আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ২ হাজার ৭১৩ জন প্রার্থী। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে নিবন্ধিত ৪৪টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩২টি দল। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন ৭৪৭ জন। সে হিসাবে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রত্যয়নপত্র নিয়ে নির্বাচনে উপস্থিত ১৯৬৬ জন প্রার্থী। আর স্বতন্ত্রদের মধ্যে অন্তত ৪০০ জন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন। তবে সাধারণ মানুষের অভিযোগ, নির্বাচনে আসা বড় দল আওয়ামী লীগের মূল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বাইরে অন্যদলগুলোর বেশির ভাগ প্রার্থীই আসনগুলোর মানুষের কাছে অচেনা। প্রায় প্রতিটি আসনেই নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন এমন অনেক অচেনা মুখ যাদের প্রার্থিতা পেতে সমস্যা না হলেও নির্বাচনী লড়াইয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে পরিচিত হতেই পার হয়ে যাবে প্রচারণার বেশির ভাগ সময়। ফলে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, নির্বাচনে প্রার্থী আছে অনেক বেশি, কিন্তু, প্রতিদ্বন্দ্বী কম।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ৩০০ আসনের বিপরীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের (নৌকা) ৩০৩ জন, জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল) ৩০৪ জন, জাকের পার্টি (গোলাপ ফুল) ২১৮ জন, তৃণমূল বিএনপি (সোনালী আঁশ) ১৫১ জন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি- এনপিপি (আম) ১৪২ জন, বাংলাদেশ কংগ্রেস (ডাব) ১১৬ জন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ (মশাল) ৯১ জন, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন (ফুলের মালা) ৪৭ জন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন (বটগাছ) ১৩ জন, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি (হাতঘড়ি) ১৮ জন, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ (চেয়ার) ৩৯ জন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (কাঁঠাল) ১৩ জন, গণফ্রন্ট (মাছ) ২৫ জন, গণফোরাম (উদীয়মান সূর্য) ৯ জন, ইসলামী ঐক্যজোট (মিনার) ৪৫ জন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট (মোমবাতি) ৩৭ জন, জাতীয় পার্টি-জেপি (বাইসাইকেল) ২০ জন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ (গামছা) ৩৪ জন, গণতন্ত্রী পার্টি (কবুতর) ১২ জন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (হাতুড়ি) ৩৩ জন, বিকল্পধারা বাংলাদেশ (কুলা) ১৪ জন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (একতারা) ৮২ জন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন-বিএনএম (নোঙর) ৪৯ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট- বিএনএফ (টেলিভিশন) ৫৫ জন, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (ছড়ি) ৭৪ জন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ- বিএমএল (হাত-পাঞ্জা) ৫ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি- ন্যাপ (কুঁড়েঘর) ৬ জন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মই) একজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (রিকশা) একজন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ (খেজুর গাছ) একজন এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (হারিকেন) দুইজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
এদিকে মনোনয়ন জমার শেষ দিনেই ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম জানিয়েছেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিলের সময়সীমা বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। ফলে বিএনপিসহ যে দলগুলো নির্বাচন বর্জন করেছে তাদের আর মত পাল্টে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসার দৃশ্যমান কোনো সুযোগ নেই। আন্দোলনরত দলগুলোও অবশ্য আগেই এ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতি দিয়েছে।
ফলে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর যাচাই-বাছাই শেষে যেসব প্রার্থী টিকে যাবেন তারাই থাকবেন নির্বাচনী দৌড়ে। তবে প্রতিটি আসনে ভোটের লড়াইয়ে যারা যাচ্ছেন তাদের বেশির ভাগেরই দলের নাম সাধারণ মানুষ জানে না। আর দল অচেনা বলে প্রার্থীরাও অচেনা। ফলে তাদের ধারণা নির্বাচনী লড়াইয়ে আসলে টিকে থাকবেন বড় দলের পরিচিত মুখগুলো। এর মধ্যে শাসক দলের মার্কা নিয়ে লড়াই করা প্রার্থীরা যেমন আলোচনায় থাকবেন, তেমনই অনেক আসনেই তাদের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমাতে পারেন নির্বাচনে আসা আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। কেননা, দলটির স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বেশির ভাগই স্থানীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত এবং তাদের মোটামুটি ভোট ব্যাংক অথবা এলাকাবাসীকে প্রভাবিত করার সক্ষমতা রয়েছে। নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া ৭৪৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে অন্তত ৪০০ জনই আওয়ামী লীগের।
যদিও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গত কয়েক দিনের মতো গতকালও বলেছেন, দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ঢালাওভাবে নির্বাচন করতে পারবেন না। এ ছাড়া ১৪-দলীয় জোটের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির সম্ভাবনা রয়েছে আওয়ামী লীগের। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন, নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আসতে পারবেন জোটের এমন প্রার্থীরাই কেবল থাকবেন বিবেচনায়। আর ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করে তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
এর ফলে এটা স্পষ্ট যে, জোটের সঙ্গে সমঝোতা হলে কয়েকটি আসনে আওয়ামী লীগ যাদের মনোনয়ন দিয়েছে তাদেরও রণে ভঙ্গ দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে হবে।
তবে আওয়ামী লীগ সভাপতি নির্বাচনী কৌশল হিসেবে এবার দলীয় মার্কার বাইরে দলীয় প্রার্থীদের স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড়ানোর সুযোগ দেয়ায় নির্বাচনে আসা প্রার্থীদের কতজন আবার দল চাইলে নির্দেশ মেনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন সেটাও আছে দেখার বিষয়।
তবে এই আলোচনার বাইরে থেকে যাচ্ছে বেশির ভাগ প্রার্থী যারা বিভিন্ন দল থেকে নির্বাচনে এলেও জনগণের কাছে নিজের দল, দলীয় প্রতীক এবং নিজের পরিচয় প্রকাশ করার সুযোগ পাবেন। তবে প্রতিটি আসনে স্থানীয় ভোটারদের কাছে তারা এখনো অচেনা এবং নতুন মুখ হিসেবে বিবেচিত।
যেমন দল হিসেবে এবারই প্রথম নির্বাচন করছে তৃণমূল বিএনপি, বিএনএম, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি। এসব দলের বেশির ভাগ প্রার্থী নিজ নিজ এলাকার ভোটারদের কাছে নতুন পরিচয়ে উপস্থিত হবেন। অনেকে আবার খুব বেশি পরিচিত নন। একইভাবে তাদের নির্বাচনী প্রতীক যথাক্রমে সোনালী আঁশ, নোঙর ও একতারা চেনাতেও এবার তাদের বিশেষ প্রস্তুতি নিতে হবে।
তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনএমের প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য আছেন ৬ জন এবং তৃণমূলের প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য আছেন ৫ জন।
এদিকে, গতকাল আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর কাদের বলেছেন, বিএনপির ১৫ কেন্দ্রীয় নেতাসহ সাবেক ৩০ জন সংসদ সদস্য নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এদের মধ্যে কাদের সিদ্দিকী, লতিফ সিদ্দিকী, আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর মতো নেতাও আছেন। আবার আগে বিএনপিতে প্রভাব ছিল দলটির এমন সাবেক নেতারাও আছেন নির্বাচনে। এদের মধ্যে তৈমূর আলম, সমশের মবিন চৌধুরীর নাম উল্লেখযোগ্য।
তবে এদের বাইরে নির্বাচনের মাঠে থাকা বেশির ভাগ প্রার্থীই অচেনা। এ বিষয়ে গাজীপুর-৪ আসনের একজন প্রার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমার দল এলাকায় তেমন পরিচিত নয়। দলের প্রচার চালাতে ও এলাকার মানুষের কাছে নিজের পরিচয় তুলে ধরতে এবার ভোট করতে আসা। আমিও জানি নির্বাচনে জয়লাভ করার অবস্থান এখনো আমার বা আমার দলের তৈরি হয়নি। তবে এক দিনে তো কিছুই হয় না। আমাদের দলের আদর্শ ও কর্মসূচি দেশের মানুষ ও এলাকার মানুষকে জানাতে আমরা নির্বাচনে এসেছি।’
