প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্বোধনের পর যেন তর সইছিল না সাধারণ মানুষের। অবশেষে আজ অবসান হচ্ছে দীর্ঘ প্রতীক্ষার। আজ ১ ডিসেম্বর থেকে ঢাকা-কক্সবাজার রেলপথে জনসাধারণের জন্য চালু হচ্ছে কক্সবাজার এক্সপ্রেস। ঢাকা ও কক্সবাজার দুই জায়গা থেকেই কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনটি উদ্বোধনের প্রস্তুতি নিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়।
রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আজ শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টায় কক্সবাজার আইকনিক রেলওয়ে স্টেশন থেকে ঢাকা-কক্সবাজার রেলপথে ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’ চলাচলের উদ্বোধন করা হবে। কক্সবাজারে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. হুমায়ুন কবির।
একই দিন রাত পৌনে ১০টায় ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকেও উদ্বোধন হবে ট্রেনটির। এ সময় বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক কামরুল আহসান উপস্থিত থেকে কক্সবাজারগামী যাত্রীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার এক্সপ্রেসে ঢাকার কমলাপুর স্টেশন ছাড়বে শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টায়। চট্টগ্রামে এসে পৌঁছাবে রাত ৩টা ৪০ মিনিটে। ২০ মিনিট যাত্রাবিরতি দিয়ে রাত ৪টায় কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। কক্সবাজারে পৌঁছাবে সকাল ৬টা ৪০ মিনিটে। অর্থাৎ রাজধানী থেকে পর্যটন শহরে যেতে সময় লাগবে ৮ ঘণ্টা ১০ মিনিট।
অন্যদিকে কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে ট্রেন ছাড়বে দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে। এই ট্রেন চট্টগ্রামে আসবে বেলা ৩টা ৪০ মিনিটে। আর ঢাকায় পৌঁছবে রাত ৯টা ১০ মিনিটে।
জানা গেছে, ট্রেন চলাচল নির্বিঘ্ন করতে সাতকানিয়ায় নির্মিত চারটি সেতু ট্রেন ট্রায়ালের মাধ্যমে প্রস্তুত করা হয়েছে। কক্সবাজার স্টেশনে পদায়ন করা হয়েছে একজন ইনচার্জসহ মোট ৪ জন স্টেশন মাস্টারকে। এ ছাড়া বাড়ানো হয়েছে প্রয়োজনীয় লোকবল।
ট্রেনে যাত্রীদের নিরাপত্তায় ১০ জন রেলওয়ে পুলিশ নিয়োজিত থাকবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানার পুলিশ ইনচার্জ এসএম শহিদুল ইসলাম।
রেলওয়ে বিভাগীয় ব্যবস্থাপক মো. সাইফুল ইসলাম দৈনিক বাংলাকে বলেন, ১ ডিসেম্বর কক্সবাজার থেকে ঢাকা বাণিজ্যিক ট্রেন চলাচলের জন্য আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। দফায় দফায় সভা করে সব পদক্ষেপ নিয়েছি।
যোগাযোগ করা হলে কক্সবাজার স্টেশন মাস্টার মো. গোলাম রাব্বানী বলেন, কক্সবাজার থেকে ঢাকায় প্রথম বাণিজ্যিক ট্রেন চলাচলে আমরা প্রস্তুত। নির্দিষ্ট সময়ে ঢাকার উদ্দেশে ট্রেন কক্সবাজার ছেড়ে যাবে। যাত্রীদের সর্বোচ্চ সেবা দেয়ার চেষ্টা থাকবে।
ঢাকা থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত শোভন চেয়ারের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৬৯৫ টাকা। এসি চেয়ারের ভাড়া ১ হাজার ৩২৫ টাকা, এসি সিটের ১ হাজার ৫৯০ টাকা এবং এসি বার্থের (ঘুমিয়ে যাওয়ার আসন) ভাড়া ২ হাজার ৩৮০ টাকা।
চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত শোভন চেয়ারের ভাড়া ২০৫ টাকা, স্নিগ্ধা শ্রেণির ৩৮৬ টাকা, এসি সিটের ৪৬৬ এবং এসি বার্থের ৬৯৬ টাকা।
গত ১১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দোহাজারী-কক্সবাজার রেলপথের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন।
এ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে রেল নেটওয়ার্কে ৪৮তম জেলা হিসেবে যুক্ত হয় কক্সবাজার।
