মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

আমরা চাই বিএনপি সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে বেরিয়ে আসুক: তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ মঙ্গলবার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে পিআইবি প্রকাশিত ‘ফিচার সংকলন-এসডিজি ও উন্নয়নমূলক’ শীর্ষক গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করেন। ছবি: পিআইডি
আপডেটেড
২৮ নভেম্বর, ২০২৩ ২২:০০
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশিত : ২৮ নভেম্বর, ২০২৩ ২২:০০

তথ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘আমরা চাই বিএনপি টেররিস্ট (সন্ত্রাসী) কর্মকাণ্ড থেকে বেরিয়ে আসুক, সুস্থ রাজনীতির পথে হাঁটুক, নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক।’

মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) প্রকাশিত ‘ফিচার সংকলন-এসডিজি ও উন্নয়নমূলক’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। পিআইবির মহাপরিচালক জাফর ওয়াজেদ এবং কর্মকর্তারা মোড়ক উন্মোচনে অংশ নেন।

নির্বাচন কমিশন চায় বিএনপি নির্বাচনে অংশ নিক- এ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সম্প্রচারমন্ত্রী বলেন, ‘আমরাও চাই বিএনপি ধ্বংসাত্মক অপরাজনীতি, মানুষ পোড়ানো, মানুষের সম্পত্তি, গাড়ি পোড়ানোর রাজনীতি, চোরাগোপ্তা হামলা যেগুলো টেররিস্ট অরগানাইজেশন করে, এই টেররিস্ট কর্মকাণ্ড থেকে বেরিয়ে আসুক, নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুক। প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বক্তব্য আমি শুনেছি। আমি মনে করি তিনি যথার্থ বলেছেন। আশা করি, বিএনপির শুভবুদ্ধির উদয় হবে।’

বিএনপি নির্বাচনের আগে সরকার পতনের ঘোষণা দিয়েছে- এ বিষয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এমন বহু ঘোষণা আগেও শুনেছি এবং যতবার ঘোষণা দেয় ততবার তারা পালিয়ে যায় বা হারিয়ে যায়। যেমন ২৮ অক্টোবর এবং এর আগে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর ঘোষণা দিয়েছিল। খালেদা জিয়া সমাবেশে যোগ দেবেন, সেটাও বলেছিল। এ সমস্ত ঘোষণা আসলে তাদেরকে হাস্যকর করেছে। তারা এ সমস্ত ঘোষণা দিয়ে জনমনে আতঙ্ক তৈরি করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে দেশে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। প্রকৃত অর্থে বিএনপি এখন তাদের কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে টেররিস্ট অরগানাইজেশনে রূপান্তরিত হয়েছে, তাদের লিডাররাও টেররিস্ট লিডারে পরিণত হয়েছে। গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে দিনক্ষণ বলে অমুক তারিখে ফেলে দেয়ার কথা বলা এটাই তো টেররিস্ট ঘোষণা।’

এর আগে বইয়ের মোড়ক উন্মোচনকালে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের উন্নয়নের জন্য রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা খুবই প্রয়োজন। এটি ছাড়া কোনো দেশ উন্নত হতে পারেনি। আমরা সিঙ্গাপুরের উদাহরণ দিই, সেখানে স্বাধীনতার পর থেকে একই দল রাষ্ট্র ক্ষমতায়। মালয়েশিয়ায় একনাগাড়ে ২২ বছর যদি মাহাথির মোহাম্মদ দেশ পরিচালনার দায়িত্বে না থাকতেন, তাহলে মালয়েশিয়া সে রকম উন্নত হতে পারত না।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে গত ১৫ বছর ধরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকলেও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ছিল সেটি আমরা বলতে পারি না। যেভাবে ২০১৩-১৪-১৫ সালে এবং সময়ে সময়ে জ্বালাও-পোড়াও করা হয়েছে এবং হচ্ছে, এগুলো দেশের এবং রাজনীতির স্থিতিশীলতা সবকিছুই বিনষ্ট করছে। এ দেশে ধ্বংসাত্মক রাজনীতি এবং সবকিছুতে না বলার নেতিবাচক রাজনীতি দেশের উন্নয়নের জন্য প্রচণ্ড অন্তরায়। ভারতে বহুধাবিভক্ত রাজনীতি এবং কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে অহি-নকুল সম্পর্ক। কিন্তু দেশের প্রয়োজনে তারা এক টেবিলে বসে এবং সরকারকে সমর্থন জানায়।’

হরতাল-অবরোধ নিয়ে প্রশ্নে মন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, ‘নিজেদের স্বার্থের জন্য মানুষ, গাড়ি-ঘোড়া পোড়ানো কেন? সাধারণ মানুষ তো কোনো দোষ করেনি। আর দিনের পর দিন অবরোধ ডেকে যেভাবে বাচ্চাদের স্কুলে যাওয়ার ক্ষেত্রে, মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনের ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হচ্ছে, তারপরও মানুষ কিছুই মানছে না। অবরোধের মধ্যে ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় ট্রাফিক জ্যাম হচ্ছে এবং দূরপাল্লার গাড়িও চলছে। এ সমস্ত কর্মসূচি কেউ মানছে না, তাদেরকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বলছে, তোমাদের কীসের অবরোধ আমরা মানি না। এরপরও বিএনপির লজ্জা হয় না। আসলে যাদের লজ্জা হারিয়ে গেছে তাদের লজ্জা লাগার কোনো কারণ নেই। বিএনপির লজ্জাও হারিয়ে গেছে।’


মেলার শেষ সময়ে বই বিক্রির হিড়িক

ছবি: ফোকাস বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ

মাসব্যাপী চলছে বাঙালির প্রাণের মেলা অমর একুশে বইমেলা। প্রায় শেষ প্রান্তে চলে এসেছে এবারের মেলা। শেষ সময়ে এসে বইপ্রেমীদের মনে বিদায়ের সুর বাজতে শুরু করেছে। এই সময়ে ক্রেতাদের ভিড়ে মেলা প্রাঙ্গণ বেশ জমজমাট হয়ে উঠেছে।

