রোববার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
২২ চৈত্র ১৪৩২

প্রার্থী বেশি,প্রতিদ্বন্দ্বী কম

ফাইল ছবি
আপডেটেড
২ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০০:১৪
তানজিমুল নয়ন
প্রকাশিত
তানজিমুল নয়ন
প্রকাশিত : ২ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০০:০০

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ২ হাজার ৭১৩ জন প্রার্থী। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে নিবন্ধিত ৪৪টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩২টি দল। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন ৭৪৭ জন। সে হিসাবে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রত্যয়নপত্র নিয়ে নির্বাচনে উপস্থিত ১৯৬৬ জন প্রার্থী। আর স্বতন্ত্রদের মধ্যে অন্তত ৪০০ জন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন। তবে সাধারণ মানুষের অভিযোগ, নির্বাচনে আসা বড় দল আওয়ামী লীগের মূল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বাইরে অন্যদলগুলোর বেশির ভাগ প্রার্থীই আসনগুলোর মানুষের কাছে অচেনা। প্রায় প্রতিটি আসনেই নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন এমন অনেক অচেনা মুখ যাদের প্রার্থিতা পেতে সমস্যা না হলেও নির্বাচনী লড়াইয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে পরিচিত হতেই পার হয়ে যাবে প্রচারণার বেশির ভাগ সময়। ফলে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, নির্বাচনে প্রার্থী আছে অনেক বেশি, কিন্তু, প্রতিদ্বন্দ্বী কম।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ৩০০ আসনের বিপরীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের (নৌকা) ৩০৩ জন, জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল) ৩০৪ জন, জাকের পার্টি (গোলাপ ফুল) ২১৮ জন, তৃণমূল বিএনপি (সোনালী আঁশ) ১৫১ জন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি- এনপিপি (আম) ১৪২ জন, বাংলাদেশ কংগ্রেস (ডাব) ১১৬ জন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ (মশাল) ৯১ জন, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন (ফুলের মালা) ৪৭ জন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন (বটগাছ) ১৩ জন, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি (হাতঘড়ি) ১৮ জন, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ (চেয়ার) ৩৯ জন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (কাঁঠাল) ১৩ জন, গণফ্রন্ট (মাছ) ২৫ জন, গণফোরাম (উদীয়মান সূর্য) ৯ জন, ইসলামী ঐক্যজোট (মিনার) ৪৫ জন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট (মোমবাতি) ৩৭ জন, জাতীয় পার্টি-জেপি (বাইসাইকেল) ২০ জন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ (গামছা) ৩৪ জন, গণতন্ত্রী পার্টি (কবুতর) ১২ জন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (হাতুড়ি) ৩৩ জন, বিকল্পধারা বাংলাদেশ (কুলা) ১৪ জন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (একতারা) ৮২ জন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন-বিএনএম (নোঙর) ৪৯ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট- বিএনএফ (টেলিভিশন) ৫৫ জন, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (ছড়ি) ৭৪ জন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ- বিএমএল (হাত-পাঞ্জা) ৫ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি- ন্যাপ (কুঁড়েঘর) ৬ জন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মই) একজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (রিকশা) একজন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ (খেজুর গাছ) একজন এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (হারিকেন) দুইজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

এদিকে মনোনয়ন জমার শেষ দিনেই ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম জানিয়েছেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিলের সময়সীমা বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। ফলে বিএনপিসহ যে দলগুলো নির্বাচন বর্জন করেছে তাদের আর মত পাল্টে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসার দৃশ্যমান কোনো সুযোগ নেই। আন্দোলনরত দলগুলোও অবশ্য আগেই এ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতি দিয়েছে।

ফলে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর যাচাই-বাছাই শেষে যেসব প্রার্থী টিকে যাবেন তারাই থাকবেন নির্বাচনী দৌড়ে। তবে প্রতিটি আসনে ভোটের লড়াইয়ে যারা যাচ্ছেন তাদের বেশির ভাগেরই দলের নাম সাধারণ মানুষ জানে না। আর দল অচেনা বলে প্রার্থীরাও অচেনা। ফলে তাদের ধারণা নির্বাচনী লড়াইয়ে আসলে টিকে থাকবেন বড় দলের পরিচিত মুখগুলো। এর মধ্যে শাসক দলের মার্কা নিয়ে লড়াই করা প্রার্থীরা যেমন আলোচনায় থাকবেন, তেমনই অনেক আসনেই তাদের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমাতে পারেন নির্বাচনে আসা আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। কেননা, দলটির স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বেশির ভাগই স্থানীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত এবং তাদের মোটামুটি ভোট ব্যাংক অথবা এলাকাবাসীকে প্রভাবিত করার সক্ষমতা রয়েছে। নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া ৭৪৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে অন্তত ৪০০ জনই আওয়ামী লীগের।
যদিও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গত কয়েক দিনের মতো গতকালও বলেছেন, দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ঢালাওভাবে নির্বাচন করতে পারবেন না। এ ছাড়া ১৪-দলীয় জোটের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির সম্ভাবনা রয়েছে আওয়ামী লীগের। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন, নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আসতে পারবেন জোটের এমন প্রার্থীরাই কেবল থাকবেন বিবেচনায়। আর ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করে তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এর ফলে এটা স্পষ্ট যে, জোটের সঙ্গে সমঝোতা হলে কয়েকটি আসনে আওয়ামী লীগ যাদের মনোনয়ন দিয়েছে তাদেরও রণে ভঙ্গ দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে হবে।

তবে আওয়ামী লীগ সভাপতি নির্বাচনী কৌশল হিসেবে এবার দলীয় মার্কার বাইরে দলীয় প্রার্থীদের স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড়ানোর সুযোগ দেয়ায় নির্বাচনে আসা প্রার্থীদের কতজন আবার দল চাইলে নির্দেশ মেনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন সেটাও আছে দেখার বিষয়।

