বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি ২০২৬
১ মাঘ ১৪৩২

জমকালো আয়োজনে ডিএমপির ৪৯তম প্রতিষ্ঠা দিবস উদযাপিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ২০:১৯

‘সেবা ও সদাচার, ডিএমপির অঙ্গীকার’- এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ৪৯তম প্রতিষ্ঠা দিবস। বৃহস্পতিবার বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে দিনটি পালিত হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এমপি এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ব্যারিষ্টার শেখ ফজলে নূর তাপস, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও পুলিশের মহাপরিদর্শ (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধান অতিথি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বিশেষ অতিথিদের সঙ্গে নিয়ে বেলুন উড়িয়ে ও কেক কেটে প্রতিষ্ঠা ‍বাার্ষিকীর উদ্বোধন করেন। এরপর প্রতিষ্ঠা দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত বিশেষ ম্যাগাজিন ‘আস্থা’ এবং ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান সম্পাদিত জেলখানায় থাকাকালীন বঙ্গবন্ধুর চিঠিপত্রের সংকলন “লেটারস অব বঙ্গবন্ধু” মোড়ক উন্মোচন করেন ।

সভাপতির স্বাগত বক্তব্যে ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেন, ১২টি থানা ও ৬ হাজার পুলিশ সদস্য নিয়ে যাত্রা শুরু করে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। নগরবাসীর আস্থা ও নির্ভরতার প্রতীক হয়ে আজ ৫০টি থানা ও ৩৪ হাজার পুলিশ সদস্য নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে ডিএমপি।

তিনি বলেন, প্রতিনিয়ত অপরাধের ধরণ পরিবর্তন হচ্ছে। ডিএমপি অতি দক্ষতার সঙ্গে এসব অপরাধকে মোকাবিলা করেছে। অপরাধ দমনে ক্রাইম বিভাগের পাশাপাশি ডিবি পুলিশও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। এছাড়া জঙ্গি দমনেও দক্ষতার পরিচয় দেখিয়েছে ডিএমপি। ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম বিভাগ জঙ্গিবাদ সফলতার সঙ্গে দমন করেছে। জঙ্গিবাদ দমনে বাংলাদেশ এখন রোল মডেল। এছাড়া গুজব ও সাইবার ক্রাইমের মতো অপরাধ ডিএমপি সাহসিকতার সঙ্গে মোকাবিলা করে যাচ্ছে। সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে ডিএমপি ওয়ান স্টপ সাইবার সেন্টার চালু করতে যাচ্ছে।

ডিএমপি আইন শৃঙ্খলার পাশাপাশি সামাজিক কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে কমিশনার বলেন, পুলিশ ব্লাড ব্যাংকের মাধ্যমে ডিএমপি মুমূর্ষু রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছে। করোনাকালে মা-বাবা বা আত্মীয়স্বজন মরদেহ রেখে অনেকে পালিয়েছিল। কিন্তু পুলিশ পরম মমতায় সব মরদেহ সৎকার করেছে। কখনো কখনো তারা প্লাজমা দিয়ে রোগীদের সেবা করেছে।

যানজটের বিষয়ে ডিএমপি কমিশনার বলেন, যানজট ঢাকা শহরের অন্যতম একটি সমস্যা। এই সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্টদের এগিয়ে আসতে হবে। আমরা এমন একটি ঢাকা করতে চাই যেখানে উত্তরা থেকে ১৫ মিনিটে গুলিস্তান আসা যায়। সকলের সহযোগীতায় আমরা স্মার্ট ডিএমপি করতে চাই। আমরা এমন একটি ডিএমপি করতে চাই যেখানে একজন নারী রাত তিনটায় রাস্তা দিয়ে চলাচল করলে তার যেন মনে হয় তার পিছনে একজন পুলিশ সদস্য আছেন।

প্রতিষ্ঠা দিবসে সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ৫০টি থানার ৩৪ হাজার জনবল নিয়ে ঢাকায় বসবাস করা নগরবাসীর নিরাপত্তার জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ পুলিশের মোট জনবল দুই লাখ দশ হাজারের বেশি। সেই হিসেবে একজন পুলিশ ৮২৫ জন মানুষকে নিরাপত্তা দিচ্ছে।

