আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ২ হাজার ৭১৩ জন প্রার্থী। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে নিবন্ধিত ৪৪টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩২টি দল। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন ৭৪৭ জন। সে হিসাবে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রত্যয়নপত্র নিয়ে নির্বাচনে উপস্থিত ১৯৬৬ জন প্রার্থী। আর স্বতন্ত্রদের মধ্যে অন্তত ৪০০ জন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন। তবে সাধারণ মানুষের অভিযোগ, নির্বাচনে আসা বড় দল আওয়ামী লীগের মূল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বাইরে অন্যদলগুলোর বেশির ভাগ প্রার্থীই আসনগুলোর মানুষের কাছে অচেনা। প্রায় প্রতিটি আসনেই নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন এমন অনেক অচেনা মুখ যাদের প্রার্থিতা পেতে সমস্যা না হলেও নির্বাচনী লড়াইয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে পরিচিত হতেই পার হয়ে যাবে প্রচারণার বেশির ভাগ সময়। ফলে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, নির্বাচনে প্রার্থী আছে অনেক বেশি, কিন্তু, প্রতিদ্বন্দ্বী কম।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ৩০০ আসনের বিপরীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের (নৌকা) ৩০৩ জন, জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল) ৩০৪ জন, জাকের পার্টি (গোলাপ ফুল) ২১৮ জন, তৃণমূল বিএনপি (সোনালী আঁশ) ১৫১ জন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি- এনপিপি (আম) ১৪২ জন, বাংলাদেশ কংগ্রেস (ডাব) ১১৬ জন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ (মশাল) ৯১ জন, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন (ফুলের মালা) ৪৭ জন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন (বটগাছ) ১৩ জন, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি (হাতঘড়ি) ১৮ জন, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ (চেয়ার) ৩৯ জন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (কাঁঠাল) ১৩ জন, গণফ্রন্ট (মাছ) ২৫ জন, গণফোরাম (উদীয়মান সূর্য) ৯ জন, ইসলামী ঐক্যজোট (মিনার) ৪৫ জন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট (মোমবাতি) ৩৭ জন, জাতীয় পার্টি-জেপি (বাইসাইকেল) ২০ জন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ (গামছা) ৩৪ জন, গণতন্ত্রী পার্টি (কবুতর) ১২ জন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (হাতুড়ি) ৩৩ জন, বিকল্পধারা বাংলাদেশ (কুলা) ১৪ জন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (একতারা) ৮২ জন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন-বিএনএম (নোঙর) ৪৯ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট- বিএনএফ (টেলিভিশন) ৫৫ জন, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (ছড়ি) ৭৪ জন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ- বিএমএল (হাত-পাঞ্জা) ৫ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি- ন্যাপ (কুঁড়েঘর) ৬ জন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মই) একজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (রিকশা) একজন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ (খেজুর গাছ) একজন এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (হারিকেন) দুইজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
এদিকে মনোনয়ন জমার শেষ দিনেই ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম জানিয়েছেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিলের সময়সীমা বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। ফলে বিএনপিসহ যে দলগুলো নির্বাচন বর্জন করেছে তাদের আর মত পাল্টে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসার দৃশ্যমান কোনো সুযোগ নেই। আন্দোলনরত দলগুলোও অবশ্য আগেই এ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতি দিয়েছে।
ফলে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর যাচাই-বাছাই শেষে যেসব প্রার্থী টিকে যাবেন তারাই থাকবেন নির্বাচনী দৌড়ে। তবে প্রতিটি আসনে ভোটের লড়াইয়ে যারা যাচ্ছেন তাদের বেশির ভাগেরই দলের নাম সাধারণ মানুষ জানে না। আর দল অচেনা বলে প্রার্থীরাও অচেনা। ফলে তাদের ধারণা নির্বাচনী লড়াইয়ে আসলে টিকে থাকবেন বড় দলের পরিচিত মুখগুলো। এর মধ্যে শাসক দলের মার্কা নিয়ে লড়াই করা প্রার্থীরা যেমন আলোচনায় থাকবেন, তেমনই অনেক আসনেই তাদের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমাতে পারেন নির্বাচনে আসা আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। কেননা, দলটির স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বেশির ভাগই স্থানীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত এবং তাদের মোটামুটি ভোট ব্যাংক অথবা এলাকাবাসীকে প্রভাবিত করার সক্ষমতা রয়েছে। নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া ৭৪৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে অন্তত ৪০০ জনই আওয়ামী লীগের।
যদিও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গত কয়েক দিনের মতো গতকালও বলেছেন, দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ঢালাওভাবে নির্বাচন করতে পারবেন না। এ ছাড়া ১৪-দলীয় জোটের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির সম্ভাবনা রয়েছে আওয়ামী লীগের। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন, নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আসতে পারবেন জোটের এমন প্রার্থীরাই কেবল থাকবেন বিবেচনায়। আর ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করে তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
এর ফলে এটা স্পষ্ট যে, জোটের সঙ্গে সমঝোতা হলে কয়েকটি আসনে আওয়ামী লীগ যাদের মনোনয়ন দিয়েছে তাদেরও রণে ভঙ্গ দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে হবে।
তবে আওয়ামী লীগ সভাপতি নির্বাচনী কৌশল হিসেবে এবার দলীয় মার্কার বাইরে দলীয় প্রার্থীদের স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড়ানোর সুযোগ দেয়ায় নির্বাচনে আসা প্রার্থীদের কতজন আবার দল চাইলে নির্দেশ মেনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন সেটাও আছে দেখার বিষয়।
