রোববার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৫ আশ্বিন ১৪৩৩

বাসে আগুন লাগানোর ভিডিও পাঠানো হয় লন্ডনে: ডিবিপ্রধান

ছবি: ভিডিও থেকে সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ২১ নভেম্বর, ২০২৩ ১৮:৪২

নিউমার্কেট থানাধীন গাউছিয়া মার্কেটের সামনে গত ৪ নভেম্বর সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে মিরপুর সুপার লিংক লিমিটেড বাসে আগুন দেয়া হয়। ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) উত্তরা বিভাগ। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ জানান, বাসে আগুন লাগানোর ভিডিও পাঠানো হয় লন্ডনে।

রাজধানীর মিন্টো রোডে মঙ্গলবার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান হারুন অর রশীদ।

গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন, তানভীর আহমেদ (২৭), দেলোয়ার হোসেন (৫১) ও মো. ফারুক হোসেন (৪৩)। তাদের মধ্যে তানভীর ঢাকা কলেজ ছাত্রদলের পাঠাগারবিষয়ক সম্পাদক। দেলোয়ার হোসেন ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি ও ফারুক হোসেন বিএনপির সক্রিয় সদস্য।

ডিবিপ্রধান বলেন,''বাসে অগ্নিসংযোগকারী তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত ৪ নভেম্বর নিউমার্কেট যাত্রী ছাউনির পাশে বাসে আগুন লাগানোর ঘটনায় ডিবি-উত্তরা বিভাগ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তার তানভীর আহমেদই সেদিন বাসটিতে আগুন দেয়। পরে তিনি নিজের ফেসবুক মেসেঞ্জার থেকে আগুন লাগানোর কথা জানান তার এক বন্ধুর কাছে। কথোপকথনে তানভীর লেখেন, ''আগুন লাগিয়ে কী হবে? আমরা আগুন লাগাচ্ছি আর লন্ডনে যারা আছেন তারা ভালো আছেন। উল্টো আগুন দিতে গিয়ে আমরা ধরা পড়ছি।''

হারুন অর রশীদ জানান, তাদের মধ্যে এমন কথোপকথন হয়েছে। তাকে যখন ডিবিতে নিয়ে আসা হলো, তখন তিনি স্বীকার করেছেন; এটি তিনি লিখেছেন।

তিনি বলেন, ''ডিবির কাছে তানভীর বলেছে, আমরা আগুন লাগাচ্ছি ও ককটেল নিক্ষেপ করছি। কিন্তু জেলে গেলে আমাদের দেখার কেউ নেই। যারা নির্দেশ দিচ্ছেন তারা কোথাও লুকিয়ে আছেন অথবা বিদেশে অবস্থান করছেন।''

তানভীরকে রিমান্ডে নেয়া হয়েছে জানিয়ে ডিবিপ্রধান বলেন,''অনেকের নাম ও নম্বর পেয়েছি। তানভীরের সঙ্গে আর কারা কারা ছিল এসব বিষয় জানা যাবে। মাঠ পর্যায়ে কর্মীদের নির্দেশনা দেয়া থাকে যে, আগুন লাগানোর পর দলের সিনিয়র নেতা-কর্মীদের ছবি-ভিডিও দেখাতে হবে। আগুন দেয়ার সময় মুখে মাস্ক ও রুমাল ব্যবহার করতে হবে। যাত্রীবাহী চলন্ত বাসে আগুন দিতে হবে। এরপর আগুন লাগিয়ে টাকা নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ককটেল কিনে এনে নিক্ষেপ করা হচ্ছে। আবার কোথাও পেট্রোল ঢেলে আগুন দেয়া হচ্ছে।

ডিবির বিভিন্ন টিম এরই মধ্যে অনেককে আইনের আওতায় এনেছে। তাদের মধ্যে অনেকে আদালতে দোষ স্বীকার করে ১৬৪ জবানবন্দি দিয়েছেন। কে কে তাদের সহয়তা করছে তাদের নামও আমরা পেয়েছি।''

নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড যারা করছেন, তাদেরকে অনুরোধ জানিয়ে হারুন বলেন,''যার গাড়িতে আগুন দেয়া হচ্ছে, তার হয়তো জীবনের শেষ সম্বল বিক্রি করে দৈনিক রোজগারের জন্য বাসটি চালান। আপনারা আসলে একজন মানুষের স্বপ্ন পুড়িয়ে ফেলছেন।''

লন্ডন থেকে নেতা-কর্মীদের কাছে বাসে অগ্নিসংযোগের কোনো নির্দেশনা আসছে কি না, জানতে চাইলে হারুন অর রশীদ বলেন,''আমরা অনেককে গ্রেপ্তার করেছি। তারা বলছেন, আগুন লাগানোর পরে সিনিয়র নেতাদের ভিডিও পাঠিয়ে দেয়া হয়। এর মধ্যে লন্ডন ও ঢাকার ঊর্ধ্বতন নেতাদের কথাও বলেছে।''

