শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
৩ আশ্বিন ১৪৩৩

প্রার্থী বেশি,প্রতিদ্বন্দ্বী কম

ফাইল ছবি
আপডেটেড
২ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০০:১৪
তানজিমুল নয়ন
প্রকাশিত
তানজিমুল নয়ন
প্রকাশিত : ২ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০০:০০

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ২ হাজার ৭১৩ জন প্রার্থী। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে নিবন্ধিত ৪৪টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩২টি দল। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন ৭৪৭ জন। সে হিসাবে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রত্যয়নপত্র নিয়ে নির্বাচনে উপস্থিত ১৯৬৬ জন প্রার্থী। আর স্বতন্ত্রদের মধ্যে অন্তত ৪০০ জন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন। তবে সাধারণ মানুষের অভিযোগ, নির্বাচনে আসা বড় দল আওয়ামী লীগের মূল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বাইরে অন্যদলগুলোর বেশির ভাগ প্রার্থীই আসনগুলোর মানুষের কাছে অচেনা। প্রায় প্রতিটি আসনেই নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন এমন অনেক অচেনা মুখ যাদের প্রার্থিতা পেতে সমস্যা না হলেও নির্বাচনী লড়াইয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে পরিচিত হতেই পার হয়ে যাবে প্রচারণার বেশির ভাগ সময়। ফলে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, নির্বাচনে প্রার্থী আছে অনেক বেশি, কিন্তু, প্রতিদ্বন্দ্বী কম।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ৩০০ আসনের বিপরীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের (নৌকা) ৩০৩ জন, জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল) ৩০৪ জন, জাকের পার্টি (গোলাপ ফুল) ২১৮ জন, তৃণমূল বিএনপি (সোনালী আঁশ) ১৫১ জন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি- এনপিপি (আম) ১৪২ জন, বাংলাদেশ কংগ্রেস (ডাব) ১১৬ জন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ (মশাল) ৯১ জন, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন (ফুলের মালা) ৪৭ জন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন (বটগাছ) ১৩ জন, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি (হাতঘড়ি) ১৮ জন, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ (চেয়ার) ৩৯ জন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (কাঁঠাল) ১৩ জন, গণফ্রন্ট (মাছ) ২৫ জন, গণফোরাম (উদীয়মান সূর্য) ৯ জন, ইসলামী ঐক্যজোট (মিনার) ৪৫ জন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট (মোমবাতি) ৩৭ জন, জাতীয় পার্টি-জেপি (বাইসাইকেল) ২০ জন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ (গামছা) ৩৪ জন, গণতন্ত্রী পার্টি (কবুতর) ১২ জন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (হাতুড়ি) ৩৩ জন, বিকল্পধারা বাংলাদেশ (কুলা) ১৪ জন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (একতারা) ৮২ জন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন-বিএনএম (নোঙর) ৪৯ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট- বিএনএফ (টেলিভিশন) ৫৫ জন, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (ছড়ি) ৭৪ জন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ- বিএমএল (হাত-পাঞ্জা) ৫ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি- ন্যাপ (কুঁড়েঘর) ৬ জন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মই) একজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (রিকশা) একজন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ (খেজুর গাছ) একজন এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (হারিকেন) দুইজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

এদিকে মনোনয়ন জমার শেষ দিনেই ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম জানিয়েছেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিলের সময়সীমা বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। ফলে বিএনপিসহ যে দলগুলো নির্বাচন বর্জন করেছে তাদের আর মত পাল্টে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসার দৃশ্যমান কোনো সুযোগ নেই। আন্দোলনরত দলগুলোও অবশ্য আগেই এ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতি দিয়েছে।

ফলে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর যাচাই-বাছাই শেষে যেসব প্রার্থী টিকে যাবেন তারাই থাকবেন নির্বাচনী দৌড়ে। তবে প্রতিটি আসনে ভোটের লড়াইয়ে যারা যাচ্ছেন তাদের বেশির ভাগেরই দলের নাম সাধারণ মানুষ জানে না। আর দল অচেনা বলে প্রার্থীরাও অচেনা। ফলে তাদের ধারণা নির্বাচনী লড়াইয়ে আসলে টিকে থাকবেন বড় দলের পরিচিত মুখগুলো। এর মধ্যে শাসক দলের মার্কা নিয়ে লড়াই করা প্রার্থীরা যেমন আলোচনায় থাকবেন, তেমনই অনেক আসনেই তাদের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমাতে পারেন নির্বাচনে আসা আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। কেননা, দলটির স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বেশির ভাগই স্থানীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত এবং তাদের মোটামুটি ভোট ব্যাংক অথবা এলাকাবাসীকে প্রভাবিত করার সক্ষমতা রয়েছে। নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া ৭৪৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে অন্তত ৪০০ জনই আওয়ামী লীগের।
যদিও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গত কয়েক দিনের মতো গতকালও বলেছেন, দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ঢালাওভাবে নির্বাচন করতে পারবেন না। এ ছাড়া ১৪-দলীয় জোটের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির সম্ভাবনা রয়েছে আওয়ামী লীগের। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন, নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আসতে পারবেন জোটের এমন প্রার্থীরাই কেবল থাকবেন বিবেচনায়। আর ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করে তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এর ফলে এটা স্পষ্ট যে, জোটের সঙ্গে সমঝোতা হলে কয়েকটি আসনে আওয়ামী লীগ যাদের মনোনয়ন দিয়েছে তাদেরও রণে ভঙ্গ দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে হবে।

তবে আওয়ামী লীগ সভাপতি নির্বাচনী কৌশল হিসেবে এবার দলীয় মার্কার বাইরে দলীয় প্রার্থীদের স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড়ানোর সুযোগ দেয়ায় নির্বাচনে আসা প্রার্থীদের কতজন আবার দল চাইলে নির্দেশ মেনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন সেটাও আছে দেখার বিষয়।

তবে এই আলোচনার বাইরে থেকে যাচ্ছে বেশির ভাগ প্রার্থী যারা বিভিন্ন দল থেকে নির্বাচনে এলেও জনগণের কাছে নিজের দল, দলীয় প্রতীক এবং নিজের পরিচয় প্রকাশ করার সুযোগ পাবেন। তবে প্রতিটি আসনে স্থানীয় ভোটারদের কাছে তারা এখনো অচেনা এবং নতুন মুখ হিসেবে বিবেচিত।

যেমন দল হিসেবে এবারই প্রথম নির্বাচন করছে তৃণমূল বিএনপি, বিএনএম, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি। এসব দলের বেশির ভাগ প্রার্থী নিজ নিজ এলাকার ভোটারদের কাছে নতুন পরিচয়ে উপস্থিত হবেন। অনেকে আবার খুব বেশি পরিচিত নন। একইভাবে তাদের নির্বাচনী প্রতীক যথাক্রমে সোনালী আঁশ, নোঙর ও একতারা চেনাতেও এবার তাদের বিশেষ প্রস্তুতি নিতে হবে।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনএমের প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য আছেন ৬ জন এবং তৃণমূলের প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য আছেন ৫ জন।

এদিকে, গতকাল আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর কাদের বলেছেন, বিএনপির ১৫ কেন্দ্রীয় নেতাসহ সাবেক ৩০ জন সংসদ সদস্য নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এদের মধ্যে কাদের সিদ্দিকী, লতিফ সিদ্দিকী, আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর মতো নেতাও আছেন। আবার আগে বিএনপিতে প্রভাব ছিল দলটির এমন সাবেক নেতারাও আছেন নির্বাচনে। এদের মধ্যে তৈমূর আলম, সমশের মবিন চৌধুরীর নাম উল্লেখযোগ্য।

তবে এদের বাইরে নির্বাচনের মাঠে থাকা বেশির ভাগ প্রার্থীই অচেনা। এ বিষয়ে গাজীপুর-৪ আসনের একজন প্রার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমার দল এলাকায় তেমন পরিচিত নয়। দলের প্রচার চালাতে ও এলাকার মানুষের কাছে নিজের পরিচয় তুলে ধরতে এবার ভোট করতে আসা। আমিও জানি নির্বাচনে জয়লাভ করার অবস্থান এখনো আমার বা আমার দলের তৈরি হয়নি। তবে এক দিনে তো কিছুই হয় না। আমাদের দলের আদর্শ ও কর্মসূচি দেশের মানুষ ও এলাকার মানুষকে জানাতে আমরা নির্বাচনে এসেছি।’

