উচ্চ আদালতের বিচারক অপসারণ সংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে করা আবেদন আপিল বিভাগের ছয় সদস্যের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ শুনতে পারবেন (কমপিটেন্ট) বলে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন আপিল বিভাগ।
বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানসহ ছয় বিচারপতির আপিল বিভাগ এ সিদ্ধান্ত দেন।
সাত বিচারপতির দেয়া রায়ের রিভিউ শুনানি ছয় বিচারপতি শুনতে পারবেন কিনা এমন প্রশ্ন উঠলে সর্বোচ্চ আদালত আজ এ আদেশ দেন।
এর আগে গত ১৬ নভেম্বর আপিল বিভাগ এ প্রশ্নের উপর আট আইনজীবীর মতামত নেন। পরে আজকে আদালত এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
আদালতে রিভিউ আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। আর রিটকারিদের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।
দেশের প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ ও জনপ্রিয় বক্তা পীরজাদা মাওলানা মীর মো. হাবিবুর রহমান যুক্তিবাদী আর নেই। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকাল ৭টা ৪৫ মিনিটে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রাজধানীর গুলিস্তান পীর ইয়ামেনী জামে মসজিদের খতিব মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গুণী এই আলেমের মৃত্যুতে দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের মাঝে এবং আলেম সমাজে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
মাওলানা হাবিবুর রহমান যুক্তিবাদী তাঁর ওজস্বী কণ্ঠ এবং যুক্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে দেশজুড়ে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে তিনি কুরআন ও সুন্নাহর আলো ছড়িয়ে দিতে দেশের প্রতিটি প্রান্তে ওয়াজ নসিহত ও সমাজ সংস্কারমূলক কাজ করে গেছেন। তাঁর অমায়িক ব্যবহার এবং জ্ঞানগর্ভ আলোচনা সব মহলেই সমাদৃত ছিল। মরহুমের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আজ বাদ আসর রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে তাঁর প্রথম নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ১৯৪৭ সালে নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁও উপজেলার বারুদী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এই বিশিষ্ট আলেম। তাঁর পিতা মাওলানা মীর মনিরুদ্দীন ছিলেন ছারছীনা দরবার শরীফের পীর আল্লামা নেছারউদ্দীন সাহেবের অন্যতম খলিফা। বাবার আদর্শেই তিনি ধর্মীয় শিক্ষার পথে পা বাড়ান। প্রাথমিক শিক্ষা নিজ গ্রামেই শুরু করার পর বারুদী নেছারিয়া আলিম মাদ্রাসা থেকে যথাক্রমে ১৯৬৩ ও ১৯৬৫ সালে দাখিল ও আলিম পাস করেন। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জ কামিল মাদ্রাসা থেকে ১৯৬৭ সালে ফাজিল এবং সরকারি মাদ্রাসা-ই-আলিয়া ঢাকা থেকে প্রথম বিভাগে কামিল পাশ করে তাঁর শিক্ষা জীবন শেষ করেন।
শিক্ষা জীবন শেষ করার পর থেকেই তিনি দ্বীন প্রচারের কাজে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। কেবল ধর্মীয় বক্তা হিসেবেই নয়, একজন নীতিবান মানুষ হিসেবেও তিনি সাধারণ মানুষের হৃদয়ে বিশেষ জায়গা করে নিয়েছিলেন। তাঁর মৃত্যুতে দেশের ইসলামী শিক্ষা ও প্রচার প্রসারের ক্ষেত্রে এক অপূরণীয় শূন্যতা তৈরি হলো। পরিবার, গুণগ্রাহী এবং অগণিত ভক্ত-অনুরাগী রেখে গেছেন তিনি। জানাজা শেষে তাঁকে তাঁর পারিবারিক কবরস্থানে সমাহিত করার প্রক্রিয়া নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ এবং গণভোট অধ্যাদেশ কেন অবৈধ ও অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একইসঙ্গে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের নেওয়া শপথ কেন অবৈধ হবে না, রুলে সেটিও জানতে চাওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলাম শাহীনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ জনস্বার্থে দায়ের করা পৃথক রিট আবেদনের শুনানি শেষে এই আদেশ প্রদান করেন।
আদালতের এই রুলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট বিবাদীদের আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। রিট আবেদনকারীদের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানul করিম ও আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব। অন্যদিকে রিটের বিরোধিতা করে বক্তব্য রাখেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ হোসেন লিপু, ব্যারিস্টার ইমরান আবদুল্লাহ সিদ্দিকী এবং অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির। তাঁদের সহযোগিতায় ছিলেন আইনজীবী জহিরুল ইসলাম মূসা, সাদ্দাম হোসেন ও আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী।
