আজ জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিঞা মিলনায়তনে ‘৭১’র চেতনায় লিভার বিশেষজ্ঞ ক’জনা’ প্রযোজিত নির্বাচনী প্রচার সঙ্গীত ‘ভোট দিব সবাই’-এর আনুষ্ঠানিক সম্প্রচার শুরু উপলক্ষে আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্টারভেনশাল হেপাটোলজি ডিভিশনের প্রধান অধ্যাপক ডা. মামুন আল মাহতাব স্বপ্নীলের সভাপতিত্বে এতে আলোচনায় অংশ নেন বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ, জাতীয় প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক শ্যামল দত্ত, সম্প্রীতি বাংলাদেশের আহবায়ক পিযূষ বন্দ্যোপাধ্যায়, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক চন্দ্রনাথ পোদ্দার, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সহ-সভাপতি ঝুনা চৌধুরী, মিউজিক ভিডিওটির নির্মাতা সাইফ আহম্মেদ এবং গীতিকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের লিভার বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. শেখ মোহাম্মদ নূর-ই-আলম ডিউ।
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের লিভার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. রোকসানা বেগম এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের লিভার বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. ফয়সাল আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটিতে ‘ভোট দিব সবাই’ গানটির আনুষ্ঠানিকভাবে সম্প্রচার আরম্ভ হয়। এছাড়া অনুষ্ঠানটিতে গানটির পোষ্টারটিও আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করা হয়।
নিজের অভিব্যাক্তি প্রকাশ করতে গিয়ে ডা. ডিউ জানান,আগুন সন্ত্রাসী ও মানুষের ভোট দেয়ার গনতান্ত্রিক অধিকার হরণ করার চক্রান্তে যারা লিপ্ত তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে এই গানটি। এর মাধ্যমে তিনি আগামী নির্বাচনে উৎসাহ-উদ্দিপনা নিয়ে ভোটদানে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করতে চান।
মিউজিক ডিভিওটির নির্মাতা জনাব সাইফ আহম্মেদ বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে এত বেশি উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে যে এর সবগুলো তিনি সাড়ে চার মিনিটের এই মিউজিক ভিডিওটির স্বল্প পরিসরে তুলে ধরতে পারেননি।
ঝুনা চৌধুরী তার বক্তব্যে জানান,লিভার বিশেষজ্ঞদের এই গানটি ভালো লেগেছে তার কাছে।
অধ্যাপক ডা. মোঃ শারফুদ্দিন আহমেদ অন্যান্য সকল ক্ষেত্রের মত এদেশে চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের নব নির্মিত সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে প্রাপ্ত উন্নত চিকিৎসা সুবিধাগুলোর কথা তুলে ধরে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে ভবিষ্যতে এদেশ থেকে আর কেউ উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাবেন না।
শ্যামল দত্ত তার বক্তব্যে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনটিকে তৃতীয় মুক্তিযুদ্ধের সাথে তুলনা করে প্রত্যাশা করেন,১৯৭১ সালে যেভাবে আমরা পাকিস্তানী হানাদারদের পরাজিত করেছিলাম এবং তারপর আবারো বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে পাকিস্তানী দোসরদের ক্ষমতা থেকে অপসারন করে দ্বিতীয়বারের মত মুক্তিযুদ্ধে জয়ী হয়েছিলাম, তেমনি আগামী নির্বাচনে তৃতীয় মুক্তিযুদ্ধেও আমাদের বিজয় সুনিশ্চিত।
পীযূষ বন্দ্যোপাধ্যায় তার বক্তব্যে বঙ্গবন্ধুর নির্বাচনী জনসভাগুলোর শুরুতে উদ্দীপনামূলক সঙ্গীত পরিবেশনের স্মৃতিচারন করে বলেন, ব্যতিক্রমী এই নির্বাচনী সঙ্গীতটি আগামী নির্বাচনে মানুষকে ভোট কেন্দ্রে যেয়ে ভোটদানে উদ্বুদ্ধ করবে।
বিচারপতি শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক গানটির কথা, সুর ও গায়কির উচ্ছসিত প্রশংসা করে একে হারানো দিনের আধুনিক বাংলা গানের সাথে তুলনা করেন। সঙ্গীতের প্রতি তার নিজের ভালোবাসার কথা জানিয়ে বিচারপতি মানিক গানটির ব্যাপক প্রচারের উপর জোড় দেন, যাতে মানুষ আরো বেশি বেশি করে ভোটদানে আগ্রহী হয়ে উঠে।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. স্বপ্লীল জানান,বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার প্রতি এদেশের লিভার বিশেষজ্ঞদের কৃতজ্ঞতা ও দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে তারা এই গানটির প্রযোজনার উদ্যোগ নিয়েছেন।
তিনি এবং গানটির গীতিকার ডা. ডিউসহ এই গানটির সাথে সম্পৃক্ত প্রত্যেক লিভার বিশেষজ্ঞ জোট সরকারের সময় দেশের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের রাজনীতিতে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন উল্লেখ করে অধ্যাপক ডা. স্বপ্নীল জানান,তারা প্রত্যেকে তাদের ছাত্র রাজনীতির এই অতীত সম্পৃক্ততার জন্য গর্বিত এবং বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতা থেকেও তারা এই গানটি প্রযোজনা করেছেন।
তিনি আগামী নির্বাচনে ব্যাপকভাবে ভোট কেন্দ্রে যেয়ে ভোট প্রদানের মাধ্যমে জাতিকে তৃতীয় মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী হয়ে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত দ্বিতীয় বিপ্লব সফল করার আহবান জানান। কেক কাটার মধ্যে দিয়ে অনুষ্ঠানটি সমাপ্ত হয়।
উল্লেখ্য,৭১’র চেতনায় লিভার বিশেষজ্ঞ ক’জনা প্রযোজিত এই নির্বাচনী প্রচারনায় সঙ্গীতটি দেখা নিচের লিংকে :
ঢাকায় নিযুক্ত নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন আজ মঙ্গলবার বিকেলে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামের সাথে এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা হয়। আগামী বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে তাঁর আনুষ্ঠানিক পরিচয়পত্র পেশ করার কথা রয়েছে। মূলত সেই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বভার গ্রহণের আগে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক আনুষ্ঠানিকতা ও প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই তিনি আজ মন্ত্রণালয়ে আসেন। গত সোমবার সন্ধ্যায় তিনি রাজধানী ঢাকায় পৌঁছান এবং বিমানবন্দরে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান মার্কিন দূতাবাস ও বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন চলতি সপ্তাহেই তাঁর ঢাকা মিশনের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করবেন। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতির কাছে পরিচয়পত্র পেশ করার আগে তিনি আগামী দুই দিন পররাষ্ট্র সচিব এবং রাষ্ট্রাচার অনুবিভাগের প্রধান নূরুল ইসলামের সাথে ধারাবাহিক বৈঠক করবেন। এর আগে গত ৯ জানুয়ারি ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি শপথ গ্রহণ করেন। দেশটির ব্যবস্থাপনা ও সম্পদ বিষয়ক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইকেল জে রিগাস তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথবাক্য পাঠ করান। শপথ গ্রহণের পরই ঢাকার মার্কিন দূতাবাস এক বার্তার মাধ্যমে তাঁকে বাংলাদেশে স্বাগত জানায়।
ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন সার্ভিসের একজন অত্যন্ত জ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তা। বাংলাদেশের সাথে তাঁর কাজের অভিজ্ঞতা বেশ পুরোনো। তিনি ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ক কাউন্সেলর হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে বাংলাদেশের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে তাঁর গভীর জানাশোনা রয়েছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের মনোনীত এই কূটনীতিক বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের ১৮তম রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করতে যাচ্ছেন। তিনি বিদায়ী রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের স্থলাভিষিক্ত হবেন, যিনি ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেছেন।
