বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

প্রার্থী বেশি,প্রতিদ্বন্দ্বী কম

ফাইল ছবি
আপডেটেড
২ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০০:১৪
তানজিমুল নয়ন
প্রকাশিত
তানজিমুল নয়ন
প্রকাশিত : ২ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০০:০০

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ২ হাজার ৭১৩ জন প্রার্থী। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে নিবন্ধিত ৪৪টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩২টি দল। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন ৭৪৭ জন। সে হিসাবে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রত্যয়নপত্র নিয়ে নির্বাচনে উপস্থিত ১৯৬৬ জন প্রার্থী। আর স্বতন্ত্রদের মধ্যে অন্তত ৪০০ জন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন। তবে সাধারণ মানুষের অভিযোগ, নির্বাচনে আসা বড় দল আওয়ামী লীগের মূল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বাইরে অন্যদলগুলোর বেশির ভাগ প্রার্থীই আসনগুলোর মানুষের কাছে অচেনা। প্রায় প্রতিটি আসনেই নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন এমন অনেক অচেনা মুখ যাদের প্রার্থিতা পেতে সমস্যা না হলেও নির্বাচনী লড়াইয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে পরিচিত হতেই পার হয়ে যাবে প্রচারণার বেশির ভাগ সময়। ফলে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, নির্বাচনে প্রার্থী আছে অনেক বেশি, কিন্তু, প্রতিদ্বন্দ্বী কম।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ৩০০ আসনের বিপরীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের (নৌকা) ৩০৩ জন, জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল) ৩০৪ জন, জাকের পার্টি (গোলাপ ফুল) ২১৮ জন, তৃণমূল বিএনপি (সোনালী আঁশ) ১৫১ জন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি- এনপিপি (আম) ১৪২ জন, বাংলাদেশ কংগ্রেস (ডাব) ১১৬ জন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ (মশাল) ৯১ জন, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন (ফুলের মালা) ৪৭ জন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন (বটগাছ) ১৩ জন, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি (হাতঘড়ি) ১৮ জন, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ (চেয়ার) ৩৯ জন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (কাঁঠাল) ১৩ জন, গণফ্রন্ট (মাছ) ২৫ জন, গণফোরাম (উদীয়মান সূর্য) ৯ জন, ইসলামী ঐক্যজোট (মিনার) ৪৫ জন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট (মোমবাতি) ৩৭ জন, জাতীয় পার্টি-জেপি (বাইসাইকেল) ২০ জন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ (গামছা) ৩৪ জন, গণতন্ত্রী পার্টি (কবুতর) ১২ জন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (হাতুড়ি) ৩৩ জন, বিকল্পধারা বাংলাদেশ (কুলা) ১৪ জন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (একতারা) ৮২ জন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন-বিএনএম (নোঙর) ৪৯ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট- বিএনএফ (টেলিভিশন) ৫৫ জন, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (ছড়ি) ৭৪ জন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ- বিএমএল (হাত-পাঞ্জা) ৫ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি- ন্যাপ (কুঁড়েঘর) ৬ জন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মই) একজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (রিকশা) একজন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ (খেজুর গাছ) একজন এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (হারিকেন) দুইজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

এদিকে মনোনয়ন জমার শেষ দিনেই ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম জানিয়েছেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিলের সময়সীমা বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। ফলে বিএনপিসহ যে দলগুলো নির্বাচন বর্জন করেছে তাদের আর মত পাল্টে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসার দৃশ্যমান কোনো সুযোগ নেই। আন্দোলনরত দলগুলোও অবশ্য আগেই এ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতি দিয়েছে।

ফলে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর যাচাই-বাছাই শেষে যেসব প্রার্থী টিকে যাবেন তারাই থাকবেন নির্বাচনী দৌড়ে। তবে প্রতিটি আসনে ভোটের লড়াইয়ে যারা যাচ্ছেন তাদের বেশির ভাগেরই দলের নাম সাধারণ মানুষ জানে না। আর দল অচেনা বলে প্রার্থীরাও অচেনা। ফলে তাদের ধারণা নির্বাচনী লড়াইয়ে আসলে টিকে থাকবেন বড় দলের পরিচিত মুখগুলো। এর মধ্যে শাসক দলের মার্কা নিয়ে লড়াই করা প্রার্থীরা যেমন আলোচনায় থাকবেন, তেমনই অনেক আসনেই তাদের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমাতে পারেন নির্বাচনে আসা আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। কেননা, দলটির স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বেশির ভাগই স্থানীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত এবং তাদের মোটামুটি ভোট ব্যাংক অথবা এলাকাবাসীকে প্রভাবিত করার সক্ষমতা রয়েছে। নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া ৭৪৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে অন্তত ৪০০ জনই আওয়ামী লীগের।
যদিও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গত কয়েক দিনের মতো গতকালও বলেছেন, দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ঢালাওভাবে নির্বাচন করতে পারবেন না। এ ছাড়া ১৪-দলীয় জোটের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির সম্ভাবনা রয়েছে আওয়ামী লীগের। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন, নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আসতে পারবেন জোটের এমন প্রার্থীরাই কেবল থাকবেন বিবেচনায়। আর ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করে তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এর ফলে এটা স্পষ্ট যে, জোটের সঙ্গে সমঝোতা হলে কয়েকটি আসনে আওয়ামী লীগ যাদের মনোনয়ন দিয়েছে তাদেরও রণে ভঙ্গ দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে হবে।

তবে আওয়ামী লীগ সভাপতি নির্বাচনী কৌশল হিসেবে এবার দলীয় মার্কার বাইরে দলীয় প্রার্থীদের স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড়ানোর সুযোগ দেয়ায় নির্বাচনে আসা প্রার্থীদের কতজন আবার দল চাইলে নির্দেশ মেনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন সেটাও আছে দেখার বিষয়।

তবে এই আলোচনার বাইরে থেকে যাচ্ছে বেশির ভাগ প্রার্থী যারা বিভিন্ন দল থেকে নির্বাচনে এলেও জনগণের কাছে নিজের দল, দলীয় প্রতীক এবং নিজের পরিচয় প্রকাশ করার সুযোগ পাবেন। তবে প্রতিটি আসনে স্থানীয় ভোটারদের কাছে তারা এখনো অচেনা এবং নতুন মুখ হিসেবে বিবেচিত।

যেমন দল হিসেবে এবারই প্রথম নির্বাচন করছে তৃণমূল বিএনপি, বিএনএম, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি। এসব দলের বেশির ভাগ প্রার্থী নিজ নিজ এলাকার ভোটারদের কাছে নতুন পরিচয়ে উপস্থিত হবেন। অনেকে আবার খুব বেশি পরিচিত নন। একইভাবে তাদের নির্বাচনী প্রতীক যথাক্রমে সোনালী আঁশ, নোঙর ও একতারা চেনাতেও এবার তাদের বিশেষ প্রস্তুতি নিতে হবে।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনএমের প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য আছেন ৬ জন এবং তৃণমূলের প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য আছেন ৫ জন।

এদিকে, গতকাল আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর কাদের বলেছেন, বিএনপির ১৫ কেন্দ্রীয় নেতাসহ সাবেক ৩০ জন সংসদ সদস্য নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এদের মধ্যে কাদের সিদ্দিকী, লতিফ সিদ্দিকী, আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর মতো নেতাও আছেন। আবার আগে বিএনপিতে প্রভাব ছিল দলটির এমন সাবেক নেতারাও আছেন নির্বাচনে। এদের মধ্যে তৈমূর আলম, সমশের মবিন চৌধুরীর নাম উল্লেখযোগ্য।

তবে এদের বাইরে নির্বাচনের মাঠে থাকা বেশির ভাগ প্রার্থীই অচেনা। এ বিষয়ে গাজীপুর-৪ আসনের একজন প্রার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমার দল এলাকায় তেমন পরিচিত নয়। দলের প্রচার চালাতে ও এলাকার মানুষের কাছে নিজের পরিচয় তুলে ধরতে এবার ভোট করতে আসা। আমিও জানি নির্বাচনে জয়লাভ করার অবস্থান এখনো আমার বা আমার দলের তৈরি হয়নি। তবে এক দিনে তো কিছুই হয় না। আমাদের দলের আদর্শ ও কর্মসূচি দেশের মানুষ ও এলাকার মানুষকে জানাতে আমরা নির্বাচনে এসেছি।’

