মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
১ বৈশাখ ১৪৩৩

হরতাল অবরোধে ককটেলের ব্যবহার বেড়েছে: ডিএমপি

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ৬ ডিসেম্বর, ২০২৩ ১৮:১৬

চলমান হরতাল-অবরোধের শুরুর দিকে ককটেলের ব্যবহার কম থাকলেও গত দুই সপ্তাহে তা বেড়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) ড. খ. মহিদ উদ্দিন।

আজ বুধবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে গত ৩০ নভেম্বর রিটার্নিং অফিসার কার্যালয়ে ককটেল বিস্ফোরণের হোতাসহ চারজনকে গ্রেফতার বিষয়ে জানানোর সময় তিনি এ কথা বলেন।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন- আশিকুর রহমান পান্না, পল্টন থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলাম, বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন হোসেন রনি ও বিল্লাল হোসেন। গতকাল মঙ্গলবার দিনগত রাতে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়া ও ঢাকার আশেপাশের এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, গত ৩০ নভেম্বর বিভাগীয় কমিশনার ও ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকার নির্বাচনী আসনগুলোর রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের পাশে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। সেদিন ছিল মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। এদিন দুপুর ৩টার একটু পর রিটার্নিং কর্মকর্তার অফিসের পাশে ২-৩টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ঘটনার পর ডিএমপির কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এনবিআর অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় সন্দেহাতীতভাবে সঠিক ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে আমরা কাজ করি। এরই ধারাবাহিকতায় আশিকুর রহমান পান্না ও পল্টন থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়।

তিনি বলেন, গ্রেফতার ভয়ংকর তথ্য দিয়েছে। রিটার্নিং অফিসার কার্যালয় ছাড়াও এ দুইজন আরও ৮টি ঘটনা ঘটিয়েছেন। এছাড়া, রমনার বিভিন্ন এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় ১৩ নং ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন হোসেন রনি ও বিল্লাল হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা ১২টি স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দায়ী।

ডিএমপি কর্মকর্তা বলেন, গ্রেফতার চারজন মোট ২১টি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে ঢাকার বিভিন্ন থানায় বেশ কিছু মামলা রয়েছে। আরও কোনো ঘটনায় জড়িত কি না এবং তাদের পেছনে কারা রয়েছে তাদেরকেও আমরা চিহ্নিত করার চেষ্টা করবো।

ড. খ. মহিদ উদ্দিন বলেন, ২৯ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া হরতাল-অবরোধে যে নাশকতা কার্যক্রম চালানোর চেষ্টা হচ্ছে, এর বড় একটি অংশ আমরা এক্সিকিউট (সংঘঠিত) করতে দেইনি। তারপরেও কিছু ঘটনা ঘটেছে। তবে বিভিন্ন ঘটনার সময় আমরা হাতেনাতে ৩৪ জনকে গ্রেফতার করেছি। কম হলেও আমরা কোয়ালিটি অ্যারেস্ট করতে পেরেছি। তাৎক্ষণিক গ্রেফতার করতে না পারলেও তদন্তে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় যাদের নাম আসছে তাদের গ্রেফতার করছি। যাতে কোন নিরীহ ব্যক্তি ভুলের শিকার না হয়, সেজন্য নিশ্চিত না হয়ে কাউকে গ্রেফতার করা হচ্ছেনা। আমরা যেকোনোভাবে মহানগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর।

তিনি আরও বলেন, হরতাল-অবরোধের প্রথমদিকে ককটেলের ব্যবহার কম ছিল। কিন্তু গত ২ সপ্তাহ ধরে ককটেলের ব্যবহার বাড়ছিল। যাদের গ্রেফতার করা হয়েছে, তারা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ককটেলের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটিয়েছে।


কমিউনিটি ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের ৭৪তম সভা অনুষ্ঠিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
করপোরেট ডেস্ক

কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-র পরিচালনা পর্ষদের ৭৪তম সভা সোমবার (১৩ এপ্রিল, ২০২৬) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) এবং কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি-র চেয়ারম্যান জনাব মোঃ আলী হোসেন ফকির।

