অমর একুশে বইমেলার দিন যতই অতিবাহিত হচ্ছে ততই এর আকর্ষণ বেড়ে চলেছে। এবার নানাবিধ কারণে প্রাণের মেলা ভিন্নরূপ পেয়েছে। বিশেষ করে নগরে স্বস্তির যান মেট্রোরেলের কারণে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর পাঠক-দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ছে। মেলায় প্রতিদিন শতাধিক নতুন বই আসার পাশাপাশি বেড়েছে দর্শনার্থীর সংখ্যা, সঙ্গে বাড়ছে বিক্রিও। দিন যত যাচ্ছে মেলার প্রাণ আরও বাড়ছে। আগামীকাল বসন্ত ও ভালোবাসা দিবসে বইমেলা যেন অন্যরকম আমেজ নিয়ে আসবে। বাংলা একাডেমির বহেড়াতলা বটগাছে কোকিলের সুর বলে দিচ্ছে প্রকৃতিতে ফাগুন চলে এসেছে। ঠিক যেমনিভাবে ফাগুনের এই আগুন বইমেলায়ও চলে আসতে শুরু করেছে। সব সময় মেলা ফাগুনের দিনগুলো থেকেই মূলত জমে ওঠে। এবার আরও নবজাগরণে প্রাণের মেলা জমেছে। কেননা গত দুই বছরের ঢিমেতালে চলা বইমেলা এবার পেয়েছে পুরোপুরি জমে ওঠার চিত্র। মেলায় প্রতিবারের মতো এবারও পাঠকদের আগ্রহের শীর্ষে রয়েছে উপন্যাস। এ ছাড়াও ঘুরেফিরে জনপ্রিয় লেখকদের বই বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রকাশক ও বিক্রয়কর্মীরা।
মেলা ঘুরে দেখা গেছে, পাঠকরা স্টলে স্টলে গিয়ে উপন্যাসের বই খুঁজে বেড়াচ্ছেন। প্রিয় লেখকের প্রকাশিত বই পেলেই তা সংগ্রহ করে নিজেদের ব্যাগে গুঁজে নিচ্ছেন বইপ্রেমীরা। এদিকে পূর্ববর্তী বছরগুলোর মতো এবারও হুমায়ূন আহমেদ, হাসান আজিজুল হক, আনিসুল হক, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ইমদাদুল হক মিলন, সেলিনা হোসেন, মুহম্মদ জাফর ইকবাল, আসিফ নজরুল, মুনতাসীর মামুন, মোশতাক আহমেদ, শাহাদুজ্জামান, হরিশংকর জলদাসসহ বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় লেখকের বই বেশি বিক্রি হচ্ছে। তবে মেলায় হুমায়ূন আহমেদের বই-ই বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে প্রকাশনা সূত্রে জানা যায়। জনপ্রিয় এই লেখকের পুরাতন বইগুলো পাঠকরা এখনো কিনছেন। মেলায় প্রতিদিন হুমায়ূনপ্রেমীরা খুঁজতে খুঁজতে চলে যাচ্ছেন অন্যপ্রকাশে। এই প্রকাশনীতে কিংবদন্তি এই কথাসাহিত্যিকের লেখা উপন্যাস দেয়াল, মাতাল হাওয়া, নন্দিত নরকে, শঙ্খনীল কারাগার, মধ্যাহ্ন অখণ্ড বেশি কিনছেন বলে অন্যপ্রকাশ সূত্রে জানা যায়।
সরেজমিন ঘুরে এবং বিভিন্ন স্টলের বিক্রয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারও মেলায় বেশি জনপ্রিয় লেখকদের গল্প-উপন্যাস বিক্রি হচ্ছে। নতুন বইয়ের সঙ্গে পুরাতন কালজয়ী বইও বিক্রিতে রয়েছে শীর্ষে।
তাম্রলিপি প্রকাশনীর বিজনেস ডেভেলপমেন্ট এক্সিকিউটিভ মুনালিসা জানান, এ বছর ৪৫টি নতুন বই প্রকাশ করেছে প্রকাশনীটি। নতুন বইয়ের সঙ্গে পুরাতন বইও বেশ বিক্রি হচ্ছে। তার মধ্যে হুমায়ূন আহমেদের শ্রেষ্ঠ হিমু, শ্রেষ্ঠ মিছির আলি ও কিশোর সমগ্র বই বিক্রিতে ওপরে রয়েছে।
কাকলী প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী হুমায়ন কবীর জানান, রকিব হাসানের গোয়েন্দা সিরিজ ও সায়েন্স ফিকশন চলছে বেশি। আর হুমায়ূন আহমেদের ভক্তরা তার বই সমগ্র তো সংগ্রহ করছেই।
অনন্যা প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী আসিফ মাহমুদ বলেন, ইমদাদুল হক মিলনের চোর এসে গল্প করেছিল, অন্ধকারে নামতে পারেনি বই দুটোর বিক্রি তুলনামূলকভাবে বেশি। এ ছাড়াও তৌহিদুর রহমানের নিতু বলছি বইটির তৃতীয় মুদ্রণ চলছে। মুনতাসীর মামুনের ঢাকা সমগ্র বইটিও পাঠকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। এ ছাড়াও মুনতাসীর মামুনের বঙ্গবন্ধুর জীবন ও লিবারেশন ওয়্যার বই দুটি এ বছর প্রকাশিত হয়েছে। বইগুলো বিক্রিও হচ্ছে বেশ।
অন্বেষা প্রকাশনের বিক্রয়কর্মী রাফিজা নওশীন জানান, সুজন দেবনাথের হেমলকের নিয়ন্ত্রণ ও জাহিদ হাসানের দেশভাগ ১৯৪৭ বেশি বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া হুমায়ূন আহমেদের তিন বিচিত্র, চন্দ্রসখা, মিসির আলীর ভুবন, তোমাদের জন্য ভালোবাসা, নীল হাতি, সবাই গেছে বনে উপন্যাসগুলো একটি আরেকটির চেয়ে কম বিক্রি হচ্ছে না। এ ছাড়াও সাদাত হোসেনের আগুনডানা মেয়ে বইটিও বেশ বিক্রি হচ্ছে।
অন্যপ্রকাশের স্টল ইনচার্জ তৌহিদুল ইসলাম জানান, উপন্যাস আর হুমায়ন আহমেদের বইয়ে পাঠকদের চাহিদা- দুই ক্ষেত্রেই সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়াও রউফুল আলমের দেশ, সফল মন্ত্র, আহমদ ছফার যদ্যপি আমার গুরু, অর্ধেক নারী অর্ধেক ইশ্বরী বইগুলো বেশ চলছে। তবে ক্রেতাদের চাহিদা উপন্যাস।
বইমেলায় ঘুরতে আসা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শরমিলা জান্নাত বইগুলো ঘাটতে ঘাটতে বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদ দেশের সাহিত্য অঙ্গনে যে জায়গা সৃষ্টি করে গেছেন, তা এখনও কেউ পূরণ করতে পারেননি। পুরোনোরা তো বটেই, নতুন প্রজন্মের পাঠকও এসে এখনো হুমায়ূন আহমেদের বই খোঁজ করেন।’
