নিয়ে অনেক বিশেষজ্ঞের সংশয় রয়েছে। তাইওয়ানের পাশাপাশি ফরাসি জ্বালানি জায়ান্ট টোটালএনার্জিস এবং এশীয় অন্যান্য ক্রেতারা এই প্রকল্পে অংশ নিলেও এটি সফলভাবে চালুর জন্য আরও বন্ধ্যত্বপূর্ণ চূড়ান্ত চুক্তির প্রয়োজন রয়েছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের জন্য চুক্তি অনুযায়ী ২০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ নির্মাণের অংশ হিসেবে প্রথম চালানে ১৮টি কোচ পাঠিয়েছে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান রাইটস লিমিটেড। মঙ্গলবার প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। আধুনিক এলএইচবি (লিংক ഹോফম্যান বাসচ) প্রযুক্তির এসব কোচ ভারতের পাঞ্জাবের কাপুরথালায় অবস্থিত বিখ্যাত রেল কোচ কারখানায় তৈরি করা হচ্ছে।
রাইটস লিমিটেডের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১২ অক্টোবর পাঠানো এই প্রথম চালানে সাত ধরনের কোচের মধ্যে চার ধরনের মোট ১৮টি কোচ রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১১টি নন-এসি শোভন চেয়ার কার, ৩টি এসি চেয়ার কার, ২টি এসি স্লিপার কোচ এবং ২টি এসি পাওয়ার কার। বিশেষ করে পাওয়ার কারগুলোতে ট্রেন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা গার্ডদের জন্য আলাদা কক্ষের পাশাপাশি মালপত্র রাখার সুব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
রেল খাতের আন্তর্জাতিক প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন নবরত্ন মর্যাদাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান রাইটস এ পর্যন্ত বিশের অধিক দেশে ২৮০টির বেশি ইঞ্জিন, ১ হাজার ৮৫টির বেশি কোচ এবং বিভিন্ন ট্রেনসেট সফলভাবে সরবরাহ করেছে। এর আগে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ভারতের ওই একই কারখানা থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ে ১২০টি এলএইচবি ব্রডগেজ কোচ সংগ্রহ করেছিল। সেই সফল সহযোগিতার ধারাবাহিকতায় গত ২০২৪ সালে রাইটসের সঙ্গে নতুন করে ২০০টি কোচ ক্রয়ের চুক্তি করে বাংলাদেশ।
নতুন যুক্ত হওয়া কোচগুলোর নকশায় যাত্রীদের আরামদায়ক ভ্রমণ এবং বাংলাদেশের বাস্তবভিত্তিক রেল পরিচালনার বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোচগুলোতে প্রথমবারের মতো বেশ কিছু নতুন সুযোগ-সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্টেইনলেস স্টিলের হাতল ও ফুটরেস্টযুক্ত বিশেষ হেলানো যায় এমন আরামদায়ক আসন। এছাড়া যাত্রীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে এসি কোচগুলোতে ফ্যান, সমন্বিত সিসিটিভি ক্যামেরা, জরুরি এলার্ম সিস্টেম এবং আংশিক খোলার উপযোগী জানালা রাখা হয়েছে। এমনকি দীর্ঘ যাত্রায় শিশুদের যত্নের জন্য ডে-কেয়ার রুম এবং প্রার্থনার জন্যও আলাদা একটি কক্ষের ব্যবস্থা রয়েছে।
বাংলাদেশের ট্রেনযাত্রীদের অতিরিক্ত ভিড় ও ছাদে ভ্রমণের বাস্তব চিত্র মাথায় রেখে কোচগুলোর বাহ্যিক কাঠামোতে বিশেষ পরিবর্তন আনা হয়েছে। ছাদ আরও অধিক মজবুত করা হয়েছে, যাতে বাড়তি চাপ সহজে সহ্য করা যায়। এছাড়া ইউরোপীয় মানদণ্ড (ইএন ১৫২২৭) অনুসরণ করে কোচগুলোর বডি এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যা যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত সংঘর্ষের ধাক্কা সামলে যাত্রীদের সুরক্ষা বাড়াতে সক্ষম। পাশাপাশি বাংলাদেশের ট্রেন পরিচালনার বিদ্যুতায়ন ব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ভারতীয় মানদণ্ডের ৭৫০ ভোল্টের পরিবর্তে ৪১৫ ভোল্টের বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় চলার উপযোগী করে কোচগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে এই প্রথম