বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

প্রার্থী বেশি,প্রতিদ্বন্দ্বী কম

ফাইল ছবি
আপডেটেড
২ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০০:১৪
তানজিমুল নয়ন
প্রকাশিত
তানজিমুল নয়ন
প্রকাশিত : ২ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০০:০০

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ২ হাজার ৭১৩ জন প্রার্থী। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে নিবন্ধিত ৪৪টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩২টি দল। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন ৭৪৭ জন। সে হিসাবে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রত্যয়নপত্র নিয়ে নির্বাচনে উপস্থিত ১৯৬৬ জন প্রার্থী। আর স্বতন্ত্রদের মধ্যে অন্তত ৪০০ জন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন। তবে সাধারণ মানুষের অভিযোগ, নির্বাচনে আসা বড় দল আওয়ামী লীগের মূল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বাইরে অন্যদলগুলোর বেশির ভাগ প্রার্থীই আসনগুলোর মানুষের কাছে অচেনা। প্রায় প্রতিটি আসনেই নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন এমন অনেক অচেনা মুখ যাদের প্রার্থিতা পেতে সমস্যা না হলেও নির্বাচনী লড়াইয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে পরিচিত হতেই পার হয়ে যাবে প্রচারণার বেশির ভাগ সময়। ফলে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, নির্বাচনে প্রার্থী আছে অনেক বেশি, কিন্তু, প্রতিদ্বন্দ্বী কম।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ৩০০ আসনের বিপরীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের (নৌকা) ৩০৩ জন, জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল) ৩০৪ জন, জাকের পার্টি (গোলাপ ফুল) ২১৮ জন, তৃণমূল বিএনপি (সোনালী আঁশ) ১৫১ জন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি- এনপিপি (আম) ১৪২ জন, বাংলাদেশ কংগ্রেস (ডাব) ১১৬ জন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ (মশাল) ৯১ জন, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন (ফুলের মালা) ৪৭ জন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন (বটগাছ) ১৩ জন, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি (হাতঘড়ি) ১৮ জন, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ (চেয়ার) ৩৯ জন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (কাঁঠাল) ১৩ জন, গণফ্রন্ট (মাছ) ২৫ জন, গণফোরাম (উদীয়মান সূর্য) ৯ জন, ইসলামী ঐক্যজোট (মিনার) ৪৫ জন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট (মোমবাতি) ৩৭ জন, জাতীয় পার্টি-জেপি (বাইসাইকেল) ২০ জন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ (গামছা) ৩৪ জন, গণতন্ত্রী পার্টি (কবুতর) ১২ জন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (হাতুড়ি) ৩৩ জন, বিকল্পধারা বাংলাদেশ (কুলা) ১৪ জন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (একতারা) ৮২ জন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন-বিএনএম (নোঙর) ৪৯ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট- বিএনএফ (টেলিভিশন) ৫৫ জন, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (ছড়ি) ৭৪ জন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ- বিএমএল (হাত-পাঞ্জা) ৫ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি- ন্যাপ (কুঁড়েঘর) ৬ জন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মই) একজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (রিকশা) একজন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ (খেজুর গাছ) একজন এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (হারিকেন) দুইজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

এদিকে মনোনয়ন জমার শেষ দিনেই ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম জানিয়েছেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিলের সময়সীমা বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। ফলে বিএনপিসহ যে দলগুলো নির্বাচন বর্জন করেছে তাদের আর মত পাল্টে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসার দৃশ্যমান কোনো সুযোগ নেই। আন্দোলনরত দলগুলোও অবশ্য আগেই এ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতি দিয়েছে।

ফলে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর যাচাই-বাছাই শেষে যেসব প্রার্থী টিকে যাবেন তারাই থাকবেন নির্বাচনী দৌড়ে। তবে প্রতিটি আসনে ভোটের লড়াইয়ে যারা যাচ্ছেন তাদের বেশির ভাগেরই দলের নাম সাধারণ মানুষ জানে না। আর দল অচেনা বলে প্রার্থীরাও অচেনা। ফলে তাদের ধারণা নির্বাচনী লড়াইয়ে আসলে টিকে থাকবেন বড় দলের পরিচিত মুখগুলো। এর মধ্যে শাসক দলের মার্কা নিয়ে লড়াই করা প্রার্থীরা যেমন আলোচনায় থাকবেন, তেমনই অনেক আসনেই তাদের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমাতে পারেন নির্বাচনে আসা আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। কেননা, দলটির স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বেশির ভাগই স্থানীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত এবং তাদের মোটামুটি ভোট ব্যাংক অথবা এলাকাবাসীকে প্রভাবিত করার সক্ষমতা রয়েছে। নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া ৭৪৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে অন্তত ৪০০ জনই আওয়ামী লীগের।
যদিও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গত কয়েক দিনের মতো গতকালও বলেছেন, দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ঢালাওভাবে নির্বাচন করতে পারবেন না। এ ছাড়া ১৪-দলীয় জোটের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির সম্ভাবনা রয়েছে আওয়ামী লীগের। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন, নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আসতে পারবেন জোটের এমন প্রার্থীরাই কেবল থাকবেন বিবেচনায়। আর ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করে তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এর ফলে এটা স্পষ্ট যে, জোটের সঙ্গে সমঝোতা হলে কয়েকটি আসনে আওয়ামী লীগ যাদের মনোনয়ন দিয়েছে তাদেরও রণে ভঙ্গ দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে হবে।

তবে আওয়ামী লীগ সভাপতি নির্বাচনী কৌশল হিসেবে এবার দলীয় মার্কার বাইরে দলীয় প্রার্থীদের স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড়ানোর সুযোগ দেয়ায় নির্বাচনে আসা প্রার্থীদের কতজন আবার দল চাইলে নির্দেশ মেনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন সেটাও আছে দেখার বিষয়।

তবে এই আলোচনার বাইরে থেকে যাচ্ছে বেশির ভাগ প্রার্থী যারা বিভিন্ন দল থেকে নির্বাচনে এলেও জনগণের কাছে নিজের দল, দলীয় প্রতীক এবং নিজের পরিচয় প্রকাশ করার সুযোগ পাবেন। তবে প্রতিটি আসনে স্থানীয় ভোটারদের কাছে তারা এখনো অচেনা এবং নতুন মুখ হিসেবে বিবেচিত।

