রোববার, ২১ জুন ২০২৬
৭ আষাঢ় ১৪৩৩

আজ চালু হচ্ছে কক্সবাজার এক্সপ্রেস

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
১ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০৬:০৯
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশিত
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশিত : ১ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০৬:০৯

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্বোধনের পর যেন তর সইছিল না সাধারণ মানুষের। অবশেষে আজ অবসান হচ্ছে দীর্ঘ প্রতীক্ষার। আজ ১ ডিসেম্বর থেকে ঢাকা-কক্সবাজার রেলপথে জনসাধারণের জন্য চালু হচ্ছে কক্সবাজার এক্সপ্রেস। ঢাকা ও কক্সবাজার দুই জায়গা থেকেই কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনটি উদ্বোধনের প্রস্তুতি নিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়।

রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আজ শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় কক্সবাজার আইকনিক রেলওয়ে স্টেশন থেকে ঢাকা-কক্সবাজার রেলপথে ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ চলাচলের উদ্বোধন করা হবে। কক্সবাজারে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. হুমায়ুন কবির।

একই দিন রাত পৌনে ১০টায় ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকেও উদ্বোধন হবে ট্রেনটির। এ সময় বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক কামরুল আহসান উপস্থিত থেকে কক্সবাজারগামী যাত্রীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার এক্সপ্রেসে ঢাকার কমলাপুর স্টেশন ছাড়বে শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টায়। চট্টগ্রামে এসে পৌঁছাবে রাত ৩টা ৪০ মিনিটে। ২০ মিনিট যাত্রাবিরতি দিয়ে রাত ৪টায় কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। কক্সবাজারে পৌঁছাবে সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে। অর্থাৎ রাজধানী থেকে পর্যটন শহরে যেতে সময় লাগবে ৮ ঘণ্টা ১০ মিনিট।

অন্যদিকে কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে ট্রেন ছাড়বে দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে। এই ট্রেন চট্টগ্রামে আসবে বেলা ৩টা ৪০ মিনিটে। আর ঢাকায় পৌঁছবে রাত ৯টা ১০ মিনিটে।

জানা গেছে, ট্রেন চলাচল নির্বিঘ্ন করতে সাতকানিয়ায় নির্মিত চারটি সেতু ট্রেন ট্রায়ালের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছে। কক্সবাজার স্টেশনে পদায়ন করা হয়েছে একজন ইনচার্জসহ মোট ৪ জন স্টেশন মাস্টারকে। এ ছাড়া বাড়ানো হয়েছে প্রয়োজনীয় লোকবল।

ট্রেনে যাত্রীদের নিরাপত্তায় ১০ জন রেলওয়ে পুলিশ নিয়োজিত থাকবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার পুলিশ ইনচার্জ এসএম শহিদুল ইসলাম।

রেলওয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মো. সাইফুল ইসলাম দৈনিক বাংলাকে বলেন, ১ ডিসেম্বর কক্সবাজার থেকে ঢাকা বাণিজ্যিক ট্রেন চলাচলের জন্য আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। দফায় দফায় সভা করে সব পদক্ষেপ নিয়েছি।

যোগাযোগ করা হলে কক্সবাজার স্টেশন মাস্টার মো. গোলাম রাব্বানী বলেন, কক্সবাজার থেকে ঢাকায় প্রথম বাণিজ্যিক ট্রেন চলাচলে আমরা প্রস্তুত। নির্দিষ্ট সময়ে ঢাকার উদ্দেশে ট্রেন কক্সবাজার ছেড়ে যাবে। যাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার চেষ্টা থাকবে।

ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত শোভন চেয়ারের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৯৫ টাকা। এসি চেয়ারের ভাড়া ১ হাজার ৩২৫ টাকা, এসি সিটের ১ হাজার ৫৯০ টাকা এবং এসি বার্থের (ঘুমিয়ে যাওয়ার আসন) ভাড়া ২ হাজার ৩৮০ টাকা।

চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত শোভন চেয়ারের ভাড়া ২০৫ টাকা, স্নিগ্ধা শ্রেণির ৩৮৬ টাকা, এসি সিটের ৪৬৬ এবং এসি বার্থের ৬৯৬ টাকা।
গত ১১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।

এ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে রেল নেটওয়ার্কে ৪৮তম জেলা হিসেবে যুক্ত হয় কক্সবাজার।

এ সময় তিনি বলেছিলেন, পঞ্চগড় থেকে কক্সবাজার অথবা রাজশাহী থেকে কক্সবাজার, দক্ষিণাঞ্চল সুন্দরবন থেকে কক্সবাজার, এমনকি গোপালগঞ্জ-ফরিদপুর অর্থাৎ সমগ্র বাংলাদেশ থেকেই যাতে সহজে কক্সবাজার আসা যায় সেই পদক্ষেপও আমরা নেব। এই যোগাযোগগুলো সম্পন্ন হলে আমাদের পর্যটনের ক্ষেত্রে একটা বিরাট পরিবর্তন আসবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

কক্সবাজারে নির্মাণ করা হয়েছে আইকনিক রেলওয়ে স্টেশন।

দোহাজারী-কক্সবাজার রেল প্রকল্পের পরিচালক মো. সুবক্তগীন বলেন, ছয়তলার এই স্টেশনে রয়েছে চলন্ত সিঁড়ি, মালামাল রাখার লকার, হোটেল, রেস্তোরাঁ, শপিংমলসহ আধুনিক সব সুবিধা। ৪৬ হাজার মানুষের ধারণক্ষমতা সংবলিত স্টেশনটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। এতে আছে কনভেনশন হল, ট্যুরিস্ট ইনফরমেশন বুথ, এটিএম বুথ, এমনকি প্রার্থনার স্থানও। স্টেশনে ফুড কোর্ট, হোটেল ও শপিং কমপ্লেক্সের বিষয়টি বাইরের এজেন্সি দ্বারা টেন্ডারিংয়ের মাধ্যমে পরিচালনা করা হবে।

দোহাজারী-কক্সবাজার ও মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী ঘুমধুম রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পটি ২০১০ সালে শুরু হয়ে ২০১৩ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে ঘুমধুম পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মাণ (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্পটি ২০১৬ সালের ১৯ এপ্রিল একনেকে অনুমোদিত হয় এবং এ লাইনে ১২৮ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার ৮৫২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। কিন্তু জমি অধিগ্রহণসহ অন্যান্য ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ২০১৬ সালে সংশোধিত প্রকল্প ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ১৮ হাজার ৩৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকায়। এই বাজেটে এডিবি ঋণ দেয় ১৩ হাজার ১১৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা আর বাকি ৪ হাজার ৯১৯ কোটি ৭ লাখ টাকা সরকারি তহবিল থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে।