পর্ষদ সভার শুরুতেই পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক জনাব মোঃ আলী হোসেন ফকিরকে কমিউনিটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনয়ন প্রদান করা হয় এবং এরপর তিনি ৭৪তম সভার সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সভায় ব্যাংকের বর্তমান কার্যক্রম পর্যালোচনার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি বিনিয়োগ প্রস্তাব এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।

সভায় বাংলাদেশ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত আইজি (অ্যাডমিন) জনাব এ. কে. এম. আওলাদ হোসেন, অতিরিক্ত আইজি (ফিন্যান্স) জনাব মোঃ আকরাম হোসেন (বিপিএম-সেবা), পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত আইজি (ডেভেলপমেন্ট) জনাব মোঃ শিবগাত উল্লাহ (বিপিএম-সেবা, পিপিএম), স্পেশাল ব্রাঞ্চের অতিরিক্ত আইজি জনাব সরদার নূরুল আমিন (বিপিএম-সেবা) এবং পুলিশ স্টাফ কলেজের অতিরিক্ত আইজি ও রেক্টর জনাব কাজী মো. ফজলুল করিম (বিপিএম-সেবা)।

এছাড়াও সভায় অংশগ্রহণ করেন ডিআইজি (কনফিডেনশিয়াল) জনাব কামরুল আহসান, অতিরিক্ত ডিআইজি (হাইওয়ে পুলিশ) জনাব মুনতাসিরুল ইসলাম (পিপিএম), বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের অতিরিক্ত ডিআইজি জনাব আহমদ মুঈদ (বিপিএম-সেবা) এবং ইন্সপেক্টর জনাব কামরুল হাসান তালুকদার। স্বতন্ত্র পরিচালক জনাব সৈয়দ রফিকুল হক ও জনাব মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন (এফসিএ) সহ ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (চলতি দায়িত্ব) জনাব কিমিয়া সাদাত এবং কোম্পানি সচিব জনাব সাইফুল আলম (এফসিএস) সভায় উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সভায় উপস্থিত সদস্যরা বিভিন্ন গঠনমূলক দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।


কৃষক কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি কিংবা দুর্নীতির অবকাশ নেই: আইনমন্ত্রী

কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচিতে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো.আসাদুজ্জামান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান জানিয়েছেন যে, কৃষক কার্ড বিলি করার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের স্বজনপ্রীতি কিংবা দুর্নীতির অবকাশ রাখা হয়নি। মঙ্গলবার দুপুরে ঝিনাইদহের শৈলকুপার আবাইপুরে বিশেষ এই কার্ড বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী গণমাধ্যমকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন যে, রাষ্ট্র পর্যায়ক্রমে সকল ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিদের এই আধুনিক সুবিধার আওতায় নিয়ে আসবে। তিনি বলেন, “পর্যায়ক্রমে সারাদেশের মাঝারি ও ক্ষুদ্র কৃষকদের মাঝে এই কৃষক কার্ড বিতরণ করবে সরকার। এখানে রাজনৈতিক বিবেচনার সুযোগ নেই, এমনকি কোনো প্রকার অনিয়মেরও সুযোগ নেই।”

বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরে আসাদুজ্জামান বলেন যে, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই প্রশাসন প্রতিটি নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণে সচেষ্ট রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ইতিপূর্বে কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ মওকুফ করা হয়েছে এবং ফলন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারা দেশে বড় ধরনের খাল খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সরকার শপথ নেওয়ার পর থেকে নির্বাচনী প্রতিটি প্রতিশ্রুতি পালন করে যাচ্ছে। কৃষকদের ১০ হাজার টাকা কৃষি ঋণ মওকুফ করেছে সরকার। আজ কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু করা হলো। কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে সারাদেশে খাল খনন কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে।”

উল্লেখ্য যে, দুপুর দেড়টার দিকে শৈলকুপার কৃপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টাঙ্গাইল থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন ঘোষণা করেন। আইনমন্ত্রী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সশরীরে উপস্থিত থেকে কৃষকদের হাতে কার্ড তুলে দেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন, পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল, জেলা পরিষদের প্রশাসক এমএ মজিদ এবং জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা উপস্থিত ছিলেন। পাইলট প্রকল্পের আওতায় এই প্রথম ধাপে আবাইপুর ইউনিয়নের ১ হাজার ৬৭৯ জন কৃষক-কৃষাণীকে এই বিশেষ সেবার আওতায় নিয়ে আসা হয়েছে।


