আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ২ হাজার ৭১৩ জন প্রার্থী। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে নিবন্ধিত ৪৪টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩২টি দল। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন ৭৪৭ জন। সে হিসাবে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রত্যয়নপত্র নিয়ে নির্বাচনে উপস্থিত ১৯৬৬ জন প্রার্থী। আর স্বতন্ত্রদের মধ্যে অন্তত ৪০০ জন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন। তবে সাধারণ মানুষের অভিযোগ, নির্বাচনে আসা বড় দল আওয়ামী লীগের মূল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বাইরে অন্যদলগুলোর বেশির ভাগ প্রার্থীই আসনগুলোর মানুষের কাছে অচেনা। প্রায় প্রতিটি আসনেই নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন এমন অনেক অচেনা মুখ যাদের প্রার্থিতা পেতে সমস্যা না হলেও নির্বাচনী লড়াইয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে পরিচিত হতেই পার হয়ে যাবে প্রচারণার বেশির ভাগ সময়। ফলে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, নির্বাচনে প্রার্থী আছে অনেক বেশি, কিন্তু, প্রতিদ্বন্দ্বী কম।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ৩০০ আসনের বিপরীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের (নৌকা) ৩০৩ জন, জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল) ৩০৪ জন, জাকের পার্টি (গোলাপ ফুল) ২১৮ জন, তৃণমূল বিএনপি (সোনালী আঁশ) ১৫১ জন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি- এনপিপি (আম) ১৪২ জন, বাংলাদেশ কংগ্রেস (ডাব) ১১৬ জন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ (মশাল) ৯১ জন, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন (ফুলের মালা) ৪৭ জন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন (বটগাছ) ১৩ জন, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি (হাতঘড়ি) ১৮ জন, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ (চেয়ার) ৩৯ জন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (কাঁঠাল) ১৩ জন, গণফ্রন্ট (মাছ) ২৫ জন, গণফোরাম (উদীয়মান সূর্য) ৯ জন, ইসলামী ঐক্যজোট (মিনার) ৪৫ জন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট (মোমবাতি) ৩৭ জন, জাতীয় পার্টি-জেপি (বাইসাইকেল) ২০ জন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ (গামছা) ৩৪ জন, গণতন্ত্রী পার্টি (কবুতর) ১২ জন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (হাতুড়ি) ৩৩ জন, বিকল্পধারা বাংলাদেশ (কুলা) ১৪ জন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (একতারা) ৮২ জন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন-বিএনএম (নোঙর) ৪৯ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট- বিএনএফ (টেলিভিশন) ৫৫ জন, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (ছড়ি) ৭৪ জন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ- বিএমএল (হাত-পাঞ্জা) ৫ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি- ন্যাপ (কুঁড়েঘর) ৬ জন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মই) একজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (রিকশা) একজন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ (খেজুর গাছ) একজন এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (হারিকেন) দুইজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
এদিকে মনোনয়ন জমার শেষ দিনেই ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম জানিয়েছেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিলের সময়সীমা বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। ফলে বিএনপিসহ যে দলগুলো নির্বাচন বর্জন করেছে তাদের আর মত পাল্টে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসার দৃশ্যমান কোনো সুযোগ নেই। আন্দোলনরত দলগুলোও অবশ্য আগেই এ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতি দিয়েছে।
ফলে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর যাচাই-বাছাই শেষে যেসব প্রার্থী টিকে যাবেন তারাই থাকবেন নির্বাচনী দৌড়ে। তবে প্রতিটি আসনে ভোটের লড়াইয়ে যারা যাচ্ছেন তাদের বেশির ভাগেরই দলের নাম সাধারণ মানুষ জানে না। আর দল অচেনা বলে প্রার্থীরাও অচেনা। ফলে তাদের ধারণা নির্বাচনী লড়াইয়ে আসলে টিকে থাকবেন বড় দলের পরিচিত মুখগুলো। এর মধ্যে শাসক দলের মার্কা নিয়ে লড়াই করা প্রার্থীরা যেমন আলোচনায় থাকবেন, তেমনই অনেক আসনেই তাদের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমাতে পারেন নির্বাচনে আসা আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। কেননা, দলটির স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বেশির ভাগই স্থানীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত এবং তাদের মোটামুটি ভোট ব্যাংক অথবা এলাকাবাসীকে প্রভাবিত করার সক্ষমতা রয়েছে। নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া ৭৪৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে অন্তত ৪০০ জনই আওয়ামী লীগের।
যদিও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গত কয়েক দিনের মতো গতকালও বলেছেন, দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ঢালাওভাবে নির্বাচন করতে পারবেন না। এ ছাড়া ১৪-দলীয় জোটের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির সম্ভাবনা রয়েছে আওয়ামী লীগের। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন, নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আসতে পারবেন জোটের এমন প্রার্থীরাই কেবল থাকবেন বিবেচনায়। আর ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করে তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
এর ফলে এটা স্পষ্ট যে, জোটের সঙ্গে সমঝোতা হলে কয়েকটি আসনে আওয়ামী লীগ যাদের মনোনয়ন দিয়েছে তাদেরও রণে ভঙ্গ দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে হবে।
তবে আওয়ামী লীগ সভাপতি নির্বাচনী কৌশল হিসেবে এবার দলীয় মার্কার বাইরে দলীয় প্রার্থীদের স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড়ানোর সুযোগ দেয়ায় নির্বাচনে আসা প্রার্থীদের কতজন আবার দল চাইলে নির্দেশ মেনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন সেটাও আছে দেখার বিষয়।