অন্যদিকে লালমনিরহাট-৩ আসনে মনোনয়ন জমা দেয়া প্রার্থীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই সদর আসনে ৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সদ্য পদত্যাগকারী সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জাবেদ হোসেন বক্কর, জাতীয় পার্টি থেকে জাহিদ হাসান, তৃণমূল বিএনপি থেকে শামীম আহম্মেদ চৌধুরী, জাকের পার্টি থেকে সকিউজ্জামান মিয়া, বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল থেকে আশরাফুল আলম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) থেকে আবু তৈয়ব মো. আজমুল হক পাটোয়ারী, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) থেকে শ্রী হরিশ চন্দ্র রায় মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তবে এবার তিনি এ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেননি। ফলে এ আসনে নির্বাচনে অংশ নেয়া সব প্রার্থীই নতুন এবং নতুন একজন সংসদ সদস্য পাবে লালমনিরহাট সদরবাসী। তবে নতুন হলেও জেলা ও শহরের রাজনীতিতে পুরনো মুখ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান। ছাত্ররাজনীতি করায় জাবেদ হোসেন বক্করও সেখানে পরিচিত মুখ। জাকের পার্টি ও জাসদের প্রার্থীকেও অনেকে চেনেন। তবে সাম্যবাদী দল, এনপিপির প্রার্থীর মতো জাতীয় পার্টির প্রার্থীও এলাকার সবার চেনা মুখ নন। ফলে যে আসন থেকে জাতীয় পার্টি বর্তমান সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছে সেখানে নতুন মুখ দেয়ায় মাঠের রাজনীতিতে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন এলাকার অনেক বাসিন্দা।
বিষয়টা আরও স্পষ্ট হয় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনার ৬টি আসন বিশ্লেষণ করলে। দৈনিক বাংলার খুলনা ব্যুরো জানায়, খুলনার এই ৬টি আসনের জন্য সেখানে ৫৩ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে যারা সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচন করবেন, তাদের অধিকাংশেরই রাজনীতিতে তেমন কোনো পরিচিতি নেই। হঠাৎ করেই তারা কেন সংসদ নির্বাচনে আগ্রহী হলেন, এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে উত্তরও দেননি অধিকাংশ প্রার্থী।
খুলনা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের মনোনীত ৬ জন প্রার্থী, আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র ২ জন এবং জাতীয় পার্টির একজন প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচিতি রয়েছে। বাকি ৪৪ জন প্রার্থী কখনো রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয় ছিলেন না।
খুলনা প্রতিনিধির বিশ্লেষণ অনুযায়ী খুলনা-১ আসনের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ৬ জন। তারা হলেন, জাকের পার্টির মো. আজিজুর রহমান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ননী গোপাল মণ্ডল, জাতীয় পার্টির কাজী হাসানুর রশিদ, তৃণমূল বিএনপির গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রশান্ত কুমার রায় ও আবেদ আলী শেখ।
এদের মধ্যে ননী গোপাল মণ্ডল ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। রাজনীতিতে তার পরিচিতি রয়েছে। তবে বাকি চারজন রাজনীতিতে একেবারেই অপরিচিত। তারা প্রত্যেকেই এবার প্রথম সংসদ নির্বাচন করছেন। এদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রশান্ত কুমার রায় পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সাবেক সচিব।
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আমি নির্বাচন করছি। আমাকে ডামি প্রার্থীও বলা যাবে। এটা দলীয় নির্দেশেই হচ্ছে।’
আওয়ামী লীগের ননী গোপাল মণ্ডল বলেন, ‘দল আমাকে আবারও সুযোগ দিয়েছে। আমি দলের সম্মান রাখব বলে আশাবাদী।’
তবে বাকি চার প্রার্থীর তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই। জাতীয় পার্টীর কাজী হাসানুর রশিদ ও তৃণমূল বিএনপির গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিকের কাছে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেও কোনো উত্তর মেলেনি।
আর জাকের পার্টি মো. আজিজুর রহমান বলেন, ‘দল থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে বলেছে, তাই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি।’
অন্যদিকে খুলনা-২ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৯ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল, গণতন্ত্র পার্টির মো. মতিয়ার রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের দেবদাস সরকার, জাকের পার্টির ফরিদা পারভিন, ইসলামী ঐক্যজোটের হিদায়েতুল্লাহ, জাতীয় পার্টির মো. গাউসুল আজম, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের বাবু কুমার রায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সাঈদুর রহমান।
এদের মধ্যে শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থীর রাজনৈতিকভাবে পরিচিতি রয়েছে। তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। তবে বাকিদের আগে কখনো রাজনৈতিক মাঠে দেখা যায়নি।
কেন প্রার্থী হয়েছেন- এমন প্রশ্নে বাংলাদেশ কংগ্রেসের দেবদাস সরকার বলেন, ‘অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে মনোনয়ন জমা দেয়া হচ্ছে, তাই আমরাও দিচ্ছি।’
খুলনা-৩ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৫ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের এস এম কামাল হোসেন, জাকের পার্টির এস এম সাব্বির হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, স্বতন্ত্র প্রার্থী কাইজার আহমেদ ও ফাতেমা জামান সাথী।
এদের মধ্যেও শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচিতি রয়েছে। তিনি দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। তিন বারের সংসদ সদস্য ও দুই বারের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানকে সরিয়ে তাকেই আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিয়েছে। তবে ওই আসনেরও বাকি চারজনের তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই।
খুলনা-৪ আসন থেকে মনোনয়ন নিয়েছেন ১৪ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের আব্দুস সালাম মূর্শেদী, জাকের পার্টির শেখ আনছার আলী, জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এস এম আজমল হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. ফরহাদ আহমেদ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. মোস্তাফিজুর রহমান, তৃণমূল বিএনপির শেখ হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মনিরা সুলতানা, ইসলামী ঐক্যজোটের রিয়াজ উদ্দীন খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জুয়েল রানা, এম ডি এহসানুল হক, মো. রেজভী আলম, এস এম মোর্ত্তজা রশিদী দারা, আতিকুর রহমান ও এইচ এম রওশান জমির।
এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের আব্দুস সালাম মূর্শেদী বর্তমান সংসদ সদস্য। ২০১৮ সালের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে তিনি জয়ী হয়েছিলেন।
এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম মোর্ত্তজা রশিদী দারার দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস রয়েছে। তিনি ওই আসনের তিন বারের সাবেক সংসদ সদস্য এস এম মোস্তফা রশিদী সুজার আপন ভাই।
তিনি বলেন, এলাকার মানুষের দোয়া নিয়ে মাঠে নেমেছি। জয়-পরাজয় এলাকার মানুষই নির্ধারণ করবেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই আসনে আওয়ামী লীগের এই দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এলাকার ভোটাররা বলছেন, বাকি ১২ জন প্রার্থীদের নাম খুব একটা শোনেননি তারা। কেউ কেউ একেবারেই অপরিচিত।
খুলনা-৫ আসনের জন্য মনোনয় জমা দিয়েছেন ৭ জন। তারা হলেন- জাতীয় পার্টির মো. শহীদ আলম, জাকের পার্টির সামাদ সেখ, আওয়ামী লীগের নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, ওয়ার্কার্স পার্টির শেখ সেলিম আকতার, বাংলাদেশ কংগ্রেসের এস এম এ জলিল, ইসলামী ঐক্যজোটের তরিকুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ আকরাম হোসেন।
