আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ২ হাজার ৭১৩ জন প্রার্থী। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে নিবন্ধিত ৪৪টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩২টি দল। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন ৭৪৭ জন। সে হিসাবে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রত্যয়নপত্র নিয়ে নির্বাচনে উপস্থিত ১৯৬৬ জন প্রার্থী। আর স্বতন্ত্রদের মধ্যে অন্তত ৪০০ জন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন। তবে সাধারণ মানুষের অভিযোগ, নির্বাচনে আসা বড় দল আওয়ামী লীগের মূল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বাইরে অন্যদলগুলোর বেশির ভাগ প্রার্থীই আসনগুলোর মানুষের কাছে অচেনা। প্রায় প্রতিটি আসনেই নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন এমন অনেক অচেনা মুখ যাদের প্রার্থিতা পেতে সমস্যা না হলেও নির্বাচনী লড়াইয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে পরিচিত হতেই পার হয়ে যাবে প্রচারণার বেশির ভাগ সময়। ফলে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, নির্বাচনে প্রার্থী আছে অনেক বেশি, কিন্তু, প্রতিদ্বন্দ্বী কম।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ৩০০ আসনের বিপরীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের (নৌকা) ৩০৩ জন, জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল) ৩০৪ জন, জাকের পার্টি (গোলাপ ফুল) ২১৮ জন, তৃণমূল বিএনপি (সোনালী আঁশ) ১৫১ জন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি- এনপিপি (আম) ১৪২ জন, বাংলাদেশ কংগ্রেস (ডাব) ১১৬ জন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ (মশাল) ৯১ জন, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন (ফুলের মালা) ৪৭ জন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন (বটগাছ) ১৩ জন, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি (হাতঘড়ি) ১৮ জন, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ (চেয়ার) ৩৯ জন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (কাঁঠাল) ১৩ জন, গণফ্রন্ট (মাছ) ২৫ জন, গণফোরাম (উদীয়মান সূর্য) ৯ জন, ইসলামী ঐক্যজোট (মিনার) ৪৫ জন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট (মোমবাতি) ৩৭ জন, জাতীয় পার্টি-জেপি (বাইসাইকেল) ২০ জন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ (গামছা) ৩৪ জন, গণতন্ত্রী পার্টি (কবুতর) ১২ জন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (হাতুড়ি) ৩৩ জন, বিকল্পধারা বাংলাদেশ (কুলা) ১৪ জন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (একতারা) ৮২ জন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন-বিএনএম (নোঙর) ৪৯ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট- বিএনএফ (টেলিভিশন) ৫৫ জন, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (ছড়ি) ৭৪ জন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ- বিএমএল (হাত-পাঞ্জা) ৫ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি- ন্যাপ (কুঁড়েঘর) ৬ জন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মই) একজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (রিকশা) একজন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ (খেজুর গাছ) একজন এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (হারিকেন) দুইজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
এদিকে মনোনয়ন জমার শেষ দিনেই ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম জানিয়েছেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিলের সময়সীমা বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। ফলে বিএনপিসহ যে দলগুলো নির্বাচন বর্জন করেছে তাদের আর মত পাল্টে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসার দৃশ্যমান কোনো সুযোগ নেই। আন্দোলনরত দলগুলোও অবশ্য আগেই এ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতি দিয়েছে।
ফলে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর যাচাই-বাছাই শেষে যেসব প্রার্থী টিকে যাবেন তারাই থাকবেন নির্বাচনী দৌড়ে। তবে প্রতিটি আসনে ভোটের লড়াইয়ে যারা যাচ্ছেন তাদের বেশির ভাগেরই দলের নাম সাধারণ মানুষ জানে না। আর দল অচেনা বলে প্রার্থীরাও অচেনা। ফলে তাদের ধারণা নির্বাচনী লড়াইয়ে আসলে টিকে থাকবেন বড় দলের পরিচিত মুখগুলো। এর মধ্যে শাসক দলের মার্কা নিয়ে লড়াই করা প্রার্থীরা যেমন আলোচনায় থাকবেন, তেমনই অনেক আসনেই তাদের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমাতে পারেন নির্বাচনে আসা আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। কেননা, দলটির স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বেশির ভাগই স্থানীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত এবং তাদের মোটামুটি ভোট ব্যাংক অথবা এলাকাবাসীকে প্রভাবিত করার সক্ষমতা রয়েছে। নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া ৭৪৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে অন্তত ৪০০ জনই আওয়ামী লীগের।
যদিও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গত কয়েক দিনের মতো গতকালও বলেছেন, দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ঢালাওভাবে নির্বাচন করতে পারবেন না। এ ছাড়া ১৪-দলীয় জোটের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির সম্ভাবনা রয়েছে আওয়ামী লীগের। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন, নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আসতে পারবেন জোটের এমন প্রার্থীরাই কেবল থাকবেন বিবেচনায়। আর ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করে তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
এর ফলে এটা স্পষ্ট যে, জোটের সঙ্গে সমঝোতা হলে কয়েকটি আসনে আওয়ামী লীগ যাদের মনোনয়ন দিয়েছে তাদেরও রণে ভঙ্গ দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে হবে।
তবে আওয়ামী লীগ সভাপতি নির্বাচনী কৌশল হিসেবে এবার দলীয় মার্কার বাইরে দলীয় প্রার্থীদের স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড়ানোর সুযোগ দেয়ায় নির্বাচনে আসা প্রার্থীদের কতজন আবার দল চাইলে নির্দেশ মেনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন সেটাও আছে দেখার বিষয়।
তবে এই আলোচনার বাইরে থেকে যাচ্ছে বেশির ভাগ প্রার্থী যারা বিভিন্ন দল থেকে নির্বাচনে এলেও জনগণের কাছে নিজের দল, দলীয় প্রতীক এবং নিজের পরিচয় প্রকাশ করার সুযোগ পাবেন। তবে প্রতিটি আসনে স্থানীয় ভোটারদের কাছে তারা এখনো অচেনা এবং নতুন মুখ হিসেবে বিবেচিত।
যেমন দল হিসেবে এবারই প্রথম নির্বাচন করছে তৃণমূল বিএনপি, বিএনএম, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি। এসব দলের বেশির ভাগ প্রার্থী নিজ নিজ এলাকার ভোটারদের কাছে নতুন পরিচয়ে উপস্থিত হবেন। অনেকে আবার খুব বেশি পরিচিত নন। একইভাবে তাদের নির্বাচনী প্রতীক যথাক্রমে সোনালী আঁশ, নোঙর ও একতারা চেনাতেও এবার তাদের বিশেষ প্রস্তুতি নিতে হবে।
তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনএমের প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য আছেন ৬ জন এবং তৃণমূলের প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য আছেন ৫ জন।
এদিকে, গতকাল আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর কাদের বলেছেন, বিএনপির ১৫ কেন্দ্রীয় নেতাসহ সাবেক ৩০ জন সংসদ সদস্য নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এদের মধ্যে কাদের সিদ্দিকী, লতিফ সিদ্দিকী, আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর মতো নেতাও আছেন। আবার আগে বিএনপিতে প্রভাব ছিল দলটির এমন সাবেক নেতারাও আছেন নির্বাচনে। এদের মধ্যে তৈমূর আলম, সমশের মবিন চৌধুরীর নাম উল্লেখযোগ্য।
