মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

মহান বিজয়ের মাস শুরু

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
১ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০০:০২
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০০:০২

আজ ১ ডিসেম্বর। শুরু হলো মহান বিজয়ের মাস। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামের এক ঐতিহাসিক ঘটনার মধ্য দিয়ে বাঙালি জাতির হাজার বছরের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বপ্নসাধ পূরণ হয় এ মাসেই। বাঙালি জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন মুক্তিযুদ্ধের অবিস্মরণীয় গৌরবদীপ্ত চূড়ান্ত বিজয় আসে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর। বিশ্বের মানচিত্রে জন্ম নেয় স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।

স্বাধীন জাতি হিসেবে বিশ্বে আত্মপরিচয় লাভ করে বাঙালিরা। অর্জন করে নিজস্ব ভূখণ্ড আর সবুজের বুকে লাল সূর্য খচিত নিজস্ব জাতীয় পতাকা। ভাষার ভিত্তিতে যে জাতীয়তাবাদ গড়ে উঠেছিল, এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর বিজয়ের মাধ্যমে ঘোষিত স্বাধীনতা পূর্ণতা পায় এ দিনে।

বাঙালির হাজার বছরের স্বপ্নপূরণ হওয়ার পাশাপাশি লাখ লাখ তাজা প্রাণ বিসর্জন আর মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে এই অর্জন হওয়ায় বেদনাবিধূর এক শোকগাথার মাসও এই ডিসেম্বর।

এ মাসেই স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার-আলবদর আল-শামসদের সহযোগিতায় হানাদার গোষ্ঠী দেশের মেধাবী, শ্রেষ্ঠ সন্তান-বুদ্ধিজীবী হত্যার নৃশংস হত্যাযজ্ঞে মেতে উঠেছিল। সমগ্র জাতিকে মেধাহীন করে দেয়ার এ ধরনের ঘৃণ্য হত্যাযজ্ঞের দ্বিতীয় কোনো নজির বিশ্বে নেই।

১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসের শুরু থেকেই মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা আক্রমণ আর ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত যৌথ বাহিনীর জল, স্থল আর আকাশপথে সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পরাজয়ের খবর চারদিক থেকে ভেসে আসতে থাকে। ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। যেখান থেকে ৭ মার্চ স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম,’ বলে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন, সেখানেই পরাজয়ের দলিলে স্বাক্ষর করেন পাকিস্তানি জেনারেল নিয়াজী। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। আর জাতি অর্জন করে হাজার বছরের স্বপ্নের স্বাধীনতা।

বঙ্গবন্ধু একাত্তরের ২৫ মার্চ রাতে পাক বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার আগে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন এবং তাঁর ডাকে বাঙালি জাতি ঐক্যবদ্ধভাবে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে। দীর্ঘ ৯ মাসের সশস্ত্র জনযুদ্ধে ১৬ ডিসেম্বর জাতির চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়।

৩০ লাখ শহীদ আর ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতার স্বাক্ষর এবারের বিজয়ের মাস নানা অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে পালিত হবে। মহান এ বিজয়ের মাস উদ্‌যাপনে জাতীয় কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কর্মসূচি নেয়া হয়েছে।


সংরক্ষিত ৫০ নারী এমপির গেজেট প্রকাশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দ্বাদশ জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনে বিজয়ীদের চূড়ান্ত তালিকার গেজেট প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। মঙ্গলবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশন বিজয়ীদের নাম ঘোষণার গেজেট প্রকাশ করে।

নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা (যুগ্ম সচিব) মুনিরুজ্জামান তালুকদার জানান, দ্বাদশ জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচন উপলক্ষে মনোনয়নপত্র দাখিলের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ/জোটের মনোনীত ৪৮ জন এবং জাতীয় পার্টি মনোনীত দুইজন অর্থাৎ মোট ৫০ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

তিনি আরও জানান, দাখিল করা মনোনয়নপত্রসমূহ পূর্ব ঘোষিত সময়সূচি অনুসারে বাছাইপূর্বক ৫০ প্রার্থীর মনোনয়নপত্রই বৈধ ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত সময়সূচি অনুযায়ী প্রার্থিতা প্রত্যাহারের নির্ধারিত সময় ২৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কোনো প্রার্থী প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি। ফলে জাতীয় সংসদ (সংরক্ষিত নারী আসন) নির্বাচন আইন, ২০০৪ এর ধারা ১২ এর উপধারা (১) অনুসারে প্রার্থীদের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হলো।