তবে এই আলোচনার বাইরে থেকে যাচ্ছে বেশির ভাগ প্রার্থী যারা বিভিন্ন দল থেকে নির্বাচনে এলেও জনগণের কাছে নিজের দল, দলীয় প্রতীক এবং নিজের পরিচয় প্রকাশ করার সুযোগ পাবেন। তবে প্রতিটি আসনে স্থানীয় ভোটারদের কাছে তারা এখনো অচেনা এবং নতুন মুখ হিসেবে বিবেচিত।

যেমন দল হিসেবে এবারই প্রথম নির্বাচন করছে তৃণমূল বিএনপি, বিএনএম, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি। এসব দলের বেশির ভাগ প্রার্থী নিজ নিজ এলাকার ভোটারদের কাছে নতুন পরিচয়ে উপস্থিত হবেন। অনেকে আবার খুব বেশি পরিচিত নন। একইভাবে তাদের নির্বাচনী প্রতীক যথাক্রমে সোনালী আঁশ, নোঙর ও একতারা চেনাতেও এবার তাদের বিশেষ প্রস্তুতি নিতে হবে।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনএমের প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য আছেন ৬ জন এবং তৃণমূলের প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য আছেন ৫ জন।

এদিকে, গতকাল আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর কাদের বলেছেন, বিএনপির ১৫ কেন্দ্রীয় নেতাসহ সাবেক ৩০ জন সংসদ সদস্য নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এদের মধ্যে কাদের সিদ্দিকী, লতিফ সিদ্দিকী, আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর মতো নেতাও আছেন। আবার আগে বিএনপিতে প্রভাব ছিল দলটির এমন সাবেক নেতারাও আছেন নির্বাচনে। এদের মধ্যে তৈমূর আলম, সমশের মবিন চৌধুরীর নাম উল্লেখযোগ্য।

তবে এদের বাইরে নির্বাচনের মাঠে থাকা বেশির ভাগ প্রার্থীই অচেনা। এ বিষয়ে গাজীপুর-৪ আসনের একজন প্রার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমার দল এলাকায় তেমন পরিচিত নয়। দলের প্রচার চালাতে ও এলাকার মানুষের কাছে নিজের পরিচয় তুলে ধরতে এবার ভোট করতে আসা। আমিও জানি নির্বাচনে জয়লাভ করার অবস্থান এখনো আমার বা আমার দলের তৈরি হয়নি। তবে এক দিনে তো কিছুই হয় না। আমাদের দলের আদর্শ ও কর্মসূচি দেশের মানুষ ও এলাকার মানুষকে জানাতে আমরা নির্বাচনে এসেছি।’

অন্যদিকে লালমনিরহাট-৩ আসনে মনোনয়ন জমা দেয়া প্রার্থীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই সদর আসনে ৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সদ্য পদত্যাগকারী সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জাবেদ হোসেন বক্কর, জাতীয় পার্টি থেকে জাহিদ হাসান, তৃণমূল বিএনপি থেকে শামীম আহম্মেদ চৌধুরী, জাকের পার্টি থেকে সকিউজ্জামান মিয়া, বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল থেকে আশরাফুল আলম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) থেকে আবু তৈয়ব মো. আজমুল হক পাটোয়ারী, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) থেকে শ্রী হরিশ চন্দ্র রায় মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তবে এবার তিনি এ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেননি। ফলে এ আসনে নির্বাচনে অংশ নেয়া সব প্রার্থীই নতুন এবং নতুন একজন সংসদ সদস্য পাবে লালমনিরহাট সদরবাসী। তবে নতুন হলেও জেলা ও শহরের রাজনীতিতে পুরনো মুখ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান। ছাত্ররাজনীতি করায় জাবেদ হোসেন বক্করও সেখানে পরিচিত মুখ। জাকের পার্টি ও জাসদের প্রার্থীকেও অনেকে চেনেন। তবে সাম্যবাদী দল, এনপিপির প্রার্থীর মতো জাতীয় পার্টির প্রার্থীও এলাকার সবার চেনা মুখ নন। ফলে যে আসন থেকে জাতীয় পার্টি বর্তমান সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছে সেখানে নতুন মুখ দেয়ায় মাঠের রাজনীতিতে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন এলাকার অনেক বাসিন্দা।

বিষয়টা আরও স্পষ্ট হয় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনার ৬টি আসন বিশ্লেষণ করলে। দৈনিক বাংলার খুলনা ব্যুরো জানায়, খুলনার এই ৬টি আসনের জন্য সেখানে ৫৩ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে যারা সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচন করবেন, তাদের অধিকাংশেরই রাজনীতিতে তেমন কোনো পরিচিতি নেই। হঠাৎ করেই তারা কেন সংসদ নির্বাচনে আগ্রহী হলেন, এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে উত্তরও দেননি অধিকাংশ প্রার্থী।

খুলনা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের মনোনীত ৬ জন প্রার্থী, আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র ২ জন এবং জাতীয় পার্টির একজন প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচিতি রয়েছে। বাকি ৪৪ জন প্রার্থী কখনো রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয় ছিলেন না।

খুলনা প্রতিনিধির বিশ্লেষণ অনুযায়ী খুলনা-১ আসনের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ৬ জন। তারা হলেন, জাকের পার্টির মো. আজিজুর রহমান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ননী গোপাল মণ্ডল, জাতীয় পার্টির কাজী হাসানুর রশিদ, তৃণমূল বিএনপির গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রশান্ত কুমার রায় ও আবেদ আলী শেখ।

এদের মধ্যে ননী গোপাল মণ্ডল ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। রাজনীতিতে তার পরিচিতি রয়েছে। তবে বাকি চারজন রাজনীতিতে একেবারেই অপরিচিত। তারা প্রত্যেকেই এবার প্রথম সংসদ নির্বাচন করছেন। এদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রশান্ত কুমার রায় পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সাবেক সচিব।