বাংলাদেশে পুনরায় ফিরে আসতে পেরে নিজের বিশেষ অনুভূতি প্রকাশ করে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন জানিয়েছেন যে, তিনি এ দেশের মাটি ও মানুষের সাথে পূর্বপরিচিত এবং এখানে ফিরতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। তিনি ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে আমেরিকান ও স্থানীয় কর্মীদের সমন্বয়ে গঠিত শক্তিশালী দলটিকে নেতৃত্ব দেওয়ার মাধ্যমে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে চান। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বৈশ্বিক লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করার পাশাপাশি একটি নিরাপদ, শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ অংশীদারিত্ব গড়ে তোলাই তাঁর আগামীর প্রধান লক্ষ্য হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর এই নিযুক্তি ও আগমনের ফলে ঢাকা-ওয়াশিংটন সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন গতির সঞ্চার হবে বলে আশা করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সংস্কারের নামে পুরোনো আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাকেই নতুনভাবে প্রতিষ্ঠা করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে এবং এটি রাষ্ট্র সংস্কারের মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে অভিযোগ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কার নিয়ে যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, অন্তর্বর্তী সরকারের সাম্প্রতিক অধ্যাদেশগুলোতে তার স্পষ্ট প্রতিফলন নেই বলেও উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।
গতকাল সোমবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে টিআইবি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান এসব বিষয় জানান।
টিআইবি জানায়, শতাধিক অধ্যাদেশ জারি করে এক ধরনের রেকর্ড গড়া হলেও এসব আইনি কাঠামোর বড় অংশে জুলাই সনদের চেতনা উপেক্ষিত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি ৮টি অধ্যাদেশের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।
যেখানে দুর্নীতি দমন কমিশন, পুলিশ কমিশন ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসহ রাষ্ট্রের মৌলিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা ও জবাবদিহির কাঠামো নিশ্চিত করা হয়নি বলে জানানো হয়।
ড. ইফতেখারুজ্জামানের অভিযোগ, সরকার বিভিন্ন সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন ও নিজস্ব বিবেচনায় একের পর এক অধ্যাদেশ জারি করলেও অনেক ক্ষেত্রে সুশাসন ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার মৌলিক সুপারিশ উপেক্ষা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘সংস্কারের নামে এমন আইনি কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে, যা কার্যত দায়মুক্তির সুযোগ তৈরি করছে এবং পুরোনো ব্যবস্থারই পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে।’
ড. ইফতেখারুজ্জামান জানান, রাষ্ট্র সংস্কার প্রক্রিয়ায় সহায়ক ভূমিকা পালনের অংশ হিসেবে টিআইবি ধারাবাহিকভাবে আইনের খসড়া পর্যালোচনা ও সুনির্দিষ্ট সুপারিশ দিয়ে আসছে। কিছু ক্ষেত্রে সেই সুপারিশ বাস্তবায়িত হওয়ায় সরকার ও সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানালেও গুরুত্বপূর্ণ অনেক খাতে যৌক্তিক প্রস্তাব উপেক্ষিত থাকার বিষয়টি গভীর উদ্বেগের বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের সংস্কার অধ্যাদেশ বিশ্লেষণ করে বলেন, ‘দুদক সংস্কারে কিছু ইতিবাচক দিক থাকলেও দুর্নীতির মামলায় জরিমানা বা ক্ষতিপূরণের বিনিময়ে সাজা মার্জনার সুযোগ রাখা হয়েছে, যা তিনি ‘‘দুর্নীতিবাজদের সুরক্ষা দেওয়ার ফাঁদ’’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।’
এ ছাড়া দুদক সংস্কার অধ্যাদেশে কমিশনার সংখ্যা বৃদ্ধি, নারী কমিশনার ও আইসিটি বিশেষজ্ঞ অন্তর্ভুক্তি এবং সরাসরি এফআইআর করার ক্ষমতাকে ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করলেও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার ঘাটতি, অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি রোধে প্রস্তাবিত ইন্টিগ্রিটি ইউনিট বাতিল এবং পূর্ণ আর্থিক ও প্রশাসনিক স্বাধীনতা নিশ্চিত না হওয়ার বিষয়গুলোকে গুরুতর দুর্বলতা হিসেবে তুলে ধরেন তিনি।
পুলিশ কমিশন অধ্যাদেশ নিয়ে কঠোর সমালোচনা করে ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘এই অধ্যাদেশ একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ পুলিশ কমিশন গঠনের উদ্দেশ্য পূরণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হবে।’ সাবেক আমলা ও সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রাধান্য, ‘সদস্য সচিব’ পদ সৃষ্টি এবং প্রথম তিন বছরে অনির্দিষ্ট সংখ্যক সরকারি কর্মকর্তাকে প্রেষণে নিয়োগের সুযোগ দেওয়াকে তিনি সিভিল ও পুলিশি আমলাতন্ত্রের কর্তৃত্ব বজায় রাখার কৌশল হিসেবে উল্লেখ করেন।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সংস্কার অধ্যাদেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক খসড়াটি আন্তর্জাতিক মানের হলেও সংশোধিত সংস্করণে এসে সেই সম্ভাবনা খর্ব হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থাকে কমিশনের আওতায় আনার উদ্যোগকে স্বাগত জানালেও কমিশনার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে অন্তর্ভুক্ত করায় কমিশনের স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সার্বিকভাবে টিআইবি মনে করে, সংস্কার কমিশনগুলোর বহু গুরুত্বপূর্ণ ও সুনির্দিষ্ট সুপারিশ উপেক্ষা করে যে অধ্যাদেশগুলো প্রণয়ন করা হয়েছে, তা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্নীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করার বদলে আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণকে আরও শক্তিশালী করবে। জুলাই সনদের চেতনা অনুযায়ী যদি স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও প্রকৃত সংস্কার নিশ্চিত না করা হয়, তাহলে এই উদ্যোগগুলো রাষ্ট্র সংস্কারের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হবে বলে টিআইবির আশঙ্কা।
চলতি অর্থবছরের জন্য সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (আরএডিপি) অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি)। গতকাল সোমবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় মূল এডিপির তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ বরাদ্দ কমিয়ে মোট ২ লাখ কোটি টাকার সংশোধিত এডিপি চূড়ান্ত করা হয়েছে। পরিকল্পনা কমিশনের সূত্র অনুযায়ী, অর্থবছরের প্রথম কয়েক মাসে প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীরগতি এবং মন্ত্রণালয়গুলোর চাহিদার তুলনায় সক্ষমতা কম থাকাই এই বড় ধরণের অর্থ সাশ্রয় বা কাটছাঁটের প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সংশোধিত এই উন্নয়ন বাজেটে সরকারের নিজস্ব তহবিল এবং বৈদেশিক ঋণ—উভয় খাতেই বরাদ্দের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। সরকারি অর্থায়নের অংশ থেকে প্রায় ১১ শতাংশ বা ১৬ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা। একইভাবে বৈদেশিক ঋণ ও অনুদানের ক্ষেত্রে ১৬ শতাংশেরও বেশি বা ১৪ হাজার কোটি টাকা কাটছাঁট করে ৭২ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও সংশোধনের সময় মন্ত্রণালয়গুলো থেকে মাত্র ১ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকার চাহিদা জানানো হয়েছিল, তবে সরকার সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ২ লাখ কোটি টাকার একটি কাঠামো তৈরি করেছে। এতে করে সরকারি কোষাগারের ওপর চাপের ভারসাম্য বজায় রাখা সম্ভব হবে বলে মনে করছে অর্থ বিভাগ।