তবে এদের বাইরে নির্বাচনের মাঠে থাকা বেশির ভাগ প্রার্থীই অচেনা। এ বিষয়ে গাজীপুর-৪ আসনের একজন প্রার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমার দল এলাকায় তেমন পরিচিত নয়। দলের প্রচার চালাতে ও এলাকার মানুষের কাছে নিজের পরিচয় তুলে ধরতে এবার ভোট করতে আসা। আমিও জানি নির্বাচনে জয়লাভ করার অবস্থান এখনো আমার বা আমার দলের তৈরি হয়নি। তবে এক দিনে তো কিছুই হয় না। আমাদের দলের আদর্শ ও কর্মসূচি দেশের মানুষ ও এলাকার মানুষকে জানাতে আমরা নির্বাচনে এসেছি।’
অন্যদিকে লালমনিরহাট-৩ আসনে মনোনয়ন জমা দেয়া প্রার্থীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই সদর আসনে ৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সদ্য পদত্যাগকারী সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জাবেদ হোসেন বক্কর, জাতীয় পার্টি থেকে জাহিদ হাসান, তৃণমূল বিএনপি থেকে শামীম আহম্মেদ চৌধুরী, জাকের পার্টি থেকে সকিউজ্জামান মিয়া, বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল থেকে আশরাফুল আলম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) থেকে আবু তৈয়ব মো. আজমুল হক পাটোয়ারী, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) থেকে শ্রী হরিশ চন্দ্র রায় মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তবে এবার তিনি এ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেননি। ফলে এ আসনে নির্বাচনে অংশ নেয়া সব প্রার্থীই নতুন এবং নতুন একজন সংসদ সদস্য পাবে লালমনিরহাট সদরবাসী। তবে নতুন হলেও জেলা ও শহরের রাজনীতিতে পুরনো মুখ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান। ছাত্ররাজনীতি করায় জাবেদ হোসেন বক্করও সেখানে পরিচিত মুখ। জাকের পার্টি ও জাসদের প্রার্থীকেও অনেকে চেনেন। তবে সাম্যবাদী দল, এনপিপির প্রার্থীর মতো জাতীয় পার্টির প্রার্থীও এলাকার সবার চেনা মুখ নন। ফলে যে আসন থেকে জাতীয় পার্টি বর্তমান সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছে সেখানে নতুন মুখ দেয়ায় মাঠের রাজনীতিতে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন এলাকার অনেক বাসিন্দা।
বিষয়টা আরও স্পষ্ট হয় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনার ৬টি আসন বিশ্লেষণ করলে। দৈনিক বাংলার খুলনা ব্যুরো জানায়, খুলনার এই ৬টি আসনের জন্য সেখানে ৫৩ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে যারা সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচন করবেন, তাদের অধিকাংশেরই রাজনীতিতে তেমন কোনো পরিচিতি নেই। হঠাৎ করেই তারা কেন সংসদ নির্বাচনে আগ্রহী হলেন, এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে উত্তরও দেননি অধিকাংশ প্রার্থী।
খুলনা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের মনোনীত ৬ জন প্রার্থী, আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র ২ জন এবং জাতীয় পার্টির একজন প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচিতি রয়েছে। বাকি ৪৪ জন প্রার্থী কখনো রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয় ছিলেন না।
খুলনা প্রতিনিধির বিশ্লেষণ অনুযায়ী খুলনা-১ আসনের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ৬ জন। তারা হলেন, জাকের পার্টির মো. আজিজুর রহমান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ননী গোপাল মণ্ডল, জাতীয় পার্টির কাজী হাসানুর রশিদ, তৃণমূল বিএনপির গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রশান্ত কুমার রায় ও আবেদ আলী শেখ।
এদের মধ্যে ননী গোপাল মণ্ডল ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। রাজনীতিতে তার পরিচিতি রয়েছে। তবে বাকি চারজন রাজনীতিতে একেবারেই অপরিচিত। তারা প্রত্যেকেই এবার প্রথম সংসদ নির্বাচন করছেন। এদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রশান্ত কুমার রায় পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সাবেক সচিব।
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আমি নির্বাচন করছি। আমাকে ডামি প্রার্থীও বলা যাবে। এটা দলীয় নির্দেশেই হচ্ছে।’
আওয়ামী লীগের ননী গোপাল মণ্ডল বলেন, ‘দল আমাকে আবারও সুযোগ দিয়েছে। আমি দলের সম্মান রাখব বলে আশাবাদী।’
তবে বাকি চার প্রার্থীর তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই। জাতীয় পার্টীর কাজী হাসানুর রশিদ ও তৃণমূল বিএনপির গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিকের কাছে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেও কোনো উত্তর মেলেনি।
আর জাকের পার্টি মো. আজিজুর রহমান বলেন, ‘দল থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে বলেছে, তাই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি।’
অন্যদিকে খুলনা-২ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৯ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল, গণতন্ত্র পার্টির মো. মতিয়ার রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের দেবদাস সরকার, জাকের পার্টির ফরিদা পারভিন, ইসলামী ঐক্যজোটের হিদায়েতুল্লাহ, জাতীয় পার্টির মো. গাউসুল আজম, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের বাবু কুমার রায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সাঈদুর রহমান।
এদের মধ্যে শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থীর রাজনৈতিকভাবে পরিচিতি রয়েছে। তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। তবে বাকিদের আগে কখনো রাজনৈতিক মাঠে দেখা যায়নি।
কেন প্রার্থী হয়েছেন- এমন প্রশ্নে বাংলাদেশ কংগ্রেসের দেবদাস সরকার বলেন, ‘অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে মনোনয়ন জমা দেয়া হচ্ছে, তাই আমরাও দিচ্ছি।’
খুলনা-৩ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৫ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের এস এম কামাল হোসেন, জাকের পার্টির এস এম সাব্বির হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, স্বতন্ত্র প্রার্থী কাইজার আহমেদ ও ফাতেমা জামান সাথী।
এদের মধ্যেও শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচিতি রয়েছে। তিনি দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। তিন বারের সংসদ সদস্য ও দুই বারের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানকে সরিয়ে তাকেই আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিয়েছে। তবে ওই আসনেরও বাকি চারজনের তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই।
খুলনা-৪ আসন থেকে মনোনয়ন নিয়েছেন ১৪ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের আব্দুস সালাম মূর্শেদী, জাকের পার্টির শেখ আনছার আলী, জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এস এম আজমল হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. ফরহাদ আহমেদ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. মোস্তাফিজুর রহমান, তৃণমূল বিএনপির শেখ হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মনিরা সুলতানা, ইসলামী ঐক্যজোটের রিয়াজ উদ্দীন খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জুয়েল রানা, এম ডি এহসানুল হক, মো. রেজভী আলম, এস এম মোর্ত্তজা রশিদী দারা, আতিকুর রহমান ও এইচ এম রওশান জমির।
এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের আব্দুস সালাম মূর্শেদী বর্তমান সংসদ সদস্য। ২০১৮ সালের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে তিনি জয়ী হয়েছিলেন।
এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম মোর্ত্তজা রশিদী দারার দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস রয়েছে। তিনি ওই আসনের তিন বারের সাবেক সংসদ সদস্য এস এম মোস্তফা রশিদী সুজার আপন ভাই।
