পরিস্থিতি যাই হোক না কেন, অবৈধভাবে আর একজনকেও বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী।
আজ বুধবার বিজিবির কক্সবাজার রিজিয়নের আওতাধীন বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত পরিদর্শনের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
মহাপরিচালক বলেন, ‘সীমান্তে উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবি সদা তৎপর রয়েছে।’ দেশ মাতৃকার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সীমান্তে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকারে প্রস্তুত রয়েছেন বলেও তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তিনি বলেন, ‘সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পূর্ণ বিজিবির নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মেনে ধৈর্য ধারণ করে, মানবিক থেকে এবং আন্তর্জাতিক সুসম্পর্ক বজায় রেখে পরিস্থিতি মোকাবিলার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছি।’
তিনি বলেন, 'আমাদের সাধারণ জনগণের জন্য জায়গাটা নিরাপদ নয়। বিশেষ করে যখন গোলাগুলি শুরু হয়, সেই সময়টুকু তো একেবারেই নয়!
'এটা স্বাভাবিক যে, নিজের ঘর-বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র থাকাটা আদৌ সুখকর কোনো কিছু না। তবে জীবন রক্ষার জন্য, যখন এ ধরনের পরিস্থিতি হয়, তখন তো কিছুটা করতেই হবে,' যোগ করে বলেন তিনি।
তিনি বলেন, 'তুমব্রু ও ঘুমধুমের পাশের বিওপিগুলোর সীমান্ত এলাকায় সংঘাতের প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিছু গোলাগুলি হয়েছে, কিছু কিছু হচ্ছেও। এখনই সব সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের সরে যাওয়ার কথা বলছি না।'
আশরাফুজ্জামান বলেন, 'এর আগে গোলা-মর্টার শেল আমাদের অভ্যন্তরেও এসে পড়েছে। আমাদের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় প্রতিবাদ জানিয়েছে। মিয়ানমার জানিয়েছে, এখানে যারা আশ্রয় নিয়েছে, তারা তাদের নিয়ে যেতে প্রস্তুত। আমরা পরামর্শ করেছি। যত দ্রুত সম্ভব আমরা নিয়ে যেতে বলেছি। আমরা আশাবাদী শিগগির এর সমাধান হবে।'
তিনি বলেন, 'এটা সম্পূর্ণ মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ গোলযোগ ও সংঘাত। আমরা আর কোনো মৃত্যু চাই না। চাই এই পরিস্থিতির আশু সমাধান। বিজিবি ধৈর্য ধারণ করে, সহনশীলভাবে যে কোনো ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করে বর্ডার সিলড রাখতে প্রস্তুত।'
বিজিবি মহাপরিচালক এদিন সকালে বিজিবির কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার তুমব্রু ও ঘুমধুম সীমান্ত এবং তৎসংলগ্ন বিওপি পরিদর্শন করেন। পরিদর্শনের সময় বিজিবি মহাপরিচালক সীমান্তে দায়িত্বরত সব পর্যায়ের বিজিবি সদস্যদের খোঁজ খবর নেন এবং তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। এসময় তিনি দেশ মাতৃকার সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সবাইকে সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সীমান্তে উদ্ভূত যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সদা তৎপর থাকার নির্দেশ দেন। একইসঙ্গে তিনি অত্যন্ত দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের জন্য দায়িত্বরত সব বিজিবি সদস্যের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।
বিজিবি মহাপরিচালক মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে চলমান সংঘর্ষের জেরে প্রাণ বাঁচাতে সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণকারী দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি), মিয়ানমার সেনাবাহিনী, ইমিগ্রেশন সদস্য, পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থার সব সদস্য খোঁজ খবর নেন এবং আহত অবস্থায় আসা ও হাসপাতালে চিকিৎসারত বিজিপি সদস্যদের দেখতে যান।
এ সময় বিজিবি মহাপরিচালকের সঙ্গে বিজিবি সদর দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কক্সবাজার রিজিয়ন কমান্ডার, রামু সেক্টর কমান্ডার ও কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের অধিনায়কসহ বিজিবির অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম-তুমব্রু সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারে সামরিক জান্তার সঙ্গে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর তুমুল লড়াই চলছে। সংঘর্ষের মধ্যে মিয়ানমার থেকে আসা গুলিতে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত তিন জন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ।