তিনি বলেন, জঙ্গিবাদের উত্থান হয়েছিল সেজন্য কাউন্টার টেররিজম ইউনিট গঠন করা হয়েছিল। আমরা সাইবার ইউনিট তৈরি করেছিলাম, ভিক্টিম সাপোর্ট সেন্টার গড়ে তুলেছিলাম, আমরা ট্রাফিক নিয়ন্ত্রের জন্য ট্রাফিক ইউনিট করেছি যা ডিএমপির কমিশনারের অধিনে কাজ করে যাচ্ছে। জনগণের আস্থার জায়গা, বিশ্বাসের জায়গাটাতে পুলিশ এসেছে। পুলিশ আজ জনগণের বন্ধু।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০১৪-১৫ সালে আগুন সন্ত্রাসের মাধ্যমে মানুষকে হত্যা করার দৃশ্য আপনারা দেখেছেন। জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে মারার দৃশ্য দেখেছেন। তখন কাজ করতে গিয়ে অনেক পুলিশ সদস্য শাহাদাত বরণ করেছেন। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রত্যেকটা আন্দোলনে ও সংকটে পুলিশ অত্যন্ত দক্ষতা ও বীরত্বের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। এ কারণেই আজ বাংলাদেশ দুর্বার গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিষ্টার শেখ ফজলে নূর তাপস বলেন, ডিএমপি ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন একযোগে কাজ করে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মেয়র আতিকুল ইসলাম বলেন, ডিএনসিসির আওতায় প্রত্যেকটি পুলিশ বক্সে টয়লেট, সুপেয় পানি ও বসার ব্যবস্থা করা হবে। পুলিশ বক্স করার জন্য দশ কোটি টাকা বাজেট করা হয়েছে। আমরা প্রত্যেকটি পুলিশ বক্স আধুনিক করে দেবো।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ডিএমপি বাংলাদেশ পুলিশের মুখচ্ছবি হয়ে, জনগণের সেবক হয়ে, জনগণের সুখে-দুঃখে, আনন্দ-বেদনায় জনগণের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছে।

ডিএমপির ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে সব সদস্যকে শুভেচ্ছা জানিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, থানাকে নির্ভরতার প্রতীক হিসেবে দেখতে চাই। এক্ষেত্রে ডিএমপির দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে হবে।

আইজিপি বলেন, ডিএমপি বর্তমানে ৫০টি থানা নিয়ে বাংলাদেশ পুলিশের সর্ববৃহৎ ইউনিট হিসেবে ঢাকাবাসীকে সেবা দিয়ে যাচ্ছে। নাগরিকদের মধ্যে আইনের প্রতি শ্রদ্ধার সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেমন দেশ ও সরকারের দর্পণ তেমনি সব দিক থেকে ডিএমপির কার্যক্রমে সফলতা ও ব্যর্থতা দিয়ে অনেকাংশে বাংলাদেশ পুলিশ মূল্যায়িত হয়ে থাকে। এজন্য নগরবাসীর সঙ্গে ডিএমপির সৌহার্দ্য ও সংহতি বৃদ্ধি করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার সব প্রচেষ্টাই হবে আজকের এই দিনে সবার প্রত্যয় ও মূল লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, সচিব, বিচার বিভাগের বিচারক, সশস্ত্র বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা, বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সাবেক আইজিপি ও কমিশনার, ঢাকাস্থ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের প্রধান, বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতা ও প্রতিনিধি, ৭১’সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রথম প্রতিরোধ যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী জীবিত পুলিশ সদস্য ও আমন্ত্রিত অন্যান্য অতিথি এবং বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


বিজিবি সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন ফেলানীর ভাই

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নির্মমভাবে নিহত কিশোরী ফেলানী খাতুনের ছোট ভাই মো. আরফান হোসেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সিপাহি পদে শপথ গ্রহণ করেছেন। বোন হারানোর গভীর শোককে দেশপ্রেমের শক্তিতে রূপান্তরিত করে দীর্ঘ প্রশিক্ষণ শেষে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই বাহিনীতে যোগদান করলেন। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্ন করার পর আরফান হোসেন শপথ নিয়েছেন এবং এখন থেকে তিনি বিজিবির একজন গর্বিত সিপাহি হিসেবে দেশের সীমান্ত রক্ষার পবিত্র দায়িত্ব পালন করবেন।

শপথ গ্রহণের পর নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আরফান হোসেন। তিনি দেশমাতৃকার সেবায় নিজেকে উৎসর্গ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। আরফান বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, আমার বোনকে যে সীমান্তে হত্যা করা হয়েছে, আজ আমি সেই সীমান্তের রক্ষী। সীমান্তে দায়িত্বরত থাকা অবস্থায় আমি কখনোই চাইব না যে, আমার বোনের মতো আর কারও বোন বা কোনো বাবা-মায়ের সন্তানকে এভাবে হত্যা করা হোক। তিনি শপথ করে বলেন, প্রয়োজন হলে নিজের জীবন দিয়ে হলেও তিনি সীমান্ত রক্ষা করবেন এবং সীমান্তে এ ধরনের নির্মম হত্যাকাণ্ড প্রতিরোধে সচেষ্ট থাকবেন।

এর আগে গত বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি লালমনিরহাটে ১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়ন সদর দপ্তরে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আরফান হোসেনের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দিয়েছিলেন ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম। সে সময় আরফানের বাবা মো. নুরুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন। ছেলের এই সাফল্যে সন্তোষ প্রকাশ করে নুরুল ইসলাম বলেন, তার ছেলে নিজের যোগ্যতাতেই এই চাকরি পেয়েছে এবং এর পেছনে সবার দোয়া ছিল। তিনি বিশ্বাস করেন, আরফান চাকরিজীবনে সততা ও দক্ষতার পরিচয় দিতে সক্ষম হবে। ছেলের এই দেশসেবার মাধ্যমেই তার মেয়ে ফেলানীর আত্মা শান্তি পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার অনন্তপুর সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নির্মমভাবে প্রাণ হারান কিশোরী ফেলানী খাতুন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর দীর্ঘক্ষণ তার মরদেহ কাঁটাতারে ঝুলে ছিল, যা দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে এবং বিবেকে নাড়া দেয়। দীর্ঘ ১৫ বছর পেরিয়ে গেলেও ফেলানীর পরিবার এখনো সেই হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় রয়েছে। তবে ছোট ভাই আরফানের বিজিবিতে যোগদান শোকসন্তপ্ত এই পরিবারটির মাঝে কিছুটা হলেও স্বস্তি ও নতুন আশার সঞ্চার করেছে। নিয়োগপত্র হস্তান্তরের সময় বিজিবি কর্মকর্তারাও আশ্বস্ত করেছিলেন যে, তারা সর্বদা ফেলানীর পরিবারের পাশে থাকবেন।


