রাজধানীর গুলিস্তানে ডাকাতির প্রস্তুতির সময় একটি ডাকাত চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মো. সুজন হাওলাদার (৩৬), আবুল কালাম মাঝি (৪০), শহিদ খান (২১), ইব্রাহিম মৃধা (৬৩), মো. অনিক (২৭) ও মো. লাভলু (৩৬)।
গতকাল শুক্রবার রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে গ্রিল কাটার বিভিন্ন সরঞ্জামাদিসহ ধারালো ছুরি ও একটি ট্রাক জব্দ করা হয়েছে।
ডিবি গুলশান বিভাগের এডিসি এস এম রেজাউল হক বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ডিবি গুলশান বিভাগের ক্যান্টনমেন্ট জোনাল টিম জানতে পারে একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্র গুলিস্তানে ডাকাতির পরিকল্পনা করছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ডাকাত চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এডিসি রেজাউল আরও বলেন, ২০০৮ সাল থেকে এই চক্রটি ঢাকা মহানগরীর সীমান্তবর্তী থানা এলাকাগুলোতে বসবাস করে এবং ঢাকা মহানগরীর ভিতরে গ্রিল কেটে চুরি ও ডাকাতি করে জিনিসপত্র নিয়ে পালিয়ে যায়। শুক্রবার ১১ জন একত্রে ডাকাতির পরিকল্পনা করছিল। সঙ্গবদ্ধ চক্রের বাকি সদস্যরা গাবতলী থেকে ট্রাকে উঠে বিভিন্ন এলাকা রেকি করে সুবিধামতো বাসায় ডাকাতি করতো বলে জানায়।
যানজটে স্থবির রাজধানীতে গতি ফেরাতে আরও বড় হচ্ছে মেট্রোরেল নেটওয়ার্ক। পশ্চিমের গাবতলী থেকে পূর্বের দাশেরকান্দি পর্যন্ত প্রায় পুরো রাজধানীকে নতুন এক মেট্রো করিডোরে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা ব্যয়ের এমআরটি লাইন-৫-এর সাউদার্ন রুট এখন একনেকের অনুমোদনের অপেক্ষায়। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর একনেকের সভায় উঠতে যাচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্প।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত চলবে মেট্রোরেল। টেকনিক্যাল, কল্যাণপুর, শ্যামলী, কলেজ গেট, আসাদ গেট, শুক্রাবাদ, কারওয়ান বাজার, হাতিরঝিল ও তেজগাঁও হয়ে রুটটি পৌঁছাবে আফতাব নগর ও দাশেরকান্দির দিকে। এতে রাজধানীর পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলের লাখো মানুষের যাতায়াতে তৈরি হবে নতুন গতি।
শুধু একটি নতুন মেট্রোরেল লাইন নয়, প্রকল্পটির অন্যতম বড় গুরুত্ব এর আন্তঃসংযোগে। প্রস্তাবিত সাউদার্ন রুট যুক্ত হবে এমআরটি লাইন-৫-এর নর্দার্ন রুট এবং এমআরটি লাইন-১-এর সঙ্গে। ফলে এক রুট থেকে অন্য রুটে সহজে যাতায়াত করতে পারবেন যাত্রীরা। পরিকল্পনা কমিশনের আশা, এর মাধ্যমে ঢাকার সমন্বিত গণপরিবহন নেটওয়ার্ক আরও শক্তিশালী হবে এবং যানজট কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন থাকবে ১৫ হাজার ১৯৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও দক্ষিণ কোরিয়ার ইডিসিএফ থেকে প্রকল্প ঋণ হিসেবে আসবে ৩০ হাজার ৩০৬ কোটি ১০ লাখ টাকা।
মূল লাইন ও স্টেশন নির্মাণ এবং ডিপোর সিভিল ও ভবন নির্মাণে ব্যয় হবে ১৭ হাজার ৭৩৭ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। বৈদ্যুতিক, যান্ত্রিক ও রেলওয়ে ব্যবস্থায় ১৩ হাজার ২৫৮ কোটি ৪৯ লাখ টাকা এবং রোলিং স্টক ও ডিপো সরঞ্জামে ৪ হাজার ৮২১ কোটি ২৪ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণ ও পুনর্বাসনে রাখা হয়েছে ৪ হাজার ৯৭৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকা।
তবে এই প্রকল্পের পথ একেবারে মসৃণ ছিল না। শুরুতে ব্যয় ধরা হয়েছিল ৫৪ হাজার ৬১৮ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। কয়েক দফা পর্যালোচনার পর ব্যয় কমিয়ে সর্বশেষ ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
২০২৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩৩ সালের ৩১ আগস্ট পর্যন্ত প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। বাস্তবায়ন করবে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)।
পরিকল্পনা কমিশনের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর উত্তর-দক্ষিণ ও পূর্ব-পশ্চিম অংশের যোগাযোগ আরও সহজ হবে। পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন বিস্তারের পাশাপাশি কমবে সড়কের ওপর চাপ। এখন অপেক্ষা শুধু একনেকের অনুমোদনের।
