যারা ভোট ঠেকাতে আসে তাদের ‘অপতৎপরতা’ প্রতিহত করা সাংবিধানিক দায়িত্ব বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার হাবিবুর রহমান।
সোমবার দুপুরে কাউন্সিলরদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ মন্তব্য করেন তিনি।
হাবিবুর বলেন, ‘ভোট দেয়া যেমন গণতান্ত্রিক অধিকার, ভোট না দেয়াও গণতান্ত্রিক অধিকার, কিন্তু ভোট ঠেকানো গণতান্ত্রিক অধিকার নয়। যারা ভোট ঠেকাতে আসে তাদের অপতৎপরতা প্রতিহত করাও সাংবিধানিক দায়িত্ব প্রতিটি নাগরিক ও জনপ্রতিনিধির।’
কাউন্সিলরদের কাছ থেকে কোনো ঝুঁকি কিংবা নাশকতার তথ্য পেয়েছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ডিএমপি কমিশনার বলেন, নির্বাচন উপলক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট ঝুঁকি নেই, নাশকতা নেই। কাউন্সিলররা জানিয়েছেন, তাদের এলাকার লোকজন ভোট দেয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে আছেন; সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দেবেন।
তিনি আরও বলেন, ‘ঢাকা মহানগর এলাকায় দুটি সিটি করপোরেশনের ১২৯টি ওয়ার্ড রয়েছে। সেখানে ১৭২ জন কাউন্সিলর রয়েছে। আজকে কাউন্সিলরদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম। আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কার কোন এলাকায় সমস্যা আছে সেটি আমাদের অবহিত করেছেন তারা। সম্প্রতি কিছু রাজনৈতিক দলের নাশকতা সংক্রান্ত কিছু কার্যক্রম, অগ্নিসংযোগ, সন্ত্রাসী কার্যক্রম হচ্ছে সেগুলো প্রতিরোধে পুলিশের সঙ্গে কাউন্সিলররা একসঙ্গে কাজ করবে।’
নির্বাচনে কাউন্সিলরদের ভূমিকা নিয়ে ডিএমপির কমিশনার বলেন, ‘নির্বাচনে ভোটদানে নিরুৎসাহিত ও ভোটদানে কেউ যেন বাধা দিতে না পারে, সে জন্য কাউন্সিলরদের সঙ্গে মতবিনিময় হয়েছে। তারাও ঐক্যবদ্ধভাবে সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধ করতে চেয়েছে এবং আগামী দিনে সবাই যাতে ভোটকেন্দ্রে আসতে পারে সে জন্য আমরা বদ্ধপরিকর।’
তিনি আরও বলেন, ঢাকা মহানগরীতে যেসব ফুটপাত ও রাস্তা দখল রয়েছে, সেগুলো উদ্ধারে পুলিশ ও কাউন্সিলররা একত্রে কাজ করবে। পুলিশ তাদের তুলে দিতে পারে কিন্তু পুনর্বাসনের বিষয়টিও এরসঙ্গে জড়িত। সুতরাং বিকল্প কোনো ভেন্যুতে দেখেশুনে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে আলোচনা হয়েছে।
মোটরসাইকেল ও গাড়ির মালিক-চালকদের বকেয়া কাগজপত্র হালনাগাদে জরিমানা ছাড়াই বিশেষ সুযোগ দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মোটরযানের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করা যাবে। এ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত জরিমানা দিতে হবে না; শুধু মূল কর ও প্রযোজ্য ফি পরিশোধ করতে হবে।
বিআরটিএর জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, এই সময়ের মধ্যে মোটরযানের ফিটনেস সনদ, ট্যাক্স টোকেন, রুট পারমিটসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে। একই সঙ্গে বকেয়া ড্রাইভিং লাইসেন্সও নবায়নের সুযোগ থাকছে।
বিআরটিএ জানিয়েছে, মোটরসাইকেল বা গাড়ি বিক্রির পর নতুন মালিকের নামে মালিকানা পরিবর্তন না করলে পুরোনো মালিককে ভবিষ্যতে আইনি ও আর্থিক জটিলতায় পড়তে হতে পারে। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী, যানবাহন বিক্রির পর মালিকানা পরিবর্তন করা বাধ্যতামূলক।
মালিকানা পরিবর্তন না হলে অগ্রিম আয়কর, অতিরিক্ত অগ্রিম আয়কর এবং পরিবেশ সারচার্জসহ বিভিন্ন আর্থিক দায় পুরোনো মালিকের ওপর বর্তাতে পারে। ফলে গাড়ি বা মোটরসাইকেল বিক্রির পর দ্রুত মালিকানা হস্তান্তরের পরামর্শ দিয়েছে বিআরটিএ।
মালিকদের ভোগান্তি কমাতে বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনে মালিকানা পরিবর্তনের আবেদন ও ফি পরিশোধের সুবিধাও চালু রয়েছে। ফলে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে অনেক ক্ষেত্রে অফিসে সরাসরি যাওয়ার প্রয়োজন হচ্ছে না।
সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ড্রাইভিং লাইসেন্সে দোষসূচক পয়েন্ট কাটার ব্যবস্থাও কার্যকর রয়েছে। আইন অনুযায়ী প্রতিটি ড্রাইভিং লাইসেন্সের বিপরীতে ১২টি পয়েন্ট বরাদ্দ থাকে।
ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে নির্ধারিত জরিমানার পাশাপাশি চালকের লাইসেন্স থেকে দোষসূচক পয়েন্ট কেটে নেওয়া হয়। ফলে আইন লঙ্ঘনের পরিণতি শুধু অর্থদণ্ডে সীমাবদ্ধ নয়; বারবার আইন ভাঙলে চালকের লাইসেন্সের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।
বিআরটিএর পক্ষ থেকে মোটরযান মালিক ও চালকদের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বকেয়া কাগজপত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং মালিকানা-সংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এতে ভবিষ্যতের আইনি ও আর্থিক জটিলতা এড়ানোর পাশাপাশি যানবাহনের কাগজপত্রও নিয়মিত রাখা সম্ভব হবে।
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নে নির্মাণাধীন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের প্রথম ও ব্যয়বহুল বড় প্রকল্প। প্রকল্পটি যখন বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত প্রস্তুতি পর্যায়ে ঠিক এমন সময়ে প্রকল্পের ব্যয়, নিরাপত্তা, প্রশাসন ও কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে বিভিন্ন অভিযোগ ও নেতিবাচক প্রচারণা সামনে এসেছে।
সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে গঠনমূলক সমালোচনা ও জবাবদিহি গুরুত্বপূর্ণ। তবে অসম্পূর্ণ তথ্য কিংবা প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্তকে ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে উপস্থাপন করলে প্রকল্পের প্রশাসনিক কাঠামো ও বাস্তব পরিস্থিতি সম্পর্কে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের কমিশনিং কার্যক্রমে প্রেসার অপারেটেড রিলিফ ভালভ (পিওআরভি/পিওএসভি)-এর ১৬ মেগাপাসকেল (এমপিএ) চাপের পরীক্ষা সফল হয়েছে। পাশাপাশি গত শনিবার দ্বিতীয় ইউনিটের পারমাণবিক জ্বালানির প্রথম চালানও দেশে পৌঁছেছে।
প্রকল্পটির শুরুর পর থেকেই পারমাণবিক ভীতি, ব্যয় এবং কর্মকর্তা-বিশেষজ্ঞদের ভূমিকা নিয়ে নানা অভিযোগ ও প্রচারণা হয়েছে।
