আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ২ হাজার ৭১৩ জন প্রার্থী। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে নিবন্ধিত ৪৪টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩২টি দল। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন ৭৪৭ জন। সে হিসাবে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রত্যয়নপত্র নিয়ে নির্বাচনে উপস্থিত ১৯৬৬ জন প্রার্থী। আর স্বতন্ত্রদের মধ্যে অন্তত ৪০০ জন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন। তবে সাধারণ মানুষের অভিযোগ, নির্বাচনে আসা বড় দল আওয়ামী লীগের মূল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বাইরে অন্যদলগুলোর বেশির ভাগ প্রার্থীই আসনগুলোর মানুষের কাছে অচেনা। প্রায় প্রতিটি আসনেই নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন এমন অনেক অচেনা মুখ যাদের প্রার্থিতা পেতে সমস্যা না হলেও নির্বাচনী লড়াইয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে পরিচিত হতেই পার হয়ে যাবে প্রচারণার বেশির ভাগ সময়। ফলে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, নির্বাচনে প্রার্থী আছে অনেক বেশি, কিন্তু, প্রতিদ্বন্দ্বী কম।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ৩০০ আসনের বিপরীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের (নৌকা) ৩০৩ জন, জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল) ৩০৪ জন, জাকের পার্টি (গোলাপ ফুল) ২১৮ জন, তৃণমূল বিএনপি (সোনালী আঁশ) ১৫১ জন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি- এনপিপি (আম) ১৪২ জন, বাংলাদেশ কংগ্রেস (ডাব) ১১৬ জন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ (মশাল) ৯১ জন, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন (ফুলের মালা) ৪৭ জন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন (বটগাছ) ১৩ জন, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি (হাতঘড়ি) ১৮ জন, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ (চেয়ার) ৩৯ জন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (কাঁঠাল) ১৩ জন, গণফ্রন্ট (মাছ) ২৫ জন, গণফোরাম (উদীয়মান সূর্য) ৯ জন, ইসলামী ঐক্যজোট (মিনার) ৪৫ জন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট (মোমবাতি) ৩৭ জন, জাতীয় পার্টি-জেপি (বাইসাইকেল) ২০ জন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ (গামছা) ৩৪ জন, গণতন্ত্রী পার্টি (কবুতর) ১২ জন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (হাতুড়ি) ৩৩ জন, বিকল্পধারা বাংলাদেশ (কুলা) ১৪ জন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (একতারা) ৮২ জন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন-বিএনএম (নোঙর) ৪৯ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট- বিএনএফ (টেলিভিশন) ৫৫ জন, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (ছড়ি) ৭৪ জন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ- বিএমএল (হাত-পাঞ্জা) ৫ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি- ন্যাপ (কুঁড়েঘর) ৬ জন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মই) একজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (রিকশা) একজন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ (খেজুর গাছ) একজন এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (হারিকেন) দুইজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
এদিকে মনোনয়ন জমার শেষ দিনেই ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম জানিয়েছেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিলের সময়সীমা বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। ফলে বিএনপিসহ যে দলগুলো নির্বাচন বর্জন করেছে তাদের আর মত পাল্টে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসার দৃশ্যমান কোনো সুযোগ নেই। আন্দোলনরত দলগুলোও অবশ্য আগেই এ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতি দিয়েছে।
ফলে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর যাচাই-বাছাই শেষে যেসব প্রার্থী টিকে যাবেন তারাই থাকবেন নির্বাচনী দৌড়ে। তবে প্রতিটি আসনে ভোটের লড়াইয়ে যারা যাচ্ছেন তাদের বেশির ভাগেরই দলের নাম সাধারণ মানুষ জানে না। আর দল অচেনা বলে প্রার্থীরাও অচেনা। ফলে তাদের ধারণা নির্বাচনী লড়াইয়ে আসলে টিকে থাকবেন বড় দলের পরিচিত মুখগুলো। এর মধ্যে শাসক দলের মার্কা নিয়ে লড়াই করা প্রার্থীরা যেমন আলোচনায় থাকবেন, তেমনই অনেক আসনেই তাদের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমাতে পারেন নির্বাচনে আসা আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। কেননা, দলটির স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বেশির ভাগই স্থানীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত এবং তাদের মোটামুটি ভোট ব্যাংক অথবা এলাকাবাসীকে প্রভাবিত করার সক্ষমতা রয়েছে। নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া ৭৪৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে অন্তত ৪০০ জনই আওয়ামী লীগের।
যদিও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গত কয়েক দিনের মতো গতকালও বলেছেন, দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ঢালাওভাবে নির্বাচন করতে পারবেন না। এ ছাড়া ১৪-দলীয় জোটের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির সম্ভাবনা রয়েছে আওয়ামী লীগের। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন, নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আসতে পারবেন জোটের এমন প্রার্থীরাই কেবল থাকবেন বিবেচনায়। আর ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করে তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
এর ফলে এটা স্পষ্ট যে, জোটের সঙ্গে সমঝোতা হলে কয়েকটি আসনে আওয়ামী লীগ যাদের মনোনয়ন দিয়েছে তাদেরও রণে ভঙ্গ দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে হবে।
