আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ২ হাজার ৭১৩ জন প্রার্থী। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে নিবন্ধিত ৪৪টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩২টি দল। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন ৭৪৭ জন। সে হিসাবে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রত্যয়নপত্র নিয়ে নির্বাচনে উপস্থিত ১৯৬৬ জন প্রার্থী। আর স্বতন্ত্রদের মধ্যে অন্তত ৪০০ জন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন। তবে সাধারণ মানুষের অভিযোগ, নির্বাচনে আসা বড় দল আওয়ামী লীগের মূল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বাইরে অন্যদলগুলোর বেশির ভাগ প্রার্থীই আসনগুলোর মানুষের কাছে অচেনা। প্রায় প্রতিটি আসনেই নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন এমন অনেক অচেনা মুখ যাদের প্রার্থিতা পেতে সমস্যা না হলেও নির্বাচনী লড়াইয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে পরিচিত হতেই পার হয়ে যাবে প্রচারণার বেশির ভাগ সময়। ফলে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, নির্বাচনে প্রার্থী আছে অনেক বেশি, কিন্তু, প্রতিদ্বন্দ্বী কম।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ৩০০ আসনের বিপরীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের (নৌকা) ৩০৩ জন, জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল) ৩০৪ জন, জাকের পার্টি (গোলাপ ফুল) ২১৮ জন, তৃণমূল বিএনপি (সোনালী আঁশ) ১৫১ জন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি- এনপিপি (আম) ১৪২ জন, বাংলাদেশ কংগ্রেস (ডাব) ১১৬ জন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ (মশাল) ৯১ জন, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন (ফুলের মালা) ৪৭ জন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন (বটগাছ) ১৩ জন, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি (হাতঘড়ি) ১৮ জন, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ (চেয়ার) ৩৯ জন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (কাঁঠাল) ১৩ জন, গণফ্রন্ট (মাছ) ২৫ জন, গণফোরাম (উদীয়মান সূর্য) ৯ জন, ইসলামী ঐক্যজোট (মিনার) ৪৫ জন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট (মোমবাতি) ৩৭ জন, জাতীয় পার্টি-জেপি (বাইসাইকেল) ২০ জন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ (গামছা) ৩৪ জন, গণতন্ত্রী পার্টি (কবুতর) ১২ জন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (হাতুড়ি) ৩৩ জন, বিকল্পধারা বাংলাদেশ (কুলা) ১৪ জন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (একতারা) ৮২ জন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন-বিএনএম (নোঙর) ৪৯ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট- বিএনএফ (টেলিভিশন) ৫৫ জন, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (ছড়ি) ৭৪ জন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ- বিএমএল (হাত-পাঞ্জা) ৫ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি- ন্যাপ (কুঁড়েঘর) ৬ জন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মই) একজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (রিকশা) একজন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ (খেজুর গাছ) একজন এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (হারিকেন) দুইজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
এদিকে মনোনয়ন জমার শেষ দিনেই ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম জানিয়েছেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিলের সময়সীমা বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। ফলে বিএনপিসহ যে দলগুলো নির্বাচন বর্জন করেছে তাদের আর মত পাল্টে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসার দৃশ্যমান কোনো সুযোগ নেই। আন্দোলনরত দলগুলোও অবশ্য আগেই এ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতি দিয়েছে।
ফলে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর যাচাই-বাছাই শেষে যেসব প্রার্থী টিকে যাবেন তারাই থাকবেন নির্বাচনী দৌড়ে। তবে প্রতিটি আসনে ভোটের লড়াইয়ে যারা যাচ্ছেন তাদের বেশির ভাগেরই দলের নাম সাধারণ মানুষ জানে না। আর দল অচেনা বলে প্রার্থীরাও অচেনা। ফলে তাদের ধারণা নির্বাচনী লড়াইয়ে আসলে টিকে থাকবেন বড় দলের পরিচিত মুখগুলো। এর মধ্যে শাসক দলের মার্কা নিয়ে লড়াই করা প্রার্থীরা যেমন আলোচনায় থাকবেন, তেমনই অনেক আসনেই তাদের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমাতে পারেন নির্বাচনে আসা আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। কেননা, দলটির স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বেশির ভাগই স্থানীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত এবং তাদের মোটামুটি ভোট ব্যাংক অথবা এলাকাবাসীকে প্রভাবিত করার সক্ষমতা রয়েছে। নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া ৭৪৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে অন্তত ৪০০ জনই আওয়ামী লীগের।
যদিও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গত কয়েক দিনের মতো গতকালও বলেছেন, দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ঢালাওভাবে নির্বাচন করতে পারবেন না। এ ছাড়া ১৪-দলীয় জোটের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির সম্ভাবনা রয়েছে আওয়ামী লীগের। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন, নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আসতে পারবেন জোটের এমন প্রার্থীরাই কেবল থাকবেন বিবেচনায়। আর ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করে তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
এর ফলে এটা স্পষ্ট যে, জোটের সঙ্গে সমঝোতা হলে কয়েকটি আসনে আওয়ামী লীগ যাদের মনোনয়ন দিয়েছে তাদেরও রণে ভঙ্গ দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে হবে।
তবে আওয়ামী লীগ সভাপতি নির্বাচনী কৌশল হিসেবে এবার দলীয় মার্কার বাইরে দলীয় প্রার্থীদের স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড়ানোর সুযোগ দেয়ায় নির্বাচনে আসা প্রার্থীদের কতজন আবার দল চাইলে নির্দেশ মেনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন সেটাও আছে দেখার বিষয়।
তবে এই আলোচনার বাইরে থেকে যাচ্ছে বেশির ভাগ প্রার্থী যারা বিভিন্ন দল থেকে নির্বাচনে এলেও জনগণের কাছে নিজের দল, দলীয় প্রতীক এবং নিজের পরিচয় প্রকাশ করার সুযোগ পাবেন। তবে প্রতিটি আসনে স্থানীয় ভোটারদের কাছে তারা এখনো অচেনা এবং নতুন মুখ হিসেবে বিবেচিত।
যেমন দল হিসেবে এবারই প্রথম নির্বাচন করছে তৃণমূল বিএনপি, বিএনএম, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি। এসব দলের বেশির ভাগ প্রার্থী নিজ নিজ এলাকার ভোটারদের কাছে নতুন পরিচয়ে উপস্থিত হবেন। অনেকে আবার খুব বেশি পরিচিত নন। একইভাবে তাদের নির্বাচনী প্রতীক যথাক্রমে সোনালী আঁশ, নোঙর ও একতারা চেনাতেও এবার তাদের বিশেষ প্রস্তুতি নিতে হবে।
তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনএমের প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য আছেন ৬ জন এবং তৃণমূলের প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য আছেন ৫ জন।
এদিকে, গতকাল আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর কাদের বলেছেন, বিএনপির ১৫ কেন্দ্রীয় নেতাসহ সাবেক ৩০ জন সংসদ সদস্য নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এদের মধ্যে কাদের সিদ্দিকী, লতিফ সিদ্দিকী, আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর মতো নেতাও আছেন। আবার আগে বিএনপিতে প্রভাব ছিল দলটির এমন সাবেক নেতারাও আছেন নির্বাচনে। এদের মধ্যে তৈমূর আলম, সমশের মবিন চৌধুরীর নাম উল্লেখযোগ্য।
