বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
৮ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রার্থী বেশি,প্রতিদ্বন্দ্বী কম

ফাইল ছবি
আপডেটেড
২ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০০:১৪
তানজিমুল নয়ন
প্রকাশিত
তানজিমুল নয়ন
প্রকাশিত : ২ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০০:০০

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ২ হাজার ৭১৩ জন প্রার্থী। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে নিবন্ধিত ৪৪টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩২টি দল। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন ৭৪৭ জন। সে হিসাবে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রত্যয়নপত্র নিয়ে নির্বাচনে উপস্থিত ১৯৬৬ জন প্রার্থী। আর স্বতন্ত্রদের মধ্যে অন্তত ৪০০ জন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন। তবে সাধারণ মানুষের অভিযোগ, নির্বাচনে আসা বড় দল আওয়ামী লীগের মূল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বাইরে অন্যদলগুলোর বেশির ভাগ প্রার্থীই আসনগুলোর মানুষের কাছে অচেনা। প্রায় প্রতিটি আসনেই নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন এমন অনেক অচেনা মুখ যাদের প্রার্থিতা পেতে সমস্যা না হলেও নির্বাচনী লড়াইয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে পরিচিত হতেই পার হয়ে যাবে প্রচারণার বেশির ভাগ সময়। ফলে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, নির্বাচনে প্রার্থী আছে অনেক বেশি, কিন্তু, প্রতিদ্বন্দ্বী কম।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ৩০০ আসনের বিপরীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের (নৌকা) ৩০৩ জন, জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল) ৩০৪ জন, জাকের পার্টি (গোলাপ ফুল) ২১৮ জন, তৃণমূল বিএনপি (সোনালী আঁশ) ১৫১ জন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি- এনপিপি (আম) ১৪২ জন, বাংলাদেশ কংগ্রেস (ডাব) ১১৬ জন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ (মশাল) ৯১ জন, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন (ফুলের মালা) ৪৭ জন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন (বটগাছ) ১৩ জন, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি (হাতঘড়ি) ১৮ জন, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ (চেয়ার) ৩৯ জন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (কাঁঠাল) ১৩ জন, গণফ্রন্ট (মাছ) ২৫ জন, গণফোরাম (উদীয়মান সূর্য) ৯ জন, ইসলামী ঐক্যজোট (মিনার) ৪৫ জন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট (মোমবাতি) ৩৭ জন, জাতীয় পার্টি-জেপি (বাইসাইকেল) ২০ জন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ (গামছা) ৩৪ জন, গণতন্ত্রী পার্টি (কবুতর) ১২ জন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (হাতুড়ি) ৩৩ জন, বিকল্পধারা বাংলাদেশ (কুলা) ১৪ জন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (একতারা) ৮২ জন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন-বিএনএম (নোঙর) ৪৯ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট- বিএনএফ (টেলিভিশন) ৫৫ জন, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (ছড়ি) ৭৪ জন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ- বিএমএল (হাত-পাঞ্জা) ৫ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি- ন্যাপ (কুঁড়েঘর) ৬ জন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মই) একজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (রিকশা) একজন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ (খেজুর গাছ) একজন এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (হারিকেন) দুইজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

এদিকে মনোনয়ন জমার শেষ দিনেই ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম জানিয়েছেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিলের সময়সীমা বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। ফলে বিএনপিসহ যে দলগুলো নির্বাচন বর্জন করেছে তাদের আর মত পাল্টে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসার দৃশ্যমান কোনো সুযোগ নেই। আন্দোলনরত দলগুলোও অবশ্য আগেই এ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতি দিয়েছে।

ফলে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর যাচাই-বাছাই শেষে যেসব প্রার্থী টিকে যাবেন তারাই থাকবেন নির্বাচনী দৌড়ে। তবে প্রতিটি আসনে ভোটের লড়াইয়ে যারা যাচ্ছেন তাদের বেশির ভাগেরই দলের নাম সাধারণ মানুষ জানে না। আর দল অচেনা বলে প্রার্থীরাও অচেনা। ফলে তাদের ধারণা নির্বাচনী লড়াইয়ে আসলে টিকে থাকবেন বড় দলের পরিচিত মুখগুলো। এর মধ্যে শাসক দলের মার্কা নিয়ে লড়াই করা প্রার্থীরা যেমন আলোচনায় থাকবেন, তেমনই অনেক আসনেই তাদের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমাতে পারেন নির্বাচনে আসা আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। কেননা, দলটির স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বেশির ভাগই স্থানীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত এবং তাদের মোটামুটি ভোট ব্যাংক অথবা এলাকাবাসীকে প্রভাবিত করার সক্ষমতা রয়েছে। নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া ৭৪৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে অন্তত ৪০০ জনই আওয়ামী লীগের।
যদিও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গত কয়েক দিনের মতো গতকালও বলেছেন, দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ঢালাওভাবে নির্বাচন করতে পারবেন না। এ ছাড়া ১৪-দলীয় জোটের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির সম্ভাবনা রয়েছে আওয়ামী লীগের। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন, নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আসতে পারবেন জোটের এমন প্রার্থীরাই কেবল থাকবেন বিবেচনায়। আর ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করে তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এর ফলে এটা স্পষ্ট যে, জোটের সঙ্গে সমঝোতা হলে কয়েকটি আসনে আওয়ামী লীগ যাদের মনোনয়ন দিয়েছে তাদেরও রণে ভঙ্গ দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে হবে।

তবে আওয়ামী লীগ সভাপতি নির্বাচনী কৌশল হিসেবে এবার দলীয় মার্কার বাইরে দলীয় প্রার্থীদের স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড়ানোর সুযোগ দেয়ায় নির্বাচনে আসা প্রার্থীদের কতজন আবার দল চাইলে নির্দেশ মেনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন সেটাও আছে দেখার বিষয়।

তবে এই আলোচনার বাইরে থেকে যাচ্ছে বেশির ভাগ প্রার্থী যারা বিভিন্ন দল থেকে নির্বাচনে এলেও জনগণের কাছে নিজের দল, দলীয় প্রতীক এবং নিজের পরিচয় প্রকাশ করার সুযোগ পাবেন। তবে প্রতিটি আসনে স্থানীয় ভোটারদের কাছে তারা এখনো অচেনা এবং নতুন মুখ হিসেবে বিবেচিত।

যেমন দল হিসেবে এবারই প্রথম নির্বাচন করছে তৃণমূল বিএনপি, বিএনএম, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি। এসব দলের বেশির ভাগ প্রার্থী নিজ নিজ এলাকার ভোটারদের কাছে নতুন পরিচয়ে উপস্থিত হবেন। অনেকে আবার খুব বেশি পরিচিত নন। একইভাবে তাদের নির্বাচনী প্রতীক যথাক্রমে সোনালী আঁশ, নোঙর ও একতারা চেনাতেও এবার তাদের বিশেষ প্রস্তুতি নিতে হবে।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনএমের প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য আছেন ৬ জন এবং তৃণমূলের প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য আছেন ৫ জন।

এদিকে, গতকাল আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর কাদের বলেছেন, বিএনপির ১৫ কেন্দ্রীয় নেতাসহ সাবেক ৩০ জন সংসদ সদস্য নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এদের মধ্যে কাদের সিদ্দিকী, লতিফ সিদ্দিকী, আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর মতো নেতাও আছেন। আবার আগে বিএনপিতে প্রভাব ছিল দলটির এমন সাবেক নেতারাও আছেন নির্বাচনে। এদের মধ্যে তৈমূর আলম, সমশের মবিন চৌধুরীর নাম উল্লেখযোগ্য।