সংরক্ষিত নারী আসনে আওয়ামী লীগের এমপিরা হলেন- ১. রেজিয়া ইসলাম (পঞ্চগড়), ২. দ্রৌপদী দেবি আগরওয়াল (ঠাকুরগাঁও), ৩. আশিকা সুলতানা (নীলফামারী) ৪. রোকেয়া সুলতানা (জয়পুরহাট), ৫. কোহেরী কুদ্দুস মুক্তি (নাটোর), ৬. জারা জেবিন মাহবুব (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) ৭. রুনু রেজা (খুলনা) ৮. ফরিদা আক্তার বানু (বাগেরহাট) ৯. ফারজানা সুমি (বরগুনা) ১০. খালেদা বাহার বিউটি (ভোলা) ১১. ফরিদা ইয়াসমিন (নরসিংদী) ১২. উম্মে ফারজানা সাত্তার (ময়মনসিংহ) ১৩. নাদিরা বিনতে আমির (নেত্রকোনা) ১৪. মাহফুজা সুলতানা মলি (জয়পুরহাট) ১৫. পারভীন জামান কল্পনা (ঝিনাইদহ) ১৬. আরমা দত্ত (কুমিল্লা) ১৭. লায়লা পারভীন (সাতক্ষীরা) ১৮. মুন্নুজান সুফিয়ান (খুলনা) ১৯. বেদৌড়া আহমেদ সালাম (গোপালগঞ্জ) ২০. শবনম জাহান (ঢাকা) ২১. পারুল আক্তার (ঢাকা) ২২. সাবেরা বেগম (ঢাকা) ২৩. শাম্মী আহমেদ (বরিশাল) ২৪. নাহিদ ইজহার খান (ঢাকা) ২৫. ঝর্ণা আহসান (ফরিদপুর) ২৬. ফজিলাতুন নেছা ইন্দিরা (মুন্সীগঞ্জ) ২৭. সাহেদা তারেক দিপ্তী (ঢাকা) ২৮. অনিমা মুক্তি গোমেজ (ঢাকা) ২৯. শেখ আনার কলি পুতুল (ঢাকা) ৩০. মাসুদা সিদ্দিক রোজি (নরসিংদী) ৩১. তারানা হালিম (টাঙ্গাইল) ৩২. শামসুন নাহার (টাঙ্গাইল) ৩৩. মেহের আফরোজ চুমকি (গাজীপুর) ৩৪. অপরাজিতা হক (টাঙ্গাইল) ৩৫. হাসিনা বারী চৌধুরী (ঢাকা) ৩৬.নাজমা আক্তার (গোপালগঞ্জ) ৩৭. ফরিদুন্নাহার লাইলী (লক্ষ্মীপুর) ৩৮. আশরাফুন নেছা (লক্ষ্মীপুর) ৩৯. কানন আরা বেগম (নোয়াখালী) ৪০. শামীমা হারুন লুবনা (চট্টগ্রাম), ৪১. ফরিদা খানম (নোয়াখালী) ৪২. দিলারা ইউসুফ (চট্টগ্রাম) ৪৩. ডরথি তঞ্চঙ্গা (রাঙামাটি) ৪৪. সানজিদা খানম (ঢাকা) ৪৫. নাছিমা জামান ববি (রংপুর), ৪৬. নাজনীন নাহার রোশা (পটুয়াখালী) ৪৭. ওয়াসিকা আয়শা খান (চট্টগ্রাম) ৪৮. রুমা চক্রবর্তী (সিলেট)।

এদের মধ্যে কুমিল্লা থেকে নির্বাচিত আরমা দত্ত, ফজিলাতুন নেছা ইন্দিরা, সানজিদা খানম, মেহের আফরোজ চুমকি, ফরিদুন্নাহার লাইলীসহ কয়েকজন আগের মেয়াদেও সংসদ সদস্য ছিলেন। এছাড়া মুন্নুজান সুফিয়ান খুলনা-৩ আসন থেকে টানা তিনবার সরাসরি ভোটে বিজয়ী হলেও এবং সরকারের গত মেয়াদে শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকলেও হাই কমান্ডের নির্দেশে এবার সরাসরি ভোটে অংশ নেননি। তার পুরস্কার হিসেবে এবার সংরক্ষিত আসনে সদস্য হয়েছেন তিনি। আর দুই মেয়াদ আগে সংরক্ষিত আসনের সদস্য হিসেবে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করলেও গত দুটি সংসদে ছিলেন না আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সদস্য তারানা হালিম। এবার তিনি সংরক্ষিত আসনে ফিরেছেন।

এছাড়াও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে থেকে সংরক্ষিত আসনে জায়গা পাওয়া অন্যরা হলেন স্বাস্থ্য সম্পাদক রোকেয়া সুলতানা, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য পারভীন জামান কল্পনা, আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, দ্বৈত নাগরিকত্বের অভিযোগে তার মনোনয়নপত্র দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাতিল হয় তবে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তাকে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে গণমাধ্যমকে জানান ওই তফসিলের পর পরই বিদেশি নাগরিকত্ব প্রত্যাহারের কাগজ হাতে পেয়েছেন শাম্মী ), অর্থ সম্পাদক ওয়াসিকা আয়শা খান, শিক্ষা সম্পাদক শামসুন নাহার, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, কার্যনির্বাহী সদস্য সানজিদা খানম। দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে সরাসরি ভোটে পরাজিত হন সানজিদা খানম। তারই মতো সরাসরি ভোটে পরাজিত হয়ে সংরক্ষিত আসনে এমপি হয়েছেন মেহের আফরোজ চুমকি। আর সদ্য সাবেক মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেছা ইন্দিরাকে মুন্সীগঞ্জ থেকে আবারও সংরক্ষিত আসনে সদস্য করা হয়েছে।

অন্যদিকে জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচিত হয়েছেন দুজন এমপি। এরমধ্যে একাদশ সংসদের সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সালমা ইসলাম এবারও সংসদ সদস্য হয়েছেন। আর অপরজন জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান নুরুন নাহার।

প্রসঙ্গত,গত একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সরাসরি ভোটে ঢাকার নবাবগঞ্জ-দোহার আসন থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন সালমা ইসলাম। তবে দুবারই আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী সালমান এফ রহমানের কাছে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হন তিনি। তবে দলে অবদান থাকায় দুবারই তাকে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য করে জাতীয় পার্টি। অপরজন নুরুন নাহার জাতীয় পার্টি থেকে ঠাকুরগাঁও এর একটি আসনে অংশ নিয়ে জামানত হারান। শুরুতে সংরক্ষিত এই আসনটিতে জাপা চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের স্ত্রী শেরিফা কাদেরের নাম শোনা গেলেও পরে দলের ভাইস চেয়ারম্যান নুরুন নাহারকেই প্রার্থী করে এমপি হিসেবে নির্বাচিত করে জাতীয় পার্টি।


