বঙ্গোপসাগরে সুস্পষ্ট লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এটি আগামীকাল বৃহস্পতিবার নিম্নচাপে পরিণত হয়ে ঘূর্ণিঝড়ও হতে পারে। তবে নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেবে কি না তা স্পষ্ট হবে আগামীকাল। এটি বাংলাদেশের দিকে আসবে কি না তাও এখনো নিশ্চিত নয়। বুধবার সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেয়া আগামী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দক্ষিণ আন্দামান সাগর এলাকায় আছে লঘুচাপটি। এটি আরও ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশীদ বলেন, সুস্পষ্ট লঘুচাপটি আজ নিম্নচাপে রূপ নিতে পারে। এটি ঘূর্ণিঝড়েও পরিণত হতে পারে। নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিলে এর নাম হবে ‘মিগজাউম’। এটি মিয়ানমারের দেয়া নাম। আরব সাগর ও বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড়ের নাম দেয় বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার ঘূর্ণিঝড় সংক্রান্ত আঞ্চলিক সংস্থা এসকাপ। এ অঞ্চলের ১৩টি দেশের দেয়া নামের তালিকা থেকে পর্যায়ক্রমে নতুন ঘূর্ণিঝড়ের নাম ঠিক করা হয়।
বজলুর রশীদ আরো বলেন, এ ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশের দিকে আসবে কি না, তা বলা যাচ্ছে না। মনে করা হচ্ছে, এটি ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের দিকে আসতে পারে। আবার বাংলাদেশের দিকে আসার আশঙ্কাও আছে কিছুটা। বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়।
রাজধানীর উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল রুটের ৪৬টি পিলারে বিভিন্ন মাত্রায় ফাটল এবং ২৭টি বিয়ারিং প্যাড গুরুতর (ক্রিটিক্যাল) ত্রুটিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এসব ত্রুটি নিরূপণ ও মেরামতের কৌশল নির্ধারণে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়কে (বুয়েট) পরামর্শক হিসেবে নিয়োগসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এসব তথ্য জানান। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, অডিট কমিটির প্রতিবেদনে ৭৩০টি বিয়ারিং প্যাড ত্রুটিপূর্ণ পাওয়া গেলেও সবগুলো গুরুতর নয়। এর মধ্যে ৪৯৭টি ত্রুটি ‘মাইনর’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
২৯৭টি প্যাডের ত্রুটি মূলত স্থাপনের সময়কার ওয়ার্কম্যানশিপ-সংক্রান্ত।
মন্ত্রী বলেন, ‘শুধুমাত্র ২৭টি ত্রুটিপূর্ণ বিয়ারিং প্যাডকে ক্রিটিক্যাল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
’ একইসঙ্গে ৪৬টি পিয়ারে বিভিন্ন মাত্রায় ক্র্যাক বা ফাটল চিহ্নিত হওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত করেন তিনি।
যাত্রীদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে ডিএমটিসিএল গত ১৬ জুলাই ২০২৬ ‘সুপারিশ বাস্তবায়ন কমিটি’ গঠন করেছে। এরই মধ্যে ১০টি স্থানে স্টিল ব্র্যাকেট ও ২৭টি স্থানে বিয়ারিং প্যাডের সেটেলমেন্ট পরিমাপের জন্য ‘সেটেলমেন্ট মার্কার’ বসানো হয়েছে।
চিহ্নিত ২৭টি ক্রিটিক্যাল বিয়ারিং প্যাড আগামী ৩০ নভেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে প্রতিস্থাপনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া ৪৬টি পিলারের ফাটলের ঝুঁকি নিরূপণ ও মেরামতের কৌশল নির্ধারণে বুয়েটকে স্ট্রাকচারাল কনসালট্যান্ট হিসেবে নিয়োগ করা হচ্ছে।
ফাটল পরিমাপ ও পর্যবেক্ষণের জন্য ১০২টি স্থানে ‘স্ট্রাকচারাল ক্র্যাক গেজ’ বসানো হচ্ছে। আগামী ৩১ অক্টোবর ২০২৬-এর মধ্যে এ কাজ শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন এবং একটি সংক্ষিপ্ত তথ্যচিত্র অবলোকনকালে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। চোখে জল নিয়ে তিনি বলেন, "ফ্যাসিস্টদের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছি এবং গণতন্ত্র ফেরত পেয়েছি, কিন্তু মূল্য দিয়েছি অনেক বেশি। রাষ্ট্র কখনোই এই শহীদ ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের ঋণ শোধ করতে পারবে না। এ দেশে যেন আর কোনোদিন এ ধরনের মর্মান্তিক ও নিষ্ঠুর হত্যাযজ্ঞ না ঘটে।" এ সময় রাষ্ট্রপতির সহধর্মিণী রাহাত আরা বেগমও তার সঙ্গে ছিলেন।
বুধবার বেলা এগারোটার দিকে জাদুঘর প্রাঙ্গণে এসে পৌঁছান রাষ্ট্রপ্রধান। সেখানে তাকে অভ্যর্থনা জানান সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম এবং প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজিবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ-উর-রহমান। এ ছাড়া সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব, জাদুঘরের মহাপরিচালকসহ রাষ্ট্রপতির কার্যালয় ও মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা সেখানে উপস্থিত থেকে তাকে স্বাগত জানান।
