মঙ্গলবার, ৩ মার্চ ২০২৬
১৮ ফাল্গুন ১৪৩২

প্রার্থী বেশি,প্রতিদ্বন্দ্বী কম

ফাইল ছবি
আপডেটেড
২ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০০:১৪
তানজিমুল নয়ন
প্রকাশিত
তানজিমুল নয়ন
প্রকাশিত : ২ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০০:০০

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ২ হাজার ৭১৩ জন প্রার্থী। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে নিবন্ধিত ৪৪টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩২টি দল। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন ৭৪৭ জন। সে হিসাবে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রত্যয়নপত্র নিয়ে নির্বাচনে উপস্থিত ১৯৬৬ জন প্রার্থী। আর স্বতন্ত্রদের মধ্যে অন্তত ৪০০ জন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন। তবে সাধারণ মানুষের অভিযোগ, নির্বাচনে আসা বড় দল আওয়ামী লীগের মূল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বাইরে অন্যদলগুলোর বেশির ভাগ প্রার্থীই আসনগুলোর মানুষের কাছে অচেনা। প্রায় প্রতিটি আসনেই নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন এমন অনেক অচেনা মুখ যাদের প্রার্থিতা পেতে সমস্যা না হলেও নির্বাচনী লড়াইয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে পরিচিত হতেই পার হয়ে যাবে প্রচারণার বেশির ভাগ সময়। ফলে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, নির্বাচনে প্রার্থী আছে অনেক বেশি, কিন্তু, প্রতিদ্বন্দ্বী কম।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ৩০০ আসনের বিপরীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের (নৌকা) ৩০৩ জন, জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল) ৩০৪ জন, জাকের পার্টি (গোলাপ ফুল) ২১৮ জন, তৃণমূল বিএনপি (সোনালী আঁশ) ১৫১ জন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি- এনপিপি (আম) ১৪২ জন, বাংলাদেশ কংগ্রেস (ডাব) ১১৬ জন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ (মশাল) ৯১ জন, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন (ফুলের মালা) ৪৭ জন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন (বটগাছ) ১৩ জন, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি (হাতঘড়ি) ১৮ জন, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ (চেয়ার) ৩৯ জন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (কাঁঠাল) ১৩ জন, গণফ্রন্ট (মাছ) ২৫ জন, গণফোরাম (উদীয়মান সূর্য) ৯ জন, ইসলামী ঐক্যজোট (মিনার) ৪৫ জন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট (মোমবাতি) ৩৭ জন, জাতীয় পার্টি-জেপি (বাইসাইকেল) ২০ জন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ (গামছা) ৩৪ জন, গণতন্ত্রী পার্টি (কবুতর) ১২ জন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (হাতুড়ি) ৩৩ জন, বিকল্পধারা বাংলাদেশ (কুলা) ১৪ জন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (একতারা) ৮২ জন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন-বিএনএম (নোঙর) ৪৯ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট- বিএনএফ (টেলিভিশন) ৫৫ জন, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (ছড়ি) ৭৪ জন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ- বিএমএল (হাত-পাঞ্জা) ৫ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি- ন্যাপ (কুঁড়েঘর) ৬ জন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মই) একজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (রিকশা) একজন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ (খেজুর গাছ) একজন এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (হারিকেন) দুইজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

এদিকে মনোনয়ন জমার শেষ দিনেই ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম জানিয়েছেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিলের সময়সীমা বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। ফলে বিএনপিসহ যে দলগুলো নির্বাচন বর্জন করেছে তাদের আর মত পাল্টে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসার দৃশ্যমান কোনো সুযোগ নেই। আন্দোলনরত দলগুলোও অবশ্য আগেই এ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতি দিয়েছে।

ফলে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর যাচাই-বাছাই শেষে যেসব প্রার্থী টিকে যাবেন তারাই থাকবেন নির্বাচনী দৌড়ে। তবে প্রতিটি আসনে ভোটের লড়াইয়ে যারা যাচ্ছেন তাদের বেশির ভাগেরই দলের নাম সাধারণ মানুষ জানে না। আর দল অচেনা বলে প্রার্থীরাও অচেনা। ফলে তাদের ধারণা নির্বাচনী লড়াইয়ে আসলে টিকে থাকবেন বড় দলের পরিচিত মুখগুলো। এর মধ্যে শাসক দলের মার্কা নিয়ে লড়াই করা প্রার্থীরা যেমন আলোচনায় থাকবেন, তেমনই অনেক আসনেই তাদের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমাতে পারেন নির্বাচনে আসা আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। কেননা, দলটির স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বেশির ভাগই স্থানীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত এবং তাদের মোটামুটি ভোট ব্যাংক অথবা এলাকাবাসীকে প্রভাবিত করার সক্ষমতা রয়েছে। নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া ৭৪৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে অন্তত ৪০০ জনই আওয়ামী লীগের।
যদিও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গত কয়েক দিনের মতো গতকালও বলেছেন, দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ঢালাওভাবে নির্বাচন করতে পারবেন না। এ ছাড়া ১৪-দলীয় জোটের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির সম্ভাবনা রয়েছে আওয়ামী লীগের। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন, নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আসতে পারবেন জোটের এমন প্রার্থীরাই কেবল থাকবেন বিবেচনায়। আর ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করে তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এর ফলে এটা স্পষ্ট যে, জোটের সঙ্গে সমঝোতা হলে কয়েকটি আসনে আওয়ামী লীগ যাদের মনোনয়ন দিয়েছে তাদেরও রণে ভঙ্গ দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে হবে।

তবে আওয়ামী লীগ সভাপতি নির্বাচনী কৌশল হিসেবে এবার দলীয় মার্কার বাইরে দলীয় প্রার্থীদের স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড়ানোর সুযোগ দেয়ায় নির্বাচনে আসা প্রার্থীদের কতজন আবার দল চাইলে নির্দেশ মেনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন সেটাও আছে দেখার বিষয়।

তবে এই আলোচনার বাইরে থেকে যাচ্ছে বেশির ভাগ প্রার্থী যারা বিভিন্ন দল থেকে নির্বাচনে এলেও জনগণের কাছে নিজের দল, দলীয় প্রতীক এবং নিজের পরিচয় প্রকাশ করার সুযোগ পাবেন। তবে প্রতিটি আসনে স্থানীয় ভোটারদের কাছে তারা এখনো অচেনা এবং নতুন মুখ হিসেবে বিবেচিত।

যেমন দল হিসেবে এবারই প্রথম নির্বাচন করছে তৃণমূল বিএনপি, বিএনএম, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি। এসব দলের বেশির ভাগ প্রার্থী নিজ নিজ এলাকার ভোটারদের কাছে নতুন পরিচয়ে উপস্থিত হবেন। অনেকে আবার খুব বেশি পরিচিত নন। একইভাবে তাদের নির্বাচনী প্রতীক যথাক্রমে সোনালী আঁশ, নোঙর ও একতারা চেনাতেও এবার তাদের বিশেষ প্রস্তুতি নিতে হবে।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনএমের প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য আছেন ৬ জন এবং তৃণমূলের প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য আছেন ৫ জন।

