মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
৬ শ্রাবণ ১৪৩৩

প্রার্থী বেশি,প্রতিদ্বন্দ্বী কম

ফাইল ছবি
আপডেটেড
২ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০০:১৪
তানজিমুল নয়ন
প্রকাশিত
তানজিমুল নয়ন
প্রকাশিত : ২ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০০:০০

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ২ হাজার ৭১৩ জন প্রার্থী। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে নিবন্ধিত ৪৪টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩২টি দল। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন ৭৪৭ জন। সে হিসাবে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রত্যয়নপত্র নিয়ে নির্বাচনে উপস্থিত ১৯৬৬ জন প্রার্থী। আর স্বতন্ত্রদের মধ্যে অন্তত ৪০০ জন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন। তবে সাধারণ মানুষের অভিযোগ, নির্বাচনে আসা বড় দল আওয়ামী লীগের মূল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বাইরে অন্যদলগুলোর বেশির ভাগ প্রার্থীই আসনগুলোর মানুষের কাছে অচেনা। প্রায় প্রতিটি আসনেই নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন এমন অনেক অচেনা মুখ যাদের প্রার্থিতা পেতে সমস্যা না হলেও নির্বাচনী লড়াইয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে পরিচিত হতেই পার হয়ে যাবে প্রচারণার বেশির ভাগ সময়। ফলে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, নির্বাচনে প্রার্থী আছে অনেক বেশি, কিন্তু, প্রতিদ্বন্দ্বী কম।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ৩০০ আসনের বিপরীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের (নৌকা) ৩০৩ জন, জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল) ৩০৪ জন, জাকের পার্টি (গোলাপ ফুল) ২১৮ জন, তৃণমূল বিএনপি (সোনালী আঁশ) ১৫১ জন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি- এনপিপি (আম) ১৪২ জন, বাংলাদেশ কংগ্রেস (ডাব) ১১৬ জন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ (মশাল) ৯১ জন, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন (ফুলের মালা) ৪৭ জন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন (বটগাছ) ১৩ জন, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি (হাতঘড়ি) ১৮ জন, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ (চেয়ার) ৩৯ জন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (কাঁঠাল) ১৩ জন, গণফ্রন্ট (মাছ) ২৫ জন, গণফোরাম (উদীয়মান সূর্য) ৯ জন, ইসলামী ঐক্যজোট (মিনার) ৪৫ জন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট (মোমবাতি) ৩৭ জন, জাতীয় পার্টি-জেপি (বাইসাইকেল) ২০ জন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ (গামছা) ৩৪ জন, গণতন্ত্রী পার্টি (কবুতর) ১২ জন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (হাতুড়ি) ৩৩ জন, বিকল্পধারা বাংলাদেশ (কুলা) ১৪ জন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (একতারা) ৮২ জন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন-বিএনএম (নোঙর) ৪৯ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট- বিএনএফ (টেলিভিশন) ৫৫ জন, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (ছড়ি) ৭৪ জন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ- বিএমএল (হাত-পাঞ্জা) ৫ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি- ন্যাপ (কুঁড়েঘর) ৬ জন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মই) একজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (রিকশা) একজন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ (খেজুর গাছ) একজন এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (হারিকেন) দুইজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

এদিকে মনোনয়ন জমার শেষ দিনেই ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম জানিয়েছেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিলের সময়সীমা বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। ফলে বিএনপিসহ যে দলগুলো নির্বাচন বর্জন করেছে তাদের আর মত পাল্টে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসার দৃশ্যমান কোনো সুযোগ নেই। আন্দোলনরত দলগুলোও অবশ্য আগেই এ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতি দিয়েছে।

ফলে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর যাচাই-বাছাই শেষে যেসব প্রার্থী টিকে যাবেন তারাই থাকবেন নির্বাচনী দৌড়ে। তবে প্রতিটি আসনে ভোটের লড়াইয়ে যারা যাচ্ছেন তাদের বেশির ভাগেরই দলের নাম সাধারণ মানুষ জানে না। আর দল অচেনা বলে প্রার্থীরাও অচেনা। ফলে তাদের ধারণা নির্বাচনী লড়াইয়ে আসলে টিকে থাকবেন বড় দলের পরিচিত মুখগুলো। এর মধ্যে শাসক দলের মার্কা নিয়ে লড়াই করা প্রার্থীরা যেমন আলোচনায় থাকবেন, তেমনই অনেক আসনেই তাদের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমাতে পারেন নির্বাচনে আসা আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। কেননা, দলটির স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বেশির ভাগই স্থানীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত এবং তাদের মোটামুটি ভোট ব্যাংক অথবা এলাকাবাসীকে প্রভাবিত করার সক্ষমতা রয়েছে। নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া ৭৪৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে অন্তত ৪০০ জনই আওয়ামী লীগের।
যদিও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গত কয়েক দিনের মতো গতকালও বলেছেন, দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ঢালাওভাবে নির্বাচন করতে পারবেন না। এ ছাড়া ১৪-দলীয় জোটের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির সম্ভাবনা রয়েছে আওয়ামী লীগের। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন, নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আসতে পারবেন জোটের এমন প্রার্থীরাই কেবল থাকবেন বিবেচনায়। আর ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করে তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এর ফলে এটা স্পষ্ট যে, জোটের সঙ্গে সমঝোতা হলে কয়েকটি আসনে আওয়ামী লীগ যাদের মনোনয়ন দিয়েছে তাদেরও রণে ভঙ্গ দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে হবে।

তবে আওয়ামী লীগ সভাপতি নির্বাচনী কৌশল হিসেবে এবার দলীয় মার্কার বাইরে দলীয় প্রার্থীদের স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড়ানোর সুযোগ দেয়ায় নির্বাচনে আসা প্রার্থীদের কতজন আবার দল চাইলে নির্দেশ মেনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন সেটাও আছে দেখার বিষয়।

তবে এই আলোচনার বাইরে থেকে যাচ্ছে বেশির ভাগ প্রার্থী যারা বিভিন্ন দল থেকে নির্বাচনে এলেও জনগণের কাছে নিজের দল, দলীয় প্রতীক এবং নিজের পরিচয় প্রকাশ করার সুযোগ পাবেন। তবে প্রতিটি আসনে স্থানীয় ভোটারদের কাছে তারা এখনো অচেনা এবং নতুন মুখ হিসেবে বিবেচিত।

যেমন দল হিসেবে এবারই প্রথম নির্বাচন করছে তৃণমূল বিএনপি, বিএনএম, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি। এসব দলের বেশির ভাগ প্রার্থী নিজ নিজ এলাকার ভোটারদের কাছে নতুন পরিচয়ে উপস্থিত হবেন। অনেকে আবার খুব বেশি পরিচিত নন। একইভাবে তাদের নির্বাচনী প্রতীক যথাক্রমে সোনালী আঁশ, নোঙর ও একতারা চেনাতেও এবার তাদের বিশেষ প্রস্তুতি নিতে হবে।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনএমের প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য আছেন ৬ জন এবং তৃণমূলের প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য আছেন ৫ জন।

