জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে গতকাল রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হয়। স্বতন্ত্র প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে নওগাঁ-২ আসনে ভোট স্থগিত ছিল। অন্যদিকে নানা অনিয়ম ও সংঘর্ষের ঘটনায় ময়মনসিংহ-৩ আসনের ফলাফল নির্বাচন কমিশন থেকে বন্ধ রাখা হয়। তাহলে সংসদীয় ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৮টি আসনে নির্বাচনের ফলাফল পাওয়া গেছে। যারমধ্যে আওয়ামী লীগ ২২৩টি, স্বতন্ত্রপ্রার্থী ৬২টি, জাতীয় পার্টি ১১টি এবং অন্যান্য দল ২টি আসনে জয়লাভ করে।
নিম্নে সারা দেশের বিভাগ অনুযায়ী ক্রমান্বয়ে ২৯৮টি আসনের বেসরকারীভাবে বিজয়ীদের তালিকা দেয়া হলো-
ঢাকা বিভাগ
ঢাকা-১: সালমান এফ রহমান (আওয়ামী লীগ
ঢাকা-২: কামরুল ইসলাম (আওয়ামী লীগ)
ঢাকা-৩: নসরুল হামিদ বিপু (আওয়ামী লীগ)
ঢাকা-৪: আওলাদ হোসেন (স্বতন্ত্র)
ঢাকা-৫: মশিউর রহমান মোল্লা সজল (স্বতন্ত্র)
ঢাকা-৬: মোহাম্মদ সাঈদ খোকন (আওয়ামী লীগ)
ঢাকা-৭: মোহাম্মদ সোলায়মান সেলিম (আওয়ামী লীগ)
ঢাকা-৮: আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম (আওয়ামী লীগ)
ঢাকা-৯: সাবের হোসেন চৌধুরী (আওয়ামী লীগ)
ঢাকা-১০: ফেরদৌস আহমেদ (আওয়ামী লীগ)
ঢাকা-১১: ওয়াকিল উদ্দিন (আওয়ামী লীগ)
ঢাকা-১২: আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল (আওয়ামী লীগ)
ঢাকা-১৩: জাহাঙ্গীর কবির নানক (আওয়ামী লীগ)
ঢাকা-১৪: মো. মাইনুল হোসেন খান নিখিল (আওয়ামী লীগ)
ঢাকা-১৫: কামাল আহমেদ মজুমদার (আওয়ামী লীগ)
ঢাকা-১৬: ইলিয়াস উদ্দিন মোল্লাহ (আওয়ামী লীগ)
ঢাকা-১৭: মোহাম্মদ এ আরাফাত (আওয়ামী লীগ)
ঢাকা-১৮: মো. খসরু চৌধুরী (স্বতন্ত্র)
ঢাকা-১৯: সাইফুল ইসলাম (স্বতন্ত্র)
ঢাকা-২০: বেনজীর আহমেদ (আওয়ামী লীগ)
গাজীপুর-১: আ ক ম মোজাম্মেল হক (আওয়ামী লীগ)
গাজীপুর-২: জাহিদ আহসান রাসেল (আওয়ামী লীগ)
গাজীপুর-৩: রুমানা আলী (আওয়ামী লীগ)
গাজীপুর-৪: সিমিন হোসেন রিমি (আওয়ামী লীগ)
গাজীপুর-৫: আখতারউজ্জামান (স্বতন্ত্র)
নারায়ণগঞ্জ: গোলাম দস্তগীর গাজী (আওয়ামী লীগ)
নারায়ণগঞ্জ-২: নজরুল ইসলাম বাবু (আওয়ামী লীগ)
নারায়ণগঞ্জ-৩: আব্দুল্লাহ আল কায়সার হাসনাত (আওয়ামী লীগ)
নারায়ণগঞ্জ-৪: এ কে এম শামীম ওসমান (আওয়ামী লীগ)
নারায়ণগঞ্জ-৫: এ কে এম সেলিম ওসমান (জাতীয় পার্টি)
টাঙ্গাইল-১: ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক (আওয়ামী লীগ)
টাঙ্গাইল-২: তানভীর হাসান ওরফে ছোট মনির (আওয়ামী লীগ)
টাঙ্গাইল-৩: আমানুর রহমান খান রানা (স্বতন্ত্র)
টাঙ্গাইল-৪: আবদুল লতিফ সিদ্দিকী (স্বতন্ত্র)
টাঙ্গাইল-৫: ছানোয়ার হোসেন (স্বতন্ত্র)
টাঙ্গাইল-৬: আহসানুল ইসলাম টিটু (আওয়ামী লীগ)
টাঙ্গাইল-৭: খান আহমেদ শুভ (আওয়ামী লীগ)
টাঙ্গাইল-৮: অনুপম শাহজাহান (আওয়ামী লীগ)
মুন্সিগঞ্জ-১: মহিউদ্দিন আহমেদ (আওয়ামী লীগ)
মুন্সিগঞ্জ-২: সাগুফতা ইয়াসমিন (আওয়ামী লীগ)
মুন্সিগঞ্জ-৩: মোহাম্মদ ফয়সাল (স্বতন্ত্র)
নরসিংদী-১: নজরুল ইসলাম (আওয়ামী লীগ)
নরসিংদী-২: আনোয়ারুল আশরাফ খান (আওয়ামী লীগ)
নরসিংদী-৩: সিরাজুল ইসলাম মোল্লা (স্বতন্ত্র)
নরসিংদী-৪: নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন (আওয়ামী লীগ)
নরসিংদী-৫: রাজিউদ্দিন আহমেদ (আওয়ামী লীগ)
রাজবাড়ী-১: কাজী কেরামত আলী (আওয়ামী লীগ)
রাজবাড়ী-২: জিল্লুল হাকিম (আওয়ামী লীগ)
গোপালগঞ্জ-১: মুহাম্মদ ফারুক খান (আওয়ামী লীগ)
গোপালগঞ্জ-২: শেখ ফজলুল করিম সেলিম (আওয়ামী লীগ)
গোপালগঞ্জ-৩: শেখ হাসিনা (আওয়ামী লীগ)
মাদারীপুর-১: নুর-ই-আলম চৌধুরী (আওয়ামী লীগ)
মাদারীপুর-২: শাজাহান খান (আওয়ামী লীগ)
মাদারীপুর-৩: মোসা. তাহমিনা বেগম (স্বতন্ত্র)
ফরিদপুর-১: আবদুর রহমান (আওয়ামী লীগ)
ফরিদপুর-২: শাহদাব আকবর লাবু চৌধুরী (আওয়ামী লীগ)
ফরিদপুর-৩: এ কে আজাদ (স্বতন্ত্র)
ফরিদপুর-৪: মজিবুর রহমান চৌধুরী নিক্সন (স্বতন্ত্র)
শরীয়তপুর-১: মো. ইকবাল হোসেন (আওয়ামী লীগ)
শরীয়তপুর-২: এ কে এম এনামুল হক শামীম (আওয়ামী লীগ
শরীয়তপুর-৩: নাহিম রাজ্জাক (আওয়ামী লীগ)
কিশোরগঞ্জ-১: সৈয়দ জাকিয়া নূর (আওয়ামী লীগ)
কিশোরগঞ্জ-২: সোহরাব উদ্দিন (স্বতন্ত্র)
কিশোরগঞ্জ-৩: মুজিবুল হক চুন্নু (জাতীয় পার্টি)
কিশোরগঞ্জ-৪: রেজওয়ান আহাম্মদ তৌফিক (আওয়ামী লীগ)
কিশোরগঞ্জ-৫: আফজাল হোসেন (আওয়ামী লীগ)
কিশোরগঞ্জ-৬: নাজমুল হাসান পাপন (আওয়ামী লীগ)
মানিকগঞ্জ-১: সালাহউদ্দিন মাহমুদ (স্বতন্ত্র)
মানিকগঞ্জ-২: দেওয়ান জাহিদ আহমেদ টুলু (স্বতন্ত্র)
মানিকগঞ্জ-৩: জাহিদ মালেক (আওয়ামী লীগ)
চট্টগ্রাম বিভাগ
চট্টগ্রাম-১: মাহবুব উর রহমান রুহেল (আওয়ামী লীগ)
চট্টগ্রাম-২: খাদিজাতুল আনোয়ার সনি (আওয়ামী লীগ)
চট্টগ্রাম-৩: মাহফুজুর রহমান (আওয়ামী লীগ)
চট্টগ্রাম-৪: এসএম আল মামুন (আওয়ামী লীগ)
চট্টগ্রাম-৫: আনিসুল ইসলাম মাহমুদ (জাতীয় পার্টি)
চট্টগ্রাম-৬: এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী (আওয়ামী লীগ)
চট্টগ্রাম-৭: ড. হাছান মাহমুদ (আওয়ামী লীগ)
চট্টগ্রাম-৮: আবদুচ ছালাম (স্বতন্ত্র)
চট্টগ্রাম-৯: ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল (আওয়ামী লীগ)
চট্টগ্রাম-১০: মহিউদ্দিন বাচ্চু (আওয়ামী লীগ)
চট্টগ্রাম-১১: এম আব্দুল লতিফ (আওয়ামী লীগ)
চট্টগ্রাম-১২: মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী (আওয়ামী লীগ)
চট্টগ্রাম-১৩: সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ (আওয়ামী লীগ)
চট্টগ্রাম-১৪: মো. নজরুল ইসলাম (আওয়ামী লীগ)
চট্টগ্রাম-১৫: আব্দুল মোতালেব (স্বতন্ত্র)
চট্টগ্রাম-১৬: মজিবুর রহমান (স্বতন্ত্র)
কুমিল্লা-১: ইঞ্জিনিয়ার আবদুস সবুর (আওয়ামী লীগ)
কুমিল্লা-২: আবদুল মজিদ (স্বতন্ত্র)
কুমিল্লা-৩: জাহাঙ্গীর আলম সরকার (স্বতন্ত্র)
কুমিল্লা-৪: আবুল কালাম আজাদ (স্বতন্ত্র)
কুমিল্লা-৫: আবু জাহের (স্বতন্ত্র)
কুমিল্লা-৬: আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার (আওয়ামী লীগ)
কুমিল্লা-৭: ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত (আওয়ামী লীগ)
কুমিল্লা-৮: আবু জাফর মোহাম্মদ শামীম (আওয়ামী লীগ)
কুমিল্লা-৯: তাজুল ইসলাম (আওয়ামী লীগ)
কুমিল্লা-১০: আ হ ম মুস্তফা কামাল (আওয়ামী লীগ)
কুমিল্লা-১১: মুজিবুল হক (আওয়ামী লীগ)
চাঁদপুর-১: ড. সেলিম মাহমুদ (আওয়ামী লীগ)
চাঁদপুর-২: মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া (আওয়ামী লীগ)
