আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ২ হাজার ৭১৩ জন প্রার্থী। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে নিবন্ধিত ৪৪টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩২টি দল। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন ৭৪৭ জন। সে হিসাবে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রত্যয়নপত্র নিয়ে নির্বাচনে উপস্থিত ১৯৬৬ জন প্রার্থী। আর স্বতন্ত্রদের মধ্যে অন্তত ৪০০ জন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন। তবে সাধারণ মানুষের অভিযোগ, নির্বাচনে আসা বড় দল আওয়ামী লীগের মূল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বাইরে অন্যদলগুলোর বেশির ভাগ প্রার্থীই আসনগুলোর মানুষের কাছে অচেনা। প্রায় প্রতিটি আসনেই নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন এমন অনেক অচেনা মুখ যাদের প্রার্থিতা পেতে সমস্যা না হলেও নির্বাচনী লড়াইয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে পরিচিত হতেই পার হয়ে যাবে প্রচারণার বেশির ভাগ সময়। ফলে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, নির্বাচনে প্রার্থী আছে অনেক বেশি, কিন্তু, প্রতিদ্বন্দ্বী কম।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ৩০০ আসনের বিপরীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের (নৌকা) ৩০৩ জন, জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল) ৩০৪ জন, জাকের পার্টি (গোলাপ ফুল) ২১৮ জন, তৃণমূল বিএনপি (সোনালী আঁশ) ১৫১ জন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি- এনপিপি (আম) ১৪২ জন, বাংলাদেশ কংগ্রেস (ডাব) ১১৬ জন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ (মশাল) ৯১ জন, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন (ফুলের মালা) ৪৭ জন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন (বটগাছ) ১৩ জন, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি (হাতঘড়ি) ১৮ জন, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ (চেয়ার) ৩৯ জন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (কাঁঠাল) ১৩ জন, গণফ্রন্ট (মাছ) ২৫ জন, গণফোরাম (উদীয়মান সূর্য) ৯ জন, ইসলামী ঐক্যজোট (মিনার) ৪৫ জন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট (মোমবাতি) ৩৭ জন, জাতীয় পার্টি-জেপি (বাইসাইকেল) ২০ জন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ (গামছা) ৩৪ জন, গণতন্ত্রী পার্টি (কবুতর) ১২ জন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (হাতুড়ি) ৩৩ জন, বিকল্পধারা বাংলাদেশ (কুলা) ১৪ জন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (একতারা) ৮২ জন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন-বিএনএম (নোঙর) ৪৯ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট- বিএনএফ (টেলিভিশন) ৫৫ জন, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (ছড়ি) ৭৪ জন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ- বিএমএল (হাত-পাঞ্জা) ৫ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি- ন্যাপ (কুঁড়েঘর) ৬ জন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মই) একজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (রিকশা) একজন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ (খেজুর গাছ) একজন এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (হারিকেন) দুইজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
এদিকে মনোনয়ন জমার শেষ দিনেই ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম জানিয়েছেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিলের সময়সীমা বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। ফলে বিএনপিসহ যে দলগুলো নির্বাচন বর্জন করেছে তাদের আর মত পাল্টে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসার দৃশ্যমান কোনো সুযোগ নেই। আন্দোলনরত দলগুলোও অবশ্য আগেই এ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতি দিয়েছে।
ফলে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর যাচাই-বাছাই শেষে যেসব প্রার্থী টিকে যাবেন তারাই থাকবেন নির্বাচনী দৌড়ে। তবে প্রতিটি আসনে ভোটের লড়াইয়ে যারা যাচ্ছেন তাদের বেশির ভাগেরই দলের নাম সাধারণ মানুষ জানে না। আর দল অচেনা বলে প্রার্থীরাও অচেনা। ফলে তাদের ধারণা নির্বাচনী লড়াইয়ে আসলে টিকে থাকবেন বড় দলের পরিচিত মুখগুলো। এর মধ্যে শাসক দলের মার্কা নিয়ে লড়াই করা প্রার্থীরা যেমন আলোচনায় থাকবেন, তেমনই অনেক আসনেই তাদের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমাতে পারেন নির্বাচনে আসা আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। কেননা, দলটির স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বেশির ভাগই স্থানীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত এবং তাদের মোটামুটি ভোট ব্যাংক অথবা এলাকাবাসীকে প্রভাবিত করার সক্ষমতা রয়েছে। নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া ৭৪৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে অন্তত ৪০০ জনই আওয়ামী লীগের।
যদিও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গত কয়েক দিনের মতো গতকালও বলেছেন, দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ঢালাওভাবে নির্বাচন করতে পারবেন না। এ ছাড়া ১৪-দলীয় জোটের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির সম্ভাবনা রয়েছে আওয়ামী লীগের। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন, নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আসতে পারবেন জোটের এমন প্রার্থীরাই কেবল থাকবেন বিবেচনায়। আর ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করে তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।
এর ফলে এটা স্পষ্ট যে, জোটের সঙ্গে সমঝোতা হলে কয়েকটি আসনে আওয়ামী লীগ যাদের মনোনয়ন দিয়েছে তাদেরও রণে ভঙ্গ দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে হবে।
তবে আওয়ামী লীগ সভাপতি নির্বাচনী কৌশল হিসেবে এবার দলীয় মার্কার বাইরে দলীয় প্রার্থীদের স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড়ানোর সুযোগ দেয়ায় নির্বাচনে আসা প্রার্থীদের কতজন আবার দল চাইলে নির্দেশ মেনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন সেটাও আছে দেখার বিষয়।