যেমন দল হিসেবে এবারই প্রথম নির্বাচন করছে তৃণমূল বিএনপি, বিএনএম, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি। এসব দলের বেশির ভাগ প্রার্থী নিজ নিজ এলাকার ভোটারদের কাছে নতুন পরিচয়ে উপস্থিত হবেন। অনেকে আবার খুব বেশি পরিচিত নন। একইভাবে তাদের নির্বাচনী প্রতীক যথাক্রমে সোনালী আঁশ, নোঙর ও একতারা চেনাতেও এবার তাদের বিশেষ প্রস্তুতি নিতে হবে।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনএমের প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য আছেন ৬ জন এবং তৃণমূলের প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য আছেন ৫ জন।

এদিকে, গতকাল আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর কাদের বলেছেন, বিএনপির ১৫ কেন্দ্রীয় নেতাসহ সাবেক ৩০ জন সংসদ সদস্য নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এদের মধ্যে কাদের সিদ্দিকী, লতিফ সিদ্দিকী, আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর মতো নেতাও আছেন। আবার আগে বিএনপিতে প্রভাব ছিল দলটির এমন সাবেক নেতারাও আছেন নির্বাচনে। এদের মধ্যে তৈমূর আলম, সমশের মবিন চৌধুরীর নাম উল্লেখযোগ্য।

তবে এদের বাইরে নির্বাচনের মাঠে থাকা বেশির ভাগ প্রার্থীই অচেনা। এ বিষয়ে গাজীপুর-৪ আসনের একজন প্রার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমার দল এলাকায় তেমন পরিচিত নয়। দলের প্রচার চালাতে ও এলাকার মানুষের কাছে নিজের পরিচয় তুলে ধরতে এবার ভোট করতে আসা। আমিও জানি নির্বাচনে জয়লাভ করার অবস্থান এখনো আমার বা আমার দলের তৈরি হয়নি। তবে এক দিনে তো কিছুই হয় না। আমাদের দলের আদর্শ ও কর্মসূচি দেশের মানুষ ও এলাকার মানুষকে জানাতে আমরা নির্বাচনে এসেছি।’

অন্যদিকে লালমনিরহাট-৩ আসনে মনোনয়ন জমা দেয়া প্রার্থীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই সদর আসনে ৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সদ্য পদত্যাগকারী সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জাবেদ হোসেন বক্কর, জাতীয় পার্টি থেকে জাহিদ হাসান, তৃণমূল বিএনপি থেকে শামীম আহম্মেদ চৌধুরী, জাকের পার্টি থেকে সকিউজ্জামান মিয়া, বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল থেকে আশরাফুল আলম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) থেকে আবু তৈয়ব মো. আজমুল হক পাটোয়ারী, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) থেকে শ্রী হরিশ চন্দ্র রায় মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তবে এবার তিনি এ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেননি। ফলে এ আসনে নির্বাচনে অংশ নেয়া সব প্রার্থীই নতুন এবং নতুন একজন সংসদ সদস্য পাবে লালমনিরহাট সদরবাসী। তবে নতুন হলেও জেলা ও শহরের রাজনীতিতে পুরনো মুখ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান। ছাত্ররাজনীতি করায় জাবেদ হোসেন বক্করও সেখানে পরিচিত মুখ। জাকের পার্টি ও জাসদের প্রার্থীকেও অনেকে চেনেন। তবে সাম্যবাদী দল, এনপিপির প্রার্থীর মতো জাতীয় পার্টির প্রার্থীও এলাকার সবার চেনা মুখ নন। ফলে যে আসন থেকে জাতীয় পার্টি বর্তমান সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছে সেখানে নতুন মুখ দেয়ায় মাঠের রাজনীতিতে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন এলাকার অনেক বাসিন্দা।

বিষয়টা আরও স্পষ্ট হয় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনার ৬টি আসন বিশ্লেষণ করলে। দৈনিক বাংলার খুলনা ব্যুরো জানায়, খুলনার এই ৬টি আসনের জন্য সেখানে ৫৩ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে যারা সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচন করবেন, তাদের অধিকাংশেরই রাজনীতিতে তেমন কোনো পরিচিতি নেই। হঠাৎ করেই তারা কেন সংসদ নির্বাচনে আগ্রহী হলেন, এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে উত্তরও দেননি অধিকাংশ প্রার্থী।

খুলনা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের মনোনীত ৬ জন প্রার্থী, আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র ২ জন এবং জাতীয় পার্টির একজন প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচিতি রয়েছে। বাকি ৪৪ জন প্রার্থী কখনো রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয় ছিলেন না।

খুলনা প্রতিনিধির বিশ্লেষণ অনুযায়ী খুলনা-১ আসনের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ৬ জন। তারা হলেন, জাকের পার্টির মো. আজিজুর রহমান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ননী গোপাল মণ্ডল, জাতীয় পার্টির কাজী হাসানুর রশিদ, তৃণমূল বিএনপির গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রশান্ত কুমার রায় ও আবেদ আলী শেখ।

এদের মধ্যে ননী গোপাল মণ্ডল ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। রাজনীতিতে তার পরিচিতি রয়েছে। তবে বাকি চারজন রাজনীতিতে একেবারেই অপরিচিত। তারা প্রত্যেকেই এবার প্রথম সংসদ নির্বাচন করছেন। এদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রশান্ত কুমার রায় পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সাবেক সচিব।

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আমি নির্বাচন করছি। আমাকে ডামি প্রার্থীও বলা যাবে। এটা দলীয় নির্দেশেই হচ্ছে।’
আওয়ামী লীগের ননী গোপাল মণ্ডল বলেন, ‘দল আমাকে আবারও সুযোগ দিয়েছে। আমি দলের সম্মান রাখব বলে আশাবাদী।’

তবে বাকি চার প্রার্থীর তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই। জাতীয় পার্টীর কাজী হাসানুর রশিদ ও তৃণমূল বিএনপির গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিকের কাছে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেও কোনো উত্তর মেলেনি।