এর আগে গত সোমবার (২ মার্চ) জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ এবং গণভোট অধ্যাদেশের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে পৃথক দুটি রিট দায়ের করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী চৌধুরী রেদোয়ান-ই খোদা রনি এবং অ্যাডভোকেট গাজী মো. মাহবুব আলম এই রিটগুলো দায়ের করেন। রিট আবেদনে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ বাতিল করার পাশাপাশি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথকে অবৈধ ঘোষণার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছিল।
এছাড়া গত ১৮ ফেব্রুয়ারি অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ জুলাই জাতীয় সনদকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক দাবি করে এটি বাতিলের নির্দেশনা চেয়ে আরও একটি রিট দায়ের করেছিলেন। ওই রিটে জুলাই সনদের কার্যকারিতা স্থগিত করারও আবেদন জানানো হয়েছিল। মূলত জুলাই জাতীয় সনদের বিভিন্ন ধারা এবং গণভোটের আইনি ভিত্তি নিয়ে আইনি মহলে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, এই রুলের মাধ্যমে উচ্চ আদালত সেই বিষয়ের আইনি ব্যাখ্যা ও বিবাদীদের অবস্থান জানতে চাইলেন। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এই বিষয়ে চূড়ান্ত শুনানির পর বিস্তারিত জানা যাবে। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক প্রেক্ষাপটে হাইকোর্টের এই রুলটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. জিয়াউল হক। আজ মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের শুরুতে তারা পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের দেশপ্রেম ও পেশাদারিত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বাহিনীর সদস্যদের নিরলস প্রচেষ্টার স্বীকৃতি দিয়ে বলেন, সমুদ্র উপকূল ও নদী তীরবর্তী এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে কোস্টগার্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। বিশেষ করে জনগণের স্বার্থে দুর্যোগ মোকাবিলায় তাদের জনসেবামূলক কাজগুলো অব্যাহত রাখার জন্য তিনি বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করেন।
বৈঠকে মহাপরিচালক প্রধানমন্ত্রীকে কোস্টগার্ডের চলমান বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে অবহিত করেন। প্রধানমন্ত্রী এই উন্নয়নের গতিপ্রকৃতি দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং আশ্বস্ত করেন যে, বাহিনীর এই আধুনিকায়ন ও উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ভবিষ্যতেও বজায় থাকবে।
পরিশেষে, প্রধানমন্ত্রী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কোস্টগার্ডকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, পেশাদারিত্বের মাধ্যমে এই বাহিনী দেশের সমুদ্রসীমার অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করবে।
দেশের আলোচিত ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়ন আদেশ, গণভোট অধ্যাদেশ এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদনগুলোর ওপর আজ আদেশ দেবেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিচারপতি রাজিক আল জলিল ও বিচারপতি মো. আনোয়ারুল ইসলাম শাহীনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই গুরুত্বপূর্ণ আদেশটি ঘোষণা করবেন। এর আগে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত আদেশের জন্য আজকের দিনটি ধার্য করেছিলেন।
রিট আবেদনগুলোতে মূলত জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে এবং এটি বাতিল করার আর্জি জানানো হয়েছে। এছাড়া গণভোট অধ্যাদেশ এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ গ্রহণের প্রক্রিয়াটি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়েও রুল জারির নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী চৌধুরী রেদোয়ান-ই খোদা রনি এবং অ্যাডভোকেট গাজী মো. মাহবুব আলম পৃথক দুটি জনস্বার্থমূলক রিট পিটিশন দায়ের করেছিলেন। অন্যদিকে, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি অ্যাডভোকেট ইউনুছ আলী আকন্দ জুলাই জাতীয় সনদকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক দাবি করে এটি বাতিলের জন্য আরও একটি রিট দায়ের করেন।
দায়েরকৃত এসব রিটে বিবাদী হিসেবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিব, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পক্ষভুক্ত করা হয়েছে। রিট আবেদনকারীদের দাবি, জুলাই সনদের বেশ কিছু ধারা বিদ্যমান সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, ফলে এর কার্যকারিতা স্থগিত রাখা জরুরি। আইনি বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, আজকের এই আদেশের মাধ্যমে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কারের ভবিষ্যৎ প্রক্রিয়ার বিষয়ে আদালতের অবস্থান স্পষ্ট হবে, যা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। সব মিলিয়ে পুরো দেশ এখন উচ্চ আদালতের এই আদেশের দিকে তাকিয়ে আছে।
