সোমবার, ৩১ আগস্ট ২০২৬
১৬ ভাদ্র ১৪৩৩

প্রার্থী বেশি,প্রতিদ্বন্দ্বী কম

ফাইল ছবি
আপডেটেড
২ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০০:১৪
তানজিমুল নয়ন
প্রকাশিত
তানজিমুল নয়ন
প্রকাশিত : ২ ডিসেম্বর, ২০২৩ ০০:০০

আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ২ হাজার ৭১৩ জন প্রার্থী। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে নিবন্ধিত ৪৪টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ৩২টি দল। আর স্বতন্ত্র প্রার্থী আছেন ৭৪৭ জন। সে হিসাবে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রত্যয়নপত্র নিয়ে নির্বাচনে উপস্থিত ১৯৬৬ জন প্রার্থী। আর স্বতন্ত্রদের মধ্যে অন্তত ৪০০ জন আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পেয়ে নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন। তবে সাধারণ মানুষের অভিযোগ, নির্বাচনে আসা বড় দল আওয়ামী লীগের মূল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বাইরে অন্যদলগুলোর বেশির ভাগ প্রার্থীই আসনগুলোর মানুষের কাছে অচেনা। প্রায় প্রতিটি আসনেই নির্বাচনী লড়াইয়ে আছেন এমন অনেক অচেনা মুখ যাদের প্রার্থিতা পেতে সমস্যা না হলেও নির্বাচনী লড়াইয়ে এলাকাবাসীর সঙ্গে পরিচিত হতেই পার হয়ে যাবে প্রচারণার বেশির ভাগ সময়। ফলে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, নির্বাচনে প্রার্থী আছে অনেক বেশি, কিন্তু, প্রতিদ্বন্দ্বী কম।

নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য ৩০০ আসনের বিপরীতে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের (নৌকা) ৩০৩ জন, জাতীয় পার্টি (লাঙ্গল) ৩০৪ জন, জাকের পার্টি (গোলাপ ফুল) ২১৮ জন, তৃণমূল বিএনপি (সোনালী আঁশ) ১৫১ জন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি- এনপিপি (আম) ১৪২ জন, বাংলাদেশ কংগ্রেস (ডাব) ১১৬ জন, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ (মশাল) ৯১ জন, বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন (ফুলের মালা) ৪৭ জন, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন (বটগাছ) ১৩ জন, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি (হাতঘড়ি) ১৮ জন, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশ (চেয়ার) ৩৯ জন, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (কাঁঠাল) ১৩ জন, গণফ্রন্ট (মাছ) ২৫ জন, গণফোরাম (উদীয়মান সূর্য) ৯ জন, ইসলামী ঐক্যজোট (মিনার) ৪৫ জন, বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট (মোমবাতি) ৩৭ জন, জাতীয় পার্টি-জেপি (বাইসাইকেল) ২০ জন, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ (গামছা) ৩৪ জন, গণতন্ত্রী পার্টি (কবুতর) ১২ জন, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি (হাতুড়ি) ৩৩ জন, বিকল্পধারা বাংলাদেশ (কুলা) ১৪ জন, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি (একতারা) ৮২ জন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলন-বিএনএম (নোঙর) ৪৯ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট- বিএনএফ (টেলিভিশন) ৫৫ জন, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট (ছড়ি) ৭৪ জন, বাংলাদেশ মুসলিম লীগ- বিএমএল (হাত-পাঞ্জা) ৫ জন, বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি- ন্যাপ (কুঁড়েঘর) ৬ জন, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মই) একজন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (রিকশা) একজন, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ (খেজুর গাছ) একজন এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (হারিকেন) দুইজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।

এদিকে মনোনয়ন জমার শেষ দিনেই ইসি সচিব মো. জাহাংগীর আলম জানিয়েছেন, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিলের সময়সীমা বাড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। ফলে বিএনপিসহ যে দলগুলো নির্বাচন বর্জন করেছে তাদের আর মত পাল্টে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসার দৃশ্যমান কোনো সুযোগ নেই। আন্দোলনরত দলগুলোও অবশ্য আগেই এ নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করে বিবৃতি দিয়েছে।

ফলে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার পর যাচাই-বাছাই শেষে যেসব প্রার্থী টিকে যাবেন তারাই থাকবেন নির্বাচনী দৌড়ে। তবে প্রতিটি আসনে ভোটের লড়াইয়ে যারা যাচ্ছেন তাদের বেশির ভাগেরই দলের নাম সাধারণ মানুষ জানে না। আর দল অচেনা বলে প্রার্থীরাও অচেনা। ফলে তাদের ধারণা নির্বাচনী লড়াইয়ে আসলে টিকে থাকবেন বড় দলের পরিচিত মুখগুলো। এর মধ্যে শাসক দলের মার্কা নিয়ে লড়াই করা প্রার্থীরা যেমন আলোচনায় থাকবেন, তেমনই অনেক আসনেই তাদের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমাতে পারেন নির্বাচনে আসা আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। কেননা, দলটির স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বেশির ভাগই স্থানীয় পর্যায়ের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত এবং তাদের মোটামুটি ভোট ব্যাংক অথবা এলাকাবাসীকে প্রভাবিত করার সক্ষমতা রয়েছে। নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেয়া ৭৪৭ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে অন্তত ৪০০ জনই আওয়ামী লীগের।
যদিও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গত কয়েক দিনের মতো গতকালও বলেছেন, দলের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ঢালাওভাবে নির্বাচন করতে পারবেন না। এ ছাড়া ১৪-দলীয় জোটের সঙ্গে আসন ভাগাভাগির সম্ভাবনা রয়েছে আওয়ামী লীগের। এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন, নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে আসতে পারবেন জোটের এমন প্রার্থীরাই কেবল থাকবেন বিবেচনায়। আর ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করে তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এর ফলে এটা স্পষ্ট যে, জোটের সঙ্গে সমঝোতা হলে কয়েকটি আসনে আওয়ামী লীগ যাদের মনোনয়ন দিয়েছে তাদেরও রণে ভঙ্গ দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে হবে।

তবে আওয়ামী লীগ সভাপতি নির্বাচনী কৌশল হিসেবে এবার দলীয় মার্কার বাইরে দলীয় প্রার্থীদের স্বতন্ত্র হিসেবে দাঁড়ানোর সুযোগ দেয়ায় নির্বাচনে আসা প্রার্থীদের কতজন আবার দল চাইলে নির্দেশ মেনে মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার করবেন সেটাও আছে দেখার বিষয়।

তবে এই আলোচনার বাইরে থেকে যাচ্ছে বেশির ভাগ প্রার্থী যারা বিভিন্ন দল থেকে নির্বাচনে এলেও জনগণের কাছে নিজের দল, দলীয় প্রতীক এবং নিজের পরিচয় প্রকাশ করার সুযোগ পাবেন। তবে প্রতিটি আসনে স্থানীয় ভোটারদের কাছে তারা এখনো অচেনা এবং নতুন মুখ হিসেবে বিবেচিত।

যেমন দল হিসেবে এবারই প্রথম নির্বাচন করছে তৃণমূল বিএনপি, বিএনএম, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি। এসব দলের বেশির ভাগ প্রার্থী নিজ নিজ এলাকার ভোটারদের কাছে নতুন পরিচয়ে উপস্থিত হবেন। অনেকে আবার খুব বেশি পরিচিত নন। একইভাবে তাদের নির্বাচনী প্রতীক যথাক্রমে সোনালী আঁশ, নোঙর ও একতারা চেনাতেও এবার তাদের বিশেষ প্রস্তুতি নিতে হবে।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনএমের প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য আছেন ৬ জন এবং তৃণমূলের প্রার্থীদের মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য আছেন ৫ জন।

এদিকে, গতকাল আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুর কাদের বলেছেন, বিএনপির ১৫ কেন্দ্রীয় নেতাসহ সাবেক ৩০ জন সংসদ সদস্য নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। এদের মধ্যে কাদের সিদ্দিকী, লতিফ সিদ্দিকী, আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর মতো নেতাও আছেন। আবার আগে বিএনপিতে প্রভাব ছিল দলটির এমন সাবেক নেতারাও আছেন নির্বাচনে। এদের মধ্যে তৈমূর আলম, সমশের মবিন চৌধুরীর নাম উল্লেখযোগ্য।

তবে এদের বাইরে নির্বাচনের মাঠে থাকা বেশির ভাগ প্রার্থীই অচেনা। এ বিষয়ে গাজীপুর-৪ আসনের একজন প্রার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘আমার দল এলাকায় তেমন পরিচিত নয়। দলের প্রচার চালাতে ও এলাকার মানুষের কাছে নিজের পরিচয় তুলে ধরতে এবার ভোট করতে আসা। আমিও জানি নির্বাচনে জয়লাভ করার অবস্থান এখনো আমার বা আমার দলের তৈরি হয়নি। তবে এক দিনে তো কিছুই হয় না। আমাদের দলের আদর্শ ও কর্মসূচি দেশের মানুষ ও এলাকার মানুষকে জানাতে আমরা নির্বাচনে এসেছি।’

অন্যদিকে লালমনিরহাট-৩ আসনে মনোনয়ন জমা দেয়া প্রার্থীদের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এই সদর আসনে ৮ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও সদ্য পদত্যাগকারী সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জাবেদ হোসেন বক্কর, জাতীয় পার্টি থেকে জাহিদ হাসান, তৃণমূল বিএনপি থেকে শামীম আহম্মেদ চৌধুরী, জাকের পার্টি থেকে সকিউজ্জামান মিয়া, বাংলাদেশ সাম্যবাদী দল থেকে আশরাফুল আলম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) থেকে আবু তৈয়ব মো. আজমুল হক পাটোয়ারী, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) থেকে শ্রী হরিশ চন্দ্র রায় মনোনয়নপত্র জমা দেন। এ আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের। তবে এবার তিনি এ আসনে মনোনয়নপত্র জমা দেননি। ফলে এ আসনে নির্বাচনে অংশ নেয়া সব প্রার্থীই নতুন এবং নতুন একজন সংসদ সদস্য পাবে লালমনিরহাট সদরবাসী। তবে নতুন হলেও জেলা ও শহরের রাজনীতিতে পুরনো মুখ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমান। ছাত্ররাজনীতি করায় জাবেদ হোসেন বক্করও সেখানে পরিচিত মুখ। জাকের পার্টি ও জাসদের প্রার্থীকেও অনেকে চেনেন। তবে সাম্যবাদী দল, এনপিপির প্রার্থীর মতো জাতীয় পার্টির প্রার্থীও এলাকার সবার চেনা মুখ নন। ফলে যে আসন থেকে জাতীয় পার্টি বর্তমান সংসদে প্রতিনিধিত্ব করছে সেখানে নতুন মুখ দেয়ায় মাঠের রাজনীতিতে এর প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন এলাকার অনেক বাসিন্দা।

বিষয়টা আরও স্পষ্ট হয় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনার ৬টি আসন বিশ্লেষণ করলে। দৈনিক বাংলার খুলনা ব্যুরো জানায়, খুলনার এই ৬টি আসনের জন্য সেখানে ৫৩ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। তবে যারা সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচন করবেন, তাদের অধিকাংশেরই রাজনীতিতে তেমন কোনো পরিচিতি নেই। হঠাৎ করেই তারা কেন সংসদ নির্বাচনে আগ্রহী হলেন, এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে উত্তরও দেননি অধিকাংশ প্রার্থী।

খুলনা জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে পাওয়া তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, আওয়ামী লীগের মনোনীত ৬ জন প্রার্থী, আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র ২ জন এবং জাতীয় পার্টির একজন প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচিতি রয়েছে। বাকি ৪৪ জন প্রার্থী কখনো রাজনৈতিক মাঠে সক্রিয় ছিলেন না।

খুলনা প্রতিনিধির বিশ্লেষণ অনুযায়ী খুলনা-১ আসনের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ৬ জন। তারা হলেন, জাকের পার্টির মো. আজিজুর রহমান, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ননী গোপাল মণ্ডল, জাতীয় পার্টির কাজী হাসানুর রশিদ, তৃণমূল বিএনপির গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক, স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রশান্ত কুমার রায় ও আবেদ আলী শেখ।

এদের মধ্যে ননী গোপাল মণ্ডল ২০০৮ সালের সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। রাজনীতিতে তার পরিচিতি রয়েছে। তবে বাকি চারজন রাজনীতিতে একেবারেই অপরিচিত। তারা প্রত্যেকেই এবার প্রথম সংসদ নির্বাচন করছেন। এদের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী প্রশান্ত কুমার রায় পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের সাবেক সচিব।

তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আমি নির্বাচন করছি। আমাকে ডামি প্রার্থীও বলা যাবে। এটা দলীয় নির্দেশেই হচ্ছে।’
আওয়ামী লীগের ননী গোপাল মণ্ডল বলেন, ‘দল আমাকে আবারও সুযোগ দিয়েছে। আমি দলের সম্মান রাখব বলে আশাবাদী।’

তবে বাকি চার প্রার্থীর তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই। জাতীয় পার্টীর কাজী হাসানুর রশিদ ও তৃণমূল বিএনপির গোবিন্দ চন্দ্র প্রামানিকের কাছে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করলেও কোনো উত্তর মেলেনি।

আর জাকের পার্টি মো. আজিজুর রহমান বলেন, ‘দল থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে বলেছে, তাই মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি।’

অন্যদিকে খুলনা-২ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৯ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের সেখ সালাহউদ্দিন জুয়েল, গণতন্ত্র পার্টির মো. মতিয়ার রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের দেবদাস সরকার, জাকের পার্টির ফরিদা পারভিন, ইসলামী ঐক্যজোটের হিদায়েতুল্লাহ, জাতীয় পার্টির মো. গাউসুল আজম, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের বাবু কুমার রায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের মো. আব্দুল্লাহ আল আমিন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. সাঈদুর রহমান।

এদের মধ্যে শুধুমাত্র আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকার প্রার্থীর রাজনৈতিকভাবে পরিচিতি রয়েছে। তিনি ২০১৮ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়েছিলেন। তবে বাকিদের আগে কখনো রাজনৈতিক মাঠে দেখা যায়নি।

কেন প্রার্থী হয়েছেন- এমন প্রশ্নে বাংলাদেশ কংগ্রেসের দেবদাস সরকার বলেন, ‘অন্যান্য রাজনৈতিক দল থেকে মনোনয়ন জমা দেয়া হচ্ছে, তাই আমরাও দিচ্ছি।’

খুলনা-৩ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ৫ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের এস এম কামাল হোসেন, জাকের পার্টির এস এম সাব্বির হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, স্বতন্ত্র প্রার্থী কাইজার আহমেদ ও ফাতেমা জামান সাথী।

এদের মধ্যেও শুধুমাত্র আওয়ামী লীগের প্রার্থীর রাজনৈতিক পরিচিতি রয়েছে। তিনি দলের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক। তিন বারের সংসদ সদস্য ও দুই বারের শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ানকে সরিয়ে তাকেই আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দিয়েছে। তবে ওই আসনেরও বাকি চারজনের তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই।

খুলনা-৪ আসন থেকে মনোনয়ন নিয়েছেন ১৪ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের আব্দুস সালাম মূর্শেদী, জাকের পার্টির শেখ আনছার আলী, জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এস এম আজমল হোসেন, জাতীয় পার্টির মো. ফরহাদ আহমেদ, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. মোস্তাফিজুর রহমান, তৃণমূল বিএনপির শেখ হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মনিরা সুলতানা, ইসলামী ঐক্যজোটের রিয়াজ উদ্দীন খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. জুয়েল রানা, এম ডি এহসানুল হক, মো. রেজভী আলম, এস এম মোর্ত্তজা রশিদী দারা, আতিকুর রহমান ও এইচ এম রওশান জমির।

এদের মধ্যে আওয়ামী লীগের আব্দুস সালাম মূর্শেদী বর্তমান সংসদ সদস্য। ২০১৮ সালের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন নিয়ে তিনি জয়ী হয়েছিলেন।

এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম মোর্ত্তজা রশিদী দারার দীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাস রয়েছে। তিনি ওই আসনের তিন বারের সাবেক সংসদ সদস্য এস এম মোস্তফা রশিদী সুজার আপন ভাই।

তিনি বলেন, এলাকার মানুষের দোয়া নিয়ে মাঠে নেমেছি। জয়-পরাজয় এলাকার মানুষই নির্ধারণ করবেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ওই আসনে আওয়ামী লীগের এই দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এলাকার ভোটাররা বলছেন, বাকি ১২ জন প্রার্থীদের নাম খুব একটা শোনেননি তারা। কেউ কেউ একেবারেই অপরিচিত।

খুলনা-৫ আসনের জন্য মনোনয় জমা দিয়েছেন ৭ জন। তারা হলেন- জাতীয় পার্টির মো. শহীদ আলম, জাকের পার্টির সামাদ সেখ, আওয়ামী লীগের নারায়ণ চন্দ্র চন্দ, ওয়ার্কার্স পার্টির শেখ সেলিম আকতার, বাংলাদেশ কংগ্রেসের এস এম এ জলিল, ইসলামী ঐক্যজোটের তরিকুল ইসলাম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ আকরাম হোসেন।

এদের মধ্যে নারায়ণ চন্দ্র চন্দ একাধিক বার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী। এ ছাড়া আকরাম হোসেন ফুলতলা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি। এই আসনেও আওয়ামী লীগের এই দুই প্রার্থীর মধ্যে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ভোটাররা। বাকি যারা প্রার্থী হয়েছেন এলাকার রাজনীতিতে তাদের তেমন কোনো পরিচিতি নেই বলে জানা গেছে।

খুলনা-৬ আসনের জন্য মনোনয়ন জমা দিয়েছেন ১২ জন। তারা হলেন- আওয়ামী লীগের মো. রশীদুজ্জামান, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির মো. আবু সুফিয়ান, জাকের পার্টির শেখ মর্তুজা আল মামুন, জাতীয় পার্টির মো. শফিকুল ইসলাম মধু, বাংলাদেশ কংগ্রেসের মির্জা গোলাম আজম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের এস এম নেওয়াজ মোরশেদ, তৃণমূল বিএনপির গাজী নাদীর উদ্দীন খান, স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম রাজু, গাজী মোস্তফা কামাল, জি এম মাহবুবুল আলম, মো. মোস্তফা কামাল জাহাঙ্গীর ও মো. অহিদুজ্জামান মোড়ল।

এদের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত মো. রশীদুজ্জামানের কোনো দলীয় পদ নেই। তিনি একসময় পাইকগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সদস্যসচিব ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। গত উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে জামানত হারিয়েছিলেন। তবে তাকেই মনোনয়ন দিয়ে চমক সৃষ্টি করেছে ক্ষমতাসীন দল। ওই আসনে রাজনৈতিকভাবে পরিচিত রয়েছে জাতীয় পার্টির মো. শফিকুল ইসলাম মধুর। তিনি আগেও খুলনা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। বাকি প্রার্থীদের তেমন কোনো রাজনৈতিক পরিচিতি নেই। এলাকার সবার কাছে পরিচিত মুখও নন অনেকে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেশির ভাগ আসনেই ছোট রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থীদের স্থানীয়রা তেমন একটা চেনেন না। তবে বিরোধীদের এক অংশ নির্বাচন বর্জন করায় রাজনীতির নতুন সমীকরণ মেলাতে ছোট দলগুলোই নির্বাচনে হতে যাচ্ছে বড় দলগুলোর সুষ্ঠুভাবে নির্বাচনীযুদ্ধ পার হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী।

জাসদের মাঠপর্যায়ের এক রাজনীতিবিদ জসিম মণ্ডল বলেন, ‘নির্বাচন একটা বড় খেলা। এখানে সবাই নামে নিজ নিজ সমীকরণ মেলানোর জন্য। রাজনৈতিক দলগুলোর সমীকরণ হয় এক ধরনের, আবার প্রার্থীর সমীকরণ হয় আরেক ধরনের। সবাই নির্বাচনে জয়ী হতে যেমন অংশ নেয় না তেমনই কেউ কেউ নির্বাচনে যায় অন্যের যাত্রা ভঙ্গ করতে। আবার অনেকের কাছে ‘নির্বাচনে অংশগ্রহণই বড় কথা।’ জয়-পরাজয়ের চেয়েও বড় বিষয় এ সময় পোস্টারিং করে নিজের ছবি ও পরিচিতি পুরো এলাকার মানুষকে দেখানো যায়। এটাও বা কম কিসে। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় দেশের প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষেরই আছে নির্বাচনে দাঁড়ানোর অধিকার। তাই কটা টাকা খরচ করে অনেকেই পরিচিতি বাড়ানোর সুযোগ নেয়। এর ফল তো অসীম-সারাজীবন নানাভাবে এর সুফল মেলে। যারা রাজনীতিতে আছেন, কেবল তারাই বোঝেন নির্বাচনে অংশ নিতে পারার গুরুত্ব।


নির্বাচিত

থার্ড টার্মিনাল সচলে বরাদ্দ বাড়ছে ৯০২ কোটি টাকা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের থার্ড টার্মিনাল সচল করতে অতিরিক্ত ৯০২ কোটি টাকা বরাদ্দের ব্যাখ্যা দিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। তিনি বলেছেন, প্রায় ২.১ বিলিয়ন (২১০ কোটি) ডলার মূল্যের এই রাষ্ট্রীয় সম্পদ দ্রুত চালু করতে কাজ চূড়ান্ত করা, ঠিকাদারের কিছু বকেয়া এবং অন্যান্য সংস্থার পাওনা পরিশোধে এই অর্থ প্রয়োজন।

রোববার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।

হান্নান মাসউদ প্রশ্নে বলেন, আন্তর্জাতিক টার্মিনালের প্রাক্কলিত ব্যয় ১৩ হাজার কোটি টাকা থেকে কয়েক দফায় বেড়ে ২১,৩০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের (সিএজি) দপ্তর তদন্ত করে প্রায় ৪,৪৬৯ কোটি টাকার অনিয়ম শনাক্ত করেছে এবং ঠিকাদারের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ আদায়ের সুপারিশ করেছে।

এ অবস্থায় কাজের প্রায় ৯৯.৯১ শতাংশ শেষ হওয়ার পর— শেষ মুহূর্তে আরও ৯০২ কোটি টাকা ব্যয় বাড়ানো ঠিকাদারকে দুর্নীতির সুযোগ করে দেওয়ার শামিল কি না, তা জানতে চান তিনি।

জবাবে বিমানমন্ত্রী বলেন, বিগত সরকারের আমলে শুধু ভবন উদ্বোধন করেই কাজ শেষ বলে চালিয়ে দেওয়ার একটি প্রবণতা ছিল। কিন্তু থার্ড টার্মিনালের মেশিনারিজ এবং প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সংকেত বা সংযোজন-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ অসম্পূর্ণ অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছিল।

মন্ত্রী বলেন, টার্মিনালে প্রায় ২.১ বিলিয়ন ডলার মূল্যের রাষ্ট্রীয় সম্পদ পড়ে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। ফলে একদিকে সরকার এটি ব্যবহার করতে পারছিল না, অন্যদিকে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা– জাইকার কাছ থেকে নেওয়া ঋণের বড় অংকের কিস্তি পরিশোধ শুরু হলেও, অবকাঠামো সচল না থাকায় কোনো আয় হচ্ছিল না।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সার্বিক হিসাব-নিকাশ পর্যালোচনা করে দেখে যে, কাজ চূড়ান্তভাবে সম্পন্ন করা, ঠিকাদারের পূর্বের কিছু বকেয়া পরিশোধ এবং অন্যান্য সংস্থার বকেয়া মেটানোর মাধ্যমে অবকাঠামো চালু করতে ৯০২ কোটি টাকা প্রয়োজন’ –জানান তিনি।

তিনি বলেন, স্বচ্ছতার ভিত্তিতেই এই অর্থের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। অতিরিক্ত অর্থ অনুমোদন না হলে সুবিশাল টার্মিনালটি পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে পড়ে থাকত, যা জাতির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হতো।

বিমানমন্ত্রী জানান, অতিরিক্ত ৯০২ কোটি টাকা অনুমোদন হলে খুব দ্রুত থার্ড টার্মিনাল চালু করা সম্ভব হবে। এতে বর্তমানে ১.২ মিলিয়ন যাত্রীর জায়গায় দ্বিগুণ যাত্রীকে সেবা দেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে। সেখান থেকে পাওয়া আয় দিয়ে জাইকার ঋণ সহজেই পরিশোধ করা যাবে বলেও জানান তিনি। এই লক্ষ্যেই পরিকল্পনা ও অর্থ মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত বরাদ্দের আবেদন করা হয়েছে বলে সংসদে জানান মন্ত্রী।


নির্বাচিত

জুলাইয়ে বৈদেশিক ঋণ ছাড়ের চেয়ে পরিশোধ হয়েছে দ্বিগুণের বেশি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি অর্থবছরের প্রথম মাস অর্থাৎ জুলাইয়ে বাংলাদেশ যে পরিমাণ বৈদেশিক ঋণ পেয়েছে, তার দ্বিগুণের বেশি ঋণ পরিশোধ করেছে। রোববার প্রকাশিত অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে বাংলাদেশকে ১৮০ দশমিক ১৮ মিলিয়ন ডলার বৈদেশিক ঋণ ছাড় করা হয়েছে। অন্যদিকে, এ সময়ে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে আগে নেওয়া ঋণের সুদ ও আসল মিলিয়ে মোট ৪৫৩ দশমিক ২৩ মিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ।

ইআরডি’র প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, গত অর্থবছরের জুলাইয়ে বৈদেশিক ঋণের ছাড় হয়েছিল ২০৮ দশমিক ০৪ মিলিয়ন ডলার। ফলে চলতি জুলাইয়ে গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৩ দশমিক ৩৯ শতাংশ কম অর্থছাড় হয়েছে।

অন্যদিকে, গত অর্থবছরের শুরুতে অর্থাৎ জুলাইয়ে বাংলাদেশ বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ করেছিল ৪৪৬ দশমিক ৬৮ মিলিয়ন ডলার। ফলে চলতি অর্থবছরের একই সময়ে ঋণ পরিশোধ প্রায় ৪ শতাংশ বেড়েছে।


নির্বাচিত

দুদকের নতুন মহাপরিচালক হলেন নাজমুল আলম

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন মহাপরিচালক (ডিজি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের বিভাগীয় প্রধান (যুগ্মসচিব) মো. নাজমুল আলম।

রোববার (৩০ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রেষণ-১ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন উপপরিচালক মোহাম্মদ নূর-এ-আলম।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, যুগ্মসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা মো. নাজমুল আলমকে বদলিপূর্বক প্রেষণে দুর্নীতি দমন কমিশনের মহাপরিচালক পদে পদায়ন করা হলো।

জনস্বার্থে জারি করা এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়।


নির্বাচিত

কয়রার অসহায় জান্নাতুলের পাশে ডা. জুবাইদা রহমান

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
খুলনা ব্যুরো

খুলনায় অর্থাভাবে চিকিৎসা থমকে যাওয়া খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী জান্নাতুল ফেরদৌসের পাশে দাঁড়িয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী এবং জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের (জেডআরএফ) ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। তার চিকিৎসায় গঠিত হচ্ছে মেডিকেল বোর্ড।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিশুটির পরিবারের আকুতির একটি ভিডিও দেখে ডা. জুবাইদা রহমান অনতিবিলম্বে চিকিৎসার সার্বিক খোঁজ নেওয়ার নির্দেশনা দেন।

নির্দেশনা বাস্তবায়নে রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে খুমেক হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে চিকিৎসাধীন জান্নাতুলকে দেখতে যান খুলনা জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও জেলা পরিষদ প্রশাসক এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী। তিনি শয্যাপাশে কিছু সময় কাটান, চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং জেডআরএফ সদস্য ডা. এমআর হাসানের সঙ্গে পরিবারটির ভিডিও কলে কথোপকথনের ব্যবস্থা করেন।

জান্নাতুলের মা আজমিরা বেগম বলেন, তাদের বাড়ি কয়রা উপজেলায়। অভাব-অনটনের সংসার, তার ওপর স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটেছে। ৮ বছরের একটি ছোট ছেলেসহ দুই সন্তান নিয়ে চরম সংকটে আছেন তিনি। জান্নাতুল দৌলতপুরের দেয়ানা মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় ষষ্ঠ শ্রেণি পর্যন্ত পড়ে কয়রার একটি হেফজখানায় ভর্তি হয়েছিল। তবে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটায় পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। মাত্র দুই মাস বয়সে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার পর থেকেই তার দুটি পা নিস্তেজ হতে শুরু করে। এর মধ্যে তার নার্ভের জটিলতা ও বেড সোর (শয্যাক্ষত) দেখা দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, টাকার অভাবে চিকিৎসা চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। দুই দিন আগে এক ভদ্রলোক ভিডিও পোস্ট করলে তা ভাইরাল হয়। খবর পেয়ে তারা দেখতে আসেন এবং সুস্থ করে তোলার সব আশ্বাস দিয়েছেন।

সার্বিক ব্যবস্থাপনার বিষয়ে জেডআরএফ সদস্য ডা. এমআর হাসান বলেন, ভিডিওটি নজরে আসার পরই ডা. জুবাইদা রহমান সহায়তার উদ্যোগ নেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সংযুক্ত জেডআরএফের প্রোগ্রাম পরিচালক অধ্যাপক ডা. শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহকে তদারকির নির্দেশ দেন। সেই অনুযায়ী হাসপাতালে যোগাযোগ শুরু করা হয়েছে এবং সোমবারই জান্নাতুলের সুচিকিৎসায় একটি বিশেষ মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হবে।

খুলনা জেলা পরিষদ প্রশাসক এসএম মনিরুল হাসান বাপ্পী বলেন, বিষয়টি নিয়ে শনিবার রাতে আমাকে ফোন করা হয়। এটি জানার পরপরই সরেজমিন চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছি এবং শিশুর সাথে ও তার মায়ের সাথে কথা বলেছি। জান্নাতুলের দ্রুত আরোগ্যের জন্য মেডিকেল বোর্ড গঠনসহ সব ধরনের প্রশাসনিক ও আর্থিক সহযোগিতা আমাদের পক্ষ থেকে থাকবে।


নির্বাচিত

‘জুলাই সনদ চাইবেন, আবার বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবেন না, দুইটা বিপরীতমুখী’

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নে বিরোধী দলকে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেছেন, ‘এখন আপনারা সবই জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে চাইবেন, অথচ সনদ বাস্তবায়নের জন্য সহযোগিতায় আসবেন না। দুইটা বিপরীতমুখী হয়ে যায়।’

রোববার (৩০ আগস্ট) জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের দ্বিতীয় দিন সংবিধান সংশোধন কমিটি গঠন নিয়ে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

এর আগে চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি সংসদীয় কমিটি পুনর্গঠনের বিষয়ে সংসদে জানান, বিরোধী দলের উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরের সঙ্গে ফোনালাপের ভিত্তিতে তিনি আশা করেছিলেন, বিরোধী দল সংবিধান সংশোধন কমিটিতে থাকবে। এ বোঝাপড়ার কারণে রোববার কমিটি পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া স্থগিত রাখা হয়েছিল। পরে বিরোধী দলের উপনেতা সংবিধান সংশোধন কমিটিতে অংশ নিতে চান না বলে জানান।

এরপর ফ্লোর নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, স্পিকার নির্বাচনের আগে একটি ইফতার অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলের নেতাদের মধ্যে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হয়েছিল।

তিনি বলেন, ‘কথা প্রসঙ্গে আমাদের কথা উঠলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বললেন, আমরা এখন থেকেই জুলাই জাতীয় বাস্তবায়ন শুরু করি। চলুন, আপনি ডেপুটি স্পিকারের একজনের নাম দিন। বর্তমান সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার একজন, ডেপুটি স্পিকার একজন। সেই ডেপুটি স্পিকার আমরা বিরোধী দলকেই অফার করেছি।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন হবে ততদিন আমরা অপেক্ষা করিনি।’ তবে বিরোধী দল তখন ডেপুটি স্পিকারের পদ নিতে রাজি হয়নি বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘তখন আমরা ভাবলাম, জুলাই জাতীয় সনদ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হলে, অর্থাৎ সংবিধান সংশোধিত হলে সেই অনুযায়ী আমরা যাব। আমরা আমাদের উদারতা এবং আমাদের উইলিংনেস জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের সংবিধান সংশোধনের আগে থেকেই ব্যক্ত করেছি।’

সংবিধান সংশোধনের জন্য বিশেষ কমিটি গঠনের প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘সেজন্য আমরা সংবিধান সংশোধনের জন্য বিশেষ কমিটি আন্ডার রুলস ২২৬ আমরা গঠন করেছি। পাঁচজন সদস্যের জায়গা রাখা হয়েছে বিরোধী দলের জন্য।’

তিনি বলেন, সংসদে প্রতিনিধিত্বশীল অন্যান্য রাজনৈতিক দল, স্বতন্ত্র সদস্যসহ বিভিন্ন পক্ষের প্রতিনিধিত্বও কমিটিতে রাখা হয়েছে। বিরোধী দল নীতিগতভাবে কমিটিতে না আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এটা তাদের নীতিগত সিদ্ধান্ত হতেই পারে। যদি সংবিধান সংশোধিত না হয়, জুলাই জাতীয় সনদ তো বাস্তবায়িত হলো না। হওয়ার পরে হবে। আমরা কাজ শুরু করেছি, সেই কমিটি গঠিত হয়েছে।’

তিনি জানান, তাঁর সভাপতিত্বে কমিটির একটি বৈঠক ইতোমধ্যে হয়েছে। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতামত নিয়ে কমিটি প্রতিবেদন তৈরি করবে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘তার মধ্যে সংবিধান বিশেষজ্ঞ আছে, সাবেক প্রধান বিচারপতিগণ আছেন, বিচারপতিগণ আছেন, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন আছেন। এবং প্রেসের বন্ধুরা আছেন, এডিটরস আছেন। জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়নের সঙ্গে যারা কাজ করেছেন, জড়িত, তাদেরকেও আমরা আহ্বান জানাব।’

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের পরিবারের সদস্য এবং জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গেও আলোচনা করা হবে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘এভাবে আমরা সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলব। তাদের মতামতের ভিত্তিতে আমরা রিপোর্টটা প্রণয়ন করব।’

পরে আইন মন্ত্রণালয় ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংবিধান সংশোধনের বিল সংসদে উপস্থাপন করা হবে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘জুলাই জাতীয় সনদকে সামনে রেখে, জুলাই জাতীয় সনদের বাইরেও সমাজের প্রত্যাশা অনুযায়ী, আমাদের নির্বাচন ইশতেহার অনুযায়ী এবং জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী আর যাদের সঙ্গে আমরা কথা বলব, তাদের পরামর্শ অনুযায়ী সবকিছু ধারণ করে আমরা একটা সমৃদ্ধ সংবিধান সংশোধনী বিল আনবো।’

বিরোধী দলকে সংবিধান সংশোধন কমিটিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা সংবিধান সংশোধনী কমিটিতে আসুন। আপনাদের যা বক্তব্য আছে, আমরা সেটা লিপিবদ্ধ করব। আপনাদের সমস্ত রিপোর্ট, বক্তব্য সেই রিপোর্টে থাকবে। আপনাদের বক্তব্য জাতি জানবে।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা দ্বিমত হবেন, ভিন্নমত হবেন এবং কিছু কিছু প্রস্তাবে অবশ্যই একমত হবেন। আমরা তো আরও কিছু জিনিস এখানে অন্তর্ভুক্ত করব এই সংবিধানে। যেগুলো আপনারা দেন বা অন্য পেশার মানুষ দিক, সেটা নতুনত্ব আসতে পারে। সেটা আমরা গ্রহণ করব। আমরা ভেরি ওপেন এই বিষয়ে।’

তিনি বলেন, সংসদীয় কমিটিতে বিরোধী দলের অংশগ্রহণের বিষয়টিও জুলাই জাতীয় সনদের সঙ্গে যুক্ত। তাঁর ভাষ্য, সনদে সংসদীয় কমিটির সভাপতিত্ব বিরোধী দলকে দেওয়ার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছিল। তবে তা বাস্তবায়নের জন্য আগে সংবিধান সংশোধন প্রয়োজন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আপনাদের সকল দাবি মানতে হবে, তারপরও আমরা আপনাদের এই সংবিধান সংশোধনী কমিটিতে আসবো না—এটা সহযোগিতা হলো না। আপনারা সংবিধান সংশোধনী কমিটিতে আসুন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনাদের যখনই অংশগ্রহণ করবেন, আমরা স্বাগত জানাব। তখন জুলাই জাতীয় সনদ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হবে। তার আগ পর্যন্ত বিদ্যমান বিধান অনুসারে আমরা যাই।’

সবশেষে বিরোধী দলের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘এখন আপনারা সবই জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে চাইবেন, অথচ সনদ বাস্তবায়নের জন্য সহযোগিতায় আসবেন না। দুইটা বিপরীতমুখী হয়ে যায়।’


নির্বাচিত

একযোগে ২৭ উপসচিবকে ডিসি অফিসে বদলি ও পদায়ন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) প্রশাসন ক্যাডারের উপসচিব পদমর্যাদার ২৭ জন কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি ও পদায়ন করেছে সরকার। তাদের দেশের বিভিন্ন জেলা প্রশাসকের (ডিসি) কার্যালয়ে ‘উপপরিচালক, স্থানীয় সরকার’ হিসেবে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রোববার (৩০ আগস্ট) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রেষণ-২ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো. গোলাম রব্বানী স্বাক্ষরিত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, পদায়নকৃত এই কর্মকর্তাদের চাকরি এখন থেকে স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে ন্যস্ত থাকবে। বদলি হওয়া এই কর্মকর্তাদের আগামী ৩ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাদের নতুন কর্মস্থলে যোগদান করতে হবে। যদি কেউ নির্ধারিত তারিখের মধ্যে বদলিকৃত কর্মস্থলে যোগদানে ব্যর্থ হন, তবে ওইদিন বিকেল থেকে বর্তমান কর্মস্থল থেকে তারা তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত বা ‘স্ট্যান্ড রিলিজড’ হিসেবে গণ্য হবেন।

জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। প্রজ্ঞাপনে দুর্নীতি দমন কমিশন, বিভিন্ন জেলার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, ঢাকা ম্যাস র‍্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগসহ বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত ২৭ জন কর্মকর্তার বর্তমান পদ এবং নতুন পদায়নের স্থান বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।


নির্বাচিত

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে সরকার: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগের বিস্তার রোধে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে জানিয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী আবদুল মঈন খান বলেছেন, মশার লার্ভার উৎস ধ্বংসের পাশাপাশি মশা নিধনে ব্যবহৃত ওষুধের কার্যকারিতা বাড়াতে গবেষণা ও কারিগরি সক্ষমতা জোরদার করা হচ্ছে।

রোববার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে গঠিত জাতীয় টাস্কফোর্স কমিটির জরুরি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এবং গাজীপুরের মতো বড় ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় মশা নিয়ন্ত্রণে নানা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সীমিত সম্পদের মধ্যেও সিটি করপোরেশনগুলো সর্বাত্মকভাবে কাজ করছে। মশার লার্ভা যেখানে জন্ম নেয়, সেসব স্থান চিহ্নিত করে পানি জমতে না দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, জাপানসহ বিভিন্ন উন্নত দেশের সহযোগিতায় মশা নিধনের ওষুধের কার্যকারিতা নিয়ে গবেষণা ও পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদেরও এ কাজে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে জনসচেতনতার পাশাপাশি কারিগরি সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

সভায় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, গত বছরের তুলনায় চলতি বছর ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। মশা নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন সিটি করপোরেশনে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান, স্প্রে ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চলছে।

প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে গতকাল পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রায় ৯০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে প্রায় ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ রোগী চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

প্রতিমন্ত্রী জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাড়ির ভেতর, ছাদ, বারান্দা ও আশপাশে পরিত্যক্ত টায়ার, প্লাস্টিকের পাত্রসহ যেসব স্থানে পানি জমতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণের সচেতনতাই ডেঙ্গু প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগ ও স্বাস্থ্য বিভাগের সচিব, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা, ১৩টি সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। ঢাকার বাইরের ১১টি সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।


নির্বাচিত

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিট মুনাফা বেড়ে ২৬ হাজার কোটি টাকা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংকের নিট মুনাফা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। গত অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রায় ২৫ হাজার ৯০০ কোটি টাকা নিট মুনাফা করেছে। আগের অর্থবছর ২০২৪-২৫-এ মুনাফার পরিমাণ ছিল ২২ হাজার ৬২০ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে নিট মুনাফা বেড়েছে প্রায় ৩ হাজার ২৮০ কোটি টাকা।

রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের বৈঠকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আর্থিক হিসাব বিবরণী অনুমোদন করা হয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সভাকক্ষে গভর্নর মোস্তাকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য মূল বেতনের ছয় গুণ হারে প্রণোদনা বোনাস দেওয়ার প্রস্তাবও অনুমোদন করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুনাফা বৃদ্ধির পেছনে কয়েকটি কারণ রয়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে ব্যাংক খাতে দীর্ঘদিনের তারল্যসংকটের কারণে বিভিন্ন ব্যাংক বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আগের তুলনায় বেশি অর্থ ধার করেছে। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঋণ থেকে সুদ আয় বেড়েছে।

এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের একটি অংশ বিভিন্ন দেশের আর্থিক ও বিনিয়োগ খাতে রাখা রয়েছে। সেখান থেকেও গত অর্থবছরে ভালো আয় এসেছে। ঋণ ব্যবস্থাপনা থেকে বাড়তি সুদ আয় এবং বৈদেশিক বিনিয়োগের মুনাফা দুইয়ের প্রভাবেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিট মুনাফা বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

তবে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুনাফা বৃদ্ধিকে অর্থনীতির জন্য সরাসরি ইতিবাচক সূচক হিসেবে দেখছেন না অর্থনীতিবিদরা। তাদের মতে, একটি দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান লক্ষ্য মুনাফা অর্জন নয়। ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রণ ও তদারকি, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বাড়াতে সহায়তা করাই এর মূল দায়িত্ব।

অর্থনীতিবিদদের মতে, ব্যাংক খাতে তারল্যসংকট ও দুর্বলতার সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংককে বেশি অর্থ ধার দিতে হয়েছে। এর ফলে সুদ আয় বাড়লেও এর পেছনে ব্যাংক খাতের বিদ্যমান সংকটের বিষয়টিও রয়েছে। তাই মুনাফা বাড়ানোর পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংক যেন তার মূল দায়িত্ব ও নীতিগত লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত না হয়, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকৃত মুনাফার পরিমাণ ছিল প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা। ওই অর্থবছরে নিট মুনাফা ছিল ১৫ হাজার ৩০০ কোটি টাকা। পরের অর্থবছর ২০২৪-২৫-এ নিট মুনাফা বেড়ে দাঁড়ায় ২২ হাজার ৬২০ কোটি টাকা। আর সর্বশেষ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা আরও বেড়ে হয়েছে ২৫ হাজার ৯০০ কোটি টাকা।


নির্বাচিত

দেশের পর্যটন খাত ঘিরে সরকারের মহাপরিকল্পনা, আসছে নতুন নীতিমালা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের সম্ভাবনাময় পর্যটনকেন্দ্রগুলোকে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের আকর্ষণ করতে সুপরিকল্পিত ও পরিবেশবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে ব্যাপক কর্মসংস্থান ও উন্নয়নের সমন্বিত উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই মধ্যে ‘জাতীয় পর্যটন নীতিমালা ২০২৬’ প্রণয়নের আনুষ্ঠানিক কাজ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে সারাদেশের সম্ভাব্য প্রায় ১৪৯৮টি পর্যটন স্পট চিহ্নিত করে একটি যুগোপযোগী ও সমন্বিত পর্যটন মহাপরিকল্পনা চূড়ান্ত করার কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে।

রোববার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য শওকত আরা আক্তারের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত সরকারের এসব পরিকল্পনার কথা জানান।

তিনি জানান, দেশে পর্যটন খাতের সঠিক তথ্যের ঘাটতি দূর করা এবং সুনির্দিষ্ট পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ‘ট্যুরিজম স্যাটেলাইট অ্যাকাউন্ট’ প্রণয়নের কার্যক্রমও বর্তমানে চলমান রয়েছে। পর্যটন কেন্দ্রগুলোর সার্বিক বিকাশে স্থানীয় বাসিন্দাদের সম্পৃক্ত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

পর্যটনমন্ত্রী জানান, স্থানীয় জনসাধারণকে সরাসরি যুক্ত করে ‘কমিউনিটি বেজড ট্যুরিজম’ মডেলে পর্যটন স্পটগুলোর পর্যায়ক্রমিক উন্নয়নের কার্যকর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি ভ্রমণে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার করতে বিশেষায়িত ট্যুরিস্ট পুলিশের জনবল ও কাঠামোগত সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্যোগ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

দেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে পর্যটনের সঙ্গে সমন্বিত করার বিষয়ে রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, সাংস্কৃতিক পর্যটনের সার্বিক প্রসারে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় যৌথভাবে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ লক্ষ্যে শিগগিরই দুই মন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটি দ্বি-পাক্ষিক সমঝোতা স্মারক সই হবে। স্মারক সইয়ের পর দ্রুত স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর বা এসওপি প্রণয়ন এবং পুরো কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নে একটি শক্তিশালী যৌথ টাস্কফোর্স গঠন করা হবে।

এছাড়া বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে কার্যকরভাবে তুলে ধরতে ‘বিউটিফুল বাংলাদেশ’ শিরোনামে একটি নতুন অফিসিয়াল ওয়েব পোর্টাল তৈরির কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে বলেও জানান তিনি।


নির্বাচিত

উপজেলা পর্যায়ে প্রবীণদের আবাসন ও সুচিকিৎসা নিশ্চিত করবে সরকার

প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ড. এসএম জিয়াউদ্দিন হায়দার। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
গাজীপুর প্রতিনিধি
অসহায় প্রবীণ নাগরিকদের জীবনের শেষ দিনগুলো যেন মর্যাদাপূর্ণ ও আরামদায়ক হয়, তা নিশ্চিতে সরকার নানামুখী কল্যাণকর কর্মসূচি গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা ড. এসএম জিয়াউদ্দিন হায়দার। রোববার (৩০ আগস্ট) সকালে গাজীপুরের মনিপুর এলাকায় বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত খতিব জাহিদ মুকুল বয়স্ক পুনর্বাসন কেন্দ্র পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন।

পরিদর্শনকালে উপদেষ্টা পুনর্বাসন কেন্দ্রের বিভিন্ন কক্ষ ঘুরে দেখেন এবং সেখানে বসবাসরত বয়স্ক নারী-পুরুষদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সুস্বাস্থ্যের খোঁজখবর নেন। কেন্দ্রটির ইবাদতখানা, থাকার জায়গা ও কবরস্থানসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও তিনি পর্যবেক্ষণ করেন। পরে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি জানান, সরকার প্রতি উপজেলা ভিত্তিক অসহায় প্রবীণদের জন্য খাদ্য, আবাসন ও আধুনিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে প্রয়োজনে সামর্থ্যবান ব্যবসায়ীদের সাথে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব বা পাবলিক পার্টনারশিপের মাধ্যমে কাজ করা হবে।

ড. জিয়াউদ্দিন হায়দার আরও বলেন, প্রবীণদের কেবল আশ্রয় দেওয়াই নয়, বরং তাদের কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সামাজিকভাবে সক্রিয় রাখার পরিকল্পনাও সরকারের মানবিক কর্মসূচির অংশ। বর্তমানে এই কেন্দ্রে ৭২ জন নারী এবং ৬৮ জন পুরুষ প্রবীণ বসবাস করছেন। পুনর্বাসন কেন্দ্রটি পরিদর্শনকালে সাথে থাকা গাজীপুরের জেলা প্রশাসক নুরুল করিম ভূঁইয়া কেন্দ্রের সামনের চলাচলের অনুপযোগী রাস্তাটি জেলা প্রশাসনের অর্থায়নে দ্রুত সংস্কার করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।