পদ্মার বুকে ২ দশমিক ১ কিলোমিটারের একটি ব্যারাজ। বর্ষার পানি ধরে রেখে শুষ্ক মৌসুমে নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার, নদী খনন, সেচ সম্প্রসারণ, নৌপথ সচল রাখা, বন্যা ব্যবস্থাপনা, মাছের চলাচল এবং জলবিদ্যুৎ উৎপাদন—সব মিলিয়ে পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়িত হলে বদলে যেতে পারে পদ্মা অববাহিকার পানি ব্যবস্থাপনা ও অর্থনীতির চিত্র। রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার হাবাসপুরে প্রস্তাবিত এই ব্যারাজ ঘিরে দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা এখন বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে।
দীর্ঘ আন্দোলন ও দাবির পর চলতি বছরের ১৩ মে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ‘পদ্মা ব্যারাজ (প্রথম পর্যায়)’ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে। প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে শতভাগ সরকারি অর্থায়নে ২০২৬ সালের জুলাই থেকে ২০৩৩ সালের জুন পর্যন্ত প্রকল্পটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
গত শুক্রবার পাংশার হাবাসপুরে প্রকল্পের সম্ভাব্য স্থান পরিদর্শন ও জনসভাকে ঘিরে পদ্মা ব্যারাজ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি জানিয়েছেন, আগামী বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি অথবা মার্চের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রকল্পটির নির্মাণকাজের উদ্বোধন করতে পারেন।
প্রকল্পের মূল লক্ষ্য বর্ষাকালে পদ্মার পানি সংরক্ষণ করে শুষ্ক মৌসুমে তা নিয়ন্ত্রিতভাবে ব্যবহার করা। হাবাসপুরে প্রায় ২ দশমিক ১ কিলোমিটার দীর্ঘ মূল ব্যারাজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে থাকবে ৭৮টি স্পিলওয়ে, ১৮টি আন্ডারস্লুইস, দুটি ফিশ পাস, নেভিগেশন লক, গাইড বাঁধ ও অ্যাপ্রোচ বাঁধ। পদ্মায় প্রায় ২ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনমিটার পানি সংরক্ষণের সক্ষমতা তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।
শুধু ব্যারাজ নির্মাণ নয়, গড়াই, চন্দনা ও হিসনা নদীর অফটেক স্ট্রাকচার, গড়াই-মধুমতি নদী ব্যবস্থার ১৩৫ দশমিক ৬০ কিলোমিটার ড্রেজিং, হিসনা নদী ব্যবস্থার ২৪৬ দশমিক ৪৬ কিলোমিটার ড্রেনেজ চ্যানেল পুনঃখনন এবং ১৮০ কিলোমিটার অ্যাফ্লাক্স বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
রাজবাড়ীসহ পদ্মা অববাহিকার বিস্তীর্ণ এলাকা কৃষিনির্ভর। বর্ষায় অতিরিক্ত পানি ও বন্যা, আর শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির সংকট—দুই সমস্যার মধ্যেই কৃষকদের কাজ করতে হয়। ব্যারাজে পানি সংরক্ষণ করা গেলে শুষ্ক মৌসুমে সেচের পানির সরবরাহ বাড়তে পারে।
সরকারি প্রকল্প-তথ্য অনুযায়ী, বৃহত্তর কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পাবনা ও রাজশাহী অঞ্চলের প্রায় ২৮ লাখ ৮০ হাজার হেক্টর কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে। সেচ বাড়লে অনাবাদি জমি চাষের আওতায় আসা এবং একই জমিতে একাধিক ফসল উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
স্থানীয় কৃষক শাহীন মণ্ডল বলেন, ‘পদ্মা ব্যারেজ হলে সেচের পানির সংকট কমবে। কৃষি উৎপাদন বাড়বে, এতে আমাদের মতো কৃষকরাই বেশি উপকৃত হবে।’
আরেক কৃষক হামিদল ইসলাম বলেন, ‘পদ্মা ব্যারাজ হলে সেচ সুবিধা বাড়বে, কৃষকের উৎপাদন খরচ কমবে। আমরা চাই দ্রুত এ প্রকল্প বাস্তবায়ন হোক।’
পদ্মা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটসহ বিভিন্ন ঘাট দিয়ে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে। নেভিগেশন লক ও নদী ব্যবস্থাপনার অবকাঠামো থাকায় নৌযোগাযোগে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে। পণ্য পরিবহন সহজ হলে কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারজাত ও আন্তঃজেলা বাণিজ্য বাড়ার সুযোগ রয়েছে।
স্থানীয় এমাদ আলী বলেন, ‘পদ্মা ব্যারাজ হলে শুধু কৃষি নয়, এলাকার যোগাযোগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যেও গতি আসবে। নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে, বদলে যাবে মানুষের জীবনযাত্রা।’
শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘পদ্মা ব্যারাজ হলে এ অঞ্চলে নতুন বিনিয়োগ ও ব্যবসার সুযোগ তৈরি হবে। মানুষের কর্মসংস্থান বাড়বে, তরুণদের জন্যও নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হবে।’
কৃষি উৎপাদন বাড়লে পরিবহন, সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও বাজারজাতকরণেও নতুন অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তৈরি হতে পারে। কোল্ড স্টোরেজ, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ কেন্দ্র, কৃষিভিত্তিক ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প এবং পণ্য পরিবহন ব্যবসার সুযোগ বাড়ার প্রত্যাশা রয়েছে।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জাতীয় জিডিপিতে প্রায় শূন্য দশমিক ৪৫ শতাংশ অবদান এবং বছরে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার প্রত্যক্ষ আর্থিক সুবিধা পাওয়ার আশা করা হচ্ছে।
প্রকল্পের আওতায় মোট ১১৩ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার দুটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি স্থানীয় ও আশপাশের এলাকার চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখতে পারে।
তবে ব্যারাজের কারণে নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ, পলি জমা, মাছের প্রজনন ও বিচরণে প্রভাব পড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। প্রকল্পে দুটি ফিশ পাস রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে। পাশাপাশি মাছের স্বাভাবিক চলাচল, প্রজননক্ষেত্র, অভয়াশ্রম ও জেলেদের জীবিকা রক্ষায় নিয়মিত পরিবেশগত নজরদারি প্রয়োজন।
পদ্মা ব্যারাজ নিয়ে রাজবাড়ীসহ ২৪ জেলার মানুষের প্রত্যাশার কথা প্রকল্পসংশ্লিষ্ট আলোচনায় উঠে এসেছে। পানিসম্পদমন্ত্রী জানিয়েছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে শুধু রাজবাড়ী নয়, দেশের ২৪টি জেলার প্রায় ৭ কোটি মানুষ সুফল পাবেন। তবে বিভিন্ন প্রকাশিত প্রকল্প-তথ্যে উপকারভোগী জেলার সংখ্যা নিয়ে পার্থক্য রয়েছে। চূড়ান্ত উপকারভোগী এলাকার তালিকা বিস্তারিত বাস্তবায়ন নকশায় স্পষ্ট হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
পদ্মা ব্যারাজ ও দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নিয়ে দীর্ঘদিন আন্দোলন করেছেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। তিনি বলেন, ‘পদ্মা ব্যারাজ রাজবাড়ীসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি। এটি বাস্তবায়িত হলে কৃষি, নৌযোগাযোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। দীর্ঘদিনের আন্দোলনের ফল হিসেবে এখন প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে। আমরা চাই দ্রুত এর কাজ শুরু ও শেষ করা হোক।’
রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন অর রশিদ বলেন, ‘পদ্মা ব্যারাজ বাস্তবায়িত হলে রাজবাড়ীসহ আশপাশের জেলার কৃষি ও অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি নৌযোগাযোগ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। এ প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নে আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করবো।’
প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেন, ‘এটি আগের পরিকল্পনার মতো নয়, নতুন ধরনের চিন্তা ও নকশায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রথম পর্যায়ে ডিজাইন ফেজের কাজ শুরু হবে।’
পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, ‘খুব শিগগিরই, সম্ভবত আগামী বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি অথবা মার্চ মাসের যেকোনো এক সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পাংশার হাবাসপুরে এসে পদ্মা ব্যারাজের শুভ উদ্বোধন করবেন।’
তবে ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি টাকার এই বিশাল প্রকল্পে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ, সময়মতো কাজ শেষ করা, নদীর গতিপথ ও পলি ব্যবস্থাপনা, পরিবেশগত প্রভাব এবং পুনর্বাসন বড় চ্যালেঞ্জ। ব্যারাজ নির্মাণই সব সমস্যার স্বয়ংক্রিয় সমাধান নয়; নিয়মিত ড্রেজিং, নদী পর্যবেক্ষণ, তীর সংরক্ষণ ও পরিবেশগত ব্যবস্থাপনাও জরুরি।
