অমর একুশে বইমেলার দিন যতই অতিবাহিত হচ্ছে ততই এর আকর্ষণ বেড়ে চলেছে। এবার নানাবিধ কারণে প্রাণের মেলা ভিন্নরূপ পেয়েছে। বিশেষ করে নগরে স্বস্তির যান মেট্রোরেলের কারণে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর পাঠক-দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ছে। মেলায় প্রতিদিন শতাধিক নতুন বই আসার পাশাপাশি বেড়েছে দর্শনার্থীর সংখ্যা, সঙ্গে বাড়ছে বিক্রিও। দিন যত যাচ্ছে মেলার প্রাণ আরও বাড়ছে। আগামীকাল বসন্ত ও ভালোবাসা দিবসে বইমেলা যেন অন্যরকম আমেজ নিয়ে আসবে। বাংলা একাডেমির বহেড়াতলা বটগাছে কোকিলের সুর বলে দিচ্ছে প্রকৃতিতে ফাগুন চলে এসেছে। ঠিক যেমনিভাবে ফাগুনের এই আগুন বইমেলায়ও চলে আসতে শুরু করেছে। সব সময় মেলা ফাগুনের দিনগুলো থেকেই মূলত জমে ওঠে। এবার আরও নবজাগরণে প্রাণের মেলা জমেছে। কেননা গত দুই বছরের ঢিমেতালে চলা বইমেলা এবার পেয়েছে পুরোপুরি জমে ওঠার চিত্র। মেলায় প্রতিবারের মতো এবারও পাঠকদের আগ্রহের শীর্ষে রয়েছে উপন্যাস। এ ছাড়াও ঘুরেফিরে জনপ্রিয় লেখকদের বই বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রকাশক ও বিক্রয়কর্মীরা।
মেলা ঘুরে দেখা গেছে, পাঠকরা স্টলে স্টলে গিয়ে উপন্যাসের বই খুঁজে বেড়াচ্ছেন। প্রিয় লেখকের প্রকাশিত বই পেলেই তা সংগ্রহ করে নিজেদের ব্যাগে গুঁজে নিচ্ছেন বইপ্রেমীরা। এদিকে পূর্ববর্তী বছরগুলোর মতো এবারও হুমায়ূন আহমেদ, হাসান আজিজুল হক, আনিসুল হক, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ইমদাদুল হক মিলন, সেলিনা হোসেন, মুহম্মদ জাফর ইকবাল, আসিফ নজরুল, মুনতাসীর মামুন, মোশতাক আহমেদ, শাহাদুজ্জামান, হরিশংকর জলদাসসহ বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় লেখকের বই বেশি বিক্রি হচ্ছে। তবে মেলায় হুমায়ূন আহমেদের বই-ই বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে প্রকাশনা সূত্রে জানা যায়। জনপ্রিয় এই লেখকের পুরাতন বইগুলো পাঠকরা এখনো কিনছেন। মেলায় প্রতিদিন হুমায়ূনপ্রেমীরা খুঁজতে খুঁজতে চলে যাচ্ছেন অন্যপ্রকাশে। এই প্রকাশনীতে কিংবদন্তি এই কথাসাহিত্যিকের লেখা উপন্যাস দেয়াল, মাতাল হাওয়া, নন্দিত নরকে, শঙ্খনীল কারাগার, মধ্যাহ্ন অখণ্ড বেশি কিনছেন বলে অন্যপ্রকাশ সূত্রে জানা যায়।
সরেজমিন ঘুরে এবং বিভিন্ন স্টলের বিক্রয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারও মেলায় বেশি জনপ্রিয় লেখকদের গল্প-উপন্যাস বিক্রি হচ্ছে। নতুন বইয়ের সঙ্গে পুরাতন কালজয়ী বইও বিক্রিতে রয়েছে শীর্ষে।
তাম্রলিপি প্রকাশনীর বিজনেস ডেভেলপমেন্ট এক্সিকিউটিভ মুনালিসা জানান, এ বছর ৪৫টি নতুন বই প্রকাশ করেছে প্রকাশনীটি। নতুন বইয়ের সঙ্গে পুরাতন বইও বেশ বিক্রি হচ্ছে। তার মধ্যে হুমায়ূন আহমেদের শ্রেষ্ঠ হিমু, শ্রেষ্ঠ মিছির আলি ও কিশোর সমগ্র বই বিক্রিতে ওপরে রয়েছে।
কাকলী প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী হুমায়ন কবীর জানান, রকিব হাসানের গোয়েন্দা সিরিজ ও সায়েন্স ফিকশন চলছে বেশি। আর হুমায়ূন আহমেদের ভক্তরা তার বই সমগ্র তো সংগ্রহ করছেই।
অনন্যা প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী আসিফ মাহমুদ বলেন, ইমদাদুল হক মিলনের চোর এসে গল্প করেছিল, অন্ধকারে নামতে পারেনি বই দুটোর বিক্রি তুলনামূলকভাবে বেশি। এ ছাড়াও তৌহিদুর রহমানের নিতু বলছি বইটির তৃতীয় মুদ্রণ চলছে। মুনতাসীর মামুনের ঢাকা সমগ্র বইটিও পাঠকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। এ ছাড়াও মুনতাসীর মামুনের বঙ্গবন্ধুর জীবন ও লিবারেশন ওয়্যার বই দুটি এ বছর প্রকাশিত হয়েছে। বইগুলো বিক্রিও হচ্ছে বেশ।
অন্বেষা প্রকাশনের বিক্রয়কর্মী রাফিজা নওশীন জানান, সুজন দেবনাথের হেমলকের নিয়ন্ত্রণ ও জাহিদ হাসানের দেশভাগ ১৯৪৭ বেশি বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া হুমায়ূন আহমেদের তিন বিচিত্র, চন্দ্রসখা, মিসির আলীর ভুবন, তোমাদের জন্য ভালোবাসা, নীল হাতি, সবাই গেছে বনে উপন্যাসগুলো একটি আরেকটির চেয়ে কম বিক্রি হচ্ছে না। এ ছাড়াও সাদাত হোসেনের আগুনডানা মেয়ে বইটিও বেশ বিক্রি হচ্ছে।
অন্যপ্রকাশের স্টল ইনচার্জ তৌহিদুল ইসলাম জানান, উপন্যাস আর হুমায়ন আহমেদের বইয়ে পাঠকদের চাহিদা- দুই ক্ষেত্রেই সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়াও রউফুল আলমের দেশ, সফল মন্ত্র, আহমদ ছফার যদ্যপি আমার গুরু, অর্ধেক নারী অর্ধেক ইশ্বরী বইগুলো বেশ চলছে। তবে ক্রেতাদের চাহিদা উপন্যাস।
বইমেলায় ঘুরতে আসা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শরমিলা জান্নাত বইগুলো ঘাটতে ঘাটতে বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদ দেশের সাহিত্য অঙ্গনে যে জায়গা সৃষ্টি করে গেছেন, তা এখনও কেউ পূরণ করতে পারেননি। পুরোনোরা তো বটেই, নতুন প্রজন্মের পাঠকও এসে এখনো হুমায়ূন আহমেদের বই খোঁজ করেন।’
মেলায় এখনো কালজয়ী সব সাহিত্যিকের লেখা বই কিনছেন বইপ্রেমীরা। এর মধ্যে রয়েছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, শওকত আলী, বেগম রোকেয়া, মীর মশাররফ হোসেন, উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, জীবনানন্দ দাশ, স্বর্ণকুমারী দেবী, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, জসীম উদ্দীন, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, আবু ইসহাক, আহমেদ ছফাসহ হুমায়ুন আজাদের লেখা সব বই। গুণী এই সাহিত্যিকদের লেখা বিভিন্ন গল্প, উপন্যাস ও সমগ্র সংগ্রহে রাখতে মেলায় এসে বই কিনছেন বইপ্রেমীরা।
মেলা ঘুরে দেখা গেছে, এখনো পাঠকরা যেসব কালজয়ী বই মেলায় কিনছেন, তার মধ্যে রয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষের কবিতা, গোড়া, শওকত আলীর প্রদোষে প্রাকৃতজন, আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের খোয়াবনামা, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবি, সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহর লালসালু, জহির রায়হানের হাজার বছর ধরে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনী, সৈয়দ শামসুল হকের খেলারাম খেলে যা ও নিষিদ্ধ লোবান, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রথম আলো, সেই সময় এবং পূর্ব-পশ্চিম, হুমায়ূন আহমেদের নন্দিত নরকে, শঙ্খনীল কারাগার এবং জোৎস্না ও জননীর গল্প, হুমায়ুন আজাদের নারী ও ছাপ্পান্নো হাজার বর্গমাইল, আবু ইসহাকের সূর্য দীঘল বাড়ি, হাসান আজিজুল হকের আগুনপাখি, মানিক বন্দোপাধ্যায়ের পদ্মা নদীর মাঝি ও পুতুল নাচের ইতিকথা, ইমদাদুল হক মিলনের নূরজাহান, সৈয়দ মুজতবা আলীর দেশ বিদেশে, শওকত ওসমানের কৃতদাসের হাসি, আনিসুল হকের চার কিশোর গোয়েন্দা, শহীদুল্লাহ কায়সারের সারেং বৌ, সংশপ্তক, জাহানারা ইমামের একাত্তরের দিনগুলি, বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের আদর্শ হিন্দু হোটেল, মুহম্মদ জাফর ইকবালের লেখা ফেরা, আহমদ ছফার যদ্যপি আমার গুরু ও শাহাদুজ্জামানের ক্রাচের কর্নেলসহ আরও কিছু বই। এই বইগুলো প্রকৃত বইপ্রেমীরা দেখলেই তা সংগ্রহে রাখার জন্য হলেও কিনে নিচ্ছেন বলে জানান মেলার বিভিন্ন স্টলের বিক্রয়কর্মীরা।
এখনো জমেনি লিটলম্যাগ চত্বর
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চের পাশে অবস্থিত লিটল ম্যাগ চত্বর ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড় নেই মেলার এ অংশে। যদিও বিক্রয় প্রতিনিধিরা বলছেন, মেলার অন্য অংশ থেকে বরাবরই এ অংশে ভিড় কম থাকে। সেখানকার স্টলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লোকজন এ চত্বরে কম যায়। তেমন বিক্রিও হয় না। বইমেলায় একসময় অন্যতম আকর্ষণ ছিল তারুণ্যের এ ‘লিটল ম্যাগ চত্বর’। মেলার এই অংশে নবীন লেখকদের প্রকাশিত বিভিন্ন ম্যাগাজিন পাঠক-দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরেন লেখক, প্রকাশক। কিন্তু সময়ের আবর্তে একসময়কার তুমুল জনপ্রিয় এই চত্বরে এখন কেবলই হাহাকার। বারবার এর স্থান পরিবর্তন হলেও হারানো গৌরবের দেখা পাচ্ছে না এই চত্বর।
জনপ্রিয় সব লেখক, প্রকাশনী ও পত্রিকার ভিড়ে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে সত্তরের দশকের গণজাগরণের চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত লিটল ম্যাগাজিনগুলো। বিপ্লবী ধারার এসব ম্যাগাজিনের স্থান দখল করে নিয়েছে পত্রিকাগুলো। কিন্তু এতসব বাধা বিপত্তির মাঝেও এখনো টিকে আছে কিছু ম্যাগাজিন। দেড় দশকের বেশি সময় ধরে বাংলা একাডেমির বহেড়াতলায় স্থান পাওয়া বইমেলার অন্যতম আকর্ষণ ‘লিটল ম্যাগ চত্বর’ কখনো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মাঝখানে, কখনো উত্তর পাশে আবার কখনো কালি মন্দিরের পাশে স্থান বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। তবে এ বছর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চের উত্তরাংশের অন্ধকারাচ্ছন্ন জায়গায় স্থান হয়েছে লিটল ম্যাগের। ফলে বিগত দিনের ধারাবাহিক খরা তাতে লেগেই আছে।
আজকের বইমেলা :
আজকের মেলা বিকেল ৩টায় শুরু হয়ে শেষ হয় রাত ৯টায়। ১২তম দিনে মেলায় নতুন বই এসেছে ১১৫টি। বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় জন্মশতবার্ষিক শ্রদ্ধাঞ্জলি : হেনা দাস শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জোবাইদা নাসরীন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ঝর্না রহমান এবং ফওজিয়া মোসলেম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শিরীণ আখতার।
‘লেখক বলছি’ অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন কথাসাহিত্যিক সালমা বাণী, কবি ফারহানা রহমান, গবেষক মিলটন কুমার দেব এবং কথাসাহিত্যিক ইকবাল খন্দকার।
আগামীকালের বইমেলা :
আগামীকাল ১৩তম দিন মেলা শুরু হবে বিকেল ৩টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে স্মরণে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ শীর্ষক আলাচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপনা করবেন আহমদ মোস্তফা কামাল। আলাচনায় অংশগ্রহণ করবন হরিশংকর জলদাস এবং ফারজানা সিদ্দিকা। অনুষ্ঠান সভাপতিত্ব করবেন সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রায় ৮৬২ গ্রাম স্বর্ণালংকারসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে এয়ারপোর্ট আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন)। শুক্রবার দুপুরে এ তথ্য জানিয়েছে এপিবিএন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন মো. নাসির মোল্লা (৪০), সোহাগ শেখ (২৪) ও মো. হাছান মিয়া (২৩)।
এপিবিএন জানায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে বিমানবন্দরের গোলচত্বরের উত্তর পাশের ফুটপাতে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিলেন ওই তিনজন। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা পালানোর চেষ্টা করলে এপিবিএনের সদস্যরা তাদের আটক করেন।
পরে তাদের শরীর তল্লাশি করে ৮৬১ দশমিক ৮ গ্রাম স্বর্ণালংকার জব্দ করা হয়। এসব স্বর্ণালংকারের আনুমানিক বাজারমূল্য ১ কোটি ৩৬ লাখ ৮৬ হাজার ১৬০ টাকা।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা জানান, বিভিন্ন দেশ থেকে অজ্ঞাতপরিচয়ে যাত্রীদের মাধ্যমে চোরাচালানের উদ্দেশে এসব স্বর্ণ বাংলাদেশে আনা হয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে বিমানবন্দরকেন্দ্রিক স্বর্ণ চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত।
এ ঘটনায় শুক্রবার বিমানবন্দর থানায় মামলা করা হয়েছে। মামলায় বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ২৫বি (১)(বি)/২৫-ডি ধারায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ বিষয়ে এয়ারপোর্ট এপিবিএনের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রেজাউল কবির বলেন, ‘বিমানবন্দর এলাকায় নিরাপত্তা ও অপরাধ দমনে এপিবিএন সক্রিয় রয়েছে। স্বর্ণ ও মাদক চোরাচালানসহ বিমানবন্দর ব্যবহার করে যেকোনো ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে তাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।’
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান বলেছেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিকে টেকসই করতে ভালো ও সৎ মানুষের রাজনীতিতে আসা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ‘আমরা যদি ভালো রাজনীতিবিদ তৈরি করতে না পারি, তাহলে আমরা যে স্বপ্নের কথাই বলি না কেন, তা টেকসই হবে না।’
আজ সংসদ ভবনের এলডি হলে বরিশাল ডিভিশনাল জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন (বিডিজেএ) আয়োজিত ‘আগামীর বরিশাল বিভাগ : সম্ভাবনা ও করণীয়’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘এখন আমরা এমন একটা জায়গায় চলে আসছি, কোয়ালিটি ডেভেলপমেন্ট যদি আনতে হয়, তাহলে ভালো মানুষদের নেতৃত্বে আসতে হবে।’
আন্দালিভ রহমান বলেন, গত ১৭ বছরে দেশে নেতৃত্বের বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। ভালো ও মেধাবী তরুণরা রাজনীতি থেকে দূরে সরে গেছে। রাজনীতিবিদদের প্রতি মানুষের মধ্যে এক ধরনের অনাস্থা তৈরি হয়েছে। এমনকি অনেক রাজনীতিবিদের সন্তানও রাজনীতিতে আসতে চায় না।
তিনি বলেন, রাজনীতি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভালো উপাদান থাকলেও ভালো বাবুর্চি না থাকলে যেমন ভালো খাবার পাওয়া যায় না, তেমনি ভালো মানুষ নেতৃত্বে না এলে উন্নয়ন ও অগ্রগতির সুফল টেকসই করা সম্ভব নয়।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলেন, বরিশালের ঐতিহ্য অতুলনীয়। ফুটবল থেকে শুরু করে রাজনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বরিশাল এবং বরিশালের মানুষ বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দিয়েছে। পাকিস্তান আমল থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর পর্যন্ত এ অঞ্চল থেকে অনেক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক নেতা উঠে এসেছেন এবং দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল ভূমিকা রেখেছেন।
তিনি বলেন, বরিশালকে সত্যিকার অর্থে স্বপ্নের নগরী ও স্বপ্নের শহরে পরিণত করতে হলে আগামী দিনে ভালো রাজনীতিবিদ তৈরি করতে হবে। এ বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মন্ত্রী বলেন, বরিশালের আশপাশের সব নির্বাচনী এলাকা ও জেলাগুলো থেকে মেধাবী ও ভালো ছেলেমেয়েদের রাজনীতিতে আসতে উৎসাহিত করতে হবে। এজন্য রাজনীতিতে আসার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা যদি আগামী প্রজন্মের জন্য ভালো রাজনৈতিক নেতৃত্ব তৈরি করতে না পারি, তাহলে কোনো ধরনের উন্নয়নই টেকসই হবে না। এটা শুধু বরিশালের সমস্যা নয়, সারা বাংলাদেশেই এই সংকট রয়েছে।’
আন্দালিভ রহমান বলেন, অবকাঠামো উন্নয়ন, গ্যাস সরবরাহ ও শিল্পায়ন এক ধরনের উন্নয়ন। কিন্তু এখন দেশের প্রয়োজন মানসম্মত ও টেকসই উন্নয়ন। আর সে জন্য ভালো মানুষকে নেতৃত্বে আসতে হবে।
তিনি বলেন, যারা বর্তমানে রাজনীতি করার সুযোগ পেয়েছেন, তাদের দায়িত্ব হলো পরবর্তী প্রজন্ম থেকে যোগ্য ও মেধাবীদের রাজনীতিতে নিয়ে আসার পথ তৈরি করা। তরুণদের রাজনীতিতে উৎসাহিত করার পাশাপাশি তাদের জন্য রাজনীতির পরিবেশ সহজ করতে হবে, যাতে তারা স্বাচ্ছন্দ্যে রাজনীতিতে আসতে পারে।
মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা হয়তো অনেক কিছু তৈরি করে যেতে পারব, কিন্তু ভালো নেতৃত্ব তৈরি করতে না পারলে সেগুলো ধরে রাখা সম্ভব হবে না। তাই এ বিষয়গুলোতে আমাদের গুরুত্ব দিতে হবে।’
বরিশাল থেকে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকসহ অনেক বড় নেতা উঠে এসেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতেও এ অঞ্চল থেকে যোগ্য ও ভালো নেতৃত্ব সামনে আসতে হবে।
তিনি বলেন, তরুণরা ডাক্তার, প্রকৌশলী, আইনজীবী, সফটওয়্যার প্রকৌশলী হওয়া কিংবা বিদেশে যাওয়ার পাশাপাশি দেশের সবচেয়ে মেধাবী ও শিক্ষিত তরুণদের কেউ যদি রাজনীতিতে এসে দেশ পরিবর্তনের প্রত্যয় ব্যক্ত করে, সেটিই হবে দেশের জন্য ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা।
সূত্র: বাসস
চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে সেনাবাহিনীর ফিল্ড ফায়ারিং মহড়া চলাকালে ট্যাংক দুর্ঘটনার শিকার হয়ে গুরুতর আহত সেনা কর্মকর্তাকে দেখতে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার দুপুরে তিনি হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে চিকিৎসাধীন ওই কর্মকর্তার সর্বশেষ শারীরিক পরিস্থিতির সার্বিক খোঁজখবর নেন।
সিএমএইচে পরিদর্শনকালে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং আহত কর্মকর্তার উন্নত ও নিবিড় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। এ সময় তিনি আহত কর্মকর্তার দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ আরোগ্য কামনা করেন। হাসপাতালে অবস্থানকালে প্রধানমন্ত্রী চিকিৎসাধীন কর্মকর্তা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে গভীর সান্ত্বনা ও সহমর্মিতা জানান।
এর আগে গত বুধবার চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে নিয়মিত সামরিক ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনের অংশ হিসেবে ট্যাংক থেকে গোলাবর্ষণের সময় এক অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার সৃষ্টি হয়। মর্মান্তিক এই ঘটনায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দুই সদস্য নিহত হন এবং একজন কর্মকর্তা গুরুতর আহত হলে তাঁকে দ্রুত সিএমএইচে ভর্তি করা হয়। প্রধানমন্ত্রী দুর্ঘটনায় নিহত দুই সেনাসদস্যের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে তাঁদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন।
বিগত সরকারের আমলে ভারতের সঙ্গে সম্পাদিত শতাধিক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সরকার পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করছে এবং এ সংক্রান্ত পর্যালোচনার চূড়ান্ত ফলাফল খুব দ্রুতই প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। শুক্রবার সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন সমাপ্তি-পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। সংবাদ সম্মেলনে সরকারদলীয় অন্যান্য হুইপ উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহারের সুযোগসংক্রান্ত চুক্তি এবং প্রতিবেশী রাষ্ট্রের নৌযান চলাচলবিষয়ক চুক্তি বাতিলের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে চিফ হুইপ বলেন, ‘আমরা চুক্তিগুলো, মানে সব—১০১টা এমওইউ নিয়ে আলোচনা করছি এবং সেটার ফল অনতিবিলম্বে আপনারা পাবেন।’ এ ছাড়া ব্যাংক রেজোল্যুশন আইনে বিতর্কিত ১৮(ক) ধারা অন্তর্ভুক্তির পর তা বাদ দেওয়ার প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে তিনি জানান, দেশের আর্থিক কাঠামো মজবুত করার লক্ষ্যেই প্রাথমিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তবে সংশ্লিষ্টদের আগ্রহ না থাকায় পরবর্তীতে তা প্রত্যাহার করে বিলটি পাস করা হয়।
নয় কার্যদিবসের এই অধিবেশনে মোট ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ বিল পাস হওয়া ছাড়াও সংসদীয় বিধিতে ১ হাজার ৬৭৮টি প্রশ্নের জবাব দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নিজে ১৫টি প্রশ্নের উত্তর দেন। সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে বিরোধী দলের অবস্থান তুলে ধরে নূরুল ইসলাম মনি জানান, সরকারি ব্যয়ের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে সবচেয়ে সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি হিসাব কমিটির সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত ৩৯টি স্থায়ী কমিটির মধ্যে ২৪টিতেই বিরোধী দলের আইনপ্রণেতাদের আনুপাতিক হারের চেয়েও বেশি প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে, যার মধ্যে ২২টি কমিটিতে তিনজন করে এবং বাকিগুলোতে দুজন করে সদস্য রাখা হয়েছে।
অধিবেশনে পাস হওয়া আইনগুলোর মধ্যে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনীকে অত্যন্ত মানবিক ও কার্যকর হিসেবে আখ্যায়িত করেন চিফ হুইপ। এই আইনের ফলে বৃদ্ধ পিতা-মাতারা সন্তানদের সম্পত্তি দান বা হস্তান্তর করার পরও আজীবন তা ভোগদখল করার আইনি অধিকার পাবেন, যা প্রবীণদের আশ্রয়হীন হওয়া রোধ করবে। এ ছাড়া বিভিন্ন অংশীজন, বিচারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, আইনজীবী, গণমাধ্যম প্রতিনিধি এবং ১৬ জন বিদেশি রাষ্ট্রদূতের পরামর্শের ভিত্তিতে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন প্রণয়ন করা হয়েছে, যেখানে অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। অন্যদিকে ভারতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর যোগদানের প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্ট করেন যে, এটি বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে প্রাতিষ্ঠানিক আমন্ত্রণ, কোনো ব্যক্তিগত নিমন্ত্রণ নয়। তিনি উল্লেখ করেন, সমমর্যাদা ও জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েই বাংলাদেশ সকল রাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক রক্ষা করবে।
সরকারের আর্থিক সক্ষমতা ও ব্যবস্থাপনার চিত্র তুলে ধরে চিফ হুইপ জানান, পূর্ববর্তী হাসিনা সরকারের রেখে যাওয়া বৈদেশিক দায়ের বিপরীতে গত পাঁচ মাসে জনগণের করের ২০৫ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ পরিশোধ করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধে সরকারের কঠোর অবস্থানের কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বিগত আমলের বিদ্যুৎ খাতের দায়মুক্তি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনহীন ক্যাপাসিটি চার্জের তীব্র সমালোচনা করেন। সবশেষে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে সরকারের অবিচল অঙ্গীকার ব্যক্ত করে নূরুল ইসলাম মনি বলেন, জুলাই সনদের প্রতিটি বিষয় অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সনদের মৌলিক সংস্কারগুলো কার্যকর করতে সংবিধান সংশোধনকে একমাত্র আইনি পথ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাষ্ট্রের বৃহত্তর স্বার্থে অতীতে যেভাবে সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে, ঠিক সেভাবেই প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত করা হবে।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কারাগারে বর্তমানে প্রায় ১০ হাজার ৬৬ জন বাংলাদেশি নাগরিক বন্দি রয়েছেন বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশনে যশোর-৫ আসনের বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য কাজী এনামুল হকের লিখিত প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ তথ্য প্রকাশ করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ভিনদেশে আটক নাগরিকরা স্থানীয় আইনের আওতায় থাকায় সংশ্লিষ্ট দেশের বিচারিক নিয়মনীতির প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা বজায় রেখেই তাদের মুক্তির জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা চালাতে হয়। বিদেশে কোনো বাংলাদেশির বন্দি থাকার সংবাদ মিললে কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধিরা সংশ্লিষ্ট কারাগার বা বন্দিশিবির পরিদর্শন করে সরাসরি বন্দির খোঁজখবর নেন। পরবর্তী সময়ে আটক ব্যক্তির প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই-বাছাই করে আইনি পরামর্শ ও সুরক্ষার বন্দোবস্ত করা হয়। কোনো বন্দির নিজস্ব আইনজীবী নিয়োগের আর্থিক সামর্থ্য না থাকলে আদালতের মাধ্যমে সরকারি আইনজীবী নিয়োগের ব্যবস্থা করা হয় এবং পরিবার নিজে আইনজীবী নিয়োগে ইচ্ছুক হলে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হয়।
কারামুক্তির জন্য জরিমানা পরিশোধ এবং দেশে ফেরার উড়োজাহাজের টিকিটের বিষয়ে বন্দিদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা হয় উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, পরিবার ব্যয় বহনে অপারগ হলে সরকারি অর্থায়নে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। সাজা ভোগের মেয়াদ শেষ হওয়ামাত্রই তাদের দ্রুত দেশে পাঠাতে জরুরি ট্রাভেল পাস প্রদানসহ বিমানবন্দরে প্রটোকল সহায়তা দেওয়া হয়। এসব মানবিক ও আইনি সেবা নিশ্চিত করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মধ্যে সার্বক্ষণিক প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় বজায় রাখা হয়।
এ ছাড়া পরিস্থিতি বিবেচনায় সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের কাছে বন্দিদের জন্য সাধারণ ক্ষমার আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক আবেদন জানানো হয়। এই কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে আটক প্রবাসীদের পাশাপাশি মিয়ানমারে বন্দি থাকা তিন বাংলাদেশি জেলেকে মুক্ত করে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, প্রবাসে আটক নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনার সামগ্রিক প্রক্রিয়া আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শিগগিরই একটি বিশেষায়িত অনলাইন পোর্টাল চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
২০২৭ সালের পবিত্র হজের নিবন্ধন কার্যক্রম চলছে। সৌদি সরকারের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে হজযাত্রীদের নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।
নির্ধারিত সময়ের পর নিবন্ধনের সময় আর বাড়ানো হবে না বলে জানিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়। ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ-২ শাখা থেকে গত ৯ সেপ্টেম্বর এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৭ সালের হজে বাংলাদেশের জন্য নির্ধারিত কোটা ৭৮ হাজার ৫০০ জন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ হাজার ৬৫ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ২ হাজার ৬৭৬ জনের নিবন্ধনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ২৭ জুলাই থেকে হজের নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এ কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন হওয়ার পর বাংলাদেশের চূড়ান্ত হজযাত্রীর সংখ্যা সৌদি কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
এরপর চূড়ান্ত হজযাত্রীর সংখ্যার ভিত্তিতে সৌদি পর্বের অর্থ প্রেরণ, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ভিসার আবেদন, টিকাদান, হজ প্রশিক্ষণসহ প্রয়োজনীয় অন্যান্য কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
হজে গমনেচ্ছু ব্যক্তি, হজ এজেন্সি, হজ কার্যক্রমে সম্পৃক্ত ব্যাংক এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।
নিবন্ধন ও হজসংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজবিষয়ক ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।
সূত্র: বাসস
রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামীকাল শনিবার থেকে সারাদেশে শুরু হচ্ছে তিন মাসব্যাপী ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামীকাল সকাল ৯টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় দেশব্যাপী এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে।
জনস্বার্থে প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার এবং দেশের সকল বেসরকারি টিভি চ্যানেলে সরাসরি সম্প্রচারের জন্য বিজ্ঞপ্তিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সূত্র: বাসস
বিগত সরকারের আমলে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে প্রচলিত দায়মুক্তির সুযোগ বাতিল করে এ খাতের যাবতীয় সিদ্ধান্ত ও চুক্তিকে পূর্ণাঙ্গ আইনি জবাবদিহিতার আওতায় আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। শুক্রবার বেলা ১১টায় সংসদ ভবনের মিডিয়া সেন্টারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন সমাপ্তি-পরবর্তী এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন, পূর্বে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ক্ষমতা সংকুচিত করে সরাসরি নির্বাহী আদেশে গ্যাস ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির যে অপচর্চা ছিল, বর্তমান সরকার সেই ব্যবস্থার আমূল সংস্কার করেছে।
চিফ হুইপ জোর দিয়ে বলেন, বিদ্যুৎ সরবরাহ বা সংকট নিয়ে প্রশাসনকে কোনো জবাবদিহি করতে হবে না—এমন অগণতান্ত্রিক বিধিব্যবস্থা বহাল থাকা উচিত নয়। অতীতের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনার অসংগতি তুলে ধরে তিনি অভিযোগ করেন, বিশেষ আইনের ছত্রচ্ছায়ায় বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপনের নামে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হয়েছিল এবং উৎপাদন ছাড়াই বছরের পর বছর ক্যাপাসিটি চার্জ দেওয়া হয়েছে। কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে এক ইউনিট বিদ্যুৎ না পাওয়া সত্ত্বেও প্রতি মাসে কোটি কোটি টাকা পরিশোধের কারণে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের বিপুল অর্থের অপচয় ঘটেছে। অথচ এই অর্থ দেশের শিল্পকারখানার প্রসার ও উৎপাদনশীল খাতে প্রণোদনা হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব হতো।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতি উত্তরণের বাস্তব প্রেক্ষাপট ব্যাখ্যা করে নূরুল ইসলাম মনি জানান, একটি সাধারণ পাঁচতলা ভবন নির্মাণেও যেখানে দীর্ঘ সময় প্রয়োজন, সেখানে নতুন একটি ৫০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরোপুরি প্রস্তুত করতে কমপক্ষে দুই থেকে আড়াই বছর সময় লেগে যায়। প্রয়োজনীয় অবকাঠামো তৈরি, নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানির সংস্থান এবং প্ল্যান্ট নির্মাণ একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া হওয়ায় সরকার গঠনের পরপরই রাতারাতি উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব নয়। বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ কাঠামোর পুঞ্জীভূত ঘাটতি ও অনিয়ম দূর করে টেকসই সমাধান অর্জনে বর্তমান সরকারকে প্রয়োজনীয় সময় দেওয়ার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান।
রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা কোনো দলের পক্ষে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আইনি সুযোগ নেই বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। শুক্রবার বেলা ১১টায় বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরের পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্তকরণ কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, রাষ্ট্র কর্তৃক যে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত বা নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তাদের পক্ষে দলীয় পরিচয়ে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রশ্নই ওঠে না। দলটির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত কোনো স্তরের নির্বাচনেই তারা অংশগ্রহণ করতে পারবে না। আওয়ামী লীগকে ঘিরে যেকোনো জিজ্ঞাসাকে তিনি অনাকাঙ্ক্ষিত ও বিব্রতকর বলেও আখ্যা দেন।
আসন্ন স্থানীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম জানান, স্থানীয় সরকারের নির্বাচনগুলো সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে এবং সেখানে দলীয় প্রতীক বা প্রাতিষ্ঠানিক মনোনয়ন বরাদ্দের কোনো অবকাশ নেই। তবে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি প্রতিটি পদের নির্বাচনে একজন করে একক প্রার্থীকে সমর্থন জোগাবে।
জনগণের ভোটাধিকার সুরক্ষিত রাখাকে প্রশাসনের মূল অঙ্গীকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, কোনো বিশেষ দল বা মহলের অভিপ্রায়ে নয়, বরং সাধারণ মানুষের প্রত্যক্ষ রায়ের মাধ্যমেই ভবিষ্যৎ জনপ্রতিনিধি নির্ধারিত হবেন। অনুষ্ঠান চলাকালে শিবগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, দুর্বল চাহিদা ও বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও বাংলাদেশের রপ্তানি খাতে প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৫ দশমিক ১২ শতাংশ। একই সময়ে চামড়া খাতেও রপ্তানি আয় বেড়েছে ১২ দশমিক ৫৮ শতাংশ। যুক্তরাষ্ট্র ও অপ্রচলিত বাজারে পোশাক রপ্তানির নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবু এই সাফল্যের আড়ালে রয়েছে বড় কিছু দুর্বলতা। ইউরোপের প্রধান বাজারে প্রবৃদ্ধি মন্থর, চামড়া খাত আটকে আছে আন্তর্জাতিক সনদের সংকটে, আর সামগ্রিক বৈদেশিক বাণিজ্যে বাড়ছে ঘাটতি।
অর্থনীতিবিদদের মতে, সাময়িক প্রবৃদ্ধিকে টেকসই করতে হলে শুধু তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নতুন পণ্য ও নতুন বাজার তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে অবকাঠামোগত দুর্বলতা, উৎপাদন ব্যয় ও নীতিগত অনিশ্চয়তা দূর করতে হবে। অন্যথায় বৈশ্বিক বাজারে তৈরি হওয়া নতুন সুযোগ দীর্ঘমেয়াদি রপ্তানি প্রবৃদ্ধিতে রূপ নাও নিতে পারে।
যুদ্ধের মধ্যেও পোশাকে প্রবৃদ্ধি: ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত এবং রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চাপ থাকলেও বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-আগস্টে পোশাক রপ্তানি থেকে আয় হয়েছে ৭ হাজার ৪৯৫ দশমিক ৬১ মিলিয়ন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ৭ হাজার ১৩০ দশমিক ৬৭ মিলিয়ন ডলার। তবে এই প্রবৃদ্ধি খাতসংশ্লিষ্টদের নির্ধারিত ১৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় অনেক কম। ফলে প্রবৃদ্ধি হলেও কাঙ্ক্ষিত গতি অর্জিত হয়নি।
খাতভিত্তিক হিসাবে নিটওয়্যার রপ্তানি বেড়েছে ৬ দশমিক ১৭ শতাংশ। আয় হয়েছে ৪ হাজার ১৯৩ দশমিক ৭৬ মিলিয়ন ডলার। ওভেন পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৩ দশমিক ৮১ শতাংশ, আয় হয়েছে ৩ হাজার ৩০১ দশমিক ৮৫ মিলিয়ন ডলার।
বাজারভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে ভালো করেছে যুক্তরাষ্ট্র। জুলাই-আগস্টে দেশটিতে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ১১ দশমিক ৪২ শতাংশ। অন্যদিকে অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি বেড়েছে ৬ দশমিক ৪৮ শতাংশ। তুরস্কে রপ্তানি বেড়েছে ৯৪ দশমিক ৬৮ শতাংশ। ব্রাজিল ও সংযুক্ত আরব আমিরাতেও উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাজার ইউরোপীয় ইউনিয়নে প্রবৃদ্ধি মাত্র ২ দশমিক ৪৬ শতাংশ। জার্মানিতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ৮৮ শতাংশ। ফ্রান্স ও পর্তুগালে রপ্তানি কমেছে। একইভাবে রাশিয়া, চীন ও ভারতেও পোশাক রপ্তানি কমেছে। এতে স্পষ্ট, বাংলাদেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধির নতুন চালিকাশক্তি হয়ে উঠছে যুক্তরাষ্ট্র ও অপ্রচলিত বাজার। বিপরীতে ঐতিহ্যগত বড় বাজারগুলোতে চাহিদা ধরে রাখা কঠিন হয়ে উঠছে।
চামড়া খাতেও রপ্তানি আয় বাড়ছে: পোশাকের বাইরে চামড়া খাতেও রপ্তানি আয় বাড়ছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-আগস্টে চামড়া খাত থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ২৫৭ দশমিক ৫৩ মিলিয়ন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধি ১২ দশমিক ৫৮ শতাংশ।
চামড়া খাতের মোট রপ্তানির অর্ধেকেরও বেশি এসেছে চামড়ার পাদুকা থেকে। অর্থাৎ কাঁচামালকে উচ্চমূল্যের পণ্যে রূপান্তরের সক্ষমতা বাংলাদেশের রয়েছে। এখন প্রয়োজন পরিবেশগত মান নিশ্চিত করে আন্তর্জাতিক সনদের বাধা দূর করা।
এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেছেন, অর্থনীতির জন্য স্বস্তির জায়গা তৈরি করেছে প্রবাসী আয়। জুলাইয়ে প্রবাসীরা ২ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ১৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি।
ড. জাহিদ হোসেনের মতে, রেমিট্যান্সের শক্তিশালী প্রবাহের কারণেই বড় বাণিজ্য ঘাটতির মধ্যেও দেশের চলতি হিসাব উদ্বৃত্ত রয়েছে। অর্থাৎ রেমিট্যান্স বর্তমানে বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বাংলাদেশের রপ্তানির বড় দুর্বলতা হলো পণ্য ও বাজার—দুই ক্ষেত্রেই অতিরিক্ত নির্ভরতা। তৈরি পোশাক একাই রপ্তানি আয়ের বড় অংশ জোগান দেয়। ফলে পোশাকের কোনো বড় বাজারে চাহিদা কমলে সামগ্রিক রপ্তানিতে তার প্রভাব পড়ে।
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানও সেই বাস্তবতা দেখাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি ভালো করলেও ইউরোপের বড় বাজারগুলোতে প্রবৃদ্ধি ধীর। এ অবস্থায় অপ্রচলিত বাজার সম্প্রসারণের পাশাপাশি পোশাকের বাইরে অন্যান্য পণ্যের রপ্তানি বাড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে।
হংকংয়ের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য সম্পর্কও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ছিল ৪১৫ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ সেখানে ৩০৭ মিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি করলেও রপ্তানি করেছে মাত্র ১০৮ মিলিয়ন ডলারের। পরের অর্থবছরে রপ্তানি বেড়ে ১০৯ দশমিক ৫১ মিলিয়ন ডলার হলেও ঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেনি।
এই ঘাটতি কমাতে আম, কাঁঠাল ও লেবুসহ প্রিমিয়াম ফল, পাট ও পাটজাত পণ্য, চামড়াজাত পণ্য এবং অন্যান্য উচ্চমূল্যের পণ্য হংকংয়ের বাজারে প্রবেশ করানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
রপ্তানি খাতের উদ্যোক্তারা বলছেন, বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা এখন আগের চেয়ে কঠিন। শুধু কম শ্রম ব্যয় দিয়ে বাজার ধরে রাখা সম্ভব হবে না। উৎপাদন ব্যয়, জ্বালানি, কর, পরিবেশগত অনুবর্তিতা, বন্দরসেবা এবং দ্রুত পণ্য সরবরাহ—সব ক্ষেত্রেই সক্ষমতা বাড়াতে হবে।
জাতীয় সংসদের অধিবেশন চলাকালে মন্ত্রীবিহীন মন্ত্রণালয়-বিভাগসহ রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর আওতাধীন দপ্তরগুলোর সংসদীয় কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আবদুল মঈন খানের দায়িত্বের পরিধি বৃদ্ধি করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জারি করা এক সরকারি প্রজ্ঞাপনে এই দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিষয়টি জানানো হয়।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত সংসদ চলাকালীন যেসকল মন্ত্রণালয় কিংবা বিভাগে মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী দায়িত্বপ্রাপ্ত নেই এবং রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বাধীন যেসকল দপ্তর রয়েছে, সেগুলোর যাবতীয় সংসদ বিষয়ক কার্যাবলি নির্দিষ্ট এই মন্ত্রীদের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হবে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের সংসদীয় কার্যক্রম নিষ্পত্তির দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ওপর। কোনো কারণে তিনি অধিবেশনে উপস্থিত থাকতে না পারলে তাঁর অবর্তমানে এই দায়িত্ব পালন করবেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন এবং বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
অন্যদিকে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংসদবিষয়ক যাবতীয় কার্যাবলি দেখভালের দায়িত্ব ন্যস্ত করা হয়েছে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খানের ওপর। তাঁর অনুপস্থিতিতে বিকল্প হিসেবে এই দায়িত্ব সামলাবেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন শেষ হয়েছে আজ বৃহস্পতিবার। গত ২৭ আগস্ট শুরু হয়ে এ অধিবেশন শেষ হয় আজ। এ দিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান সমাপনী বক্তব্য দেন। এরপর রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের অধিবেশন সমাপনী-সংক্রান্ত নোটিশ পাঠ করে শোনান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
তৃতীয় অধিবেশনে ৯ কার্যদিবসের বৈঠকে মোট ৬টি বিল উপস্থাপিত হয়েছে। এর মধ্যে ৬টি বিলই পাস হয়েছে।
বিরোধী দলের আপত্তির পরও র্যাব বিলুপ্ত করে ‘এসআরবি’ বিল পাসবিরোধী দলের আপত্তির পরও র্যাব বিলুপ্ত করে ‘এসআরবি’ বিল পাস
আইন প্রণয়ন-সংক্রান্ত কার্যক্রমের পাশাপাশি এ অধিবেশনে ৩টি বিশেষ কমিটিসহ ৪৮টির অধিক সংসদীয় কমিটি গঠন ও পুনর্গঠন করা হয়েছে। সংসদীয় কার্যপ্রণালির বিভিন্ন বিধির আওতায় সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ে নোটিশ প্রদান করেছেন। ৬৮ বিধিতে ৭টি নোটিশ পাওয়া যায়, যার মধ্যে ২টি নোটিশ গৃহীত ও আলোচিত হয়েছে। ৭১ বিধিতে ১৫টি নোটিশ গৃহীত হয় এবং এর মধ্যে ১৪টি নোটিশের ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৭১ক বিধিতে দুই মিনিটের বক্তব্য প্রদানের জন্য ১২৪টি নোটিশ পাওয়া যায়। এ ছাড়া, ১৪৭ বিধিতে ২টি নোটিশ পাওয়া যায়, যার মধ্যে ১টি নোটিশের ওপর আলোচনা হয়েছে এবং ৩০২ বিধিতে ১টি নোটিশ উত্থাপিত হয়েছে।
এ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর উত্তরদানের জন্য সদস্যরা সর্বমোট ১৪৪টি প্রশ্নের নোটিশ প্রদান করেছেন। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী ১৫টি প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেছেন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের উত্তরদানের জন্য মোট ২ হাজার ৬৭৬টি প্রশ্নের নোটিশ পাওয়া যায়। এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা এ অধিবেশনে মোট ১ হাজার ৬৭৮টি প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেছেন।
সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের বর্তমান আর্থিক বরাদ্দ ৬ কোটি টাকা থেকে বাড়িয়ে ২৫ কোটি টাকায় নির্ধারণের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিশেষ আয়োজনে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান। সাংবাদিকদের অধিকার ও পেশাগত সুরক্ষায় বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রস্তাবটি মন্ত্রণালয়ে নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, “সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টে সাংবাদিক ভাই-বোনদের কল্যাণের জন্য যে অর্থ বরাদ্দ আছে, তা এই মুহূর্তে ৬ কোটি টাকা। সেটা ২৫ কোটি টাকায় বৃদ্ধি করার জন্য ইতোমধ্যে আমরা প্রস্তাব করেছি।”
তিনি আরও বলেন, “যদি আমরা এই অর্থবছরে পুরোটা দিতে না পারি, আগামী অর্থবছরের মধ্যে ইনশাআল্লাহ ২৫ কোটি টাকা বরাদ্দ আমাদের সাংবাদিক ভাই-বোনদের জন্য অনুমোদন করা যাবে।”
অনুষ্ঠানে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করে সংগঠনটির সার্বিক অগ্রগতি ও সাফল্য কামনা করেন প্রতিমন্ত্রী। এর আগে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী আন্দালিভ রহমান এবং তথ্য প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরীসহ উপস্থিত অতিথিবৃন্দ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কেক কাটেন।