শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬
২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩

৩০০ আসনে নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি গঠন

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ২৫ নভেম্বর, ২০২৩ ১০:৩৪

আসন্ন জাতীয় সংসদ সদস্য নির্বাচনের পূর্বে অনিয়ম নিষ্পত্তির জন্য সারাদেশের ৩০০ আসনে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের দিয়ে অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটি গঠন করে আইন মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

আইনমন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারি সচিব সাবিনা ইয়াসমিন স্বাক্ষতির প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনী অপরাধ, নির্বাচনী আচরণ বিধি, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি বা পরিচালনায় বাধাগ্রস্থ বা ব্যাহত করে এমন নির্বাচনপূর্ব অনিয়ম সংক্রান্ত বিষয় সমূহ অনুসন্ধান পূর্বক কমিশনের নিকট প্রতিবেদন দাখিলের লক্ষ্যে বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ৩০০ নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি করা হলো।

প্রজ্ঞাপনে জানা যায়, ৩০০ আসনের প্রতিটি আসনে সেই জেলার সহকারী জজ, সিনিয়র সহকারী জজ, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজদের দায়িত্ব দিয়ে এ অনুসন্ধান কমিটি গঠন করা হয়েছে।


নির্বাচিত

গণঅভ্যুত্থান আকস্মিক ঘটনা নয়, দীর্ঘ ১৭ বছরের সংগ্রামের চূড়ান্ত ফল: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেছেন যে, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো আকস্মিক ঘটনা ছিল না, বরং এটি ছিল দীর্ঘ ১৭ বছরের ধারাবাহিক সংগ্রামের চূড়ান্ত ফল। আজ শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। ‘জুলাই-গণঅভ্যুত্থান ২০২৪-এর দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে ফ্যাসিস্ট সরকার পতনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক এই সভার আয়োজন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয়তাবাদী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল ও ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)।

আন্দোলনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থান কোনো নিউটনের আপেল ছিল না। এটাকে আমাদের পাকাতে হয়েছে, এটা কখনো অটোমেটিক ছিঁড়ে পড়েনি।’ তিনি রাজনৈতিক পরিপক্কতার গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘কেউ যদি মনে করে, মাত্র ৩৬ দিনের আন্দোলনের ভেতরে ১৭ বছরের ধারাবাহিক আন্দোলনের কিছুই নেই, তাহলে এটাও রাজনৈতিক অপরিপক্কতা।’

সালাহউদ্দিন আহমদ উদীয়মান রাজনৈতিক শক্তিগুলোর প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন, নতুন বন্ধুরা নতুন বন্দোবস্ত ও রাজনীতির কথা বললেও অনেক ক্ষেত্রে তারা পুরোনো ধারাতেই পরিচালিত হচ্ছেন। রাজনীতির পথকে কণ্টকাকীর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘চেতনা বিক্রির রাজনীতি বাংলাদেশে আর হবে না।’ একইসঙ্গে আন্দোলনের কৃতিত্ব নিয়ে দল গঠনের চেষ্টা সফল হবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের কৃতিত্ব কেউ ছিনিয়ে নিয়ে সেটিকে ভিত্তি করে রাজনৈতিক দল গঠন করতে চাইলে সেই রাজনীতি সফল হবে না।’

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সমালোচনা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একাত্তরের চেতনা বিক্রির রাজনীতি শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছে। শেখ হাসিনা প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, শেখ হাসিনা ‘চেতনার রাজনীতি করতে করতে’ দিল্লিতে গিয়ে বসে আছেন। তিনি সতর্ক করে দেন যে, ভবিষ্যতে এমন কোনো রাজনৈতিক চর্চা করা যাবে না যাতে ফ্যাসিবাদের প্রত্যাবর্তনের পথ সহজ হয়।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম জানান, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০৪ জন শিক্ষক সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে দেশে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন, যাদের বর্তমানে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। উপাচার্য বলেন, ‘এটা কোনো প্রতিহিংসা নয়। কিন্তু অন্যায়কারীকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।’ তিনি আরও যোগ করেন যে, কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রদ্রোহিতার সঙ্গে যুক্ত থাকলে তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তাঁদের ভূমিকা, গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং দেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কাঠামো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।


নির্বাচিত

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান প্রতিকূলতা মোকাবিলায় সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি উল্লেখ করেন, বিগত সময়ের হঠকারী ও ত্রুটিপূর্ণ সিদ্ধান্তের কারণেই বর্তমানে এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আজ শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক চিকিৎসক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগের অপরিকল্পিত সিদ্ধান্তের কারণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সংকট তৈরি হয়েছে। বর্তমান সরকার দেশ ও দেশের মানুষকে এই সংকট থেকে রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।’ সংকটের নেপথ্যে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিয়ে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্র, রাজনীতি ও প্রশাসনে ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগীরা বসে নেই। এই চক্র কৌশলে দেশের জ্বালানি বা বিদ্যুৎ খাতকে অস্থিতিশীল করতে বেশ সক্রিয় রয়েছে। তারা বিভিন্নভাবে সেই চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ খাত নিয়ে তারা নানা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়াচ্ছে।’