চাঁদপুর-৩: ডা. দীপু মনি (আওয়ামী লীগ)
চাঁদপুর-৪: মুহাম্মদ শফিকুর রহমান (আওয়ামী লীগ)
চাঁদপুর-৫: মেজর (অব.) রফিকুল ইসলাম (আওয়ামী লীগ)
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১: সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামান (স্বতন্ত্র)
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২: মঈন উদ্দিন মঈন (স্বতন্ত্র)
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩: র আ ম উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী (আওয়ামী লীগ)
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪: আনিসুল হক (আওয়ামী লীগ)
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫: ফয়জুর রহমান (আওয়ামী লীগ)
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬: ক্যাপ্টেন (অব.) এ বি তাজুল ইসলাম (আওয়ামী লীগ)
নোয়াখালী-১: এইচ এম ইব্রাহিম (আওয়ামী লীগ)
নোয়াখালী-২: মোরশেদ আলম (আওয়ামী লীগ)
নোয়াখালী-৩: মো. মামুনুর রশীদ কিরন (আওয়ামী লীগ)
নোয়াখালী-৪: মোহাম্মদ একরামুল করিম চৌধুরী (আওয়ামী লীগ)
নোয়াখালী-৫: ওবায়দুল কাদের (আওয়ামী লীগ)
নোয়াখালী-৬: মোহাম্মদ আলী (আওয়ামী লীগ)
ফেনী-১: আলাউদ্দিন আহমেদ চৌধুরী (আওয়ামী লীগ)
ফেনী-২: নিজাম উদ্দিন হাজারী (আওয়ামী লীগ)
ফেনী-৩: লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী (জাতীয় পার্টি)
লক্ষ্মীপুর-১: আনোয়ার হোসেন খান (আওয়ামী লীগ)
লক্ষ্মীপুর-২: নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন (আওয়ামী লীগ)
লক্ষ্মীপুর-৩: মোহাম্মদ গোলাম ফারুক (আওয়ামী লীগ)
লক্ষ্মীপুর-৪: মো. আবদুল্লাহ (স্বতন্ত্র)
কক্সবাজার-১: সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহীম (বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি)
কক্সবাজার-২: আশেক উল্লাহ রফিক (আওয়ামী লীগ)
কক্সবাজার-৩: সাইমুম সরওয়ার কমল (আওয়ামী লীগ)
কক্সবাজার-৪: শাহীন আক্তার (আওয়ামী লীগ)
রাঙামাটি: দীপংকর তালুকদার (আওয়ামী লীগ)
খাগড়াছড়ি: কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরা (আওয়ামী লীগ)
বান্দরবান: বীর বাহাদুর উশৈ শিং (আওয়ামী লীগ)
রাজশাহী বিভাগ
রাজশাহী-১: ওমর ফারুক চৌধুরী (আওয়ামী লীগ)
রাজশাহী-২: শফিকুর রহমান বাদশা (স্বতন্ত্র)
রাজশাহী-৩: মোহা. আসাদুজ্জামান আসাদ (আওয়ামী লীগ)
রাজশাহী-৪: মো. আবুল কালাম আজাদ (আওয়ামী লীগ)
রাজশাহী-৫: মো. আব্দুল ওয়াদুদ (আওয়ামী লীগ)
রাজশাহী-৬: মো. শাহরিয়ার আলম (আওয়ামী লীগ)
নাটোর-১: অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ (স্বতন্ত্র)
নাটোর-২: শফিকুল ইসলাম শিমুল (আওয়ামী লীগ)
নাটোর-৩: জুনাইদ আহমেদ পলক (আওয়ামী লীগ)
নাটোর-৪: ডা. সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী (আওয়ামী লীগ)
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১: ডা. সামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুল (আওয়ামী লীগ)
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২: জিয়াউর রহমান (আওয়ামী লীগ)
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩: আব্দুল ওদুদ (আওয়ামী লীগ)
বগুড়া-১: সাহাদারা মান্নান (আওয়ামী লীগ)
বগুড়া-২: শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ (জাতীয় পার্টি)
বগুড়া-৩: খান মুহাম্মদ সাইফুল্লাহ আল মেহেদী (স্বতন্ত্র)
বগুড়া-৪: এ, কে, এম রেজাউল করিম তানসেন (জাসদ)
বগুড়া-৫: মজিবুর রহমান মজনু (আওয়ামী লীগ)
বগুড়া-৬: রাগেবুল আহসান রিপু (আওয়ামী লীগ)
বগুড়া-৭: ডা. মোস্তফা আলম নান্নু (আওয়ামী লীগ)
সিরাজগঞ্জ-১: তানভীর শাকিল জয় (আওয়ামী লীগ)
সিরাজগঞ্জ-২: জান্নাত আরা হেনরী (আওয়ামী লীগ)
সিরাজগঞ্জ-৩: ডা. আব্দুল আজিজ (আওয়ামী লীগ
সিরাজগঞ্জ-৪: শফিকুল ইসলাম শফি (আওয়ামী লীগ)
সিরাজগঞ্জ-৫: আবদুল মমিন মন্ডল (আওয়ামী লীগ)
সিরাজগঞ্জ-৬: চয়ন ইসলাম (আওয়ামী লীগ)
পাবনা-১: মো. শামসুল হক টুকু (আওয়ামী লীগ)
পাবনা-২: আহমেদ ফিরোজ কবির (আওয়ামী লীগ)
পাবনা-৩: মো. মকবুল হোসেন (আওয়ামী লীগ)
পাবনা-৪: গালিবুর রহমান শরীফ (আওয়ামী লীগ)
পাবনা-৫: গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্স (আওয়ামী লীগ)
নওগাঁ-১: সাধন চন্দ্র মজুমদার (আওয়ামী লীগ)
নওগাঁ-৩: সৌরেন্দ্র নাথ চক্রবর্তী (আওয়ামী লীগ)
নওগাঁ-৪: এস এম ব্রহানী সুলতান মামুদ (স্বতন্ত্র)
নওগাঁ-৫: নিজাম উদ্দিন জলিল জন (আওয়ামী লীগ)
নওগাঁ-৬: মো. ওমর ফারুক সুমন (স্বতন্ত্র)
খুলনা বিভাগ
খুলনা-১: ননী গোপাল মণ্ডল (আওয়ামী লীগ)
খুলনা-২: সেখ সালাউদ্দিন জুয়েল (আওয়ামী লীগ)
খুলনা-৩: এসএম কামাল হোসেন (আওয়ামী লীগ)
খুলনা-৪: আব্দুস সালাম মুর্শেদী (আওয়ামী লীগ)
খুলনা-৫: নারায়ণ চন্দ্র চন্দ (আওয়ামী লীগ)
খুলনা-৬: মো. রশীদুজ্জামান (আওয়ামী লীগ)
বাগেরহাট-১: শেখ হেলাল উদ্দিন (আওয়ামী লীগ)
বাগেরহাট-২: শেখ সারহান নাসের তন্ময় (আওয়ামী লীগ)
বাগেরহাট-৩: হাবিবুন নাহার (আওয়ামী লীগ)
বাগেরহাট-৪: বদিউজ্জামান সোহাগ (আওয়ামী লীগ)
সাতক্ষীরা-১: ফিরোজ আহমেদ স্বপন (আওয়ামী লীগ)
সাতক্ষীরা-২: আশরাফুজ্জামান আশু (জাতীয় পার্টি)
সাতক্ষীরা-৩: আ ফ ম রুহুল হক (আওয়ামী লীগ)
সাতক্ষীরা-৪: এসএম আতাউল হক দোলন (আওয়ামী লীগ)
যশোর-১: শেখ আফিল উদ্দিন (আওয়ামী লীগ)
যশোর-২: ডা. তৌহিদুজ্জামান তুহিন (আওয়ামী লীগ)
যশোর-৩: কাজী নাবিল আহমেদ (আওয়ামী লীগ)
যশোর-৪: এনামুল হক বাবুল (আওয়ামী লীগ)
যশোর-৫: ইয়াকুব আলী (স্বতন্ত্র)
যশোর-৬: আজিজুল ইসলাম (স্বতন্ত্র)
নড়াইল-১: বিএম কবিরুল হক (আওয়ামী লীগ)
নড়াইল-২: মাশরাফি বিন মর্তুজা (আওয়ামী লীগ)
মাগুরা-১: সাকিব আল হাসান (আওয়ামী লীগ)
মাগুরা-২: বীরেন শিকদার (আওয়ামী লীগ)
কুষ্টিয়া-১: রেজাউল হক চৌধুরী (স্বতন্ত্র)
কুষ্টিয়া-২: কামারুল আরেফিন (স্বতন্ত্র)
কুষ্টিয়া-৩: মাহবুবউল আলম হানিফ (আওয়ামী লীগ)
কুষ্টিয়া-৪: আবদুর রউফ (স্বতন্ত্র)
মেহেরপুর-১: ফরহাদ হোসেন (আওয়ামী লীগ)
মেহেরপুর-২: নাজমুল হক সাগর (আওয়ামী লীগ)
চুয়াডাঙ্গা-১: সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুন (আওয়ামী লীগ)
চুয়াডাঙ্গা-২: মো. আলী আজগার (আওয়ামী লীগ)
ঝিনাইদহ-১: মো. আব্দুল হাই (আওয়ামী লীগ)
ঝিনাইদহ-২: মো. নাসের শাহরিয়ার জাহেদী (স্বতন্ত্র)
ঝিনাইদহ-৩: মো. সালাহ উদ্দিন মিয়াজী (আওয়ামী লীগ
ঝিনাইদহ-৪: মো. আনোয়ারু আজীম আনার (আওয়ামী লীগ)
বরিশাল বিভাগ
