তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘আমরা চাই বিএনপি টেররিস্ট (সন্ত্রাসী) কর্মকাণ্ড থেকে বেরিয়ে আসুক, সুস্থ রাজনীতির পথে হাঁটুক, নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক।’
মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) প্রকাশিত ‘ফিচার সংকলন-এসডিজি ও উন্নয়নমূলক’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। পিআইবির মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদ এবং কর্মকর্তারা মোড়ক উন্মোচনে অংশ নেন।
নির্বাচন কমিশন চায় বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিক- এ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘আমরাও চাই বিএনপি ধ্বংসাত্মক অপরাজনীতি, মানুষ পোড়ানো, মানুষের সম্পত্তি, গাড়ি পোড়ানোর রাজনীতি, চোরাগোপ্তা হামলা যেগুলো টেররিস্ট অরগানাইজেশন করে, এই টেররিস্ট কর্মকাণ্ড থেকে বেরিয়ে আসুক, নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্য আমি শুনেছি। আমি মনে করি তিনি যথার্থ বলেছেন। আশা করি, বিএনপির শুভবুদ্ধির উদয় হবে।’
বিএনপি নির্বাচনের আগে সরকার পতনের ঘোষণা দিয়েছে- এ বিষয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এমন বহু ঘোষণা আগেও শুনেছি এবং যতবার ঘোষণা দেয় ততবার তারা পালিয়ে যায় বা হারিয়ে যায়। যেমন ২৮ অক্টোবর এবং এর আগে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর ঘোষণা দিয়েছিল। খালেদা জিয়া সমাবেশে যোগ দেবেন, সেটাও বলেছিল। এ সমস্ত ঘোষণা আসলে তাদেরকে হাস্যকর করেছে। তারা এ সমস্ত ঘোষণা দিয়ে জনমনে আতঙ্ক তৈরি করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে দেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। প্রকৃত অর্থে বিএনপি এখন তাদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে টেররিস্ট অরগানাইজেশনে রূপান্তরিত হয়েছে, তাদের লিডাররাও টেররিস্ট লিডারে পরিণত হয়েছে। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে দিনক্ষণ বলে অমুক তারিখে ফেলে দেয়ার কথা বলা এটাই তো টেররিস্ট ঘোষণা।’
এর আগে বইয়ের মোড়ক উন্মোচনকালে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের উন্নয়নের জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা খুবই প্রয়োজন। এটি ছাড়া কোনো দেশ উন্নত হতে পারেনি। আমরা সিঙ্গাপুরের উদাহরণ দিই, সেখানে স্বাধীনতার পর থেকে একই দল রাষ্ট্র ক্ষমতায়। মালয়েশিয়ায় একনাগাড়ে ২২ বছর যদি মাহাথির মোহাম্মদ দেশ পরিচালনার দায়িত্বে না থাকতেন, তাহলে মালয়েশিয়া সে রকম উন্নত হতে পারত না।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে গত ১৫ বছর ধরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকলেও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ছিল সেটি আমরা বলতে পারি না। যেভাবে ২০১৩-১৪-১৫ সালে এবং সময়ে সময়ে জ্বালাও-পোড়াও করা হয়েছে এবং হচ্ছে, এগুলো দেশের এবং রাজনীতির স্থিতিশীলতা সবকিছুই বিনষ্ট করছে। এ দেশে ধ্বংসাত্মক রাজনীতি এবং সবকিছুতে না বলার নেতিবাচক রাজনীতি দেশের উন্নয়নের জন্য প্রচণ্ড অন্তরায়। ভারতে বহুধাবিভক্ত রাজনীতি এবং কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে অহি-নকুল সম্পর্ক। কিন্তু দেশের প্রয়োজনে তারা এক টেবিলে বসে এবং সরকারকে সমর্থন জানায়।’
হরতাল-অবরোধ নিয়ে প্রশ্নে মন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ‘নিজেদের স্বার্থের জন্য মানুষ, গাড়ি-ঘোড়া পোড়ানো কেন? সাধারণ মানুষ তো কোনো দোষ করেনি। আর দিনের পর দিন অবরোধ ডেকে যেভাবে বাচ্চাদের স্কুলে যাওয়ার ক্ষেত্রে, মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হচ্ছে, তারপরও মানুষ কিছুই মানছে না। অবরোধের মধ্যে ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় ট্রাফিক জ্যাম হচ্ছে এবং দূরপাল্লার গাড়িও চলছে। এ সমস্ত কর্মসূচি কেউ মানছে না, তাদেরকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বলছে, তোমাদের কীসের অবরোধ আমরা মানি না। এরপরও বিএনপির লজ্জা হয় না। আসলে যাদের লজ্জা হারিয়ে গেছে তাদের লজ্জা লাগার কোনো কারণ নেই। বিএনপির লজ্জাও হারিয়ে গেছে।’
শীতের শেষে বসন্তের আগমনে বাংলার প্রকৃতিতে গাছে গাছে শোভা ছড়াচ্ছে সজনে ফুল। ডালে ডালে থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা এই ফুল গ্রামীণ প্রকৃতির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার পাশাপাশি এর পুষ্টিগুণও অপরিসীম। এই ফুলগুলো জীবননগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের পথে-প্রান্তরে এক মনোরম দৃশ্য তৈরি করেছে এবং প্রকৃতিতে ভিন্ন রঙ ছড়িয়ে দিচ্ছে।শুধু প্রকৃতিতে ভিন্ন রঙ ছড়িয়ে দিচ্ছেনা, বরং উচ্চ পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ এবং ভেষজ গুণসম্পন্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভিদ, যা স্থানীয়ভাবে সুস্বাদু সবজি হিসেবেও ব্যাপক জনপ্রিয় ।
জীবননগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের আনাচে-কানাচে, রাস্তার পাশে এবং বসতবাড়ির আঙিনায় সজনে গাছে সাদা ও হলুদাভ ফুলে ছেয়ে গেছে, যা প্রকৃতির এক অপরূপ সৌন্দর্য তৈরি করেছে। সজনে গাছ সম্পূর্ন বিনা পরিচর্চায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়, বিভিন্ন বাড়িতে, পরিত্যক্ত জায়গায়, অনাবাদি জায়গায় সজনে গাছ রয়েছে। এছাড়া কিছু এলাকায় সজনে ফুলের সৌন্দর্যে প্রকৃতি রঙিন হয়ে উঠেছে। সজনে ফুলের নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ স্থানীয় বাসিন্দারাও। অনেকেই সকাল-বিকেল হাঁটার সময় বা সড়কে যাতায়াতের সময় সজনে ফুল দেখে থমকে দাঁড়িয়ে উপভোগ করছেন চোখজুড়ানো এই প্রাকৃতিক শোভা। গাছের নিচে পড়ে থাকা ঝরা ফুল কুড়িয়ে নিচ্ছেন শিশু-কিশোররা।
জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃর্ষিবিদ মো আলমগীর হোসেন বলেন, সজনে একটি ঔষধি গাছ। এর বৈজ্ঞানিক নাম মরিঙ্গা ওলিফেরা। এটি মরিঙ্গাসিয়া পরিবারের মরিঙ্গা গণের একটি গাছ। এটি খরা সহিষ্ণু ও গ্রীষ্মপ্রধান অঞ্চলের একটি উদ্ভিদ। মাঝারি আকারের এই গাছে থোকায় থোকায় ফুল ফোটে। সজনের কাঁচা লম্বা ফল সবজি হিসেবে খাওয়া হয় এবং এর পাতা শাক হিসেবে খাওয়া হয়। এটি ডাল ও বীজের মাধ্যমে বংশবিস্তার করলেও আমাদের দেশে সাধারণত ডালের মাধ্যমে বা অঙ্গজ প্রজননের মাধ্যমে এটির বংশবিস্তার করানো হয়।
সজনে ফুলেরও ঔষধি গুণাগুণ রয়েছে। সজনে ফুলে আছে এমন ওষুধি গুণ যা ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা রাখে। এছাড়াও এই ফুলে আছে ভরপুর পুষ্টিগুণ যা নানা রোগ প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এর ফল শরীরে প্রোটিনের জোগান দেয়। এই গাছের বিভিন্ন অংশে আছে ভিটামিন এ, বি১, বি২, বি৩, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, ম্যাগনেশিয়ামের মতো উপকারী উপাদান।
কৃষিবিদ কামাল উদ্দিন মোল্লা বলেন, প্রকৃতিতে ফোটা এই সজনে ফুলের সৌন্দর্যের পাশাপাশি এ গাছ একটি উপকারী ভেষজ। সজনের ডাটা পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ গাছ। সজনের ডাটার বাজারে যেমন চাহিদা থাকে আবর দাম ও ভালো। এর পাতা, ফল ও ফুল স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এটি খুব পরিচিত একটি গাছ।
গাজীপুরের শ্রীপুরে দখল ও দূষণে অস্তিত্ব সংকটে পড়া চৌক্কার খাল পরিদর্শন করলেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী অ্যানি। মন্ত্রী বলেন, ‘খাল খনন একটি বিপ্লব, একটি আন্দোলন আরও এই বিপ্লবী কর্মসূচি দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তিনি নিজে চৌক্কার খালে এসে স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে কোদাল হাতে খননকাজ শুরু করেছিলেন এবং মানুষকে একত্র করেছিলেন।’
মন্ত্রী আরও বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের পরিকল্পনায় ছিল—খালের দুই পাড়ে গাছ থাকবে, খালে পানি ও মাছের উৎপাদন বাড়বে, সেই পানি দিয়ে পাশের জমিতে সেচ দেওয়া যাবে এবং কৃষি উৎপাদন দ্বিগুণ হবে। পাশাপাশি জলাবদ্ধতা দূর হবে, রোগবালাই কমবে এবং মাছ ও কৃষিপণ্যের বাজার স্থিতিশীল থাকবে। এসব দূরদর্শী চিন্তা থেকেই তিনি খাল খনন কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। শুধু চৌক্কার খাল নয়, সারাদেশে হাজার হাজার কিলোমিটার খাল খনন করা হয়েছিল তার উদ্যোগে।
শিল্পায়ন কর্তৃক আগ্রাসনের দখলের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘বিভিন্ন শিল্পকারখানা তো ভেঙে দেওয়া যাবে না। বন্ধ করে দেওয়া যাবে না। তবে পরিকল্পিত শিল্পকলকারখানা এবং পরিকল্পিতভাবে যেন বর্জ্যগুলো দূর হয় এবং সেখানে বর্জ্যগুলো দূর হতে যাওয়ার মাধ্যমে একটা নতুন প্রকল্প গ্রহণ করা। বর্জ্য নিষ্কাশনের বিষয়টি আমাদের পরিকল্পনার মধ্যে আছে। সে দায়িত্বটুকু নিয়ে আমরা আলোচনা করছি। এবং নতুনভাবে আমরা আজকে যে কাজে আসলাম সেটি হলো খাল পুনঃখনন। এই চৌক্কার খাল এই খালের দুপাশে অনেকগুলো ইন্ডাস্ট্রি আছে, সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি আছে। সবকিছু মিলিয়ে এখানে যেনে পানিপ্রবাহ ঠিক থাকে। এ জন্য সাধারণ মানুষ যেন উপকারভোগী হয়। সে উপকারটা পায়, সুবিধাটা পায় সে জন্য আমরা চৌক্কার খাল পুনঃখননের প্রস্তুতি নিয়েছি। খনন করার জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ইনশাআল্লাহ এই কাজটা দ্রুত সময়ের মধ্যে হবে। শ্রীপুরের দুটি খাল অগ্রাধিকার পেয়েছে বলে আমরা এখানে উপস্থিত হয়েছি। আপনাদের এখানে শ্রীপুরে দুটি খাল অগ্রাধিকার পেয়েছি। সারাদেশে এক হাজার না এক হাজার কিলোমিটারের চেয়ে বেড়ে যাবে। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমরা সরকার গঠনের পর, দায়িত্ব নেওয়ার পর দৃশ্যমান কিছু কাজ শুরু করেছি। ইতোমধ্যে দেশবাসী অবহিত। চোখের সামনে সবকিছু দৃশ্যমান। এবং বাস্তবে কাজগুলো এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। আমাদের লক্ষ্য সাধারণ মানুষকে পাশে নিয়ে এই দেশটাকে সামনে এগিয়ে নেওয়া।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘দেখুন আগে নির্বাচিত সরকার ছিল না বলে এমন তদবির ছিল। আমরা আমাদের পরিকল্পনা আইন অনুযায়ী সব করব। নির্বাচিত সরকারের কাজ হলো জনগণের পাশে থেকে এই কাজগুলো বাস্তবায়ন করা। এখানে দীর্ঘদিন অবহেলা বঞ্চনায় ছিলেন। এখন নতুন করে আমরা দায়িত্ব নিয়েছি। এখানে পরিকল্পনা অনুযায়ী নদী আইন খাল খনন অনুযায়ী খনন কাজ সম্পন্ন করা হবে। গতিপথ অনুযায়ী খাল খনন করা হবে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, পানিসম্পদ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, গাজীপুর-৩ আসনের সাংসদ অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বাচ্চু, গাজীপুর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ইশরাক আহমেদ সিদ্দিকী, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মোতালেব, সদস্য সচিব খাইরুল কবির মণ্ডল আজাদ, যুগ্ম আহ্বায়ক মোসলেম উদ্দিন মৃধা, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির সরকার, সদস্য সচিব মো. বিল্লাল হোসেন বেপারী, শ্রীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহফুল হাসান হান্নান প্রমুখ।
সামনেই ইলিশের ভরা মৌসুম। আষাঢ়-শ্রাবণের জোয়ারে রুপালি ইলিশে ভরে ওঠার কথা পায়রা নদী। ভরা মৌসুমেও পায়রা নদীতে কাঙ্ক্ষিত রুপালি ইলিশের দেখা মেলে না। সাগর মোহনায় সৃষ্টি হওয়া ডুবোচরে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে ইলিশ উল্টো পথে ফিরে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন জেলেরা। পাশাপাশি তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের গরম পানি ও বর্জ্য নদীতে ফেলার কারণেও ইলিশের প্রবেশ ও প্রজনন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ইলিশ গবেষক ড. মো. আনিছুর রহমান।
পায়রা নদীতে জেলেদের জালে ইলিশ ধরা না পড়ায় উপকূলের ১৪ হাজার ৬৮৯ জন জেলে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। সাগর মোহনার ডুবোচর খনন করে পায়রা নদীতে ইলিশের প্রবেশ ও প্রজনন কার্যক্রম স্বাভাবিক করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
জানা গেছে, বুড়িশ্বর বা পায়রা নদী বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের বরিশাল, পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ নদী। নদীটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৯০ কিলোমিটার, গড় প্রস্থ ১২০০ মিটার এবং এটি সর্পিলাকার। বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার কলসকাটি ইউনিয়নের পাণ্ডব নদী থেকে এর উৎপত্তি। পরে এ নদীর জলধারা বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। উজানের তুলনায় ভাটির দিক বেশি প্রশস্ত। অন্যদিকে বিষখালী ও বলেশ্বর নদীও বঙ্গোপসাগরে মিলিত হয়েছে। তিন নদীর মিলনস্থলকে জেলেরা ‘গাঙ্গের আইল’ নামে চেনেন। বিষখালী-বলেশ্বর মোহনায় রয়েছে লালদিয়া সমুদ্র সৈকত এবং পায়রা-বিষখালীর মোহনায় পদ্মাবাবুগঞ্জ চর। তিন নদীর মোহনায় গড়ে ওঠা এসব চর স্বাভাবিক জোয়ারের পানি প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করছে। ফলে নদীর গভীরতা দিন দিন কমে যাচ্ছে।
পায়রা-বিষখালী মোহনায় বড়াইয়ার ডুবোচর ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ফকিরহাট থেকে আশার চর পর্যন্ত বিস্তৃত। এ চর বঙ্গোপসাগর থেকে পায়রা নদীতে জোয়ারের পানি প্রবেশে বাধা সৃষ্টি করে। আশার চরের শেষ সীমানা থেকে শুরু হয়েছে নলবুনিয়ার ডুবোচর, যার বিস্তৃতি প্রায় ৭ থেকে ৮ কিলোমিটার। এটি পায়রা নদীর প্রবেশমুখে অবস্থিত। প্রবেশমুখ অতিক্রম করে ৩ থেকে ৪ কিলোমিটার ভেতরে পদ্মা ও কুমিরমারা ডুবোচর রয়েছে, যার বিস্তৃতি প্রায় ৬ থেকে ৭ কিলোমিটার। ভাটার সময় এসব চরে মানুষ হাঁটাচলা করে এবং জেলেরা খুঁটি গেড়ে জাল ফেলে। জোয়ারের সময় এখানে তীব্র স্রোত ও ঢেউ সৃষ্টি হয়। ডুবোচরের কারণে সাগর থেকে জোয়ারের পানির সঙ্গে ইলিশের স্বাভাবিক প্রবেশ ব্যাহত হচ্ছে। এ ছাড়া ২০১৯ সালে তালতলীর জয়ালভাঙ্গা এলাকায় বঙ্গোপসাগর-সংলগ্ন স্থানে আইসোটেক তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়। ২০২২ সালে কেন্দ্রটি উৎপাদনে যায়। এরপর থেকে কেন্দ্রের গরম পানি ও বর্জ্য পায়রা নদীতে ফেলা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব কারণে পায়রা নদীতে ইলিশ প্রবেশে বড় ধরনের বাধা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে অন্য নদীর তুলনায় এখানে ইলিশ কম পাওয়া যাচ্ছে।
