গতবছর অর্থাৎ ২০২৩ সালে দেশের বিভিন্ন স্থানে ৫১৩ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন।
আজ শনিবার স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা আঁচল ফাউন্ডেশন এক ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানায়। সংস্থাটির বেসরকারি উদ্যোগে দেশের বিভিন্ন জাতীয়, অনলাইন ও স্থানীয় পত্রিকা থেকে সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত পরিসংখ্যানে এ তথ্য উঠে এসেছে।
এ সময় সংস্থাটি জানায়, ৩২.২ শতাংশ অভিমান থেকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন, যার মধ্যে ৬০ শতাংশ নারী রয়েছেন।
পরিসংখ্যানে দেখা যায়, আত্মহত্যা করা মোট শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্র ২০৪ জন তথা ৩৯.৮ শতাংশ আর ছাত্রী ৩০৯ জন বা ৬০.২ শতাংশ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৮ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৬ জন, সাধারণ পাবলিক বিশ্বদ্যিালয়ের ১৯ জন, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ জন, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭ জন, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ২ জন, প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ জন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ও অন্যান্য ১৫ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন। এরমধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে গতবছর ৫ জন করে শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন।
শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ অভিমান। এই কারণে গতবছর ৩২.২ শতাংশ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন। এছাড়া প্রেমঘটিত কারণে ১৪.৮ শতাংশ, মানসিক সমস্যায় জর্জরিত ৯.৯ শতাংশ, পারিবারিক কলহে ৬.২ শতাংশ, পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়ে ১.৪ শতাংশ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন।
এছাড়া, পড়াশোনার চাপের সম্মুখীন হয়ে ৪.৫ শতাংশ, পরীক্ষায় অকৃতকার্য হয়ে ৩.৫ শতাংশ, পাবলিক পরীক্ষায় কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনে ব্যর্থ হয়ে ১.৮ শতাংশ, যৌন হয়রানির শিকার হয়ে ২.৫ শতাংশ, অপমান বোধ করে ০.৮ শতাংশ শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেন।
আত্মহত্যাকারীদের মধ্যে স্কুল শিক্ষার্থী ২২৭ জন বা ৪৪.২ শতাংশ। কলেজ শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৪০ জন তথা ২৭.২ শতাংশ। মাদ্রাসা শিক্ষার্থী ৪৮ জন তথা ৯.৪ শতাংশ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ৯৮ জন। শতাংশের হিসাবে যা ১৯.১।
ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সাইদুর রহমান, জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক এ বি এম নাজমুস সাকিব।
পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক পদমর্যাদার এক কর্মকর্তাসহ ৭ কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে।
সোমবার (৬ এপ্রিল) পুলিশ মহাপরিদর্শক আলী হোসেন ফকির স্বাক্ষরিত পৃথক অফিস আদেশে এসব বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়।
অফিস আদেশে জানানো হয়েছে, অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (অ্যাডিশনাল ডিআইজি) রায়হান উদ্দিন খানকে পুলিশ সদর দফতরের পারসোনাল ম্যানেজমেন্ট-১ শাখায় বদলি করা হয়েছে। একই শাখায় কর্মরত অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক খন্দকার শামীমা ইয়াছমিনকে স্থানান্তর করা হয়েছে রিপেয়ার অ্যান্ড মেইনটেইন্যান্স শাখায়।
এদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন ইউনিটেও একাধিক কর্মকর্তার দায়িত্বে পরিবর্তন আনা হয়েছে। সচিবালয় নিরাপত্তা বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার আব্দুল কাদেরকে ডিবি তেজগাঁও বিভাগে বদলি করা হয়েছে।
ডিএমপির প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড মেইনটেইন্যান্স বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. খালিদ বোরহানকে পাঠানো হয়েছে ট্রাফিক বিভাগে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত উপকমিশনার আমেনা আক্তারকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট (পিএমও) পশ্চিম বিভাগে।