তবে এই আলোচনার বাইরে থেকে যাচ্ছে বেশির ভাগ প্রার্থী যারা বিভিন্ন দল থেকে নির্বাচনে এলেও জনগণের কাছে নিজের দল, দলীয় প্রতীক এবং নিজের পরিচয় প্রকাশ করার সুযোগ পাবেন। তবে প্রতিটি আসনে স্থানীয় ভোটারদের কাছে তারা এখনো অচেনা এবং নতুন মুখ হিসেবে বিবেচিত।
যেমন দল হিসেবে এবারই প্রথম নির্বাচন করছে তৃণমূল বিএনপি, বিএনএম, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি। এসব দলের বেশির ভাগ প্রার্থী নিজ নিজ এলাকার ভোটারদের কাছে নতুন পরিচয়ে উপস্থিত হবেন। অনেকে আবার খুব বেশি পরিচিত নন। একইভাবে তাদের নির্বাচনী প্রতীক যথাক্রমে সোনালী আঁশ, নোঙর ও একতারা চেনাতেও এবার তাদের বিশেষ প্রস্তুতি নিতে হবে।
তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনএমের প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য আছেন ৬ জন এবং তৃণমূলের প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য আছেন ৫ জন।
এদিকে, গতকাল আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর কাদের বলেছেন, বিএনপির ১৫ কেন্দ্রীয় নেতাসহ সাবেক ৩০ জন সংসদ সদস্য নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এদের মধ্যে কাদের সিদ্দিকী, লতিফ সিদ্দিকী, আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর মতো নেতাও আছেন। আবার আগে বিএনপিতে প্রভাব ছিল দলটির এমন সাবেক নেতারাও আছেন নির্বাচনে। এদের মধ্যে তৈমূর আলম, সমশের মবিন চৌধুরীর নাম উল্লেখযোগ্য।
তবে এদের বাইরে নির্বাচনের মাঠে থাকা বেশির ভাগ প্রার্থীই অচেনা। এ বিষয়ে গাজীপুর-৪ আসনের একজন প্রার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমার দল এলাকায় তেমন পরিচিত নয়। দলের প্রচার চালাতে ও এলাকার মানুষের কাছে নিজের পরিচয় তুলে ধরতে এবার ভোট করতে আসা। আমিও জানি নির্বাচনে জয়লাভ করার অবস্থান এখনো আমার বা আমার দলের তৈরি হয়নি। তবে এক দিনে তো কিছুই হয় না। আমাদের দলের আদর্শ ও কর্মসূচি দেশের মানুষ ও এলাকার মানুষকে জানাতে আমরা নির্বাচনে এসেছি।’
অন্যদিকে লালমনিরহাট-৩ আসনে মনোনয়ন জমা দেয়া প্রার্থীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই সদর আসনে ৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সদ্য পদত্যাগকারী সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জাবেদ হোসেন বক্কর, জাতীয় পার্টি থেকে জাহিদ হাসান, তৃণমূল বিএনপি থেকে শামীম আহম্মেদ চৌধুরী, জাকের পার্টি থেকে সকিউজ্জামান মিয়া, বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল থেকে আশরাফুল আলম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) থেকে আবু তৈয়ব মো. আজমুল হক পাটোয়ারী, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) থেকে শ্রী হরিশ চন্দ্র রায় মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তবে এবার তিনি এ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেননি। ফলে এ আসনে নির্বাচনে অংশ নেয়া সব প্রার্থীই নতুন এবং নতুন একজন সংসদ সদস্য পাবে লালমনিরহাট সদরবাসী। তবে নতুন হলেও জেলা ও শহরের রাজনীতিতে পুরনো মুখ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান। ছাত্ররাজনীতি করায় জাবেদ হোসেন বক্করও সেখানে পরিচিত মুখ। জাকের পার্টি ও জাসদের প্রার্থীকেও অনেকে চেনেন। তবে সাম্যবাদী দল, এনপিপির প্রার্থীর মতো জাতীয় পার্টির প্রার্থীও এলাকার সবার চেনা মুখ নন। ফলে যে আসন থেকে জাতীয় পার্টি বর্তমান সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছে সেখানে নতুন মুখ দেয়ায় মাঠের রাজনীতিতে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন এলাকার অনেক বাসিন্দা।
বিষয়টা আরও স্পষ্ট হয় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনার ৬টি আসন বিশ্লেষণ করলে। দৈনিক বাংলার খুলনা ব্যুরো জানায়, খুলনার এই ৬টি আসনের জন্য সেখানে ৫৩ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে যারা সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচন করবেন, তাদের অধিকাংশেরই রাজনীতিতে তেমন কোনো পরিচিতি নেই। হঠাৎ করেই তারা কেন সংসদ নির্বাচনে আগ্রহী হলেন, এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে উত্তরও দেননি অধিকাংশ প্রার্থী।
খুলনা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের মনোনীত ৬ জন প্রার্থী, আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র ২ জন এবং জাতীয় পার্টির একজন প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচিতি রয়েছে। বাকি ৪৪ জন প্রার্থী কখনো রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয় ছিলেন না।
খুলনা প্রতিনিধির বিশ্লেষণ অনুযায়ী খুলনা-১ আসনের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ৬ জন। তারা হলেন, জাকের পার্টির মো. আজিজুর রহমান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ননী গোপাল মণ্ডল, জাতীয় পার্টির কাজী হাসানুর রশিদ, তৃণমূল বিএনপির গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রশান্ত কুমার রায় ও আবেদ আলী শেখ।
এদের মধ্যে ননী গোপাল মণ্ডল ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। রাজনীতিতে তার পরিচিতি রয়েছে। তবে বাকি চারজন রাজনীতিতে একেবারেই অপরিচিত। তারা প্রত্যেকেই এবার প্রথম সংসদ নির্বাচন করছেন। এদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রশান্ত কুমার রায় পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সাবেক সচিব।
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আমি নির্বাচন করছি। আমাকে ডামি প্রার্থীও বলা যাবে। এটা দলীয় নির্দেশেই হচ্ছে।’
আওয়ামী লীগের ননী গোপাল মণ্ডল বলেন, ‘দল আমাকে আবারও সুযোগ দিয়েছে। আমি দলের সম্মান রাখব বলে আশাবাদী।’
তবে বাকি চার প্রার্থীর তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই। জাতীয় পার্টীর কাজী হাসানুর রশিদ ও তৃণমূল বিএনপির গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিকের কাছে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেও কোনো উত্তর মেলেনি।
আর জাকের পার্টি মো. আজিজুর রহমান বলেন, ‘দল থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে বলেছে, তাই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি।’