বাহরাইনে পোস্টাল ব্যালট বিতরণের অভিযোগ তদন্তাধীন: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাহরাইনে একটি বাসা থেকে বিপুল সংখ্যক পোস্টাল ব্যালট বিতরণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে এবং বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। বুধবার (১৪ জানুয়ারি ২০২৬) দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই তথ্য নিশ্চিত করেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি প্রশাসনের নজরে আসে, যেখানে দেখা যায় বাহরাইনে অবস্থানরত এক জামায়াত নেতার বাসা থেকে এসব ব্যালট বিতরণ করা হচ্ছে।

ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর জনমনে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে পোস্টাল ব্যালটের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, তিনি বিষয়টি দেখেছেন এবং এ ব্যাপারে যথাযথ তদন্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ হলে আসলে কী ঘটেছে এবং ঘটনার সত্যতা কতটুকু, তা পরিষ্কার হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রথমবারের মতো শুরু হওয়া এই পোস্টাল ব্যালট প্রক্রিয়ায় প্রায় ১৫ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশি ভোট দিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। এত বিশাল একটি কর্মযজ্ঞ পরিচালনা করতে গেলে কিছু সমস্যা বা অনিয়মের চেষ্টা হতে পারে, যা মোকাবিলার জন্য সরকার প্রস্তুত রয়েছে।

রাজনৈতিক বাস্তবতার কথা উল্লেখ করে মো. তৌহিদ হোসেন বলেন, রাজনীতির মাঠে যারা বিচরণ করেন, তারা সবাই যে নিখুঁত মানুষ, বিষয়টি এমন নয়। কেউ সুযোগ পেলে এই প্রক্রিয়ার অপব্যবহার করার চেষ্টা করবে—এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। তবে সরকারের মূল লক্ষ্য হলো যেন কোনোভাবেই এই সুযোগের অপব্যবহার না হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যখনই কোনো অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যাবে, তখনই তা তদন্ত করা হবে। তদন্তের নির্দেশ ইতিমধ্যে দেওয়া হয়েছে, তবে তদন্তকাজ কতটুকু এগিয়েছে তা এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশি মিশনগুলোর ভূমিকা প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বিষয়টি স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, পোস্টাল ব্যালট প্রক্রিয়ায় মিশনগুলোর ভূমিকা খুব একটা বেশি নয়। নিয়ম অনুযায়ী ব্যালট পেপার সরাসরি ভোটারদের কাছে পৌঁছে যাবে এবং তারা ভোট প্রদান করে তা ডাকযোগে বা বাই-পোস্ট দেশে পাঠাবেন। তাই পুরো প্রক্রিয়াটি এই দৃষ্টিকোণ থেকেই বিচার করতে হবে। তবে সরকার প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর।


স্মার্ট ওয়াটার ম্যানেজমেন্টে নতুন অধ্যায়: ঢাকায় স্মার্ট মিটার সিস্টেম (এসডব্লিউএম) পাইলট প্রকল্পের উদ্বোধন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা শহরের পানি ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক, দক্ষ ও টেকসই করার লক্ষ্যে “স্মার্ট ওয়াটার ম্যানেজমেন্ট (SWM) - এর জন্য স্মার্ট মিটার সিস্টেম পাইলট প্রকল্প”- এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি ২০২৬) সকাল ৯টায় ঢাকা ওয়াসা ভবনের বুড়িগঙ্গা মাল্টিপারপাস হল-এ এ উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাননীয় উপদেষ্টা, স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, জনাব আদিলুর রহমান খান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব জনাব মো. রেজাউল মাকসুদ জাহেদী এবং মিস হেজং কিম, চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স, বাংলাদেশে কোরিয়া প্রজাতন্ত্রের দূতাবাস।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. আব্দুস সালাম ব্যাপারী।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ঢাকা ওয়াসার সার্বিক কার্যক্রম নিয়ে একটি ভিডিও প্রেজেন্টেশন প্রদর্শন করা হয়। একই সঙ্গে স্মার্ট মিটার সিস্টেম পাইলট প্রকল্পের কারিগরি দিকসমূহ তুলে ধরে একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়। এছাড়া সাসটেইনেবল ডিএমএ ম্যানেজমেন্ট টুল (SDMT) বিষয়ক একটি বিশেষ কারিগরি উপস্থাপনাও অনুষ্ঠিত হয়।

