আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ২ হাজার ৭১৩ জন প্রার্থী। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে নিবন্ধিত ৪৪টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩২টি দল। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন ৭৪৭ জন। সে হিসাবে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রত্যয়নপত্র নিয়ে নির্বাচনে উপস্থিত ১৯৬৬ জন প্রার্থী। আর স্বতন্ত্রদের মধ্যে অন্তত ৪০০ জন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন। তবে সাধারণ মানুষের অভিযোগ, নির্বাচনে আসা বড় দল আওয়ামী লীগের মূল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বাইরে অন্যদলগুলোর বেশির ভাগ প্রার্থীই আসনগুলোর মানুষের কাছে অচেনা। প্রায় প্রতিটি আসনেই নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন এমন অনেক অচেনা মুখ যাদের প্রার্থিতা পেতে সমস্যা না হলেও নির্বাচনী লড়াইয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে পরিচিত হতেই পার হয়ে যাবে প্রচারণার বেশির ভাগ সময়। ফলে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, নির্বাচনে প্রার্থী আছে অনেক বেশি, কিন্তু, প্রতিদ্বন্দ্বী কম।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ৩০০ আসনের বিপরীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের (নৌকা) ৩০৩ জন, জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল) ৩০৪ জন, জাকের পার্টি (গোলাপ ফুল) ২১৮ জন, তৃণমূল বিএনপি (সোনালী আঁশ) ১৫১ জন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি- এনপিপি (আম) ১৪২ জন, বাংলাদেশ কংগ্রেস (ডাব) ১১৬ জন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ (মশাল) ৯১ জন, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন (ফুলের মালা) ৪৭ জন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন (বটগাছ) ১৩ জন, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি (হাতঘড়ি) ১৮ জন, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ (চেয়ার) ৩৯ জন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (কাঁঠাল) ১৩ জন, গণফ্রন্ট (মাছ) ২৫ জন, গণফোরাম (উদীয়মান সূর্য) ৯ জন, ইসলামী ঐক্যজোট (মিনার) ৪৫ জন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট (মোমবাতি) ৩৭ জন, জাতীয় পার্টি-জেপি (বাইসাইকেল) ২০ জন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ (গামছা) ৩৪ জন, গণতন্ত্রী পার্টি (কবুতর) ১২ জন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (হাতুড়ি) ৩৩ জন, বিকল্পধারা বাংলাদেশ (কুলা) ১৪ জন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (একতারা) ৮২ জন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন-বিএনএম (নোঙর) ৪৯ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট- বিএনএফ (টেলিভিশন) ৫৫ জন, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (ছড়ি) ৭৪ জন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ- বিএমএল (হাত-পাঞ্জা) ৫ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি- ন্যাপ (কুঁড়েঘর) ৬ জন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মই) একজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (রিকশা) একজন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ (খেজুর গাছ) একজন এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (হারিকেন) দুইজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
এদিকে মনোনয়ন জমার শেষ দিনেই ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম জানিয়েছেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিলের সময়সীমা বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। ফলে বিএনপিসহ যে দলগুলো নির্বাচন বর্জন করেছে তাদের আর মত পাল্টে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসার দৃশ্যমান কোনো সুযোগ নেই। আন্দোলনরত দলগুলোও অবশ্য আগেই এ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতি দিয়েছে।
ফলে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর যাচাই-বাছাই শেষে যেসব প্রার্থী টিকে যাবেন তারাই থাকবেন নির্বাচনী দৌড়ে। তবে প্রতিটি আসনে ভোটের লড়াইয়ে যারা যাচ্ছেন তাদের বেশির ভাগেরই দলের নাম সাধারণ মানুষ জানে না। আর দল অচেনা বলে প্রার্থীরাও অচেনা। ফলে তাদের ধারণা নির্বাচনী লড়াইয়ে আসলে টিকে থাকবেন বড় দলের পরিচিত মুখগুলো। এর মধ্যে শাসক দলের মার্কা নিয়ে লড়াই করা প্রার্থীরা যেমন আলোচনায় থাকবেন, তেমনই অনেক আসনেই তাদের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমাতে পারেন নির্বাচনে আসা আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। কেননা, দলটির স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বেশির ভাগই স্থানীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত এবং তাদের মোটামুটি ভোট ব্যাংক অথবা এলাকাবাসীকে প্রভাবিত করার সক্ষমতা রয়েছে। নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া ৭৪৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে অন্তত ৪০০ জনই আওয়ামী লীগের।
যদিও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গত কয়েক দিনের মতো গতকালও বলেছেন, দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ঢালাওভাবে নির্বাচন করতে পারবেন না। এ ছাড়া ১৪-দলীয় জোটের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির সম্ভাবনা রয়েছে আওয়ামী লীগের। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন, নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আসতে পারবেন জোটের এমন প্রার্থীরাই কেবল থাকবেন বিবেচনায়। আর ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করে তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