সাধারণ দর্শনার্থীদের মতো টিকিট কেটে জাদুঘরের ভেতরে প্রবেশ করেন রাষ্ট্রপতি। এরপর ‘লংওয়াক-টু-ডেমোক্রেসি’ ওয়াকওয়ে ধরে হেঁটে তিনি একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধসহ দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নানা ঐতিহাসিক পর্যায় প্রত্যক্ষ করেন। বিগত দীর্ঘ ১৬ বছরের দুঃশাসনে প্রাণ হারানো ব্যক্তিদের স্মৃতির উদ্দেশে নির্মিত মেমোরিয়াল এবং আয়নাঘরের রেপ্লিকা ঘুরে দেখেন তিনি। এরপর গণ-অভ্যুত্থানের বীর শহীদ ও আহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে জাদুঘর চত্বরে একটি গাছের চারা রোপণ করেন রাষ্ট্রপতি বলে জানিয়েছে গণমাধ্যম।
পরিদর্শনের একপর্যায়ে তিনি বিডিআর হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের ঘটনা, বলপ্রয়োগে গুম ও নির্যাতনের নানা সামগ্রী প্রদর্শনী কক্ষ ঘুরে দেখেন। মুক্তিকামী শহীদদের স্মৃতিচিহ্ন, স্মারক ও ব্যক্তিগত চিঠি দেখে তিনি গভীরভাবে আবেগতাড়িত হন। একইসঙ্গে ছাত্র-জনতার উত্তাল আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত বিভিন্ন প্রদর্শনী ঘুরে দেখার পর জাদুঘরের মনসুন থিয়েটারে প্রামাণ্যচিত্র প্রত্যক্ষ করে অশ্রুসিক্ত হন তিনি। আনুষ্ঠানিক পরিদর্শন শেষে তিনি জাদুঘরের মন্তব্য বইয়ে স্বাক্ষর প্রদান করেন।
পরিদর্শন শেষে রাষ্ট্রপতি ব্যক্ত করেন, "জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে একটি গণতান্ত্রিক, ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন ও মানবিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা আমাদের সবার দায়িত্ব। ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ইতিহাস যথাযথভাবে তুলে ধরতে এ ধরনের স্মৃতি সংরক্ষণ ও জাদুঘরের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।"
রাষ্ট্রপ্রধান জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহত ও ক্ষতিগ্রস্তদের সার্বিক সুস্থতা ও সমৃদ্ধি কামনা করেন। এই ঐতিহাসিক আত্মত্যাগকে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও ন্যায়বিচারের লড়াইয়ে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় আখ্যা দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, "জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ও আত্মোৎসর্গকারী ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।" তিনি বীর শহীদদের অবদান ও আহতদের সাহসিকতাকে স্যালুট জানানোর পাশাপাশি তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন।
এ অনুষ্ঠানে জাদুঘর পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি, আবরার ইলিয়াস ও মীর মাহবুবুর রহমান স্নিগ্ধ উপস্থিত ছিলেন। পুরো পরিদর্শনকালে জাদুঘরের গবেষণাদলের প্রতিনিধি জুবায়ের ইবনে কামাল ও ফারহান মাসুদ বিভিন্ন প্রদর্শনী ও ঐতিহাসিক নথিপত্র সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে বিস্তারিত অবহিত করেন।
বিবাহ ও বিচ্ছেদ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম বন্ধের পাশাপাশি বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ ও তথ্য জালিয়াতি প্রতিহত করতে বিয়ে ও তালাক নিবন্ধনব্যবস্থাকে সম্পূর্ণ ডিজিটাল করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বুধবার সচিবালয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে এ তথ্য জানান আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এদিন আইন ও বিচার বিভাগের সঙ্গে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের ‘সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস: বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্প বাস্তবায়নে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়।
আইনমন্ত্রী জানান, নতুন এই কেন্দ্রীয় ডিজিটাল ব্যবস্থাটি সংশ্লিষ্ট অন্যান্য জাতীয় সার্ভারের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে, যার ফলে এক ক্লিকেই যে কারও বৈবাহিক সংক্রান্ত সঠিক তথ্য যাচাই করা সম্ভব হবে। এ উদ্যোগের কার্যকারিতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন সার্ভারের সঙ্গে তথ্যব্যবস্থা সংযুক্ত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রয়োজনীয় তথ্য সহজেই পাওয়া যাবে। বাল্যবিবাহ রোধ হবে, বহুবিবাহ রোধ হবে, পাশাপাশি জালিয়াতিও রোধ হবে।’ এ ছাড়া আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ভিসা আবেদনের সময় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বৈবাহিক তথ্যাদি দ্রুত ও নির্ভুলভাবে যাচাইয়েও এই প্ল্যাটফর্ম কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রকল্পের বাস্তবায়ন পরিকল্পনা তুলে ধরে জানানো হয়, প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ১০টি উপজেলায় পাইলট কার্যক্রম হিসেবে এই ডিজিটাল নিবন্ধন চালু করা হবে। পরীক্ষামূলক পর্যায়ের ফলাফল ও অভিজ্ঞতা পর্যালোচনা করে পরবর্তী সময়ে তা পর্যায়ক্রমে সারা দেশে সম্প্রসারণ করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে এ প্রকল্পে ব্র্যাককে অংশীদার করার কারণ ব্যাখ্যা করে মন্ত্রী স্পষ্ট করেন যে, সরকারের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতার জন্য নয়, বরং মাঠপর্যায়ে সংস্থাটির দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতাকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাতেই এ যৌথ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘ব্র্যাক তাদের প্রতিষ্ঠার পর থেকেই কাজ করছে। গত ৫৫ বছর ধরে প্রায় সারা বাংলাদেশের গ্রাসরুট পর্যায় পর্যন্ত নারীদের বৈবাহিক অবস্থান নিয়ে তারা কাজ করছে। তাদের একটি অভিজ্ঞতা আছে। আমরা তাদের কাছ থেকে আমাদের কাজিদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মসূচি নেব।’ তিনি আরও বলেন, ‘এটা সরকারের দুর্বলতার বিষয় নয়। আমরা শুধু তাদের দক্ষতা কাজে লাগাচ্ছি।’
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ক্রাইম বিভাগে নতুন উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে মুহম্মদ আবদুল ওয়াহাবকে। ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই পদায়নের বিষয়টি জানানো হয়।
মঙ্গলবার জারি করা ওই আদেশে উল্লেখ করা হয়, ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মুহম্মদ আবদুল ওয়াহাবকে ক্রাইম বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনারের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। জনস্বার্থে গৃহীত এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের পদবির আগে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’সহ কোনো সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সাধারণ অধিশাখা থেকে একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে।
পরিপত্রে বলা হয়েছে, সরকার, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের সঙ্গে দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাঁদের পদবির পূর্বে সম্মানসূচক শব্দ হিসেবে যথাক্রমে ‘মহামান্য’ ও ‘মাননীয়’ শব্দ লিখিতরূপে ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, সরকারের সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ এবং এর অধীন সব দপ্তরের দাপ্তরিক যোগাযোগ, নথিপত্র ও সারসংক্ষেপ প্রেরণের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের পদবির আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’ কিংবা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ লিখিতভাবে ব্যবহার করা যাবে না।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের পরিপত্রে বিষয়টিকে ‘অতীব গুরুত্বপূর্ণ’ উল্লেখ করে বলা হয়েছে, নির্দেশনাটি অনতিবিলম্বে কার্যকর হবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব তানিয়া আফরোজ স্বাক্ষরিত পরিপত্রটি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সব সিনিয়র সচিব ও সচিব, সব বিভাগীয় কমিশনার, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তা, সব জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।
পরিপত্রে সংশ্লিষ্ট সিনিয়র সচিব ও সচিবদের তাঁদের নিয়ন্ত্রণাধীন সব দপ্তর ও সংস্থাকে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
সরকারের দাপ্তরিক যোগাযোগ ও নথিপত্রে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদধারীদের সম্বোধনের ক্ষেত্রে অভিন্ন রীতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
সূত্র: বাসস
জাতীয় সংসদে উন্নয়ন প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বারবার বৃদ্ধির প্রবণতা বন্ধে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে তিনি প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা ও ব্যয় বাড়ার অন্তর্নিহিত কারণগুলো ব্যাখ্যা করেন এবং এসব সংকট নিরসনে সরকারের নেওয়া বহুমুখী পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে কালক্ষেপণ ও অতিরিক্ত ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে একক কোনো বিষয় দায়ী নয়। মূলত সঠিক সম্ভাব্যতা সমীক্ষার দুর্বলতা, ত্রুটিপূর্ণ ব্যয় প্রাক্কলন, জমি অধিগ্রহণ ও সেবা সংযোগ (ইউটিলিটি) স্থানান্তরে বিলম্ব, জটিল ক্রয় প্রক্রিয়া, সময়মতো প্রকল্প পরিচালক (পিডি) নিয়োগ না দেওয়া, মাঠপর্যায়ে দুর্বল তদারকি এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের অভাবের কারণে এসব জটিলতার সৃষ্টি হয়।
