শনিবার, ২২ আগস্ট ২০২৬
৭ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রার্থী বেশি,প্রতিদ্বন্দ্বী কম

ফাইল ছবি
আপডেটেড
২ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০০:১৪
তানজিমুল নয়ন
প্রকাশিত
তানজিমুল নয়ন
প্রকাশিত : ২ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০০:০০

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ২ হাজার ৭১৩ জন প্রার্থী। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে নিবন্ধিত ৪৪টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩২টি দল। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন ৭৪৭ জন। সে হিসাবে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রত্যয়নপত্র নিয়ে নির্বাচনে উপস্থিত ১৯৬৬ জন প্রার্থী। আর স্বতন্ত্রদের মধ্যে অন্তত ৪০০ জন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন। তবে সাধারণ মানুষের অভিযোগ, নির্বাচনে আসা বড় দল আওয়ামী লীগের মূল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বাইরে অন্যদলগুলোর বেশির ভাগ প্রার্থীই আসনগুলোর মানুষের কাছে অচেনা। প্রায় প্রতিটি আসনেই নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন এমন অনেক অচেনা মুখ যাদের প্রার্থিতা পেতে সমস্যা না হলেও নির্বাচনী লড়াইয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে পরিচিত হতেই পার হয়ে যাবে প্রচারণার বেশির ভাগ সময়। ফলে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, নির্বাচনে প্রার্থী আছে অনেক বেশি, কিন্তু, প্রতিদ্বন্দ্বী কম।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ৩০০ আসনের বিপরীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের (নৌকা) ৩০৩ জন, জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল) ৩০৪ জন, জাকের পার্টি (গোলাপ ফুল) ২১৮ জন, তৃণমূল বিএনপি (সোনালী আঁশ) ১৫১ জন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি- এনপিপি (আম) ১৪২ জন, বাংলাদেশ কংগ্রেস (ডাব) ১১৬ জন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ (মশাল) ৯১ জন, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন (ফুলের মালা) ৪৭ জন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন (বটগাছ) ১৩ জন, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি (হাতঘড়ি) ১৮ জন, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ (চেয়ার) ৩৯ জন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (কাঁঠাল) ১৩ জন, গণফ্রন্ট (মাছ) ২৫ জন, গণফোরাম (উদীয়মান সূর্য) ৯ জন, ইসলামী ঐক্যজোট (মিনার) ৪৫ জন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট (মোমবাতি) ৩৭ জন, জাতীয় পার্টি-জেপি (বাইসাইকেল) ২০ জন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ (গামছা) ৩৪ জন, গণতন্ত্রী পার্টি (কবুতর) ১২ জন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (হাতুড়ি) ৩৩ জন, বিকল্পধারা বাংলাদেশ (কুলা) ১৪ জন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (একতারা) ৮২ জন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন-বিএনএম (নোঙর) ৪৯ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট- বিএনএফ (টেলিভিশন) ৫৫ জন, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (ছড়ি) ৭৪ জন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ- বিএমএল (হাত-পাঞ্জা) ৫ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি- ন্যাপ (কুঁড়েঘর) ৬ জন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মই) একজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (রিকশা) একজন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ (খেজুর গাছ) একজন এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (হারিকেন) দুইজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

এদিকে মনোনয়ন জমার শেষ দিনেই ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম জানিয়েছেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিলের সময়সীমা বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। ফলে বিএনপিসহ যে দলগুলো নির্বাচন বর্জন করেছে তাদের আর মত পাল্টে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসার দৃশ্যমান কোনো সুযোগ নেই। আন্দোলনরত দলগুলোও অবশ্য আগেই এ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতি দিয়েছে।

ফলে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর যাচাই-বাছাই শেষে যেসব প্রার্থী টিকে যাবেন তারাই থাকবেন নির্বাচনী দৌড়ে। তবে প্রতিটি আসনে ভোটের লড়াইয়ে যারা যাচ্ছেন তাদের বেশির ভাগেরই দলের নাম সাধারণ মানুষ জানে না। আর দল অচেনা বলে প্রার্থীরাও অচেনা। ফলে তাদের ধারণা নির্বাচনী লড়াইয়ে আসলে টিকে থাকবেন বড় দলের পরিচিত মুখগুলো। এর মধ্যে শাসক দলের মার্কা নিয়ে লড়াই করা প্রার্থীরা যেমন আলোচনায় থাকবেন, তেমনই অনেক আসনেই তাদের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমাতে পারেন নির্বাচনে আসা আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। কেননা, দলটির স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বেশির ভাগই স্থানীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত এবং তাদের মোটামুটি ভোট ব্যাংক অথবা এলাকাবাসীকে প্রভাবিত করার সক্ষমতা রয়েছে। নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া ৭৪৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে অন্তত ৪০০ জনই আওয়ামী লীগের।
যদিও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গত কয়েক দিনের মতো গতকালও বলেছেন, দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ঢালাওভাবে নির্বাচন করতে পারবেন না। এ ছাড়া ১৪-দলীয় জোটের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির সম্ভাবনা রয়েছে আওয়ামী লীগের। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন, নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আসতে পারবেন জোটের এমন প্রার্থীরাই কেবল থাকবেন বিবেচনায়। আর ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করে তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এর ফলে এটা স্পষ্ট যে, জোটের সঙ্গে সমঝোতা হলে কয়েকটি আসনে আওয়ামী লীগ যাদের মনোনয়ন দিয়েছে তাদেরও রণে ভঙ্গ দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে হবে।

তবে আওয়ামী লীগ সভাপতি নির্বাচনী কৌশল হিসেবে এবার দলীয় মার্কার বাইরে দলীয় প্রার্থীদের স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড়ানোর সুযোগ দেয়ায় নির্বাচনে আসা প্রার্থীদের কতজন আবার দল চাইলে নির্দেশ মেনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন সেটাও আছে দেখার বিষয়।

তবে এই আলোচনার বাইরে থেকে যাচ্ছে বেশির ভাগ প্রার্থী যারা বিভিন্ন দল থেকে নির্বাচনে এলেও জনগণের কাছে নিজের দল, দলীয় প্রতীক এবং নিজের পরিচয় প্রকাশ করার সুযোগ পাবেন। তবে প্রতিটি আসনে স্থানীয় ভোটারদের কাছে তারা এখনো অচেনা এবং নতুন মুখ হিসেবে বিবেচিত।

