বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

কাজ দিয়ে বিশ্বকে দেখাব বাংলাদেশের বন্ধু ও সেরা অংশীদার চীন: রাষ্ট্রদূত ইয়াও

চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
২৯ নভেম্বর, ২০২৩ ২০:৩৩
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত
দৈনিক বাংলা ডেস্ক
প্রকাশিত : ২৯ নভেম্বর, ২০২৩ ২০:৩৩

২০২৩ সাল চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও গভীর করার বছর হিসেবে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। তিনি বলেছেন, ‘তথাকথিত চীনের ফাঁদ নিছক বানোয়াট’ বরং এই প্রকল্পগুলো চীনের উপকারে আসে। চীনের লভ্যাংশ এবং চীনের সুযোগ বাংলাদেশের জনগণের জন্য। কাজ করেই আমরা বিশ্বকে দেখাব সত্যিকারের বন্ধু এবং সেরা অংশীদার বলতে আসলে কী বোঝায়। এ সময় চীনকে বাংলাদেশের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উন্নয়ন অংশীদার এবং সত্যিকারের বন্ধু হিসেবে দাবি করে তিনি বলেন, এই সম্পর্ক ও বন্ধুত্বকে দুই দেশের সর্বস্তরের মানুষ ব্যাপকভাবে সমর্থন করে।

গত মঙ্গলবার রাতে দূতাবাসে ২০২৩ সালের চীন সরকারের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নেয়া বাংলাদেশিদের পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘চীন-বাংলাদেশ সহযোগিতায় হস্তক্ষেপের প্রচেষ্টা কেউ প্রতিধ্বনিত করবে না।’

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ইআরডি উইং চিফ অতিরিক্ত সচিব আনোয়ার হোসেন এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব ড. মো. আলম মোস্তফা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ধারাবাহিক অগ্রগতির পাশাপাশি মাঝে মাঝে কিছু বিরক্তিকর আওয়াজ উঠে আসছে। তবে বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতা দুই দেশের জনগণের মধ্যে দীর্ঘদিনের প্রতিষ্ঠিত বন্ধুত্ব অনেক গভীরে নিহিত। সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক নেতৃত্বের দিকনির্দেশনা ছাড়া এটা অসম্ভব ছিল। এই মূল্যবান অর্জনটি আপনারদের মতো বিভিন্ন খাত ও অবস্থানের অবদানকারীদের দ্বারা যৌথভাবে অর্জিত হয়েছে, তাই এটি হৃদয় দিয়ে লালন করা উচিত এবং যত্ন সহকারে বজায় রাখা উচিত।’

উল্লেখ্য, সম্প্রতি শেষ হওয়া তৃতীয় বেল্ট অ্যান্ড রোড ফোরাম ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং উচ্চমানের বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতা করার জন্য আটটি বড় পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন।

রাষ্ট্রদূত ইয়াও বলেন, ‘আগামী বছর চীন আরও দ্বিপক্ষীয় প্রশিক্ষণ কর্মসূচি প্রদান করবে, যা আরও বেশি সংখ্যক বাংলাদেশি অংশগ্রহণকারীকে উপকৃত করবে।’

বর্তমানে চীন ও বাংলাদেশের মধ্যে প্রতি সপ্তাহে ৫০টি ফ্লাইট চলাচল করছে এবং সাপ্তাহিক ভিত্তিতে প্রায় ১০ হাজার মানুষ আমাদের দুই দেশ থেকে যাতায়াত করে। এই সুবিধা আরও বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে আরও একটি সুসংবাদ রয়েছে। তা হলো- ঢাকা থেকে বেইজিং পর্যন্ত আরও সরাসরি ফ্লাইট খুব শিগগিরই চালু করা হবে, যাতে আরও বৈচিত্র্যপূর্ণ ফ্লাইটের বিকল্প চালু করা যায় এবং জনগণের মধ্যে বিনিময় আরও সুবিধাজনক হয়।’

তিনি বলেন, বিআরআই বাংলাদেশের জন্য উন্নয়নের নতুন দ্বার উন্মোচন করেছে বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রশংসা করেছেন।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এই দরজা কেবল অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য মেগা প্রকল্প বহন করে না, বরং দুই দেশের জনগণের মধ্যে আদান-প্রদান এবং পারস্পরিক শিক্ষাকেও উৎসাহিত করে।’

তিনি বলেন, চীন এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিগুলো ভালোভাবে বাস্তবায়িত এবং দ্বিপক্ষীয় বিনিময়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যার ফলে চীন-বাংলাদেশ কৌশলগত অংশীদারত্বকে সহযোগিতার একটি নতুন স্তরে নিয়ে আসা যায়।

রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশ শুধু ঐতিহ্যগতভাবে বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশীই নয়, কৌশলগত অংশীদারও। ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের মধ্যে আদান-প্রদান ক্রমবর্ধমান ঘনিষ্ঠ হয়েছে এবং অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সহযোগিতা ফলপ্রসূ ফলাফল বয়ে এনেছে, যা উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক লাভজনক সহযোগিতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।’

তিনি বলেন, চীন টানা ১৩ বছর ধরে বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদার হিসেবে টিকে আছে। রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘চীন বাংলাদেশের জন্য বৈদেশিক বিনিয়োগের একটি প্রধান উৎস। যার মধ্যে ৩ দশমিক ১৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ স্টক এবং আরও বহুমুখী বিনিয়োগের খাত অনুসন্ধান করা হচ্ছে।’

বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ৭০০ চীনা কোম্পানি নিবন্ধিত রয়েছে, তারা ৭টি রেলপথ, ১২টি সড়ক, ২১টি সেতু ও ৩১টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করেছে।
চীন সরকারের প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার বাংলাদেশি কর্মকর্তা, কারিগরি বিশেষজ্ঞ, তরুণ গবেষক এবং মিডিয়া প্রতিনিধি এ পর্যন্ত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছে এবং সব সেমিনার সবার কাছে প্রশংসিত হয়েছে।

গত আগস্টে জোহানেসবার্গে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিং ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত চার বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো সরাসরি বৈঠক করেন। ইউএনবি


৫ এপ্রিলের মধ্যে ঢাকা বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের কাজ শেষ হবে 

ছবি: ইউএনবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ইউএনবি

বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনালের কাজ চলতি বছরের ৫ এপ্রিলের মধ্যে শতভাগ সম্পন্ন হবে। আশা করা হচ্ছে আগামী অক্টোবর থেকে পুরোদমে এই টার্মিনালের কার্যক্রম শুরু হবে। এটি দেশের বিমান অবকাঠামোর সম্প্রসারণ ও আধুনিকীকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।

