প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘সরকারের রূপকল্প-২০৪১ বাস্তবায়নের অন্যতম পূর্বশর্ত হচ্ছে একটি সমৃদ্ধ রাজস্বভান্ডার গড়ে তোলা। আওয়ামী লীগ সরকারের নিবিড় ও নিরলস প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে।’
তিনি বলেন, “আমাদের বর্তমান লক্ষ্য ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বাস্তবায়ন করা। আমরা উৎপাদন ব্যবস্থা ও কর্মক্ষেত্রগুলোতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটাচ্ছি। একইসঙ্গে প্রয়োজনীয় পেশাগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনবল সৃষ্টিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছি। আমি বিশ্বাস করি- আমাদের সরকারের ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠার রূপকল্পকে সফল করতে সকলে নিজেদের উদ্ভাবনী শক্তিকে কাজে লাগাবে এবং একাগ্রতা ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করবে।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামীকাল ‘ভ্যাট দিবস’ ও ‘ভ্যাট সপ্তাহ ২০২৩’ উপলক্ষ্যে আজ দেয়া এক বাণীতে এ কথা বলেন।
বাণীতে তিনি বলেন, “জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের উদ্যোগে দেশব্যাপী ‘ভ্যাট দিবস ’ এবং ‘ভ্যাট সপ্তাহ ’ পালিত হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত।”
এ উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী দেশের আপামর জনসাধারণ, ব্যবসায়ী এবং ভ্যাট আহরণ ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজস্বকর্মীদের আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “অবকাঠামো ও প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতের নিরাপদ খাদ্যসহ ডিজিটাল ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে ভ্যাটের ভূমিকা অপরিহার্য। এ বছর ভ্যাট দিবস এবং ভ্যাট সপ্তাহের প্রতিপাদ্য, ‘আমার ভ্যাট আমি দিব, কেনার সময় চালান নিব’ সঠিক ও সময়োপযোগী হয়েছে।”
শেখ হাসিনা বলেন, “ভ্যাট দেশের অভ্যন্তরীণ রাজস্ব আহরণের অন্যতম প্রধান উৎস। রাজস্ব আয় থেকে প্রাপ্ত অর্থ দিয়েই সরকার উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন ও সেবা প্রদানের ব্যয় নির্বাহ করে থাকে। এই অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি মজবুত ও টেকসই অর্থনৈতিক ভিত্তি বিনির্মাণের লক্ষ্যে আমাদের সরকার সময় ও অর্থসাশ্রয়ী আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর একটি মূল্য সংযোজন কর ব্যবস্থা প্রবর্তন করেছে। ২০০৯ সালে সরকার গঠনের পর আমরা ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইন ২০১২’ ও ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক বিধিমালা ২০১৬’ প্রণয়ন করেছি এবং এগুলোর প্রয়োগিক জটিলতা অপসারণ, ব্যবসা-বাণিজ্য সহজিকরণ এবং রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির লক্ষ্যে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।”
‘এর ফলে মূল্য সংযোজন কর আদায় কার্যক্রমে তদারকি নিশ্চিত হয়েছে এবং দিনদিন রাজস্ব আদায় বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা ঘরে বসেই অনলাইনে ভ্যাট নিবন্ধন ও ভ্যাট রিটার্ন দাখিলের যাবতীয় সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি করেছি। তাছাড়া, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আমদানি বিকল্প পণ্য উৎপাদন এবং দেশীয় শিল্প বিকাশের চলমান ধারা বজায় রাখার জন্য বেশকিছু ক্ষেত্রে মূসক অব্যাহতি সুবিধা প্রদান ও বহাল রাখাসহ নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশ কাস্টমসকে আধুনিকায়নের লক্ষ্যে মানোন্নয়ন, স্বয়ংক্রিয় কাস্টমস ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং বন্ড ব্যবস্থাপনা স্বয়ংক্রিয়করণসহ বেশকিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন করছি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস, আমাদের সরকারের গৃহীত এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশের সৃষ্টি হবে, রাজস্ব আহরণ আরও বৃদ্ধি পাবে এবং সেইসাথে নতুন নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শূন্য মুদ্রা, শূন্য বৈদেশিক মুদ্রা এবং শূন্য স্বর্ণ রিজার্ভ নিয়ে একটি যুদ্ধবিধ্বস্ত সদ্যস্বাধীন দেশের অর্থনীতি বিনির্মাণে ব্রতী হয়েছিলেন। স্বাধীনতা অর্জনের পর তিনি শিল্প-প্রতিষ্ঠান, কল-কারখানা জাতীয়করণের মাধ্যমে সেখানে জনগণের মালিকানা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণের মাধ্যমে আত্মনির্ভরশীল দেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে ১৯৭২ সালে মহামান্য রাষ্ট্রপতির ৭৬নং অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।’
সত্তরে’র নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু কৃষি উন্নয়নের পাশাপাশি শিল্পভিত্তিক অর্থনীতির বিকাশের লক্ষ্যে প্রথম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘তাঁর সুযোগ্য নেতৃত্বে মাত্র তিন বছর সাত মাস তিন দিনেই বাংলাদেশ রেকর্ড ৯ শতাংশের উপরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছিল এবং স্বল্পোন্নত দেশের মর্যাদা লাভ করেছিল।’
প্রধানমন্ত্রী ‘ভ্যাট দিবস, ২০২৩’ এবং ‘ভ্যাট সপ্তাহ, ২০২৩’ উপলক্ষ্যে গৃহীত সকল কর্মসূচির সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেন।
রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন পরিবহন সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি)-এর চালক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উন্নত চক্ষুসেবা প্রদানের লক্ষ্যে ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের সঙ্গে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বিকাল ৩টায় রাজধানীর মতিঝিলস্থ ‘পরিবহন ভবন’ এর সভাকক্ষে এই চুক্তি স্বাক্ষরের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। বিআরটিসি’র পক্ষে চেয়ারম্যান জনাব আব্দুল লতিফ মোল্লা এবং ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের পক্ষে কান্ট্রি ডিরেক্টর মিশা মাহজাবীন এই চুক্তিতে সই করেন। এই সমঝোতার আওতায় প্রায় ৪ হাজার কর্মীকে চক্ষু পরীক্ষার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় রিডিং ও প্রেসক্রিপশন চশমা সরবরাহ করা হবে। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ থেকে শুরু হয়ে ২০২৭ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে। প্রাথমিকভাবে ঢাকা থেকে এই সেবা শুরু হলেও পর্যায়ক্রমে তা সারাদেশের ডিপো ও ইউনিটগুলোতে বিস্তৃত হবে এবং সেবাগ্রহীতারা মাত্র ৫০ টাকা নিবন্ধন ফি’র বিনিময়ে এই সুযোগ পাবেন।
চক্ষু পরীক্ষার এই উদ্যোগকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করে বিআরটিসি চেয়ারম্যান জনাব আব্দুল লতিফ মোল্লা বলেন, “ঢাকা ও ঢাকার বাইরে আমাদের চালকরা এই চক্ষুপরীক্ষা সেবা কার্যক্রমের আওতায় আসলে, চালকদের চোখ পরীক্ষা করতে পারলে- চালকরা অন্তত চক্ষু সমস্যার কারণে দূর্ঘটনা কম করবে।” মূলত চালকদের সুস্থ চোখের দৃষ্টির মাধ্যমে সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাসের লক্ষ্যেই এই বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর মিশা মাহজাবীন তাদের প্রতিষ্ঠানের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, “বাংলাদেশে আমরা ইতোমধ্যে বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে প্রায় পাঁচ লাখ শ্রমিকের চোখ পরীক্ষা করেছি এবং তাদের মধ্যে ৩০ শতাংশের বেশি শ্রমিকের চশমার প্রয়োজন ছিল এবং তারা চশমা পেয়েছেন। আমরা আরও বেশি এ সেবা পৌঁছে দিতে চাই। ২০০১ সাল থেকে ভিশনস্প্রিং নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে চশমা পৌঁছে দিতে কাজ করছে।”
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বিআরটিসি’র ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও হিসাব পরিচালক ড. অনুপম সাহা, প্রশাসন ও অপারেশন পরিচালক জনাব মোঃ রাহেনুল ইসলাম এবং কারিগরী ও প্রশিক্ষণ পরিচালক কর্নেল কাজী আইয়ুব আলী। এ সময় কর্পোরেশনের বিভিন্ন বিভাগের জিএম ও ডিজিএমসহ প্রধান কার্যালয়ের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং ভিশনস্প্রিং বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। চক্ষুসেবার এই কর্মসূচি কর্মীদের স্বাস্থ্যের পাশাপাশি সড়কের জানমালের নিরাপত্তা বিধানেও সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
রেড চিটাগাং ক্যাটল (আরসিসির) গুরুত্ব তুলে ধরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, ‘লাল গরুর দেশ চট্টগ্রাম। দুধ হয়তো কিছুটা কম দেয়; কিন্তু মাংসের দিক থেকে এবং জাতগত বৈশিষ্ট্যে রেড চিটাগাং ক্যাটলের তুলনা পৃথিবীর কোথাও নেই। তাই এই জাত সংরক্ষণ করা আমাদের জন্য অত্যন্ত জরুরি।’
উপদেষ্টা বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা এ কে এগ্রো অ্যান্ড ডেইরি হাব-সংলগ্ন মাঠে ‘চট্টগ্রাম অঞ্চলে ডেইরি খাতের উন্নয়ন: সম্ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রতি বছর প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে গুঁড়াদুধ আমদানি করে। এই টাকা যদি দেশীয় দুধ উৎপাদন বাড়াতে ব্যয় করা হয়, তাহলে আমদানির প্রয়োজন কমবে। গুঁড়াদুধ তরল দুধে ভেজালের ঝুঁকিও বাড়াচ্ছে। তাই আমাদের শপথ নিতে আমদানি কমিয়ে দেশীয় তরল দুধের উৎপাদন বাড়াতে হবে।’
বিদ্যুৎ বিল ও ভর্তুকি প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, ‘ব্যাপক আলোচনা ও প্রচেষ্টার পর মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ বিল রেয়াত এবং ১০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এটি প্রাথমিক উদ্যোগ হলেও ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী আরও বাড়ানোর চেষ্টা করা হবে।’
তিনি খামারি নিবন্ধনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘নিবন্ধন ছাড়া প্রকৃত চিত্র জানা সম্ভব নয়। অনলাইনে নিবন্ধন হলে সব তথ্য এক জায়গায় পাওয়া যাবে এবং নীতিনির্ধারণ সহজ হবে।’
উপদেষ্টা বলেন, ‘প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্প (এলডিডিপির) মাধ্যমে খামারিরা প্রশিক্ষণ পেয়েছেন, পিজি গ্রুপ গড়ে উঠেছে এবং অনেকের জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে ডেইরি কার্যক্রম।’ তিনি বলেন, ‘অনেকে বলছেন, লাভ-ক্ষতির হিসাব না করেও এটি এখন তাদের জীবনের অংশ। এর মানে ভবিষ্যতে এখান থেকেই তারা টেকসইভাবে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন।’
নারীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘দুধ শুধু উৎপাদনের পরিসংখ্যান নয়—মানুষ কতটা দুধ গ্রহণ করছে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নারী, শিশু ও বয়স্কদের জন্য দুধ অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, যা হাড়ের রোগ ও অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে সহায়ক। এলডিডিপির মাধ্যমে স্কুল ফিডিং প্রোগ্রামের সাফল্যের কথা উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, ‘স্কুলে দুধ সরবরাহ শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের মেধা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। দরিদ্র ও শহরে শিশুদের জন্য যা কার্যকর উদ্যোগ।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ তরুণদের দেশ। ডেইরি ইন্ডাস্ট্রিতে তরুণদের এগিয়ে আসতে হবে। সরকার প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে। আমরা সংগ্রামী জাতি—দেশের উন্নয়নের জন্য এই সংগ্রাম অব্যাহত রাখতে হবে।’