সঠিক নকশা, স্বচ্ছ বাস্তবায়ন, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং নদীর স্বাভাবিক পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা গেলে পদ্মা ব্যারাজ রাজবাড়ীসহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলের কৃষি, নৌযোগাযোগ, বিদ্যুৎ ও অর্থনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।
গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হবে জানিয়ে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হবে। গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করতে হবে। রোববার দুপুরে বঙ্গভবনে তার সঙ্গে দেশের ৩৩টি জেলা পরিষদের প্রশাসকদের এক সৌজন্য সাক্ষাতে রাষ্ট্রপতি এ কথা বলেন।
স্থানীয় সরকার গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় শক্তি উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি জেলা পরিষদের প্রশাসকদের নির্দেশনা দিয়ে বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট আমলের রেখে যাওয়া দুর্নীতি থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আপনাদের সক্রিয় ও সজাগ থেকে কাজ করতে হবে।’
এ সময় জেলা পরিষদের প্রশাসকরা রাষ্ট্রপতির কাছে তাদের পদমর্যাদা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রপতি তাদের আশ্বস্ত করে বলেন, এই সরকার জনগণের সরকার। সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার ওপর সরকার গুরুত্বসহকারে কাজ করছে বলেও রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন।
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও দীর্ঘকাল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে জেলা পরিষদের প্রশাসকদের সক্রিয় অংশগ্রহণের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন রাষ্ট্রপতি।
এছাড়াও রাষ্ট্রপতি জেলা পরিষদগুলোর উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে গতিশীলতা আনা, স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিক সেবা নিশ্চিত এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রশাসকদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেন।
১০ টাকার পাউরুটি ১৫ টাকা। ১৫ টাকারটি ২০ টাকা। ২০ টাকার পাউরুটির দাম ঠেকেছে ২৫ টাকায়। শুধু পাউরুটি নয়, বিস্কুট, কেকসহ প্রায় সব ধরনের বেকারি পণ্যের দামই এখন বাড়তি। অথচ সংশ্লিষ্ট সমিতির ঘোষণা ছিল, দাম বাড়বে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ। বাস্তবে সেই ঘোষণার সীমা ছাড়িয়ে কোথাও ৩০, কোথাও ৪০, এমনকি ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে বেকারি পণ্য। মূল্যস্ফীতির চাপে যখন সাধারণ মানুষ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন তুলনামূলক সাশ্রয়ী হিসেবে পরিচিত পাউরুটি, বিস্কুট ও কেকের বাজারেও শুরু হয়েছে নতুন চাপ। অনেক পরিবারের কাছে এখন পাউরুটি আর শুধু নাশতার খাবার নয়; এটি হয়ে উঠেছে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকার অংশ। ফলে এসব পণ্যের দাম বাড়ার প্রভাবও সরাসরি পড়ছে সংসারের বাজেটে।
বাংলাদেশ ব্রেড, বিস্কুট অ্যান্ড কনফেকশনারি প্রস্তুতকারক সমিতির তথ্য অনুযায়ী, সম্প্রতি চিনির দাম প্রতি কেজিতে বেড়েছে ১৫ টাকা। আটা-ময়দায় বেড়েছে ১৫ থেকে ২০ টাকা, ভোজ্যতেলে ৫ টাকা এবং ডালডায় প্রতি কার্টনে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লাইন গ্যাসের সংকট।
গ্যাস না থাকায় অনেক বেকারিকে বাড়তি দামে এলপিজি কিনে উৎপাদন চালাতে হচ্ছে। একই সঙ্গে ইউনিটপ্রতি বিদ্যুতের দাম বাড়ায় ওভেন, মিক্সারসহ বিভিন্ন যন্ত্র চালানোর খরচও বেড়েছে। এসব কারণ দেখিয়ে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে বেকারি পণ্যের দাম ২০ শতাংশ বাড়ানোর ঘোষণা দেয় সমিতি। কিন্তু বাজারে সেই ঘোষণার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। বরং অনেক ক্ষেত্রেই ঘোষিত হারের চেয়ে বেশি দাম নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান আবার দাম না বাড়িয়ে পণ্যের আকার বা ওজন কমিয়ে দিয়েছে। এতে একই দামে কম পণ্য পাচ্ছেন ক্রেতারা।
দাম বাড়ার পাশাপাশি নতুন করে দেখা দিয়েছে সরবরাহ সংকট। কয়েকটি বেকারি গত কয়েক দিন ধরে দোকানে পণ্য সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন খুচরা বিক্রেতারা।