আগামী বৈশাখ থেকে দেশব্যাপী গ্রামীণ ক্রীড়া উৎসব আয়োজনের পরিকল্পনা

কিউট বৈশাখী ক্রীড়া উৎসবের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঐতিহ্যবাহী পান্তা-ইলিশ আর ঢাক-ঢোলের সংমিশ্রণে এক উৎসবমুখর পরিবেশে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন করেছে দেশের ক্রীড়াঙ্গন। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাজধানীর পল্টন ময়দানে দিনব্যাপী ‘কিউট বৈশাখী ক্রীড়া উৎসব’ আয়োজন করা হয়। দীর্ঘ দুই দশক পর এমন আড়ম্বরপূর্ণ এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। এই উৎসবে গ্রামীণ জনপদের হারিয়ে যাওয়া মোট ১২টি ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা প্রদর্শিত হয়। প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দেশীয় লোকজ ক্রীড়াকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে আগামীতে এই ধরণের আয়োজনের ব্যাপ্তি বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, ‘‘মন্ত্রণালয় ও স্থানীয় সহযোগীদের সমন্বয়ে আগামী বৈশাখ থেকে দেশের প্রতিটি জেলায় এ ধরণের গ্রামীণ ক্রীড়া উৎসব আয়োজন করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য নতুন প্রজন্মের কাছে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলোকে পরিচিত করা।’’ প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে নারী ক্রীড়াবিদদের বিকাশে সরকারের বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গির কথা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, নারী ক্রীড়া সংস্থার জন্য খুব শীঘ্রই একটি বিশেষ ঘোষণা বা চমক আসতে যাচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘‘নারী ক্রীড়াবিদদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ কিছু পরিকল্পনা রয়েছে, যা অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে বাস্তবায়ন করা হবে।’’

সামাজিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে খেলাধুলার গুরুত্ব অপরিসীম উল্লেখ করে আমিনুল হক তরুণ প্রজন্মকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। একটি শৃঙ্খলিত সমাজ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, ‘‘খেলাধুলা ও উৎসবের মাধ্যমে আমাদের তরুণ প্রজন্মের মদ্যে দেশপ্রেম জাগ্রত করতে হবে। সমাজের সব বিশৃঙ্খলা দূর করে একটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা মননশীলতা, আন্তরিকতা ও ভ্রাতৃত্ববোধের মাধ্যমে একটি সুন্দর সমাজ গঠন করে এগিয়ে যাব।’’ এই আনন্দঘন আয়োজনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম এবং এশিয়ান আর্চারি ফেডারেশনের সভাপতি কাজী রাজীব উদ্দিন চপলসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।


কৃষক ও কৃষি অর্থনীতিকে নতুন বছর ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ উৎসর্গ করছে সরকার

দেশবাসীকে ভিডিও বার্তার মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানান তথ্যমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১৫:২৪
অনলাইন ডেস্ক

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন দেশবাসীকে বাংলা নববর্ষের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে কৃষিপ্রধান অর্থনীতির ওপর বর্তমান সরকারের বিশেষ গুরুত্বারোপের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বছরের প্রথম দিনে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন যে, কৃষকদের অনন্য অবদান ও আত্মত্যাগের প্রতি রাষ্ট্রীয় সম্মান প্রদর্শনের অংশ হিসেবেই এবারের নববর্ষটি তাদের জন্য নিবেদিত। মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, “কৃষকদের সম্মান ও অবদানকে স্বীকৃতি দিতে সরকার নতুন বাংলা বছর ১৪৩৩-কে দেশের কৃষক সমাজ ও কৃষি অর্থনীতিকে উৎসর্গ করছে।”

