মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬
১৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

প্রার্থী বেশি,প্রতিদ্বন্দ্বী কম

ফাইল ছবি
আপডেটেড
২ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০০:১৪
তানজিমুল নয়ন
প্রকাশিত
তানজিমুল নয়ন
প্রকাশিত : ২ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০০:০০

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ২ হাজার ৭১৩ জন প্রার্থী। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে নিবন্ধিত ৪৪টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩২টি দল। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন ৭৪৭ জন। সে হিসাবে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রত্যয়নপত্র নিয়ে নির্বাচনে উপস্থিত ১৯৬৬ জন প্রার্থী। আর স্বতন্ত্রদের মধ্যে অন্তত ৪০০ জন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন। তবে সাধারণ মানুষের অভিযোগ, নির্বাচনে আসা বড় দল আওয়ামী লীগের মূল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বাইরে অন্যদলগুলোর বেশির ভাগ প্রার্থীই আসনগুলোর মানুষের কাছে অচেনা। প্রায় প্রতিটি আসনেই নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন এমন অনেক অচেনা মুখ যাদের প্রার্থিতা পেতে সমস্যা না হলেও নির্বাচনী লড়াইয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে পরিচিত হতেই পার হয়ে যাবে প্রচারণার বেশির ভাগ সময়। ফলে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, নির্বাচনে প্রার্থী আছে অনেক বেশি, কিন্তু, প্রতিদ্বন্দ্বী কম।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ৩০০ আসনের বিপরীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের (নৌকা) ৩০৩ জন, জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল) ৩০৪ জন, জাকের পার্টি (গোলাপ ফুল) ২১৮ জন, তৃণমূল বিএনপি (সোনালী আঁশ) ১৫১ জন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি- এনপিপি (আম) ১৪২ জন, বাংলাদেশ কংগ্রেস (ডাব) ১১৬ জন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ (মশাল) ৯১ জন, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন (ফুলের মালা) ৪৭ জন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন (বটগাছ) ১৩ জন, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি (হাতঘড়ি) ১৮ জন, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ (চেয়ার) ৩৯ জন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (কাঁঠাল) ১৩ জন, গণফ্রন্ট (মাছ) ২৫ জন, গণফোরাম (উদীয়মান সূর্য) ৯ জন, ইসলামী ঐক্যজোট (মিনার) ৪৫ জন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট (মোমবাতি) ৩৭ জন, জাতীয় পার্টি-জেপি (বাইসাইকেল) ২০ জন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ (গামছা) ৩৪ জন, গণতন্ত্রী পার্টি (কবুতর) ১২ জন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (হাতুড়ি) ৩৩ জন, বিকল্পধারা বাংলাদেশ (কুলা) ১৪ জন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (একতারা) ৮২ জন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন-বিএনএম (নোঙর) ৪৯ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট- বিএনএফ (টেলিভিশন) ৫৫ জন, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (ছড়ি) ৭৪ জন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ- বিএমএল (হাত-পাঞ্জা) ৫ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি- ন্যাপ (কুঁড়েঘর) ৬ জন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মই) একজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (রিকশা) একজন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ (খেজুর গাছ) একজন এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (হারিকেন) দুইজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

এদিকে মনোনয়ন জমার শেষ দিনেই ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম জানিয়েছেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিলের সময়সীমা বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। ফলে বিএনপিসহ যে দলগুলো নির্বাচন বর্জন করেছে তাদের আর মত পাল্টে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসার দৃশ্যমান কোনো সুযোগ নেই। আন্দোলনরত দলগুলোও অবশ্য আগেই এ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতি দিয়েছে।

ফলে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর যাচাই-বাছাই শেষে যেসব প্রার্থী টিকে যাবেন তারাই থাকবেন নির্বাচনী দৌড়ে। তবে প্রতিটি আসনে ভোটের লড়াইয়ে যারা যাচ্ছেন তাদের বেশির ভাগেরই দলের নাম সাধারণ মানুষ জানে না। আর দল অচেনা বলে প্রার্থীরাও অচেনা। ফলে তাদের ধারণা নির্বাচনী লড়াইয়ে আসলে টিকে থাকবেন বড় দলের পরিচিত মুখগুলো। এর মধ্যে শাসক দলের মার্কা নিয়ে লড়াই করা প্রার্থীরা যেমন আলোচনায় থাকবেন, তেমনই অনেক আসনেই তাদের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমাতে পারেন নির্বাচনে আসা আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। কেননা, দলটির স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বেশির ভাগই স্থানীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত এবং তাদের মোটামুটি ভোট ব্যাংক অথবা এলাকাবাসীকে প্রভাবিত করার সক্ষমতা রয়েছে। নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া ৭৪৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে অন্তত ৪০০ জনই আওয়ামী লীগের।
যদিও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গত কয়েক দিনের মতো গতকালও বলেছেন, দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ঢালাওভাবে নির্বাচন করতে পারবেন না। এ ছাড়া ১৪-দলীয় জোটের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির সম্ভাবনা রয়েছে আওয়ামী লীগের। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন, নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আসতে পারবেন জোটের এমন প্রার্থীরাই কেবল থাকবেন বিবেচনায়। আর ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করে তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এর ফলে এটা স্পষ্ট যে, জোটের সঙ্গে সমঝোতা হলে কয়েকটি আসনে আওয়ামী লীগ যাদের মনোনয়ন দিয়েছে তাদেরও রণে ভঙ্গ দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে হবে।

তবে আওয়ামী লীগ সভাপতি নির্বাচনী কৌশল হিসেবে এবার দলীয় মার্কার বাইরে দলীয় প্রার্থীদের স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড়ানোর সুযোগ দেয়ায় নির্বাচনে আসা প্রার্থীদের কতজন আবার দল চাইলে নির্দেশ মেনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন সেটাও আছে দেখার বিষয়।

তবে এই আলোচনার বাইরে থেকে যাচ্ছে বেশির ভাগ প্রার্থী যারা বিভিন্ন দল থেকে নির্বাচনে এলেও জনগণের কাছে নিজের দল, দলীয় প্রতীক এবং নিজের পরিচয় প্রকাশ করার সুযোগ পাবেন। তবে প্রতিটি আসনে স্থানীয় ভোটারদের কাছে তারা এখনো অচেনা এবং নতুন মুখ হিসেবে বিবেচিত।

যেমন দল হিসেবে এবারই প্রথম নির্বাচন করছে তৃণমূল বিএনপি, বিএনএম, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি। এসব দলের বেশির ভাগ প্রার্থী নিজ নিজ এলাকার ভোটারদের কাছে নতুন পরিচয়ে উপস্থিত হবেন। অনেকে আবার খুব বেশি পরিচিত নন। একইভাবে তাদের নির্বাচনী প্রতীক যথাক্রমে সোনালী আঁশ, নোঙর ও একতারা চেনাতেও এবার তাদের বিশেষ প্রস্তুতি নিতে হবে।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনএমের প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য আছেন ৬ জন এবং তৃণমূলের প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য আছেন ৫ জন।

এদিকে, গতকাল আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর কাদের বলেছেন, বিএনপির ১৫ কেন্দ্রীয় নেতাসহ সাবেক ৩০ জন সংসদ সদস্য নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এদের মধ্যে কাদের সিদ্দিকী, লতিফ সিদ্দিকী, আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর মতো নেতাও আছেন। আবার আগে বিএনপিতে প্রভাব ছিল দলটির এমন সাবেক নেতারাও আছেন নির্বাচনে। এদের মধ্যে তৈমূর আলম, সমশের মবিন চৌধুরীর নাম উল্লেখযোগ্য।

তবে এদের বাইরে নির্বাচনের মাঠে থাকা বেশির ভাগ প্রার্থীই অচেনা। এ বিষয়ে গাজীপুর-৪ আসনের একজন প্রার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমার দল এলাকায় তেমন পরিচিত নয়। দলের প্রচার চালাতে ও এলাকার মানুষের কাছে নিজের পরিচয় তুলে ধরতে এবার ভোট করতে আসা। আমিও জানি নির্বাচনে জয়লাভ করার অবস্থান এখনো আমার বা আমার দলের তৈরি হয়নি। তবে এক দিনে তো কিছুই হয় না। আমাদের দলের আদর্শ ও কর্মসূচি দেশের মানুষ ও এলাকার মানুষকে জানাতে আমরা নির্বাচনে এসেছি।’