এর ফলে এটা স্পষ্ট যে, জোটের সঙ্গে সমঝোতা হলে কয়েকটি আসনে আওয়ামী লীগ যাদের মনোনয়ন দিয়েছে তাদেরও রণে ভঙ্গ দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে হবে।
তবে আওয়ামী লীগ সভাপতি নির্বাচনী কৌশল হিসেবে এবার দলীয় মার্কার বাইরে দলীয় প্রার্থীদের স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড়ানোর সুযোগ দেয়ায় নির্বাচনে আসা প্রার্থীদের কতজন আবার দল চাইলে নির্দেশ মেনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন সেটাও আছে দেখার বিষয়।
তবে এই আলোচনার বাইরে থেকে যাচ্ছে বেশির ভাগ প্রার্থী যারা বিভিন্ন দল থেকে নির্বাচনে এলেও জনগণের কাছে নিজের দল, দলীয় প্রতীক এবং নিজের পরিচয় প্রকাশ করার সুযোগ পাবেন। তবে প্রতিটি আসনে স্থানীয় ভোটারদের কাছে তারা এখনো অচেনা এবং নতুন মুখ হিসেবে বিবেচিত।
যেমন দল হিসেবে এবারই প্রথম নির্বাচন করছে তৃণমূল বিএনপি, বিএনএম, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি। এসব দলের বেশির ভাগ প্রার্থী নিজ নিজ এলাকার ভোটারদের কাছে নতুন পরিচয়ে উপস্থিত হবেন। অনেকে আবার খুব বেশি পরিচিত নন। একইভাবে তাদের নির্বাচনী প্রতীক যথাক্রমে সোনালী আঁশ, নোঙর ও একতারা চেনাতেও এবার তাদের বিশেষ প্রস্তুতি নিতে হবে।
তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনএমের প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য আছেন ৬ জন এবং তৃণমূলের প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য আছেন ৫ জন।
এদিকে, গতকাল আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর কাদের বলেছেন, বিএনপির ১৫ কেন্দ্রীয় নেতাসহ সাবেক ৩০ জন সংসদ সদস্য নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এদের মধ্যে কাদের সিদ্দিকী, লতিফ সিদ্দিকী, আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর মতো নেতাও আছেন। আবার আগে বিএনপিতে প্রভাব ছিল দলটির এমন সাবেক নেতারাও আছেন নির্বাচনে। এদের মধ্যে তৈমূর আলম, সমশের মবিন চৌধুরীর নাম উল্লেখযোগ্য।
তবে এদের বাইরে নির্বাচনের মাঠে থাকা বেশির ভাগ প্রার্থীই অচেনা। এ বিষয়ে গাজীপুর-৪ আসনের একজন প্রার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমার দল এলাকায় তেমন পরিচিত নয়। দলের প্রচার চালাতে ও এলাকার মানুষের কাছে নিজের পরিচয় তুলে ধরতে এবার ভোট করতে আসা। আমিও জানি নির্বাচনে জয়লাভ করার অবস্থান এখনো আমার বা আমার দলের তৈরি হয়নি। তবে এক দিনে তো কিছুই হয় না। আমাদের দলের আদর্শ ও কর্মসূচি দেশের মানুষ ও এলাকার মানুষকে জানাতে আমরা নির্বাচনে এসেছি।’
অন্যদিকে লালমনিরহাট-৩ আসনে মনোনয়ন জমা দেয়া প্রার্থীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই সদর আসনে ৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সদ্য পদত্যাগকারী সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জাবেদ হোসেন বক্কর, জাতীয় পার্টি থেকে জাহিদ হাসান, তৃণমূল বিএনপি থেকে শামীম আহম্মেদ চৌধুরী, জাকের পার্টি থেকে সকিউজ্জামান মিয়া, বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল থেকে আশরাফুল আলম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) থেকে আবু তৈয়ব মো. আজমুল হক পাটোয়ারী, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) থেকে শ্রী হরিশ চন্দ্র রায় মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তবে এবার তিনি এ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেননি। ফলে এ আসনে নির্বাচনে অংশ নেয়া সব প্রার্থীই নতুন এবং নতুন একজন সংসদ সদস্য পাবে লালমনিরহাট সদরবাসী। তবে নতুন হলেও জেলা ও শহরের রাজনীতিতে পুরনো মুখ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান। ছাত্ররাজনীতি করায় জাবেদ হোসেন বক্করও সেখানে পরিচিত মুখ। জাকের পার্টি ও জাসদের প্রার্থীকেও অনেকে চেনেন। তবে সাম্যবাদী দল, এনপিপির প্রার্থীর মতো জাতীয় পার্টির প্রার্থীও এলাকার সবার চেনা মুখ নন। ফলে যে আসন থেকে জাতীয় পার্টি বর্তমান সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছে সেখানে নতুন মুখ দেয়ায় মাঠের রাজনীতিতে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন এলাকার অনেক বাসিন্দা।
বিষয়টা আরও স্পষ্ট হয় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনার ৬টি আসন বিশ্লেষণ করলে। দৈনিক বাংলার খুলনা ব্যুরো জানায়, খুলনার এই ৬টি আসনের জন্য সেখানে ৫৩ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে যারা সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচন করবেন, তাদের অধিকাংশেরই রাজনীতিতে তেমন কোনো পরিচিতি নেই। হঠাৎ করেই তারা কেন সংসদ নির্বাচনে আগ্রহী হলেন, এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে উত্তরও দেননি অধিকাংশ প্রার্থী।
খুলনা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের মনোনীত ৬ জন প্রার্থী, আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র ২ জন এবং জাতীয় পার্টির একজন প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচিতি রয়েছে। বাকি ৪৪ জন প্রার্থী কখনো রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয় ছিলেন না।
খুলনা প্রতিনিধির বিশ্লেষণ অনুযায়ী খুলনা-১ আসনের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ৬ জন। তারা হলেন, জাকের পার্টির মো. আজিজুর রহমান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ননী গোপাল মণ্ডল, জাতীয় পার্টির কাজী হাসানুর রশিদ, তৃণমূল বিএনপির গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রশান্ত কুমার রায় ও আবেদ আলী শেখ।