এদিকে, গতকাল আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর কাদের বলেছেন, বিএনপির ১৫ কেন্দ্রীয় নেতাসহ সাবেক ৩০ জন সংসদ সদস্য নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এদের মধ্যে কাদের সিদ্দিকী, লতিফ সিদ্দিকী, আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর মতো নেতাও আছেন। আবার আগে বিএনপিতে প্রভাব ছিল দলটির এমন সাবেক নেতারাও আছেন নির্বাচনে। এদের মধ্যে তৈমূর আলম, সমশের মবিন চৌধুরীর নাম উল্লেখযোগ্য।

তবে এদের বাইরে নির্বাচনের মাঠে থাকা বেশির ভাগ প্রার্থীই অচেনা। এ বিষয়ে গাজীপুর-৪ আসনের একজন প্রার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমার দল এলাকায় তেমন পরিচিত নয়। দলের প্রচার চালাতে ও এলাকার মানুষের কাছে নিজের পরিচয় তুলে ধরতে এবার ভোট করতে আসা। আমিও জানি নির্বাচনে জয়লাভ করার অবস্থান এখনো আমার বা আমার দলের তৈরি হয়নি। তবে এক দিনে তো কিছুই হয় না। আমাদের দলের আদর্শ ও কর্মসূচি দেশের মানুষ ও এলাকার মানুষকে জানাতে আমরা নির্বাচনে এসেছি।’

অন্যদিকে লালমনিরহাট-৩ আসনে মনোনয়ন জমা দেয়া প্রার্থীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই সদর আসনে ৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সদ্য পদত্যাগকারী সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জাবেদ হোসেন বক্কর, জাতীয় পার্টি থেকে জাহিদ হাসান, তৃণমূল বিএনপি থেকে শামীম আহম্মেদ চৌধুরী, জাকের পার্টি থেকে সকিউজ্জামান মিয়া, বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল থেকে আশরাফুল আলম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) থেকে আবু তৈয়ব মো. আজমুল হক পাটোয়ারী, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) থেকে শ্রী হরিশ চন্দ্র রায় মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তবে এবার তিনি এ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেননি। ফলে এ আসনে নির্বাচনে অংশ নেয়া সব প্রার্থীই নতুন এবং নতুন একজন সংসদ সদস্য পাবে লালমনিরহাট সদরবাসী। তবে নতুন হলেও জেলা ও শহরের রাজনীতিতে পুরনো মুখ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান। ছাত্ররাজনীতি করায় জাবেদ হোসেন বক্করও সেখানে পরিচিত মুখ। জাকের পার্টি ও জাসদের প্রার্থীকেও অনেকে চেনেন। তবে সাম্যবাদী দল, এনপিপির প্রার্থীর মতো জাতীয় পার্টির প্রার্থীও এলাকার সবার চেনা মুখ নন। ফলে যে আসন থেকে জাতীয় পার্টি বর্তমান সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছে সেখানে নতুন মুখ দেয়ায় মাঠের রাজনীতিতে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন এলাকার অনেক বাসিন্দা।

বিষয়টা আরও স্পষ্ট হয় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনার ৬টি আসন বিশ্লেষণ করলে। দৈনিক বাংলার খুলনা ব্যুরো জানায়, খুলনার এই ৬টি আসনের জন্য সেখানে ৫৩ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে যারা সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচন করবেন, তাদের অধিকাংশেরই রাজনীতিতে তেমন কোনো পরিচিতি নেই। হঠাৎ করেই তারা কেন সংসদ নির্বাচনে আগ্রহী হলেন, এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে উত্তরও দেননি অধিকাংশ প্রার্থী।

খুলনা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের মনোনীত ৬ জন প্রার্থী, আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র ২ জন এবং জাতীয় পার্টির একজন প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচিতি রয়েছে। বাকি ৪৪ জন প্রার্থী কখনো রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয় ছিলেন না।

খুলনা প্রতিনিধির বিশ্লেষণ অনুযায়ী খুলনা-১ আসনের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ৬ জন। তারা হলেন, জাকের পার্টির মো. আজিজুর রহমান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ননী গোপাল মণ্ডল, জাতীয় পার্টির কাজী হাসানুর রশিদ, তৃণমূল বিএনপির গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রশান্ত কুমার রায় ও আবেদ আলী শেখ।

এদের মধ্যে ননী গোপাল মণ্ডল ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। রাজনীতিতে তার পরিচিতি রয়েছে। তবে বাকি চারজন রাজনীতিতে একেবারেই অপরিচিত। তারা প্রত্যেকেই এবার প্রথম সংসদ নির্বাচন করছেন। এদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রশান্ত কুমার রায় পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সাবেক সচিব।

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আমি নির্বাচন করছি। আমাকে ডামি প্রার্থীও বলা যাবে। এটা দলীয় নির্দেশেই হচ্ছে।’
আওয়ামী লীগের ননী গোপাল মণ্ডল বলেন, ‘দল আমাকে আবারও সুযোগ দিয়েছে। আমি দলের সম্মান রাখব বলে আশাবাদী।’

তবে বাকি চার প্রার্থীর তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই। জাতীয় পার্টীর কাজী হাসানুর রশিদ ও তৃণমূল বিএনপির গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিকের কাছে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেও কোনো উত্তর মেলেনি।

আর জাকের পার্টি মো. আজিজুর রহমান বলেন, ‘দল থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে বলেছে, তাই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি।’

অন্যদিকে খুলনা-২ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৯ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল, গণতন্ত্র পার্টির মো. মতিয়ার রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের দেবদাস সরকার, জাকের পার্টির ফরিদা পারভিন, ইসলামী ঐক্যজোটের হিদায়েতুল্লাহ, জাতীয় পার্টির মো. গাউসুল আজম, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের বাবু কুমার রায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সাঈদুর রহমান।

এদের মধ্যে শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থীর রাজনৈতিকভাবে পরিচিতি রয়েছে। তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। তবে বাকিদের আগে কখনো রাজনৈতিক মাঠে দেখা যায়নি।

কেন প্রার্থী হয়েছেন- এমন প্রশ্নে বাংলাদেশ কংগ্রেসের দেবদাস সরকার বলেন, ‘অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে মনোনয়ন জমা দেয়া হচ্ছে, তাই আমরাও দিচ্ছি।’

খুলনা-৩ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৫ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের এস এম কামাল হোসেন, জাকের পার্টির এস এম সাব্বির হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, স্বতন্ত্র প্রার্থী কাইজার আহমেদ ও ফাতেমা জামান সাথী।

এদের মধ্যেও শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচিতি রয়েছে। তিনি দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। তিন বারের সংসদ সদস্য ও দুই বারের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানকে সরিয়ে তাকেই আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিয়েছে। তবে ওই আসনেরও বাকি চারজনের তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই।

খুলনা-৪ আসন থেকে মনোনয়ন নিয়েছেন ১৪ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের আব্দুস সালাম মূর্শেদী, জাকের পার্টির শেখ আনছার আলী, জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এস এম আজমল হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. ফরহাদ আহমেদ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. মোস্তাফিজুর রহমান, তৃণমূল বিএনপির শেখ হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মনিরা সুলতানা, ইসলামী ঐক্যজোটের রিয়াজ উদ্দীন খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জুয়েল রানা, এম ডি এহসানুল হক, মো. রেজভী আলম, এস এম মোর্ত্তজা রশিদী দারা, আতিকুর রহমান ও এইচ এম রওশান জমির।

এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের আব্দুস সালাম মূর্শেদী বর্তমান সংসদ সদস্য। ২০১৮ সালের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে তিনি জয়ী হয়েছিলেন।

এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম মোর্ত্তজা রশিদী দারার দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস রয়েছে। তিনি ওই আসনের তিন বারের সাবেক সংসদ সদস্য এস এম মোস্তফা রশিদী সুজার আপন ভাই।

তিনি বলেন, এলাকার মানুষের দোয়া নিয়ে মাঠে নেমেছি। জয়-পরাজয় এলাকার মানুষই নির্ধারণ করবেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই আসনে আওয়ামী লীগের এই দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এলাকার ভোটাররা বলছেন, বাকি ১২ জন প্রার্থীদের নাম খুব একটা শোনেননি তারা। কেউ কেউ একেবারেই অপরিচিত।

খুলনা-৫ আসনের জন্য মনোনয় জমা দিয়েছেন ৭ জন। তারা হলেন- জাতীয় পার্টির মো. শহীদ আলম, জাকের পার্টির সামাদ সেখ, আওয়ামী লীগের নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, ওয়ার্কার্স পার্টির শেখ সেলিম আকতার, বাংলাদেশ কংগ্রেসের এস এম এ জলিল, ইসলামী ঐক্যজোটের তরিকুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ আকরাম হোসেন।

এদের মধ্যে নারায়ণ চন্দ্র চন্দ একাধিক বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী। এ ছাড়া আকরাম হোসেন ফুলতলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। এই আসনেও আওয়ামী লীগের এই দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ভোটাররা। বাকি যারা প্রার্থী হয়েছেন এলাকার রাজনীতিতে তাদের তেমন কোনো পরিচিতি নেই বলে জানা গেছে।

খুলনা-৬ আসনের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ১২ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের মো. রশীদুজ্জামান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. আবু সুফিয়ান, জাকের পার্টির শেখ মর্তুজা আল মামুন, জাতীয় পার্টির মো. শফিকুল ইসলাম মধু, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মির্জা গোলাম আজম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এস এম নেওয়াজ মোরশেদ, তৃণমূল বিএনপির গাজী নাদীর উদ্দীন খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম রাজু, গাজী মোস্তফা কামাল, জি এম মাহবুবুল আলম, মো. মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর ও মো. অহিদুজ্জামান মোড়ল।

এদের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত মো. রশীদুজ্জামানের কোনো দলীয় পদ নেই। তিনি একসময় পাইকগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্যসচিব ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে জামানত হারিয়েছিলেন। তবে তাকেই মনোনয়ন দিয়ে চমক সৃষ্টি করেছে ক্ষমতাসীন দল। ওই আসনে রাজনৈতিকভাবে পরিচিত রয়েছে জাতীয় পার্টির মো. শফিকুল ইসলাম মধুর। তিনি আগেও খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। বাকি প্রার্থীদের তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই। এলাকার সবার কাছে পরিচিত মুখও নন অনেকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশির ভাগ আসনেই ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীদের স্থানীয়রা তেমন একটা চেনেন না। তবে বিরোধীদের এক অংশ নির্বাচন বর্জন করায় রাজনীতির নতুন সমীকরণ মেলাতে ছোট দলগুলোই নির্বাচনে হতে যাচ্ছে বড় দলগুলোর সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনীযুদ্ধ পার হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী।

জাসদের মাঠপর্যায়ের এক রাজনীতিবিদ জসিম মণ্ডল বলেন, ‘নির্বাচন একটা বড় খেলা। এখানে সবাই নামে নিজ নিজ সমীকরণ মেলানোর জন্য। রাজনৈতিক দলগুলোর সমীকরণ হয় এক ধরনের, আবার প্রার্থীর সমীকরণ হয় আরেক ধরনের। সবাই নির্বাচনে জয়ী হতে যেমন অংশ নেয় না তেমনই কেউ কেউ নির্বাচনে যায় অন্যের যাত্রা ভঙ্গ করতে। আবার অনেকের কাছে ‘নির্বাচনে অংশগ্রহণই বড় কথা।’ জয়-পরাজয়ের চেয়েও বড় বিষয় এ সময় পোস্টারিং করে নিজের ছবি ও পরিচিতি পুরো এলাকার মানুষকে দেখানো যায়। এটাও বা কম কিসে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দেশের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষেরই আছে নির্বাচনে দাঁড়ানোর অধিকার। তাই কটা টাকা খরচ করে অনেকেই পরিচিতি বাড়ানোর সুযোগ নেয়। এর ফল তো অসীম-সারাজীবন নানাভাবে এর সুফল মেলে। যারা রাজনীতিতে আছেন, কেবল তারাই বোঝেন নির্বাচনে অংশ নিতে পারার গুরুত্ব।


চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, হুইপ হলেন যারা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপের দায়িত্ব পেয়েছেন বরগুনা-২ (বেতাগী-বামনা-পাথরঘাটা) আসনের সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম মনি; ছয়জনকে দেওয়া হয়েছে হুইপের দায়িত্ব।

গতকাল সোমবার, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের আলাদা প্রজ্ঞাপনে এ বিষয়ে জানানো হয়।
হুইপ হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন হবিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য জি কে গউছ, খুলনা-৩ আসনের রকিবুল ইসলাম, শরীয়তপুর-৩ আসনের মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, নাটোর-২ আসনের এম. রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, দিনাজপুর-৪ আসনের মো. আখতারুজ্জামান মিয়া ও লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের এ বি এম আশরাফ উদ্দিন (নিজান)।
চিফ হুইপ সংসদে সরকারি দলের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার সঙ্গে কয়েকজন হুইপ থাকেন, যারা সবাই সংসদ সদস্য। তাদের প্রধান কাজ সংসদে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখা, নিজ দলের সদস্যদের অধিবেশনে উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং গুরুত্বপূর্ণ বিল ও প্রস্তাবে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভোট নিশ্চিত করা।
চিফ হুইপ পূর্ণ মন্ত্রীর পদমর্যাদা ভোগ করেন, আর হুইপরা প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা পান। সে অনুযায়ী তারা মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের মতো সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন।
জাতীয় সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এই নিয়োগ অবিলম্বে কার্যকর হবে। নবনিযুক্ত চিফ হুইপ ও হুইপগণ আজ মঙ্গলবার শপথ নিতে পারেন।


ফেব্রুয়ারিতে দেশে নিহত ৩২ নারী-কন্যাশিশু

নির্যাতনের শিকার ১৮৩, নিহতের ৯ জনই শিশু
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সারা দেশে অন্তত ৩২ জন নারী ও কন্যাশিশু হত্যার শিকার হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৯ জনই কন্যাশিশু, যাদের বয়স ১৮ বছরের নিচে। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ-এর নারী ও কন্যা নির্যাতনবিষয়ক মাসিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এই উদ্বেগজনক চিত্র।

সোমবার (২ মার্চ) গণমাধ্যমে পাঠানো সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু স্বাক্ষরিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

এতে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত সহিংসতার খবর বিশ্লেষণ করে এই চিত্র পাওয়া গেছে, যা বাস্তব পরিস্থিতির কেবল আংশিক প্রতিফলন।

