শনিবার, ৭ মার্চ ২০২৬
২৩ ফাল্গুন ১৪৩২

প্রার্থী বেশি,প্রতিদ্বন্দ্বী কম

ফাইল ছবি
আপডেটেড
২ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০০:১৪
তানজিমুল নয়ন
প্রকাশিত
তানজিমুল নয়ন
প্রকাশিত : ২ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০০:০০

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ২ হাজার ৭১৩ জন প্রার্থী। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে নিবন্ধিত ৪৪টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩২টি দল। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন ৭৪৭ জন। সে হিসাবে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রত্যয়নপত্র নিয়ে নির্বাচনে উপস্থিত ১৯৬৬ জন প্রার্থী। আর স্বতন্ত্রদের মধ্যে অন্তত ৪০০ জন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন। তবে সাধারণ মানুষের অভিযোগ, নির্বাচনে আসা বড় দল আওয়ামী লীগের মূল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বাইরে অন্যদলগুলোর বেশির ভাগ প্রার্থীই আসনগুলোর মানুষের কাছে অচেনা। প্রায় প্রতিটি আসনেই নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন এমন অনেক অচেনা মুখ যাদের প্রার্থিতা পেতে সমস্যা না হলেও নির্বাচনী লড়াইয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে পরিচিত হতেই পার হয়ে যাবে প্রচারণার বেশির ভাগ সময়। ফলে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, নির্বাচনে প্রার্থী আছে অনেক বেশি, কিন্তু, প্রতিদ্বন্দ্বী কম।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ৩০০ আসনের বিপরীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের (নৌকা) ৩০৩ জন, জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল) ৩০৪ জন, জাকের পার্টি (গোলাপ ফুল) ২১৮ জন, তৃণমূল বিএনপি (সোনালী আঁশ) ১৫১ জন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি- এনপিপি (আম) ১৪২ জন, বাংলাদেশ কংগ্রেস (ডাব) ১১৬ জন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ (মশাল) ৯১ জন, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন (ফুলের মালা) ৪৭ জন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন (বটগাছ) ১৩ জন, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি (হাতঘড়ি) ১৮ জন, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ (চেয়ার) ৩৯ জন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (কাঁঠাল) ১৩ জন, গণফ্রন্ট (মাছ) ২৫ জন, গণফোরাম (উদীয়মান সূর্য) ৯ জন, ইসলামী ঐক্যজোট (মিনার) ৪৫ জন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট (মোমবাতি) ৩৭ জন, জাতীয় পার্টি-জেপি (বাইসাইকেল) ২০ জন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ (গামছা) ৩৪ জন, গণতন্ত্রী পার্টি (কবুতর) ১২ জন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (হাতুড়ি) ৩৩ জন, বিকল্পধারা বাংলাদেশ (কুলা) ১৪ জন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (একতারা) ৮২ জন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন-বিএনএম (নোঙর) ৪৯ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট- বিএনএফ (টেলিভিশন) ৫৫ জন, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (ছড়ি) ৭৪ জন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ- বিএমএল (হাত-পাঞ্জা) ৫ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি- ন্যাপ (কুঁড়েঘর) ৬ জন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মই) একজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (রিকশা) একজন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ (খেজুর গাছ) একজন এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (হারিকেন) দুইজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

এদিকে মনোনয়ন জমার শেষ দিনেই ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম জানিয়েছেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিলের সময়সীমা বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। ফলে বিএনপিসহ যে দলগুলো নির্বাচন বর্জন করেছে তাদের আর মত পাল্টে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসার দৃশ্যমান কোনো সুযোগ নেই। আন্দোলনরত দলগুলোও অবশ্য আগেই এ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতি দিয়েছে।

ফলে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর যাচাই-বাছাই শেষে যেসব প্রার্থী টিকে যাবেন তারাই থাকবেন নির্বাচনী দৌড়ে। তবে প্রতিটি আসনে ভোটের লড়াইয়ে যারা যাচ্ছেন তাদের বেশির ভাগেরই দলের নাম সাধারণ মানুষ জানে না। আর দল অচেনা বলে প্রার্থীরাও অচেনা। ফলে তাদের ধারণা নির্বাচনী লড়াইয়ে আসলে টিকে থাকবেন বড় দলের পরিচিত মুখগুলো। এর মধ্যে শাসক দলের মার্কা নিয়ে লড়াই করা প্রার্থীরা যেমন আলোচনায় থাকবেন, তেমনই অনেক আসনেই তাদের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমাতে পারেন নির্বাচনে আসা আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। কেননা, দলটির স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বেশির ভাগই স্থানীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত এবং তাদের মোটামুটি ভোট ব্যাংক অথবা এলাকাবাসীকে প্রভাবিত করার সক্ষমতা রয়েছে। নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া ৭৪৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে অন্তত ৪০০ জনই আওয়ামী লীগের।
যদিও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গত কয়েক দিনের মতো গতকালও বলেছেন, দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ঢালাওভাবে নির্বাচন করতে পারবেন না। এ ছাড়া ১৪-দলীয় জোটের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির সম্ভাবনা রয়েছে আওয়ামী লীগের। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন, নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আসতে পারবেন জোটের এমন প্রার্থীরাই কেবল থাকবেন বিবেচনায়। আর ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করে তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এর ফলে এটা স্পষ্ট যে, জোটের সঙ্গে সমঝোতা হলে কয়েকটি আসনে আওয়ামী লীগ যাদের মনোনয়ন দিয়েছে তাদেরও রণে ভঙ্গ দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে হবে।

তবে আওয়ামী লীগ সভাপতি নির্বাচনী কৌশল হিসেবে এবার দলীয় মার্কার বাইরে দলীয় প্রার্থীদের স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড়ানোর সুযোগ দেয়ায় নির্বাচনে আসা প্রার্থীদের কতজন আবার দল চাইলে নির্দেশ মেনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন সেটাও আছে দেখার বিষয়।

তবে এই আলোচনার বাইরে থেকে যাচ্ছে বেশির ভাগ প্রার্থী যারা বিভিন্ন দল থেকে নির্বাচনে এলেও জনগণের কাছে নিজের দল, দলীয় প্রতীক এবং নিজের পরিচয় প্রকাশ করার সুযোগ পাবেন। তবে প্রতিটি আসনে স্থানীয় ভোটারদের কাছে তারা এখনো অচেনা এবং নতুন মুখ হিসেবে বিবেচিত।

যেমন দল হিসেবে এবারই প্রথম নির্বাচন করছে তৃণমূল বিএনপি, বিএনএম, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি। এসব দলের বেশির ভাগ প্রার্থী নিজ নিজ এলাকার ভোটারদের কাছে নতুন পরিচয়ে উপস্থিত হবেন। অনেকে আবার খুব বেশি পরিচিত নন। একইভাবে তাদের নির্বাচনী প্রতীক যথাক্রমে সোনালী আঁশ, নোঙর ও একতারা চেনাতেও এবার তাদের বিশেষ প্রস্তুতি নিতে হবে।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনএমের প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য আছেন ৬ জন এবং তৃণমূলের প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য আছেন ৫ জন।

এদিকে, গতকাল আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর কাদের বলেছেন, বিএনপির ১৫ কেন্দ্রীয় নেতাসহ সাবেক ৩০ জন সংসদ সদস্য নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এদের মধ্যে কাদের সিদ্দিকী, লতিফ সিদ্দিকী, আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর মতো নেতাও আছেন। আবার আগে বিএনপিতে প্রভাব ছিল দলটির এমন সাবেক নেতারাও আছেন নির্বাচনে। এদের মধ্যে তৈমূর আলম, সমশের মবিন চৌধুরীর নাম উল্লেখযোগ্য।

তবে এদের বাইরে নির্বাচনের মাঠে থাকা বেশির ভাগ প্রার্থীই অচেনা। এ বিষয়ে গাজীপুর-৪ আসনের একজন প্রার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমার দল এলাকায় তেমন পরিচিত নয়। দলের প্রচার চালাতে ও এলাকার মানুষের কাছে নিজের পরিচয় তুলে ধরতে এবার ভোট করতে আসা। আমিও জানি নির্বাচনে জয়লাভ করার অবস্থান এখনো আমার বা আমার দলের তৈরি হয়নি। তবে এক দিনে তো কিছুই হয় না। আমাদের দলের আদর্শ ও কর্মসূচি দেশের মানুষ ও এলাকার মানুষকে জানাতে আমরা নির্বাচনে এসেছি।’

অন্যদিকে লালমনিরহাট-৩ আসনে মনোনয়ন জমা দেয়া প্রার্থীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই সদর আসনে ৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সদ্য পদত্যাগকারী সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জাবেদ হোসেন বক্কর, জাতীয় পার্টি থেকে জাহিদ হাসান, তৃণমূল বিএনপি থেকে শামীম আহম্মেদ চৌধুরী, জাকের পার্টি থেকে সকিউজ্জামান মিয়া, বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল থেকে আশরাফুল আলম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) থেকে আবু তৈয়ব মো. আজমুল হক পাটোয়ারী, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) থেকে শ্রী হরিশ চন্দ্র রায় মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তবে এবার তিনি এ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেননি। ফলে এ আসনে নির্বাচনে অংশ নেয়া সব প্রার্থীই নতুন এবং নতুন একজন সংসদ সদস্য পাবে লালমনিরহাট সদরবাসী। তবে নতুন হলেও জেলা ও শহরের রাজনীতিতে পুরনো মুখ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান। ছাত্ররাজনীতি করায় জাবেদ হোসেন বক্করও সেখানে পরিচিত মুখ। জাকের পার্টি ও জাসদের প্রার্থীকেও অনেকে চেনেন। তবে সাম্যবাদী দল, এনপিপির প্রার্থীর মতো জাতীয় পার্টির প্রার্থীও এলাকার সবার চেনা মুখ নন। ফলে যে আসন থেকে জাতীয় পার্টি বর্তমান সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছে সেখানে নতুন মুখ দেয়ায় মাঠের রাজনীতিতে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন এলাকার অনেক বাসিন্দা।

বিষয়টা আরও স্পষ্ট হয় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনার ৬টি আসন বিশ্লেষণ করলে। দৈনিক বাংলার খুলনা ব্যুরো জানায়, খুলনার এই ৬টি আসনের জন্য সেখানে ৫৩ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে যারা সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচন করবেন, তাদের অধিকাংশেরই রাজনীতিতে তেমন কোনো পরিচিতি নেই। হঠাৎ করেই তারা কেন সংসদ নির্বাচনে আগ্রহী হলেন, এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে উত্তরও দেননি অধিকাংশ প্রার্থী।

খুলনা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের মনোনীত ৬ জন প্রার্থী, আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র ২ জন এবং জাতীয় পার্টির একজন প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচিতি রয়েছে। বাকি ৪৪ জন প্রার্থী কখনো রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয় ছিলেন না।

খুলনা প্রতিনিধির বিশ্লেষণ অনুযায়ী খুলনা-১ আসনের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ৬ জন। তারা হলেন, জাকের পার্টির মো. আজিজুর রহমান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ননী গোপাল মণ্ডল, জাতীয় পার্টির কাজী হাসানুর রশিদ, তৃণমূল বিএনপির গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রশান্ত কুমার রায় ও আবেদ আলী শেখ।

এদের মধ্যে ননী গোপাল মণ্ডল ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। রাজনীতিতে তার পরিচিতি রয়েছে। তবে বাকি চারজন রাজনীতিতে একেবারেই অপরিচিত। তারা প্রত্যেকেই এবার প্রথম সংসদ নির্বাচন করছেন। এদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রশান্ত কুমার রায় পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সাবেক সচিব।

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আমি নির্বাচন করছি। আমাকে ডামি প্রার্থীও বলা যাবে। এটা দলীয় নির্দেশেই হচ্ছে।’
আওয়ামী লীগের ননী গোপাল মণ্ডল বলেন, ‘দল আমাকে আবারও সুযোগ দিয়েছে। আমি দলের সম্মান রাখব বলে আশাবাদী।’