এদের মধ্যে নারায়ণ চন্দ্র চন্দ একাধিক বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী। এ ছাড়া আকরাম হোসেন ফুলতলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। এই আসনেও আওয়ামী লীগের এই দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ভোটাররা। বাকি যারা প্রার্থী হয়েছেন এলাকার রাজনীতিতে তাদের তেমন কোনো পরিচিতি নেই বলে জানা গেছে।
খুলনা-৬ আসনের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ১২ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের মো. রশীদুজ্জামান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. আবু সুফিয়ান, জাকের পার্টির শেখ মর্তুজা আল মামুন, জাতীয় পার্টির মো. শফিকুল ইসলাম মধু, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মির্জা গোলাম আজম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এস এম নেওয়াজ মোরশেদ, তৃণমূল বিএনপির গাজী নাদীর উদ্দীন খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম রাজু, গাজী মোস্তফা কামাল, জি এম মাহবুবুল আলম, মো. মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর ও মো. অহিদুজ্জামান মোড়ল।
এদের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত মো. রশীদুজ্জামানের কোনো দলীয় পদ নেই। তিনি একসময় পাইকগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্যসচিব ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে জামানত হারিয়েছিলেন। তবে তাকেই মনোনয়ন দিয়ে চমক সৃষ্টি করেছে ক্ষমতাসীন দল। ওই আসনে রাজনৈতিকভাবে পরিচিত রয়েছে জাতীয় পার্টির মো. শফিকুল ইসলাম মধুর। তিনি আগেও খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। বাকি প্রার্থীদের তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই। এলাকার সবার কাছে পরিচিত মুখও নন অনেকে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশির ভাগ আসনেই ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীদের স্থানীয়রা তেমন একটা চেনেন না। তবে বিরোধীদের এক অংশ নির্বাচন বর্জন করায় রাজনীতির নতুন সমীকরণ মেলাতে ছোট দলগুলোই নির্বাচনে হতে যাচ্ছে বড় দলগুলোর সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনীযুদ্ধ পার হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী।
জাসদের মাঠপর্যায়ের এক রাজনীতিবিদ জসিম মণ্ডল বলেন, ‘নির্বাচন একটা বড় খেলা। এখানে সবাই নামে নিজ নিজ সমীকরণ মেলানোর জন্য। রাজনৈতিক দলগুলোর সমীকরণ হয় এক ধরনের, আবার প্রার্থীর সমীকরণ হয় আরেক ধরনের। সবাই নির্বাচনে জয়ী হতে যেমন অংশ নেয় না তেমনই কেউ কেউ নির্বাচনে যায় অন্যের যাত্রা ভঙ্গ করতে। আবার অনেকের কাছে ‘নির্বাচনে অংশগ্রহণই বড় কথা।’ জয়-পরাজয়ের চেয়েও বড় বিষয় এ সময় পোস্টারিং করে নিজের ছবি ও পরিচিতি পুরো এলাকার মানুষকে দেখানো যায়। এটাও বা কম কিসে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দেশের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষেরই আছে নির্বাচনে দাঁড়ানোর অধিকার। তাই কটা টাকা খরচ করে অনেকেই পরিচিতি বাড়ানোর সুযোগ নেয়। এর ফল তো অসীম-সারাজীবন নানাভাবে এর সুফল মেলে। যারা রাজনীতিতে আছেন, কেবল তারাই বোঝেন নির্বাচনে অংশ নিতে পারার গুরুত্ব।
বিমান বাহিনী পরিচালিত বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের বিশেষায়িত স্কুল ‘ব্লু স্কাই’ পরিদর্শন করেছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট জুবাইদা রহমান। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত স্কুলটিতে যান তিনি।
জানা যায়, জুবাইদা রহমান অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান বাংলাদেশ বিমান বাহিনী মহিলা কল্যাণ সমিতি (বাফওয়া) ও আদার্স উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন ক্লাব (ওডব্লিউসিসি)-এর সভাপতি সালেহা খান। এসময় স্কুলের শিক্ষার্থীরাও তাকে বরণ করে নেয়।
পরিদর্শনকালে জুবাইদা রহমান স্কুলের বিভিন্ন শ্রেণি কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য পরিচালিত বিভিন্ন থেরাপি কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হন।
এসময় স্কুলে পরিচালিত হাইড্রোথেরাপি, ফিজিওথেরাপি, অকুপেশনাল থেরাপি, স্পিচ অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি, সাইকোলজি ও মিউজিক থেরাপি কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তিনি।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের সুস্থ ও স্বাভাবিক জীবনযাপনে সহায়তার লক্ষ্যে স্কুলটিতে ২৮ জন বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিক্ষক ও থেরাপিস্ট কাজ করছেন।
পরিদর্শনকালে জুবাইদা রহমানকে স্কুলের শিক্ষা ও কারিগরি কার্যক্রম, থেরাপি সুবিধা এবং মেডিকেল ইমার্জেন্সি ব্যবস্থাসহ সার্বিক বিষয়ে অবহিত করেন স্কুলের অধ্যক্ষ।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে বাফওয়ার উদ্যোগে ‘ব্লু স্কাই’ স্কুল প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে সর্বোচ্চ পাঁচজন শিক্ষার্থীর জন্য একজন শিক্ষক এবং একজন সিস্টার/ব্রাদারের মাধ্যমে শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বেশ কয়েকজন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থী মূলধারার শিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছে। পাশাপাশি তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে কারিগরি শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় কয়েকজনকে সহকারী থেরাপিস্ট হিসেবেও নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
পরে ডা. জুবাইদা রহমান বাফওয়ার বিভিন্ন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ‘বাফওয়া কর্নার’ পরিদর্শন করেন। সেখানে তিনি বাফওয়া ক্রাফটস অ্যান্ড বুটিক, বাফওয়া দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণ প্রকল্প এবং বাফওয়া ইন্ডাস্ট্রিয়াল হোমের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হন। তিনি প্রশিক্ষণার্থীদের তৈরি বিভিন্ন হস্তশিল্প সামগ্রীও দেখেন।
পরিদর্শন শেষে ‘ব্লু স্কাই’ স্কুলের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশু ও বাফওয়া গোল্ডেন ঈগল নার্সারির শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন ডা. জুবাইদা রহমান।
বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের জন্য ‘ব্লু স্কাই’ স্কুলে প্রদত্ত বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার প্রশংসা করেন তিনি। পাশাপাশি নারীদের দক্ষতা উন্নয়ন ও অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতে বাফওয়ার বিভিন্ন উদ্যোগেরও প্রশংসা করেন জুবাইদা রহমান।
এসময় অনুষ্ঠানে সহকারী বিমানবাহিনী প্রধান (প্রশাসন), বাফওয়া কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভানেত্রী ও সদস্যরা, বাফওয়া এ কে খন্দকার ও বাশারের সভানেত্রী ও সহ-সভানেত্রী এবং বাংলাদেশ বিমানবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের লেখা নিবন্ধ ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে। সেই সাথে তাঁর তৎকালীন ঐতিহাসিক একটি ডায়েরির ছবিও বইয়ে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)।
এনসিটিবি জানিয়েছে, ২০২৭ শিক্ষাবর্ষের নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা সাহিত্য’ পাঠ্যপুস্তকে নতুন অধ্যায় হিসেবে এটি স্থান পাচ্ছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের অন্যতম স্মৃতিকথা হিসেবে বহুল আলোচিত এই দলিলটিকে পাঠ্যভুক্ত করার চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটি (এনসিসিসি)।
বিষয়টি নিশ্চিত করে এনসিটিবির চেয়ারম্যান প্রফেসর মোহাম্মদ ফখরুল মাওলা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা-বাসস’কে বলেন, ‘আগামী বছরের শিক্ষাবর্ষ থেকে নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা সাহিত্য’ বইয়ে জিয়াউর রহমানের লেখা ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ নিবন্ধটি অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে এনসিসিসি চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে। যার যতটুকু অবদান, তা নিরপেক্ষ ও নির্মোহভাবে পাঠ্যবইয়ে তুলে ধরতেই সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে।
শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাঠ্যবইয়ে নিবন্ধটি অন্তর্ভুক্তির ফলে শিক্ষার্থীরা চট্টগ্রাম থেকে ভেসে আসা ঐতিহাসিক ‘উই রিভোল্ট’ ও কালুরঘাটের স্বাধীনতার ঘোষণার চাক্ষুষ স্মৃতি নির্মোহভাবে শিখতে পারবে, যা মুক্তিযুদ্ধের বস্তুনিষ্ঠ ইতিহাস তুলে ধরতে একটি বড় মাইলফলক।
এ বিষয়ে বরেণ্য শিক্ষাবিদ ও জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বাসস’কে বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের লেখা এই নিবন্ধে ঐতিহাসিক মূল্য আছে। এর মাধ্যমে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা স্বাধীনতার সংগ্রাম সম্পর্কে সচেতন হতে পারবে। পাঠ্যবইয়ে এটি অন্তর্ভুক্ত করা যৌক্তিক।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক শাহ শামীম আহমেদ বাসস’কে বলেন, ‘এই নিবন্ধ অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ ঘটনা জানার সুযোগ পাবে। অতীতে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনে যেভাবে একপাক্ষিক ইতিহাস চর্চা করা হয়েছে, বর্তমান সরকারের নির্মোহ ও নিরপেক্ষ ইতিহাস তুলে ধরার দৃষ্টিভঙ্গি সেই মানসিকতার অবসান ঘটাবে।’
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ আগস্ট মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগে সচিবের সভাপতিত্বে জাতীয় শিক্ষাক্রম সমন্বয় কমিটির (এনসিসিসি) এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এনসিটিবির কারিকুলাম সংশ্লিষ্টরা জানান, নবম-দশম শ্রেণির ‘বাংলা সাহিত্য’ পাঠ্যপুস্তকের ২২ নম্বর গদ্যের লেখক পরিচিত অংশে জিয়াউর রহমানকে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, সাবেক রাষ্ট্রপতি, সেনাপ্রধান, জেড ফোর্সের অধিনায়ক, ১ নম্বর সেক্টর কমান্ডার ও ‘বীর উত্তম’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। সেই সাথে এই প্রেক্ষাপটে মুক্তিযুদ্ধকে সর্বাত্মক ‘জনযুদ্ধ’ হিসেবে চিহ্নিত করে ২৫শে মার্চের গণহত্যার পর শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেফতার হলে তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা ছিল মুক্তিকামী মানুষের জন্য ‘তুর্যধ্বনির মতো’।
এনসিটিবি জানায়, প্রবন্ধটির মূল বর্ণনা শুরুর আগে কিছু ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। ব্যাখ্যায় ১৯৭২ সালে ‘দৈনিক বাংলা’য় প্রকাশিত ‘একটি জাতির জন্ম’ ও ১৯৮০ সালে অধুনালুপ্ত ‘দৈনিক দেশ’ পত্রিকায় প্রকাশিত ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতি’ নিবন্ধ দুটিকে মুক্তিযুদ্ধের এক অনন্য দলিল হিসেবে উল্লেখ করে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোনো একক ব্যক্তি বা দলের কৃতিত্ব নয়। এতে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে গণতন্ত্রের মানসপুত্র হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, মজলুম জননেতা মওলানা ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমেদকে বাংলাদেশের ইতিহাসের অনিবার্য নাম হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে।
কারিকুলাম সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, গদ্যের প্রবন্ধে ১৯৭১ সালের মার্চে চট্টগ্রাম থেকে সশস্ত্র বিদ্রোহের মাধ্যমে স্বাধীনতা যুদ্ধের সূচনা, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা ও সম্মুখসমরের আত্মত্যাগের এক অনন্য আলেখ্য চিত্রিত হয়েছে।
প্রস্তাবিত প্রবন্ধের মূলকথায় যা আছে-
মুক্তিযুদ্ধের সশস্ত্র দায়িত্ব গ্রহণের অনুভূতির কথা বর্ণনা করতে গিয়ে নিবন্ধে জিয়াউর রহমান লিখেছেন— ‘সবাই আমরা যুদ্ধ করেছি। সৈনিক, জনগণ সবাই। জাতির চরম সংকটের মুহূর্তে কাউকে না কাউকে সামনে এগিয়ে আসতে হয়। নিতে হয় দায়িত্ব। আমি কেবল সেই দায়িত্ব পালন করেছি। নেতারা যখন উধাও হয়ে গেল— সিদ্ধান্ত দেওয়ার কেউ থাকল না, তখন জাতির পক্ষ থেকে সবচেয়ে বড় সিদ্ধান্ত আমাকে ঘোষণা করতে হলো... ২৬শে মার্চ রাতের প্রথম প্রহরে সেই চূড়ান্ত সময়টি এলো। যার জন্য গোটা মাস আমরা রুদ্ধশ্বাস হয়ে প্রতীক্ষা করছিলাম।’
চট্টগ্রামে পাক বাহিনীর ষড়যন্ত্র অনুধাবন ও ১লা মার্চ থেকে শুরু হওয়া সন্দেহজনক গতিবিধির বিবরণ দিয়ে মেজর জিয়া উল্লেখ করেন— ‘১লা মার্চ থেকে ২০তম বেলুচ রেজিমেন্টের রহস্যজনক গতিবিধি থেকে আমরা সুস্পষ্ট আঁচ করতে পারছিলাম কী ঘটতে যাচ্ছে... ১৩ই মার্চ নেতাদের সঙ্গে ইয়াহিয়ার গোলটেবিল বৈঠক শুরু হলো। এর মধ্যেই পাকিস্তানি জেনারেলরা একের পর এক বিমানে আসতে লাগলেন... এ ছিল সর্বাত্মক হামলার এক ভীতিকর পূর্বাভাস... দ্রুত ঘনিয়ে এলো পঁচিশ-ছাব্বিশের সে রাতটি। রাত ১১টায় চট্টগ্রাম বন্দরে জেনারেল আনসারীর কাছে রিপোর্ট করার জন্য ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার আমার কাছে নির্দেশ পাঠালেন। নৌ-বাহিনীর একটি ট্রাক পাঠানো হলো আমাকে এসকর্ট করে নিয়ে যাওয়ার জন্য...’
নিবন্ধে জিয়াউর রহমান আরও লেখেন, ‘আগ্রাবাদের এক ব্যারিকেডের সামনে ট্রাক থেমে গেল... ঠিক সে সময়ে মেজর খালিকুজ্জামান সেখানে আমার সঙ্গে দেখা করলেন। অনুচ্চস্বরে বললেন, ওরা ক্যান্টনমেন্টে হামলা শুরু করেছে। শহরেও অভিযান চালিয়েছে। হতাহত হয়েছে বহু নিরীহ মানুষ। যে সময়ের জন্য এতদিন অপেক্ষা করছিলাম, সে সময় এসে গেছে। সঙ্গে সঙ্গে বলে উঠলাম, ‘উই রিভোল্ট’। নির্দেশ দিলাম, ষোলশহরে ছুটে যাও। পাকিস্তানি অফিসারদের আটক করো। যুদ্ধের জন্য তৈরি করে রাখো ব্যাটালিয়নের সবাইকে।’
জিয়াউর রহমান লিখেছেন— ‘ষোলশহরে এসে মুহূর্তে একটি রাইফেল কেড়ে নিলাম তাদের একজনের কাছ থেকে... ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট সেন্টারে এলাম। লে. কর্নেল চৌধুরী এবং ক্যাপ্টেন রফিকের সঙ্গে টেলিফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করে ব্যর্থ হলাম। সিভিল টেলিফোন সার্ভিসের একজন অপারেটরকে টেলিফোনে পেলাম। তাকে বললাম: ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের অষ্টম ব্যাটালিয়ন স্বাধীনতা যুদ্ধ ঘোষণা করেছে, এ সংবাদটি যেন সে চট্টগ্রামের ডিসি, কমিশনার, পুলিশের ডিআইজি আর রাজনৈতিক নেতাদের জানিয়ে দেয়। কারণ টেলিফোনে আমি তাদের কাউকে পাচ্ছিলাম না। টেলিফোন অপারেটর দারুণ আনন্দ প্রকাশ করল আমার কথায় এবং ঐ গভীর রাতেই সবার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করল সে।’
তিনি আরও লেখেন, ‘সেই মুহূর্তটি ছিল জাতির ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। ব্যাটালিয়নের সব অফিসার আর জোয়ানদের এক জায়গায় একত্র করে সংক্ষিপ্ত ভাষণ দিলাম। বললাম, আমরা স্বাধীনতা যুদ্ধে নেমেছি। তারা এই ঘোষণাটির জন্যই উন্মুখ হয়ে অপেক্ষা করছিল। সঙ্গে সঙ্গে সবাই উল্লাসধ্বনি করে সাড়া দিল। পর মুহূর্তেই সশস্ত্র স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল। রাত তখন ২টা ১৫ মিনিট। ২৬শে মার্চ ১৯৭১। জাতির জন্যে অবিস্মরণীয় সেই মুহূর্তটি।’
পটিয়ার পাহাড়ে প্রথম মুক্তাঞ্চল গঠন ও সামরিক কৌশলের বর্ণনা দিয়ে মেজর জিয়া লেখেন— ‘রাত ৪টায় রেললাইন ধরে পটিয়ার পাহাড়ের দিকে যাত্রা করলাম। পথে ইপিআর-এর একশজন আমাদের সাথে যোগ দিল... ২৬শে মার্চের মধ্যেই তিনশ সদস্যের বাহিনীকে চট্টগ্রাম পাঠানো হলো হানাদারের মোকাবিলার জন্য। প্রচণ্ড যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল। সেই প্রথম সম্মুখসমর, পাকিস্তানি শিবিরে তখন আতঙ্ক। তাদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হলো।’
কালুরঘাট স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে ঐতিহাসিক স্বাধীনতা ঘোষণার স্মৃতিচারণ করে নিবন্ধে জিয়াউর রহমান লিখেছেন— ‘দিনটি ছিল ২৭শে মার্চ... সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রেডিও স্টেশনে এলাম। হাতের কাছে একটি এক্সারসাইজ খাতা পাওয়া গেল। তার একটি পৃষ্ঠায় দ্রুতহাতে স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম ঘোষণার কথা লিখলাম— স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্বভার নিয়েছি, সে কথাও লেখা হলো সেই প্রথম ঘোষণায়... বেতার তরঙ্গের সে ঘোষণা বিশ্বের প্রায় প্রতিটি রেডিওতে ধরা পড়ল। আর বিশ্ববাসী সেই প্রথম শুনলো: বাংলাদেশ একটি স্বাধীন-সার্বভৌম রাষ্ট্রের ঘোষণা নিয়ে যুদ্ধে নেমেছে দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে...২৭শে মার্চ, সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে ইথারে ঘোষণাটি উচ্চারিত হওয়ার পর মুহূর্তেই বিশ্বমানচিত্রে অঙ্কিত হয়ে গেল ‘স্বাধীন বাংলাদেশ’ কথাটি। ‘সে ছিল সত্যি এক অলৌকিক ব্যাপার!’
