মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

‘ভোট ঠেকানোর অপতৎপরতা প্রতিহত করা সাংবিধানিক দায়িত্ব’

সোমবার দুপুরে কাউন্সিলরদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড
২৫ ডিসেম্বর, ২০২৩ ১৮:৪২
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ২৫ ডিসেম্বর, ২০২৩ ১৮:৩৬

যারা ভোট ঠেকাতে আসে তাদের ‘অপতৎপরতা’ প্রতিহত করা সাংবিধানিক দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান।

সোমবার দুপুরে কাউন্সিলরদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন তিনি।

হাবিবুর বলেন, ‘ভোট দেয়া যেমন গণতান্ত্রিক অধিকার, ভোট না দেয়াও গণতান্ত্রিক অধিকার, কিন্তু ভোট ঠেকানো গণতান্ত্রিক অধিকার নয়। যারা ভোট ঠেকাতে আসে তাদের অপতৎপরতা প্রতিহত করাও সাংবিধানিক দায়িত্ব প্রতিটি নাগরিক ও জনপ্রতিনিধির।’

কাউন্সিলরদের কাছ থেকে কোনো ঝুঁকি কিংবা নাশকতার তথ্য পেয়েছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, নির্বাচন উপলক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট ঝুঁকি নেই, নাশকতা নেই। কাউন্সিলররা জানিয়েছেন, তাদের এলাকার লোকজন ভোট দেয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন; সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দেবেন।

তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা মহানগর এলাকায় দুটি সিটি করপোরেশনের ১২৯টি ওয়ার্ড রয়েছে। সেখানে ১৭২ জন কাউন্সিলর রয়েছে। আজকে কাউন্সিলরদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কার কোন এলাকায় সমস্যা আছে সেটি আমাদের অবহিত করেছেন তারা। সম্প্রতি কিছু রাজনৈতিক দলের নাশকতা সংক্রান্ত কিছু কার্যক্রম, অগ্নিসংযোগ, সন্ত্রাসী কার্যক্রম হচ্ছে সেগুলো প্রতিরোধে পুলিশের সঙ্গে কাউন্সিলররা একসঙ্গে কাজ করবে।’

নির্বাচনে কাউন্সিলরদের ভূমিকা নিয়ে ডিএমপির কমিশনার বলেন, ‘নির্বাচনে ভোটদানে নিরুৎসাহিত ও ভোটদানে কেউ যেন বাধা দিতে না পারে, সে জন্য কাউন্সিলরদের সঙ্গে মতবিনিময় হয়েছে। তারাও ঐক্যবদ্ধভাবে সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধ করতে চেয়েছে এবং আগামী দিনে সবাই যাতে ভোটকেন্দ্রে আসতে পারে সে জন্য আমরা বদ্ধপরিকর।’

তিনি আরও বলেন, ঢাকা মহানগরীতে যেসব ফুটপাত ও রাস্তা দখল রয়েছে, সেগুলো উদ্ধারে পুলিশ ও কাউন্সিলররা একত্রে কাজ করবে। পুলিশ তাদের তুলে দিতে পারে কিন্তু পুনর্বাসনের বিষয়টিও এরসঙ্গে জড়িত। সুতরাং বিকল্প কোনো ভেন্যুতে দেখেশুনে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে আলোচনা হয়েছে।

বিষয়:

নির্বাচিত

দেশের পোশাক খাতে ধাক্কা, যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি কমেছে ১১ শতাংশ

*ভিয়েতনামে কমেছে ১.০৩ শতাংশ *রপ্তানি বেড়েছে কম্বোয়িার ও ইন্দোনেশিয়ার *দেশের গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে আরও কমার শঙ্কা
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

একক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি আয় জুলাই মাসে ১১ শতাংশের মতো কমেছে। দেশের রপ্তানি আয়ের প্রায় ২০ শতাংশ আসে বিশ্বের সবচেয়ে বড় অর্থনীতির দেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে। তবে অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দ্বিতীয় শীর্ষ স্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ।

এদিকে, রপ্তানি আয় আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ী নেতারা। পর্যাপ্ত গ্যাস-বিদ্যুৎ পাওয়া না গেলে আগামী মাসগুলো রপ্তানি আরও কমে যেতে পারে বলে মনে করছেন পোশাক রপ্তানিকারকরা। এটাকে উদ্বেগজনক বলছেন তারা।

চলতি বছরের প্রথম সাত মাসে (জানুয়ারি-জুলাই) বাংলাদেশ সেখানকার বাজারে ৪৬৫ কোটি ৮৯ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছে। এই অঙ্ক গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ কম। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দেশটিতে ৪৯৮ কোটি ২৬ লাখ ডলারের পোশাক রপ্তানি করেছিলেন বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা।

গত শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের ‘অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল’ (অটেক্সা) সাত মাসের যে হিসাব দিয়েছে, তাতে জুলাইয়ের অবস্থা সবচেয়ে নাজুক। পর্যাপ্ত গ্যাস-বিদ্যুৎ পাওয়া না গেলে আগামী মাসগুলো রপ্তানি আরও কমে যেতে পারে বলে মনে করছেন পোশাক রপ্তানিকারকরা।

এ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৭৩ কোটি দুই লাখ ডলারের, যা গত বছরের জুলাইয়ে ছিল ৬৫ কোটি ১০ লাখ ডলার। শতকরা হিসাবে কমেছে প্রায় ১১ শতাংশ।

একই মাসে ভারতের কমেছে ২৮ দশমিক ৮০ শতাংশ; চীনের কমেছে ১৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ এবং ভিয়েতনামের কমেছে ১০ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের আওতাধীন কার্যালয়— অটেক্সার তথ্য বলছে, জানুয়ারি-জুলাই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী ভিয়েতনামের পোশাক রপ্তানি কমেছে ১ দশমিক শূন্য তিন শতাংশ। সবচেয়ে বেশি কমেছে চীনের; ৩৪ দশমিক ২১ শতাংশ। ভারতের কমেছে ২৫ দশমিক ৭৭ শতাংশ। পাকিস্তান, মেক্সিকো ও হন্ডুরাসের কমেছে যথাক্রমে ৫ দশমিক ৬০, ১০ দশমিক ৫০ ও ১০ দশমিক ৩৩ শতাংশ।

রপ্তানি বেড়েছে কম্বোয়িার ও ইন্দোনেশিয়ার। কম্বোয়িার বেড়েছে ১০ দশমিক ৪৮ শতাংশ; ইন্দোনেশিয়ার ২ দশমিক ৭৬ শতাংশ।