অন্যদিকে লালমনিরহাট-৩ আসনে মনোনয়ন জমা দেয়া প্রার্থীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই সদর আসনে ৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সদ্য পদত্যাগকারী সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জাবেদ হোসেন বক্কর, জাতীয় পার্টি থেকে জাহিদ হাসান, তৃণমূল বিএনপি থেকে শামীম আহম্মেদ চৌধুরী, জাকের পার্টি থেকে সকিউজ্জামান মিয়া, বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল থেকে আশরাফুল আলম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) থেকে আবু তৈয়ব মো. আজমুল হক পাটোয়ারী, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) থেকে শ্রী হরিশ চন্দ্র রায় মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তবে এবার তিনি এ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেননি। ফলে এ আসনে নির্বাচনে অংশ নেয়া সব প্রার্থীই নতুন এবং নতুন একজন সংসদ সদস্য পাবে লালমনিরহাট সদরবাসী। তবে নতুন হলেও জেলা ও শহরের রাজনীতিতে পুরনো মুখ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান। ছাত্ররাজনীতি করায় জাবেদ হোসেন বক্করও সেখানে পরিচিত মুখ। জাকের পার্টি ও জাসদের প্রার্থীকেও অনেকে চেনেন। তবে সাম্যবাদী দল, এনপিপির প্রার্থীর মতো জাতীয় পার্টির প্রার্থীও এলাকার সবার চেনা মুখ নন। ফলে যে আসন থেকে জাতীয় পার্টি বর্তমান সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছে সেখানে নতুন মুখ দেয়ায় মাঠের রাজনীতিতে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন এলাকার অনেক বাসিন্দা।

বিষয়টা আরও স্পষ্ট হয় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনার ৬টি আসন বিশ্লেষণ করলে। দৈনিক বাংলার খুলনা ব্যুরো জানায়, খুলনার এই ৬টি আসনের জন্য সেখানে ৫৩ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে যারা সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচন করবেন, তাদের অধিকাংশেরই রাজনীতিতে তেমন কোনো পরিচিতি নেই। হঠাৎ করেই তারা কেন সংসদ নির্বাচনে আগ্রহী হলেন, এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে উত্তরও দেননি অধিকাংশ প্রার্থী।

খুলনা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের মনোনীত ৬ জন প্রার্থী, আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র ২ জন এবং জাতীয় পার্টির একজন প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচিতি রয়েছে। বাকি ৪৪ জন প্রার্থী কখনো রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয় ছিলেন না।

খুলনা প্রতিনিধির বিশ্লেষণ অনুযায়ী খুলনা-১ আসনের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ৬ জন। তারা হলেন, জাকের পার্টির মো. আজিজুর রহমান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ননী গোপাল মণ্ডল, জাতীয় পার্টির কাজী হাসানুর রশিদ, তৃণমূল বিএনপির গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রশান্ত কুমার রায় ও আবেদ আলী শেখ।

এদের মধ্যে ননী গোপাল মণ্ডল ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। রাজনীতিতে তার পরিচিতি রয়েছে। তবে বাকি চারজন রাজনীতিতে একেবারেই অপরিচিত। তারা প্রত্যেকেই এবার প্রথম সংসদ নির্বাচন করছেন। এদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রশান্ত কুমার রায় পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সাবেক সচিব।

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আমি নির্বাচন করছি। আমাকে ডামি প্রার্থীও বলা যাবে। এটা দলীয় নির্দেশেই হচ্ছে।’
আওয়ামী লীগের ননী গোপাল মণ্ডল বলেন, ‘দল আমাকে আবারও সুযোগ দিয়েছে। আমি দলের সম্মান রাখব বলে আশাবাদী।’

তবে বাকি চার প্রার্থীর তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই। জাতীয় পার্টীর কাজী হাসানুর রশিদ ও তৃণমূল বিএনপির গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিকের কাছে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেও কোনো উত্তর মেলেনি।

আর জাকের পার্টি মো. আজিজুর রহমান বলেন, ‘দল থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে বলেছে, তাই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি।’

অন্যদিকে খুলনা-২ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৯ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল, গণতন্ত্র পার্টির মো. মতিয়ার রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের দেবদাস সরকার, জাকের পার্টির ফরিদা পারভিন, ইসলামী ঐক্যজোটের হিদায়েতুল্লাহ, জাতীয় পার্টির মো. গাউসুল আজম, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের বাবু কুমার রায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সাঈদুর রহমান।

এদের মধ্যে শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থীর রাজনৈতিকভাবে পরিচিতি রয়েছে। তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। তবে বাকিদের আগে কখনো রাজনৈতিক মাঠে দেখা যায়নি।

কেন প্রার্থী হয়েছেন- এমন প্রশ্নে বাংলাদেশ কংগ্রেসের দেবদাস সরকার বলেন, ‘অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে মনোনয়ন জমা দেয়া হচ্ছে, তাই আমরাও দিচ্ছি।’

খুলনা-৩ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৫ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের এস এম কামাল হোসেন, জাকের পার্টির এস এম সাব্বির হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, স্বতন্ত্র প্রার্থী কাইজার আহমেদ ও ফাতেমা জামান সাথী।

এদের মধ্যেও শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচিতি রয়েছে। তিনি দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। তিন বারের সংসদ সদস্য ও দুই বারের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানকে সরিয়ে তাকেই আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিয়েছে। তবে ওই আসনেরও বাকি চারজনের তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই।

খুলনা-৪ আসন থেকে মনোনয়ন নিয়েছেন ১৪ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের আব্দুস সালাম মূর্শেদী, জাকের পার্টির শেখ আনছার আলী, জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এস এম আজমল হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. ফরহাদ আহমেদ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. মোস্তাফিজুর রহমান, তৃণমূল বিএনপির শেখ হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মনিরা সুলতানা, ইসলামী ঐক্যজোটের রিয়াজ উদ্দীন খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জুয়েল রানা, এম ডি এহসানুল হক, মো. রেজভী আলম, এস এম মোর্ত্তজা রশিদী দারা, আতিকুর রহমান ও এইচ এম রওশান জমির।

এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের আব্দুস সালাম মূর্শেদী বর্তমান সংসদ সদস্য। ২০১৮ সালের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে তিনি জয়ী হয়েছিলেন।

এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম মোর্ত্তজা রশিদী দারার দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস রয়েছে। তিনি ওই আসনের তিন বারের সাবেক সংসদ সদস্য এস এম মোস্তফা রশিদী সুজার আপন ভাই।

তিনি বলেন, এলাকার মানুষের দোয়া নিয়ে মাঠে নেমেছি। জয়-পরাজয় এলাকার মানুষই নির্ধারণ করবেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই আসনে আওয়ামী লীগের এই দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এলাকার ভোটাররা বলছেন, বাকি ১২ জন প্রার্থীদের নাম খুব একটা শোনেননি তারা। কেউ কেউ একেবারেই অপরিচিত।

খুলনা-৫ আসনের জন্য মনোনয় জমা দিয়েছেন ৭ জন। তারা হলেন- জাতীয় পার্টির মো. শহীদ আলম, জাকের পার্টির সামাদ সেখ, আওয়ামী লীগের নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, ওয়ার্কার্স পার্টির শেখ সেলিম আকতার, বাংলাদেশ কংগ্রেসের এস এম এ জলিল, ইসলামী ঐক্যজোটের তরিকুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ আকরাম হোসেন।

এদের মধ্যে নারায়ণ চন্দ্র চন্দ একাধিক বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী। এ ছাড়া আকরাম হোসেন ফুলতলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। এই আসনেও আওয়ামী লীগের এই দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ভোটাররা। বাকি যারা প্রার্থী হয়েছেন এলাকার রাজনীতিতে তাদের তেমন কোনো পরিচিতি নেই বলে জানা গেছে।

