শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬
৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

প্রার্থী বেশি,প্রতিদ্বন্দ্বী কম

ফাইল ছবি
আপডেটেড
২ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০০:১৪
তানজিমুল নয়ন
প্রকাশিত
তানজিমুল নয়ন
প্রকাশিত : ২ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০০:০০

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ২ হাজার ৭১৩ জন প্রার্থী। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে নিবন্ধিত ৪৪টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩২টি দল। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন ৭৪৭ জন। সে হিসাবে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রত্যয়নপত্র নিয়ে নির্বাচনে উপস্থিত ১৯৬৬ জন প্রার্থী। আর স্বতন্ত্রদের মধ্যে অন্তত ৪০০ জন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন। তবে সাধারণ মানুষের অভিযোগ, নির্বাচনে আসা বড় দল আওয়ামী লীগের মূল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বাইরে অন্যদলগুলোর বেশির ভাগ প্রার্থীই আসনগুলোর মানুষের কাছে অচেনা। প্রায় প্রতিটি আসনেই নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন এমন অনেক অচেনা মুখ যাদের প্রার্থিতা পেতে সমস্যা না হলেও নির্বাচনী লড়াইয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে পরিচিত হতেই পার হয়ে যাবে প্রচারণার বেশির ভাগ সময়। ফলে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, নির্বাচনে প্রার্থী আছে অনেক বেশি, কিন্তু, প্রতিদ্বন্দ্বী কম।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ৩০০ আসনের বিপরীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের (নৌকা) ৩০৩ জন, জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল) ৩০৪ জন, জাকের পার্টি (গোলাপ ফুল) ২১৮ জন, তৃণমূল বিএনপি (সোনালী আঁশ) ১৫১ জন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি- এনপিপি (আম) ১৪২ জন, বাংলাদেশ কংগ্রেস (ডাব) ১১৬ জন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ (মশাল) ৯১ জন, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন (ফুলের মালা) ৪৭ জন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন (বটগাছ) ১৩ জন, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি (হাতঘড়ি) ১৮ জন, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ (চেয়ার) ৩৯ জন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (কাঁঠাল) ১৩ জন, গণফ্রন্ট (মাছ) ২৫ জন, গণফোরাম (উদীয়মান সূর্য) ৯ জন, ইসলামী ঐক্যজোট (মিনার) ৪৫ জন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট (মোমবাতি) ৩৭ জন, জাতীয় পার্টি-জেপি (বাইসাইকেল) ২০ জন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ (গামছা) ৩৪ জন, গণতন্ত্রী পার্টি (কবুতর) ১২ জন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (হাতুড়ি) ৩৩ জন, বিকল্পধারা বাংলাদেশ (কুলা) ১৪ জন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (একতারা) ৮২ জন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন-বিএনএম (নোঙর) ৪৯ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট- বিএনএফ (টেলিভিশন) ৫৫ জন, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (ছড়ি) ৭৪ জন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ- বিএমএল (হাত-পাঞ্জা) ৫ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি- ন্যাপ (কুঁড়েঘর) ৬ জন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মই) একজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (রিকশা) একজন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ (খেজুর গাছ) একজন এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (হারিকেন) দুইজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

এদিকে মনোনয়ন জমার শেষ দিনেই ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম জানিয়েছেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিলের সময়সীমা বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। ফলে বিএনপিসহ যে দলগুলো নির্বাচন বর্জন করেছে তাদের আর মত পাল্টে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসার দৃশ্যমান কোনো সুযোগ নেই। আন্দোলনরত দলগুলোও অবশ্য আগেই এ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতি দিয়েছে।

ফলে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর যাচাই-বাছাই শেষে যেসব প্রার্থী টিকে যাবেন তারাই থাকবেন নির্বাচনী দৌড়ে। তবে প্রতিটি আসনে ভোটের লড়াইয়ে যারা যাচ্ছেন তাদের বেশির ভাগেরই দলের নাম সাধারণ মানুষ জানে না। আর দল অচেনা বলে প্রার্থীরাও অচেনা। ফলে তাদের ধারণা নির্বাচনী লড়াইয়ে আসলে টিকে থাকবেন বড় দলের পরিচিত মুখগুলো। এর মধ্যে শাসক দলের মার্কা নিয়ে লড়াই করা প্রার্থীরা যেমন আলোচনায় থাকবেন, তেমনই অনেক আসনেই তাদের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমাতে পারেন নির্বাচনে আসা আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। কেননা, দলটির স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বেশির ভাগই স্থানীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত এবং তাদের মোটামুটি ভোট ব্যাংক অথবা এলাকাবাসীকে প্রভাবিত করার সক্ষমতা রয়েছে। নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া ৭৪৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে অন্তত ৪০০ জনই আওয়ামী লীগের।
যদিও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গত কয়েক দিনের মতো গতকালও বলেছেন, দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ঢালাওভাবে নির্বাচন করতে পারবেন না। এ ছাড়া ১৪-দলীয় জোটের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির সম্ভাবনা রয়েছে আওয়ামী লীগের। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন, নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আসতে পারবেন জোটের এমন প্রার্থীরাই কেবল থাকবেন বিবেচনায়। আর ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করে তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এর ফলে এটা স্পষ্ট যে, জোটের সঙ্গে সমঝোতা হলে কয়েকটি আসনে আওয়ামী লীগ যাদের মনোনয়ন দিয়েছে তাদেরও রণে ভঙ্গ দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে হবে।

তবে আওয়ামী লীগ সভাপতি নির্বাচনী কৌশল হিসেবে এবার দলীয় মার্কার বাইরে দলীয় প্রার্থীদের স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড়ানোর সুযোগ দেয়ায় নির্বাচনে আসা প্রার্থীদের কতজন আবার দল চাইলে নির্দেশ মেনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন সেটাও আছে দেখার বিষয়।

তবে এই আলোচনার বাইরে থেকে যাচ্ছে বেশির ভাগ প্রার্থী যারা বিভিন্ন দল থেকে নির্বাচনে এলেও জনগণের কাছে নিজের দল, দলীয় প্রতীক এবং নিজের পরিচয় প্রকাশ করার সুযোগ পাবেন। তবে প্রতিটি আসনে স্থানীয় ভোটারদের কাছে তারা এখনো অচেনা এবং নতুন মুখ হিসেবে বিবেচিত।

যেমন দল হিসেবে এবারই প্রথম নির্বাচন করছে তৃণমূল বিএনপি, বিএনএম, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি। এসব দলের বেশির ভাগ প্রার্থী নিজ নিজ এলাকার ভোটারদের কাছে নতুন পরিচয়ে উপস্থিত হবেন। অনেকে আবার খুব বেশি পরিচিত নন। একইভাবে তাদের নির্বাচনী প্রতীক যথাক্রমে সোনালী আঁশ, নোঙর ও একতারা চেনাতেও এবার তাদের বিশেষ প্রস্তুতি নিতে হবে।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনএমের প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য আছেন ৬ জন এবং তৃণমূলের প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য আছেন ৫ জন।

এদিকে, গতকাল আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর কাদের বলেছেন, বিএনপির ১৫ কেন্দ্রীয় নেতাসহ সাবেক ৩০ জন সংসদ সদস্য নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এদের মধ্যে কাদের সিদ্দিকী, লতিফ সিদ্দিকী, আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর মতো নেতাও আছেন। আবার আগে বিএনপিতে প্রভাব ছিল দলটির এমন সাবেক নেতারাও আছেন নির্বাচনে। এদের মধ্যে তৈমূর আলম, সমশের মবিন চৌধুরীর নাম উল্লেখযোগ্য।

তবে এদের বাইরে নির্বাচনের মাঠে থাকা বেশির ভাগ প্রার্থীই অচেনা। এ বিষয়ে গাজীপুর-৪ আসনের একজন প্রার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমার দল এলাকায় তেমন পরিচিত নয়। দলের প্রচার চালাতে ও এলাকার মানুষের কাছে নিজের পরিচয় তুলে ধরতে এবার ভোট করতে আসা। আমিও জানি নির্বাচনে জয়লাভ করার অবস্থান এখনো আমার বা আমার দলের তৈরি হয়নি। তবে এক দিনে তো কিছুই হয় না। আমাদের দলের আদর্শ ও কর্মসূচি দেশের মানুষ ও এলাকার মানুষকে জানাতে আমরা নির্বাচনে এসেছি।’

অন্যদিকে লালমনিরহাট-৩ আসনে মনোনয়ন জমা দেয়া প্রার্থীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই সদর আসনে ৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সদ্য পদত্যাগকারী সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জাবেদ হোসেন বক্কর, জাতীয় পার্টি থেকে জাহিদ হাসান, তৃণমূল বিএনপি থেকে শামীম আহম্মেদ চৌধুরী, জাকের পার্টি থেকে সকিউজ্জামান মিয়া, বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল থেকে আশরাফুল আলম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) থেকে আবু তৈয়ব মো. আজমুল হক পাটোয়ারী, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) থেকে শ্রী হরিশ চন্দ্র রায় মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তবে এবার তিনি এ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেননি। ফলে এ আসনে নির্বাচনে অংশ নেয়া সব প্রার্থীই নতুন এবং নতুন একজন সংসদ সদস্য পাবে লালমনিরহাট সদরবাসী। তবে নতুন হলেও জেলা ও শহরের রাজনীতিতে পুরনো মুখ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান। ছাত্ররাজনীতি করায় জাবেদ হোসেন বক্করও সেখানে পরিচিত মুখ। জাকের পার্টি ও জাসদের প্রার্থীকেও অনেকে চেনেন। তবে সাম্যবাদী দল, এনপিপির প্রার্থীর মতো জাতীয় পার্টির প্রার্থীও এলাকার সবার চেনা মুখ নন। ফলে যে আসন থেকে জাতীয় পার্টি বর্তমান সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছে সেখানে নতুন মুখ দেয়ায় মাঠের রাজনীতিতে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন এলাকার অনেক বাসিন্দা।