অটেক্সার তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীরা গত জানুয়ারি-জুলাই সময়ে ৪ হাজার ১৮৩ কোটি ৪৮ লাখ ডলারের তৈরি পোশাক আমদানি করেছেন। এই আমদানি গত বছরের একই সময়ের চেয়ে ৮ দশমিক ৬৫ শতাংশ কম। গত বছরের প্রথম সাত মাসে ৪ হাজার ৫৭৯ কোটি ৮২ লাখ ডলারের পোশাক আমদানি করেছিলেন দেশটির ব্যবসায়ীরা।

২০২২ সালে আমেরিকার বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি তার আগের বছরের চেয়ে ৩৬ শতাংশ বেড়ে ৯৭৩ কোটি ডলারে উঠেছিল। কিন্তু পরের বছর তা ২৫ শতাংশ কমে যায়। ওই বছরে রপ্তানির অঙ্ক ছিল ৭২৯ কোটি ডলার।

২০২৪ সালে অবশ্য সামান্য বেড়ে ৭৩৪ কোটি ডলার হয়; শতকরা হিসাবে বেড়েছিল দশমিক ৭৫ শতাংশ। ২০২৫ সালে বেড়েছিল ১২ শতাংশের মতো; রপ্তানির অঙ্ক ছিল ৮২০ কোটি ডলার।

নিট পোশাক শিল্পমালিকদের সংগঠন— বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান গণমাধ্যমকে জানান, দেশে বিদ্যুৎ সমস্যা তো ছিলই। গ্যাসের তীব্র সংকট শুরু হয়েছে ২১ জুলাই থেকে। গ্যাস সমস্যার কারণে স্থানীয় স্পিনিং মিলগুলো বন্ধই ছিল বলা যায়। এ সময়ে আমরা মিলগুলো থেকে কোনো কাপড় পাইনি। পোশাক তৈরি করতে পারিনি; রপ্তানিও হয়নি। তার প্রভাব আমাদের প্রধান বাজার আমেরিকাতেও পড়েছে।


নির্বাচিত

অটোরিকশায় বছরে ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশে আনুমানিক ৫০ থেকে ৮০ লাখ বৈদ্যুতিক থ্রি-হুইলার চলাচল করছে। এসব যানবাহনের বিপুল বিদ্যুৎ চাহিদা দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ৫ শতাংশ বা তারও বেশি হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একইসঙ্গে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ ব্যবহার করে অটোরিকশা চার্জ দেওয়ার কারণে বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে বলেও সংসদে জানিয়েছেন তিনি।

গতকাল সোমবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে তৃতীয় অধিবেশনে কার্যপ্রণালি-বিধির ৭১ বিধিতে দেওয়া জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন নোটিশের জবাবে এসব তথ্য জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ‘নিয়ন্ত্রণহীন অটোরিকশা চলাচল প্রসঙ্গে’ নোটিশটি দেন সংরক্ষিত মহিলা আসন-৪-এর সংসদ সদস্য রেহানা আক্তার রানু।

নোটিশে রেহানা আক্তার রানু বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর ট্রাফিক ক্যামেরা স্থাপনের পর লালবাতি অমান্য, লেন পরিবর্তন ও নির্ধারিত গতিসীমা লঙ্ঘনের মতো অনিয়ম কমেছে। কিন্তু ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা এখনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বেপরোয়া চলাচল করছে। এসব যানবাহনের নাম্বার প্লেট না থাকায় এআই ক্যামেরায় শনাক্ত হলেও জরিমানা করা সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি জানান, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর ১৭টি সিগন্যালে বর্তমানে ৫০টি এআই ক্যামেরা চালু রয়েছে।

এসব ক্যামেরা যানবাহনের নাম্বার প্লেট শনাক্ত করে কেন্দ্রীয় সার্ভারে তথ্য পাঠায় এবং পরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরিমানা করা হয়। কিন্তু বিপুলসংখ্যক নাম্বার প্লেটবিহীন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার ক্ষেত্রে এই ব্যবস্থা কার্যকর করা যাচ্ছে না।

নোটিশে রেহানা আক্তার রানু বলেন, অটোরিকশা তুলনামূলক সাশ্রয়ী ও সহজলভ্য হওয়ায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলের গুরুত্বপূর্ণ বাহনে পরিণত হয়েছে। ফলে একদিকে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসব যানবাহনের কাঠামোগত ত্রুটি দূর করা প্রয়োজন, অন্যদিকে প্রধান সড়কে বেপরোয়া চলাচল নিয়ন্ত্রণ করাও জরুরি।

তিনি অটোরিকশায় নাম্বার প্লেট সংযোজন, চালকদের প্রশিক্ষণ ও লাইসেন্সের আওতায় আনা এবং প্রধান সড়ক থেকে এসব যান সরিয়ে অভ্যন্তরীণ সড়কে চলাচলের ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দেন।

জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গত এক দশকে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক ও অনুরূপ বৈদ্যুতিক তিন চাকার যান নগর ও গ্রামীণ পরিবহন ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশে পরিণত হয়েছে। কম ভাড়া, সহজলভ্যতা ও স্বল্প দূরত্বে দ্রুত যাতায়াতের কারণে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে এসব যান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তবে দ্রুত ও অনেকাংশে অনিয়ন্ত্রিত বিস্তারের কারণে এ খাত এখন বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। বিপুলসংখ্যক যান একসঙ্গে চার্জ দেওয়ায় স্থানীয় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থায় অতিরিক্ত চাপ পড়ছে। অনুমোদিত বা আবাসিক বিদ্যুৎ সংযোগের বাণিজ্যিক ব্যবহার, ট্রান্সফর্মার ও বিতরণ লাইনে বাড়তি লোড এবং পিক সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধির মতো সমস্যাও দেখা দিচ্ছে।


নির্বাচিত

চট্টগ্রাম বন্দর আধুনিকায়নে তিন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার: সংসদে নৌপরিবহনমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম বন্দর আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বাড়াতে লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল, নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনায় আন্তর্জাতিক অপারেটর নিয়োগ এবং বে-টার্মিনাল নির্মাণ—এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে সরকার। তবে কক্সবাজারের মগনামায় গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মাণের পরিকল্পনা নেই বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। সোমবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে নৌপরিবহনমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।

মন্ত্রী জানান, চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়নে নেওয়া প্রকল্পগুলোর মধ্যে কর্ণফুলী নদীর দক্ষিণ তীরে লালদিয়া চরে ৪৯.১৫ একর জায়গায় লালদিয়া কনটেইনার টার্মিনাল নির্মাণ করা হচ্ছে। ডেনমার্কের প্রতিষ্ঠান এপিএম টার্মিনালসের সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কনসেশন চুক্তি হয়েছে। গত ৩০ আগস্ট প্রকল্পটির নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয় এবং ২০৩০ সালের মধ্যে টার্মিনালটি চালু করার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

