সোমবার, ৬ এপ্রিল ২০২৬
২৩ চৈত্র ১৪৩২
মন্তব্য প্রতিবেদন

রাজনৈতিক বৈপরীত্য

শেখ হাসিনার উন্নয়নের রাজনীতি বনাম বিএনপি-জামায়াতের ধ্বংসাত্মক রাজনীতি
আপডেটেড
১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ০৬:০০
ফারাজী আজমল হোসেন
প্রকাশিত
ফারাজী আজমল হোসেন
প্রকাশিত : ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ০৫:৫৯

‘আই উইল মেক পলিটিক্স ডিফিকাল্ট ফর দ্য পলিটিশিয়ান’ গণতন্ত্রকে ধ্বংস করে দেশের স্বাভাবিক রাজনীতির পথ এভাবেই রুখে দিয়েছিলেন মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান। বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে ১৫ আগস্ট হত্যার পর তার সর্বোচ্চ সুবিধাভোগী মানুষদের একজন ছিলেন জিয়াউর রহমান। অনেকের মতে, জিয়া ছিলেন বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের অন্যতম কুশীলব। অবৈধভাবে প্রধান বিচারপতি আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েমের কাছ থেকে ক্ষমতা দখলের পর জিয়া এই কথাটি বলেন বলে বিভিন্ন লেখকের বইয়ে উল্লেখ করা হয়েছে।

মূলত বাংলাদেশের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও দলগুলোকে ধ্বংস করে দিতে চেয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। আর সেটি করার জন্যই জামায়াতে ইসলামীর মতো ধ্বংসাত্মক ধর্মভিত্তিক দলগুলোকে রাজনীতির সুযোগ দিয়েছিলেন তিনি। ১৯৭১ সালে ধর্ম নিরপেক্ষতা, সম্প্রীতি, সাম্য, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্রের যেই লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়, সেখান থেকে একেবারে ইউটার্ন নিয়ে বাংলাদেশকে মৌলবাদী এক দেশ হিসেবে গড়ে তোলার সব কার্যক্রম সম্পন্ন করেন মেজর জিয়া। বাংলাদেশে ধ্বংসাত্মক রাজনীতির যে সূচনা জিয়াউর রহমান করে গেছেন, তাই পরবর্তী সময়ে বয়ে নিয়ে গিয়েছে ক্যান্টনমেন্টে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক দল বিএনপি। দলটি রাজনৈতিক গঠনমূলক কোনো কার্যক্রম গড়তে পারেনি কখনোই। বরং প্রাসাদ ষড়যন্ত্র, রাজনীতির বাহিরে গিয়ে বিভিন্ন ধ্বংসাত্মক উপায়ে বা অন্যের হাত ধরে ক্ষমতায় আসার পথ খুঁজে বেড়িয়েছে। ২০২৪ সালের সর্বশেষ দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনেও ছিল না এর ব্যতিক্রম।

একটি রাজনৈতিক দল গণতান্ত্রিক আন্দোলন করলে তার মূল লক্ষ্যই থাকে মূল ধারার রাজনীতিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রতিপক্ষকে চ্যালেঞ্জ জানানো। ২০০১ সালে ভুয়া ভোটার তালিকা করে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় বিএনপি ক্ষমতায় এসেছিল। বিষয়টি একদম প্রমাণিত সত্য হলেও তৎকালীন সময় মূল রাজনীতি থেকে বিচ্যুত হয়নি আওয়ামী লীগ। বিরোধী দল হিসেবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে তারা সংসদে থেকে যেমন তৎকালীন সরকারের প্রতিবাদ জানিয়েছে। তেমনিভাবে তাদের প্রতিবাদ ছিল রাজপথে। পুলিশের মার খেয়ে প্রয়াত মোহাম্মদ নাসিমের মাথা ফেটে রক্তে লাল হয়েছিল সাদা পাঞ্জাবি। কিন্তু তিনি রাজপথ ছাড়েননি। রাজপথে আন্দোলনের সময় বর্তমানে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য প্রবীণ রাজনীতিবিদ মতিয়া চৌধুরীকেও চরম নির্যাতন ও হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে। এক দিনে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল ৪০ হাজার নেতা-কর্মীকে। মাত্র ৪-৫ ঘণ্টার মধ্যে ৮ হাজার নেতা-কর্মীকে বন্দি করা হয়েছিল। হত্যা করা হয়েছিল সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এমএস কিবরিয়া ও আহসানউল্লাহ মাস্টারসহ অগণিত আওয়ামী লীগের জনপ্রিয় নেতাকে। দেশজুড়ে জঙ্গিদের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ড, সন্ত্রাসী কার্যক্রম কোনো কিছুই আওয়ামী লীগকে তার মূল ধারার রাজনীতি থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। তারা কোনো পুলিশকেও হত্যা করেনি। এটাই তো একটি রাজনৈতিক দলের সফলতা।

অন্যদিকে বিএনপি হাঁটছে আওয়ামী লীগের ঠিক উল্টো পথে। ২০০৮ সালের নির্বাচনে হারের কারণগুলো মেনে নিয়ে দলটি নিজেদের অবস্থান পরিবর্তন করতে পারত, যেখানে তরুণরা সর্বোচ্চ ভোট দিয়েছিল যুদ্ধাপরাধী, জঙ্গিবাদ ও মৌলবাদের বিপক্ষে। কিন্তু এরপরও দলটি জামায়াতকে ত্যাগ করেনি। বরং ২০১৪ সালে ভোট বর্জনের ডাক দিয়ে নিজেরা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেনি। বিএনপির এই আহ্বানে সারা দেয়নি দেশের মানুষ। উল্টো যুদ্ধাপরাধীদের সঙ্গে নিয়ে দেশে জ্বালাও-পোড়াও আন্দোলনে প্রায় এক শর বেশি সাধারণ জনগণকে পুড়িয়ে মারার মাধ্যমে বিশ্বের বুকে এবং দেশের মানুষের কাছেও সন্ত্রাসী ও ধ্বংসাত্মক দল হিসেবে নিজেদের প্রকাশ করে দলটি। যেই তকমা পরবর্তী ৫ বছরেও ঘোচাতে পারেনি বিএনপি।

২০১৮ সালের নির্বাচনেও বিএনপি জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আসতে ব্যর্থ হয়। ড. কামালকে দলের নেতৃত্ব প্রদান করে যেই জোট গঠন করে ক্ষমতায় আসার স্বপ্ন দেখে বিএনপি, সেই জোটের গ্রহণযোগ্যতা কতটুকু ছিল সাধারণ মানুষের কাছে? সরকার পতন করে সাধারণ মানুষের লাভ কী? সাধারণ মানুষ বিএনপির এই জোটটিকে ক্ষমতায় আনলে কী লাভ হবে তাদের? এমন অনেক প্রশ্নের উত্তর না দিয়েই নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিএনপি। এমনকি দলটির মধ্যে আরও তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয় মনোনয়ন বাণিজ্যকে কেন্দ্র করে। দেখা যায়, জনপ্রিয় নেতা ও বর্ষীয়ান অনেক রাজনীতিবিদকে বাদ দিয়ে মনোনয়ন দিচ্ছে বিএনপি। ফলে নৈতিকভাবেই নির্বাচনে বড় ধরনের লড়াইয়ের মানসিকতা হারান বিএনপি নেতা-কর্মীরা। এরপর নির্বাচনের আগ পর্যন্ত বিএনপির পক্ষে মনোনয়ন পাওয়া ব্যক্তিদেরও তেমন প্রচারণা করতে দেখা যায়নি। বরং নির্বাচনের দিন হেরে যাবার আগ মুহূর্তে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেওয়াই যেন দলটির জন্য সবচাইতে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ না নিয়ে ধ্বংসাত্মক রাজনীতিতে মেতে ওঠে বিএনপি-জামায়াত জোট। গোটা দেশ নির্বাচনকে ঘিরে উৎসব আর উন্মাদনায় টগবগ করলেও তারা ব্যস্ত ছিল জ্বালাও-পোড়াও রাজনীতিতে। তবে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন এই জোটের প্রায় সব কর্মসূচিই ব্যর্থ। মানুষ মেতে ছিল নির্বাচনী প্রচারে। অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ডিজিটাল বাংলাদেশকে ‘স্মার্ট বাংলাদেশে’ উন্নীত করার লক্ষ্যে আরও একবার নির্বাচিত আওয়ামী লীগ কাজ করছে।

গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ সরকারের বড় সাফল্য ডিজিটাল বাংলাদেশে উত্তরণ। গতবার ভোটের আগে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশের’ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবার তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি, ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’। ‘স্মার্ট নাগরিক’, ‘স্মার্ট সরকার’, ‘স্মার্ট অর্থনীতি’ ও ‘স্মার্ট সমাজ’ - এই চারটি স্তম্ভের সমন্বয়ে ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ গড়া হবে। ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ক্ষুধা-দারিদ্রমুক্ত স্মার্ট সোনার বাংলা গড়ার কথাও বলা হয়েছে আওয়ামী লীগের ইশতেহারে।

প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে সুশাসনের। গণতন্ত্র, নির্বাচন ও কার্যকর সংসদের মাধ্যমে ফের গড়ে তোলা হবে স্থিতিশীল বাংলাদেশ। বলা হয়েছে, আইনের শাসন ও মানবাধিকার সুরক্ষার কথা। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও অবাধ তথ্যপ্রবাহ অব্যাহত রাখার কথাও বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। ইশতেহার প্রকাশ করে তিনি জনকল্যাণমুখী, জবাবদিহিমূলক, দক্ষ ও স্মার্ট প্রশাসন, জনবান্ধব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার আগে বলেছিল, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি নেবে। ক্ষমতায় এসেই সেটা কার্যকর করে দেখিয়েছে দলটি। এবার প্রতিশ্রুতি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ। সন্ত্রাস ও সাম্প্রদায়িকতাবিরোধী কর্মসূচি চলমান থাকবে। স্থানীয় সরকারকে আরও কার্যকর করার পাশাপাশি ডিজিটাল ভূমি ব্যবস্থাপনা স্থাপনের অঙ্গীকার রয়েছে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতিতে।

উচ্চ আয়, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের ইশতেহার ঘোষণা করে আওয়ামী লীগ ফের ক্ষমতায়। অর্থনৈতিক উন্নয়নে বেসরকারি খাতের গুরুত্ব অব্যাহত থাকবে এবারও। আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা ও অপরাধ দমনকেও গুরুত্ব দিচ্ছে আওয়ামী লীগ। এবারের ইশতেহার অনুসারে, পুঁজি পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। দারিদ্র্য বিমোচন ও বৈষম্য হ্রাসে পাবে সরকারের অগ্রাধিকার। ‘আমার গ্রাম-আমার শহর’ কর্মসূচির মাধ্যমে প্রতিটি গ্রামে আধুনিক নগর সুবিধা সম্প্রসারণ করা হবে। তরুণ যুবসমাজকে ‘তারুণ্যের শক্তি-বাংলাদেশের সমৃদ্ধি’ প্রকল্পের মাধ্যমে বিকশিত হওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হবে। কৃষি, খাদ্য ও পুষ্টি, শিল্প উন্নয়ন এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ক্ষেত্রেও উন্নয়ন অব্যাহত থাকবে।

শেখ হাসিনার হাত ধরে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থার। সেই উন্নয়ন ধারা থাকবে অব্যাহত। সুনীল অর্থনীতির মাধ্যমে বিকশিত হবে বাংলাদেশ। সমুদ্র সম্পদের সঠিক ব্যবহার দেশকে আর্থিকভাবে আরও সচ্ছল করে তুলবে।

সামাজিক নিরাপত্তা ও সেবার ক্ষেত্রেও ব্যাপক উন্নয়নের কথা বলা হয়েছে এবার আওয়ামী লীগের ভোট প্রচারে। সর্বজনীন পেনশনের জন্য সময়োপযোগী উদ্যোগ নেওয়ার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মনে রাখতে হবে, বর্তমান সরকারের আমলেই ২০২৩ সালের জানুয়ারি মাসে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থাপনা আইন প্রণীত হয় এবং ২০২৩ সালের ১৭ আগস্ট মাসে সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার উদ্বোধন হয়।
মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ ও মানবিক গুণাবলিসম্পন্ন এবং চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করার লক্ষ্যে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিজ্ঞানে সমৃদ্ধ দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে কাজ করছে আওয়ামী লীগ। স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার কল্যাণ রূপকল্প-২০২১ এর ধারাবাহিকতায় রূপকল্প-২০৪১-এর কর্মসূচিতে মৌলিক স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ সেবা উন্নত ও সম্প্রসারিত করার কথা বলা হয়েছে।

সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক চেতনাকেই হাতিয়ার করার কথা বলছে আওয়ামী লীগ। সংস্কৃতির চর্চা ও বিকাশে পরিপূর্ণ সহযোগিতা করবে সরকার। আওয়ামী লীগ বিশ্বাস করে সংস্কৃতির ভেতর দিয়েই সভ্যতা, মানবতা, বিশ্বজনীনতা ও জাতীয়তা সমৃদ্ধ ও বিকশিত হয়। খেলাধুলার বিকাশে প্রত্যেক উপজেলায় মিনি স্টেডিয়াম নির্মাণকাজ চলছে। সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে ক্রীড়া ক্লাব গড়ে তুলে বিনা মূল্যে ক্রীড়াসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত থাকবে। ইউনিয়ন পর্যায়ে খেলার মাঠের উন্নয়ন, ক্রীড়া অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি, খেলোয়াড়, কোচ, কর্মকর্তাসহ ক্রীড়াসংশ্লিষ্ট সকলের প্রশিক্ষণ সুবিধাদি সম্প্রসারণে পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে আগামী বছরগুলোতে।
শ্রমিক কল্যাণ ও শ্রমনীতি আরও বেশি মানবিক করার কথা বলছে আওয়ামী লীগ। নারীর ক্ষমতায়ন, জেন্ডার সমতা, অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নারী উন্নয়নে সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টির কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। গ্রামীণ নারীদের সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন এবং শ্রমে অংশগ্রহণের সুযোগ বৃদ্ধি করা হবে। গ্রামীণ নারীদের অন-লাইনে কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ট্রেনিং দেওয়া হচ্ছে।

শিশু কল্যাণ, মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণ, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ও প্রতিবন্ধী কল্যাণে সরকারের কর্মসূচি থাকবে অব্যাহত। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন ও জাতীয় কর্মপরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ সম্প্রসারণ করা হবে। ‘বঙ্গবন্ধু প্রতিবন্ধী সুরক্ষা বীমা’ চালু করা হয়েছে। প্রবীণদের ক্রিয়াশীল রাখতে, সমাজ ও রাষ্ট্রের অগ্রগতিতে তাদের অবদান যুক্ত হবে। ক্ষুদ্র জাতিসত্তা, নৃ-গোষ্ঠী ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উন্নয়নে আরও যত্নশীল হবে সরকার। সংবিধানের আলোকে সবার অধিকার সুরক্ষায় উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর উন্নয়নে কাজ করবে আওয়ামী লীগ। হিজড়াদের সমাজের মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য যেই উদ্যোগগুলো গ্রহণ করা হয়েছে তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে, আরও উন্নত হবে।

জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ সুরক্ষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অবদান গোটা দুনিয়াই স্বীকার করে। গ্লোবাল ক্লাইমেট রিস্ক ইনডেক্স ২০২১ অনুযায়ী বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ১০টি দেশের মধ্যে ৭ম অবস্থানে রয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চ্যালেঞ্জ সাফল্যের সঙ্গে মোকাবিলা করা ও খাপ খাইয়ে চলা বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় ভৌত-প্রাকৃতিক চ্যালেঞ্জ। তাই সেই চ্যালেঞ্জ সঠিকভাবে মোকাবিলা করার বিষয়েও অঙ্গীকারবদ্ধ বাংলাদেশ।

দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অঙ্গীকারবদ্ধ আওয়ামী লীগ। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দেশকে স্বাধীনতা এনে দিতে সবচাইতে বড় ভূমিকা রাখে আওয়ামী লীগ। তাই সেই স্বাধীনতা সবচেয়ে বেশি সুরক্ষিত নৌকার হাতেই। পররাষ্ট্র নীতিতে যুদ্ধ নয়, শান্তিতে বিশ্বাসী বাংলাদেশ। বাংলাদেশ তার ভূখণ্ডে জঙ্গিবাদ, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর উপস্থিতি রোধে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

আওয়ামী লীগ শুধু ভোটে জেতার জন্যই গালভরা কথা ইশতেহারে লেখে না। যে প্রতিশ্রুতি তারা দেন, সেই প্রতিশ্রুতি পালনও করেন তারা। গত ১৫ বছরের শাসন সেটাই প্রমাণ করে। গোটা দেশের সার্বিক উন্নয়নই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের লক্ষ্য।

আওয়ামী লীগ ও বিএনপির মধ্যে আদর্শগত ব্যাপক পার্থক্য এবং রাজনৈতিক চিন্তার সুস্পষ্ট বৈপরীত্য রয়েছে। দেশকে অনুন্নত অবস্থান থেকে মধ্যম আয়ে উন্নীত করার পথে আওয়ামী লীগ যখন উন্নত বাংলাদেশ গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখায়, তখনো ধ্বংসাত্মক এবং হিংস্র রাজনৈতিক কর্মসূচিতে ব্যস্ত বিএনপি। দলটির পক্ষ থেকে নির্বাচনকে ঘিরে ট্রেন লাইন উপড়ে ফেলে, ট্রেনের বগি ও লাইনে অগ্নি সংযোগ, এক পুলিশ সদস্যসহ কমপক্ষে সাতজনকে হত্যাসহ অসংখ্য অগ্নি সংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটানো হয়। বরাবরের মতোই ভোটে না যাওয়ার জন্য সংখ্যালঘুদের হুমকি প্রদান করেন দলটির নেতা-কর্মীরা। শুধু তাই নয়, গুজব ও ভুল তথ্য প্রচারের মাধ্যমে নিজ নেতা-কর্মীদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টার অভিযোগ রয়েছে দলটির বিরুদ্ধে। সব মিলিয়ে বলা যায়, গঠনতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক আদর্শের পথকে না বেছে নিয়ে আরও একবার অগণতান্ত্রিক ও সহিংসতার পথ বেছে নিয়েছে বিএনপি। যার মাধ্যমে মূলত দেশের মূল রাজনীতির ধারা থেকে আরও দূরে সরে যাচ্ছে বিএনপি। রাজনৈতিক দল হিসেবে নির্বাচন কমিশনে দলটির নিবন্ধনও এখন হুমকির মুখে। রাষ্ট্রের কাছে নিবন্ধন হারাবার পর কী হিসেবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে দলটি? দুর্নীতিপরায়ণ ও অপরাধীর নেতৃত্বে থেকেই কি একসময় দেশের রাজনীতি থেকে আরও দূরে সরে যাবে দলটি? নাকি অসাম্প্রদায়িক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণা করে ঘুরে দাঁড়াবে দলটি? এই সিদ্ধান্তটা বিএনপির নেতা-কর্মীদেরই নিতে হবে।


