প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষিত রূপকল্প-২০৪১ বাস্তবায়নে অর্থাৎ ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত দেশের মর্যাদা অর্জনের লক্ষ্যে দেশে ক্রমশই শিল্পায়নের প্রসার ঘটছে। সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে জ্বালানির চাহিদা। ক্রমবর্ধমান এই চাহিদা মেটাতে সরকারের পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ।
ইতোমধ্যে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানো, এলএনজি আমদানি, জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় দাম নির্ধারণসহ নানা কার্যকর পদক্ষেপ হাতে নেয়া হয়েছে। সমুদ্রে গ্যাস উত্তোলনের জন্য করা হয়েছে উৎপাদন অংশীদারি চুক্তির খসড়া। নতুন করে দেশীয় গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর জন্য নেয়া হয়েছে পরিকল্পনা।
গ্যাসনির্ভর সার কারখানা, বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্প স্থাপনের ফলে জ্বালানি চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। সেই চাহিদা নিশ্চিত করতে নতুন নতুন অনুসন্ধান ও উন্নয়ন কূপ খনন, পরিত্যক্ত কূপ ওয়ার্কওভার ইত্যাদি কার্যক্রম বাস্তবায়নের কাজ চলছে। চলমান কার্যক্রমের সাফল্য হিসেবে সুন্দলপুর, শ্রীকাইল, রূপগঞ্জ, ভোলা নর্থ, জকিগঞ্জ ও ইলিশা নামে ছয়টি নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, সবার অংশগ্রহণে চেষ্টা করা হচ্ছে জ্বালানি সমস্যা সমাধান করার। গ্যাস উৎপাদন অনেক বেড়েছে। তবে চাহিদা তার চেয়েও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
আগামী দুই বছরের মধ্যে ৬০০ থেকে ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ হবে। ২০২৫ সালের মধ্যে নতুন ৪৬ কূপ খননের কাজ সম্পন্ন হবে বলে তিনি জানান।
গ্যাসের সরবরাহ দৈনিক ১৭৪৪ মিলিয়ন ঘনফুট থেকে বেড়ে ইতোমধ্যে তিন হাজার মিলিয়ন ঘনফুটে উন্নীত হয়েছে। ২০০৯ থেকে ২০২৩ সময়ে আবাসিক চার লাখের বেশি প্রিপেইড মিটার এবং শিল্প ও সিএনজিতে তিন হাজারের বেশি ইভিসিযুক্ত মিটার স্থাপন করা হয়েছে। নির্মাণ করা হয়েছে ১৫২৩ কিলোমিটার গ্যাস সঞ্চালন পাইপলাইন। বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য একটি রিগ (কূপ খননযন্ত্র) পুনর্বাসন করা হয়েছে, চারটি নতুন কেনা হয়েছে এবং অনুসন্ধানের প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি কেনা হয়েছে। গ্যাসের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণে এলএনজি আমদানির জন্য প্রতিটি ৫০০ বিলিয়ন ঘনফুট সক্ষমতার দুটি ভাসমান টার্মিনাল স্থাপন করা হয়েছে। এ ছাড়া এলএনজি আমদানি সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য আরও দুটি ভাসমান টার্মিনাল এবং একটি ল্যান্ডপেইজ এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
ভবিষ্যতের চাহিদা পূরণে আরও বেশি এলএনজি আমদানির পাশাপাশি সরকার নতুন নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান, আবিষ্কার ও উন্নয়ন করছে।
জ্বালানি উৎসের বহুমুখীকরণের জন্য জ্বালানি তেল ও খোলা বাজার থেকে প্রতিযোগিতামূলক দরে এলএনজি আমদানি করা হচ্ছে। পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক গ্যাস সঞ্চালন ও বিতরণ কম্প্রেসার স্টেশন স্থাপন ইত্যাদি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
২০০৯ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত জ্বালানি তেলের মজুত সক্ষমতা ৯ লাখ টন থেকে বাড়িয়ে ১৩ লাখ ৭০ হাজার টনে উন্নীত করা হয়েছে, যা দেশের প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ দিনের জ্বালানি চাহিদা পূরণে সক্ষম। এ প্রকল্পের আওতায় আরও জ্বালানি তেল মজুতের সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। জ্বালানি তেল পাইপলাইনের মাধ্যমে দ্রুত সহজ, নিরাপদ ও ব্যয় সাশ্রয়ীভাবে পরিবহনের জন্য মোট ৬২৪ কিলোমিটার জ্বালানি তেল পাইপলাইন স্থাপনের কাজ চলছে। দেশের উত্তরাঞ্চলে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ করতে ভারতের নোমানিগড় রিফাইনারি শিলিগুড়ি টার্মিনাল থেকে বাংলাদেশের পার্বতীপুর পর্যন্ত ১৩১ দশমিক ৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন নির্মিত হয়েছে। অপরিশোধিত ক্রুড অয়েল ও পরিশোধিত ডিজেল অল্প সময়ে নিরাপদে ও ব্যয় সাশ্রয়ীভাবে খালাস ও পরিবহনের জন্য সিঙ্গেল পয়েন্ট মুরিংয়ের কাজ চলমান আছে।
এ প্রকল্পের আওতায় আমদানি করা তেল সমুদ্রবক্ষে ভাসমান থেকে সিঙ্গেল পয়েন্ট মোরিং ও পাইপলাইনের মাধ্যমে পিআরএল এবং মার্কেটিং কোম্পানিগুলোর প্রধান স্থাপনায় সরবরাহের সুবিধাদি স্থাপনের কাজও চলমান। প্রধান স্থাপনা থেকে চট্টগ্রাম-ঢাকা তেল পাইপলাইনের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জ ডিপোতে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হবে। আমদানি কমাতে ৩০ লাখ টন উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন ইআরএল ইউনিট-২ স্থাপন করার প্রক্রিয়া চলছে।