তিনি বলেন, এলাকার মানুষের দোয়া নিয়ে মাঠে নেমেছি। জয়-পরাজয় এলাকার মানুষই নির্ধারণ করবেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই আসনে আওয়ামী লীগের এই দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এলাকার ভোটাররা বলছেন, বাকি ১২ জন প্রার্থীদের নাম খুব একটা শোনেননি তারা। কেউ কেউ একেবারেই অপরিচিত।
খুলনা-৫ আসনের জন্য মনোনয় জমা দিয়েছেন ৭ জন। তারা হলেন- জাতীয় পার্টির মো. শহীদ আলম, জাকের পার্টির সামাদ সেখ, আওয়ামী লীগের নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, ওয়ার্কার্স পার্টির শেখ সেলিম আকতার, বাংলাদেশ কংগ্রেসের এস এম এ জলিল, ইসলামী ঐক্যজোটের তরিকুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ আকরাম হোসেন।
এদের মধ্যে নারায়ণ চন্দ্র চন্দ একাধিক বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী। এ ছাড়া আকরাম হোসেন ফুলতলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। এই আসনেও আওয়ামী লীগের এই দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ভোটাররা। বাকি যারা প্রার্থী হয়েছেন এলাকার রাজনীতিতে তাদের তেমন কোনো পরিচিতি নেই বলে জানা গেছে।
খুলনা-৬ আসনের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ১২ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের মো. রশীদুজ্জামান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. আবু সুফিয়ান, জাকের পার্টির শেখ মর্তুজা আল মামুন, জাতীয় পার্টির মো. শফিকুল ইসলাম মধু, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মির্জা গোলাম আজম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এস এম নেওয়াজ মোরশেদ, তৃণমূল বিএনপির গাজী নাদীর উদ্দীন খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম রাজু, গাজী মোস্তফা কামাল, জি এম মাহবুবুল আলম, মো. মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর ও মো. অহিদুজ্জামান মোড়ল।
এদের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত মো. রশীদুজ্জামানের কোনো দলীয় পদ নেই। তিনি একসময় পাইকগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্যসচিব ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে জামানত হারিয়েছিলেন। তবে তাকেই মনোনয়ন দিয়ে চমক সৃষ্টি করেছে ক্ষমতাসীন দল। ওই আসনে রাজনৈতিকভাবে পরিচিত রয়েছে জাতীয় পার্টির মো. শফিকুল ইসলাম মধুর। তিনি আগেও খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। বাকি প্রার্থীদের তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই। এলাকার সবার কাছে পরিচিত মুখও নন অনেকে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশির ভাগ আসনেই ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীদের স্থানীয়রা তেমন একটা চেনেন না। তবে বিরোধীদের এক অংশ নির্বাচন বর্জন করায় রাজনীতির নতুন সমীকরণ মেলাতে ছোট দলগুলোই নির্বাচনে হতে যাচ্ছে বড় দলগুলোর সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনীযুদ্ধ পার হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী।
জাসদের মাঠপর্যায়ের এক রাজনীতিবিদ জসিম মণ্ডল বলেন, ‘নির্বাচন একটা বড় খেলা। এখানে সবাই নামে নিজ নিজ সমীকরণ মেলানোর জন্য। রাজনৈতিক দলগুলোর সমীকরণ হয় এক ধরনের, আবার প্রার্থীর সমীকরণ হয় আরেক ধরনের। সবাই নির্বাচনে জয়ী হতে যেমন অংশ নেয় না তেমনই কেউ কেউ নির্বাচনে যায় অন্যের যাত্রা ভঙ্গ করতে। আবার অনেকের কাছে ‘নির্বাচনে অংশগ্রহণই বড় কথা।’ জয়-পরাজয়ের চেয়েও বড় বিষয় এ সময় পোস্টারিং করে নিজের ছবি ও পরিচিতি পুরো এলাকার মানুষকে দেখানো যায়। এটাও বা কম কিসে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দেশের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষেরই আছে নির্বাচনে দাঁড়ানোর অধিকার। তাই কটা টাকা খরচ করে অনেকেই পরিচিতি বাড়ানোর সুযোগ নেয়। এর ফল তো অসীম-সারাজীবন নানাভাবে এর সুফল মেলে। যারা রাজনীতিতে আছেন, কেবল তারাই বোঝেন নির্বাচনে অংশ নিতে পারার গুরুত্ব।
দেশে প্রায় ৬০ লাখ মানুষ অস্টিওপোরোসিসে আক্রান্ত বলে ধারণা করা হচ্ছে। নীরবে হাড়ের ঘনত্ব কমিয়ে দেওয়া এ রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে, ব্যাহত হয় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বিশেষ করে বয়স্ক নারীদের মধ্যে এ রোগের ঝুঁকি বেশি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় রোগটি সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানো, নিয়মিত পরীক্ষা এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে দেশের ৬৪ জেলায় সমন্বিত কর্মসূচি চালুর আহ্বান জানিয়েছেন জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান।
তিনি বলেছেন, অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। কন্যাশিশু ও তরুণীদের জন্য উপযুক্ত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া গেলে ভবিষ্যতে এ রোগের প্রকোপ ও জটিলতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতাল ভবনের কনভেনশন হলে বিশ্ব অস্টিওপোরোসিস দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক বৈজ্ঞানিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘অস্টিওপোরোসিস: প্রতিরোধযোগ্য মহামারি’ শীর্ষক সেমিনারটির আয়োজন করে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, অস্টিওপোরোসিস একটি নীরব রোগ। এতে হাড় দুর্বল, পাতলা ও ছিদ্রযুক্ত হয়ে পড়ে। ফলে হঠাৎ হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে এবং আক্রান্ত ব্যক্তির দৈনন্দিন কাজ করার সক্ষমতা কমে যায়। বাংলাদেশে বিপুলসংখ্যক মানুষ এ রোগের কারণে হাড় ভাঙা ও দীর্ঘমেয়াদি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
২০২৫ সালের একটি পরিসংখ্যানের উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশে প্রায় ৬০ লাখ মানুষ অস্টিওপোরোসিসে আক্রান্ত বলে ধারণা করা হয়। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। আক্রান্ত বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে নারীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
উত্তর-মধ্য বাংলাদেশের ৪৫ থেকে ৮০ বছর বয়সী নারীদের ওপর পরিচালিত একটি গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, ওই গবেষণায় ৪০ শতাংশ নারীর অস্টিওপোরোসিস এবং ৪৩ দশমিক ৫ শতাংশের অস্টিওপেনিয়া পাওয়া গেছে। অর্থাৎ, গবেষণায় অংশ নেওয়া ৮৩ শতাংশের বেশি নারীর হাড়ের ঘনত্বে ঘাটতি ছিল। এ ছাড়া শহরাঞ্চলে ৪৬ থেকে ৬৫ বছর বয়সি নারীদের ওপর পরিচালিত একটি পুরোনো হাসপাতালভিত্তিক গবেষণায় অস্টিওপোরোসিসের হার ছিল ৪১ দশমিক ৮ শতাংশ এবং অস্টিওপেনিয়ার হার ৪০ দশমিক ৭ শতাংশ।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে কতসংখ্যক নারী এ রোগে ভুগছেন, তার সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যান নির্ধারণ করা কঠিন। রোগটির প্রকৃত চিত্র জানতে আরও গবেষণা ও নিয়মিত স্ক্রিনিং প্রয়োজন।
অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে দেশব্যাপী সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে ডা. জুবাইদা রহমান একটি অস্টিওপোরোসিস সোসাইটি গঠনের প্রস্তাব দেন। তার মতে, এ সংগঠনের মাধ্যমে দেশের ৬৪ জেলায় সচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালনা করা সম্ভব হবে। কোনো অঞ্চলের মানুষ যেন সচেতনতা ও পরীক্ষার সুযোগের অভাবে চিকিৎসাবঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, রোগটির ঝুঁকি সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন। পাশাপাশি এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মীর মাধ্যমে দেশব্যাপী সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনার সুযোগ রয়েছে।
প্রতি বছর অস্টিওপোরোসিস সচেতনতা মাস পালনের প্রস্তাব দিয়ে তিনি বলেন, এ উপলক্ষে র্যালি, আলোচনা সভা ও প্রচারাভিযানের আয়োজন করা যেতে পারে। জেলা হাসপাতাল ও বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে রোগ নির্ণয়ের আধুনিক পদ্ধতি নিয়ে চিকিৎসকদের জন্য সেমিনার আয়োজনের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