তবে আওয়ামী লীগ সভাপতি নির্বাচনী কৌশল হিসেবে এবার দলীয় মার্কার বাইরে দলীয় প্রার্থীদের স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড়ানোর সুযোগ দেয়ায় নির্বাচনে আসা প্রার্থীদের কতজন আবার দল চাইলে নির্দেশ মেনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন সেটাও আছে দেখার বিষয়।
তবে এই আলোচনার বাইরে থেকে যাচ্ছে বেশির ভাগ প্রার্থী যারা বিভিন্ন দল থেকে নির্বাচনে এলেও জনগণের কাছে নিজের দল, দলীয় প্রতীক এবং নিজের পরিচয় প্রকাশ করার সুযোগ পাবেন। তবে প্রতিটি আসনে স্থানীয় ভোটারদের কাছে তারা এখনো অচেনা এবং নতুন মুখ হিসেবে বিবেচিত।
যেমন দল হিসেবে এবারই প্রথম নির্বাচন করছে তৃণমূল বিএনপি, বিএনএম, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি। এসব দলের বেশির ভাগ প্রার্থী নিজ নিজ এলাকার ভোটারদের কাছে নতুন পরিচয়ে উপস্থিত হবেন। অনেকে আবার খুব বেশি পরিচিত নন। একইভাবে তাদের নির্বাচনী প্রতীক যথাক্রমে সোনালী আঁশ, নোঙর ও একতারা চেনাতেও এবার তাদের বিশেষ প্রস্তুতি নিতে হবে।
তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনএমের প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য আছেন ৬ জন এবং তৃণমূলের প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য আছেন ৫ জন।
এদিকে, গতকাল আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর কাদের বলেছেন, বিএনপির ১৫ কেন্দ্রীয় নেতাসহ সাবেক ৩০ জন সংসদ সদস্য নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এদের মধ্যে কাদের সিদ্দিকী, লতিফ সিদ্দিকী, আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর মতো নেতাও আছেন। আবার আগে বিএনপিতে প্রভাব ছিল দলটির এমন সাবেক নেতারাও আছেন নির্বাচনে। এদের মধ্যে তৈমূর আলম, সমশের মবিন চৌধুরীর নাম উল্লেখযোগ্য।
তবে এদের বাইরে নির্বাচনের মাঠে থাকা বেশির ভাগ প্রার্থীই অচেনা। এ বিষয়ে গাজীপুর-৪ আসনের একজন প্রার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমার দল এলাকায় তেমন পরিচিত নয়। দলের প্রচার চালাতে ও এলাকার মানুষের কাছে নিজের পরিচয় তুলে ধরতে এবার ভোট করতে আসা। আমিও জানি নির্বাচনে জয়লাভ করার অবস্থান এখনো আমার বা আমার দলের তৈরি হয়নি। তবে এক দিনে তো কিছুই হয় না। আমাদের দলের আদর্শ ও কর্মসূচি দেশের মানুষ ও এলাকার মানুষকে জানাতে আমরা নির্বাচনে এসেছি।’
অন্যদিকে লালমনিরহাট-৩ আসনে মনোনয়ন জমা দেয়া প্রার্থীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই সদর আসনে ৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সদ্য পদত্যাগকারী সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জাবেদ হোসেন বক্কর, জাতীয় পার্টি থেকে জাহিদ হাসান, তৃণমূল বিএনপি থেকে শামীম আহম্মেদ চৌধুরী, জাকের পার্টি থেকে সকিউজ্জামান মিয়া, বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল থেকে আশরাফুল আলম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) থেকে আবু তৈয়ব মো. আজমুল হক পাটোয়ারী, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) থেকে শ্রী হরিশ চন্দ্র রায় মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তবে এবার তিনি এ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেননি। ফলে এ আসনে নির্বাচনে অংশ নেয়া সব প্রার্থীই নতুন এবং নতুন একজন সংসদ সদস্য পাবে লালমনিরহাট সদরবাসী। তবে নতুন হলেও জেলা ও শহরের রাজনীতিতে পুরনো মুখ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান। ছাত্ররাজনীতি করায় জাবেদ হোসেন বক্করও সেখানে পরিচিত মুখ। জাকের পার্টি ও জাসদের প্রার্থীকেও অনেকে চেনেন। তবে সাম্যবাদী দল, এনপিপির প্রার্থীর মতো জাতীয় পার্টির প্রার্থীও এলাকার সবার চেনা মুখ নন। ফলে যে আসন থেকে জাতীয় পার্টি বর্তমান সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছে সেখানে নতুন মুখ দেয়ায় মাঠের রাজনীতিতে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন এলাকার অনেক বাসিন্দা।
বিষয়টা আরও স্পষ্ট হয় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনার ৬টি আসন বিশ্লেষণ করলে। দৈনিক বাংলার খুলনা ব্যুরো জানায়, খুলনার এই ৬টি আসনের জন্য সেখানে ৫৩ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে যারা সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচন করবেন, তাদের অধিকাংশেরই রাজনীতিতে তেমন কোনো পরিচিতি নেই। হঠাৎ করেই তারা কেন সংসদ নির্বাচনে আগ্রহী হলেন, এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে উত্তরও দেননি অধিকাংশ প্রার্থী।
খুলনা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের মনোনীত ৬ জন প্রার্থী, আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র ২ জন এবং জাতীয় পার্টির একজন প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচিতি রয়েছে। বাকি ৪৪ জন প্রার্থী কখনো রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয় ছিলেন না।
খুলনা প্রতিনিধির বিশ্লেষণ অনুযায়ী খুলনা-১ আসনের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ৬ জন। তারা হলেন, জাকের পার্টির মো. আজিজুর রহমান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ননী গোপাল মণ্ডল, জাতীয় পার্টির কাজী হাসানুর রশিদ, তৃণমূল বিএনপির গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রশান্ত কুমার রায় ও আবেদ আলী শেখ।
এদের মধ্যে ননী গোপাল মণ্ডল ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। রাজনীতিতে তার পরিচিতি রয়েছে। তবে বাকি চারজন রাজনীতিতে একেবারেই অপরিচিত। তারা প্রত্যেকেই এবার প্রথম সংসদ নির্বাচন করছেন। এদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রশান্ত কুমার রায় পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সাবেক সচিব।
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আমি নির্বাচন করছি। আমাকে ডামি প্রার্থীও বলা যাবে। এটা দলীয় নির্দেশেই হচ্ছে।’
