সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন তিন বাহিনীর প্রধানরা।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সর্বাধিনায়ক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল এস এম শফিউদ্দিন আহমেদ, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল শেখ আবদুল হান্নান।
পরে রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. জয়নাল আবেদীন জানান, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সর্বাধিনায়ক রাষ্ট্রপতিকে তাদের নিজ নিজ বাহিনীর বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত করেন।
দিবসটি উপলক্ষে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের শুভেচ্ছা জানিয়ে রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা তাদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে দেশের জন্য সম্মান বয়ে এনেছে।
রাষ্ট্রপতি আশা করেন, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আগামীতেও দেশের উন্নয়নে আরও অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
এ সময় বঙ্গভবনের সংশ্লিষ্ট সচিবরা উপস্থিত ছিলেন।
সাভারে সন্ত্রাসীদের নৃশংস হামলায় নিহত এসবি’র এসআই আলতাফ হোসেনের হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মন্ত্রীর সঙ্গে আজ দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার অফিসকক্ষে নিহতের শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গ সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ আশ্বাস দেন। এসময় উপস্থিত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের এসআই আলতাফ হোসেন হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
মন্ত্রী জানান, নিহত পুলিশ কর্মকর্তার পরিবারের সার্বিক কল্যাণে ইতোমধ্যে পুলিশ অধিদপ্তরের কল্যাণ তহবিল থেকে ৬ লাখ টাকার আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নিহতের পারিবারিক ব্যবসা সচল রাখার সুবিধার্থে ‘কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড’ থেকে প্রয়োজনীয় ঋণসহ সার্বিক সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে কর্মজীবনে মরহুম আলতাফ হোসেনের নৈতিকতা ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে মরণোত্তর ‘পুলিশ পদক (পিপিএম)’ প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি।
মন্ত্রী এ সময় মরহুমের স্ত্রী শিউলী পারভীনের হাতে অনুদানের টাকা তুলে দেন।
উল্লেখ্য, গত ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সাভারের আমিনবাজারের বরদেশী পশ্চিমপাড়ায় একটি অটোরিকশা রাখা নিয়ে সৃষ্ট তর্ক-বিতর্ক মেটাতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলার মুখে পড়েন এসআই আলতাফ হোসেন। প্রাণ বাঁচাতে তিনি তার বড় ছেলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিলে রাত ৮টা ১০ মিনিটে সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র, রড, পাইপ, হাতুড়ি ও লাঠি নিয়ে সেখানে বর্বর হামলা চালায়। বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে তার ছোট ছেলে মো. আরিফুল ইসলামও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হন। পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক এসআই আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় মরহুমের স্ত্রী বাদী হয়ে ১৫ জনকে আসামি করে সাভার মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি বিতর্কিত অডিও রেকর্ডকে কেন্দ্র করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসানকে প্রত্যাহার (ক্লোজ) করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত এক প্রাতিষ্ঠানিক আদেশে এই ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়।
ডিএমপির আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রশাসনিক কারণে ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসানকে বর্তমান দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে ডিএমপি সদরদপ্তর ও প্রশাসন বিভাগে সংযুক্ত করা হয়েছে। জনস্বার্থে এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া ওই অডিও রেকর্ডে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা সংক্রান্ত বিষয়ে ওসির কথোপকথন প্রকাশ্যে আসে। অডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরলে কোনো সমস্যা হবে না। এছাড়া তিনি মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের দুর্বল দাবি করে ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা না করে চলতি মাসেই তাঁর দেশে ফেরা উচিত বলে মন্তব্য করেন।
গত দুই দিন ধরে অডিও রেকর্ডটি অন্তর্জালে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ প্রশাসনের ভাবমূর্তি রক্ষা ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে থানা থেকে প্রত্যাহারের এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ডিএমপি কর্তৃপক্ষ।
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও তাঁর স্ত্রী পান্নার দেশ-বিদেশের ব্যাংক হিসাব, আর্থিক লেনদেন, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ও বিনিয়োগের যাবতীয় তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অবৈধ সম্পদ অর্জন, শেল কোম্পানি গঠন, অর্থ পাচার এবং বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণের মতো বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে দুদকের গঠিত বিশেষ অনুসন্ধান দলের চাহিদার ভিত্তিতে এই তথ্য তলব করা হয়েছে।
বিএফআইইউর কাছে পাঠানো চিঠিতে দেশের তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে আসিফ মাহমুদ এবং তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা সকল ধরনের চলমান, সুপ্ত ও বন্ধ ব্যাংক হিসাবের বিস্তারিত তথ্য দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের নামে পরিচালিত ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, ব্যাংক লকার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র, মেয়াদি আমানত (এফডিআর), ডিপিএস এবং গৃহীত সকল ঋণ হিসাব সংক্রান্ত যাবতীয় নথি ও স্টেটমেন্ট সরবরাহের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