খাতভিত্তিক বরাদ্দ বিশ্লেষণে দেখা যায়, পরিবহন ও যোগাযোগ খাত বরাদ্দের দিক থেকে সবার ওপরে থাকলেও এখানেও ৩৫ শতাংশ অর্থ কমানো হয়েছে। এই খাতের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৩৮ হাজার ৫০৯ কোটি টাকা। এর পরেই বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ২৬ হাজার ১৮৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা মূল বরাদ্দের চেয়ে ১৯ শতাংশ কম। তবে সবচেয়ে বড় বিপর্যয় ঘটেছে স্বাস্থ্য খাতে; বাস্তবায়ন সক্ষমতার অভাবে এই খাতের বরাদ্দ অবিশ্বাস্যভাবে ৭৪ শতাংশ কমিয়ে মাত্র ৪ হাজার ৭১৮ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে। শিক্ষা খাতেও প্রায় ৩৫ শতাংশ এবং কৃষি খাতে ২১ শতাংশ বরাদ্দ কমানো হয়েছে। তবে এই নেতিবাচক ধারার বিপরীতে পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও পানিসম্পদ খাতে বরাদ্দ প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা বর্তমান সরকারের পরিবেশ রক্ষা ও টেকসই উন্নয়নের অঙ্গীকারকে ফুটিয়ে তোলে।
মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর মধ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগ সর্বোচ্চ ৩৭ হাজার ৫৩৪ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে। সড়ক পরিবহন ও বিদ্যুৎ বিভাগও তালিকায় প্রথম দিকে রয়েছে। মোট ১ হাজার ৩৩০টি প্রকল্পের এই বিশাল কর্মযজ্ঞের মধ্যে বড় একটি অংশ জুড়ে রয়েছে বিনিয়োগ প্রকল্প। পরিকল্পনা কমিশন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে যে চলতি অর্থবছরের মধ্যেই অন্তত ২৮৬টি প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণভাবে শেষ করা হবে। এছাড়া স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও করপোরেশনগুলোর নিজস্ব অর্থায়ন যুক্ত করলে সংশোধিত এডিপির মোট আকার দাঁড়াবে ২ লাখ ৮ হাজার কোটি টাকার উপরে। সামগ্রিকভাবে, এই সংশোধিত উন্নয়ন বাজেট দেশের অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
কক্সবাজারের মহেশখালী উপজেলায় অবস্থিত দেশের অন্যতম মেগা প্রকল্প মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডে লাগা ভয়াবহ আগুন দীর্ঘ ৯ ঘণ্টার প্রচেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে এসেছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ভোর সাড়ে পাঁচটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিটের সম্মিলিত চেষ্টার পর আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করা সম্ভব হয়। এর আগে সোমবার রাত ৯টার দিকে বিদ্যুৎকেন্দ্রের অভ্যন্তরে অবস্থিত পরিত্যক্ত যন্ত্রাংশ ও মালামাল রাখার স্থানে (স্ক্র্যাপ ইয়ার্ড) এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে। আগুনের খবর পাওয়ার পরপরই মহেশখালী ও চকরিয়া ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ৪টি এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রের নিজস্ব ২ টিসহ মোট ৬টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। দীর্ঘ সময় ধরে জ্বলা এই আগুনের লেলিহান শিখা এলাকায় এক ধরণের আতঙ্ক সৃষ্টি করলেও বড় কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটেনি।
মহেশখালীর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান মাহমুদ ডালিম এবং বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছেন যে, এই অগ্নিকাণ্ডে কেন্দ্রের মূল উৎপাদন ইউনিট বা বয়লারের কোনো ধরণের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। ফলে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, স্ক্র্যাপ ইয়ার্ডটি মূল বিদ্যুৎ উৎপাদন এলাকা থেকে নিরাপদ দূরত্বে একটি পুকুর সদৃশ কাঠামোর ভেতরে অবস্থিত ছিল, যেখানে মূলত অব্যবহৃত ও পুরনো লোহার যন্ত্রাংশ রাখা হতো। এই দূরত্বের কারণেই আগুন মূল প্ল্যান্টে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কম ছিল। তবুও অত্যন্ত সংবেদনশীল স্থাপনা হওয়ায় ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদারকি করেছে।
অগ্নিকাণ্ডের সঠিক কারণ এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া না গেলেও মহেশখালী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সালাহ উদ্দিন কাদের জানিয়েছেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী ওই এলাকায় পথশিশুদের অবাধ যাতায়াত বা দৌরাত্ম্য রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের মাধ্যমেই কোনোভাবে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে এটি কেবলই প্রাথমিক ধারণা, প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে বিদ্যুৎকেন্দ্র কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া চলছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পরই আগুনের প্রকৃত উৎস এবং এর পেছনে কোনো নাশকতা বা অবহেলা ছিল কি না, তা স্পষ্টভাবে জানা যাবে।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র কর্মকর্তা দোলন আচার্য্য জানান, রাতের আঁধারে ঘন কুয়াশা ও বাতাসের কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকল কর্মীদের বেশ বেগ পেতে হয়েছে। ভোর হওয়ার আগেই আগুন চারদিকে ছড়িয়ে পড়া রোধ করা সম্ভব হওয়ায় বড় ধরণের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো গেছে। বর্তমানে ওই এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং ধ্বংসাবশেষ থেকে ধোঁয়া বের হওয়া বন্ধ করতে কুলিং বা শীতলীকরণের কাজ চলছে। মাতারবাড়ি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো জাতীয় সম্পদের সুরক্ষায় এই ঘটনাটি বড় ধরণের সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। তারা নিয়মিত তদারকি ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা আরও আধুনিক করার ওপর জোর দিয়েছেন।
বিতর্কিত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে ওঠা অভিযোগ তদন্তে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত তদন্ত কমিশন প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত অনিয়ম ও বিতর্কিত তিনটি (২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিত) জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরিকল্পনা শুরু হয়েছিল ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর থেকে। এই অভিনব পরিকল্পনা হয় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তে। আর তা বাস্তবায়নে প্রশাসন, পুলিশ, নির্বাচন কমিশন এবং গোয়েন্দা সংস্থার একটি অংশকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যবহার করা হয়।
গতকাল সোমবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে কমিশন তাদের প্রতিবেদন জমা দেয়।
পরে যমুনার সামনে সংবাদ সম্মেলন করে প্রতিবেদনের সারসংক্ষেপ ও সুপারিশগুলো তুলে ধরেন পাঁচ সদস্যের কমিশনের সভাপতি হাইকোর্টের সাবেক বিচারপতি শামীম হাসনাইন, সাবেক গ্রেড-১ কর্মকর্তা শামীম আল মামুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী মাহফুজুল হক, আইনজীবী তাজরিয়ান আকরাম হোসাইন এবং নির্বাচন বিশেষজ্ঞ মো. আবদুল আলীম। এ সময় আরও বক্তব্য দেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
অবশ্য তিনটি নির্বাচনের নির্বাচনী অনিয়মে কয়েক হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী যুক্ত থাকায় এবং তদন্ত কমিশনের বরাদ্দ করা সময় অপ্রতুল হওয়ায় সুনির্দিষ্টভাবে তাদের নাম ও কার কী ভূমিকা ছিল, তা বের করা সম্ভব হয়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই কমিটি ২০০৮ সালের নির্বাচনকে সন্দেহজনক উল্লেখ করে ওই নির্বাচন নিয়েও তদন্ত করার সুপারিশ করেছে কমিশন।
তদন্ত প্রতিবেদনে কমিশন জানায়, ২০১৪ সালে ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবং অবিশষ্ট ১৪৭টিতে ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতা’র নির্বাচন ছিল সম্পূর্ণ সাজানো ও সুপরিকল্পিত। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখতে এ বন্দোবস্ত করা হয়েছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের নির্বাচন সারা বিশ্বে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচন হিসেবে সমালোচিত হওয়ায় শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ ২০১৮ সালের নির্বাচনকে ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক’ করার মিশন গ্রহণ করে। বিএনপিসহ অন্যান্য বিরোধী দল তাদের এ সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা বুঝতে না পেরে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে।