বাংলা নববর্ষের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও সাংস্কৃতিক গুরুত্ব তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন যে, এই উৎসবের মূল শেকড় মূলত গ্রামীণ জনপদ ও কৃষিকাজের সঙ্গে মিশে আছে। শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি আরও বলেন, “বাংলা নববর্ষের প্রচলন শুরু হয়েছিল কৃষকদের ফসলের হিসাব রাখার সুবিধার্থে। বাংলা নববর্ষ একদিকে যেমন আমাদের বাংলা সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব করে, তেমনি কৃষি অর্থনীতির প্রতিনিধিত্ব করে।” আগামীর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে কৃষি খাতকে রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে তিনি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন। এছাড়া ভবিষ্যৎ উন্নয়নমূলক রূপরেখা তৈরিতে কৃষিকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “বর্তমান সরকার কৃষিকে অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করছে।”


ঝিনাইদহে ভার্চ্যুয়ালি ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ভার্চ্যুয়ালি ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের শুভ উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুরে টাঙ্গাইল সফরকালীন এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ঝিনাইদহের এই কর্মসূচির সূচনা করেন। শৈলকুপা উপজেলার আবাইপুর ইউনিয়নের কৃপালপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এই উপলক্ষে বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট মো. আসাদুজ্জামান সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক নোমান হোসেন, পুলিশ সুপার মাহফুজ আফজাল, জেলা পরিষদের প্রশাসক এমএ মজিদ, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা এবং জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. কামরুজ্জামানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেখানে অংশগ্রহণ করেন।

পাইলট প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের আওতায় আবাইপুর ইউনিয়নের কৃপালপুর ব্লকের মোট ১,৬৭৯ জন নিবন্ধিত কৃষককে এই বিশেষ কার্ড প্রদান করা হচ্ছে। কৃষি সেবাকে আরও গতিশীল ও আধুনিক করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষের সরব উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।


বৈদ্যুতিক লাইনে গ্যাস বেলুন, মেট্রো চলাচল সাময়িক বন্ধের পর আবার চালু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর কারওয়ান বাজার এলাকায় মেট্রোরেলের বৈদ্যুতিক লাইনে একটি গ্যাস বেলুন আটকে যাওয়ার কারণে ওই অংশে প্রায় ১৫ মিনিট ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকে। পরে বেলুনটি সরিয়ে নেওয়ার পর আবার স্বাভাবিক হয় মেট্রোরেল চলাচল।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুর ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে বেলুন আটকে পড়ার বিষয়টি এমআরটি পুলিশের কন্ট্রোল রুমে জানানো হয়। এরপর দ্রুত অপসারণ কার্যক্রম শুরু করা হয়।

অবশেষে দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে কন্ট্রোল রুমে জানানো হয় যে বেলুনটি অপসারণ সম্পন্ন হয়েছে।

এর আগে এমআরটি পুলিশের কন্ট্রোল রুমের ওয়ারলেস অপারেটর জানান, কারওয়ান বাজার এলাকার মেট্রোরেল লাইনের উচ্চ ভোল্টেজ তারে একটি গ্যাস বেলুন উড়ে এসে আটকে যায়। যেহেতু এটি হাই-ভোল্টেজ লাইন, তাই বেলুনটি সরাতে কিছুটা সময় লাগছে। অপসারণ সম্পন্ন হলে আবার মেট্রোরেল চলাচল স্বাভাবিক হবে।


বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে সপ্তাহব্যাপী বৈশাখী মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন উপলক্ষে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) এবং বাংলা একাডেমির যৌথ উদ্যোগে সাত দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী মেলার যাত্রা শুরু হয়েছে। গত মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টায় রাজধানীর বাংলা একাডেমি চত্বরে এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই মেলার উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে উৎসবের সূচনা করেন এবং এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। মেলাটি আগামী ২০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে এবং প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত সকল দর্শনার্থীর জন্য উন্মুক্ত থাকবে বলে আয়োজক সূত্রে জানা গেছে।

এবারের মেলায় মোট ১৬০টি স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে যেখানে দেশীয় কুটির শিল্প ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের তৈরি বৈচিত্র্যময় পণ্য প্রদর্শিত হচ্ছে। যার মধ্যে জামদানি, শতরঞ্জি, নকশিকাঁথা, শীতলপাটি, চামড়াজাত দ্রব্য এবং বিভিন্ন লোকজ ও কৃষিজাত পণ্যের বিশাল সমাহার রয়েছে। এছাড়া দর্শনার্থীদের বিনোদনের জন্য পুতুলনাচ, বায়োস্কোপ, শিশুদের রাইড ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের বিশেষ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রান্তিক কারুশিল্পী ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর উদ্যোক্তাদের সহযোগিতায় কিছু স্টল বিনামূল্যে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং মেলায় স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচির জন্য কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের একটি বুথও সক্রিয় রয়েছে।