তবে এই আলোচনার বাইরে থেকে যাচ্ছে বেশির ভাগ প্রার্থী যারা বিভিন্ন দল থেকে নির্বাচনে এলেও জনগণের কাছে নিজের দল, দলীয় প্রতীক এবং নিজের পরিচয় প্রকাশ করার সুযোগ পাবেন। তবে প্রতিটি আসনে স্থানীয় ভোটারদের কাছে তারা এখনো অচেনা এবং নতুন মুখ হিসেবে বিবেচিত।
যেমন দল হিসেবে এবারই প্রথম নির্বাচন করছে তৃণমূল বিএনপি, বিএনএম, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি। এসব দলের বেশির ভাগ প্রার্থী নিজ নিজ এলাকার ভোটারদের কাছে নতুন পরিচয়ে উপস্থিত হবেন। অনেকে আবার খুব বেশি পরিচিত নন। একইভাবে তাদের নির্বাচনী প্রতীক যথাক্রমে সোনালী আঁশ, নোঙর ও একতারা চেনাতেও এবার তাদের বিশেষ প্রস্তুতি নিতে হবে।
তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনএমের প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য আছেন ৬ জন এবং তৃণমূলের প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য আছেন ৫ জন।
এদিকে, গতকাল আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর কাদের বলেছেন, বিএনপির ১৫ কেন্দ্রীয় নেতাসহ সাবেক ৩০ জন সংসদ সদস্য নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এদের মধ্যে কাদের সিদ্দিকী, লতিফ সিদ্দিকী, আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর মতো নেতাও আছেন। আবার আগে বিএনপিতে প্রভাব ছিল দলটির এমন সাবেক নেতারাও আছেন নির্বাচনে। এদের মধ্যে তৈমূর আলম, সমশের মবিন চৌধুরীর নাম উল্লেখযোগ্য।
তবে এদের বাইরে নির্বাচনের মাঠে থাকা বেশির ভাগ প্রার্থীই অচেনা। এ বিষয়ে গাজীপুর-৪ আসনের একজন প্রার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমার দল এলাকায় তেমন পরিচিত নয়। দলের প্রচার চালাতে ও এলাকার মানুষের কাছে নিজের পরিচয় তুলে ধরতে এবার ভোট করতে আসা। আমিও জানি নির্বাচনে জয়লাভ করার অবস্থান এখনো আমার বা আমার দলের তৈরি হয়নি। তবে এক দিনে তো কিছুই হয় না। আমাদের দলের আদর্শ ও কর্মসূচি দেশের মানুষ ও এলাকার মানুষকে জানাতে আমরা নির্বাচনে এসেছি।’
অন্যদিকে লালমনিরহাট-৩ আসনে মনোনয়ন জমা দেয়া প্রার্থীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই সদর আসনে ৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সদ্য পদত্যাগকারী সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জাবেদ হোসেন বক্কর, জাতীয় পার্টি থেকে জাহিদ হাসান, তৃণমূল বিএনপি থেকে শামীম আহম্মেদ চৌধুরী, জাকের পার্টি থেকে সকিউজ্জামান মিয়া, বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল থেকে আশরাফুল আলম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) থেকে আবু তৈয়ব মো. আজমুল হক পাটোয়ারী, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) থেকে শ্রী হরিশ চন্দ্র রায় মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তবে এবার তিনি এ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেননি। ফলে এ আসনে নির্বাচনে অংশ নেয়া সব প্রার্থীই নতুন এবং নতুন একজন সংসদ সদস্য পাবে লালমনিরহাট সদরবাসী। তবে নতুন হলেও জেলা ও শহরের রাজনীতিতে পুরনো মুখ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান। ছাত্ররাজনীতি করায় জাবেদ হোসেন বক্করও সেখানে পরিচিত মুখ। জাকের পার্টি ও জাসদের প্রার্থীকেও অনেকে চেনেন। তবে সাম্যবাদী দল, এনপিপির প্রার্থীর মতো জাতীয় পার্টির প্রার্থীও এলাকার সবার চেনা মুখ নন। ফলে যে আসন থেকে জাতীয় পার্টি বর্তমান সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছে সেখানে নতুন মুখ দেয়ায় মাঠের রাজনীতিতে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন এলাকার অনেক বাসিন্দা।
বিষয়টা আরও স্পষ্ট হয় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনার ৬টি আসন বিশ্লেষণ করলে। দৈনিক বাংলার খুলনা ব্যুরো জানায়, খুলনার এই ৬টি আসনের জন্য সেখানে ৫৩ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে যারা সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচন করবেন, তাদের অধিকাংশেরই রাজনীতিতে তেমন কোনো পরিচিতি নেই। হঠাৎ করেই তারা কেন সংসদ নির্বাচনে আগ্রহী হলেন, এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে উত্তরও দেননি অধিকাংশ প্রার্থী।
খুলনা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের মনোনীত ৬ জন প্রার্থী, আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র ২ জন এবং জাতীয় পার্টির একজন প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচিতি রয়েছে। বাকি ৪৪ জন প্রার্থী কখনো রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয় ছিলেন না।
খুলনা প্রতিনিধির বিশ্লেষণ অনুযায়ী খুলনা-১ আসনের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ৬ জন। তারা হলেন, জাকের পার্টির মো. আজিজুর রহমান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ননী গোপাল মণ্ডল, জাতীয় পার্টির কাজী হাসানুর রশিদ, তৃণমূল বিএনপির গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রশান্ত কুমার রায় ও আবেদ আলী শেখ।
এদের মধ্যে ননী গোপাল মণ্ডল ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। রাজনীতিতে তার পরিচিতি রয়েছে। তবে বাকি চারজন রাজনীতিতে একেবারেই অপরিচিত। তারা প্রত্যেকেই এবার প্রথম সংসদ নির্বাচন করছেন। এদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রশান্ত কুমার রায় পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সাবেক সচিব।
তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আমি নির্বাচন করছি। আমাকে ডামি প্রার্থীও বলা যাবে। এটা দলীয় নির্দেশেই হচ্ছে।’
আওয়ামী লীগের ননী গোপাল মণ্ডল বলেন, ‘দল আমাকে আবারও সুযোগ দিয়েছে। আমি দলের সম্মান রাখব বলে আশাবাদী।’
তবে বাকি চার প্রার্থীর তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই। জাতীয় পার্টীর কাজী হাসানুর রশিদ ও তৃণমূল বিএনপির গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিকের কাছে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেও কোনো উত্তর মেলেনি।
আর জাকের পার্টি মো. আজিজুর রহমান বলেন, ‘দল থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে বলেছে, তাই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি।’
অন্যদিকে খুলনা-২ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৯ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল, গণতন্ত্র পার্টির মো. মতিয়ার রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের দেবদাস সরকার, জাকের পার্টির ফরিদা পারভিন, ইসলামী ঐক্যজোটের হিদায়েতুল্লাহ, জাতীয় পার্টির মো. গাউসুল আজম, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের বাবু কুমার রায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সাঈদুর রহমান।
এদের মধ্যে শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থীর রাজনৈতিকভাবে পরিচিতি রয়েছে। তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। তবে বাকিদের আগে কখনো রাজনৈতিক মাঠে দেখা যায়নি।
কেন প্রার্থী হয়েছেন- এমন প্রশ্নে বাংলাদেশ কংগ্রেসের দেবদাস সরকার বলেন, ‘অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে মনোনয়ন জমা দেয়া হচ্ছে, তাই আমরাও দিচ্ছি।’
খুলনা-৩ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৫ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের এস এম কামাল হোসেন, জাকের পার্টির এস এম সাব্বির হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, স্বতন্ত্র প্রার্থী কাইজার আহমেদ ও ফাতেমা জামান সাথী।
এদের মধ্যেও শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচিতি রয়েছে। তিনি দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। তিন বারের সংসদ সদস্য ও দুই বারের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানকে সরিয়ে তাকেই আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিয়েছে। তবে ওই আসনেরও বাকি চারজনের তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই।
খুলনা-৪ আসন থেকে মনোনয়ন নিয়েছেন ১৪ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের আব্দুস সালাম মূর্শেদী, জাকের পার্টির শেখ আনছার আলী, জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এস এম আজমল হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. ফরহাদ আহমেদ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. মোস্তাফিজুর রহমান, তৃণমূল বিএনপির শেখ হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মনিরা সুলতানা, ইসলামী ঐক্যজোটের রিয়াজ উদ্দীন খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জুয়েল রানা, এম ডি এহসানুল হক, মো. রেজভী আলম, এস এম মোর্ত্তজা রশিদী দারা, আতিকুর রহমান ও এইচ এম রওশান জমির।
এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের আব্দুস সালাম মূর্শেদী বর্তমান সংসদ সদস্য। ২০১৮ সালের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে তিনি জয়ী হয়েছিলেন।
এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম মোর্ত্তজা রশিদী দারার দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস রয়েছে। তিনি ওই আসনের তিন বারের সাবেক সংসদ সদস্য এস এম মোস্তফা রশিদী সুজার আপন ভাই।
তিনি বলেন, এলাকার মানুষের দোয়া নিয়ে মাঠে নেমেছি। জয়-পরাজয় এলাকার মানুষই নির্ধারণ করবেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই আসনে আওয়ামী লীগের এই দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এলাকার ভোটাররা বলছেন, বাকি ১২ জন প্রার্থীদের নাম খুব একটা শোনেননি তারা। কেউ কেউ একেবারেই অপরিচিত।
খুলনা-৫ আসনের জন্য মনোনয় জমা দিয়েছেন ৭ জন। তারা হলেন- জাতীয় পার্টির মো. শহীদ আলম, জাকের পার্টির সামাদ সেখ, আওয়ামী লীগের নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, ওয়ার্কার্স পার্টির শেখ সেলিম আকতার, বাংলাদেশ কংগ্রেসের এস এম এ জলিল, ইসলামী ঐক্যজোটের তরিকুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ আকরাম হোসেন।
এদের মধ্যে নারায়ণ চন্দ্র চন্দ একাধিক বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী। এ ছাড়া আকরাম হোসেন ফুলতলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। এই আসনেও আওয়ামী লীগের এই দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ভোটাররা। বাকি যারা প্রার্থী হয়েছেন এলাকার রাজনীতিতে তাদের তেমন কোনো পরিচিতি নেই বলে জানা গেছে।
খুলনা-৬ আসনের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ১২ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের মো. রশীদুজ্জামান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. আবু সুফিয়ান, জাকের পার্টির শেখ মর্তুজা আল মামুন, জাতীয় পার্টির মো. শফিকুল ইসলাম মধু, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মির্জা গোলাম আজম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এস এম নেওয়াজ মোরশেদ, তৃণমূল বিএনপির গাজী নাদীর উদ্দীন খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম রাজু, গাজী মোস্তফা কামাল, জি এম মাহবুবুল আলম, মো. মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর ও মো. অহিদুজ্জামান মোড়ল।
এদের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত মো. রশীদুজ্জামানের কোনো দলীয় পদ নেই। তিনি একসময় পাইকগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্যসচিব ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে জামানত হারিয়েছিলেন। তবে তাকেই মনোনয়ন দিয়ে চমক সৃষ্টি করেছে ক্ষমতাসীন দল। ওই আসনে রাজনৈতিকভাবে পরিচিত রয়েছে জাতীয় পার্টির মো. শফিকুল ইসলাম মধুর। তিনি আগেও খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। বাকি প্রার্থীদের তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই। এলাকার সবার কাছে পরিচিত মুখও নন অনেকে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশির ভাগ আসনেই ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীদের স্থানীয়রা তেমন একটা চেনেন না। তবে বিরোধীদের এক অংশ নির্বাচন বর্জন করায় রাজনীতির নতুন সমীকরণ মেলাতে ছোট দলগুলোই নির্বাচনে হতে যাচ্ছে বড় দলগুলোর সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনীযুদ্ধ পার হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী।
জাসদের মাঠপর্যায়ের এক রাজনীতিবিদ জসিম মণ্ডল বলেন, ‘নির্বাচন একটা বড় খেলা। এখানে সবাই নামে নিজ নিজ সমীকরণ মেলানোর জন্য। রাজনৈতিক দলগুলোর সমীকরণ হয় এক ধরনের, আবার প্রার্থীর সমীকরণ হয় আরেক ধরনের। সবাই নির্বাচনে জয়ী হতে যেমন অংশ নেয় না তেমনই কেউ কেউ নির্বাচনে যায় অন্যের যাত্রা ভঙ্গ করতে। আবার অনেকের কাছে ‘নির্বাচনে অংশগ্রহণই বড় কথা।’ জয়-পরাজয়ের চেয়েও বড় বিষয় এ সময় পোস্টারিং করে নিজের ছবি ও পরিচিতি পুরো এলাকার মানুষকে দেখানো যায়। এটাও বা কম কিসে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দেশের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষেরই আছে নির্বাচনে দাঁড়ানোর অধিকার। তাই কটা টাকা খরচ করে অনেকেই পরিচিতি বাড়ানোর সুযোগ নেয়। এর ফল তো অসীম-সারাজীবন নানাভাবে এর সুফল মেলে। যারা রাজনীতিতে আছেন, কেবল তারাই বোঝেন নির্বাচনে অংশ নিতে পারার গুরুত্ব।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের নতুন সচিব হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে মো. ওবায়দুর রহমানকে। বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব জেতী প্রু স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই নিয়োগের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এর আগে তিনি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পেশাগত জীবনে তিনি শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এপিডি অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিবের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।
বিসিএস ১৫তম ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের এই কর্মকর্তা ২০২৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে পদোন্নতি লাভ করেন এবং চলতি বছরের জুন পর্যন্ত উক্ত দায়িত্ব পালন করেন। মো. ওবায়দুর রহমান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেছেন। পটুয়াখালী জেলা প্রশাসনে সহকারী কমিশনার হিসেবে তাঁর বর্ণাঢ্য কর্মজীবন শুরু হয়েছিল। সর্বশেষ চলতি বছরের জুন মাসে তাঁকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়, যেখান থেকে বর্তমান পদায়নের মাধ্যমে তিনি নতুন দায়িত্ব পেলেন।
দেশের সকল বিমানবন্দরে ভিআইপি ও সিআইপিসহ প্রত্যেক যাত্রীর জন্য সমান নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণের কঠোর নির্দেশ দিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম। একই সঙ্গে বিমানবন্দর এলাকায় অননুমোদিত ড্রোন উড্ডয়ন প্রতিরোধে অত্যাধুনিক অ্যান্টি-ড্রোন সিস্টেম স্থাপনের ঘোষণা দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) সদর দপ্তরে পুনর্গঠিত জাতীয় বেসামরিক বিমান চলাচল নিরাপত্তা কমিটির (এনসিএএসসি) প্রথম সভায় এসব যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
সভার সভাপতিত্বকালে মন্ত্রী আফরোজা খানম আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থার (আইকাও) আসন্ন অডিট প্রসঙ্গে গুরুত্বারোপ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, এই অডিটের ফলাফলের ওপর দেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি নির্ভরশীল, তাই আইকাওর পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সকল কমপ্লায়েন্স দ্রুত নিশ্চিত করতে হবে। নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি সুস্পষ্টভাবে বলেন, “ভিআইপি ও সিআইপিসহ সবার জন্য নিরাপত্তা প্রটোকল সমান। বিমানবন্দরের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবাইকে একই নিরাপত্তা প্রটোকল অনুসরণ করতে হবে।” এছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য নির্বিঘ্ন ও উন্নত যাত্রীসেবা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে তিনি জানান।
অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান যে, দীর্ঘ তিন বছর পর অনুষ্ঠিত এই কমিটির সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে। তিনি বিমানবন্দরের নিরাপত্তা সরঞ্জাম ও স্ক্যানার বৃদ্ধির ওপর জোর দিয়ে বলেন, “নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম ও স্ক্যানারের সংখ্যা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি থাকাই উত্তম।” পাশাপাশি তিনি আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশনা প্রদান করেন।
সভায় বেসামরিক বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময় ও সমন্বয় বৃদ্ধির বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবেশপথের নিরাপত্তা ও আন্ডার ভেহিকেল স্ক্যানিং সিস্টেমের কার্যকারিতা পর্যালোচনার পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমঝোতা স্মারক সইয়ের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। এছাড়া বিমানবন্দরের ল্যান্ডসাইড এলাকায় যানজট, অনাকাঙ্ক্ষিত জনসমাগম, ভিক্ষুকের উপদ্রব ও অবৈধ লাগেজ র্যাপিং নিয়ন্ত্রণে বেবিচক, পুলিশ, এপিবিএন ও ম্যাজিস্ট্রেটসহ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন ও শৃঙ্খলা রক্ষায় এসব সমস্যা সমাধানে নিয়মিত আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর সভায় বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) সাত সহকারী কমিশনারকে (এসি) বিভিন্ন ইউনিটে বদলি ও পদায়ন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদের সই করা এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
আদেশে বলা হয়, ডিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামকে গুলশান বিভাগের পেট্রোল-ক্যান্টনমেন্ট শাখার সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
ডিএমপির সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. সাকিলুর রহমানকে গোয়েন্দা-সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম-উত্তর বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
পরিবহন বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মুশফিকুর রহমান তুষারকে লালবাগ বিভাগের চকবাজার জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
ট্রাফিক মিরপুর বিভাগের পল্লবী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) তানিয়া সুলতানাকে উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার করা হয়েছে।
লজিস্টিকস বিভাগের প্রকিউরমেন্ট শাখার সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) শেখ সুরাইয়া উর্মিকে পিওএম-পশ্চিম বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
লালবাগ বিভাগের চকবাজার জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. মাহফুজার রহমানকে প্রটেকশন বিভাগের বঙ্গভবন-নিরাপত্তা-১ শাখার সহকারী পুলিশ কমিশনার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
ওয়েলফেয়ার ও ফোর্স বিভাগের নারী পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) নুসরাত ইয়াছমিন তিসাকে ট্রাফিক-মিরপুর বিভাগের ট্রাফিক-পল্লবী জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার করা হয়েছে।
আদেশে বলা হয়েছে, বদলি করা কর্মকর্তাদের আগামী ৬ আগস্টের মধ্যে বর্তমান কর্মস্থলের দায়িত্বভার অর্পণ করে নতুন কর্মস্থলে যোগদানের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন ভারতের কাছে আরও বেশি ডিজেল চেয়েছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুরে সচিবালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
এদিন ভারতীয় হাই কমিশনারের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কী নিয়ে আলাপ হয়েছে জানতে চাইলে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, ‘এর আগে অনেক অ্যাম্বাসেডরের সঙ্গে মিটিং হয়েছে, সে রকম রুটিন মিটিং ভারতের অ্যাম্বাসেডরের সঙ্গে হয়েছে। যেহেতু আমাদের প্রতিবেশী দেশ, আমাদের অনেক স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট ব্যাপার আছে। সেগুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।’
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে একটা পাইপলাইন আছে, সেখান থেকে ডিজেল আসে। তাদেরকে বলেছি, আরও বেশি (ডিজেল) দেওয়ার জন্য।’
জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন প্রসঙ্গে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে টুকু বলেন, ‘আমি শেখ হাসিনার সম্পর্কে কিছু বলতে চাই না। উনি তো অনেক কিছুই করেন। দেশটাকে ধ্বংস করে দিয়ে গেছেন।’
গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরও দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে বলে জানান টুকু। তিনি আরও বলেন, ‘গ্যাস না থাকলে মানুষও পাবে না, আমার পাওয়ার সমস্যাও যাবে না।’
বিদ্যুতের অতিরিক্ত বিল প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘যখন আমরা বলি বিলগুলো নিয়ে আসেন, তখন তো বিল নিয়ে কেউ আসে না।’
ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘জুন মাস থেকে বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছি আমরা। মার্চ মাসে যে গরম ছিল
জুন মাসে সে গরম ছিল না।’
একজন গণমাধ্যমকর্মীর অভিযোগ খতিয়ে দেখা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, তার বিল আসতো সাড়ে তিন হাজার টাকা। এখন আসছে সাত হাজার টাকা।
‘আমার লোক পরীক্ষা করে দেখে এসেছে, উনি দুই টনের দুটি এয়ার কন্ডিশনার চালান। উনার ফ্রিজ আছে, ব্লেন্ডার চালান। এত কিছু চালানোর পরেও সাত হাজার টাকা যদি বেশি বিল হয়...আমার মনে হয় না পৃথিবীর কোথাও সাত হাজার টাকা দিয়ে এত কিছু চালানো যায়,’ যোগ করেন তিনি।
সাবেক যোগাযোগ ও কৃষিমন্ত্রী এবং নৌবাহিনীর প্রাক্তন প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) মাহবুব আলী খানের ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন ও বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার মধ্যাহ্নে বনানী সামরিক কবরস্থানে মরহুমের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন তাঁর কন্যা ও তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং নাতনি ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সেখানে বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
পরিবারের পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছে যে, মরহুম মাহবুব আলী খানের প্রয়াণ দিবস স্মরণে দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন স্থানে কবর জিয়ারত, মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। কর্মসূচির অংশ হিসেবে বৃহস্পতিবার মাগরিবের নামাজের পর রাজধানীর ধানমন্ডিতে তাঁর নিজস্ব বাসভবন ‘মাহবুব ভবনে’ বিশেষ দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, রিয়ার অ্যাডমিরাল মাহবুব আলী খান ১৯৭৯ সালে বাংলাদেশের নৌবাহিনী প্রধান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন এবং পরবর্তী সময়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৪ সালের ৬ আগস্ট তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শ্বশুর এবং তাঁর সহধর্মিণী সৈয়দা ইকবাল মন্দ বানু। তাদের দুই কন্যাসন্তান হলেন শাহিনা খান জামান ও ডা. জুবাইদা রহমান।
যান্ত্রিক গোলযোগ কাটিয়ে ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) আজ বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই পুনরায় গ্যাস সরবরাহ শুরু করতে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এর ফলে আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে দেশের গ্যাস পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
সচিবালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, গ্যাস সঞ্চালন পুনরায় শুরু হলে লাইনে চাপের যে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, তা ধীরে ধীরে উন্নতি হবে এবং বিদ্যমান সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে ঠিক কত সময় লাগবে, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি মন্তব্য করেন, “স্বাভাবিক হতে দুই-তিন দিন তো লাগবে। মিনিমাম দুই-তিন দিন লাগবে। এটা (এফএসআরইউ) বন্ধ হওয়ার আগে যেমন ছিল, তেমনই হবে।” গ্যাস স্বল্পতার কারণে সৃষ্ট লোডশেডিং প্রসঙ্গে তিনি ব্যাখ্যা দেন যে, গ্যাস সরবরাহ না থাকলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো চালানো সম্ভব হয় না। তবে এখন বন্ধ হয়ে যাওয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি জানান।