অন্যদিকে খুলনা-২ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৯ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল, গণতন্ত্র পার্টির মো. মতিয়ার রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের দেবদাস সরকার, জাকের পার্টির ফরিদা পারভিন, ইসলামী ঐক্যজোটের হিদায়েতুল্লাহ, জাতীয় পার্টির মো. গাউসুল আজম, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের বাবু কুমার রায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সাঈদুর রহমান।
এদের মধ্যে শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থীর রাজনৈতিকভাবে পরিচিতি রয়েছে। তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। তবে বাকিদের আগে কখনো রাজনৈতিক মাঠে দেখা যায়নি।
কেন প্রার্থী হয়েছেন- এমন প্রশ্নে বাংলাদেশ কংগ্রেসের দেবদাস সরকার বলেন, ‘অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে মনোনয়ন জমা দেয়া হচ্ছে, তাই আমরাও দিচ্ছি।’
খুলনা-৩ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৫ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের এস এম কামাল হোসেন, জাকের পার্টির এস এম সাব্বির হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, স্বতন্ত্র প্রার্থী কাইজার আহমেদ ও ফাতেমা জামান সাথী।
এদের মধ্যেও শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচিতি রয়েছে। তিনি দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। তিন বারের সংসদ সদস্য ও দুই বারের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানকে সরিয়ে তাকেই আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিয়েছে। তবে ওই আসনেরও বাকি চারজনের তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই।
খুলনা-৪ আসন থেকে মনোনয়ন নিয়েছেন ১৪ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের আব্দুস সালাম মূর্শেদী, জাকের পার্টির শেখ আনছার আলী, জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এস এম আজমল হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. ফরহাদ আহমেদ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. মোস্তাফিজুর রহমান, তৃণমূল বিএনপির শেখ হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মনিরা সুলতানা, ইসলামী ঐক্যজোটের রিয়াজ উদ্দীন খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জুয়েল রানা, এম ডি এহসানুল হক, মো. রেজভী আলম, এস এম মোর্ত্তজা রশিদী দারা, আতিকুর রহমান ও এইচ এম রওশান জমির।
এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের আব্দুস সালাম মূর্শেদী বর্তমান সংসদ সদস্য। ২০১৮ সালের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে তিনি জয়ী হয়েছিলেন।
এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম মোর্ত্তজা রশিদী দারার দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস রয়েছে। তিনি ওই আসনের তিন বারের সাবেক সংসদ সদস্য এস এম মোস্তফা রশিদী সুজার আপন ভাই।
তিনি বলেন, এলাকার মানুষের দোয়া নিয়ে মাঠে নেমেছি। জয়-পরাজয় এলাকার মানুষই নির্ধারণ করবেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই আসনে আওয়ামী লীগের এই দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এলাকার ভোটাররা বলছেন, বাকি ১২ জন প্রার্থীদের নাম খুব একটা শোনেননি তারা। কেউ কেউ একেবারেই অপরিচিত।
খুলনা-৫ আসনের জন্য মনোনয় জমা দিয়েছেন ৭ জন। তারা হলেন- জাতীয় পার্টির মো. শহীদ আলম, জাকের পার্টির সামাদ সেখ, আওয়ামী লীগের নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, ওয়ার্কার্স পার্টির শেখ সেলিম আকতার, বাংলাদেশ কংগ্রেসের এস এম এ জলিল, ইসলামী ঐক্যজোটের তরিকুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ আকরাম হোসেন।
এদের মধ্যে নারায়ণ চন্দ্র চন্দ একাধিক বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী। এ ছাড়া আকরাম হোসেন ফুলতলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। এই আসনেও আওয়ামী লীগের এই দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ভোটাররা। বাকি যারা প্রার্থী হয়েছেন এলাকার রাজনীতিতে তাদের তেমন কোনো পরিচিতি নেই বলে জানা গেছে।
খুলনা-৬ আসনের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ১২ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের মো. রশীদুজ্জামান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. আবু সুফিয়ান, জাকের পার্টির শেখ মর্তুজা আল মামুন, জাতীয় পার্টির মো. শফিকুল ইসলাম মধু, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মির্জা গোলাম আজম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এস এম নেওয়াজ মোরশেদ, তৃণমূল বিএনপির গাজী নাদীর উদ্দীন খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম রাজু, গাজী মোস্তফা কামাল, জি এম মাহবুবুল আলম, মো. মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর ও মো. অহিদুজ্জামান মোড়ল।
এদের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত মো. রশীদুজ্জামানের কোনো দলীয় পদ নেই। তিনি একসময় পাইকগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্যসচিব ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে জামানত হারিয়েছিলেন। তবে তাকেই মনোনয়ন দিয়ে চমক সৃষ্টি করেছে ক্ষমতাসীন দল। ওই আসনে রাজনৈতিকভাবে পরিচিত রয়েছে জাতীয় পার্টির মো. শফিকুল ইসলাম মধুর। তিনি আগেও খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। বাকি প্রার্থীদের তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই। এলাকার সবার কাছে পরিচিত মুখও নন অনেকে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশির ভাগ আসনেই ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীদের স্থানীয়রা তেমন একটা চেনেন না। তবে বিরোধীদের এক অংশ নির্বাচন বর্জন করায় রাজনীতির নতুন সমীকরণ মেলাতে ছোট দলগুলোই নির্বাচনে হতে যাচ্ছে বড় দলগুলোর সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনীযুদ্ধ পার হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী।
জাসদের মাঠপর্যায়ের এক রাজনীতিবিদ জসিম মণ্ডল বলেন, ‘নির্বাচন একটা বড় খেলা। এখানে সবাই নামে নিজ নিজ সমীকরণ মেলানোর জন্য। রাজনৈতিক দলগুলোর সমীকরণ হয় এক ধরনের, আবার প্রার্থীর সমীকরণ হয় আরেক ধরনের। সবাই নির্বাচনে জয়ী হতে যেমন অংশ নেয় না তেমনই কেউ কেউ নির্বাচনে যায় অন্যের যাত্রা ভঙ্গ করতে। আবার অনেকের কাছে ‘নির্বাচনে অংশগ্রহণই বড় কথা।’ জয়-পরাজয়ের চেয়েও বড় বিষয় এ সময় পোস্টারিং করে নিজের ছবি ও পরিচিতি পুরো এলাকার মানুষকে দেখানো যায়। এটাও বা কম কিসে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দেশের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষেরই আছে নির্বাচনে দাঁড়ানোর অধিকার। তাই কটা টাকা খরচ করে অনেকেই পরিচিতি বাড়ানোর সুযোগ নেয়। এর ফল তো অসীম-সারাজীবন নানাভাবে এর সুফল মেলে। যারা রাজনীতিতে আছেন, কেবল তারাই বোঝেন নির্বাচনে অংশ নিতে পারার গুরুত্ব।