এদিকে, গতকাল আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর কাদের বলেছেন, বিএনপির ১৫ কেন্দ্রীয় নেতাসহ সাবেক ৩০ জন সংসদ সদস্য নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এদের মধ্যে কাদের সিদ্দিকী, লতিফ সিদ্দিকী, আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর মতো নেতাও আছেন। আবার আগে বিএনপিতে প্রভাব ছিল দলটির এমন সাবেক নেতারাও আছেন নির্বাচনে। এদের মধ্যে তৈমূর আলম, সমশের মবিন চৌধুরীর নাম উল্লেখযোগ্য।

তবে এদের বাইরে নির্বাচনের মাঠে থাকা বেশির ভাগ প্রার্থীই অচেনা। এ বিষয়ে গাজীপুর-৪ আসনের একজন প্রার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমার দল এলাকায় তেমন পরিচিত নয়। দলের প্রচার চালাতে ও এলাকার মানুষের কাছে নিজের পরিচয় তুলে ধরতে এবার ভোট করতে আসা। আমিও জানি নির্বাচনে জয়লাভ করার অবস্থান এখনো আমার বা আমার দলের তৈরি হয়নি। তবে এক দিনে তো কিছুই হয় না। আমাদের দলের আদর্শ ও কর্মসূচি দেশের মানুষ ও এলাকার মানুষকে জানাতে আমরা নির্বাচনে এসেছি।’

অন্যদিকে লালমনিরহাট-৩ আসনে মনোনয়ন জমা দেয়া প্রার্থীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই সদর আসনে ৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সদ্য পদত্যাগকারী সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জাবেদ হোসেন বক্কর, জাতীয় পার্টি থেকে জাহিদ হাসান, তৃণমূল বিএনপি থেকে শামীম আহম্মেদ চৌধুরী, জাকের পার্টি থেকে সকিউজ্জামান মিয়া, বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল থেকে আশরাফুল আলম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) থেকে আবু তৈয়ব মো. আজমুল হক পাটোয়ারী, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) থেকে শ্রী হরিশ চন্দ্র রায় মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তবে এবার তিনি এ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেননি। ফলে এ আসনে নির্বাচনে অংশ নেয়া সব প্রার্থীই নতুন এবং নতুন একজন সংসদ সদস্য পাবে লালমনিরহাট সদরবাসী। তবে নতুন হলেও জেলা ও শহরের রাজনীতিতে পুরনো মুখ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান। ছাত্ররাজনীতি করায় জাবেদ হোসেন বক্করও সেখানে পরিচিত মুখ। জাকের পার্টি ও জাসদের প্রার্থীকেও অনেকে চেনেন। তবে সাম্যবাদী দল, এনপিপির প্রার্থীর মতো জাতীয় পার্টির প্রার্থীও এলাকার সবার চেনা মুখ নন। ফলে যে আসন থেকে জাতীয় পার্টি বর্তমান সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছে সেখানে নতুন মুখ দেয়ায় মাঠের রাজনীতিতে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন এলাকার অনেক বাসিন্দা।

বিষয়টা আরও স্পষ্ট হয় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনার ৬টি আসন বিশ্লেষণ করলে। দৈনিক বাংলার খুলনা ব্যুরো জানায়, খুলনার এই ৬টি আসনের জন্য সেখানে ৫৩ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে যারা সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচন করবেন, তাদের অধিকাংশেরই রাজনীতিতে তেমন কোনো পরিচিতি নেই। হঠাৎ করেই তারা কেন সংসদ নির্বাচনে আগ্রহী হলেন, এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে উত্তরও দেননি অধিকাংশ প্রার্থী।

খুলনা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের মনোনীত ৬ জন প্রার্থী, আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র ২ জন এবং জাতীয় পার্টির একজন প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচিতি রয়েছে। বাকি ৪৪ জন প্রার্থী কখনো রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয় ছিলেন না।

খুলনা প্রতিনিধির বিশ্লেষণ অনুযায়ী খুলনা-১ আসনের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ৬ জন। তারা হলেন, জাকের পার্টির মো. আজিজুর রহমান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ননী গোপাল মণ্ডল, জাতীয় পার্টির কাজী হাসানুর রশিদ, তৃণমূল বিএনপির গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রশান্ত কুমার রায় ও আবেদ আলী শেখ।

এদের মধ্যে ননী গোপাল মণ্ডল ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। রাজনীতিতে তার পরিচিতি রয়েছে। তবে বাকি চারজন রাজনীতিতে একেবারেই অপরিচিত। তারা প্রত্যেকেই এবার প্রথম সংসদ নির্বাচন করছেন। এদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রশান্ত কুমার রায় পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সাবেক সচিব।

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আমি নির্বাচন করছি। আমাকে ডামি প্রার্থীও বলা যাবে। এটা দলীয় নির্দেশেই হচ্ছে।’
আওয়ামী লীগের ননী গোপাল মণ্ডল বলেন, ‘দল আমাকে আবারও সুযোগ দিয়েছে। আমি দলের সম্মান রাখব বলে আশাবাদী।’

তবে বাকি চার প্রার্থীর তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই। জাতীয় পার্টীর কাজী হাসানুর রশিদ ও তৃণমূল বিএনপির গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিকের কাছে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেও কোনো উত্তর মেলেনি।

আর জাকের পার্টি মো. আজিজুর রহমান বলেন, ‘দল থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে বলেছে, তাই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি।’

অন্যদিকে খুলনা-২ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৯ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল, গণতন্ত্র পার্টির মো. মতিয়ার রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের দেবদাস সরকার, জাকের পার্টির ফরিদা পারভিন, ইসলামী ঐক্যজোটের হিদায়েতুল্লাহ, জাতীয় পার্টির মো. গাউসুল আজম, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের বাবু কুমার রায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সাঈদুর রহমান।

এদের মধ্যে শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থীর রাজনৈতিকভাবে পরিচিতি রয়েছে। তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। তবে বাকিদের আগে কখনো রাজনৈতিক মাঠে দেখা যায়নি।

কেন প্রার্থী হয়েছেন- এমন প্রশ্নে বাংলাদেশ কংগ্রেসের দেবদাস সরকার বলেন, ‘অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে মনোনয়ন জমা দেয়া হচ্ছে, তাই আমরাও দিচ্ছি।’

খুলনা-৩ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৫ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের এস এম কামাল হোসেন, জাকের পার্টির এস এম সাব্বির হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, স্বতন্ত্র প্রার্থী কাইজার আহমেদ ও ফাতেমা জামান সাথী।

এদের মধ্যেও শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচিতি রয়েছে। তিনি দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। তিন বারের সংসদ সদস্য ও দুই বারের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানকে সরিয়ে তাকেই আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিয়েছে। তবে ওই আসনেরও বাকি চারজনের তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই।

খুলনা-৪ আসন থেকে মনোনয়ন নিয়েছেন ১৪ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের আব্দুস সালাম মূর্শেদী, জাকের পার্টির শেখ আনছার আলী, জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এস এম আজমল হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. ফরহাদ আহমেদ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. মোস্তাফিজুর রহমান, তৃণমূল বিএনপির শেখ হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মনিরা সুলতানা, ইসলামী ঐক্যজোটের রিয়াজ উদ্দীন খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জুয়েল রানা, এম ডি এহসানুল হক, মো. রেজভী আলম, এস এম মোর্ত্তজা রশিদী দারা, আতিকুর রহমান ও এইচ এম রওশান জমির।

এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের আব্দুস সালাম মূর্শেদী বর্তমান সংসদ সদস্য। ২০১৮ সালের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে তিনি জয়ী হয়েছিলেন।

এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম মোর্ত্তজা রশিদী দারার দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস রয়েছে। তিনি ওই আসনের তিন বারের সাবেক সংসদ সদস্য এস এম মোস্তফা রশিদী সুজার আপন ভাই।

তিনি বলেন, এলাকার মানুষের দোয়া নিয়ে মাঠে নেমেছি। জয়-পরাজয় এলাকার মানুষই নির্ধারণ করবেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই আসনে আওয়ামী লীগের এই দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এলাকার ভোটাররা বলছেন, বাকি ১২ জন প্রার্থীদের নাম খুব একটা শোনেননি তারা। কেউ কেউ একেবারেই অপরিচিত।

খুলনা-৫ আসনের জন্য মনোনয় জমা দিয়েছেন ৭ জন। তারা হলেন- জাতীয় পার্টির মো. শহীদ আলম, জাকের পার্টির সামাদ সেখ, আওয়ামী লীগের নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, ওয়ার্কার্স পার্টির শেখ সেলিম আকতার, বাংলাদেশ কংগ্রেসের এস এম এ জলিল, ইসলামী ঐক্যজোটের তরিকুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ আকরাম হোসেন।

এদের মধ্যে নারায়ণ চন্দ্র চন্দ একাধিক বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী। এ ছাড়া আকরাম হোসেন ফুলতলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। এই আসনেও আওয়ামী লীগের এই দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ভোটাররা। বাকি যারা প্রার্থী হয়েছেন এলাকার রাজনীতিতে তাদের তেমন কোনো পরিচিতি নেই বলে জানা গেছে।

খুলনা-৬ আসনের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ১২ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের মো. রশীদুজ্জামান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. আবু সুফিয়ান, জাকের পার্টির শেখ মর্তুজা আল মামুন, জাতীয় পার্টির মো. শফিকুল ইসলাম মধু, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মির্জা গোলাম আজম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এস এম নেওয়াজ মোরশেদ, তৃণমূল বিএনপির গাজী নাদীর উদ্দীন খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম রাজু, গাজী মোস্তফা কামাল, জি এম মাহবুবুল আলম, মো. মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর ও মো. অহিদুজ্জামান মোড়ল।

এদের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত মো. রশীদুজ্জামানের কোনো দলীয় পদ নেই। তিনি একসময় পাইকগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্যসচিব ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে জামানত হারিয়েছিলেন। তবে তাকেই মনোনয়ন দিয়ে চমক সৃষ্টি করেছে ক্ষমতাসীন দল। ওই আসনে রাজনৈতিকভাবে পরিচিত রয়েছে জাতীয় পার্টির মো. শফিকুল ইসলাম মধুর। তিনি আগেও খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। বাকি প্রার্থীদের তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই। এলাকার সবার কাছে পরিচিত মুখও নন অনেকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশির ভাগ আসনেই ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীদের স্থানীয়রা তেমন একটা চেনেন না। তবে বিরোধীদের এক অংশ নির্বাচন বর্জন করায় রাজনীতির নতুন সমীকরণ মেলাতে ছোট দলগুলোই নির্বাচনে হতে যাচ্ছে বড় দলগুলোর সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনীযুদ্ধ পার হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী।

জাসদের মাঠপর্যায়ের এক রাজনীতিবিদ জসিম মণ্ডল বলেন, ‘নির্বাচন একটা বড় খেলা। এখানে সবাই নামে নিজ নিজ সমীকরণ মেলানোর জন্য। রাজনৈতিক দলগুলোর সমীকরণ হয় এক ধরনের, আবার প্রার্থীর সমীকরণ হয় আরেক ধরনের। সবাই নির্বাচনে জয়ী হতে যেমন অংশ নেয় না তেমনই কেউ কেউ নির্বাচনে যায় অন্যের যাত্রা ভঙ্গ করতে। আবার অনেকের কাছে ‘নির্বাচনে অংশগ্রহণই বড় কথা।’ জয়-পরাজয়ের চেয়েও বড় বিষয় এ সময় পোস্টারিং করে নিজের ছবি ও পরিচিতি পুরো এলাকার মানুষকে দেখানো যায়। এটাও বা কম কিসে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দেশের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষেরই আছে নির্বাচনে দাঁড়ানোর অধিকার। তাই কটা টাকা খরচ করে অনেকেই পরিচিতি বাড়ানোর সুযোগ নেয়। এর ফল তো অসীম-সারাজীবন নানাভাবে এর সুফল মেলে। যারা রাজনীতিতে আছেন, কেবল তারাই বোঝেন নির্বাচনে অংশ নিতে পারার গুরুত্ব।


নির্বাচিত

গুম ও বিচারবহির্ভূত খুনকে প্রশ্রয় দেবে না সরকার : ডা. জাহেদ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো অমানবিক কর্মকাণ্ডকে বর্তমান সরকার কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার সকালে সচিবালয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে তিনি সরকারের এই অনড় অবস্থানের কথা ব্যক্ত করেন। প্রশাসনের গতিশীলতা বজায় রাখতে প্রয়োজনে মন্ত্রিসভায় রদবদল হতে পারে উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, "কেউ পারফর্ম করতে না পারলে মন্ত্রিসভা কিংবা উপদেষ্টা পরিষদে পরিবর্তন আনবেন প্রধানমন্ত্রী। এটি একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।" জনগণের স্বার্থ রক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য এবং প্রধানমন্ত্রী চাইলে যেকোনো সময় দায়িত্ব পুনর্বণ্টন বা দপ্তর পুনর্গঠন করতে পারেন বলে তিনি গণমাধ্যমকে অবহিত করেন। তবে এই পরিবর্তন নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমার ওপর নির্ভর করবে কি না, তা নিয়ে তিনি সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দেননি।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার রোধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে উপদেষ্টা জানান, "ভুল তথ্য, অপতথ্য ও ফেক ভিডিও ছড়িয়ে দেশের বহু নিরপরাধ ও সম্মানিত মানুষকে হেয় করা হচ্ছে। এগুলো রোধ করতে সরকার বদ্ধপরিকর।" সাইবার বুলিং থেকে নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে সরকার একটি বিশেষ বিশেষজ্ঞ ও আইনজীবী প্যানেল গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করা হবে। এছাড়া দেশত্যাগের সময় কাস্টমস ও ইমিগ্রেশন বিধিমালা ভঙ্গের দায়ে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকার প্রশংসা করে ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতির তদারকি করা হচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন নীতি বা কাজ নিয়ে জনমনে সমালোচনা থাকতে পারে এবং সরকার তা গ্রহণ করতে প্রস্তুত, কিন্তু আইন লঙ্ঘন করে কোনো ধরনের অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করা গ্রহণযোগ্য হবে না। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে কোনো দ্বিধা করবে না বলে তিনি স্পষ্ট বার্তা প্রদান করেন। এই রদবদল বা প্রশাসনিক পরিবর্তনের মূল উদ্দেশ্যই হলো জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা এবং একটি স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা।