এ সময় তিনি বলেছিলেন, পঞ্চগড় থেকে কক্সবাজার অথবা রাজশাহী থেকে কক্সবাজার, দক্ষিণাঞ্চল সুন্দরবন থেকে কক্সবাজার, এমনকি গোপালগঞ্জ-ফরিদপুর অর্থাৎ সমগ্র বাংলাদেশ থেকেই যাতে সহজে কক্সবাজার আসা যায় সেই পদক্ষেপও আমরা নেব। এই যোগাযোগগুলো সম্পন্ন হলে আমাদের পর্যটনের ক্ষেত্রে একটা বিরাট পরিবর্তন আসবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
কক্সবাজারে নির্মাণ করা হয়েছে আইকনিক রেলওয়ে স্টেশন।
দোহাজারী-কক্সবাজার রেল প্রকল্পের পরিচালক মো. সুবক্তগীন বলেন, ছয়তলার এই স্টেশনে রয়েছে চলন্ত সিঁড়ি, মালামাল রাখার লকার, হোটেল, রেস্তোরাঁ, শপিংমলসহ আধুনিক সব সুবিধা। ৪৬ হাজার মানুষের ধারণক্ষমতা সংবলিত স্টেশনটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। এতে আছে কনভেনশন হল, ট্যুরিস্ট ইনফরমেশন বুথ, এটিএম বুথ, এমনকি প্রার্থনার স্থানও। স্টেশনে ফুড কোর্ট, হোটেল ও শপিং কমপ্লেক্সের বিষয়টি বাইরের এজেন্সি দ্বারা টেন্ডারিংয়ের মাধ্যমে পরিচালনা করা হবে।
দোহাজারী-কক্সবাজার ও মিয়ানমারের সীমান্তবর্তী ঘুমধুম রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পটি ২০১০ সালে শুরু হয়ে ২০১৩ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে ঘুমধুম পর্যন্ত সিঙ্গেল লাইন ডুয়েলগেজ ট্র্যাক নির্মাণ (প্রথম সংশোধিত) প্রকল্পটি ২০১৬ সালের ১৯ এপ্রিল একনেকে অনুমোদিত হয় এবং এ লাইনে ১২৮ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার ৮৫২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। কিন্তু জমি অধিগ্রহণসহ অন্যান্য ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় ২০১৬ সালে সংশোধিত প্রকল্প ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ১৮ হাজার ৩৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকায়। এই বাজেটে এডিবি ঋণ দেয় ১৩ হাজার ১১৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা আর বাকি ৪ হাজার ৯১৯ কোটি ৭ লাখ টাকা সরকারি তহবিল থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে।
একনেক অনুমোদনের পর, প্রকল্পের মেয়াদকাল ২০১০ সালের ১ জুলাই ২০২২ সালের ৩০ জুন ধরা হয়। এ রেলপথ নির্মাণে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায় ১ হাজার ৩৬৫ একর জমি অধিগ্রহণ করে ঠিকাদারকে বুঝিয়ে দিতে বিলম্ব হয়। প্রকল্পের ১৬৫ একর সংরক্ষিত বনাঞ্চল ডি-রিজার্ভকরণসহ প্রকল্পে ব্যবহারে অনুমতি পেতে কালক্ষেপণ হয়। এ পরিপ্রেক্ষিতে সব কাজ শেষ হতে প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়।
কক্সবাজারের সঙ্গে শুধু ঢাকা নয়, পদ্মা সেতু হয়ে দক্ষিণাঞ্চল ও উত্তরবঙ্গের সঙ্গেও এ রেলপথ যুক্ত হবে বলে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব হুমায়ুন কবির।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোনো দয়া বা আলোচনার মাধ্যমে অর্জিত নয়; রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মধ্য দিয়েই এই স্বাধীনতা ছিনিয়ে আনা হয়েছে। তাই স্বাধীনতার ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরা অত্যন্ত জরুরি।
বুধবার (২৫ মার্চ) রাজধানীর বেইলি রোডে ভিকারুন্নেসা স্কুল অ্যান্ড কলেজে কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক কমিটির উদ্যোগে ২৫শে মার্চ গণহত্যা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত স্মৃতিচারণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ১৯৪৭ সালের পর থেকেই পূর্ব পাকিস্তানের ওপর বৈষম্য চাপিয়ে দেওয়া হয়। ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচন—সবকিছুই ছিল স্বাধীনতার পথে বাঙালির অগ্রযাত্রা। কিন্তু রাজনৈতিক অচলাবস্থার মধ্যেই ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর নির্মম গণহত্যা চালায়। রাজারবাগ পুলিশ লাইন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ হলসহ বিভিন্ন স্থানে নির্বিচারে হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়।
তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, ছাত্রজীবনেই তিনি মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতিতে যুক্ত হন। অস্ত্র না থাকলেও ছাত্ররা বিভিন্নভাবে প্রতিরোধের প্রস্তুতি নেয়, এমনকি স্কুলের ল্যাব থেকে রাসায়নিক সংগ্রহ করে বোমা তৈরির চেষ্টা করা হয়। ২৫ মার্চের হত্যাযজ্ঞ চোখে দেখার পরই তিনি শপথ নেন—দেশ স্বাধীন না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবেন।
আব্দুস সালাম বলেন, স্বাধীনতার পরও দেশের মানুষের প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ হয়নি। নতুন প্রজন্মকে দেশপ্রেম, মেধা ও সৎ নেতৃত্বের সমন্বয়ে দেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এই দেশ স্বাধীন করেছি আমরা, আর এই স্বাধীনতা রক্ষা করার দায়িত্ব তোমাদের। দেশকে ভালোবাসতে হবে, দেশের সংস্কৃতি, মানুষ ও ঐতিহ্যকে ধারণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, মেধা পাচার বন্ধ করে তরুণদের দেশেই কাজ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, মেধা ও দেশপ্রেম একসাথে কাজ করলে বাংলাদেশ আরও এগিয়ে যেতে পারবে।
অনুষ্ঠানে তিনি মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানসহ মুক্তিযুদ্ধের সংগঠকদের স্মরণ করেন।
স্মৃতিচারণ সভায় প্রশাসক ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বুধবার (২৫ মার্চ) সন্ধ্যায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। দৌলতদিয়া ৩ নম্বর পন্টুন দিয়ে ফেরিতে ওঠার সময় ‘সৌহার্দ্য পরিবহন’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সরাসরি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণা অনুযায়ী, বাসটির ব্রেক বিকল হয়ে যাওয়ায় চালক নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারেননি এবং মুহূর্তেই যানটি তলিয়ে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই বেশ কয়েকজন যাত্রী সাঁতরে পাড়ে উঠতে সক্ষম হলেও বাসের ভেতরে থাকা অধিকাংশ যাত্রীই নিখোঁজ রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ঘটনার খবর পেয়েই রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ সদস্যরা দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা শুরু করেন। বাসটি পানি থেকে টেনে তোলার জন্য ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’।
রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক দেওয়ান সোহেল রানা জানিয়েছেন, নিখোঁজদের সন্ধানে পাটুরিয়া ও আরিচা ঘাট থেকে বিশেষ ডুবুরি দল তলব করা হয়েছে এবং তারা পৌঁছানোর পর পূর্ণাঙ্গ উদ্ধার অভিযান শুরু হবে।
বর্তমানে স্থানীয় এলাকাবাসী ও প্রশাসনের সহযোগিতায় নিখোঁজ যাত্রীদের উদ্ধারে আপ্রাণ চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে নদীতে তীব্র স্রোত ও অন্ধকার নেমে আসায় উদ্ধারকাজ কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে। এখন পর্যন্ত নির্দিষ্ট কোনো হতাহতের সংখ্যা নিশ্চিত করা যায়নি, তবে নিখোঁজদের স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।
ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, উদ্ধার অভিযান শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাসের ভেতরে ঠিক কতজন আটকা পড়েছেন তা সঠিকভাবে বলা সম্ভব হচ্ছে না।
জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) সংক্রান্ত জনভোগান্তি কমাতে এবং সেবার মান ত্বরান্বিত করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এখন থেকে মাঠপর্যায়ের উপজেলা বা থানা নির্বাচন কার্যালয়ের পাশাপাশি আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদেরও ভোটারের আঙুলের ছাপ বা বায়োমেট্রিক যাচাই করার ক্ষমতা প্রদান করা হচ্ছে। বুধবার নির্বাচন কমিশনের এনআইডি অনুবিভাগের সিস্টেম ম্যানেজার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আগে এই প্রযুক্তিগত সুবিধা কেবল উপজেলা ও থানা পর্যায়ে সীমাবদ্ধ থাকায় সাধারণ মানুষকে পরিচয় নিশ্চিতকরণ বা এনআইডি সংশোধনের ক্ষেত্রে দ্বিমুখী বিড়ম্বনার শিকার হতে হতো।
বর্তমানে জাতীয় পরিচয়পত্রে নিজের নাম কিংবা পিতা-মাতার নামের মতো মৌলিক ও বড় ধরনের সংশোধনের জন্য নাগরিকদের বাধ্যতামূলকভাবে আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে যেতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে সব প্রয়োজনীয় নথিপত্র সঠিক থাকা সত্ত্বেও, ওই কার্যালয়ে আঙুলের ছাপ যাচাইয়ের কারিগরি সুবিধা তথা ‘এফআইএস ম্যাচিং’ ব্যবস্থা না থাকায় সেবাগ্রহীতাদের পুনরায় উপজেলা বা কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হতো। এই দীর্ঘসূত্রিতা ও ভোগান্তি লাঘবের উদ্দেশ্যেই আঞ্চলিক পর্যায়ে বায়োমেট্রিক যাচাইয়ের সক্ষমতা চালুর বিষয়ে নীতিগত আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা পাওয়ার পরপরই মাঠপর্যায়ের আঞ্চলিক কার্যালয়গুলোতে এই সুবিধা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হবে। কমিশনের এই উদ্যোগের ফলে সাধারণ মানুষ দ্রুততম সময়ে এনআইডি সংশোধন ও পরিচয় নিশ্চিতকরণের সেবা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে মোট ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৮৯৫ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটারের সংখ্যা ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ১৫১ জন এবং নারী ভোটার ৬ কোটি ২৮ লাখ streetlight ৮৫ হাজার ৫২৪ জন। এছাড়া তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন ১ হাজার ১২০ জন। বিশাল এই জনগোষ্ঠীর পরিচয়পত্রের নিরাপত্তা ও নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে বায়োমেট্রিক যাচাইয়ের বিকেন্দ্রীকরণ অত্যন্ত জরুরি ছিল বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
প্রশাসনিক এই পরিবর্তনের পাশাপাশি জাতীয় সংকটে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রভাবে সরকার ঘোষিত সাশ্রয়ী নীতির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেছে ইসি সচিবালয়। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক সমন্বয় সভায় ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ মাঠপর্যায়ের সব কর্মকর্তাকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি তেল ব্যবহারে সর্বোচ্চ সাশ্রয়ী হওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন। বিশেষ করে কার্যালয়গুলোতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্র বা এসির তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে রাখা এবং সরকারি যানবাহনের অপ্রয়োজনীয় ব্যবহার পরিহার করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে জারি করা ১১ দফা নির্দেশনার আলোকে নির্বাচন কমিশন তাদের অভ্যন্তরীণ ব্যয় সংকোচন এবং সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে। এর ফলে প্রশাসনিক গতিশীলতা বজায় রাখার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় ব্যয় হ্রাসে কমিশন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের আওতাধীন কর্ণফুলী টানেল রুটিন রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য ট্রাফিক ডাইভারসন বা যানচলাচল নিয়ন্ত্রণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আগামী ২৬ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত প্রতিদিন দিবাগত রাতে এই কার্যক্রম চলবে।