অন্যদিকে লালমনিরহাট-৩ আসনে মনোনয়ন জমা দেয়া প্রার্থীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই সদর আসনে ৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সদ্য পদত্যাগকারী সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জাবেদ হোসেন বক্কর, জাতীয় পার্টি থেকে জাহিদ হাসান, তৃণমূল বিএনপি থেকে শামীম আহম্মেদ চৌধুরী, জাকের পার্টি থেকে সকিউজ্জামান মিয়া, বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল থেকে আশরাফুল আলম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) থেকে আবু তৈয়ব মো. আজমুল হক পাটোয়ারী, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) থেকে শ্রী হরিশ চন্দ্র রায় মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তবে এবার তিনি এ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেননি। ফলে এ আসনে নির্বাচনে অংশ নেয়া সব প্রার্থীই নতুন এবং নতুন একজন সংসদ সদস্য পাবে লালমনিরহাট সদরবাসী। তবে নতুন হলেও জেলা ও শহরের রাজনীতিতে পুরনো মুখ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান। ছাত্ররাজনীতি করায় জাবেদ হোসেন বক্করও সেখানে পরিচিত মুখ। জাকের পার্টি ও জাসদের প্রার্থীকেও অনেকে চেনেন। তবে সাম্যবাদী দল, এনপিপির প্রার্থীর মতো জাতীয় পার্টির প্রার্থীও এলাকার সবার চেনা মুখ নন। ফলে যে আসন থেকে জাতীয় পার্টি বর্তমান সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছে সেখানে নতুন মুখ দেয়ায় মাঠের রাজনীতিতে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন এলাকার অনেক বাসিন্দা।

বিষয়টা আরও স্পষ্ট হয় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনার ৬টি আসন বিশ্লেষণ করলে। দৈনিক বাংলার খুলনা ব্যুরো জানায়, খুলনার এই ৬টি আসনের জন্য সেখানে ৫৩ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে যারা সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচন করবেন, তাদের অধিকাংশেরই রাজনীতিতে তেমন কোনো পরিচিতি নেই। হঠাৎ করেই তারা কেন সংসদ নির্বাচনে আগ্রহী হলেন, এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে উত্তরও দেননি অধিকাংশ প্রার্থী।

খুলনা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের মনোনীত ৬ জন প্রার্থী, আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র ২ জন এবং জাতীয় পার্টির একজন প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচিতি রয়েছে। বাকি ৪৪ জন প্রার্থী কখনো রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয় ছিলেন না।

খুলনা প্রতিনিধির বিশ্লেষণ অনুযায়ী খুলনা-১ আসনের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ৬ জন। তারা হলেন, জাকের পার্টির মো. আজিজুর রহমান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ননী গোপাল মণ্ডল, জাতীয় পার্টির কাজী হাসানুর রশিদ, তৃণমূল বিএনপির গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রশান্ত কুমার রায় ও আবেদ আলী শেখ।

এদের মধ্যে ননী গোপাল মণ্ডল ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। রাজনীতিতে তার পরিচিতি রয়েছে। তবে বাকি চারজন রাজনীতিতে একেবারেই অপরিচিত। তারা প্রত্যেকেই এবার প্রথম সংসদ নির্বাচন করছেন। এদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রশান্ত কুমার রায় পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সাবেক সচিব।

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আমি নির্বাচন করছি। আমাকে ডামি প্রার্থীও বলা যাবে। এটা দলীয় নির্দেশেই হচ্ছে।’
আওয়ামী লীগের ননী গোপাল মণ্ডল বলেন, ‘দল আমাকে আবারও সুযোগ দিয়েছে। আমি দলের সম্মান রাখব বলে আশাবাদী।’

তবে বাকি চার প্রার্থীর তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই। জাতীয় পার্টীর কাজী হাসানুর রশিদ ও তৃণমূল বিএনপির গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিকের কাছে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেও কোনো উত্তর মেলেনি।

আর জাকের পার্টি মো. আজিজুর রহমান বলেন, ‘দল থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে বলেছে, তাই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি।’

অন্যদিকে খুলনা-২ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৯ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল, গণতন্ত্র পার্টির মো. মতিয়ার রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের দেবদাস সরকার, জাকের পার্টির ফরিদা পারভিন, ইসলামী ঐক্যজোটের হিদায়েতুল্লাহ, জাতীয় পার্টির মো. গাউসুল আজম, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের বাবু কুমার রায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সাঈদুর রহমান।

এদের মধ্যে শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থীর রাজনৈতিকভাবে পরিচিতি রয়েছে। তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। তবে বাকিদের আগে কখনো রাজনৈতিক মাঠে দেখা যায়নি।

কেন প্রার্থী হয়েছেন- এমন প্রশ্নে বাংলাদেশ কংগ্রেসের দেবদাস সরকার বলেন, ‘অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে মনোনয়ন জমা দেয়া হচ্ছে, তাই আমরাও দিচ্ছি।’

খুলনা-৩ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৫ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের এস এম কামাল হোসেন, জাকের পার্টির এস এম সাব্বির হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, স্বতন্ত্র প্রার্থী কাইজার আহমেদ ও ফাতেমা জামান সাথী।

এদের মধ্যেও শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচিতি রয়েছে। তিনি দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। তিন বারের সংসদ সদস্য ও দুই বারের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানকে সরিয়ে তাকেই আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিয়েছে। তবে ওই আসনেরও বাকি চারজনের তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই।

খুলনা-৪ আসন থেকে মনোনয়ন নিয়েছেন ১৪ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের আব্দুস সালাম মূর্শেদী, জাকের পার্টির শেখ আনছার আলী, জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এস এম আজমল হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. ফরহাদ আহমেদ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. মোস্তাফিজুর রহমান, তৃণমূল বিএনপির শেখ হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মনিরা সুলতানা, ইসলামী ঐক্যজোটের রিয়াজ উদ্দীন খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জুয়েল রানা, এম ডি এহসানুল হক, মো. রেজভী আলম, এস এম মোর্ত্তজা রশিদী দারা, আতিকুর রহমান ও এইচ এম রওশান জমির।

এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের আব্দুস সালাম মূর্শেদী বর্তমান সংসদ সদস্য। ২০১৮ সালের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে তিনি জয়ী হয়েছিলেন।

এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম মোর্ত্তজা রশিদী দারার দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস রয়েছে। তিনি ওই আসনের তিন বারের সাবেক সংসদ সদস্য এস এম মোস্তফা রশিদী সুজার আপন ভাই।

তিনি বলেন, এলাকার মানুষের দোয়া নিয়ে মাঠে নেমেছি। জয়-পরাজয় এলাকার মানুষই নির্ধারণ করবেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই আসনে আওয়ামী লীগের এই দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এলাকার ভোটাররা বলছেন, বাকি ১২ জন প্রার্থীদের নাম খুব একটা শোনেননি তারা। কেউ কেউ একেবারেই অপরিচিত।

খুলনা-৫ আসনের জন্য মনোনয় জমা দিয়েছেন ৭ জন। তারা হলেন- জাতীয় পার্টির মো. শহীদ আলম, জাকের পার্টির সামাদ সেখ, আওয়ামী লীগের নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, ওয়ার্কার্স পার্টির শেখ সেলিম আকতার, বাংলাদেশ কংগ্রেসের এস এম এ জলিল, ইসলামী ঐক্যজোটের তরিকুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ আকরাম হোসেন।

এদের মধ্যে নারায়ণ চন্দ্র চন্দ একাধিক বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী। এ ছাড়া আকরাম হোসেন ফুলতলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। এই আসনেও আওয়ামী লীগের এই দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ভোটাররা। বাকি যারা প্রার্থী হয়েছেন এলাকার রাজনীতিতে তাদের তেমন কোনো পরিচিতি নেই বলে জানা গেছে।

খুলনা-৬ আসনের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ১২ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের মো. রশীদুজ্জামান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. আবু সুফিয়ান, জাকের পার্টির শেখ মর্তুজা আল মামুন, জাতীয় পার্টির মো. শফিকুল ইসলাম মধু, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মির্জা গোলাম আজম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এস এম নেওয়াজ মোরশেদ, তৃণমূল বিএনপির গাজী নাদীর উদ্দীন খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম রাজু, গাজী মোস্তফা কামাল, জি এম মাহবুবুল আলম, মো. মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর ও মো. অহিদুজ্জামান মোড়ল।

এদের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত মো. রশীদুজ্জামানের কোনো দলীয় পদ নেই। তিনি একসময় পাইকগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্যসচিব ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে জামানত হারিয়েছিলেন। তবে তাকেই মনোনয়ন দিয়ে চমক সৃষ্টি করেছে ক্ষমতাসীন দল। ওই আসনে রাজনৈতিকভাবে পরিচিত রয়েছে জাতীয় পার্টির মো. শফিকুল ইসলাম মধুর। তিনি আগেও খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। বাকি প্রার্থীদের তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই। এলাকার সবার কাছে পরিচিত মুখও নন অনেকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশির ভাগ আসনেই ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীদের স্থানীয়রা তেমন একটা চেনেন না। তবে বিরোধীদের এক অংশ নির্বাচন বর্জন করায় রাজনীতির নতুন সমীকরণ মেলাতে ছোট দলগুলোই নির্বাচনে হতে যাচ্ছে বড় দলগুলোর সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনীযুদ্ধ পার হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী।