বক্তারা তাঁদের বক্তব্যে বলেন, স্মার্ট মিটার সিস্টেম বাস্তবায়নের মাধ্যমে পানির অপচয় হ্রাস, অবৈধ সংযোগ শনাক্তকরণ, বিলিং ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং গ্রাহকসেবার মানোন্নয়ন সম্ভব হবে। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, এ পাইলট প্রকল্প ঢাকা শহরের পানি ব্যবস্থাপনায় একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

প্রধান অতিথি তাঁর বক্তব্যে স্মার্ট প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নগর পানি ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, এই পাইলট প্রকল্পের সফল বাস্তবায়ন ভবিষ্যতে বৃহত্তর পরিসরে স্মার্ট মিটারিং ব্যবস্থা সম্প্রসারণের পথ সুগম করবে।

অনুষ্ঠানের শেষে সভাপতির সমাপনী বক্তব্য ও ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।


গাজায় সেনা মোতায়েন নিয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

গাজায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীতে (আইএসএফ) বাংলাদেশের অংশগ্রহণের বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে পর্যালোচনামূলক আলোচনা চলছে। সম্প্রতি ওয়াশিংটন সফরে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান এই বাহিনীতে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করার পর থেকেই দেশীয় ও আন্তর্জাতিক মহলে নানা বিতর্কের সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে জাতিসংঘের সরাসরি তত্ত্বাবধান ছাড়া এমন কোনো সামরিক অভিযানে বাংলাদেশের যোগ দেওয়া কতটা যৌক্তিক হবে, তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে বিষয়টি এখনো আলোচনার পর্যায়েই রাখা হয়েছে।

নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে উপদেষ্টা জানান, আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের সময় যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি বা বিশৃঙ্খলা এড়াতে সাময়িকভাবে অনঅ্যারাইভাল ভিসা সুবিধা স্থগিত রাখা হয়েছে। এছাড়া চীনের কারিগরি সহায়তায় বাংলাদেশে নির্মিত সামরিক স্থাপনাগুলো নিয়ে সৃষ্ট জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের প্রকল্পের মাধ্যমে অন্য কোনো বন্ধুপ্রতিম রাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়তে দেওয়া হবে না। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি সব দেশের সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রেখেই পরিচালিত হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তৌহিদ হোসেন জানান, সীমান্তে সাম্প্রতিক হতাহতের ঘটনায় ঢাকায় নিযুক্ত মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ সজাগ রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, গাজা মিশনে সেনা পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক শুরু হলে এর আগে প্রেস সচিব শফিকুল আলমও সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছিলেন। মূলত ফিলিস্তিনের প্রতি বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের সংহতি এবং আন্তর্জাতিক শান্তি মিশনে অংশগ্রহণের অভিজ্ঞতার আলোকেই এই জটিল বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।


নির্বাচনে নিরপেক্ষতা ও পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে ডিএমপি কমিশনারের কঠোর নির্দেশনা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দল-মতের ঊর্ধ্বে থেকে একটি স্বচ্ছ, ত্রুটিমুক্ত এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেওয়ার জন্য পুলিশ সদস্যদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে রাজারবাগের বাংলাদেশ পুলিশ অডিটোরিয়ামে আয়োজিত ডিসেম্বর-২০২৫ মাসের মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব নির্দেশনা দেন। কমিশনার স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, এই নির্বাচন দেশের ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হতে যাচ্ছে, তাই দায়িত্ব পালনকালে কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে যেন সামান্যতম পক্ষপাতিত্ব বা অনিয়মের অভিযোগ না ওঠে, সেদিকে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

নির্বাচনী পরিবেশ স্থিতিশীল রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে ডিএমপি কমিশনার বলেন, প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে নির্বাচনী আচরণবিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। কোনো নিষিদ্ধ সংগঠন যাতে জনমনে আতঙ্ক ছড়াতে বা নির্বাচনের সুষ্ঠু পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে, সে ব্যাপারে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেন তিনি। একই সাথে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে যাতে কেউ অনৈতিক রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে না পারে, সে বিষয়েও পুলিশকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। তিনি সকল পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ সততা ও পেশাদারিত্বের সাথে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনের তাগিদ দেন।

অনুষ্ঠানে ডিএমপির অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও তাদের মতামত তুলে ধরেন। অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অ্যাডমিন) মো. সরওয়ার পুলিশের নিরপেক্ষ ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে বলেন যে, প্রতিটি সদস্যকে আইন মেনে কাজ করতে হবে। অন্যদিকে, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস্) এস এন মো. নজরুল ইসলাম জানান যে, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে কোনো ধরনের নাশকতা বরদাশত করা হবে না এবং দুষ্কৃতিকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। সভা শেষে ডিসেম্বর মাসে ঢাকা মহানগরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অবদানের জন্য বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের পুরস্কৃত করা হয়। সভায় ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার, উপ-কমিশনার এবং সকল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