ইউনূস আমলের বিপর্যস্ত অর্থনীতিকে টেনে তোলাই নতুন সরকারের লক্ষ্য

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
কাইয়ুম আহমেদ

দেশের মানুষের প্রত্যাশা ছিল-নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহম্মদ ইউনূসের হাত ধরে এবার ঘুরে দাঁড়াবে দেশের অর্থনীতি; ফিরবে শান্তি, স্বস্তি। কিন্তু সে প্রত্যাশার ছিঁটেফোটাও পূরণ হয়নি; উপরন্তু তার দেড় বছরে সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি, উচ্চ সুদহার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির কারণে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে নামেনি, বাড়েনি উৎপাদন এমনকি নতুন কর্মসংস্থানও। ফলে প্রবৃদ্ধি নামে তলানিতে। এতে সার্বিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে দেশের অর্থনীতি। এই দুর্বল অর্থনীতিকে সবল করার লক্ষ্য নিয়েই ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৮,৮৩,০০০ কোটি টাকার বাজেট প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার। এই বাজেটে গুরুত্ব পাবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে জ্বালানিসংকট, রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি—এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই দিতে হবে একটি ভারসাম্যপূর্ণ বাজেট। ভর্তুকি, উন্নয়ন ব্যয় ও ক্রমবর্ধমান দায়দেনার চাপের মধ্যে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই হবে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর জন্য সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জ।
তারা আরো বলছেন, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য, শিক্ষাসহ মৌলিক প্রায় সবখানেই অন্তর্বর্তী সরকারের নানা ঘাপলা ধরা পড়ছে। ঘটনা না ঘটলে বা ফাঁস না হলে তা এত স্পষ্ট না-ও হতে পারত। নতুন বাজেট প্রণয়ন করতে গিয়ে অর্থনীতির দৈন্যদশায় অনেকটাই পথহারা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা; যা টেনে আনতে প্রাণান্ত অবস্থা! এই অবস্থার মধ্যেও পূর্ববর্তী ঋণের চাপের সঙ্গে বর্তমান জ্বালানি সংকট যোগ হয়ে নতুন প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে। অর্থনীতির রক্ত চলাচল ঠিক রাখাই এখন কঠিন। তবে সরকারের আশা ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতির সূচনা করা। এ বিষয়ে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি প্রফেসর আবদুল বায়েস বলেন, ইউনূস একজন অর্থনীতিবিদ হিসেবে সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের মানুষের প্রত্যাশা ছিল বিপর্যস্ত অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে। অথচ তার সময়ে অর্থনীতি আরও মুখ থুবড়ে পড়েছে। সব সূচকই ছিল নিম্নমুখী। ব্যবসাবাণিজ্যে ছিল আস্থার সংকট। শিল্প-কারখানাগুলোর উৎপাদন ছিল নিম্নমুখী। না ছিল কোনো নতুন উদ্যোগ, না এসেছে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ। উল্টো দেশে বেকারত্ব ও গরিব মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা বিশ্বব্যাংকের হিসাবে প্রায় ৩০ লাখ নতুন দরিদ্র হয়েছে ড. ইউনূসের আমলে।
ব্যক্তি খাতের গড় বিনিয়োগ চার দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন : ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত বেসরকারি খাতের গড় বিনিয়োগ হার ছিল জিডিপির ২৪ শতাংশ। ২০২৫ সালের জুনে তা কমে ২২ দশমিক ৪৮ শতাংশে নেমে আসে। বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ এক বছরে প্রায় ১ দশমিক ৫ শতাংশ পয়েন্ট পতনের ঘটনাটি ছিল গত চার দশকের মধ্যে নজিরবিহীন।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, বাজেটের সম্ভাব্য আকার হতে পারে আট লাখ ৮৩ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৯৩ হাজার কোটি টাকা বেশি।
এর বিপরীতে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ছয় লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা ধরা হলে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে দুই লাখ ৪৭ হাজার কোটি টাকা বা জিডিপির ৩.৬ শতাংশ। এই ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে দুই লাখ ৪১ হাজার কোটি টাকা (জিডিপির ২ শতাংশ) সংগ্রহের লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। এর মধ্যে ব্যাংক থেকে ঋণ নেওয়া হবে এক লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা এবং বৈদেশিক উৎস থেকে আসবে এক লাখ ছয় হাজার কোটি টাকা।
প্রস্তাবিত বাজেট কাঠামো অনুযায়ী মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ধরা হতে পারে প্রায় ছয় লাখ ৩৬ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে রাজস্ব খাত থেকে আয়ের লক্ষ্য পাঁচ লাখ ৭১ হাজার কোটি টাকা (জিডিপির ৮.৪ শতাংশ) এবং এনবিআর থেকে কর আদায়ের লক্ষ্য প্রায় পাঁচ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকা।
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার হতে পারে প্রায় দুই লাখ ৫৩ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ২৩ হাজার কোটি টাকা বেশি। তবে এবার প্রকল্প বাছাইয়ে কার্যকারিতা ও বাস্তবায়ন সক্ষমতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনাসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এই বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির মধ্যে ১ কোটি কর্মসংস্থান, ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি তৈরি এবং ফ্যামিলি, হেলথ ও কৃষক কার্ডসহ জনবান্ধব অঙ্গীকার পূরণের লক্ষ্য। একইসাথে বিনিয়োগবান্ধব করনীতি গ্রহণেও থাকবে বাড়তি গুরুত্ব। এছাড়া বাজেটে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দক্ষতা উন্নয়ন ও মানবসম্পদ গঠনে বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে কারিগরি শিক্ষা, প্রযুক্তি দক্ষতা এবং উদ্যোক্তা উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ বাড়ানোর আলোচনা রয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অত্যন্ত দুর্বল অর্থনৈতিক অবস্থার মধ্যে দায়িত্ব গ্রহণ করতে হয়েছে বর্তমান সরকারকে। একদিকে অর্থনীতি স্থিতিশীল করতে হবে, অন্যদিকে জনগণের কাছে দেওয়া নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের চাপও রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি নতুন করে অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করেছে।
তিনি স্পষ্ট করেছেন, সরকার ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে এসে বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধির দিকে এগোতে চায়। অর্থনীতিতে চাপ মোকাবিলায় টাকা ছাপানোর মতো স্বল্পমেয়াদি সমাধানের পথে সরকার হাঁটতে চায় না। বর্তমান পরিস্থিতিতে অর্থনীতিকে টেকসই পথে ফেরানোই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের দুর্বলতা বাজেট বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে। বাজেটে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব আদায় অনেক সময় সম্ভব হয় না, ফলে উন্নয়ন ব্যয় ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনায় চাপ তৈরি হয়।
তিনি আরও বলেন, দেশের পূর্ববর্তী ঋণ এবং বর্তমান জ্বালানি সমস্যার কারণে নতুন করে ঋণ করে অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়া চ্যালেঞ্জিং ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। মূল্যস্ফীতি বর্তমানে যে পর্যায়ে রয়েছে, আগামীতে তার থেকেও বাড়তে পারে।
তবে বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, রাজস্ব ঘাটতি মোকাবিলা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন সিপিডি নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন। তিনি বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট নবনির্বাচিত সরকারের প্রথম বাজেট হতে যাচ্ছে। এমন এক সময়ে এই বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে, যখন দেশের অর্থনীতি অভ্যন্তরীণ ও বৈশ্বিক নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। অর্থনীতি উচ্চ মূল্যস্ফীতি, রাজস্ব আহরণের ধীরগতি, বাজেট বাস্তবায়নে দুর্বলতা, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ, নিম্ন বিনিয়োগ এবং সীমিত কর্মসংস্থানের মতো নানা সমস্যার সম্মুখীন। পাশাপাশি আর্থিক খাতের অস্থিরতা এবং রপ্তানি প্রবৃদ্ধির শ্লথগতিও অর্থনীতির জন্য অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে। একই সঙ্গে আগামী সময়ে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা (এলডিসি) থেকে উত্তরণের বিষয়টিও একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে সামনে রয়েছে। ফলে এই পরিস্থিতিতে নীতিনির্ধারকদের প্রধান অগ্রাধিকার হওয়া উচিত সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা।
ড. ফাহমিদা খাতুনের মতে, নতুন সরকারের জন্য এই বাজেট একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। এর মাধ্যমে তারা নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের সূচনা করতে পারে এবং রাজস্ব ব্যবস্থাপনা ও সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে কার্যকর নেতৃত্ব প্রদর্শন করতে পারে। তবে এসব লক্ষ্য অর্জনে একটি বিশ্বাসযোগ্য ও সুসংগঠিত রাজস্ব কাঠামো গড়ে তোলা অপরিহার্য।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের (বিআইআইএসএস) গবেষণা পরিচালক ড. মাহফুজ কবীর বলেন, ১৮ মাসের মধ্যে নতুন করে এক কোটি কর্মসংস্থান তৈরি করতে চায়। এক কোটির অর্ধেকও যদি হয়, তাহলে কিন্তু বিনিয়োগটা বাড়াতে হবে। আর বিনিয়োগটা হতে হবে কর্মসংস্থানবান্ধব। এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি পেতে গেলে কিন্তু আমাদের প্রবৃদ্ধির হার হতে হবে প্রায় ৮ শতাংশ, মানে প্রতি বছর প্রায় ৮ শতাংশ করে প্রবৃদ্ধি হতে হবে। এই মুহূর্তে আছে প্রায় ৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ। যদিও নাজুক অবস্থায় রয়েছে আর্থিক খাত। অভ্যন্তরীণ আয়ে নেই তেমন সুখবর। অর্থবছরের ছয় মাসে লক্ষ্যের তুলনায় রাজস্ব আদায় কম হয়েছে ৬০ হাজার কোটি টাকা। বিশাল ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে নতুন বাজেটে দিক নির্দেশনা দরকার।
অর্থনীতিবিদ মুস্তফা কে মুজেরি বলেন, মূল্যস্ফীতি বহুদিন ধরে উচ্চপর্যায়ে রয়ে গেছে। মূল্যস্ফীতির কারণে স্বল্প আয় ও দরিদ্র জনগোষ্ঠী নিষ্পেষিত। দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকে যদি আকৃষ্ট করা না যায় তাহলে উৎপাদন বাড়বে না, প্রবৃদ্ধি বাড়বে না এবং কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হবে না। আর্থিক খাত যদি সক্ষম না হয়, তাহলে বিনিয়োগ বা ঋণ প্রবাহ, বেসরকারি খাতে উৎপাদন, কোনোটিতেই কিন্তু সফলতা আসবে না।


মার্চে মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৮.৭১ শতাংশে

খাদ্যবহির্ভূত খাতে বেড়েছে ০.০৮ শতাংশ
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

২০২৬ সালের মার্চে পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে দাঁড়িয়েছে ৮.৭১ শতাংশে। এর আগের মাস ফেব্রুয়ারিতে এই হার ছিল ৯.১৩ শতাংশ। আগের বছরের মার্চে মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯.৩৫ শতাংশ।

রোববার (৫ এপ্রিল) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস)-এর সর্বশেষ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে খাদ্য খাতে মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ৮.২৪ শতাংশে নেমে এসেছে, যা ফেব্রুয়ারি মাসে ছিল ৯.৩০ শতাংশ। তবে গত বছরের মার্চে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ৮.৯৩ শতাংশ। অন্যদিকে, খাদ্যবহির্ভূত খাতে মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়ে এবছরের মার্চে দাঁড়িয়েছে ৯.০৯ শতাংশে, যা ফেব্রুয়ারি মাসে ছিল ৯.০১ শতাংশ। তবে এই খাতে ২০২৫ সালের মার্চে মূল্যস্ফীতি ছিল তুলনামূলক বেশি, ৯.৭০ শতাংশ।