২০০৮-০৯ অর্থবছরে দেশে পেট্রোলিয়াম পণ্যের সরবরাহ ছিল ৩৩ লাখ ২৬ হাজার টন। ২০২২-২৩ অর্থবছরে সরকারিভাবে প্রায় ৭৩ লাখ ৪৬ হাজার টন পেট্রোলিয়াম পণ্য সরবরাহ করা হয়েছে। বর্তমানে দেশের পেট্রোলিয়ামের শতভাগ এবং অকটেনের চাহিদার সিংহভাগ দেশের স্থাপিত কনডেনসেন্ট ফ্লাক্সেশন প্লান্টের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে।
ক্রুড অয়েল রিফাইনারিং ক্ষমতা ৪৫ লাখ টনে উন্নীত করার জন্য বর্তমান ১৫ লাখ টন ক্ষমতার ইআরএলের পাশাপাশি ৩০ লাখ টন ক্ষমতার ইআরএল স্থাপনের প্রাথমিক কাজ শেষ হয়েছে।
বিভিন্ন খনিজ সম্পদ থেকে খনিজ সম্পদ উন্নয়ন ব্যুরো ২০০৯ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত ৮০৯ কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করেছে।
দেশের একমাত্র উৎপাদনশীল কয়লা খনি বড়পুকুরিয়া থেকে বর্তমানে দৈনিক প্রায় ৩০০০ টন উন্নতমানের বিটুমিনাস কয়লা উত্তোলন করা হচ্ছে। উত্তোলন করা কয়লার পুরোটাই ৫২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতার বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সরবরাহ করা হচ্ছে। এতে উত্তরাঞ্চলে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। মধ্যপাড়া গ্রানাইট মাইনিং কোম্পানি ভূগর্ভস্থ খনি থেকে দৈনিক প্রায় সাড়ে চার হাজার টন গ্রানাইট পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে।
জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ানোর জন্য ডিজিটালাইজেশন ও অটোমেশন কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। জ্বালানি খাত যুগোপযোগী করার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়নের কাজ এগিয়ে চলেছে। যেমন অটোমেশন, প্রিপেইড মিটার ও স্কাডা সিস্টেম স্থাপন, পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি তেল সঞ্চালন ব্যবস্থা গড়ে তোলা, নতুন রিফাইনারি স্থাপন ইত্যাদি বাস্তবায়িত হলে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
রূপকল্প-২০৪১-এর লক্ষ্যমাত্রা এবং জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) ২০৩০-এর লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ‘সবার জন্য টেকসই জ্বালানি’ অর্জনে জালানি খাতকে যুগোপযোগী করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
তীব্র, ক্লান্তিকর, কখনো কখনো যেন একটু দমবন্ধ, বলছি রাজশাহীতে গ্রীষ্মের কথা। প্রচণ্ড রোদে দিনের ছোট ছোট কাজও যেন হয়ে ওঠে পরিশ্রমসাধ্য। তবুও এই তপ্ত সময়ের মাঝেই আছে এক অটুট আনন্দ, আর তা হলো আম। এই গরমের ভেতরেও আমের উপস্থিতিই যেন রাজশাহীর ঋতুকে সবচেয়ে বেশি মনে রাখার মতো করে তোলে।
আর সেই ঋতুর আসল রূপ দেখাতে ব্র্যাকের পর্যটন বিষয়ক উদ্যোগ ‘অতিথি’ নিয়ে এসেছে রাজশাহী ম্যাঙ্গো অর্চার্ড এক্সপেরিয়েন্স প্যাকেজ। এতে আছে দুই দিন-এক রাতের ভ্রমণ প্যাকেজ, যা আপনাকে নিয়ে যাবে রাজশাহীর বিশেষ সব প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কাছে।
ভ্রমণের সূচিতে রয়েছে সবুজ আমবাগানের ভেতর দিয়ে হেঁটে বেড়ানো, বাতাসে ভেসে থাকা মিষ্টি গন্ধে ডুবে যাওয়া, আর গাছ থেকে পেড়ে নেওয়া টাটকা আমের স্বাদ নেওয়ার সুযোগ। বিশেষ করে যারা শহরে থাকি, এই আয়োজনটি এনে দেয় তাদের জন্য এক বিরল সুযোগ— বাগানেই আম উপভোগ করার।
অতিথির এই বিশেষ প্যাকেজটি শুধু আমবাগানেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং রাজশাহীর ইতিহাস ও সংস্কৃতির গভীরতাও তুলে ধরে। ভ্রমণের অংশ হিসেবে আরও থাকছে বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর ঘুরে দেখা, পদ্মার তীরের শান্ত সৌন্দর্য অনুভব আর স্থানীয় সিল্ক হাউসগুলোয় যাত্রা, যেখানে প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে টিকে আছে সূক্ষ্ম কারুশিল্পের ঐতিহ্য।
গত বছর অতিথির সঙ্গে এই ভ্রমণে অংশ নিয়েছিলেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাংলাদেশে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধি দলের প্রধান মাইকেল মিলার এবং জার্মান দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন জ্যান-রলফ জানোস্কি।
অতিথির ম্যাঙ্গো অর্চার্ড এক্সপেরিয়েন্স রাজশাহীর তীব্র গরমকে ভিন্নভাবে অনুভব করার এক অনন্য উপায়, যেখানে প্রকৃতি, সংস্কৃতি আর আমের সহজ আনন্দ মিলিয়ে তৈরি হয় এক স্মরণীয় যাত্রা। তাহলে আর অপেক্ষা কীসের? ঘুরে আসুন রাজশাহীর অতিথি হয়ে।
প্যাকেজ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন ;
যেকোনো তথ্যের জন্য কল করুন +8809610800700 অথবা WhatsApp করুন +8801332550542 নম্বরে।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক ও কৃষি উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত চীনা রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকালে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।