অন্যদিকে পিএমও পশ্চিম বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার শারমিন আক্তার চুমকিকে বদলি করা হয়েছে সচিবালয় নিরাপত্তা বিভাগে। আর অতিরিক্ত উপকমিশনার অরিত সরকারকে স্থানান্তর করা হয়েছে প্রকিউরমেন্ট অ্যান্ড মেইনটেইন্যান্স বিভাগে।
সরকারি দলের সংসদীয় সভা অনুষ্ঠিত হবে আজ মঙ্গলবার বেলা ৩টায়।
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ ভবনে সরকার দলীয় সভাকক্ষে (পশ্চিম ব্লক, লেভেল ৯, কক্ষ নম্বর ৯৩২) সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হবে।
সভায় সরকার দলীয় সব সংসদ সদস্যকে উপস্থিত থাকার অনুরোধ করা হয়েছে।
এদিকে ১৩৩টি অধ্যাদেশকে আইনে রূপান্তরের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রক্ষায় জাতীয় সংসদ অধিবেশন এখন থেকে দিনে দুই বেলা (দুই সেশনে) চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে আজ মঙ্গলবার থেকে দিনে রাতে দুইবেলা সংসদ অধিবেশন চলবে।
জানা যায়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশগুলো আইনে রূপান্তর করা প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ইতোমধ্যে ৯টি অধ্যাদেশ বিল আকারে পাস হয়েছে। এর মধ্যে গতকাল ৬ এপ্রিল সাতটি বিল পাস হয়েছে। একইদিনে আরও তিনটি বিল উত্থাপিত হয়েছে। তবে, সেগুলোর ওপর বিরোধী দলের আপত্তি থাকায় পরবর্তী কার্যদিবসে আলোচনা শেষে সেগুলো পাস হতে পারে।
সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতায় আগামী ১২ তারিখের মধ্যে অধ্যাদেশগুলো বিল পাসের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সেজন্য সময় স্বল্পতার কারণে মঙ্গলবার থেকে দিনে দুই বেলা অধিবেশন পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম সংসদে জানান, ১৩৩টি বিল পাসের বিশাল কর্মযজ্ঞ শেষ করতে মঙ্গলবার থেকে প্রতিদিন দুই সেশনে অধিবেশন চলবে। প্রথম সেশন শুরু হবে সকাল সাড়ে ১০টায় এবং দ্বিতীয় সেশন শুরু হবে বিকেল সাড়ে ৩টায়।
এমনকি প্রয়োজন হলে আগামী শুক্রবারও অধিবেশন চালানোর প্রস্তুতি রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
জাতীয় সংসদের সাবেক স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
সোমবার (৬ এপ্রিল) দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ৪টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির ৮/এ রোডের বাসা থেকে তাকে আটক করা হয়।
ডিবি প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম তাকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তবে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে কোন মামলায় বা কী কারণে আটক করা হয়েছে তাৎক্ষণিকভাবে সেটি জানা যায়নি।
এ বিষয়ে পরে বিস্তারিত পরে জানানো হবে বলে জানিয়েছে ডিবি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর থেকে আড়ালেই ছিলেন শিরীন শারমিন চৌধুরী। এরপর শেখ হাসিনা পতনের ২৭ দিনের মাথায় ২ সেপ্টেম্বর দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকারের পদ থেকে তিনি পদত্যাগ করেন।
জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি'র সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন আমেরিকান দূতাবাসের রাজনৈতিক কর্মকর্তা স্টুয়ার্ট জেমস।
গতকাল সেমাবার সংসদ ভবনে চিফ হুইপের কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক যাত্রা, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, সংবিধান সংশোধনের পদ্ধতি ও কার্যকর সংসদ বাস্তবায়নে গৃহীত সরকারের ভূমিকার বিষয় নিয়ে স্টুয়ার্ট জেমস'র সঙ্গে আলোচনা হয়।
এ সময় চিফ হুইপ বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিরোধী দলকে রাজনৈতিক সৌহার্দ্য ও সুন্দর গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টির বার্তা দিয়ে যাচ্ছেন। তিনি জয়লাভের পর বিরোধীদলীয় নেতার বাসায় গিয়েছেন, বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছেন। বিরোধী দল থেকে আনুপাতিক হারে সংসদের স্থায়ী কমিটির সভাপতির পদ দেয়ার বিষয়েও ভাবছেন। সংসদকে গণতন্ত্রের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করতে যা যা প্রয়োজন তার সবই তিনি করবেন।
