শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
১৭ মাঘ ১৪৩২

জিয়ার বিচারে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি ‘মায়ের কান্না’র

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত : ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১৭:৪২

জিয়াউর রহমানের কবর অপসারণ ও তার মরণোত্তর বিচার করতে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠনের দাবি জানিয়েছে ‘মায়ের কান্না’।

আজ সোমবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নসরুল হামিদ মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নুরে আলমের সঞ্চালনায় মায়ের কান্নার সভাপতি মো. কামরুজ্জামান মিঞা লেলিনের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে ১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবর সেনা ও বিমানবাহিনীর কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ও চাকরিচ্যুত সদস্য এবং ফাঁসি দেওয়া সদস্যদের পরিবারবর্গ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে তৎকালীন বিমানবাহিনীর কর্পোরাল লরেন্স রোজিও জেমস বলেন, বিনাবিচারে শত শত বিমানবাহিনী সদস্যকে হত্যা করা হয়েছে। প্রথমে ফাঁসি দিয়েছে, পরে রায় প্রকাশ করেছে। আইনকে তোয়াক্কা করা হয়নি। জিয়াউর রহমান জঘন্যতম কাজ করেছেন। স্বাধীন দেশেও বিচারবহির্ভূত হত্যার পর লাশ পরিবারকে দেওয়া হয়নি। দেড়-দুই হাজার লোক গুম করা হয়েছে। ৭৭ বছরেও আমরা এর সুবিচার পাইলাম না। তিনি জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচারের দাবি করেন।

১৯৭৭ সালের এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কর্পোরাল নূরুল ইসলাম বলেন, আমরা কয়েকজন বেঁচে আছি। বাকিদের ফাঁসি হয়ে গেছে। আমাকে অমানসিক নির্যাতন করেছে। চোখ হাত-পা বাঁধা ছিল। চার বছর সাজা দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তিনিও জিয়াউর রহমানের মরণোত্তর বিচার দাবি করেন। এ ছাড়া যারা মারা গেছেন ও বেঁচে আছেন তাদের সবার জন্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করতে সরকারের কাছে দাবি জানান।

কর্পোরাল গোলাম মাওলা হিরু বলেন, ১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবর জিয়ার ষড়যন্ত্রের শিকার হই। দীর্ঘ সময় আমাকে নির্যাতন করা হয়েছে। আমাকে ২০ বছর কারাদণ্ড দিয়ে জেলে রাখা হয়েছে। আমি অন্যায়ের বিচার দাবি করি।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ১৯৭৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে জাপান রেড আর্মির সদস্যরা জাপান এয়ারলাইন্সের একটি বিমান হাইজ্যাক করেন। সেই বিমানটি জোরপূর্বক ঢাকা বিমানবন্দরে (পুরাতন তেজগাঁও বিমানবন্দরে) অবতরণ করানো হয়। বিমান হাইজ্যাক এবং যাত্রী জিম্মির ঘটনায় ঢাকা সেনানিবাস এবং বিমানবন্দর এলাকায় ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। ১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবর ঢাকায় জাপানি বিমান ছিনতাইয়ের ঘটনায় তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পরিকল্পিতভাবে একটি অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট তৈরি করেন পরবর্তী সময়ে তথাকথিত বিদ্রোহ দমনের নামে। জিয়াউর রহমান একদিনের সামরিক আদালতে বিচার করে সেই রাতেই ফাঁসি সম্পন্ন করে গুম করতেন ঢাকা, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, রংপুর, যশোর ও বগুড়া কেন্দ্রীয় কারাগারে। রাতের আঁধারে কারফিউ দিয়ে ফাঁসি কার্যকর করা হতো। কোনো প্রকার ধর্মীয় সৎকার ছাড়াই লাশগুলো ঢাকার আজিমপুর কবরস্থানে, কুমিল্লার টিক্কারচর কবরস্থানে মাটিচাপা দেওয়া হয়। সেনাশাসক জেনারেল জিয়াউর রহমানের নির্দেশে গঠিত বিশেষ সামরিক ট্রাইব্যুনালের কথিত বিচারে ফাঁসি হওয়া ২০৯ জনের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়। কিন্তু ওই ঘটনার জেরে মৃতের সংখ্যা ছিল এক হাজার ১৪৩ জন। তেমনি কারাদণ্ড ভোগ করেছিলেন সেনা ও বিমানবাহিনীর আড়াই হাজার সদস্য।

তিনি বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের তড়িঘড়ি করে ফাঁসি দেওয়ার আগে আত্মপক্ষ সমর্থন কিংবা আইনজীবী নিয়োগের কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি। অথচ এই মানুষগুলোকে ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার ছিল। ১৯৭৭ সালের অক্টোবর মাসে দীর্ঘদিন পরিবারগুলোর কাছে এই তথ্য অজানা ছিল। জানা ছিল না কোথায় তাদের কবর।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে ফাঁসি কার্যকর হওয়া ১২১ জনের তালিকা পাওয়া গেছে। কুমিল্লা কারাগারে ৭২ জনের নামের তালিকা পাওয়া গেছে। বগুড়া কারাগারে ১৬ জন, রংপুরে সাত জনের নামের তালিকা পাওয়া গেছে। কিন্তু বিমানবাহিনী সদর দপ্তরের হিসাবে ১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবর পরবর্তী সময়ে ৫৬১ জন সৈনিক নিখোঁজ হয়েছেন। যাদের কখনই আর খুঁজে পাও যায়নি।