তবে এদের বাইরে নির্বাচনের মাঠে থাকা বেশির ভাগ প্রার্থীই অচেনা। এ বিষয়ে গাজীপুর-৪ আসনের একজন প্রার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমার দল এলাকায় তেমন পরিচিত নয়। দলের প্রচার চালাতে ও এলাকার মানুষের কাছে নিজের পরিচয় তুলে ধরতে এবার ভোট করতে আসা। আমিও জানি নির্বাচনে জয়লাভ করার অবস্থান এখনো আমার বা আমার দলের তৈরি হয়নি। তবে এক দিনে তো কিছুই হয় না। আমাদের দলের আদর্শ ও কর্মসূচি দেশের মানুষ ও এলাকার মানুষকে জানাতে আমরা নির্বাচনে এসেছি।’
অন্যদিকে লালমনিরহাট-৩ আসনে মনোনয়ন জমা দেয়া প্রার্থীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই সদর আসনে ৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সদ্য পদত্যাগকারী সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জাবেদ হোসেন বক্কর, জাতীয় পার্টি থেকে জাহিদ হাসান, তৃণমূল বিএনপি থেকে শামীম আহম্মেদ চৌধুরী, জাকের পার্টি থেকে সকিউজ্জামান মিয়া, বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল থেকে আশরাফুল আলম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) থেকে আবু তৈয়ব মো. আজমুল হক পাটোয়ারী, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) থেকে শ্রী হরিশ চন্দ্র রায় মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তবে এবার তিনি এ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেননি। ফলে এ আসনে নির্বাচনে অংশ নেয়া সব প্রার্থীই নতুন এবং নতুন একজন সংসদ সদস্য পাবে লালমনিরহাট সদরবাসী। তবে নতুন হলেও জেলা ও শহরের রাজনীতিতে পুরনো মুখ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান। ছাত্ররাজনীতি করায় জাবেদ হোসেন বক্করও সেখানে পরিচিত মুখ। জাকের পার্টি ও জাসদের প্রার্থীকেও অনেকে চেনেন। তবে সাম্যবাদী দল, এনপিপির প্রার্থীর মতো জাতীয় পার্টির প্রার্থীও এলাকার সবার চেনা মুখ নন। ফলে যে আসন থেকে জাতীয় পার্টি বর্তমান সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছে সেখানে নতুন মুখ দেয়ায় মাঠের রাজনীতিতে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন এলাকার অনেক বাসিন্দা।
বিষয়টা আরও স্পষ্ট হয় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনার ৬টি আসন বিশ্লেষণ করলে। দৈনিক বাংলার খুলনা ব্যুরো জানায়, খুলনার এই ৬টি আসনের জন্য সেখানে ৫৩ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে যারা সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচন করবেন, তাদের অধিকাংশেরই রাজনীতিতে তেমন কোনো পরিচিতি নেই। হঠাৎ করেই তারা কেন সংসদ নির্বাচনে আগ্রহী হলেন, এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে উত্তরও দেননি অধিকাংশ প্রার্থী।
খুলনা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের মনোনীত ৬ জন প্রার্থী, আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র ২ জন এবং জাতীয় পার্টির একজন প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচিতি রয়েছে। বাকি ৪৪ জন প্রার্থী কখনো রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয় ছিলেন না।
খুলনা প্রতিনিধির বিশ্লেষণ অনুযায়ী খুলনা-১ আসনের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ৬ জন। তারা হলেন, জাকের পার্টির মো. আজিজুর রহমান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ননী গোপাল মণ্ডল, জাতীয় পার্টির কাজী হাসানুর রশিদ, তৃণমূল বিএনপির গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রশান্ত কুমার রায় ও আবেদ আলী শেখ।
এদের মধ্যে ননী গোপাল মণ্ডল ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। রাজনীতিতে তার পরিচিতি রয়েছে। তবে বাকি চারজন রাজনীতিতে একেবারেই অপরিচিত। তারা প্রত্যেকেই এবার প্রথম সংসদ নির্বাচন করছেন। এদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রশান্ত কুমার রায় পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সাবেক সচিব।
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আমি নির্বাচন করছি। আমাকে ডামি প্রার্থীও বলা যাবে। এটা দলীয় নির্দেশেই হচ্ছে।’
আওয়ামী লীগের ননী গোপাল মণ্ডল বলেন, ‘দল আমাকে আবারও সুযোগ দিয়েছে। আমি দলের সম্মান রাখব বলে আশাবাদী।’
তবে বাকি চার প্রার্থীর তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই। জাতীয় পার্টীর কাজী হাসানুর রশিদ ও তৃণমূল বিএনপির গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিকের কাছে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেও কোনো উত্তর মেলেনি।
আর জাকের পার্টি মো. আজিজুর রহমান বলেন, ‘দল থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে বলেছে, তাই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি।’
অন্যদিকে খুলনা-২ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৯ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল, গণতন্ত্র পার্টির মো. মতিয়ার রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের দেবদাস সরকার, জাকের পার্টির ফরিদা পারভিন, ইসলামী ঐক্যজোটের হিদায়েতুল্লাহ, জাতীয় পার্টির মো. গাউসুল আজম, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের বাবু কুমার রায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সাঈদুর রহমান।
এদের মধ্যে শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থীর রাজনৈতিকভাবে পরিচিতি রয়েছে। তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। তবে বাকিদের আগে কখনো রাজনৈতিক মাঠে দেখা যায়নি।
কেন প্রার্থী হয়েছেন- এমন প্রশ্নে বাংলাদেশ কংগ্রেসের দেবদাস সরকার বলেন, ‘অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে মনোনয়ন জমা দেয়া হচ্ছে, তাই আমরাও দিচ্ছি।’
খুলনা-৩ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৫ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের এস এম কামাল হোসেন, জাকের পার্টির এস এম সাব্বির হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, স্বতন্ত্র প্রার্থী কাইজার আহমেদ ও ফাতেমা জামান সাথী।
এদের মধ্যেও শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচিতি রয়েছে। তিনি দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। তিন বারের সংসদ সদস্য ও দুই বারের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানকে সরিয়ে তাকেই আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিয়েছে। তবে ওই আসনেরও বাকি চারজনের তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই।
খুলনা-৪ আসন থেকে মনোনয়ন নিয়েছেন ১৪ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের আব্দুস সালাম মূর্শেদী, জাকের পার্টির শেখ আনছার আলী, জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এস এম আজমল হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. ফরহাদ আহমেদ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. মোস্তাফিজুর রহমান, তৃণমূল বিএনপির শেখ হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মনিরা সুলতানা, ইসলামী ঐক্যজোটের রিয়াজ উদ্দীন খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জুয়েল রানা, এম ডি এহসানুল হক, মো. রেজভী আলম, এস এম মোর্ত্তজা রশিদী দারা, আতিকুর রহমান ও এইচ এম রওশান জমির।
এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের আব্দুস সালাম মূর্শেদী বর্তমান সংসদ সদস্য। ২০১৮ সালের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে তিনি জয়ী হয়েছিলেন।
এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম মোর্ত্তজা রশিদী দারার দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস রয়েছে। তিনি ওই আসনের তিন বারের সাবেক সংসদ সদস্য এস এম মোস্তফা রশিদী সুজার আপন ভাই।
তিনি বলেন, এলাকার মানুষের দোয়া নিয়ে মাঠে নেমেছি। জয়-পরাজয় এলাকার মানুষই নির্ধারণ করবেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই আসনে আওয়ামী লীগের এই দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এলাকার ভোটাররা বলছেন, বাকি ১২ জন প্রার্থীদের নাম খুব একটা শোনেননি তারা। কেউ কেউ একেবারেই অপরিচিত।