চিঠিতে বিদেশের সম্পদ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে পর্তুগাল, অস্ট্রেলিয়া, দুবাই, সিঙ্গাপুর ও সুইজারল্যান্ডের মতো দেশগুলোতে জমি ক্রয়, বিদেশি ব্যাংকে অর্থ গচ্ছিত রাখা, শেল কোম্পানি গঠন এবং অর্থ পাচার সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের অনুরোধ জানানো হয়েছে। এসব দেশের সমজাতীয় আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তা নিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের কথাও উল্লেখ রয়েছে। দুদক সূত্রে জানা গেছে, দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডে মোট ১১ হাজার কোটি টাকা পাচার করে বিদেশে বিলাসবহুল ভিলা ক্রয়, দুবাইয়ের গ্রিন গ্রুপে বিনিয়োগ, পর্তুগালে জমি কেনা এবং সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে অর্থ রাখার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ খতিয়ে দেখছে কমিশন।
বিদেশে অর্থ পাচারের পাশাপাশি সরকারি পদে নিয়োগ ও পদায়নে আর্থিক লেনদেন, টেন্ডার-বাণিজ্য এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগও দুদকের অনুসন্ধান দল তদন্ত করছে। এদিকে অনুসন্ধান কার্যক্রম চলাকালে আসিফ মাহমুদ যাতে দেশত্যাগ করতে না পারেন এবং আইনি প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত না হয়, সেজন্য তাঁর বিদেশযাত্রায় আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা জারির আবেদন করার উদ্যোগ নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মেধাবীদের উৎসাহ ও সঠিক মূল্যায়ন করতে পারলে এর সুফল অবশ্যই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পাবে। এতে দেশ উপকৃত হবে, দেশের মানুষ উপকৃত হবে।
মেধাবীদের উৎসাহিত করা ও সঠিক মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘দেশের সন্তানরা মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে ভালো যা কিছু অর্জন করবে, সরকার সেই অর্জনের স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করবে।’
সৌদি আরবে গত আগস্টে অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার বিজয়ী হাফেজদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।
আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ কথা জানান।
বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা যে পুরস্কারটা জিতে এসেছেন, এটা শুধু আপনাদেরই অর্জন না। আমি মনে করি, এটা বাংলাদেশের সকল মুসলমানের অর্জন।’
হাফেজদের উৎসাহিত ও সম্মান জানানোর প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা প্রায় সবাই উল্লেখ করেছেন যে দীর্ঘদিন পর হাফেজদের উৎসাহিত করা হয়েছে, সম্মান জানানো হয়েছে। এটা বর্তমান সরকারের একটি নীতি যে দেশের সন্তান যারা আছে, যারা দেশের ভবিষ্যৎ, তারা তাদের যোগ্যতা দিয়ে, মেধা দিয়ে যা কিছু ভালো অর্জন করবে, সেটাকে সরকার চেষ্টা করবে রাষ্ট্রের অবস্থান থেকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য।’
সরকার গঠনের পর থেকে মেধাবী ও যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের উৎসাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরই অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে পুরষ্কার বিজয়ী মাদ্রাসার শিক্ষকরা তাঁদের কিছু সমস্যার কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা কিছু সমস্যার কথা বলেছেন। এটার সমাধানের কোনো পথ আমাদের কাছে আছে কি না বা থাকলে সেটা কী, যদি সম্ভব হয়, ইনশাআল্লাহ আমরা সেটা দেখব। আমাদের পক্ষে যতটুকু সম্ভব, আমরা সেটা দেখার অবশ্যই চেষ্টা করব।’
ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রেও সহযোগিতার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘সামনে হয়তো এ ধরনের আরও প্রতিযোগিতা আসবে। ভবিষ্যতে এসব প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য সরকারের যদি কোনো সহযোগিতা প্রয়োজন হয়, আপনারা নিয়মমতো আমাদেরকে জানাবেন। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে যতটুকু করা সম্ভব, সেই ব্যবস্থা করব।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের ছেলেমেয়েরা এরকম আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাতে অংশগ্রহণ করুক এবং অংশগ্রহণ করার মাধ্যমে তাদের নিজেদের জন্য, দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য সম্মান এবং গৌরব নিয়ে আসুক।’
দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের হয়তো কাজের ধরনটা কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু লক্ষ্য একই। সেটা হচ্ছে দেশের মধ্যে শান্তি স্থাপন করা, যাতে সকলে মিলে আমরা ভালো থাকতে পারি, শান্তিতে থাকতে পারি। মানুষ যাতে মানুষের মতো করে বেঁচে থাকতে পারে। সেটাই আমাদের চেষ্টা, সেটাই আমাদের উদ্যোগ।’
সরকারের জন্য সবার সহযোগিতা ও দোয়া চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। সকলকে নিয়ে আমরা একসঙ্গে চলতে চাই। সকলকে নিয়ে আমরা দেশের জন্য ভালো কিছু পরিবর্তন আনতে চাই।’
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বিজয়ীদের বই উপহার দেন। এর আগে তিনি হাফেজরা প্রতিযোগিতায় যে সূরা তিলাওয়াত করে পুরস্কার জিতেছেন, সেই সূরার আয়াত তাদের কণ্ঠে শোনেন।
সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১৩৩টি দেশের প্রতিযোগীদের মধ্যে বাংলাদেশের হাফেজ মোহাম্মদ জাকারিয়া ১৫ পারা হিফজ, তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন। হাফেজ শেখ মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান আশরাফী ৩০ পারা হিফজ, তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে তৃতীয় হন।