এদের মধ্যে ননী গোপাল মণ্ডল ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। রাজনীতিতে তার পরিচিতি রয়েছে। তবে বাকি চারজন রাজনীতিতে একেবারেই অপরিচিত। তারা প্রত্যেকেই এবার প্রথম সংসদ নির্বাচন করছেন। এদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রশান্ত কুমার রায় পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সাবেক সচিব।
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আমি নির্বাচন করছি। আমাকে ডামি প্রার্থীও বলা যাবে। এটা দলীয় নির্দেশেই হচ্ছে।’
আওয়ামী লীগের ননী গোপাল মণ্ডল বলেন, ‘দল আমাকে আবারও সুযোগ দিয়েছে। আমি দলের সম্মান রাখব বলে আশাবাদী।’
তবে বাকি চার প্রার্থীর তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই। জাতীয় পার্টীর কাজী হাসানুর রশিদ ও তৃণমূল বিএনপির গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিকের কাছে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেও কোনো উত্তর মেলেনি।
আর জাকের পার্টি মো. আজিজুর রহমান বলেন, ‘দল থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে বলেছে, তাই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি।’
অন্যদিকে খুলনা-২ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৯ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল, গণতন্ত্র পার্টির মো. মতিয়ার রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের দেবদাস সরকার, জাকের পার্টির ফরিদা পারভিন, ইসলামী ঐক্যজোটের হিদায়েতুল্লাহ, জাতীয় পার্টির মো. গাউসুল আজম, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের বাবু কুমার রায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সাঈদুর রহমান।
এদের মধ্যে শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থীর রাজনৈতিকভাবে পরিচিতি রয়েছে। তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। তবে বাকিদের আগে কখনো রাজনৈতিক মাঠে দেখা যায়নি।
কেন প্রার্থী হয়েছেন- এমন প্রশ্নে বাংলাদেশ কংগ্রেসের দেবদাস সরকার বলেন, ‘অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে মনোনয়ন জমা দেয়া হচ্ছে, তাই আমরাও দিচ্ছি।’
খুলনা-৩ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৫ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের এস এম কামাল হোসেন, জাকের পার্টির এস এম সাব্বির হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, স্বতন্ত্র প্রার্থী কাইজার আহমেদ ও ফাতেমা জামান সাথী।
এদের মধ্যেও শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচিতি রয়েছে। তিনি দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। তিন বারের সংসদ সদস্য ও দুই বারের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানকে সরিয়ে তাকেই আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিয়েছে। তবে ওই আসনেরও বাকি চারজনের তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই।
খুলনা-৪ আসন থেকে মনোনয়ন নিয়েছেন ১৪ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের আব্দুস সালাম মূর্শেদী, জাকের পার্টির শেখ আনছার আলী, জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এস এম আজমল হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. ফরহাদ আহমেদ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. মোস্তাফিজুর রহমান, তৃণমূল বিএনপির শেখ হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মনিরা সুলতানা, ইসলামী ঐক্যজোটের রিয়াজ উদ্দীন খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জুয়েল রানা, এম ডি এহসানুল হক, মো. রেজভী আলম, এস এম মোর্ত্তজা রশিদী দারা, আতিকুর রহমান ও এইচ এম রওশান জমির।
এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের আব্দুস সালাম মূর্শেদী বর্তমান সংসদ সদস্য। ২০১৮ সালের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে তিনি জয়ী হয়েছিলেন।
এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম মোর্ত্তজা রশিদী দারার দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস রয়েছে। তিনি ওই আসনের তিন বারের সাবেক সংসদ সদস্য এস এম মোস্তফা রশিদী সুজার আপন ভাই।
তিনি বলেন, এলাকার মানুষের দোয়া নিয়ে মাঠে নেমেছি। জয়-পরাজয় এলাকার মানুষই নির্ধারণ করবেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই আসনে আওয়ামী লীগের এই দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এলাকার ভোটাররা বলছেন, বাকি ১২ জন প্রার্থীদের নাম খুব একটা শোনেননি তারা। কেউ কেউ একেবারেই অপরিচিত।
খুলনা-৫ আসনের জন্য মনোনয় জমা দিয়েছেন ৭ জন। তারা হলেন- জাতীয় পার্টির মো. শহীদ আলম, জাকের পার্টির সামাদ সেখ, আওয়ামী লীগের নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, ওয়ার্কার্স পার্টির শেখ সেলিম আকতার, বাংলাদেশ কংগ্রেসের এস এম এ জলিল, ইসলামী ঐক্যজোটের তরিকুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ আকরাম হোসেন।
এদের মধ্যে নারায়ণ চন্দ্র চন্দ একাধিক বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী। এ ছাড়া আকরাম হোসেন ফুলতলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। এই আসনেও আওয়ামী লীগের এই দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ভোটাররা। বাকি যারা প্রার্থী হয়েছেন এলাকার রাজনীতিতে তাদের তেমন কোনো পরিচিতি নেই বলে জানা গেছে।
খুলনা-৬ আসনের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ১২ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের মো. রশীদুজ্জামান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. আবু সুফিয়ান, জাকের পার্টির শেখ মর্তুজা আল মামুন, জাতীয় পার্টির মো. শফিকুল ইসলাম মধু, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মির্জা গোলাম আজম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এস এম নেওয়াজ মোরশেদ, তৃণমূল বিএনপির গাজী নাদীর উদ্দীন খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম রাজু, গাজী মোস্তফা কামাল, জি এম মাহবুবুল আলম, মো. মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর ও মো. অহিদুজ্জামান মোড়ল।
