চলমান হরতাল-অবরোধের শুরুর দিকে ককটেলের ব্যবহার কম থাকলেও গত দুই সপ্তাহে তা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) ড. খ. মহিদ উদ্দিন।
আজ বুধবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গত ৩০ নভেম্বর রিটার্নিং অফিসার কার্যালয়ে ককটেল বিস্ফোরণের হোতাসহ চারজনকে গ্রেফতার বিষয়ে জানানোর সময় তিনি এ কথা বলেন।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন- আশিকুর রহমান পান্না, পল্টন থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম, বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন হোসেন রনি ও বিল্লাল হোসেন। গতকাল মঙ্গলবার দিনগত রাতে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া ও ঢাকার আশেপাশের এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।
অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, গত ৩০ নভেম্বর বিভাগীয় কমিশনার ও ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার নির্বাচনী আসনগুলোর রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের পাশে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সেদিন ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। এদিন দুপুর ৩টার একটু পর রিটার্নিং কর্মকর্তার অফিসের পাশে ২-৩টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ঘটনার পর ডিএমপির কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এনবিআর অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহাতীতভাবে সঠিক ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে আমরা কাজ করি। এরই ধারাবাহিকতায় আশিকুর রহমান পান্না ও পল্টন থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়।
তিনি বলেন, গ্রেফতার ভয়ংকর তথ্য দিয়েছে। রিটার্নিং অফিসার কার্যালয় ছাড়াও এ দুইজন আরও ৮টি ঘটনা ঘটিয়েছেন। এছাড়া, রমনার বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় ১৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন হোসেন রনি ও বিল্লাল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা ১২টি স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ী।
ডিএমপি কর্মকর্তা বলেন, গ্রেফতার চারজন মোট ২১টি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ঢাকার বিভিন্ন থানায় বেশ কিছু মামলা রয়েছে। আরও কোনো ঘটনায় জড়িত কি না এবং তাদের পেছনে কারা রয়েছে তাদেরকেও আমরা চিহ্নিত করার চেষ্টা করবো।
ড. খ. মহিদ উদ্দিন বলেন, ২৯ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া হরতাল-অবরোধে যে নাশকতা কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা হচ্ছে, এর বড় একটি অংশ আমরা এক্সিকিউট (সংঘঠিত) করতে দেইনি। তারপরেও কিছু ঘটনা ঘটেছে। তবে বিভিন্ন ঘটনার সময় আমরা হাতেনাতে ৩৪ জনকে গ্রেফতার করেছি। কম হলেও আমরা কোয়ালিটি অ্যারেস্ট করতে পেরেছি। তাৎক্ষণিক গ্রেফতার করতে না পারলেও তদন্তে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় যাদের নাম আসছে তাদের গ্রেফতার করছি। যাতে কোন নিরীহ ব্যক্তি ভুলের শিকার না হয়, সেজন্য নিশ্চিত না হয়ে কাউকে গ্রেফতার করা হচ্ছেনা। আমরা যেকোনোভাবে মহানগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।
তিনি আরও বলেন, হরতাল-অবরোধের প্রথমদিকে ককটেলের ব্যবহার কম ছিল। কিন্তু গত ২ সপ্তাহ ধরে ককটেলের ব্যবহার বাড়ছিল। যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ককটেলের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটিয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে নেওয়া বড় সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে নাজুক করে তুলেছে। ফলে নতুন সরকারকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে এগুতে হবে ভেবে-চিন্তে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এখন নতুন সরকারকে হয় নতুন করে টাকা ছাপাতে হবে, নয়তো বড় অঙ্কের ঋণ নিতে হবে, যা অর্থনীতিতে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।
সূত্র বলছে, নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব ছিল শুধু রুটিন কাজ ও নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করা। কিন্তু ২৫ দিনে (১ ডিসেম্বর থেকে ২৫ জানুয়ারি) তড়িঘড়ি করে এক লাখ ছয় হাজার ৯৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ের ৬৪টি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৭৯ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকার ৪০টি প্রকল্পই সম্পূর্ণ নতুন। দেড় বছর মেয়াদে এই সরকার ১৩৫টি নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে, যার মোট ব্যয় ধরা হয়েছে দুই লাখ তিন হাজার কোটি টাকা।
এদিকে, রাজস্ব ঘাটতি মোকাবিলায় বাজেট সহায়তা এবং বড় প্রকল্পগুলোতে অর্থছাড় বাড়াতে গিয়ে পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের মতোই বিদেশি ঋণের পথে হেঁটেছে অন্তর্বর্তী সরকার, ফলে ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে সরকারি খাতে বৈদেশিক ঋণের দায় দাঁড়িয়েছে ৭৭ বিলিয়ন ডলারে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) হিসাব মতে, মাত্র পাঁচ বছরের ব্যবধানে এই ঋণের বোঝা প্রায় ৪৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। যেখানে আইএমএফ ও সরকারের গ্যারান্টি দেওয়া ঋণ অন্তর্ভুক্ত করলে প্রকৃত দায়ের পরিমাণ আরো বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মাসরুর রিয়াজ সতর্ক করে বলেছেন, ভবিষ্যতে ঋণ পরিশোধের চাপ ৬৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে।
