বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
২৫ চৈত্র ১৪৩২

এখনো অস্থির চালের বাজার

কারসাজিতে জড়িত চাল ব্যবসায়ের সব পক্ষ
আপডেটেড
২১ জানুয়ারি, ২০২৪ ০০:০৮
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ২১ জানুয়ারি, ২০২৪ ০০:০৫

বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা আলাউদ্দিন রাকিব প্রতি মাসেই কারওয়ান বাজারে নির্দিষ্ট চালের দোকান থেকে চাল কেনেন। তবে এ মাসে সংসদ নির্বাচনের ভোটের পরপর তিনি চাল কিনতে এসে বেকায়দায় পড়ে যান। গত মাসের থেকে এ মাসে প্রতি বস্তা চালে প্রায় তিনশ থেকে চারশ টাকা বাড়তি চাইছে তার পরিচিত দোকানদার। তার হতাশা দেখে দোকানদার জানান, মিল মালিকরা হঠাৎ দাম বাড়ানোয় তাদের বেশি দামে চাল কিনতে হয়েছে। ফলে বিক্রিও করতে হচ্ছে এত বাড়তি দরে।

রাজধানীর খিলগাঁও বাজার থেকে প্রতি মাসে বাজার করেন ব্যবসায়ী রহমান তালুকদার। চালের বাজারে গিয়ে তিনি রীতিমতো দোকানদারের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। ব্যবসা তিনিও করেন, তাই কোনো অবস্থাতেই চালের বস্তায় বাড়তি দাম দিতে রাজি হচ্ছিলেন না; কিন্তু দোকানদারও নাছোরবান্দার মতো দাম নিয়ে কথা কাটাকাটি করছেন। হঠাৎ করেই কেজিপ্রতি পাঁচ-ছয় টাকা বাড়ানোর কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছিলেন না রহমান তালুকদার। তিনি বলেন, ‘দেশটা কি মগের মল্লুক নাকি? কোনো কারণ ছাড়াই যখন-তখন যেকোনো জিনিসের দাম বেড়ে যায়?

নগরীর এই দুই বাজারের মতোই সারা দেশের ছোট-বড় সব চালের দোকানে গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে এই অস্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। হঠাৎ করেই গত কয়েকদিন ধরে চালের বাজারে এই অস্বাভাবিকভাবে দাম বাড়ার কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছেন না সাধারণ ক্রেতারা।

ভরা মৌসুমে এই চালের দাম বাড়ার বিষয়টিকে ব্যবসায়ীরা দুষছেন মিল মালিকদের, আবার মিল মালিকরা দায়ী করছেন অবৈধ মজুতদারদের। তবে ঘটনা যেটাই হোক না কেন, আসল দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকেই।

গতকাল সরেজমিনে নগরীর কারওয়ান বাজার, বনানী কাঁচাবাজার, খিলগাঁও বাজার, হাতিরপুল বাজারসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা বাজারে সব ধরনের চালের দাম কেজিতে দুই থেকে ছয় টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। পোলাওয়ের চালের দাম আরও বেশি বেড়েছে বলে জানা যায়। বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, সপ্তাহের ব্যবধানে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে মোটা চাল ইরি-স্বর্ণা কেজিতে দুই থেকে তিন টাকা বেড়ে ৫২ থেকে ৫৪ টাকা, মাঝারিমানের চাল পাইজাম-লতা কেজিতে তিন থেকে চার টাকা বেড়ে ৫৮ থেকে ৬০ টাকা ও সরু চাল নাজিরশাইল-মিনিকেট কেজিতে পাঁচ থেকে ছয় টাকা বেড়ে ৬৬ থেকে ৭৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চালের হঠাৎ এ দাম বাড়ানোয় খুচরা ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা মিল মালিকদের দায়ী করেছেন। অন্যদিকে মিল মালিকরা বলছেন, অবৈধ মজুতদারির কথা। তারা বলেছেন, অবৈধভাবে ধান, চালের মজুতের কারণে দাম বাড়ছে। আমন মৌসুমের শেষে এসে ধানের দাম বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা এর সুফল না পেলেও বেশি দামে চাল কিনতে হচ্ছে ভোক্তাদের। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন স্বল্প আয়ের মানুষ।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, রাজধানীর পাশাপাশি মোকামেও চালের দাম বেড়েছে। কয়েক দিনের ব্যবধানে দেশের চালের অন্যতম বড় মোকাম দিনাজপুরে বস্তাপ্রতি (৭৫ কেজি) ধানের দাম বেড়েছে ২০০ টাকা থেকে আড়াইশ টাকা। আর ধানের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে চালের দামও।

রাজধানীর কারওয়ান বাজারের তিনটি পাইকারি দোকানে খোঁজ নিয়ে একই চালের দাম তিন দোকানে তিন রকম পাওয়া গেছে। যেমন ব্রি-২৮ জাতের মোটা চাল প্রতি কেজি এক দোকানে বিক্রি হচ্ছে ৫২ টাকায়, আরেক দোকানে ৫৩ টাকায় এবং অন্য দোকানে ৫৪ থেকে ৫৬ টাকায়। অন্য চালের দামেও ভিন্নতা দেখা যায়। দামের ক্ষেত্রে সমন্বয় তো নেই-ই, যার যেভাবে ইচ্ছা সেভাবেই ক্রেতাদের কাছ থেকে নিচ্ছেন খুচরা দোকানিরা।