রোহিঙ্গাদের জন্য জাপানের নতুন করে ৬৯ মিলিয়ন ডলারের সহায়তা

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য জাতিসংঘের তিনটি সংস্থাকে পৃথকভাবে ৬৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সহায়তা দিচ্ছে জাপান। এই অর্থের ২৭ মিলিয়ন ডলার দেওয়া হবে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থাকে (আইওএম)। আর ২৭ মিলিয়ন পাবে জাতিসংঘ শিশু-বিষয়ক তহবিল (ইউনিসেফ)। অবশিষ্ট ১৫ মিলিয়ন ডলার পেতে যাচ্ছে ইউনাইটেড নেশন্স এনটিটি ফর জেন্ডার ইকুয়ালিটি অ্যান্ড দ্য এমপাওয়ারমেন্ট অব উইমেন বা ইউএন উইমেনের মাধ্যমে।

ঢাকায় জাপানের দূতাবাস পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। জাপান দূতাবাস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে, রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করা তিনটি সংস্থার কাছে গত সোমবার পৃথকভাবে অর্থ সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশে জাপানের রাষ্ট্রদূত আইওয়ামা কিমিনোরি। এর মধ্যে আইওএমকে দেওয়া ২৭ মিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে কক্সবাজারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী ও স্থানীয় অধিবাসীদের জন্য পানি, পয়োনিষ্কাশন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা বা ওয়াশ; দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস; আশ্রয়ণ প্রকল্প ও অবকাঠামো উন্নয়নসহ পাঁচ ধরনের কার্যক্রমে। এর মাধ্যমে প্রায় পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা ও স্থানীয় অধিবাসী উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

ইউএন উইমেনকে দেওয়া ১৫ মিলিয়ন ডলার কক্সবাজারে দুর্যোগ প্রস্তুতির লক্ষ্যে দক্ষতা উন্নয়ন এবং বাকি ২৭ মিলিয়ন ডলার ইউনিসেফের মাধ্যমে কক্সবাজার ও ভাসানচরে ওয়াশ প্রকল্প, স্বাস্থ্য খাত ও পুষ্টি নিশ্চিতে ব্যয় হবে।

রাষ্ট্রদূত আইওয়ামা কিমিনোরি বলেন, এই সমন্বিত উদ্যোগের ফলে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবনমান উন্নয়ন হবে বলে আমি আশাবাদী। রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন এবং আইওএমের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাকে সহায়তায় জাপান কাজ করে যাবে।


দুইদিন বাড়লো বইমেলার সময়

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঢাবি প্রতিনিধি

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুমোদনক্রমে দুইদিন বাড়লো অমর একুশে বইমেলার সময়। সে হিসেবে আগামী ২ মার্চ শেষ হবে বইমেলা।

বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক মুহম্মদ নূরুল হুদা দৈনিক বাংলাকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদনক্রমে বইমেলার সময় দুইদিন বাড়ানো হয়েছে। আমরা এটি আজকে মাইকে ঘোষণা করে দিয়েছি। আগামীকাল চিঠি ইস্যু করা হবে।

এর আগে মেলার শেষ দিন ২৯ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার হওয়ায় মেলা আরও দুইদিন বাড়িয়ে শুক্রবার এবং শনিবারও মেলা চালু রাখার দাবি জানিয়ে আসছিলো বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশনা সমিতি ও বিভিন্ন প্রকাশনীর প্রকাশকেরা।


বন্ধ হলো ৬ ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ব্লাড ব্যাংক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ২১:০৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আজ মঙ্গলবার থেকে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান শুরু করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। জানা গেছে, অভিযানের প্রথম দিন নির্দেশনা না মানায় রাজধানীতে মোট ৬টি ক্লিনিক-ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ব্লাড ব্যাংক বন্ধ করা হয়েছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্স প্রবেশপথে টানানো, তথ্য কর্মকর্তা নিয়োগ ও লেবার রুম প্রটোকল বাধ্যবাধকতাসহ ১০ দফা নতুন নির্দেশনা দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একইসঙ্গে এসব নির্দেশনা আবশ্যিকভাবে পালন করতে হবে বলেও জানিয়েছে নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠানটি।

সেই নির্দেশনাগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে কি-না, সে বিষয়ে তদারকি করতেই আজ অভিযান শুরু করেছে সরকারের এই নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।

আজ মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নির্দেশে দুটি টিম রাজধানীর রামপুরা, মিরপুর ও মোহাম্মদপুর এলাকায় বিভিন্ন ক্লিনিক ও হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা করে।

জানা গেছে, হাসপাতাল ক্লিনিক শাখার পরিচালক ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান মিরপুর কালশী, সহকারী পরিচালক ডা. মুহাম্মদ বিল্লাল হোসেন মোহাম্মদপুর এলাকায় বিভিন্ন ক্লিনিক হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। এছাড়াও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ক্লিনিক শাখার সহকারী পরিচালক ডা. আহসানুল হক, ডা. মাসুদ রেজা খান, মেডিকেল অফিসার ডা. কাজী মো. সালেহীন তৌহিদ রামপুরা এলাকায় বিভিন্ন ক্লিনিক হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ৬টি টিম পৃথকভাবে আগামীকাল (বুধবার) থেকে পূর্ণাঙ্গ অভিযানে নামবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ডা. মুহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, আমরা মোট ১২টি প্রতিষ্ঠান দেখেছি, এর মধ্যে ৬টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করেছি। বাকিগুলোকে শোকজ করা হবে। বন্ধ করে দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর দুটির লাইসেন্স আপডেট ছিল না, বাকিগুলোর লাইসেন্সই ছিল না। মুক্তিযোদ্ধা টাওয়ারে দুটি ব্লাড ব্যাংক (রেডিয়াম ব্লাড ব্যাংক রাজধানী ব্লাড ব্যাংক) ও একটি হাসপাতাল (টিজি হাসপাতাল) বন্ধ করেছি। আর ইসিবি চত্বরে আল হাকিমি চক্ষু হসপিটাল বন্ধ করেছি। এছাড়াও কালশীতে এশিয়ান ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও এইচএস ডায়ালাইসিস অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামে দুটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করেছি, এগুলোর লাইসেন্স ছিল না।