এছাড়াও অন্তর্বর্তী সরকারের সবচেয়ে বড় আর্থিক দায় রেখে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হতে পারে প্রস্তাবিত নবম পে স্কেল। এই বেতন স্কেল বাস্তবায়নে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে বছরে অতিরিক্ত এক লাখ ছয় হাজার কোটি টাকা ব্যয় হবে।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন বাণিজ্যচুক্তির অংশ হিসেবে বোয়িং থেকে নতুন ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে গত অন্তর্বর্তী সরকার। তবে আপাতত বোয়িং থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কিনতে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে।
বিমান ও সরকারি উচ্চপদস্থ সূত্রগুলো জানায়, উড়োজাহাজবহর আধুনিকীকরণ জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজনীয় হলেও ভোটের ঠিক আগে এমন তাড়াহুড়া ও জবাবদিহির অভাব নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। উড়োজাহাজগুলো সরবরাহ শুরু হবে ২০৩১ থেকে ২০৩৫ সালের মধ্যে। অর্থাৎ বর্তমান সরকারের সময়ে এর কোনো সুফল পাওয়া যাবে না।
অন্তর্বর্তী সরকার চীন থেকে চারটি নতুন জাহাজ কেনার ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি সই করেছে। নৌসদর দপ্তরে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে জিটুজি ভিত্তিতে একটি ‘অফ দ্য শেলফ’ হাইড্রোগ্রাফিক সার্ভে ভেসেল কেনার চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
ঢাকার চীনা দূতাবাস জানিয়েছে, চারটি জাহাজের মধ্যে দুটি ক্রুড অয়েল মাদার ট্যাংকার এবং দুটি মাদার বাল্ক ক্যারিয়ার। এর মোট ব্যয় ২৪ কোটি ১৯ লাখ ২০ হাজার মার্কিন ডলার। এর মধ্যে দুটি ক্রুড অয়েল মাদার ট্যাংকারের জন্য ব্যয় হবে ১৫ কোটি ১৯ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার। আর দুটি মাদার বাল্ক ক্যারিয়ার কেনায় ব্যয় হবে আট কোটি ৯৯ লাখ ৬০ হাজার মার্কিন ডলার।
সাবেক একজন অর্থসচিবের মতে, মেয়াদের শেষ সপ্তাহে এসে এক লাখ কোটি টাকার বেশি আর্থিক দায় তৈরি করা প্রশাসনিক শিষ্টাচারবহিভর্ভূত। বিশেষ করে পে স্কেল বা মেগাবিমান ক্রয়ের মতো বিষয়গুলো নির্বাচিত সরকারের ম্যান্ডেট হওয়া উচিত ছিল। এখন পরবর্তী সরকারকে হয়তো শুরুতেই বড় ধরনের বাজেট ঘাটতি ও আইএমএফের কঠিন শর্তের মুখে পড়তে হবে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) অতিরিক্ত গবেষণা পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান জানিয়েছেন, যে চুক্তিগুলো জরুরি নয় এবং দীর্ঘমেয়াদি, সেগুলো অন্তর্বর্তী সরকারের এড়িয়ে যাওয়া উচিত ছিল। বড় কোনো অর্থনৈতিক ও নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গেও প্রয়োজনীয় আলোচনা করা হয়নি। নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এই কাজগুলো সম্পন্ন করতে পারত।
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে. মুজেরি বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আয়ু মাত্র কয়েক দিন ছিল, শেষ সময়ে বড় বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া ছিল অযৌক্তিক। নির্বাচন-পরবর্তী সরকার অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ সংকুচিত করেছে গত অন্তর্বর্তী সরকার।
তিনি আরো বলেছেন, গত অন্তর্বর্তী সরকারের অর্থনীতিতে সফলতা নেই বললেই চলে। তাদের নেওয়া অর্থনৈতিক নীতিগুলোর একটি সাধারণ ধরন, ভুল সময়ে ভুল সিদ্ধান্ত নেওয়া।
অন্তর্বর্তী সরকার আগের চেয়ে ঋণ পরিস্থিতি আরও বেশি নাজুক করে রেখে গেছে বলে মন্তব্য করে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার ঋণ পরিস্থিতি যেভাবে পেয়েছিল, তার চেয়েও তা আরও নাজুক অবস্থায় রেখে গেছে। অন্তর্বর্তী সরকার বন্দরসহ যে সব বৈদেশিক চুক্তি করেছে তা পুনর্বিবেচনা করা দরকার। নতুন সরকারের টাকা ছাপানোর চিন্তা স্বপ্নেও করা ঠিক হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রোজার প্রথমদিনেই বাজার চড়া। এই সময় নিত্যপণ্যের চাহিদা বাড়ে, সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ে দামও। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান থেকেও স্বস্তির খবর পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে বাজার নিয়ন্ত্রণ, আইএমএফের শর্ত মোকাবিলা, ঋণের বোঝা কমানো এবং কর ও ব্যাংক সংস্কার—এই পাঁচ চাপ সামলে সামনে এগিয়ে যাওয়াই নতুন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সাফল্য পেতে হলে শুধু সঠিক নীতিই নয়, প্রয়োজন রাজনৈতিক দৃঢ়তা। সরকার যদি এই চাপ সামলাতে পারে, তবেই ভিত্তি মজবুত হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, জানুয়ারিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশে, যা মূল্যস্ফীতি কমার সব পূর্বাভাস ভুল প্রমাণ করেছে। আরও উদ্বেগের বিষয়, খাদ্য মূল্যস্ফীতি গত ডিসেম্বরের ৭ দশমিক ৭১ শতাংশ থেকে বেড়ে জানুয়ারিতে ৮ দশমিক ২৯ শতাংশে পৌঁছেছে। এই পরিস্থিতি অর্থমন্ত্রীকে এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। সরকারের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনার ওপর জনআস্থা ওঠানামা করে মূলত খাদ্যপণ্যের দামের ওপর নির্ভর করেই। ফলে নতুন সরকারের সামনে দীর্ঘ অগ্রাধিকারের তালিকা—রাজস্ব সংস্কার, ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক ঋণদাতাদের সঙ্গে দর-কষাকষি। তবে তার সামনে এখন সবচেয়ে বড় এবং রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর চ্যালেঞ্জ—মূল্যস্ফীতি। কারণ, কোটি কোটি পরিবারের কাছে নতুন সরকারের সাফল্যের মাপকাঠি একটাই—খাদ্যপণ্যের দাম।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক সেলিম রায়হান বলেন, সরবরাহ পরিস্থিতি বিবেচনা করে অযৌক্তিক দাম বৃদ্ধির বিরুদ্ধে ব্যবসায়ীদের কাছে কঠোর বার্তা পৌঁছাতে হবে। এ জন্য অর্থ, বাণিজ্য ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। অতীতে সরকারগুলো এখানেই হোঁচট খেয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, সরকারের রাজনৈতিক ‘হানিমুন পিরিয়ড’ ছয় মাসের বেশি স্থায়ী নাও হতে পারে। এরপরই মানুষের ধৈর্যের বাঁধ ভাঙতে শুরু করবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার এমন এক অর্থনীতির দায়িত্ব নিয়েছে, যা ভঙ্গুর এবং এখনো বৈদেশিক সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশ আইএমএফের ঋণ কর্মসূচিতে প্রবেশ করে। এরপর থেকে আইএমএফের সঙ্গে সম্পর্ক নানা চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে গেছে।