এদের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত মো. রশীদুজ্জামানের কোনো দলীয় পদ নেই। তিনি একসময় পাইকগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্যসচিব ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে জামানত হারিয়েছিলেন। তবে তাকেই মনোনয়ন দিয়ে চমক সৃষ্টি করেছে ক্ষমতাসীন দল। ওই আসনে রাজনৈতিকভাবে পরিচিত রয়েছে জাতীয় পার্টির মো. শফিকুল ইসলাম মধুর। তিনি আগেও খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। বাকি প্রার্থীদের তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই। এলাকার সবার কাছে পরিচিত মুখও নন অনেকে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশির ভাগ আসনেই ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীদের স্থানীয়রা তেমন একটা চেনেন না। তবে বিরোধীদের এক অংশ নির্বাচন বর্জন করায় রাজনীতির নতুন সমীকরণ মেলাতে ছোট দলগুলোই নির্বাচনে হতে যাচ্ছে বড় দলগুলোর সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনীযুদ্ধ পার হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী।
জাসদের মাঠপর্যায়ের এক রাজনীতিবিদ জসিম মণ্ডল বলেন, ‘নির্বাচন একটা বড় খেলা। এখানে সবাই নামে নিজ নিজ সমীকরণ মেলানোর জন্য। রাজনৈতিক দলগুলোর সমীকরণ হয় এক ধরনের, আবার প্রার্থীর সমীকরণ হয় আরেক ধরনের। সবাই নির্বাচনে জয়ী হতে যেমন অংশ নেয় না তেমনই কেউ কেউ নির্বাচনে যায় অন্যের যাত্রা ভঙ্গ করতে। আবার অনেকের কাছে ‘নির্বাচনে অংশগ্রহণই বড় কথা।’ জয়-পরাজয়ের চেয়েও বড় বিষয় এ সময় পোস্টারিং করে নিজের ছবি ও পরিচিতি পুরো এলাকার মানুষকে দেখানো যায়। এটাও বা কম কিসে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দেশের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষেরই আছে নির্বাচনে দাঁড়ানোর অধিকার। তাই কটা টাকা খরচ করে অনেকেই পরিচিতি বাড়ানোর সুযোগ নেয়। এর ফল তো অসীম-সারাজীবন নানাভাবে এর সুফল মেলে। যারা রাজনীতিতে আছেন, কেবল তারাই বোঝেন নির্বাচনে অংশ নিতে পারার গুরুত্ব।
পাকিস্তানের বিপক্ষে শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। একইসঙ্গে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজও জিতেছে।
মিরপুর স্টেডিয়ামে রোববার (১৫ মার্চ) এই ঐতিহাসিক জয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এক বিবৃতিতে তিনি ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের সাহসী তরুণেরা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে আজকের শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে ১১ রানের জয়ে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জিতে প্রমাণ করেছে, ঐকান্তিক এবং ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা থাকলে জয় ছিনিয়ে আনা সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বাংলাদেশে ক্রিকেট দলের নজরকাড়া পারফরম্যান্স বাংলাদেশকে গর্বিত করেছে। আমি আশা করি, আমাদের তরুণদের এই সাফল্য জয়যাত্রা অব্যাহত থাকবে।
ভারত থেকে আমদানি করা চাল নিয়ে মোংলা বন্দরে এসে পৌঁছেছে দুটি জাহাজ। ভারতের কোলকাতা বন্দর থেকে পানামা পতাকাবাহী ‘এইচ টি পাইনিওর’ জাহাজে ১১ হাজার মেট্রিক টন এবং ভিয়েতনাম পতাকাবাহী ‘হোয়াংটন-৮৯’ জাহাজে ৫ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানি করা হয়েছে।
রোববার বিদেশি জাহাজ দুটির স্থানীয় শিপিং এজেন্ট ‘সেভেন সিয়েস’র ব্যবস্থাপক আবুল হাসেম শামিম জানিয়েছেন, উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে এই চাল আমদানি করা হয়েছে।
তিনি বলেন, কোলকাতা বন্দর থেকে মোংলা বন্দরে আসা জাহাজ দুটি থেকে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রোববার সকাল থেকে চাল খালাসের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরপর ছোট লাইটারেজ জাহাজের মাধ্যমে খালাস করা চাল নৌপথে দেশের বিভিন্ন জেলার সরকারি গুদামে পাঠানো হচ্ছে। চার থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে মোংলা বন্দরে আসা বিদেশি দুটি জাহাজ থেকে পুরোপুরি চাল খালাসের কাজ শেষ হবে।
মোংলা খাদ্য অফিসের সহকারী খাদ্য নিয়ন্ত্রক আব্দুস সোবাহান সরদার বলেন, জিটুজি চুক্তির মাধ্যমে সরকার ভারত, পাকিস্তান ও মিয়ানমার থেকে ৮ লাখ টন সিদ্ধ ও আতপ চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই চুক্তির আওতায় ভারত থেকে মোংলা বন্দরে আমদানি হওয়া চালের এটি নবম চালান।
তিনি আরও বলেন, দেশের বাজারে চালের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে এবং সরবরাহ বাড়াতে ভারত থেকে সরকার ও বেসরকারি পর্যায়ে বিপুল পরিমাণ চাল আমদানি শুরু হয়েছে। শুল্কমুক্ত সুবিধায় আমদানিকৃত এই চালের মধ্যে নন-বাসমতি চালের পরিমাণই বেশি, যা দেশের বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করছে।
এছাড়া ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে নিয়মিতভাবে ভারতের পেট্রাপোল ও হিলি স্থলবন্দর দিয়ে চাল দেশে প্রবেশ করছে, যা দ্রুত দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হচ্ছে।
পাইকারি ও খুচরা বাজারে পণ্যের দামের অযৌক্তিক ব্যবধানের কারণ অনুসন্ধানে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠনের কথা জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গঠিত এ কমিটি বিষয়টি গভীরভাবে পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করবে।