প্রতিবেদন গ্রহণের পর প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা ভোট ডাকাতির কথা শুনেছিলাম, কিছু কিছু জানতাম। কিন্তু এত নির্লজ্জভাবে পুরো প্রক্রিয়াকে বিকৃত করে সিস্টেমকে দুমড়ে-মুচড়ে ফেলে নিজেদের মনের মতো একটা কাগজে রায় লিখে দিয়েছে এগুলো জাতির সামনে তুলে ধরা দরকার। পুরো রেকর্ড থাকা দরকার।’
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘দেশের টাকা খরচ করে, মানুষের টাকায় নির্বাচন আয়োজন করে পুরো জাতিকেই শাস্তি দেওয়া হয়েছে। এ দেশের মানুষ অসহায়ের মতো তাকিয়ে ছিল। কিছু করতে পারেনি। এ দেশের জনগণ যেন কিছুটা হলেও স্বস্তি পায় সে জন্য যারা যারা জড়িত ছিল তাদের চেহারাগুলো সামনে নিয়ে আসতে হবে। কারা করল, কীভাবে করল সেটা জানতে হবে। নির্বাচন ডাকাতি আর কখনো না ঘটতে পারে সেই ব্যবস্থা করতে হবে।’
তদন্ত কমিশনের প্রাক্কলন অনুযায়ী ২০১৮ সালে ৮০% কেন্দ্রে রাতের বেলায় ব্যালট পেপারে সিল মেরে আওয়ামী লীগের বিজয় নিশ্চিত করে রাখা হয়। আওয়ামী লীগকে জেতাতে প্রশাসনের মধ্যে এক ধরনের অসৎ প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল। ফলে কোনো কোনো কেন্দ্রে ভোট প্রদানের হার ১০০% এর বেশি হয়ে যায়। ২০২৪ সালে বিএনপিসহ বিরোধী দল নির্বাচনে অংশ না দেওয়ায় ‘ডামি’ প্রার্থী দিয়ে নির্বাচনকে ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক’ করার অপকৌশল গ্রহণ করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনটি নির্বাচনের অভিনব পরিকল্পনা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী হয় এবং বাস্তবায়নে প্রশাসন, পুলিশ, নির্বাচন কমিশন ও গোয়েন্দা সংস্থার একটি অংশকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যবহার করা হয়। কিছু কর্মকর্তার সমন্বয়ে বিশেষ সেল গঠন করা হয় যা নির্বাচন সেল নামে পরিচিত লাভ করে।
২০১৪-২৪ পর্যন্ত সময়ে নির্বাচন ব্যবস্থাকে নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে মূলত প্রশাসনের হাতে নিয়ে যাওয়া হয়। এ সময়ে কমিশনের পরিবর্তে প্রশাসনই হয়ে উঠে নির্বাচন পরিচালনার মূল শক্তি।
উল্লেখ্য, গত জুন মাসে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে এই কমিশন গঠনের কথা জানানো হয়েছিল। কমিশনকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল। পরে অবশ্য সময় বাড়ানো হয়। কমিশন গঠনের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছিল, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই তিনটি নির্বাচন নিয়ে দেশে-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছে। এসব নির্বাচনে নানা কৌশলে জনগণের ভোট দেওয়ার অধিকার ভুলুণ্ঠিত করে সাজানো প্রক্রিয়ায় আওয়ামী লীগকে নির্বাচিত করার জোরালো অভিযোগ রয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, তা লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগও এসব নির্বাচন পরিচালনাকারীর বিরুদ্ধে রয়েছে। এতে দেশে আইনের শাসন, গণতন্ত্র ও মৌলিক মানবাধিকার বিপন্ন হয়েছে বলে আশঙ্কা রয়েছে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের ১৮তম রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের লক্ষে আজ সোমবার (১২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানী ঢাকায় পৌঁছেছেন ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। কাতার এয়ারওয়েজের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের পর তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন দূতাবাস এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পদস্থ কর্মকর্তারা। রাষ্ট্রদূতের এই আগমনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ কয়েক মাস পর ঢাকার মার্কিন মিশনে একজন পূর্ণাঙ্গ প্রধানের পদায়ন সম্পন্ন হলো। তাঁর এই সফর ও দায়িত্বভার গ্রহণ বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক ও নির্বাচনি প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
কূটনৈতিক সূত্র থেকে জানা গেছে, ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন চলতি সপ্তাহেই আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর কূটনৈতিক কার্যক্রম শুরু করবেন। এই লক্ষে আগামী দুই দিন তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং রাষ্ট্রাচার অনুবিভাগের প্রধান নূরুল ইসলামের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হবেন। এরপর আগামী বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) তিনি বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে তাঁর আনুষ্ঠানিক পরিচয়পত্র বা ক্রেডেনশিয়াল পেশ করবেন। পরিচয়পত্র পেশের পরই তিনি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রদূতের ক্ষমতা ও মর্যাদা নিয়ে বাংলাদেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিত্ব করার আইনগত ভিত্তি লাভ করবেন।
এর আগে গত ৯ জানুয়ারি ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরে নবনিযুক্ত এই রাষ্ট্রদূতের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবস্থাপনা ও সম্পদ বিষয়ক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইকেল জে. রিগাস তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথবাক্য পাঠ করান। শপথ গ্রহণ শেষে ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এক বার্তার মাধ্যমে তাঁকে বাংলাদেশে স্বাগত জানায়। উল্লেখ্য যে, ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন এর আগে ১৭তম রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী পিটার হাসের স্থলাভিষিক্ত হলেন। বাংলাদেশে ইতিপূর্বেও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা থাকায় ক্রিস্টেনসেনের জন্য এটি একটি পরিচিত কর্মস্থল হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
বাংলাদেশে পুনরায় ফিরে আসার বিষয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন জানিয়েছেন যে, তিনি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট ও পরিবেশের সঙ্গে আগে থেকেই খুব ভালোভাবে পরিচিত। সেই চেনা জনপদে আবারও ফিরে আসতে পেরে তিনি নিজেকে অত্যন্ত আনন্দিত মনে করছেন। তিনি আরও জানান যে, ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসের আমেরিকান এবং স্থানীয় কর্মীদের একটি দক্ষ দলকে নেতৃত্ব দিয়ে তিনি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় ও শক্তিশালী করতে চান। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈশ্বিক লক্ষ্য বাস্তবায়ন এবং একটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বিশ্ব গড়ে তোলার প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের সাথে অংশীদারিত্ব জোরদার করাই হবে তাঁর প্রধান দায়িত্ব। বর্তমানে তাঁর এই নিযুক্তি ঘিরে দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ ও ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাতে আগামী শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) এক বিশাল নাগরিক শোকসভার আয়োজন করা হয়েছে। সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে বিএনপির মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এই শোকসভাটি রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে। আগামী শুক্রবার দুপুর আড়াইটায় সভাটি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। বিএনপির উদ্যোগে এই অনুষ্ঠানটি মূলত একটি বিশেষ ‘নাগরিক কমিটি’র ব্যানারে পরিচালিত হবে, যেখানে দলীয় গণ্ডি পেরিয়ে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, এই নাগরিক শোকসভায় দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বরেণ্য বুদ্ধিজীবী, বিশিষ্ট নাগরিক এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন। বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতিনিধিরাও এই শোকসভায় অংশগ্রহণ করবেন বলে জানানো হয়েছে। প্রিয় নেত্রীকে হারানোর শোকে মুহ্যমান সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীরা এই সভার মাধ্যমে পুনরায় তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও আপসহীন নেতৃত্বের কথা স্মরণ করবেন। সংসদের দক্ষিণ প্লাজার মতো একটি মর্যাদাপূর্ণ স্থানে এই আয়োজন বেগম খালেদা জিয়ার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের গুরুত্বকেই পুনরায় ফুটিয়ে তুলছে।