এছাড়া, চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনা ও হ্যান্ডলিং কার্যক্রম আধুনিকায়নে আন্তর্জাতিক টার্মিনাল অপারেটর নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। দুবাইভিত্তিক ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

বে-টার্মিনাল প্রকল্পের আওতায় দুটি কনটেইনার টার্মিনাল ও একটি মাল্টিপারপাস টার্মিনাল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পিপিপি মডেলে নির্মাণ ও পরিচালনার পরিকল্পনা করা এই টার্মিনাল চালু হলে প্রায় ১২ মিটার ড্রাফটের বড় জাহাজ এবং ৫-৬ হাজার টিইইউ ধারণক্ষমতার কনটেইনারবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে ভিড়তে পারবে। প্রকল্পের ২ডি সিমুলেশন শেষ হয়েছে এবং ৩ডি সিমুলেশন আগামী সেপ্টেম্বরে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

অন্যদিকে, গভীর সমুদ্রবন্দর প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘কক্সবাজারের মগনামায় কোনো গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প নেই সরকারের। তবে মহেশখালীর মাতারবাড়ীতে জাইকার সহযোগিতায় গভীর সমুদ্রবন্দর উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন।’

মাতারবাড়ী বন্দর চালু হলে ১৬ মিটার ড্রাফটের এবং ৮২০০ টিইইউ ধারণক্ষমতার বড় জাহাজ জেটিতে ভিড়তে পারবে। এতে দেশের কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা প্রায় ১০ লাখ টিইইউ বাড়বে। প্রকল্পটির ভৌত অগ্রগতি বর্তমানে প্রায় ১৫শতাংশ।

কর্ণফুলীতে সারা বছর ড্রেজিং: চট্টগ্রাম বন্দরের নাব্যতা বজায় রাখতে কর্ণফুলী নেভিগেশন চ্যানেলে সারা বছর রক্ষণাবেক্ষণ ও সংরক্ষণ ড্রেজিং করা হয় বলে জানান নৌপরিবহনমন্ত্রী। প্রয়োজন অনুযায়ী ক্যাপিটাল ড্রেজিংও করা হয়।

২০১৮ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত সদরঘাট থেকে বাকলিয়ার চর পর্যন্ত এলাকায় ৬১ লাখ ঘনমিটার ড্রেজিং করা হয়েছে। এর ফলে ওই এলাকায় গড়ে চার মিটার গভীরতা তৈরি হয়েছে এবং বাণিজ্যিক ও লাইটারেজ জাহাজের চলাচল সহজ হয়েছে।

নৌদুর্ঘটনা ঠেকাতে নজরদারি: নৌদুর্ঘটনা কমাতে ফিটনেসবিহীন নৌযান চলাচল বন্ধ, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, লঞ্চ টার্মিনালে নজরদারি এবং নৌযানের মাস্টার-ড্রাইভারদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।

দুর্যোগপূর্ণ মৌসুমে উপকূলীয় যাত্রীদের নিরাপত্তায় ১৫ মার্চ থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বে-ক্রসিং সনদ ছাড়া সংশ্লিষ্ট নৌপথে নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। নৌযান ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণে দেশে প্রথমবারের মতো শুমারি করা হয়েছে এবং এ পর্যন্ত ২,৫২,৮১৩টি নৌযান তালিকাভুক্ত হয়েছে।


নির্বাচিত

আট বিভাগীয় শহরে হবে ১৫ তলার ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগ হাসপাতাল: সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ক্যান্সার চিকিৎসার বিকেন্দ্রীকরণ এবং রাজধানীমুখী রোগীর চাপ কমাতে দেশের আট বিভাগীয় শহরের মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে ১৫ তলা বিশিষ্ট সমন্বিত ক্যান্সার, কিডনি ও হৃদরোগ হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এসব হাসপাতালে রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি, নিউক্লিয়ার মেডিসিন ও আধুনিক পিইটি-সিটি স্ক্যানের মতো উন্নত চিকিৎসাসেবা ও পরীক্ষার সুবিধা থাকবে। সোমবার জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে ময়মনসিংহ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সালমান ওমরের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, রংপুর ও ময়মনসিংহ—এই আট বিভাগীয় শহরের মেডিকেল কলেজ প্রাঙ্গণে হাসপাতালগুলো নির্মাণের কাজ বর্তমানে এগিয়ে চলছে। প্রস্তাবিত এই হাসপাতালগুলোতে ক্যান্সার চিকিৎসার পাশাপাশি কিডনি ও হৃদরোগের চিকিৎসার সমন্বিত ব্যবস্থা থাকবে। বিশেষ করে ক্যান্সার রোগীদের জন্য রেডিওথেরাপি, কেমোথেরাপি, নিউক্লিয়ার মেডিসিন, ডে-কেয়ার বেড এবং আধুনিক পিইটি-সিটি স্ক্যানের সুবিধা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

মন্ত্রী বলেন, এসব হাসপাতাল চালু হলে ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তের রোগীদের ঢাকায় আসার প্রয়োজন অনেকটাই কমবে।

সংসদে দেওয়া মন্ত্রীর তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে সরকারি পর্যায়ে ঢাকার মহাখালীতে অবস্থিত জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল দেশের একমাত্র পূর্ণাঙ্গ বিশেষায়িত সরকারি ক্যান্সার হাসপাতাল। ৫০০ শয্যার এই হাসপাতালের পাশাপাশি দেশের প্রায় সব সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সশস্ত্র বাহিনী পরিচালিত হাসপাতালগুলোতে অনকোলজি বা ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য পৃথক ইউনিট রয়েছে।

বেসরকারি খাতের চিত্র তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে ২৪টি প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ক্যান্সার ইউনিট চালু রয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটি হাসপাতাল ও আহ্ছানিয়া মিশন ক্যান্সার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের মতো বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানগুলোও সেবা দিচ্ছে। পাশাপাশি স্কয়ার, এভারকেয়ার, ল্যাবএইড ও ইউনাইটেডসহ বড় বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে উন্নত ক্যান্সার চিকিৎসার পৃথক ইউনিট রয়েছে।

সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, মানসম্মত, আধুনিক ও সুলভ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। ক্যান্সার চিকিৎসাকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর কাছে আধুনিক সেবা পৌঁছে দেওয়াই এই নতুন হাসপাতালগুলো নির্মাণের অন্যতম লক্ষ্য।


নির্বাচিত

গণতন্ত্রের প্রশ্নে বিএনপি আপসহীন: মাহ্দী আমিন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সময় ও প্রজন্ম বদলালেও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা এবং গণতন্ত্রের প্রশ্নে বিএনপি সব সময় আপসহীন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও তার কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।

সোমবার দুপুরে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে ‘জিয়া স্মৃতি বইমেলা ২০২৬’ উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জিয়া স্মৃতি পাঠাগার ও জাতীয়তাবাদী প্রকাশনা সংস্থা।

ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ, সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন সংগ্রাম এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আধুনিক রাষ্ট্রদর্শনকে ধারণ করে মেধাভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে হবে।

ছাত্রদলের মতো এমন দেশপ্রেমিক ছাত্র সংগঠন সাথে থাকলে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে কোনো অপশক্তি রুখতে পারবে না বলেও দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা।

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিএনপিই একমাত্র দল, যা দেশের প্রতিটি জাতীয় সংকটে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।

তিনি বলেন, ইতিহাস সাক্ষী দেয়, যতবারই বাংলাদেশে গণতন্ত্র বিপন্ন হয়েছে, ততবার বিএনপিই তা পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিয়েছে। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যেমন বাকশাল-পরবর্তী বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছিলেন, তেমনি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরশাসনের অবসান ঘটিয়ে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছিলেন। আর দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী শাসনের পর সবার প্রাণপ্রিয় নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আবারও আজ আমরা গণতান্ত্রিক বাংলাদেশকে সুসংহত করছি।

বাকস্বাধীনতার ইতিহাস এবং আধুনিক রাষ্ট্র সংস্কারে বিএনপির ভূমিকা অনন্য ও ঐতিহাসিক বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তিনি বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মাত্র চারটি রাষ্ট্রীয় সংবাদপত্রের জায়গায় বন্ধ থাকা সব গণমাধ্যম উন্মুক্ত করে দিয়ে এ দেশে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ফিরিয়ে এনেছিলেন। এরপর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে উন্মুক্ত মিডিয়া ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সুফল পেতে শুরু করে দেশ। বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার এমন একটি পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে, যেখানে মৌলিক অধিকার, আইনের শাসন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা পুরোপুরি নিশ্চিত থাকবে।

বাকস্বাধীনতার আড়ালে অপপ্রচারের বিষয়ে সতর্ক করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র বলেন, একদল কুচক্রী মহল বাকস্বাধীনতার সুযোগ নিয়ে নানা অপপ্রচার ও অশালীন ভাষা ব্যবহার করে উসকানি দিচ্ছে। বাকস্বাধীনতার নামে যারা চরম অশালীনতা ও মিথ্যাচার চালাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে আইন তার নিজস্ব গতিতে কঠোর ব্যবস্থা নেবে।


নির্বাচিত

মূল্যস্ফীতি কমলেও বাড়ছে জীবনযাত্রার ব্যয়

# আগস্টে মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৮.২৬ শতাংশে # মজুরি বৃদ্ধির গতি কম, প্রকৃত আয় আরও চাপে # সরকারি হিসাবে স্বস্তি, বাজারে অস্বস্তি
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২৩:৪৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির হার টানা দ্বিতীয় মাসের মতো কিছুটা কমেছে। আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি নেমে এসেছে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশে, যা জুলাইয়ে ছিল ৮ দশমিক ৩২ শতাংশ। খাদ্য মূল্যস্ফীতিও কমে দাঁড়িয়েছে ৭ দশমিক ০২ শতাংশে। পরিসংখ্যানের হিসাবে এটি স্বস্তির খবর হলেও সাধারণ মানুষের জীবনে সেই স্বস্তির প্রতিফলন কতটা পড়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। কারণ মূল্যস্ফীতির হার কমার অর্থ বাজারে পণ্যের দাম কমে যাওয়া নয়। এর অর্থ হলো আগের বছরের তুলনায় পণ্য ও সেবার দাম বাড়ার গতি কিছুটা কমেছে। ফলে যে পণ্যটি এক বছর আগে ১০০ টাকা ছিল, সেটি ১০৮ বা ১১০ টাকা হওয়ার বদলে হয়তো কিছুটা কম হারে বেড়েছে; কিন্তু আগের বাড়তি দামটি বাজারে থেকেই গেছে। সোমবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সর্বশেষ প্রকাশিত ভোক্তা মূল্য সূচক ও মূল্যস্ফীতির হিসাব থেকে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

বিবিএসের হিসাবে, ২০২৫ সালের আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২৯ শতাংশ। চলতি বছরের আগস্টে তা সামান্য কমে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ হয়েছে। খাদ্য মূল্যস্ফীতিও এক বছরের ব্যবধানে ৭ দশমিক ৬০ শতাংশ থেকে কমে ৭ দশমিক ০২ শতাংশে নেমেছে।

তবে মাসভিত্তিক হিসাবে পরিস্থিতি ভিন্ন। আগস্টে সামগ্রিক ভোক্তা মূল্যসূচক আগের মাসের তুলনায় ২ দশমিক ৩১ শতাংশ বেড়েছে। খাদ্যপণ্যের মূল্যসূচক বেড়েছে ৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ। অর্থাৎ মূল্যস্ফীতির বার্ষিক হার কমলেও এক মাসের ব্যবধানে খাদ্যপণ্যের দাম সামগ্রিকভাবে কমেনি, বরং বেড়েছে।

এ কারণেই সরকারি হিসাবে মূল্যস্ফীতি কমার খবর থাকলেও বাজারে গিয়ে স্বস্তি পাচ্ছেন না ভোক্তারা।

নিত্যপণ্যের দাম কমেনি, বেড়েছে সংসারের ব্যয়; চাল, ডাল, তেল, চিনি, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, কাঁচামরিচ, সবজি, মাছ, মাংস ও ডিম—প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় এসব পণ্যের বাজার এখনো সাধারণ মানুষের জন্য ব্যয়বহুল। ঢাকার খুচরা বাজারের সরকারি দরের হিসাবে মোটা চাল প্রতি কেজি ৫০ থেকে ৫২ টাকা, মাঝারি চাল ৫৫ থেকে ৬০ টাকা এবং সরু চালের বিভিন্ন ধরনের দাম ৬৫ থেকে ৯৫ টাকা পর্যন্ত রয়েছে।

খোলা আটা বিক্রি হচ্ছে ৪৬ থেকে ৫০ টাকা কেজি। মসুর ডাল ৯০ থেকে ১০০ টাকা, মুগ ডাল ১২০ থেকে ১৩০ টাকা এবং ছোলা ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটার ১৮৫ থেকে ১৮৯ টাকা এবং বোতলজাত সয়াবিন তেল ১৯৯ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত রয়েছে। চিনি বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১১২ টাকা কেজি। দেশি পেঁয়াজের দাম ৪৫ থেকে ৬০ টাকা।

সবজির বাজারেও স্বস্তি সীমিত। আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকা, বেগুন ৬০ থেকে ১২০ টাকা এবং লাউ ৩০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। দেশি রসুন ৮০ থেকে ১১০ টাকা, চায়না রসুন ১৫০ থেকে ১৭০ টাকা এবং আমদানি করা আদা ১৩০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি। কাঁচামরিচের দাম ১০০ থেকে ১৫০ টাকা পর্যন্ত।