বিষয়টা আরও স্পষ্ট হয় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনার ৬টি আসন বিশ্লেষণ করলে। দৈনিক বাংলার খুলনা ব্যুরো জানায়, খুলনার এই ৬টি আসনের জন্য সেখানে ৫৩ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে যারা সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচন করবেন, তাদের অধিকাংশেরই রাজনীতিতে তেমন কোনো পরিচিতি নেই। হঠাৎ করেই তারা কেন সংসদ নির্বাচনে আগ্রহী হলেন, এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে উত্তরও দেননি অধিকাংশ প্রার্থী।

খুলনা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের মনোনীত ৬ জন প্রার্থী, আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র ২ জন এবং জাতীয় পার্টির একজন প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচিতি রয়েছে। বাকি ৪৪ জন প্রার্থী কখনো রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয় ছিলেন না।

খুলনা প্রতিনিধির বিশ্লেষণ অনুযায়ী খুলনা-১ আসনের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ৬ জন। তারা হলেন, জাকের পার্টির মো. আজিজুর রহমান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ননী গোপাল মণ্ডল, জাতীয় পার্টির কাজী হাসানুর রশিদ, তৃণমূল বিএনপির গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রশান্ত কুমার রায় ও আবেদ আলী শেখ।

এদের মধ্যে ননী গোপাল মণ্ডল ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। রাজনীতিতে তার পরিচিতি রয়েছে। তবে বাকি চারজন রাজনীতিতে একেবারেই অপরিচিত। তারা প্রত্যেকেই এবার প্রথম সংসদ নির্বাচন করছেন। এদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রশান্ত কুমার রায় পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সাবেক সচিব।

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আমি নির্বাচন করছি। আমাকে ডামি প্রার্থীও বলা যাবে। এটা দলীয় নির্দেশেই হচ্ছে।’
আওয়ামী লীগের ননী গোপাল মণ্ডল বলেন, ‘দল আমাকে আবারও সুযোগ দিয়েছে। আমি দলের সম্মান রাখব বলে আশাবাদী।’

তবে বাকি চার প্রার্থীর তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই। জাতীয় পার্টীর কাজী হাসানুর রশিদ ও তৃণমূল বিএনপির গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিকের কাছে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেও কোনো উত্তর মেলেনি।

আর জাকের পার্টি মো. আজিজুর রহমান বলেন, ‘দল থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে বলেছে, তাই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি।’

অন্যদিকে খুলনা-২ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৯ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল, গণতন্ত্র পার্টির মো. মতিয়ার রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের দেবদাস সরকার, জাকের পার্টির ফরিদা পারভিন, ইসলামী ঐক্যজোটের হিদায়েতুল্লাহ, জাতীয় পার্টির মো. গাউসুল আজম, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের বাবু কুমার রায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সাঈদুর রহমান।

এদের মধ্যে শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থীর রাজনৈতিকভাবে পরিচিতি রয়েছে। তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। তবে বাকিদের আগে কখনো রাজনৈতিক মাঠে দেখা যায়নি।

কেন প্রার্থী হয়েছেন- এমন প্রশ্নে বাংলাদেশ কংগ্রেসের দেবদাস সরকার বলেন, ‘অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে মনোনয়ন জমা দেয়া হচ্ছে, তাই আমরাও দিচ্ছি।’

খুলনা-৩ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৫ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের এস এম কামাল হোসেন, জাকের পার্টির এস এম সাব্বির হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, স্বতন্ত্র প্রার্থী কাইজার আহমেদ ও ফাতেমা জামান সাথী।

এদের মধ্যেও শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচিতি রয়েছে। তিনি দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। তিন বারের সংসদ সদস্য ও দুই বারের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানকে সরিয়ে তাকেই আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিয়েছে। তবে ওই আসনেরও বাকি চারজনের তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই।

খুলনা-৪ আসন থেকে মনোনয়ন নিয়েছেন ১৪ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের আব্দুস সালাম মূর্শেদী, জাকের পার্টির শেখ আনছার আলী, জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এস এম আজমল হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. ফরহাদ আহমেদ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. মোস্তাফিজুর রহমান, তৃণমূল বিএনপির শেখ হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মনিরা সুলতানা, ইসলামী ঐক্যজোটের রিয়াজ উদ্দীন খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জুয়েল রানা, এম ডি এহসানুল হক, মো. রেজভী আলম, এস এম মোর্ত্তজা রশিদী দারা, আতিকুর রহমান ও এইচ এম রওশান জমির।

এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের আব্দুস সালাম মূর্শেদী বর্তমান সংসদ সদস্য। ২০১৮ সালের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে তিনি জয়ী হয়েছিলেন।

এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম মোর্ত্তজা রশিদী দারার দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস রয়েছে। তিনি ওই আসনের তিন বারের সাবেক সংসদ সদস্য এস এম মোস্তফা রশিদী সুজার আপন ভাই।

তিনি বলেন, এলাকার মানুষের দোয়া নিয়ে মাঠে নেমেছি। জয়-পরাজয় এলাকার মানুষই নির্ধারণ করবেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই আসনে আওয়ামী লীগের এই দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এলাকার ভোটাররা বলছেন, বাকি ১২ জন প্রার্থীদের নাম খুব একটা শোনেননি তারা। কেউ কেউ একেবারেই অপরিচিত।

খুলনা-৫ আসনের জন্য মনোনয় জমা দিয়েছেন ৭ জন। তারা হলেন- জাতীয় পার্টির মো. শহীদ আলম, জাকের পার্টির সামাদ সেখ, আওয়ামী লীগের নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, ওয়ার্কার্স পার্টির শেখ সেলিম আকতার, বাংলাদেশ কংগ্রেসের এস এম এ জলিল, ইসলামী ঐক্যজোটের তরিকুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ আকরাম হোসেন।

এদের মধ্যে নারায়ণ চন্দ্র চন্দ একাধিক বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী। এ ছাড়া আকরাম হোসেন ফুলতলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। এই আসনেও আওয়ামী লীগের এই দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ভোটাররা। বাকি যারা প্রার্থী হয়েছেন এলাকার রাজনীতিতে তাদের তেমন কোনো পরিচিতি নেই বলে জানা গেছে।

খুলনা-৬ আসনের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ১২ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের মো. রশীদুজ্জামান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. আবু সুফিয়ান, জাকের পার্টির শেখ মর্তুজা আল মামুন, জাতীয় পার্টির মো. শফিকুল ইসলাম মধু, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মির্জা গোলাম আজম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এস এম নেওয়াজ মোরশেদ, তৃণমূল বিএনপির গাজী নাদীর উদ্দীন খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম রাজু, গাজী মোস্তফা কামাল, জি এম মাহবুবুল আলম, মো. মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর ও মো. অহিদুজ্জামান মোড়ল।

এদের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত মো. রশীদুজ্জামানের কোনো দলীয় পদ নেই। তিনি একসময় পাইকগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্যসচিব ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে জামানত হারিয়েছিলেন। তবে তাকেই মনোনয়ন দিয়ে চমক সৃষ্টি করেছে ক্ষমতাসীন দল। ওই আসনে রাজনৈতিকভাবে পরিচিত রয়েছে জাতীয় পার্টির মো. শফিকুল ইসলাম মধুর। তিনি আগেও খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। বাকি প্রার্থীদের তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই। এলাকার সবার কাছে পরিচিত মুখও নন অনেকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশির ভাগ আসনেই ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীদের স্থানীয়রা তেমন একটা চেনেন না। তবে বিরোধীদের এক অংশ নির্বাচন বর্জন করায় রাজনীতির নতুন সমীকরণ মেলাতে ছোট দলগুলোই নির্বাচনে হতে যাচ্ছে বড় দলগুলোর সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনীযুদ্ধ পার হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী।

জাসদের মাঠপর্যায়ের এক রাজনীতিবিদ জসিম মণ্ডল বলেন, ‘নির্বাচন একটা বড় খেলা। এখানে সবাই নামে নিজ নিজ সমীকরণ মেলানোর জন্য। রাজনৈতিক দলগুলোর সমীকরণ হয় এক ধরনের, আবার প্রার্থীর সমীকরণ হয় আরেক ধরনের। সবাই নির্বাচনে জয়ী হতে যেমন অংশ নেয় না তেমনই কেউ কেউ নির্বাচনে যায় অন্যের যাত্রা ভঙ্গ করতে। আবার অনেকের কাছে ‘নির্বাচনে অংশগ্রহণই বড় কথা।’ জয়-পরাজয়ের চেয়েও বড় বিষয় এ সময় পোস্টারিং করে নিজের ছবি ও পরিচিতি পুরো এলাকার মানুষকে দেখানো যায়। এটাও বা কম কিসে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দেশের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষেরই আছে নির্বাচনে দাঁড়ানোর অধিকার। তাই কটা টাকা খরচ করে অনেকেই পরিচিতি বাড়ানোর সুযোগ নেয়। এর ফল তো অসীম-সারাজীবন নানাভাবে এর সুফল মেলে। যারা রাজনীতিতে আছেন, কেবল তারাই বোঝেন নির্বাচনে অংশ নিতে পারার গুরুত্ব।