এই বৈঠকে বাংলাদেশ ও চীনের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষভাবে কৃষি, বনায়ন ও শিক্ষা খাতে সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
আলোচনায় আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার, পরিবেশ সংরক্ষণে বনায়ন কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং শিক্ষা ক্ষেত্রে দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত মতবিনিময় হয়।
এ সময় উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান উল্লিখিত খাতগুলোতে চীনের আরও সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন। জবাবে রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বাংলাদেশে উন্নয়নমূলক বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।
উল্লেখ্য, বৈঠকে চীনা দূতাবাসের সাংস্কৃতিক কাউন্সিলর লি শাওপেং এবং সেকেন্ড সেক্রেটারি হুয়াং মৌছং উপস্থিত ছিলেন।
সম্পন্ন হলো পটুয়াখালীতে দুইদিনব্যাপী ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ উদ্যোগ’ সম্প্রসারণ বিষয়ক বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিজিটাল লেনদেনে উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম। দেশব্যাপী এই আয়োজনের অংশ হিসেবে অনুষ্ঠিত দুইদিনব্যাপী কর্মসূচিতে আইএফআইসি ব্যাংক পিএলসি লিড ব্যাংক হিসেবে নেতৃত্ব প্রদান করে। আয়োজনের প্রথম দিন (১৯ এপ্রিল ২০২৬, রবিবার) সকালে এক বর্ণাঢ্য র্যালির মধ্য দিয়ে অংশগ্রহণকারী অতিথি ও বিভিন্ন ব্যাংকের কর্মকর্তারা শহর প্রদক্ষিণ করেন। র্যালি শেষে পটুয়াখালী জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট-১ এর পরিচালক জনাব আ.ন.ম. মঈনুল কবীর এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের নির্বাহী পরিচালক জনাব আরিফ হোসেন খান। এ সময় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জনাব মোঃ আবুল বসার, নির্বাহী পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত), বরিশাল অফিস, বাংলাদেশ ব্যাংক; জনাব কিশোর রায়, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল), পটুয়াখালী; জনাব মো. তামিম নূর ইসলাম, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, পটুয়াখালী এবং জনাব সৈয়দ মনসুর মোস্তফা, ব্যবস্থাপনা পরিচালক, আইএফআইসি ব্যাংক। সেমিনারে বক্তারা ডিজিটাল লেনদেন প্রক্রিয়ার বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন এবং এ সংক্রান্ত সমষ্টিগত কর্মপরিকল্পনা উপস্থাপন করেন।
এছাড়া,উক্ত সেমিনার স্থলে বিভিন্ন বুথে অতিথিদের কিউআর (QR) কোড ব্যবহারের মাধ্যমে লেনদেন প্রক্রিয়া সম্পর্কে সম্মুখ ধারণা প্রদান করা হয়। একই ধারাবাহিকতায় ২০ এপ্রিল ২০২৬ (সোমবার) পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীদের মাঝে ক্যাশলেস প্রযুক্তিনির্ভর লেনদেন প্রক্রিয়া সম্পর্কে উদ্বুদ্ধ করতে দিনব্যাপী বিশেষ সেমিনার ও সম্প্রসারণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত আয়োজনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারীগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।
কারিগরি ত্রুটির কারণে দেশের একটি এলএনজি টার্মিনাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে রাজধানীর দক্ষিণাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, টার্মিনালটি বন্ধ থাকায় প্রতিদিন প্রায় ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস কম সরবরাহ হচ্ছে। এই ঘাটতির কারণে গজারিয়া, মেঘনাঘাট, সোনারগাঁ, নারায়ণগঞ্জ এবং ঢাকার দক্ষিণাঞ্চলসহ তিতাসের অধিভুক্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপ বিরাজ করছে।
পরিস্থিতির জন্য গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করে তিতাস জানায়, সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত গ্রাহকদের সাময়িক ভোগান্তিতে পড়তে হতে পারে।
বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে দেশে জ্বালানি তেলের দাম যতটা বেড়েছে সে অনুযায়ীই পণ্যের দামের সমন্বয় করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।
ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, দেশে জ্বালানি তেলের মজুত বা সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। তবে প্রকৃত চ্যালেঞ্জ হচ্ছে জ্বালানির চাহিদা বৃদ্ধি এবং মানুষের মধ্যে সৃষ্ট অযাচিত ভীতি। বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতার প্রভাব সব দেশেই পড়ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। তবুও সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে।