একনেক অনুমোদনের পর, প্রকল্পের মেয়াদকাল ২০১০ সালের ১ জুলাই ২০২২ সালের ৩০ জুন ধরা হয়। এ রেলপথ নির্মাণে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায় ১ হাজার ৩৬৫ একর জমি অধিগ্রহণ করে ঠিকাদারকে বুঝিয়ে দিতে বিলম্ব হয়। প্রকল্পের ১৬৫ একর সংরক্ষিত বনাঞ্চল ডি-রিজার্ভকরণসহ প্রকল্পে ব্যবহারে অনুমতি পেতে কালক্ষেপণ হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে সব কাজ শেষ হতে প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়।

কক্সবাজারের সঙ্গে শুধু ঢাকা নয়, পদ্মা সেতু হয়ে দক্ষিণাঞ্চল ও উত্তরবঙ্গের সঙ্গেও এ রেলপথ যুক্ত হবে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব হুমায়ুন কবির।


সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রু সই করা এক আদেশে তাকে প্রত্যাহার করা হয়। তাকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে সংযুক্ত করা হয়েছে।

গত বছরের ২১ আগস্ট সিলেটের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে যোগদান করেছিলেন সারওয়ার আলম।

২৭তম বিসিএসের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা সারওয়ার আলম র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে আলোচিত ছিলেন। সিনিয়র সহকারী সচিব পদে থাকাকালীন র‍্যাবের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে তিন শতাধিক ভেজালবিরোধী অভিযান চালিয়ে ব্যাপক প্রশংসিত ছিলেন তিনি। ভেজাল, অনিয়মের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে আলোচিত এবং মানুষের প্রশংসা কুড়িয়েছেন।

হঠাৎ ২০২০ সালের ৯ নভেম্বর তাকে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব হিসেবে বদলি করা হয়।

তিনবার বঞ্চিত হওয়ার পর ২০২৪ সালের ১৪ আগস্ট উপসচিব পদে পদোন্নতি পান তিনি। এর আগে তিনি বঞ্চিত হলে নিজের ক্ষোভ জানিয়ে ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। স্ট্যাটাস দেওয়ার বিষয়টিকে অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করে আওয়ামী লীগ সরকার তাকে লঘুদণ্ড হিসেবে ‘তিরস্কার’র শাস্তি দেয়। ২০২২ সালের মে মাসে তাকে শাস্তি দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।


জামায়াত এমপির ‘শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’ দাবি করা বক্তব্য এক্সপাঞ্জ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদে নিজেকে ‘শহীদ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান’ দাবি করে দেওয়া বক্তব্যটি ভুল ছিল বলে স্বীকার করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আবদুল মুনতাকিম। রোববার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এ তথ্য জানান।

গত ১৪ জুন বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে নীলফামারী-৪ আসনের এই সদস্য দাবি করেছিলেন যে, তার বাবা ও দাদা মুক্তিযুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। তবে নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামা অনুযায়ী তার জন্ম ১৯৮১ সালে—অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধের ১০ বছর পর। এছাড়া তার বাবা বর্তমানে জীবিত আছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।

সংসদে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে কিশোরগঞ্জ-২ আসনের বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য মো. জালাল উদ্দীন বিষয়টি উত্থাপন করেন এবং ওই অসত্য বক্তব্য সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান।

জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, আবদুল মুনতাকিম স্পিকারের সঙ্গে দেখা করে জানিয়েছেন যে, এটি মুখ ফসকে বেরিয়ে যাওয়া একটি ভুল ছিল এবং তিনি তার বাবা যে জীবিত আছেন, তা স্বীকার করেছেন। স্পিকার জানান, এটি একটি ‘স্লিপ অব টাং’ বা অনিচ্ছাকৃত ভুল, তাই উক্ত বক্তব্য সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) দেওয়া হবে।


এনবিআর ভেঙে নীতি ও ব্যবস্থাপনা বিভাগ আলাদা করছে সরকার: অর্থমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) দুই ভাগে বিভক্ত করার পরিকল্পনা নিয়ে সরকার এগিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। কর প্রশাসন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দেশের কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধির লক্ষ্যে পরিচালিত বিস্তৃত সংস্কারের অংশ হিসেবে রাজস্ব নীতি প্রণয়ন এবং এর ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়াকে আলাদা করা হবে। রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী এই সংস্কারের কথা ঘোষণা করেন।

তিনি বলেন, রাজস্ব কর্তৃপক্ষের বর্তমান কাঠামো দীর্ঘকাল ধরে নীতিসংক্রান্ত দুর্বলতায় ভুগছে এবং প্রস্তাবিত এই পুনর্গঠনের মূল উদ্দেশ্য হলো সেই সব সীমাবদ্ধতা ও ঘাটতিগুলো দূর করা।

এনবিআর-এর কাঠামো প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, এনবিআর এমন একটি সমস্যা যা আমাদের সমাধান করতে হবে। আমরা এটিকে দুই ভাগে ভাগ করতে যাচ্ছি। নীতি নির্ধারণের জন্য আলাদা একটি বডি এবং ব্যবস্থাপনার জন্য আলাদা একটি বডি থাকবে।

প্রস্তাবিত এই ব্যবস্থা অনুযায়ী, রাজস্ব নীতি বিভাগ এখন থেকে ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীন ও আলাদাভাবে প্রণয়ন করা হবে। মন্ত্রী জানান, কর বিশেষজ্ঞ এবং বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক বাস্তবতা সম্পর্কে গভীর জ্ঞানসম্পন্ন ব্যক্তিদের নীতি প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে, অন্যদিকে আমলারা কেবল সেই নীতিগুলো বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেবেন।

আমলাতান্ত্রিক প্রভাবমুক্ত নীতি প্রণয়নের ওপর জোর দিয়ে আমির খসরু বলেন, নীতি নির্ধারণী পর্যায় আমলাদের দ্বারা পরিচালিত হতে যাচ্ছে না। আমরা চাই কর বিশেষজ্ঞ এবং যারা বাংলাদেশ ও এ দেশের মানুষকে বোঝেন, তারা নীতি প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় আসুক।

মন্ত্রী উল্লেখ করেন, নীতি নির্ধারণের দুর্বলতাই ছিল বাংলাদেশের সামগ্রিক কর ব্যবস্থা এবং এনবিআর-এর অন্যতম প্রধান সমস্যা। তিনি আরও বলেন, শুরুতেই যদি আপনি এটি (নীতি নির্ধারণ) ঠিক করতে পারেন, তবে সমস্যার ৫০ শতাংশ সমাধান হয়ে যায়।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী আশা প্রকাশ করেন, নীতি প্রণয়নকে ব্যবস্থাপনা থেকে আলাদা করার মাধ্যমে কর প্রশাসনের সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে, যা শেষ পর্যন্ত দেশের বর্তমান কর-জিডিপি অনুপাতকে কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে উন্নীত করতে সহায়ক হবে।


শিক্ষামন্ত্রীকে এক হাজার ফুটবল উপহার দিলেন পাকিস্তানের হাইকমিশনার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শিক্ষামন্ত্রীকে এক হাজার ফুটবল উপহার দিলেন পাকিস্তানের হাইকমিশনার রোববার সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন পাকিস্তানের হাইকমিশনার

শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনকে এক হাজার ফুটবল উপহার দিয়েছে পাকিস্তান। দেশের স্কুল ও কলেজ শিক্ষার্থীদের জন্য এ ফুটবল দেওয়া হয়েছে।

ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির হাইকমিশনার ইমরান হায়দার রোববার (২১ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে এ উপহার তুলে দেন।

উপহার দেওয়ার আগে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ও ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার সৌজন্য সাক্ষাৎ ও বৈঠক করেন।

বৈঠকে মন্ত্রী ও হাইকমিশনার কারিগরি, বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উন্নয়নে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের একসঙ্গে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিসকক্ষে সাক্ষাৎকালে শিক্ষামন্ত্রী ও হাইকমিশনার উভয় দেশের শিক্ষার উন্নয়ন ও বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা করেন।

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, বর্তমান সরকার দেশের জনসংখ্যাকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে কাজ করছে। দক্ষতার উন্নয়নে কারিগরি শিক্ষাকে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের একসঙ্গে কাজ করার সুযোগ রয়েছে।

পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার বলেন, পাকিস্তান ও বাংলাদেশ দুই দেশ শিক্ষার উন্নয়নে একত্রে কাজ করছে। শিক্ষায় বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষার ক্ষেত্রে পাকিস্তানের সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে।

এসময় হাইকমিশনার পাকিস্তানের কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিদর্শন করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি শিক্ষাক্ষেত্রে বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

বৈঠকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল, পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনার মুহাম্মদ ওয়াজিফ উপস্থিত ছিলেন।


মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে মালয়েশিয়ার গেলেন তিনি।

এর আগে, রোববার (২১ জুন) দুপুর পৌনে ৩টায় তাকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশের একটি বিশেষ ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে।

সরকারপ্রধানের অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে যাচ্ছেন মালয়েশিয়ায়। দুই দিনের এই সফর। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী একেবারেই ছোট।

এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী, ঢাকায় মালয়েশিয়ার হাই কমিশনার শুহাদা ওসমান, চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনসহ ঊধর্তন সরকারি কর্মকর্তারা শাহজালাল বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠন করেন বিএনপিপ্রধান তারেক রহমান। এর চার মাস বাদে প্রথম বিদেশ সফরে গেলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে আছেন—পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্‌দী আমিন, প্রতিরক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা এ কে এম শামসুল ইসলাম, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ ২৩ জন।

পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম শনিবার ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করে মালয়েশিয়া ও চীনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ছয় দিনের সফরসূচি তুলে ধরেন।

সচিব সিয়াম জানান, সরকারপ্রধানের সফরে মালয়েশিয়ার সঙ্গে সাংস্কৃতিক বিনিময় আর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে দুটি দলিল সইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

পররাষ্ট্র সচিব জানান, সফরের প্রথম দিন রোববার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে মালয়েশিয়ায় আনুষ্ঠানিক অভ্যর্থনা জানানো হবে। পরদিন পুত্রাজায়ায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে দুই দেশের সরকারপ্রধানের একান্ত বৈঠক হবে। এর পরপরই উভয় দেশের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, কর্মী প্রেরণ, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প ও কৃষি, শিক্ষা ও জন-যোগাযোগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুইদেশের মধ্যে অধিকতর সহযোগিতা স্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হবে বলে জানান পররাষ্ট্র সচিব সিয়াম।

তিনি বলেন, বিশেষত, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন সেক্টরে নতুন বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগের অনুরোধ এবং বাংলাদেশিদের কল্যাণের বিষয়ে অনুরোধ জানানো হবে।

আসাদ আলম সিয়াম বলেন, মালয়েশিয়া সফরে বাংলাদেশের আসিয়ানের ‘ডায়ালগ পার্টনার এবং রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ-আরসেপে’ যোগদান করার আবেদন জোরালোভাবে তুলে ধরে মালয়েশিলার সমর্থন চাওয়া হবে।

মালয়েশিয়ার দুইদিনের সফর শেষ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে চীনের দালিয়ানের উদ্দেশে রওনা হবেন।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, প্রস্তাবিত কর্মসূচি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী ২২ জুন দুপুরে কুয়ালা লামপুর থেকে দালিয়ানের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন, সন্ধ্যায় পৌঁছাবেন।

সেখানে ২৬ জুন ওইদিন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, বৈঠক শেষে ওইদিন তিনি বিকালে বেইজিং থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেবেন। সন্ধ্যায় ঢাকায় অবতরণ করবেন।


মালয়েশিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ছাড়লেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের বিশেষ আমন্ত্রণে রাষ্ট্রীয় সফরে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে ঢাকা ছেড়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বর্তমান সরকার গঠনের পর এটিই তাঁর প্রথম কোনো বৈদেশিক সফর। আজ রবিবার দুপুর আড়াইটায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তিনি মালয়েশিয়ার উদ্দেশে রওনা হন।

সফরসূচি অনুযায়ী, মালয়েশিয়া সফর শেষ করে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি চীন ভ্রমণে যাবেন। চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং-এর আমন্ত্রণে তিনি সেখানে অবস্থান করবেন। দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও রাষ্ট্রীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে আগামী শুক্রবার রাতে তাঁর দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই গুরুত্বপূর্ণ দুই দেশ সফরের প্রাক্কালে গতকাল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে সফরের খুঁটিনাটি ও লক্ষ্য নিয়ে বিস্তারিত ব্রিফ করেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।


দেশজুড়ে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী ও ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেবে সরকার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের সাধারণ মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে ‘প্রাইমারি হেলথ নেটওয়ার্ক’ গড়ে তোলার বিশাল এক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এই পরিকল্পনার আওতায় আগামী চার বছরের মধ্যে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী এবং ২৫ হাজার মিডওয়াইফ নিয়োগ দেওয়া হবে। রোববার (২১ জুন) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ড. হায়দার জানান, নতুন এই ব্যবস্থায় দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন এবং শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে দুইজন করে মিডওয়াইফ নিযুক্ত করা হবে। এছাড়া বর্তমানে পরিচালিত ১৪ হাজার কমিউনিটি ক্লিনিককে আধুনিক ‘স্বাস্থ্য হাবে’ রূপান্তর করে এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। এর ফলে ভবিষ্যতে কমিউনিটি ক্লিনিক নামে আলাদা কোনো ব্যবস্থা থাকবে না। এই পুরো কার্যক্রমের পাইলট প্রকল্প হিসেবে প্রথম পর্যায়ে খুলনা, নরসিংদী, সিরাজগঞ্জ, নোয়াখালী ও বগুড়া জেলাকে বেছে নেওয়া হয়েছে।

প্রকল্পের আর্থিক দিক নিয়ে তিনি জানান, আগামী একনেক সভায় ‘প্রাইমারি হেলথ কেয়ার নেটওয়ার্ক’ প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে। এর মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ মিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে ১৫ মিলিয়ন ডলার এডিবি প্রদান করবে এবং অবশিষ্ট ৩০ মিলিয়ন ডলার সরকারি তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হবে। পাশাপাশি দেশের সকল নাগরিককে ‘ই-হেলথ কার্ড’-এর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের, যার প্রাথমিক কার্যক্রমও ওই পাঁচটি জেলা থেকেই শুরু হবে।