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক বাসস’কে বলেন, ‘এনসিসিসি সভায় নিবন্ধটি সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ও নির্মোহ ইতিহাস জানতে পারবে।’
দক্ষিণাঞ্চলে প্রতিরক্ষা সক্ষমতা শক্তিশালী এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় সেনাবাহিনীর দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে বরিশালের লেবুখালীতে বিদ্যমান সেনানিবাসকে আন্তর্জাতিক মানের পূর্ণাঙ্গ সামরিক স্থাপনায় রূপ দিতে ১ হাজার ১৫৩ কোটি ৬০ লাখ টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার।
পরিকল্পনা কমিশনের প্রকল্প সারসংক্ষেপে বলা হয়েছে, ‘প্রকল্পটি লেবুখালীতে বিদ্যমান সেনানিবাস সম্প্রসারণ এবং একটি পূর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক মানের সেনানিবাস প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করবে।’
পরিকল্পনা কমিশন ‘বরিশাল সেনানিবাস প্রতিষ্ঠা (দ্বিতীয় পর্যায়)’ শীর্ষক প্রকল্পটি আগামীকাল বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনের জন্য সুপারিশ করেছে। সচিবালয়ে অনুষ্ঠেয় সভায় একনেকের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সভাপতিত্ব করবেন।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জুলাই ২০২৬ থেকে ডিসেম্বর ২০৩০ মেয়াদে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পের পুরো অর্থই সরকারি তহবিল থেকে জোগান দেওয়া হবে।
প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ে ৪৩টি ভবন ও স্থাপনা নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে রয়েছে ২৬টি আবাসিক ভবন, ৭টি অনাবাসিক ভবন এবং আরও ১০টি অন্যান্য অবকাঠামো।
এ ছাড়া সড়ক, ড্রেনেজ, পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন, অগ্নিনির্বাপণ ও টেলিযোগাযোগ সুবিধা নির্মাণ ও উন্নয়ন করা হবে। সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস অবকাঠামো, কম্পিউটার সরঞ্জামসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য সুবিধাও প্রকল্পের আওতায় থাকবে।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতে এই সেনানিবাসে তিনটি পদাতিক ব্রিগেড, একটি আর্টিলারি ব্রিগেড এবং অন্যান্য ডিভিশন ও এরিয়া ইউনিটের জন্য প্রয়োজনীয় সুবিধা গড়ে তোলা হবে।
পরিকল্পনা কমিশন বলেছে, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ দক্ষিণাঞ্চলে এই প্রকল্প প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি জোরদারের পাশাপাশি ঘূর্ণিঝড়, বন্যাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে সেনাবাহিনীর দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াবে। একই সঙ্গে সেনাসদস্যদের আবাসন সংকট কমানো এবং সেনানিবাসে প্রশাসনিক ও সামরিক কার্যক্রম আরও সুসংহত করতেও এটি সহায়ক হবে।
প্রকল্পটির প্রথম পর্যায়ে ইতোমধ্যে ৭টি অফিস ভবন, সেনাসদস্যদের জন্য ১৪টি আবাসিক ভবন, ১২টি আবাসিক ভবন এবং অন্যান্য ১০টি ভবন ও অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে।
প্রকল্প প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বরিশাল ও পটুয়াখালী বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে অঞ্চলটি ঘূর্ণিঝড়, বন্যাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে রয়েছে।
এ ধরনের বড় দুর্যোগে অতীতে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরের যশোর সেনানিবাস থেকে সহায়তা নিতে হতো। স্বাধীনতার পর থেকে যশোর সেনানিবাসে অবস্থিত ৫৫ পদাতিক ডিভিশন এ অঞ্চলের ২১টি জেলায় প্রতিরক্ষা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তার দায়িত্ব পালন করে আসছে।
তবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দায়িত্ব ও কার্যক্রম ক্রমেই বাড়ায় দূরবর্তী একটি সেনানিবাস থেকে এসব দায়িত্ব কার্যকরভাবে পালন করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে প্রকল্প প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে বরিশাল ও পটুয়াখালীর মাঝামাঝি পায়রা নদীর তীরে লেবুখালীতে সেনানিবাস গড়ে তোলার উদ্যোগ নেয় সরকার।
প্রকল্প প্রস্তাব অনুযায়ী, এ অবস্থান দক্ষিণাঞ্চলের সামরিক নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সেনাসদস্য ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম মোতায়েনের সুযোগ তৈরি করবে।
পরিকল্পনা কমিশন বলেছে, সম্প্রসারিত সেনানিবাসটি স্থানীয় জনগণের সুরক্ষা, দুর্যোগ-পরবর্তী পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তা এবং দক্ষিণাঞ্চলে সেনাবাহিনীর সামগ্রিক কার্যক্ষমতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ ও প্রাতিষ্ঠানিক ‘সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট’ গঠনের পরিকল্পনা করছে সরকার। বর্তমানে পুলিশ সদরদপ্তর, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাইবার ইউনিট ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) মাধ্যমে বিচ্ছিন্নভাবে ডিজিটাল অপরাধের তদন্ত ও ফরেনসিক বিশ্লেষণ করা হলেও এ কাজে স্থায়ী ও সমন্বিত কাঠামো প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর মিরপুরে পুলিশ স্টাফ কলেজের (পিএসসি) পরিচালনা বোর্ডের ২১তম সভায় সভাপতির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে পুলিশ বাহিনীতে প্রকৌশল, আইটি ও কম্পিউটার সায়েন্স ব্যাকগ্রাউন্ডের অনেক সদস্য কর্মরত রয়েছেন। তাদের দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা চলছে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, বর্তমানে অ্যাডহক ভিত্তিতে পুলিশ সদরদপ্তর, ডিএমপির সাইবার ইউনিট এবং সিআইডির মাধ্যমে বিভিন্ন ডিজিটাল অপরাধের তদন্ত ও ফরেনসিক বিশ্লেষণ পরিচালিত হচ্ছে। তবে সাইবার অপরাধের ধরন ও পরিধি বাড়তে থাকায় একটি স্থায়ী ও সমন্বিত কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজন রয়েছে।
সভায় পুলিশ স্টাফ কলেজে ‘মাস্টার্স ইন ফরেনসিক সায়েন্স’ এবং ‘মাস্টার্স ইন ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম অ্যান্ড গভর্ন্যান্স’ কোর্স চালুর বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ ছাড়া পুলিশ স্টাফ কলেজের অবকাঠামো উন্নয়ন, কলেজের বিধিগুলোর সরকারি অনুমোদন, পিএসসির ভূমি ব্যবহারের জন্য এমআরটির প্রস্তাব পর্যালোচনা, সার্কভুক্ত দেশগুলোর জন্য প্রশিক্ষণ আয়োজন এবং পুলিশ স্টাফ কলেজের রজতজয়ন্তী উদযাপনের বিষয় সভায় স্থান পায়।
সভায় আগের ২০তম পরিচালনা বোর্ড সভার কার্যবিবরণী প্রয়োজনীয় সংশোধন সাপেক্ষে অনুমোদন করা হয় এবং ওই সভায় নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়।
সাময়িক আতঙ্ক সৃষ্টি করছে আওয়ামী লীগ’-
গতকাল সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সড়কে যানজট নিরসনে এক সমন্বয় সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের দুষ্কৃতকারীরা ঝটিকা মিছিল কিংবা ককটেল বিস্ফোরণের মতো ঘটনা ঘটিয়ে সাময়িক আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা করছে। গুলশান ও হাইকোর্ট সংলগ্ন এলাকায় সংঘটিত ঘটনাগুলোর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এরই মধ্যে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার জন্য নীতিমালা-
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচলকে রাজধানীর যানজটের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মূল সড়কে থ্রি-হুইলার বা ছোট যানবাহন চলাচল শৃঙ্খলাবহির্ভূত। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাকে একটি নীতিমালার মধ্যে আনার প্রক্রিয়া চলছে। তবে আকস্মিকভাবে কাউকে পুরোপুরি বেকার না করে পর্যায়ক্রমে নিয়মের মধ্যে আনা হচ্ছে।
যানজট নিরসনে ১৫ দিন পরপর সমন্বয় সভা