খুলনা-৫ আসনের জন্য মনোনয় জমা দিয়েছেন ৭ জন। তারা হলেন- জাতীয় পার্টির মো. শহীদ আলম, জাকের পার্টির সামাদ সেখ, আওয়ামী লীগের নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, ওয়ার্কার্স পার্টির শেখ সেলিম আকতার, বাংলাদেশ কংগ্রেসের এস এম এ জলিল, ইসলামী ঐক্যজোটের তরিকুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ আকরাম হোসেন।
এদের মধ্যে নারায়ণ চন্দ্র চন্দ একাধিক বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী। এ ছাড়া আকরাম হোসেন ফুলতলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। এই আসনেও আওয়ামী লীগের এই দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ভোটাররা। বাকি যারা প্রার্থী হয়েছেন এলাকার রাজনীতিতে তাদের তেমন কোনো পরিচিতি নেই বলে জানা গেছে।
খুলনা-৬ আসনের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ১২ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের মো. রশীদুজ্জামান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. আবু সুফিয়ান, জাকের পার্টির শেখ মর্তুজা আল মামুন, জাতীয় পার্টির মো. শফিকুল ইসলাম মধু, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মির্জা গোলাম আজম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এস এম নেওয়াজ মোরশেদ, তৃণমূল বিএনপির গাজী নাদীর উদ্দীন খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম রাজু, গাজী মোস্তফা কামাল, জি এম মাহবুবুল আলম, মো. মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর ও মো. অহিদুজ্জামান মোড়ল।
এদের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত মো. রশীদুজ্জামানের কোনো দলীয় পদ নেই। তিনি একসময় পাইকগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্যসচিব ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে জামানত হারিয়েছিলেন। তবে তাকেই মনোনয়ন দিয়ে চমক সৃষ্টি করেছে ক্ষমতাসীন দল। ওই আসনে রাজনৈতিকভাবে পরিচিত রয়েছে জাতীয় পার্টির মো. শফিকুল ইসলাম মধুর। তিনি আগেও খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। বাকি প্রার্থীদের তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই। এলাকার সবার কাছে পরিচিত মুখও নন অনেকে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশির ভাগ আসনেই ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীদের স্থানীয়রা তেমন একটা চেনেন না। তবে বিরোধীদের এক অংশ নির্বাচন বর্জন করায় রাজনীতির নতুন সমীকরণ মেলাতে ছোট দলগুলোই নির্বাচনে হতে যাচ্ছে বড় দলগুলোর সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনীযুদ্ধ পার হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী।
জাসদের মাঠপর্যায়ের এক রাজনীতিবিদ জসিম মণ্ডল বলেন, ‘নির্বাচন একটা বড় খেলা। এখানে সবাই নামে নিজ নিজ সমীকরণ মেলানোর জন্য। রাজনৈতিক দলগুলোর সমীকরণ হয় এক ধরনের, আবার প্রার্থীর সমীকরণ হয় আরেক ধরনের। সবাই নির্বাচনে জয়ী হতে যেমন অংশ নেয় না তেমনই কেউ কেউ নির্বাচনে যায় অন্যের যাত্রা ভঙ্গ করতে। আবার অনেকের কাছে ‘নির্বাচনে অংশগ্রহণই বড় কথা।’ জয়-পরাজয়ের চেয়েও বড় বিষয় এ সময় পোস্টারিং করে নিজের ছবি ও পরিচিতি পুরো এলাকার মানুষকে দেখানো যায়। এটাও বা কম কিসে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দেশের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষেরই আছে নির্বাচনে দাঁড়ানোর অধিকার। তাই কটা টাকা খরচ করে অনেকেই পরিচিতি বাড়ানোর সুযোগ নেয়। এর ফল তো অসীম-সারাজীবন নানাভাবে এর সুফল মেলে। যারা রাজনীতিতে আছেন, কেবল তারাই বোঝেন নির্বাচনে অংশ নিতে পারার গুরুত্ব।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের লম্বা ছুটি এবং এর সঙ্গে স্বাধীনতা দিবস ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে দীর্ঘ এক অবকাশ যাপন শেষে প্রাণপ্রিয় কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে সাধারণ মানুষ। আজ শনিবার (২৮ মার্চ) সকাল থেকেই রাজধানীর প্রধান প্রবেশদ্বার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ঢাকামুখী যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ ছুটির পর এটিই ফেরার পথে সবচেয়ে বড় ভিড় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় বা বড় কোনো অব্যবস্থাপনার অভিযোগ না থাকায় যাত্রীদের মধ্যে এক ধরনের স্বস্তি লক্ষ্য করা গেছে।
এবারের ঈদের নির্ধারিত ছুটি আরও আগেই শেষ হলেও যাতায়াতের সুবিধার জন্য অনেকে গত ২৪ ও ২৫ সেপ্টেম্বর অতিরিক্ত ছুটি নিয়েছিলেন। এর ফলে ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস, ২৭ মার্চ শুক্রবার এবং ২৮ মার্চ শনিবার—সব মিলিয়ে টানা কয়েকদিনের একটি বড় ছুটির সুযোগ তৈরি হয়। এই দীর্ঘ অবসরের শেষ দিনে আজ নাড়ির টান ছিঁড়ে জীবিকার তাগিদে রাজধানীতে ফিরছে লাখো মানুষ।
শনিবার সকালে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রতিটি ট্রেনই ছিল যাত্রীবোঝাই। স্টেশনের প্রতিটি প্ল্যাটফর্মে ছিল মানুষের জটলা। ট্রেনের ভেতরে নির্ধারিত আসনের অতিরিক্ত যাত্রী যেমন ছিল, তেমনই অনেককে কামরার করিডোরে দাঁড়িয়ে ভ্রমণ করতে দেখা গেছে। এমনকি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ট্রেনের ছাদে চড়েও অনেককে ঢাকায় প্রবেশ করতে দেখা গেছে। তবে যাত্রীদের দাবি, ঈদযাত্রার চরম ভোগান্তির তুলনায় ফেরার এই সফর কিছুটা হলেও সহনীয়।
চিলাহাটি এক্সপ্রেসের যাত্রী রকিবুল বাশার গণমাধ্যমকে বলেন, "তেমন কোনো বড় ঝামেলা ছাড়াই ঢাকা আসতে পেরেছি। টিকিট আগেভাগেই কেটে রেখেছিলাম, তবে ট্রেনের যে প্রচণ্ড চাপ তাতে সিট পাওয়াটাই বড় ভাগ্যের বিষয় মনে হচ্ছে। যাত্রীর চাপ অনেক বেশি হবে চিন্তা করেই পরিবারের অন্য সদস্যদের গ্রামে রেখে এসেছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে কয়েকদিন পর তাদের নিয়ে আসব।"
একইভাবে পরিবার নিয়ে ঢাকা ফেরা রেদওয়ান নামে এক যাত্রী জানান, "স্টেশনে মানুষের প্রচুর ভিড়, ট্রেনে ওঠার সময় কিছুটা ধাক্কাধাক্কি পোহাতে হয়েছে। বিশেষ করে বাচ্চাদের নিয়ে যাতায়াত করাটা বেশ কষ্টের। ট্রেনে বসার জায়গা মেলেনি, তবুও কোনো বিশৃঙ্খলা ছাড়াই যে নিরাপদভাবে ঢাকায় পৌঁছাতে পেরেছি, এটাই এখন বড় স্বস্তি।"
সুন্দরবন এক্সপ্রেসের যাত্রী কাজী ফয়সাল তাঁর অভিজ্ঞতায় বলেন, "গ্রামে পরিবারের সঙ্গে দারুণ সময় কাটিয়ে এখন কর্মব্যস্ত জীবনে ফিরছি। ট্রেনে ভিড় থাকবে জানতাম, তবুও সড়কপথের দীর্ঘ যানজটের কথা চিন্তা করে রেলকেই বেছে নিয়েছি। গরমে কিছুটা অস্বস্তি লাগলেও কোনো শিডিউল বিপর্যয় না থাকায় সময়মতো ফিরতে পেরেছি, এটাই বড় পাওনা।"
কমলাপুর স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আজ দিনভর যাত্রীদের এই চাপ অব্যাহত থাকবে। যাত্রীদের নিরাপত্তা ও ভোগান্তি কমাতে স্টেশনে শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পর্যাপ্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বা ট্রেন বিলম্বে আসার বড় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। সব মিলিয়ে মানুষের এই রাজধানীমুখী যাত্রা অনেকটা সুশৃঙ্খলভাবেই সম্পন্ন হচ্ছে।
৪ দিনের সরকারি সফরে আজ শনিবার (২৮ মার্চ) নিজ জেলা পাবনায় যাচ্ছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাষ্ট্রপতির প্রটোকল অফিসার আবুল কালাম মো. লুৎফুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিএনপি সরকার গঠনের পর এটাই রাষ্ট্রপতির প্রথম নিজ জেলা পাবনা সফর।
তার সফর ঘিরে ইতোমধ্যে পাবনা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রহণ করেছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
প্রটোকল অফিসারের দেয়া তথ্যানুযায়ী, রাষ্ট্রপতি আজ শনিবার দুপুর ১টায় ঢাকার বঙ্গভবন থেকে হেলিকপ্টারযোগে পাবনার উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। তিনি দুপুর ১টা ৪০ মিনিটে পাবনা ক্যাডেট কলেজ মাঠে হেলিপ্যাডে অবতরণ করবেন। এরপর দুপুর ২টায় পাবনা সার্কিট হাউসে পৌঁছে গার্ড অব অনার গ্রহণ করবেন এবং সেখানেই রাতযাপন করবেন।