মাছ, মাংস ও ডিমের বাজারও নিম্ন ও মধ্যবিত্তের খাদ্য বাজেটে বড় চাপ তৈরি করছে। রুই মাছ ৩৪০ থেকে ৫০০ টাকা, কাতল ৩২০ থেকে ৪৮০ টাকা, পাঙ্গাস ১৮০ থেকে ২৫০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। ব্রয়লার মুরগি ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩২০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং গরুর মাংস ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। ফার্মের ডিমের দাম প্রতিটি ১১ টাকা ২৫ পয়সা থেকে ১২ টাকা ৫০ পয়সা।

ফলে কোনো একটি পণ্যের দাম সাময়িকভাবে কমলেও পরিবারের মোট বাজার খরচে বড় ধরনের স্বস্তি ফিরছে না। বরং এক পণ্যের দাম কমার সঙ্গে অন্য পণ্যের দাম বাড়ায় মাসিক ব্যয়ের চাপ থেকেই যাচ্ছে।

মজুরি বৃদ্ধির গতি কম, প্রকৃত আয় আরও চাপে: মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি মানুষের আয় বা মজুরি বৃদ্ধির চিত্রও উদ্বেগ তৈরি করছে। বিবিএসের হিসাবে, আগস্টে জাতীয় পর্যায়ে মজুরি হার সূচকের পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ০৫ শতাংশ। জুলাইয়ে এ হার ছিল ৮ দশমিক ২২ শতাংশ। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে মজুরি বৃদ্ধির হার কমেছে শূন্য দশমিক ১৭ শতাংশীয় পয়েন্ট।

গত বছরের আগস্টে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানেও মজুরি বৃদ্ধির গতি কমেছে। আর এখানেই তৈরি হয়েছে বড় বৈপরীত্য। আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি যেখানে ৮ দশমিক ২৬ শতাংশ, সেখানে মজুরি বেড়েছে ৮ দশমিক ০৫ শতাংশ। অর্থাৎ মানুষের আয় বৃদ্ধির হার মূল্যস্ফীতির চেয়ে শূন্য দশমিক ২১ শতাংশীয় পয়েন্ট কম।

সহজ হিসাবে, একজন শ্রমজীবী মানুষের আয় nominal বা নামমাত্র হিসাবে বাড়লেও সেই বাড়তি আয় দিয়ে আগের তুলনায় বেশি পণ্য কেনা সম্ভব হচ্ছে না। বরং পণ্য ও সেবার দাম বাড়ার হার আয় বৃদ্ধির চেয়ে বেশি হওয়ায় প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা চাপে পড়ছে।

খাতভিত্তিক হিসাবেও একই চিত্র। আগস্টে কৃষি খাতে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ০৭ শতাংশ, শিল্প খাতে ৭ দশমিক ৯৭ শতাংশ এবং সেবা খাতে ৮ দশমিক ২৫ শতাংশ। তিনটি খাতের কোনোটিতেই মজুরি বৃদ্ধির হার সার্বিক মূল্যস্ফীতিকে ছাড়াতে পারেনি। এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়তে পারে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারে। যাদের আয়ের বড় অংশ খাবার, বাসাভাড়া, যাতায়াত ও অন্যান্য মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে ব্যয় হয়, তাদের হাতে সঞ্চয়ের সুযোগ কমে যায়। অনেক পরিবারকে জীবনযাত্রার ব্যয় সামাল দিতে খাদ্যতালিকা ছোট করা, কম দামের পণ্য বেছে নেওয়া কিংবা অন্যান্য ব্যয় কমানোর মতো সিদ্ধান্ত নিতে হয়।

খাদ্য কমলেও খাদ্যবহির্ভূত ব্যয় বাড়ছে: মূল্যস্ফীতির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো খাদ্যবহির্ভূত খাত। আগস্টে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমলেও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। জুলাইয়ের ৯ দশমিক ২৮ শতাংশ থেকে আগস্টে এ হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৩২ শতাংশে। গত বছরের আগস্টে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৯০ শতাংশ। অর্থাৎ মানুষের ওপর চাপ শুধু বাজারের খাদ্যপণ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বাসস্থান, পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস, জ্বালানি, পরিবহন, পোশাক, জুতা, রেস্তোরাঁ ও বিভিন্ন সেবার ব্যয়ও বাড়ছে।

আগস্টে রেস্তোরাঁ ও হোটেল খাতে মূল্যস্ফীতি ছিল ১২ দশমিক ৪৯ শতাংশ। পোশাক ও জুতায় ৯ দশমিক ৯৪ শতাংশ, বাসস্থান, পানি, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও অন্যান্য জ্বালানিতে ৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ এবং পরিবহন খাতে ৯ দশমিক ৪১ শতাংশ মূল্যস্ফীতি হয়েছে।

গ্রাম ও শহরের চিত্রেও একই ধরনের চাপ রয়েছে। আগস্টে গ্রামীণ এলাকায় সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৩১ শতাংশ, জুলাইয়ে যা ছিল ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ। গ্রামে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ০১ শতাংশে নামলেও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি বেড়ে হয়েছে ৯ দশমিক ৫৯ শতাংশ।

শহরাঞ্চলে আগস্টে সার্বিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ২০ শতাংশ, জুলাইয়ে ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ। শহরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ০৪ শতাংশ হলেও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৯৭ শতাংশ। অর্থাৎ গ্রাম বা শহর—কোথাও জীবনযাত্রার ব্যয়ের চাপ পুরোপুরি কমেনি।

সামনে বড় চ্যালেঞ্জ প্রকৃত আয় ও বাজারের স্থিতিশীলতা: বিবিএসের তথ্য বলছে, মূল্যস্ফীতি কমার প্রবণতা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক। তবে মানুষের জীবনে এর প্রকৃত সুফল পেতে হলে শুধু মূল্যস্ফীতির হার কমানো যথেষ্ট নয়। একই সঙ্গে নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখতে হবে এবং মজুরি বৃদ্ধির হারকে মূল্যস্ফীতির ওপরে নিতে হবে।

এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে মানুষের প্রকৃত আয়। নামমাত্র মজুরি বাড়লেও যদি একই সময়ে খাদ্য, বাসস্থান, পরিবহন, বিদ্যুৎ-গ্যাসসহ প্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার ব্যয় আরও বেশি হারে বাড়ে, তাহলে মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি আসে না।

দীর্ঘ সময় ধরে এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে পরিবারের সঞ্চয় কমতে পারে, ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়তে পারে এবং ভোগক্ষমতা কমে যেতে পারে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়বেন স্থির বা কম আয়ের শ্রমজীবী মানুষ।