বরিশাল-১: আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ (আওয়ামী লীগ)
বরিশাল-২: রাশেদ খান মেনন (বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি)
বরিশাল-৩: গোলাম কিবরিয়া টিপু (জাতীয় পার্টি)
বরিশাল-৪: পঙ্কজ নাথ (স্বতন্ত্র)
বরিশাল-৫: জাহিদ ফারুক (আওয়ামী লীগ)
বরিশাল-৬: আব্দুল হাফিজ মল্লিক (আওয়ামী লীগ)
ভোলা-১: তোফায়েল আহমেদ (আওয়ামী লীগ)
ভোলা-২: আলী আজম মুকুল (আওয়ামী লীগ)
ভোলা-৩: নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন (আওয়ামী লীগ)
ভোলা-৪: আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব (আওয়ামী লীগ)
বরগুনা-১: গোলাম সরোয়ার টুকু (স্বতন্ত্র)
বরগুনা-২: সুলতানা নাদিরা (আওয়ামী লীগ)
পটুয়াখালী-১: এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার (জাতীয় পার্টি)
পটুয়াখালী-২: আ স ম ফিরোজ (আওয়ামী লীগ)
পটুয়াখালী-৩: এস এম শাহজাদা (আওয়ামী লীগ)
পটুয়াখালী-৪: মহিব্বুর রহমান মহিব (আওয়ামী লীগ)
ঝালকাঠি-১: ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর (আওয়ামী লীগ)
ঝালকাঠি-২: আমির হোসেন আমু (আওয়ামী লীগ)
পিরোজপুর-১: শ ম রেজাউল করিম (আওয়ামী লীগ)
পিরোজপুর-২: মো. মহিউদ্দিন মহারাজ (স্বতন্ত্র)
পিরোজপুর-৩: মো. শামীম শাহনেওয়াজ (স্বতন্ত্র)
সিলেট বিভাগ
সিলেট-১: ড. এ কে আব্দুল মোমেন (আওয়ামী লীগ)
সিলেট-২: শফিকুর রহমান চৌধুরী (আওয়ামী লীগ)
সিলেট-৩: হাবিবুর রহমান হাবিব (আওয়ামী লীগ)
সিলেট-৪: ইমরান আহমদ (আওয়ামী লীগ)
সিলেট-৫: মোহাম্মদ হুছামুদ্দীন চৌধুরী (স্বতন্ত্র)
সিলেট-৬: নুরুল ইসলাম নাহিদ (আওয়ামী লীগ)
সুনামগঞ্জ-১: রনজিত চন্দ্র সরকার (আওয়ামী লীগ)
সুনামগঞ্জ-২: ড. জয়া সেন গুপ্তা (স্বতন্ত্র)
সুনামগঞ্জ-৩: এম এ মান্নান (আওয়ামী লীগ)
সুনামগঞ্জ-৪: মোহাম্মদ সাদিক (আওয়ামী লীগ)
সুনামগঞ্জ-৫: মহিবুর রহমান মানিক (আওয়ামী লীগ)
হবিগঞ্জ-১: আমাতুল কিবরিয়া কেয়া চৌধুরী (স্বতন্ত্র)
হবিগঞ্জ-২: ময়েজ উদ্দিন শরীফ (আওয়ামী লীগ)
হবিগঞ্জ-৩: আবু জাহির (আওয়ামী লীগ)
হবিগঞ্জ-৪: ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন (স্বতন্ত্র)
মৌলভীবাজার-১: মো. শাহাব উদ্দিন (আওয়ামী লীগ)
মৌলভীবাজার-২: শফিউল আলম চৌধুরী (আওয়ামী লীগ)
মৌলভীবাজার-৩: মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান (আওয়ামী লীগ)
মৌলভীবাজার-৪: উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ (আওয়ামী লীগ)
ময়মনসিংহ বিভাগ
ময়মনসিংহ-১: মাহমুদুল হক সায়েম (স্বতন্ত্র)
ময়মনসিংহ-২: শরীফ আহমেদ (আওয়ামী লীগ)
ময়মনসিংহ-৪: মো. মোহিত উর রহমান (আওয়ামী লীগ)
ময়মনসিংহ-৫: মো. নজরুল ইসলাম (স্বতন্ত্র)
ময়মনসিংহ-৬: মো. আবদুল মালেক সরকার (স্বতন্ত্র)
ময়মনসিংহ-৭: এ বি এম আনিছুজ্জামান (স্বতন্ত্র)
ময়মনসিংহ-৮: মাহমুদ হাসান সুমন (স্বতন্ত্র)
ময়মনসিংহ-৯: আবদুস সালাম (আওয়ামী লীগ)
ময়মনসিংহ-১০: ফাহমি গোলন্দাজ বাবেল (আওয়ামী লীগ)
ময়মনসিংহ-১১: মো. আব্দুল ওয়াহেদ (স্বতন্ত্র)
নেত্রকোণা-১: মোশতাক আহমেদ রুহী (আওয়ামী লীগ)
নেত্রকোণা-২: মো. আশরাফ আলী খান খসরু (আওয়ামী লীগ)
নেত্রকোণা-৩: ইফতিকার উদ্দিন তালুকদার পিন্টু (স্বতন্ত্র)
নেত্রকোণা-৪: সাজ্জাদুল হাসান (আওয়ামী লীগ)
নেত্রকোণা-৫: আহমদ হোসেন (আওয়ামী লীগ)
জামালপুর-১: নূর মোহাম্মদ (আওয়ামী লীগ)
জামালপুর-২: ফরিদুল হক খান (আওয়ামী লীগ)
জামালপুর-৩: মির্জা আজম (আওয়ামী লীগ)
জামালপুর-৪: আবদুর রশীদ (স্বতন্ত্র)
জামালপুর-৫: আবুল কালাম আজাদ (আওয়ামী লীগ)
শেরপুর-১: মো. ছানুয়ার হোসেন ছানু (স্বতন্ত্র)
শেরপুর-২: মতিয়া চৌধুরী (আওয়ামী লীগ)
শেরপুর-৩: এডিএম শহিদুল ইসলাম (আওয়ামী লীগ)
রংপুর বিভাগ
রংপুর-১: মো. আসাদুজ্জামান (স্বতন্ত্র)
রংপুর-২: আবুল কালাম মো. আহসানুল হক চৌধুরী (আওয়ামী লীগ)
রংপুর-৩: গোলাম মোহাম্মদ কাদের (জাতীয় পার্টি)
রংপুর-৪: টিপু মুনশি (আওয়ামী লীগ)
রংপুর-৫: মো. জাকির হোসেন সরকার (স্বতন্ত্র)
রংপুর-৬: ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী (আওয়ামী লীগ)
দিনাজপুর-১: মো. জাকারিয়া (স্বতন্ত্র)
দিনাজপুর-২: খালিদ মাহমুদ চৌধুরী (আওয়ামী লীগ
দিনাজপুর-৩: ইকবালুর রহিম (আওয়ামী লীগ)
দিনাজপুর-৪: আবুল হাসান মাহমুদ আলী (আওয়ামী লীগ)
দিনাজপুর-৫: মোস্তাফিজুর রহমান (আওয়ামী লীগ)
দিনাজপুর-৬: মো. শিবলী সাদিক (আওয়ামী লীগ)
নীলফামারী-১: মো. আফতাব উদ্দিন সরকার (আওয়ামী লীগ)
নীলফামারী-২: আসাদুজ্জামান নূর (আওয়ামী লীগ)
নীলফামারী-৩: মো. সাদ্দাম হোসেন পাভেল (স্বতন্ত্র
নীলফামারী-৪: সিদ্দিকুল আলম (স্বতন্ত্র)
কুড়িগ্রাম-১: এ কে এম মোস্তাফিজুর রহমান (জাতীয় পার্টি)
কুড়িগ্রাম-২: মো. হামিদুল হক খন্দকার (স্বতন্ত্র)
কুড়িগ্রাম-৩: সৌমেন্দ্র প্রসাদ পান্ডে (আওয়ামী লীগ)
কুড়িগ্রাম-৪: মো. বিপ্লব হাসান (আওয়ামী লীগ)
পঞ্চগড়-১: মো. নাঈমুজ্জামান ভুঁইয়া মুক্তা (আওয়ামী লীগ)
পঞ্চগড়-২: মো. নুরুল ইসলাম সুজন (আওয়ামী লীগ)
লালমনিরহাট-১: মোতাহার হোসেন (আওয়ামী লীগ)
লালমনিরহাট-২: নুরুজ্জামান আহমেদ (আওয়ামী লীগ)
লালমনিরহাট-৩: অ্যাডভোকেট মতিয়ার রহমান (আওয়ামী লীগ)
ঠাকুরগাঁও-১: রমেশ চন্দ্র সেন (আওয়ামী লীগ (আওয়ামী লীগ)
ঠাকুরগাঁও-২: মো. মাজহারুল ইসলাম (আওয়ামী লীগ)
ঠাকুরগাঁও-৩: হাফিজ উদ্দিন (জাতীয় পার্টি)
গাইবান্ধা-১: আব্দুল্লাহ নাহিদ নিগার (স্বতন্ত্র)
গাইবান্ধা-২: শাহ সারোয়ার কবীর (স্বতন্ত্র)
গাইবান্ধা-৩: উম্মে কুলসুম স্মৃতি (আওয়ামী লীগ)
গাইবান্ধা-৪: মো. আবুল কালাম আজাদ (আওয়ামী লীগ)
গাইবান্ধা-৫: মাহমুদ হাসান রিপন (আওয়ামী লীগ)
জয়পুরহাট-১: সামছুল আলম দুদু (আওয়ামী লীগ)
জয়পুরহাট-২: আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন (আওয়ামী লীগ)
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কিছুটা কমলেও বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন-এর জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করতে না পেরে ফিরে যাচ্ছে শারজা বন্দরের দিকে।
প্রায় ৪০ দিন আটকে থাকার পর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে গত বুধবার সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে প্রণালির উদ্দেশে রওনা দেয় জাহাজটি। প্রায় ৪০ ঘণ্টার যাত্রা শেষে শুক্রবার সকালে হরমুজের কাছাকাছি পৌঁছে ইরান সরকারের কাছে পারাপারের অনুমতি চাওয়া হয়, তবে তা মেলেনি।