মেলায় এখনো কালজয়ী সব সাহিত্যিকের লেখা বই কিনছেন বইপ্রেমীরা। এর মধ্যে রয়েছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, শওকত আলী, বেগম রোকেয়া, মীর মশাররফ হোসেন, উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, জীবনানন্দ দাশ, স্বর্ণকুমারী দেবী, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, জসীম উদ্দীন, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, আবু ইসহাক, আহমেদ ছফাসহ হুমায়ুন আজাদের লেখা সব বই। গুণী এই সাহিত্যিকদের লেখা বিভিন্ন গল্প, উপন্যাস ও সমগ্র সংগ্রহে রাখতে মেলায় এসে বই কিনছেন বইপ্রেমীরা।
মেলা ঘুরে দেখা গেছে, এখনো পাঠকরা যেসব কালজয়ী বই মেলায় কিনছেন, তার মধ্যে রয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষের কবিতা, গোড়া, শওকত আলীর প্রদোষে প্রাকৃতজন, আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের খোয়াবনামা, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবি, সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহর লালসালু, জহির রায়হানের হাজার বছর ধরে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনী, সৈয়দ শামসুল হকের খেলারাম খেলে যা ও নিষিদ্ধ লোবান, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রথম আলো, সেই সময় এবং পূর্ব-পশ্চিম, হুমায়ূন আহমেদের নন্দিত নরকে, শঙ্খনীল কারাগার এবং জোৎস্না ও জননীর গল্প, হুমায়ুন আজাদের নারী ও ছাপ্পান্নো হাজার বর্গমাইল, আবু ইসহাকের সূর্য দীঘল বাড়ি, হাসান আজিজুল হকের আগুনপাখি, মানিক বন্দোপাধ্যায়ের পদ্মা নদীর মাঝি ও পুতুল নাচের ইতিকথা, ইমদাদুল হক মিলনের নূরজাহান, সৈয়দ মুজতবা আলীর দেশ বিদেশে, শওকত ওসমানের কৃতদাসের হাসি, আনিসুল হকের চার কিশোর গোয়েন্দা, শহীদুল্লাহ কায়সারের সারেং বৌ, সংশপ্তক, জাহানারা ইমামের একাত্তরের দিনগুলি, বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের আদর্শ হিন্দু হোটেল, মুহম্মদ জাফর ইকবালের লেখা ফেরা, আহমদ ছফার যদ্যপি আমার গুরু ও শাহাদুজ্জামানের ক্রাচের কর্নেলসহ আরও কিছু বই। এই বইগুলো প্রকৃত বইপ্রেমীরা দেখলেই তা সংগ্রহে রাখার জন্য হলেও কিনে নিচ্ছেন বলে জানান মেলার বিভিন্ন স্টলের বিক্রয়কর্মীরা।
এখনো জমেনি লিটলম্যাগ চত্বর
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চের পাশে অবস্থিত লিটল ম্যাগ চত্বর ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড় নেই মেলার এ অংশে। যদিও বিক্রয় প্রতিনিধিরা বলছেন, মেলার অন্য অংশ থেকে বরাবরই এ অংশে ভিড় কম থাকে। সেখানকার স্টলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লোকজন এ চত্বরে কম যায়। তেমন বিক্রিও হয় না। বইমেলায় একসময় অন্যতম আকর্ষণ ছিল তারুণ্যের এ ‘লিটল ম্যাগ চত্বর’। মেলার এই অংশে নবীন লেখকদের প্রকাশিত বিভিন্ন ম্যাগাজিন পাঠক-দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরেন লেখক, প্রকাশক। কিন্তু সময়ের আবর্তে একসময়কার তুমুল জনপ্রিয় এই চত্বরে এখন কেবলই হাহাকার। বারবার এর স্থান পরিবর্তন হলেও হারানো গৌরবের দেখা পাচ্ছে না এই চত্বর।
জনপ্রিয় সব লেখক, প্রকাশনী ও পত্রিকার ভিড়ে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে সত্তরের দশকের গণজাগরণের চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত লিটল ম্যাগাজিনগুলো। বিপ্লবী ধারার এসব ম্যাগাজিনের স্থান দখল করে নিয়েছে পত্রিকাগুলো। কিন্তু এতসব বাধা বিপত্তির মাঝেও এখনো টিকে আছে কিছু ম্যাগাজিন। দেড় দশকের বেশি সময় ধরে বাংলা একাডেমির বহেড়াতলায় স্থান পাওয়া বইমেলার অন্যতম আকর্ষণ ‘লিটল ম্যাগ চত্বর’ কখনো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মাঝখানে, কখনো উত্তর পাশে আবার কখনো কালি মন্দিরের পাশে স্থান বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। তবে এ বছর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চের উত্তরাংশের অন্ধকারাচ্ছন্ন জায়গায় স্থান হয়েছে লিটল ম্যাগের। ফলে বিগত দিনের ধারাবাহিক খরা তাতে লেগেই আছে।
আজকের বইমেলা :
আজকের মেলা বিকেল ৩টায় শুরু হয়ে শেষ হয় রাত ৯টায়। ১২তম দিনে মেলায় নতুন বই এসেছে ১১৫টি। বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় জন্মশতবার্ষিক শ্রদ্ধাঞ্জলি : হেনা দাস শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জোবাইদা নাসরীন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ঝর্না রহমান এবং ফওজিয়া মোসলেম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শিরীণ আখতার।
‘লেখক বলছি’ অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন কথাসাহিত্যিক সালমা বাণী, কবি ফারহানা রহমান, গবেষক মিলটন কুমার দেব এবং কথাসাহিত্যিক ইকবাল খন্দকার।