রাজধানীর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী অমর একুশে বইমেলার। তবে বইয়ের দোকান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বেশি হওয়ায় এই অংশেই দর্শনার্থীদের বেশি ভিড় দেখা যায়।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে মেলায় বেশ ভিড় লক্ষ করা যায়। মেলায় ক্রেতারা আসছেন, দেখছেন ও বই কিনছেন। তবে অনেক দর্শনার্থীর মেলাপ্রাঙ্গণে আড্ডায় মেতে থাকতে দেখা যায়। শেষের দিকে এসে জমে উঠেছে বইমেলা। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতেই মেলায় বইপ্রেমীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। এদিন লোকে-লোকারণ্য হয়ে উঠেছে মেলা প্রাঙ্গণ। বিভিন্ন বয়সের মানুষের হাতেই ছিল বইয়ের ব্যাগ। অন্যান্য দিনের মতো বেশি ভিড় দেখা যায় মেলার শিশু কর্নার ও স্টলগুলোতে।

বাতিঘর, মাওলা ব্রাদার্স, কথা প্রকাশ, ঐতিহ্য, অন্যপ্রকাশ, আগামী প্রকাশনীসহ অধিকাংশ স্টল ও প্যাভিলিয়নে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। ছোট প্রকাশনীগুলোতেও ছিল প্রচুর মানুষের সমাগম।

মেলায় কেউ আসছেন পরিবার-পরিজন নিয়ে, কেউবা আসছেন বন্ধুদের সঙ্গে। রীতিমতো লাইন ধরে বইমেলায় প্রবেশ করছেন দর্শনার্থীরা। বইয়ের স্টলগুলোতে রয়েছে চোখে পড়ার মতো ভিড়। এতে করে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয় শ্রেণির মানুষই খুশি।

তাম্রলিপি প্রকাশনীতে তাশফিকালের লেখা ‘সামিনব্বই দশকের ভালোবাসা’ বইটি কিনছিলেন ফৌজিয়া আফিয়া। তিনি বলেন, ‘প্রথম বইমেলায় এসেছি। যদিও শেষ সময় তবুও ইচ্ছা আছে বেশ কয়েকটা বই কেনার।’

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছোট গল্পের বই বিক্রি করা হচ্ছে ভাষাপ্রকাশ প্রকাশনীতে। বইটি কিনছিলেন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ছাত্রী রাহি বুশরা। তিনি বলেন, ‘ছোট ভাইকে উপহার দেওয়ার জন্যই বইটি কিনলাম।’

অনন্যা প্রকাশনের সর্বাধিক বিক্রিত বই হুমায়ূন আহমেদের হিমু সমগ্র। স্মিতা দেবনাথ নামে এক চাকরিজীবী কেনেন বইটি। তিনি বলেন, হুমায়ূন আহমেদ স্যার চির যৌবনা। স্যারের বই সংগ্রহে রাখার জন্যই কেনা।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে বন্ধুদের সঙ্গে মেলায় এসেছেন রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের ছাত্র জুবায়ের হোসেন শান্ত। তিনি বলেন, ‘এবার মেলায় এর আগে দুই দিন এসেছি। তবে খুব বেশি বই কেনা হয়নি। আমরা এবার সব বন্ধুরা একসঙ্গে মেলায় এসেছি। সবাই-সবাইকে একটি করে বই উপহার দিয়েছি। এ ছাড়া সবাই নিজেদের পছন্দের বইগুলোও কিনেছি।’

ঢাকা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী তরিকুল ইসলাম এ বছর প্রথমবারের মতো মেলায় এসেছেন। তিনি বলেন, ‘দিনের বেশির ভাগ সময় টিউশনি করে সময় পার হয়ে যায়। ফলে এবারের মেলায় আসা হয়নি। এ জন্য সকালে একটি টিউশনি করার পর বাকি দুটি থেকে ছুটি নিয়ে মেলায় এসেছি।’

মাওলা ব্রাদার্সের বিক্রয়কর্মী রুহুল সরকার বলেন, ‘মেলা প্রায় শেষের দিকে। বেশ কয়েক দিন ধরে মেলায় মানুষের উপস্থিতি আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। এ কারণে আমাদের বিক্রিও বেড়েছে।’

অন্যপ্রকাশের বিক্রয়কর্মী আশিক মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের প্রকাশনী থেকে নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের বেশির ভাগ বই ছাপানো হয়। এ জন্য আমাদের স্টলে হুমায়ূনপ্রেমীদের ভিড় সব সময় একটু বেশিই থাকে, বিক্রিও হয় অনেক।’

পাঞ্জেরী প্রকাশনীর বিক্রেতা অনামিকা শিকদার জানান, ‘আমাদের এখানে প্রতিদিন প্রায় ৩০০ বই বিক্রি হচ্ছে। আগে যেখানে ৫০ হাজার টাকার বই বিক্রি হতো, সেখানে এখন লাখ ছুঁইছুঁই অবস্থা। বিক্রি বেশ ভালোই চলছে।’

অনুপম প্রকাশনীর প্রকাশক মিলন কান্তি নাথ বলেন, ‘শেষ সময়ে ক্রেতা বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। সব সময় এমনটাই হয়ে আসছে। বিক্রি নিয়ে আমাদের সন্তুষ্টির কিছু নেই। কেননা, বইয়ের বিক্রি সংখ্যা কিন্তু তেমন নয়। আমরা যতটা আশা করছি বা সবাই যা ভাবছে, বাস্তবে তা হচ্ছে না।’