তৃতীয় টার্মিনালের কাজ শেষ হলে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কাছে থেকে টার্মিনালের দায়িত্ব বুঝে নেবে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। এরপর শুরু হবে পুরোনো টার্মিনাল থেকে নতুন টার্মিনালে স্থানান্তরে অপারেশন রেডিনেন্স অ্যান্ড এয়ারপোর্ট ট্রান্সফার (ওআরএটি) প্রকল্পের কাজ।

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের প্রকল্প পরিচালক এ কে এম মাকসুদুল ইসলাম ইউএনবিকে বলেন, তৃতীয় টার্মিনালের সিভিলসহ সব ধরনের কাজ প্রায় শেষ। অল্প কিছু যা বাকী রয়েছে তা নির্ধারিত সময় অর্থাৎ আগামী এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহেই শেষ হবে। এরপর টার্মিনালটি বুঝে নিবে বেবিচক।

তিনি বলেন, সিডিউল অনুযায়ী আগামী ৫ এপ্রিল তৃতীয় টার্মিনালের সব কাজ শেষ হওয়ার সময় নির্ধারিত। ৬ এপ্রিল থেকে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে টার্মিনালটি বুঝে নেবে বেবিচক। বেবিচকের ব্যবস্থাপনায় আগামী অক্টোবর থেকে টার্মিনালটি পুরোদমে চালু করতে কাজ চলছে। এজন্য অপারেশন রেডিনেন্স অ্যান্ড এয়ারপোর্ট ট্রান্সপার (ওআরএটি) বিষয়ক একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এরই মধ্যে সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন ও ক্যালিবেরেশনের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। যা একাধিক যাচাই বাছাইয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে।

বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান ইউএনবিকে জানান, তৃতীয় টার্মিনাল এখন ফ্লাইট উড্ডয়ন-অবতরণের জন্য প্রায় প্রস্তুত। আগামী অক্টোবরে টার্মিনালটি পুরো চালু হবে, কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে।

তিনি বলেন, তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে দেশি-বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোর কার্যক্রম বাড়াবে। এতে আকাশপথে যাত্রীদের আরও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত হবে, রাজস্ব আয়ও বাড়বে।

চেয়ারম্যান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ছিল দ্রুত কাজ শেষ করার। তাই আমরা নির্ধারিত সময়েই আগেই কাজ শেষ করছি। আরেকটি বিষয় বাজেটের মধ্যে কাজ করতে পেরেছি। সকল প্রজেক্ট থেকে এটি ভিন্ন। কারণ নির্ধারিত বাজেটের মধ্যে কাজ শেষ করা হয়েছে। এবং কাজের গুনগত মান বজায় রাখতে পেরেছি।

তিনি বলেন, যাত্রীদরে উন্নত সেবা নিশ্চিত করতেই এই টার্মিনাল করা হয়েছে। আধুনিক যন্ত্রপাতি লাগানো হয়েছে।

বিশ্বের মানের যন্ত্রপাতি লাগানো হয়েছে। অক্টোবরে চালু হলে দেশি-বিদেশি যাত্রী বাড়বে। রাজস্ব আয়ও বাড়বে।

তিনি বলেন, পুরোনো টার্মিনাল ক্যাপাসিটি ছিল না। পুরনো টার্মিনালে সেই সক্ষমতা ছিল না। এখন থার্ড টার্মিনালে সেই সক্ষমতা বেড়েছে। দেশের ভাবমূর্তির জন্য এটির প্রয়োজন ছিল।

বেবিচক থেকে জানা যায়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প ফেজ-১, ২০১৭ সালের ২৪ অক্টোবর একনেকে অনুমোদন পায়। ২০১৯ সালের ১০ ডিসেম্বর প্রকল্পের প্রথম সংশোধিত ডিপিপি অনুমোদিত হয় ২১ হাজার ৩৯৯ কোটি টাকার। সরকারের অগ্রাধিকারমূলক এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল ২০২০ সালের ১৪ জানুয়ারি।

আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন স্থপতি রোহানি বাহারিনের করা নকশায় তৃতীয় টার্মিনাল ভবন নির্মাণ করছে জাপানের মিতসুবিশি ও ফুজিটা এবং দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং। যা এভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম নামে পরিচিত।

এর আগে গত ৭ অক্টোবর টার্মিনালটির আংশিক উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আগামী অক্টোবর থেকে তৃতীয় টার্মিনাল পুরোদমে চালুর পর বিমানবন্দরের সক্ষমতা বাড়বে আড়াই গুণ। বাড়বে উড়োজাহাজ ওঠা–নামা। বছরে যাত্রী চলাচল ৮০ লাখ থেকে বেড়ে দাঁড়াবে দুই কোটি ৪০ লাখে। হয়ে উঠবে ব্যস্ত বিমানবন্দর। বাড়বে আয়।

বেবিচক সূত্র জানায়, বর্তমানে শাহজালাল বিমানবন্দরে দুটি টার্মিনালে জায়গা রয়েছে এক লাখ বর্গমিটারের কিছু বেশি। তৃতীয় টার্মিনাল চালু হলে এর সঙ্গে যুক্ত হবে আরও দুই লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার জায়গা। তিনতলা টার্মিনাল ভবনে থাকছে ১১৫টি চেক-ইন কাউন্টার, ৬৪টি ডিপারচার ও ৬৪টি অ্যারাইভাল ইমিগ্রেশন ডেস্ক। নিরাপত্তা নিশ্চিতে থাকবে ২৭টি ব্যাগেজ স্ক্যানিং মেশিন, ৪০টি স্ক্যানিং মেশিন, ১২টি বোর্ডিং ব্রিজ, ১৬টি ক্যারোসেল ও ১১টি বডি স্ক্যানার।

তৃতীয় টার্মিনালে একসঙ্গে ৩৭টি উড়োজাহাজ পার্কিং করা যাবে। রানওয়েতে উড়োজাহাজের অপেক্ষা কমাতে নির্মাণ করা হয়েছে দু’টি হাইস্পিড ট্যাক্সিওয়ে। পণ্য আমদানি ও রপ্তানির জন্য নির্মাণ করা হয়েছে দু’টি ভবন। একসঙ্গে এক হাজার ৩৫০টি গাড়ি পার্কিংয়ের জন্য তিনতলা ভবনের নির্মাণকাজ প্রায় শেষ। তৃতীয় টার্মিনালের মোট ২৬টি বোর্ডিং ব্রিজের মধ্যে প্রথম ধাপে চালু হবে ১২টি। বর্হিগমনের জন্য মোট ১১৫টি চেক–ইন কাউন্টারের মধ্যে ১৫টি থাকবে সেলফ সার্ভিস চেক–ইন কাউন্টার। এছাড়া স্বয়ংক্রিয় পাসপোর্ট কন্ট্রোল কাউন্টারও থাকবে ১০টি।

বেবিচক জানায়, বর্তমানে শাহজালাল বিমানবন্দরে দেশি-বিদেশি ৩৬টি এয়ারলাইন্স প্রতিদিন গড়ে ১৫০টি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। তৃতীয় টার্মিনালকে ঘিরে ফ্লাইট বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সসহ দেশিয় বেসরকারি এয়ারলাইন্সগুলো। আগ্রহ দেখাচ্ছে বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোও।