নির্বাচিত

হজ প্যাকেজ ঘোষণা, সর্বনিম্ন ৫ লাখ ৫ হাজার টাকা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২১ জুলাই, ২০২৬ ১২:৪৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

২০২৭ সালের হজের ব্যয় ও আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করেছে সরকার। মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) নতুন এই হজ প্যাকেজ ঘোষণা করেন। সরকারি ব্যবস্থাপনায় এবার হজের সর্বনিম্ন খরচ ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা। এছাড়া বাড়তি সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত উন্নত প্যাকেজের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা। অন্যদিকে বেসরকারি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে যারা পবিত্র হজ পালন করতে চান, তাদের জন্য সাধারণ প্যাকেজের ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ লাখ ১৩ হাজার ৬৪৮ টাকা।

প্যাকেজগুলোর বিস্তারিত তথ্য প্রদানকালে মন্ত্রী জানান, সরকারি হজ প্যাকেজ-১ এর আওতায় হজযাত্রীরা মক্কায় পবিত্র হারাম শরিফ থেকে ১০০০ থেকে ১৪০০ মিটারের মধ্যে থাকার সুবিধা পাবেন এবং মদিনায় তাদের আবাসন হবে মারকাজিয়া এলাকায়। এই প্যাকেজে মিনায় জোন-২ এলাকায় তাঁবুর ব্যবস্থা থাকবে এবং মিনা-আরাফায় সার্ভিস প্যাকেজ-৩ অনুযায়ী খাদ্য ও মোয়াল্লেম সেবা নিশ্চিত করা হবে। হজযাত্রীদের সৌদি আরবে অবস্থানের সময়সীমা সাধারণত ৩৫ থেকে ৪০ দিন হবে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের মাধ্যমে কক্ষের মানোন্নয়ন বা স্বল্পমেয়াদি প্যাকেজ গ্রহণের পথও উন্মুক্ত থাকবে। অন্যদিকে ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা মূল্যের সাশ্রয়ী বা দ্বিতীয় প্যাকেজটিতে মক্কায় হারাম শরিফ থেকে ২ থেকে ৩ কিলোমিটার দূরত্বে এবং মদিনায় মসজিদে নববী থেকে ৮০০ মিটারের মধ্যে আবাসনের ব্যবস্থা রাখা হবে। হোটেলের দূরত্ব ২ কিলোমিটারের বেশি হলে সৌদি সরকারের নিয়ম অনুযায়ী সালাওয়াত বাসের সুবিধা দেওয়া হবে এবং মিনায় জোন-৫ এলাকায় তাঁবু বরাদ্দ থাকবে।

বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনের ক্ষেত্রেও সুনির্দিষ্ট নীতিমালা ঘোষণা করেছে মন্ত্রণালয়। বেসরকারি সাধারণ প্যাকেজের অধীনে মক্কায় হারাম শরিফ থেকে সর্বোচ্চ তিন কিলোমিটার এবং মদিনায় মসজিদে নববী থেকে এক কিলোমিটারের মধ্যে হাজিদের থাকার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতি কক্ষে সর্বোচ্চ ছয়জন থাকার নিয়ম রাখা হয়েছে এবং দূরত্ব বিবেচনায় বাসের ব্যবস্থা করা বাধ্যতামূলক। তালিকাভুক্ত এজেন্সিগুলো সরকারি সাধারণ প্যাকেজের চেয়ে কম সেবা দিয়ে কোনো প্যাকেজ ঘোষণা করতে পারবে না, তবে তারা চাইলে পারস্পরিক সমন্বয়ের ভিত্তিতে অতিরিক্ত তিনটি প্যাকেজ পরিচালনা করতে পারবে।

বর্তমান সরকারের নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সাশ্রয়ী ও মানবিক হজ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন ধর্মমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এবার হজ ফ্লাইটের বিমানভাড়া গত বছরের তুলনায় ২৪ হাজার ৮৩০ টাকা কমানো হয়েছে। ফলে এবার বিমানভাড়া নির্ধারিত হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা, যা ২০২৫ সালে ছিল ১ লাখ ৬৭ হাজার ৮২০ টাকা এবং তার আগে ২০২৩ সালে ছিল প্রায় ২ লাখ টাকা। সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য হজ সেবা প্রদানের লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।


নির্বাচিত

সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিতে ২০২৭ সালের মধ্যে নতুন আইন প্রণয়নের অঙ্গীকার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২১ জুলাই, ২০২৬ ১৩:৪৫
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দেশের সড়কগুলোতে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমিয়ে আনতে জাতিসংঘ সমর্থিত 'সেফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ' বা নিরাপদ সড়ক কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে একটি নতুন আইন তৈরির কাজ শুরু করেছে সরকার। স্থানীয় সময় সোমবার (২০ জুলাই) নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আয়োজিত সড়ক নিরাপত্তা সংক্রান্ত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব প্রদানকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি জানান, ২০৩০ সাল পর্যন্ত গৃহীত বৈশ্বিক সড়ক নিরাপত্তা কর্মপরিকল্পনার সাথে তাল মিলিয়ে দেশীয় আইনি, নীতিগত ও প্রযুক্তিগত কাঠামো সংস্কার করা হচ্ছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ, দুর্ঘটনা-পরবর্তী দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম এবং মহাসড়কে পথচারীদের সুরক্ষা নিশ্চিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আইনি সংস্কারের সময়সীমা উল্লেখ করে বলেন, ‘সেইফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ’ এবং আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম চর্চার আলোকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে একটি সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন চূড়ান্ত করে তা অনুমোদন ও প্রণয়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সড়ক নিরাপত্তাকে জাতীয় পর্যায়ে সর্বোচ্চ রাজনৈতিক অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও বলেন, ২০৩০ সালের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কার্যকর অংশীদারত্ব এবং সবার সম্মিলিত দায়বদ্ধতা অপরিহার্য। নিরাপদ, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক মহলের সাথে বাংলাদেশ নিবিড়ভাবে কাজ করে যাবে বলে তিনি সভায় পুনর্ব্যক্ত করেন।

জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এবং বাংলাদেশ রোড সেফটি প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ শব্বির হাসান খান। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের এই অঙ্গীকার দুর্ঘটনা নিরসনে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সরকার আশা করছে, প্রস্তাবিত আইনটি বাস্তবায়িত হলে দেশের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু উল্লেখযোগ্য হারে হ্রাস পাবে।


