আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ২ হাজার ৭১৩ জন প্রার্থী। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে নিবন্ধিত ৪৪টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩২টি দল। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন ৭৪৭ জন। সে হিসাবে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রত্যয়নপত্র নিয়ে নির্বাচনে উপস্থিত ১৯৬৬ জন প্রার্থী। আর স্বতন্ত্রদের মধ্যে অন্তত ৪০০ জন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন। তবে সাধারণ মানুষের অভিযোগ, নির্বাচনে আসা বড় দল আওয়ামী লীগের মূল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বাইরে অন্যদলগুলোর বেশির ভাগ প্রার্থীই আসনগুলোর মানুষের কাছে অচেনা। প্রায় প্রতিটি আসনেই নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন এমন অনেক অচেনা মুখ যাদের প্রার্থিতা পেতে সমস্যা না হলেও নির্বাচনী লড়াইয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে পরিচিত হতেই পার হয়ে যাবে প্রচারণার বেশির ভাগ সময়। ফলে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, নির্বাচনে প্রার্থী আছে অনেক বেশি, কিন্তু, প্রতিদ্বন্দ্বী কম।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ৩০০ আসনের বিপরীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের (নৌকা) ৩০৩ জন, জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল) ৩০৪ জন, জাকের পার্টি (গোলাপ ফুল) ২১৮ জন, তৃণমূল বিএনপি (সোনালী আঁশ) ১৫১ জন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি- এনপিপি (আম) ১৪২ জন, বাংলাদেশ কংগ্রেস (ডাব) ১১৬ জন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ (মশাল) ৯১ জন, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন (ফুলের মালা) ৪৭ জন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন (বটগাছ) ১৩ জন, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি (হাতঘড়ি) ১৮ জন, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ (চেয়ার) ৩৯ জন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (কাঁঠাল) ১৩ জন, গণফ্রন্ট (মাছ) ২৫ জন, গণফোরাম (উদীয়মান সূর্য) ৯ জন, ইসলামী ঐক্যজোট (মিনার) ৪৫ জন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট (মোমবাতি) ৩৭ জন, জাতীয় পার্টি-জেপি (বাইসাইকেল) ২০ জন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ (গামছা) ৩৪ জন, গণতন্ত্রী পার্টি (কবুতর) ১২ জন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (হাতুড়ি) ৩৩ জন, বিকল্পধারা বাংলাদেশ (কুলা) ১৪ জন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (একতারা) ৮২ জন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন-বিএনএম (নোঙর) ৪৯ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট- বিএনএফ (টেলিভিশন) ৫৫ জন, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (ছড়ি) ৭৪ জন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ- বিএমএল (হাত-পাঞ্জা) ৫ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি- ন্যাপ (কুঁড়েঘর) ৬ জন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মই) একজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (রিকশা) একজন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ (খেজুর গাছ) একজন এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (হারিকেন) দুইজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
এদিকে মনোনয়ন জমার শেষ দিনেই ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম জানিয়েছেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিলের সময়সীমা বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। ফলে বিএনপিসহ যে দলগুলো নির্বাচন বর্জন করেছে তাদের আর মত পাল্টে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসার দৃশ্যমান কোনো সুযোগ নেই। আন্দোলনরত দলগুলোও অবশ্য আগেই এ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতি দিয়েছে।
ফলে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর যাচাই-বাছাই শেষে যেসব প্রার্থী টিকে যাবেন তারাই থাকবেন নির্বাচনী দৌড়ে। তবে প্রতিটি আসনে ভোটের লড়াইয়ে যারা যাচ্ছেন তাদের বেশির ভাগেরই দলের নাম সাধারণ মানুষ জানে না। আর দল অচেনা বলে প্রার্থীরাও অচেনা। ফলে তাদের ধারণা নির্বাচনী লড়াইয়ে আসলে টিকে থাকবেন বড় দলের পরিচিত মুখগুলো। এর মধ্যে শাসক দলের মার্কা নিয়ে লড়াই করা প্রার্থীরা যেমন আলোচনায় থাকবেন, তেমনই অনেক আসনেই তাদের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমাতে পারেন নির্বাচনে আসা আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। কেননা, দলটির স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বেশির ভাগই স্থানীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত এবং তাদের মোটামুটি ভোট ব্যাংক অথবা এলাকাবাসীকে প্রভাবিত করার সক্ষমতা রয়েছে। নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া ৭৪৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে অন্তত ৪০০ জনই আওয়ামী লীগের।
যদিও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গত কয়েক দিনের মতো গতকালও বলেছেন, দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ঢালাওভাবে নির্বাচন করতে পারবেন না। এ ছাড়া ১৪-দলীয় জোটের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির সম্ভাবনা রয়েছে আওয়ামী লীগের। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন, নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আসতে পারবেন জোটের এমন প্রার্থীরাই কেবল থাকবেন বিবেচনায়। আর ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করে তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
এর ফলে এটা স্পষ্ট যে, জোটের সঙ্গে সমঝোতা হলে কয়েকটি আসনে আওয়ামী লীগ যাদের মনোনয়ন দিয়েছে তাদেরও রণে ভঙ্গ দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে হবে।
তবে আওয়ামী লীগ সভাপতি নির্বাচনী কৌশল হিসেবে এবার দলীয় মার্কার বাইরে দলীয় প্রার্থীদের স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড়ানোর সুযোগ দেয়ায় নির্বাচনে আসা প্রার্থীদের কতজন আবার দল চাইলে নির্দেশ মেনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন সেটাও আছে দেখার বিষয়।
তবে এই আলোচনার বাইরে থেকে যাচ্ছে বেশির ভাগ প্রার্থী যারা বিভিন্ন দল থেকে নির্বাচনে এলেও জনগণের কাছে নিজের দল, দলীয় প্রতীক এবং নিজের পরিচয় প্রকাশ করার সুযোগ পাবেন। তবে প্রতিটি আসনে স্থানীয় ভোটারদের কাছে তারা এখনো অচেনা এবং নতুন মুখ হিসেবে বিবেচিত।
যেমন দল হিসেবে এবারই প্রথম নির্বাচন করছে তৃণমূল বিএনপি, বিএনএম, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি। এসব দলের বেশির ভাগ প্রার্থী নিজ নিজ এলাকার ভোটারদের কাছে নতুন পরিচয়ে উপস্থিত হবেন। অনেকে আবার খুব বেশি পরিচিত নন। একইভাবে তাদের নির্বাচনী প্রতীক যথাক্রমে সোনালী আঁশ, নোঙর ও একতারা চেনাতেও এবার তাদের বিশেষ প্রস্তুতি নিতে হবে।
তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনএমের প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য আছেন ৬ জন এবং তৃণমূলের প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য আছেন ৫ জন।
এদিকে, গতকাল আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর কাদের বলেছেন, বিএনপির ১৫ কেন্দ্রীয় নেতাসহ সাবেক ৩০ জন সংসদ সদস্য নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এদের মধ্যে কাদের সিদ্দিকী, লতিফ সিদ্দিকী, আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর মতো নেতাও আছেন। আবার আগে বিএনপিতে প্রভাব ছিল দলটির এমন সাবেক নেতারাও আছেন নির্বাচনে। এদের মধ্যে তৈমূর আলম, সমশের মবিন চৌধুরীর নাম উল্লেখযোগ্য।