সংগঠনটির কেন্দ্রীয় লিগ্যাল এইড উপপরিষদে সংরক্ষিত ১৫টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, সংবাদপত্রে প্রকাশিত ঘটনার বাইরেও অসংখ্য নির্যাতনের ঘটনা অপ্রকাশিত থেকে যায়, যেগুলো কখনো আইনের কাছে পৌঁছায় না, আবার কখনো সমাজের ভয়ে চাপা পড়ে থাকে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারি মাসে মোট ১৮৩ জন নারী ও কন্যা বিভিন্ন ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

এর মধ্যে ৭৩ জন কন্যা ও ১১০ জন নারী। ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৩২ জন, যাদের মধ্যে ৪ জন কন্যাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।

যৌন সহিংসতার শিকার হয়েছেন ৪ জন কন্যাসহ মোট ৭ জন। এর মধ্যে ২ জন কন্যাসহ ৪ জন যৌন নিপীড়নের শিকার, ২ জন উত্ত্যক্তকরণের এবং ১ জন নারী সাইবার সহিংসতার শিকার হয়েছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ফেব্রুয়ারি মাসে ৩ জন কন্যা ও ১৪ জন নারীসহ ১৭ জনের মৃত্যু রহস্যজনক। আত্মহত্যা করেছেন ৮ জন। এসিডদগ্ধ হয়েছেন ১ জন এবং অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন ১ জন। যৌতুকজনিত সহিংসতার শিকার হয়েছেন ৫ জন নারী, যার মধ্যে ৩ জনকে হত্যার অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া পারিবারিক সহিংসতায় শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৩ জন এবং গৃহকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন আরও ৩ জন।

অপহরণের শিকার হয়েছেন ১ জন কন্যাসহ ২ জন, আর ২ জন কন্যাকে অপহরণের চেষ্টা করা হয়েছে। পাচারের শিকার হয়েছেন ২০ জন কন্যাসহ মোট ৪০ জন। শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ১ জন কন্যাসহ ১৫ জন। বাল্যবিবাহের চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে ২ জনের ক্ষেত্রে। আরও ১ জন কন্যাসহ আরও ৭ জন বিভিন্নভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।


সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

২৩ কোটি টাকা মানিলন্ডারিং ও বিদেশে পাচারের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রী রূকমীলা জামানসহ ৩৫ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার চার্জশিট দাখিল করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সোমবার (২ মার্চ) দুদকের প্রধান কার্যালয়ের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ চার্জশিট দাখিলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

চার্জশিটে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০ এর৪০৬/৪০৯/৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

একই মামলায় অভিযুক্ত অন্যদের মধ্যে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক পিএলসির (ইউসিবি) সাবেক চেয়ারম্যান ও সাইফুজ্জামান চৌধুরীর স্ত্রী রূকমীলা জামান ছাড়াও ব্যাংকটির সাবেক ও বর্তমান ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাসহ আরামিট পিএলসির একাধিক কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী এবং হুন্ডি কার্যক্রমে জড়িত কয়েকজন ব্যক্তি রয়েছেন।

তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, প্রভাব ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলন, জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ এবং পরবর্তীতে তা বিভিন্ন মাধ্যমে স্থানান্তর ও বিদেশে পাচার করা হয়েছে। তবে আলোচিত এ মামলার আসামি শরীফ জহিরকে অভিযোগের দায় থেকে অব্যাহতি দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।


যুদ্ধের ধাক্কায় ঝুঁকিতে দেশের অর্থনীতি

* মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার-রেমিট্যান্স হুমকিতে * জ্বালানি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাঁচামালের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা * দাম বাড়তে পারে এলএনজির
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

বিশ্ব রাজনীতির এক অস্থিরতম অধ্যায়ে পরিণত হয়েছে মধ্যপ্রাচ্য। সেখানকার সংঘাত বৈশ্বিক অর্থনীতির গতিপথকে বদলে দিতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশেও। কারণ, অর্থনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক দিক থেকে বেশ কিছু ঝুঁকির মুখোমুখি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে বাংলাদেশীদের জন্য মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার হুমকিতে পড়তে পারে। আবার আমদানিনির্ভর জ্বালানি ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাঁচামালের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার শঙ্কাও রয়েছে। এছাড়া দাম বাড়তে পারে এলএনজিরও। সব মিলিয়ে দেশের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

তারা বলছেন, এমনিতেই বাংলাদেশের অর্থনীতি এক ভঙ্গুর অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। করোনার ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে না উঠতেই ধাক্কা লাগে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের। বিদেশি ঋণের ফাঁদ আর মূল্যস্ফীতির চাপে অর্থনীতি রয়েছে বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে। অর্থনৈতিক এই টানাপোড়েনের মধ্যেই নতুন সরকার ক্ষমতা নেওয়ার শুরুতেই আবার শুরু হলো মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ। যুদ্ধের স্থায়িত্ব যত বেশি হবে, তার প্রভাব ততই বাড়তে থাকবে।

এ বিষয়ে অর্থনীতিবিদ ও পুঁজিবাজার বিশেষজ্ঞ আবু আহমেদ বলেন, ইরানে হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে সবচেয়ে বড় শঙ্কা তৈরি হয়েছে জ্বালানি তেল ঘিরে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনায় যদি সরবরাহ বিঘ্নিত হয় বা হরমুজ প্রণালি ঝুঁকির মুখে পড়ে, তবে তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যাবে। বাংলাদেশ যেহেতু শতভাগ আমদানিনির্ভর, তাই এ মূল্যবৃদ্ধির ধাক্কা সরাসরি এসে পড়বে দেশের উৎপাদন ও পরিবহন খাতে।

এই অর্থনীতিবিদ বলেন, তেলের দাম বাড়া মানেই সবকিছুর দাম বাড়া। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও অসহনীয় হয়ে উঠবে। মূল্যস্ফীতিকে আরও উসকে দিতে পারে। সবচেয়ে বড় ঝুঁকিটি তৈরি হবে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে। আমাদের ব্যালেন্স অব পেমেন্ট এমনিতেই আমাদের বিরুদ্ধে আছে। যুদ্ধ পরিস্থিতিতে তেলের দাম বাড়লে এ ঘাটতি আরও বিস্তৃত হবে। তেলের উচ্চমূল্যের কারণে ডলারের চাহিদা বাড়বে, ফলে টাকার ওপর চাপ তৈরি হবে। বিনিময় হার আরও অবনতির দিকে যেতে পারে, যা আমদানি ব্যয় ও ঋণ পরিশোধ—দুটোকেই কঠিন করে তুলবে।

বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য এই যুদ্ধের প্রভাব সরাসরি এবং বহুমুখী হতে পারে। তবে এ সংকটের প্রভাব কতটা গভীর হবে, তা মূলত নির্ভর করবে যুদ্ধের স্থায়িত্ব এবং এর বিস্তৃতির ওপর। যুদ্ধ দ্রুত থেমে গেলে এর প্রভাব হয়তো খুব প্রকট হবে না। কিন্তু এটি দীর্ঘায়িত হলে বাংলাদেশ বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় বেশকিছু পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা যাতে কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সেদিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে ।