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ঢাকার বিভাগীয় কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) শরফ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী। তাকে সচিব পদে পদোন্নতির পর এ নিয়োগ দিয়ে বুধবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। গত ৯ জুন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খানকে শিল্প মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়।
অন্যদিকে জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির (এনএপিডি) নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরের (পরিবহন পুল) পরিবহন কমিশনার (অতিরিক্ত সচিব) মো. খায়রুল কবীর মেনন। তাকেও সচিব পদে পদোন্নতির পর এ পদে পদায়ন করা হয়েছে।
অন্যদিকে এনএপিডির মহাপরিচালক (সচিব) মুহাম্মদ রফিকুল ইসলামকে অবসরে যাওয়ার সুবিধার্থে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছে।
পবিত্র হজ পালন শেষে সৌদি আরব থেকে এখন পর্যন্ত দেশে ফিরেছেন ৫৭ হাজার ৬৯৯ বাংলাদেশি হাজি। এদিকে হজ পালনে সৌদিতে গিয়ে হজ সম্পন্ন হওয়ার আগে এবং পরে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন ৫২ জন বাংলাদেশি। তাদের মধ্যে ৩৫ জন পুরুষ এবং ১৭ জন নারী। বুধবার (১৭ জুন) হজ পোর্টাল থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ ব্যবস্থাপনাসংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্যে জানা গেছে, হজযাত্রীদের দেশে ফিরিয়ে আনতে এখন পর্যন্ত মোট ১৪২ ফ্লাইট পরিচালিত হয়েছে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ৭০টি ফ্লাইটে দেশে ফিরেন ২৪ হাজার ৫৭২ জন। সৌদি এয়ারলাইনসের ৫১টি ফ্লাইটে ২০ হাজার ৩১ জন ও ফ্লাইনাস এয়ারলাইনসের ২১টি ফ্লাইটে ৮ হাজার ৩৮০ হজযাত্রী দেশে ফিরেছেন। অন্যান্য এয়ারলাইনসের মাধ্যমে ফিরেছেন ৪ হাজার ৭১৬ জন হাজি।
স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সৌদি আরবে বাংলাদেশি চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো থেকে এখন পর্যন্ত ৬৫ হাজার ৪১০টি স্বয়ংক্রিয় চিকিৎসা ব্যবস্থাপত্র প্রদান করা হয়েছে। পাশাপাশি আইটি হেল্পডেস্কের মাধ্যমে ২৮ হাজার ১১৩টি সেবা দেওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সই হওয়া অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি) চুক্তি বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, জ্বালানিনিরাপত্তা জোরদার এবং বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদে গাজীপুর-৫ আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম ফজলুল হক মিলনের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এ কথা জানিয়েছেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বৈঠকের শুরুতে প্রশ্নোত্তর টেবিলে বিষয়টি উপস্থাপন করা হয়।
রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্প্রতি অ্যাগ্রিমেন্ট অন রিসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি) স্বাক্ষরিত হয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে মার্কিন তুলা ব্যবহার করে উৎপাদিত তৈরি পোশাকের ক্ষেত্রে শূন্য শুল্কসুবিধা নিশ্চিত হয়েছে। চুক্তিটি বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, জ্বালানিনিরাপত্তা জোরদার এবং বৈশ্বিক সরবরাহব্যবস্থায় বাংলাদেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ আকর্ষণ ও কর্মসংস্থানমুখী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জন বর্তমান সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সঙ্গে আরও ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত করা এবং বৈদেশিক বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থনীতির গতিশীলতা বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে সরকার অর্থনৈতিক কূটনীতিকে বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করছে। এ লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা), বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাজার সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ইউরোপ ও আমেরিকার মতো প্রচলিত বাজারের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা, মধ্য এশিয়া ও পূর্ব ইউরোপের উদীয়মান বাজারগুলোতে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক উপস্থিতি জোরদার করা হয়েছে।’
খলিলুর রহমান আরও বলেন, ‘সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে কৃষিপণ্য ও অপ্রচলিত রপ্তানি খাতেও নতুন সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে। সম্প্রতি ভিয়েতনামের বাজারে বাংলাদেশের আলু রপ্তানির সুযোগ উন্মুক্ত হয়েছে এবং মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের আম রপ্তানির বিষয়ে কার্যক্রম চলমান।’
চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, ‘জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া বল প্রয়োগে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সংখ্যা বর্তমানে ১১ লাখ ৮৯ হাজার ২১৩ জন।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের জন্য নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দ্বিপক্ষীয় ফ্রন্টে রাখাইন রাজ্যের পরিবর্তিত পরিস্থিতির বাস্তবতায় আলোচনার পরিধি বাড়িয়ে সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলমান। উল্লেখ্য, বর্তমান সরকার শপথ গ্রহণের পর মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আরাকান আর্মির প্রধান উভয়েই প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান, যা ইতোপূর্বে ঘটেনি।’
ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিনের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক উপস্থিতি, অর্থনৈতিক কূটনীতি ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কূটনৈতিক মিশন পরিচালনা করে আসছে। বর্তমান সরকারের পররাষ্ট্রনীতি এবং ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির আলোকে বিদেশে বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবকাঠামোকে আরও শক্তিশালী, কার্যকর ও ব্যয়-সাশ্রয়ী করার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমানে বিশ্বের ১৭টি দেশের ২০টি মিশনে বাংলাদেশের নিজস্ব মালিকানাধীন ভবনে চ্যান্সারি কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। আরও ৪টি প্রকল্প চলমান। বিদেশস্থ বাকি মিশনগুলো ভাড়ায় পরিচালিত হচ্ছে। মিশনগুলোর ভাড়া বাবদ সরকারকে বার্ষিক প্রায় ১০০ কোটি টাকা টাকা ব্যয় করতে হয়।’
খলিলুর রহমান আরও উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার বিদেশে বাংলাদেশের নিজস্ব কূটনৈতিক স্থাপনা প্রতিষ্ঠাকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচনা করে। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন দেশে চ্যান্সারি ভবন নির্মাণ এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কূটনৈতিক কমপ্লেক্স স্থাপনের কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ফলে একদিকে যেমন দীর্ঘ মেয়াদে সরকারি ব্যয় হ্রাস পাবে, অন্যদিকে বাংলাদেশের মর্যাদা ও কূটনৈতিক কার্যকারিতা বৃদ্ধি পাবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের লাইব্রেরি কমিটির চতুর্থ বৈঠক কমিটির সভাপতি ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপির সভাপতিত্বে বুধবার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে কমিটির সদস্য হুইপ এ.বি.এম. আশরাফ উদ্দিন (নিজান), নায়াব ইউসুফ আহমেদ, মীর আহমাদ বিনকাসেম, সাঈদ আল নোমান, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, হুমাম কাদের চৌধুরী এবং আখতার হোসেন অংশগ্রহণ করেন।
বৈঠকের শুরুতে সভাপতি উপস্থিত সকলকে স্বাগত জানিয়ে কার্যক্রম শুরু করেন। এরপর বিগত বৈঠকের গৃহীত সিদ্ধান্তসমূহের বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে সাব-কমিটি ১-এর প্রতিবেদন উপস্থাপন এবং এর ওপর বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের আওতাধীন Strengthening Institutions, Policies and Services (SIPS) প্রকল্পের অধীনে ইউএনডিপি (UNDP)-এর সহযোগিতায় সংসদ গ্রন্থাগারকে ই-পার্লামেন্টের আওতাভুক্ত ও যুগোপযোগী করার লক্ষ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা হয়। এ লক্ষ্যে লাইব্রেরি কমিটির সদস্য সাঈদ আল নোমান, মীর আহমাদ বিন কাসেম এবং হুমাম কাদের চৌধুরীসহ ইউএনডিপির প্রতিনিধিদের সঙ্গে সভার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কমিটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
বৈঠকে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয় গ্রন্থাগার বিধির আলোকে আগ্রহী গবেষকদের গ্রন্থাগার ব্যবহারের ক্ষেত্রে সশরীরে অথবা অনলাইনভিত্তিক আবেদনপত্র জমা দেওয়ার ব্যবস্থা চালু, পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে আবেদন নিষ্পত্তি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে অবহিতকরণ এবং অধিবেশন চলাকালীন সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত গবেষকদের গ্রন্থাগার ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার জন্য কমিটি সুপারিশ করে।
বৈঠকে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গবেষণা কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে কমিটির সদস্য সাঈদ আল নোমানকে সভাপতি করে একটি গবেষণা কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
এ ছাড়া বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গ্রন্থাগারে দুইজন আইটি কর্মকর্তা ও দুইজন পরিচ্ছন্নতাকর্মী পদায়ন এবং জাতীয় সংসদ গ্রন্থাগারের প্রবেশ পথে ডিজিটাল নামফলক সংযোজনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কমিটি কর্তৃক সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, দেশে একটি স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের লক্ষ্যে ‘ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান’ (জাতীয় কর্মপরিকল্পনা) তৈরি করা হচ্ছে। বুধবার মন্ত্রণালয়ে তথ্যমন্ত্রীর অফিস কক্ষে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে, রাষ্ট্রদূতকে তিনি এ বিষয়ে জানিয়েছেন। সাক্ষাৎকালে তারা বাংলাদেশের গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও বাক স্বাধীনতার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।
বৈঠকে স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনে বর্তমান সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার।
এ বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা প্রদানের আগ্রহ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যমে স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। বাংলাদেশ তা কাজে লাগাতে পারে।
রাষ্ট্রদূতের মন্তব্যের জবাবে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর। তবে স্বাধীনতার পাশাপাশি জনগণকে ভুল তথ্য ও অপতথ্য থেকে সুরক্ষা দেওয়াও সরকারের অন্যতম দায়িত্ব।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই দুই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই সরকার একটি স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনে কাজ করছে।’
তথ্যমন্ত্রী জানান, গণমাধ্যম খাতে সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে একটি ‘ড্রাফট কমিটি’ গঠন করা হবে। এই কমিটি একটি ‘ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যান’ তৈরি করে সরকারের কাছে উপস্থাপন করবে। পরবর্তীতে এই ন্যাশনাল অ্যাকশন প্ল্যানের ওপর ভিত্তি করেই স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠন করা হবে।
ঢাকা মহানগরীতে কিশোর গ্যাংয়ের অপতৎপরতা পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) নিয়মিত বিশেষ অভিযান চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে জামালপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য সুলতান মাহমুদ বাবুর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা নিজেদের গ্যাং বা দলের নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেসব ফেসবুক পেজ, গোপন গ্রুপ এবং টিকটক আইডি বা অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করছে, সেগুলোকে ডিএমপির সাইবার ইউনিট অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে রাজধানীর মিরপুর বিভাগ ও মোহাম্মদপুর থানা এলাকায় নিয়মিত সাঁড়াশি অভিযান চলছে উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, র্যাব-২ মোহাম্মদপুর এলাকায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত ১১৯টি ছিনতাইবিরোধী সফল অভিযান পরিচালনা করেছে এবং এসব অভিযান থেকে ২৫২ জন ছিনতাইকারী ও অপরাধীকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনেছে।