খুলনা-৬ আসনের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ১২ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের মো. রশীদুজ্জামান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. আবু সুফিয়ান, জাকের পার্টির শেখ মর্তুজা আল মামুন, জাতীয় পার্টির মো. শফিকুল ইসলাম মধু, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মির্জা গোলাম আজম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এস এম নেওয়াজ মোরশেদ, তৃণমূল বিএনপির গাজী নাদীর উদ্দীন খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম রাজু, গাজী মোস্তফা কামাল, জি এম মাহবুবুল আলম, মো. মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর ও মো. অহিদুজ্জামান মোড়ল।

এদের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত মো. রশীদুজ্জামানের কোনো দলীয় পদ নেই। তিনি একসময় পাইকগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্যসচিব ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে জামানত হারিয়েছিলেন। তবে তাকেই মনোনয়ন দিয়ে চমক সৃষ্টি করেছে ক্ষমতাসীন দল। ওই আসনে রাজনৈতিকভাবে পরিচিত রয়েছে জাতীয় পার্টির মো. শফিকুল ইসলাম মধুর। তিনি আগেও খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। বাকি প্রার্থীদের তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই। এলাকার সবার কাছে পরিচিত মুখও নন অনেকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশির ভাগ আসনেই ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীদের স্থানীয়রা তেমন একটা চেনেন না। তবে বিরোধীদের এক অংশ নির্বাচন বর্জন করায় রাজনীতির নতুন সমীকরণ মেলাতে ছোট দলগুলোই নির্বাচনে হতে যাচ্ছে বড় দলগুলোর সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনীযুদ্ধ পার হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী।

জাসদের মাঠপর্যায়ের এক রাজনীতিবিদ জসিম মণ্ডল বলেন, ‘নির্বাচন একটা বড় খেলা। এখানে সবাই নামে নিজ নিজ সমীকরণ মেলানোর জন্য। রাজনৈতিক দলগুলোর সমীকরণ হয় এক ধরনের, আবার প্রার্থীর সমীকরণ হয় আরেক ধরনের। সবাই নির্বাচনে জয়ী হতে যেমন অংশ নেয় না তেমনই কেউ কেউ নির্বাচনে যায় অন্যের যাত্রা ভঙ্গ করতে। আবার অনেকের কাছে ‘নির্বাচনে অংশগ্রহণই বড় কথা।’ জয়-পরাজয়ের চেয়েও বড় বিষয় এ সময় পোস্টারিং করে নিজের ছবি ও পরিচিতি পুরো এলাকার মানুষকে দেখানো যায়। এটাও বা কম কিসে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দেশের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষেরই আছে নির্বাচনে দাঁড়ানোর অধিকার। তাই কটা টাকা খরচ করে অনেকেই পরিচিতি বাড়ানোর সুযোগ নেয়। এর ফল তো অসীম-সারাজীবন নানাভাবে এর সুফল মেলে। যারা রাজনীতিতে আছেন, কেবল তারাই বোঝেন নির্বাচনে অংশ নিতে পারার গুরুত্ব।


দেশে পশু কোরবানি হয়েছে ৯৩ লাখের বেশি: প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

আপডেটেড ৪ জুন, ২০২৬ ১৯:৫৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঈদুল আজহায় দেশে মোট ৯৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪১৮টি গবাদিপশু কোরবানি হয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি।

এ সময় বিভাগভিত্তিক কোরবানির ব্যাপারে জানানো হয়, ঢাকা বিভাগে সর্বাধিক ২৩ লাখ ৫১ হাজার ৬৬৬টি পশু কোরবানি হয়েছে। এর মধ্যে গরু ও মহিষ ১৩ লাখ ৬৯ হাজার ৫টি, ছাগল ও ভেড়া ৯ লাখ ৮২ হাজার ১০৭টি এবং অন্যান্য পশু ৫৫৪টি। চট্টগ্রাম বিভাগে কোরবানি হয়েছে ১৭ লাখ ৩৪ হাজার ২৫টি পশু। এর মধ্যে গরু ও মহিষ ১২ লাখ ১৮ হাজার ৬৭২টি, ছাগল ও ভেড়া ৫ লাখ ১৪ হাজার ৯৯২টি এবং অন্যান্য পশু ৩৬১টি।

রাজশাহী বিভাগে ২৩ লাখ ৪২ হাজার ৮৬৯টি পশু কোরবানি হয়েছে। এর মধ্যে গরু ও মহিষ ৭ লাখ ৯৬ হাজার ১২১টি, ছাগল ও ভেড়া ১৫ লাখ ৪৬ হাজার ৭০৬টি এবং অন্যান্য পশু ৪২টি। খুলনা বিভাগে কোরবানি হয়েছে ৮ লাখ ৪৬ হাজার ৫টি পশু। এর মধ্যে গরু ও মহিষ ২ লাখ ৮৩ হাজার ১৯২টি, ছাগল ও ভেড়া ৫ লাখ ৬২ হাজার ৭৮৬টি এবং অন্যান্য পশু ২৭টি।

বরিশাল বিভাগে কোরবানি হয়েছে ৪ লাখ ১৬০টি পশু। এর মধ্যে গরু ও মহিষ ২ লাখ ৯০ হাজার ৩৯৮টি এবং ছাগল ও ভেড়া ১ লাখ ৯ হাজার ৭৬২টি। ময়মনসিংহ বিভাগে কোরবানি হয়েছে ৩ লাখ ৬৭ হাজার ৮১৮টি পশু। এর মধ্যে গরু ও মহিষ ২ লাখ ২৬ হাজার ৬৪১টি, ছাগল ও ভেড়া ১ লাখ ৪১ হাজার ১৫৪টি এবং অন্যান্য পশু ২৩টি।

রংপুর বিভাগে কোরবানি হয়েছে ১০ লাখ ৫০ হাজার ৫৫৪টি পশু। এর মধ্যে গরু ও মহিষ ৪ লাখ ৯৬ হাজার ৮৮টি, ছাগল ও ভেড়া ৫ লাখ ৫৪ হাজার ৪৫৮টি এবং অন্যান্য পশু ৮টি। আর সিলেট বিভাগে কোরবানি হয়েছে ২ লাখ ৭৪ হাজার ৩২১টি পশু। এর মধ্যে গরু ও মহিষ ১ লাখ ৮৪ হাজার ৪১টি, ছাগল ও ভেড়া ৯০ হাজার ২৬৮টি এবং অন্যান্য পশু ১২টি।

এ ছাড়া ঢাকা বিভাগে সর্বাধিক কোরবানি হয়েছে ২৩ লাখ ৫১ হাজার ৬৬৬টি পশু, যা দেশের মোট কোরবানি একটি উল্লেখযোগ্য অংশ। রাজশাহী বিভাগে ২৩ লাখ ৪২ হাজার ৮৬৯টি পশু কোরবানি হয়েছে, যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। চট্টগ্রাম বিভাগে কোরবানি হয়েছে ১৭ লাখ ৩৪ হাজার ২৫টি পশু, যা তৃতীয় সর্বোচ্চ।

গরু ও মহিষ কোরবানির ক্ষেত্রে ঢাকা বিভাগ শীর্ষে। ছাগল ও ভেড়া কোরবানির ক্ষেত্রে রাজশাহী বিভাগ সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে।

মাঠ পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে কোরবানিযোগ্য পশুর চাহিদা ছিল ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি এবং প্রাপ্যতা ছিল ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি। এ বছর জবাইকৃত পশুর সংখ্যা ৯৩ লাখ ৬৭ হাজার ৪১৮টি এবং উদ্বৃত্ত ছিল ২৯ লাখ ৬৬ হাজার ৪২২টি।


বিআইডব্লিউটিএ―র নতুন চেয়ারম্যান মুহিদুল ইসলামের যোগদান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গত বুধবার (৩ জুন) নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ)-এর নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করেছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মুহিদুল ইসলাম।

ইতোমধ্যে তিনি বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদস্য নিরাপত্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

এ ছাড়া তিনি মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কিশোরগঞ্জ ও রাজবাড়ী জেলাসহ অন্যান্য জেলায় দায়িত্ব পালন করেছেন।

মুহিদুল ইসলাম জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের বিশ্ব নৌ-বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।