নির্বাচিত

মাইলস্টোন ট্র্যাজেডির এক বছর: বিষাদ আর অমীমাংসিত হাহাকার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর উত্তরার দিয়াবাড়িতে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে সংঘটিত ভয়ংকর বিমান দুর্ঘটনার এক বছর পূর্ণ হলো আজ। গত বছরের ২১ জুলাই দুপুরে এক অনাকাঙ্ক্ষিত বিপর্যয়ে আনন্দমুখর ক্যাম্পাস মুহূর্তেই মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছিল। ওই ঘটনায় বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ বিমান বিধ্বস্ত হয়ে পাইলট, শিক্ষক ও ২৮ জন শিক্ষার্থীসহ মোট ৩৬ জনের প্রাণহানি ঘটে। মর্মান্তিক এই ঘটনার পর দেশজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয়। দগ্ধ ও আহতদের দীর্ঘসময় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে হয়েছে। শারীরিক ক্ষত কিছুটা সারলেও অনেকের মনে সেই বিভীষিকাময় দিনের স্মৃতি এখনো অমলিন। বিশেষ করে গুরুতর দগ্ধ এক শিক্ষার্থীর ৩৬ বার অস্ত্রোপচার ও দীর্ঘ চিকিৎসাসফল সুস্থতা এই বিষাদময় ঘটনার মাঝে কিছুটা আশার আলো হয়ে আছে। এছাড়া অগ্নিকাণ্ডে বিকৃত হয়ে যাওয়া বেশ কিছু মৃতদেহ শনাক্ত করতে ডিএনএ পরীক্ষারও প্রয়োজন হয়েছিল।

ঘটনার পর গঠিত উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিশন প্রধান উপদেষ্টার কাছে একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন জমা দেয়। সেখানে উল্লেখ করা হয়, উড্ডয়নজনিত ত্রুটির কারণেই বিমানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিধ্বস্ত হয়েছিল। প্রতিবেদনে জননিরাপত্তার খাতিরে বিমানবাহিনীর প্রাথমিক উড্ডয়ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ঢাকার বাইরে স্থানান্তরের জোর সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি ভবন নির্মাণে রাজউকের বিধিমালা লঙ্ঘনের বিষয়টিও প্রতিবেদনে উঠে আসে। প্রয়োজনীয় সংখ্যক সিঁড়ি না থাকায় ওই দিন হতাহতের সংখ্যা বেশি হয়েছে বলে পর্যবেক্ষণে জানানো হয়। ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা রোধে এবং নিরাপদ উড্ডয়ন নিশ্চিতে বেশ কিছু অবকাঠামোগত সংস্কারের তাগিদও দেওয়া হয় ওই প্রতিবেদনে।

এই হৃদয়বিদারক ট্র্যাজেডির এক বছর স্মরণে মাইলস্টোন কর্তৃপক্ষ দুই দিনের বিশেষ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। প্রথম দিনে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া মাহফিল ও কবর জিয়ারত সম্পন্ন হয়েছে। আজ ট্র্যাজেডির দিনটিতে প্রতিষ্ঠানের সকল শাখায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। দিয়াবাড়ি ক্যাম্পাসে বিএনসিসি ও স্কাউট সদস্যদের অংশগ্রহণে এক মিনিট নীরবতা পালন এবং নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। শোক ও শ্রদ্ধায় দিনটি পালন করতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরাও কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন। এক বছর পেরিয়ে গেলেও নিহতদের স্বজন এবং আহতদের মনে সেই দুপুরের আর্তনাদ আজও করুণ সুর হয়ে বাজছে।


নির্বাচিত

৪৯ রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

বিদেশে কর্মী পাঠানোর ক্ষেত্রে নানা অনিয়ম ও আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল করেছে সরকার। গত রোববার (১৯ জুলাই) প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, লাইসেন্স বাতিল হওয়া এসব রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে রিক্রুটিং এজেন্সির অনুমোদন ও লাইসেন্সের শর্ত ভঙ্গ, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান আইন, ২০১৩, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী (সংশোধন) আইন ২০২৩ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর বিভিন্ন ধারায় আদালতে অভিযোগপত্রও দাখিল হয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩-এর ১৩ ধারা অনুযায়ী তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। আদেশটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।

যেসব প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল হয়েছে সেগুলো হলো— ইউনিক ইস্টার্ন (প্রা.) লিমিটেড, অরবিটালস এন্টারপ্রাইজ, এম/এস শাহীন ট্রাভেলস, ইরভিং এন্টারপ্রাইজ, হায়দরি ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল, রাব্বি ইন্টারন্যাশনাল, জাহরাত অ্যাসোসিয়েটস, ফোর সাইট ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, এম/এস বিনিময় ইন্টারন্যাশনাল, আকাশ ভ্রমণ লিমিটেড, এম/এস কিউ.কে. কুইক এক্সপ্রেস লিমিটেড, ইউনাইটেড এক্সপোর্ট লিমিটেড, জিএমজি ট্রেডিং (প্রা.) লিমিটেড, সাদিয়া ইন্টারন্যাশনাল, দ্য সুপার ইস্টার্ন লিমিটেড, এলিগ্যান্টস ওভারসিজ লিমিটেড, এম/এস ক্যাথারসিস ইন্টারন্যাশনাল, মিডওয়ে ওভারসিজ লিমিটেড, মদিনা ওভারসিজ, আল-খামিস ইন্টারন্যাশনাল, নিউ এজ ইন্টারন্যাশনাল, দাহমাশি করপোরেশন লিমিটেড, গ্যালাক্সি করপোরেশন, সুলতান ওভারসিজ, প্রভাতী ইন্টারন্যাশনাল, ম্যানিসপাওয়ার করপোরেশন, আমিন ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস, আহমেদ ইন্টারন্যাশনাল, আইএসএমটি হিউম্যান রিসোর্স ডেভেলপমেন্ট লিমিটেড, দরবার গ্লোবাল ওভারসিজ, নাতাশা ওভারসিজ, অপরাজিতা ওভারসিজ, ফাইভ এম ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, স্ট্যানফোর্ড এমপ্লয়মেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড, জান্নাত ওভারসিজ, বিএম ট্রাভেলস লিমিটেড, বিএনএস ওভারসিজ লিমিটেড, রুবেল বাংলাদেশ লিমিটেড, অরবিটালস ইন্টারন্যাশনাল, ট্রান্স এশিয়া ইন্টিগ্রেটেড সার্ভিসেস লিমিটেড, আল ফারাহ হিউম্যান রিসোর্সেস অ্যান্ড কনসালট্যান্সি, এম/এস স্নিগ্ধা ওভারসিজ লিমিটেড, ব্রাদার্স ইন্টারন্যাশনাল, থানেক্স ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, জিজি আলফালাহ ম্যানেজমেন্ট, ইম্পেরিয়াল রিসোর্সেস লিমিটেড, পি.আর. ওভারসিজ লিমিটেড, এম/এস এমইএফ গ্লোবাল বাংলাদেশ লিমিটেড এবং অনন্য অপূর্ব রিক্রুটিং এজেন্সি।


নির্বাচিত

রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বিমসটেকের সক্রিয় ভূমিকা চায় ঢাকা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘদিন ধরে চলমান রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে মিয়ানমারের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও জোরদারে বিমসটেকভুক্ত দেশগুলোর সক্রিয় ভূমিকা কামনা করেছে বাংলাদেশ।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীর বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ‘থ্রি ডিকেডস অব বিমসটেক: অ্যাডভান্সিং রিজিওনাল কো-অপারেশন ফর শেয়ার্ড প্রসপারিটি’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছায় ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে মিয়ানমারের ওপর কার্যকর আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করা প্রয়োজন।’ শামা বলেন, এ ক্ষেত্রে বিমসটেকভুক্ত দেশগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি শান্তিপূর্ণ, সহনশীল ও সমৃদ্ধ বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চল গড়ে তুলতে এবং বিমসটেকের প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আঞ্চলিক প্রতিশ্রুতিকে অধিক বাস্তবায়ন, কার্যকর সহযোগিতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালী করার মাধ্যমে বাস্তব কর্মসূচিতে রূপ দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

বর্তমান বিমসটেক চেয়ার হিসেবে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সংহতি, আঞ্চলিক সংযোগ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, ব্লু ইকোনমি এবং জনগণকেন্দ্রিক আঞ্চলিক সহযোগিতা এগিয়ে নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংস্থার অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনে সব সদস্য রাষ্ট্রের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করা হবে।

শামা আশা প্রকাশ করেন, সেমিনার থেকে প্রাপ্ত সুপারিশগুলো বিমসটেকের চেয়ার হিসেবে বাংলাদেশের নেতৃত্বকে আরও কার্যকর করবে এবং সংস্থার ভবিষ্যৎ উন্নয়নে সহায়ক হবে।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত বিমসটেকের মহাসচিব রাষ্ট্রদূত ইন্দ্রমণি পাণ্ডে নারীর উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে অভিযোজন, বিদ্যুৎ গ্রিড আন্তঃসংযোগ এবং জ্বালানি খাতে কারিগরি সক্ষমতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন চলমান প্রকল্প ও উদ্যোগ তুলে ধরেন।

তিনি মাদক নিয়ন্ত্রণ, সাইবার নিরাপত্তা, সামুদ্রিক ও মানব নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ ও আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমন, পর্যটন, ভিসা সহজীকরণ এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগে বিমসটেকের সহযোগিতার বিষয়েও আলোকপাত করেন।

বিআইআইএসএসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ এস এম রিদওয়ানুর রহমান স্বাগত বক্তব্য দেন। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিআইআইএসএসের গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবির।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. রাশেদুজ্জামান এবং একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার অন বাজেট অ্যান্ড পলিসির পরিচালক অধ্যাপক ড. কাজী মারুফুল ইসলাম প্যানেল উপস্থাপনা করেন।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ (বিআইপিএসএস)-এর সভাপতি মেজর জেনারেল এ এন এম মুনীরুজ্জামান (অব.) অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। মূল প্রবন্ধ ও প্যানেল আলোচনায় গত তিন দশকে বিমসটেকের অগ্রযাত্রা পর্যালোচনা করা হয় এবং আঞ্চলিক জোটটির সামনে থাকা সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ মূল্যায়ন করা হয়।

আলোচনায় বিমসটেকের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা জোরদার, আঞ্চলিক সংযোগ বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোতে সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

অংশগ্রহণকারীরা আঞ্চলিক সংহতি জোরদার এবং বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলে শান্তি, স্থিতিশীলতা, সহনশীলতা ও টেকসই উন্নয়ন এগিয়ে নিতে বাস্তবমুখী ও কর্মভিত্তিক উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

আলোচনায় আঞ্চলিক সহযোগিতা, সংযোগ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, নিরাপত্তা সহযোগিতা এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। একই সঙ্গে বিমসটেককে আরও কার্যকর করতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে শক্তিশালী অংশীদারিত্ব এবং তথ্যভিত্তিক নীতিনির্ধারণী সংলাপের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়।

সেমিনারে জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার, বিমসটেকভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধি, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, গবেষক, সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিসহ গণমাধ্যম ও নীতিনির্ধারণী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

তৃতীয় প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি নামল ২.২২ শতাংশে

* শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধি ০.২৮ শতাংশে নেমেছে * কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়িয়েছে ১.৭৪ শতাংশে * সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি হ্রাস পেয়ে দাঁড়িয়েছে ৩.৫২ শতাংশ
ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

২০২৫-২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি কমে ২.২২ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ছিল ৪.৫৩ শতাংশ। সোমবার (২০ জুলাই) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকের জিডিপির এই তথ্য তথ্য প্রকাশ করেছে।

প্রান্তিকভিত্তিক প্রবৃদ্ধির হিসাবে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি হয়েছে যথাক্রমে ৪.৯৬ শতাংশ ও ৩.০৩ শতাংশ। এর বিপরীতে গত ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধির হার ছিল যথাক্রমে ৩.৯১ শতাংশ ও ৩.৫৩ শতাংশ।

চলতি মূল্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে জিডিপির মোট আকার দাঁড়িয়েছে ১৫,৩৯১ বিলিয়ন টাকা। এর আগের অর্থবছরের (২০২৪-২৫) একই প্রান্তিকে চলতি মূল্যে জিডিপির আকার ছিল ১৪,১৯২ বিলিয়ন টাকা।

কৃষি খাত: বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে স্থির মূল্যে ২০২৫–২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে কৃষিখাতের প্রবৃদ্ধি কমে দাঁড়িয়েছে ১.৭৪ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৪.৬১ শতাংশ। তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিকে এ খাতে প্রবৃদ্ধি ছিল যথাক্রমে ২.১১ ও ৩.৬৮ শতাংশ; যেখানে আগের অর্থবছরে একই সময়ে ছিল মাইনাস ০.১২ ও ১.৯০ শতাংশ।

শিল্প খাত: ২০২৫–২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে শিল্পখাতের প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক হয়ে মাইনাস ০.২৮ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ২০২৪–২৫ অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩.৩৩ শতাংশ। তবে চলতি অর্থবছরের প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ছিল যথাক্রমে ৬.৮২ ও ১.২৭ শতাংশ; আগের অর্থবছরের একই সময়ে তা ছিল ৪.৮০ ও ৫.৭৮ শতাংশ।

সেবা খাত: সেবা খাতে ২০২৫–২৬ অর্থবছরের তৃতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৩.৫২ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৭.৩২ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম ও দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি হয়েছে যথাক্রমে ৪.৫১ ও ৪.৪৫ শতাংশ হারে, যেখানে আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৪.৪৯ ও ৫.৮৪ শতাংশ।


নির্বাচিত

বাজার থেকে ৮ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আইসক্রিম থেকে প্রসাধনী- জনপ্রিয় চার প্রতিষ্ঠানের আটটি পণ্যে মিলেছে স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ উপাদান। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় কোনো পণ্যে মিলেছে মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া, কোনো পণ্যে অতিরিক্ত প্রিজারভেটিভ, আবার কোনো পণ্যে পাওয়া গেছে প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণের ঘাটতি। এমন পরিস্থিতিতে এসব পণ্য বাজার থেকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের নির্দেশ দিয়েছে পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)। একইসঙ্গে লাইসেন্স ও অনুমোদন নতুন করে ঠিক না হওয়া পর্যন্ত এসব পণ্যের উৎপাদন, বিক্রি ও সরবরাহ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার (২০ জুলাই) বিএসটিআইয়ের পক্ষ থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিএসটিআই জানিয়েছে, ফ্রেশ গার্ডেন অ্যাগ্রো রিসোর্সেসের ‘আমের আচার’-এ অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি ক্ষতিকর প্রিজারভেটিভ পাওয়া গেছে, যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। সাধারণ মানুষের পছন্দের ব্র্যান্ড কাজী ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের বিখ্যাত ‘বেলিসিমো’ ব্র্যান্ডের ‘রোটোন্ডো হ্যাজেলনাট কোটেড চকলেট’ আইসক্রিমে দুধের চর্বিহীন কঠিন অংশ বা টোটাল মিল্ক সলিড নন ফ্যাটের পরিমাণ দেশের নির্ধারিত মানদণ্ডের চেয়ে অনেক বেশি পাওয়া গেছে।