সংবাদ সম্মেলনে হামের টিকা কার্যক্রম নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “‘অন্তর্বর্তী সরকারের গাফিলতির জন্যই হামের টিকা দেওয়া হয়নি। এটা সত্যি এবং পরিষ্কার। এর জন্য আলাদা করে তদন্ত করার প্রয়োজন নেই’।” প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবাকে আরও গণমুখী ও আধুনিক করতেই সরকার এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।


খুলছে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন দ্বার

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি
আপডেটেড ২১ জুন, ২০২৬ ১২:০৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে আজ রোববার বিকেলে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মালয়েশিয়া সফর শেষে তিনি আগামীকাল সোমবার চীন সফরে যাবেন। আওয়ামী সরকার ক্ষমতাচ্যুতের পর নতুন গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বাংলাদেশর জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া ও চীনে এ সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। এ সফরে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের নতুন দ্বার উন্মোচনের সম্ভাবনা রয়েছে।

বিএনপির সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়ায় দুদিনের সফরে গুরুত্ব পাচ্ছে শ্রমবাজার, আসিয়ানে যোগদান ও রোহিঙ্গা ইস্যু। চার দিনের চীন সফরে গুরুত্ব পাচ্ছে তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও বিনিয়োগসহ বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতা উন্নয়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি, বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধি, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, জ্বালানি খাতের উন্নয়ন, মোংলা বন্দরের সুবিধা সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন, যৌথ মানবসম্পদ উন্নয়ন সহযোগিতা পরিকল্পনা, বৃত্তিমূলক শিক্ষা সহযোগিতা ও বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন।

দুই দেশে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে অন্তত দুই ডজন সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। গতকাল শনিবার সকালে সংবাদ সম্মেলন করে সফরের বিস্তারিত জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মালয়েশিয়া সফরে গুরুত্ব পাচ্ছে শ্রমবাজার, রোহিঙ্গা ও আসিয়ানে যোগদান ইস্যু: মালয়েশিয়া সফরের সময় ২২ জুন তারেক রহমান দেশটির প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে একান্ত বৈঠক করবেন। পরে দুই দেশের সরকারপ্রধানের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে পারস্পরিক দ্বিপক্ষীয় বিষয় আলোচনা হবে। আলোচনার ইস্যু হবে বাণিজ্য, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, জ্বালানি সহযোগিতা, হালাল অর্থনীতি, সেমিকন্ডাক্টর শিল্প এবং কৃষি, শিক্ষা ও জনযোগাযোগ। এসব ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে অধিকতর সহযোগিতা স্থাপন নিয়ে আলোচনা হবে।

পররাষ্ট্রসচিব আরও বলেন, মালয়েশিয়ার বিভিন্ন সেক্টরে নতুন বাংলাদেশি কর্মী নেওয়া, আসিয়ানে বাংলাদেশের যোগদান, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে মালয়েশিয়ার সমর্থন চাওয়া হবে। এই সফরে মালয়েশিয়ার সঙ্গে সাংস্কৃতিবিনিময় আর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে দুটি দলিল সইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরে দেশটিতে শ্রমবাজার পুনরায় চালু করা, প্রবাসী শ্রমিকদের কল্যাণ, সুনীল অর্থনীতি ও রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনা হতে পারে। বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে দুটি সমঝোতা স্মারক এবং দুটি ‘নোট অব এক্সচেঞ্জ’ সই হতে পারে।

বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানির তালিকায় চতুর্থ দেশ মালয়েশিয়া। দেশটিতে এখন প্রায় আট লাখ বাংলাদেশি কর্মী কাজ করছেন। কিন্তু নিয়োগপ্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগের পর ২০২৪ সালের ১ জুন থেকে দেশটির শ্রমবাজার বাংলাদেশিদের জন্য বন্ধ রয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ১২ হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মালয়েশিয়ায় পড়াশোনা করছেন।

মালয়েশিয়ায় পৌঁছে কুয়ালালামপুরে সাংগ্রিলা হোটেলে উঠবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ২২ জুন সকাল ৯টায় পুত্রজায়ায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং প্রধান প্রশাসনিক ভবন পেরদানা পুত্রতে যাবেন তিনি। সেখানে দুই দেশের প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠক শেষে সমঝোতা স্মারক সই হবে। এরপর দুই দেশের যৌথ সংবাদ সম্মেলন শেষে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন সেরি পেরদানায় যাবেন তারেক রহমান।

চীনে সফরে গুরুত্ব পাচ্ছে বিনিয়োগ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা, হচ্ছে ১৬ এমওইউ, ৩ চুক্তি: ২২ জুন বেলা ৩টায় মালয়েশিয়া থেকে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে চীনের উদ্দেশে রওনা দেবেন প্রধানমন্ত্রী। দেশটিতে তার চার দিনের সফরে দুই দেশের মধ্যে ১৬টি সমঝোতা স্মারক এবং ৩টি চুক্তি সই হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতা উন্নয়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধি, চীনে উচ্চমানের বাংলাদেশি পণ্য রপ্তানি বৃদ্ধি, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, জ্বালানি খাতের উন্নয়ন, দুই দেশের মধ্যে উন্নয়ন সহযোগিতা, মোংলা বন্দরের সুবিধা সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন, যৌথ মানবসম্পদ উন্নয়ন সহযোগিতা পরিকল্পনা, বৃত্তিমূলক শিক্ষা সহযোগিতা, বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগ বাস্তবায়নকে সমর্থন এবং তাজা কাঁঠাল রপ্তানি নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হতে যাচ্ছে।

এছাড়া চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা শিনহুয়ার সঙ্গে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং বাসসের সমঝোতা স্মারক। চায়না মিডিয়া গ্রুপের সঙ্গে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ টেলিভিশনের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই হওয়ার সম্ভাবনা।

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে দেশটির সঙ্গে উন্নয়ন সহযোগিতা-সংক্রান্ত, মোংলা বন্দরের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন-সংক্রান্ত এবং চীনা ভাষা সহযোগিতা-সংক্রান্ত তিনটি চুক্তি হচ্ছে।

চীন থেকে বছরে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের অবকাঠামো উন্নয়নেও চীন অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী। প্রধানমন্ত্রীর বেইজিং সফরে বিনিয়োগ ও অর্থায়নের নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে বলে কর্মকর্তারা ধারণা করছেন।

২২ জুন বিকেলে কুয়ালালামপুর থেকে রওনা হয়ে রাত সাড়ে ৯টায় চীনের লিয়াওনিং প্রদেশের ডালিয়ান ঝুশুইজি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে চীনের ডালিয়ান শহরের সাংগ্রিলা হোটেলে উঠবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী।