সেতু কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, রক্ষণাবেক্ষণ কাজের সুবিধার্থে এই কদিন রাত ১১:০০টা হতে ভোর ০৫:০০টা পর্যন্ত প্রয়োজন অনুযায়ী 'পতেঙ্গা হতে আনোয়ারা' অথবা 'আনোয়ারা টু পতেঙ্গা' টিউবের ট্রাফিক ডাইভারসন করা হবে। অর্থাৎ, এক লেনের গাড়ি অন্য লেন দিয়ে নিয়ন্ত্রিতভাবে চলাচলের ব্যবস্থা করা হতে পারে।
এই সময় বিদ্যমান যানবাহনের চাপ অনুযায়ী টানেলের উভয় প্রবেশমুখে সম্মানিত যাত্রী ও চালকদের সর্বনিম্ন ৫ থেকে সর্বোচ্চ ১০ মিনিট অপেক্ষমাণ থাকার প্রয়োজন হতে পারে।
টানেলের নিরাপদ ও কার্যকর রক্ষণাবেক্ষণ কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছে কর্তৃপক্ষ। সাময়িক এই অসুবিধার জন্য তারা দুঃখ প্রকাশ করেছে।
আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে জুলাই বিপ্লব সংশ্লিষ্ট চারটি অধ্যাদেশের বিষয়ে সংসদীয় বিশেষ কমিটির সব সদস্য ঐকমত্য পোষণ করেছেন।
বুধবার (২৫ মার্চ) জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে আয়োজিত বিশেষ কমিটির মুলতবি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ।
আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এরইমধ্যে ১২০টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করেছি। পর্যালোচনার ক্ষেত্রে জুলাই সনদ এবং দেশের সংবিধানকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেয়া হয়েছে। বিশেষ করে জুলাই সংক্রান্ত চারটি অধ্যাদেশের বিষয়ে কমিটির সবাই একমত হয়েছেন। অবশিষ্ট অধ্যাদেশগুলো নিয়ে আগামী ২৯ মার্চ পুনরায় আলোচনা করা হবে।’
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের এই বিশেষ কমিটির বৈঠকটি বুধবার দুপুর ২টায় শুরু হয়। এর আগে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) বেলা ১১টায় প্রথম দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। গত ১৫ মার্চ স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে এই বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে কোনগুলো স্থায়ী আইন হিসেবে বহাল থাকবে এবং কোনটি বাতিল হবে, তা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেয়াই এই কমিটির মূল দায়িত্ব।
কমিটির সদস্যরা জানিয়েছেন, অবশিষ্ট ১৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে ২৯ মার্চের বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনার পর চূড়ান্ত সুপারিশ প্রণয়ন করা হবে, যা পরবর্তী সময়ে সংসদে উপস্থাপন করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ২৫ মার্চের গণহত্যা ছিল একটি সুপরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ।সুপরিকল্পিত এ হত্যাযজ্ঞ কেন প্রতিরোধ করা গেল না এ ব্যাপারে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের দৃশ্যমান ভূমিকা এখনও ইতিহাসের গবেষণার বিষয়।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) ‘গণহত্যা দিবস’ উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে এসব কথা বলেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘গণহত্যা দিবস’ উপলক্ষ্যে আমি সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ স্বাধীনতাকামী বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কলঙ্কিত ও নৃশংসতম গণহত্যার দিন। এ কালো রাতে পাকিস্তানি দখলদার বাহিনী ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নামে বাংলাদেশের নিরস্ত্র স্বাধীনতাকামী মানুষের ওপর ইতিহাসের অন্যতম নৃশংস গণহত্যা চালায়। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, পিলখানা, রাজারবাগ পুলিশ লাইনসহ বিভিন্ন স্থানে শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী ও নিরপরাধ মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায় এবং হত্যা করে।