আগামীকালের বইমেলা :
আগামীকাল ১৩তম দিন মেলা শুরু হবে বিকেল ৩টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে স্মরণে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ শীর্ষক আলাচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপনা করবেন আহমদ মোস্তফা কামাল। আলাচনায় অংশগ্রহণ করবন হরিশংকর জলদাস এবং ফারজানা সিদ্দিকা। অনুষ্ঠান সভাপতিত্ব করবেন সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম।
রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর ও সংলগ্ন এলাকার হকারমুক্ত ও দখলমুক্ত ফুটপাতগুলো সরেজমিনে ঘুরে দেখেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এই আকস্মিক পরিদর্শনের সময় তিনি সাধারণ পথচারীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন, তাদের দৈনন্দিন যাতায়াতের নানা সুবিধা ও অসুবিধার কথা মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং জনসাধারণের নির্বিঘ্ন ও স্বাচ্ছন্দ্যময় চলাচল নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষকে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন।
শনিবার প্রাতঃকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মিরপুর-১০ এলাকার বর্তমান পরিস্থিতি স্বচক্ষে দেখতে সেখানে উপস্থিত হন বলে সংবাদমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন তাঁর সরকারি প্রেস সচিব এ কে এম নাজমুল হক।
পরিদর্শনকালে সরকারপ্রধান পথচারী ও সাধারণ মানুষের কাছে সরাসরি জানতে চান যে পূর্বে হকার ও অবৈধ দখলে থাকা ফুটপাতগুলো উচ্ছেদ করার ফলে তাদের দৈনন্দিন যাতায়াতে কতটা স্বস্তি এসেছে এবং বর্তমানে সেখানে হাঁটাচলার ক্ষেত্রে তারা কোনো ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন কি না। এছাড়া রাজধানী ঢাকার সামগ্রিক ফুটপাত ও সড়ক ব্যবস্থাপনা নিয়ে সাধারণ মানুষের কোনো ধরনের দুর্ভোগ বা অভিযোগ রয়েছে কি না, সে বিষয়েও তিনি বিশদ খোঁজখবর নেন।
জনসাধারণের সঙ্গে অত্যন্ত হৃদ্যতাপূর্ণ পরিবেশে সরাসরি মতবিনিময় করে তাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও মতামত শোনেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি স্পষ্টভাবে নির্দেশ দেন যেন রাজধানী শহরের ফুটপাতগুলো কেবল পথচারীদের নিরাপদ ব্যবহারের উপযোগী হিসেবে বজায় রাখা হয়, সড়ক ও ফুটপাতের সুশৃঙ্খল পরিবেশ রক্ষা করা হয় এবং জনসাধারণের চলাচলের পথে তৈরি হওয়া যেকোনো ধরনের প্রতিবন্ধকতা চিরতরে দূর করা হয়।
এ সময় তিনি মন্তব্য করেন যে নগরীর ফুটপাতগুলো মূলত সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচলের জন্যই নির্ধারিত, তাই যেকোনো মূল্যে ফুটপাত দখলমুক্ত রেখে নাগরিকদের স্বচ্ছন্দ যাতায়াত নিশ্চিত করা বর্তমান প্রশাসনের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে নিজ কক্ষে ধূমপানরত এক চিকিৎসককে দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে চিকিৎসকের কক্ষ অপরিচ্ছন্ন থাকায় ক্ষোভ জানান তিনি। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে তাৎক্ষণিক বরখাস্তের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে হাসপাতালটির বিভিন্ন বিভাগ পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের কর্মপরিবেশের পাশাপাশি হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা ও সার্বিক স্বাস্থ্যসেবার পরিবেশ পর্যবেক্ষণ করেন তিনি।
পরিদর্শনের একপর্যায়ে হাসপাতালের সহযোগী অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের কক্ষে গিয়ে তাকে ধূমপান করতে দেখেন প্রধানমন্ত্রী। কক্ষটিও অপরিচ্ছন্ন অবস্থায় ছিল। স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনকালে একজন চিকিৎসকের এমন আচরণ এবং কর্মস্থলের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
পরে হাসপাতালের পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. এ কে এম আজিজুল হককে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। নির্দেশনার পর চিকিৎসক রফিকুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
এ সময় হাসপাতালসহ সব স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট কর্মীদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেন তিনি।
ডেঙ্গু ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি দেখতে হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আকস্মিক পরিদর্শনে বের হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
আজ সকাল ৯টা ২০ মিনিটে গুলশানের বাসা থেকে রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি ভবন আকস্মিক পরিদর্শনে বের হন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, দিনের শুরুতে তিনি রাজধানীর কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের চিকিৎসাসেবার খোঁজখবর নেন। হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ), অস্ত্রোপচারকক্ষসহ (অপারেশন থিয়েটার) বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন তিনি।