আগুন লাগানোর পরে গ্রেপ্তাররা অনুতপ্ত কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন,''আগুন লাগানোর পর তারাও এ নিয়ে উদ্বিগ্ন। তারা ধরা পরলে জামিনের জন্য তাদের বড় ভাইয়েরা কাজ করবেন কি না, এ নিয়েও উদ্বিগ্ন।''


নির্বাচিত

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সাক্ষাৎ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাক্ষাৎকালে উপাচার্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা ও একাডেমিক কার্যক্রমের সার্বিক চিত্র রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর গত দুই বছরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে যেসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং এর মাধ্যমে যেসব পরিবর্তন আনার চেষ্টা চলছে, সেসব বিষয়েও রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন তিনি।

এ সময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের জেলাভিত্তিক পারফর্মিং আর্টস কলেজ প্রতিষ্ঠা, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য কলেজ স্থাপনের উদ্যোগ, দ্রুততম সময়ে পরীক্ষার ফল প্রকাশ, ইংরেজি ও আইসিটি শিক্ষাকে আরও গুরুত্ব দেওয়া, দেশব্যাপী শিক্ষক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম, কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রসার এবং দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার উদ্যোগের কথা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি প্রান্তিক অঞ্চলের কলেজগুলোর শিক্ষার মান উন্নয়নে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ সম্পর্কেও রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এসব উদ্যোগের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা সংস্কার ও উন্নয়নমূলক কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে চ্যান্সেলর হিসেবে প্রয়োজনীয় সকল সহযোগিতা প্রদানের আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সাক্ষাৎকালে সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগ বাস্তবায়নে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম সম্পর্কেও রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করা হয়। কারিকুলাম ও সিলেবাস সংস্কারের মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, কর্মমুখী ও সময়োপযোগী করার জন্য ইতিমধ্যে গৃহীত উদ্যোগগুলোর কথাও তুলে ধরেন ভাইস-চ্যান্সেলর।

প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. নাজমুল হোসাইন, স্নাতক পূর্ব শিক্ষা বিষয়ক স্কুলের ডিন (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মো. আশেক কবির চৌধুরী, রেজিস্ট্রার মোল্লা মাহফুজ আল-হোসেন, আঞ্চলিক কেন্দ্র সমন্বয় দপ্তরের পরিচালক মো. আমিনুল আক্তার এবং অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা দপ্তরের পরিচালক মো. জসিম উদ্দিন।


নির্বাচিত

কোস্টগার্ডকে আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল মো. মঈনুল হাসান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে আজ সকালে বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার এডমিরাল মো. মঈনুল হাসান।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বাসস-কে এ তথ্য জানান।

রাষ্ট্রপতি এ সময় উপকূলীয় এলাকার আইন-শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা রক্ষা, মাদক, চোরাচালান ও মানবপাচার রোধ, মৎস্য ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ, পরিবেশ রক্ষা ও পানি দূষণ রোধে কোস্টগার্ডকে আরো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকার দেশের বিস্তীর্ণ উপকূলীয় অঞ্চল ও সমুদ্রসীমা রক্ষায় কোস্টগার্ডকে একটি আধুনিক ও দক্ষ বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। এ লক্ষ্যে বাহিনীর আধুনিকায়ন ও সদস্যদের যথাযথ প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে সরকার।

তিনি এ সময় দেশের সমুদ্রসীমায় অবৈধ মৎস্য আহরণ রোধে কোস্টগার্ডকে সজাগ থাকার আহ্বান জানান।

সাক্ষাৎকালে কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক বাহিনীর সামগ্রিক কার্যক্রম এবং বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নতুন পেট্রোল বোট ও আধুনিক রেসকিউ হেলিকপ্টার সংগ্রহ এবং এভিয়েশন উইং স্থাপনের অগ্রগতির বিষয়ে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন।

দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক। রাষ্ট্রপতি তাকে বাহিনীর উন্নয়নে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। সাক্ষাৎকালে সচিববৃন্দ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

জাতিসংঘে বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা ও রোহিঙ্গা সংকট তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে নিজের প্রথম ভাষণে বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা এবং প্রধান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই ভাষণে গুরুত্ব পাবে দীর্ঘায়িত রোহিঙ্গা সংকট।

আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি দেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারের চিন্তাভাবনা ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরবেন। সেই সঙ্গে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক নানা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফর উপলক্ষে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভাষণের মূল বিষয়গুলো তুলে ধরেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে বাংলাদেশের নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রা, আইনের শাসন, জবাবদিহি, বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, জলবায়ু পরিবর্তন এবং টেকসই উন্নয়নের বিষয়ে কথা বলবেন। এছাড়া অর্থনৈতিক সহযোগিতা, তরুণ ও নারী ক্ষমতায়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, রোহিঙ্গা সংকট, আধুনিক প্রযুক্তির সমতাভিত্তিক ব্যবহার এবং বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরবেন।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, এই ভাষণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জাতিসংঘে তারেক রহমানের এটিই প্রথম অংশগ্রহণ। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক এই সর্বোচ্চ মঞ্চে বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও ভবিষ্যৎ পথচলা তুলে ধরার প্রথম সুযোগও।

সাধারণ অধিবেশনে ভাষণের পাশাপাশি দীর্ঘদিনের রোহিঙ্গা সংকটে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি নতুন করে আকর্ষণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। সংকট সমাধানের লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপী জোরালো সহযোগিতা গড়ে তোলার চেষ্টা করবেন তিনি।

এ উদ্দেশ্যে আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এক সাইড ইভেন্টে যোগ দেবেন তিনি। সেখানে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের যত দ্রুত সম্ভব মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের জন্য কার্যকর আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইবেন তিনি।

এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র সচিব রোহিঙ্গা সংকটকে একটি ‘চলমান সমস্যা’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, বিশ্বনেতাদের এই সম্মেলনে সংকটের ভয়াবহতা ও নানা চ্যালেঞ্জ আবারও তুলে ধরবে বাংলাদেশ।

সিয়াম বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকটের ব্যাপকতা, এর ফলে তৈরি হওয়া চ্যালেঞ্জ এবং বাংলাদেশের কী ধরনের আন্তর্জাতিক সাহায্য ও সহযোগিতা প্রয়োজন, তা আমরা বিশ্ব দরবারে আবারও পেশ করব।’

বাংলাদেশ সবসময় বলে আসছে, স্বেচ্ছায়, নিরাপদ, সম্মানজনক ও টেকসই উপায়ে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোই এই সমস্যার একমাত্র স্থায়ী সমাধান।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে বড় অগ্রাধিকার পাবে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টিও। এই ক্ষেত্রে বিশ্বজুড়ে আরও কার্যকর পদক্ষেপ দেখতে চায় বাংলাদেশ।

আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্লাইমেট অ্যাকশন অ্যান্ড দ্য জাস্ট ট্রানজিশন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

পরের দিন তিনি সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে তৈরি হওয়া অস্তিত্বের ঝুঁকি সংক্রান্ত আরেকটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন।

জলবায়ুসংক্রান্ত এসব বৈঠকে জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর উদ্বেগ তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী। বিশেষ করে জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, ক্ষয়ক্ষতি পূরণ এবং জলবায়ু ন্যায়বিচারের ওপর তিনি জোর দেবেন।

সাধারণ পরিষদের ভাষণে বৈশ্বিক শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতার মতো বিষয়গুলোতে বাংলাদেশের অগ্রাধিকার স্পষ্ট করবেন তিনি। পাশাপাশি তরুণ ও নারী ক্ষমতায়ন এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমান সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানাবেন।

বর্তমানে বিদ্যমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলোর কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাধানের জন্য বহুপক্ষীয় ব্যবস্থার সংস্কারকেও গুরুত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী ২৪ সেপ্টেম্বরে মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং মিডওয়াইফারি বিষয়ক আরেকটি সাইড ইভেন্টে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন। এসময় তিনি মা ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নতুন সরকারের উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা তুলে ধরবেন এবং স্বাস্থ্যসেবায় দক্ষ ও প্রশিক্ষিত ধাত্রীসেবার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করবেন।

আসাদ আলম সিয়াম জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে জাতিসংঘের মূল কর্মসূচিগুলোকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এর বাইরে দ্বিপক্ষীয় ও অন্যান্য বৈঠকের সময়সূচি পরিস্থিতি অনুযায়ী নির্ধারিত হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, সাধারণ অধিবেশনের ফাঁকে কুয়েতের ক্রাউনপ্রিন্স এবং ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন তারেক রহমান।

এসব বৈঠকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট নানা বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।

পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ মহাসচিব, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমারবিষয়ক বিশেষ দূত, জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার এবং ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে।

সরকারের অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে মেটা ও ওয়াল স্ট্রিটসহ কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি। আগামীকাল নিউ ইয়র্কের উদ্দেশ্যে ঢাকা ত্যাগ করবেন প্রধানমন্ত্রী। সব কর্মসূচি শেষ করে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর তাঁর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

বাংলাদেশে গ্যাস-তেল সম্পদ উত্তোলনে ইতালিকে বিনিয়োগের আমন্ত্রণ স্পিকারের

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রোর সৌজন্য সাক্ষাৎ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে তাঁর কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সুদৃঢ়করণ, সংসদীয় কূটনীতি এবং জ্বালানি ও বাণিজ্য খাতের বিভিন্ন দিক নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।