এদিকে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান সংঘর্ষে জীবন বাঁচাতে গতকাল পর্যন্ত ২৬৪ জন বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছেন। তাদের মধ্যে দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) সদস্য, সেনা সদস্য, পুলিশ সদস্য, ইমিগ্রেশন সদস্য ও বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন। সেখানকার সর্বশেষ পরিস্থিতি দেখতেই বিজিবির মহাপরিচালকের এই পরিদর্শন বলে জানাস সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির ৭ম বৈঠক কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, জয়নুল আবেদীন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নূরুল হক, মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, ফারজানা শারমীন এবং মো. মাহমুদুল হক রুবেল অংশগ্রহণ করেন।
বৈঠকে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অবদান রাখা শিক্ষক সমাজের প্রতিনিধি, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সংবিধান বিশেষজ্ঞগণ অংশগ্রহণ করেন। তারা সংবিধান সংশোধন, জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়ন, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণ এবং সংবিধানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদ সংশোধন বিষয়ে তাদের মতামত ও প্রস্তাব তুলে ধরেন।
আলোচনায় সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে কার্যকর পদ্ধতি নির্ধারণ, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও এখতিয়ার, জনগণের সার্বভৌমত্ব এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিতকরণসহ বিভিন্ন বিষয়ে মতবিনিময় হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশের রাষ্ট্রকাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংসদের উচ্চকক্ষ প্রবর্তন এবং সেখানে বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার প্রতিনিধিত্বের পদ্ধতি নিয়েও আলোচনা করা হয়।
বৈঠকে জুলাই জাতীয় সনদের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন এবং সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধনের বিষয়ে শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতামত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। উপস্থিত আলোচকদের অনেকে ইতোমধ্যে তাদের লিখিত মতামত জমা দিয়েছেন। অন্যদেরও আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে লিখিত প্রস্তাব কমিটির কাছে জমা দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়।
বৈঠকে জুলাই জাতীয় সনদের বাস্তবায়নে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা এবং সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের অংশগ্রহণের বিষয়েও আলোচনা হয়। এ ক্ষেত্রে বিরোধী দলের প্রতিনিধিদের কমিটির কার্যক্রমে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে জাতির প্রত্যাশা ও জুলাই জাতীয় সনদের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংশোধন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বৈঠকে জাতীয় সংসদ সচিবায়ের সচিব এবং আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয় ও সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির দ্বিতীয় বৈঠক মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি আমানউল্লাহ আমান, এমপি-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকের শুরুতে কমিটির প্রথম বৈঠকের কার্যবিবরণী সংশোধনী সাপেক্ষে নিশ্চিত করা হয়। এ সময় বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মাধ্যমে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্যচিত্র ও প্রামাণ্য দলিলে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির পাশাপাশি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের ন্যায় নব্বইয়ের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাসও অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
বৈঠকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) অনুষ্ঠান ও সংবাদ পরিবেশনের সামাজিক প্রভাব বিবেচনায় নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। এ সময় বলা হয়, বিটিভির দায়িত্ব ও ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিটিভির উদ্দেশ্য কোনো বাণিজ্যিক টেলিভিশন চ্যানেলে রূপান্তরিত হওয়া নয়; বরং রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ একটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা। তাই বিটিভির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সুনির্দিষ্ট করা প্রয়োজন।
বৈঠকে আরও বলা হয়, সংবাদের গুরুত্ব অনুধাবন করে সংবাদ পরিবেশন করতে হবে। প্রাসঙ্গিকতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য অনুষ্ঠান নির্মাণ ও প্রচারের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করতে হবে।
বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোতে গত ১৭ বছরে অনৈতিকভাবে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো এবং পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত কর্মকর্তাদের নাম ও পদবিসহ তালিকা পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হয়। একই সময়ে বাতিল করা অনুষ্ঠান ও কর্মসূচির তালিকাও উপস্থাপনের কথা বলা হয়। মন্ত্রণালয়ের অধীন সব কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বাংলাদেশ টেলিভিশন(বিটিভি) ও বিএফডিসি পরিদর্শনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।
আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে ও স্বাধীনভাবে ধর্মীয় উৎসব উদ্যাপন করতে পারেন, সে লক্ষ্যে বৈঠকে উপস্থিত সবাইকে সহযোগিতা ও সক্রিয় ভূমিকা রাখার সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে কমিটির সদস্য ও তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান, এমপি; প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, এমপি; মো. আশরাফ উদ্দিন, এমপি; মো. মজিবুর রহমান, এমপি; নিলোফার চৌধুরী মনি, এমপি; ফাহমিদা হক, এমপি; মো. শফিকুল ইসলাম, এমপি এবং মোসা. নাজমুন নাহার, এমপি অংশগ্রহণ করেন।
বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, মন্ত্রণালয়ের অধীন অধিদপ্তরসমূহের মহাপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের প্রধানগণ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেছেন, প্লাস্টিক দূষণ রোধে সরকার, বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী, গবেষণাপ্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো, পুনঃব্যবহার বাড়ানো এবং বর্জ্য সংগ্রহ ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার মাধ্যমে চক্রাকার অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যেতে হবে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ন্যাশনাল প্লাস্টিক অ্যাকশন পার্টনারশিপ (এনপিএপি) বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, ইউএনডিপি বাংলাদেশ এবং বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের গ্লোবাল প্লাস্টিক অ্যাকশন পার্টনারশিপের যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানের প্রতিপাদ্য ছিল ‘চক্রাকার অর্থনীতির পথে সমন্বিত উদ্যোগ’।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, প্লাস্টিক দূষণ নগরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা, নদী, জলাভূমি, উপকূল, জনস্বাস্থ্য ও বাস্তুতন্ত্রকে প্রভাবিত করছে। আবার প্লাস্টিক উৎপাদন, বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে যুক্ত। তাই এ সমস্যার সমাধানে উৎপাদন থেকে ব্যবহার এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পর্যন্ত পুরো ব্যবস্থাকে বিবেচনায় নিতে হবে।
প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বর্ধিত উৎপাদক দায়বদ্ধতা (ইপিআর) নির্দেশিকা, ২০২৬ প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, নীতিমালার সুফল পেতে কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা জরুরি। এ জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্য, উৎপাদক, নিয়ন্ত্রক সংস্থা, পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকারী ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
এনপিএপি বাংলাদেশের ভূমিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, এ প্ল্যাটফর্ম বিচ্ছিন্ন উদ্যোগগুলোকে যুক্ত করতে, নীতির সঙ্গে বাস্তবায়নের সংযোগ ঘটাতে, উদ্ভাবকদের বাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে এবং জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গে বিনিয়োগ সমন্বয়ে সহায়তা করবে। সরকার নেতৃত্ব দেবে, তবে এ উদ্যোগে সংশ্লিষ্ট সব খাতের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি এনপিএপি বাংলাদেশের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
মন্ত্রী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাস্তবসম্মত সমাধান ও বিনিয়োগ নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানকে তথ্যপ্রমাণের ভিত্তি শক্তিশালী করতে, উন্নয়ন সহযোগীদের জাতীয় অগ্রাধিকারের সঙ্গে সহযোগিতা সমন্বয় করতে এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে চক্রাকার অর্থনীতিতে বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধান করতে বলেন।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বলেন, এনপিএপির সাফল্য সভার সংখ্যা দিয়ে নয়, বাস্তব ফলাফল দিয়ে মূল্যায়ন করতে হবে। নীতির কার্যকর বাস্তবায়ন, নির্ভরযোগ্য তথ্যের উন্নতি, সহযোগিতা ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, কার্যকর সমাধানের প্রসার এবং জনগোষ্ঠী ও বর্জ্যকর্মীদের অবস্থার উন্নতিই হবে সাফল্যের মাপকাঠি।