ফলে নিরাপত্তার স্বার্থে জাহাজটিকে ঘুরিয়ে আবার শারজায় ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাহমুদুল মালেক বলেন, ‘ইরানের নির্দেশনা অনুযায়ী অনুমতি চাওয়া হলেও তা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। কূটনৈতিকভাবে অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।’
তিনি জানান, বর্তমানে জাহাজটি হরমুজের নিকটবর্তী অবস্থানে রয়েছে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় নিরাপদ স্থানে ফেরার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জাহাজে থাকা ৩১ জন নাবিকের জন্য খাদ্যের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। প্রতিদিন ১৮ টন পানি উৎপাদনের সক্ষমতা থাকলেও ইঞ্জিন সচল রাখতে হওয়ায় ব্যবহার কমিয়ে দৈনিক ৬ টনে নামানো হয়েছে। নাবিকদের মনোবল ধরে রাখতে দৈনিক খাদ্য বরাদ্দ ৭ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১২ ডলার করা হয়েছে এবং বেসিক বেতনের সমপরিমাণ ওয়ার অ্যালাউন্স দেওয়া হচ্ছে।
বিএসসির তথ্যমতে, ভারত থেকে পণ্য নিয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে জাহাজটি। পরে কাতার থেকে স্টিল কয়েল নিয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দর-এ পৌঁছে।
পরদিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর পরিস্থিতি দ্রুত জটিল হয়ে ওঠে। ১১ মার্চ পণ্য খালাস শেষ হলেও কুয়েতে নতুন পণ্য তোলার পরিকল্পনা স্থগিত করে জাহাজটিকে নিরাপদে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।
বিগত দেড় দশকে দুর্নীতি ও অনিয়মের প্রভাবে দেশের অর্থনীতি গভীর সংকটে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তার মতে, এই সময়ে শুধু অর্থনৈতিক কাঠামো নয়, সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাও কার্যকারিতা হারিয়েছে।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
অর্থমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, ‘কোন অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশের দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে এবং আগামীর যাত্রা কোথায় হবে সে সম্পর্কে একটি সংক্ষিপ্ত বিবৃতি প্রদান করা হচ্ছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে এই দল স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতায় বিশ্বাস করে এবং দেশের উন্নয়নে জনগণকে সাথে নিয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এই দায়বদ্ধতা থেকেই ২০০৫-০৬ অর্থবছর, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ২০২৩-২৪ অর্থবছর এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সামষ্টিক অর্থনীতির বিভিন্ন সূচক ও প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থার একটি চিত্র দেশবাসীর সামনে তুলে ধরা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বিগত ১৬ বছরে ফ্যাসিবাদী সরকারের সীমাহীন দুর্নীতি ও লাগামহীন লুটপাটের কারণে অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে এবং সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক খাত অকার্যকর হয়ে পড়েছে। অর্থনীতির আকার বাড়লেও ভেতরের কাঠামোগত দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
পরিসংখ্যান তুলে ধরে তিনি জানান, ২০০৫-০৬ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৬.৭৮ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৭.১৭ শতাংশ। কিন্তু ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এসে প্রবৃদ্ধি কমে ৪.২২ শতাংশে নেমেছে, আর মূল্যস্ফীতি বেড়ে ৯.৭৩ শতাংশে পৌঁছেছে। শিল্পখাতে প্রবৃদ্ধি ১০.৬৬ শতাংশ থেকে কমে ৩.৫১ শতাংশে এবং কৃষিতে ৫.৭৭ শতাংশ থেকে ৩.৩০ শতাংশে নেমে এসেছে।
তিনি বলেন, শিল্প ও সেবা খাতে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি না হওয়ায় তরুণদের বড় অংশ কৃষিতে যুক্ত হচ্ছে, যা ছদ্ম বেকারত্ব বাড়াচ্ছে। কৃষিতে কর্মসংস্থান ৪১ শতাংশ হলেও জাতীয় আয়ে এর অবদান মাত্র ১১.৬ শতাংশ, যা নিম্ন উৎপাদনশীলতার ইঙ্গিত দেয়।
সঞ্চয় ও বিনিয়োগের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার কথাও তুলে ধরেন তিনি। ২০০৫-০৬ সালে জাতীয় সঞ্চয় ছিল ২৯.৯৪ শতাংশ, যা ২০২৩-২৪ সালে কমে ২৮.৪২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে টাকার মান অবমূল্যায়িত হয়ে ডলারের বিপরীতে ৬৭.২ টাকা থেকে বেড়ে ১২১ টাকায় পৌঁছেছে, ফলে আমদানি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, মুদ্রা সরবরাহ ও রিজার্ভ মুদ্রার প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহও কমেছে। ১৮.৩ শতাংশ থেকে তা নেমে ৬.৫ শতাংশে এসেছে, যা বিনিয়োগে স্থবিরতার ইঙ্গিত বহন করে। রাজস্ব আহরণেও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি এবং বাজেট ঘাটতি বেড়ে ৪.০৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের বড় বড় প্রকল্পগুলো যথাযথ যাচাই ছাড়া বাস্তবায়ন হওয়ায় জনগণ প্রত্যাশিত সুফল পায়নি, বরং বিপুল অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে।
ঋণ ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ২০০৫-০৬ সালে সুদ পরিশোধে ব্যয় ছিল ৮৫ বিলিয়ন টাকা, যা ২০২৩-২৪ সালে বেড়ে ১১৪৭ বিলিয়ন টাকায় পৌঁছেছে। অভ্যন্তরীণ ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়ায় বেসরকারি খাত, বিশেষ করে এসএমই উদ্যোক্তারা ঋণ পেতে বাধার মুখে পড়ছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, রপ্তানি ও আমদানির প্রবৃদ্ধি নেতিবাচক হয়ে পড়েছে এবং হুন্ডি ও অর্থ পাচারের কারণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে ২০ বিলিয়ন ডলারে নেমেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ কিছুটা ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।
এদিকে, বৈষম্যহীন উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার ৫০ লাখ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।