তবে এদের বাইরে নির্বাচনের মাঠে থাকা বেশির ভাগ প্রার্থীই অচেনা। এ বিষয়ে গাজীপুর-৪ আসনের একজন প্রার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমার দল এলাকায় তেমন পরিচিত নয়। দলের প্রচার চালাতে ও এলাকার মানুষের কাছে নিজের পরিচয় তুলে ধরতে এবার ভোট করতে আসা। আমিও জানি নির্বাচনে জয়লাভ করার অবস্থান এখনো আমার বা আমার দলের তৈরি হয়নি। তবে এক দিনে তো কিছুই হয় না। আমাদের দলের আদর্শ ও কর্মসূচি দেশের মানুষ ও এলাকার মানুষকে জানাতে আমরা নির্বাচনে এসেছি।’
অন্যদিকে লালমনিরহাট-৩ আসনে মনোনয়ন জমা দেয়া প্রার্থীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই সদর আসনে ৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সদ্য পদত্যাগকারী সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জাবেদ হোসেন বক্কর, জাতীয় পার্টি থেকে জাহিদ হাসান, তৃণমূল বিএনপি থেকে শামীম আহম্মেদ চৌধুরী, জাকের পার্টি থেকে সকিউজ্জামান মিয়া, বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল থেকে আশরাফুল আলম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) থেকে আবু তৈয়ব মো. আজমুল হক পাটোয়ারী, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) থেকে শ্রী হরিশ চন্দ্র রায় মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তবে এবার তিনি এ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেননি। ফলে এ আসনে নির্বাচনে অংশ নেয়া সব প্রার্থীই নতুন এবং নতুন একজন সংসদ সদস্য পাবে লালমনিরহাট সদরবাসী। তবে নতুন হলেও জেলা ও শহরের রাজনীতিতে পুরনো মুখ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান। ছাত্ররাজনীতি করায় জাবেদ হোসেন বক্করও সেখানে পরিচিত মুখ। জাকের পার্টি ও জাসদের প্রার্থীকেও অনেকে চেনেন। তবে সাম্যবাদী দল, এনপিপির প্রার্থীর মতো জাতীয় পার্টির প্রার্থীও এলাকার সবার চেনা মুখ নন। ফলে যে আসন থেকে জাতীয় পার্টি বর্তমান সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছে সেখানে নতুন মুখ দেয়ায় মাঠের রাজনীতিতে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন এলাকার অনেক বাসিন্দা।
বিষয়টা আরও স্পষ্ট হয় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনার ৬টি আসন বিশ্লেষণ করলে। দৈনিক বাংলার খুলনা ব্যুরো জানায়, খুলনার এই ৬টি আসনের জন্য সেখানে ৫৩ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে যারা সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচন করবেন, তাদের অধিকাংশেরই রাজনীতিতে তেমন কোনো পরিচিতি নেই। হঠাৎ করেই তারা কেন সংসদ নির্বাচনে আগ্রহী হলেন, এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে উত্তরও দেননি অধিকাংশ প্রার্থী।
খুলনা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের মনোনীত ৬ জন প্রার্থী, আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র ২ জন এবং জাতীয় পার্টির একজন প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচিতি রয়েছে। বাকি ৪৪ জন প্রার্থী কখনো রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয় ছিলেন না।
খুলনা প্রতিনিধির বিশ্লেষণ অনুযায়ী খুলনা-১ আসনের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ৬ জন। তারা হলেন, জাকের পার্টির মো. আজিজুর রহমান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ননী গোপাল মণ্ডল, জাতীয় পার্টির কাজী হাসানুর রশিদ, তৃণমূল বিএনপির গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রশান্ত কুমার রায় ও আবেদ আলী শেখ।
এদের মধ্যে ননী গোপাল মণ্ডল ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। রাজনীতিতে তার পরিচিতি রয়েছে। তবে বাকি চারজন রাজনীতিতে একেবারেই অপরিচিত। তারা প্রত্যেকেই এবার প্রথম সংসদ নির্বাচন করছেন। এদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রশান্ত কুমার রায় পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সাবেক সচিব।
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আমি নির্বাচন করছি। আমাকে ডামি প্রার্থীও বলা যাবে। এটা দলীয় নির্দেশেই হচ্ছে।’
আওয়ামী লীগের ননী গোপাল মণ্ডল বলেন, ‘দল আমাকে আবারও সুযোগ দিয়েছে। আমি দলের সম্মান রাখব বলে আশাবাদী।’
তবে বাকি চার প্রার্থীর তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই। জাতীয় পার্টীর কাজী হাসানুর রশিদ ও তৃণমূল বিএনপির গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিকের কাছে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেও কোনো উত্তর মেলেনি।
আর জাকের পার্টি মো. আজিজুর রহমান বলেন, ‘দল থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে বলেছে, তাই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি।’
অন্যদিকে খুলনা-২ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৯ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল, গণতন্ত্র পার্টির মো. মতিয়ার রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের দেবদাস সরকার, জাকের পার্টির ফরিদা পারভিন, ইসলামী ঐক্যজোটের হিদায়েতুল্লাহ, জাতীয় পার্টির মো. গাউসুল আজম, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের বাবু কুমার রায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সাঈদুর রহমান।
এদের মধ্যে শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থীর রাজনৈতিকভাবে পরিচিতি রয়েছে। তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। তবে বাকিদের আগে কখনো রাজনৈতিক মাঠে দেখা যায়নি।
কেন প্রার্থী হয়েছেন- এমন প্রশ্নে বাংলাদেশ কংগ্রেসের দেবদাস সরকার বলেন, ‘অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে মনোনয়ন জমা দেয়া হচ্ছে, তাই আমরাও দিচ্ছি।’
খুলনা-৩ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৫ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের এস এম কামাল হোসেন, জাকের পার্টির এস এম সাব্বির হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, স্বতন্ত্র প্রার্থী কাইজার আহমেদ ও ফাতেমা জামান সাথী।
এদের মধ্যেও শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচিতি রয়েছে। তিনি দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। তিন বারের সংসদ সদস্য ও দুই বারের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানকে সরিয়ে তাকেই আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিয়েছে। তবে ওই আসনেরও বাকি চারজনের তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই।
খুলনা-৪ আসন থেকে মনোনয়ন নিয়েছেন ১৪ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের আব্দুস সালাম মূর্শেদী, জাকের পার্টির শেখ আনছার আলী, জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এস এম আজমল হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. ফরহাদ আহমেদ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. মোস্তাফিজুর রহমান, তৃণমূল বিএনপির শেখ হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মনিরা সুলতানা, ইসলামী ঐক্যজোটের রিয়াজ উদ্দীন খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জুয়েল রানা, এম ডি এহসানুল হক, মো. রেজভী আলম, এস এম মোর্ত্তজা রশিদী দারা, আতিকুর রহমান ও এইচ এম রওশান জমির।
এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের আব্দুস সালাম মূর্শেদী বর্তমান সংসদ সদস্য। ২০১৮ সালের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে তিনি জয়ী হয়েছিলেন।
এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম মোর্ত্তজা রশিদী দারার দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস রয়েছে। তিনি ওই আসনের তিন বারের সাবেক সংসদ সদস্য এস এম মোস্তফা রশিদী সুজার আপন ভাই।
তিনি বলেন, এলাকার মানুষের দোয়া নিয়ে মাঠে নেমেছি। জয়-পরাজয় এলাকার মানুষই নির্ধারণ করবেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই আসনে আওয়ামী লীগের এই দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এলাকার ভোটাররা বলছেন, বাকি ১২ জন প্রার্থীদের নাম খুব একটা শোনেননি তারা। কেউ কেউ একেবারেই অপরিচিত।
খুলনা-৫ আসনের জন্য মনোনয় জমা দিয়েছেন ৭ জন। তারা হলেন- জাতীয় পার্টির মো. শহীদ আলম, জাকের পার্টির সামাদ সেখ, আওয়ামী লীগের নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, ওয়ার্কার্স পার্টির শেখ সেলিম আকতার, বাংলাদেশ কংগ্রেসের এস এম এ জলিল, ইসলামী ঐক্যজোটের তরিকুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ আকরাম হোসেন।
এদের মধ্যে নারায়ণ চন্দ্র চন্দ একাধিক বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী। এ ছাড়া আকরাম হোসেন ফুলতলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। এই আসনেও আওয়ামী লীগের এই দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ভোটাররা। বাকি যারা প্রার্থী হয়েছেন এলাকার রাজনীতিতে তাদের তেমন কোনো পরিচিতি নেই বলে জানা গেছে।
খুলনা-৬ আসনের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ১২ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের মো. রশীদুজ্জামান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. আবু সুফিয়ান, জাকের পার্টির শেখ মর্তুজা আল মামুন, জাতীয় পার্টির মো. শফিকুল ইসলাম মধু, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মির্জা গোলাম আজম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এস এম নেওয়াজ মোরশেদ, তৃণমূল বিএনপির গাজী নাদীর উদ্দীন খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম রাজু, গাজী মোস্তফা কামাল, জি এম মাহবুবুল আলম, মো. মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর ও মো. অহিদুজ্জামান মোড়ল।
এদের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত মো. রশীদুজ্জামানের কোনো দলীয় পদ নেই। তিনি একসময় পাইকগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্যসচিব ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে জামানত হারিয়েছিলেন। তবে তাকেই মনোনয়ন দিয়ে চমক সৃষ্টি করেছে ক্ষমতাসীন দল। ওই আসনে রাজনৈতিকভাবে পরিচিত রয়েছে জাতীয় পার্টির মো. শফিকুল ইসলাম মধুর। তিনি আগেও খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। বাকি প্রার্থীদের তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই। এলাকার সবার কাছে পরিচিত মুখও নন অনেকে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশির ভাগ আসনেই ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীদের স্থানীয়রা তেমন একটা চেনেন না। তবে বিরোধীদের এক অংশ নির্বাচন বর্জন করায় রাজনীতির নতুন সমীকরণ মেলাতে ছোট দলগুলোই নির্বাচনে হতে যাচ্ছে বড় দলগুলোর সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনীযুদ্ধ পার হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী।
জাসদের মাঠপর্যায়ের এক রাজনীতিবিদ জসিম মণ্ডল বলেন, ‘নির্বাচন একটা বড় খেলা। এখানে সবাই নামে নিজ নিজ সমীকরণ মেলানোর জন্য। রাজনৈতিক দলগুলোর সমীকরণ হয় এক ধরনের, আবার প্রার্থীর সমীকরণ হয় আরেক ধরনের। সবাই নির্বাচনে জয়ী হতে যেমন অংশ নেয় না তেমনই কেউ কেউ নির্বাচনে যায় অন্যের যাত্রা ভঙ্গ করতে। আবার অনেকের কাছে ‘নির্বাচনে অংশগ্রহণই বড় কথা।’ জয়-পরাজয়ের চেয়েও বড় বিষয় এ সময় পোস্টারিং করে নিজের ছবি ও পরিচিতি পুরো এলাকার মানুষকে দেখানো যায়। এটাও বা কম কিসে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দেশের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষেরই আছে নির্বাচনে দাঁড়ানোর অধিকার। তাই কটা টাকা খরচ করে অনেকেই পরিচিতি বাড়ানোর সুযোগ নেয়। এর ফল তো অসীম-সারাজীবন নানাভাবে এর সুফল মেলে। যারা রাজনীতিতে আছেন, কেবল তারাই বোঝেন নির্বাচনে অংশ নিতে পারার গুরুত্ব।
বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করে আজ মঙ্গলবার বিকেলে শপথ নিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভার সদস্যদের রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাদের শপথবাক্য পাঠ করান। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সোয়া ৪টার পর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এসময় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতিনিধি এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, নেপালসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। ঘোষিত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে কে কোন মন্ত্রণালয় পাচ্ছেন তা নিয়ে চলছে জল্পনা।
বিএনপির দেওয়া তালিকায় দেখা গেছে, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব যাচ্ছে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর হাতে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেওয়া হবে বিএনপির সালাহউদ্দিন আহমদকে। ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু পাচ্ছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে দেওয়া হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় পাচ্ছেন আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাচ্ছেন খলিলুর রহমান (টেকনোক্র্যাট)।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির পেয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়। আব্দুল আউয়াল মিন্টু পাচ্ছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় দেওয়া হচ্ছে কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদকে। ভূমি ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় পাচ্ছেন যথাক্রমে মিজানুর রহমান মিনু ও নিতাই রায় চৌধুরী।
আ ম ন এহসানুল হক মিলন পাচ্ছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়; সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন পাচ্ছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়; ফকির মাহবুব আনাম পাচ্ছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়। শেখ রবিউল আলম পাবেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়।
আরিফুল হক চৌধুরী পাচ্ছেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়; জহির উদ্দিন স্বপন পাচ্ছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়; মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ পাচ্ছেন কৃষি মন্ত্রণালয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়; আফরোজা খানম পাচ্ছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি পাচ্ছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
আসাদুল হাবিব দুলু পাচ্ছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়; মো. আসাদুজ্জামান পাচ্ছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়; জাকারিয়া তাহের পাচ্ছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় এবং দীপেন দেওয়ান পাচ্ছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব।