তবে এদের বাইরে নির্বাচনের মাঠে থাকা বেশির ভাগ প্রার্থীই অচেনা। এ বিষয়ে গাজীপুর-৪ আসনের একজন প্রার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমার দল এলাকায় তেমন পরিচিত নয়। দলের প্রচার চালাতে ও এলাকার মানুষের কাছে নিজের পরিচয় তুলে ধরতে এবার ভোট করতে আসা। আমিও জানি নির্বাচনে জয়লাভ করার অবস্থান এখনো আমার বা আমার দলের তৈরি হয়নি। তবে এক দিনে তো কিছুই হয় না। আমাদের দলের আদর্শ ও কর্মসূচি দেশের মানুষ ও এলাকার মানুষকে জানাতে আমরা নির্বাচনে এসেছি।’

অন্যদিকে লালমনিরহাট-৩ আসনে মনোনয়ন জমা দেয়া প্রার্থীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই সদর আসনে ৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সদ্য পদত্যাগকারী সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জাবেদ হোসেন বক্কর, জাতীয় পার্টি থেকে জাহিদ হাসান, তৃণমূল বিএনপি থেকে শামীম আহম্মেদ চৌধুরী, জাকের পার্টি থেকে সকিউজ্জামান মিয়া, বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল থেকে আশরাফুল আলম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) থেকে আবু তৈয়ব মো. আজমুল হক পাটোয়ারী, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) থেকে শ্রী হরিশ চন্দ্র রায় মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তবে এবার তিনি এ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেননি। ফলে এ আসনে নির্বাচনে অংশ নেয়া সব প্রার্থীই নতুন এবং নতুন একজন সংসদ সদস্য পাবে লালমনিরহাট সদরবাসী। তবে নতুন হলেও জেলা ও শহরের রাজনীতিতে পুরনো মুখ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান। ছাত্ররাজনীতি করায় জাবেদ হোসেন বক্করও সেখানে পরিচিত মুখ। জাকের পার্টি ও জাসদের প্রার্থীকেও অনেকে চেনেন। তবে সাম্যবাদী দল, এনপিপির প্রার্থীর মতো জাতীয় পার্টির প্রার্থীও এলাকার সবার চেনা মুখ নন। ফলে যে আসন থেকে জাতীয় পার্টি বর্তমান সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছে সেখানে নতুন মুখ দেয়ায় মাঠের রাজনীতিতে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন এলাকার অনেক বাসিন্দা।

বিষয়টা আরও স্পষ্ট হয় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনার ৬টি আসন বিশ্লেষণ করলে। দৈনিক বাংলার খুলনা ব্যুরো জানায়, খুলনার এই ৬টি আসনের জন্য সেখানে ৫৩ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে যারা সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচন করবেন, তাদের অধিকাংশেরই রাজনীতিতে তেমন কোনো পরিচিতি নেই। হঠাৎ করেই তারা কেন সংসদ নির্বাচনে আগ্রহী হলেন, এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে উত্তরও দেননি অধিকাংশ প্রার্থী।

খুলনা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের মনোনীত ৬ জন প্রার্থী, আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র ২ জন এবং জাতীয় পার্টির একজন প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচিতি রয়েছে। বাকি ৪৪ জন প্রার্থী কখনো রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয় ছিলেন না।

খুলনা প্রতিনিধির বিশ্লেষণ অনুযায়ী খুলনা-১ আসনের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ৬ জন। তারা হলেন, জাকের পার্টির মো. আজিজুর রহমান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ননী গোপাল মণ্ডল, জাতীয় পার্টির কাজী হাসানুর রশিদ, তৃণমূল বিএনপির গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রশান্ত কুমার রায় ও আবেদ আলী শেখ।

এদের মধ্যে ননী গোপাল মণ্ডল ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। রাজনীতিতে তার পরিচিতি রয়েছে। তবে বাকি চারজন রাজনীতিতে একেবারেই অপরিচিত। তারা প্রত্যেকেই এবার প্রথম সংসদ নির্বাচন করছেন। এদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রশান্ত কুমার রায় পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সাবেক সচিব।

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আমি নির্বাচন করছি। আমাকে ডামি প্রার্থীও বলা যাবে। এটা দলীয় নির্দেশেই হচ্ছে।’
আওয়ামী লীগের ননী গোপাল মণ্ডল বলেন, ‘দল আমাকে আবারও সুযোগ দিয়েছে। আমি দলের সম্মান রাখব বলে আশাবাদী।’

তবে বাকি চার প্রার্থীর তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই। জাতীয় পার্টীর কাজী হাসানুর রশিদ ও তৃণমূল বিএনপির গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিকের কাছে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেও কোনো উত্তর মেলেনি।

আর জাকের পার্টি মো. আজিজুর রহমান বলেন, ‘দল থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে বলেছে, তাই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি।’

অন্যদিকে খুলনা-২ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৯ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল, গণতন্ত্র পার্টির মো. মতিয়ার রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের দেবদাস সরকার, জাকের পার্টির ফরিদা পারভিন, ইসলামী ঐক্যজোটের হিদায়েতুল্লাহ, জাতীয় পার্টির মো. গাউসুল আজম, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের বাবু কুমার রায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সাঈদুর রহমান।

এদের মধ্যে শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থীর রাজনৈতিকভাবে পরিচিতি রয়েছে। তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। তবে বাকিদের আগে কখনো রাজনৈতিক মাঠে দেখা যায়নি।

কেন প্রার্থী হয়েছেন- এমন প্রশ্নে বাংলাদেশ কংগ্রেসের দেবদাস সরকার বলেন, ‘অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে মনোনয়ন জমা দেয়া হচ্ছে, তাই আমরাও দিচ্ছি।’

খুলনা-৩ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৫ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের এস এম কামাল হোসেন, জাকের পার্টির এস এম সাব্বির হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, স্বতন্ত্র প্রার্থী কাইজার আহমেদ ও ফাতেমা জামান সাথী।

এদের মধ্যেও শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচিতি রয়েছে। তিনি দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। তিন বারের সংসদ সদস্য ও দুই বারের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানকে সরিয়ে তাকেই আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিয়েছে। তবে ওই আসনেরও বাকি চারজনের তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই।

খুলনা-৪ আসন থেকে মনোনয়ন নিয়েছেন ১৪ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের আব্দুস সালাম মূর্শেদী, জাকের পার্টির শেখ আনছার আলী, জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এস এম আজমল হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. ফরহাদ আহমেদ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. মোস্তাফিজুর রহমান, তৃণমূল বিএনপির শেখ হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মনিরা সুলতানা, ইসলামী ঐক্যজোটের রিয়াজ উদ্দীন খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জুয়েল রানা, এম ডি এহসানুল হক, মো. রেজভী আলম, এস এম মোর্ত্তজা রশিদী দারা, আতিকুর রহমান ও এইচ এম রওশান জমির।

এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের আব্দুস সালাম মূর্শেদী বর্তমান সংসদ সদস্য। ২০১৮ সালের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে তিনি জয়ী হয়েছিলেন।

এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম মোর্ত্তজা রশিদী দারার দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস রয়েছে। তিনি ওই আসনের তিন বারের সাবেক সংসদ সদস্য এস এম মোস্তফা রশিদী সুজার আপন ভাই।

তিনি বলেন, এলাকার মানুষের দোয়া নিয়ে মাঠে নেমেছি। জয়-পরাজয় এলাকার মানুষই নির্ধারণ করবেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই আসনে আওয়ামী লীগের এই দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এলাকার ভোটাররা বলছেন, বাকি ১২ জন প্রার্থীদের নাম খুব একটা শোনেননি তারা। কেউ কেউ একেবারেই অপরিচিত।

খুলনা-৫ আসনের জন্য মনোনয় জমা দিয়েছেন ৭ জন। তারা হলেন- জাতীয় পার্টির মো. শহীদ আলম, জাকের পার্টির সামাদ সেখ, আওয়ামী লীগের নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, ওয়ার্কার্স পার্টির শেখ সেলিম আকতার, বাংলাদেশ কংগ্রেসের এস এম এ জলিল, ইসলামী ঐক্যজোটের তরিকুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ আকরাম হোসেন।