হাড়ের খনিজ ঘনত্ব নির্ণয়ে স্ক্রিনিং ক্যাম্প আয়োজন এবং নিয়মিত কমিউনিটিভিত্তিক পরীক্ষার সুযোগ তৈরির আহ্বান জানান তিনি। যেসব এলাকায় হাড়ের খনিজ ঘনত্ব নির্ণয়ের ব্যবস্থা নেই, সেখানে ফ্র্যাকচার রিস্ক অ্যাসেসমেন্ট টুল ব্যবহার করে হাড় ভাঙার ঝুঁকি মূল্যায়নের কথাও বলেন তিনি।
ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে শৈশব থেকেই সচেতনতা তৈরি করা প্রয়োজন। কন্যাশিশু ও তরুণীদের জন্য উপযুক্ত প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া গেলে ভবিষ্যতে এ রোগের প্রকোপ ও জটিলতা কমানো সম্ভব হবে।
এ জন্য ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি, হাড়ের খনিজ ঘনত্ব এবং শৈশবে পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম গ্রহণের মতো পুষ্টিগত বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিতে হবে। জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টিবিষয়ক সচেতনতা বাড়াতে শিক্ষাবিদ এবং চিকিৎসা-অঙ্গনের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, অস্টিওপোরোসিসের দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি কমাতে রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি, নিয়মিত পরীক্ষা এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা নিশ্চিত করার বিকল্প নেই।
ড্যাবের সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ড্যাবের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার এবং ডা. আব্দুস সালাম এমপি বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।
সেমিনারে বিশেষজ্ঞদের অংশগ্রহণে প্রশ্নোত্তর পর্ব, প্যানেল আলোচনা ও কুইজ হয়। প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন অধ্যাপক ডা. এরফানুল হক সিদ্দিকী, অধ্যাপক ডা. ফারুক কাশেম, অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আকরাম হোসেন, অধ্যাপক ডা. শামীম আহমেদ, ডা. শেখ ফরিদ আহমেদ এবং অধ্যাপক মোহাম্মদ বেলালুল ইসলাম।
‘আজীবন হাড় গড়ুন, সুরক্ষা দিন ও শক্তিশালী করুন’ প্রতিপাদ্যে এবারের বিশ্ব অস্টিওপোরোসিস দিবসের কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। এতে বৈজ্ঞানিক সহযোগিতা দিচ্ছে ইনসেপ্টা। প্রতি বছর ২০ অক্টোবর বিশ্ব অস্টিওপোরোসিস দিবস পালন করা হয়।
প্রথমবারের মতো উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) নিয়ে সম্মেলন আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। আগামী ডিসেম্বর মাসে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে, আগামী বছরের ৩১ জানুয়ারি থেকে ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বার্ষিক জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন আয়োজনের কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সূত্র জানিয়েছে, ইউএনও সম্মেলনের নির্দিষ্ট তারিখ এখনো ঠিক করা হয়নি। তবে ডিসি সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ৩১ জানুয়ারি রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে সম্মেলনটি উদ্বোধন করবেন তিনি। তারিখ চূড়ান্ত হওয়ার পর ইউএনও সম্মেলনও প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন বলে জানা গেছে।
প্রতি বছর অনুষ্ঠিত ডিসি সম্মেলনে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের জন্য পৃথক অধিবেশন রাখা হয়। সম্মেলনের কয়েক মাস আগে জেলা প্রশাসকদের কাছে নিজ নিজ জেলার সমস্যা, উন্নয়ন সম্ভাবনা, চলমান প্রকল্প, নীতিগত বিষয় এবং আঞ্চলিক ও জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে প্রস্তাব চাওয়া হয়।
জেলা প্রশাসকদের পাঠানো প্রস্তাবগুলো পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর সঙ্গে আলোচনা করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। এরপর প্রস্তাবের চূড়ান্ত তালিকা তৈরি করা হয়। সম্মেলনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও সচিবদের উপস্থিতিতে এসব প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রথমবারের মতো ইউএনও সম্মেলন আয়োজন করা হলেও এর কাঠামো ও কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সূত্র।
এদিকে গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে মাঠ প্রশাসনকে বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। সরকারের ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্প বাস্তবায়নেও মাঠপর্যায়ে কিছু সমস্যা দেখা দিয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ধারণা, ইউএনও ও ডিসি সম্মেলনে মাঠ প্রশাসনের এসব চ্যালেঞ্জ এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের সমস্যাগুলো আলোচনায় গুরুত্ব পেতে পারে।
শারদীয় দুর্গাপূজার মহানবমীতে চট্টগ্রামের জেএম সেন হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রামে পৌঁছে তিনি পূজামণ্ডপে যান। এর আগে রংপুরে দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন ও শুভেচ্ছা বিনিময় এবং রাজশাহীতে জনসভায় যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। রাজশাহীর জনসভায় ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির জন্য ১২ কোটি ২৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকার প্রণোদনা বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি।
দিনব্যাপী এসব কর্মসূচিতে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ঐক্য, ধর্মীয় সম্প্রীতি, সুষম আঞ্চলিক উন্নয়ন, কৃষকের জীবনমান বৃদ্ধি এবং জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন, কি দেননি, তা বিবেচনায় না নিয়ে সরকার দেশের সব মানুষের জন্য কাজ করতে চায়।’ তবে সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টার মধ্যে একটি মহল বিভ্রান্তি ও অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
চট্টগ্রামে জেএম সেন হলে প্রধানমন্ত্রীর শুভেচ্ছা বিনিময়: মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে রাজশাহী থেকে সামরিক উড়োজাহাজে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেখান থেকে সড়কপথে কড়া নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে নগরের রহমতগঞ্জের জেএম সেন হলের পূজামণ্ডপে যান তিনি। রাত সোয়া ৮টার দিকে সেখানে পৌঁছালে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের চট্টগ্রাম মহানগরের নেতারা ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতিনিধিরা তাকে স্বাগত জানান।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে জেএম সেন হল ও আশপাশের এলাকায় উৎসুক মানুষের ভিড় জমে। বিকেল থেকেই নগরের কোতোয়ালি থানার জেএম সেন হল এলাকায় তাকে একনজর দেখতে নানা বয়সি মানুষ জড়ো হতে থাকেন। সড়কের দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বিএনপির নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষকে গাড়ি থেকে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান প্রধানমন্ত্রী।
মণ্ডপ পরিদর্শন ও শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী সাচিং প্রু, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীনসহ অন্যরা।
রংপুরে সম্প্রীতির আহ্বান, উন্নয়নে ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা: চট্টগ্রামে আসার আগে সকালে রংপুরের ঐতিহাসিক রাধা গোবিন্দ ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি বলেন, ‘বিএনপিকে ভোট দেওয়া বা না দেওয়ার ভিত্তিতে সরকার কাউকে আলাদা করে দেখতে চায় না। দেশের সব মানুষের সরকার হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং সব অঞ্চলে সমান উন্নয়ন নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।’