তিনি বলেন, ২৫ মার্চের গণহত্যা ছিল একটি সুপরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ। সুপরিকল্পিত এ হত্যাযজ্ঞ কেন প্রতিরোধ করা গেল না এ ব্যাপারে তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের দৃশ্যমান ভূমিকা এখনও ইতিহাসের গবেষণার বিষয়। তবে ২৫ মার্চ দিবাগত রাতে ‘উই রিভোল্ট’ বলে গণহত্যার বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে সশস্ত্র প্রতিরোধ করে গড়ে তুলে চট্টগ্রামের ৮ম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট। গণহত্যা প্রতিরোধের মধ্য দিয়েই শুরু হয়ে যায় দীর্ঘ নয় মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীনতার মূল্য ও তাৎপর্য বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হলে ২৫ মার্চের গণহত্যা দিবস সম্পর্কেও জানা জরুরি। আসুন, আমরা সবাই রাষ্ট্র ও সমাজে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, সাম্য মানবিক মর্যাদা সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা করে শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতিদান দেয়ার চেষ্টা করি। একটি ন্যায়ভিত্তিক উন্নত সমৃদ্ধ স্বনির্ভর গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি।
তারেক রহমান বলেন, মহান আল্লাহ তায়ালার কাছে আমি প্রার্থনা করি, তিনি যেন সব শহীদের বিদেহী আত্মাকে মাগফিরাত দান করেন। আমি ২৫ মার্চ ‘গণহত্যা দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করছি।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ সাতদিনের ছুটি শেষে মঙ্গলবার থেকে সরকারি-বেসরকারি অফিস, আদালত ও ব্যাংক বীমা খুললেও রাজধানী ঢাকা এখনও তার চিরচেনা রূপে ফিরতে পারেনি। যান্ত্রিক এই মহানগরে কর্মব্যস্ততার সেই স্বাভাবিক চাঞ্চল্য এখনও অনুপস্থিত। মূলত ২৬শে মার্চ স্বাধীনতা দিবসের সরকারি ছুটির সঙ্গে শুক্র ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হওয়ায় নাড়ির টানে বাড়ি যাওয়া মানুষের একটি বড় অংশ এখনও কর্মস্থলে ফেরেননি। ফলে রাজধানীর সড়কগুলো এখনও জনশূন্য ও যানজটমুক্ত রয়েছে, তবে এই ফাঁকা সড়কেও গণপরিবহনের ধীরগতির কারণে যাত্রীদের পোহাতে হচ্ছে নতুন ধরনের ভোগান্তি।
রাজধানীর মহাখালী, নতুনবাজার, রামপুরা ও বাড্ডার মতো অত্যন্ত ব্যস্ততম এলাকাগুলো ঘুরে দেখা গেছে, সড়কে যানবাহনের চাপ নেই বললেই চলে। চিরচেনা সেই যানজট না থাকলেও গন্তব্যে পৌঁছাতে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, রাস্তা খালি থাকা সত্ত্বেও যাত্রী সংগ্রহের আশায় বাসগুলো বিভিন্ন মোড়ে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকছে এবং অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে। উত্তরার এক শিক্ষার্থী জানান, রাস্তাঘাট পুরোপুরি ফাঁকা হওয়া সত্ত্বেও উত্তরা থেকে রামপুরায় আসতে তাঁর প্রায় ৪৫ মিনিট সময় লেগেছে, যা স্বাভাবিক সময়ে যানজটের মধ্যেও অনেকটা এমনই থাকে। বাসের চালক ও সহকারীরা প্রতিটি স্টপেজে যাত্রীর অপেক্ষায় দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করায় এই বিলম্ব ঘটছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সাধারণ যাত্রীরা।
রাজধানীর পাড়া-মহল্লাগুলোতেও এখনও ঈদের আমেজ কাটেনি। অধিকাংশ দোকানপাট ও হোটেল-রেস্তোরাঁ বন্ধ থাকায় নগরবাসীকে খাবার নিয়ে কিছুটা বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে। কুড়িল বিশ্বরোড এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, অধিকাংশ খাবারের দোকান বন্ধ থাকায় খোলা থাকা হোটেলগুলোতে দীর্ঘ লাইন দিয়ে নাশতা করতে হচ্ছে। এই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী খাবারের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। স্বাভাবিক সময়ে যে ডিম-খিচুড়ি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন তা অনেক জায়গায় ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। নগরবাসী মনে করছেন, টানা এই ছুটি শেষে আগামী ২৯শে মার্চ রবিবার থেকে রাজধানী আবার তার পূর্ণ কর্মচাঞ্চল্যে ফিরতে শুরু করবে।