২৩ জুন সাংগ্রিলা হোটেলে সকালে ওয়ার্ল্ড ইকনোমিক ফোরামের প্রধান নির্বাহীর সঙ্গে বৈঠক করবেন তারেক রহমান। বিকেলে ডালিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে ক্লাইমেট লিডারশিপ ইন শিফটিং গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপ সেশনে অংশ নেবেন তিনি। এরপর চীনের স্টেট কাউন্সিল প্রধানের নৈশভোজে অংশ নেবেন তিনি।

২৪ জুন সকাল ১০টায় ডালিয়ান ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে ‘সামার দাভোস’ নামে পরিচিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের একটি সভায় অংশ নেবেন তারেক রহমান। এরপর বেইজিংয়ে ঐতিহাসিক রাষ্ট্রীয় অতিথিশালায় যাবেন তিনি।

২৫ জুন সকালে দিয়াওউতাই হোটেলে বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরামের অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন তারেক রহমান। সেখানে চেরি গ্রুপের সভাপতি, হান্ডা গ্রুপ ও চীনাটেক্সট করপোরেশনের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। বিকেলে গ্রেট হল অব দ্য পিপলে তারেক রহমানকে অভ্যর্থনা জানানো হবে। এখানে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের সঙ্গে বৈঠক করবেন তিনি‌।

২৬ জুন রাতে চীনের আইনসভা গ্রেট হল অব দ্য পিপলে যাবেন তারেক রহমান। এরপর বেইজিংয়ের তিয়েনআনমেন স্কয়ারে অবস্থিত ‘পিপলস হিরোজ’ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন তিনি। সেখানে চীনের ন্যাশনাল পিপলস কংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজির সঙ্গে বৈঠক করবেন।

শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম সফরের বিস্তারিত সূচি ও লক্ষ্য তুলে ধরেন। সেখানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (কূটনীতি ও অন্যান্য অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়) এ কে এম শহিদুল করিমসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উচ্চপর্যায়ের এই প্রতিনিধি দলে থাকছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনসহ আরও কয়েকজন।

পররাষ্ট্রসচিব জানান, এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের সঙ্গে মালয়েশিয়া ও চীনের বিদ্যমান অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর ও বিস্তৃত হবে। সফরসঙ্গী প্রতিনিধি দল তুলনামূলকভাবে ছোট রাখা হয়েছে, যার সদস্য সংখ্যা ২৭ থেকে ২৮ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ।

পররাষ্ট্র সচিব জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে দুই দেশের মধ্যে ১৫ থেকে ১৭টি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বা চুক্তি সই হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ১৩টি সমঝোতা স্মারক, দুইটি চুক্তি, একটি অ্যাকশন প্ল্যান এবং একটি প্রটোকল সই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পররাষ্ট্র সচিব বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হলেও এ সফরে এ সংক্রান্ত কোনো সমঝোতা স্মারক সই হবে না।

সফরের সূচি অনুযায়ী, চীন সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৩ থেকে ২৫ জুন লিয়াওনিং প্রদেশের দালিয়ানে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নিউ চ্যাম্পিয়নসের ১৭তম বার্ষিক সম্মেলনে (সামার দাভোস ফোরাম) অংশ নেবেন।

চীন সফরকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লিয়াওনিং প্রদেশের দালিয়ানে ২৩ থেকে ২৫ জুন অনুষ্ঠেয় ‘নিউ চ্যাম্পিয়নস’-এর ১৭তম বার্ষিক সম্মেলনে (সামার দাভোস ফোরাম) অংশ নেবেন। ‘ইনোভেটিং অ্যাট স্কেল’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ ফোরামে ৯০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের ১ হাজার ৭০০-এর বেশি প্রতিনিধি অংশ নেবেন। সেখানে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবণতা, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি এবং উদ্ভাবননির্ভর প্রবৃদ্ধি নিয়ে আলোচনা হবে।

চীন সফর পর্যালোচনায় থাকবে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র: মালয়েশিয়া ও চীনকে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ও সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমদ। এই দুই দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও গভীর হলে বেশি বিনিয়োগ আসবে বলে মনে করছেন তিনি।

ফয়েজ আহমদ গণমাধ্যমকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী সরাসরি যদি চীনে যেতেন, তাহলে নানাজনে নানান কথা বলতে পারতেন। এখন চীনকে আলাদা করে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না, চীনের যে গুরুত্ব পাওয়া উচিত, সেটিই দেওয়া হচ্ছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘আমরা যেহেতু এখন একটি ভিন্ন ভূরাজনৈতিক বাস্তবতার মধ্যে আছি, সে ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী কোন দেশ সফর করছেন, সেটি কারও কারও কাছে একটি ইস্যু। প্রধানমন্ত্রীর মালয়েশিয়া সফরের মধ্যে বাংলাদেশের কূটনীতিতে ভারসাম্য এবং স্বকীয়তা বজায় রাখার চেষ্টার কূটনৈতিক বার্তা রয়েছে।’

প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর নিয়ে ভারত বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক ধরনের পর্যালোচনা থাকবে জানিয়ে দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘কূটনীতিতে বা পররাষ্ট্রনীতিতে আমরা যদি দেখি, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যখন ভারত সফর করেন, তখন অন্যান্য দেশও তা পর্যালোচনা করে।’

তাই সতর্ক করে এই অধ্যাপক বলেন, ‘মাথায় রাখতে হবে, এই সফরের মাধ্যমে এমন কোনো বার্তা যেন তৈরি না হয় যে চীনের ওপর আমরা অনেক বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছি এবং বৃহৎ কোনো শক্তির তা উদ্বেগের কারণ হতে পারে। বৃহৎ শক্তির সঙ্গে সম্পর্কের ভারসাম্য বজায় রাখার বিষয়টি আমাদের মাথায় রাখতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর এই সফরের মধ্য দিয়ে চীন ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক আরও গভীর হলে উভয় দেশ থেকে বেশি বিনিয়োগ আসবে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। তবে এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ চীনের ওপর অনেক বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে এমন বার্তা যেন তৈরি না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর কোন দেশে হবে, এ নিয়ে বেশ জল্পনা ছিল। গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতির প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সরকারি সফর ভারতে হবে কি না, সে বিষয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে বেশ আলোচনা ছিল।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, কোরবানির ঈদের কয়েক দিন আগে প্রধানমন্ত্রী চীন সফরের আগে মালয়েশিয়া সফরের বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন। শেষ পর্যন্ত মালয়েশিয়াকে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম গন্তব্য হিসেবে বেছে নেওয়া হয়।

সরকার গঠনের পর এটিই প্রধানমন্ত্রীর প্রথম বিদেশ সফর। মালয়েশিয়া দিয়ে শুরু করা প্রধানমন্ত্রীর এই সফর চীন ভ্রমণের মাধ্যমে শেষ হবে ২৬ জুন। সফর শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগামী শুক্রবার রাতে দেশে ফেরার কথা রয়েছে।