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আমি নির্বাচন করছি। আমাকে ডামি প্রার্থীও বলা যাবে। এটা দলীয় নির্দেশেই হচ্ছে।’
আওয়ামী লীগের ননী গোপাল মণ্ডল বলেন, ‘দল আমাকে আবারও সুযোগ দিয়েছে। আমি দলের সম্মান রাখব বলে আশাবাদী।’

তবে বাকি চার প্রার্থীর তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই। জাতীয় পার্টীর কাজী হাসানুর রশিদ ও তৃণমূল বিএনপির গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিকের কাছে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেও কোনো উত্তর মেলেনি।

আর জাকের পার্টি মো. আজিজুর রহমান বলেন, ‘দল থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে বলেছে, তাই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি।’

অন্যদিকে খুলনা-২ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৯ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল, গণতন্ত্র পার্টির মো. মতিয়ার রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের দেবদাস সরকার, জাকের পার্টির ফরিদা পারভিন, ইসলামী ঐক্যজোটের হিদায়েতুল্লাহ, জাতীয় পার্টির মো. গাউসুল আজম, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের বাবু কুমার রায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সাঈদুর রহমান।

এদের মধ্যে শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থীর রাজনৈতিকভাবে পরিচিতি রয়েছে। তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। তবে বাকিদের আগে কখনো রাজনৈতিক মাঠে দেখা যায়নি।

কেন প্রার্থী হয়েছেন- এমন প্রশ্নে বাংলাদেশ কংগ্রেসের দেবদাস সরকার বলেন, ‘অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে মনোনয়ন জমা দেয়া হচ্ছে, তাই আমরাও দিচ্ছি।’

খুলনা-৩ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৫ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের এস এম কামাল হোসেন, জাকের পার্টির এস এম সাব্বির হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, স্বতন্ত্র প্রার্থী কাইজার আহমেদ ও ফাতেমা জামান সাথী।

এদের মধ্যেও শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচিতি রয়েছে। তিনি দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। তিন বারের সংসদ সদস্য ও দুই বারের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানকে সরিয়ে তাকেই আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিয়েছে। তবে ওই আসনেরও বাকি চারজনের তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই।

খুলনা-৪ আসন থেকে মনোনয়ন নিয়েছেন ১৪ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের আব্দুস সালাম মূর্শেদী, জাকের পার্টির শেখ আনছার আলী, জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এস এম আজমল হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. ফরহাদ আহমেদ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. মোস্তাফিজুর রহমান, তৃণমূল বিএনপির শেখ হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মনিরা সুলতানা, ইসলামী ঐক্যজোটের রিয়াজ উদ্দীন খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জুয়েল রানা, এম ডি এহসানুল হক, মো. রেজভী আলম, এস এম মোর্ত্তজা রশিদী দারা, আতিকুর রহমান ও এইচ এম রওশান জমির।

এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের আব্দুস সালাম মূর্শেদী বর্তমান সংসদ সদস্য। ২০১৮ সালের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে তিনি জয়ী হয়েছিলেন।

এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম মোর্ত্তজা রশিদী দারার দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস রয়েছে। তিনি ওই আসনের তিন বারের সাবেক সংসদ সদস্য এস এম মোস্তফা রশিদী সুজার আপন ভাই।

তিনি বলেন, এলাকার মানুষের দোয়া নিয়ে মাঠে নেমেছি। জয়-পরাজয় এলাকার মানুষই নির্ধারণ করবেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই আসনে আওয়ামী লীগের এই দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এলাকার ভোটাররা বলছেন, বাকি ১২ জন প্রার্থীদের নাম খুব একটা শোনেননি তারা। কেউ কেউ একেবারেই অপরিচিত।

খুলনা-৫ আসনের জন্য মনোনয় জমা দিয়েছেন ৭ জন। তারা হলেন- জাতীয় পার্টির মো. শহীদ আলম, জাকের পার্টির সামাদ সেখ, আওয়ামী লীগের নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, ওয়ার্কার্স পার্টির শেখ সেলিম আকতার, বাংলাদেশ কংগ্রেসের এস এম এ জলিল, ইসলামী ঐক্যজোটের তরিকুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ আকরাম হোসেন।

এদের মধ্যে নারায়ণ চন্দ্র চন্দ একাধিক বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী। এ ছাড়া আকরাম হোসেন ফুলতলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। এই আসনেও আওয়ামী লীগের এই দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ভোটাররা। বাকি যারা প্রার্থী হয়েছেন এলাকার রাজনীতিতে তাদের তেমন কোনো পরিচিতি নেই বলে জানা গেছে।

খুলনা-৬ আসনের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ১২ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের মো. রশীদুজ্জামান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. আবু সুফিয়ান, জাকের পার্টির শেখ মর্তুজা আল মামুন, জাতীয় পার্টির মো. শফিকুল ইসলাম মধু, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মির্জা গোলাম আজম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এস এম নেওয়াজ মোরশেদ, তৃণমূল বিএনপির গাজী নাদীর উদ্দীন খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম রাজু, গাজী মোস্তফা কামাল, জি এম মাহবুবুল আলম, মো. মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর ও মো. অহিদুজ্জামান মোড়ল।

এদের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত মো. রশীদুজ্জামানের কোনো দলীয় পদ নেই। তিনি একসময় পাইকগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্যসচিব ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে জামানত হারিয়েছিলেন। তবে তাকেই মনোনয়ন দিয়ে চমক সৃষ্টি করেছে ক্ষমতাসীন দল। ওই আসনে রাজনৈতিকভাবে পরিচিত রয়েছে জাতীয় পার্টির মো. শফিকুল ইসলাম মধুর। তিনি আগেও খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। বাকি প্রার্থীদের তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই। এলাকার সবার কাছে পরিচিত মুখও নন অনেকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশির ভাগ আসনেই ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীদের স্থানীয়রা তেমন একটা চেনেন না। তবে বিরোধীদের এক অংশ নির্বাচন বর্জন করায় রাজনীতির নতুন সমীকরণ মেলাতে ছোট দলগুলোই নির্বাচনে হতে যাচ্ছে বড় দলগুলোর সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনীযুদ্ধ পার হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী।