উল্লেখ্য যে, গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৭৯ বছর বয়সে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর প্রয়াণে সারা দেশে এক শোকাবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তাঁর দল বিএনপি তখন আনুষ্ঠানিকভাবে সাত দিনের শোক পালন করেছিল। একই সাথে সরকারের পক্ষ থেকে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছিল, যার মধ্যে একদিন ছিল সাধারণ ছুটি। রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁর দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর এটিই হতে যাচ্ছে তাঁর স্মরণে সবচেয়ে বড় কোনো নাগরিক জমায়েত। বর্তমানে এই শোকসভাকে সফল করতে বিএনপির পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও প্রস্তুতির কাজ জোরদার করা হয়েছে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের ১৮তম রাষ্ট্রদূত হিসেবে চূড়ান্ত দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে আজ সোমবার (১২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানী ঢাকায় পৌঁছাচ্ছেন ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন। কাতার এয়ারওয়েজের একটি বিশেষ ফ্লাইটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁর অবতরণ করার কথা রয়েছে। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর মার্কিন দূতাবাসের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাবেন। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে চলতি সপ্তাহেই তিনি বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছে তাঁর পরিচয়পত্র (ক্রেডেনশিয়াল) পেশ করবেন। এর মধ্য দিয়ে দীর্ঘ কয়েক মাস পর ঢাকা পেল একজন পূর্ণাঙ্গ মার্কিন রাষ্ট্রদূত।
ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন মার্কিন ফরেন সার্ভিসের একজন জ্যেষ্ঠ ও অভিজ্ঞ সদস্য। বাংলাদেশে আসার আগে গত ৯ জানুয়ারি শুক্রবার ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেন। দেশটির ব্যবস্থাপনা ও সম্পদ বিষয়ক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইকেল জে. রিগাস তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান। শপথ গ্রহণ শেষে ক্রিস্টেনসেন বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় ও বন্ধুত্বপূর্ণ করার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। ইতিপূর্বেও ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত তিনি ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সেলর হিসেবে অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশে কাজ করার পূর্ব অভিজ্ঞতা থাকায় বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের চলমান সংস্কার কার্যক্রম এবং আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি পর্বে তাঁর এই নিয়োগ ও অবস্থানকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের অধিকারী ক্রিস্টেনসেন ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক কমান্ডের বৈদেশিক নীতি উপদেষ্টা হিসেবে কাজ করেছেন। এছাড়াও ম্যানিলা, সান সালভাদর, রিয়াদ ও হো চি মিন সিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে তিনি মার্কিন মিশনের বিভিন্ন শীর্ষ পদে দায়িত্ব পালন করেছেন। উল্লেখ্য যে, ঢাকায় সর্বশেষ মার্কিন রাষ্ট্রদূত হিসেবে পিটার হাস দায়িত্ব পালন করেছিলেন, যিনি ২০২৪ সালের এপ্রিলে বিদায় নেওয়ার পর থেকে রাষ্ট্রদূতের পদটি শূন্য ছিল। গত কয়েক মাস ধরে চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স হিসেবে ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসন রুটিন দায়িত্ব সামলালেও এখন থেকে ক্রিস্টেনসেনের হাত ধরে পূর্ণাঙ্গ কূটনৈতিক কার্যক্রম পরিচালিত হবে। গত সেপ্টেম্বরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে মনোনীত করার পর ডিসেম্বরে মার্কিন সিনেট তাঁর নিয়োগ চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। বর্তমানে তাঁর এই প্রত্যাবর্তনকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক আগ্রহ ও কৌতূহল বিরাজ করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেকে ভেনেজুয়েলার ‘ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে ঘোষণা করে বিশ্ব রাজনীতিতে এক নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছেন। গত রবিবার তাঁর নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ একটি ছবি পোস্ট করে তিনি এই দাবি করেন। ছবির নিচের ক্যাপশনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে তিনি ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের পদে আসীন হয়েছেন। এই ঘোষণাটি এমন এক সময়ে এলো যখন ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এবং দেশটির সার্বভৌমত্ব নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে চরম উত্তেজনা ও সংশয় বিরাজ করছে।
এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে গত ৩ জানুয়ারির সেই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট, যখন মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ দল রাজধানী কারাকাসে এক আকস্মিক ও শক্তিশালী সামরিক অভিযান চালায়। ওই অভিযানে ভেনেজুয়েলার দীর্ঘদিনের প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে তাঁদের সরকারি বাসভবন থেকে অনেকটা নাটকীয়ভাবে আটক করে সরাসরি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্ক সিটিতে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে তাঁরা দুজনেই মাদক পাচারের অভিযোগে নিউ ইয়র্কের একটি ফেডারেল কারাগারে বন্দি রয়েছেন এবং সেখানে তাঁদের বিচারের জোর প্রস্তুতি চলছে। উল্লেখ্য যে, মাদুরোকে অপসারণের এই রক্তক্ষয়ী অভিযানে ভেনেজুয়েলায় অন্তত ১০০ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানা গেছে।
মাদুরোর পতনের পরপরই ভেনেজুয়েলার বিশাল জ্বালানি তেল সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বড় ধরনের পরিকল্পনা প্রকাশ করে হোয়াইট হাউজ। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আগেই জানিয়েছিলেন যে ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদের তদারকি এখন থেকে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র করবে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই অবস্থানকে আরও জোরালো করে সম্প্রতি জানিয়েছেন যে, অনির্দিষ্টকালের জন্য এই অমূল্য সম্পদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ওয়াশিংটনের হাতে থাকবে এবং তাঁরা ভেনেজুয়েলার সরকার সংস্কারেও সক্রিয় ভূমিকা রাখবেন। মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, একটি স্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি হলে এবং ‘উপযুক্ত সময়’ এলে তেলের মালিকানা পুনরায় স্থানীয় সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