রাজধানী ঢাকার বাতাসের মান আবারও বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। আজ মঙ্গলবার (৩ মার্চ) সকালে সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইকিউএয়ারের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের ১১৬টি প্রধান নগরীর মধ্যে দূষণের তালিকায় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে ঢাকা। ঢাকার বায়ুমানের সূচক বা একিউআই স্কোর রেকর্ড করা হয়েছে ২৩৪, যা পরিবেশ ও স্বাস্থ্য বিজ্ঞানের ভাষায় ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। দীর্ঘ সময় ধরে এমন দূষিত বাতাসে শ্বাসপ্রশ্বাস গ্রহণ করা সাধারণ মানুষের জন্য বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।
আইকিউএয়ারের লাইভ বা তাৎক্ষণিক সূচক বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ঢাকার ঠিক পরেই দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর, যার স্কোর ২৩২। তৃতীয় অবস্থানে ভারতের রাজধানী দিল্লি ১৯৪ স্কোর নিয়ে অবস্থান করছে। দূষিত শহরের তালিকার পরবর্তী ধাপগুলোতে রয়েছে যথাক্রমে চীনের বেইজিং, ভারতের কলকাতা ও নেপালের কাঠমান্ডু। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর বড় শহরগুলোতে বায়ুদূষণের এই ভয়াবহ চিত্র সামগ্রিক আঞ্চলিক পরিবেশগত সংকটকেই ফুটিয়ে তুলছে।
বিপরীত দিকে, একই সময়ে বিশ্বের সবচেয়ে নির্মল বায়ুর শহর হিসেবে তালিকার শেষে অর্থাৎ নিরাপদ অবস্থানে ছিল ইন্দোনেশিয়ার বাতাম। এই শহরটির বায়ুমানের স্কোর ছিল শূন্য। এছাড়া নির্মল বায়ুর তালিকায় ওপরের দিকে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সল্ট লেক সিটি, সান ফ্রান্সিসকো এবং অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরা। এসব শহরের উন্নত পরিবেশ ব্যবস্থাপনা ও কম দূষণ সাধারণ মানুষের বসবাসের জন্য অত্যন্ত উপযোগী।
এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স বা একিউআই অনুযায়ী, বায়ুর মান শূন্য থেকে ৫০ এর মধ্যে থাকলে তা ভালো এবং ১৫১ থেকে ২০০ এর মধ্যে হলে অস্বাস্থ্যকর ধরা হয়। তবে স্কোর ২০১ থেকে ৩০০ এর মধ্যে পৌঁছালে তা ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে চিহ্নিত হয়, যা বর্তমান ঢাকার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুষ্ক মৌসুমে নির্মাণ কাজ, যানবাহনের ধোঁয়া এবং ধুলোবালির কারণে ঢাকার বায়ুমান এমন উদ্বেগজনক অবস্থায় পৌঁছেছে। উল্লেখ্য, বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর বায়ুদূষণজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ৭০ লাখ মানুষ প্রাণ হারান, যা আধুনিক বিশ্বের অন্যতম বড় নিরব ঘাতক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই ভয়াবহ দূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপের দায়িত্ব পেয়েছেন বরগুনা-২ (বেতাগী-বামনা-পাথরঘাটা) আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম মনি; ছয়জনকে দেওয়া হয়েছে হুইপের দায়িত্ব।
গতকাল সোমবার, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের আলাদা প্রজ্ঞাপনে এ বিষয়ে জানানো হয়।
হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য জি কে গউছ, খুলনা-৩ আসনের রকিবুল ইসলাম, শরীয়তপুর-৩ আসনের মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, নাটোর-২ আসনের এম. রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, দিনাজপুর-৪ আসনের মো. আখতারুজ্জামান মিয়া ও লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের এ বি এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান)।
চিফ হুইপ সংসদে সরকারি দলের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার সঙ্গে কয়েকজন হুইপ থাকেন, যারা সবাই সংসদ সদস্য। তাদের প্রধান কাজ সংসদে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা, নিজ দলের সদস্যদের অধিবেশনে উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ বিল ও প্রস্তাবে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভোট নিশ্চিত করা।
চিফ হুইপ পূর্ণ মন্ত্রীর পদমর্যাদা ভোগ করেন, আর হুইপরা প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পান। সে অনুযায়ী তারা মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের মতো সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন।
জাতীয় সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এই নিয়োগ অবিলম্বে কার্যকর হবে। নবনিযুক্ত চিফ হুইপ ও হুইপগণ আজ মঙ্গলবার শপথ নিতে পারেন।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সারা দেশে অন্তত ৩২ জন নারী ও কন্যাশিশু হত্যার শিকার হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৯ জনই কন্যাশিশু, যাদের বয়স ১৮ বছরের নিচে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ-এর নারী ও কন্যা নির্যাতনবিষয়ক মাসিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই উদ্বেগজনক চিত্র।
