সিলেট গ্যাসক্ষেত্রের ১০ নম্বর কূপে (অনুসন্ধান কূপ) গ্যাসের পাশাপাশি জ্বালানি তেলের সন্ধান পাওয়া গেছে। এখান থেকে দৈনিক ৫০০ থেকে ৬০০ ব্যারেল হারে তেল পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ। এ সময় বিজয়ের মাসে এটা সবার জন্য ‘বিরাট সুখবর’ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
আজ রোববার সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি এ ঘোষণা দেন।
সিলেট তামাবিল-জাফলং মহাসড়কের পাশে গোয়াইনঘাট উপজেলার আলীরগাঁও ইউনিয়নের বাঘের সড়ক এলাকায় অবস্থিত এই অনুসন্ধান কূপে দুই মাস আগে খনন কাজ শুরু করে সরকারি প্রতিষ্ঠান সিলেট গ্যাস ফিল্ডস লিমিটেড কোম্পানি। গত ১৪ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কূপটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী জানান, সিলেট-১০ নম্বর গ্যাসকূপে ২ হাজার ৫৭৬ মিটার গভীরতায় খনন সম্পন্ন হয়েছে। কূপটিতে তিনটি স্তরে গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এরমধ্যে সবচেয়ে নিচের স্তরটি ২ হাজার ৫৪০ থেকে ২ হাজার ৫৫০ মিটার পর্যন্ত পরীক্ষা করে ২৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের প্রবাহ পাওয়া গেছে; যার ফ্লোয়িং প্রেসার ৩ হাজার ২৫০ পিএসআই। গ্যাসের মজুদের পরিমাণ ৪৩ থেকে ১০০ বিলিয়ন ঘনফুট।
এ ছাড়া ২ হাজার ৪৬০ থেকে ২ হাজার ৪৭৫ মিটার গভীরে আরও একটি ভালো গ্যাস স্তর পাওয়া গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এখানে পরীক্ষা করলে ২৫ থেকে ৩০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাবে বলে আমরা আশা করছি। আর ২ হাজার ২৯০ থেকে ২ হাজার ৩১০ মিটার গভীরেও গ্যাসের উপস্থিতি পাওয়া যায়।
গ্যাস ছাড়াও ওপরের দিকে ১ হাজার ৩৯৭ থেকে ১ হাজার ৪৪৫ মিটার গভীরতায় আরও একটি জোন পাওয়া গেছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, যেখানে শুক্রবার (৮ ডিসেম্বর) পরীক্ষা করে তেলের উপস্থিতি পাওয়া যায়। যার প্রাথমিকভাবে এপিআই গ্রাভিটি ২৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি। সেলফ প্রেসারে প্রতি ঘণ্টায় ৩৫ ব্যারেল তেলের প্রবাহ পাওয়া যাচ্ছে। পরীক্ষা সম্পন্ন হলে মোট তেলের মজুত জানা যাবে।
একযোগে উৎপাদন করা হলে এই কূপটি প্রায় ৮ থেকে ১০ বছর সাসটেইন করবে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গড় ভারিত মূল্য হিসেবে এর মূল্য প্রায় ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। যদি ২০ মিলিয়ন ঘনফুট হারে উৎপাদন করা হয়, তাহলে কূপটি ১৫ বছরেরও বেশি সময় সাসটেইন করবে।’
এর আগে ১৯৮৬ সালে হরিপুরে তেলের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছিল উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সেই কূপটির স্থায়িত্ব ছিল পাঁচ বছর। সেখানে গ্রাভিটি পাওয়া গিয়েছিল এপিআই গ্রাভিটি ২৭ ডিগ্রি। এবার যে তেলের মজুত পাওয়া যাচ্ছে। সেই তেল পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে। এর এপিআই গ্রাভিটি ২৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি।’
প্রথম দিনে দুই ঘণ্টায় ৭০ ব্যারেলের মতো তেল উত্তোলন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তেল উত্তোলন আমরা আপাতত বন্ধ রেখেছি। এটা আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে, মোট মজুতের পরিমাণটা আমরা জানতে পারব। পুরো বিষয়টির বিস্তারিত জানতে আরও চার থেকে পাঁচ মাস সময় লাগবে।’
এ কূপে গ্যাস ও তেলের স্তর ভিন্ন উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে একটি ভালো দিক হলো গ্যাস ও তেলের স্তর ভিন্ন। আগে আমাদের গ্যাসের সঙ্গে কিছুটা তেল আসত। যেটা আমরা কনডেসার হিসেবে ব্যবহার করতাম। এখন তেলটা ভিন্ন স্তর হওয়ায় সেটা আরও ভালো হবে।’
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি কর্মীদের যাওয়ার সম্ভাব্য খরচের প্রক্রিয়ার বিষয়ে জানিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর দেশটিতে বাংলাদেশি কর্মী পাঠানোর বিষয়ে ইতিবাচক বার্তা দিয়েছেন।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে উইটনেস ফাউন্ডেশন আয়োজিত অভিবাসন সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব তথ্য জানান।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নভেম্বরের শুরুতেই মালয়েশিয়ার মেডিকেল প্রক্রিয়া শুরু হবে। দু–চার দিন পরে মেডিকেল করার পরেই কর্মীরা যেতে পারবে। নভেম্বরের এক তারিখ বা নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে আমরা বলতে পারি যে ফ্লাইট উইল স্টার্ট।’
নুরুল হক বলেন, ‘মালয়েশিয়ান কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ–আলোচনা সাপেক্ষে আমাদের মন্ত্রণালয় মেডিকেলগুলোর তালিকা ওয়েবসাইটে দিয়ে দেবে। এ তালিকা তারাও (মালয়েশিয়া) তাদের ওয়েবসাইটে দিয়ে দেবে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মেডিকেলের বিষয়ে আলাপ–আলোচনা হয়েছে এবং ৩১ তারিখের মধ্যে মালয়েশিয়া ফাইনালি ডিক্লেয়ার করবে তালিকা সেটা আমাদেরকে ব্যক্ত করেছে। মেডিকেল খরচটা আজকে আমরা বসে নির্ধারণ করে দেব। আর যাওয়ার ক্ষেত্রে মোটামুটি কত একটা খরচ হতে পারে। আশা করা যায়, নভেম্বরে এভরিথিং উইল বি ওপেন।’
নুরুল হক নুর বলেন, ‘বোয়েসেল থেকে আমরা যেটা আলাপ–আলোচনা করে দেখলাম ১ লাখ ৫৫ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকার মতো পড়তে পারে। আর প্রাইভেটেরটাও আমরা একটু এস্টিমেট করে তাদের সাথে আলাপ–আলোচনা করে নির্ধারণ করে দেব।’
শুধু একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন নয়, বরং ভবিষ্যতের সব নির্বাচন একই মানদণ্ডে আয়োজনের টেকসই সংস্কৃতি গড়ে তোলাই নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মূল লক্ষ্য।
একথা বলেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
তিনি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের যে নূন্যতম মানদণ্ড প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তা ধরে রাখার পাশাপাশি ভবিষ্যতের নির্বাচনগুলোতে আরও উন্নত মান নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা থাকবে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও একই মানদণ্ড বজায় রাখতে কমিশন বদ্ধপরিকর।
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে সিইসি বলেন, ‘শুধুমাত্র একটা ভালো নির্বাচন করাই আমাদের লক্ষ্য নয়। ভবিষ্যতে যাতে সবগুলো নির্বাচন সেই একই মানদণ্ডের হয়, সেই প্রচেষ্টা আমাদের থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনব্যবস্থা শুধু এককালীন আয়োজন নয়। একটা ভালো নির্বাচন করেই দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না। বরং দেশে একটা ভালো নির্বাচনের সংস্কৃতি আমাদেরকে গড়ে তুলতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে সব নির্বাচন ওই মানের হয়। সেই ব্যবস্থাটা আমাদের করতে হবে।’
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অর্জিত অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোও একই মানদণ্ডে আয়োজনের চেষ্টা থাকবে। সম্ভব হলে আরও ভালো নির্বাচন উপহার দেওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। এক্ষেত্রে সব অংশীজনের সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
চাপমুক্ত পরিবেশে কাজ করছে ইসি
গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানে কমিশনের দৃঢ় অঙ্গীকারের কথা তুলে ধরে সিইসি বলেন, এই অঙ্গীকারই কমিশনকে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছে।
তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট আয়োজন, তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর পোস্টাল ভোটিংয়ের মাধ্যমে প্রবাসী ও দেশের অভ্যন্তরে নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য এবং কারাবন্দীদের ভোট দেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। কমিশনের দৃঢ় অঙ্গীকারের কারণেই এসব কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। সিইসি বলেন, আমাদের কমিটমেন্টের মধ্যে কোনো খাদ নেই।
আসন্ন ইউপি নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত জাতীয় নির্বাচনের মতোই আগামী নির্বাচন আয়োজনের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী। কমিশনের ওপর কোনো পক্ষের চাপ নেই। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পেশাদারত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তারা সেভাবেই কাজ করছেন। তবে নির্বাচন সুষ্ঠু করতে প্রার্থীদের সহযোগিতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নভেম্বরে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ
স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যেই রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনায় বসার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান সিইসি।
তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীকে না হলেও প্রার্থীদের পেছনে রাজনৈতিক দলের সমর্থন থাকতে পারে। এ কারণে নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে রাজনীতিবিদদের সহযোগিতা প্রয়োজন।