এদের মধ্যে নারায়ণ চন্দ্র চন্দ একাধিক বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী। এ ছাড়া আকরাম হোসেন ফুলতলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। এই আসনেও আওয়ামী লীগের এই দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ভোটাররা। বাকি যারা প্রার্থী হয়েছেন এলাকার রাজনীতিতে তাদের তেমন কোনো পরিচিতি নেই বলে জানা গেছে।

খুলনা-৬ আসনের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ১২ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের মো. রশীদুজ্জামান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. আবু সুফিয়ান, জাকের পার্টির শেখ মর্তুজা আল মামুন, জাতীয় পার্টির মো. শফিকুল ইসলাম মধু, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মির্জা গোলাম আজম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এস এম নেওয়াজ মোরশেদ, তৃণমূল বিএনপির গাজী নাদীর উদ্দীন খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম রাজু, গাজী মোস্তফা কামাল, জি এম মাহবুবুল আলম, মো. মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর ও মো. অহিদুজ্জামান মোড়ল।

এদের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত মো. রশীদুজ্জামানের কোনো দলীয় পদ নেই। তিনি একসময় পাইকগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্যসচিব ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে জামানত হারিয়েছিলেন। তবে তাকেই মনোনয়ন দিয়ে চমক সৃষ্টি করেছে ক্ষমতাসীন দল। ওই আসনে রাজনৈতিকভাবে পরিচিত রয়েছে জাতীয় পার্টির মো. শফিকুল ইসলাম মধুর। তিনি আগেও খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। বাকি প্রার্থীদের তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই। এলাকার সবার কাছে পরিচিত মুখও নন অনেকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশির ভাগ আসনেই ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীদের স্থানীয়রা তেমন একটা চেনেন না। তবে বিরোধীদের এক অংশ নির্বাচন বর্জন করায় রাজনীতির নতুন সমীকরণ মেলাতে ছোট দলগুলোই নির্বাচনে হতে যাচ্ছে বড় দলগুলোর সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনীযুদ্ধ পার হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী।

জাসদের মাঠপর্যায়ের এক রাজনীতিবিদ জসিম মণ্ডল বলেন, ‘নির্বাচন একটা বড় খেলা। এখানে সবাই নামে নিজ নিজ সমীকরণ মেলানোর জন্য। রাজনৈতিক দলগুলোর সমীকরণ হয় এক ধরনের, আবার প্রার্থীর সমীকরণ হয় আরেক ধরনের। সবাই নির্বাচনে জয়ী হতে যেমন অংশ নেয় না তেমনই কেউ কেউ নির্বাচনে যায় অন্যের যাত্রা ভঙ্গ করতে। আবার অনেকের কাছে ‘নির্বাচনে অংশগ্রহণই বড় কথা।’ জয়-পরাজয়ের চেয়েও বড় বিষয় এ সময় পোস্টারিং করে নিজের ছবি ও পরিচিতি পুরো এলাকার মানুষকে দেখানো যায়। এটাও বা কম কিসে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দেশের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষেরই আছে নির্বাচনে দাঁড়ানোর অধিকার। তাই কটা টাকা খরচ করে অনেকেই পরিচিতি বাড়ানোর সুযোগ নেয়। এর ফল তো অসীম-সারাজীবন নানাভাবে এর সুফল মেলে। যারা রাজনীতিতে আছেন, কেবল তারাই বোঝেন নির্বাচনে অংশ নিতে পারার গুরুত্ব।


নির্বাচিত

২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়তে আমরা বদ্ধপরিকর: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি ট্রিলিয়ন ডলারের শক্তিশালী অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং এই লক্ষ্য অর্জনে তারা বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এই তথ্য তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে বিদেশি বিনিয়োগের গুরুত্ব এবং সরকারের সহায়ক নীতিমালার বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেন।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, "ব্যবসায় সফলতার জন্য সরকারের ব্যবসায়ী নীতিও গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের অনেক চ্যালেঞ্জ আছে, একই সঙ্গে সামর্থ্যও আছে। বাংলাদেশে নিরাপদ বিদেশি বিনিয়োগ দরকার। ট্যাক্স, ভ্যাট প্রক্রিয়া সহজ করে বিদেশি বিনিয়োগ নিশ্চিত করার দিকে জোর দিয়েছি। বাংলাদেশ টেকসই ও স্থায়ী বিদেশী বিনিয়োগ চায়, আমরা এক হয়ে কাজ করতে চাই।" তিনি উল্লেখ করেন যে, বর্তমান সরকার অর্থনৈতিক বিভিন্ন প্রতিকূলতা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং দেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগের একটি অনুকূল ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতে সরকার পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে ভ্যাট ও ট্যাক্স প্রদান প্রক্রিয়া সহজ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে সরকারি সকল সেবাকে ডিজিটালাইজেশনের আওতায় আনা এবং বিনিয়োগকারীদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রদানের বিষয়টিতেও সরকার বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করে বলেন, বাংলাদেশের সক্ষমতা ও সামর্থ্যকে কাজে লাগিয়ে একটি সমৃদ্ধ অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে সরকার সকলের সাথে অংশীদারত্বের ভিত্তিতে কাজ করতে আগ্রহী।


নির্বাচিত

প্রবাসীদের পাসপোর্টের তথ্য সংশোধনের সময়সীমা আরও ছয় মাস বৃদ্ধি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের পাসপোর্টের তথ্য সংশোধন করে নতুন পাসপোর্ট ইস্যু ও পুনঃইস্যুর (রি-ইস্যু) কার্যক্রমের সময়সীমা আরও ছয় মাস বৃদ্ধি করেছে সরকার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বহিরাগমন-৪ শাখা থেকে মঙ্গলবার জারি করা এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জানানো হয়েছে যে, এই বিশেষ সুবিধা এখন ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। জনস্বার্থ বিবেচনা এবং প্রবাসীদের পাসপোর্ট সংক্রান্ত সেবা নিরবচ্ছিন্ন রাখার লক্ষ্যেই সরকার পূর্বের আদেশের মেয়াদ বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহাম্মদ নুরুজ্জামান স্বাক্ষরিত এই প্রজ্ঞাপনটি ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে ২০২৫ সালের জুলাই মাসে জারি করা একটি আদেশের মাধ্যমে এই কার্যক্রমের সময়সীমা ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নির্ধারিত ছিল। নতুন নির্দেশনার ফলে বিদেশে থাকা যেসব বাংলাদেশির পাসপোর্টে নাম, জন্মতারিখ কিংবা পিতা-মাতার নামসহ বিভিন্ন তথ্যে ভুল রয়েছে, তারা এখন নির্ধারিত বর্ধিত সময়ের মধ্যে সংশোধনের আবেদন করতে পারবেন। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে কার্যকর হবে। এর ফলে বৈধভাবে ভ্রমণ ও প্রশাসনিক কাজ পরিচালনার ক্ষেত্রে প্রবাসীদের ভোগান্তি অনেকাংশে কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। যারা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে আবেদন সম্পন্ন করতে পারেননি, তারা সরকারের এই পদক্ষেপে নতুন করে সুযোগ পাবেন। প্রজ্ঞাপনটি বাস্তবায়নের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরসহ সকল বাংলাদেশ মিশনে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।


নির্বাচিত

সংসদের চিঠির পর গাজী নজরুলের এমপি পদ নিয়ে সিদ্ধান্ত: ইসি মাছউদ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজনৈতিক দল থেকে বহিষ্কারের ঘটনার ওপর ভিত্তি করেই সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ নিয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এই বিষয়ে জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাওয়ার পরই আইন অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ। বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন।