সেমিনারে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ানের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ ডেইরি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী পরিচালক মিজ শাহীনা ফেরদৌসী, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (কৃত্রিম প্রজনন) মো. শাহজামান খান তুহিন, পরিচালক (সম্প্রসারণ) ডা. বেগম শামছুননাহার, চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (পরিচালক) ডা. মো. আতিয়ার রহমান এবং এ কে এগ্রো অ্যান্ড ডেইরি ফার্মের পরিচালক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেইন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. বয়জার রহমান। এ ছাড়া এলডিডিপির আওতায় ডেইরি হাব কার্যক্রম: বাস্তবায়ন, অগ্রগতি ও সম্ভাবনা শীর্ষক উপস্থাপনা ও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করেন প্রকল্প পরিচালক ডা. মো. মোস্তফা কামাল।
অবিলম্বে গণমাধ্যমসেবীদের জন্য দশম ওয়েজ বোর্ড রোয়েদাদ এবং অন্তর্বর্তীকালীন মহার্ঘ ভাতা ঘোষণার দাবি জানিয়েছে সাংবাদিক সমাজের শীর্ষ দুই সংগঠন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) এক যৌথ বিবৃতিতে বিএফইউজের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন, মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী এবং ডিইউজের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলাম ও সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম এই দাবি জানান। নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন যে, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি সাংবাদিকরাও বর্তমানে দিশাহারা অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, প্রায় এক দশক আগে ঘোষিত নবম ওয়েজ বোর্ড এখনো অনেক সংবাদমাধ্যম বিভিন্ন কৌশলে বাস্তবায়ন করছে না, যা সাংবাদিকদের প্রতি চরম বৈষম্য।
বিবৃতিতে সাংবাদিক নেতারা বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার সাংবাদিকদের এই ন্যায্য দাবি বারবার এড়িয়ে গেছে। এমনকি ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার রক্তঝরা আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরাচারের পতনের পর গত দেড় বছরেও অন্তর্বর্তী সরকার সাংবাদিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির বিষয়ে কোনো কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। সমাজের বিদ্যমান বেতন বৈষম্য নিরসনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বিএফইউজে-ডিইউজে নেতৃবৃন্দ বলেন, “আমরা গণমাধ্যমকর্মীরা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী বা অন্য পেশাজীবীসহ কারো বেতন-ভাতা বৃদ্ধির বিরোধী নই। কিন্তু এর ফলে যাতে সমাজে বৈষম্য না বাড়ে, সরকারকে তা নিশ্চিত করতে হবে এবং সমাজের অন্যান্য অংশীজনের বিষয়টিও গুরুত্বসহ বিবেচনায় নিতে হবে।”
সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদার অবনমন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে নেতৃবৃন্দ আরও বলেন যে, আগে গণমাধ্যমসেবীদের বেতন-ভাতা সরকারি কর্মচারীদের চেয়ে উন্নত থাকলেও বর্তমানে আমলাতান্ত্রিক প্রভাবে সংবাদকর্মীরা চরমভাবে উপেক্ষিত। রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে পরিচিত এই পেশাজীবীদের জীবনমান উন্নয়নে অবিলম্বে দশম ওয়েজ বোর্ড ঘোষণার কোনো বিকল্প নেই। একই সঙ্গে যেসব সংবাদ প্রতিষ্ঠানে এখনো নবম ওয়েজ বোর্ড কার্যকর করা হয়নি, সেখানে বকেয়াসহ তা বাস্তবায়ন এবং নিয়মিত বেতন-ভাতা নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর ও বলিষ্ঠ পদক্ষেপ গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন সংগঠন দুটির শীর্ষ নেতারা।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। নির্বাচনকালীন আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং ভোটারদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজধানী ঢাকাসহ চার জেলায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে নামছেন বিজিবি ৫ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা। আজ বুধবার দুপুরে রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরে এক সংবাদ সম্মেলনে ৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৈমুর হাসান এই নিরাপত্তা পরিকল্পনার বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ঢাকা সেক্টরের আওতাধীন বিজিবি ৫ ব্যাটালিয়ন এলাকায় সর্বমোট ৩৮ প্লাটুন সদস্য মোতায়েন করা হবে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পাঁচটি সংসদীয় আসনে ১১ প্লাটুন, সাভার ও ধামরাইয়ের দুটি আসনে ৬ প্লাটুন, ফরিদপুরের চারটি আসনে ১৩ প্লাটুন এবং মানিকগঞ্জের তিনটি সংসদীয় আসনে ৮ প্লাটুন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। রাজধানীর প্রবেশপথসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি কার্যক্রম জোরদার করা হবে যাতে কোনো প্রকার অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি তৈরি হতে না পারে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও নিশ্ছিদ্র করতে এবার বিশেষায়িত কে-৯ ডগ স্কোয়াড মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজিবি। পাশাপাশি যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি দ্রুত ও কার্যকরভাবে মোকাবিলা করার জন্য বিজিবির র্যাপিড অ্যাকশন টিম (র্যাট), কুইক রেসপন্স ফোর্স (কিউআরএফ) এবং প্রয়োজনে আকাশপথে টহল বা উদ্ধারকাজের জন্য হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা ও আধুনিকতা নিশ্চিত করতে এবার সদস্যদের জন্য বডি ওর্ন ক্যামেরা, নাইট ভিশন ডিভাইস, এপিসি এবং উন্নত সিগন্যাল সরঞ্জাম ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণের জন্য ব্যাটালিয়ন সদরে একটি কেন্দ্রীয় মনিটরিং সেল গঠন করা হয়েছে।