জাসদের মাঠপর্যায়ের এক রাজনীতিবিদ জসিম মণ্ডল বলেন, ‘নির্বাচন একটা বড় খেলা। এখানে সবাই নামে নিজ নিজ সমীকরণ মেলানোর জন্য। রাজনৈতিক দলগুলোর সমীকরণ হয় এক ধরনের, আবার প্রার্থীর সমীকরণ হয় আরেক ধরনের। সবাই নির্বাচনে জয়ী হতে যেমন অংশ নেয় না তেমনই কেউ কেউ নির্বাচনে যায় অন্যের যাত্রা ভঙ্গ করতে। আবার অনেকের কাছে ‘নির্বাচনে অংশগ্রহণই বড় কথা।’ জয়-পরাজয়ের চেয়েও বড় বিষয় এ সময় পোস্টারিং করে নিজের ছবি ও পরিচিতি পুরো এলাকার মানুষকে দেখানো যায়। এটাও বা কম কিসে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দেশের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষেরই আছে নির্বাচনে দাঁড়ানোর অধিকার। তাই কটা টাকা খরচ করে অনেকেই পরিচিতি বাড়ানোর সুযোগ নেয়। এর ফল তো অসীম-সারাজীবন নানাভাবে এর সুফল মেলে। যারা রাজনীতিতে আছেন, কেবল তারাই বোঝেন নির্বাচনে অংশ নিতে পারার গুরুত্ব।


হাম আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় ১২ মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে গত এক দিনে আক্রান্ত হয়ে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

রোববার (৫ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে হামে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা বিভাগে একজন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি উপসর্গ নিয়ে খুলনা বিভাগে ৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ৩ জন এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ২ জন মারা গেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৫৪ জন। একই সময়ে সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৭৪ জন।

গত ১৫ মার্চ থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে দেশে মোট নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে ৯২৯ জনে পৌঁছেছে। এ সময় পর্যন্ত সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪৭০ জন।

এদিকে একই সময়ের মধ্যে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩ হাজার ৩৮০ জন রোগী।


সরকারি চাকরিতে প্রবেশসীমা ৩২ বছর করে সংসদে বিল পাস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থাসহ সব ক্ষেত্রে সরাসরি নিয়োগের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ (বত্রিশ) বছর নির্ধারণ করতে জাতীয় সংসদে বিল উত্থাপন করা হয়। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।

রোববার (০৫ এপ্রিল) বিকেলে ‘সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যান্সিয়াল কর্পোরেশনসহ স্ব-শাসিত সংস্থাগুলোতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ বিল, ২০২৬’ শীর্ষক বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।

এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

বিলের মূল বিধানগুলোতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) সব ক্যাডার এবং বিসিএস বহির্ভূত সব সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা হবে ৩২ বছর। স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থাগুলোর যেসব পদে নিয়োগের বয়সসীমা আগে ৩০ বা অনূর্ধ্ব ৩২ ছিল, সেখানেও এখন থেকে বয়সসীমা ৩২ বছর হবে।

অপরিবর্তিত উচ্চতর বয়সসীমায় যেসব পদের নিয়োগ বিধিমালায় বয়সসীমা এর আগে ৩২ বছরের বেশি (যেমন : ৩৫, ৪০ বা ৪৫ বছর) নির্ধারিত আছে, সেই ক্ষেত্রে আগের উচ্চতর বয়সসীমাটিই বহাল থাকবে। অর্থাৎ এই আইনের ফলে কারও সুযোগ কমবে না। এছাড়া প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়োগের ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব বিদ্যমান বিধিমালা অপরিবর্তিত থাকবে।

বিলটির উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রী জানান, শিক্ষিত বেকার যুবকদের দেশ গঠনে আরও বেশি সুযোগ করে দিতে এবং শ্রমবাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে এই বয়সসীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর আগে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে জারি করাত এ সংক্রান্ত দুটি অধ্যাদেশ রহিত করে সেগুলোকে স্থায়ী আইনি রূপ দিতেই এই নতুন বিলটি আনা হয়েছে।

বিলের বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এর আগে অধ্যাদেশ জারির ফলে কিছু কারিগরি জটিলতা তৈরি হয়েছিল, যেখানে কিছু বিশেষায়িত পদে উচ্চতর বয়সসীমা কমে গিয়েছিল। বর্তমান বিলের মাধ্যমে সেই অস্পষ্টতা দূর করা হয়েছে এবং ৩২ বছরের বেশি বয়সসীমা নির্ধারণ করা পদগুলোর বিদ্যমান নিয়ম বহাল রাখা হয়েছে।


মাইকে কাজ করছে না, অধিবেশনে ৪০ মিনিট মুলতবি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাউন্ড সিস্টেমের বিভ্রাটের কারণে সংসদের অধিবেশন ৪০ মিনিট মুলতবি করা হয়েছে।

রোববার (৫ এপ্রিল) বিকেল ৫টা ৫৬ মিনিটে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এ মুলতবি ঘোষণা করেন। এ সময় তিনি অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

স্পিকার বলেন, আবারও স্পিকারের মাইক কাজ করছে না। এই কারণে ৪০ মিনিটের জন্য অধিবেশন মুলতবি করা হলো। প্রথম ২০ মিনিট নামাজের জন্য এবং পরবর্তী ২০ মিনিট মাইকের জন্য মুলতবি।

তিনি বলেন, সদস্যবৃন্দ স্পিকারের মাইক কাজ করছে না, আপনাদেরও মাইক কাজ করছে না। এ কারণে ৪০ মিনিট বিরতি দেওয়া হলো। নামাজের টাইম হয়েছে, ২০ মিনিট বিরতি দেই। সদস্যবৃন্দ আজানের ২০ মিনিট বাকি এবং এই মাইক রিপেয়ার করার জন্য আরো ২০ মিনিট, মোট ৪০ মিনিট সময়ের জন্য অধিবেশন মুলতবি করা হলো।