সংবাদ সম্মেলনে পাঁচটি দাবি উত্থাপন করেছে মায়ের কান্না। দাবিগুলো হলো-

সংবাদ সম্মেলনে পাঁচটি দাবি উত্থাপন করেছে মায়ের কান্না। দাবিগুলো হলো-

  • ১৯৭৭ সালের ২ অক্টোবর তথাকথিত সামরিক বিদ্রোহ দমনের নামে যাদের অন্যায়ভাবে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে তাদের কোথায় সমাহিত করা হয়েছে রাষ্ট্রীয়ভাবে সেই স্থান চিহ্নিত করে দিতে হবে।
  • জিয়া কর্তৃক যেসব বীর মুক্তিযোদ্ধা সেনা ও বিমানবাহিনীর সদস্যদের অন্যায়ভাবে ফাঁসি দেয়া হয়েছে তাদের নামের তালিকা প্রকাশ এবং শহীদ হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে।
  • অন্যায়ভাবে ফাঁসি দেওয়া, কারাদণ্ড এবং চাকরিচ্যুত সেনা ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের, স্ব-স্ব পদে সর্বোচ্চ র‍্যাংকে পদোন্নতি দেখিয়ে বর্তমান স্কেলে বেতন-ভাতা, পেনশনসহ পরিবারের সদস্যদের পুনর্বাসন ও সব সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে।
  • জিয়ার মরণোত্তর বিচার করতে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করতে হবে।
  • জিয়ার কবর জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা থেকে অপসারণ করতে হবে। অন্যথায় মায়ের কান্না সংগঠনের সদস্যরা কবর অপসারণের প্রাথমিক কাজ শুরু করবেন।


ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাচ্ছে ১৬ দেশ

আপডেটেড ৩০ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৮:২৪
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং একই সঙ্গে আয়োজিত গণভোটের সুষ্ঠুতা ও স্বচ্ছতা যাচাইয়ে বিশ্বের ১৬টি দেশ থেকে মোট ৫৭ জন দ্বিপক্ষীয় পর্যবেক্ষক বাংলাদেশে আসার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে যে, এই একক দেশগুলোর প্রতিনিধিদের বাইরেও ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), কমনওয়েলথ এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও গণতান্ত্রিক শাসন বিষয়ক সংস্থার কয়েকশ বিশেষজ্ঞ নির্বাচনী কর্মকাণ্ড নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন। দ্বিপক্ষীয় পর্যবেক্ষক দলের মধ্যে মালয়েশিয়া থেকে সর্বোচ্চ ১৪ জন প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করবেন, যাঁর নেতৃত্বে থাকবেন দেশটির নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান দাতো শ্রী রামলান বিন দাতো হারুন। এর পরেই ১২ জন সংসদ সদস্য নিয়ে গঠিত তুরস্কের প্রতিনিধি দলটির নেতৃত্ব দেবেন সাবেক তুর্কি রাষ্ট্রদূত মেহমেত ভাকুর এরকুল।

তালিকায় আরও রয়েছে ইন্দোনেশিয়া থেকে ৫ জন, জাপান থেকে ৪ জন এবং পাকিস্তান থেকে আসা ৩ জন পর্যবেক্ষক। এছাড়া ভুটান, মালদ্বীপ, ফিলিপাইন, জর্ডান, রাশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকাসহ মোট ১৬টি দেশের প্রতিনিধিরা এই বিশাল কর্মযজ্ঞের সাক্ষী হতে বাংলাদেশে পা রাখবেন। এই বিশিষ্ট পর্যবেক্ষক দলে পাকিস্তানের প্রধান নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ জালাল সিকান্দার সুলতান এবং ভুটানের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ডেকি পেমার মতো ব্যক্তিত্বরা অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। নির্বাচনী পর্যবেক্ষক সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা এসডিজি সমন্বয়ক ও জ্যেষ্ঠ সচিব লামিয়া মোরশেদ সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরে জানান যে, ‘এখন পর্যন্ত প্রায় ৪০০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা হয়েছে।’ তিনি আরও আশা প্রকাশ করেন যে, খুব শিগগিরই আরও কয়েকটি দেশ তাদের প্রতিনিধি পাঠানোর বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করবে।

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর মধ্যে কমনওয়েলথের ১৪ সদস্যবিশিষ্ট প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট নানান আকুফো-আদ্দো এবং ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) মিশনের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন লাতভিয়ার ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য ইভার্স ইজাবস। ইইউ প্রতিনিধিদলে অস্ট্রিয়া, রোমানিয়া, আয়ারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের মতো দেশের অন্তত সাতজন পার্লামেন্ট সদস্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। উল্লেখ্য যে, জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনে এবারের নির্বাচনে ৫০টিরও বেশি রাজনৈতিক দলের প্রায় ২ হাজার প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। একই দিনে ‘জুলাই সংস্কার সনদ’ নিয়ে দেশব্যাপী এক ঐতিহাসিক গণভোটও অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা দেশি-বিদেশি পর্যবেক্ষকদের কাছে এই নির্বাচনকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে।


অপারেশন ডেভিল হান্টে রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেপ্তার ৩৫

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বিশেষ কার্যক্রম ‘অপারেশন ডেভিল হান্ট ফেইজ-২’-এর আওতায় গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীর ১১টি থানা এলাকায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে মোট ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এই অভিযানের তথ্য নিশ্চিত করেন।

ডিসি মুহাম্মদ তালেবুর রহমান জানান যে, ‘রাজধানীর বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় অভিযান পরিচালনা করে ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।’ গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে শাহবাগ থানা এলাকা থেকেই সর্বোচ্চ ১৪ জনকে আটক করা হয়েছে, যাদের নাম হলো— মো. রমজান (১৯), কাউছার আহম্মেদ (৩৩), মো. আলম সরদার (৪২), মো. আইউব আলী (৩৩), মিজানুর রহমান (৩৮), মো. শাহদাত (২৪), এমসার ইউনুছ (৪০), মাইখেল চন্দ্র (২৮), আলী আহম্মেদ (২৬), ইয়াহিয়া ফেরদৌস হিটলার (৩০), লিমন (১৯), মো. করিম মিয়া (২৬), মো. দেলোয়ার হোসেন (৩৫) ও মো. রমজান আলী (২৪)।