বিজিবি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তৈমুর হাসান বিজিবির ভূমিকা স্পষ্ট করে জানান যে, এবারের নির্বাচনে ভোট কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনের কোনো পূর্ব নির্ধারিত নিষেধাজ্ঞা নেই। যদি কোনো প্রিজাইডিং অফিসার সহায়তা চান অথবা কেন্দ্রে সহিংসতা বা জাল ভোটের মতো কোনো অনিয়মের আশঙ্কা তৈরি হয়, তবে বিজিবি সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রের ভেতরে প্রবেশ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন। সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং সাধারণ জনগণের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করতে বিজিবি সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বাংলাদেশের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যুক্তরাষ্ট্র কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের পক্ষ নেবে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। আজ বুধবার দুপুরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন। ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন জানান, নির্বাচনের ফলাফল কী হবে তা সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের ওপর নির্ভর করছে এবং তারাই এটি নির্ধারণ করবেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় মানুষের ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসা যেকোনো সরকারের সঙ্গেই যুক্তরাষ্ট্র নিবিড়ভাবে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে।
বৈঠক প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত জানান, প্রধান নির্বাচন কমিশনার তাকে নির্বাচনী প্রস্তুতির সার্বিক বিষয়ে অবহিত করেছেন এবং তিনি নিজে নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলের বিষয়ে যথেষ্ট আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। যদিও সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি, তবে তার বক্তব্যে নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার বিষয়টি ফুটে উঠেছে। এর আগে বেলা ১১টার পর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে ইসি ভবনে আসেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। ইসি সূত্রে জানা গেছে, এই দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে সমসাময়িক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের সার্বিক আয়োজন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের ১৯তম রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য ঢাকায় পৌঁছান ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটিই প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে তার প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক। নির্বাচন ঘনিয়ে আসার এই সন্ধিক্ষণে সিইসি’র সঙ্গে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এই আলোচনাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। আন্তর্জাতিক মহলের কাছে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সমুন্নত রাখার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের এই অবস্থান বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রদূতকে আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে কমিশন বদ্ধপরিকর এবং সব ধরনের প্রস্তুতি সন্তোষজনকভাবে এগিয়ে চলছে।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের নতুন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি শুরু হয়। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ঠিক দুই সপ্তাহ আগে এই উচ্চপর্যায়ের সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হওয়ায় একে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৈঠকটি মূলত বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং আসন্ন নির্বাচনের সামগ্রিক প্রস্তুতি কেন্দ্রিক বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ এবং অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছে, সে বিষয়ে রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন আগ্রহ প্রকাশ করতে পারেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে এটিই তার প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক, যা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও গুরুত্ব বহন করে।
উল্লেখ্য যে, ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন গত ১২ জানুয়ারি বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের ১৯তম রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য ঢাকায় পৌঁছান। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অংশীজনদের সঙ্গে দেখা করছেন। সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তারিখ ঘনিয়ে আসায় আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি এখন বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর নিবদ্ধ। এমন পরিস্থিতিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে এই আলোচনা নির্বাচনী স্বচ্ছতা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে ভোটারদের আস্থা ফেরানো এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আজকের বৈঠকে এই বিষয়গুলোর পাশাপাশি সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় হতে পারে। বৈঠকের বিস্তারিত ফলাফল ও সুনির্দিষ্ট আলোচনার বিষয়বস্তু সম্পর্কে পরবর্তীতে কমিশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হতে পারে। মূলত একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সহায়তার ক্ষেত্র এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সুরক্ষা নিয়ে এই বৈঠকে আলোকপাত করার সম্ভাবনা রয়েছে।
দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের সরাসরি আকাশপথের যোগাযোগ পুনরায় স্থাপিত হতে যাচ্ছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) ঢাকা-করাচি রুটে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে নতুন এই যাত্রার সূচনা করবে রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী প্রতিষ্ঠান বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স। নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ২০১২ সালে এই রুটে ফ্লাইট চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার দীর্ঘ ১৪ বছর পর আবারও নিয়মিত যাতায়াতের সুযোগ পাচ্ছেন দুই দেশের যাত্রীরা। এই সরাসরি সংযোগের ফলে যাত্রীদের ভ্রমণের সময় যেমন বাঁচবে, তেমনি যাতায়াত খরচেও বড় ধরনের সাশ্রয় হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জানিয়েছে, ঢাকা থেকে করাচির দূরত্ব প্রায় ১ হাজার ৪৭১ মাইল। এই রুটে ১৬২ আসনের আধুনিক বোয়িং ৭৩৭ মডেলের উড়োজাহাজ দিয়ে আপাতত সপ্তাহে দুই দিন ফ্লাইট পরিচালনা করা হবে। প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার ও শনিবার নিয়মিতভাবে ফ্লাইটগুলো ঢাকা থেকে করাচির উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে এবং পুনরায় ঢাকায় ফিরে আসবে। সরাসরি ফ্লাইট চালু হওয়ায় এখন মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যেই গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব হবে, যা আগে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে ট্রানজিট হয়ে যাওয়ার কারণে দীর্ঘ সময়সাপেক্ষ ও ক্লান্তিকর ছিল।
নতুন এই রুটে যাত্রীদের কাছ থেকে অভূতপূর্ব সাড়া পাওয়া গেছে বলে নিশ্চিত করেছেন বিমানের জনসংযোগ বিভাগের মহাব্যবস্থাপক বোসরা ইসলাম। তিনি জানান, বৃহস্পতিবারের প্রথম ফ্লাইটের সবকটি টিকিট ইতিমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে এবং দ্বিতীয় ফ্লাইটেরও ৮০ শতাংশের বেশি আসন বুকিং হয়ে গেছে। সরাসরি ফ্লাইট না থাকায় এতদিন যাত্রীদের দুবাই বা দোহার মতো দীর্ঘ পথ ঘুরে যেতে হতো। এখন ট্রানজিটের ঝামেলা না থাকায় ভ্রমণ হবে অনেক বেশি স্বাচ্ছন্দ্যের। এছাড়া খরচের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে বিশাল পরিবর্তন। আগে যেখানে ট্রানজিটসহ যাতায়াতে বিপুল অর্থ ব্যয় হতো, এখন সরাসরি ফ্লাইটে রাউন্ড ট্রিপে সর্বনিম্ন ৫১ হাজার টাকায় যাতায়াত করা যাবে। এতে যাত্রীদের অন্তত ৩০ থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত সাশ্রয় হবে।
এভিয়েশন বিশেষজ্ঞরা এই রুটটি পুনরায় চালু হওয়াকে অত্যন্ত কৌশলগত ও বাণিজ্যিক গুরুত্বসম্পন্ন বলে অভিহিত করেছেন। দ্য বাংলাদেশ মনিটরের সম্পাদক কাজী ওয়াহিদুল আলমের মতে, ঢাকা-করাচি রুটে সরাসরি বিমান চলাচল কেবল যাত্রী পরিবহনেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং এটি দুই দেশের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ করবে। বিশেষ করে কার্গো বা পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রেও এখানে বিশাল এক সম্ভাবনার দ্বার খুলে যাবে। পাকিস্তান প্রতিবছর পর্যটন খাত থেকে বড় অঙ্কের রাজস্ব আয় করে, ফলে সরাসরি যাতায়াতের সুযোগে বাংলাদেশি ভ্রমণপিপাসুদের জন্যও এটি একটি আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠতে পারে।
উল্লেখ্য যে, দীর্ঘ সময় পর এই সরাসরি ফ্লাইট চালুর মাধ্যমে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও পর্যটন খাত আরও গতিশীল হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ট্রানজিটের দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও অতিরিক্ত ব্যয় কমিয়ে সাশ্রয়ী মূল্যে দ্রুত যাতায়াতের এই ব্যবস্থা সাধারণ যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে। বৃহস্পতিবারের আনুষ্ঠানিক যাত্রার মাধ্যমে আকাশপথের এই শূন্যতা পূরণের পাশাপাশি আঞ্চলিক কানেক্টিভিটি আরও সুদৃঢ় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী টেকনাফ ও সেন্টমার্টিন দ্বীপের সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও সুসংহত করতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বর্ডার আউটপোস্ট (বিওপি) উদ্বোধন করেছেন। টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)-এর আওতাধীন এই বিওপি দুটির একটি হলো সেন্টমার্টিন বিওপি এবং অন্যটি টেকনাফের লেঙ্গুরবিলে নবসৃজিত ‘সী-বিচ বিওপি’। গতকাল এক আনুষ্ঠানিক সফরের মাধ্যমে তিনি এই আধুনিক স্থাপনা দুটির উদ্বোধন সম্পন্ন করেন।
সেন্টমার্টিন বিওপি উদ্বোধনের মাধ্যমে দ্বীপটির সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থায় নতুন গতিশীলতা ও কার্যকারিতা যুক্ত হয়েছে। এখানে বিজিবি সদস্যদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত সৈনিক লাইন নির্মাণ করা হয়েছে, যা মূলত সীমান্তে দায়িত্বরত সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি এবং মনোবল সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে তৈরি করা হয়েছে। এই বিওপিটির একটি ঐতিহাসিক গুরুত্ব রয়েছে। উল্লেখ্য যে, ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত তৎকালীন বাংলাদেশ রাইফেলস (বিডিআর) এই দ্বীপের নিরাপত্তার দায়িত্বে ছিল। পরবর্তীতে দায়িত্বটি বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের কাছে হস্তান্তর করা হলেও সীমান্তের গুরুত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা বিবেচনা করে ২০১৯ সালের ৭ এপ্রিল পুনরায় সেখানে বিজিবি মোতায়েন করা হয়। বর্তমান বিওপিটি উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে সেন্টমার্টিন দ্বীপের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে বিজিবির কার্যক্রম পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্তভাবে শুরু হলো।
