যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক নাদির জুনাইদকে তিন মাসের বাধ্যতামূলক ছুটি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এসময় তাকে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য নিদের্শ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার বিকেলে ডেপুটি রেজিস্ট্রার (প্রশাসন-১) জিএম মিজানুর রহমান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই তথ্য জানানো হয়। এরপর বিকেল সাড়ে চারটার দিকে নিজ কার্যালয়ের সামনে এই চিঠি আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পড়ে শোনান বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল মনসুর আহাম্মদ৷
এর আগে অধ্যাপক নাদির জুনাইদ দৈনিক বাংলাকে বলেন, শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করাতে তাদের পড়ালেখা বিঘ্নিত হচ্ছে। আমি চাই না, আমার কারণে শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় কোন ক্ষতি হোক। তাই আমি নিজ থেকে আর ক্লাসে না ফেরার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে আসা চিঠিতে অধ্যাপক নাদির জুনাইদকে আরও বলা হয়, “আপনার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের যথাযথ অনুসন্ধান ও তদন্ত করার জন্য বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরবর্তী সিন্ডিকেট সভায় উপস্থাপন করা হবে এবং সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে৷”
এর আগে গতকাল সকাল থেকে বিভাগের শিক্ষার্থীরা তিন দাবিতে বিভাগের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ দেখান এবং দ্বিতীয় দিনের মতো ক্লাস বর্জন কর্মসূচি পালন করেন।
তাদের তিন দাবিগুলো হলো, নাদির জুনাইদের বিরুদ্ধে ওঠা যৌন নিপীড়নের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করা; দ্রুত অপরাধীকে শাস্তির আওতায় আনা; তদন্ত চলাকালে বা অভিযোগ নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সকল অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম থেকে শিক্ষক নাদির জুনাইদকে বিরত রাখা।
পরে বেলা একটার দিকে শিক্ষার্থীরা অধ্যাপক নাদির জুনাইদের অফিস কক্ষে তালা দেওয়ার পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষের তালায় সিলগালা করে দেন।
এরপর দুপুর আড়াইটার দিকে শিক্ষার্থীরা বিভাগের সামনে থেকে বিক্ষোভ নিয়ে উপাচার্য এর কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। দশ মিনিট অবস্থান করার পর শিক্ষার্থীরা জানতে পারেন সেখানে উপাচার্য নেই। এরপর শিক্ষার্থীরা মিছিল নিয়ে উপাচার্য এর বাসভবনের সামনে অবস্থান নেওয়া শুরু করেন। কিছুক্ষণ পর বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন সহকারী প্রক্টরকে নিয়ে সেখানে উপস্থিত হন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল মনসুর আহাম্মদ৷
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে মনসুর আহমেদ বলেন, উপাচার্য আমাকে বলেছেন, অধ্যাপক নাদির জুনাইদকে নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিকেল চারটার মধ্যে রেজিস্টার দপ্তর থেকে সেই চিঠি আমাদের কাছে চলে আসবে। তাই তোমরা এই স্থান ছেড়ে দাও। শিক্ষার্থীরা শুরুতে আশ্বস্ত না হলেও পরে অধ্যাপক মনসুর শিক্ষার্থীদের বলেন, চারটার মধ্যে কোন সিদ্ধান্তের কপি আমাদের কাছে না এলে আমিও তোমাদের সাথে নিয়ে এখানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করবো। পরে শিক্ষার্থীরা অধ্যাপক মনসুরের কথায় আশ্বস্ত হয়ে উপাচার্য এর বাসভবনের সামনে থেকে সরে বিভাগের বারান্দায় অবস্থান নেয়।
বিকেলে বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবুল মনসুর আহাম্মদ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের রেজিস্টার কর্তৃক পাঠানো চিঠি পড়ে শোনালে তারা বিভাগ ত্যাগ করেন।
সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপির সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
রোববার (১২ এপ্রিল) সচিবালয়ে মন্ত্রীর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এ সাক্ষাতে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়, বিশেষ করে বাংলাদেশের সড়ক, রেল ও নৌ যোগাযোগ খাতের চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার সম্ভাবনা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎকালে সড়ক মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আধুনিক, নিরাপদ ও টেকসই করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি এ খাতে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিগত সহায়তার বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন বর্তমান সরকারকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, সড়ক নিরাপত্তা, আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থা ও টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
এসময় তিনি পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময়ের মাধ্যমে বাংলাদেশের যোগাযোগ খাতকে আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
এসময় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক উপস্থিত ছিলেন।
ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে শুরু হয়েছে হামের টিকাদান কর্মসূচি। এই দুই সিটিতে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী টিকা দেওয়া গেলে হাম রোগ নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সম্মেলন কক্ষে হামের টিকাদান কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ কথা জানান তিনি।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সারা দেশে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় টিকাদান কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করছে বর্তমান সরকার। ঢাকার দুই সিটিতে টিকাদান সম্পন্ন করা গেলে হাম অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে।’
ডেঙ্গু প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সামনে ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়বে। সরকার এরইমধ্যে ডেঙ্গু নিয়ে কাজ শুরু করেছে। সেইসঙ্গে মানুষের সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।’
এদিকে রাজধানীর কড়াইলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের হাম রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধনী আয়োজনে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত বলেছেন, ‘জরুরি ক্যাম্পেইন সফল করতে হলে সর্বস্তরের সবাইকে নিয়ে যে যার এলাকায় সাংগঠনিক শক্তি নিয়ে এই ক্যাম্পেইন সফল করুন। এই ক্যাম্পেইন রাজনীতিবিদদের জন্য সুযোগ। আপনারা ঘরে ঘরে গিয়ে টিকাদান কর্মসূচি সম্পর্কে তথ্য দিন।’
তিনি আরও বলেন, ‘৫৯ মাস পর্যন্ত যাদের বয়সি শিশুদের অবশ্যই টিকা দিতে হবে। শুধু আপনার বাচ্চা টিকা নিল কিনা তাতেই হাম প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। গোষ্ঠীর সবার মধ্যে রোগ প্রতিরোধ তৈরি করা গেলেই তা প্রতিরোধ করা সম্ভব।’
এম এ মুহিত বলেন, ‘অন্তত ১০০ জনে ৯৫ জন শিশুকে টিকার আওতায় আনতে হবে। যাতে দু-চারজন বাদ গেলেও সংক্রমণের ঝুঁকি না থাকে’
গত ৫ এপ্রিল থেকে দেশের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় শুরু হয় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি। আজ ঢাকাসহ চার সিটি করপোরেশন এলাকায় শুরু হয়েছে হাম-রুবেলার এই টিকাদান কর্মসূচি। ঢাকার দুই সিটিতে টিকা পাবে ৬ মাস থেকে ৫ বছর বয়সি প্রায় ১২ লাখ ২০ হাজার শিশু। ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত এ কার্যক্রম চলবে। ২০ এপ্রিল সারা দেশে একযোগে শুরু হবে টিকা কার্যক্রম।
পহেলা বৈশাখে প্রি-পাইলটিং পর্যায়ে দেশের ৮ বিভাগের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি ব্লকে কৃষক কার্ড উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রথম দফায় ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষক, মৎস্যচাষি/আহরণকারী, প্রাণিসম্পদ খামারি ও দুগ্ধখামারীসহ ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় শ্রেণির সব কৃষককে এ কার্ড দেওয়া হবে।
রোববার (১২ এপ্রিল) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে কৃষক কার্ড বিতরণ উপলক্ষ্যে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এ কথা জানান।
মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানান, আগামী পহেলা বৈশাখে নতুন বছরের প্রথম দিনে প্রাক-পাইলটিং পর্যায়ের 'কৃষক কার্ড' বিতরণ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন।
প্রাথমিক পর্যায়ে দেশের ৮ বিভাগের ১০টি জেলার ১১টি ব্লকে এই কর্মসূচি চালু করা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রাক-পাইলট পর্যায়ে পঞ্চগড় জেলার সদর উপজেলার কমলাপুর ব্লক, বগুড়া জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার উথলি ব্লক, ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা উপজেলার কৃপালপুর ব্লক, পিরোজপুর জেলার নেছারাবাদ উপজেলার রাজাবাড়ি ব্লক, কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার রাজারছড়া ব্লক, কুমিল্লা জেলার আদর্শ সদর উপজেলার অরণাপুর ব্লক, টাঙ্গাইল জেলার টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সুরুজ ব্লক, রাজবাড়ি জেলার গোয়ালন্দ উপজেলার তেনাপঁচা ব্লক, মৌলভিবাজার জেলার জুড়ি উপজেলার ফুলতলা ব্লক, পঞ্চগড় জেলার বোদা উপজেলার পাঁচপির ব্লক ও জামালপুর জেলার, ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা ব্লকে এ কার্যক্রম উদ্বোধন হবে।
কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রম প্রি-পাইলটিং, পাইলটিং এবং দেশব্যাপী বাস্তবায়ন এ তিনটি ধাপে সম্পন্ন করা হবে বলেও জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, প্রাক-পাইলটিংয়ে ১১ এপ্রিল মোট ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকের সংখ্যা ২০ হাজার ৬৭১ জন, যা মোটের প্রায় ৯৩.৭ শতাংশ। এসব কৃষকের মধ্যে ফসল উৎপাদনকারী, মৎস্যজীবী, প্রাণিসম্পদ খামারি এবং লবণ চাষিরাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।
তিনি বলেন, প্রাক-পাইলটিং পর্যায়ে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের বছরে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে নগদ সহায়তা করা হবে। প্রাক-পাইলট ও পাইলট পর্ব সফল হলে আগামী ৪ বছরের মধ্যে দেশব্যাপী এই কার্ডের মাধ্যমে ডিজিটাল কৃষি সেবা চালু করা হবে। সারা দেশের প্রায় ২ কোটি ২৭ লাখ কৃষক রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, কৃষক কার্ড হবে একটি ডিজিটাল ইউনিক পরিচয়পত্র, যা কৃষকদের জন্য নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য পেমেন্ট ব্যবস্থার পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি সেবা ও প্রণোদনা পাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করবে। কৃষি খাতের ডিজিটাল রূপান্তরের মাধ্যমে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি ও দুর্নীতি হ্রাসও এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।
রাজধানীতে জ্বালানি তেল বিতরণ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বড় ধরনের প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এনেছে সরকার। আজ রোববার (১২ এপ্রিল) থেকে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সাতটি ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেল চালকদের জন্য কিউআর কোডভিত্তিক মোবাইল অ্যাপ ‘ফুয়েল পাশ’ ব্যবহার করে তেল নেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)-এর এই উদ্যোগের ফলে এখন থেকে এসব নির্ধারিত পাম্পে অ্যাপের মাধ্যমেই শুধুমাত্র পেট্রোল ও অকটেন সংগ্রহ করতে পারবেন গ্রাহকরা।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রচলিত ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে তেল বিতরণের ফলে পাম্পগুলোতে দীর্ঘ যানজট এবং যানবাহনের অস্বাভাবিক সারির সৃষ্টি হচ্ছিল। এছাড়া অনেক ক্ষেত্রে একই ব্যক্তি বারবার তেল সংগ্রহ করে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ উঠছিল। এসব সমস্যা নিরসনে ‘ফুয়েল পাশ’ অ্যাপটি সরাসরি বিআরটিএ-র কেন্দ্রীয় ডেটাবেজের সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতিটি যানবাহনের তথ্য যাচাই করে নির্ধারিত পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ করা সম্ভব হবে। শুরুতে মাত্র দুটি স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে এই কার্যক্রম শুরু হলেও গতকাল শনিবার আরও পাঁচটি স্টেশন যুক্ত করার মাধ্যমে পরিধি বাড়ানো হয়েছে।
বর্তমানে রাজধানীর যেসব ফিলিং স্টেশনে এই বিশেষ ডিজিটাল সেবা কার্যকর রয়েছে সেগুলো হলো—তেজগাঁও এলাকার ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশন, আসাদগেটের সোনার বাংলা ও তালুকদার ফিলিং স্টেশন, মহাখালীর গুলশান সার্ভিস স্টেশন, শাহবাগের মেঘনা মডেল পাম্প, নিকুঞ্জ এলাকার নিকুঞ্জ মডেল সার্ভিস সেন্টার এবং কল্যাণপুরের খালেক সার্ভিস স্টেশন। এসব স্টেশনের মালিকদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, তারা ডিজিটাল মাধ্যমে এন্ট্রি সম্পন্ন করার পরই গ্রাহকদের জ্বালানি তেল সরবরাহ করবেন।
প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা রয়েছে এমন গ্রাহকদের সুবিধার্থে বিকল্প ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। যাদের স্মার্টফোন নেই, তারা নির্ধারিত ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিবন্ধন সম্পন্ন করে কিউআর কোডটি ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নিতে পারবেন। পাম্পে দায়িত্বরত কর্মীরা সেই কিউআর কোড স্ক্যান করেই জ্বালানি সরবরাহ করবেন। স্ক্যান করার সাথে সাথেই গ্রাহক তাঁর জন্য পূর্বনির্ধারিত জ্বালানির বরাদ্দের পরিমাণ এবং উত্তোলনের তথ্য দেখতে পারবেন।
জ্বালানি বিভাগ আরও জানিয়েছে, একটি কেন্দ্রীয় ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে জাতীয় পর্যায়ে জ্বালানি সরবরাহ ও বিতরণের সামগ্রিক চিত্র তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এই আধুনিক উদ্যোগ বাস্তবায়নের ফলে জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় অনিয়ম ও অপচয় উল্লেখযোগ্য হারে কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে বর্তমানের মতো বৈশ্বিক অস্থিরতা ও সংকটকালীন সময়ে কার্যকরভাবে জ্বালানি ব্যবস্থাপনা এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তি লাঘবে এটি একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। সরকারের এই ডিজিটাল পদক্ষেপ ধাপে ধাপে রাজধানীর অন্যান্য পাম্প এবং পরবর্তীতে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, সশস্ত্র বাহিনী কোনো ব্যক্তি, দল বা পরিবারের সম্পদ নয়; বরং এটি রাষ্ট্রের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য গঠিত একটি জাতীয় প্রতিষ্ঠান। সেনাবাহিনীর মূল দায়িত্ব হলো দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা এবং এই দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বা বিভাজন গ্রহণযোগ্য নয়।
রোববার (১২ এপ্রিল) ঢাকা সেনানিবাসে সশস্ত্র বাহিনীর দরবারে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। দরবারে তিনি সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের পেশাদারিত্ব বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
তারেক রহমান বলেন, অতীতে বিভিন্ন সময়ে নানা ঘটনা ও কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে দুর্বল ও বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। বিশেষ করে তিনি পিলখানা হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে বলেন, ওই ঘটনার মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছিল এবং পরবর্তী সময়েও বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের কারণে বাহিনীকে বিতর্কিত করার প্রচেষ্টা দেখা গেছে।
প্রধানমন্ত্রী দাবি করেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়সহ বিভিন্ন পরিস্থিতিতে সেনাবাহিনী তাদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেছে। ভবিষ্যতের নির্বাচনসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বাহিনীর ভূমিকা আরও স্বচ্ছ ও পেশাদার হওয়া প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
সেনাবাহিনীর আধুনিকায়নে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেই সময় থেকে সেনাবাহিনীর মধ্যে যে দেশপ্রেম ও শক্তিশালী মনোভাব গড়ে উঠেছিল, তা অব্যাহত রাখা জরুরি। তার মতে, একটি ঐক্যবদ্ধ সশস্ত্র বাহিনী থাকলে বাংলাদেশকে কেউ পরাজিত করতে পারবে না।
এছাড়া তিনি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণকে একটি বড় অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন এবং বলেন, বিএনপি সরকারের সময়েই এই অর্জন আন্তর্জাতিকভাবে আরও উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।
তারেক রহমান আরও বলেন, শুধু সেনাবাহিনী নয়, রাষ্ট্রের প্রতিটি খাতের সংস্কার এবং মানুষের উন্নয়নকে সামনে রেখে একটি নতুন রূপান্তরের পরিকল্পনা তাদের রাজনৈতিক অঙ্গীকারে রয়েছে। ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের বিষয়েও তিনি প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই দেশে হামের প্রাদুর্ভাব রোধে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত। তিনি বলেছেন, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে তথ্য বিশ্লেষণ করে দেশের ১৮টি জেলার অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ৩০টি উপজেলাকে শনাক্ত করা হয়েছে। এসব এলাকায় সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে গত ৫ এপ্রিল থেকেই জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে মন্ত্রণালয়।
রোববার (১২ এপ্রিল) রাজধানীর কড়াইল বস্তির এরশাদ মাঠে হাম-রুবেলার টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত বলেন, পর্যায়ক্রমে আমরা বাংলাদেশের বড় সিটি কর্পোরেশনগুলোতে টিকাদান কার্যক্রম শুরু করলাম। এর পাশাপাশি আগামী ২০ তারিখ থেকে সারা দেশে এই হামের টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়ে যাবে।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সুযোগ্য নেতৃত্বে আমাদের এক মিনিটও অপেক্ষার সময় নেই। আমরা অতি গুরুত্বসহকারে দ্রুততমভাবে এই কাজগুলো করছি। জনগণের কাছে আপনাদের সেই কথাগুলো তুলে ধরতে হবে। তাহলে জনগণ যে আশা নিয়ে যে স্বপ্ন নিয়ে স্বৈরাচারের বাংলাদেশ থেকে নতুন গণতন্ত্রে বাংলাদেশ গড়ে তোলার জন্য আমাদের ভোট দিয়েছেন, সমর্থন দিয়েছেন, আমরা তাদের সেই স্বপ্নকে পূরণ করতে পারব। তাদের সেই সমর্থনকে ধরে রাখতে পারব।
সরকারে আসার পর থেকে আমরা দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছি উল্লেখ করে স্বাস্থ্যপ্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা মানুষের জন্য কাজ করছি। কিন্তু যদি আমরা বারবার মানুষের কাছে যেতে পারি, মানুষ জানবে আমাদের কাজের ফল এই সুযোগে আমরা তাদের কাছে যাব। তাদের জন্যই আমরা কাজ নিয়ে এসেছি। আর এটি হল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ শিশুদের সুরক্ষা।
তিনি বলেন, মানুষ অনেক সময় বলেন আমরা রাজনীতিবিদরা নির্বাচনের সময় আসি তারপরে ভুলে যাই। এই ক্যাম্পেইনটি একটি সুযোগ।
অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত বলেন, আপনারা যখন জনগণের কাছে সঠিক তথ্য নিয়ে যাবেন, তখন মানুষ প্রকৃত সত্য উপলব্ধি করতে পারবে। আমাদের সরকার ও দলের বিরুদ্ধে অতীতেও অপপ্রচার হয়েছে, এখনও হচ্ছে। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা স্বাভাবিকভাবেই আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের চেষ্টা করবে, কিন্তু জনগণ এখন অনেক সচেতন।
তিনি আরও বলেন, মায়েদের উদ্দেশ্য করে বলতে চাই। যাদের বয়স ৬ মাস থেকে পাঁচ বছরের কম তাদের অবশ্যই এই টিকার আওতায় আনবেন। এই টিকা সফল হবে কি হবে না, আমাদের সন্তানরা সুস্থ থাকবে কিনা শুধু আপনার একজন বাচ্চা টিকা নিল কিনা তার ওপর নির্ভরশীল নয়।
প্রতিমন্ত্রী জানান, হাম একদিকে যেমন দ্রুত ছড়ায়, অন্যদিকে সঠিক সময়ে টিকার মাধ্যমে এটি প্রতিরোধ করাও বেশ সহজ। এটি মূলত ‘হার্ড ইমিউনিটি’ বা গোষ্ঠীগত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার মতো কাজ করে। অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর বড় অংশকে যদি টিকার আওতায় এনে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করা যায়, তবে ওই এলাকার সব শিশু সুরক্ষিত থাকবে। অধিকাংশ শিশুকে এই টিকাদান কর্মসূচির অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হলে হাম ছড়ানোর আর কোনো সুযোগ থাকবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম মিল্টন বলেন, ডিএনসিসির নিজস্ব কোনো জেনারেল হাসপাতাল নেই। তবে মহাখালীতে আমাদের একটি স্থাপনা রয়েছে, যা বর্তমানে কোভিড হাসপাতাল হিসেবে পরিচিত। আমি স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছি। আমি চাই ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের নিজস্ব ভবনে আমাদের ব্যবস্থাপনায় নগরবাসীকে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করতে। সেই লক্ষ্যে আমরা সেখানে একটি পূর্ণাঙ্গ জেনারেল হাসপাতাল গড়ে তুলতে চাই।
তিনি আরও বলেন, আমি সম্প্রতি ওই হাসপাতালটি পরিদর্শনে গিয়েছিলাম এবং সেখানে কিছু অব্যবস্থাপনা লক্ষ্য করেছি। সেখানে একটি জেনারেল হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হলে উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মানুষ সহজেই চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারবেন।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর গবেষণা কর্মকর্তা আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী, ইউনিসেফ ও ডব্লিউএইচও প্রতিনিধি দলের সদস্যরাসহ আরও অনেকেই।
রাজধানীর বনানীতে হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেছেন স্বাস্থ্যপ্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস।
রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে বনানীর এরশাদ মাঠে হাম প্রকোপ প্রতিরোধে এ বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়।
বিশেষ অতিথি হিসেবে টিকাদান কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুস সাত্তার পাটোয়ারি, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসান, ডিএসিসির প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।
আগামী ১৪ এপ্রিল ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণে প্রি-পাইলট কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এদিন সকাল ১০টায় টাঙ্গাইল সদরের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে।
শনিবার (১১ এপ্রিল) তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এক চিঠিতে জানানো হয়েছে, এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের ১০টি উপজেলায় একযোগে ‘কৃষক কার্ড’ কার্যক্রমের যাত্রা শুরু হবে।
উপজেলাগুলো হলো—টাঙ্গাইল সদর, পঞ্চগড় সদর, পঞ্চগড়ের বোদা, বগুড়ার শিবগঞ্জ, ঝিনাইদহের শৈলকুপা, পিরোজপুরের নেছারাবাদ, কক্সবাজারের টেকনাফ, কুমিল্লার আদর্শ সদর, জামালপুরের ইসলামপুর, রাজাবাড়ীর গোয়ালন্দ এবং মৌলভীবাজার জুড়ী।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবি ভারতের কাছে পুনর্ব্যক্ত করেছে ঢাকা। গত শুক্রবার (১০ এপ্রিল) মরিশাসের পোর্ট লুইসে নবম ভারত মহাসাগরীয় সম্মেলন থেকে দেশে ফেরার আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। একই সঙ্গে তিনি বাংলাদেশের নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফরের বিষয়েও আভাস দিয়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
এর আগে চলতি সপ্তাহে ৮ এপ্রিল দিল্লি সফরকালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (এনএসএ) অজিত দোভাল এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। বৈঠকের বিষয়ে খলিলুর রহমান বলেন, ‘বিদ্যমান প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় আমরা আগেই শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়েছি। এই সফরে আমরা সেই দাবিরই পুনরাবৃত্তি করেছি।’ তবে কৌশলগত কারণে আলোচনার সব তথ্য এখনই প্রকাশ করতে রাজি হননি তিনি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ঢাকায় ছাত্র-জনতার তীব্র গণআন্দোলনের মুখে দেশ ছাড়ার পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অবস্থান করছেন। দ্য হিন্দুর প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, তাকে এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়াটি বর্তমানে ভারত সরকারের বিবেচনাধীন।
২০২৫ সালের নভেম্বরে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা (বর্তমানে পররাষ্ট্রমন্ত্রী) খলিলুর রহমানের দিল্লি সফরের কয়েক দিন পরই বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠায়। বাংলাদেশে মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর তাদের প্রত্যর্পণের জন্য এই আবেদন জানানো হয়েছিল।
সে সময় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (এমইএ) মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক বিবৃতিতে জানিয়েছিলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রত্যর্পণের অনুরোধটি বর্তমানে ভারতের নিজস্ব বিচারিক এবং অভ্যন্তরীণ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ভারত বাংলাদেশের জনগণের সর্বোত্তম স্বার্থ রক্ষার বিষয়ে সব সময় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
গত ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সফরটি অবশ্যই হবে, তবে আমরা এখনো তারিখ চূড়ান্ত করিনি। এই সফরের প্রস্তুতির জন্য আগামী কয়েক সপ্তাহে অনেকগুলো কার্যক্রম পরিচালিত হবে।’ তিনি আরও জানান, দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে চিঠি আদান-প্রদান করেছেন এবং টেলিফোনে কথা বলেছেন। দুই পক্ষই এই গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে অত্যন্ত আগ্রহী।
দিল্লির বৈঠকগুলো নিয়ে ‘যথেষ্ট আশাবাদী’ বলে জানিয়ে খলিলুর রহমান বলেন, ‘আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই আমরা সম্পর্কের এই অগ্রযাত্রা দেখতে পাব বলে আশা করছি।’
দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ভারত কর্তৃক গত এক বছরে সীমিত রাখা ভিসা প্রক্রিয়া পুনরায় চালু করার বিষয়টিও উত্থাপন করেছে বাংলাদেশ। এ ছাড়া পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের ফলে সৃষ্ট জ্বালানি ঘাটতি মোকাবিলায় ভারতের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, ‘এই সংকট আরও ঘনীভূত হবে। ১৯৭০-এর দশকের তেলসংকটের মতো এটিও উন্নয়নের ধারাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে এটি মোকাবিলা করতে হবে, অন্যথায় আমরা আলাদাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হব।’
খলিলুর রহমান বলেন, এ বছর বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ এই আঞ্চলিক জোটকে সক্রিয় করতে আগ্রহী। পাশাপাশি দীর্ঘদিন স্থগিত থাকা সার্ক সম্মেলন পুনরায় শুরু করার ওপরও জোর দেন তিনি। তিনি বলেন, ‘যদি আমরা সবাই মিলে কাজ করি এবং নির্দিষ্ট কিছু দেশ কেন অংশ নিতে চাইছে না; সেই কারণগুলো দূর করতে পারি, তবে সার্ক সম্মেলন অনুষ্ঠানে কোনো বাধা থাকার কথা নয়। এটি মূলত অন্যদের কাছে পৌঁছানোর বিষয়।’
চাঁদাবাজদের একটি নিরপেক্ষ তালিকা তৈরি করছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তালিকা প্রস্তুত শেষে সব অপরাধীর বিরুদ্ধে যেকোনো সময় দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে র্যাব।
শনিবার (১১ এপ্রিল) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।
ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে চাঁদাবাজদের একটি ‘আনবায়াসড’ তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। র্যাবের ১৫টি ব্যাটালিয়ন ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু করেছে এবং গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। যারাই তালিকায় থাকবে, তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।
র্যাব পরিচালক জানান, চাঁদাবাজি শুধু একটি নির্দিষ্ট খাতে সীমাবদ্ধ নয়। পরিবহন খাতে মহাসড়ককেন্দ্রিক চাঁদাবাজি, বাজারে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাপ সৃষ্টি, সব ধরনের চাঁদাবাজিকে এই তালিকার আওতায় আনা হচ্ছে। ছোট থেকে বড় সব স্তরের অপরাধীকেই বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা ভয় বা নিরাপত্তাজনিত কারণে অভিযোগ করেন না। সে ক্ষেত্রে গোয়েন্দা তথ্য, মাঠ পর্যায়ের অনুসন্ধান এবং বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করে তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে।
তালিকায় রাজনৈতিক ব্যক্তিরা থাকলে কী হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, তালিকা হবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ। কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব থাকবে না। যে অপরাধী, তার বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যত দ্রুত সম্ভব কাজ শেষ করে মাঠে অভিযান শুরু করা হবে।
৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বা ৫ বছর বয়সি সব শিশুকে হামের টিকার আওতায় আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী। শনিবার (১১ এপ্রিল) বিশ্ব পারকিনসন দিবস উপলক্ষে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স অ্যান্ড হসপিটালে আয়োজিত এক সেমিনারে তিনি এ কথা বলেছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘গত ৪ বছর টিকাদান কর্মসূচিতে কিছুটা ছেদ পড়ায় বর্তমানে হামের এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, যা মোকাবিলায় সরকার কাজ করছে।’
স্বাস্থ্য সচিব বলেন, ‘রোববার (১২ এপ্রিল) থেকে ঢাকা উত্তর-দক্ষিণ, চট্টগ্রাম, ময়মনসিংহ ও বরিশাল সিটি করপোরেশনে হামের টিকা কার্যক্রম শুরু হবে। দেশে টিকার কোনো ঘাটতি নেই।’
দেশজুড়ে হামের প্রাদুর্ভাব হঠাৎ বেড়ে গেছে, বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। গত ২৪ ঘণ্টায় উপসর্গ নিয়ে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১,১৭৭ শিশু এবং শনাক্ত হয়েছে ১৬৮ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যে জানা গেছে, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে ১৪৪ শিশু, নিশ্চিতভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে ২৩ জনের। মোট আক্রান্ত ২,৪০৯ জন, আর সন্দেহজনকভাবে ভর্তি হয়েছে ৮,৯১০ শিশু—যাদের মধ্যে ৬,৬০৯ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। ৫ এপ্রিল থেকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় কার্যক্রম চলছে, ১২ এপ্রিল কয়েকটি সিটিতে এবং ২০ এপ্রিল সারাদেশে টিকাদান শুরু হবে। ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সি সব শিশুকে টিকা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, তবে অসুস্থ থাকলে টিকা নেওয়া যাবে না।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, ফরিদপুরের দিপালীসহ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে যারা নিহত হয়েছেন তাদের মরদেহ পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে সরকার সচেষ্ট রয়েছে। যুদ্ধের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে যেসব বাংলাদেশি প্রবাসী আটকা পড়েছেন তাদের ভিসাসংক্রান্ত জটিলতাসহ অন্যান্য সমস্যা বাংলাদেশ সরকার দেখছে। ওইসব দেশে যারা কর্মরত রয়েছেন তারা যেন আবার ফেরত যেতে পারেন, তাদের ভিসার মেয়াদ বাড়ানোর বিষয়টিও আমরা দেখছি।
শনিবার বিকেলে ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার লস্করদিয়ায় নিজ বাসভবনে হিন্দু সম্প্রদায়ের সাথে এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেছেন।
ফিরে আসা শ্রমিকদের পুনর্বাসন ও নতুন কর্মসংস্থানের বিষয়ে শামা ওবায়েদ আরও বলেন, ক্ষমতাসীন বিএনপির ম্যানুফেস্টোতেই রয়েছে, আরও বেশি কর্মসংস্থান তৈরি করা। যারা কর্ম হারিয়ে বাংলাদেশে ফেরত আসছেন, তাদের পুনর্বাসনের বিষয়ে চেষ্টা করছি। এছাড়া যারা ফেরত যেতে চায়, তাদের বিষয়েও কিন্তু আমরা সচেষ্ট রয়েছি। বিদেশে নতুন নতুন কর্মসংস্থান কীভাবে তৈরি করা যায়, সে বিষয়ে কাজ করছি।
ফরিদপুর পূজা উদযাপন ফন্টের আহ্বায়ক অজয় কুমার করের সভাপতিত্বে উক্ত সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খন্দকার ফজলুল হক টুলু, জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, সালথা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান তালুকদার, এবং নগরকান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম মুকুল। এছাড়া নগরকান্দা ও সালথা উপজেলার হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
রাজধানীতে বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত এবং আর্থিক অসচ্ছল সাংবাদিক কন্যাদের হাতে ২০২৬ সালের শিক্ষাবৃত্তি তুলে দিয়েছে ‘সামস-সন্ধ্যা ট্রাস্ট’। শনিবার রামপুরার বনশ্রীতে মিডিয়া ফ্রন্টলাইনের প্রধান কার্যালয়ে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শিক্ষা বৃত্তির নগদ অর্থ দেওয়া হয়। গবেষণাভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘মিডিয়া ফ্রন্টলাইন’ এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিডিয়া ফ্রন্টলাইনের চেয়ারম্যান ও দৈনিক খবর সংযোগের সম্পাদক শেখ নজরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে নারীর শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘একজন মা একটি শিক্ষিত জাতি গড়ে তুলতে পারেন। তাই সুশিক্ষিত জাতি গঠনের মাধ্যমে সুন্দর আগামী বিনির্মাণে নারীর শিক্ষালাভের গুরুত্ব অপরিসীম।’
তিনি আরও বলেন, ‘নারীরা সুশিক্ষিত হলে সেই প্রভাব শুধু একটি পরিবারের ওপর নয়, বরং পুরো সমাজ ও রাষ্ট্রের ওপর পড়ে। সুতরাং উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে কন্যা সন্তানদের শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা এবং তাদের ঝরে পড়া রোধ করা আমাদের সামষ্টিক দায়িত্ব। মূলত সামস-সন্ধ্যা ট্রাস্টের এই উদ্যোগটি সমাজের সেসব পিছিয়ে পড়া বা অসুস্থ সাংবাদিক কন্যাদের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার প্রয়াস।’
মিডিয়া ফ্রন্টলাইনের চিফ কো-অর্ডিনেটর ও মানবাধিকারকর্মী জাকির মজুমদারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মিডিয়া ফ্রন্ট লাইনের এডিশনাল চিফ কো-অর্ডিনেটর মাজহারুল হক পাঠান, খবর সংযোগ অনলাইন ও মাল্টিমিডিয়ার প্রধান আবু কাউছার খোকন, মিডিয়া ফ্রন্ট লাইনের ডিভিশনাল কো-অর্ডিনেটর শামশুল আবরার প্রমুখ।
প্রসঙ্গত,, ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে সাংবাদিক কন্যাদের শিক্ষাবৃত্তি দিয়ে আসছে ‘সামস-সন্ধ্যা ট্রাস্ট’। বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত চিকিৎসাধীন ও আর্থিক অসচ্ছল সাংবাদিক কন্যাদের এই বৃত্তি দেওয়া হয়। এই শিক্ষাবৃত্তি পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতা ও তত্ত্বাবধান করছে মিডিয়া ফ্রন্টলাইন ফাউন্ডেশন। বিশিষ্ট ব্যাংকার ও ‘সামস-সন্ধ্যা ট্রাস্ট’-এর চেয়ারম্যান মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের উদ্যোগে দুজন মহীয়সী নারীর স্মরণে সামস-সন্ধ্যা ট্রাস্টের যাত্রা শুরু হয়েছিল।