অন্যদিকে লালমনিরহাট-৩ আসনে মনোনয়ন জমা দেয়া প্রার্থীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই সদর আসনে ৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সদ্য পদত্যাগকারী সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জাবেদ হোসেন বক্কর, জাতীয় পার্টি থেকে জাহিদ হাসান, তৃণমূল বিএনপি থেকে শামীম আহম্মেদ চৌধুরী, জাকের পার্টি থেকে সকিউজ্জামান মিয়া, বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল থেকে আশরাফুল আলম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) থেকে আবু তৈয়ব মো. আজমুল হক পাটোয়ারী, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) থেকে শ্রী হরিশ চন্দ্র রায় মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তবে এবার তিনি এ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেননি। ফলে এ আসনে নির্বাচনে অংশ নেয়া সব প্রার্থীই নতুন এবং নতুন একজন সংসদ সদস্য পাবে লালমনিরহাট সদরবাসী। তবে নতুন হলেও জেলা ও শহরের রাজনীতিতে পুরনো মুখ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান। ছাত্ররাজনীতি করায় জাবেদ হোসেন বক্করও সেখানে পরিচিত মুখ। জাকের পার্টি ও জাসদের প্রার্থীকেও অনেকে চেনেন। তবে সাম্যবাদী দল, এনপিপির প্রার্থীর মতো জাতীয় পার্টির প্রার্থীও এলাকার সবার চেনা মুখ নন। ফলে যে আসন থেকে জাতীয় পার্টি বর্তমান সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছে সেখানে নতুন মুখ দেয়ায় মাঠের রাজনীতিতে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন এলাকার অনেক বাসিন্দা।

বিষয়টা আরও স্পষ্ট হয় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনার ৬টি আসন বিশ্লেষণ করলে। দৈনিক বাংলার খুলনা ব্যুরো জানায়, খুলনার এই ৬টি আসনের জন্য সেখানে ৫৩ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে যারা সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচন করবেন, তাদের অধিকাংশেরই রাজনীতিতে তেমন কোনো পরিচিতি নেই। হঠাৎ করেই তারা কেন সংসদ নির্বাচনে আগ্রহী হলেন, এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে উত্তরও দেননি অধিকাংশ প্রার্থী।

খুলনা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের মনোনীত ৬ জন প্রার্থী, আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র ২ জন এবং জাতীয় পার্টির একজন প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচিতি রয়েছে। বাকি ৪৪ জন প্রার্থী কখনো রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয় ছিলেন না।

খুলনা প্রতিনিধির বিশ্লেষণ অনুযায়ী খুলনা-১ আসনের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ৬ জন। তারা হলেন, জাকের পার্টির মো. আজিজুর রহমান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ননী গোপাল মণ্ডল, জাতীয় পার্টির কাজী হাসানুর রশিদ, তৃণমূল বিএনপির গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রশান্ত কুমার রায় ও আবেদ আলী শেখ।

এদের মধ্যে ননী গোপাল মণ্ডল ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। রাজনীতিতে তার পরিচিতি রয়েছে। তবে বাকি চারজন রাজনীতিতে একেবারেই অপরিচিত। তারা প্রত্যেকেই এবার প্রথম সংসদ নির্বাচন করছেন। এদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রশান্ত কুমার রায় পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সাবেক সচিব।

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আমি নির্বাচন করছি। আমাকে ডামি প্রার্থীও বলা যাবে। এটা দলীয় নির্দেশেই হচ্ছে।’
আওয়ামী লীগের ননী গোপাল মণ্ডল বলেন, ‘দল আমাকে আবারও সুযোগ দিয়েছে। আমি দলের সম্মান রাখব বলে আশাবাদী।’

তবে বাকি চার প্রার্থীর তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই। জাতীয় পার্টীর কাজী হাসানুর রশিদ ও তৃণমূল বিএনপির গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিকের কাছে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেও কোনো উত্তর মেলেনি।

আর জাকের পার্টি মো. আজিজুর রহমান বলেন, ‘দল থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে বলেছে, তাই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি।’

অন্যদিকে খুলনা-২ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৯ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল, গণতন্ত্র পার্টির মো. মতিয়ার রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের দেবদাস সরকার, জাকের পার্টির ফরিদা পারভিন, ইসলামী ঐক্যজোটের হিদায়েতুল্লাহ, জাতীয় পার্টির মো. গাউসুল আজম, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের বাবু কুমার রায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সাঈদুর রহমান।

এদের মধ্যে শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থীর রাজনৈতিকভাবে পরিচিতি রয়েছে। তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। তবে বাকিদের আগে কখনো রাজনৈতিক মাঠে দেখা যায়নি।

কেন প্রার্থী হয়েছেন- এমন প্রশ্নে বাংলাদেশ কংগ্রেসের দেবদাস সরকার বলেন, ‘অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে মনোনয়ন জমা দেয়া হচ্ছে, তাই আমরাও দিচ্ছি।’

খুলনা-৩ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৫ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের এস এম কামাল হোসেন, জাকের পার্টির এস এম সাব্বির হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, স্বতন্ত্র প্রার্থী কাইজার আহমেদ ও ফাতেমা জামান সাথী।

এদের মধ্যেও শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচিতি রয়েছে। তিনি দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। তিন বারের সংসদ সদস্য ও দুই বারের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানকে সরিয়ে তাকেই আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিয়েছে। তবে ওই আসনেরও বাকি চারজনের তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই।

খুলনা-৪ আসন থেকে মনোনয়ন নিয়েছেন ১৪ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের আব্দুস সালাম মূর্শেদী, জাকের পার্টির শেখ আনছার আলী, জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এস এম আজমল হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. ফরহাদ আহমেদ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. মোস্তাফিজুর রহমান, তৃণমূল বিএনপির শেখ হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মনিরা সুলতানা, ইসলামী ঐক্যজোটের রিয়াজ উদ্দীন খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জুয়েল রানা, এম ডি এহসানুল হক, মো. রেজভী আলম, এস এম মোর্ত্তজা রশিদী দারা, আতিকুর রহমান ও এইচ এম রওশান জমির।

এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের আব্দুস সালাম মূর্শেদী বর্তমান সংসদ সদস্য। ২০১৮ সালের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে তিনি জয়ী হয়েছিলেন।

এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম মোর্ত্তজা রশিদী দারার দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস রয়েছে। তিনি ওই আসনের তিন বারের সাবেক সংসদ সদস্য এস এম মোস্তফা রশিদী সুজার আপন ভাই।

তিনি বলেন, এলাকার মানুষের দোয়া নিয়ে মাঠে নেমেছি। জয়-পরাজয় এলাকার মানুষই নির্ধারণ করবেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই আসনে আওয়ামী লীগের এই দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এলাকার ভোটাররা বলছেন, বাকি ১২ জন প্রার্থীদের নাম খুব একটা শোনেননি তারা। কেউ কেউ একেবারেই অপরিচিত।

খুলনা-৫ আসনের জন্য মনোনয় জমা দিয়েছেন ৭ জন। তারা হলেন- জাতীয় পার্টির মো. শহীদ আলম, জাকের পার্টির সামাদ সেখ, আওয়ামী লীগের নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, ওয়ার্কার্স পার্টির শেখ সেলিম আকতার, বাংলাদেশ কংগ্রেসের এস এম এ জলিল, ইসলামী ঐক্যজোটের তরিকুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ আকরাম হোসেন।

এদের মধ্যে নারায়ণ চন্দ্র চন্দ একাধিক বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী। এ ছাড়া আকরাম হোসেন ফুলতলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। এই আসনেও আওয়ামী লীগের এই দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ভোটাররা। বাকি যারা প্রার্থী হয়েছেন এলাকার রাজনীতিতে তাদের তেমন কোনো পরিচিতি নেই বলে জানা গেছে।

খুলনা-৬ আসনের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ১২ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের মো. রশীদুজ্জামান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. আবু সুফিয়ান, জাকের পার্টির শেখ মর্তুজা আল মামুন, জাতীয় পার্টির মো. শফিকুল ইসলাম মধু, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মির্জা গোলাম আজম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এস এম নেওয়াজ মোরশেদ, তৃণমূল বিএনপির গাজী নাদীর উদ্দীন খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম রাজু, গাজী মোস্তফা কামাল, জি এম মাহবুবুল আলম, মো. মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর ও মো. অহিদুজ্জামান মোড়ল।

এদের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত মো. রশীদুজ্জামানের কোনো দলীয় পদ নেই। তিনি একসময় পাইকগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্যসচিব ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে জামানত হারিয়েছিলেন। তবে তাকেই মনোনয়ন দিয়ে চমক সৃষ্টি করেছে ক্ষমতাসীন দল। ওই আসনে রাজনৈতিকভাবে পরিচিত রয়েছে জাতীয় পার্টির মো. শফিকুল ইসলাম মধুর। তিনি আগেও খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। বাকি প্রার্থীদের তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই। এলাকার সবার কাছে পরিচিত মুখও নন অনেকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশির ভাগ আসনেই ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীদের স্থানীয়রা তেমন একটা চেনেন না। তবে বিরোধীদের এক অংশ নির্বাচন বর্জন করায় রাজনীতির নতুন সমীকরণ মেলাতে ছোট দলগুলোই নির্বাচনে হতে যাচ্ছে বড় দলগুলোর সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনীযুদ্ধ পার হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী।

