বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬
২০ কার্তিক ১৪৩৩

মেলায় জনপ্রিয় লেখকদের বই বেশি বিক্রি হচ্ছে

ছবি: দৈনিক বাংলা
মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ
প্রকাশিত
মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ
প্রকাশিত : ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ২২:৫৭

অমর একুশে বইমেলার দিন যতই অতিবাহিত হচ্ছে ততই এর আকর্ষণ বেড়ে চলেছে। এবার নানাবিধ কারণে প্রাণের মেলা ভিন্নরূপ পেয়েছে। বিশেষ করে নগরে স্বস্তির যান মেট্রোরেলের কারণে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর পাঠক-দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ছে। মেলায় প্রতিদিন শতাধিক নতুন বই আসার পাশাপাশি বেড়েছে দর্শনার্থীর সংখ্যা, সঙ্গে বাড়ছে বিক্রিও। দিন যত যাচ্ছে মেলার প্রাণ আরও বাড়ছে। আগামীকাল বসন্ত ও ভালোবাসা দিবসে বইমেলা যেন অন্যরকম আমেজ নিয়ে আসবে। বাংলা একাডেমির বহেড়াতলা বটগাছে কোকিলের সুর বলে দিচ্ছে প্রকৃতিতে ফাগুন চলে এসেছে। ঠিক যেমনিভাবে ফাগুনের এই আগুন বইমেলায়ও চলে আসতে শুরু করেছে। সব সময় মেলা ফাগুনের দিনগুলো থেকেই মূলত জমে ওঠে। এবার আরও নবজাগরণে প্রাণের মেলা জমেছে। কেননা গত দুই বছরের ঢিমেতালে চলা বইমেলা এবার পেয়েছে পুরোপুরি জমে ওঠার চিত্র। মেলায় প্রতিবারের মতো এবারও পাঠকদের আগ্রহের শীর্ষে রয়েছে উপন্যাস। এ ছাড়াও ঘুরেফিরে জনপ্রিয় লেখকদের বই বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রকাশক ও বিক্রয়কর্মীরা।

মেলা ঘুরে দেখা গেছে, পাঠকরা স্টলে স্টলে গিয়ে উপন্যাসের বই খুঁজে বেড়াচ্ছেন। প্রিয় লেখকের প্রকাশিত বই পেলেই তা সংগ্রহ করে নিজেদের ব্যাগে গুঁজে নিচ্ছেন বইপ্রেমীরা। এদিকে পূর্ববর্তী বছরগুলোর মতো এবারও হ‍ুমায়ূন আহমেদ, হাসান আজিজুল হক, আনিসুল হক, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ইমদাদুল হক মিলন, সেলিনা হোসেন, মুহম্মদ জাফর ইকবাল, আসিফ নজরুল, মুনতাসীর মামুন, মোশতাক আহমেদ, শাহাদুজ্জামান, হরিশংকর জলদাসসহ বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় লেখকের বই বেশি বিক্রি হচ্ছে। তবে মেলায় হ‍ুমায়ূন আহমেদের বই-ই বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে প্রকাশনা সূত্রে জানা যায়। জনপ্রিয় এই লেখকের পুরাতন বইগুলো পাঠকরা এখনো কিনছেন। মেলায় প্রতিদিন হ‍ুমায়ূনপ্রেমীরা খুঁজতে খুঁজতে চলে যাচ্ছেন অন্যপ্রকাশে। এই প্রকাশনীতে কিংবদন্তি এই কথাসাহিত্যিকের লেখা উপন্যাস দেয়াল, মাতাল হাওয়া, নন্দিত নরকে, শঙ্খনীল কারাগার, মধ্যাহ্ন অখণ্ড বেশি কিনছেন বলে অন্যপ্রকাশ সূত্রে জানা যায়।

সরেজমিন ঘুরে এবং বিভিন্ন স্টলের বিক্রয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারও মেলায় বেশি জনপ্রিয় লেখকদের গল্প-উপন্যাস বিক্রি হচ্ছে। নতুন বইয়ের সঙ্গে পুরাতন কালজয়ী বইও বিক্রিতে রয়েছে শীর্ষে।

তাম্রলিপি প্রকাশনীর বিজনেস ডেভেলপমেন্ট এক্সিকিউটিভ মুনালিসা জানান, এ বছর ৪৫টি নতুন বই প্রকাশ করেছে প্রকাশনীটি। নতুন বইয়ের সঙ্গে পুরাতন বইও বেশ বিক্রি হচ্ছে। তার মধ্যে হ‍ুমায়ূন আহমেদের শ্রেষ্ঠ হিমু, শ্রেষ্ঠ মিছির আলি ও কিশোর সমগ্র বই বিক্রিতে ওপরে রয়েছে।

কাকলী প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী হুমায়ন কবীর জানান, রকিব হাসানের গোয়েন্দা সিরিজ ও সায়েন্স ফিকশন চলছে বেশি। আর হ‍ুমায়ূন আহমেদের ভক্তরা তার বই সমগ্র তো সংগ্রহ করছেই।

