আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ২ হাজার ৭১৩ জন প্রার্থী। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে নিবন্ধিত ৪৪টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩২টি দল। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন ৭৪৭ জন। সে হিসাবে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রত্যয়নপত্র নিয়ে নির্বাচনে উপস্থিত ১৯৬৬ জন প্রার্থী। আর স্বতন্ত্রদের মধ্যে অন্তত ৪০০ জন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন। তবে সাধারণ মানুষের অভিযোগ, নির্বাচনে আসা বড় দল আওয়ামী লীগের মূল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বাইরে অন্যদলগুলোর বেশির ভাগ প্রার্থীই আসনগুলোর মানুষের কাছে অচেনা। প্রায় প্রতিটি আসনেই নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন এমন অনেক অচেনা মুখ যাদের প্রার্থিতা পেতে সমস্যা না হলেও নির্বাচনী লড়াইয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে পরিচিত হতেই পার হয়ে যাবে প্রচারণার বেশির ভাগ সময়। ফলে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, নির্বাচনে প্রার্থী আছে অনেক বেশি, কিন্তু, প্রতিদ্বন্দ্বী কম।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ৩০০ আসনের বিপরীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের (নৌকা) ৩০৩ জন, জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল) ৩০৪ জন, জাকের পার্টি (গোলাপ ফুল) ২১৮ জন, তৃণমূল বিএনপি (সোনালী আঁশ) ১৫১ জন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি- এনপিপি (আম) ১৪২ জন, বাংলাদেশ কংগ্রেস (ডাব) ১১৬ জন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ (মশাল) ৯১ জন, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন (ফুলের মালা) ৪৭ জন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন (বটগাছ) ১৩ জন, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি (হাতঘড়ি) ১৮ জন, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ (চেয়ার) ৩৯ জন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (কাঁঠাল) ১৩ জন, গণফ্রন্ট (মাছ) ২৫ জন, গণফোরাম (উদীয়মান সূর্য) ৯ জন, ইসলামী ঐক্যজোট (মিনার) ৪৫ জন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট (মোমবাতি) ৩৭ জন, জাতীয় পার্টি-জেপি (বাইসাইকেল) ২০ জন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ (গামছা) ৩৪ জন, গণতন্ত্রী পার্টি (কবুতর) ১২ জন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (হাতুড়ি) ৩৩ জন, বিকল্পধারা বাংলাদেশ (কুলা) ১৪ জন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (একতারা) ৮২ জন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন-বিএনএম (নোঙর) ৪৯ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট- বিএনএফ (টেলিভিশন) ৫৫ জন, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (ছড়ি) ৭৪ জন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ- বিএমএল (হাত-পাঞ্জা) ৫ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি- ন্যাপ (কুঁড়েঘর) ৬ জন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মই) একজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (রিকশা) একজন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ (খেজুর গাছ) একজন এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (হারিকেন) দুইজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
এদিকে মনোনয়ন জমার শেষ দিনেই ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম জানিয়েছেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিলের সময়সীমা বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। ফলে বিএনপিসহ যে দলগুলো নির্বাচন বর্জন করেছে তাদের আর মত পাল্টে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসার দৃশ্যমান কোনো সুযোগ নেই। আন্দোলনরত দলগুলোও অবশ্য আগেই এ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতি দিয়েছে।
ফলে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর যাচাই-বাছাই শেষে যেসব প্রার্থী টিকে যাবেন তারাই থাকবেন নির্বাচনী দৌড়ে। তবে প্রতিটি আসনে ভোটের লড়াইয়ে যারা যাচ্ছেন তাদের বেশির ভাগেরই দলের নাম সাধারণ মানুষ জানে না। আর দল অচেনা বলে প্রার্থীরাও অচেনা। ফলে তাদের ধারণা নির্বাচনী লড়াইয়ে আসলে টিকে থাকবেন বড় দলের পরিচিত মুখগুলো। এর মধ্যে শাসক দলের মার্কা নিয়ে লড়াই করা প্রার্থীরা যেমন আলোচনায় থাকবেন, তেমনই অনেক আসনেই তাদের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমাতে পারেন নির্বাচনে আসা আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। কেননা, দলটির স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বেশির ভাগই স্থানীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত এবং তাদের মোটামুটি ভোট ব্যাংক অথবা এলাকাবাসীকে প্রভাবিত করার সক্ষমতা রয়েছে। নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া ৭৪৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে অন্তত ৪০০ জনই আওয়ামী লীগের।
যদিও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গত কয়েক দিনের মতো গতকালও বলেছেন, দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ঢালাওভাবে নির্বাচন করতে পারবেন না। এ ছাড়া ১৪-দলীয় জোটের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির সম্ভাবনা রয়েছে আওয়ামী লীগের। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন, নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আসতে পারবেন জোটের এমন প্রার্থীরাই কেবল থাকবেন বিবেচনায়। আর ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করে তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
এর ফলে এটা স্পষ্ট যে, জোটের সঙ্গে সমঝোতা হলে কয়েকটি আসনে আওয়ামী লীগ যাদের মনোনয়ন দিয়েছে তাদেরও রণে ভঙ্গ দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে হবে।
তবে আওয়ামী লীগ সভাপতি নির্বাচনী কৌশল হিসেবে এবার দলীয় মার্কার বাইরে দলীয় প্রার্থীদের স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড়ানোর সুযোগ দেয়ায় নির্বাচনে আসা প্রার্থীদের কতজন আবার দল চাইলে নির্দেশ মেনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন সেটাও আছে দেখার বিষয়।
তবে এই আলোচনার বাইরে থেকে যাচ্ছে বেশির ভাগ প্রার্থী যারা বিভিন্ন দল থেকে নির্বাচনে এলেও জনগণের কাছে নিজের দল, দলীয় প্রতীক এবং নিজের পরিচয় প্রকাশ করার সুযোগ পাবেন। তবে প্রতিটি আসনে স্থানীয় ভোটারদের কাছে তারা এখনো অচেনা এবং নতুন মুখ হিসেবে বিবেচিত।
যেমন দল হিসেবে এবারই প্রথম নির্বাচন করছে তৃণমূল বিএনপি, বিএনএম, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি। এসব দলের বেশির ভাগ প্রার্থী নিজ নিজ এলাকার ভোটারদের কাছে নতুন পরিচয়ে উপস্থিত হবেন। অনেকে আবার খুব বেশি পরিচিত নন। একইভাবে তাদের নির্বাচনী প্রতীক যথাক্রমে সোনালী আঁশ, নোঙর ও একতারা চেনাতেও এবার তাদের বিশেষ প্রস্তুতি নিতে হবে।
তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনএমের প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য আছেন ৬ জন এবং তৃণমূলের প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য আছেন ৫ জন।
এদিকে, গতকাল আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর কাদের বলেছেন, বিএনপির ১৫ কেন্দ্রীয় নেতাসহ সাবেক ৩০ জন সংসদ সদস্য নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এদের মধ্যে কাদের সিদ্দিকী, লতিফ সিদ্দিকী, আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর মতো নেতাও আছেন। আবার আগে বিএনপিতে প্রভাব ছিল দলটির এমন সাবেক নেতারাও আছেন নির্বাচনে। এদের মধ্যে তৈমূর আলম, সমশের মবিন চৌধুরীর নাম উল্লেখযোগ্য।