যেমন দল হিসেবে এবারই প্রথম নির্বাচন করছে তৃণমূল বিএনপি, বিএনএম, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি। এসব দলের বেশির ভাগ প্রার্থী নিজ নিজ এলাকার ভোটারদের কাছে নতুন পরিচয়ে উপস্থিত হবেন। অনেকে আবার খুব বেশি পরিচিত নন। একইভাবে তাদের নির্বাচনী প্রতীক যথাক্রমে সোনালী আঁশ, নোঙর ও একতারা চেনাতেও এবার তাদের বিশেষ প্রস্তুতি নিতে হবে।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনএমের প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য আছেন ৬ জন এবং তৃণমূলের প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য আছেন ৫ জন।

এদিকে, গতকাল আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর কাদের বলেছেন, বিএনপির ১৫ কেন্দ্রীয় নেতাসহ সাবেক ৩০ জন সংসদ সদস্য নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এদের মধ্যে কাদের সিদ্দিকী, লতিফ সিদ্দিকী, আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর মতো নেতাও আছেন। আবার আগে বিএনপিতে প্রভাব ছিল দলটির এমন সাবেক নেতারাও আছেন নির্বাচনে। এদের মধ্যে তৈমূর আলম, সমশের মবিন চৌধুরীর নাম উল্লেখযোগ্য।

তবে এদের বাইরে নির্বাচনের মাঠে থাকা বেশির ভাগ প্রার্থীই অচেনা। এ বিষয়ে গাজীপুর-৪ আসনের একজন প্রার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমার দল এলাকায় তেমন পরিচিত নয়। দলের প্রচার চালাতে ও এলাকার মানুষের কাছে নিজের পরিচয় তুলে ধরতে এবার ভোট করতে আসা। আমিও জানি নির্বাচনে জয়লাভ করার অবস্থান এখনো আমার বা আমার দলের তৈরি হয়নি। তবে এক দিনে তো কিছুই হয় না। আমাদের দলের আদর্শ ও কর্মসূচি দেশের মানুষ ও এলাকার মানুষকে জানাতে আমরা নির্বাচনে এসেছি।’

অন্যদিকে লালমনিরহাট-৩ আসনে মনোনয়ন জমা দেয়া প্রার্থীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই সদর আসনে ৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সদ্য পদত্যাগকারী সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জাবেদ হোসেন বক্কর, জাতীয় পার্টি থেকে জাহিদ হাসান, তৃণমূল বিএনপি থেকে শামীম আহম্মেদ চৌধুরী, জাকের পার্টি থেকে সকিউজ্জামান মিয়া, বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল থেকে আশরাফুল আলম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) থেকে আবু তৈয়ব মো. আজমুল হক পাটোয়ারী, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) থেকে শ্রী হরিশ চন্দ্র রায় মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তবে এবার তিনি এ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেননি। ফলে এ আসনে নির্বাচনে অংশ নেয়া সব প্রার্থীই নতুন এবং নতুন একজন সংসদ সদস্য পাবে লালমনিরহাট সদরবাসী। তবে নতুন হলেও জেলা ও শহরের রাজনীতিতে পুরনো মুখ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান। ছাত্ররাজনীতি করায় জাবেদ হোসেন বক্করও সেখানে পরিচিত মুখ। জাকের পার্টি ও জাসদের প্রার্থীকেও অনেকে চেনেন। তবে সাম্যবাদী দল, এনপিপির প্রার্থীর মতো জাতীয় পার্টির প্রার্থীও এলাকার সবার চেনা মুখ নন। ফলে যে আসন থেকে জাতীয় পার্টি বর্তমান সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছে সেখানে নতুন মুখ দেয়ায় মাঠের রাজনীতিতে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন এলাকার অনেক বাসিন্দা।

বিষয়টা আরও স্পষ্ট হয় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনার ৬টি আসন বিশ্লেষণ করলে। দৈনিক বাংলার খুলনা ব্যুরো জানায়, খুলনার এই ৬টি আসনের জন্য সেখানে ৫৩ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে যারা সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচন করবেন, তাদের অধিকাংশেরই রাজনীতিতে তেমন কোনো পরিচিতি নেই। হঠাৎ করেই তারা কেন সংসদ নির্বাচনে আগ্রহী হলেন, এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে উত্তরও দেননি অধিকাংশ প্রার্থী।

খুলনা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের মনোনীত ৬ জন প্রার্থী, আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র ২ জন এবং জাতীয় পার্টির একজন প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচিতি রয়েছে। বাকি ৪৪ জন প্রার্থী কখনো রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয় ছিলেন না।

খুলনা প্রতিনিধির বিশ্লেষণ অনুযায়ী খুলনা-১ আসনের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ৬ জন। তারা হলেন, জাকের পার্টির মো. আজিজুর রহমান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ননী গোপাল মণ্ডল, জাতীয় পার্টির কাজী হাসানুর রশিদ, তৃণমূল বিএনপির গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রশান্ত কুমার রায় ও আবেদ আলী শেখ।

এদের মধ্যে ননী গোপাল মণ্ডল ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। রাজনীতিতে তার পরিচিতি রয়েছে। তবে বাকি চারজন রাজনীতিতে একেবারেই অপরিচিত। তারা প্রত্যেকেই এবার প্রথম সংসদ নির্বাচন করছেন। এদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রশান্ত কুমার রায় পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সাবেক সচিব।

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আমি নির্বাচন করছি। আমাকে ডামি প্রার্থীও বলা যাবে। এটা দলীয় নির্দেশেই হচ্ছে।’
আওয়ামী লীগের ননী গোপাল মণ্ডল বলেন, ‘দল আমাকে আবারও সুযোগ দিয়েছে। আমি দলের সম্মান রাখব বলে আশাবাদী।’

তবে বাকি চার প্রার্থীর তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই। জাতীয় পার্টীর কাজী হাসানুর রশিদ ও তৃণমূল বিএনপির গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিকের কাছে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেও কোনো উত্তর মেলেনি।

আর জাকের পার্টি মো. আজিজুর রহমান বলেন, ‘দল থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে বলেছে, তাই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি।’

অন্যদিকে খুলনা-২ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৯ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল, গণতন্ত্র পার্টির মো. মতিয়ার রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের দেবদাস সরকার, জাকের পার্টির ফরিদা পারভিন, ইসলামী ঐক্যজোটের হিদায়েতুল্লাহ, জাতীয় পার্টির মো. গাউসুল আজম, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের বাবু কুমার রায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সাঈদুর রহমান।

এদের মধ্যে শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থীর রাজনৈতিকভাবে পরিচিতি রয়েছে। তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। তবে বাকিদের আগে কখনো রাজনৈতিক মাঠে দেখা যায়নি।