জাসদের মাঠপর্যায়ের এক রাজনীতিবিদ জসিম মণ্ডল বলেন, ‘নির্বাচন একটা বড় খেলা। এখানে সবাই নামে নিজ নিজ সমীকরণ মেলানোর জন্য। রাজনৈতিক দলগুলোর সমীকরণ হয় এক ধরনের, আবার প্রার্থীর সমীকরণ হয় আরেক ধরনের। সবাই নির্বাচনে জয়ী হতে যেমন অংশ নেয় না তেমনই কেউ কেউ নির্বাচনে যায় অন্যের যাত্রা ভঙ্গ করতে। আবার অনেকের কাছে ‘নির্বাচনে অংশগ্রহণই বড় কথা।’ জয়-পরাজয়ের চেয়েও বড় বিষয় এ সময় পোস্টারিং করে নিজের ছবি ও পরিচিতি পুরো এলাকার মানুষকে দেখানো যায়। এটাও বা কম কিসে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দেশের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষেরই আছে নির্বাচনে দাঁড়ানোর অধিকার। তাই কটা টাকা খরচ করে অনেকেই পরিচিতি বাড়ানোর সুযোগ নেয়। এর ফল তো অসীম-সারাজীবন নানাভাবে এর সুফল মেলে। যারা রাজনীতিতে আছেন, কেবল তারাই বোঝেন নির্বাচনে অংশ নিতে পারার গুরুত্ব।


এলডিসি উত্তরণে বাংলাদেশকে আরও সময় দিতে রাজি ইউএনসিডিপি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে আরও তিন বছর সময় পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে সরকারের আবেদনে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (ইউএনসিডিপি)।

ইউএনসিডিপির চেয়ারম্যান হোসে আন্তোনিও ওকাম্পো বাংলাদেশ সরকারকে জানিয়েছেন, উত্তরণের প্রস্তুতিকাল ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাবের সঙ্গে একমত ইউএনসিডিপি। ফলে কারিগরি মূল্যায়নের ভিত্তিতে বাংলাদেশের জন্য প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়ানোর বিষয়ে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ইতিবাচক সুপারিশ করার পথ তৈরি হয়েছে।

ইউএনসিডিপির মূল্যায়নে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর আবেদন যৌক্তিক। তবে এই অতিরিক্ত সময়কে কার্যকরভাবে কাজে লাগিয়ে দেশের কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করতে হবে এবং গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার কার্যক্রমে দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হবে। কমিটির মতে, প্রস্তুতিকাল বৃদ্ধি সংস্কার বিলম্বিত করার সুযোগ নয়; বরং উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুতি জোরদারের একটি সুযোগ।

বাংলাদেশের ২০২৬ সালের নভেম্বরে এলডিসি থেকে উত্তরণের কথা ছিল। তবে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ডলার সংকট, মূল্যস্ফীতি এবং সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে সরকার গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ইউএনসিডিপির কাছে এলডিসি থেকে উত্তরণের প্রস্তুতিকাল তিন বছর বাড়িয়ে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত করার অনুরোধ করেছিল। পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ৬ এপ্রিল জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ বিষয়ে তার ব্যক্তিগত সহযোগিতা কামনা করেন।

ইউএনসিডিপির মূল্যায়নে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ এলডিসি উত্তরণের তিনটি সূচকেই নির্ধারিত সীমা উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে অতিক্রম করেছে। নিকট ও মধ্য মেয়াদে এ অবস্থান থেকে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিও খুব কম। তবে সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংকট, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, সরবরাহ ব্যবস্থার অনিশ্চয়তা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিবেশের পরিবর্তন এবং অন্যান্য বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ উত্তরণ প্রস্তুতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

ইউএনসিডিপি বাংলাদেশের প্রণীত স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি (এসটিএস) বাস্তবায়নে সরকারের প্রতিশ্রুতিকে স্বাগত জানিয়েছে। কমিটি বলেছে, প্রস্তুতিকাল সম্প্রসারিত হলে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব আরও ভালোভাবে মূল্যায়ন, প্রয়োজনীয় অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং উত্তরণ-পরবর্তী বাজার সুবিধা ও আন্তর্জাতিক সহায়তা ব্যবস্থার জন্য কার্যকর প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।

একই সঙ্গে প্রস্তুতি পর্ব ও উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অব্যাহত সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে কমিটি। এর মধ্যে সহজ শর্তে অর্থায়ন, এলডিসি-সংশ্লিষ্ট সহায়তা ব্যবস্থার যথাযথ সম্প্রসারণ, কারিগরি সহায়তা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আলোচনায় সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

কমিটি বিশেষভাবে অভ্যন্তরীণ সংস্কারের গুরুত্ব তুলে ধরে আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, কর আহরণ বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ সম্পদ সংগ্রহ জোরদার করা, উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো, অর্থনীতির বহুমুখীকরণ এবং বেসরকারি খাতকে উত্তরণের জন্য প্রস্তুত করার ওপর জোর দিয়েছে।


জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হলো বাংলাদেশ

আপডেটেড ২ জুন, ২০২৬ ২১:৩৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এক ঐতিহাসিক নির্বাচনে বড় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। সংস্থাটির সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে সভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে জাতিসংঘের সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ৯৯টি দেশ বাংলাদেশের পক্ষে ভোট প্রদান করে। এই জয়ের ফলে আগামী এক বছর মেয়াদে বিশ্বের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই নীতি-নির্ধারণী ফোরামের সভাপতিত্ব করবেন বাংলাদেশের প্রতিনিধি। এটি বিশ্ব পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের কূটনৈতিক প্রভাব ও সক্ষমতার এক বড় স্বীকৃতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নির্বাচনটি ছিল বেশ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, যেখানে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ছিল সাইপ্রাস। ভোটগণনা শেষে দেখা যায়, বাংলাদেশের প্রার্থী পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান পেয়েছেন ৯৯টি ভোট এবং সাইপ্রাসের প্রার্থী আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিস পেয়েছেন ৯১টি ভোট। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের উপস্থিতিতে এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন হয়। ফল ঘোষণার পরপরই সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিকে ঘিরে বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও অভিনন্দন জানাতে দেখা যায়।
জাতিসংঘের ইতিহাসে এটি বাংলাদেশের জন্য দ্বিতীয়বারের মতো সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসনে বসার গৌরব। এর আগে দীর্ঘ ৪০ বছর আগে অর্থাৎ ১৯৮৬ সালে সংস্থাটির ৪১তম অধিবেশনে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ও বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। চার দশক পর পুনরায় এই মর্যাদাপূর্ণ পদে আসীন হওয়া বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে একটি বড় সাফল্য। পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এখন থেকে বৈশ্বিক শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের নানা এজেন্ডা নিয়ে বিশ্ব নেতাদের সাথে কাজ করার সুযোগ পাবেন।
জয়ের পর দেওয়া বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান সদস্য দেশগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বিশ্বব্যাপী চলমান নানা সংকট নিরসনে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর অধিকার রক্ষায় সাধারণ পরিষদের কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। আগামী এক বছরের এই মেয়াদে তিনি সাধারণ পরিষদের বিভিন্ন উচ্চপর্যায়ের সভায় সভাপতিত্ব করবেন এবং বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সমন্বয় সাধনে কাজ করবেন। এই বিজয় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে আরও উজ্জ্বল করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


৭ অতিরিক্ত সচিবকে বদলি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আলাদা প্রজ্ঞাপনে সাতজন অতিরিক্ত সচিবকে বদলি করা হয়েছে। গত সোমবার (০১ জুন) রাতে দেওয়া এসব প্রজ্ঞাপনে উপসচিব মোহাম্মদ নুর-এ-আলম ও সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রু স্বাক্ষর করেছেন।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মুহিদুল ইসলামকে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান করা হয়েছে।

সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগে সংযুক্ত অতিরিক্ত সচিব জিন্নাত রেহানাকে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের এই পদে প্রেষণে নিয়োগ দেয়া হয়।

বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হয়েছেন ধর্ম মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত অতিরিক্ত সচিব মো. ফজলুর রহমান।

এছাড়া বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রাশিদা ফেরদৌসকে কৃষি মন্ত্রণালয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুর রহিম খানকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক উচ্চশিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব বদরুন নাহারকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়েছে।

এদিকে ময়মনসিংহ বিভাগে বিভাগীয় কমিশনার করা হয়েছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব এস এম হুমায়ুন কবির সরকারকে।


যানজট নিরসনে ব্যাটারিচালিত রিকশা ঢাকা মহানগরীর বাহিরে নেওয়ার চিন্তা সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা মহানগর এলাকার ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং যানজট নিরসনের লক্ষ্যে ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলোকে মেট্রো এলাকার বাইরে পাঠিয়ে পুনর্বাসনের চিন্তাভাবনা করছে সরকার।