রাজধানীতে চলমান মেগা প্রকল্পগুলোর নির্মাণকাজের কারণে যানজট নিরসন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সংস্থা ও অংশীজনদের সমন্বয়ে ১৫ দিন পরপর সমন্বয় সভা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, ঢাকা সিটি ও এর আশপাশের সমস্ত উন্নয়নমূলক কাজ যেন সমন্বিতভাবে সম্পন্ন হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও কর্তৃপক্ষকে নিয়ে এই সমন্বয় সভা করা হয়েছে। এক সংস্থা কাজ শেষের পরপরই আরেক সংস্থা একই স্থানে যেন পুনরায় খোঁড়াখুঁড়ি না করে, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, রাজধানীতে ট্রাফিক চাপ কমাতে গাবতলী, মহাখালী ও ফুলবাড়িয়া বাসস্ট্যান্ড শহরের বাইরে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। এরই মধ্যে জমি অধিগ্রহণ ও সার্বিক পরিকল্পনার কাজ শুরু হয়েছে।
মান্ত এলাকায় ড্রোনের মাধ্যমে মাদক দেশে আসছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। মাদকের সিন্ডিকেটের মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, মাদক কোনো ব্যবসার অংশ হতে পারে না। মাদকের বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, মাদক এখন সামাজিক ব্যাধিতে রূপান্তরিত হয়েছে। কোনো নেতার পেছনে থেকে কেউ মাদক ব্যবসা করলে তাকেও সতর্ক করা হচ্ছে। সমাজকে মাদকমুক্ত করতে সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সাধারণ মানুষকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান বলেন, বাগেরহাটে কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর। যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাদের আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তি যত শক্তিশালীই হোন না কেন, তাকে কেউ রক্ষার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধেও জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে।
তিনি বলেন, খুন করে কেউ বাইরে ঘুরে বেড়াবে আর জনগণ মনে করবে খুন করলেও কিছু হয় না—এটা হতে দেওয়া হবে না। পুলিশের হাত এখনো দুর্বল হয়নি। আইন আইনের গতিতে চলবে।
গত সরকারের সময় গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় গুম ও ক্রসফায়ারের ঘটনা ঘটেছে। গত ১৭ বছরে বিএনপি-জামায়াতকে টার্গেট করে মানুষকে ধরে নিয়ে বিনা বিচারে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় বিএনপি ও জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ৬০ লাখের বেশি মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা গায়েবি মামলা করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি। এসব মামলার ৯৯ শতাংশের ক্ষেত্রে পুলিশ বাদী ছিল বলে মন্তব্য করেন মন্ত্রী।
তিনি বলেন, পুলিশ বাদী হয়ে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানি করার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, তা বন্ধের চেষ্টা করা হচ্ছে। বর্তমান সরকার গুম ও ক্রসফায়ার শূন্যের কোঠায় নিয়ে এসেছে।
বাগেরহাটের মিরাজ শেখের গুমের অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে আইনমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব ও সতর্কতার সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। মিরাজ শেখের পরিবার যেন ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হয়, সরকার তা নিশ্চিত করতে চায়।
তিনি বলেন, ওই ঘটনার প্রতিবাদ করতে গিয়ে সরকারি স্থাপনায় ভাঙচুরের ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে মামলা ও গ্রেপ্তার হয়েছিল। পরে আইন মন্ত্রণালয়ের লিগ্যাল এইড ইউনিটের মাধ্যমে পরিবারটিকে আইনি সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে এবং মিরাজ শেখের পরিবারের সদস্যদের জামিনে সহায়তা করা হয়েছে। মামলা তার নিজস্ব গতিতে চলবে বলেও জানান তিনি।
জামিন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, জামিন দেওয়া বা না দেওয়া আদালতের বিষয়। তবে কেউ যদি মব জাস্টিসের মাধ্যমে জামিন নেওয়া বা জামিন ঠেকানোর চেষ্টা করেন, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে সকালে জেলা জজ আদালতের সম্মেলনকক্ষে জেলার বিভিন্ন পর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন আইনমন্ত্রী। পরে বিকেলে বিএনপির নির্বাচিত সংসদ সদস্য, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য, সংসদ সদস্য প্রার্থী এবং জেলা-উপজেলা বিএনপির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন তিনি।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য মশিউর রহমান খান, বাগেরহাট-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল আলিম, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদারসহ সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
দীর্ঘ ছয় মাসেরও বেশি সময় বন্ধ থাকার পর গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ায় উৎপাদনে ফিরেছে চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড-সিইউএফএল সার কারখানা।
মঙ্গলবার সকাল ছয়টার দিকে কারখানাটিতে ইউরিয়া সার উৎপাদন শুরু হয়। গ্যাস সরবরাহ পাওয়ার পর প্রথমে অ্যামোনিয়া উৎপাদন শুরু করা হয়। এরপর ধাপে ধাপে ইউরিয়া প্ল্যান্ট চালুর কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।
দীর্ঘদিন পর কারখানাটি পুনরায় উৎপাদনে ফেরায় কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শ্রমিকদের মধ্যে স্বস্তি ও উৎসাহ দেখা দিয়েছে।
সিইউএফএলের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন), উত্তম চৌধুরী স্টার নিউজকে জানান, কারখানা পুরোপুরি সচল রাখতে পঁয়তাল্লিশ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। গ্যাসের সরবরাহ পুরোপুরি পাওয়ায় সকাল থেকে উৎপাদন শুরু হয়েছে। এর আগে গ্যাস সংকটের কারণে গত চার মার্চ বন্ধ হয়ে যায় সিইউএফএল এর সার উৎপাদন। কারখানা বন্ধ থাকাকালীন সময়ে যে ক্ষতি হয়েছে, তা অল্প সময়ের মধ্যেই পুষিয়ে নেয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙাদিয়ায় অবস্থিত সিইউএফএল কারখানায় প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করে ইউরিয়া সার ও অ্যামোনিয়া উৎপাদন করা হয়।
বর্তমানে এই সার কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা দৈনিক ১ হাজার ১০০ টন ইউরিয়া ও ৮০০ টন অ্যামোনিয়া।
ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ওজোপাডিকো) প্রি-পেইড মিটার রিচার্জে দেখা দেওয়া জটিলতা দূর হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় ১৭ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার সকাল ৬টা ১০ মিনিটে প্রি-পেইড সিস্টেম পুনরুদ্ধার করা হয়। ফলে বর্তমানে প্রি-পেইড মিটারের রিচার্জ সংক্রান্ত সব সীমাবদ্ধতা দূর হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের গণসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সোমবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে ওজোপাডিকোর প্রি-পেইড ডাটাবেজ সার্ভারের সঙ্গে অ্যাপ্লিকেশন সার্ভারের লজিক্যাল সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এর ফলে ওজোপাডিকোর বিভিন্ন অঞ্চলের গ্রাহকেরা প্রি-পেইড মিটারে ভেন্ডিং বা রিচার্জ করতে গিয়ে সমস্যার মুখে পড়েন।
পরবর্তীতে কারিগরি বিশেষজ্ঞ দলের দীর্ঘ সময়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর মঙ্গলবার সকাল ৬টা ১০ মিনিটে প্রি-পেইড সিস্টেম পুনরুদ্ধার করা হয়। বর্তমানে রিচার্জ সংক্রান্ত সব ধরনের সীমাবদ্ধতা দূর করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে ওজোপাডিকো।
এ ঘটনায় সাময়িক ভোগান্তির জন্য সংশ্লিষ্ট গ্রাহকদের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে ওজোপাডিকো কর্তৃপক্ষ।