পুরানা পল্টনের টং দোকানি রাইসুল মিয়া বলেন, ‘১০ টাকার ব্রেড ১৫ টাকা, ১৫ টাকারটা ২০ টাকা এবং ২০ টাকার ব্রেড এখন ২৫ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। গত পাঁচ দিন ধরে কোম্পানির সরবরাহ কমে যাওয়ায় দোকানে ব্র্যান্ডের পণ্যই বেশি রাখতে হচ্ছে।’
অর্থাৎ একদিকে দাম বাড়ছে, অন্যদিকে পছন্দের বা নির্দিষ্ট ব্র্যান্ডের পণ্যও সব সময় পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে ক্রেতাদের বাড়তি দাম দিয়েই পণ্য কিনতে হচ্ছে।
বেকারি পণ্যের দাম বাড়ার সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি লাগছে দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল মানুষের জীবনে। তেজগাঁওয়ের রিকশাচালক তমিজউদ্দিন বলেন, ‘সারাদিন রিকশা চালিয়ে ভারী খাবারের বদলে রুটি-কলা খেয়েই দিন পার করি। আগে যা খরচ হতো, এখন দিনে তিনবার রুটি-কলা খেতেই বাড়তি ৩০ থেকে ৪০ টাকা চলে যাচ্ছে। আমাদের মতো মানুষের পেটে টান পড়ছে।’
বেসরকারি হাসপাতালের চাকরিজীবী জুয়েল রানার হিসাবও একই রকম। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন ব্রেড, বিস্কুট, কেক খেয়ে ৩০ টাকা করে বাড়তি খরচ হলে মাস শেষে তা প্রায় হাজার টাকায় গিয়ে দাঁড়ায়, যা আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য বড় চাপ।’ ছোট ছোট বাড়তি খরচ মিলিয়েই যে মাসের বাজেটে বড় ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, তাদের কথায় সেটিই স্পষ্ট।
শুধু ভোক্তারাই চাপে নেই। উৎপাদন ব্যয় সামলাতে গিয়ে অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে ক্ষুদ্র বেকারি শিল্পও।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের বেকারি শিল্পের সিংহভাগই অসংগঠিত ও হস্তচালিত। সারাদেশে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৭ হাজার বেকারি কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে রাজধানী ঢাকাতেই রয়েছে প্রায় ৭০০টি। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ খাতের সঙ্গে জড়িত লক্ষাধিক শ্রমিক ও কর্মী।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট এবং মাত্রাতিরিক্ত উৎপাদন ব্যয়ের কারণে ইতোমধ্যে ৫০০ থেকে ৬০০ ক্ষুদ্র বেকারি কারখানা বন্ধের ঝুঁকিতে রয়েছে।
ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠছে, কারণ বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মতো তাদের উৎপাদন ব্যয় কমানোর সুযোগ সীমিত। ফলে কাঁচামাল থেকে জ্বালানি—প্রতিটি স্তরে ব্যয় বাড়লে তার চাপ গিয়ে পড়ে পণ্যের দামে।
তবে বাজারে ঘোষিত ২০ শতাংশের চেয়ে বেশি দাম নেওয়ার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করছে না সংশ্লিষ্ট সংগঠন। বরং কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সুযোগটি কাজে লাগাচ্ছে বলে স্বীকার করেছেন সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন।
তিনি বলেন, ‘কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এই সুযোগে বাড়তি মুনাফা নেওয়ার চেষ্টা করছে। আবার কিছু দোকানি আমাদের সমিতিকে বিব্রত করতে ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে। নির্ধারিত ২০ শতাংশের বেশি দাম যাতে কেউ না নিতে পারে, সেজন্য আমরা মনিটরিং ব্যবস্থা জোরদার করছি।’
অর্থাৎ উৎপাদন খরচ বেড়েছে—এটি যেমন বাস্তবতা, তেমনি সেই সুযোগে অস্বাভাবিক মুনাফা নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। আর এই দুইয়ের মাঝখানে পড়ে সবচেয়ে বেশি চাপ সামলাতে হচ্ছে ভোক্তাকেই।
বেকারি শিল্পের জন্য উদ্বেগের আরেকটি কারণ সামনে থাকা নতুন ব্যয়। সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জালাল উদ্দিন জানান, ময়দার মিল মালিকরা প্রতি বস্তায় আরও ১০০ টাকা দাম বাড়িয়েছেন। ফলে বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির রেশ কাটার আগেই নতুন করে দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এতে প্রশ্ন উঠেছে—২০ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণাই যেখানে বাজারে ৩০ থেকে ৫০ শতাংশের ধাক্কায় পরিণত হয়েছে, সেখানে কাঁচামালের নতুন মূল্যবৃদ্ধির চাপ শেষ পর্যন্ত গিয়ে কোথায় ঠেকবে?