কেন প্রার্থী হয়েছেন- এমন প্রশ্নে বাংলাদেশ কংগ্রেসের দেবদাস সরকার বলেন, ‘অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে মনোনয়ন জমা দেয়া হচ্ছে, তাই আমরাও দিচ্ছি।’

খুলনা-৩ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৫ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের এস এম কামাল হোসেন, জাকের পার্টির এস এম সাব্বির হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, স্বতন্ত্র প্রার্থী কাইজার আহমেদ ও ফাতেমা জামান সাথী।

এদের মধ্যেও শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচিতি রয়েছে। তিনি দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। তিন বারের সংসদ সদস্য ও দুই বারের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানকে সরিয়ে তাকেই আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিয়েছে। তবে ওই আসনেরও বাকি চারজনের তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই।

খুলনা-৪ আসন থেকে মনোনয়ন নিয়েছেন ১৪ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের আব্দুস সালাম মূর্শেদী, জাকের পার্টির শেখ আনছার আলী, জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এস এম আজমল হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. ফরহাদ আহমেদ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. মোস্তাফিজুর রহমান, তৃণমূল বিএনপির শেখ হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মনিরা সুলতানা, ইসলামী ঐক্যজোটের রিয়াজ উদ্দীন খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জুয়েল রানা, এম ডি এহসানুল হক, মো. রেজভী আলম, এস এম মোর্ত্তজা রশিদী দারা, আতিকুর রহমান ও এইচ এম রওশান জমির।

এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের আব্দুস সালাম মূর্শেদী বর্তমান সংসদ সদস্য। ২০১৮ সালের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে তিনি জয়ী হয়েছিলেন।

এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম মোর্ত্তজা রশিদী দারার দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস রয়েছে। তিনি ওই আসনের তিন বারের সাবেক সংসদ সদস্য এস এম মোস্তফা রশিদী সুজার আপন ভাই।

তিনি বলেন, এলাকার মানুষের দোয়া নিয়ে মাঠে নেমেছি। জয়-পরাজয় এলাকার মানুষই নির্ধারণ করবেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই আসনে আওয়ামী লীগের এই দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এলাকার ভোটাররা বলছেন, বাকি ১২ জন প্রার্থীদের নাম খুব একটা শোনেননি তারা। কেউ কেউ একেবারেই অপরিচিত।

খুলনা-৫ আসনের জন্য মনোনয় জমা দিয়েছেন ৭ জন। তারা হলেন- জাতীয় পার্টির মো. শহীদ আলম, জাকের পার্টির সামাদ সেখ, আওয়ামী লীগের নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, ওয়ার্কার্স পার্টির শেখ সেলিম আকতার, বাংলাদেশ কংগ্রেসের এস এম এ জলিল, ইসলামী ঐক্যজোটের তরিকুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ আকরাম হোসেন।

এদের মধ্যে নারায়ণ চন্দ্র চন্দ একাধিক বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী। এ ছাড়া আকরাম হোসেন ফুলতলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। এই আসনেও আওয়ামী লীগের এই দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ভোটাররা। বাকি যারা প্রার্থী হয়েছেন এলাকার রাজনীতিতে তাদের তেমন কোনো পরিচিতি নেই বলে জানা গেছে।

খুলনা-৬ আসনের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ১২ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের মো. রশীদুজ্জামান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. আবু সুফিয়ান, জাকের পার্টির শেখ মর্তুজা আল মামুন, জাতীয় পার্টির মো. শফিকুল ইসলাম মধু, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মির্জা গোলাম আজম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এস এম নেওয়াজ মোরশেদ, তৃণমূল বিএনপির গাজী নাদীর উদ্দীন খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম রাজু, গাজী মোস্তফা কামাল, জি এম মাহবুবুল আলম, মো. মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর ও মো. অহিদুজ্জামান মোড়ল।

এদের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত মো. রশীদুজ্জামানের কোনো দলীয় পদ নেই। তিনি একসময় পাইকগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্যসচিব ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে জামানত হারিয়েছিলেন। তবে তাকেই মনোনয়ন দিয়ে চমক সৃষ্টি করেছে ক্ষমতাসীন দল। ওই আসনে রাজনৈতিকভাবে পরিচিত রয়েছে জাতীয় পার্টির মো. শফিকুল ইসলাম মধুর। তিনি আগেও খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। বাকি প্রার্থীদের তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই। এলাকার সবার কাছে পরিচিত মুখও নন অনেকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশির ভাগ আসনেই ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীদের স্থানীয়রা তেমন একটা চেনেন না। তবে বিরোধীদের এক অংশ নির্বাচন বর্জন করায় রাজনীতির নতুন সমীকরণ মেলাতে ছোট দলগুলোই নির্বাচনে হতে যাচ্ছে বড় দলগুলোর সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনীযুদ্ধ পার হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী।

জাসদের মাঠপর্যায়ের এক রাজনীতিবিদ জসিম মণ্ডল বলেন, ‘নির্বাচন একটা বড় খেলা। এখানে সবাই নামে নিজ নিজ সমীকরণ মেলানোর জন্য। রাজনৈতিক দলগুলোর সমীকরণ হয় এক ধরনের, আবার প্রার্থীর সমীকরণ হয় আরেক ধরনের। সবাই নির্বাচনে জয়ী হতে যেমন অংশ নেয় না তেমনই কেউ কেউ নির্বাচনে যায় অন্যের যাত্রা ভঙ্গ করতে। আবার অনেকের কাছে ‘নির্বাচনে অংশগ্রহণই বড় কথা।’ জয়-পরাজয়ের চেয়েও বড় বিষয় এ সময় পোস্টারিং করে নিজের ছবি ও পরিচিতি পুরো এলাকার মানুষকে দেখানো যায়। এটাও বা কম কিসে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দেশের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষেরই আছে নির্বাচনে দাঁড়ানোর অধিকার। তাই কটা টাকা খরচ করে অনেকেই পরিচিতি বাড়ানোর সুযোগ নেয়। এর ফল তো অসীম-সারাজীবন নানাভাবে এর সুফল মেলে। যারা রাজনীতিতে আছেন, কেবল তারাই বোঝেন নির্বাচনে অংশ নিতে পারার গুরুত্ব।