রামিসাদের আর্তচিৎকারে আকাশ ভারি হলেও গলে না ঘাতকের মন

# কোমলমতি শিশুর পৃথিবী আজ রক্তাক্ত বধ্যভূমি # বিচার চাই না, আপনারা বিচার করতে পারবেন না : রামিসার বাবা # চিৎকার শুনেছিলাম তবে বুঝতে পারিনি যে সেটি আমার মেয়ের : রামিসার মা # পরিবারও শাস্তি চায় খুনি সোহেলের # নিরাপত্তাহীনতায় শৈশব # ১৬ মাসে ৫২২ শিশু হত্যা
ছবি: রামিসা।খুন হওয়ার আগে পরে।
আপডেটেড ২২ মে, ২০২৬ ০১:৪১
শাহিনুর রহমান

যে বাতাস একটু আগেও স্নিগ্ধতার চাদরে জড়িয়ে রাখছিল চারপাশ; তা আচমকাই ভারি হয়ে উঠল এক আদিম, পৈশাচিক উন্মাদনায়। নিষ্প্রাণ বাতাস যেন সহসা জীবন্ত হয়ে কেঁদে উঠল এক মরণোন্মুখ লাশের শেষ আকুতিতে। অথচ ঘাতকের পাথুরে চোখে তখনো কেবলই বিকৃত উল্লাসের নাচ। তার হাতের ধারালো অস্ত্রের ডগা বেয়ে টপটপ করে ঝরছিল তাজা, উষ্ণ রক্ত। ঠিক তখনই, দরজার ওপাশ থেকে ভেসে আসছিল মায়ের ডাক—মেয়েকে ডাকছেন স্কুলে যাওয়ার জন্য। কিন্তু মা জানেন না, ভেতরে তখন মেয়ের রক্ত দিয়ে পৈশাচিকতার এক নতুন ইশতেহার লিখছে নরপিশাচ। চারদিকের আলোও যেন এই চরম নির্মমতার সাক্ষী হতে না পেরে বারবার শিউরে উঠছিল, ম্লান হয়ে আসছিল ভয়ে। আছিয়া, লামিয়া এবং সবশেষ রামিসা—একের পর এক নিষ্পাপ ফুলকে ছিঁড়ে ফেলছে এই নরপিশাচরা। যে সকাল শিশুর হাসিতে আলোকিত হওয়ার কথা ছিল; আজ সেই সকালই যেন হয়ে উঠছে বেদনার কালরাত, লাশের মিছিল। চারদিকে নিষ্পাপ শিশুদের আর্তচিৎকার। ফেটে যাচ্ছে আকাশ, নিষ্প্রাণ বাতাস। তবু গলছে না ঘাতকের হৃদয়ের পাথর।
আট বছরের রামিসাকে ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যা: রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার কৌশলে তাকে নিজেদের ফ্ল্যাটের ভেতরে নিয়ে যান। এরপর বাথরুমে নিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে ছোট্ট রামিসা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। ঠিক ওই সময়ে রামিসার মা সোহেলের বাসার দরজায় কড়া নাড়তে শুরু করেন। ধরা পড়ে যাওয়ার ভয়ে সোহেল তাৎক্ষণিক রামিসাকে গলা কেটে হত্যা করে।
এরপর মরদেহ গুম করার উদ্দেশে ধারালো ছুরি দিয়ে রামিসার মাথা কেটে শরীর থেকে আলাদা করা হয়। নৃশংসতার এখানেই শেষ নয়, ছুরি দিয়ে শিশুটির যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা হয় এবং দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে লুকিয়ে রাখা হয়। আর খণ্ডিত মাথাটি রেখে দেওয়া হয় একটি বালতির ভেতর। এই পুরো ঘটনার সময় সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না একই রুমে উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য রামিসাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন পরিবারের সদস্যরা। একপর্যায়ে অভিযুক্তদের ফ্ল্যাটের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তারা। অনেক ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন স্বজনরা। তখন ফ্ল্যাটের কক্ষে রামিসার মস্তকবিহীন রক্তাক্ত দেহ ও বালতিতে মাথা দেখতে পান তারা।
জনগণের উপস্থিতি টের পেয়ে কক্ষের জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় মূল ঘাতক সোহেল রানা। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ প্রথমে স্ত্রী স্বপ্নাকে আটক করে। পরবর্তীতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে মূল অভিযুক্ত সোহেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পল্লবী থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়েছে।
৩ বছরের শিশুকে ধর্ষণে উত্তাল চট্টগ্রাম, ঘটনাস্থল ঘেরাও: চট্টগ্রাম নগরীর বাকলিয়ায় তিন বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটকের দাবিতে কয়েক হাজার বিক্ষুব্ধ ব্যক্তি ঘটনাস্থল ঘেরাও করে বিক্ষোভ করছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশও অবরুদ্ধ অবস্থায় পড়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে বাকলিয়া থানার চেয়ারম্যানঘাটায় একটি ভবনে এই ঘটনা ঘটে। অভিযোগ ওঠার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা ভবনটি ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করেন।
ঢাকার পল্লবীর এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার প্রতিবাদে সারাদেশের মতো চট্টগ্রামেও দিনভর বিক্ষোভ হয়। এর মধ্যে নতুন এই ঘটনায় নগরজুড়ে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভুক্তভোগী শিশুটিকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) নেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত যুবককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে পুলিশ।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের দক্ষিণ বিভাগের উপকমিশনার হোসেইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়া বলেন, ‘শিশুটিকে উদ্ধার করে ওসিসিতে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশ অবস্থান করছে।’
কবির ভূঁইয়া আরও বলেন, ‘বিক্ষুব্ধ জনতা যে ভবনে অভিযুক্ত অবস্থান করছেন বলে ধারণা করছে, সেটি ঘেরাও করে রেখেছে। অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ভবন থেকে বের হতে দিচ্ছে না। তাকে উদ্ধার করে আইনের আওতায় আনা হবে।’
বাকলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ কাজ করছে। শিশুটিকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে।
আট বছরের শিশু আছিয়াকেও ধর্ষণের পর হত্যা : মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার জারিয়া গ্রাম। দুপুরে রোদের তীব্রতা থাকলেও, আয়েশা খাতুনের জীর্ণ টিনের ঘরে যেন এক জমাট অন্ধকার। এই ঘরেই থাকত আট বছরের আছিয়া। ২০২৫ সালের ৫ মার্চ মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার জারিয়া গ্রামে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এই মর্মান্তিক ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। বোনের শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে সে লালসার শিকার হয়। হাসপাতালে প্রায় আট দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে সে মারা যায়। তার মা আজও প্রতি রাতে চমকে ওঠেন। আয়েশা খাতুনের বিলাপ, ‘সবাই কথা দিছিল। এক বছর আগে আসামির ফাঁসি হইছে, কিন্তু কার্যকর হয় না। আমি কার কাছে বিচার চাইব?’
আইনজীবীরা জানিয়েছেন, বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে দণ্ডিত আসামির করা আপিল বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। তারা আশা প্রকাশ করেছেন, দ্রুত শুনানি শেষ করে রায় বহাল রেখে চূড়ান্ত কার্যকরের পথে অগ্রগতি হবে।
নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, এমন স্পর্শকাতর মামলার বিচার দীর্ঘ সময় ঝুলে থাকলে অপরাধীরা উৎসাহিত হতে পারে। তারা দ্রুত আপিল নিষ্পত্তি করে রায় কার্যকরের জোর দাবি জানিয়েছেন।
আছিয়ার বিচার থমকে আছে হাইকোর্টের আপিলের টেবিলে। অন্যদিকে, দেশের মানচিত্রজুড়ে গত কয়েক সপ্তাহে একের পর এক শিশুর নিথর দেহ মিলছে। সিরাজদিখান, রানীশংকৈল, রাজশাহী থেকে রাজধানীর পল্লবী—সর্বত্রই যেন এক পৈশাচিক উৎসব চলছে।
নিখোঁজ হুমায়রা জান্নাতের লাশ: গত শুক্রবার সন্ধ্যার আগে আকস্মিকভাবে নিখোঁজ হয় চার বছরের শিশু হুমায়রা জান্নাত। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত নামে। বাড়িতে না ফেরায় মেয়ের খোঁজ করেন মা তোষী খাতুন। খবর দেওয়া হয় বাবা হাসিবুল ইসলাম শান্তকে।
শান্ত কানপাড়া বাজারে একটি ওষুধের দোকান চালান। খবর পেয়ে ছুটে যান বাড়িতে। সারারাত এখানে সেখানে খোঁজাখুঁজি করেও শিশু হুমায়রার সন্ধান না পেয়ে অজানা আতঙ্কে শঙ্কিত হয়ে পড়ে পরিবার। জানানো হয় পুলিশকে। এদিকে নিখোঁজের ২১ ঘণ্টা পর শনিবার দুপুর ২টার দিকে বাড়ির নিকটবর্তী একটি খেজুরগাছের নিচ থেকে শিশু হুমায়রার লাশ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাটি ঘটেছে রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার হাটকানপাড়া বাজার এলাকায়। চার বছরের ফুটফুটে সন্তান হুমায়রাকে হারিয়ে পাগলপ্রায় বাবা-মা। শিশু হুমায়রার হত্যাকাণ্ডে পাড়া-প্রতিবেশীসহ এলাকাবাসীর মাঝে শোকের সঙ্গে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর রোববার বিকেলে শিশু হুমায়রাকে সমাহিত করা হয়।
শিশু হুমায়রার মৃত্যুর বিষয়ে জানতে চাইলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস জানান, সুরতহাল প্রতিবেদন অনুযায়ী শিশুটির শরীরে ছোটখাটো আঘাতের চিহ্ন ছিল। পেট ফোলা ছিল এবং বাম হাতে ছোট কয়েকটি আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।