তবে এদের বাইরে নির্বাচনের মাঠে থাকা বেশির ভাগ প্রার্থীই অচেনা। এ বিষয়ে গাজীপুর-৪ আসনের একজন প্রার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমার দল এলাকায় তেমন পরিচিত নয়। দলের প্রচার চালাতে ও এলাকার মানুষের কাছে নিজের পরিচয় তুলে ধরতে এবার ভোট করতে আসা। আমিও জানি নির্বাচনে জয়লাভ করার অবস্থান এখনো আমার বা আমার দলের তৈরি হয়নি। তবে এক দিনে তো কিছুই হয় না। আমাদের দলের আদর্শ ও কর্মসূচি দেশের মানুষ ও এলাকার মানুষকে জানাতে আমরা নির্বাচনে এসেছি।’
অন্যদিকে লালমনিরহাট-৩ আসনে মনোনয়ন জমা দেয়া প্রার্থীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই সদর আসনে ৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সদ্য পদত্যাগকারী সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জাবেদ হোসেন বক্কর, জাতীয় পার্টি থেকে জাহিদ হাসান, তৃণমূল বিএনপি থেকে শামীম আহম্মেদ চৌধুরী, জাকের পার্টি থেকে সকিউজ্জামান মিয়া, বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল থেকে আশরাফুল আলম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) থেকে আবু তৈয়ব মো. আজমুল হক পাটোয়ারী, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) থেকে শ্রী হরিশ চন্দ্র রায় মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তবে এবার তিনি এ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেননি। ফলে এ আসনে নির্বাচনে অংশ নেয়া সব প্রার্থীই নতুন এবং নতুন একজন সংসদ সদস্য পাবে লালমনিরহাট সদরবাসী। তবে নতুন হলেও জেলা ও শহরের রাজনীতিতে পুরনো মুখ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান। ছাত্ররাজনীতি করায় জাবেদ হোসেন বক্করও সেখানে পরিচিত মুখ। জাকের পার্টি ও জাসদের প্রার্থীকেও অনেকে চেনেন। তবে সাম্যবাদী দল, এনপিপির প্রার্থীর মতো জাতীয় পার্টির প্রার্থীও এলাকার সবার চেনা মুখ নন। ফলে যে আসন থেকে জাতীয় পার্টি বর্তমান সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছে সেখানে নতুন মুখ দেয়ায় মাঠের রাজনীতিতে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন এলাকার অনেক বাসিন্দা।
বিষয়টা আরও স্পষ্ট হয় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনার ৬টি আসন বিশ্লেষণ করলে। দৈনিক বাংলার খুলনা ব্যুরো জানায়, খুলনার এই ৬টি আসনের জন্য সেখানে ৫৩ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে যারা সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচন করবেন, তাদের অধিকাংশেরই রাজনীতিতে তেমন কোনো পরিচিতি নেই। হঠাৎ করেই তারা কেন সংসদ নির্বাচনে আগ্রহী হলেন, এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে উত্তরও দেননি অধিকাংশ প্রার্থী।
খুলনা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের মনোনীত ৬ জন প্রার্থী, আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র ২ জন এবং জাতীয় পার্টির একজন প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচিতি রয়েছে। বাকি ৪৪ জন প্রার্থী কখনো রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয় ছিলেন না।
খুলনা প্রতিনিধির বিশ্লেষণ অনুযায়ী খুলনা-১ আসনের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ৬ জন। তারা হলেন, জাকের পার্টির মো. আজিজুর রহমান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ননী গোপাল মণ্ডল, জাতীয় পার্টির কাজী হাসানুর রশিদ, তৃণমূল বিএনপির গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রশান্ত কুমার রায় ও আবেদ আলী শেখ।
এদের মধ্যে ননী গোপাল মণ্ডল ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। রাজনীতিতে তার পরিচিতি রয়েছে। তবে বাকি চারজন রাজনীতিতে একেবারেই অপরিচিত। তারা প্রত্যেকেই এবার প্রথম সংসদ নির্বাচন করছেন। এদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রশান্ত কুমার রায় পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সাবেক সচিব।
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আমি নির্বাচন করছি। আমাকে ডামি প্রার্থীও বলা যাবে। এটা দলীয় নির্দেশেই হচ্ছে।’
আওয়ামী লীগের ননী গোপাল মণ্ডল বলেন, ‘দল আমাকে আবারও সুযোগ দিয়েছে। আমি দলের সম্মান রাখব বলে আশাবাদী।’
তবে বাকি চার প্রার্থীর তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই। জাতীয় পার্টীর কাজী হাসানুর রশিদ ও তৃণমূল বিএনপির গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিকের কাছে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেও কোনো উত্তর মেলেনি।
আর জাকের পার্টি মো. আজিজুর রহমান বলেন, ‘দল থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে বলেছে, তাই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি।’
অন্যদিকে খুলনা-২ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৯ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল, গণতন্ত্র পার্টির মো. মতিয়ার রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের দেবদাস সরকার, জাকের পার্টির ফরিদা পারভিন, ইসলামী ঐক্যজোটের হিদায়েতুল্লাহ, জাতীয় পার্টির মো. গাউসুল আজম, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের বাবু কুমার রায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সাঈদুর রহমান।
এদের মধ্যে শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থীর রাজনৈতিকভাবে পরিচিতি রয়েছে। তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। তবে বাকিদের আগে কখনো রাজনৈতিক মাঠে দেখা যায়নি।
কেন প্রার্থী হয়েছেন- এমন প্রশ্নে বাংলাদেশ কংগ্রেসের দেবদাস সরকার বলেন, ‘অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে মনোনয়ন জমা দেয়া হচ্ছে, তাই আমরাও দিচ্ছি।’
খুলনা-৩ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৫ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের এস এম কামাল হোসেন, জাকের পার্টির এস এম সাব্বির হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, স্বতন্ত্র প্রার্থী কাইজার আহমেদ ও ফাতেমা জামান সাথী।
এদের মধ্যেও শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচিতি রয়েছে। তিনি দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। তিন বারের সংসদ সদস্য ও দুই বারের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানকে সরিয়ে তাকেই আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিয়েছে। তবে ওই আসনেরও বাকি চারজনের তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই।
খুলনা-৪ আসন থেকে মনোনয়ন নিয়েছেন ১৪ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের আব্দুস সালাম মূর্শেদী, জাকের পার্টির শেখ আনছার আলী, জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এস এম আজমল হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. ফরহাদ আহমেদ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. মোস্তাফিজুর রহমান, তৃণমূল বিএনপির শেখ হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মনিরা সুলতানা, ইসলামী ঐক্যজোটের রিয়াজ উদ্দীন খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জুয়েল রানা, এম ডি এহসানুল হক, মো. রেজভী আলম, এস এম মোর্ত্তজা রশিদী দারা, আতিকুর রহমান ও এইচ এম রওশান জমির।
এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের আব্দুস সালাম মূর্শেদী বর্তমান সংসদ সদস্য। ২০১৮ সালের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে তিনি জয়ী হয়েছিলেন।
এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম মোর্ত্তজা রশিদী দারার দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস রয়েছে। তিনি ওই আসনের তিন বারের সাবেক সংসদ সদস্য এস এম মোস্তফা রশিদী সুজার আপন ভাই।
তিনি বলেন, এলাকার মানুষের দোয়া নিয়ে মাঠে নেমেছি। জয়-পরাজয় এলাকার মানুষই নির্ধারণ করবেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই আসনে আওয়ামী লীগের এই দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এলাকার ভোটাররা বলছেন, বাকি ১২ জন প্রার্থীদের নাম খুব একটা শোনেননি তারা। কেউ কেউ একেবারেই অপরিচিত।
খুলনা-৫ আসনের জন্য মনোনয় জমা দিয়েছেন ৭ জন। তারা হলেন- জাতীয় পার্টির মো. শহীদ আলম, জাকের পার্টির সামাদ সেখ, আওয়ামী লীগের নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, ওয়ার্কার্স পার্টির শেখ সেলিম আকতার, বাংলাদেশ কংগ্রেসের এস এম এ জলিল, ইসলামী ঐক্যজোটের তরিকুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ আকরাম হোসেন।
এদের মধ্যে নারায়ণ চন্দ্র চন্দ একাধিক বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী। এ ছাড়া আকরাম হোসেন ফুলতলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। এই আসনেও আওয়ামী লীগের এই দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ভোটাররা। বাকি যারা প্রার্থী হয়েছেন এলাকার রাজনীতিতে তাদের তেমন কোনো পরিচিতি নেই বলে জানা গেছে।
খুলনা-৬ আসনের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ১২ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের মো. রশীদুজ্জামান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. আবু সুফিয়ান, জাকের পার্টির শেখ মর্তুজা আল মামুন, জাতীয় পার্টির মো. শফিকুল ইসলাম মধু, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মির্জা গোলাম আজম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এস এম নেওয়াজ মোরশেদ, তৃণমূল বিএনপির গাজী নাদীর উদ্দীন খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম রাজু, গাজী মোস্তফা কামাল, জি এম মাহবুবুল আলম, মো. মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর ও মো. অহিদুজ্জামান মোড়ল।
এদের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত মো. রশীদুজ্জামানের কোনো দলীয় পদ নেই। তিনি একসময় পাইকগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্যসচিব ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে জামানত হারিয়েছিলেন। তবে তাকেই মনোনয়ন দিয়ে চমক সৃষ্টি করেছে ক্ষমতাসীন দল। ওই আসনে রাজনৈতিকভাবে পরিচিত রয়েছে জাতীয় পার্টির মো. শফিকুল ইসলাম মধুর। তিনি আগেও খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। বাকি প্রার্থীদের তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই। এলাকার সবার কাছে পরিচিত মুখও নন অনেকে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশির ভাগ আসনেই ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীদের স্থানীয়রা তেমন একটা চেনেন না। তবে বিরোধীদের এক অংশ নির্বাচন বর্জন করায় রাজনীতির নতুন সমীকরণ মেলাতে ছোট দলগুলোই নির্বাচনে হতে যাচ্ছে বড় দলগুলোর সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনীযুদ্ধ পার হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী।
জাসদের মাঠপর্যায়ের এক রাজনীতিবিদ জসিম মণ্ডল বলেন, ‘নির্বাচন একটা বড় খেলা। এখানে সবাই নামে নিজ নিজ সমীকরণ মেলানোর জন্য। রাজনৈতিক দলগুলোর সমীকরণ হয় এক ধরনের, আবার প্রার্থীর সমীকরণ হয় আরেক ধরনের। সবাই নির্বাচনে জয়ী হতে যেমন অংশ নেয় না তেমনই কেউ কেউ নির্বাচনে যায় অন্যের যাত্রা ভঙ্গ করতে। আবার অনেকের কাছে ‘নির্বাচনে অংশগ্রহণই বড় কথা।’ জয়-পরাজয়ের চেয়েও বড় বিষয় এ সময় পোস্টারিং করে নিজের ছবি ও পরিচিতি পুরো এলাকার মানুষকে দেখানো যায়। এটাও বা কম কিসে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দেশের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষেরই আছে নির্বাচনে দাঁড়ানোর অধিকার। তাই কটা টাকা খরচ করে অনেকেই পরিচিতি বাড়ানোর সুযোগ নেয়। এর ফল তো অসীম-সারাজীবন নানাভাবে এর সুফল মেলে। যারা রাজনীতিতে আছেন, কেবল তারাই বোঝেন নির্বাচনে অংশ নিতে পারার গুরুত্ব।
ঢাকাসহ দেশের সব জায়গায় হাত বাড়ালেই মাদক- মেমন মদ, গাঁজা, ইয়াবা, আইস, হিরোইনসহ নানা নেশাদ্রব্য পাওয়া যাচ্ছে হাত বাড়ালেই। এসব মাদকের কারবার ঘিরে দেশে গড়ে উঠেছে অপরাধী চক্র। হত্যা, খুন, ধর্ষণসহ নানা অপরাধের মূলে রয়েছে এসব মাদক। বিশেষ করে তরুণ ও কিশোররা মাদকের ছোবলে পড়ে নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে।
সারাদেশে মাদক কারবারের ফলে হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধ বেড়েই চলেছে। প্রতিদিন গড়ে দেশে ১০-১২টি হত্যাকাণ্ড ঘটছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। খুনের সংখ্যা প্রতিদিন দ্বিগুণ হারে বাড়ছে। এসব নৃশংস খুনের সঙ্গে মাদক জড়িত বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন। দেশে ব্যাপকহারে আসছে মাদক এবং একইভাবে বাড়ছে মাদকাসক্তের সংখ্যা। মাদকাসক্তদের মধ্যে কিশোর-তরুণদের সংখ্যা বেশি।
অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকদের মতে, ১৫ থেকে ৩০ বছর বয়সিদের সংখ্যাই সর্বাধিক। তারা ইয়াবা ও গাজায় আসক্ত। রাজধানীসহ দেশব্যাপী পাড়া-মহল্লায় ও গ্রামে গ্রামে কিশোর গ্যাং তৈরির মূলেও এই মাদক। নৃশংস হত্যাকাণ্ডসহ অপরাধ বৃদ্ধির পেছনে মাদকই অন্যতম কারণ।
রাজধানীর মোহাম্মদপুর, বছিলা ও রায়েরবাজার বধ্যভূমি এবং কবরস্থানের আশপাশে অর্ধশতাধিক কিশোর গ্যাং রয়েছে। রামদা, চাপাতি, ছুরি, নানা ধরনের অস্ত্র তাদের সঙ্গে থাকে। মোহাম্মদপুর, মিরপুর, উত্তরা, বাড্ডা, সবুজবাগ, যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, লালবাগ, কামরাঙ্গীরচর, পুরান ঢাকাসহ রাজধানী জুড়ে প্রকাশ্যে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা অস্ত্র নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। চাপাতি দিয়ে প্রকাশ্যে কুপিয়ে লোকজনকে হত্যা করে রাস্তার পাশে ফেলে রাখে তারা। অনেক সময় দেহ থেকে হাত-পা বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। এমন নির্মম, নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা করে আসছে।
এছাড়া খুন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধে জড়িত হচ্ছে কিশোর গ্যাং। ভাড়ায় খুন, দখলবাজি ও এলাকার চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণসহ সকল অপরাধ করে আসছে। রাজধানীসহ দেশব্যাপী একটি আতঙ্কের নাম কিশোর গ্যাং। এলাকার বড়ভাই, একশ্রেণির রাজনৈতিক নেতা, ভূমিদস্যুসহ প্রভাবশালী ব্যক্তিরা তাদের কর্তৃত্ব ধরে রাখতে এই সব কিশোর গ্যাংদের তাদের স্বার্থে ব্যবহার করে আসছে।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, মাদক হলো কিশোর গ্যাং, পেশাদার কিলারসহ নিষ্ঠুর অপরাধী হওয়ার অন্যতম কারণ। কিশোর বয়সে যাদের থাকার কথা স্কুলে-কলেজে, যাদের হাতে থাকার কথা বই, তাদের বৃহৎ অংশ এখন মাদক বেচাকেনা ও ব্যবসায় জড়িত। বর্তমানে দেশব্যাপী কিশোর গ্যাংয়ের পাড়া-মহল্লা ও এলাকাভিত্তিক তৎপরতা বেড়েই চলছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ইতোমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছেন যে, দেশব্যাপী মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও অপরাধীদের গ্রেপ্তার অভিযান শুরু করতে। পুলিশ, র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কিশোর গ্যাং সদস্যসহ সকল ধরনের অপরাধীদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনায় রাজধানী ও ঢাকার বাইরে সকল মেট্রোপলিটন এবং সকল জেলার থানা এলাকায় অভিযান শুরু হয়েছে। কিন্তু সে অনুযায়ী দৃশ্যমান ফলাফল ততটা দেখা যাচ্ছে না। তবে রাজধানীর মোহাম্মদপুর (তেজগাঁও) বিভাগসহ কিছু এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই অর্ধশতাধিক কিশোর, তরুণ গ্রেপ্তার, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার হচ্ছে। তবে কিশোর গ্যাং, মাদক ব্যবসা, নীরব চাঁদাবাজি, দখলবাজিসহ অন্যান্য অপরাধ কমেনি। একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, কিশোর গ্যাংকে মাদক ব্যবসা, মার্কেটসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মিল-কারখানার চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ ও জমি দখলে একশ্রেণির ‘বড়ভাই’ ব্যবহার করে আসছে। কিশোর গ্যাং সদস্যসহ অপরাধীদের অনেকে ধরা পড়লেও ‘বড় ভাইদের’ সহযোগিতায় তারা সহজে বের হয়ে আসে এবং পুনরায় পূর্ণ উদ্যমে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, খুন-খারাবি শুরু করে দেয়।