ইসি মাছউদ জানান, সংসদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও চিঠি পাওয়ার পর নির্বাচন কমিশন পুরো বিষয়টি আইনগতভাবে বিচার-বিশ্লেষণ করবে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, সংবিধান ও বিদ্যমান আইন অনুযায়ী কোনো সংসদ সদস্য নিজ দল থেকে পদত্যাগ করলে তাঁর আসন শূন্য হওয়ার অর্থাৎ এমপি পদ বাতিলের বিধান রয়েছে। তবে "কোনো রাজনৈতিক দল তাদের সদস্যকে দল থেকে বহিষ্কার করলে সেই কারণে সংবিধান অনুযায়ী উক্ত সদস্যের এমপি পদ বাতিলের কোনো আইনি সুযোগ নেই।" তিনি আরও বলেন, "এই বিষয়ে কেবল স্পিকারের মাধ্যমে জাতীয় সংসদ রেফারেন্স বা চিঠি পাঠালে নির্বাচন কমিশন আইনি প্রক্রিয়ায় পদ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে।" সংসদ থেকে নির্দিষ্ট নির্দেশনা সংবলিত চিঠি এলেই কমিশন পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেবে।

একই সময়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানান, নির্বাচন কমিশন সরকারের সঙ্গে কোনো প্রকার দূরত্ব ছাড়াই সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। চলতি বছরের অক্টোবর মাসকে লক্ষ্য রেখে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করছে কমিশন। নতুন করে গঠিত পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের মধ্য দিয়েই এই ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু করতে চায় ইসি। আবহাওয়া পরিস্থিতি, সরকারি বিভিন্ন পরীক্ষা এবং আনুষঙ্গিক জাতীয় গুরুত্ব বিবেচনা করে অত্যন্ত সুচিন্তিতভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের চূড়ান্ত তারিখ ঘোষণা করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।


নির্বাচিত

কলকাতায় উপ-হাইকমিশনের প্রেস সচিবের পদত্যাগ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ব্যক্তিগত ও পেশাগত কারণ দর্শিয়ে কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের প্রেস সচিব মো. তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া (তারিক চয়ন) নিজ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। বুধবার (২২ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজের ভেরিফায়েড প্রোফাইলে দেওয়া এক বার্তার মাধ্যমে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান।

পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে ওই পোস্টে তারিক চয়ন উল্লেখ করেন, ‘কলকাতায় বাংলাদেশ ডেপুটি হাইকমিশন থেকে ব্যক্তিগত ও পেশাগত কারণে পদত্যাগ করলাম।’ কলকাতায় কাটানো সময় ও দায়িত্ব পালন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দেড় বছর শহরটিতে সুন্দর সময় কাটিয়েছি। অর্পিত দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের চেষ্টা করেছি।’

কলকাতা জীবনের নানা স্মৃতি, কর্মস্থলের অভিজ্ঞতা ও বন্ধুদের নিয়ে ভবিষ্যতে একটি গ্রন্থ রচনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন তিনি। এই পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি লেখেন, ‘পেশাগত জীবন, অফিস, সহকর্মী এবং কলকাতার বন্ধুদের নিয়ে ভবিষ্যতে বই লেখার ইচ্ছে আছে। সবাই দোয়া করবেন। আল্লাহ্ আমাদের সকলের সহায় হোন।’

দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের ৬ নভেম্বর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাকে কলকাতার উপ-হাইকমিশনে প্রথম সচিব (প্রেস) পদে নিযুক্ত করেছিল। পরবর্তীকালে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তার চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয়, যা ২০২৬ সালের নভেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকার কথা ছিল।

কূটনৈতিক দায়িত্বে আসার আগে তারিক চয়ন দীর্ঘ সময় সাংবাদিকতা পেশায় নিয়োজিত ছিলেন। তিনি দেশের শীর্ষস্থানীয় একাধিক গণমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে সফলতার সঙ্গে কাজ করেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষার্থী দেশি ও বিদেশি সংবাদপত্রে রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে কলাম লেখক হিসেবেও বেশ পরিচিত। জনসেবা ও কর্মক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি মালয়েশিয়ায় ‘ইন্টারন্যাশনাল এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড’ ছাড়াও পশ্চিমবঙ্গের ‘মৈত্রী সম্মাননা’ ও ‘সেরা বাঙালি সম্মাননা’ অর্জন করেন।


নির্বাচিত

বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং দক্ষ জনশক্তি বাড়াতে একমত বাংলাদেশ-সিঙ্গাপুর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত আসিয়ান রিজিওনাল ফোরামের (এআরএফ) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলনের এক ফাঁকে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভিভিয়ান বালাকৃষ্ণান। বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এই সাক্ষাৎকালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় খলিলুর রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রতিক্রিয়ায় খলিলুর রহমান বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় "সিঙ্গাপুরসহ ছোট রাষ্ট্রগুলোর উদ্বেগ ও স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।"

উভয় দেশের বিদ্যমান চমৎকার সম্পর্ককে আরও ফলপ্রসূ ও কার্যকর করতে বাণিজ্য-বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং দক্ষ জনশক্তি অভিবাসনের মতো বিষয়গুলো আলোচনায় প্রাধান্য পায়। সিঙ্গাপুরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাংলাদেশি প্রবাসীদের গুরুত্বপূর্ণ অবদানের প্রশংসা করে জানান যে, সিঙ্গাপুর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ থেকে আরও দক্ষ জনশক্তি নিয়োগের বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। এছাড়া দুই দেশের মধ্যে প্রস্তাবিত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) বাস্তবায়নে চলমান প্রচেষ্টা ও আলোচনা অব্যাহত রাখার বিষয়েও উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।

বৈঠকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসিয়ানের সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার হওয়ার ক্ষেত্রে সিঙ্গাপুরের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন। একইসাথে রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ (আরসিইপি)-এ বাংলাদেশের সম্পৃক্ত হওয়ার বিষয়েও দেশটির সমর্থন প্রত্যাশা করা হয়। দীর্ঘস্থায়ী রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে একটি টেকসই সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে সিঙ্গাপুরের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানান খলিলুর রহমান। দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট সহযোগিতা আরও বাড়ানোর বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


নির্বাচিত

নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধানকে ভাইস অ্যাডমিরাল র‍্যাংক ব্যাজ পরালেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নবনিযুক্ত প্রধান খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে ভাইস অ্যাডমিরাল র‍্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা সেনানিবাসস্থ সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁকে এই ব্যাজ পরিয়ে দেন। এ সময় বিদায়ী নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রীর সাথে যৌথভাবে নবনিযুক্ত নৌপ্রধানকে নতুন র‍্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় অংশ নেন।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপন সূত্রে জানা যায়, রিয়ার অ্যাডমিরাল খোন্দকার মিসবাহ উল আজীমকে আগামী ২০২৯ সালের ২২ জুলাই পর্যন্ত তিন বছরের মেয়াদে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর প্রধান হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে। নবনিযুক্ত নৌপ্রধানের এই দায়িত্ব গ্রহণ ও র‍্যাংক ব্যাজ প্রদান অনুষ্ঠানে সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের বেশ কয়েকজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

গুরুত্বপূর্ণ এই আয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামসুল ইসলাম, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান এবং সেনাবাহিনীর কোয়ার্টার মাস্টার জেনারেল লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. শাহীনুর রহমান অংশ নেন। এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) লেফটেন্যান্ট জেনারেল মীর মুশফিকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল আবুল হাসনাত মোহাম্মদ তারিক এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।


নির্বাচিত

ডেসকো-ডিপিডিসিসহ ৬ প্রতিষ্ঠান যাচ্ছে বেসরকারি খাতে

বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদ্যুৎ খাতের লোকসান ও আর্থিক ঝুঁকি কমাতে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) ও ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো)-সহ বিদ্যুৎ বিতরণ খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বেসরকারি খাতে ছাড়তে চায় সরকার। এ বিষয়ে নীতিগত সম্মতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান। বুধবার (২২ জুলাই) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী এ সম্মতি দেন।