তবে এই আলোচনার বাইরে থেকে যাচ্ছে বেশির ভাগ প্রার্থী যারা বিভিন্ন দল থেকে নির্বাচনে এলেও জনগণের কাছে নিজের দল, দলীয় প্রতীক এবং নিজের পরিচয় প্রকাশ করার সুযোগ পাবেন। তবে প্রতিটি আসনে স্থানীয় ভোটারদের কাছে তারা এখনো অচেনা এবং নতুন মুখ হিসেবে বিবেচিত।
যেমন দল হিসেবে এবারই প্রথম নির্বাচন করছে তৃণমূল বিএনপি, বিএনএম, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি। এসব দলের বেশির ভাগ প্রার্থী নিজ নিজ এলাকার ভোটারদের কাছে নতুন পরিচয়ে উপস্থিত হবেন। অনেকে আবার খুব বেশি পরিচিত নন। একইভাবে তাদের নির্বাচনী প্রতীক যথাক্রমে সোনালী আঁশ, নোঙর ও একতারা চেনাতেও এবার তাদের বিশেষ প্রস্তুতি নিতে হবে।
তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনএমের প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য আছেন ৬ জন এবং তৃণমূলের প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য আছেন ৫ জন।
এদিকে, গতকাল আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর কাদের বলেছেন, বিএনপির ১৫ কেন্দ্রীয় নেতাসহ সাবেক ৩০ জন সংসদ সদস্য নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এদের মধ্যে কাদের সিদ্দিকী, লতিফ সিদ্দিকী, আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর মতো নেতাও আছেন। আবার আগে বিএনপিতে প্রভাব ছিল দলটির এমন সাবেক নেতারাও আছেন নির্বাচনে। এদের মধ্যে তৈমূর আলম, সমশের মবিন চৌধুরীর নাম উল্লেখযোগ্য।
তবে এদের বাইরে নির্বাচনের মাঠে থাকা বেশির ভাগ প্রার্থীই অচেনা। এ বিষয়ে গাজীপুর-৪ আসনের একজন প্রার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমার দল এলাকায় তেমন পরিচিত নয়। দলের প্রচার চালাতে ও এলাকার মানুষের কাছে নিজের পরিচয় তুলে ধরতে এবার ভোট করতে আসা। আমিও জানি নির্বাচনে জয়লাভ করার অবস্থান এখনো আমার বা আমার দলের তৈরি হয়নি। তবে এক দিনে তো কিছুই হয় না। আমাদের দলের আদর্শ ও কর্মসূচি দেশের মানুষ ও এলাকার মানুষকে জানাতে আমরা নির্বাচনে এসেছি।’
অন্যদিকে লালমনিরহাট-৩ আসনে মনোনয়ন জমা দেয়া প্রার্থীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই সদর আসনে ৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সদ্য পদত্যাগকারী সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জাবেদ হোসেন বক্কর, জাতীয় পার্টি থেকে জাহিদ হাসান, তৃণমূল বিএনপি থেকে শামীম আহম্মেদ চৌধুরী, জাকের পার্টি থেকে সকিউজ্জামান মিয়া, বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল থেকে আশরাফুল আলম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) থেকে আবু তৈয়ব মো. আজমুল হক পাটোয়ারী, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) থেকে শ্রী হরিশ চন্দ্র রায় মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তবে এবার তিনি এ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেননি। ফলে এ আসনে নির্বাচনে অংশ নেয়া সব প্রার্থীই নতুন এবং নতুন একজন সংসদ সদস্য পাবে লালমনিরহাট সদরবাসী। তবে নতুন হলেও জেলা ও শহরের রাজনীতিতে পুরনো মুখ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান। ছাত্ররাজনীতি করায় জাবেদ হোসেন বক্করও সেখানে পরিচিত মুখ। জাকের পার্টি ও জাসদের প্রার্থীকেও অনেকে চেনেন। তবে সাম্যবাদী দল, এনপিপির প্রার্থীর মতো জাতীয় পার্টির প্রার্থীও এলাকার সবার চেনা মুখ নন। ফলে যে আসন থেকে জাতীয় পার্টি বর্তমান সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছে সেখানে নতুন মুখ দেয়ায় মাঠের রাজনীতিতে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন এলাকার অনেক বাসিন্দা।
বিষয়টা আরও স্পষ্ট হয় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনার ৬টি আসন বিশ্লেষণ করলে। দৈনিক বাংলার খুলনা ব্যুরো জানায়, খুলনার এই ৬টি আসনের জন্য সেখানে ৫৩ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে যারা সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচন করবেন, তাদের অধিকাংশেরই রাজনীতিতে তেমন কোনো পরিচিতি নেই। হঠাৎ করেই তারা কেন সংসদ নির্বাচনে আগ্রহী হলেন, এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে উত্তরও দেননি অধিকাংশ প্রার্থী।
খুলনা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের মনোনীত ৬ জন প্রার্থী, আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র ২ জন এবং জাতীয় পার্টির একজন প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচিতি রয়েছে। বাকি ৪৪ জন প্রার্থী কখনো রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয় ছিলেন না।
খুলনা প্রতিনিধির বিশ্লেষণ অনুযায়ী খুলনা-১ আসনের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ৬ জন। তারা হলেন, জাকের পার্টির মো. আজিজুর রহমান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ননী গোপাল মণ্ডল, জাতীয় পার্টির কাজী হাসানুর রশিদ, তৃণমূল বিএনপির গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রশান্ত কুমার রায় ও আবেদ আলী শেখ।
এদের মধ্যে ননী গোপাল মণ্ডল ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। রাজনীতিতে তার পরিচিতি রয়েছে। তবে বাকি চারজন রাজনীতিতে একেবারেই অপরিচিত। তারা প্রত্যেকেই এবার প্রথম সংসদ নির্বাচন করছেন। এদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রশান্ত কুমার রায় পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সাবেক সচিব।
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আমি নির্বাচন করছি। আমাকে ডামি প্রার্থীও বলা যাবে। এটা দলীয় নির্দেশেই হচ্ছে।’
আওয়ামী লীগের ননী গোপাল মণ্ডল বলেন, ‘দল আমাকে আবারও সুযোগ দিয়েছে। আমি দলের সম্মান রাখব বলে আশাবাদী।’
তবে বাকি চার প্রার্থীর তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই। জাতীয় পার্টীর কাজী হাসানুর রশিদ ও তৃণমূল বিএনপির গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিকের কাছে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেও কোনো উত্তর মেলেনি।
আর জাকের পার্টি মো. আজিজুর রহমান বলেন, ‘দল থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে বলেছে, তাই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি।’