এ ছাড়া হাফেজা রাবেতা বিনতে রমজান ১৫ পারা এবং হাফেজা মুসফিরা বিনতে মাহমুদ ৩০ পারা হিফজ, তাজবিদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার ও মাওলানা রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় পুরস্কার বিজয়ী হাফেজদের শিক্ষক কাইয়ুম মোল্ল্যা, মুঈনুদ্দীন মজুমদার, আবু বকর, সাজেদা খাতুনও উপস্থিত ছিলেন।
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করাই সরকারের অঙ্গীকার। বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো ব্যক্তি সরকারের লক্ষ্য নয়, লক্ষ্য হলো সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আবদুস সালামসহ সংবিধান বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
আইনমন্ত্রী বলেন, সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সরকারের হাতে পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে। প্রমাণগুলো এতটাই শক্তিশালী যে বিশ্বের যেকোনো ট্রাইব্যুনালকে ‘যুক্তিসংগত সন্দেহের ঊর্ধ্বে’ গিয়ে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসতে হবে।
ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার মৌলিক নীতি হিসেবে ‘যুক্তিসংগত সন্দেহের ঊর্ধ্বে’ অপরাধ প্রমাণের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারও সেই নীতির ভিত্তিতেই পরিচালিত হচ্ছে।
বাংলাদেশের সংবিধান নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহের কথা উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, এটি শুধু আইনজ্ঞদের আলোচনার বিষয় নয়; দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের চায়ের দোকানেও সংবিধানের বিভিন্ন বিধান, সংশোধনী, প্রয়োগযোগ্যতা এবং মানুষের অধিকার নিয়ে আলোচনা হয়।
তিনি বলেন, আমাদের সংবিধানও একটি ক্লাসিক বিতর্কের বিষয়- শুধু আইনজ্ঞদের মধ্যে নয়, দেশের চায়ের দোকানেও। গ্রামের চায়ের দোকানে মানুষ সংবিধানের বিভিন্ন ধারা, সাংবিধানিক সংশোধনী, অধিকার ও কর্তব্য নিয়ে আলোচনা করেন। এ ধরনের আলোচনা মানুষের সাংবিধানিক সচেতনতা বাড়ায়। এই ধরনের সংলাপের মাধ্যমে মানুষ তাদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হচ্ছে। এ কারণেই আমরা গর্বিত।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের সঙ্গে বাংলাদেশের সংবিধানের কিছু সাদৃশ্য তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে সুপ্রিম কোর্ট যে এখতিয়ার প্রয়োগ করে, তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামোর মিল রয়েছে।
তিনি বলেন, আর্টিকেল ১০২-এর অধীনে আমাদের সুপ্রিম কোর্ট একই ধরনের এখতিয়ার প্রয়োগ করছে। তবে কখনো কখনো এই এখতিয়ার অপব্যবহার ও ভুলভাবেও ব্যবহার করা হয়।
সংবিধান প্রণয়নে দার্শনিকদের চিন্তার প্রভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রণেতারা জন লক, থমাস হবস ও মন্টেস্কুর তত্ত্ব নিয়ে কাজ করেছিলেন। বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নেও এসব রাজনৈতিক দর্শনের প্রভাব রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রণেতারা ১৭৮৭ সালে যে ভিত্তিগত কাজগুলো করেছিলেন, বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের সময় আমাদেরও সেই তাত্ত্বিক ভিত্তির অনেকটাই অনুসরণ করতে হয়েছে।
বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সরকারের কিছু নীতিগত অবস্থানেরও প্রশংসা করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারের পরিবর্তন হলেও কিছু মৌলিক মূল্যবোধ ও নীতির ধারাবাহিকতা দেখা যায়।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নির্বিচারে গ্রেপ্তার ও আটক বন্ধ, সংগঠন ও সমাবেশের স্বাধীনতার মতো বিষয়গুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বাংলাদেশের মানুষের গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের জন্য লড়াইকে উৎসাহিত করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আইনমন্ত্রী বলেন, এসব মূল্যবোধের মাধ্যমে আমাদের মানুষ স্বৈরতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে উৎসাহিত হয়েছে।
দেশের বিগত রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী দাবি করেন, গত ফ্যাসিস্ট শাসনামলে গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের জন্য লড়াই করা ৪ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন। প্রায় ৭০০ মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
এছাড়া বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত ৬০ লাখের বেশি মানুষ রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হয়েছেন এবং এসব মানুষের বিরুদ্ধে করা মামলার প্রায় ৯৯ শতাংশই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে করা হয়েছিল বলে জানান আইনমন্ত্রী।
বর্তমান সরকারের সময়ে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ অবস্থানের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, গত ছয় মাসের বেশি সময়ে এ ধরনের ঘটনা প্রায় শূন্যের পর্যায়ে রয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পুলিশ মিথ্যা মামলা করেছে- এমন কোনো অভিযোগ বর্তমান সময়ে পাওয়া যায়নি।
মানবাধিকার কমিশন আইন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার দেশে আরও শক্তিশালী জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন আইনে নির্যাতনবিরোধী জাতিসংঘের ঐচ্ছিক প্রটোকল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অনেক দেশ এ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলেও বাংলাদেশ তা করেছে।