আগের অন্তর্বর্তী সরকার আশা করেছিল, আন্তর্জাতিক সদিচ্ছায় হয়তো ঋণ আলোচনা সহজ হবে। কিন্তু ঋণদাতারা তাদের শর্তে অনড় ছিল। লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ায় কিস্তি আটকে গিয়েছিল, আবার কঠোর শর্ত মানার পর তা ছাড় হয়েছে।
আগামী মাসে আইএমএফের আরেকটি মিশন ঢাকায় আসছে। সেখানে রাজনৈতিক কোনো অজুহাত টিকবে না। আইএমএফ মূলত রাজস্ব আদায়ে শৃঙ্খলা, মুদ্রানীতির সংকোচন এবং আর্থিক খাতের সংস্কারের অগ্রগতির ওপর জোর দেবে। আইএমএফের সমর্থন শুধু অর্থের জন্য নয়, অন্য দাতা সংস্থাগুলোর আস্থা অর্জনের জন্যও জরুরি।
বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, অর্থমন্ত্রীকে প্রথমেই সম্পদের সঠিক হিসাব-নিকাশ করতে হবে। আইএমএফ সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি বা সুদের হার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দিচ্ছে। সরকারের জন্য এভাবে ভারসাম্য বজায় রাখা কঠিন এক চ্যালেঞ্জ। সরকার কি কঠোর নীতি বজায় রেখে দাম স্থিতিশীল রাখার চেষ্টা করবে, নাকি প্রবৃদ্ধির সুযোগ বাড়াতে শর্ত শিথিলের জন্য দর-কষাকষি করবে?
রিজার্ভ স্থিতিশীল থাকলেও তা স্বস্তির কোনো কারণ নয়। বর্তমান রিজার্ভের স্থিতিশীলতা মূলত অর্থনীতির শ্লথগতির ফল। বিনিয়োগ কমেছে, আমদানি কমেছে এবং ব্যাংকিং খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ঐতিহাসিকভাবে নিচে নেমেছে। ব্যবসায়ীরা এখনো সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। সরকার যদি প্রবৃদ্ধি পুনরুদ্ধারে সফল হয়, তবে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা আবারও বাড়বে এবং রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি হবে। অতীতে ৪৫ বিলিয়ন ডলারের রিজার্ভ দ্রুত কমে যাওয়ার নজির রয়েছে।
রাজস্ব পরিস্থিতিও বেশ চ্যালেঞ্জিং। বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর প্রস্তাব বাজেটের ওপর বড় চাপ সৃষ্টি করবে। বেতন বাড়াতে হলে বছরে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকার অতিরিক্ত প্রয়োজন হবে, যা দেশের পুরো স্বাস্থ্য বাজেটের আড়াই গুণের সমান। মোস্তাফিজুর রহমান সতর্ক করে বলেন, রাজস্ব আয় না বাড়িয়ে আবেগের বশবর্তী হয়ে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।
২০২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তুতি এখনই শুরু করতে হবে। প্রায় দুই দশক ধরে বাংলাদেশ রাজস্ব উদ্বৃত্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে, ফলে উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকারকে ঋণের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। পরিচালন ব্যয় যদি অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে থাকে, তবে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে যখন বিনিয়োগ নয়, বরং দৈনন্দিন ব্যয় মেটাতেই সরকারকে ঋণ করতে হবে।
সরকারি ঋণের বোঝা দ্রুত বাড়ছে। মাত্র তিন বছরের ব্যবধানে মোট সরকারি ঋণ প্রায় ৬০ শতাংশ বেড়ে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ২১ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে। ঋণের উৎসেও পরিবর্তন এসেছে। সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ নেওয়া কমেছে, কিন্তু ব্যাংকঋণের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। ২০২২ সাল থেকে ব্যাংক খাতের ঋণ ৮৫ শতাংশ বেড়েছে। ট্রেজারি বন্ডের মাধ্যমে তারল্য তুলে নেওয়ায় সরকার বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ সংকুচিত করে ফেলছে।
প্রবৃদ্ধি ঠিক রেখে সরকারি অর্থের জোগান দিতে হলে সরকারকে কর আদায় বাড়াতে হবে। অর্থনীতিবিদেরা প্রায়ই ভ্যাট আদায়ে বড় ধরনের লিকেজ বা ফাঁকির কথা বলেন। কর প্রশাসন শক্তিশালী করা, ফাঁকি কমানো এবং আদায় ব্যবস্থা আধুনিকায়ন করলে করহার না বাড়িয়েও রাজস্ব আয় বাড়ানো সম্ভব।
অবশ্য কাঠামোগত সংস্কারের কথা বলা সহজ, কিন্তু বাস্তবায়ন কঠিন। কেন্দ্রীয় ব্যাংককে প্রকৃত স্বায়ত্তশাসন দেওয়া এবং এনবিআরকে ঢেলে সাজানোর কথা দীর্ঘদিন ধরে বলা হলেও বাস্তবায়নে গতি কম।
এদিকে ব্যাংকিং খাতেও গভীর সংস্কার প্রয়োজন। ব্যাংক কোম্পানি আইন সংশোধন, বিশেষ করে ব্যাংক পর্ষদে পারিবারিক প্রতিনিধিত্বের নিয়ম পরিবর্তন করতে গিয়ে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। আর্থিক খাতের ওপর আস্থা ফিরিয়ে আনা জরুরি, যাতে ব্যবসায়ীরা বিনিয়োগে আগ্রহী হন।
অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির বাইরে ভূ-রাজনীতির একটি সময়সীমাও ঘনিয়ে আসছে। নভেম্বরে এলডিসি (স্বল্পোন্নত দেশ) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ হওয়ার কথা। এটি অগ্রগতির মাইলফলক হলেও এর সঙ্গে কিছু নেতিবাচক দিকও রয়েছে। এলডিসি থেকে বের হয়ে গেলে বাণিজ্য সুবিধা কমবে, যা রপ্তানিতে প্রভাব ফেলতে পারে।
নতুন সরকার এলডিসি উত্তরণ অন্তত তিন বছর পেছানোর চেষ্টা করবে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। গত মঙ্গলবার বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, এলডিসি থেকে উত্তরণ পেছানো বিএনপির নীতিগত অবস্থানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
আবারও ফিরে আসছে রক্তঝরা একুশে ফেব্রুয়ারি। অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ উপলক্ষ্যে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এখন সাজ-সাজ রব। ভাষা শহীদদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানাতে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শিল্পী ও কর্মীরা। মূল বেদী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা থেকে শুরু করে আলপনা আঁকা– সব মিলিয়ে এক কর্মমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়।
