সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রার্থী বেশি,প্রতিদ্বন্দ্বী কম

ফাইল ছবি
আপডেটেড
২ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০০:১৪
তানজিমুল নয়ন
প্রকাশিত
তানজিমুল নয়ন
প্রকাশিত : ২ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০০:০০

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ২ হাজার ৭১৩ জন প্রার্থী। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে নিবন্ধিত ৪৪টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩২টি দল। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন ৭৪৭ জন। সে হিসাবে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রত্যয়নপত্র নিয়ে নির্বাচনে উপস্থিত ১৯৬৬ জন প্রার্থী। আর স্বতন্ত্রদের মধ্যে অন্তত ৪০০ জন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন। তবে সাধারণ মানুষের অভিযোগ, নির্বাচনে আসা বড় দল আওয়ামী লীগের মূল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বাইরে অন্যদলগুলোর বেশির ভাগ প্রার্থীই আসনগুলোর মানুষের কাছে অচেনা। প্রায় প্রতিটি আসনেই নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন এমন অনেক অচেনা মুখ যাদের প্রার্থিতা পেতে সমস্যা না হলেও নির্বাচনী লড়াইয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে পরিচিত হতেই পার হয়ে যাবে প্রচারণার বেশির ভাগ সময়। ফলে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, নির্বাচনে প্রার্থী আছে অনেক বেশি, কিন্তু, প্রতিদ্বন্দ্বী কম।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ৩০০ আসনের বিপরীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের (নৌকা) ৩০৩ জন, জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল) ৩০৪ জন, জাকের পার্টি (গোলাপ ফুল) ২১৮ জন, তৃণমূল বিএনপি (সোনালী আঁশ) ১৫১ জন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি- এনপিপি (আম) ১৪২ জন, বাংলাদেশ কংগ্রেস (ডাব) ১১৬ জন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ (মশাল) ৯১ জন, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন (ফুলের মালা) ৪৭ জন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন (বটগাছ) ১৩ জন, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি (হাতঘড়ি) ১৮ জন, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ (চেয়ার) ৩৯ জন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (কাঁঠাল) ১৩ জন, গণফ্রন্ট (মাছ) ২৫ জন, গণফোরাম (উদীয়মান সূর্য) ৯ জন, ইসলামী ঐক্যজোট (মিনার) ৪৫ জন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট (মোমবাতি) ৩৭ জন, জাতীয় পার্টি-জেপি (বাইসাইকেল) ২০ জন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ (গামছা) ৩৪ জন, গণতন্ত্রী পার্টি (কবুতর) ১২ জন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (হাতুড়ি) ৩৩ জন, বিকল্পধারা বাংলাদেশ (কুলা) ১৪ জন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (একতারা) ৮২ জন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন-বিএনএম (নোঙর) ৪৯ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট- বিএনএফ (টেলিভিশন) ৫৫ জন, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (ছড়ি) ৭৪ জন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ- বিএমএল (হাত-পাঞ্জা) ৫ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি- ন্যাপ (কুঁড়েঘর) ৬ জন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মই) একজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (রিকশা) একজন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ (খেজুর গাছ) একজন এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (হারিকেন) দুইজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

এদিকে মনোনয়ন জমার শেষ দিনেই ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম জানিয়েছেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিলের সময়সীমা বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। ফলে বিএনপিসহ যে দলগুলো নির্বাচন বর্জন করেছে তাদের আর মত পাল্টে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসার দৃশ্যমান কোনো সুযোগ নেই। আন্দোলনরত দলগুলোও অবশ্য আগেই এ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতি দিয়েছে।

ফলে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর যাচাই-বাছাই শেষে যেসব প্রার্থী টিকে যাবেন তারাই থাকবেন নির্বাচনী দৌড়ে। তবে প্রতিটি আসনে ভোটের লড়াইয়ে যারা যাচ্ছেন তাদের বেশির ভাগেরই দলের নাম সাধারণ মানুষ জানে না। আর দল অচেনা বলে প্রার্থীরাও অচেনা। ফলে তাদের ধারণা নির্বাচনী লড়াইয়ে আসলে টিকে থাকবেন বড় দলের পরিচিত মুখগুলো। এর মধ্যে শাসক দলের মার্কা নিয়ে লড়াই করা প্রার্থীরা যেমন আলোচনায় থাকবেন, তেমনই অনেক আসনেই তাদের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমাতে পারেন নির্বাচনে আসা আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। কেননা, দলটির স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বেশির ভাগই স্থানীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত এবং তাদের মোটামুটি ভোট ব্যাংক অথবা এলাকাবাসীকে প্রভাবিত করার সক্ষমতা রয়েছে। নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া ৭৪৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে অন্তত ৪০০ জনই আওয়ামী লীগের।
যদিও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গত কয়েক দিনের মতো গতকালও বলেছেন, দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ঢালাওভাবে নির্বাচন করতে পারবেন না। এ ছাড়া ১৪-দলীয় জোটের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির সম্ভাবনা রয়েছে আওয়ামী লীগের। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন, নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আসতে পারবেন জোটের এমন প্রার্থীরাই কেবল থাকবেন বিবেচনায়। আর ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করে তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এর ফলে এটা স্পষ্ট যে, জোটের সঙ্গে সমঝোতা হলে কয়েকটি আসনে আওয়ামী লীগ যাদের মনোনয়ন দিয়েছে তাদেরও রণে ভঙ্গ দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে হবে।

তবে আওয়ামী লীগ সভাপতি নির্বাচনী কৌশল হিসেবে এবার দলীয় মার্কার বাইরে দলীয় প্রার্থীদের স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড়ানোর সুযোগ দেয়ায় নির্বাচনে আসা প্রার্থীদের কতজন আবার দল চাইলে নির্দেশ মেনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন সেটাও আছে দেখার বিষয়।

তবে এই আলোচনার বাইরে থেকে যাচ্ছে বেশির ভাগ প্রার্থী যারা বিভিন্ন দল থেকে নির্বাচনে এলেও জনগণের কাছে নিজের দল, দলীয় প্রতীক এবং নিজের পরিচয় প্রকাশ করার সুযোগ পাবেন। তবে প্রতিটি আসনে স্থানীয় ভোটারদের কাছে তারা এখনো অচেনা এবং নতুন মুখ হিসেবে বিবেচিত।

যেমন দল হিসেবে এবারই প্রথম নির্বাচন করছে তৃণমূল বিএনপি, বিএনএম, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি। এসব দলের বেশির ভাগ প্রার্থী নিজ নিজ এলাকার ভোটারদের কাছে নতুন পরিচয়ে উপস্থিত হবেন। অনেকে আবার খুব বেশি পরিচিত নন। একইভাবে তাদের নির্বাচনী প্রতীক যথাক্রমে সোনালী আঁশ, নোঙর ও একতারা চেনাতেও এবার তাদের বিশেষ প্রস্তুতি নিতে হবে।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনএমের প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য আছেন ৬ জন এবং তৃণমূলের প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য আছেন ৫ জন।

এদিকে, গতকাল আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর কাদের বলেছেন, বিএনপির ১৫ কেন্দ্রীয় নেতাসহ সাবেক ৩০ জন সংসদ সদস্য নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এদের মধ্যে কাদের সিদ্দিকী, লতিফ সিদ্দিকী, আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর মতো নেতাও আছেন। আবার আগে বিএনপিতে প্রভাব ছিল দলটির এমন সাবেক নেতারাও আছেন নির্বাচনে। এদের মধ্যে তৈমূর আলম, সমশের মবিন চৌধুরীর নাম উল্লেখযোগ্য।

তবে এদের বাইরে নির্বাচনের মাঠে থাকা বেশির ভাগ প্রার্থীই অচেনা। এ বিষয়ে গাজীপুর-৪ আসনের একজন প্রার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমার দল এলাকায় তেমন পরিচিত নয়। দলের প্রচার চালাতে ও এলাকার মানুষের কাছে নিজের পরিচয় তুলে ধরতে এবার ভোট করতে আসা। আমিও জানি নির্বাচনে জয়লাভ করার অবস্থান এখনো আমার বা আমার দলের তৈরি হয়নি। তবে এক দিনে তো কিছুই হয় না। আমাদের দলের আদর্শ ও কর্মসূচি দেশের মানুষ ও এলাকার মানুষকে জানাতে আমরা নির্বাচনে এসেছি।’

অন্যদিকে লালমনিরহাট-৩ আসনে মনোনয়ন জমা দেয়া প্রার্থীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই সদর আসনে ৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সদ্য পদত্যাগকারী সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জাবেদ হোসেন বক্কর, জাতীয় পার্টি থেকে জাহিদ হাসান, তৃণমূল বিএনপি থেকে শামীম আহম্মেদ চৌধুরী, জাকের পার্টি থেকে সকিউজ্জামান মিয়া, বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল থেকে আশরাফুল আলম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) থেকে আবু তৈয়ব মো. আজমুল হক পাটোয়ারী, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) থেকে শ্রী হরিশ চন্দ্র রায় মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তবে এবার তিনি এ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেননি। ফলে এ আসনে নির্বাচনে অংশ নেয়া সব প্রার্থীই নতুন এবং নতুন একজন সংসদ সদস্য পাবে লালমনিরহাট সদরবাসী। তবে নতুন হলেও জেলা ও শহরের রাজনীতিতে পুরনো মুখ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান। ছাত্ররাজনীতি করায় জাবেদ হোসেন বক্করও সেখানে পরিচিত মুখ। জাকের পার্টি ও জাসদের প্রার্থীকেও অনেকে চেনেন। তবে সাম্যবাদী দল, এনপিপির প্রার্থীর মতো জাতীয় পার্টির প্রার্থীও এলাকার সবার চেনা মুখ নন। ফলে যে আসন থেকে জাতীয় পার্টি বর্তমান সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছে সেখানে নতুন মুখ দেয়ায় মাঠের রাজনীতিতে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন এলাকার অনেক বাসিন্দা।

বিষয়টা আরও স্পষ্ট হয় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনার ৬টি আসন বিশ্লেষণ করলে। দৈনিক বাংলার খুলনা ব্যুরো জানায়, খুলনার এই ৬টি আসনের জন্য সেখানে ৫৩ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে যারা সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচন করবেন, তাদের অধিকাংশেরই রাজনীতিতে তেমন কোনো পরিচিতি নেই। হঠাৎ করেই তারা কেন সংসদ নির্বাচনে আগ্রহী হলেন, এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে উত্তরও দেননি অধিকাংশ প্রার্থী।

খুলনা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের মনোনীত ৬ জন প্রার্থী, আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র ২ জন এবং জাতীয় পার্টির একজন প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচিতি রয়েছে। বাকি ৪৪ জন প্রার্থী কখনো রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয় ছিলেন না।

খুলনা প্রতিনিধির বিশ্লেষণ অনুযায়ী খুলনা-১ আসনের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ৬ জন। তারা হলেন, জাকের পার্টির মো. আজিজুর রহমান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ননী গোপাল মণ্ডল, জাতীয় পার্টির কাজী হাসানুর রশিদ, তৃণমূল বিএনপির গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রশান্ত কুমার রায় ও আবেদ আলী শেখ।

এদের মধ্যে ননী গোপাল মণ্ডল ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। রাজনীতিতে তার পরিচিতি রয়েছে। তবে বাকি চারজন রাজনীতিতে একেবারেই অপরিচিত। তারা প্রত্যেকেই এবার প্রথম সংসদ নির্বাচন করছেন। এদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রশান্ত কুমার রায় পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সাবেক সচিব।

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আমি নির্বাচন করছি। আমাকে ডামি প্রার্থীও বলা যাবে। এটা দলীয় নির্দেশেই হচ্ছে।’
আওয়ামী লীগের ননী গোপাল মণ্ডল বলেন, ‘দল আমাকে আবারও সুযোগ দিয়েছে। আমি দলের সম্মান রাখব বলে আশাবাদী।’

তবে বাকি চার প্রার্থীর তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই। জাতীয় পার্টীর কাজী হাসানুর রশিদ ও তৃণমূল বিএনপির গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিকের কাছে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেও কোনো উত্তর মেলেনি।