মানবাধিকার কমিশনের নির্বাচন কমিটির কাঠামো তুলে ধরে তিনি বলেন, এতে প্রেসক্লাব এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রতিবেশী কিছু দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতিতে উচ্চমানের স্বীকৃতি থাকলেও তাদের নির্বাচন কমিটির নেতৃত্ব প্রধানমন্ত্রীর হাতে; বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিটির নেতৃত্ব স্পিকারের হাতে রাখা হয়েছে এবং বিরোধীদলীয় নেতাকেও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা সাংবিধানিক শাসনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। এই পরিস্থিতিতে সুশাসন আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারগুলোর একটি।
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও আইনগত পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকার এমন একটি সময় পার করছে, যখন অর্থনীতি ও আইনের শাসন উভয় ক্ষেত্রেই নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। একই সঙ্গে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলো নিষ্পত্তির কাজও চলছে।
বাংলাদেশ পুলিশের শীর্ষ পর্যায় এবং রেঞ্জ ও ডিআইজি পদে বড় ধরনের রদবদল আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বদলি ও পদায়নের এই আদেশ দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশে প্রজ্ঞাপনগুলোতে সই করেন উপসচিব তৌহিফ আহমেদ। জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হবে বলে সরকারি নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন এই আদেশের মাধ্যমে বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের মোট ছয়জন অতিরিক্ত আইজিপি এবং পাঁচজন উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) পদের কর্মকর্তাকে বদলি ও নতুন কর্মস্থলে পদায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে চারজন কর্মকর্তা অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। পদোন্নতি পাওয়া এই চার কর্মকর্তা হলেন—সাইদুর রহমান, মাইনুল হাসান, ইকবাল হোসেন ও কামরুল আহসান। পদোন্নতি পাওয়ার পরপরই তাঁদের নতুন দায়িত্বে পদায়ন করা হয়েছে।
পাশাপাশি পাঁচজন ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তাকেও নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পুলিশ অধিদপ্তরের ডিআইজি মো. রেজাউল করিমকে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে খুলনা রেঞ্জের দায়িত্বে থাকা ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে সেখান থেকে বদলি করে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া পুলিশের বিভিন্ন বিশেষায়িত ইউনিটগুলোতেও রদবদল আনা হয়েছে। অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের ডিআইজি মোহাম্মদ মুসলিমকে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের পরিচালক (ডিআইজি) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। অন্যদিকে, স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) ডিআইজি মীর আশরাফ আলীকে রেলওয়ে পুলিশের ডিআইজি এবং ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট বা মেট্রোরেলের ডিআইজি সিদ্দিকী তাঞ্জিলুর রহমানকে ঢাকা স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) ডিআইজি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ খান।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে তার চাকরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ন্যস্ত করে এ নিয়োগ দেওয়া হয়।
অন্য এক প্রজ্ঞাপনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বর্তমান মহাপরিচালক ড. আহমেদ উল্লাহকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে বদলি করা হয়েছে।
এদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পৃথক প্রজ্ঞাপনে যুগ্মসচিব মো. হুসাইন শওকতকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের খুলনা আঞ্চলিক পরিচালকের কার্যালয়ের পরিচালক পদ থেকে বদলি করা হয়েছে। তাকে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন অধিদপ্তরের রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের উপ-রেজিস্ট্রার জেনারেল পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, মো. হুসাইন শওকত জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সদস্য পদে বদলির আদেশাধীন ছিলেন। নতুন পদায়নের জন্য তার চাকরি স্থানীয় সরকার বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।
অন্যদিকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত যুগ্মসচিব মুহাম্মদ আশরাফ হোসেনকে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের সদস্য পদে বদলি করা হয়েছে। এ জন্য তার চাকরি গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতের প্রসারে সহজ শর্তে ও স্বল্প ব্যয়ে অর্থায়নের লক্ষ্যে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
এ ঋণের বার্ষিক সরকারি সুদহার হবে মাত্র ০.৫ শতাংশ। তবে গ্রাহক পর্যায়ে সব ধরনের ফি ও চার্জসহ সর্বোচ্চ কার্যকর বার্ষিক সুদহার ৬ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সামষ্টিক অর্থনীতি অনুবিভাগের রাজস্ব নীতি-১ শাখা থেকে গত ১৪ সেপ্টেম্বর জারি করা এক পরিপত্রে এ তথ্য জানানো হয়। পরিপত্রে স্বাক্ষর করেন অর্থ বিভাগের যুগ্মসচিব আনারুল কবির।
পরিপত্র অনুযায়ী, আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানো, বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ ও ভর্তুকির চাপ হ্রাস এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জাতীয় নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কৌশলপত্র (২০২৬-২০৩০) অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ ২০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ অর্থায়ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।