এসব সমস্যা দূর করে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে জানানো হয়, নতুন প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে যথাযথ সম্ভাব্যতা যাচাই বাধ্যতামূলক করার পাশাপাশি অনুমোদনের পরপরই বাস্তবায়ন প্রস্তুতি দ্রুত শেষ করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বিদ্যমান প্রকল্প নির্দেশিকা যুগোপযোগী করার কাজ চলছে। কাজের অগ্রগতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোতে ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড স্থাপন, নিয়মিত পর্যালোচনা সভা এবং মাঠপর্যায়ে নিবিড় তদারকি নিশ্চিতের তাগিদ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যেসব প্রকল্প যথাসময়ে শেষ হয়নি, সেগুলোর বিলম্বের কারণ ও অনিয়ম চিহ্নিত করে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
চলমান প্রকল্পগুলোর মধ্যে যেগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি ৩০ শতাংশের নিচে, সেগুলোর প্রায়োগিক উপযোগিতা বিবেচনা করে পুনর্বিন্যাস বা নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়াতে ই-জিপি (e-GP) ব্যবস্থার পরিধি সম্প্রসারণ এবং পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুল ২০২৫ হালনাগাদ করার উদ্যোগ চলমান রয়েছে। সেই সঙ্গে অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ, সমন্বিত গুচ্ছ প্রকল্প গ্রহণ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি) মডেলে জোর দিয়ে উন্নয়ন ব্যবস্থাপনায় স্থায়ী শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার।
চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলন চলাকালে একটি ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় আকস্মিক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুই জন সৈনিক নিহত এবং এক কর্মকর্তা গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে আইএসপিআর।
আইএসপিআর জানায়, আজ চট্টগ্রামের হাটহাজারী ফিল্ড ফায়ারিং রেঞ্জে ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলন চলাকালে একটি ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় আকস্মিক দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুই জন সৈনিক নিহত এবং এক জন কর্মকর্তা গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন।
আহত কর্মকর্তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে করে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল ঢাকায় স্থানান্তর করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পলিথিন ও প্লাস্টিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বন্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাকে এ নিয়ে যথাযথ দায়িত্ব পালনের নির্দেশনাও দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক পর্যালোচনা সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।
আজ বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব গাজী শাহরিয়ার পামির এ কথা জানান।
সভায় পরিবেশবান্ধব ব্লক ইটের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং বায়ু, পানি, মাটি ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাসহ পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মো. আব্দুস সালাম ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক) ড. সাইমুম পারভেজসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: বাসস
দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সম্পর্ক সুদৃঢ়করণ ও পারস্পরিক কৌশলগত অংশীদারিত্ব এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. একেএম শামছুল ইসলামের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার কার্যালয়ে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের সূচনাপর্বে উভয় প্রতিনিধি পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং পরবর্তী সময়ে দুই দেশের সামরিক ও নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট নানা গুরুত্বপূর্ণ দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এতে উভয় দেশের সশস্ত্র বাহিনীর পেশাগত উৎকর্ষ সাধনে যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন, সামরিক কর্মকর্তাদের অভিজ্ঞতা বিনিময়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, আঞ্চলিক শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং সমুদ্রসীমার নিরাপত্তার মতো কৌশলগত বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে।
আলোচনাকালে বাংলাদেশ সরকারের সাম্প্রতিক আর্থ-সামাজিক বিভিন্ন পদক্ষেপের ভূয়সী প্রশংসা করেন ভারতীয় হাইকমিশনার। তিনি বলেন, "ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে গভীর সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়।"