চিফ হুইপ বলেন, গণতান্ত্রিক যাত্রাকে সঠিক পথে নিতে হলে সংবিধান সংশোধনের কোনো বিকল্প নেই। ব্যক্তি স্বার্থে এই সংবিধান অনেক জায়গায় পরিবর্তন এনেছে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার। জনগণের স্বার্থে এই সংবিধানকে আবারও জনবান্ধব করতে হবে। তাই বলে বিদ্যমান সংবিধান বাতিল করার কোনো সুযোগ নেই। তবে সব দলের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে সংবিধানে পরিবর্তন আনতে হবে।
তিনি বলেন, আমরা দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সংসদে এসেছি। সংবিধান সংশোধনের জন্য আমরা সংখ্যায় যথেষ্ট হলেও আমরা চাই সবার মতামতের ভিত্তিতে সংবিধান সংশোধন। সবাইকে সাথে নিয়েই আমরা পথ চলতে চাই। বর্তমান সরকারের কাছে সবার আগে বাংলাদেশ।
তিনি যোগ করেন, আমরা জুলাই সনদ বাস্তবায়নের পক্ষে। আমরা যে বিষয়ে একমত হয়েছি তার পুরোটাই বাস্তবায়ন করতে চাই। আমরা শুধু বাস্তবায়ন পদ্ধতি নিয়ে সবার সাথে আলোচনা করতে চাই।
স্টুয়ার্ট জেমস বর্তমান সরকারের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনয়নে গৃহীত জনবান্ধব উদ্যোগের প্রশংসা করেন।
দেশে হামের প্রাদুর্ভাবের জন্য পূর্ববর্তী সরকারগুলোর ভুল ব্যবস্থাপনা ও নীতিগত ব্যর্থতাকে দায়ী করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেছেন, হাম-রুবেলার বিশেষ টিকা দেওয়ার ক্যাম্পেইন সর্বশেষ ২০২০ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হওয়ার পর দীর্ঘ সাড়ে ৫ বছর যাবত হয়নি। ফলে নতুন জন্ম নেওয়া শিশুসহ অন্যরা হামের টিকা আওতার বাইরে থেকে যায়, যারা এখন হামে আক্রান্ত হচ্ছে।
সোমবার জাতীয় সংসদে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব রোধে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের নোটিশের জবাবে এসব কথা জানান। গত ২৯ মার্চ সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, গত ৮ বছর দেশে হামের টিকা দেওয়া হয়নি।
নোটিশে আখতার হোসেন বলেন, গত তিন সপ্তাহে সন্দেহজনক হামে মৃত্যুর সংখ্যা ১১৫-এর বেশি, নিশ্চিত মৃত্যু ২০ জন। হাজার হাজার শিশুরা হামে আক্রান্ত হচ্ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, গত ৮ বছর হামের টিকা দেওয়া হয়নি। এটা সঠিক তথ্য কি না, সেটা নিয়ে হামের টিকা প্রদাণকারী মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের উৎকণ্ঠা বা ভিন্নমত খেয়াল করছি। সেক্ষেত্রে কেন হামের টিকা দেওয়া হয়নি, তা আমাদের অবাক করে। আমরা জানি হামের চিকিৎসার জন্য আইসোলেশন প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের হাসপাতালগুলোতে আইসোলেশন একেবারেই নেই। জেলা-উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালসহ বড় বড় হাসপাতালেও নেই। বিশেষ করে রাজশাহী অঞ্চলের কথা বেশি সামনে এসেছে। হাসপাতালে আইসিইউ ও এনআইসিইউ নেই।
আখতার হোসেন বলেন, ‘আমাদের দেশে হামের টিকা দেওয়া হয় নয় মাস থেকে। কিন্তু এখন ছয়মাস বয়সীরা আক্রান্ত হচ্ছে। আমাদের রোগতত্ত্ব বিশারদরা কি কারণে এটা চিহিত করতে পারলেন না, সেটা নিয়ে তদন্ত করা উচিত।’ হাম মোকাবিলায় সরকারের উদ্যোগের কথা জানতে চান তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘অতীতের সরকারগুলোর সম্পূর্ণ ভুল ব্যবস্থাপনা ও ব্যর্থতার কারণে...সরকারগুলো বলতে ফ্যাসিস্ট সরকার এবং সর্বশেষ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে ইঙ্গিত করতেছি। তাদের ভুল ব্যবস্থাপনার কারণে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। হাম-রুবেলার বিশেষ টিকা দেওয়ার ক্যাম্পেইন সর্বশেষ ২০২০ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হওয়ার পর দীর্ঘ সাড়ে ৫ বছর যাবত হয়নি। যা প্রতি চার বছর হওয়ার কথা। ফলে নতুন জন্ম নেওয়া শিশুসহ অন্যরা হামের টিকা আওতার বাইরে থেকে যায়, যারা এখন হামে আক্রান্ত হচ্ছে। টিকা কেনা ও সংগ্রহে পূর্ববর্তী সরকারের অদূরদর্শী সিদ্ধান্তের কারণে টিকার মজুতে সংকট দেখা দিয়েছে। এতে হামের টিকাসহ আরও ছয় ধরণের টিকার অভাব দেখা দেয়। যার কারণে সংকট তৈরি হয়েছে।’
জরুরি টিকাদান কর্মসূচি ও লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের বিষয়ে মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় ৫ এপ্রিল থেকে ১৮টি জেলার ৩০টি ঝুঁকিপূর্ণ উপজেলায় জরুরি টিকাদান শুরু হয়েছে। ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী সকল শিশুকে এই টিকা দেওয়া হচ্ছে। প্রথম ধাপে ১২ লাখ শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রথম দিনেই ৩০টি উপজেলায় ৭৬ হাজার লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে ৭৩ হাজার শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে (সাফল্য ৯৬ শতাংশ)। এছাড়া আগামী ১২ এপ্রিল থেকে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি কর্পোরেশন এবং ৩ মে থেকে সারাদেশে অবশিষ্ট এলাকায় কর্মসূচি শুরু হবে। একই সঙ্গে রোববার থেকে দেশে ভিটামিন-এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে।