এ কর্মসূচির আওতায় গৃহস্থালি, প্রাতিষ্ঠানিক ও শিল্প পর্যায়ে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন, সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন করা যাবে। এর মধ্যে রয়েছে- নেট মিটারিং সংযোগ, সোলার হোম সিস্টেম, শিল্প প্রতিষ্ঠানের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, সৌরচালিত সেচপাম্প, ইনভার্টার, মিটার ও ব্যাটারি সংরক্ষণ ব্যবস্থার অর্থায়ন।
কর্মসূচিটি বাস্তবায়নে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল), বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড (বিআইএফএফএল), পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) তিনটি প্রতিষ্ঠানকে অংশগ্রহণকারী সংস্থা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ তিন সংস্থাকে ৫০০ কোটি টাকা করে মোট ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হবে।
অর্থায়নের উৎস সম্পর্কে পরিপত্রে বলা হয়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ক্ষুদ্র, অতি ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এমএসএমই) খাতের জন্য সংরক্ষিত ২ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দ থেকে পুনর্বিন্যাস করে ১ হাজার কোটি টাকা সংস্থান করা হবে। বাকি ৫০০ কোটি টাকা দেওয়া হবে সরকারের পরিচালন ঋণ থেকে।
সরকার ও অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরের পর চাহিদার ভিত্তিতে অর্থ ছাড় করা হবে। এ ঋণের মেয়াদ হবে ১০ বছর, যার মধ্যে ১ বছর গ্রেস পিরিয়ড (ঋণ পরিষদ স্থগিতের সময়) থাকবে। গ্রেস পিরিয়ড শেষে নির্ধারিত কিস্তিতে আসল ও সুদ পরিশোধ শুরু করতে হবে।
প্রতিষ্ঠানগুলো সরাসরি কিংবা সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ঋণ দিতে পারবে, তবে গ্রাহকের ঋণ অনাদায়ের ঝুঁকি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকেই বহন করতে হবে।
এ ঋণের অর্থ দিয়ে পুরোনো ঋণ পরিশোধ, এভারগ্রিনিং, জমি বা শেয়ার কেনা, ব্যক্তিগত ভোগ, প্রশাসনিক ব্যয় বা অন্য কোনো তহবিলে অর্থ স্থানান্তর করা যাবে না।
অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের পর্ষদের অনুমোদন নিয়ে ঋণ নীতি ও গ্রাহক যোগ্যতার মানদণ্ড নির্ধারণ করবে। পাশাপাশি গ্রাহক পরিচিতি (কেওয়াইসি) এবং অর্থপাচার প্রতিরোধ ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন মোকাবিলা (এএমএল/সিএফটি) আইন কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে।
স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রতিটি অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানকে পৃথক ব্যাংক হিসাব, পর্ষদ অনুমোদিত পরিচালন পরিকল্পনা ও ডিজিটাল তথ্য ব্যবস্থাপনা ব্যবস্থা (এমআইএস) চালু করতে হবে। প্রতিটি ঋণের জন্য স্বতন্ত্র আইডেন্টিফায়ার নম্বর এবং ডিজিটাল আর্থিক হিসাবের মাধ্যমে অর্থ বিতরণ নিশ্চিত করতে হবে।
কর্মসূচির বার্ষিক স্বাধীন বহিঃনিরীক্ষা প্রতিবেদন অর্থ বিভাগে জমা দিতে হবে। এছাড়া প্রতি ত্রৈমাসিক শেষে ঋণ বিতরণ ও আদায়ের হালনাগাদ প্রতিবেদন এবং অর্থবছর শেষে ৯০ দিনের মধ্যে নিরীক্ষিত বার্ষিক প্রতিবেদন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
পরিপত্র জারির ৩০ দিনের মধ্যে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে কর্মসূচি নির্দেশিকা ও ঋণনীতি অর্থ বিভাগে জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে জারি করা এ পরিপত্র অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে।
সৌদি আরব থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করতে গিয়ে একসঙ্গে কয়েক দিক থেকে চাপের মুখে পড়েছে বাংলাদেশ। তেল কেনার ব্যয়ের পাশাপাশি এখন পরিবহন খরচও বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে প্রচলিত সমুদ্রপথ এড়িয়ে দীর্ঘ বিকল্প রুটে তেল আনতে হচ্ছে। এতে এক লাখ টন তেল কিনতে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ের বিপরীতে শুধু পরিবহনেই খরচ হচ্ছে আরও ২১৭ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক লাখ টন তেল চট্টগ্রামে পৌঁছাতে মোট ব্যয় দাঁড়াচ্ছে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা।
আগের তুলনায় একই পরিমাণ তেল আমদানিতে বাড়তি ব্যয়ের পরিমাণ ২০০ কোটি টাকার বেশি। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম খুব বেশি না বাড়লেও শুধু পরিবহনব্যবস্থার পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের জ্বালানি আমদানি ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে।
কেন এত খরচ: সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে অপরিশোধিত তেল আনার প্রচলিত পথ ছিল তুলনামূলকভাবে ছোট। লোহিত সাগর ও বাব এল-মান্দেব প্রণালী হয়ে সরাসরি চট্টগ্রামে পৌঁছাতে সাধারণত ১৩ থেকে ১৬ দিন সময় লাগত। কিন্তু আঞ্চলিক সংঘাত ও নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে ওই রুট এড়িয়ে চলতে হচ্ছে।
এখন জাহাজকে সুয়েজ খাল, ভূমধ্যসাগর, জিব্রাল্টার প্রণালী, আটলান্টিক মহাসাগর, দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপ, ভারত মহাসাগর ও শ্রীলঙ্কা ঘুরে চট্টগ্রামে আসতে হচ্ছে। এতে প্রায় ১৩ হাজার নটিক্যাল মাইল পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। আগে যেখানে দুই সপ্তাহের মতো সময়ে তেল পৌঁছে যেত, এখন সেখানে সময় লাগছে প্রায় ৫০ দিন।
দূরত্ব ও সময়—দুটিই বাড়ায় পরিবহন ব্যয় বেড়েছে। জাহাজকে দীর্ঘ সময় সমুদ্রে থাকতে হচ্ছে। ফলে জাহাজের জ্বালানি খরচ, পরিচালন ব্যয়, ক্রু ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়, বীমা এবং জাহাজভাড়ায় বাড়তি অর্থ গুনতে হচ্ছে। দীর্ঘ রুটে ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় বীমা ও পরিবহনমূল্যও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বেশি হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের হিসাবেও বিষয়টি স্পষ্ট। আগে এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল পরিবহনে যেখানে প্রায় ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ হতো, এখন সেখানে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ১৬ মিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ শুধু পরিবহনেই কয়েক মিলিয়ন ডলারের বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