ভবিষ্যতেও উভয় দেশের সশস্ত্র বাহিনীর পেশাগত দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রগুলোতে একযোগে কাজ করে যাওয়ার বিষয়ে নয়াদিল্লির ধারাবাহিক অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন হাইকমিশনার। এছাড়া দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্ব সুসংহত রাখা, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং অভিন্ন বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় প্রতিবেশী দুই দেশের সমন্বিতভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় প্রকাশ করা হয়।
ডেঙ্গু সংক্রমণের হার কমাতে তিন মাসব্যাপী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক বিশেষ কর্মসূচিসহ একগুচ্ছ পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী দেশের সব জেলার সিভিল সার্জনদের নিয়ে বৈঠক করে নির্দেশনা দিয়েছেন।
চলতি সেপ্টেম্বর মাসের শেষে অথবা অক্টোবর মাসের শুরুতে দেশে ডেঙ্গু সংক্রমণের হার সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে। সেই আশঙ্কা থেকে সরকার তিন মাসব্যাপী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১২ সেপ্টেম্বর এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।
বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর চলতি বছরের মার্চ মাস থেকেই ডেঙ্গু প্রতিরোধের ওপর জোর দিয়েছে। সেই থেকে প্রতি শনিবার বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠান বা বাড়ি বাড়ি পরিদর্শন করে এডিস মশার লার্ভা শনাক্ত করার জন্য সরকার ভ্রাম্যমাণ আদালত গঠন করেছে।
উপজেলা হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু কর্নার স্থাপন করা হয়েছে। বেশি রোগীর চাপ সামাল দেওয়ার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মাঠে একটি ‘ফিল্ড হসপিটাল’ প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এছাড়াও ডেঙ্গুরোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে সারা দেশে প্রায় ৩০০ চিকিৎসককে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা বিনামূল্যে করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে ১০ শতাংশ শয্যায় বিনামূল্যে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা এবং রোগ নির্ণয় কেন্দ্রগুলোকে ডেঙ্গু ও ডেঙ্গু রোগ সংক্রান্ত পরীক্ষায় ৮০ শতাংশ ছাড় দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি বাংলাদেশ মেডিসিন সোসাইটির সহায়তায় ডেঙ্গু রোগের চিকিৎসার সমন্বিত গাইডলাইন হালনাগাদ করা হয়েছে।
একইসাথে পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতামূলক এ বিশেষ কর্মসূচিতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি স্কাউট, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি), গার্ল গাইডস, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবক এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
ডেঙ্গুর কারণে প্রতিদিন মৃত্যু ও হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় সকল সিভিল সার্জনকে হাসপাতালের প্রস্তুতি জোরদার রাখতে এবং জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন কার্যক্রম বাড়াতে জুম মিটিং করে নির্দেশনা দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া নির্দেশনার বিষয়ে সিভিল সার্জনদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, হাসপাতালে ভর্তির ক্ষেত্রে ডেঙ্গু রোগীদের অগ্রাধিকার দিতে এবং সক্ষমতা অনুযায়ী ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত শয্যা সংখ্যা বাড়াতে তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও সংক্রমণ বিস্তার রোধে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য এবং পার্শ্ববর্তী ওয়ার্ডের রোগীদের জন্যও মশারির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি স্যালাইন, ওষুধ এবং ডেঙ্গু শনাক্তকরণ কিটের কোনো ঘাটতি দেখা দিলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে নিজস্ব তহবিল থেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বাসস’কে জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা সারা দেশের সিভিল সার্জনদের সাথে জুম মিটিং করেছি। ডেঙ্গু রোগীদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভর্তি করা এবং হাসপাতালগুলোতে যেখানে সম্ভব ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে শয্যা সংকটের মুখে পড়তে না হয়।
তিনি বলেন, বর্তমানে হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট ও স্যালাইন মজুত রয়েছে। তবে ঘাটতি দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালের নিজস্ব বাজেট থেকে সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে।