সত্তরের দশকের শেষভাগ থেকে শুরু হওয়া বিসিক ও বাংলা একাডেমির এই যৌথ আয়োজন এখন বাঙালির নববর্ষ উদযাপনের একটি অবিচ্ছেদ্য সাংস্কৃতিক অংশে পরিণত হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিসিক চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলামের স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়। বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজমের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সভায় সংস্কৃতি ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিববৃন্দ এবং বাংলা একাডেমির সভাপতি শিক্ষাবিদ আবুল কাসেম ফজলুল হক বক্তব্য রাখেন।


মঙ্গল শোভাযাত্রা, ধানমন্ডিতে পুরোনো নামে নতুন বছর বরণ

মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় জাতীয় সংগীত গাওয়ার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুরু হয়। ‘বর্ষবরণ পর্ষদ’-এর ব্যানারে এই উৎসবের আয়োজন করা হয় | ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর ধানমন্ডি ২৭ নম্বর এলাকায় সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে মঙ্গল শোভাযাত্রার আয়োজন করা হয়েছে। 'মঙ্গল শোভাযাত্রা': ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের প্রথম দিনকে বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে স্বাগত জানিয়েছে ‘বর্ষবরণ পর্ষদ’। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডি ২৭ নম্বর সড়কে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।

বাঙালির ঐতিহ্যবাহী নানা মোটিফ, মুখোশ ও ফেস্টুন হাতে নিয়ে শত শত নারী-পুরুষ শোভাযাত্রায় অংশ নেন। রঙিন পোশাকে শিশুদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। বাদ্যের তালে নাচ-গানে নতুন বছরকে বরণ করে নেন অংশগ্রহণকারীরা।

বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে এবার প্রথমবারের মতো দিনব্যাপী কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বর্ষবরণ পর্ষদ। ‘জাগাও পথিকে, ও সে ঘুমে অচেতন’—প্রতিপাদ্য নিয়ে সাজানো এ আয়োজনে সন্ধ্যা পর্যন্ত গান, আবৃত্তি, নৃত্য ও মূকাভিনয়সহ নানা সাংস্কৃতিক পরিবেশনা রাখা হয়েছে।

পয়লা বৈশাখের অনুষ্ঠানসূচি শুরু হয় সকাল ৯টায় সমবেত কণ্ঠে সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে।

জাতীয় সংগীত, ধনধান্য পুষ্প ভরা এবং এসো হে বৈশাখ—এই তিনটি গান পরিবেশন করা হয়। এরপর সকাল ১০টার দিকে ধানমন্ডি ২৭ নম্বরের মীনাবাজারের সামনে থেকে শুরু হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। রাপা প্লাজা এলাকা ঘুরে একই সড়কের অন্য প্রান্ত হয়ে আবার অনুষ্ঠানস্থলে ফিরে এসে এটি শেষ হয়। পরে বেলা ১১টা থেকে মীনাবাজার চত্বরে সাংস্কৃতিক আয়োজন শুরু হয়। এতে ব্রতচারী ও ঢালীনৃত্য, মূকাভিনয়, একক আবৃত্তি এবং একক সংগীত পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়। দুপুর ১টা থেকে ২টা পর্যন্ত বিরতির পর আবার শুরু হবে বিকালের পর্ব। এ সময়ে উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদসহ বিভিন্ন সংগঠনের সমবেত সংগীত পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হবে।

এ ছাড়া মুক্তধারা সংস্কৃতিচর্চা কেন্দ্র, উদীচী, স্রোত, কথা আবৃত্তি চক্রসহ বিভিন্ন সংগঠনের শিল্পীরা বৃন্দ আবৃত্তি পরিবেশন করবেন। একক সংগীতে অংশ নেবেন মকবুল আহমেদ, সুকুমার বিশ্বাস, নারায়ণ চন্দ্র শীল, পীযূষ বড়ুয়া, মনিরা রওনক বুবলি, আখি হালদার, শাওন রায়, অরুনিমা আহমেদ প্রথমা ও শিল্পী সাহা।