এদিন মোট ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত ৮টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে একনেক। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ৪৯৪ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ৩ হাজার ৫৫০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে ৩টি নতুন এবং ৫টি সংশোধিত।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের তিনটি প্রকল্প- ‘সার্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন-২ (জিএসআইডিপি-২)’ (প্রথম সংশোধন), ‘বৃহত্তর দিনাজপুর (দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়) জেলা সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প’ এবং ‘পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান প্রকল্প’।

এছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের ‘দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্প’ (তৃতীয় সংশোধন), সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ‘ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্প’ (দ্বিতীয় সংশোধন), বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প, সিলেট বিভাগ’ (তৃতীয় সংশোধন) এবং ‘একটি মূল্যায়ন কূপ (বেগমগঞ্জ-৫) ও দুটি অনুসন্ধান কূপ (বেগমগঞ্জ-৬ ও সুনেত্র-২) খনন’ প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ‘মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসমূহে বিদ্যমান কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ এবং জেলা সদর হাসপাতালসমূহে ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন’ (দ্বিতীয় সংশোধন) প্রকল্পও সভায় অনুমোদন পায়।

সভায় পরিকল্পনামন্ত্রী কর্তৃক ইতোমধ্যে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয় সম্বলিত ১১টি প্রকল্প সর্ম্পকে একনেক সভায় অবহিত করা হয়।

সেগুলো হলো- ১. জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩টি আঞ্চলিক অফিস স্থাপন (২য় সংশোধিত) প্রকল্প ২. বরিশাল টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইন্সটিটিউট, গৌরনদী বরিশাল স্থাপন প্রকল্প (২য় সংশোধিত) (৩) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর তৃতীয় টার্মিনাল মোবাইলে নেটওয়ার্ক স্থাপন প্রকল্প (৪) নলকা-সিরাজগঞ্জ-সয়দাবাদ আঞ্চলিক মহাসড়কের সিরাজগঞ্জ শহর অংশ (শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হতে কাটা ওয়াপদা মোড় পর্যন্ত) ৪ লেন উন্নীতকরণ ও অবশিষ্ট অংশ ২ লেনে উন্নীতকরণ (২য় সংশোধিত) প্রকল্প এবং (৫) পিরোজপুর-নাজিরপুর-মাটিভাঙ্গা-পাটগাতী-ঘোনাপাড়া (জেড-৭৭০৪) জেলা মহাসড়কের ঘোনাপাড়া হতে পাটগাতী সেতু অ্যাপ্রোচ পর্যন্ত অংশসহ জেড-৮৫০৪, জেড-৮৫০৭ ও জেড-৮৪২৯ জেলা সহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ (১ সংশোধিত)।

এছাড়া (৬) ভুয়াপুর লিংক সড়ক (জেড-৪৮০২) নির্মাণ (২য় সংশোধিত) (৭) রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুৎ ইভাকুয়েশনের জন্য সঞ্চালন অবকাঠামো উন্নয়ন (১ম সংশোধন) (৮) পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিড নেটওয়ার্কের পরিবর্ধন এবং ক্ষমতাবন্ধন (২য় সংশোধিত) (৯) গোপালগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, বরিশাল, রংপুর, জামালপুর এবং যশোর জেলায় বিটাকের ৬টি কেন্দ্র স্থাপন (২য় সংশোধিত)।

সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, পানিসম্পদ মন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকিসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনই আমাদের অন্তর্ভুক্তিমূলক জাতীয় পরিচয়: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, রাষ্ট্রনায়ক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রবর্তিত বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনই দেশের সকল ভাষা, ধর্ম, সংস্কৃতি ও নৃগোষ্ঠীকে ধারণ করে গড়ে ওঠা একমাত্র অন্তর্ভুক্তিমূলক ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় পরিচয়।

বুধবার (২২ জুলাই) সকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ইউনিভার্সিটি টিচার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব) জবি শাখা এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতীয় উপমহাদেশে ধর্মের ভিত্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলেও শুধু ধর্ম দিয়ে বহুমাত্রিক রাষ্ট্রকে ঐক্যবদ্ধ রাখা যায়নি, যার ঐতিহাসিক পরিণতি ৫২-এর ভাষা আন্দোলন ও ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ। মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ জিয়াউর রহমানের সাহসিকতা, স্বাধীনতার ঘোষণা ও নেতৃত্ব ইতিহাসের প্রমাণিত সত্য। তবে স্বাধীনতার পরও কেবল ভাষাভিত্তিক পরিচয় দেশের সব জনগোষ্ঠীর কাছে সমভাবে গ্রহণযোগ্য না হওয়ায় পরিচয়গত সংকট থেকেই যায়। এই বাস্তবতায় শহীদ জিয়া নাগরিকভিত্তিক ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’-এর দর্শন উপস্থাপন করেন।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের দর্শনে কোনো চাকমা, মারমা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী কিংবা ভিন্ন ধর্মবিশ্বাসী মানুষের পরিচয়গত সংকট নেই। কোনো একটি সংস্কৃতিকে প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে অন্য সংস্কৃতিকে অস্বীকার করারও সুযোগ নেই। ‘প্রথমেও বাংলাদেশ, শেষেও বাংলাদেশ’Ñ এই দর্শনই দেশের সব নাগরিককে সমান মর্যাদায় একটি অভিন্ন জাতীয় পরিচয়ের বন্ধনে আবদ্ধ করেছে এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতা বজায় রাখার মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।

বৈদেশিক সম্পর্কের বিষয়ে মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, ‘সকলেই আমাদের বন্ধু, তবে আমরা বন্ধুত্বের চর্চা করব বাংলাদেশের স্বার্থের ভিত্তিতে। দেশের স্বার্থের বাইরে বাংলাদেশের আর কোনো বিকল্প ঠিকানা নেই।’

তিনি সতর্ক করে বলেন, এই দর্শন থেকে বিচ্যুত যেকোনো চিন্তা জাতীয় ঐক্যকে দুর্বল করতে পারে।

সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান ছিলেন আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লবের পর দায়িত্ব নিয়ে তিনি ভঙ্গুর রাষ্ট্রকাঠামোকে সঠিক দিকনির্দেশনা দিয়ে সমৃদ্ধ রাষ্ট্রে পরিণত করেছিলেন।

সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. রইছ উদদীন।

ইউট্যাব জবি শাখার সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউট্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. মো. শামছুল আলম, জবি ট্রেজারার অধ্যাপক ড. সাবিনা শরমীন এবং জবি শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুর মুর্শেদ ভূঁইয়া।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইউট্যাব জবি শাখার সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. নাছির আহমাদ এবং স্বাগত বক্তব্য রাখেন জবি শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. ইমরানুল হক।


নির্বাচিত

এলডিসি উত্তরণে সময় বাড়ানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে জাতিসংঘ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ও নেপালের স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর অনুরোধের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের কাছে সুপারিশ করেছে জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক)। গত মঙ্গলবার (২১ জুলাই) নিউইয়র্কে ইকোসকের বৈঠকে সদস্যরাষ্ট্রগুলো সর্বসম্মতিক্রমে এ সুপারিশ অনুমোদন করে। বৈঠকে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বাংলাদেশ ও নেপালের পক্ষে প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়ানোর যৌক্তিকতা ও প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এলডিসি থেকে টেকসই ও স্থিতিশীল উত্তরণ নিশ্চিত করতে প্রস্তুতির জন্য অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন।

বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) মাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এর আগে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি) দুই দেশের আবেদন পর্যালোচনা করে মত দেয়, বাংলাদেশ ও নেপালের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর অনুরোধ সাধারণ পরিষদে বিবেচনার জন্য উপস্থাপন করা উচিত। সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই ইকোসক বিষয়টি সাধারণ পরিষদে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বর্তমান সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ২৪ নভেম্বর ২০২৬-এর আগে সাধারণ পরিষদে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সেদিনই স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশ ও নেপালের উত্তরণ হওয়ার কথা।