আর জাকের পার্টি মো. আজিজুর রহমান বলেন, ‘দল থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে বলেছে, তাই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি।’

অন্যদিকে খুলনা-২ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৯ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল, গণতন্ত্র পার্টির মো. মতিয়ার রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের দেবদাস সরকার, জাকের পার্টির ফরিদা পারভিন, ইসলামী ঐক্যজোটের হিদায়েতুল্লাহ, জাতীয় পার্টির মো. গাউসুল আজম, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের বাবু কুমার রায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সাঈদুর রহমান।

এদের মধ্যে শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থীর রাজনৈতিকভাবে পরিচিতি রয়েছে। তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। তবে বাকিদের আগে কখনো রাজনৈতিক মাঠে দেখা যায়নি।

কেন প্রার্থী হয়েছেন- এমন প্রশ্নে বাংলাদেশ কংগ্রেসের দেবদাস সরকার বলেন, ‘অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে মনোনয়ন জমা দেয়া হচ্ছে, তাই আমরাও দিচ্ছি।’

খুলনা-৩ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৫ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের এস এম কামাল হোসেন, জাকের পার্টির এস এম সাব্বির হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, স্বতন্ত্র প্রার্থী কাইজার আহমেদ ও ফাতেমা জামান সাথী।

এদের মধ্যেও শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচিতি রয়েছে। তিনি দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। তিন বারের সংসদ সদস্য ও দুই বারের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানকে সরিয়ে তাকেই আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিয়েছে। তবে ওই আসনেরও বাকি চারজনের তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই।

খুলনা-৪ আসন থেকে মনোনয়ন নিয়েছেন ১৪ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের আব্দুস সালাম মূর্শেদী, জাকের পার্টির শেখ আনছার আলী, জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এস এম আজমল হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. ফরহাদ আহমেদ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. মোস্তাফিজুর রহমান, তৃণমূল বিএনপির শেখ হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মনিরা সুলতানা, ইসলামী ঐক্যজোটের রিয়াজ উদ্দীন খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জুয়েল রানা, এম ডি এহসানুল হক, মো. রেজভী আলম, এস এম মোর্ত্তজা রশিদী দারা, আতিকুর রহমান ও এইচ এম রওশান জমির।

এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের আব্দুস সালাম মূর্শেদী বর্তমান সংসদ সদস্য। ২০১৮ সালের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে তিনি জয়ী হয়েছিলেন।

এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম মোর্ত্তজা রশিদী দারার দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস রয়েছে। তিনি ওই আসনের তিন বারের সাবেক সংসদ সদস্য এস এম মোস্তফা রশিদী সুজার আপন ভাই।

তিনি বলেন, এলাকার মানুষের দোয়া নিয়ে মাঠে নেমেছি। জয়-পরাজয় এলাকার মানুষই নির্ধারণ করবেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই আসনে আওয়ামী লীগের এই দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এলাকার ভোটাররা বলছেন, বাকি ১২ জন প্রার্থীদের নাম খুব একটা শোনেননি তারা। কেউ কেউ একেবারেই অপরিচিত।

খুলনা-৫ আসনের জন্য মনোনয় জমা দিয়েছেন ৭ জন। তারা হলেন- জাতীয় পার্টির মো. শহীদ আলম, জাকের পার্টির সামাদ সেখ, আওয়ামী লীগের নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, ওয়ার্কার্স পার্টির শেখ সেলিম আকতার, বাংলাদেশ কংগ্রেসের এস এম এ জলিল, ইসলামী ঐক্যজোটের তরিকুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ আকরাম হোসেন।

এদের মধ্যে নারায়ণ চন্দ্র চন্দ একাধিক বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী। এ ছাড়া আকরাম হোসেন ফুলতলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। এই আসনেও আওয়ামী লীগের এই দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ভোটাররা। বাকি যারা প্রার্থী হয়েছেন এলাকার রাজনীতিতে তাদের তেমন কোনো পরিচিতি নেই বলে জানা গেছে।

খুলনা-৬ আসনের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ১২ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের মো. রশীদুজ্জামান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. আবু সুফিয়ান, জাকের পার্টির শেখ মর্তুজা আল মামুন, জাতীয় পার্টির মো. শফিকুল ইসলাম মধু, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মির্জা গোলাম আজম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এস এম নেওয়াজ মোরশেদ, তৃণমূল বিএনপির গাজী নাদীর উদ্দীন খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম রাজু, গাজী মোস্তফা কামাল, জি এম মাহবুবুল আলম, মো. মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর ও মো. অহিদুজ্জামান মোড়ল।

এদের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত মো. রশীদুজ্জামানের কোনো দলীয় পদ নেই। তিনি একসময় পাইকগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্যসচিব ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে জামানত হারিয়েছিলেন। তবে তাকেই মনোনয়ন দিয়ে চমক সৃষ্টি করেছে ক্ষমতাসীন দল। ওই আসনে রাজনৈতিকভাবে পরিচিত রয়েছে জাতীয় পার্টির মো. শফিকুল ইসলাম মধুর। তিনি আগেও খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। বাকি প্রার্থীদের তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই। এলাকার সবার কাছে পরিচিত মুখও নন অনেকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশির ভাগ আসনেই ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীদের স্থানীয়রা তেমন একটা চেনেন না। তবে বিরোধীদের এক অংশ নির্বাচন বর্জন করায় রাজনীতির নতুন সমীকরণ মেলাতে ছোট দলগুলোই নির্বাচনে হতে যাচ্ছে বড় দলগুলোর সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনীযুদ্ধ পার হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী।