অন্যদিকে খুলনা-২ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৯ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল, গণতন্ত্র পার্টির মো. মতিয়ার রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের দেবদাস সরকার, জাকের পার্টির ফরিদা পারভিন, ইসলামী ঐক্যজোটের হিদায়েতুল্লাহ, জাতীয় পার্টির মো. গাউসুল আজম, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের বাবু কুমার রায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সাঈদুর রহমান।
এদের মধ্যে শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থীর রাজনৈতিকভাবে পরিচিতি রয়েছে। তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। তবে বাকিদের আগে কখনো রাজনৈতিক মাঠে দেখা যায়নি।
কেন প্রার্থী হয়েছেন- এমন প্রশ্নে বাংলাদেশ কংগ্রেসের দেবদাস সরকার বলেন, ‘অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে মনোনয়ন জমা দেয়া হচ্ছে, তাই আমরাও দিচ্ছি।’
খুলনা-৩ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৫ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের এস এম কামাল হোসেন, জাকের পার্টির এস এম সাব্বির হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, স্বতন্ত্র প্রার্থী কাইজার আহমেদ ও ফাতেমা জামান সাথী।
এদের মধ্যেও শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচিতি রয়েছে। তিনি দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। তিন বারের সংসদ সদস্য ও দুই বারের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানকে সরিয়ে তাকেই আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিয়েছে। তবে ওই আসনেরও বাকি চারজনের তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই।
খুলনা-৪ আসন থেকে মনোনয়ন নিয়েছেন ১৪ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের আব্দুস সালাম মূর্শেদী, জাকের পার্টির শেখ আনছার আলী, জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এস এম আজমল হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. ফরহাদ আহমেদ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. মোস্তাফিজুর রহমান, তৃণমূল বিএনপির শেখ হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মনিরা সুলতানা, ইসলামী ঐক্যজোটের রিয়াজ উদ্দীন খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জুয়েল রানা, এম ডি এহসানুল হক, মো. রেজভী আলম, এস এম মোর্ত্তজা রশিদী দারা, আতিকুর রহমান ও এইচ এম রওশান জমির।
এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের আব্দুস সালাম মূর্শেদী বর্তমান সংসদ সদস্য। ২০১৮ সালের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে তিনি জয়ী হয়েছিলেন।
এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম মোর্ত্তজা রশিদী দারার দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস রয়েছে। তিনি ওই আসনের তিন বারের সাবেক সংসদ সদস্য এস এম মোস্তফা রশিদী সুজার আপন ভাই।
তিনি বলেন, এলাকার মানুষের দোয়া নিয়ে মাঠে নেমেছি। জয়-পরাজয় এলাকার মানুষই নির্ধারণ করবেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই আসনে আওয়ামী লীগের এই দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এলাকার ভোটাররা বলছেন, বাকি ১২ জন প্রার্থীদের নাম খুব একটা শোনেননি তারা। কেউ কেউ একেবারেই অপরিচিত।
খুলনা-৫ আসনের জন্য মনোনয় জমা দিয়েছেন ৭ জন। তারা হলেন- জাতীয় পার্টির মো. শহীদ আলম, জাকের পার্টির সামাদ সেখ, আওয়ামী লীগের নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, ওয়ার্কার্স পার্টির শেখ সেলিম আকতার, বাংলাদেশ কংগ্রেসের এস এম এ জলিল, ইসলামী ঐক্যজোটের তরিকুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ আকরাম হোসেন।
এদের মধ্যে নারায়ণ চন্দ্র চন্দ একাধিক বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী। এ ছাড়া আকরাম হোসেন ফুলতলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। এই আসনেও আওয়ামী লীগের এই দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ভোটাররা। বাকি যারা প্রার্থী হয়েছেন এলাকার রাজনীতিতে তাদের তেমন কোনো পরিচিতি নেই বলে জানা গেছে।
খুলনা-৬ আসনের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ১২ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের মো. রশীদুজ্জামান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. আবু সুফিয়ান, জাকের পার্টির শেখ মর্তুজা আল মামুন, জাতীয় পার্টির মো. শফিকুল ইসলাম মধু, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মির্জা গোলাম আজম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এস এম নেওয়াজ মোরশেদ, তৃণমূল বিএনপির গাজী নাদীর উদ্দীন খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম রাজু, গাজী মোস্তফা কামাল, জি এম মাহবুবুল আলম, মো. মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর ও মো. অহিদুজ্জামান মোড়ল।
এদের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত মো. রশীদুজ্জামানের কোনো দলীয় পদ নেই। তিনি একসময় পাইকগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্যসচিব ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে জামানত হারিয়েছিলেন। তবে তাকেই মনোনয়ন দিয়ে চমক সৃষ্টি করেছে ক্ষমতাসীন দল। ওই আসনে রাজনৈতিকভাবে পরিচিত রয়েছে জাতীয় পার্টির মো. শফিকুল ইসলাম মধুর। তিনি আগেও খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। বাকি প্রার্থীদের তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই। এলাকার সবার কাছে পরিচিত মুখও নন অনেকে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশির ভাগ আসনেই ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীদের স্থানীয়রা তেমন একটা চেনেন না। তবে বিরোধীদের এক অংশ নির্বাচন বর্জন করায় রাজনীতির নতুন সমীকরণ মেলাতে ছোট দলগুলোই নির্বাচনে হতে যাচ্ছে বড় দলগুলোর সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনীযুদ্ধ পার হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী।