প্রকল্প থেকে জানা যায়, তৃতীয় টার্মিনাল ভবনকে মেট্রোরেল ও ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সঙ্গে সংযোগ করতে পাতালপথ ও উড়ালসড়ক থাকবে। স্বতন্ত্র কোনো ভিভিআইপি টার্মিনাল না থাকলেও টার্মিনাল ভবনের দক্ষিণ পাশে সর্বাধুনিক সুবিধাসম্পন্ন জায়গা থাকবে।


ঢাকায় চার হাসপাতালে র‍্যাবের অভিযানে আটক ৩৬

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৫:৫০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের তিনটি সরকারি হাসপাতালসহ চারটি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে নেওয়ার সময় ৩৬ জন দালালকে আটকের কথা জানিয়েছেন র‍্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত ২-এর চারটি দল পৃথকভাবে এসব অভিযান পরিচালনা করেন।

আজ বুধবার সকাল ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত চলা পৃথক অভিযানে তাঁদের আটক করা হয়। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন র‌্যাব সদর দপ্তরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাজহারুল ইসলাম।

এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন অভিযান তদারকি কর্মকর্তা র‍্যাব-২-এর উপ-অধিনায়ক মেজর নাজমুল্লাহিল ওয়াদুদ। তিনি বলেন, দালালেরা সরকারি হাসপাতাল থেকে তাঁদের কমিশনভিত্তিক ক্লিনিক ও বেসরকারি হাসপাতালে রোগী ভাগিয়ে নিচ্ছেন। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে র‍্যাব-২-এর ভ্রাম্যমাণ আদালত সেখানে অভিযান চালান। এ সময় সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে নেওয়ার সময় ১৭ জন, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল থেকে ১২, আগারগাঁওয়ের শিশু হাসপাতাল থেকে ৪ ও পঙ্গু হাসপাতাল থেকে ৩ জনকে আটক করা হয়।

মেজর মোহাম্মদ নাজমুল্লাহেল ওয়াদুদ বলেন, সরকারি হাসপাতাল থেকে রোগী ভাগিয়ে বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে। দালালদের দৌরাত্ম্য বেড়েছে। পাশাপাশি ওষুধের প্রেসক্রিপশন নিয়ে রোগী ও তাদের স্বজনদের বিরক্ত করা হচ্ছে। রোগী ও তাদের স্বজনদের মিথ্যা তথ্য দিয়ে সরকারি হাসপাতাল থেকে বের করে বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে বেশি বিল করে কমিশন বাণিজ্য করা হচ্ছে। পাশাপাশি সকল ধরনের টেস্ট সরকারি হাসপাতালে হলেও দালাল ও কিছু অসাধু কর্মচারীর যোগসাজশে সেসব করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, শেরে বাংলা নগর এলাকার শিশু হাসপাতাল, পঙ্গু হাসপাতাল, হৃদরোগ ইন্সটিটিউট ও সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একযোগে অভিযান চালানো হয়।


মাদক খাওয়ার প্রমাণ মিললে চাকরিও যাবে, মামলাও হবে: আইজিপি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আমাদের কোনো সদস্য যদি মাদকের সঙ্গে জড়িত থাকে তাহলে সাধারণ মানুষের চেয়েও বেশি ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সাধারণ মানুষের সঙ্গে মাদকের সংশ্লিষ্টতা থাকলে শুধু মামলা দেওয়া হয়। আর পুলিশ সদস্যদের শুধু মাদক খাওয়ার প্রমাণ মিললে চাকরি থাকবে না। চাকরিও যাবে সঙ্গে মামলাও হবে। পুলিশ সদস্যদের হাতে মাদক থাকলেই চাকরি থাকবে না বলেও জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন।

আজ বুধবার দুপুরে পুলিশ সপ্তাহের দ্বিতীয় দিনে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের প্যারেড গ্র্যাউন্ডে ‘আইজিপি’স এক্সেমপ্ল্যারি গুড সার্ভিসেস ব্যাজ (আইজি’জ ব্যাজ) ও বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে বিজয়ী ইউনিটদের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

আইজিপি বলেন, ‘নিয়োগের সময় আমরা প্রতিটি সদস্যকে ডোপ টেস্টের মাধ্যমে নিয়োগ দিয়ে থাকি। যারা মাদকাসক্ত তাদেরকে সতর্ক করে দিচ্ছি, মাদকাসক্ত হলে পুলিশে কেউ চাকরি পাবে না।’

পুলিশ প্রধান আরও বলেন, ‘মাদক ও দুর্নীতি সমাজের নীরব ঘাতক। মাদকবিরোধী অভিযানে বাংলাদেশ পুলিশ জয়ী হবে। জঙ্গি-সন্ত্রাস যেভাবে নিয়ন্ত্রণে এনেছে, যেভাবে মাদক নিয়ন্ত্রণেও সফল হতে হবে। এ বিষয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছি। জঙ্গি-মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি রয়েছে।’

‘পুলিশকে জনবান্ধব বাহিনী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে আমরা কাজ করছি। থানাকে প্রতিটি মানুষের আস্থা ও ভরসার কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠাত করতে চাই। যাতে সবাই নির্ভয়ে থানায় আসতে পারেন সেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং প্রতিনিয়ত মনিটরিং করা হচ্ছে।’-যোগ করে বলেন পুলিশ প্রধান।

তিনি বলেন, ‘বেশিরভাগ থানাতেই সিসিটিভি স্থাপন করা হয়েছে, যা রেঞ্জ ডিআইজি অফিস থেকে মনিটরিং করা হচ্ছে। পুলিশের প্রত্যেকটি সদস্য সেবা দিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। যে কোনো পরিস্থিতিতে নিজের জীবন দিয়ে পুলিশ সদস্যরা সেটি প্রমাণ করেছে।’

পুলিশ প্রধান আরও বলেন, ‘পুলিশের নিয়োগ ও পদোন্নতিতে স্বচ্ছতা সর্বক্ষেত্রে প্রশংশিত হচ্ছে। আমরা নিয়োগ প্রক্রিয়ার অধিকাংশ কাজ স্মার্ট পদ্ধতিতে সম্পন্ন করছি। ঘরে বসে আবেদন করতে পারছে, কোথায় পরীক্ষা সেটা জানতে পারছে, ফলাফলও ঘরে বসে পেয়ে যাচ্ছে। এরমধ্যে কোন দালাল বা ফরিয়া নেই। দেশবাসী এর সুফল ভোগ করছে।’

বাংলাদেশ পুলিশে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য এবার ৪৮৮ জন পুলিশ সদস্যকে ‘পুলিশ ফোর্স এক্সেমপ্লারি গুড সার্ভিস ব্যাজ-২০২৩ (আইজি'জ ব্যাজ)’ প্রদান করা হয়। আইজিপি তাদের ব্যাজ পরিয়ে দেন।

অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) ও প্যারেড উপকমিটির সভাপতি মো. কামরুল আহসান অনুষ্ঠানে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। এ সময় ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে উচ্চতায় নিতে নতুন ক্ষেত্র খুঁজতে হবে: দ্রৌপদী মুর্মু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বলেছেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে তরুণদের এগিয়ে আসার পাশাপাশি সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র খুঁজে বের করতে তরুণ অংশগ্রহণকারীদের প্রতি আহ্বান জানান। গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশের ১০০ সদস্যের ইয়ুথ ডেলিগেশনের সঙ্গে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

দ্রৌপদী মুর্মু বলেন, ভারতে ইয়ুথ ডেলিগেশনটির উপস্থিতি সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের স্থায়ী চেতনা প্রদর্শন করে যা ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ককে সংজ্ঞায়িত করে।

বাংলাদেশের ১০০ তরুণ গত ২৫ ফেব্রুয়ারি থেকে ভারত সফরে রয়েছেন। তারা আগামী ৪ মার্চ ঢাকায় ফিরবেন। বাংলাদেশ ইয়ুথ ডেলিগেশন প্রোগ্রাম ২০১২ সালে হাইকমিশন থেকে চালু করা হয়েছিল। এই বছর প্রোগ্রামটির নবমবারের মতো আয়োজন করা হয়েছে। বাংলাদেশ যুব প্রতিনিধিদলে তরুণ পেশাদার সাংবাদিক, ক্রীড়াবিদ, শিল্পী, ডাক্তার এবং প্রকৌশলীসহ অন্যান্যরা অংশ নিয়েছেন। ২০১২ সাল থেকে এই ইয়ুৃথ ডেলিগেশনে দেশের সম্ভাবনাময় তরুণরা এতে অংশ নিয়ে আসছে। ভারতের গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও নিদর্শন সমূহ বাংলাদেশের তরুণদের দেখিয়ে থাকে। যাতে করে আগামীর এই সম্ভাবনাময় তরুণরা ভারতের সম্পর্কে একটা ইতিবাচক দিক পোষণের পাশিাপাশি পারস্পরিক সম্পর্ক স্থাপনে ভূমিক রাখে।


৪৮৮ পুলিশ সদস্য আইজিপি ব্যাজ পেলেন 

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৩:২৭
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বর্ণাঢ্য আয়োজনে চলছে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৪। গতকাল মঙ্গলবার শুরু হওয়া পুলিশ সপ্তাহ চলবে আগামী ৩ মার্চ পর্যন্ত। এবারের পুলিশ সপ্তাহের মূল প্রতিপাদ্য-‘স্মার্ট পুলিশ, স্মার্ট দেশ; শান্তি প্রগতির বাংলাদেশ’। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রাজারবাগ পুলিশ লাইনস মাঠে বার্ষিক পুলিশ প্যারেডের মধ্য দিয়ে পুলিশ সপ্তাহ-২০২৪ উদ্বোধন করেন মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায়।

পুলিশ সপ্তাহে প্রশংসনীয় ও ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুলিশের ৪৮৮ কর্মকর্তা ও সদস্য পেয়েছেন ‘আইজিপি’স এক্সেমপ্ল্যারি গুড সার্ভিসেস ব্যাজ (আইজি’জ ব্যাজ)।

আজ বুধবার দুপুরে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসের প্যারেড গ্র্যাউন্ডে তাদের এ ব্যাজ পরিয়ে দেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। এসময় তিনি ব্যাজপ্রাপ্তদের হাতে সনদও তুলে দেন। এটি পুলিশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ পুরস্কার।

২৪ ফেব্রুয়ারি পুলিশ সদরদপ্তরের অতিরিক্ত ডিআইজি (কনফিডেন্সিয়াল) এ এফ এম আনজুমান কামাল এ-সংক্রান্ত এক পত্রে জানানো হয়-২০২৩ সালে প্রশংসনীয় ও ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ৪৮৮ জন পুলিশ সদস্য দ্বিতীয় মর্যাদাপূর্ণ এ ব্যাজ পাবেন।

তিনি পুলিশের বিভিন্ন কন্টিনজেন্ট ও পতাকাবাহী দলের সুশৃঙ্খল ও দৃষ্টিনন্দন বর্ণিল প্যারেড পরিদর্শন এবং অভিবাদন গ্রহণ করেন। পরে তিনি পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে দিক-নির্দেশনামূলক ভাষণ দেন।

পুলিশ সপ্তাহের উদ্বোধনী দিনে প্রধানমন্ত্রী পুলিশ সদস্যদের কল্যাণ প্যারেডে অংশ নেন। এরপর ২০২২ সালের ১ ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত কৃতিত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ মোট ৪০০ জন পুলিশ সদস্যকে বিপিএম ও পিপিএম পদক তুলে দেন।


আজ সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের শপথ

ছবি: সংরক্ষিত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আজ বুধবার সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিত ৫০ জন সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদ ভবনের নিচতলায় শপথ কক্ষে বিকেল সাড়ে ৩টায় তাদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী। এসময় সেখানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

সংসদ সচিবালয় জানায়, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের জন্য ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সংসদ সচিবালয়। প্রথমে সরকারি দল আওয়ামী লীগ মনোনীত ৪৮ জন ও পরে বিরোধী দল জাতীয় পার্টি মনোনীত দুই জন সংসদ সদস্য শপথ নেবেন।

শপথ গ্রহণ শেষে তারা শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করবেন এবং পরে তারা বিকেল পৌনে ৫টায় সংসদ অধিবেশনে যোগ দেবেন বলে জানা গেছে।

এদিকে, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্যরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। গত রোববার মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিনে সংরক্ষিত নারী আসনে কোনো প্রার্থীই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার না করায়, নির্বাচন কমিশন সকলকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করে। গতকাল মঙ্গলবার নির্বাচনী ফলাফলের গেজেট প্রকাশ করা হয়।


মেলার শেষ সময়ে বই বিক্রির হিড়িক

ছবি: ফোকাস বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ

মাসব্যাপী চলছে বাঙালির প্রাণের মেলা অমর একুশে বইমেলা। প্রায় শেষ প্রান্তে চলে এসেছে এবারের মেলা। শেষ সময়ে এসে বইপ্রেমীদের মনে বিদায়ের সুর বাজতে শুরু করেছে। এই সময়ে ক্রেতাদের ভিড়ে মেলা প্রাঙ্গণ বেশ জমজমাট হয়ে উঠেছে।