আর জাকের পার্টি মো. আজিজুর রহমান বলেন, ‘দল থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে বলেছে, তাই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি।’

অন্যদিকে খুলনা-২ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৯ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল, গণতন্ত্র পার্টির মো. মতিয়ার রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের দেবদাস সরকার, জাকের পার্টির ফরিদা পারভিন, ইসলামী ঐক্যজোটের হিদায়েতুল্লাহ, জাতীয় পার্টির মো. গাউসুল আজম, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের বাবু কুমার রায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সাঈদুর রহমান।

এদের মধ্যে শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থীর রাজনৈতিকভাবে পরিচিতি রয়েছে। তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। তবে বাকিদের আগে কখনো রাজনৈতিক মাঠে দেখা যায়নি।

কেন প্রার্থী হয়েছেন- এমন প্রশ্নে বাংলাদেশ কংগ্রেসের দেবদাস সরকার বলেন, ‘অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে মনোনয়ন জমা দেয়া হচ্ছে, তাই আমরাও দিচ্ছি।’

খুলনা-৩ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৫ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের এস এম কামাল হোসেন, জাকের পার্টির এস এম সাব্বির হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, স্বতন্ত্র প্রার্থী কাইজার আহমেদ ও ফাতেমা জামান সাথী।

এদের মধ্যেও শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচিতি রয়েছে। তিনি দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। তিন বারের সংসদ সদস্য ও দুই বারের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানকে সরিয়ে তাকেই আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিয়েছে। তবে ওই আসনেরও বাকি চারজনের তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই।

খুলনা-৪ আসন থেকে মনোনয়ন নিয়েছেন ১৪ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের আব্দুস সালাম মূর্শেদী, জাকের পার্টির শেখ আনছার আলী, জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এস এম আজমল হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. ফরহাদ আহমেদ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. মোস্তাফিজুর রহমান, তৃণমূল বিএনপির শেখ হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মনিরা সুলতানা, ইসলামী ঐক্যজোটের রিয়াজ উদ্দীন খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জুয়েল রানা, এম ডি এহসানুল হক, মো. রেজভী আলম, এস এম মোর্ত্তজা রশিদী দারা, আতিকুর রহমান ও এইচ এম রওশান জমির।

এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের আব্দুস সালাম মূর্শেদী বর্তমান সংসদ সদস্য। ২০১৮ সালের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে তিনি জয়ী হয়েছিলেন।

এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম মোর্ত্তজা রশিদী দারার দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস রয়েছে। তিনি ওই আসনের তিন বারের সাবেক সংসদ সদস্য এস এম মোস্তফা রশিদী সুজার আপন ভাই।

তিনি বলেন, এলাকার মানুষের দোয়া নিয়ে মাঠে নেমেছি। জয়-পরাজয় এলাকার মানুষই নির্ধারণ করবেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই আসনে আওয়ামী লীগের এই দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এলাকার ভোটাররা বলছেন, বাকি ১২ জন প্রার্থীদের নাম খুব একটা শোনেননি তারা। কেউ কেউ একেবারেই অপরিচিত।

খুলনা-৫ আসনের জন্য মনোনয় জমা দিয়েছেন ৭ জন। তারা হলেন- জাতীয় পার্টির মো. শহীদ আলম, জাকের পার্টির সামাদ সেখ, আওয়ামী লীগের নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, ওয়ার্কার্স পার্টির শেখ সেলিম আকতার, বাংলাদেশ কংগ্রেসের এস এম এ জলিল, ইসলামী ঐক্যজোটের তরিকুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ আকরাম হোসেন।

এদের মধ্যে নারায়ণ চন্দ্র চন্দ একাধিক বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী। এ ছাড়া আকরাম হোসেন ফুলতলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। এই আসনেও আওয়ামী লীগের এই দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ভোটাররা। বাকি যারা প্রার্থী হয়েছেন এলাকার রাজনীতিতে তাদের তেমন কোনো পরিচিতি নেই বলে জানা গেছে।

খুলনা-৬ আসনের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ১২ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের মো. রশীদুজ্জামান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. আবু সুফিয়ান, জাকের পার্টির শেখ মর্তুজা আল মামুন, জাতীয় পার্টির মো. শফিকুল ইসলাম মধু, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মির্জা গোলাম আজম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এস এম নেওয়াজ মোরশেদ, তৃণমূল বিএনপির গাজী নাদীর উদ্দীন খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম রাজু, গাজী মোস্তফা কামাল, জি এম মাহবুবুল আলম, মো. মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর ও মো. অহিদুজ্জামান মোড়ল।

এদের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত মো. রশীদুজ্জামানের কোনো দলীয় পদ নেই। তিনি একসময় পাইকগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্যসচিব ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে জামানত হারিয়েছিলেন। তবে তাকেই মনোনয়ন দিয়ে চমক সৃষ্টি করেছে ক্ষমতাসীন দল। ওই আসনে রাজনৈতিকভাবে পরিচিত রয়েছে জাতীয় পার্টির মো. শফিকুল ইসলাম মধুর। তিনি আগেও খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। বাকি প্রার্থীদের তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই। এলাকার সবার কাছে পরিচিত মুখও নন অনেকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশির ভাগ আসনেই ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীদের স্থানীয়রা তেমন একটা চেনেন না। তবে বিরোধীদের এক অংশ নির্বাচন বর্জন করায় রাজনীতির নতুন সমীকরণ মেলাতে ছোট দলগুলোই নির্বাচনে হতে যাচ্ছে বড় দলগুলোর সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনীযুদ্ধ পার হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী।

জাসদের মাঠপর্যায়ের এক রাজনীতিবিদ জসিম মণ্ডল বলেন, ‘নির্বাচন একটা বড় খেলা। এখানে সবাই নামে নিজ নিজ সমীকরণ মেলানোর জন্য। রাজনৈতিক দলগুলোর সমীকরণ হয় এক ধরনের, আবার প্রার্থীর সমীকরণ হয় আরেক ধরনের। সবাই নির্বাচনে জয়ী হতে যেমন অংশ নেয় না তেমনই কেউ কেউ নির্বাচনে যায় অন্যের যাত্রা ভঙ্গ করতে। আবার অনেকের কাছে ‘নির্বাচনে অংশগ্রহণই বড় কথা।’ জয়-পরাজয়ের চেয়েও বড় বিষয় এ সময় পোস্টারিং করে নিজের ছবি ও পরিচিতি পুরো এলাকার মানুষকে দেখানো যায়। এটাও বা কম কিসে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দেশের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষেরই আছে নির্বাচনে দাঁড়ানোর অধিকার। তাই কটা টাকা খরচ করে অনেকেই পরিচিতি বাড়ানোর সুযোগ নেয়। এর ফল তো অসীম-সারাজীবন নানাভাবে এর সুফল মেলে। যারা রাজনীতিতে আছেন, কেবল তারাই বোঝেন নির্বাচনে অংশ নিতে পারার গুরুত্ব।


উপজেলা নির্বাচনে পোস্টার-মিছিল নিষিদ্ধ, ইসির বিধিমালা জারি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন উপজেলা পরিষদ নির্বাচন আচরণ বিধিমালা-২০২৬ জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ স্বাক্ষরিত নতুন বিধিমালা গেজেট আকারে জারি করা।

নতুন বিধিমালায় নির্বাচনী প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহার নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি মিছিল-শোডাউন, হেলিকপ্টার ব্যবহার, সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর বা বিদ্বেষপূর্ণ কনটেন্ট প্রচারের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

নতুন বিধিমালায় উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের প্রচারণার ধরন ও ব্যয়ের ওপরও নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে। একই সঙ্গে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের সুযোগ রাখা হয়েছে। বিধিমালা লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধানও রাখা হয়েছে।

নতুন আচরণবিধির অন্যতম বড় পরিবর্তন হলো পোস্টার নিষিদ্ধ করা। কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি নির্বাচনী প্রচারণায় পোস্টার ব্যবহার করতে পারবেন না। ভবন, দেয়াল, গাছ, বেড়া, বিদ্যুতের খুঁটি, সরকারি স্থাপনা, সেতু ও কালভার্টসহ বিভিন্ন স্থানে প্রচারসামগ্রী ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ থাকবে।

তফসিল ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনের ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত প্রকাশ্য মিছিল করার সুযোগ থাকবে না। ট্রাক, বাস, মোটরসাইকেল, নৌযান ও ট্রেনসহ বিভিন্ন যানবাহন ব্যবহার করে মিছিল বা শোভাযাত্রাও করা যাবে না। নির্বাচনী প্রচারে হেলিকপ্টার বা অন্য কোনো আকাশযান ব্যবহারও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচারণার সুযোগ রাখা হয়েছে। এ ধরনের প্রচারণা শুরুর আগে প্রার্থীকে কোন কোন মাধ্যম ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে তথ্য দিতে হবে।

একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণায় ব্যয় হওয়া অর্থও নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হবে।

ডিজিটাল প্রচারণায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার ঠেকাতেও বিশেষ বিধান রাখা হয়েছে। কোনো প্রার্থী বা তার পক্ষে কেউ মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর, বিদ্বেষপূর্ণ বা ব্যক্তিগত আক্রমণমূলক বক্তব্য প্রচার করতে পারবেন না।

নির্বাচনী পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে, এমন কনটেন্ট তৈরি বা প্রচারও নিষিদ্ধ। এআই ব্যবহার করে এ ধরনের ভুয়া বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট তৈরি ও প্রচার করা যাবে না।

ভোটারদের প্রভাবিত করতে অর্থ, খাদ্য, পানীয় বা উপহার দেওয়ার ওপরও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।

ধর্মীয় উপাসনালয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি অফিসে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো যাবে না। ধর্মের অপব্যবহার, পেশিশক্তির ব্যবহার কিংবা কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে কুৎসা বা ব্যক্তিগত চরিত্রহননমূলক প্রচারণাও নিষিদ্ধ থাকবে।

সরকারি সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করেও কোনো প্রার্থী নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে পারবেন না। সরকারি যানবাহন, প্রচারযন্ত্র বা অন্য কোনো সরকারি সম্পদ নির্বাচনী কাজে ব্যবহার নিষিদ্ধ। একইভাবে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণের ওপর বিধিনিষেধ থাকবে।

নির্বাচনের দিন ভোটারদের কেন্দ্রে আনা-নেওয়ার জন্য যানবাহন ভাড়া বা ব্যবহারের সুযোগও থাকবে না। নির্বাচনী প্রচারণায় নির্ধারিত সীমার বাইরে ক্যাম্প স্থাপন ও মাইক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিধিমালায় নির্দিষ্ট নিয়ম মানতে হবে।

নতুন বিধিমালায় নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতাও জোরদার করা হয়েছে। কোনো প্রার্থী বা তার নির্বাচনী এজেন্ট আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন বা লঙ্ঘনের চেষ্টা করেছেন বলে কমিশনের কাছে প্রতীয়মান হলে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।

অভিযোগ প্রমাণিত হলে গুরুতর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে নির্বাচন কমিশন।

এ ছাড়া নির্বাচনী ব্যয়সীমা অতিক্রম করা, অর্থ বা পেশিশক্তি দিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করা এবং সরকারি সুবিধা ব্যবহার করে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।

নির্বাচন কমিশনের নতুন এ বিধিমালার মূল লক্ষ্য হলো উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে আরও অবাধ, সুষ্ঠু ও প্রতিযোগিতামূলক করা এবং প্রার্থীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা।

বিশেষ করে পোস্টার, মিছিল ও শোডাউন বন্ধ এবং ডিজিটাল প্রচারণায় এআই-নির্ভর অপপ্রচার ঠেকানোর বিধান এবারের উপজেলা নির্বাচনের প্রচারণায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে।

সূত্র: বাসস


নদীভাঙনে বদলে যাচ্ছে দেশের মানচিত্র

# পাঁচ দশকে যমুনা, গঙ্গা ও পদ্মায় বিলীন ১,৫৮৫ বর্গকিলোমিটার জমি # স্থায়ীভাবে হারিয়েছে ১,১৫৩ বর্গকিলোমিটার # সবচেয়ে বেশি ভাঙন যমুনায় # জমি হারানোর সঙ্গে হারাচ্ছে জীবিকা
ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