সরকার বর্তমান বাস্তবতাকে আড়াল করছে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার অস্বীকার করেনি যে বর্তমানে দেশের মানুষ বিদ্যুৎ, গ্যাস ও জ্বালানি সংকটে রয়েছে। কিন্তু কোনো প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ সুবিধা দিতে পূর্বে যে অপরিকল্পিত উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল, তার খেসারত এখন দেশ, দেশের মানুষ ও সরকারকে দিতে হচ্ছে।’ তিনি আরও জানান, একটি ভঙ্গুর অবস্থা থেকে দেশকে টেনে তোলার কাজ শুরু হয়েছে এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে মানুষ ধীরে ধীরে এই কষ্ট থেকে মুক্তি পাবে।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে নিম ও অর্জুন গাছের চারা রোপণ করেন। এরপর জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে সমাবেশের উদ্বোধন করা হয়। পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত ও মোনাজাতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ।

স্বাস্থ্যখাতের দর্শন তুলে ধরতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী টমাস আলভা এডিসনের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘ভবিষ্যতের চিকিৎসকরা কোনো ওষুধ দেবেন না। বরং তারা রোগীদের শরীরচর্চা, সুষম খাদ্য এবং রোগ প্রতিরোধের কারণ ও উপায় সম্পর্কে সচেতন করবেন।’ এই দর্শনের সঙ্গে বর্তমান সরকারের মিল রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার ‘প্রিভেনশন ইজ বেটার দ্যান কিউর’ নীতিতে বিশ্বাস করে। এর অর্থ হলো ‘প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম’। মানে কোনো রোগ হওয়ার পরে তার সমাধান বা চিকিৎসা খোঁজার চেয়ে, তা যেন না হতে পারে সেই বিষয়ে আগে থেকেই সতর্ক থাকা দরকার।’

দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নাগরিকদের সচেতন করতে চিকিৎসকদেরই এই বিশাল কর্মীবাহিনীকে নেতৃত্ব দিতে হবে। পেশাজীবীদের রাজনীতিতে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে তিনি তাঁর নিজস্ব ভাবনা বিনিময় করে বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেহেতু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রায় সকল কাজকেই প্রভাবিত করে, তাই শিক্ষার্থী, শিক্ষক কিংবা পেশাজীবী সবাই যার যার মতাদর্শ অনুসারে রাজনৈতিকভাবে সুসংগঠিত থাকা বা রাজনৈতিকভাবে সচেতন থাকা অযৌক্তিক নয়।’ তবে তিনি সতর্ক করে দেন যে, ‘অতিমাত্রায় রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যেন নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন ঘটার কারণ না হয়ে দাঁড়ায় সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকা জরুরি। প্রথাগত রাজনীতির বাইরে এসে রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি।’

চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে পেশাগত মানোন্নয়ন ও নিরাপত্তার স্বার্থে বেশ কিছু প্রস্তাবনা দেওয়া হয়, যার মধ্যে রয়েছে বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ, চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ থেকে ৩৪ এবং অবসরের বয়স ৬৫ বছরে উন্নীত করা। এছাড়া স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষা আইন প্রণয়ন এবং ঢাকার বাইরে বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী এসব দাবিকে যৌক্তিক অভিহিত করে বলেন, ‘আপনাদের এসব প্রস্তাবনা অযৌক্তিক নয়। ইতোমধ্যেই শিশু হাসপাতালসহ ঢাকার বাইরে বেশ কিছু বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। অন্যান্য প্রস্তাবগুলোও ইতিবাচকভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে পর্যায়ক্রমে বিবেচনা করা হবে।’

দেশের অর্থনীতি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার নাজুক পরিস্থিতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তারেক রহমান বলেন, স্বাস্থ্য খাতে অভাবনীয় পরিবর্তন আনতে প্রথমবারের মতো দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং আগামী পাঁচ বছরে তা জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। পাশাপাশি ই-হেলথ কার্ড প্রবর্তন এবং উপজেলা হাসপাতালগুলোকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার কাজ চলছে। চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে তিনি আহ্বান জানান, ‘আসুন, আমরা সকলে মিলে এমন একটি চিকিৎসাবান্ধব বাংলাদেশ গড়ে তুলি, যেখানে দেশের প্রতিটি মানুষ মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাবে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদেরকে বিদেশমুখী হতে হবে না।’

সমাবেশে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ও ড্যাবের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা চিকিৎসকেরাউপস্থিতছিলেন।


নির্বাচিত

প্রধানমন্ত্রী কাছ থেকে চাকরির নিয়োগপত্র পেলেন জুলাইয়ের শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যরা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রাণ হারানো শহীদ ও গুরুতর জখম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের ১০ জন সদস্যের হাতে কর্মসংস্থানের নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এক বিশেষ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই নিয়োগপত্রগুলো হস্তান্তর করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