খেলার পাশাপাশি পড়াশোনা, সংস্কৃতি চর্চা ও উদ্ভাবনী কাজেও পারদর্শী হতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’-এর জাতীয় পর্যায়ের ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, শিশুদের শুধু খেলাধুলা করলেই চলবে না, এর পাশাপাশি পড়াশোনা, সংস্কৃতি চর্চা ও উদ্ভাবনী কাজেও পারদর্শী হতে হবে। তোমরাই আগামীর ভবিষ্যৎ, তোমাদের হাতেই আগামীদিনে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিতে হবে। শনিবার (২০ জুন) সন্ধ্যায় রাজধানীর আর্মি স্টেডিয়ামে ‘প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬’-এর জাতীয় পর্যায়ের ফাইনাল খেলা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষার্থীদের বহুমুখী প্রতিভা বিকাশের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু খেললে চলবে না, লেখাপড়াও করতে হবে। এর পাশাপাশি গান, বাদ্যযন্ত্র বাজানো, কবিতা আবৃত্তি, কোরআন-কেরাত থেকে শুরু করে নতুন নতুন ইনোভেটিভ কাজেও নিজেদের যুক্ত করতে হবে। তোমরা যদি সব কিছুতে নিজেদের পারদর্শী করতে পারো, তবেই আমরা একটি শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।

ক্ষুদে খেলোয়াড়দের দেশের ভবিষ্যৎ কাণ্ডারি হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, তোমরা যারা আজ এখানে খেলছো বা গ্যালারিতে বসে আছো, তোমরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ। আমরা যারা বড় আছি, আমরা বুড়ো হয়ে যাচ্ছি। বড় হয়ে তোমাদেরই এই দেশ চালাতে হবে এবং আমাদের চেয়েও ভালোভাবে চালাতে হবে।

বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের পরিচিতি তুলে ধরতে শিশুদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমানে ক্রিকেট দিয়ে সারাবিশ্ব বাংলাদেশকে চেনে। আগামীতে ফুটবল, সাঁতার, হকি, টেনিসসহ সব ধরনের খেলা দিয়ে বিশ্ব বাংলাদেশকে চিনবে। তোমরাই হবে সারাবিশ্বে বাংলাদেশের অ্যাম্বাসেডর।

শুধু স্থানীয় পর্যায়ে নয়, বাংলাদেশের লক্ষ্য এখন অলিম্পিক— এমনটি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য শুধু স্থানীয় পর্যায়ে খেলা নয়, অলিম্পিকেও যেন আমরা ভালো ফলাফল করতে পারি সেদিকে নজর দেওয়া হচ্ছে। সেজন্য আমরা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।

খেলাধুলার প্রসারে নতুন উদ্যোগের কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই টুর্নামেন্টে গত দেড় মাসে সারাদেশে প্রায় ২২ লাখ শিশু অংশ নিয়েছে। আগামীতে আমরা মাধ্যমিক (সেকেন্ডারি) স্কুলেও এই গেম শুরু করব। এ ছাড়া এ বছর মাধ্যমিক ও আগামী বছর প্রাথমিক পর্যায় থেকে ‘প্রাইম মিনিস্টারস কাপ’ চালু করা হবে। শিশুদের সবুজ মাঠে খেলার সুযোগ করে দিতে নতুন নতুন মাঠ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বক্তব্য শেষে প্রধানমন্ত্রী বিজয়ী ও রানার্সআপ দলের অধিনায়ক, খেলোয়াড় ও কোচদের হাতে ট্রফি, মেডেল ও প্রাইজমানি তুলে দেন। একইসঙ্গে টুর্নামেন্ট সফল করতে সহযোগিতা করায় সব শিক্ষক ও অভিভাবকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

এবারের টুর্নামেন্টে বালক বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার দড়িয়াল মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং রানার্সআপ হয়েছে ময়মনসিংহের ত্রিশালের দড়িররামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। অন্যদিকে, বালিকা বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে পাবনার সাঁথিয়ার জোড়গাছা ইউনাইটেড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং রানার্সআপ হয়েছে ময়মনসিংহের নান্দাইলের আউচারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।

টুর্নামেন্টের বালক বিভাগে সর্বোচ্চ গোলদাতা (গোল্ডেন বুট) এবং সেরা খেলোয়াড়ের (গোল্ডেন বল) পুরস্কার জিতেছে বরিশাল বাকেরগঞ্জের যথাক্রমে আবু রেদওয়ান ও শাহাদাত ইসলাম। বালিকা বিভাগে সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছেন নান্দাইলের পরশমনি এবং সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হয়েছেন পাবনার সাঁথিয়ার মোসাম্মৎ মারিয়া খাতুন।

অনুষ্ঠানে টুর্নামেন্ট পরিচালনায় যুক্ত রেফারি ও ম্যাচ কমিশনারদের হাতেও সম্মাননা ক্রেস্ট তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় গ্যালারি ভর্তি শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


২২ হাজার প্রবাসীর এনআইডি আবেদন বাতিল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিভিন্ন দেশ থেকে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) পেতে ২২ হাজার প্রবাসীর আবেদন বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। যথাযথ না হওয়ায় তাদের আবেদন বাতিল করা হয়েছে বলে জানা গেছে। শনিবার (২০ জুন) এনআইডি শাখার কর্মকর্তারা বিষয়টি জানিয়েছেন।

প্রবাসীদের আবেদন সংক্রান্ত এক প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, ২০২৩ সালে শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত মোট নিবন্ধন আবেদন পড়েছে ৮৯ হাজার ৮৯৭টি।

বায়োমেট্রিক প্রদান করেছেন ৫৩ হাজার ২২৯ জন। তদন্তের পর অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে এমন আবেদনের সংখ্যা ২ হাজার ৯৭৮টি। তদন্তের পর অনুমোদন হয়েছে ৪৭ হাজার ১৩২টি আবেদন। বাতিল হয়েছে ২২ হাজার ৩৫২টি আবেদন। সার্ভারে তথ্য আপলোডের অপেক্ষায় রয়েছে ১০ হাজার ১৪১ জনের আবেদন। আপলোড করা হয়েছে ৩৭ হাজার ১৬ জনের আবেদন। এছাড়া আবেদন অনুমোদনের পর এনআইডি প্রিন্ট করা হয়েছে ২২ হাজার ১৮টি। সংশ্লিষ্ট দূতাবাসের মাধ্যমে যা বিতরণ চলছে।

ইসি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবী ও দুবাই; সৌদি আরবের রিয়াদ ও জেদ্দা; যুক্তরাজ্যের লন্ডন, ম্যানচেষ্টার ও বার্মিংহাম; ইতালির রোম ও মিলান; কুয়েতের কুয়েত সিটি; কাতারের দোহা; মালয়েশিয়ার কুলালামপুর; অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরা ও সিডনি; কানাডার অটোয়া ও টরেন্টো; জাপানের টোকিও; আমেরিকার নিউইয়র্ক, মিয়ামি, ওয়াশিংটন ডিসি ও লসঅ্যাঞ্জেলস; মালদ্বীপের মালে; ওমানের মাসকাট; দক্ষিণ আফ্রিকার প্রিটোরিয়াসহ মোট ১৪টি দেশের ২৪টি স্টেশনে ভোটার তালিকা ও এনআইডি বিতরণ কার্যক্রম চলছে। কর্মকর্তারা বলছেন, আবেদন বাতিল হলেও অসুবিধা নেই। পুনরায় আবেদন করা যাবে।