পুলিশ বাহিনীর কোনো সদস্য মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে আইজিজ ব্যাজ, শিল্ড প্যারেড, অস্ত্র-মাদক উদ্ধারের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
আলী হোসেন ফকির বলেছেন, মাদক আমাদের যুব সমাজ ও জাতির ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের পুলিশ সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। তবে পুলিশ বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে যদি কোনো মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় তাহলে তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. সরওয়ার বলেন, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আমরা আশাতিরিক্ত ফল পেয়েছি। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, গোয়েন্দা পুলিশ নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এতে মাদক কারবারিদের অনেকেই আইনের আওতায় এসেছে।
র্যাবের মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি আহসান হাবীব পলাশ বলেছেন, রাজধানীসহ দেশব্যাপী র্যাবের অভিযান চলমান। অনেক অপরাধী গ্রেপ্তার হয়েছে, চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটিত হচ্ছে, খুনিরাও গ্রেপ্তার হচ্ছে। অপরাধে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি জানান।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিপ্তরের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, সীমান্ত দিয়ে ইয়াবাসহ মাদকের চালান আসা বন্ধ করতে হবে। এই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত মাদক নিয়ন্ত্রণে আসবে না, মাদকাসক্তও কমবে না এবং কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতাও বন্ধ হবে না।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ বলেন, সীমান্ত দিয়ে ইয়াবাসহ সকল ধরনের মাদক প্রবেশ বন্ধ করতে না পারলে, শুধু মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পক্ষে সীমিত জনবল দিয়ে তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। সব রাজনৈতিক দল, সমাজ ও অভিভাবকদের মাদক প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে। সিংগাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া ও থাইল্যান্ডসহ অনেক দেশে ইয়াবাসহ মাদক বিক্রি ও ব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর সব আইন রয়েছে। এ আইন প্রয়োগের কারণে দ্রুত সময়ের মধ্যে ওই সব দেশে মাদক নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।
পুলিশের সাবেক আইজিপি মো. নূরুল হুদা বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে রাজধানী থেকে শুরু করে মাঠ পর্যন্ত কঠোর আইন প্রয়োগ করা ছাড়া এটি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে না। পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে সব ধরনের মাদক যেন প্রবেশ করতে না পারে সে বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল বলেন, তার চেম্বারে আসা রোগীদের মধ্যে মাদকাসক্ত কিশোর ও তরুণদের সংখ্যা সর্বাধিক। তারা ফ্রি মাদক পায় এবং সেবন করে। চিকিৎসায় এই আসক্তদের মধ্যে ৯০ শতাংশেরই ভালো হওয়ার সম্ভাবনা কম। নিয়মিত ইয়াবা খেয়ে এই তরুণরা চরম নিষ্ঠুর হয়ে যাচ্ছে। তাদের মধ্যে কোন আবেগ কাজ করে না। তারা আচরণ রূঢ় হয়ে যায়। তাদের পক্ষে খুনসহ সব ধরনের অপরাধই করা সম্ভব।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ কল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, সমাজে মাদকের যত বেশি সহজলভ্যতা থাকবে, মাদকাসক্ত ব্যক্তির সংখ্যাও তত বাড়বে। সেই সঙ্গে বাড়বে অপরাধ প্রবণতা।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ‘তথ্যের স্বচ্ছতা না থাকলে অযথা সন্দেহ তৈরি হয়। তাই মন্ত্রণালয়ের সব কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।’ সরকার ও রাষ্ট্রকে এক করে দেখার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে জনগণের কল্যাণে জবাবদিহিমূলক, দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসনিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে নিজ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেছেন।
কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। সংবিধান, আইন ও বিধিবিধানের বাইরে গিয়ে কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না। আমাদের একটি সংবিধান আছে, যা সব আইন ও বিধির মূল ভিত্তি। রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি স্তরে সেই আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে।’
মতবিনিময় সভায় মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা ও সক্ষমতাকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিচ্ছিন্নভাবে থাকা সক্ষমতাকে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে কেন্দ্রীভূত করতে পারলে প্রশাসনের কার্যকারিতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
মন্ত্রী কর্মকর্তাদের মুক্তভাবে মতামত ও পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানান এবং প্রচলিত আমলাতান্ত্রিক দূরত্ব কমিয়ে অংশগ্রহণমূলক কর্মপরিবেশ তৈরির ওপর জোর দেন। সভায় তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানাসহ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর ও শাখার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দেশে বর্তমানে ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন ভোটার। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন কমিশনের এনআইডি অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন) মো. সাইফুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।
চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হয় উল্লেখ করে সাইফুল ইসলাম জানান, এখন দেশের ভোটার ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন। এরমধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার ৭৩১ জন; নারী ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ২৬৬ জন এবং হিজড়া ১ হাজার ২৪৩ জন।
১২ ফেব্রুয়ারিতে ভোটার ছিল ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন। দেড় মাসের মধ্যে ৬ লাখ ২৮ হাজার ভোটার বাড়ল।
সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে হালনাগাদে নভেম্বর পর্যন্ত যারা ভোটারযোগ্য ছিল তাদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ভোটের পরে চলমান হালনাগাদ অব্যাহত থাকে।
৩১ মার্চ পর্যন্ত যারা নিবন্ধন করেছেন, তাদের নিয়ে চূড়ান্ত তালিকা ১৪ মে প্রকাশের ঘোষণা দেয় নির্বাচন কমিশন। এক্ষেত্রে ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বরের পরে যারা ভোটার হওয়ার আবেদন করেছেন এবং যাদের জন্ম ২০০৮ সালের ১ জানুয়ারি বা তার আগে, তারাই তালিকায় যুক্ত হন।
ইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হয় ২০ এপ্রিল। ভুল সংশোধন বা স্থানান্তরের আবেদন চলে ৩ মে পর্যন্ত। আবেদন নিষ্পত্তির সময় শেষ হয় ৬ মে।
ওমানে একটি গাড়ির ভেতর থেকে প্রবাসী বাংলাদেশি চার ভাইয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ খবরে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের বান্দারাজার পাড়ায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গত বুধবার (১৩ মে) ওমানের মুলাদ্দা নামক এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ধারণা করা হচ্ছে, গাড়ির এসির বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে।
ওমানে বাংলাদেশ দূতাবাস তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। নিহতরা হলেন মো. রাশেদ, মো. শাহেদ, মো. সিরাজ ও মো. শহিদ। তারা আবদুল মজিদের ছেলে এবং চারজনই ওমানে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের সূত্রে জানা যায়, আগামী ১৫ মে তাদের দেশে ফেরার কথা ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পরিবারের এক ভাইয়ের বিয়ের আয়োজন উপলক্ষে তাদের মধ্যে দুই ভাইয়ের শিগগিরই দেশে ফেরার কথা ছিল। বিয়ের কেনাকাটার উদ্দেশে চার ভাই একসঙ্গে বের হওয়ার পর ওমানের মুলাদ্দা এলাকায় একটি গাড়ির ভেতরে তাদের অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়।
ওমান পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, দীর্ঘ সময় গাড়ি চালু অবস্থায় থাকায় এসি থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাসের কারণে তাদের মৃত্যু হতে পারে। তবে এটি দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণ, তা নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্ত ও মেডিকেল রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।
রাজধানীর স্কুলপড়ুয়া শিশুদের বড় অংশ দিনে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ডিজিটাল স্ক্রিনে কাটাচ্ছে বলে উঠে এসেছে এক গবেষণায়। শিশুদের অতিরিক্ত স্ক্রিন সময়ের জন্য তাদের মধ্যে ঘুমের ঘাটতি, মাথাব্যথা, চোখের সমস্যা, অতিরিক্ত ওজন ও মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্পর্ক পেয়েছেন আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) গবেষকরা।
২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ঢাকার ছয়টি স্কুলের ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী ৪২০ শিশুর ওপর চালানো এই গবেষণার ফলাফল বৃহস্পতিবার (১৪ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে আইসিডিডিআর,বি।
সেখানে বলা হয়, তিনটি বাংলা মাধ্যম ও তিনটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের শিশুদের ওপর এই গবেষণা চালানো হয়েছিল। গবেষণার ফল সম্প্রতি জার্নাল অব মেডিকেল ইন্টারনেট রিসার্চ, জেএমআইআর হিউম্যান ফ্যাক্টরসে প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার প্রতি পাঁচ শিশুর মধ্যে চারজন, অর্থাৎ ৮৩ শতাংশ দিনে দুই ঘণ্টার বেশি সময় স্ক্রিন ব্যবহার করে। শিশুদের বিনোদনমূলক স্ক্রিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমা দিনে প্রায় দুই ঘণ্টা। অথচ ঢাকায় শিশুরা স্মার্টফোন, টেলিভিশন, ট্যাবলেট, কম্পিউটার ও গেমিং ডিভাইসে দিনে গড়ে প্রায় ৪ দশমিক ৬ ঘণ্টা সময় কাটাচ্ছে।
গবেষকরা শিশুদের সাক্ষাৎকার, শারীরিক পরীক্ষা, ঘুম, আচরণ ও মানসিক স্বাস্থ্য যাচাইয়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রশ্নপত্র ব্যবহার করেছেন। এর মধ্যে ছিল ‘পিটসবার্গ স্লিপ কোয়ালিটি ইনডেক্স’, ‘স্ট্রেংদস অ্যান্ড ডিফিকাল্টিস কোয়েশ্চেনেয়ার’ এবং ‘ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ওয়েল-বিয়িং অ্যাসেসমেন্ট’।
গবেষণায় দেখা যায়, বেশিক্ষণ স্ক্রিনে থাকা এক তৃতীয়াংশের বেশি শিশু চোখের সমস্যায় ভুগছে। ৮০ শতাংশ শিশু প্রায়ই মাথাব্যথার কথা বলেছে।
যারা দিনে দুই ঘণ্টার বেশি স্ক্রিন থাকে, তারা গড়ে মাত্র ৭ দশমিক ৩ ঘণ্টা ঘুমায়। অথচ ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সি শিশুদের সুস্থ বিকাশে দৈনিক ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন।
গবেষণায় বলা হয়, ঢাকার প্রায় ১৪ শতাংশ শিশুর অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা পাওয়া গেছে, এ হার সবচেয়ে বেশি স্ক্রিনে বেশিক্ষণ সময় কাটানোদের মধ্যে।
একইভাবে প্রতি পাঁচ শিশুর মধ্যে প্রায় দুইজন দুশ্চিন্তা, অতি চঞ্চলতা বা আচরণগত সমস্যার মতো এক বা একাধিক মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছে বলেও গবেষণায় উঠে এসেছে।
গবেষকরা বলছেন, রাতে স্ক্রিনে সময় কাটানো মস্তিষ্ককে উত্তেজিত করে ঘুমের স্বাভাবিক চক্র ব্যাহত করতে পারে। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকায় খেলাধুলা ও শারীরিক পরিশ্রম কমে স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ে। অতিরিক্ত স্ক্রিন সময় চোখের ওপর চাপ, মাথাব্যথা ও মনোযোগ কমে যাওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়।
গবেষণার প্রধান গবেষক ও আইসিডিডিআর,বির অ্যাসিস্ট্যান্ট সায়েন্টিস্ট শাহরিয়া হাফিজ বলেন, ‘বাবা-মায়ের উচিত শিশুদের দেরিতে ঘুমানো, বারবার মাথাব্যথা বা চোখের অস্বস্তি, অস্বাভাবিক খিটখিটে মেজাজ বা নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া, বাইরে খেলাধুলার প্রতি অনীহা অথবা মনোযোগ কমে যাওয়ার মত লক্ষণগুলোকে উপেক্ষা না করা। কারণ এগুলো অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের লক্ষণ হতে পারে; যা তাদের সন্তানদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।’
শিশুদের চোখের যত্নে গবেষকরা ‘২০-২০-২০’ নিয়ম মানার পরামর্শ দিয়েছেন। অর্থাৎ প্রতি ২০ মিনিট স্ক্রিন ব্যবহারের পর ২০ ফুট দূরের কোনো কিছুর দিকে অন্তত ২০ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকতে হবে।
গবেষকরা বলছেন, প্রযুক্তি ব্যবহার বন্ধ করা কোনো সমাধান নয়, বরং বাড়ি ও স্কুলে শিশুদের স্বাস্থ্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণ ডিজিটাল অভ্যাস গড়ে তোলার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। এ জন্য শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের জন্য সহজ নির্দেশিকা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালুর পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
আইসিডিডিআরবির নির্বাহী পরিচালক তাহমিদ আহমেদ বলেন, ডিজিটাল ডিভাইস এখন জীবনের অংশ হলেও শিশুদের সুস্থতার জন্য সীমা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী স্কুলগামী শিশুদের বিনোদনমূলক স্ক্রিন টাইম দিনে ২ ঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বাবা-মায়েদের উচিত সন্তানদের শারীরিক ও মানসিকভাবে বেড়ে উঠতে সাহায্য করার জন্য বাইরের খেলাধুলা, শারীরিক পরিশ্রম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং ডিজিটাল ডিভাইসমুক্ত পারিবারিক সময় কাটাতে উৎসাহিত করা। শিশুদের বিতর্ক, দলবদ্ধভাবে পড়াশোনা, লাইব্রেরিতে যাওয়া এবং গাছের যত্ন নেওয়ার মত ভালো ও সৃজনশীল কাজে অংশ নিতে উৎসাহিত করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে সমুদ্রপথে ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসনের প্রবণতা বন্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক। তিনি বলেছেন, সাগরপথে বিদেশ যাওয়ার এই প্রবণতা ভয়াবহ এবং এটি বন্ধ করতেই হবে। যারা তরুণদের অনিয়মিত অভিবাসনের নামে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের আয়োজিত ‘ফ্রম রিটার্ন টু রাইজ: স্টোরিজ অব রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড রিইন্টিগ্রেশন’ শীর্ষক জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেছেন।
অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং ব্র্যাকের সহ-অর্থায়ন ও বাস্তবায়নে পরিচালিত ‘ইমপ্রুভড সাসটেইনেবল রিইন্টিগ্রেশন অব বাংলাদেশি রিটার্নিং মাইগ্র্যান্টস (প্রত্যাশা-২)’ প্রকল্পের অর্জন ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। বিদেশফেরত অভিবাসীরাও তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বিদেশফেরত মানুষদের পুনর্বাসন ও পুনরেকত্রীকরণে টেকসই উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ও রেইজ প্রকল্পের মাধ্যমে বিদেশফেরত কর্মীদের সহায়তা দিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এই প্রবাসীদের ঘামের টাকায় দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হচ্ছে। তাই তাদের পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্রের দায়িত্ব’।
নুরুল হক বলেন, অনিয়মিত অভিবাসন রোধে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। যারা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর নীতিগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বায়রার সদস্যপদ দিতে শুধু সংখ্যার দিকে না তাকিয়ে মানভিত্তিক গ্রেডিং ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, নিরাপদ অভিবাসন ও বিদেশ ফেরত কর্মীদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার ও বেসরকারি সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সমস্যাগুলো বহুমাত্রিক হওয়ায় যৌথ উদ্যোগ ছাড়া কার্যকর সমাধান সম্ভব নয়।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক শরিফুল ইসলাম হাসান। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাওসার চৌধুরী, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাউন্সেলর ইউরাতে স্মালস্কাইটে মেরভিল।
বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ কর্মী তৈরি, বৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করা এবং বিদেশফেরত কর্মীদের জন্য মনোসামাজিক ও জীবিকা সহায়তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। তারা সতর্ক করে বলেন, বৈধ ও নিরাপদ অভিবাসনের সুযোগ বাড়ানো না গেলে অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সাইফুল হক চৌধুরী, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিচালক লোকমান হোসেনসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত টানা সাত দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, এই দীর্ঘ ছুটির মাঝেও জনস্বার্থে জরুরি সেবার সাথে সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠান ও দপ্তরগুলো যথারীতি খোলা থাকবে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, ফায়ার সার্ভিস, বন্দর কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা সেবা, টেলিফোন, ইন্টারনেট এবং ডাক সেবায় নিয়োজিত কর্মী ও যানবাহন এই ছুটির আওতামুক্ত থাকবে।
একইভাবে চিকিৎসা সেবার গুরুত্ব বিবেচনা করে হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট জরুরি পরিষেবাগুলো ছুটির সময় চালু রাখা হবে। এর ফলে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম বহনকারী যানবাহনগুলো নিয়মিত চলাচল করতে পারবে।
এছাড়া ব্যাংকিং কার্যক্রম এবং আদালতের কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সুপ্রিম কোর্ট থেকে পৃথক নির্দেশনা প্রদান করা হবে।
বেসরকারি খাতের শিল্প-কারখানা বা প্রতিষ্ঠানের ছুটির বিষয়ে বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
মূলত সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখতে এবং জরুরি প্রয়োজন মেটাতেই এই বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
কুমিল্লা নগরীর পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থাকে আধুনিক ও টেকসই করতে ওয়াসা (পানি সরবরাহ ও পয়োনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ) গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
বুধবার (১৩ মে) এ বিষয়ে সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার প্রতিনিধিদের নিয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সভায় কুমিল্লা নগরীর ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা, দ্রুত নগরায়ণ এবং নিরাপদ পানির চাহিদার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি আধুনিক পয়োনিষ্কাশন ও দীর্ঘমেয়াদি নগর–ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়।
সভায় মন্ত্রী বলেন, কুমিল্লা শহরের নাগরিকদের জন্য কার্যকর ও আধুনিক পানি ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে ওয়াসা গঠন একটি সময়োপযোগী উদ্যোগ। তিনি সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও সংস্থাগুলোকে সমন্বয়ের মাধ্যমে দ্রুত প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে নগরবাসীর জন্য নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে পরিকল্পিত ও টেকসই উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা–৬ আসনের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান এবং কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লাসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
বর্তমানে বাংলাদেশে পাঁচটি ওয়াসা রয়েছে। এগুলো হলো ঢাকা ওয়াসা, চট্টগ্রাম ওয়াসা, খুলনা ওয়াসা, রাজশাহী ওয়াসা ও সিলেট ওয়াসা। কুমিল্লায় ওয়াসা গঠিত হলে দেশে ওয়াসার সংখ্যা বেড়ে হবে ছয়টি।
ওয়াসার প্রধান কাজ হলো নগর এলাকায় সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা পরিচালনা করা। পাশাপাশি ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা, বর্জ্যপানি শোধন, পাইপলাইন নেটওয়ার্ক উন্নয়ন ও নগরবাসীর জন্য নিরাপদ ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করাও সংস্থাটির দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। দ্রুত নগরায়ণের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নাগরিক সেবাকে আধুনিক ও কার্যকর করতে ওয়াসা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি, সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকালে কারাগার থেকে তাদের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
এদিন ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
গত ৭ মে দীপু মনিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট চায় প্রসিকিউশন। পরে তাদের হাজিরের জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করেন ট্রাইব্যুনাল।
ওই দিন ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম বলেন, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হত্যাযজ্ঞের সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ছিলেন দীপু মনি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা একদল উচ্ছৃঙ্খল মানুষকে নির্মূল করেছেন বলে আন্তর্জাতিকভাবে প্রচার করেন তিনি। এছাড়া শুরু থেকেই হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশকে উসকানিমূলক বক্তব্য হিসেবে একাত্তর টেলিভিশনের মাধ্যমে প্রচার করেন সাংবাদিক ফারজানা ও মোজাম্মেল বাবু।
বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। আগামী ৭ জুন প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য রয়েছে।
এ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন ছয় আসামি। তারা হলেন- সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহিদুল হক, পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মোল্যা নজরুল ইসলাম, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির উপদেষ্টা মণ্ডলীর সভাপতি শাহরিয়ার কবির ও সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল।