নির্বাচিত

সড়ক নেটওয়ার্কে যুক্ত হচ্ছে ভোলা, মহাসড়ক নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নিতে নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দ্বীপ জেলা ভোলাকে দেশের মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সাথে সংযুক্ত করতে রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা রুটে একটি নতুন মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এই গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পটি দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শনিবার তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু বৈঠকের বিষয়বস্তু নিশ্চিত করে জানান যে, ভোলার সাথে ঢাকা ও বরিশালের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের জন্য তিনটি পৃথক প্রস্তাব নিয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়। সবদিক বিবেচনা করে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত বরিশাল (রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা) রুটটিকেই চূড়ান্ত করা হয়েছে। এই রুটটি ব্যবহারের মাধ্যমে ভোলাবাসীকে দীর্ঘদিনের যাতায়াত বিড়ম্বনা থেকে মুক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ভৌগোলিক প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটাতে একটি সমন্বিত সড়ক ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। ভোলাকে মূল সড়ক নেটওয়ার্কে যুক্ত করার মাধ্যমে এই দ্বীপ অঞ্চলের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, প্রস্তাবিত রুটে বিদ্যমান সড়ক প্রশস্ত করার পাশাপাশি নতুন রাস্তা নির্মাণ এবং তিনটি ছোট সেতু তৈরি করতে হবে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই শেষ করে কাজ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

বর্তমানে নদীবেষ্টিত ভোলার মানুষকে যাতায়াতের জন্য সম্পূর্ণভাবে নৌপথের ওপর নির্ভর করতে হয়। নতুন এই সড়ক সংযোগ তৈরি হলে নৌপথের ওপর নির্ভরতা কমবে এবং যাতায়াতের সময় ও খরচ উভয়ই উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে। হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা রুটের মাধ্যমে ঢাকা ও বরিশালের সাথে যোগাযোগ সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও কার্যকর হবে বলে বিশেষজ্ঞরা বৈঠকে অভিমত ব্যক্ত করেন।

উক্ত সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ ও নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসানসহ বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং উচ্চপদস্থ প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন। দ্বীপবাসীর দীর্ঘদিনের লালিত এই সড়ক সংযোগের স্বপ্ন এবার বাস্তবে রূপ নিতে যাচ্ছে।


নির্বাচিত

কাজের পরিধি ও গতি বাড়াতেই পররাষ্ট্রে দুই প্রতিমন্ত্রী : শামা ওবায়েদ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে শামা ওবায়েদ ইসলামের পাশাপাশি নতুন করে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরকে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়ায় রাজনৈতিক মহলে যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে, তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন শামা ওবায়েদ নিজেই। আজ শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এই বিষয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন।

শামা ওবায়েদ বলেন, বর্তমানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজের পরিধি ও ব্যস্ততা বিগত যেকোনো সময়ের তুলনায় অনেক বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বাড়তি কর্মযজ্ঞ সামলানো এবং কূটনৈতিক তৎপরতাকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যেই সরকার মন্ত্রণালয়ে দুজন প্রতিমন্ত্রী নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, গত ছয় মাসে মন্ত্রণালয়ে যে পরিমাণ কাজ হয়েছে তা গত ১৭ বছরের মধ্যে নজিরবিহীন। মন্ত্রণালয়ের কাজের সুবিধার্থে টিমওয়ার্ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করাটাই এখন মূল লক্ষ্য।

বিগত কয়েক মাসে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অর্জনের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, অভিবাসন সংকট নিরসন ও অবৈধ অভিবাসন রোধে তিনটি নতুন উইং চালু করা হয়েছে। এছাড়া প্রবাসী কল্যাণ, সংস্কৃতি, শ্রম ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সাথে সমন্বয় বৃদ্ধির জন্য আন্তঃমন্ত্রণালয় ফোকাল পয়েন্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিনি আরও মনে করিয়ে দেন যে, বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হওয়ায় আগামী এক বছর তিনি বিশ্ব রাজনীতিতে অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করবেন। ফলে মন্ত্রণালয়ের দৈনন্দিন কাজ ও গতি বেগবান রাখতে সরকারের এই সিদ্ধান্ত অত্যন্ত সময়োপযোগী।

মক্কা প্যাক্ট ও বিভিন্ন বহুপাক্ষিক জোটে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ ইসলাম স্পষ্ট জানান যে, এ ধরনের যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও জনগণের আকাঙ্ক্ষাই হবে প্রধান ভিত্তি। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো জোটে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত সরকার স্বাধীনভাবে গ্রহণ করবে এবং এ সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য দেশীয় গণমাধ্যমের মাধ্যমেই আগে প্রকাশিত হবে। বিদেশি সংবাদমাধ্যমের কোনো তথ্যে প্রভাবিত হওয়ার সুযোগ নেই বলে তিনি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন। মূলত কাজের দক্ষ বন্টন ও বৈশ্বিক কূটনীতিতে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় করতেই এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।


নির্বাচিত

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিন মাসের রিজার্ভ তৈরির পরিকল্পনা সরকারের: অর্থমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২২ আগস্ট, ২০২৬ ১৫:৫৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী জানিয়েছেন, দেশের টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের প্রধান শর্ত হলো জ্বালানি নিরাপত্তা। আজ শনিবার রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিআইআই) আয়োজিত এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, সরকার প্রতিটি জ্বালানি খাতে অন্তত তিন মাসের মজুদ বা রিজার্ভ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।

‘২০২৬ অর্থবছরের দ্বি-বার্ষিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি: প্রেক্ষিত রাজস্ব ও মুদ্রানীতি এবং বেসরকারিখাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক এই সেমিনারে আমির খসরু বলেন, উত্তরাধিকারসূত্রে সরকার যে নাজুক জ্বালানি পরিস্থিতি পেয়েছে, সেখান থেকে উত্তরণ ঘটানো রাতারাতি সম্ভব নয়। তিনি জানান, দায়িত্ব নেওয়ার সময় কোনো কোনো জ্বালানি খাতে মাত্র ১৫-১৭ দিনের মজুদ ছিল, যা বর্তমানে এক মাসে উন্নীত করা হয়েছে। এখন লক্ষ্য হচ্ছে এই মজুদকে তিন মাসে নিয়ে যাওয়া। গ্যাসের সংকট সমাধানে অনশোর গ্যাস উত্তোলন বৃদ্ধি এবং পাইপলাইন নির্মাণসহ দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।