জ্বালানির দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব দেশীয় বাজারেও পড়ছে। তবে সরকার চেষ্টা করছে যেন জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর কম পড়ে।
অর্থনৈতিক দিক থেকে সাম্প্রতিক ব্যাংক ঋণ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ বলেন, গত দুই মাসে সরকার প্রায় ৭৩ হাজার কোটি টাকা ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছে। এতে কিছুটা চাপ তৈরি হতে পারে এবং এর প্রভাব জনগণের ওপরও পড়তে পারে। তবে তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, পরিস্থিতি এখনো সংকটজনক বা ‘রেড জোন’-এ পৌঁছায়নি। সরকারের নেওয়া ঋণ জনগণের কল্যাণমূলক কাজেই ব্যয় করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
সাংস্কৃতিক দিক থেকেও নতুন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশসহ মিয়ানমার, কম্বোডিয়া এবং ভারতের দক্ষিণাঞ্চলের দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে আঞ্চলিকভাবে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে। আগামী বছরের নববর্ষের আগেই এ বিষয়ে একটি সুসংগঠিত পরিকল্পনা গ্রহণের কথা রয়েছে। এছাড়া পুরো বৈশাখ মাসজুড়ে নানা সাংস্কৃতিক আয়োজনের প্রস্তুতিও নিচ্ছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, গত ১৯ এপ্রিল পর্যন্ত দেশে এক লাখ ২২ হাজার ৬৩৩ মেট্রিক টন ডিজেল মজুত রয়েছে, যা বর্তমান চাহিদা বিবেচনায় স্থিতিশীল অবস্থানে আছে।
বাংলাদেশ পুলিশের পোশাকের রং পরিবর্তন নিয়ে চলমান আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে আবারও নতুন রং নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, পুলিশের পোশাকে গাঢ় নীল ও হালকা অলিভ (জলপাই) রঙের সংমিশ্রণ ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ লক্ষ্যে পুলিশ ড্রেস রুলস, ২০২৫ সংশোধনের প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। সম্প্রতি পুলিশ সদর দপ্তরের লজিস্টিকস শাখার অতিরিক্ত ডিআইজি মো. সারোয়ার জাহান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আগে জারি করা এসআরও অনুযায়ী পুলিশের শার্ট গাঢ় ধূসর এবং প্যান্ট গাঢ় নীল থেকে পরিবর্তন করে শার্ট লৌহ রং ও প্যান্ট কফি রং নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে মাঠপর্যায়ে এ পরিবর্তন নিয়ে পুলিশ সদস্যদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। বিষয়টি নিয়ে বাহিনীর ভেতরে-বাইরে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার পর নতুন করে রং নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
প্রস্তাব অনুযায়ী, সব মেট্রোপলিটন (মহানগর) পুলিশের শার্ট হবে হালকা অলিভ (জলপাই) রঙের। এপিবিএন, এসপিবিএন, এসবি, সিআইডি ও র্যাব ছাড়া অন্যান্য ইউনিটের শার্টের রং হবে গাঢ় নীল। উভয় ক্ষেত্রেই প্যান্টের রং নির্ধারণ করা হয়েছে টিসি টুইল খাকি।
পুলিশের পোশাক বদলের বিরুদ্ধে ছিলেন এসপিরাপুলিশের পোশাক বদলের বিরুদ্ধে ছিলেন এসপিরা
এই পরিবর্তন কার্যকর করতে পুলিশ ড্রেস রুলস, ২০২৫-এর একাধিক বিধি সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনের খসড়াও এরই মধ্যে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, পোশাক সরবরাহ প্রাপ্যতার ভিত্তিতে হওয়ায় এ পরিবর্তনে সরকারের অতিরিক্ত কোনো আর্থিক ব্যয় হবে না।
রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা ও তাদের দ্রুত নিজ দেশ মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ।
স্থানীয় সময় সোমবার (২০ এপ্রিল) সেনেগালের রাজধানী ডাকারে ‘ডাকার ইন্টারন্যাশনাল ফোরাম অন পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি ইন আফ্রিকা’-শীর্ষক সম্মেলনের সাইড লাইনে জাপানের পররাষ্ট্রবিষয়ক উপমন্ত্রী ওনিশি ইয়োহির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এই সহযোগিতা চান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
সাক্ষাৎকালে উভয় পক্ষই বাণিজ্য, বিনিয়োগ, যোগাযোগ, প্রযুক্তি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং মানুষে মানুষে যোগাযোগের ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা করেন।
প্রতিমন্ত্রী নবায়নযোগ্য জ্বালানি, আইসিটি, অবকাঠামো, ফার্মাসিউটিক্যালস, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উৎপাদনের মতো খাতে বৃহত্তর জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান জানান। পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় জাপানের অব্যাহত সহায়তার প্রশংসা করেন এবং মিয়ানমারে তাদের দ্রুত ও টেকসই প্রত্যাবাসনের সুবিধার্থে আরও সহায়তা কামনা করেন।
দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওমান, মালয়েশিয়া ও ভারত থেকে এক দিনেই চট্টগ্রাম বন্দরে এসে পৌঁছেছে ১ লাখ ১ হাজার টন ডিজেল। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আমদানিকৃত এই জ্বালানি দিয়ে দেশের টানা আট দিনেরও বেশি সময়ের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।