মঙ্গলবার (০২ জুন) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই কথা বলেন। তিনি বলেন, এই উদ্যোগের ফলে নতুন করে কেউ বেকার হবে না, আবার একই সাথে শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থারও উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে। দেশে রাতারাতি বিপুল সংখ্যক অটোরিকশা রাস্তায় নেমে আসায় বেকারত্ব এবং মানবিক দিক বিবেচনা করে তাদের হুট করে উচ্ছেদ করা কঠিন। তাই অন্তর্বর্তী সরকারের ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকারও চালকদের কর্মসংস্থান টিকিয়ে রেখে তাদের মহানগরের বাইরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা করছে।

একই সাথে ঢাকার যানজট নিয়ন্ত্রণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু হয়েছে বলে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ এবং বুয়েটের বিশেষজ্ঞদের যৌথ সমন্বয়ে এই আধুনিক প্রযুক্তিটি তৈরি করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে এই অটোমেশন বা স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থাপনার সুফল জনগণ পেতে শুরু করেছে এবং আগামী কয়েক মাসের মধ্যে ঢাকার ট্রাফিক ব্যবস্থায় একটি দৃশ্যমান ও বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।

তিনি বলেন, ডিজিটাল পদ্ধতিতে স্বয়ংক্রিয় মামলা হওয়ার কারণে চালকদের মধ্যে ট্রাফিক সিগন্যাল মেনে চলার প্রবণতা ও জনসচেতনতা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে, এমনকি রাতের বেলাতেও এর ইতিবাচক প্রভাব দেখা যাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে রাজধানীর পল্লবী এলাকায় সাম্প্রতিক নৃশংস শিশু হত্যার বিচার প্রসঙ্গেও কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, মামলাটির বিচারিক প্রক্রিয়া বর্তমানে চলমান থাকায় বিচারাধীন বিষয়ে মন্তব্য করা সমীচীন নয়। তবে সরকারের পক্ষ থেকে তদন্ত কর্মকর্তা ও সাক্ষীদের আদালতে যথাসময়ে উপস্থিত করাসহ প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে, যাতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই বিচারকাজ সম্পন্ন হয়।

এ ছাড়া বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) আসন্ন মহাপরিচালক পর্যায়ের বৈঠকটিকে একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, সেখানে সীমান্ত হত্যা, অনুপ্রবেশ এবং মাদক পাচারসহ সব অমীমাংসিত বিষয় নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা করা হবে।


২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদ্যাপন করেছে মার্কেন্টাইল ব্যাংক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কর্পোরেট ডেস্ক

আজ দেশব্যপী উৎসাহ উদ্দীপনার সাথে মার্কেন্টাইল ব্যাংক পিএলসি ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেছে। এ উপলক্ষে ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ব্যাংকের ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আকরাম হোসেন (হুমায়ুন) অন্যান্য পরিচালকদের ও ঊর্ধ্বতন নির্বাহীদের সাথে নিয়ে কেক কেটে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানের শুভ উদ্বোধন করেন। প্রতিষ্ঠাবার্র্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতিউল হাসান। আরও বক্তব্য দেন নির্বাহী কমিটির চেয়ারম্যান এম. এ. খান বেলাল, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল, উদ্যোক্তা পরিচালক এ.এস.এম. ফিরোজ আলম, স্বতন্ত্র পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ তৌফিকুল ইসলাম ও প্রফেসর নাসরিন সুলতানা, পিএইচডি।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপব্যবস্থাপনা পরিচালকবৃন্দ মোঃ জাকির হোসাইন, শামীম আহম্মদ, অসীম কুমার সাহা, ড. মোঃ জাহিদ হোসেন ও ড. তাপস চন্দ্র পাল, এসইভিপিবৃন্দ মোহাম্মদ ইকবাল রেজওয়ান, মোঃ আব্দুল হালিম ও মেইন শাখার প্রধান মোঃ আব্দুল আউয়াল সহ ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন নির্বাহী ও কর্মকর্তাবৃন্দ।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে দেশব্যপী ব্যাংকের সকল শাখা, উপশাখা ও প্রধান কার্যালয়ের সকল বিভাগে কেক কেটে দিবসটি উদযাপন করা হয় এবং গ্রাহকদের মিষ্টিমুখ করানো হয়।

ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচালক ও ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আকরাম হোসেন (হুমায়ুন) তাঁর বক্তব্যে ব্যাংকের গ্রাহক সংখ্যা, শাখা, আমানত সংগ্রহসহ ব্যাংকের সামগ্রীক চিত্র তুলে ধরে বলেন, ”বাংলার ব্যাংক” খ্যাত মার্কেন্টাইল ব্যাংক ১৯৯৯ সালের ২ জুন যাত্রা শুরু করে গত ২৭ বছরের কঠোর পরিশ্রমে মার্কেন্টাইল ব্যাংক একটি গ্রাহকবান্ধব, বিশ^স্ত ও টেকসই ব্যাংক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি ভবিষ্যতেও করপোরেট সুশাসনকে গুরুত্ব দিয়ে গ্রাহকবান্ধব ব্যাংকিং সেবার প্রতিশ্রুতি দেন।

সভাপতির বক্তব্যে ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মতিউল হাসান বলেন, গ্রাহকদের চাহিদার বাস্তবায়নে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ডিজিটাল ব্যাংকিং সেবা আরো ব্যাপক ও বিস্তৃত করাসহ চলতি বছর খেলাপি ঋণ আদায়ে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হবে। নতুন ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে কৃষি, এসএমই ও রিটেইল খাতকে গুরুত্ব দেয়ার পাশাপাশি সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষকে ব্যাংকিং সেবার আওতায় আনতে দেশের প্রত্যন্ত জনপদে শাখা-উপশাখা ও এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট স্থাপন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেন তিনি।


চীন সফরে গেলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ১৫ সদস্যের প্রতিনিধিদল

আপডেটেড ২ জুন, ২০২৬ ১৯:১৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল মঙ্গলবার (২ জুন) বেলা ২টায় চায়না ইস্টার্ন এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে চীন সফরের উদ্দেশ্যে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, চীন সরকার ও ঢাকায় চীনা দূতাবাসের সহযোগিতায় এক প্রশিক্ষণে অংশ নিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের এই প্রতিনিধি দলটি চীন সফরে গিয়েছেন।

তিনি জানান, এই প্রশিক্ষণ হবে চীনের ইউনান প্রদেশের কুনমিংয়ে এবং তা চলবে ৮ জুন পর্যন্ত।

প্রতিনিধি দলে রয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের এনজিও বিষয়ক ব্যুরোর মহাপরিচালক ড. মোহাম্মদ জকরিয়া, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ মোহাম্মদ মামুন শিবলী, প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-২ মেহেদুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের পরিচালক মনিরুল ইসলাম পাটোয়ারি, আনোয়ার উল হালিম, মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সরোয়ার, মো. মাহবুবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকল অফিসার-১ মো. উজ্জ্বল হোসেন, প্রধানমন্ত্রীর অ্যাসাইনমেন্ট অফিসার-২ এসএম পারভেজ, প্রধানমন্ত্রীর গবেষণা কর্মকর্তা আবদুস সাত্তার পাটোয়ারি ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ইসমাইল জবিহউল্লাহর একান্ত সচিব তারিখ হাসান। অন্য কর্মকর্তারা হলেন, জুলিয়া মঈন, জেসমিন আক্তার ও মোহাম্মদ জাব্বার।

প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণের আগে সোমবার (০১ জুন) ঢাকায় আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সাম্প্রতিক সময়ে উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ ও সহযোগিতা আরও জোরদার হয়েছে। এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

রাষ্ট্রদূত আশা প্রকাশ করেন, প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তারা চীনের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের অভিজ্ঞতা থেকে অর্জিত জ্ঞান বাংলাদেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে পারবে।


সিআইডির প্রধান হলেন ডিআইজি আলি আকবর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান হিসেবে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পেয়েছেন উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) আলি আকবর খান। আজ মঙ্গলবার বিকেলে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এর আগে গতকাল সোমবার পুলিশ সদর দপ্তর এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১৯৯৫ সালে ১৫ তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশে যোগ দেন আলি আকবর খান। তিনি ১৯৬৭ সালের ২১ সেপ্টেম্বর চাঁদপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে রেঞ্জ পুলিশ, বাংলাদেশ পুলিশ অধিদপ্তর এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইউনিটে নিষ্ঠা, দক্ষতা ও অকৃত্রিম সততার সঙ্গে কর্মসম্পাদন করে সর্বমহলে প্রশংসা অর্জন করেছেন।

পেশাগত উৎকর্ষ সাধনের লক্ষ্যে তিনি দেশ-বিদেশে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, সেমিনার ও কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে ইতালিতে ও মালদ্বীপে দুটি কর্মশালায় অংশ নেন তিনি। এ ছাড়াও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে তিনি তাঁর পেশাগত জ্ঞান ও দক্ষতা সমৃদ্ধ করেছেন।

আলি আকবর খান সিআইডির ভারপ্রাপ্ত প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করায় সিআইডি পরিবারের পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়েছে।