আওয়ামী লীগের ননী গোপাল মণ্ডল বলেন, ‘দল আমাকে আবারও সুযোগ দিয়েছে। আমি দলের সম্মান রাখব বলে আশাবাদী।’
তবে বাকি চার প্রার্থীর তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই। জাতীয় পার্টীর কাজী হাসানুর রশিদ ও তৃণমূল বিএনপির গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিকের কাছে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেও কোনো উত্তর মেলেনি।
আর জাকের পার্টি মো. আজিজুর রহমান বলেন, ‘দল থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে বলেছে, তাই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি।’
অন্যদিকে খুলনা-২ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৯ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল, গণতন্ত্র পার্টির মো. মতিয়ার রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের দেবদাস সরকার, জাকের পার্টির ফরিদা পারভিন, ইসলামী ঐক্যজোটের হিদায়েতুল্লাহ, জাতীয় পার্টির মো. গাউসুল আজম, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের বাবু কুমার রায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সাঈদুর রহমান।
এদের মধ্যে শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থীর রাজনৈতিকভাবে পরিচিতি রয়েছে। তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। তবে বাকিদের আগে কখনো রাজনৈতিক মাঠে দেখা যায়নি।
কেন প্রার্থী হয়েছেন- এমন প্রশ্নে বাংলাদেশ কংগ্রেসের দেবদাস সরকার বলেন, ‘অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে মনোনয়ন জমা দেয়া হচ্ছে, তাই আমরাও দিচ্ছি।’
খুলনা-৩ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৫ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের এস এম কামাল হোসেন, জাকের পার্টির এস এম সাব্বির হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, স্বতন্ত্র প্রার্থী কাইজার আহমেদ ও ফাতেমা জামান সাথী।
এদের মধ্যেও শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচিতি রয়েছে। তিনি দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। তিন বারের সংসদ সদস্য ও দুই বারের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানকে সরিয়ে তাকেই আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিয়েছে। তবে ওই আসনেরও বাকি চারজনের তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই।
খুলনা-৪ আসন থেকে মনোনয়ন নিয়েছেন ১৪ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের আব্দুস সালাম মূর্শেদী, জাকের পার্টির শেখ আনছার আলী, জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এস এম আজমল হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. ফরহাদ আহমেদ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. মোস্তাফিজুর রহমান, তৃণমূল বিএনপির শেখ হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মনিরা সুলতানা, ইসলামী ঐক্যজোটের রিয়াজ উদ্দীন খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জুয়েল রানা, এম ডি এহসানুল হক, মো. রেজভী আলম, এস এম মোর্ত্তজা রশিদী দারা, আতিকুর রহমান ও এইচ এম রওশান জমির।
এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের আব্দুস সালাম মূর্শেদী বর্তমান সংসদ সদস্য। ২০১৮ সালের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে তিনি জয়ী হয়েছিলেন।
এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম মোর্ত্তজা রশিদী দারার দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস রয়েছে। তিনি ওই আসনের তিন বারের সাবেক সংসদ সদস্য এস এম মোস্তফা রশিদী সুজার আপন ভাই।
তিনি বলেন, এলাকার মানুষের দোয়া নিয়ে মাঠে নেমেছি। জয়-পরাজয় এলাকার মানুষই নির্ধারণ করবেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই আসনে আওয়ামী লীগের এই দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এলাকার ভোটাররা বলছেন, বাকি ১২ জন প্রার্থীদের নাম খুব একটা শোনেননি তারা। কেউ কেউ একেবারেই অপরিচিত।
খুলনা-৫ আসনের জন্য মনোনয় জমা দিয়েছেন ৭ জন। তারা হলেন- জাতীয় পার্টির মো. শহীদ আলম, জাকের পার্টির সামাদ সেখ, আওয়ামী লীগের নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, ওয়ার্কার্স পার্টির শেখ সেলিম আকতার, বাংলাদেশ কংগ্রেসের এস এম এ জলিল, ইসলামী ঐক্যজোটের তরিকুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ আকরাম হোসেন।
এদের মধ্যে নারায়ণ চন্দ্র চন্দ একাধিক বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী। এ ছাড়া আকরাম হোসেন ফুলতলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। এই আসনেও আওয়ামী লীগের এই দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ভোটাররা। বাকি যারা প্রার্থী হয়েছেন এলাকার রাজনীতিতে তাদের তেমন কোনো পরিচিতি নেই বলে জানা গেছে।
খুলনা-৬ আসনের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ১২ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের মো. রশীদুজ্জামান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. আবু সুফিয়ান, জাকের পার্টির শেখ মর্তুজা আল মামুন, জাতীয় পার্টির মো. শফিকুল ইসলাম মধু, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মির্জা গোলাম আজম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এস এম নেওয়াজ মোরশেদ, তৃণমূল বিএনপির গাজী নাদীর উদ্দীন খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম রাজু, গাজী মোস্তফা কামাল, জি এম মাহবুবুল আলম, মো. মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর ও মো. অহিদুজ্জামান মোড়ল।