সিদ্ধান্তের পর রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী বাংলাদেশের টেকসই উত্তরণের প্রতি সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তার উদ্ধৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘সাধারণ পরিষদ প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলে তা একদিকে প্রয়োজনীয় নীতিগত পদক্ষেপ ও সংস্কার বাস্তবায়নে সহায়তা করবে, অন্যদিকে এলডিসি-উত্তর সময়ের জন্য দেশের প্রস্তুতিও আরও ভালো হবে।

কেন পেছানোর আবেদন: বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশকে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের সময়সীমা তিন বছর পিছিয়ে দেওয়ার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করে।

সরকারের যুক্তি, সময়সীমা বাড়ানো হলে সামষ্টিক অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করা, চলমান সংস্কার সংহত করা ও স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজির (এসটিএস) অধীন অগ্রাধিকারমূলক কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত সুযোগ পাওয়া যাবে।

চিঠিতে আরও বলা হয়, এলডিসি উত্তরণে পাঁচ বছরের প্রস্তুতি সময় একের পর এক দেশি ও আন্তর্জাতিক সংকটে ‘গুরুতরভাবে ব্যাহত’ হয়েছে।

বৈশ্বিক সংকটের মধ্যে রয়েছে কোভিড-১৯ মহামারির দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ধীরগতি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও তার প্রভাবে জ্বালানি ও খাদ্যবাজারে অস্থিরতা, বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার কড়াকড়ি, বাণিজ্য পুনরুদ্ধারে বিলম্ব, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্যব্যবস্থায় বাড়তে থাকা অনিশ্চয়তা। দেশি সংকটের মধ্যে আছে আর্থিক খাতে অনিয়ম, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন এখনো নিষ্পত্তি না হওয়া।

বাংলাদেশের অবস্থান কী: ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকাভুক্ত হয়। এলডিসিভুক্ত থাকার সুবাদে পণ্য রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধাসহ নানা সুযোগ পেয়ে এসেছে। এলডিসি থেকে কোনো দেশ বের হবে, সে বিষয়ে সুপারিশ করে সিডিপি।

তিন বছর অন্তর এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর ত্রিবার্ষিক মূল্যায়ন হয়। মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ, জলবায়ু ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা—এই তিন সূচকের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়, কোনো দেশ উত্তরণের যোগ্য কি না। যেকোনো দুটি সূচকে উত্তীর্ণ হতে হয়, অথবা মাথাপিছু আয় নির্ধারিত সীমার দ্বিগুণ হতে হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব মানদণ্ড অবশ্য পরিবর্তিত হয়।

বাংলাদেশ ২০১৮ ও ২০২১ সালের ত্রিবার্ষিক মূল্যায়নে তিনটি সূচকেই উত্তীর্ণ হয়েছে। সেগুলো হলো মোট জাতীয় আয় (জিএনআই), মানবসম্পদ সূচক (এইচএআই) ও অর্থনৈতিক ঝুঁকি সূচক (ইভিআই)। ২০২১ সালেই চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করা হয়েছিল, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে বের হবে। করোনার কারণে উত্তরণ দুই বছর পিছিয়েছে, তা না হলে আরও দুই বছর আগেই উত্তরণ হয়ে যেত।

জানা গেছে, এলডিসি থেকে উত্তরণের সময় পেছানোর আবেদন করে সফল হয়েছে সলোমন দ্বীপপুঞ্জ। ২০২৩ সালে দেশটির সরকার গৃহযুদ্ধ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণ দেখিয়ে বাড়তি সময় চেয়ে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) কাছে আবেদন করে। তা মূল্যায়ন করে দেশটিকে তিন বছর সময় বাড়িয়ে দেয় সিডিপি। এ ছাড়া সুনামির কারণে মালদ্বীপ ও ভূমিকম্পের কারণে নেপালের এলডিসি উত্তরণও নির্ধারিত সময়ে হয়নি।


নির্বাচিত

‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতেই চলবে বৈদেশিক সম্পর্ক : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেছেন, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিই পরিচালনা করবে বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্ক।

ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় বুধবার (২২ জুলাই) আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের ফাঁকে খলিলুর রহমান চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এ সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও সংযুক্তিসহ (কানেক্টিভিটি) দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিস্তৃত ক্ষেত্র এবং আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয় স্থান পায়। বৈঠকগুলোতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জোর দিয়ে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিই বাংলাদেশের বৈদেশিক সম্পর্ক পরিচালনা করবে।

চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে উভয় পক্ষ একযোগে যৌথ ভবিষ্যতের জন্য ‘চীন-বাংলাদেশ কমিউনিটি’ গড়ে তুলতে সর্বাত্মক সমবায় অংশীদারত্বকে এগিয়ে নেওয়ার সংকল্প ব্যক্ত করেন। দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের প্রত্যাবর্তন, মাল্টি-মোডাল পরিবহন করিডোর, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ও জ্বালানি সহযোগিতার বিষয়ে আরও এগিয়ে যাওয়ার আলোচনা করেন।

বাংলাদেশ-রাশিয়া দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। উভয় পক্ষ জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বৃদ্ধি করতে সম্মত হয়।

পরে বিকালে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও খলিলুরের সঙ্গে বৈঠক করেন। এ মার্কিন-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে আলোচনা হয়। খলিলুর রহমান রুবিওকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ৩৩তম আসিয়ান আঞ্চলিক ফোরামের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ‘ট্রিটি অব অ্যামিটি অ্যান্ড কোঅপারেশন’-এর ৫০তম বার্ষিকীতে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।


নির্বাচিত

বিশ্বে হাম আক্রান্তে শীর্ষে বাংলাদেশ, মৃত্যু ৮০০ ছাড়াল

* আক্রান্ত ১ লাখ ২০ হাজার * সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে শিশুরা * দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে দীর্ঘমেয়াদি বিপর্যয়
ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

একসময়ের বিলুপ্তপ্রায় সংক্রামক রোগ ‘হাম’ বাংলাদেশে এখন এক অতিভয়াবহ ও প্রাণঘাতী মহামারি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) বিশ্বব্যাপী হাম পরিস্থিতি বিষয়ক সর্বশেষ নজরদারি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। বিশ্বজুড়ে ১৬৫টি দেশের মধ্যে গত ৬ মাসে হামে আক্রান্ত ও উপসর্গযুক্ত রোগীর সংখ্যায় শীর্ষস্থানে উঠে এসেছে বাংলাদেশ। একই সঙ্গে দেশে হাম ও এর উপসর্গে শিশু মৃত্যুর সংখ্যা ৮০০ ছাড়িয়ে গেছে, যা দেশে জনস্বাস্থ্য খাতে এক নজিরবিহীন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছর দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এ পর্যন্ত মোট ৮০৩ জন মারা গেছে। এর মধ্যে নিশ্চিত হামে ৯৫ জন এবং উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুবরণ করেছে ৭০৮ জন শিশু। বুধবার (২২ জুলাই) পর্যন্ত সন্দেহভাজন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২০ হাজার ৫২৮ জনে, যার মধ্যে প্রায় ১৫ হাজার নিশ্চিত সংক্রমণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন (ডব্লিউএইচও) এবং যুক্তরাষ্ট্রের সিডিসির নজরদারি প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত ৬ মাসে বাংলাদেশে ৪২ হাজার ১৭৪ জন হাম বা এর উপসর্গযুক্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। বিশ্বে এ সময়ে আর কোনো দেশে এত রোগী পাওয়া যায়নি। তালিকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে ভারত (২৬,৬০৭ জন) এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেন (১৪,৫২১ জন)। যেখানে গত চার বছর (২০২২–২০২৫) দেশে বছরে গড়ে মাত্র ১৫০ থেকে ৩০০ জন রোগী পাওয়া যেত, সেখানে এই বছর প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণহীন রূপ নিয়েছে।