রাজধানীর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী অমর একুশে বইমেলার। তবে বইয়ের দোকান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বেশি হওয়ায় এই অংশেই দর্শনার্থীদের বেশি ভিড় দেখা যায়।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে মেলায় বেশ ভিড় লক্ষ করা যায়। মেলায় ক্রেতারা আসছেন, দেখছেন ও বই কিনছেন। তবে অনেক দর্শনার্থীর মেলাপ্রাঙ্গণে আড্ডায় মেতে থাকতে দেখা যায়। শেষের দিকে এসে জমে উঠেছে বইমেলা। বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতেই মেলায় বইপ্রেমীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। এদিন লোকে-লোকারণ্য হয়ে উঠেছে মেলা প্রাঙ্গণ। বিভিন্ন বয়সের মানুষের হাতেই ছিল বইয়ের ব্যাগ। অন্যান্য দিনের মতো বেশি ভিড় দেখা যায় মেলার শিশু কর্নার ও স্টলগুলোতে।

বাতিঘর, মাওলা ব্রাদার্স, কথা প্রকাশ, ঐতিহ্য, অন্যপ্রকাশ, আগামী প্রকাশনীসহ অধিকাংশ স্টল ও প্যাভিলিয়নে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। ছোট প্রকাশনীগুলোতেও ছিল প্রচুর মানুষের সমাগম।

মেলায় কেউ আসছেন পরিবার-পরিজন নিয়ে, কেউবা আসছেন বন্ধুদের সঙ্গে। রীতিমতো লাইন ধরে বইমেলায় প্রবেশ করছেন দর্শনার্থীরা। বইয়ের স্টলগুলোতে রয়েছে চোখে পড়ার মতো ভিড়। এতে করে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয় শ্রেণির মানুষই খুশি।

তাম্রলিপি প্রকাশনীতে তাশফিকালের লেখা ‘সামিনব্বই দশকের ভালোবাসা’ বইটি কিনছিলেন ফৌজিয়া আফিয়া। তিনি বলেন, ‘প্রথম বইমেলায় এসেছি। যদিও শেষ সময় তবুও ইচ্ছা আছে বেশ কয়েকটা বই কেনার।’

শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ছোট গল্পের বই বিক্রি করা হচ্ছে ভাষাপ্রকাশ প্রকাশনীতে। বইটি কিনছিলেন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির ছাত্রী রাহি বুশরা। তিনি বলেন, ‘ছোট ভাইকে উপহার দেওয়ার জন্যই বইটি কিনলাম।’

অনন্যা প্রকাশনের সর্বাধিক বিক্রিত বই হুমায়ূন আহমেদের হিমু সমগ্র। স্মিতা দেবনাথ নামে এক চাকরিজীবী কেনেন বইটি। তিনি বলেন, হুমায়ূন আহমেদ স্যার চির যৌবনা। স্যারের বই সংগ্রহে রাখার জন্যই কেনা।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে বন্ধুদের সঙ্গে মেলায় এসেছেন রাজউক উত্তরা মডেল কলেজের ছাত্র জুবায়ের হোসেন শান্ত। তিনি বলেন, ‘এবার মেলায় এর আগে দুই দিন এসেছি। তবে খুব বেশি বই কেনা হয়নি। আমরা এবার সব বন্ধুরা একসঙ্গে মেলায় এসেছি। সবাই-সবাইকে একটি করে বই উপহার দিয়েছি। এ ছাড়া সবাই নিজেদের পছন্দের বইগুলোও কিনেছি।’

ঢাকা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী তরিকুল ইসলাম এ বছর প্রথমবারের মতো মেলায় এসেছেন। তিনি বলেন, ‘দিনের বেশির ভাগ সময় টিউশনি করে সময় পার হয়ে যায়। ফলে এবারের মেলায় আসা হয়নি। এ জন্য সকালে একটি টিউশনি করার পর বাকি দুটি থেকে ছুটি নিয়ে মেলায় এসেছি।’

মাওলা ব্রাদার্সের বিক্রয়কর্মী রুহুল সরকার বলেন, ‘মেলা প্রায় শেষের দিকে। বেশ কয়েক দিন ধরে মেলায় মানুষের উপস্থিতি আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। এ কারণে আমাদের বিক্রিও বেড়েছে।’

অন্যপ্রকাশের বিক্রয়কর্মী আশিক মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের প্রকাশনী থেকে নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের বেশির ভাগ বই ছাপানো হয়। এ জন্য আমাদের স্টলে হুমায়ূনপ্রেমীদের ভিড় সব সময় একটু বেশিই থাকে, বিক্রিও হয় অনেক।’

পাঞ্জেরী প্রকাশনীর বিক্রেতা অনামিকা শিকদার জানান, ‘আমাদের এখানে প্রতিদিন প্রায় ৩০০ বই বিক্রি হচ্ছে। আগে যেখানে ৫০ হাজার টাকার বই বিক্রি হতো, সেখানে এখন লাখ ছুঁইছুঁই অবস্থা। বিক্রি বেশ ভালোই চলছে।’

অনুপম প্রকাশনীর প্রকাশক মিলন কান্তি নাথ বলেন, ‘শেষ সময়ে ক্রেতা বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। সব সময় এমনটাই হয়ে আসছে। বিক্রি নিয়ে আমাদের সন্তুষ্টির কিছু নেই। কেননা, বইয়ের বিক্রি সংখ্যা কিন্তু তেমন নয়। আমরা যতটা আশা করছি বা সবাই যা ভাবছে, বাস্তবে তা হচ্ছে না।’

শব্দশৈলীর প্রকাশক ইফতেখার আমীন বলেন, ‘সারা বছর যে বই আমরা বিক্রি করি তার একটা বড় অংশই মেলায় বিক্রি হয়। আর সেই বিক্রিটাই হয় মেলার শেষ সময়ে। স্বভাবতই আমরা খুব ব্যস্ত সময় পার করছি। তবে আমরা এতটাও সন্তুষ্ট হতে পারিনি। আশা করছি, শেষ দুই দিন বেচাকেনা ভালো হবে।’

হুমায়ুন আজাদকে স্মরণ

বহুমাত্রিক লেখক হুমায়ুন আজাদের ওপর সন্ত্রাসী হামলার বার্ষিকীতে আজ বিকেল ৫টায় হুমায়ুন আজাদ দিবস পালন উপলক্ষে লেখক-পাঠক ফোরামের উদ্যোগে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে বইমেলার তথ্যকেন্দ্রের সামনে স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।

প্রকাশক ওসমান গনির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা। এতে বক্তব্য দেন কবি মোহন রায়হান, কবি আসলাম সানী, প্রকাশক মাজহারুল ইসলাম।

বক্তারা বলেন, হুমায়ুন আজাদের হত্যাচেষ্টার বিচার অবিলম্বে বাস্তবায়ন এবং তার আদর্শে মৌলবাদ-জঙ্গিবাদ এবং সাম্প্রদায়িকতামুক্ত সমাজ-রাষ্ট্র গঠনের মাধ্যমেই তাকে যথাযোগ্য মর্যাদায় স্মরণ করা হয়।