পরিদর্শনকালে হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতার পরিস্থিতি দেখে অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। হাসপাতালের পরিবেশ ও পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার উন্নয়নে কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের সময় দেন তিনি।
উপ প্রেস সচিব জানান, এরপর প্রধানমন্ত্রী রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে যান। সেখানে তিনি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিএনসিসি ও স্কাউট সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সম্পর্কে খোঁজখবর নেওয়ার পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের ভূমিকা নিয়ে কথা বলেন তিনি।
এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বছরের এ সময়ে, বিশেষ করে নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যায়। প্রতিবছর ডেঙ্গুতে বহু মানুষ আক্রান্ত হন, অনেকের মৃত্যুও হয়। ডেঙ্গু মোকাবিলায় সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে প্রতিরোধ। আর এজন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ডেঙ্গুর সঙ্গে লড়াই করতে হলে সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে প্রতিরোধ। আর এজন্য আমাদের চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। এই কাজে আমি তোমাদের সাহায্য চাই।’
তিনি বলেন, দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ যদি নিজেদের আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব নেয়, তাহলে ডেঙ্গু প্রতিরোধসহ পরিবেশ রক্ষায় বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব।
রাজধানীর পরিচ্ছন্নতা পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা একটি বিশাল শহর। এখানে দুই থেকে আড়াই কোটির বেশি মানুষের বসবাস। সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিয়মিত কাজ করলেও তাদের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তাই শুধু সিটি কর্পোরেশন বা প্রশাসনের ওপর নির্ভর করলে চলবে না। নাগরিকদেরও দায়িত্ব নিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের বলেন, ‘তোমরা স্কাউট, গার্ল গাইড কিংবা রেড ক্রিসেন্টের সদস্য হও বা না হও, তোমরা সবাই এ দেশের নাগরিক। তোমরাই দেশের ভবিষ্যৎ। তাই নিজের বাসা, স্কুল, পাড়া ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব তোমাদেরও নিতে হবে।’
যত্রতত্র ময়লা ফেলার প্রবণতা বন্ধে সামাজিক সচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, কেউ নির্ধারিত স্থানের বাইরে ময়লা ফেললে তাকে সচেতন করতে হবে। সবাই মিলে চেষ্টা করলে ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রী জানান, নগরীর বিভিন্ন স্থানে ময়লা ফেলার জন্য ডাস্টবিন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে অনেক জায়গা থেকে এসব ডাস্টবিন চুরি হয়ে যাচ্ছে। একইভাবে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে বিভিন্ন স্থানে লাগানো গাছের চারাও চুরি হচ্ছে।
এসব কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে নাগরিকদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
জন্মদিনে একটি করে গাছ লাগানোর পরামর্শ
পরিবেশ রক্ষায় শিক্ষার্থীদের প্রতিবছর নিজেদের ও পরিবারের সদস্যদের জন্মদিনে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর পরামর্শ দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘তোমার জন্মদিনে, ভাইবোনের জন্মদিনে কিংবা নানা-নানির জন্মদিনে একটি করে গাছ লাগানোর চেষ্টা করবে। সেটা তোমার বাসায় হতে পারে, স্কুলে হতে পারে কিংবা গ্রামের বাড়িতে হতে পারে। গাছগুলো যখন বড় হবে, তোমরাও তখন বড় হবে।’
রাজধানীতে ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা ও সবুজের ঘাটতি নিয়েও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী। নিজের শৈশবের স্মৃতিচারণা করে তিনি বলেন, একসময় ঢাকায় অনেক বেশি গাছপালা ও খোলা জায়গা ছিল। এখন সেখানে বহুতল ভবন গড়ে উঠেছে। গাছপালা কমে যাওয়ায় শহরে গরমের অনুভূতিও বেড়েছে।
তিনি বলেন, ‘গাছ যত বাড়বে, আমরা তত বুক ভরে শ্বাস নিতে পারব। গাছের পাতার ঝিরঝির শব্দ আমার খুব ভালো লাগে। আমরা সবাই মিলে গাছ লাগালে শহরের তাপমাত্রাও কিছুটা কমিয়ে আনা সম্ভব।’