বেসরকারি ক্লিনিক-হাসপাতালে নতুন ১০ নির্দেশনা

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মেডিকেল অফিসার ডা. কাজী মো. সালেহীন তৌহিদ বলেন, আজকে আমরা কঠোর কোনো অভিযান পরিচালনা করিনি। মহাপরিচালকের নির্দেশনায় আমাদের একাধিক টিম মিরপুর ও রামপুরা এলাকায় কয়েকটি হাসপাতাল পরিদর্শন করেছে। আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনায় সরকারের ১০ দফা নির্দেশনাগুলো ঠিকমতো মানছে কি-না, সেগুলো মনিটর করা।

তিনি বলেন, আমরা রামপুরা বনশ্রী এলাকায় কয়েকটি হাসপাতালে গিয়েছি। বিশেষ করে ফরাজি হাসপাতালে গিয়ে কিছু সমস্যা পেয়েছি, সেগুলো সমাধানে তাদের আমরা সতর্কতামূলক বার্তা দিয়ে এসেছি। এ রকম বাকি সবগুলোতেই আমরা ছোটখাটো যেসব সমস্যা পেয়েছি, সেগুলোর জন্য তাদের দ্রুত সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলে এসেছি।


দেশে ১৬ লাখ ৭৯ হাজার টন খাদ্য মজুদ আছে: খাদ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিনিধি

দেশের সরকারি খাদ্য গুদামগুলোতে বর্তমানে সর্বমোট ১৬ লাখ ৭৯ হাজার টন খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে বলে জানিয়েছেন খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার। আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি আরও জানান, খাদ্যশস্যের এ মজুদ সন্তোষজনক।

সরকারি দলের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনারের প্রশ্নের লিখিত উত্তরে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, চলতি বছর ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত হিসাবে সরকারি খাদ্য গুদামে সর্বমোট ১৬ লাখ ৭৯ হাজার টন খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে।

মজুদকৃত খাদ্যশস্যের মধ্যে রয়েছে ১৪ লাখ ৩৮ হাজার টন চাল ও ২ লাখ ৪১ হাজার টন গম। খাদ্য মজুদ বর্তমানে সন্তোষজনক। দেশে খাদ্য মজুদ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক সূত্রে চাল ও গম অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ এবং আমদানির কার্যক্রম গ্রহণ করেছে, এর মধ্যে রয়েছে চলতি আমন সংগ্রহ মৌসুমের আওতায় ত ২ লাখ টন ধান এবং ৪ লাখ টন সেদ্ধ চাল ও এক লাখ টন আতপ চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের বাজেটে ৬ লাখ ৫০ হাজার টন গম ও এক লাখ ৫০ হাজার টন চাল আমদানির জন্য অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এই বাজেট বরাদ্দের বিপরীতে উন্মুক্ত দরপত্র ও জিটুজির আওতায় ইতোমধ্যে ৫ লাখ টন গম আমদানির চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। সম্পাদিত চুক্তির বিপরীতে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ৩ লাখ ৫৭ হাজার ৬২৭ টন গম আমদানি সম্পন্ন হয়েছে। চুক্তির অবশিষ্ট গমের খালাস কার্যক্রম চলমান রয়েছে। বর্তমান অর্থবছরে বিদেশ থেকে চাল আমদানির কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়নি বলে তিনি জানান।


বিদ্যুতের দাম কত বাড়ছে, জানালেন প্রতিমন্ত্রী

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৯:১৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

মঙ্গলবার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এই ঘোষণা দেন। ওই সময় আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গ্যাসের দাম বাড়ানোরও ইঙ্গিত দেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎ প্রতি ইউনিটে ৩৪ থেকে ৭০ পয়সা বাড়বে। বিদ্যুতে সরকারের ভর্তুকি খাত থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধন্তের পরিপেক্ষিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিপিডিবির ২০২২-২৩ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশে ৯৮ হাজার ৬৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮৭ হাজার ২৪ মিলিয়ন কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। এখানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হয়েছে ১১ টাকা ৩৩ পয়সা এবং এই বিদ্যুৎ বিক্রি করতে প্রতি ইউনিটে খরচ হয়েছে ৬ টাকা ৭০ পয়সা। ফলে প্রতি ইউনিটে লোকসান হয়েছে প্রায় ৪ টাকা ৬৩ পয়সা। এই ভারসাম্যহীনতা কাটিয়ে উঠতে সরকারের ক্ষতি হয়েছে ৪৭ হাজার ৭৮৮ কোটি টাকা।

বার্ষিক প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারি প্লান্টে খরচ হয় ৬ টাকা ৮৫ পয়সা। ভারত থেকে ৮ টাকা ৭৭ পয়সা দরে বিদ্যুৎ আমদানি করতে পারা যায়। বিপিডিবির নিজস্ব কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গড়ে প্রতি ইউনিট খরচ হয় ৭ টাকা ৬৩ পয়সা, বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান (আইপিপি) ১৪ টাকা ৬২ পয়সা, ভাড়া কেন্দ্রে ১২ টাকা ৫৩ পয়সা।