১২৮টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে: দুর্যোগ ব্যবস্থাপনামন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় মোকাবিলায় দেশের বন্যাপ্রবণ ৪৩টি জেলার ২৫৮টি উপজেলায় ৩২০টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে এবং আরও ১২৮টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের সংসদ মো. আবদুল মান্নানের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রথম অধিবেশনে অষ্টম দিন সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, বর্তমানে দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় দুর্যোগ ঝুঁকিহ্রাসকল্পে বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

বিশেষ পদক্ষেপ

১. বন্যা ও ঘূর্ণিঝড় মোকাবেলায় দেশের বন্যাপ্রবণ ৪৩টি জেলার ২৫৮টি উপজেলায় ৩২০টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে এবং আরও ১২৮টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে। এছাড়াও ‘উপকূলীয় ও ঘূর্ণিঝড় প্রবণ এলাকায় ৯০টি বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র’ নির্মাণ করা হবে। অন্যদিকে সারা দেশে ১১৫টি দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে এবং ১২২টি দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে।

২. দুর্যোকালীন সময়ে সহজে ও দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে যাতায়াতের জন্য দেশব্যাপী ১২ হাজার ২৪৫টি সেতু/কালভার্ট নির্মাণ করা হয়েছে এবং আরও ২ হাজার ৩৬টি সেতু/কালভার্ট নির্মাণ করা হবে। এছাড়া ৬ হাজার ৭৮৮ কিলোমিটার এইচবিবি রাস্তা নির্মাণ করা হয়েছে এবং আরও ১ হাজার কিলোমিটার রাস্তা নির্মাণ করা হবে।

৩. দেশের ১২টি জেলার ৩৫টি উপজেলায় দুর্যোগকালীন সময়ে জরুরি উদ্ধারকার্য ব্যবহারের জন্য টেলিকমিউনকেশন ইকুইপমেন্ট, ফায়ার ফাইটং ইকুইপমেন্ট, রেডিও সেট, ১২টি রেসকিউ বোট এবং ৪১৩টি শ্যালো ওয়াটার রিসোর্চ বোট ক্রয় করা হবে।

৪. অন্যদিকে, ভূমিকম্প ঝুঁকি মোকাবিলায় ১১টি এরিয়াল প্ল্যাটর্ফম ল্যাডার ক্রয়পূর্বক ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সকে দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও তিনটি ফর্কলিফ্ট, ২০ টনের তিনটি ডোজার, ৪৮ টনের তিনটি ডোজার আমর্ড ফোর্সেস ডিভিশনকে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার এই মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দুর্যোগকালীন সময়ে উদ্ধারকার্যের জন্য আরও অগ্নিনির্বাক সরঞ্জামাদি, তাবু, এয়ার বোট, স্পিড বোট, ইমারজেন্সি রেসপন্স ভেহিক্যাল, স্যার্চ অ্যান্ড রেসকিউ ইকুইপমেন্ট, টেলিযোগাযোগসহ অন্যান্য সরঞ্জামাদি ক্রয় করে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স আর্মড ফোর্সেস ডিভিশন, বাংলাদেশ নৌ বাহিনী, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেমের মধ্যে বিতরণ করা হবে।


প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র হলেন মাহদী আমিন ও ছালেহ শিবলী

আপডেটেড ৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১৮:১৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) দাফতরিক তথ্য বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচার ও প্রদানের জন্য মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন ও প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ (শিবলী)। রবিবার (৫ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে এই নিয়োগের তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’-এর রুল ২৮(৪) অনুসারে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সংশ্লিষ্ট যেকোনও তথ্য প্রেস, মিডিয়া বা অন্য কোনও মাধ্যমে প্রচারের ক্ষেত্রে মাহদী আমিন ও আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ (শিবলী) মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টা মাহদী আমিন বর্তমানে শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে গঠিত বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ও মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৪ সাল থেকে তিনি তৎকালীন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা এবং ২০২৪ সালে দলের ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজরি কমিটির সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন। দক্ষিণ এশিয়ার আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন নীতিমালা প্রণয়ন ও রাষ্ট্রীয় সংস্কারের ৩১ দফার ভিত্তিতে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নে তার বিশেষ অবদান রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ (শিবলী) কয়েক দশক ধরে সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম ব্যবস্থাপনায় যুক্ত। তিনি বার্তা সংস্থা ইউএনবি, দৈনিক মানবজমিন, বাংলাবাজার পত্রিকা ও চ্যানেল আইসহ বিভিন্ন প্রথম সারির গণমাধ্যমে কাজ করেছেন। ২০০৪ সালে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) এবং ১৯৯৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। চারদলীয় জোট সরকারের আমলে তিনি কলকাতার উপ-হাই কমিশনে ফার্স্ট সেক্রেটারি (প্রেস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রেস সচিব হিসেবেও তিনি দীর্ঘ সময় অত্যন্ত বিশ্বস্ততার সাথে কাজ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সংশ্লিষ্ট যেকোনও আনুষ্ঠানিক বক্তব্য বা তথ্য এখন থেকে এই দুই কর্মকর্তার মাধ্যমেই গণমাধ্যমে সরবরাহ করা হবে।


ভবিষ্যতে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে: অর্থমন্ত্রী

আপডেটেড ৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১৭:৫৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

জ্বালানি ও সামগ্রিক সংকট প্রসঙ্গ টেনে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতি শুধু জ্বালানির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি একটি বহুমাত্রিক সংকট। এতে খাদ্যসহ বিভিন্ন পণ্যের ওপর প্রভাব পড়ছে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে ভবিষ্যতে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে।’