শুক্রবার রাত থেকেই ফুল হাতে জনতার ঢল নামবে শহীদ মিনারে। মানুষের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসায় সিক্ত হবেন মাতৃভাষার জন্য প্রাণ উৎসর্গকারী শহীদরা।
বৃহস্পতিবার বিকেলে শহীদ মিনার এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বেদীর আলপনার কাজ চলছে পুরোদমে। মূল চত্বরের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে থাকলেও রাস্তার আলপনার কাজে ব্যস্ত রয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা।
শহীদ মিনার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ধুলোবালি পরিষ্কার করে মূল মিনার ও বেদীকে ধুয়ে নতুন রূপ দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে মিনারের বেশ কিছু অংশে সাদা রঙের প্রলেপ পড়েছে। এ কাজে নিয়োজিত কর্মীরা জানান, মিনারের মূল কাঠামোর কাজ দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। রং করার কাজ শেষ হলেই মিনারের পেছনে প্রতীকী লাল সূর্যটি স্থাপন করা হবে।
প্রস্তুতির বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থী মেহেরুন্নেসা ইতি বলেন, ‘আমরা চারুকলা অনুষদের ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী নিরলসভাবে পরিশ্রম করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে লাইন টানার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন আজ এবং আগামীকাল রং করার কাজ চলবে। আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে কাজ করছি যাতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পুরো আয়োজনটি সুন্দরভাবে শেষ করা যায়।’
একই অনুষদের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী বিবেক কুমার বলেন, ‘আমরা সবাই অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছি। চারুকলা অনুষদের শিক্ষকরা এবং শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করছেন। আশা করছি আগামীকালের মধ্যেই আমাদের সম্পূর্ণ প্রস্তুতি শেষ হবে এবং সবকিছু যথাসময়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।’
কেবল মূল মিনারই নয়, আশপাশের দেওয়ালে বর্ণমালা লিখন এবং ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস সংবলিত গ্রাফিতি তৈরির প্রস্তুতিও চলছে। নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এলাকায় সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অস্থায়ী কন্ট্রোল রুম তৈরির কাজও চলমান রয়েছে।
আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে চারটা মন্ত্রণালয় একসঙ্গে বসে আলোচনা করে খাল খনন কর্মসূচির বিষয়ে পরবর্তী সপ্তাহে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ এবং জাতীয় পর্যায়ে নদী-খাল-জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচিবিষয়ক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা হয়। সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
পানিসম্পদমন্ত্রী বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ওনার জীবদ্দশায় এ কর্মসূচি নিয়ে বাংলাদেশে একটি মহাবিপ্লবে পরিণত করেছিলেন। তো দীর্ঘদিন থেকে আমরা দেশবাসী ভুক্তভোগী যে খাল খননও নেই এবং এই যে পানি জলাবদ্ধতা অথবা জলাশয়ে কোনো পানি নেই, সেচের ব্যবস্থা নেই—সবকিছু থেকে দেশবাসী আমরা বঞ্চিত।’
তিনি বলেন, ‘এবার নির্বাচনী ইশতেহারে আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নির্বাচনের আগ থেকেই বারবার এই কথাটা উল্লেখ করেছেন এবং খাল খনন প্রক্রিয়াটাকে পুনঃখনের মাধ্যমে দেশবাসীর সামনে নিয়ে আসবেন, আমরা যেন দেশের মানুষ সুবিধাটা পাই।’
শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘আজকে আমরা মিটিং করেছি। সিদ্ধান্ত হয়েছে চারটা মন্ত্রণালয় আমরা বসে—বিশেষ করে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয় এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়সহ আমরা এই চারটা মন্ত্রণালয় বসবো। আলোচনা করবো এবং পরবর্তী সপ্তাহে সিদ্ধান্ত হবে।’
তিনি বলেন, ‘সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমরা কীভাবে খাল খননের এই কর্মসূচি এবং বিপ্লব আকারে নিয়ে এটাকে সাকসেস করতে পারি, সেই সিদ্ধান্তে আমরা পৌঁছাব। আমাদের কার্যক্রম ১৮০ দিন যেটা, সেই কার্যক্রম আমাদের শুরু হবে।’
১৮০ দিনের মধ্যে কি এটা শুরু হবে- এ প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা শুরু করবো এবং ম্যাক্সিমামটা করার চেষ্টা করব ১৮০ দিনের মধ্যে দৃশ্যমান করার। শুরু হবে খুব শিগগিরই। এক সপ্তাহের মধ্যে আমরা সিদ্ধান্ত নেব কবে থেকে শুরু হবে।’
জানুয়ারিতে দেশে ৫৫৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৮৭ জন নিহত এবং ১ হাজার ১৯৪ জন আহত হয়েছে। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৬৮ জন নারী ও ৫৭ শিশু রয়েছে। এ ছাড়া ২০৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৯৬ জন নিহত হয়েছে, যা মোট নিহতের ৪০ দশমিক ২৪ শতাংশ। মোট দুর্ঘটনার ৩৭ দশমিক ২০ শতাংশই মোটরসাইকেল সংশ্লিষ্ট। তাছাড়া ১৩২ জন পথচারী নিহত হয়েছে, যা মোট মৃত্যুর ২৭ দশমিক ১০ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৬৭ জন, অর্থাৎ ১৩ দশমিক ৭৫ শতাংশ। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রোড সেফটি ফাউন্ডেশন প্রকাশিত মাসিক দুর্ঘটনা বিশ্লেষণ প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, যানবাহনভিত্তিক নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে বাসযাত্রী ২১ জন, ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান-পিকআপ-ট্রাক্টর আরোহী ২৮, প্রাইভেট কার-মাইক্রোবাস-অ্যাম্বুলেন্স-জিপ আরোহী ৯, থ্রি-হুইলার যাত্রী ৭৭ জন, স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী ১৩ এবং বাইসাইকেল আরোহী ১১ জন রয়েছে।