মার্চ থেকে বাড়ছে বিদ্যুতের দাম

প্রতীকী ছবি
আপডেটেড ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৯:০৫
ইউএনবি

মার্চের ১ তারিখ থেকে বিদ্যুতের দাম বাড়বে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

তিনি বলেছেন, বিদ্যুৎ প্রতি ইউনিটে ৩৪ থেকে ৭০ পয়সা বাড়বে। বিদ্যুতে সরকারের ভর্তুকি খাত থেকে বেরিয়ে আসার সিদ্ধন্তের পরিপেক্ষিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ওই সময় আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গ্যাসের দাম বাড়ানোরও ইঙ্গিত দেন তিনি।

বিপিডিবির ২০২২-২৩ অর্থবছরের বার্ষিক প্রতিবেদনে দেখা যায়, দেশে ৯৮ হাজার ৬৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে ৮৭ হাজার ২৪ মিলিয়ন কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে। এখানে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ উৎপাদনে খরচ হয়েছে ১১ টাকা ৩৩ পয়সা এবং এই বিদ্যুৎ বিক্রি করতে প্রতি ইউনিটে খরচ হয়েছে ৬ টাকা ৭০ পয়সা। ফলে প্রতি ইউনিটে লোকসান হয়েছে প্রায় ৪ টাকা ৬৩ পয়সা। এই ভারসাম্যহীনতা কাটিয়ে উঠতে সরকারের ক্ষতি হয়েছে ৪৭ হাজার ৭৮৮ কোটি টাকা।

বার্ষিক প্রতিবেদনে আরও দেখা যায়, বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারি প্লান্টে খরচ হয় ৬ টাকা ৮৫ পয়সা। ভারত থেকে ৮ টাকা ৭৭ পয়সা দরে বিদ্যুৎ আমদানি করতে পারা যায়। বিপিডিবির নিজস্ব কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গড়ে প্রতি ইউনিট খরচ হয় ৭ টাকা ৬৩ পয়সা, বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান (আইপিপি) ১৪ টাকা ৬২ পয়সা, ভাড়া কেন্দ্রে ১২ টাকা ৫৩ পয়সা।


আন্তরিকতার সাথে মানুষের সেবা করবেন: পুলিশের প্রতি প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৭:৫১
বাসস

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদক ও দুর্নীতি দমনে পুলিশ বাহিনীকে জনগণের সেবা অব্যাহত রাখার এবং এজন্য সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘আমি পুলিশ বাহিনীর সদস্যদেরকে বলবো আপনারা দেশের মানুষের সেবা করেন। দুষ্টের দমন শিস্টের পালন পালন, এটা হচ্ছে পুলিশের মূল মন্ত্র। কাজেই পুলিশ বাহিনী মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করবে- এটাই সব সময় আমাদের কাম্য।’

প্রধানমন্ত্রী আজ সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে ছয় দিনব্যাপী ‘পুলিশ সপ্তাহ-২০২৪’ এর উদ্বোধনকালে দেওয়া প্রধান অতিথি’র ভাষণে একথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আজকে দেশের মানুষ পুলিশের প্রতি সে আস্থা রাখতে পারছে। কাজেই আপনারা আন্তরিকতার সাথে মানুষের সেবা করবেন, সেটাই আমরা চাই।’

সরকার প্রধান বলেন, ‘জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, মাদক ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। আর এই ক্ষেত্রে পুলিশ বাহিনীকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। দেশকে উন্নত সমৃদ্ধ করতে হলে দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা একান্তভাবে অপরিহার্য।’

তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষ যখনই কোনো বিপদে পড়ে তখনই আশ্রয় খোঁজে পুলিশের কাছে। কাজেই পুলিশ জনগণের বন্ধু, এটা সব সময় চলে আসছে এবং এটাকেই প্রতিষ্ঠা করা একান্তভাবে দরকার। সে কারণেই আমি মনে করি আমাদের পুলিশ বাহিনী তাদের সততা, পেশাদরিত্ব, নিষ্ঠা, দক্ষতা, নিরপেক্ষতা, ত্যাগ, বীরত্ব ও দেশপ্রেম ও মানবীয় মূল্যবোধ নিয়েই জনগণের সেবা করবেন। পুলিশ বাহিনীকে আমরা সেভাবেই গড়ে তুলছি।’

১৯৭৫ সালের ১৫ জানুয়ারি প্রথম পুলিশ সপ্তাহে পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে জাতির পিতা প্রদত্ত ভাষণের উদ্ধৃতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তাদের (পুলিশ) জনগণের প্রতি ভালবাসা নিয়ে আরও একনিষ্ঠ হয়ে দায়িত্ব পালনের আহবান জানান।

জাতির পিতা বলেছিলেন, ‘তোমরা স্বাধীন দেশের পুলিশ। তোমরা ইংরেজের পুলিশ নও। তোমরা পাকিস্তানি শোষকদের পুলিশ নও। তোমরা জনগণের পুলিশ। তোমাদের কর্তব্য জনগণকে সেবা করা। বাংলার মানুষ চায় তারা শান্তিতে ঘুমাক। তোমাদের কাছ থেকে আশা করে যে, চোর, বদমাশ, গুন্ডা, দুর্নীতিবাজ তাদের ওপর অত্যাচার না করে। তোমাদের কর্তব্য অনেক বেশি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘জাতির পিতার ভাষণের এই মর্মবাণী ধারণ করে বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি সদস্য গভীর দেশপ্রেম ও মানুষের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে কাজ করে যাবে, এই আমার প্রত্যাশা।’