১০ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা: মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে ১০ বছর বয়সি এক শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে শিশুটির সৎ মামাকে আটক করেছে পুলিশ।
গত শনিবার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলার বালুচর ইউনিয়নের খাসকান্দি মদিনাপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশু ওই এলাকার কাতারপ্রবাসী আনোয়ার হোসেনের মেয়ে। আটক সৎ মামা রাজা মিয়া (৪৫) খুলনার মোড়লগঞ্জের মৃত আকবর হাওলাদারের ছেলে। তিনি প্রায় ৬ বছর ধরে নিহত শিশুর পরিবারের সঙ্গে একই বাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরে নিজ ঘরের খাটের ওপর ওই শিশুর নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখে পরিবারের সদস্যরা পুলিশে খবর দেন। এরপর বিকেল ৪টার দিকে সিরাজদিখান থানা পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে সৎ মামা রাজা মিয়াকে আটক করে।
সিরাজদিখান থানার ওসি আব্দুল হান্নান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মেয়েটিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত সৎ মামাকে আটক করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মুন্সিগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
ভুট্টাক্ষেতে পড়ে ছিল চার বছরের লামিয়ার মরদেহ: ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে নিখোঁজের প্রায় ২১ ঘণ্টা পর লামিয়া আক্তার নামে চার বছরের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে একই গ্রামের এক কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। গত ১৪ মে সকাল ৮টার দিকে উপজেলার ধর্মগড় ইউনিয়নের আনসারডাঙ্গী গ্রামের একটি ভুট্টাক্ষেত থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত লামিয়া ওই গ্রামের শফিকুল ইসলামের মেয়ে।
রাণীশংকৈল থানার ওসি আমানুল্লাহ আল বারী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ মে বেলা ১১টার দিকে লামিয়া বাড়ির পাশে খেলছিল। একপর্যায়ে সে সেখান থেকে নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের পর মেয়েটির পরিবারের লোকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। এমন কি লামিয়ার সন্ধান চেয়ে এলাকায় মাইকিং করা হয়। তাতেও ওইদিন তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায় নি। পরদিন সকালে গ্রামবাসী গ্রামের পাশে একটি ভুট্টাক্ষেতে লামিয়ার মরদেহ দেখতে পায়। থানায় খবর দেওয়া হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ভুট্টাক্ষেত থেকে লামিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে।
পরে স্থানীয় এলাকাবাসী অভিযুক্ত কিশোরকে তার বাড়িতে আটকে রাখে।
ওসি আমানুল্লাহ আল বারী বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ফোর্স পাঠানো হয়েছে। আটক কিশোরের স্বীকারোক্তি অনুসারে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এনিয়ে নিহতের বাবা থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে।
১১ বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা: চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে গত মার্চ মাসে ১১ বছর বয়সি এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়। একটি গুদামে তার লাশ ফেলে রাখে ঘাতক। এ ঘটনার প্রায় তিন মাস পর মূল অভিযুক্ত ও হত্যা মামলার আসামি মো. ফয়সালকে (১৯) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
অতিরিক্ত চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (হাটহাজারী অঞ্চল) কাজী মো. তারেক আজিজ বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে খবর পেয়ে নরসিংদী থেকে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে আদালতে হাজির করা হলে আসামি ফয়সাল স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পুলিশ জানায়, গত ২৪ মার্চ ১১ বছর বয়সী ওই কন্যাশিশু নিখোঁজ হয়। এর দুই দিন পর ২৬ মার্চ ওই শিশুর বাড়ির পাশের একটি তুলার গুদাম থেকে দুর্গন্ধ বের হলে গন্ধের উৎস খুঁজতে গিয়ে লাশ দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশ গুদামের ভেতরে ফেলে রাখা হয় বলে পুলিশ নিশ্চিত করেছে। ওই ভবনের পাশের সিসিটিভি ক্যামেরায় দেখা গেছে, অভিযুক্ত ফয়সাল শিশুটিকে নিয়ে গুদামের ভেতর ঢোকেন। পরে তিনি একা বেরিয়ে যান। এ ঘটনায় ২৬ মার্চ ফয়সালকে আসামি করে হাটহাজারী থানায় মামলা করেন ওই শিশুর মা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শিশুটির বাবা প্রতিবন্ধী। মা স্থানীয় একটি কারখানার শ্রমিক। অভিযুক্ত ফয়সাল শিশুটির সঙ্গে একই কলোনিতে বসবাস করতেন। ফয়সালের বাড়ি বরিশালে। তিনি পেশায় দিনমজুর।
তিন বছরের ফুটফুটে হাবিবকে গলাটিপে হত্যা: রাজধানীর বাড্ডার এই শিশু জন্মদাতার চরম নিষ্ঠুরতায় পৃথিবী ছেড়েছে। যে হাত তাকে পরম নির্ভরতায় আগলে রাখার কথা, সেই হাত তাকে গলা টিপে হত্যা করেছে। গত ২৭ এপ্রিল স্ত্রী শিল্পী খাতুনের কাছে মাদক কেনার টাকা চেয়ে না পেয়ে তার সামনে সন্তানকে গলাটিপে হত্যা করেন শাহিন মিয়া। একইদিন গাজীপুর, বগুড়া ও ময়মনসিংহে গলা কেটে ও পানিতে ফেলে হত্যা করা হয়েছে পাঁচ শিশুকে। তবে শুধু শিশু রামিসা, ইরা কিংবা তিন বছরের হাবিবই শুধু নয়, মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) পরিসংখ্যান বলছে, গত ১৬ মাসে (২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে চলতি বছরের এপ্রিল) হত্যা করা হয়েছে অন্তত ৫২২ শিশুকে। গড়ে মাসে ৩২ জনের বেশি শিশু নিহত হয়েছে। এ সময়ে ধর্ষণসহ চরম নির্যাতনের শিকার হয়েছে ১ হাজার ২২৩ শিশু। গড়ে মাসে ৭৬ জনের বেশি শিশু ধর্ষণসহ নির্যাতনের শিকার হয়েছে।
মাদকাসক্তের বলি শিশুরা: মাদকাসক্তি শুধু একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না, এটি পুরো পরিবার ও সমাজের জন্য হুমকি তৈরি করছে। বিশেষ করে অবাধ বিস্তারে শিশুদের নিরাপত্তা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। সম্প্রতি মাদকাসক্ত বাবার হাতে সন্তান হত্যা, প্রতিবেশীর শিশুসন্তানকে নির্যাতনের পর হত্যা এবং মাদক কেনার টাকার জন্য অপহরণের মতো ঘটনা ঘটেছে। মাদকের প্রভাবে চেনা মানুষ হয়ে উঠছে অচেনা। নির্ভরতা হাত হয়ে উঠছে ঘাতকের হাত।
গত ১৮ মার্চ ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে মাদকের অর্থ সংগ্রহে মরিয়ম আক্তার (৪) নামে এক কন্যাশিশুর গলায় থাকা রুপার একটি চেইন ছিনতাই করে মাদকাসক্ত ইয়াছিন মিয়া (১৬) ও আকাশ (১৫)। ছিনতাইকালে ইয়াছিন ও আকাশকে চিনে ফেলায় শ্বাসরোধে শিশু মরিয়মকে হত্যা করে বাড়ির পাশের একটি মাটির চুলার ভেতর লাশ ভরে রাখে। শিশু মরিয়ম আক্তার একই গ্রামের মিজানুর রহমান ও রিমা আক্তার দম্পতির একমাত্র কন্যা।
সম্প্রতি ঢাকার সাভারে মাদকের টাকা জোগাতে ১২ বছরের এক শিশুকে অপহরণের পর হত্যা করে একটি চক্র। এ ঘটনায় রাব্বানী মোল্লা নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গত ২৪ এপ্রিল ফরিদপুর বাখুন্ডা আশ্রয়ণ প্রকল্পে সাত বছরের শিশু আইরিন আক্তার কবিতাকে ধর্ষণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে হত্যা করে মাদকাসক্ত যুবক ইসরাফিল মৃধা। হত্যার পর শিশুটিকে পাশের বাড়ির শৌচাগারের সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে ফেলে দেয়। গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের রামুতে মাদকের টাকার জন্য তিন বছর শিশু ফাতেমাকে কুপিয়ে হত্যা করে তারই আপন চাচা নরুল হাকিম।
বড়দের দ্বন্দ্বে প্রাণ যাচ্ছে শিশুর: গত ৯ মে ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় বাবার সঙ্গে অনলাইন জুয়ার টাকা নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে এক শিশুকে অপহরণের পর হত্যা করে মরদেহ বস্তায় ভরে সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে লুকিয়ে রাখা হয়। নিহত শিশুটির নাম আন্দালিব সাদমান ওরফে রাফি (৯)। হত্যার অভিযোগে প্রতিবেশী নূর মুহাম্মদ খোকনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, শিশুটির পিতা জহিরুল ইসলামের সঙ্গে অনলাইন জুয়া খেলা নিয়ে প্রতিবেশী খোকনের দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। এর জেরে জহিরুলের ছেলেকে প্রথমে অপহরণ ও পরে হত্যা করে লাশ গুম করে রাখে খোকন। একই দিন চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার রৌফাবাদ এলাকায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় হাসান রাজু (৩২) নামে এক যুবককে। একই ঘটনায় ১১ বছরের রেশমি আক্তার চোখে গুলিবিদ্ধ হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
নরপিশাসদের নখের আঁচড়ে রচিত হচ্ছে মানবতার নির্মম ও কলঙ্কিত অধ্যায়—এই রক্তাক্ত উপাখ্যানের শেষ কোথায়?


খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ইউনিটপ্রতি ১.২৫ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব বিইআরসির

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি (টিইসি) খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম গড়ে ১ টাকা ২৫ পয়সা বাড়ানোর সুপারিশ করেছে।

কারিগরি কমিটির এই সুপারিশ অনুযায়ী দাম বাড়ানো হলে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিদ্যুৎ খাতে সরকারের ভর্তুকি প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত কমবে বলে জানিয়েছে বিইআরসি।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাজধানীর কেআইবি মিলনায়তনে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) দ্বিতীয় দিনের গণশুনানিতে এই প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়।

কমিটির প্রাক্কলন অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৯৫ হাজার ৬১২ মিলিয়ন কিলোওয়াট ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এই পরিমাণ বিদ্যুৎ সরবরাহের বিপরীতে বিতরণ সংস্থাগুলোর মোট ১ লাখ ১৯ হাজার ২৮৫ কোটি টাকা নিট রাজস্ব প্রয়োজন হবে বলে হিসাব করা হয়েছে।

কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির পর্যালোচনা অনুযায়ী, দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ বিতরণ সিস্টেম লস বা বিতরণ লোকসান ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ৭.৩৮ শতাংশ থেকে সামান্য কমে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৭.৩৭ শতাংশে দাঁড়াতে পারে।

গ্রাহক পর্যায়ের ট্যারিফ কাঠামো নিয়ে টিইসি জানিয়েছে, লাইফলাইন গ্রাহকদের (০-৫০ ইউনিট) পরবর্তী ধাপগুলোর বিদ্যমান ‘স্ল্যাব’ বা বিদ্যুৎ ব্যবহারের স্তরে কোনো পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। বর্তমানে যেভাবে বিভিন্ন ধাপে বিদ্যুতের দাম হিসাব করা হয়, তা অপরিবর্তিত থাকবে।

কমিটির সদস্যরা জানান, বিদ্যুতের বর্তমান স্ল্যাব কাঠামোতে কোনো অতিরিক্ত বোঝা চাপানো হবে না। এর আগে ০-৭৫ ইউনিটের প্রথম স্ল্যাবটি বাতিল করে তার পরিবর্তে ০-২০০ ইউনিটের একটি নতুন স্ল্যাব করার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।

তবে কারিগরি কমিটি মনে করে, হঠাৎ স্ল্যাব পরিবর্তন করলে প্রান্তিক পর্যায়ের সাধারণ গ্রাহকরা বিপাকে পড়বেন। ফলে সাধারণ গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় বিদ্যমান স্ল্যাব কাঠামোই বহাল রাখার সুপারিশ করেছে কমিটি।


কাটছাঁটের পরেও লাগছে ৩৭ হাজার কোটি টাকা

* আসন্ন বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দের প্রস্তাব * সরকারি সব খাতের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অন্তর্ভুক্ত * পেনশনের হার শতভাগের কাছাকাছি বৃদ্ধির প্রস্তাব
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নবম জাতীয় পে স্কেল নিয়ে সচিব কমিটির ডাকা গুরুত্বপূর্ণ সভা শেষ হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) সচিবালয়ে এই বৈঠক শুরু হয়ে দুপুরে শেষ হয়। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে গেলে সরকারের অতিরিক্ত ৪৩ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতো। তবে একটু কাটছাঁট করে অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ কমিয়ে ৩৭ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

কমিটির দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনা করে নিচের দুই স্তরের সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বেশি বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে। ওপরের স্তরের কর্মকর্তারা তুলনামূলক কম সুবিধা পাবেন। একই সঙ্গে সরকারি পেনশনভোগীদের পেনশনের হার শতভাগের কাছাকাছি বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।

পূর্ণাঙ্গ সুপারিশ অনুযায়ী একবারে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন করতে গেলে সরকারের অতিরিক্ত ৪৩ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হতো। তবে বর্তমানে চাকরিজীবীরা যে ১০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন, তা নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে সমন্বয় করে দেওয়ায় সরকারের অতিরিক্ত ব্যয়ের চাপ কমে ৩৭ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে। এই হিসাব মাথায় রেখেই আগামী

সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে গত বুধ ও বৃহস্পতিবার (২১ মে) বাজেট নিয়ে দুটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে নতুন এই বেতনকাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। নবম পে-স্কেলের আওতায় শুধু প্রশাসন ক্যাডার নয়, বরং এর সঙ্গে শিক্ষক, পুলিশ, স্বাস্থ্যকর্মী, মাঠ পর্যায়ের প্রশাসন ও বিচার বিভাগীয় কর্মচারীসহ সরকারি সব খাতের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অন্তর্ভুক্ত থাকছেন।

এর আগে গত সোমবার (১৮ মে) অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী নিজ কার্যালয়ে গণমাধ্যমকে জানান, আগামী অর্থবছরের শুরুতে অর্থাৎ ১ জুলাই থেকেই নতুন বেতনকাঠামো বাস্তবায়ন শুরু হবে। দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কঠিন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জিডিপির তুলনায় রাজস্ব সংগ্রহের অবস্থাও বেশ দুর্বল। ফলে অনেক কিছু বাদ দিতে হচ্ছে এবং কাটছাঁট করতে হচ্ছে। তবে এর মধ্যেও নতুন বেতনকাঠামোর দিকটি অগ্রাধিকার দিয়ে দেখতে হচ্ছে।’

জানা গেছে, মূল কমিশনের সুপারিশ কিছুটা কাটছাঁট করে মোট তিন ধাপে এটি বাস্তবায়ন করা হতে পারে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির নেতৃত্বাধীন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী এটি তিন অর্থবছরে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে কিনা, এমন প্রশ্নে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘কমিটির তেমন সুপারিশ ছিল। তবে আমাদের তো বাজেটের সীমাবদ্ধতা আছে। আমরা এখন একটি কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি।’

কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, মাসে ২০ হাজার টাকার কম পেনশনপ্রাপ্তদের পেনশন প্রায় ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। যাদের মাসিক পেনশন ২০ থেকে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে, তাদের ক্ষেত্রে প্রায় ৭৫ শতাংশ এবং ৪০ হাজার টাকার বেশি পেনশনপ্রাপ্তদের ক্ষেত্রে প্রায় ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। এ ছাড়া প্রবীণ পেনশনভোগীদের জন্য চিকিৎসা ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, ৭৫ বছরের বেশি বয়সি পেনশনভোগীদের চিকিৎসা ভাতা ৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকা এবং ৫৫ বছরের কম বয়সিদের জন্য ৫ হাজার টাকা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নতুন পে স্কেলে সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান ২০টি গ্রেডই বহাল রাখার সুপারিশ করেছে সচিব কমিটি। এতে সর্বনিম্ন গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার চূড়ান্ত সুপারিশ করা হয়েছে।


ইপিআই কর্মসূচির সঙ্গে নিয়মিতভাবে হামের টিকা কর্মসূচি চলবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, হামের টিকাদান কর্মসূচি লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি সাফল্য অর্জন করেছে এবং এটি বন্ধ না হয়ে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) সঙ্গে নিয়মিতভাবে চলবে। বৃহস্পতিবার (২১ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবে হামের প্রাদুর্ভাবে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের করণীয় ও জনসচেতনতা শীর্ষক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের সিভিল সার্জন, পরিচালক এবং হাসপাতাল সুপারদের টিকাদান কার্যক্রম অব্যাহত রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঈদের ছুটি ছাড়া অন্য সব দিন টিকাদান কার্যক্রম চলবে এবং ছুটির দিনেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মস্থলে উপস্থিত থাকার নির্দেশনা রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘কিছু প্রত্যন্ত এলাকায় লক্ষ্যমাত্রা থেকে পিছিয়ে থাকার আশঙ্কা থাকায় সেখানে বিশেষ উদ্যোগ হিসেবে মাইকিং করা হচ্ছে এবং কঠোর নজরদারির মাধ্যমে শিশুদের টিকাদানের আওতায় আনা হচ্ছে।’

মন্ত্রী আরও জানান, ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল আগেভাগেই সংগ্রহ করা হয়েছে এবং টিকা সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। টিউবারকিউলোসিস (টিবি) টিকার সিরিঞ্জ সংকট নিয়ে ছড়ানো গুজবের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিষয়টি যাচাই করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ১১ লাখ ৫ হাজার সিরিঞ্জ জেলা পর্যায়ে বিতরণ করা হয়েছে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘পূর্ববর্তী সরকারের সময়ে টেন্ডার ও আউটসোর্সিং খাতে অনিয়মের কারণে একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে, যারা চিকিৎসা খাতকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।’ তবে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা ও কাজের পরিবেশ নিশ্চিতে সরকার পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ডাক্তারদের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিতে ঈদের পরপরই প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অস্ত্রসহ ১০ জন আনসার এবং একজন কমান্ডার মোতায়ন করা হবে। জেলা পর্যায়ের হাসপাতালেও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’


কোরবানিযোগ্য পশু উৎপাদনে দেশ বর্তমানে স্বয়ংসম্পূর্ণ: প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, ‘বাংলাদেশ বর্তমানে কোরবানিযোগ্য পশু উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং দেশীয় উৎপাদন দেশের চাহিদা পূরণে সক্ষম। দেশীয় খামারিদের সুরক্ষা ও জাতীয় স্বার্থে অবৈধভাবে পাচার বা চোরাই পথে আসা পশু ক্রয়ের বিষয়ে সচেতনতা প্রয়োজন। দেশের খামারিদের স্বার্থরক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।’