জাসদের মাঠপর্যায়ের এক রাজনীতিবিদ জসিম মণ্ডল বলেন, ‘নির্বাচন একটা বড় খেলা। এখানে সবাই নামে নিজ নিজ সমীকরণ মেলানোর জন্য। রাজনৈতিক দলগুলোর সমীকরণ হয় এক ধরনের, আবার প্রার্থীর সমীকরণ হয় আরেক ধরনের। সবাই নির্বাচনে জয়ী হতে যেমন অংশ নেয় না তেমনই কেউ কেউ নির্বাচনে যায় অন্যের যাত্রা ভঙ্গ করতে। আবার অনেকের কাছে ‘নির্বাচনে অংশগ্রহণই বড় কথা।’ জয়-পরাজয়ের চেয়েও বড় বিষয় এ সময় পোস্টারিং করে নিজের ছবি ও পরিচিতি পুরো এলাকার মানুষকে দেখানো যায়। এটাও বা কম কিসে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দেশের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষেরই আছে নির্বাচনে দাঁড়ানোর অধিকার। তাই কটা টাকা খরচ করে অনেকেই পরিচিতি বাড়ানোর সুযোগ নেয়। এর ফল তো অসীম-সারাজীবন নানাভাবে এর সুফল মেলে। যারা রাজনীতিতে আছেন, কেবল তারাই বোঝেন নির্বাচনে অংশ নিতে পারার গুরুত্ব।


জাতীয় মেধা ও মননের প্রতিচ্ছবি হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে বইমেলা

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৬:০৪
অনলাইন ডেস্ক

বইমেলা জাতীয় মেধা ও মননের প্রতিচ্ছবি হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। এর আগে বিকেল সোয়া ৩টার দিকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন করেন।

তিন দফা তারিখ পরিবর্তন এবং প্রকাশকদের বিভিন্ন দাবি ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত বইপ্রেমীদের জন্য প্রস্তুত হয়েছে বর্ণিল সাংস্কৃতিক আয়োজন।

পবিত্র মাহে রমজানকে সামনে রেখে মেলা ঘিরে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে।


জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের নতুন প্রার্থী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান

আপডেটেড ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৪:৩৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) আসন্ন নির্বাচনে সভাপতি পদের জন্য নিজেদের প্রার্থী পরিবর্তন করেছে বাংলাদেশ। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মনোনীত প্রার্থী সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের পরিবর্তে বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে এই পদের জন্য নতুন প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করেছে নবনির্বাচিত সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতিমধ্যে ড. খলিলুর রহমানের প্রার্থিতার বিষয়ে সবুজ সংকেত দিয়েছেন এবং খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রদান করা হবে।

আগামী জুন মাসে অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে এবার এশিয়া মহাদেশ থেকে সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার কথা রয়েছে। শুরুর দিকে এই পদের জন্য বাংলাদেশ ছাড়াও প্যালেস্টাইন ও সাইপ্রাস তাদের প্রার্থিতা ঘোষণা করেছিল। তবে কূটনৈতিক মহলের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে নিয়মিত রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্যালেস্টাইন তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন করে অন্য কোনো দেশ এই দৌড়ে শামিল না হলে সভাপতি পদের জন্য সাইপ্রাসের প্রার্থীর সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশের জন্য এই পদটি অত্যন্ত সম্মানজনক ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে ১৯৮৬-৮৭ মেয়াদে বাংলাদেশের প্রখ্যাত কূটনীতিক হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে দেশের জন্য গৌরব বয়ে এনেছিলেন। দীর্ঘ কয়েক দশক পর আবারও সেই গৌরব অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে ড. খলিলুর রহমানকে সামনে রেখে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে ঢাকা। নতুন সরকারের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুসংহত করার একটি বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। জুন মাসের এই নির্বাচনের দিকে এখন তাকিয়ে আছে দেশের কূটনৈতিক মহল।


শিল্প-সাহিত্য ও শিক্ষা চর্চায় রাজনীতিকীকরণ সভ্য সমাজের পরিচায়ক নয়: প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্তব্য করেছেন যে, শিক্ষা-গবেষণা এবং শিল্প-সাহিত্য চর্চাকে রাজনীতিকীকরণ করা কখনোই একটি সভ্য সমাজের পরিচায়ক হতে পারে না। বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত ‘একুশে পদক ২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, নৈতিক মানসম্পন্ন একটি উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে, যাতে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, সাহিত্য ও শিল্পকলার প্রতিটি শাখায় দেশ বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে। এই অগ্রযাত্রায় তিনি দেশের বিজ্ঞজনদের গঠনমূলক দিকনির্দেশনা প্রত্যাশা করেন।

একুশে পদকের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এই রাষ্ট্রীয় পদক প্রবর্তন করেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, একুশে পদক কেবল একটি সম্মাননা নয়, বরং এটি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনসহ দেশের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহাসিক ঘটনাবলির এক অনন্য স্বীকৃতি। শিক্ষা, সাহিত্য ও গবেষণায় অবদান রাখা ব্যক্তিদের সমাজের সামনে যথাযথভাবে তুলে ধরার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ১৯৭৬ সালে মাত্র তিনটি ক্ষেত্রে পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে এই যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে ১২টি ক্ষেত্রে গুণীজনদের স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে, যা দেশের জন্য একটি বিশাল ইতিবাচক অর্জন।

জাতীয় ইতিহাসে ফেব্রুয়ারি মাসের তাৎপর্য বর্ণনা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই মাস আমাদের আত্মপরিচয় উপলব্ধির মাস এবং আমাদের সংস্কৃতিচেতনার প্রাণপ্রবাহ। তিনি একুশে ফেব্রুয়ারিকে একদিকে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার সংগ্রাম এবং অন্যদিকে অধিকার আদায়ের আন্দোলনের এক অনন্য স্মারক হিসেবে অভিহিত করেন। ভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর অতিক্রম করে ৭৫ বছরে পদার্পণের এই মুহূর্তে তিনি সকল ভাষাশহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিল্প-সাহিত্য চর্চার ধারাকে আরও বিকশিত করতে রাষ্ট্র ও সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

পরিশেষে প্রধানমন্ত্রী এ বছর একুশে পদকে ভূষিত হওয়া সকল জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিত্ব ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি গুণীজনদের সৃজনমুখর জীবনের দীর্ঘায়ু ও কল্যাণ কামনা করেন। প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশের ভাষা ও সাহিত্য একদিন বিশ্বসাহিত্যের আঙিনায় উজ্জ্বল আলো ছড়াবে। গুণীজনদের কর্মময় জীবনের সঙ্গে আপামর জনসাধারণের পরিচয় করিয়ে দেওয়াকে তিনি রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন এবং একটি মেধাভিত্তিক সমাজ গঠনে সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণ কামনা করেন।


একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় খালাস পেলেন আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত খান আকরাম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত খান আকরাম হোসেনকে খালাস দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত একটি বেঞ্চ দীর্ঘ শুনানি শেষে এই চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন। আদালতের এই আদেশের ফলে দীর্ঘ এক দশকের আইনি লড়াইয়ের পর অভিযোগ থেকে মুক্তি পেতে যাচ্ছেন বাগেরহাটের এই বাসিন্দা।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। এর আগে গত বুধবার খান আকরাম হোসেনের আপিলের ওপর শুনানি শেষ করে রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিনটি ধার্য করেছিলেন আদালত। আপিল বিভাগের এই আদেশের মাধ্যমে ২০১৫ সালে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া দণ্ডাদেশ বাতিল হয়ে গেল।

মামলার প্রেক্ষাপট থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১১ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ বাগেরহাটের তিন আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেছিলেন। সেই রায়ে প্রধান আসামি শেখ সিরাজুল হক ওরফে সিরাজ মাস্টারকে পাঁচটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়। অন্যদিকে, খান মো. আকরাম হোসেনের বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগের মধ্যে একটি প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। মামলার অপর আসামি আব্দুল লতিফ তালুকদার বিচার চলাকালীন কারাগারে মৃত্যুবরণ করায় তাঁকে আসামির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।

ট্রাইব্যুনালের সেই রায়ে সংক্ষুব্ধ হয়ে দণ্ড থেকে খালাস চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেছিলেন খান আকরাম হোসেন। দীর্ঘ সময় পর আপিল বিভাগ তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো পুনর্বিবেচনা করে তাঁকে নির্দোষ হিসেবে খালাস দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। তবে মামলার প্রধান আসামি সিরাজ মাস্টারের মৃত্যুদণ্ডের আদেশটি বহাল রয়েছে। এই রায়ের মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের ইতিহাসে একটি দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার সমাপ্তি ঘটল।


মন্ত্রিপরিষদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বেলা পৌনে ১১টার দিকে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে সচিবালয় থেকে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে যান প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা ছাড়াও মন্ত্রিসভার সদস্য, পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং আমন্ত্রিত বিশিষ্ট অতিথিরা উপস্থিত রয়েছেন।

এবার দেশের ৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে ‘একুশে পদক-২০২৬’ প্রদান করা হবে।

এরপর দুপুর ২টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে এ মেলা চলবে আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানজুড়ে এরই মধ্যে শেষ হয়েছে সার্বিক প্রস্তুতি।


বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগদান করেছেন নতুন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেছেন মো. মোস্তাকুর রহমান। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল পৌনে ১০টার দিকে তিনি মতিঝিলস্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে পৌঁছালে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। দেশের ১৪তম গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ নেতৃত্বের হাল ধরলেন। এর আগে গত বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁকে আগামী চার বছরের জন্য এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। একই দিনে পূর্ববর্তী গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে সরকার।

নিয়োগের শর্তানুযায়ী, মো. মোস্তাকুর রহমানকে অন্যান্য সব প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক ত্যাগ করে এই গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করতে হয়েছে। তিনি সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির শর্ত অনুযায়ী বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। পেশাগত জীবনে ৩৩ বছরেরও বেশি সময়ের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এই কর্মকর্তা দেশের আর্থিক ও শিল্প খাতের একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে সুপরিচিত। কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট (সিএমএ) মোস্তাকুর রহমান করপোরেট ফাইন্যান্স, রপ্তানি, অর্থনীতি, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন।

শিক্ষাজীবনে মো. মোস্তাকুর রহমান ১৯৮৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএমএবি) একজন ফেলো সদস্য। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই শীর্ষ পদে আসার আগে তিনি চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। আর্থিক খাতের গভীর জ্ঞান এবং নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখবেন বলে আশা করা হচ্ছে। জনস্বার্থে জারি করা এই নিয়োগ আদেশ তাঁর যোগদানের তারিখ থেকেই কার্যকর হয়েছে।


গুণীজনদের হাতে একুশে পদক তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১২:৩২
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য ও গৌরবোজ্জ্বল অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং একটি প্রতিষ্ঠানের হাতে রাষ্ট্রের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘একুশে পদক ২০২৬’ তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে তিনি এই সম্মাননা প্রদান করেন। উল্লেখ্য, এদিন প্রধানমন্ত্রী সচিবালয় থেকে হেঁটে অনুষ্ঠানস্থল ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে পৌঁছান।

এ বছর শিল্পকলা, শিক্ষা, স্থাপত্য ও সাংবাদিকতাসহ নানা ক্ষেত্রে অবদানের জন্য গুণীজনদের এই পদকে ভূষিত করা হয়েছে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের তালিকা অনুযায়ী, অভিনয় বিভাগে পদক পেয়েছেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী ফরিদা আক্তার ববিতা। সংগীতে মরণোত্তর সম্মাননা জানানো হয়েছে প্রয়াত গিটার জাদুকর আইয়ুব বাচ্চুকে। এছাড়া সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য প্রবীণ সাংবাদিক শফিক রেহমান এবং স্থাপত্যে বিশ্বখ্যাত স্থপতি মেরিনা তাবাসসুম এই গৌরবময় পদক লাভ করেছেন।

অন্যান্য ক্যাটাগরিতে পদকপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন চারুকলায় অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সাত্তার, নৃত্য বিভাগে অর্থী আহমেদ এবং পালাগানে ইসলাম উদ্দিন পালাকার। শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি পেয়েছেন অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আলম মজুমদার এবং ভাস্কর্যে তেজস হালদার জস। পাশাপাশি দেশের সংগীতাঙ্গনে দীর্ঘ চার দশকের যাত্রায় বিশেষ অবদানের জন্য জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘ওয়ারফেজ’কে প্রাতিষ্ঠানিক ক্যাটাগরিতে এবারের একুশে পদকে ভূষিত করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও তাঁদের প্রতিনিধিদের হাতে পদক, সম্মাননা সনদ ও চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় জীবনে অসামান্য অবদানের জন্য প্রতিবছর ভাষা আন্দোলনের মাস ফেব্রুয়ারিতে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়, যা গুণীজনদের প্রতি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ।