সোমবার (৫ অক্টোবর) সকালে নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানির বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে ড. জাহেদুল হাসান জানান, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একাধিক প্রচারণা নেতিবাচকভাবে দেখছেন রূপপুরে কর্মরত প্রকৌশলী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। যাচাই-বাছাই ছাড়া অভিযোগ প্রচারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ভাবমূর্তির পাশাপাশি কর্মরতদের মনোবলেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তিনি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, পরিসংখ্যান, সরকারি আদেশ, পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত ও অভ্যন্তরীণ অডিটের তথ্য তুলে ধরে বিভিন্ন অভিযোগের ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তার দাবি, প্রচারিত কিছু বক্তব্যে প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব ও ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের মধ্যে যথাযথ পার্থক্য করা হয়নি।
ড. জাহেদুল আরও জানান, প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন সময়ে তাকে উচ্চতর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০২৫-এর জুন থেকে তিনি নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানির বাংলাদেশ লিমিটেডের পূর্ণকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং এ পদের জন্য নির্ধারিত বেতন-ভাতা নিচ্ছেন। একই সময়ে একাধিক পদের জন্য আলাদা বেতন নেওয়ার অভিযোগ সঠিক নয় এবং সরকারি নীতিমালার পরিপন্থি বলেও তিনি দাবি করেন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত পরিচালনা পর্ষদ, সংশ্লিষ্ট কমিটি ও ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় নেওয়া হয়।
জনবল ও প্রশিক্ষণ নিয়েও প্রচারিত তথ্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি। তার দেওয়া তথ্যমতে, নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানির বাংলাদেশে ১ হাজার ৯২২ জন নিয়োগ পেয়েছেন। এর মধ্যে ৯৯৭ জন বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের মধ্যে প্রতিষ্ঠান ছেড়েছেন ২৭ জন, যা মোট প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনবলের প্রায় ২ দশমিক ৭ শতাংশ।
এ ছাড়া গ্রেড ১৬ থেকে ১৯-এর প্রায় ১০০ কর্মীর প্রতিষ্ঠান ত্যাগকে বিশেষায়িত পারমাণবিক জনবলের প্রস্থান হিসেবে দেখানো ঠিক নয়। তাদের মধ্যে অ্যাটেনডেন্ট ও টেকনিশিয়ানসহ বিভিন্ন পদে কর্মরত ব্যক্তিরা ছিলেন। তাই মোট কর্মীপ্রস্থান ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনবলের প্রতিষ্ঠান ত্যাগ পৃথকভাবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
উচ্চতর পদে দায়িত্ব অর্পণ নিয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছেন এনপিসিবিএল এমডি। তার বক্তব্য, শপ ম্যানেজার ও ডেপুটি শপ ম্যানেজারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত ক্ষমতাপ্রাপ্ত বোর্ড কমিটির নেয়। ব্যবস্থাপনা পরিচালক এককভাবে এসব পদে কাউকে নিয়োগ বা দায়িত্ব দিতে পারেন না। ফলে বিদ্যমান কর্মীদের উচ্চতর দায়িত্ব অর্পণকে ব্যক্তিগত নিয়োগ বা একক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখানো প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
কমিশনিং কার্যক্রম নিয়েও তিনি দায়িত্বের বিভাজন তুলে ধরেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রূপপুর প্রকল্পের মালিক বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন (বিএইসি), আর এনপিসিবিএল বিদ্যুৎকেন্দ্রের অপারেটিং অর্গানাইজেশন। ফলে কমিশনিংসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত, কার্যক্রম বা বিলম্বকে সরাসরি এনপিসিবিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হিসেবে উপস্থাপন করা যথাযথ নয়।
রাশিয়ায় কর্মকর্তাদের জন্য অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়ার বিষয়েও ব্যাখ্যা দেন ড. জাহেদুল হাসান। তিনি বলেন, ‘এ ব্যবস্থা তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তে নেওয়া হয়নি। তৎকালীন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিবের সভাপতিত্বে নেওয়া প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে রাশিয়ায় অবস্থানরত পরিদর্শকদের জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়। ভাড়া ও অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা করে প্রকল্পের জেনারেল কন্ট্রাক্টর জেএসসি এটমস্ট্রয়এক্সপোর্ট (এএসই)।
ড. জাহেদুল হাসান জানান, বিভিন্ন সময়ে মোট ৪১ জন কর্মকর্তা এসব অ্যাপার্টমেন্টে অবস্থান করেছেন এবং তাদের জন্য সরকারি আদেশ (জিও) জারি করা হয়েছিল। একই সময়ে তারা হোটেল ভাতা নেননি।
বাসা ভাড়ার ৭৭ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগকে অমূলক ও ভিত্তিহীন দাবি করে তিনি বলেন, ‘অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়ার সিদ্ধান্ত, বাস্তবায়ন ও অর্থ পরিশোধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা এবং পরবর্তী অডিট বিবেচনায় না নিয়ে এর দায় ব্যক্তিগতভাবে তার ওপর চাপানো তথ্যগতভাবে সঠিক নয়।’
তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী, এ বিষয়টি পরে ছয় সদস্যের একটি অভ্যন্তরীণ অডিট দলের মাধ্যমে পরিদর্শন করা হয়। দলের নেতৃত্বে ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিব। বাংলাদেশ দূতাবাসের রাশিয়াস্থ দুই কর্মকর্তাও এতে অংশ নেন। অডিট প্রতিবেদনটি মন্ত্রণালয়ে দাখিল করা হয় বলে তিনি জানান।
নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানির বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. জাহেদুল হাসান জানান, রূপপুর বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রকল্প। এ ধরনের প্রকল্প নিয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে অফিস আদেশ, পরিচালনা পর্ষদ ও কমিটির সিদ্ধান্ত, সরকারি আদেশ, অডিট প্রতিবেদন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।