জাসদের মাঠপর্যায়ের এক রাজনীতিবিদ জসিম মণ্ডল বলেন, ‘নির্বাচন একটা বড় খেলা। এখানে সবাই নামে নিজ নিজ সমীকরণ মেলানোর জন্য। রাজনৈতিক দলগুলোর সমীকরণ হয় এক ধরনের, আবার প্রার্থীর সমীকরণ হয় আরেক ধরনের। সবাই নির্বাচনে জয়ী হতে যেমন অংশ নেয় না তেমনই কেউ কেউ নির্বাচনে যায় অন্যের যাত্রা ভঙ্গ করতে। আবার অনেকের কাছে ‘নির্বাচনে অংশগ্রহণই বড় কথা।’ জয়-পরাজয়ের চেয়েও বড় বিষয় এ সময় পোস্টারিং করে নিজের ছবি ও পরিচিতি পুরো এলাকার মানুষকে দেখানো যায়। এটাও বা কম কিসে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দেশের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষেরই আছে নির্বাচনে দাঁড়ানোর অধিকার। তাই কটা টাকা খরচ করে অনেকেই পরিচিতি বাড়ানোর সুযোগ নেয়। এর ফল তো অসীম-সারাজীবন নানাভাবে এর সুফল মেলে। যারা রাজনীতিতে আছেন, কেবল তারাই বোঝেন নির্বাচনে অংশ নিতে পারার গুরুত্ব।


নির্বাচিত

জামায়াত মেনে নিয়েছে একাত্তরে তাদের ভূমিকা-অবস্থান সঠিক ছিল না: আইনমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৫:৫৭
অনলাইন ডেস্ক

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা ও অবস্থান সঠিক ছিল না—সংসদীয় প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে দলটি প্রকারান্তরে তা মেনে নিয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। শুক্রবার সকালে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের লেখা বইয়ের প্রকাশনা উৎসবে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী উল্লেখ করেন, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়নের অংশ হিসেবে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক পূর্বে জাতির সামনে একটি সুস্পষ্ট বিবৃতি দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। ২০১৬ সালে প্রণীত সেই বিবৃতিটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হলে দলটির মুক্তিযুদ্ধসংক্রান্ত বহু বিতর্কের সুরাহা হতো। এ প্রসঙ্গে উদাহরণ টেনে মন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) আইনের সংশোধনীতে বীর মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞার আওতায় ‘তৎকালীন জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধেও পরিচালিত যুদ্ধ’ শব্দগুলো অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবে জামায়াতদলীয় প্রতিনিধিরা কোনো ‘না’ ভোট দেননি।

ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের দূরদর্শিতার ভূয়সী প্রশংসা করে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘২০১৬ সালে ব্যারিস্টার রাজ্জাক রাজনৈতিক দর্শন ও নীতি অনুসরণ করে একটি স্টেটমেন্ট ড্রাফট করেছিলেন একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকাকে জাতির সামনে আনার জন্য। সংসদীয় প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে জামায়াত পরোক্ষভাবে না ভোট না দেওয়ার মধ্য দিয়ে একাত্তরের সেই ভূমিকাকে কনসিড (স্বীকার) করল। এখানেই রাজ্জাক সাহেবের দূরদর্শিতা প্রকাশ পায়। এখানেই রাজ্জাক সাহেব অনন্য। এখানে রাজ্জাক সাহেব একটি জাতিকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য এক ধাপ এগিয়ে দিয়ে গেছেন।’ এ সময় প্রখ্যাত এই আইনজীবীর গ্রন্থ প্রকাশনা অনুষ্ঠানে জামায়াত ঘরানার আইনজীবীদের অনুপস্থিতির সমালোচনা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী। তিনি নিজের বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, সময়ের প্রয়োজনে জামায়াতে ইসলামীর অভ্যন্তরীণ পরিমণ্ডলে এখনও অনেক মৌলিক সংস্কার সাধনের অবকাশ রয়েছে।


নির্বাচিত

প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বাড়িতে উঠলেন ফুটপাতে বাস করা গোলাপি বেগম

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপহার দেওয়া নতুন বাড়িতে উঠেছেন শাহবাগের ফুটপাতে বসবাস করা গোলাপি বেগম। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপহার দেওয়া নতুন বাড়িতে উঠেছেন শাহবাগের ফুটপাতে বসবাস করা গোলাপি বেগম।

আজ শুক্রবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের রতনপুর গ্রামে আনুষ্ঠানিকভাবে তার কাছে বাড়িটি হস্তান্তর করা হয়।

‘আমরা বিএনপি পরিবার’ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ২০২৫ সালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের এক সমাবেশের সময় শাহবাগের ফুটপাতে বসবাসকারী গোলাপি বেগমের অসহায় জীবনযাপনের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নজরে আসে।

মানবিক বিবেচনায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার জন্য তিনি তাঁর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। এরপর গোলাপি বেগমের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রায় এক বছর তার চিকিৎসার পাশাপাশি ঢাকায় একটি বাসায় থাকার ব্যবস্থাও করা হয়।

পরে তার স্থায়ী পুনর্বাসনের লক্ষ্যে নতুন একটি বাড়ি নির্মাণের নির্দেশ দেন বিএনপির চেয়ারম্যান ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রধান পৃষ্ঠপোষক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরই ধারাবাহিকতায় ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উদ্যোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার রতনপুর গ্রামে গোলাপি বেগমের জন্য একটি নতুন বাড়ি নির্মাণ করা হয়।

আজ শুক্রবার দুপুরে আনুষ্ঠানিকভাবে তার কাছে বাড়িটি হস্তান্তর করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে গোলাপি বেগমের হাতে নতুন বাড়ির চাবি তুলে দেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এবং ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর উপদেষ্টা এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। এ সময় গোলাপি বেগমকে আর্থিক সহায়তাও প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন, সদস্য মাসুদ রানা লিটন, মুস্তাকিম বিল্লাহ, শাকিল আহমেদ ও শাহাদত হোসেন।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান, কাতার বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হক সাজু, বুয়েট ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আবু হানিফ, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সম্পাদক হাসনাইন নাহিয়ান সজীব, হাসানুর রহমান, ঢাকা কলেজ ছাত্রদল নেতা আব্দুল্লাহ আল মিসবাহসহ স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা।

উপস্থিত নেতৃবৃন্দ গণমাধ্যমকে বলেন, সমাজের অবহেলিত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর অন্যতম লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় সংগঠনটি মানবিক সহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রম পরিচালনা করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

নকল ও চোরাই সিগারেটে রাজস্বে ধস, স্বাস্থ্যে ঝুঁকি

# দশ বছরেও থামেনি অবৈধ কারবার # শাহ আমানত দিয়ে আসছে বিদেশি সিগারেট # দেশেই তৈরি হচ্ছে নকল ব্র্যান্ড # ভার্গো টোব্যাকোর বিরুদ্ধে সাড়ে ৭২ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির তথ্য
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