দুর্ঘটনায় ৮৮৫টি যানবাহন সম্পৃক্ত ছিল। এর মধ্যে ২১৭টি মোটরসাইকেল, ১৬৪টি থ্রি-হুইলার, ১৪৪টি ট্রাক, ১০৮টি বাসসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন রয়েছে।
সড়কের ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৫৬টি দুর্ঘটনা জাতীয় মহাসড়কে, ২০৭টি আঞ্চলিক সড়কে, ৮৫টি গ্রামীণ সড়কে, ১০৩টি শহরের সড়কে এবং ৮টি অন্যান্য স্থানে ঘটেছে। দুর্ঘটনার ধরনে ২০৯টি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে, ১৩৫টি মুখোমুখি সংঘর্ষে, ১৩৭টি পথচারীকে চাপা বা ধাক্কা দিয়ে, ৭২টি পেছন থেকে আঘাতে এবং ৬টি অন্যান্য কারণে ঘটেছে।
সময়ভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, সকালে ২৬ দশমিক ৬৫ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে, রাতে ২৩ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং দুপুরে ১৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ।
বিভাগভিত্তিক হিসাবে ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ২৫ দশমিক ৫৮ শতাংশ দুর্ঘটনা ও ২৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ প্রাণহানি ঘটেছে। এই বিভাগে ১৪৩টি দুর্ঘটনায় ১১৯ জন নিহত হয়েছে। সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ২৪টি দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত হয়েছে। রাজধানী ঢাকায় ২৬টি দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত ও ৪১ জন আহত হয়েছে।
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্থানীয় সময় গত বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট থেকে পাঠানো এক চিঠিতে তারেক রহমানকে এই অভিনন্দন জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। চিঠিটি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল ভেরিফায়েড এক্স হ্যান্ডেল।
চিঠিটি শেয়ার করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ক্যাপশনে লিখেছে, ‘যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে ট্রাম্প বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিজ এক্সিলেন্সি জনাব তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন। অভিনন্দনবার্তায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও অভিন্ন স্বার্থের ভিত্তিতে একসঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার চিঠিতে তারেক রহমানকে ‘প্রিয় জনাব প্রধানমন্ত্রী’ উল্লেখ করে বলেন, ‘আমেরিকার জনগণের পক্ষ থেকে আপনাকে আপনার ঐতিহাসিক নির্বাচনী বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানাই। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আপনার মেয়াদ সফল হোক—এই কামনা করি।’
ট্রাম্প আরও লিখেন, ‘আমাদের দুই দেশের অংশীদারত্ব পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও একটি অভিন্ন স্বার্থের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। আমরা একটি মুক্ত ও উন্মুক্ত ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চল গড়ে তুলতে চাই, যেখানে শক্তিশালী ও সার্বভৌম দেশগুলো সমৃদ্ধ হতে পারে। আপনি যখন আপনার দায়িত্বের মেয়াদ শুরু করছেন, তখন আমি আশা করি আমাদের পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে আপনি আমাদের বাণিজ্য সম্পর্কের অসাধারণ অগ্রগতি ধরে রাখতে আমাকে সহায়তা করবেন। এই চুক্তি আমাদের দুই দেশের কৃষক ও শ্রমিকদের জন্য উপকারী।’
তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমি আরও আশা করি, নিয়মিত প্রতিরক্ষা চুক্তিগুলো সম্পন্ন করার জন্য আপনি দৃঢ় পদক্ষেপ নেবেন। এর ফলে, আপনার সামরিক বাহিনী উচ্চমানের, আমেরিকায় তৈরি সরঞ্জাম—যা বিশ্বের সেরা—ব্যবহারের সুযোগ পাবে।’
চিঠিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের সম্পর্ককে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আরও শক্তিশালী করতে আপনার সঙ্গে কাজ করার জন্য আমি আগ্রহের সঙ্গে অপেক্ষা করছি। বাংলাদেশে আমার রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেনের প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে। আমরা একসঙ্গে আমাদের দুই দেশকে আরও সমৃদ্ধ ও নিরাপদ করার সুযোগ পেয়েছি। আগামী দিনগুলোর জন্য আপনাকে শুভকামনা।’
একটি সফল রাষ্ট্র বিনির্মাণে সবার ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা অত্যন্ত জরুরি বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, একটি সফল রাষ্ট্র বিনির্মাণে আমাদের সবার ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা অত্যন্ত জরুরি। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র এই তিনটি স্তর একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আমরা যদি ভিন্নমত ও বিভেদ ভুলে একটি টিম হিসেবে কাজ করি, তাহলে উন্নয়ন, সুশাসন ও ন্যায়ভিত্তিক সফল সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। আমাদের মনে রাখতে হবে একটা বিধ্বস্ত অর্থনীতি,বিধ্বস্ত রাষ্ট্রব্যবস্থার ওপর দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন ও পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আমরা কাজ করছি। আমরা জনগণের ট্যাক্সে চলি তাই জনগণের কাছে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা নৈতিক দায়িত্ব।
