ঢাকার ফার্মগেট এলাকায় দুটি এবং নারায়ণগঞ্জ শহরের খানপুর এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।
আজ শনিবার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে ফার্মভিউ সুপারমার্কেটের সামনে ব্যস্ত সড়কে যানজটের মধ্যে পাঁচ সেকেন্ডের ব্যবধানে ককটেল দুটির বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
বিস্ফোরণে যানজটে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মোটরসাইকেলের দুই আরোহী আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মী বলে জানা গেছে। তবে তারা নিজেদের নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি।
আহত একজনের মাথা থেকে রক্তপাত হতে দেখা যায়। অন্যজন পেটে আঘাত পেয়েছেন। বিস্ফোরণের পর ব্যস্ত রাস্তাটি ফাঁকা হয়ে যায়। রাস্তা ও ফুটপাতে থাকা লোকজন আশপাশের বিভিন্ন ভবনের ভেতরে ঢুকে পড়েন।
তেজগাঁও থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সরোয়ার আলম খান গণ্যমাধ্যমকে বলেন, ককটেল বিস্ফোরণের কথা শুনেছি। পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়েছে।
অন্যদিকে আজ সন্ধ্যার পর নারায়নঞ্জ শহরের খানপুর থেকে মিছিল বের করেন বিএনপির নেতা-কর্মীরা। নবাব সলিমুল্লাহ সড়কের ডন চেম্বার এলাকায় এসে তারা বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটান। পরে চাষাঢ়ার দিকে এগিয়ে মিশনপাড়া মোড়ে ফের ককটেল বিস্ফোরণ ও সড়কে অগ্নিসংযোগ করে তারা পালিয়ে যান। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় ডিবি পুলিশের একটি টিম। এরপর সদর থানা পুলিশের দুটি টিম ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে।
নারায়ণগঞ্জ সদর থানার ওসি শাহাদাৎ হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, বিএনপির নেতা-কর্মীরা অবরোধ কর্মসূচির নামে ককটেল বিস্ফোরণ ও সড়কে অগ্নিসংযোগ করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছার আগেই তারা পালিয়ে যায়। তাদের ধরতে অভিযান চলছে।
উল্লেখ্য, আগামীকাল রোববার সকাল ৬টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ছয়টা পর্যন্ত ৪৮ ঘণ্টার অবরোধ কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি ও এর সমমনা দলগুলো। নবম দফায় দেয়া দলটির অবরোধ কর্মসূচির আগের দিন সন্ধ্যায় এই ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলো।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ অক্টোবর ঢাকার নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে বিএনপির মহাসমাবেশ পুলিশ পণ্ড করে দিলে তারা এ সরকারের পদত্যাগের একদফাসহ মহাসমাবেশে পুলিশি হামলার প্রতিবাদে ২৯ অক্টোবর সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ডাকে। সমমনা জোটগুলোও এই কর্মসূচির যুগপৎভাবে পালন করেছে। এরপর থেকে পর্যায়ের ক্রমে তারা প্রতি সপ্তাহে মঙ্গলবার এবং শুক্রবার-শনিবার ছুটির দুইদিন বিরতি দিয়ে ৪৮ ঘন্টার অবরোধ কর্মসূচি করে যাচ্ছে। এই পর্যন্ত তারা ৮ম দফায় অবরোধের কর্মসূচি পালন করেছে। কাল থেকে নবম দফায় দলটির অবরোধ কর্মসূচি চলবে।
কারামুক্ত সাংবাদিক আনিস আলমগীরের সঙ্গে সরাসরি টেলিফোনে কথা বলে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২১ মার্চ) সন্ধ্যার এই সৌজন্য আলাপের বিষয়টি আনিস আলমগীর নিজেই নিশ্চিত করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এমন ফোন পেয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে এই সাংবাদিক গণমাধ্যমকে বলেন, 'সন্ধ্যা ৭টার দিকে প্রধানমন্ত্রী ফোন করেছিলেন। আমি খুব সারপ্রাইজড। তিনি আমাকে ও আমার স্ত্রীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। কারাগারে থাকার কথা শুনেছেন।' কথোপকথনের সময় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে আনিস আলমগীর আরও বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমি ধন্যবাদ জানাই, অভিনন্দন জানিয়েছি। তিনি আজকে ঈদের নামাজে যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি দেখিয়েছেন।' তারেক রহমানের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, 'আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছি, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পর থেকে তারেক রহমান অতীতে নেতিবাচক রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করেননি।'