এই বাড়তি ব্যয় দীর্ঘদিন বহন করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে ভাবতে হচ্ছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনকে (বিপিসি)। তাই সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাইরে বিকল্প উৎস থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির সম্ভাবনা যাচাই করা হচ্ছে।
দেশের একমাত্র তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেড ইতোমধ্যে নাইজেরিয়া, মালয়েশিয়া, নরওয়ে ও আলজেরিয়ার অপরিশোধিত তেল পরীক্ষা করেছে। নাইজেরিয়ার ‘বনি ক্রুড’, মালয়েশিয়ার ‘মালয়েশিয়ান ব্লেন্ড’, নরওয়ের ‘আলভহেইম ব্লেন্ড’সহ বিভিন্ন ধরনের অপরিশোধিত তেলের বৈশিষ্ট্য পরীক্ষা করা হয়েছে।
কারণ যেকোনো অপরিশোধিত তেল কিনলেই হবে না। ইস্টার্ন রিফাইনারিতে তা পরিশোধন করা যাবে কি না, পরিশোধনের পর কী পরিমাণ জ্বালানি পাওয়া যাবে, তেলের গুণগত মান কেমন এবং মোট আমদানি ব্যয় কত দাঁড়াবে—এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ। রিফাইনারির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে আমদানির বিষয়ে আলোচনা চলছে।
বিপিসির চেয়ারম্যান ড. মো. রফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিকল্প উৎস নিয়ে আলোচনা চলছে। তাঁর মতে, চলতি বছরের মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত পাঁচ মাসে বেশি দামে তেল কিনে কম দামে বিক্রি করতে গিয়ে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হয়েছে। ডিসেম্বর পর্যন্ত এ খাতে আরও প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। সরকারের আমদানি ব্যয়ের ওপর এটি বড় চাপ হলেও জনগণের প্রয়োজন বিবেচনায় সরকার সেই চাপ নিচ্ছে।
বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তায় অপরিশোধিত তেল আমদানির গুরুত্ব অনেক। দেশে বছরে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল আমদানি করা হয়। এর মধ্যে বার্ষিক জিটুজি চুক্তির আওতায় সৌদি আরবের আরামকো থেকে ৮ লাখ টন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের এডনক থেকে ৭ লাখ টন আমদানি করে সরকার।
আমদানি করা অপরিশোধিত তেল ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পরিশোধনের পর বিপিসির অধীন সংস্থাগুলোর মাধ্যমে বাজারজাত করা হয়। ফলে আমদানির খরচ বেড়ে গেলে তার প্রভাব শুধু বিপিসির হিসাবেই সীমাবদ্ধ থাকে না; পুরো জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থার ওপরই চাপ পড়ে।
বিপিসির ২০২৪-২৫ অর্থবছরের হিসাবে, ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল আমদানিতে সরকারের মোট ব্যয় হয়েছিল প্রায় সাড়ে ১৫ হাজার কোটি টাকা। সে হিসাবে এক লাখ টন তেল আমদানিতে গড় ব্যয় ছিল প্রায় ৭০০ কোটি টাকা। বর্তমান পরিস্থিতিতে একই পরিমাণ তেল আনতে খরচ হচ্ছে প্রায় এক হাজার কোটি টাকা।
পরিবহন ব্যয় দীর্ঘদিন বাড়তি থাকলে সরকারের বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদাও বাড়বে। তেল আমদানির জন্য বেশি ডলার ব্যয় করতে হলে সামগ্রিক আমদানি ব্যয়ের ওপর চাপ তৈরি হবে। একই সঙ্গে জ্বালানি খাতে ভর্তুকির প্রয়োজন বাড়লে সরকারের বাজেট ব্যবস্থাপনাতেও বাড়তি চাপ পড়তে পারে।
জ্বালানি আমদানির ব্যয় বাড়ার আরেকটি সম্ভাব্য প্রভাব হলো মূল্যস্ফীতি। পরিবহন ব্যয় বাড়লে জ্বালানি সরবরাহের খরচ বাড়তে পারে। জ্বালানি পরিবহন ও শিল্প উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হওয়ায় এর বাড়তি ব্যয় বিভিন্ন পণ্য ও সেবার মূল্যেও পরোক্ষভাবে প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে এর প্রভাব কতটা হবে, তা নির্ভর করবে আন্তর্জাতিক তেলের দাম, বিনিময় হার, সরকারের মূল্য নির্ধারণ নীতি এবং কতদিন বাড়তি পরিবহন ব্যয় বহন করতে হচ্ছে—এসব বিষয়ের ওপর।
বর্তমান পরিস্থিতিতে বিকল্প দেশ থেকে তেল আমদানি শুরু করা গেলেও সমস্যার পুরো সমাধান হবে না। নতুন উৎসের তেলের দাম কম হলেও যদি পরিবহন রুট দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়, তাহলে সামগ্রিক আমদানি ব্যয় খুব বেশি কমবে না। আবার তেলের মান ইস্টার্ন রিফাইনারির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াকরণ ব্যয় তৈরি হতে পারে।
তাই বিপিসির সামনে এখন একাধিক বিষয় একসঙ্গে বিবেচনার প্রয়োজন। কোন দেশ থেকে তেল কেনা হবে, কত দামে কেনা যাবে, কোন পথে আনা হবে, পরিবহন ব্যয় কত হবে এবং সরবরাহ কতটা নিরবচ্ছিন্ন থাকবে—সবকিছুর সমন্বিত হিসাব করতে হবে।
দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একক বা সীমিত কয়েকটি সরবরাহ উৎসের ওপর নির্ভরতা কমানোও গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে নিরাপদ ও তুলনামূলক কম ব্যয়ের সমুদ্রপথ নিশ্চিত করা গেলে পরিবহন ব্যয়ের বড় অংশ কমানো সম্ভব হতে পারে।
বর্তমান সংকট তাই শুধু তেল আমদানির খরচ বাড়ার বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয়, সরকারি ভর্তুকি, বাজেটের ওপর চাপ এবং মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি। ফলে দ্রুত বিকল্প সরবরাহব্যবস্থা ও ব্যয়সাশ্রয়ী পরিবহন রুট নিশ্চিত করাই এখন বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেছেন, দেশের কিছু সংবাদপত্র ও সোশ্যাল মিডিয়া জোড়াতালির খবর দিয়ে ও ভিডিও বানিয়ে সরকারকে বিব্রত করার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, বতর্মান সরকারের দায়িত্ব পালনের মাত্র সাত মাস। অথচ এ স্বল্প সময়ের মধ্যেই সরকারকে বিব্রত করতে নানাভাবে চেষ্টা করা হচ্ছে।
আজ বুধবার দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