উপকূলীয় আমতলী ও তালতলীতে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১৪ হাজার ৬৮৯ জন। এর মধ্যে আমতলীতে ৬ হাজার ৭৮৯ এবং তালতলীতে ৭ হাজার ৯০০ জন জেলে রয়েছেন। অধিকাংশই দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করেন। সারা বছর মাছ শিকার করেই তাদের সংসার চলে। মাছ ধরা পড়লে ভালোভাবে জীবনযাপন সম্ভব হয়, আর মাছ না পেলে উনুনে হাঁড়ি ওঠে না বলে জানান জেলে ছত্তার।
গভীর সাগর, উপকূল-সংলগ্ন এলাকা এবং শাখা-প্রশাখা নদীতে তিন ধরনের জেলে মাছ শিকার করেন। ইলিশের ভরা মৌসুম আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র ও আশ্বিন- এই চার মাসে জেলেরা সারা বছরের আয় নিশ্চিত করেন। কিন্তু মৌসুমের এক মাস পেরিয়ে গেলেও পায়রা নদীতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ ধরা পড়ছে না। দু-একটি মাছ জালে ওঠলেও তা দিয়ে সংসার চলে না বলে জানিয়েছেন জেলেরা।
তাদের দাবি, সাগর মোহনার ডুবোচরই ইলিশ প্রবেশের প্রধান অন্তরায়। ডুবোচরের কারণে ইলিশ উল্টো পথে ফিরে যাচ্ছে। ফলে পায়রা নদীতে ইলিশশিকারি জেলেদের জালে মাছ ওঠছে না।
২০০৭ সালের প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় সিডরের পর নদীর গতিপথ পরিবর্তিত হয়ে তীব্র ডুবোচরের সৃষ্টি হয়। ফলে জোয়ারের প্রথম ভাগে পায়রা নদীতে পানি প্রবেশের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হয়। অথচ ওই সময়ই ইলিশ নদীতে প্রবেশের উপযুক্ত সময়। ডুবোচরে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে ইলিশ সাগরে ফিরে যায়। জোয়ারের মধ্যভাগে স্রোত বাড়লেও তখন ইলিশের প্রবেশ কমে যায়।
নলবুনিয়া গ্রামের জেলে আলমগীর হাওলাদার বলেন, ‘ডুবোচর খনন করে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ফিরিয়ে না আনলে পায়রা নদীতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ পাওয়া যাবে না। জেলেদের রক্ষায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’
জেলে ছত্তার, লাল মিয়া ও জাহিদ মোল্লা জানান, জোয়ারের প্রথম ভাগে স্রোত কম থাকায় ইলিশ প্রবেশ করতে পারে না। মধ্যভাগে স্রোত বাড়লে কিছু মাছ জালে ধরা পড়ে। তাই পায়রা নদীতে ইলিশ কম পাওয়া যায়।
বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন বলেন, ‘ডুবোচরের কারণে পায়রা নদীর নাব্যতা কমেছে। এতে জোয়ারের স্রোতের তীব্রতা হ্রাস পাওয়ায় ইলিশ প্রবেশে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। ডুবোচর খনন করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনতে পারলে ইলিশ প্রবেশ ও প্রজননে বাধা থাকবে না।’
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট নদীকেন্দ্র, চাঁদপুরের অবসরপ্রাপ্ত মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ইলিশ গবেষক ড. মো. আনিছুর রহমান বলেন, ‘সাগর মোহনায় নাব্যতা সংকট ও ডুবোচরের কারণে ইলিশের চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। ইলিশ চলাচলের জন্য গভীর পানির প্রয়োজন। গভীরতা না থাকায় ইলিশ নদীতে প্রবেশ করতে পারছে না। পাশাপাশি তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের গরম পানি ও বর্জ্যও এ সমস্যার জন্য দায়ী।’
বরগুনা-২ (বেতাগী-বামনা-পাথরঘাটা) আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম মনিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নিযুক্ত করা হয়েছে।