সোমবার (২ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সহিংসতার খবর বিশ্লেষণ করে এই চিত্র পাওয়া গেছে, যা বাস্তব পরিস্থিতির কেবল আংশিক প্রতিফলন।
সংগঠনটির কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড উপপরিষদে সংরক্ষিত ১৫টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, সংবাদপত্রে প্রকাশিত ঘটনার বাইরেও অসংখ্য নির্যাতনের ঘটনা অপ্রকাশিত থেকে যায়, যেগুলো কখনো আইনের কাছে পৌঁছায় না, আবার কখনো সমাজের ভয়ে চাপা পড়ে থাকে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ১৮৩ জন নারী ও কন্যা বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
এর মধ্যে ৭৩ জন কন্যা ও ১১০ জন নারী। ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৩২ জন, যাদের মধ্যে ৪ জন কন্যাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।
যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন ৪ জন কন্যাসহ মোট ৭ জন। এর মধ্যে ২ জন কন্যাসহ ৪ জন যৌন নিপীড়নের শিকার, ২ জন উত্ত্যক্তকরণের এবং ১ জন নারী সাইবার সহিংসতার শিকার হয়েছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ফেব্রুয়ারি মাসে ৩ জন কন্যা ও ১৪ জন নারীসহ ১৭ জনের মৃত্যু রহস্যজনক। আত্মহত্যা করেছেন ৮ জন। এসিডদগ্ধ হয়েছেন ১ জন এবং অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন ১ জন। যৌতুকজনিত সহিংসতার শিকার হয়েছেন ৫ জন নারী, যার মধ্যে ৩ জনকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া পারিবারিক সহিংসতায় শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৩ জন এবং গৃহকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন আরও ৩ জন।
অপহরণের শিকার হয়েছেন ১ জন কন্যাসহ ২ জন, আর ২ জন কন্যাকে অপহরণের চেষ্টা করা হয়েছে। পাচারের শিকার হয়েছেন ২০ জন কন্যাসহ মোট ৪০ জন। শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১ জন কন্যাসহ ১৫ জন। বাল্যবিবাহের চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে ২ জনের ক্ষেত্রে। আরও ১ জন কন্যাসহ আরও ৭ জন বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।
২৩ কোটি টাকা মানিলন্ডারিং ও বিদেশে পাচারের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রী রূকমীলা জামানসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার চার্জশিট দাখিল করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (২ মার্চ) দুদকের প্রধান কার্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ চার্জশিট দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
চার্জশিটে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর৪০৬/৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
একই মামলায় অভিযুক্ত অন্যদের মধ্যে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসির (ইউসিবি) সাবেক চেয়ারম্যান ও সাইফুজ্জামান চৌধুরীর স্ত্রী রূকমীলা জামান ছাড়াও ব্যাংকটির সাবেক ও বর্তমান ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাসহ আরামিট পিএলসির একাধিক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী এবং হুন্ডি কার্যক্রমে জড়িত কয়েকজন ব্যক্তি রয়েছেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলন, জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ এবং পরবর্তীতে তা বিভিন্ন মাধ্যমে স্থানান্তর ও বিদেশে পাচার করা হয়েছে। তবে আলোচিত এ মামলার আসামি শরীফ জহিরকে অভিযোগের দায় থেকে অব্যাহতি দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
বিশ্ব রাজনীতির এক অস্থিরতম অধ্যায়ে পরিণত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্য। সেখানকার সংঘাত বৈশ্বিক অর্থনীতির গতিপথকে বদলে দিতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশেও। কারণ, অর্থনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে বেশ কিছু ঝুঁকির মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশীদের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার হুমকিতে পড়তে পারে। আবার আমদানিনির্ভর জ্বালানি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাঁচামালের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার শঙ্কাও রয়েছে। এছাড়া দাম বাড়তে পারে এলএনজিরও। সব মিলিয়ে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তারা বলছেন, এমনিতেই বাংলাদেশের অর্থনীতি এক ভঙ্গুর অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। করোনার ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই ধাক্কা লাগে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের। বিদেশি ঋণের ফাঁদ আর মূল্যস্ফীতির চাপে অর্থনীতি রয়েছে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে। অর্থনৈতিক এই টানাপোড়েনের মধ্যেই নতুন সরকার ক্ষমতা নেওয়ার শুরুতেই আবার শুরু হলো মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ। যুদ্ধের স্থায়িত্ব যত বেশি হবে, তার প্রভাব ততই বাড়তে থাকবে।
এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ ও পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ আবু আহমেদ বলেন, ইরানে হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে সবচেয়ে বড় শঙ্কা তৈরি হয়েছে জ্বালানি তেল ঘিরে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় যদি সরবরাহ বিঘ্নিত হয় বা হরমুজ প্রণালি ঝুঁকির মুখে পড়ে, তবে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যাবে। বাংলাদেশ যেহেতু শতভাগ আমদানিনির্ভর, তাই এ মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা সরাসরি এসে পড়বে দেশের উৎপাদন ও পরিবহন খাতে।
এই অর্থনীতিবিদ বলেন, তেলের দাম বাড়া মানেই সবকিছুর দাম বাড়া। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও অসহনীয় হয়ে উঠবে। মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে। সবচেয়ে বড় ঝুঁকিটি তৈরি হবে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে। আমাদের ব্যালেন্স অব পেমেন্ট এমনিতেই আমাদের বিরুদ্ধে আছে। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তেলের দাম বাড়লে এ ঘাটতি আরও বিস্তৃত হবে। তেলের উচ্চমূল্যের কারণে ডলারের চাহিদা বাড়বে, ফলে টাকার ওপর চাপ তৈরি হবে। বিনিময় হার আরও অবনতির দিকে যেতে পারে, যা আমদানি ব্যয় ও ঋণ পরিশোধ—দুটোকেই কঠিন করে তুলবে।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য এই যুদ্ধের প্রভাব সরাসরি এবং বহুমুখী হতে পারে। তবে এ সংকটের প্রভাব কতটা গভীর হবে, তা মূলত নির্ভর করবে যুদ্ধের স্থায়িত্ব এবং এর বিস্তৃতির ওপর। যুদ্ধ দ্রুত থেমে গেলে এর প্রভাব হয়তো খুব প্রকট হবে না। কিন্তু এটি দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশ বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় বেশকিছু পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা যাতে কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সেদিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে ।
নিট পোশাক শিল্পের মালিকের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম গণমাধ্যমকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ তাদের মিত্রদেশের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের সঙ্গে ব্যাংকিং করা জটিল। তা ছাড়া ইরান থেকে আমাদের দেশে ক্রেতারাও সেভাবে আসেনি। সে কারণে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি তৈরি পোশাক কম যায়।
তার মতে, ইরানের সঙ্গে সরাসরি বাণিজ্য কম হলেও বর্তমান যুদ্ধে পরোক্ষ ক্ষতি অনেক বেশি। তিনি বলেন, আমরা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধকল এখনো কাটিয়ে উঠতে পারিনি। এরই মধ্যে আবার নতুন যুদ্ধ। হরমুজ খাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাহাজে পণ্য পরিবহনে খরচ বাড়বে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যেসব জাহাজ যায়, সেগুলো হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে। এখন সেই জাহাজ ভারত মহাসাগর ও আটলান্টিক ঘুরে যেতে হবে।
মোহাম্মদ হাতেম আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে আকাশসীমা বন্ধ থাকায় কার্গো বিমানও চলছে না। তাতে জরুরি পণ্য রপ্তানি ব্যাহত হবে। আবার মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল ও এলএনজি আমদানিও বাধাগ্রস্ত হবে। সব মিলিয়ে আমরা দুশ্চিন্তা রয়েছি। সামনে আরেকটি বড় সংকট দেখতে পারছি আমরা।
বাংলাদেশ গার্মেন্ট প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, আমরা একটি রপ্তানিনির্ভর দেশ; তাই আমাদের অবশ্যই এই যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলা করতে হবে, বিশেষ করে পোশাক রপ্তানিকারকরা। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, যুদ্ধের কারণে ভোক্তাদের সক্ষমতা কমবে, ফলে তারা পোশাকের মতো পণ্যে কম ব্যয় করবেন। দ্বিতীয়ত, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেলে দেশের বাজারে উৎপাদন খরচ বাড়বে, কারণ বাংলাদেশ জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশ। তৃতীয়ত, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য পাঠাতে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের যদি বিকল্প নৌপথ বেছে নিতে হয়, তাহলে সামগ্রিক বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
মাহমুদ হাসান খান বলেন, এর আগে বাংলাদেশি পোশাক ব্যবসায়ীরা ভেবেছিলেন ইউক্রেন যুদ্ধ দুই সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হবে, কিন্তু সেই যুদ্ধ এখন চার বছর ধরে চলমান। এখন যদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ দীর্ঘমেয়াদি হয়; তাহলে কুয়েত, ইরাক, ইরান, বাহরাইন, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য রপ্তানি বাজার মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হতে পারে।
জনশক্তি রপ্তানিকারকের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির (বায়রা) সাবেক সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক মোবারক উল্লাহ শিমুল বলেন, ‘ইরান-ইসরায়েল যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে, সেটা দীর্ঘায়িত হলে অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে। আমাদের শ্রমিকরা নিঃস্ব হয়ে দেশে ফিরে আসবেন। দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে ভাটা পড়বে। এ অবস্থায় সরকারের উচিত প্রথমে প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো হটলাইন চালু করে শ্রমিকদের খবর রাখা ও বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেওয়া। আর আমাদের শ্রমিকদের যাতে ফেরত আসতে না হয় এবং নতুন করে কীভাবে আরও শ্রমিক পাঠানো যায়, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।’
সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক প্রবাসী শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে। এ ছাড়া আকাশপথে ফ্লাইট চলাচল বিঘ্নিত হতে পারে, যা শ্রমিকদের যাতায়াত ও রেমিট্যান্স প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে অত্যন্ত সতর্কতা এবং সাবধানতার সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে।’
জ্বালানি তেল ও এলএনজি: মধ্যপ্রাচ্যই হলো বাংলাদেশের জ্বলানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রধান উৎস। তাই এই যুদ্ধ চলতে থাকলে দেশের জন্য জ্বালানির দাম ও সরবরাহ অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে। দেশে বর্তমানে বছরে জ্বালানি তেল আমদানি করা হয় কমবেশি ৭০ লাখ টন। যার বেশিরভাগই আনা হয় মধ্যপ্রাচ্য বা এশিয়ার দেশগুলো থেকে। এই যুদ্ধে তেল সরবরাহ নিয়ে চিন্তায় আছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি)। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলে পুরো জ্বালানি খাতে নেমে আসবে বিপর্যয়।
বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, আগামী জুন পর্যন্ত পরিশোধিত জ্বালানি তেল নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। আমরা আপাতত সেফ সাইডে রয়েছি। পরিশোধিত জ্বালানি তেল মালয়েশিয়া, চীন, সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়া থেকে আসছে। এসব দেশ থেকে জ্বালানি আমদানিতে হরমুজ প্রণালির কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তবে অপরিশোধিত তেলের দীর্ঘমেয়াদি উৎস সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত হওয়ায় বিষয়টি আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। এটুকু বলা যায় যে, এ মুহূর্তে আমাদের জ্বালানি তেলের রিজার্ভে কোনো সংকট নেই।
বাংলাদেশ কনটেইনার শিপিং অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান হারুন-উর-রশিদ বলেন, বাংলাদেশ আমদানিনির্ভর দেশ হওয়ায় সবসময় ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার শিকার হয়। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ বাংলাদেশের পণ্য পরিবহনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। এ ছাড়া এরই মধ্যে ইয়েমেনের হুতিদের হামলার কারণে লোহিত সাগর দিয়ে পণ্য পরিবহন কমিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। রাশিয়া ও চীন এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে পণ্য পরিবহন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
গণভোটের প্রথম ফলাফলে ভুল থাকায় সম্প্রতি গণভোটের ফলাফল সংশোধন করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে প্রায় ১১ লাখের মতো ভোট কমে যায়।
বিষয়টিকে নির্বাচন কমিশন এর আগে ভুল হিসেবে ব্যাখ্যা দিয়েছে। এবার কোন কোন আসনে গণভোটের ফলাফলের হিসাব ভুলে হয়েছিল, তা জানিয়েছে সংস্থাটি।
ইসি জানায়, নেত্রকোনা-৩, ৪ ও ৫ আসনে ফলাফল প্রস্তুত করার সময় এক্সেল শিটে ভুল ইনপুটের কারণে গণভোটের ফলাফল বেড়ে যায়। এজন্য পরবর্তীতে তা সংশোধন করা হয়।
এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, নেত্রকোনা-৩ আসনে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৫ ভোটের পরিবর্তে ভুল করে ৫ লাখ ২ দুই হাজার ৪৩৮টি ‘হ্যাঁ’ পড়েছে বলে এন্ট্রি করা হয়। আবার ৬০ হাজার ৭৮৭টি ভোটের পরিবর্তে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৫ টি ‘না’ ভোট পড়েছে বলে এন্ট্রি করা হয়।
নেত্রকোনা-৪ আসনে ৮২ হাজার ১২৫টির পরিবর্তে ৪ লাখ ২০ হাজার ৬৮৬টি ‘হ্যা’ ভোট পড়েছে বলে এন্ট্রি করা হয়। আবার ১ লাখ ২ হাজার ১১৩ টির পরিবর্তে ৮২ হাজার ১২৫টি ‘না’ ভোট পড়েছে বলে এন্ট্রি করা হয়।