রূপপুর এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনের গুরুত্বপূর্ণ চূড়ান্ত পর্যায়ে থাকায় প্রকল্পটির নিরাপত্তা, দক্ষ জনবল, কমিশনিং ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা নিয়ে তথ্যভিত্তিক আলোচনা এবং স্বচ্ছতা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত জাতীয় পর্যায়ের ‘গুণী শিক্ষক সম্মাননা’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, শিক্ষকতা কোনোভাবেই উপায়হীন বিকল্প বা সাধারণ চাকরির মতো পেশা হতে পারে না। শিক্ষা-দীক্ষায় সবচেয়ে মেধাবীরা যাতে কর্মজীবনে শিক্ষকতাকেই প্রথম পছন্দ হিসেবে বেছে নেন, সে লক্ষ্যে সরকার শিক্ষক নিয়োগ ও শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাচ্ছে। শিক্ষকদের মর্যাদা ও আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাঁদের সম্মান বৃদ্ধির মাধ্যমে রাষ্ট্রের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সরকার বদ্ধপরিকর।
সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে প্রাথমিক থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত গুণী শিক্ষকদের এ সম্মাননা দেওয়া হয়। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ছিল ‘শিক্ষকদের পাশে দাঁড়ানো: পেশা সুরক্ষার ৬০ বছর, মর্যাদা উন্নয়ন এবং আমাদের ভবিষ্যৎ গঠন’। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দেশের সব স্তরের শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মাননাপ্রাপ্তদের অভিনন্দন জানান। তিনি আরও বলেন, শিক্ষকরা যদি শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজন ও প্রিয়জন হয়ে ওঠেন, তবে সুনাগরিক হিসেবে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সহজ হবে।
শিক্ষায় প্রযুক্তির সমন্বয় ও শিখন পদ্ধতি আধুনিকায়নের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, শিক্ষার্থীদের মনের কৌতূহল জাগাতে এবং আনন্দময় শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। এ বছরের মধ্যেই শিক্ষার্থীরা নতুন সিলেবাসের বই হাতে পাবে এবং ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ শিরোনামে নতুন বই চালু করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তির অগ্রগতিকে শিক্ষকের বিকল্প না ভেবে শিক্ষকের শক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধা প্রসারিত করা হচ্ছে। টিচার্স ট্রেনিং কলেজগুলোকেও আরও আধুনিক করার কাজ চলছে।
বর্তমান বাজেটে শিক্ষা খাতে সর্বকালের সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শহর ও গ্রামের শিক্ষা ব্যবস্থার পার্থক্য দূর করে সকলের জন্য মানসম্মত ও বৈষম্যহীন শিক্ষা নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। কেবল কর্মসংস্থান নয়, শিক্ষার মাধ্যমে সত্যবাদিতা, দেশপ্রেম ও নৈতিক মূল্যবোধ সম্পন্ন চরিত্র গঠনের ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
এছাড়া শিক্ষকদের বেতন ও অবসরভাতা প্রাপ্তিতে হয়রানি বন্ধে সরাসরি ব্যাংকের মাধ্যমে যথাসময়ে প্রাপ্য অর্থ পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশনা দেন তিনি। রাষ্ট্রীয় গুরুত্ব বিবেচনা করে জাতীয় দিবসগুলোর অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অন্তত একজন শিক্ষককে আমন্ত্রণ জানানোর নতুন নীতিমালার কথাও তিনি অনুষ্ঠানে ঘোষণা করেন।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপদেষ্টা মাহদী আমিন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ এবং সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. সেলিম ভূঁইয়া।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, নাগরিকদের জন্য শুধু একটি ঘর নয় বরং নিরাপদ, সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত ও মৌলিক সেবা-সুবিধাসম্পন্ন বাসস্থান নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
তিনি বলেন, ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ নিশ্চিত করতে সরকার সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। বাসযোগ্য, সাশ্রয়ী, পরিবেশসম্মত, নিরাপদ ও মৌলিক সেবা-পরিষেবা সম্বলিত বাসস্থান নাগরিকদের অন্যতম মৌলিক অধিকার এবং এ অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।'
আজ সকালে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেমে বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬-এর উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'বিশ্ব বসতি দিবসের অর্থ শুধু একটি ঘর নয়, এর সঙ্গে নিরাপদ পানি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, উন্নত পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থা, গণপরিবহন, উন্নত সড়ক ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান এবং সর্বোপরি মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ সরাসরি সম্পৃক্ত।'
বাংলাদেশের মতো জনবহুল রাষ্ট্রে সবার জন্য নিরাপদ বসতি নিশ্চিত করা সহজ নয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'সকল নাগরিকের জন্য নিরাপদ ও টেকসই বাসস্থান নিশ্চিত করা উন্নত বিশ্বের জন্য যতটা সহজ, বাংলাদেশের মতো জনবহুল রাষ্ট্রে তা ততটা সহজ নয়। তবে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে সম্মানের সঙ্গে টিকে থাকতে হলে বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে প্রতিটি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই এগিয়ে যেতে হবে।'
বাংলাদেশের শহর, বন্দর ও নগরে প্রতিনিয়ত মানুষের বসতি ও বসবাস বাড়ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'রাজধানী ঢাকা বর্তমানে অতিরিক্ত জনসংখ্যার চাপে রয়েছে। দেশের অন্যান্য শহরেও প্রায় একই পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্বাভাবিক ধারণক্ষমতার তুলনায় শহরাঞ্চলে কয়েক গুণ বেশি মানুষের বসবাসের কারণে নগরজীবনে নানা সংকট সৃষ্টি হচ্ছে।'
এমন বাস্তবতায় ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ ধারণাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'শহরগুলোতে সব মানুষের জন্য নিরাপদ, মানসম্মত ও সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও সুপরিকল্পিত নগর গড়ে তোলা জরুরি।'
পরিকল্পিত, নিরাপদ, পরিবেশবান্ধব ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগর গড়ে তোলা বর্তমান সরকারের অন্যতম লক্ষ্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'একইসঙ্গে নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য বাসযোগ্য, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসনের ব্যবস্থাও সরকারের পরিকল্পনায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। পরিকল্পিত নগরায়ণ ও আবাসন নিশ্চিত করা এবং সীমিত আয়ের মানুষের জন্য বাসস্থান সুবিধা প্রদান বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান নির্বাচনী অঙ্গীকার।'