সিইসি বলেন, ‘রাজনীতিবিদদের সহযোগিতা খুবই দরকার। এজন্য আমরা তাদের সঙ্গে বসার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। এই নভেম্বর মাসের মধ্যেই তাদের সঙ্গে বসব আমরা।’
তিনি বলেন, সুষ্ঠু নির্বাচন ছাড়া সুষ্ঠু গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। গণতন্ত্রকে টেকসই করতে এবং পূর্ণমাত্রায় গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের কোনো বিকল্প নেই। নির্বাচনে জালিয়াতি হলে তা প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পারে না।
ইউপি নির্বাচনে সিসি ক্যামেরা, কঠোর হবে আচরণবিধি
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন সিইসি। ভোটকেন্দ্র, ভোটার তালিকা, নির্বাচনী কর্মকর্তা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত রয়েছে। ভোটার তালিকা হালনাগাদের জন্য ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত সময় রাখা হয়েছে।
তিনি জানান, আইনগতভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ এবং আদালতের নির্দেশনার আওতায় থাকা ইউনিয়ন পরিষদগুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রতি ধাপে প্রায় ৮০০ থেকে ১ হাজার ইউপিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে।
ইউপি নির্বাচনে সহিংসতাকে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে সিইসি বলেন, অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনা বেশি ঘটে। এ কারণে আচরণবিধি বাস্তবায়নে কমিশনের ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে বিশেষ নজরদারি জোরদার করা হবে।
তিনি বলেন, প্রত্যেক ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের শরীরে সংযুক্ত করা ক্যামেরাও থাকবে। এতে নির্বাচনে সহিংসতা বা অনিয়মের ঘটনা ঘটলে তা রেকর্ডে থাকবে।
সিইসি বলেন, ‘আচরণবিধি আমরা কঠোরভাবে বাস্তবায়নের চেষ্টা করব। এ ব্যাপারে কাউকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।’
নির্বাচন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করতে কমিশনের প্রস্তুতি অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
আমরা দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই নির্বাচন কমিশনের প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে আনার বিষয়টিকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান সিইসি।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের নভেম্বরের শেষ দিকে দায়িত্ব গ্রহণের পর দ্রুত মূল্যায়নে দেখা যায়, নির্বাচন কমিশন এবং সামগ্রিক নির্বাচনব্যবস্থার ওপর মানুষের আস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গিয়েছিল। বিশেষ করে ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচন নিয়ে মানুষের মধ্যে ভোটাধিকার প্রয়োগ এবং ভোটকেন্দ্রে নিরাপদে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ ছিল।
সিইসি বলেন, মানুষের হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনা, নির্বাচন কমিশনকে আস্থার প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা এবং নির্বাচনব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা পুনঃপ্রতিষ্ঠাকে কমিশন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
এ লক্ষ্য অর্জনে ভোটার তালিকা হালনাগাদের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য প্রায় ৭৭ হাজার কর্মী নিয়োগ ও তাদেরকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
তিনি জানান, এ কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রায় ১০ লাখ নারী ভোটারকে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং ২১ লাখের বেশি মৃত ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
সিইসি বলেন, ভোটার তালিকার নির্ভুলতা নিশ্চিত করা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখা মানুষের আস্থা ফেরানোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
স্বচ্ছতা ও অংশীজনদের সহযোগিতায় গুরুত্ব
ভবিষ্যতে ভালো নির্বাচনের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে মানুষের আস্থা ধরে রাখা, প্রতিটি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং সব অংশীজনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন সিইসি।
তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের প্রতিটি পদক্ষেপ এমন হতে হবে, যাতে মানুষ নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পায় এবং কোনো ধরনের অনিয়ম বা গোপনীয়তার সুযোগ না থাকে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল, ভোটার, নাগরিক সমাজ ও সাংবাদিকদের সহযোগিতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও সবার সহযোগিতা কমিশনকে দায়িত্ব পালনে সহায়তা করেছে। ভবিষ্যতের নির্বাচনেও এই সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে হবে।
সাংবাদিকদের নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের সুযোগ প্রসঙ্গে সিইসি বলেন, সাংবাদিকদের জন্য কমিশনের দরজা উন্মুক্ত। তারা ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। তবে সাংবাদিকের সংখ্যা বেশি হওয়ায় সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার স্বার্থে নীতিমালা অনুসরণ করে পরিচয়পত্র দেওয়া হবে।
জাতীয় পর্যায়ের সাংবাদিকদের পরিচয়পত্র কমিশন থেকে দেওয়া হবে। স্থানীয় পর্যায়ের সাংবাদিকদের ক্ষেত্রে প্রেস ক্লাবের সাথে আলোচনা করে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তা কার্ড দেওয়ার ব্যবস্থা করবেন।
তিনি বলেন, কমিশন সব সময় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে চায় এবং নির্বাচনী কার্যক্রমে সাংবাদিকদের কার্যকর ও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রত্যাশা করে।
অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তিতে বিশেষ ব্যবস্থা
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে স্থানীয় পর্যায়ে অভিযোগ প্রতিকারব্যবস্থা কার্যকর রাখার কথা জানান সিইসি।
তিনি বলেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, বিচারিক ম্যাজিস্ট্রেট এবং নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির মাধ্যমে অভিযোগের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। নির্বাচনী অনিয়মের প্রতিকার যেন স্থানীয় পর্যায়েই দ্রুত পাওয়া যায়, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চায় কমিশন।
কালো টাকা ব্যবহার ও ভোট কেনার বিষয়ে তিনি বলেন, এসব অনিয়মের খবর পাওয়া গেলে আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সিইসি বলেন, নির্বাচন সুষ্ঠু করতে সব পক্ষের দায়িত্বশীল আচরণ জরুরি। সব অংশীজন নিয়ম মেনে নির্বাচনী মাঠে থাকলে কমিশনের জন্য অনিয়ম প্রতিরোধ করা সহজ হবে।
১০ মাস থেকে এক বছরে সব স্থানীয় সরকার নির্বাচন
ইতিহাস ও বাস্তব অভিজ্ঞতা বিবেচনায় দেশের সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন সম্পন্ন করতে প্রায় ১০ মাস থেকে এক বছর সময় লাগতে পারে বলে জানিয়েছেন সিইসি।
তিনি বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে এ কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে। গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সেবা গ্রহণ করেন। নির্বাচন না হওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠানের সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এছাড়া উপজেলা পরিষদসহ কয়েকটি স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের কাঠামো ও কার্যক্রমের সাথে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সম্পর্ক রয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের ভূমিকা প্রয়োজন হয়। এ কারণেও ইউপি নির্বাচনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
সিইসি জানান, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পরপরই পৌরসভা নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে বিভিন্ন পরীক্ষা, বিশেষ করে এসএসসি পরীক্ষা এবং বর্ষা মৌসুমের সম্ভাব্য বন্যার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচনী সময়সূচি নির্ধারণ করতে হবে।
তিনি আরও জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী থাকবে না।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নারী প্রার্থীর সংখ্যা বাড়ানোকে একটি বড় সামাজিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেন সিইসি।
তিনি বলেন, নারী ভোটার পাওয়া গেলেও প্রার্থী হিসেবে নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা তুলনামূলক কঠিন। পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের নিরুৎসাহিত করা, সামাজিক প্রতিবন্ধকতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হয়রানিমূলক প্রচারণা নারীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে।