প্রধানমন্ত্রী খোলা জিপে চড়ে বাংলাদেশ পুলিশের কুচকাওয়াজ পরিদর্শন এবং সালাম গ্রহণ করেন।

পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে বিভিন্ন পুলিশ বাহিনী বর্ণাঢ্য কুচকাওয়াজ করেছে।

প্রধানমন্ত্রী সাহসী কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ ৩৫ পুলিশ সদস্যকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক (বিপিএম-বীরত্ব) এবং ৬০ জনকে রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক (পিপিএম-বীরত্ব) প্রদান করেন।

এছাড়া ৯৫ জন পুলিশ সদস্য বিপিএম সেবা পদক এবং ২১০ জন পিপিএম সেবা পদক পেয়েছেন।


বিএনপি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যা চেয়েছিল তা পায়নি: ওবায়দুল কাদের

আপডেটেড ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৬:৪৭
বাসস

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘বিএনপি আসলে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যা চায় বা চেয়েছিল সেটি পায়নি। তাই এবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠকের পর এ ইস্যুতে দলটি নিশ্চুপ হয়ে গেছে।’

তিনি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের শেষ কথায় বিএনপি আশাবাদী হতে পারেনি। তাই চুপ থাকার কৌশল নিয়েছে। বিদেশি বন্ধুদের সঙ্গে কাজ করবে আওয়ামী লীগ, প্রভুত্ব মানবে না। আমেরিকান প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে কোনো প্রতিক্রিয়া না জানানোর কারণ হলো বিএনপির যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যা চায় তা পায়নি।’

ওবায়দুল কাদের মঙ্গলবার দুপুরে আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।

মার্কিন প্রতিনিধিদলের সফর নিয়ে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘মূলত এবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দলটি সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে এসেছিলেন। আমরা বিদেশিদের সঙ্গে বন্ধুত্ব চাই, কিন্তু বন্ধুর পরিবর্তে যারা প্রভু হতে চায় তাদের দাসত্ব আমরা মানি না, মানব না।’

গত বছরের তুলনায় এ বছর প্রায় দ্বিগুণ ৩০০ কোটি ডলার ঋণ পরিশোধ করতে হবে, এ নিয়ে সরকার উদ্বিগ্ন কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ঋণ পরিশোধ করতে হবে। বিশ্ব সংকটের কারণে সারা দুনিয়াতেই এখন অর্থসংকট প্রধান সমস্যা হয়ে দাড়িয়েছে। এসময়ে ঋণ আগের তুলনায় বাড়তে পারে কিন্তু বাংলাদেশ এ যাবত ঋণখেলাপি হওয়ার কোনো রেকর্ড রাখেনি। আমরা সে ব্যবস্থা করছি। আমরা ঋণখেলাপি থাকব না, এটুকু বলতে পারি।’

দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির কারণে জনগণ সরকারের বিরুদ্ধে যেতে পারে এমন আশঙ্কা আছে কি না প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিশ্বে যে সংকট দ্রব্যমূল্য নিয়ে তা বাংলাদেশের একার সমস্যা নয়। সারা দুনিয়াতে জিনিসপত্রের দাম বাড়ছে। পৃথিবীর একটা দেশ দেখান যেখানে দ্রব্যমূল্য স্বাভাবিক অবস্থায় আছে। তবে আমাদের জনগণের ক্রয়ক্ষমতা এখনো আছে। আমরা আশা করি সামনের রমজানেও জিনিসপত্র অ্যাভেইলেবল থাকবে।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি নেতাদের মিথ্যাচারের ভাঙা রেকর্ড শুনতে শুনতে কান ঝাঁঝরা হয়ে গেছে। এখন তাদের গলার জোর একটু কমে গেছে। মুখে বিষটা আরও উগ্র হয়ে গেছে।’

সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম কামাল হোসেন ও সুজিত রায় নন্দী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সবুর, সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক শামসুন্নাহার চাপা, উপ প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ আব্দুল আউয়াল শামীম এবং উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান উপস্থিত ছিলেন।


আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন

আপডেটেড ২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৫:১৬
বাসস

বিচারপতি মো. আবু আহমেদ জমাদারকে নতুন চেয়ারম্যান করে পুনর্গঠন করা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

বর্তমান চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলাম হাইকোর্ট বিভাগে ফেরত গেছেন। নতুন সদস্য করা হয়েছে পিআরএল-এ থাকা ঢাকার জেলা ও দায়রা জজ এএইচএম হাবিবুর রহমান ভূঁইয়াকে।

রাষ্ট্রপতির আদেশে এ বিষয়ে আজ প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আইন মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলাম ট্রাইব্যুনাল হতে হাইকোর্ট বিভাগে প্রত্যাবর্তন করার বিষয়ে প্রধান বিচারপতি অভিপ্রায় ব্যক্ত করায় ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান পদটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। এরপর ট্রাইব্যুনালের বর্তমান সদস্য বিচারপতি মো. আবু আহমেদ জমাদারকে চেয়ারম্যান এবং তার শূন্য পদে জেলা ও দায়রা জজ (পিআরএল ভোগরত) এ.এইচ.এম. হাবিবুর রহমান ভূঁইয়াকে তার পিআরএল বাতিল ক্রমে ট্রাইব্যুনালের সদস্য হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হলো। ট্রাইব্যুনালের অপর সদস্য বিচারপতি কে.এম. হাফিজুল আলমকে তার পদে বহাল রাখা হলো।