হাসপাতালে সুযোগ-সুবিধা নিয়ে মন্ত্রী জানান, দেশের সব সরকারি হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশেষ করে রাজশাহীতে আরও ২৫০টি আইসোলেশন বেড প্রস্তুত করা হচ্ছে। আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর প্রস্তুতির পাশাপাশি আইসিডিডিআর-বি এর মাধ্যমে মাত্র ৩০০ টাকা ব্যয়ে উদ্ভাবিত নতুন অক্সিজেন প্রবাহ সিস্টেম ব্যবহার করে ফুসফুসে অক্সিজেন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
জরুরি ভিত্তিতে টিকা কেনা হচ্ছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। হাম মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংক সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে বলে জানান তিনি। এ খাতে ঋণ ও অনুদান পাওয়ার আশা করেন মন্ত্রী।
স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পর সম্পূরক প্রশ্নে সংসদ সদস্য আক্তার হোসেন মাঠ পর্যায়ের অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে বলেন, কাগজে-কলমে বরাদ্দ থাকলেও সাধারণ মানুষ হাসপাতালে আইসোলেশন বা আইসিইউ সুবিধা পাচ্ছে না। এছাড়া স্বাস্থ্য খাতের বাজেটের প্রায় ২৫ শতাংশ অব্যয়িত থেকে যায়। ২০২৪-২৫ অর্থ বছরেও ১১ হাজার কোটি টাকা খরচ করা সম্ভব হয়নি।
জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, করোনাকালীন সময়ের অব্যয়িত ৬০৪ কোটি টাকা দিয়ে ইউনিসেফ থেকে অতিরিক্ত হামের টিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে যাতে টিকার কোনো শর্টেজ না হয়, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয় সতর্ক রয়েছে। মাঠ পর্যায়ের তদারকি বাড়াতে স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ছুটি বাতিল করা হয়েছে এবং উন্নয়ন সহযোগীদের (বিশ্বব্যাংক, ইউনিসেফ) সাথে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি মানুষের অন্যতম মৌলিক অধিকার। বর্তমান সরকার ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নীতির আলোকে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং প্রত্যেক নাগরিকের সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, এ নীতির আলোকে রোগীর মৌলিক পরিচয় অবকাঠামো গড়ে তুলতে ইতোমধ্যে সকল নাগরিককে ইলেক্ট্রনিক হেলথ (ই-হেলথ) কার্ড প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
‘বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস’ উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস’ পালিত হচ্ছে জেনে আমি আনন্দিত। বিজ্ঞানী, বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্যসেবায় সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সহায়তায় একটি সমন্বিত স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলার মূল লক্ষ্যের আলোকে দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য ‘স্বাস্থ্য সেবায় বিজ্ঞান, সুরক্ষিত সকল প্রাণ’ সময়োচিত ও তাৎপর্যপূর্ণ হয়েছে বলে আমি মনে করি।’
রাষ্ট্রপতি বলেন, স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির পাশাপাশি বিনামূল্যে মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা, মা ও শিশুর পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতকরণ, রোগ প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্য সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার এবং দুর্নীতিমুক্ত স্বাস্থ্য খাত গড়ে তুলতে পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আমি বিশ্বাস করি, গৃহীত কর্মসূচিসমূহের সফল বাস্তবায়ন, নিবিড় মনোযোগ ও যথাযথ বিনিয়োগের ফলে অচিরেই সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবা ও সূচকে উল্লেখযোগ্য উন্নতি সাধিত হবে।
তিনি বলেন, ‘মানুষ, প্রাণী ও পরিবেশের স্বাস্থ্য একে অপরের পরিপূরক। আধুনিক সভ্যতার নানাবিধ নেতিবাচক অনুষঙ্গের কারণে পৃথিবীর উদ্ভিদ, প্রাণি ও পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তাই বিজ্ঞানের উৎকর্ষকে কাজে লাগিয়ে একটি সমন্বিত স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।’