অর্থমন্ত্রী বেসরকারি খাতের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি মূলত বেসরকারি খাতনির্ভর এবং বিএনপির অর্থনৈতিক দর্শনও এই খাতের বিকাশকে কেন্দ্র করে আবর্তিত। তিনি বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে বলেন, স্থানীয় বিনিয়োগ না বাড়লে বিদেশী বিনিয়োগকারীরা আস্থাশীল হবে না। ব্যবসার খরচ কমাতে কাস্টমস ও বন্দর কার্যক্রমকে আরও গতিশীল এবং সময়বদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে এবং কোনো ধরনের জটিলতা দ্রুত নিরসনের লক্ষ্যে একটি ওয়েবসাইট চালুর কথাও তিনি ঘোষণা করেন।

ঋণ খেলাপিদের বিষয়ে অর্থমন্ত্রী জানান, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে ঋণ পুনঃতফসিল এবং ওয়ান-টাইম সেটেলমেন্টের বিশেষ প্যাকেজ কার্যকর হবে। যারা ব্যবসা চালিয়ে যেতে চান তাঁরা পুনঃতফসিল সুবিধা পাবেন এবং যারা বেরিয়ে যেতে চান তাঁরা ওয়ান-টাইম সেটেলমেন্টের মাধ্যমে দায়মুক্তি নিতে পারবেন। অর্থমন্ত্রী সাফ জানিয়ে দেন, আর্থিক খাতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক নিয়োগ বা হস্তক্ষেপ বরদাশত করা হবে না। বাজার ব্যবস্থার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেই আর্থিক খাতের সংবেদনশীলতা রক্ষা করা হবে।

সেমিনারে অর্থমন্ত্রী আরও জানান, সরকার ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ ও কুটির শিল্পকে মূলধারার অর্থনীতিতে যুক্ত করতে কাজ করছে। গ্রামীণ কারুশিল্পী ও ঐতিহ্যবাহী পণ্যের সাথে যুক্ত উদ্যোক্তাদের ঋণ এবং বিপণন সহায়তা প্রদান করা হবে। এছাড়া থিয়েটার, চলচ্চিত্র, সংগীত এবং ক্রীড়া খাতকেও জিডিপির অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে মনিটাইজ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

সেমিনারে ড. জাইদি সাত্তার, মাহবুবুর রহমান এবং ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। প্যানেল আলোচনায় মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের এমডি সৈয়দ মাহবুবুর রহমান, ট্রান্সকম গ্রুপের সিইও সিমিন রহমান এবং বিআইডিএস-এর মহাপরিচালক ড. এ কে এনামুল হক অংশ নেন। সেমিনারের স্বাগত বক্তব্যে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকিন আহমেদ বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা ও চ্যালেঞ্জগুলো তুলে ধরেন।


নির্বাচিত

জাতীয় স্মৃতিসৌধে নবনিযুক্ত মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের শ্রদ্ধা নিবেদন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২২ আগস্ট, ২০২৬ ১৪:৩৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর সন্তানদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেছেন সদ্য শপথ গ্রহণকারী মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীবৃন্দ। আজ শনিবার দুপুরে তাঁরা স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে এই শ্রদ্ধা নিবেদন সম্পন্ন করেন।

এর আগে একই দিন সকালে নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাভারে পৌঁছে স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শহিদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান। শহিদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীবৃন্দ সেখানে কিছুক্ষণ নিরবে দাঁড়িয়ে থাকেন এবং বীর সেনানীদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে আয়োজিত এক রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে চারজন মন্ত্রী এবং দুইজন প্রতিমন্ত্রীকে শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শপথ গ্রহণের পরপরই তাঁদের মাঝে দাপ্তরিক দায়িত্ব বা দপ্তর বণ্টন করা হয়।

মন্ত্রিসভায় নতুন অন্তর্ভুক্ত হওয়া চারজন পূর্ণ মন্ত্রী হলেন—বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ, সাবেক বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং বান্দরবানের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু জেরী। একই অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির এবং গাইবান্ধা-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন। নবনিযুক্ত এই সদস্যরা দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো জাতীয় স্মৃতিসৌধে গিয়ে তাঁদের শ্রদ্ধা নিবেদন সম্পন্ন করলেন।


নির্বাচিত

মির্জা ফখরুল ইসলামকে মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টের অভিনন্দন

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহামেদ মুইজ্জু। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়েছেন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহামেদ মুইজ্জু। আজ শনিবার (২২ আগস্ট) প্রেরিত এক বিশেষ বার্তায় তিনি এই অভিনন্দন জানান। প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু তাঁর বার্তায় উল্লেখ করেছেন যে, এই নির্বাচন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় একটি অনন্য মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

মালদ্বীপ সরকার ও সে দেশের জনগণের পক্ষ থেকে জানানো এই শুভেচ্ছা বার্তায় প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু বলেন, দীর্ঘ ৩৫ বছর পর বাংলাদেশে যে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, তা দেশটির গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একটি বড় অর্জন। তিনি মনে করেন, এই বিজয় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রতি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের সুগভীর আস্থারই বহিঃপ্রকাশ।

বার্তায় আরও উল্লেখ করা হয় যে, বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক ঐতিহাসিক বন্ধন এবং আঞ্চলিক শান্তি ও উন্নয়নের অভিন্ন লক্ষ্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত। নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতির সুযোগ্য নেতৃত্বে দুই দেশের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আগামীতে আরও নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রেসিডেন্ট মুইজ্জু বিশ্বাস করেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কার্যকালে বাংলাদেশ স্থায়ী শান্তি, নিরবচ্ছিন্ন অগ্রগতি এবং সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে। দুই দেশের জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধির মাধ্যমে দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে তিনি একসাথে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। এর আগে গতকাল বঙ্গভবনে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।


নির্বাচিত

ঠাকুরগাঁও-১ আসন শূন্য ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করায় তাঁর সংসদীয় আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়েছে। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী আজ শনিবার (২২ আগস্ট) বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয় এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

সংসদ সচিবালয়ের লেজিসলেটিভ সাপোর্ট উইংয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয় যে, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গত শুক্রবার (২১ আগস্ট) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতির কার্যভার গ্রহণ করেছেন। সংবিধানের ৫০(৪) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করলে তাঁর সংসদীয় আসনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে শূন্য হয়ে যায়। ফলে মির্জা ফখরুলের কার্যভার গ্রহণের তারিখ থেকেই ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য বলে গণ্য হবে।

প্রজ্ঞাপনটি সরকারি গেজেটে প্রকাশের জন্য ইতোমধ্যেই সরকারি মুদ্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। একই সাথে শূন্য হওয়া এই আসনটিতে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশন সচিবালয়কে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।