বাংলাদেশে নদীভাঙন এখন শুধু নদীতীরের মানুষের সমস্যা নয়। এর প্রভাব পড়ছে ভূমি, কৃষি, বসতি, জীবিকা ও নগরজীবনে। গত পাঁচ দশকে দেশের তিন প্রধান নদী—যমুনা, গঙ্গা ও পদ্মার ভাঙনে প্রায় ১ হাজার ৫৮৫ বর্গকিলোমিটার জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। আয়তনের হিসাবে এটি ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সম্মিলিত এলাকার পাঁচ গুণেরও বেশি।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্টাল অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস—সিইজিআইএস স্যাটেলাইটের ছবি বিশ্লেষণ করে এই হিসাব দিয়েছে। তবে ভাঙনে হারানো সব জমি স্থায়ীভাবে হারিয়ে যায়নি। একই সময়ে প্রায় ৪৩৩ বর্গকিলোমিটার জমি নতুন চর হিসেবে জেগে উঠেছে। ফলে স্থায়ীভাবে হারানো জমির পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ১৫৩ বর্গকিলোমিটার, যা পুরো ঢাকা শহরের প্রায় চার গুণ।

সবচেয়ে বেশি ভাঙন যমুনায়: ১৯৭৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তিন নদীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি জমি ভেঙেছে যমুনা। এ সময়ে নদীটি প্রায় ৯৪২ দশমিক ২০ বর্গকিলোমিটার জমি বিলীন করেছে। তিন নদীর মোট ভাঙনের প্রায় ৬০ শতাংশই যমুনার।

একই সময়ে গঙ্গায় প্রায় ৩০২ দশমিক ৯০ বর্গকিলোমিটার এবং পদ্মায় ৩৩৮ দশমিক ৪৩ বর্গকিলোমিটার জমি নদীগর্ভে গেছে।

তবে দীর্ঘমেয়াদি হিসাবে নদীভাঙনের হার কমেছে। ১৯৮০-এর দশকে যমুনায় বছরে গড়ে প্রায় ৫০ বর্গকিলোমিটার জমি ভাঙত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তা কমে প্রায় ১৫ বর্গকিলোমিটারে নেমেছে। পদ্মায় ১৯৯০-এর দশকে বছরে গড়ে প্রায় ২৩ বর্গকিলোমিটার ভাঙন হলেও গত এক দশকে তা ১০ বর্গকিলোমিটারের নিচে নেমেছে।

১৯৯৫ সালে যমুনা, পদ্মা ও গঙ্গায় সম্মিলিত ভাঙনের পরিমাণ ছিল প্রায় ৯৫ বর্গকিলোমিটার। এর মধ্যে যমুনায় ৪৭, পদ্মায় ৩৬ এবং গঙ্গায় ১২ বর্গকিলোমিটার জমি ভেঙেছিল।

২০২৫ সালে তিন নদীর সম্মিলিত ভাঙন কমে দাঁড়ায় ১০ দশমিক ৩৪ বর্গকিলোমিটারে। এর মধ্যে গঙ্গায় ৫ দশমিক ৯৩, যমুনায় ৩ দশমিক ৪৮ এবং পদ্মায় শূন্য দশমিক ৯৩ বর্গকিলোমিটার জমি ভেঙেছে।

জমি হারানোর সঙ্গে হারাচ্ছে জীবিকা: নদীভাঙনে সবচেয়ে বড় ক্ষতির মুখে পড়ছে কৃষিনির্ভর পরিবারগুলো। জমি হারানোর অর্থ তাদের জন্য শুধু বসতভিটা হারানো নয়; একই সঙ্গে হারাচ্ছে কৃষিকাজ, আয় ও পরিবারের দীর্ঘদিনের জীবিকার ভিত্তি।

ভাঙনের পর অনেক পরিবার প্রথমে আত্মীয়স্বজনের বাড়ি বা আশপাশের এলাকায় আশ্রয় নেয়। কিন্তু সেখানে দীর্ঘমেয়াদে কাজের সুযোগ না থাকায় একপর্যায়ে তাদের শহরমুখী হতে হয়।

সিইজিআইএসের হিসাবে, প্রতি এক বর্গকিলোমিটার নদীভাঙনে প্রায় এক হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হন। তবে নদীভাঙনে বাংলাদেশে মোট কত মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়েছেন, তার পূর্ণাঙ্গ সরকারি হিসাব নেই।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য ২০১৯ সালের। ওই বছর নয়টি জেলায় নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হিসেবে ২৪ হাজার ৩২৮টি পরিবার তালিকাভুক্ত হয়েছিল। ওই বছর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ধরা হয়েছিল ৩৬৬ কোটি টাকা। তবে দেশের সব নদী ও সব জেলা এই হিসাবের আওতায় ছিল না।

নদীভাঙনে বাস্তুচ্যুত মানুষের একটি অংশ শেষ পর্যন্ত ঢাকায় আসে। শিক্ষাগত যোগ্যতা ও পেশাগত দক্ষতা না থাকায় তাদের বড় অংশ অনানুষ্ঠানিক শ্রমবাজারে যুক্ত হয়। কেউ দিনমজুর, কেউ রিকশাচালক, কেউ গৃহকর্মী, আবার কেউ বাজারে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন।

ঢাকার পল্লবীর ভোলার বস্তিতে ৩০ হাজারের বেশি মানুষ বসবাস করেন। তাদের বেশির ভাগই ভোলা জেলার নদীভাঙন ও বন্যায় সর্বস্ব হারিয়ে ঢাকায় এসেছেন।

মিরপুর-১২, মোল্লা বস্তি ও দুয়ারীপাড়াসহ ঢাকার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় নদীভাঙনে বাস্তুচ্যুত মানুষের বসতি বেশি দেখা যায়। ফলে এসব এলাকায় অনানুষ্ঠানিক বসতি ও দারিদ্র্যের চাপও বাড়ছে।

নদীভাঙন তাই শুধু গ্রামীণ জনপদের সমস্যা হয়ে থাকছে না। এর প্রভাব রাজধানীর আবাসন, কর্মসংস্থান ও নগর দারিদ্র্যের ওপরও পড়ছে।

ইব্রাহিমের তিন একর জমি এখন নদীতে: জামালপুরের ইসলামপুরের চরগিলাবাড়ি গ্রামের ইব্রাহিম মিয়ার তিন একরের বেশি জমি ছিল। সেখানে আখ, বাদাম ও ধান চাষ করতেন। যমুনার ভাঙনে একসময় তার জমি ও ঘর দুটোই নদীতে চলে যায়। সর্বস্ব হারিয়ে পরিবার নিয়ে গাইবান্ধায় মামার বাড়িতে আশ্রয় নেন তিনি। সেখানে খেতমজুরি ছাড়া অন্য কাজের সুযোগ ছিল না। পরে ২০০৯ সালে ঢাকায় চলে আসেন।

এখন কারওয়ান বাজারের পাইকারি সবজি বাজারে জনমজুরের কাজ করেন। দিনে প্রায় এক হাজার টাকা আয় করেন। খাওয়া ও থাকার পেছনে খরচ হয় প্রায় ১৫০ টাকা।

তবু ঢাকাকে স্থায়ী ঠিকানা মনে করেন না ইব্রাহিম। যমুনায় তার জমি আবার জেগে উঠবে—এই আশায় রয়েছেন। পলি জমে জমি তৈরি হলে আবার জামালপুরে ফিরে যেতে চান তিনি।

চর জাগে, আবার বিলীনও হয়: নদীভাঙনের পাশাপাশি নতুন চর জেগে ওঠে। গত পাঁচ দশকে ভেঙে যাওয়া জমির মধ্যে প্রায় ৪৩৩ বর্গকিলোমিটার নতুন চর হিসেবে জেগেছে। কিন্তু এসব চর স্থায়ী নয়। নদীর গতিপথ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে একদিকে নতুন ভূমি তৈরি হয়, অন্যদিকে পুরোনো চর নদীতে বিলীন হয়ে যায়।

এ কারণে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য নতুন চর সবসময় স্থায়ী পুনর্বাসনের সুযোগ তৈরি করে না। অনেক পরিবারকে একাধিকবার বসতি বদলাতে হয়।

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার মাঝেরকান্দি গ্রামের বাসিন্দাদের অভিজ্ঞতা এর বড় উদাহরণ।

যে গ্রামের তিন ঠিকানা: মাঝেরকান্দির প্রবীণ বাসিন্দা ওয়াহাব খানের জীবদ্দশায় গ্রামটি তিনবার স্থান পরিবর্তন করেছে।

প্রায় ৪০ বছর আগে নদীর অপর পাড়ে থাকা পুরোনো মাঝেরকান্দি নদীতে বিলীন হয়ে যায়। গ্রামের মানুষ বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েন।

এর প্রায় ২৫ বছর পর নদীর মাঝখানে একটি চর জেগে উঠলে তারা সেখানে আবার বসতি গড়েন। নতুন জায়গাটির নামও রাখা হয় মাঝেরকান্দি। কিন্তু সাত বছর আগে সেই চরও নদীতে বিলীন হয়ে যায়।

এবার বাসিন্দারা বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন জমিতে আশ্রয় নেন। তবে সেখান থেকেও জায়গা ছেড়ে দেওয়ার নোটিশ পেতে হয় তাদের।

বারবার জায়গা বদলের কারণে কৃষিজমি, গাছপালা ও স্থায়ী জীবিকার সুযোগ হারিয়েছে পরিবারগুলো। একসময় নিজেদের জমি থেকে বছরে ২০০ মণ ধান পাওয়া পরিবার এখন দুই ছেলের দিনমজুরির আয়ের ওপর নির্ভর করছে।

কাঠুরিয়ায় বাড়ির উঠানেও নদী: শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার কাঠুরিয়া গ্রামে পদ্মার ভাঙনও তীব্র। সেখানে এখনো প্রায় ১০০ থেকে ১৫০টি পরিবার নদীর তীরে বসবাস করছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মনসুরা বেগমের বাড়ির পেছনের সড়ক ইতোমধ্যে নদীতে বিলীন হয়েছে। কয়েক বছর আগেও তাদের বাড়ি থেকে পদ্মা নদী প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে ছিল। গত বছর নদী তাদের জমির কাছে চলে আসে।

চলতি বছর মাত্র ১০ দিনের মধ্যে নদী তার বাড়ির উঠানের অর্ধেক গিলে নেয়। পরে পুরোনো ঘর থেকে খুলে আনা ঢেউটিন দিয়ে নতুন করে অস্থায়ী ঘর তৈরি করেন তিনি ও তার স্বামী।

ভাঙন শুরু হলে স্থানীয় লোকজন এসে ঘর খুলে জিনিসপত্র সরিয়ে নিতে সাহায্য করেন।

ভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রায় ৪০ জন শ্রমিক নদীতীরে বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলছেন। এতে মনসুরার বাড়ির উঠানের অবশিষ্ট অংশ আপাতত রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে।

তবে পাশের মাঝেরকান্দি গ্রামের মানুষ এতটা ভাগ্যবান হননি। পুরো গ্রামই নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ায় বাসিন্দাদের অন্যত্র আশ্রয় নিতে হয়েছে।

সিইজিআইএস চলতি বছরও নদীভাঙনের পূর্বাভাস দিয়েছে। তাদের হিসাবে, আরও ৯ দশমিক ১৫ বর্গকিলোমিটার জমি নদীতে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

গাইবান্ধা, জামালপুর, কুড়িগ্রাম, পাবনা, কুষ্টিয়া ও ফরিদপুরের ১১টি এলাকায় ভাঙনের ঝুঁকি রয়েছে। এসব এলাকায় চারটি স্কুল, তিনটি মসজিদ, একটি ক্লিনিক ও কয়েকটি সড়কসহ মোট ৭৩টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত বা বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে ১০০ মিটারের কম এলাকার সম্ভাব্য ভাঙন সিইজিআইএসের পূর্বাভাসে ধরা হয় না। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে ছোট আকারের ভাঙনের আরও কিছু ঘটনা এই হিসাবের বাইরে থাকতে পারে।

নদীভাঙন ঠেকাতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বালুভর্তি জিওব্যাগসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেয়। কোথাও এতে নদীতীর সাময়িকভাবে রক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে। আবার কোথাও ভাঙনের গতি এত বেশি যে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরও তীর রক্ষা করা যাচ্ছে না।

২০০৪ সাল থেকে সিইজিআইএস যমুনা, পদ্মা ও গঙ্গার ভাঙনের পূর্বাভাস দিয়ে আসছে। বর্ষার আগে স্যাটেলাইটের ছবি বিশ্লেষণ করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা হয়। এই পূর্বাভাসের ভিত্তিতে পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙনপ্রবণ এলাকায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেয়। তবে নদীভাঙনের দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের সঙ্গে শুধু তীর রক্ষা নয়, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসন ও জীবিকার বিষয়টিও যুক্ত।

নদীভাঙনের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবও বাংলাদেশের বাস্তুচ্যুতির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। জলবায়ু নিয়ে গবেষণা করা প্রতিষ্ঠান চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের প্রতি সাতজন মানুষের একজন জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাস্তুচ্যুত হতে পারেন। এর মধ্যে নদীভাঙনের কারণে বাস্তুচ্যুতির হার হতে পারে মোট বাস্তুচ্যুতির প্রায় ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ।

অর্থাৎ নদীভাঙনকে শুধু নদীর স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতির বিষয় হিসেবে দেখলে সমস্যার পুরো চিত্র পাওয়া যাবে না। ভূমি হারানো, কৃষি ও জীবিকার সংকট, বাস্তুচ্যুতি এবং শহরমুখী অভিবাসনের সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে।

পরিসংখ্যান বলছে, যমুনা, পদ্মা ও গঙ্গায় দীর্ঘমেয়াদে ভাঙনের হার কমেছে। কিন্তু নদীর গতিপথ পরিবর্তন, নতুন চর তৈরি এবং পুরোনো চর বিলীন হওয়ার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

একটি পরিবার নদীতে জমি হারানোর পর নতুন চর পেলে সেখানে আবার বসতি গড়তে পারে। কিন্তু সেই চর কতদিন টিকে থাকবে, তার নিশ্চয়তা থাকে না। ফলে অনেক পরিবারকে বারবার নতুন করে ঘর তুলতে হয়, জমি খুঁজতে হয় এবং জীবিকা শুরু করতে হয়।

মাঝেরকান্দির মতো গ্রামের মানুষের অভিজ্ঞতা দেখায়, নদীভাঙনের ক্ষতি শুধু একটি মৌসুমের নয়। বছরের পর বছর ধরে একটি পরিবারকে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে পিছিয়ে দিতে পারে এই ভাঙন। সব মিলিয়ে গত পাঁচ দশকে যমুনা, গঙ্গা ও পদ্মায় ১ হাজার ১৫৩ বর্গকিলোমিটার জমি স্থায়ীভাবে হারানোর হিসাব বাংলাদেশের নদীভাঙনের ব্যাপ্তি স্পষ্ট করে। একই সঙ্গে নদীভাঙনে বাস্তুচ্যুত মানুষের শহরমুখী প্রবণতা দেখাচ্ছে, এই সমস্যা এখন গ্রাম ও নদীতীর ছাড়িয়ে নগরজীবনেও প্রভাব ফেলছে। নদীভাঙনের হার কমানোর পাশাপাশি তাই প্রয়োজন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের নির্ভুল তথ্যভান্ডার, কার্যকর পুনর্বাসন, বিকল্প জীবিকার সুযোগ এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি নদীতীর সংরক্ষণ ব্যবস্থা। নইলে নদীর ভাঙনে শুধু জমির পরিমাণই কমবে না, বাড়তে থাকবে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা এবং শহরের ওপর তাদের নির্ভরশীলতাও।


সাভারে বাড়ছে খুন

# তুচ্ছ ঘটনায় বিরোধে একের পর এক প্রাণহানি # সর্বশেষ পিটিয়ে হত্যা করা হলো এসবির এসআইকে
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার অদূরে সাভার-আশুলিয়ায় একের পর এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় উদ্বেগ বাড়ছে। চলতি বছরের বিভিন্ন সময়ে এখানে ব্যক্তিগত বিরোধ, পারিবারিক কলহ, ছিনতাই, পূর্বশত্রুতা ও তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। কোথাও ঘরের ভেতর মরদেহ মিলেছে, কোথাও সড়কে বা নির্জন স্থানে পড়ে ছিল লাশ। কিছু ঘটনায় দ্রুত রহস্য উদ্‌ঘাটন ও আসামি গ্রেপ্তার হলেও বেশ কিছু ঘটনায় হত্যার কারণ ও জড়িতদের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত চলেছে। এর মধ্যেই সর্বশেষ আমিনবাজারে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় এলাকার অপরাধ পরিস্থিতি আবারও সামনে এসেছে।

গত শনিবার রাতে আমিনবাজারের বড়দেশি এলাকায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। ৫৮ বছর বয়সী আলতাফ হোসেন ঢাকার মালিবাগে এসবির কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। স্থানীয় একটি বিরোধের প্রতিবাদ করতে গিয়ে তিনি হামলার শিকার হন। একই ঘটনায় তার ছেলে আরিফুল ইসলামও আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত আলতাফকে হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার সূত্রপাত একটি গাড়িকে কেন্দ্র করে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা গেছে, বড়দেশি মদিনা হাউজিং এলাকায় একটি গেঞ্জি কারখানার সামনে গাড়ি রাখা ও একজন অটোরিকশাচালককে মারধরকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। আলতাফ হোসেন বিষয়টি থামাতে এগিয়ে গেলে তার সঙ্গে কয়েকজনের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়।

একপর্যায়ে হামলাকারীরা আলতাফের পিছু নিয়ে তার কারখানার দিকে যায়। সেখানে তার ওপর আবার হামলা চালানো হয়। ছেলে আরিফুল ইসলাম বাবাকে রক্ষা করতে গেলে তিনিও হামলার শিকার হন। পরে স্থানীয়রা দুজনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। আলতাফের মৃত্যু হয় চিকিৎসাধীন অবস্থায়।

ঘটনার পর আমিনবাজার এলাকা থেকে জহিরুল ইসলাম নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি প্রাইভেটকারের চালক ও মালিক বলে পুলিশ জানিয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী মামলা করেছেন। মামলায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

ঘটনাটির ছায়া তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। হামলার সূত্রপাত, দ্বিতীয় দফায় কারা হামলা চালায়, ঘটনাস্থলে কারা উপস্থিত ছিল এবং প্রত্যেকের ভূমিকা কী ছিল—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সাভার-আশুলিয়ায় চলতি বছরের আগের ঘটনাগুলোতেও হত্যার নানা ধরন সামনে এসেছে। জানুয়ারিতে সাভারে ভবঘুরের ছদ্মবেশে থাকা মশিউর রহমান ওরফে সম্রাটের বিরুদ্ধে ছয়জনকে হত্যার অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনায় এক বৃদ্ধা, এক নারী ও এক কিশোরীসহ ছয়জন নিহত হন। পরে সম্রাট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

মে মাসে আশুলিয়ায় একই পরিবারের দুই ভাইকে গুলি করার ঘটনা ঘটে। এর আগে স্ত্রীকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় আদালতে মৃত্যুদণ্ডের রায়ও হয়েছে।

জুন-জুলাইয়েও আশুলিয়া ও সাভারে হত্যাকাণ্ডের একাধিক ঘটনা সংবাদে আসে। জুলাইয়ে পিবিআই একটি হত্যাকাণ্ডের তদন্তে আসামিকে গ্রেপ্তার করে। আগস্টে সাভার-আশুলিয়া এলাকায় হত্যার অভিযোগে একাধিক মামলা ও তদন্তের খবর প্রকাশিত হয়।

আগস্টের অন্যতম আলোচিত ঘটনা ছিল একটি তালাবদ্ধ কক্ষ থেকে গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার। পরে পিবিআই তদন্ত করে ওই ঘটনায় আসামি শনাক্তের কথা জানায়।

তদন্তকারীদের জন্য ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, মোবাইল ফোনের তথ্য ও অন্যান্য আলামত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার জহিরুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ করে হামলায় অংশ নেওয়া অন্যদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

সাভার-আশুলিয়ায় ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড নিয়ে পুলিশ বলছে, প্রতিটি ঘটনাকে আলাদাভাবে গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের ধরন ও কারণ এক নয়। কোথাও পারিবারিক বিরোধ, কোথাও অর্থনৈতিক লেনদেন, কোথাও মাদক ও ছিনতাই, আবার কোথাও তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সহিংসতা তৈরি হচ্ছে।

ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার শামীমা পারভীনের বক্তব্য অনুযায়ী, আমিনবাজারের সর্বশেষ ঘটনায় একটি প্রাইভেটকার রাখা নিয়ে বিরোধ মেটাতে গিয়ে এসআই আলতাফ ও তার ছেলে হামলার শিকার হন। ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে একজনকে আটক করেছে এবং অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

সাভার মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল আলম জানান, আলতাফ হত্যার ঘটনায় একজনকে আটক করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে ঢাকা জেলা পিবিআই ছায়া তদন্ত শুরু করেছে।

পিবিআইয়ের ঢাকা জেলা ওসি সোলেমান গাজী জানিয়েছেন, ঘটনার পরপরই তারা ছায়া তদন্তে কাজ শুরু করেছেন।

আশুলিয়ায় দম্পতি হত্যার ঘটনায়ও পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে। আশুলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ তরিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, মামলার পর ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং নিহতদের স্বজন ও আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে ঘটনার সূত্র খোঁজা হচ্ছে।

সাভার-আশুলিয়া দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পাঞ্চল। বিপুলসংখ্যক শ্রমজীবী মানুষের বসবাস, দ্রুত নগরায়ণ, আবাসিক এলাকার বিস্তার এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আগমন এ এলাকার আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে আরও জটিল করে তুলেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনেক এলাকায় রাতের বেলায় পর্যাপ্ত টহল ও নজরদারি না থাকায় অপরাধীরা সুযোগ পায়।

বিশেষ করে আমিনবাজার, বড়দেশি, মদিনা হাউজিং, জামগড়া, বাইপাইল ও আশপাশের বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় জনসংখ্যা বাড়লেও সব এলাকায় সমানভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে অপরাধের পর দ্রুত আসামি গ্রেপ্তারের পাশাপাশি অপরাধ প্রতিরোধে আগাম গোয়েন্দা নজরদারি, নিয়মিত টহল এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে সিসিটিভি বাড়ানোর দাবি উঠেছে।


সাবেক সেনাপ্রধান আজিজের সম্পদ যাচাই করবে দুদক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ ও তার স্ত্রী দিলশাদ নাহার কাকলীর দাখিল করা সম্পদ বিবরণী যাচাই করবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ জন্য দুজনের সম্পদ যাচাই ও অনুসন্ধানের কার্যক্রম এগিয়ে নিতে কর্মকর্তা নিয়োগ করেছে সংস্থাটি।

দুদক জানিয়েছে, তাদের সম্পদ বিবরণী যাচাই ও অনুসন্ধানের জন্য দুদকের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসেনকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রোববার দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।

দুদকের সংশ্লিষ্ট নথিতে বলা হয়েছে, মিরপুর ডিওএইচএসের ঠিকানায় বসবাসকারী দিলশাদ নাহার কাকলীর দাখিল করা সম্পদ বিবরণী যাচাই ও অনুসন্ধানের জন্য কমিশন অনুসন্ধান কর্মকর্তা এবং তদারককারী কর্মকর্তা নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিধি অনুযায়ী যাচাই ও অনুসন্ধান কার্যক্রম শেষ করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে ২০২৪ সালের মে মাসে জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের দাবি জানিয়ে দুদকে আবেদন করেন এক আইনজীবী। পরে একই বছরের সেপ্টেম্বরে জেনারেল আজিজ এবং তার দুই ভাই হারিস আহমেদ ও তোফায়েল আহমেদ জোসেফের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচারসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।