তিনি সরকারি ও বেসরকারি চিকিৎসক, গবেষক, পরিবেশবিদ, প্রাণিসম্পদ বিশেষজ্ঞসহ সকল অংশীজনকে একটি সর্বজনীন সমন্বিত স্বাস্থ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রপতি ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস ২০২৬’ উপলক্ষ্যে গৃহীত সকল কর্মসূচির সর্বাঙ্গীণ সফলতা কামনা করেন।
আসন্ন ২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নবম পে-স্কেলের জন্য বরাদ্দ রেখে দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে স্মারকলিপি দিয়েছেন সরকারি কর্মচারীরা। সোমবার এ স্মারকলিপি দিয়েছেন তারা।
বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটির আহ্বায়ক আবদুল মালেক ও সদস্য সচিব আশিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রতিটি সেক্টরে নিষ্ঠা, সততা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করে দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, আইনশৃঙ্খলা, অবকাঠামো উন্নয়নসহ সব সেবামূলক কার্যক্রমে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু অত্যন্ত দুঃখের সঙ্গে বলতে হচ্ছে, ২০১৫ সালে অষ্টম পে-স্কেল হওয়ার পর প্রায় ১১ বছর অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন হয়নি।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, দীর্ঘ এই সময়ে দেশের অর্থনৈতিক বাস্তবতা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং জীবনযাপনের ব্যয় ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে সরকারি নিম্ন গ্রেডভুক্ত কর্মচারীরা ২০১৫ সালের বেতন দিয়ে জীবনযাপনে চরমভাবে আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছে। প্রায় ৯০ শতাংশ কর্মচারী ব্যাংক ও প্রবিডেন্ট ফান্ড থেকে বারবার ঋণ নিয়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন।
স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, বর্তমান নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, বাসা ভাড়া, বিদ্যুৎ, গ্যাস, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যয় অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি বেড়েছে। কিন্তু সেই অনুপাতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামোতে কোনো মৌলিক পরিবর্তন হয়নি। ২০১৫ সালের বেতন কাঠামোতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে সঙ্গে বেতন সমন্বয়ের কথা থাকলেও তা করা হয়নি। এক কথায় নিম্ন গ্রেডভুক্ত কর্মচারীরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যার বিচার দাবি করেছেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) নেতারা। সোমবার ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেলের সঞ্চালনায় আয়োজিত সমাবেশে এ দাবি করেছেন বক্তারা।
ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের বয়স মাত্র দেড় মাস। ডিআরইউ আশা প্রকাশ করছে এই সরকার শান্তিপূর্ণ ও গঠনমূলক নেতৃত্বের মাধ্যমে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করবে। ঘরে ঢুকে সংঘটিত এই নির্মম হত্যার দ্রুত ও নিরপেক্ষ বিচার নিশ্চিত করতে সংগঠনটি সরকারের প্রধান এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের কাছে বিনীতভাবে আহ্বান জানিয়েছে।
ডিআরইউর সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো সরকারই এ হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করতে চাইনি। চাইলে এতদিন সময় লাগার কথা নয়। একে একে তিন সরকার এলো। কিন্তু সাগর-রুনি হত্যার বিচারের কোনো অগ্রগতিই হয়নি। তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার তারিখ পিছিয়েছে ১২৫ বার। চাঞ্চল্যকর এমন কোনো হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন এতবার পেছানোর কোনো নজির আছে কিনা জানা নেই।
ডিআরইউর সাবেক সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন বাদশা বলেন, সাংবাদিক সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের বিচার দীর্ঘদিনেও সম্পন্ন না হওয়ায় একের পর এক সরকার জনগণকে হতাশ করেছে। ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের কাছেও বিচার পাওয়ার আশা ছিল, কিন্তু তারাও তা সম্পন্ন করতে পারেনি। এখন বর্তমান বিএনপি সরকারের কাছে প্রত্যাশা— তারা যেন এই হত্যাকাণ্ডের বিচার করে প্রমাণ করে যে খুনিদের ক্ষমতার চেয়ে আইনের শক্তি অনেক বেশি।