আজ সোমবার রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, The Bangladesh (Whips) Order, ১৯৭২ (P.O. 64 of 1972) এর Article 3(1) এর বিধান অনুযায়ী মহামান্য রাষ্ট্রপতি নিম্নবর্ণিত সংসদ-সদস্যকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চীফ হইপ নিযুক্ত করিলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্পিচ রাইটার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন দেশের অন্যতম শীর্ষ বার্তা সংস্থা ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশের (ইউএনবি) সম্পাদক এস এ এম মাহফুজুর রহমান। সোমবার (২ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গ্রেড-১ মর্যাদায় তিনি প্রধানমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ এই দায়িত্ব পালন করবেন।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এস এ এম মাহফুজুর রহমানকে অন্য যে কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে সকল কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে এই চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। তাঁর যোগদানের তারিখ থেকে প্রধানমন্ত্রীর বর্তমান মেয়াদকাল অথবা প্রধানমন্ত্রীর সন্তুষ্টি সাপেক্ষে (যেটি আগে ঘটে) এই নিয়োগ কার্যকর থাকবে। এই নিয়োগের অন্যান্য শর্তাবলী একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে এবং জনস্বার্থে এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
পেশাদার সাংবাদিক হিসেবে এস এ এম মাহফুজুর রহমানের দীর্ঘ তিন দশকেরও বেশি সময়ের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার রয়েছে। তিনি প্রায় ১০ বছর ধরে ইউএনবির সম্পাদক হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর ইউএনবিতেই সহ-সম্পাদক হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু হয়েছিল। অভিজ্ঞ এই সংবাদকর্মী জাতীয় প্রেস ক্লাবের একজন সম্মানিত সদস্য। তাঁর এই নিয়োগ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের যোগাযোগ ও বক্তৃতা তৈরির প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল ও মানসম্মত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
নরসিংদীতে ধর্ষণের বিচার চাওয়ায় বাবার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে কিশোরীকে বর্বরোচিতভাবে হত্যার ঘটনায় এজাহারভুক্ত আরও এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাব। রবিবার (১ মার্চ) রাতে সদর উপজেলার পাঁচদোনা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ নিয়ে চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডের মামলায় এখন পর্যন্ত মোট আটজন আসামিকে আইনের আওতায় আনা হলো। সোমবার (২ মার্চ) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন র্যাব-১১-এর নরসিংদী ক্যাম্প কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দীপক চন্দ্র মজুমদার। গ্রেফতারকৃত আসামির নাম ইছাহাক ওরফে ইছা (৪০), যিনি নরসিংদী সদর উপজেলার মাধবদী এলাকার বাসিন্দা। র্যাব কর্মকর্তা জানান যে, তাকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মাধবদী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে মাধবদী এলাকার একটি সরিষা ক্ষেত থেকে ওই কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই রাতে নিহতের পরিবার বাদী হয়ে নয়জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও ২-৩ জনকে আসামি করে মাধবদী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। এ পর্যন্ত গ্রেফতারকৃত আট আসামি হলেন নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরা, এবাদুল্লাহ, হযরত আলী, মো. গাফফার, আহাম্মদ আলী দেওয়ান, ইমরান দেওয়ান, মো. আইয়ুব এবং সর্বশেষ গ্রেফতার হওয়া ইছাহাক ওরফে ইছা। মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে বর্তমানে কেবল আবু তাহের পলাতক রয়েছেন, যাকে ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে।
এর আগে রবিবার (১ মার্চ) এই মামলার প্রধান আসামি নূর মোহাম্মদ নূরাসহ গ্রেফতারকৃত সাতজনের আট দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (২য়) মেহেদী হাসানের আদালত। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মাধবদী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ওমর কাইয়ুম জানান, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন ও বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালত এই রিমান্ড আদেশ দিয়েছেন। নিহত কিশোরীর বাবা একজন টেক্সটাইল কারখানার শ্রমিক এবং তারা সদর উপজেলার মহিষাশুড়া ইউনিয়নের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে মাধবদীর দড়িকান্দি এলাকায় একটি সরিষা ক্ষেত থেকে পুলিশ কিশোরীর লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছিল।
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সোমবার (২ মার্চ) দুপুরে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন।
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত এই সাক্ষাতে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা এবং উন্নয়নমূলক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো প্রসারের লক্ষ্যে এই আলোচনাটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে।