নিয়োগপত্র প্রাপ্তদের তালিকায় রয়েছেন শহীদ মো. সোহাগের স্ত্রী সাবিনা আক্তার রিমা, শহীদ মো. শাহরিয়ারের স্ত্রী রাজিয়া খাতুন, শহীদ মো. আব্দুল্লাহ কবিরের স্ত্রী আফসানা আক্তার, শহীদ মো. মোস্তফা কামাল রাজুর স্ত্রী আকলিমা আক্তার, শহীদ মো. জুয়েলের স্ত্রী সুমাইয়া আক্তার সুবর্ণা, শহীদ মিরাজের বোন সামিয়া ইসলাম পপি, শহীদ আহসান কবিরের স্ত্রী হাফিজা আক্তার হ্যাপি এবং শহীদ ওমর নুরুল আবছারের স্ত্রী ফারজানা আক্তার রাণী। এছাড়া গুরুতর আহত মো. আব্দুল মতিনের স্ত্রী সাবানা আক্তার এবং গুরুতর আহত মো. জুলফিকার আলমের স্ত্রী মোছা. আরজু আক্তারকেও নিয়োগপত্র প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শহীদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে কুশল বিনিময় করেন এবং তাদের বর্তমান অবস্থার বিস্তারিত খোঁজখবর নেন।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন পর্যন্ত সকল বীরত্বগাথার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘এসব আত্মত্যাগের মূল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ছিল একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে দেশের মানুষ আরও ভালোভাবে বসবাস করতে পারবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যাঁদের আমরা হারিয়েছি, যাঁরা শারীরিকভাবে আহত হয়েছেন কিংবা অন্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, তাঁদের সবার আত্মত্যাগের পেছনে একটি আকাঙ্ক্ষা ছিল, সেটি হলো বাংলাদেশকে আরও ভালো করা।’

রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী মন্তব্য করেন, ‘সীমাবদ্ধতার মধ্যেও দেশকে বাস্তবতার নিরিখে এগিয়ে নিতে হবে। আমরা কী পেলাম, সেটিই সবচেয়ে বড় কথা নয়। বরং আমরা দেশকে কী দিতে পারলাম, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ। এই লক্ষ্য সামনে রেখে ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে পারলে আগামী দিনে আমরা যে বাংলাদেশ চাই, সেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।’ জুলাই আন্দোলনে যারা আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের সঠিক মূল্যায়নের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে ইতিপূর্বে চাকুরিতে যোগদানকারী শহীদ আব্দুল্লাহ বীন জাহিদের মাতা ফাতেমা তুজ জোহরা ও আহত জুলাই যোদ্ধা সোহেলি তামান্নাও উপস্থিত হয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। নিয়োগপত্র পেয়ে শহীদ ও আহত পরিবারের সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

বিদ্যুৎ-জ্বালানি নিয়ে সু-কৌশলে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে একটি চক্র: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিগত সময়ের অপরিকল্পিত কর্মকাণ্ড এবং বিশেষ কোনো গোষ্ঠীকে অন্যায্য সুবিধা দেওয়ার কারণেই বর্তমান জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার সকালে জাতীয় সংসদের এলডি হলে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক চিকিৎসক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। সমকালীন রাজনীতির গতিপ্রকৃতি ও সংস্কারের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘প্রথাগত রাজনীতির বাইরে এসে রাজনীতির গুণগত পরিবর্তন খুব সম্ভবত প্রতিটি সেক্টরে সামগ্রিকভাবে সমগ্র বাংলাদেশে এখন খুব স্ট্রং ডিমান্ড, এটা আমরা সকলেই সেটা অনুভব করতে পারি। বিশেষ করে ৫ আগস্টের পর থেকে।’ একইসঙ্গে পেশাজীবীদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও দায়িত্ববোধ নিয়ে তিনি মন্তব্য করেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যেহেতু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত প্রায় সব কাজকেই প্রভাবিত করে, সেহেতু শিক্ষার্থী, শিক্ষক কিংবা পেশাজীবী—সবাই যার যার মতাদর্শ অনুযায়ী সচেতনভাবে সুসংগঠিত থাকবেন। এটা কোনো অযৌক্তিক বিষয় নয়। তবে— এই তবেটাই হচ্ছে ইম্পর্টেন্ট বিষয়। তবে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যেন নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বিঘ্ন ঘটায় বা বিঘ্ন ঘটার কারণ না হয়, সেটি হচ্ছে মোস্ট ইম্পর্টেন্ট।’

স্বাস্থ্য খাতের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী আশার বাণী শুনিয়েছেন। তিনি জানান যে, বর্তমান প্রশাসন এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং ই-হেলথ কার্ড চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘জনগণের দোরগোড়ায় চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকার এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ করতে যাচ্ছে। যতদ্রুত সম্ভব ই-হেলথ কার্ডের কাজ শুরু হবে। উপজেলা হাসপাতালগুলো ১০১ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সরকার ভঙ্গুর অবস্থা থেকে দেশকে সচল করতে চেষ্টা করছে ।’ বর্তমান সরকার যে পরিস্থিতিতে দেশের দায়িত্ব নিয়েছে তার বর্ণনা দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান সরকার যখন দায়িত্বভার গ্রহণ করেছে, আমরা একটি ধ্বংসস্তূপ পেয়েছি বলা যায়। আমরা পেয়েছি এক দুর্বল অর্থনীতি, বিভাজিত প্রশাসন, ভঙ্গুর শিক্ষা বা ভঙ্গুর স্বাস্থ্য ব্যবস্থা। সেই অবস্থা থেকে সরকার চেষ্টা করছে সমগ্র দেশকে সফলভাবে ঘুরে যাতে দাঁড় করাতে পারে।’

বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটের জন্য দায়ী অসাধু চক্রের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ভঙ্গুর অবস্থা থেকে দেশকে সচল করতে চেষ্টা করছে বর্তমান সরকার। একটি চক্র অত্যন্ত সু-কৌশলে জ্বালানি এবং বিদ্যুৎ সেক্টরকে অস্থিতিশীল করতে সক্রিয়। নানাভাবে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিচ্ছে।’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘এমন পরিস্থিতিতেও রাষ্ট্র, রাজনীতি, শাসন-প্রশাসনে ফ্যাসিবাদের সুবিধাভোগীরা কিন্তু বসে নেই। সাম্প্রতিক সময়ে একটি চক্র খুব সুকৌশলে জ্বালানি কিংবা বিদ্যুৎ সেক্টরকে অস্থিতিশীল করার জন্য সক্রিয়। তারা বিভিন্নভাবে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর বক্তব্য উপস্থাপন করছে।’ জনগণের ভোগান্তির কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘সরকার কিন্তু একবারও অস্বীকার করেনি যে বহু মানুষ এই মুহূর্তে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংক্রান্ত বিষয়ে অনেক কষ্ট ভোগ করছে। আমরা জানি এটি, তবে আমি মাত্রই উল্লেখ করেছি, আমরা সামগ্রিকভাবে একটি ভঙ্গুর অবস্থা বা ব্যবস্থা আমরা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছি।’ পরিশেষে বিগত আমলের অব্যবস্থাপনার খেসারত নিয়ে তিনি বলেন, ‘গ্যাস বা জ্বালানি বা পেট্রোল, সামগ্রিকভাবে জ্বালানি খাতে যেই অপরিকল্পিতভাবে প্ল্যান-প্রোগ্রামগুলো গ্রহণ করা হয়েছিল অথবা বিগত দিনগুলোতে কোনো নির্দিষ্ট মহলকে সুবিধা পাইয়ে দেয়ার জন্য যেসব নীতি গ্রহণ করা হয়েছিল, তার খেসারত সমগ্র দেশ, দেশের মানুষ এবং বর্তমান সরকারকে বহন করতে হচ্ছে।’


নির্বাচিত

সরকারের কাজে গাফিলতি হলে প্রধানমন্ত্রী কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন: রিজভী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি কার্যক্রমে যেকোনো ধরনের শৈথিল্যের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তার রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শনিবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ক্র্যাব মিলনায়তনে আয়োজিত ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পাঁচমাসের উন্নয়ন যাত্রা’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। রিজভী জানান, প্রশাসনের আমলাতন্ত্র হোক কিংবা রাজনৈতিক ব্যক্তি—দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। তিনি বলেন, “সরকারের কাজে কোনো ধরনের গাফিলতি হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছেন। আমলাতন্ত্রের কেউ হোক কিংবা রাজনৈতিক ব্যক্তি—দায়িত্ব পালনে অবহেলা করলে প্রধানমন্ত্রী শক্ত হাতে ব্যবস্থা নিচ্ছেন।”

বইয়ের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোকপাত করে রিজভী বলেন যে, জ্ঞান অর্জনের মাধ্যম ছাড়া মনের ও বিশ্বজগতের অন্ধকার দূর করা সম্ভব নয়। তার মতে, বই হচ্ছে মনের জগতের পাসপোর্টের মতো, যা মানুষের সভ্যতার অগ্রগতির পথে প্রদীপের ভূমিকা পালন করে। বর্তমান সরকারের গত পাঁচ মাসের সাফল্য ও উন্নয়ন কার্যক্রম নিয়ে প্রকাশিত এই গ্রন্থটি আগামীর বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হয়ে থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী মাঠ পর্যায়ে ঘুরে ঘুরে নিজের চোখে প্রকল্পের অগ্রগতি দেখছেন এবং যারা নিরলস কাজ করছেন তাদের নিয়মিত অনুপ্রাণিত করছেন।

সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে বিএনপির এই মুখপাত্র জানান, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং খাল খননের মতো কার্যক্রমের পাশাপাশি শীঘ্রই হেলথ কার্ড চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়াও গ্যাস সংকট মোকাবিলায় নেওয়া পদক্ষেপগুলো সাধারণ মানুষের উপকারে আসছে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে দিন-রাত পরিশ্রম করছেন এবং হাটে-ঘাটে-বন্দরে গিয়ে জনগণের খোঁজ নিচ্ছেন।

অনুষ্ঠানে রিজভী আরও মন্তব্য করেন যে, যারা বর্তমানে সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং ভালো কাজগুলোতে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে, এই বইয়ের তথ্য ও পরিসংখ্যান তাদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দেবে। মানুষের হাতে যখন সঠিক তথ্য থাকবে, তখন তারা মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক কথা সহজে বিশ্বাস করবে না। সংগঠনের উপদেষ্টা রোটারিয়ান নাজমুল হাসানের সভাপতিত্বে এই আলোচনা সভায় সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা এবং ছাত্রদলের সহ-সভাপতি তৌহিদ আউয়ালসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

চিকিৎসকদের পেশাগত দায়িত্বে রাজনীতি যেন বাধা না হয়: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী চিকিৎসকদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা বা পরিচয় যেন তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে ও চিকিৎসাসেবায় কোনো ধরনের ব্যাঘাত না ঘটায়, সে বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেছেন। শনিবার দুপুর ১২টার দিকে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সময় তিনি চিকিৎসকদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে বলেন, “রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা যেন পেশাদারিত্বে ব্যাঘাত সৃষ্টি না করে, সেদিকে খেয়াল রাখবেন। সেবার মানসিকতা না থাকলে চিকিৎসার মান উন্নয়ন সম্ভব নয়।”