এ পরিস্থিতির পরিবর্তনে ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচার প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি। এক্ষেত্রে শুধু নির্বাচন কমিশনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; রাজনৈতিক দলসহ সমাজের বিভিন্ন পক্ষকে এগিয়ে আসতে হবে।
সিইসি বলেন, জাতীয় নির্বাচনের ক্ষেত্রে ২০৩০ সালের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোতে এক-তৃতীয়াংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার লক্ষ্য আইনে রাখা হয়েছে। তবে আইন প্রণয়নের পাশাপাশি বাস্তবায়নে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন।
তরুণ ভোটারদের জন্য বিশেষ সুযোগ
তরুণদের ভোটাধিকার প্রয়োগে উৎসাহিত করতে ভোটার হওয়ার সুযোগ সম্প্রসারণের কথা জানান সিইসি।
তিনি বলেন, ৩১ অক্টোবরের মধ্যে যাদের বয়স ১৮ বছর পূর্ণ হবে, তারা ভোটার হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। আগে বছরের ১ জানুয়ারিকে ভিত্তি ধরে বয়স গণনা করা হলেও এবার নতুন সুযোগের ফলে আরও বেশি তরুণ ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হতে পারবেন।
তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে আরও অংশগ্রহণমূলক করতে সহায়তা করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সব পক্ষের সহযোগিতায় সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রত্যাশা
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে আয়োজন করতে সব অংশীজনের সহযোগিতা কামনা করেন সিইসি।
তিনি বলেন, নির্বাচনে সব পক্ষের দায়িত্বশীল আচরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কমিশন অনিয়ম ও সহিংসতা প্রতিরোধে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাবে। একইসাথে রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক ও ভোটারদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে কমিশন।
সিইসি বলেন, কমিশন নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ভোটাররা যেন নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারেন, তা নিশ্চিত করাই কমিশনের অন্যতম লক্ষ্য।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও সহযোগিতার মাধ্যমে একটি সুন্দর, গ্রহণযোগ্য ও মানসম্মত স্থানীয় সরকার নির্বাচন উপহার দেওয়া সম্ভব হবে। সূত্র: বাসস
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে বুধবার (২৮ অক্টোবর) সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর কর্মপরিকল্পনার ওপর জোর দেন এবং সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের ব্যাপারে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
গাড়ির ত্রুটিমুক্ত অবস্থা এবং চালকদের মনোভঙ্গির প্রসঙ্গ টেনে সড়কমন্ত্রী বলেন, “চালকদের আচরণ পরিবর্তন কিংবা গাড়ির ফিটনেস নিয়ে কথা বললেই অনেকে ক্ষুব্ধ হন। অথচ সড়কে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমাতে এসব বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। কেউ যদি বলতে পারেন, যোগাযোগ মন্ত্রণালয় কোন কাজটি করলে সড়কে একটি প্রাণও ঝরবে না, তাহলে আমরা তা করতে প্রস্তুত। সরকারও সেই দায়িত্ব নিতে চায়।”
অনুষ্ঠানে বক্তব্য চলাকালে উপস্থিত চালকদের একাংশ হট্টগোল শুরু করলে তাদের শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, “পরিবহন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যেভাবে মেজাজ হারাচ্ছেন, স্টিয়ারিংয়ে বসেও যদি এভাবে মেজাজ হারান, তাহলে দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হবে না। সবার কথা শুনতে হবে, তা মানতে হবে এবং সে অনুযায়ী কাজ করতে হবে। নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠায় কেউ কারও প্রতিপক্ষ নন; বরং সবারই দায়িত্ব রয়েছে।”
সড়কপথে প্রাণহানির পরিসংখ্যানের সার্বিক মূল্যায়ন প্রসঙ্গে শেখ রবিউল আলম বলেন, “প্রতিদিনই আশঙ্কাজনক হারে মানুষ সড়কে মারা যাচ্ছেন। তবে সব দুর্ঘটনাকেই সড়ক দুর্ঘটনা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসা প্রয়োজন। প্রত্যন্ত অঞ্চলে কোনো ভ্যান উল্টে খাদে পড়ে কেউ মারা গেলে তার দায় সরাসরি সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের ওপর চাপানোর দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন আনতে হবে।”
চালক সংকট ও সচেতনতার ঘাটতি চিহ্নিত করে তিনি বলেন, “এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দক্ষ ও যোগ্য চালক নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য পরিবহন মালিক সমিতির দায়িত্বশীল নেতাদের এগিয়ে আসতে হবে। পরিবহন খাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও পরিবর্তন চান। তবে কিছু ক্ষেত্রে রাতারাতি পরিবর্তন আনা সম্ভব হচ্ছে না। তার অর্থ এই নয় যে সরকার হাল ছেড়ে দিয়েছে। যে কোনো মূল্যে নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠা করতে চায় সরকার।”
আন্তর্জাতিক প্রতিশ্রুতির বিষয়ে আলোকপাত করে তিনি আরও বলেন, “সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ, পরিকল্পনা ও কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে, যেগুলোর বাস্তবায়ন চলছে। জাতিসংঘে বাংলাদেশ সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় আহত ও নিহতের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার করেছে। সেই লক্ষ্য অর্জনে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। একে অপরের ওপর দায় চাপানোর সংস্কৃতি থেকেও বেরিয়ে আসতে হবে।”
শহরাঞ্চলে অটোরিকশার বিস্তার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “অটোরিকশার কারণে জনজীবনে সমস্যা তৈরি হওয়া নিয়ে অনেকে আপত্তি জানান। কিন্তু যারা এর বিরোধিতা করেন, তাদের মধ্যে কতজন নিজেরা অটোরিকশায় ওঠা বন্ধ করেছেন, সেই প্রশ্নও বিবেচনায় নেওয়া দরকার।”
একইভাবে ফুটপাত অবৈধভাবে দখল হওয়া এবং পথচারীদের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির বিষয়ে আত্মোপলব্ধির তাগিদ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, “প্রত্যেকে নিজের অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন না করলে দেশের আমূল পরিবর্তনের প্রত্যাশা বাস্তবায়ন কঠিন হবে। এ জন্য জনসচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধও জরুরি।”
পরিবহন খাত সংশ্লিষ্ট সকলকে সরকারের সঙ্গে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা কোথায় কী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, তা চিহ্নিত করে প্রস্তাব দিলে সরকার তা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবে। শুধু সরকারের ওপর দায় না চাপিয়ে সবাই নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্ব পালন করলেই নিরাপদ সড়ক প্রতিষ্ঠার পথ সহজ হবে।”
উক্ত সভায় আরও বক্তব্য উপস্থাপন করেন সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রকিবুল ইসলাম, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. শামছুর রহমান শিমুল বিশ্বাস এবং সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আব্দুর রউফ। এছাড়া অংশীজনদের মধ্যে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি ফারুক তালুকদার সোহেল, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আবদুর রহিম বক্স দুদু ও সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির খান এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল আলম।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পূর্ণ অবাধ, প্রভাবমুক্ত ও নিরপেক্ষ পরিবেশে সম্পন্ন করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। বুধবার সকালে রাজধানীর বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল প্রাঙ্গণে ‘বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ঠাকুরগাঁও-১ সংসদীয় আসনের উপনির্বাচন যেভাবে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য পরিবেশে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, ঠিক সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই আগামী জানুয়ারি থেকে শুরু হতে যাওয়া স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচনও নিরপেক্ষভাবে পরিচালনা করা হবে।
নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় প্রভাব খাটানোর সুযোগ নেই জানিয়ে তিনি বলেন, চলমান উপনির্বাচনে সরকার কোনো ধরনের অযাচিত হস্তক্ষেপ করছে না। একইভাবে তৃণমূলের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনগুলোতেও উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসন কঠোর ভূমিকা রাখবে। জনগণের ভোটাধিকার হরণ করার কোনো মানসিকতা বর্তমান বিএনপি সরকারের নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, দুই দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র উন্মোচিত হবে।
আজ জাপানের স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেটরো) প্রেসিডেন্ট কাতাওকা সুসুমুর সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ সহযোগিতা চান।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ কথা জানান।