প্রসিকিউশন জানায়, ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতের সমাবেশ ঘিরে ঢাকাসহ চারটি স্থানে ৫৮ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকায় ৩২, নারায়ণগঞ্জে ২০, চট্টগ্রামে ৫ ও কুমিল্লা একজন নিহতের পরিচয় শনাক্ত করেছে তদন্ত সংস্থা।
কয়েক দফা পেছানোর পর অবশেষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় চূড়ান্ত অনুমোদন পেয়েছে ‘পদ্মা ব্যারেজ’ প্রকল্প। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নদী, কৃষি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় দীর্ঘদিনের সংকট নিরসনে এটি সরকারের একটি বিশাল পদক্ষেপ। প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের মোট প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। বুধবার (১৩ মে) সচিবালয়ের মন্ত্রিসভার কক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একনেক সভায় এটি অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রকল্পটি জুলাই ২০২৬ থেকে জুন ২০৩৩ মেয়াদে বাস্তবায়িত হবে। এদিন মোট ৩৬ হাজার ৬৯৫ কোটি ৭২ লাখ টাকা ব্যয়ের ৯টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে একনেক। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ৩৬ হাজার ৪৯০ কোটি ৯৩ লাখ টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ২০৪ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। প্রকল্পগুলোর মধ্যে নতুন ৩টি ও সংশোধিত ৫টি এবং মেয়াদ বৃদ্ধি একটি।
অর্থ এবং পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী; স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ; কৃষি ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ; শিল্প, বস্ত্র ও পাট এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির; সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম; সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী; স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন; আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান; পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা সভায় অংশগ্রহণ করেন।
সভায় অনুমোদিত ৯টি প্রকল্প হলো- সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের চট্টগ্রাম মুসলিম ইনস্টিটিউট সাংস্কৃতিক কমপ্লেক্স স্থাপন (২য় সংশোধন) প্রকল্প এবং গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের বহুতল ভবন নির্মাণ (২য় সংশোধন) প্রকল্প। স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের জেলা শহরে বিদ্যমান মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রকে ৩০ শয্যাবিশিষ্ট মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রে উন্নীতকরণ পুনর্নির্মাণ (প্রথম ফেইজ) প্রকল্প। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হাই-টেক সিটি-২-এর সহায়ক অবকাঠামো নির্মাণ (৩য় সংশোধন) প্রকল্প।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সরকারি শিশু পরিবার এবং ছোটমনি নিবাস নির্মাণ পুনর্নির্মাণ (২য় সংশোধন) প্রকল্প। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সাভার সেনানিবাসে সৈনিকদের আবাসন সমস্যা নিরসনে এসএম ব্যারাক কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের চট্টগ্রাম সিটি আউটার রিং রোড (পতেঙ্গা থেকে সাগরিকা) (৫ম সংশোধিত) প্রকল্প। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পদ্মা ব্যারেজ (১ম পর্যায়) প্রকল্প। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ময়মনসিংহ কম্বাইন্ড সাইকেল বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাস সরবরাহের জন্য ধনুয়া থেকে ময়মনসিংহ পর্যন্ত গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণ প্রকল্প (১ম সংশোধন) প্রকল্প অনুমোদন করা হয়েছে।
সভায় পরিকল্পনা মন্ত্রী ইতোমধ্যে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয় সংবলিত দুটি প্রকল্প সম্পর্কে একনেককে অবহিত করেন। সেগুলো হলো- ময়মনসিংহ জিলা স্কুল, ময়মনসিংহের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প এবং বিমানবাহিনী ঘাঁটি কুর্মিটোলায় বিমানসেনা ব্যারাক কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্প।
পদ্মা ব্যারেজ (১ম পর্যায়) প্রকল্প: ১৯৭৫ সালে ভারতের ফারাক্কা ব্যারেজ নির্মাণের ফলে শুষ্ক মৌসুমে পদ্মা নদীর প্রবাহ মারাত্মকভাবে কমে যায়। ফারাক্কা ব্যারেজের উজানে পানি প্রত্যাহারের ফলে বাংলাদেশের পদ্মা নদী ও এর শাখা নদীগুলো (হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতী, চন্দনা-বারাশিয়া, ইছামতী ও বড়াল) শুকিয়ে গেছে। ফলে লবণাক্ততা বেড়ে গিয়ে কৃষি ও জীববৈচিত্র্য, বিশেষ করে সুন্দরবনের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। এই সংকট মোকাবিলায় রাজবাড়ীর পাংশায় পদ্মা নদীতে একটি বাঁধ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের আওতায় রাজবাড়ী জেলার পাংশা পয়েন্টে ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি ব্যারেজ নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পের প্রধান কারিগরি ও অবকাঠামোগত দিকগুলো হলো:
ব্যারেজ অবকাঠামো: ২.১ কি.মি. দীর্ঘ ব্যারেজে থাকবে ৭৮টি স্পিলওয়ের গেট (প্রতিটি ১৮ মিটার প্রশস্ত) এবং ১৮টি আন্ডার স্লুইসগেট।
পরিবহন ও সংযোগ: ব্যারেজের ওপর দিয়ে একটি রেলওয়ে সেতু নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া বাঁধের ডেককে সড়ক সংযোগ, বিদ্যুৎ সঞ্চালন এবং গ্যাস পাইপলাইন স্থাপনের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদন: প্রথম পর্যায়ে মূল ব্যারেজ ও গড়াই অফটেক স্ট্রাকচারে জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের মাধ্যমে বিনা জ্বালানিতে প্রায় ১১৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে।
নদী পুনরুজ্জীবন: হিসনা-মাথাভাঙ্গা, গড়াই-মধুমতী, চন্দনা-বারাশিয়া, বড়াল ও ইছামতী—এই পাঁচটি নদী সিস্টেম পুনরুজ্জীবিত করা হবে।
ড্রেজিং: গড়াই-মধুমতী নদী সিস্টেমে ১৩৫.৬০ কি.মি. এবং হিসনা নদী সিস্টেমে ২৪৬.৪৬ কি.মি. নিষ্কাশন পুনঃখনন করা হবে। এ ছাড়া ১৮০ কি.মি. এফ্ল্যাক্স বাঁধ নির্মাণ করা হবে।
সরকার বলছে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের প্রায় ৩৭ শতাংশ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে। এটি দেশের ৪ বিভাগের ২৬ জেলার ১৬৩টি উপজেলায় প্রভাব ফেলবে। তবে প্রথম পর্যায়ে ১৯ জেলার ১২০টি উপজেলা সরাসরি সুফল পাবে।
উপকারভোগী জেলাগুলো হলো: খুলনা বিভাগের কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ, মাগুরা, যশোর, নড়াইল, বাগেরহাট, খুলনা ও সাতক্ষীরা; ঢাকা বিভাগের রাজবাড়ী, ফরিদপুর ও গোপালগঞ্জ; রাজশাহী বিভাগের পাবনা, রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং বরিশাল বিভাগের পিরোজপুর।
প্রত্যাশিত সুফল ও লক্ষ্য: সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে:
১. লবণাক্ততা হ্রাস: শুষ্ক মৌসুমে প্রায় ২ দশমিক ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণের মাধ্যমে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
২. কৃষি ও মৎস্য উন্নয়ন: প্রায় ২৯ লাখ হেক্টর নিট চাষযোগ্য এলাকায় সেচ সুবিধা নিশ্চিত হবে। এতে বার্ষিক ধান উৎপাদন ২৩ দশমিক ৯০ লাখ টন এবং মাছ উৎপাদন ২ দশমিক ৩৪ লাখ টন বৃদ্ধি পাবে।
৩. সুন্দরবন রক্ষা: স্বাদুপানির সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ায় সুন্দরবনের ইকোসিস্টেমের ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা পাবে।