অনুষ্ঠানে ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফেন রড্রিগেজ বলেন, প্লাস্টিক দূষণের প্রভাব বর্জ্য ফেলার স্থানেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এটি নালা বন্ধ করে, জলাবদ্ধতা ও বন্যার ঝুঁকি বাড়ায় এবং নদীর মাধ্যমে সাগরে পৌঁছায়। প্লাস্টিকসহ বর্জ্য খোলা জায়গায় পোড়ানোর ফলে ক্ষতিকর কণা ও বিষাক্ত পদার্থ বাতাসে ছড়িয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও বর্জ্যকর্মীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করে। তিনি বলেন, পরিবারকে বর্জ্য আলাদা করতে উৎসাহিত করার পাশাপাশি সংগ্রহের সময় তা আলাদা রাখা এবং যথাযথ ব্যবস্থাপনার সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের গ্লোবাল প্লাস্টিক অ্যাকশন পার্টনারশিপের পরিচালক ক্লেমঁস শ্মিড ভিডিও বার্তা দেন। এনপিএপি বাংলাদেশ সরকারের নেতৃত্বে একটি নিরপেক্ষ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বহুপক্ষীয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে প্লাস্টিকসংক্রান্ত অভিন্ন জাতীয় তথ্যভিত্তি তৈরি, অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং তথ্যপ্রমাণভিত্তিক কার্যক্রম এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে বলে ইউএনডিপি মত দেয়।
অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানমের সভাপতিত্বে অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ নাভিদ শফিউল্লাহ, পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মোহাম্মদ সোলায়মান হায়দার এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশের সহকারী আবাসিক প্রতিনিধি সরদার এম. আসাদুজ্জামান,বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থা, কূটনৈতিক মিশন, উন্নয়ন সহযোগী, বেসরকারি খাত, নাগরিক সমাজ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে হেনস্তার ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সরকারের এই আনুষ্ঠানিক ক্ষোভ ও প্রতিবাদের কথা জানানো হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ধারণা করছে, নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক সংগঠন ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’-এর সঙ্গে যুক্ত কিছু ব্যক্তি বিমানবন্দরে ড. ইউনূসের সঙ্গে এই অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটিয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঘটনাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অপরাধীদের দ্রুত চিহ্নিত করতে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশ মিশনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মিশনকে নির্দেশ দিয়েছে যেন তারা অবিলম্বে মার্কিন স্থানীয় আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে এবং তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা নিশ্চিত করে।
এদিকে মঙ্গলবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির জানান, সাবেক প্রধান উপদেষ্টাকে লাঞ্ছিত করার ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন করা হয়েছে। তিনি জানান, ঘটনার সময়কার ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে দোষীদের সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বিমানবন্দরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী আরও মন্তব্য করেন, এ ধরনের অশালীন ও সহিংস আচরণ কেবল সন্ত্রাসীদের পক্ষেই ঘটানো সম্ভব। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শ্রদ্ধেয় একজন ব্যক্তিত্ব ও সাবেক সরকারপ্রধানকে এভাবে হেনস্তা করা কেবল ব্যক্তি ইউনূসের ওপর আঘাত নয়, বরং এই ঘটনার মাধ্যমে গোটা দেশকে আন্তর্জাতিক মহলে অসম্মান করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন নেদারল্যান্ডসের বৈদেশিক বাণিজ্য ও উন্নয়ন সহযোগিতাবিষয়ক মন্ত্রী শুর্দ শুর্দসমারের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল। আজ মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাতে তারা দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ, পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা, আন্ত সীমান্ত নদী ব্যবস্থাপনা, ভূমি পুনরুদ্ধার, কৃষি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, সাক্ষাতে তিস্তা প্রকল্পের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা এবং এ বিষয়ে জ্ঞান ও কারিগরি সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে নেদারল্যান্ডস সরকারের আগ্রহকে স্বাগত জানায় বাংলাদেশ। পাশাপাশি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্পর্ক, মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির সম্ভাবনা, রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান এবং গণতন্ত্র ও মানবাধিকার সুরক্ষার বিষয়েও মতবিনিময় হয়।
বৈঠকের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নেদারল্যান্ডস সফরের আমন্ত্রণ জানান নেদারল্যান্ডসের মন্ত্রী।