সংসদ সচিবালয়ের এই আদেশের অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের দপ্তর এবং বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকল গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও অবগতির জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। এখন বিধি অনুযায়ী নির্বাচন কমিশন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ঠাকুরগাঁও-১ আসনে উপ-নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবে। এর মাধ্যমে মির্জা ফখরুলের দীর্ঘদিনের সংসদীয় এলাকার প্রতিনিধিত্বের আনুষ্ঠানিক অবসান ঘটল।


নির্বাচিত

মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগে ২৫ এজেন্সির তালিকা প্রকাশ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের লক্ষ্যে মালয়েশিয়ার বিদেশি কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত প্ল্যাটফর্ম ‘এফডব্লিউসিএমএস’ ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। শুক্রবার সংস্থাটি তাদের নিজস্ব ওয়েবসাইটে এই তালিকাভুক্তি চূড়ান্ত করে প্রকাশ করে। তবে জনশক্তি রপ্তানিকারকদের সংগঠন বায়রার একটি বড় অংশ বাংলাদেশের সকল লাইসেন্সধারী এজেন্সির জন্য বাজারটি উন্মুক্ত রাখার দাবি জানিয়ে আসলেও আপাতত এই ২৫টি এজেন্সিকেই নিয়োগ প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

এফডব্লিউসিএমএস-এর তালিকায় স্থান পাওয়া এজেন্সিগুলো হলো: বাংলাদেশ ওয়ান ওভারসিজ লিমিটেড, বেঙ্গল হিউম্যান রিসোর্সেস ডেভেলপমেন্ট, জেনারেল ট্রেডিং কোম্পানি, মেসার্স ইউনাইটেড গালফ সার্ভিসেস, অ্যানেসা এয়ার ইন্টারন্যাশনাল, আত-তাকওয়া ওভারসিজ লিমিটেড, আর্থ-স্মার্ট বাংলাদেশ লিমিটেড, খান জাহান আলী ওভারসিজ, মেসার্স আল-শোতুপ ওভারসিজ, মাদারল্যান্ড ওভারসিজ লিমিটেড, রিফা ইন্টারন্যাশনাল, ভেলি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, এ-প্লাস ইন্টারন্যাশনাল, আল-হায়াত ওভারসিজ, ভালুকা ওভারসিজ, ব্রাদার্স ট্রেডিং অ্যান্ড কন্ট্রাক্টিং লিমিটেড, চাঁদপুর ইন্টারন্যাশনাল, কান্ট্রি এমপ্লয়মেন্ট এজেন্সি, গুডনেস সার্ভিসেস লিমিটেড, জুয়েল রিঙ্কু এন্টারপ্রাইজ, মেসার্স সাতক্ষীরা ইন্টারন্যাশনাল, ম্যানগ্রোভ ক্যারিয়ার লিঙ্ক, নেবারস অ্যাসোসিয়েটস লিমিটেড, তানিয়া ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল এবং অ্যাঙ্কর কেয়ার গ্লোবাল মাইগ্রেশন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৩১ মে থেকে বাংলাদেশিদের জন্য মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে হাজার হাজার কর্মী টিকিট থাকা সত্ত্বেও যাত্রা করতে পারেননি এবং অনেকে বিমানবন্দরে গিয়ে ফিরে আসতে বাধ্য হন। পরবর্তীতে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দফায় দফায় চেষ্টা করা হলেও দীর্ঘ সময় বাজারটি বন্ধ ছিল। সরকারের পটপরিবর্তনের পর এবং বর্তমানে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম বিদেশ সফরে মালয়েশিয়া যান। এই সফরের পরপরই দীর্ঘ প্রতীক্ষিত শ্রমবাজারটি পুনরায় খোলার বিষয়ে আশার আলো সঞ্চার হয়।

তবে এই ২৫টি এজেন্সি ঠিক কোন মানদণ্ডে নির্বাচিত হলো এবং কর্মী প্রেরণের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া ও সময়সূচি কী হবে—সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।


নির্বাচিত

জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানালেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি

জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন দেশের নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের মূল বেদিতে এই শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন।

পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে রাষ্ট্রপতি বীর শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে সেখানে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এই সময় বাংলাদেশ সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত একটি চৌকস দল তাঁকে রাষ্ট্রীয় কায়দায় অভিবাদন বা ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন চারদিকে বিউগলের করুণ সুর ধ্বনিত হয়।

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে শপথ গ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শপথ নেওয়ার আগে ওই দিন দুপুরেই তিনি রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে গিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও দোয়া করেন। দায়িত্বভার গ্রহণের পর আজ সকালে তিনি বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সাভারে যান।


নির্বাচিত

তথ্যমন্ত্রী হলেন ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ

ছবি: ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ
আপডেটেড ২২ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র জোটসঙ্গী হিসেবে আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে থাকা এবং একাধিকবার কারাবরণ করে নিজের রাজনৈতিক দূরদর্শিতার প্রমাণ দেওয়া বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ পা রাখলেন এক নতুন দিগন্তে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন তিনি।
​মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে 'রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬'-এর বিধি ৩(৪) অনুযায়ী শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। পুনর্বন্টিত দপ্তর ও নতুন দায়িত্ব সংবলিত এই নির্দেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

​বঙ্গভবনে শপথ ও মন্ত্রিসভার নতুন মুখসমূহ:

​এর আগে শুক্রবার সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এরপর তিনি চারজন পূর্ণমন্ত্রী ও দুজন প্রতিমন্ত্রীকে শপথ বাক্য পাঠ করান।
​নতুন চার পূর্ণমন্ত্রী:
​আবদুল মঈন খান – স্থায়ী কমিটির সদস্য, বিএনপি
​আন্দালিব রহমান পার্থ – চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি)
​রশিদুজ্জামান মিল্লাত – সাবেক প্রতিমন্ত্রী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়
​সাচিং প্রু জেরী – সংসদ সদস্য, বান্দরবান

​নতুন দুই প্রতিমন্ত্রী:
​হুমায়ুন কবির – প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা
​মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকন – সংসদ সদস্য, গাইবান্ধা-৪

আন্দালিব রহমান পার্থ'র​ পারিবারিক ঐতিহ্য ও শিক্ষাজীবন:

​১৯৭৪ সালের ২০ এপ্রিল এক সম্ভ্রান্ত ও রাজনৈতিক পরিবারে আন্দালিব রহমান পার্থের জন্ম।
​পারিবারিক পরিচিতি: তার বাবা নাজিউর রহমান মঞ্জুর ছিলেন প্রখ্যাত রাজনীতিবিদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক মন্ত্রী, ঢাকা সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচিত মেয়র এবং বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। তার মা শেখ রেবা রহমান। পারিবারিকভাবেই রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় পরিমণ্ডলে বেড়ে ওঠার সুযোগ পান তিনি।
​শিক্ষাজীবন ও আইন পেশা: ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সেন্ট যোসেফ উচ্চবিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করে তিনি উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে যুক্তরাজ্যে যান। ১৯৯৭ সালে মর্যাদাপূর্ণ লিংকনস ইন থেকে বার-অ্যাট-ল সম্পন্ন করে দেশে ফিরে আইন পেশায় আত্মনিয়োগ করেন। পরবর্তীতে ঢাকার ‘ব্রিটিশ স্কুল অব ল’-এর অধ্যক্ষ হিসেবেও সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেন।

​রাজনৈতিক জীবন ও সাফল্যের মাইলফলক
​রাজনীতিতে অভিষেক:

২০০০ সাল থেকে তিনি বাবা নাজিউর রহমান মঞ্জুর হাত ধরে সক্রিয় রাজনীতি শুরু করেন। ২০০৮ সালের এপ্রিলে বাবার প্রয়াণের পর তিনি সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
​প্রথমবার সংসদে (২০০৮): নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-১ আসন থেকে চারদলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী প্রার্থী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুনকে পরাজিত করেন এবং প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত তিনি সংস্থাপন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
​ভোট বর্জন ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা: জোটগত সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে ২০১৪ সালের নির্বাচন বর্জন করে তার দল। পরবর্তীতে ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি ঢাকা-১৭ আসন থেকে ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটের প্রার্থী হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
​দ্বিতীয়বার এমপি ও মন্ত্রী পদে আসীন: পরবর্তীতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলা-১ আসন থেকে দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ব্যারিস্টার পার্থ। নির্বাচনে এই অসাধারণ বিজয়ের পরই তিনি তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন।

সংসদীয় অভিজ্ঞতা, আইন পেশায় দক্ষতা এবং চমৎকার বাগ্মিতার কারণে তরুণের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় ব্যারিস্টার পার্থ। দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে এবার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দেশ সেবায় তাঁর নতুন পথচলা শুরু হলো।


নির্বাচিত

জহির উদ্দিন স্বপন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা, বিমান থেকে খাদ্যমন্ত্রণালয়ে আফরোজা খানম

ছবি: জহির উদ্দিন স্বপন ও আফরোজা খানম।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকার গঠনের ছয় মাস পর বাড়ল মন্ত্রিসভার আকার । নতুন করে পাঁচজন মন্ত্রিসভায় যুক্ত হলেন। আর একজন প্রতিমন্ত্রী থেকে মন্ত্রী হয়েছেন। সব মিলিয়ে চারজন নতুন মন্ত্রী এবং দুজন প্রতিমন্ত্রী শপথ নিয়েছেন। শুক্রবার রাতেই মন্ত্রিসভার কয়েকজন সদস্যের দপ্তর বণ্টন ও পুনর্বণ্টন করা হয়েছে।

এর মধ্যে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপনকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা করা হয়েছে। আর বিএনপির জোটসঙ্গী বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান আন্দালিভ রহমান পার্থ তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। অন্যদিকে প্রতিমন্ত্রী থেকে মন্ত্রী হওয়া রশিদুজ্জামান মিল্লাত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন (আগে এই মন্ত্রণালয়েরই প্রতিমন্ত্রী ছিলেন)। আর এই মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আফরোজা খানমকে (রিতা) খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়েছে। বর্তমানে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি খাদ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন মো. আব্দুল বারী।
শুক্রবার(২১ আগস্ট-২০২৬) সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে নতুন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের শপথ পড়ান নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর কিছুক্ষণ আগে রাষ্ট্রপতি পদে শপথ নেন মির্জা ফখরুল ইসলাম। শপথের পর রাতে চার মন্ত্রী ও দুই প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব বণ্টন করা হয়।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হওয়ায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন মঈন খান। নতুন মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরীকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী করা হয়েছে। মন্ত্রিসভা গঠনের তিন মাসের মাথায় দীপেন দেওয়ান পদত্যাগ করায় এই মন্ত্রীর পদটি শূন্য হয়েছিল।

অন্যদিকে নতুন দুই প্রতিমন্ত্রীর মধ্যে শামীম কায়সার (লিংকন) পেয়েছেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব। আর হুমায়ুন কবির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। এই মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে শামা ওবায়েদ ইসলামও বহাল আছেন। অর্থাৎ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এখন দুজন প্রতিমন্ত্রী।


নির্বাচিত

মন্ত্রিসভায় নতুন ৪ মন্ত্রী ও ২ প্রতিমন্ত্রীদের দপ্তর বণ্টন ও রদবদল করে প্রজ্ঞাপন জারি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২২ আগস্ট, ২০২৬ ০২:০১
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারের নতুন ৪ মন্ত্রী ও ২ প্রতিমন্ত্রীর দপ্তর বণ্টন এবং ১ মন্ত্রীর দপ্তর পুনর্বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) রাতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬-এর ৩(৪) বিধি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তরের দায়িত্ব বণ্টন ও পুনর্বণ্টন করেছেন।

গেজেট অনুযায়ী, দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রীরা হলেন-

ড. আবদুল মঈন খান : স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।

এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত : বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়।

সাচিং প্রু জেরি : পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

আন্দালিব রহমান : তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।

আফরোজা খানম : খাদ্য মন্ত্রণালয় (পূর্বে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন)।

প্রতিমন্ত্রীরা হলেন-

হুমায়ুন কবির : পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মোহাম্মদ শামীম কায়সার : ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি, ৪ মার্চ, ১২ মার্চ ও ২৫ মার্চ জারি করা প্রজ্ঞাপনসমূহের অন্যান্য বিষয়াবলি অপরিবর্তিত থাকবে।

এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে।


নির্বাচিত

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলকে বিভিন্ন দেশের অভিনন্দন বার্তা

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
আপডেটেড ২২ আগস্ট, ২০২৬ ০০:২২
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচিত হওয়ার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। ইতোমধ্যে ভারত, পাকিস্তান ও নেপালের রাষ্ট্রপতিসহ চীন, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, জার্মানি, যুক্তরাজ্য ও নাইজেরিয়ার পক্ষ থেকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতিকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।