তবে ট্রাম্পের এই সাম্প্রতিক দাবির সাথে ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার এক ধরণের বড় সংঘাত পরিলক্ষিত হচ্ছে। মাদুরো আটক হওয়ার মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্ট দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজকে আইনত ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট হিসেবে ঘোষণা করেছিল। এমনকি দেশটির শক্তিশালী সেনাবাহিনীও দেলসি-র প্রতি তাঁদের পূর্ণ আনুগত্য ও সমর্থন ব্যক্ত করেছে। দায়িত্ব গ্রহণের পর দেলসি রদ্রিগেজ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সহযোগিতামূলক সম্পর্ক গড়ে তোলার ইতিবাচক ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই প্রেক্ষাপটকে পুরোপুরি পাশ কাটিয়ে ট্রাম্পের নিজেকে সরাসরি ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রপ্রধান দাবি করার বিষয়টি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই ধরণের সরাসরি ও আক্রমণাত্মক হস্তক্ষেপ ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ রাজনীতিকে আরও জটিল ও সংঘাতপূর্ণ করে তুলবে। একদিকে স্থানীয়ভাবে দেলসি রদ্রিগেজের নেতৃত্ব এবং অন্যদিকে ট্রাম্পের একচ্ছত্র আধিপত্যের দাবি—এই দুইয়ের মাঝে ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব এখন এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়েছে। মূলত বৈশ্বিক তেলের বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং দক্ষিণ আমেরিকায় মার্কিন প্রভাবকে একচেটিয়া করতেই ট্রাম্প প্রশাসন এমন সাহসী অথচ বিতর্কিত নীতি গ্রহণ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। বর্তমান এই পরিস্থিতিতে ল্যাটিন আমেরিকা অঞ্চলের অন্যান্য দেশগুলোও গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার সাথে পরিস্থিতির গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক আকস্মিক ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর পড়ার প্রবল আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন জাতিসংঘের ৩১টি সংস্থাসহ মোট ৬৬টি আন্তর্জাতিক সংগঠন থেকে নিজেদের নাম প্রত্যাহার করে নেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই সংস্থাগুলোর তালিকায় এমন সব প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা মূলত বিশ্বজুড়ে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, মানবাধিকার রক্ষা, গণতন্ত্র সুসংহতকরণ এবং নারী ক্ষমতায়ন নিয়ে কাজ করে। বুধবার একটি প্রেসিডেন্সিয়াল স্মারকের মাধ্যমে প্রকাশিত এই তালিকায় জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন (ইউএনএফসিসিসি) এবং ইন্টারগভর্নমেন্টাল প্যানেল অন ক্লাইমেট চেঞ্জ বা আইপিসিসি-র মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নাম রয়েছে। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন ইউনেস্কো, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং প্যারিস জলবায়ু চুক্তি থেকেও বেরিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল, যা আন্তর্জাতিক সহযোগিতার ভিত্তিকে নড়বড়ে করে দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র এসব বহুপাক্ষিক প্রতিষ্ঠানের প্রধান অর্থদাতা হওয়ায় তাদের প্রস্থান পুরো ব্যবস্থাকে দুর্বল করে ফেলবে। এর ফলে বাণিজ্য, মানবিক সহায়তা, শিক্ষা ও বিশেষ করে জলবায়ু ইস্যুতে বাংলাদেশ যে ধরণের আন্তর্জাতিক সুরক্ষা ও আর্থিক অনুদান পেয়ে আসছিল, তা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। বাংলাদেশ বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের সবচাইতে বেশি ঝুঁকির মুখে থাকা দেশগুলোর একটি, তাই আইপিসিসি-র মতো নির্ভরযোগ্য গবেষণা সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়া মানে হলো এ সংক্রান্ত বৈশ্বিক লড়াইয়ে বড় ধরণের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হওয়া। হোয়াইট হাউজ তাদের এই সিদ্ধান্তের সপক্ষে যুক্তি দিয়েছে যে, এসব সংস্থা আমেরিকানদের প্রকৃত স্বার্থ রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং তারা বৈরি এজেন্ডা অনুসরণ করছে। তবে এই যুক্তির বিপরীতে বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর জন্য উন্নয়ন সহায়তা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় এক বিশাল অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র সরকারের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সাল থেকে বাংলাদেশ প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সহায়তা পেয়ে আসছিল। এই বিশাল অংকের অর্থ মূলত খাদ্য নিরাপত্তা, শিক্ষা, জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ রক্ষা এবং রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় ব্যয় করা হয়েছে। ইতিমধেই ইউএসএইড (USAID)-এর কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার পর রোহিঙ্গা সহায়তা ছাড়া প্রায় সব খাতেই মার্কিন সরাসরি অর্থায়ন সংকুচিত হয়েছে। এমতাবস্থায় ৬৬টি সংস্থা থেকে ওয়াশিংটনের বিচ্ছেদ বাংলাদেশের চলমান ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে বড় ধরণের চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক সাহাব এনাম খান মনে করেন, আন্তর্জাতিক আইন ও প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল হয়ে পড়লে বাণিজ্য ও মানবিক ইস্যুতে বাংলাদেশের যে দরকষাকষির ক্ষমতা থাকে, তা ঝুঁকিতে পড়বে।
অন্যদিকে, বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন মনে করেন যে এই সিদ্ধান্তের একটি সুদূরপ্রসারী প্রতীকী মূল্য রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র যখন অর্থায়ন বন্ধ করে দেয়, তখন অন্যান্য ধনী দেশগুলোর মধ্যেও সহায়তা কমিয়ে দেওয়ার একটি প্রবণতা তৈরি হতে পারে। এর ফলে সামগ্রিক বৈশ্বিক সহযোগিতা ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার উপক্রম হবে এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় বিভাজন আরও গভীর হবে। বিশেষ করে জাতিসংঘের জনসংখ্যা তহবিল বা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কেন্দ্রের মতো সংস্থাগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বিদায় বাংলাদেশের মতো উদীয়মান অর্থনীতির জন্য নতুন কোনো সংকট বয়ে আনে কি না, সেটিই এখন বড় উদ্বেগের বিষয়। বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকরা এখন বিকল্প উৎসের সন্ধান এবং এই সম্ভাব্য ক্ষতি মোকাবিলায় নতুন কূটনৈতিক কৌশল প্রণয়নের কথা ভাবছেন। মূলত একটি অংশগ্রহণমূলক বিশ্বব্যবস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রস্থান উন্নয়নশীল দেশগুলোর অগ্রযাত্রায় এক বিশাল অন্তরায় হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) বড় দশ প্রকল্পে বরাদ্দ কমানো হচ্ছে। সবচেয়ে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ও গুরুত্বপূর্ণ এই প্রকল্পগুলো থেকে সব মিলিয়ে ১২ হাজার কোটি টাকার বেশি কমানো হচ্ছে।
শীর্ষ ১০টি প্রকল্পের মধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পে কোনো বরাদ্দ কমছে না। আর ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বরাদ্দ বাড়ছে। আর বাকি ৮টি প্রকল্পের বরাদ্দ করা টাকা কমানো হচ্ছে। প্রত্যাশিত হারে প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ায় সংশোধিত এডিপিতে এসব প্রকল্পের বরাদ্দ কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া সরকারের সম্পদ বা রাজস্বঘাটতিও আছে।
বরাদ্দ কমানোর বড় প্রকল্পের তালিকায় আছে মেট্রোরেল (এমআরটি-৬); মেট্রোরেল (এমআরটি-১); এমআরটি-৫ উত্তরাংশ; সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল থেকে রংপুর পর্যন্ত চার লেন সড়ক নির্মাণ; ঢাকা-সিলেট চার লেন সড়ক নির্মাণ; মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন; হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ এবং বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত বিআরটি প্রকল্প।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় সংশোধিত এডিপি পাস হতে পারে। এনইসি সভায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সভাপতিত্ব করবেন।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বড় প্রকল্প বছরের শুরুতে বরাদ্দ দিলেও বছরের বাকি সময়ে পুরো অর্থ খরচ করা সম্ভব নয়। বাস্তবায়নের হার সন্তোষজনক না হওয়ায় বরাদ্দ কমানো হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সরকারের রাজস্ব আদায় পরিস্থিতিও ভালো নয়। তাই এডিপি কাটছাঁট করতে হচ্ছে।