শব্দশৈলীর প্রকাশক ইফতেখার আমীন বলেন, ‘সারা বছর যে বই আমরা বিক্রি করি তার একটা বড় অংশই মেলায় বিক্রি হয়। আর সেই বিক্রিটাই হয় মেলার শেষ সময়ে। স্বভাবতই আমরা খুব ব্যস্ত সময় পার করছি। তবে আমরা এতটাও সন্তুষ্ট হতে পারিনি। আশা করছি, শেষ দুই দিন বেচাকেনা ভালো হবে।’

হুমায়ুন আজাদকে স্মরণ

বহুমাত্রিক লেখক হুমায়ুন আজাদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার বার্ষিকীতে আজ বিকেল ৫টায় হুমায়ুন আজাদ দিবস পালন উপলক্ষে লেখক-পাঠক ফোরামের উদ্যোগে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বইমেলার তথ্যকেন্দ্রের সামনে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।

প্রকাশক ওসমান গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা। এতে বক্তব্য দেন কবি মোহন রায়হান, কবি আসলাম সানী, প্রকাশক মাজহারুল ইসলাম।

বক্তারা বলেন, হুমায়ুন আজাদের হত্যাচেষ্টার বিচার অবিলম্বে বাস্তবায়ন এবং তার আদর্শে মৌলবাদ-জঙ্গিবাদ এবং সাম্প্রদায়িকতামুক্ত সমাজ-রাষ্ট্র গঠনের মাধ্যমেই তাকে যথাযোগ্য মর্যাদায় স্মরণ করা হয়।

আগামীকালকের বইমেলা

অমর একুশে বইমেলার ২৮তম দিন বুধবার মেলা শুরু হবে বিকেল ৩টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে স্মরণ: মুনীর চৌধুরী এবং স্মরণ: হুমায়ুন আজাদ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন যথাক্রমে ফিরোজা ইয়াসমীন ও হাকিম আরিফ। আলোচনায় অংশ নেবেন আবদুস সেলিম, ইউসুফ হাসান অর্ক, ওসমান গনি ও মৌলি আজাদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন নাট্যজন ফেরদৌসী মজুমদার।


বিটিআরসির কমিশনার ও টেলিটকের এমডিসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে জাইকার সহজ শর্তে ৫২১ কোটি ৭৯ লাখ ৬০ হাজার টাকার ঋণ থেকে সরকারকে বঞ্চিত করার অভিযোগে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কমিশনার এবং বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড ও টেলিটকের এমডিসহ আট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

আজ মঙ্গলবার দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম।

মামলার আসামিরা হলেন- বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের কমিশনার আমিনুল হাসান, বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিটিসিএলের সাবেক পরিচালক-১ মশিউর রহমান, টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহাব উদ্দিন, বিটিসিএলের সাবেক ডিই-৫ মো. আতাউর রহমান, সাবেক পরিচালক মাকসুদুর রহমান আকন্দ, জি এম অশোক কুমার মণ্ডল, সাবেক এমডি মাহফুজ উদ্দিন আহমদ এবং বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (চালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ) আজম আলী।
মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৮, ৪৭১, ৫১১, ১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট (টিএনডি) প্রজেক্ট টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে নিজেদের পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অসৎ উদ্দেশে কাজ করেছেন। সেটা করতে গিয়ে তারা প্রাক-যোগ্যতা মূল্যায়নের নির্ণায়ক পরিবর্তন, মূল দরপত্র আহ্বানের দুই মাস পর প্রাক্কলন নির্ধারণসহ ক্রয় আইন-বিধি ও জাইকার গাইডলাইন অনুসরণ না করে অহেতুক সময় ক্ষেপণ করেন।

যে কারণে দশমিক ১ শতাংশ হারে সহজ শর্তের সুদে ৫২১ কোটি ৭৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা ঋণ দিতে দাতা সংস্থা জাইকা আগ্রহ হারিয়ে ২০১৫ সালের ৭ মে তা ফেরত নেয়। এর মাধ্যমে দেশকে বড় একটি ঋণসুবিধা থেকে বঞ্চিত এবং দেশের আর্থিক ক্ষতিসাধন করা হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।


বায়তুল মোকাররমে বিক্ষোভ-মিছিল নিষিদ্ধের নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম এলাকায় রাজনৈতিক মিছিল, সভা, সমাবেশ, বিক্ষোভ নিষিদ্ধে পদক্ষেপ নিতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

বায়তুল মোকাররমের সামনে রাজনৈতিক মিছিল, সভা, সমাবেশ, বিক্ষোভ নিষিদ্ধ চেয়ে হাইকোর্টে আবদুল্লাহ আল মামুনের (কৌশিক) পক্ষে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন ব্যারিস্টার মো. সানোয়ার হোসেন। এ বিষয়ে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে ধর্ম মন্ত্রণালয়, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ডিএমপি কমিশনারকে নিষ্পত্তির জন্য আদেশ দেওয়া হয়েছে।

রিট পিটিশনে উল্লেখ করা হয়, বায়তুল মোকাররম ইসলামিক ফাউন্ডেশন নিয়ন্ত্রণাধীন। ১৯৭৫ সালের ২৮ মার্চ থেকে মসজিদটি রক্ষণাবেক্ষণ করে আসছে এটি। ধর্ম মন্ত্রণালয় আওতাধীন প্রতিষ্ঠান ইসলামিক ফাউন্ডেশন। জাতীয় মসজিদে একসঙ্গে ৪০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন।

বিগত কয়েক বছর ধরে সাধারণ দিনসহ প্রায় প্রতি শুক্রবার বায়তুল মোকাররম এলাকায় জুমার নামাজের পর বিভিন্ন ইসলামিক রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের ব্যানারে সভা, সমাবেশ, মিছিল, বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

সেসবে অংশগ্রহণের জন্য আগত ব্যক্তিরা নামাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মসজিদের ভেতর থেকেই স্লোগান দিয়ে একযোগে মসজিদ-সংলগ্ন সিঁড়ির ওপর অবস্থান গ্রহণ করেন। এ রকম হুড়াহুড়িতে মসজিদে আসা সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা আতঙ্ক বোধ করেন এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। ফলে নির্বিঘ্নে নামাজ আদায়ে বাধাগ্রস্ত হন তারা।