জেনারেল আজিজের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে বাড়ি-ফ্ল্যাট কেনা এবং বিপুল অর্থ ব্যয়ে আলিশান বাংলো নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে। প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি বাংলো নির্মাণের অভিযোগও অনুসন্ধানের আওতায় রয়েছে।

এছাড়া মিরপুর ডিওএইচএসে বাড়ি এবং ঢাকার নিকুঞ্জ-১-এর ৬ নম্বর সড়কে ‘আজিজ রেসিডেন্স’ নামে একটি বাড়ি কেনার অভিযোগ রয়েছে। তাঁর দুই ভাইয়ের নামে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় বাড়ি ও বিপুল পরিমাণ জমি কেনার অভিযোগও রয়েছে।

দেশে-বিদেশে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অর্থ পাচার করে মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর ও দুবাইয়ে ব্যবসা পরিচালনা ও বাড়ি কেনার অভিযোগও অনুসন্ধান করছে দুদক।

জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ ২০২১ সালের ২৩ জুন সেনাপ্রধানের পদ থেকে অবসরে যান। অবসরের প্রায় তিন বছর পর, ২০২৪ সালের মে মাসে তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয় যুক্তরাষ্ট্র।


র‍্যাবের বদলে ‌‘এসআরবি’ পুরনো প্রতিষ্ঠানের খোলস বদলানোর শামিল: টিআইবি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) বিলুপ্ত করে নতুন বিশেষায়িত পুলিশ ইউনিট গঠনের লক্ষ্যে সংসদে উত্থাপিত ‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’- এর মাধ্যমে বাস্তবে নতুন নামে অধিকতর ক্ষমতায়িত ও কার্যত জবাবদিহিহীন র‍্যাবের আইনগত ভিত্তি তৈরি করা হচ্ছে। এ অভিযোগ এনে বিলটির ব্যাপারে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। বিলটিতে ‘এসআরবি’কে ব্যাপক ও অস্পষ্ট ক্ষমতা প্রদান, অস্ত্র ও বলপ্রয়োগের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত আইনি সুরক্ষার অনুপস্থিতি, সন্দেহের ভিত্তিতে পরোয়ানা ছাড়া তল্লাশি ও গ্রেপ্তারের সুযোগ, স্বার্থের দ্বন্দ্বযুক্ত অভ্যন্তরীণ অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থা, র‍্যাবের জনবলকে যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়া নতুন বাহিনীতে স্থানান্তরের ঝুঁকি এবং প্রেষণে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের অন্তর্ভুক্তির সুযোগ বহাল থাকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। রোববার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘র‍্যাব বিলুপ্তির নীতিগত সিদ্ধান্ত নিঃসন্দেহে বহু প্রতীক্ষিত এবং এটিকে আমরা ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু একটি বাহিনীর নাম পরিবর্তন করলেই প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার হয় না। র‍্যাবের বিরুদ্ধে বিচারবহির্ভূত হত্যা, গুম ও নির্যাতনের যে গুরুতর অভিযোগ ও প্রমাণ রয়েছে, সেগুলোর পুনরাবৃত্তি রোধে নতুন বাহিনীর কাঠামো, জনবল, ক্ষমতা, বলপ্রয়োগের বিধান এবং জবাবদিহির ব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আনতে হবে। অন্যথায় র‍্যাবের বদলে ‌‘এসআরবি’ নামে একই ধরনের ক্ষমতা ও সংস্কৃতির একটি বাহিনী গড়ে উঠলে তা হবে কেবলই পুরনো প্রতিষ্ঠানের খোলস বদলানোর শামিল। কেবল একটি ‘কসমেটিক মেকওভার’ এর মাধ্যমে দেশের নাগরিক বা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিভ্রান্ত করা যাবে না।

বিলে একাধিক ধারা সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘পুলিশ বাহিনীর বাইরে সশস্ত্র বা প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদস্যদের প্রেষণে ‘এসআরবি’তে অন্তর্ভুক্তির পথ স্থায়ীভাবে বন্ধ করতে হবে। কারণ এই বিধান অভ্যন্তরীণ পুলিশিংয়ে সামরিক যুদ্ধকৌশল ব্যবহারের ঝুঁকি জিইয়ে রাখবে যা প্রকারান্তে প্রতিপক্ষকে হত‍্যাসহ নির্মূল করতে দীক্ষা দেয়। এর পাশাপাশি, র‍্যাবের জনবল কোনো ধরনের যাচাই ছাড়া ঢালাওভাবে ‘এসআরবি’তে স্থানান্তরের বিধান রাখা হয়েছে। জাতিসংঘের সিকিউরিটি সেক্টর রিফর্ম (এসএসআর) ও ডিডিআর মানদণ্ড অনুযায়ী, অতীতে র‍্যাবে দায়িত্ব পালনে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন বা গুমের মতো অপরাধে অভিযুক্ত বা জড়িত কোনো সদস্য যেন নতুন বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হতে না পারে, সেজন্য একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ‘ভেটিং’ প্রক্রিয়া বাধ্যতামূলক করতে হবে।

খসড়ায় বাহিনীটির ওপর অবারিত ক্ষমতা অর্পণ ও বিচারিক সুরক্ষার অনুপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, ‘প্রস্তাবিত বিলে এই বিশেষায়িত ইউনিটকে গোয়েন্দা নজরদারি থেকে শুরু করে অভিযান, তল্লাশি ও সাধারণ তদন্তের মতো বহুমুখী ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এরপরও ‘অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা’ বা ‘সরকার কর্তৃক নির্দেশিত অন্যান্য দায়িত্ব’ -এর মতো অস্পষ্ট শব্দবন্ধের উপস্থিতি রাজনৈতিক উদ্দেশে ভিন্নমত দমন ও বলপ্রয়োগের সুযোগ ও অতীতের মতো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে আইনগত বৈধতা দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করেছে। একইভাবে বিলটিতে কেবল সন্দেহের বশে পরোয়ানা ছাড়া তল্লাশি ও গ্রেপ্তার এবং বাহিনীর নিজস্ব হাজতখানা ও জিজ্ঞাসাবাদ কক্ষ রাখার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এটি নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকারবিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তি (আইসিসিপিআর) এবং সংবিধানের মৌলিক অধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন।’

‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’ এর ২২ ধারায় প্রস্তাবিত অভিযোগ নিষ্পত্তি ব্যবস্থার সমালোচনা করে বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘প্রস্তাবিত বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিচালক ও অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত ‘অভিযোগ প্রতিকার কমিটি’ সুস্পষ্টভাবে স্বার্থের দ্বন্দ্বে দুষ্ট। কোনো বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তাদেরই সহকর্মীদের দিয়ে তদন্ত করানোর ব্যবস্থা কোনোভাবেই নিরপেক্ষ হতে পারে না। এই অভ্যন্তরীণ কাঠামোর পরিবর্তে সংস্থাটির বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্তে পুলিশ ও নির্বাহী বিভাগের প্রভাবমুক্ত, মানবাধিকার ও আইন বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন, নিরপেক্ষ, স্বার্থের দ্বন্দ্বমুক্ত এবং দলীয় ও নির্বাহী বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট বাহিনীর প্রভাবমুক্ত তদারকি কর্তৃপক্ষ গঠন করতে হবে। একই সঙ্গে এই কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসনের অধিকার নিশ্চিত করার আইনি সুরক্ষার বিধান অন্তর্ভুক্তির দাবি রাখছি।’

টিআইবি মনে করে, র‍্যাব বিলুপ্তির পর নতুন বাহিনী গঠনের ক্ষেত্রে সরকারের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে। নতুন বাহিনীর ক্ষমতার সুস্পষ্ট সীমারেখা, স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদারকি, স্বচ্ছ্ব সদস্য যাচাই প্রক্রিয়া, বিচারিক সুরক্ষা এবং কার্যকর প্রতিকার নিশ্চিত না হলে র‍্যাব বিলুপ্তির মূল উদ্দেশ্যই ব্যর্থ হবে। র‍্যাবের বিলুপ্তি শুধু একটি বাহিনীর নাম ও খোলস পরিবর্তনের প্রক্রিয়ায় সীমাবদ্ধ না থেকে বরং মানবাধিকার লঙ্ঘন ও দায়মুক্তির সংস্কৃতির অবসান ঘটিয়ে আইনের শাসন, নাগরিকের অধিকার এবং কার্যকর জবাবদিহির ভিত্তিতে একটি নতুন আইন প্রয়োগকারী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার সূচনা হয়- এটাই টিআইবির প্রত্যাশা।

‘স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) বিল, ২০২৬’ এর ধারা-ওয়ারি বিশ্লেষণ ও সুপারিশসহ একটি বিস্তারিত পলিসি ব্রিফ টিআইবির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সংসদীয় কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে। সুপারিশগুলো যথাযথ গুরুত্বের সাথে বিবেচনা ও সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ ও অংশীজনকে সম্পৃক্ত করে বিলটি আইনে পরিণত করার আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।


তৃণমূল স্বাস্থ্যসেবায় বড় পরিবর্তনের পরিকল্পনা সরকারের

# ৫ হাজার চিকিৎসক ও ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ # ১৫০ শয্যায় উন্নীত হবে উপজেলা হাসপাতাল # বিশেষায়িত চিকিৎসাসেবায়ও সম্প্রসারণ #বিনামূল্যে রোগ নির্ণয়ে প্যাথলজি ল্যাব # অ্যাম্বুলেন্স সেবায়ও পরিবর্তন # ডিজিটাল হবে স্বাস্থ্যসেবা
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

দেশের তৃণমূল পর্যায়ে সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে বড় ধরনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। উপজেলা হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর সংকট দূর করা, রোগ নির্ণয়ের সুবিধা সম্প্রসারণ, অ্যাম্বুলেন্স সেবা আধুনিকায়ন এবং ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে মানুষের দোরগোড়ায় চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে পর্যায়ক্রমে ৫ হাজার চিকিৎসক ও ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত জানিয়েছেন, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ বরাদ্দ দেশের মোট জিডিপির ১ দশমিক ০১ শতাংশ। তার দাবি, বাংলাদেশের ইতিহাসে এই প্রথম স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ জিডিপির ১ শতাংশের সীমা অতিক্রম করেছে।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, শুধু নতুন চিকিৎসক নিয়োগ নয়, উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালগুলোকে চিকিৎসাসেবার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে দেশের প্রায় ৫০৩টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে বিদ্যমান ৩০ বা ৫০ শয্যা থেকে পর্যায়ক্রমে ১৫০ থেকে ১৫১ শয্যার পূর্ণাঙ্গ হাসপাতালে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব হাসপাতালে নতুন ভবন, অতিরিক্ত ওয়ার্ড, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো যুক্ত করা হবে।

তৃণমূল স্বাস্থ্যসেবার অন্যতম বড় সমস্যা চিকিৎসক ও জনবল সংকট। প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রতিটি উপজেলায় পাঁচ থেকে আটজন করে নতুন চিকিৎসক পদায়ন করা হয়েছে। তবে প্রয়োজনের তুলনায় এই সংখ্যা এখনও অপ্রতুল।

এ কারণে আরও ৫ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের জন্য সরকারি কর্ম কমিশনকে (পিএসসি) অনুরোধ করা হয়েছে। এরই মধ্যে প্রায় ৯০০ চিকিৎসক নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

স্বাস্থ্য খাতে শুধু চিকিৎসক নয়, নার্স, টেকনিশিয়ান, মেডিকেল সহকারীসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীর ঘাটতিও রয়েছে। প্রতিমন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, মাঠপর্যায়ে বর্তমানে প্রায় ৪০ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী কাজ করছেন। দেশের বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য প্রয়োজন প্রায় দেড় লাখ। ফলে পর্যায়ক্রমে আরও ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

নতুন নিয়োগপ্রাপ্তদের আধুনিক প্রশিক্ষণের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে রোগ প্রতিরোধ ও প্রাথমিক চিকিৎসাসেবায় কাজে লাগানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ স্বাস্থ্য কিটের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে রক্তচাপ, রক্তে শর্করা এবং অন্যান্য সাধারণ পরীক্ষা করার ব্যবস্থাও গড়ে তোলা হবে। এর ফলে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও ক্যান্সারের মতো অসংক্রামক রোগ প্রাথমিক পর্যায়েই শনাক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে।