বৈঠকে স্পিকার উল্লেখ করেন, ১৯৭২ সালে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়ার মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে যে অকৃত্রিম বন্ধুত্বের সূচনা হয়েছিল, তা সময়ের পরিক্রমায় আরও সুসংহত হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ইতালি বাংলাদেশি রপ্তানি পণ্যের অন্যতম প্রধান গন্তব্য এবং দেশটিতে অবস্থানরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রতি ইতালি সরকার সর্বদা আন্তরিক দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রেখেছে। স্পিকার বলেন, সর্বশেষ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুনরায় গণতান্ত্রিক ধারায় প্রত্যাবর্তন করেছে, যা বৈশ্বিক গণতান্ত্রিক দেশগুলোর সঙ্গে ঢাকার সম্পর্ককে গভীরতর করেছে। তিনি নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়ায় ইতালির প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন এবং রোহিঙ্গা সংকটে মানবিক সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানান। একই সাথে দেশের সামরিক আধুনিকায়নে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম এবং বিভিন্ন শিল্প যন্ত্রপাতি সরবরাহে ইতালিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার হিসেবে অভিহিত করে দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হওয়ার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন স্পিকার।

ইতালির রাষ্ট্রদূত আন্তোনিও আলেসান্দ্রো বাংলাদেশকে দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত বন্ধু উল্লেখ করে জানান, দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় রোমের অবিচল সমর্থন অব্যাহত থাকবে। তিনি জানান, সংসদীয় কূটনীতি জোরদারের লক্ষ্যে উভয় দেশের সংসদের মধ্যে ‘সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ’ গঠন এবং সংসদীয় প্রতিনিধিদলের পারস্পরিক সফর বিনিময়ে ইতালি সরকার অত্যন্ত আগ্রহী। তিনি আরও উল্লেখ করেন, প্রতি বছর বাংলাদেশ থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণে তৈরি পোশাক, চামড়াজাত সামগ্রী ও সিরামিক পণ্য ইতালিতে রপ্তানি হচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষ সংসদীয় মৈত্রী গ্রুপ গঠনের পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট সমাধান এবং দেশের জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় উপকূলীয় এলাকায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও খননকাজে সহযোগিতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। স্পিকার এ সময় বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে মজুত থাকা হাইড্রোকার্বন ও জ্বালানি সম্পদ আহরণে ইতালির বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরাসরি বিনিয়োগ ও অংশীদারত্বের আহ্বান জানান।

উক্ত বৈঠকে ঢাকাস্থ ইতালি দূতাবাসের কূটনৈতিক প্রতিনিধিবৃন্দ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফিরেছেন চিফ হুইপ

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি পবিত্র ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফিরেছেন।

আজ রোববার বেলা ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে তিনি সস্ত্রীক সৌদি আরব থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বিজি-১৩৬ ফ্লাইটযোগে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান।

উল্লেখ্য, পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে গত ১৪ সেপ্টেম্বর চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি সস্ত্রীক ঢাকা ত্যাগ করেন।


নির্বাচিত

জাতিসংঘে বাংলায় ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর বৈশ্বিক এই সর্বোচ্চ সম্মেলনে তিনি মাতৃভাষা বাংলায় ভাষণ দেবেন। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম। সফর উপলক্ষে আগামীকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন।

জিয়া পরিবারের তৃতীয় সদস্য হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের মঞ্চে বক্তব্য রাখতে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে তাঁর পিতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মাতা সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে ভাষণ দিয়েছিলেন। ফলে এবারের অংশগ্রহণটিকে জিয়া পরিবারের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতার একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এছাড়া বর্তমান সরকারের এটিই প্রথম সাধারণ অধিবেশনে অংশ নেওয়া এবং একই সঙ্গে এবারের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, যা এই সফরকে বিশেষ কূটনৈতিক তাৎপর্য এনে দিয়েছে।

সফরসূচি অনুযায়ী, আগামী ২২ সেপ্টেম্বর থেকে প্রধানমন্ত্রী তাঁর আনুষ্ঠানিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। ওই দিন তিনি জাতিসংঘ মহাসচিব আয়োজিত বিশ্বনেতাদের স্বাগত প্রাতঃরাশ ও অধিবেশনের উদ্বোধনী পর্ব ছাড়াও মার্কিন প্রেসিডেন্টের দেওয়া আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনায় উপস্থিত থাকবেন। ২৩ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতা ও মানবিক সংস্থার শীর্ষ প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের পাশাপাশি ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে ও স্পেন কর্তৃক আয়োজিত বৈশ্বিক বৈষম্য দূরীকরণ বিষয়ক এক বিশেষ সভায় তিনি বক্তব্য দেবেন। এছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিবের উচ্চপর্যায়ের সংলাপ ‘Climate Action and the Just Transition’-এ যোগ দেওয়ার পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে বাংলাদেশের নিজস্ব আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য এক পার্শ্ববৈঠকে অংশ নিয়ে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের দ্রুত মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জোরালো ভূমিকা আহ্বান করবেন তিনি।