অনন্যা প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী আসিফ মাহমুদ বলেন, ইমদাদুল হক মিলনের চোর এসে গল্প করেছিল, অন্ধকারে নামতে পারেনি বই দুটোর বিক্রি তুলনামূলকভাবে বেশি। এ ছাড়াও তৌহিদুর রহমানের নিতু বলছি বইটির তৃতীয় মুদ্রণ চলছে। মুনতাসীর মামুনের ঢাকা সমগ্র বইটিও পাঠকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। এ ছাড়াও মুনতাসীর মামুনের বঙ্গবন্ধুর জীবন ও লিবারেশন ওয়্যার বই দুটি এ বছর প্রকাশিত হয়েছে। বইগুলো বিক্রিও হচ্ছে বেশ।

অন্বেষা প্রকাশনের বিক্রয়কর্মী রাফিজা নওশীন জানান, সুজন দেবনাথের হেমলকের নিয়ন্ত্রণ ও জাহিদ হাসানের দেশভাগ ১৯৪৭ বেশি বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া হ‍ুমায়ূন আহমেদের তিন বিচিত্র, চন্দ্রসখা, মিসির আলীর ভুবন, তোমাদের জন্য ভালোবাসা, নীল হাতি, সবাই গেছে বনে উপন্যাসগুলো একটি আরেকটির চেয়ে কম বিক্রি হচ্ছে না। এ ছাড়াও সাদাত হোসেনের আগুনডানা মেয়ে বইটিও বেশ বিক্রি হচ্ছে।

অন্যপ্রকাশের স্টল ইনচার্জ তৌহিদুল ইসলাম জানান, উপন্যাস আর হ‍ুমায়ন আহমেদের বইয়ে পাঠকদের চাহিদা- দুই ক্ষেত্রেই সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়াও রউফুল আলমের দেশ, সফল মন্ত্র, আহমদ ছফার যদ্যপি আমার গুরু, অর্ধেক নারী অর্ধেক ইশ্বরী বইগুলো বেশ চলছে। তবে ক্রেতাদের চাহিদা উপন্যাস।

বইমেলায় ঘুরতে আসা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শরমিলা জান্নাত বইগুলো ঘাটতে ঘাটতে বলেন, ‘হ‍ুমায়ূন আহমেদ দেশের সাহিত্য অঙ্গনে যে জায়গা সৃষ্টি করে গেছেন, তা এখনও কেউ পূরণ করতে পারেননি। পুরোনোরা তো বটেই, নতুন প্রজন্মের পাঠকও এসে এখনো হ‍ুমায়ূন আহমেদের বই খোঁজ করেন।’

মেলায় এখনো কালজয়ী সব সাহিত্যিকের লেখা বই কিনছেন বইপ্রেমীরা। এর মধ্যে রয়েছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, শওকত আলী, বেগম রোকেয়া, মীর মশাররফ হোসেন, উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, জীবনানন্দ দাশ, স্বর্ণকুমারী দেবী, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, জসীম উদ্দীন, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, আবু ইসহাক, আহমেদ ছফাসহ হুমায়ুন আজাদের লেখা সব বই। গুণী এই সাহিত্যিকদের লেখা বিভিন্ন গল্প, উপন্যাস ও সমগ্র সংগ্রহে রাখতে মেলায় এসে বই কিনছেন বইপ্রেমীরা।

মেলা ঘুরে দেখা গেছে, এখনো পাঠকরা যেসব কালজয়ী বই মেলায় কিনছেন, তার মধ্যে রয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষের কবিতা, গোড়া, শওকত আলীর প্রদোষে প্রাকৃতজন, আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের খোয়াবনামা, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবি, সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহর লালসালু, জহির রায়হানের হাজার বছর ধরে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনী, সৈয়দ শামসুল হকের খেলারাম খেলে যা ও নিষিদ্ধ লোবান, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রথম আলো, সেই সময় এবং পূর্ব-পশ্চিম, হ‍ুমায়ূন আহমেদের নন্দিত নরকে, শঙ্খনীল কারাগার এবং জোৎস্না ও জননীর গল্প, হুমায়ুন আজাদের নারী ও ছাপ্পান্নো হাজার বর্গমাইল, আবু ইসহাকের সূর্য দীঘল বাড়ি, হাসান আজিজুল হকের আগুনপাখি, মানিক বন্দোপাধ্যায়ের পদ্মা নদীর মাঝি ও পুতুল নাচের ইতিকথা, ইমদাদুল হক মিলনের নূরজাহান, সৈয়দ মুজতবা আলীর দেশ বিদেশে, শওকত ওসমানের কৃতদাসের হাসি, আনিসুল হকের চার কিশোর গোয়েন্দা, শহীদুল্লাহ কায়সারের সারেং বৌ, সংশপ্তক, জাহানারা ইমামের একাত্তরের দিনগুলি, বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের আদর্শ হিন্দু হোটেল, মুহম্মদ জাফর ইকবালের লেখা ফেরা, আহমদ ছফার যদ্যপি আমার গুরু ও শাহাদুজ্জামানের ক্রাচের কর্নেলসহ আরও কিছু বই। এই বইগুলো প্রকৃত বইপ্রেমীরা দেখলেই তা সংগ্রহে রাখার জন্য হলেও কিনে নিচ্ছেন বলে জানান মেলার বিভিন্ন স্টলের বিক্রয়কর্মীরা।