এর আগে দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে মন্দিরে পৌঁছালে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্যদিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানো হয়। শিশুরাও নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানায়। তারেক রহমান মন্দিরের পুরোহিত ও কমিটির সদস্যদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকারসহ রাজনৈতিক নেতা ও সংসদ সদস্যরা বক্তব্য দেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদসহ অন্যরা।
তারেক রহমান জানান, রংপুর মহানগরের উন্নয়নে প্রায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও জেলা পরিষদের মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামে সেতু, কালভার্ট, স্কুল-কলেজসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো পর্যায়ক্রমে নির্মাণ করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের অর্থনৈতিক সামর্থ্য বিবেচনায় নিয়ে বিভিন্ন অঞ্চলে ন্যায্যভাবে সম্পদ বণ্টন করতে হবে।’ উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে স্থানীয় মানুষের চাহিদাকে গুরুত্ব দেওয়ার পাশাপাশি সবাইকে বিভেদ ভুলে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। মন্দিরের পেছনে হোস্টেলের মতো একটি অবকাঠামো নির্মাণে আর্থিক সহযোগিতার সম্ভাবনা পর্যালোচনা করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রীকে নির্দেশনা দেন তারেক রহমান। মন্দির কর্তৃপক্ষের হাতে ১০ লাখ টাকার একটি চেকও তুলে দেন তিনি।
জাতীয় ঐক্যের প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে বিভিন্ন ধর্ম ও শ্রেণি-পেশার মানুষ সম্মিলিতভাবে ভূমিকা রেখেছেন। এই ঐক্য ধরে রেখেই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।’ গণঅভ্যুত্থান নিয়ে কারও ভিন্নমত থাকলে তা জাতীয় সংসদে তুলে ধরে আলোচনার মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রাজশাহীতে ৩৯ হাজার আখচাষির জন্য ১২ কোটি টাকার বেশি প্রণোদনা: রংপুরের কর্মসূচি শেষে বিকেলে রাজশাহীতে যান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির জন্য ১২ কোটি ২৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকার কৃষি প্রণোদনা বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন তিনি। ডিজিটাল পদ্ধতিতে বোতাম চেপে কর্মসূচির সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় ১৫ জন আখচাষির হাতে প্রতীকী চেক তুলে দেওয়া হয়।
জনসভায় কৃষি ও কৃষকের উন্নয়নে সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, ‘কৃষক ও কৃষি বাঁচলে দেশ বাঁচবে। কৃষকের জীবনমান উন্নয়ন, উৎপাদন ব্যয় কমানো এবং কৃষিকে লাভজনক করতে সরকার কাজ করছে।’
তিনি জানান, চলতি বছরে ৪০ লাখ কৃষকের মধ্যে কৃষক কার্ড বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা ১০ ধরনের সুবিধা পাবেন। কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ এবং ফ্যামিলি কার্ড চালুর উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন তিনি।
সেচসুবিধা বাড়ানো ও পানির সংকট মোকাবিলায় আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের লক্ষ্যমাত্রার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। তার দাবি, গত আট মাসে সারা দেশে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার খাল খননের কাজ শেষ হয়েছে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে রাজশাহীসহ উত্তরাঞ্চলের যেসব এলাকায় ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে গেছে, সেখানে সেচের পানির সংকট কমার পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির পুনর্ভরণেও সহায়তা করবে।
স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর শয্যাসংখ্যা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও জানান তারেক রহমান। পাশাপাশি আগামী বছর ৪৬টি বন্ধ কলকারখানা চালুর মাধ্যমে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ানোর উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন তিনি।
অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টার অভিযোগ: রাজশাহীর জনসভায় প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, দেশের বাইরে অবস্থানরত পলাতক শক্তি এবং দেশের ভেতরে একটি মহল এক হয়ে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। কয়েকটি কলকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ তৈরির পেছনে অর্থায়নের বিষয়ে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ‘সরকারের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি এবং জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে।’ এ বিষয়ে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। আগামী পাঁচ বছর সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নিতে জনগণের সহযোগিতাও কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘দেশের ভাগ্য বিদেশ থেকে কেউ এসে গড়ে দেবে না; নিজেদেরই দেশ গড়তে হবে। রাজনৈতিক বিভেদ ভুলে কৃষি, শিল্প, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’
রাজশাহীর জনসভা শেষে প্রধানমন্ত্রী সেখানকার ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পরে সামরিক উড়োজাহাজে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হন তিনি।
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্টোর বিল্ডিংয়ে আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। তবে এতে উল্লেখযোগ্য কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।
এদিন দুপুর ২টার দিকে স্টোর বিল্ডিংয়ে আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে কয়েক মিনিটের মধ্যেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
তবে বিমানবন্দরের সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন আগুন লাগার খবর অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, সেখানে আগুন লাগেনি, বরং ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়েছিল। ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ধোঁয়ার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
ঘটনার কারণ এবং সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
রাজশাহী অঞ্চলের ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষীর মাঝে ১২ কোটি প্রণোদনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ মঙ্গলবার বিকালে রাজশাহীর হাজী মুহাম্মদ মহসীন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আখচাষীদের প্রণোদনা প্রদান ও জনসভায় প্রধানমন্ত্রী কম্পিউটারে বোতাম টিপে এই অর্থ সংশ্লিষ্ট চাষীদের মোবাইল একাউন্টে প্রদান করেন।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখন আমি কম্পিউটার একটা বোতাম চাপ দেব। চাপটা দেওয়ার সাথে সাথে কয়েক মিনিটের মধ্যে আখচাষী ভাইদের একাউন্টে সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া সহযোগিতা কয়েক মিনিটের মধ্যে ইনশাল্লাহ পৌঁছে যাবে।’
তিনি বলেন, ‘সরকার আখচাষীদের সহযোগিতার জন্য মোট ১২ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। বরাদ্দের অর্থ ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষীর কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। আমি আশা করছি কৃষকদের এ সহযোগিতা তাদের আখ চাষে সহায়তা করবে।’
প্রধানমন্ত্রী ‘আলহামদুলিল্লাহ’ বলে কম্পিউটারের বোতাম চাপেন। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এ সময় জনসভাস্থলে উপস্থিত হাজারো মানুষও সমস্বরে ‘বিসমিল্লাহ’ উচ্চারণ করে এবং উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন।
অনুষ্ঠানে ১৫ জন আখচাষীকে চেক প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী।
এরা হলেন, আবু সাঈদ চান, আবদুল আউয়াল মালেক, আবদুল মান্নান মন্ডল, এমাজ উদ্দিন, মো. কাহার, গোলাম রাব্বানী, সবিতা রানী, জালাল উদ্দিন মৃধা, জিয়াউল হক, মহিদুল ইসলাম, আবদুল মাজেদ, নিরান্দ কুমার ঘোষ, শামীমুর রহমান, রীমা খাতুন ও রফিকুল ইসলাম।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে এই সমাবেশে রাজশাহী জেলার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে হাজার হাজার নেতা-কর্মী অংশ নেন। জনসভায় সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী ও পুরুষরা ছিলেন।