পরদিন ২৯ মার্চ (রোববার) বেলা ১১টা ১০ মিনিটে পাবনা সদর গোরস্থান আরিফপুরে গিয়ে তিনি তার বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করবেন। এরপর সন্ধ্যা ৭টায় পাবনা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। রাত ৮টা ১০ মিনিটে সার্কিট হাউসে ফিরে রাতযাপন করবেন।
৩০ মার্চ (সোমবার) বেলা ১১টায় সদর উপজেলার ভবানীপুর মসজিদ পরিদর্শন করবেন। একই দিন সন্ধ্যা ৭টায় পাবনা শহরে নিজ বাসভবনে যাবেন রাষ্ট্রপতি। সার্কিট হাউসে ফিরে রাতযাপন করবেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি ৩১ মার্চ (মঙ্গলবার) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে সার্কিট হাউসে গার্ড অব অনার গ্রহণ করবেন। এরপর দুপুর ১২টায় পাবনা ক্যাডেট কলেজ মাঠের হেলিপ্যাডে পৌঁছে হেলিকপ্টারযোগে ঢাকার বঙ্গভবনের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।
নতুন অধিবেশন ঘিরে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে জাতীয় সংসদে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কার্যক্রমকে গতিশীল করতে আজ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ দুটি বৈঠক। এতে নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় নতুন গতি আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
শনিবার (২৮ মার্চ) বেলা ১১টায় সংসদ সচিবালয়ের ক্যাবিনেট কক্ষে (লেভেল-২) সংসদীয় কমিটির প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নতুন সংসদের অধীনে এটি প্রথম কমিটি বৈঠক হওয়ায় এতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে প্রাথমিক দিকনির্দেশনা আসতে পারে।
একই দিনে বিকাল ৪টায় অনুষ্ঠিত হবে সরকার-দলীয় সংসদ সদস্যদের পৃথক বৈঠক। সংসদ ভবনের সরকার-দলীয় সভাকক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছে সংসদ সচিবালয়। এতে চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইন প্রণয়ন কার্যক্রম এবং সংসদের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংসদ সচিবালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই বৈঠকগুলো সংসদের নিয়মিত কার্যক্রম শুরু করার অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, গত ১২ মার্চ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসে। এরপর থেকে সংসদের কার্যক্রম নিয়মিতভাবে এগিয়ে নিতে বিভিন্ন প্রস্তুতি চলছিল। আজকের বৈঠকের মধ্য দিয়ে সংসদীয় কমিটিগুলোর কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে।
রাজনীতিতে অঙ্গীকার ও প্রতিশ্রুতি রক্ষায় পাহাড়সম দৃঢ়তা দেখানোর নজির বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই বিরল নেতৃত্বের উদাহরণ হয়ে দাঁড়িয়েছেন। বাবা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জনকল্যাণমুখী বিভিন্ন কর্মসূচির আলোকে এবং মা দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত খালেদা জিয়ার দেখানো পথেই রাষ্ট্র পরিচালনা করছেন তারেক রহমান। তিনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম মাসেই ৭০টি উদ্যোগ নিয়েছেন, যা শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়—বরং নেতৃত্বের এক নতুন দর্শনের প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
প্রটোকল কমানো, সচিবালয় থেকে হেঁটে ওসমানী মিলনায়তনে যাওয়া, সাদামাটা শুভ্র পোশাক পরা, মন্ত্রী-এমপি ও কর্মকর্তাদের সময়মতো অফিসে উপস্থিতির নির্দেশ—সব মিলিয়ে তার প্রথম মাস যেন একটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে; ক্ষমতা মানুষের জন্য, দূরত্বের জন্য নয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ী হয়ে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার শপথ নিয়ে সরকার গঠন করেন। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন এ সরকার গতকাল শুক্রবার, ৩৭ দিন পার করেছেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী এই সময়ের মধ্যেই ইশতেহার অনুযায়ী বেশ সংখক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সূচনা করে এক ঝাঁক মানবিক উদ্যোগ নিয়েছেন। এগুলোর মধ্যে রয়েছে— মহান আল্লাহর উপর বিশ্বাস ও আস্থা (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) সংসদে বসানো এবং সংসদকে জনগণের সংসদ হিসেবে ঘোষণা করা। প্রতিশোধ নয় প্রতিহিংসা নয় ভালোবাসা দিয়ে মানুষকে আবদ্ধ করার কালচার তৈরি করা। নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার পর বিরোধীদলীয় নেতাদের বাড়ি যাওয়া, ইফতারে অংশগ্রহণ করা। বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। জুলাই যোদ্ধাদের ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া। জনগণের মূল্য বোঝে এমন কর্মকর্তাদের নিয়োগ প্রদান করা। মিথ্যা এবং ভৌতিক মামলা থেকে নেতা কর্মীদের মুক্তি দেয়া। বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকতা সীমিত করা, প্রাতিষ্ঠানিক জাকাত ব্যবস্থা চালু করা, বাজার মনিটরিং ও দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীলতা, শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস পরিশোধ, রপ্তানিমুখী শিল্পে প্রণোদনা, বন্ধ শিল্প প্রতিষ্ঠান পুনঃচালু, স্থানীয় উদ্যোগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, ইপিজেড- বিসিক এলাকা ও হাই-টেক পার্কে সম্ভাবনাময় ব্যবসা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়। ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ, ক্রীড়া ও সংস্কৃতির উদ্যোগ, মাদকবিরোধী অভিযান-সীমান্তবর্তী পয়েন্টে সিসিটিভি ও গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়ে চোরাচালান ও মাদক প্রবাহ কমানো। মুক্তিযুদ্ধ তালিকা যাচাই করে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা হতে বাদ দিয়ে প্রকৃতদের সুবিধা নিশ্চিত। শ্রমবাজার পুনরুদ্ধার, চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি, ওএমএস-এর মাধ্যমে অতি দরিদ্র পরিবারগুলোর জন্য স্বল্পমূল্যে চাল সরবরাহ। পুনর্ভর্তি ফি বাতিল করে প্রতিটি সরকারি-বেসরকারি স্কুলে বাৎসরিক পুনঃভর্তি ফি নেওয়া বন্ধ করা। মেধাভিত্তিক ভর্তি নিশ্চিত করে লটারি পদ্ধতি বাতিল ও স্বচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা চালু, শিক্ষাব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরানো। দেশব্যাপী আইনশৃঙ্খলা জোরদার-পুলিশ ও গোয়েন্দা কার্যক্রম শক্তিশালী করা , সন্ত্রাস ও চোরাচালান রোধে দৃঢ় পদক্ষেপ নেওয়া। নারীর নিরাপত্তা ও পিংক বাস চালুর ব্যাবস্থা করা। শহর ব্যবস্থাপনায় স্মার্ট প্রযুক্তি প্রয়োগ করে স্মার্ট ট্রাফিক ও নাগরিক সেবা ব্যবস্থার উন্নয়ন। শহীদ সেনা দিবস ঘোষণা- ২৫ ফেব্রুয়ারি ‘জাতীয় শহীদ সেনা দিবস’ পালন ও পিলখানা হত্যাকাণ্ডের স্বচ্ছ বিচারে গুরুত্বারোপ। ঢাকা হযরত শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালু। বিমানবন্দর ও চলন্ত ট্রেনে ফ্রি ওয়াইফাই, ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও সৈয়দপুর বিমানবন্দরে ফ্রি ওয়াইফাই সুবিধা। নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার, পরিবেশবান্ধব নীতি প্রণয়ন ও ব্যবহার নিশ্চিত, গ্রিন এনার্জি সচেতনতা বৃদ্ধি। স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ক্লিনিক কার্যক্রম জোরদার-প্রধানত গ্রামীণ ও পৌর এলাকায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি-আধুনিক প্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ প্রদানের মাধ্যমে চাষাবাদে দক্ষতা ও উৎপাদন বৃদ্ধি। কৃষি পণ্যের বাজার ও মূল্য সংরক্ষণে কৃষকের আয় নিশ্চিত করতে বাজার পর্যবেক্ষণ ও মূল্য নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম। রপ্তানিমুখী শিল্প সম্প্রসারণে বিদেশি বাজারে রপ্তানি সম্প্রসারণ ও শিল্প প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি। নতুন শিল্প খাতের মাধ্যমে নারীর কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, নতুন গার্মেন্টস জোন ও শিল্প ক্লাস্টার উন্নয়ন, স্থানীয় উদ্যোগ ও কর্মসংস্থান। শ্রমবাজার পুনরুদ্ধার, মালয়েশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে বাধা দূর করার জন্য সফল কূটনৈতিক উদ্যোগ। পার্শ্ববর্তী দেশসমূহের সাথে সুসম্পর্ক স্থাপনের প্রক্রিয়া ইত্যাদি।