গ্রামীণ এলাকায় পয়েন্ট-টু-পয়েন্ট ভিত্তিতে সাধারণ মূল্যস্ফীতি মার্চে দাঁড়িয়েছে ৮.৭২ শতাংশ, যা ফেব্রুয়ারির ৯.২১ শতাংশ থেকে কম। তবে গত বছরের একই সময়ে, অর্থাৎ মার্চ ২০২৫-এ এটি ছিল বেশি—৯.৪১ শতাংশ।

গ্রামে খাদ্য মূল্যস্ফীতি কমে ৯.০৭ শতাংশ থেকে ৮.০২ শতাংশে নেমে এসেছে। অন্যদিকে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি সামান্য বেড়ে ৯.৩৪ শতাংশ থেকে ৯.৩৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

আগের বছরের মার্চ মাসে গ্রামাঞ্চলে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল যথাক্রমে ৮.৮১ শতাংশ এবং ৯.৯৭ শতাংশ।

শহরাঞ্চলেও মূল্যস্ফীতিতে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গেছে। মার্চে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে ৮.৬৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৯.০৭ শতাংশ।

শহরে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৯.৮৭ শতাংশ থেকে কমে ৮.৭৮ শতাংশে নেমেছে, তবে খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি কিছুটা বেড়ে ৮.৫৭ শতাংশ থেকে ৮.৬২ শতাংশ হয়েছে।

আগের বছরের জানুয়ারিতে শহরাঞ্চলে খাদ্য ও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ছিল যথাক্রমে ৯.১৮ শতাংশ এবং ৯.৯৫ শতাংশ।

বিবিএস-এর তথ্য অনুযায়ী, মার্চ মাসে স্বল্প আয়ের দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিকদের গড় মজুরি সামান্য বেড়ে ৮.০৯ শতাংশ হয়েছে, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ৮.০৬ শতাংশ।

যদিও মার্চে সার্বিক মূল্যস্ফীতি কমে ৯.১৩ শতাংশ থেকে ৮.৭১ শতাংশে নেমেছে, তবুও শ্রমজীবী মানুষের প্রকৃত আয় এখনো পিছিয়ে রয়েছে। ফলে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে টানা ৫০ মাস ধরে প্রকৃত আয় হ্রাসের ধারা অব্যাহত রয়েছে।

২০২৪ সালের জুলাইয়ে মূল্যস্ফীতি বেড়ে ১১.৬৬ শতাংশে পৌঁছায়, যেখানে মজুরি বৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ৭.৯৩ শতাংশ—ফলে ৩.৭৩ শতাংশ পয়েন্টের একটি বড় ব্যবধান তৈরি হয়। বর্তমানে সেই ব্যবধান কমে ০.৬২ শতাংশ পয়েন্টে নেমে এসেছে।


সব ধর্মাবলম্বীদের ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সুখী, সমৃদ্ধ বেটার বাংলাদেশ গড়তে সব ধর্মাবলম্বীদের ঐক্যবদ্ধ সহযোগিতা কামনা করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আমরা সব ধর্মের মানুষকে এক চোখে দেখি এবং সবাইকে ভালোবাসি একই রকমভাবে। আমরা বিশ্বাস করি, ধর্ম যার যার, দেশটা সবার। রোববার (৫ এপ্রিল) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠান ইস্টার সানডে উপলক্ষে এক শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় অনুষ্ঠান ইস্টার সানডে উপলক্ষে একটি প্রতিনিধি দল মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন। তাদের সাথে প্রধানমন্ত্রী শুভেচ্ছা এবং মতবিনিময় করেছেন। প্রধানমন্ত্রী খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের সাফল্য কামনা করেছেন।

ফেডারেশন অব প্রোটেস্ট্যান্ট চার্চ ইন বাংলাদেশ সভাপতি ফিলিপ পি. অধিকারীর নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করেন।

মতবিনিময়ের এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তার সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করে বলেছেন, আমরা সব ধর্মের মানুষকে এক চোখে দেখি এবং সবাইকে ভালোবাসি একই রকমভাবে। আমরা বিশ্বাস করি, ধর্ম যার যার, দেশটা সবার। আসুন দেশটাকে গড়ার লক্ষ্যে সব ধর্মের মানুষ, সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করি, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষ সবাইকে সুখী, সমৃদ্ধ একটা বেটার বাংলাদেশ গড়তে একযোগে কাজ করতে হবে, এই লক্ষ্য নিয়ে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাই।

প্রধানমন্ত্রী ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে সব ধর্মের মানুষ ভোট দিয়েছে এরকম মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, একটা কথা প্রচলিত ছিল যে, অন্য ধর্মের মানুষজন বিএনপিকে ভোট দেয় না। এটা এবারের নির্বাচনে ভুল প্রমাণিত হয়েছে। বিএনপিকে সব ধরনের মানুষ ভোট দিয়ে জয়ী করেছে।

বিগত সরকারের আমলে দেশের অবস্থার প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের ভোটে বিএনপি যখন দায়িত্ব গ্রহণ করেছে তখন দেশের ভঙ্গুর দশা ছিলো। অর্থনৈতিক খাতে ভঙ্গুর অবস্থা, যোগাযোগ খাতে ভঙ্গুর দশাসহ বিভিন্ন সেক্টরে যে অবস্থা বিরাজ করছিল, মনে হয়েছে একটা যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশের দায়িত্ব নিয়েছি।

ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে দেশে জ্বালানি সংকট পরিস্থিতি মোকাবিলার কথা জানান প্রধানমন্ত্রী।

এর আগে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়ে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ বাইবেল সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক রেভারেন্ড অসীম বাড়ৈ এবং ফেডারেশন অব প্রোটেস্ট্যান্ট চার্চ ইন বাংলাদেশের অবসরপ্রাপ্ত উইং কমান্ডার খ্রীস্টেফার মি. অধিকারী।

জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের পক্ষ থেকে নারী প্রতিনিধি, ইস্টার সানডে সরকারি ছুটি ঘোষণা দাবি তুলে নেতৃবৃন্দ তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারকে সহযোগিতা এবং তাদের সহযাত্রী হিসেবে কাজ করার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন।

প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে নেতৃবৃন্দ জানান, তার জন্য আমাদের ৭ হাজার চার্চে প্রার্থনা হয়েছে, এখন আপনার (তারেক রহমান) সরকারের জন্য প্রার্থনা হয় প্রতিদিন। প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে খ্রিষ্টান ধর্মালম্বীদের দাবিসমূহ বিবেচনা করে দেখবেন বলে জানান। পরে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে ইন্টার সানডে উপলক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীকে ক্রেস্ট উপহার দেওয়া হয়।


১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় শুরু জরুরি টিকাদান

আপডেটেড ৬ এপ্রিল, ২০২৬ ০০:০৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

হাম মোকাবিলায় দেশে জরুরি হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। রোববার (৫ এপ্রিল) সকাল ৯টা থেকে দেশের ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় একযোগে এই কর্মসূচি শুরু হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন এদিন সকালে ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এই টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এছাড়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজারে, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী পাবনা সদরে, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ঝালকাঠির নলছিটিতে এবং স্বাস্থ্যসচিব গাজীপুরে টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সি শিশুরা হাম-রুবেলার টিকা পাবে। কেউ আগে পেয়ে থাকলেও চলমান ক্যাম্পেইনে টিকা নিতে পারবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাখাওয়াত হোসেন বলেন, হামের পরিস্থিতি বর্তমানে সরকারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। সাধারণ মানুষের আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। মূলত যেসব এলাকায় সম্প্রতি হামের প্রকোপ বেশি দেখা গেছে, সেসব ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করে টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।