২০১৭ সালের ১১ অক্টোবর বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলাম চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পেয়েছিলেন।

মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচারে ২০১০ সালের ২৫ মার্চ গঠন করা হয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।


বাড়তে পারে রাত ও দিনের তাপমাত্রা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আজ সারাদেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে।

তেঁতুলিয়ায় আজ সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১২ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়। গতকাল সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল সীতাকুন্ডে ৩৩ দশমিক ০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আজ আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে।

পূর্বাভাসে আরও বলা হয়, পশ্চিমা লঘুচাপের বাড়তি অংশ বিহার ও এর কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে।

ঢাকায় আজ পশ্চিম অথবা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ১০-১৫ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হচ্ছে। সকালে ঢাকায় বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ছিল ৬৭ শতাংশ। ঢাকায় আজ সূর্যাস্ত সন্ধ্যা ৬টায় এবং আগামীকাল সূর্যোদয় ভোর ৬টা ২২ মিনিটে।

আগামীকালের পূর্বাভাসে বলা হয়, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। সারাদেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য বাড়তে পারে ।

২৯ ফেব্রুয়ারির পূর্বাভাসে বলা হয়, অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলা আকাশসহ সারাদেশের আবহাওয়া শুষ্ক থাকতে পারে। এছাড়া সারাদেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে।

বর্ধিত ৫ দিনের আবহাওয়ার অবস্থা সামান্য পরিবর্তন হতে পারে।


রুনা লায়লার মুকুটে আরও এক নতুন পালক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিনোদন প্রতিবেদক

দেশবরেণ্য সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা। দীর্ঘ পাঁচ দশকের বেশি সময় ধরে গান গাইছেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী রুনা লায়লা। গান গেয়েছেন বাংলা, হিন্দি আর উর্দু ছবিতে। ১৮টি ভাষায় ১০ হাজারের বেশি গান গাওয়া জীবন্ত এই কিংবদন্তি যুক্ত আছেন সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড নিয়েও। কয়েক বছর আগে প্রথমবার সুরকার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেই জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের সেরা সুরকার ঘরে তুলে নেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন এই তারকা।

তার বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে সেরা গায়িকা হিসেবে একাধিকবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, মেরিল প্রথম আলো, বাচসাস-সহ উপমহাদেশের প্রায় সব ধরনের অ্যাওয়ার্ড নিজের ঝুলিতে ভরেছেন এই সংগীতশিল্পী। সেই ধারাবাহিকতায় এবার ক্যারিয়ারে আরও একবার আজীবন সম্মাননায় ভূষিত হতে যাচ্ছেন উপমহাদেশের এই নন্দিত গায়িকা। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ফিল্ম অ্যান্ড আর্টস (বাইফা) অ্যাওয়ার্ডস আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে তাকে এ সম্মাননা দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে আগামী ২ মার্চ বঙ্গবন্ধু সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেমে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নতুন ধরা প্রেজেন্টস তৃতীয় বাইফা অ্যাওয়ার্ড।

এই আসরের মাধ্যমেই প্রথমবারের মতো আজীবন সম্মাননা বিভাগ যুক্ত হয়েছে। সেই পুরস্কারের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছে রুনা লায়লাকে। শাহরিয়ার স্বপনের উদ্যোগে গত দুই বছর ধরে আয়োজিত হচ্ছে বাইফা অ্যাওয়ার্ডস। তাতে পুরস্কার গ্রহণ করেন দেশসেরা শিল্পীরা। তবে প্রথম সারির তারকারা যেন আরও পরিশীলিত অ্যাওয়ার্ড আয়োজনে নিজেদের উপস্থাপন করতে পারেন এবং যোগ্যরাই স্বীকৃতি পেতে পারেন; এমন একটি আলোচনা-সমালোচনাও উঠেছিল আসর দুটি ঘিরে। সেদিক বিবেচনা করে বাইফার তৃতীয় সিজনে হাজির হচ্ছে একেবারেই নতুনরূপে।

আয়োজকরা জানান, এবার বাইফাতে পপুলার ও জুরি- দুই বিভাগে মোট ৪৫টি বিভাগে পুরস্কার প্রদান করা হবে। চলচ্চিত্র, টেলিভিশন নাটক, ওটিটি, গান, মিউজিক ভিডিও, নাচ এবং আবৃত্তিতে সেরা শিল্পীদের পুরস্কৃত করা হবে। পপুলার চয়েসের জন্য আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভোট করা যাবে বাইফা ডট কম ওয়েবসাইটে। বাইফার প্রধান শাহরিয়ার স্বপন জানান, এরইমধ্যে তিন লক্ষাধিক ভোট এসেছে বিভিন্ন বিভাগের জন্য। আর জুরি বোর্ডের দায়িত্ব পালন করছেন চিত্রনায়িকা রোজিনা, কণ্ঠশিল্পী খুরশিদ আলম, ফেরদৌস আরা, অভিনয়শিল্পী আজিজুল হাকিম, তানভীন সুইটি, দীপা খন্দকার এবং চিত্রনাট্যকার ও নির্মাতা জিনাত হাকিম।

পুরস্কার প্রদানের পাশাপাশি আয়োজনটিকে জমকালো করার জন্য থাকছে জনপ্রিয় তারকাদের নাচ ও গানের পরিবেশনা। পারফর্ম করবেন তানজিন তিশা, তমা মির্জা, হৃদি শেখ, দীঘি, জেফার রহমান, ইমন চৌধুরী, আলেয়া বেগম ও শিবলু। মূল অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করবেন অভিনেতা আবদুন নূর সজল এবং অভিনেত্রী-উপস্থাপক মাসুমা রহমান নাবিলা।