নারীপ্রধান দরিদ্র পরিবারের জন্য ফ্যামিলি কার্ড; ইমাম, মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় সেবকদের সম্মানি প্রদান; ক্ষুদ্র কৃষকদের কৃষিঋণ মওকুফ; সব নির্বাচনী এলাকার অসহায় ও গরিবদের জন্য শাড়ি, থ্রিপিস ও হাজি রুমাল বরাদ্দ এবং সব পরিচ্ছন্নতা কর্মীর জন্য ঈদ উপহার। এছাড়া কৃষি খাতে সহায়তা দিতে ‘কৃষক কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা পয়লা বৈশাখ থেকে শুরু হওয়ার কথা। প্রাথমিক পর্যায়ে টাঙ্গাইলের ১১ উপজেলায় ২১ হাজার ৫০০ কৃষককে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে বছরে আড়াই হাজার টাকা প্রণোদনা দেওয়া হবে। এ ছাড়া ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশের দরিদ্র পরিবারগুলোকে সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাইলট প্রকল্প হিসেবে ৩৭ হাজার ৫৬৭ পরিবার এই সুবিধা পাচ্ছে। এটি ধাপে ধাপে সারাদেশে সম্প্রসারিত হবে। একই সঙ্গে শিগগিরই ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে এসব কর্মসূচির মধ্যে অন্যতম সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-নালা-খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন প্রকল্প। সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিএনপি সরকার গঠনের পর জনগণের কল্যাণ ও সুশাসন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগগুলো নিয়েছেন।
উল্লেখযোগ্য উদ্যোগগুলোর মধ্যে আরও রয়েছে-নির্বাচনে জয়লাভের পর বড় উদযাপন না করা, জনগণের প্রতি নম্রতা প্রদর্শন এবং রাজনৈতিক সংহতি ও সামাজিক ঐক্য নিশ্চিত করা। বিরোধী দলকে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা, সংসদে ও সংসদের বাইরে বিরোধী দলের প্রতি শালীন আচরণ এবং অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করা। প্রশাসনে শৃঙ্খলা ও অফিস সময় নিশ্চিতকরণ। শনিবারও প্রধানমন্ত্রীর অফিস খোলা রাখার ব্যাবস্থা এবং কর্মকর্তাদের যথা সময়ের মধ্যে অফিসে উপস্থিতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সাধারণ চলাফেরায় ট্রাফিক ব্যবস্থায় পরিবর্তন, জনগণও আইন মেনে চলতে উৎসাহিত হচ্ছে। এমপিদের বিশেষ সুবিধা বাতিল। শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট গ্রহণ না করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত, যা জনগণের আস্থা বৃদ্ধি করেছে।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি খাতে চাপ তৈরি হওয়ায় সরকার ইতোমধ্যে কয়েকটি তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি কেনার নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি বেসরকারি খাতে এলএনজি আমদানির জন্য প্রয়োজনীয় বৈদেশিক মুদ্রা মজুত রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। ব্যক্তিগত গাড়ির ব্যবহার নিরুৎসাহিত করা এবং জ্বালানি তেল ক্রয়ে সীমা নির্ধারণের মতো পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের ফলে সমগ্র বিশ্বে জ্বালানি সংকটের মধ্যেও তারেক রহমানের সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি না করায় যা ভোক্তাদের কাছে এক আস্থা- ভরসার প্রতীক হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে।
বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত ৩৭ দিনে রাষ্ট্র পরিচালনার ধরনে এক আমূল পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে ফ্যাসিবাদের জাঁতাকলে পিষ্ট রাষ্ট্রযন্ত্রকে সংস্কার করার পাশাপাশি তিনি জনগণের মৌলিক চাহিদাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তিনি নিজে ‘ভিভিআইপি কালচার’ বর্জন করে যে উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন, তা নজিরবিহীন। এছাড়া দুর্নীতিবিরোধী অভিযান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা এবং সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ সুগম করতে তার কঠোর নির্দেশনাগুলো দেশের ভেতরে ও বাইরে সরকারের ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করেছে।
রাজনৈতিক সচেতন ব্যক্তিরা বলছেন, এসবই তাৎক্ষণিক কৌশল। কিন্তু যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে উন্নয়ন ও কল্যাণমূলক কর্মসূচিগুলো চাপের মুখে পড়তে পারে। জ্বালানি আমদানি ব্যয় বাড়লে অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় ব্যয় সংকোচন বা অগ্রাধিকার পুনর্বিন্যাসের প্রয়োজন হতে পারে, যার প্রভাব পড়বে চলমান কর্মসূচিগুলোর ওপর।
ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি, খাল খনন কর্মসূচি : তারেক রহমান কেবল স্বপ্ন দেখাননি বরং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের রূপরেখা তৈরি করে তা হাতে-কলমে প্রমাণ করছেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সুযোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে তিনি পিতার সেই কালজয়ী ‘খাল কাটা কর্মসূচি’কে আধুনিকায়ন করে পুনরায় জাতীয় এজেন্ডায় পরিণত করেছেন। সরকার গঠনের মাত্র এক মাসের মাথায় নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম বড় এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের দৃষ্টান্ত দেখিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন—এটি কেবল কোনো রাজনৈতিক স্লোগান ছিল না, বরং এটি ছিল একটি অর্থনৈতিক বিপ্লবের অঙ্গীকার।
১৯৭৭ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন খাল কাটা কর্মসূচির ডাক দিয়েছিলেন, তখন সেটি কেবল পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ছিল না, ছিল একটি আত্মনির্ভরশীল অর্থনীতির বীজ বপন। আজ কয়েক দশক পর তারই সন্তান তারেক রহমান সেই কর্মসূচির মশাল হাতে নিয়েছেন। নির্বাচনী ইশতেহারে তিনি অঙ্গীকার করেছিলেন, কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় নদী ও খাল খনন হবে তার সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
খাল খনন কর্মসূচি কেন বর্তমান সময়ে অপরিহার্য, তা বুঝতে হলে আমাদের জলবায়ু পরিবর্তন এবং কৃষি ব্যবস্থার দিকে তাকাতে হবে। বাংলাদেশের কৃষি এখনো অনেকাংশেই বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল। বর্ষায় বন্যা আর খরায় পানির অভাব—এই দ্বিমুখী সংকট থেকে পরিত্রাণের একমাত্র পথ হলো নদী ও খালগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা। তারেক রহমানের এই উদ্যোগ কেবল মৃত খালগুলোকে প্রাণ দেবে না, বরং কয়েক কোটি একর কৃষিজমিকে সেচ সুবিধার আওতায় নিয়ে আসবে, যা আমাদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা: শহীদ জিয়ার সময় মানুষ কোদাল হাতে যেভাবে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে খাল খনন করেছিল, সেই ঐতিহ্যের পুনর্জাগরণ পুনরাই শুরু হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক কর্মীদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে হবে যে, এই খাল তাদের সম্পদের অংশ। যখন মানুষ নিজে থেকে সম্পৃক্ত হবে, তখন সেখানে দুর্নীতির সুযোগ কমে যাবে এবং কাজের গুণমান নিশ্চিত হবে।
বৈজ্ঞানিক ও টেকসই পরিকল্পনা: কেবল যত্রতত্র মাটি কাটলেই হবে না। আধুনিক প্রকৌশল বিদ্যা ব্যবহার করে পানির প্রবাহ ও ভৌগোলিক ঢাল বিশ্লেষণ করে নকশা করতে হবে। ড্রেজিং প্রযুক্তির পাশাপাশি স্থানীয় পলি অপসারণের সহজ উপায়গুলো ব্যবহার করতে হবে যাতে বছরের পর বছর ধরে খালের নাব্যতা বজায় থাকে।
সমন্বিত পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা: খাল খননের সঙ্গে মৎস্য চাষ, সামাজিক বনায়ন এবং হাঁস পালনের মতো কার্যক্রম যুক্ত করতে হবে। খালের পাড়ে পরিকল্পিতভাবে ফলদ ও বনজ গাছ রোপণ করলে তা বজ্রপাত প্রতিরোধ এবং মাটির ক্ষয় রোধে কাজ করবে। সেই সঙ্গে গ্রামীণ অর্থনীতিতে বিকল্প আয়ের উৎস তৈরি হবে।