বৃহস্পতিবার (২১ মে) কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ‘কোরবানিবিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মশালা-২০২৬ (মাংস প্রক্রিয়াজাতকারী, চামড়া সংরক্ষণকারী এবং ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম)’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেছেন। কর্মশালার আয়োজন করে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর।

ভেটেরিনারি মেডিকেল টিম, প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকার প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, ‘কোরবানির পশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং বাজার ব্যবস্থাপনায় আপনাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রশংসনীয়।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘কোরবানির পশুর মাংসের পাশাপাশি চামড়া ও অন্যান্য উপজাত সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা করা গেলে জাতীয় অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখা সম্ভব।’

তিনি বলেন, ‘কোরবানিকে কেন্দ্র করে বিপুলসংখ্যক মানুষ পশু জবাই, চামড়া ছাড়ানো, মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বণ্টনের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে। এ বাস্তবতায় দক্ষ জনবল তৈরির বিকল্প নেই। বিশেষ করে চামড়া ছাড়ানোর মতো সংবেদনশীল কাজে প্রশিক্ষিত জনবল না থাকলে চামড়ার গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং এর বাজারমূল্য কমে যায়।’

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, ‘অবৈধভাবে আসা পশু ক্রয় করে কোরবানি দেওয়া কতটা সমীচীন- এ বিষয়ে ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে সচেতনতা তৈরি প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘কোরবানির পশু ক্রয় ও ব্যবস্থাপনায় সচেতনতা বৃদ্ধি, দেশীয় খামারিদের সুরক্ষা এবং চামড়া সংরক্ষণ ও বাজারজাতকরণে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।’

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন, অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মো. বয়জার রহমান এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পরিচালক ডা. বেগম শামছুননাহার আহম্মদ, পরিচালক ড. এ. বি. এম. খালেদুজ্জামান।


স্বল্পতম সময়ের মধ্যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানী মীরপুরে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসাকে হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি স্বল্পসময়ের মধ্যে নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার (২১ মে) বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক ব্রিফিংয়ে একথা বলেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তদন্ত করে চার্জশিট জমা দেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, বাকি বিচারের দায়িত্ব আইন বিভাগের। আমরা আশা করি স্বল্পতম সময়ের মধ্যে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

তিনি আরও বলেন, শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেইসঙ্গে আসামি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে। সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষে চার্জশিট দাখিল করা হবে। সংক্ষিপ্ত সময়ে বিচারিক প্রক্রিয়াও শেষ হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অনেক সময় বিচার বিলম্ব হয়, এটা আদালতের বিষয়। তনু হত্যাসহ বিভিন্ন মামলায় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। রামিসা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সংক্ষিপ্ত সময়ে দৃষ্টান্তমূলক বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ হবে। আইনশৃঙ্খলা সমুন্নত রাখার জন্য যা যা করার, সবই চেষ্টা করছেন বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।


পাসপোর্টে ফের যুক্ত হচ্ছে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশি পাসপোর্টে আবারও যুক্ত হচ্ছে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ (Except Israel) শব্দবন্ধ। ছয় বছর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বাদ দেওয়া হয়। এখন এই শব্দবন্ধ পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি সরকার।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতি, জনমত এবং ফিলিস্তিন ইস্যুর প্রতি সংহতি রেখেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।বাংলাদেশ সংবাদ বিশ্লেষণ

এর আগে গত বছরের ৭ এপ্রিল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে দেওয়া এক চিঠিতে আগের মতো বাংলাদেশি পাসপোর্টে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শব্দবন্ধটি পুনর্বহালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছিল। তবে সে সময় কূটনৈতিক পাসপোর্ট ছাড়া সাধারণ পাসপোর্টে এটি বড় পরিসরে কার্যকর করা সম্ভব হয়নি। এবার বর্তমান সরকার সব ধরনের পাসপোর্টের ক্ষেত্রে এটি বাধ্যতামূলকভাবে কার্যকরের উদ্যোগ নিয়েছে।

চলতি বছরের ১৭ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পাসপোর্টের বেশ কিছু বিষয় পরিবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হয়। এ লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এপ্রিল এবং চলতি মে মাসের শুরুতে একাধিক বৈঠক করেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারের শীর্ষ মহল থেকে এই পরিবর্তনের বিষয়ে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে।

ইমিগ্রেশন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী ধাপে ধাপে প্রিন্ট হওয়া নতুন পাসপোর্টে এই শব্দবন্ধ যুক্ত করা হবে। তবে পুরোনো পাসপোর্টধারীদের জন্য আপাতত কোনো জটিলতা তৈরি হবে না। বিদ্যমান পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তা নবায়নের সময় স্বয়ংক্রিয়ভাবেই এই নতুন সংস্করণের পাসপোর্ট পাওয়া যাবে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ইলেকট্রনিক পাসপোর্ট বা ই-পাসপোর্ট পরিষেবা চালু করার সময় পাসপোর্ট থেকে ‘ইসরায়েল ব্যতীত’ শব্দবন্ধটি বাদ দেওয়া হয়েছিল। এর আগে বাংলাদেশের প্রচলিত পাসপোর্টে লেখা থাকত, ‘এই পাসপোর্ট বিশ্বের সব দেশের জন্য বৈধ, ইসরাইল ছাড়া’। ই-পাসপোর্ট থেকে এটি বাদ পড়ার পর থেকেই দেশের বিভিন্ন মহল থেকে লেখাটি পুনর্বহালের দাবি উঠে আসছিল।


সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ছে ১৪ হাজার কোটি টাকা

* দুর্যোগে কোণঠাসা প্রান্তিক মানুষকে টেনে তোলাই লক্ষ্য   * বাস্তবায়নের পথে কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতি * একটি টাকাও যেন অপচয় না হয়, নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

অঞ্চলভিত্তিক দুর্যোগ প্রান্তিকের মানুষকে আরও বেশি প্রান্তিকে ঠেলে দেয়। কর্মহীন করে চাপ বাড়িয়ে ঠেলে দেয় শহরের অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে। এ অবস্থায় সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীতে নতুন করে অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছে সাড়ে তিন কোটিরও বেশি মানুষ। এই বিপুল জনগোষ্ঠীকে মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে সুরক্ষা দিতে ও কল্যাণ রাষ্ট্র গঠনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ১৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মতো সরকারের ‘ফ্ল্যাগশিপ’ উদ্যোগ।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই বাজেটে সাধারণ মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তাবেষ্টনীর আওতা বাড়ানোর বিষয়ে বিশেষভাবে আগ্রহী ছিলেন। তারই ইচ্ছায় অর্থমন্ত্রীকে নিয়ে সম্প্রতি এক জরুরি বৈঠক হয়। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী স্থায়ী এই বৈঠকে দেশের দরিদ্র, প্রান্তিক ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির জন্য সামাজিক সুরক্ষা জালকে আরও শক্তিশালী করার কৌশলগত দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে আসন্ন বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা ও সুরক্ষা খাতে মোট বরাদ্দ ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা অতিক্রম করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যা চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বরাদ্দের (১ লাখ ১৬ হাজার ৭৩১ কোটি টাকা) চেয়ে প্রায় ১৩ থেকে ১৪ হাজার কোটি টাকা বেশি। এবারের বাজেটের মূল লক্ষ্য হতে যাচ্ছে গর্ভাবস্থা থেকে শুরু করে বার্ধক্য পর্যন্ত মানুষের জীবনের প্রতিটি স্তরে রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

বৈঠকে জানানো হয়, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে এবার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় বিশেষ সামাজিক উন্নয়ন সহায়তা হিসাবে আলাদাভাবে ১৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে।

এই অর্থ মূলত তৃণমূল পর্যায়ে সরাসরি সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ব্যবহৃত হবে। বৈঠকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা বাড়ানোর পাশাপাশি এর কার্যকারিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। আসন্ন বাজেটে দুটি বড় ফ্ল্যাগশিপ কর্মসূচি দেশব্যাপী বড় পরিসরে বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এগুলো হচ্ছে-ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড। এ ছাড়া ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সম্মানী-দেশের সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় এবং তৃণমূলের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের জন্য সম্মানী কাঠামোর বরাদ্দও এই বিশেষ তহবিল থেকে দেওয়া হবে।

এ ছাড়া খাল খনন কর্মসূচি ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে বিপুল পরিমাণ জনগোষ্ঠীকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা করা হয়েছে। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্ট জানিয়ে দেন, সামাজিক নিরাপত্তা খাতের একটি টাকাও যেন অপচয় বা অনিয়মের কবলে না পড়ে। ফ্ল্যাগ কর্মসূচির বাইরে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, মুক্তিযোদ্ধা ভাতা ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার এবং আহতদের মাসিক কার্যক্রম ভাতার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, বিগত বছরের তুলনায় এবার বাজেটে খাতটির ১৮টি ক্যাটাগরিতে উপকারভোগী ১ কোটি বাড়িয়ে ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৬৩ লাখ মানুষ। বরাদ্দ বাড়ছে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানী, বয়স্কভাতা। প্রধান কর্মসূচিতে ফ্ল্যাগশিপ ছাড়াও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, দারিদ্রতার সীমানায় থাকা মানুষকে কর্মসংস্থানে জড়িত রাখা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, শিক্ষা উপবৃত্তি ছাড়াও উচ্চশিক্ষায় সুযোগ সৃষ্টি, মাতৃত্বকালীন ভাতা, ল্যাকটেটিং মাদার সহায়তাকে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড অর্থাৎ মানবসম্পদ তৈরির পরিকল্পনা থাকছে মোটাদাগে।