জাসদের মাঠপর্যায়ের এক রাজনীতিবিদ জসিম মণ্ডল বলেন, ‘নির্বাচন একটা বড় খেলা। এখানে সবাই নামে নিজ নিজ সমীকরণ মেলানোর জন্য। রাজনৈতিক দলগুলোর সমীকরণ হয় এক ধরনের, আবার প্রার্থীর সমীকরণ হয় আরেক ধরনের। সবাই নির্বাচনে জয়ী হতে যেমন অংশ নেয় না তেমনই কেউ কেউ নির্বাচনে যায় অন্যের যাত্রা ভঙ্গ করতে। আবার অনেকের কাছে ‘নির্বাচনে অংশগ্রহণই বড় কথা।’ জয়-পরাজয়ের চেয়েও বড় বিষয় এ সময় পোস্টারিং করে নিজের ছবি ও পরিচিতি পুরো এলাকার মানুষকে দেখানো যায়। এটাও বা কম কিসে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দেশের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষেরই আছে নির্বাচনে দাঁড়ানোর অধিকার। তাই কটা টাকা খরচ করে অনেকেই পরিচিতি বাড়ানোর সুযোগ নেয়। এর ফল তো অসীম-সারাজীবন নানাভাবে এর সুফল মেলে। যারা রাজনীতিতে আছেন, কেবল তারাই বোঝেন নির্বাচনে অংশ নিতে পারার গুরুত্ব।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে নাগরিক সমাজের উদ্যোগে আয়োজিত শোকসভায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যায়যায়দিনের সম্পাদক শফিক রেহমান।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত এই সভায় বর্তমান বিশ্ব রাজনীতির প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এখন ডোনাল্ড ট্রাম্পের যুগ চলছে। মিস্টার ট্রাম্প আপনি বাংলাদেশে আসেন, আপনাকে দাওয়াত করছি।’
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হয়। শফিক রেহমান তাঁর বক্তব্যে খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা এবং তরুণ প্রজন্মের দায়িত্বের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমার দৃঢ় বিশ্বাস ম্যাডাম খালেদা জিয়া যদি ৭ নভেম্বর না যেতেন, তাহলে আরও কিছুদিন সুস্থ থাকতেন। তরুণ সমাজকে অনুরোধ করব আপনারা জীবনের প্রথম ভোট দেওয়ার আগে এ অনুষ্ঠানের বক্তব্যগুলো অনুধাবন করবেন।’
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে শফিক রেহমান তাঁর গভীর উদ্বেগের পাশাপাশি আশাবাদের কথা ব্যক্ত করেন। নির্বাচনকালীন স্থিতিশীলতা বজায় রাখার গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘আমরা এখানে সমাবেত হয়েছি অত্যন্ত সংকটময় মুহূর্তে। এখানে একটা গুলিতে যদি কারো কিছু হয়ে তাহলে ১২ তারিখের নির্বাচন হয়তো পেছাতে হতে পারে। আমরা চাই ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন যেন হয়। ডক্টর ইউনূস গ্যারান্টি দিচ্ছেন এবারের নির্বাচন হবে অত্যন্ত আনন্দময়।’ ভোটারদের সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘যিনি ভোট চাইতে আসবেন, তাকে আপনারা জিজ্ঞাসা করবেন, চাল ডাল চিনির দাম ঠিক থাকবে তো। তাদের জিজ্ঞাস করবেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক থাকবে তো। ব্যাংকে যারা আমানত রাখছেন আমানত ঠিক থাকবে তো।’
গুরুত্বপূর্ণ এই শোকসভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল, ডা. জুবাইদা রহমান, ব্যারিস্টার জায়মা রহমান এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদসহ দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। সাংবাদিক আশরাফ কায়সার ও কাজী জেসিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সভায় বক্তারা বেগম খালেদা জিয়ার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন ও আত্মত্যাগের কথা শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। মূলত সুষ্ঠু নির্বাচন ও জননিরাপত্তার প্রশ্নে শফিক রেহমানের এই বক্তব্য উপস্থিত নেতা-কর্মী ও সুধীসমাজের মাঝে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
ডেইলি স্টার পত্রিকার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেছেন, দেশপ্রেম, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র সবকিছুই আমাদের জন্য মূল্যবান। কিন্তু ভবিষ্যৎ হচ্ছে জ্ঞানভিত্তিক সমাজের ওপর নির্ভরশীল। আগামী নেতৃত্বকে বলব যে খালেদা জিয়ার শেষ বাণী হলো জ্ঞানভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা। আমরা যেন এটা সবার অন্তরের ভেতরে উপলব্ধি করি। শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ‘নাগরিক সমাজ’র উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ডেইলি স্টার সম্পাদক। বিএনপির চেয়ারপারসন ও তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে এ নাগরিক শোকসভার আয়োজন করা হয়।
বাংলাদেশকে আমরা ভালোবাসি, বাংলাদেশকে আমরা অন্তর থেকে ভালোবাসি মন্তব্য করে মাহফুজ আনাম বলেন, ২০২৪ সালের ৭ আগস্ট বেগম খালেদা জিয়া বিএনপির এক সভায় ভাষণ দিলেন এবং সেখানে উনি যে মূল বাণীটা আমাদেরকে দিলেন– ধ্বংস নয়, প্রতিরোধ নয়, প্রতিহিংসা নয়, প্রতিশোধ নয়। ‘উনি কিন্তু ইজিলি বলতে পারতেন যে আমি প্রতিশোধ চাই না কিন্তু আমি ন্যায়বিচার চাই, আমার বিরুদ্ধে যা করা হয়েছে। এটা উনি বললেন না। এই যে উদারতা তিনি সেদিন দেখিয়েছেন এটা অসাধারণ গুণ।’
তিনি বলেন, আমি মনে করি বেগম জিয়ার এই উদারতা যদি আমাদের রাজনীতিতে আমরা এখন অন্তঃস্থ করতে পারি, যদি আমরা নিজের মনেপ্রাণে গ্রহণ করতে পারি, তাহলে বাংলাদেশের একটা বিরাট অবদান থাকবে।
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্মরণে এক নাগরিক শোকসভায় আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল তাঁর গভীর শ্রদ্ধা ও স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য প্রদান করেছেন।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ‘নাগরিক সমাজ’র উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশকে ভালো রাখতে হলে বেগম জিয়ার আদর্শকে ধারণ করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘বেগম জিয়া ভালো থাকলে, ভালো থাকবে বাংলাদেশ। আমি বিশ্বাস করি অবশ্যই উনি এখন ভালো আছেন। কিন্তু বাংলাদেশ কি ভালো আছে? বা ভালো থাকবে? যদি বাংলাদেশকে ভালো থাকতে হয় তাহলে বেগম জিয়াকে ধারণ করতে হবে।’ বেগম জিয়ার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য ও দেশপ্রেমের প্রশংসা করে উপদেষ্টা উল্লেখ করেন যে, তিনি ছিলেন একাধারে সৎ, দৃঢ়প্রতিজ্ঞ, আত্মত্যাগী ও পরমতসহিষ্ণু; যার ব্যক্তিত্বে রুচির এক অবিস্মরণীয় প্রকাশ পরিলক্ষিত হতো।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত নতুন বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রসঙ্গ টেনে আসিফ নজরুল কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন যে, আজ মানুষ মুক্তভাবে নিজের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা নিবেদন করতে পারছে। তিনি মনে করেন, বাংলাদেশের মানুষ আজ স্বাধীনভাবে ঘৃণা ও ভালোবাসা প্রকাশের সুযোগ পেয়েছে বলেই এক নেত্রী মানুষের হৃদয়ে ঠাঁই করে নিয়েছেন এবং অন্যজনকে বিতাড়িত হতে হয়েছে।