দেশের টেকসই জ্বালানি উন্নয়ন এবং দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টির মাধ্যমে সবুজ অর্থনীতির বিকাশে অবদান রাখতে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬) রাজধানীর শ্রেডা অডিটোরিয়ামে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী এবং 'Sustainable and Renewable Energy Development Authority (SREDA)'-এর মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ, আধুনিক ল্যাব স্থাপন এবং দক্ষ কর্মী গড়ে তোলার মাধ্যমে গ্রামীণ পর্যায়ে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও আত্মনির্ভরশীলতা জোরদার করাই এ অংশীদারিত্বের মূল লক্ষ্য। বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষে সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করেন উপ-মহাপরিচালক (প্রশিক্ষণ) মোঃ রফিকুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শ্রেডার চেয়ারম্যান ড. মো. মোজাফফ্ আহমেদ, পিএইচডি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন GIZ Bangladesh-এর প্রতিনিধি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শ্রেডা-র সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের জাতীয় প্রকল্প পরিচালক। বক্তারা জ্বালানি রূপান্তর প্রক্রিয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারিত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই দক্ষ জনবল গঠন এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর পক্ষে বক্তব্য প্রদানকালে উপমহাপরিচালক (প্রশিক্ষণ) বলেন, “টেকসই উন্নয়ন ও জ্বালানি রূপান্তরের এ সময়োপযোগী উদ্যোগে অংশীদার হতে পেরে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি গর্বিত।” তিনি উল্লেখ করেন, দেশের গ্রামীণ পর্যায়ে বিস্তৃত বিপুলসংখ্যক সদস্যকে দক্ষ ও উৎপাদনশীল মানবসম্পদে রূপান্তরের ক্ষেত্রে এ সমঝোতা স্মারক একটি তাৎপর্যপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে এবং জাতীয় উন্নয়ন অভিযাত্রায় নতুন গতি সঞ্চার করবে।
তিনি আরও বলেন, প্রায় ৬০ লক্ষ সদস্যের এ বাহিনী—যাদের প্রায় অর্ধেক নারী—দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। পাশাপাশি সদস্যদের দক্ষতা উন্নয়ন, আয়বর্ধক কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে অধিকতর অবদান রাখার লক্ষ্যে বাহিনী ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। এ সমঝোতা সেই চলমান উন্নয়ন কর্মসূচিকে আরও সুসংহত ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো প্রদান করবে।
সমঝোতা স্মারকের আওতায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও জ্বালানি দক্ষতা বিষয়ক বিভিন্ন ট্রেডে প্রশিক্ষক প্রশিক্ষণ (ToT), পাইলট প্রশিক্ষণ কার্যক্রম এবং এনএসডিএ অনুমোদিত আধুনিক ল্যাব স্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে সৌর বিদ্যুৎ প্রযুক্তিবিদ, বয়লার অপারেটরসহ জ্বালানি খাতে দক্ষ কর্মী তৈরি করা সম্ভব হবে। ফলে বাহিনীর সদস্যদের আত্মকর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং প্রাতিষ্ঠানিক চাকরির সুযোগ উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হবে।
উপমহাপরিচালক (প্রশিক্ষণ) তার বক্তব্যে বাহিনীর মহাপরিচালক মহোদয়ের দূরদর্শী নেতৃত্ব ও দিকনির্দেশনার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি শ্রেডার নেতৃত্ব এবং Skills for Sustainable Energy Solutions (Skills4SE) প্রকল্পের মাধ্যমে জ্বালানি খাতে দক্ষ জনবল তৈরির উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান। একই সঙ্গে জিআইজেড বাংলাদেশের কারিগরি সহায়তা ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতাকে এ উদ্যোগের সফল বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক শক্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি এ কর্মসূচির সফল বাস্তবায়নে প্রশিক্ষণ সুবিধা প্রদান, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিতকরণ, উপযুক্ত প্রশিক্ষণার্থী নির্বাচন এবং সার্বিক সমন্বয় কার্যক্রমে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করবে। সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সমন্বিত প্রয়াসের মাধ্যমে পরিকল্পিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আনসার-ভিডিপি কর্তৃপক্ষ মনে করে, ভবিষ্যতে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম দেশব্যাপী সম্প্রসারণের মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি, গ্রামীণ অর্থনীতির গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন নিশ্চিত হবে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি, নারী ক্ষমতায়ন জোরদার এবং দক্ষতাভিত্তিক কর্মসংস্থানের নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের মাধ্যমে এ উদ্যোগ দেশের সবুজ প্রবৃদ্ধি কৌশলকে ত্বরান্বিত করবে। দীর্ঘমেয়াদে এ অংশীদারিত্ব টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDGs) অর্জন, জ্বালানি নিরাপত্তা সুসংহতকরণ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
একসময় সমাজের মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন ও অবহেলিত ছিল দলিত সম্প্রদায়। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন এসেছে তাদের জীবনে। শিক্ষার প্রসার, সরকারি উদ্যোগ ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে তারা এখন সমাজের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠছে।
দলিত সম্প্রদায়ের তরুণ-তরুণীরা এখন শিক্ষা, চাকরি, ব্যবসা ও বিভিন্ন পেশায় যুক্ত হচ্ছে। আগে যারা পরিচ্ছন্নতাকর্মী, জুতো মেরামত বা হস্তশিল্পে সীমাবদ্ধ ছিল, তারাও আজ নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখছে।
লাকুড়তলা গ্রামের রন ঋষি বলেন, “আগে সমাজ থেকে আমরা বিচ্ছিন্ন ছিলাম। বিয়ে, শ্রাদ্ধ বা অন্যান্য অনুষ্ঠানে আমাদের ডাকা হতো না। এখন সামাজিক পরিবর্তনের ফলে আমরাও সমাজের অংশ। প্রতিটি অনুষ্ঠানে এখন সবাই আমাদের আমন্ত্রণ জানায়।"
সামাজিক সচেতনতার ফলে তাদের জীবনের মান উন্নত হচ্ছে। সমাজে তাদের গ্রহণযোগ্যতা যেমন বেড়েছে, তেমনি আত্মমর্যাদাবোধও জেগে উঠেছে নতুনভাবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান শেষে আয়োজিত সংসদীয় দলের এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির 'ডা. শফিকুর রহমান' কে মনোনীত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংসদ সদস্যদের শপথ শেষে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সংসদীয় দলের সভায় এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
একই বৈঠকে কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও জামায়াতে নায়েবে আমির 'ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের' কে বিরোধী দলীয় উপনেতা এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক 'নাহিদ ইসলাম' কে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ হিসেবে নির্বাচনের বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়। বৈঠকে অংশগ্রহণকারী গাইবান্ধা জেলার জামায়াতের আমির ও গাইবান্ধা-২ আসনের সংসদ সদস্য 'মো. আব্দুল করিম' এই সিদ্ধান্তের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। দলীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, শীঘ্রই ১১ দলীয় জোটের পক্ষ থেকে একটি যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই ঘোষণাগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে দেশবাসীকে জানানো হবে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক নতুন যুগের সূচনা করে আজ মঙ্গলবার বিকেলে শপথ নিয়েছেন বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী। রাজধানী ঢাকার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক রাজকীয় ও উন্মুক্ত অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নবনিযুক্ত এই প্রতিমন্ত্রীদের পদের গোপনীয়তা ও শপথ বাক্য পাঠ করান। এর আগে একই মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান এবং ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী শপথ গ্রহণ করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসের মেয়াদ শেষে একটি নির্বাচিত ও গণতান্ত্রিক সরকারের হাতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব হস্তান্তরের এই প্রক্রিয়া দেশজুড়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি করেছে।