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পরিকল্পিত নগরায়ণের জন্য প্রতিটি সিটি কর্পোরেশন ও জেলায় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করা হচ্ছে। এরই মধ্যে সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে।'
তিনি বলেন, 'এর ফলে অন্তর্ভুক্তিমূলক, নিরাপদ, সহনশীল ও টেকসই নগর গড়ে তোলার মাধ্যমে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি)-এর ১১ নম্বর অভীষ্ট অর্জন আরও সহজ হবে।'
শহরাঞ্চলে মানুষের চাপ কমাতে সরকার বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'রাজধানী ঢাকাসহ শহরগুলোর সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও দ্রুত, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ করার পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলে নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি করে শহরাঞ্চলে মানুষের চাপ কমানো একটি কার্যকর বিকল্প হতে পারে। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন শুরু করেছে।'
তিনি বলেন, 'দেশের প্রতিটি অঞ্চলকে জাতীয় উন্নয়নের মূলধারায় সম্পৃক্ত করতে সরকার নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকারের লক্ষ্য কেন্দ্রীভূত নগরায়ণ নয় বরং বিকেন্দ্রীভূত, ভারসাম্যপূর্ণ নগর ও আঞ্চলিক উন্নয়ন।'
সরকার ইতোমধ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে সারাদেশের জন্য স্থানিক পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং ঢাকার আশপাশে সেকেন্ডারি টাউনশিপ গড়ে তোলার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলেও উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বাসযোগ্য আবাসন তৈরিতে পরিবেশ সুরক্ষাকে সরকারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'প্রকৃতি ও পরিবেশকে গুরুত্ব দিয়েই জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ ও উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা শহরে পরিকল্পিত আবাসন গড়ে তোলা হচ্ছে।'
প্রধানমন্ত্রী বলেন, 'সাম্প্রতিক বৈশ্বিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বাংলাদেশকে নানা চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার মুখোমুখি করছে। পরিবর্তিত এই পরিস্থিতিতেও নগর এলাকার সংকট মোকাবিলায় বিশেষ করে সর্বজনীন বাসস্থান নিশ্চিত করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ দ্রুত ও স্বচ্ছতার সঙ্গে বাস্তবায়নে সরকার আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।'
তিনি বলেন, 'দেশের নগর ও শহরাঞ্চলের আবাসন সংকট মোকাবিলা সরকারের একার পক্ষে কিছুটা কঠিন। এ ক্ষেত্রে আবাসন খাতের বেসরকারি উদ্যোক্তাসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনের সমন্বিত অংশগ্রহণ পরিস্থিতি উত্তরণে কার্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।'
নাগরিকদের মৌলিক অধিকার বাস্তবায়নে ব্লকভিত্তিক আবাসন উৎসাহিত করার পাশাপাশি এলাকাভিত্তিক পার্ক, খেলার মাঠ স্থাপন এবং নির্ধারিত জোনে শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, সরকার পর্যায়ক্রমে গৃহীত সব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সক্ষম হলে 'সবার জন্য নিরাপদ বাসস্থান'- এটি দেশের নাগরিকদের সামনে একটি বিদ্যমান বাস্তবতা হয়ে উঠবে, ইনশাআল্লাহ।’
বিশ্ব বসতি দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য- ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলোয়াত ও অন্যান্য ধর্মগ্রন্থসমূহ পাঠ করা হয়।
এ সময় বিশ্ব বসতি দিবস ২০২৬' উদযাপন উপলক্ষে একটি বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন ও প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের আগে চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের প্রাঙ্গণে একটি ‘স্বর্ণচাঁপা’ গাছের চারা রোপণ করেন।
এদিকে বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের লবিতে তিন দিনব্যাপী আবাসন মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী জাকারিয়া তাহেরের সভাপতিত্বে আলোচনা অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন একই মন্ত্রণালয়ের সচিব মোঃ ওবায়দুর রহমান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর এবং জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক মিস ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেচনিয়াক।
সরকারি কর্মকর্তা বদলি প্রক্রিয়ায় শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং অনাকাঙ্ক্ষিত তদবির রোধে ঢাকা জেলার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে লটারির মাধ্যমে সাব-রেজিস্ট্রার পদায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী আগামীকাল মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকাল ১০টায় মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এই লটারি কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হবে।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের বিশেষ সিদ্ধান্তে এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং লটারি পরিচালনা কার্যক্রমে তিনি নিজে উপস্থিত থাকবেন। নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী, ঢাকা জেলার আওতাধীন বিভিন্ন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের পদগুলোর বিপরীতে বর্তমানে সারা দেশের বিভিন্ন জেলায় কর্মরত সাব-রেজিস্ট্রারদের তালিকা থেকে সরাসরি লটারির মাধ্যমে নতুন কর্মস্থল বণ্টন করা হবে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সাধারণ মানুষের জমিজমা ও সম্পত্তি নিবন্ধনসংক্রান্ত নাগরিক সেবাগুলো আরও সহজ, সুশৃঙ্খল ও সম্পূর্ণ হয়রানিমুক্ত করার উদ্দেশ্যেই এই প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোর সেবা কার্যক্রমে গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং পদায়ন নিয়ে যেকোনো ধরনের অস্বচ্ছতা দূর করে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে লটারির মাধ্যমে এই বদলি কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে।