এদিকে বাজারে বেড়েছে ধানের দামও। দিনাজপুর সদর উপজেলার গোপালগঞ্জ ধানের হাটে খবর নিয়ে জানা গেছে, কয়েকদিন আগেও এই হাটে ব্রি-৫১ জাতের প্রতি বস্তা (৭৫ কেজি) ধান বিক্রি হয়েছিল ২ হাজার ২৫০ টাকায়। গত কয়েকদিনে তা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৪৫০ টাকায়। তেমনিভাবে বিআর-১১ জাতের ধান ২ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৪৫০ টাকা, ব্রি-৪৯ ধান ২ হাজার ১৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৪৪৫ টাকা, গুটি স্বর্ণা ২ হাজার ২০০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৪৩০ টাকা এবং সুমন স্বর্ণা ২ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২ হাজার ৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে সুগন্ধিযুক্ত ধানের দাম বেড়েছে আরও বেশি। কয়েকদিনের ব্যবধানে সুগন্ধি জাতের জিরা ধান ৪ হাজার ৮০০ টাকা থেকে বেড়ে ৫ হাজার ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এদিকে গত বুধবার খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘চারদিনের মধ্যে চালের দাম না কমলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মিলাররা প্রতিযোগিতা করে ধান কেনায় বাজারে চালের দাম বাড়ছে। তবে কেউ অবৈধভাবে প্রতিযোগিতা করে ধান কিনলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকারের গুদামে চালের যথেষ্ট মজুত আছে বলে জানান তিনি। মন্ত্রীর বেঁধে দেওয়া সময় শেষ হবে আজ রোববার।

কেন বাড়ছে চালের দাম

চাল মিল মালিকরা বলছেন, ধানের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে বেড়েছে চালের দাম। দিনাজপুর শহরের বাহাদুরবাজারে চাল কিনতে আসা বেশ কয়েকজন জানান, হঠাৎ চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় চাল কিনতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। এই বাজারের চাল ব্যবসায়ীরা জানান, নির্বাচনের সময় এক সপ্তাহ সরকারে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় খোলাবাজারে ৩০ টাকা কেজির চাল বিক্রিসহ বিভিন্ন কর্মসূচি চালু সরবরাহ বন্ধ ছিল। এ কারণেই বাজারে চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় মিল মালিকরা চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে মিল মালিকদের কাছ থেকে বেশি দামে চাল কিনে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে বলে সেখানকার ব্যবসায়ীরা জানান।

চালের মূল্য বৃদ্ধি প্রসঙ্গে বাংলাদেশ অটো মেজর ও হাসকিং মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি সহিদুর রহমান পাটোয়ারি গণ্যমাধ্যমকে বলেন, ‘অনেক ব্যবসায়ী নীতিমালাকে তোয়াক্কা না করে স্টক বিজনেসের নামে বিভিন্ন ভোগ্যপণ্য মজুত করছেন। মিল মালিকরাই এসব ব্যবসায়ীর কাছে জিম্মি হয়ে আরও বেশি দামে ধান কিনছেন। চালের বাজার বেশি হওয়ার এটাই মূল কারণ। তাছাড়া মিল মালিকদের উৎপাদন খরচও বেড়েছে।’

পর্যাপ্ত সরবরাহের পরও অস্থির চালের বাজার

পর্যাপ্ত সরবরাহের পরও চালের বাজারে অস্থিরতা কাটছে না। বরং আমন মৌসুমে হু হু করে বাড়ছে দাম। গত কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) চালের দাম বেড়েছে সর্বোচ্চ ৪০০ টাকা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মিলার ও মৌসুমি ধান ব্যবসায়ীদের কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আর এই বাড়তি দর পাইকারি ও খুচরা বিক্রেতারা সমন্বয় করছেন। ফলে চাল কিনতে বেশি টাকা খরচ হওয়ায় ক্রেতাসাধারণ দিশেহারা হয়ে পড়ছেন।

কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, ‘গত বছর থেকেই চালের দাম বাড়তি। সবার ধারণা ছিল আমন মৌসুমে দাম স্বাভাবিক হবে; কিন্তু তা হয়নি। বরং বাড়তি দরে বিক্রি হচ্ছে চাল। তাই ক্রেতা তথা নিম্ন আয়ের মানুষের আরও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।’

বাংলাদেশ মেজর ও অটো মেজর হাসকিং মিল মালিক সমিতির সহ-সভাপতি ও মিল মালিক শহীদুর রহমান পাটোয়ারী মোহন জানান, ‘চালের দাম বাড়লেই আমাদের দোষ হয়। কিন্তু এখন ধানের দাম বাড়তি থাকায় চাল প্রসেসিংয়ে বেশি টাকা খরচ হচ্ছে। যে কারণে মিল পর্যায় থেকে চালের দাম বাড়ানো হয়েছে। কৃষকদের পাশাপাশি ধানের মৌসুমি ব্যবসায়ী এখন ধান মজুত করছে। দাম বেশি না হলে তারা বাজারে ছাড়ছেন না। এ কারণে বাজারে ধানের দাম বেড়েছে। তার প্রভাব পড়েছে চালের বাজারে।’

অভিযানে সটকে গেছেন ব্যবসায়ীরা

করোনার সময়েও দেশের বাজার পরিস্থিতি মোটামুটি স্বাভাবিক থাকলেও ২০২২ সালের শুরুতে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর থেকেই বিশ্ববাজারে এর প্রভাব পড়তে শুরু করে। তখন সারাবিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশেও দ্রব্যমূল্য বাড়তে থাকে। এই কঠিন সময়েই জ্বালানি তেলের ওপরে সরকার যে ভর্তুকি এতদিন দিচ্ছিল তা পুরোপুরি উঠিয়ে নেওয়ায় ও জ্বালানি তেলের দাম হুট করে দেড় গুণ বেড়ে যাওয়ায় এর প্রভাব পড়ে সর্বত্র। দেশে হু হু করে বাড়তে থাকে সব জিনিসপত্রের দাম। সরকার এর নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি কোনোভাবেই। বরং বাড়তে থাকা নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যগুলোর দাম নিয়ে সরকারের বাণিজ্যমন্ত্রীসহ শীর্ষ পর্যায় থেকে নানা ধরনের কথা বলায় তা আরও উসকে দেয় দাম নিয়ন্ত্রণকারী সিন্ডিকেটকে। সেই ধারা অব্যাহত রয়েছে এখনো।