সরকারের পরিকল্পনায় উপজেলা হাসপাতালগুলোর সম্প্রসারণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রত্যন্ত এলাকার মানুষকে যাতে সামান্য চিকিৎসার জন্য জেলা শহর কিংবা রাজধানীতে ছুটতে না হয়, সে লক্ষ্যেই উপজেলা পর্যায়ে চিকিৎসা ও রোগ নির্ণয়ের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

প্রতিটি উপজেলার জমি, বিদ্যমান হাসপাতাল ভবন এবং সম্প্রসারণের প্রয়োজনীয়তা যাচাই করে ‘নিড অ্যাসেসমেন্ট’ করা হয়েছে। এর ভিত্তিতে হাসপাতালের জন্য চার ধরনের নকশাও প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে শুধু হাসপাতালের ভবন নির্মাণ করলেই স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন হবে না—চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ান, ওষুধ, চিকিৎসা সরঞ্জাম এবং নিয়মিত সেবা নিশ্চিত করাও জরুরি। সরকারের পরিকল্পনায় এসব বিষয়কে একই কাঠামোর আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।

তৃণমূল স্বাস্থ্যসেবার বড় দুর্বলতা রোগ নির্ণয়ের পর্যাপ্ত সুবিধার অভাব। অনেক উপজেলা হাসপাতালে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় রোগীদের জেলা শহর কিংবা বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে যেতে হয়। এতে চিকিৎসার খরচ যেমন বাড়ে, তেমনি দরিদ্র ও প্রত্যন্ত এলাকার মানুষ চিকিৎসা থেকে পিছিয়ে পড়েন। এই সমস্যা কমাতে প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেসিক প্যাথলজি ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। সাধারণ রোগ নির্ণয়ের অধিকাংশ পরীক্ষা যাতে স্থানীয় হাসপাতালেই করা যায়, সে লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ।

প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, হাসপাতাল শুধু ভবননির্ভর হলে হবে না। কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে আধুনিক যন্ত্রপাতি, ল্যাবরেটরি এবং প্রশিক্ষিত টেকনিশিয়ান প্রয়োজন। তাই চিকিৎসা সরঞ্জাম ও রোগ নির্ণয় সুবিধা সম্প্রসারণে বাজেটের বড় একটি অংশ ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।

জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে অ্যাম্বুলেন্স সংকটও দীর্ঘদিনের সমস্যা। অনেক হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও সেগুলো অকেজো, পুরোনো অথবা নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে রোগী পরিবহনে ব্যবহার করা যায় না।

এই পরিস্থিতি বদলাতে ভেঙে পড়া অ্যাম্বুলেন্স সেবা পুনর্গঠনে আলাদা বরাদ্দ রাখার কথা জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে একটি জাতীয় অ্যাম্বুলেন্স পুল গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে দ্রুত রোগীকে প্রয়োজনীয় হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে সরকারের।

স্বাস্থ্যসেবাকে আরও সহজ ও স্বচ্ছ করতে ডিজিটাল ব্যবস্থার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সরকারের ই-হেলথ ব্যবস্থার আওতায় প্রতিটি নাগরিকের জন্য ইউনিক স্বাস্থ্য আইডি তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

এই আইডির মাধ্যমে একজন রোগী দেশের যে হাসপাতালেই চিকিৎসা নিন না কেন, তার পূর্ববর্তী চিকিৎসা, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রেসক্রিপশনের তথ্য দেখার সুযোগ তৈরি হবে। এতে একই পরীক্ষা বারবার করার প্রবণতা কমবে এবং চিকিৎসক রোগীর আগের চিকিৎসার ইতিহাস দ্রুত জানতে পারবেন।

প্রাথমিকভাবে খুলনা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, নরসিংদী ও নোয়াখালী জেলায় ই-হেলথের পাইলট প্রকল্প চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। ডিসেম্বরের মধ্যে প্রোটোটাইপ প্রস্তুতের আশা করা হচ্ছে। এরপর এক থেকে দেড় বছর পাইলট কার্যক্রম পরিচালনা করে পর্যায়ক্রমে সারাদেশে এটি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।

একই সঙ্গে হাসপাতালে চিকিৎসকদের উপস্থিতি ডিজিটালভাবে পর্যবেক্ষণ এবং বহির্বিভাগের টিকিট অনলাইনে বুকিংয়ের ব্যবস্থাও চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে রোগীদের দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা কমার পাশাপাশি চিকিৎসকদের উপস্থিতি ও সেবার জবাবদিহি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

তৃণমূল পর্যায়ের পাশাপাশি বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগও রয়েছে। জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে নতুন ভবন ও শয্যা বাড়ানো এবং জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে নতুন একাডেমিক ও গবেষণা বিভাগ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

এ ছাড়া হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার দক্ষতা বাড়াতে সাভারে প্রতিষ্ঠিত নতুন হেলথ ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউটের মাধ্যমে সিভিল সার্জন, বিভাগীয় পরিচালক এবং উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাদের নেতৃত্ব ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সরকারের নতুন পরিকল্পনায় শুধু রোগ হওয়ার পর চিকিৎসা দেওয়ার পরিবর্তে রোগ প্রতিরোধ ও দ্রুত শনাক্তকরণকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বাড়ি বাড়ি স্বাস্থ্য পরীক্ষা, অসংক্রামক রোগের স্ক্রিনিং এবং প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তের ব্যবস্থা কার্যকর হলে জটিল রোগের চিকিৎসা ব্যয় ও মৃত্যুঝুঁকি কমানো সম্ভব হবে।

স্বাস্থ্য খাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকার এই বরাদ্দকে পাঁচ বছর মেয়াদি স্বাস্থ্য সংস্কার কর্মপরিকল্পনার প্রথম ধাপ হিসেবে দেখছে সরকার। প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, নতুন বাজেটকে শুধু অর্থের পরিমাণ হিসেবে দেখলে হবে না; সেই অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় করে বাস্তব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করাই বড় চ্যালেঞ্জ।

স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল হামিদ মনে করেন, নতুন অবকাঠামো তৈরির পাশাপাশি বিদ্যমান হাসপাতালের সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধান করাই জরুরি। সরকারি হাসপাতালগুলোতে নষ্ট ডায়াগনস্টিক যন্ত্রপাতি, রিএজেন্ট সংকট, জনবল ঘাটতি, ওষুধ সরবরাহের দুর্বলতা এবং ব্যবস্থাপনায় নমনীয় অর্থের অভাব এখনও স্বাস্থ্যসেবার বড় বাধা।

তার মতে, এসব সমস্যা দ্রুত সমাধান করা গেলে রোগীদের বেসরকারি খাতে চিকিৎসা নিতে যাওয়ার চাপ কমবে এবং সরকারি হাসপাতালের ওপর মানুষের আস্থা বাড়বে।

স্বাস্থ্য খাতে উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য রাখা ২৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার একটি অংশ দিয়ে জাতীয় স্বাস্থ্য তহবিল গঠনেরও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। তার মতে, জরুরি রোগের প্রাদুর্ভাব, ওষুধ বা স্যালাইনের সংকট কিংবা কোনো গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা যন্ত্র নষ্ট হলে এ ধরনের তহবিল থেকে দ্রুত অর্থ ছাড় করা সম্ভব হবে।

সব মিলিয়ে সরকারের পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হচ্ছে উপজেলা থেকে জেলা এবং জেলা থেকে বিশেষায়িত হাসপাতাল পর্যন্ত একটি সমন্বিত স্বাস্থ্যসেবা কাঠামো গড়ে তোলা। তবে এই পরিকল্পনার সফলতা নির্ভর করবে শুধু বাজেট ও অবকাঠামোর ওপর নয়; সময়মতো চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও সরঞ্জাম সরবরাহ, যন্ত্রপাতির রক্ষণাবেক্ষণ এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপরও।


হজের খরচ কমায় প্রায় ৫ কোটি টাকা ফেরত পাচ্ছেন ৪৩৪১ হাজি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করা ৪ হাজার ৩৪১ জন হাজিকে প্রায় ৫ কোটি টাকা ফেরত দিচ্ছে সরকার। সৌদি আরবে বাড়িভাড়া ও বিভিন্ন সার্ভিস চার্জ নির্ধারিত খরচের চেয়ে কম হওয়ায় মোট ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে। এর মধ্যে একজন হাজি সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬৪ হাজার ১৯০ টাকা পর্যন্ত ফেরত পাবেন। রোববার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ এসব তথ্য জানান। এ সময় ১০ জন হাজির হাতে রিফান্ডের চেক তুলে দেওয়া হয়। বাকি হাজিদের অর্থ ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের মাধ্যমে সরাসরি তাদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে।

ধর্ম মন্ত্রণালয় জানায়, চলতি বছরের হজ প্যাকেজে সৌদি আরবে বাড়িভাড়ার জন্য যে অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছিল, বাস্তবে তার চেয়ে কম খরচে বাসা ভাড়া নেওয়া সম্ভব হয়েছে। একইভাবে বিভিন্ন সার্ভিস চার্জেও নির্ধারিত অর্থের তুলনায় কম ব্যয় হয়েছে। এসব খাতে সাশ্রয় হওয়া অর্থ হাজিদের মধ্যে ফেরত দেওয়া হচ্ছে।

সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করা ৪ হাজার ৩৪১ জন এই অর্থ ফেরত পাবেন। তবে ২৩ জন হাজির ক্ষেত্রে রিফান্ড প্রযোজ্য হবে না। তাদের চিকিৎসা ব্যয় স্বাস্থ্যবিমার নির্ধারিত সীমার চেয়ে বেশি হওয়ায় ওই অর্থ ফেরত দেওয়ার সুযোগ নেই।

সংবাদ সম্মেলনে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী জানান, হজযাত্রীদের ব্যয় কমাতে সরকার বিভিন্ন খাতে খরচ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় ২০২৬ সালের হজযাত্রীদের বিমান ভাড়া আগের বছরের তুলনায় ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কমানো হয়েছিল।

আগামী ২০২৭ সালের হজে বিমানভাড়া আরও কমিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। এতে হজযাত্রীদের সামগ্রিক ব্যয় আরও কমবে বলে আশা করছে সরকার।

হজের রিফান্ডের অর্থ পাঠানোর কথা বলে প্রতারক চক্র যাতে হাজিদের কাছ থেকে গোপন তথ্য নিতে না পারে, সে বিষয়ে সতর্ক করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রিফান্ডের অর্থ পেতে কোনো হাজির ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের নম্বর, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের পিন বা ওটিপি দেওয়ার প্রয়োজন নেই। এসব তথ্য চেয়ে কেউ ফোন করলে তা প্রতারণার চেষ্টা হতে পারে। এ ধরনের ফোন বা বার্তায় সাড়া না দেওয়ার জন্য হাজিদের সতর্ক করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার এবং ধর্মসচিব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদসহ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


টাকা দেখে ফেলেন বাসের সুপারভাইজার, তারপরই খুনের ছক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মেয়ের বিয়ের জন্য বাড়ির জমি বিক্রি করে ৫ লাখ টাকা নিয়ে ফিরছিলেন ইসমাইল হোসেন। যে বাসে তিনি উঠেছিলেন, সেই বাসের সুপারভাইজার দেখে ফেলেন সেই টাকা। তারপর বাসচালকসহ তিন পরিবহনকর্মী মিলে এই অর্থ লুটের জন্যই ইসমাইলকে হত্যা করেন। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তারের পর রোববার সংবাদ সম্মেলন করে এই তথ্য জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন।

গ্রেপ্তার তিনজন হলেন রাজ ক্লাসিক পরিবহনের চালক সোহেল রানা (৪১), বাসটির সুপারভাইজার সাজু ওরফে লিমন (২৬) এবং হেলপার মো. মনির হোসেন (১৯)।