সবচেয়ে বেশি ভোটার আবেদন এসেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে থেকে, ২৩ হাজার ৯৪০টি। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে সবচেয়ে কম আবেদন এসেছে, ১২৬টি আবেদন। সৌদি আরবে আবেদন জমা পড়েছে ৬ হাজার ৩৫২টি। যুক্তরাজ্যে ১৭ হাজার ৩০টি। ইতালিতে ৯ হাজার ৩৮টি। কুয়েতে আবেদন জমা পড়েছে ৫ হাজার ৫৭৩টি। কাতারে ৫ হাজার ৪০৬টি। মালয়েশিয়া থেকে ১ হাজার ৮৩৩টি আবেদন এসেছে। অস্ট্রেলিয়াতে আবেদন জমা পড়েছে ১ হাজার ২০৬টি। কানাডায় ৩ হাজার ২৯৮টি। জাপানে আবেদন জমা পড়েছে ৩০৯টি। যুক্তরাষ্ট্রে ১৬ হাজার ৮১২টি। মালদ্বীপে ২৯৮টি ও ওমান থেকে আবেদন এসেছে ২ হাজার ২৪৬টি।

প্রবাসীদের চার তথ্য দেওয়া বাধ্যতামূলক: বিদেশে বসে ভোটার হওয়ার জন্য অনলাইনে পূরণকৃত আবেদনপত্র (ফরম-২(ক), মেয়াদ সম্বলিত বাংলাদেশি পাসপোর্ট/মেয়াদহীন পাসপোর্ট/এনআইডিধারী তিন নাগরিকের প্রত্যায়ন, অনলাইন জন্ম নিবন্ধন ও পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি বাধ্যতামূলকভাবে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কেন্দ্রে (দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট ডেস্কে) জমা দিতে হবে।


মালয়েশিয়ায় ১১৮ বাংলাদেশি আটক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশন বিভাগের (জেআইএম) বিশেষ অভিযানে ১৮৬ জন অবৈধ অভিবাসীকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১১৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। গত শুক্রবার (১৯ জুন) দিনগত রাতে রাজধানী কুয়ালালামপুরের পুডু মার্কেট এলাকার আশপাশে বিদেশি নাগরিকদের আবাসস্থল লক্ষ্য করে এই অভিযান চালানো হয়।

‘অপস কুতিপ’ নামের এ অভিযানে বেশ কয়েকজন বিদেশি নাগরিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়ার এবং বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে থাকার চেষ্টা করেন। তবে কর্তৃপক্ষের তৎপরতায় তাদের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয় এবং পরে সবাইকে আটক করা হয়।

ইমিগ্রেশন বিভাগের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, শুক্রবার (১৯ জুন) রাত ১২টা ৫ মিনিটে শুরু হওয়া এ অভিযানে কুয়ালালামপুর ফেডারেল টেরিটরি ইমিগ্রেশন বিভাগ, পুত্রাজায়া ও সেলাঙ্গর ইমিগ্রেশন বিভাগ, রয়্যাল মালয়েশিয়া পুলিশ (পিডিআরএম), কুয়ালালামপুর সিটি হল (ডিবিকেএল) এবং জাতীয় নিবন্ধন বিভাগের (জেপিএন) মোট ১৩৭ জন কর্মকর্তা ও সদস্য অংশ নেন।

অভিযান চলাকালে ৩২০ জন বিদেশি নাগরিকের কাগজপত্র যাচাই করা হয়। এর মধ্যে ১৮৬ জনকে বিভিন্ন ধরনের অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে আটক করা হয়েছে।

আটকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি রয়েছেন বাংলাদেশি নাগরিক। মোট ১১৮ জন বাংলাদেশি পুরুষকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া ২৮ জন ইন্দোনেশীয় (৭ পুরুষ ও ২১ নারী), ২৬ জন মিয়ানমার নাগরিক (১৩ পুরুষ ও ১৩ নারী), ৫ জন ভিয়েতনামি (৩ পুরুষ ও ২ নারী), ৪ জন নেপালি, দুজন ভারতীয়, একজন পাকিস্তানি এবং দুজন চীনা নাগরিককে (১ পুরুষ ও ১ নারী) আটক করা হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, আটক ব্যক্তিদের কেউ ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছিলেন, আবার কেউ বৈধ ভ্রমণ নথি বা অনুমতিপত্র ছাড়াই দেশটিতে বসবাস করছিলেন। তাদের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩-এর ধারা ১৫(১)(সি) (অতিরিক্ত সময় অবস্থান) এবং ধারা ৬(১)(সি) (বৈধ নথিপত্র ছাড়া অবস্থান)-এর আওতায় তদন্ত চলছে।

ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আটক ব্যক্তিদের ইমিগ্রেশন ডিপোতে পাঠানো হয়েছে।


দেশে খাদ্যশস্যের মজুত ছাড়াল ২০ লাখ ৬০ হাজার টন

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

দেশে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারি গুদামগুলোতে খাদ্যশস্যের মজুত সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে। গত ১৭ জুন ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত প্রাপ্ত সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ফ্লোটিং (ভাসমান) মজুতসহ দেশে খাদ্যশস্যের মোট সরকারি মজুতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৬০ হাজার ৫০৭ মেট্রিক টন। খাদ্য অধিদপ্তরের দৈনন্দিন খাদ্যশস্য পরিস্থিতি সংক্রান্ত প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, সরকারি গুদামগুলোতে বর্তমানে প্রধান খাদ্যশস্য চালের মজুত রয়েছে ১৫ লাখ ৯৬ হাজার ৫৭৯ মেট্রিক টন। এছাড়া গমের মজুত রয়েছে ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৮৩১ মেট্রিক টন এবং ধানের মজুত রয়েছে ১ লাখ ৬১ হাজার ৮৪ মেট্রিক টন। এর ফলে ফ্লোটিং বা ভাসমান মজুত বাদে মোট মজুতের পরিমাণ ২০ লাখ ৩৮ হাজার ১১৪ মেট্রিক টন। এর সাথে গমের ২০ হাজার ৪৩২ মেট্রিক টন এবং চালের ১ হাজার ৯৬২ মেট্রিক টনের ফ্লোটিং মজুত যুক্ত হয়ে সর্বমোট মজুতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২০ লাখ ৬০ হাজার ৫০৭ মেট্রিক টনে।