বাজারে বৈধ সিগারেটের পাশাপাশি অবাধে বিক্রি হচ্ছে নকল ও চোরাই সিগারেট। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এসব অবৈধ পণ্যের সরবরাহ ও বিক্রি বাড়ায় একদিকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে তামাকজাত পণ্য ছড়িয়ে পড়ায় বাড়ছে জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি। কম দামে পাওয়া এবং সহজলভ্য হওয়ায় নকল ও চোরাই সিগারেটের প্রতি বিশেষ করে তরুণদের একটি অংশ আকৃষ্ট হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অবৈধ বাজারের বিস্তার ঠেকাতে নজরদারি ও আইন প্রয়োগ জোরদার করা না হলে এর আর্থিক ও স্বাস্থ্যগত ক্ষতি আরও বাড়তে পারে। ফলে বিষয়টি এখন শুধু অবৈধ সিগারেট বিক্রির মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে রাজস্ব ফাঁকি, চোরাচালান, নকল পণ্য উৎপাদন এবং জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডও চলতি বছর তামাকজাত পণ্যের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য, সম্পূরক শুল্ক ও ব্যান্ডরোল ব্যবহারের বিধিতে একাধিক পরিবর্তন এনেছে।
ভার্গো টোব্যাকোতে সাড়ে ৭২ কোটি টাকার ফাঁকি: সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সামনে আসে সিগারেটের অবৈধ উৎপাদনের আরেক চিত্র। ২ সেপ্টেম্বর গাজীপুরের কাওলতিয়া এলাকায় ভার্গো টোব্যাকো লিমিটেডের কারখানা ও পাশের একটি গুদামে অভিযান চালায় ভ্যাট গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের দল। কারখানার গেট বাইরে থেকে বন্ধ থাকলেও ভেতরে উৎপাদন চলছিল বলে এনবিআরের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। পরে কর্মকর্তারা দেয়াল টপকে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে ব্যবহৃত ও নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট পুড়িয়ে ফেলার দৃশ্য দেখতে পান তারা।
প্রতিষ্ঠানটির জেনারেল ম্যানেজারের লিখিত বিবৃতি অনুযায়ী, আনুমানিক ৫০ লাখ শলাকা নকল ব্যান্ডরোলযুক্ত সিগারেট পুড়িয়ে ফেলা হয়েছিল। গোয়েন্দা দল পোড়া ব্যান্ডরোলের অবশিষ্টাংশসহ ব্যবহৃত স্ট্যাম্প-ব্যান্ডরোল, সিগারেট তৈরির কাঁচামাল ও তিনটি মোবাইল ফোন জব্দ করে।
এরপর জব্দ করা মোবাইল ফোনের চ্যাট হিস্ট্রি, বিক্রয়সংক্রান্ত গোপন বার্তা ও হিসাবের ছবি বিশ্লেষণ করে তদন্তকারীরা উৎপাদিত সিগারেটের একটি বড় অংশ ভ্যাট চালান ছাড়াই বাজারে সরবরাহের প্রাথমিক তথ্য পান। এনবিআরের হিসাবে, ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বাবদ প্রায় সাড়ে ৭২ কোটি টাকা রাজস্ব ফাঁকির তথ্য পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ১৪ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে। অর্থাৎ, একটি কারখানার ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে কীভাবে বৈধ উৎপাদনের আড়ালেও অবৈধ উৎপাদন, ব্যবহৃত ব্যান্ডরোল এবং হিসাবের বাইরে পণ্য বাজারজাতের অভিযোগ উঠতে পারে।
শাহ আমানতে একের পর এক চালান: গাজীপুরে নকল সিগারেটের উৎপাদনের অভিযোগের পাশাপাশি চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর হয়ে বিদেশি সিগারেট প্রবেশের ঘটনাও থামছে না।
গত ১৭ আগস্ট দুবাই থেকে আসা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে অভিযান চালিয়ে একবারে ১ হাজার ৮০২ কার্টন বিদেশি সিগারেট ও ১৩টি আইফোন জব্দ করে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। এর মধ্যে তিন যাত্রীর ব্যাগেজ থেকে পাওয়া যায় ৭৮২ কার্টন এবং লাগেজ বেল্ট এলাকায় পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় আরও ১ হাজার ২০ কার্টন সিগারেট। আটক পণ্য ও আইফোনের মোট শুল্ক-করসহ মূল্য প্রায় ৫ কোটি ৫৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
এর আগেও চলতি বছর শাহ আমানতে ধারাবাহিকভাবে বিদেশি সিগারেট আটকের ঘটনা ঘটেছে। ১ জানুয়ারি ৪৪০ কার্টন, মার্চে ৩০০ কার্টন, মে মাসে ১ হাজার ৩৪৫ কার্টন এবং জুনে এক ঘটনায় ১ হাজার ২ কার্টন যাত্রীর ব্যাগেজ ও ৬৯৬ কার্টন মালিকবিহীন অবস্থায় জব্দের তথ্য পাওয়া যায়।
এপ্রিলেও আবুধাবি থেকে আসা ফ্লাইটের যাত্রীদের কাছ থেকে বিদেশি সিগারেট জব্দ হয়েছিল। এসব ঘটনা থেকে অন্তত এটুকু স্পষ্ট যে দুবাই, আবুধাবি, শারজাহ ও মাসকাট থেকে আসা যাত্রীবাহী ফ্লাইটগুলোতে বিদেশি সিগারেট পাচারের চেষ্টা নিয়মিত নজরে আসছে।
লাগেজেই ভাগ হয়ে আসে বড় চালান: চোরাচালানের একটি কৌশল হলো বড় চালানকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করে যাত্রীদের লাগেজে বহন করা। ফলে বড় বাণিজ্যিক চালান হিসেবে কাস্টমসের নজরে পড়ার ঝুঁকি কমে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিমানবন্দরের লাগেজ বেল্টে পণ্য ফেলে রেখে সরে যাওয়ার ঘটনাও দেখা যাচ্ছে।
১৭ আগস্টের ঘটনাটিই এর উদাহরণ। তিন যাত্রীর ব্যাগে ৭৮২ কার্টন পাওয়ার পাশাপাশি ১ হাজার ২০ কার্টন ছিল মালিকবিহীন। এমন পরিস্থিতিতে শুধু পণ্য জব্দ করলেই পুরো নেটওয়ার্ক শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। কারণ, পরিত্যক্ত লাগেজের প্রকৃত মালিক, অর্থদাতা ও দেশে পণ্য গ্রহণকারীর পরিচয় বের করতে লাগেজ ট্যাগ, যাত্রীর তথ্য, সিসিটিভি ফুটেজ, প্যাসেঞ্জার ম্যানিফেস্ট ও সংশ্লিষ্ট যোগাযোগের তথ্য একসঙ্গে বিশ্লেষণ প্রয়োজন।
চট্টগ্রাম বিমানবন্দরের কর্মকর্তারাও সতর্ক করেছেন, অনেক সময় সাধারণ প্রবাসীরা না বুঝে অন্যের দেওয়া প্যাকেট বা পণ্য লাগেজে বহন করেন। এসব পণ্য বহন আইনগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
বছরের পর বছর একই চিত্র: প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে গত কয়েক বছর ধরেই শাহ আমানত বিমানবন্দরে বিদেশি সিগারেট আটকের ধারাবাহিকতা দেখা যায়। কখনো একক যাত্রীর লাগেজ, কখনো কয়েকজন যাত্রীর ব্যাগেজ, আবার কখনো মালিকবিহীন লাগেজ থেকে পাওয়া গেছে শত শত কার্টন সিগারেট।
চলতি বছরের ঘটনাগুলোও সেই ধারাবাহিকতারই অংশ। মে মাসে ১ হাজার ৩৪৫ কার্টন সিগারেট আটকের সময় বাজারমূল্য প্রায় ২৭ লাখ টাকা বলে জানানো হয়েছিল। জুনের ঘটনায় তিন যাত্রীর ব্যাগেজ থেকে ১ হাজার ২ কার্টন এবং লাগেজ বেল্ট থেকে ৬৯৬ কার্টন জব্দ হয়।
ফলে প্রশ্ন উঠছে—এত বিপুল চালান বারবার ধরা পড়লেও এর পেছনে থাকা সরবরাহকারী ও অর্থদাতাদের কতটা শনাক্ত করা যাচ্ছে?
উপজেলা বাজারেও নকল ব্র্যান্ড: শুধু বিমানবন্দর দিয়ে আসা বিদেশি সিগারেটই নয়, দেশের অভ্যন্তরে অনুমোদনহীন ও নকল ব্র্যান্ডের সিগারেটের বাজারও বিস্তারের অভিযোগ রয়েছে।
জামালপুরের ইসলামপুরে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বাসিন্দাদের অভিযোগ, বিভিন্ন স্থান থেকে আনা ‘সিটি’, ‘ম্যানশন’, ‘ওসাকাসহ’ বিভিন্ন নামের সিগারেট উপজেলা পর্যায়ে সরবরাহ করা হচ্ছে। পৌর এলাকার কয়েকটি স্থানে এসব সিগারেট মজুত রেখে লোক নিয়োগের মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বাজার ও দোকানে পৌঁছে দেওয়ার অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় কয়েকজন দোকানদারের ভাষ্য, আসল ব্র্যান্ডের তুলনায় কম দামে এসব সিগারেট বিক্রি হওয়ায় ক্রেতা বাড়ছে। কম আয়ের মানুষও দামের কারণে এসব পণ্যের দিকে ঝুঁকছেন বলে জানান তারা।
এক রিকশাচালক বলেন, কম দামে পাওয়ায় তিনি এসব সিগারেট খান। আরেক দিনমজুর জানান, সিগারেটের দাম বাড়ায় কম দামের পণ্যই কিনছেন।
স্থানীয় এসব বক্তব্য অবশ্য সংশ্লিষ্ট ব্র্যান্ডের অনুমোদন, উৎপাদনস্থল ও সরবরাহ চক্র সম্পর্কে সরকারি তদন্তের বিকল্প নয়। তবে মাঠপর্যায়ের বাজারে কম দামের অজ্ঞাত উৎসের সিগারেটের উপস্থিতির বিষয়টি নজরদারির প্রয়োজনীয়তা সামনে আনে।
স্বাস্থ্যঝুঁকির সঙ্গে রাজস্ব ক্ষতিও: ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এ এ এম আবু তাহের বলেন, সিগারেট সেবনে ফুসফুস ও মুখের ক্যান্সার, হৃদ্‌রোগ, স্ট্রোকসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি বাড়ে। ফলে নকল বা অবৈধভাবে উৎপাদিত সিগারেট বাজারে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি শুধু রাজস্বের প্রশ্ন নয়, জনস্বাস্থ্যেরও বিষয়।
বাংলাদেশে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনও সাম্প্রতিক সময়ে আরও কঠোর হয়েছে। ২০২৬ সালের সংশোধিত আইনে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ক্লিনিক, খেলাধুলার স্থান ও শিশু পার্কের সীমানার ১০০ মিটারের মধ্যে তামাক ও তামাকজাত পণ্য বিক্রি নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
অন্যদিকে সিগারেটের ওপর সরকারের কর কাঠামোও উল্লেখযোগ্য। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, তামাকজাত সিগারেটের ক্ষেত্রে সম্পূরক শুল্ক, ভ্যাটসহ একাধিক কর প্রযোজ্য। ফলে কর ফাঁকি দিয়ে বাজারজাত করা পণ্য রাষ্ট্রের রাজস্ব ক্ষতির পাশাপাশি বৈধ উৎপাদক ও ব্যবসার ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে।