কারণ অনুসন্ধানে টিকার ঘাটতি ও ‘ইমিউনিটি গ্যাপ’: জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হঠাৎ এই ভয়াবহ প্রাদুর্ভাবের প্রধান কারণ বিগত বছরগুলোতে নিয়মিত টিকাদানে ঘাটতি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, হাম সংক্রমণ পুরোপুরি রুখে দিতে বা ‘হার্ড ইমিউনিটি’ বজায় রাখতে অন্তত ৯৫ শতাংশ শিশুকে দুই ডোজ টিকার আওতায় আনতে হয়। কিন্তু বাংলাদেশে ২০২৫ সালে নিয়মিত টিকাদানের হার উদ্বেগজনকভাবে কমে মাত্র ৫৯ শতাংশে নেমে আসে।

জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ আগেই সতর্ক করে জানিয়েছিল, ২০২৫ সালে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার টিকা সংগ্রহের প্রচলিত পদ্ধতি পরিবর্তন করায় টিকা সরবরাহে দীর্ঘ বিলম্বের আশঙ্কা তৈরি হয়। সতর্কবার্তা সত্ত্বেও সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় যে টিকা সংকট তৈরি হয়েছিল, এটি তারই মাসুল।

আইইডিসিআরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান বলেন, “হার্ড ইমিউনিটি একদিনে ভাঙে না। টানা দুই বছর টিকাদানের কভারেজে বড় ফাঁক তৈরি হওয়ায় আজ এই বড় আকারের সংক্রমণ দেখা দিয়েছে।’

সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে শিশুরা: হাসপাতালের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, আক্রান্ত ও মৃতদের একটি বিরাট অংশই শিশু। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে ভর্তি হওয়া ৮০ শতাংশ শিশুই কোনো টিকার ডোজ পায়নি। এমনকি হামে মারা যাওয়া শিশুদের ৫২ শতাংশেরই বয়স ছিল ৯ মাসের কম।

আক্রান্ত শিশুদের বড় অংশই এক থেকে নয় বছর বয়সী, যাদের অর্ধেকই টিকার একটি ডোজও পায়নি। পরবর্তীতে বর্তমান সরকার বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করলেও সমন্বয়হীনতার কারণে প্রায় ৪৬ লাখ শিশু টিকাদানের আওতার বাইরে থেকে যায়, যা ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কেবল একটি সাধারণ রোগ ছড়ানোর ঘটনা নয়; বরং দেশের সার্বিক টিকাদান কর্মসূচির ভয়াবহ ধস ও নীতিগত দীর্ঘসূত্রতার চরম পরিণতি।

বিশ্ব পরিসংখ্যান: শীর্ষ ১০ আক্রান্ত দেশের চিত্রবিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সদর দপ্তর জেনেভায় জমা হওয়া প্রাথমিক উপাত্ত অনুযায়ী, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে গত মে মাস পর্যন্ত—এই ছয় মাসে বিশ্বজুড়ে ১ লাখ ৮৬ হাজার হাম ও এর উপসর্গযুক্ত রোগী পাওয়া যায়। এর মধ্যে একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশে রোগীর সংখ্যা সর্বোচ্চ—৪২,১৭৪ জন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রাথমিক তথ্যে হামের এই চিত্র উঠে আসার পর বৈশ্বিক স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশকে নিয়ে তীব্র উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আইইডিসিআর ও আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থার উপাত্ত বলছে, গত বছরের তুলনায় এবারের সংক্রমণ বহু গুণ বেশি। ২০২৫ সালে পুরো বছরে সারা দেশে নিশ্চিত আক্রান্ত হয়েছিল মাত্র ১৩২ জন, ২০২৪ সালে ২৪৭ জন এবং ২০২৩ সালে ২৮২ জন। অথচ এ বছরের কেবল মার্চ মাসেই রোগী পাওয়া যায় ৫ হাজার, এপ্রিলে তা হঠাৎ লাফ দিয়ে ২০ হাজার ছাড়ায় এবং মে মাসে নতুন করে ১৫ হাজার রোগী যুক্ত হয়। সংক্রমণের দিক থেকে ঢাকা বিভাগ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত, যার মূল কেন্দ্রবিন্দু ঘনবসতিপূর্ণ বস্তি এলাকাগুলো (যেমন: কামরাঙ্গীরচর, কড়াইল, যাত্রাবাড়ী ও মিরপুর)। পাশাপাশি সিলেট, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিভাগেও রোগটির বিস্তার তীব্র।

ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন (ডব্লিউএইচও) এবং যুক্তরাষ্ট্রের সিডিসির নজরদারি প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত বছরের ডিসেম্বর থেকে মে মাস পর্যন্ত ৬ মাসে বাংলাদেশে ৪২ হাজার ১৭৪ জন হাম বা এর উপসর্গযুক্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। বিশ্বে এ সময়ে আর কোনো দেশে এত রোগী পাওয়া যায়নি। তালিকার দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে রয়েছে যথাক্রমে ভারত (২৬,৬০৭ জন) এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত ইয়েমেন (১৪,৫২১ জন)। যেখানে গত চার বছর (২০২২–২০২৫) দেশে বছরে গড়ে মাত্র ১৫০ থেকে ৩০০ জন রোগী পাওয়া যেত, সেখানে এই বছর প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণহীন রূপ নিয়েছে।

দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে দীর্ঘমেয়াদি বিপর্যয়: জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেনের মতে, বাংলাদেশে এবার হামে আক্রান্তের পাশাপাশি মৃত্যুর সংখ্যাও বৈশ্বিক বিচারে সম্ভবত সর্বোচ্চ। টিকাদানে বাংলাদেশের যে ঐতিহাসিক অর্জন ছিল, সমন্বয়হীনতার কারণে তা বড় ধাক্কা খেল।

আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর মতে, জরুরি ভিত্তিতে টিকা থেকে বাদ পড়া কোটি শিশুকে চিহ্নিত করে বিশেষ কর্মসূচির মাধ্যমে দ্রুত টিকাদানের আওতায় আনতে না পারলে এই মহামারি রূপ নেওয়া হাম সংকট নিকট ভবিষ্যতে আরও বড় জনস্বাস্থ্য বিপর্যয় তৈরি করবে।

প্রখ্যাত জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, টিকায় বাংলাদেশের যে উজ্জ্বল অতীত ইতিহাস ছিল, তা আমরা অবহেলার কারণে হারিয়েছি। ডব্লিউএইচওর প্রাথমিক ডেটা নিশ্চিত করছে যে আক্রান্তের দিক দিয়ে আমরা বিশ্বে শীর্ষে। অত্যন্ত আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, এবার বাংলাদেশে হামে মৃত্যুর হারও সম্ভবত বিশ্বে সর্বোচ্চ। টিকা নেওয়ার পরও যদি শিশুরা মারা যায় বা লক্ষাধিক বাদ পড়ে যায়, তবে আমাদের পুরো নজরদারি ব্যবস্থা পর্যালোচনা করা জরুরি।

আইইডিসিআরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান সতর্ক করে দিয়ে বলেন, হার্ড ইমিউনিটি এক দিনে ভেঙে পড়ে না। বিগত দুই বছরের ঘাটতি আজ দেশের শিশুদের বিপদগ্রস্ত করেছে। অবিলম্বে বাদ পড়ে যাওয়া প্রতিটা শিশুকে চিহ্নিত করে ‘ক্যাচ-আপ’ ক্যাম্পেইন না করলে, এই বিপর্যয় শুধু এ বছর নয়—আগামী বছরগুলোতেও প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে রাখবে।


নির্বাচিত

আবাসন শিল্প জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি: প্রধানমন্ত্রী

সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) একটি প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের আবাসন শিল্প জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। এ খাতের বিকাশ দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সরকার এমন একটি স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করছে, যেখানে আবাসন খাতের উন্নয়ন হবে পরিকল্পিত, টেকসই ও দুর্নীতিমুক্ত। বুধবার (২২ জুলাই) সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে তার সঙ্গে রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) একটি প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎ করতে এলে এ কথা বলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেউ যেনো আবাসন খাতে অনিয়ম করতে না পারে, সে লক্ষে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নগরায়ণ শুধু ঢাকা কেন্দ্রিক হলে চলবে না; দেশের অন্যান্য অঞ্চলকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তুলতে হবে। একই সঙ্গে কৃষিজমি রক্ষা করে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

বৈঠকে দেশের আবাসন শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি, পরিকল্পিত নগরায়ণের চ্যালেঞ্জ, ড্যাপ (DAP) বাস্তবায়নের ফলে উদ্ভূত বিভিন্ন বাস্তব সমস্যা এবং এ খাতের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে রিহ্যাব প্রতিনিধিদল জমি, প্লট ও ফ্ল্যাট নিবন্ধন ফি যৌক্তিক পর্যায়ে কমানোর আবেদন জানায়। পাশাপাশি আবাসন খাতে বিভিন্ন সরকারি সেবা সম্পূর্ণ ডিজিটাল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

যৌক্তিকভাবে FAR (Floor Area Ratio) বৃদ্ধি এবং রাজধানীর সীমিত জমির সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে উল্লম্ব (Vertical) নগরায়ণের ওপর জোর দেওয়া হয়।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, রিহ্যাবের সভাপতি ড. আলী আফজাল, রিহ্যাবের সহ-সভাপতি-২ আবু খালিদ মোহাম্মদ বারকাতুল্লাহ, ইস্টার্ন হাউজিং লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আমিনুল করিম সিদ্দিকী, ইউনাইটেড গ্রুপের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিজামউদ্দিন হাসান রশিদ, ইউনাইটেড গ্রুপের ম্যানেজার মুশফিকুল আলম খন্দকার, রূপায়ণ গ্রুপের চেয়ারম্যান মো. লিয়াকত আলী খাঁন, রূপায়ণ গ্রুপের কো-চেয়ারম্যান মাহির আলী খাঁন রাতুল, আমিন মোহাম্মদ গ্রুপের নির্বাহী পরিচালক আবুল কালাম মো. রেজাউল করিম, সেঞ্চুরি গ্রুপের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) নাসির মজুমদার, ইউএস-বাংলা অ্যাসেটস লিমিটেডের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. জালাল ঘানি খান এবং স্বদেশ প্রপার্টিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. এ. কাইয়ুম।


নির্বাচিত

জ্বালানি তেলের সংকট নেই, স্বাভাবিক হচ্ছে গ্যাস সরবরাহ

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক  

দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়। তারা বলছে, এ নিয়ে গুজব ছড়ানো হচ্ছে। বুধবার (২২ জুলাই) বিকেলে সচিবালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করে জ্বালানি তেলের মজুত নিয়ে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়। সংবাদ সম্মেলনে সার্বিক চিত্র তুলে ধরে জনগণকে সঠিক তথ্য দিতে সংবাদমাধ্যমকে অনুরোধ জানান মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দেশে ডিজেলের মজুত আছে ৩১ দিনের। এ ছাড়া ৩৬ দিনের অকটেন, ২০ দিনের পেট্রল, ২৫ দিনের ফার্নেস ওয়েল ও ২০ দিনের জেট ফুয়েল মজুত আছে।

জ্বালানির এই মজুত স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে বেশি দাবি করে মনির হোসেন বলেন, ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে ১ লাখ ৮০ হাজার টন ডিজেল আসবে। আগামী আগস্টে ডিজেল আসবে আরও ২ লাখ ৪০ হাজার টন। আগামী ৪৮ দিনের মধ্যে জ্বালানি তেলের সংকট হবে না।

তেলের সংকট না থাকার কথা জানানো হলেও গ্যাস–সংকটের বিষয়টি স্বীকার করেছে জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ। বিভাগের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) কারিগরি ত্রুটির কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ দৈনিক প্রায় ৪৫০ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি) কমে গেছে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় শিল্পকারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র, সিএনজি স্টেশন ও আবাসিক গ্রাহকের গ্যাস সরবরাহে চাপ কমেছে। কোথাও কোথাও সিএনজি স্টেশনে দীর্ঘ সারি ও সাময়িক ভোগান্তিও দেখা দিয়েছে।

তবে সংবাদ সম্মেলনে মনির হোসেন আশা দিয়েছেন, এটি সাময়িক সমস্যা এবং দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে। তিনি আরও বলেন, দুটি এফএসআরইউর একটিতে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে সাময়িকভাবে জাতীয় গ্যাস গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এর ফলে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় কিছু সিএনজি স্টেশন প্রয়োজনীয় পরিমাণ গ্যাস নিতে পারছে না এবং কয়েকটি এলাকায় দীর্ঘ সারির সৃষ্টি হয়েছে। এটি সাময়িক সমস্যা। মেরামতের কাজ চলছে এবং দুই থেকে তিন দিনের মধ্যেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

যুগ্ম সচিব জানান, পরিবহনে এই সংকট শুধু সিএনজি স্টেশনেই সীমাবদ্ধ, জ্বালানি তেল সরবরাহে এর কোনো প্রভাব পড়েনি। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর গত মার্চে সারা বিশ্বে জ্বালানির বাজার অস্থির হয়ে ওঠায় বাংলাদেশেও সংকট দেখা দিয়েছিল। তখন ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছিল। আবার তেমন সংকটের খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে গতকাল মঙ্গলবার রাতে রাজশাহী নগরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন দেখা দেয়।

মনির হোসেন বলেন, দুয়েকটি মিডিয়ায় লক্ষ্য করা যাচ্ছে জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা জনগণকে জানানো উচিত। অনেক সময় গুজব পীড়াদায়ক হয়। মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি দেখা দেয়। দেশে গ‍্যাস ও এলএনজি মিলিয়ে চাহিদা ৩ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট জানিয়ে তিনি বলেন, সরবরাহ করা যাচ্ছে ২ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট। কিছু ঘাটতি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা। সরকার চেষ্টা করছে ঘাটতি কমাতে।

এদিকে মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এফএসআরইউর কারিগরি ত্রুটি দ্রুত মেরামত করে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও কারিগরি বিশেষজ্ঞরা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছেন। একই সঙ্গে সীমিত গ্যাসের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করে জরুরি ও অগ্রাধিকারভিত্তিক খাতে সরবরাহ অব্যাহত রাখার চেষ্টা চলছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমান সংকটের তাৎক্ষণিক কারণ এফএসআরইউর কারিগরি সমস্যা হলেও দীর্ঘদিনের আমদানিনির্ভরতা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে। অতীতে দেশি গ্যাস অনুসন্ধান ও উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ যথেষ্ট না হওয়ায় আমদানি করা এলএনজির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। ফলে আমদানি অবকাঠামোর কোনো একটি অংশে সমস্যা দেখা দিলেই জাতীয় গ্যাস সরবরাহব্যবস্থা চাপে পড়ছে।

এই নির্ভরতা কমাতে সরকার স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান যুগ্ম সচিব মনির হোসেন। তিনি বলেন, এর অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে ১০০টি গ্যাসকূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

একনেক সভায় নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ এলাকায় ৭২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩টি নতুন কূপ খননের একটি প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আধুনিক জাতীয়তাবাদের ধারণায় কোনো নির্দিষ্ট গোত্র, ভাষা, বর্ণ কিংবা ধর্ম আর জাতীয় পরিচয়ের একক নির্ধারক নয়। বরং একটি ভূখণ্ডের বহুমাত্রিকতা, অভিন্ন স্বার্থ ও যৌথ ভবিষ্যৎ নির্মাণের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করেই এই আধুনিক জাতীয় পরিচয় গড়ে উঠেছে।’


নির্বাচিত

banner close