অভিযানের ধারাবাহিকতায় কোতোয়ালি থানা পুলিশ সাব্বির হোসেন (২৪) নামের এক তরুণকে এবং লালবাগ থানা পুলিশ শাহীন বাপ্পী শামীম ওরফে সেলিম (২৫) ও আমির হোসেন (২৬) নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করে। ডেমরা থানা পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন আক্তার হোসেন (৫৩), সূত্রাপুর থানা থেকে মনা ব্যাপারী (২৭) এবং মোহাম্মদপুর থানা পুলিশ মো. হাফিজুল ইসলামকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে। এছাড়া খিলগাঁও থানা এলাকা থেকে তাজবিন খান (৩২), শরিফুল ইসলাম (২৯), মো. ফারুক (৩৫) ও শরিফুল ইসলাম (৫৩) নামের চারজন এবং হাজারীবাগ থানা থেকে সুফল চৌধুরী (৩৫), মো. মুন্না (২০) ও মেহেদী হাসান (৩০) গ্রেপ্তার হয়েছেন। বাড্ডা থানার অভিযানে মো. সাহেব আলী (২১) নামের একজন এবং যাত্রাবাড়ী থানা এলাকা থেকে ইফতেখার রেজা (৪০), মামুন (৩০), রাজিব (২৬) ও শাওন ওরফে সেন্টু (২৮) নামের চারজনকে আইনের আওতায় আনা হয়েছে।

একই সময়ে শেরেবাংলানগর থানা এলাকা থেকে এ বি এম মাহমুদুল বসরি (৩০), মো. জয়নাল হাওলাদার (৬৩) ও মো. সেলিম (৩০) নামের তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান আরও জানিয়েছেন যে, বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া এসব ব্যক্তিকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে। রাজধানীর জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপির এই বিশেষ অভিযান পর্যায়ক্রমে অব্যাহত থাকবে বলেও পুলিশ প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে।


সারাদেশে যৌথ বাহিনীর অভিযানে বিপুল অস্ত্রসহ ৫০৪ জন গ্রেপ্তার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

দেশের সার্বিক জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে পরিচালিত সাম্প্রতিক যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদসহ ৫০৪ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) এক বার্তায় জানানো হয় যে, গত ২৩ থেকে ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে এই বিশেষ অভিযান পরিচালিত হয়। সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পদাতিক ডিভিশন ও স্বতন্ত্র ব্রিগেডের সেনাসদস্যরা অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে রাজধানীসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে সমন্বিত তল্লাশি ও অভিযান চালিয়ে সন্ত্রাসী, মাদক কারবারি, কিশোর গ্যাং এবং ডাকাতসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের আটক করে। এই এক সপ্তাহের অভিযানে মোট ৪৮টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৭৫ রাউন্ড গোলাবারুদ, ৯৫টি ককটেল এবং দেশীয় অস্ত্রসহ বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়েছে। আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে ধৃত ব্যক্তিদের যথাযথ জিজ্ঞাসাবাদের পর সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

আইএসপিআর তাদের বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করেছে যে, জননিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশব্যাপী সেনাবাহিনীর নিয়মিত টহল ও নিরাপত্তা অভিযান চলমান রয়েছে। এর পাশাপাশি শিল্পাঞ্চলগুলোতে শ্রমিক অসন্তোষ নিয়ন্ত্রণেও সেনাবাহিনী নিরবচ্ছিন্নভাবে দায়িত্ব পালন করছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার বৃহত্তর স্বার্থে এ ধরনের কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে। একইসাথে যেকোনো ধরনের অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক তৎপরতা নজরে এলে দ্রুততম সময়ে তা ‘নিকটস্থ সেনা ক্যাম্পে অবহিত করার জন্য’ সাধারণ জনগণের প্রতি বিশেষ আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে প্রাপ্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আসন্ন নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরবর্তী সময় থেকে অর্থাৎ গত ১১ ডিসেম্বর থেকে ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত সারাদেশে পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানে মোট ১ হাজার ৫০৭ জনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। এই সময়কালের মধ্যে যৌথ বাহিনীর পক্ষ থেকে ১৫৩টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১ হাজার ৮৩৪টি গোলাবারুদ উদ্ধার করার সাফল্য অর্জিত হয়েছে। মূলত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড দমন ও অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধে সেনাবাহিনীর এই সমন্বিত তৎপরতা জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।


পাবনার নদ-নদীতে বৈদ্যুতিক শকে মাছ নিধন, হুমকিতে জীববৈচিত্র্য

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
পাবনা প্রতিনিধি

পাবনার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া পদ্মা, বড়াল ও ইছামতীসহ বিভিন্ন শাখা নদীতে এক শ্রেণির অসাধু মৎস্য শিকারি মেতে উঠেছে ‘কারেন্ট’ মরণখেলায়। নিষিদ্ধ কারেন্ট জালের পর এখন নতুন আতঙ্ক হয়ে দাঁড়িয়েছে ইলেকট্রিক শক বা বৈদ্যুতিক চুইচ দিয়ে মাছ শিকার। এতে কেবল বড় মাছই নয়, ধ্বংস হচ্ছে পোনামাছ, ডিম ও জলজ কীটপতঙ্গ। পরিবেশবিদরা আশঙ্কা করছেন, এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম নদীর দেশি সুস্বাদু মাছের দেখা আর পাবে না।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ব্যাটারি ও ইনভার্টার ব্যবহার করে শক্তিশালী বিদ্যুৎ তৈরি করা হয়। এরপর দীর্ঘ জিআই তার বা লোহার খাঁচা নদীর পানিতে ফেলে বিদ্যুৎ প্রবাহিত করা হয়। মুহূর্তের মধ্যে কয়েকশ গজ এলাকার ছোট-বড় সব মাছ নিস্তেজ হয়ে ভেসে ওঠে। শিকারিরা দ্রুত সেসব মাছ তুলে নিয়ে সটকে পড়ে।

মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, বৈদ্যুতিক শকের ফলে নদীর যে ক্ষতি হচ্ছে তা অপূরণীয়: শকের সংস্পর্শে আসা যেসব মাছ বেঁচে যায়, তাদের প্রজনন ক্ষমতা চিরতরে হারিয়ে যায়। মাছের প্রধান খাবার শ্যাওলা ও অণুজীব বিদ্যুৎপ্রবাহে মারা যাচ্ছে, ফলে নদীতে মাছের বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। দেশি প্রজাতির মাছ যেমন-আইড়, বোয়াল, পাঙাশ ও কাজলি আজ বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে।

স্থানীয় জেলেরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমরা জাল দিয়ে মাছ ধরে কুলাই না, আর ওরা মেশিন দিয়ে সব সাবাড় করে দিচ্ছে। এভাবে চললে নদী কিছুদিনের মধ্যে মরুভূমি হয়ে যাবে।"

নদী বাঁচাও আন্দোলনের কর্মীরা দাবি জানিয়েছেন, নিয়মিত অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এই অপরাধীদের কঠোর শাস্তি প্রদান করতে হবে। অন্যথায়, পাবনার নদীগুলো কেবলই পানি প্রবাহের নালায় পরিণত হবে, যেখানে কোনো প্রাণের অস্তিত্ব থাকবে না।


সরকারের বিশেষ উদ্যোগে ২০ হাজার টাকায় দেশে ফিরতে পারবেন সৌদি প্রবাসীরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

সৌদি আরব প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য যাতায়াত ব্যয় সহজ ও সাশ্রয়ী করতে মাত্র ২০ হাজার ৫০০ টাকায় দেশে ফেরার এক বিশেষ সুযোগ ঘোষণা করেছে সরকার। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তার মাধ্যমে প্রবাসীবান্ধব এই নতুন উদ্যোগের কথা জানানো হয়। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন এই ব্যবস্থার আওতায় সৌদি আরব ও বাংলাদেশ মিলিয়ে মোট ৮০ হাজার টিকিট বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এই উদ্যোগের ফলে প্রবাসী কর্মীরা যেমন উপকৃত হবেন, তেমনি রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সও আর্থিকভাবে লাভবান হবে।

উপদেষ্টা জানান যে, বিশেষ করে হজ ফ্লাইট পরিচালনার ক্ষেত্রে আগে একমুখী ফাঁকা ফ্লাইট পরিচালনার যে চর্চা ছিল, এই উদ্যোগের মাধ্যমে সেটিকে কার্যকরভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে। এর ফলে বিমানের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো অতিরিক্ত ১০০ কোটি টাকারও বেশি আয় করার বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানানো হয়েছে, মদিনা-ঢাকা ও জেদ্দা-ঢাকা রুটে একমুখী সর্বনিম্ন ভাড়া ২০ হাজার ৫০০ টাকা এবং মদিনা-ঢাকা-মদিনা ও জেদ্দা-ঢাকা-জেদ্দা রুটে রিটার্ন টিকিটের সর্বনিম্ন ভাড়া ৪২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই বিশেষ ছাড় বাংলাদেশে আসার ক্ষেত্রে ১৮ এপ্রিল ২০২৬ থেকে ২৫ মে ২০২৬ পর্যন্ত এবং পুনরায় সৌদি আরবে ফেরার ক্ষেত্রে ৩০ মে ২০২৬ থেকে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এই পদক্ষেপকে প্রবাসীবান্ধব নীতি বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে অভিহিত করে সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, ‘ভবিষ্যতে এ ধরনের বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত প্রবাসী বাংলাদেশিদের জীবনযাত্রা আরও সহজ করবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক অবদান রাখবে।’ তবে এর যথাযথ বাস্তবায়নে গুরুত্বারোপ করে তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, ‘অতীতে দেখা গেছে প্রবাসীদের সুবিধায় অনেক ইতিবাচক উদ্যোগ নেওয়া হলেও সঠিক তদারকির অভাবে তা মুখ থুবড়ে পড়েছে। তাই খেয়াল রাখতে হবে, এই উদ্যোগটি যেন শতভাগ কার্যকর থাকে।’ মূলত প্রবাসীদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে এবং বিমানের সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়েই এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বর্তমান প্রশাসন।


জাতিসংঘ শান্তি বিনির্মাণ কমিশনের সহসভাপতি নির্বাচিত বাংলাদেশ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জাতিসংঘ শান্তি বিনির্মাণ কমিশনে (পিবিসি) ২০২৬ সালের জন্য সহসভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে বাংলাদেশ। শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত জাতিসংঘ সদর দপ্তরে কমিশনের পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট ব্যুরো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২০তম অধিবেশনের প্রথম সভার মাধ্যমে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে এই সহসভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করে।

এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি এবং মহাসচিবের পক্ষে তাঁর শেফ ডি ক্যাবিনেট উপস্থিত থেকে শান্তি বিনির্মাণে কমিশনের গুরুত্ব তুলে ধরেন। নির্বাচন-পরবর্তী এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের জন্য বাংলাদেশের ওপর আস্থা ও বিশ্বাস রাখায় কমিশনের সদস্যদের ধন্যবাদ জানায়। একই সাথে তারা জাতিসংঘের শান্তি বিনির্মাণ কার্যক্রমের প্রতি বাংলাদেশের গভীর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে সচেষ্ট থাকার প্রতিশ্রুতি প্রদান করে।