নির্বাচিত

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নতুন সম্ভাবনা

# সৌরবিদ্যুতে বড় অর্থায়ন # ১,৫০০ কোটি টাকার তহবিল, ঋণে কার্যকর সুদ সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের দীর্ঘদিনের জ্বালানি সংকট, আমদানিনির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থা ও ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদার মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে জোর দিচ্ছে সরকার। এর অংশ হিসেবে বাসাবাড়ি, প্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনে স্বল্প সুদে ঋণ দিতে ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার তহবিল গঠন করা হচ্ছে। এই তহবিলের মাধ্যমে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ, সোলার হোম সিস্টেম, সৌরচালিত সেচ পাম্প এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম কেনায় অর্থায়নের সুযোগ তৈরি হবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের সামষ্টিক অর্থনীতি অনুবিভাগের জারি করা পরিপত্র অনুযায়ী, তহবিলের অর্থ থেকে দেওয়া ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ ১০ বছর। এর মধ্যে এক বছর গ্রেস পিরিয়ড থাকবে। সুবিধাভোগী পর্যায়ে সব ধরনের ফি ও চার্জসহ কার্যকর বার্ষিক সুদের হার সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়াতে অর্থায়নের সহজ সুযোগ তৈরি হলে দেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিধি বাড়লে জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ কমানোর পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহারও কমানো সম্ভব হতে পারে।

কোথায় ব্যবহার হবে ১,৫০০ কোটি টাকা: সরকারের গঠিত তহবিল থেকে গৃহস্থালি, প্রাতিষ্ঠানিক ও শিল্প পর্যায়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রযুক্তি স্থাপন, সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নে ঋণ দেওয়া হবে। ছাদভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা ও নেট মিটারিং সংযোগের পাশাপাশি সোলার হোম সিস্টেম, শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা এবং সৌরচালিত সেচ পাম্পেও এ অর্থ ব্যবহার করা যাবে।

এ ছাড়া সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও সংরক্ষণ ব্যবস্থায় ব্যবহৃত ইনভার্টার, মিটার ও ব্যাটারি কেনার ক্ষেত্রেও ঋণ নেওয়া যাবে। ফলে শুধু নতুন সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন নয়, বিদ্যমান ব্যবস্থার সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নেও এ তহবিল কাজে লাগানোর সুযোগ থাকবে।

পরিপত্র অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের বাজেটে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগ (এসএমই) খাতের জন্য সংরক্ষিত ২ হাজার কোটি টাকার থোক বরাদ্দ থেকে ১ হাজার কোটি টাকা এ তহবিলে দেওয়া হবে। বাকি ৫০০ কোটি টাকা সরকারের অপারেটিং লোন থেকে সংস্থান করা হবে।

তহবিলের ৫০০ কোটি টাকা করে পাবে ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি লিমিটেড (ইডকল), বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড (বিআইএফএফএল) ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)। এসব প্রতিষ্ঠান সরাসরি অথবা সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সুবিধাভোগীদের মধ্যে ঋণ বিতরণ করবে।

ঋণ ব্যবস্থাপনায় থাকবে নজরদারি: সরকারি অর্থায়নের এ কর্মসূচিতে ঋণের অর্থ কীভাবে ব্যবহার হচ্ছে, তা পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রতি ত্রৈমাসিক শেষে ঋণের অর্থে কত মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ সক্ষমতা স্থাপন হয়েছে, কতজন সুবিধাভোগী ঋণ পেয়েছেন এবং ঋণ আদায়ের পরিস্থিতি—এসব তথ্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে।

অর্থবছর শেষে ৯০ দিনের মধ্যে নিরীক্ষিত হিসাবসহ বার্ষিক প্রতিবেদনও দাখিল করতে হবে। তবে এ তহবিলের অর্থ ব্যবহারে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। বিদ্যমান ঋণ পরিশোধ, ঋণ এভারগ্রিনিং, জমি বা শেয়ার কেনা, ব্যক্তিগত ভোগ, সাধারণ প্রশাসনিক ব্যয় কিংবা অন্য কোনো তহবিলে অর্থ স্থানান্তরের জন্য এ অর্থ ব্যবহার করা যাবে না।

অর্থ বিভাগের সাবেক সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ মনে করেন, তহবিলের সফলতা অনেকটাই নির্ভর করবে সঠিক ব্যবস্থাপনার ওপর। তার মতে, ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা সারাদেশে বিতরণ করা হলেও এর আওতায় কত মানুষ ও প্রতিষ্ঠান আসবে, তা নির্ভর করবে ঋণের সীমা, সুবিধাভোগী নির্বাচন ও মনিটরিংয়ের ওপর।

নিম্ন আয়ের মানুষের অংশগ্রহণ বড় চ্যালেঞ্জ: কম সুদের ঋণ সৌরবিদ্যুৎ সম্প্রসারণে সহায়ক হলেও নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য শুধু ঋণ সুবিধা যথেষ্ট নাও হতে পারে। জ্বালানি অর্থনীতিবিদ শফিকুল আলমের মতে, দারিদ্র্যসীমার নিচে থাকা অনেক মানুষের পক্ষে ঋণ নিয়ে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বিনিয়োগ করা কঠিন।

তার মতে, এসব মানুষের জন্য ঋণের পাশাপাশি সরকারি ক্যাপিটাল সাবসিডি বা বিনিয়োগ প্রণোদনা চালু করা হলে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার আরও বিস্তৃত হতে পারে।

অন্যদিকে গ্রামীণ এলাকায় সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার প্রসারে ইডকল ও পিকেএসএফকে সম্পৃক্ত করাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন তিনি। এতে শহরের পাশাপাশি পল্লী এলাকার উদ্যোক্তা ও গ্রাহকেরাও অর্থায়নের সুযোগ পেতে পারেন।

আমদানি ব্যয় কমাতেও করছাড়: সৌরবিদ্যুতের প্রসারে শুধু ঋণ নয়, যন্ত্রপাতি আমদানিতেও করছাড় দিচ্ছে সরকার। ১৬ সেপ্টেম্বরের এক আদেশে শিল্পে ব্যবহারের জন্য সোলারের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি আমদানিতে বিদ্যমান ১৫ শতাংশ ভ্যাট ও ২ শতাংশ অগ্রিম কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। ফলে এসব যন্ত্রপাতি ১ শতাংশ শুল্কে আমদানির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

অন্য বাণিজ্যিক আমদানিকারকরাও দেশে উৎপাদিত কয়েকটি কম্পোনেন্ট ছাড়া সোলারের প্রায় সব যন্ত্রপাতি ও যন্ত্রাংশ ১ শতাংশ শুল্কে আমদানি করতে পারবেন। এর আগে এসব পণ্যে আমদানি করের হার ছিল ২৩ থেকে ৬৪ শতাংশ পর্যন্ত।

এদিকে ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ২০ শতাংশ নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে পূরণের লক্ষ্য রয়েছে সরকারের। গৃহস্থালি পর্যায়ে নেট মিটারিং সম্প্রসারণ এবং সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের কাছ থেকে প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে বিদ্যুৎ কেনার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে স্বল্প সুদের ঋণ, যন্ত্রপাতি আমদানিতে করছাড় ও নেট মিটারিং—এই তিন উদ্যোগ সৌরবিদ্যুৎ খাতের সম্প্রসারণে নতুন অর্থনৈতিক ভিত্তি তৈরি করতে পারে। তবে ১,৫০০ কোটি টাকার তহবিল কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে স্বচ্ছ ঋণ বিতরণ, সঠিক সুবিধাভোগী নির্বাচন, অর্থের যথাযথ ব্যবহার এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যকর নজরদারির ওপর।


নির্বাচিত

উপনির্বাচনে সেনা মোতায়েন, ৬ জুনের মধ্যে শেষ হবে স্থানীয় নির্বাচন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:২৮
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনেও সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সব বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। একই সঙ্গে জাতীয় নির্বাচনে ব্যবহৃত আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে উপনির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের নির্দিষ্ট সময়সূচি এখনো চূড়ান্ত হয়নি। আগামী বছরের ৬ জুনের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচন শেষ করার বিষয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে ঐকমত্য হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন নিয়ে ২৬টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

ইসি সানাউল্লাহ বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে কমিশনের প্রাথমিক কর্মপরিকল্পনা নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতোই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হবে। সেনাবাহিনী থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সব বাহিনী নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করবে। পাশাপাশি আধুনিক প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে ইসি সানাউল্লাহ বলেন, আগামী বছরের ৬ জুনের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচন শেষ করার বিষয়ে বৈঠকে অংশ নেওয়া সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো একমত হয়েছে। তবে নির্বাচন শুরুর সুনির্দিষ্ট তারিখ এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। কমিশনের আগে দেওয়া সময়সূচি ছিল সম্ভাব্য পরিকল্পনা।

তিনি জানান, নভেম্বর ও ডিসেম্বরে দেশজুড়ে বিভিন্ন পর্যায়ের পরীক্ষা রয়েছে। এরপর জানুয়ারিতে কিছুটা সময় পাওয়া গেলেও পরবর্তী সময়ে পবিত্র রমজান এবং মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ের পাবলিক পরীক্ষা রয়েছে। ফলে এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করতে হবে।