চালান আসার মধ্য দিয়ে ২০০টি কোচ সরবরাহের বড় প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক বাস্তবায়ন শুরু হলো, যা দেশের রেল যোগাযোগ খাতে যাত্রীসেবা বৃদ্ধিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার পারস্পরিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র তৈরি, যৌথ গবেষণা কার্যক্রম জোরদার এবং প্রদর্শনী শিল্পের আধুনিকায়নে দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্ব বাড়ানোর বিষয়ে বিশদ আলোচনা করেছে বাংলাদেশ-চীন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (বিসিসিসিআই) এবং চায়না কাউন্সিল ফর দ্য প্রমোশন অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড (সিসিপিআইটি) একাডেমি। রাজধানীর গুলশানে বিসিসিসিআই কার্যালয়ে সংস্থা দুটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে এ গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সিসিপিআইটি একাডেমির প্রেসিডেন্ট ঝাও পিংয়ের নেতৃত্বে দুই সদস্যের চীনা প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান বিসিসিসিআইয়ের মহাসচিব জামিলুর রহমান।
আলোচনাকালে বাংলাদেশের ধারাবাহিক আর্থিক অগ্রগতি, বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজার, অনুকূল জনমিতিক সুবিধা এবং ক্রমবর্ধমান বাণিজ্যিক সক্ষমতার ভূয়সী প্রশংসা করেন ঝাও পিং। সেই সঙ্গে দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে যৌথ গবেষণাকর্মে বিসিসিসিআইয়ের সম্পৃক্ত হওয়ার সম্ভাবনাকে তিনি স্বাগত জানান। এছাড়া বেইজিংয়ের নীতিমালা ও বাণিজ্যিক কৌশলসংক্রান্ত সিসিপিআইটি একাডেমির বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির রূপরেখাও এ বৈঠকে তুলে ধরা হয়।
বৈঠকে জ্বালানি খাত, জ্ঞান ও গবেষণা বিনিময় এবং প্রদর্শনী শিল্পের বিকাশকে সহযোগিতার প্রধানতম অগ্রাধিকার ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। বিশেষ করে বিদ্যমান জ্বালানি সংকট উত্তরণে এলপিজি সংরক্ষণাগার নির্মাণ, আধুনিক ব্যাটারি প্রযুক্তি ও সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে চীনা পুঁজি বিনিয়োগের সম্ভাব্যতা নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়। পাশাপাশি চট্টগ্রামের প্রদর্শনী কেন্দ্রের আধুনিক অবকাঠামো ও যাতায়াত ব্যবস্থার উন্নয়ন, বৈদ্যুতিক যানবাহন, সৌরপ্রযুক্তি ও খাদ্যপণ্য নিয়ে বিশেষায়িত আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী আয়োজন এবং বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে যৌথ গবেষণার প্রস্তাবও আলোচিত হয়।
বিসিসিসিআইয়ের নির্বাহী পরিচালক মো. আবু তাহের প্রতিষ্ঠান দুটির মধ্যকার দীর্ঘ এক দশকের সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের বিষয়টি উল্লেখ করে চীনের প্রভাবশালী বাণিজ্যমেলা ও প্রশিক্ষণগুলোতে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়ে সিসিপিআইটির সক্রিয় সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
এ সময় বিসিসিসিআইয়ের সহসভাপতি খন্দকার আতিকুর রহমান ও মাসুদ আলী খান, উপদেষ্টা মো. ফয়জুল আলম এবং পরিচালক ড. মো. রাকিবুল হক উপস্থিত ছিলেন। পরিশেষে প্রযুক্তি হস্তান্তর, টেকসই বিনিয়োগ ও যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের মধ্যকার অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে উভয় পক্ষ আশাবাদ ব্যক্ত করে।
ঢাকা-৪ ও ঢাকা-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব সালাউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