৪. অর্থনৈতিক রিটার্ন: প্রকল্পটির অর্থনৈতিক অভ্যন্তরীণ মুনাফার হার (ইআইআরআর) ধরা হয়েছে ১৭ দশমিক ০৫ শতাংশ। এর মাধ্যমে বার্ষিক প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার সমপরিমাণ সামাজিক ও অর্থনৈতিক রিটার্ন পাওয়া যাবে।
বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জ: সম্পূর্ণ প্রকল্পটি বাস্তবায়নে ৫০ হাজার ৪৪৩ কোটি টাকা প্রয়োজন হলেও অর্থায়ন ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে এটিকে দুটি পর্যায়ে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম ধাপে ৩৩ হাজার ৪৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে মূল ব্যারেজ ও গুরুত্বপূর্ণ নদী সিস্টেমের কাজ সম্পন্ন হবে।
তবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা। ১৯৯৬ সালের গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির মেয়াদ এ বছরের ডিসেম্বরে শেষ হতে চলেছে। এ ছাড়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘ব্যারেজের উজানে ক্ষয় এবং ভাটিতে পলি জমার মতো পরিবেশগত ঝুঁকি মোকাবিলায় উন্নত নকশা ও নিয়মিত হাইড্রো-মরফোলজিক্যাল সমীক্ষার প্রয়োজন হবে। তবু এটি বাস্তবায়িত হলে মৃতপ্রায় নদীগুলো আবার প্রাণ ফিরে পাবে এবং উপকূলীয় অঞ্চলের জীবন-জীবিকা সুরক্ষিত হবে।’
হামের টিকা না দিয়ে পরিকল্পিতভাবে শিশু হত্যার দায়ে সদ্য সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নুরজাহান বেগমের বিচার দাবি করেছে ‘সচেতন নাগরিক সমাজ’। সহজে প্রতিরোধযোগ্য হাম রোগে নিষ্পাপ সম্ভাবণাময় শিশু মৃত্যুর জন্য দায়ী ইউনূস-নূরজাহান-সাইদুর গংদের বিচার ও মৃত শিশুদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণের দাবিতে বুধবার (১৩ মে) বিকেলে রাজধানীর ধানমন্ডি ২৭ নম্বরে আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তারা এ দাবি জানান।
ডাক্তার, শিক্ষক, সাংবাদিক, আইনজীবী, কৃষিবিদ ও প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করে বলেন, ‘ইউনিসেফের সহায়তায় প্রতি বছর টিকা দেওয়ায় হাম বাংলাদেশ থেকে হারিয়ে গিয়েছিল। অবৈধ ইউনূস সরকার হামের টাকা আত্মসাৎ করতে ইউনিসেফের সঙ্গে চুক্তি বাতিল করে। পরবর্তীতে আর টিকা ক্রয় না করে বাংলাদেশের কোটি শিশুর জীবন ঝুঁকিতে ফেলেছে। ইতোমধ্যে সরকারি হিসাবে প্রায় ৫০০ শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে। বেসরকারি হিসাবে এই সংখ্যা ১ হাজারের অধিক। আক্রান্ত প্রায় ১ লাখ শিশু।’ শিশুদের এই মৃত্যুকে হত্যা আখ্যায়িত করে ইউনূসের মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছেন বক্তারা।
নিপীড়নবিরোধী সাংবাদিক ফ্রন্টের সদস্য সচিব শেখ জামালে সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন প্রখ্যাত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. জামাল উদ্দিন চৌধুরী, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর ড. অহিদুজ্জামান, কৃষিবিদ সাইদুর রহমান সেলিম, কৃষিবিদ মিজানুর রহমান, অ্যাডভোকেট শামীম আল সাইফুল সোহাগ, ইঞ্জিনিয়ার আতাউল মাহমুদ, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব কামাল পাশা চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নীল দলের কো-কনভেনার অধ্যাপক তৌহিদ রশীদ ও অ্যাডভোকেট খায়ের উদ্দীন শিকদার প্রমুখ।
তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা আমরা বহন করছি। আওয়ামী লীগ সরকারের ভঙ্গুর অর্থনীতির ভার বর্তমান সরকারকে বহন করতে হচ্ছে। বুধবার (১৩ মে) রাজধানীর উত্তরায় মাসব্যাপী ইসলামী প্রতিযোগিতা ‘আলোকিত মাহে রমাদান’-এর চূড়ান্ত বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এমন একসময় দেশের দায়িত্ব নিয়েছি, যখন বিগত সরকারের লুট করে যাওয়া অর্থনীতির কারণে ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা আমরা উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছি। প্রতি বছর আমাদের ৫ বিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ শোধ করতে হবে। আমাদের রপ্তানি আয় বছরে মাত্র ৪০ বিলিয়ন ডলারের মতো। রেমিট্যান্স থেকে আমাদের আয় ২০ থেকে ২২ বিলিয়ন ডলার। আমাদের অর্থনীতি আমদানিনির্ভর, আমাদের ৬০-৭০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করতে হয়। ফলে আমাদের ঘাটতি অর্থনীতি ও ঘাটতি বাজেট নিয়ে চলতে হয়।’
অতীতের সরকারের লুটের দায়দায়িত্ব জনগণকে বহন করতে হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এই ভাঙা ও ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি থেকে দেশকে আবার স্বাবলম্বী করতে এই সরকারের কমপক্ষে দুই বছর সময় লাগবে। সেই কারণে আমাদের সব ভোটারকে সজাগ করতে হবে, যাতে অর্থনৈতিক সংকট পুনরুদ্ধারের এই জটিল সময়ে কেউ আমাদের রাজনৈতিকভাবে বিভাজিত করতে না পারে।’
জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, ‘হাজার বছর ধরে এই দেশে নানা ধর্ম ও নানা বর্ণের মানুষ আমরা শান্তিপূর্ণভাবে বাস করি। এর মধ্যে কোনো সংঘাত ও বিরোধ তৈরি হওয়ার সুযোগ ছিল না। কিন্তু যারা ভোটারবিহীন ও গণবিচ্ছিন্নভাবে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছিল এবং দখল করে থাকতে চেয়েছিল, তারা জনগণের মধ্যে বিভিন্ন কারণে বিভেদ তৈরি করত। এর মধ্যে একটা বড় বিরোধ হচ্ছে ধর্মীয় বিভাজন তৈরি করা।’
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের সঙ্গে গঠনমূলক তর্কবিতর্ক করছি এবং তর্কবিতর্ক আমরা আরও করব। কারণ, গঠনমূলক তর্কবিতর্কের মাধ্যমে দেশকে সঠিক পথে এগিয়ে নেওয়া যায়। কিন্তু কোনোভাবেই আমাদের সংসদের গঠনমূলক সমালোচনা যেন কেউ রাজপথে নিয়ে আসতে না পারে এবং সেই অজুহাতে যাতে আবার রাজনৈতিক ও সামাজিক বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে সে ব্যাপারে আপনাদের সজাগ থাকতে হবে।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত আলেম-ওলামাদেরও এ ব্যাপারে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগামী দুই বছর আমরা যদি একটি শান্তিপূর্ণ সামাজিক পরিবেশ বজায় রাখতে না পারি, তাহলে ভাঙা অর্থনীতিকে আমরা পুনরুদ্ধার করতে পারব না। আমাদের দৈনন্দিন অর্থনৈতিক এবং শান্তিপূর্ণ সামাজিক-ধর্মীয় জীবন অব্যাহত রাখতে পারব না।’
তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আগামী দিনের রাজনীতিতে সামাজিক স্থিতিশীলতা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সেই ক্ষেত্রে আপনারা যারা ধর্মীয় মূল্যবোধ চর্চা করেন, তারা হতে পারেন আমাদের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী।’
ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কোরবানি পশুর চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। এ বছর ঢাকায় গরুর প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬২ থেকে ৬৭ টাকা, যা গত বছর ছিল ৬০ থেকে ৬৫ টাকা। অন্যদিকে ঢাকার বাইরে গরুর প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৭ থেকে ৬২ টাকা, যা গত বছর ছিল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা।
বুধবার সচিবালয়ে কোরবানি সম্পর্কিত বিষয়ের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ সভা শেষে ব্রিফিংকালে এ বিষয়ে জানান বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বাণিজ্যমন্ত্রী উল্লেখ করেন, সরকার এবারও কোরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে কাজ করছে। কোনোভাবেই যাতে মৌসুমি ব্যবসায়ী বা অসাধু সিন্ডিকেট কৃষক ও এতিমখানা-মাদ্রাসাগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারে, সেদিকে নজর রাখবে সরকার।
এ সময় খাসির চামড়ার প্রতি বর্গফুট ২৫-৩০ টাকা এবং বকরির চামড়ার দাম প্রতি বর্গফুট ২২ থেকে ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
বৈঠকে ট্যানারি মালিক, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।