পরদিন ২৪ সেপ্টেম্বর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতাবৃদ্ধিজনিত হুমকি মোকাবিলা শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের অধিবেশনে উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি জলবায়ু অর্থায়ন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, অভিযোজন এবং ‘লস অ্যান্ড ড্যামেজ’ নিশ্চিতের মাধ্যমে জলবায়ু ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের দাবি জোরালোভাবে তুলে ধরবেন। এদিন বিকেলে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের মূল সাধারণ বিতর্কে তিনি বাংলায় জাতীয় বক্তব্য উপস্থাপন করবেন। যেখানে দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ, আইনের শাসন ও জবাবদিহি, জলবায়ু সংকট, আন্তর্জাতিক শান্তি ও টেকসই উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো প্রাধান্য পাবে। এর বাইরে মা ও নবজাতকের স্বাস্থ্য উন্নয়ন এবং মিডওয়াইফারি বিষয়ক অপর একটি পার্শ্ব-অনুষ্ঠানেও তাঁর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে।

অধিবেশনের ফাঁকে বহুপাক্ষিক ও দ্বিপাক্ষিক কূটনীতির অংশ হিসেবে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্সসহ ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর পৃথক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। পাশাপাশি জাতিসংঘ মহাসচিব, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, বিশ্বব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট এবং জাতিসংঘের শরণার্থী ও মানবাধিকারবিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের সূচি রয়েছে। এছাড়া অর্থনৈতিক কূটনীতি জোরদারে তিনি ওয়াল স্ট্রিট ও মেটাসহ বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় করে বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি, উৎপাদন ও অবকাঠামো খাতে সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের আহ্বান জানাবেন। সফর শেষে একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিনিধিদলসহ আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর রওনা দেওয়ার কথা রয়েছে।


নির্বাচিত

অপ্রতীম হত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে আদালতকে সহযোগিতা করবো: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আলোচিত রামিসা হত্যাকাণ্ডের মতোই কুমিল্লায় স্কুলছাত্র ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়াও দ্রুততম সময়ে সম্পন্ন করার বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে দেশের সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান। হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিতের প্রতিশ্রুতি দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “রামিসা হত্যার বিচারের মতো অপ্রতিম হত্যার বিচার দ্রুত করতে পারবো। বিচার করবে আদালত, আমরা সব সহযোগিতা করবো।”

তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি আরও জানান যে, ঘটনার পর নিহতের মায়ের ব্যবহৃত যে মোবাইল ফোনটি নিখোঁজ ছিল, তা সন্দেহভাজন অভিযুক্ত তুহিনের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তুহিন, আনাস ও ফাহিম নামের তিন তরুণকে ইতোমধ্যে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে বাসা থেকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের ১৩ বছর বয়সী সন্তান অপ্রতীম। নিখোঁজের এক দিন পর বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষিণ সংলগ্ন লালমাই পাহাড়ের গভীর এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এদিকে রবিবার সকাল সোয়া ১১টায় কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতি এলাকায় পারিবারিক কবরস্থানে অপ্রতীমকে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়। এর আগে সকাল ১০টা ১০ মিনিটে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় খেলার মাঠে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা অংশ নিয়ে কিশোর অপ্রতীমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের অনতিবিলম্বে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।


নির্বাচিত

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের বিদায়ী সাক্ষাৎ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে দায়িত্ব পালন শেষে পররাষ্ট্রবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বিদায়ী সাক্ষাৎ করেছেন চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সাক্ষাৎকালে ঢাকা ও বেইজিংয়ের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনের সক্রিয় ও দৃশ্যমান ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর সফলভাবে বাস্তবায়নে রাষ্ট্রদূতের বিশেষ উদ্যোগের কথা স্মরণ করেন তিনি। প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ইয়াও ওয়েনের কার্যকালেই বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ‘শেয়ার্ড কমিউনিটি’ পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে এবং একই সময়ে প্রতিমন্ত্রী পর্যায়ের ‘টু প্লাস টু’ সহযোগিতাসহ বেশ কিছু কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর সূচনা হয়েছে।

বিদায়ী বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে তিন বছর নয় মাস দায়িত্ব পালন করা তাঁর জন্য অত্যন্ত সম্মান ও গর্বের একটি অভিজ্ঞতা। এ সময় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে তিনি একে বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গৌরবময় মুহূর্ত বলে অভিহিত করেন। রাষ্ট্রদূত প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশের সার্বিক অগ্রগতি ও উন্নয়ন অভিযাত্রায় চীনের অংশীদারত্ব এবং সহযোগিতা আগামীতেও সমানভাবে বজায় থাকবে।