বিশেষ কার্যক্রমের আওতাভুক্ত এলাকাগুলো হলো—বরগুনা জেলার বরগুনা পৌরসভা ও সদর, পাবনার পাবনা পৌরসভা ও সদর, চাঁদপুরের চাঁদপুর পৌরসভা ও সদর, কক্সবাজারের মহেশখালী, গাজীপুরের গাজীপুর সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা ও সদর, পাবনার ঈশ্বরদী, নেত্রকোনার আটপাড়া, ময়মনসিংহের ময়মনসিংহ সদর, ত্রিশাল, পাবনার আটঘরিয়া, রাজশাহীর গোদাগাড়ী, বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ, নওগাঁর পোরশা, চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ, যশোরের যশোর পৌরসভা ও সদর, নাটোরের নাটোর পৌরসভা ও সদর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট, মুন্সীগঞ্জের লৌহজং, কক্সবাজারের রামু, চাঁদপুরের হাইমচর, ময়মনসিংহের তারাকান্দা, মাদারীপুরের মাদারীপুর পৌরসভা ও সদর, বরিশালের বাকেরগঞ্জ, ঢাকার নবাবগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জের মুন্সিগঞ্জ পৌরসভা ও সদর, পাবনার বেড়া, ঝালকাঠির নলছিটি, শরীয়তপুরের জাজিরা এবং মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর।

যেসব শিশুর জ্বর রয়েছে বা বর্তমানে অসুস্থ, তাদের এই সময়ে টিকা না দিয়ে সুস্থ হওয়ার পর টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে।

টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি আক্রান্ত বা জ্বর আছে—এমন শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হবে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সুস্থ শিশুদের ক্ষেত্রে শুধু টিকাই দেওয়া হবে, অতিরিক্ত কোনো ওষুধ দেওয়া হবে না। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোতে টিকা দেওয়া হবে। আগের টিকাদান কেন্দ্রগুলো ছাড়াও স্থানীয়ভাবে নির্ধারিত স্থান, স্কুল ও কমিউনিটি সেন্টারে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। প্রাথমিকভাবে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে কার্যক্রম শুরু হলেও ধীরে ধীরে তা সারা দেশে সম্প্রসারণ করা হবে। জুলাই মাসের মধ্যে এটি নিয়মিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে চালু থাকবে।

শিশু হামের ভ্যাকসিন পেয়েছে কি, টিকা-কার্ড দেখে জানবেন যেভাবে: এসব এলাকায় পাঁচ বছরের কম বয়সি সব শিশুকে টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে জ্বর বা অন্য কোনো অসুস্থতা থাকলে এখন টিকা দেওয়া হবে না। পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার পর তাদের টিকা দেওয়া হবে। এ ছাড়া রোগের জটিলতা কমাতে হাম আক্রান্ত বা সন্দেহভাজন সব রোগীকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।


তিন মাসে র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার সাড়ে ৩ হাজার অপরাধী: র‌্যাব মহাপরিচালক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ পর্যন্ত তিন মাসে হত্যা, ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত প্রায় সাড়ে ৩ হাজার অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) নবনিযুক্ত মহাপরিচালক (ডিজি) অতিরিক্ত আইজিপি মো. আহসান হাবীব পলাশ।

রোববার (৫ এপ্রিল) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি।

ডিজি বলেন, গত তিন মাসে অস্ত্র সংক্রান্ত অভিযান পরিচালনা করে র‌্যাব ৩৩১টি অস্ত্র উদ্ধার ও ১০৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়াও গত তিন মাসে হত্যা সংক্রান্ত মামলায় ৪৮৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, একই সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত প্রায় ১৭৫ জন, ছিনতাইকারী ৬১ জন, ডাকাত ১০৬ জন, মানবপাচারকারী ২৬ জনসহ ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি এবং পর্নোগ্রাফি মামলায় ৩ হাজার ৪৭৩ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানের বিষয়ে ডিজি বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান পরিচালনার সময় সন্ত্রাসীদের হামলায় র‌্যাব সদস্য নিহতের ঘটনায় ২৯ জনকে অভিযুক্ত করে র‌্যাব একটি মামলা দায়ের করে। এরপর গত ৯ মার্চ জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ অভিযান পরিচালনার করে র‌্যাব এবং পুলিশ ২০ জনকে গ্রেপ্তার করে।


সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ বছর, সংসদে বিল পাস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা সর্বোচ্চ ৩২ বছর করে সংসদে পাস হয়েছে সরকারি চাকরি (সংশোধন) বিল- ২০২৬।

রোববার (৫ এপ্রিল) জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী সরকারি চাকরি (সংশোধন) বিল, ২০২৬ সংসদে উত্থাপন করার পরে তা পাস হয়।

‘সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যান্সিয়াল করপোরেশনসহ স্ব-শাসিত সংস্থাগুলোতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ বিল, ২০২৬’ শীর্ষক বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

এই বিলের আওতায় সিভিল সার্ভিসের সব ক্যাডারের চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২, সিভিল সার্ভিসের আওতা বহির্ভূত অন্যান্য সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২, স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, স্ব শাসিত সংস্থাসমূহে চাকরিতে প্রবেশের বয়স ৩২ এবং প্রতিরক্ষা ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর চাকরিতে স্ব স্ব বিধিমালা বহাল থাকবে।


অভিন্ন লক্ষ্যে কাজ করবে বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র

আপডেটেড ৫ এপ্রিল, ২০২৬ ২৩:৪৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনস। সাক্ষাৎকালে তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করেন। রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়ের অফিসে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রাষ্ট্রদূত এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাতে দুটি ছবি এবং হোয়াইট হাউসের একটি রেপ্লিকা তুলে দেন। একটি ছবিতে রয়েছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার এবং অপর ছবিতে রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ সিনিয়র।

সাক্ষাতে তাদের আলোচনার বিষয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জা‌নিয়েছে, উভয়পক্ষ বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, জ্বালানি নিরাপত্তা, প্রযুক্তি, উন্নয়ন সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গাদের মানবিক সহায়তাসহ পারস্পরিক স্বার্থের দ্বিপক্ষীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।

এসময়ে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

এদিকে এই সাক্ষাতের বিষয়ে ঢাকার মার্কিন দূতাবাসের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেওয়া হয়। সেখানে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে অত্যন্ত ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের কল্যাণে আমাদের অভিন্ন লক্ষ্যগুলো বাস্তবায়নে একসঙ্গে কাজ করার প্রত্যাশা করছি।’


১৭৬ দেশে দেড় কোটি প্রবাসী কর্মরত : প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানিয়েছেন, বর্তমানে বিশ্বের ১৭৬টি দেশে ১ কোটি ৫০ লক্ষাধিক বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছে। এ সকল বাংলাদেশির মর্যাদা, অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। রোববার (৫ এপ্রিল) সংসদে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. আমির হামজার (কুষ্টিয়া-৩) টেবিলে উপস্থাপিত লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী জানান, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে প্রবাসীদের কল্যাণমূলক বিষয়টি চরমভাবে অবহেলিত ছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর তাদের কল্যাণে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণ এবং বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

গৃহীত পদক্ষেপসমূহ নিম্নরূপ : সংসদে মন্ত্রী জানান, প্রবাসী কর্মীদের প্রশাসনিক, আইনগত এবং কল্যাণমূলক সেবা প্রদানের লক্ষ্যে ২৭টি দেশে বাংলাদেশ মিশনসমূহের বিদ্যমান ৩০টি শ্রম কল্যাণ উইংয়ের বিভিন্ন খাতে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ড হতে প্রতি অর্থ-বছরে অর্থ বরাদ্দসহ সুষ্ঠুভাবে কার্যক্রম পরিচালনায় স্থানীয় ভিত্তিতে জনবল নিয়োগ ও লজিস্টিক সাপোর্ট প্রদান করা হয়।