ডেপুটি স্পীকারের সঙ্গে ইউনিসেফ প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আজ (মঙ্গলবার) বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, এমপি'র সঙ্গে তাঁর সংসদ ভবনস্থ কার্যালয়ে ইউনিসেফ বাংলাদেশের সোশ্যাল পলিসি চিফ স্ট্যানলি গুয়াভুইয়ার নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।

সাক্ষাৎকালে ডেপুটি স্পীকার বলেন, আমাদের সবার সন্তান থাকলেও তাদের সুরক্ষা বিষয়ে আমরা যথেষ্ট সচেতন নই। সংসদীয় ককাস গঠনের পূর্ব থেকেই শিশুবান্ধব বাজেট ও নীতি প্রণয়নে ইউনিসেফের প্রচেষ্টাকে তিনি সাধুবাদ জানান।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, এমপি বলেন, যে সকল সংসদ সদস্যগণ শিশুবান্ধব নীতি প্রণয়নের বিষয়ে সংসদে বক্তব্য রাখবেন, তাঁদের নিয়ে গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজনের মাধ্যমে একটি ফলপ্রসূ আলোচনা করা সম্ভব।

ইউনিসেফের প্রতিনিধি বলেন, সংসদ সদস্যদের সঙ্গে অ্যাডভোকেসির অংশ হিসেবে প্রাক-বাজেট ব্রিফিং ও গোলটেবিল আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে। এর মাধ্যমে শিশুরা সরাসরি নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সুযোগ পায়। তিনি আরও বলেন, শুধু বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধি নয়, বরং তার বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সাক্ষাৎকালে শিশু অধিকার, শিশুবান্ধব নীতি প্রণয়ন, বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি, সামাজিক সুরক্ষা এবং বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।

এ সময় ইউনিসেফ প্রতিনিধিদলের সদস্য হিসেবে সোশ্যাল পলিসি অ্যান্ড ইকোনমিক স্পেশালিস্ট মো. আশিক ইকবাল, কমিউনিকেশন স্পেশালিস্ট ফারিয়া সেলিম, কমিউনিকেশন অফিসার কারিশমা আহমেদ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


ভোক্তাপর্যায়ে কমলো এলপিজির দাম

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বাজারে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম অবশেষে কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা। এপ্রিল মাসে অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধির পর মে মাসে মূল্য অপরিবর্তিত থাকলেও জুন মাসে এসে প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডারে ৫৫ টাকা কমানো হয়েছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) আজ মঙ্গলবার এই নতুন মূল্য নির্ধারণ করেছে, যা আজ সন্ধ্যা ৬টা থেকে কার্যকর হবে। বিইআরসির ঘোষণা অনুযায়ী, বেসরকারি খাতের এলপিজির ভোক্তাপর্যায়ে প্রতি কেজির মূল্য ১৫৭ টাকা ৬ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে গ্রাহকদের এখন ১২ কেজির প্রতিটি সিলিন্ডার ১ হাজার ৮৮৫ টাকায় কিনতে হবে, যা গত মাসে ছিল ১ হাজার ৯৪০ টাকা। এলপিজির পাশাপাশি যানবাহনে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও কমানো হয়েছে। প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম ২ টাকা ৫৭ পয়সা কমিয়ে ৮৬ টাকা ৯৩ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগে ছিল ৮৯ টাকা ৫০ পয়সা।

মূল্য সমন্বয়ের বিষয়ে কমিশন জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে সৌদি আরামকোর প্রোপেন ও বিউটেনের দাম, আমদানি ব্যয়, জাহাজ ভাড়া এবং ডলারের বিনিময় হারের ওপর ভিত্তি করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চলতি মাসে প্রোপেনের সিপি প্রতি মেট্রিক টন ৭৬০ ডলার এবং বিউটেনের ৮২০ ডলার নির্ধারিত হওয়ায় গড় সিপি দাঁড়িয়েছে ৭৯৯ ডলার। উল্লেখ্য যে, গত এপ্রিল মাসে মাত্র ১৭ দিনের ব্যবধানে দুই দফায় মোট ৫৯৯ টাকা বাড়িয়ে এলপিজির দাম ১ হাজার ৯৪০ টাকায় উন্নীত করা হয়েছিল। মে মাসে সেই বর্ধিত দাম বহাল থাকলেও জুন মাসে এসে তা কিছুটা নিম্নমুখী হলো।

অন্যদিকে, সরকারি খাতের এলপিজির মূল্যে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। সরকারি সাড়ে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম আগের মতোই ৭৭৬ টাকা ৯৩ পয়সা বহাল থাকবে। বিইআরসি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি মূল্যে কোনো পর্যায়েই এলপিজি বা অটোগ্যাস বিক্রি করা যাবে না। এর ব্যত্যয় ঘটলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে কমিশন থেকে সতর্ক করা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে এই মূল্য হ্রাস সাধারণ ভোক্তাদের জন্য কিছুটা স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে।


রাশিয়ায় 'বিক্রি' ৩০ যুবককে ফেরাতে কাজ করছে সরকার

কথা বলছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২ জুন, ২০২৬ ১৪:৩২
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাশিয়ায় উচ্চ বেতনের প্রলোভন দেখিয়ে ৩০ জন বাংলাদেশি যুবককে পাঠিয়ে প্রতারণা করার অভিযোগে তিনটি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স প্রত্যাহার এবং তাদের জামানত বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর ইস্কাটনে অবস্থিত প্রবাসী কল্যাণ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। এ সময় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক ও সচিব মোখতার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

প্রতারণার শিকার এই যুবকদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী জানান, “প্রতারণামূলকভাবে রাশিয়ায় পাঠানো এই ৩০ বাংলাদেশিকে দ্রুত ও নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে ইতিমধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, মস্কোয় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতকে ভুক্তভোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, জাবাল-ই-নূরসহ একটি দালাল চক্র ভালো চাকরির কথা বলে এসব যুবককে রাশিয়ায় নিয়ে জনপ্রতি ৩০ লাখ টাকার বিনিময়ে রুশ সেনাবাহিনীর কাছে বিক্রি করে দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এমন জঘন্য অপরাধের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “দেশের নাগরিকদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলা এবং প্রতারণামূলকভাবে বিদেশে পাঠানোর মতো জঘন্য অপরাধের সাথে জড়িত কোনো চক্র, সংস্থা, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে ছাড় দেওয়া হবে না। কোনো এজেন্সির অসততার কারণে বৈদেশিক কর্মসংস্থান খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেওয়া হবে না এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে তদারকি আরো জোরদার করা হবে।” যেসব রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে সেগুলো হলো—আর এস ইন্টারন্যাশনাল (আরএল-১৪২৮), জাবাল-ই-নূর (আরএল-২৫০৫) এবং টিএস ওভারসিস লিমিটেড (আরএল-১৭৫৫)।

সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসীদের জন্য সব সুবিধা সম্বলিত একটি সমন্বিত 'প্রবাসী কার্ড' চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, “প্রবাসী কার্ড হলে এখানে আর বিএমইটি কার্ড থাকবে না। একটা কার্ড দিয়ে প্রবাসীরা যেন, সব ফ্যাসিলিটি এনজয় করতে পারে সেই লক্ষ্যে আমরা কাজ করছি। কারণ এত কার্ড দিয়ে কী করবে।” এই কার্ডের সম্ভাব্য কার্যকারিতা সম্পর্কে তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা যে ফ্যাসিলিটিটা দেব, সেটা আমরা এখনো চূড়ান্ত করিনি। কিন্তু এখানে তার কারেন্সি সুবিধাটা কিভাবে পেতে পারে, তাদের সহজ রেমিট্যান্স আনার ক্ষেত্রে কী বেনিফিট নিতে পারে, ব্যাংক পেমেন্টের গেটওয়েটা কিভাবে হবে, তাদের ডিজিটাল পরিচয়পত্র, এই কার্ডের সঙ্গে ট্র্যাকিং থাকবে।” বিদেশ গমনেচ্ছু নাগরিকদের যেকোনো লেনদেনের আগে এজেন্সির বৈধতা যাচাই করার জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পুনরায় আহ্বান জানানো হয়েছে।


আইএলও’র সম্মেলনে সহ-সভাপতির পদে বাংলাদেশ

আপডেটেড ২ জুন, ২০২৬ ১০:৪০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) ১১৪তম আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছে বাংলাদেশ। সংস্থার সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সর্বসম্মত সমর্থনে সম্মেলনের সহ-সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন জেনেভায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি নাহিদা সোবহান।

আজ মঙ্গলবার জেনেভায় বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

শ্রম অধিকার, কর্মসংস্থান, সামাজিক সুরক্ষা ও ন্যায়বিচারসংক্রান্ত বৈশ্বিক নীতিনির্ধারণে আন্তর্জাতিক শ্রম সম্মেলনকে আইএলওর সর্বোচ্চ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ফোরাম হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ সম্মেলনে বাংলাদেশি প্রতিনিধির এ নির্বাচনকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এবারের সম্মেলনের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন উরুগুয়ের শ্রম ও সামাজিক সুরক্ষাবিষয়ক মন্ত্রী জুয়ান কাস্টিলো। সহ-সভাপতি হিসেবে তার সঙ্গে কাজ করবেন বাংলাদেশের নাহিদা সোবহান, আর্জেন্টিনার জেরার্দো মার্তিনেজ এবং যুক্তরাষ্ট্রের ক্রিস্টেন কফম্যান।