কমিশনের এই নতুন অধিবেশনে মরক্কো সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে এবং বাংলাদেশের সাথে জার্মানি, ব্রাজিল ও ক্রোয়েশিয়া সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। মূলত সংঘাতকবলিত দেশগুলোতে শান্তি বজায় রাখতে সহায়তাকারী এই আন্তরাষ্ট্রীয় উপদেষ্টা সংস্থাটি ২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। সাধারণ পরিষদ, নিরাপত্তা পরিষদ, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ এবং শীর্ষ সেনা ও অর্থ প্রদানকারী দেশগুলোর মধ্য থেকে নির্বাচিত ৩১টি সদস্যরাষ্ট্র নিয়ে এই কমিশন গঠিত। বাংলাদেশ শুরু থেকেই এর সক্রিয় সদস্য হিসেবে কাজ করছে এবং ইতিপূর্বে ২০১২ ও ২০২২ সালে সভাপতি এবং ২০১৩ ও ২০২৩ সালে সহসভাপতির দায়িত্ব সাফল্যের সাথে পালন করেছে।


প্রত্যাবাসনই রোহিঙ্গা সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান: প্রধান উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা শরণার্থীর নিজ দেশ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে প্রত্যাবাসনই এই সংকটের একমাত্র বাস্তব ও টেকসই সমাধান বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

তিনি রোহিঙ্গাদের নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআরকে সক্রিয় ভূমিকা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাতে ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউএনএইচসিআরের নবনিযুক্ত কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ইভো ফ্রেইজেন তার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন।

সাক্ষাতে ইউএনএইচসিআরের প্রতিনিধি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে সহায়তা কার্যক্রমে ‘নাটকীয়ভাবে অর্থায়ন কমে যাওয়ার’ বিষয়টি তুলে ধরেন। পাশাপাশি শিবিরগুলোতে স্বনির্ভরতা ও জীবিকাভিত্তিক সুযোগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গত এক বছরে একাধিক উচ্চপর্যায়ের কর্মসূচি আয়োজন করলেও রোহিঙ্গা সংকট এখনো প্রত্যাশিত আন্তর্জাতিক মনোযোগ পাচ্ছে না।

তিনি বলেন, গত বছর রমজান মাসে জাতিসংঘ মহাসচিবের শরণার্থী শিবির পরিদর্শন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিষয়টি তুলে ধরতে সহায়ক হলেও আরও মনোযোগ প্রয়োজন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের শিবিরে অবস্থান কোনো সমাধান হতে পারে না। এতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গে ইতোমধ্যে নানা ধরনের উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। তাই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে নতুন করে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ জোরদার করা জরুরি।

তিনি বলেন, ‘সমস্যার শুরু মিয়ানমারে, সমাধানও সেখান থেকেই আসতে হবে। শিবিরে প্রযুক্তি-সুবিধা পাওয়া এক হতাশ ও ক্ষুব্ধ তরুণ প্রজন্ম বড় হয়ে উঠছে—এটি কারও জন্যই ভালো খবর নয়। আমাদের দায়িত্ব হলো তাদের শান্তি ও মর্যাদার সঙ্গে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো।’

বৈঠকে ভাসানচরের রোহিঙ্গা পরিস্থিতি, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট এবং দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ নিয়েও আলোচনা হয়। ড. ইউনূস জানান, ভাসানচর থেকে অনেক শরণার্থী আশ্রয়কেন্দ্র ছেড়ে মূল ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়ছেন, যা দেশের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

ইভো ফ্রেইজেন বলেন, সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত ইউএনএইচসিআর প্রধান বারহাম সালিহ শিগগিরই বাংলাদেশ সফরের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন এবং তার রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি জানান, তার পূর্বসূরি ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি ২০১৭ সাল থেকে একাধিকবার শিবির পরিদর্শন করেছেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে আমরা একটি নতুন মানদণ্ড স্থাপন করতে চাই। বিশ্বাসযোগ্য ও সুশৃঙ্খল নির্বাচন নিশ্চিত করাই আমাদের সব প্রচেষ্টার লক্ষ্য। প্রথমবার ভোট দেওয়া ও নতুন ভোটারদের জন্য আমরা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে আনন্দময় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে চাই।’

বৈঠকে এসডিজি সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোরশেদ উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের জন্য আমরা প্রস্তুত: ধর্ম উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, আমরা নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করে ঘরে ফেরার জন্য প্রস্তুত।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকালে রাজধানীর বাসাবোতে ধর্মরাজিক বৌদ্ধ মহাবিহার মিলনায়তনে গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বৌদ্ধধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট এবং খ্রিষ্টানধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট্র যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।

বৌদ্ধধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান ভবেশ চাকমার সভাপতিত্বে সভায় প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ, প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য) মনির হায়দার ও ধর্ম সচিব মো. কামাল উদ্দিন বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন।

ধর্ম উপদেষ্ট বলেন, ‘একবার ক্ষমতায় বসতে পারলে ছলেবলে কৌশলে চেয়ার ধরে রাখার দুঃখজনক প্রবণতা এ দেশে রয়েছে। কিন্তু আমরা যেদিন দায়িত্ব নিয়েছি সেদিন থেকেই বিদায়ের প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। ইতোমধ্যে আমাদের অনেক উপদেষ্টা তাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট স্যারেন্ডার করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা মানসিকভাবে প্রস্তুত রয়েছি- একটি অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে যারা ক্ষমতায় আসবেন তাদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করব।’

সবাইকে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে জনমত গড়ে তোলার অনুরোধ জানিয়ে ধর্ম উপদেষ্টা বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন হবে বাংলাদেশের ইতিহাসের এক মাইলফলক। গণভোটে ‘হ্যাঁ’ যদি পাস হয় তাহলে দেশে আর কোনোদিন স্বৈরতন্ত্রের জন্ম হবে না। দেশকে আমরা উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে পারব।’