পরবর্তীতে ঢাকা-১৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল বাতেনের অপর এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, দেশের সর্বত্র মাদক নিয়ন্ত্রণ এবং কিশোর গ্যাং, চুরি, ছিনতাই ও রাহাজানি থেকে সাধারণ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
তিনি আরও জানান, এর অংশ হিসেবে বিট পুলিশিং, কমিউনিটি পুলিশিং এবং পাড়া-মহল্লায় উঠান বৈঠকের আয়োজন করে সর্বস্তরের মানুষের মাঝে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি তরুণ সমাজকে অপরাধ থেকে দূরে রাখতে সচেতনতামূলক নিয়মিত কাউন্সেলিং, বিশেষ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা অভিযান এবং নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান জোরদারভাবে পরিচালনা করা হচ্ছে।
দেশে হামের প্রাদুর্ভাব রোধে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় টিকা সংগ্রহ পদ্ধতিতে কোনো পরিবর্তনের কারণে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে কি না, তা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এই সার্বিক প্রক্রিয়ায় কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি এবং দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (১৭ জুন) বিকেলে জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে জামালপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, হামের প্রাদুর্ভাবের মূল কারণ, এর বিস্তার এবং টিকাদান কার্যক্রমের ওপর বিভিন্ন নীতিগত ও পরিচালনাগত বিষয়ের প্রভাব নিয়মিতভাবে পর্যালোচনা ও মূল্যায়ন করা হয়। টিকা সংগ্রহ পদ্ধতিতে কোনো ধরনের পরিবর্তনের ফলে টিকাদান কার্যক্রমে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে কি না, তা প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত ও নিখুঁত কারিগরি মূল্যায়নের ভিত্তিতে নিবিড়ভাবে খতিয়ে দেখা হবে।
তিনি আরও বলেন, এই তদন্ত প্রক্রিয়ায় কারও বিন্দুমাত্র অবহেলা প্রমাণিত হলে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী কঠোর ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তারেক রহমান আরও জানান, ইপিআই কর্মসূচির আওতায় টিকা সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিতরণ কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মানদণ্ড এবং প্রচলিত সরকারি বিধি-বিধান কঠোরভাবে অনুসরণ করেই পরিচালিত হয়ে থাকে এবং বর্তমান সরকার হামের প্রাদুর্ভাব রোধকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সরকার ইতোমধ্যে বেশ কিছু বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নিয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, টিকা সরবরাহ ব্যবস্থার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করা এবং মাঠ পর্যায়ে মজুত ব্যবস্থাপনা আরও জোরদার করা হচ্ছে।
এর পাশাপাশি সারা দেশে রোগ নজরদারি কার্যক্রম সম্প্রসারণ, দ্রুত প্রাদুর্ভাব শনাক্তকরণ ও প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, গণমাধ্যমে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে।
দেশে হামের টিকাদানের আওতা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে দ্রুত সুরক্ষার আওতায় আনতে বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম দেশব্যাপী জোরদারে অব্যাহত রয়েছে বলেও সংসদে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক নিরীহ বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক এবং এটি মানবাধিকারের একটি সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।
বুধবার (১৭ জুন) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদের বৈঠকে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে অনুষ্ঠিত বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলনগুলোতে এই বিষয়টি সবসময় অত্যন্ত জোরালোভাবে উত্থাপন করা হয়েছে। সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি আর্থিক সহায়তার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রাতিষ্ঠানিক চুক্তি সম্পাদিত না হলেও, দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সব সময় সীমান্তে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের তীব্র বিরোধিতা করা হয়েছে এবং এর ক্ষতিপূরণ ও জবাবদিহির বিষয়টি নিয়ে পরোক্ষভাবে চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। পাশাপাশি সীমান্তে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার কার্যকর ব্যবস্থা চালু রয়েছে।
সংসদে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আব্দুল মালিকের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এক তথ্য উল্লেখ করে বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত বিএসএফের পুশ ইন করা ২ হাজার ৩৬৯ জনের মধ্যে ২ হাজার ১৭৫ জনকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে, ১১ জনকে বিএসএফের কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছে এবং ১৮৩ জনকে পুশব্যাক করা হয়েছে।
তিনি জানান, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের পর বিএসএফের ৩৬টি পুশ ইন চেষ্টাকে বিজিবি সফলভাবে প্রতিরোধ করেছে। এছাড়া সীমান্তে পুশ ইন ও চোরাকারবার ঠেকাতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে 'বর্ডার কমিউনিটি ওয়াচ গ্রুপ' গঠন করা হয়েছে।
পাবনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের প্রশ্নে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, মিয়ানমার সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সব ধরনের আন্তসীমান্ত অপরাধ দমনে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং ভারত সীমান্তের স্পর্শকাতর স্থানগুলোতেও কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পরিকল্পনা বিবেচনাধীন রয়েছে।
অন্যদিকে সংরক্ষিত আসনের নিপুন রায় চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, গত এক বছরে (জুন ২০২৫ থেকে মে ২০২৬) সীমান্ত এলাকায় বিজিবির ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৫১৯টি অভিযানে প্রায় ১ হাজার ৯৭৯ কোটি ৫৩ লাখ টাকা মূল্যের চোরাচালানি মালপত্রসহ বিপুল পরিমাণ ইয়াবা, ফেনসিডিল, ক্রিস্টাল মেথ, কোকেন ও মাদক জব্দ করা হয়েছে এবং ২ হাজার ১৮৯ জন আসামিকে আটক করা হয়েছে।