সমাবেশের সূচনা লগ্নে জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণে একটি নিম গাছের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী। তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও একই স্থানে একটি চারা রোপণ করেন। এরপর জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের মূল কার্যক্রম শুরু হয়। শান্তির প্রতীক হিসেবে দুটি পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যান প্রধানমন্ত্রী। এই আয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ এবং মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিলসহ সংগঠনের ঊর্ধ্বতন নেতৃবৃন্দ।


নির্বাচিত

চিকিৎসক সমাবেশের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

চিকিৎসক সমাবেশের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী | ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এর ৩৭ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চিকিৎসক সমাবেশের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ শনিবার সকালে জাতীয় সংসদের এলডি হলে আয়োজিত চিকিৎসক সমাবেশের উদ্বোধন করেন তিনি।

এর আগে জাতীয় সংসদ প্রাঙ্গণে প্রধানমন্ত্রী একটি নিম গাছের চারা রোপণ করেন। এ সময় তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও একটি গাছের চারা রোপণ করেন। এরপর জাতীয় সঙ্গীত শেষে দলীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচি শুরু করেন প্রধানমন্ত্রী। চিকিৎসক সমাবেশ শুরুর আগে তাঁরা শান্তির দুটি পায়রা উড়িয়ে দেন।

এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ, মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

ড্যাবের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ চিকিৎসক সমাবেশে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় জাতীয় সংসদের এলডি হলে অনুষ্ঠিত এই আয়োজনে তিনি উপস্থিত হন।

সংগঠনের গৌরবময় পথচলার ৩৭ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই সমাবেশের আয়োজন করা হয়। ড্যাবের এই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানও সমাবেশে অংশ নেন। এছাড়া চিকিৎসক সমাজের এই গুরুত্বপূর্ণ আয়োজনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ড্যাব সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদ ও মহাসচিব ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিলসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।


নির্বাচিত

রপ্তানি বাণিজ্যে বড় ধস, সমাধানের খোঁজে ঢাকা-মস্কো

* মধ্যপ্রাচ্য উত্তাপ ও বিপিসির আকস্মিক তারল্য সংকট * বাস্তবমুখী অর্থনৈতিক নীতি বজায় রাখাই কৌশল
ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

বিশ্ব অর্থনীতি যখন ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, অনাকাঙ্ক্ষিত যুদ্ধবিগ্রহ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থার টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে এক জটিল মোড় নিচ্ছে, ঠিক তখনই বাংলাদেশ দাঁড়িয়ে আছে এক নতুন ভূ-অর্থনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি। ইউক্রেন সংঘাতকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার ওপর আরোপিত মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার পরোক্ষ চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।

আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং চ্যানেল ও লেনদেন ব্যবস্থা স্থবির হয়ে পড়ায় গত চার বছরে রাশিয়ায় বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি অর্ধেকেরও বেশি কমে গেছে।

শুধু বাণিজ্যই নয়, চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে প্রবাসী আয় (রেমিট্যান্স) প্রবাহ, দেশের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিপুল অঙ্কের ঋণ পরিশোধের প্রক্রিয়া, এবং বিশ্ববাজারে পণ্যমূল্য বৃদ্ধির ফলে অভ্যন্তরীণ জ্বালানি খাত ও সার্বিক সামষ্টিক অর্থনীতি।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০২১-২২ অর্থবছরে রাশিয়ায় বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ছিল ৬৩৮ মিলিয়ন ডলার। তবে আন্তর্জাতিক লেনদেন ব্যবস্থা ‘সুইফট’ (SWIFT) থেকে রাশিয়ার প্রধান ব্যাংকগুলোকে বিচ্ছিন্ন করায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা নাটকীয়ভাবে কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র ২৫৭ মিলিয়ন ডলারে।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) তথ্য অনুযায়ী, পেমেন্ট জটিলতায় অন্তত ৪.৬ মিলিয়ন ডলারেরও বেশি বকেয়া অর্থ আটকে আছে এবং হাতছাড়া হয়েছে ১০ মিলিয়ন ডলারের একটি বড় রপ্তানি আদেশ। অন্যদিকে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাশিয়া থেকে গম ও সার আমদানি বাড়াতে হওয়ায় একই সময়ে আমদানি ব্যয় ৪৭৪ মিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ১.৫৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। এছাড়া রাশিয়ায় কর্মরত প্রায় ১০ হাজার বৈধ কর্মী ব্যাংকিং নিষেধাজ্ঞার কারণে রেমিট্যান্স পাঠাতে পারছেন না, ফলে ঝুলে গেছে নতুন এক লাখ কর্মী নিয়োগের সম্ভাবনাও।

সংকট কাটাতে ওয়াশিংটনের কাছে আর্থিক লেনদেনে বিশেষ ছাড় বা শিথিলতা চেয়েছিল ঢাকা, তবে এতে মেলেনি কোনো সুফল। এই পরিস্থিতিতে রাশিয়ার সঙ্গে থমকে যাওয়া অর্থনীতি ও বাণিজ্য সচল রাখতে বিকল্প পেমেন্ট ব্যবস্থার দিকে গুরুত্বের সাথে হাঁটছে দু’দেশ।