প্রতিমন্ত্রীদের এই নতুন তালিকায় একদিকে যেমন বিএনপির প্রবীণ ও অভিজ্ঞ নেতাদের মূল্যায়ন করা হয়েছে, অন্যদিকে তেমনি ছাত্র-জনতার আন্দোলনের স্পৃহা ধারণ করতে একঝাঁক তরুণ ও প্রভাবশালী মুখকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। শপথ নেওয়া প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে রয়েছেন এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, কিশোরগঞ্জ থেকে নির্বাচিত মো. শরিফুল আলম এবং ফরিদপুরের শামা ওবায়েদ ইসলাম। এছাড়া যুব রাজনীতির পরিচিত মুখ সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, দলের আইন সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং ঢাকার আলোচিত তরুণ নেতা ইশরাক হোসেন এই তালিকায় স্থান পেয়েছেন। চট্টগ্রামের মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, হাবিবুর রশিদ, মো. রাজিব আহসান, মো. আব্দুল বারী এবং মীর শাহে আলমও আজ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের শপথ নেন।
তারেক রহমানের এই নতুন মন্ত্রিসভার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য দিক হলো বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোটের সমন্বয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠন। জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম আলোচিত ব্যক্তিত্ব ও গণসংহতি আন্দোলনের নেতা মো. জুনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি (জোনায়েদ সাকি), গণঅধিকার পরিষদের মো. নুরুল হক নুর (ভিপি নুর) এবং এনডিপি নেতা ববি হাজ্জাজকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা রাজনৈতিক মহলে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। এছাড়াও শপথ নিয়েছেন ফারজানা শারমিন, শেখ ফরিদুল ইসলাম, ইয়াসের খান চৌধুরী, এম ইকবাল হোসেইন, এম এ মুহিত, আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর এবং রাজবাড়ীর প্রবীণ নেতা আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম। এই বিচিত্র ও সমন্বিত মন্ত্রিসভা আগামী দিনে রাষ্ট্র সংস্কার ও জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে বিশেষ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ঐতিহাসিক এই শপথ অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও ভুটানসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খোলা আকাশের নিচে এমন আড়ম্বরপূর্ণ আয়োজন বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে প্রথম, যা অনুষ্ঠানটিকে এক অনন্য মহিমা দান করেছে। বিকেলের এই রাজকীয় মাহেন্দ্রক্ষণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে দীর্ঘ দেড় দশক পর একটি শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থার পথ চলা শুরু হলো। শপথ গ্রহণ শেষে নবনিযুক্ত প্রতিমন্ত্রীরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ গঠনে নিজেদের উৎসর্গ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে আগামীকাল থেকেই নতুন সরকারের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড পূর্ণ উদ্যমে শুরু হবে বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা করে আজ মঙ্গলবার বিকেলে শপথ নিয়েছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা। রাজধানী ঢাকার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক রাজকীয় অনুষ্ঠানে নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁদের পদের গোপনীয়তা ও শপথ বাক্য পাঠ করান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসের সফল মেয়াদ শেষে আজ একটি গণতান্ত্রিক ও নির্বাচিত সরকারের হাতে রাষ্ট্র পরিচালনার আনুষ্ঠানিক ক্ষমতা হস্তান্তর করা হলো।
বিকেল সোয়া চারটার দিকে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শপথ অনুষ্ঠানের মূল পর্ব শুরু হয়। খোলা আকাশের নিচে বর্ণাঢ্য এই আয়োজনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং সালাহউদ্দিন আহমদের মতো জ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদরা মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। তালিকায় আরও রয়েছেন বীরবিক্রম হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং বিশিষ্ট ব্যবসায়ী নেতা আব্দুল আউয়াল মিন্টু। এছাড়া কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, মিজানুর রহমান মিনু এবং আরিফুল হক চৌধুরীর মতো অভিজ্ঞ নেতাদের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে একটি শক্তিশালী ও অভিজ্ঞ মন্ত্রিসভা গঠনের বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নারী নেতৃত্বের প্রতিনিধি হিসেবে আফরোজা খানম রিতা এবং পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসেবে দীপেন দেওয়ান এই তালিকায় স্থান পেয়েছেন।
শপথ নেওয়া অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, জহির উদ্দিন স্বপন, আসাদুল হাবিব দুলু, জাকারিয়া তাহের এবং আ ন ম এহসানুল হক মিলন। এছাড়া বিশেষ কারিগরি ও আইনি দক্ষতা বিবেচনায় সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল আসাদুজ্জামানকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, নিতাই রায় চৌধুরী, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, ফকির মাহবুব আনাম, শেখ রবিউল আলম, মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ ও খলিলুর রহমান—তাঁরা প্রত্যেকেই আজ দেশের শাসনভার পরিচালনার শপথ নেন। অভিজ্ঞ ও নবীনদের এই সমন্বিত মন্ত্রিসভাকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মাঝে বড় ধরনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
ঐতিহাসিক এই শপথ অনুষ্ঠানের সাক্ষী হতে দেশি-বিদেশি এক হাজার ২০০ আমন্ত্রিত অতিথি উপস্থিত ছিলেন। ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও ভুটানসহ দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা এই অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নতুন সরকারকে শুভেচ্ছা জানান। একই সাথে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিদায়ী উপদেষ্টারাও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়াকে পূর্ণতা দেন। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তারেক রহমান এবং তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যরা দ্রুততম সময়ের মধ্যে নিজ নিজ দপ্তরের দায়িত্ব বুঝে নেবেন। এর মাধ্যমেই বাংলাদেশে দীর্ঘ প্রতীক্ষিত একটি অংশগ্রহণমূলক ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থার যাত্রা শুরু হলো বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ সন্ধ্যা থেকেই নতুন সরকারের প্রশাসনিক কার্যক্রমের প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু হতে যাচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য (এমপি) হওয়ার গৌরব অর্জন করার পর সরাসরি মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার অনন্য নজির স্থাপন করছেন ৩৩ জন নবীন নেতা। প্রস্তাবিত এই মন্ত্রিসভায় যারা প্রথমবার এমপি হয়েই পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন তাদের সংখ্যা ১০ জন এবং বাকি ২২ জন সদস্যকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। বিশেষত, নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে 'তারেক রহমান' নিজেও প্রথমবারের মতো মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন এবং তিনি সরকার প্রধানের পদের পাশাপাশি 'প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর' গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও নিজে পরিচালনা করবেন বলে জানা গেছে।