পূর্বানুমতি ছাড়া মেট্রোরেলে ভিডিও ও কনটেন্ট তৈরিতে নিষেধাজ্ঞা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মেট্রোরেল স্টেশন এবং ট্রেনের ভেতরে ব্যক্তিগত বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে সব ধরনের ভিডিও ধারণ ও কনটেন্ট তৈরির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ডিএমটিসিএলের পরিচালক (প্রশাসন) এ. কে. এম. খায়রুল আলম স্বাক্ষরিত এক সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে এই নতুন নির্দেশনার কথা জানানো হয়েছে। মূলত যাত্রীসাধারণের স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এখন থেকে মেট্রোরেলের স্টেশন এলাকা, প্ল্যাটফর্ম, কনকোর্স হল, প্রবেশ ও বহির্গমন পথ এবং ট্রেনের ভেতরে পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো ধরনের ভিডিও ধারণ বা প্রচার করা যাবে না। বিশেষ করে ইউটিউব বা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য শর্ট ভিডিও তৈরি, লাইভ স্ট্রিমিং এবং ব্যক্তিগত বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ফটোগ্রাফি ও শুটিংয়ের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হবে। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হলে বিদ্যমান আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

তবে যারা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে মেট্রোরেল এলাকায় শুটিং বা ফটোগ্রাফি করতে চান, তাদের জন্য নির্দিষ্ট পথ খোলা রাখা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাণিজ্যিক কাজের ক্ষেত্রে ‘বাণিজ্যিক স্পেস ভাড়া/ইজারা নীতিমালা ২০২৩’ অনুসরণ করতে হবে। এক্ষেত্রে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন করে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আগেভাগেই লিখিত অনুমতি সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে মেট্রোরেল প্রাঙ্গণে অপেশাদার কনটেন্ট নির্মাতাদের ভিড় বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ যাত্রীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছিল। অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছিল। কর্তৃপক্ষের এই নতুন পদক্ষেপের ফলে মেট্রোরেলে সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াত আরও নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এখন থেকে অনুমতি ছাড়া ক্যামেরা বা মোবাইল ফোন দিয়ে কোনো ধরনের কনটেন্ট তৈরির সুযোগ আর থাকছে না।


আজ শুরু হচ্ছে অমর একুশে বইমেলা, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবিজড়িত মাস ফেব্রুয়ারিতে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আজ পর্দা উঠছে ‘অমর একুশে বইমেলা ২০২৬’-এর। ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আয়োজিত এবারের মেলা দুপুর ২টায় আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজধানীর বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আয়োজিত এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এবং প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্তদের হাতে সম্মাননা তুলে দেবেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক এবং স্বাগত বক্তব্য রাখবেন একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম।

এবারের মেলায় রেকর্ড সংখ্যক ৫৪৯টি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে, যার মধ্যে একাডেমি প্রাঙ্গণে ৮১টি এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে ৪৬৮টি প্রতিষ্ঠানকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শিশুচত্বরে ৬৩টি এবং লিটল ম্যাগাজিন চত্বরে ৮৭টি স্টল থাকছে। সাধারণ দিনগুলোতে মেলা দুপুর ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকলেও ছুটির দিনগুলোতে বেলা ১১টা থেকেই দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। তবে নিরাপত্তার খাতিরে রাত সাড়ে ৮টার পর নতুন করে কাউকে মেলা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। পাঠকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে বরাবরের মতোই মেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনীগুলো নতুন বইয়ের ওপর ২৫ শতাংশ কমিশন দেবে।

মেলার সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক পরিবেশ বজায় রাখতে প্রতিদিন বেলা ৩টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মূলমঞ্চে বিষয়ভিত্তিক সেমিনার এবং বিকেল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। শিশু-কিশোরদের জন্য প্রতি শুক্র ও শনিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত থাকবে ‘শিশুপ্রহর’। এছাড়া এবার রমজান মাস বিবেচনায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে মেলায় আগত মুসল্লিদের জন্য তারাবির নামাজের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একই সাথে নতুন প্রকাশকদের উৎসাহিত করতে প্রথমবারের মতো প্রবর্তন করা হচ্ছে ‘সরদার জয়েনউদদীন স্মৃতি পুরস্কার’, যা গুণগত মান বিচারে সেরা নতুন প্রকাশনীকে দেওয়া হবে। পাশাপাশি মেলা শেষে চিত্তরঞ্জন সাহা, মুনীর চৌধুরী ও কাইয়ুম চৌধুরীসহ অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী স্মৃতি পুরস্কারগুলোও প্রদান করা হবে।

নিরাপত্তার বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) পক্ষ থেকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত কমিশনার মো. সরওয়ার জানিয়েছেন, মেলায় কোনো ধরনের ‘মব’ বা বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা নেই, তবে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ সর্বোচ্চ প্রস্তুতি রেখেছে। বিশেষ নজরদারি রাখা হবে উসকানিমূলক বা ধর্ম অবমাননাকর বইয়ের দিকেও। দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে মেলায় ব্রেস্টফিডিং কর্নার, প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র ও হারানো-প্রাপ্তি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। মেলা চলাকালীন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় যানজট নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ট্রাফিক নির্দেশনা জারি করা হয়েছে এবং মেলা প্রাঙ্গণকে পুরোপুরি পলিথিন ও ধূমপানমুক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। সব মিলিয়ে এক উৎসবমুখর এবং নিরাপদ পরিবেশে পাঠকদের বরণ করে নিতে প্রস্তুত একুশে বইমেলা।


বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের ৯০তম জন্মবার্ষিকী আজ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আজ ২৬ ফেব্রুয়ারি, বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের অন্যতম শ্রেষ্ঠ বীর সন্তান, বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখের ৯০তম জন্মবার্ষিকী। ১৯৩৬ সালের এই দিনে নড়াইল সদর উপজেলার মহিষখোলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন এই সাহসী যোদ্ধা। তাঁর স্মরণে এবং অসামান্য বীরত্বের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে প্রতিবছরের মতো এবারও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালন করা হচ্ছে।