দেশের অভ্যন্তরে মাদকের বিস্তার রোধে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইস বা ক্রিস্টাল মেথ আসক্ত রোগীর সংখ্যা বৃদ্ধিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে শক্তিশালী করার কথা বলেন।
কিশোরগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবালের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত মাদক নির্মূলে দেশব্যাপী ৩০ হাজার ৭৪৪টি অভিযানে ৯ হাজার ৬৮৫ জন মাদক চোরাকারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এছাড়া বর্তমান সরকারের বিশেষ নির্দেশনায় ১ মে থেকে দেশব্যাপী চলমান মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে ৮ জুন পর্যন্ত ১০ হাজার ৮৬৫ জনকে গ্রেপ্তার এবং ১২৫টি অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে।
রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা ও কারাগারের পরিস্থিতি নিয়ে জামালপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এ ই সুলতান মাহমুদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় কিশোর গ্যাং-এর কার্যক্রম নিষ্ক্রিয় করতে ডিএমপির সাইবার ইউনিট তাদের ফেসবুক পেজ, গোপন গ্রুপ ও টিকটক আইডি সার্বক্ষণিক মনিটরিং করছে। পাশাপাশি মোহাম্মদপুর এলাকায় ২৫২ জন ছিনতাইকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের কারাগারগুলোর ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত বন্দি থাকার তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, দেশের ৭৫টি কারাগারে ৪৫ হাজার১৩৬ জন ধারণক্ষমতার বিপরীতে বর্তমানে ৭৭ হাজার ৪০ জন বন্দি আটক আছেন, যা ধারণক্ষমতার ১ দশমিক ৭ গুণ।
তবে সংরক্ষিত আসনের সেলিনা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে তিনি একটি ইতিবাচক তথ্য দিয়ে জানান, কারাবন্দীদের উৎপাদিত বিভিন্ন সামগ্রীর বিক্রয়লব্ধ লাভের ৫০ শতাংশ এখন বন্দীদেরই প্রদান করা হয়।
সর্বশেষ সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য আরিফা সুলতানার প্রশ্নের জবাবে অনলাইন জুয়া প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অনলাইন জুয়া ও বেটিং সাইটের বিস্তার রোধে পুলিশ, বিটিআরসি এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
তিনি আরও জানান, যুবসমাজকে এর ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে সরকার 'বঙ্গীয় প্রকাশ্য জুয়া আইন, ১৮৬৭' রহিত করে অত্যন্ত কঠোর ও যুগোপযোগী 'জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬' নামে নতুন একটি আইন প্রণয়নের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
উন্নত কর্মসংস্থান ও ভালো বেতনের প্রলোভনে পড়ে কম্বোডিয়ায় গিয়ে সাইবার প্রতারণা বা ‘স্ক্যাম’ চক্রের হাতে বন্দি হওয়া আরও ৭৮ জন বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফিরেছেন। মঙ্গলবার (১৭ জুন) রাতে থাই এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে তারা হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। এ নিয়ে গত চার দিনে কম্বোডিয়ার বিভিন্ন বন্দিশালা থেকে উদ্ধার হয়ে সর্বমোট ২২১ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরলেন। ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ফেরত আসা এই ব্যক্তিদের জরুরি সহায়তা ও বাড়ি ফেরার যাতায়াত খরচ প্রদান করছে।
ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান জানান, আন্তর্জাতিক মানবপাচার চক্রের এটি এক ভয়াবহ নতুন রূপ। বিদেশে আকর্ষণীয় চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে মূলত আইটি বা কল সেন্টারের কাজের কথা বলে লোকজনকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের পাসপোর্ট কেড়ে নিয়ে ‘সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ড’ নামক বিশেষ সুরক্ষিত এলাকায় বন্দি করা হয়। সেখানে তাদের মাধ্যমে জিম্মি করে বিভিন্ন অনলাইন প্রতারণা করানো হয় এবং টার্গেট পূরণে ব্যর্থ হলে চালানো হয় অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন। সম্প্রতি কম্বোডিয়ার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানে এসব বাংলাদেশিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
ফেরত আসা ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দালালরা তাদের কাছ থেকে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে ভিজিট ভিসায় কম্বোডিয়ায় পাঠাত। সেখানে পৌঁছানোর পর তাদের চীনা নাগরিকদের পরিচালিত স্ক্যাম সেন্টারে বিক্রি করে দেওয়া হতো। কাজ করতে অস্বীকার করলে টর্চার সেলে নিয়ে বৈদ্যুতিক শক দেওয়ার মতো নিষ্ঠুর নির্যাতন চালানো হতো। অনেক ভুক্তভোগী ইতিমধ্যে এই পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন।
জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর তথ্যমতে, গত দেড় বছরে প্রায় ১৬ হাজার বাংলাদেশি কর্মী কম্বোডিয়ায় গেছেন। তবে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিদের সংখ্যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে, আরও বিপুল সংখ্যক মানুষ সেখানে বিপদে থাকতে পারেন। ব্র্যাকের পক্ষ থেকে থাইল্যান্ড, মিয়ানমার, লাওস, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ায় অনলাইন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে লোভনীয় চাকরির প্রস্তাব পাওয়ার ক্ষেত্রে সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। সরকারি সংস্থাগুলো এই পাচার চক্রের দেশি-বিদেশি হোতাদের আইনের আওতায় আনার জন্য কাজ করছে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি সঞ্চার করতে প্রথমবারের মতো ‘মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল’ বা ‘ফ্রি ট্রেড জোন’ গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বুধবার (১৭ জুন) সকালে সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় ও অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনি সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