নিট পোশাক শিল্পের মালিকের সংগঠন বিকেএমইএর সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম গণমাধ্যমকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রসহ তাদের মিত্রদেশের বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের সঙ্গে ব্যাংকিং করা জটিল। তা ছাড়া ইরান থেকে আমাদের দেশে ক্রেতারাও সেভাবে আসেনি। সে কারণে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি তৈরি পোশাক কম যায়।

তার মতে, ইরানের সঙ্গে সরাসরি বাণিজ্য কম হলেও বর্তমান যুদ্ধে পরোক্ষ ক্ষতি অনেক বেশি। তিনি বলেন, আমরা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ধকল এখনো কাটিয়ে উঠতে পারিনি। এরই মধ্যে আবার নতুন যুদ্ধ। হরমুজ খাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় জাহাজে পণ্য পরিবহনে খরচ বাড়বে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যেসব জাহাজ যায়, সেগুলো হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করে। এখন সেই জাহাজ ভারত মহাসাগর ও আটলান্টিক ঘুরে যেতে হবে।

মোহাম্মদ হাতেম আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে আকাশসীমা বন্ধ থাকায় কার্গো বিমানও চলছে না। তাতে জরুরি পণ্য রপ্তানি ব্যাহত হবে। আবার মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল ও এলএনজি আমদানিও বাধাগ্রস্ত হবে। সব মিলিয়ে আমরা দুশ্চিন্তা রয়েছি। সামনে আরেকটি বড় সংকট দেখতে পারছি আমরা।

বাংলাদেশ গার্মেন্ট প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, আমরা একটি রপ্তানিনির্ভর দেশ; তাই আমাদের অবশ্যই এই যুদ্ধের প্রভাব মোকাবিলা করতে হবে, বিশেষ করে পোশাক রপ্তানিকারকরা। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, যুদ্ধের কারণে ভোক্তাদের সক্ষমতা কমবে, ফলে তারা পোশাকের মতো পণ্যে কম ব্যয় করবেন। দ্বিতীয়ত, জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেলে দেশের বাজারে উৎপাদন খরচ বাড়বে, কারণ বাংলাদেশ জ্বালানি আমদানিনির্ভর দেশ। তৃতীয়ত, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য পাঠাতে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের যদি বিকল্প নৌপথ বেছে নিতে হয়, তাহলে সামগ্রিক বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

মাহমুদ হাসান খান বলেন, এর আগে বাংলাদেশি পোশাক ব্যবসায়ীরা ভেবেছিলেন ইউক্রেন যুদ্ধ দুই সপ্তাহের মধ্যেই শেষ হবে, কিন্তু সেই যুদ্ধ এখন চার বছর ধরে চলমান। এখন যদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ দীর্ঘমেয়াদি হয়; তাহলে কুয়েত, ইরাক, ইরান, বাহরাইন, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য রপ্তানি বাজার মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হতে পারে।

জনশক্তি রপ্তানিকারকের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির (বায়রা) সাবেক সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক মোবারক উল্লাহ শিমুল বলেন, ‘ইরান-ইসরায়েল যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে, সেটা দীর্ঘায়িত হলে অনেক প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে। আমাদের শ্রমিকরা নিঃস্ব হয়ে দেশে ফিরে আসবেন। দেশে রেমিট্যান্স প্রবাহে ভাটা পড়বে। এ অবস্থায় সরকারের উচিত প্রথমে প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো হটলাইন চালু করে শ্রমিকদের খবর রাখা ও বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেওয়া। আর আমাদের শ্রমিকদের যাতে ফেরত আসতে না হয় এবং নতুন করে কীভাবে আরও শ্রমিক পাঠানো যায়, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া।’

সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় বাংলাদেশের বিপুল সংখ্যক প্রবাসী শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন। যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে সেখানে অবস্থানরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে। এ ছাড়া আকাশপথে ফ্লাইট চলাচল বিঘ্নিত হতে পারে, যা শ্রমিকদের যাতায়াত ও রেমিট্যান্স প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে অত্যন্ত সতর্কতা এবং সাবধানতার সঙ্গে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে হবে।’

জ্বালানি তেল ও এলএনজি: মধ্যপ্রাচ্যই হলো বাংলাদেশের জ্বলানি তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রধান উৎস। তাই এই যুদ্ধ চলতে থাকলে দেশের জন্য জ্বালানির দাম ও সরবরাহ অস্থিতিশীল হয়ে পড়বে। দেশে বর্তমানে বছরে জ্বালানি তেল আমদানি করা হয় কমবেশি ৭০ লাখ টন। যার বেশিরভাগই আনা হয় মধ্যপ্রাচ্য বা এশিয়ার দেশগুলো থেকে। এই যুদ্ধে তেল সরবরাহ নিয়ে চিন্তায় আছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি)। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলে পুরো জ্বালানি খাতে নেমে আসবে বিপর্যয়।

বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান এ প্রসঙ্গে বলেন, আগামী জুন পর্যন্ত পরিশোধিত জ্বালানি তেল নিয়ে কোনো সমস্যা নেই। আমরা আপাতত সেফ সাইডে রয়েছি। পরিশোধিত জ্বালানি তেল মালয়েশিয়া, চীন, সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়া থেকে আসছে। এসব দেশ থেকে জ্বালানি আমদানিতে হরমুজ প্রণালির কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তবে অপরিশোধিত তেলের দীর্ঘমেয়াদি উৎস সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত হওয়ায় বিষয়টি আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। এটুকু বলা যায় যে, এ মুহূর্তে আমাদের জ্বালানি তেলের রিজার্ভে কোনো সংকট নেই।

বাংলাদেশ কনটেইনার শিপিং অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান হারুন-উর-রশিদ বলেন, বাংলাদেশ আমদানিনির্ভর দেশ হওয়ায় সবসময় ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার শিকার হয়। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ বাংলাদেশের পণ্য পরিবহনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। এ ছাড়া এরই মধ্যে ইয়েমেনের হুতিদের হামলার কারণে লোহিত সাগর দিয়ে পণ্য পরিবহন কমিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশ। রাশিয়া ও চীন এই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে পণ্য পরিবহন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।


কোন কোন আসনে গণভোটের হিসাব ভুল হয়েছিল, জানাল ইসি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গণভোটের প্রথম ফলাফলে ভুল থাকায় সম্প্রতি গণভোটের ফলাফল সংশোধন করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এতে প্রায় ১১ লাখের মতো ভোট কমে যায়।

বিষয়টিকে নির্বাচন কমিশন এর আগে ভুল হিসেবে ব্যাখ্যা দিয়েছে। এবার কোন কোন আসনে গণভোটের ফলাফলের হিসাব ভুলে হয়েছিল, তা জানিয়েছে সংস্থাটি।

ইসি জানায়, নেত্রকোনা-৩, ৪ ও ৫ আসনে ফলাফল প্রস্তুত করার সময় এক্সেল শিটে ভুল ইনপুটের কারণে গণভোটের ফলাফল বেড়ে যায়। এজন্য পরবর্তীতে তা সংশোধন করা হয়।

এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, নেত্রকোনা-৩ আসনে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৫ ভোটের পরিবর্তে ভুল করে ৫ লাখ ২ দুই হাজার ৪৩৮টি ‘হ্যাঁ’ পড়েছে বলে এন্ট্রি করা হয়। আবার ৬০ হাজার ৭৮৭টি ভোটের পরিবর্তে ১ লাখ ৩৬ হাজার ৫ টি ‘না’ ভোট পড়েছে বলে এন্ট্রি করা হয়।