নূর মোহাম্মদ শেখের শৈশব কেটেছে অত্যন্ত প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে। খুব অল্প বয়সেই তিনি তাঁর বাবা মোহাম্মদ আমানত শেখ ও মা জেন্নাতুন্নেসাকে হারান। দারিদ্র্য ও অভিভাবকহীনতার কারণে তাঁর পড়াশোনা সপ্তম শ্রেণির বেশি এগোতে পারেনি। তবে নিজের মনোবল ও দেশপ্রেমের কারণে তিনি ১৯৫৯ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসে (ইপিআর), যা বর্তমানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), যোগদান করেন। বাহিনীতে থাকাকালীন দীর্ঘ সময় দিনাজপুর সীমান্তে দায়িত্ব পালনের পর ১৯৭০ সালের জুলাই মাসে তিনি যশোর সেক্টরে বদলি হন এবং ল্যান্স নায়েক পদে পদোন্নতি পান।

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে নূর মোহাম্মদ শেখ দেশমাতৃকার টানে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। তিনি যশোর অঞ্চল নিয়ে গঠিত ৮ নম্বর সেক্টরে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত এই সেক্টরের কমান্ডারের দায়িত্বে ছিলেন কর্নেল (অব.) আবু ওসমান চৌধুরী এবং পরবর্তী সময়ে মেজর এস এ মঞ্জুর। নূর মোহাম্মদ যশোরের শার্শা উপজেলার কাশিপুর সীমান্তের বয়রা অঞ্চলে ক্যাপ্টেন নাজমুল হুদার নেতৃত্বে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে একের পর এক বীরত্বপূর্ণ লড়াই পরিচালনা করেন।

১৯৭১ সালের ৫ সেপ্টেম্বর যশোর জেলার গোয়ালহাটি ও ছুটিপুরে পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে এক ভয়াবহ সম্মুখযুদ্ধে লিপ্ত হন নূর মোহাম্মদ ও তাঁর সঙ্গীরা। যুদ্ধের একপর্যায়ে সঙ্গীদের জীবন বাঁচাতে এবং অবস্থান ধরে রাখতে গিয়ে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন। নিজের প্রাণের মায়া ত্যাগ করে জীবন বাজি রেখে লড়াই চালিয়ে যান এবং শেষ পর্যন্ত শাহাদাতবরণ করেন। তাঁর এই অসামান্য ত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ সরকার তাঁকে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সামরিক সম্মান ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত করে। ২০০৮ সালে তাঁর জন্মভূমি মহিষখোলার নাম পরিবর্তন করে বীরের সম্মানে ‘নূর মোহাম্মদনগর’ রাখা হয়। দেশের স্বাধীনতার জন্য তাঁর এই আত্মত্যাগ চিরকাল বাঙালি জাতির হৃদয়ে অম্লান হয়ে থাকবে।


বিডিআর হত্যাকাণ্ড সার্বভৌমত্ব নস্যাতের অপপ্রয়াস

সেনানিবাসের মাল্টি পারপাস হলে জাতীয় শহীদ সেনা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে এক মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান । ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০০:১৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

পিলখানায় বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ছিল সার্বভৌমত্বকে নস্যাতের একটি অপপ্রয়াস বলে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ও স্বাধীনতা পরবর্তী দেশ গঠনে সেনাবাহিনীর রয়েছে গৌরবোজ্জল ইতিহাস। সেনাবাহিনী আমাদের সার্বভৌমত্বের প্রতীক। আমি মনে করি, পিলখানার এই মর্মান্তিক ঘটনা ছিল আমাদের সার্বভৌমত্বকে নস্যাৎ এর একটি অপপ্রয়াস। পিলখানার ঘটনার পরিক্রমায় আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোর দুর্বলতা ফুটে ওঠে। তাই বহির্বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা কাঠামোকে আরও আধুনিক, সময়োপযোগী ও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে আমাদের সরকার কাজ করবে। একই সঙ্গে শহীদ পরিবারের সদস্যদের কল্যাণে তাদের সন্তানদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও আমরা পুনর্ব্যক্ত করছি।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সেনানিবাসের মাল্টি পারপাস হলে জাতীয় শহীদ সেনা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রাধানমন্ত্রী বলেন, মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করি- তিনি যেন শহীদদের আত্মাকে শান্তিতে রাখেন, তাদের পরিবারকে ধৈর্য ও শক্তি দান করেন এবং আমাদের রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানসমূহকে ন্যায়, শৃঙ্খলা ও দায়িত্ববোধের পথে পরিচালিত করেন।

তারেক রহমান বলেন, মাহে রমজানের এই পড়ন্ত বিকেলে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের, ৯০’র গণআন্দোলন এবং ২৪’র গণঅভ্যুত্থানে শাহাদাতবরণকারী সকল ছাত্র-জনতাকে। গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি পিলখানায় সংঘটিত বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে শাহাদাতবরণকারী ৫৭ জন দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন বীর শহীদকে। আমি তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত শহীদ পরিবারবর্গের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।

২৫ ফেব্রুয়ারি জাতির ইতিহাসে এক রক্তাক্ত ও বেদনাবিধূর দিন উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এই দিনটি এলে প্রকৃতি যেন আবার স্মৃতি ও শোকের ভারে নীরব হয়ে যায়, বাতাসে ভেসে আসে সেই বিভীষিকাময় মুহূর্তের আর্তনাদ। আমাদের হৃদয় গভীর বেদনায় ভারাক্রান্ত হয়ে ওঠে। ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির এই নির্মম ঘটনা আমাদের জাতীয় জীবনে এক গভীর ক্ষত সৃষ্টি করেছে যার বেদনা সময় পেরিয়ে আজও বহমান। ঘটনার দীর্ঘ ১৭ বছর পরে শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত এই প্রাঙ্গণে আজ আমার কণ্ঠ ভারী হয়ে আসছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি কেবল একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে নয়, একজন সেনা পরিবারের সদস্য হিসেবে, একজন সহযোদ্ধার সন্তানের মতো আপনাদের সামনে উপস্থিত হয়েছি। ২০০৯ সালের সেই বিভীষিকাময় ঘটনায় ৫৭ জন মেধাবী ও দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাসহ সর্বমোট ৭৪টি প্রাণ ঝরে গিয়েছিল। প্রতিটি নাম একটি পরিবারের আলো নিভে যাওয়ার গল্প, প্রিয়জন হারানোর বেদনাবিধূর অধ্যায়, একটি সন্তানের পিতৃহীন হওয়ার ইতিহাস, একটি স্বপ্নের অসমাপ্ত মহাকাব্য।