অন্যদিকে একক আবৃত্তি পরিবেশন করবেন বেলায়েত হোসেন, লায়লা আফরোজ, নায়লা তারান্নুম কাকলি, মো. মাসুদ উজ জামান, শিখা সেনগুপ্তা, অনিকেত রাজেশ, শাহদাত হোসেন নিপু, ইকবাল খোরশেদ, অলক বসু, শাহীদা ফাল্গুনী, মোস্তাফিজুর রহমান মামুন ও মেহেদী হাসান প্রমুখ। এ ছাড়া তক্ষশীলা বিদ্যালয় পরিবেশন করবে ব্রতচারী নৃত্য এবং রঙ্গন আহমেদ উপস্থাপন করবেন মূকাভিনয়। পুরো আয়োজনের সমাপ্তি হবে সরদার হিরক রাজা ও তাঁর সঙ্গীদের বাউলগানের পরিবেশনার মাধ্যমে।


টাঙ্গাইলে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী

কৃষকদের হাতে কার্ড তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১৪ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:৪৮
নিজস্ব প্রতিবেদক

নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়নের ধারাবাহিকতায় টাঙ্গাইলে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টায় টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে আয়োজিত জনসভায় তিনি এই বিশেষ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। সড়কপথে ঢাকা থেকে রওনা হয়ে নির্ধারিত সময়ের কিছুটা পরে পৌঁছানোর কারণে তিনি পূর্বনির্ধারিত মাজার জিয়ারতের সূচি পরিবর্তন করে সরাসরি সমাবেশস্থলে উপস্থিত হন। জানা গেছে, বিকেলে টাঙ্গাইল পৌর উদ্যানে কৃষি মেলার উদ্বোধন শেষে তিনি মজলুম জননেতা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার জিয়ারত করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এই প্রকল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “বিজয়ের মাত্র দুই মাসের মাথায় প্রধানমন্ত্রী তার ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো একে একে বাস্তবায়ন করছেন। এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য কৃষকদের অধিকার রক্ষা এবং তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন করা।” কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলায় এই কার্যক্রম শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে প্রায় ৩০ লাখ কৃষককে এই কার্ডের আওতায় নিয়ে আসা হবে। কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, এই বিশাল প্রকল্পটি পরীক্ষামূলক পর্যায় থেকে শুরু করে মোট তিনটি ধাপে দেশব্যাপী সফলভাবে কার্যকর করা হবে।

এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা রাষ্ট্রীয়ভাবে নানাবিধ সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন, যার মধ্যে রয়েছে সাশ্রয়ী মূল্যে কৃষি সরঞ্জাম ও সেচ সুবিধা গ্রহণ এবং অত্যন্ত সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণের প্রাপ্যতা। এছাড়া কৃষকরা সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ আর্থিক প্রণোদনা ও ভর্তুকির পাশাপাশি আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির ওপর বিশেষ ছাড় পাবেন। ডিজিটাল প্রযুক্তির সুবিধা কাজে লাগিয়ে তাদের মোবাইলে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও বাজারের হালনাগাদ তথ্য পৌঁছে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে কার্ডধারী কৃষকরা ফসলের সুরক্ষা ও উন্নত ফলন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সরকারি প্রশিক্ষণ গ্রহণের সুযোগ পাবেন। বিশেষ এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষি বিমা সুবিধা এবং উৎপাদিত ফসল সরাসরি ন্যায্যমূল্যে বিক্রির অধিকারও সুনিশ্চিত করা হবে।


রাষ্ট্রদূতসহ বিদেশি কূটনীতিকরাও বৈশাখী শোভাযাত্রা উপভোগ করলেন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী বৈশাখী শোভাযাত্রার বর্ণিল রূপ উপভোগ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত বিভিন্ন রাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিকরা। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল থেকেই রাজু ভাস্কর্য ও টিএসসি প্রাঙ্গণে বিদেশি অতিথিদের পদচারণা ও উৎসবের আনন্দ ভাগ করে নিতে দেখা যায়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার এবং নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হ্যাকন অ্যারাল্ড গুলব্রানসেন তাদের সহধর্মিণীদের নিয়ে এই আনন্দ মিছিলে সশরীরে অংশ নেন।