ড. নাসিমুল গনি জানান, প্রস্তাবিত এই অঞ্চলে প্রচলিত কাস্টমসের কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর থাকবে না এবং ব্যবসায়ীরা সম্পূর্ণ শুল্কমুক্ত সুবিধা ভোগ করবেন। মূলত মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর এবং চট্টগ্রাম বন্দরের নিকটবর্তী ৬০০ একর জমিতে এই বিশেষ বাণিজ্যিক অঞ্চলটি স্থাপন করা হবে। এছাড়া চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ‘চিনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চল’ (সিইআইজেড) প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে স্পেশাল পারপাস কোম্পানির সাথে ভূমি ইজারা ও উন্নয়ন চুক্তির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তজনা এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার কারণে এলএনজি ও জ্বালানি তেল আমদানিতে যে ব্যাঘাত ঘটছে, তা নিয়ে সভায় আলোচনা হয়। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, প্রচলিত জ্বালানি আমদানি ব্যবস্থা পর্যালোচনার সময় এসেছে এবং বর্তমান সংকট মেটাতে সরকার স্পট মার্কেট থেকে তেল ও গ্যাস সংগ্রহ করছে। তবে জ্বালানি পরিস্থিতি বর্তমানে স্থিতিশীলতার দিকে যাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এছাড়া বৈঠকে রাশিয়ার কাছ থেকে ৩০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার কেনার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। সরকারের এই বহুমুখী পদক্ষেপগুলো দেশের শিল্পায়ন ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের ১৫৫টি পরিবারের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের লক্ষে শ্রীমঙ্গলের ঐতিহাসিক ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার (১৭ জুন) ঢাকা থেকে রওনা হয়ে সিলেট পৌঁছে সেখান থেকে সড়কপথে দুপুর ১টার দিকে তিনি শ্রীমঙ্গলে পৌঁছান। প্রধানমন্ত্রী মঞ্চে আসীন হওয়ার পর জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয়।
শ্রীমঙ্গলের কর্মসূচি শেষ করে প্রধানমন্ত্রী দুপুর আড়াইটায় মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আরেকটি অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। সেখানে রাজনগর উপজেলার টেংরা ইউনিয়নের ১৫২টি পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হবে। সরকারি এই দায়িত্ব পালন শেষে তিনি বিকেলে ‘দুসাই রিসোর্ট’-এ বিশ্রামের পাশাপাশি স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দের সাথে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক সভায় মিলিত হবেন। সভা শেষে সন্ধ্যায় তিনি সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে পুনরায় ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে মৌলভীবাজারে এসেছিলেন তারেক রহমান। নির্বাচনে বিপুল বিজয় এবং সরকার গঠনের পর এটিই মৌলভীবাজার জেলায় তার প্রথম আনুষ্ঠানিক সফর। প্রধানমন্ত্রীর এই আগমনকে কেন্দ্র করে গোটা মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গল এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে এবং বিএনপি নেতা-কর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পাইলটিং কর্মসূচির তৃতীয় পর্যায়ের শুভ উদ্বোধন করতে মৌলভীবাজারে পৌঁছেছেন। বুধবার বেলা ১২টা ২৫ মিনিটের দিকে তিনি মৌলভীবাজার জেলা শহরে পৌঁছান। এর আগে তিনি ঢাকা থেকে বিমানযোগে সকাল সাড়ে ১০টায় সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন এবং সেখান থেকে সড়কপথে মৌলভীবাজারের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন।
মৌলভীবাজার পৌঁছানোর পর প্রধানমন্ত্রী সরাসরি শ্রীমঙ্গলের পথে রওনা হয়েছেন। দুপুর ১টায় শ্রীমঙ্গল ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি উপস্থিত হয়ে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে মৌলভীবাজার ও শ্রীমঙ্গল শহরজুড়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পুরো জেলাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে পুলিশ ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে জেলা শহরকে নতুন সাজে সাজানো হয়েছে। সরকারি স্থাপনাগুলো পরিষ্কার ও রঙ করে চাকচিক্য বাড়ানো হয়েছে এবং রাস্তার ব্রিজ-কালভার্টগুলোও নতুন রঙে রাঙানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর জনসভাস্থল শ্রীমঙ্গল ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ এবং মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মঞ্চের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)। স্থানীয় জনগণের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো মৌলভীবাজার সফরের উদ্দেশ্যে বুধবার সকাল ১০টা ২১ মিনিটে সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছেছেন। বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি সড়কপথে মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। সেখানে তাকে স্বাগত জানাতে বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সিলেট বিমানবন্দরে অবতরণের পর প্রধানমন্ত্রীকে বর্ণাঢ্য ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। এই সময় জাতীয় সংসদের হুইপ জিকে গউছ, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মিফতাহ সিদ্দিকী, জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী এবং সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ইমরান আহমদ চৌধুরীসহ স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া সিলেটের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানও তাকে অভ্যর্থনা জানান।
এই সফরের বিস্তারিত জানিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সিলেটে পৌঁছেছেন। তিনি সড়কপথে শ্রীমঙ্গলের পথে রয়েছেন। সেখানে কৃষক কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড বিতরণসহ বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।’ নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, দুপুর ১টায় শ্রীমঙ্গলের ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করবেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া দিনব্যাপী তিনি মৌলভীবাজারে বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই আগমনকে কেন্দ্র করে সিলেট ও মৌলভীবাজারজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে এবং রাস্তার দুই পাশে শত শত নেতাকর্মী তাকে দেখার জন্য ভিড় জমান। সফরকালীন সময়ে যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। সফর শেষে বিকেল ৫টা ৪৫ মিনিটে মৌলভীবাজার থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে তার রওনা হওয়ার কথা রয়েছে এবং রাত সাড়ে ৮টায় তিনি বিমানযোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে সিলেট ত্যাগ করবেন।