তারেক রহমান বলেন, আমি দেশে প্রত্যাবর্তনের পরপরই বনানী সামরিক কবরস্থানে গিয়ে শহীদ সেনা কর্মকর্তাদের কবরের পাশে দাঁড়িয়ে আমি উপলব্ধি করেছি- গত ১৭ বছরে আপনাদের দুর্বিষহ সংগ্রাম, অপরিসীম ত্যাগ আর দ্বারে দ্বারে ঘুরে বিচার না পাওয়ার নিদারুণ যন্ত্রণা। আমি বিশ্বাস করি, পিলখানার ঘটনাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় স্মরণ করা আমাদের জাতীয় দায়িত্ব। ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির ঘটনাকে ইতিহাসে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা না দিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না। তাই সেনাবাহিনী ও আপনাদের সঙ্গে আলোচনা করে ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারির স্মৃতিকে অম্লান করে রাখতে বর্তমান সরকার কাজ করবে।

তিনি বলেন, আমাদের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর শিকড় আমাদের স্বাধীনতার ইতিহাসে প্রোথিত। ১৯৭১ সালের যেদিন চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন সেদিন সেনাবাহিনীর সঙ্গে তদানীন্তন ইপিআরের সদস্যবৃন্দ বেতারকেন্দ্রে দায়িত্বে নিয়োজিত থেকে গৌরবময় ইতিহাসের সাক্ষী হয়েছে এবং মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্ন থেকে সেনাবাহিনীর সঙ্গে অবিস্মরণীয় অবদান রেখে চলেছে। পরবর্তীকালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে সুসংহত করতে বিশেষ গুরুত্বারোপ করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ শুরু করেন। সেনাবাহিনী থেকে যোগ্য ও মেধাবী অফিসারদের প্রেষণে প্রেরণের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়। ১৯৭৮ সালে এই বাহিনীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঘটনা হলো সামরিক কায়দায় নতুন করে পুনর্গঠিত হওয়া। পূর্বের উইংসমূহকে পরিবর্তন করে ব্যাটালিয়নে রূপান্তর করা হয়। দুটি নতুন ব্যাটালিয়ন সংযোজন করে বাহিনীর সংগঠনকে পরিবর্ধিত করা হয়। দীর্ঘ সংগ্রামের পর আজ জনগণের রায়ে নির্বাচিত সরকার দেশ পরিচালনা করছে। দেশের প্রশ্নে আমরা সীমান্ত বাহিনীকে আরও আধুনিক ও সুসংহত করব। আমাদের সদস্যরা দেশপ্রেম ও পেশাগত উৎকর্ষতায় সীমান্তে দায়িত্ব পালন করবে।


পিলখানা ট্র্যাজেডি ইতিহাসে এক কলঙ্কজনক অধ্যায়: সেনাপ্রধান

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান । ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পিলখানা ট্র্যাজেডিকে বাংলাদেশের ইতিহাসের এক নজিরবিহীন ও কলঙ্কজনক ঘটনা হিসেবে অভিহিত করে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন বিডিআর সদস্যদের বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডে প্রাণ হারানো নির্দোষ সেনা কর্মকর্তাদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে একটি কালো দিন হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ‘শহীদ দিবস’ উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসের মাল্টিপারপাস হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে আবেগঘন কণ্ঠে সেনাপ্রধান বলেন, ‘পিলখানা ট্র্যাজেডির পর শহীদ পরিবারগুলোর যে সংগ্রামী জীবন শুরু হয়েছিল, তা ছিল অত্যন্ত বেদনাদায়ক। শহীদ সেনা সদস্যদের সন্তানরা বড় হওয়ার পথে মা-বাবার স্নেহ-মমতা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। তবে তারা একা নয়; শহীদদের প্রতিটি সন্তান আমাদেরই সন্তান।’ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় এসব পরিবারের পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে বলে তিনি দৃঢ় আশ্বাস দেন।

মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার কথা স্মরণ করে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের সেই মহান আত্মত্যাগের মাধ্যমেই বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মধ্যে এক অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় দুই বাহিনী আজও কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারির মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন আর কখনো না হয়, সে বিষয়ে সেনাবাহিনী বদ্ধপরিকর।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিকে ‘ঐতিহাসিক’ উল্লেখ করে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, ‘শত ব্যস্ততার মধ্যেও দায়িত্ব গ্রহণের অল্প সময়ের মাথায় প্রধানমন্ত্রী শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছেন। তার এই উপস্থিতি শোকাতুর পরিবারগুলোর মাঝে নতুন করে আস্থা ও আশার সঞ্চার করেছে।’ এ সময় তিনি সরকারপ্রধানের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।

পরিশেষে সেনাপ্রধান সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার কাজে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানটি সুন্দরভাবে আয়োজনের জন্য তিনি সেনা সদরের এজি শাখা ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন।


নতুন আইজিপিকে র‍্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নবনিযুক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির-কে র‍্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে তাকে র‍্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং স্বরাষ্ট্র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী।

এর আগে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)-এর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী অতিরিক্ত আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরকে আইজিপি পদে নিয়োগ দিয়ে মঙ্গলবার প্রজ্ঞাপন জারি করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখা।

জানা গেছে, তিনি বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজনৈতিক কারণে প্রথমে চাকরিচ্যুত এবং পরে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয় তাকে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হলে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তিনি এসপি পদমর্যাদায় চাকরিতে পুনর্বহাল হন। পরবর্তীতে সুপার নিউমারারি পদে ডিআইজি হিসেবে পদোন্নতি পান এবং সর্বশেষ আইজিপি হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন।


banner close