রবিবার (৫ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর এনইসি সম্মেলন কক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের উদ্যোগে এ পরামর্শসভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার বর্তমানে অর্থনীতিকে টিকিয়ে রাখা ও পুনরুদ্ধারের এক ধরনের যুদ্ধের মধ্যে রয়েছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক প্রভাব দেশের ওপর বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে, ফলে সরকারি তহবিলে ধারাবাহিক চাপ ও ক্ষয় তৈরি হচ্ছে। প্রতিদিন এসব পরিস্থিতি সামাল দিতে হচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘দেশের ঋণ পরিস্থিতি ও তার ব্যবস্থাপনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আগামী দিনে অর্থায়নের ক্ষেত্রে ব্যয়ের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে এবং অর্থ সংগ্রহের খরচও পরিকল্পনার অংশ হতে হবে।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনীতি এমন অবস্থায় রয়েছে যেখানে সরকারের প্রধান কাজ হচ্ছে তা পুনরুদ্ধার করা। সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় অর্থনীতির প্রায় সব সূচকই নিম্নমুখী ছিল, ফলে এখন উত্তরণের বিষয়টি সামনে আসার মতো পরিস্থিতি নেই।’

তিনি বলেন, ‘এই সংকট কোনো একটি দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়, বরং বৈশ্বিক বাস্তবতার অংশ।

আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিভিন্ন দেশে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। বাংলাদেশ এখনো অনেক ক্ষেত্রে দাম সমন্বয় করেনি, তবে এই চাপ দীর্ঘদিন ধরে রাখা সম্ভব নয়।’

মন্ত্রী বলেন, ‘সরকার জনগণের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে এই চাপ বহন করা সম্ভব না হলে এর নেতিবাচক প্রভাব শেষ পর্যন্ত জনগণের ওপরই পড়বে। তাই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।’

এর আগে, এনইসি সম্মেলন কক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের উদ্যোগে এবং জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত, স্থলবেষ্টিত ও ক্ষুদ্র দ্বীপরাষ্ট্র বিষয়ক দপ্তর ও বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কের কার্যালয়ের সহযোগিতায় জাতীয় বহুপক্ষীয় পরামর্শ সভার আয়োজন করা হয়।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সভায় উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল রাবাব ফাতিমা এবং পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি প্রমুখ।


৪৮১ ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিল: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক বিবেচনায় তালিকাভুক্ত হওয়া ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমদ আযম খান। এরই মধ্যে ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত সারাদেশে তদন্ত ও যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে ৪৮১ জন অমুক্তিযোদ্ধার (ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা) গেজেট বাতিল করা হয়েছে।

রবিবার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. আব্দুল মালিকের নেটিশের জবাবে মন্ত্রী এসব তথ্য জানান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনৈর অষ্টম দিনে সভাপতিত্ব করে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।

৭১ বিধিতে দেওয়া নোটিশে মোহাম্মদ আব্দুল মালিক দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার সারাদেশের ন্যায় আমার এলাকায় অনেক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তালিকাভুক্ত করেছে। এই নিয়ে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের অনেক ক্ষোভ রয়েছে। মিথ্যা তথ্য দিয়ে তালিকাভুক্ত হয়ে অনেক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সেজে অনৈতিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছে।”

সংসদ সদস্য আব্দুল মালিক তার বক্তব্যে অভিযোগ করেন, “বিগত ১৫ বছরে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা অবহেলিত ছিলেন এবং অনেক অসাধু ব্যক্তি ভুয়া তথ্য দিয়ে তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন। বিশেষ করে সিলেটের বালাগঞ্জ ও দক্ষিণ সুরমার মতো গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে এর ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।”

জবাবে মন্ত্রী বলেন, “বীর মুক্তিযোদ্ধারা দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা বলতে আসলে কিছু নেই। তবে কিছু সুযোগসন্ধানী ব্যক্তি অসাধু উপায়ে তালিকায় ঢুকে পড়েছে। এদের চিহ্নিত করার কাজ একটি চলমান প্রক্রিয়া। জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) উপকমিটি অভিযোগের ভিত্তিতে নিয়মিত শুনানি ও যাচাই-বাছাই করছে। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়া মাত্রই তাদের সনদ ও গেজেট বাতিল করা হবে।”

সিলেট অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধাদের অবদানের কথা স্মরণ করে মন্ত্রী জানান, মহান মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক জেনারেল এমএজি ওসমানী এবং সাবেক নৌবাহিনী প্রধান মাহবুব আলী খানের স্মৃতিবিজড়িত এই অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রবাসে অবস্থানরত যেসব মুক্তিযোদ্ধা এখনও ডিজিটাল সনদ বা স্মার্ট আইডি পাননি, তাদের আবেদনের প্রেক্ষিতে দ্রুততম সময়ে তা দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সংসদ সদস্যের দাবির প্রেক্ষিতে মন্ত্রী আশ্বাস দেন যে, দক্ষিণ সুরমা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের কাজ দ্রুত হস্তান্তর করা হবে। এছাড়া বালাগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স নির্মাণ ও সংস্কারের বিষয়টিও সরকারের পরিকল্পনায় রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে পরিচিত নেত্রীর আদর্শে বর্তমান সরকার পরিচালিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর।”

মন্ত্রী জানান, শিগগিরই তিনি সিলেটের ঐতিহাসিক মুক্তিযুদ্ধের স্থানগুলো পরিদর্শন করবেন এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষায় স্থানীয় প্রতিনিধিদের কাছ থেকে আরও তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।


আগের সরকারের সময়ে র‍্যাবের অপকর্মের ইতিহাস খুব বেশি নেই: র‍্যাব ডিজি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গত দেড় বছর এবং এর আগের সরকারের সময়ে র‍্যাবের অপকর্মের ইতিহাস খুব বেশি নেই বলে জানিয়েছেন বাহিনীর মহাপরিচালক (ডিজি) অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশ।

রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

চিফ প্রসিকিউটর র‍্যাবের কথিত খুন, গুম ও ‘ক্রসফায়ার’-এর নথি তলব করে মামলাগুলো তদন্ত করবেন– এ ক্ষেত্রে র‍্যাব সহযোগিতা করবে কি না, জানতে চাইলে মহাপরিচালক বলেন, ‘বিচারপ্রক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো বিষয়ে আমাদের সহযোগিতা চাওয়া হলে আমরা সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব। আমাদের কাছে যা আছে, তা দেব। কোনো তথ্য না থাকলে আমরা অপারগতা প্রকাশ করব। তবে ট্রাইব্যুনাল এই বিষয়ে এখনো আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। তারা আমাদের কাছে সহায়তা চাইলে অবশ্যই সহায়তা করা হবে।’

র‍্যাব বিলুপ্তির বিষয়ে দেশি-বিদেশি সংস্থার চাপের বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ডিজি বলেন, র‍্যাব বিলুপ্তি বা বাহিনী সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের দায়ভার র‍্যাবের ওপর বর্তায় না; সরকার এ বিষয়গুলো বিবেচনা করবে। তিনি বলেন, ‘আমাদের কর্তব্য হচ্ছে দায়িত্ব পালন করা। যেহেতু আমরা রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছি, তাই আমাদের মূল কাজই হচ্ছে কাজের মাধ্যমে র‍্যাবকে জনগণের সামনে ভালোভাবে প্রতিষ্ঠিত করা। র‍্যাব সংক্রান্ত যেকোনো সিদ্ধান্ত সরকার নেবে, আমরা আমাদের কাজ করে যাব।’

বিগত সময়ে র‍্যাবকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহারের অভিযোগ প্রসঙ্গে আহসান হাবীব পলাশ বলেন, ‘গত দেড় বছর এবং এর আগের সরকারের সময়ের র‍্যাব কার্যক্রম পর্যালোচনা করলে দেখবেন, র‍্যাবের অপকর্মের ইতিহাস খুব বেশি নেই। এতেই প্রমাণিত হয় যে সঠিকভাবে পরিচালনা করা গেলে র‍্যাব সঠিকভাবে চলতে পারে। আমি মনে করি, এ ব্যাপারে সরকার চেষ্টা করছে এবং আমরা সরকারের কিছু নির্দেশনাও পেয়েছি।’

জলদস্যু ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ফের সক্রিয় হওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, র‍্যাব গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করেছে এবং এ নিয়ে কাজ চলছে। নির্বাচনসহ বিভিন্ন কারণে আগে পর্যাপ্ত দৃষ্টি দেওয়া সম্ভব না হলেও এখন তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ নির্মূলের বিষয়ে র‍্যাব ডিজি বলেন, ‘জঙ্গিবাদ বা সন্ত্রাসবাদ– এগুলোর জবাব আমি দিতে চাই না, তবে আমরা কাজ করছি। যে ‘বাদ’-ই থাকুক না কেন, আমরা তা নির্মূল করতে পারব।’

কিশোর গ্যাং বা কিশোর অপরাধী চক্রের বিষয়ে তিনি বলেন, এটি বর্তমানে দেশে প্রকট আকার ধারণ করছে। পুলিশ ও র‍্যাব যৌথভাবে এটি নিয়ে কাজ করছে। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারাও উন্মোচন করুন কারা কিশোর গ্যাংকে সহায়তা করছে, তাহলে আমাদের কাজ সহজ হয়ে যাবে।’

র‍্যাবের নাম পরিবর্তন বা সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি জানান, পুনর্গঠন বা কাঠামোগত পরিবর্তন সরকারের বিবেচনার বিষয়। র‍্যাবের অগ্রাধিকার হচ্ছে অর্পিত দায়িত্ব পালন করা। মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে অভ্যন্তরীণ তদন্তের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে কেউ ছাড় পাচ্ছে না।

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে র‍্যাব ডিজি বলেন, ‘র‍্যাব গঠনের পর থেকে এখন পর্যন্ত কেন এ ঘটনাগুলো ঘটল, তা পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, কাজের ক্ষেত্রে কিছু ভিন্নতা বা কিছুটা পদস্খলন ছিল। আমরা যদি এই বিষয়গুলো সংশোধন করতে পারি, তবে আমার মনে হয় নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি আর থাকবে না।’


প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

আপডেটেড ৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১৫:৩৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন।

আজ রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন খবরটি নিশ্চিত করেন। সাক্ষাৎকালে তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন।

রাষ্ট্রদূত এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে দুটি ছবি এবং হোয়াইট হাউসের একটি রেপ্লিকা তুলে দেন। একটি ছবিতে রয়েছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার এবং অপর ছবিতে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ সিনিয়র।

এ সময়ে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।


আমেরিকার সঙ্গে আমাদের কোনো গোপন চুক্তি নেই: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেটেড ৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১৫:০৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের কোনো গোপন চুক্তি নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, আমেরিকার সঙ্গে যা কিছু আছে, তা প্রকাশ করা হয়েছে।

রোববার (৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানান, জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে সরকারের ওপর কোনো ধরনের বাধ্যবাধকতা নেই। সাম্প্রতিক বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক, বিশেষ করে জ্বালানি, বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতা নিয়ে সাধারণ আলোচনা হয়েছে। একই সঙ্গে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সহায়তা অব্যাহত রাখার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্র এখনো বিশ্বের সবচেয়ে বড় দাতা দেশ এবং তাদের এই সহায়তা অব্যাহত রাখার বিষয়টি আলোচনায় এসেছে।

জ্বালানি খাতে সহযোগিতা প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। আলোচনার কিছু বিষয় গোপনীয়তার কারণে এই মুহূর্তে প্রকাশ করা না গেলেও, বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্র সব ধরনের সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছে।