বিশ্বের সম্ভাব্য সকল স্থানে রপ্তানি বাজার ছড়িয়ে দেয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বস্ত্র খাতে বিনিয়োগ, উৎপাদনশীলতা, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি বৃদ্ধির পাশাপাশি নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব শিল্প-কারখানা গড়ে তুলতে শিল্পপতি, শিল্প উদ্যোক্তাগণসহ দেশপ্রেমিক নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

রাষ্ট্রপতি আজ ‘জাতীয় বস্ত্র দিবস ২০২৪’ উপলক্ষ্যে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক অনুষ্ঠানে ভাষণদানকালে এ কথা জানান।

তিনি বলেন, ‘উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে। বিশ্বের সম্ভাব্য সকল স্থানে আমাদের রপ্তানি পণ্যের বাজারকে ছড়িয়ে দিতে হবে।’

কয়েকটি পণ্যের ওপর নির্ভর না করে রপ্তানি পণ্যের সংখ্যা বাড়ানোরও জোর তাগিদ দেন রাষ্ট্রপ্রধান।

তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমাদের কূটনৈতিক মিশনগুলোকে কাজে লাগাতে হবে এবং অর্থনৈতিক কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।’

কোনো দুষ্টচক্র বা স্বার্থান্বেষী মহল যাতে উৎপাদনমুখী কারখানার পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে সে ব্যাপারে ব্যবসায়ী নেতাসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে সজাগ থাকার আহবান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন।

সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘কেউ যাতে উৎপাদনমুখী কারখানার পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে সেজন্য সজাগ থাকতে হবে। সরকার সবসময় আপনাদের পাশে আছে ও থাকবে।’

রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, ‘আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের জন্য আধুনিক প্রযুক্তি সম্পন্ন কারিগরি শিক্ষা সম্প্রাসারণ ও দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকারের পাশাপাশি ব্যবসায়ী শিল্পপতি ও বিনিয়োগকারীদেরকে এগিয়ে আসতে হবে।’

পূর্বের যেকোনো সময়ের তুলনায় বৈদেশিক বাণিজ্য এখন অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং, প্রতিযোগিতামূলক এবং জ্ঞান ও নীতিমালাভিত্তিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দদের এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।’

ব্যবসায়ী নেতাদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপ্রধান বলেন, ‘শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার ও পারিশ্রমিক নিশ্চিত করতে হবে।’

‘শ্রমিকরাই উৎপাদনমুখী শিল্পের চালিকাশক্তি। কারখানা ও শ্রমিক একে-অপরের পরিপূরক। শ্রমিক ভালো থাকলে কারখানা ভালো থাকবে,’ তিনি উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘মনে রাখতে হবে আপনারা শুধু মুনাফার জন্য ব্যবসা পরিচালনা করছেন না। আপনাদের সামাজিক দায়িত্বের বিষয়টিকে গুরুত্বের সাথে দেখতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘তৈরী পোশাক ও বস্ত্র খাতকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম, শক্তিশালী, নিরাপদ ও যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।’

তিনি আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদানুযায়ী ৪র্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় নতুন নতুন প্রযুক্তিসমূহকে সাদরে গ্রহণ করারও অনুরোধ করেন।

দেশের সমাজ, অর্থনীতি, সংস্কৃতি, শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানে বস্ত্র ও পাট খাতের ভূমিকা অপরিসীম উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদা বিবেচনায় বস্ত্র খাতের সম্প্রসারণের লক্ষ্যে নানামুখী কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে।’

তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে বস্ত্র শিল্পের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দেশের সর্ববৃহৎ শ্রমঘন এই সেক্টরে আধুনিক যন্ত্রপাতি ও তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির মাধ্যমে ‘স্মার্ট টেক্সটাইল’ সেক্টর গড়ে তোলা সম্ভব।”

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বর্তমানে বস্ত্রখাত আমাদের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে শুধু জাতীয় অর্থনীতিকেই সমৃদ্ধ করেনি, একই সঙ্গে নিশ্চিত করেছে অগনিত মানুষের কর্মসংস্থান যার ৮০ শতাংশ মহিলা এবং পরোক্ষভাবে প্রায় এক কোটি মানুষের জীবিকার প্রধান উৎস।’

তিনি জানান, ‘দেশের মোট রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশ বস্ত্র শিল্প থেকে অর্জিত হচ্ছে। গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টিতে বস্ত্র খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।’

উন্নত-সমৃদ্ধ ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গঠনের মাধ্যমে রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নে বস্ত্র খাত উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে রাষ্ট্রপতি বিশ্বাস করেন।

বাংলাদেশের বস্ত্রশিল্পের ইতিহাস সুপ্রাচীন এবং গৌরবময় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকারের নেয়া সকল কার্যক্রম বাংলাদেশের বিকাশমান বস্ত্রখাতকে আরো সমৃদ্ধ করবে এবং বিদেশী বিনিয়োগকারীদের নিকট আকর্ষণীয় করে তুলবে।’

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক।

অন্যান্যের মধ্যে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রউফ, বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন এবং বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারারর্স এন্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) সহ-সভাপতি মো. শহীদুল্লাহ আযম বক্তব্য রাখেন।

অনুষ্ঠানে ‘জাতীয় বস্ত্র দিবস ২০২৩’ এর একটি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে ১১টি প্রতিষ্ঠান-ব্যবসায়ীকে রাষ্ট্রপতির সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। রাষ্ট্রপতি সেখানে একটি ফটোসেশনে অংশ নেন।


banner close