অনেক ক্ষেত্রে বায়তুল মোকাররমের বাইরে বিক্ষোভের সময় বিক্ষোভকারীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। ফলে অনেকে আহত ও নিহত হন। সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষের সম্পত্তি ধ্বংস হয়। ২০২১ সালের ২৬ মার্চ এরূপ সংঘর্ষে ব্যাপক জানমালের ক্ষতি হয়।

সংবিধানের ৪১ (১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- আইন, জনশৃঙ্খলা ও নৈতিকতা সাপেক্ষ, (ক) প্রত্যেক নাগরিকের যেকোনও ধর্ম অবলম্বন, পালন বা প্রচারের অধিকার রহিয়াছে; (খ) প্রত্যেক ধর্মীয় সম্প্রদায় ও উপ- সম্প্রদায়ের নিজস্ব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের স্থাপন, রক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার অধিকার রয়েছে।

বায়তুল মোকাররমে নিয়মিত সংঘর্ষের ফলে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা জুমাসহ নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে গিয়ে ভয়ে আতঙ্কিত থাকেন, যা সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদ পরিপন্থি। মসজিদ কোনো রাজনৈতিক দলের দলীয় কার্যালয় নয়, মুসলিম ধর্মপ্রাণ মানুষের ইবাদতের স্থান।

এসব বিস্তারিত উল্লেখ করে রিটকারী ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ধর্ম মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পুলিশ কমিশনার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশকে বায়তুল মোকাররম এবং সংলগ্ন এলাকায় সব ধরনের বিক্ষোভ, সভা, সমাবেশ, মিছিল নিষিদ্ধ করার আদেশ দেওয়ার জন্য আবেদন করেন। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিপক্ষরা কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় এ রিট পিটিশন দায়ের করা হয়।

কোনো মসজিদ রাজনৈতিক দলের দলীয় কার্যালয় নয়, মুসলিম ধর্মপ্রাণ মানুষের ইবাদতের স্থান। তাই এ রিট পিটিশনে প্রার্থনা করা হয়, বায়তুল মোকাররমসহ অন্যান্য সব মসজিদ ও সংলগ্ন এলাকায় সবরকম সভা, সমাবেশ, মিছিল, বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হোক।

বিষয়:

৫ বছরে ৬০ লাখ কর্মী বিদেশে পাঠাতে চায় সরকার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী পাঁচ বছরে ৬০ লাখ কর্মীকে বিদেশে পাঠানোর কর্মপরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে আওয়ামী লীগের সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরীর এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, বিদেশে কর্মী পাঠানো একটি চলমান প্রক্রিয়া। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দূরদৃষ্টি এবং সঠিক ও সময়োপযোগী কূটনৈতিক তৎপরতায় স্বাধীনতার পরপরই বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য অভিবাসন এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল।

তার ধারাবাহিকতায় ৬ হাজার ৮৭ জন কর্মী পাঠানোর মধ্যে দিয়ে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের যাত্রা শুরু হয়। সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের ফলে বিদেশে কর্মী পাঠানো উত্তরোত্তর।

২০২২ সালে ১১ লাখ ৩৫ হাজার ৮৭৩ জন কর্মী কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে যান। ২০২৩ সালে এ সংখ্যা ১৩ লাখ ৫ হাজার ৪৫৩ জনে উন্নীত হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে ৬০ লাখ কর্মী বিদেশে পাঠানোর কর্মপরিকল্পনা রয়েছে।


উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল রোজার মধ্যে: ইসি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল রোজার মধ্যেই ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ। মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।

ইসি সচিব বলেন, ইতোমধ্যে কমিশন চার ধাপে উপজেলা নির্বাচনের তালিকা প্রকাশ করেছে। নির্বাচনের তফসিল দিতে ৪০ থেকে ৪২ দিন সময় লাগে। এ ক্ষেত্রে রোজার মধ্যেই তফসিল ঘোষণা হবে। সেটা পরবর্তী কমিশন সভায় নির্ধারণ করা হবে।

ইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৪ মে প্রথম ধাপে ১৫৩টি, ১১ মে দ্বিতীয় ধাপে ১৬৫টি, ১৮ মে তৃতীয় ধাপে ১১১টি ও চতুর্থ ধাপে ২৫ মে ৫২টি; মোট ৪৮১টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ করা হবে।

দেশে বর্তমানে ৪৯৫টি উপজেলা রয়েছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) বিষয়ে অশোক কুমার বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় প্রকল্প যেহেতু পাস হয়নি, তাই ইভিএমগুলোর মধ্যে যেগুলো ভালো আছে সেগুলো দিয়ে যতগুলো উপজেলায় ভোট করা সম্ভব, সেগুলোতে করার সিদ্ধান্ত হবে।

৯ মার্চ স্থানীয় সরকারের নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে তিনি বলেন, ২৩৩টি নির্বাচন হলেও বড় নির্বাচন মাত্র কয়েকটি। সেগুলোতে আচরণবিধি যথাযথ পালনের জন্য অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হবে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হচ্ছে স্থানীয় প্রশাসনের চাহিদা অনুযায়ী।


সংরক্ষিত ৫০ নারী এমপির গেজেট প্রকাশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দ্বাদশ জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনে বিজয়ীদের চূড়ান্ত তালিকার গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশন বিজয়ীদের নাম ঘোষণার গেজেট প্রকাশ করে।

নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা (যুগ্ম সচিব) মুনিরুজ্জামান তালুকদার জানান, দ্বাদশ জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন উপলক্ষে মনোনয়নপত্র দাখিলের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ/জোটের মনোনীত ৪৮ জন এবং জাতীয় পার্টি মনোনীত দুইজন অর্থাৎ মোট ৫০ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