এদের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত মো. রশীদুজ্জামানের কোনো দলীয় পদ নেই। তিনি একসময় পাইকগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্যসচিব ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে জামানত হারিয়েছিলেন। তবে তাকেই মনোনয়ন দিয়ে চমক সৃষ্টি করেছে ক্ষমতাসীন দল। ওই আসনে রাজনৈতিকভাবে পরিচিত রয়েছে জাতীয় পার্টির মো. শফিকুল ইসলাম মধুর। তিনি আগেও খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। বাকি প্রার্থীদের তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই। এলাকার সবার কাছে পরিচিত মুখও নন অনেকে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশির ভাগ আসনেই ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীদের স্থানীয়রা তেমন একটা চেনেন না। তবে বিরোধীদের এক অংশ নির্বাচন বর্জন করায় রাজনীতির নতুন সমীকরণ মেলাতে ছোট দলগুলোই নির্বাচনে হতে যাচ্ছে বড় দলগুলোর সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনীযুদ্ধ পার হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী।
জাসদের মাঠপর্যায়ের এক রাজনীতিবিদ জসিম মণ্ডল বলেন, ‘নির্বাচন একটা বড় খেলা। এখানে সবাই নামে নিজ নিজ সমীকরণ মেলানোর জন্য। রাজনৈতিক দলগুলোর সমীকরণ হয় এক ধরনের, আবার প্রার্থীর সমীকরণ হয় আরেক ধরনের। সবাই নির্বাচনে জয়ী হতে যেমন অংশ নেয় না তেমনই কেউ কেউ নির্বাচনে যায় অন্যের যাত্রা ভঙ্গ করতে। আবার অনেকের কাছে ‘নির্বাচনে অংশগ্রহণই বড় কথা।’ জয়-পরাজয়ের চেয়েও বড় বিষয় এ সময় পোস্টারিং করে নিজের ছবি ও পরিচিতি পুরো এলাকার মানুষকে দেখানো যায়। এটাও বা কম কিসে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দেশের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষেরই আছে নির্বাচনে দাঁড়ানোর অধিকার। তাই কটা টাকা খরচ করে অনেকেই পরিচিতি বাড়ানোর সুযোগ নেয়। এর ফল তো অসীম-সারাজীবন নানাভাবে এর সুফল মেলে। যারা রাজনীতিতে আছেন, কেবল তারাই বোঝেন নির্বাচনে অংশ নিতে পারার গুরুত্ব।
সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক কোষাধ্যক্ষ ও মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান সিনহা আর নেই। গত শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার মেয়ে একমি গ্রুপের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসনিম সিনহা ।
মিজানুর রহমান সিনহা রাজনীতির দীর্ঘ পথচলায় বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০২০ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেয়ার ঘোষণা দেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে সবশেষ ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি মুন্সীগঞ্জ-২ (লৌহজং-টঙ্গীবাড়ি) আসন হতে দলীয় মননোয়ন লাভ করেন তিনি। পরবর্তীতে অসুস্থ হয়ে পড়লে তার স্থলে বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. আব্দুল সালাম আজাদকে এ আসনে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়।
মিজানুর রহমান ১৯৪৩ সালের ১৮ আগস্ট মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার কলমা ইউনিয়নের ডহুরী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার স্থানীয় বাড়ি ‘সিনহা হাউজ’ দীর্ঘদিন ধরে দর্শনীয় স্থান হিসেবে সকলের জন্য উন্মুক্ত। তার পিতার নাম হামিদুর রহমান সিনহা ও মাতার নাম নূরজাহান সিনহা। হামিদুর রহমান বাংলাদেশের ওষুধ ব্যবসায়ের অন্যতম পথিকৃৎ ও শিল্পগোষ্ঠী একমি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা।
১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নজরুল ইসলাম খান বাদলকে পরাজিত করে বিজয় অর্জন করেন। এরপর ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রাার্থী সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলিকে হারিয়ে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়ন, জনকল্যাণমূলক কাজ ও দানশীলতার জন্যও এলাকায় ব্যাপক পরিচিত ছিলেন মিজানুর রহমান সিনহা।
মুন্সীগঞ্জ-২ আসনর সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মো. মহিউদ্দিনসহ বিএনপি নেতাকর্মী, বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ১০ বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ও বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক উপাচার্য ড. হাসিবুর রশীদকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কম©কতা© (ওসি) মো. মেজবাহ উদ্দীন। তিনি বলেন, আবু সাঈদ হত্যা মামলার প্রথম আসামি ও ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ড. হাসিবুর রশীদ বাচ্চুকে মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।
প্রসঙ্গত, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে চারদিন পর ৯ আগস্ট পদত্যাগ করেন অধ্যাপক রশীদ।
পাকিস্তান তাদের সেরা যুদ্ধবিমান ‘জেএফ-১৭ থান্ডার ব্লক থ্রি’ সিমুলেটর বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তর করেছে। সামরিক বিশ্লেষকরা এই ঘটনাকে দক্ষিণ এশিয়ার কৌশলগত ভারসাম্যে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে ধারণা করছেন। গভীরভাবে ঢাকা-ইসলামাবাদের এই সামরিক সহযোগিতা পর্যবেক্ষণ করছেন আঞ্চলিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা।
ডিফেন্স সিকিউরিটি এশিয়ার প্রতিবেদন অনুসারে, যুদ্ধবিমান হস্তান্তরের এই ঘটনাকে শুধুমাত্র সাধারণ উপহার হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। বরং এটি হতে পারে দুই দেশের মধ্যে বিমান ক্রয়ের চূড়ান্ত চুক্তির আগের একটি বড় প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ। এতে ভূ-রাজনৈতিক সময়কালও বাড়তি পর্যালোচনার জন্ম দিয়েছে। কারণ ক্রমবর্ধমান পাকিস্তান-বাংলাদেশ প্রতিরক্ষা সম্পর্ক এখন পরিবর্তিত ইন্দো-প্যাসিফিক নিরাপত্তা হিসাব-নিকাশ ও দক্ষিণ এশিয়ার সামরিক প্রতিযোগিতার নতুন ধারার সঙ্গে মিলে যাচ্ছে।
যুদ্ধবিমান আসার আগেই প্রশিক্ষণ ও পরিচালনার প্রস্তুতি হিসেবে সিমুলেটর হস্তান্ত করা হয়েছে। পাকিস্তান শুধু সাধারণ প্রশিক্ষণের জন্য কোনো সরল সিস্টেম নয়, বরং বাস্তব যুদ্ধ পরিস্থিতির উপযোগী পূর্ণাঙ্গ জেএফ-১৭ থান্ডার ব্লক থ্রি সিমুলেটর দিয়েছে। এই সিমুলেটরের মাধ্যমে যুদ্ধ পরিস্থিতির অনুশীলন, কৌশলগত মিশন প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক যুদ্ধবিমান পরিচালনায় পাইলটদের প্রস্তুত করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি নতুন বিমান বাহিনীর সক্ষমতা গড়ে তোলার কাজও সহজ হবে।