রূপপুর প্রকল্পের ঋণ জট খোলা: ১২.৬৫ বিলিয়ন ডলারের রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্পে ১১.৩৮ বিলিয়ন ডলার অর্থায়ন করেছে রাশিয়া। চুক্তি অনুযায়ী এ ঋণ ডলারে পরিশোধের কথা থাকলেও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞায় ব্যাংক ব্যবস্থা অচল হওয়ায় ঋণ পরিশোধ আটকে গেছে। পূর্বে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করা হলেও, পরবর্তীতে সমপরিমাণ অর্থ পাঠাতে না পেরে বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি ‘এসক্রো (Escrow) অ্যাকাউন্টে’ জমা রাখা হয়েছে। রাশিয়া রুবলে অর্থ পরিশোধের প্রস্তাব দিয়েছে এবং সম্প্রতি ভারতীয় রুপিতে ঋণ নিষ্পত্তির প্রাথমিক আলোচনাও শুরু হয়েছে।

ঢাকায় আসছে এসবার ব্যাংক: চীনা ইউয়ান বা থাইল্যান্ডের ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরের কূটনৈতিক ও আর্থিক চেষ্টা মার্কিন সতর্কবার্তার মুখে কাজ করেনি। ফলে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে ঢাকায় রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত এসবার ব্যাংকের (Sberbank) একটি শাখা খোলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে দু’দেশ। বর্তমানে ভারতে এসবার ব্যাংক নিজস্ব মুদ্রা (রুপি-রুবল) ব্যবহার করে রাশিয়া-ভারতের বাণিজ্য স্বাভাবিক রেখেছে। ঢাকায়ও এই মডেল চালু করা গেলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও অর্থ লেনদেন পুনরায় স্বাভাবিক হতে পারে বলে মনে করছেন নীতি নির্ধারকরা।

মধ্যপ্রাচ্য উত্তাপ ও বিপিসির আকস্মিক তারল্য সংকট: আন্তর্জাতিক অঙ্গনের এই উত্তাপের সরাসরি ধাক্কা এসে পড়েছে দেশের জ্বালানি খাতের ওপর। এক দশকে বিপুল নিট মুনাফা করা সত্ত্বেও দেশের একমাত্র রাষ্ট্রীয় জ্বালানি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের সংঘাত শুরুর পর থেকে ভয়াবহ নগদ অর্থ সংকটে পড়েছে। হরমুজ প্রণালীর অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ও জাহাজভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছে।

অভ্যন্তরীণ বাজারে সেই অনুপাতে মূল্য সমন্বয় না হওয়ায় বিশেষ করে ডিজেল বিক্রিতে লিটারপ্রতি বড় লোকসান গুনছে প্রতিষ্ঠানটি। উদ্ভূত সংকট সামাল দিতে বিপিসি তাদের ইস্টার্ন রিফাইনারির দ্বিতীয় ইউনিটের মতো মেগা প্রকল্পের জন্য সংরক্ষিত নিজস্ব তহবিল ও স্থায়ী আমানত (FDR) ভাঙতে বাধ্য হচ্ছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার নিশ্চয়তা দিলেও, সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বিপিসির প্রকৃত তারল্য ঘাটতি পরিমাপ করতে একটি স্বাধীন ও আন্তর্জাতিক মানের অর্থনৈতিক নিরীক্ষার তাগিদ দিয়েছেন।

সামষ্টিক অর্থনীতির অর্জন ও মুদ্রানীতির দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ: বৈশ্বিক প্রতিকূলতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও দেশের অর্থনৈতিক সংস্কার ও প্রবাসীদের পাঠানো আয় (রেমিট্যান্স) বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ একাধিক ক্ষেত্রে সাফল্য স্পর্শ করেছে। আন্তর্জাতিক লেনদেনের চলতি হিসাব ঘাটতি থেকে উদ্বৃত্তের দিকে গেছে এবং মোট দেশজ উৎপাদন ও গড় মাথাপিছু আয় নতুন মাইলফলক অতিক্রম করেছে।

তবে সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের জীবনযাত্রায় বড় এক উদ্বেগ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে অনিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতি। বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ ও ঋণপ্রবাহ বাড়াতে বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সুদহার কিছুটা কমালেও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন—শুধু সুদের হার পরিবর্তন করে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। কারণ এখানে সরবরাহ শৃঙ্খলের দুর্বলতা, বাজার সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য, মুদ্রার অবমূল্যায়ন এবং পরিবহন খাতের চাঁদাবাজির মতো গভীর কাঠামোগত সমস্যা রয়েছে। তাছাড়া সরকার ব্যাংক খাত থেকে রেকর্ড ঋণ গ্রহণ করায় ‘ক্রাউডিং আউট’ প্রভাব তৈরি হচ্ছে, যার ফলে বেসরকারি খাত কাঙ্ক্ষিত ঋণ পাচ্ছে না।

সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন এ প্রসঙ্গে বলেছেন, বর্তমানে ভূ-রাজনীতি সরাসরি বিশ্ব বাণিজ্যকে প্রভাবিত করছে। জ্বালানির উচ্চমূল্য, পণ্য আমদানিতে বাধা এবং আর্থিক বিধিনিষেধের কারণে অপরাধ না করেও বাংলাদেশকে বড় মাশুল গুনতে হচ্ছে।

আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক সিনিয়র ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান বলেছেন, ইউক্রেন যুদ্ধে নিরপেক্ষ অবস্থান বজায় রাখা সত্ত্বেও বাংলাদেশ আজ কঠিন উভয় সংকটে। বৈশ্বিক আর্থিক ও কূটনৈতিক চাপ সামলাতে ওয়াশিংটনের সাথে সুসম্পর্ক অক্ষুণ্ণ রেখে নমনীয় ও বাস্তবমুখী অর্থনৈতিক নীতি বজায় রাখাই ঢাকার জন্য সবচেয়ে দূরদর্শী কৌশল।

বাংলাদেশের অর্থনীতিকে ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে হলে সামষ্টিক নীতিতে বড় সংস্কার প্রয়োজন। কেবল সংকোচনমূলক বা উদার মুদ্রানীতি দিয়ে সংকটের সমাধান হবে না; প্রয়োজন রাজনৈতিক স্থায়িত্ব, বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ এবং বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনা। বিশেষজ্ঞদের মতে, জ্বালানি খাতে স্বয়ংক্রিয় মূল্য সমন্বয় চালু, বাণিজ্যিক পেমেন্ট চ্যানেল বহুমুখী করা, বন্ড ও পুঁজিবাজারের বিকাশ ঘটানো এবং বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রগুলোর সাথে ভূ-রাজনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখাই হবে বাংলাদেশের টেকসই উত্তরণের দীর্ঘমেয়াদি পথ।


নির্বাচিত

মুক্তিযুদ্ধ জনতার ছিলো, কোনো রাজনৈতিক দলের নয়: ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধ কোনো রাজনৈতিক দলের যুদ্ধ ছিল না, এটি ছিল জনতার যুদ্ধ। শুক্রবার (৭ আগস্ট) রাতে রাজধানীর কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে দ্বিতীয় বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার কোর্সের ৫৪তম কমিশনিং ডে ও ফেলোশিপ ডে উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘৭১ সালের পর ক্ষমতাসীনরা মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানাতে চায়নি। তৎকালীন রাজনৈতিক নেতারা মুক্তিযুদ্ধকে রাজনৈতিকভাবে সমাধান করতে চেয়েছিলেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাজনৈতিকদের অনেক কিছু শেখার আছে। জাতি আবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে।’ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে উল্লেখ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘দেশে যেন আর কোনো স্বৈরশাসক সৃষ্টি না হয়।’

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, ‘সরকার ভুল করলে সংশোধন করবেন।’ তবুও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ধ্বংস না করার আহ্বান জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি।


নির্বাচিত

মন্ত্রীদের বেতন হওয়া উচিত ১০ লাখ, এমপিদের ৫ লাখ টাকা: প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দুর্নীতি কমানো এবং জনপ্রতিনিধিদের দায়িত্ব পালনে আর্থিক সক্ষমতা নিশ্চিত করতে সংসদ সদস্যদের মাসিক বেতন ৫ লাখ টাকা এবং মন্ত্রীদের বেতন ১০ লাখ টাকা করার প্রস্তাব দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী এবং গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ প্রস্তাব দেন।

নুরুল হক নুর বলেন, বর্তমানে একজন সংসদ সদস্যের মূল বেতন প্রায় ৫৫ হাজার টাকা এবং বিভিন্ন ভাতাসহ মোট প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার টাকা পান। মন্ত্রীদের বেতনও এর কাছাকাছি। কিন্তু নির্বাচনী এলাকায় চিকিৎসা, শিক্ষা, খেলাধুলাসহ নানা সামাজিক কর্মকাণ্ডে আর্থিক সহায়তা দিতে গিয়ে জনপ্রতিনিধিদের অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়তে হয়। বাস্তবতার তুলনায় বর্তমান বেতন কাঠামো অপ্রতুল বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, যেসব জনপ্রতিনিধির ব্যক্তিগত সম্পদ নেই, তাদের জন্য এই বেতনে দায়িত্ব পালন কঠিন হয়ে পড়ে। এর ফলে অনৈতিক উপায়ে অর্থ উপার্জন বা দুর্নীতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই দুর্নীতি প্রতিরোধে বাস্তবসম্মত ও সম্মানজনক বেতন-ভাতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, যেসব জনপ্রতিনিধি জনগণের সঙ্গে নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত থাকেন, তাদের নিয়মিত নির্বাচনী এলাকায় যেতে হয়। কিন্তু অনেক এলাকায় সড়কের অবস্থা ভালো নয়। ছোট গাড়িতে চলাচল করলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। আবার ব্যক্তিগতভাবে একটি প্রাডো বা এ ধরনের নিরাপদ গাড়ি কেনার সামর্থ্য অনেক সংসদ সদস্যের নেই।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, একজন এমপি যতদিন দায়িত্বে থাকবেন, ততদিন সরকারের পক্ষ থেকে একটি গাড়ি ব্যবহার করবেন। মেয়াদ শেষে গাড়িটি পরিবহন পুলে ফেরত দেবেন। সচিবসহ অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তাদের মতো এমপিদের জন্যও এ ধরনের সুবিধা থাকা উচিত।

এ প্রসঙ্গে সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ার উদাহরণ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশ দুটিতে সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় সুশাসন প্রতিষ্ঠা সহজ হয়েছে।