রাজ ক্লাসিক পরিবহনের একটি বাসেই ইসমাইল গত বৃহস্পতিবার বিকালে জামালপুর থেকে গাজীপুরে রওনা হয়েছিলেন। রাত ১১টার পর তার ফোন বন্ধ পেয়ে স্বজনরা উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠেন। পরদিন শুক্রবার সকালে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বনানী অংশে মুখে স্কচটেপ লাগানো অবস্থায় ইসমাইলের লাশ পাওয়া যায়।

ইসমাইলের (৪৯) বাড়ি জামালপুর সদর উপজেলার হবদেশ গ্রামে। তবে তিনি একসময় গাজীপুরের ডেল্টা স্পিনিং মিলে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে চাকরি করতেন। সে কারণে গাজীপুরের কাশিমপুরে বাসা নিয়ে স্ত্রী আসমা বেগম, দুই সন্তানকে নিয়ে থাকতেন। তবে কিছুদিন আগে চাকরি ছাড়ার পর তিনি একাই জামালপুরে ফিরে গিয়েছিলেন।

স্বজনরা জানিয়েছে, মেয়ের বিয়ের দিন-তারিখ চূড়ান্ত করতে জামালপুর থেকে গাজীপুরে আসছিলেন ইসমাইল। সঙ্গে ছিল জমি বিক্রির প্রায় পাঁচ লাখ টাকা।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কর্মকর্তা ফারুক বলেছেন, বাসের ভাড়া নেওয়ার সময় ইসমাইলের কাছে থাকা টাকা দেখে ফেলেছিলেন ‘রাজ ক্লাসিক’ বাসের সুপারভাইজার সাজু। সেই টাকা হাতিয়ে নিতে চালক ও হেলপারের সঙ্গে করেন পরিকল্পনা। পরে ইসমাইলকে শ্বাসরোধ হত্যা করে টাকা লুটের পর মরদেহ ফেলে দেওয়া হয় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে।

ইসমাইলের ছেলে মো. হাসান এর আগে জানিয়েছিলেন, বাস থেকে নামার পর বাবাকে নিতে তিনি ভোরে গাজীপুরের জিরানী বাজারে দাঁড়িয়েছিলেন। কিন্তু বাবার ফোন বন্ধ পাচ্ছিলেন।

ইসমাইলের নামার কথা ছিল জিরানীতে। তাহলে কেন তিনি সেখানে নামলেন না— সেই প্রশ্নে পুলিশ কর্মকর্তা ফারুক বলেছেন, পরিকল্পনা আঁটার পর ইসমাইলকে ঘুমিয়ে যেতে বলেছিলেন বাসের সুপারভাইজার। বলেছিলেন, নির্ধারিত স্থানে পৌঁছালে তাকে ঘুম থেকে তুলে দেওয়া হবে। ইসমাইল ঘুমিয়ে গেলে বাসের অন্য যাত্রীদের গাজীপুরের বিভিন্ন স্থানে নামিয়ে দেওয়া হয়। ইসমাইলকে নামানো হয়নি। তাকে নিয়ে বাসটি ঢাকার দিকে আসতে থাকে। একপর্যায়ে সুপারভাইজার এবং হেলপার মিলে ইসমাইলের মুখ এবং হাত স্কচটেপ দিয়ে বেঁধে ফেলেন এবং গলায় গামছা পেঁচিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করেন বলে দাবি পুলিশের।

পুলিশ কর্মকর্তা ফারুক বলেছেন, ইসমাইলের মৃত্যু নিশ্চিত করে তারা এয়ারপোর্ট থেকে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে দিয়ে বনানীতে আসেন। সেখান থেকে ইউটার্ন নিয়ে উল্টো পথে ফের এয়ারপোর্টের দিকে যাওয়ার সময় ইসমাইলের মরদেহ ফেলে রেখে যান।

বাসটি কীভাবে শনাক্ত করা হলো, এই প্রশ্নের উত্তরে সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ইসমাইল নিখোঁজ হওয়ার খবর জানার পর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে বনানী থানা পুলিশ। একপর্যায়ে রাজ ক্লাসিক নামে একটি বাসের গতিবিধি সন্দেহজনক মনে হয়।

তখন বাসটির সুপারভাইজার সাজু এবং হেলপার মনিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এরপর গ্রেপ্তার করা হয় চালক সোহেল রানাকে।

পুলিশ কর্মকর্তা ফারুক জানিয়েছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন তিনজন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা পুলিশকে বলেছেন, জামালপুরের দিকপাই বাসস্ট্যান্ড থেকে ইসমাইল উঠেছিলেন বাসে। একপর্যায়ে সাজু ভাড়া নেওয়ার সময় ইসমাইলের কাছে থাকা টাকা দেখে ফেলেন। বিষয়টি তিনি বাসচালককে জানান। পরে বাসচালক ইসমাইলের কাছ থেকে টাকাগুলো হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেন।

ইসমাইলের কাছে ৫ লাখ টাকা থাকলেও গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা জিজ্ঞাসাবাদে পুরো টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেননি বলে জানান ফারুক হোসেন। তারা পুলিশকে বলেছেন, আড়াই লাখ টাকার মতো তারা নিয়েছেন।

ইসমাইল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বনানী থানায় মামলা করেছেন তার ছেলে হাসান। সেই মামলায় তিন পরিবহনকর্মীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে।


কয়েকজন আসামির গতিবিধি সন্দেহজনক, নাশকতা ঘটাতে পারেন: চিফ প্রসিকিউটর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য নিরাপত্তাকর্মীদের সতর্ক করার কথা জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, কয়েকজন আসামির গতিবিধি, তৎপরতা সন্দেহজনক লেগেছে। তাদের কাছে কিছু গোপন তথ্য আছে যে তারা (কিছু আসামি) যেকোনো স্যাবোটাজ বা নাশকতামূলক ঘটনা ঘটাতে পারেন।

রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিজ কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে চিফ প্রসিকিউটর এ কথা বলেন।

এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে আমিনুল ইসলাম বলেন, এখানে যারা নিরাপত্তার কাজ করেন, ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য তারা তাদের সতর্ক করেছেন। কিছু কিছু আসামির গতিবিধি, তৎপরতা তাদের কাছে সন্দেহজনক লেগেছে। কিছু কিছু গোপন তথ্য তাদের (প্রসিকিউশন) কাছে আছে যে তারা (কিছু আসামি) যেকোনো স্যাবোটেজ বা নাশকতামূলক ঘটনা ঘটাতে পারেন।

এসব বিষয় বিচার-বিশ্লেষণ করে কাজ করছেন বলে জানান আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন নামে একটি আইন হতে যাচ্ছে। এটি অত্যন্ত যুগোপযোগী আইন। এই আইনের মাধ্যমে সারা দেশে গুমের বিচার হয়তো অন্য মাত্রার একটা গতি পাবে। যারা গুমের সঙ্গে জড়িত, তারা অত্যন্ত শক্তিশালী। সেটা মাথায় রেখেই তারা (প্রসিকিউশন) নিজেরা সতর্ক আছেন। গুমের শিকার ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদেরও সতর্ক থাকার জন্য তারা অনুরোধ জানাচ্ছেন। সরকারের কাছে তারা এই বিষয়ে সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছেন।

এক সপ্তাহ ধরে ‘স্যাবোটাজ’ শব্দটা একটু বেশি আসছে, সাংবাদিকের এমন প্রশ্নে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ট্রাইব্যুনালের ভেতরে-বাইরে প্রতিটা কর্মকাণ্ড, প্রতিটা জিনিস তাদের নজরদারিতে আছে। সে কারণে কেউ যদি কোনো অপতৎপরতা দেখাতে চান, এটা তাদের জন্য আত্মঘাতী হবে। এ রকম কোনো দুষ্টুচিন্তা কারও মনের মধ্যে যদি থাকে, কোনো অপরাধী যদি অন্য কোনো বিষয় চিন্তা করেন, এটা তাদের জন্য আত্মঘাতী বিষয় হবে।

গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’-এর দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত করছে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে আজ গুমের শিকার ৫৫টি পরিবারের সদস্যরা আসেন। তাদের জবানবন্দি গ্রহণ করবে তদন্ত সংস্থা। আজ চিফ প্রসিকিউটর ব্রিফিং করার সময় এই ৫৫ ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, এই পরিবারগুলোর অভিযোগের তদন্ত যখনই শুরু হয়েছে, কিছু কিছু অপরাধীদের তৎপরতাও কিন্তু বেড়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। ট্রাইব্যুনালে যে বিচার চলছে, যাদের বিরুদ্ধে এখন বিচার চলছে, তাদের বিষয়ে প্রশাসনের লক্ষ রাখার প্রয়োজন আছে। গুমের ভুক্তভোগী প্রতিটি পরিবারের প্রতি লক্ষ রাখার বিষয় আছে, যাতে তাদের নিরাপত্তা বাড়ানো যায়।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, অপরাধীকে বন্ধু মনে করার কোনো কারণ নেই। তারা (অপরাধী) তাদের মতো করেই কিন্তু যেকোনো সময় ছোবল মারতে পারেন।

সরকারকেও সচেতন থাকার আহ্বান জানান চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, গুমের ভুক্তভোগী পরিবার যারা আছে, তাদেরও সতর্ক থাকতে বলছেন তারা। বিশেষ করে এই তদন্ত যাতে কোনোভাবে ব্যাহত না হয়। কোনোভাবে যাতে কোনো ‘স্যাবোটাজ’ করে তদন্ত কার্যক্রমে কোনো ধরনের বাধা কেউ সৃষ্টি করতে না পারে।


ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর ওপর জোর রাষ্ট্রপতির

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আজ ঠাকুরগাঁও বড়মাঠে আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবি: পিআইডি

ঠাকুরগাঁও, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ (বাসস): রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে কৃষিভিত্তিক শিল্প ও বিনিয়োগ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, শিক্ষার প্রসার এবং বিমানবন্দর চালুর উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

আজ (রোববার) বিকেলে ঠাকুরগাঁও বড়মাঠে আয়োজিত গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে বিমানবন্দর চালু হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে সুবিধা হবে। তবে বিমানবন্দরকে কার্যকর ও টেকসই করতে হলে এলাকায় কলকারখানা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে হবে। আমাদের এখানে কোনো কলকারখানা নাই। তাই লোকের কাজও পায় না। বিমানবন্দর হলে কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে।

ঠাকুরগাঁওয়ে বিনিয়োগ বৃদ্ধির আশাবাদ ব্যক্ত করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমরা আশা করছি যে এখানে কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার জন্য খুব শিগগিরই কিছু বিনিয়োগকারী নিয়ে আসতে সক্ষম হব।’

এসময় তিনি কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে চীন থেকে বিনিয়োগকারী ও বিশেষজ্ঞ আনার বিষয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

রাষ্ট্রপতি ব্যবসায়ীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্থানীয়ভাবে আরও বিনিয়োগের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে ইতোমধ্যে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার কাজ এগিয়ে চলছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য জমি কেনা হয়েছে এবং মূল্যও পরিশোধ করা হয়েছে। ভাইস চ্যান্সেলর দায়িত্ব নিয়েছেন। সোমবার সেখানে ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে।

তিনি বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে একটি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠার দাবিও পূরণ হয়েছে। স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে এবং আগামী বছর থেকে সেখানে শিক্ষার্থী ভর্তি শুরু হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রপতি আরও জানান, জেলায় একটি স্পোর্টস ভিলেজ তৈরি হবে এবং উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে নতুন করে খেলার মাঠ নির্মাণ করা হবে। এছাড়াও আধুনিক তথ্য কমপ্লেক্স, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক কার্যালয়, আঞ্চলিক সমবায় প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট এবং পীরগঞ্জে কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত শিবগঞ্জ বিমানবন্দর চালুর আশা ব্যক্ত করে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে কৃষির অনেক উন্নতি হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আমরা কাজ করতে চাই। যারা কাজ করে তাদের সঙ্গে থাকতে চাই। যারা সততার সঙ্গে মানুষের সেবা এবং কল্যাণের জন্য কাজ করে তাদেরকে আমরা সাহস জোগাতে চাই এবং সমর্থন করতে চাই।’