তিনি জানান, প্রবাসে মৃত্যুবরণকারী বাংলাদেশিদের মৃত্যুজনিত ক্ষতিপূরণ আদায় এবং প্রবাসী কর্মীদের আইনগত সহায়তা প্রদানের আইন সহকারীর মাধ্যমে আইনি সেবা প্রদান করা হচ্ছে। এ সেবা নিশ্চিতকরণে ইতোমধ্যে প্রাথমিকভাবে ১১ মিশনের শ্রম কল্যাণ ল’ ফার্ম/প্যানেল আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া পাসপোর্ট সংক্রান্ত জটিলতায় কর্মীর দেশে আসতে সমস্যা হলে দূতাবাস/হাইকমিশন হতে ট্রাভেল পাশের ব্যবস্থা গ্রহণ; শ্রম কল্যাণ উইং কর্তৃক সংশ্লিষ্ট দেশের বিভিন্ন জেলখানা, ডিটেনশন সেন্টার/ক্যাম্প পরিদর্শন করে আটক কর্মীদের সাথে সরাসরি সাক্ষাৎপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা প্রদান এবং কারামুক্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

মন্ত্রী জানান, দেশের তিনটি প্রধান বিমানবন্দরে ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের স্থাপিত প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের মাধ্যমে প্রবাস থেকে আগত কর্মীদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর এবং দাফন ও পরিবহন খরচ বাবদ তাৎক্ষণিকভাবে ৩৫ হাজার টাকা প্রদান করা হচ্ছে।

এছাড়া আহত, অসুস্থ বা মৃত প্রবাসী কর্মী পরিবহনের জন্য পাঁচটি অ্যাম্বুলেন্স (এর মধ্যে বর্তমান সরকারের আমলে দুটি ফ্রিজিং) বিনামূল্যে সেবা প্রদান করছে। বিদেশ থেকে গুরুতর আহত বা অসুস্থ হয়ে ফেরত আসা কর্মীদের নিকটস্থ হাসপাতালে ভর্তি এবং চিকিৎসা নিশ্চিত করা হচ্ছে। প্রবাস ফেরত আহত ও অসুস্থ কর্মীদের চিকিৎসা সহায়তার সর্বোচ্চ পরিমাণ বর্তমান সরকারের সময়ে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে, যা পূর্ববর্তী সময়ে ১ লাখ টাকা ছিল।

তিনি জানান, প্রবাসী কর্মীদের মেধাবী সন্তানদের জন্য এইচএসসি/সমমান এবং গ্রাজুয়েশন পর্যায়ে শিক্ষা বৃত্তি প্রদান করা হচ্ছে। প্রতিবন্ধী সন্তানদের মাসিক ভাতা বর্তমান সরকারের সময়ে ১০০০ টাকা থেকে ২০০০ টাকা করা হয়েছে। প্রবাসে মৃত্যুবরণকারী কর্মীর পরিবারকে ৩ লাখ টাকা করে আর্থিক অনুদান দেওয়া হচ্ছে।

রেইস প্রকল্পের মাধ্যমে ২ লাখ ৫৩ হাজার বিদেশ ফেরত কর্মীকে পুনঃএকত্রীকরণ ও পুনর্বাসনের পাশাপাশি আয়বর্ধক বিশেষ প্রশিক্ষণ, রেফারেল এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

এই উদ্যোগগুলোর মাধ্যমে প্রবাসী কর্মীদের সুরক্ষা, পুনর্বাসন এবং পরিবারের আর্থিক সহায়তায় সরকার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।


সংবিধান সংস্কার নয়, সংশোধন হবে

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সংবিধান কখনো ‘সংস্কার’ হয় না, বরং এটি রহিত, স্থগিত বা ‘সংশোধন’ হয় বলে মন্তব্য করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের অভিপ্রায়কে আমরা সম্মান জানাতে চাই। ২৪-এর জুলাই জাতীয় সনদ ও জুলাই ঘোষণাপত্রের নির্যাসকে আমরা সংবিধানে ধারণ করার অঙ্গীকার করেছি। এটি চতুর্থ তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে মনে রাখতে হবে, ৭১-এর স্বাধীনতার সাথে অন্য কিছুর তুলনা চলে না।

রোববার জাতীয় সংসদে জুলাই জাতীয় জুলাই সনদ ও সংবিধান সংশোধন সংক্রান্ত প্রস্তাবে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন। এসময় তিনি সংবিধান সংশোধনের জন্য সকল দলের সমন্বয়ে একটি ‘বিশেষ সংসদীয় কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব দেন।

সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে অনেক ‘লেজিসলেটিভ ফ্রড’ বা আইনি প্রতারণা করা হয়েছে। হাইকোর্ট ইতোমধ্যে এর কিছু অংশ অসাংবিধানিক ঘোষণা করেছে। বাকি অংশগুলো এই সার্বভৌম সংসদই সিদ্ধান্ত নিয়ে বাতিল বা সংশোধন করবে। বিশেষ করে ৫, ৬ ও ৭ নম্বর তফসিলে যে ভুল ইতিহাস ও তথাকথিত স্বাধীনতার ঘোষণা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তা বিলুপ্ত করা প্রয়োজন।

এ সময় তিনি আরও যোগ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানই ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং ২৭ মার্চ কালুরঘাট থেকে প্রোভিশনাল হেড অফ স্টেট হিসেবে ঘোষণা দেন। এটিই প্রকৃত ইতিহাস যা আমরা সংবিধানে ফিরিয়ে আনতে চাই।

আল্লাহর ওপর আস্থা ও বিশ্বাস সংবিধানের মূলনীতি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা সংবিধানে ‘মহান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ নীতিটি পুনর্বহাল করতে চাই। এটি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অন্তর্ভুক্ত করেছিলেন, যা পরবর্তী সময়ে ফ্যাসিস্ট সরকার নির্মূল করেছে। জুলাই সনদে এটি থাকার কথা থাকলেও কোনো কোনো দলের আপত্তির কারণে রাখা হয়নি। তবে আমরা এটি ফিরিয়ে আনতে বদ্ধপরিকর।

সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, রাষ্ট্রের সকল ক্ষমতার মালিক জনগণ এবং সেই ক্ষমতা প্রয়োগ হয় এই সংসদের মাধ্যমে। আমরা ১০০ সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ প্রবর্তনের ম্যান্ডেট পেয়েছি, যেখানে রাজনৈতিক দলগুলো আনুপাতিক হারে প্রতিনিধিত্ব করবে।

বিরোধী দলের উদ্দেশে তিনি বলেন, আসুন সরকারি দল, বিরোধী দল এবং স্বতন্ত্র সদস্যরা মিলে বিশেষ সংসদীয় কমিটিতে বসে আলোচনা করি। সংবিধান কীভাবে সংশোধিত হবে, তা এই সংসদেই নির্ধারিত হবে। বাইরে থেকে আমদানি করা কোনো প্রেসক্রিপশনে নয় বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।


এবার বৈশাখী শোভাযাত্রা হবে ইউনেস্কোকে জানিয়ে দেব

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলা নববর্ষে পহেলা বৈশাখে যে শোভাযাত্রাটি হবে, তা আর আনন্দ বা মঙ্গল শোভাযাত্রা নামে হবে না, এবার সেটি ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’ নামে উদযাপিত হবে বলে জানিয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার মঙ্গল শোভাযাত্রাকে আনন্দ শোভযাত্রা করেছে। আনন্দ আর মঙ্গলের পার্থক্য নেই। আপাত দৃষ্টিতে এসব নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার কিছু নেই। জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব পালন করছে। আমরা এটার নাম দিয়েছি বৈশাখী শোভাযাত্রা। আমারা ইউনেস্কো কে জানিয়ে দেব- এটার নাম হবে এখন বৈশাখী শোভাযাত্রা।