তিনি আরও জানান, দাখিল করা মনোনয়নপত্রসমূহ পূর্ব ঘোষিত সময়সূচি অনুসারে বাছাইপূর্বক ৫০ প্রার্থীর মনোনয়নপত্রই বৈধ ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময় ২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কোনো প্রার্থী প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। ফলে জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত নারী আসন) নির্বাচন আইন, ২০০৪ এর ধারা ১২ এর উপধারা (১) অনুসারে প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হলো।

সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামী লীগের এমপিরা হলেন- ১. রেজিয়া ইসলাম (পঞ্চগড়), ২. দ্রৌপদী দেবি আগরওয়াল (ঠাকুরগাঁও), ৩. আশিকা সুলতানা (নীলফামারী) ৪. রোকেয়া সুলতানা (জয়পুরহাট), ৫. কোহেরী কুদ্দুস মুক্তি (নাটোর), ৬. জারা জেবিন মাহবুব (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) ৭. রুনু রেজা (খুলনা) ৮. ফরিদা আক্তার বানু (বাগেরহাট) ৯. ফারজানা সুমি (বরগুনা) ১০. খালেদা বাহার বিউটি (ভোলা) ১১. ফরিদা ইয়াসমিন (নরসিংদী) ১২. উম্মে ফারজানা সাত্তার (ময়মনসিংহ) ১৩. নাদিরা বিনতে আমির (নেত্রকোনা) ১৪. মাহফুজা সুলতানা মলি (জয়পুরহাট) ১৫. পারভীন জামান কল্পনা (ঝিনাইদহ) ১৬. আরমা দত্ত (কুমিল্লা) ১৭. লায়লা পারভীন (সাতক্ষীরা) ১৮. মুন্নুজান সুফিয়ান (খুলনা) ১৯. বেদৌড়া আহমেদ সালাম (গোপালগঞ্জ) ২০. শবনম জাহান (ঢাকা) ২১. পারুল আক্তার (ঢাকা) ২২. সাবেরা বেগম (ঢাকা) ২৩. শাম্মী আহমেদ (বরিশাল) ২৪. নাহিদ ইজহার খান (ঢাকা) ২৫. ঝর্ণা আহসান (ফরিদপুর) ২৬. ফজিলাতুন নেছা ইন্দিরা (মুন্সীগঞ্জ) ২৭. সাহেদা তারেক দিপ্তী (ঢাকা) ২৮. অনিমা মুক্তি গোমেজ (ঢাকা) ২৯. শেখ আনার কলি পুতুল (ঢাকা) ৩০. মাসুদা সিদ্দিক রোজি (নরসিংদী) ৩১. তারানা হালিম (টাঙ্গাইল) ৩২. শামসুন নাহার (টাঙ্গাইল) ৩৩. মেহের আফরোজ চুমকি (গাজীপুর) ৩৪. অপরাজিতা হক (টাঙ্গাইল) ৩৫. হাসিনা বারী চৌধুরী (ঢাকা) ৩৬.নাজমা আক্তার (গোপালগঞ্জ) ৩৭. ফরিদুন্নাহার লাইলী (লক্ষ্মীপুর) ৩৮. আশরাফুন নেছা (লক্ষ্মীপুর) ৩৯. কানন আরা বেগম (নোয়াখালী) ৪০. শামীমা হারুন লুবনা (চট্টগ্রাম), ৪১. ফরিদা খানম (নোয়াখালী) ৪২. দিলারা ইউসুফ (চট্টগ্রাম) ৪৩. ডরথি তঞ্চঙ্গা (রাঙামাটি) ৪৪. সানজিদা খানম (ঢাকা) ৪৫. নাছিমা জামান ববি (রংপুর), ৪৬. নাজনীন নাহার রোশা (পটুয়াখালী) ৪৭. ওয়াসিকা আয়শা খান (চট্টগ্রাম) ৪৮. রুমা চক্রবর্তী (সিলেট)।

এদের মধ্যে কুমিল্লা থেকে নির্বাচিত আরমা দত্ত, ফজিলাতুন নেছা ইন্দিরা, সানজিদা খানম, মেহের আফরোজ চুমকি, ফরিদুন্নাহার লাইলীসহ কয়েকজন আগের মেয়াদেও সংসদ সদস্য ছিলেন। এছাড়া মুন্নুজান সুফিয়ান খুলনা-৩ আসন থেকে টানা তিনবার সরাসরি ভোটে বিজয়ী হলেও এবং সরকারের গত মেয়াদে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকলেও হাই কমান্ডের নির্দেশে এবার সরাসরি ভোটে অংশ নেননি। তার পুরস্কার হিসেবে এবার সংরক্ষিত আসনে সদস্য হয়েছেন তিনি। আর দুই মেয়াদ আগে সংরক্ষিত আসনের সদস্য হিসেবে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করলেও গত দুটি সংসদে ছিলেন না আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য তারানা হালিম। এবার তিনি সংরক্ষিত আসনে ফিরেছেন।

এছাড়াও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে থেকে সংরক্ষিত আসনে জায়গা পাওয়া অন্যরা হলেন স্বাস্থ্য সম্পাদক রোকেয়া সুলতানা, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য পারভীন জামান কল্পনা, আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে তার মনোনয়নপত্র দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাতিল হয় তবে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তাকে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানান ওই তফসিলের পর পরই বিদেশি নাগরিকত্ব প্রত্যাহারের কাগজ হাতে পেয়েছেন শাম্মী ), অর্থ সম্পাদক ওয়াসিকা আয়শা খান, শিক্ষা সম্পাদক শামসুন নাহার, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, কার্যনির্বাহী সদস্য সানজিদা খানম। দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে সরাসরি ভোটে পরাজিত হন সানজিদা খানম। তারই মতো সরাসরি ভোটে পরাজিত হয়ে সংরক্ষিত আসনে এমপি হয়েছেন মেহের আফরোজ চুমকি। আর সদ্য সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেছা ইন্দিরাকে মুন্সীগঞ্জ থেকে আবারও সংরক্ষিত আসনে সদস্য করা হয়েছে।