বৈঠকে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, রপ্তানি বহুমুখীকরণ, দক্ষতা উন্নয়ন এবং দুই দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণে জেটরোর ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, ‘বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগের নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে উন্নত উৎপাদনশিল্প, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি), অটোমোবাইল, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে জাপানী বিনিয়োগ চায় বাংলাদেশ।’
বৈঠকে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে উভয় পক্ষ একমত হয়।
এ ছাড়া বাংলাদেশের দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি এবং জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণকেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় সহযোগিতার জন্য জাপানের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। এসব উদ্যোগ জাপানে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় করতে সহায়ক হবে বলে বৈঠকে উল্লেখ করা হয়।
জেটরোর প্রেসিডেন্ট কাতাওকা সুসুমু বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে দেশটি বিনিয়োগের জন্য সম্ভাবনাময়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কারণে ইতোমধ্যে বাংলাদেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগে জাপানি কোম্পানিগুলোর আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
বৈঠক শেষে জেটরোর প্রেসিডেন্ট কাতাওকা সুসুমুর আমন্ত্রণে তাঁর আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ।
এ সময় দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কাতাওকা সুসুমুকে তাঁর সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
এ সময়ে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম. রশিদুজ্জামান মিল্লাত, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান ও প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিবসহ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সূত্র: বাসস
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জাপান ব্যাংক ফর ইন্টারন্যাশনাল কো-অপারেশনের (জেবিআইসি) গভর্নর আমাকাওয়া কাজুহিকো।
বুধবার জাপানের টোকিওতে স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) এবং অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়। এ সময় বাংলাদেশে জেবিআইসির একটি কার্যালয় খোলার বিষয়েও আলোচনা হয়।
বাংলাদেশে জেবিআইসির একটি কার্যালয় খোলার জন্য অনুরোধ জানানো হলে প্রতিষ্ঠানটির গভর্নর প্রস্তাবটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন বলে জানান।
প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ কথা জানান।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে এবং বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ ও সহযোগিতার জন্য জেবিআইসির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, জেবিআইসির অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্পগুলো বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিনিয়োগবান্ধব নীতি প্রণয়ন এবং ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বাংলাদেশ সরকার ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন বিধিবিধান সংস্কার ও সহজীকরণের উদ্যোগ নিয়েছে।’
বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী ড. শাকিরুল ইসলাম খান এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন প্রমুখ। সূত্র: বাসস
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্প্রসারণে জাপানের বিশ্বখ্যাত পোশাক প্রস্তুতকারক ও খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ইউনিক্লোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
আজ বুধবার জাপানের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় ইউনিক্লোর মূল প্রতিষ্ঠান ফাস্ট রিটেইলিং কোম্পানি লিমিটেডের চেয়ারম্যান, প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) তাদাশি ইয়ানাইয়ের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ কথা জানিয়েছেন।
তিনি জানান, সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রতি ইউনিক্লোর আস্থা এবং ফাস্ট রিটেইলিংয়ের সাথে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পৃক্ততার প্রশংসা করেন।
এ সময় বাংলাদেশের তৈরি পোশাকশিল্পে আরও বিনিয়োগের জন্য ইউনিক্লোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়। বিশেষ করে ম্যান-মেড ফাইবার (কৃত্রিম তন্তু), টেকনিক্যাল টেক্সটাইল এবং টেকসই পোশাক উৎপাদন খাতে বিনিয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।
এছাড়া প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন, পণ্যে উদ্ভাবন, উন্নত উৎপাদনব্যবস্থা এবং পরিবেশবান্ধব উৎপাদন প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে ইউনিক্লোর কার্যক্রম সম্প্রসারণে সরকার প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত। এ ক্ষেত্রে জমির ব্যবস্থা, বিনিয়োগ অনুমোদন এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন প্রক্রিয়া সহজীকরণে সহযোগিতার কথা তুলে ধরেন তিনি।
বৈঠকে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) বাস্তবায়নের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করে উভয় পক্ষ। এ চুক্তি দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক সম্প্রসারণে সহায়ক হবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়।
সাক্ষাতে বাংলাদেশের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, ইনভেস্ট বাংলাদেশের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান এবং প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
জাপানি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে আরও উপস্থিত ছিলেন ফাস্ট রিটেইলিং কোম্পানি লিমিটেডের পরিচালক তাকেশি ওকাজাকি এবং প্রতিষ্ঠানটির গ্রুপ সিনিয়র এক্সিকিউটিভ অফিসার ইয়োশিহিরো কুনিই। সূত্র: বাসস
‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরের বক্তব্য সরকারের অবস্থান নয় জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘সরকার তো ক্রসফায়ার চায় না; বরং সরকার ক্রসফায়ারের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স।’ গত সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাজধানীর পুরান ঢাকার চকবাজারে এক অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ‘ক্রসফায়ার’ করা হবে। তিনি বলেন, পুলিশ বলপ্রয়োগ করলে এক পক্ষ পুলিশকে ফ্যাসিস্ট বলে, আবার নিষ্ক্রিয় থাকলে দুর্বল বলে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত পরিবেশ দিতে হবে।
এ বিষয়ে মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘উনি (আইজিপি) সহজ–সরল মানুষ। আইনের কঠোর প্রয়োগের বিষয়ে বলতে গিয়ে অসতর্কতাবশত বলে ফেলেছেন। এটা ঠিক হয়নি, উচিত হয়নি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, সরকার তো ক্রসফায়ার চায় না; বরং সরকার ক্রসফায়ারের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স। সরকার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হতে দেবে না, এ বিষয়ে সরকার অত্যন্ত কঠোর। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, কাস্টডিয়াল ডেথ (পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু) সহ্য করবে না।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আইনের শাসন সরকারের প্রধান লক্ষ্য এবং আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। এ পর্যন্ত ক্রসফায়ারে মৃত্যু এবং হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। তবে অপরাধ দমন এবং আইনের যথাযথ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকার যা যা দরকার, সব করবে।
এর আগে দুপুরে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ বিষয়ে কথা বলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির বক্তব্য সরকারের জন্য বিব্রতকর বলে মন্তব্য করেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, যে বিএনপি দীর্ঘদিন গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, সেই দলের সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় পুলিশপ্রধানের মুখে ক্রসফায়ারের কথা তাদের ভাবিয়ে তুলছে।
সোমবার ‘সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে ক্রসফায়ার করা হবে’— আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরের এই বক্তব্যের পরপর তাৎক্ষণিকভাবে জামায়াত, এনসিপি, ইসলামী আন্দোলন, এবি পার্টিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন তীব্র প্রতিক্রিয়া ও ক্ষোভ জানায়।
আইজিপির বক্তব্য নিয়ে সমালোচনার মধ্যে সোমবার সন্ধ্যায় পুলিশ সদর দপ্তর একটি ব্যাখ্যা দেয়। তাতে বলা হয়, আইজিপি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে শাস্তি দেওয়ার অর্থে ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি ব্যবহার করেননি। অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইন প্রয়োগের কঠোরতা বোঝাতে তিনি শব্দটি ব্যবহার করেছেন।