ভবিষ্যতে এ ধরনের সমস্যার পুনরাবৃত্তি রোধে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। গ্রাহক সন্তুষ্টি এবং গ্রাহকদের আন্তরিক সহযোগিতা ওজোপাডিকোর অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক সহজ করতে শেখ হাসিনাসহ ভারতে অবস্থানরত সাজাপ্রাপ্তদের ফেরত দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ শর্ত বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। সরকারের কর্মকাণ্ড তুলে ধরতে মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, ভারতের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সেখানে শেখ হাসিনা ও অন্যদের বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে। বাংলাদেশের সঙ্গে একটি ওয়ার্কিং এনগেজমেন্টের জন্য এসব বিষয় ভারত সরকারের বিবেচনা করা উচিত।
শেখ হাসিনাকে আমরা চাইছি। সেখানে ওবায়দুল কাদেরসহ অন্যদের চাইব না কেন—প্রশ্ন রেখে জাহেদ উর রহমান বলেন, আমি ভারত সরকারের কাছে আহ্বান জানাতে চাই, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক সহজ করার জন্য এটা একটা গুরুত্বপূর্ণ শর্ত।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেন, শেখ হাসিনার বর্বরতা শুধু জুলাইয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নয়, এটা বহু বছর ধরে চলে আসছে। এ কারণে যারা বিভিন্নভাবে এর সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং বর্তমানে অন্য দেশের মাটিতে অবস্থান করছেন, তাদের ফিরিয়ে আনার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের এই ‘মাফিয়া রেজিমের’ সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী দল হিসেবে বর্তমান সরকার দায়িত্বে রয়েছে। তাই বিচার নিশ্চিত করার চেষ্টা সরকার করবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ।
সিলেটের পর্যটন, চা, মৎস্য ও শিল্পসহ অন্যান্য খাতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রবাসীদের অধিকতর বিনিয়োগের আহবান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, সিলেটের পর্যটন, চা, মৎস্য ও শিল্পখাতে বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে| এখানকার পাহাড়, নদী, ঝরনা, চাবাগান, বন, হাওর সব মিলিয়ে সিলেট বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন অঞ্চল| আমি বিশ্বাস করি এসব খাতে আরো উন্নত করার সুযোগ রয়েছে।
আজ মঙ্গলবার বিকেলে সিলেট সিটি কর্পোরেশন মাঠে সিটি কর্পোরেশন আয়োজিত এক নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘আজকে যারা প্রবাসে আছেন এবং যাদের যথেষ্ট যোগ্যতা আছে তারা যদি এসব খাতে বিনিয়োগ করতে এগিয়ে আসেন তাহলে এখানে আমাদের পর্যটন শিল্পে অনেক বেশি উন্নত হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’
এ সময় চা শিল্পের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘সিলেটের চাবাগান শুধু আমাদের বাংলাদেশে নয় সারা বিশে^ বিখ্যাত, সেজন্য এই সিলেট অনেক বেশি সামনে এগিয়ে আছে।’
সিলটে মাছ চাষের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানকার হাওড়গুলোতে মাছ চাষের অনেক সুবিধা আছে এবং এখানে যে মিনারেলস আছে সেগুলো দিয়ে এখানে অনেক বড় বড় শিল্প গড়ে উঠতে পারে।
এ সময় তিনি প্রবাসীদের বিনিয়োগ, জ্বালানি, কৃষি, শিল্প, চা শিল্প, পর্যটন, গ্যাস এসব সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগাতে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের প্রতি আহবান জানান|
পাকিস্তানের হাই কমিশনারের সঙ্গে সাম্প্রতিক সাক্ষাতের কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘তিনি কয়েকদিন আগে সিলেটে এসেছিলেন, এখান থেকে চা নিয়ে যাবেন অর্থাৎ তারা এখান থেকে চা আমদানি করবে| আমাদের এটার কোর্ডিনেট করা দরকার|’
সিলেটের প্রবাসী সমাজের অবদানের প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘সিলেটের প্রবাসী সমাজ শুধু সিলেটের অর্থনীতি নয় বাংলাদেশের অর্থনীতিতে তারা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন|’
রাষ্ট্রপতি বলেন, আগামী দিনের লড়াই হচ্ছে দেশ পুনর্গঠন, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য আবাসস্থল নির্মাণ করা|
তিনি আরও বলেন, ‘আসুন এখন অন্তত আমাদের কমন যে ইস্যুগুলো আছে সেই ইস্যুগুলোতে আমরা একমত হই| একমত হয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাই|’
বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘বাংলাদেশে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান আমরা এখানে অনেকগুলো জাতি একসাথে বাস করি এবং বাংলাদেশের সবচেয়ে সৌন্দর্য হচ্ছে যে বাংলাদেশে কমিউনাল হারমিনি আছে।’
সিলেটবাসীর পাশে থাকার আশাবাদ ব্যাক্ত করে তিনি বলেন, সিলেটের মানুষের সঙ্গে আমি সবসময় ছিলাম এবং ভবিষ্যতেও থাকবো।
এসময় রাষ্ট্রপতির সহধর্মিনী উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রবাসী কল্যাণ ও ˆবদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, জাতীয় সংসদের হুইপ জিকে গাউছ, রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
বিসিআইসির চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) ড. মাহমুদুর রহমান গত ১৪ সেপ্টেম্বর নীলফামারী, মহেন্দ্রনগর (লালমনিরহাট) ও কুড়িগ্রাম জেলায় অবস্থিত বিসিআইসির সারের গুদাম পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনকালে স্থানীয় জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি ও উপপরিচালক, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপস্থিতিতে গুদামে মজুতকৃত সার খামালভিত্তিক গণনা করে মজুতকৃত সারের সঠিকতা পায়। নভেম্বর পর্যন্ত দেশের চাহিদাকৃত ইউরিয়া সার গুদামের মজুত সার দিয়েই পূরণ করা সম্ভব।
এ ছাড়া স্থানীয় ৩টি সার কারখানায় প্রতিদিন ৫০০০ মেট্রিক টন ইউরিয়া উৎপাদন হচ্ছে এবং বিদেশ থেকে ইউরিয়া সার আমদানি চলমান রয়েছে, যা দিয়ে আগামী পিক সিজনে সারের চাহিদা পূরণ করা হবে। দেশে ইউরিয়া সারের পর্যাপ্ত মজুত থাকায় কোনো গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যে আতঙ্কিত না হওয়ার আহ্বান জানান।
পরিদর্শন শেষে বিসিআইসির চেয়ারম্যান কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, উপপরিচালক, সকল উপজেলা নির্বাহী অফিসার, কৃষি অফিসার, বিএফের নেতারা ও ডিলারদের সাথে মতবিনিময় সভায় যোগ দেন। ওই মতবিনিময় সভায় চেয়ারম্যান জানান, দেশে পর্যাপ্ত ইউরিয়া সারের মজুত রয়েছে। চাহিদানুযায়ী ডিলারদের বিসিআইসির কারখানা ও বাফার গুদাম থেকে যথাসময়ে সার সরবরাহ করা হচ্ছে। স্থানীয় পর্যায়ে কোনো স্বার্থান্বেষী মহল যেন সারের কৃত্রিম সংকট, সারের মূল্য বৃদ্ধি এবং অপপ্রচার গুজব ছড়াতে না পারে সে বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের মনিটরিং বৃদ্ধি করার আহ্বান জানান।
ডিলারদের মাধ্যমে কৃষকদের নিকট সুষ্ঠুভাবে সার সরবরাহের লক্ষ্যে প্রতিটি কারখানা ও বাফার গুদামে একজন করে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। শুক্র-শনিবারসহ সপ্তাহে সাত দিনই গুদাম থেকে সার বিতরণ কার্যক্রম চলমান রাখা হয়েছে যা বিসিআইসি থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। পরিদর্শনকালে চেয়ারম্যান, বিসিআইসির সাথে পরিচালক (পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন) মু. খায়রুজ্জামান ও ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক (বিপণন) মো. মঞ্জুর রেজা উপস্থিত ছিলেন।
শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা ও সম্ভাবনাকে বিকশিত করে দেশের সম্পদে পরিণত করতে রাষ্ট্র ও সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীতে বিমান বাহিনীর ব্লু স্কাই স্কুল ফর স্পেশাল চিলড্রেন পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, প্রতিটি শিশুর জীবন অগণিত সম্ভাবনায় ভরপুর। তাদের সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রয়োজন সুষ্ঠু ও মানসম্মত শিক্ষাব্যবস্থা, মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের সুরক্ষা এবং নিরাপদ পরিবেশে খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের সুযোগ। শিশুদের বেড়ে ওঠার জন্য সবুজ খোলামাঠ ও প্রকৃতির সঙ্গে মিশে থাকার সুযোগও গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, কন্যাশিশুদের উচ্চতর পর্যায়ে পড়াশোনা অবৈতনিক করার উদ্যোগ এবং সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতার মাধ্যমে তাদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ তৈরি হচ্ছে। ‘নতুন কুঁড়ি’র মতো সাংস্কৃতিক ও খেলাধুলাভিত্তিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে শিশুরা নিজেদের যোগ্যতা ও শ্রেষ্ঠত্ব তুলে ধরার সুযোগ পাচ্ছে।
জুবাইদা রহমান বলেন, দেশের ৬৪টি জেলা, ৫০৩টি উপজেলা, ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়ন ও ৯ হাজার ৯০টি গ্রামের কোনো শিশু-কিশোর যেন অবহেলায় ঝরে না পড়ে—এ সুযোগ আমাদের সবাইকে তৈরি করতে হবে। প্রত্যেক শিশু যেমন তার বাবা-মা ও পরিবারের কাছে প্রিয়, তেমনি সমাজ ও রাষ্ট্রের কাছেও তারা মূল্যবান সদস্য।
তিনি বলেন, শিশুদের মধ্যে আকাশচুম্বী স্বপ্ন রয়েছে। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে তাদের মনোবল শক্ত করতে হবে। অভিভাবকদের পাশাপাশি সমাজের সবাইকে শিশুদের পাশে দাঁড়াতে হবে।
বিমান বাহিনীর ব্লু স্কাই স্কুল ফর স্পেশাল চিলড্রেনের শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনার প্রশংসা করে তিনি বলেন, আজকের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিশুরা প্রমাণ করেছে, যথাযথ প্রশিক্ষণ ও সুযোগ পেলে তারা কত সুন্দরভাবে নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরতে পারে। সবাই মিলে একসঙ্গে একটি কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করার শিক্ষা শিশুদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, যা খেলাধুলার ক্ষেত্রেও প্রয়োজন।
জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস-প্রেসিডেন্ট বলেন, এ ধরনের শিক্ষা শিশুদের ভবিষ্যতে আত্মবিশ্বাসী ও শক্তিশালী হয়ে গড়ে উঠতে সহায়তা করবে। তিনি শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করে বলেন, তারা নক্ষত্রের মতো উজ্জ্বল হয়ে বাংলাদেশের মুখ আলোকিত করবে।
এ সময় তিনি বিমান বাহিনী মহিলা কল্যাণ সমিতির বিভিন্ন কার্যক্রমেরও প্রশংসা করেন। নারীর ক্ষমতায়নে সংগঠনটির ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারীরা দৃষ্টিনন্দন কারুশিল্প তৈরি করছেন। দেশের মোট জনসংখ্যার বড় একটি অংশ নারী হওয়ায় তাদের দক্ষতা ও ক্ষমতায়নের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ।
এর আগে রাজধানীর ব্লু স্কাই স্কুল ফর স্পেশাল চিলড্রেন পরিদর্শন করেন ডা. জুবাইদা রহমান। এ সময় তিনি বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সময় কাটান।
জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার সরকারি উদ্যোগের অংশ হিসেবে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজসম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে উত্তোলন বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানিকৃত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ জোরদার করা হয়েছে। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে মঙ্গলবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত মোট ২৬০ দশমিক ৬ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে পেট্রোবাংলা কর্তৃপক্ষ।
পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশনস অ্যান্ড মাইনস) প্রকৌশলী মো. শোয়েব জানান, জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের প্রাপ্যতা বাড়াতে দেশীয় উৎসের উৎপাদনের সঙ্গে এলএনজি সরবরাহের কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার সরবরাহকৃত মোট গ্যাসের বড় অংশ অর্থাৎ ১৬১ দশমিক ৫ কোটি ঘনফুট এসেছে দেশীয় বিভিন্ন গ্যাসক্ষেত্র থেকে এবং ঘাটতি পূরণে অবশিষ্ট ৯৯ দশমিক ১ কোটি ঘনফুট গ্যাস এলএনজি থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হয়েছে।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে দৈনিক গ্যাসের সামগ্রিক চাহিদা রয়েছে প্রায় ৩৫০ থেকে ৩৮০ কোটি ঘনফুট। এই চাহিদার বিপরীতে গত রবিবার জাতীয় গ্রিডে মোট সরবরাহ ছিল ২৩৩ দশমিক ১৯ কোটি ঘনফুট এবং সোমবার সরবরাহ করা হয়েছিল ২৩৪ দশমিক ৫৩ কোটি ঘনফুট। ফলে মঙ্গলবার ২৬০ দশমিক ৬ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের মাধ্যমে মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে গ্রিডে সরবরাহ বেড়েছে ২৭ দশমিক ৪১ কোটি ঘনফুট এবং আগের দিনের তুলনায় বেড়েছে ২৬ দশমিক শূন্য ৭ কোটি ঘনফুট।
পেট্রোবাংলার কর্মকর্তারা উল্লেখ করেছেন, জাতীয় গ্রিডে গ্যাসের এই ইতিবাচক সরবরাহ দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, সার কারখানা এবং বৃহৎ শিল্প খাতসহ অন্যান্য জরুরি সেবা খাতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। সার্বিক সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রগুলো থেকে উৎপাদন নিরবচ্ছিন্ন রাখার পাশাপাশি চাহিদা অনুযায়ী এলএনজি সরবরাহ অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
ক্রমবর্ধমান সাইবার অপরাধ মোকাবিলা এবং ডিজিটাল মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বাংলাদেশ পুলিশের দক্ষতা বাড়াতে একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে একটি স্বতন্ত্র ও পূর্ণাঙ্গ ‘সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট’ গঠনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর মিরপুরে পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশ (পিএসসি)-এর পরিচালনা পর্ষদের ২১তম সভায় সভাপতির বক্তব্যে এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, পুলিশ বাহিনীতে বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তি, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও বিভিন্ন প্রকৌশল বিদ্যায় পারদর্শী বিপুলসংখ্যক সদস্য কর্মরত রয়েছেন। তাঁদের বিশেষায়িত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে সাইবার সুরক্ষায় একটি সমন্বিত প্রাতিষ্ঠানিক রূপরেখা দাঁড় করানোর কাজ চলছে। বর্তমানে খণ্ডকালীন ও পৃথকভাবে পুলিশ সদর দপ্তর, সিআইডি এবং ডিএমপির সাইবার টিমের মাধ্যমে অনলাইন অপরাধের তদন্ত ও ডিজিটাল ফরেনসিক কার্যক্রম পরিচালিত হলেও সামগ্রিক চ্যালেঞ্জ সামাল দিতে একটি কেন্দ্রীয় ও স্থায়ী ইউনিটের প্রয়োজনীয়তা অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
পুলিশের তদন্ত সক্ষমতা ও পেশাগত মনোবল বাড়াতে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাস্টার ট্রেইনার পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আরও দক্ষ করতে অভ্যন্তরীণ কোর্সের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ নিশ্চিত করা হবে। সাইবার স্পেসের নিরাপত্তা সুসংহত রাখতে প্রয়োজনে বিদেশি অভিজ্ঞ প্রশিক্ষক এনে কিংবা স্থানীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় কারিগরি সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করে পুলিশ সদস্যদের বৈশ্বিক মানে গড়ে তোলা হবে।
পিএসসির পরিচালনা পর্ষদের এই সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বিপিএটিসির রেক্টর সাঈদ মাহবুব খান এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া অর্থ মন্ত্রণালয়, আইন ও বিচার বিভাগ এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিবসহ সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারা সভায় অংশগ্রহণ করেন।