সবচেয়ে ভীতিজনক তথ্য মিলেছে প্রসাধন পণ্যে। অলিভ বাংলাদেশ লিমিটেডের ‘লাবণ্য’ ব্র্যান্ডের স্কিন লোশন, ফেসওয়াশ ও শ্যাম্পুতে মানুষের শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর অণুজীব বা ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি ধরা পড়েছে। এই ক্ষতিকর জীবাণু পাওয়া গেছে লাবণ্য ব্র্যান্ডের মিল্ক স্কিন লোশন, এলোভেরা স্কিন লোশন, ফেসওয়াশ মোরিংগা+মাচা, ফোমিং মিল্ক ও তুলসী ফেসওয়াশ এবং অ্যালোভেরা ভেরিয়েন্টের শ্যাম্পুতে।

এছাড়া ডেকো ফুডস লিমিটেডের ‘ডেকো ফ্রুট ফান্ডা’ ব্র্যান্ডের ম্যাংগো ও অরেঞ্জ স্বাদের সফট ড্রিংক পাউডারে আবার শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন ‘সি’ পাওয়া গেছে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে অনেক কম।

ভোক্তা ও সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে বিএসটিআই দেশের সব ডিলার, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতাদের বাজার থেকে এসব পণ্য অবিলম্বে সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে।

এই নির্দেশ ঠিকঠাক পালন করা হচ্ছে কি না তা মাঠ পর্যায়ে কঠোরভাবে তদারকি করা হবে এবং কোনোরকম গাফিলতি বা আইন অমান্য করা হলে সংশ্লিষ্ট কোম্পানির বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

ক্রেতাদের বিশেষভাবে সতর্ক করে বিএসটিআই-এর মহাপরিচালক কাজী ইমদাদুল হক জানান, যে কোনো পণ্য কেনার আগে অবশ্যই বিএসটিআই লোগো, লাইসেন্স নাম্বার, উৎপাদনের তারিখ এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ ভালো করে দেখে নিতে হবে। পণ্যের মান নিয়ে কোনো সন্দেহ বা জালিয়াতির প্রমাণ পেলে দ্রুত বিএসটিআই কর্তৃপক্ষকে জানানোর জন্য তিনি অনুরোধ করেছেন।


নির্বাচিত

রেলের সংকট কাটাতে ভারত থেকে আসছে ২০০ নতুন কোচ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রেলের কোচ সংকট কাটাতে ভারত থেকে ২০০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ আমদানি করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। ৯১৫ কোটি রুপি মূল্যের একটি চুক্তির আওতায় ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে সব কোচ বাংলাদেশে পৌঁছাবে। চলতি মাসের শেষ কিংবা আগামী মাসের শুরুতে প্রথম চালান আসতে পারে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।

ভারতের কাপুরথালার রেল কোচ ফ্যাক্টরিতে আধুনিক এলএইচবি (লিংক-হফম্যান-বুশ) প্রযুক্তিতে কোচগুলো তৈরি হচ্ছে। এগুলোর সরবরাহ করছে ভারতীয় রেলওয়ের রপ্তানি সংস্থা রাইটস লিমিটেড। চার ধরনের নকশার অনুমোদন পাওয়ার পর ইতোমধ্যে উৎপাদন শুরু হয়েছে।

রাইটস লিমিটেডের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাহুল মিথাল জানিয়েছেন, শিগগিরই ২০টি কোচের প্রথম চালান বাংলাদেশে পাঠানো হবে। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে ১২০টি ব্রডগেজ এলএইচবি কোচ, ৩৬টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ এবং ১০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সরবরাহ করেছে।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ সরকার রেলব্যবস্থা আধুনিকীকরণের অংশ হিসেবে আরও ২৬০টি ব্রডগেজ যাত্রীবাহী কোচ, ৪৬টি ব্রডগেজ লোকোমোটিভ এবং ৫০টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে।

ইউরোপীয় ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের আওতায় ২০২৬ সালের জুন থেকে ধাপে ধাপে নতুন কোচগুলো বাংলাদেশ রেলওয়ের বহরে যুক্ত হবে। সংশ্লিষ্টদের আশা, এতে কোচ সংকট অনেকটাই কমবে এবং যাত্রীসেবার মান ও সক্ষমতা বাড়বে।

বাংলাদেশ রেল মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নতুন কোচ যুক্ত হলে আন্তঃনগর ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন রুট চালুর সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে ঢাকা ও উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার মধ্যে রেল যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হবে।

এদিকে, এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলকাতা-ঢাকা মৈত্রী এক্সপ্রেস পুনরায় চালুর বিষয়ে আগামী সেপ্টেম্বরে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা শুরু হতে পারে। ২০২৪ সালে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ট্রেনটির চলাচল স্থগিত করা হয়েছিল।

বর্তমানে বাংলাদেশে মিটারগেজ, ব্রডগেজ ও ডুয়ালগেজ মিলিয়ে ৩ হাজার ৪০০ কিলোমিটারের বেশি রেললাইন রয়েছে। যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে রেল নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের পাশাপাশি নতুন রোলিং স্টক যুক্ত করার উদ্যোগও অব্যাহত রয়েছে।


নির্বাচিত

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেলেন রাশেদ খাঁন

রাশেদ খাঁন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) পদে সচিব পদমর্যাদায় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পেয়েছেন মো. রাশেদ খাঁন। এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের চুক্তি ও বৈদেশিক নিয়োগ শাখা থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

রোববার (১৯ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. গোলাম রব্বানী স্বাক্ষরিত এ প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, মো. রাশেদ খাঁনকে অন্য যেকোনো পেশা, ব্যবসা অথবা সরকারি, আধা-সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক পরিত্যাগের শর্তে এই নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, যোগদানের তারিখ থেকে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদকাল পর্যন্ত অথবা প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিসাপেক্ষে যেটি আগে ঘটে, সে সময় পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) হিসেবে সচিব পদমর্যাদায় দায়িত্ব পালন করবেন।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, নিয়োগের অন্যান্য শর্তাবলি সংশ্লিষ্ট চুক্তিপত্রের মাধ্যমে নির্ধারণ করা হবে। জনস্বার্থে এ আদেশ জারি করা হয়েছে বলেও প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, সংশ্লিষ্ট সিনিয়র সচিব, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়েছে।


নির্বাচিত

থার্ড টার্মিনাল পরিচালনা করবে জাপানি কনসোর্টিয়াম, চুক্তি সেপ্টেম্বর নাগাদ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নবনির্মিত থার্ড টার্মিনাল পরিচালনার জন্য জাপানিজ কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে আগামী আগস্টের শেষ সপ্তাহে কিংবা সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে চুক্তি সম্পন্ন হতে পারে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদস্য (পরিচালন ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডোর আবু সাঈদ মেহ্‌বুব খান।

সোমবার (২০ জুলাই) দুপুরে বেবিচক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এই তথ্য জানান।