কোন প্রকল্প কত কমছে: বিমানবন্দর থেকে রামপুরা হয়ে মতিঝিল পর্যন্ত এবং পূর্বাচল থেকে নতুনবাজার পর্যন্ত মেট্রোরেল নির্মাণের প্রকল্পটি এমআরটি-১ নামে পরিচিত। এই প্রকল্পে চলতি এডিপিতে ৮ হাজার ৬৩১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। কিন্তু সংশোধিত এডিপিতে এই বরাদ্দ ৮০১ কোটি টাকায় নামিয়ে আনার প্রস্তাব করা হচ্ছে। কমানো হচ্ছে ৭ হাজার ৮৩০ কোটি টাকা। বরাদ্দ কমছে ৯১ শতাংশ।
অন্যদিকে উত্তরা থেকে মিরপুর হয়ে কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেলের মতিঝিল পর্যন্ত চলাচল হচ্ছে। এখন মতিঝিল থেকে কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণের কাজ চলছে। এই প্রকল্পে এ বছর বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৩৪৭ কোটি টাকা। এখন তা কমিয়ে ১ হাজার ২৩ কোটি টাকা করা হচ্ছে। এমআরটি-৫–এ বরাদ্দ ছিল ১ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা। এখন তা কমিয়ে করা হচ্ছে ৫৯২ কোটি টাকা।
মাতারবাড়ী বন্দর উন্নয়ন প্রকল্পে এ বছর বরাদ্দ আছে ৪ হাজার ৮৬ কোটি টাকা। এই প্রকল্পের বরাদ্দ ৭৩ শতাংশ কমিয়ে করা হচ্ছে ১ হাজার ৮৫ কোটি টাকা। ঢাকা-সিলেট চার লেন সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে কমছে ৫৫ কোটি টাকা। সংশোধিত এডিপিতে এই প্রকল্পে ১ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হচ্ছে।
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ প্রকল্প কমানো হচ্ছে ৭৩৩ কোটি টাকা। এই প্রকল্প বরাদ্দ থাকছে ৩০৬ কোটি টাকা। বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত বিআরটি প্রকল্পে ২৫৬ কোটি টাকা বরাদ্দ কমিয়ে রাখা হচ্ছে মাত্র ১৬৮ কোটি টাকা।
এ ছাড়া সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল থেকে রংপুর পর্যন্ত মহাসড়ক চার লেনে উন্নয়নে কেটে নেওয়া হচ্ছে ৩১০ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বরাদ্দ ১ হাজার ৫৬২ কোটি টাকা।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্প দেশের অন্যতম বড় প্রকল্প। এই প্রকল্পে এ বছর সংশোধিত এডিপিতে কোনো টাকা কমানো হচ্ছে না। মূল এডিপিতে বরাদ্দ রাখা ১০ হাজার ১১ কোটি টাকাই রাখা হচ্ছে।
তবে নির্মাণাধীন ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে প্রকল্পে বাড়তি টাকা দিয়ে প্রকল্পটি শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্প মূল এডিপির সঙ্গে আরও ১ হাজার ১৩৪ কোটি টাকা যোগ করা হচ্ছে। ফলে সংশোধিত এডিপিতে এই প্রকল্পে বরাদ্দ থাকছে ৪ হাজার ৪৭৬ কোটি টাকা।
সংশোধিত এডিপি কত: চলতি অর্থবছরের এডিপি থেকে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ায় প্রতিবারের মতো এবারও এই কাটছাঁটের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, এনইসি সভায় চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপির আকার ২ লাখ কোটি টাকা করার প্রস্তাব করা হতে পারে। চলতি অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার এডিপি নেওয়া হয়েছিল। এর মানে হলো, এবার ৩০ হাজার কোটি টাকা কমছে।
চলতি অর্থবছরের মূল এডিপির অর্থের মধ্যে স্থানীয় উৎস থেকে জোগান দেওয়া হয় হবে ১ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা। এটি কমিয়ে ১ লাখ ২৮ হাজার কোটি টাকা করা হচ্ছে। আর মূল এডিপিতে প্রকল্প সহায়তা হিসেবে আছে ৮৬ হাজার কোটি টাকা। এটি কমিয়ে ৭২ হাজার কোটি টাকা করা হচ্ছে। বর্তমান এডিপিতে ১ হাজার ১৭১টি প্রকল্প আছে।
গত বছর সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (আরএডিপি) আকার সবচেয়ে বেশি কমানো হয়েছিল। গতবার ৪৯ হাজার কোটি টাকা কমানো হয়। গত বছর সংশোধিত এডিপির আকার ছিল ২ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা।
এ বিষয়ে বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ছোট-বড় প্রকল্পসহ এডিপির আকার কমানোর ইতিবাচক ও নেতিবাচক—দুটি কারণই আছে। এ বছর প্রকল্পের বাস্তবায়ন অন্য বছরের চেয়েও শ্লথগতিতে আছে। আবার কোনো কোনো প্রকল্পে এত দিন অপ্রয়োজনীয় বা কম প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ ছিল, তা সংশোধিত এডিপিতে বাদ দেওয়া হয়েছে।
মোস্তাফিজুর রহমানের মতে, প্রকল্পের শ্লথ বাস্তবায়নের কারণে এর খরচ বেড়ে যায়। প্রকল্প নেওয়ার সময় যে অর্থনৈতিক সুবিধা প্রাক্কলন করা হয়েছিল, তা আর থাকে না। এ ছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা, তদারক ব্যবস্থা ও জবাবদিহির ঘাটতি আছে। এটি দুশ্চিন্তার কারণ। এই দুষ্টচক্র থেকে বের হওয়া যাচ্ছে না।
দেশে নিপাহ ভাইরাস নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। আক্রান্তদের মৃত্যুহার তুলনামূলক অনেক বেশি দেখা যাচ্ছে। গত দুই বছরে আক্রান্ত শতভাগ রোগীর মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি নতুন উদ্বেগের কারণ হয়েছে অ-মৌসুমে সংক্রমণ। গত বছর আগস্ট মাসেও নিপাহ শনাক্ত এবং একজন মারা যায়। এ ঘটনা জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের গভীর চিন্তায় ফেলেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ ক্ষমতা ও মৃত্যুহার কোভিডের তুলনায় অনেক বেশি। এই পরিস্থিতিতে খেজুরের রসের অনিয়ন্ত্রিত বিক্রি বন্ধ করা না গেলে বড় ধরনের মহামারি ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করছেন তারা।
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) তথ্যমতে, ২০০১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত দেশে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৩৪৭ জন। তাদের মধ্যে ২৪৯ জন মারা গেছেন। শুধু ২০২৪ সালে নিপাহ ভাইরাসে পাঁচজনের মৃত্যু হয়। আর ২০২৫ সালে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান আরও চারজন। অর্থাৎ সর্বশেষ দুই বছরে আক্রান্ত হওয়া ৯ জনের প্রত্যেকেরই মৃত্যু হয়েছে।
বিশ্বজুড়ে নিপাহ ভাইরাসে মৃত্যুহার গড়ে ৭২ শতাংশ হলেও বাংলাদেশে সাম্প্রতিক চিত্র ভয়াবহ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আইইডিসিআরের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শারমিন সুলতানা বলেন, ‘সাধারণভাবে ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সময়কে নিপাহ ভাইরাসের মৌসুম হিসেবে ধরা হয়। তবে ২০২৫ সালের আগস্ট মাসেও নিপাহ রোগী শনাক্ত হওয়ায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, কেবল খেজুরের কাঁচা রস নয়, সংক্রমণের অন্য উৎসও থাকতে পারে।’
তিনি বলেন, গত বছর প্রথমবারের মতো ভোলা জেলায় নিপাহ রোগী শনাক্ত হয়েছে, যেখানে আগে কখনো এই ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।
তিনি আরও বলেন, এতদিন নিপাহ সংক্রমণের প্রধান কারণ হিসেবে কাঁচা খেজুরের রসকে দায়ী করা হলেও এবার বাদুড়ের অর্ধ-খাওয়া ফল থেকেও সরাসরি সংক্রমণের প্রমাণ মিলেছে। গত বছর নিপাহ ভাইরাসে মারা যাওয়া চারজনের মধ্যে নওগাঁর আট বছরের এক শিশুর ঘটনা ছিল দেশের প্রথম অমৌসুমি নিপাহ সংক্রমণ, যা শীতকাল ছাড়াই আগস্ট মাসে শনাক্ত হয়। ওই শিশুর সংক্রমণের উৎস হিসেবে বাদুড়ের আধ-খাওয়া ফল যেমন- কালোজাম, খেজুর ও আম খাওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।
আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র (আইইডিসিআর) বলছে, নিপাহ একটি জুনোটিক রোগ, অর্থাৎ বন্যপ্রাণী বা অন্য প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে ছড়ানো। তাই প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় তারা ‘ওয়ান হেলথ’ মডেলে কাজ করছে, যেখানে মানুষের স্বাস্থ্য ছাড়াও প্রাণী, পরিবেশ এবং সমাজের আচরণ সমান গুরুত্ব দেওয়া পায়।