চীনা রাষ্ট্রদূত আরও অবহিত করেন যে, চীনের কমিউনিস্ট পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির আন্তর্জাতিক বিভাগের (আইডিসিপিসি) মন্ত্রী চলতি বছরের শেষ ভাগে বাংলাদেশ সফরের গভীর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। বাংলাদেশের সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত ও ঐতিহাসিক সংযোগের কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রদূত জানান, উক্ত মন্ত্রীর পিতা অতীতে বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করেছিলেন এবং তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের পরিচয়পত্র পেশ করেছিলেন।

বৈঠক শেষে আগামী দিনে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুসংহত ও সম্প্রসারিত হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। দায়িত্ব পালনকালে দ্বিপক্ষীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট নানা ক্ষেত্রে অবদানের জন্য তিনি রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনকে ধন্যবাদ জানান এবং তাঁর ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক কর্মজীবনের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।


নির্বাচিত

তিতাসের নতুন কূপ, মিলবে ১৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ উদ্বোধন করা হয়েছে। এর ফলে লোকেশন সি-থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক সাড়ে ১৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের চলমান গ্যাস সংকটের মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক সাড়ে ১৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

বিজিএফসিএল কর্মকর্তারা জানান, উদ্বোধনের পরপরই তিতাস-২৮ নম্বর কূপটি জাতীয় গ্রিডের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। কূপটি থেকে দৈনিক ১২ থেকে ১৩ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে।

তিতাস-২৮ নম্বর কূপের খননকাজ শুরু হয় ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর এবং শেষ হয় চলতি বছরের ১৯ জুন। কূপটির গভীরতা প্রায় ৩ হাজার ৬০১ মিটার বা ১৩ হাজার ফুট। কূপসহ তিতাস-২৮, ২৯, ৩০ ও কামতা-২ নম্বর কূপ খননে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে বলে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আমদানির পাশাপাশি দেশীয় উৎস থেকে গ্যাসের উৎপাদন বাড়িয়েই চলমান সংকট মোকাবিলা করতে হবে। দেশের শিল্প-কারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানি নির্ভরতার চাপ কমাতে সরকার দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে।

তিনি বলেন, তিতাস-২৮ থেকে জাতীয় গ্রিডে সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যুক্ত হওয়ায় শিল্পকারখানার উৎপাদন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির আরও উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৯, ৩০ ও ৩১ নম্বর এবং বাখরাবাদ গ্যাসক্ষেত্রের ১১ নম্বর কূপের কাজও এগিয়ে চলছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের হিসাবে, এসব কূপের কাজ শেষ হলে আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে পাঁচটি কূপ থেকে সর্বোচ্চ প্রায় সাড়ে ৬৭ মিলিয়ন ঘনফুট অতিরিক্ত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের সম্ভাবনা রয়েছে।

এর মধ্যে তিতাস-২৯ নম্বর কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট, তিতাস-৩০ থেকে প্রায় ১০ থেকে ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট এবং তিতাস-৩১ থেকে প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বাখরাবাদ-১১ নম্বর কূপ সফল হলে সেখান থেকে প্রায় ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে পারে।

বিজিএফসিএলের গভীর অনুসন্ধান গ্যাস কূপ খনন প্রকল্পের পরিচালক মো. মাহমুদুল নবাব জানান, তিতাস-৩১ নম্বর গভীর অনুসন্ধান কূপের খননকাজ ১৯ এপ্রিল শুরু হয়েছে। কূপটির লক্ষ্যমাত্রা গভীরতা ৫ হাজার ৬০০ মিটার। কোনো ভূতাত্ত্বিক জটিলতা না হলে আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে এর কাজ শেষ করার আশা রয়েছে। সফল হলে কূপটি থেকে দৈনিক প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যেতে পারে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে বর্তমানে আনুমানিক দেড় ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মজুত রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তিতাস-৩১ অনুসন্ধানমূলক কূপ হওয়ায় সেখানে নতুন গ্যাসের মজুত পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় দুই ট্রিলিয়ন ঘনফুট অতিরিক্ত মজুতের সম্ভাবনার কথা বলা হলেও খনন ও পরীক্ষা শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে না।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটির সভাপতি প্রকৌশলী খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, মন্ত্রণালয়ের সচিব জিয়াউল হক, অতিরিক্ত সচিব মো. রফিকুল আলমসহ মন্ত্রণালয় ও বিজিএফসিএলের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