পাকিস্তান যে সিমুলেটরটি বাংলাদেশে পাঠিয়েছে, সেটি সাধারণ বা প্রাথমিক স্তরের কোনো প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা নয়। বরং সম্পূর্ণ যুদ্ধকালীন মান বজায় রেখে তৈরি একটি পূর্ণাঙ্গ ‘জেএফ-১৭ থান্ডার ব্লক থ্রি’ সিমুলেটর। এই সিস্টেমটির মাধ্যমে পাইলটরা আসল যুদ্ধবিমানে ওঠার আগেই যে কোনো মিশন বা অভিযানের বাস্তবসম্মত মহড়া দিতে পারবেন।
এ ছাড়াও পাকিস্তান তাদের মুশাফ বিমান ঘাঁটি ও পাকিস্তান অ্যারোনোটিক্যাল কমপ্লেক্সে উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছে বলে জানা গেছে। এই প্রশিক্ষণ শুধু নতুন বিমানে অভ্যস্ত হওয়ার সাধারণ কোর্সের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রস্তাবিত পাঠ্যক্রমে দূরপাল্লার আকাশযুদ্ধ বা ‘বিয়ন্ড ভিজ্যুয়াল রেঞ্জ (বিভিআর)’ যুদ্ধ কৌশলকেও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে রাখা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি মে মাসে ঢাকা সফরে পাকিস্তানের প্রথম আনুষ্ঠানিক এয়ার স্টাফ টকসে দেশটির প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন এয়ার ভাইস মার্শালে আওরঙ্গজেব আহমেদ। তিনি পাকিস্তান বিমান বাহিনীর ডেপুটি চিফ অব এয়ার স্টাফ (অপারেশন্স), স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডের কমান্ডার ও জনসংযোগ বিভাগের মহাপরিচালকের দায়িত্বে রয়েছেন।
প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন গ্রুপ ক্যাপ্টেন মাহমুদ আলী খান, উইং কমান্ডার হাসান তারিক আজিজ, এয়ার কমোডর শাহ খালিদ ও আব্দুল গফুর বাজদুর। এতে বোঝা যায়, সফরটি শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং সামরিক অভিযান ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষ্যেও সাজানো হয়েছিল।
ওই বৈঠকে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর কর্মকর্তারা ‘জেএফ-১৭ ব্লক থ্রি’ বিমানের বহুমুখী যুদ্ধ সক্ষমতার বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরেন। বিশেষ করে ২০২৫ সালের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে হওয়া সংঘাতে ফ্রান্সের তৈরি রাফায়েল যুদ্ধবিমানের তুলনায় জেএফ-১৭-এর কার্যকারিতা কেমন ছিল, সেই তুলনামূলক চিত্রও তারা বাংলাদেশের সামনে উপস্থাপন করেছেন বলে জানা গেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধবিমান কেনার ক্ষেত্রে পাইলটদের প্রশিক্ষণ ও নতুন বিমানে অভ্যস্ত করে তোলার প্রক্রিয়াই সবচেয়ে সময়সাপেক্ষ ধাপগুলোর একটি। তাই আগেভাগে সিমুলেটর হস্তান্তরকে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হয়।
এর আগে, গত জানুয়ারিতে সিকিউরিটি ডিফেন্স জানায়, বাংলাদেশ বিমান বাহিনী ৪৮টি জেএফ-১৭ ব্লক থ্রি মাল্টিরোল যুদ্ধবিমান কেনার জন্য পাকিস্তান অ্যারোনটিক্যাল কমপ্লেক্সের সঙ্গে উচ্চ-পর্যায়ে আলোচনা করছে। ৪.৫ প্রজন্মের এই যুদ্ধবিমান ‘ফোর্সেস গোল ২০৩০’ পরিকল্পনার অধীনে কেনার পরিকল্পনা করছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে আলোচনার অগ্রগতি হয়েছে।
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ফিডিং কর্মসূচি শীর্ষক প্রকল্পের খাবার বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম, গাফিলতি বা শৈথিল্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলাসহ কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেবে সরকার। শনিবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জন্য এই জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের গত ১৩ মে জারি করা এক অফিস আদেশের সূত্র ধরে এই নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়। এতে বিদ্যালয়গুলোতে সরবরাহ করা খাবার কঠোরভাবে যাচাই করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণের জন্য প্রধান শিক্ষকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অফিস আদেশে বলা হয়েছে, দেশের বিভিন্ন উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে পচা বনরুটি, পচা ডিম এবং আকারে ছোট ও পচা কলা বিতরণ করা হচ্ছে বলে নানা ধরনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। মানসম্মত খাদ্য সরবরাহে এমন ঘাটতির কারণে এই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য যেমন ব্যাহত হচ্ছে, তেমনি কোমলমতি শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতি এড়াতে খাবারের মান নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণের আগে সরবরাহ করা খাদ্যের মান ও পরিমাণ নির্ধারিত শর্তানুযায়ী সঠিক আছে কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে। নির্ধারিত তারিখ ও সময়ে খাবার গ্রহণ ও বিতরণ করতে হবে। খাবার যাতে নষ্ট না হয়, সে জন্য বিদ্যালয় পর্যায়ে উপযুক্ত সংরক্ষণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সরবরাহ করা বনরুটি তাজা, নরম ও সঠিকভাবে মোড়কজাত কিনা তা পরীক্ষা করতে হবে। প্যাকেজিং অক্ষত ও ফাঙ্গাসমুক্ত হতে হবে এবং প্যাকেটের গায়ে উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ এবং ১২০ গ্রাম ওজন উল্লেখ থাকতে হবে। ডিমের ক্ষেত্রে তা ফাটা বা দুর্গন্ধযুক্ত কিনা তা দেখতে হবে। কলা অবশ্যই দাগ বা পোকামুক্ত হতে হবে এবং কোনোভাবেই বেশি পাকা বা পচা কলা গ্রহণ করা যাবে না।
এছাড়া ইউএইচটি মিল্ক ও ফর্টিফাইড বিস্কুটের প্যাকেট অক্ষত থাকা এবং মেয়াদ উল্লেখ থাকার বিষয়টি যাচাই করতে বলা হয়েছে।
মন্ত্রণালয় আরও জানিয়েছে, কোনোক্রমেই নিম্নমানের ও ত্রুটিপূর্ণ খাবার সরবরাহকারীদের কাছ থেকে গ্রহণ করা যাবে না। যদি কোনো প্রতিষ্ঠান এমন খাবার সরবরাহ করে, তবে তা গ্রহণ না করে তাৎক্ষণিকভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে। শিশুদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই কর্মসূচিতে যেকোনো অনিয়মের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় থাকবে।