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপের আগে আনিস আলমগীর বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গেও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছিলেন। উল্লেখ্য যে, গত ১৪ ডিসেম্বর রাতে গোয়েন্দা পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে আনিস আলমগীরকে তুলে নিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে ‘জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স’-এর পক্ষ থেকে করা একটি সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে ২০ ডিসেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল এবং পরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি মামলাতেও তাকে অভিযুক্ত করা হয়। দীর্ঘ কারাবাস ও আইনি লড়াইয়ের পর সব মামলায় জামিন পেয়ে গত ১৪ মার্চ তিনি মুক্তি লাভ করেন।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
শনিবার (২১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় ঈদগাহে নামাজ আদায় শেষে যমুনায় প্রবেশ করেন তারেক রহমান। এরপর সকাল সোয়া ৯টা থেকে আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য প্রধান ফটক খুলে দেওয়া হয়।
এতে রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক ও সিনিয়র সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মিলনমেলা ঘটে। এরমধ্যে সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসও অংশ নেন।
প্রধানমন্ত্রী অনেকের সঙ্গে হাত মেলান ও কোলাকুলি করেন। দেশের সরকার প্রধানকে কাছে পেয়ে অনেকে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন অনেকে। তার সঙ্গে সেলফি তোলেন। তবে আমন্ত্রিত হয়েও অতিরিক্ত ভিড়ে অনেকে ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি।
শুধু কার্ডধারীদেরই ভেতরে প্রবেশের সুযোগ দেন এসএসএফ সদস্যরা। পাঁচটি সিরিয়ালে লোকজনের উপস্থিতি প্রধান ফটকের সামনে থেকে সামনের সড়ক ছাড়িয়ে কাকরাইল ও হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।
প্রধানমন্ত্রী অনেকের কাছে গিয়ে খোঁজ-খবর নেন। এ সময় সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানসহ বিএনপির সিনিয়র নেতারা। অতিথীদের জন্য ছিল বিশেষ আপ্যায়নের ব্যবস্থা।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেছেন।
শনিবার (২১ মার্চ) তিনি মরহুম মা-বাবার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত ও দোয়া করেন। এই সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে এদিন সকালে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেন প্রধানমন্ত্রী। নামাজ শেষে তিনি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিশিষ্টজন ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান এবং দীর্ঘ কয়েক বছর পর নিজ দেশের মাটিতে ঈদ উৎসব পালন করতে পারায় মহান আল্লাহর দরবারে গভীর শুকরিয়া প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন। শনিবার (২১ মার্চ) দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিশিষ্টজনদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এই আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, দেশের সাধারণ জনগণ ঠিক যে ধরনের বাংলাদেশ দেখতে চায়, বর্তমান সরকার সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণেই কাজ করে যাবে।
পবিত্র এই ঈদের দিনে তিনি আল্লাহর কাছে বিশেষ প্রার্থনা করেন যেন সবাই মিলে একটি সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তোলা সম্ভব হয়। দেশের উন্নয়ন ও সংস্কারের পথে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানান। এই বিশেষ মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমানসহ পরিবারের সদস্যবৃন্দ, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং রাজনৈতিক শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকাল সাড়ে ৮টায় প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ঈদগাহে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেন।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ভবনের টানেলে (দক্ষিণ প্লাজার নিচে) ঈদ-উল-ফিতরের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার সকাল ৮টায় এই জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ সর্বস্তরের মুসল্লী এ জামাতে অংশগ্রহণ করেন।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ভবনের টানেলে এ বছর প্রথমবারের মত নারীদের জন্য ঈদের জামাতের ব্যবস্থা করা হয়। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা জামাতে অংশগ্রহণ করেন।