সংবাদপত্রের প্রচার সংখ্যা এবং প্রকাশনার স্থানের ভিন্নতা অনুযায়ী সরকারি বিজ্ঞাপনের মূল্যহার পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক পরিপত্রে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। পরিপত্র অনুযায়ী, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ অন্যান্য বিভাগীয় শহর এবং জেলা ও মফস্বল শহর থেকে প্রকাশিত দৈনিক সংবাদপত্রের জন্য পৃথক বিজ্ঞাপন হার নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন নিয়মে প্রচার সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্দিষ্ট স্তরে বিজ্ঞাপনের মূল্য বাড়বে, তবে প্রতিটি শ্রেণির সংবাদপত্রের জন্যই একটি নির্দিষ্ট সর্বোচ্চ মূল্যসীমা বা ক্যাপ নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।
পরিপত্রের তথ্যমতে, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগীয় শহর থেকে প্রকাশিত দৈনিক পত্রিকার প্রচার সংখ্যা ৬ হাজার থেকে ৭ হাজার হলে বিজ্ঞাপনের ভিত্তি হার হবে ৪৫০ টাকা। এরপর ৭ হাজার ১ থেকে ৩০ হাজার প্রচার সংখ্যার ক্ষেত্রে প্রতি হাজারে ৭ টাকা করে, ৩০ হাজার ১ থেকে ৫০ হাজারের ক্ষেত্রে প্রতি হাজারে ৬ টাকা এবং ৫০ হাজার ১ থেকে ৯০ হাজারের ক্ষেত্রে প্রতি হাজারে ৫ টাকা করে হার বাড়বে। প্রচার সংখ্যা ৯০ হাজার ১ বা তার বেশি হলে প্রতি হাজারে ৪ টাকা হারে মূল্য বৃদ্ধি পাবে। এই শ্রেণির সংবাদপত্রের বিজ্ঞাপনের সর্বোচ্চ হার নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার ১০০ টাকা।
ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট ছাড়া দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শহর থেকে প্রকাশিত দৈনিক সংবাদপত্রের প্রচার সংখ্যা ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার হলে বিজ্ঞাপনের হার হবে ৪২০ টাকা। পরবর্তী ধাপে প্রচার সংখ্যা ৫ হাজার ১ থেকে ৩০ হাজার পর্যন্ত প্রতি হাজারে ৬ টাকা, ৩০ হাজার ১ থেকে ৫০ হাজার পর্যন্ত প্রতি হাজারে ৫ টাকা এবং ৫০ হাজার ১ বা তার বেশি হলে প্রতি হাজারে ৪ টাকা হারে বিজ্ঞাপনের মূল্য বাড়বে। এই ক্যাটাগরির সংবাদপত্রের জন্য বিজ্ঞাপনের সর্বোচ্চ হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৫০ টাকা।
অন্যদিকে জেলা শহর ও অন্যান্য স্থান থেকে প্রকাশিত দৈনিক পত্রিকার প্রচার সংখ্যা ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার হলে বিজ্ঞাপনের হার নির্ধারণ করা হয়েছে ৪০০ টাকা। প্রচার সংখ্যা ৪ হাজার ১ থেকে ৩০ হাজার পর্যন্ত প্রতি হাজারে ৬ টাকা এবং ৩০ হাজার ১ বা তার বেশি হলে প্রতি হাজারে ৫ টাকা হারে বিজ্ঞাপন মূল্য বৃদ্ধি পাবে, যেখানে সর্বোচ্চ সীমা থাকবে ৮০০ টাকা। এছাড়া ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন জেলা শহর থেকে নিয়মিত প্রকাশিত অর্ধসাপ্তাহিক, সাপ্তাহিক, পাক্ষিক, মাসিক ও ত্রৈমাসিক পত্রিকা এবং সাময়িকীর বিজ্ঞাপন মূল্যহারও আনুপাতিকভাবে পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে জাতীয় তথ্যচিত্র নির্মাণে ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পাশাপাশি নব্বইয়ের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস অন্তর্ভুক্তের ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভের মাধ্যমে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ তথ্যচিত্র ও প্রামাণ্য দলিলে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচির পাশাপাশি এ বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্তে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে ওই বৈঠকে।
আজ জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির সভাপতি আমানউল্লাহ আমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় বৈঠকে এ ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করা হয়।
বৈঠকে কমিটির সদস্য এবং তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান, প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী, সংসদ সদস্য মো. আশরাফ উদ্দিন, মো. মজিবুর রহমান, নিলোফার চৌধুরী মনি, ফাহমিদা হক, মো. শফিকুল ইসলাম এবং মোসা. নাজমুন নাহার অংশগ্রহণ করেন।
বৈঠকে বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) অনুষ্ঠান ও সংবাদ পরিবেশনের সামাজিক প্রভাব বিবেচনায় নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
এসময় বলা হয়, বিটিভির দায়িত্ব ও ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিটিভির উদ্দেশ্য কোনো বাণিজ্যিক টেলিভিশন চ্যানেলে রূপান্তরিত হওয়া নয়; বরং রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি দায়বদ্ধ একটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা। তাই বিটিভির লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সুনির্দিষ্ট করা প্রয়োজন।
বৈঠকে আরো বলা হয়, সংবাদের গুরুত্ব অনুধাবন করে সংবাদ পরিবেশন করতে হবে। প্রাসঙ্গিকতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য অনুষ্ঠান নির্মাণ ও প্রচারের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করতে হবে।
বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোতে গত ১৭ বছরে অনৈতিকভাবে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো এবং পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত কর্মকর্তাদের নাম ও পদবিসহ তালিকা পরবর্তী বৈঠকে উপস্থাপনের বিষয়ে আলোচনা হয়। একই সময়ে বাতিল করা অনুষ্ঠান ও কর্মসূচির তালিকাও উপস্থাপনের কথা বলা হয়। মন্ত্রণালয়ের অধীন সব কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ও বিএফডিসি পরিদর্শনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়।
আসন্ন শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষ্যে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে ও স্বাধীনভাবে ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করতে পারে, সে লক্ষ্যে বৈঠকে উপস্থিত সবাইকে সহযোগিতা ও সক্রিয় ভূমিকা রাখার সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকের শুরুতে কমিটির প্রথম বৈঠকের কার্যবিবরণী সংশোধনী সাপেক্ষে নিশ্চিত করা হয়।
বৈঠকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব, মন্ত্রণালয়ের অধীন অধিদপ্তরসমূহের মহাপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহের প্রধানগণ এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, তরুণদের ভূমিকার কারণেই দেশ আবার ঘুরে দাঁড়াতে এবং স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করতে পেরেছে।
তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনামলে ভয়াবহ দুঃশাসনের মধ্যেও তরুণরা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র নিয়ে ভেবেছেন এবং সাহসের সঙ্গে নিজেদের চিন্তা তুলে ধরেছেন। তাদের এই প্রচেষ্টা প্রশংসার দাবিদার।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে ‘দীর্ঘ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি: রাজনীতিবিদ ও পেশাজীবীদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জনঅধিকার পার্টি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, দীর্ঘদিনের ভয়াবহ দুঃশাসনের পর ছাত্র-জনতার উত্থান ঘটে। এরপর প্রায় দেড় বছরের মাথায় একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সরকার ক্ষমতায় এসেছে। তবে নতুন সরকারকে উত্তরাধিকার সূত্রে ব্যাংক লুটপাট, অর্থ পাচার, আর্থিক খাতের চরম অব্যবস্থাপনা ও লুটপাটের মতো নানা সংকট মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, শেখ হাসিনার শাসনামলে দেশের ব্যাংক, বীমা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি লণ্ডভণ্ড হয়ে গিয়েছিল। দেশে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, যেখানে ক্ষমতাসীনদের ইচ্ছাই ছিল শেষ কথা। সরকারি প্লট থেকে শুরু করে কৃষিজমি ও গৃহস্থের গবাদিপশু পর্যন্ত প্রভাবশালীদের পছন্দ অনুযায়ী দখল করা হতো। দেশ তখন ভয়াবহ অন্ধকারের মধ্যে ছিল।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, দেশের প্রায় ৬ লাখ ৭ হাজার কোটি টাকার খেলাপি ঋণের বোঝা এখন সরকারের ওপর পড়েছে। আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা ঋণের নামে লুটপাট করেছেন বলে তিনি উল্লেখ করেন। এসব অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার দায় বর্তমান বিএনপি সরকারের নয়, বরং অতীতের লুটপাটনির্ভর অর্থনীতি থেকে দেশকে পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।
চলতি অক্টোবর মাসের প্রথম ১২ দিনে দেশে ১২৯ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স এসেছে।
গত বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ১১৮ কোটি ১০ লাখ ডলার। ফলে এক বছরের ব্যবধানে এ সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ৯ দশমিক ২ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১২ অক্টোবর একদিনেই প্রবাসীরা ১২ কোটি ৪০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন।
এদিকে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত দেশে মোট ৯৮৮ কোটি ১০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৮৭৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার।
সে হিসাবে চলতি অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ বেড়েছে ১২ দশমিক ৭ শতাংশ।
মধ্যপ্রাচ্যের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প শ্রমবাজার সন্ধান এবং বিদেশফেরত কর্মীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসনে বর্তমান সরকার নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে সাময়িকভাবে কিছু প্রবাসী কর্মহীন হয়ে পড়লেও যুদ্ধ বা সংকট নিরসন হওয়ার পর অঞ্চলটির পুনর্গঠন কার্যক্রমে বড় পরিসরে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।