চীন

নির্বাচনের ফল ঘোষণার কয়েক মিনিটের মধ্যেই ঢাকায় চীনা দূতাবাসের ফেসবুক পেজ থেকে মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানানো হয়।

বার্তায় বলা হয়, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে চীন অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। নতুন যুগে দুই দেশের যৌথ প্রচেষ্টায় ‘অভিন্ন ভবিষ্যতের জন্য চীন-বাংলাদেশ কমিউনিটি’ গড়ে তুলতে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত বেইজিং।

ভারত

ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু শুক্রবার (২১ আগস্ট) এক চিঠিতে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জনজীবন ও রাজনৈতিক নেতৃত্বে মির্জা ফখরুলের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জনগণের সেবায় তার দায়িত্ব পালনে সহায়ক হবে।

দ্রৌপদী মুর্মু বলেন, ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্ক অভিন্ন ইতিহাস, আত্মত্যাগ, ঘনিষ্ঠ সাংস্কৃতিক যোগাযোগ ও বন্ধুত্বের ওপর প্রতিষ্ঠিত। সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি, প্রযুক্তি, যোগাযোগ, যুব কার্যক্রম, স্বাস্থ্য ও শিক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও বিস্তৃত হয়েছে।

দুই দেশের অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করতে মির্জা ফখরুলের সঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন ভারতের রাষ্ট্রপতি। পাশাপাশি তিনি মির্জা ফখরুলের সুস্বাস্থ্য ও সুখ এবং বাংলাদেশের জনগণের অব্যাহত অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।

পাকিস্তান

এর আগে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নতুন রাষ্ট্রপতির নেতৃত্বে বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে।

জারদারি বলেন, অভিন্ন ইতিহাস, ধর্ম ও সাংস্কৃতিক সম্পর্কের কারণে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তিনি সুবিধাজনক সময়ে পাকিস্তান সফরের জন্য মির্জা ফখরুলকে আমন্ত্রণ জানান। তার আশা, এই সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর হবে এবং পারস্পরিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

নেপাল

নেপালের রাষ্ট্রপতি রামচন্দ্র পৌডেলও শুক্রবার (২১ আগস্ট) অভিনন্দন বার্তায় মির্জা ফখরুলের নতুন দায়িত্বে সাফল্য কামনা করেন।

তিনি নেপাল ও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি দুই দেশের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্ক ও যোগাযোগ আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেন।

যুক্তরাজ্য

ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনও মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানিয়েছে। শুক্রবারের এক বিবৃতিতে তারা জানায়, ঢাকা ও লন্ডনের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্ব আরও গভীর করতে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ও বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করতে তারা আগ্রহী।

ফ্রান্স

ঢাকায় নিযুক্ত ফ্রান্স দূতাবাস বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানায়। বার্তায় বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ হিসেবে তার দীর্ঘদিনের অবদানের কথা উল্লেখ করা হয়।

একই সঙ্গে বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ অংশীদার হিসেবে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও শক্তিশালী ও গভীর করতে ফ্রান্সের প্রতিশ্রুতির কথা জানানো হয়।

সুইজারল্যান্ড

সুইজারল্যান্ডের ঢাকাস্থ দূতাবাসও মির্জা ফখরুলকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়েছে। দীর্ঘদিনের অংশীদার হিসেবে বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারে কাজ চালিয়ে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে দেশটি।

জার্মানি

জার্মান দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানানো হয়েছে।

দূতাবাস তার নতুন দায়িত্বে সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেছে। পাশাপাশি জার্মানি ও বাংলাদেশের মধ্যকার ঘনিষ্ঠ অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করার প্রত্যাশা জানিয়েছে।

নাইজেরিয়া

নাইজেরিয়ার ফেডারেল সরকারও মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানিয়েছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যাম্বাসেডর বিয়াঙ্কা ওদুমেগউ-ওজুকউ ফেডারেল সরকারের পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল, বাংলাদেশ সরকার ও জনগণকে অভিনন্দন জানান।

নাইজেরিয়া মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়াকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেছে।


নির্বাচিত

বিডা, বেজা ও পিপিপিএ একীভূত হয়ে গঠিত হলো ইনভেস্ট বাংলাদেশ

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করল নতুন বিনিয়োগ উন্নয়ন সংস্থা ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ’। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) ও পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ (পিপিপিএ) একীভূত করে নতুন এই সংস্থা গঠিত হয়েছে। এর ফলে বিনিয়োগকারীরা নির্বিঘ্ন ও নির্ভরযোগ্য পরিষেবা পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সরকার ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬-এর প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করেছে। এর মাধ্যমে বিলুপ্ত হলো বিডা, বেজা ও পিপিপিএর। সংস্থা তিনটির সমন্বয়ে গঠিত হলো ইনভেস্ট বাংলাদেশ।

রাষ্ট্রপতির আদশে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তারের সই করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬-এর ধারা ১-এর উপধারা (২)-এর প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সরকার বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) থেকে এ আইন কার্যকর করল।

বিডা সূত্রে জানা গেছে, গেজেট কার্যকর হওয়ার মাধ্যমে এখন থেকে সব কার্যক্রম ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ নামে পরিচালিত হবে। নতুন কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ সাংগঠনিক কাঠামো, বিভিন্ন উইং ও টিম গঠনের বাকি কাজগুলো ধাপে ধাপে সম্পন্ন হবে।

নতুন আইন অনুযায়ী, ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ’ একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে কাজ করবে। এর প্রধান কার্যালয় থাকবে ঢাকায়। তবে সরকারের অনুমোদন নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে শাখা কার্যালয় এবং বিদেশে লিয়াজোঁ কার্যালয় স্থাপন করা যাবে।

কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একজন চেয়ারম্যান ও সাতজন সদস্য নিয়ে বোর্ড গঠন করা হবে। চেয়ারম্যান হবেন কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী।

নতুন কর্তৃপক্ষের অন্যতম দায়িত্ব হবে বিনিয়োগের সম্ভাবনা চিহ্নিত করা, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রচার চালানো, বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা।

একীভূতকরণের ফলে বিডা, বেজা ও পিপিপিএর বিদ্যমান সম্পদ, নথি, চুক্তি, দায়-দেনা ও অন্যান্য বিষয় নতুন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর হবে। এসব প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও কাজ করবেন নতুন কর্তৃপক্ষের অধীনে।


নির্বাচিত

banner close