তিনি বলেন, জনগুরুত্বহীন এবং দীর্ঘদিন অর্থায়নহীন ‘জম্বি প্রকল্প’ চিহ্নিত করে বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পরিকল্পিত সংস্কারের মাধ্যমে ২০৩৪ সালের মধ্যে দেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, সামাজিক সুরক্ষা জোরদার এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে, যার অংশ হিসেবেই ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যায় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পুলিশের সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন ও সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া, তিনজন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার (কোতোয়ালি জোন) আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, তাজহাট থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন ও বেরোবির সাবেক ক্যাম্প ইনচার্জ বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধব।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) নবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-২ রায় ঘোষণা করেছেন।
বিচারের এ রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যরা।
এদিকে, রায়ের প্রতিক্রিয়ায় আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দোলন দাবি করেছেন, মামলার উপস্থাপিত প্রমাণে গুলির অস্তিত্ব নিশ্চিত করা যায়নি।
মামলায় অভিযুক্ত বাকি ২৫ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে সাতজন আসামিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) সাবেক উপাচার্য ড. হাসিবুর রশিদ ওরফে বাচ্চু, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক পুলিশ কমিশনার মনিরুজ্জামান ওরফে বেল্টু, বেরোবির গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, লোক প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মন্ডল ওরফে আসাদ, সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, সহকারী রেজিস্ট্রার হাফিজুর রহমান ওরফে তুফান, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের বেরোবি শাখার সভাপতি পোমেল বড়ুয়া।
এছাড়া, আরও ৮ আসামিকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন আরপিএমপির সাবেক উপপুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন ওরফে টিটু, সাবেক অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার শাহ নূর আলম পাটোয়ারী ওরফে সুমন, বেরোবির সাবেক প্রক্টর শরীফুল ইসলাম, ছাত্রলীগের রংপুর শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ ওরফে দিশা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাসুদুল হাসান ওরফে মাসুদ, বেরোবির অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মাহাবুবার রহমান ওরফে বাবু, রংপুর স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. সারোয়াত হোসেন ওরফে চন্দন ও এমএলএসএস একেএম আমির হোসেন ওরফে আমু।
গতকাল দুপুর সোয়া ১২টার দিকে মামলার সংক্ষিপ্ত রায় পড়া শুরু হয়। তার আগে গ্রেপ্তার ছয় আসামিকে ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় তোলা হয়। তারা হলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের চুক্তিভিত্তিক সাবেক কর্মচারী মো. আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় ও নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ।
রায় পড়ার প্রাক্কালে ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী মন্তব্য করেছেন, ‘যে পুলিশ সদস্যদের সামনে আবু সাঈদ বুক পেতে দাঁড়িয়েছিলেন, তারা সেদিন অমানুষে পরিণত হয়েছিল।’
তিনি বলেন, ‘আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে অকুতোভয় চিত্তে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি বিশ্বাস করেছিলেন তার সামনে যারা দাঁড়িয়ে আছে তারা মানুষ, তাই তার কোনো ক্ষতি হবে না। কিন্তু তিনি তখন বুঝতে পারেননি যে, সেই মানুষগুলো অমানুষ হয়ে গেছে।’
মামলায় পলাতক থাকা আসামিরা হলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তৎকালীন ভিসি ড. হাসিবুর রশিদ ওরফে বাচ্চু, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের সাবেক পুলিশ কমিশনার মনিরুজ্জামান ওরফে বেল্টু, সাবেক উপপুলিশ কমিশনার আবু মারুফ হোসেন ওরফে টিটু, সাবেক অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার শাহ নূর আলম পাটোয়ারী ওরফে সুমন, সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার আরিফুজ্জামান ওরফে জীবন, তাজহাট থানার সাবেক অফিসার ইনচার্জ রবিউল ইসলাম ওরফে নয়ন, এসআই বিভূতি ভূষণ রায় ওরফে মাধব, বেরোবির গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান, বেরোবির লোক প্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল ওরফে আসাদ, বেরোবির সহকারী রেজিস্ট্রার হাফিজুর রহমান ওরফে তুফান ও বেরোবির সেকশন অফিসার মনিরুজ্জামান পলাশ।
শহীদ আবু সাঈদ হত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন আবু সাঈদের পরিবারের সদস্যরা। গতকাল বৃহস্পতিবার মামলার রায়ের পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন বলেন, আবু সাঈদ হত্যার নির্দেশদাতা বড় বড় পুলিশের কর্মকর্তারাই বেঁচে গেছেন। সব আসামির ফাঁসি দাবি করে তিনি বলেন, আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
আবু সাঈদের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, ছেলের হত্যাকাণ্ডে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে রায় হয়েছে। কিন্তু আমি তখনই শান্তি পাবো যখন এ রায় কার্যকর হবে।
প্রসঙ্গত, এই মামলায় বেরোবির তৎকালীন ভিসি হাসিবুর রশীদসহ ৩০ জন আসামির বিরুদ্ধে গত বছরের ৩০ জুন আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে গত ২৭ জানুয়ারি মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়েছিল। এরপর গত ৫ মার্চ রায়ের দিন ধার্য করেছিলেন ট্রাইব্যুনাল।
প্রসিকিউটর এস এম ময়নুল করিম জানান, এ মামলায় প্রসিকিউশনের পক্ষে মোট ২৫ জনের জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যে প্রত্যক্ষদর্শী, বিশেষজ্ঞ, সাংবাদিক, চিকিৎসক এবং পুলিশ সদস্য রয়েছেন।
আবু সাঈদের সঙ্গে গুলিবিদ্ধ হওয়া ব্যক্তিরা এবং পটভূমির সাক্ষী হিসেবে বর্তমান সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ আদালতে সাক্ষ্য দেন। এছাড়া, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ভিডিও ও টেলিভিশনের লাইভ সম্প্রচারের ভিডিও প্রমাণ হিসেবে দাখিল করা হয়।
২০২৪ সালের ১৬ জুলাই দুপুরে কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে পুলিশের গুলিতে নিহত হন ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক আবু সাঈদ। দুই হাত প্রসারিত করে পুলিশের সামনে বুক পেতে দেওয়া সাঈদের সেই ভিডিওটি দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং একপর্যায়ে ছাত্র-জনতার আন্দোলন গণঅভ্যুত্থানে রূপ দেয়।