এমপি নির্বাচিত হয়েই মন্ত্রী হচ্ছেন যারা
বগুড়া-৬ ও ঢাকা-১৭ আসন থেকে এবারই প্রথমবারের মতো সংসদ নির্বাচনে অংশ নেন বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দুটি আসন থেকে জয় পেলেও তিনি বগুড়া-৬ আসনটি ছেড়ে দিয়েছেন। ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচিত সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি শপথ নিয়েছেন। তিনি সংসদে সরকারি দলের নেতা, মন্ত্রিসভায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করবেন।
দিনাজপুর-৬ আসন থেকে এবারই প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচন হয়েছেন ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি মন্ত্রিসভায় থাকছেন। ফেনী-৩ আসন থেকে এবারই প্রথম এমপি হয়েছেন আব্দুল আওয়াল মিন্টু। তিনিও মন্ত্রিসভায় থাকছেন।
সিলেট-১ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েই মন্ত্রী হচ্ছেন খন্দকার আব্দুল মোকতাদির, সিলেট-৪ আসনের আরিফুল হক চৌধুরী, মানিকগঞ্জ-৩ আসনের এমপি আফরোজা খানম রিতা, ঝিনাইদহ-১ আসনের মো. আসাদুজ্জামান। এছাড়া প্রথমবার এমপি হয়েই মন্ত্রী হয়েছেন পার্বত্য রাঙ্গামাটির দীপেন দেওয়ান, ফকির মাহবুব আনাম স্বপন, শেখ রবিউল আলম।
প্রথমবার নির্বাচিত হয়েই প্রতিমন্ত্রী যারা
জোনায়েদ সাকি, ইশরাক হোসেন, ফারজানা শারমিন পুতুল, শেখ ফরিদুল ইসলাম, নুরুল হক নুর, ইয়াসের খান চৌধুরী, এম ইকবাল হোসেইন, শামা ওবায়েদ ইসলাম, কায়সার কামাল, এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত ও অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
শরিফুল আলম, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, ফরহাদ হোসেন আজাদ, ডা. এম এ মুহিত, আহমদ সোহেল মঞ্জুর, ববি হাজ্জাজ, মীর মুহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, হাবিবুর রশিদ হাবিব, রাজিব আহসান, মুহাম্মদ আব্দুল বারী ও মীর শাহে আলম।
দীর্ঘ দেড় দশকের রাজনৈতিক নির্বাসন ও রাজপথের কঠোর সংগ্রাম শেষে বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এক রাজকীয় ও ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানে তিনি বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাঁকে পদের গোপনীয়তা ও শপথ বাক্য পাঠ করান। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮ মাসের সফল মেয়াদ শেষে আজ একটি গণতান্ত্রিক ও নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে দেশে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।
বিকেল ঠিক চারটায় জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শপথ অনুষ্ঠানের মূল আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। খোলা আকাশের নিচে সংসদ ভবনের মনোরম পরিবেশে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি প্রায় এক হাজার ২০০ জন আমন্ত্রিত অতিথি উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের মধ্যে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং পাকিস্তানের ফেডারেল মন্ত্রী আহসান ইকবালসহ দক্ষিণ এশীয় ও বৈশ্বিক পর্যায়ের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা এই মুহূর্তের সাক্ষী হতে অংশ নেন। শপথ গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে শপথপত্রে স্বাক্ষর করেন, যা উপস্থিত জনতা ও আমন্ত্রিত অতিথিদের হর্ষধ্বনিতে মুখরিত হয়।
তারেক রহমানের এই প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অভিষেক কেবল একটি রাজনৈতিক পটপরিবর্তন নয়, বরং বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এক বিশেষ মাইলফলক। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। আজ সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেওয়ার পর দুপুরে সংসদীয় দলের সভায় তারেক রহমানকে সর্বসম্মতিক্রমে সংসদ নেতা নির্বাচিত করা হয়। এর পরপরই রাষ্ট্রপতির আহ্বানে সাড়া দিয়ে তিনি মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন এবং বিকেলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।
নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমানের সামনে এখন ভঙ্গুর অর্থনীতি সংস্কার, সুশাসন প্রতিষ্ঠা এবং তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী রাষ্ট্র কাঠামো পুনর্গঠনের বিশাল চ্যালেঞ্জ। তাঁর শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হলো। শপথ অনুষ্ঠান শেষে নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রতিনিধিরা। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামীকাল বুধবার সকালে নতুন প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে প্রথম কার্যদিবস শুরু করবেন এবং তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে এক জরুরি বৈঠকে মিলিত হবেন। সারাদেশ থেকে আসা মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আজ রাজধানী ঢাকা এক উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে, যেখানে সবাই একটি সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের প্রত্যাশা ব্যক্ত করছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভের পর বিএনপি বর্তমানে নতুন সরকার গঠনের চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। নতুন সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার পর আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে নবগঠিত মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে। এই মন্ত্রিসভায় বেশ কয়েকজন বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিত্বকে টেকনোক্র্যাট কোটায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যারা সরাসরি নির্বাচনে অংশ না নিয়ে পেশাগত ও প্রযুক্তিগত দক্ষতার ভিত্তিতে নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে দায়িত্ব পাচ্ছেন। রাজনৈতিক পরিচয়ের বাইরে গিয়ে যারা নির্দিষ্ট কোনো কারিগরি, পেশাগত কিংবা একাডেমিক যোগ্যতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনায় অবদান রাখেন তারাই মূলত 'টেকনোক্র্যাট (Technocrat)' হিসেবে পরিচিত।
বাংলাদেশের সংবিধানের '৫৬ (২)' অনুচ্ছেদের নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তার মন্ত্রিসভার মোট সদস্য সংখ্যার অনধিক এক-দশমাংশ সদস্যকে সংসদ সদস্য নন এমন ব্যক্তিদের মধ্য থেকে নিয়োগ করার এখতিয়ার রাখেন, যদিও তাদের অবশ্যই সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন হতে হবে। সংবিধানের নিয়ম মেনে প্রধানমন্ত্রীকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে মন্ত্রিসভার ১০ ভাগের ৯ ভাগ সদস্য মনোনীত করতে হয় এবং অবশিষ্ট এক ভাগ তিনি চাইলে বিশেষজ্ঞ জ্ঞান বা বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ টেকনোক্র্যাট হিসেবে নিয়োগ দিতে পারেন। সাধারণত সংসদ ভেঙে যাওয়ার অন্তত ৯০ দিন আগে অথবা জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে এই টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীদের পদত্যাগ করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
বর্তমান ৪৯ সদস্যের নতুন মন্ত্রিসভায় ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন যেখানে টেকনোক্র্যাট কোটায় মোট তিনজনকে মনোনীত করা হয়েছে। প্রস্তাবিত এই তালিকায় মন্ত্রী হিসেবে স্থান পেয়েছেন 'আমিনুর রশিদ ইয়াছিন' ও 'ড. খলিলুর রহমান' এবং প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন 'আমিনুল হক'। মূলত বিশেষ দক্ষতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতেই প্রধানমন্ত্রী তাদের এই উচ্চপদে আসীন করেছেন বলে জানা গেছে।