নেত্রকোনা-৪ আসনে ৮২ হাজার ১২৫টির পরিবর্তে ৪ লাখ ২০ হাজার ৬৮৬টি ‘হ্যা’ ভোট পড়েছে বলে এন্ট্রি করা হয়। আবার ১ লাখ ২ হাজার ১১৩ টির পরিবর্তে ৮২ হাজার ১২৫টি ‘না’ ভোট পড়েছে বলে এন্ট্রি করা হয়।

অন্যদিকে নেত্রকোনা-৫ আসনে ১ লাখ ৬৭১টির পরিবর্তে ভুল করে বার্তাশিটের এক্সেলে ৩ লাখ ৭৫ হাজার ৩০৮টি ‘হ্যা’ ভোট পড়েছে এন্ট্রি করা হয়। আবার ৪৪ হাজার ৫৭৩ টির পরিবর্তে ১ লাখ ৬৭১টি ‘না’ ভোট পড়েছে বলে তুলে ধরা হয়।

‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ, ২০২৫’ এবং সংবিধান সংস্কারের প্রস্তাবের বিষয়ে জনগণের সম্মতি যাচাইয়ে গত ১২ ফেব্রুয়ারি গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। ওই ভোটের ফলাফল যা গত ১৩ ফেব্রুয়ারি গেজেটে প্রকাশিত হয়েছিল।

প্রথম গেজেটের হিসেব অনুযায়ী, ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা ছিল ৪ কোটি ৮২ লাখ ৬৬০টি এবং ‘না’ ভোটের সংখ্যা ছিল ২ কোটি ২০ লাখ ৭১ হাজার ৭২৬টি। ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ ভোট মিলে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৩টি। এর মধ্যে বাতিল হয়েছিল ৭৪ লাখ ২২ হাজার ৬৩৭টি। বাতিল ভোট বাদ দিয়ে মোট বৈধ ভোটার সংখ্যা দাঁড়ায় ৭ কোটি ২ লাখ ৭২ হাজার ৩৮৬টি।

সংশোধিত গেজেটের হিসেব অনুযায়ী, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যা ৪ কোটি ৭২ লাখ ২৫ হাজার ৯৮০টি এবং ‘না’; ভোটের সংখ্যা দাঁড়াবে ২ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার ২৩১টি। ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’ ভোট মিলে সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ কোটি ৬৬ লাখ ২১ হাজার ৪০৭টি। এর মধ্যে বাতিল হয়েছে ৭৪ লাখ ৩৫ হাজার ১৯৬টি। বাতিল ভোট বাদ দিয়ে মোট বৈধ ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৯১ লাখ ৮৬ হাজার ২১১টি।

আগের তুলনায় ৯ লাখ ৭৪ হাজার ৬৮০টি ‘হ্যাঁ’ ভোট কমেছে। অন্যদিকে ‘না’ ভোটের সংখ্যা কমেছে ১ লাখ ১১ হাজার ৪৯৫টি। বাতিলকৃত ভোটের সংখ্যা আগের চেয়ে ১২ হাজার ৫৫৯টি বেড়েছে। সার্বিকভাবে মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ১০ লাখ ৭৩ হাজার ৬১৬টি কমেছে।

ইসি সচিব আখতার আহমেদ এ বিষয়ে বলেছেন, ‘তখন করণিক ভুল ছিল, ট্রান্সপজিশনের ছিল। যার কারণে এই ভুল হয়েছে। করণিক ভুলতো হতেই পারে। যেহেতু হাতে করা হয়। যেগুলো এদিক-ওদিক হয়েছে সেগুলো কারেকশন করে পরবর্তীতে যেগুলো মাঠ থেকে দিয়েছে সে অনুযায়ী এগুলো ঠিক করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘মূল যে প্রতিপাদ্য, ‘হ্যাঁ’ এবং ‘না’; তাতে ‘হ্যাঁ’-এর সংখ্যা বেশি। সেটাতে কোনো বিচ্যুতি হয়নি।


রাজধানীতে নারীদের জন্য বাস সার্ভিস চালুর নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

আপডেটেড ৩ মার্চ, ২০২৬ ০০:৩৭
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীতে নারীদের জন্য আলাদা বাস সার্ভিস চালুর নির্দেশ দিয়েছেন। সোমবার (২ মার্চ) সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল ইসলামকে প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশ দিয়েছেন।

এ তথ্য জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী। এসময় তারেক রহমান সড়ক পরিবহনের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে রবিউল ইসলামের কাছ থেকে তথ্য নেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দিয়েছেন।

আতিকুর রহমান রুমন আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী রাজধানীতে নারী বাস সার্ভিস চালুর জন্য মন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, তিনি (তারেক রহমান) গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রীকে শেরেবাংলা নগরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সমাধিস্থলের সংস্কার ও উন্নয়ন কাজ ঈদের আগে শেষ করারও নির্দেশনা দিয়েছেন।


প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার হলেন মাহফুজুর রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্পিচ রাইটার এবং তিন উপ-প্রেসসচিব নিয়োগ দিয়েছে সরকার। সোমবার (২ মার্চ) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পৃথক প্রজ্ঞাপনে তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার করা হয়েছে বার্তা সংস্থা ইউএনবির সম্পাদক এস এ এম মাহফুজুর রহমানকে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এস এ এম মাহফুজুর রহমানকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান/সংগঠনের সাথে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে যোগদানের তারিখ থেকে প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার (গ্রেড-১) পদে যোগদানের তারিখ থেকে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল বা তার সন্তুষ্টি সাপেক্ষে (যেটি আগে ঘটে) চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রদান করা হলো।

এদিকে সাংবাদিক মোস্তফা জুলফিকার হাসান (হাসান শিপলু), মো. জাহিদুল ইসলাম ও মো. সুজাউদ্দৌলাকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান/সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেসসচিব পদে গ্রেড-৪ বেতন স্কেলের সর্বশেষ ধাপের বেতনে যোগদানের তারিখ থেকে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল বা তার সন্তুষ্টি সাপেক্ষে (যেটি আগে ঘটে) চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।


মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের নাগরিকদের স্বার্থরক্ষাই অগ্রাধিকার: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের হামলা, পাল্টা হামলার বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের অবস্থান হচ্ছে খুব সোজা। মধ্যপ্রাচ্যে থাকা বাংলাদেশি নাগরিকদের স্বার্থকে প্রাধান্য দিতে হবে। প্রথম কথা হচ্ছে আমাদের নাগরিক যারা ওই অঞ্চলে আছেন, তাদের স্বার্থ রক্ষা এক নম্বর কথা।

মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত নিয়ে সরকারের বিবৃতিতে ইরানে হামলার বিষয়ে নিন্দা না জানানোর প্রেক্ষাপটে ওঠা বিতর্কের মধ্যে সোমবার (২ মার্চ) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এ কথা বলেছেন তিনি।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা মনে করি না যে, যুদ্ধ বা সংঘাত কোনো সমাধান। আমরা চাই অত্যন্ত দ্রুততম সময়ে একটা আলোচনার মাধ্যমে, কূটনীতির মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে এই সমস্যাটার সমাধান হোক।