এর আগে বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটে জনসভাস্থলে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে উপস্থিত বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা তাঁকে স্বাগত জানান।
জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন, রাজশাহী-২ আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদ, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবিবা এবং রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইটসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা।
জনসভা শেষে রাজশাহীর ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং মতবিনিময় সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
রাজশাহীর কর্মসূচি শেষে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সূত্র: বাসস
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘হাজার বছর ধরে এ দেশের বিভিন্ন ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে একসঙ্গে বসবাস করে আসছেন। আগামী হাজার বছরও যেন তারা একইভাবে সম্প্রীতি ও শান্তির সঙ্গে বসবাস করতে পারেন, সেই পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘এ লক্ষ্যে ধর্ম-বর্ণ, দল-মত ও শ্রেণি-পেশা নির্বিশেষে সব মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় সরকার।’
আজ রংপুর ধর্মসভা (রাধা গোবিন্দ মন্দির) পরিদর্শনকালে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত শুভেচ্ছা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে হলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে দেশের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সব ধর্মের মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে অংশ নিয়েছেন। এই ঐক্য ধরে রেখেই আগামী দিনের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা যেমন সব ধর্মের মানুষ মিলে এ দেশকে স্বাধীন করেছি, তেমনি সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশের মানুষের রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছি। আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে হলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
বর্তমান সরকার সব মানুষের সরকার হতে চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনে কোনো এলাকায় বিএনপির প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন, আবার কোনো এলাকায় হননি। তবে সরকার সব নাগরিকের জন্য কাজ করতে চায়। যারা আমাদের ভোট দিয়েছেন, তাদেরও সরকার হতে চাই; যারা ভোট দেননি, তাদেরও সরকার হতে চাই।’
তারেক রহমান বলেন, ‘রাষ্ট্রের আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় নিয়ে সব এলাকার উন্নয়ন ও সরকারি সুযোগ-সুবিধার সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।’
তিনি জানান, রংপুর মহানগরের উন্নয়নে একনেক সভায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এসব উদ্যোগের আওতায় মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী সড়ক, সেতু, কালভার্ট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নয়নের এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবাইকে ভেদাভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’
গণঅভ্যুত্থান নিয়ে বিভ্রান্তি না ছড়ানোর আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সরকার সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ঐক্য গড়ে তোলার চেষ্টা করছে। তবে একটি মহল বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। অতীতে মহান মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছিল। একইভাবে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান নিয়েও বিতর্ক তৈরির চেষ্টা হচ্ছে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘গণতন্ত্রকামী জনগণের পক্ষ থেকে বলতে চাই— দয়া করে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে বিতর্কিত করবেন না।’
তিনি বলেন, ‘কোনো বিষয়ে মতপার্থক্য বা বক্তব্য থাকলে তা জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা যেতে পারে। জনগণের প্রতিনিধিদের আলোচনার মাধ্যমে রাষ্ট্র ও জনগণের কল্যাণে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণ যেন মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা, সন্তানদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থান ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’
অতীতের রাজনীতির পরিবর্তন আনতে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এ পরিবর্তন বাস্তবায়নে জনগণই সবচেয়ে বড় শক্তি। এক্ষেত্রে জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন।’
সম্প্রীতি ও উন্নয়নে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান :
হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে শারদীয় দুর্গাপূজার নবমীর শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে হবে।’
এসময় প্রধানমন্ত্রী মন্দিরের পেছনে হোস্টেলের মতো অবকাঠামো নির্মাণে আর্থিক সহযোগিতার বিষয়টি বিবেচনা করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রীকে নির্দেশনা দেওয়ার কথা জানান।
বেলা ১২টা ৪ মিনিটে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে রংপুর ধর্মসভা মন্দির প্রাঙ্গণে পৌঁছালে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানানো হয়। এসময় শিশুরা নৃত্য পরিবেশনের মাধ্যমে তাঁকে অভ্যর্থনা জানায়।
প্রধানমন্ত্রী মন্দিরের পূজারি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
পরে মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি ভবতোষ সরকার ও সাধারণ সম্পাদক খোকন সরকার তাঁকে একটি ক্রেস্ট উপহার দেন।
মন্দির কর্তৃপক্ষের হাতে ১০ লাখ টাকার একটি চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঞ্চালনায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুণ্ড, সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল ও নিপুণ রায় চৌধুরী বক্তব্য রাখেন।
এছাড়া ছাত্রদলের পার্থ দেব, গণেশ চন্দ্র রায় সাহস এবং রংপুর ধর্মসভার স্বপন কুমার ভট্টাচার্যসহ স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এ. জেড. এম. জাহিদ হোসেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, মহিলা ও শিশুবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদসহ রংপুরের সংসদ সদস্য ও জেলা পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তারেক রহমানের প্রথম রংপুর সফর।
মন্দিরের অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী সড়কপথে সৈয়দপুরের উদ্দেশে রওনা হন।
এর আগে সৈয়দপুর থেকে রংপুরে আসার পথে তিনি তারাগঞ্জ ও পাগলাপীর এলাকায় দু’টি পথসভায় বক্তব্য রাখেন। সূত্র: বাসস
শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও জনসভায় যোগ দিতে রাজশাহীতে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ মঙ্গলবার নীলফামারীর সৈয়দপুর থেকে একটি সামরিক বিমানে দুপুর ২টা ২০ মিনিটে রওনা দিয়ে ২টা ৫৫ মিনিটে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি।
বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ সুইট, রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার মো. ইউসুফ আলী, রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ পিপিএম, রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার ফয়জুল কবির পিপিএম, জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম এবং রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার মো. মামুন অর রশিদ।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, বিএনপির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধা, হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের সহসভাপতি ও সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী, বিএনপির সহকারী সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ অন্যরা।
বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত জনসভায় যোগ দেবেন।
এরপর রাজশাহীর ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপে যাবেন। সেখানে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এর আগে সকাল ৯টায় রাজধানীর তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে সামরিক বিমানে সৈয়দপুরের উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি।
সৈয়দপুর থেকে রংপুর যাওয়ার পথে তারাগঞ্জ ও পাগলাপীরে দুটি পথসভায় অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। পরে রংপুরের রাধাগোবিন্দ মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
রাজশাহীর কর্মসূচি শেষে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সূত্র: বাসস
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করা ইশরাক হোসেনের পদত্যাগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মঙ্গলবার এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
এর আগে সোমবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নিজের পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেন ইশরাক হোসেন।
উল্লেখ্য, গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়া রেললাইন এলাকায় অস্ত্র হাতে মাদকবিরোধী এক অভিযানে উপস্থিত হয়ে তীব্র বিতর্কের জন্ম দেন তিনি। এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ দেশের নানা মহলে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়।
পরিস্থিতির জেরে রবিবার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে তাঁকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারপ্রধানের সেই নির্দেশনার পরই তিনি মন্ত্রিসভা থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন।
রংপুরের রাধা গোবিন্দ ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ মঙ্গলবার সকাল ১১টায় পূজামণ্ডপে এসে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান রাধা গোবিন্দ ধর্মসভা মন্দির কমিটির সভাপতি বাবতোষ সরকার বাচ্চু, সাধারণ সম্পাদক খোকন সরকার, বাংলাদেশ পূজা উদ্যাপন পরিষদ রংপুর জেলার সভাপতি রাম জীবন কুন্ড, রংপুর মহানগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার রায়, মহানগর নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব পলাশ কান্তি নাগ।
সকাল সাড়ে ৯টায় একটি সামরিক বিমানে ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে সৈয়দপুর বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী।
সৈয়দপুর বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রউক) চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু ,বিভাগীয় কমিশনার জাহাঙ্গীর আলম, ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক ইশরাত জাহান ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক প্রমুখ।
বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মোটর শোভাযাত্রায় প্রধানমন্ত্রী রংপুর যাত্রা পথে তারাগঞ্জ ও পাগলাপীরসহ সড়কের দুই পাশে শত শত নেতা-কর্মী দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানায়।
এরপর রংপুরের প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী ধর্মসভা পূজামণ্ডপে আসেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী পূজামণ্ডপে প্রবেশ করে পূজারিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং হাত নেড়ে সনাতন সম্প্রদায়ের সদস্যদের শুভেচ্ছা জানান।
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ের পর প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পরে এটি তারেক রহমানের প্রথম রংপুর সফর।
সৈয়দপুর থেকে রংপুর সড়ক পথে দুই ধারে হাজার হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থক সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে তাদের প্রিয় প্রধানমন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানায়। গাড়ি থেকে প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে শুভেচ্ছার জবাব দিতে দেখা গেছে।
রংপুরে পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী সৈয়দপুর বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রী রাজশাহীর ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন।
পূজার সূচি অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর শুভ মহালয়ার মধ্য দিয়ে দুর্গাপূজার ক্ষণগণনা শুরু হয়েছে। আগামী ১৬ অক্টোবর মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হয় দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। ২১ অক্টোবর বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে পাঁচ দিনের এ উৎসব। সূত্র: বাসস
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, আনন্দঘন ও নির্বিঘ্ন পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে তিন স্তরের সমন্বিত নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। মণ্ডপগুলোর সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতিহত করতে বিশেষ প্রস্তুতি নিশ্চিত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর উত্তরার মীর মুগ্ধ মঞ্চ পূজামণ্ডপের সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শন শেষে এসব কথা তুলে ধরেন এসআরবি-১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নেয়ামুল হালিম।
তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জ জেলা এসআরবি-১-এর দায়িত্বপ্রাপ্ত এলাকার আওতাভুক্ত। এসব অঞ্চলের সনাতন ধর্মাবলম্বী নাগরিকেরা যাতে কোনো ধরনের শঙ্কা ছাড়া ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পূজা উদ্যাপন করতে পারেন, সেজন্য পুরো এলাকাকে নিশ্ছিদ্র তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয়ের আওতায় আনা হয়েছে।
এসআরবি-১ অধিনায়ক আরও জানান, উৎসবকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের অপতৎপরতা বা প্রতিকূল পরিস্থিতি তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিহত করতে সংশ্লিষ্ট প্রতিটি এলাকায় পর্যাপ্ত সংখ্যক নিরাপত্তা সদস্য নিয়োজিত এবং প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই।
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ আমাদের সবার দেশ। দেশকে সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এটাই হোক আমাদের প্রত্যাশা।
আজ মঙ্গলবার সকালে শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমীতে পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের উদ্দেশে সৈয়দপুর থেকে রংপুর যাওয়ার পথে পাগলাপীরে সড়কের দুই পাশে সমবেত হাজারো মানুষের উদ্দেশে এক সংক্ষিপ্ত পথসভায় প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের পর দেশের মানুষ বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। সরকার গঠনের পর থেকেই খেটে খাওয়া মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।'
তিনি বলেন, ‘কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। চালু করা হয়েছে ফ্যামিলি কার্ড; কৃষক কার্ড চালুরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’
সরকারের পক্ষ থেকে ইমাম-মুয়াজ্জিনসহ বিভিন্ন ধর্মের ধর্মীয় নেতাদের জন্য মাসিক ভাতার ব্যবস্থা করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এভাবে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে সরকার।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনে সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে অংশ নিয়েছেন। দেশ গড়ার কাজেও সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে।’