এক বছরে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যকার বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গত এক বছরে অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি দুই দেশের বর্তমান কূটনৈতিক অবস্থা নিয়ে এই ইতিবাচক তথ্য তুলে ধরেন। উপদেষ্টা জানান, দুই দেশের মধ্যে একটি ভারসাম্যপূর্ণ ও স্বাভাবিক সম্পর্ক বজায় রাখার লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিত কাজ করা হচ্ছে এবং এরই মধ্যে সম্পর্কের ক্ষেত্রে দৃশ্যমান উন্নতি লক্ষ্য করা গেছে।

সম্প্রতি সৌদি আরবের জেদ্দায় পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে হওয়া বৈঠকের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তৌহিদ হোসেন বলেন, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের মানোন্নয়নে জোরালো চেষ্টা চলছে। এর সুফল হিসেবে গত এক বছরে পরিস্থিতির অনেক পরিবর্তন হয়েছে। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন যে, দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বর্তমানে আলোচনা চলছে এবং সেগুলোতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হলে দেশবাসীকে তা জানানো হবে।

কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে গত সপ্তাহেই তৌহিদ হোসেন ও ইসহাক দারের মধ্যে দুইবার টেলিফোনে কথোপকথন হয়েছে। এই ধারাবাহিক যোগাযোগের পর চলতি সপ্তাহের রবিবার জেদ্দায় দুই দেশের শীর্ষ এই কূটনীতিকরা সরাসরি বৈঠকে বসেন। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে টেলিফোনে আলাপ এবং এরপর সরাসরি সাক্ষাৎকে দুই দেশের সম্পর্ক পুনরায় শক্তিশালী করার পথে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।


সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও জনসেবাই সশস্ত্র বাহিনীর মূল লক্ষ্য: সেনাপ্রধান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং যেকোনো জাতীয় বিপর্যয়ে জনগণের পাশে থাকাই বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান অঙ্গীকার বলে জানিয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে আশুলিয়ায় বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) একাডেমিতে আয়োজিত বার্ষিক কেন্দ্রীয় ক্যাম্পিংয়ের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সেনাপ্রধান দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন যে, সশস্ত্র বাহিনী দেশ ও জাতির সেবায় সর্বদা নিয়োজিত রয়েছে।

জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান তার বক্তব্যে বিএনসিসি ক্যাডেটদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর সহযোগী হিসেবে দেশের নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং যেকোনো ক্রান্তিলগ্নে এই ক্যাডেটরা প্রশংসনীয় অবদান রেখে চলেছে। সামাজিক ও জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণকে তিনি অত্যন্ত গুরুত্ববহ বলে অভিহিত করেন এবং সংশ্লিষ্ট সকল সদস্যকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে সেনাবাহিনী প্রধান কুচকাওয়াজ পরিদর্শন করেন এবং ক্যাডেটদের অভিবাদন গ্রহণ করেন। এরপর তিনি কৃতি ক্যাডেটদের মধ্যে বিশেষ পুরস্কার বিতরণ করেন। প্যারেড শেষে বিএনসিসি ক্যাডেটরা এক মনোজ্ঞ ডিসপ্লে প্রদর্শন করেন, যা উপস্থিত অতিথিদের মুগ্ধ করে।

এই সমাপনী অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর সামরিক সচিব, ৯ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এবং বিএনসিসি অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সশস্ত্র বাহিনীর পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর মাধ্যমে ২০২৫/২৬ বর্ষের বার্ষিক কেন্দ্রীয় ক্যাম্পিংয়ের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।


নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করলে কাউকে ছাড় নয়: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কঠোর বার্তা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নস্যাৎ করতে দেশের বাইরে থেকে কোনো ধরনের অপতৎপরতা চালানো হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এ ধরনের কোনো ষড়যন্ত্র বরদাশত করা হবে না এবং জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ট্রেনিং সেন্টারে ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা জানান, একটি শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্যে বিজিবি সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। এবারের নির্বাচনে পার্বত্য তিন জেলা বাদে দেশের বাকি ৬১টি জেলায় মোট ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন বিজিবি সদস্য নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবেন। স্বাধীনতার পর থেকে যেকোনো নির্বাচনের তুলনায় এবারই সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বিজিবি সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বিদেশে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতাদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, বিদেশ থেকে বসে বড় বড় কথা না বলে সাহস থাকলে দেশের ভেতরে এসে কথা বলুন। দেশের বাইরে থেকে নির্বাচন বানচালের যেকোনো চেষ্টার বিরুদ্ধে প্রশাসন অত্যন্ত সজাগ রয়েছে বলে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন। এছাড়া মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আরাকান আর্মির ছোড়া গোলা প্রায়ই বাংলাদেশের সীমান্তে এসে পড়ছে। তবে সংগঠনটি অবৈধ হওয়ায় তাদের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের কোনো ধরনের দাপ্তরিক যোগাযোগ নেই।