বাংলাদেশের স্থায়ী মিশনের মতে, এই নির্বাচন বৈশ্বিক শ্রম ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের সক্রিয় অংশগ্রহণ, শোভন কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণ, শ্রমিকের অধিকার সুরক্ষা এবং সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় দেশের অঙ্গীকারের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থার প্রতিফলন।

এছাড়া শ্রম খাতে উদ্ভূত নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং বহুপাক্ষিক সহযোগিতা জোরদারে বাংলাদেশের ভূমিকারও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি মিলেছে এই নির্বাচনের মাধ্যমে।

সহ-সভাপতির দায়িত্বে থেকে বাংলাদেশ আইএলওভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বিভিন্ন শ্রম ও কর্মসংস্থানবিষয়ক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে মতৈক্য গড়ে তুলতে এবং নীতিনির্ধারণী আলোচনায় সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।

প্রতি বছর অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে সরকার, শ্রমিক ও মালিকপক্ষের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়ে বৈশ্বিক শ্রমবাজারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন। এবারের অধিবেশনে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রায় পাঁচ হাজার প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন।


প্রধানমন্ত্রীর দশ গণমুখী উদ্যোগ গণআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন

* নিত্যপণ্যের বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা * দীর্ঘ ছুটির সিদ্ধান্ত, ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনা * দেশি পশুর বাজার ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ * দ্রুত বর্জ্য অপসারণ ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঈদে প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া গণমুখী উদ্যোগে জবাবদিহি নিশ্চিত ও জনগণের আকাঙ্ক্ষার স্পষ্ট প্রতিফলন ঘটেছে বলে জানিয়েছেন তার উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি ও সুস্পষ্ট নির্দেশনায় এই ঈদে রাষ্ট্র পরিচালনায় দায়বদ্ধতা, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং নীতিগত পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। তিনি মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী, সকল সংসদ সদস্য ও গুরুত্বপূর্ণ জনপ্রতিনিধিদের নিজ-নিজ এলাকায় ঈদ উদ্‌যাপন করতে বলেছেন, মানুষের পাশে থেকে একসঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগ করে নিতে প্রেরণা জুগিয়েছেন। জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটিয়ে সরকার প্রমাণ করেছে, রাজনৈতিক অঙ্গীকার ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা থাকলে সংকটের মধ্যেও স্বস্তি, শৃঙ্খলা ও আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

সোমবার (০১ জুন) বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে এক সংবাদ সম্মেলনে মাহদী আমিন এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি এবারের ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে প্রধানমন্ত্রীর ১০টি গণমুখী উদ্যোগ তুলে ধরেন।

মাহদী আমিন বলেন, টানা ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন ও জবাবদিহিহীনতার যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল, তা মুহূর্তেই বদলে ফেলা কোনো জাদুকরী মন্ত্রের পক্ষেও অসম্ভব। তবে এবারের ঈদুল আজহায় দেশের মানুষ অন্তত একটি বিষয় স্পষ্টভাবে প্রত্যক্ষ করেছে, তা হলো রাষ্ট্রের আন্তরিক সদিচ্ছা ও জনকল্যাণমুখী প্রশাসনিক তৎপরতা।

ঈদ ঘিরে প্রধানমন্ত্রীর দশটি গণমুখী উদ্যোগ তুলে ধরে উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, প্রথম পদক্ষেপ ছিল—দীর্ঘ ছুটির সিদ্ধান্ত ও ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনা। এবারের ঈদে নিয়মিত সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করে সরকারি ছুটি এক সপ্তাহ পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। ফলে সরকারি উদ্যোগেই পরিবার-পরিজনদের সঙ্গে আমরা এবার ছুটিতে কিছুটা বেশি সময় থাকতে পেরেছি। ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ও সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সার্বক্ষণিক মনিটরিং ও বিশেষ ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা হয়েছে। যে কারণে ঈদের আগের দিনগুলোতে মহাসড়কে একযোগে যানবাহনের চাপ অনেকটাই কমে এসেছে। প্রতি বছরের চেনা ছবি, কিলোমিটারের পর কিলোমিটার যানজট এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভোগান্তি, এবারের ঈদযাত্রায় তুলনামূলক নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে প্রশাসনের নজরদারি সত্ত্বেও মহাসড়কে বেপরোয়া গতি আর অসচেতনতার জেরে এবারও মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে, কেড়ে নিয়েছে তাজা প্রাণ। টাঙ্গাইলে সংঘটিত সড়ক দুর্ঘটনা এবং ট্রেনের ধাক্কায় মা ও মেয়ের মৃত্যুর মতো মর্মান্তিক ঘটনাগুলো আমাদের প্রচণ্ডভাবে ব্যথিত করেছে। স্বজনহারা মানুষগুলোর ঈদ কাটছে শূন্যতা ও কান্নায়, যা কখনোই পূরণ হওয়ার নয়। প্রতিটি মানুষের জীবন অমূল্য। এই মর্মান্তিক প্রাণহানিতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করছি। ভবিষ্যতে যেকোনো উৎসবে যেকোনো মূল্যে ও জনসচেতনতা বাড়িয়ে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই হবে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, দ্বিতীয় পদক্ষেপ ছিল—পোশাক খাতের শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস পরিশোধ। তৈরি পোশাক শিল্পসহ বিভিন্ন সেক্টরের শ্রমিকদের ঈদের আগে বকেয়া বেতন ও বোনাস নিশ্চিত করতে শ্রমবান্ধব সরকারের উদ্যোগে সকল ব্যাংক এবং অংশীজনদের সঙ্গে কথা বলে কারখানার শ্রমিক, মালিক ও বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশনকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন কৌশল ও পরিকল্পনায় একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও আনন্দঘন পরিবেশে শিল্প-কারখানার শ্রমিকদের ঈদ আনন্দ নিশ্চিত করা হয়েছে। ফলে আমরা দেখেছি, ঈদের ঠিক আগে বকেয়া বেতনের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ বা শিল্পাঞ্চলে সেই রকম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়নি, যা ছিল বিগত সময়ের নিয়মিত ঘটনা। প্রায় সকল কারখানায় সময়মতো শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ সম্ভব হয়েছে, নিশ্চিত করা হয়েছে উৎসবমুখর ঈদের পরিবেশ। এর ফলে লাখো শ্রমিক ও তাদের পরিবার আর্থিক স্বস্তি নিয়ে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে পেরেছেন এবং দেশের শিল্পাঞ্চল জুড়ে বিরাজ করেছে শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল ও উৎসবমুখর পরিবেশ।