অভিন্ন ও মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা শ্রমবাজারে তরুণদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) গভর্নিং বডির তৃতীয় সভায় সভাপতিত্ব করেন। ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে সমন্বিত কাঠামোর আওতায় এনে অভিন্ন সিলেবাসে প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রদানের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার ভিত্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে এ উদ্যোগ জরুরি বলে মনে করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অভিন্ন ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন প্রশিক্ষণ এবং সনদায়ন ব্যবস্থা চালু করা গেলে দেশের তরুণদের দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে তাদের গ্রহণযোগ্যতা ও স্বীকৃতি বাড়বে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) গভর্নিং বডির তৃতীয় সভায় সভাপতিত্বকালে প্রধানমন্ত্রী এ নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক এ কথা জানিয়েছেন।

সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদার ভিত্তিতে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে এনএসডিএ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের দক্ষ জনশক্তির চাহিদা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।

তিনি বলেন, দেশের যুবসমাজের দক্ষতা উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের অধীনে অনেক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হলেও যথাযথ সমন্বয়ের অভাবে এসব প্রশিক্ষণ ও সনদ অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারছে না। ফলে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এসব সনদের বিপরীতে আমাদের তরুণ প্রজন্ম কাঙ্ক্ষিত স্বীকৃতি পাচ্ছে না।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এনএসডিএ’র গভর্নিং বডিকে অল্প সময়ের মধ্যে একটি ছোট কমিটির মাধ্যমে প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়ন করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত কাঠামোর আওতায় আনতে হবে।

তিনি অভিন্ন সিলেবাসের মাধ্যমে প্রশিক্ষণ ও সনদ প্রদানের ব্যবস্থা করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভায় এনএসডিএ’র প্রশাসনিক কাঠামো, জনবল ও কার্যাবলি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করা হয়।

এছাড়া জাতীয় দক্ষতা উন্নয়নসংক্রান্ত নীতি ও কৌশলপত্র, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, খাতভিত্তিক দক্ষতার চাহিদা বিশ্লেষণ এবং স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়।

এ সময় প্রশিক্ষণের মানোন্নয়ন, সনদায়ন এবং সনদের পারস্পরিক স্বীকৃতির বিষয়েও আলোচনা করা হয়।

সভায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন উপস্থিত ছিলেন।

সভায় আরও ছিলেন, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল আওয়াল, এনএসডিএ’র নির্বাহী চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


নির্বাচিত

সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতন-ভাতা কাঠামোর প্রজ্ঞাপন জারি

ফাইল ছবি। দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন বেতন-ভাতার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ থেকে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ শীর্ষক এ প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়।

নতুন কাঠামো অনুযায়ী, নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা বাড়তি মূল বেতনের ৪০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ৫০ শতাংশ হারে বাড়তি বেতন পাবেন।

গত ৩০ জুন যে মূল বেতন আহরিত বা প্রাপ্য ছিল, তার সঙ্গে এই বাড়তি অর্থ যুক্ত করে আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত বেতন দেওয়া হবে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত নবম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তারা নতুন বেতনকাঠামোয় বাড়তি মূল বেতনের ৭০ শতাংশ এবং ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বাড়তি মূল বেতনের ৭৫ শতাংশ হারে বেতন পাবেন।

এরপর ২০২৭ সালের ১ জুলাই থেকে নতুন বেতনকাঠামোয় বাড়তি বেতনের শতভাগ কার্যকর হবে। যেহেতু নতুন বেতনকাঠামো চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে কার্যকর হয়েছে, তাই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বকেয়া বেতনও পাবেন।

এছাড়া ২০২৮ সালের ১ জানুয়ারি থেকে নতুন বেতনকাঠামোর আওতায় অন্যান্য সব ভাতা পাওয়া শুরু করবেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। একইভাবে পেনশন সুবিধাভোগীরাও নতুন বেতনকাঠামোর সব সুবিধা পাবেন।

নতুন বেতনকাঠামোয় ১ম থেকে ১১তম গ্রেড পর্যন্ত কর্মকর্তাদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। ১১তম থেকে ২০তম গ্রেডের সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন ১১৫ শতাংশ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। আনুপাতিকহারে বিভিন্ন ধরনের ভাতাও বাড়বে।

গত ৩১ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভা বৈঠকে নতুন বেতনকাঠামো অনুমোদন দেওয়া হয়। এর পরই আজ এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হলো।

সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের সুপারিশ করতে গত ২১ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনিকে সভাপতি করে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। পরে কমিটি এ-সংক্রান্ত সুপারিশ চূড়ান্ত করে।

অষ্টম বেতন কমিশন গঠনের প্রায় এক যুগ পর ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই অন্তর্বর্তী সরকার ২৩ সদস্যের নবম জাতীয় বেতন কমিশন গঠন করে। কমিশন গত ২১ জানুয়ারি তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। এর ধারাবাহিকতায় সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো চালু করা হলো।


নির্বাচিত

২০২৯ সালের জুনে শেষ হবে ঢাকা- সিলেট মহাসড়কের ৬ লেনের কাজ: সেতুমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