চুক্তির বিষয়ে স্পষ্ট করে আবু সাঈদ মেহ্‌বুব খান বলেন, ‘চুক্তির আলোকে জাপানিজরা শুধু থার্ড টার্মিনালই পরিচালনা করবে। তাদের প্রথম এবং দ্বিতীয় টার্মিনাল পরিচালনার কোনো সুযোগ নেই।’

এ সময় বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক উপস্থিত ছিলেন। টার্মিনালটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আগামী ১৬ ডিসেম্বর উদ্বোধনের চেষ্টা চলছে।’

তিনি আরও জানান, বিমানবন্দরের নির্মাণকাজ প্রায় শেষের দিকে। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ডিসেম্বরেই এটি উদ্বোধন করতে চান তারা। তবে তার আগেই জাপানি কোম্পানির সাথে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন করা হবে এবং এরপরই উদ্বোধনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

একই সাথে তিনি জানান, বিমানবন্দরের মতো অত্যন্ত স্পর্শকাতর এলাকায় ড্রোন ওড়ানো বন্ধে তারা কঠোর অবস্থান নিচ্ছেন। তবে এই এলাকায় ড্রোন ওড়ানোর আগে সংশ্লিষ্ট সকলকে নীতিমালা ও নিয়মকানুনগুলো ভালোভাবে পড়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।


নির্বাচিত

জনগণের করের প্রতিটি টাকার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে: ইসমাইল জবিউল্লাহ

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাষ্ট্রের প্রতিটি কর্মঘণ্টা এবং জনগণের করের প্রতিটি টাকার সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ। তিনি বলেন, ‘সরকারি কার্যক্রমে সময়, অর্থ ও জনশক্তির দক্ষ ব্যবহারের মাধ্যমে জনসেবার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করাই হতে হবে প্রশাসনের অন্যতম লক্ষ্য।’

সোমবার (২০ জুলাই) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এবং বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমির সহ-আয়োজনে রাজধানীর বিসিএস প্রশাসন একাডেমিতে জাতীয় পাবলিক সার্ভিস দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরী।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, ‘আপনাদের প্রতিটি পদক্ষেপ গ্রহণের আগে এর প্রয়োজনীয়তা ও জনকল্যাণে এর প্রভাব বিবেচনা করতে হবে। এখন সময় এসেছে প্রতিটি সভা, প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার মূল্যায়ন করার। আমরা কত টাকা ব্যয় করলাম, কত কর্মঘণ্টা বিনিয়োগ করলাম এবং তার বিনিময়ে জনসেবার মান কতটুকু উন্নত হলো- এই হিসাবও প্রশাসনের অংশ হতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান বিশ্বব্যবস্থা দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা, ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের পরিবর্তন, জলবায়ু সংকট এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তার আমাদের সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে। এসব চ্যালেঞ্জ পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব না হলেও দক্ষ প্রশাসন, বিচক্ষণ কূটনীতি এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ সিভিল সার্ভিসের মাধ্যমে এর প্রভাব অনেকাংশে মোকাবিলা করা সম্ভব।’ এজন্য সরকারি কর্মকর্তাদের সর্বদা সজাগ, দূরদর্শী ও পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। তিনি সকলকে প্রধানমন্ত্রীর নিয়মানুবর্তিতা, দেশপ্রেম অনুসরণ করে কাজ করার আহ্বান জানান। এ ছাড়া, কর্মকর্তাদের তিনি দায়িত্ব এড়িয়ে যাওয়ার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে ডেলিগেশন অব ফাইন্যান্সিয়াল পাওয়ার অনুযায়ী নথিতে সিদ্ধান্ত প্রদানের নির্দেশনা দেন।

সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সরকারি কর্মকর্তাদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘সরকারের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের মূল চালিকাশক্তি হচ্ছে প্রশাসন। ইশতেহারের সফল বাস্তবায়নের সুফল আপনার পরিবার, আপনার সন্তান এবং দেশের প্রতিটি নাগরিক ভোগ করবে। আজ আমাদের সামনে একটি আধুনিক, দক্ষ ও জনমুখী রাষ্ট্র গড়ে তোলার ঐতিহাসিক সুযোগ এসেছে।’

কর্মশালায় টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) এবং সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারকে সমন্বয় করে বাস্তবায়ন সূচক (ট্র্যাকার) প্রণয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে উপদেষ্টা বলেন, ‘যুক্তরাজ্য ও সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশ সরকারি প্রতিশ্রুতিগুলোকে পরিমাপযোগ্য সূচকে রূপান্তর করে নীতি বাস্তবায়ন ও জবাবদিহিতা আরও শক্তিশালী করেছে।’ বাংলাদেশেও এ ধরনের কার্যকর ট্র্যাকার তৈরিতে প্রয়োজনে দক্ষ আইটি বিশেষজ্ঞ ও ডেটা অ্যানালিটিক্স প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যতের জনপ্রশাসন হবে উপাত্তভিত্তিক ও প্রযুক্তিনির্ভর। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মভিত্তিক মনিটরিং ব্যবস্থার মাধ্যমে স্বচ্ছতা, গতি ও জবাবদিহিতা আরও বাড়ানো সম্ভব। মানুষের সঙ্গে প্রযুক্তির কার্যকর সংযোগ যত বাড়বে, প্রশাসনিক কার্যক্রম তত বেশি দক্ষ ও ফলপ্রসূ হবে।’

তিনি কর্মকর্তাদের জনগণের সঙ্গে আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং নিজের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি যত্নবান হওয়ার আহ্বান জানান। কারণ, একজন সুস্থ, সৎ ও ভারসাম্যপূর্ণ কর্মকর্তাই জনগণকে সর্বোত্তম সেবা দিতে পারেন।

কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস প্রশাসন একাডেমির রেক্টর (সচিব) ড. মোহাম্মদ আলতাফ-উল-আলম। এ ছাড়া অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য প্রদান করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (সিপিটি) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম। কর্মশালায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং একাডেমির প্রশিক্ষণার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কামালকে হস্তান্তরে ভারতকে বাংলাদেশের চিঠি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফিরিয়ে আনতে ভারত সরকারকে আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের একটি বিশ্বস্ত সূত্র গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। সূত্রটি জানায়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সম্প্রতি ভারতের কাছে এই প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাঠানো হয়েছে এবং চিঠির সঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক তাকে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ের অনুলিপিও সংযুক্ত করা হয়েছে।

উল্লেখ্য যে, জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ তৎকালীন পুলিশ প্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম শেষে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।

আদালতের রায়ে শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়। বিচারকগণ রায়ে উল্লেখ করেন যে, তারা ‘সুপিরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি’ (ঊর্ধ্বতন কমান্ডের দায়) নীতির আওতায় নিরাপত্তা বাহিনীর সব কর্মকাণ্ডের জন্য দায়ী। পরবর্তীতে প্রকাশিত ৪৫৩ পৃষ্ঠার পূর্ণাঙ্গ রায়ে ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের রাষ্ট্রীয় অনুকূলে থাকা সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করারও নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমানে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতে অবস্থান করছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে ফিরিয়ে আনতে এই আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে সরকার।


নির্বাচিত

banner close