রোববার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ পাইকারি বাজারে দ্রব্যমূল্যের পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন শেষে খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত ‘মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত: ভোগ্যপণ্য সরবরাহ ও মূল্য পরিস্থিতি সংক্রান্ত পর্যালোচনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পাইকারি ও খুচরা বাজারে অনেক ক্ষেত্রে অগ্রহণযোগ্য দামের ব্যবধান দেখা যায়। এই ব্যবধানের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, প্রশাসনের সদস্য এবং অন্যান্য পেশাজীবীদের নিয়ে একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখনো আমদানি নির্ভর দেশ। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধি, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি বা পরিবহন ব্যয় বেড়ে গেলে এর প্রভাব দেশের বাজারে পড়া স্বাভাবিক। তবে অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা বা নিয়ন্ত্রণজনিত কোনো কারণে যেন পণ্যের দাম অযৌক্তিকভাবে বৃদ্ধি না পায় সে বিষয়ে সরকার সতর্ক রয়েছে।
বিদেশি ফল আমদানির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, কিছু ফল রয়েছে যা সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে থাকা প্রয়োজন, যেমন আপেল, আঙুর ও কমলা। এসব ফলের দাম মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখতে সরকার প্রয়োজনে নীতিগত পদক্ষেপ বিবেচনা করবে। তবে অত্যধিক দামি বিলাসী ফলের ক্ষেত্রে শুল্ক কমানোর প্রয়োজনীয়তা নেই।
মন্ত্রী আরও বলেন, মুক্তবাজার অর্থনীতিতে ব্যবসা-বাণিজ্যের মূল চালিকাশক্তি ব্যবসায়ীরাই। সরকারের কাজ হলো ব্যবসা ও বিনিয়োগের জন্য অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত এবং বাজার যেন বাধাহীন ও স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হতে পারে তা নিশ্চিত করা।
রমজান মাস উপলক্ষে ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা যদি মানুষের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে ন্যায্যমূল্যে পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করেন, তবে তা সমাজে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
চলতি রমজান মাসে ভোজ্যতেলের বাজার তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে উল্লেখ করে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানান তিনি। তবে কোথাও কোথাও ভোজ্যতেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও সীমিত বিক্রির অজুহাতে অতিরিক্ত দাম নেওয়ার প্রবণতার বিষয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
খাতুনগঞ্জ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আব্দুস সালামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান এবং চট্রগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ সার কারখানায় প্রাকৃতিক জ্বালানি বাষ্পের তীব্র সংকটের কারণে প্রায় এক বছর ধরে সার উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। দেশের পূর্বাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ এই শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে অচল হয়ে থাকায় রাষ্ট্র প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। কারখানা সূত্র অনুযায়ী, উৎপাদন বন্ধ থাকায় প্রতিদিন প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি টাকার সমমূল্যের সার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে প্রতি মাসে লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় একশত পঁয়ষট্টি কোটি টাকা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে জানা গেছে, কারখানায় কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহৃত প্রাকৃতিক জ্বালানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই যাবতীয় উৎপাদন কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। শুধু আর্থিক ক্ষতিই নয়, দীর্ঘ সময় ধরে কারখানাটি অচল অবস্থায় পড়ে থাকায় এর কোটি কোটি টাকা মূল্যের মূল্যবান যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সচল অবস্থায় না থাকলে এই ব্যয়বহুল যন্ত্রাংশগুলো স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক করে অবিলম্বে উৎপাদন শুরু করার দাবিতে কারখানার শ্রমিক ও কর্মচারীরা দীর্ঘ সময় ধরে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। তাঁরা বিভিন্ন সময় প্রতিবাদ সভা ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করলেও এখন পর্যন্ত কারখানা চালুর বিষয়ে দায়িত্বশীল মহলের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের অভিযোগ, বিদেশ থেকে সার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে একটি অসাধু চক্র পরিকল্পিতভাবে দেশের ভেতরের সার উৎপাদন ব্যাহত করছে। তাঁদের দাবি, কারখানার পূর্ণ উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও স্রেফ অবহেলার কারণে এটি বন্ধ রাখা হয়েছে।
আশুগঞ্জ সার কারখানাটির দৈনিক বিপুল পরিমাণ সার উৎপাদনের ক্ষমতা রয়েছে। বছরের পর বছর ধরে এই কারখানাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ পার্শ্ববর্তী সাতটি জেলার কৃষকদের সারের চাহিদা মিটিয়ে আসছিল। কিন্তু কারখানাটি পুরনো হওয়ার কারণ দেখিয়ে বর্তমানে সরকার এখানে জ্বালানি সরবরাহে অনাগ্রহ দেখাচ্ছে বলে জানা গেছে। তবে কারখানার কারিগরি কর্মকর্তাদের মতে, প্রয়োজনীয় জ্বালানি বাষ্পের সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে মাত্র পনেরো থেকে কুড়ি দিনের মধ্যেই পুনরায় পুরোদমে উৎপাদনে ফেরা সম্ভব।