বিআইডব্লিউটিএ’র নতুন চেয়ারম্যান মোঃ মুহিদুল ইসলাম এর যোগদান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ)-এর নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে যোগদান করেছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব জনাব মোঃ মুহিদুল ইসলাম।

অদ্য ০৩/০৬/২০২৬ খ্রি. তারিখে তিনি যোগদান করেন।

ইতোপূর্বে তিনি বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদস্য নিরাপত্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও তিনি মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে কিশোরগঞ্জ ও রাজবাড়ী জেলাসহ অন্যান্য জেলায় দায়িত্ব পালন করেছেন।

জনাব মোঃ মুহিদুল ইসলাম জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের বিশ্ব নৌ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রী অর্জন করেছেন।


বিএসএফের ১০টি পুশইন চেষ্টা রুখে দিল বিজিবি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকা দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশইনের ১০টি অপচেষ্টা সফলভাবে রুখে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) গত ২৪ ঘণ্টায় বিজিবির কঠোর অবস্থান নিয়মিত টহলের মুখে এই অনুপ্রবেশ চেষ্টার সবগুলোই ব্যর্থ হয়েছে। বিজিবি সদর দপ্তর জানিয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় দেশের সীমান্ত সুরক্ষা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় গোয়েন্দা নজরদারি এবং অপারেশনাল কার্যক্রম আগের চেয়ে আরও জোরদার করা হয়েছে। বিজিবি সদস্যদের এই দৃঢ় অবস্থানের ফলে সীমান্ত এলাকায় বর্তমানে স্থিতিশীলতা বজায় রয়েছে।

বিজিবির পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, ঝিনাইদহের মহেশপুর ব্যাটালিয়নের অধীন যাদবপুর সীমান্ত দিয়ে কয়েকজন ব্যক্তি প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবির বাধার মুখে তারা পুনরায় ভারতে ফিরে যায়। একই এলাকায় বিএসএফের একটি প্রিজন ভ্যানে করে প্রায় ৩০-৩৫ জন ব্যক্তিকে জোরপূর্বক বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করলে স্থানীয় জনতা বিজিবি সম্মিলিতভাবে তা প্রতিহত করে। এছাড়া যশোরের গোগা রুদ্রপুর এবং জয়পুরহাটের কয়া বাসুদেবপুর সীমান্তে বিএসএফ কর্তৃক লোক জড়ো করে পুশইনের যাবতীয় আয়োজন বিজিবির সতর্কতামূলক অবস্থানের কারণে ভেস্তে গেছে।

সীমান্তের বিভিন্ন অংশে বিএসএফের স্থাপিতহোল্ডিং সেন্টারগুলোতে অনেক মানুষকে আটকে রেখে বাংলাদেশে পাঠানোর খবর পাওয়া গেছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের সোনামসজিদ সীমান্তের বিপরীতে প্রায় ২২ জন এবং নেত্রকোনার কচুগড়া সীমান্তের বিপরীতে ১৫-২০ জন ব্যক্তিকে পুশইনের উদ্দেশ্যে জড়ো করার তথ্য পেয়েছে বিজিবির গোয়েন্দা শাখা। বিশেষ করে নেত্রকোনার একটি অংশে প্রাকৃতিক কারণে কাঁটাতারের বেড়া না থাকায় সেখানে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করছে। অন্যদিকে পঞ্চগড়ের রওশনপুর সিলেটের উৎমাছড়া সীমান্তেও অনুপ্রবেশের চেষ্টা করা হলে বিজিবি স্থানীয় জনগণের সহায়তায় তাদের শনাক্ত করে পুনরায় ভারতে ফেরত পাঠানো হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঠাকুরগাঁওয়ের হরিপুর সীমান্তের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে বিএসএফ দুইজন বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করে নিজেদের হেফাজতে রেখেছে। তবে বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিএসএফের পক্ষ থেকে বিজিবিকে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য বা বার্তা পাঠানো হয়নি। ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার আলোকে কাজ করার পাশাপাশি সার্বক্ষণিক গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। এছাড়া অনুপ্রবেশের যে-কোনো প্রচেষ্টাকে কঠোরভাবে প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েছে বাহিনীটি।

বিজিবি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানিয়েছে যে, আন্তর্জাতিক আইন এবং দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার পরিপন্থি যে-কোনো কার্যক্রম রুখে দিতে তারা বদ্ধপরিকর। সীমান্ত দিয়ে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। দেশের সার্বভৌমত্ব নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি বর্তমানে পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে এবং যে-কোনো উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সদস্যরা সীমান্তে সদা জাগ্রত রয়েছেন। স্থানীয় জনগণের সহায়তায় সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।


বাজেট ও সংস্কারের মহাসড়কে স্বাস্থ্য খাত

* এডিপিতে তৃতীয় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার * বৈষম্য দূর করে একীভূত কাঠামোর নতুন দিগন্ত * উপজেলার ৪৯২ হাসপাতাল ১০১ শয্যায় উন্নীত হচ্ছে * শিশু চিকিৎসায় হচ্ছে ৫ বিশেষায়িত হাসপাতাল * মূল চ্যালেঞ্জ অর্থ বরাদ্দ বনাম দক্ষ বাস্তবায়ন
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

দেশের স্বাস্থ্য খাতের চালচিত্রটি সবসময়ই যেন এক চরম বৈপরীত্যের গল্প। একদিকে সরকারি হাসপাতালের সীমিত খরচের সেবায় সাধারণ মানুষের অবহেলার অন্তহীন দীর্ঘশ্বাস, অন্যদিকে বেসরকারি চিকিৎসার সুরম্য ভবনে পকেট খালি হওয়া চড়া মূল্য। এই দুইয়ের যাঁতাকলে পিষ্ট দেশের বৃহৎজনগোষ্ঠী। তবে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন বেশি বাধাগ্রস্ত হয়েছে ইউনূসের নেতৃত্বধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে। বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫ সালে স্বাস্থ্য খাতে কাঙ্ক্ষিত সংস্কার ও সেবার মানোন্নয়নের পরিবর্তে আলোচনায় ছিল প্রশাসনিক অচলাবস্থা, চিকিৎসকদের অসন্তোষ এবং নীতিগত দুর্বলতা।

বিশেষ করে সময়মত টিকা সরবরাহে ব্যর্থতার কারণে দেশে শিশুদের মধ্যে হামের প্রাদুর্ভাব বাড়ছে, ঘটছে মৃত্যু। পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক ও জনবল সংকট, ওষুধ ও যন্ত্রপাতির অভাব এবং ব্যবস্থাপনার দুর্বলতাও ছিল প্রকট। এসব সংকট কাটাতে স্বাস্থ্য খাতে এক ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী পরিবর্তনের রূপরেখা তৈরি করেছে সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের নতুন বাজেটে স্বাস্থ্য খাতকে অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার দিয়ে এক বিশাল সংস্কার ও উন্নয়ন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, অতিরিক্ত কেন্দ্রীভূত স্বাস্থ্যসেবা, বিশেষজ্ঞনির্ভর চিকিৎসা, প্রাথমিক চিকিৎসা উপেক্ষা করে বিশেষজ্ঞের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা, স্বচ্ছতার অভাব ও দায়মুক্তির সংস্কৃতি, স্বাস্থ্যকর্মীদের মনোবলহীনতায় ইউনূসের আমলে স্বাস্থ্য খাতে বিপর্যয় নেমে আসে। সংস্কার বাস্তবায়ন, প্রশাসনিক শৃঙ্খলায় ঘাটতি এবং স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের আমূল পরিবর্তনেও ছিল ধীরগতি। বিশেষ করে স্বাস্থ্য খাতে ৩৩টি জরুরি সুপারিশের মধ্যে মাত্র ৬টি বাস্তবায়ন হওয়ায় খাতটি চরমভাবে ধুঁকছে। এখন এই দুর্বল খাতটিকে টেনে তুলতে গিয়ে হিমসিম অবস্থা বর্তমান সরকারের।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বাস্থ্যের ১৪টি খাতে অর্থ বরাদ্দ হয় অপারেশন প্ল্যানের (ওপি) মাধ্যমে। কিন্তু হাসিনা সরকারের পতনের বছর ২০২৪ সালেই ওপি থেকে বেরিয়ে আসে অন্তর্বর্তী সরকার। এতে স্বাস্থ্যের সব উন্নয়নমূলক কাজে স্থবিরতা নেমে আসে। ফলে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, রোগ নিয়ন্ত্রণ, টিকাদান, পুষ্টিসহ ৩৭টির বেশি কর্মসূচি ব্যাহত হয়।