মঙ্গলবার রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস রিসার্চ ইউনিটের (রামরু) ৩০ বছরপূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘সোনার মানুষ সম্মেলন ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোতে অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের চিকিৎসাসেবা প্রদান এবং নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় সরকারগুলো সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ দূতাবাসও অত্যন্ত তৎপর রয়েছে এবং রিয়াদে হামলার ঘটনার পরই রাষ্ট্রদূতসহ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীন প্রবাসীদের খোঁজখবর নিয়েছেন।
যাদের ভিসার মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়ে আসছে, তাদের বিষয়ে তিনি বলেন, দ্বিপক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমেই এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সৌদি আরব নিজে একটি দুর্যোগপূর্ণ সময়ের মধ্য দিয়ে যাওয়ায় এখনই তা নিয়ে তাড়াহুড়ো করে আলোচনা করার উপযুক্ত সময় নয়। সেখানকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে প্রবাসীদের কর্মস্থলে ফেরত যাওয়ার সুবিধার্থে ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা শুরু করা হবে।
সংঘাতের শিকার বা ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীদের সহায়তার বিষয়ে নুরুল হক নুর উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের পরীক্ষিত ও দীর্ঘদিনের বন্ধু রাষ্ট্র সৌদি আরব। দেশটি যখন নিজেই একটি কঠিন সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, তখন কেবল তাদের কাছে সহযোগিতা চাওয়া নয়, বরং তাদের পাশে দাঁড়ানোও বাংলাদেশের নৈতিক দায়িত্ব। যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ও নিহতদের পরিবারের জন্য সরকারিভাবে আর্থিক অনুদান দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় শ্রমচুক্তির আওতায় বড় প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিপূরণ দিলেও ছোট বা ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে সহায়তার পরিমাণ কম হতে পারে। এ পর্যন্ত নির্দিষ্ট কমিটির মাধ্যমে নিহতদের পরিবারকে প্রায় সাড়ে ১৩ লাখ টাকা সহায়তা প্রদান করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
জার্মান পর্যটক ক্রিল ল্যান্ডার-ওয়েবার (Kirill Lander-Weber) এর হারিয়ে যাওয়া ল্যাপটপ উদ্ধার করে তাকে ফেরত দেয়া হয়েছে। ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি), বাংলাদেশ মোঃ আলী হোসেন ফকির বিপিএম আজ মঙ্গলবার সকালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে আনুষ্ঠানিকভাবে ল্যাপটপটি হস্তান্তর করেন। এসময় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত আইজিগণসহ অন্যান্য উধ্বর্তন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, জনাব ক্রিল বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান পরিদর্শনের উদ্দেশে গত ২৩ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে আসেন। তিনি গত ৭ অক্টোবর নাটোর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাওয়ার জন্য স্টেশনের ওয়েটিং রুমে অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় তিনি তাঁর ল্যাপটপ ও ক্যামেরা ওয়েটিং রুমে রেখে পাশের একটি এটিএম বুথে টাকা উত্তোলনের জন্য যান। ফিরে এসে তিনি তাঁর ল্যাপটপ ও ক্যামেরা খুঁজে না পেয়ে নাটোর থানায় গিয়ে পুলিশের সহযোগিতা কামনা করেন। হারিয়ে যাওয়া ল্যাপটপে তাঁর গত ছয় মাসের কার্যক্রম ছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট ছিল। তাঁর লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নাটোর সদর থানা পুলিশ, নাটোর জেলা পুলিশ, রেলওয়ে পুলিশ এবং ট্যুরিস্ট পুলিশের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একাধিক টিম হারানো ল্যাপটপ ও ক্যামেরা উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করে। পুলিশ নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে গত ১১ অক্টোবর রাত আনুমানিক সাড়ে নয়টায় নাটোর সদর থানাধীন কাপুড়িয়াপট্টি এলাকার নূর ক্লোথিং স্টোর থেকে জার্মান পর্যটকের ল্যাপটপটি (ম্যাকবুক) উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
ক্রিল, বাংলাদেশ পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এছাড়াও তিনি বাংলাদেশ ভ্রমণকালে তাঁর ইতিবাচক অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।
বিদেশি পর্যটকের অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি, হারানো ল্যাপটপ উদ্ধার এবং বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদারিত্ব ও ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আইজিপি আজ নাটোর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ মনসুর রহমান ও সাব-ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেনকে আর্থিক পুরস্কার প্রদান করেন।