এ ছাড়া বন্যার কারণে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমে যে ক্ষতি হয়েছে, সেটিও বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। নির্বাচনী কাজে প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের জন্য শিক্ষকদেরও প্রয়োজন হয়। ফলে পরীক্ষা ও শিক্ষা কার্যক্রম যাতে বিঘ্নিত না হয়, সেদিকেও নজর রাখছে কমিশন।

নির্বাচন কমিশনার বলেন, আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক থেকে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত কমিশনের সভায় পর্যালোচনা করা হবে। এ ছাড়া বাজেট পরিকল্পনাসহ আরও কিছু প্রস্তুতিমূলক কাজ বাকি রয়েছে। প্রয়োজনীয় সাইডলাইন ওয়ার্ক শেষ করে যত দ্রুত সম্ভব স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ জানানো হবে।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী, ভোটগ্রহণ হবে আগামী ২৯ অক্টোবর। এ নির্বাচনে সেনাবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি জাতীয় নির্বাচনে ব্যবহৃত প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের পরিকল্পনা করেছে কমিশন।

ইসি জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের চূড়ান্ত সময়সূচি ঘোষণা করবে কমিশন।


নির্বাচিত

প্রকল্পে সময়সীমা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতায় চলতি অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) চলমান এবং ‘সবুজ পাতায়’ অন্তর্ভুক্ত অননুমোদিত প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। প্রকল্প বাস্তবায়নে অহেতুক বিলম্ব কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, এতে সরাসরি প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে যায়। প্রতিটি প্রকল্পে সময়ভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যেই কাজ শেষ করতে হবে।

বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এডিপির আওতাধীন প্রকল্পগুলোর পর্যালোচনা সভায় সভাপতিত্বকালে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। সভার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান তথ্য কর্মকর্তা ফয়সল হাসান জানান, প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি বাড়ানো, দ্রুত কাজ শেষ করা এবং সার্বিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর সভায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নতুন ও সংশোধিত প্রকল্পগুলোর উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) দ্রুত প্রণয়ন করতে হবে। প্রকল্পের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়সূচি অনুসরণ এবং অগ্রগতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।

কারাগারসংক্রান্ত প্রকল্পের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, নিরাপত্তা ও যাতায়াতসংক্রান্ত বিধিনিষেধের কারণে এ ধরনের প্রকল্পের কাজে কিছুটা ধীরগতি হওয়া যুক্তিসংগত। তবে সাধারণ সিভিল ওয়ার্ক বা অবকাঠামোগত প্রকল্পে কোনো ধরনের বিলম্ব মেনে নেওয়া হবে না।

তিনি স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) সদর দপ্তর নির্মাণসহ সব সাধারণ অবকাঠামোগত কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের কঠোর প্রয়োগ ও কার্যকর পদক্ষেপের ওপর গুরুত্ব দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন। এর মধ্যে রয়েছে প্রতিটি জেলায় ডগ স্কোয়াড গঠন, ডোপ টেস্টের সুবিধা জোরদার, হাজতখানা ও মালখানা সংস্কার এবং জেলা পর্যায়ে আধুনিক ফরেনসিক ল্যাব ও ডিজিটাল ফরেনসিক অবকাঠামো স্থাপন।

মন্ত্রী বলেন, এসব প্রকল্প সুনির্দিষ্ট সময়সূচি অনুযায়ী বাস্তবায়ন করতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত সুবিধা দ্রুত নিশ্চিত করার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।

দেশের গ্রামীণ এলাকার থানাগুলোকে মানসম্মত মডেল থানায় রূপান্তরের লক্ষ্যে একটি সুনির্দিষ্ট ‘প্রোটোটাইপ ডিজাইন’ অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সভায়। যেসব এলাকায় থানার জন্য জমির সংকট রয়েছে, সেখানে দ্রুত ভূমি অধিগ্রহণ করে একক ও সমন্বিত প্রকল্প গ্রহণের তাগিদ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লজিস্টিকস ও যানবাহনসংক্রান্ত সংকট নিরসনে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়।

সভায় উপস্থিত পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি সরকারি প্রকল্পের সর্বোচ্চ সুফল নিশ্চিত এবং কাজের দ্বৈততা এড়াতে পৃথক প্রকল্পের পরিবর্তে ‘প্রোগ্রামেটিক বা ক্লাস্টার অ্যাপ্রোচ’ গ্রহণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সরকারের বর্তমান মেয়াদের বাকি চার থেকে সাড়ে চার বছরের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জনের লক্ষ্যে চলমান প্রকল্পগুলোর পুনর্মূল্যায়ন ও ‘রিস্কোপিং’ করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে ‘জনশৃঙ্খলা ও সুরক্ষা’ খাতের উন্নয়নে এডিপিতে মোট ২ হাজার ৬৬২ কোটি ৫ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ২ হাজার ৫৫২ কোটি ৮ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ বা অনুদান ১০৯ কোটি ৯৭ লাখ টাকা।

‘সুরক্ষিত ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্য নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে বলে সভায় জানানো হয়। এর অংশ হিসেবে বিএনপির ‘নির্বাচনী ইশতেহার ২০২৬’-এর অঙ্গীকারের আলোকে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ২৬টি প্রতিশ্রুতির ম্যাপিং সম্পন্ন হয়েছে।

এ ছাড়া সরকারের পঞ্চবার্ষিক অর্থনৈতিক সংস্কার ও উন্নয়ন কৌশল (জুলাই ২০২৬-জুন ২০৩১)-এর ‘থ্রি আর স্ট্র্যাটেজি’ অনুসরণ করে আইনশৃঙ্খলা খাতকে রূপান্তরধর্মী উন্নয়নের মাধ্যমে আরও সুসংহত করার কথা জানানো হয়েছে।

সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা, অধীন ১০টি দপ্তর ও সংস্থার প্রধান এবং সংশ্লিষ্ট প্রকল্প পরিচালকেরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

কামরুল আহসান হলেন নতুন এসবি প্রধান

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বাংলাদেশ পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি ও সদ্য অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি পাওয়া মো. কামরুল আহসান। একই সঙ্গে অতিরিক্ত আইজিপি পদমর্যাদার আরও পাঁচ কর্মকর্তাকে বিভিন্ন পদে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পুলিশ-১ শাখার উপসচিব তৌছিফ আহমেদ স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ রদবদলের কথা জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি পাওয়া মো. কামরুল আহসানকে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) প্রধান হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ এই গোয়েন্দা সংস্থার নেতৃত্বে নতুন দায়িত্ব পেলেন তিনি।

এদিকে, সারদার প্রিন্সিপাল (অতিরিক্ত আইজিপি) জি এম আজিজুর রহমানকে ট্যুরিস্ট পুলিশের প্রধান হিসেবে বদলি করা হয়েছে। একই আদেশে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।

অন্যদিকে, এসবির বর্তমান প্রধান সরদার নুরুল আমিনকে পুলিশ সদর দপ্তরে বদলি করা হয়েছে। ট্যুরিস্ট পুলিশের বর্তমান প্রধান মাইনুল হাসানকে সারদার প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া সম্প্রতি অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে পদোন্নতি পাওয়া ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি ইকবাল হোসেনকে পুলিশ সদর দপ্তরে পদায়ন করা হয়েছে।

একই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পদে এই বদলি ও পদায়নের ফলে এসবি, ট্যুরিস্ট পুলিশ, ঢাকা রেঞ্জ ও পুলিশ সদর দপ্তরের নেতৃত্বে পরিবর্তন এসেছে। নতুন দায়িত্ব পাওয়া কর্মকর্তারা নিজ নিজ পদে দায়িত্ব পালন করবেন।


নির্বাচিত

এসআই আলতাফ হত্যায় জড়িতদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাসস

সাভারে সন্ত্রাসীদের নৃশংস হামলায় নিহত এসবি’র এসআই আলতাফ হোসেনের হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

মন্ত্রীর সঙ্গে আজ দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার অফিসকক্ষে নিহতের শোকসন্তপ্ত পরিবারবর্গ সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ আশ্বাস দেন। এসময় উপস্থিত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের এসআই আলতাফ হোসেন হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের নির্দেশ দেন মন্ত্রী।

মন্ত্রী জানান, নিহত পুলিশ কর্মকর্তার পরিবারের সার্বিক কল্যাণে ইতোমধ্যে পুলিশ অধিদপ্তরের কল্যাণ তহবিল থেকে ৬ লাখ টাকার আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়েছে। এছাড়া নিহতের পারিবারিক ব্যবসা সচল রাখার সুবিধার্থে ‘কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড’ থেকে প্রয়োজনীয় ঋণসহ সার্বিক সহায়তার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে কর্মজীবনে মরহুম আলতাফ হোসেনের নৈতিকতা ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে মরণোত্তর ‘পুলিশ পদক (পিপিএম)’ প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন তিনি।