এসময় তিনি তরুণ ও যুবসমাজকে উদ্যোক্তা হওয়ার এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টির সুযোগ তৈরির আহ্বান জানান। একই সঙ্গে নিজস্ব উদ্যোগে স্থানীয় নারীদের বিভিন্ন কাজের প্রশংসা করেন।

তরুণ সমাজের প্রতি মাদকবিরোধী আন্দোলন গড়ে তোলার এবং জেলাকে মাদকমুক্ত এলাকা হিসেবে গড়তে তিনি জেলা প্রশাসক ও সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান।

মানবিক ও সহনশীল সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘আসুন, সংঘাত, সংঘর্ষ, কিংবা প্রতিশোধ নয়; আমরা ভালোবাসার মধ্য দিয়ে সত্যিকারের একটা সমাজ গড়ে তুলি। যেখানে সবাই এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাব।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ঠাকুরগাঁয়ে কোন সংঘাত কোন সংঘর্ষ চাই না। সমস্ত রাজনৈতিক দলে প্রতি আহ্বান থাকবে, আপনারা নিজেদের রাজনীতি করবেন, দলের মতবাদ প্রচার করবেন কিন্তু সংঘাতে জড়াবেন না।’

এ সময় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অতীতে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষদের ওপর হওয়া নির্যাতন, গ্রেফতার ও মিথ্যা মামলার কথা উল্লেখ করেন এবং গণতন্ত্রকে রক্ষা করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

তিনি বাংলাদেশের রাজনীতিতে ‘সমঝতার রাজনীতি’ বা ‘পলিটিক্স অফ রিকনসলেশন’ প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।

এসময় তিনি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সহনশীলতা ও সমঅধিকারের ভিত্তিতে একটি মানবিক সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষ এ ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রপতি তাঁর পিতা-মাতা, স্থানীয় মুরুব্বি, শিক্ষকসহ তাঁর জীবনের পথচলায় যারা সহযোগিতা করেছেন তাদের কথা বিশেষভাবে স্মরণ করেন এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রপতি তাঁর সহধর্মিনী রাহাত আরা বেগমের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমার পুরো রাজনৈতিক জীবনে আমার সহধর্মিনী সাহস জুগিয়েছেন এবং পাশে দাঁড়িয়েছেন।’

তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘ লড়াই করায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করেন।

নাগরিক সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. আবু মো. খয়রুল কবিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, জাতীয় সংসদের হুইপ মো. আখতারুজ্জামান মিয়া, জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন, ঠাকুরগাঁও-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. আব্দুস সালাম, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহিদুর রহমান, রাষ্ট্রপতির বাল্যবন্ধু অধ্যাপক মনতোষ কুমার দে, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক বেলাল উদ্দীন প্রধান প্রমুখ।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন ইএসডিও-এর প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক ড. মুহম্মদ শহীদ উজ-জামান।


দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে জনমিতিক লভ্যাংশ কাজে লাগাতে হবে: চিফ হুইপ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেছেন, বাংলাদেশের সামনে থাকা জনমিতিক লভ্যাংশ (পপুলেশন ডিভিডেন্ট) কাজে লাগাতে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ ও শিক্ষিত মানবসম্পদে পরিণত করতে হবে।

তিনি বলেন, দেশের বিপুল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে যথাযথ শিক্ষা, কারিগরি ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে সম্পৃক্ত করা গেলে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরো ত্বরান্বিত হবে।

আজ জাতীয় সংসদের শপথ কক্ষে জাতীয় সংসদ সচিবালয় ও ইউএনএফপিএ বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে ‘পার্লামেন্টস রোল ইন রিয়্যালাইজিং পপুলেশন ডিভিডেন্টস, এসডিজিস এন্ড আইসিপিডিস কমিটমেন্টস' শীর্ষক কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চিফ হুইপ এসব কথা বলেন।

স্ট্রেনদেনিং পার্লামেন্টস ক্যাপাসিটি ইন ইন্টিগ্রেশন অব পপুলেশন এন্ড ডেভেলপমেন্ট ইস্যুস (এসপিসিপিডি) প্রকল্পের আওতায় এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউএনএফপিএ বাংলাদেশের প্রতিনিধি ক্যাথরিন ব্রিন কামকং।

চিফ হুইপ বলেন, একটি দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ থাকলেই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত হয় না; দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো দক্ষ ও শিক্ষিত জনগোষ্ঠী। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশকে তার বিপুল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে হবে। দক্ষ, শিক্ষিত ও উৎপাদনশীল জনগোষ্ঠীই দেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান শক্তি।

চিফ হুইপ বলেন, আগামী প্রায় এক দশক বাংলাদেশের জন্য জনমিতিক লভ্যাংশ কাজে লাগানোর গুরুত্বপূর্ণ সময়। এ সময়ে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা ও সক্ষমতাকে অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করতে হবে। দক্ষতা, শিক্ষা ও উৎপাদনশীলতাই দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি।

তিনি বলেন, জনমিতিক লভ্যাংশ কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে বাল্যবিবাহ, জলবায়ু পরিবর্তন, শিক্ষা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ রয়েছে। এসব সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানে সংসদ সদস্যদের সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। সংসদ সদস্যরা জনগণের প্রতিনিধি হওয়ায় জনসংখ্যা ও উন্নয়ন এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে তাদের সম্পৃক্ততা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নূরুল ইসলাম মনি বলেন, বিদেশে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে শুধু মানুষ পাঠানোই যথেষ্ট নয়; দক্ষতা ও কর্মমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করে তাদের আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে পাঠাতে হবে। দক্ষ কর্মীরা বিদেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখার পাশাপাশি দেশে বৈদেশিক মুদ্রা পাঠাবেন, যা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে।

তিনি উন্নয়ন সহযোগীদের প্রতি বাংলাদেশের মানবসম্পদ উন্নয়নে আরো কার্যকর সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানান।

একই সঙ্গে শিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ ও কর্মমুখী শিক্ষার প্রসারে গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করা গেলে একদিকে কর্মসংস্থান বাড়বে, অন্যদিকে দেশের উৎপাদনশীলতা ও রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি পাবে।


সংঘাত নয়, সমঝোতার রাজনীতি করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

রাজনৈতিক দলগুলোকে সহিংসতা ও রক্তক্ষয়ী সংঘাত পরিহার করে সমঝোতা এবং সহিষ্ণুতার রাজনীতি করার উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, “আমরা অনেক রক্তপাতের মধ্য দিয়ে এ দেশ পেয়েছি, আর কোনো রক্তপাত দেখতে চাই না। যে গণতন্ত্রের জন্য আমরা লড়াই করেছি, সেই গণতন্ত্র রক্ষা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করতে চাই।” আজ রবিবার ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। উল্লেখ্য, রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই তাঁর প্রথম ঠাকুরগাঁও সফর।

রাষ্ট্রপতি তাঁর বক্তব্যে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে বলেন, হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সব ধর্মের মানুষের মধ্যে কোনো বিভেদ থাকতে পারে না। বাংলাদেশের সকল নাগরিক সমান অধিকার নিয়ে শান্তিতে বসবাস করবে, এটাই সরকারের মূল লক্ষ্য। রাজনৈতিক দলগুলোর উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, “আপনারা নিজস্ব রাজনীতি ও মতবাদ প্রচার করুন; কিন্তু হানাহানি বা সংঘর্ষ থেকে দূরে থাকুন। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে রাজনৈতিক চর্চা চালানো উচিত। কারণ গণতন্ত্রের প্রধান ভিত্তিই হলো সহিষ্ণুতা।”

সততা ও নিষ্ঠার সাথে জনসেবায় আত্মনিয়োগ করার পরামর্শ দিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশের প্রকৃত উন্নয়ন নির্ভর করে দারিদ্র্য বিমোচন এবং শিক্ষার মান উন্নয়নের ওপর। শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত নিজ জন্মভূমির প্রতি গভীর আবেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “আমার জন্ম ও শৈশব এখানে। এ মাটির শিক্ষকরাই আমাকে গড়ে তুলেছেন। আমি যেখানেই থাকি না কেন, ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের পাশে থাকব।” পরিশেষে তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় জীবন বাজি রেখে কাজ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।


মানবিক সহায়তার পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই রাজনৈতিক সমাধান নিশ্চিত করতে হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ রাজধানীর বিআইআইএসএস মিলনায়তনে আইজিসিএফ কর্তৃক আয়োজিত গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, মানবিক সহায়তার পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই রাজনৈতিক সমাধান নিশ্চিত করতে হবে।

আজ (রোববার) রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল কোঅপারেশন ফাউন্ডেশন (আইজিসিএফ) কর্তৃক আয়োজিত ‘দ্য রোহিঙ্গা ক্রাইসিস : ইমার্জিং চ্যালেঞ্জেস অ্যান্ড রিফ্রেমিং রেসপনসিবিলিটিজ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে ‘গেস্ট অব অনার’ হিসেবে বক্তব্য রাখেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ।

তিনি রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রশাসনিক সমন্বয়ের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন। রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্নভাবে মায়ানমারে ফেরত পাঠাতে চেষ্টা করবে সরকার।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুটি যেন জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক রাডারে সর্বদা সক্রিয় থাকে এবং অন্য কোনো বৈশ্বিক রাজনৈতিক সংঘাত বা সংকটের আড়ালে চাপা পড়ে না যায়।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের যৌথ প্রচেষ্টা ও কার্যকর কূটনীতির মাধ্যমে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিজ মাতৃভূমি মিয়ানমারে দ্রুত মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে হবে।

মন্ত্রী বলেন, আশ্রয় পাওয়া প্রায় ১.৫ মিলিয়ন (ইউএনএইচসিআর-এর হিসাবে ১.২ মিলিয়ন) বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিককে (এফডিএমএন) যেন আমরা পূর্ণ মর্যাদা ও নিরাপত্তার সাথে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে পারি। এজন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সহায়তা ও রাজনৈতিক ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি।’

মন্ত্রী বলেন, ১৯৭৮ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সফল নেতৃত্বে এবং ১৯৯২ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী কূটনৈতিক উদ্যোগে বাংলাদেশ সফলভাবে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন সম্পন্ন করেছিল। অতীতের সেই সফল অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বে বর্তমান সরকার আবারও শতভাগ সফল প্রত্যাবাসন বাস্তবায়নে বদ্ধপরিকর।

মন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গতিশীল নেতৃত্বে ইতোমধ্যে ‘ন্যাশনাল স্ট্র্যাটেজি ফর্মুলেশন কমিটি অন রোহিঙ্গা অ্যাফেয়ার্স’ গঠিত হয়েছে। পাশাপাশি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক সমন্বয়ের জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে অপর একটি উচ্চপর্যায়ের জাতীয় কমিটি সক্রিয় রয়েছে।

এসময় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, রোহিঙ্গা পূনর্বাসন নিয়ে সরকার আশাবাদী। বাংলাদেশ মানবিক সহযোগিতা বহাল রাখবে। তবে মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় রোহিঙ্গাদের নিরাপদে সেখানে পৌছাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

আইজিসিএফ-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী আদনান রহমানের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে গোলটেবিল আলোচনাটি শুরু হয়। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির রাষ্ট্রবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. বুলবুল সিদ্দিকী।

গোলটেবিল আলোচনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশে ইউএনএইচসিআর প্রতিনিধি আইভো ফ্রেইসেন, বিআইআইএসএস-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ এস এম রিদওয়ানুর রহমান, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের শরণার্থী সেলের প্রধান ও যুগ্মসচিব মোহাম্মদ নাজমুল আবেদীন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘাত অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সাজ্জাদ সিদ্দিকী, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. নিলয় রঞ্জন বিশ্বাস, আইইউবি’র অধ্যাপক ড. কাজী মাহমুদুল রহমান, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নুরুল হুদা সাকিব এবং ইউল্যাব-এর সহকারী অধ্যাপক মিসেস অবন্তী হারুন, অ্যাকশন-এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির এবং দৈনিক প্রথম আলোর বিশেষ প্রতিনিধি রাহীদ এজাজ প্রমুখ।


banner close