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলাপচারিতায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ, পরিচ্ছন্নতা ও সবুজায়ন-এই তিনটি ক্ষেত্রে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন। শুধু সরকারের উদ্যোগ নয়, নাগরিকদের সচেতনতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে।
প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের কাছে জানতে চান, নিজেদের স্কুল, বাসা, পাড়া ও আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখতে তাদের সহযোগিতা পাওয়া যাবে কি না। এ সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ইতিবাচক সাড়া পান তিনি।
বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর (বিএনসিসি) ও স্কাউট সদস্যদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু সরকারের উদ্যোগের ওপর নির্ভর না করে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও তরুণ প্রজন্মকে নিজেদের বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব নিতে হবে।
গত ১২ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসের বিশেষ অভিযান উদ্বোধন করেন। এর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসব্যাপী এ বিশেষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি।
ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় আগামী তিন মাসকে ঝুঁকিপূর্ণ সময় বিবেচনায় নিয়ে এ কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সূত্র: বাসস
রাজধানীর সামগ্রিক ডেঙ্গু পরিস্থিতি এবং চিকিৎসাসেবা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণে বিভিন্ন হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকাল ৯টা ১০ মিনিটে তিনি গুলশানের বাসভবন থেকে এ পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে বের হন বলে জানিয়েছেন তাঁর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু।
হাসান শিপলু বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও পরিচ্ছন্নতা অবস্থা কেমন তা দেখতে বাসা থেকে বেরিয়েছেন। তিনি ৯টা ১০ মিনিটে বাসা থেকে বের হন। প্রথমে যাচ্ছেন উত্তরার কুয়েত-মৈত্রী হসপাতালে। সেখানে তিনি সরেজমিন ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ কী কী ব্যবস্থা নিয়েছে তা দেখবেন।’ উপ-প্রেস সচিব আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী ঢাকা মেডিকেল কলেজ ছাড়াও ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতাধীন বিভিন্ন হাসপাতাল পরিদর্শন করবেন। উল্লেখ্য, এর আগে গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসব্যাপী বিশেষ অভিযান ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচির উদ্বোধন করেন সরকারপ্রধান, যেখানে এডিস মশার প্রকোপ মোকাবিলায় দেশবাসীকে সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছিল।
দিনের শুরুতে রাজধানীর কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার খোঁজ নেন প্রধানমন্ত্রী। একই সাথে তিনি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র (আইসিইউ) ও অস্ত্রোপচারকক্ষসহ বিভিন্ন জরুরি বিভাগ ঘুরে দেখেন। তবে ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতার কাঙ্ক্ষিত মান না পেয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং হাসপাতালের সামগ্রিক পরিবেশ উন্নয়নের জন্য কর্তৃপক্ষকে সাত দিনের সময় বেঁধে দেন।
পরবর্তীতে রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে যান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে তিনি শিক্ষক, শিক্ষার্থী, বিএনসিসি ও স্কাউট সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতের পাশাপাশি মশক নিধনে শিক্ষার্থীদের কার্যকর ভূমিকা রাখার তাগিদ দেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘বছরের এ সময়ে, বিশেষ করে নভেম্বর পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে যায়। প্রতিবছর ডেঙ্গুতে বহু মানুষ আক্রান্ত হন, অনেকের মৃত্যুও হয়। ডেঙ্গু মোকাবিলায় সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে প্রতিরোধ। আর এ জন্য পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।’ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, ‘ডেঙ্গুর সঙ্গে লড়াইয়ের সবচেয়ে ভালো উপায় হচ্ছে প্রতিরোধ। আর এ জন্য আমাদের চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। এই কাজে আমি তোমাদের সাহায্য চাই।’ প্রধানমন্ত্রী যোগ করেন, ‘দেশের বিপুলসংখ্যক তরুণ যদি নিজেদের আশপাশ পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব নেয়, তাহলে ডেঙ্গু প্রতিরোধসহ পরিবেশ রক্ষায় বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব।’
শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় স্থাপিত ডাস্টবিন এবং সিটি করপোরেশনের রোপণ করা চারাগাছ চুরির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে নাগরিকদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান সরকারপ্রধান। পরিবেশ সংরক্ষণে শিক্ষার্থীদের প্রতিবছর পারিবারিক উৎসব ও জন্মদিনে অন্তত একটি করে গাছ লাগানোর পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘তোমার জন্মদিনে, ভাইবোনের জন্মদিনে কিংবা নানা-নানির জন্মদিনে একটি করে গাছ লাগানোর চেষ্টা করবে। সেটা তোমার বাসায় হতে পারে, স্কুলে হতে পারে কিংবা গ্রামের বাড়িতে হতে পারে। গাছগুলো যখন বড় হবে, তোমরাও তখন বড় হবে।’ শহরের ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা ও গাছপালা কমে যাওয়ার বিষয়ে শৈশবের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, ‘একসময় ঢাকায় অনেক বেশি গাছপালা ও খোলা জায়গা ছিল। এখন সেখানে বহুতল ভবন গড়ে উঠেছে। গাছপালা কমে যাওয়ায় শহরে গরমের অনুভূতিও বেড়েছে।’ নিজেদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকা পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের সহযোগিতা চাইলে তারাও ইতিবাচক সাড়া প্রদান করে।
ডেঙ্গু রোগের বিস্তার রোধে কেবল রাষ্ট্রীয় বা সরকারি ব্যবস্থার ওপর এককভাবে ভরসা না করে দেশের আপামর জনসাধারণকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিশেষ করে দেশের শিক্ষার্থী এবং তরুণ সমাজকে তাদের নিজ নিজ বাসাবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় এলাকা এবং চারপাশের পরিবেশ সর্বদা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার গুরুদায়িত্ব নিজেদের কাঁধে তুলে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
শনিবার প্রাতঃকালে রাজধানীর রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ প্রাঙ্গণে ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচালিত বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম সরাসরি পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোর তথা বিএনসিসি ও স্কাউটস সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া এক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যে এই আহ্বান জানান সরকারপ্রধান। এ সময় তিনি স্বয়ং শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং তরুণ ক্যাডেটদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন এবং সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন।
বর্তমান ডেঙ্গু পরিস্থিতি, চিকিৎসাসেবার মান এবং পরিচ্ছন্নতা অভিযানের সার্বিক অবস্থা নিজ চোখে পর্যবেক্ষণ করতে এদিন রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি স্থাপনায় পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই আকস্মিক পরিদর্শনে বের হন প্রধানমন্ত্রী। দিনের শুরুতেই তিনি রাজধানীর কুয়েত-বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালে উপস্থিত হন। সেখানে চিকিৎসাধীন সাধারণ রোগীদের শয্যা পাশে গিয়ে তাদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন এবং তাদের প্রদান করা চিকিৎসাসেবার মান সম্পর্কে সরাসরি কথা বলেন। এছাড়া তিনি ওই হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যাকেন্দ্র বা আইসিইউ এবং অস্ত্রোপচারকক্ষসহ গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিভাগ ঘুরে দেখেন।
হাসপাতাল চত্বর পরিদর্শনকালে সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা এবং ভেতরের পরিচ্ছন্নতার বেহাল দশা দেখে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সঙ্গে হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ এবং পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থার দ্রুত ও টেকসই উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে মাত্র সাত দিনের একটি সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেন তিনি।
হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে উপস্থিত হয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং বিএনসিসি ও স্কাউটস সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময়ে অংশ নেন। সে সময় তিনি ডেঙ্গুর ক্রমবর্ধমান প্রকোপ, তা থেকে বাঁচার কার্যকর উপায় এবং একটি পরিচ্ছন্ন পরিবেশ বজায় রাখার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের অগ্রণী ভূমিকার বিষয়টি বিশেষভাবে তুলে ধরেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন যে বছরের এই নির্দিষ্ট সময়ে, বিশেষ করে নভেম্বর মাস পর্যন্ত ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বহুগুণ বৃদ্ধি পায় এবং প্রতি বছর অসংখ্য মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি প্রাণ হারান। এই ভয়াবহ পরিস্থিতি কার্যকরভাবে মোকাবিলা করার সবচেয়ে বড় অস্ত্র হলো রোগ প্রতিরোধ নিশ্চিত করা, আর সেই প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হলে নিজেদের চারপাশ সর্বদা পরিষ্কার রাখতে হবে।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন যে ডেঙ্গুর সঙ্গে সফলভাবে লড়াই করার শ্রেষ্ঠ উপায় হলো প্রতিরোধ এবং সে কারণেই আমাদের চারপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে, যে কাজে তিনি তরুণদের সরাসরি সহযোগিতা কামনা করেন।