ঢাকার সিভিল সার্জন ডা. জাকারিয়া মাহমুদ বাসস’কে বলেন, ইতোমধ্যে হাসপাতালগুলোতে স্যালাইন ও ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট বিতরণ করা হয়েছে। এসব উপকরণের কোনো ঘাটতি নেই।
তিনি বলেন, বৈঠকে আমাদের সব সময় সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে, যাতে কোনো সংকট তৈরি না হয়।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত ডেঙ্গুর সম্ভাব্য মহামারি ঠেকাতে এখন থেকেই সবাইকে নিজ নিজ কর্মস্থল ও বাসাবাড়ি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি দেশজুড়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধিসহ সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করতে সিভিল সার্জনদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, মসজিদের ইমামদের মাধ্যমে এবং স্কুল হেলথ কর্মসূচির আওতায় স্কুলগুলোতে সচেতনতামূলক কার্যক্রমের সমন্বয় করা হবে।
চলতি বছরের ২৩ জুন ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে জাতীয় কমিটির প্রথম সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। টাস্কফোর্সের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
টাস্কফোর্সের প্রধান কার্যপরিধির মধ্যে রয়েছে, জাতীয় কমিটির সিদ্ধান্ত মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা, প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয় করা এবং মাঠ পর্যায়ের অগ্রগতি নিয়মিতভাবে জাতীয় কমিটিকে অবহিত করা। বাস্তবায়নে কোনো সমস্যা দেখা দিলে তা নিরসনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে এই কমিটি।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের (ডিজিএইচএস) তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের শুরু থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৫ হাজার ৪৭৫ জন এবং এ সময়ে ১৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এদিকে ডেঙ্গু পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও যথাসময়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে রোগনিয়ন্ত্রণ শাখা (সিডিসি), রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর), এমআইএস ও হাসপাতাল শাখার পরিচালকদের নিয়ে একটি সেল গঠন করা হয়েছে।
সূত্র: বাসস
চলতি মাসের শেষ দিক থেকে আগামী মাসের শুরুর মধ্যে দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ চূড়ান্ত রূপ নিতে পারে বলে গভীর শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আঁচল ফাউন্ডেশন ও হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট সেন্টারের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে তিনি বলেন, "দেশব্যাপী গতকাল থেকেই ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। আমরা আশঙ্কা করছি চলতি সেপ্টেম্বরের শেষ সপ্তাহ এবং অক্টোবরের শুরুর দিকে দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে।"
রোগের বিস্তার রোধে দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক সচেতনতা ও সমন্বিত পদক্ষেপের ওপর জোর দিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, "ডেঙ্গু মোকাবিলায় তিন মাসব্যাপী জনসচেতনতামূলক অভিযান শুরু করা হবে। এতে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করা হবে। ঘরবাড়ি ও কর্মস্থল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার পাশাপাশি এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। সিটি করপোরেশন, স্থানীয় সরকার ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, জনসচেতনতা ও লার্ভা ধ্বংসের কার্যক্রম চালাবে।"
সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও প্রাণহানি কমিয়ে আনার কৌশল তুলে ধরে ডা. এম এ মুহিত বলেন, "ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকারের দুটি লক্ষ্য— আক্রান্তের সংখ্যা কমানো এবং মৃত্যুর হার কমানো। এ জন্য ইতোমধ্যে প্রায় তিন হাজার চিকিৎসককে ডেঙ্গু ব্যবস্থাপনা বিষয়ে রিফ্রেশার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।"
চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা ও হাসপাতালে জরুরি সামগ্রীর সরবরাহ নিশ্চিত রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, "ডেঙ্গুর পিক সময়ে হাসপাতালগুলোতে শয্যা, স্যালাইন ও পরীক্ষার কিটের সংকট এড়াতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বর্তমান রোগীর হার অনুযায়ী পর্যাপ্ত ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট ও স্যালাইন মজুত রয়েছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গুর জন্য নির্ধারিত শয্যাও চালু করা হয়েছে। রোগীর সংখ্যা বাড়লে প্রয়োজনে অন্যান্য শয্যা পুনর্বিন্যাস করে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হবে।"
পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেসরকারি চিকিৎসাসেবা খাতের সার্বিক প্রস্তুতি ও মানবিক দায়িত্বের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, "প্রয়োজন হলে বেসরকারি হাসপাতালগুলোকে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় ভূমিকা রাখতে হবে। একই সঙ্গে এ সময়ে অযৌক্তিকভাবে চিকিৎসা ব্যয় বাড়ানো যাবে না এবং হাসপাতালগুলোতে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য নির্ধারিত শয্যা রাখতে হবে।"
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির পদভার গ্রহণ করে বাংলাদেশ এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি এই কৃতজ্ঞতা জানানোর পাশাপাশি তাকে সমর্থন জানানো অন্য সকল সদস্যদেশের প্রতিনিধিদেরও আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।
দায়িত্ব নেওয়ার পর নতুন সভাপতি বিশ্বসংস্থায় পারস্পরিক আস্থা ফিরিয়ে আনা, সদস্যদেশসমূহের মধ্যে যৌথ সহযোগিতা ও সংলাপের বিস্তার ঘটানো এবং ভবিষ্যতের বহুবিধ সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘকে আরও কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলাকে নিজের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে ঘোষণা করেন।
এর আগে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক বহুপাক্ষিক কূটনীতি বর্তমানে এমন এক নজিরবিহীন প্রতিকূলতার মুখোমুখি, যা তার দীর্ঘ চার দশকের কর্মজীবনে আগে কখনো দেখা যায়নি। তবে এ সংকটের সমান্তরালে আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিকাশ সংস্থাটির জন্য নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও নতুন সুযোগের সদ্ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারস্পরিক অংশীদারিত্ব ও আলোচনাকেই তিনি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান।
ড. খলিলুর রহমান বলেন, সব সংকটের তাৎক্ষণিক কিংবা সহজ সমাধান সম্ভব নয়; কিছু জটিলতায় কাঙ্ক্ষিত ফলাফলের জন্য দীর্ঘমেয়াদি প্রচেষ্টা প্রয়োজন। তবে যেসব ক্ষেত্রে সদস্যদেশগুলোর অভিন্ন স্বার্থ জড়িত, সেসব ক্ষেত্র চিহ্নিত করে সম্মিলিতভাবে সমাধানের পথ অনুসন্ধান অব্যাহত রাখতে হবে। নিজের সভাপতিত্বে জাতিসংঘ সনদ এবং সদস্যরাষ্ট্রগুলোর দেওয়া ম্যান্ডেটের প্রতি অবিচল থাকার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে তিনি আশা প্রকাশ করেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ঐক্যবদ্ধ থাকলে যেকোনো বৈশ্বিক সংকট আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করা সম্ভব।
একই সঙ্গে তিনি জাতিসংঘের সার্বিক সংস্কার কার্যক্রম ত্বরান্বিত করার পাশাপাশি নাগরিক সমাজ, গণমাধ্যম, ব্যবসা ও শিল্প খাতের নেতৃত্ব, প্রযুক্তি উদ্ভাবক এবং শিক্ষাবিদদের কার্যক্রমে আরও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। জাতিসংঘ সনদের প্রারম্ভিক বাক্য ‘উই দ্য পিপলস অব দ্য ইউনাইটেড নেশনস’-এর উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, এই প্রতিষ্ঠান কেবল সরকারগুলোর মঞ্চ নয়, বরং এটি সাধারণ মানুষেরও বিশ্বমঞ্চ। কিন্তু সামগ্রিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনদের কণ্ঠস্বর যুক্ত করার ক্ষেত্রে এখনো ঘাটতি রয়ে গেছে।
সভাপতি পদের নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় তার ঘোষিত অঙ্গীকার ছিল ‘আস্থা পুনরুদ্ধার, রূপান্তর ব্যবস্থাপনা’। দায়িত্ব গ্রহণের পর এর সঙ্গে তিনি জাতিসংঘকে ‘ভবিষ্যতের উপযোগী’ করে গড়ে তোলার লক্ষ্যও যুক্ত করেছেন। তিনি এমন একটি বিশ্বমঞ্চ প্রতিষ্ঠা করতে চান, যার প্রতি সদস্যরাষ্ট্রগুলো পূর্ণ আস্থা ও স্বতঃস্ফূর্ত সমর্থন বজায় রাখতে পারে।
নাগরিকত্বহীন জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে রোহিঙ্গা সংকটের প্রসঙ্গ টেনে ড. খলিলুর রহমান স্পষ্ট করেন যে, জাতিসংঘের ‘পিপলস’ ধারণার পরিধিতে বিশ্বের প্রতিটি মানুষই অন্তর্ভুক্ত। অতীতে বাংলাদেশ সরকারের রোহিঙ্গা বিষয়ক উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি হিসেবে তাদের অবর্ণনীয় দুর্দশা অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে প্রত্যক্ষ করার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বিগত বছর এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন এবং জাতিসংঘের মহাসচিবের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনের বিষয়টিও উল্লেখ করেন। রোহিঙ্গাদের প্রধানতম চাওয়া নিজ দেশে নিরাপদ প্রত্যাবর্তন এবং জাতিসংঘে তাদের এই দাবি তুলে ধরার প্রয়াস অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।