২০২৯ সাল নাগাদ ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ছয় লেন উন্নীতকরণ কাজ শেষ হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। শনিবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার শশই এলাকায় মহাসড়কের নির্মাণ কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

সেতুমন্ত্রী জানান, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। ছয় লেন প্রকল্পটি অনেক আগে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সাড়ে ৪ বছর হয়ে গেলেও অগ্রগতি সন্তোষজনক ছিল না। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এই প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। গত ৬ মাসে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে ভূমি অধিগ্রহণ এখন প্রায় ৫৬ শতাংশের কাছাকাছি। আশা করছি দুই মাসের মধ্যে শতভাগ ভূমি অধিগ্রহণ হয়ে যাবে। ভৌত কাজের অগ্রগতিও প্রায় ২৭ শতাংশ।’

তিনি আরও জানান, ‘এ প্রকল্পের কাজে যেখানে বিচ্যুতি আছে, সেগুলো অতিক্রম করে আমরা এই সড়কটি বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছি। সড়কের ১৩টি প্যাকেজের মধ্যে ৫টি প্যাকেজের কাজের অগ্রগতি অসন্তোষজনক। বাকি ৮টি প্যাকেজের কাজ সন্তোষজনক। আমরা ২০২৯ সালের জুনের মধ্যে মহাসড়কটি দরপত্র অনুসারে নির্মাণ কাজ শেষ করে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে চাই।’

শেখ রবিউল আলম জানান, ‘বর্তামানে কাজের অগ্রগতি সন্তোষজনক। তবে কিছুটা জনদুর্ভোগ হচ্ছে, যেহেতু ৪ বছর কাজের তেমন অগ্রগতি ছিল না। বিগত সরকার এবং অন্তর্বর্তী সরকার খুব বেশি মনযোগী ছিল না এই প্রকল্প নিয়ে। ভূমি অধিগ্রহণ বড় সমস্যা ছিল, সেটা থেকে উত্তরণ হতে চলেছি আমরা। ভৌত কাজ যেখানে সন্তোষজনক নয়, সেটা কীভাবে আরও জোরালো করা যায় সেই চেষ্টা করছি আমরা।’


নির্বাচিত

বিমানবন্দরের ওয়াশরুমের কমোড থেকে ৪ কেজি স্বর্ণের পেস্ট জব্দ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ওয়াশরুমের কমোডের ট্যাংকের ভেতর ৪ কেজি ২০৪ গ্রাম স্বর্ণসদৃশ পেস্ট মিলেছে। মালিকবিহীন অবস্থায় উদ্ধার করা পলিথিন মোড়ানো আটটি ডিমসদৃশ প্যাকেটে থেকে পাওয়া স্বর্ণের বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ৭ কোটি টাকা।

শনিবার সন্ধ্যায় বিমানবন্দরের কাস্টমস হলের ১ নম্বর বেল্টসংলগ্ন ওয়াশরুমে অভিযান চালিয়ে এসব পেস্ট উদ্ধার করে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

কাস্টমস গোয়েন্দা এক বিবৃতিতে জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওয়াশরুমের একটি হাই কমোডের ট্যাংকে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় সেখানে পলিথিনে মোড়ানো আটটি ডিমসদৃশ প্যাকেট দেখতে পাওয়া যায়। প্যাকেটগুলো ছিল মালিকবিহীন। পরে বিমানবন্দরে কর্মরত বিভিন্ন গোয়েন্দা ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে প্যাকেটগুলো উদ্ধার করে কাস্টমস হলের ইনভেন্ট্রি টেবিলে খোলা হয়। প্যাকেট খুলে প্রাথমিকভাবে ৪ দশমিক ২০৪ কেজি স্বর্ণসদৃশ পেস্ট পাওয়া যায়।

কাস্টমস গোয়েন্দা জানায়, উদ্ধার করা পেস্টের প্রকৃত স্বর্ণের পরিমাণ ও বিশুদ্ধতা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি। এজন্য রেজিস্টার্ড স্বর্ণকারের মাধ্যমে পেস্ট থেকে স্বর্ণ পৃথক করার কার্যক্রম চলছে। পৃথকীকরণ শেষে স্বর্ণের প্রকৃত ওজন ও বিশুদ্ধতা নির্ধারণ করা হবে। প্রাথমিক হিসাবে উদ্ধারকৃত স্বর্ণেরবাজারমূল্য প্রায় ৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা হতে পারে।

মালিকবিহীন অবস্থায় বিমানবন্দরের ওয়াশরুমের কমোডের ট্যাংকের ভেতরে এত বিপুল পরিমাণ স্বর্ণসদৃশ পেস্টের সঙ্গে জড়িতদের বিষয়ে খতিয়ে দেখা হবে বলে জানিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।


নির্বাচিত

banner close