বন্দর ও শিপিং সূত্র জানায়, সোমবার (২০ এপ্রিল) ভোররাত ২টার দিকে ওমান থেকে ৩৫ হাজার টন ডিজেল নিয়ে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজ ‘গোল্ডেন হরাইজন’ চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে নোঙর করে। এটি দিনের প্রথম চালান হিসেবে দেশে পৌঁছায়।
এর ধারাবাহিকতায় বিকেলেই আরো দুটি জাহাজ বন্দরে পৌঁছায়। এর মধ্যে মালয়েশিয়া থেকে ৩৩ হাজার টন ডিজেল নিয়ে দুপুর ২টায় জাহাজ ‘এফপিএমসি ৩০’ পৌছায়। একই সময়ে ভারত থেকে সমপরিমাণ ৩৩ হাজার টন ডিজেল নিয়ে আসছে ‘প্যাসিফিক ইন্ডিগো’ নামের অন্য একটি জাহাজ।
জ্বালানি খাতের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য মতে, দেশে দৈনিক গড়ে ১২ হাজার ৫০০ টন ডিজেলের চাহিদা রয়েছে।
সেই হিসাবে আজ আসা ১ লাখ ১ হাজার টন ডিজেল দিয়ে আট দিনেরও বেশি সময় দেশের জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা যাবে।
জাহাজগুলোর স্থানীয় এজেন্ট প্রাইড শিপিং লাইনের ম্যানেজিং পার্টনার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম জানান, সরবরাহব্যবস্থা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে দ্রুত তেল খালাসের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা আগে থেকেই লাইটার জাহাজ প্রস্তুত রেখেছি। বড় জাহাজগুলো বহির্নোঙরে ভেড়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই খালাস কার্যক্রম শুরু করা হচ্ছে।
তিনি আরো জানান, আমদানির এই প্রবাহ গত কয়েক দিন ধরেই অব্যাহত রয়েছে। গত শুক্রবারও ১ লাখ ৩৬ হাজার টন জ্বালানি তেল নিয়ে চারটি জাহাজ বন্দরে এসেছে, যেগুলোর খালাস কার্যক্রম এখনো চলমান।
এদিকে আগামী তিন দিনের মধ্যে দেশে জ্বালানি তেলের আরো বড় দুটি চালান পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এর মধ্যে একটি জাহাজে ৩৩ হাজার টন ডিজেল এবং অন্যটিতে ৩৪ হাজার ৬০০ টন জেট ফুয়েল (বিমানের জ্বালানি) রয়েছে বলে বন্দর সূত্রে জানা গেছে। ধারাবাহিকভাবে এই আমদানির ফলে দেশের বাজারে জ্বালানি সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্বজুড়েই জ্বালানি তেলের মূল্য বেড়েছে উল্লেখ করে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, আমরা যে খাদ্য খাই, তা জ্বালানি তেলে তৈরি না। এর দাম উৎপাদন খরচ ও পরিবহন ব্যয়ের সঙ্গে জড়িত। ম্যানুফ্যাকচারিং ইন্ডাস্ট্রিতেও জ্বালানি খরচ হয় মোট উৎপাদন খরচের ৭ থেকে ৮ শতাংশ। তাই পণ্যমূল্য খুব বেশি বাড়বে না।
সোমবার (২০ এপ্রিল) সকালে সিলেট নগরীর অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে মাসব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেছেন।
এ সময় জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধির যৌক্তিকতা তুলে ধরে তিনি বলেন, সামগ্রিক প্রেক্ষাপট, অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট ও বর্তমান বিশ্ববাস্তবতার প্রেক্ষাপটে তেলের মূল্য খুব সামান্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এইটুকু বৃদ্ধি না করলে চলছিল না। কেননা, আমদানি ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। আমদানি মূল্য বাড়লে ভোক্তা পর্যায়ে মূল্য বাড়বে এটিই স্বাভাবিক। পুরো বিশ্বজুড়েই জ্বালানি তেলের মূল্য বেড়েছে। উন্নত দেশগুলোতেও বেড়েছে।
তিনি বলেন, কৃষককে ডিজেলের জন্য সরকার ভর্তুকি দেয়। অন্যান্য ক্ষেত্রেও সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখবে।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের তুলনায় সিলেট এখনো নানা সামাজিক সূচকে পিছিয়ে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অনেক ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার। তবে আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে এই বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, টিকাদান কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নেওয়া হলে অচিরেই দেশব্যাপী হামের প্রকোপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য দেন সিসিক এর প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম। সিসিক ও স্বাস্থ্য বিভাগীয় পরিচালকের কার্যালয়ের যৌথ আয়োজনে এই অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সহকারী পরিচালক ডা. নূরে আলম শামীম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মো. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকর্তা ডা. সুফি মো. খালিদ বিন লুৎফুর, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী এবং ইউনিসেফের সিলেট ফিল্ড অফিসের প্রধান মির্জা ফজলে এলাহী প্রমুখ।