নির্বাচিত

ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদে চাকরি নেওয়া ব্যক্তিদের তথ্য অনুসন্ধান শুরু করেছে সরকার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে যারা সরকারি চাকরিতে যোগ দিয়েছেন কিংবা বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় সুবিধা গ্রহণ করছেন, তাদের শনাক্ত করতে কঠোর অনুসন্ধান শুরু করেছে সরকার। এ লক্ষ্যে দেশের সকল মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কাছে বিস্তারিত তথ্য তলব করা হয়েছে। আজ রোববার জাতীয় সংসদে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে নেত্রকোনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হেলালীর প্রশ্নের জবাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

সংসদ অধিবেশনে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে সরকারি চাকরি বা সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে সব মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে। কে মুক্তিযোদ্ধা সনদ ব্যবহার করে চাকরি নিয়েছেন এবং কার সন্তান সেই সনদের সুবিধায় চাকরি পেয়েছেন, সেই তথ্য চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন দপ্তর থেকে জবাব আসতে শুরু করেছে। এসব তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ মন্ত্রী আরও জানান, বর্তমানে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং অতীতে যারা অনিয়মের মাধ্যমে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন, তাদের বাদ দিতেও বিশেষ যাচাই-বাছাই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

আলোচনাকালে মন্ত্রী গুম ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের জন্য নতুন প্রশাসনিক কাঠামো তৈরির ঘোষণা দেন। সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলামের প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, জুলাই আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের পুনর্বাসনের জন্য ইতিমধ্যে ‘জুলাই অধিদপ্তর’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় গুম, হত্যা ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারের সহায়তায় আলাদা একটি অধিদপ্তর গঠনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। বিশেষ করে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের যেসব নেতাকর্মী বিগত সময়ে গুম বা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ও পুনর্বাসনের আওতায় আনা হবে।

কৃষি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. রুহুল আমিনের প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানান, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি ও এমওপি সারের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে এবং চাহিদার তুলনায় কোনো ঘাটতি নেই। কৃষকদের নাগালে সঠিক মূল্যে সার পৌঁছে দিতে মাঠ পর্যায়ে নিবিড় তদারকি অব্যাহত রাখা হয়েছে। এছাড়া বিএনপির সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের প্রশ্নের প্রেক্ষিতে মন্ত্রী জানান, দেশের কৃষি খাতকে আধুনিক ও টেকসই করতে ড্রোন, আইওটি এবং পরমাণু মিউটেশন ব্রিডিংয়ের মতো উচ্চ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানো হচ্ছে। ব্রি ও বিনার মতো গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো নিরলসভাবে উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবন করে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।


নির্বাচিত

ছয় মাসে দেশে বিচারবহির্ভূত কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটেনি: সংসদীয় কমিটি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটি। আজ রোববার সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় বৈঠকে জানানো হয় যে, বিগত ছয় মাসে দেশে কোনো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেনি। এছাড়া বিভিন্ন সময় ‘মব’ তৈরির চেষ্টা চললেও কোনো রাজনৈতিক নিপীড়নের অভিযোগ পাওয়া যায়নি এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো প্রকার মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেনি বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।

বৈঠকে সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে আলোচনার সময় কমিটির সদস্যরা মন্তব্য করেন যে, মিরাজ শেখের অপহরণের মতো বিষয়গুলোর দায় অনর্থক সরকারের ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এ ধরনের ‘ব্লেম গেম’ বা দোষারোপের রাজনীতি পরিহার করার জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনার পর বিলটি চূড়ান্ত রিপোর্টের জন্য সংসদে প্রেরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গুমের মতো অমানবিক কর্মকাণ্ড রোধে এই বিলটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ জানায় কমিটি।

তবে বৈঠকের একপর্যায়ে দ্বিমত পোষণ করে কমিটির দুই সদস্য মো. নূরুল ইসলাম ও মো. আব্দুল বাতেন সভা থেকে ওয়াকআউট করেন। এ প্রসঙ্গে কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদীন বলেন, “কমিটির সদস্য হিসেবে কোনো সংশোধনী বা মতামত থাকলে তা সভায় উপস্থাপন করার সুযোগ রয়েছে, কিন্তু সভা থেকে ওয়াকআউট করা সংসদীয় রীতিনীতির পরিপন্থী।” বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারের স্বচ্ছতা এবং নতুন আইন প্রণয়নের মাধ্যমে মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয়ে এই বৈঠকটি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও আইজিপিসহ বিভিন্ন সংস্থার প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

বাসসকে বিশ্বমানের সংবাদ সংস্থায় রূপান্তরের অঙ্গীকার কাদের গনি চৌধুরীর

বাসসের নবনিযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী। ছবি : বাসস
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

সত্যনিষ্ঠা, বস্তুনিষ্ঠতা এবং সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রেখে জাতীয় বার্তা সংস্থা বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) একটি বিশ্বমানের সংস্থায় রূপান্তর করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন নবনিযুক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক মুহাম্মদ কাদের গনি চৌধুরী। রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের পর বাসস কার্যালয়ে আয়োজিত এক শুভেচ্ছা ও মতবিনিময় সভায় তিনি এই ঘোষণা দেন।

সংস্থাটির কর্মীদের উদ্দেশে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, “বাসসে একটি অত্যন্ত মেধাবী ও দক্ষ টিম রয়েছে। আমরা যদি সত্য ও পেশাদারিত্বকে ভিত্তি করে সততার সঙ্গে কাজ করি, তবে বাসস শুধু বাংলাদেশেই নয়, আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সুনাম অর্জন করবে এবং অনন্য উচ্চতায় পৌঁছাবে।” তিনি সংবাদের নিরপেক্ষতার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন যে, সাংবাদিকতা হলো সত্যের আরাধনা এবং রাষ্ট্র ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকেই বাসস কাজ করে যাবে। নিজেকে কেবল একজন সহকর্মী হিসেবে পরিচয় দিয়ে তিনি একটি সুবাসিত ও পেশাদার বাসস পরিবার গঠনের লক্ষ্যে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত তথ্য অধিদপ্তরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ বাসসের হারানো ঐতিহ্য ও গুণগত মান ফিরিয়ে আনার ওপর জোর দেন। তিনি বলেন, “আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্ব ও রাষ্ট্রপ্রধানদের এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকার এবং উচ্চমানের প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে বাসস একসময় দেশের প্রধান সংবাদপত্রের উৎস ছিল; সেই ঐতিহ্য পুনরুদ্ধার করতে হবে।” একজন অভিজ্ঞ সাংবাদিক নেতাকে বাসসের নেতৃত্বে পাওয়া প্রতিষ্ঠানের জন্য বড় সুযোগ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

এর আগে সকালে তথ্য ও সম্প্রচার সচিব মাহবুবা ফারজানার কাছে আনুষ্ঠানিক যোগদানপত্র জমা দেওয়ার পর বাসস কার্যালয়ে পৌঁছালে সাংবাদিক ও কর্মচারীরা তাঁকে উষ্ণ সংবর্ধনা প্রদান করেন। ডিইউজে সভাপতি শহিদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়াসহ বাসসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এই মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

banner close