সরকারের এ পর্যন্ত গৃহীত সকল কর্মকাণ্ড তুলে ধরার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি।
স্বাগত বক্তব্যে আতিকুর রহমান রুমন আরো বলেন, বর্তমান সরকার সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। সরকারকে আমাদের নানাভাবে সহযোগিতা করা প্রয়োজন। আমাদের আরও ধৈর্য্য ধরতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, আজ একটি ভিডিওতে দেখতে পেয়েছি, দেশের কোনো এক জায়গাতে একটি মন্দির ভাঙা হচ্ছে নতুন করে সংস্কারের জন্য। এ খবরকে আমাদের পাশের দেশের কিছু সাংবাদিক বা আমাদের কিছু মানুষ বিকৃতভাবে প্রচার করছে। সরকারের উপর চাপানো হচ্ছে, যে মন্দির ভেঙ্গে ফেলা হচ্ছে। অথচ সরকার পুরোনো নানা স্থাপনার উন্নয়নে সংস্কারের কাজ করছে।
তিনি বলেন, একইভাবে আমাদের দেশেও কিছু সংবাদপত্র বা গণমাধ্যম জোড়াতালির খবর ছাপাচ্ছে ও ভিডিও বানাচ্ছে সরকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে।
আতিকুর রহমান রুমন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংবাদপত্রের জগতের মানুষ ছিলেন। একটি জাতীয় দৈনিকের প্রকাশক ছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন তাঁর নাম প্রিন্টারস লাইনে ছিল। যদিও বিগত পলাতক সরকার পালানোর ছয় মাস আগে বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে এটিকে বন্ধ করে দিয়েছিল।
তিনি বলেন, তখন বেকার হন অনেক সাংবাদিক, অনেক কর্মকর্তা, অনেক কর্মচারী। সেদিন আপনারা অনেকে প্রতিবাদ করেছিলেন আমাদের জন্য। অনেকে সহানুভূতি জানিয়ে ছিলেন। এ জন্য ধন্যবাদ আপনাদের।
আতিকুর রহমান রুমন বলেন, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দুইদিন আগেও তারেক রহমান এই সংবাদপত্রের মালিকানায় এবং প্রকাশক হিসেবে ছিলেন।
তিনি বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সংবাদপত্রের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন। গত বিএনপি সরকারের শেষ সময় ১৭/১৮ বছর আগে একটি স্বনামধন্য জাতীয় দৈনিক তাঁকে নিয়ে সিরিজ নিউজ করেছিল।’
তিনি আরো বলেন, 'তারেক রহমান তখন প্রধানমন্ত্রী ছিলেন না। সরকারের উপদেষ্টাও ছিলেন না। সরকারের কোন অংশেও ছিলেন না। তখন তিনি বনানীতে বিএনপির চেয়ারপার্সনের কার্যালয়ে বসতেন এবং গবেষণামূলক কাজ করতেন। সেখানে আমিও একজন কর্মী ছিলাম।’
অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, তখন দেখেছি আপনাদের অনেকে সেখানে ঢুকতে পারতেন। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল ছিলেন।
তিনি বলেন, ইঞ্জিনিয়ার বকুল তখনও আমাদের সংসদ সদস্য (এমপি) ছিলেন। তিনি অনলাইনে বলছিলেন, তাঁর এলাকায় এই আছে, ওই আছে, এই সমস্যা, ওই সমস্যা।
তখন তারেক রহমান তাঁকে থামিয়ে দিয়ে বলেছিলেন, আপনার এলাকা কোনটা। নরসিংদী উত্তর শুনে তারেক রহমান ফাইল বের করে তাঁকে প্রশ্ন করা শুরু করেন।
তিনি তাঁকে বলেন, আপনার এলাকায় এগুলো আছে, ওই আছে। আপনার এলাকায় এই জায়গা উর্বর, ওই জায়গাতে এই জিনিস হয়। এসব কিন্তু এই বনানীর কার্যালয়ে বসেই তিনি করেছেন।
আতিকুর রহমান রুমন বলেন, বিগত সরকার কয়েক লাখ কোটি টাকা বিদেশী ঋণ চাপিয়ে গেছে বর্তমান সরকারের ওপর। কালকে যে শিশু জন্মগ্রহণ করবে সে ঋণের বোঝা নিয়ে জন্মগ্রহণ করবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবসময় সচেষ্ট আছেন মানুষের উন্নয়নে। তাই আমাদের ধৈর্য ধরা উচিত।
তিনি বলেন, দেশের মানুষ গ্যাসের সংকটে ছিলেন, বিদ্যুতের সমস্যায় ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী এগুলোর ব্যবস্থা করেই ঘোষণা দিয়েছেন। আগামীকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় দিয়েছেন সমাধানের। মনিটরিং সেল করেছেন। আমাদের কর্মীরা, আমরা কাজ করছি এগুলো নিয়ে।
অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, তাই আমরা সরকারকে সহযোগিতা করলে একটি সুন্দর, সুফলা বাংলাদেশ গড়তে পারবো। আসুন, আমাদের বাংলাদেশ নতুনভাবে গড়তে আমরা সবাই মিলে কাজ করি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমরা যে যতটুকু পারি নিজ নিজ অবস্থান থেকে সহযোগিতা করি।
সংবাদ সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তাঁর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন এবং প্রেস সচিব সালেহ শিবলী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার এস এ এম মাহফুজুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. আ ন ম মনোয়ারুল কাদির (বিটু) এবং প্রেস উইংয়ের সদস্যবৃন্দ।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান এবং প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।
আজ বুধবার সকালে সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রীর অফিসকক্ষে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় আন্দালিভ রহমানকে অভিনন্দন জানান।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার পাশাপাশি রাজনৈতিক সংস্কৃতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ করছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) বিরোধী দলের সংবাদ প্রচারের বিষয়টি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, সরকার মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও স্বাধীন গণমাধ্যমের পরিবেশ সমুন্নত রাখতে বদ্ধপরিকর। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে মানহানিকর বক্তব্য, ভুল তথ্য ও অপতথ্যের বিস্তার রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে মার্কিন রাষ্ট্রদূত অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আন্দালিভ রহমান বলেন, বিগত ১৭ বছরে আমাদের অভিজ্ঞতা ভালো ছিল না। তবে বর্তমান সরকার সৎ উদ্দেশ্য নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।