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, জুলাই সনদে বিএনপি সই করেছে এবং এর প্রতিটি অক্ষর, প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি লাইন বাস্তবায়ন করা হবে। আমি এই হাজারো মানুষের সামনে দাঁড়িয়ে পরিষ্কারভাবে আবারও বলে দিতে চাই—সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল যে জুলাই সনদে সই করে এসেছে, সেই জুলাই সনদের প্রতিটি শব্দ, প্রতিটি অক্ষর আমরা এক এক করে বাস্তবায়ন করব ইনশা আল্লাহ। সোমবার (২০ এপ্রিল) বিকেলে বগুড়া শহরের আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে বিএনপির জনসভায় তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ১১টি কমিশন করেছিল। ১১টি কমিশনের মধ্যে সংবিধান আছে, বিচারের বিষয় আছে, প্রশাসনিক, স্বাস্থ্য এবং নারী আছে। আজকে আমরা ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছি। খেয়াল করে দেখবেন- যারা এই সংস্কার সংস্কার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে চাচ্ছে, জুলাই সনদের সম্পর্কে বিভ্রান্ত করতে চাচ্ছে, তারা কিন্তু নারীর স্বাধীনতা অথবা নারীর উন্নয়ন নিয়ে কোনো কথা বলে না।
বাংলাদেশের মানুষের চিকিৎসার জন্য যে চিকিৎসা কমিশন করা হয়েছিল, বাংলাদেশের মানুষ যাতে সহজে ওষুধ পেতে পারে, চিকিৎসা পেতে পারে সেটির ব্যাপারে তারা কোনো কথা বলে না। কীভাবে প্রশাসনকে ঠিক করতে হবে, সেটির কথা তারা বলে না। কীভাবে আইনশৃঙ্খলা ঠিক করতে হবে, সেইটির কথাও তারা বলে না। তারা শুধু সংবিধান সংবিধান বিষয়ে কথা বলে।
এদিকে জনসভা শুরুর আগেই দুপুর থেকে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে নেতা-কর্মীরা আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জনসভায় আসতে শুরু করেন। বেলা ৩টার মধ্যে পুরো মাঠ প্রাঙ্গণ জনসমুদ্রে রূপ নেয়। মাঠ প্রাঙ্গণ ছাড়িয়ে আশপাশের সড়কগুলোতেও নেতা-কর্মীদের অবস্থান নিতে দেখা যায়।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর নিজ জেলা বগুড়ায় এটিই তার প্রথম সফর। সকালে তিনি সড়কপথে ঢাকার গুলশান থেকে রওনা হয়ে সকাল ৯টা ৫৮ মিনিটে বগুড়া সার্কিট হাউসে পৌঁছান। সেখানে জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান তাকে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান। সফরসঙ্গী হিসেবে তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী জুবাইদা রহমান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিগত ১৬ বছর বিএনপির অসংখ্য নেকাকর্মী অত্যাচার, নির্যাতন সহ্য করেছেন। মিথ্যা মামলার আসামি হয়েছেন। সেসময় দেশের মানুষের বাকস্বাধীনতা এবং ভোটের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে আন্দোলন গড়ে তুলেছিল। ৫ আগষ্ট ছাত্র-জনতার সাথে দেশর মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিল। গণআন্দোলনের মুখে স্বৈরাচার দেশ ছেড়ে পারাতে বাধ্য হয়েছিল।
তিনি বলেন, স্বৈরাচার সরকার মেগা প্রজেক্টের মাধ্যমে মেগা দুর্নীতি করেছে। লক্ষ লক্ষ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করেছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ বিএনপিকে ম্যান্ডেট দিয়েছে। আমরা জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে দেশটাকে নতুন করে সাজানোর কাজ শুরু করেছি। নির্বাচনের আগে দেওয়া সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে আমরা বদ্ধপরিকর। ইতোমধ্যেই ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড এবং সুদসহ কৃষি ঋণ মওকুফ করেছি। মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং অন্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের ধর্মগুরুদের সম্মানী
দিয়েছি। সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন কাজ শুরু হয়েছে। স্বল্প খরচে বিদেশে জনশক্তি রপ্তারির জন্য বিভিন্ন দেশের সাথে আলোচনা চলছে। অচিরেই সুখবর আসবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১৬ সালে বেগম খালেদা জিয়া জাতির সামনে সংষ্কার প্রস্তাব পেশ করেছিলেন। পরবর্তীতে আমরা জাতির সামনে ৩১ দফা সংষ্কার প্রস্তাব উপস্থাপন করেছি।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বগুড়াসহ উত্তরাঞ্চলের কৃষিপণ্য বিদেশে রপ্তানির সুবিধার্থে বগুড়া বিমান বন্দরে কার্গো বিমান চলাচলের ব্যবস্থা করবেন বলে ঘোষণা দেন। পাশাপাশি বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন এবং সেখানে কৃষিসহ বিভিন্ন বিভাগ চালুর প্রতিশ্রুতি দেন। বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশার সভাপতিত্বে জনসভায় প্রধানমন্ত্রীর পত্নী ডা. জুবাইদা রহমান উপস্থিত ছিলেন। এ সময় স্থানীয় সংসদ সদস্যবৃন্দসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।
এরপর তারেক রহমান বগুড়া প্রেসক্লাবের নবনির্মিত ভবন এবং