গ্যাস ও বিদ্যুৎ নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া সমালোচনা এবং যান্ত্রিক ত্রুটি প্রসঙ্গে ইকবাল হাসান মাহমুদ পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, “যেটা হয়েছে, সেটা কি মানুষের হাতের মধ্যে আছে?” এদিকে বিদ্যুতের অস্বাভাবিক বা ‘ভূতুড়ে বিল’ সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে মন্ত্রী বলেন, “বিদ্যুৎ ভূতুড়ে বিল, এটা যখন আমরা বলি, বিলগুলো নিয়ে আসেন, তখন তো বিল নিয়ে আসে না কেউ আমাদের কাছে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জুন মাস থেকে বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত গরমের কারণে যন্ত্রপাতির ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় বিল বেশি আসতে পারে। এক সাংবাদিকের ফেসবুক পোস্টের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, দুটি এসি ও ফ্রিজ চালানোর পর সাত হাজার টাকা বিল খুব একটা বেশি নয়। মন্ত্রীর ভাষায়, “আমার মনে হয় না পৃথিবীর কোথাও ৭ হাজার টাকা দিয়ে এরকম এত কিছু চালানো যায়?”
ভারতীয় হাইকমিশনারের সাথে বৈঠক প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, এটি একটি রুটিন আলোচনা ছিল যেখানে দুই দেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো স্থান পেয়েছে। ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানির পরিমাণ আরও বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে তিনি জানান। সবশেষে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে ক্ষোভ প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, “আমি শেখ হাসিনা সম্পর্কে কিছু বলতে চাই না, উনি তো অনেক কিছুই করেন। দেশটা ধ্বংস করে দিয়ে গেছেন উনি। দেশটাকে শেষ করে দিয়েছেন।”
দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২০ আগস্ট জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে এই গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। বৃহস্পতিবার দুপুরে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ গণমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সকল আইনি ও প্রশাসনিক প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে বলে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
তফসিলের বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে সচিব জানান, আগ্রহী প্রার্থীরা আগামী ১৩ আগস্ট সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বা সংশ্লিষ্ট নির্বাচন কর্মকর্তার কার্যালয়ে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন। সংগৃহীত মনোনয়নপত্রগুলো ১৬ আগস্ট সকাল ১০টায় যাচাই-বাছাই করা হবে। এছাড়া, কোনো প্রার্থী যদি তাঁর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে চান, তবে ১৮ আগস্ট বিকেল ৪টার মধ্যে তা নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনের মূল পর্ব অর্থাৎ ভোটগ্রহণ ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে বিরতিহীনভাবে চলবে।
ইসি সচিব আখতার আহমেদ আরও জানান যে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় ভোটার তালিকা ইতোমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। তফসিল ঘোষণার পর থেকে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সকল প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের প্রত্যক্ষ ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। বর্তমান রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্বেই এই নির্বাচন সম্পন্ন করার আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, দেশে বারবার জনগণের অধিকার ও সৃষ্টিশীল ক্ষমতাকে শিকলবদ্ধ করার অপচেষ্টা রোধে একটি স্থায়ী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করতে চায় সরকার, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ কোনোদিন জাতিকে শিকল পরাতে না পারে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে সচিবালয়ে তথ্য অধিদফতরের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ‘শিকল ভাঙার জুলাই’ প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন তথ্য অধিদফতর (পিআইডি) এই প্রকাশনা প্রকাশ করে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশের বয়স ৫৫ বছরের বেশি হয়ে গেলেও বারবার জনগণের কণ্ঠ ও অধিকারকে শিকলে বাঁধা হয়েছে। এই প্রতিবন্ধকতার শিকল ভাঙতে বারবার আমাদের রক্ত দিতে হয়েছে, প্রাণ বিসর্জন দিতে হয়েছে এবং দেশের স্বাভাবিক সমৃদ্ধির প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে। পৃথিবীর যে দেশগুলো ধারাবাহিক সমৃদ্ধি বজায় রাখতে পেরেছে, তারাই আজ বিশ্বে অন্যতম প্রধান শক্তিতে পরিণত হয়েছে।’
অতীতের আন্দোলনগুলোর সঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের গুণগত পার্থক্যের কথা তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘অতীতে বিভিন্ন আন্দোলন কেবল অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া ও গণঅভ্যুত্থানেই শেষ হতো, পরে লক্ষ্যহীনভাবে হারিয়ে গিয়ে আবার নতুন কোনো ফ্যাসিবাদের পথ সুগম হতো। কিন্তু এবার আমরা যখন ফ্যাসিবাদের শিকল ভাঙার গান গেয়েছি, তখনই দেশ গড়ার পরিকল্পনা করেছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘রক্ত ও প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত এই অর্জনকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছাতে পুরোনো ব্যবস্থা দিয়ে সম্ভব নয়, সে কারণেই আমরা রাষ্ট্র কাঠামো ও রাজনীতি মেরামতের কথা বলেছি।’
তথ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতের কোনো রাজনৈতিক আন্দোলনে লড়াইয়ের আগেই সুনির্দিষ্ট রূপরেখা ছিল না। এমনকি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়েও রাজনৈতিক সিদ্ধান্তহীনতার একপর্যায়ে পাকিস্তান সামরিক বাহিনীর বাঙালি অফিসার মেজর জিয়াউর রহমানকে এসে ঐতিহাসিক স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে হয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো— শিকল ভাঙার পর আমরা কী করব, তা আমাদের নেতা তারেক রহমান ৩১ দফার মাধ্যমে আগেই নির্ধারণ করে দিয়েছিলেন এবং সরকার সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে চলছে।
ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ১৭ বছরের লড়াইয়ের কথা স্মরণ করে অনুষ্ঠানে তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘বিগত দেড় দশকের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং জুলাই যোদ্ধাদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই দেশ আজ গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরেছে, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটে নির্বাচিত এই সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করতে পেরেছে। আমাদের নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণেই এই গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা সম্ভব হয়েছে।’
তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীর শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মো. শাহ আলম বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির প্রাক্কালে সেই স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই স্মারকগ্রন্থ প্রকাশ করা হয়েছে। এতে ফ্যাসিবাদের সময় জেল-জুলুম, অত্যাচার ও আয়নাঘরের ভয় উপেক্ষা করে যারা রাজপথে ছিলেন, তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে। ফলে এই সংকলনটি সময়ের একটি স্বচ্ছ আয়না হিসেবে দীর্ঘকাল পাঠক ও গবেষকদের পথ দেখাবে।’
তথ্য অধিদফতরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ জানান, বিগত ১৭ বছর ধরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে যারা সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন, একাধিক মামলা ও কারাবরণ করেছেন, মূলত তাদের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা ও স্মৃতি নিয়েই এই বিশেষ বইটি প্রকাশ করা হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে আন্দোলনকারী ও দায়িত্বশীলদের অবদানকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতেই তথ্য অধিদফতরের এই ক্ষুদ্র প্রয়াস।
সূত্র: বাসস
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের নদীগুলোর বর্তমান দূষণ পরিস্থিতিকে চরম উদ্বেগজনক হিসেবে বর্ণনা করে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার তাগিদ দিয়েছেন। আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘বুড়িগঙ্গা নদীর পানি ও পরিবেশ উন্নয়ন’ সংক্রান্ত এক বিশেষ বৈঠকে তিনি এই কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নদীদূষণ এখন দুর্বিষহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে আমাদের জবাবদিহি করতে হবে।” তিনি নদী রক্ষায় কোনো প্রকার শিথিলতা প্রদর্শন না করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় ঢাকার পার্শ্ববর্তী বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদীর দূষণ রোধে একটি কার্যকর ও সময়োচিত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভায় নদীগুলোর বর্তমান নাজুক দশা, দূষণের নেপথ্য কারণ এবং দীর্ঘস্থায়ী প্রতিকার নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষভাবে শিল্পবর্জ্যের অপরিশোধিত নিঃসরণ, ত্রুটিপূর্ণ ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং দখলদারিত্বকে নদী ধ্বংসের মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নদী দূষণ রোধে কঠোর ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণে কোনো ধরনের অবহেলার সুযোগ নেই। কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের পাশাপাশি এর কার্যকর বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে।”
পরিবেশ আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সকল সরকারি দপ্তরের মধ্যে নিবিড় সমন্বয় সাধনের ওপর সভায় জোর দেওয়া হয়। নদী রক্ষায় সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও পরিবেশবাদী সংগঠনগুলোকে সরাসরি সম্পৃক্ত করারও নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। নদী উদ্ধারের কাজের নিয়মিত তদারকি ও অগ্রগতি মূল্যায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধানে একটি উচ্চপর্যায়ের আন্তঃসংস্থা সমন্বয় কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। উক্ত বৈঠকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলামসহ সামরিক ও বেসামরিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে পলাতক ও দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গণমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ ও বক্তব্যের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ সরকার।
বুধবার (৫ আগস্ট) এক বিবৃতিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, ৫ আগস্ট সন্ধ্যায় শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীরা বাংলাদেশ রাষ্ট্র ও জনগণের বিরুদ্ধে বিষোদ্গারমূলক বক্তব্য দিয়েছেন, যা দেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি স্পষ্ট অবমাননা এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি চরম অসম্মান।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হলে দুই দেশের সম্পর্কের ওপর তার সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে বাংলাদেশকে আগেই সতর্ক করে ভারতকে উদ্বেগ জানানো হয়েছিল। তা সত্ত্বেও ভারতীয় ভূখণ্ডে এই প্রকাশ্য কর্মসূচির সুযোগ দেওয়ায় ঢাকা গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে। জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত সহিংসতা নিয়ে জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিবেদনকে ওই বক্তব্যে অস্বীকার করা হয়েছে বলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অভিযোগ তোলে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও জোর দিয়ে বলেছে, পারস্পরিক সম্মান, সার্বভৌম সমতা, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সাথে একটি গঠনমূলক সম্পর্ক বজায় রাখতে বাংলাদেশ আগ্রহী।
২০১৩ সালের দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর জন্য বারবার অনুরোধ করা হলেও ভারতের দিক থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক সাড়া মেলেনি। শেখ হাসিনাকে এভাবে প্রচারমাধ্যমের সুযোগ দেওয়া দুই দেশের ঐতিহাসিক সম্পর্ক ও জনমানের পারস্পরিক আস্থায় বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেছে ঢাকা।
সাম্রাজ্যবাদ ও আধিপত্যবাদবিরোধী বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত ‘বর্ষা বিপ্লবের গান’ শীর্ষক এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন।