সার কারখানাটি দ্রুত সচল করা না হলে রাষ্ট্রকে কেবল বিশাল অংকের অর্থই হারাতে হবে না, বরং এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে দেশের সামগ্রিক কৃষি খাতেও। স্থানীয় পর্যায়ে সারের সরবরাহ কমে গেলে কৃষকদের চাষাবাদের ব্যয় যেমন বাড়বে, তেমনি সারের বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হতে পারে। এই জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি রক্ষায় এবং দেশের কৃষি উৎপাদন সচল রাখতে দ্রুত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে।
পবিত্র লাইলাতুল কদর উপলক্ষে দেশবাসীসহ বিশ্বের সব মুসলমানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি পবিত্র এই রাতের তাৎপর্য অনুধাবন করে সবাইকে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগি করি এবং মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান।
সোমবার (১৬ মার্চ) দিবাগত রাতের পবিত্র লাইলাতুল কদর উপলক্ষে দেওয়া বাণীতে রোববার এ শুভেচ্ছা জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘পবিত্র লাইলাতুল কদর উপলক্ষে আমি দেশবাসীসহ বিশ্বের সকল মুসলমানকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ।’
তিনি বলেন, ‘লাইলাতুল কদর মহিমামন্ডিত ও বরকতময় এক রাত। পবিত্র কুরআনুল কারিম রমজান মাসের এই মহিমান্বিত রাতেই অবতীর্ণ হয়েছে। মহান আল্লাহ তাআলা এ রাতকে হাজার মাসের চেয়েও শ্রেষ্ঠ বলে ঘোষণা করেছেন। এ রাত মানবজাতির জন্য কল্যাণ, ক্ষমা ও রহমতের বার্তা নিয়ে আসে।’
বাণীতে তিনি আরও বলেন, ‘এই রাতে ইবাদত-বন্দেগি, তওবা ও দোয়ার মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের এক অনন্য সুযোগ সৃষ্টি হয়। রমজান মাস সংযম, আত্মশুদ্ধি, সহনশীলতা ও মানবিক গুণাবলির জাগরণের মাস। পবিত্র লাইলাতুল কদরের শিক্ষা আমাদের ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে শান্তি, ন্যায় ও কল্যাণ প্রতিষ্ঠায় অনুপ্রাণিত করে।
আসুন, আমরা সবাই এই রাতের তাৎপর্য অনুধাবন করে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে বেশি বেশি ইবাদত-বন্দেগি করি এবং মানবকল্যাণে আত্মনিয়োগ করি।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি মহান আল্লাহ তাআলার দরবারে প্রার্থনা করি-তিনি যেন পবিত্র লাইলাতুল কদরের অসীম রহমত ও বরকত আমাদের সবার ওপর বর্ষিত করেন। আমাদের দেশ ও জাতিকে অগ্রগতি, শান্তি, সম্প্রীতি এবং কল্যাণের পথে পরিচালিত করেন।’
তিনি আশা ব্যক্ত করে বলেন, ‘পবিত্র লাইলাতুল কদরের মহিমা আমাদের জীবনে শান্তি, সম্প্রীতি ও কল্যাণ বয়ে আনুক-এই কামনা করি।’
সরকারের উপদেষ্টাদের দপ্তর পুনর্বণ্টনের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানকে দুটি নতুন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় তিনি এখন থেকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করবেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।
এ দায়িত্ব পালনে ডা. জাহেদ উর রহমান সবার দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করে নিজের ফেসবুক পোস্টে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পলিসি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তথ্য ও সম্প্রচার এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বও তার ওপর ন্যস্ত হয়েছে।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি প্রথমবারের মতো ডা. জাহেদ উর রহমানকে প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদায় দায়িত্ব পালনের মধ্যেই সম্প্রতি তাকে নতুন করে দুটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হলো।
দেশের ৪২টি জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। রোববার (১৫ মার্চ) তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়।
সরকারের এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জেলা পরিষদগুলোর প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল ও কার্যকর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ডকে ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্তরা হলেন
পঞ্চগড়ে মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম, দিনাজপুরে মোফাজ্জল হোসেন দুলাল, রংপুরে মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম, কুড়িগ্রামে মো. সোহেল হোসনাইন কায়কোবাদ, গাইবান্ধায় অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মইনুল হাসান সাদিক, জয়পুরহাটে মো. মাসুদ রানা প্রধান, বগুড়ায় এ.কে.এম. আহাসানুল তৈয়ব জাকির, চাঁপাইনবাবগঞ্জে মো. হারুনুর রশিদ, নওগাঁয় মো. আবু বক্কর সিদ্দিক, রাজশাহীতে মো. এরশাদ আলী, নাটোরে মো. রহিম নেওয়াজ, মেহেরপুরে মো. জাভেদ মাসুদ, কুষ্টিয়ায় সোহরাব উদ্দিন, ঝিনাইদহে মো. আবুল মজিদ, যশোরে দেলোয়ার হোসেন খান খোকন, মাগুরায় আলী আহমেদ, বাগেরহাটে শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন।
খুলনায় এস এম মনিরুল হাসান (বাপ্পী), পটুয়াখালীতে স্নেহাংশু সরকার, ভোলায় গোলাম নবী আলমগীর, বরিশালে আকন কুদ্দুসর রহমান, ঝালকাঠিতে মো. শাহাদাৎ হোসেন, পিরোজপুরে আলমগীর হোসেন, টাঙ্গাইলে এস এম ওবায়দুল হক, শেরপুরে এ.বি.এম. মামুনুর রশিদ, ময়মনসিংহে সৈয়দ এমরান সালেহ, নেত্রকোনায় মো. নূরুজ্জামান (অ্যাড.), কিশোরগঞ্জে খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল খান, মুন্সীগঞ্জে এ. কে. এম. ইরাদত, নারায়ণগঞ্জে মো. মামুন মাহমুদ, রাজবাড়ীতে আব্দুস সালাম মিয়া, গোপালগঞ্জে শরিফ রফিক উজ্জামান, মাদারীপুরে খোন্দকার মাশুকুর রহমান, শরীয়তপুরে সরদার এ. কে. এম. নাসির উদ্দিন, সুনামগঞ্জে মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী, সিলেটে আবুল কাহের চৌধুরী, মৌলভীবাজারে মিজানুর রহমান, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সিরাজুল ইসলাম, কুমিল্লায় মো. মোশতাক মিয়া, নোয়াখালীতে মো. হারুনুর রশিদ আজাদ, লক্ষ্মীপুরে সাহাব উদ্দিন এবং কক্সবাজারে এ টি এম নুরুল বশর চৌধুরী।