ঢাকার সাব-রেজিস্ট্রি অফিসগুলোতে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নিরপেক্ষ পদায়ন নিশ্চিত করা সম্ভব হলে সাধারণ সেবাগ্রহীতারা কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই দ্রুত সেবা গ্রহণ করতে পারবেন বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে প্রশাসনিক এই সংস্কার মাঠপর্যায়ে সেবার মান বাড়াতে বড় ধরনের দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রের লবিতে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী আবাসন মেলার উদ্বোধন করেছেন।
আজ সকালে বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় যোগদানের পর প্রধানমন্ত্রী এ মেলার উদ্বোধন করেন।
আবাসন ও নির্মাণ খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন দপ্তর ও সংস্থা মেলায় অংশ নিচ্ছে।
উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী মেলার বিভিন্ন স্টল ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি আবাসন ও নির্মাণ খাতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং সরকারি সংস্থার কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হন। পরে তিনি মেলার পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।
এর আগে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ‘সর্বজনীন বাসস্থান, টেকসই নগরায়ণ’ প্রতিপাদ্যে বিশ্ব বসতি দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
অনুষ্ঠানে বিশ্ব বসতি দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকার মোড়ক উন্মোচন করেন তারেক রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও মানসম্মত আবাসন নিশ্চিত করার পাশাপাশি পরিকল্পিত ও টেকসই নগরায়ণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, গৃহায়ন ও গণপূর্ত প্রতিমন্ত্রী আহম্মদ সোহেল মনজুর, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেচনিয়াক এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র প্রাঙ্গণে একটি ‘স্বর্ণচাঁপা’ গাছের চারা রোপণ করেন।
গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে হওয়া অন্তর্বর্তী চুক্তিতে থাকা সাতটি শর্তপূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী খোলা হবে না বলে জানিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার বাঘের গালিবাফ। বার্তাসংস্থা নুরনিউজ গতকাল রোববার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, স্পিকার গালিবাফ বলেছেন, মার্কিনিরা, যারা মিডিয়ার সামনে ভিন্ন কথা বলে, তারা সম্প্রতি মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে নতুন প্রস্তাব দিয়েছে। তবে তাদের মনে রাখতে হবে প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করা এবং একপক্ষীয় দাবি চাওয়ার সময় শেষ। ‘ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের অবস্থান খুবই স্পষ্ট এবং দৃঢ়, গত জুনে হওয়া ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক চুক্তিতে থাকা সাতটি শর্তপূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালী খোলা হবে না।’
এর আগে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বন্দ্ব নিরসনে ইরানের কাছ থেকে নতুন একটি প্রস্তাব দিয়েছে। যদি মার্কিনিরা এটি মেনে নেয় তাহলে সাতদিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালী খুলে যাবে।’ বিদেশি দূতদের কাছে ইরানি মন্ত্রী আরও বলেন, ‘হরমুজ খোলার জন্য ইরান তার শর্তগুলো স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছে। আর যেসব শর্ত দেওয়া হয়েছে সেগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে মানতে হবে।’
আরাগচি আরও বলেন, ‘তাদের আশা যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতিকে বেছে নেবে।’ কিন্তু যদি তারা আবারও সামরিক পথে হাঁটে তাহলে ইরান প্রস্তুত আছে বলেও সতর্কতা দেন তিনি। তিনি বলেন, ‘যদি তারা আবারও সামরিক সমাধানের দিকে আগায়, আমরা আগের চেয়ে আরও বেশি প্রস্তুত এবং আমাদের নিজেদের রক্ষায় যা করার দরকার তা-ই করব।’
সাধারণ মানুষকে সেনা প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করল ইরান
রাষ্ট্রীয়ভাবে সাধারণ মানুষকে সেনা প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এ উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেতে পারে। আর এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষকে সামরিক শিক্ষা দেওয়ার উদ্যোগ নিল তেহরান। তারা পরবর্তীতে জরুরি পরিস্থিতিতে স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজ করবেন।
ইরানি বার্তাসংস্থা ওয়েস্ট এশিয়া নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, ‘জানফিদা’ ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়েছে। প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে রাজধানী তেহরানের তিনটি মিলিটারি ট্রেনিং সেন্টারে। জানফিদার অর্থ নিজের জীবনকে কোরবানি দেওয়া বা আত্মউৎস্বর্গ করা।
দেশটির সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার উপপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ রেজা আরিয়ান-নাজাদ বলেছেন, সেনাবাহিনীর চারটি ইউনিটের সেনারা এ প্রশিক্ষণ কাজ পরিচালনা করবেন।
তিনি জানিয়েছেন, প্রথমে একদমই সাধারণ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এরপর দেওয়া হবে আরও উন্নত প্রশিক্ষণ।
ইরান এর আগে জানিয়েছিল, তারা জানফিদার অন্তত এক হাজার ব্যাটালিয়ন তৈরি করতে চায়। যারা সংকটময় সময়ে দেশের জন্য ঝাঁপিয়ে পড়বে।
ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড ও প্যারামিলিটারি বাসিজের সঙ্গে এই সামরিক প্রশিক্ষণের সংশ্লিষ্টতা আছে। গত সেপ্টেম্বরে বাসিজের তত্ত্বাবধানে তেহরানের জানফিদার একটি ট্রেনিং সেন্টার খোলা হয়। সেখানে সাধারণ মানুষকে সামরিক প্রস্তুতি,
স্থানীয় নিরাপত্তা, নজরদারি, উদ্ধার অভিযান, অস্ত্র চালানোর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