স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ মাত্র ৫ শতাংশ: জনস্বাস্থ্যবিদরা আশা করেছিলেন, অন্তর্বর্তী সরকার স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়বে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। জাতীয় বাজেটের ৫ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয় স্বাস্থ্য খাতে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, সেবা খাতে কোনো সফলতাই দেখাতে পারেনি অন্তর্বর্তী সরকার। তবে বর্তমান সরকার ভঙ্গুর স্বাস্থ্যখাতকে টেনে তুলছে যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছে।

সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) ৩ লাখ ৯ হাজার কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) অনুমোদন দিয়েছে। এই এডিপিতে স্বাস্থ্য খাতের বাজেট প্রায় দ্বিগুণ করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতে মোট বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৫ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা, যা চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ছিল মাত্র ১৮ হাজার ১৪৮ কোটি টাকা।

মোট এডিপির ১১ দশমিক ৮৬ শতাংশ এ খাতে বরাদ্দ দিয়ে পরিবহন ও যোগাযোগ এবং শিক্ষা খাতের পর স্বাস্থ্যকে রাখা হয়েছে তৃতীয় সর্বোচ্চ অবস্থানে। এই বিশাল বরাদ্দের মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ পাবে ২৬ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগ পাবে ৮ হাজার ২২১ কোটি টাকা। বাকি ৫০৩ কোটি টাকা অন্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে ব্যয় হবে। সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, আগামীতে মোট বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ অন্তত ৫ শতাংশে উন্নীত করা হবে।

সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে গ্রামীণ অবকাঠামোয় বড় ধরনের সম্প্রসারণ করা হচ্ছে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে দেশের ৫০ শয্যার ৪৯২টি উপজেলা হাসপাতালকে ১০১ শয্যায় উন্নীত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে আটটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যার হাসপাতালে রূপান্তরিত করা হয়েছে। বাকি হাসপাতালগুলোর অবকাঠামোগত প্রয়োজনীয়তা মূল্যায়ন করবে গণপূর্ত বিভাগ এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় দ্রুততম সময়ে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ দেবে।

প্রধানমন্ত্রী এসব হাসপাতালে প্রয়োজনীয় আধুনিক সরঞ্জাম নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি, গ্রামীণ পর্যায়ে থেরাপি ও পুনর্বাসন সেবা জোরদার করতে এই হাসপাতালগুলোর প্রতিটিতে দুজন করে ফিজিওথেরাপিস্ট নিয়োগ দেওয়া হবে।

দেশের শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে বরিশাল, খুলনা, রাজশাহী ও রংপুর—এই চার বিভাগীয় শহর এবং কুমিল্লা জেলা সদরে মোট পাঁচটি নতুন শিশু হাসপাতাল চালু করা হবে। এই বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোর কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে প্রতিটির জন্য ১ হাজার ৪৭৫ জন করে নতুন জনবল প্রয়োজন হবে। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যেই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়কে এই বিশাল জনবল দ্রুত নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

শুধু অবকাঠামো উন্নয়নই নয়, স্বাস্থ্যসেবার কার্যকারিতা বাড়াতে মাঠপর্যায়ে একটি অভূতপূর্ব প্রশাসনিক সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত জানিয়েছেন, বর্তমানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, পরিবার পরিকল্পনা বিভাগ ও কমিউনিটি ক্লিনিক মিলিয়ে প্রায় ৪০ হাজার কর্মী আলাদা আলাদা কাঠামোয় কাজ করছেন। এর ফলে সমন্বয়হীনতা তৈরি হচ্ছে—একই এলাকায় একাধিকবার সেবা পৌঁছালেও কিছু দুর্গম এলাকা পুরোপুরি সেবার বাইরে থেকে যাচ্ছে।

এই সেবা পুনরাবৃত্তি বা ‘ডুপ্লিকেশন’ দূর করতে এবার পুরো মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্য কার্যক্রমকে একটি একক সমন্বিত কাঠামোর অধীনে আনা হচ্ছে। এই পরিকল্পনার আওতায় বর্তমানের ৪০ হাজার কর্মীর সাথে আরও অতিরিক্ত ১ লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে। ফলে মোট ১ লাখ ৪০ হাজার কর্মী একই ছাতার নিচে এসে কাজ করবেন। একীভূত এই ব্যবস্থায় সবার জন্য অভিন্ন দায়িত্ববণ্টন (জব ডেসক্রিপশন) ও একটি মানসম্মত ‘এসেনসিয়াল সার্ভিস প্যাকেজ’ চালু করা হবে, যাতে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া—সব জায়গায় সেবার মানে একরূপতা বজায় থাকে।

ভবিষ্যতে শুধু জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ নয়, বরং সামগ্রিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন, রোগ প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়া হবে। বর্তমানে দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ নিজ উদ্যোগে গর্ভনিরোধক ব্যবহার করেন, যা মাঠকর্মীদের সমন্বিত প্রচারণার মাধ্যমে ৭০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব বলে মনে করছে মন্ত্রণালয়।

বাজেটে লক্ষ্যমাত্রা ও পরিকল্পনা যতটাই আকর্ষণীয় হোক না কেন, তা মাঠপর্যায়ে কতটা বাস্তবায়িত হবে তা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মনে সংশয় রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. শাফিউন নাহিন শিমুল বলেন, ‘বছর শেষে একটা সংশোধিত বাজেট করা হয়। সংশোধিত বাজেটে দেখা যায়, শুরুতে যেটা ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল, সেটা শেষ পর্যন্ত ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমে যায়। ফলে মাঠপর্যায়ে সেই অর্থের পুরোটা পৌঁছায় না।’

বরাদ্দ অর্থ সময়মতো এবং দক্ষতার সাথে ব্যবহার করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। এই বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের পরিকল্পনাহীন কাজের সমালোচনা করে বলেন, ‘আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব এবং কাজের মাধ্যমেই প্রমাণ করব যে এই বাড়তি বরাদ্দ সঠিকভাবে ব্যয় করা সম্ভব।’ ড. মুহিতও একমত পোষণ করে জানিয়েছেন, আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে রিয়েল-টাইম তথ্য সংগ্রহ ও স্থানীয় পর্যায়ের পরিকল্পনা জোরদার করে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা হবে।

৩৫ হাজার কোটি টাকার এই বিশাল উন্নয়ন বাজেট এবং মাঠপর্যায়ের কাঠামোগত সংস্কার যদি সততা ও দক্ষতার সাথে বাস্তবায়ন করা যায়, তবে দেশের সাধারণ মানুষের চিকিৎসার জন্য পকেট খালি হওয়ার দীর্ঘশ্বাস অনেকটাই কমে আসবে। স্বাস্থ্য খাতের এই মহাসড়ক যেন কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ না থেকে সাধারণ মানুষের প্রকৃত মুক্তির পথ হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।


গ্রাহক পর্যায়ে বাড়ল বিদ্যুতের দাম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে পাইকারি ও গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে সরকার। পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৯ দশমিক ৮৫ শতাংশ হারে বাড়ানো হয়েছে। আর গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম গড়ে ১৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ ও সঞ্চালন চার্জ ২৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে।

বুধবার (৩ জুন) এক সংবাদ সম্মেলনে নতুন দাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। এতে বলা হয়, বিভিন্ন ধাপের (স্লাব) গ্রাহকদের মধ্যে সবচেয়ে কম ১৫ শতাংশ ও সর্বোচ্চ ১৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ দাম বাড়ানো হয়েছে এবার। নতুন এ দাম জুন থেকেই কার্যকর হচ্ছে।