অন্যদিকে, ঢাকার ভেতরে মানুষের ফেরার মিছিল যেমন ধীর, তেমনই উল্টো চিত্র দেখা গেছে বাস টার্মিনালগুলোতে। সায়েদাবাদ, গাবতলী ও মহাখালী টার্মিনাল থেকে আজও অনেক মানুষকে ঢাকা ছাড়তে দেখা গেছে। তাঁদের মতে, ঈদের আগের অসহনীয় ভিড় ও ঝক্কি এড়াতে তাঁরা বাড়তি ছুটির এই সুযোগটি কাজে লাগিয়ে এখন সপরিবারে গ্রামে যাচ্ছেন। সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত শান্ত ও স্থবির পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সময় পার করছে ঢাকা। একদিকে ফাঁকা সড়কের প্রশান্তি, অন্যদিকে সেবা ও পরিবহনের ধীরগতি—এই দুইয়ের মিশেলে এক মিশ্র অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন বর্তমানে অবস্থানরত নগরবাসী।
দেশের ১৮তম অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। বুধবার (২৫ মার্চ) এ তথ্য জানানো হয়েছে।
রুহুল কুদ্দুস কাজল সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তিনি সুপ্রিম কোর্টের একজন সিনিয়র আইনজীবী।
রুহুল কুদ্দুস এর আগে পদত্যাগ করা অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামানের স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন। আসাদুজ্জামান অ্যাটর্নি জেনারেল পদ থেকে পদত্যাগ করে বিএনপির মনোনয়নে এমপি নির্বাচিত হন। এরপর তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় তাকে আইনমন্ত্রী করা হয়েছে।
অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ বা মজুদ করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
তিনি বলেন, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকারের এক মাস পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী জানান, সরকারের এক মাসে জনকল্যাণ ও সামাজিক সুরক্ষায় বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির পাইলট প্রকল্প চালু করা হয়েছে। প্রান্তিক কৃষকদের সুবিধার্থে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের সুদসহ মওকুফ করার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষকদের সরাসরি সার, বীজ ও ঋণ সহায়তা দিতে স্মার্ট ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া ইমাম-মুয়াজ্জিন ভাতা চালু এবং খাল খনন কর্মসূচিসহ বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
এ সময় গঠনমূলক সমালোচনা করে সরকারের ভুলত্রুটি ধরিয়ে দিতে গণমাধ্যমের প্রতি আহবান জানান মন্ত্রী।
বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে রাজধানীর চানখারপুলে একটি বেসরকারি হাসপাতাল, ১টি ব্লাড ব্যাংক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধের সিদ্ধান্ত দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
বুধবার সকালে অভিযান পরিচালনা করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আভিযানিক দল।
অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে আহমদ স্পেশালাইজড হসপিটাল, অ্যাক্টিভ ব্লাড ব্যাংক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সব কার্যক্রম বন্ধের আদেশ দেয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
অভিযানে গিয়ে দেখা যায়, আহমদ স্পেশালাইজড হসপিটালের জেনারেটর এবং অক্সিজেন সিলিন্ডার একই জায়গায় রাখা ছিল। এ ছাড়া হসপিটালটিতে জরুরি বিভাগ ও পোস্ট অপারেটিভ রুম না রাখার অভিযোগ আনা হয়।