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি যখন ভোট দিতে যাবেন তখন আপনাকে দুটো ব্যালট দেওয়া হবে। একটি সাদা, আরেকটি গোলাপি। সাদা ব্যালটের মাধ্যমে আপনার বিবেচনায় যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেবেন। আর গোলাপি ব্যালোটের মাধ্যমে আমাদের জনপ্রতিনিধিরা কীভাবে দেশ পরিচালনা করবে সেই গাইডলাইন আপনি তৈরি করে দেবেন।’ এ সময়ে তিনি স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদীমুক্ত দেশ গড়তে সকলকে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার অনুরোধ করেন।

জুলাই সনদের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন, ‘সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘ ৫৪ বছরে আমরা এই তিনটি লক্ষ্য অর্জন করতে পারিনি। বিগত ৫৪ বছরের শাসনামলে আমরা এমন এমন শাসনের কবলে পড়েছিলাম যা আমাদের কাঙ্ক্ষিত ছিলো না। কখনো সংবিধানকে সুটকেসবন্দি করে আবার কখনো সংবিধানের দোহাই দিয়ে আমাদের ওপর নিপীড়নমূলক শাসন চালানো হয়েছে।’ একটি সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে রমনার সেন্ট মেরীস্ ক্যাথেড্রাল চার্চের প্রধান পালক ফাদার আলবার্ট টমাস রোজারিও, বৌদ্ধধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া, খ্রিষ্টানধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি পিউস কস্তা বক্তৃতা করেন।


বেবিচককে বিভক্ত করে পৃথক রেগুলেটর ও অপারেটর সংস্থা গঠনের সিদ্ধান্ত

আপডেটেড ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬ ১৬:০৭
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বেসামরিক বিমান চলাচল খাতে আমূল পরিবর্তন ও আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক) ভেঙে পৃথক দুটি সংস্থা গঠনের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। এই সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে একটি সংস্থা ‘রেগুলেটর’ বা নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করবে এবং অন্যটি ‘অপারেটর’ হিসেবে বিমানবন্দর পরিচালনা ও নেভিগেশন সেবা প্রদানের দায়িত্ব পালন করবে। গত বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক চিঠিতে বেবিচককে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয় এবং আজ বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে।

বর্তমান কাঠামোতে বেবিচক একই সাথে দুটি পরস্পরবিরোধী ভূমিকা পালন করে আসছে। একদিকে সংস্থাটি রেগুলেটর হিসেবে বিমান চলাচলের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা তদারকি করে, অন্যদিকে অপারেটর হিসেবে বিমানবন্দরসমূহ পরিচালনা ও এয়ার নেভিগেশন সেবা প্রদান করে। নিজের কাজের তদারকি নিজেই করার এই প্রক্রিয়ায় দীর্ঘকাল ধরে এক ধরণের ‘স্বার্থের সংঘাত’ (Conflict of Interest) তৈরি হচ্ছিল, যা আন্তর্জাতিক সিভিল এভিয়েশন মহলে প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা (আইসিএও) তাদের বিভিন্ন অডিটে বারবার বেবিচকের এই দুই সত্তা পৃথক করার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে আসছিল।

এছাড়া গত বছরের ১৮ অক্টোবর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আমদানি কার্গো কমপ্লেক্সে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর গঠিত উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনেও সংস্থাটিকে দুই ভাগে বিভক্ত করার জোর সুপারিশ করা হয়েছিল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের নেতৃত্বে গঠিত ওই কমিটি তাদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছিল যে, নিয়ন্ত্রণকারী ও পরিচালক সংস্থা এক হওয়ায় তদারকি প্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে পড়ছে। এই প্রেক্ষাপটে সরকারের বর্তমান সিদ্ধান্তটি বিমান চলাচলের নিরাপত্তা ও যাত্রীসেবার মানোন্নয়নে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সরকারের এই নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় আইন ও বিধিমালা প্রণয়ন এবং সংশোধন করা হবে। নতুন এই কাঠামো অনুযায়ী, একটি স্বতন্ত্র অপারেটর সংস্থা গঠিত হবে যারা নেভিগেশন পরিসেবা এবং দেশজুড়ে বিমানবন্দর পরিচালনার যাবতীয় দায়িত্ব পালন করবে। এর ফলে একদিকে যেমন আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা ও আইসিএও-র মানদণ্ড পরিপূরণ হবে, অন্যদিকে বেসামরিক বিমান চলাচল সংক্রান্ত যাবতীয় সেবার মান বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশের এভিয়েশন সেক্টরে আরও স্বচ্ছতা ও পেশাদারিত্ব ফিরে আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।


রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনই সংকটের একমাত্র টেকসই সমাধান: প্রধান উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনই এই দীর্ঘস্থায়ী সংকটের একমাত্র বাস্তবসম্মত ও টেকসই সমাধান বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। গত বুধবার রাতে ঢাকার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআর-এর নবনিযুক্ত কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ ইভো ফ্রেইজেনের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ অভিমত ব্যক্ত করেন। বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকটের বর্তমান পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভূমিকা এবং বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

সাক্ষাৎকালে প্রধান উপদেষ্টা রোহিঙ্গা সংকটের শিকড় যে মিয়ানমারে এবং এর সমাধানও যে সেখান থেকেই আসতে হবে, সেই বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, শরণার্থী শিবিরে রোহিঙ্গাদের দীর্ঘকালীন অবস্থান কোনোভাবেই কোনো স্থায়ী সমাধান হতে পারে না। বর্তমানে শিবিরে এক বিশাল তরুণ প্রজন্ম বেড়ে উঠছে যারা অত্যন্ত হতাশ ও ক্ষুব্ধ। প্রযুক্তিতে তাদের অবাধ প্রবেশাধিকার থাকলেও কর্মসংস্থান বা উন্নত জীবনের সুযোগ না থাকায় এটি একটি বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি করছে যা কারো জন্যই শুভকর নয়। তাই তাদের সম্মান ও নিরাপত্তার সঙ্গে নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়াই এখন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রধান লক্ষ্য হওয়া উচিত।