সরকার নারীদের শিক্ষা অবৈতনিক করার পদক্ষেপ নেবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী পত্নী ডাক্তার জুবাইদা রহমান।
নারী দিবস উপলক্ষে রোববার (১৫ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ যাদুঘরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই মন্তব্য করেন তিনি।
জুবাইদা রহমান বলেন, ‘যে জাতির নারীরা এগিয়ে যায়, সেই জাতি এগিয়ে যায়। বর্তমান সরকার কন্যাশিশুর অধিকার বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর। নারীদের শিক্ষা অবৈতনিক করার পদক্ষেপও নেবে সরকার।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশের প্রতিটি শিশুর উজ্জ্বল ভবিষ্যত আমাদের প্রয়াস। এমন বাংলাদেশ গড়ে তুলব যেখানে নারী নেতৃত্বে গড়ে উঠবে ভবিষ্যত বাংলাদেশ।’
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশে প্রথম নারী বিষয়ক অধিদফতর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন জিয়াউর রহমান। আনসার ভিডিপিতেও প্রথম নারীদের অন্তর্ভুক্ত করেন তিনি। নারীদের প্রথম কোটা দিয়েছিলেন ২০ শতাংশ। এর ফলেই আজকে মেডিকেল কলেজে শিক্ষার্থীদের ৬২ শতাংশ নারী।’
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্নাতকোত্তর পর্যায়ে অবৈতনিক পড়াশোনা ও স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘অধিকার সবার। গণতন্ত্রের লেবাসেও স্বৈরাচার হয়। যা আমরা বিগত সরকারের আমলে দেখেছি। আমরা এতদিন অধিকার হারা হয়েছিলাম। তাই এখনও কথা বলতে হয় নারী অধিকার নিয়ে।’নরসিংদীর ধর্ষণের মতো ঘটনা নিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা যদি অন্যান্য দেশের দিকে তাকাই, সভ্য সমাজের কালো দিকটা আমরা দেখি না।
গণমাধ্যমের কারণে সেগুলো আমাদের সামনে আসে। আমরা এমন একটি দেশ চাই যেখানে নারীর অধিকার নিয়ে আলাদা করে কথা বলতে হবে না।’
আগামী ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বগুড়া-৬ ও শেরপুর-৩ আসনের জাতীয় সংসদের নির্বাচন। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করছে নির্বাচন কমিশন। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোট নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দুই আসনের প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে স্থাপিত সিসি ক্যামেরাগুলো নির্বাচনের তিনদিন আগে থেকেই সচল রাখার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের উপসচিব মোহাম্মদ মনির হোসেন এই বিশেষ নির্দেশনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ভোটগ্রহণের অন্তত তিনদিন আগে থেকে প্রতিটি কেন্দ্রের সিসি ক্যামেরা সচল রাখতে হবে। বিশেষ করে যে কক্ষে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে, ভোট গণনা কার্যক্রমও সেই কক্ষেই সম্পন্ন করার জন্য বলা হয়েছে। এ ছাড়াও নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর নজরদারি ক্যামেরার সমস্ত তথ্য বা ভিডিও ফুটেজ পরবর্তী ব্যবহারের জন্য সঠিকভাবে সংরক্ষণ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচনী পরিস্থিতি সম্পর্কে জানা গেছে, সেখানে ইসলামি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী আবুল তালেব মো. সাইফুদ্দিন নিজের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। বর্তমানে এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. মাসুদুর রহমান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আমিনুল ইসলাম, বিএনপির মো. মাহমুদুল হক রুবেল এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (মার্কসবাদী) মো. মিজানুর রহমান। উল্লেখ্য যে, গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় এই আসনের একজন বৈধ প্রার্থীর মৃত্যু হওয়ায় ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে নতুন তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে বর্তমানে এই নির্বাচনের আয়োজন করা হচ্ছে।
অন্যদিকে বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মো. আবিদুর রহমান, বিএনপির মো. রেজাউল করিম বাদশা এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির মো. আল আলিম তালুকদার। গত ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে এই আসন থেকে জয়লাভ করেছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তবে দেশের আইন অনুযায়ী একই সঙ্গে সংসদ সদস্য হিসেবে দুটি আসন ধরে রাখার সুযোগ না থাকায় তিনি ঢাকা-১৭ আসনটি নিজের অনুকূলে রেখে বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দেন। ফলে আসনটি শূন্য হয়ে পড়ায় নতুন করে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
আগামী ৯ এপ্রিল নির্ধারিত দিনে সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয়ে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে এই দুই আসনের ভোটগ্রহণ চলবে। নির্বাচন কমিশন এই দুই আসনের ভোটগ্রহণ অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নজরদারি ক্যামেরা ব্যবহারের মাধ্যমে পুরো নির্বাচনী পরিবেশ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশন আগামী ২৯ মার্চ পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেছেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)।
বরিবার (১৫ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম শেষে এ মুলতবি ঘোষণা করেন স্পিকার।
মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদের বৈঠক আগামী ২৯ মার্চ বিকাল ৩টা পর্যন্ত মুলতবি করা হলো। সহযোগিতা করার জন্য আপনাদের ধন্যবাদ।
এর আগে এদিন বেলা ১১টায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম শুরু হয়। অধিবেশন শুরু হয় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মধ্যদিয়ে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)।
অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। অধিবেশনে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানও উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছিল বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ)।
অন্তর্বর্তী সরকারের ১৮ মাসের শাসনামলে জারি করা মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য বিশেষ কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।
রোববার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন শুরুর পর আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সংসদে উত্থাপিত অধ্যাদেশগুলো বিশেষ কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব করেন। পরে তা কণ্ঠ ভোটে পাস হয়।
সংসদ কার্যকর না থাকায় সংবিধানের ৯৩ (১) অনুচ্ছেদের অধীনে এই অধ্যাদেশগুলো জারি করা হয়েছিল।
সংবিধান অনুযায়ী, যে কোনো অধ্যাদেশ নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে উত্থাপন করতে হয় এবং অধিবেশন শুরুর ৩০ দিনের মধ্যে সেগুলো পাস হতে হয়। আর তা না হলে সেগুলোর আইনি বৈধতা থাকে না।
সে কারণে গত ১৩ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের অধিবেশন শুরুর দিনই অধ্যাদেশগুলো অনুমোদনের জন্য জাতীয় সংসদে উত্থাপন করেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
সংসদে অধ্যাদেশগুলো বিল আকারে উত্থাপনের পর চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি সেদিন বরিশাল-৩ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদিনের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেন। কমিটি এই বিলগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করবে।
বিশ্বব্যাপী প্রতারণা মোকাবিলায় করণীয় নিয়ে আলোচনা করতে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায় অনুষ্ঠিতব্য গ্লোবাল ফ্রড সামিটে অংশ নিতে আজ রোববার ভিয়েনা যাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।
মাদক ও অপরাধবিষয়ক জাতিসংঘ দপ্তর এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ পুলিশ সংস্থার যৌথ আয়োজনে ১৬ ও ১৭ মার্চ ভিয়েনা আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এই দুই দিনব্যাপী সামিট অনুষ্ঠিত হবে। এতে পাঁচ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
সামিটের উদ্বোধনী ও পূর্ণাঙ্গ অধিবেশন ছাড়াও ‘গ্লোবাল ফ্রড রেসপন্স মেকানিজম’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের গোলটেবিল বৈঠক এবং ‘প্রতারণা দমনে জাতীয় অঙ্গীকার’ শীর্ষক বিশেষ অধিবেশনে প্যানেল বক্তা হিসেবে অংশ নেবেন তিনি।
এ ছাড়া সামিটের ফাঁকে মাদক ও অপরাধবিষয়ক জাতিসংঘ দপ্তরের নির্বাহী পরিচালক জন ব্র্যান্ডোলিনো এবং যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী লর্ড হ্যানসনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করার কথা রয়েছে তার।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আজ বিকেল ৪টা ৫০ মিনিটে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হযরত শাহজালাল (র.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ভিয়েনার উদ্দেশে রওনা হবেন। সামিট শেষে তিনি আগামী ২০ মার্চ ভোর ৫টা ৩৫ মিনিটে তুর্কিশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় ফিরবেন।
দেশে ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন। আজ রোববার জাতীয় সংসদে বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী।
স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হলে প্রথমে প্রশ্নোত্তর অনুষ্ঠিত হয়।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘নিয়োগের যোগ্যতা ও সনদ নিয়ে একটি জটিলতা রয়েছে। আশা করছি, এটি কাটিয়ে শিগগিরই আমরা এই নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সক্ষম হব। এক্ষেত্রে কারিআনা পাশধারীদের নিয়োগের ব্যবস্থা করা হবে। ইসলাম ধর্মের পাশাপাশি অন্যান্য ধর্মকে প্রাধান্য নিয়ে আমরা কাজ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।’
এনসিপির হাসনাত আবদুল্লাহর প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বিগত সরকার শিক্ষার্থীদের ভর্তির ক্ষেত্রে লটারি সিস্টেম চালু করেছিল। আমার কাছে এটাকে যুক্তিসংগত মনে হয়নি। আগামী শিক্ষাবর্ষে ভর্তির পদ্ধতি নির্ধারণের জন্য আমরা অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে সকলের অভিমত নিয়ে ভর্তির বিষয় চিন্তা করব।’
এহসানুল হক মিলন আরও বলেন, ‘আমরা ইংরেজি মাধ্যমের স্কুলগুলোকে সরকারের আওতায় এনে দেশের নিয়মকানুন মেনে যুগোপযোগী করা যায় কি না সেই বিষয়ে কাজ করছি। ইবতেদায়ী ও কওমী শিক্ষাসহ সব শিক্ষা ব্যবস্থাকে সমন্বিত শিক্ষা পদ্ধতির আওতায় আনার কাজ করছি। এটা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।’
সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনের করা এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে এহসানুল হক মিলন বলেন, ‘সরকার নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়ে প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।’ তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে ৫৭টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। বর্তমান সরকার এগুলোর মানোন্নয়নের বিষয়ে বদ্ধপরিকর। সরকার নতুন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের বিষয়ে প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
আরেক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির জন্য নতুন করে আবেদন আহ্বান করবে সরকার। পুরাতন আবেদনগুলো পুনরায় যাচাই-বাছাই করা হবে।