সরকারের ওই বিবৃতিতে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনিকে হত্যার প্রসঙ্গ উল্লেখ না করায় সমালোচনা করেন অনেকে।

সমালোচনার মুখে সোমবার নতুন আরেকটি বিবৃতি দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যার ঘটনা জেনে বাংলাদেশ ‘মর্মাহত’।

সেখানে বলা হয়, ‘আন্তর্জাতিক আইন ও রীতি লঙ্ঘন করে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে তাকে হত্যার ঘটনা জেনে সরকার মর্মাহত। ইরানের ভ্রাতৃপ্রতীম জনগণের প্রতি আন্তরিক শোক জানাচ্ছে সরকার।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, ‘বাংলাদেশ বিশ্বাস করে, সংঘাতের মাধ্যমে কোনো সমাধান আসে না। কেবল সংলাপ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি আনুগত্যের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তি হতে পারে।’

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত এবং প্রবাসীদের অবস্থা নিয়ে সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হয়েছে। সভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিল ও প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী ও প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাতসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা অংশ নেন।

এরপর বিকালে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা প্রথম থেকেই বলে এসেছি যে, এই সংঘাতময় সময়ে আমাদের সবচাইতে বড় অগ্রাধিকার হচ্ছে ওই অঞ্চলে বসবাসরত আমাদের নাগরিকবৃন্দ। আমরা প্রথম প্রেস রিলিজটা দিয়েছিলাম, সেটা আমরা শুরুই করেছিলাম আমাদের নাগরিকদের স্বার্থ সমুন্নত রেখে। আমাদের নাগরিকরা তারা আক্রান্ত হলে, সেটা যেখানে হোক, আমরা তাদের পাশে দাঁড়াব। আমাদের সবচাইতে বড় জাতীয় স্বার্থ হচ্ছে আমাদের জনগণ। আমরা আশা করি যে, এই সংঘাতে আর কোনো বাংলাদেশির প্রাণহানি ঘটবে না, কিংবা আর কেউ আহত হবেন না। কিন্তু সে রকম অবস্থা হলে আমাদের যা যা কর্তব্য, তা সকলে আমরা পালন করব।’

এদিন কুয়েত ও বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা হওয়ার কথা জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তারা সকলে আমাদের নাগরিক, যারা এ সমস্ত দেশে আছেন, তাদের সম্পূর্ণ নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা দেওয়ার ব্যাপারে তাদের পূর্ণ আশ্বাস দিয়েছেন। যে দুজন বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হয়েছেন, তাদের মরদেহ ফেরানোর বিষয়ে এক প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই। আমরা সবসময় নিয়ে আসি। এটা আমাদের পলিসি। কিন্তু এখন তো প্লেন চলাচল করছে না। সুতরাং এই সময়টুকু সেখানে রেখে দিতে হবে এবং সেই নিয়ে আমার সঙ্গে সেই দেশের মন্ত্রীদের সঙ্গে কথা হয়েছে, তারা সমস্ত ব্যবস্থা করছেন।’

বাংলাদেশিদের কেউ ফিরতে চাইলে তাদেরকে দেশে আনার বিষয়ে এক প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেন, ‘সেটা প্রয়োজন হলে, যা করার তাই করবে সরকার।’

ইরানে হামলা, পাল্টা হামলার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের ‘কয়েকটি দেশের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের’নিন্দা জানিয়ে গত রোববার বিবৃতি দেয় সরকার। ওই বিবৃতিতে সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সাতটি দেশের নাম উল্লেখ করা হলেও সে তালিকায় ইরানকে রাখা হয়নি।

এর মধ্যে গত রোববার পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামের সঙ্গে বৈঠক করেন ঢাকার সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত দূতাবাসের প্রতিনিধিরা।

ওইদিন বিকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, ওই অঞ্চলের কয়েকটি দেশের ‘সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘনের’ নিন্দা জানাচ্ছে বাংলাদেশ; যার মধ্যে রয়েছে, বাহরাইন, ইরাক, জর্ডান, কুয়েত, কাতার, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।


ফাল্গুনের মাঝামাঝিতে মৌসুমের প্রথম বৃষ্টির দেখা মিলল রাজধানীতে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ফাল্গুনের মাঝামাঝিতে এসে মৌসুমের প্রথম বৃষ্টির দেখা মিলল রাজধানীতে। সোমবার (২ মার্চ) সকাল থেকেই ঢাকার আকাশ কিছুটা মেঘলা ছিল। দুপুর সোয়া ৩টার দিকে এক-দুই ফোঁটা করে ঝরতে থাকা বৃষ্টি হঠাৎ করে ঝুম বর্ষণে রূপ নেয়। হঠাৎ বৃষ্টিতে সড়কে থাকা পথচারী আর যাত্রীরা আটকা পড়েন। কেউ-কেউ আশ্রয় নেন সড়কের পাশের অস্থায়ী দোকানের নিচে।

আবহাওয়াবিদ মো. তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, এটা ঢাকা শহরের জন্য মৌসুমের প্রথম বৃষ্টি। ঢাকা ছাড়াও খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এসব বিভাগগুলোতে বৃষ্টিপাত হয়েছে কি না সে তথ্য এখন আমাদের কাছে এসে পৌঁছায়নি। ঢাকায় কত মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে সে তথ্য এখনো জানা যায়নি।

চলতি মার্চ মাসের দীর্ঘমেয়াদী আবহাওয়ার পূর্বাভাসে অধিদপ্তর জানিয়েছিল, মার্চে দেশে স্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা আছে। তবে বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় বা নিম্নচাপ সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এছাড়া, এ মাসে দেশে ২ থেকে ৩ দিন বজ্র ও শিলাবৃষ্টিসহ হালকা বা মাঝারি ধরণের এবং ১ থেকে ২ দিন তীব্র কালবৈশাখী ঝড় হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের সোমবার সকালের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে। মৌসুমের স্বাভাবিক লঘুচাপ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগরে অবস্থান করছে, এর বর্ধিতাংশ উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।

বুলেটিনে বলা হয়েছে, সোমবার (২ মার্চ) সকাল ৯টা থেকে ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের দুয়েক জায়গায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র আংশিক মেঘলা আকাশসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

এই সময়ে সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।

গেল ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল কুষ্টিয়ার কুমারখালিতে ৩৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস; আর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল রংপুরে, ১৬ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।


হরমুজ প্রণালী বন্ধ হলেও আপাতত বাংলাদেশের চিন্তার কিছু নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হলেও বাংলাদেশের চিন্তার কোনো কারণ নেই বলে মন্তব্য করে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, দুই-চারদিনের মধ্যে এই সংঘাতের সমাধান ঘটলে জ্বালানিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে বাংলাদেশের আশঙ্কার কিছু নেই।

সোমবার (২ মার্চ) সচিবালয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে আজকের দিনে, এই মুহূর্তে আমাদের চিন্তার কোনো কারণ নেই। আমরা দেখছি, পরিস্থিতি কোনদিকে যায়।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হলে জাহাজগুলোকে আফ্রিকার উত্তমাশা অন্তরীণ ঘুরে আসতে হয়। সেক্ষেত্রে জাহাজ ভাড়া বেড়ে যায়, যার প্রভাবে সব পণ্যের দাম বাড়ে।