এখনো জমেনি লিটলম্যাগ চত্বর

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চের পাশে অবস্থিত লিটল ম্যাগ চত্বর ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড় নেই মেলার এ অংশে। যদিও বিক্রয় প্রতিনিধিরা বলছেন, মেলার অন্য অংশ থেকে বরাবরই এ অংশে ভিড় কম থাকে। সেখানকার স্টলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লোকজন এ চত্বরে কম যায়। তেমন বিক্রিও হয় না। বইমেলায় একসময় অন্যতম আকর্ষণ ছিল তারুণ্যের এ ‘লিটল ম্যাগ চত্বর’। মেলার এই অংশে নবীন লেখকদের প্রকাশিত বিভিন্ন ম্যাগাজিন পাঠক-দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরেন লেখক, প্রকাশক। কিন্তু সময়ের আবর্তে একসময়কার তুমুল জনপ্রিয় এই চত্বরে এখন কেবলই হাহাকার। বারবার এর স্থান পরিবর্তন হলেও হারানো গৌরবের দেখা পাচ্ছে না এই চত্বর।

জনপ্রিয় সব লেখক, প্রকাশনী ও পত্রিকার ভিড়ে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে সত্তরের দশকের গণজাগরণের চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত লিটল ম্যাগাজিনগুলো। বিপ্লবী ধারার এসব ম্যাগাজিনের স্থান দখল করে নিয়েছে পত্রিকাগুলো। কিন্তু এতসব বাধা বিপত্তির মাঝেও এখনো টিকে আছে কিছু ম্যাগাজিন। দেড় দশকের বেশি সময় ধরে বাংলা একাডেমির বহেড়াতলায় স্থান পাওয়া বইমেলার অন্যতম আকর্ষণ ‘লিটল ম্যাগ চত্বর’ কখনো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মাঝখানে, কখনো উত্তর পাশে আবার কখনো কালি মন্দিরের পাশে স্থান বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। তবে এ বছর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চের উত্তরাংশের অন্ধকারাচ্ছন্ন জায়গায় স্থান হয়েছে লিটল ম্যাগের। ফলে বিগত দিনের ধারাবাহিক খরা তাতে লেগেই আছে।

আজকের বইমেলা :

আজকের মেলা বিকেল ৩টায় শুরু হয়ে শেষ হয় রাত ৯টায়। ১২তম দিনে মেলায় নতুন বই এসেছে ১১৫টি। বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় জন্মশতবার্ষিক শ্রদ্ধাঞ্জলি : হেনা দাস শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জোবাইদা নাসরীন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ঝর্না রহমান এবং ফওজিয়া মোসলেম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শিরীণ আখতার।

‘লেখক বলছি’ অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন কথাসাহিত্যিক সালমা বাণী, কবি ফারহানা রহমান, গবেষক মিলটন কুমার দেব এবং কথাসাহিত্যিক ইকবাল খন্দকার।

আগামীকালের বইমেলা :

আগামীকাল ১৩তম দিন মেলা শুরু হবে বিকেল ৩টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে স্মরণে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ শীর্ষক আলাচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপনা করবেন আহমদ মোস্তফা কামাল। আলাচনায় অংশগ্রহণ করবন হরিশংকর জলদাস এবং ফারজানা সিদ্দিকা। অনুষ্ঠান সভাপতিত্ব করবেন সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম।


নির্বাচিত

৭ নভেম্বর ছুটি পাচ্ছেন যারা

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’উপলক্ষে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপনও জারি করা হয়।

তবে এ বছর ৭ নভেম্বর পড়েছে শনিবার। যা সাপ্তাহিক ছুটির দিন। যে কারণে ছুটি ভোগ করতে পারছেন না সরকারি চাকরিজীবীরা।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা এ ছুটির আওতায় থাকবেন। পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী, দেশের সব তফশিলি ব্যাংকও ওই দিন বন্ধ থাকবে।

প্রতিবছর ৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে সাধারণ ছুটি পালন করা হবে। তবে চলতি বছর ৭ নভেম্বর শনিবার হওয়ায় দিনটি সাপ্তাহিক ছুটির মধ্যেই পড়েছে। ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য বাড়তি ছুটি উপভোগের সুযোগ থাকছে না।

এর আগে গত ৫ অক্টোবর মন্ত্রিসভার বৈঠকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস উদযাপনসংক্রান্ত পরিপত্রে ৭ নভেম্বরকে ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে দিনটি ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পালন করা হবে। এ উপলক্ষে প্রতিবছর সাধারণ ছুটি থাকবে।


নির্বাচিত

হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরলেন মঈন খান

ফাইল ছবি: বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে বাসায় ফিরেছেন। বুধবার (৪ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে তিনি বাসায় ফেরেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান।