কেএফসি'র মেন্যুতে নতুন সংযোজন: বক্স মাস্টার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে গ্লোবাল ব্র্যান্ড কেএফসি'র একমাত্র ফ্র্যাঞ্চাইজি “ট্রান্সকম ফুডস লিমিটেড” ২০০৬ সাল থেকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। কেএফসি বাংলাদেশ প্রতিবারের মতো এবারও গ্রাহকদের জন্য নিয়ে এসেছে স্বাদের নতুন এক চমক – বক্স মাস্টার! নতুন ও ভিন্ন অভিজ্ঞতা খুঁজে বেড়ানো ফুড লাভারদের জন্য এটি একটি অনন্য উদ্ভাবন, যা একসঙ্গে উপস্থাপন করে স্বাদ, টেক্সচার এবং অতুলনীয় ফ্লেভারের অসাধারণ সমন্বয়।

নতুন এই আইটেমটিতে তুলতুলে নরম টর্টিয়াতে মোড়ানো হয়েছে কেএফসি-র সিগনেচার হট এন্ড ক্রিস্পি জিঙ্গার ফিলে। এর সঙ্গে রয়েছে হ্যাশ ব্রাউন, ফ্রেশ ভেজ মিক্স,স্পাইসি ন্যাশভিল সস ও চিজ স্লাইস। প্রতিটি কামড়ে থাকবে ঝাল, ক্রিমি আর ক্রাঞ্চের দুর্দান্ত মেলবন্ধন – যা একদিকে যেমন মজাদার, অন্যদিকে তেমনি রোমাঞ্চকর।

বক্স মাস্টার এখন পাওয়া যাচ্ছে দেশের সকল কেএফসি আউটলেটে – ডাইন-ইন, টেকঅ্যাওয়ে, হোম ডেলিভারি, কেএফসি অ্যাপ এবং অনলাইন অর্ডারে: kfcbd.com/menu/box-master


মিয়ানমার সীমান্তে গুলিবিদ্ধ শিশু হুজাইফার চিকিৎসায় প্রস্তুত রাজধানীর নিউরোসায়েন্সেস হাসপাতাল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মিয়ানমার সীমান্তে সংঘটিত ঘটনায় গুলিবিদ্ধ শিশু হুজাইফার উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস (নিনস) হাসপাতালকে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রাখা হয়েছে। শিশুটিকে ভর্তির জন্য ইতোমধ্যেই হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ রুমে একটি বিশেষ শয্যা সংরক্ষণ করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিশুটিকে ঢাকায় নিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গেই কালক্ষেপণ না করে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু করার যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।

এর আগে গত সোমবার গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হুজাইফাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল এবং সেখানে তার মাথায় জরুরি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গুলির আঘাতের কারণে শিশুটির মস্তিষ্কের একপাশে প্রচণ্ড চাপ বা ইন্ট্রাক্রেনিয়াল প্রেসার বেড়ে গিয়েছিল। এই চাপ নিয়ন্ত্রণ ও জীবন বাঁচাতে চিকিৎসকরা তাৎক্ষণিকভাবে তার মাথার খুলির ডান পাশ অপারেশন করে খুলে রাখার সিদ্ধান্ত নেন, যা বর্তমানে সেভাবেই রাখা হয়েছে।

হুজাইফার শারীরিক অবস্থার জটিলতা বিবেচনায় মঙ্গলবার বেলা ১১টায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে একটি উচ্চপর্যায়ের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। এই বোর্ডে নিউরোসার্জন, নিউরোলজিস্ট, শিশু বিশেষজ্ঞ, ভাস্কুলার সার্জন, আইসিইউ স্পেশালিস্ট ও অ্যানেস্থেসিওলজিস্টসহ একাধিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক অংশগ্রহণ করেন। শিশুটির বর্তমান অবস্থা পর্যালোচনার পর মেডিকেল বোর্ডের সম্মিলিত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই তাকে উন্নততর ব্যবস্থাপনার জন্য ঢাকায় নিনসে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বর্তমানে শিশু হুজাইফার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তার গ্লাসগো কোমা স্কেল (GCS) বা জ্ঞানের মাত্রা ১৫-এর মধ্যে মাত্র ৭-এ নেমে এসেছে, যা গভীর অচেতন অবস্থার ইঙ্গিত দেয়। তার শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে মেকানিক্যাল ভেন্টিলেশন বা কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস ব্যবস্থার সহায়তা নেওয়া হচ্ছে। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস কর্তৃপক্ষ আশ্বস্ত করেছে যে, হুজাইফার চিকিৎসায় তাদের বিশেষজ্ঞ দল সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়ে অপেক্ষা করছে এবং তার জীবন রক্ষায় প্রয়োজনীয় যেকোনো ব্যবস্থা গ্রহণে তারা প্রস্তুত।