তিনি বলেন, বিগত পনের বছরে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান যেভাবে দুর্বল, অকার্যকর বা আস্থাহীন হয়ে পড়েছিল, সেগুলো পুনরায় সচল ও কার্যকর করতে সরকার এখন নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা মানে কেবল প্রশাসনিক কাঠামো ঠিক করা নয়; বরং জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করা। কার্যকর প্রতিষ্ঠানই একটি শক্তিশালী ও উন্নয়নমুখী রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তি। তাই সরকারের এই পুনর্গঠন কার্যক্রম টেকসই ও ফলপ্রসূ করতে সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘গ্রামের মানুষ কষ্টে রয়েছে, এটি শুধু একটি আবেগের কথা নয়, বরং একটি বাস্তব সামাজিক সত্য। তাদের কষ্ট লাঘব করা রাষ্ট্র, সমাজ ও সচেতন নাগরিক সবারই দায়িত্ব। কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে ক্রমান্বয়ে গ্রামের মানুষের কষ্ট দূর করতে কাজ করছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর পরিষ্কার বার্তা হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং কঠোরভাবে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জনগণের মানে শান্তি নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনাই হচ্ছে সরকারের অগ্রাধিকার।’
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ‘এই মন্ত্রণালয় সরাসরি সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সবার সহযোগিতার মাধ্যমে, উন্নয়ন ও গণতন্ত্র সমুন্নত রেখে যেন জনগণের কাছে যেতে পারি। দুর্নীতিমুক্ত একটি রাষ্ট্র বিনির্মাণে সবাই মিলে কাজ করতে হবে। নির্বাচনি ইশতিহার ও ঘোষিত ৩১ দফা কেবল রাজনৈতিক অঙ্গীকার নয় এগুলো জনগণের সঙ্গে করা একটি সামাজিক চুক্তি। তাই মানুষের জন্য একটি নিরাপদ, ন্যায়ভিত্তিক ও উন্নয়নমুখী পরিবেশ তৈরিতে এই মন্ত্রণালয়কে দায়িত্বশীল ও কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।’
পুলিশসহ বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর মধ্যে জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী গণতান্ত্রিক সংস্কার করতে হবে বলে মন্তব্য করেছ নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, প্রায় দীর্ঘ দেড় যুগ পর একটি স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে রাজনৈতিক সরকার গঠিত হয়েছে। তাই আমাদের নিকট জনগণের প্রত্যাশা অনেক। সে প্রত্যাশা পূরণে আমরা দ্রুত আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন করতে চাই। আমরা পুলিশসহ বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর মধ্যে যে জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী গণতান্ত্রিক সংস্কার করতে চাই, প্রথমে তার অগ্রাধিকার নির্ধারণ করতে হবে।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ নির্দেশনা দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি আরো বলেন, আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রতিষ্ঠানসমূহের পুনর্গঠন ও নৈতিকতা উন্নতকরণের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জন করতে চাই। এ লক্ষ্য অর্জনে আমাদের প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ প্রদান করতে হবে। এখানে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বাজেট মঞ্জুরির বিষয়ও রয়েছে। নতুন জনবল নিয়োগের মাধ্যমে এবং সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় আমরা লক্ষ্য অর্জন করতে চাই।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পুলিশসহ অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর যুগোপযোগী উন্নয়নে আমাদের একটি সঠিক পরিকল্পনা দরকার। মন্ত্রী এ সময় পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার প্রধানদের পরামর্শ ও সুপারিশমালা তৈরির নির্দেশ দেন।
মন্ত্রী বলেন, এর মাধ্যমে আমরা যে সংস্কার করতে চাই, তার অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হবে।
সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (রুটিন দায়িত্ব) মো. দেলোয়ার হোসেন, আইজিপি বাহারুল আলমসহ বিভিন্ন দপ্তর-সংস্থার প্রধানগণ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট অনুবিভাগের প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার। অভিনন্দন বার্তায় ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদি বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেওয়ার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) চিঠিটি প্রকাশ করেছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিশিয়াল ভেরিফায়েড এক্স হ্যান্ডেল।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর চিঠিতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সদস্যদের জন্য মানবিক সহায়তা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জলবায়ু কর্মকাণ্ড, অভিবাসন, প্রতিরক্ষা সহযোগিতাসহ যুক্তরাজ্য-বাংলাদেশ অংশীদারিত্ব জোরদারে যুক্তরাজ্যের প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরা হয়।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক রয়েছে। আমি আশাবাদী যে, আপনার নেতৃত্বে আমাদের সহযোগিতা কেবল আমাদের অভিন্ন মূল্যবোধ এবং সমৃদ্ধ ইতিহাসের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠা।
বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ বিদেশি বিনিয়োগকারী দেশ হিসেবে যুক্তরাজ্য তাদের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের আশা প্রকাশ করেছে। চিঠিতে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের অংশীদারত্বকে আরও শক্তিশালী করতে আপনার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার জন্য আমি উন্মুখ হয়ে রয়েছি এবং অগ্রগতি ভাগ করে নেওয়া আমাদের অগ্রাধিকার।
তিনি বলেন, অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলায় আরও সহযোগিতা, এর প্রভাবগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই, জলবায়ু পরিবর্তন এবং আমাদের দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সম্পর্ককে শক্তিশালী করবে।
মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত হয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতি বাংলাদেশের মানবিক আচরণের প্রশংসা করেন কিয়ার স্টারমার। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, যুক্তরাজ্য সরকার রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য তাদের মানবিক ও আর্থিক সহায়তা অব্যাহত রাখবে।