অন্যদিকে জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন দুজন এমপি। এরমধ্যে একাদশ সংসদের সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সালমা ইসলাম এবারও সংসদ সদস্য হয়েছেন। আর অপরজন জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান নুরুন নাহার।

প্রসঙ্গত,গত একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সরাসরি ভোটে ঢাকার নবাবগঞ্জ-দোহার আসন থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন সালমা ইসলাম। তবে দুবারই আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমানের কাছে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন তিনি। তবে দলে অবদান থাকায় দুবারই তাকে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য করে জাতীয় পার্টি। অপরজন নুরুন নাহার জাতীয় পার্টি থেকে ঠাকুরগাঁও এর একটি আসনে অংশ নিয়ে জামানত হারান। শুরুতে সংরক্ষিত এই আসনটিতে জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের স্ত্রী শেরিফা কাদেরের নাম শোনা গেলেও পরে দলের ভাইস চেয়ারম্যান নুরুন নাহারকেই প্রার্থী করে এমপি হিসেবে নির্বাচিত করে জাতীয় পার্টি।


রোহিঙ্গাদের জন্য জাপানের নতুন করে ৬৯ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য জাতিসংঘের তিনটি সংস্থাকে পৃথকভাবে ৬৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সহায়তা দিচ্ছে জাপান। এই অর্থের ২৭ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হবে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থাকে (আইওএম)। আর ২৭ মিলিয়ন পাবে জাতিসংঘ শিশু-বিষয়ক তহবিল (ইউনিসেফ)। অবশিষ্ট ১৫ মিলিয়ন ডলার পেতে যাচ্ছে ইউনাইটেড নেশন্স এনটিটি ফর জেন্ডার ইকুয়ালিটি অ্যান্ড দ্য এমপাওয়ারমেন্ট অব উইমেন বা ইউএন উইমেনের মাধ্যমে।

ঢাকায় জাপানের দূতাবাস পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। জাপান দূতাবাস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করা তিনটি সংস্থার কাছে গত সোমবার পৃথকভাবে অর্থ সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশে জাপানের রাষ্ট্রদূত আইওয়ামা কিমিনোরি। এর মধ্যে আইওএমকে দেওয়া ২৭ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ও স্থানীয় অধিবাসীদের জন্য পানি, পয়োনিষ্কাশন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা বা ওয়াশ; দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস; আশ্রয়ণ প্রকল্প ও অবকাঠামো উন্নয়নসহ পাঁচ ধরনের কার্যক্রমে। এর মাধ্যমে প্রায় পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা ও স্থানীয় অধিবাসী উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

ইউএন উইমেনকে দেওয়া ১৫ মিলিয়ন ডলার কক্সবাজারে দুর্যোগ প্রস্তুতির লক্ষ্যে দক্ষতা উন্নয়ন এবং বাকি ২৭ মিলিয়ন ডলার ইউনিসেফের মাধ্যমে কক্সবাজার ও ভাসানচরে ওয়াশ প্রকল্প, স্বাস্থ্য খাত ও পুষ্টি নিশ্চিতে ব্যয় হবে।

রাষ্ট্রদূত আইওয়ামা কিমিনোরি বলেন, এই সমন্বিত উদ্যোগের ফলে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনমান উন্নয়ন হবে বলে আমি আশাবাদী। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন এবং আইওএমের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাকে সহায়তায় জাপান কাজ করে যাবে।


দুইদিন বাড়লো বইমেলার সময়

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঢাবি প্রতিনিধি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমোদনক্রমে দুইদিন বাড়লো অমর একুশে বইমেলার সময়। সে হিসেবে আগামী ২ মার্চ শেষ হবে বইমেলা।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মুহম্মদ নূরুল হুদা দৈনিক বাংলাকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনক্রমে বইমেলার সময় দুইদিন বাড়ানো হয়েছে। আমরা এটি আজকে মাইকে ঘোষণা করে দিয়েছি। আগামীকাল চিঠি ইস্যু করা হবে।

এর আগে মেলার শেষ দিন ২৯ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার হওয়ায় মেলা আরও দুইদিন বাড়িয়ে শুক্রবার এবং শনিবারও মেলা চালু রাখার দাবি জানিয়ে আসছিলো বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশনা সমিতি ও বিভিন্ন প্রকাশনীর প্রকাশকেরা।


বন্ধ হলো ৬ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ব্লাড ব্যাংক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ২১:০৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আজ মঙ্গলবার থেকে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান শুরু করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। জানা গেছে, অভিযানের প্রথম দিন নির্দেশনা না মানায় রাজধানীতে মোট ৬টি ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ব্লাড ব্যাংক বন্ধ করা হয়েছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স প্রবেশপথে টানানো, তথ্য কর্মকর্তা নিয়োগ ও লেবার রুম প্রটোকল বাধ্যবাধকতাসহ ১০ দফা নতুন নির্দেশনা দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে এসব নির্দেশনা আবশ্যিকভাবে পালন করতে হবে বলেও জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানটি।

সেই নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি-না, সে বিষয়ে তদারকি করতেই আজ অভিযান শুরু করেছে সরকারের এই নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

আজ মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নির্দেশে দুটি টিম রাজধানীর রামপুরা, মিরপুর ও মোহাম্মদপুর এলাকায় বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা করে।