আগামীকাল থেকে আবারও শৈত্যপ্রবাহ বিস্তারের পূর্বাভাস: উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা কমার শঙ্কা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের উত্তরাঞ্চলে চলমান শৈত্যপ্রবাহের বিস্তার আগামীকাল থেকে আবারও বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। গত দশ দিনেরও বেশি সময় ধরে চলা শৈত্যপ্রবাহটি বুধবার কিছুটা সীমিত পরিসরে থাকলেও আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন যে, বৃহস্পতিবার থেকে দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে শীতের প্রকোপ নতুন করে শুরু হতে পারে। বুধবার (১৪ জানুয়ারি ২০২৬) সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বিশেষ করে আগামী শনিবার পর্যন্ত উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে তাপমাত্রা এক থেকে দুই ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বর্তমানে পঞ্চগড় জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। বুধবার সকালে দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগরের তেঁতুলিয়ায়, যা ছিল ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর মাধ্যমে টানা সাত দিন ধরে তেঁতুলিয়াতেই দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বিরাজ করছে। এর আগে মঙ্গলবার সেখানে ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি, সোমবার ৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি এবং রবিবার ৭ দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল। এদিকে রাজধানী ঢাকাতেও তাপমাত্রার পারদ কিছুটা নিম্নমুখী। মঙ্গলবার তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও বুধবার সকালে ঢাকায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৫ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক জানিয়েছেন, গত প্রায় চার দিন ধরে শৈত্যপ্রবাহের তীব্রতা কিছুটা কমতির দিকে ছিল। তবে আগামীকাল থেকে উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে তাপমাত্রা কমার প্রবণতা শুরু হবে এবং তা আগামী শনিবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। এরপর তাপমাত্রা পুনরায় বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের মানদণ্ড অনুযায়ী, তাপমাত্রা ৮ দশমিক ১ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকলে তাকে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, ৬ দশমিক ১ থেকে ৮ ডিগ্রি হলে মাঝারি এবং ৪ দশমিক ১ থেকে ৬ ডিগ্রি হলে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বলা হয়। আর তাপমাত্রা ৪ ডিগ্রির নিচে নামলে তা অতি তীব্র শৈত্যপ্রবাহ হিসেবে গণ্য হয়।

উল্লেখ্য, আবহাওয়া অধিদপ্তর চলতি মাসের শুরুতেই দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে জানিয়েছিল যে জানুয়ারি মাসে দেশে মোট পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে, যার মধ্যে একটি তীব্র শৈত্যপ্রবাহে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। মাসের শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে শীতের তীব্রতা অনুভূত হচ্ছে। আবহাওয়ার বর্তমান পরিস্থিতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, তেঁতুলিয়া ও এর আশেপাশের এলাকায় বর্তমানে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বিরাজমান রয়েছে, যা আগামী কয়েক দিনে পার্শ্ববর্তী অঞ্চলগুলোতে ছড়িয়ে পড়তে পারে।


নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভুয়া তথ্য ও গুজব মোকাবিলায় জাতিসংঘের সহায়তা চাইলেন প্রধান উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তি মোকাবিলায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয়ের সহায়তা চেয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। মঙ্গলবার জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্কের সঙ্গে টেলিফোনে আলাপকালে তিনি এই সহায়তার আহ্বান জানান। প্রধান উপদেষ্টা আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে মিথ্যা সংবাদ, গুজব ও অনুমানের যে বন্যা দেখা যাচ্ছে, তা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

টেলিফোন আলাপে প্রধান উপদেষ্টা উল্লেখ করেন, কেবল স্থানীয় সূত্র নয়, বিদেশি গণমাধ্যম থেকেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ভুয়া তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে এই অপপ্রচার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। এর জবাবে ভলকার তুর্ক জানান, বিষয়টি ইতিমধ্যে তার নজরে এসেছে এবং ভুয়া তথ্যের এই ব্যাপকতা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি আশ্বাস দেন যে, এই সমস্যা মোকাবিলায় জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় বাংলাদেশের পাশে থাকবে এবং প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা প্রদান করবে। তিনি জানান, ভুয়া তথ্য রোধে তার সংস্থা বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী।

উভয় পক্ষের আলোচনায় আসন্ন গণভোট, রাষ্ট্রীয় প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, গুম সংক্রান্ত কমিশনের কার্যক্রম এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন (এনএইচআরসি) গঠনের বিষয়গুলো উঠে আসে। ভলকার তুর্ক গুম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর সঠিক অনুসন্ধানের স্বার্থে একটি ‘বাস্তব অর্থে স্বাধীন’ জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠনের ওপর জোর দেন। এ প্রসঙ্গে ড. ইউনূস তাকে আশ্বস্ত করে বলেন, মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ইতিমধ্যে জারি করা হয়েছে এবং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগেই নতুন করে কমিশন পুনর্গঠন করা হবে। সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এই গুরুত্বপূর্ণ কাজটি সম্পন্ন করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

এছাড়াও ফোনালাপে গুম-সংক্রান্ত কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের প্রসঙ্গটি আলোচিত হয়। প্রধান উপদেষ্টা জানান, তিনি ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত স্বৈরশাসনামলে সংঘটিত গুমের ঘটনাগুলোর ওপর তৈরি কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনারের কাছে হস্তান্তর করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের জন্য ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে এই প্রতিবেদনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ভলকার তুর্ক গত দেড় বছরে প্রধান উপদেষ্টার নেওয়া বিভিন্ন সংস্কার উদ্যোগের প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতে তার দপ্তর গুম-সংক্রান্ত কমিশনের কাজে সহায়তা অব্যাহত রাখবে বলে জানান। আলাপচারিতার সময় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক ও জ্যেষ্ঠ সচিব লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।