ঢাবির অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শাহাদাত হোসেন সিদ্দিকী বলেন, ‘যে মানুষগুলো সত্যিকার অর্থে সমস্যায় জর্জরিত, তাদের চিহ্নিতকরণ করা হচ্ছে না ভালোভাবে। যে কারণে সামাজিক নিরাপত্তায় যে পরিমাণ অর্থ বণ্টন হচ্ছে, তার অর্ধেক বণ্টনই ভুলভাবে করা হচ্ছে।’

বিশালাকার ঋণ আর স্থবির অর্থনীতি নিয়ে শুরু করা বছরে অবকাঠামো থেকে উৎপাদনশীল মানবসম্পদ কাজে লাগানোর ওপর জোর বিশ্লেষকদের।

অর্থনীতিবিদ ও বিআইবিএমের সাবেক মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘৬০ থেকে ৭০ শতাংশের বেশি খরচ করা যায় না। সরকার বড় করে যদি সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা দেওয়ার জন্য, তাদের বাড়ি, গাড়ি কেনার জন্য ব্যয় করে তাহলে তো হবে না। প্রোডাক্টিভ পারপাসে এটাকে ব্যয় করতে হবে।’


হামের টিকার সংকট নিয়ে ১০ বার সতর্ক করা হয় অন্তর্বর্তী সরকারকে

হামের প্রাদুর্ভাব পরিস্থিতি ও চলমান প্রতিরোধ কার্যক্রমবিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স। ছবি: ইউনিসেফের সৌজন্যে
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে গত বছর দীর্ঘদিন ধরে হামের রুটিন টিকার সংকট ছিল বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)। সংস্থাটি বলছে, ২০২৪ সাল থেকে তারা অন্তর্বর্তী সরকারকে টিকার সংকট নিয়ে অন্তত ১০ বার সতর্ক করেছিল; কিন্তু পর্যাপ্ত টিকা না থাকায় পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠে।

বুধবার (২০ মে) রাজধানীর ইউনিসেফ বাংলাদেশ কার্যালয়ের জেপিজি কনফারেন্স রুমে আয়োজিত হামের প্রাদুর্ভাব পরিস্থিতি ও চলমান প্রতিরোধ কার্যক্রমবিষয়ক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। এতে বক্তব্য দেন বাংলাদেশে ইউনিসেফের প্রতিনিধি রানা ফ্লাওয়ার্স।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে নভেম্বর পর্যন্ত দেশে ১৭ দশমিক ৮ মিলিয়ন বা ১ কোটি ৭৮ লাখ হামের টিকা আসে, যা মোট চাহিদার মাত্র এক-তৃতীয়াংশ। দেশে বছরে প্রায় ৭ কোটি হামের টিকার প্রয়োজন হলেও দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত রুটিন টিকা পাওয়া যায়নি।

ইউনিসেফ জানায়, টিকার ঘাটতি নিয়ে ২০২৪ সাল থেকে অন্তত ১০টি বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকারকে সতর্ক করা হয়। পাশাপাশি পাঁচ থেকে ছয়টি আনুষ্ঠানিক চিঠিও দেওয়া হয়। শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় নয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কেও বিষয়টি জানানো হয়েছিল।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, দীর্ঘদিন রুটিন টিকাদান কার্যক্রম ব্যাহত থাকায় অনেক শিশু টিকার বাইরে থেকে যায়। ফলে দেশে হামের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে এবং শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের প্রাদুর্ভাব পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে চলতি বছরের মে মাসে দেশে আবার হামের রুটিন টিকা আসতে শুরু করেছে। এখন দ্রুত টিকাদান কার্যক্রম জোরদার, ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের আওতায় আনা এবং আক্রান্ত এলাকায় নজরদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার ও উন্নয়ন সহযোগীরা।

ইউনিসেফের ভাষ্য, হামের মতো অত্যন্ত সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত টিকাদান কার্যক্রমে কোনো ধরনের বিঘ্ন হওয়া উচিত নয়। সময়মতো পর্যাপ্ত টিকা সরবরাহ নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতেও বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, ‘কোনো মহামারি রাতারাতি ঘটে না। কিছু বিশেষ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়, বিশেষ করে টিকার মাধ্যমে প্রতিরোধযোগ্য রোগের ক্ষেত্রে।’

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সাবেক স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী অধ্যাপক সায়েদুর রহমানের দাবি—ইউনিসেফ তৎকালীন সরকারকে হামের প্রাদুর্ভাব সম্পর্কে সতর্ক করেনি—এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে রানা বলেন, ‘এ মুহূর্তে আমার কাছে সুনির্দিষ্ট দিন-তারিখ নেই। তবে তদন্তে বিষয়টি নিশ্চিত হবে। আমরা ২০২৪ থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাঁচ-ছয়টি চিঠি পাঠিয়েছি, যার মধ্যে শেষ চিঠিটি নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ঠিক আগে পৌঁছেছিল।’

রানা আরও বলেন, ‘আমরা তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকের জন্য বারবার চাপ দিয়েছি। আমি ও আমার সহকর্মীরা অন্তত ১০ বার বৈঠকে বলেছি যে—আমরা টিকার সংকট নিয়ে উদ্বিগ্ন। দেশে টিকা আনতে না পারলে সমস্যা তৈরি হবে, এটি স্পষ্ট ছিল।’

গত দুই বছরে বাংলাদেশে টিকার সংকট ছিল কি না—এমন প্রশ্নে রানা ফ্লাওয়ার্স বলেন, ‘আমরা ২০২৪ সালেই টিকার সংকটের পূর্বাভাস দিয়েছিলাম। এটি পরবর্তী দুই বছরে বিভিন্ন রোগের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলতে পারে বলেও সতর্ক করেছিলাম।’

ইউনিসেফের প্রতিনিধি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব থেকে শিক্ষণীয় অনেক বিষয় রয়েছে। এখন কাউকে দোষারোপ করার কিছু নেই। এখন এমনভাবে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এই দেশের কোনো শিশু প্রতিরোধযোগ্য রোগে মারা না যায়।’

টিকা কেনার প্রক্রিয়া নিয়ে রানা বলেন, ‘আমরা যা যা কিনি, তার জন্য জনসম্মুখে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান সবচেয়ে স্বচ্ছ পদ্ধতি। তবে টিকার ক্ষেত্রে বিষয়টি ভিন্ন, কারণ, এটি একটি অত্যন্ত বিশেষায়িত পণ্য। এখানে আপনি শুধু এক লাখ মানুষের জন্য অ্যান্টিবায়োটিক কিনছেন না, আপনার লক্ষ্য অনেক বড়সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছানো। আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে, আপনার কাছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) অনুমোদিত টিকা আছে। তাই আপনি সবচেয়ে সস্তা টিকার পেছনে ছুটবেন না। আপনি সেই টিকাই নেবেন, যেটার কার্যকারিতা প্রমাণিত এবং যার কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই। তাই ইউনিসেফ বহু বছর আগে বিশ্বের জন্য টিকা সংগ্রহ ও বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল।’

ইউনিসেফ প্রতিনিধি বলেন, ‘আমরা বিশ্বের অধিকাংশ দেশের পক্ষ থেকে টিকা সংগ্রহ করি। টিকা প্রস্তুতকারকদের সঙ্গে আমাদের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে এবং তাদের মান নিয়মিত পরীক্ষা করা হয়। যেহেতু আমরা অনেক বেশি পরিমাণে কিনি, তাই আমরা দামে সাশ্রয় করতে পারি। ইউনিসেফ যে দামে টিকা পায়, তারচেয়ে কম দামে দরপত্র পাওয়া সম্ভব নয়, আমরা তা জানি।’


রাজস্ব ঘাটতি ছাড়াল ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অস্থিরতা ও নানা সংকটে চলছে রাজস্ব আহরণ। এর ফলে কাঙ্ক্ষিত রাজস্ব আহরণ হচ্ছে না। দিন দিন বাড়ছে রাজস্ব ঘাটতির পরিমাণ। ইতোমধ্যে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) সরকারের রাজস্ব ঘাটতি ছাড়াল এক লাখ চার হাজার ৫৩৩ কোটি টাকা। বুধবার (২০ মে) জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিল চার লাখ ৩১ হাজার ৪৬১ কোটি ২৭ লাখ টাকা। আয়কর, মূসক (ভ্যাট) ও শুল্ক মিলিয়ে আদায় হয়েছে তিন লাখ ২৬ হাজার ৯২৮ কোটি ১৬ লাখ টাকা। চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম আহরণ হয়েছে এক লাখ চার হাজার কোটি টাকা।

অপরদিকে, রাজস্ব ঘাটতি থাকলে রাজস্ব আহরণ প্রবৃদ্ধি ১০ দশমিক ৬০ শতাংশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে রাজস্ব আদায় হয়েছিল দুই লাখ ৯৫ হাজার ৬০০ কোটি ৭৩ টাকার। চলতি অর্থবছরের ১০ মাসে শুল্ক, মূসক ও আয়করে খাতগুলোতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে শুল্কে ৮ দশমিক ৮৭ শতাংশ, মূসক বা ভ্যাটে ১১ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ ও আয়করে ১১ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের এপ্রিলে রাজস্ব আহরণ লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৫ হাজার ৬০৮ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, আহরণ হয়েছে ৩৯ হাজার ৬০ কোটি টাকা। গত অর্থবছরের একই সময়ে ৩৬ হাজার ৬০৪ কোটি ৩০ লাখ টাকার রাজস্ব আহরণ হয়েছিল। সে হিসাবে এপ্রিলে প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ। এপ্রিলে শুল্কে ১৭ দশমিক ৯৫ শতাংশ, আয়করে ১৪ দশমিক ৬৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছে, তবে ভ্যাটে প্রবৃদ্ধি হয়নি। এতে নেগেটিভ প্রবৃদ্ধি হয়েছে তিন দশমিক ১৭ শতাংশ।