এ সময় সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন— ডিআরইউর সাবেক সভাপতি সৈয়দ শুকুর আলী শুভ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাজু আহমেদ, ডিইউজের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, ডিইউজের যুগ্ম সম্পাদক দিদারুল আলম, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল তালুকদার, মাছরাঙা টেলিভিশনের হেড অব নিউজ হামিদুল হক, ডিআরইউ’র যুগ্ম সম্পাদক মো. জাফর ইকবাল, দপ্তর সম্পাদক রাশিম মোল্লা, নারীবিষয়ক সম্পাদক জান্নাতুল ফেরদৌস পান্না, তথ্যপ্রযুক্তি ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক মাহমুদ সোহেল, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মো. মনোয়ার হোসেন, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক নাদিয়া শারমিন, সাবেক প্রশিক্ষণ ও গবেষণা সম্পাদক মশিউর রহমান, স্থায়ী সদস্য কুদরাত-ই খোদা, গাজী আবু বকর, মনোজ রায়, হারুন-উর রশীদ, ডি এম আমিরুল ইসলাম অমর ও ওবায়েদ অংশুমান। এ সময় ডিআরইউর অর্থ সম্পাদক নিয়াজ মাহমুদ সোহেল, কার্যনির্বাহী সদস্য মাহফুজ সাদিসহ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তিন উপসচিবকে ‘সহকারী মৌসুমি হজ অফিসার’ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। নিয়োগপ্রাপ্ত তিন উপসচিব সৌদি আরবের জেদ্দা, মক্কা ও মদিনায় অবস্থিত বাংলাদেশ হজ অফিসে ‘সহকারী মৌসুমী হজ অফিসার’ হিসেবে আগামী তিন মাস দায়িত্ব পালন করবেন।
সোমবার প্রেষণে এই নিয়োগ দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (অনুদান ও অডিট শাখা) মোহা. রুহুল আমিনকে জেদ্দা, মো. রফিকুল ইসলামকে মদিনা ও মোহাম্মদ শফিউজ্জামানকে মক্কায় অবস্থিত বাংলাদেশ হজ অফিসে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা।
সোমবার উপাচার্যের কার্যালয়ে সাক্ষাৎকালে তারা শিক্ষা, গবেষণা এবং পারস্পরিক সহযোগিতা সম্প্রসারণসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেছেন।
আলোচনায় উপাচার্য বলেন, ‘বাংলাদেশ এবং ভারতের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে অনেক মিল রয়েছে, যা ভবিষ্যৎ সহযোগিতার জন্য একটি শক্তিশালী ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে পারে। প্রশাসনিক কাঠামো, পাঠ্যক্রম এবং সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থায় বিদ্যমান এই সাদৃশ্যকে কাজে লাগিয়ে নতুন নতুন যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের সুযোগ রয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘বর্তমান সময়ে শিক্ষাকে শিল্প খাতের চাহিদার সঙ্গে আরো সামঞ্জস্যপূর্ণ করা অত্যন্ত জরুরি। কর্মবাজারের চাহিদা অনুযায়ী যুগোপযোগী ও আধুনিক পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করা প্রয়োজন।’
উপাচার্য বহুমুখী শিক্ষা, ডিপ্লোমা ও স্বল্পমেয়াদি কোর্স চালুর ওপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের জন্য নমনীয় শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন, যাতে তারা ধাপে ধাপে শিক্ষাজীবন সম্পন্ন করতে পারে।’ একই সঙ্গে তিনি শিক্ষার্থীদের সফট স্কিল উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং ভারতের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে উভয় পক্ষ আগ্রহ প্রকাশ করে। বিশেষ করে যৌথ গবেষণা, শিক্ষার্থী ও শিক্ষক বিনিময় কর্মসূচি এবং সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এ সময় প্রণয় ভার্মা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি প্রতিনিধিদলকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানান, যাতে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে সরাসরি আলোচনা করে কার্যকর সহযোগিতার ক্ষেত্র চিহ্নিত করা যায়। তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবসম্মত প্রস্তাব প্রণয়ন করা হলে তা বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান করা সম্ভব হবে।