তরুণদের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলুন: প্রধান উপদেষ্টা

আপডেটেড ১৩ জানুয়ারি, ২০২৬ ২১:৪৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

যুবসমাজের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। একই সঙ্গে আঞ্চলিক পর্যায়ে উচ্চশিক্ষায় সহযোগিতা বাড়াতে সার্ককে পুনরুজ্জীবিত করার ওপর জোর দেন তিনি। মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে তিন দিনব্যাপী ‘দক্ষিণ এশিয়ার উচ্চশিক্ষার বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পথনির্দেশনা’ শীর্ষক আঞ্চলিক সম্মেলন (সার্চে-২০২৬)-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন অধ্যাপক ইউনূস।

তিনি বলেন, ঢাকায় উচ্চপর্যায়ের শিক্ষাবিদদের একত্র হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গত কয়েক মাসে ঢাকায় যা ঘটেছে, তা পর্যালোচনার একটি সুযোগ এই সম্মেলন তৈরি করেছে। এসব ঘটনা পর্যালোচনা করলে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ও সামগ্রিকভাবে শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য আরও স্পষ্ট হবে।

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অধীনে বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে বাস্তবায়িত হায়ার এডুকেশন অ্যাকসেলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (হিট) প্রকল্পের আওতায় এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এতে যুক্তরাজ্য, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কাসহ বিভিন্ন দেশের ৩০ জন আন্তর্জাতিক প্রতিনিধি এবং বিশ্বব্যাংকের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই তরুণদের নিজেদের চিন্তা ও মনন আছে। তারা ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে জীবন দিয়ে প্রতিবাদ করেছে। তিনি বলেন, কয়েক মাস আগেই এই শহরে তরুণরা কেন অস্ত্রের মুখে দাঁড়িয়ে নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছিল— তাদের প্রত্যাশা ও আকাঙ্ক্ষা কী ছিল তা বোঝার চেষ্টা না করলে একটি বড় সুযোগ নষ্ট হবে।

শিক্ষার্থীদের প্রেরণার উদাহরণ হিসেবে তিনি শহীদ স্কুলছাত্র শাহরিয়ার খান আনাসের মায়ের কাছে লেখা চিঠির কথা উল্লেখ করেন, যেখানে বন্ধুদের সঙ্গে রাজপথে নামাকে নিজের দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেছিল সে।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, এসব ঘটনা হঠাৎ কোনো বিস্ফোরণ নয়। শ্রীলঙ্কা ও নেপালেও এমন ঘটনা ঘটেছে, তবে ঢাকায় তা ঘটেছে আরও ব্যাপকভাবে। তিনি সম্মেলন আয়োজনের জন্য বিশ্বব্যাংককে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, আঞ্চলিক সহযোগিতার এমন আয়োজন সার্কের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সার্ককে আজ প্রায় ভুলে যাওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সার্কের মূল ধারণাই ছিল পারস্পরিক বিনিময় ও একে অন্যের কাছ থেকে শেখা। প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তিনি সার্ক পুনরুজ্জীবনের আহ্বান জানিয়ে আসছেন এবং এ দাবি তিনি বারবার জানিয়ে যাবেন।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, গণঅভ্যুত্থান দেশের পুরোনো কাঠামোকে ভেঙে দিয়েছে। তরুণরা নিজেদের জুলাই সনদ তৈরি করেছে এবং তারা মনে করে, দেশের সমস্যার মূল নিহিত রয়েছে সংবিধানে। সে কারণেই ভবিষ্যৎ সংবিধান নির্ধারণে গণভোটের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এই বাস্তবতায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, এসব বিষয় শ্রেণিকক্ষে পড়ানো হয় না। অথচ তরুণরা ইতোমধ্যে নিজেদের রাজনৈতিক দল গঠন করেছে; ভবিষ্যতে তাদের কেউ কেউ সংসদে নির্বাচিতও হতে পারে, এমনকি শিক্ষামন্ত্রীর দায়িত্বও পেতে পারে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা মৌলিকভাবে চাকরিকেন্দ্রিক, যা তিনি ভুল বলে মনে করেন। শিক্ষার উদ্দেশ্য কেবল চাকরির জন্য মানুষ তৈরি করা— এই ধারণা থেকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, মানুষ জন্মগতভাবেই সৃজনশীল; সৃজনশীলতাই মানবসভ্যতার মূল শক্তি। চাকরিনির্ভর শিক্ষা সেই সৃজনশীল মানুষকে দাসে পরিণত করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, শিক্ষাব্যবস্থার লক্ষ্য হওয়া উচিত তরুণদের উদ্যোক্তা ও পরিবর্তনের কারিগর হিসেবে গড়ে তোলা, চাকরিপ্রার্থী নয়। কল্পনাশক্তিই মানুষের মূল শক্তি, আর সেই কল্পনাশক্তির জোরেই তরুণরা নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নে জীবন দিয়েছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. সি আর আবরার।

ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস এম এ ফায়েজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব রেহানা পারভীন এবং বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর জ্যঁ পেসমে। স্বাগত বক্তব্য দেন ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজিমউদ্দিন খান।


banner close