তদারকি ও স্বচ্ছতা: বড় প্রকল্পে সবচেয়ে বড় ভয় থাকে অর্থ অপচয় ও দুর্নীতির। তারেক রহমানের সরকার যেহেতু স্বচ্ছতার ওপর জোর দিচ্ছে, তাই প্রতিটি খালের জন্য একটি ‘ডিজিটাল মনিটরিং সিস্টেম’ থাকা প্রয়োজন। প্রতিটি খালের বর্তমান অবস্থা এবং খনন পরবর্তী ফলাফল ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে জনগণের সামনে উন্মুক্ত রাখতে হবে।
দখলমুক্ত করা: খালের নাব্যতা ফেরানোর প্রথম ধাপ হলো অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে খালগুলোকে উদ্ধার করা। রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে যারা খাল দখল করে ঘরবাড়ি বা কারখানা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে।
তারেক রহমান কেবল খাল কাটার কথা বলছেন না, তিনি আসলে একটি ‘ব্লু ইকোনমি’ বা নীল অর্থনীতির ভিত গড়তে চাচ্ছেন। অভ্যন্তরীণ নৌপথ সচল হলে পণ্য পরিবহনের খরচ কমে যাবে, যা সরাসরি বাজারমূল্য নিয়ন্ত্রণে প্রভাব ফেলবে। এছাড়া এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমবে, ফলে পরিবেশের দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।
শহীদ জিয়ার ‘১৯ দফা’ থেকে শুরু করে আজকের ‘ভিশন’—তারেক রহমানের ৩১ দফা তার নেতৃত্বের মাধ্যমে প্রমাণ করেছেন তিনি তার পিতার যোগ্যতম উত্তরসূরি। গত এক মাসাধিককাল ধরে তার নির্বাচনী ওয়াদাগুলো একের পর এক বাস্তবায়ন করে চলেছেন। তারেক রহমানের হাত ধরে বাংলাদেশ আত্মমর্যাদাশীল ও অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার পথে হাঁটছে।
নতুন প্রধানমন্ত্রীর পদক্ষেপগুলো প্রশাসন ও রাজনীতিতে এক ধরনের নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির সূচনা করেছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম মাসের পদক্ষেপগুলো সমাজ ও রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। তিনি সরকারকে জন অংশগ্রহণমূলক করার চেষ্টা করছেন। নির্বাচনের ইশতিহারে যা প্রকাশ করেছেন, তা দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মধ্যে দৃশ্যমান। ফ্যামিলি কার্ড পাইলট প্রক্রিয়ায় অনেকের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। অতীতে রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচিত হওয়ার পর ইশতিহার এড়িয়ে যেত। এবার ভিন্নতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে —বর্তমান সরকার যা বলেছে তা বাস্তবায়ন করছে। সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরকারের যোগাযোগ এবং বিশ্বাসের সম্পর্ক আরও মজবুত হচ্ছে।
একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে অন্য কোনো ইতিহাসের সঙ্গে না মেলানোর আহ্বান জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘একাত্তরকে অন্য কোনো ইতিহাসের সঙ্গে মেলানো যাবে না। একাত্তর আগে, বাকি সব পরে। বিএনপি কারো অবদান অস্বীকার করে না।’
মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির আলোচনাসভায় এসব কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে জানে ও শুনে এসেছে যে স্বাধীনতার ঘোষণা কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে প্রচারিত হয়। ২৭ মার্চ তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান প্রভিশনাল হেড অব দ্য স্টেট হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ছাত্র গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ হয়েছেন এবং যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদের সবার অবদান সরকার স্বীকার করে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমরা কারো বিজয় ছিনিয়ে নিতে চাই না। সবাই মিলে একাত্তরের ইতিহাসকে আগে সম্মান জানাতে হবে। একাত্তর কখনো অন্য কোনো ইতিহাসের সঙ্গে তা মিলবে না।’
পাঁচ দিনের মধ্যে প্রায় দুই লাখ টন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়বে তিনটি জাহাজ। এর মধ্যে একটি ইতোমধ্যে দেশের সমুদ্রসীমায় পৌঁছেছে; আর বাকি দুটি আগামী বুধবারের (১ এপ্রিল) মধ্যে আসার কথা রয়েছে। তিন জাহাজে মোট এলএনজির পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৯৩ হাজার টন। শুক্রবার (২৭ মার্চ) চট্টগ্রাম বন্দর কতৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, অস্ট্রেলিয়া থেকে ৬১ হাজার ৯৯৭ টন এলএনজি নিয়ে ‘এইচএল পাফিন’ ট্যাংকার বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) কুতুবদিয়া উপকূলে পৌঁছেছে। এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়া থেকে ৬১ হাজার টন এলএনজি নিয়ে ‘নিউ ব্রেভ’ এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে প্রায় ৭০ হাজার টন এলএনজি নিয়ে ‘সেলসিয়াস গ্যালাপাগোস’ নামের আরো দুটি জাহাজ আগামী বুধবারের মধ্যে বন্দরে পৌঁছাবে।
জাহাজ দুটির স্থানীয় শিপিং এজেন্ট ইউনি গ্লোবাল বিজনেস লিমিটেডের জ্যেষ্ঠ উপমহাব্যবস্থাপক মো. নুরুল আলম জানান, এখন পর্যন্ত সময়সূচি অনুযায়ী ট্যাংকার দুটি নির্ধারিত সময়েই পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
বাংলাদেশে এলএনজি আমদানির প্রায় ৭০ শতাংশ আসে কাতার থেকে। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর পর এই সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। কাতার থেকে এ মাসের মাঝামাঝি সময়ে দুটি এলএনজি ট্যাংকার আসার কথা থাকলেও তা হয়নি। এর মধ্যে একটি ট্যাংকার রাস লাফান বন্দর থেকে এলএনজি বোঝাই অবস্থায় এখনো আটকে রয়েছে।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, এ মাসে এখন পর্যন্ত মোট সাতটি এলএনজিবাহী ট্যাংকার দেশে এসেছে। সাধারণ সময়ে প্রতি মাসে ১০ থেকে ১১টি ট্যাংকার আসে।
রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলা এলএনজি আমদানি করে থাকে। সংস্থাটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের অনিশ্চয়তার মধ্যে বিকল্প উৎস থেকে এলএনজি আনার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি ঘিরে পরিস্থিতি সত্ত্বেও আপাতত বড় ধরনের সরবরাহ সংকট হবে না বলে মনে করছেন তারা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৮ বছরের ধ্বংসস্তূপ থেকে নতুন বাংলাদেশ গড়ছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে শুক্রবার (২৭ মার্চ) ঢাকার রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তারেক রহমানের প্রশংসা করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দীর্ঘ ১৮ বছরের ফ্যাসিস্ট শাসনের নিপীড়নে আমাদের রাষ্ট্র ভেঙে চুরমার হয়ে গিয়েছিল।
গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে অর্থনীতিকে ভঙ্গুর করে দেওয়া হয়েছিল। জনগণের সমর্থনে নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা এমন একজন নেতা পেয়েছি, যার স্লোগান আজ আমাদের নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়া যারা দেখেন তারা জানেন, দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় নেতা এখন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, আমাদের নেতা তারেক রহমান দেশে আসার পরই প্রতিশোধ বা প্রতিহিংসার কথা না বলে দেশ গড়ার পরিকল্পনা নিয়ে এসেছেন।
শহীদ জিয়া যেমন সাড়ে তিন বছরে তলাবিহীন ঝুড়ির দেশকে সম্ভাবনাময় বাংলাদেশে পরিণত করেছিলেন, তার যোগ্য পুত্র তারেক রহমানও আজ সেই পথ দেখাচ্ছেন। নির্বাচনের পরপরই তিনি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং কৃষকদের ১০ হাজার টাকা কৃষি ঋণ মওকুফের কাজ শুরু করেছেন। এমনকি খাল খনন কর্মসূচিও শুরু হয়ে গেছে।
স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রেক্ষাপট টেনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ১৯৭১ সালে আমরা পাকিস্তানের তৎকালীন শ্রেষ্ঠ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করে জয়লাভ করেছি। কিন্তু পরিতাপের বিষয়, স্বাধীনতার ৫৫ বছর পর আজ সেই অপশক্তি আবারও নতুন চেহারায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে।