জানা গেছে, হাসপাতাল ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান মিরপুর কালশী, সহকারী পরিচালক ডা. মুহাম্মদ বিল্লাল হোসেন মোহাম্মদপুর এলাকায় বিভিন্ন ক্লিনিক হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এছাড়াও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ক্লিনিক শাখার সহকারী পরিচালক ডা. আহসানুল হক, ডা. মাসুদ রেজা খান, মেডিকেল অফিসার ডা. কাজী মো. সালেহীন তৌহিদ রামপুরা এলাকায় বিভিন্ন ক্লিনিক হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৬টি টিম পৃথকভাবে আগামীকাল (বুধবার) থেকে পূর্ণাঙ্গ অভিযানে নামবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. মুহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, আমরা মোট ১২টি প্রতিষ্ঠান দেখেছি, এর মধ্যে ৬টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করেছি। বাকিগুলোকে শোকজ করা হবে। বন্ধ করে দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর দুটির লাইসেন্স আপডেট ছিল না, বাকিগুলোর লাইসেন্সই ছিল না। মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ারে দুটি ব্লাড ব্যাংক (রেডিয়াম ব্লাড ব্যাংক রাজধানী ব্লাড ব্যাংক) ও একটি হাসপাতাল (টিজি হাসপাতাল) বন্ধ করেছি। আর ইসিবি চত্বরে আল হাকিমি চক্ষু হসপিটাল বন্ধ করেছি। এছাড়াও কালশীতে এশিয়ান ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও এইচএস ডায়ালাইসিস অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামে দুটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করেছি, এগুলোর লাইসেন্স ছিল না।

বেসরকারি ক্লিনিক-হাসপাতালে নতুন ১০ নির্দেশনা

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিকেল অফিসার ডা. কাজী মো. সালেহীন তৌহিদ বলেন, আজকে আমরা কঠোর কোনো অভিযান পরিচালনা করিনি। মহাপরিচালকের নির্দেশনায় আমাদের একাধিক টিম মিরপুর ও রামপুরা এলাকায় কয়েকটি হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে। আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনায় সরকারের ১০ দফা নির্দেশনাগুলো ঠিকমতো মানছে কি-না, সেগুলো মনিটর করা।

তিনি বলেন, আমরা রামপুরা বনশ্রী এলাকায় কয়েকটি হাসপাতালে গিয়েছি। বিশেষ করে ফরাজি হাসপাতালে গিয়ে কিছু সমস্যা পেয়েছি, সেগুলো সমাধানে তাদের আমরা সতর্কতামূলক বার্তা দিয়ে এসেছি। এ রকম বাকি সবগুলোতেই আমরা ছোটখাটো যেসব সমস্যা পেয়েছি, সেগুলোর জন্য তাদের দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলে এসেছি।


দেশে ১৬ লাখ ৭৯ হাজার টন খাদ্য মজুদ আছে: খাদ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিনিধি

দেশের সরকারি খাদ্য গুদামগুলোতে বর্তমানে সর্বমোট ১৬ লাখ ৭৯ হাজার টন খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি আরও জানান, খাদ্যশস্যের এ মজুদ সন্তোষজনক।

সরকারি দলের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারের প্রশ্নের লিখিত উত্তরে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, চলতি বছর ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হিসাবে সরকারি খাদ্য গুদামে সর্বমোট ১৬ লাখ ৭৯ হাজার টন খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে।

মজুদকৃত খাদ্যশস্যের মধ্যে রয়েছে ১৪ লাখ ৩৮ হাজার টন চাল ও ২ লাখ ৪১ হাজার টন গম। খাদ্য মজুদ বর্তমানে সন্তোষজনক। দেশে খাদ্য মজুদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক সূত্রে চাল ও গম অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ এবং আমদানির কার্যক্রম গ্রহণ করেছে, এর মধ্যে রয়েছে চলতি আমন সংগ্রহ মৌসুমের আওতায় ত ২ লাখ টন ধান এবং ৪ লাখ টন সেদ্ধ চাল ও এক লাখ টন আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে ৬ লাখ ৫০ হাজার টন গম ও এক লাখ ৫০ হাজার টন চাল আমদানির জন্য অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই বাজেট বরাদ্দের বিপরীতে উন্মুক্ত দরপত্র ও জিটুজির আওতায় ইতোমধ্যে ৫ লাখ টন গম আমদানির চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। সম্পাদিত চুক্তির বিপরীতে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৬২৭ টন গম আমদানি সম্পন্ন হয়েছে। চুক্তির অবশিষ্ট গমের খালাস কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বর্তমান অর্থবছরে বিদেশ থেকে চাল আমদানির কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়নি বলে তিনি জানান।


বিদ্যুতের দাম কত বাড়ছে, জানালেন প্রতিমন্ত্রী

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৯:১৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

মঙ্গলবার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এই ঘোষণা দেন। ওই সময় আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গ্যাসের দাম বাড়ানোরও ইঙ্গিত দেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ প্রতি ইউনিটে ৩৪ থেকে ৭০ পয়সা বাড়বে। বিদ্যুতে সরকারের ভর্তুকি খাত থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধন্তের পরিপেক্ষিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিপিডিবির ২০২২-২৩ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশে ৯৮ হাজার ৬৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮৭ হাজার ২৪ মিলিয়ন কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। এখানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হয়েছে ১১ টাকা ৩৩ পয়সা এবং এই বিদ্যুৎ বিক্রি করতে প্রতি ইউনিটে খরচ হয়েছে ৬ টাকা ৭০ পয়সা। ফলে প্রতি ইউনিটে লোকসান হয়েছে প্রায় ৪ টাকা ৬৩ পয়সা। এই ভারসাম্যহীনতা কাটিয়ে উঠতে সরকারের ক্ষতি হয়েছে ৪৭ হাজার ৭৮৮ কোটি টাকা।

বার্ষিক প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারি প্লান্টে খরচ হয় ৬ টাকা ৮৫ পয়সা। ভারত থেকে ৮ টাকা ৭৭ পয়সা দরে বিদ্যুৎ আমদানি করতে পারা যায়। বিপিডিবির নিজস্ব কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গড়ে প্রতি ইউনিট খরচ হয় ৭ টাকা ৬৩ পয়সা, বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান (আইপিপি) ১৪ টাকা ৬২ পয়সা, ভাড়া কেন্দ্রে ১২ টাকা ৫৩ পয়সা।