তিনি জানিয়েছেন, মঈন খান আগের চেয়ে অনেকটাই সুস্থ। তবে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, তাকে আরো কিছুদিন বিশ্রামে থাকতে হবে।

প্রসঙ্গত, গত ২১ অক্টোবর রাত সাড়ে ১০টার দিকে মঈন খান হঠাৎ অসুস্থ হয়ে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন মঈন খান।

সেদিন রাতে তাকে দেখতে হাসপাতালে যান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। এরপর রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভীসহ দলটির জ্যেষ্ঠ নেতা তাঁকে হাসপাতালে দেখতে যান। মঈন খান এভারকেয়ার হাসপাতালের মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা নেন।


নির্বাচিত

সংবাদ প্রকাশের কারণে গ্রেফতারে আদালতের অনুমতি নিতে হবে

সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সংবাদ প্রকাশের কারণে কোনও সাংবাদিক, সংবাদমাধ্যমের মালিক বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে গ্রেফতারের আগে সংশ্লিষ্ট এখতিয়ারসম্পন্ন আদালতের পূর্বানুমতি নেওয়ার বিধান রাখার বিষয়ে নীতিগত ঐকমত্য হয়েছে। সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর খসড়া পর্যালোচনা ও চূড়ান্ত করার জন্য গঠিত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় এ বিষয়ে আলোচনা হয়।

বুধবার (৪ নভেম্বর) ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিনিধিদের মতামতকে গুরুত্ব দিয়ে খসড়া আইনটি পরিমার্জন ও চূড়ান্ত করার ওপর জোর দেওয়া হয়। আইনটি যেন সাংবাদিক, সংবাদমাধ্যম বা স্বাধীন সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে হয়রানির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত না হয়, তা নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

সভায় সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং হয়রানি প্রতিরোধের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। মানহানি, হেয় প্রতিপন্ন করা ও সাইবার বুলিংয়ের বিষয়গুলো পৃথকভাবে বিবেচনা করে আইনের সংশ্লিষ্ট ধারাগুলো পুনর্বিন্যাসের প্রস্তাবও আলোচনায় আসে। পাশাপাশি সাইবার স্পেসের সংজ্ঞা আরও সুনির্দিষ্ট করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

মানহানির সংজ্ঞা ও শাস্তির ক্ষেত্রে দণ্ডবিধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। গুজব ও অপতথ্যের সংজ্ঞা আরও স্পষ্ট ও সুনির্দিষ্ট করার বিষয়ে মতামত দেওয়া হয়, যাতে আইনের অস্পষ্ট বা অতিব্যাপক সংজ্ঞার কারণে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন না হয়।

এ ছাড়া আইনে মোবাইল কোর্টের বিধান না রাখা, কনটেন্ট অপসারণ বা ব্লক করার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে কারণ জানানো এবং ব্লক করা কনটেন্ট অবমুক্তির আবেদন নিষ্পত্তির সময়সীমা নির্ধারণের বিষয়েও আলোচনা হয়। কোনও সংবাদমাধ্যম বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে লিখিত নোটিশ দেওয়া এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ রাখার প্রস্তাবও সভায় ওঠে।

সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলের সদস্য কাঠামো, সেখানে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিত্ব এবং আন্তর্জাতিক অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শের বিষয়েও আলোচনা হয়। জাতিসংঘসহ উন্নয়ন সহযোগী এবং মেটার মতো আন্তর্জাতিক প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে আলোচনা করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় অংশীজনদের মতামত ও সুপারিশের ভিত্তিতে সংশোধিত খসড়া আইনটি আবার পরিমার্জন করে ওয়েবসাইটে প্রকাশের বিষয়ে আলোচনা হয়। জনসাধারণের মতামত নিয়ে খসড়াটিকে আরও গ্রহণযোগ্য, কার্যকর ও সময়োপযোগী করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

সভায় জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সির পক্ষ থেকে একটি উপস্থাপনা দেওয়া হয়। এ সময় আইসিটি বিভাগের সচিব মো. মামুনুর রশীদ ভূঞা, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব ড. মো. কামরুজ্জামানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

বৃহস্পতিবার খুলনা ও বাগেরহাট সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) খুলনা ও বাগেরহাট সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এদিন সকাল ৯টায় ঢাকা থেকে হেলিকপ্টার যোগে প্রথমে মোংলা যাবেন প্রধানমন্ত্রী। এরপর সেখান থেকে সড়কপথে খুলনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

তিনি জানান, ‘প্রধানমন্ত্রীর মোংলায় দুটি এবং খুলনায় একটি নির্ধারিত কর্মসূচি রয়েছে। এ ছাড়া তিনি বাগেরহাট জেলা সদরে হযরত খান জাহান আলী (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন। মোংলার কর্মসূচি শেষ করে সড়কপথে প্রধানমন্ত্রী খুলনা যাবেন।’