আগামীকালকের বইমেলা

অমর একুশে বইমেলার ২৮তম দিন বুধবার মেলা শুরু হবে বিকেল ৩টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে স্মরণ: মুনীর চৌধুরী এবং স্মরণ: হুমায়ুন আজাদ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন যথাক্রমে ফিরোজা ইয়াসমীন ও হাকিম আরিফ। আলোচনায় অংশ নেবেন আবদুস সেলিম, ইউসুফ হাসান অর্ক, ওসমান গনি ও মৌলি আজাদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন নাট্যজন ফেরদৌসী মজুমদার।


বিটিআরসির কমিশনার ও টেলিটকের এমডিসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে জাইকার সহজ শর্তে ৫২১ কোটি ৭৯ লাখ ৬০ হাজার টাকার ঋণ থেকে সরকারকে বঞ্চিত করার অভিযোগে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কমিশনার এবং বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড ও টেলিটকের এমডিসহ আট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

আজ মঙ্গলবার দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ জয়নাল আবেদীন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) আকতারুল ইসলাম।

মামলার আসামিরা হলেন- বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের কমিশনার আমিনুল হাসান, বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিটিসিএলের সাবেক পরিচালক-১ মশিউর রহমান, টেলিটকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহাব উদ্দিন, বিটিসিএলের সাবেক ডিই-৫ মো. আতাউর রহমান, সাবেক পরিচালক মাকসুদুর রহমান আকন্দ, জি এম অশোক কুমার মণ্ডল, সাবেক এমডি মাহফুজ উদ্দিন আহমদ এবং বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (চালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ) আজম আলী।
মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯, ৪২০, ৪৬৮, ৪৭১, ৫১১, ১০৯ ধারা এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন না করে সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট (টিএনডি) প্রজেক্ট টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সর্বনিম্ন দরদাতাকে বাদ দিয়ে নিজেদের পছন্দের ঠিকাদারকে কাজ পাইয়ে দেওয়ার অসৎ উদ্দেশে কাজ করেছেন। সেটা করতে গিয়ে তারা প্রাক-যোগ্যতা মূল্যায়নের নির্ণায়ক পরিবর্তন, মূল দরপত্র আহ্বানের দুই মাস পর প্রাক্কলন নির্ধারণসহ ক্রয় আইন-বিধি ও জাইকার গাইডলাইন অনুসরণ না করে অহেতুক সময় ক্ষেপণ করেন।

যে কারণে দশমিক ১ শতাংশ হারে সহজ শর্তের সুদে ৫২১ কোটি ৭৯ লাখ ৬০ হাজার টাকা ঋণ দিতে দাতা সংস্থা জাইকা আগ্রহ হারিয়ে ২০১৫ সালের ৭ মে তা ফেরত নেয়। এর মাধ্যমে দেশকে বড় একটি ঋণসুবিধা থেকে বঞ্চিত এবং দেশের আর্থিক ক্ষতিসাধন করা হয়েছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।


বায়তুল মোকাররমে বিক্ষোভ-মিছিল নিষিদ্ধের নির্দেশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররম এলাকায় রাজনৈতিক মিছিল, সভা, সমাবেশ, বিক্ষোভ নিষিদ্ধে পদক্ষেপ নিতে সরকারকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। মঙ্গলবার বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

বায়তুল মোকাররমের সামনে রাজনৈতিক মিছিল, সভা, সমাবেশ, বিক্ষোভ নিষিদ্ধ চেয়ে হাইকোর্টে আবদুল্লাহ আল মামুনের (কৌশিক) পক্ষে একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন ব্যারিস্টার মো. সানোয়ার হোসেন। এ বিষয়ে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে ধর্ম মন্ত্রণালয়, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ডিএমপি কমিশনারকে নিষ্পত্তির জন্য আদেশ দেওয়া হয়েছে।

রিট পিটিশনে উল্লেখ করা হয়, বায়তুল মোকাররম ইসলামিক ফাউন্ডেশন নিয়ন্ত্রণাধীন। ১৯৭৫ সালের ২৮ মার্চ থেকে মসজিদটি রক্ষণাবেক্ষণ করে আসছে এটি। ধর্ম মন্ত্রণালয় আওতাধীন প্রতিষ্ঠান ইসলামিক ফাউন্ডেশন। জাতীয় মসজিদে একসঙ্গে ৪০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন।

বিগত কয়েক বছর ধরে সাধারণ দিনসহ প্রায় প্রতি শুক্রবার বায়তুল মোকাররম এলাকায় জুমার নামাজের পর বিভিন্ন ইসলামিক রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের ব্যানারে সভা, সমাবেশ, মিছিল, বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।

সেসবে অংশগ্রহণের জন্য আগত ব্যক্তিরা নামাজ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মসজিদের ভেতর থেকেই স্লোগান দিয়ে একযোগে মসজিদ-সংলগ্ন সিঁড়ির ওপর অবস্থান গ্রহণ করেন। এ রকম হুড়াহুড়িতে মসজিদে আসা সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা আতঙ্ক বোধ করেন এবং নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। ফলে নির্বিঘ্নে নামাজ আদায়ে বাধাগ্রস্ত হন তারা।

অনেক ক্ষেত্রে বায়তুল মোকাররমের বাইরে বিক্ষোভের সময় বিক্ষোভকারীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। ফলে অনেকে আহত ও নিহত হন। সেই সঙ্গে সাধারণ মানুষের সম্পত্তি ধ্বংস হয়। ২০২১ সালের ২৬ মার্চ এরূপ সংঘর্ষে ব্যাপক জানমালের ক্ষতি হয়।

সংবিধানের ৪১ (১) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে- আইন, জনশৃঙ্খলা ও নৈতিকতা সাপেক্ষ, (ক) প্রত্যেক নাগরিকের যেকোনও ধর্ম অবলম্বন, পালন বা প্রচারের অধিকার রহিয়াছে; (খ) প্রত্যেক ধর্মীয় সম্প্রদায় ও উপ- সম্প্রদায়ের নিজস্ব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের স্থাপন, রক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার অধিকার রয়েছে।

বায়তুল মোকাররমে নিয়মিত সংঘর্ষের ফলে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা জুমাসহ নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে গিয়ে ভয়ে আতঙ্কিত থাকেন, যা সংবিধানের ৪১ অনুচ্ছেদ পরিপন্থি। মসজিদ কোনো রাজনৈতিক দলের দলীয় কার্যালয় নয়, মুসলিম ধর্মপ্রাণ মানুষের ইবাদতের স্থান।

এসব বিস্তারিত উল্লেখ করে রিটকারী ইসলামিক ফাউন্ডেশন, ধর্ম মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পুলিশ কমিশনার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশকে বায়তুল মোকাররম এবং সংলগ্ন এলাকায় সব ধরনের বিক্ষোভ, সভা, সমাবেশ, মিছিল নিষিদ্ধ করার আদেশ দেওয়ার জন্য আবেদন করেন। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিপক্ষরা কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় এ রিট পিটিশন দায়ের করা হয়।