পরিশেষে, দুই দেশের সম্পর্কের ‘পরবর্তী অধ্যায়’ সফল ও সমৃদ্ধ হবে বলে তিনি চিঠিতে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বিএসএস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহবুব মোর্শেদকে ঘিরে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, মব করে কোনো কিছুই করা যাবে না। সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একটি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএসএস একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান। সেখানে নিয়োগের একটি নির্দিষ্ট নীতিমালা ও প্রক্রিয়া রয়েছে। সেই নিয়ম অনুযায়ী সবকিছু সম্পন্ন করতে হবে। কাউকে মব করার সুযোগ দেয়া হবে না। আইন ও বিধিমালার বাইরে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণযোগ্য নয়।
সাংবাদিকদের অন্য এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী জানান, সম্প্রতি এক টেলিভিশন সাংবাদিককে চাকরিচ্যুত করার বিষয়টি নিয়েও আলোচনা করা হবে। বেসরকারি প্রতিষ্ঠান হলেও সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। আমরা বিষয়টি আলোচনা করে যথাযথ সিদ্ধান্ত নেয়ার চেষ্টা করব।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা বারবার বলছি, প্রতিহিংসামুক্ত বাংলাদেশ গড়ার কাজে হাত দিয়েছি। আমরা সাংবিধানিক পদ্ধতির মধ্যে দাঁড়িয়ে আছি। জাতীয় সংসদে শপথ সংক্রান্ত বিষয়সহ আমরা কখনোই সংবিধান নির্দেশিত পথের বাইরে যাইনি।
সড়ক পরিবহণ, রেলপথ ও নৌপরিবহণ মন্ত্রণালয়ে নবনিযুক্ত মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেছেন, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের অধীনে কারও চাঁদাবাজি করার কোনো সুযোগ নেই, সুযোগ থাকবে না। আজ বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় তিনি এ কথা বলেন।
সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী বলেন, রেল যোগাযোগ সম্প্রসারণ করার পাশাপাশি পর্যাপ্ত ইঞ্জিন এবং বগি বাড়িয়ে এ সেবাকে আরও উন্নত করার নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এছাড়া সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করবে সরকার।
ঈদ যাত্রায় স্বস্তি আনতে ঈদের ছুটি বাড়ানো যায় কিনা ও তৈরি পোশাক শিল্প কারখানায় আগেই ছুটি দেওয়া যায় কিনা তো নিয়ে সরকারের চিন্তা-ভাবনা রয়েছে। আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সড়কমন্ত্রী।
পরিবহণে চাঁদাবাজির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, মালিক ও শ্রমিক সমিতিগুলো নিজেদের কল্যাণে সম্মতির ভিত্তিতে কিছু টাকা তোলেন। তবে কেউ যদি বাধ্য করে টাকা নেন সেটা চাঁদাবাজি এবং তেমন কিছু করার সুযোগ নেই। অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।
শেখ রবিউল আলম বলেন, ঢাকার যানজট নিরসনে অন-স্ট্রিট পার্কিং বাতিলের প্রস্তাবটি বিবেচনা করা হবে। সিটি করপোরেশন যত্রতত্র পার্কিং ইজারা দিয়ে থাকলে তাদের ডেকে বাতিল করার কথা বলা হবে। এছাড়া ঈদের সময় গার্মেন্টসে দুই দিন আগে ছুটি দেওয়ার প্রস্তাবটিও প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ও সংশ্লিষ্ট মালিকদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিবেচনার আশ্বাস দেন তিনি।
মেট্রোরেলের কাজ দ্রুতগতিতে শুরু হয়েছে এবং তা দ্রুততম সময়ের মধ্যে শেষ হবে। বিআরটি প্রজেক্টের বিষয়ে বলা হয়েছে, এটি রাষ্ট্রবান্ধব হয়নি বরং কোনো গোষ্ঠী বা রাষ্ট্রের স্বার্থে নেওয়া হয়েছিল। ১২ থেকে ১৪ লেনের রাস্তার মাঝখানে দুটি লেন ব্যবহার করার নজির কোথাও নেই। এই প্রকল্প নিয়ে সরকার বা মন্ত্রণালয়ের তেমন আগ্রহ নেই। তবে ঋণের বিষয় ও আইনি জটিলতা থাকায় এটি বন্ধ করার প্রক্রিয়াটি সময়সাপেক্ষ ও জটিল বলেও জানান সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী।
যেখানে জনস্বার্থ থাকে সেখানে দলীয় স্বার্থ নগণ্য-এ কথা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, অতীতে শ্রমিক সংগঠন বা ক্ষমতাসীন দলের আধিপত্য থাকলেও আগামীতে তা থাকবে না। সরকারপ্রধান আমাদের সততা ও কর্মতৎপরতার ওপর বিশ্বাস রেখে দায়িত্ব দিয়েছেন। আমরা দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছভাবে মন্ত্রণালয় পরিচালনা করতে বদ্ধপরিকর। রাজনৈতিক নেতার ঊর্ধ্বে উঠে আমরা এখন রাষ্ট্র ব্যবস্থাপনার অংশ এবং সবার স্বার্থ সংরক্ষণ করাই আমাদের নীতি।
শিক্ষাখাতকে সকল প্রকার রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে একটি সুশিক্ষিত ও দক্ষ জাতি গঠনের মাধ্যমে দেশ গড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নবনিযুক্ত শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে প্রথম কার্যদিবসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি সরকারের এই লক্ষ্য ও আগামীর কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, বর্তমান সরকার শিক্ষাকে কেবল পুঁথিগত বিদ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একে একটি কার্যকর ও কর্মমুখী শক্তিতে রূপান্তর করতে চায় এবং এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের রাজনৈতিক সংকীর্ণতাকে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না।
প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ তাঁর বক্তব্যে শিক্ষা প্রশাসনের আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়ে বলেন, তৃণমূল পর্যায়ের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শুরু করে স্বয়ং শিক্ষা মন্ত্রণালয় পর্যন্ত সকল স্তরে কঠোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা হবে। তিনি মনে করেন, একটি দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ প্রশাসনিক কাঠামো ছাড়া শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তাই শিক্ষক নিয়োগ থেকে শুরু করে অবকাঠামো উন্নয়ন—সব ক্ষেত্রে এক ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করা হবে যাতে সাধারণ মানুষ এবং শিক্ষার্থীরা এর সুফল ভোগ করতে পারে।
শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের জন্য যোগ্য করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এক যুগান্তকারী পরিকল্পনার কথা জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমানে প্রচলিত বাংলা ও ইংরেজি শিক্ষার পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজারে যে সকল ভাষার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে, সেই ভাষাগুলো শেখানোর জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম বিদেশের মাটিতে আরও দক্ষ জনশক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবে। এছাড়া কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে মাধ্যমিক স্তর থেকেই কারিগরি শিক্ষাকে (ভোকেশনাল এডুকেশন) পাঠ্যসূচির অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও কাজ শুরু হচ্ছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।
মানসিক ও শারীরিক বিকাশের ওপর গুরুত্বারোপ করে ববি হাজ্জাজ আরও জানান, কেবল ক্লাসরুমের পড়াশোনায় শিক্ষার্থীদের আটকে না রেখে মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা হবে। শারীরিক সুস্থতা ও নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জনে খেলাধুলার কোনো বিকল্প নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। নতুন সরকারের এই বহুমুখী উদ্যোগগুলো বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের শিক্ষাখাতে এক অভাবনীয় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সচিবালয়ের এই মতবিনিময় সভায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন এবং প্রতিমন্ত্রীর এই দিকনির্দেশনা বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। সব মিলিয়ে নতুন সরকারের শুরুতেই শিক্ষাখাতে এক নতুন গতির আভাস পাওয়া গেল তাঁর বক্তব্যে।
নবনির্বাচিত সরকারের শপথ গ্রহণের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়ার মধ্যেই এক দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নিয়েছেন সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি এবং তাঁর মন্ত্রিসভার অন্তত ২০ জন উপদেষ্টা ও সমমর্যাদার ব্যক্তিত্ব ইতিমধ্যে তাঁদের কূটনৈতিক (লাল) পাসপোর্ট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছেন। প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস তাঁর পদ ছাড়ার আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রায় এক সপ্তাহ আগেই নিজের পাসপোর্টটি জমা দিয়েছিলেন। স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে বিদায়ী প্রশাসন নিয়মতান্ত্রিক ও স্বচ্ছ ক্ষমতা হস্তান্তরের এক অনন্য নজির স্থাপন করল।
মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, প্রধান উপদেষ্টা ছাড়াও উপদেষ্টাদের একটি বড় অংশ গত ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনের আগেই তাঁদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছিলেন। সরকারি বিধি অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকাকালীন প্রাপ্ত বিশেষ সুবিধাসমূহ পদের অবসান ঘটার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফিরিয়ে দেওয়া বাধ্যতামূলক। সেই আইনি বাধ্যবাধকতা এবং নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকেই উপদেষ্টারা এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। তালিকায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ছাড়াও রয়েছেন সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এবং খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার।
কূটনৈতিক পাসপোর্ট ফেরত প্রদানকারী অন্যান্য উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার, গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার। এ ছাড়াও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম বীরপ্রতীক, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, সাবেক বাণিজ্য ও শিল্প উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এবং তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানও তাঁদের লাল পাসপোর্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন। তালিকায় আরও নাম রয়েছে সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী এবং নারী ও শিশু বিষয়ক উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদের।
প্রশাসনিক ও বিশেষ দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তিদের মধ্যে প্রধান উপদেষ্টার আন্তর্জাতিক বিষয়ক বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবও তাঁদের পাসপোর্ট জমা দিয়েছেন। ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি হিসেবে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারে যোগ দেওয়া মাহফুজ আলম এবং আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ক্ষমতা হস্তান্তরের পরপরই অত্যন্ত দ্রুততার সাথে এই আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। সরকারের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, যারা এখনো পাসপোর্ট হস্তান্তর করেননি, তাঁদের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা রয়েছে এবং সেই সময়ের মধ্যেই তাঁদেরও এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। দীর্ঘ ১৮ মাস পর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বভার নির্বাচিত সরকারের হাতে তুলে দেওয়ার এই সন্ধিক্ষণে বিদায়ী উপদেষ্টাদের এই পেশাদার ও নিয়মতান্ত্রিক আচরণ প্রশাসনিক মহলে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিয়েছে।