দেশের বর্তমান জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে সহায়তা করবে– এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সরকার বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির চেষ্টা করছে। এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে সাশ্রয়ী উৎস থেকেই তেল কেনা হবে। ভারত, মধ্যপ্রাচ্য কিংবা যুক্তরাষ্ট্র– সব বিকল্পই সরকারের জন্য খোলা রয়েছে।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য বিদেশ সফর নিয়ে জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিষয়টি এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং সফরের জন্য নির্দিষ্ট কোনো দেশের নাম চূড়ান্ত হয়নি। তিনি আরও বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। এ জন্য বিশ্ববাজারে সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক ও সাশ্রয়ী উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।


এলডিসি উত্তরণে দেশ এখনো পুরো প্রস্তুত নয়: অর্থমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের লক্ষ্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠলেও এখনো সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর মতো পূর্ণ প্রস্তুতি নেই বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেন, ‘বৈদেশিক ঋণ ও অভ্যন্তরীণ দেনার চাপ, উচ্চ সুদের হারে ঋণ গ্রহণের ঝুঁকি এবং সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

রবিবার (৫ এপ্রিল) শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক বহুপক্ষীয় পরামর্শসভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের উত্তরণ প্রস্তুতি পর্যালোচনার লক্ষ্যে জাতিসংঘের সংস্থা UN-OHRLLS একটি স্বতন্ত্র মূল্যায়ন সম্পন্ন করেছে, যার মূল বিষয়গুলো এই সভায় উপস্থাপন করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানি সংকট ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। এর প্রভাব শুধু জ্বালানি খাতে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও পড়বে, যা মূল্যস্ফীতি বাড়াবে।’ তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং বাংলাদেশ এখনো তা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। তবে দীর্ঘদিন এই চাপ বহন করা সরকারের জন্য সম্ভব নয়।

তিনি আরো বলেন, সরকার জনগণের ওপর হঠাৎ অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে চায় না। কিন্তু সরকারি তহবিল থেকে ধারাবাহিক ব্যয় চলতে থাকলে শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব জনগণের ওপরই পড়বে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। যেন জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা যায় এবং অন্যদিকে অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতাও নিশ্চিত হয়।

বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘প্রতিদিনের সংকট মোকাবেলা’ হিসেবে বর্ণনা করে মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির প্রায় সব সূচকই নিম্নমুখী। সরকার এখন অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে, কিন্তু জ্বালানি খাতে ভর্তুকি, বৈশ্বিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং আমদানি নির্ভরতার কারণে চাপ আরো বাড়ছে।’

সংকট উত্তরণে সক্ষমতা বৃদ্ধিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনীয় সংস্কার ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনীতিকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো হবে।’ এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নীতিমালার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘বর্তমানে উত্তরণ প্রক্রিয়া কিছু সময়ের জন্য পিছিয়ে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে এবং এই সময়ের মধ্যে দেশের অর্থনীতির মৌলিক সূচকগুলো শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করা গেলে ভবিষ্যতে উত্তরণ একটি বাস্তবসম্মত লক্ষ্য হয়ে উঠবে।’

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন—পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, জাতিসংঘের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মিজ রাবাব ফাতিমা এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।


আনন্দ বা মঙ্গল নয়, হবে ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’: সংস্কৃতিমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পয়লা বৈশাখে যে শোভাযাত্রা হবে সেটি আর আনন্দ বা মঙ্গল শোভাযাত্রা নামে হবে না। এবার সেটি ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামে উদযাপিত হবে বলে জানিয়েছেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।

রোববার (০৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে বাংলা নববর্ষ এবং চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো ও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নববর্ষ উদযাপনের লক্ষ্যে এক সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।


দেশব্যাপী ৬-৫৯ মাস বয়সী শিশুদের টিকা কার্যক্রম শুরু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় একযোগে শুরু হওয়া এই কার্যক্রমে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে মিজলস (হাম) প্রতিষেধক টিকা প্রদান করা হচ্ছে।

রোববার (৫ এপ্রিল) বেলা সোয়া ১১টায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে এই বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) পরীক্ষা অনুযায়ী, হামে আক্রান্ত রোগীদের ৮২ শতাংশই পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু। তাই আমরা বর্তমানে ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী দেশের সব শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি। আজ থেকে সেই কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। তবে এই বয়সী শিশুদের মধ্যে যারা বর্তমানে অসুস্থ, তাদের এই মুহূর্তে টিকা দেওয়া হচ্ছে না। অসুস্থ শিশু ছাড়া বাকি সবাইকে টিকার পাশাপাশি ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। আর যারা অসুস্থ, তাদের কেবল ভিটামিন ‘এ’প্রদান করা হবে।’

মন্ত্রী আরও জানান, প্রথম ধাপে ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বিশ্বব্যাংক ও ইউনিসেফ এসব এলাকায় হামের প্রাদুর্ভাব বেশি বলে শনাক্ত করেছে। এই এলাকাগুলোতে কার্যক্রম শেষ করার পর পর্যায়ক্রমে সারা দেশে বিশেষ এই টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করা হবে।

প্রথম পর্যায়ে শুরু হওয়া এই বিশেষ কর্মসূচির আওতাভুক্ত ৩০টি উপজেলা হলো- রাজশাহীর গোদাগাড়ী; ঢাকার নবাবগঞ্জ; মুন্সিগঞ্জের লৌহজং, সদর ও শ্রীনগর; ঝালকাঠির নলছিটি; ময়মনসিংহের ত্রিশাল, সদর ও ফুলপুর; চাঁদপুরের হাইমচর ও সদর; বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জ; পাবনার ঈশ্বরদী, সদর, আটঘরিয়া ও বেড়া; নওগাঁর পোরশা; গাজীপুর সদর; নেত্রকোনার আটপাড়া; শরীয়তপুরের জাজিরা; বরগুনা সদর; মাদারীপুর সদর; কক্সবাজারের মহেশখালী ও রামু; চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ, ভোলাগঞ্জ ও সদর; নাটোর সদর এবং যশোর সদর।


banner close