এবার টানা চতুর্থ মেয়াদে সরকারের দায়িত্ব নিয়ে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণকে সর্বাধিকার দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের এ ব্যাপারে স্পষ্ট ভাষায় নির্দেশনা দেওয়ার পর মন্ত্রীরাও একই সুরে কথা বলছেন। তবে এখনো তাদের বক্তব্যের কার্যকারিতা বাজারে দেখা যাচ্ছে না। তবে চালের বাজার পর্যবেক্ষণে নেমেছে ভোক্তা অধিকারসহ খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তদারকি টিম। তবে তাদের অভিযানের খবর পেয়েই দোকান থেকে সটকে পড়ছেন অধিকাংশ চাল ব্যবসায়ী।

গতকাল শনিবার রাজধানীর শাহ আলী মার্কেট ও বাড্ডায় অভিযান পরিচালনা করে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ভ্রাম্যমাণ আদালত। অভিযানে দেখা যায়, অধিকাংশ ব্যবসায়ীরই চাল ক্রয়ের রশিদ নেই। আবার রশিদ থাকলেও তার সঙ্গে মিল পাওয়া যায়নি মূল্যতালিকায় লেখা দামের। মোবাইল টিম পরিচালনাকারী কর্মকর্তারা বললেন, খাদ্য নিয়ে আর অনিয়মের সুযোগ দেবে না তারা। যদিও অভিযানের খবরেই আগেই সটকে পড়েন অধিকাংশ চাল ব্যবসায়ীরা। এ সময় চাল ব্যবসায়ীরা আশপাশে ঘোরাফেরা করলেও কোনটি কার দোকান জিজ্ঞেস করার সময় দোকান কর্মচারীরা তাদের মালিককে দেখিয়ে দিচ্ছেন না। প্রশাসনের লোকজনও দোকান মালিকদের না চেনায় তাৎক্ষণিক জরিমানা এড়াতে পারছেন চাল ব্যবসায়ীরা।

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব জয়নাল আবদীন বলেন, যেসব দোকানি সটকে পড়েছে তাদের ওখানে আবার অভিযান পরিচালনা করা হবে।

বিভিন্ন জেলায় চালের বাজারের বর্তমান অবস্থা

আড়তের শহর কুষ্টিয়ায় এক সপ্তাহ আগে এক কেজি মিনিকেট চালের দাম ছিল ৬২ টাকা। এখন সেই চাল বিক্রি হচ্ছে ৬৬ টাকায়। একইভাবে কেজিতে তিন থেকে চার টাকা বেড়েছে সব ধরনের চালের দাম। বন্দর নগরী চট্টগ্রামেও পাইকারি বাজারে কেজিতে তিন-চার টাকা বেড়েছে চালের দাম। ধান-চালের ভরা মৌসুমে এই দাম বৃদ্ধিকে সিন্ডিকেটের কারসাজি বলছেন ভোক্তারা। তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, মিলাররা পর্যাপ্ত চাল সরবরাহ করছেন না, সে সঙ্গে বেড়েছে পরিবহন খরচও।

চট্টগ্রামে ইরি আতপ চালের ৫০ কেজির বস্তা গত সপ্তাহে ২ হাজার টাকায় বিক্রি হলেও গতকাল এর দাম ২১৫০ থেকে ২১৭০ টাকা। এদিকে অভিযানের পরও চট্টগ্রামের পাইকারি বাজারে কমেনি চালের দাম। চট্টগ্রামের চাক্তাই চাউলপট্টি ও পাহাড়তলীর পাইকারি বাজারে তিন থেকে চার টাকা বেশিতে বিক্রি হয়েছে প্রতি কেজি চাল।

এদিকে বগুড়ায় চালের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে জেলা প্রশাসন। চালের মূল্য ক্রেতাদের সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সার্বক্ষণিক মনিটরিং ও অভিযান পরিচালনা করছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। জেলায় এ পর্যন্ত মোট ১৯টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। অভিযানে চালের মূল্য নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা ও সতর্ক করা হয়েছে। এদিকে চালের প্রচুর মজুত থাকা সত্ত্বেও বেশি দামে কিনতে হচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের। জানা যায়, বগুড়া শহরের ফহেত আলী, বাজার, রাজাবাজার, কলোনি ও গোদারপাড়া বাজারে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে চালের দাম কেজি প্রতি ৫ থেকে ৭ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। হঠাৎ করে চালের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

নওগাঁয় ৬ ব্যবসায়ীকে জরিমানা

নওগাঁয় অবৈধভাবে ধান-চাল মজুত রাখার অপরাধে জেলা চালকল মালিক গ্রুপের সভাপতিসহ ছয় চালকল মালিককে ৩ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গতকাল শনিবার বিকেল চারটা থেকে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত নওগাঁ সদর ও মহাদেবপুর উপজেলায় এসব অভিযান চালানো হয়। এ নিয়ে গত মঙ্গলবার থেকে আজ পর্যন্ত ৫ দিনে নওগাঁয় ২১টি প্রতিষ্ঠানকে ৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