আবু সাঈদের মরদেহে গুলির অস্তিত্ব প্রমাণ হয়নি: আসামিপক্ষের আইনজীবী
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের মামলায় ট্রাইব্যুনাল দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড এবং তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন। এছাড়া এক আসামিকে খালাস দেওয়ার পাশাপাশি অন্যদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দোলন দাবি করেছেন, মামলার উপস্থাপিত প্রমাণে গুলির অস্তিত্ব নিশ্চিত করা যায়নি।
তিনি বলেন, আবু সাঈদের জব্দকৃত গেঞ্জিতে কোনো গুলির চিহ্ন ছিল না, অর্থাৎ কোনো ছিদ্র পাওয়া যায়নি। তার ডেথবডিতেও (মরদেহ) কোনো ধরনের গর্ত বা ক্ষতের চিহ্ন ছিল না। এমনকি দেহে এক্স-রে বা অন্য কোনো পরীক্ষাও করা হয়নি। ফলে গুলির অস্তিত্ব প্রমাণ হয়নি।
তিনি আরও বলেন, প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে ১২ বোর শর্টগানের কার্টিজ ব্যবহার করে গুলি করার অভিযোগ আনা হলেও সেই কার্টিজ জব্দ করা হয়নি। এ বিষয়ে তারা আদালতে একাধিক পয়েন্টে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছেন।
আইনজীবী দোলন জানান, আসামিপক্ষের পক্ষে ২০টিরও বেশি পয়েন্টে লিখিত যুক্তি আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে ট্রাইব্যুনালের রায়ে প্রত্যাশিতভাবে খালাস না পাওয়ায় তারা পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি হাতে পাওয়ার পর তা বিশ্লেষণ করে আপিল বিভাগে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আপিল শুনানির মাধ্যমে আসামিরা ন্যায়বিচার পাবেন।
ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্ট্রার (এনইআইআর) নীতিমালা সংশোধন করা হবে বলে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, চারদিন আগে এ বিষয়ে টেলিকম উপদেষ্টার সঙ্গে আলাপ হয়েছে। এটি সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) রাজধানীর পল্টনের ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে ইআরএফ ও সিটিজেন প্লাটফর্ম’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেছেন।
অনুষ্ঠানে ইআরএফ প্রেসিডেন্ট দৌলত আকতার, সিটিজেন প্লাটফর্ম-এর আহ্বায়ক ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, ফিনান্সিয়াল এক্সপ্রেস এর সম্পাদক জাহিদ হোসেন, প্রথম আলোর হেড অফ অনলাইন শওকত হোসেন মাসুমসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
প্রসঙ্গত, ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার হলো বাংলাদেশে মোবাইল হ্যান্ডসেটের অবৈধ ব্যবহার রোধ, রাজস্ব বৃদ্ধি এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর থেকে চালু হওয়া একটি বিটিআরসি-পরিচালিত সিস্টেম। এটি গ্রাহকের এনআইডি ও সিমের সাথে হ্যান্ডসেটের ১৫ সংখ্যার আইএমইআই নম্বর সংযুক্ত করে বৈধতা যাচাই করে এবং অবৈধ বা কর ফাঁকি দেওয়া ফোন ব্লক করে দেয়।
বর্তমান সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার ৪২ দিনে দেশে কেউ গুম কিংবা ক্রসফায়ারের শিকার হয়নি বলে জানিয়ে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, সরকারের বয়স ৪২ দিন, চাইলে প্রতিহিংসার রাজনীতি করতে পারত। কিন্তু গত ৪২ দিনে দেশে একটি মানুষও ক্রসফায়ারের শিকার হয়নি, একটি মানুষও গুমের শিকার হয়নি। চাইল্ডহুড সোজ দ্য ম্যান, মর্নিং সোজ দ্য ডে। আমরা মানবাধিকারের পথ ধরে হেঁটে যাচ্ছি।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে মানবাধিকার বিল ২০২৬ উত্থাপনের সময় মন্ত্রী এসব কথা বলেছেন। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, জিয়া পরিবারের মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৭১ সালের পরে আর কেউ হয়নি। আমার সামনে যারা বসে আছেন, আমার বন্ধুরা, তারা বিগত ১৭ বছরে অনেকেই মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছেন। অনেকের পরিবার মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হয়েছেন। আমাদের সামনে যারা বসে আছেন তাদের অনেকে মানবাধিকার কী জিনিস সেটা হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার সবচেয়ে বড় পরিবার হলো জিয়া পরিবার। বাংলাদেশের ইতিহাসে মানবাধিকার লঙ্ঘনের সবচেয়ে বড় পরিবার হলো বিএনপি পরিবার। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে জঘন্যতম অপরাধের শিকার হলো বিএনপি পরিবার এবং জিয়া পরিবার। আমাদের সামনে বসে আছেন মানবাধিকার লঙ্ঘনের চরমতম শিকার আমাদের প্রধানমন্ত্রী। আমাদের মানবাধিকার সম্পর্কে বিন্দুমাত্র কোনো পিছুটান নেই।
২০২৪ সালের ৫ ডিসেম্বর তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০০৯’ সংশোধন করে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করেছিল।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সংসদের বৈঠকে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান সেই অধ্যাদেশ রহিত করে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (রহিতকরণ ও পুনঃপ্রচলন) বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।
বিলটি উত্থাপনের পর এর তীব্র বিরোধিতা করেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি এই পদক্ষেপকে জাতীয় অগ্রগতির পথে অন্তরায় হিসেবে অভিহিত করেন।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘এই বিল পাসের মাধ্যমে ২০০৯ সালের জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইনটিকে পুনরায় কার্যকর করা হচ্ছে। আমরা দেখেছি, অতীতে এই কমিশনকে বিরোধী দল ও ভিন্নমত দমনে ব্যবহার করা হয়েছে। এই কমিশন বিএনপিকে দমনের বৈধতা দিয়েছিল। এমনকি আমরা কমিশনের তৎকালীন চেয়ারম্যানকে বলতে শুনেছি—মানবাধিকার রক্ষার স্বার্থে জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর গুলি চালানো বৈধ।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘২০২৫ সালের অধ্যাদেশটি বাতিল করে ২০০৯ সালের আইনে ফিরে যাওয়া এই সংসদের জন্য একটি ‘ব্যাকওয়ার্ড মুভ’ বা পশ্চাৎমুখী পদক্ষেপ। এটি জাতি পিছিয়ে পড়ার একটি প্রকৃষ্ট উদাহরণ (টেক্সটবুক এক্সাম্পল) হয়ে থাকবে।’