স্পীকারের নির্দেশনা মোতাবেক মুসল্লিদের সুবিধার্থে ও বৈরী আবহাওয়ার কথা বিবেচনা করে টানেলের নীচে জামাতের সার্বিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পন্ন করা হয়। নামাজ শেষে মুসল্লিদের মাঝে খেজুর পরিবেশন করা হয়।
জামাত ও খুতবা শেষে সমগ্র মুসলিম উম্মাহসহ দেশ ও জাতির কল্যাণ, সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র ইমাম মুহাম্মদ ছাইফুল্লাহ।
ঈদের জামাত শেষে স্পিকার মুসল্লিদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে দেশের সবচেয়ে বড় ও প্রাচীন ঈদের জামাতে এবার অংশ নিয়েছেন ছয় লাখেরও বেশি মুসল্লি। কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক এই ঈদগাহ ময়দানে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে ঈদুল ফিতরের ১৯৯তম জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এ জামাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লির উপস্থিতিতে পুরো এলাকা পরিণত হয় জনসমুদ্রে।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের ঈদ জামাতে প্রায় ৫ লাখেরও বেশি মুসল্লি অংশ নেন। ঈদের আগের দিন থেকেই কিশোরগঞ্জমুখী মানুষের ঢল নামে। দেশের ৬৪ জেলা ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলা থেকে দলে দলে মুসল্লিরা ছুটে আসেন শোলাকিয়ায়। কেউ আত্মীয়ের বাসায়, কেউ মসজিদে, আবার অনেকে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটান শুধু একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায়ের আকাঙ্ক্ষায়।
সকাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঈদগাহ ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। জায়গা না পেয়ে আশপাশের সড়ক, ভবনের ছাদ এমনকি নরসুন্দা নদীর তীরেও কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা।
শোলাকিয়ার ঐতিহ্য অনুযায়ী, জামাত শুরুর ১০ মিনিটি আগে ৫টি, ৫ মিনিট আগে ৩টি এবং ১ মিনিট আগে দু’টি পরপর তিনবার শটগানের ফাঁকা গুলি ছুড়ে জামাতে দাঁড়ানোর সংকেত দেওয়া হয়। নামাজ শেষে দেশ ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি এবং বিশেষ করে ফিলিস্তিনের মুসলমানদের জন্য মোনাজাত করা হয়।
এবারের ঈদের জামাতে ইমামতি করেন বড় বাজার জামে মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ।
শোলাকিয়ার ঈদ জামাত শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি বাংলাদেশের ঐতিহ্য, ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং জনসমাবেশ ব্যবস্থাপনার একটি অনন্য উদাহরণ। প্রতি বছরই এই জামাতকে ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়। এবারের ১৯৯তম আয়োজনও সেই ধারাবাহিকতারই অংশ হিসেবে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হলো।
ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে নেওয়া হয় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশ সুপার ড. এসএম ফরহাদ হোসেন বলেন, প্রায় ১১০০ পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), সেনাবাহিনী, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এবং আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।
এছাড়া গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সাদা পোশাকে মাঠ পর্যায়ে অবস্থান নিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। পুরো এলাকায় প্রবেশ ও প্রস্থান পথগুলোতে ছিল কড়া নজরদারি, পাশাপাশি জনস্রোত নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
নামাজ শেষে দেশ ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি এবং ফিলিস্তিনের মুসলমানদের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কূটনীতিক ও শিক্ষাবিদসহ দেশের সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকেও সঙ্গে দেখা গেছে।