এ সময় ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে যারা শহীদ ও যুদ্ধাহত হয়েছেন, তাঁদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি তরুণদের স্বপ্নের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, বিপ্লবের আসল লক্ষ্য থেকে কোনোভাবেই বিচ্যুত হওয়া যাবে না এবং এই অর্জনকে হৃদয়ে ধারণ করতে হবে। হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান তাঁর বক্তব্যে যেকোনো জাতীয় সংকটে সবাইকে একতাবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো স্বৈরাচারী শাসনের উত্থান ঘটতে না পারে।
এছাড়া বিরোধী দলের চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম জুলাই শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি বৈষম্যহীন ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য রাজনৈতিক লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান ছিল এদেশের জনগণের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার ফসল এবং এর মাধ্যমেই বাংলাদেশের গণতন্ত্র পুনর্জীবিত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে যুদ্ধের মাধ্যমে দেশ স্বাধীন হলেও ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট সেই স্বাধীনতাকে সুসংহত করার এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার নবদিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) জাতীয় সংসদ সচিবালয় আয়োজিত ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে রচনা ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী ও আলোচনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে তিনি প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ, বীর বিক্রম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এবং বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভূঁইয়া।
চিফ হুইপ তাঁর বক্তব্যে জুলাই বিপ্লবের সকল শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে অসংখ্য মানুষকে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বিগত ‘মাফিয়া’ সরকার এদেশ থেকে ৩০ লাখ কোটি টাকা পাচার করেছে, মানুষের বাকস্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার ধ্বংস করেছে এবং ‘আয়নাঘর’ ও জেল-জুলুমের মাধ্যমে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে সশস্ত্র বাহিনীর শক্তিশালী ও কার্যকর ভূমিকার কথাও তিনি কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করেন।
চিফ হুইপ বলেন, বর্তমান সংসদের গত পাঁচটি মাসে আমরা দু’টি গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশন (রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও বাজেট অধিবেশন) অত্যন্ত সফলভাবে সম্পন্ন করেছি। তিনি একটি উল্লেখযোগ্য দৃষ্টান্ত তুলে ধরে বলেন, দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে মাননীয় সংসদ সদস্যগণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যে তারা কোনো ট্যাক্স-ফ্রি গাড়ি বা সরকারি প্লট গ্রহণ করবেন না।
এছাড়াও, তেল ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির সংকট সমাধানে সংসদ ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করেছে এবং সুফল পেয়েছে।
নূরুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা সংবিধান সংশোধন বা সংস্কার যাই বলি না কেন, আমাদের মূল উদ্দেশ্য হলো গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা এবং একটি সুন্দর ভবিষ্যৎ গঠন করা।’
তিনি ভারতের সংবিধানের উদাহরণ দিয়ে বলেন, ৭৬ বছরে তারা ১০৬ বার সংশোধন করেছে; তাই প্রয়োজন অনুযায়ী আমাদের সংবিধানেও সব কিছু অন্তর্ভুক্ত করা হবে যেন নতুন প্রজন্ম একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম সুখী-সমৃদ্ধ দেশ পায়।
সরকারি ও বিরোধী দলের সকল সদস্যের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আসুন, আমরা আমাদের সকল সমস্যা নিয়ে পার্লামেন্টে আলোচনা করি। পার্লামেন্টই হবে সকল সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু।’
তিনি দেশে একটি টেকসই ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক কাঠামো নিশ্চিত করার লক্ষ্যে রাজপথের পরিবর্তে সংসদকে কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের হুইপবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিববৃন্দ, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: বাসস
জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে কোনো প্রকার বিভাজনের রাজনীতি না করে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বুধবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে আয়োজিত শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা এবং আলোচনা সভায় তিনি এই মন্তব্য করেন।
এসময় মন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচারের কবল থেকে মুক্তির পর জুলাইকে নিয়ে রাজনৈতিক ভাগাভাগি শুরু করলে এই ঐতিহাসিক অর্জন কারোরই থাকবে না, তাই এমন বিভক্তি থেকে সবাইকে বেরিয়ে আসতে হবে।
সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষা ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সংবিধানের অষ্টাদশ সংশোধনী আনা হবে, যা হবে এই শতাব্দীর একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তন।
গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন আগামী সংসদে উত্থাপন করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, চব্বিশের এই মুক্তি ৩৬ দিনের কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ১৫ বছরের রাজপথের আন্দোলন-সংগ্রাম, ত্যাগ, গুম ও নির্যাতনের চরম পরিণতি।
রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচারে সরকার আইনি ভিত্তি তৈরি করেছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদ অনুসরণে আইন সংশোধন করা হয়েছে যাতে ব্যক্তির পাশাপাশি সংগঠনেরও বিচার সুগম হয় এবং আদালতই ঠিক করবে এদের পরিণতি কী হবে।
ফ্যাসিবাদী আচরণের বিরুদ্ধে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সতর্কবার্তা হিসেবে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ সংরক্ষিত থাকবে উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ আরও জানান, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে হাজারো তর্ক-বিতর্ক থাকলেও ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি রোধে পুরো জাতিকে সর্বদা ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।