আসন্ন নতুন বাজেটে নবম পে স্কেলের বরাদ্দ না রাখা হলে ১২ জুন থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় প্রেসক্লাব চত্বরে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এমনকি প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন তারা।
শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাব প্রাঙ্গণে নবম জাতীয় পে স্কেল দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে আয়োজিত মৌন মিছিল ও কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সমাবেশে এই ঘোষণা দেন বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আবদুল মালেক।
আবদুল মালেক বলেন, দ্রুত সচিব পর্যায়ের সুপারিশ চূড়ান্ত করে আসন্ন জাতীয় বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
সমাবেশে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সদস্যসচিব আশিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন বেতন বৃদ্ধি না হওয়ায় অধিকাংশ সরকারি কর্মচারী ঋণ ও অর্থনৈতিক সংকটে জর্জরিত হয়ে পড়েছেন। বর্তমান বেতনে একটি পরিবার পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। বাসাভাড়া, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, চিকিৎসা ও শিক্ষা ব্যয় বহন করতে গিয়ে কর্মচারীরা মানবিক সংকটে পড়ছেন।
তিনি আরও বলেন, আসন্ন বাজেটে নবম পে স্কেলের জন্য প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করে দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করা হলে প্রায় ২২ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তাদের পরিবারের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসবে। অন্যথায় কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ সৃষ্টি হতে পারে।
বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে উত্তরাঞ্চলে রংপুর বিভাগে ঝরছে ভারি বৃষ্টি, সঙ্গে বয়ে যাচ্ছে কালবৈশাখী। আর দক্ষিণে পুরো খুলনা বিভাগসহ ১৩টি জেলায় বয়ে যাচ্ছে মৃদু তাপপ্রবাহ।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের শনিবার সকালের পূর্বাভাস থেকে জানা গেছে, গত শুক্রবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল যশোর জেলায় ৩৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। খুলনা বিভাগের অন্যান্য জেলায় তাপমাত্রা ছিল ৩৫ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে। রাজধানী ঢাকায় তাপমাত্রা ছিল ৩৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মাদারীপুর, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর জেলাসহ খুলনা বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।
বঙ্গোপসাগরে দুটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপটি একই এলাকায় অবস্থান করছে। অপর একটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।
এদিকে রংপুর বিভাগসহ দেশের উত্তরাঞ্চলে ভারি বৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সারাদেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৯৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলায়। এ ছাড়া রংপুরে ৫১, নরসিংদীতে ৪৬, কিশোরগঞ্জের নিকলীতে ২১, ময়মনসিংহ ও সিলেটে ২৭ এবং কুমিল্লায় ২৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আজও রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায়; ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সঙ্গে ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। আগামী পাঁচ দিন দেশের উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টিপাতের এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।
জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর ও অভিনেত্রী কারিনা কায়সার (৩১) গত শুক্রবার রাতে চেন্নাইয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
কারিনার মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে কথা হয় তার বাবা কায়সার হামিদ জানান, কারিনার মরদেহ চেন্নাই থেকে আজ রোববার দুপুরে দেশে আসবে। এরপর বনানী ডিওএইচএস মসজিদে তার প্রথম জানাজা হবে। আগামীকাল সোমবার কারিনার মরদেহ মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় তার নানাবাড়িতে নেওয়া হবে। সেখানেই তাকে দাফন করা হবে।
কায়সার হামিদ জানিয়েছেন, গত শুক্রবার মধ্যরাতে হঠাৎ করে কারিনার রক্তচাপ কমে যায়। এরপর গত শুক্রবার দিবাগত রাত ১টার দিকে কারিনা মারা যান।
লিভার-সংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে এক সপ্তাহের বেশি সময় রাজধানীর একটি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন কারিনা। অবস্থার অবনতি হলে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য ১১ মে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে চেন্নাই নেওয়া হয়েছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কনটেন্ট বানিয়ে তরুণ দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় হয়েছিলেন কানিরা কায়সার। ওটিটি ও নাটকের জগতেও ভালো অবস্থান তৈরি করেন তিনি। এর পাশাপাশি চিত্রনাট্যকার হিসেবেও কাজ করেছেন।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বিগত সময়ে ঘর, ব্যবসা ও সরকার- সব জায়গায়ই আয়ের সংকট তৈরি হয়েছিল। এর প্রভাব এতটাই গভীর ছিল যে, অনেক নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। এতে সমাজে ভাঙন তৈরি হয়েছে। সে সময় ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় পুঁজি পাননি।
সরকার টাকা ছাপাচ্ছে এমন প্রচারকে ‘গালগল্প’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, এর সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। সরকার এখন বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে এবং বন্ধ কলকারখানা চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
আজ শনিবার রাজধানীর এফডিসিতে ‘মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই হবে এবারের বাজেটের প্রধান চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক প্রাক-বাজেট ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।
রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, বিগত সময়ে ঘর, ব্যবসা ও সরকার- সব জায়গায়ই আয়ের সংকট তৈরি হয়েছিল। এর প্রভাব এতটাই গভীর ছিল যে, অনেক নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবার দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে গেছে। এতে সমাজে ভাঙন তৈরি হয়েছে। সে সময় ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় পুঁজি পাননি।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার প্রতি মুহূর্তে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে হস্তক্ষেপ করেছে। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত কয়েকটি কোম্পানির হাতে তুলে দেয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকার কোনো খাতকে ‘সিন্ডিকেটের কাছে ইজারা’ দিতে চায় না; বরং অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণের মাধ্যমে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে চায়।
তিনি আরো বলেন, অতীতে অবকাঠামোগত উন্নয়নের নামে বিপুল ঋণ নিয়ে লুটপাট করা হয়েছে। তথ্য জালিয়াতির মাধ্যমে উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য জনগণের জন্য উন্মুক্ত রাখবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, বর্তমান সরকার একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি উত্তরাধিকার হিসেবে পেয়েছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি দেশের অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। বিশ্ববাজারে পণ্যের দাম বৃদ্ধি ও আমদানি ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন, কৃষি ও উৎপাদন খরচও বেড়েছে।
তিনি আরো বলেন, বাজেট যেন সাধারণ মানুষের ভোগান্তি না বাড়ায় এবং নিম্ন ও মধ্যবিত্তের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে। তিনি ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কার্যকারিতার কথাও তুলে ধরেন।
প্রাক-বাজেট ছায়া সংসদ প্রতিযোগিতায় মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়কে পরাজিত করে বিজয়ী হয় জাতীয় বস্ত্র প্রকৌশল ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (নিটার)। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে ট্রফি, ক্রেস্ট ও সনদ বিতরণ করা হয়।
চট্টগ্রামের শিল্প ও নৌখাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান কর্ণফুলী ড্রাই ডক অ্যান্ড জেটি লিমিটেড পরিদর্শন করেছেন সরকারের তিন প্রতিমন্ত্রী। তারা হলেন- নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন।
শনিবার (১৬ মে) বেলা সাড়ে ১১টায় চট্টগ্রাম জেলার সফরসূচির অংশ হিসেবে তারা কর্ণফুলী ড্রাই ডকে পরিদর্শনে আসেন।
এসময় তারা প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন স্থাপনা, চলমান কার্যক্রম ও উন্নয়ন পরিকল্পনা ঘুরে দেখেন। এছাড়া ড্রাই ডকের জেটি, নির্মাণাধীন বিভিন্ন প্রকল্প এবং অবকাঠামো ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনকালে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বিক কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা করেন তারা।
এসময় উপস্থিত ছিলেন- চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (হারবার ও মেরিন) সদস্য কমডোর আহমেদ আমিন আবদুল্লাহ, কর্ণফুলী ড্রাই ডক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার এম এ রশীদসহ সংশ্লিষ্টরা।
চাঁদপুরের শাহরাস্তির সমাবেশস্থলে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার (১৬ মে) বিকেল সাড়ে ৩টায় উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নের ওয়ারুক বাজার এলাকায় ‘খোদ খাল’ পুনর্খনন কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন।
এর আগে, একাধিক উন্নয়নমূলক কর্মসূচি নিয়ে সড়কপথে ঢাকার বাসভবন থেকে সকাল ৮টার পরে তিনি রওনা হন। দুপুর ১টা ২০ মিনিটে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে আয়োজিত একটি পথসভায় অংশ নেন তিনি।
চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহমাহমুদপুর ইউনিয়নের ঘোষের হাট-সংলগ্ন ‘বিশ্ব খাল’ পুনর্খনন কাজের উদ্বোধন করবেন তিনি।
এরপর চাঁদপুর সার্কিট হাউসে যাত্রাবিরতি শেষে চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর বিকেলে চাঁদপুর ক্লাবে আয়োজিত জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তিনি।
সরকারি এই সফর শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় প্রধানমন্ত্রী পুনরায় সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেবেন এবং রাত সাড়ে ৯টায় তার ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
জানা গেছে, দীর্ঘ ২২ বছর আগে ২০০৪ সালে চাঁদপুরে গিয়েছিলেন তারেক রহমান।
দীর্ঘদিন পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে কাছ থেকে দেখতে এবং তার বক্তব্য শুনতে হাজার হাজার নেতাকর্মী জড়ো হয়েছেন। উপস্থিত নেতাকর্মীদের মাঝে যারপরনাই উৎসাহ এবং উদ্দীপনা বিরাজ করছে। মঞ্চে উপস্থিত আছেন বিএনপির জাতীয় ও স্থানীয় মন্ত্রী ও নেতা-কর্মীরা।
কুমিল্লাকে বিভাগে রূপান্তর এবং একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দীর্ঘদিনের গণদাবি নিয়ে ইতিবাচক ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমান। শনিবার দুপুরে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে এক জনাকীর্ণ পথসভায় তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ‘কুমিল্লাকে বিভাগ ঘোষণা করা যদি জনগণের দাবি হয়ে থাকে, তবে তা বাস্তবায়ন করা হবে।’ একই সঙ্গে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবির প্রেক্ষিতে সেখানে একটি উচ্চতর কৃষি গবেষণা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণের বিষয়েও জোরালো আশ্বাস প্রদান করেন তিনি। বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরতে তিনি এই সফরে যান।