তাড়াহুড়া করে মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বিইআরসির চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, কোনো চাপ ছিল না। বাজেট মাথায় রেখে দ্রুত করা হয়েছে। আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দাম বাড়ানোর ফলে মানুষের ব্যয় বাড়বে, তবে অর্থনৈতিক মূল্যায়ন করা হয়নি। এটা করার সুযোগ আছে।

সরকারি-বেসরকারি সব বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে চুক্তি অনুসারে নির্ধারিত দামে বিদ্যুৎ কিনে নেয় পিডিবি। এরপর তারা উৎপাদন খরচের চেয়ে কিছুটা কমে সরকার নির্ধারিত পাইকারি দামে ছয়টি বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার কাছে বিক্রি করে। ঘাটতি মেটাতে পিডিবি সরকারের কাছ থেকে ভর্তুকি নেয়, তবে বিতরণ সংস্থাগুলো কোনো ভর্তুকি পায় না। তারা খুচরা দামে ভোক্তার কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করে কোম্পানি চালায়।

বিইআরসির আদেশ বলছে, পাইকারিতে বর্তমান দাম ৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে গড় দাম ৮ টাকা ৩৯ পয়সা করা হয়েছে। আর খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিটের গড় দাম ৯ টাকা ১১ পয়সা থেকে বেড়ে হয়েছে ১০ টাকা ৬৩ পয়সা। অন্যদিকে সঞ্চালন খরচ (গড়) ইউনিট প্রতি ৩১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে প্রায় ৩৯ পয়সা করা হয়েছে।

বিদ্যুতের একমাত্র সঞ্চালন কোম্পানি পিজিসিবি (পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি), প্রতি ইউনিটে যথাক্রমে ৩০ ও ৩১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪৮ ও ৪৯ পয়সা করার আবেদন করেছিল।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) পাইকারি পর্যায়ে ইউনিট প্রতি ১ দশমিক ২০ টাকা (১৭ শতাংশ) থেকে ১ দশমিক ৫০ টাকা (২১ শতাংশ) দাম বাড়ানোর আবেদন করে। মূল্যবৃদ্ধির আবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিদ্যুতের সম্ভাব্য উৎপাদন খরচ পড়বে প্রায় ১ লাখ ৪৩ হাজার ১০৮ কোটি টাকা। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম পড়বে ১২ দশমিক ৯১ টাকার মতো। গত ২০ ও ২১ মে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে গণশুনানি করে বিইআরসি।

সবশেষ ২০২৪ সালের ২৯ ফেব্রুয়ারি নির্বাহী আদেশে গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম সাড়ে ৮ শতাংশ বাড়ানো হয়। একই সঙ্গে পাইকারি দর ৬ টাকা ৭০ পয়সা থেকে ৫ শতাংশ বাড়িয়ে ৭ টাকা ৪ পয়সা করা হয়।


দেশের প্রত্যেক নাগরিককে চিন্তায় রেখে বাজেট দেওয়া হবে: অর্থমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, বাজেট ভালো হবে। বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষকে চিন্তায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে। আমাদের খারাপ সময়, ভঙ্গুর অর্থনীতি তার মধ্যে আমরা চেষ্টা করেছি, বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের কথা চিন্তা করেছি, সবাইকে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হবে ইনশাআল্লাহ। বুধবার (৩ জুন) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ মন্তব্য করেছেন।

সরকারের ওপর প্রচুর ঋণের বোঝা জানিয়ে আমীর খসরু মাহমুদ বলেন, সবদিক থেকে অর্থনীতির অবস্থা খুবই খারাপ। তারপরও এই অবস্থার মধ্যে আমরা দায়িত্ব নিয়েছি। এরপরও বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষকে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া চেষ্টা করেছি। কারণ বাজেটের এই অর্থনীতিতে সবার অংশগ্রহণ যাতে নিশ্চিত করতে পারি এবং অর্থনীতির সুফল যাতে প্রত্যেকটি নাগরিকের কাছে যায় সেগুলো মাথায় রেখে প্রণয়ন করার চেষ্টা করেছি।

তিনি বলেন, আমরা খুব একটা ভঙ্গুর অবস্থার মধ্যে আছি। বিগত সরকারগুলো থেকে আশা করি এটা একটা ভালো শুরু হবে। একটু সময় দিতে হবে। শুরুটা আশা করি ভালো হবে। এখান থেকে আমরা সামনের দিকে ভালোভাবে এগিয়ে যেতে পারব।

গত দুই বছর মানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় বাংলাদেশে বিনিয়োগ একেবারেই শূন্য ছিল, এখন আপনাদের সরকারের তিন মাস পার হলো। বিনিয়োগ বাড়ানোর ক্ষেত্রে বা বিনিয়োগের বিষয়ে কোনো আশ্বাস রয়েছেন কিনা? সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, না। বাংলাদেশের বাংলাদেশের অর্থনীতি হবে বিনিয়োগ ভিত্তিক অর্থনীতি। টাকা ছাপিয়ে এই ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে দেশকে ঋণাত্মক একটা অবস্থায় নিয়ে গেছে। আমাদের এই ঋণের সুদের বাজেট একটা বিরাট অংশ চলে যায়। বাংলাদেশকে যে ঋণ নির্ভর অর্থনীতির দিকে যাচ্ছিলাম, সেখান থেকে আগামী দিনে ফিরে আসার জন্য যে পাবলিক ফাইনান্স ম্যানেজমেন্ট দরকার, আমরা সেভাবেই করার চেষ্টা করছি। যাতে করে ক্রমান্বয়ে ঋণ ওপর নির্ভর কম করে বিনিয়োগের উপর বেশি নির্ভর করতে হবে। আমাদের পরিচালন ব্যয় ক্রমান্বয়ে কমিয়ে আনতে হবে, বিনিয়োগ বেশি বাড়াতে হবে।

তিনি আরও বলেন, যে অর্থনীতি বাংলাদেশের মানুষের বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ সংরক্ষণ করতে পারবে এবং যে উন্নয়নের স্বপ্ন আমরা দেখাতে চেষ্টা করছি, ট্রিলিয়ন ডলার ইকোনমির দিকে আমরা যাচ্ছি। সেটা যাতে বাস্তবায়ন হতে পারে। সেই চেষ্টা করছি।


দেশজুড়ে তীব্র দাবদাহে বিপর্যস্ত জনজীবন

* ঢাকাসহ ৪১ জেলায় বইছে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ * জীবননগরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দেশজুড়ে বহমান তীব্র দাবদাহ ও ভ্যাপসা গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে, যার মধ্যে রাজধানী ঢাকাসহ অন্তত ৪১টি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। প্রখর রোদ আর তপ্ত বাতাসে সবচেয়ে বেশি দুরবস্থায় পড়েছেন খেটে খাওয়া দিনমজুর, রিকশাচালক ও ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা। জীবিকার তাগিদে এই চরম প্রতিকূল আবহাওয়াতেও তাদের বাইরে বের হতে হচ্ছে, ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও আয় কমে যাওয়ার মতো দ্বিমুখী সংকটে পড়েছেন তারা। এ তাপপ্রবাহ আগামী শুক্রবার (৫ জুন) নাগাদ কমে আসতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বুধবার (৩ জুন) আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. আব্দুল হামিদ মিয়া এ তথ্য দিয়েছেন।

অধিদপ্তর জানিয়েছে, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইল, ফরিদপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, ময়মনসিংহ, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, লক্ষ্মীপুর, বরিশাল, পটুয়াখালী ও ভোলা জেলাসহ রাজশাহী বিভাগের ৮ জেলা, রংপুর বিভাগের ৮ জেলা এবং খুলনা বিভাগের ১০ জেলার ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।

হামিদ মিয়া বলেন, ‘বৃষ্টি হলে তাপমাত্রা কিছুটা কমবে। তবে বৃহস্পতিবারও দেশের অধিকাংশ এলাকায় তাপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে। তাপপ্রবাহ কমে আসবে শুক্রবার।’

এদিকে এদিন রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় ও রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল বিভাগের দুয়েক জায়গায় এবং বৃহস্পতিবার রংপুর, ঢাকা, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম, সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় ও রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল বিভাগের দুয়েক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