নিজেদের সামরিক সক্ষমতা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেসামরিকদের সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও, দেশটির কিছু মানুষ প্রশ্ন তুলেছেন, কারা এসব প্রশিক্ষণে অংশ নিচ্ছেন এবং এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে একটি সহায়ক সামরিক কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে কি না।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক।
আজ রোববার বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর দফতরে তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন সারাহ কুক।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব একেএম নাজমুল হক এ কথা জানান।
তিনি জানান, সাক্ষাতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সার্বিক বিষয়াদি এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় হয়।
এ সময় দুই দেশের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় ও বহুমাত্রিক করার বিষয়ে গুরুত্ব আরোপ করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর সহকারী প্রেস সচিব আরও জানান, পাশাপাশি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, অভিবাসন ও মানবসম্পদ উন্নয়নসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের পরিধি আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও সাক্ষাতে মতবিনিময় হয়।
এ সময় উভয় পক্ষ বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়া এবং পারস্পরিক স্বার্থে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সাক্ষাতকালে উপস্থিত ছিলেন।
মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সরকারি জান্তা বাহিনী এবং জাতিগত সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির মধ্যকার চলমান সংঘাতের ক্ষতিকর প্রভাব সরাসরি বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জনপদে পড়ছে বলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রবিবার (৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের ‘ইনডিপেনডেন্ট ইনভেস্টিগেটিভ মেকানিজম ফর মিয়ানমার’ (আইআইএমএম)-এর প্রধান নিকোলাস কৌমুজিয়ান সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এই উদ্বেগের কথা জানান। বৈঠকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক ও বহিরাগমন অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, মানবিক কারণে বাংলাদেশ আশ্রয়হীন লাখ লাখ রোহিঙ্গাকে স্থান দিলেও অভ্যন্তরীণ সংঘাত ও সীমান্ত অস্থিরতার কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত জটিল রূপ ধারণ করেছে।
বৈঠকে মিয়ানমারে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে চলমান বিচারিক প্রক্রিয়ার অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেখভালে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর বৈশ্বিক আর্থিক ও লজিস্টিক সহায়তা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে, যা বাংলাদেশের সার্বিক অর্থনীতি ও নিরাপত্তার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে। তিনি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও দ্রুত নিজ দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জাতিসংঘ সংস্থাসমূহকে পূর্বের ন্যায় উচ্চ মাত্রার সহায়তা অব্যাহত রাখার জোর আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) আসন্ন রায় মিয়ানমারের ওপর কার্যকর বৈশ্বিক চাপ সৃষ্টি করবে, যা বাস্তুচ্যুত এই জনগোষ্ঠীকে নিজেদের আদি ভূমিতে ফেরত পাঠাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বাংলাদেশ সরকারের অব্যাহত সহযোগিতার জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আইআইএমএম প্রধান নিকোলাস কৌমুজিয়ান জানান, তাঁদের তদন্তকারী দল কক্সবাজারসহ বিভিন্ন আশ্রয়শিবির সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রায় দুই শতাধিক ভিকটিম ও প্রত্যক্ষদর্শীর সরাসরি সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছে। সংগৃহীত এসব তথ্য-প্রমাণ ও নথি আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি), আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালগুলোতে জমা দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, আইআইএমএম তাদের তদন্তকাজ কেবল ২০১৭ সালের বড় অভিযানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখছে না; বরং সাম্প্রতিক সময়ে রাখাইনে আরাকান আর্মি ও জান্তা বাহিনীর তীব্র সংঘর্ষের ফলে সাধারণ বেসামরিক নাগরিকদের ওপর যে নতুন করে সহিংসতা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে, তাও আন্তর্জাতিক আদালতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নথিভুক্ত করা হচ্ছে।
বৈঠকে সীমান্ত পরিস্থিতির সার্বিক চিত্র তুলে ধরে মিয়ানমার অংশের পুঁতে রাখা ল্যান্ডমাইনের মারাত্মক ঝুঁকির কথা তুলে ধরেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। তিনি জানান, ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের পানিতে ভেসে মিয়ানমারের পুঁতে রাখা বিপজ্জনক মাইনগুলো আন্তর্জাতিক সীমান্তরেখা অতিক্রম করে বাংলাদেশ ভূখণ্ডে চলে আসছে, যার ফলে সীমান্তবর্তী সাধারণ কৃষক ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবন চরম ঝুঁকির মুখে পড়ছে। এছাড়া সীমান্ত দিয়ে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে বিজিবির গৃহীত সতর্কতামূলক ব্যবস্থা সম্পর্কে বৈঠকে অবহিত করা হয়; একই সঙ্গে সম্প্রতি সীমান্ত পেরিয়ে আসা ভিকটিমদের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহে আইআইএমএম টিমকে মাঠপর্যায়ের বিজিবি কমান্ডারদের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিজিবির পক্ষ থেকে ইতিবাচক সম্মতি প্রদান করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান যানজট নিরসনে বৃত্তাকার সড়ক নির্মাণকাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
ঢাকা মহানগরের যানজট নিরসনে অভ্যন্তরীণ বৃত্তাকার সড়ক (ইনার সার্কুলার রিং রোড) নির্মাণকাজের অগ্রগতি পর্যালোচনায় এক সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন।
আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু এ কথা জানান।
সভায় প্রধানমন্ত্রী সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার বিভাগকে সমন্বিতভাবে প্রকল্পের বিদ্যমান পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে নির্মাণকাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশ দেন।