বৈঠকে ইউএনএইচসিআর প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইজেন কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শিবিরে মানবিক সহায়তার জন্য আন্তর্জাতিক তহবিলের ‘নাটকীয় হ্রাসের’ বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগের সঙ্গে তুলে ধরেন। তিনি শিবিরে বসবাসরতদের জন্য আত্মনির্ভরশীলতা এবং জীবিকাভিত্তিক কার্যক্রম বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জবাবে ড. ইউনূস জানান, বর্তমান সরকার রোহিঙ্গা ইস্যুকে বিশ্বমঞ্চে সক্রিয় রাখতে রমজান মাসে জাতিসংঘ মহাসচিবের শিবির পরিদর্শনসহ বেশ কিছু উচ্চপর্যায়ের উদ্যোগ নিয়েছে। তবে এতকিছুর পরও এই সংকটটি বিশ্ববাসীর কাছ থেকে কাঙ্ক্ষিত মনোযোগ পাচ্ছে না যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, রোহিঙ্গাদের দীর্ঘ উপস্থিতির ফলে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সঙ্গেও সম্পর্কের অবনতি ঘটছে, যা নতুন সামাজিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

আলোচনায় ভাসানচর প্রকল্পের বর্তমান পরিস্থিতি এবং সেখান থেকে শরণার্থীদের মূল ভূখণ্ডে ছড়িয়ে পড়ার চ্যালেঞ্জগুলোও উঠে আসে। প্রধান উপদেষ্টা জানান, ভাসানচর থেকে অনেকে পালিয়ে গিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মিশে যাচ্ছে, যা নিরাপত্তা ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় বাড়তি চাপ তৈরি করছে। ইভো ফ্রেইজেন বৈঠকে জানান যে, ইউএনএইচসিআর-এর নবনিযুক্ত প্রধান বারহাম সালিহ খুব শিগগিরই বাংলাদেশ সফরে আসতে পারেন এবং সরেজমিনে রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শনের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। ২০১৭ সালের পর থেকে সংস্থাটির উচ্চপর্যায়ের একাধিক সফর বাংলাদেশের এই মানবিক প্রচেষ্টার প্রতি আন্তর্জাতিক সংহতির প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।

বৈঠকের শেষ অংশে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর এবং আসন্ন নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা। তিনি অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে জানান যে, বাংলাদেশ একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজনের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। ড. ইউনূস বলেন, “আমরা নির্বাচন পরিচালনায় একটি নতুন জাতীয় মানদণ্ড স্থাপন করতে চাই।” তিনি আরও যোগ করেন যে, প্রথমবার ভোট দিতে আসা তরুণ ভোটারদের জন্য এই নির্বাচনী প্রক্রিয়াটিকে অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং আনন্দময় করে তোলা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। একটি বিশ্বাসযোগ্য ও সুশৃঙ্খল নির্বাচন নিশ্চিত করতে সরকারের সকল অঙ্গ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিকে আশ্বস্ত করেন।


বাংলাদেশের জনগণের নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত যুক্তরাষ্ট্র: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র সরকার বাংলাদেশের নির্বাচনে কোনো পক্ষ নেয় না। নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করার অধিকার বাংলাদেশের জনগণের। ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জনগণ যে সরকার নির্বাচিত করবে, যুক্তরাষ্ট্র তার সঙ্গেই কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক শেষে মার্কিন রাষ্ট্রদূত সাংবাদিকদের এ কথাগুলো বলেন।

ক্রিস্টেনসেনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল এদিন সিইসির সঙ্গে বৈঠক করে। ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি ছিল সিইসির সঙ্গে ক্রিস্টেনসেনের প্রথম সাক্ষাৎ।

ক্রিস্টেনসেন সাংবাদিকদের বলেন, সিইসির সঙ্গে ভালো বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে অন্তর্বর্তী সরকার যে নীতিমালা, প্রস্তুতি ও প্রক্রিয়াগুলো গ্রহণ করেছে, সে সম্পর্কে বিস্তারিতভাবে তাকে জানিয়েছেন সিইসি।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে শুনানির সময় তিনি যেমনটি বলেছিলেন, বাংলাদেশের আসন্ন নির্বাচন নিয়ে তিনি উচ্ছ্বসিত এবং তিনি এর ফলাফল দেখতে আগ্রহী।

গত সপ্তাহে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের কথা উল্লেখ করেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত। সেই বৈঠক সম্পর্কে ক্রিস্টেনসেন বলেন, প্রধান উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেছিলেন যে নির্বাচন উৎসবমুখর হবে। তিনিও (মার্কিন রাষ্ট্রদূত) আশা করেন, বাংলাদেশে একটি উৎসবমুখর নির্বাচন হবে।


প্রযুক্তির হাত ধরেই গড়ে উঠবে ভবিষ্যৎ: প্রধান উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক 

দ্রুত পরিবর্তনশীল বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে দেশে প্রযুক্তিগত অগ্রগতি জোরদারের ব্যাপারে গুরুত্বারোপ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেছেন, ভবিষ্যৎ গড়ে উঠবে প্রযুক্তির হাত ধরেই। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিএফসিসি) ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা এ কথা বলেন।