রাজশাহীতে তাপদাহে বিপর্যস্ত জনজীবন: চলমান তাপদাহে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উত্তরের জনপদ রাজশাহীর স্বাভাবিক জনজীবন। বিশেষ করে তীব্র রোদ আর ভ্যাপসা গরমে সব থেকে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছেন শিশু ও বয়স্করা।

আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার রাজশাহীতে মৌসুমের অন্যতম উষ্ণতম দিন পার হয়েছে। এই জেলায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৬৫ শতাংশ, যা ভ্যাপসা গরমের অস্বস্তি বাড়িয়ে দিয়েছে কয়েকগুণ ।

এর আগের দিন অর্থাৎ সোমবারও আবহাওয়া পরিস্থিতি প্রায় একই রকম ছিল। এদিন রাজশাহীতে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ২৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

টানা দুই-তিন দিন একই ধরনের উচ্চ তাপমাত্রা বিরাজ করায় তাপপ্রবাহ দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিয়েছে। প্রতিনিয়ত বাড়ছে অসুস্থ মানুষের সংখ্যা।

কাজে বা বিভিন্ন প্রয়োজনে দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকার ফলে হিটস্ট্রোক ও পানিবাহিত রোগী বাড়ছে। জ্বর, সর্দি-কাশিসহ গরমে অসুস্থ হয়ে পড়া রোগীদের সংখ্যাও বাড়ছে বলে বিভিন্ন হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

মহানগর ও জেলার উপজেলাগুলোতে অব্যাহত এই তাপপ্রবাহে নাভিশ্বাস উঠেছে খেটে খাওয়া মানুষসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষেরও। কয়েকদিন ধরেই সকাল থেকে বিকেল প্রায় সাড়ে ছয়টা পর্যন্ত সূর্যের প্রখর রোদ থাকায় খেটে খাওয়া দিনমজুররা বেশি সময় ধরে মাঠে থাকতে পারছেন না।

মো. রহিদুল নামের এক দিনমজুর বলেন, কয়েকদিন ধরে প্রচুর গরম পড়ায় ব্যাপক সমস্যার মধ্যে আছি। কাজ করতে কষ্ট হচ্ছে, আবার কাজ না করলে পরিবারের সদস্যদের মুখে খাবার তুলে দেওয়া সম্ভব হবে না বলে যত কষ্টই হোক, কাজ করতে হচ্ছে।

রিকশাচালক সইমুর বলেন, তীব্র গরমে খুব কষ্ট হচ্ছে। কাজ ছাড়া লোকজন বাইরে বের হচ্ছে না বলে আয়ও তেমন হচ্ছে না।

শহরের মোড়ে মোড়ে তৃষ্ণা মেটানোর জন্য ডাব, তালের শাঁস ও শরবতের দোকানে ভীড় করছেন পেটের দায়ে গরম উপেক্ষা করে রাস্তায় নামা মানুষ।

জীবননগরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস: জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি জানান, চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে এবার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বেলা ৩টায় চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার এই তাপমাত্রা রেকর্ড করে। হঠাৎ তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলাজুড়ে মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে চলায় চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

তীব্র রোদের কারণে দুপুরের দিকে জীবননগর পৌর শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে মানুষের উপস্থিতি ও যানবাহন চলাচল অনেকটাই কমে গেছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাড়ির বাইরে বের হচ্ছেন না।

প্রখর রোদের কারণে শ্রমজীবী মানুষ, বিশেষ করে রিকশাচালক ও দিনমজুররা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন। তীব্র গরমে অনেকেই একটু পরপর গাছের ছায়ায় বা ঠাণ্ডা স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন।

চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ জামিনুর রহমান জানান, কয়েক দিন ধরেই চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়ছে। বুধবার (৩ দিন) দুপুর ৩টায় উপজেলার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে গিয়ে পৌঁছায়। বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ওঠানামা করায় ভ্যাপসা গরম ও অস্বস্তি আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে।

আগামী আরও কয়েক দিন এই ধরনের তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকতে পারে এবং তাপমাত্রা আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তীব্র গরমের কারণে হিট স্ট্রোক, ডায়রিয়া এবং পানিশূন্যতার মতো স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে চিকিৎসকরা বিশেষ সতর্কতা জারি করেছেন।

প্রচণ্ড রোদে দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত অতি জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়া। বাইরে বের হলেও ছাতা ও সানগ্লাস ব্যবহার করা। শরীর সতেজ রাখতে প্রচুর পরিমাণে নিরাপদ পানি, লেবুর শরবত ও ডাবের পানি পান করার কথা বলছেন। শিশু এবং বৃদ্ধদের বিশেষ যত্নে রাখার কথাও বলছেন চিকিৎসক।


পুলিশের ঊর্ধ্বতন ৯ কর্মকর্তাকে বদলি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশ পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও সহকারী পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ৯ কর্মকর্তাকে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে। ‎

গত মঙ্গলবার (২ জুন) অ্যাডিশনাল ডিআইজি (প্রশাসন) রায়হান উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত এক আদেশে তাদের বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) বিষয়টি প্রকাশিত হয়।

বদলি করা কর্মকর্তাদের মধ্যে খাগড়াছড়ির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ শাহাদাৎ হোসেনকে ডিএমপির অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার, গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জিয়াউল হককে গাজীপুরের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

এছাড়া পুলিশ হেডকোয়ার্টাসে কর্মরত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসানকে গাজীপুর ইন-সার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে বদলি করা হয়েছে। খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে কর্মরত অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসিফ ইকবালকে বদলি করা হয়েছে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স (টিআর পদে)।

হবিগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহিদুল হক মুন্সীকে বদলি করা হয়েছে নৌপুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে।

এছাড়াও র‍্যাবে কর্মরত সহকারী পুলিশ সুপার মো. আমিরুজ্জামানকে স্পেশাল ব্রাঞ্চে (এসবি) বদলি করা হয়েছে। পাশাপাশি গাজীপুর মহানগর পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. দ্বীন-ই-আলমকে রেলওয়ে পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

আদেশে বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জনস্বার্থে তাদের নামের পাশে উল্লেখকৃত পদে/স্থানে বদলি/পদায়ন করা হলো। আগামী ১৫ জুনের মধ্যে তাদেরকে বর্তমান কর্মস্থলের দায়িত্বভার অর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


তিন দেশ থেকে ৫ কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের জ্বালানি চাহিদা পূরণে তিন দেশ থেকে ৫ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এর মধ্যে সুইজারল্যান্ড থেকে কেনা হবে ২ কার্গো, যুক্তরাজ্য থেকে কেনা হবে ২ কার্গো এবং সিঙ্গাপুর থেকে কেনা হবে ১ কার্গো এলএনজি।

বুধবার (৩ জুন) সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে এই এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

জানা যায়, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০২৫-এর বিধি ১০৫(৩)(ক) অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক কোটেশন সংগ্রহ (আরএফকিউ-ইন্টারন্যাশনাল) পদ্ধতিতে তিন কার্গো এলএনজি কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

অনুমোদিত প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ২৬-২৭ জুন সময়ের জন্য ২৬তম কার্গো, ৩০ জুন-১ জুলাই সময়ের জন্য ২৭তম কার্গো এবং ৬-৭ জুলাই সময়ের জন্য ২৮তম কার্গো— এই তিন কার্গো এলএনজি কেনা হবে।

ক্রয় প্রস্তাবের আওতায় এক কার্গো এলএনজি সিঙ্গাপুরভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বিপি সিঙ্গাপুর প্রাইভেট লিমিটেড এবং দুই কার্গো যুক্তরাজ্যভিত্তিক টোটাল ইঞ্জিনিয়ারিং গ্যাস অ্যান্ড পাওয়ার লিমিটেডের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হবে। এই তিন কার্গো এলএনজি কিনতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৩৭২ কোটি ২১ লাখ ১৮ হাজার ৭৮৪ টাকা (এআইটিসহ)।