সাবেক প্রধান বিচারপতি সৈয়দ জে. আর. মোদাচ্ছির হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই শোকসভায় আশরাফ কায়সার ও কাজী জেসিনের উপস্থাপনায় দেশের বিশিষ্ট নাগরিক, গবেষক, চিকিৎসক, শিক্ষকসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি এবং পেশাজীবী নেতারা অংশ নেন। বক্তারা বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করে তাঁকে বাংলাদেশের জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে অভিহিত করেন।
নাটোরের গুরুদাসপুর মিনি স্টেডিয়াম পরিদর্শনকালে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নতুন পে স্কেল ঘোষণা ও তা কার্যকর করার বিষয়ে ধৈর্য ধারণের অনুরোধ জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলে আয়োজিত এই পরিদর্শনে তিনি বেতন কাঠামোর বর্তমান অবস্থা তুলে ধরেন এবং জানান যে, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। বেতন বৈষম্য দূরীকরণ ও নতুন স্কেল নির্ধারণের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তথ্য দিয়ে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘পে স্কেলের বিষয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটি রিপোর্ট জমা দিলে দ্রুত তা বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
উপদেষ্টার এই গুরুত্বপূর্ণ সফরকালে তাঁর সঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ, অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকীসহ সরকারের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান, রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনার ড. আনম বজলুর রশিদ এবং নাটোরের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের ঊর্ধ্বতন ব্যক্তিবর্গ এই পরিদর্শন কার্যক্রমে অংশ নেন।
মূলত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পরপরই সরকার নতুন বেতন স্কেল বাস্তবায়নের পরবর্তী পদক্ষেপগুলো দ্রুততার সাথে গ্রহণ করবে বলে আশ্বস্ত করেছেন অর্থ উপদেষ্টা।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এক গৌরবোজ্জ্বল, অথচ গভীরভাবে বেদনাবিধুর অধ্যায়। এই আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ এবং যারা আহত হয়ে আজও জীবনসংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন, তাদের মর্যাদা, নিরাপত্তা ও সম্মানজনক ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাই জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের মূল লক্ষ্য। তবে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের দেড় বছর অতিক্রম করলেও আন্দোলনে আহতদের সহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম এখনো শেষ হয়নি। আহতদের অনেকেই বারবার আবেদন করেও পাচ্ছেন না সহায়তা। দীর্ঘসূত্রতা, অর্থ সংকট এবং প্রশাসনিক ধীরগতিতে হতাশা প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবার। গতকাল বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, লে. কর্নেল (অব.) কামাল আকবর (প্রধান নির্বাহী)
সোহেল মিয়া ( জেনারেল ম্যানেজার)
মো জাহিদ হোসাইন ( গণসংযোগ ও মিডিয়া প্রধান), আমানুল্লাহ সাকিব (ভেরিফিকেশন প্রধান), সাকিব হাসান (আইটি প্রধান) ও মাহফুজ (কল সেন্টার প্রধান)।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী বাস্তবতায় শহীদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের সামনে একাধিক সংকট একযোগে উপস্থিত হয়। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, স্থায়ী ও অস্থায়ী শারীরিক অক্ষমতা, মানসিক আঘাত, কর্মসংস্থান সংকট এবং সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা - এই বহুমাত্রিক সংকটগুলো মোকাবিলার জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি, সমন্বিত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এই প্রয়োজনীয়তা থেকেই প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর সভাপতিত্বে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের যাত্রা শুরু হয়।
প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বে ফাউন্ডেশন মানবিকতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার ভিত্তিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনার প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধাশীল থেকে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ফাউন্ডেশন চারটি মূল ম্যান্ডেটকে কেন্দ্র করে তহবিল সংগ্রহ ও আর্থিক সহায়তা প্রদান, স্বাস্থ্য, মানসিক স্বাস্থ্য, অর্থনৈতিক ও আইনি সহায়তা নিশ্চিতকরণ, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, চাকরি, স্বনির্ভর কর্মসংস্থান ও আবাসনের মাধ্যমে টেকসই পুনর্বাসন, গবেষণা, নথিভুক্তকরণ ও স্মৃতি সংরক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
ফাউন্ডেশনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হলো স্বচ্ছ যাচাই ও নীতিমালাভিত্তিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শহীদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধাদের আর্থিক সহায়তা প্রদান। এ পর্যন্ত ফাউন্ডেশন ১১৯ দশমিক ৯৮ কোটি টাকা তহবিল সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে।
যাচাই-বাছাই ও তথ্য যাচাই শেষে এর মধ্যে ১১৬ দশমিক ২১ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে।
এই সহায়তার আওতায় ৮২৯টি জুলাই শহীদ পরিবার পেয়েছে ৪১ দশমিক ২৭ কোটি টাকা, ৬,৪৭১ জন আহত জুলাই যোদ্ধা পেয়েছেন ৭৪ দশমিক ২১ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত ৭,৩০০ জন শহীদ পরিবার ও আহত জুলাই যোদ্ধা মোট ১১৬ দশমিক ২১ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা পেয়েছেন।
তবে আমাদের দায়িত্ব এখানেই শেষ নয়। এখনো ৭,৭৬৯ জন আহত জুলাই যোদ্ধা আর্থিক সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছেন। তাদের জন্য প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত তহবিলের পরিমাণ প্রায় ২৩৮ কোটি টাকা। এই লক্ষ্য পূরণে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন ধারাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
ফাউন্ডেশন দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, বরং সম্মানজনক ও টেকসই পুনর্বাসনই আহত জুলাই যোদ্ধাদের দীর্ঘমেয়াদি মুক্তির পথ।
এই লক্ষ্য সামনে রেখে এ পর্যন্ত ৭,০৮২ জন আহত জুলাই যোদ্ধা পুনর্বাসনের জন্য ফাউন্ডেশনে আবেদন করেছেন। আবেদনকারীদের আগ্রহ বিশ্লেষণে দেখা যায় প্রায় ২৫ শতাংশ দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রশিক্ষণ গ্রহণে আগ্রহী, ২০ শতাংশ চাকরিতে যুক্ত হতে আগ্রহী, এবং ৫৪ শতাংশ স্বনির্ভর কর্মসংস্থানের মাধ্যমে জীবিকা গড়ে তুলতে আগ্রহী।