ড. ইউনূস বলেন, আগামী পৃথিবী মৌলিকভাবে ভিন্ন হবে। আজ যা আমরা কল্পনাও করতে পারছি না, সেটাই বাস্তবতায় পরিণত হবে। পৃথিবী দ্রুত বদলাচ্ছে। এই বৈশ্বিক গতির সঙ্গে যদি আমরা নিজেদের গতি বাড়াতে ও সামঞ্জস্য আনতে না পারি, তাহলে আমরা কতটা পিছিয়ে পড়ব, তা ভেবে দেখা দরকার।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেখে মনে হতে পারে বাংলাদেশ অন্যদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোচ্ছে, কিন্তু বাস্তবে আমরা অনেক ক্ষেত্রেই পিছিয়ে— চিন্তায় পিছিয়ে, কাজে পিছিয়ে এবং নিজেদের প্রস্তুতিতেও পিছিয়ে।

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) খাতকে যথাযথ গুরুত্ব না দেওয়ার কারণেই এই পিছিয়ে পড়া। আইসিটিকে তিনি ‘মূল খাত’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই খাত থেকেই ভবিষ্যৎ তৈরি হবে। আমি এই খাতের কথা বলছি, কারণ— এটি একটি প্রধান খাত। ভবিষ্যৎ এই খাত থেকেই গড়ে উঠবে।

ড. ইউনূস বলেন, অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী খাতগুলো টিকে থাকবে ঠিকই। তবে, প্রযুক্তি খাতই হবে চালিকাশক্তি— হাওয়ার মতো, বাতাসের মতো; যা প্রতিটি খাতকে স্পর্শ করে নতুনভাবে রূপ দেবে।

এ কারণে এখনই প্রস্তুতি শুরু করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, এই খাতের নীতিমালা প্রণয়নে সংশ্লিষ্টদের প্রচলিত চিন্তাধারা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

এক্সপো প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এ ধরনের আয়োজনগুলোতে আমরা কী ধরনের আলোচনা করি, কী ধরনের ভবিষ্যৎ কল্পনা করি এবং সে অনুযায়ী কী ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরি করি— দেশের ভবিষ্যৎ অনেকটাই তার ওপর নির্ভর করবে।

প্রজন্মগত পরিবর্তনের বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, আজকের শিশুরা প্রযুক্তির সঙ্গে প্রায় সহজাতভাবেই যুক্ত। প্রজন্মগুলোর মধ্যে এই বাড়তে থাকা দূরত্ব একটি নেতৃত্ব সংকট তৈরি করছে। বয়স্ক প্রজন্ম তরুণদের নেতৃত্ব দিতে পারছে না— কোনো খারাপ উদ্দেশের কারণে নয়, বরং তাদের চিন্তাভাবনার ধরন এক নয়।

বাংলাদেশের আইসিটি খাতেও এখনো পুরোনো দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন রয়েছে উল্লেখ করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, জনগণের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা পৌঁছাতে প্রকৃত ডিজিটাল শাসনব্যবস্থা চালু করতে হবে। মানুষ সরকারের কাছে আসবে না, বরং সরকারি সেবা মানুষের কাছে যাবে। এটি বাস্তবায়ন করা গেলে দুর্নীতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।

চার দিনব্যাপী এই প্রযুক্তি প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে আইসিটি বিভাগ, বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষ (বিএইচটিপিএ) ও বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতি (বিসিএস)। ‘বাংলাদেশ টু দ্য ওয়ার্ল্ড’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই এক্সপো চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। সভাপতিত্ব করেন তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ হাই-টেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা এবং বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম।


মোহাম্মদপুরে সেনাবাহিনীর অভিযানে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৫

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এক বিশেষ অভিযানে ১২ হাজার ৩০টি ইয়াবাসহ এক মাদক কারবারি ও তার চার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সেনা সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে গ্রেপ্তার হওয়া মাদক ব্যবসায়ীদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শেরেবাংলা সেনা ক্যাম্প জানতে পারে যে, রাজু নামের এক ব্যক্তি টেকনাফ থেকে ঢাকায় বিশাল মাদকের চালান নিয়ে আসছে। এই খবরের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টা থেকে বুধবার ভোর ৫টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত মোহাম্মদপুরের টাউনহল, তাজমহল রোড ও জেনেভা ক্যাম্প এলাকায় সাড়াশি অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন— রাজু (৩৫), রনি (৪০), রকি (৩২), সুমন (২৮) ও মহিন (১৮)।

অভিযানের ধারাবাহিকতায় প্রথমে টাউনহল রোড এলাকা থেকে রাজুকে আটক করা হয় এবং পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে তাজমহল রোড ও জেনেভা ক্যাম্প থেকে তার অন্য চার সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ইয়াবা ছাড়াও ৭১০ পুরিয়া ও ৪০০ গ্রাম গাঁজা, মাদক বিক্রির নগদ ১৫ লাখ ২৬ হাজার ৬২৫ টাকা, ২টি ডিজিটাল ওজন মেশিন এবং ১২টি স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়েছে। ধৃত পাঁচজন ও উদ্ধারকৃত সকল আলামত পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্দেশ্যে মোহাম্মদপুর থানায় হস্তান্তর করেছে সেনাবাহিনী।

সেনাবাহিনীর ৪৬ স্বতন্ত্র পদাতিক ব্রিগেডের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, এই চক্রটি উদ্ধারকৃত মাদকসমূহ একজন শীর্ষ মাদক কারবারির কাছে সরবরাহের পরিকল্পনা করছিল, তবে সেই মূল হোতাকে এখনো আটক করা সম্ভব হয়নি। রাজধানীতে মাদক ও অপরাধ নির্মূলে নিজেদের অবস্থান দৃঢ় করে তিনি আরও জানান, “এই সিন্ডিকেটের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তারে ভবিষ্যতেও অভিযান অব্যাহত থাকবে। রাজধানীতে মাদক ও অপরাধ দমনে সেনাবাহিনীর এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।”


banner close