তবে এ ধরনের কোনো পরিস্থিতি আমাদের এখনো তৈরি হয়নি, যোগ করেন তিনি।


সংবিধান অনুযায়ী সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, সংবিধান অনুসারেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেবেন। সোমবার (২ মার্চ) সচিবালয় থেকে বের হওয়ার সময় গণমাধ্যমে এ মন্তব্য করেছেন তিনি।

জাতীয় সংসদে বিরোধী দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ডেপুটি স্পিকারের পদ দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রস্তাব দিয়েছে- এ প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পুনরায় উল্লেখ করেন, সংসদের কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে সংবিধান মেনেই পরিচালিত হবে এবং প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ তারই অংশ।

তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যরা জাতীয় সংসদে অংশ নিতে পারেন না; কেবল নির্বাচিত সংসদ সদস্যরাই সংসদে অংশগ্রহণের অধিকার রাখেন।

সংবিধান সংস্কার ইস্যুতে চলমান রাজনৈতিক আলোচনা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিকভাবে মতামত দেওয়ার সুযোগ থাকলেও অসাংবিধানিক কোনো বিষয় জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা যাবে না।

তিনি আরও জানান, গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রয়োজন হলে তা জাতীয় সংসদে আলোচনা সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। এ জন্য সংবিধান সংশোধনী আনতে হবে এবং তা পাস হওয়ার পরই সংস্কার পরিষদ গঠনের প্রক্রিয়া, শপথ ও অন্যান্য বিষয় চূড়ান্ত করা সম্ভব হবে।


থানায় সেবা নিতে আসা মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে হবে: আইজিপি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেছেন, থানায় সেবা নিতে আসা মানুষের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করতে হবে, যাতে তারা থানা থেকে হাসিমুখে ফিরতে পারেন। মানুষের সঙ্গে সদাচরণ করে তাদের আস্থা অর্জনের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি বাড়াতে সচেষ্ট থাকতে হবে। আর নিরপরাধ মানুষকে কোনোভাবেই হয়রানি করা যাবে না। সোমবার (২ মার্চ) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স থেকে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সব জেলার পুলিশ সুপারদের সঙ্গে আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত মতবিনিময়কালে এ নির্দেশনা প্রদান করেন আইজিপি।

চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণের জন্য মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের কড়া বার্তা দিয়ে মতবিনিময়সভায় আইজিপি বলেন, মহাসড়কে চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও ডাকাতি বন্ধ করতে হবে। এক্ষেত্রে হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি জেলা পুলিশকেও মহাসড়কে তৎপরতা বাড়াতে হবে।

আসন্ন ঈদে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন করার নির্দেশনা দিয়ে পুলিশপ্রধান বলেন, ঈদে যানজট রোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যাত্রীদের নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছানো এবং ফিরে আসা নিশ্চিত করতে হবে।

তিনি ঐক্যবদ্ধভাবে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য জেলা পুলিশ সুপারদের প্রতি আহ্বান জানান।

এ সময় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের সংশ্লিষ্ট অতিরিক্ত আইজিগণসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


জীবননগরে গাছে গাছে শোভা পাচ্ছে সজনে ফুল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি

শীতের শেষে বসন্তের আগমনে বাংলার প্রকৃতিতে গাছে গাছে শোভা ছড়াচ্ছে সজনে ফুল। ডালে ডালে থোকায় থোকায় ঝুলে থাকা এই ফুল গ্রামীণ প্রকৃতির সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার পাশাপাশি এর পুষ্টিগুণও অপরিসীম। এই ফুলগুলো জীবননগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের পথে-প্রান্তরে এক মনোরম দৃশ্য তৈরি করেছে এবং প্রকৃতিতে ভিন্ন রঙ ছড়িয়ে দিচ্ছে।শুধু প্রকৃতিতে ভিন্ন রঙ ছড়িয়ে দিচ্ছেনা, বরং উচ্চ পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ এবং ভেষজ গুণসম্পন্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভিদ, যা স্থানীয়ভাবে সুস্বাদু সবজি হিসেবেও ব্যাপক জনপ্রিয় ।

জীবননগর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের আনাচে-কানাচে, রাস্তার পাশে এবং বসতবাড়ির আঙিনায় সজনে গাছে সাদা ও হলুদাভ ফুলে ছেয়ে গেছে, যা প্রকৃতির এক অপরূপ সৌন্দর্য তৈরি করেছে। সজনে গাছ সম্পূর্ন বিনা পরিচর্চায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়, বিভিন্ন বাড়িতে, পরিত্যক্ত জায়গায়, অনাবাদি জায়গায় সজনে গাছ রয়েছে। এছাড়া কিছু এলাকায় সজনে ফুলের সৌন্দর্যে প্রকৃতি রঙিন হয়ে উঠেছে। সজনে ফুলের নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে মুগ্ধ স্থানীয় বাসিন্দারাও। অনেকেই সকাল-বিকেল হাঁটার সময় বা সড়কে যাতায়াতের সময় সজনে ফুল দেখে থমকে দাঁড়িয়ে উপভোগ করছেন চোখজুড়ানো এই প্রাকৃতিক শোভা। গাছের নিচে পড়ে থাকা ঝরা ফুল কুড়িয়ে নিচ্ছেন শিশু-কিশোররা।

জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃর্ষিবিদ মো আলমগীর হোসেন বলেন, সজনে একটি ঔষধি গাছ। এর বৈজ্ঞানিক নাম মরিঙ্গা ওলিফেরা। এটি মরিঙ্গাসিয়া পরিবারের মরিঙ্গা গণের একটি গাছ। এটি খরা সহিষ্ণু ও গ্রীষ্মপ্রধান অঞ্চলের একটি উদ্ভিদ। মাঝারি আকারের এই গাছে থোকায় থোকায় ফুল ফোটে। সজনের কাঁচা লম্বা ফল সবজি হিসেবে খাওয়া হয় এবং এর পাতা শাক হিসেবে খাওয়া হয়। এটি ডাল ও বীজের মাধ্যমে বংশবিস্তার করলেও আমাদের দেশে সাধারণত ডালের মাধ্যমে বা অঙ্গজ প্রজননের মাধ্যমে এটির বংশবিস্তার করানো হয়।

সজনে ফুলেরও ঔষধি গুণাগুণ রয়েছে। সজনে ফুলে আছে এমন ওষুধি গুণ যা ব্যাকটেরিয়ার সঙ্গে লড়াই করার ক্ষমতা রাখে। এছাড়াও এই ফুলে আছে ভরপুর পুষ্টিগুণ যা নানা রোগ প্রতিরোধে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। এর ফল শরীরে প্রোটিনের জোগান দেয়। এই গাছের বিভিন্ন অংশে আছে ভিটামিন এ, বি১, বি২, বি৩, ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, আয়রন, ম্যাগনেশিয়ামের মতো উপকারী উপাদান।

কৃষিবিদ কামাল উদ্দিন মোল্লা বলেন, প্রকৃতিতে ফোটা এই সজনে ফুলের সৌন্দর্যের পাশাপাশি এ গাছ একটি উপকারী ভেষজ। সজনের ডাটা পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ গাছ। সজনের ডাটার বাজারে যেমন চাহিদা থাকে আবর দাম ও ভালো। এর পাতা, ফল ও ফুল স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এটি খুব পরিচিত একটি গাছ।


banner close