বাইতুর রহমতান সেন্ট্রাল জামে মসজিদের পুনর্নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। এর আগে বগুড়ায় এসে দিনভর বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। বেলা ১১টায় বগুড়া বার সমিতির নবনির্মিত বহুতল ভবনের নাম ফলক উন্মোচন করেন। এরপর তিনি বগুড়াসহ ৭ জেলায় ই-বেলবন্ড কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊধ্বতন কর্মকর্তা, সংসদ সদস্যবৃন্দ এবং জেলা প্রশাসকের কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন। এদিন বেলা সাড়ে ১১টায় পৌর ভবনে তিনি এ ফলক উন্মোচন করেন। এর ফলে প্রতিষ্ঠার প্রায় দেড়শ বছর পর বগুড়া পৌরসভা সিটি করপোরেশনের মর্যাদা পেল। এটি দেশের ১৩ তম সিটি করপোরেশন।
ফলক উন্মোচন করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আপনাদের অনেকদিনের দাবি ছিল, সেটি আজ পূরণ হলো। বগুড়া সিটি কর্পোরেশন হিসেবে যাত্রা শুরু করল। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, বগুড়া সদর (বগুড়া-৬) আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা, স্থানীয় সরকার সচিব শহীদুল হাসান, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সেখানে গাছের চারাও রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি বগুড়ার গাবতলী উপজেলায় ৯১১ জনের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেন। দুপুরে উপজেলার বাগবাড়ীতে শহীদ জিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে এ কার্ড বিতরণ করেন সরকার প্রধান। এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বগুড়ায় হাম-রুবেলার টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। গাবতলীর বাগবাড়ীতে জিয়াউর রহমান গ্রাম হাসপাতালে সোমবার দুপুর পৌনে ২টার দিকে সরকার প্রধান এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। পিতৃভূমি বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ীতে খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বেলা পৌনে ৪টার দিকে নশিপুরে সরকার প্রধান কোদাল দিয়ে মাটি কেটে চৌকিদহ খালের খনন কার্যক্রমের সূচনা করেন। এ সময় বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোরশেদ মিলটন, জেলা প্রশাসক মো. তৌফিকুর রহমান, কেন্দ্রীয় কৃষকদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু উপস্থিত ছিলেন।
হাম ও জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার কাজ করছে বলে জানিয়ে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ‘আমরা এমন এক সময় জনগণের ভোটে জয়ী হয়ে রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছি, যখন দায়িত্ব নেওয়ার ১৫ দিনের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ শুরু হয়। এতে সারা বিশ্বে জ্বালানির সংকট দেখা দেয়। এরপরই আমাদের শিশুদের মধ্যে হামের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ায় তা মোকাবিলা করতে হচ্ছে। এর মধ্যে আমরা গণমাধ্যমের খবরে জেনেছি, আমাদের সচেতনতার কিছুটা ঘাটতির কারণে কীভাবে বেশ কিছু শিশু হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে।’
সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলায় হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬-এর উদ্বোধনের সময় এ কথা বলেছেন তিনি। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বরে আয়োজিত হয় এ অনুষ্ঠান।
দায়িত্বশীল সরকার হিসেবে শিশুদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব আছে জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘বিগত দিনে যেসব সরকার দায়িত্ব পালন করেছে, তারা এই টিকাদান কর্মসূচিকে যথাযথভাবে পরিচর্যা করেনি। এ কারণেই আজ যখন সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে, তখন এর প্রাদুর্ভাব থেকে আমরা শিশুদের সুরক্ষা দিতে অনেকটা ব্যর্থ হয়েছি।’
তথ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ‘দেশে প্রচুর প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুত থাকলেও বিগত স্বৈরাচার সরকার নিজেদের ব্যবসার স্বার্থে দেশীয় গ্যাস উত্তোলনের কোনো ব্যবস্থা না করে আমদানিনির্ভর জ্বালানিনীতি তৈরি করেছিল। এটা কেবলই নিজেদের ও দলীয় স্বার্থে করা হয়েছিল। আজ যদি আমাদের নিজস্ব গ্যাস উত্তোলনের সক্ষমতা থাকত, তাহলে হরমুজ প্রণালির এই সংকটে আমাদের পড়তে হতো না।’
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, ‘ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল যখন গণবিরোধী ও জনবিচ্ছিন্ন হয়, তখন এর পরিণতি যে কতটা সুদূরপ্রসারী ও খারাপ হতে পারে, তার প্রমাণ হচ্ছে এই জ্বালানিসংকট। এ জন্য প্রধান অপরাধী হচ্ছে, পলাতক স্বৈরাচার সরকার। তারা রপ্তানি আয়ের বৈদেশিক মুদ্রার বাড়তি ব্যয় করে দেশকে অর্থনৈতিকভাবে পঙ্গু করেছে।’