খুলনা স্টেডিয়ামে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)-এর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। সারা দেশে তৃণমূল পর্যায় থেকে ক্রীড়া প্রতিভা অন্বেষণে ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে।

এদিকে, খুলনায় প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও উৎফুল্ল। পুরো শহর পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে।

জেলা স্টেডিয়াম ও আশপাশের সড়ক নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস (সিজন-২)-এর রংবেরঙের ব্যানার-ফেস্টুন দিয়ে সাজানো হয়েছে। শিববাড়ী মোড় থেকে রেলস্টেশনের প্রধান ফটক পর্যন্ত দেয়ালে আঁকা হয়েছে নানা গ্রাফিতি।

এসব গ্রাফিতিতে তুলে ধরা হয়েছে খুলনার ইতিহাস ও ঐতিহ্য। এতে স্থান পেয়েছে জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার প্রতিকৃতি, সুন্দরবন ও রয়েল বেঙ্গল টাইগারের ছবি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে স্থাপন করা সব তোরণ ও বিলবোর্ড খুলে ফেলা হয়েছে। সরিয়ে ফেলা হয়েছে নেতা-কর্মীদের লাগানো ফেস্টুনও। এবারই প্রথম সরকারপ্রধানের আগমন উপলক্ষে যত্রতত্র তোরণ, ব্যানার ও ফেস্টুন দেখা যাচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে পুরো খুলনা মহানগরীতে নেওয়া হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তাব্যবস্থা।


নির্বাচিত

ভ্যাকসিন উৎপাদনে জোর দিলেন প্রতিমন্ত্রী টুকু

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত বার্ষিক গবেষণা পর্যালোচনা কর্মশালা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভ্যাকসিন উৎপাদনে আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে দেশেই প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জনে গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে বলে মনে করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএলআরআই) সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত বার্ষিক গবেষণা পর্যালোচনা কর্মশালা-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।

প্রাণিসম্পদ খাতে বর্তমানে দেশের চাহিদার মাত্র ১৫ শতাংশ ভ্যাকসিন দেশীয়ভাবে উৎপাদিত হয়। বাকি ৮৫ শতাংশ আমদানি করতে হয়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি, আমদানিনির্ভরতা হ্রাস এবং খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘গবেষণা, উদ্ভাবন ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে নিজেদের সক্ষমতা বাড়িয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।’ দেশের উন্নয়নে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন,

‘বিএলআরআইয়ের বিজ্ঞানীদের গবেষণা ও উদ্ভাবনের ফলে দেশের প্রাণিসম্পদ খাতে নতুন প্রযুক্তি যুক্ত হয়েছে, যা জাতীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের বিকল্প নেই। বিশ্বব্যাপী ওয়ান হেলথ ধারণা গুরুত্ব পাচ্ছে। এ ক্ষেত্রে প্রাণীর স্বাস্থ্য, প্রাণিজ খাদ্যের নিরাপত্তা এবং জনস্বাস্থ্যের মধ্যে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। তাই প্রাণিসম্পদ খাতে উৎপাদিত প্রতিটি পণ্য যেন নিরাপদ হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।’

অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রাণিসম্পদ খাতে অপ্রয়োজনীয় ও অপরিকল্পিত অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। বিশেষ করে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) মোকাবিলায় সচেতনতা বাড়াতে হবে। প্রান্তিক খামারিদের অ্যান্টিবায়োটিকের যথেষ্ট ব্যবহার থেকে বিরত রাখতে প্রশিক্ষণ ও উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। অ্যান্টিবায়োটিকের যৌক্তিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার পাশাপাশি প্রাণিসম্পদ উৎপাদন ব্যয়ও কমানো সম্ভব হবে।’

বিএলআরআইয়ের উদ্ভাবনের প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে দুটি ভ্যাকসিন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কাছে হস্তন্তর করেছে।’ ভবিষ্যতে এ ধরনের উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের গতি আরও বাড়বে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


নির্বাচিত

একনেকে ৫৮ হাজার কোটি টাকার ১৩ প্রকল্প অনুমোদন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে একনেক সভা অনুষ্ঠিত। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ৫৮ হাজার ৮৮ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৩টি উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত প্রকল্পের মধ্যে ১১টি নতুন এবং দুটি সংশোধিত।

বুধবার (৪ নভেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এসব প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৫০ হাজার ৪১ কোটি টাকা। প্রকল্প ঋণ ও অনুদান থেকে আসবে ৭ হাজার ৯৭৪ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর নিজস্ব অর্থায়ন ৭৩ কোটি ৭ লাখ টাকা।

সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পাঁচটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে বরেন্দ্র অঞ্চলে নিরাপদ পানি সরবরাহ ও স্যানিটেশন, বরিশাল নগরের বিভিন্ন খাল পুনরুদ্ধার ও পুনঃখনন, জলবায়ু সহনশীল নগর উন্নয়ন এবং সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প। এ ছাড়া অগ্রাধিকার ভিত্তিতে গুরুত্বপূর্ণ পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধন অনুমোদন পেয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে বাংলাদেশ পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে বিশেষায়িত ও অপারেশনাল যানবাহন কেনার দুটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ঢাকা সেনানিবাসের মঈনুল রোড আবাসিক এলাকায় সেনা কর্মকর্তাদের জন্য বি-টাইপ আবাসন নির্মাণ এবং রাজধানীর জিগাতলার গাবতলা কলোনিতে সরকারি কর্মচারীদের জন্য বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেশের পাঁচটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পাসে ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যালায়েড সায়েন্সেস (ইনমাস) স্থাপন করা হবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৫) প্রকল্পও অনুমোদন পেয়েছে।

জ্বালানি খাতে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে তিতাস-৩২ ও ৩৩ নামে দুটি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপ খননের প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, গ্রামীণ সড়কে ১৫ মিটার পর্যন্ত দৈর্ঘ্যের সেতু ও কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের তৃতীয় সংশোধন অনুমোদন পেয়েছে।

এদিকে, ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ে পরিকল্পনামন্ত্রীর অনুমোদিত আরো পাঁচটি প্রকল্প সম্পর্কে একনেক সভায় অবহিত করা হয়েছে।

প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউটের হৃদরোগ চিকিৎসাসেবার আধুনিকায়ন, শিশু-কিশোর ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার ট্রাফিক অবকাঠামো ও সড়ক নিরাপত্তার উন্নয়ন।

এ ছাড়া ঢাকা কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে আধুনিক যানবাহন ও যন্ত্রপাতি সংগ্রহের প্রকল্প রয়েছে।

সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

২০২৭ সালে দুই ঈদে টানা ১১ দিনের ছুটি

২০২৭ সালের ছুটির তালিকা প্রকাশ
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মন্ত্রিসভার নীতিগত অনুমোদনের পর ২০২৭ সালের জন্য সরকারি ছুটির পূর্ণাঙ্গ তালিকা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করতে যাচ্ছে সরকার। বুধবারই এ সংক্রান্ত চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করতে পারে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ রেখে আগামী বছরও পবিত্র ঈদুল ফিতরে পাঁচ দিন, ঈদুল আজহায় ছয় দিন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজায় দুই দিনের ছুটি নির্ধারণ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন যে দুই ঈদের মূল দিনে যথারীতি সাধারণ ছুটি বহাল থাকবে। তবে ঈদুল ফিতরের আগে দুই দিন ও পরে দুই দিন মিলিয়ে মোট চার দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি থাকবে। একইভাবে ঈদুল আজহার ক্ষেত্রেও ঈদের পূর্বের দুই দিন এবং পরের তিন দিন মিলিয়ে মোট পাঁচ দিন নির্বাহী আদেশের ছুটির আওতায় আনা হয়েছে। এ ছাড়া শারদীয় দুর্গাপূজার বিজয়া দশমীতে সাধারণ ছুটি এবং মহানবমীর দিন নির্বাহী আদেশে ছুটি নির্ধারিত রয়েছে।

সব মিলিয়ে আগামী বছর সাধারণ ও নির্বাহী আদেশ মিলিয়ে মোট ২৯ দিন সরকারি ছুটি উপভোগ করবেন চাকরিজীবীরা। তবে ছুটির এই তালিকার মধ্যে সাত দিনই পড়েছে সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্র ও শনিবারে। বিশ্লেষণে দেখা যায়, আগামী বছর সাধারণ ছুটি মোট ১৫ দিন, যার মধ্যে চার দিন সাপ্তাহিক ছুটির দিনে অন্তর্ভুক্ত। অন্যদিকে নির্বাহী আদেশে নির্ধারিত ১৪ দিনের ছুটির মধ্যে তিন দিন পড়েছে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে। এর আগে গত ২ নভেম্বর অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে ২০২৭ সালের জন্য ছুটির এই খসড়া প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদন পায়।


নির্বাচিত

দেশে হামের উপসর্গে আরও ৬ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১৪০২

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে আরও ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ৮টা থেকে বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল ৮টার মধ্যে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। একই সময়ের মধ্যে হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৪০২ জন।

বুধবার (৪ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে আজকে পর্যন্ত হামের উপসর্গে দেশে ১ হাজার ১৬৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে ১০৫ শিশু। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গে শিশুর মৃত্যু ১ হাজার ২৬৯ জনে পৌঁছেছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সন্দেহজনক হাম আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৩২৫ জন এবং নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে ৭৭ জনের। মোট ১ হাজার ৪০২ শিশু হাম ও হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছে।

১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ২ লাখ ৮ হাজার ৬৩৪ জন। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত সুস্থ হয়ে ১ লাখ ৯৯ হাজার ৮৯৪ জন হাসপাতাল ছেড়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যমতে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ১৪৮ জনের। এ সময়ের মধ্যে হাম শনাক্ত হয়েছে ২৪ হাজার ১৫০ জনের।