অন্যদিকে নেত্রকোনা-৫ আসনে ১ লাখ ৬৭১টির পরিবর্তে ভুল করে বার্তাশিটের এক্সেলে ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৩০৮টি ‘হ্যা’ ভোট পড়েছে এন্ট্রি করা হয়। আবার ৪৪ হাজার ৫৭৩ টির পরিবর্তে ১ লাখ ৬৭১টি ‘না’ ভোট পড়েছে বলে তুলে ধরা হয়।
‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ এবং সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবের বিষয়ে জনগণের সম্মতি যাচাইয়ে গত ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। ওই ভোটের ফলাফল যা গত ১৩ ফেব্রুয়ারি গেজেটে প্রকাশিত হয়েছিল।
প্রথম গেজেটের হিসেব অনুযায়ী, ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা ছিল ৪ কোটি ৮২ লাখ ৬৬০টি এবং ‘না’ ভোটের সংখ্যা ছিল ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬টি। ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ ভোট মিলে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩টি। এর মধ্যে বাতিল হয়েছিল ৭৪ লাখ ২২ হাজার ৬৩৭টি। বাতিল ভোট বাদ দিয়ে মোট বৈধ ভোটার সংখ্যা দাঁড়ায় ৭ কোটি ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৬টি।
সংশোধিত গেজেটের হিসেব অনুযায়ী, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা ৪ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার ৯৮০টি এবং ‘না’; ভোটের সংখ্যা দাঁড়াবে ২ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার ২৩১টি। ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ ভোট মিলে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৬৬ লাখ ২১ হাজার ৪০৭টি। এর মধ্যে বাতিল হয়েছে ৭৪ লাখ ৩৫ হাজার ১৯৬টি। বাতিল ভোট বাদ দিয়ে মোট বৈধ ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৯১ লাখ ৮৬ হাজার ২১১টি।
আগের তুলনায় ৯ লাখ ৭৪ হাজার ৬৮০টি ‘হ্যাঁ’ ভোট কমেছে। অন্যদিকে ‘না’ ভোটের সংখ্যা কমেছে ১ লাখ ১১ হাজার ৪৯৫টি। বাতিলকৃত ভোটের সংখ্যা আগের চেয়ে ১২ হাজার ৫৫৯টি বেড়েছে। সার্বিকভাবে মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৬১৬টি কমেছে।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ এ বিষয়ে বলেছেন, ‘তখন করণিক ভুল ছিল, ট্রান্সপজিশনের ছিল। যার কারণে এই ভুল হয়েছে। করণিক ভুলতো হতেই পারে। যেহেতু হাতে করা হয়। যেগুলো এদিক-ওদিক হয়েছে সেগুলো কারেকশন করে পরবর্তীতে যেগুলো মাঠ থেকে দিয়েছে সে অনুযায়ী এগুলো ঠিক করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘মূল যে প্রতিপাদ্য, ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’; তাতে ‘হ্যাঁ’-এর সংখ্যা বেশি। সেটাতে কোনো বিচ্যুতি হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীতে নারীদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিস চালুর নির্দেশ দিয়েছেন। সোমবার (২ মার্চ) সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল ইসলামকে প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশ দিয়েছেন।
এ তথ্য জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী। এসময় তারেক রহমান সড়ক পরিবহনের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে রবিউল ইসলামের কাছ থেকে তথ্য নেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দিয়েছেন।
আতিকুর রহমান রুমন আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী রাজধানীতে নারী বাস সার্ভিস চালুর জন্য মন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, তিনি (তারেক রহমান) গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রীকে শেরেবাংলা নগরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থলের সংস্কার ও উন্নয়ন কাজ ঈদের আগে শেষ করারও নির্দেশনা দিয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্পিচ রাইটার এবং তিন উপ-প্রেসসচিব নিয়োগ দিয়েছে সরকার। সোমবার (২ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পৃথক প্রজ্ঞাপনে তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার করা হয়েছে বার্তা সংস্থা ইউএনবির সম্পাদক এস এ এম মাহফুজুর রহমানকে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এস এ এম মাহফুজুর রহমানকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান/সংগঠনের সাথে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার (গ্রেড-১) পদে যোগদানের তারিখ থেকে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল বা তার সন্তুষ্টি সাপেক্ষে (যেটি আগে ঘটে) চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা হলো।