কোনো মসজিদ রাজনৈতিক দলের দলীয় কার্যালয় নয়, মুসলিম ধর্মপ্রাণ মানুষের ইবাদতের স্থান। তাই এ রিট পিটিশনে প্রার্থনা করা হয়, বায়তুল মোকাররমসহ অন্যান্য সব মসজিদ ও সংলগ্ন এলাকায় সবরকম সভা, সমাবেশ, মিছিল, বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হোক।

বিষয়:

৫ বছরে ৬০ লাখ কর্মী বিদেশে পাঠাতে চায় সরকার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী পাঁচ বছরে ৬০ লাখ কর্মীকে বিদেশে পাঠানোর কর্মপরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে আওয়ামী লীগের সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরীর এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

শফিকুর রহমান চৌধুরী বলেন, বিদেশে কর্মী পাঠানো একটি চলমান প্রক্রিয়া। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দূরদৃষ্টি এবং সঠিক ও সময়োপযোগী কূটনৈতিক তৎপরতায় স্বাধীনতার পরপরই বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য অভিবাসন এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছিল।

তার ধারাবাহিকতায় ৬ হাজার ৮৭ জন কর্মী পাঠানোর মধ্যে দিয়ে বৈদেশিক কর্মসংস্থানের যাত্রা শুরু হয়। সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের ফলে বিদেশে কর্মী পাঠানো উত্তরোত্তর।

২০২২ সালে ১১ লাখ ৩৫ হাজার ৮৭৩ জন কর্মী কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে যান। ২০২৩ সালে এ সংখ্যা ১৩ লাখ ৫ হাজার ৪৫৩ জনে উন্নীত হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে ৬০ লাখ কর্মী বিদেশে পাঠানোর কর্মপরিকল্পনা রয়েছে।


উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল রোজার মধ্যে: ইসি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ষষ্ঠ উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের তফসিল রোজার মধ্যেই ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ। মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।

ইসি সচিব বলেন, ইতোমধ্যে কমিশন চার ধাপে উপজেলা নির্বাচনের তালিকা প্রকাশ করেছে। নির্বাচনের তফসিল দিতে ৪০ থেকে ৪২ দিন সময় লাগে। এ ক্ষেত্রে রোজার মধ্যেই তফসিল ঘোষণা হবে। সেটা পরবর্তী কমিশন সভায় নির্ধারণ করা হবে।

ইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ৪ মে প্রথম ধাপে ১৫৩টি, ১১ মে দ্বিতীয় ধাপে ১৬৫টি, ১৮ মে তৃতীয় ধাপে ১১১টি ও চতুর্থ ধাপে ২৫ মে ৫২টি; মোট ৪৮১টি উপজেলায় ভোটগ্রহণ করা হবে।

দেশে বর্তমানে ৪৯৫টি উপজেলা রয়েছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) বিষয়ে অশোক কুমার বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় প্রকল্প যেহেতু পাস হয়নি, তাই ইভিএমগুলোর মধ্যে যেগুলো ভালো আছে সেগুলো দিয়ে যতগুলো উপজেলায় ভোট করা সম্ভব, সেগুলোতে করার সিদ্ধান্ত হবে।

৯ মার্চ স্থানীয় সরকারের নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে তিনি বলেন, ২৩৩টি নির্বাচন হলেও বড় নির্বাচন মাত্র কয়েকটি। সেগুলোতে আচরণবিধি যথাযথ পালনের জন্য অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হবে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হচ্ছে স্থানীয় প্রশাসনের চাহিদা অনুযায়ী।


সংরক্ষিত ৫০ নারী এমপির গেজেট প্রকাশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দ্বাদশ জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনে বিজয়ীদের চূড়ান্ত তালিকার গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশন বিজয়ীদের নাম ঘোষণার গেজেট প্রকাশ করে।

নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা (যুগ্ম সচিব) মুনিরুজ্জামান তালুকদার জানান, দ্বাদশ জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন উপলক্ষে মনোনয়নপত্র দাখিলের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ/জোটের মনোনীত ৪৮ জন এবং জাতীয় পার্টি মনোনীত দুইজন অর্থাৎ মোট ৫০ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

তিনি আরও জানান, দাখিল করা মনোনয়নপত্রসমূহ পূর্ব ঘোষিত সময়সূচি অনুসারে বাছাইপূর্বক ৫০ প্রার্থীর মনোনয়নপত্রই বৈধ ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময় ২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কোনো প্রার্থী প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। ফলে জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত নারী আসন) নির্বাচন আইন, ২০০৪ এর ধারা ১২ এর উপধারা (১) অনুসারে প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হলো।

সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামী লীগের এমপিরা হলেন- ১. রেজিয়া ইসলাম (পঞ্চগড়), ২. দ্রৌপদী দেবি আগরওয়াল (ঠাকুরগাঁও), ৩. আশিকা সুলতানা (নীলফামারী) ৪. রোকেয়া সুলতানা (জয়পুরহাট), ৫. কোহেরী কুদ্দুস মুক্তি (নাটোর), ৬. জারা জেবিন মাহবুব (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) ৭. রুনু রেজা (খুলনা) ৮. ফরিদা আক্তার বানু (বাগেরহাট) ৯. ফারজানা সুমি (বরগুনা) ১০. খালেদা বাহার বিউটি (ভোলা) ১১. ফরিদা ইয়াসমিন (নরসিংদী) ১২. উম্মে ফারজানা সাত্তার (ময়মনসিংহ) ১৩. নাদিরা বিনতে আমির (নেত্রকোনা) ১৪. মাহফুজা সুলতানা মলি (জয়পুরহাট) ১৫. পারভীন জামান কল্পনা (ঝিনাইদহ) ১৬. আরমা দত্ত (কুমিল্লা) ১৭. লায়লা পারভীন (সাতক্ষীরা) ১৮. মুন্নুজান সুফিয়ান (খুলনা) ১৯. বেদৌড়া আহমেদ সালাম (গোপালগঞ্জ) ২০. শবনম জাহান (ঢাকা) ২১. পারুল আক্তার (ঢাকা) ২২. সাবেরা বেগম (ঢাকা) ২৩. শাম্মী আহমেদ (বরিশাল) ২৪. নাহিদ ইজহার খান (ঢাকা) ২৫. ঝর্ণা আহসান (ফরিদপুর) ২৬. ফজিলাতুন নেছা ইন্দিরা (মুন্সীগঞ্জ) ২৭. সাহেদা তারেক দিপ্তী (ঢাকা) ২৮. অনিমা মুক্তি গোমেজ (ঢাকা) ২৯. শেখ আনার কলি পুতুল (ঢাকা) ৩০. মাসুদা সিদ্দিক রোজি (নরসিংদী) ৩১. তারানা হালিম (টাঙ্গাইল) ৩২. শামসুন নাহার (টাঙ্গাইল) ৩৩. মেহের আফরোজ চুমকি (গাজীপুর) ৩৪. অপরাজিতা হক (টাঙ্গাইল) ৩৫. হাসিনা বারী চৌধুরী (ঢাকা) ৩৬.নাজমা আক্তার (গোপালগঞ্জ) ৩৭. ফরিদুন্নাহার লাইলী (লক্ষ্মীপুর) ৩৮. আশরাফুন নেছা (লক্ষ্মীপুর) ৩৯. কানন আরা বেগম (নোয়াখালী) ৪০. শামীমা হারুন লুবনা (চট্টগ্রাম), ৪১. ফরিদা খানম (নোয়াখালী) ৪২. দিলারা ইউসুফ (চট্টগ্রাম) ৪৩. ডরথি তঞ্চঙ্গা (রাঙামাটি) ৪৪. সানজিদা খানম (ঢাকা) ৪৫. নাছিমা জামান ববি (রংপুর), ৪৬. নাজনীন নাহার রোশা (পটুয়াখালী) ৪৭. ওয়াসিকা আয়শা খান (চট্টগ্রাম) ৪৮. রুমা চক্রবর্তী (সিলেট)।