অ্যাক্টিভ ব্লাডব্যাঙ্ক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বিরুদ্ধে লাইসেন্সের মেয়াদ না থাকা এবং ট্রান্সফিউশন করার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না থাকার অভিযোগ আনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ‘জ্বালানি পরিস্থিতি মোকাবিলায় করণীয়’ নিয়ে বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (২৫ মার্চ) সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিজ দপ্তরে এই সভা অনুষ্ঠিত হয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকাল ৯টা ২ মিনিটে সচিবালয়ে আসেন এবং তার কিছু দাপ্তরিক কাজ সারেন।
এরপর মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে স্মারক ডাক টিকিট উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিজ দপ্তরে তিনি ‘জ্বালানি পরিস্থিতি মোকাবিলায় করণীয়’ নিয়ে সভায় সভাপতিত্ব করেন।
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (২৫ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টায় সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তাঁর দপ্তরে এ ডাকটিকিট উন্মোচন করেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এসব তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রী সকাল ৯টা ২ মিনিটে সচিবালয়ে প্রবেশ করেন এবং তার কিছু দাফতরিক কাজ সম্পন্ন করেন। এরপরই স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করেন।”
ডাক টিকিট উন্মোচনের সময়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, ডাক সচিব আব্দুন নাসের খান ও ডাক অধিদফতরের মহাপরিচালক কাজী আসাদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
আজ প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে মন্ত্রিপরিষদের সভা। বিকাল ৪টায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে সভাটি অনুষ্ঠিত হবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, “কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহারের মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আনা সম্ভব। বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রযুক্তি ও স্বাস্থ্যসেবা শিশুদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে কাজ করছে বাংলাদেশের সরকার।”
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের আমন্ত্রণ ও হোয়াইট হাউসের উদ্যোগে ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার গ্লোবাল কলিউশন’ সামিটে যোগ দিয়ে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। সম্মেলনটির উদ্বোধন করেন মেলানিয়া ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে আয়োজিত শীর্ষ এ সম্মেলনে ডা. জুবাইদা রহমান এআই প্রযুক্তি নিয়ে বাংলাদেশকে সহায়তা দিতে উন্নত বিশ্বের কাছে আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “নারী, শিশু ও পরিবারকে শক্তিশালী করতে সরকার নানা উদ্যোগ নিয়েছে।”
ডা. জুবাইদা বলেন, “আজ এ ঐতিহাসিক সম্মেলনে আপনাদের সঙ্গে যোগ দিতে পারাটা আমার জন্য এক বিরাট সম্মানের বিষয়। আমি ফার্স্ট লেডিকে আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই, কারণ তিনি সারাবিশ্ব থেকে আমাদের এমন একটি মহৎ উদ্দেশ্যে একত্রিত করেছেন যা প্রতিটি জাতিকে স্পর্শ করে। আমরা উপলব্ধি করি যে, প্রতিটি দেশের ভবিষ্যৎ তার শিশুদের জীবনেই লেখা থাকে। আজ আমরা যে যত্ন দিয়ে থাকি, শিক্ষায় যে বিনিয়োগ করি এবং যে মূল্যবোধ গড়ে তুলি, তাই আগামী দিনে তাদের গড়া জাতিকে রূপ দেবে।”
সম্মেলনের উদ্বোধন করে মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প বলেন, “বিশ্ব এখন দ্রুত পরিবর্তনশীল। এখানে শিশুদের সফল হওয়ার জন্য যেসব দক্ষতা প্রয়োজন, তার ব্যবস্থা করতে আজ থেকেই একযোগে সবাইকে কাজ করতে হবে।”