মহাদেবপুরে পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, মহাদেবপুর উপজেলার নাহার আরমান অটোমেটিক রাইস মিলের গুদামে এক মাসের বেশি সময় ধরে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি ধান মজুত রাখায় প্রতিষ্ঠানটির মালিক আরমান হোসেনকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। উপজেলার শাপলা অটো রাইস মিলের গুদামে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি চাল ১৫ দিনের বেশি সময় ধরে মজুত থাকায় প্রতিষ্ঠানের মালিক সাখাওয়াত হোসেনকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া দাদা অটোমেটিক রাইস মিলের গুদামে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি আতপ চাল ১৫ দিনের বেশি সময় ধরে মজুত রাখায় মিলের মালিক আবদুর রাজ্জাককে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। মহাদেবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিফাত আরা এ তিনটি অভিযান পরিচালনা করেন।

নওগাঁ সদর উপজেলায় পরিচালিত ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, নওগাঁ শহরের বাইপাস সড়কের পাশে মেসার্স তছিরন অটোমেটিক রাইস মিলের গুদামে অবৈধভাবে চাল মজুতের দায়ে কৃষি বিপণন আইন ২০১৮-এর ১৯(ঠ) ধারায় মিল মালিককে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া শহরের আনন্দনগর এলাকায় মেসার্স আর এম রাইস মিলের গুদামে অবৈধভাবে চাল মজুতের দায়ে মিল মালিক ও জেলা চালকল মালিক গ্রুপের সভাপতি রফিকুল ইসলামকে কৃষি বিপণন আইন ২০১৮-এর ১৯(ঞ) ও (ঠ) ধারায় এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ওই মিলের তিনটি গুদাম সিলগালা করা হয়েছে। নওগাঁ সদর উপজেলার চণ্ডীপুর এলাকায় মেসার্স মফিজ উদ্দিন অটো রাইস মিলের গুদামে অবৈধভাবে চাল মজুতের দায়ে মিল মালিক মফিজ উদ্দিনকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। নওগাঁ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম রবীন শীষ এই তিন অভিযান পরিচালনা করেন।

জেলা প্রশাসক গোলাম মওলা বলেন, ধান-চালের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে গত মঙ্গলবার থেকে জেলার বিভিন্ন ধান-চালের প্রতিষ্ঠানে মজুতবিরোধী অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। অভিযান থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।


দেশব্যাপী হামের টিকাদান শুরু ২০ এপ্রিল: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

হাম নিয়ন্ত্রণে সরকার ১৪ দিন এগিয়ে এনে আগামী ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশে একযোগে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে দেশব্যাপী হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশ উত্থাপন করেন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। জবাবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন, দেশে হামের টিকার মজুত স্থিতিশীল আছে। আগামী ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশে হামের টিকা দেওয়া শুরু হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ ও অন্তর্বর্তী সরকারের টিকা ব্যবস্থাপনায় অবহেলার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। সেই সংকট কাটিয়ে উঠছে সরকার। হামের টিকা নিয়ে কোনো সংকট নেই। বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা বাংলাদেশের শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় টিকা সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা গত ৯ মাস যাবৎ বেতন পাচ্ছেন না, তাদের বেতন পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করা শুরু হয়েছে। অন্য সমস্যাগুলোও সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংসদে জানান, ‘২ কোটি ১৯ লাখ হামের টিকা পাওয়া গেছে। মজুতও আরও রয়েছে। দুর্নীতি ও বিলম্ব এড়াতে এবার টেন্ডার প্রক্রিয়া বাদ দিয়ে সরাসরি ইউনিসেফ থেকে টিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। ৫ এপ্রিল থেকে ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলাগুলোতে টিকা কার্যক্রম চালানোর জন্য ৩৪ লাখ ৮৩ ডোজ টিকা বিতরণ করা হয়েছে। এক ভায়ালে ১০ ডোজ টিকা দেওয়া যায়। হাম-রুবেলা টিকা ক্যাম্পেইনের জন্য সরকার সর্বমোট ২ কোটি ১৯ লাখ ডোজ টিকা সংগ্রহ করেছে। সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্য যথেষ্ট পরিমাণ টিকা আমাদের আছে এবং কোল্ড চেন রক্ষা করা হচ্ছে।

হাম নিয়ে অযথা আতঙ্ক না ছড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।’


অন্তর্বর্তী সরকারের ৫টি অধ্যাদেশের বিল পাস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ বিলসহ অন্তর্বর্তী সরকারের পাঁচটি অদ্যাদেশের বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১১তম দিন বুধবার (৮ এপ্রিল) কণ্ঠভোটে বিলগুলো পাস হয়। বিলগুলোর বিশেষ কমিটির কোনও প্রস্তাব না থাকায় সরাসরি পাস হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং মন্ত্রীর পক্ষে প্রতিমন্ত্রীরা বিলগুলো উত্থাপন করেন।

পাস হওয়া বিলগুলো হলো— ‘সরকারি হিসাব নিরীক্ষা আইন, ২০২৬’, ‘প্রোটেকশন অ্যান্ড কনসারভেশন অব ফিস (এমেনমেন্ট) অ্যাক্ট, ২০২৬’, ‘শেখ হাসিনা পল্লী উন্নয়ন একাডেমি জামালপুর (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ বিল সংসদে পাস করা হয়। বিলটিতে শেখ হাসিনার নাম বিলুপ্ত করার প্রস্তাব করা হয়।

পাস হওয়া অপর বিলগুলো হচ্ছে— ‘পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাষণ কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ এবং ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) আইন, ২০২৬’।

‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ সংসদে উত্থাপনের বিলটি পরে পাসের প্রক্রিয়ায় গেলে বিরোধী দলীয় নেতা ড. শফিকুর রহমান সংসদের দাঁড়িয়ে বিলটি নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব দেন। শফিকুর রহমান বলেন, বিলটি দুই তিন মিনিট আগে পেলাম। বিলটি দেখতে পারিনি। বিলটি দেখার জন্য সময় পেলে আলোচনা করা যেতো।

এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রুলিং দিয়ে বিরোধী দলীয় নেতাকে বলেন, বিলের এই স্টেজে আপত্তি করার সুযোগ নেই। আপত্তি করার নিয়ম আছে আপনি সেই সময় করেননি। আপনি যদি আগে প্রস্তাব দিতেন তাহলে আলোচনার সুযোগ পেতেন।

এরপর স্পিকার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করার কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ওই সময় বলেন, বিরোধী দলীয় নেতার অবশ্যই স্মরণে থাকার কথা, তারা এবং এনসিপির বন্ধুরা সবাই মিলে আন্দোলন করেছিলেন। ওই আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে মোটামোটি বাংলাদেশে একটি জনমত সৃষ্টি হয়েছিল। সেই পরিপ্রেক্ষিতে কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে এবং অ্যাকর্ডিংলি নির্বাচন কমিশন তাদের (আওয়ামী লীগের) রেজিস্ট্রশনটাও সাসপেন্ডেড হয়ে আছে এই আইনের বলে। সংগঠনের বিচারের জন্য আইসিটি অ্যক্টাও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন যদি আপনারা এর ওপর আলোচনা করতে চান, আমার মনে হয়, সংশোধনের সেকেন্ড লিডিংয়ের স্টেজে যদি সংশোধনী দিতেন তাহলে আলোচনা থাকতো অথবা ফার্স্ট লিডিয়ের পর যদি সংশোধনী দিনে তাহলে আলোচনা থাকতো।

এ সময় স্পিকার বলেন, আমি রুলিং দিয়েছি, আপনি পাস করার প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এরপর বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করা হলে কণ্ঠভোটে পাস হয়।


প্রতিটি উপজেলায় একটি করে মহিলা কলেজ সরকারিকরণ করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের নারী শিক্ষার প্রসার ও নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে প্রতিটি উপজেলা সদরে একটি করে মহিলা কলেজ সরকারিকরণের পরিকল্পনা করছে সরকার। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, সরকার বিষয়টি অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে এবং পর্যায়ক্রমে তা বাস্তবায়ন করা হবে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে নওগাঁ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ইকরামুল বারী টিপুর এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন এর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর টেবিলে এটি উপস্থাপিত হয়। সাংসদ ইকরামুল বারী টিপু তার প্রশ্নে নওগাঁর মান্দা উপজেলাধীন ‘মান্দা থানা আদর্শ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ’ সহ দেশের সব উপজেলা সদরের একটি করে মহিলা কলেজ সরকারিকরণের কোনো পরিকল্পনা আছে কি না এবং থাকলে তা কতদিনের মধ্যে বাস্তবায়ন হবে— তা জানতে চান।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার নারী শিক্ষার প্রসার এবং নারীর ক্ষমতায়ন ও শিক্ষার সমান সুযোগ নিশ্চিতকরণে বদ্ধপরিকর। এ লক্ষ্যে দেশের সব উপজেলা সদরে একটি করে মহিলা কলেজ সরকারিকরণের বিষয়টি সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে।

তিনি আরও উল্লেখ করে বলেন, মান্দা একটি বৃহৎ ও গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা হওয়ায় সেখানে নারী শিক্ষার প্রসারে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বাস্তবায়নের সময়সীমা ও প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী জানান, মান্দা থানা আদর্শ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজসহ দেশের অন্যান্য উপজেলার উপযুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারিকরণের বিষয়টি বর্তমান নীতিমালা এবং প্রয়োজনীয় আর্থিক সংস্থান বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রী নারী শিক্ষার সমান সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং জানান যে, সরকারের এই পদক্ষেপ তৃণমূল পর্যায়ে নারী শিক্ষার হারে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।


নিষিদ্ধই থাকছে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম, সংসদে বিল পাস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) ২০২৬ বিল জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। আজ বুধবার দুপুরের অধিবেশনে এই বিল পাস হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সন্ত্রাসবিরোধী বিল ২০২৬ সংসদে উত্থাপন করেন। পরে বিলটি ‘হ্যাঁ’ ভোটে জয়যুক্ত হয়।

এতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধই থাকছে।

সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আগে থেকেই দেশে সন্ত্রাসবিরোধী আইন থাকলেও সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও জনমতের প্রেক্ষিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি বিশেষ অধ্যাদেশ জারি করে। সেই অধ্যাদেশে গণহত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান রাখা হয়, যার আওতায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রমও নিষিদ্ধ করা হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি।’

এর আগে বেলা ১১টায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের বৈঠক পুনরায় শুরু হয়।


ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১৪:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের ৪ কোটি পরিবারকে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় নিয়ে আসা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের দর্শন হলো ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’।

বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে নোয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এ. এম. মাহবুব উদ্দিনের খোকনের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সংসদের কার্যক্রম শুরু হয় সকাল ১১টায়। অধিবেশনের ১১তম দিন সকালের সেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্ন উত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের নাগরিকদের সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’ এ দর্শনে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। প্রাথমিক পর্যায়ে গত ১০ মার্চ ২০২৬ তারিখে দেশের ১০টি জেলা এবং ৩টি সিটি কর্পোরেশনের ৩৭ হাজার ৮১৪টি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, আগামীতে দেশের প্রায় ৪ কোটি প্রান্তিক ও নিম্নবিত্ত পরিবারকে পর্যায়ক্রমে এ কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

নোয়াখালী-১ (চাটখিল ও সোনাইমুড়ী) নির্বাচনী এলাকা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘আশা করছি সংসদ সদস্যের নির্বাচনি এলাকার দরিদ্র পরিবারের নারী সদস্যদের ক্ষমতায়ন ও স্বাবলম্বী করার লক্ষে শিগগিরই তাদের ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা সম্ভব হবে।’’