এই পরিসংখ্যান আমাদের পুনর্বাসন পরিকল্পনাকে আরও বাস্তবভিত্তিক, প্রয়োজননির্ভর ও কার্যকর করে তুলেছে।
এ পর্যন্ত জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ৮২ জন আহত জুলাই যোদ্ধার টেকসই পুনর্বাসন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই পুনর্বাসন কার্যক্রমের আওতায় তাদের জন্য স্বনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সহায়তা, পেশাভিত্তিক পুনঃসংযুক্তি এবং ব্যক্তিগত চাহিদা অনুযায়ী সহায়ক সরঞ্জাম প্রদান নিশ্চিত করা হয়েছে যাতে তারা সম্মানজনক ও স্থায়ী জীবনে ফিরে যেতে পারেন।
বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, মাত্র ৩০ দিনের মধ্যে ২৩ জন আহত জুলাই যোদ্ধার পুনর্বাসন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে, যেখানে মোট ৪২ লাখ টাকা সরাসরি পুনর্বাসন সহায়তা হিসেবে ব্যয় করা হয়েছে। এই উদ্যোগ ফাউন্ডেশনের দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ, স্বচ্ছ অর্থব্যবস্থাপনা এবং কার্যকর বাস্তবায়নের একটি বাস্তব উদাহরণ।
এছাড়া এসএমই-এর মাধ্যমে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য চারু ও কারু প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বিকেএসপির মাধ্যমে আহত জুলাই যোদ্ধাদের জন্য প্যারালিম্পিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে আর্চারি, শুটিং ও টেবিল টেনিস বিভাগে।
এছাড়া বিটিসিআই-এর মাধ্যমে মৌলিক চলচ্চিত্র নির্মাণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে বেসিক ফিল্ম মেকিং, ফিল্ম এডিটিং, স্ক্রিপ্ট রাইটিং, সেট ডিজাইন ও ডকুমেন্টারি মেকিং। এর পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কল সেন্টারের জন্য ১৫ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।
এই কর্মসূচির একটি গর্বিত ও অনুপ্রেরণাদায়ক অর্জন হলো আহত জুলাই যোদ্ধা আমাউল্লাহ, যিনি ১০ অক্টোবর ঢাকায় অনুষ্ঠিত প্যারালিম্পিকে স্বর্ণপদক অর্জন করেছেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণ ফাউন্ডেশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও দীর্ঘমেয়াদি দায়িত্ব। এ পর্যন্ত ৮০৪ জন জুলাই শহীদের ঘটনা, ছবি, পরিবারিক তথ্য ও বক্তব্য সংরক্ষণ করা হয়েছে, ৩০০টির বেশি শহীদের ভিডিও ডকুমেন্টারি, ৪০টির বেশি আহত যোদ্ধার ভিডিও ডকুমেন্টারি, আন্দোলনকালীন দুর্লভ ভিডিও ফুটেজ, এবং সেই সময়কার সব প্রিন্ট মিডিয়া রিপোর্ট ও কাটিং সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করা হয়েছে। এই আর্কাইভ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একটি প্রামাণ্য, নির্ভরযোগ্য ও ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে কাজ করবে।
জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা এবং আহত জুলাই যোদ্ধাদের সম্মানজনক, নিরাপদ ও স্বাবলম্বী জীবন নিশ্চিত করতে দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ।
গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা, সমাজের সহযোগিতা এবং রাষ্ট্রীয় সমন্বয় এই তিনের সমন্বয়েই আমাদের এই জাতীয় দায়িত্ব আরও শক্তিশালী ও কার্যকর হবে।
সৌদি আরবে বসবাসরত প্রায় ৬৯ হাজার বাস্তুচ্যুত মিয়ানমার নাগরিক বা রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশি পাসপোর্ট প্রদানের প্রক্রিয়ার বর্তমান অগ্রগতি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে জানতে চেয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফের বিন আবিয়াহ।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীর (অব.) সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এই বিষয়টি উত্থাপন করেন। এর প্রেক্ষিতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা পাসপোর্ট প্রদানের ইতিবাচক ধারার কথা উল্লেখ করে বলেন, “এ বিষয়ে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে। সৌদি আরবে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন এবং বাংলাদেশের বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর এ বিষয়ে পুরোদমে কাজ করে যাচ্ছে।”
তিনি আরও জানান যে, এই প্রক্রিয়াটি দ্রুত সম্পন্ন করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কয়েকটি বিশেষ টিমও পাঠানো হয়েছে, তবে আবেদনের তুলনায় পাসপোর্টের এনরোলমেন্টে উপস্থিতির হার কিছুটা কম। এই পরিস্থিতির বিষয়টি ইতোমধ্যে সৌদি আরবের ইন্টেরিয়র মিনিস্টারকেও অবহিত করা হয়েছে।
বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের গভীরতা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন যে, সৌদি আরব বাংলাদেশের জনগণের হৃদয়ে এক বিশেষ স্থান অধিকার করে আছে। এটি কেবল ইসলামের পবিত্র ভূমি হিসেবেই নয়, বরং ৩২ লাখেরও বেশি প্রবাসী কর্মীর দ্বিতীয় আবাসস্থল হিসেবেও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবাসীদের বিশাল অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি ভবিষ্যতে দেশটিতে আরও বেশি জনশক্তি আমদানির জন্য রাষ্ট্রদূতকে বিশেষ অনুরোধ জানান। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এর মাধ্যমে উভয় দেশের মধ্যকার বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।
এ সময় বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি সম্পর্কে রাষ্ট্রদূতের এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, “নির্বাচন পরিচালনার মূল দায়িত্ব নির্বাচন কমিশনের হাতে। আর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মূল দায়িত্ব হচ্ছে জাতীয় নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা। আর আমরা এ বিষয়ে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছি।” এছাড়া সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত আগামী ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ মেয়াদে রিয়াদে অনুষ্ঠেয় বিশ্ব প্রতিরক্ষা প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণের জন্য সৌদি ইন্টেরিয়র মিনিস্টারের একটি আমন্ত্রণপত্র উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করেন। তবে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাধকতা থাকায় উপদেষ্টা ব্যক্তিগতভাবে সেখানে উপস্থিত থাকতে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশের পক্ষ থেকে উপযুক্ত প্রতিনিধি প্রেরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক এম নাজমুল ইসলামের বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশের ক্রিকেটে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। বিসিবির মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদে আসীন থেকে ক্রিকেটারদের সম্পর্কে এমন মন্তব্য করাকে তিনি ‘দুঃখজনক, অনাকাঙ্ক্ষিত ও দায়িত্বহীন’ বলে অভিহিত করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, “বিসিবির একটি দায়িত্বশীল পদে থেকে পুরো ক্রিকেটকে নিয়ে অপমানজনক মন্তব্য করা হয়েছে। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা এখন একটি ঐক্যবদ্ধ জাতি হিসেবে থাকছি, সেখানে এমন মন্তব্য সমস্ত ক্রিকেটারদের অপমান করার শামিল।”