ভারত, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন মিশনের কূটনীতিকরাও এই সাংস্কৃতিক উৎসবে শামিল হয়ে নিজেদের উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। অনেক কূটনীতিককে বৈশাখী এই বিশেষ মুহূর্তগুলো ক্যামেরাবন্দি করতে ও সেলফি তুলতে দেখা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর শেহরীন আমিন ভূঁইয়া মোনামি গণমাধ্যমকে অবহিত করেন যে, বিদেশি অতিথিরা সস্ত্রীক উপস্থিত থেকে পুরো আয়োজনটি অত্যন্ত নিবিড়ভাবে উপভোগ করেছেন। আগত অতিথিদের যথাযথ সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সার্বক্ষণিক তৎপর ছিল।

এবারের শোভাযাত্রাটি সকাল ৯টার পর “নববর্ষের ঐকতান, গণতন্ত্রের পুনরুত্থান” প্রতিপাদ্য নিয়ে চারুকলা অনুষদের সম্মুখভাগ থেকে শুরু হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের নেতৃত্বে শোভাযাত্রাটি শাহবাগ, রাজু ভাস্কর্য ও দোয়েল চত্বর প্রদক্ষিণ করে পুনরায় চারুকলায় ফিরে এসে সমাপ্ত হয়। উল্লেখ্য যে, রমনা বটমূলে ভোরের অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই মূলত বঙ্গাব্দ ১৪৩৩-এর বরণ কার্যক্রমের সূচনা হয়েছিল।


কৃষক কার্ড উদ্বোধন করতে টাঙ্গাইলে পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

টাঙ্গাইলে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণমঞ্চে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বহুমুখী কর্মসূচিতে অংশ নিতে টাঙ্গাইল সফর করছেন। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বেলা ১১টা ২২ মিনিটে তিনি জেলা স্টেডিয়ামে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ অনুষ্ঠানের বিশেষ মঞ্চে এসে পৌঁছান। টাঙ্গাইলের এই আয়োজনের মাধ্যমেই দেশব্যাপী এ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক সূচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী এবং সেখানে আয়োজিত কৃষক সমাবেশে প্রধান অতিথির আসন অলঙ্কৃত করবেন।

নির্বাচনি ইশতেহারে দেওয়া বিএনপির অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার ছিল এই বিশেষ কার্ড প্রবর্তন করা। এর আগে সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিশ্রুত ফ্যামিলি কার্ড, ক্রীড়া কার্ড ও খালখনন কর্মসূচির সফল বাস্তবায়ন হয়েছে। জনসভা শেষে পৌর উদ্যানে একটি কৃষিমেলা উদ্বোধন করার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। এরপর বিকেলের দিকে তিনি মজলুম জননেতা মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার জিয়ারতে অংশ নেবেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই আগমনকে ঘিরে পুরো টাঙ্গাইল শহরে এক আনন্দঘন পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। টাঙ্গাইলসহ এর আশেপাশের বিভিন্ন জেলার সাধারণ মানুষ ও দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে এ নিয়ে চরম উদ্দীপনা পরিলক্ষিত হচ্ছে। এই সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক নিরাপত্তা ও প্রস্তুতির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।


রমনা বটমূলে ছায়ানটের বর্ষবরণে নির্ভীক চিত্তে সংস্কৃতি রক্ষার আহ্বান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাতের অন্ধকার ভেদ করে রাজধানীর বুকে যখন ভোরের স্নিগ্ধতা ফুটে উঠছিল, ঠিক তখনই পূর্ব আকাশে রবির উদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রমনা বটমূল জনসমুদ্রে পরিণত হয়। লাল-সাদা পোশাকে সজ্জিত সর্বস্তরের মানুষের আগমনে সেখানে এক অপূর্ব মিলনমেলার সৃষ্টি হয়, যেখানে গানের সুরে নববর্ষকে বরণের মাধ্যমে বাঙালির নিজস্ব সত্তা ও ঐতিহ্যকে তুলে ধরা হয়। ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে পহেলা বৈশাখের প্রথম প্রহরে এবারও প্রভাতি আয়োজনের নেতৃত্বে ছিল ছায়ানট। ১৯৬৭ সাল থেকে নিরবচ্ছিন্নভাবে বাংলা সংস্কৃতিকে লালনকারী এই প্রতিষ্ঠানটি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের দর্শন থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে— ‘চিত্ত যেথা ভয়শূন্য, উচ্চ যেথা শির’।