তাই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি বাজারে সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা, অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ঠেকানো, উৎপাদক ও ভোক্তার মধ্যকার অপ্রয়োজনীয় মধ্যস্বত্বভোগীর চাপ কমানো এবং পরিবহন ও সরবরাহ ব্যয় নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।

আগস্টের পরিসংখ্যান তাই অর্থনীতিকে একটি দ্বৈত বার্তা দিচ্ছে। একদিকে মূল্যস্ফীতি কমেছে—যা ইতিবাচক। অন্যদিকে মজুরি বৃদ্ধির হারও কমেছে এবং তা মূল্যস্ফীতির নিচে রয়েছে—যা মানুষের প্রকৃত আয় ও ক্রয়ক্ষমতার জন্য সতর্কবার্তা।

শেষ পর্যন্ত মানুষের কাছে অর্থনীতির সাফল্যের মাপকাঠি শুধু মূল্যস্ফীতির সংখ্যা নয়। মাস শেষে আয় দিয়ে কতটা স্বস্তিতে সংসার চালানো যাচ্ছে, সন্তানদের প্রয়োজন মেটানো যাচ্ছে এবং সামান্য হলেও সঞ্চয় করা যাচ্ছে কি না—সেই হিসাবই তাদের কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সরকারি পরিসংখ্যানে মূল্যস্ফীতি কমেছে। কিন্তু বাজারে স্বস্তি ফেরাতে হলে এখন সবচেয়ে বড় কাজ হলো মানুষের আয়কে মূল্যস্ফীতির চেয়ে দ্রুত বাড়ানো এবং নিত্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা। সেই জায়গায় পৌঁছানোই হবে আগামী দিনের বড় অর্থনৈতিক পরীক্ষা।


নির্বাচিত

আমানত ফেরত নিতে ৭৪ হাজার আবেদন টাকার চাহিদা প্রায় ৪ হাজার কোটি

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শরিয়াহভিত্তিক পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক তাদের গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে আবেদন নেওয়া শুরু করছে। গত মঙ্গলবার থেকে আবেদন শুরুর পর রোববার পর্যন্ত ব্যাংকটির বিভিন্ন শাখায় জমা টাকা তোলার আবেদন জমা পড়েছে ৭৪ হাজার ২২১টি। সেই হিসাবে মাত্র চার কার্যদিবসে জমা পড়া এসব আবেদনের বিপরীতে মোট টাকার চাহিদা রয়েছে ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা। যাচাই-বাছাই শেষে সোমবার থেকে আমানতকারীদের টাকা পরিশোধ শুরু করার কথা রয়েছে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

ব্যাংকটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত দুই শ্রেণির আমানতকারীরা টাকা তোলার আবেদন করেছেন। যাদের চিকিৎসাসহ খুব জরুরি প্রয়োজন আর যারা ব্যাংকটিতে আস্থা রাখতে পারছেন না। কেবল তারাই মুনাফা ছাড়া মূল টাকা তোলার আবেদন করেছেন। আর সবচেয়ে বড় অংশের লোকজন ব্যাংক থেকে টাকা তুলছেন না। তারা ব্যাংকটিতে আস্থা রাখতে চাচ্ছেন। এটিই সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের মূল আস্থার জায়গা।

সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দিনে গত মঙ্গলবার আবেদন জমা পড়েছে ১৮ হাজার ৪৬টি, যার বিপরীতে অর্থের চাহিদা দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৩২৯ কোটি টাকা। দ্বিতীয় দিনে (বুধবার) আবেদন জমা পড়েছে ১৯ হাজার ৬১৩টি, যার বিপরীতে অর্থের চাহিদার পরিমাণ ছিল ১ হাজার ১৬ কোটি টাকা। তৃতীয় দিনে (বৃহস্পতিবার) আবেদন জমা পড়েছে ২১ হাজার ৮৬টি, এর বিপরীতে অর্থের পরিমাণ ছিল ৯২৩ কোটি টাকা। আর আজ শেষ দিনে আবেদন জমা পড়ে মাত্র ১৫ হাজার ৪৭৬টি, যার বিপরীতে অর্থের চাহিদা রয়েছে ৬৫৭ কোটি টাকা।

তথ্য অনুযায়ী, সব মিলিয়ে চার কার্যদিবসে ব্যাংকটিতে মোট ৭৪ হাজার ২২১টি আবেদন জমা পড়েছে; যার বিপরীতে অর্থের চাহিদা রয়েছে ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যক্তি আমানতকারীরা তাদের চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবের টাকা ও মেয়াদি আমানতের মূল টাকা উত্তোলনের সুযোগ পাবেন। তবে এই সুবিধার আওতায় আমানতের বিপরীতে অর্জিত বা প্রাপ্য মুনাফা পাওয়া যাবে না। কোনো গ্রাহক মূল টাকা তুলে নিলে সংশ্লিষ্ট আমানতের ক্ষেত্রে সেটিকে পূর্ণ ও চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হিসেবে গণ্য করা হবে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়, যেসব গ্রাহক এখনই আমানত তুলবেন না, তারা হিসাব চালু রাখলে চুক্তি অনুযায়ী প্রযোজ্য হারে মুনাফা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

সামগ্রিক বিষয়ে আজ সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আবেদুর রহমান সিকদার এক লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘৮৪ লাখ গ্রাহকের মধ্যে মাত্র ৭৪ হাজার ২২১ জন অর্থ উত্তোলনের আবেদন করেছেন। যারা একবারে পুরো আসল টাকা তুলে নেওয়ার আবেদন করেছেন। এই সংখ্যা মোট আমানতকারীর তুলনায় খুবই কম। তাতে বোঝা যাচ্ছে, এখনো মানুষের যথেষ্ট আস্থা আছে আমাদের ওপর।’

২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিগত অন্তর্বর্তী সরকার ‘সংকটাপন্ন’ উল্লেখ করে পাঁচ ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করে। মালিকানা নেওয়া হয় সরকারের হাতে। ৩৫ হাজার কোটি টাকা অনুমোদিত মূলধন নিয়ে যাত্রা করা নতুন এ ব্যাংকে সরকার ইতিমধ্যে ২০ হাজার কোটি টাকা মূলধন সহায়তা দিয়েছে।


নির্বাচিত

শফিকুর রহমানকে দেড় শ টাকার খাবারের দাওয়াত দিলেন প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানকে দেড় শ টাকার খাবারের দাওয়াত দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমি তো একা খাব না। আমি তো ১৮ কোটি মানুষ নিয়ে খেতে চাই। আমি সবাইকে নিয়ে খেতে চাই। তারপরও ধন্যবাদ প্রস্তাবটি দেওয়ার জন্য।’