এদের মধ্যে কুমিল্লা থেকে নির্বাচিত আরমা দত্ত, ফজিলাতুন নেছা ইন্দিরা, সানজিদা খানম, মেহের আফরোজ চুমকি, ফরিদুন্নাহার লাইলীসহ কয়েকজন আগের মেয়াদেও সংসদ সদস্য ছিলেন। এছাড়া মুন্নুজান সুফিয়ান খুলনা-৩ আসন থেকে টানা তিনবার সরাসরি ভোটে বিজয়ী হলেও এবং সরকারের গত মেয়াদে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকলেও হাই কমান্ডের নির্দেশে এবার সরাসরি ভোটে অংশ নেননি। তার পুরস্কার হিসেবে এবার সংরক্ষিত আসনে সদস্য হয়েছেন তিনি। আর দুই মেয়াদ আগে সংরক্ষিত আসনের সদস্য হিসেবে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করলেও গত দুটি সংসদে ছিলেন না আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য তারানা হালিম। এবার তিনি সংরক্ষিত আসনে ফিরেছেন।

এছাড়াও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে থেকে সংরক্ষিত আসনে জায়গা পাওয়া অন্যরা হলেন স্বাস্থ্য সম্পাদক রোকেয়া সুলতানা, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য পারভীন জামান কল্পনা, আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে তার মনোনয়নপত্র দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাতিল হয় তবে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তাকে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানান ওই তফসিলের পর পরই বিদেশি নাগরিকত্ব প্রত্যাহারের কাগজ হাতে পেয়েছেন শাম্মী ), অর্থ সম্পাদক ওয়াসিকা আয়শা খান, শিক্ষা সম্পাদক শামসুন নাহার, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, কার্যনির্বাহী সদস্য সানজিদা খানম। দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে সরাসরি ভোটে পরাজিত হন সানজিদা খানম। তারই মতো সরাসরি ভোটে পরাজিত হয়ে সংরক্ষিত আসনে এমপি হয়েছেন মেহের আফরোজ চুমকি। আর সদ্য সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেছা ইন্দিরাকে মুন্সীগঞ্জ থেকে আবারও সংরক্ষিত আসনে সদস্য করা হয়েছে।

অন্যদিকে জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন দুজন এমপি। এরমধ্যে একাদশ সংসদের সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সালমা ইসলাম এবারও সংসদ সদস্য হয়েছেন। আর অপরজন জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান নুরুন নাহার।

প্রসঙ্গত,গত একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সরাসরি ভোটে ঢাকার নবাবগঞ্জ-দোহার আসন থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন সালমা ইসলাম। তবে দুবারই আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমানের কাছে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন তিনি। তবে দলে অবদান থাকায় দুবারই তাকে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য করে জাতীয় পার্টি। অপরজন নুরুন নাহার জাতীয় পার্টি থেকে ঠাকুরগাঁও এর একটি আসনে অংশ নিয়ে জামানত হারান। শুরুতে সংরক্ষিত এই আসনটিতে জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের স্ত্রী শেরিফা কাদেরের নাম শোনা গেলেও পরে দলের ভাইস চেয়ারম্যান নুরুন নাহারকেই প্রার্থী করে এমপি হিসেবে নির্বাচিত করে জাতীয় পার্টি।


রোহিঙ্গাদের জন্য জাপানের নতুন করে ৬৯ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য জাতিসংঘের তিনটি সংস্থাকে পৃথকভাবে ৬৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সহায়তা দিচ্ছে জাপান। এই অর্থের ২৭ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হবে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থাকে (আইওএম)। আর ২৭ মিলিয়ন পাবে জাতিসংঘ শিশু-বিষয়ক তহবিল (ইউনিসেফ)। অবশিষ্ট ১৫ মিলিয়ন ডলার পেতে যাচ্ছে ইউনাইটেড নেশন্স এনটিটি ফর জেন্ডার ইকুয়ালিটি অ্যান্ড দ্য এমপাওয়ারমেন্ট অব উইমেন বা ইউএন উইমেনের মাধ্যমে।

ঢাকায় জাপানের দূতাবাস পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। জাপান দূতাবাস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করা তিনটি সংস্থার কাছে গত সোমবার পৃথকভাবে অর্থ সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশে জাপানের রাষ্ট্রদূত আইওয়ামা কিমিনোরি। এর মধ্যে আইওএমকে দেওয়া ২৭ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ও স্থানীয় অধিবাসীদের জন্য পানি, পয়োনিষ্কাশন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা বা ওয়াশ; দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস; আশ্রয়ণ প্রকল্প ও অবকাঠামো উন্নয়নসহ পাঁচ ধরনের কার্যক্রমে। এর মাধ্যমে প্রায় পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা ও স্থানীয় অধিবাসী উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

ইউএন উইমেনকে দেওয়া ১৫ মিলিয়ন ডলার কক্সবাজারে দুর্যোগ প্রস্তুতির লক্ষ্যে দক্ষতা উন্নয়ন এবং বাকি ২৭ মিলিয়ন ডলার ইউনিসেফের মাধ্যমে কক্সবাজার ও ভাসানচরে ওয়াশ প্রকল্প, স্বাস্থ্য খাত ও পুষ্টি নিশ্চিতে ব্যয় হবে।

রাষ্ট্রদূত আইওয়ামা কিমিনোরি বলেন, এই সমন্বিত উদ্যোগের ফলে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনমান উন্নয়ন হবে বলে আমি আশাবাদী। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন এবং আইওএমের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাকে সহায়তায় জাপান কাজ করে যাবে।


banner close