তবে বাকি চার প্রার্থীর তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই। জাতীয় পার্টীর কাজী হাসানুর রশিদ ও তৃণমূল বিএনপির গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিকের কাছে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেও কোনো উত্তর মেলেনি।

আর জাকের পার্টি মো. আজিজুর রহমান বলেন, ‘দল থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে বলেছে, তাই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি।’

অন্যদিকে খুলনা-২ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৯ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল, গণতন্ত্র পার্টির মো. মতিয়ার রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের দেবদাস সরকার, জাকের পার্টির ফরিদা পারভিন, ইসলামী ঐক্যজোটের হিদায়েতুল্লাহ, জাতীয় পার্টির মো. গাউসুল আজম, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের বাবু কুমার রায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সাঈদুর রহমান।

এদের মধ্যে শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থীর রাজনৈতিকভাবে পরিচিতি রয়েছে। তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। তবে বাকিদের আগে কখনো রাজনৈতিক মাঠে দেখা যায়নি।

কেন প্রার্থী হয়েছেন- এমন প্রশ্নে বাংলাদেশ কংগ্রেসের দেবদাস সরকার বলেন, ‘অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে মনোনয়ন জমা দেয়া হচ্ছে, তাই আমরাও দিচ্ছি।’

খুলনা-৩ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৫ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের এস এম কামাল হোসেন, জাকের পার্টির এস এম সাব্বির হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, স্বতন্ত্র প্রার্থী কাইজার আহমেদ ও ফাতেমা জামান সাথী।

এদের মধ্যেও শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচিতি রয়েছে। তিনি দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। তিন বারের সংসদ সদস্য ও দুই বারের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানকে সরিয়ে তাকেই আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিয়েছে। তবে ওই আসনেরও বাকি চারজনের তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই।

খুলনা-৪ আসন থেকে মনোনয়ন নিয়েছেন ১৪ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের আব্দুস সালাম মূর্শেদী, জাকের পার্টির শেখ আনছার আলী, জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এস এম আজমল হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. ফরহাদ আহমেদ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. মোস্তাফিজুর রহমান, তৃণমূল বিএনপির শেখ হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মনিরা সুলতানা, ইসলামী ঐক্যজোটের রিয়াজ উদ্দীন খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জুয়েল রানা, এম ডি এহসানুল হক, মো. রেজভী আলম, এস এম মোর্ত্তজা রশিদী দারা, আতিকুর রহমান ও এইচ এম রওশান জমির।

এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের আব্দুস সালাম মূর্শেদী বর্তমান সংসদ সদস্য। ২০১৮ সালের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে তিনি জয়ী হয়েছিলেন।

এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম মোর্ত্তজা রশিদী দারার দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস রয়েছে। তিনি ওই আসনের তিন বারের সাবেক সংসদ সদস্য এস এম মোস্তফা রশিদী সুজার আপন ভাই।

তিনি বলেন, এলাকার মানুষের দোয়া নিয়ে মাঠে নেমেছি। জয়-পরাজয় এলাকার মানুষই নির্ধারণ করবেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই আসনে আওয়ামী লীগের এই দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এলাকার ভোটাররা বলছেন, বাকি ১২ জন প্রার্থীদের নাম খুব একটা শোনেননি তারা। কেউ কেউ একেবারেই অপরিচিত।

খুলনা-৫ আসনের জন্য মনোনয় জমা দিয়েছেন ৭ জন। তারা হলেন- জাতীয় পার্টির মো. শহীদ আলম, জাকের পার্টির সামাদ সেখ, আওয়ামী লীগের নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, ওয়ার্কার্স পার্টির শেখ সেলিম আকতার, বাংলাদেশ কংগ্রেসের এস এম এ জলিল, ইসলামী ঐক্যজোটের তরিকুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ আকরাম হোসেন।

এদের মধ্যে নারায়ণ চন্দ্র চন্দ একাধিক বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী। এ ছাড়া আকরাম হোসেন ফুলতলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। এই আসনেও আওয়ামী লীগের এই দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ভোটাররা। বাকি যারা প্রার্থী হয়েছেন এলাকার রাজনীতিতে তাদের তেমন কোনো পরিচিতি নেই বলে জানা গেছে।

খুলনা-৬ আসনের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ১২ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের মো. রশীদুজ্জামান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. আবু সুফিয়ান, জাকের পার্টির শেখ মর্তুজা আল মামুন, জাতীয় পার্টির মো. শফিকুল ইসলাম মধু, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মির্জা গোলাম আজম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এস এম নেওয়াজ মোরশেদ, তৃণমূল বিএনপির গাজী নাদীর উদ্দীন খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম রাজু, গাজী মোস্তফা কামাল, জি এম মাহবুবুল আলম, মো. মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর ও মো. অহিদুজ্জামান মোড়ল।

এদের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত মো. রশীদুজ্জামানের কোনো দলীয় পদ নেই। তিনি একসময় পাইকগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্যসচিব ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে জামানত হারিয়েছিলেন। তবে তাকেই মনোনয়ন দিয়ে চমক সৃষ্টি করেছে ক্ষমতাসীন দল। ওই আসনে রাজনৈতিকভাবে পরিচিত রয়েছে জাতীয় পার্টির মো. শফিকুল ইসলাম মধুর। তিনি আগেও খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। বাকি প্রার্থীদের তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই। এলাকার সবার কাছে পরিচিত মুখও নন অনেকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশির ভাগ আসনেই ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীদের স্থানীয়রা তেমন একটা চেনেন না। তবে বিরোধীদের এক অংশ নির্বাচন বর্জন করায় রাজনীতির নতুন সমীকরণ মেলাতে ছোট দলগুলোই নির্বাচনে হতে যাচ্ছে বড় দলগুলোর সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনীযুদ্ধ পার হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী।