আমিনুর রশীদ ইয়াছিন
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে হাজি আমিনুর রশীদ ইয়াছিন কুমিল্লা–৬ (সদর) আসনে ধানের শীষ নিয়ে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। তবে এই আসনে দলের মনোনয়ন পান দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মনিরুল হক চৌধুরী। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিলেও গত ১৯ জানুয়ারি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি।
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হাজী আমিনুর রশিদ ইয়াসিন। তিনি কুমিল্লা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। ১৯৯৬ সালের ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৯ আসনে থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের প্রার্থী হিসেবে কুমিল্লা-৬ থেকে পরাজিত হন।
ড. খুলিলুর রহমান
ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ছিলেন ড. খলিলুর রহমান।
২০২৪ সালের ১৯ নভেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার রোহিঙ্গা সমস্যা ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়াবলি সংক্রান্ত হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ হিসেবে নিয়োগ পান খলিলুর রহমান। পরে খলিলুর রহমানকে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টার দায়িত্ব দেয়া হয়।
ড. খলিলুর রহমান ১৯৭৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন। তিনি ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (পররাষ্ট্র) ক্যাডারে যোগ দেন। যুক্তরাষ্ট্রের টাফটস ও হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন ও কূটনীতিতে এমএ এবং অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন ড. খলিলুর রহমান।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দক্ষিণ এশিয়া বিভাগে এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সচিব হিসেবে ১৯৮৩-৮৫ সময়কালে দায়িত্ব পালন করেন খলিলুর রহমান। ১৯৮৫ সালে নিউইয়র্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনে বদলি করা হয় তাকে। এছাড়া ১৯৯১ সালে তিনি জেনেভায় জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলনে (আঙ্কটাড) বিশেষ উপদেষ্টা হিসেবে জাতিসংঘ সচিবালয়ে যোগ দেন।
আমিনুল হক
জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক। তিনি ঢাকা-১৬ আসন থেকে জাতীয় নির্বাচন করেছিলেন। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জামায়াত ইসলামের প্রার্থী কর্নেল (অব) আব্দুল বাতেনের কাছে হেরে যান। কোনো সাবেক ক্রীড়াবিদ নির্বাচনে পরাজিত হয়ে কিংবা টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রী কখনো হননি। আমিনুল হকই প্রথম।
স্বাধীনতা পরবর্তী বাংলাদেশে সাবেক তারকা ফুটবলারদের মধ্যে মেজর হাফিজই প্রথম মন্ত্রীত্ব পেয়েছিলেন। এরপর দীর্ঘদিন পর আরেক সাবেক জাতীয় ফুটবলার আরিফ খান জয় ক্রীড়া উপমন্ত্রী হয়েছিলেন। আমিনুল হক তৃতীয় সাবেক জাতীয় ফুটবলার হিসেবে মন্ত্রী হতে চলছেন।
বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে রাজধানী ঢাকায় পৌঁছেছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোবগে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে তিনি একটি বিশেষ ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। বিমানবন্দরে তাঁকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। নতুন বাংলাদেশের এই গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় অংশ নিতে হিমালয়কন্যা ভুটানের সরকার প্রধানের এই আগমনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও দুই দেশের গভীর বন্ধুত্বের প্রতীক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আজ বিকেল চারটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এই রাজকীয় শপথ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ঢাকা এখন বিশ্বনেতাদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। ভুটানের প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হতে ইতোমধ্যে ঢাকায় পৌঁছেছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু এবং ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। দক্ষিণ এশীয় দেশগুলোর মধ্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের লক্ষে সার্কভুক্ত দেশগুলোর উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদের এই সরব উপস্থিতি বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি আন্তর্জাতিক মহলের জোরালো সমর্থনের বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিদেশি অতিথিদের এই দীর্ঘ তালিকায় আরও রয়েছেন পাকিস্তানের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগ বিষয়ক ফেডারেল মন্ত্রী আহসান ইকবাল, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা এবং মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুল্লাহ খলিল। এছাড়া শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্যমন্ত্রী নালিন্দা জয়াতিসা এবং ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রিও এই অনুষ্ঠানে নিজ নিজ দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন। কেবল দক্ষিণ এশিয়া নয়, পশ্চিমা বিশ্ব ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর প্রতিনিধিরাও এই আয়োজনে শামিল হচ্ছেন। যুক্তরাজ্যের ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি সীমা মালহোত্রা এবং তুরস্কের আন্ডার সেক্রেটারি বেরিস একিনচি ইতোমধ্যে ঢাকা পৌঁছেছেন।
বিকেলের এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। দেশি-বিদেশি অন্তত এক হাজার ২০০ আমন্ত্রিত অতিথির উপস্থিতিতে খোলা আকাশের নিচে আয়োজিত এই অভিষেক অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশের সংসদীয় ইতিহাসে এক নতুন নজির স্থাপন করতে যাচ্ছে। আমন্ত্রিত অতিথিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অনুষ্ঠানটি নির্বিঘ্ন করতে রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বিমানবন্দরের ভিআইপি টার্মিনাল থেকে শুরু করে সংসদ ভবন এলাকা পর্যন্ত বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে, যা নতুন সরকারের যাত্রালগ্নকে এক উৎসবমুখর আবহ দান করেছে। সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের এই বিশাল উপস্থিতির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে এক নতুন রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল নিয়ে রাজধানী ঢাকায় পৌঁছেছেন ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে তাঁকে বহনকারী একটি বিশেষ বিমান হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বাংলাদেশের এই নতুন রাজনৈতিক যাত্রার সঙ্গী হতে এবং নতুন সরকারের প্রতি শুভেচ্ছা জানাতে প্রতিবেশী দেশের এই প্রভাবশালী নেতার আগমনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বিমানবন্দরে ভারতের লোকসভার স্পিকারকে রাষ্ট্রীয়ভাবে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়। ওম বিড়লার নেতৃত্বে আসা ভারতীয় প্রতিনিধি দলটিকে স্বাগত জানান বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম) ড. মো. নজরুল ইসলাম। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা এবং ভারতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার মো. রিয়াজ হামিদুল্লাহ। ওম বিড়লার এই সফর মূলত নতুন নির্বাচিত সরকারের সাথে নয়াদিল্লির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার একটি জোরালো বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, নতুন সরকারের এই ঐতিহাসিক শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে রাজধানী ঢাকা এখন বিশ্বনেতাদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে। ওম বিড়লার আসার কিছু সময় আগেই ঢাকায় পৌঁছান মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু। তাঁকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানান বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। এছাড়াও অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, পাকিস্তানের পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগের ফেডারেল মন্ত্রী আহসান ইকবালসহ দক্ষিণ এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশের উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা আজ ঢাকায় সমবেত হচ্ছেন। পশ্চিমা বিশ্বের প্রতিনিধি হিসেবে যুক্তরাজ্যের ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি সীমা মালহোত্রাও এই রাজকীয় আয়োজনে অংশ নেবেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আজ আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের শাসনভার গ্রহণ করতে যাচ্ছে। আজ মঙ্গলবার বিকেল চারটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খোলা আকাশের নিচে এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নতুন প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ গ্রহণ করবেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এই শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। দেশি-বিদেশি এক হাজার ২০০ অতিথির উপস্থিতিতে আয়োজিত এই মেগা ইভেন্টটি সফল করতে রাজধানীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলের এই সরব উপস্থিতি প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর বিশ্ববাসীর কাছে কতটা গুরুত্ব বহন করছে। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজ বিকেলের এই মাহেন্দ্রক্ষণের মাধ্যমেই বাংলাদেশে এক নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে।
তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় ২৫ জন পূর্ণ মন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী থাকছেন। সরকারি সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, পূর্ণ মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী যারা ডাক পেয়েছেন তাঁদের তালিকা দেওয়া হয়েছে—
পূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে ডাক পেয়েছেন যারা:
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
সালাহউদ্দিন আহমদ
ইকবাল হাসান মাহমুদ
হাফিজ উদ্দিন আহমেদ
আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন
ড. খলিলুর রহমান
আব্দুল আওয়াল মিন্টু
কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ
মিজানুর রহমান মিনু
নিতাই রায় চৌধুরী
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির
আরিফুল হক চৌধুরী
জহির উদ্দিন স্বপন
মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ
আফরোজা খানম (রিতা)
মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি
আসাদুল হাবিব দুলু
মো. আসাদুজ্জামান
জাকারিয়া তাহের
দীপেন দেওয়ান
আ ন ম এহসানুল হক মিলন
সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন
ফকির মাহবুব আনাম
শেখ রবিউল আলম
প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ডাক পেয়েছেন:
এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত
মো. শরিফুল আলম
শামা ওবায়েদ ইসলাম
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু
কায়সার কামাল
ফরহাদ হোসেন আজাদ
মো. আমিনুল হক
মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন
হাবিবুর রশিদ
মো. রজাবি আহসান
মো. আব্দুল বারী
মীর শাহে আলম
মো. জুনায়েদ আব্দুর রহিম
ইশরাক হোসেন
ফারজানা শারমিন
মো. নুরুল হক নুর
ইয়াসের খান চৌধুরী
এম ইকবাল হোসেইন
এমএ মুহিত
আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর
ববি হাজ্জাজ
আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর রাষ্ট্র পরিচালনার চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। আজ মঙ্গলবার সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ এবং সংসদীয় দলের সভায় তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচনের পর নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে নতুন সরকারের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য মোট ২৩ জন নেতাকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আজ দুপুরে বিএনপি নেতৃত্বাধীন হবু সরকারের পক্ষ থেকে এই সম্ভাব্য তালিকার একটি অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
নতুন এই মন্ত্রিসভায় অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদদের পাশাপাশি একঝাঁক তরুণ ও প্রভাবশালী নেতাকে অন্তর্ভুক্ত করে চমক দিয়েছেন হবু প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ডাক পাওয়া নেতাদের মধ্যে রয়েছেন এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, যশোর থেকে নির্বাচিত অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, কিশোরগঞ্জের মো. শরিফুল আলম এবং ফরিদপুর থেকে নির্বাচিত শামা ওবায়েদ ইসলাম। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেতে যাচ্ছেন যুবদলের সাবেক সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, দলের আইন সম্পাদক কায়সার কামাল, ফরহাদ হোসেন আজাদ এবং জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক ও ঢাকা উত্তরের আহ্বায়ক মো. আমিনুল হক। এই তালিকায় আরও রয়েছেন চট্টগ্রামের মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ঢাকা থেকে নির্বাচিত হাবিবুর রশিদ, মো. রজাবি আহসান ও মো. আব্দুল বারী।
মন্ত্রিসভার এই নতুন তালিকায় রাজনৈতিক বৈচিত্র্য আনতে বিভিন্ন দল ও জোটের শরিকদেরও মূল্যায়ন করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যান্য প্রতিমন্ত্রী হিসেবে যারা শপথ নিতে ডাক পেয়েছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন মীর শাহে আলম, মো. জুনায়েদ আব্দুর রহিম এবং ঢাকার অন্যতম আলোচিত নেতা ইশরাক হোসেন। নারী নেতৃত্ব ও তরুণদের প্রাধান্য দিয়ে ফারজানা শারমিন এবং গণঅধিকার পরিষদের নেতা মো. নুরুল হক নুরকেও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়াও ইয়াসের খান চৌধুরী, এম ইকবাল হোসেইন, এম এ মুহিত, আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর, এনডিপি নেতা ববি হাজ্জাজ এবং রাজবাড়ী থেকে নির্বাচিত প্রবীণ নেতা আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ামকে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তারেক রহমান তাঁর নতুন মন্ত্রিসভায় মেধা ও সক্রিয়তাকে প্রাধান্য দিয়ে একটি অংশগ্রহণমূলক সরকার গঠনের চেষ্টা করেছেন। এই তালিকায় যেমন রাজপথের লড়াকু সৈনিকেরা রয়েছেন, তেমনি রয়েছেন পেশাজীবী ও তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিরা। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, আজ বিকেল চারটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত রাজকীয় শপথ অনুষ্ঠানে এই প্রতিমন্ত্রীরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে দায়িত্ব গ্রহণের আনুষ্ঠানিক শপথ নেবেন। ইতোমধ্যে শপথ অনুষ্ঠানের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংসদ এলাকায় কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। এই নতুন সরকারের হাত ধরে বাংলাদেশে একটি সুসংহত গণতান্ত্রিক যাত্রা শুরু হবে বলে প্রত্যাশা করছে সাধারণ মানুষ।