রাজধানীর মতিঝিলে রুমমেট মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহকে নৃশংসভাবে হত্যার পর মরদেহ সাত টুকরো করার অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃত আসামি শাহিন আলমের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। সোমবার (২ মার্চ) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকির হোসাইন এই আদেশ প্রদান করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মতিঝিল থানার উপপরিদর্শক মো. শাহরিন হোসেন জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করলে রাষ্ট্রপক্ষের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো. মাকসুদুর রহমান একে একটি পরিকল্পিত ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে সর্বোচ্চ রিমান্ডের দাবি জানান। শুনানি শেষে আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন, যদিও এ সময় আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।
আদালতে তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ডের যৌক্তিকতা তুলে ধরে জানান যে, ভুক্তভোগী ওবায়দুল্লাহ একটি কোম্পানিতে এবং আসামি শাহিন একটি হোটেলে কাজ করতেন এবং তাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের অভ্যন্তরীণ মনমালিন্য ছিল। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ওবায়দুল্লাহ যখন ওয়াশরুমে কাপড় ধুচ্ছিলেন, তখন আগে থেকে সংগ্রহ করে রাখা ধারালো চাপাতি দিয়ে তাকে কুপিয়ে হত্যা করেন শাহিন এবং পরবর্তীতে দেহটি সাতটি খণ্ডে বিভক্ত করেন। মরদেহের কিছু অংশ তুরাগ নদী থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বাকি অংশগুলো এখনো নিখোঁজ রয়েছে। এই দেহাংশগুলো উদ্ধার এবং হত্যাকাণ্ডে অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা নিশ্চিত হতেই আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
শুনানি চলাকালে আদালত হত্যাকাণ্ডের কারণ জানতে চাইলে আসামি শাহিন দাবি করেন যে, তার মা অসুস্থ এবং ওবায়দুল্লাহর কাছে তিনি কিছু টাকা পাওনা ছিলেন। এছাড়া ওবায়দুল্লাহর আচরণ ও বিভিন্ন বিষয়ে ঝামেলার কারণে তিনি এই কাজ করেছেন বলে জানান, তবে হত্যার কোনো পূর্বপরিকল্পনা ছিল না বলে তিনি আদালতে দাবি করেন। উল্লেখ্য যে, গত সাড়ে চার মাস ধরে ঢাকায় বসবাস করা শাহিনের বিরুদ্ধে এই মর্মান্তিক ঘটনায় নিহত ওবায়দুল্লাহর বাবা হামিদ মিঞা বাদী হয়ে গতকাল রবিবার (১ মার্চ) মতিঝিল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশ দ্রুততম সময়ের মধ্যে অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত শাহিনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় দুই বাংলাদেশি নাগরিক নিহত এবং সাতজন আহত হওয়ার ঘটনায় বাংলাদেশ সরকার গভীর শোক প্রকাশ করেছে। সোমবার (২ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই শোকবার্তা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে সরকার গভীরভাবে মর্মাহত এবং পরিস্থিতির ওপর নিবিড় পর্যবেক্ষণ রাখছে।
নিহতদের মধ্যে সিলেটের বড়লেখার বাসিন্দা সালেহ আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের আজমানে একটি বেসামরিক স্থাপনায় বিমান হামলার সময় ধ্বংসস্তূপের আঘাতে মৃত্যুবরণ করেন। বর্তমানে সেখানে বাংলাদেশ দূতাবাস স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে এবং বাণিজ্যিক ফ্লাইট চালু হওয়া মাত্রই তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। এছাড়া বাহরাইনে আরও একজন বাংলাদেশি নাগরিক নিহত ও তিনজন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যাদের বিষয়ে মানামায় অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে।
অন্যদিকে কুয়েতে বেসামরিক বিমানবন্দরের আশেপাশে ড্রোন হামলায় চারজন বাংলাদেশি নাগরিক আহত হয়েছেন। তারা হলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের আমিনুল ইসলাম, পাবনার সাথিয়ার রবিউল ইসলাম, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের মাসুদুর রহমান এবং কুমিল্লার চান্দিনার দুলাল মিয়া। কুয়েতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ব্যক্তিগতভাবে হাসপাতালে গিয়ে তাদের খোঁজ নিয়েছেন এবং বর্তমানে তাদের অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে আটকে পড়া বাংলাদেশ নৌপরিবহন করপোরেশনের জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’র ক্রুদের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং তারা বর্তমানে নিরাপদ রয়েছেন।