জাসদের মাঠপর্যায়ের এক রাজনীতিবিদ জসিম মণ্ডল বলেন, ‘নির্বাচন একটা বড় খেলা। এখানে সবাই নামে নিজ নিজ সমীকরণ মেলানোর জন্য। রাজনৈতিক দলগুলোর সমীকরণ হয় এক ধরনের, আবার প্রার্থীর সমীকরণ হয় আরেক ধরনের। সবাই নির্বাচনে জয়ী হতে যেমন অংশ নেয় না তেমনই কেউ কেউ নির্বাচনে যায় অন্যের যাত্রা ভঙ্গ করতে। আবার অনেকের কাছে ‘নির্বাচনে অংশগ্রহণই বড় কথা।’ জয়-পরাজয়ের চেয়েও বড় বিষয় এ সময় পোস্টারিং করে নিজের ছবি ও পরিচিতি পুরো এলাকার মানুষকে দেখানো যায়। এটাও বা কম কিসে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দেশের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষেরই আছে নির্বাচনে দাঁড়ানোর অধিকার। তাই কটা টাকা খরচ করে অনেকেই পরিচিতি বাড়ানোর সুযোগ নেয়। এর ফল তো অসীম-সারাজীবন নানাভাবে এর সুফল মেলে। যারা রাজনীতিতে আছেন, কেবল তারাই বোঝেন নির্বাচনে অংশ নিতে পারার গুরুত্ব।


আজও ছুটির দিনে অফিস করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আপডেটেড ৭ মার্চ, ২০২৬ ১৬:৪৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

আজ শনিবার, ছুটির দিনেও অফিস করলেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর টানা তৃতীয় শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে কার্যালয়ে অফিস করলেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, অর্থ উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর এবং শিক্ষা ও প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা মাহদী আমিন কার্যালয়ে অফিস করেছেন।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ছালেহ শিবলি, অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ কার্যালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারাও ছিলেন।

জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুপুর ১২টায় কার্যালয়ে আসেন। এরপরই পাটজাত পণ্যের বহুমুখী ব্যবহার বাড়ানো ও বাজার সম্প্রসারণ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক কৃষিবিদ ড. নার্গীস আক্তার।

এরপর দুপুর আড়াইটায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ব্যয় কমানো ও কার্যকর জ্বালানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

এদিকে, দেশের ওলামা-মাশায়েখ ও এতিমদের সম্মানে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইফতারের আয়োজন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কার্যালয় থেকে সেখানে যাবেন তিনি।


ভিড় কমেনি ফিলিং স্টেশনে, ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে যানবাহনের লাইন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থা এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রভাবে বাংলাদেশেও জ্বালানি সংকটের গভীর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আসন্ন দিনগুলোতে তেলের তীব্র সংকট হতে পারে—এমন আতঙ্ক থেকে রাজধানীর পেট্রোল পাম্পগুলোতে গত কয়েক দিন ধরে যানবাহনের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরেও রাজধানীর বিজয় সরণি, মহাখালীসহ বিভিন্ন এলাকার ফিলিং স্টেশনগুলোতে যানবাহনের কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অনেক পাম্পে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করতে হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিজয় সরণির ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন থেকে শুরু করে মহাখালী পর্যন্ত কয়েক লাইনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে আছে শত শত মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার। দীর্ঘ অপেক্ষার পর তেল না পেয়ে অনেক চালককে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে। আশিকুজ্জামান চয়ন নামের এক মোটরসাইকেল চালক জানান, দুই ঘণ্টারও বেশি সময় লাইনে দাঁড়িয়ে তিনি মাত্র ৩০০ টাকার তেল সংগ্রহ করতে পেরেছেন। অন্যদিকে রাব্বি নামের আরেক চালক বলেন, তেলের পাম্প বন্ধ হয়ে যেতে পারে—এমন গুজবে তিনি বাধ্য হয়েই এই বিশাল লাইনে দাঁড়িয়েছেন, কারণ গাড়িতে তেল না থাকলে চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে।

এই অস্বাভাবিক ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) তেল সংগ্রহের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম কার্যকর করেছে। সংস্থাটির নির্দেশনা অনুযায়ী, এখন থেকে প্রতিবার বা প্রতি ট্রিপে একটি মোটরসাইকেল সর্বোচ্চ ২ লিটার এবং একটি প্রাইভেটকার সর্বোচ্চ ১০ লিটার তেল নিতে পারবে। এছাড়া জিপ বা মাইক্রোবাসের জন্য ২৫ লিটার, পিকআপের জন্য ৮০ লিটার এবং দূরপাল্লার বড় ট্রাক বা বাসের জন্য সর্বোচ্চ ২২০ লিটার জ্বালানি তেল সংগ্রহের সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে। মূলত তেলের মজুদ ঠিক রাখতে এবং সবার মাঝে সুষম বণ্টন নিশ্চিত করতেই এই রেশনিং ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

সরকারের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার জন্য বারবার অনুরোধ জানানো হচ্ছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বিভিন্ন পাম্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার সব ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে। তিনি স্বীকার করেন যে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে, যা একটি বাড়তি চাপ তৈরি করছে। তবে সরকার চেষ্টা করছে এখনই দেশের বাজারে দাম না বাড়াতে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ইতিমধেই দ্বিগুণেরও বেশি দামে দুই কার্গো এলএনজি আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদও জনগণের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল মজুদ করে বাজার অস্থিতিশীল করবেন না। বিপিসি স্পষ্ট করেছে যে, বর্তমান যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতেও তেলের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং গুজব ছড়ানো রোধ করতে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার রেশ ধরে বাংলাদেশে যে জ্বালানি আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।


স্পিকারকে অভিভাবক মেনেই এগিয়ে যাবেন এমপিরা: তথ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

খামখেয়ালি নয়, স্পিকারকে অভিভাবক মেনেই এগিয়ে যাবেন ত্রয়োদশ সংসদের সদস্যরা— এমনটাই জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

শনিবার (৭ মার্চ) রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের দলীয় কার্যালয়ে দ্বিতীয় ও শেষ দিনের কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, দেশে প্রকৃত অর্থে কার্যকরী সংসদ উপহার দিতেই এ কর্মশালা। সংসদে যোগ দেওয়া নবীন সদস্যরা যেন মানসিক চাপ না নেন, সে লক্ষ্যেই এটির আয়োজন।