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১০টায় ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান শুরু হয়।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করার জন্য রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা অভিমুখে ভোর থেকেই ঢল নামে মানুষের। সকাল সাড়ে আটটা থেকে যমুনা প্রাঙ্গণে সর্বসাধারণের প্রবেশ উন্মুক্ত করা হয়। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ভিড়ও বাড়তে থাকে।
এদিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করার জন্য সাধারণ মানুষ, দলীয় নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ দলে দলে জড়ো হতে থাকেন যমুনা প্রাঙ্গণে। জনস্রোত বিস্তৃত হয়ে তা পৌঁছায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল পর্যন্ত। আর পুরো এলাকাজুড়ে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় তৎপর উপস্থিতি দেখা গেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের।
এর আগে সকালে হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাতে অংশ নিয়ে নামাজ আদায় করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সকাল সাড়ে ৮টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে লন্ডনের পথে দেশ ছাড়তে হয়েছিল বিএনপির তৎকালীন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমানকে। এর আগে ২০০৭ সালে শেষবার দেশে ঈদ করেছিলেন তিনি। ১৯ বছরের দীর্ঘ নির্বাসন শেষে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর এবারই প্রথম ঈদ তারেক রহমানের।
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান মানুষের বিশ্বাস ও আবেগের জায়গা হয়ে উঠেছে । শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হলো ১৯৯তম ঈদুল ফিতরের জামাত। তবে সকাল ৯টার মধ্যেই দেশের সর্ববৃহৎ ঈদগাহটি মুসল্লিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে।
ঈদের জামাতে ইমামতি করেন স্থানীয় বড় বাজার মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। ঈদের নামাজকে ঘিরে ভোর থেকেই কিশোরগঞ্জ শহর ও আশপাশের এলাকায় শুরু হয় মুসল্লিদের ঢল। রিজার্ভ বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনে দেশের নানা প্রান্ত থেকে হাজারো মানুষ আগেই উপস্থিত হন ঈদগাহ প্রাঙ্গণে।
শোলাকিয়া ঈদগাহয়ে নিরাপত্তায় রয়েছেন ১১০০ পুলিশ সদস্য, ৪ প্লাটুন সেনা সদস্য, ৫ প্লাটুন বিজিবি, র্যাবের ৬টি টিম, ৫ প্লাটুন আনসার, ১৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
জনশ্রুতি অনুযায়ী, বারোভূঁইয়া নেতা ঈশা খাঁর বংশধর শাহ সুফি সৈয়দ আহমদ এক ঈদের মোনাজাতে মুসল্লিদের সমাগমকে ‘সোয়া লাখ’ বলে উল্লেখ করেন। সেখান থেকেই ‘সোয়া লাখিয়া’ শব্দের অপভ্রংশ হয়ে ‘শোলাকিয়া’ নামের উৎপত্তি বলে ধারণা করা হয়।
অন্য একটি মতে, এক ঈদ জামাতে প্রায় সোয়া লাখ (১ লাখ ২৫ হাজার) মুসল্লির উপস্থিতির পর এই নামটি প্রচলিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৫০ সালে মসনদ-ই-আলা ঈশা খাঁর ষষ্ঠ বংশধর দেওয়ান মান্নান দাদ খাঁ ৪.৩৫ একর জমি ঈদগাহের জন্য ওয়াক্ফ করেন। বর্তমানে মাঠটি ৭ একর জায়গার উপর অবস্থিত।
২০১৬ সালের ৭ জুলাই শোলাকিয়া ঈদগাহ এলাকায় ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় দুই পুলিশ সদস্য, এক নারী ও এক জঙ্গিসহ চারজন নিহত হন। আহত হন পুলিশসহ ১৬ মুসল্লি। ওই ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হলেও ঈদের জামাতে মুসল্লিদের অংশগ্রহণে কখনো ভাটা পড়েনি।
ঐতিহাসিক ও জনসমাগমের দিক থেকে শোলাকিয়া ঈদগাহে অনুষ্ঠিত ঈদুল ফিতরের জামাতকে উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ ঈদের জামাত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রতি বছরই লাখো মুসল্লির উপস্থিতিতে এই ঈদগাহ পরিণত হয় এক অনন্য মিলনমেলায়।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে তারেক রহমান এবং শাহবাজ শরিফ টেলিফোনে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। এ সময় দুই দেশের সরকারপ্রধান কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
ঈদের আগের দিন শুক্রবার অনুষ্ঠিত এই টেলিফোন আলাপের বিষয়টি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে। এক এক্স পোস্টে তারা উল্লেখ করে, অত্যন্ত আন্তরিক ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে কথোপকথনের সময় শাহবাজ শরিফ তারেক রহমান এবং বাংলাদেশের জনগণকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান।
আলাপচারিতায় দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান ঐতিহাসিক ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে শাহবাজ শরিফ তারেক রহমানকে আশ্বস্ত করেন যে, বাংলাদেশের সঙ্গে সব ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদারে পাকিস্তান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
পোস্টে আরও বলা হয়, উভয় নেতা দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় করেন। মতপার্থক্য ও বিরোধ নিষ্পত্তিতে সংলাপ ও কূটনীতির গুরুত্বের ওপর তারা জোর দেন।
শাহবাজ শরিফের শুভেচ্ছার জবাবে তারেক রহমান পাকিস্তানের জনগণের প্রতি শুভকামনা জানান। এক্স পোস্টে উল্লেখ করা হয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি এবং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দুই নেতা।
রাজধানীর হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টায় এই জামাত আদায় করা হয়।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একসঙ্গে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নিয়ে নামাজ আদায় করেন। তাঁদের সঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আবদুস সালাম, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন মুসলিম দেশের কূটনীতিকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। নামাজ শেষে মুসল্লিরা পরস্পরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন।
ঈদের প্রধান জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক। দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ শেষে খুতবা প্রদান করা হয়।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) তত্ত্বাবধানে জাতীয় ঈদগাহ মাঠ জামাতের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত করা হয়। ঈদের এই প্রধান জামাতে নারীদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা রাখা হয় এবং ভিআইপি ব্যক্তিদের জন্যও বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা হয়।
নারীদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ, অযু ও নামাজের নির্ধারিত স্থান ছিল। পাশাপাশি পর্যাপ্ত অযুখানার ব্যবস্থা এবং মুসল্লিদের জন্য মেডিকেল টিমও প্রস্তুত রাখা হয়। সব মিলিয়ে সাড়ে তিন হাজার নারীসহ মোট ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়।
দীর্ঘ এক মাসের সিয়াম সাধনার পর আজ শনিবার সারা দেশে উদ্যাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর, যা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য আনন্দ, কৃতজ্ঞতা ও আত্মশুদ্ধির এক গভীর তাৎপর্যের দিন। আকাশে চাঁদের দেখা মিলতেই ঘরে ঘরে ভেসে ওঠে সেই চিরচেনা সুর, ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এল খুশীর ঈদ’।
রমজানজুড়ে অর্জিত সংযম ও ত্যাগের শিক্ষা ঈদের এই দিনে আরও বিস্তৃত হয়ে ওঠে। ক্ষুধা ও তৃষ্ণার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে দরিদ্র মানুষের প্রতি সহমর্মিতার যে চর্চা গড়ে ওঠে, ঈদ তারই পূর্ণতার প্রতীক। ফিতরা আদায়ের মাধ্যমে সমাজের সব স্তরের মানুষের জন্য উৎসবের আনন্দ নিশ্চিত করার যে বিধান, তা সাম্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে ধরা দেয়।
ঈদকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরেই বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে ছিল ঘরমুখো মানুষের ভিড়। দীর্ঘ ভোগান্তি আর ক্লান্তি শেষে প্রিয়জনের কাছে ফিরে আসার আনন্দ সব কষ্টকে ম্লান করে দিয়েছে। বাড়ির উঠান, মা-বাবার স্নেহমাখা মুখ আর স্বজনদের সান্নিধ্যে ফিরে মানুষ যেন খুঁজে পেয়েছে স্বস্তি ও প্রশান্তি।