রোববার রাজধানীর সচিবালয়ে বাংলা নববর্ষ এবং চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, গারো ও অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নববর্ষ উদযাপনের লক্ষ্যে এক সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন।

সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, আমরা বিভাজন বা সংঘাত চাই না। আমরা পহেলা বৈশাখের উদযাপন নাম নিয়ে সংকট তৈরি করতে চাই না। আমাদের সিদ্ধান্ত হলো আনন্দ বা মঙ্গল শোভাযাত্রা নয়। এটার নাম হবে বৈশাখী শোভাযাত্রা।

তিনি আরও বলেন, পহেলা বৈশাখ আমাদের সংস্কৃতির ঐতিহাসিক ঐতিহ্য। নানা আয়োজনে অতীত থেকেই এটা দেশে পালন করা হচ্ছে। হাজার বছরের পুরনো পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রা নিয়ে নানা মত-দ্বিমত রয়েছে। এরশাদের সময়ে এটা আনন্দনযাত্রা, আবার পতিত আওয়ামী লীগের সময়ে মঙ্গল শোভাযাত্রা হয়েছে।


এলডিসি উত্তরণে দেশ এখনো পুরো প্রস্তুত নয়

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের লক্ষ্য নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠলেও এখনো সেই লক্ষ্যে পৌঁছানোর মতো পূর্ণ প্রস্তুতি নেই বলে জানিয়ে অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বৈদেশিক ঋণ ও অভ্যন্তরীণ দেনার চাপ, উচ্চ সুদের হারে ঋণ গ্রহণের ঝুঁকি এবং সামগ্রিক আর্থিক ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা দেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

রোববার শেরে বাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক বহুপক্ষীয় পরামর্শসভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি এসব কথা বলেন। দেশের উত্তরণ প্রস্তুতি পর্যালোচনার লক্ষ্যে জাতিসংঘের সংস্থা UN-OHRLLS একটি স্বতন্ত্র মূল্যায়ন সম্পন্ন করেছে, যার মূল বিষয়গুলো এই সভায় উপস্থাপন করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানি সংকট ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার বিঘ্ন দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। এর প্রভাব শুধু জ্বালানি খাতে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং খাদ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও পড়বে, যা মূল্যস্ফীতি বাড়াবে।’ তিনি উল্লেখ করেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং বাংলাদেশ এখনো তা নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। তবে দীর্ঘদিন এই চাপ বহন করা সরকারের জন্য সম্ভব নয়।

তিনি আরো বলেন, ‘সরকার জনগণের ওপর হঠাৎ অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে চায় না। কিন্তু সরকারি তহবিল থেকে ধারাবাহিক ব্যয় চলতে থাকলে শেষ পর্যন্ত এর প্রভাব জনগণের ওপরই পড়বে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। যেন জনগণের স্বার্থ রক্ষা করা যায় এবং অন্যদিকে অর্থনীতির দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতাও নিশ্চিত হয়।’

মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের অর্থনীতির প্রায় সব সূচকই নিম্নমুখী। সরকার এখন অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে, কিন্তু জ্বালানি খাতে ভর্তুকি, বৈশ্বিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং আমদানি নির্ভরতার কারণে চাপ আরো বাড়ছে।’

সংকট উত্তরণে সক্ষমতা বৃদ্ধিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রয়োজনীয় সংস্কার ও দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে অর্থনীতিকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো হবে।’ এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নীতিমালার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘বর্তমানে উত্তরণ প্রক্রিয়া কিছু সময়ের জন্য পিছিয়ে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে এবং এই সময়ের মধ্যে দেশের অর্থনীতির মৌলিক সূচকগুলো শক্তিশালী করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন করা গেলে ভবিষ্যতে উত্তরণ একটি বাস্তবসম্মত লক্ষ্য হয়ে উঠবে।’

সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, অর্থ ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, জাতিসংঘের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মিজ রাবাব ফাতিমা এবং পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।


হাম আক্রান্ত ও উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় ১২ মৃত্যু

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে গত এক দিনে আক্রান্ত হয়ে ২ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে উপসর্গ নিয়ে আরও ১০ জন প্রাণ হারিয়েছেন।

রোববার (৫ এপ্রিল) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে হামে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা বিভাগে একজন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে একজনের মৃত্যু হয়েছে। পাশাপাশি উপসর্গ নিয়ে খুলনা বিভাগে ৫ জন, রাজশাহী বিভাগে ৩ জন এবং চট্টগ্রাম বিভাগে ২ জন মারা গেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৫৪ জন। একই সময়ে সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯৭৪ জন।

গত ১৫ মার্চ থেকে রোববার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে দেশে মোট নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে ৯২৯ জনে পৌঁছেছে। এ সময় পর্যন্ত সন্দেহজনক রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৪৭০ জন।

এদিকে একই সময়ের মধ্যে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩ হাজার ৩৮০ জন রোগী।


সরকারি চাকরিতে প্রবেশসীমা ৩২ বছর করে সংসদে বিল পাস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থাসহ সব ক্ষেত্রে সরাসরি নিয়োগের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ (বত্রিশ) বছর নির্ধারণ করতে জাতীয় সংসদে বিল উত্থাপন করা হয়। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।

রোববার (০৫ এপ্রিল) বিকেলে ‘সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যান্সিয়াল কর্পোরেশনসহ স্ব-শাসিত সংস্থাগুলোতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ বিল, ২০২৬’ শীর্ষক বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।

এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

বিলের মূল বিধানগুলোতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) সব ক্যাডার এবং বিসিএস বহির্ভূত সব সরকারি চাকরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা হবে ৩২ বছর। স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থাগুলোর যেসব পদে নিয়োগের বয়সসীমা আগে ৩০ বা অনূর্ধ্ব ৩২ ছিল, সেখানেও এখন থেকে বয়সসীমা ৩২ বছর হবে।

অপরিবর্তিত উচ্চতর বয়সসীমায় যেসব পদের নিয়োগ বিধিমালায় বয়সসীমা এর আগে ৩২ বছরের বেশি (যেমন : ৩৫, ৪০ বা ৪৫ বছর) নির্ধারিত আছে, সেই ক্ষেত্রে আগের উচ্চতর বয়সসীমাটিই বহাল থাকবে। অর্থাৎ এই আইনের ফলে কারও সুযোগ কমবে না। এছাড়া প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নিয়োগের ক্ষেত্রে তাদের নিজস্ব বিদ্যমান বিধিমালা অপরিবর্তিত থাকবে।

বিলটির উদ্দেশ্য ও কারণসংবলিত বিবৃতিতে প্রতিমন্ত্রী জানান, শিক্ষিত বেকার যুবকদের দেশ গঠনে আরও বেশি সুযোগ করে দিতে এবং শ্রমবাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে এই বয়সসীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর আগে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে জারি করাত এ সংক্রান্ত দুটি অধ্যাদেশ রহিত করে সেগুলোকে স্থায়ী আইনি রূপ দিতেই এই নতুন বিলটি আনা হয়েছে।

বিলের বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, এর আগে অধ্যাদেশ জারির ফলে কিছু কারিগরি জটিলতা তৈরি হয়েছিল, যেখানে কিছু বিশেষায়িত পদে উচ্চতর বয়সসীমা কমে গিয়েছিল। বর্তমান বিলের মাধ্যমে সেই অস্পষ্টতা দূর করা হয়েছে এবং ৩২ বছরের বেশি বয়সসীমা নির্ধারণ করা পদগুলোর বিদ্যমান নিয়ম বহাল রাখা হয়েছে।


banner close