বেকারি পণ্য এখন আর কেবল নাশতা বা বিলাসী খাবার নয়। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের বহু পরিবারের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় এর জায়গা তৈরি হয়েছে। তাই এই বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি শুধু একটি শিল্পের উৎপাদন ব্যয়ের বিষয় নয়; এটি সরাসরি জড়িয়ে গেছে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে।
ঘোষণায় ২০ শতাংশ, বাজারে ৫০ শতাংশ—এই ফারাক বন্ধে কার্যকর নজরদারি না হলে বেকারি পণ্যের বাড়তি দাম শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের নিত্যদিনের খাবারের তালিকাকেই আরও ব্যয়বহুল করে তুলবে।
খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম রিতা বলেছেন, প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের ঝড়ে পড়া রোধে সরকার বিনামূল্যে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করছেন এবং খুদে শিক্ষার্থীরা যাতে দুপুরে টিফিন পায়, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সরকার বিএনপি দেশের জনগণের জন্য শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করতে কাজ করছে যাচ্ছে। যে শিক্ষার মাধ্যমে সামাজিক, মানবিক ও জবাবদিহিকতা মূলক সমাজ গড়তে পারব। কারণ শিক্ষা ব্যবস্থার যত উন্নত হবে, দেশ সামনের দিকে তত এগিয়ে যাবে।
রোববার দুপুরে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার বেতিলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত খুদে শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ (স্কুল পোশাক, স্কুল ব্যাগ) বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের কোনো শিক্ষার্থী যেন অর্থের অভাবে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে বিষয়ে সরকার কাজ করছে। বিশেষ করে দরিদ্র ও অসচ্ছল পরিবারের সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন সহায়তা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। শিক্ষার মান যত উন্নত হবে ততই দেশ এগিয়ে যাবে। মানবিক ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তুলতে শিক্ষার্থীদের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। সুন্দর শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ করাও সরকারের দায়িত্ব।
খাদ্যমন্ত্রী আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইনির্ভর শিক্ষা দিলেই হবে না। তাদের নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুশিক্ষিত ও দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পরিবার, শিক্ষক ও রাষ্ট্রকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের আন্তরিকতার সঙ্গে পাঠদান এবং শিক্ষার্থীদের নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে ভূমিকা রাখতে হবে।
এ সময় জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোকুল চন্দ্র নাথ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী নাসরিন ও স্কুল পরিচালনা কমিটির সাবেক সদস্য মো. ফরিদ হোসেনসহ স্থানীয় নেতাকর্মী, বিদ্যালয়ের শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে সরাসরি গুলি করেছিলেন সেনাবাহিনীর তৎকালীন লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মতিউর রহমান এবং ওই হত্যাকাণ্ডের দুই দিন আগে তৎকালীন সেনাপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন গ্রেপ্তারকৃত সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় দিনভর জিজ্ঞাসাবাদের পর রবিবার বিকেলে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা।
প্রসিকিউটর তানভীর হাসান জোহা জানান, রবিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় মোজাফফর হোসেনকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং সোমবারও (১৪ সেপ্টেম্বর) তাঁকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের বরাতে তিনি জানান, ১৯৮১ সালের ৩০ মে জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার আগে ওই বছরের ২৮ মে তৎকালীন সেনাপ্রধান এরশাদ হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন এবং পরবর্তীতে মতিউর রহমানই জিয়াউর রহমানকে লক্ষ্য করে গুলি চালান।
১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোররাতে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে একদল বিপথগামী সেনা কর্মকর্তার হাতে নির্মমভাবে নিহত হন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ঐতিহাসিক এই হত্যাকাণ্ডের প্রায় ৪৫ বছর পর গত ১৫ জুলাই রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায়ও মোজাফফর হোসেনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। ওই মামলায় গত ২৩ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাঁকে দুই দিনের জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছিলেন। প্রসিকিউটর জানান, জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ড এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধ—উভয় বিষয়ের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখতেই তাঁকে এই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ক্রমবর্ধমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগে সাইবার অপরাধ প্রতিরোধ ও উদ্ঘাটনে পুলিশ সদস্যদের আধুনিক প্রযুক্তিগত জ্ঞান এবং তদন্ত সক্ষমতা বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। রবিবার সকালে রাজধানীর মিরপুরে পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশে আয়োজিত সাইবার অপরাধ মামলা তদন্তবিষয়ক বিশেষ ‘ট্রেনিং অব ট্রেইনার্স’ (টিওটি) কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আইজিপি উল্লেখ করেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিপফেক প্রযুক্তি, এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ এবং ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের মতো আধুনিক আবিষ্কারগুলো জীবনযাত্রাকে সহজ করার পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য নিত্যনতুন বহুমুখী চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। এসব প্রযুক্তির অপপ্রয়োগের মাধ্যমে সাইবার অপরাধীরা আর্থিক জালিয়াতি, তথ্য চুরি, হ্যাকিং, ডিজিটাল চাঁদাবাজি এবং অনলাইনে হেনস্তার মতো মারাত্মক অপরাধ ঘটাচ্ছে। এই বাস্তবতায় অপরাধ দমনে পুলিশি কৌশলে যুগোপযোগী রূপান্তর এবং সাইবার তদন্তে আধুনিক সক্ষমতা অর্জন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে আইজিপি বলেন, ‘এ কোর্সের মাধ্যমে আপনারা শুধু প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জন করবেন না, একই সঙ্গে প্রশিক্ষণ প্রদান ও যোগাযোগ দক্ষতা অর্জনেও সক্ষম হবেন। প্রশিক্ষণে অর্জিত জ্ঞান ও দক্ষতা অন্য তদন্তকারীদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে।’ তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই কোর্সের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে সহকর্মীদের দক্ষ করে তুলতে পারলে দেশে কার্যকর সাইবার তদন্তকারীর সংখ্যা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে এ ধরনের বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ মডিউল ও কারিকুলাম নিয়মিতভাবে হালনাগাদ করার ওপর জোর দেন তিনি।
পুলিশ স্টাফ কলেজ বাংলাদেশের রেক্টর ও অতিরিক্ত আইজিপি কাজী মো. ফজলুল করিমের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি ব্যারিস্টার মোহাম্মদ মোশাররফ হোছাইন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ডিআইজি (ট্রেনিং) মো. একরামুল হাবিব এবং প্রশিক্ষণের সার্বিক রূপরেখা ও রোডম্যাপ উপস্থাপন করেন অতিরিক্ত ডিআইজি ড. মোছা. শেহেলা পারভীন। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের প্রশিক্ষণ শাখার সহযোগিতায় পরিচালিত এই ১০ দিনব্যাপী কোর্সে অংশ নেওয়া ৩৩২ জন কর্মকর্তা পরবর্তীতে মাঠপর্যায়ের সাইবার তদন্তকারীদের দক্ষ করে তোলার দায়িত্ব পালন করবেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সরকার নাগরিকের বাক-স্বাধীনতা ও ব্যক্তিগত সুরক্ষার বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন রয়েছে।
তিনি বলেন, ‘সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যুক্তিসঙ্গত বাধানিষেধ সাপেক্ষে প্রতিটি নাগরিকের মতপ্রকাশ ও গঠনমূলক সমালোচনার অধিকার রয়েছে। তবে গঠনমূলক সমালোচনা আর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে চরিত্রহনন এক নয়।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ’র সঙ্গে আজ দুপুরে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তার অফিস কক্ষে আন্তর্জাতিক রিপাবলিকান ইনস্টিটিউটের (আইআরআই) একটি প্রতিনিধিদলের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এসব কথা বলেন মন্ত্রী ।
আইআরআই’র রেসিডেন্ট প্রোগ্রাম ডিরেক্টর জন ফ্লুহার্টি’র নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য হেলেন জেরিন খান, আইআরআই’র টেকনিক্যাল এডভাইজার রুকসানা হক এবং তরুণ রাজনীতিবিদ ও আইআরআই প্রশিক্ষণার্থী চামন ফারিয়া ও মোহাম্মদ প্রিন্স।
বৈঠকে সাইবার অপরাধ ও অনলাইন বুলিং প্রতিরোধ এবং প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন ২০২৬ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।
সাক্ষাৎকালে আইআরআই’র রেসিডেন্ট প্রোগ্রাম ডিরেক্টর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তাদের চলমান যুব নেতৃত্ব গঠন ও সহিংসতামুক্ত রাজনৈতিক চর্চা সংক্রান্ত কর্মসূচির কথা অবহিত করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের তরুণ সমাজ ও রাজনৈতিক কর্মীরা বর্তমানে সাইবার বুলিং এবং সংগঠিত অপপ্রচারের কারণে হয়রানি ও মানহানির শিকার হচ্ছেন। তিনি এই ক্ষেত্রে সরকারি ও বিরোধী দলগুলোর জন্য একটি সর্বসম্মত নীতি ও আইনগত সুরক্ষার আহ্বান জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতিনিধিদলকে আশ্বস্ত করে বলেন, সরকার নাগরিকের বাক-স্বাধীনতা এবং ব্যক্তিগত সুরক্ষার বিষয়ে অত্যন্ত সচেতন।
সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন পরিমার্জনের ক্ষেত্রে গত দুই মাস ধরে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব, সিনিয়র সম্পাদক এবং সুশীল সমাজের অংশীজনদের মতামত গ্রহণ করা হচ্ছে। আইনটির মূল লক্ষ্য হবে ডিজিটাল স্পেসে শালীনতা ফিরিয়ে আনা, নারী ও তরুণদের সাইবার বুলিং থেকে রক্ষা করা এবং একই সাথে সাংবাদিকদের পেশাগত সুরক্ষা নিশ্চিত করা যাতে আইনের কোনো ধরনের অপব্যবহার না ঘটে।
মন্ত্রী সহিংসতামুক্ত রাজনৈতিক পরিবেশ এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা সুসংহত করতে সরকার আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় অংশীজনদের ইতিবাচক পরামর্শ সাদরে গ্রহণ করবে বলে জানান।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার ও ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে বিদ্যমান গ্যাসক্ষেত্রের পাশাপাশি নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক জ্বালানি কোম্পানি শেভরনকে আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ রোববার বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে শেভরনের বেস অ্যাসেটস ও উদীয়মান দেশবিষয়ক প্রেসিডেন্ট জাভিয়ার লা রোসার নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, সাক্ষাতে বাংলাদেশের জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে দেশে বিদ্যমান ও পুরোনো গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানে শেভরনের বিনিয়োগের বিষয়টি আলোচনায় উঠে আসে।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, শেভরন বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক শু শিয়ংসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস
গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এবং জনগণের অংশগ্রহণ ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে শক্তিশালী স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা গড়ে তোলার কোনো বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্রের ভিত্তি তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী না হলে রাষ্ট্রের সামগ্রিক গণতান্ত্রিক কাঠামো সুদৃঢ় করা সম্ভব নয়।’
আজ রোববার সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎকালে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মতো বিপুল জনসংখ্যার দেশে জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছে দিতে শক্তিশালী ও কার্যকর স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। দেশের বিপুল জনসংখ্যাকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