রাজধানী থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল—সবখানেই উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। ঈদের আগের রাত পর্যন্ত দোকানগুলোতে ছিল কেনাকাটার ভিড়, বিশেষ করে আতর, টুপি, সেমাই ও চিনি। ভোর হতেই ঘরে ঘরে শুরু হয়েছে রান্নার ব্যস্ততা। বিউটি পারলারগুলোতে ছিল দীর্ঘ লাইন, আর রাত জেগে হাতে মেহেদি আঁকার উৎসবমুখর আয়োজনও ছিল চোখে পড়ার মতো। দেশের বিভিন্ন স্থানে বসেছে ঈদমেলা, যা আনন্দের আবহকে আরও বর্ণিল করে তুলেছে।
দেশের প্রধান ঈদ জামাত সকাল সাড়ে আটটায় জাতীয় ঈদগাহে অনুষ্ঠিত হবে। ইমামতির দায়িত্ব পালন করবেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে সকাল ৯টায় বায়তুল মোকাররমে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় ঈদগাহে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন এবং নারীদের জন্য রয়েছে পৃথক ব্যবস্থা। বায়তুল মোকাররমে পর্যায়ক্রমে সকাল ৭টা, ৮টা, ৯টা, ১০টা ও বেলা পৌনে ১১টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঈদগাহ ও মসজিদে জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
নামাজ শেষে মুসল্লিরা কোলাকুলি করে একে অপরকে শুভেচ্ছা জানাবেন, বলবেন ‘ঈদ মোবারক’। কেউ কেউ ছুটে যাবেন কবরস্থানে, প্রিয়জনদের জন্য দোয়া ও মোনাজাত করবেন। এরপর পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি যাওয়া এবং বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগির মধ্য দিয়ে দিনটি কাটবে।
ঈদ মানেই আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার উপলক্ষ। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং সুখ, সমৃদ্ধি ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
বর্তমান সময়ে নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী হলেও ঈদের আনন্দে তার প্রভাব খুব বেশি পড়েনি। তবে এই আনন্দের দিনে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কথা স্মরণ রাখা জরুরি। সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিলে তবেই ঈদের আনন্দ পূর্ণতা পাবে।
এই দিনটি শুধু উৎসবের নয়, বরং মানবিকতা, সহমর্মিতা ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের নতুন অঙ্গীকারেরও। সবার জীবনে এই ঈদ বয়ে আনুক শান্তি, কল্যাণ ও অনাবিল সুখ।
ঐতিহাসিক কিশোরগঞ্জ শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের ১৯৯তম জামাত সকাল ১০টায় অনুষ্ঠানের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এই সর্ববৃহৎ ঈদ জামাতের সার্বিক নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নেত্রকোণা ব্যাটালিয়নের (৩১ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল তৌহিদুল বারী এক বার্তার মাধ্যমে বিজিবির এই কঠোর অবস্থানের কথা নিশ্চিত করেন। বিজিবি সূত্রে জানানো হয়, সীমান্তে অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষায় তারা সর্বদা পেশাদারিত্ব বজায় রেখে কাজ করে।
ঈদগাহ ময়দান ও এর সংলগ্ন এলাকায় জেলা প্রশাসন ও অন্যান্য বাহিনীর সাথে সমন্বিতভাবে বিজিবি সদস্যরা নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করবে। জননিরাপত্তার স্বার্থে মুসল্লিদের নির্দিষ্ট প্রবেশপথ ব্যবহার করতে বলা হয়েছে এবং কোনো ধরনের ব্যাগ, ধারালো অস্ত্র বা সন্দেহজনক সামগ্রী বহন না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত সহযোগিতায় একটি সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এই ঈদ জামাত সম্পন্ন হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা সাত দিনের সরকারি ছুটির মধ্যে ঢাকার মেট্রোরেল চলাচল নিয়ে সময়সূচি জানিয়েছে পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড।
প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, ঈদুল ফিতরের দিন মেট্রোরেল চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।
তবে ঈদের পরদিন থেকে আগের মতো নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী মেট্রোরেল চলাচল পুনরায় শুরু হবে।
এদিকে দেশের আকাশে পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় আগামী শনিবার (২১ মার্চ) সারা দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্যাপিত হবে।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টা ১৬ মিনিটে কক্সবাজারে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার বিষয়টি প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।