আইজিপি এ প্রশংসনীয় কাজের জন্য সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের কর্মদক্ষতা, আন্তরিকতা, দায়িত্ববোধ ও দলগত সাফল্যের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ পুলিশের সকল ইউনিটকে দ্রুত ও পেশাদার পুলিশি সেবা প্রদান, দেশি-বিদেশি সকল নাগরিককে নিরাপত্তা প্রদান ও আস্থা অর্জন, পর্যটনবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং জনমুখী পুলিশিংয়ের ক্ষেত্রে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনের নির্দেশনা প্রদান করেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে অতীতের কোনো কলঙ্ক বা বিতর্কের দায় বর্তমান সরকার নিতে প্রস্তুত নয় বলে সাফ জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া শতভাগ অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে প্রশাসনকে কঠোর ও পক্ষপাতহীন ভূমিকা পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো প্রার্থী বিশেষ সুবিধা পাওয়ার সুযোগ না পান।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে গ্রাম পুলিশ সমাবেশ আয়োজনের প্রস্তুতিমূলক সভার শুরুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট ভাষায় জানান, সরকার নির্বাচন পরিচালনায় কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করবে না; বরং নির্বাচন কমিশন যাঁদের দায়িত্ব দেবে, মাঠপর্যায়ের বেসামরিক প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনী তাদের নির্দেশনা অনুযায়ীই কাজ করবে। অতীতের বিতর্কিত নির্বাচনগুলোর পুনরাবৃত্তি এড়াতে একটি নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর পরিবেশ উপহার দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।
আসন্ন নির্বাচনগুলো সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকার বাজেট বরাদ্দ রাখা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নির্বাচন শেষ না হলে এই অর্থ অব্যবহৃত থেকে পরবর্তী অর্থবছরে চলে যাবে, তাই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার নির্বাচন কমিশনের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। সরকারের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য হলো আগামী জুনের মধ্যে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন সম্পন্ন করা। তবে পুরো বিষয়টি নির্ভর করছে নির্বাচন কমিশনের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও কর্মপরিকল্পনার ওপর।
প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ভোট শেষ করতে কমিশনকে বারবার অনুরোধ ও তাগিদ দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট সচিবদের সঙ্গে বৈঠক করে ইতিমধ্যে কিছু তারিখ প্রাথমিকভাবে নির্ধারণ করেছে এবং বাকিগুলোর রূপরেখাও আলোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত করা হবে। নির্বাচন আয়োজনের মূল দায়িত্ব ইসির হলেও, একটি সফল নির্বাচন উপহার দিতে তাদের সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে সরকার।
ডেঙ্গুর প্রকোপ ঠেকাতে এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করে তুলতে প্রতিটি পাড়া ও মহল্লায় নিয়মিত মাইকিংয়ের পাশাপাশি জুমার নামাজের খুতবায় সচেতনতামূলক বক্তব্য প্রচারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়া রোধে সব সরকারি সংস্থাকে ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে নামার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিশেষ বৈঠকে এই নির্দেশনা প্রদান করেন সরকারপ্রধান।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আগামী কয়েক মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে সংশ্লিষ্ট সব সরকারি সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বেশি, সেসব এলাকায় প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।
মশা নিধনে জনগণের সম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান, পাড়া-মহল্লায় মাইকিংয়ের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি জুমার খুতবায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়ে আলোচনা করতে হবে।
এ ছাড়া সরকারি আবাসিক কোয়ার্টার ও হাসপাতাল প্রাঙ্গণ সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ডেঙ্গু মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর কাজের মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়াতে হবে।
উক্ত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী শাকিরুল ইসলাম খান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুস সালাম এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন। এ ছাড়া বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও বৈঠকে অংশ নেন।