উল্লেখ্য, ধানের এই পরিমাণকে চালের আকারে রূপান্তর করেই মোট মজুতের অন্তর্ভুক্ত করা হয়ে থাকে। চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে দেশব্যাপী বোরো সংগ্রহ অভিযান পুরোদমে চলছে। ১৭ জুন ২০২৬ তারিখ পর্যন্ত সর্বমোট ৭ লাখ ১৮ হাজার ৩৭৩ মেট্রিক টন বোরো খাদ্যশস্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ধান সংগ্রহ করা হয়েছে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৩৭৫ মেট্রিক টন, সিদ্ধ চাল ৫ লাখ ৬৬ হাজার ৬৭ মেট্রিক টন, আতপ চাল ৩১ হাজার ৯৬৮ মেট্রিক টন এবং গম সংগ্রহ করা হয়েছে ৪৯৪ মেট্রিক টন। এক্ষেত্রেও ধানকে চালের আকারে (১০০:৬৫ অনুপাতে) মোট সংগ্রহের হিসাবভুক্ত করা হয়েছে।

১ জুলাই ২০২৫ থেকে ১৭ জুন ২০২৬ পর্যন্ত চলতি অর্থবছরে সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতে মোট ৮৫ লাখ ৮৩ হাজার ৫১ টন খাদ্যশস্য আমদানি করা হয়েছে। এর মধ্যে চাল আমদানি হয়েছে ৭৩ লাখ ১৬ হাজার ১৯৪ টন এবং গম আমদানি হয়েছে ১২ লাখ ৬৬ হাজার ৫৭ টন।

আমদানির খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সরকারি ব্যবস্থাপনায় (জিটুজি ও আন্তর্জাতিক টেন্ডার) মোট ১২ লাখ ৬৬ হাজার ৯৮ টন খাদ্যশস্য আমদানি করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫ লাখ ৩১ হাজার ৮০ টন চাল এবং ৭ লাখ ৩৫ হাজার ১৮ টন গম রয়েছে।

অন্যদিকে, বেসরকারি খাতে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে মোট ৭৩ লাখ ১৬ হাজার ৫৩ টন খাদ্যশস্য আমদানি করা হয়েছে; যার মধ্যে সিংহভাগই চাল (৬৫ লাখ ৮১ হাজার ৭৬ টন) এবং গম ৭ লাখ ৩৪ হাজার ৭৭ টন। চলতি অর্থবছরে খাদ্য সাহায্য হিসেবে কোনো চাল বা গম আমদানি করা হয়নি।

শুধু গত ১৭ জুন ২০২৬ তারিখে দৈনিক আমদানির পরিমাণ ছিল ৫ হাজার ১২০ টন (৫.১২ হাজার মে. টন)। যার মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ২ হাজার ৯০ টন চাল এবং ৩ হাজার ৩০ টন গম ইতোমধ্যে দেশে এসে পৌঁছেছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানের এই মজুতের পরিমাণ দেশের খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় অত্যন্ত শক্তিশালী ভূমিকা রাখবে। অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ এবং আমদানি প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকায় বাজারে চাল ও গমের সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের এই মজুত সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে বলে জানিয়েছেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ শাখার উপসচিব মোহাম্মদ মামুন মিয়া।

তিনি বলেন, ১৩ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন খাদ্য মজুত থাকলে তা নিরাপদ মজুত হিসেবে গণ্য হয়। সে হিসেবে এখন দেশে যা মজুত আছে তা খুবই নিরাপদ।

খাদ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব) মো. জামাল হোসেন বলেন, সরকার যেসব লক্ষ্যমাত্রা স্থির করেছে, তা বাস্তবায়নে আমরা নিরলসভাবে কাজ করছি। খাদ্য মজুত এখন খুবই সন্তোষজনক পর্যায়ে আছে।

অন্যদিকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে নতুন ধান ও চাল সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলমান থাকায় আগামী দিনগুলোতে এই মজুতের পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, গত ৩ মে থেকে খাদ্য সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে, চলবে আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। এসময় ৫ লাখ মেট্রিক টন ধান, ১২ লাখ মেট্রিক টন চাল, ১ লাখ মেট্রিক টন আতপ চাল, ৫০ হাজার মেট্রিক টন গমসহ সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার।

খাদ্য সচিব জানান, আমদানিসহ সরকারের নানা পদক্ষেপের কারণে খাদ্য মজুত আগামী দিনগুলোতে আরও বাড়তে থাকবে।


বন্ধ ও লোকসানি কারখানায় বিদেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানালেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত রোড শো অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বন্ধ এবং অলাভজনক শিল্পকারখানাগুলোতে নতুন করে বিনিয়োগের গতি ফেরাতে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে সরকার। এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে দেশি বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, বিশেষ করে জাপানি কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

শনিবার (২০ জুন) প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ রোড শোতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান। শিল্প মন্ত্রণালয়, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) যৌথভাবে এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

এসময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের শিল্প খাতের দীর্ঘমেয়াদি বিকাশ এবং উৎপাদনমুখী অর্থনীতিকে আরও গতিশীল রাখতে বন্ধ ও লোকসানি কারখানাগুলোকে নতুন পুঁজিতে পুনরায় চালু করা অত্যন্ত জরুরি। এই লক্ষ্যে তিনি বাংলাদেশে বিদ্যমান চমৎকার বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ ও সরকারি সুযোগ-সুবিধাকে কাজে লাগানোর জন্য বিশ্বস্ত আন্তর্জাতিক অংশীজনদের প্রতি আহ্বান জানান।

উচ্চপর্যায়ের এই বিশেষ রোড শোতে সরকারের শীর্ষ নীতিনির্ধারক, প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এবং দেশি-বিদেশি শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাদের মধ্যে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ উপস্থিত ছিলেন। প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের শীর্ষ কর্মকর্তারা এই বিশেষ আয়োজনে অংশ নেন।

বিনিয়োগের এই বড় মেলবন্ধনে দেশের প্রথম সারির শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠীগুলোর প্রতিনিধিরা অংশ নেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো প্রাণ-আরএফএল, এসিআই লিমিটেড, ওয়ালটন, মেঘনা গ্রুপ, রানার, টি কে গ্রুপ, ব্র্যাক, নাবিল, স্কয়ার, ট্রান্সকম, আকিজ এবং লাল তীর। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের মধ্যে বিশ্বখ্যাত জাপানি প্রতিষ্ঠান মারুবেনি করপোরেশন, টয়োটা সুশো করপোরেশন, সুমিতোমো করপোরেশন, এমইউএফজি ব্যাংক লিমিটেড, মিতসুই অ্যান্ড কোং, সোজিৎস এশিয়া প্রাইভেট লিমিটেড এবং জেট্রো বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

একই সাথে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপান দূতাবাসের শীর্ষ কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সরকারের এই উদ্যোগের প্রশংসা করেন। সংশ্লিষ্ট মহলের জোর আশা, এই রোড শোর মাধ্যমে দেশের ঝিমিয়ে পড়া ও লোকসানি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোতে জাপানি ও দেশীয় বড় বিনিয়োগের নতুন দুয়ার উন্মোচিত হবে, যা দেশের বেকার সমস্যার সমাধান, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে অত্যন্ত ইতিবাচক ও সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখবে।


banner close