মন্ত্রী এ সময় মরহুমের স্ত্রী শিউলী পারভীনের হাতে অনুদানের টাকা তুলে দেন।

উল্লেখ্য, গত ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সাভারের আমিনবাজারের বরদেশী পশ্চিমপাড়ায় একটি অটোরিকশা রাখা নিয়ে সৃষ্ট তর্ক-বিতর্ক মেটাতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলার মুখে পড়েন এসআই আলতাফ হোসেন। প্রাণ বাঁচাতে তিনি তার বড় ছেলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিলে রাত ৮টা ১০ মিনিটে সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র, রড, পাইপ, হাতুড়ি ও লাঠি নিয়ে সেখানে বর্বর হামলা চালায়। বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে তার ছোট ছেলে মো. আরিফুল ইসলামও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হন। পরবর্তীতে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক এসআই আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় মরহুমের স্ত্রী বাদী হয়ে ১৫ জনকে আসামি করে সাভার মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।


নির্বাচিত

সামাজিক মাধ্যমে অডিও ভাইরাল, ক্যান্টনমেন্টের ওসি ক্লোজড

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি বিতর্কিত অডিও রেকর্ডকে কেন্দ্র করে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাকিবুল হাসানকে প্রত্যাহার (ক্লোজ) করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ স্বাক্ষরিত এক প্রাতিষ্ঠানিক আদেশে এই ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়।

ডিএমপির আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, প্রশাসনিক কারণে ক্যান্টনমেন্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রাকিবুল হাসানকে বর্তমান দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে ডিএমপি সদরদপ্তর ও প্রশাসন বিভাগে সংযুক্ত করা হয়েছে। জনস্বার্থে এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়া ওই অডিও রেকর্ডে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরা সংক্রান্ত বিষয়ে ওসির কথোপকথন প্রকাশ্যে আসে। অডিওতে তাঁকে বলতে শোনা যায়, শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দেশে ফিরলে কোনো সমস্যা হবে না। এছাড়া তিনি মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের দুর্বল দাবি করে ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা না করে চলতি মাসেই তাঁর দেশে ফেরা উচিত বলে মন্তব্য করেন।

গত দুই দিন ধরে অডিও রেকর্ডটি অন্তর্জালে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে বিভিন্ন মহলে তীব্র সমালোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ প্রশাসনের ভাবমূর্তি রক্ষা ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে থানা থেকে প্রত্যাহারের এই প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে ডিএমপি কর্তৃপক্ষ।


নির্বাচিত

আসিফ মাহমুদ ও তাঁর স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব করল দুদক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও তাঁর স্ত্রী পান্নার দেশ-বিদেশের ব্যাংক হিসাব, আর্থিক লেনদেন, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ ও বিনিয়োগের যাবতীয় তথ্য চেয়ে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অবৈধ সম্পদ অর্জন, শেল কোম্পানি গঠন, অর্থ পাচার এবং বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণের মতো বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে দুদকের গঠিত বিশেষ অনুসন্ধান দলের চাহিদার ভিত্তিতে এই তথ্য তলব করা হয়েছে।

বিএফআইইউর কাছে পাঠানো চিঠিতে দেশের তফসিলি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে আসিফ মাহমুদ এবং তাঁর স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা সকল ধরনের চলমান, সুপ্ত ও বন্ধ ব্যাংক হিসাবের বিস্তারিত তথ্য দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে তাঁদের নামে পরিচালিত ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড, ব্যাংক লকার, বন্ড, সঞ্চয়পত্র, মেয়াদি আমানত (এফডিআর), ডিপিএস এবং গৃহীত সকল ঋণ হিসাব সংক্রান্ত যাবতীয় নথি ও স্টেটমেন্ট সরবরাহের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে বিদেশের সম্পদ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে পর্তুগাল, অস্ট্রেলিয়া, দুবাই, সিঙ্গাপুর ও সুইজারল্যান্ডের মতো দেশগুলোতে জমি ক্রয়, বিদেশি ব্যাংকে অর্থ গচ্ছিত রাখা, শেল কোম্পানি গঠন এবং অর্থ পাচার সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহের অনুরোধ জানানো হয়েছে। এসব দেশের সমজাতীয় আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থার সহায়তা নিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহের কথাও উল্লেখ রয়েছে। দুদক সূত্রে জানা গেছে, দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডে মোট ১১ হাজার কোটি টাকা পাচার করে বিদেশে বিলাসবহুল ভিলা ক্রয়, দুবাইয়ের গ্রিন গ্রুপে বিনিয়োগ, পর্তুগালে জমি কেনা এবং সুইজারল্যান্ডের ব্যাংকে অর্থ রাখার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ খতিয়ে দেখছে কমিশন।

বিদেশে অর্থ পাচারের পাশাপাশি সরকারি পদে নিয়োগ ও পদায়নে আর্থিক লেনদেন, টেন্ডার-বাণিজ্য এবং বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগও দুদকের অনুসন্ধান দল তদন্ত করছে। এদিকে অনুসন্ধান কার্যক্রম চলাকালে আসিফ মাহমুদ যাতে দেশত্যাগ করতে না পারেন এবং আইনি প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত না হয়, সেজন্য তাঁর বিদেশযাত্রায় আনুষ্ঠানিক নিষেধাজ্ঞা জারির আবেদন করার উদ্যোগ নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন।


নির্বাচিত

মেধাবীদের সঠিক মূল্যায়নের সুফল ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পাবে: প্রধানমন্ত্রী

ছবি: পিএমও
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাসস

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, মেধাবীদের উৎসাহ ও সঠিক মূল্যায়ন করতে পারলে এর সুফল অবশ্যই ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পাবে। এতে দেশ উপকৃত হবে, দেশের মানুষ উপকৃত হবে।

মেধাবীদের উৎসাহিত করা ও সঠিক মূল্যায়নের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘দেশের সন্তানরা মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে ভালো যা কিছু অর্জন করবে, সরকার সেই অর্জনের স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করবে।’

সৌদি আরবে গত আগস্টে অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার বিজয়ী হাফেজদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

আজ বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ কথা জানান।

বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা যে পুরস্কারটা জিতে এসেছেন, এটা শুধু আপনাদেরই অর্জন না। আমি মনে করি, এটা বাংলাদেশের সকল মুসলমানের অর্জন।’

হাফেজদের উৎসাহিত ও সম্মান জানানোর প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা প্রায় সবাই উল্লেখ করেছেন যে দীর্ঘদিন পর হাফেজদের উৎসাহিত করা হয়েছে, সম্মান জানানো হয়েছে। এটা বর্তমান সরকারের একটি নীতি যে দেশের সন্তান যারা আছে, যারা দেশের ভবিষ্যৎ, তারা তাদের যোগ্যতা দিয়ে, মেধা দিয়ে যা কিছু ভালো অর্জন করবে, সেটাকে সরকার চেষ্টা করবে রাষ্ট্রের অবস্থান থেকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্য।’

সরকার গঠনের পর থেকে মেধাবী ও যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের উৎসাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এরই অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। অনুষ্ঠানে পুরষ্কার বিজয়ী মাদ্রাসার শিক্ষকরা তাঁদের কিছু সমস্যার কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা কিছু সমস্যার কথা বলেছেন। এটার সমাধানের কোনো পথ আমাদের কাছে আছে কি না বা থাকলে সেটা কী, যদি সম্ভব হয়, ইনশাআল্লাহ আমরা সেটা দেখব। আমাদের পক্ষে যতটুকু সম্ভব, আমরা সেটা দেখার অবশ্যই চেষ্টা করব।’

ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রেও সহযোগিতার আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘সামনে হয়তো এ ধরনের আরও প্রতিযোগিতা আসবে। ভবিষ্যতে এসব প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য সরকারের যদি কোনো সহযোগিতা প্রয়োজন হয়, আপনারা নিয়মমতো আমাদেরকে জানাবেন। আমরা সরকারের পক্ষ থেকে যতটুকু করা সম্ভব, সেই ব্যবস্থা করব।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের ছেলেমেয়েরা এরকম আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাতে অংশগ্রহণ করুক এবং অংশগ্রহণ করার মাধ্যমে তাদের নিজেদের জন্য, দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য সম্মান এবং গৌরব নিয়ে আসুক।’

দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের হয়তো কাজের ধরনটা কিছুটা ভিন্ন হতে পারে। কিন্তু লক্ষ্য একই। সেটা হচ্ছে দেশের মধ্যে শান্তি স্থাপন করা, যাতে সকলে মিলে আমরা ভালো থাকতে পারি, শান্তিতে থাকতে পারি। মানুষ যাতে মানুষের মতো করে বেঁচে থাকতে পারে। সেটাই আমাদের চেষ্টা, সেটাই আমাদের উদ্যোগ।’

সরকারের জন্য সবার সহযোগিতা ও দোয়া চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। সকলকে নিয়ে আমরা একসঙ্গে চলতে চাই। সকলকে নিয়ে আমরা দেশের জন্য ভালো কিছু পরিবর্তন আনতে চাই।’

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বিজয়ীদের বই উপহার দেন। এর আগে তিনি হাফেজরা প্রতিযোগিতায় যে সূরা তিলাওয়াত করে পুরস্কার জিতেছেন, সেই সূরার আয়াত তাদের কণ্ঠে শোনেন।

সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১৩৩টি দেশের প্রতিযোগীদের মধ্যে বাংলাদেশের হাফেজ মোহাম্মদ জাকারিয়া ১৫ পারা হিফজ, তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন। হাফেজ শেখ মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান আশরাফী ৩০ পারা হিফজ, তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে তৃতীয় হন।

এ ছাড়া হাফেজা রাবেতা বিনতে রমজান ১৫ পারা এবং হাফেজা মুসফিরা বিনতে মাহমুদ ৩০ পারা হিফজ, তাজবিদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার ও মাওলানা রফিকুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

এ সময় পুরস্কার বিজয়ী হাফেজদের শিক্ষক কাইয়ুম মোল্ল্যা, মুঈনুদ্দীন মজুমদার, আবু বকর, সাজেদা খাতুনও উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

ব্যক্তি নয়, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারই আমাদের লক্ষ্য: আইনমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বাসস

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করাই সরকারের অঙ্গীকার। বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো ব্যক্তি সরকারের লক্ষ্য নয়, লক্ষ্য হলো সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আবদুস সালামসহ সংবিধান বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের সহযোগিতায় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

আইনমন্ত্রী বলেন, সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সরকারের হাতে পর্যাপ্ত প্রমাণ রয়েছে। প্রমাণগুলো এতটাই শক্তিশালী যে বিশ্বের যেকোনো ট্রাইব্যুনালকে ‘যুক্তিসংগত সন্দেহের ঊর্ধ্বে’ গিয়ে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্তে আসতে হবে।

ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার মৌলিক নীতি হিসেবে ‘যুক্তিসংগত সন্দেহের ঊর্ধ্বে’ অপরাধ প্রমাণের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারও সেই নীতির ভিত্তিতেই পরিচালিত হচ্ছে।

বাংলাদেশের সংবিধান নিয়ে সাধারণ মানুষের আগ্রহের কথা উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, এটি শুধু আইনজ্ঞদের আলোচনার বিষয় নয়; দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের চায়ের দোকানেও সংবিধানের বিভিন্ন বিধান, সংশোধনী, প্রয়োগযোগ্যতা এবং মানুষের অধিকার নিয়ে আলোচনা হয়।

তিনি বলেন, আমাদের সংবিধানও একটি ক্লাসিক বিতর্কের বিষয়- শুধু আইনজ্ঞদের মধ্যে নয়, দেশের চায়ের দোকানেও। গ্রামের চায়ের দোকানে মানুষ সংবিধানের বিভিন্ন ধারা, সাংবিধানিক সংশোধনী, অধিকার ও কর্তব্য নিয়ে আলোচনা করেন। এ ধরনের আলোচনা মানুষের সাংবিধানিক সচেতনতা বাড়ায়। এই ধরনের সংলাপের মাধ্যমে মানুষ তাদের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হচ্ছে। এ কারণেই আমরা গর্বিত।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের সঙ্গে বাংলাদেশের সংবিধানের কিছু সাদৃশ্য তুলে ধরে আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে সুপ্রিম কোর্ট যে এখতিয়ার প্রয়োগ করে, তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সাংবিধানিক কাঠামোর মিল রয়েছে।

তিনি বলেন, আর্টিকেল ১০২-এর অধীনে আমাদের সুপ্রিম কোর্ট একই ধরনের এখতিয়ার প্রয়োগ করছে। তবে কখনো কখনো এই এখতিয়ার অপব্যবহার ও ভুলভাবেও ব্যবহার করা হয়।

সংবিধান প্রণয়নে দার্শনিকদের চিন্তার প্রভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রণেতারা জন লক, থমাস হবস ও মন্টেস্কুর তত্ত্ব নিয়ে কাজ করেছিলেন। বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নেও এসব রাজনৈতিক দর্শনের প্রভাব রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রণেতারা ১৭৮৭ সালে যে ভিত্তিগত কাজগুলো করেছিলেন, বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের সময় আমাদেরও সেই তাত্ত্বিক ভিত্তির অনেকটাই অনুসরণ করতে হয়েছে।

বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সরকারের কিছু নীতিগত অবস্থানেরও প্রশংসা করেন আইনমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারের পরিবর্তন হলেও কিছু মৌলিক মূল্যবোধ ও নীতির ধারাবাহিকতা দেখা যায়।

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, নির্বিচারে গ্রেপ্তার ও আটক বন্ধ, সংগঠন ও সমাবেশের স্বাধীনতার মতো বিষয়গুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান বাংলাদেশের মানুষের গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের জন্য লড়াইকে উৎসাহিত করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আইনমন্ত্রী বলেন, এসব মূল্যবোধের মাধ্যমে আমাদের মানুষ স্বৈরতন্ত্র ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে উৎসাহিত হয়েছে।

দেশের বিগত রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী দাবি করেন, গত ফ্যাসিস্ট শাসনামলে গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের জন্য লড়াই করা ৪ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হয়েছেন। প্রায় ৭০০ মানুষ গুমের শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

এছাড়া বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত ৬০ লাখের বেশি মানুষ রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার হয়েছেন এবং এসব মানুষের বিরুদ্ধে করা মামলার প্রায় ৯৯ শতাংশই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে করা হয়েছিল বলে জানান আইনমন্ত্রী।

বর্তমান সরকারের সময়ে গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার বিষয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ অবস্থানের কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, গত ছয় মাসের বেশি সময়ে এ ধরনের ঘটনা প্রায় শূন্যের পর্যায়ে রয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে পুলিশ মিথ্যা মামলা করেছে- এমন কোনো অভিযোগ বর্তমান সময়ে পাওয়া যায়নি।

মানবাধিকার কমিশন আইন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার দেশে আরও শক্তিশালী জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। নতুন আইনে নির্যাতনবিরোধী জাতিসংঘের ঐচ্ছিক প্রটোকল অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অনেক দেশ এ ব্যবস্থা গ্রহণ না করলেও বাংলাদেশ তা করেছে।

মানবাধিকার কমিশনের নির্বাচন কমিটির কাঠামো তুলে ধরে তিনি বলেন, এতে প্রেসক্লাব এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রতিবেশী কিছু দেশে মানবাধিকার পরিস্থিতিতে উচ্চমানের স্বীকৃতি থাকলেও তাদের নির্বাচন কমিটির নেতৃত্ব প্রধানমন্ত্রীর হাতে; বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিটির নেতৃত্ব স্পিকারের হাতে রাখা হয়েছে এবং বিরোধীদলীয় নেতাকেও এতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

আইনমন্ত্রী বলেন, আমরা সাংবিধানিক শাসনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। এই পরিস্থিতিতে সুশাসন আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারগুলোর একটি।

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও আইনগত পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকার এমন একটি সময় পার করছে, যখন অর্থনীতি ও আইনের শাসন উভয় ক্ষেত্রেই নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। একই সঙ্গে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলো নিষ্পত্তির কাজও চলছে।


নির্বাচিত

বাংলাদেশ পুলিশের শীর্ষ পদে বড় রদবদল

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ পুলিশের শীর্ষ পর্যায় এবং রেঞ্জ ও ডিআইজি পদে বড় ধরনের রদবদল আনা হয়েছে। বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে জারি করা পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বদলি ও পদায়নের এই আদেশ দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশে প্রজ্ঞাপনগুলোতে সই করেন উপসচিব তৌহিফ আহমেদ। জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করা হবে বলে সরকারি নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।

নতুন এই আদেশের মাধ্যমে বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের মোট ছয়জন অতিরিক্ত আইজিপি এবং পাঁচজন উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) পদের কর্মকর্তাকে বদলি ও নতুন কর্মস্থলে পদায়ন করা হয়েছে। এর মধ্যে চারজন কর্মকর্তা অতিরিক্ত আইজিপি পদে পদোন্নতি পেয়েছেন। পদোন্নতি পাওয়া এই চার কর্মকর্তা হলেন—সাইদুর রহমান, মাইনুল হাসান, ইকবাল হোসেন ও কামরুল আহসান। পদোন্নতি পাওয়ার পরপরই তাঁদের নতুন দায়িত্বে পদায়ন করা হয়েছে।

পাশাপাশি পাঁচজন ডিআইজি পদমর্যাদার কর্মকর্তাকেও নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, পুলিশ অধিদপ্তরের ডিআইজি মো. রেজাউল করিমকে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। একই সঙ্গে খুলনা রেঞ্জের দায়িত্বে থাকা ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমানকে সেখান থেকে বদলি করে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া পুলিশের বিভিন্ন বিশেষায়িত ইউনিটগুলোতেও রদবদল আনা হয়েছে। অ্যান্টি টেররিজম ইউনিটের ডিআইজি মোহাম্মদ মুসলিমকে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালের পরিচালক (ডিআইজি) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে। অন্যদিকে, স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) ডিআইজি মীর আশরাফ আলীকে রেলওয়ে পুলিশের ডিআইজি এবং ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট বা মেট্রোরেলের ডিআইজি সিদ্দিকী তাঞ্জিলুর রহমানকে ঢাকা স্পেশাল ব্রাঞ্চের (এসবি) ডিআইজি হিসেবে বদলি করা হয়েছে।


নির্বাচিত

banner close