গণমাধ্যম কমিশন গঠনের প্রক্রিয়ায় একক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেবে না সরকার: তথ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ‘দেশে একটি কার্যকর ও স্বাধীন গণমাধ্যম কমিশন গঠনের প্রক্রিয়ায় সরকার নিজের পক্ষ থেকে কোনো একক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেবে না। এ পর্যন্ত অর্জিত সব ধরনের আলোচনা, প্রস্তাবনা এবং ডকুমেন্টকে ধারণ করেই সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করা হবে।’

বুধবার দুপুরে রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘ইউকে ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট’-এর সহায়তায় এবং ‘বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন’ আয়োজিত এক সেমিনারে অংশ নিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেছেন।

অনুষ্ঠানের অন্যতম প্যানেল আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

সেমিনারে ‘পিআইএমএইচই’ প্রকল্পের আওতায় ‘নীতি সংস্কার থেকে সংবাদকক্ষের কর্মপদ্ধতি পর্যন্ত শিক্ষা ও আদান-প্রদান’ শীর্ষক মূল বিষয়ের ওপর বিস্তারিত প্যানেল আলোচনা হয়।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সম্প্রতি সরকার প্রধানের সঙ্গেও সংবাদপত্রের মালিক সমিতি এবং সম্পাদক পরিষদের জ্যেষ্ঠ নেতাদের এ বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, গণমাধ্যম কমিশন ও তথ্য কমিশনসংক্রান্ত এ পর্যন্ত যত কাজ করা হয়েছে, সেগুলোকেই আমরা প্রথমে আমাদের ভবিষ্যৎ কর্মের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করছি। সেটাকে হাতে নিয়েই একটা পরামর্শ কমিটি গঠন করা হবে। এই পরামর্শ কমিটির সুপারিশ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট সব অংশীজন, গণমাধ্যম অ্যাসোসিয়েশন এবং আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগীদের সাথে আবারও আলোচনা করা হবে।’

তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যম কমিশন গঠনের এই রূপান্তর প্রক্রিয়ায় পূর্বের কোনো ভালো উদ্যোগ বা নথিপত্রকে বাদ দেওয়া হবে না, বরং সবটুকুই ভবিষ্যৎ কাজের মূল ভিত্তি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত থাকবে।’

সেমিনারে এক প্রশ্নের জবাবে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘বিশ্বজুড়েই গণমাধ্যম কমিশন গঠনের চমৎকার সব দৃষ্টান্ত আমাদের সামনে রয়েছে। আধুনিক সভ্যতায় গণমাধ্যম হচ্ছে রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ। রাষ্ট্রের অন্যান্য স্তম্ভগুলোকে জনগণের পক্ষ থেকে একটি গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতার মধ্যে রাখতেই এই স্তম্ভের নৈতিক উপস্থিতিকে সবাই মেনে নিয়েছে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘গণমাধ্যম জগতটা কেবল সরকারের একার নয়, এটি এই জগতের সবারই একটি সম্মিলিত বিষয়। সে ক্ষেত্রে সরকার একদিকে যেমন অন্য সবার মতো সমান সমান অংশীদার, অন্যদিকে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এই কাজটা সম্পন্ন করার জন্য একটি ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করবে মাত্র। আমাদের মূল লক্ষ্য জনগণের জন্য তথ্যের একটি সুস্থ ও অবাধ প্রবাহ উপস্থাপন করা।’

সেমিনারে উপস্থিত আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদার ও গণমাধ্যম বিশেষজ্ঞদের উদ্দেশে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সারা পৃথিবীতেই এই ধরনের কমিশন গঠনের অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ রয়েছে। আমাদের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদার ও দেশীয় সহযোগী সংগঠনগুলো এই রূপান্তর প্রক্রিয়ায় সরকারের ‘‘সহযাত্রী’’ হিসেবে কাজ করবে বলে আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’

বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই সেমিনারে অন্যান্যের মধ্যে আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক, গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান কামাল আহমেদ এবং ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের (বিজেসি) চেয়ারম্যান ও যমুনা টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফাহিম আহমেদ।


গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি: বৃহস্পতিবার কলকাতায় বাংলাদেশ-ভারত বৈঠক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভারত-বাংলাদেশ ৯০তম যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক শুরু হচ্ছে কলকাতায়। বৃহস্পতিবার (২১ মে) আনুষ্ঠানিকভাবে তিন দিনের এ বৈঠক শুরু হবে। চলবে আগামী শনিবার (২৩ মে) পর্যন্ত। আলোচনায় বাংলাদেশ থেকে যোগ দেবেন ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল।

বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন বাংলাদেশের জয়েন্ট রিভার কমিশনের সদস্য মহম্মদ আনোয়ার কবির। এ ছাড়া আছেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাউথ এশিয়া উইংয়ের ডিরেক্টর মহম্মদ বাকি বিল্লাহ।

ভারতের পক্ষে নেতৃত্ব দেওয়ার কথা কেন্দ্রের জলসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রকের এক যুগ্ম সচিব এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সেচ দপ্তররের একজন চিফ ইঞ্জিনিয়ারের।

যৌথ নদী কমিশনের এবারের বৈঠকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির পুনর্নবীকরণ ইস্যু। ১৯৯৬ সালে হওয়া গঙ্গার জল বণ্টন চুক্তির মেয়াদ চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষ হবে। তার আগে এটাই সর্বশেষ যৌথ নদী কমিশনের বৈঠক।

বৈঠকে যোগ দিতে বুধবার (২০ মে) বিকেলেই কলকাতায় পৌঁছেছেন বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। বৃহস্পতিবার (২১ মে) বৈঠকের শুরুতেই তারা যাবেন মুর্শিদাবাদে। সেখানে বৈঠকের ফাঁকেই ফারাক্কায় নেমে গঙ্গা নদীর পানি পরিমাপ করবেন তারা। পরের দিন শুক্রবার (২২ মে) তারা ফিরে আসবেন কলকাতায়। কলকাতায় শুক্র ও শনিবার একটি অভিজাত হোটেলে হবে বৈঠক।


আগামী বছরের জুনের মধ্যে ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যাবে: জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাজীপুর প্রতিনিধি

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম বলেছেন, ‘আগামী বছরের জুনের মধ্যে ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। জ্বালানি খাতে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে গ্যাস উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে সরকার কাজ করছে। এর মধ্যে সরকার চারটি নতুন কূপ খননের কাজ শুরু করেছে। এই চার কূপের গ্যাস উত্তোলনের মাধ্যমে আগামী বছরের জুনের মধ্যে ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে।’

বুধবার দুপুরে গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার কামতা গ্যাস ফিল্ডে মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপ খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম এসব কথা বলেছেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নতুন করে চারটি কূপের গ্যাস উত্তোলনের মাধ্যমে আগামী বছরের জুনের মধ্যে ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারব। এটি শুরু করতে পারলে যেসব কারখানা গ্যাসের অভাবে উৎপাদনের জন্য বসে আছে, বসে থাকা কারখানাগুলোকে আমরা গ্যাস সরবরাহ করতে পারব, যার মাধ্যমে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান হবে। অপর দিকে জ্বালানি আমদানি করতে গিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর যে চাপ তৈরি হচ্ছে, সে চাপটাও কমে আসবে। এই প্রকল্প উদ্বোধনের মাধ্যমে তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন গণতান্ত্রিক সরকার বাংলাদেশের জনগণকে এই বার্তা দিতে চায়, আমরা আস্তে আস্তে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে এনে স্বাবলম্বী হব। মূল লক্ষ্য হচ্ছে, সাশ্রয়ী মূল্যে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা।’

গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, ‘সরকার যদি অতিরিক্ত গ্যাস আমদানি করতে চায়, সে ক্ষেত্রে অসুবিধা আছে। যে অবকাঠামো আছে, সেটি ধারণক্ষমতার চেয়ে কম আছে।’

তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ বা জ্বালানির দাম বাড়বে কী কমবে, সেটি বলার অবস্থায় আমরা নেই। বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আমাদের বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হয়।’

আবাসিকে গ্যাস-সংযোগ দেওয়া হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য হচ্ছে ইন্ডাস্ট্রিতে এবং পাওয়ার প্ল্যান্টগুলোয় গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা। অগ্রাধিকার তালিকায় আমাদের পাওয়ার প্ল্যান্ট, শিল্প, এরপর আসবে হাউসের কাস্টমার।’

প্রসঙ্গত, কামতা গ্যাসক্ষেত্রটি গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত। ১৯৮৪ সালে কামতা-১ কূপে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়ে ১৯৯১ সাল পর্যন্ত মোট ২১ দশমিক ১০ বিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করা হয়। ক্ষেত্রটির মোট উত্তোলনযোগ্য গ্যাস মজুত প্রায় ৬৬ দশমিক শূন্য ৪ বিলিয়ন ঘনফুট, যার মধ্যে অবশিষ্ট উত্তোলনযোগ্য মজুতের পরিমাণ প্রায় ৪৪ দশমিক ৯৪ বিলিয়ন ঘনফুট বলে বিবেচনা করা হয়েছে।


banner close