তিনি বলেন, সংসদীয় ব্যবস্থা অনুযায়ী সংসদে রাষ্ট্রপতি প্রথম ভাষণ দেবেন। ইতোমধ্যে সেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

এ সময় দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সংসদের খারাপ সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে চায় বিএনপি। নতুন সংসদ সদস্যরা জনপ্রত্যাশা পূরণে কাজ করবে। এ লক্ষ্যেই প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মোট ২০৮ জন সংসদ সদস্য শপথ নেন, যার মধ্যে ১৪৬ জন প্রথমবারের মতো সংসদে যাবেন।


নাশকতা মামলায় চট্টগ্রামে সাবেক শিবির নেতা গ্রেপ্তার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে ২০১৩ সালে দায়ের হওয়া একটি নাশকতা মামলায় সালাউদ্দীন আইয়ূবী (৪৫) নামে এক সাবেক শিবির নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৬ মার্চ) তাঁকে সংশ্লিষ্ট মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে পুলিশ ও র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‍্যাব) একটি যৌথ অভিযানে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার হওয়া সালাউদ্দীন আইয়ূবী হাটহাজারী উত্তর থানা শাখা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ছিলেন। তিনি উপজেলার গুমানমর্দ্দন ইউনিয়নের সাদেক নগর গ্রামের মো. জানে আলমের ছেলে। পুলিশ জানায়, সালাউদ্দীন দীর্ঘ দিন প্রবাসে ছিলেন এবং সম্প্রতি তিনি দেশে ফিরেছেন।

হাটহাজারী থানা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তাঁর বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি নাশকতার মামলা করা হয়েছিল। ওই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি আত্মগোপনে বা প্রবাসে থাকায় পরোয়ানা কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তাঁর অবস্থান নিশ্চিত হয়ে যৌথ বাহিনী এই অভিযান পরিচালনা করে।

হাটহাজারী থানার উপপরিদর্শক মোহাম্মদ নাজমুল হাসান জানিয়েছেন, আদালতের পরোয়ানা কার্যকর করতেই এই গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হয়েছে। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহিদুর রহমান গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে আসামিকে শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের এমন নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।


১ লাখ স্বাস্থ্য কর্মী নিয়োগ দেবে সরকার, ৮০ হাজারই নারী: স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও শক্তিশালী ও সর্বজনীন করতে ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের এক বিশাল কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। শনিবার (৭ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ সর্বজনীন স্বাস্থ্যের পথে’ শীর্ষক এক সংলাপে এই তথ্য জানান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, এই বিশাল নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নারী স্বাস্থ্যকর্মীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে এবং মোট পদের মধ্যে ৮০ হাজারই হবেন নারী। মূলত তৃণমূল পর্যায়ে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা বা প্রাইমারি হেলথকেয়ার সিস্টেমকে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি জানান, দেশব্যাপী ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে এবং বর্তমানে এর প্রয়োজনীয় কাঠামো গঠনের কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। ডিজিটাল এই ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিটি নাগরিকের স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষিত থাকবে, যা চিকিৎসা সেবা প্রদানকে আরও সহজ ও নিখুঁত করবে। প্রতিমন্ত্রী বিশ্বাস করেন, দক্ষ জনবল নিয়োগ এবং আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটলে দেশের সাধারণ মানুষ উন্নতমানের চিকিৎসা সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে এক ধাপ এগিয়ে যাবে।

তবে স্বাস্থ্য খাতের বিদ্যমান সমস্যা ও অনিয়ম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি অকপটে স্বীকার করেন যে, স্বাস্থ্য খাতের একটি বড় অংশ দুর্নীতির কবলে রয়েছে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, সঠিক তদারকি ও কঠোর নজরদারি না থাকলে যেকোনো উন্নয়নমূলক পরিকল্পনা বা প্রকল্প শেষ পর্যন্ত ‘মেগা দুর্নীতির’ খাতে পরিণত হতে পারে। তাই সব পর্যায়ে স্বচ্ছতা বজায় রেখে কাজ পরিচালনা করতে একটি নির্দিষ্ট পাইপলাইনিং বা টেকসই পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি। তাঁর মতে, অতীতে অনেক ভালো উদ্যোগ কেবল তদারকির অভাবে দুর্নীতির ভিড়ে হারিয়ে গেছে, যার পুনরাবৃত্তি বর্তমান সরকার হতে দেবে না।

হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ অব্যবস্থাপনা নিয়েও কঠোর বার্তা দিয়েছেন এম এ মুহিত। তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে দালালদের দৌরাত্ম্যের কারণে রোগীরা প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এছাড়া চিকিৎসকদের কর্মস্থলে নিয়মিত উপস্থিত না থাকার বিষয়টিও সরকারের নজরে এসেছে। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে জানিয়ে তিনি বলেন, রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে হাসপাতালে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং চিকিৎসকদের পেশাদারিত্ব বজায় রাখা নিশ্চিত করা হবে। এই বিশাল নিয়োগ এবং কাঠামোগত পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্য খাতের বর্তমান চিত্র বদলে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


ডিএসসিসির ব্যতিক্রমী উদ্যোগ: প্রতি শনিবার পালিত হবে ‘পাবলিক হিয়ারিং ডে’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) আওতাধীন এলাকায় বছরের পর বছর ধরে ঝুলে থাকা জনদুর্ভোগ ও বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা সরাসরি সমাধান করতে এক প্রশংসনীয় উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও নাগরিক সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এখন থেকে প্রতি শনিবার ‘পাবলিক হিয়ারিং ডে’ পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ডিএসসিসি। এই বিশেষ দিনে সাধারণ নাগরিকরা কোনো রকম মধ্যস্থতাকারী ছাড়াই সরাসরি ডিএসসিসি প্রশাসকের কাছে তাঁদের অভাব-অভিযোগ ও সমস্যার কথা তুলে ধরতে পারবেন।

ডিএসসিসির এক সাম্প্রতিক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কর্পোরেশনের বর্তমান প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম নগর ভবনে তাঁর নিজ কার্যালয়ে সর্বসাধারণের সাথে সরাসরি মতবিনিময়ের জন্য এই দিনটি বরাদ্দ করেছেন। প্রশাসনের এই উদ্যোগের ফলে সাধারণ মানুষের জন্য নগর ভবনের দুয়ার এখন আরও অবারিত হলো। মূলত নাগরিক সেবার মান বাড়ানো এবং টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে সরাসরি জনগণের পরামর্শ গ্রহণ করাই এই কর্মসূচির প্রধান উদ্দেশ্য।

নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, প্রতি শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত (রমজান মাস উপলক্ষে) এবং বছরের অন্য সময়ে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত প্রশাসকের কার্যালয়ে এই শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এই সময়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটির বাসিন্দারা রাস্তাঘাট সংস্কার, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, মশা নিধন বা যত্রতত্র আবর্জনা ফেলাই সংক্রান্ত যেকোনো ব্যক্তিগত বা সামষ্টিক অভিযোগ সরাসরি প্রশাসকের কাছে জানাতে পারবেন। প্রাপ্ত অভিযোগগুলোর তাৎক্ষণিক সমাধান অথবা কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসক মো. আবদুস সালাম ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের নাগরিকদের এই ‘পাবলিক হিয়ারিং ডে’-তে স্বতঃস্ফূর্তভাবে উপস্থিত হওয়ার জন্য বিনীত অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, জনগণের সরাসরি মতামত গ্রহণ করলে একদিকে যেমন দুর্নীতির সুযোগ কমবে, তেমনি অন্যদিকে নাগরিক সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান নিশ্চিত হবে। এই নতুন উদ্যোগটি ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এক মাইলফলক হয়ে থাকবে বলেই মনে করছেন সচেতন নগরবাসী।


সংসদীয় সংস্কৃতিতে আমূল পরিবর্তন আনতে চায় বিএনপি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, বিএনপি সংসদীয় রাজনীতির অতীত নেতিবাচক ও খারাপ সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি উন্নত ও আধুনিক সংসদ উপহার দিতে চায়। শনিবার (৭ মার্চ) রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ কর্মশালার শেষ দিনে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন সংসদের কার্যক্রম দেখে দেশবাসী আশ্বস্ত হবেন এবং একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক সংসদের স্বাদ পাবেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই বিশেষ কর্মশালায় সংসদ সদস্যদের সংবিধান (কনস্টিটিউশন), সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি (রুলস অব প্রসিডিউর), সংসদীয় রীতিনীতি (কাস্টমস) এবং কনভেনশন সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিশ্বের শক্তিশালী গণতান্ত্রিক দেশগুলোর সংসদে যে ধরণের উন্নত চর্চা হয়, সেসব বিষয় নিয়েও নবনির্বাচিত এমপিদের সঙ্গে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য হলো অতীতের সব নেতিবাচক স্মৃতি মানুষের মন থেকে মুছে দেওয়া এবং এমন একটি সংসদীয় পরিবেশ তৈরি করা যা জাতি দীর্ঘকাল প্রত্যাশা করে এসেছে।’

বিশেষ করে প্রথমবারের মতো নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ওপর দলের অনেক প্রত্যাশা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। নতুন এমপিদের প্রস্তুতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যারা নবীন, তারা সতেজ মনে ভালো শিক্ষাটা পাবেন। একটি শিশু যেমন জন্মের পর নতুন পরিবেশ থেকে শুদ্ধ সংস্কৃতি শেখে, আমাদের নতুন সংসদ সদস্যরাও তেমনিভাবে সংসদীয় শিষ্টাচার ও বিধিবিধানের সঠিক শিক্ষা নিয়ে দেশ সেবায় নামবেন।’ তিনি বিশ্বাস করেন, সঠিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই প্রতিনিধিরা জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আরও বেশি কার্যকর ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবেন।

উল্লেখ্য, নবনির্বাচিত বিএনপির সংসদ সদস্যদের সংসদীয় কার্যক্রম, বিধি-বিধান ও আচার-আচরণ বিষয়ে দক্ষ করে তুলতে দলীয়ভাবে এই দুই দিনের প্রশিক্ষণ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। আজ এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণের সমাপ্তি ঘটছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার আগেই দলের এমপিদের এমন প্রস্তুতিমূলক প্রশিক্ষণকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। বিএনপি আশা করছে, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের সংসদ সদস্যরা গঠনমূলক আলোচনা ও আইন প্রণয়নে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করবেন।


বাংলাদেশ আইন সমিতির নির্বাচনে আফজাল সভাপতি ও মাহবুব সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

উৎসবমুখর ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে বাংলাদেশ আইন সমিতির ২০২৬ সালের নির্বাহী কমিটির নির্বাচন। এবারের নির্বাচনে সভাপতি পদে এ কে এম আফজাল উল মুনীর এবং সাধারণ সম্পাদক পদে মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান খান বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন। শুক্রবার (৬ মার্চ) ভোট গ্রহণ ও গণনা শেষে নবনির্বাচিত কমিটির দপ্তর সম্পাদক বেল্লাল হোসাইন স্বাক্ষরিত এক বার্তায় পূর্ণাঙ্গ কমিটির নাম ঘোষণা করা হয়।

নির্বাচিত কমিটির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদেও একঝাঁক প্রতিভাবান আইনজীবীকে দেখা গেছে। সহ-সভাপতি পদে ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি, হাসিনা মমতাজ মিষ্টি এবং সুপ্রিয়া দাসসহ মোট ৭ জন নির্বাচিত হয়েছেন। যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন মো. মামুনুর রশিদ ও নুসরাত ইয়াসমিন সুমাইয়া। এছাড়া সাংগঠনিক সম্পাদক পদে সালেহ আকরাম সম্রাট ও মো. কামরুল হাসান এবং অর্থ সম্পাদক পদে মো. আরমান হোসাইন দায়িত্ব পেয়েছেন। দপ্তর সম্পাদক হিসেবে বেল্লাল হোসাইন ও প্রচার সম্পাদক হিসেবে আব্দুস সাত্তার রনি নির্বাচিত হয়েছেন। কার্যকরী সদস্য হিসেবে হাফিজুল হক ও জাহাঙ্গীর আলমসহ মোট ১১ জন জয়লাভ করেছেন।

শুক্রবার বিকেলে আয়োজিত এই নির্বাচন অনুষ্ঠান ও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন পুতুল। বিশেষ অতিথি হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিবৃন্দ, অধস্তন আদালতের বিচারক এবং দেশের প্রথিতযশা আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন। নবনির্বাচিত কমিটি তাদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে দেশের বিচার বিভাগের উন্নয়ন এবং সদস্যদের কল্যাণে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। নেতারা বলেন, বাংলাদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখতে বাংলাদেশ আইন সমিতি সর্বদা অতন্দ্র প্রহরীর মতো কাজ করবে।

ভোট গ্রহণ শেষে ভোটার ও অতিথিদের সম্মানে এক জমকালো ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। সেখানে বিজ্ঞ আইনজীবীরা পারস্পরিক কুশল বিনিময় করেন এবং নবনির্বাচিত কমিটিকে অভিনন্দন জানান। নবনির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তাঁদের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, সদস্যদের আস্থা ও ভালোবাসার প্রতিদান দিতে তাঁরা একটি স্বচ্ছ ও গতিশীল সমিতি উপহার দেবেন। বিচার বিভাগের মর্যাদা রক্ষা এবং গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখার আন্দোলনে তাঁরা সম্মিলিতভাবে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। সব মিলিয়ে এক আনন্দঘন পরিবেশের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আইন সমিতির নতুন নেতৃত্বের যাত্রা শুরু হলো।


৮ মার্চ পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের ৬ রুটের ফ্লাইট বাতিল করলো বিমান

আপডেটেড ৭ মার্চ, ২০২৬ ১১:৩৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধাবস্থা এবং আকাশপথের ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট শিডিউল। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ রুটে আগামী ৮ মার্চ পর্যন্ত নিজেদের সকল ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়েছে রাষ্ট্রীয় এই পতাকাবাহী সংস্থা। এর আগে ৩ থেকে ৫ মার্চ পর্যন্ত এসব রুটে ফ্লাইট চলাচল স্থগিত রাখা হয়েছিল, যা বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে আরও কয়েক দিন বাড়ানো হলো।

শুক্রবার (৬ মার্চ) দুপুরে বিমানের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট ট্রাভেল এজেন্সিগুলোকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। বাতিল হওয়া রুটের তালিকায় রয়েছে—সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, আবু ধাবি ও শারজাহ, সৌদি আরবের দাম্মাম, কাতারের দোহা এবং কুয়েত সিটি। এই রুটের যাত্রীদেরকে বিমান কর্তৃপক্ষের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি উন্নত হওয়ার সাপেক্ষে পরবর্তীতে নতুন সময়সূচি জানানো হবে বলে বিমানের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরান, ইরাক, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কাতার ও জর্ডান তাদের আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করার পর থেকেই ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচলে মহাবিপর্যয় দেখা দেয়। যুদ্ধের প্রভাবে এখন পর্যন্ত ঢাকা থেকে বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মোট ২৪৫টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। এর ফলে হাজার হাজার প্রবাসী এবং বিশেষ প্রয়োজনে বিদেশগামী যাত্রী বিমানবন্দরে আটকা পড়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

বিমানের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমা বর্তমানে বেসামরিক বিমান চলাচলের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আকাশপথ পুনরায় উন্মুক্ত না হওয়া পর্যন্ত এই অনিশ্চয়তা কাটছে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ফ্লাইট বাতিল হওয়ার ফলে যারা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন, তাঁদের বিমানের কল সেন্টার অথবা নিকটস্থ সেলস অফিসে যোগাযোগের জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক এই ভূ-রাজনৈতিক সংকটের সরাসরি প্রভাব এখন বাংলাদেশের এভিয়েশন খাতের ওপর বড় ধরণের ছায়া ফেলেছে।


সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার বিধান রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রাষ্ট্রপতি কোনো ব্যক্তি নয়, প্রতিষ্ঠান। সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার বিধান আছে।

শুক্রবার (৬ মার্চ) গুলশানে দলের চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ অধিবেশনকে সামনে রেখে দলীয় সংসদ সদস্যদের প্রশিক্ষণ কর্মশালায় তিনি এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংসদকে স্মরণীয় করে রাখতে চাই, এই সংসদের কাছে জাতির প্রত্যাশা অনেক। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা যাতে পূরণ করতে পারি, সেজন্য জাতীয় সংসদকে শক্তিশালী করতে হবে।

তিনি বলেন, বিরোধী দলকে লিখিতভাবে ডেপুটি স্পিকারের প্রস্তাব দেওয়ার বিধান নেই। আমরা উদারতা দেখিয়েছি। জামায়াতের উদারভাবে তা গ্রহণ করা উচিত বলে মনে করি।


দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃঢ় পদক্ষেপ নেব, দলীয় পরিচয় দেখব না

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

দেশের শাসনব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন ও স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা। যেখানে প্রতিটি স্তরে দুর্নীতি মোকাবিলায় কোনো আপস করা হবে না। দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেব, দলীয় পরিচয় দেখব না।

শুক্রবার (৬ মার্চ) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকদের সম্মানে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন।

এ সময় জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের প্রতি সমর্থন দিতে ঢাকায় নিযুক্ত কূটনীতিকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের সব স্তরে দুর্নীতি নির্মূল করতে আমরা বদ্ধপরিকর এবং এ লক্ষ্যে অত্যন্ত দৃঢ় ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। কেবল কঠোর আইন নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলা সম্ভব।

বিদেশি কূটনীতিকদের আশ্বস্ত করে তিনি আরও বলেন, মানবাধিকার সুরক্ষা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষা এবং সমাজে একটি সহনশীলতার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে তার সরকার আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে কাজ করে যাচ্ছে।

ইফতারে ভারতের রাষ্ট্রদূত প্রণয় ভার্মা, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যেসহ ঢাকায় নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার ও কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ইফতারে প্রধানমন্ত্রীর টেবিলে তার ডান পাশে ছিলেন তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। বাম পাশে ছিলেন কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।


জ্বালানি তেল পাচারের আশঙ্কা, সীমান্তে বিজিবির টহল জোরদার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
যশোর প্রতিনিধি

মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি তেল পাচারের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জ্বালানি তেল পাচার রোধে যশোর সীমান্তে জনবল বৃদ্ধি, টহল ও তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শুক্রবার (৬ মার্চ) যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিজিবি সদর দপ্তরের নির্দেশনায় যশোর ব্যাটালিয়নের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় বিশেষ নজরদারি শুরু করা হয়েছে। এর আওতায় বেনাপোল স্থলবন্দরসহ যশোরের শার্শা ও চৌগাছা সীমান্তে অতিরিক্ত বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় টহল কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্থানে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে যানবাহন তল্লাশি করা হচ্ছে। বিশেষ করে, যেসব রুট দিয়ে অতীতে ডিজেল ও পেট্রল পাচারের চেষ্টা হয়েছিল, সেসব পয়েন্টে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। বেনাপোল স্থলবন্দর গেট দিয়ে ভারতে প্রবেশকারী দেশীয় ও ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাকেও কড়াকড়িভাবে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে যশোর ব্যাটালিয়নের (৪৯ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় জনবল বৃদ্ধি, বিশেষ টহল ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। সন্দেহভাজন পরিবহন ও চলাচলের ওপরও কঠোর নজর রাখা হচ্ছে।

সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী আরও বলেন, কোনোভাবেই যেন সীমান্ত পথে জ্বালানি তেল পাচার হতে না পারে, সে বিষয়ে বিজিবি সদস্যরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। দেশের জ্বালানিসম্পদ সুরক্ষায় বিজিবি সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখবে এবং পাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের প্রভাবে তেলসংকটের আতঙ্কে যশোরে হঠাৎ তেলের পাম্পগুলোতে ভিড় জমিয়েছেন বাইকাররা। অধিকাংশ বাইকারই প্রয়োজনের চেয়ে অতিরিক্ত তেল দাবি করছেন। এতে অনেক পাম্প বন্ধ হয়ে গেছে। হাতে গোনা কয়েকটি পাম্পে অকটেন মিললেও পাওয়া যাচ্ছে না পেট্রোল।

সেখানেও বাইকারদের দীর্ঘ লাইন দিয়ে নিতে হচ্ছে তেল। পাম্পসংশ্লিষ্টরা বলছেন, পাম্পগুলোতে আগামী রোববার পর্যন্ত তেলের মজুত থাকলেও বাইকারদের অতিরিক্ত দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তার আগেই শেষ হবে তেল। ফলে বাইকারদের আতঙ্কে যশোরে সৃষ্টি হতে চলছে তেলের তীব্র সংকট।


যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ চুক্তিতে খারাপ কিছু দেখছে না সরকার: বাণিজ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী পল কাপুরের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, আমার অনুরোধ হচ্ছে, এটি নিয়ে এত উদ্বিগ্ন হবেন না। আপনারা যদি কোনও নির্দিষ্ট ধারা নিয়ে আপত্তি বা প্রশ্ন দেখেন, আমাদের কাছে উত্থাপন করবেন। আমরা বিষয়টি দেখবো। বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করাই এই চুক্তির মূল লক্ষ্য।

তিনি জানান, এ চুক্তি অপরিবর্তনীয় নয়, প্রয়োজনে এতে সংশোধন, সংযোজন বা বিয়োজনের সুযোগ রয়েছে। চুক্তিতে এমন উপাদান রয়েছে— যা ভবিষ্যতে দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে সহায়ক হবে।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এ চুক্তির বিষয়ে বর্তমান সরকার ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। তবে বিগত অন্তবর্তীকালীন সরকার তাদের মেয়াদের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি করে এটি সই করেছে।

আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দুই দেশের অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার লক্ষ্যেই এই চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে এবং এটিকে ‘হোলসেল নেগেটিভ’ বা ‘হোলসেল পজিটিভ’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্যের পরিমাণ সাড়ে ৮ বিলিয়ন ডলারের বেশি এবং দেশটি থেকে প্রায় পৌনে তিন বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করা হয়। একক দেশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদারদের একটি।

মন্ত্রী বলেন, চুক্তি তো স্বাক্ষর হয়েছে, সব চুক্তিতেই সাধারণভাবে দুটো পক্ষ থাকে। কয়েকটি ধারা একপক্ষের খুব অনুকূলে হয়। আর কয়েকটি ধারা আরেক পক্ষের খুব অনুকূলে হয়। দুই পক্ষই চেষ্টা করে আলাপ আলোচনার মধ্যে দিয়ে এমন একটি জায়গায় পৌঁছাতে— যেখানে উভয়ের জন্য একটা উইন-উইন সিচুয়েশন হয়। এই চুক্তির মধ্যে অনেক ধারা আছে, যেগুলোর ওপরে আমরা বাণিজ্যিক সম্পর্কটাকে আগামী দিনে জোরদার করতে পারি।

তিনি বলেন, আমি এটিকে হোলসেল নেগেটিভ বা হোলসেল পজিটিভ এই দৃষ্টিকোণ থেকে এখনও এভাবে দেখছি না। একটা চুক্তি হয়েছে এটি একটি বাস্তবতা।

মন্ত্রী আরও বলেন, আমি নির্দিষ্ট করে চুক্তির কথা বলিনি, আমি যেটা বলেছিলাম— সেটি হলো, আমেরিকান উচ্চতর আদালতে টেরিফের যে ধারাটি ইমারজেন্সি পাওয়রের যে ধারায় টেরিফ ধার্য করা হয়েছিল। সেই ধারা এই টেরিফ ধার্য করাকে সমর্থন করে না বলার পরে পরিস্থিতিটা বিকাশমান। আমরা বিকাশমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি এটি ছিল আমার কথা।


banner close