দলীয় অঙ্গীকার ও বিশ্বস্ততার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী সভায় বলেন, ‘বিএনপি জনগণের কাছে যে ওয়াদা দেয়, সরকারে এলে সেই ওয়াদা পূরণ করে।’ তিনি উল্লেখ করেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী তাঁর সরকার ইতিমধ্যে সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচি, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ এবং ধর্মীয় উপাসনালয়ের ইমাম ও পুরোহিতদের জন্য রাষ্ট্রীয় সম্মানীর ব্যবস্থা চালু করেছে। সাধারণ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা ও জীবনমান উন্নয়নে আগামী জুনের জাতীয় বাজেটে ফ্যামিলি কার্ড খাতের জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলেও তিনি উপস্থিত জনতাকে আশ্বস্ত করেন।
বিগত দিনের স্বৈরশাসন ও জনরোষের প্রেক্ষাপট টেনে তারেক রহমান বলেন যে, ফ্যাসিবাদী সময়ে সাধারণ মানুষের কথা বলার অধিকার হরণ করা হয়েছিল এবং গুম-খুনের রাজনীতি কায়েম করা হয়েছিল। ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ আজ সেই অন্ধকার থেকে মুক্তি পেয়েছে। তিনি মনে করেন, শুধুমাত্র স্বৈরাচারমুক্ত হওয়া চূড়ান্ত সাফল্য নয়; বরং প্রকৃত লক্ষ্য হতে হবে রাষ্ট্রকে নতুন করে গড়ে তোলা। তিনি বলেন, জনগণই রাষ্ট্রের প্রকৃত অংশীদার এবং যখন সাধারণ মানুষ স্বাবলম্বী হওয়ার দায়িত্ব নেয়, তখনই দেশ প্রকৃত অগ্রগতির পথে ধাবিত হয়। ধ্বংসস্তূপ থেকে দেশ পুনর্গঠনের এই যাত্রায় তিনি দেশবাসীকে ধৈর্য ধরে পাশে থাকার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, স্বৈরাচারমুক্ত বাংলাদেশে এখন প্রতিটি মানুষের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।
বাংলাদেশ ও ব্রাজিলের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বর্তমানে প্রায় ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে উন্নীত হলেও দুই দেশের প্রকৃত সম্ভাবনার তুলনায় এটি এখনো যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকেরা। এই বাণিজ্যকে আরও শক্তিশালী করতে সরাসরি জাহাজ চলাচল ব্যবস্থা চালু, বিনিয়োগের হার বৃদ্ধি এবং ব্যবসায়িক যোগাযোগ জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে উভয় পক্ষ। শুক্রবার ব্রাসিলিয়ার পালাসিও দো প্লানালতোতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং ব্রাজিলের প্রেসিডেন্টের প্রধান উপদেষ্টা সেলসো আমোরিমের মধ্যে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে এসব বিষয় উঠে আসে।
বৈঠকে হুমায়ুন কবির বলেন, দুই দেশের অর্থনীতি একে অপরের পরিপূরক হওয়ার ব্যাপক সুযোগ রয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশ ব্রাজিল থেকে তুলা, সয়াবিন, চিনি ও কৃষিপণ্যসহ শিল্পের কাঁচামাল আমদানি করছে; অন্যদিকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক, ওষুধ, সিরামিক ও পাটজাত পণ্য ব্রাজিলে রপ্তানির বিশাল ক্ষেত্র পড়ে আছে। তিনি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগীদের আধিপত্য কমিয়ে সরাসরি লেনদেনের ওপর জোর দেন।
প্রেসিডেন্ট লুলার পক্ষ থেকে বাংলাদেশের নেতৃত্ব ও জনগণের প্রতি অভিনন্দন জানিয়ে সেলসো আমোরিম বলেন, "বাংলাদেশকে গ্লোবাল সাউথের গুরুত্বপূর্ণ ও উদীয়মান কণ্ঠস্বর" হিসেবে দেখে ব্রাজিল। আলোচনায় উঠে আসে যে, ব্রাজিলের আসন্ন সাধারণ নির্বাচনের পরপরই দুই দেশের মধ্যে ফরেন অফিস কনসালটেশনস (এফওসি) অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে কৃষি, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, শিক্ষা, ক্রীড়া, জ্বালানি ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে একাধিক চুক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো চূড়ান্ত হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শনিবার (১৬ মে) সকালে সরকারি ও রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে চাঁদপুরের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন। এই সফরে তিনি ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ ও দুটি গুরুত্বপূর্ণ খালের পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধনসহ বেশ কিছু অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত থাকবেন। প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি নিশ্চিত করেছেন যে, শনিবার সকাল সাড়ে ৮টার পর তিনি রাজধানীর গুলশানের বাসভবন থেকে সড়কপথে যাত্রা শুরু করেন।
সফরের পথে বেলা সাড়ে ১১টায় কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর বাজার মাঠে একটি পথসভায় বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে তিনি চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার টামটা দক্ষিণ ইউনিয়নে পৌঁছাবেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ওই এলাকার ওয়ারুক বাজারে খোর্দ্দ খালের পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করার কথা রয়েছে তাঁর। এরপর দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটে চাঁদপুর সদর উপজেলার শাহ মাহমুদপুর ইউনিয়নের কুমারডুগী গ্রামে অবস্থিত বিশ্ব খালের পুনঃখনন অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে সেটিও উদ্বোধন করবেন তিনি।
ব্যস্ততম এই সফরের মাঝে দুপুর আড়াইটায় চাঁদপুর সার্কিট হাউসে ক্ষণিকের বিরতি নেবেন প্রধানমন্ত্রী। বিরতি শেষে বিকেল সাড়ে ৩টায় চাঁদপুর সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে সাধারণ মানুষের মাঝে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করবেন তিনি। এছাড়া বিকেল ৫টায় চাঁদপুর ক্লাবে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সভায় অংশগ্রহণ করার কথা রয়েছে তাঁর। সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও উন্নয়নমূলক কর্মসূচি শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় সড়কপথে পুনরায় ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার মধ্য দিয়ে তিনি এই সফর সমাপ্ত করবেন বলে জানা গেছে।