প্রধানমন্ত্রী প্রকল্প বাস্তবায়নে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিত করে দ্রুত তা দূর ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা এবং কাজ শেষ করতে একটি বাস্তবসম্মত সময়সীমা নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে তিনি প্রকল্পের কাজে দ্রুত দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করারও নির্দেশ দেন।
সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
সৌদি আরবের পবিত্র মদিনা নগরীর তাইবাহ বিদ্যুৎকেন্দ্রে ইয়েমেনের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের ড্রোন হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ। রবিবার (৪ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়। বেসামরিক নাগরিক সেবা এবং জ্বালানি পরিকাঠামোকে লক্ষ্য করে চালানো এই ধরনের সামরিক তৎপরতাকে আন্তর্জাতিক নিয়মরীতির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে ঢাকা।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, মসজিদে নববীসহ ইসলামের অতি গুরুত্বপূর্ণ ও পবিত্র ধর্মীয় স্থাপনাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহকারী একটি বেসামরিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ইচ্ছাকৃতভাবে এই আক্রমণ চালানো হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমানের আবেগের কেন্দ্রবিন্দু এবং ইসলামের অন্যতম পবিত্রতম এই স্থানের মর্যাদা ও নিরাপত্তার ওপর এমন আঘাত কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না বলে বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।
সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত সুরক্ষার প্রশ্নে দেশটির পাশে থাকার বিষয়ে অটল অবস্থানের কথা জানিয়েছে বাংলাদেশ। বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলা হয়, সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, শান্তি এবং ভৌগোলিক অখণ্ডতা অক্ষুণ্ণ রাখার যেকোনো ন্যায্য প্রচেষ্টার প্রতি বাংলাদেশের পূর্ণ সমর্থন ও সংহতি অব্যাহত থাকবে।
একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের সামগ্রিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছে বাংলাদেশ সরকার। যেকোনো ধরনের আগ্রাসন বা উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড—যা এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতা বিনষ্ট করে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাকে বিঘ্নিত করে—বাংলাদেশ তা দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে।
দেশজুড়ে কিশোর গ্যাং দমনে সরকার অত্যন্ত কঠোর ও আপসহীন অবস্থান নিয়েছে। আগামী ৩ মাসের মধ্যেই দেশ থেকে কিশোরগ্যাং উচ্ছেদ ও নির্মূল করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে শহরাঞ্চলে কিশোর গ্যাংয়ের সহিংসতা, চাঁদাবাজি ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকার এবং পুলিশ প্রশাসন দেশব্যাপী বহুমুখী ও সমন্বিত ক্র্যাকডাউন (বিশেষ অভিযান) শুরু করেছে।
এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুরসহ বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় নিয়মিত অভিযান চালিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের শত শত সদস্যকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে অনেককে বুঝিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। আবার অনেককে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। সন্তানদের দিকে বিশেষভাবে খেয়াল রাখতে বলা হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, কিশোর গ্যাংয়ের বিদ্যমান তালিকা হালনাগাদ করার কাজ শুরু হয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশসহ দেশের বিভিন্ন থানা ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে সারাদেশে বড় পরিসরে বিশেষ অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
এ লক্ষ্যে পুলিশ সদর দপ্তরে ঢাকা মহানগর পুলিশের ক্রাইম জোন ও গোয়েন্দা বিভাগের ডিসিদের নিয়ে সভাও হয়েছে। কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিদ্যমান আইনে কোনো সংশোধন বা সংযোজন প্রয়োজন কি না, কিংবা নতুন আইন প্রণয়নের প্রয়োজন আছে কি না, সেটিও পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
পুলিশের নথি অনুযায়ী, বর্তমানে ঢাকায় ১৫৮টি কিশোর গ্যাং রয়েছে। এসব গ্রুপে মোট সদস্য সংখ্যা ১ হাজার ২১৯ জন। তবে সারাদেশে কিশোর গ্যাংয়ের মোট সংখ্যা ও সদস্যদের পূর্ণাঙ্গ পরিসংখ্যান এখনো পাওয়া যায়নি।
পুলিশের বিভিন্ন মামলার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি যে অপরাধের অভিযোগ রয়েছে তা হলো ছিনতাই। মোবাইল ফোন, টাকা, মোটরসাইকেলসহ মূল্যবান সামগ্রী ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় কিশোরদের জড়িত থাকার তথ্য রয়েছে।
এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইন জুয়া, চাঁদাবাজি, মাদক বহন ও বিক্রি, গ্যাং-সংঘর্ষ, আধিপত্য বিস্তার, ভাড়াটে হিসেবে হামলা এবং জমি ও স্থাপনা দখলের মতো গুরুতর অপরাধেও কিশোরদের ব্যবহারের অভিযোগ উঠছে। ফলে কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে পুলিশের চলমান অভিযান কতটা কার্যকর হয়, তার পাশাপাশি কিশোরদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে সামাজিক ও পারিবারিক উদ্যোগও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
কুমিল্লাসহ পাঁচ জেলায় ইতোমধ্যে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। কুমিল্লায় প্রথম দফায় জেলার ১৮ থানায় একযোগে অভিযান চালিয়ে ৬২৪ জনকে আটক করা হয়। এর মধ্যে ৪৫১ জনকে মুচলেকা নিয়ে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। বাকি ১৭৩ জনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
এরপর দ্বিতীয় দফায় ২৫৪ জন এবং তৃতীয় দফায় ৪১৫ জনকে আটক করা হয়। তিন দফায় কুমিল্লায় মোট ১ হাজার ২৯৩ কিশোরকে আটক করেছে পুলিশ। এছাড়া চাঁদপুর, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও চট্টগ্রামেও বিশেষ অভিযান চলছে। চাঁদপুরের আট উপজেলায় অভিযান চালিয়ে ৩৭০ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ৩৫৫ জনকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। আটক কয়েকজনের বিরুদ্ধে মাদক ও অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