আজ সোমবার জাতীয় সংসদে ৬৮ বিধির সাধারণ আলোচনার একপর্যায়ে বিরোধীদলীয় নেতা প্রধানমন্ত্রীর দেড় শ টাকার মধ্যাহ্নভোজের প্রশংসা করলে তিনি আমন্ত্রণ জানান।

‘তীব্র জ্বালানি ও গ্যাস-সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে বেকারত্ব সৃষ্টি এবং দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে মারাত্মক বিপর্যয় রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ’ বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতা তাঁর উত্থাপিত জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন ৬৮ বিধির আলোচনার একপর্যায়ে বলেন, ‘আমরা উৎসাহিত হই, যখন দেখি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর লাঞ্চের খরচ ১০০ থেকে ১৫০ টাকা। আমার ভালো লাগে। এত কম টাকায় আমিও খাইতে পারি না।’

এ সময় প্রধানমন্ত্রী হাত দিয়ে ইশারা করেন, ‘আসুন খাওয়াব।’ একই সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদও মাইক ছাড়াই মুখে বলেন, ‘আপনাকে খাওয়ানো হবে।’ তিনি এ সময় প্রধানমন্ত্রীর দিকে ইশারা করেন।

জবাবে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, প্রধানমন্ত্রী সাদামাটা জীবন যাপন করেন, সুন্দর। একেবারে পশ, স্যুটে-বুটে নয়। প্লেন পথে চলেন। এটা উৎসাহিত হওয়ার মতো বিষয়। কিন্তু তাঁর এই জীবনযাপন নিয়ে যাঁদের প্রশংসা করতে দেখি, তাঁরা আবার উল্টাপাল্টা চলেন।

শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী যদি এসব মানুষের আইকন হয়ে থাকেন, তাহলে তাঁকে তো অনুসরণ করা উচিত। সব ক্ষেত্রেই তাঁকে অনুসরণ করা উচিত। এটা তো আমরা দেখি না। আমরা ঠিক তার বিপরীতটা দেখি। আমরা আশা করি, এখন থেকে আইকন বলার আগে সাবধান হয়ে বলবেন। আর আইকন বললে তাঁকে ফলো করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রীও মানুষ—মন্তব্য করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, তিনি ভুলের ঊর্ধ্বে নন। তাঁর সবকিছুতে ‘হ্যাঁ’ বলা যাবে না। হ্যাঁ বলা যাবে কেবল শিশুদের দাবিতে। তারা যা বলবে, তাতে হ্যাঁ বলা যাবে।


নির্বাচিত

নতুন দায়িত্বে জয়নুল আবদিন ফারুক

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী নতুন ১০টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন এবং একটি কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম এই কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন, যা পরবর্তীতে কণ্ঠভোটে সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদিত হয়। এই নতুন বিন্যাসে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ জয়নুল আবদিন ফারুক।

নৌপরিবহন স্থায়ী কমিটিতে জয়নুল আবদিন ফারুকের নেতৃত্বে আরও বেশ কয়েকজন সংসদ সদস্যকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। পদাধিকারবলে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী এই কমিটির সদস্য হিসেবে থাকবেন। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন—মোহাম্মদ রাজিব হাসান (বরিশাল-৪), মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান (বগুড়া-২), মোহাম্মদ মাহমুদুল হক রুবেল (শেরপুর-৩), আনিসুর রহমান (মাদারীপুর-৩), সাঈদ আহমেদ (শরীয়তপুর-১), সাজিদা ইয়াসমিন (সংরক্ষিত মহিলা আসন-৩১), মোহাম্মদ নাজমুল হুদা (মেহেরপুর-২) এবং আব্দুল হান্নান মাসউদ (নোয়াখালী-৬)।

বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা জয়নুল আবদিন ফারুকের দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য সংসদীয় ক্যারিয়ার রয়েছে। তিনি মোট ৬ বার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন এবং নবম জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের চিফ হুইপ হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁর এই অভিজ্ঞ নেতৃত্ব নৌপরিবহন খাতের উন্নয়ন ও তদারকিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।


নির্বাচিত

আমিরাতে ৪ হাজার বাংলাদেশির ভিসা বাতিল, কূটনৈতিকভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

সংযুক্ত আরব আমিরাতে কর্মরত প্রায় ৪ হাজার বাংলাদেশি শ্রমিকের ভিসা বাতিলের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে সরকার উচ্চপর্যায়ে কূটনৈতিক আলোচনা শুরু করেছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এই সংকট নিরসনে কাজ করে যাচ্ছে।

ফেসবুক পোস্টে প্রতিমন্ত্রী নুর উল্লেখ করেন, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাতের ভিসা বাতিল হওয়া চার হাজার বাংলাদেশির বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ আমরা অবগত। কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে।’ সরকারের পক্ষ থেকে প্রবাসীদের আশ্বস্ত করা হয়েছে যে, তাদের অধিকার রক্ষায় সম্ভাব্য সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে, হঠাৎ করে ভিসা বাতিলের ফলে বিপাকে পড়া প্রবাসীরা সোমবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। ছুটিতে দেশে এসে আটকা পড়া এসব কর্মীরা জানান, কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই তাদের ভিসা বাতিল হওয়ায় তারা এখন চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসন, আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং প্রয়োজনে বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করাসহ মোট ৫ দফা দাবি পেশ করেন। ভুক্তভোগীরা আশা করছেন, সরকারের দ্রুত হস্তক্ষেপে তাঁরা তাঁদের কর্মস্থলে ফিরে যেতে সক্ষম হবেন।


নির্বাচিত

রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনে সব ধরনের সহযোগিতা দেবে বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

মিয়ানমারে ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন (জাতীয় সমঝোতা) বিষয়ক জাপান সরকারের বিশেষ দূত ও নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ সব ধরনের সহযোগিতা দেবে।

তিনি বলেন, নিজ দেশে ফিরে গেলে রোহিঙ্গাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

তারেক রহমান আরো বলেন, প্রত্যাবাসনের পর মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দিতেও বাংলাদেশ প্রস্তুত।

মিয়ানমারে ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন (জাতীয় সমঝোতা) বিষয়ক জাপান সরকারের বিশেষ দূত ও নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়া প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন।

আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ কথা জানান।

বৈঠকের শুরুতে বিশেষ দূত সময় দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেন।

সাসাকাওয়া বলেন, প্রায় ৫০ বছর ধরে তিনি বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও বৈষম্য নিরসনে কাজ করছেন। মিয়ানমারে ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন বিষয়ে জাপান সরকারের বিশেষ দূত হিসেবে তাঁর ভূমিকার কথাও তিনি প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করেন।

রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে উল্লেখ করে জাপানের বিশেষ দূত বলেন, এ পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি অবগত। রোহিঙ্গাদের সহায়তায় জাপান সরকারের বিভিন্ন অনুদান ও মানবিক সহযোগিতার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাসাকাওয়াকে বাংলাদেশ সফরের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং তাঁর দীর্ঘদিনের মানবিক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট বাংলাদেশের অন্যতম বড় সংকট। এ সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে থাকার জন্য তিনি জাপান সরকারকে ধন্যবাদ জানান।

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ এমনিতেই একটি জনবহুল দেশ। দীর্ঘ সময় ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার কারণে দেশের অর্থনীতি, অবকাঠামো ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।

রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে নিরাপদ, স্বেছামূলক ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে নিজের অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার জন্য জাপানের বিশেষ দূতের প্রতি আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

বিশেষ দূত বলেন, রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে তাঁর সঙ্গে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের আলোচনা হয়েছে। মিয়ানমার সরকার এই সংকটের সমাধানে আন্তরিক বলে তিনি মনে করেন।

তবে তিনি উল্লেখ করেন, রাখাইন প্রদেশের বর্তমান জটিল পরিস্থিতির কারণে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন অগ্রগতিতে সময় লাগছে।

বিশেষ দূত প্রধানমন্ত্রীকে আশ্বস্ত করে বলেন, তাঁর অবস্থান থেকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে তিনি সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন।

বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে শুধু দ্বিপক্ষীয় প্রচেষ্টার ওপর নির্ভর না করে বহুপক্ষীয় উদ্যোগ ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রী বিশেষ দূতকে বাংলাদেশে একটি ভ্যাকসিন উৎপাদনকেন্দ্র তৈরিতে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। বিশেষ দূত বিষয়টি নিয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার কথা বলেন।

এ ছাড়া বাংলাদেশ জাপানের বিনিয়োগ পেতে আগ্রহী এবং দেশে একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে বলে প্রধানমন্ত্রী বিশেষ দূতকে জানান।

একই সঙ্গে মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও উন্নত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আগ্রহের কথাও তিনি তুলে ধরেন।

এ সময় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

রোহিঙ্গা সংকটে অর্থনীতি ও সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় চাপ সৃষ্টি হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন মিয়ানমারে জাতীয় পুনর্মিলনবিষয়ক জাপান সরকারের বিশেষ দূত। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দীর্ঘদিন ধরে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দেওয়ার ফলে বাংলাদেশের অর্থনীতি এবং জাতীয় ব্যবস্থাপনার ওপর যে অসহনীয় চাপ তৈরি হয়েছে, তা নিরসনে জাপানের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জাপান সরকারের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত এবং নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়ার সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক সৌজন্য বৈঠকে তিনি এই আহ্বান জানান।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ একটি অধিক জনবহুল রাষ্ট্র হওয়া সত্ত্বেও মানবিক কারণে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর ভার বহন করতে গিয়ে দেশের অর্থনীতি, অবকাঠামো এবং সামাজিক শৃঙ্খলার ওপর ব্যাপক বাড়তি চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তিনি রোহিঙ্গাদের তাঁদের নিজ ভূমি মিয়ানমারে নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক এবং সসম্মানে দ্রুত প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে জাপানের বিশেষ দূতকে তাঁর প্রভাব কাজে লাগানোর অনুরোধ জানান। প্রধানমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন যে, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সম্ভাব্য সকল কারিগরি ও মানবিক সহায়তা প্রদানে প্রস্তুত।

জাপানের বিশেষ দূত ইয়োহেই সাসাকাওয়া রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেওয়ার জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করেন এবং এই সংকটের কারণে সৃষ্ট বহুমুখী চাপের বিষয়ে সমবেদনা প্রকাশ করেন। তিনি জানান যে, রোহিঙ্গাদের জন্য জাপান সরকারের মানবিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে। মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে তাঁর সাম্প্রতিক আলোচনার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, মিয়ানমার এই সংকট সমাধানে নীতিগতভাবে রাজি থাকলেও রাখাইন রাজ্যের অস্থিতিশীল ও জটিল পরিস্থিতির কারণে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া বিলম্বিত হচ্ছে। তিনি ব্যক্তিগতভাবে এই সমস্যা সমাধানে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানোর প্রতিশ্রুতি দেন।

দ্বিপক্ষীয় এই বৈঠকে শুধু দুই দেশের চেষ্টার ওপর নির্ভর না করে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক বহুপক্ষীয় উদ্যোগ জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়। এছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশে একটি আধুনিক ভ্যাকসিন উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণে জাপানের সহযোগিতা কামনা করেন। তিনি জাপানি বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশে একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন এবং মিয়ানমারের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে বাংলাদেশের আগ্রহের কথা তুলে ধরেন। বৈঠকে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরসহ ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

প্রাথমিক শিক্ষকদের বদলি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষণা

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত ঘোষণা করেছে সরকার। সোমবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এই তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বর্তমানে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন নতুন সহকারী শিক্ষক নিয়োগের চূড়ান্ত প্রক্রিয়া চলায় এই বদলি কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বদলি প্রক্রিয়াটি সুশৃঙ্খল এবং স্বচ্ছ করতে সরকার এটি পর্যালোচনা করছে। তিনি স্পষ্ট করেন যে, “১৪ হাজারের বেশি যে নিয়োগ হবে, তার জন্য সব বদলি এখন স্থগিত। ১৪ হাজারের ফিক্সড হয়ে গেলে নতুন করে আবার চালু হবে। তখন এটা নেওয়া যাবে।” নতুন শিক্ষকদের পদায়ন সম্পন্ন হওয়ার পর শিক্ষক বদলির বর্তমান নীতিমালায় কোনো পরিবর্তন আসবে কি না, তা নিয়েও পরে আলোচনা করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন প্রসঙ্গে ববি হাজ্জাজ জানান, শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি কার্যক্রমকে আরও বেশি ‘ফাইন্যান্সিয়াল নিড বেজড’ বা আর্থিক চাহিদার ওপর ভিত্তি করে পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। কর্মকর্তাদের কাছ থেকে পাওয়া ফিডব্যাক অনুযায়ী, প্রকৃত অভাবী শিক্ষার্থীদের চিহ্নিত করে উপবৃত্তির অর্থ ও সংখ্যা বাড়ানোর প্রচেষ্টা চালানো হবে। একই সাথে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীদের পুনরায় শিক্ষার মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনতে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করার ওপর জোর দেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের মূল লক্ষ্য হলো ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে বাস্তবে রূপ দেওয়া। এ লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি প্রান্তে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা হবে। প্রাথমিক শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশুদের জন্য উন্নত শিক্ষার সুযোগ তৈরি করাই তাঁর মন্ত্রণালয়ের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার বলে তিনি মন্তব্য করেন।


নির্বাচিত

banner close