২৮৪৭ গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই: শিক্ষামন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সারাদেশে দুই হাজার ৮৪৭টি গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বুধবার (৮ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে লিখিত প্রশ্নোত্তরে তিনি এ তথ্য জানান।

জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১১তম দিনে সকালের সেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিন লিখিত প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দেশের প্রতিটি গ্রামে প্রাথমিক বিদ্যালয় নেই। সারাদেশে বিদ্যালয়বিহীন গ্রামের সংখ্যা- ঢাকা বিভাগে ৭১৭টি, চট্টগ্রাম বিভাগে ৮১৮টি, রাজশাহী বিভাগে ৩৫৫টি, রংপুর বিভাগে ৩৭টি, খুলনা বিভাগে ৩৪৯টি, বরিশাল বিভাগে ৪৫টি, সিলেট বিভাগে ২৬০টি, ময়মনসিংহ বিভাগে ২৬৬টি। সর্বমোট ২৮৪৭টি।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ভবিষ্যতে এসব গ্রামে বিদ্যালয় স্থাপনের প্রস্তাব এলে প্রয়োজনীয়তা সংক্রান্ত শর্তাদি বিবেচনা সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


আজ দিল্লিতে বৈঠকে বসছেন খলিলুর-জয়শঙ্কর

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বুধবার (৮ এপ্রিল) দিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউসে বৈঠকে বসছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান।

ভারতের স্থানীয় সময় দুপুর ১টায় এ বৈঠক শুরুর কথা। বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ও দিল্লিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ থাক‌বেন।

বৈঠকে দু’দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হবে। এক্ষেত্রে আলোচনার টেবিলে থাকবে ব্যাবসা-বাণিজ্য, ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা পুনরায় চালু, জ্বালানি নিরাপত্তা, গঙ্গার পানি চুক্তির নবায়ন, সীমান্ত হত্যা বন্ধ, বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য সব ধরনের ভারতীয় ভিসা চালু করা, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকারীদের দেশে প্রত্যর্পণ, ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দেশটিতে পলাতক মানবতাবিরোধী অভিযোগে সাজাপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগের নেতাদের দেশে ফেরানো, শীর্ষ নেতাদের সফর বিনিময়সহ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি পদে নির্বাচনে বাংলাদেশের প্রার্থিতায় ভারতের সমর্থন।

এ ছাড়া, আঞ্চলিক ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সৃষ্ট সংকট নিয়েও আলোচনা হতে পারে।

এদিন, বিকেলে ভারতের বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল এবং পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাসবিষয়ক মন্ত্রী হারদীপ সিং পুরি-এর স‌ঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ কর‌বেন।

মূলত, ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলনে মরিশাস যাওয়ার পথে মঙ্গলবার দিল্লি গে‌ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। বাংলা‌দেশ সরকার তার এই সফর‌কে শু‌ভেচ্ছা সফর হি‌সে‌বে আখ্যায়িত ক‌রে‌ছেন। ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের পর এই প্রথম বাংলাদেশের কোনো মন্ত্রী দিল্লি সফরে গে‌লেন।

দিল্লিতে আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর ও বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান আগামী ৯ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) দিল্লি থেকে মরিশাসগামী একটি বাণিজ্যিক ফ্লাইটে একই সঙ্গে যাত্রা করার কথা। ওইদিন সকাল ৮টার এয়ার মরিশাসের সেই ফ্লাইটে সাত থেকে আট ঘণ্টার এই দীর্ঘ যাত্রাকে একটি বড় ধরনের কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ধারণা করা হচ্ছে, দাপ্তরিক আনুষ্ঠানিকতার বাইরে দুই দেশের মন্ত্রী একান্ত পরিবেশে দীর্ঘ সময় ধরে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করার সুযোগ পাবেন। এ কারণে দিল্লির আনুষ্ঠানিক বৈঠকের বাইরে মরিশাসেও দুই দেশের কূটনীতিকদের মধ্যে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করা হচ্ছে।


প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বিমানবাহিনী প্রধানের সাক্ষাৎ

আপডেটেড ৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:৪৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

বুধবার (৮ এপ্রিল) সকালে জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, তাদের মধ্যে এটি ছিল সৌজন্যমূলক সাক্ষাৎ।


কয়লা সংকটে দেশের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো বন্ধের পথে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

কয়লার অভাবে পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর দেশের আরেক বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র মাতারবাড়ি কয়লা সংকটে পড়েছে। গত কয়েক দিন ধরেই দেখা যাচ্ছে মাতারবাড়ি আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল পাওয়ারপ্ল্যান্ট পূর্ণ ক্ষমতায় বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারছে না।

প্রসঙ্গত, সরকার জ্বালানি সংকট কাটাতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর ওপর জোর দিচ্ছে। এ অবস্থায় রামপাল, পায়রাসহ অন্য কেন্দ্রগুলোর বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিস্থিতি ভালো হলেও এই দুই বড় কেন্দ্র উৎপাদন করতে না পারায় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের পুরো সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কক্সবাজারের এই সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রটি এক হাজার ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারলেও আজকে দেখা গেছে তারা ৩১৫ মেগাওয়াটে উৎপাদন সীমিত রেখেছে। গত কয়েক দিন ধরে তারা উৎপাদন সীমিত করেছে।

অপরদিকে পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রটি অনেক দিন ধরেই বন্ধ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পরিচালক কে. এম. নঈম খান বলেন, “কয়লার সংকটের কারণেই তাদের প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। তবে কত দিন ধরে বন্ধ রয়েছে তা তিনি নির্দিষ্ট করে জানাতে পারেননি।”

আরএনপিএল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আব্দুল হালিম গণমাধ্যমকে জানান, কয়লার দরপত্র সংক্রান্ত জটিলতার কারণে গত নভেম্বর থেকে তাদের প্ল্যান্ট বন্ধ হয়ে যায়। তবে জটিলতা কেটেছে জানিয়ে তিনি বলেন, “আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে কেন্দ্রটি ফের চালু হতে পারে।”

প্রসঙ্গত, নভেম্বরে বিদ্যুতের চাহিদা কম থাকলেও গ্রীষ্ম আসায় তা বেড়েছে। তখন কেন্দ্র বন্ধ থাকায় কোনও জটিলতা সৃষ্টি না হলেও এখন কেন্দ্রটি চালু হলে গ্রাহক স্বস্তি পেতো।

তবে এই দুই ক্ষেত্রেই প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় দক্ষতার অভাবকে দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, একই সময়ে একই দেশের কোনও কোনও বিদ্যুৎকেন্দ্র যদি একই উৎস থেকে কয়লা আমদানি করে চলতে পারে, তাহলে তারা কেন পারছে না—এ বিষয়ে সরকারের নজর দেওয়া উচিত।

সাধারণত বাংলাদেশে বেশিরভাগ কয়লা আমদানি হয় ইন্দোনেশিয়া থেকে। সাম্প্রতিক সময়ে সারা বিশ্বেই জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে। এতে কয়লারও বাড়তি চাহিদা তৈরি হয়েছে। অপরদিকে ইন্দোনেশিয়া তাদের কয়লা রফতানি না বন্ধ করলেও সীমিত করেছে। দেশটি আগে নিজেদের চাহিদা পূরণের পর বাইরে বিক্রি করছে এবং স্পট মার্কেটে বিক্রি বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে যাদের কয়লা আমদানির দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি নেই, তারা বিপাকে পড়েছে। এতে পটুয়াখালীর তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রটিও জটিলতায় পড়েছে। যেহেতু স্পট মার্কেট থেকে কয়লা কেনা বন্ধ এবং তাদের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তিও নেই, তাই তারা প্ল্যান্ট বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে জানান, এই পরিস্থিতি তৈরি হবে—এটা আগাম ধারণা করা হয়েছিল। যারা পরিস্থিতি অনুধাবন করে অগ্রিম ব্যবস্থা নিয়েছে, তারা সংকটে পড়েনি। আমরা সংকটে পড়েছি মানেই আমাদের কোনও না কোনও ঘাটতি রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানের আরেকজন প্রকৌশলী নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে জানান, তারা কয়লার সংকটে রয়েছেন। প্রতিদিন কেন্দ্রটি চালাতে কমপক্ষে সাড়ে ১১ হাজার টন কয়লা প্রয়োজন হয়। কিন্তু তাদের কাছে ফুল লোডে কেন্দ্র পরিচালনার মতো কয়লার সংকট রয়েছে। কেন্দ্রটি গত ৫ এপ্রিলও সর্বোচ্চ ৪৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করেছে।

এদিকে চট্টগ্রাম অঞ্চলের আরেক বিদ্যুৎকেন্দ্র এসএস পাওয়ার পুরোদমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। ব্যতিক্রম নেই দেশের অন্য বড় কয়লাচালিত বিদ্যুৎকেন্দ্রেও—রামপাল ১৩২০ মেগাওয়াট, পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট, পটুয়াখালী ৩৪০ মেগাওয়াট।

যদিও ভারত থেকে আমদানি করা বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে আদানি উৎপাদন অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে। তারা একটি ইউনিটের কারিগরি ত্রুটির কথা জানিয়েছে। অন্য ইউনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে।

এদিকে বিদ্যুৎ সংকটে সারা দেশে তীব্র লোডশেডিং হচ্ছে। ঢাকা ছাড়া সব জায়গা থেকে লোডশেডিংয়ের খবর আসছে। তাপমাত্রা বাড়তে থাকলে লোডশেডিং আরও বাড়বে। বড় বিদ্যুৎকেন্দ্রের জটিলতা নিরসন সম্ভব না হলে ভুগতে হবে গ্রাহককে।


বন্ধ শ্রমবাজার খুলতে মালয়েশিয়ায় মন্ত্রী-উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণবিষয়ক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন। বাংলাদেশে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে শুরু হওয়া মন্ত্রী পর্যায়ের এ সফরকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন অভিবাসন বিশ্লেষক ও জনশক্তি রপ্তানিকারকরা।

সংশ্লিষ্টদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা মালয়েশিয়ার সম্ভাবনাময় শ্রমবাজার দ্রুত চালু করাই এবারের সফরের মূল লক্ষ্য। শ্রমবাজার কবে, কীভাবে এবং কোন প্রক্রিয়ায় পুনরায় চালু হবে সে বিষয়ে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের পর।

কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশন সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ মন্ত্রীর আমন্ত্রণে মন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল বর্তমানে মালয়েশিয়ায় অবস্থান করছে। তারা দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেবেন, যেখানে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগের বিষয়টি প্রধান আলোচ্যসূচি হিসেবে গুরুত্ব পাবে।

এর আগে মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বারনামা জানায়, বাংলাদেশ সরকারের প্রশাসন বিভাগের জারি করা সরকারি আদেশের মাধ্যমে এ সফরের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রবাসী কল্যাণবিষয়ক উপদেষ্টা মাহাদী আমিন জানিয়েছেন, প্রতিনিধি দলটি মালয়েশিয়ার মানবসম্পদ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে অংশ নেবে। এসব বৈঠকে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া শ্রমবাজার পুনরায় চালু, নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং দ্বিপক্ষীয় শ্রম সহযোগিতা জোরদারের বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।