তিনি উল্লেখ করেন যে দেশের বিশাল যুবসমাজ যদি নিজেদের আশপাশ পরিষ্কার রাখার পবিত্র দায়িত্ব স্বেচ্ছায় গ্রহণ করে, তবে ডেঙ্গু প্রতিরোধ এবং সামগ্রিক পরিবেশ রক্ষায় একটি বিশাল ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্পূর্ণ সম্ভব। এই মহৎ উদ্দেশ্যে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।
রাজধানী ঢাকার সার্বিক পরিচ্ছন্নতার চিত্র তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন যে ঢাকা অত্যন্ত জনবহুল ও বিশাল একটি নগরী, যেখানে আড়াই কোটিরও বেশি মানুষ বসবাস করেন। সিটি করপোরেশনের কর্মীরা নিয়মিত কাজ করে গেলেও তাদের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও পরিধি সীমিত, ফলে কেবল প্রশাসনের ওপর নির্ভর করে পুরো শহরের পরিচ্ছন্নতা ধরে রাখা কঠিন। এ ক্ষেত্রে প্রতিটি সচেতন নাগরিককে নিজের অংশীদারত্ব ও দায়িত্ববোধ নিশ্চিত করতে হবে।
অযত্রতত্র যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলার বদঅভ্যাস ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়ে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও বিশেষ জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন যে কেউ নির্দিষ্ট ভাগাড় বা স্থান ছাড়া যত্রতত্র ময়লা ফেললে তাকে নিবৃত্ত ও সচেতন করতে হবে, কারণ দেশের সব নাগরিক মিলে সম্মিলিত উদ্যোগ নিলে এই মেগাসিটি ঢাকাকে সত্যিকারের একটি পরিচ্ছন্ন নগরী হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
পূজামণ্ডপগুলোতে ঢাক ও কাসরের বাদ্যের শব্দের পাশাপাশি চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে ফুল, ধূপ এবং আগরবাতির সুবাস। শঙ্খধ্বনি ও উলুধ্বনির আনন্দধারায় অবগাহন করছে দেশের প্রতিটি পূজামণ্ডপ। ষষ্ঠীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের আনুষ্ঠানিকতা সমাপ্ত হওয়ার পর ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসবের অন্যতম প্রধান ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন মহাসপ্তমী। বিশুদ্ধ মন্ত্রোচ্চারণ এবং দেবীর রূপ দর্শনের জন্য সকাল থেকেই মণ্ডপগুলোতে ভক্ত ও পুণ্যার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে।
দেবীর চরণে ভক্তদের প্রধান প্রার্থনা হলো বিশ্বজুড়ে শান্তি, সংহতি, শক্তি এবং মানুষের কল্যাণ। তবে মহাসপ্তমীর গভীর তাৎপর্য কেবল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মাঝেই সীমাবদ্ধ নয়; এর মূল অন্তর্নিহিত শিক্ষা হলো অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে মানবীয় শুভবোধের পুনর্জাগরণ, প্রকৃতির প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতাবোধ এবং একটি সাম্য ও সম্প্রীতিভিত্তিক সমাজ গঠন।
মহাসপ্তমীর অন্যতম প্রধান এবং আকর্ষণীয় আনুষ্ঠানিকতা হলো ‘নবপত্রিকা’ স্থাপন, যা সাধারণ মানুষের কাছে ‘কলাবউ’ নামে পরিচিত। একটি কলাগাছের সঙ্গে কচু, হলুদ, জয়ন্তী, বেল, ডালিম, অশোক, মানকচু এবং ধানগাছ একসঙ্গে বেঁধে পবিত্র জলে স্নান করানোর পর নতুন শাড়ি পরিয়ে তা মণ্ডপে স্থাপন করা হয়।
নবপত্রিকায় ব্যবহৃত এই নয়টি উদ্ভিদ মূলত দেবী দুর্গার নয়টি মহাশক্তির প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে। পূজার মূল কেন্দ্রে প্রতিমা থাকলেও মহাসপ্তমীতে সরাসরি উদ্ভিদকে পূজার অংশ করার মাধ্যমে মূলত প্রকৃতির প্রতি মানুষের পরম কৃতজ্ঞতাই প্রকাশ করা হয়।
কারণ হিসেবে বলা যায়, এই গাছপালাগুলো মানুষের খাদ্য, চিকিৎসা, কৃষি এবং বেঁচে থাকার প্রয়োজনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে। সচেতন মহলের মতে, কেবল আনুষ্ঠানিক আচার পালনের মধ্যে প্রকৃতি পূজাকে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব জীবনে গাছপালা সংরক্ষণ, জলাশয় দূষণমুক্ত রাখা এবং সার্বিক পরিবেশ রক্ষায় উদ্যোগী হওয়াই নবপত্রিকার প্রকৃত শিক্ষা।
সপ্তমীর অপর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় আচার হলো দেবীর ‘মহাস্নান’। আয়নার দর্পণে দেবীমূর্তির প্রতিফলন ঘটিয়ে গঙ্গার জল, দুধ, মধু ও নানা সুগন্ধি উপাচারে দেবীকে স্নান করানো হয়, যা বাহ্যিক পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি আত্মিক শুদ্ধতারও প্রতীক। এই স্নানের আচার মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে, অন্যের অধিকার হরণ, অহংকার, বৈষম্য কিংবা হিংসা মনে পুষে রেখে শুধু আনুষ্ঠানিকতার মাধ্যমে নীতি-নৈতিকতার পূর্ণতা অর্জন করা সম্ভব নয়। সমাজের দুর্বল ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং যেকোনো অন্যায়ের প্রতিবাদ করার মাধ্যমেই মূলত ধর্মীয় মূল্যবোধের সঠিক সামাজিক বহিঃপ্রকাশ ঘটে।