সেন্টমার্টিন সফর শেষে মহাপরিচালক টেকনাফের লেঙ্গুরবিল এলাকায় নবনির্মিত ‘সী-বিচ বিওপি’ উদ্বোধন করেন। অত্যন্ত আধুনিক এবং দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত এই বিওপিতে দায়িত্বরত সদস্যদের জন্য প্রয়োজনীয় সকল আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। বিজিবি সদর দপ্তর থেকে জানানো হয়েছে, নতুন এই বিওপিটি সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি সেখানে অবস্থানরত সদস্যদের মনোবল ও অপারেশনাল সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এই অঞ্চলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় এখানে আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণ বিজিবির নজরদারি ক্ষমতাকে আরও শক্তিশালী করবে।
বিজিবি মহাপরিচালক এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সীমান্ত সুরক্ষা ও দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বিজিবির সদস্যদের সর্বদা সজাগ থাকার আহ্বান জানান। তিনি উল্লেখ করেন, আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির ফলে বিজিবি সদস্যরা আরও উৎসাহের সাথে তাদের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। বিশেষ করে সেন্টমার্টিন ও টেকনাফ সীমান্তে মাদক পাচার রোধ এবং অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধে এই আধুনিক বিওপিগুলো অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং স্থানীয় সংশ্লিষ্ট ইউনিটের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। মূলত সীমান্ত সুরক্ষায় বাহিনীকে আরও আধুনিক ও যুগোপযোগী করে তোলার চলমান প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই উন্নয়নমূলক পদক্ষেপগুলো নেওয়া হয়েছে।
সাতক্ষীরা জেলাকে ‘বি’ থেকে ‘এ’ ক্যাটাগরির জেলায় উন্নীত করেছে সরকার। গতকাল মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এই সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে জেলাটির প্রশাসনিক গুরুত্ব যেমন বাড়বে, তেমনি সরকারি জনবল ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২০ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) ১১৯তম সভায় বিশেষ বিবেচনায় সাতক্ষীরা জেলাকে ‘এ’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত করার প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। এই অনুমোদনের প্রেক্ষিতেই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এই প্রজ্ঞাপন জারি করল। নতুন এই মর্যাদা অনুযায়ী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এখন জেলাটির প্রয়োজনীয় জনবল কাঠামো এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধাদি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কার্যক্রম শুরু করবে।
সাতক্ষীরা জেলাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার পেছনে বেশ কিছু যৌক্তিক কারণ তুলে ধরেছে সরকার। নিকারের সভায় এই প্রস্তাব অনুমোদনের পর প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে সাতক্ষীরা বর্তমানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি জেলা। বিশেষ করে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের একাংশ এই জেলায় অবস্থিত। পাশাপাশি সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দেশের অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ বন্দরে পরিণত হয়েছে, যা জাতীয় অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রাখছে। এই সামগ্রিক কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনা করেই জেলাটিকে ‘এ’ ক্যাটাগরির মর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী, সাধারণত কোনো জেলায় উপজেলার সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে এর শ্রেণি নির্ধারণ করা হয়। যে সব জেলায় ৮টি বা তার বেশি উপজেলা থাকে, সেগুলোকে ‘এ’ ক্যাটাগরি, ৫ থেকে ৭টি উপজেলা থাকলে ‘বি’ ক্যাটাগরি এবং ৫টির কম উপজেলা থাকলে ‘সি’ ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে অবস্থানগত কারণে বিশেষ গুরুত্ববহ জেলাগুলোকে সরকার বিশেষ বিবেচনায় উচ্চতর ক্যাটাগরিতে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে। সাতক্ষীরার ক্ষেত্রেও এই বিশেষ বিবেচনায় মর্যাদার পরিবর্তন আনা হয়েছে।
এর আগে ২০২০ সালের ৬ আগস্ট সর্বশেষ জেলাগুলোর শ্রেণি হালনাগাদ করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে পরিপত্র জারি করা হয়েছিল। দীর্ঘ কয়েক বছর পর সাতক্ষীরা জেলার এই মানোন্নয়ন স্থানীয় প্রশাসনে নতুন গতিশীলতা আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে জেলা পর্যায়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামো উন্নয়নে বরাদ্দ এবং জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা পাবে সাতক্ষীরাবাসী। প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে জেলার সামগ্রিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি ২০২৬), বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বাতাসের শহরের তালিকায় শীর্ষস্থান দখল করেছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। সকাল থেকেই ঢাকার বাতাসের মান জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘এয়ার ভিজুয়ালের’ এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) অনুযায়ী, আজ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকা ৩১৪ স্কোর নিয়ে বিশ্বে দূষণের তালিকায় প্রথম অবস্থানে উঠে আসে। এই স্কোর মূলত বাতাসের মানকে ‘চরম অস্বাস্থ্যকর’ বা বিপজ্জনক হিসেবে নির্দেশ করে।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী দূষিত শহরের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মিশরের রাজধানী কায়রো, যার একিউআই স্কোর ছিল ২৫০। তালিকার তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল এবং এর ঠিক পরেই অবস্থান করছে ভারতের রাজধানী দিল্লি। প্রতিদিনের এই সূচক অনুযায়ী, বাতাসের মান যখন ৩০১-এর বেশি হয়, তখন তা মানবদেহের জন্য ‘বিপজ্জনক’ বা ‘চরম অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত হয়। ঢাকা আজ সেই বিপজ্জনক সীমা অতিক্রম করায় নগরবাসীর স্বাস্থ্যঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।
এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের মানদণ্ড বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, বায়ুর মান শূন্য থেকে ৫০ এর মধ্যে থাকলে তা ভালো এবং ৫১ থেকে ১০০ এর মধ্যে হলে তা মধ্যম মানের হিসেবে গণ্য করা হয়। কিন্তু ঢাকার বর্তমান স্কোর ৩০০ ছাড়িয়ে যাওয়ায় এটি জনস্বাস্থ্যের জন্য জরুরি সতর্কতা সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, মূলত শুষ্ক আবহাওয়ায় বাতাসে ধূলিকণা ও অন্যান্য দূষিত পদার্থের মিশ্রণ সহজে ছড়িয়ে পড়ে, যার ফলে দূষণের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।
বায়ুদূষণ বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, শীতকালীন শুষ্ক আবহাওয়া ছাড়াও অপরিকল্পিত নির্মাণকাজ, যানবাহনের ধোঁয়া এবং চারপাশের শিল্পকারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত বাতাস ঢাকার বায়ুমানকে দিন দিন আরও নাজুক করে তুলছে। এমন অস্বাস্থ্যকর পরিস্থিতিতে বিশেষ করে শিশু, বয়োজ্যেষ্ঠ এবং শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় ভোগা রোগীদের জন্য ঘরের বাইরে বের হওয়া অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। জরুরি প্রয়োজনে ঘরের বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহারের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। শহরের এই বিরূপ পরিবেশ মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদী এবং কার্যকর সরকারি পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।
স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ। এ বছর নভেম্বরে এ অর্জনের ফলে একদিকে অর্থনৈতিক উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং মানব সম্পদের উন্নয়নের স্বীকৃতি পাবে দেশ। অন্যদিকে শুল্কমুক্ত সুবিধা কমবে, বিদেশি রেয়াতি ঋণ পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে, পাশাপাশি বেশ কিছু চ্যালেঞ্জে পড়বে বাংলাদেশ। সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির কারণে ১২ লাখ মানুষ চাকরি হারিয়েছেন। আগামী ৬ মাসে আরো ১২ লাখ মানুষ কর্মসংস্থান হারাবে। মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীতে এলডিসি উত্তরণ নিয়ে আইসিসিবি আয়োজিত সেমিনারে এ আশঙ্কার কথা জানান ব্যবসায়ীরা।
এলিডিসি উত্তরণ নিয়ে আয়োজিত সেমিনারে বক্তারা বলেন, স্বল্প সুদে বিদেশি অর্থায়নের সুযোগ কমে আসবে। এতে চাপে পড়বে দেশের ব্যাংকিং খাত। প্রভাব মোকাবিলায় আর্থিক খাতকে প্রস্তুত করা জরুরি বলে মনে করেন আলোচকরা।
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘সুশাসনের অভাবে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে। আর খেলাপি কমাতে না পারলে ব্যাংকগুলো সমস্যায় পড়বে। এজন্য ব্যাংকিং খাতে নিয়মনীতির সঠিক বাস্তবায়ন প্রয়োজন।’
এফবিসিসিআই'র সাবেক সভাপতি একে আজাদ বলেন, ‘মনিটারি পলিসি টাইটেন (মুদ্রানীতি কঠোর করায়) করাতে কী হয়েছে- ১২ লক্ষ লোক চাকরি হারিয়েছে। এখন তারা বেকার এবং আমার মনে হয় আগামী ছয় মাসে আরও ১২ লক্ষ লোক চাকরি হারাবে যে অবস্থা চলছে তাতে।’
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, নীতি সুদহার ও মূল্যস্ফীতি কমাতে হলে খেলাপি ঋণ কমিয়ে আনতে হবে। ব্যাংক খাতে সুশাসন ফিরিয়ে আনার বিকল্প নেই বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, ‘এনপিএ (নন-পারফরমিং অ্যাসেট) কখনই কম (লো) ছিল না, এটা শুধু লোক দেখানো ছিল কাগজে-কলমে। বাস্তবে এটা বেশি-ই (হাই) ছিল। আমাদের কখনই সে কারণে ইনটারেস্ট রেট (সুদ হার) কম হতে পারে না, আমাকে যদি ইনটারেস্ট রেট কমাতে হয়, আমাকে এনপিএ-কে অ্যাকচুয়্যালি (সত্যিকার অর্থে) কমাতে হবে।’
বিগত আমলে ব্যাংক খাতের লুটপাট ও অর্থপাচার নিয়ে ব্যবসায়ীদের সংগঠনগুলোর নীরবতার সমালোচনা করেন গভর্নর।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দায়িত্ব পালনে সামরিক বাহিনী ও বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও নাগরিকবান্ধব আচরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রংপুর সার্কিট হাউসে সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।
সেনাপ্রধান বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের জন্য সামরিক-বেসামরিক প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
মতবিনিময় সভা শেষে তিনি নির্বাচনী দায়িত্বে মোতায়েন করা সেনাসদস্যদের কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। পরে শহীদ আবু সাঈদ স্টেডিয়ামে সেনাসদস্যদের দেওয়া বক্তব্যে সেনাপ্রধান সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সবাইকে নাগরিকবান্ধব আচরণের নির্দেশ দেন।
সেনাপ্রধানের রংপুর এরিয়া পরিদর্শনকালে জেনারেল অফিসার কমান্ডিং, আর্মি ট্রেনিং এন্ড ডকট্রিন কমান্ড, জিওসি, ৬৬ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার, রংপুর এরিয়া এবং সেনাসদর ও রংপুর এরিয়ার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি রংপুর বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
সংস্কার প্রস্তাব অগ্রাহ্য করে অন্তর্বর্তী সরকার উচ্চ ব্যয়ের মধ্য দিয়ে অপচয়ের পথ অনুসরণ করে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। তারা বলছে, জনগণের কর্মসংস্থান, খাদ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দ না বাড়িয়ে সরকারি পরিচলন ও প্রশাসনিক ব্যয়ে বরাদ্দ বাড়ানো হচ্ছে। এসব বরাদ্দ এবং দেশের জন্য ‘ক্ষতিকর’ আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষরের তৎপরতা নতুন নির্বাচিত সরকারকেও বিপদে ফেলবে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি এক বিবৃতিতে এসব অভিযোগ করেন। গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্যদের পক্ষে বিবৃতিটি পাঠান আনু মুহাম্মদ, মোশাহিদা সুলতানা, সামিনা লুৎফা, নাজমুস সাকিব, দিলীপ রায়, মাহতাব উদ্দীন আহমেদ, ফেরদৌস আরা রুমী, সজীব তানভীর, আবদুল্লাহ মাহফুজ, আকরাম খান, সীমা দত্ত, আফজাল হোসেন ও ফারহানা শারমীন।
বিবৃতিতে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি বলেছে, আগামী সরকারের মন্ত্রীদের জন্য ঢাকার মন্ত্রিপাড়ায় ৭২টি বিলাসবহুল ফ্ল্যাট নির্মাণে ৭৮৬ কোটি টাকার প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। এর আগে মন্ত্রীদের জন্য ৬০টি গাড়ি কেনার প্রস্তাব তীব্র সমালোচনার মুখে বাতিল হলেও নির্বাচনী দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের জন্য ২২০টি গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে। অথচ সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে দেখা যাচ্ছে যে ২০২৫ সালে দেশের সার্বিক দারিদ্র্য বেড়েছে। গত দেড় বছরে প্রায় কয়েক লাখ মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়েছেন।
নির্বাচনের মাত্র ১২ দিন আগে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে কনসেশন চুক্তি এবং নির্বাচনের ৬ দিন আগে জাপানের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করতে অন্তর্বর্তী সরকার গোপন তৎপরতা চালাচ্ছে বলেও বিবৃতিতে দাবি করা হয়। গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি বলছে, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর অন্তর্বর্তী সরকারের কাজ হলো সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করা। রুটিন কাজ ছাড়া নীতিনির্ধারণী কাজের কোনো এখতিয়ার বা যৌক্তিকতা এ সরকারের থাকে না। সব যুক্তি, তথ্য এবং জাতীয় স্বার্থ অগ্রাহ্য করে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল দীর্ঘমেয়াদে ইজারা দেওয়া ও যথাযথ আলোচনা ছাড়াই জাপানের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তির ব্যাপারে অন্তর্বর্তী সরকারের এই তৎপরতায় অস্বচ্ছতা, গোপনীয়তা এবং তাড়াহুড়া খুবই সন্দেহজনক। দেশের জন্য দীর্ঘ মেয়াদে ‘ক্ষতিকর ও বিপজ্জনক’ এসব তৎপরতায় কমিটির সদস্যরা উদ্বেগ ও নিন্দা জানান।
গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি বলেছে, সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবিত সুপারিশে আছে আন্তর্জাতিক চুক্তি স্বাক্ষরের আগে সংসদের উভয় কক্ষে আলোচনা করতে হবে। এখন দেশে সংসদ নেই, কাদের সঙ্গে আলোচনা করে অন্তর্বর্তী সরকার এমন গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেই প্রশ্ন রেখেছে কমিটি। তারা বলছে, এত তাড়াহুড়া করে, রাজনৈতিক দল ও জনগণের মতামত উপেক্ষা করে নির্বাচনের একদম আগ মুহূর্তে এসব দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষরের তৎপরতা বিগত স্বৈরাচারী সরকারের স্বেচ্ছাচারিতার কথাই মনে করিয়ে দেয়।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানপরবর্তী দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা স্থিতিশীল করতে এবং সংস্কার করার প্রতিশ্রুতিতে অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়েছিল উল্লেখ করে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি বলেছে, দেখা যাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার নিজেই সংস্কার মানছে না। বরং অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া জারি রেখে জনগণকে দীর্ঘমেয়াদি গভীর সংকটে ফেলছে।
গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্যরা বলছেন, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের চুক্তির ব্যাপারে উচ্চ আদালতে দায়ের করা রিট এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। এ পর্যায়ে সরকার কীভাবে তৎপরতা অব্যাহত রাখে, তা–ও প্রশ্ন। অন্যদিকে জাপান বিশ্ববাণিজ্য সংস্থাকে জানিয়েছে যে ২০২৯ সাল পর্যন্ত এলডিসি থেকে উত্তরণ হওয়া দেশগুলো জিএসপি সুবিধা পাবে। ফলে ২০২৯ সাল পর্যন্ত জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা এমনিতেই বাংলাদেশ পাবে। সে হিসাবে নির্বাচনের ৬ দিন আগে এই ধরনের বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্দেশ্য প্রশ্নবিদ্ধ। গত দেড় বছর ধরে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বেচ্ছাচারিতার ধারাবাহিকতা হচ্ছে এই সিদ্ধান্তগুলো।
বিভিন্ন দেশি–বিদেশি গোষ্ঠীর স্বার্থে অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ দেশের অর্থনীতিকে আরও ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলেও মনে করে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। তারা বলেছে, সরকারের রাজস্ব আয়ে বিপুল ঘাটতি ও পরিচালন ব্যয় ব্যাপক বৃদ্ধির প্রবণতার মধ্যেই সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ১৪২ শতাংশ বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।
সরকারের এই ধরনের চুক্তি ও আর্থিক অপচয়মূলক বরাদ্দের তৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ করার আহ্বান জানায় গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি মনে। একই সঙ্গে তারা আসন্ন নির্বাচনে অংশ গ্রহণকারী দল এবং জনগণকে সরকারের এসব সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জোর প্রতিবাদ করার আহ্বান জানায়।