এদিকে সাংবাদিক মোস্তফা জুলফিকার হাসান (হাসান শিপলু), মো. জাহিদুল ইসলাম ও মো. সুজাউদ্দৌলাকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান/সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেসসচিব পদে গ্রেড-৪ বেতন স্কেলের সর্বশেষ ধাপের বেতনে যোগদানের তারিখ থেকে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল বা তার সন্তুষ্টি সাপেক্ষে (যেটি আগে ঘটে) চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের হামলা, পাল্টা হামলার বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের অবস্থান হচ্ছে খুব সোজা। মধ্যপ্রাচ্যে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে। প্রথম কথা হচ্ছে আমাদের নাগরিক যারা ওই অঞ্চলে আছেন, তাদের স্বার্থ রক্ষা এক নম্বর কথা।
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত নিয়ে সরকারের বিবৃতিতে ইরানে হামলার বিষয়ে নিন্দা না জানানোর প্রেক্ষাপটে ওঠা বিতর্কের মধ্যে সোমবার (২ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ কথা বলেছেন তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা মনে করি না যে, যুদ্ধ বা সংঘাত কোনো সমাধান। আমরা চাই অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে একটা আলোচনার মাধ্যমে, কূটনীতির মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে এই সমস্যাটার সমাধান হোক।
সরকারের ওই বিবৃতিতে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনিকে হত্যার প্রসঙ্গ উল্লেখ না করায় সমালোচনা করেন অনেকে।
সমালোচনার মুখে সোমবার নতুন আরেকটি বিবৃতি দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার ঘটনা জেনে বাংলাদেশ ‘মর্মাহত’।
সেখানে বলা হয়, ‘আন্তর্জাতিক আইন ও রীতি লঙ্ঘন করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে তাকে হত্যার ঘটনা জেনে সরকার মর্মাহত। ইরানের ভ্রাতৃপ্রতীম জনগণের প্রতি আন্তরিক শোক জানাচ্ছে সরকার।’
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, ‘বাংলাদেশ বিশ্বাস করে, সংঘাতের মাধ্যমে কোনো সমাধান আসে না। কেবল সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি আনুগত্যের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি হতে পারে।’
মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত এবং প্রবাসীদের অবস্থা নিয়ে সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হয়েছে। সভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিল ও প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাতসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
এরপর বিকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা প্রথম থেকেই বলে এসেছি যে, এই সংঘাতময় সময়ে আমাদের সবচাইতে বড় অগ্রাধিকার হচ্ছে ওই অঞ্চলে বসবাসরত আমাদের নাগরিকবৃন্দ। আমরা প্রথম প্রেস রিলিজটা দিয়েছিলাম, সেটা আমরা শুরুই করেছিলাম আমাদের নাগরিকদের স্বার্থ সমুন্নত রেখে। আমাদের নাগরিকরা তারা আক্রান্ত হলে, সেটা যেখানে হোক, আমরা তাদের পাশে দাঁড়াব। আমাদের সবচাইতে বড় জাতীয় স্বার্থ হচ্ছে আমাদের জনগণ। আমরা আশা করি যে, এই সংঘাতে আর কোনো বাংলাদেশির প্রাণহানি ঘটবে না, কিংবা আর কেউ আহত হবেন না। কিন্তু সে রকম অবস্থা হলে আমাদের যা যা কর্তব্য, তা সকলে আমরা পালন করব।’
এদিন কুয়েত ও বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা হওয়ার কথা জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তারা সকলে আমাদের নাগরিক, যারা এ সমস্ত দেশে আছেন, তাদের সম্পূর্ণ নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা দেওয়ার ব্যাপারে তাদের পূর্ণ আশ্বাস দিয়েছেন। যে দুজন বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন, তাদের মরদেহ ফেরানোর বিষয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই। আমরা সবসময় নিয়ে আসি। এটা আমাদের পলিসি। কিন্তু এখন তো প্লেন চলাচল করছে না। সুতরাং এই সময়টুকু সেখানে রেখে দিতে হবে এবং সেই নিয়ে আমার সঙ্গে সেই দেশের মন্ত্রীদের সঙ্গে কথা হয়েছে, তারা সমস্ত ব্যবস্থা করছেন।’
বাংলাদেশিদের কেউ ফিরতে চাইলে তাদেরকে দেশে আনার বিষয়ে এক প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, ‘সেটা প্রয়োজন হলে, যা করার তাই করবে সরকার।’
ইরানে হামলা, পাল্টা হামলার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের ‘কয়েকটি দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের’নিন্দা জানিয়ে গত রোববার বিবৃতি দেয় সরকার। ওই বিবৃতিতে সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সাতটি দেশের নাম উল্লেখ করা হলেও সে তালিকায় ইরানকে রাখা হয়নি।
এর মধ্যে গত রোববার পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামের সঙ্গে বৈঠক করেন ঢাকার সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত দূতাবাসের প্রতিনিধিরা।
ওইদিন বিকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ওই অঞ্চলের কয়েকটি দেশের ‘সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের’ নিন্দা জানাচ্ছে বাংলাদেশ; যার মধ্যে রয়েছে, বাহরাইন, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।