যারা সেদিন হানাদার বাহিনীকে সহযোগিতা করেছিল, তারা আজও সক্রিয়। আমাদের স্বাধীনতাকে সংহত করতে হলে এই অপশক্তিকে পরাজিত করতেই হবে।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে মির্জা ফখরুল কবি রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিখ্যাত পঙ্ক্তি উদ্ধৃত করে বলেন, ‘স্বাধীনতাহীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে, কে বাঁচিতে চায়’। ব্রিটিশ আমল থেকে শুরু করে পাকিস্তান আমল পর্যন্ত এদেশের মানুষ বারবার স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছে এবং লড়াই করেই টিকে থাকবে।
মির্জা ফখরুল তার বক্তব্যে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, প্রথম নারী মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং ২৪-এর জুলাই বিপ্লবের যোদ্ধাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
তিনি বলেন, আমরা অতীতচারিতা ভুলে গিয়ে আমাদের সন্তানদের জন্য সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে চাই, যাতে বাংলাদেশ বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে।
সভায় অন্যান্যের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, সালাহউদ্দিন আহমদ, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ দলের কেন্দ্রীয় ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির বলেছেন, ৫ আগস্টের (২০২৪ সালের) আগে ও পরে পুলিশসহ অনেক মানুষ নিহত হয়েছে। এসব ঘটনায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) সদরদপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন।
৫ আগস্টের আগে পুলিশ নিহতের বিষয়ে ব্যবস্থা প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, ‘শুধু পুলিশ বলছেন কেন? পুলিশসহ অনেক মানুষই মারা গেছে। আইন অনুযায়ী এসব বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর বাইরে আমার কোনো বক্তব্য নেই।’
আলী হোসেন ফকির বলেন, ‘জুলাই বিপ্লবের পরে পুলিশের মনোবল ছিল শূন্যের কোটায়। পুলিশ জনবিচ্ছিন্ন হয়েছিল। এটা হয়েছিল কিছু মানুষের ভুল নেতৃত্বের কারণে। সেই জায়গা থেকে পুলিশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে।’
আইজিপি আলী হোসেন ফকির বলেন, কথায় কথায় তরুণদের রাস্তায় নেমে অবরোধ করা ঠিক নয়। এতে সামগ্রিকভাবে দেশের ক্ষতি হয়। এ জন্য সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানান তিনি।
মাদকবিরোধী কার্যক্রম প্রসঙ্গে আলী হোসেন ফকির বলেন, বর্তমানে মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে এবং এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এ সময় আইজিপির সঙ্গে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একজন অনিবার্য চরিত্র। আমরা দেখেছি, অতীতে যেভাবে শহীদ জিয়াউর রহমানকে, তার অবদানকে, তার কাজকে খাটো করার চেষ্টা করা হয়েছে, এর থেকে প্রমাণিত হয়েছে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অবশ্যই বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের একজন অনিবার্য চরিত্র। শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে আয়োজিত বিএনপির স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এসময় স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধকে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবজনক অধ্যায় বলে অভিহিত করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, অতীত নিয়ে সবসময় যারা পড়ে থাকে তাদের এক চোখ অন্ধ। আবার যদি আমরা অতীত ভুলে যাই, তাইলে আমাদের দুই চোখ অন্ধ। সুতারাং অতীতকে একদম ভুলে যাওয়া চলবে না। কিন্তু নিকট অতীতেও আমরা দেখেছি, অতীত নিয়ে এত বেশি চর্চা হয়েছে সেটা আমাদের সামনে যে ভবিষ্যৎ রয়েছে তাকে বাধাগ্রস্ত করেছে।
সরকারপ্রধান তার বক্তব্যের শুরুতে স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সকল জাতীয় নেতৃবৃন্দের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান।
স্বাধীনতা ও দেশের জন্য জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান কিন্তু হঠাৎ করেই স্বাধীনতার ঘোষণাটি দেননি। শহীদ জিয়া প্রথম জীবনে অবশ্যই একজন রাজনৈতিক কর্মী ছিলেন না, তিনি একজন সামরিক সৈনিক ছিলেন, তবে তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার যে স্বপ্ন, সেটি যে তার মনের মধ্যে সেই বোধশক্তির পর থেকে লালন করতেন, এটি কিন্তু তার একটি লেখায় ফুটে উঠেছে...একটি স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য যে তার দীর্ঘ মানসিক প্রস্তুতি ছিল, সেটি আমরা তার একটি লেখা থেকে পরিষ্কারভাবে বুঝতে পেরেছি। কথাগুলো আমার নয়, কথাগুলো কারও মনগড়া নয়, এই কথাগুলো আমরা তার নিজের লেখা থেকে জানতে পেরেছি।’
জিয়াউর রহমানের লেখা ‘একটি জাতির জন্ম’ প্রবন্ধের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন তিনি দীর্ঘদিন ধরে লালন করতেন। ১৯৭২ সালের ২৬ মার্চ দৈনিক বাংলায় প্রকাশিত ওই প্রবন্ধে স্বাধীনতার প্রেক্ষাপট স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।
তারেক রহমান বলেন, ২৬ মার্চ ১৯৭১ রাত ২টা ১৫ মিনিট এই সময়টি শহীদ জিয়ার লেখায় উল্লেখ আছে, যা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল হতে পারে। প্রবন্ধটি প্রকাশের পর সে সময় কেউ এর বিরোধিতা করেননি, যা এর সত্যতাকেই প্রমাণ করে। স্বাধীনতার মূল্য কেবল তারাই বুঝতে পারে, যারা এর জন্য লড়াই করে।
ফিলিস্তিনের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, স্বাধীনতার গুরুত্ব আজও বিশ্বে প্রাসঙ্গিক।
১৯৭১, ১৯৯০ এবং ২০২৪ সালের বিভিন্ন আন্দোলনের শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, সব সংগ্রামের মূল লক্ষ্য ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারভিত্তিক একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা।
বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন, বৃক্ষরোপণসহ কর্মসংস্থানের বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে জনগণের জীবনমান উন্নয়নের জন্য।
দেশ গঠনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাই, তাহলে অবশ্যই একটি স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব। সমাজের সব শ্রেণিপেশার মানুষকে নিয়ে সহাবস্থানের মাধ্যমে ভালোকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের জীবনমান উন্নয়নের বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার। সমাজের একটি অংশ নয়, বরং সকল শ্রেণিপেশার মানুষ নিয়ে ভালো থাকাই হোক স্বাধীনতা দিবসের অঙ্গীকার।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এতে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমদ।
দেশের প্রান্তিক কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী ও স্বচ্ছল করে তোলার লক্ষ্যে সরকার বিশেষ 'কৃষিকার্ড' চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন এই প্রকল্পের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে জানিয়েছেন, আগামী ১৪ এপ্রিল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কৃষকদের মাঝে এই কার্ড বিতরণ কর্মসূচি শুরু হবে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন। ফ্যামিলি কার্ডের সফলতার পর এখন পর্যায়ক্রমে প্রতিটি উপজেলায় কৃষিকার্ডের এই সেবা ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এক সময়কার সোনালি আঁশ পাটের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, অতীতে সঠিক সিদ্ধান্তের অভাব বা অবহেলার কারণে পাট চাষ কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়েছিল। তবে বর্তমান সরকার পাট চাষিদের নতুন করে উৎসাহিত করার মাধ্যমে এই খাতের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে চায়।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রীর মতে, পাটের উৎপাদন যত বাড়বে, তা দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও পরিবেশবান্ধব প্রভাব ফেলবে।