এ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক সায়মা হক বিদিশা, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আবছার কামালসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কেরানীগঞ্জে রাসায়নিক ও বিস্ফোরক জাতীয় দ্রব্যের অবৈধ কারখানা উচ্ছেদ এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিতে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য আমান উল্লাহ আমান। তিনি বলেন, কদমতলীর মতো মর্মান্তিক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে।
সোমবার বেলা ১১টায় কেরানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যকালে এ কথা বলেছেন তিনি।
আমান উল্লাহ আমান বিগত সময়ে কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন কারখানায় ঘটে যাওয়া ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও প্রাণহানির প্রসঙ্গ টেনে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। প্রশাসনের উদ্দেশে তিনি বলেন, আগে কী হয়েছে তা আমি জানতে চাই না। কদমতলীর মর্মান্তিক ঘটনা আর যেন না ঘটে, সেজন্য এখনই ব্যবস্থা নিতে হবে। কেরানীগঞ্জে কেমিক্যাল ও বিস্ফোরণ ঘটতে পারে এমন সব কারখানা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। এসব কারখানার অধিকাংশেরই কোনো বৈধ অনুমোদন নেই।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অনেক সময় দুর্ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট কারখানার মালিকদের পরিচয় বা সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না, যা বিচারিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। এই সমস্যা সমাধানে দ্রুত তদন্ত শুরু করে মালিকদের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
উপজেলা প্রশাসন ও ইউনিয়ন পরিষদগুলোকে সতর্ক করে এ সংসদ সদস্য বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানকে সঠিক তদন্ত এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ছাড়া ট্রেড লাইসেন্স বা কোনো ধরনের অনুমোদন দেওয়া যাবে না। জনবসতিপূর্ণ এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ কারখানা স্থাপন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. উমর ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন— ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী, কেরানীগঞ্জ মডেল উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাজি শামীম হাসান, কেরানীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি আব্দুল গনী ও সাধারণ সম্পাদক শামিম আহমেদ।
দেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাব এবং জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো বন্ধ রাখা বা অনলাইন ক্লাসে যাওয়ার বিষয়ে এই মুহূর্তে সরকারের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে সাফ জানিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ স্পষ্ট করে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় অনলাইন ক্লাসের পথে হাঁটবে না, বরং সশরীরে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়ার পক্ষেই অবস্থান করছে। স্কুল বন্ধের বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি এবং শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতেই মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও শিক্ষা কার্যক্রম সরেজমিন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মন্ত্রণালয়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী জানান, আগামী জুন-জুলাই মাস নাগাদ শিক্ষা ক্ষেত্রে বেশ কিছু নতুন ও যুগোপকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে যাচ্ছে সরকার। মূলত সেই নতুন পদক্ষেপগুলোর মাঠপর্যায়ের প্রস্তুতি এবং বিদ্যালয়ের বর্তমান অবস্থা যাচাই করতেই এই ঝটিকা পরিদর্শনে নেমেছেন তিনি।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি, শিক্ষক, অভিভাবক এবং ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা শোনেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের ‘মিড ডে মিল’ বা দুপুরের খাবার কর্মসূচি এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যগত উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি শিক্ষার গুণগত মান নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিবেশ উন্নয়ন এবং আধুনিকায়নের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, সরকার প্রতিটি বিদ্যালয়ের ভৌত অবকাঠামো সংস্কারের ওপর জোর দিচ্ছে। সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এর জন্য সরাসরি ক্লাস বন্ধ করে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি এখনো তৈরি হয়নি বলে মনে করছে মন্ত্রণালয়।