বাংলাদেশে স্বাস্থ্যসেবা, স্বাস্থ্য গবেষণা, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য এবং আধুনিক চিকিৎসা অবকাঠামোর উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জোবাইদা রহমান। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) জাপানের টোকিওতে স্থানীয় সময় বিকেলে সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক স্বাস্থ্যবিষয়ক সেমিনারে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই আহ্বান জানান।
ডা. জোবাইদা রহমান বলেন, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষাকে সবচেয়ে বেশি অগ্রাধিকার দিচ্ছে। সবার জন্য সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, সরকারি স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়ানো, নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ এবং পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য স্বাস্থ্য ও শিক্ষার সুযোগ বাড়াতে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষা, সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুযোগ বৃদ্ধি, পরিবারভিত্তিক সামাজিক সহায়তা এবং ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর মতো উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।
স্বাস্থ্যসেবাকে নিজের পেশাগত ও ব্যক্তিগত আগ্রহের জায়গা উল্লেখ করে ডা. জোবাইদা রহমান বলেন, মানুষের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ক্রমাগত বিকশিত হচ্ছে। দুই দেশের অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে স্বাস্থ্য ও সামাজিক খাতের নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সুযোগ রয়েছে।
শিশুদের সুস্থ পরিবেশে বেড়ে ওঠার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, শিশুদের সঠিক বিকাশ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ও জাপান উভয় দেশই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্য অর্জনে একটি টেকসই সামাজিক ব্যবস্থা, শক্তিশালী অর্থনীতি, মানসম্মত শিক্ষা এবং সহিংসতা ও দারিদ্র্য থেকে মানুষকে সুরক্ষা দেওয়া প্রয়োজন।
বিশ্বব্যাপী আন্তঃসংযোগ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য কূটনীতির গুরুত্ব তুলে ধরে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ সুনিশ্চিত করতে স্বাস্থ্য কূটনীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বাংলাদেশে মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যের উন্নয়নে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং জনকল্যাণমূলক ফাউন্ডেশনগুলোর অবদানকেও তিনি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেন।
চিকিৎসক হিসেবে বাংলাদেশে নিজের পেশাগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে জোবাইদা রহমান বলেন, উপযুক্ত স্বাস্থ্যনীতি বাস্তবায়ন, স্বাস্থ্য গবেষণার অগ্রগতি এবং আধুনিক চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে।
শিশু ও ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের নিরলস প্রচেষ্টার প্রশংসা করে ডা. জোবাইদা রহমান বাংলাদেশে তাদের কার্যক্রম আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান। একইসঙ্গে স্বাস্থ্য খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আরও বেশি অর্থ ও সার্বিক সহযোগিতা নিয়ে এগিয়ে আসতে ফাউন্ডেশনটির প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদে টেকসই স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে যেকোনো উদ্যোগে বাংলাদেশ সরকার পূর্ণ সহযোগিতা ও সমর্থন দিতে প্রস্তুত।
সেমিনারে নিপ্পন ফাউন্ডেশন ও সাসাকাওয়া পিস ফাউন্ডেশনের অনারারি চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়াসহ দুই দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
বন্ধুত্বের সম্পর্ক এবার বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের বড় সম্ভাবনায়। জাপানের কাছ থেকে আগামী পাঁচ বছরে এক ট্রিলিয়ন ইয়েনের বেসরকারি বিনিয়োগ এবং এর মাধ্যমে দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনা দেখছে বাংলাদেশ। পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তায় ৫০ বিলিয়ন ইয়েনের জরুরি ঋণসহায়তা, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর ঘিরে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা, দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্ক, তথ্যপ্রযুক্তি এবং আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের টোকিও সফরে দুই দেশের শীর্ষ বৈঠক ও যৌথ সংবাদ সম্মেলনে উঠে এসেছে অর্থনৈতিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার অঙ্গীকার। তবে প্রতিশ্রুতির এই বিশাল সম্ভাবনাকে বাস্তব বিনিয়োগ, নতুন চাকরি ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে রূপ দেওয়াই হবে বাংলাদেশের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠক শেষে দুই দেশের প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে বিনিয়োগ, বাণিজ্য, জ্বালানি, প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও নিরাপত্তা সহযোগিতা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। যৌথ সংবাদ সম্মেলনেও দুই নেতা দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির শক্তিতে রূপ দেওয়ার প্রত্যয় জানান।
বন্ধুত্ব হোক সমৃদ্ধির চালিকাশক্তি: যৌথ সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে অর্থনৈতিক সুযোগ, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ও অভিন্ন সমৃদ্ধির নতুন ভিত্তিতে দাঁড় করানোর ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, দুই দেশের বন্ধুত্বকে অর্থনৈতিক সুযোগ ও অভিন্ন সমৃদ্ধির শক্তিশালী চালিকাশক্তিতে রূপান্তর করাই তাঁদের লক্ষ্য।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে জাপানের ধারাবাহিক উন্নয়ন সহযোগিতার কথা স্মরণ করে তারেক রহমান অবকাঠামো, জ্বালানি, মানবসম্পদ উন্নয়ন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগে জাপানের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। তাঁর মতে, দুই দেশের বিদ্যমান আস্থা ও সহযোগিতাকে কাজে লাগিয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার সুযোগ রয়েছে।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা কাজে লাগাতে জাপানি ব্যবসায়ী, বিনিয়োগকারী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষ কর্মসংস্থান এবং পারস্পরিকভাবে লাভজনক ব্যবসায়িক উদ্যোগের মাধ্যমে দুই দেশের অর্থনীতি উপকৃত হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
বাংলাদেশকে আঞ্চলিক উৎপাদন, প্রযুক্তি ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তারেক রহমান। এ লক্ষ্য অর্জনে জ্বালানি অবকাঠামো, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, আধুনিক পরিবহন এবং শিল্পায়নে জাপানের অভিজ্ঞতা ও বিনিয়োগ কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ।
বাংলাদেশকে গভীরভাবে সমর্থন করে জাপান: বাংলাদেশকে গভীরভাবে সমর্থন করে জাপান বলে মন্তব্য করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বে অব বেঙ্গল ঘিরে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদারে আগ্রহী টোকিও। তিনি আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশে এ বিনিয়োগের সম্ভাবনাকে স্বাগত জানিয়েছেন। এর মাধ্যমে দুই লাখ কর্মসংস্থান সৃষ্টির সম্ভাবনাও তুলে ধরেছেন তিনি।
বাংলাদেশি মুদ্রায় বিনিময় হারভেদে এ বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৭৭ হাজার কোটি টাকা। উৎপাদনশিল্প, কৃষি ও খাদ্য, তথ্যপ্রযুক্তি, ওষুধশিল্প এবং জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ বাড়লে নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং দক্ষ জনশক্তির কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তাকাইচি। জবাবে তারেক রহমান করব্যবস্থা, শুল্ক ছাড়করণ, অর্থ স্থানান্তর, লাইসেন্স প্রদান ও ব্যবসায়িক কার্যক্রম সহজ করার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও দক্ষতা বাড়ানোর অঙ্গীকার করেছেন।
দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও কার্যকর করতে জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের মধ্যে সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরকেও স্বাগত জানিয়েছেন দুই নেতা। অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশে জাপানি ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল পাঠানো এবং অর্থনৈতিক সংলাপ আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
জ্বালানি সংকটে ৫০ বিলিয়ন ইয়েনের ঋণসহায়তা: বিনিয়োগের দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনার পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তায় জরুরি সহায়তাও বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রাপ্তি। জাপানের ‘পাওয়ার এশিয়া’ উদ্যোগের আওতায় বাংলাদেশকে ৫০ বিলিয়ন ইয়েনের জরুরি সহায়তা ঋণ দেওয়ার বিষয়টি দুই দেশের আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। ডলারের বিনিময় হারভেদে এর পরিমাণ প্রায় ৩২ কোটি ডলার।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ সহায়তার জন্য জাপানকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। অন্যদিকে, বাংলাদেশের জ্বালানি সরবরাহ ও চাহিদার ব্যবধান কমাতে অবকাঠামো উন্নয়নে জাপানের সমর্থন অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন তাকাইচি।
শিল্প উৎপাদন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতি ধরে রাখতে নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে জ্বালানি অবকাঠামো, দক্ষ বিদ্যুৎ উৎপাদন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং সরবরাহব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়ানোর সহযোগিতা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
অবকাঠামো উন্নয়নে বাংলাদেশের অন্যতম প্রত্যাশা মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরকে ঘিরে একটি বৃহৎ শিল্প ও লজিস্টিকস কেন্দ্র গড়ে তোলা। যৌথ বিবৃতিতে মাতারবাড়ী-মহেশখালী এলাকাকে জ্বালানি, শিল্প ও বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করতে একসঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল দ্রুত চালুর প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া, এমআরটি লাইনগুলোর নির্মাণ ত্বরান্বিত করা এবং গভীর সমুদ্রবন্দরের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।
তারেক রহমান দেশের ছয়টি প্রধান বিভাগীয় শহরকে যুক্ত করে দ্রুতগতির রেল নেটওয়ার্ক এবং দেশব্যাপী উড়াল সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন। এসব প্রকল্পের পরিকল্পনা, কারিগরি সহায়তা, বিনিয়োগ ও অর্থায়নে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ।
এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ, পণ্য পরিবহন এবং শিল্পাঞ্চলগুলোর সঙ্গে বন্দর ও বাজারের সংযোগ উন্নত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে দ্রুতগতির রেল ও উড়াল সড়কের মতো বৃহৎ প্রকল্পের অর্থায়ন, নকশা ও বাস্তবায়নসূচি নির্ধারণে আরও প্রস্তুতি প্রয়োজন।
প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির বিকাশে বাংলাদেশ-জাপান টেক পার্ক প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দিয়েছেন তারেক রহমান। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং, রোবোটিকস ও ইলেকট্রনিকস উৎপাদনের মতো খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্য রয়েছে।
এ ছাড়া মহাকাশবিজ্ঞান ও স্যাটেলাইট প্রকৌশলসহ উন্নত প্রযুক্তিতে জাপানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, গবেষণা এবং উচ্চমূল্য সংযোজনকারী শিল্পের বিকাশে সুযোগ তৈরি হতে পারে।
বাণিজ্য সম্প্রসারণেও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) স্বাক্ষরকে স্বাগত জানিয়েছেন দুই নেতা। চুক্তিটি দ্রুত কার্যকর করার অঙ্গীকারের পাশাপাশি শিল্পের বহুমুখীকরণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহযোগিতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
কৃষি, বন ও মৎস্য খাতে পৃথক সহযোগিতা স্মারক এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে বিনিয়োগ বাড়ানোর উদ্যোগও আলোচনায় এসেছে।
রোহিঙ্গা সংকট থেকে সামুদ্রিক নিরাপত্তা: অর্থনৈতিক সহযোগিতার বাইরে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তার বিষয়েও দুই দেশের অবস্থান উঠে এসেছে। মিয়ানমারের অবনতিশীল পরিস্থিতি এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দুই প্রধানমন্ত্রী। বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য জাপানের মানবিক সহায়তার সমর্থন অব্যাহত রাখার কথাও জানিয়েছেন তাকাইচি।
তারেক রহমান বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান মিয়ানমারেই নিহিত। রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছায়, নিরাপদে, মর্যাদার সঙ্গে ও টেকসই উপায়ে নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের ওপর জোর দিয়েছেন দুই নেতা।
প্রতিরক্ষা ও সামুদ্রিক নিরাপত্তায় সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও একমত হয়েছে দুই দেশ। জাপানের সরকারি উন্নয়ন সহায়তায় একটি টহল জাহাজ এবং সরকারি নিরাপত্তা সহায়তা কর্মসূচির আওতায় পাঁচটি টহল নৌযান দেওয়ার বিষয়টি যৌথ বিবৃতিতে স্বাগত জানানো হয়েছে।
এদিকে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) তারেক রহমানের সঙ্গে থাকা কয়েকটি ছবিসহ ওই পোস্ট দেয় সানায়ে তাকাইচির ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে।
পোস্টের ক্যাপশনে জানানো হয়, ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট’ বা ‘বিগ-বি’ উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিয়ে ‘সমৃদ্ধি ভাগাভাগির বিগ-বি’ নামে নতুন সহযোগিতা উদ্যোগ বাস্তবায়নে দুই দেশ একমত হয়েছে।
সানায়ে তাকাইচির ফেসবুক পোস্টটি হুবহু নিচে দেয়া হলো- ‘আজ জাপান সফররত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠক করেছি। ‘গণতন্ত্র’ ও ‘আইনের শাসন’-এর মতো মূল্যবোধে বিশ্বাসী বন্ধু হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য সরাসরি অভিনন্দন জানাতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।
‘গণতান্ত্রিক সাধারণ নির্বাচনের’ মধ্য দিয়ে গঠিত তারেক রহমানের সরকারের দেশ গঠনের প্রচেষ্টায় জাপান জোরালো সমর্থন দিয়ে যাবে। আজ এ বিষয়গুলো সামনে রেখে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছি।
‘অবাধ ও উন্মুক্ত ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল’ (এফওআইপি) প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। এবার দুই দেশের সহযোগিতার মূল ভিত্তি ‘বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট’ বা ‘বিগ-বি’ উদ্যোগকে আরও এগিয়ে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে নতুন কৌশলগত সহযোগিতা উদ্যোগ ‘সমৃদ্ধি ভাগাভাগির বিগ-বি’ হিসেবে তা এগিয়ে নেয়ার বিষয়ে আমরা একমত হয়েছি।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছ থেকে জেনেছি, জাপান ‘শান্তিরাষ্ট্র’ হিসেবে পথ চলেছে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে দ্রুত স্বীকৃতি দিয়েছিল। বাংলাদেশের মানুষের কাছে জাপান বিশেষ মর্যাদার অধিকারী বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। এ ছাড়া, জাপান সরকার ও জনগণের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহায়তা ও সহযোগিতার জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।
দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সংযোগস্থলে অবস্থিত বাংলাদেশ ১৭ কোটি মানুষের বিশাল তরুণ বাজারের বিপুল সম্ভাবনার কারণে জাপানের অর্থনীতির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দুই দেশের ‘কৌশলগত অংশীদারত্বের’ আওতায় আজ প্রকাশিত ‘যৌথ শীর্ষ বৈঠকের বিবৃতি’ বিবেচনায় নিয়ে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে দুই দেশের যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে ‘একসঙ্গে, শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ’ হতে চাই।
নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে সৌরবিদ্যুতের সরঞ্জামের ওপর সব ধরনের শুল্ক প্রত্যাহার করেছে সরকার। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। তবে এ লক্ষ্য পূরণে দেশের বিদ্যুৎ সঞ্চালনব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং জ্বালানি খাতের বিদ্যমান সংকট মোকাবিলাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে তিন দিনব্যাপী ‘রিনিউয়েবল এনার্জি ফেস্ট ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।
মন্ত্রী জানান, নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে সৌরবিদ্যুতের সরঞ্জামের ওপর সব ধরনের শুল্ক তুলে দেওয়া হয়েছে। এ-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ রাষ্ট্রপতি জারি করেছেন। বিশেষ জ্বালানি আইন পরবর্তী সংসদে উত্থাপন করা হবে। তার ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিয়ে আলোচনা হলেও আগের সরকারগুলো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে।
গ্রিড আধুনিকায়নে গুরুত্ব: নবায়নযোগ্য জ্বালানির উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ সঞ্চালনব্যবস্থার সক্ষমতা উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের বর্তমান গ্রিড আধুনিক নয়। এ ব্যবস্থায় পারমাণবিক, জীবাশ্ম জ্বালানিভিত্তিক ও নবায়নযোগ্য উৎসের বিদ্যুৎ যুক্ত করতে হবে। কিন্তু পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) এখনো সে অনুযায়ী প্রস্তুত নয়।
মন্ত্রী জানান, বিএনপি সরকার গ্রিড আধুনিকায়নের কাজ শুরু করেছে। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, সম্মিলিত উদ্যোগ থাকলে ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব।
বিশেষ জ্বালানি আইন নিয়ে সমালোচনার প্রসঙ্গ তুলে মন্ত্রী বলেন, আগের সরকার চুরির উদ্দেশ্যে এ ধরনের আইন করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে কার্যকর নীতিগত উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
বিদ্যুৎ খাতে আর্থিক চাপ: বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, এ খাতে এখনো নানা সংকট রয়েছে। বেশি দামে বিদ্যুৎ কিনে কম দামে বিক্রি করতে হচ্ছে সরকারকে। বিদ্যুৎ খাতে বড় ধরনের ঘাটতির পাশাপাশি বিদ্যুৎকেন্দ্র বসে থাকলেও ক্যাপাসিটি চার্জ পরিশোধ করতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ কেনা ও জ্বালানি সরবরাহেও সমস্যা রয়েছে।
তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কাতারের ওপর নির্ভরশীল থাকার সময় বোমা হামলার কারণে দেশটি সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছিল। তখন প্রতি ইউনিট এলএনজির দাম ১০ থেকে ১২ ডলার থেকে বেড়ে ৩০ ডলারে পৌঁছেছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। আন্তর্জাতিক বাজারের এ ধরনের অস্থিরতা দেশের জ্বালানি সরবরাহ ও ব্যয় ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ তৈরি করে।
আমদানিনির্ভরতা কমানোর সুযোগ: অনুষ্ঠানে বুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক একরামুল হক বলেন, দেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত বর্তমানে একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি অর্থনীতির ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। এ পরিস্থিতিতে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানি নিয়ে নতুন গবেষণার প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে। বাংলাদেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ৯৬ শতাংশ জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর এবং এর বড় অংশ আমদানিনির্ভর। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার ওপর প্রভাব ফেলে।
সৌরবিদ্যুতের সরঞ্জামের ওপর শুল্ক প্রত্যাহারের ফলে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পের ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে এ সুবিধা কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করবে সরঞ্জামের প্রকৃত মূল্য, বিনিয়োগের পরিবেশ, বিদ্যুৎ সঞ্চালন অবকাঠামো এবং নীতিমালার বাস্তবায়নের ওপর।
তরুণ ও নাগরিক সমাজের অংশগ্রহণ: ‘একটি ন্যায্য, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সবুজ জ্বালানি রূপান্তর’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এ মেলায় তরুণ, নারী, শ্রমিক, নাগরিক সংগঠন ও জলবায়ু নিয়ে কাজ করা এক হাজারের বেশি প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। একশনএইড বাংলাদেশ, বুয়েট, জাস্ট এনার্জি ট্রানজিশন নেটওয়ার্ক বাংলাদেশ (জেটনেট-বিডি) এবং বুয়েটের ইনস্টিটিউট অব এনার্জি অ্যান্ড সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্টের (আইইএসডি) যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান চলবে আগামী ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত।
মেলার মূল লক্ষ্য হলো সরকারি নীতিনির্ধারক, গবেষক, বেসরকারি খাতের প্রতিনিধি, বিনিয়োগকারী, নাগরিক সমাজ ও উন্নয়ন সহযোগীদের একত্র করা। পাশাপাশি মেলা শেষে নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সৌরবিদ্যুতের সরঞ্জামে শুল্ক প্রত্যাহার ও ২০৩০ সালের উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে এই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে নীতিগত উদ্যোগের পাশাপাশি আধুনিক গ্রিড, পর্যাপ্ত বিনিয়োগ এবং নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
ঢাকা মেট্রোরেল লাইন-১ প্রকল্পের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেম প্যাকেজের নকশা প্রণয়ন ও নির্মাণকাজের চুক্তি পেয়েছে ভারতের শীর্ষস্থানীয় অবকাঠামো নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান লারসেন অ্যান্ড টুব্রো (এলঅ্যান্ডটি)। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রতিষ্ঠানটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, তাদের পরিবহন ব্যবসা বিভাগ ঢাকা ম্যাস র্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পের আওতায় এসব কাজের চুক্তি পেয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ৫ হাজার কোটি রুপির বেশি মূল্যের চুক্তিকে বড় চুক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সেই হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশি মুদ্রায় সাড়ে ৬ হাজার কোটি টাকার বেশি মূল্যের কাজ পেয়েছে।
প্রকল্পটির বাস্তবায়নে জাপানের খ্যাতনামা প্রতিষ্ঠান সুমিটমো করপোরেশনের সঙ্গে যৌথ অংশীদারিতে কাজ করবে এলঅ্যান্ডটির ট্রান্সপোর্টেশন ইনফ্লাস্ট্রাকচার বিভাগ। চুক্তির আওতায় রেলপথ নির্মাণ, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা, সিগন্যালিং, টেলিযোগাযোগ এবং প্ল্যাটফর্ম স্ক্রিন ডোর (পিএসডি) স্থাপনের কাজ রয়েছে।
এর আগে একই প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের প্রথম মেট্রোরেল করিডর ঢাকা মেট্রোরেল লাইন-৬ এর সমন্বিত রেলওয়ে সিস্টেম প্যাকেজের কাজ পেয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি ওই প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন করেছে। বর্তমানে লাইন-৬ বাণিজ্যিকভাবে চালু রয়েছে।
এ বিষয়ে এলঅ্যান্ডটির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ট্রান্সপোর্টেশন ইনফ্রাস্ট্রাকচার বিভাগের প্রধান রামকুমার এস বলেন, ‘ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)-এর কাছ থেকে বারবার অর্ডার পাওয়াটা বিশ্বব্যাপী বৃহৎ পরিসরের, সমন্বিত নগর গণপরিবহন প্রকল্প বাস্তবায়নে এলঅ্যান্ডটির সক্ষমতারই প্রমাণ।’
সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার জাকার্তা মেট্রোর কাজও পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি, যা বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন।
উল্লেখ্য, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে ঢাকা মেট্রোরেল লাইন-১ প্রকল্পটি প্রায় ৩১ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা প্রদান করবে। এর মধ্যে রয়েছে কমলাপুর থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত এয়ারপোর্ট রুট এবং নতুনবাজার থেকে পূর্বাচল টার্মিনাল পর্যন্ত পূর্বাচল রুট, যেখানে ১৯টি স্টেশন ও পিতালগঞ্জে একটি ডিপো থাকবে।
দেশে সার উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমাতে বন্ধ থাকা রাষ্ট্রীয় তিনটি সার কারখানা আগামী নভেম্বরের মধ্যে চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি বিদ্যমান কারখানার আধুনিকায়ন, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি ও নতুন কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বার্ষিক সার উৎপাদন ২৭ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা নিয়েছে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশন (বিসিআইসি)।
সংস্থাটি আশা করছে, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে সার আমদানিতে ব্যয় কমবে, বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে এবং কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ আরও সহজ হবে।
বিসিআইসি সূত্র জানায়, সংস্থাটির অধীন সাতটি সার কারখানার মধ্যে বর্তমানে চারটি চালু রয়েছে। গ্যাসের অপর্যাপ্ত সরবরাহ এবং প্রয়োজনীয় কাঁচামালের সংকটে বন্ধ রয়েছে চট্টগ্রামের টিএসপি কমপ্লেক্স লিমিটেড (টিএসপিএল) ও ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ ফার্টিলাইজার অ্যান্ড কেমিক্যাল কোম্পানি লিমিটেড (এএফসিসিএল)। এসব কারখানা পুনরায় চালু করতে প্রয়োজনীয় গ্যাস ও কাঁচামাল সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি মেরামতকাজ সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিসিআইসির চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা-বাসসকে বলেন, আশুগঞ্জ সার কারখানায় উৎপাদন পুনরায় শুরু করতে নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ধারিত চাপে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অন্যদিকে, টিএসপি ও ডিএপি কারখানার উৎপাদন চালু করতে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। এসব সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ও সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে। প্রয়োজনীয় গ্যাস ও কাঁচামাল পাওয়া গেলে আগামী নভেম্বরের মধ্যে কারখানাগুলো চালুর বিষয়ে আমরা আশাবাদী।