ড. আবদুল মঈন খান বলেন, স্থানীয় সরকারকে সত্যিকার অর্থে কার্যকর ও শক্তিশালী করতে প্রকৃত বিকেন্দ্রীকরণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। স্থানীয় পর্যায়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও জনগণের অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও শক্তিশালী করা সম্ভব। একই সঙ্গে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বদ্ধপরিকর বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদার, গণতন্ত্র ও স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, গ্রামীণ নারীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলাসহ নানা দ্বিপক্ষীয় বিষয়ে আলোচনা হয়।
সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলি দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা ও জনগণের কাছে জবাবদিহি বৃদ্ধি এবং নারী ক্ষমতায়নের মতো ক্ষেত্রে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, বৈঠকে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করার পাশাপাশি গণতন্ত্র সুদৃঢ় করার নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিশেষ কওে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ এবং তৃণমূল পর্যায়ে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়ে দুই পক্ষ একমত পোষণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতিতে নারীদের সম্পৃক্ততা বাড়ানো, জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং স্থানীয় সরকার নির্বাচনের অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের মধ্যে সহযোগিতার সুযোগ রয়েছে। এসব ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
বৈঠকে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস
দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান। আজ রবিবার রাজধানীর নভোথিয়েটারে আয়োজিত ‘সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা’ শীর্ষক এক সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সবার জন্য স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে। স্বাস্থ্যসেবা পাওয়া কোনো সুবিধা নয়; এটি দেশের প্রতিটি নাগরিকের অধিকার।’
বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে ডা. জুবাইদা রহমান উল্লেখ করেন যে, মশাবাহিত এই রোগ প্রতিরোধে রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপের পাশাপাশি সাধারণ জনগণের ব্যক্তিগত পর্যায়ের পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় সমাজের সকল স্তরের মানুষকে সতর্ক ও সচেতন থাকার আহ্বান জানান। এ ছাড়া সামগ্রিক জাতীয় অগ্রগতি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিটি প্রাতিষ্ঠানিক স্তরে স্বচ্ছতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘সবক্ষেত্রে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে পারলেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব’।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ফেনী জেলা সফরের পূর্বনির্ধারিত সময়সূচিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বরের পরিবর্তে পুনর্নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী তিনি আগামী ১ অক্টোবর ফেনী সফরে যাবেন। রবিবার দুপুরে ফেনীর জেলা প্রশাসক মো. মাহবুবুল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জেলা প্রশাসক জানান, সরকারপ্রধানের এই গুরুত্বপূর্ণ সফরকে কেন্দ্র করে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা, ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বিশুদ্ধ পানীয় জলের সংস্থান এবং উন্নত স্যানিটেশনসহ আনুষঙ্গিক যাবতীয় ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সরকারের বিভিন্ন দপ্তর সমন্বিতভাবে নিরবচ্ছিন্ন কাজ করে যাচ্ছে। আগামী ১ অক্টোবরের আগেই সফরের যাবতীয় আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শতভাগ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এদিকে সফরের তারিখ পেছানো হলেও প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাতে জেলার পরশুরাম ও ফুলগাজী উপজেলাজুড়ে ব্যাপক প্রস্তুতিমূলক কর্মকাণ্ড অব্যাহত রয়েছে। এই সফরকালে প্রধানমন্ত্রী পরশুরামে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) সম্প্রতি অনুমোদিত ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকা ব্যয়ের ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প’-এর আনুষ্ঠানিক শুভ উদ্বোধন করবেন। দীর্ঘপ্রতীক্ষিত এই বাঁধ ও নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্পন্ন হলে নদী অববাহিকার বিস্তীর্ণ জনপদের দীর্ঘদিনের বন্যা ও স্থায়ী জলাবদ্ধতার ভোগান্তি থেকে মুক্তি মিলবে।
এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকেরা আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে অংশ নিতে পারবেন কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশন (ইসি) গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। রবিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে সমসাময়িক বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের বিধিমালা এবং প্রার্থীদের যোগ্য-অযোগ্যতাটা তৈরি করে নির্বাচন কমিশন। এখন নির্বাচন কমিশন আমাদের আইন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা, সবকিছু নিয়ে ঠিক করবে যে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন, কি পারবেন না।’
স্থানীয় পর্যায়ের নির্বাচনে প্রার্থীদের শিক্ষাগত যোগ্যতার মানদণ্ড প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ক্ষেত্রে প্রার্থীদের জন্য কোনো ধরনের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতার আইনি বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। এর আগে সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খানের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেতো রেংগলির এক সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে প্রতিমন্ত্রী নিজেও উপস্থিত ছিলেন।