রাষ্ট্র ও রাজনীতিতে সংস্কার আনতে না পারলে এসব সংকট থেকে জনগণকে উদ্ধার করা যাবে না উল্লেখ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এ জন্য ক্ষমতায় যাওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্রসংস্কারের কর্মসূচি দিয়েছেন। সেই কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষায় জ্বালানিসংকট ও হামের মতো দুর্যোগ মোকাবিলায় কাজ করা হচ্ছে।
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে যে দুর্নীতি করবেন, তিনি ২৪ ঘণ্টাও থাকতে পারবেন না।’ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) শুরু হতে যাওয়া চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নিয়ে সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্যের এক পর্যায়ে সোমবার (২০ এপ্রিল) শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেছেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘আমি এই মন্ত্রী, এই মন্ত্রণালয়ে যে দুর্নীতি করবে, ২৪ ঘণ্টা থাকতে পারবে না। এখনো করছি। আজকেও একজনকে বিদায় দিয়েছি।’
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী পরবর্তী এসএসসি পরীক্ষা ডিসেম্বরে নেওয়ার পরিকল্পনার কথা বলেন। অবশ্য এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্তের কথা বলেননি তিনি।
এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ১৮ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি।
গতবার ফল প্রকাশের যে তথ্য দেওয়া হয়েছিল, তাতে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৯ লাখ ৩৬ হাজারের বেশি। অর্থাৎ গতবারের তুলনায় এবার পরীক্ষার্থী অনেক কম। সারাদেশে মোট ৩ হাজার ৮৮৫টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর এটিই প্রথম পাবলিক পরীক্ষা।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল।
নিজের এবং দলের নেতাকর্মীদের জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে জাতীয় সংসদে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নোয়াখালী-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপি নেতা আবদুল হান্নান মাসউদ। সোমবার (২০ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৭তম দিনে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের ওপর বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি তার ওপর হওয়া একের পর এক হামলার চিত্র তুলে ধরেন।
সংসদ সদস্য হান্নান মাসউদ বলেন, তিনি একটি দুর্গম দ্বীপাঞ্চল থেকে নির্বাচিত হয়েছেন, যেখানে ভূমিদস্যু ও জলদস্যুদের দৌরাত্ম্য প্রকট। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের আগে ও পরে অন্তত পাঁচবার সরাসরি হামলার শিকার হয়েছেন। তিনি আরও জানান, তার জন্য মসজিদে দোয়া করার অপরাধে এক ইমামের ওপর নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে, যিনি এখনো চিকিৎসাধীন।
সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করে হান্নান মাসউদ বলেন, ‘আমাকে অস্ত্র হাতে কোপাতে আসার ভিডিও ও প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও সন্ত্রাসীদের রাজনৈতিক আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। ফেসবুক লাইভে এসে প্রতিনিয়ত হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে এবং আমাকে এলাকায় প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে।’ তিনি প্রশ্ন তোলেন, একজন সংসদ সদস্য হয়েও যদি তিনি ও তার কর্মীরা নিরাপদ না থাকেন, তবে সাধারণ মানুষের অবস্থা কী হতে পারে? তিনি ঘটনার সুষ্ঠু সংসদীয় তদন্ত ও জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
যদিও কার্যপ্রণালী বিধির কারিগরি সীমাবদ্ধতার কারণে হান্নান মাসউদের নোটিশটি সংসদে গৃহীত হয়নি, তবে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল উল্লেখ করে তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, ‘একজন সংসদ সদস্যের ওপর এ ধরনের হামলা ও হুমকি কোনোভাবেই কাম্য নয়।’
পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আশ্বাস দিয়ে বলেন, ‘যদি হামলার ঘটনাগুলো সত্য হয়, তবে তা অত্যন্ত দুঃখজনক এবং সরকার কোনো অপরাধীকে ছাড় দেবে না।’ মন্ত্রী পরামর্শ দেন যে, হামলা বা হুমকির ঘটনায় ভুক্তভোগী সংসদ সদস্যের সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা বা জিডি করা প্রয়োজন। অভিযোগ দায়ের করা হলে পুলিশ দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে তিনি জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘শুধু হান্নান মাসউদ নন, সংসদের যেকোনো সদস্য নিরাপত্তাহীনতায় ভুগলে তাৎক্ষণিকভাবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা স্থানীয় থানাকে অবহিত করতে হবে। সরকার দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং সংসদ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’