মাহদী আমিন বলেন, তৃতীয় উদ্যোগ ছিল—দেশি পশুর বাজার ও সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ। স্থানীয় খামারিদের স্বার্থ সুরক্ষায় সীমান্ত দিয়ে অবৈধ গবাদিপশু অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। পশুর হাটগুলোতে ছিল সার্বক্ষণিক মনিটরিং ব্যবস্থা। বাজারে দেশি গরু, ছাগল, মহিষ ও ভেড়ার পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় দেশজুড়ে কোরবানির পশুর সংকট তৈরি হয়নি। প্রায় ১ কোটি ১ লাখ পশুর চাহিদার বিপরীতে কোরবানিযোগ্য পশু ছিল ১ কোটি ২৩ লাখ এবং এভাবেই প্রথমবারের মতো নিশ্চিত হয় কোরবানিতে পশুর স্বয়ংসম্পূর্ণতা। ভারতীয় গরুর অবৈধ প্রবেশ বন্ধ এবং দীর্ঘদিনের প্রভাবশালী সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণে থাকায় দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা স্বস্তির সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ পেয়েছেন। বিগত বছরগুলোতে আমরা দেখেছি রাস্তায় রাস্তায় গরুর হাট বসানোর ফলে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হয়, কিন্তু এবার রাস্তার বদলে খোলা জায়গায় গরুর হাট বসানোয় রাস্তার যানজট থেকে মানুষ রেহাই পেয়েছে। দেশের অধিকাংশ প্রান্তিক খামারি ও গৃহস্থরা পশুর ন্যায্য মূল্য পেয়েছেন, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। তবে বাজারে চাহিদার তুলনায় পশুর সরবরাহ বেশি থাকায়, শেষের দিকে কিছু প্রান্তিক খামারি প্রত্যাশিত মূল্যে পশু বিক্রি করতে পারেননি। সরকারের দৃষ্টিও এ বিষয়টি এড়িয়ে যায়নি। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক খামারিদের স্বার্থ সংরক্ষণ, বাজার ব্যবস্থাপনার আরও উন্নয়ন এবং ভবিষ্যতে তাদের ন্যায্য অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, এবারের ঈদ ঘিরে প্রধানমন্ত্রীর চতুর্থ পদক্ষেপ ছিল—দ্রুত বর্জ্য অপসারণ ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনসহ অন্যান্য সিটি করপোরেশন ও দেশের বড়-বড় পৌরসভাগুলোতে ঈদের দিন দুপুর থেকেই সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা ও অতিরিক্ত জনবল নিশ্চিত হয়। কোরবানির পরবর্তী ৮ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে ঢাকা শহরের অধিকাংশ এলাকার বর্জ্য অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে, যা অতীতে বেশ কয়েক দিন সময় নিত। বিচ্ছিন্ন কিছু জায়গা ছাড়া প্রায় সর্বত্র ঈদের রাতের মাঝেই পরিচ্ছন্নতা অর্জন স্থানীয় নাগরিক সেবার একটি নতুন মাইলফলক। এই বর্জ্য অপসারণের সঙ্গে সম্পৃক্ত সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা কর্মীগণ, যারা পরিবারের সঙ্গে সময় না কাটিয়ে শহরের পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্য রক্ষায় নিয়োজিত ছিলেন, তাদের সাধুবাদ জানাই। ঈদের পরদিন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি নিজে গাড়ি চালিয়ে বিভিন্ন সড়কের পরিস্থিতি, অর্থাৎ সরাসরি মাঠপর্যায়ের কাজ পরিদর্শন করেন, যা দেশীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের ইতিহাসে একটি বিরল ও নজিরবিহীন ঘটনা। পরিদর্শনকালে, ঈদুল আজহার কোরবানির বর্জ্য অপসারণে অবহেলার দায়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকার উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের একাধিক আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এর মাধ্যমে দায়িত্বশীলতা, জবাবদিহি এবং সেবার মান নিশ্চিত করার বিষয়ে সরকারের দৃঢ় অবস্থান স্পষ্ট হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর এই সশরীরে তদারকি ও জনগণের সুখ-দুঃখের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ার মানসিকতা মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কাজের স্পৃহা বহুলাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে।

মাহদী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পঞ্চম পদক্ষেপ ছিল—গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ও বিশেষ সুবিধা। ঈদে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধে কাউন্টারগুলোতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি ছিল। পাশাপাশি, প্রথমবারের মতো রেলে এবং মেট্রোরেলে নারীদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করতে আলাদা সংরক্ষিত কোচ বা বগি চালু এবং প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের জন্য নির্ধারিত ভাড়ার ওপর বিশেষ ছাড় প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এবারের ঈদ যাত্রায় কোনো ধরনের অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের ঘটনা ঘটেনি, বরং লঞ্চে সরকার নির্ধারিত ভাড়া রুট ভেদে ৫-৮ শতাংশ ডিসকাউন্টের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাস, লঞ্চসহ সকল যানবাহনে ডিজিটাল বোর্ড, স্টিকারের মাধ্যমে ভাড়ার তালিকা দৃশ্যমান রাখা হয়েছে। লঞ্চে হুইলচেয়ার, ট্রলির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, লঞ্চঘাট রাখা হয়েছে সম্পূর্ণ কুলি ও হকারমুক্ত, মালামাল বহনের জন্য কোনো যাত্রীকে টাকা খরচ করতে হয়নি। বছিলা ও কাঞ্চন ব্রিজ এলাকায় নতুন লঞ্চঘাট স্থাপন করে সেখান থেকে নিয়মিত লঞ্চ ছাড়া হয়েছে, যার ফলে এলাকাভিত্তিকভাবে মানুষ এসব জায়গা থেকে যাত্রা করতে পেরেছে, সবাইকে সদরঘাটে যেতে হয়নি, এই ঘটনা নিশ্চয়ই সরকারের একটি অবিস্মরণীয় উদ্যোগ। ন্যায্য ভাড়া ও হয়রানিমুক্ত যাত্রীসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের অভূতপূর্ব ভূমিকা ছিল জোরালো ও সাহসী।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ষষ্ঠ পদক্ষেপ ছিল—চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট বিরোধী অভিযান। পশুবাহী ট্রাকে চাঁদাবাজি রোধে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কার্যকর ও শক্ত ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে পশুর হাটে ইজারা বহির্ভূত চাঁদা আদায় বন্ধেও কঠোর অবস্থানে ছিল। মহাসড়কে পশুবাহী গাড়ি থামিয়ে চাঁদাবাজির ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করায় বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি হয়নি, মধ্যস্বত্বভোগী চক্রের প্ররোচনায় অস্বাভাবিকভাবে দাম বাড়েনি এবং সাধারণ ক্রেতারা তুলনামূলক স্থিতিশীল দামে পশু ক্রয় করতে পেরেছেন।

উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, এবারের ঈদে প্রধানমন্ত্রীর সপ্তম গণমুখী উদ্যোগ ছিল—লোডশেডিং নিয়ন্ত্রণ ও বিদ্যুৎ সরবরাহ। ঈদের ছুটিতে কলকারখানা বন্ধ থাকার সুযোগ এবং জ্বালানি ব্যবস্থাপনার সমন্বয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিভাগকে নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। উৎপাদনে বহু বছরের সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও, এই তীব্র গরমের মধ্যেও ঈদের দিন এবং পরবর্তী দিনগুলোতে দেশের সিংহভাগ এলাকায় লোডশেডিংয়ের মাত্রা সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছে। একটি সমন্বিত ও কার্যকর বিদ্যুৎ পরিকল্পনা গ্রাহক পর্যায়ে বাস্তবতার আলোকে কিছুটা স্বস্তি এনেছে। ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দুর্নীতির অভয়ারণ্য বিদ্যুৎ খাতে গ্রাহক পর্যায়ে চাহিদা ও সরবরাহের সমন্বয়ের মাধ্যমে মৌসুমি দুর্যোগের ফলে যে বিদ্যুৎ বিপর্যয় হয়েছিল, তা দূর করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব প্রদর্শন করেছে। আপনারা অবহিত আছেন যে, ইতোমধ্যে পুরো বিদ্যুৎ খাতকে আরও সেবামুখী ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানির সকল উৎস ব্যবহারে সচেষ্ট।

অষ্টম পদক্ষেপ হিসেবে সামাজিক সংবেদনশীলতা ও জননিরাপত্তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে মাহদী আমিন বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া কোরবানি-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন স্পর্শকাতর বিষয় বা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর কঠোর নজরদারি জোরদার করা হয়েছিল। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ নামক আলোচিত মহিষটির সংরক্ষণ ও চিড়িয়াখানায় প্রেরণের মাধ্যমে সম্ভাব্য অপ্রীতিকর ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি এড়িয়ে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা হয়েছে। ঈদুল আজহার দিন বা এই বন্ধে উল্লেখযোগ্য সামাজিক সংঘাত বা নৈরাজ্যজনক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়নি। সারাদেশে উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে ঈদের নামাজ। ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের মেলবন্ধনে দেশজুড়ে উদ্‌যাপিত হয়েছে ঈদুল আজহা।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, নবম পদক্ষেপ ছিল—চামড়া শিল্পের দাম নির্ধারণ ও তদারকি। লবণের জোগান নিশ্চিত করা এবং ট্যানারি মালিকদের সিন্ডিকেট ভাঙতে কাঁচা চামড়ার ন্যূনতম মূল্য যথারীতি আগেভাগেই নির্ধারণ করে দেয় সরকার। মৌসুমি ব্যবসায়ীরা অতীতে চামড়ার দাম না পেয়ে রাস্তায় ফেলে দেওয়ার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল, এবার মাঠপর্যায়ে নজরদারির কারণে চামড়া অবিক্রিত থাকার বা নষ্ট হওয়ার হার অনেকটাই কমেছে। কোরবানির মৌসুমে চামড়ার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। চামড়া কেনাবেচায় সিন্ডিকেট বা কারসাজি যাতে না ঘটে, সে জন্য মাঠপর্যায়ে তদারকি ও তথ্য অনুসন্ধান অব্যাহত রাখা হয়েছে। কোথাও-কোথাও চামড়া অবিক্রীত থাকার তথ্য পাওয়া গেলেও, তা সাম্প্রতিক বছরসমূহের তুলনায় অনেক কম। সরকার ভবিষ্যতে কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতের ব্যাপারে বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

ঈদে প্রধানমন্ত্রীর নেওয়া দশম ও সর্বশেষ উদ্যোগ ছিল নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখা। এ নিয়ে মাহদী আমিন বলের, ঈদের আগে চাল, ডাল, মসলা, তেল, চিনিসহ কোরবানি-সংশ্লিষ্ট নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশেষ টাস্কফোর্স নিয়মিত বাজার তদারকি পরিচালনা করেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির চাপ থাকা সত্ত্বেও, উৎসবের সুযোগ নিয়ে খুচরা বাজারে যেভাবে হঠাৎ দাম আকাশচুম্বী করা হতো, এবার সরকারি নজরদারির কারণে তা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা গিয়েছে। উৎপাদনকারী, আমদানিকারক, সরকারি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহের সমন্বয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রেখে প্রান্তিক মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মাঝে রাখার জন্য সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তবু দীর্ঘদিনের দুঃশাসন, দুর্নীতি ও দুর্বৃত্তায়নে ক্লান্ত জনগণ।