হাসনাত আবদুল্লাহর সমালোচনার জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য খুব সুন্দর বক্তৃতা দিয়েছেন। উনার বক্তৃতাগুলো পল্টন ময়দান, প্রেসক্লাব বা রাজপথের জন্য অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক ও জুসি (রসালো)। উনি সব পড়েছেন, শুধু বিলটা পড়েননি।’
আইনমন্ত্রী বিলে উল্লিখিত কারণ ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘বিলের প্রথম লাইনেই স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের (স্টেকহোল্ডার) সঙ্গে আরও বিস্তারিত আলোচনা, যাচাই-বাছাই করার প্রয়োজন রয়েছে। সেই প্রক্রিয়া চলাকালীন মানবাধিকার কমিশনের আইনি কাঠামোতে যাতে কোনো শূন্যতা তৈরি না হয়, সেই উদ্দেশেই আপাতত ২০০৯ সালের আইনটি ফিরিয়ে আনা হয়েছে।’
মন্ত্রী আরও বলেন, যদি ২০২৫ সালের অধ্যাদেশটি বাতিল করা হয় এবং ২০০৯ সালের আইনটি পুনর্বহাল না করা হয়, তবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বার্তা যাবে যে বাংলাদেশে কোনো মানবাধিকার কমিশনই নেই। বিতর্ক শেষে স্পিকারের হস্তক্ষেপে বিলটি কণ্ঠভোটে দেওয়া হয় এবং তা সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়।
সেনা কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণামূলক কার্যক্রম চালানোর বিষয়ে দেশবাসীকে সতর্ক করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সম্প্রতি একটি প্রতারক চক্র ডিজিএফআই এবং সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ও লেফটেন্যান্ট কর্নেলসহ বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তার ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ফোনের মাধ্যমে ভয়ভীতি দেখাচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, প্রতারকরা সেনাবাহিনীর বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে ইউনিফর্ম পরিহিত কর্মকর্তাদের ছবি সংগ্রহ করে তা হোয়াটসঅ্যাপ প্রোফাইলে ব্যবহার করছে। এরপর সেই পরিচয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রতারণার চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে সেনাবাহিনী স্পষ্ট করে জানিয়েছে, তাদের পক্ষ থেকে বা কোনো গোয়েন্দা সংস্থার পক্ষ থেকে ব্যক্তিগতভাবে এ ধরনের যোগাযোগ করা হয় না। কেউ যদি সেনা কর্মকর্তার পরিচয়ে ফোন বা বার্তার মাধ্যমে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে বা কোনো ধরনের সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করে, তবে সংশ্লিষ্ট নম্বরসহ নিকটস্থ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানাতে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
একইসঙ্গে এ ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড সম্পর্কে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়ে জানানো হয়, প্রতারক চক্রকে আইনের আওতায় আনতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) বিল, ২০২৬ পাস হওয়ার পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্বাচন দেওয়া হবে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
জাতীয় সংসদে বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) (সংশোধন) বিল, ২০২৬ পাসের প্রক্রিয়ায় পাবনা-১ আসনের বিরোধীদলীয় সদস্য (জামায়াতে ইসলামী) ব্যারিস্টার নাজিব মোমেনের বিলটির বিরোধীতা করে দেওয়া বক্তব্যের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ কথা বলেন।
পরে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বিলটি ভোটে দিলে বিরোধী দলের সদস্যের আপত্তি নাকচ হয়ে যায় এবং তা কণ্ঠভোটে পাস হয়। এরপর বিল পাসের প্রতিবাদ করে বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াক আউট করেন।
বিল পাসের প্রক্রিয়ায় মীর শাহে আলম বলেন, ‘আইনটি পাস হয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে যাওয়ার সাথে সাথে দ্রুততম সময়ের মধ্যে স্থানীয় সরকারের এসব প্রতিষ্ঠানে নির্বাচন দেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই আইনের মধ্যে আরেকটি বিষয় রয়েছে, তা হলো— দলীয় প্রতীকে যে নির্বাচন হতো, এই আইনের মাধ্যমে জাতীয় এবং দলীয় প্রতীক বাতিল করে সাধারণ প্রতীকে নির্বাচনের ব্যবস্থা এই আইনে করা আছে। এই কারণে আইনটি পাস করা অত্যন্ত জরুরি।’
এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে রাজনৈতিক দলের ব্যানারে দলীয় মনোনয়ন নির্বাচন না করার স্বার্থে স্থানীয় সরকার পৌরসভা সংশোধন অধ্যাদেশ ২০২৫ জারি করা হয়।
তিনি বলেন, ‘বিলটি সংসদে পাস না হলে আসলে কারা আবার ক্ষমতায় ফিরে আসবে এটা কিন্তু বিবেচনার বিষয়। উনারা কাদের আবার ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে চাচ্ছে? রক্তপিপাসু জুলাই-আগস্ট আন্দোলনে যারা পুলিশের সাথে আমাদের হামলা করেছে, অস্ত্র ব্যবহার করেছে, হামলায় যারা আমাদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল সেই সমস্ত জনপ্রতিনিধি, এই আইনটি পাস না হলে আবার তারা পৌরসভার মেয়র এবং কাউন্সিলর পদে ফিরে আসবে। এই কারণেই এই অধ্যাদেশটি করে নির্বাচন বাতিল করা হয়েছে এবং এই জায়গাগুলোতে প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে।’
চলতি এপ্রিল মাসের প্রথম আট দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন প্রায় ৯৭.৫ কোটি ডলার। গত বছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ৭৭.৫ কোটি ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা দাঁড়ায় ১১ হাজার ৮৯৫ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২২ টাকা হিসেবে)। এর মধ্যে গত বুধবার প্রবাসী আয় এসেছে এক হাজার ৮৫৪ কোটি ৪০ লাখ টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ২৬ শতাংশ।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য জানিয়েছেন।
এছাড়া চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ৭১৮ কোটি ডলার। গত অর্থবছরে এই সময়ে রেমিট্যান্সের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ২৫৬ কোটি ডলার। বছরে মোট প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০.৫ শতাংশ।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এ ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি অর্থবছরে রেমিট্যান্স প্রবাহ নতুন রেকর্ড গড়তে পারে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হবে।
মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর দেশীয় সহযোগীদের তালিকায় পূর্বের মতোই তৎকালীন মুসলিম লীগ, জামায়াতে ইসলামী ও নেজামে ইসলাম পার্টির নাম রেখে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) আইন সংশোধনের বিল সংসদে পাস হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সংসদ অধিবেশনে বিলটি উত্থাপন করেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান এবং পরে কণ্ঠভোটে তা অনুমোদন পায়।
বিলটি নিয়ে আপত্তি জানায় জামায়াতে ইসলামী, তবে তাদের জোটসঙ্গী এনসিপি এ বিষয়ে কোনো আপত্তি নেই বলে স্পিকারকে লিখিতভাবে অবহিত করে।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা বিলের বিরোধিতা করে দীর্ঘ বক্তব্য দিলেও তিনি কোন ধারায় সংশোধন চান তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেননি। এ কারণে স্পিকার তার আপত্তির ওপর আলাদা করে কোনো ভোট গ্রহণ করেননি।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশ অনুযায়ী ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’, ‘মুক্তিযুদ্ধ’, ‘মুক্তিযুদ্ধের লক্ষ্য’ এবং ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’—এই বিষয়গুলোর সংজ্ঞা নতুনভাবে নির্ধারণ করা হয়। সেখানে পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হিসেবে উল্লিখিত দলগুলোর নাম অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়, যা বর্তমান সংশোধনীতে বহাল রয়েছে।
বিলের বিষয়ে আপত্তির ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আমির বলেন, স্বাধীনতার পরবর্তী সরকারগুলো, যেমন জিয়াউর রহমান বা খালেদা জিয়ার আমলেও আইনের সংজ্ঞায় রাজনৈতিক দলের নাম এভাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তার মতে, শেখ হাসিনার সরকারের সময় বিষয়টি প্রথম যুক্ত হয় এবং পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারও কিছু পরিবর্তনসহ সেই ধারা বজায় রাখে।
বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর বলেন, “আল্লাহ ভালো জানেন, ’৭১ সালের সেই চরম সময়ে কার কী ভূমিকা ছিল। আল্লাহই পূর্ণাঙ্গ সাক্ষী, আমরা বাকিরা আংশিক সাক্ষী।
শফিকুর বলেন, বাংলাদেশে রাজনীতি সুস্থ ধারায় চলুক, প্রতিটি রাজনৈতিক দল জনগণের প্রতি দায়দরদ ও দেশের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে কাজ করুক। আমরা আর এই জাতিতে কোনো বিভক্তি চাচ্ছি না।
আলোচনা শেষে স্পিকার উল্লেখ করেন, বিরোধীদলীয় নেতা নির্দিষ্ট কোনো সংশোধনী প্রস্তাব দেননি, বরং সাধারণ বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। এরপর তিনি মন্ত্রীকে বিলটি উত্থাপনের অনুমতি দেন এবং তা পাস হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন অস্ট্রেলিয়ার পার্লামেন্টের হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের স্পিকার মিল্টন ডিক এমপি’র নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদল।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) বেলা ৩টায় জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে সাক্ষাতের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে, বৈঠকে আলোচিত বিষয়বস্তু সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, দুই দেশের সংসদীয় সম্পর্ক উন্নয়ন এবং দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
দেশে জ্বালানি বিতরণ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা আনতে কিউআর কোডভিত্তিক ‘ফুয়েল পাস’ নামের একটি মোবাইল অ্যাপের পাইলটিং কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ জানায়, তাদের আওতাধীন বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) পরীক্ষামূলকভাবে এ অ্যাপ চালু করেছে।
প্রাথমিকভাবে ঢাকার দুটি ফিলিং স্টেশনে—ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন এবং সোনারবাংলা ফিলিং স্টেশন—মোটরসাইকেল মালিক ও চালকদের জন্য অ্যাপটি ব্যবহারযোগ্য করা হয়েছে। পাইলটিং সফল হলে পর্যায়ক্রমে সারা দেশের সব ধরনের যানবাহনের জন্য এটি চালু করা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে ম্যানুয়াল পদ্ধতির কারণে জ্বালানি বিতরণে বিলম্বসহ নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে। পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও ফিলিং স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি তৈরি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে একই ব্যক্তি একাধিকবার লাইনে দাঁড়িয়ে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি নিচ্ছেন, যা কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে।
এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় ‘ফুয়েল পাস’ অ্যাপের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়াকে অটোমেশন ও রিয়েল-টাইম মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হবে। সিস্টেমটি বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের কেন্দ্রীয় ডেটাবেসের সঙ্গে সংযুক্ত থাকবে। এতে ফিলিং স্টেশন মালিকরা ডিজিটালভাবে জ্বালানির বরাদ্দ এন্ট্রি দিতে পারবেন এবং কিউআর কোড স্ক্যান করে চালকরা নির্ধারিত পরিমাণ জ্বালানি নিতে পারবেন। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে জ্বালানি সরবরাহ ও বিতরণ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা যাবে।
স্মার্টফোন না থাকলেও ব্যবহারকারীরা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিবন্ধন করে কিউআর কোড প্রিন্ট নিয়ে ব্যবহার করতে পারবেন বলে জানানো হয়েছে।
সরকারের আশা, এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জ্বালানি খাতে স্বচ্ছতা বাড়বে, অপচয় ও অনিয়ম কমবে এবং সংকটকালীন পরিস্থিতিতে কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন ঢাকা সফররত যুক্তরাজ্যের বাণিজ্য দূত ব্যারোনেস রোজি উইন্টারটন।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বুধবার ঢাকায় নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারা কুকের আয়োজিত নৈশভোজে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম যুক্তরাজ্যের বাংলাদেশবিষয়ক বাণিজ্য দূত ব্যারোনেস রোজি উইন্টারটনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
আলোচনায় উভয় পক্ষ বাংলাদেশ-যুক্তরাজ্য দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরো শক্তিশালী ও গভীর করতে একসঙ্গে কাজ করে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।