আইসিডিডিআরবির সংক্রামক রোগ বিভাগের সহযোগী বিজ্ঞানী ও নিপাহ জরিপ সমন্বয়কারী ডা. সৈয়দ মঈনুদ্দিন সাত্তার বলেন, আমরা মাঠে গিয়ে দেখেছি, রস সংগ্রহকারী অনেকেই নিরাপদ সংগ্রহ-পদ্ধতি মানছেন না। অনেক সময় সংগৃহীত রস পরিবহনের সময় খোলা পাত্রে রাখা হয়। মানুষ মনে করেন, ‘ফুটিয়ে খেলেই তো সব ঠিক’, কিন্তু পরে আবার কাঁচা রস মেশানোর মতো ভুল অভ্যাস ভাইরাসটিকে ফিরিয়ে আনে। এ বছর রসের মৌসুম ছাড়াই আগস্টে কেস পাওয়ায় মানুষ বুঝতে শুরু করেছেন, রসের বাইরেও ফল বা পরিবেশ থেকে সংক্রমণের ঝুঁকি আছে। কিন্তু সচেতনতা বাড়ছে ধীরে, আর সংক্রমণের সক্ষমতা বাড়ছে দ্রুত। এই দৌড়ে জিততে হলে সতর্কতা আর পরামর্শকে অভ্যাসে পরিণত করতে হবে।
রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরিন জানান, ২০০১ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত ৩৪৭ জন নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন, ২৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এটি দেখলেই বোঝা যায় ভাইরাসটির বিধ্বংসী ক্ষমতা। এবারের বড় উদ্বেগ হলো সংক্রমণের পথ বদলে যাওয়া। মা থেকে শিশুর শরীরে সংক্রমণের প্রমাণ পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে বুকের দুধ বা ঘনিষ্ঠ পরিচর্যার মাধ্যমে ভাইরাস স্পিল ওভার ঘটেছে।
ডা. তাহমিনা শিরিন অনলাইনে কাঁচা রস বিক্রির প্রসঙ্গ তুলে বলেন, এখন রস অনলাইনে কেনা-বেচা হচ্ছে, পরিবহন করা হচ্ছে কম তাপমাত্রায় যাতে স্বাদ নষ্ট না হয়। কিন্তু যে কম তাপমাত্রা স্বাদ বাঁচিয়ে রাখে, সেটাই ভাইরাসকে বাঁচিয়ে রাখার আদর্শ পরিবেশ। ফলে ঢাকার মতো ঘনবসতির শহরেও ঝুঁকি ছড়িয়ে পড়ছে। গ্রাম থেকে শহর- এই বিভাজনটা আর কার্যকর থাকছে না।
সম্প্রতি তুরাগ নদীর নিচে গ্যাসের পাইপলাইনে বড় ধরনের ফাটল এবং গ্যাস উত্তোলনের পরিমাণ কমে যাওয়ায় ঢাকাজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। ফলে নগরবাসী গ্যাস সিলিন্ডার, ইন্ডাকশন কুকার বা জ্বালানি কাঠ ব্যবহারে বাধ্য হচ্ছেন, যা খরচ বাড়াচ্ছে এবং দৈনন্দিন কাজকর্মকে ব্যাহত করছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, গ্যাসের আমদানি কমে যাওয়া এবং শীতকালে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে। বিশেষ করে মিরপুর, মোহাম্মদপুর ও উত্তরা এলাকার বাসিন্দারা এই সংকটের সবচেয়ে বেশি ভুক্তভোগী হচ্ছেন।
এই পরিস্থিতিতে রাজধানী ঢাকার বাসিন্দারা রান্নার জন্য বিকল্প হিসেবে মাটির চুলা কিংবা বৈদ্যুতিক চুলার ব্যবহারে ঝুঁকছেন। ফলে মাটির চুলা তৈরি যেমন বেড়েছে, তেমনি দোকানে বেড়েছে বৈদ্যুতিক চুলার চাহিদা।
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা মৌসুমী মৃধা সম্প্রতি গ্যাস সংকটের কারণে একটি বৈদ্যুতিক চুলা কিনেছেন। তিনি বলেন, দিনের বেলায় গ্যাস থাকে না বললেই চলে। রাতে কিছুটা আসে, কিন্তু তাও সবসময় না। রান্না করা রীতিমতো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই বৈদ্যুতিক চুলা কিনেছি।
তিনি আরও বলেন, রান্নার জন্য এখন গ্যাসের চুলার বিকল্প হয়ে উঠেছে ইন্ডাকশন কুকার। এটি দিয়ে যেকোনো সময় রান্না বা খাবার গরম করা যায়। বিশেষ করে দ্রুত কিছু রান্নার জন্য এটি খুবই কাজে দেয়।
তীব্র গ্যাস সংকটের এই সময়ে বৈদ্যুতিক চুলাকেই বাস্তবসম্মত সমাধান বলে মনে করেন মৌসুমী মৃধা।
বাজারে ওয়ালটন, ভিশন, ভিগো, কিয়াম, গাজী, মিয়াকো ও ফিলিপসসহ বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বৈদ্যুতিক চুলা পাওয়া যাচ্ছে। এসব চুলার মধ্যে মূলত দুটি ধরন রয়েছে—ইন্ডাকশন ও ইনফ্রারেড। পাশাপাশি নোভা ও প্রেস্টিজের মতো কম পরিচিত ব্র্যান্ডের চুলাও পাওয়া যাচ্ছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা জানান, ইন্ডাকশন চুলার চেয়ে ইনফ্রারেড চুলার দাম তুলনামূলক কিছুটা বেশি। সাধারণত এসব কুকারের দাম তিন হাজার ৫০০ থেকে ছয় হাজার টাকার মধ্যে হয়। তবে প্রিমিয়াম মডেলগুলোর দাম একটু বেশি।
আরএফএল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আর এন পাল বলেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে বৈদ্যুতিক চুলা—বিশেষ করে ইনফ্রারেড ও ইন্ডাকশন মডেলের চাহিদা হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে। মাত্র দুই সপ্তাহে আমাদের ইনফ্রারেড ও ইন্ডাকশন চুলার স্টক প্রায় শেষ হয়ে গেছে।
তিনি আরও বলেন, ইন্ডাকশন চুলা খুবই কার্যকর। কারণ এটি ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক শক্তি ব্যবহার করে সরাসরি পাত্র গরম করে। অন্যদিকে ইনফ্রারেড কুকার সাধারণ কয়েল হিটারের মতো কাজ করে।
আর এন পাল আরও বলেন, ইন্ডাকশন চুলা অত্যন্ত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী। প্রচলিত হিটিং পদ্ধতির তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বিদ্যুৎ সাশ্রয় করে। বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন থাকলে রান্নার জন্য এর ব্যবহার ও জনপ্রিয়তা অনেক বাড়বে।
‘বিদেশে গ্যাস সিলিন্ডারের ঝুঁকি এড়াতে অধিকাংশ মানুষ ইন্ডাকশন কুকার ব্যবহার করেন’, যোগ করেন তিনি।
দামের বিষয়ে আরএফএলের এমডি বলেন, বৈদ্যুতিক চুলার দাম সাধারণত পাঁচ হাজার টাকা থেকে শুরু হয়। চার সদস্যের একটি পরিবার নিয়মিত ব্যবহার করলে মাসে প্রায় দুই হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল আসে, যা সিলিন্ডারের খরচের সমান বা তার চেয়েও কম।
তিনি বলেন, বাজারে এখন ১২ কেজির একটি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম দুই হাজার ২০০ টাকা, যা গত মাসে ছিল এক হাজার ৩০৬ টাকা। সরবরাহ সংকট ও পরিবহন খরচ বাড়ার পাশাপাশি ডিলাররা নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করায় দাম বেড়েছে।
আর এন পাল বলেন, বৈদ্যুতিক চুলা নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব পণ্য। বিশ্বজুড়ে এটি এখন ট্রেন্ডিং পণ্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, আরএফএল বছরে প্রায় একশ কোটি টাকার বৈদ্যুতিক চুলা বিক্রি করে এবং মাসে গড়ে প্রায় ২০ হাজার কুকার বিক্রি হয়।
তিনি আরও বলেন, এই খাতে বছরে আনুমানিক ২৫০ থেকে ৩০০ কোটি টাকার ক্রয়-বিক্রয় হয়, এর মধ্যে আরএফএলের বিক্রি প্রায় ৪০ শতাংশ।
ওয়ালটনের সহকারী পরিচালক অগাস্টিন সুজন বড়াই বলেন, গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধি ও সংকটের কারণে বর্তমানে প্রতি মাসে সাত থেকে ১০ হাজার বৈদ্যুতিক চুলা বিক্রি হচ্ছে।
তিনি বলেন, চাহিদা স্পষ্টভাবেই বাড়ছে। ভোক্তারা বিকল্প খুঁজছেন এবং বৈদ্যুতিক চুলা একটি নির্ভরযোগ্য সমাধান হিসেবে প্রমাণিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ওয়ালটনের ১০ থেকে ১২টি মডেলের ইন্ডাকশন ও ইনফ্রারেড কুকার রয়েছে। যেগুলোর দাম তিন হাজার ৭০০ টাকা থেকে পাঁচ হাজার ৭০০ টাকার মধ্যে। ওয়ালটনের ইন্ডাকশন কুকারের সর্বোচ্চ ক্ষমতা দুই হাজার ওয়াট। তবে ২০০ ওয়াট থেকে ব্যবহারের জন্য অ্যাডজাস্টেবল সেটিং রয়েছে। এছাড়া টাচস্ক্রিন কন্ট্রোল, একাধিক তাপমাত্রা সেন্সর, স্বয়ংক্রিয় সেফটি শাট-অফ এবং সর্বোচ্চ তিন ঘণ্টার টাইমার সুবিধা রয়েছে।
সুজন বড়াই বলেন, ওয়ালটনের ইনফ্রারেড কুকারগুলো আরও আধুনিক। ৩০০ থেকে দুই হাজার ওয়াট পর্যন্ত পাওয়ার রেঞ্জ, উচ্চ তাপমাত্রা সহনশীল গ্লাস, টাচ কন্ট্রোল, টাইমার, সেফটি শাট-অফ এবং সব ধরনের ফ্ল্যাট-বটম প্যান ব্যবহারের সুবিধা রয়েছে।
কিয়াম মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মতিয়ার রহমান হায়দার বলেন, গত দুই সপ্তাহে গ্যাস সিলিন্ডারের দাম বৃদ্ধি ও অনেক এলাকায় গ্যাসের চাপ কম থাকায় বৈদ্যুতিক কুকারের বিক্রি বেড়েছে।
তিনি আরও বলেন, গ্যাসের নিয়মিত সমস্যা মানুষকে বিকল্প রান্না পদ্ধতির দিকে ঠেলে দিয়েছে। ফলে বৈদ্যুতিক চুলার চাহিদা বেড়েছে।
মতিয়ার রহমান বলেন, ইন্ডাকশন ও ইনফ্রারেড—দুই ধরনেরই কুকার রয়েছে কিয়ামের। তবে বাজারে আমাদের দখল তুলনামূলকভাবে কম।
তিনি বলেন, ইন্ডাকশন কুকারে নির্দিষ্ট ধরনের পাত্র প্রয়োজন হয়, কিন্তু ইনফ্রারেড কুকারে যেকোনো ফ্ল্যাট-বটম বা সমতল পাত্র ব্যবহার করা যায়। এ কারণে অনেক ভোক্তা ইনফ্রারেড চুলা পছন্দ করেন।