বৈঠকে আর এক প্রস্তাবের পরিপ্রেক্ষিতে সুইজারল্যান্ড থেকে স্বল্প মেয়াদে ২০২৬ সালে সরাসরি ক্রয় প্রক্রিয়ায় ২ কার্গো এলএনজি কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই ২ কার্গো এলএনজি কিনতে মোট কতো টাকা ব্যয় হবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সুইজারল্যান্ডের এসওসিএআর ট্রেডিং এসএ থেকে জি-টু-জি ভিত্তিতে স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদে এলএনজি সরবরাহ এবং এফআরএসইউ স্থাপনের জন্য আগ্রহ ব্যক্ত করে প্রস্তাব দাখিল করে।

গত বছরের ২০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে জি-টু-জি ভিত্তিতে চুক্তির আওতায় এসওসিএআর ট্রেডিং এসএ থেকে স্বল্প মেয়াদে ২০২৬ সালে কিছু সংখ্যাক এলএনজি সরবরাহের প্রস্তাব নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়।

এলএনজি আমদানিতে স্পট মার্কেটের বিকল্প হিসেবে সাশ্রয়ী মূল্যে জি-টু-জি ভিত্তিতে স্বল্প মেয়াদে এসওসিএআর ট্রেডিং এসএ থেকে ২০২৬ সালে ২ কার্গো এলএনজি নেগোসিয়েশনের মাধ্যমে নির্ধারিত জাপান কোরিয়া মার্কেট ফরমুলা-অনুযায়ী দরপ্রস্তাব প্রতি এমএমবিটিইউ (জেকেএম+ শূন্য দশমিক ১২৫ মার্কিন ডলার) হিসেবে অনুমোদনের জন্য প্রস্তাব উপস্থাপন করলে মন্ত্রিসভা কমিটি তাতে অনুমোদন দিয়েছে। এক কার্গোতে এলএনজির পরিমাণ হচ্ছে ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিইউ।


রেডফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন, তদন্তে নামছে একাধিক সংস্থা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঈদুল আজহার ছুটিতে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের রেড টেলিফোনের কপার ক্যাবলের সংযোগ বিচ্ছিন্নের ঘটনার কারণ এখনও জানা যায়নি। একাধিক সংস্থা ঘটনাটির তদন্ত করছে।

গত ২৫ মে ঈদুল আজহার সরকারি ছুটি শুরু হয়। সাত দিনের ছুটি শেষে অফিস খোলে গত সোমবার (১ জুন)। এদিন সকালে সচিবালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীরা অফিসে গিয়ে দেখতে পান, টেলিফোনে সংযোগ নেই। বিষয়টি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে জানানো হয়। কয়েক ঘণ্টা পর বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশনস কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) কর্মকর্তারা সংযোগ পুনরুদ্ধার করেন। এ ঘটনায় বিটিসিএলের কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজিদ হায়দার বাদী হয়ে গত সোমবার (১ জুন) শাহবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

জিডিতে বলা হয়েছে, সচিবালয়ের পুরাতন এক নম্বর ভবন থেকে নতুন ভবন এক নম্বর পর্যন্ত স্থাপিত টেলিযোগাযোগের কপার ক্যাবল ছিল। এই ক্যাবলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের রেড টেলিফোন নম্বরসহ অন্য গুরুত্বপূর্ণ টেলিফোন সংযোগ সচল রাখার কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। ভবনের ছাদে কপার ক্যাবল দুর্বৃত্তরা কেটে ফেলে। ফলে ওই রেড টেলিফোন নম্বরসহ গুরুত্বপূর্ণ টেলিফোন সংযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ‘ঘটনার তদন্ত চলছে। এর বেশি কিছু বলার মতো তথ্য এখন নেই।’

বাংলাদেশ সচিবালয় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের রমনা বিভাগের আওতাধীন। এ বিভাগের উপকমিশনার রেজাউল করিম বলেন, ‘ঘটনাটির ছায়া তদন্ত করছি আমরা।’


প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ডিএনডি বাঁধবিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত

আপডেটেড ৩ জুন, ২০২৬ ২১:০৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা (ডিএনডি) বাঁধ–সংক্রান্ত একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (৩ জুন) বিকেলে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর দফতরে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিষয়টি জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ)।

তিনি বলেন, বৈঠকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ-ডেমরা বাঁধ এলাকার দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতা সমস্যা এবং তা থেকে উত্তরণের উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠক শেষে পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ডিএনডি বাঁধ এলাকায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা এখনও অনেকাংশে রয়ে গেছে। ২০১৬ সালে এ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল, সেটি ২০২৪ সালে শেষ হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত প্রকল্পের সুফল এখন পর্যন্ত সাধারণ মানুষ খুব একটা পায়নি।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সমাপ্ত করা প্রজেক্টটি আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে সিটি কর্পোরেশনের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলেনও জানান তিনি।

এ্যানি বলেন, ডিএনডি এলাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থার আরও উন্নয়নে নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এলাকাজুড়ে ও ৩০ কিলোমিটার নতুন ড্রেনেজ ব্যবস্থা উন্নত করার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরেও আনা হয়েছে।

তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সিটি কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপনায় এবং সবার সম্মিলিত উদ্যোগে এবার কাক্সিক্ষত ফলাফল পাওয়া যাবে।

বৈঠকে পানি সম্পদমন্ত্রী ছাড়াও প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম; ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম এবং রাজউক চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।


একটি মহল ষড়যন্ত্র করছে, সজাগ থাকতে হবে: মির্জা ফখরুল

আপডেটেড ৩ জুন, ২০২৬ ১৭:৫৯
ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি

বিএনপি মহাসচিব ও এলজিআরডি মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন যে, একটি মহল দেশকে অস্থিতিশীল করতে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে এবং এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় দেশের সর্বস্তরের মানুষকে সজাগ থাকতে হবে। বুধবার দুপুরে ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া হাইস্কুল মাঠে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এই হুঁশিয়ারি প্রদান করেন। রুহিয়াকে নতুন উপজেলা ঘোষণা করায় স্থানীয় উপজেলা বিএনপি এই সংবর্ধনার আয়োজন করে। এসময় মন্ত্রী দেশ গড়ার কাজে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী সরকারের গত তিন মাসের সাফল্যের খতিয়ান তুলে ধরে বলেন, ক্ষমতা গ্রহণের অল্প সময়ের মধ্যেই সরকার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পূরণে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ঠাকুরগাঁও জেলার রুহিয়া ও ভুল্লীকে পূর্ণাঙ্গ উপজেলা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া জেলাটিতে বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ চালু এবং বন্ধ থাকা বিমানবন্দর পুনরায় সচল করার বাস্তব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, বিগত তিন মাসে জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে সরকার ৭২ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করেছে।
দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তথা তরুণ সমাজকে রক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি ক্রমবর্ধমান মাদকাসক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, যুবকদের ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে মাদকের বিরুদ্ধে একটি শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা অপরিহার্য। তরুণদের বিপথগামিতা থেকে ফিরিয়ে এনে আগামী দিনের যোগ্য নেতা হিসেবে গড়ে তোলার দায়িত্ব পরিবার ও সমাজ উভয়কেই নিতে হবে। মাদক মুক্ত সমাজ গঠনই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলে তিনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে মির্জা ফখরুল তাঁর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী ও রুহিয়ার উন্নয়নে অবদান রাখা প্রয়াত নেতাদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক মন্ত্রী রমেশ চন্দ্র সেন, জাতীয় পার্টির নেতা নুরুল হক বোমবার্ড এবং বিএনপির সাবেক জেলা সভাপতি তৈমুর রহমানের অবদান উল্লেখ করে উদার রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিচয় দেন। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও এলাকার উন্নয়নে যারা কাজ করেছেন, তাদের সম্মান জানানো প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।
গণসংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আগে মন্ত্রী রুহিয়া ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়কে অস্থায়ী রুহিয়া উপজেলা পরিষদের কার্যালয় হিসেবে ফিতা কেটে উদ্বোধন করেন। রুহিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল জব্বারের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সাল আমিন, সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানের শেষে আধুনিক ঠাকুরগাঁওয়ের রূপকার হিসেবে সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষ ও সংগঠনের পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুলকে ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত করা হয়।


banner close