আবদুস সালাম বলেন, "সালাউদ্দিন আহমেদের বিয়োগে বিএনপি একজন অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ ও অভিজ্ঞ রাজনৈতিক অভিভাবককে হারাল। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সংগঠনকে শক্তিশালী করতে এবং ডেমরা, শ্যামপুর ও কদমতলী এলাকার মানুষের সার্বিক উন্নয়নে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।"
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সালাউদ্দিন আহমেদ রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রামে এবং জনগণের অধিকার আদায়ে যেভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, তা দলের নেতা-কর্মীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
আবদুস সালাম মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্য, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান।
বিশ্বজুড়ে চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে এলপিজি ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট ডেকে কৃত্রিমভাবে পণ্যের দাম বাড়ানোর যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, এ ধরনের পরিস্থিতিতে ১৯৫৬ সালের অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হবে।
বুধবার সচিবালয়ে এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। ওই সময় তাঁর সঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরও উপস্থিত ছিলেন।
বিভিন্ন দাবিদাওয়া ও হয়রানি বন্ধের প্রতিবাদে বাংলাদেশ এলপি গ্যাস ট্রেডার্স কো-অপারেটিভ অ্যাসোসিয়েশন আগামী ১৫ ও ১৬ অক্টোবর (বৃহস্পতি ও শুক্রবার) দেশব্যাপী দুই দিন এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি ও সরবরাহ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে। আর এই ধর্মঘটের প্রেক্ষক্ষটেই সরকারের পক্ষ থেকে এমন কঠোর অবস্থানের কথা জানানো হলো। উল্লেখ্য, অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইন লঙ্ঘন করা হলে সংশ্লিষ্ট যেকোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক মামলা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের এখতিয়ার সরকারের রয়েছে।
বৈঠকে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ‘আজ বিশ্বে এই জ্বালানি খাতটা সাংঘাতিক একটা চ্যালেঞ্জের মধ্যে পড়েছে। আজকের যুদ্ধের কারণে পৃথিবীর সব জায়গায় জ্বালানি সংকট চলছে এবং প্রাইসের কোনো ঠিকঠিকানা নেই। প্রাইস ওঠানামা করতেছে, সবসময় পড়ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এখন সোর্স একমাত্র আমেরিকায় বাকি আছে, তাছাড়া কোনো সোর্স ঠিক নেই। সেক্ষেত্রে আমরা চেষ্টা করতেছি যে, যেন ভোক্তা পর্যায়ে, সহনীয় পর্যায়ে মূল্য রাখা যায়, সে সম্বন্ধে আলোচনা করছি।’
ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটের ডাক দেওয়ার কঠোর সমালোচনা করে মন্ত্রী বলেন, ‘এই মুহূর্তে এরকম একটা অবস্থার মধ্যে যদি কেউ এই ধর্মঘট করার চেষ্টা করে, এসেন্সিয়াল এই (পণ্য) নিয়ে, আমাদের ১৯৫৬ সালে আইন আছে, সেই আইন আমরা প্রয়োগ করব। কথায় কথায় তারা ধর্মঘট করে জিনিসের মূল্য বাড়াবে, এটা গ্রহণ করা হবে না।’
সরকারের দৃঢ় অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘এটা একটা ইলেক্টেড গভর্নমেন্ট, জনগণের আস্থা নিয়ে আমরা সরকারে এসেছি, আমাদের দায়িত্ব দিয়েছে। জনগণ যেন কোনো অসুবিধার মধ্যে না পড়ে, সেদিকে আমরা খেয়াল রাখবো।’
ধর্মঘটের মতো কঠোর পথ পরিহার করে সংশ্লিষ্ট সবাইকে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার যৌক্তিক সমাধানে আসার আহ্বান জানিয়ে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ‘যারা ধর্মঘটের কথা দিচ্ছেন, আমি মনে করি আলোচনার টেবিলে বসেছে, আলোচনা করে সেটা যেন সমাধান করে।’