মাহদী আমিন বলেন, ফ্যাসিবাদী ১৬ বছরের প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয় ও ধ্বংসস্তূপ মাত্র তিন মাসে সম্পূর্ণরূপে দূর করা সম্ভব নয়, এই কঠিন বাস্তবতা দেশবাসী অনুধাবন করে। তবু দীর্ঘদিনের দুঃশাসনে ক্লান্ত জনগণ এবারের ঈদে উপলব্ধি করেছে যে, রাষ্ট্র তাদের প্রতি সংবেদনশীল এবং প্রশাসন কেবল ক্ষমতার কেন্দ্র নয়, বরং জনসেবার কার্যকর ও দায়িত্বশীল মাধ্যম।

তিনি বলেন, আমরা অতীতে দেখেছি বিভিন্ন দিবস উদ্‌যাপনের নামে সরকারি দপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং প্রশাসনিক কাঠামোকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে ব্যস্ত রাখা হয়েছে। সেখানে রাষ্ট্রীয় সম্পদের অপচয় হয়েছে, জনগণের অর্থ ব্যয় হয়েছে, এমনকি ব্যবসায়ীসহ নানা মহল থেকে আয়োজনের নাম করে বিপুল পরিমাণ অর্থ বলপূর্বক আদায় করা হয়েছে। কিন্তু একটি দায়িত্বশীল, গণমুখী ও জবাবদিহিমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতির লক্ষ্য হওয়া উচিত জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার প্রদর্শন নয়।

তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার যে গণমুখী ও জনসম্পৃক্ত রাজনৈতিক আদর্শ, সেটিকে পাথেয় করেই গণমানুষের নেতা তারেক রহমান বিশ্বাস করেন, রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে কাউকে রাজনৈতিকভাবে প্রচার করা যায়, সাময়িকভাবে ব্যক্তিপূজার পরিবেশও তৈরি করা যায়; কিন্তু জনগণের হৃদয়ে স্থায়ী আসন তৈরি করা যায় না। ইতিহাস সাক্ষী ক্ষমতার বলয়ে নির্মিত জনপ্রিয়তা ক্ষণস্থায়ী; কিন্তু মানুষের ভালোবাসা, আস্থা ও শ্রদ্ধার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা রাষ্ট্রনায়কোচিত নেতৃত্ব যুগের পর যুগ বেঁচে থাকে, যার প্রমাণ শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, যার প্রমাণ দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া।

সংবাদ সম্মেলন আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনির সঞ্চালনায় আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার এস এ এম মাহফুজুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলু, মো. সুজাউদ্দৌলা, শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন প্রমুখ।


হামের মধ্যেই ডেঙ্গুর চোখ রাঙানি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে একদিকে হাম নিয়ে চলছে ত্রাহি অবস্থা, আর এরই মধ্যে নতুন করে চোখ রাঙাতে শুরু করেছে ডেঙ্গু। টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে কিউলেক্স মশার উপদ্রব কিছুটা কমলেও, পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রধান বাহক এডিস মশা। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এবার ডেঙ্গুর ধরন ও বিস্তার বেশ জটিল আকার ধারণ করতে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গত পাঁচ বছরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশে ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর প্রায় অর্ধেকই ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার বাসিন্দা। এর মধ্যে আবার দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় মৃত্যুর হার তুলনামূলকভাবে বেশি।

হাম উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১,১৩৪: দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে এই রোগে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ১ হাজার ১৩৪ জন। সোমবার (০১ জুন) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত দৈনিক বুলেটিনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

এই নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত দেশে হাম ও এর উপসর্গে মোট ৫৮৮ জনের মৃত্যু হলো। এর মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৯০ জন শিশু। আর হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে বাকি ৪৯৮ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, রোববার (৩১ মে) সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ওপর ভিত্তি করেই এই পরিসংখ্যান প্রকাশ করা হয়েছে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার ও বুধবার পাঁচজন করে এবং গত মঙ্গলবার ১০ জনের মৃত্যুর তথ্য জানানো হয়েছিল।

বুলেটিনে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৯৪ জনে। একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ৫৭ হাজার ৯০২ জন রোগী। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আশ্বস্ত করেছে যে, হামের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে তাদের নজরদারি ও চিকিৎসা কার্যক্রম পুরোপুরি অব্যাহত রয়েছে।

হাসপাতালের বাস্তব চিত্র ও প্রাপ্তবয়স্কদের সংক্রমণ: গতকাল সোমবার বেলা দেড়টার দিকে রাজধানীর মহাখালীর ডিএনসিসি কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, হামে আক্রান্ত হয়ে বহু রোগী সেখানে চিকিৎসাধীন আছেন।

তাদেরই একজন শিল্পী আক্তার। তাঁর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কুমিল্লার ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে গত ২৭ মে তারা এই হাসপাতালে এসেছেন। এর আগে গত ২২ মে অসুস্থ হন লিপি আক্তার। প্রথমে পরিবারের কেউ হামের বিষয়টি বুঝতে পারেননি। সাধারণ জ্বর ও অন্যান্য রোগ ভেবে তারা তিন দিন কুমিল্লার ময়নামতি জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। কিন্তু শারীরিক অবস্থার কোনো পরিবর্তন না দেখে পরে সেখান থেকে লিপিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। ঢাকা মেডিকেল থেকে প্রথমে পাঠানো হয় মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে এবং সেখান থেকে গত ২৯ মে তাকে স্থানান্তর করা হয় ডিএনসিসি কোভিড-১৯ ডেডিকেটেড হাসপাতালে।

এখানে আনার পর লিপি আক্তারকে টানা চার দিন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়েছিল। শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ার পর গত রোববার বিকেলে তাকে চতুর্থ তলার সাধারণ ওয়ার্ডে দেওয়া হয়। আইসিইউতে থাকার সময়টা প্রচণ্ড দুশ্চিন্তায় কেটেছে জানিয়ে লিপি আক্তার বলেন, ‘কখনো এ রকম হাম হবে ভাবি নাই। করোনার মতো ভয়াবহ, আত্মীয়স্বজন কেউ আসে না। সবাইকে দূরত্বে থাকতে হয়।’ লিপি আক্তারের পাশাপাশি হামে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন গাজীপুরের রহিমা আক্তার (৪০), নরসিংদীর মাহমুদুল হাসানসহ (৩২) প্রাপ্তবয়স্ক অন্তত ৪৪ জন মানুষ।

ডেঙ্গুতে ১ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১১০ জন: হামের এই ভয়াবহতার মাঝেই দেশে ডেঙ্গুতে আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১১০ জন রোগী।

সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বুলেটিনে বলা হয়েছে, গত এক দিনে ডেঙ্গু নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটির হাসপাতালে ১ জন ও দক্ষিণ সিটির হাসপাতালে ১২ জন ভর্তি হয়েছেন।

এই দুই সিটি করপোরেশনের বাইরে ঢাকা বিভাগে ১৫ জন, বরিশাল বিভাগে ৩৫ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১২ জন, খুলনা বিভাগে ২১ জন, ময়মনসিংহে ৮ জন, রাজশাহীতে ৫ জন এবং সিলেট বিভাগে ১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া একমাত্র ডেঙ্গু রোগীটি খুলনা বিভাগের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

গত বছর ডেঙ্গুর ব্যাপক দাপট দেখা গেলেও, চলতি বছরের এ পর্যন্ত মশাবাহিত এই রোগে মৃত্যুর সংখ্যা কিছুটা কম। গত মার্চ ও এপ্রিল মাসে ডেঙ্গুতে কারও মৃত্যু হয়নি। তার আগে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে দুজন করে এবং মে মাসে একজনের মৃত্যু হয়েছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছিল নভেম্বর মাসে; সেই একক মাসেই প্রাণ হারিয়েছিলেন ১০৪ জন মানুষ।

বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ ও পূর্বাভাস: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও খ্যাতনামা কীটতত্ত্ববিদ কবিরুল বাশার দীর্ঘদিন ধরে মশা নিয়ে গবেষণা করছেন। তার মতে, বর্তমানের টানা বৃষ্টি ও আর্দ্র আবহাওয়া এডিস মশার প্রজননের জন্য একদম আদর্শ সময়। তিনি পূর্বাভাস দিয়ে বলেন, এবারের ডেঙ্গুর ঢেউ হয়তো ২০২৩ সালের মতো অতটা ভয়াবহ রূপ নেবে না; তবে গত বছরের চেয়ে এর প্রকোপ ও বিস্তৃতি অনেক বেশি হওয়ার শঙ্কা রয়েছে।


banner close