সরকারের সাম্প্রতিক পদক্ষেপের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সংসদ সদস্যদের করমুক্ত গাড়ি আমদানি ও প্লট বরাদ্দের মতো কিছু সুবিধা ইতোমধ্যে বাতিল করা হয়েছে। তবে দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে প্রতিটি সংসদ সদস্যকে একটি করে সরকারি গাড়ি বরাদ্দ দেওয়া যেতে পারে, যা পাঁচ বছর মেয়াদ শেষে সরকারি পরিবহন পুলে ফেরত দিতে হবে।

অনুষ্ঠানে নতুন পে-স্কেল প্রসঙ্গেও কথা বলেন নুরুল হক নুর। তিনি সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ঘোষিত নতুন পে-স্কেল দ্রুত বাস্তবায়নের আশা প্রকাশ করেন।

জনসেবার মানোন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ সরকারি দপ্তরে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তির শিকার হন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিকতা ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় ছাড়াই সেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব।

প্রবাসীদের জন্য সরকারের নতুন উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রবাসীদের হয়রানি কমাতে সরকার শিগগিরই ‘প্রবাসী কার্ড’ চালু করবে। এ কার্ডধারীরা বিভিন্ন সরকারি সেবা গ্রহণে বিশেষ অগ্রাধিকার পাবেন।


নির্বাচিত

ইতালির বিমানবন্দরে আটকা ঢাকাগামী বিমান, ভোগান্তিতে আড়াই শতাধিক যাত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে ইতালির রোম বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের টরন্টো-ঢাকাগামী একটি উড়োজাহাজ দীর্ঘ সাত ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আটকে রয়েছে। এর ফলে বিজি-৩০৬ ফ্লাইটের প্রায় ২৬০ জন যাত্রী উড়োজাহাজের ভেতরে আটকা পড়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ২০ মিনিটের দিকে নির্ধারিত জ্বালানি নেওয়ার জন্য বিমানটি রোমে অবতরণ করার পর এই কারিগরি বিভ্রাট দেখা দেয়।

যাত্রীদের সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) কানাডার টরন্টো থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়া ফ্লাইটটি ইতালিতে নামার পর কর্তৃপক্ষ জানায় যে বিমানটিতে প্রযুক্তিগত সমস্যা রয়েছে এবং তা মেরামতের প্রয়োজন। তবে দীর্ঘ সময় পার হলেও বিমানটি ঠিক কখন পুনরায় ঢাকার উদ্দেশে রওনা হতে পারবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেনি কর্তৃপক্ষ।

দীর্ঘক্ষণ উড়োজাহাজের ভেতরে আটকে থাকায় এবং টার্মিনালে নামতে না দেওয়ায় গরম ও অস্বস্তিকর পরিবেশে শিশু ও বয়স্কসহ অনেক যাত্রী অসুস্থ বোধ করছেন বলে জানা গেছে।

ভোগান্তিতে থাকা যাত্রীরা দ্রুত এই সমস্যার সমাধানকল্পে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

তবে উড়োজাহাজের কারিগরি ত্রুটির সুনির্দিষ্ট কারণ ও সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে বক্তব্য জানতে বিমানে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো কর্মকর্তার সাড়া মেলেনি। এমনকি সংস্থাটির মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলামকে ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।


নির্বাচিত

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন: ৩৪৯ এমপির ভোটার তালিকা, গাজী নজরুলও পাচ্ছে ভোটে অংশ নেওয়ার সুযোগ

ফাইল ছবি
আপডেটেড ৭ আগস্ট, ২০২৬ ২০:৩৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ২০ আগস্ট অনুষ্ঠেয় ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য মোট ৩৪৯ জন সংসদ সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাতে চূড়ান্ত ভোটার তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

স্পিকারের সাথে আলোচনার পর নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ আনুষ্ঠানিকভাবে এই নির্বাচনের তফসিল ও ভোটার তালিকার তথ্য নিশ্চিত করেন।

ভোটার তালিকায় সাধারণ আসনের ২৯৯ জন এবং সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০ জন সংসদ সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে আইনি জটিলতায় ঋণখেলাপির কারণে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে প্রার্থিতা বাতিল হওয়া চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরীকে ভোটার তালিকা থেকে বাদ রাখা হয়েছে।

নৈতিক স্খলনের অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে নিয়ে বিতর্ক থাকলেও তিনি ভোটার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, জামায়াতে ইসলামী তাকে দল থেকে বহিষ্কার করে তার পদ বাতিলের আর্জি স্পিকারের কাছে জানালেও তা এখনও নিষ্পত্তি হয়নি। আইন অনুযায়ী স্পিকার কর্তৃক আসন শূন্য ঘোষিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি পদাধিকার বলে সংসদ সদস্য বহাল রয়েছেন এবং ভোট দেওয়ার পূর্ণ অধিকার রাখেন।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ঘোষিত তফসিল:

মনোনয়নপত্র দাখিল ১৩ আগস্ট (সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত)

মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ১৬ আগস্ট (সকাল ১০টা থেকে)

প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়, ১৮ আগস্ট (বিকেল ৪টা পর্যন্ত)

ভোটগ্রহণ (প্রয়োজন সাপেক্ষে) ২০ আগস্ট (দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত (জাতীয় সংসদ অধিবেশন কক্ষে) ।

উল্লেখ্য, গত ২৪ জুলাই শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। একক প্রার্থী থাকলে তিনি বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন; অন্যথায় সংসদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।


নির্বাচিত

banner close