কৃষি অফিস চত্বরে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে সরাসরি কৃষকদের হাতে কৃষি উপকরণ তুলে দেওয়া হয়। সেখানে উপস্থিত ৮০০ জন কৃষকের প্রত্যেককে ৫ কেজি আউশ ধানের বীজ এবং ২০ কেজি বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক সার প্রদান করা হয়। এছাড়া আরও ২০ জন কৃষকের মাঝে উন্নত মানের পাট বীজ ও প্রয়োজনীয় সার বিতরণ করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে এই সহায়তা কার্যক্রমটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়। মূলত কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমিয়ে তাদের সরাসরি সহায়তা দেওয়াই সরকারের এই পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য।
দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতির অস্থিরতার পেছনে কালোবাজারি ও মজুতদারদের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বিএনপি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এই অভিযোগ করেন।
অর্থমন্ত্রী জানান, সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদ্দেশ্যে একটি চক্র উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তেল মজুত করছে এবং অবৈধভাবে বাইরে বিক্রি করে বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে।
জ্বালানি তেলের বর্তমান অবস্থা নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া উদ্বেগ বা ‘প্যানিক’ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, কিছু অসাধু চক্র দেশের এই সংকটময় মুহূর্তকে পুঁজি করে ব্যক্তিগত ফায়দা লুটছে। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে তিনি দেশবাসীকে অধিকতর সচেতন হওয়ার এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় পরিহার করে কৃচ্ছ্রসাধনের আহ্বান জানান।
সরকারকে এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সহযোগিতা করার জন্য তিনি স্থানীয় সংসদ সদস্যদের আরও সক্রিয় ভূমিকা পালনের তাগিদ দেন, যাতে তৃণমূল পর্যায়ে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক থাকে এবং কোনো ধরনের অনিয়ম না ঘটে।
একই অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস চর্চা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে অর্থমন্ত্রী একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। তিনি মনে করেন, যখন রাজনীতিবিদরা ইতিহাসবিদের ভূমিকা পালন করতে যান, তখন সেই ইতিহাস অনেক সময় রাজনৈতিক প্রচারণায় বা প্রোপাগান্ডায় রূপ নেয়, যা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। তাই তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং এর পরবর্তী ঘটনাবলির প্রকৃত ও নিরপেক্ষ ইতিহাস রচনার দায়িত্ব পেশাদার ও প্রকৃত ইতিহাসবিদদের হাতেই থাকা উচিত।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভার শুরুতে মহান স্বাধীনতার বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয় এবং বর্তমান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলায় দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানানো হয়। বক্তারা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপসমূহের ওপর আলোকপাত করেন।
এবারের ঈদযাত্রার মাত্র নয়দিনে সারাদেশে সড়ক, রেল ও নৌপথে দুর্ঘটনার এক ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের জরিপ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই স্বল্প সময়ে অন্তত ২৬৯টি দুর্ঘটনায় ২৩০ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন দেড় সহস্রাধিক যাত্রী। এর মধ্যে গত ১৭ মার্চ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত সড়কপথেই ২০৪ জন নিহত হন। পরিস্থিতির ভয়াবহতা আরও স্পষ্ট হয় ২৫ মার্চ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাস নদীতে পড়ে যাওয়ার ঘটনায়, যেখান থেকে এখন পর্যন্ত ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই পরিসংখ্যানগুলো দেশের যাতায়াত ব্যবস্থার চরম বিশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তার ঘাটতিকেই নির্দেশ করছে।
চলতি বছরের শুরু থেকেই দুর্ঘটনার এই ধারা অব্যাহত রয়েছে। জানুয়ারি মাসে ৫৫৯টি দুর্ঘটনায় ৪৮৭ জন এবং ফেব্রুয়ারি মাসে ৫১৭টি দুর্ঘটনায় ৪৩২ জন নিহত হয়েছেন। উভয় মাসেই প্রাণহানির বড় একটি অংশজুড়ে ছিল মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা, যা মোট নিহতের প্রায় ৪০ শতাংশ। এছাড়া পথচারী নিহতের হারও উদ্বেগজনক, যা গড়ে ২৩ থেকে ২৭ শতাংশের মধ্যে ওঠানামা করছে। যদিও জানুয়ারির তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে দৈনিক গড় মৃত্যু সামান্য কমলেও রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের মতে, এটি কোনো টেকসই উন্নতির লক্ষণ নয়। কারণ সড়ক পরিবহন ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান কোনো গুণগত পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
২০২৫ সালের রাজধানীর দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ঢাকা শহরে দুর্ঘটনার একটি বড় অংশই ঘটে রাতে এবং ভোরে। গত বছর রাজধানীতে ৪০৯টি দুর্ঘটনায় ২১৯ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ছিল পুরুষ ও পথচারী। রাতে মালবাহী ভারী যানবাহনের বেপরোয়া গতি এবং বাইপাস রোডের অভাবকে এসব দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, মোহাম্মদপুর এবং বিমানবন্দর সড়কের মতো এলাকাগুলো দুর্ঘটনার 'হটস্পট' হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এছাড়া দীর্ঘ যানজটের কারণে চালকদের অসহিষ্ণু আচরণ ও ধৈর্যচ্যুতিও দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান ঈদযাত্রার এই প্রাণহানির জন্য মূলত যানবাহন ও ট্রাফিক অব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করেছেন। তিনি মনে করেন, কেবল পরিসংখ্যান দিয়ে সড়কের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়, বরং এর জন্য প্রয়োজন ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আমূল সংস্কার। মার্চ মাসের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরির কাজ বর্তমানে চলমান রয়েছে, যা সম্পন্ন হলে এই মাসের সামগ্রিক ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতে যথাযথ তদারকি ও কাঠামোগত পরিবর্তন এখন সময়ের দাবি।
সবার অংশগ্রহণে সহাবস্থানের বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে দেশকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপির আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বক্তব্যের শুরুতেই একাত্তরের রণাঙ্গনের মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান তিনি।
উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, যারা অতীত নিয়ে পড়ে থাকে, তাদের একচোখ অন্ধ, আর যারা অতীত ভুলে যায়, তারা দুই চোখ অন্ধ। তবে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার অতীতকে অতিরঞ্জিতভাবে উপস্থাপন করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের সঠিক ইতিহাস চর্চা করতে হবে, নইলে সামনের পথে অগ্রগতি ব্যাহত হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, মুক্তিযুদ্ধই জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ ইতিহাস এবং এর গৌরব ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যেও বহমান থাকবে। তবে এ বিষয়ে এমন কোনো বক্তব্য দেওয়া উচিত নয়, যা মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করে।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে মুক্তিযুদ্ধের এক অনন্য চরিত্র হিসেবে উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে জিয়াউর রহমানের দীর্ঘ প্রস্তুতি ছিল, যা ১৯৭২ ও ১৯৭৪ সালে দৈনিক বাংলা এবং সাপ্তাহিক বিচিত্রায় তার নিজের লেখা নিবন্ধে প্রকাশিত হয়। তার সেই লেখাগুলো নিয়ে কখনো কোনো আপত্তি ওঠেনি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়কমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক, অর্থনীতিবিদ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
এর আগে বিকেল আড়াইটার দিকে আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে বিশিষ্টজন ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা মহান মুক্তিযুদ্ধের গৌরবময় ইতিহাস তুলে ধরেন।