মার্চ থেকে বাড়ছে বিদ্যুতের দাম

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৯:০৫
ইউএনবি

মার্চের ১ তারিখ থেকে বিদ্যুতের দাম বাড়বে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

তিনি বলেছেন, বিদ্যুৎ প্রতি ইউনিটে ৩৪ থেকে ৭০ পয়সা বাড়বে। বিদ্যুতে সরকারের ভর্তুকি খাত থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধন্তের পরিপেক্ষিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ওই সময় আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গ্যাসের দাম বাড়ানোরও ইঙ্গিত দেন তিনি।

বিপিডিবির ২০২২-২৩ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশে ৯৮ হাজার ৬৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮৭ হাজার ২৪ মিলিয়ন কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। এখানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হয়েছে ১১ টাকা ৩৩ পয়সা এবং এই বিদ্যুৎ বিক্রি করতে প্রতি ইউনিটে খরচ হয়েছে ৬ টাকা ৭০ পয়সা। ফলে প্রতি ইউনিটে লোকসান হয়েছে প্রায় ৪ টাকা ৬৩ পয়সা। এই ভারসাম্যহীনতা কাটিয়ে উঠতে সরকারের ক্ষতি হয়েছে ৪৭ হাজার ৭৮৮ কোটি টাকা।

বার্ষিক প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারি প্লান্টে খরচ হয় ৬ টাকা ৮৫ পয়সা। ভারত থেকে ৮ টাকা ৭৭ পয়সা দরে বিদ্যুৎ আমদানি করতে পারা যায়। বিপিডিবির নিজস্ব কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গড়ে প্রতি ইউনিট খরচ হয় ৭ টাকা ৬৩ পয়সা, বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান (আইপিপি) ১৪ টাকা ৬২ পয়সা, ভাড়া কেন্দ্রে ১২ টাকা ৫৩ পয়সা।


আন্তরিকতার সাথে মানুষের সেবা করবেন: পুলিশের প্রতি প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৭:৫১
বাসস

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদক ও দুর্নীতি দমনে পুলিশ বাহিনীকে জনগণের সেবা অব্যাহত রাখার এবং এজন্য সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমি পুলিশ বাহিনীর সদস্যদেরকে বলবো আপনারা দেশের মানুষের সেবা করেন। দুষ্টের দমন শিস্টের পালন পালন, এটা হচ্ছে পুলিশের মূল মন্ত্র। কাজেই পুলিশ বাহিনী মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করবে- এটাই সব সময় আমাদের কাম্য।’

প্রধানমন্ত্রী আজ সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে ছয় দিনব্যাপী ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২৪’ এর উদ্বোধনকালে দেওয়া প্রধান অতিথি’র ভাষণে একথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আজকে দেশের মানুষ পুলিশের প্রতি সে আস্থা রাখতে পারছে। কাজেই আপনারা আন্তরিকতার সাথে মানুষের সেবা করবেন, সেটাই আমরা চাই।’

সরকার প্রধান বলেন, ‘জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আর এই ক্ষেত্রে পুলিশ বাহিনীকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশকে উন্নত সমৃদ্ধ করতে হলে দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা একান্তভাবে অপরিহার্য।’

তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষ যখনই কোনো বিপদে পড়ে তখনই আশ্রয় খোঁজে পুলিশের কাছে। কাজেই পুলিশ জনগণের বন্ধু, এটা সব সময় চলে আসছে এবং এটাকেই প্রতিষ্ঠা করা একান্তভাবে দরকার। সে কারণেই আমি মনে করি আমাদের পুলিশ বাহিনী তাদের সততা, পেশাদরিত্ব, নিষ্ঠা, দক্ষতা, নিরপেক্ষতা, ত্যাগ, বীরত্ব ও দেশপ্রেম ও মানবীয় মূল্যবোধ নিয়েই জনগণের সেবা করবেন। পুলিশ বাহিনীকে আমরা সেভাবেই গড়ে তুলছি।’

১৯৭৫ সালের ১৫ জানুয়ারি প্রথম পুলিশ সপ্তাহে পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে জাতির পিতা প্রদত্ত ভাষণের উদ্ধৃতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তাদের (পুলিশ) জনগণের প্রতি ভালবাসা নিয়ে আরও একনিষ্ঠ হয়ে দায়িত্ব পালনের আহবান জানান।

জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘তোমরা স্বাধীন দেশের পুলিশ। তোমরা ইংরেজের পুলিশ নও। তোমরা পাকিস্তানি শোষকদের পুলিশ নও। তোমরা জনগণের পুলিশ। তোমাদের কর্তব্য জনগণকে সেবা করা। বাংলার মানুষ চায় তারা শান্তিতে ঘুমাক। তোমাদের কাছ থেকে আশা করে যে, চোর, বদমাশ, গুন্ডা, দুর্নীতিবাজ তাদের ওপর অত্যাচার না করে। তোমাদের কর্তব্য অনেক বেশি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতার ভাষণের এই মর্মবাণী ধারণ করে বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি সদস্য গভীর দেশপ্রেম ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে কাজ করে যাবে, এই আমার প্রত্যাশা।’

প্রধানমন্ত্রী খোলা জিপে চড়ে বাংলাদেশ পুলিশের কুচকাওয়াজ পরিদর্শন এবং সালাম গ্রহণ করেন।

পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে বিভিন্ন পুলিশ বাহিনী বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী সাহসী কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ৩৫ পুলিশ সদস্যকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম-বীরত্ব) এবং ৬০ জনকে রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম-বীরত্ব) প্রদান করেন।

এছাড়া ৯৫ জন পুলিশ সদস্য বিপিএম সেবা পদক এবং ২১০ জন পিপিএম সেবা পদক পেয়েছেন।


banner close