পাশাপাশি মালয়েশিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশি শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যা বিশেষ করে অবৈধ অবস্থানে থাকা কর্মীদের বিষয়টি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আলোচনা করা হবে।

মাহাদী আমিন বলেন, মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মীদের স্বার্থ রক্ষা এবং তাদের জন্য মানবিক ও টেকসই সমাধান নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। এ লক্ষে কূটনৈতিক পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে অনিয়মিত অভিবাসন রোধ এবং বৈধ পথে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানো হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সফর বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া শ্রম সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।

উল্লেখ্য, প্রায় দুই বছর ধরে মালয়েশিয়া সরকার বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া বন্ধ রেখেছে, যা এখনো অব্যাহত রয়েছে। এই স্থবিরতার অন্যতম কারণ হিসেবে দাতো আমিন নুরের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গঠনের অভিযোগ উঠে, যারা কর্মী ও রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকদের জিম্মি করে সরকার নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয়ের কয়েকগুণ বেশি অর্থ আদায় করেছিল।

যদিও মালয়েশিয়া সরকার ১৪টি সোর্স দেশ থেকে কোনো সিন্ডিকেট ছাড়াই শ্রমিক নিয়োগ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে এবং ইতোমধ্যে বিপুলসংখ্যক শ্রমিক নিয়োগও সম্পন্ন করেছে।

জনশক্তি রফতানিকারকদের আশঙ্কা, নতুন করে শ্রমবাজার চালু হলে পুরোনো চক্রটি আবারও সক্রিয় হয়ে ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করতে পারে। এমনকি এ ক্ষেত্রে আরও প্রায় ৪০০ নতুন এজেন্সিকে সম্পৃক্ত করার পরিকল্পনাও থাকতে পারে বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে বলেছেন, যে প্রক্রিয়াতেই শ্রমবাজার খোলা হোক না কেন, সরকারের কঠোর মনিটরিং না থাকলে একজন কর্মীর বিদেশযাত্রায় ব্যয় ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এ ব্যয় পুনরুদ্ধার করতে একজন শ্রমিকের আড়াই থেকে তিন বছর সময় লেগে যেতে পারে।


অন্তর্বর্তী সরকারের গাফিলতিতে শিশুরা মৃত্যুঝুঁকিতে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অন্তর্বর্তী সরকারের টিকা কেনায় গাফিলতির কারণেই শিশুদের মৃত্যু বাড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী। তিনি বলছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় টিকা কেনার যে গাফিলতিটি হয়, সেই গাফিলতির কারণেই ওই সময়ে জন্ম নেওয়া শিশুরা আজ মৃত্যুঝুঁকিতে পড়েছে। অর্থাৎ এটি হচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিশেষ করে যিনি নির্বাহী স্বাস্থ্য উপদেষ্টা তার অদূরদর্শিতা, অবহেলা অথবা অক্ষমতা।

ডা. লেলিন চৌধুরী আরো বলেন, ‘প্রতি বছর আমাদের দেশে কমবেশি ৩০ লাখ শিশু জন্মগ্রহণ করে। জন্মের পরে-আগে এদের প্রায় ৯৮ শতাংশকে টিকার আওতায় আনা হতো। কিন্তু তিনি আরো বলেন, পুরো বিষয়টির একটা নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া দরকার এবং কেন এটি ঘটল সেই দায়ী ব্যক্তি অথবা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা দরকার।


১৮ এপ্রিল শুরু হচ্ছে হজ ফ্লাইট

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হবে বলে জানিয়েছেন ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।

কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান লিখিত প্রশ্নে জানতে চান, পবিত্র হজ পালনে খরচ কমাতে সরকার কোনো উদ্যোগ নিয়েছে কি না। জবাবে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ২০২৬ সালের হজ প্যাকেজ ঘোষণার মাধ্যমে হজের কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। প্যাকেজ অনুযায়ী সৌদি আরব ও বাংলাদেশ পর্বের বিভিন্ন খরচ ইতোমধ্যে পরিশোধ করা হয়েছে। সৌদি সময়সূচি অনুযায়ী ভিসাসহ সব কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি জানান, আগামী ১৮ এপ্রিল থেকে হজ ফ্লাইট শুরু হবে। এছাড়া ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজ প্রণয়ন ও ঘোষণার সময় হজযাত্রীদের সুযোগ-সুবিধা ও চাহিদার ভিত্তিতে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।


অন্তর্বর্তী সরকারের অদূরদর্শী পদক্ষেপে বিঘ্নিত টিকা কর্মসূচি

ডা. মুশতাক হোসেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বাস্থ্য খাতের সংকটের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ের সিদ্ধান্তকে দায়ী করেছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. মুশতাক হোসেন। তিনি বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় টিকা ক্রয়ের সিস্টেমে একটা পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। উদ্যোগটি ভালো, কিন্তু সেটি গ্রহণ করা হয়েছে প্রয়োজনীয় পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়াই। তাদের এমন অদূরদর্শী পদক্ষেপের ফলে টিকা কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়েছে এবং দেশের স্বাস্থ্য খাতে অবধারিতভাবে সেটির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

তিনি আরো বলেন, দেশে হামের মহামারি চলছে। মহামারি বললে সরকার ভয় পায়। অন্তর্বর্তী সরকারও একই কাজ করেছে। মহামারির সংজ্ঞা অনুযায়ী, কোনো রোগের বিস্তার যদি স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হয়, এবং দেশের স্বাস্থ্য এটা সামাল দিতে না পারে, তখন এটাকেই মহামারি বলা হয়। সরকার রোগটির বিস্তারের তথ্য আগে জানলেও প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে।


banner close