প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত জনগণের প্রতি প্রশ্ন রেখে বলেন, আমরা সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে দেশ গড়ে তুলতে চাই। আপনারা কি আমার সঙ্গে আছেন? এ সময় উপস্থিত জনতা হাত উঁচিয়ে সমর্থন জানান।
এ সময় তিনি মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মের মানুষকে দেশ গড়ার কাজে একযোগে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।
তারেক রহমান বলেন, পারস্পরিক সম্প্রীতি ও ঐক্য বজায় রেখে সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশকে একটি সুন্দর দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকাল ৯টায় ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে একটি সামরিক বিমানে সৈয়দপুরের উদ্দেশে রওনা হন। সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে তিনি নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছালে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন এবং রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান সামুসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাঁকে স্বাগত জানান।
রংপুরে রাধা গোবিন্দ মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও পূজার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। পরে তিনি রাজশাহী ও চট্টগ্রামের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে রাতে ঢাকায় ফিরবেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গীদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার এবং বিএনপির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধা প্রমুখ।
এর আগে সকালে প্রধানমন্ত্রী তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকার মহাখালী ও বনানীর পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।
আজ মঙ্গলবার শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমী। আগামীকাল প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এ উৎসবের সমাপ্তি ঘটবে। সূত্র: বাসস
ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সকল নাগরিকের সম্মিলিত অংশগ্রহণে একটি সমৃদ্ধ ও কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ বিনির্মাণের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি উল্লেখ করেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে সব সম্প্রদায়ের মানুষের রক্ত ও ত্যাগ মিশে রয়েছে; ফলে বর্তমানের দেশ পুনর্গঠনেও সবাইকে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে হবে। মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সবার মেধা ও শ্রমে ভর করেই দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই জাতীয় প্রত্যাশা।
মঙ্গলবার রংপুরের পাগলাপীর এলাকায় আয়োজিত এক পথসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, বিগত ১২ তারিখের নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ দেশ পরিচালনার যে ম্যান্ডেট দিয়েছে, তার প্রতি সম্মান জানিয়ে বর্তমান সরকার শুরু থেকেই সাধারণ ও শ্রমজীবী মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কাজ করছে। সমাজের পিছিয়ে পড়া ও খেটে খাওয়া প্রতিটি শ্রেণির প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়েই বিভিন্ন কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সরকারের কল্যাণমূলক পদক্ষেপের বিবরণ তুলে ধরে তিনি জানান, প্রান্তিক চাষিদের অর্থনৈতিক বোঝা লাঘবে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এ ছাড়া ইমাম ও মুয়াজ্জিনসহ সমাজের প্রবীণ গুরুজনদের জন্য বিশেষ ভাতার ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। দেশের মানুষের সার্বিক কল্যাণ ও সামাজিক নিরাপত্তা সুদৃঢ় করতে সরকারের এ ধরনের মানবিক প্রয়াস অব্যাহত থাকবে।
চলমান শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রেক্ষাপট টেনে প্রধানমন্ত্রী সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানান এবং সমাজে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতি অটুট রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, স্বাধীনতা অর্জনের মতো দেশ গড়ার লড়াইয়েও সব ধর্মের মানুষের সম্মিলিত অবদান অপরিহার্য। এই ভূখণ্ডের উন্নয়ন ও ভবিষ্যতের দায়িত্ব প্রতিটি নাগরিকের সমান। তাই পারস্পরিক শ্রদ্ধা, ঐক্য এবং অবিচল পরিশ্রমের মাধ্যমে একটি সুন্দর ও প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সবার মূল অঙ্গীকার হওয়া উচিত।
শারদীয়া দুর্গা উৎসবের মহা নবমীতে পূজা মন্ডপ পরিদর্শনে ঢাকা থেকে রংপুরের পথে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ মঙ্গলবার সকাল ৯টায় তেজগাঁও বিমান বন্দর থেকে একটি সামরিক বিমানে প্রধানমন্ত্রী রংপুর রওনা হয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী রংপুর রওনা হয়েছেন। সেখানে রাধা গোবিন্দ মন্দিরে পূজা মন্ডপ পরিদর্শন করবেন এবং পূণ্যার্থীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন।’
শারদীয়া দুর্গা পূজার মহানবমীতে প্রধানমন্ত্রী রংপুর, রাজশাহী ও চট্টগ্রামের পূজা মন্ডপসমূহ পরিদর্শন করবেন।
প্রেস সচিব বলেন, ‘তিন মহানগরে পূজা মন্ডপ পরিদর্শনের পর রাতে ঢাকা ফেরবেন প্রধানমন্ত্রী।’
তিনি বলেন, ‘এই সরকারের নীতি ধর্ম যার যার, নিরাপত্তা পাবার অধিকার সবার। এবার সরকার সারাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের পূজা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সব ব্যবস্থা নিয়েছে। বরাদ্ধ বেড়েছে, ছুটি বেড়েছে এবং পূজা মন্ডপগুলোতে সব ধরনের সহযোগিদতা করছে সরকার।’
প্রধানমন্ত্রীর সাথে বিমানে রয়েছেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারি বিজন কান্তি সরকার, বিএনপির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধা, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাষ্টের সহসভাপতি সংসদ সদস্য নিপুল রায় চৌধুরী, বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুন্ড, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন প্রমূখ।
প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি : সকাল ৯টায় তেজগাঁও বিমান বন্দরের থেকে নীলফামারী সৈয়দপুর বিমাবন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা, ১০টায় সৈয়দপুর বিমান বন্দর থেকে রংপুর রাধা গোবিন্দ মন্দিরে ধর্মসভা পূজামন্ডপ পরিদর্শন সাড়ে ১২টায় সৈয়দপুর বিমান বন্দর থেকে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমান বন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা, বেলা ১টা ১৫ মিনিটে শাহ মখুদুম বিমান বন্দর থেকে রাজশাহীর ধর্মসভা মন্দির পুজামন্ডপ পরিদর্শন, ২টা ১৫ মিনিটে রাজশাহী সার্কিট হাউজে যাত্রা বিরতি।
বিকাল তিনটায় রাজশাহীর হাজী মুহাম্মদ মুহসীন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জনসভায় যোগদান, বিকাল ৪টায় ১৫ মিনিটে শাহ মখদুম বিমান বন্দর থেকে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের উদ্দেশ্যে যাত্রা।
বিকাল সাড়ে ৫টায় চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে জেএম সেন হল রহমতগঞ্জ পুজামন্ডপ পরিদর্শন, সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে যাত্রা বিরতি, রাত ৭টা ৪৫ মিনিটে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা এবং ৯টা ১৫ মিনিটে তেজগাঁও বিমান বন্দরের অবতরণ।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী ঢাকার মহাখালী ও বনানী পূজামন্ডপ পরিদর্শন করেন। পরিদর্শকালে প্রধানমন্ত্রীর সাথে তার সহধর্মিনী জুবাইদা রহমানও ছিলেন।
মঙ্গলবার দুর্গাপূজার মহানবমী। পরের দিনই বিসর্জেনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে শারদীয়া দূর্গা উৎসব। সূত্র: বাসস