তথ্য প্রতিমন্ত্রী ভুল তথ্য ও অপতথ্য প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এবং এ ক্ষেত্রে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার নিয়ে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, ভুল তথ্য ও অপতথ্যের কারণে সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেক অ্যাকাউন্ট তৈরি করে অপপ্রচার চালানো হয়। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে নাগরিকরা যাতে নিরাপদ বোধ করেন এই এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের কথা উল্লেখ করেন।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ক ক্রমাগত আরও শক্তিশালী হচ্ছে এবং এ সম্পর্ক ব্যবসা-বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্প্রসারিত হচ্ছে।
রাষ্ট্রদূত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত অর্থনৈতিক সহায়তার কথা উল্লেখ করে বলেন, তাদের সহায়তায় স্বাস্থ্য খাতে সংক্রামক রোগ প্রতিরোধে বিশেষ সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে।
সাক্ষাৎকালে সাইবার সুরক্ষা আইন প্রসঙ্গে আলোচনায় তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের কোনো ইচ্ছা সরকারের নেই। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের অধিকার সমুন্নত রেখেই সরকার দায়িত্বশীল ও সৎ উদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্রিকস সম্মেলনে অংশ না নেওয়ার কারণে আদানি বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছিল বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ব্রিকস সম্মেলনে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের সম্মান রক্ষা করেছেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, সরকার আদালতের পরোয়ানা অনুযায়ী বারবার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও গণঅভ্যুত্থানের পর ভারতে অবস্থানরত আসামিদের বাংলাদেশ সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে না। এটিকে গভীর কোনো চক্রান্তের অংশ উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, বাংলাদেশে বিচার চলছে এমন ব্যক্তিদের কেন ফেরত দেওয়া হচ্ছে না।
ব্রিকস সম্মেলনের বিষয়ে বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, একটি স্বাধীন দেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান না থাকায় তারেক রহমান সেখানে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এটি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতীক। কিন্তু তিনি না যাওয়ার কথা জানানোর পরদিনই কারিগরি ত্রুটির অজুহাতে আদানি পাওয়ার প্ল্যান্টের বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়া হয়, যা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে সাধারণ মানুষও অনুধাবন করতে পারছে।
দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির বিষয়ে রিজভী বলেন, বৈশ্বিক অস্থিরতা সত্ত্বেও অর্থনৈতিক সুশাসনের কারণে দেশে রেমিট্যান্সের প্রবাহ বেড়েছে এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আগের চেয়ে বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিদ্যমান জ্বালানি সংকট কাটাতে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও মিয়ানমার থেকে গ্যাস আমদানির উদ্যোগ চলছে।
তিনি আরও যোগ করেন, বর্তমান সরকার দেশে বাকস্বাধীনতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করেছে, যেখানে বিরোধী দল অবাধে সমালোচনা করতে পারছে কিন্তু কারো ওপর জুলুম বা গুমের ঘটনা ঘটছে না।
এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের ঐতিহ্য বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টার বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে রিজভী বলেন, একাত্তরের শহীদ মধুর স্মৃতির প্রতি অপমানজনক কোনো কর্মকাণ্ড ছাত্র-জনতা মেনে নেবে না। সমাবেশে মুক্তিযোদ্ধা দল ও প্রজন্ম দলের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানীর তিনটি মেট্রো রেল প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত একনেকের বৈঠকে প্রকল্পগুলো অনুমোদন দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পগুলো হলো— মেট্রো রেল লাইন-৫ সাউদার্ন রুট, মেট্রো রেল লাইন-১ এবং মেট্রো রেল লাইন-৫ নর্দান রুট।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, তিনটি মেট্রো রেল প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা।
প্রকল্পগুলোর মধ্যে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে এমআরটি লাইন-১ (বিমানবন্দর-কমলাপুর) ও এমআরটি লাইন-৫ নর্দান (হেমায়েতপুর-ভাটারা) প্রকল্পের সংশোধিত ব্যয় প্রস্তাব রয়েছে।
পাশাপাশি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ অর্থায়নে নতুন এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন (গাবতলী-দাশেরকান্দি) প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, শুরুতে একনেকের মূল এজেন্ডায় শুধু এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন প্রকল্পটি উপস্থাপনের কথা ছিল। তবে পরে সমন্বিত অগ্রগতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জাপানের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এমআরটি লাইন-১ ও এমআরটি লাইন-৫ নর্দান প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ সংশোধনের প্রস্তাবও একই সভায় উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জাইকার অর্থায়নে ৩১ দশমিক ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-১ বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।
২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এমআরটি লাইন-৫ নর্দান প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৯ হাজার ৮৪৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।
আর ১৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার পাতালপথসহ মোট ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা।