সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
১৪ বৈশাখ ১৪৩৩

প্রার্থী বেশি,প্রতিদ্বন্দ্বী কম

ফাইল ছবি
আপডেটেড
২ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০০:১৪
তানজিমুল নয়ন
প্রকাশিত
তানজিমুল নয়ন
প্রকাশিত : ২ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০০:০০

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ২ হাজার ৭১৩ জন প্রার্থী। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে নিবন্ধিত ৪৪টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩২টি দল। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন ৭৪৭ জন। সে হিসাবে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রত্যয়নপত্র নিয়ে নির্বাচনে উপস্থিত ১৯৬৬ জন প্রার্থী। আর স্বতন্ত্রদের মধ্যে অন্তত ৪০০ জন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন। তবে সাধারণ মানুষের অভিযোগ, নির্বাচনে আসা বড় দল আওয়ামী লীগের মূল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বাইরে অন্যদলগুলোর বেশির ভাগ প্রার্থীই আসনগুলোর মানুষের কাছে অচেনা। প্রায় প্রতিটি আসনেই নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন এমন অনেক অচেনা মুখ যাদের প্রার্থিতা পেতে সমস্যা না হলেও নির্বাচনী লড়াইয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে পরিচিত হতেই পার হয়ে যাবে প্রচারণার বেশির ভাগ সময়। ফলে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, নির্বাচনে প্রার্থী আছে অনেক বেশি, কিন্তু, প্রতিদ্বন্দ্বী কম।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ৩০০ আসনের বিপরীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের (নৌকা) ৩০৩ জন, জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল) ৩০৪ জন, জাকের পার্টি (গোলাপ ফুল) ২১৮ জন, তৃণমূল বিএনপি (সোনালী আঁশ) ১৫১ জন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি- এনপিপি (আম) ১৪২ জন, বাংলাদেশ কংগ্রেস (ডাব) ১১৬ জন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ (মশাল) ৯১ জন, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন (ফুলের মালা) ৪৭ জন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন (বটগাছ) ১৩ জন, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি (হাতঘড়ি) ১৮ জন, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ (চেয়ার) ৩৯ জন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (কাঁঠাল) ১৩ জন, গণফ্রন্ট (মাছ) ২৫ জন, গণফোরাম (উদীয়মান সূর্য) ৯ জন, ইসলামী ঐক্যজোট (মিনার) ৪৫ জন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট (মোমবাতি) ৩৭ জন, জাতীয় পার্টি-জেপি (বাইসাইকেল) ২০ জন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ (গামছা) ৩৪ জন, গণতন্ত্রী পার্টি (কবুতর) ১২ জন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (হাতুড়ি) ৩৩ জন, বিকল্পধারা বাংলাদেশ (কুলা) ১৪ জন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (একতারা) ৮২ জন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন-বিএনএম (নোঙর) ৪৯ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট- বিএনএফ (টেলিভিশন) ৫৫ জন, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (ছড়ি) ৭৪ জন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ- বিএমএল (হাত-পাঞ্জা) ৫ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি- ন্যাপ (কুঁড়েঘর) ৬ জন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মই) একজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (রিকশা) একজন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ (খেজুর গাছ) একজন এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (হারিকেন) দুইজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

এদিকে মনোনয়ন জমার শেষ দিনেই ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম জানিয়েছেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিলের সময়সীমা বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। ফলে বিএনপিসহ যে দলগুলো নির্বাচন বর্জন করেছে তাদের আর মত পাল্টে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসার দৃশ্যমান কোনো সুযোগ নেই। আন্দোলনরত দলগুলোও অবশ্য আগেই এ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতি দিয়েছে।

ফলে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর যাচাই-বাছাই শেষে যেসব প্রার্থী টিকে যাবেন তারাই থাকবেন নির্বাচনী দৌড়ে। তবে প্রতিটি আসনে ভোটের লড়াইয়ে যারা যাচ্ছেন তাদের বেশির ভাগেরই দলের নাম সাধারণ মানুষ জানে না। আর দল অচেনা বলে প্রার্থীরাও অচেনা। ফলে তাদের ধারণা নির্বাচনী লড়াইয়ে আসলে টিকে থাকবেন বড় দলের পরিচিত মুখগুলো। এর মধ্যে শাসক দলের মার্কা নিয়ে লড়াই করা প্রার্থীরা যেমন আলোচনায় থাকবেন, তেমনই অনেক আসনেই তাদের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমাতে পারেন নির্বাচনে আসা আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। কেননা, দলটির স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বেশির ভাগই স্থানীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত এবং তাদের মোটামুটি ভোট ব্যাংক অথবা এলাকাবাসীকে প্রভাবিত করার সক্ষমতা রয়েছে। নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া ৭৪৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে অন্তত ৪০০ জনই আওয়ামী লীগের।
যদিও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গত কয়েক দিনের মতো গতকালও বলেছেন, দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ঢালাওভাবে নির্বাচন করতে পারবেন না। এ ছাড়া ১৪-দলীয় জোটের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির সম্ভাবনা রয়েছে আওয়ামী লীগের। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন, নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আসতে পারবেন জোটের এমন প্রার্থীরাই কেবল থাকবেন বিবেচনায়। আর ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করে তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এর ফলে এটা স্পষ্ট যে, জোটের সঙ্গে সমঝোতা হলে কয়েকটি আসনে আওয়ামী লীগ যাদের মনোনয়ন দিয়েছে তাদেরও রণে ভঙ্গ দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে হবে।

তবে আওয়ামী লীগ সভাপতি নির্বাচনী কৌশল হিসেবে এবার দলীয় মার্কার বাইরে দলীয় প্রার্থীদের স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড়ানোর সুযোগ দেয়ায় নির্বাচনে আসা প্রার্থীদের কতজন আবার দল চাইলে নির্দেশ মেনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন সেটাও আছে দেখার বিষয়।

তবে এই আলোচনার বাইরে থেকে যাচ্ছে বেশির ভাগ প্রার্থী যারা বিভিন্ন দল থেকে নির্বাচনে এলেও জনগণের কাছে নিজের দল, দলীয় প্রতীক এবং নিজের পরিচয় প্রকাশ করার সুযোগ পাবেন। তবে প্রতিটি আসনে স্থানীয় ভোটারদের কাছে তারা এখনো অচেনা এবং নতুন মুখ হিসেবে বিবেচিত।

যেমন দল হিসেবে এবারই প্রথম নির্বাচন করছে তৃণমূল বিএনপি, বিএনএম, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি। এসব দলের বেশির ভাগ প্রার্থী নিজ নিজ এলাকার ভোটারদের কাছে নতুন পরিচয়ে উপস্থিত হবেন। অনেকে আবার খুব বেশি পরিচিত নন। একইভাবে তাদের নির্বাচনী প্রতীক যথাক্রমে সোনালী আঁশ, নোঙর ও একতারা চেনাতেও এবার তাদের বিশেষ প্রস্তুতি নিতে হবে।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনএমের প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য আছেন ৬ জন এবং তৃণমূলের প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য আছেন ৫ জন।

এদিকে, গতকাল আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর কাদের বলেছেন, বিএনপির ১৫ কেন্দ্রীয় নেতাসহ সাবেক ৩০ জন সংসদ সদস্য নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এদের মধ্যে কাদের সিদ্দিকী, লতিফ সিদ্দিকী, আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর মতো নেতাও আছেন। আবার আগে বিএনপিতে প্রভাব ছিল দলটির এমন সাবেক নেতারাও আছেন নির্বাচনে। এদের মধ্যে তৈমূর আলম, সমশের মবিন চৌধুরীর নাম উল্লেখযোগ্য।

তবে এদের বাইরে নির্বাচনের মাঠে থাকা বেশির ভাগ প্রার্থীই অচেনা। এ বিষয়ে গাজীপুর-৪ আসনের একজন প্রার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমার দল এলাকায় তেমন পরিচিত নয়। দলের প্রচার চালাতে ও এলাকার মানুষের কাছে নিজের পরিচয় তুলে ধরতে এবার ভোট করতে আসা। আমিও জানি নির্বাচনে জয়লাভ করার অবস্থান এখনো আমার বা আমার দলের তৈরি হয়নি। তবে এক দিনে তো কিছুই হয় না। আমাদের দলের আদর্শ ও কর্মসূচি দেশের মানুষ ও এলাকার মানুষকে জানাতে আমরা নির্বাচনে এসেছি।’

অন্যদিকে লালমনিরহাট-৩ আসনে মনোনয়ন জমা দেয়া প্রার্থীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই সদর আসনে ৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সদ্য পদত্যাগকারী সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জাবেদ হোসেন বক্কর, জাতীয় পার্টি থেকে জাহিদ হাসান, তৃণমূল বিএনপি থেকে শামীম আহম্মেদ চৌধুরী, জাকের পার্টি থেকে সকিউজ্জামান মিয়া, বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল থেকে আশরাফুল আলম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) থেকে আবু তৈয়ব মো. আজমুল হক পাটোয়ারী, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) থেকে শ্রী হরিশ চন্দ্র রায় মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তবে এবার তিনি এ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেননি। ফলে এ আসনে নির্বাচনে অংশ নেয়া সব প্রার্থীই নতুন এবং নতুন একজন সংসদ সদস্য পাবে লালমনিরহাট সদরবাসী। তবে নতুন হলেও জেলা ও শহরের রাজনীতিতে পুরনো মুখ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান। ছাত্ররাজনীতি করায় জাবেদ হোসেন বক্করও সেখানে পরিচিত মুখ। জাকের পার্টি ও জাসদের প্রার্থীকেও অনেকে চেনেন। তবে সাম্যবাদী দল, এনপিপির প্রার্থীর মতো জাতীয় পার্টির প্রার্থীও এলাকার সবার চেনা মুখ নন। ফলে যে আসন থেকে জাতীয় পার্টি বর্তমান সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছে সেখানে নতুন মুখ দেয়ায় মাঠের রাজনীতিতে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন এলাকার অনেক বাসিন্দা।

বিষয়টা আরও স্পষ্ট হয় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনার ৬টি আসন বিশ্লেষণ করলে। দৈনিক বাংলার খুলনা ব্যুরো জানায়, খুলনার এই ৬টি আসনের জন্য সেখানে ৫৩ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে যারা সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচন করবেন, তাদের অধিকাংশেরই রাজনীতিতে তেমন কোনো পরিচিতি নেই। হঠাৎ করেই তারা কেন সংসদ নির্বাচনে আগ্রহী হলেন, এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে উত্তরও দেননি অধিকাংশ প্রার্থী।

খুলনা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের মনোনীত ৬ জন প্রার্থী, আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র ২ জন এবং জাতীয় পার্টির একজন প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচিতি রয়েছে। বাকি ৪৪ জন প্রার্থী কখনো রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয় ছিলেন না।

খুলনা প্রতিনিধির বিশ্লেষণ অনুযায়ী খুলনা-১ আসনের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ৬ জন। তারা হলেন, জাকের পার্টির মো. আজিজুর রহমান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ননী গোপাল মণ্ডল, জাতীয় পার্টির কাজী হাসানুর রশিদ, তৃণমূল বিএনপির গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রশান্ত কুমার রায় ও আবেদ আলী শেখ।

এদের মধ্যে ননী গোপাল মণ্ডল ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। রাজনীতিতে তার পরিচিতি রয়েছে। তবে বাকি চারজন রাজনীতিতে একেবারেই অপরিচিত। তারা প্রত্যেকেই এবার প্রথম সংসদ নির্বাচন করছেন। এদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রশান্ত কুমার রায় পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সাবেক সচিব।

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আমি নির্বাচন করছি। আমাকে ডামি প্রার্থীও বলা যাবে। এটা দলীয় নির্দেশেই হচ্ছে।’
আওয়ামী লীগের ননী গোপাল মণ্ডল বলেন, ‘দল আমাকে আবারও সুযোগ দিয়েছে। আমি দলের সম্মান রাখব বলে আশাবাদী।’

তবে বাকি চার প্রার্থীর তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই। জাতীয় পার্টীর কাজী হাসানুর রশিদ ও তৃণমূল বিএনপির গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিকের কাছে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেও কোনো উত্তর মেলেনি।

আর জাকের পার্টি মো. আজিজুর রহমান বলেন, ‘দল থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে বলেছে, তাই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি।’

অন্যদিকে খুলনা-২ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৯ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল, গণতন্ত্র পার্টির মো. মতিয়ার রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের দেবদাস সরকার, জাকের পার্টির ফরিদা পারভিন, ইসলামী ঐক্যজোটের হিদায়েতুল্লাহ, জাতীয় পার্টির মো. গাউসুল আজম, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের বাবু কুমার রায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সাঈদুর রহমান।

এদের মধ্যে শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থীর রাজনৈতিকভাবে পরিচিতি রয়েছে। তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। তবে বাকিদের আগে কখনো রাজনৈতিক মাঠে দেখা যায়নি।

কেন প্রার্থী হয়েছেন- এমন প্রশ্নে বাংলাদেশ কংগ্রেসের দেবদাস সরকার বলেন, ‘অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে মনোনয়ন জমা দেয়া হচ্ছে, তাই আমরাও দিচ্ছি।’

খুলনা-৩ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৫ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের এস এম কামাল হোসেন, জাকের পার্টির এস এম সাব্বির হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, স্বতন্ত্র প্রার্থী কাইজার আহমেদ ও ফাতেমা জামান সাথী।

এদের মধ্যেও শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচিতি রয়েছে। তিনি দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। তিন বারের সংসদ সদস্য ও দুই বারের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানকে সরিয়ে তাকেই আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিয়েছে। তবে ওই আসনেরও বাকি চারজনের তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই।

খুলনা-৪ আসন থেকে মনোনয়ন নিয়েছেন ১৪ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের আব্দুস সালাম মূর্শেদী, জাকের পার্টির শেখ আনছার আলী, জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এস এম আজমল হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. ফরহাদ আহমেদ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. মোস্তাফিজুর রহমান, তৃণমূল বিএনপির শেখ হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মনিরা সুলতানা, ইসলামী ঐক্যজোটের রিয়াজ উদ্দীন খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জুয়েল রানা, এম ডি এহসানুল হক, মো. রেজভী আলম, এস এম মোর্ত্তজা রশিদী দারা, আতিকুর রহমান ও এইচ এম রওশান জমির।

এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের আব্দুস সালাম মূর্শেদী বর্তমান সংসদ সদস্য। ২০১৮ সালের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে তিনি জয়ী হয়েছিলেন।

এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম মোর্ত্তজা রশিদী দারার দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস রয়েছে। তিনি ওই আসনের তিন বারের সাবেক সংসদ সদস্য এস এম মোস্তফা রশিদী সুজার আপন ভাই।

তিনি বলেন, এলাকার মানুষের দোয়া নিয়ে মাঠে নেমেছি। জয়-পরাজয় এলাকার মানুষই নির্ধারণ করবেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই আসনে আওয়ামী লীগের এই দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এলাকার ভোটাররা বলছেন, বাকি ১২ জন প্রার্থীদের নাম খুব একটা শোনেননি তারা। কেউ কেউ একেবারেই অপরিচিত।

খুলনা-৫ আসনের জন্য মনোনয় জমা দিয়েছেন ৭ জন। তারা হলেন- জাতীয় পার্টির মো. শহীদ আলম, জাকের পার্টির সামাদ সেখ, আওয়ামী লীগের নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, ওয়ার্কার্স পার্টির শেখ সেলিম আকতার, বাংলাদেশ কংগ্রেসের এস এম এ জলিল, ইসলামী ঐক্যজোটের তরিকুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ আকরাম হোসেন।

এদের মধ্যে নারায়ণ চন্দ্র চন্দ একাধিক বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী। এ ছাড়া আকরাম হোসেন ফুলতলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। এই আসনেও আওয়ামী লীগের এই দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ভোটাররা। বাকি যারা প্রার্থী হয়েছেন এলাকার রাজনীতিতে তাদের তেমন কোনো পরিচিতি নেই বলে জানা গেছে।

খুলনা-৬ আসনের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ১২ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের মো. রশীদুজ্জামান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. আবু সুফিয়ান, জাকের পার্টির শেখ মর্তুজা আল মামুন, জাতীয় পার্টির মো. শফিকুল ইসলাম মধু, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মির্জা গোলাম আজম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এস এম নেওয়াজ মোরশেদ, তৃণমূল বিএনপির গাজী নাদীর উদ্দীন খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম রাজু, গাজী মোস্তফা কামাল, জি এম মাহবুবুল আলম, মো. মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর ও মো. অহিদুজ্জামান মোড়ল।

এদের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত মো. রশীদুজ্জামানের কোনো দলীয় পদ নেই। তিনি একসময় পাইকগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্যসচিব ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে জামানত হারিয়েছিলেন। তবে তাকেই মনোনয়ন দিয়ে চমক সৃষ্টি করেছে ক্ষমতাসীন দল। ওই আসনে রাজনৈতিকভাবে পরিচিত রয়েছে জাতীয় পার্টির মো. শফিকুল ইসলাম মধুর। তিনি আগেও খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। বাকি প্রার্থীদের তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই। এলাকার সবার কাছে পরিচিত মুখও নন অনেকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশির ভাগ আসনেই ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীদের স্থানীয়রা তেমন একটা চেনেন না। তবে বিরোধীদের এক অংশ নির্বাচন বর্জন করায় রাজনীতির নতুন সমীকরণ মেলাতে ছোট দলগুলোই নির্বাচনে হতে যাচ্ছে বড় দলগুলোর সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনীযুদ্ধ পার হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী।

জাসদের মাঠপর্যায়ের এক রাজনীতিবিদ জসিম মণ্ডল বলেন, ‘নির্বাচন একটা বড় খেলা। এখানে সবাই নামে নিজ নিজ সমীকরণ মেলানোর জন্য। রাজনৈতিক দলগুলোর সমীকরণ হয় এক ধরনের, আবার প্রার্থীর সমীকরণ হয় আরেক ধরনের। সবাই নির্বাচনে জয়ী হতে যেমন অংশ নেয় না তেমনই কেউ কেউ নির্বাচনে যায় অন্যের যাত্রা ভঙ্গ করতে। আবার অনেকের কাছে ‘নির্বাচনে অংশগ্রহণই বড় কথা।’ জয়-পরাজয়ের চেয়েও বড় বিষয় এ সময় পোস্টারিং করে নিজের ছবি ও পরিচিতি পুরো এলাকার মানুষকে দেখানো যায়। এটাও বা কম কিসে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দেশের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষেরই আছে নির্বাচনে দাঁড়ানোর অধিকার। তাই কটা টাকা খরচ করে অনেকেই পরিচিতি বাড়ানোর সুযোগ নেয়। এর ফল তো অসীম-সারাজীবন নানাভাবে এর সুফল মেলে। যারা রাজনীতিতে আছেন, কেবল তারাই বোঝেন নির্বাচনে অংশ নিতে পারার গুরুত্ব।


মাথাপিছু আয়ে ভারতকে ছাড়াতে পারে বাংলাদেশ

আপডেটেড ২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ২২:৫৯
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল-আইএমএফের সর্বশেষ ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক আউটলুক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছর বর্তমান মূল্যে মাথাপিছু মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) হিসাবে বাংলাদেশ ভারতকে ছাড়িয়ে যেতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বাংলাদেশের মাথাপিছু জিডিপি দাঁড়াতে পারে ২ হাজার ৯১১ ডলার, যেখানে ভারতের ক্ষেত্রে তা হতে পারে ২ হাজার ৮১২ ডলার। পার্থক্য তুলনামূলক কম হলেও এর প্রতীকী গুরুত্ব বড় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

অর্থনীতির আকারের বিচারে ভারত এখনো অনেক এগিয়ে। ২০২৫ সালের হিসাবে ভারতের অর্থনীতির আকার প্রায় ৩ হাজার ৯১৬ বিলিয়ন ডলার, যা বাংলাদেশের ৪৫৮ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় প্রায় আট গুণ বড়। তবে মাথাপিছু আয়ের সূচকে ছোট অর্থনীতির দেশ বাংলাদেশ ধারাবাহিকভাবে ভারতের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে।

বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ কৌশিক বসু এই প্রবণতাকে ‘বিস্ময়কর’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। যদিও কিছু ভারতীয় বিশ্লেষকের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—এটি বাংলাদেশের প্রকৃত অগ্রগতি, নাকি কেবল বিনিময় হারভিত্তিক পরিসংখ্যানের প্রতিফলন।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পার্থক্যের অন্যতম কারণ মুদ্রার বিনিময় হার। ২০১৮ সালের পর কয়েক বছর ডলারের হিসাবে বাংলাদেশ মাথাপিছু আয়ে ভারতের চেয়ে এগিয়ে ছিল। তবে ২০২৫ সালে টাকার অবমূল্যায়নের ফলে সেই অবস্থান কিছুটা পরিবর্তিত হয়।

ঐতিহাসিকভাবে, ১৯৮৯ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত সময়েও বাংলাদেশ মাথাপিছু আয়ে ভারতের চেয়ে এগিয়ে ছিল। পরবর্তীতে প্রায় দেড় দশক ভারত এগিয়ে থাকলেও ২০১৮ সালে আবারও বাংলাদেশ শীর্ষে উঠে আসে।

তবে আইএমএফের প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৭ সালে ভারত পুনরায় এগিয়ে যেতে পারে এবং অন্তত ২০৩১ সাল পর্যন্ত সেই অবস্থান ধরে রাখতে পারে।

বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান ডলার মূল্যে মাথাপিছু জিডিপি একটি পরিবর্তনশীল সূচক, যা বিনিময় হারের ওঠানামার ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। কোনও দেশের মুদ্রার মান কমে গেলে উৎপাদন অপরিবর্তিত থাকলেও ডলারে তার মূল্য কমে যায়।

অপরদিকে ক্রয়ক্ষমতার সমতা (পিপিপি)-ভিত্তিক হিসাব ভিন্ন চিত্র তুলে ধরে। এই পদ্ধতিতে দেশীয় মুদ্রার প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা বিবেচনায় নেওয়া হয়। সেখানে ভারত এখনো স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। ২০২৫ সালে ভারতের পিপিপিভিত্তিক মাথাপিছু আয় ছিল ১১ হাজার ৭৮৯ ডলার, যা বাংলাদেশের ১০ হাজার ২৭১ ডলারের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ বেশি।

আইএমএফের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০৩১ সাল নাগাদ এই ব্যবধান আরও বাড়তে পারে। তখন ভারতের পিপিপি-ভিত্তিক মাথাপিছু আয় দাঁড়াতে পারে ১৮ হাজার ৪৮৫ ডলার, বিপরীতে বাংলাদেশের হতে পারে ১৪ হাজার ৮৫৭ ডলার।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডলারভিত্তিক মাথাপিছু আয়ের এই সাময়িক অগ্রগতি ইতিবাচক ইঙ্গিত দিলেও তা এককভাবে জনগণের জীবনমানের পূর্ণ চিত্র তুলে ধরে না। এজন্য পিপিপি, আয়বৈষম্য ও জীবনযাত্রার মানসহ অন্যান্য সূচক সমানভাবে বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।


একদিনে ১৫ দপ্তরে নতুন চেয়ারম্যান-ডিজি নিয়োগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রশাসনের শীর্ষ পর্যায়ে বড় ধরনের রদবদল এনেছে সরকার। একদিনেই ১৫টি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান ও মহাপরিচালক (ডিজি) পদে নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. নুর-এ আলম স্বাক্ষরিত পৃথক প্রজ্ঞাপনে এসব নিয়োগের তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, যেসব প্রতিষ্ঠানে নেতৃত্বে পরিবর্তন আনা হয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ, খাদ্য অধিদপ্তর, জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগ, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা), পরিবেশ অধিদপ্তর, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিট, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, কৃষি বিপণন অধিদপ্তর, জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ, উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরো, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর, জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউট, রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয় (জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন), ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড এবং পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রাজা মো. আব্দুল হাইকে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তার চাকরি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।

বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান হয়েছেন অতিরিক্ত সচিব মো. শফিকুল ইসলাম। শফিকুল ইসলাম বর্তমানে গ্রামীণ রাস্তায় ১৫ মিটার দৈর্ঘ্য পর্যন্ত সেতু/কালভার্ট নির্মাণ শীর্ষক প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক। তার চাকরি খাদ্য মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ হাবীবুর রহমানকে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়ে তার চাকরি গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মু. জসীম উদ্দিন খানকে খাদ্য অধিদপ্তরের নতুন মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাকে এই নিয়োগ দিয়ে তার চাকরি খাদ্য মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরে নতুন মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. মো. লুৎফর রহমান। তার চাকরি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তরে মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এম এম আরিফ পাশা। তার চাকরি কৃষি মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব দিল আফরোজকে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক করা হয়েছে। তার চাকরি স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।

পেটেন্ট, শিল্প নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হয়েছেন বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক এ এস এম মুস্তাফিজুর রহমান। তার চাকরি শিল্প মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।

জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউটে নতুন মহাপরিচালক হয়েছেন বরিশাল বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের পরিচালক খোন্দকার আনোয়ার হোসেন। তার চাকরি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) মহাপরিচালক হয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. আব্দুল্লাহ আল-মামুন। এজন্য তার চাকরি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক হিসেবে বদলি করা হয়েছে। তার চাকরি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।

সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের পরিচালক মো. আসাদুজ্জামানকে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক করে তার চাকরি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগের নতুন মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন পরিকল্পনা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আবুল হাসনাত মুহম্মদ আনোয়ার পাশা।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব দেলোয়ার হোসেনকে গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিটের (জিআইইউ) মহাপরিচালক নিয়োগ দিয়ে তার চাকরি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে।

এছাড়া জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন রেজিস্ট্রার জেনারেলের কার্যালয়ের রেজিস্ট্রার জেনারেল হয়েছেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাসান মাহমুদ। তার চাকরি স্থানীয় সরকার বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।


হাম উপসর্গে নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে রেকর্ড ভর্তি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত এবং হামের উপসর্গ থাকা ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া হামে আক্রান্ত হয়ে এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ১ হাজার ৫৬৪ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। যা একদিনে সর্বোচ্চ। এর মধ্যে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়েছে ১৪৩ জন। বাকিদের শরীরে হামের উপসর্গ আছে। মৃত শিশুদের মধ্যে একজন হামে আক্রান্ত ছিল বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।

রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ৪৩ শিশুর। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ২১৬ শিশু। মৃত্যুর হার বিবেচনায় সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকায়। এখানে হামের উপসর্গ নিয়ে ১০২ জন এবং নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত ২৮ শিশু মারা গেছে।

১৫ মার্চ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসে ৩২ হাজার ২৮ জন আর হামে আক্রান্ত হয় ৪ হাজার ৬০৩ শিশু।


প্রধান তথ্য কর্মকর্তা হলেন সাংবাদিক আবদাল আহমদ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক সৈয়দ আবদাল আহমদকে তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা (পিআইও) হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। গ্রেড-১ পদমর্যাদায় তাকে এক বছর মেয়াদে চুক্তি ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সৈয়দ আবদাল আহমদকে প্রধান তথ্য কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। অন্য যে কোনো পেশা, ব্যবসা কিংবা সরকারি, আধা সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে এ নিয়োগ দেওয়া হয়।

প্রসঙ্গত, সৈয়দ আবদাল আহমদ আমার দেশ পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। এর আগে তিনি অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সদস্য ছিলেন।


তৈরি হচ্ছে ৮০ লাখ লোকের তালিকা, নোটিশ দিবে এনবিআর 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে প্রায় ৮০ লাখ ইটিআইএনধারী তাদের আয়কর রিটার্ন জমা দেননি এখনও। ডিজিটাল পদ্ধতিতে তাদের তালিকা তৈরি করে নোটিশ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। রোববার এনবিআর ভবনে প্রাক বাজেট আলোচনা সভায় এ সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান। আলোচনা সভায় এনবিআর চেয়ারম্যান ছাড়াও বিকেএমইএ, বিটিএমএ, বিজিএপিএমইএ, বিজিবিএ-এর শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, বর্তমানে ১ কোটি ২৮ লাখ ইটিআইএনধারী আছেন। সেখান থেকে হয়তো ৫০ লাখের মতো রিটার্ন পড়বে। যারা রিটার্ন দেন নাই, ই-টিআইএন ডাটাবেজ এবং ই-রিটার্ন ডাটাবেজ আমাকে অটোমেটিক্যালি লিস্ট তৈরি করে দেবে কারা রিটার্ন দেয়নি অর্থাৎ নন-ফাইলার। আমরা অটোমেটেড বেসিসে এই নন-ফাইলারদের লিস্ট থেকে তাদের কাছে নোটিশ যাবে। এরপরও যদি রিটার্ন না দেন তাহলে ইন্সপেক্টর যাবে, সে তার আয়-ব্যয় হিসাব করে দেখবে।

তিনি বলেন, আমরা অডিট সিস্টেমটাকে স্বচ্ছ করার জন্য আমরা ম্যানুয়াল সিলেকশন পদ্ধতি টোটালি স্টপ করে দিয়েছি। এখন রিস্ক বেসড অটোমেটেড অডিট সিলেকশন পদ্ধতি চালু হয়েছে। ২০২৩-২৪ এর জন্য প্রথম পর্যায়ে আমরা ১৫ হাজারের মতো র্যান্ডম সিলেকশন করেছিলাম। সেকেন্ড ফেজে প্রায় ৬০ হাজারের বেশি সিলেকশন হবে। এই প্রক্রিয়ায় কোনো ম্যানুয়াল ইন্টারঅ্যাকশন নেই, এটি টোটালি সিস্টেম জেনারেটেড। ফলে ট্রান্সপারেন্সি এনশিওর হবে।

অন্যদিকে ভ্যাটের অডিট সিস্টেমের বিষয়ে আবদুর রহমান বলেন, ভ্যাটের ক্ষেত্রেও আমরা ২০টি ক্রাইটেরিয়া দিয়ে ৬০০টি প্রতিষ্ঠান সিলেক্ট করেছি। লার্জ ট্যাক্সপেয়ারদের জন্য জয়েন্ট অডিট শুরু করেছি যেখানে ভ্যাট এবং ইনকাম ট্যাক্স টিম একসঙ্গে অডিট করবে। আমাদের দেশে রিটেইল লেভেলে ভ্যাটের আওতা খুবই ছোট। বর্তমানে ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন সংখ্যা ৮ লাখেরও কম, যা অগ্রহণযোগ্য। আমরা আইনে কিছু পরিবর্তন এনে ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন বাড়ানো এবং প্রক্রিয়া সহজ করার চেষ্টা করছি।

তিনি বলেন, যারা নতুন ভ্যাটে আসবে, তাদের লাইফ ইজি করার জন্য আমরা কাজ করছি। তাদের হয়তো প্রতি মাসে রিটার্নই সাবমিট করতে হবে না; বছরে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ ভ্যাট দিলেই হবে। তারা মোবাইল বা ডেস্কটপ থেকে ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে ভ্যাট দিতে পারবে। কেউ তাদের কাছে খাতা-পত্র বা কম্পিউটার নিয়ে আসবে না। কর ফাঁকি, ভ্যাট ফাঁকি এবং বন্ডের মিসইউজ রোধ করতে আমাদের ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। আমরা প্রত্যেকটি ম্যানুফ্যাকচারিং ইউনিটকে ট্র্যাক এবং ট্রেস করতে চাই। কিউআর কোড এবং এআর কোড জেনারেট করে স্ট্যাম্পের মতো লাগিয়ে দেওয়া হবে। প্রথমে টোব্যাকো দিয়ে শুরু করলেও পরে পানির বোতল, ড্রিঙ্কস, সাবান, শ্যাম্পু এমনকি চিপসের প্যাকেটেও এটি চালু হবে।

সাধারণ মানুষকে হুইসেল ব্লোয়ার উল্লেখ করে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, আমরা ১৮ কোটি জনগণের ৩৬ কোটি চোখকে ব্যবহার করবো কর ফাঁকি উদ্ধারে। সাধারণ মানুষ মোবাইল দিয়ে কিউআর কোড স্ক্যান করে দেখবে পণ্যটি ট্যাক্স দিয়ে বাজারে এসেছে কি না। তারা যদি হুইসেল ব্লোয়ার হিসেবে তথ্য দেয়, তবে তাদের পুরস্কৃত করা হবে এবং ফাঁকিদাতাদের পেনাল্টি দেওয়া হবে।

একটি ট্রান্সপারেন্ট সিস্টেম তৈরি হলে ট্যাক্সপেয়ারদের হয়রানি কমবে এবং ট্যাক্স নেট বড় হবে, যার ফলে কমপ্লায়েন্ট ট্যাক্সপেয়ারদের ওপর চাপ কমে আসবে বলেও মন্তব্য করেন এনবিআর চেয়ারম্যান।


জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ১০ সদস্যের কমিটির মেয়াদ ৩০ দিন 

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতার প্রভাবে দেশে সৃষ্ট জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকার ও বিরোধী দলের সমন্বয়ে ১০ সদস্যের একটি ‘বিশেষ কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। এই কমিটির মেয়াদ হবে প্রজ্ঞাপন বা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের তারিখ থেকে পরবর্তী ৩০ দিন। গতআল রোববার বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে কমিটি গঠনের প্রস্তাবটি উত্থাপন করেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম।

প্রস্তাব উত্থাপনকালে চিফ হুইপ বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেল নিয়ে বৈশ্বিক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। যার আঁচ বাংলাদেশে এসে লেগেছে। এরূপ পরিস্থিতি মোকাবিলায় করণীয় নির্ধারণে সংসদে ঐতিহাসিক ঐকমত্যের ভিত্তিতে বিরোধী দলের নেতার প্রস্তাবমতে সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের সমন্বয়ে একটি ১০ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠনে একমত হয়েছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘সংসদে উক্ত কমিটিতে সংসদ নেতা সরকারি দলের ৫ জন সদস্যের নাম প্রস্তাব করেন এবং সংসদ নেতার অনুরোধে বিরোধীদলের নেতাও ৫ জন বিরোধীদলের সদস্যের নাম প্রস্তাব করেছেন। সে পরিপ্রেক্ষিতে, সংসদ নেতার অনুমতিক্রমে তার পক্ষে আমি মো. নূরুল ইসলাম, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ, সংসদ নেতা ও বিরোধীদলের নেতার প্রস্তাবকৃত সদস্যদের নিয়ে কার্যপ্রণালী-বিধির ২৬৬ বিধি অনুযায়ী একটি বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করছি।’

প্রসঙ্গত, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধকে কেন্দ্র করে দেশের অভ্যন্তরে তৈরি হওয়া জ্বালানি সংকট সমাধানে গত ২৩ এপ্রিল ১০ সদস্যের এই উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

কমিটিতে সরকারি দলের পক্ষ থেকে মনোনীত ৫ সদস্য হলেন— জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফউদ্দিন, মানিকগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য মইনুল ইসলাম শান্ত এবং শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপু। কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন জ্বালানি মন্ত্রী৷

অন্যদিকে, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে কমিটিতে থাকা ৫ সদস্য হলেন— সাইফুল আলম মিলন (ঢাকা-১২), আবদুল বাতেন (ঢাকা-১৬), মো. নূরুল ইসলাম (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩), এনসিপির সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত (কুমিল্লা-৪) এবং খেলাফত মজলিশের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ আবুল হাসান (সিলেট-৫)।

চিফ হুইপের এই প্রস্তাবটি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ভোটের জন্য উত্থাপন করলে তা সর্বসম্মতিক্রমে কণ্ঠভোটে পাস হয়।


সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদে ‘মেম্বারস অব পার্লামেন্ট রেনুমারেশন অ্যান্ড অ্যালাউন্স বিল-২০২৬’ পাস হয়েছে। এই বিলটি পাসের মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের দীর্ঘদিনের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধা বাতিল করা হলো। রোববার দুপুরে সংসদ অধিবেশনে আইনমন্ত্রী বিলটি উত্থাপন করেন। বিলটি প্রস্তাব করার পর বিরোধীদলের সংসদ সদস্যরাও এতে পূর্ণ সম্মতি জানান। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।

সংসদ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী জানান, পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স ও ফায়ার সার্ভিসের মতো জরুরি কাজে নিয়োজিত যানবাহনের জন্য তেল বিক্রয়ে কোনো ধরনের রেশনিং থাকবে না। জনস্বার্থ ও জরুরি সেবার গুরুত্ব বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এদিকে, জ্বালানি সংকট নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা ও করণীয় নির্ধারণের জন্য সরকারি ও বিরোধীদলের সংসদ সদস্যদের সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিকেলের অধিবেশনে গঠিত ১০ সদস্য বিশিষ্ট এই কমিটি জ্বালানি খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করবে।


সারাদেশে বজ্রপাতে ১৩ জনের প্রাণহানি

ছবি: সগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দেশের বিভিন্ন স্থানে কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রাপাতে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। গাইবান্ধায় ৫, সিরাজগঞ্জে ২, ঠাকুরগাঁওয়ে ২, জামালপুরে ২, বগুড়ায় ১ এবং পঞ্চগড়ে ১ জন চা শ্রমিক নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরো কয়েকজন।

প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য-

গাইবান্ধা: জেলায় বজ্রপাতে বিকেলে ৫ জন নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নে ৩ জন নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো একজন। উপজেলার দক্ষিণ ধোপাডাঙ্গা গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। প্রায় একই সময় পৃথক বজ্রপাতে ফুলছড়ির জামিরার চরের ১ যুবক ও সাঘাটায় উপজেলায় ১ বৃদ্ধ নিহত হন।

সুন্দরগঞ্জে নিহতরা হলেন- ধোপাডাঙ্গা এলাকার সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ওরফে সুজা চৌধুরীর ছেলে ফুয়াদ (১৪), ছোটন মিয়ার ছেলে রাফি (১৫) এবং নবীর হোসেনের ছেলে মিজান (২০)।

এদিকে গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় বজ্রপাতে নম্বার আলী (৬৫) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। তিনি উপজেলার বোনারপাড়া ইউনিয়নের হেলেঞ্চা গ্রামের বাসিন্দা।

অন্যদিকে প্রায় একই সময়ে ফুলছড়ি উপজেলার ফুলছড়ি ইউনিয়নের জামিরা চরে বজ্রপাতে নিহত মানিক হোসেন (২২) ওই এলাকার শুক্কুর আলীর ছেলে।

তিনি একটি ঘোড়া নিয়ে বালু চর ধরে বাড়ি ফিরছিলেন। বজ্রপাতে তিনিসহ ঘোড়াটিও মারা যায়। স্থানীয় একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিক্যাল অফিসার মাহফুজা জান্নাতি বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সিরাজগঞ্জ : জেলার তাড়াশ ও রায়গঞ্জ উপজেলায় বজ্রাঘাতে দুই কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে পৃথক স্থানে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন তাড়াশ উপজেলার মাধাইনগর ইউনিয়নের বেত্রাশীন গ্রামের আব্দুল গফুরের ছেলে কৃষক আব্দুল হামিদ (৫০) ও রায়গঞ্জ উপজেলা ধানগড়া ইউনিয়নের মল্লিক চাঁন গ্রামের আব্দুল হালিমের ছেলে কৃষক হাসান আলী (২৪)। মাধাইনগর ইউপির সদস্য শফিকুল ইসলাম শফি বলেন, কৃষক আব্দুল হামিদ বৃষ্টির মধ্যে বাড়ির পাশে মাঠে কাজ করছিলেন। ওই সময় বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

ঠাকুরগাঁও: জেলার পীরগঞ্জে বজ্রাঘাতে নারী-পুরুষসহ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। বিকেলে উপজেলার কোষাডাঙ্গীপাড়া ও নিয়ামতপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানায়, উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের রশিদুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা আক্তার দুপুরে ফসলি মাঠে কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলে মারা যান। অপরদিকে কোষারাণীগঞ্জ ইউনিয়নের কোষাডাঙ্গীপাড়া গ্রামের আকবর আলীর ছেলে ইলিয়াস আলী (৩৭) বিকেলে নিজ জমির ফসল দেখতে যান। এসময় বজ্রাঘাতে তার মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে পীরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল হাকিম জানান, পীরগঞ্জে বজ্রাঘাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে।

জামালপুর : জেলার সদর ও মেলান্দহ উপজেলায় পৃথক স্থানে বজ্রাঘাতে এক কৃষক ও গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। রোববারবিকেল ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন মেলান্দহ উপজেলার কড়ইচড়া গ্রামের মর্জিনা বেগম (৪০)। তিনি ওই এলাকার রাজীবের স্ত্রী। আরেকজন সদর উপজেলার চর যথার্থপুর এলাকার কৃষক হাসমত আলী (৪৫)। তিনি ওই এলাকার মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে।

স্থানীয়রা জানায় , মর্জিনা বেগম বাড়ির উঠানে রান্নাঘরের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় হঠাৎ বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। অন্যদিকে সদর উপজেলার চর যথার্থপুর এলাকায় কৃষক হাসমত আলী মাঠ থেকে গরু নিয়ে বাড়ি ফেরার পথে বজ্রপাতে মারা যান।

জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান জানান, হাসপাতালে নেওয়ার আগেই দুজনের মৃত্যু হয়েছে।

পঞ্চগড়: জেলার আটোয়ারীতে চা-বাগানে কাজ করার সময় বজ্রাঘাতে সোহরাওয়ার্দী (৩৫) নামের এক চা শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো দুই চা শ্রমিক। সকালে আটোয়ারী উপজেলার ধামোর ইউনিয়নের সোনাপাতিলা গ্রামে ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয়রা জানায়, সোহরাওয়ার্দীসহ কয়েকজন শ্রমিক চা-পাতা তুলতে বাগানে যান। কাজ করার সময় হঠাৎ বজ্রপাত হলে সোহরাওয়ার্দী তিনজন গুরুতর আহত হন। পরে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যু হয়।

আটোয়ারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি ) মতিয়ার রহমান জানান, বজ্রাঘাতে নিহত চা শ্রমিকের সুরতহাল করা হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

বগুড়া: জেলার গাবতলীতে জমি থেকে ছাগল আনতে গিয়ে বজ্রপাতে সুমন (৩৫) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার বিকেলে উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের মুচিখালী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সুমন মুচিখালী গ্রামের মো. আবদুল করিমের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেল পৌনে ৪টার দিকে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হয়। এ সময় বাড়ির পাশের একটি জমিতে থাকা নিজের ছাগল আনতে যান সুমন। কিছুক্ষণ পর বজ্রপাতে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।

গাবতলী থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. আবু মুসা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, খবর পেয়ে এসআই মো. মাহবুবের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

নাটোর : জেলার সিংড়ায় চলনবিলে ধান কাটার সময় বজ্রপাতে সম্রাট হোসেন (২৬) নামে এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। রোববার বিকেলে উপজেলার ঠ্যাঙ্গা পাকুরিয়া গ্রামে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সম্রাট হোসেন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার নগরডালা গ্রামের সাজা ফকিরের ছেলে।


সোমবার যশোর যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

খাল খনন কাজের উদ্বোধনসহ পূর্ব ঘোষিত কর্মসূচিতে অংশ নিতে আগামীকাল (২৭ এপ্রিল) যশোর যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রোববার (২৬ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি জানান, আগামীকাল (সোমবার) সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে গুলশানের নিজ বাসভবন থেকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের উদ্দেশ্যে সড়ক পথে যাত্রা করবেন তিনি। সকাল সাড়ে ৯টায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপস্থিতি ও যশোর বিমানবন্দরের উদ্দেশে আকাশ পথে যাত্রা করবেন প্রধানমন্ত্রী।

এরপর বেলা ১১টায় ১৫ মিনিটে যশোর শার্শা উপজেলার উলশী খাল খননের উদ্বোধন করবেন। সাড়ে ১১টায় আয়োজিত পথসভা/ সুধী সমাবেশে যোগদান করবেন। দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে শার্শা উপজেলা হতে যশোর সার্কিট হাউসের উদ্দেশ্যে সড়ক পথে যাত্রা করবেন। দুপুর ১টায় যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন। বিকেল সাড়ে ৩টায় যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে জনসভায় যোগদান।

বিকেল সোয়া ৫টায় জনসভাস্থল হতে যশোর বিমানবন্দরের উদ্দেশে যাত্রা শেষে সন্ধ্যা ৭টায় আকাশ পথে ঢাকায় পৌঁছাবেন প্রধানমন্ত্রী।


প্রশাসনে বড় রদবদল: ১৫ অধিদপ্তর ও সংস্থায় নতুন প্রধান নিয়োগ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকার দেশের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ১৫টি অধিদপ্তর ও সংস্থায় নতুন প্রধান নিয়োগ দিয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত পৃথক ১৫টি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার ১৫ জন কর্মকর্তাকে প্রেষণে এসব সরকারি দপ্তর ও সংস্থার শীর্ষ পদে পদায়ন করা হয়েছে। জনস্বার্থে অবিলম্বে এই আদেশ কার্যকর করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মু. জসীম উদ্দিন খানকে খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. লুৎফর রহমানকে পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক করা হয়েছে। এ ছাড়া ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এম এম আরিফ পাশাকে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আরেক অতিরিক্ত সচিব কাজী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জাতীয় যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হয়েছেন খোন্দকার আনোয়ার হোসেন।

সামাজিক ও কারিগরি খাতের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সংস্থায়ও নতুন মুখ আনা হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ আল-মামুনকে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের এবং পরিকল্পনা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আবুল হাসনাত মুহম্মদ আনোয়ার পাশাকে জাতীয় পরিচয়পত্র নিবন্ধন অনুবিভাগের মহাপরিচালক করা হয়েছে। এ ছাড়া ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডে মো. আসাদুজ্জামান, নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরে দিল আফরোজ এবং পেটেন্ট, শিল্প নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তরে এ এস এম মুস্তাফিজুর রহমানকে মহাপরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

নিয়োগের এই তালিকায় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব দেলোয়ার হোসেনকে গভর্ন্যান্স ইনোভেশন ইউনিটের মহাপরিচালক এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হাসান মাহমুদকে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন রেজিস্টার জেনারেলের কার্যালয়ের রেজিস্টার জেনারেল করা হয়েছে। এ ছাড়া বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) চেয়ারম্যান হিসেবে মো. আব্দুল হাই এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান পদে মো. শফিকুল ইসলামকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ হাবীবুর রহমানকে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান নিয়োগ করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এসব কর্মকর্তার চাকরি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রশাসন ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমে গতিশীলতা আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নতুন নিয়োগ পাওয়া কর্মকর্তারা নিজ নিজ দপ্তরের নীতিনির্ধারণী ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনে প্রেষণে নিয়োজিত থাকবেন। সরকারি কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষায় এই বিশাল রদবদলকে নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


একনেকে ১৫ প্রকল্প অনুমোদন: উন্নয়ন প্রকল্পে সাশ্রয়ী হওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উত্থাপিত ১৭টি প্রকল্পের মধ্যে ১৫টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। রোববার (২৬ এপ্রিল) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ১০ম এই সভা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়। সভা শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি সাংবাদিকদের জানান, অধিকাংশ প্রকল্প পাস হলেও কয়েকটির ক্ষেত্রে বিশেষ শর্ত ও পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

সভায় অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া দিকনির্দেশনা উল্লেখ করে জোনায়েদ সাকি জানান, সরকারি ব্যয়ে অত্যন্ত সাশ্রয়ী হওয়ার জন্য স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। প্রতিটি প্রকল্পের ব্যয়ের খাতগুলো যৌক্তিক কি না, তা কঠোরভাবে যাচাই-বাছাই করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে প্রকল্পগুলো সামগ্রিকভাবে জনগণের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে কতটা ভূমিকা রাখবে এবং বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সেগুলোর সামঞ্জস্য আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

সরকারের চলমান ও প্রস্তাবিত প্রকল্পগুলো নতুন করে পর্যালোচনার সিদ্ধান্তের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিগত সময়ে নেওয়া অনেক প্রকল্প বর্তমানে এমন অবস্থায় রয়েছে যেগুলোর হয়তো আর প্রয়োজন নেই। ফলে জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে এসব প্রকল্পের উপযোগিতা পুনরায় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় ছাঁটাই করাই এখন সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকজন মন্ত্রী উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রকল্পের কারিগরি ও অর্থনৈতিক বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।

সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শর্তসাপেক্ষে পাস হওয়া প্রকল্পগুলো পুনরায় প্রয়োজনীয় সংশোধনীর মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে। সরকারের এই সর্তক অবস্থান উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী ভিতের ওপর দাঁড় করাবে বলে আশা করা হচ্ছে। মূলত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং জনবান্ধব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই ২০২৫-২৬ অর্থবছরের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাগুলো অর্জনে সচেষ্ট থাকবে সরকার।


প্রশ্নপত্র বিতরণে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি মেনে চলছে সরকার: মাহদী আমিন

আপডেটেড ২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১৩:৫০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলমান এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিতরণে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন। রোববার সকালে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই দৃঢ় অবস্থানের কথা ব্যক্ত করেন। উপদেষ্টা স্পষ্ট করেন যে, একটি অসাধু চক্র ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে প্রশ্নফাঁসের ভুয়া গুজব ছড়িয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যা রোধে সাইবার নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

মাহদী আমিন জানান, প্রশ্নপত্র দেওয়ার নামে ভুয়া প্রশ্ন সাজিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সিটিটিসি ইউনিট গত কয়েক দিনে প্রতারক চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে। এই চক্রটি একটি স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু পরীক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যাহত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত ছিল। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ডিজিটাল মাধ্যমে কোনো চক্র অপতৎপরতা চালানোর চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে প্রকাশিত প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়ে উপদেষ্টা বলেন, বিষয়টি প্রকৃতপক্ষে কোনো প্রশ্নফাঁস ছিল না, বরং এটি ছিল একটি সুপরিকল্পিত প্রতারণা। চক্রটি পরীক্ষা শুরুর পর প্রশ্ন সংগ্রহ করে সেটিকে আগের রাতে আপলোড করা হয়েছে বলে দাবি করে শিক্ষার্থীদের ফাঁদে ফেলত। তবে উপযুক্ত তথ্যের অভাব ও প্রতিবেদনে ত্রুটি থাকায় সংশ্লিষ্ট টেলিভিশন চ্যানেলটি ইতোমধ্যে নিজ দায়িত্বেই সেই সংবাদটি সরিয়ে নিয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বিগত ১৬ বছরের শিক্ষা খাতের অব্যবস্থাপনার সমালোচনা করে মাহদী আমিন বলেন, অতীতে পাঠ্যপুস্তকে বিকৃত ইতিহাস ও মেধার চেয়ে দলীয় আনুগত্যকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল। তবে বর্তমান সরকার শিক্ষা খাতকে ঢেলে সাজাতে সচেষ্ট এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় নানাবিধ কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সরকার এমন একটি স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক শিক্ষা সংস্কৃতি গড়ে তুলতে চায় যা সব ধরনের প্রতারণামূলক মানসিকতার পরিপন্থী।

পরিশেষে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কোনো ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার জন্য বিশেষ আহ্বান জানান মাহদী আমিন। তিনি তথ্য যাচাই ছাড়া কোনো সংবাদ বা দাবি বিশ্বাস না করার পরামর্শ দেন এবং ডিজিটাল জগতের অপপ্রচার সম্পর্কে সবাইকে সচেতন থাকার অনুরোধ করেন। সরকারের এই কঠোর তদারকি ও ত্বরিত ব্যবস্থা একটি সুন্দর ও নকলমুক্ত পরীক্ষা পরিবেশ বজায় রাখতে সহায়ক হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


আজ থেকে কার্যকর নতুন বাস ভাড়া: আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার কোন রুটে কত

আপডেটেড ২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে দেশে পুনর্নির্ধারিত বর্ধিত বাস ভাড়া আজ রোববার (২৬ এপ্রিল) থেকে কার্যকর হচ্ছে। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ইতিমধ্যে আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার বিভিন্ন রুটের নতুন ভাড়ার তালিকা প্রকাশ করেছে। একই সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরী এলাকার ভাড়ার তালিকাও চূড়ান্ত করা হয়েছে। পরিবহণ সেবা নির্বিঘ্ন রাখতে এবং যাত্রীদের সঙ্গে ভাড়া নিয়ে অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্ক এড়াতে প্রতিটি যানবাহনে হালনাগাদ ভাড়ার তালিকা বা চার্ট টাঙানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

মূলত গত ১৮ এপ্রিল সরকার ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেনের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই পরিবহণ মালিকরা ভাড়া বাড়ানোর দাবি তুলেছিলেন। নতুন মূল্য অনুযায়ী প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা এবং অকটেন ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। জ্বালানি তেলের এই অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির প্রভাব সামঞ্জস্য করতেই বাসের ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। বিআরটিএ জানিয়েছে, নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা আদায় করলে বাসে দায়িত্বরত কর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং রাস্তায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

নতুন তালিকা অনুযায়ী, গাবতলী রুটের আওতায় ঢাকা থেকে পঞ্চগড়ে চলাচল করা ৫১ আসনের বাসের ভাড়া ১ হাজার ৫ টাকা এবং ৪০ আসনের বাসের ভাড়া ১ হাজার ২৮১ টাকা করা হয়েছে। একইভাবে ঢাকা-রংপুর রুটে বাসের আসনভেদে ভাড়া পড়বে ৭৫১ থেকে ৯১১ টাকা এবং দিনাজপুর রুটে ভাড়া ৯৭৪ থেকে ১ হাজার ২৪১ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া গাবতলী থেকে রাজশাহী ও মেহেরপুর রুটেও ভাড়া আসনভেদে সাতশ থেকে এক হাজার টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে।

সায়েদাবাদ থেকে ছেড়ে যাওয়া চট্টগ্রাম রুটের ৫১ আসনের বাসের ভাড়া এখন ৭০৪ টাকা এবং কক্সবাজার রুটের ভাড়া আসনভেদে ৯০০ থেকে ১ হাজার ১৪৭ টাকা পর্যন্ত পড়বে। এ ছাড়া সিলেট রুটে ৭৪০ টাকা, বরিশাল রুটে ৫৯২ টাকা এবং খুলনা রুটে ৬৯০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশের দীর্ঘতম রুট ঢাকা-টেকনাফে চলাচলকারী ৪০ আসনের বাসের ভাড়া এখন ১ হাজার ৩৩৫ টাকা। অন্যদিকে মহাখালী থেকে ময়মনসিংহ ও জামালপুর রুটে বাসের মান অনুযায়ী ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।

জ্বালানি তেলের এই দাম বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের যাতায়াত খরচ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে গেল। পরিবহণ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তেলের দাম লিটারে ১৫ থেকে ২০ টাকা বাড়ায় পরিবহণ খাতে এর বহুমুখী প্রভাব পড়বে। তবে সরকার ও বিআরটিএ-র পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, মালিকদের দাবির সঙ্গে সাধারণ মানুষের সামর্থ্যের একটি ভারসাম্য বজায় রেখেই এই নতুন ভাড়া কাঠামো তৈরি করা হয়েছে। আজ সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন টার্মিনাল থেকে ছেড়ে যাওয়া বাসে নতুন এই তালিকা কার্যকর হতে দেখা গেছে।


banner close