প্রতিমন্ত্রী শিক্ষকদের নির্দেশ দিয়েছেন যাতে নিয়মিত পাঠদানের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্য সচেতনতার বিষয়েও পাঠ দেওয়া হয়। জ্বালানি সংকটের কারণে বিদ্যুৎসাশ্রয়ী হওয়া সত্ত্বেও শিক্ষা কার্যক্রমে যাতে ব্যাঘাত না ঘটে, সেদিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখা হচ্ছে।
গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ আরও বলেন, ‘প্রাথমিক স্তরের শিশুদের জন্য অনলাইন ক্লাস খুব একটা ফলপ্রসূ হয় না, তাই মন্ত্রণালয় সশরীরে উপস্থিত থেকে পাঠদানকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। অভিভাবকদের আশ্বস্ত করে তিনি বলেন, ‘শিশুদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার বিষয়টি সরকারের সর্বোচ্চ বিবেচনায় রয়েছে এবং পরিস্থিতির অবনতি হলে বিশেষজ্ঞ মতামতের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
আপাতত নিয়মিত স্কুল চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি নতুন শিক্ষাক্রম ও উন্নয়ন প্রকল্পের কাজগুলো এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের এই নিয়মিত পরিদর্শনের মাধ্যমে শিক্ষার মাঠপর্যায়ের চিত্র সরাসরি সরকারের উচ্চপর্যায়ে প্রতিফলিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিতাস গ্যাস কর্তৃক গ্যাসের অবৈধ ব্যবহার শনাক্তকরণ এবং উচ্ছেদ অভিযান কার্যক্রম চলমান রয়েছে। নিয়মিত অভিযানের অংশ হিসেবে গত রোববার (৫ এপ্রিল) মো. তারিফ আল তাওহীদ, সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, নারায়ণগঞ্জ -এর নেতৃত্বে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি-এর জোবিঅ-মেঘনাঘাট আওতাধীন দত্তপাড়া, দৈলেরবাগ ও পিরোজপুর , সোনারগাঁও, নারায়ণগঞ্জ এলাকার ৫টি স্পটে অবৈধ বিতরণ লাইন উচ্ছেদ/সংযোগ বিচ্ছিন্নের জন্য অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযানে, অবৈধ ৪টি চুনা কারখানা ও হিরাঝিল হাইওয়ে রেস্টুরেন্ট, পিরোজপুর, সোনারগাঁও-এর সংযোগ বিচ্ছিন্নসহ জি,আই পাইপ ৩০ ফুট, রেগুলেটর ১১ টি জব্দ/অপসারণ করা হয়েছে। এ সময় জরিমানা বাবদ ১৫ হাজার ৫ শত টাকা আদায় করা হয়েছে।
একই দিনে, প্যারাগন সিরামিকস ইন্ডা. লি., ভাওয়াল মির্জাপুর, গাজীপুর (৩৩২/৮৩২- ১০৭৯) বিল বকেয়ার কারনে গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। এ ছাড়া, বাংজিন প্যাডিং লি, কুনিয়া, তারগাছ,গাজীপুর (৩৩২/৮৩২- ০০০২৪৭) -এর বিল বকেয়ার কারণে উভয় শ্রেণির আউটলেট ভালভ বন্ধ করে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়াও, ক্যাফে কস্তুরী রেস্টুরেন্ট, রাজবাড়ী রোড, জয়দেবপুর, গাজীপুর (২৩২- ০০০৩৮৩)- এর বিল বকেয়ার কারণে বাণিজ্যিক শ্রেণির আউটলেট ভালভ বন্ধ করে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছে।
এ ছাড়া তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি-এর জোবিঅ- মানিকগঞ্জ আওতাধীন দাশড়া এবং বান্দুটিয়া মানিকগঞ্জ এলাকায় অবৈধ বিতরণ লাইন উচ্ছেদ/সংযোগ বিচ্ছিন্নের জন্য অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অভিযানে, বকেয়াজনিত কারণে ৬টি সংযোগের ১৬টি ডাবল চুলার-এর সংযোগ বিচ্ছিন্নসহ রেগুলেটর ২টি জব্দ/অপসারণ করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ৩১ মার্চ তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি -এর আঞ্চলিক বিপণন বিভাগ- সাভার আওতাভুক্ত জোবিঅ-আশুলিয়া ও জোবিঅ-সাভার এলাকায় শিল্প গ্রাহকদের বকেয়া আদায়ে ২ টি টিম প্রেরণ করা হয়।
এতে মেসার্স গ্রামীণ নীটওয়্যার লি. (গ্রাহক সংকেত নং-৩৩৮-০০০১৯১), মেসার্স সিএমসি কামাল টেক্সটাইল মিলস লি. (গ্রাহক সংকেত নং-৮৩৮০০০১৫৬), মেসার্স লোটাস কামাল নীটওয়্যার লি. (গ্রাহক সংকেত নং-৮৩৮০০০৪৪৯), মেসার্স এলকে ইউনিটেক্স কো. লি., (গ্রাহক সংকেত নং-৮৩৮০০০৩৬৩), এইচ.আর টেক্সটাইল লি. (৩৩৮/৮৩৮০০৭৪) মঙ্গল বেকারি (২৩৮০০০৫৬৯)-এর গ্যাস সংযোগ বকেয়ার কারণে বিচ্ছিন্ন করাসহ ন্যাশনাল বেভারেজ (৩৩৮/৮৩৮০০০২৭৮), স্নো হোয়াইট কটন লি. (৩৩৮/৮৩৮০০৬৭৪) ও রেদোয়ান প্যাকেজিং (৩৩৮০০৬৩৪) এর বকেয়ার কারণে আউটলেটে সিল স্থাপন করে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছে।