অমর একুশে বইমেলার দিন যতই অতিবাহিত হচ্ছে ততই এর আকর্ষণ বেড়ে চলেছে। এবার নানাবিধ কারণে প্রাণের মেলা ভিন্নরূপ পেয়েছে। বিশেষ করে নগরে স্বস্তির যান মেট্রোরেলের কারণে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর পাঠক-দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ছে। মেলায় প্রতিদিন শতাধিক নতুন বই আসার পাশাপাশি বেড়েছে দর্শনার্থীর সংখ্যা, সঙ্গে বাড়ছে বিক্রিও। দিন যত যাচ্ছে মেলার প্রাণ আরও বাড়ছে। আগামীকাল বসন্ত ও ভালোবাসা দিবসে বইমেলা যেন অন্যরকম আমেজ নিয়ে আসবে। বাংলা একাডেমির বহেড়াতলা বটগাছে কোকিলের সুর বলে দিচ্ছে প্রকৃতিতে ফাগুন চলে এসেছে। ঠিক যেমনিভাবে ফাগুনের এই আগুন বইমেলায়ও চলে আসতে শুরু করেছে। সব সময় মেলা ফাগুনের দিনগুলো থেকেই মূলত জমে ওঠে। এবার আরও নবজাগরণে প্রাণের মেলা জমেছে। কেননা গত দুই বছরের ঢিমেতালে চলা বইমেলা এবার পেয়েছে পুরোপুরি জমে ওঠার চিত্র। মেলায় প্রতিবারের মতো এবারও পাঠকদের আগ্রহের শীর্ষে রয়েছে উপন্যাস। এ ছাড়াও ঘুরেফিরে জনপ্রিয় লেখকদের বই বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রকাশক ও বিক্রয়কর্মীরা।
মেলা ঘুরে দেখা গেছে, পাঠকরা স্টলে স্টলে গিয়ে উপন্যাসের বই খুঁজে বেড়াচ্ছেন। প্রিয় লেখকের প্রকাশিত বই পেলেই তা সংগ্রহ করে নিজেদের ব্যাগে গুঁজে নিচ্ছেন বইপ্রেমীরা। এদিকে পূর্ববর্তী বছরগুলোর মতো এবারও হুমায়ূন আহমেদ, হাসান আজিজুল হক, আনিসুল হক, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ইমদাদুল হক মিলন, সেলিনা হোসেন, মুহম্মদ জাফর ইকবাল, আসিফ নজরুল, মুনতাসীর মামুন, মোশতাক আহমেদ, শাহাদুজ্জামান, হরিশংকর জলদাসসহ বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় লেখকের বই বেশি বিক্রি হচ্ছে। তবে মেলায় হুমায়ূন আহমেদের বই-ই বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে প্রকাশনা সূত্রে জানা যায়। জনপ্রিয় এই লেখকের পুরাতন বইগুলো পাঠকরা এখনো কিনছেন। মেলায় প্রতিদিন হুমায়ূনপ্রেমীরা খুঁজতে খুঁজতে চলে যাচ্ছেন অন্যপ্রকাশে। এই প্রকাশনীতে কিংবদন্তি এই কথাসাহিত্যিকের লেখা উপন্যাস দেয়াল, মাতাল হাওয়া, নন্দিত নরকে, শঙ্খনীল কারাগার, মধ্যাহ্ন অখণ্ড বেশি কিনছেন বলে অন্যপ্রকাশ সূত্রে জানা যায়।
সরেজমিন ঘুরে এবং বিভিন্ন স্টলের বিক্রয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারও মেলায় বেশি জনপ্রিয় লেখকদের গল্প-উপন্যাস বিক্রি হচ্ছে। নতুন বইয়ের সঙ্গে পুরাতন কালজয়ী বইও বিক্রিতে রয়েছে শীর্ষে।
তাম্রলিপি প্রকাশনীর বিজনেস ডেভেলপমেন্ট এক্সিকিউটিভ মুনালিসা জানান, এ বছর ৪৫টি নতুন বই প্রকাশ করেছে প্রকাশনীটি। নতুন বইয়ের সঙ্গে পুরাতন বইও বেশ বিক্রি হচ্ছে। তার মধ্যে হুমায়ূন আহমেদের শ্রেষ্ঠ হিমু, শ্রেষ্ঠ মিছির আলি ও কিশোর সমগ্র বই বিক্রিতে ওপরে রয়েছে।
কাকলী প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী হুমায়ন কবীর জানান, রকিব হাসানের গোয়েন্দা সিরিজ ও সায়েন্স ফিকশন চলছে বেশি। আর হুমায়ূন আহমেদের ভক্তরা তার বই সমগ্র তো সংগ্রহ করছেই।
অনন্যা প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী আসিফ মাহমুদ বলেন, ইমদাদুল হক মিলনের চোর এসে গল্প করেছিল, অন্ধকারে নামতে পারেনি বই দুটোর বিক্রি তুলনামূলকভাবে বেশি। এ ছাড়াও তৌহিদুর রহমানের নিতু বলছি বইটির তৃতীয় মুদ্রণ চলছে। মুনতাসীর মামুনের ঢাকা সমগ্র বইটিও পাঠকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। এ ছাড়াও মুনতাসীর মামুনের বঙ্গবন্ধুর জীবন ও লিবারেশন ওয়্যার বই দুটি এ বছর প্রকাশিত হয়েছে। বইগুলো বিক্রিও হচ্ছে বেশ।
অন্বেষা প্রকাশনের বিক্রয়কর্মী রাফিজা নওশীন জানান, সুজন দেবনাথের হেমলকের নিয়ন্ত্রণ ও জাহিদ হাসানের দেশভাগ ১৯৪৭ বেশি বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া হুমায়ূন আহমেদের তিন বিচিত্র, চন্দ্রসখা, মিসির আলীর ভুবন, তোমাদের জন্য ভালোবাসা, নীল হাতি, সবাই গেছে বনে উপন্যাসগুলো একটি আরেকটির চেয়ে কম বিক্রি হচ্ছে না। এ ছাড়াও সাদাত হোসেনের আগুনডানা মেয়ে বইটিও বেশ বিক্রি হচ্ছে।
অন্যপ্রকাশের স্টল ইনচার্জ তৌহিদুল ইসলাম জানান, উপন্যাস আর হুমায়ন আহমেদের বইয়ে পাঠকদের চাহিদা- দুই ক্ষেত্রেই সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়াও রউফুল আলমের দেশ, সফল মন্ত্র, আহমদ ছফার যদ্যপি আমার গুরু, অর্ধেক নারী অর্ধেক ইশ্বরী বইগুলো বেশ চলছে। তবে ক্রেতাদের চাহিদা উপন্যাস।
বইমেলায় ঘুরতে আসা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শরমিলা জান্নাত বইগুলো ঘাটতে ঘাটতে বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদ দেশের সাহিত্য অঙ্গনে যে জায়গা সৃষ্টি করে গেছেন, তা এখনও কেউ পূরণ করতে পারেননি। পুরোনোরা তো বটেই, নতুন প্রজন্মের পাঠকও এসে এখনো হুমায়ূন আহমেদের বই খোঁজ করেন।’
মেলায় এখনো কালজয়ী সব সাহিত্যিকের লেখা বই কিনছেন বইপ্রেমীরা। এর মধ্যে রয়েছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, শওকত আলী, বেগম রোকেয়া, মীর মশাররফ হোসেন, উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, জীবনানন্দ দাশ, স্বর্ণকুমারী দেবী, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, জসীম উদ্দীন, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, আবু ইসহাক, আহমেদ ছফাসহ হুমায়ুন আজাদের লেখা সব বই। গুণী এই সাহিত্যিকদের লেখা বিভিন্ন গল্প, উপন্যাস ও সমগ্র সংগ্রহে রাখতে মেলায় এসে বই কিনছেন বইপ্রেমীরা।
মেলা ঘুরে দেখা গেছে, এখনো পাঠকরা যেসব কালজয়ী বই মেলায় কিনছেন, তার মধ্যে রয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষের কবিতা, গোড়া, শওকত আলীর প্রদোষে প্রাকৃতজন, আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের খোয়াবনামা, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবি, সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহর লালসালু, জহির রায়হানের হাজার বছর ধরে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনী, সৈয়দ শামসুল হকের খেলারাম খেলে যা ও নিষিদ্ধ লোবান, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রথম আলো, সেই সময় এবং পূর্ব-পশ্চিম, হুমায়ূন আহমেদের নন্দিত নরকে, শঙ্খনীল কারাগার এবং জোৎস্না ও জননীর গল্প, হুমায়ুন আজাদের নারী ও ছাপ্পান্নো হাজার বর্গমাইল, আবু ইসহাকের সূর্য দীঘল বাড়ি, হাসান আজিজুল হকের আগুনপাখি, মানিক বন্দোপাধ্যায়ের পদ্মা নদীর মাঝি ও পুতুল নাচের ইতিকথা, ইমদাদুল হক মিলনের নূরজাহান, সৈয়দ মুজতবা আলীর দেশ বিদেশে, শওকত ওসমানের কৃতদাসের হাসি, আনিসুল হকের চার কিশোর গোয়েন্দা, শহীদুল্লাহ কায়সারের সারেং বৌ, সংশপ্তক, জাহানারা ইমামের একাত্তরের দিনগুলি, বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের আদর্শ হিন্দু হোটেল, মুহম্মদ জাফর ইকবালের লেখা ফেরা, আহমদ ছফার যদ্যপি আমার গুরু ও শাহাদুজ্জামানের ক্রাচের কর্নেলসহ আরও কিছু বই। এই বইগুলো প্রকৃত বইপ্রেমীরা দেখলেই তা সংগ্রহে রাখার জন্য হলেও কিনে নিচ্ছেন বলে জানান মেলার বিভিন্ন স্টলের বিক্রয়কর্মীরা।
এখনো জমেনি লিটলম্যাগ চত্বর
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চের পাশে অবস্থিত লিটল ম্যাগ চত্বর ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড় নেই মেলার এ অংশে। যদিও বিক্রয় প্রতিনিধিরা বলছেন, মেলার অন্য অংশ থেকে বরাবরই এ অংশে ভিড় কম থাকে। সেখানকার স্টলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লোকজন এ চত্বরে কম যায়। তেমন বিক্রিও হয় না। বইমেলায় একসময় অন্যতম আকর্ষণ ছিল তারুণ্যের এ ‘লিটল ম্যাগ চত্বর’। মেলার এই অংশে নবীন লেখকদের প্রকাশিত বিভিন্ন ম্যাগাজিন পাঠক-দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরেন লেখক, প্রকাশক। কিন্তু সময়ের আবর্তে একসময়কার তুমুল জনপ্রিয় এই চত্বরে এখন কেবলই হাহাকার। বারবার এর স্থান পরিবর্তন হলেও হারানো গৌরবের দেখা পাচ্ছে না এই চত্বর।
জনপ্রিয় সব লেখক, প্রকাশনী ও পত্রিকার ভিড়ে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে সত্তরের দশকের গণজাগরণের চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত লিটল ম্যাগাজিনগুলো। বিপ্লবী ধারার এসব ম্যাগাজিনের স্থান দখল করে নিয়েছে পত্রিকাগুলো। কিন্তু এতসব বাধা বিপত্তির মাঝেও এখনো টিকে আছে কিছু ম্যাগাজিন। দেড় দশকের বেশি সময় ধরে বাংলা একাডেমির বহেড়াতলায় স্থান পাওয়া বইমেলার অন্যতম আকর্ষণ ‘লিটল ম্যাগ চত্বর’ কখনো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মাঝখানে, কখনো উত্তর পাশে আবার কখনো কালি মন্দিরের পাশে স্থান বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। তবে এ বছর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চের উত্তরাংশের অন্ধকারাচ্ছন্ন জায়গায় স্থান হয়েছে লিটল ম্যাগের। ফলে বিগত দিনের ধারাবাহিক খরা তাতে লেগেই আছে।
আজকের বইমেলা :
আজকের মেলা বিকেল ৩টায় শুরু হয়ে শেষ হয় রাত ৯টায়। ১২তম দিনে মেলায় নতুন বই এসেছে ১১৫টি। বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় জন্মশতবার্ষিক শ্রদ্ধাঞ্জলি : হেনা দাস শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জোবাইদা নাসরীন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ঝর্না রহমান এবং ফওজিয়া মোসলেম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শিরীণ আখতার।
‘লেখক বলছি’ অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন কথাসাহিত্যিক সালমা বাণী, কবি ফারহানা রহমান, গবেষক মিলটন কুমার দেব এবং কথাসাহিত্যিক ইকবাল খন্দকার।
আগামীকালের বইমেলা :
আগামীকাল ১৩তম দিন মেলা শুরু হবে বিকেল ৩টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে স্মরণে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ শীর্ষক আলাচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপনা করবেন আহমদ মোস্তফা কামাল। আলাচনায় অংশগ্রহণ করবন হরিশংকর জলদাস এবং ফারজানা সিদ্দিকা। অনুষ্ঠান সভাপতিত্ব করবেন সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম।
কারামুক্ত সাংবাদিক আনিস আলমগীরের সঙ্গে সরাসরি টেলিফোনে কথা বলে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২১ মার্চ) সন্ধ্যার এই সৌজন্য আলাপের বিষয়টি আনিস আলমগীর নিজেই নিশ্চিত করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে এমন ফোন পেয়ে বিস্ময় প্রকাশ করে এই সাংবাদিক গণমাধ্যমকে বলেন, 'সন্ধ্যা ৭টার দিকে প্রধানমন্ত্রী ফোন করেছিলেন। আমি খুব সারপ্রাইজড। তিনি আমাকে ও আমার স্ত্রীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। কারাগারে থাকার কথা শুনেছেন।' কথোপকথনের সময় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে আনিস আলমগীর আরও বলেন, 'প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমি ধন্যবাদ জানাই, অভিনন্দন জানিয়েছি। তিনি আজকে ঈদের নামাজে যে সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি দেখিয়েছেন।' তারেক রহমানের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, 'আমি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানিয়েছি, ২০২৪ সালের ৫ অগাস্টের পর থেকে তারেক রহমান অতীতে নেতিবাচক রাজনীতি নিয়ে মন্তব্য করেননি।'
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপের আগে আনিস আলমগীর বঙ্গভবনে গিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গেও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেছিলেন। উল্লেখ্য যে, গত ১৪ ডিসেম্বর রাতে গোয়েন্দা পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে আনিস আলমগীরকে তুলে নিয়ে যায় এবং পরবর্তীতে ‘জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স’-এর পক্ষ থেকে করা একটি সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ওই মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ড শেষে ২০ ডিসেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল এবং পরে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি মামলাতেও তাকে অভিযুক্ত করা হয়। দীর্ঘ কারাবাস ও আইনি লড়াইয়ের পর সব মামলায় জামিন পেয়ে গত ১৪ মার্চ তিনি মুক্তি লাভ করেন।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
শনিবার (২১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টায় জাতীয় ঈদগাহে নামাজ আদায় শেষে যমুনায় প্রবেশ করেন তারেক রহমান। এরপর সকাল সোয়া ৯টা থেকে আমন্ত্রিত অতিথিদের জন্য প্রধান ফটক খুলে দেওয়া হয়।
এতে রাজনীতিবিদ, কূটনীতিক ও সিনিয়র সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মিলনমেলা ঘটে। এরমধ্যে সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসও অংশ নেন।
প্রধানমন্ত্রী অনেকের সঙ্গে হাত মেলান ও কোলাকুলি করেন। দেশের সরকার প্রধানকে কাছে পেয়ে অনেকে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন অনেকে। তার সঙ্গে সেলফি তোলেন। তবে আমন্ত্রিত হয়েও অতিরিক্ত ভিড়ে অনেকে ভেতরে প্রবেশ করতে পারেননি।
শুধু কার্ডধারীদেরই ভেতরে প্রবেশের সুযোগ দেন এসএসএফ সদস্যরা। পাঁচটি সিরিয়ালে লোকজনের উপস্থিতি প্রধান ফটকের সামনে থেকে সামনের সড়ক ছাড়িয়ে কাকরাইল ও হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল মোড় পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।
প্রধানমন্ত্রী অনেকের কাছে গিয়ে খোঁজ-খবর নেন। এ সময় সঙ্গে ছিলেন সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান ও কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানসহ বিএনপির সিনিয়র নেতারা। অতিথীদের জন্য ছিল বিশেষ আপ্যায়নের ব্যবস্থা।
পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যানে তাঁর বাবা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত করেছেন।
শনিবার (২১ মার্চ) তিনি মরহুম মা-বাবার রুহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত ও দোয়া করেন। এই সময় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে এদিন সকালে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেন প্রধানমন্ত্রী। নামাজ শেষে তিনি রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিশিষ্টজন ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান এবং দীর্ঘ কয়েক বছর পর নিজ দেশের মাটিতে ঈদ উৎসব পালন করতে পারায় মহান আল্লাহর দরবারে গভীর শুকরিয়া প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সবার আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেছেন। শনিবার (২১ মার্চ) দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বিশিষ্টজনদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এই আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, দেশের সাধারণ জনগণ ঠিক যে ধরনের বাংলাদেশ দেখতে চায়, বর্তমান সরকার সেই আকাঙ্ক্ষা পূরণেই কাজ করে যাবে।
পবিত্র এই ঈদের দিনে তিনি আল্লাহর কাছে বিশেষ প্রার্থনা করেন যেন সবাই মিলে একটি সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তোলা সম্ভব হয়। দেশের উন্নয়ন ও সংস্কারের পথে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানান। এই বিশেষ মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনের শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, কন্যা জাইমা রহমানসহ পরিবারের সদস্যবৃন্দ, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং রাজনৈতিক শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকাল সাড়ে ৮টায় প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ঈদগাহে সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেন।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ভবনের টানেলে (দক্ষিণ প্লাজার নিচে) ঈদ-উল-ফিতরের নামাজের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার সকাল ৮টায় এই জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ সর্বস্তরের মুসল্লী এ জামাতে অংশগ্রহণ করেন।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ ভবনের টানেলে এ বছর প্রথমবারের মত নারীদের জন্য ঈদের জামাতের ব্যবস্থা করা হয়। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা জামাতে অংশগ্রহণ করেন।
স্পীকারের নির্দেশনা মোতাবেক মুসল্লিদের সুবিধার্থে ও বৈরী আবহাওয়ার কথা বিবেচনা করে টানেলের নীচে জামাতের সার্বিক প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পন্ন করা হয়। নামাজ শেষে মুসল্লিদের মাঝে খেজুর পরিবেশন করা হয়।
জামাত ও খুতবা শেষে সমগ্র মুসলিম উম্মাহসহ দেশ ও জাতির কল্যাণ, সুখ-শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। মোনাজাত পরিচালনা করেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সিনিয়র ইমাম মুহাম্মদ ছাইফুল্লাহ।
ঈদের জামাত শেষে স্পিকার মুসল্লিদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে কোলাকুলি ও শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে দেশের সবচেয়ে বড় ও প্রাচীন ঈদের জামাতে এবার অংশ নিয়েছেন ছয় লাখেরও বেশি মুসল্লি। কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক এই ঈদগাহ ময়দানে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে ঈদুল ফিতরের ১৯৯তম জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ১০টায় শুরু হওয়া এ জামাতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মুসল্লির উপস্থিতিতে পুরো এলাকা পরিণত হয় জনসমুদ্রে।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এবারের ঈদ জামাতে প্রায় ৫ লাখেরও বেশি মুসল্লি অংশ নেন। ঈদের আগের দিন থেকেই কিশোরগঞ্জমুখী মানুষের ঢল নামে। দেশের ৬৪ জেলা ছাড়াও বিভিন্ন উপজেলা থেকে দলে দলে মুসল্লিরা ছুটে আসেন শোলাকিয়ায়। কেউ আত্মীয়ের বাসায়, কেউ মসজিদে, আবার অনেকে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটান শুধু একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায়ের আকাঙ্ক্ষায়।
সকাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঈদগাহ ময়দান কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। জায়গা না পেয়ে আশপাশের সড়ক, ভবনের ছাদ এমনকি নরসুন্দা নদীর তীরেও কাতারে দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেন মুসল্লিরা।
শোলাকিয়ার ঐতিহ্য অনুযায়ী, জামাত শুরুর ১০ মিনিটি আগে ৫টি, ৫ মিনিট আগে ৩টি এবং ১ মিনিট আগে দু’টি পরপর তিনবার শটগানের ফাঁকা গুলি ছুড়ে জামাতে দাঁড়ানোর সংকেত দেওয়া হয়। নামাজ শেষে দেশ ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি এবং বিশেষ করে ফিলিস্তিনের মুসলমানদের জন্য মোনাজাত করা হয়।
এবারের ঈদের জামাতে ইমামতি করেন বড় বাজার জামে মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ।
শোলাকিয়ার ঈদ জামাত শুধু একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, এটি বাংলাদেশের ঐতিহ্য, ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং জনসমাবেশ ব্যবস্থাপনার একটি অনন্য উদাহরণ। প্রতি বছরই এই জামাতকে ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়। এবারের ১৯৯তম আয়োজনও সেই ধারাবাহিকতারই অংশ হিসেবে শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হলো।
ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে নেওয়া হয় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুলিশ সুপার ড. এসএম ফরহাদ হোসেন বলেন, প্রায় ১১০০ পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), সেনাবাহিনী, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এবং আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।
এছাড়া গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা সাদা পোশাকে মাঠ পর্যায়ে অবস্থান নিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন। পুরো এলাকায় প্রবেশ ও প্রস্থান পথগুলোতে ছিল কড়া নজরদারি, পাশাপাশি জনস্রোত নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
নামাজ শেষে দেশ ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, অগ্রগতি এবং ফিলিস্তিনের মুসলমানদের জন্য বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কূটনীতিক ও শিক্ষাবিদসহ দেশের সর্বস্তরের মানুষের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকেও সঙ্গে দেখা গেছে।
রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১০টায় ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান শুরু হয়।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করার জন্য রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা অভিমুখে ভোর থেকেই ঢল নামে মানুষের। সকাল সাড়ে আটটা থেকে যমুনা প্রাঙ্গণে সর্বসাধারণের প্রবেশ উন্মুক্ত করা হয়। সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের ভিড়ও বাড়তে থাকে।
এদিন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করার জন্য সাধারণ মানুষ, দলীয় নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ দলে দলে জড়ো হতে থাকেন যমুনা প্রাঙ্গণে। জনস্রোত বিস্তৃত হয়ে তা পৌঁছায় হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল পর্যন্ত। আর পুরো এলাকাজুড়ে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় তৎপর উপস্থিতি দেখা গেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের।
এর আগে সকালে হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাতে অংশ নিয়ে নামাজ আদায় করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সকাল সাড়ে ৮টায় প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
২০০৮ সালের সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে লন্ডনের পথে দেশ ছাড়তে হয়েছিল বিএনপির তৎকালীন জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব তারেক রহমানকে। এর আগে ২০০৭ সালে শেষবার দেশে ঈদ করেছিলেন তিনি। ১৯ বছরের দীর্ঘ নির্বাসন শেষে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর এবারই প্রথম ঈদ তারেক রহমানের।
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান মানুষের বিশ্বাস ও আবেগের জায়গা হয়ে উঠেছে । শনিবার (২১ মার্চ) সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হলো ১৯৯তম ঈদুল ফিতরের জামাত। তবে সকাল ৯টার মধ্যেই দেশের সর্ববৃহৎ ঈদগাহটি মুসল্লিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে।
ঈদের জামাতে ইমামতি করেন স্থানীয় বড় বাজার মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ। ঈদের নামাজকে ঘিরে ভোর থেকেই কিশোরগঞ্জ শহর ও আশপাশের এলাকায় শুরু হয় মুসল্লিদের ঢল। রিজার্ভ বাসসহ বিভিন্ন যানবাহনে দেশের নানা প্রান্ত থেকে হাজারো মানুষ আগেই উপস্থিত হন ঈদগাহ প্রাঙ্গণে।
শোলাকিয়া ঈদগাহয়ে নিরাপত্তায় রয়েছেন ১১০০ পুলিশ সদস্য, ৪ প্লাটুন সেনা সদস্য, ৫ প্লাটুন বিজিবি, র্যাবের ৬টি টিম, ৫ প্লাটুন আনসার, ১৩ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।
জনশ্রুতি অনুযায়ী, বারোভূঁইয়া নেতা ঈশা খাঁর বংশধর শাহ সুফি সৈয়দ আহমদ এক ঈদের মোনাজাতে মুসল্লিদের সমাগমকে ‘সোয়া লাখ’ বলে উল্লেখ করেন। সেখান থেকেই ‘সোয়া লাখিয়া’ শব্দের অপভ্রংশ হয়ে ‘শোলাকিয়া’ নামের উৎপত্তি বলে ধারণা করা হয়।
অন্য একটি মতে, এক ঈদ জামাতে প্রায় সোয়া লাখ (১ লাখ ২৫ হাজার) মুসল্লির উপস্থিতির পর এই নামটি প্রচলিত হয়। পরবর্তীতে ১৯৫০ সালে মসনদ-ই-আলা ঈশা খাঁর ষষ্ঠ বংশধর দেওয়ান মান্নান দাদ খাঁ ৪.৩৫ একর জমি ঈদগাহের জন্য ওয়াক্ফ করেন। বর্তমানে মাঠটি ৭ একর জায়গার উপর অবস্থিত।
২০১৬ সালের ৭ জুলাই শোলাকিয়া ঈদগাহ এলাকায় ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় দুই পুলিশ সদস্য, এক নারী ও এক জঙ্গিসহ চারজন নিহত হন। আহত হন পুলিশসহ ১৬ মুসল্লি। ওই ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হলেও ঈদের জামাতে মুসল্লিদের অংশগ্রহণে কখনো ভাটা পড়েনি।
ঐতিহাসিক ও জনসমাগমের দিক থেকে শোলাকিয়া ঈদগাহে অনুষ্ঠিত ঈদুল ফিতরের জামাতকে উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ ঈদের জামাত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রতি বছরই লাখো মুসল্লির উপস্থিতিতে এই ঈদগাহ পরিণত হয় এক অনন্য মিলনমেলায়।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে তারেক রহমান এবং শাহবাজ শরিফ টেলিফোনে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। এ সময় দুই দেশের সরকারপ্রধান কুশল বিনিময়ের পাশাপাশি দ্বিপক্ষীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন।
ঈদের আগের দিন শুক্রবার অনুষ্ঠিত এই টেলিফোন আলাপের বিষয়টি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে। এক এক্স পোস্টে তারা উল্লেখ করে, অত্যন্ত আন্তরিক ও হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে কথোপকথনের সময় শাহবাজ শরিফ তারেক রহমান এবং বাংলাদেশের জনগণকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান।
আলাপচারিতায় দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান ঐতিহাসিক ও ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে শাহবাজ শরিফ তারেক রহমানকে আশ্বস্ত করেন যে, বাংলাদেশের সঙ্গে সব ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদারে পাকিস্তান প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
পোস্টে আরও বলা হয়, উভয় নেতা দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় করেন। মতপার্থক্য ও বিরোধ নিষ্পত্তিতে সংলাপ ও কূটনীতির গুরুত্বের ওপর তারা জোর দেন।
শাহবাজ শরিফের শুভেচ্ছার জবাবে তারেক রহমান পাকিস্তানের জনগণের প্রতি শুভকামনা জানান। এক্স পোস্টে উল্লেখ করা হয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক শান্তি এবং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতেও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন দুই নেতা।
রাজধানীর হাইকোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে পবিত্র ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২১ মার্চ) সকাল সাড়ে ৮টায় এই জামাত আদায় করা হয়।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একসঙ্গে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের প্রধান জামাতে অংশ নিয়ে নামাজ আদায় করেন। তাঁদের সঙ্গে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক আবদুস সালাম, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য, সুপ্রিম কোর্ট ও হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি, বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন মুসলিম দেশের কূটনীতিকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। নামাজ শেষে মুসল্লিরা পরস্পরের সঙ্গে কোলাকুলি করেন।
ঈদের প্রধান জামাতে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি মোহাম্মদ আবদুল মালেক। দুই রাকাত ওয়াজিব নামাজ শেষে খুতবা প্রদান করা হয়।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) তত্ত্বাবধানে জাতীয় ঈদগাহ মাঠ জামাতের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত করা হয়। ঈদের এই প্রধান জামাতে নারীদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা রাখা হয় এবং ভিআইপি ব্যক্তিদের জন্যও বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করা হয়।
নারীদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ, অযু ও নামাজের নির্ধারিত স্থান ছিল। পাশাপাশি পর্যাপ্ত অযুখানার ব্যবস্থা এবং মুসল্লিদের জন্য মেডিকেল টিমও প্রস্তুত রাখা হয়। সব মিলিয়ে সাড়ে তিন হাজার নারীসহ মোট ৩৫ হাজার মুসল্লির নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করা হয়।
দীর্ঘ এক মাসের সিয়াম সাধনার পর আজ শনিবার সারা দেশে উদ্যাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর, যা ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য আনন্দ, কৃতজ্ঞতা ও আত্মশুদ্ধির এক গভীর তাৎপর্যের দিন। আকাশে চাঁদের দেখা মিলতেই ঘরে ঘরে ভেসে ওঠে সেই চিরচেনা সুর, ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এল খুশীর ঈদ’।
রমজানজুড়ে অর্জিত সংযম ও ত্যাগের শিক্ষা ঈদের এই দিনে আরও বিস্তৃত হয়ে ওঠে। ক্ষুধা ও তৃষ্ণার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে দরিদ্র মানুষের প্রতি সহমর্মিতার যে চর্চা গড়ে ওঠে, ঈদ তারই পূর্ণতার প্রতীক। ফিতরা আদায়ের মাধ্যমে সমাজের সব স্তরের মানুষের জন্য উৎসবের আনন্দ নিশ্চিত করার যে বিধান, তা সাম্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে ধরা দেয়।
ঈদকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরেই বাস টার্মিনাল, রেলস্টেশন ও লঞ্চঘাটে ছিল ঘরমুখো মানুষের ভিড়। দীর্ঘ ভোগান্তি আর ক্লান্তি শেষে প্রিয়জনের কাছে ফিরে আসার আনন্দ সব কষ্টকে ম্লান করে দিয়েছে। বাড়ির উঠান, মা-বাবার স্নেহমাখা মুখ আর স্বজনদের সান্নিধ্যে ফিরে মানুষ যেন খুঁজে পেয়েছে স্বস্তি ও প্রশান্তি।
রাজধানী থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চল—সবখানেই উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে। ঈদের আগের রাত পর্যন্ত দোকানগুলোতে ছিল কেনাকাটার ভিড়, বিশেষ করে আতর, টুপি, সেমাই ও চিনি। ভোর হতেই ঘরে ঘরে শুরু হয়েছে রান্নার ব্যস্ততা। বিউটি পারলারগুলোতে ছিল দীর্ঘ লাইন, আর রাত জেগে হাতে মেহেদি আঁকার উৎসবমুখর আয়োজনও ছিল চোখে পড়ার মতো। দেশের বিভিন্ন স্থানে বসেছে ঈদমেলা, যা আনন্দের আবহকে আরও বর্ণিল করে তুলেছে।
দেশের প্রধান ঈদ জামাত সকাল সাড়ে আটটায় জাতীয় ঈদগাহে অনুষ্ঠিত হবে। ইমামতির দায়িত্ব পালন করবেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মুফতি মুহাম্মদ আবদুল মালেক। আবহাওয়া প্রতিকূল হলে সকাল ৯টায় বায়তুল মোকাররমে প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় ঈদগাহে প্রায় ৩৫ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন এবং নারীদের জন্য রয়েছে পৃথক ব্যবস্থা। বায়তুল মোকাররমে পর্যায়ক্রমে সকাল ৭টা, ৮টা, ৯টা, ১০টা ও বেলা পৌনে ১১টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ঈদগাহ ও মসজিদে জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
নামাজ শেষে মুসল্লিরা কোলাকুলি করে একে অপরকে শুভেচ্ছা জানাবেন, বলবেন ‘ঈদ মোবারক’। কেউ কেউ ছুটে যাবেন কবরস্থানে, প্রিয়জনদের জন্য দোয়া ও মোনাজাত করবেন। এরপর পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, আত্মীয়-স্বজনের বাড়ি যাওয়া এবং বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগির মধ্য দিয়ে দিনটি কাটবে।
ঈদ মানেই আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার উপলক্ষ। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান পৃথক বাণীতে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন এবং সুখ, সমৃদ্ধি ও অসাম্প্রদায়িক সমাজ গঠনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।
বর্তমান সময়ে নিত্যপণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী হলেও ঈদের আনন্দে তার প্রভাব খুব বেশি পড়েনি। তবে এই আনন্দের দিনে সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কথা স্মরণ রাখা জরুরি। সামর্থ্য অনুযায়ী সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিলে তবেই ঈদের আনন্দ পূর্ণতা পাবে।
এই দিনটি শুধু উৎসবের নয়, বরং মানবিকতা, সহমর্মিতা ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের নতুন অঙ্গীকারেরও। সবার জীবনে এই ঈদ বয়ে আনুক শান্তি, কল্যাণ ও অনাবিল সুখ।
ঐতিহাসিক কিশোরগঞ্জ শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের ১৯৯তম জামাত সকাল ১০টায় অনুষ্ঠানের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এই সর্ববৃহৎ ঈদ জামাতের সার্বিক নিরাপত্তা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় ৫ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নেত্রকোণা ব্যাটালিয়নের (৩১ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল তৌহিদুল বারী এক বার্তার মাধ্যমে বিজিবির এই কঠোর অবস্থানের কথা নিশ্চিত করেন। বিজিবি সূত্রে জানানো হয়, সীমান্তে অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষায় তারা সর্বদা পেশাদারিত্ব বজায় রেখে কাজ করে।
ঈদগাহ ময়দান ও এর সংলগ্ন এলাকায় জেলা প্রশাসন ও অন্যান্য বাহিনীর সাথে সমন্বিতভাবে বিজিবি সদস্যরা নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করবে। জননিরাপত্তার স্বার্থে মুসল্লিদের নির্দিষ্ট প্রবেশপথ ব্যবহার করতে বলা হয়েছে এবং কোনো ধরনের ব্যাগ, ধারালো অস্ত্র বা সন্দেহজনক সামগ্রী বহন না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মিলিত সহযোগিতায় একটি সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এই ঈদ জামাত সম্পন্ন হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে টানা সাত দিনের সরকারি ছুটির মধ্যে ঢাকার মেট্রোরেল চলাচল নিয়ে সময়সূচি জানিয়েছে পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড।
প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, ঈদুল ফিতরের দিন মেট্রোরেল চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে।
তবে ঈদের পরদিন থেকে আগের মতো নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী মেট্রোরেল চলাচল পুনরায় শুরু হবে।
এদিকে দেশের আকাশে পবিত্র শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ায় আগামী শনিবার (২১ মার্চ) সারা দেশে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদ্যাপিত হবে।
শুক্রবার (২০ মার্চ) সন্ধ্যা ৬টা ১৬ মিনিটে কক্সবাজারে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার বিষয়টি প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।