ভোর সোয়া ৬টায় সমবেত কণ্ঠে ‘জাগো আলোক-লগনে’ সঙ্গীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হয়। অজয় ভট্টাচার্যের কথা ও ভীষ্মদেব চট্টোপাধ্যায়ের সুরারোপিত এই গানটি যেন আগামীর এক নতুন বার্তা বয়ে আনে। এরপর ধারাবাহিকভাবে পরিবেশিত হয় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, দ্বিজেন্দ্রলাল রায় ও লালন সাঁইয়ের কালজয়ী সব সৃষ্টি। মাকছুরা আখতার অন্তরা, আজিজুর রহমান তুহিন, সেমন্তী মঞ্জরী, তানিয়া মান্নান ও লাইসা আহমদ লিসাদের কণ্ঠে রবীন্দ্রসঙ্গীত যেমন উপস্থিত শ্রোতাদের মুগ্ধ করে, তেমনি বিটু কুমার শীল, বিজন চন্দ্র মিস্ত্রী, নাসিমা শাহীন ফ্যান্সি, খায়রুল আনাম শাকিল ও শারমিন সাথী ইসলাম ময়নাদের পরিবেশনায় নজরুলের সুরধারা সবার মাঝে দ্রোহ ও সাম্যের চেতনা জাগিয়ে তোলে। শ্রাবন্তী ধর দ্বিজেন্দ্রগীতি পরিবেশন করেন এবং প্রখ্যাত শিল্পী চন্দনা মজুমদার পরিবেশন করেন ‘বড় সংকটে পড়িয়া দয়াল’ শীর্ষক লালনগীতি।

সংগীতের পাশাপাশি খায়রুল আলম সবুজের কণ্ঠে সলিল চৌধুরীর ‘এক গুচ্ছ চাবি’ কবিতাটির আবৃত্তি অনুষ্ঠানকে এক ভিন্ন মাত্রা দান করে। লোকজ সুর ও বিভিন্ন সম্মেলক গানের মধ্য দিয়ে এদিন মুক্তচিন্তা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার আহ্বান জানানো হয়। প্রায় দুই শতাধিক শিল্পীর সম্মিলিত প্রয়াসে সংগীত, কবিতা ও সংস্কৃতির এক অনন্য ধারা বয়ে যায় পুরো রমনা চত্বরে, যেখানে শিশু থেকে প্রবীণ—সবাই এক আত্মিক বন্ধনে আবদ্ধ হন। জাতীয় সঙ্গীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হলেও সমাপনী বক্তব্যে ছায়ানট সভাপতি সারওয়ার আলী বর্তমান সময়ের নানা অস্থিরতা ও সহিংসতার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন।


কৃষক কার্ড কর্মসূচি উদ্বোধনে টাঙ্গাইল যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কৃষকদের জন্য প্রণীত ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনে অংশ নিতে টাঙ্গাইলের পথে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে তিনি ঢাকায় থেকে সড়কপথে যাত্রা শুরু করেন।

নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী, সকাল ১০টায় টাঙ্গাইলে পৌঁছে প্রথমেই সন্তোষ এলাকায় মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মাজার জিয়ারত করবেন তিনি। এরপর সকাল সাড়ে ১০টায় শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে দেশব্যাপী প্রি-পাইলটিং কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন এবং কৃষক সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন।

পরবর্তী সময়ে দুপুর সোয়া ১২টায় পৌর উদ্যানে আয়োজিত কৃষিমেলার উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রাথমিক পর্যায়ে টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় ১ হাজার ৪৫৩ জন কৃষক এই কার্ডের সুবিধার আওতায় আসবেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী নিজ হাতে ১৫ জন কৃষকের মধ্যে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ করবেন এবং তাদের মাঝে গাছের চারা তুলে দেবেন।


banner close