নির্বাচিত

সাবেক তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী আটক

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ও প্রবীণ সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ
ইকবাল সোবহান চৌধুরী
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা ও প্রবীণ সাংবাদিক ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে আটক করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। বুধবার দুপুরে রাজধানীর মহাখালী এলাকায় অবস্থিত একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের কার্যালয় থেকে তাঁকে নিজেদের হেফাজতে নেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে এই আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান যে তাঁকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে।

ঘটনার বিষয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মো. আকতার হোসেন জানান, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে ও সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়েছে। সেখানে ডিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাঁর সঙ্গে কথা বলছেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ সম্পন্ন হওয়ার পরই তাঁর বিষয়ে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

পেশাগত জীবনে ১৯৭২ সালে একটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমে প্রতিবেদক হিসেবে সাংবাদিকতা শুরু করেন ইকবাল সোবহান চৌধুরী এবং ১৯৯৮ সালে তিনি সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমটির সম্পাদকের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তিনি দীর্ঘদিন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের নেতৃত্বের পাশাপাশি বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এ ছাড়া তিনি রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা গণমাধ্যমের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান পদেও অধিষ্ঠিত ছিলেন। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব লাভ করেন তিনি।

বিষয়:

নির্বাচিত

বাজারে অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি সিলিন্ডার

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) ঘোষিত মূল্যের চেয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা বেশি দিয়ে এলপিজি সিলিন্ডার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন ভোক্তারা। সরবরাহ সংকটের পাশাপাশি দফায় দফায় দাম বৃদ্ধির কারণে সাধারণ ক্রেতা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। উল্লেখ্য, সংস্থাটি সম্প্রতি ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২,০৬০ টাকা নির্ধারণ করলেও খুচরা বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ২,৩০০ থেকে ২,৫০০ পর্যন্ত চড়া দামে।

খিলগাঁও ও মিরপুরের বাসিন্দাদের পাশাপাশি স্থানীয় রেস্তোরাঁ ও চা বিক্রেতারা জানান, প্রতি মাসেই বাড়তি মূল্যে গ্যাস রিফিল করতে গিয়ে তাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও ব্যবসা পরিচালনা ব্যাহত হচ্ছে।

এদিকে খুচরা ব্যবসায়ীরাও সরবরাহ ঘাটতি এবং পাইকারি পর্যায়ে চড়া দামকে এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করছেন। তাদের দাবি, আড়ত বা ডিলার পর্যায় থেকেই তাদের বেশি দামে সিলিন্ডার সংগ্রহ করতে হচ্ছে, যার ফলে নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করা কোনোভাবেই সম্ভব হচ্ছে না।

এছাড়া নির্দিষ্ট কোম্পানির বোতল রিফিল ও আদান-প্রদান সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ক্রেতাদের সাথে প্রায়শই তর্কে জড়াতে হচ্ছে তাদের। ফলে দফায় দফায় দাম বৃদ্ধি এবং বাজার মনিটরিংয়ের অভাবে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয় পক্ষই এখন দিশেহারা।


নির্বাচিত

মিরপুরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ মোতায়েন

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক
    অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ না পাওয়া গেলে নিরীহ পথচারী ও সাধারণ শ্রমিকদের তাৎক্ষণিক অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে, যাতে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি প্রশাসনিক হয়রানির শিকার না হন

তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে রাজধানীর মিরপুর এলাকায় যেকোনো ধরনের নাশকতা প্রতিহত ও সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বুধবার মিরপুরের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার মো. মহিদুল ইসলাম।

তিনি জানান, মিরপুর-১, পল্লবী, রূপনগর, মিরপুর-১২ এবং কাফরুল সড়কসহ সংলগ্ন এলাকার স্পর্শকাতর স্থানগুলোতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে জেলা ও মহানগর পুলিশের পাশাপাশি স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি), আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), ডিএমপির গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি), কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) এবং বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা যৌথভাবে কাজ করছেন। নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর মধ্যকার এই নিবিড় সমন্বয়ের ফলে জনদুর্ভোগ ও বিশৃঙ্খলা তৈরির অপচেষ্টা সফলভাবে প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।

আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে সড়ক অবরোধ, সরকারি-বেসরকারি যানবাহনে ভাঙচুর এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংসের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়ে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে চিহ্নিত নাশকতাকারীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় নেওয়া হচ্ছে। তবে আটক ব্যক্তিদের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। অপরাধে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ না পাওয়া গেলে নিরীহ পথচারী ও সাধারণ শ্রমিকদের তাৎক্ষণিক অব্যাহতি দেওয়া হচ্ছে, যাতে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি প্রশাসনিক হয়রানির শিকার না হন।