সাধারণ পরিষদের আসন্ন উচ্চপর্যায়ের অধিবেশন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিশ্বনেতৃবৃন্দের জন্য অভিন্ন প্ল্যাটফর্মে সমবেত হয়ে আলোচনার অনুকূল পরিবেশ তৈরি করাই মূল বিষয়। শীর্ষ নেতাদের প্রতি তিনি সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি, উন্নয়ন ও মানবাধিকার সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করার আহ্বান জানাবেন। বিশ্বনেতাদের বক্তব্য থেকে অভিন্ন বিষয়গুলো চিহ্নিত করে একটি ‘কমন এজেন্ডা’ প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও তিনি অবহিত করেন।
পরবর্তী জাতিসংঘ মহাসচিব পদে কোনো নারী দায়িত্ব পাবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, মহাসচিব নির্বাচনের এখতিয়ার সাধারণ পরিষদ সভাপতির একক কর্তৃত্বাধীন নয়, বরং তা সদস্যরাষ্ট্রগুলোর যৌথ প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন হয়। সনদের বিধানমতে নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশক্রমে সাধারণ পরিষদ এ নিয়োগ চূড়ান্ত করে; ফলে তিনি সনদের বিধিমালার প্রতি সম্পূর্ণরূপে বিশ্বস্ত থাকবেন। পাশাপাশি সদস্যদেশসমূহ ও নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
দায়িত্ব গ্রহণের আনুষ্ঠানিকতায় ড. খলিলুর রহমান সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। শপথে তিনি অর্পিত দায়িত্বভার সম্পূর্ণ নিষ্ঠা, বিচক্ষণতা ও বিবেকের সঙ্গে পালনের অঙ্গীকার করেন। দায়িত্ব পালনে জাতিসংঘের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া এবং সংস্থাটির সনদ ও সভাপতির জন্য নির্ধারিত আচরণবিধি অক্ষরে অক্ষরে অনুসরণের প্রতিশ্রুতি দেন। একই সঙ্গে দায়িত্ব পালনকালে জাতিসংঘের বাইরে কোনো সরকার বা অন্য কোনো উৎস থেকে কোনো ধরনের নির্দেশনা গ্রহণ করবেন না বলেও তিনি দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেন।
দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র পাঁচ মাসে রেকর্ড ২০৪ কোটি ৭৬ লাখ (২.০৪৭ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ বাবদ পরিশোধ করেছে সরকার। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৫ হাজার ১৬৩ কোটি টাকা। বিগত সরকারের নেওয়া বিপুল অঙ্কের বিদেশি ঋণের কারণে বাড়তির চাপের মধ্যেও নিয়মিতভাবে এই দায় পরিশোধ করা হচ্ছে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কোনো নির্দিষ্ট পাঁচ মাসের ব্যবধানে বিদেশি ঋণ পরিশোধের ক্ষেত্রে এটিই এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড। গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ১৮৯ কোটি ৭১ লাখ ডলার (প্রায় ২৩ হাজার ৩১০ কোটি টাকা)। ফলে বছরের ব্যবধানে ঋণ পরিশোধ বেড়েছে ১৫ কোটি ৪ লাখ ডলার বা প্রায় ১ হাজার ৮৪৯ কোটি টাকা।
ইআরডির তথ্যমতে, চলতি বছরের মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত পাঁচ মাসে গড়ে প্রতি মাসে প্রায় ৪১ কোটি ডলার পরিশোধ করতে হয়েছে। এর মধ্যে ঋণের আসল বাবদ ১৩৫ কোটি ২৪ লাখ ডলার এবং সুদ বাবদ ৬৯ কোটি ৫২ লাখ ডলার দেওয়া হয়েছে।
ইআরডির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিগত কয়েক বছরে ঋণ পরিশোধের চাপ ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। ২০২২-২৩ অর্থবছরে যা ছিল ২৬৭ কোটি ডলার, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৩৩৭ কোটি এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা ৪০৯ কোটি ডলারে দাঁড়ায়। আর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে ৪৪৯ কোটি ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি।
ইআরডি কর্মকর্তারা জানান, আগের দেড় দশকে নেওয়া মেগা প্রকল্পগুলোর ‘গ্রেস পিরিয়ড’ বা অবকাশকাল শেষ হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে আসল ও সুদ একসঙ্গে পরিশোধের চাপ তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে সরকারের অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর জানান, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আগের সরকারের নেওয়া অনেক ঋণের নীতিগত ও অর্থনৈতিক যুক্তি সঠিক ছিল না। একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি পাওয়ার পরও বর্তমান সরকার আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের কাছে দেশের আর্থিক গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা বজায় রাখতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই বিপুল পরিমাণ দায় সামলে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার দেশি বা বিদেশি যেকোনো ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্ক কৌশল অবলম্বন করছে। এখন থেকে প্রকল্পের প্রকৃত প্রয়োজনীয়তা, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক রিটার্ন নিশ্চিত করা ছাড়া নতুন কোনো ঋণের দায় নেওয়া হবে না।