আমদানিনির্ভরতা কমাতে উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা দেশের কৃষি উৎপাদন সচল রাখতে সারের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে ইউরিয়া, টিএসপি ও ডিএপি সারের চাহিদার পুরোটা দেশীয় উৎপাদন থেকে পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে প্রতিবছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সার আমদানি করতে হচ্ছে সরকারকে। এ পরিস্থিতিতে বন্ধ কারখানাগুলো চালু করা এবং বিদ্যমান কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোকে গুরুত্ব দিচ্ছে বিসিআইসি।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় সার কারখানাগুলোতে ১১ লাখ ৭৩২ দশমিক ৫০ মেট্রিক টন ইউরিয়া, ৬৮ হাজার ২৫৯ মেট্রিক টন টিএসপি এবং ৮২ হাজার ১৪২ মেট্রিক টন ডিএপি সার উৎপাদন হয়েছে।
একই অর্থবছরে দেশে ইউরিয়া সারের চাহিদা ছিল ২৬ লাখ মেট্রিক টন। সে হিসাবে রাষ্ট্রীয় কারখানাগুলোতে উৎপাদিত ইউরিয়া দিয়ে জাতীয় চাহিদার প্রায় ৪২ দশমিক ৩৪ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হয়েছে। অন্যদিকে, টিএসপি ও ডিএপি সারের ক্ষেত্রে দেশীয় উৎপাদনের অবদান ছিল যথাক্রমে প্রায় ৯ দশমিক ১০ ও ৫ দশমিক ৫৩ শতাংশ।
এ পরিসংখ্যান থেকে বিশেষ করে ফসফেটজাত সারের দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বন্ধ টিএসপি ও ডিএপি কারখানা চালু করা গেলে এ দুই ধরনের সারের স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। তবে উৎপাদন কতটা বাড়বে, তা নির্ভর করবে কারখানাগুলোর প্রকৃত উৎপাদন সক্ষমতা, কাঁচামালের প্রাপ্যতা এবং নিরবচ্ছিন্ন পরিচালনা নিশ্চিত করার ওপর।
বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা বলেন, দেশের সারের চাহিদার একটি বড় অংশ আমদানির মাধ্যমে পূরণ করতে হয়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৬ দশমিক ৪৪ লাখ মেট্রিক টন এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১৪ দশমিক ৭৯ লাখ মেট্রিক টন ইউরিয়া সার আমদানি করতে হয়েছে। রাষ্ট্রীয় কারখানাগুলোর উৎপাদন বাড়ানো গেলে আমদানিনির্ভরতা কমবে, বৈদেশিক মুদ্রার সাশ্রয় হবে এবং কৃষকের কাছে সময়মতো সার পৌঁছানো সহজ হবে।
তিনি বলেন, দেশের সব সার কারখানা চালু করে ইউরিয়া সার আমদানি বাবদ ২২ হাজার কোটি টাকা সাশ্রয়ের লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে।
নভেম্বরের মধ্যে তিন কারখানা চালুর লক্ষ্য
বিসিআইসি সূত্র জানায়, আশুগঞ্জ সার কারখানায় উৎপাদন পুনরায় শুরু করার প্রধান শর্ত হলো প্রয়োজনীয় পরিমাণে এবং নির্ধারিত চাপে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ। এ বিষয়ে গ্যাস সরবরাহকারী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শিগগিরই গ্যাস সরবরাহের বিষয়ে আশ্বস্ত করেছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
অন্যদিকে, ফসফরিক অ্যাসিডের ঘাটতি এবং সালফিউরিক অ্যাসিড প্ল্যান্ট বন্ধ থাকায় টিএসপি কমপ্লেক্সের উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সংগ্রহ এবং প্ল্যান্টের মেরামতকাজ সম্পন্ন হলে কারখানাটি পুনরায় চালু করা সম্ভব হবে। ডিএপি কারখানার উৎপাদনও ফসফরিক অ্যাসিডের স্বল্পতার কারণে বন্ধ রয়েছে।
বিসিআইসি আগামী নভেম্বরের মধ্যে টিএসপি ও ডিএপি কারখানার উৎপাদন পুনরায় শুরুর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। তবে এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সংগ্রহ ও কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন করা জরুরি।
কারখানাগুলো চালু রাখার ক্ষেত্রে গ্যাস ও কাঁচামালের সরবরাহের পাশাপাশি যন্ত্রপাতির কার্যকারিতা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং উৎপাদনব্যবস্থার নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। শুধু কারখানা চালু করলেই হবে না, উৎপাদন অব্যাহত রাখার জন্য এসব ব্যবস্থাপনার কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
গ্যাস ও কাঁচামাল সরবরাহে সমন্বয়ের ওপর গুরুত্ব ইউরিয়া সার উৎপাদনের অন্যতম প্রধান কাঁচামাল প্রাকৃতিক গ্যাস। পর্যাপ্ত গ্যাস এবং নির্ধারিত চাপ না থাকলে ইউরিয়া কারখানার উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা কঠিন। অন্যদিকে, টিএসপি ও ডিএপি সার উৎপাদনের জন্য ফসফরিক অ্যাসিডসহ প্রয়োজনীয় রাসায়নিক কাঁচামালের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ প্রয়োজন।
এ কারণে সার কারখানাগুলোর উৎপাদন সচল রাখতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ, পেট্রোবাংলা, গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল) এবং সংশ্লিষ্ট গ্যাস বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে বিসিআইসি।
সংস্থাটির চেয়ারম্যান বলেন, সার কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা পুরোপুরি কাজে লাগাতে গ্যাস ও প্রয়োজনীয় কাঁচামালের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এবং অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে। কারখানাগুলোর উৎপাদন পুনরায় শুরু করতে যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, সেগুলো সমাধানে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, গ্যাস ও কাঁচামালের সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি কারখানাগুলোর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং উৎপাদনব্যবস্থার আধুনিকায়ন করা গেলে দেশীয় সার উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। এতে আমদানির ওপর চাপ কমার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে সারের মূল্য ও সরবরাহের ওঠানামার প্রভাব মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়তে পারে।
আধুনিকায়ন ও নতুন কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা বিসিআইসির দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় শুধু বন্ধ কারখানা চালু করাই নয়, বিদ্যমান কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো এবং নতুন কারখানা স্থাপনের বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। সংস্থাটি আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে বার্ষিক সার উৎপাদন ২৭ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করতে চায়।
এ লক্ষ্য অর্জনে পুরোনো প্রযুক্তির আধুনিকায়ন, উৎপাদন প্রক্রিয়ার দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নতুন ইউরিয়া ও টিএসপি সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের আধুনিকায়ন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা চলছে।
বিসিআইসি চেয়ারম্যান মো. বাবুল মিঞা বলেন, শুধু বন্ধ কারখানা চালু করা নয়, দীর্ঘমেয়াদে দেশের সার উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে সার উৎপাদন ২৭ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। এ লক্ষ্যে বিদ্যমান কারখানার আধুনিকায়ন, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নতুন সার কারখানা স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে।
তবে এ লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ, জ্বালানি সরবরাহ, কাঁচামালের প্রাপ্যতা এবং কারখানাগুলোর কার্যকর পরিচালনা নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ হবে। পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয় ও আমদানিকৃত সারের ব্যয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য বজায় রাখাও দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় উৎপাদন সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয়। কৃষি ও অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাব দেশীয় সার উৎপাদন বাড়ানো গেলে কৃষি খাতে উৎপাদন উপকরণের সরবরাহ আরও স্থিতিশীল করার সুযোগ তৈরি হবে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাজারে সারের দাম বৃদ্ধি, পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়া কিংবা আমদানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে স্থানীয় উৎপাদন দেশের কৃষি খাতকে কিছুটা সুরক্ষা দিতে পারে।
একই সঙ্গে সার আমদানিতে ব্যয় কমানো গেলে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ হ্রাস পাবে। তবে এ সুফল কতটা অর্জিত হবে, তা নির্ভর করবে উৎপাদন বৃদ্ধির পরিমাণ, কারখানাগুলোর পরিচালন ব্যয় এবং আমদানির বিকল্প হিসেবে দেশীয় উৎপাদনের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতার ওপর।
বিসিআইসির পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে সার উৎপাদনে রাষ্ট্রীয় কারখানাগুলোর ভূমিকা আরও বাড়তে পারে। এ জন্য বন্ধ কারখানাগুলো দ্রুত চালু করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস ও কাঁচামাল সরবরাহ, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং উৎপাদনব্যবস্থার দক্ষতা বাড়ানোর কথা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরকারের লক্ষ্য, দেশীয় উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী সার সরবরাহ নিশ্চিত করা। আগামী নভেম্বরের মধ্যে বন্ধ থাকা তিনটি কারখানা চালুর উদ্যোগ এবং আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরে উৎপাদন ২৭ লাখ মেট্রিক টনে উন্নীত করার পরিকল্পনা এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।