মিরপুরের বিদ্যমান পরিবেশ নিয়ে মহিদুল ইসলাম উল্লেখ করেন, বুধবার শ্রমিকেরা সড়কে নেমে কোনো বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ পাননি এবং এলাকার সার্বিক অবস্থা পুরোপুরি শান্ত রয়েছে। বিভিন্ন কারখানায় পুরোদমে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে এবং শ্রমিকেরা স্বস্তিতে কাজে যোগ দিচ্ছেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, শ্রমিকদের স্বার্থ বিবেচনায় ইতিমধ্যে সরকার আনুষ্ঠানিক মজুরি বোর্ড গঠন করেছে। ফলে প্রকৃত উৎপাদনমুখী শ্রমিকেরা কোনো ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ডে জড়াতে পারেন না; বরং দেশের পোশাক খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে এবং রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করতে একটি চক্রান্তকারী মহল পেছন থেকে উসকানি দিচ্ছে। জনগণের জানমাল ও জাতীয় সম্পদ রক্ষায় পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং কোনো ধরনের নাশকতা বরদাশত করা হবে না বলেও তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দেন।


নির্বাচিত

ডিসেম্বর থেকে পোশাক শ্রমিকদের নতুন মজুরি কার্যকর

ডিসেম্বরের মধ্যে নির্ধারণ হবে ন্যূনতম মজুরি, জানুয়ারিতে বেতন পাবেন শ্রমিকরা
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ৪ নভেম্বর, ২০২৬ ১৪:১৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

তৈরি পোশাক খাতের কর্মীদের জন্য নতুন ন্যূনতম বেতন কাঠামো কার্যকরের বিষয়ে একমত হয়েছেন মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরা। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বর থেকেই এটি কার্যকর ধরা হবে। তবে বর্ধিত এই মজুরি শ্রমিকরা হাতে পাবেন পরবর্তী বছরের জানুয়ারি মাসে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) রাজধানীর সেগুনবাগিচাস্থ নিম্নতম মজুরি বোর্ডের কার্যালয়ে আয়োজিত প্রথম আনুষ্ঠানিক সভায় মজুরি বাস্তবায়নের সময়সীমা নিয়ে উভয় পক্ষ এই সমঝোতায় পৌঁছায়। পোশাক খাতের ন্যূনতম মজুরি পুনর্নির্ধারণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই এই বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছিল।

বৈঠক শেষে শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি বাবুল আক্তার বলেন, "নতুন মজুরি ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হবে এবং শ্রমিকরা জানুয়ারি থেকে তা পাবেন।"

একই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করে মালিকপক্ষের প্রতিনিধি এ বি এম শামসুদ্দিন জানান, "নতুন মজুরি কাঠামো ডিসেম্বর থেকে কার্যকর করা হবে এবং আগামী বছরের জানুয়ারি মাসে শ্রমিকরা নতুন হারে বেতন পাবেন।"


নির্বাচিত

প্রধানমন্ত্রীর স্লোগানকে হাদিসের সঙ্গে তুলনা, পদ হারালেন সরকারি কর্মকর্তা

‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানের সঙ্গে হাদিসের তুলনা করে পদ হারালেন সরকারি কর্মকর্তা
ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রীর একটি রাজনৈতিক স্লোগানকে হাদিসের সঙ্গে তুলনা করে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়া ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) নির্বাহী পরিচালক (সচিব) মোহাম্মদ মসিউর রহমানকে পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন নিয়োগ-১ শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে সই করেন উপসচিব জেতী প্রু। জনস্বার্থে জারিকৃত এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে গত ১ নভেম্বর রাজধানীতে গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে ‘এক রুট, এক কোম্পানি’ উদ্যোগের অধীনে ছয়টি রুটে পরীক্ষামূলক বাস সার্ভিসের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি ওই বিতর্কিত মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দেওয়া ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানের সঙ্গে হাদিসের তুলনা টানেন।

অনুষ্ঠানে মসিউর রহমান নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর স্লোগানকে হাদিস অভিহিত করলে অনেকে ভাবতে পারেন তিনি পরবর্তী কোনো ভালো পদায়নের জন্য তেল মারছেন; তবে তাঁর কাছে এটি চিরন্তন সত্য। তিনি আরও বলেন, ‘আমার আগে আমরা, সবার আগে দেশ—এ কথা কে অস্বীকার করতে পারবেন? স্বার্থপর, যার দেশপ্রেম নেই, সেই বলতে পারে, না, আমি মানি না। আমাকে বাদ দিয়ে আমরা সবাই মিলে থাকব, আর সবার আগে থাকবে দেশ। তারপরে “করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ এটা হাদিস, হাদিস। এটা শাশ্বত বাণী।’

বক্তব্যের একপর্যায়ে মসিউর রহমান আরও বলেন, ‘এটা হুজুররা বললে হাদিস হয়ে যেত। তো ওনার মুখে দাড়ি নেই, টুপি পরেন না, এজন্য হাদিস হয়নি! এটা হাদিস।’ ধর্মীয় বাণীর সঙ্গে দলীয় স্লোগানের এমন তুলনামূলক বক্তব্যের ভিডিও মুহূর্তেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং তা নিয়ে নানা মহলে তীব্র সমালোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। এই ঘটনার পরই সরকারের পক্ষ থেকে তাঁকে ডিটিসিএর দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করার সিদ্ধান্ত এলো।


নির্বাচিত

banner close