ক্রীড়া উপদেষ্টা মনে করেন, যেখানে বিদেশের মাটিতে দেশীয় ক্রিকেটারদের সম্মান রক্ষায় পুরো জাতি সোচ্চার থাকে, সেখানে খোদ বোর্ডের ভেতর থেকেই এমন অবমাননাকর আচরণ অত্যন্ত নিন্দনীয়। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “একজন মোস্তাফিজুর রহমানকে (আইপিএল থেকে বাদ দিয়ে) অপমান করা হয়েছে বলে যেখানে পুরো বাংলাদেশ রুখে দাঁড়িয়েছে, সেখানে বিসিবির ভেতর থেকেই পুরো ক্রিকেটব্যবস্থাকে ছোট করে দেখা হয়েছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক।” বর্তমান এই অভ্যন্তরীণ সংকট নিরসনে বিসিবি কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিপিএল স্থগিত হওয়া এবং ক্রিকেটারদের বয়কট কর্মসূচির কারণে আসন্ন বিশ্বকাপের প্রস্তুতি বাধাগ্রস্ত হওয়ার যে শঙ্কা দেখা দিয়েছে, সে বিষয়ে ক্রীড়া উপদেষ্টা ইতিবাচক মনোভাব পোষণ করেছেন। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, “আমরা প্রচণ্ডভাবে বিশ্বকাপ খেলতে চাই এবং শ্রীলঙ্কায় খেলতে চাই। পরিস্থিতি যাই হোক, আমি মনে করি, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ করা কোনোভাবেই অসম্ভব নয়।” ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থে এবং চলমান সংকট কাটিয়ে উঠতে তিনি সংশ্লিষ্ট সকলকে ব্যক্তিগত বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ থাকার জোরালো আহ্বান জানান।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলামের কন্যা ও এশিয়ার প্রথম ‘চিফ হিট অফিসার (সাবেক)’ বুশরা আফরিনকে অর্থ আত্মসাৎ ও দুর্নীতির অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এই জিজ্ঞাসাবাদ কার্যক্রম শুরু হয়, যা প্রায় দেড় ঘণ্টা স্থায়ী হয়েছিল বলে সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা আকতারুল ইসলাম নিশ্চিত করেছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে বর্তমানে কারাবন্দি সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে চলমান ব্যাপক দুর্নীতির অনুসন্ধানের অংশ হিসেবেই তার পরিবারকে এই জিজ্ঞাসাবাদের আওতায় আনা হয়েছে। এর আগে গত ৭ জানুয়ারি তদন্তের স্বার্থে সাবেক চিফ হিট অফিসার বুশরা আফরিন ও তার মা শায়লা সাগুফতা ইসলামের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন আদালত।
সাবেক মেয়র আতিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, টেন্ডার জালিয়াতি এবং মশার লার্ভা নিধনের যন্ত্র কেনাকাটায় বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থ অপচয়সহ অর্থ পাচারের গুরুতর অভিযোগ খতিয়ে দেখছে দুদক।
সংস্থাটি জানায়, আতিকুল ইসলাম ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে দেশের অভ্যন্তরে এবং দেশের বাইরে— বিশেষ করে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর রাজধানীর মহাখালী ডিওএইচএস এলাকা থেকে সাবেক মেয়রকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন মামলায় তাকে দফায় দফায় রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। মূলত পরিবারের সদস্যদের নামে পাচারকৃত ও অর্জিত অবৈধ সম্পদের তথ্যের সত্যতা যাচাই করতেই আজ বুশরা আফরিনকে তলব করা হয়েছিল।
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ জারির দাবিতে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে অবস্থান নেওয়া সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করে অবরোধ তুলে নিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে তারা সায়েন্সল্যাব এবং মিরপুর টেকনিক্যাল মোড় থেকে সরে দাঁড়ালে যান চলাচল পুনরায় শুরু হয়। তবে নিজেদের দাবিতে অনড় থেকে শিক্ষার্থীরা ঘোষণা করেছেন যে, আগামী সোমবার (১৯ জানুয়ারি) তারা আবারও সায়েন্সল্যাব মোড় ব্লকেড করে গণজমায়েত মঞ্চ তৈরি করবেন।
এর আগে দুপুর ১টা থেকে সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধের কারণে রাজধানীর একটি বড় অংশে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। কর্মসূচি চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে, যার একপর্যায়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাস ভাঙচুর করা হয়। একই সময়ে টেকনিক্যাল মোড়েও শিক্ষার্থীরা সড়ক দখল করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং সরকারের প্রতি অনতিবিলম্বে প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাদেশ জারির আহ্বান জানান। দীর্ঘ সময় রাস্তা বন্ধ থাকায় মিরপুর ও নিউ মার্কেটমুখী সড়কগুলোতে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়, যা সাধারণ যাত্রী ও পথচারীদের চরম ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীরা এলাকা ত্যাগ করায় পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করলেও আগামী সপ্তাহের নতুন কর্মসূচি ঘিরে জনমনে উদ্বেগ রয়ে গেছে।
রাজধানীর সায়েন্সল্যাব মোড়ে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের চলমান অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাসে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে ঘটে যাওয়া এই অনাকাঙ্ক্ষিত হামলায় সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীসহ অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, অবরোধের কারণে বাসটি আটকে পড়লে বাসে থাকা ঢাবি শিক্ষার্থী ও আন্দোলনরত সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে প্রক্টরিয়াল টিম বাসটি ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে পেছন দিক থেকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হলে বাসের কাচ ভেঙে বেশ কয়েকজন আহত হন এবং বাসের বাইরের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত বাসটি হাজারীবাগে অবস্থিত লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের আনা-নেওয়ার কাজে ব্যবহৃত হতো। এই হামলার বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর রফিকুল ইসলাম জানান, “আমাদের দুইজন শিক্ষার্থী আহত হয়ে হাসপাতালের ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া, একজন সাংবাদিকসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। সবাইকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, “আন্দোলনকারীদের ছোড়া ইটপাটকেলে বাসটির দুটি জানালার কাচ ভেঙে যায় এবং বাইরের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা বিকল্প রুট নির্ধারণের পরিকল্পনা করছি।”
বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত বাসটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরে নিয়ে আসা হয়েছে। বাসের ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরে ঢাবির পরিবহন দপ্তরের পরিচালক কামরুল ইসলাম বলেন, “বাসের পেছনের গ্লাস পুরোপুরি ভেঙে গেছে, দরজা ও বাইরের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আনুমানিক ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।” চলমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখন যাতায়াতের বিকল্প পথ ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে।
আসন্ন গণভোট সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মাঝে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা দেশব্যাপী এক বিশেষ প্রচারণা কার্যক্রমের সূচনা করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই কর্মসূচির বিস্তারিত জানানো হয়েছে। নির্বাচন মনিটরিং ও সহায়তা প্রদান সংক্রান্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টাগণ আজ থেকে শুরু হওয়া এই প্রচার অভিযানের মাধ্যমে আগামী ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলায় গণভোটের তাৎপর্য, উদ্দেশ্য এবং অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ার খুঁটিনাটি জনসমক্ষে তুলে ধরবেন।
প্রচারণা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যরা বিভিন্ন জেলার স্থানীয় প্রশাসন ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি বিচিত্র শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় সভায় মিলিত হবেন এবং গণভোটে স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের বিষয়ে জনগণকে উদ্বুদ্ধ করবেন। কর্মসূচির প্রথম দিনে স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বর্তমানে চট্টগ্রামে অবস্থান করছেন, যেখানে তিনি প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকসহ জনসচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করছেন। মূলত রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ এই সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতেই সরকারের পক্ষ থেকে এই প্রচারণামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী বা ইমিগ্র্যান্ট ভিসা স্থগিতের ঘোষণার পর বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ শুরু করেছে ঢাকা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তের বিস্তারিত কারণ ও প্রভাব জানতে ওয়াশিংটনে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের এই ঘোষণার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন এবং আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়ার পরেই বাংলাদেশ সরকার পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) জানিয়েছে, যেসব দেশের অভিবাসীরা তুলনামূলক বেশি হারে মার্কিন কল্যাণমূলক সুবিধা গ্রহণ করছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই স্থগিতাদেশ কার্যকর হবে। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, নতুন অভিবাসীরা যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় সম্পদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবেন না—এমন নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত এই প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। মূলত পারিবারিক পুনর্মিলন, কর্মসংস্থান বা স্থায়ী বসবাসের উদ্দেশ্যে যারা যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় ছিলেন, এই আকস্মিক সিদ্ধান্তে তাদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে এবং কূটনৈতিক চ্যানেলে আলোচনা অব্যাহত রেখেছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্থগিতাদেশের সুনির্দিষ্ট আওতা, সময়সীমা এবং বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর এর প্রকৃত প্রভাব সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা না পাওয়া পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া দেওয়া সম্ভব নয়। তবে দেশের নাগরিকদের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনে সব ধরনের কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে মন্ত্রণালয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণকারীদের রাষ্ট্রীয়ভাবে আইনি সুরক্ষা প্রদানের লক্ষ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ একটি দায়মুক্তি আইন অনুমোদন করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যুতে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান আইনবিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। গণঅভ্যুত্থানকারীদের নিরাপত্তা ও আইনি জটিলতা নিরসনে সরকারের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করে তিনি বলেন, “জুলাই-আগস্টে রাজনৈতিক প্রতিরোধে ফৌজদারি মামলা থাকলে সরকার প্রত্যাহার করবে। নতুন করে মামলা করা হবে না।”
বিগত আন্দোলনের সময় রাজনৈতিক প্রতিরোধের কারণে যেসব মামলা রুজু হয়েছিল সেগুলো সরকার নিজে থেকেই প্রত্যাহার করে নেবে বলে উপদেষ্টা নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া জুলাই গণঅভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে দেশের কোথাও কোনো মামলা দায়ের হয়েছে কি না, আইন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সেই বিষয়টিও গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিপ্লবে অংশগ্রহণকারীদের যেকোনো প্রকার হয়রানি থেকে মুক্ত রাখতে এবং তাদের অবদানের আইনি স্বীকৃতি নিশ্চিতেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।