মধ্যপ্রাচ্যে বর্তমানে ছয় লাখেরও বেশি বাংলাদেশি অবস্থান করছেন যাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ক্রমবর্ধমান এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের অত্যন্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে প্রবাসীদের নিজ নিজ দেশের সরকারের জারি করা নিরাপত্তা নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলার জন্য দূতাবাসের মাধ্যমে বিশেষ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।
জুলাই জাতীয় সনদের প্রতি সম্মান জানিয়ে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার পদের জন্য প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব দিয়েছে সরকার। সোমবার দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ একটি রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতে এটি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সেই ঐকমত্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং সমঝোতার বাস্তবায়ন শুরু করতেই সরকারের পক্ষ থেকে এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে জামায়াতে ইসলামীকে মৌখিকভাবে এবং সরাসরি সাক্ষাতের মাধ্যমে এই প্রস্তাবটি দেওয়া হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো, যেদিন জাতীয় সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হবেন, সেদিনই যেন বিরোধী দল থেকে একজন ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হতে পারেন। সালাহউদ্দিন আহমদ স্পষ্ট করেন যে, যদিও বর্তমান আইন ও সংসদীয় রীতি অনুযায়ী সরকারি দল চাইলে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার—উভয় পদই নিজেদের কাছে রাখতে পারে, কিন্তু জুলাই সনদের অঙ্গীকার অনুযায়ী ডেপুটি স্পিকার পদটি বিরোধী দলকে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এটিকে সরকারের পক্ষ থেকে একটি বড় ‘গুড উইল’ বা সদিচ্ছার নিদর্শন হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।
বৈঠক শেষে উচ্চকক্ষ বা আপার হাউস গঠনের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে আলাপ-আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে। তবে সমঝোতার রাজনীতির অংশ হিসেবে ডেপুটি স্পিকার পদটি এখনই অফার করার সুযোগ রয়েছে এবং সরকার সেই পথেই হাঁটছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ দেশের সংসদীয় গণতন্ত্রে একটি নতুন ধারার সূচনা করতে পারে, যা ভবিষ্যতে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় এবং দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকার এই সমঝোতার দলিল পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর বলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন।
ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে বিদ্যমান ভিসা সংক্রান্ত জটিলতা কাটিয়ে কার্যক্রম দ্রুত স্বাভাবিক করার আশ্বাস দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা। সোমবার (২ মার্চ) নবনিযুক্ত বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি এই ইতিবাচক বার্তার কথা জানান। প্রণয় ভার্মা বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে অত্যন্ত গভীর বাণিজ্যিক সম্পর্ক রয়েছে এবং এই সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যেতে নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে ভারত প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে এই বৈঠকে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের পাশাপাশি বর্ডার হাট ও বন্ধ থাকা স্থলবন্দরগুলো পুনরায় চালু করার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির সাংবাদিকদের জানান, ভারতীয় হাইকমিশনার মূলত নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানাতে এসেছিলেন। দুই দেশের বাণিজ্যিক স্বার্থে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর ও বর্ডার হাট বর্তমানে বন্ধ রয়েছে, যা খুব শীঘ্রই পুনরায় সচল করার বিষয়ে একমত হয়েছেন উভয় পক্ষ। এর ফলে দুই দেশের সীমান্ত এলাকায় অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে এদিনের বৈঠকে ভারতীয় অর্থায়নে পরিচালিত বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের ভবিষ্যৎ বা নতুন কোনো অর্থায়ন নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলে স্পষ্ট করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। মূলত বাণিজ্যিক বাধাগুলো দূর করা এবং দুই দেশের মানুষের যাতায়াত সহজ করতে ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক করাই ছিল এই আলোচনার প্রধান কেন্দ্রবিন্দু। হাইকমিশনারের এই আশ্বাসের ফলে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রতীক্ষিত ভিসা জটিলতা নিরসনের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ভারত-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের এই নতুন অধ্যায়ে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও গতিশীল হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থার কারণে আকাশপথের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই অচলাবস্থার ফলে টানা তিন দিনে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মোট ১০২টি ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ। ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করায় এই সংকট তৈরি হয়েছে বলে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) সূত্রে জানা গেছে। আন্তর্জাতিক এই সংঘাতের প্রভাবে কয়েক হাজার প্রবাসী ও ভ্রমণপ্রত্যাশী যাত্রী বিমানবন্দরে আটকা পড়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
বেবিচকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রথম দিনে ২৩টি এবং পরের দিন ১ মার্চ সর্বোচ্চ ৪০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। আজ সোমবার (২ মার্চ) পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার আশা থাকলেও শেষ পর্যন্ত আরও ৩৯টি ফ্লাইটের যাত্রা বাতিল করা হয়েছে। তিন দিনের এই ধারাবাহিক ফ্লাইট বাতিলের ফলে বিমানবন্দরের শিডিউল পুরোপুরি ওলটপালট হয়ে গেছে। বিশেষ করে রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের একটি বড় অংশ সময়মতো কর্মস্থলে ফিরতে না পেরে গভীর অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।
সোমবার বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১০টি ফ্লাইট রয়েছে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের। এছাড়া এয়ার অ্যারাবিয়ার ৮টি এবং এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ৫টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। কাতার এয়ারওয়েজ ও ফ্লাইদুবাইয়ের ৪টি করে এবং গালফ এয়ার, কুয়েত এয়ারওয়েজ ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইটের যাত্রা স্থগিত করা হয়েছে। যদিও পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় এরই মধ্যে কিছু বিকল্প রুটে পুনরায় ফ্লাইট চলাচল শুরু হয়েছে, তবে কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, আবুধাবি, শারজাহ ও দুবাইগামী রুটগুলোতে এখনও পূর্ণাঙ্গভাবে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হয়নি। আকাশসীমা পুরোপুরি উন্মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এই অনিশ্চয়তা বজায় থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হিসেবে শেখ মো. সাজ্জাত আলীর চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করেছে সরকার। গত রবিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, সাজ্জাত আলীর নিজ আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁর নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়।
এর আগে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণ দেখিয়ে ডিএমপি কমিশনারের পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে সরকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছিলেন শেখ মো. সাজ্জাত আলী। ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর দুই বছর মেয়াদে তাঁকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। নিয়োগের মাত্র কয়েকমাসের মাথায় তাঁর এই প্রস্থান পুলিশ প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে নতুন পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ডিএমপি কমিশনারের পদটি বর্তমানে শূন্য হওয়ায় নতুন কাউকে পূর্ণাঙ্গভাবে নিয়োগ না দেওয়া পর্যন্ত এর যাবতীয় দায়িত্ব পালন করবেন অতিরিক্ত কমিশনার (প্রশাসন) মো. সরওয়ার। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি নতুন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্বের কথা জানানো হয়। ফলে এখন থেকে পরবর্তী কমিশনার দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত মো. সরওয়ারই ডিএমপির প্রশাসনিক ও অপারেশনাল কার্যক্রমের তদারকি করবেন। সব মিলিয়ে, রাজধানীর জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপির নেতৃত্বে এই সাময়িক পরিবর্তন দ্রুতই স্থায়ী রূপ পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।