লক্ষ্মীপুরের ছয় থানায় একযোগে অভিযান চালিয়ে ২৬৬ জনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে ২১৪ জনকে অভিভাবকের জিম্মায় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। একইভাবে ফেনী শহরে অভিযান চালিয়ে ৩৮ কিশোরকে আটক করা হয়। চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের ১৭ থানা এলাকায় একযোগে অভিযান চালিয়ে ৪৪৫ জনকে আটক করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সমাজ-অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেন, কিশোর গ্যাং নিয়ন্ত্রণে প্রকৃত অপরাধ অনুযায়ী মামলা এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে গ্যাংয়ের ‘বড় ভাই’, পৃষ্ঠপোষক ও অর্থদাতাদেরও আইনের আওতায় আনার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বলেন, প্রান্তিক পরিবারের পড়াশোনা ও কর্মের বাইরে থাকা কিশোরদের প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান এবং উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ তৈরি করা দরকার। পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিন মাসের মধ্যে কিশোর গ্যাং উৎখাত করা হবে: চিফ হুইপ
কিশোর গ্যাংয়ের পেছনে প্রভাবশালী মহলের প্রত্যক্ষ মদদ রয়েছে বলে মনে করেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেছেন, ‘আগামী তিন মাসের মধ্যে কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা সমূলে উৎখাত করা হবে। কিশোররা অস্ত্র নিয়ে, চাপাতি নিয়ে ঘুরবে না। তারা বই-খাতা নিয়ে স্কুলে যাবে, লেখাপড়া করবে, দক্ষ হবে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করবে। তারা রোবটিক যুগে প্রবেশ করবে।’
গত শুক্রবার এফডিসিতে কিশোর গ্যাং প্রতিরোধে করণীয় নিয়ে ডিবেট ফর ডেমোক্র্যাসি আয়োজিত ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি এসব কথা বলেন।
চিফ হুইপ বলেন, ‘এখন যারা সমাজে সন্ত্রাস ও মব করছে বিগত শাসনামলেও তারাই এই অপকর্মের সঙ্গে যুক্ত ছিল। তাদের আমরা ছেঁকে বের করার চেষ্টা করছি। আমরা কোনো হেলমেট বাহিনী দেখতে চাই না, হাতুড়ি বাহিনী তৈরির কোনো ইচ্ছে বর্তমান সরকারের নেই। আমাদের দায় চাপানোর রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।’
‘শেখ হাসিনাকে নিয়ে ভারতের কাছে খুব একটা বিকল্প ছিল না এবং ভারতে তাকে সে দেশের বিমানবাহিনী বা সেনাবাহিনী নিয়ে যায়নি’,—এ কথা উল্লেখ করে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, ‘ভারত থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য বাংলাদেশের অনুরোধের বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান এবং বিষয়টির সঙ্গে আদালত যুক্ত থাকায় এর কোনো সময়সীমা বলা সম্ভব নয়।’
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীতে এক প্যানেল আলোচনায় প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘বারবার ভারত সরকার এ বিষয়ে বলেছে, একটি প্রক্রিয়া রয়েছে, আর সেই প্রক্রিয়াটি আইনি ও সুসংগঠিত। সুতরাং এ বিষয়ে প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’ বিষয়টির সঙ্গে আদালত যুক্ত থাকায় ‘কেউ কোনো সময়সীমা দিতে পারবে না’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে যাওয়ার পর শেখ হাসিনা যে পরিস্থিতিতে ভারতে পৌঁছান, সে বিষয়েও ত্রিবেদী কথা বলেন। তিনি বলেন, ওই পরিস্থিতির জন্য ভারতীয় কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত ছিল না।
বাংলাদেশ থেকে শেখ হাসিনার চলে যাওয়ার পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ইতিহাসের দিকে ফিরে তাকালে, শেখ হাসিনাকে ভারতীয় বিমানবাহিনী বা ভারতীয় সেনাবাহিনী ভারতে নিয়ে আসেনি।’
সে সময় বাংলাদেশের ‘মর্মান্তিক পরিস্থিতির’ কারণে ঘটনাটি ঘটেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এমন পরিস্থিতি বিশ্বের কোথাও যেন আর কখনও না ঘটে।
হাইকমিশনার বলেন, শেখ হাসিনা যখন ভারতে পৌঁছান, তখনও তিনি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এবং প্রতিবেশী দেশ হিসেবে নয়াদিল্লিকে ওই পরিস্থিতিতে সাড়া দিতে হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, ‘আমি টেলিভিশনে দেখছিলাম, স্ক্রলে আসছিল যে তিনি অন্য কোনো দেশে কোথাও যাচ্ছেন।’
ত্রিবেদী বলেন, ‘সেই সময় শেখ হাসিনা তখনও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। এ বিষয়ে আমাদের খুব একটা বিকল্প ছিল না। প্রতিবেশী হিসেবে বাস্তবতাকে মেনে নেওয়া আমাদের দায়িত্ব ছিল, কারণ এমন অনেক পরিস্থিতি তৈরি হয়, যখন আপনি তার জন্য প্রস্তুত থাকেন না।’
ওই পরিস্থিতিতে ভারতের বিকল্প কী হতে পারত, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ত্রিবেদী। তিনি বলেন, ‘আমাদের কী বিকল্প ছিল? আমরা যদি বলতাম, না, আমরা তাকে গ্রহণ করব না, অবতরণের অনুমতিও দেব না—তাহলে পরিস্থিতি কী দাঁড়াত, আমি জানি না।’
তবে তিনি বর্তমান আইনি প্রক্রিয়ার প্রসঙ্গে ফিরে এসে বলেন, ভারতের বিচারব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে এবং প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই প্রত্যর্পণের বিষয়টি মোকাবিলা করা হচ্ছে।
দিনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘আইনি প্রক্রিয়া চালু রয়েছে, এ বিষয়ে আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন।’
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মতো ভারতেও প্রাণবন্ত গণতন্ত্র রয়েছে এবং এর আইনি ব্যবস্থা বিষয়টি নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ বারবার শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের জন্য ভারতকে অনুরোধ জানিয়েছে। ২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশ ছাড়ার পর থেকে তিনি ভারতে অবস্থান করছেন।
আগস্টে ঢাকায় ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠকের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও বিষয়টি উত্থাপন করেন। এরপর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া অনুযায়ী বাংলাদেশের অনুরোধটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।