পৌরাণিক কাহিনীর বর্ণনায় মহিষাসুর বধের আখ্যানটি শুভ ও অশুভ শক্তির মধ্যকার চিরন্তন দ্বন্দ্বকে নির্দেশ করে। দেবী দুর্গার দশটি হাত এবং বিভিন্ন অস্ত্র মূলত অন্যায়কে প্রতিহত করে সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠার শক্তির প্রতীক। দেবীর দুই পাশে থাকা লক্ষ্মী, সরস্বতী, কার্তিক ও গণেশ যথাক্রমে সমৃদ্ধি, জ্ঞান, বীরত্ব ও বুদ্ধিমত্তার প্রতিনিধিত্ব করেন।
রূপক অর্থে বিচার করলে দেখা যায়, জ্ঞান ছাড়া সমৃদ্ধি সম্পূর্ণ অন্ধ, সাহস ছাড়া ন্যায়বিচার অর্জন অসম্ভব এবং বুদ্ধি ছাড়া শক্তির সঠিক প্রয়োগ করা যায় না।
বাঙালির চিরায়ত ঘরোয়া সংস্কৃতিতে দেবীর এই আগমন কেবল ঈশ্বর আরাধনার বিষয় নয়, বরং পিতৃগৃহে কন্যাসন্তানের ফিরে আসার এক গভীর পারিবারিক অনুভূতির প্রকাশ। এর পাশাপাশি প্রতিমাশিল্পী, মৃৎশিল্পী, ঢাকি, আলোকসজ্জাশিল্পী এবং নানা ধরনের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ঘাম ঝরানো শ্রমে এই উৎসব রূপ নেয় এক বিশাল সামাজিক ও অর্থনৈতিক মেলবন্ধনে।
বাংলাদেশের সার্বিক প্রেক্ষাপটে মহাসপ্তমীর সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি মানুষের যথাযথ মর্যাদা এবং নিরাপত্তার অধিকার নিশ্চিত করা। উৎসবের প্রকৃত সৌন্দর্য তখনই তার পূর্ণতা পায়, যখন রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিক কোনো ধরনের ভয়ভীতি ছাড়াই স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্মীয় আচার পালন করতে পারেন।
ঢাকিদের বাদ্যের আওয়াজ একসময় থেমে যাবে, কিন্তু অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার সাহস, প্রকৃতির প্রতি সুকোমল যত্ন এবং মানুষের প্রতি নিঃশর্ত সহমর্মিতা যেন প্রতিটি নাগরিকের আচরণে চিরঞ্জীব থাকে, সেটাই এই মহান দিনের মূল অঙ্গীকার।
জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের এক বছর পরও রাষ্ট্রসংস্কারে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। ক্ষমতার রাজনীতি ও আমলাতান্ত্রিক প্রভাবের কারণে সংস্কারের সম্ভাবনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে জবাবদিহিমূলক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা এখন অনিশ্চয়তায় পড়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের পরিকল্পনা ও সাহসের ঘাটতি, আমলাতান্ত্রিক প্রতিরোধের সঙ্গে আপস এবং রাজনৈতিক দলগুলোর দলীয় স্বার্থ রাষ্ট্রসংস্কারের পথ সংকুচিত করেছে।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নির্বাচনে জয়ী দলের সংসদ সদস্যরা জুলাই সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করলেও প্রস্তাবিত সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি। এতে রাষ্ট্রসংস্কার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে বর্তমান সরকার বেশ কয়েকটি আইনে পরিণত করেছে। নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতা বাড়ানো অধ্যাদেশগুলো পাস হলেও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক কিছু অধ্যাদেশ বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে। এতে জবাবদিহিমূলক সরকারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ও বিচারক নিয়োগসংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল করে সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ থেকে সরে এসেছে। দুদক সংশোধন অধ্যাদেশের প্রয়োজনীয় পরিবর্তন না করে ২০০৪ সালের পুরোনো আইনে ফিরে যাওয়ায় সংস্থাটির প্রতি আস্থা ফেরানোর সুযোগও বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ বাতিল করে নতুন আইন প্রণয়নকে স্বাধীন ও কার্যকর কমিশন প্রতিষ্ঠার জনআকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি বলে মন্তব্য করেন তিনি। তার অভিযোগ, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ বাতিল করে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত সংস্থাগুলোকে সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে। র্যাব বিলুপ্তির পরিবর্তে নতুন নামে সংস্থাটিকে আরও ক্ষমতাশালী করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনে ঐকমত্য থাকলেও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের সম্পদের বিবরণী প্রকাশ ও নিয়মিত হালনাগাদের বিষয়েও অগ্রগতি নেই। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে সরকার নির্বাহী বিভাগের জবাবদিহি নিশ্চিত করার পরিবর্তে জবাবদিহিহীন ক্ষমতাকাঠামোর দিকে এগোচ্ছে।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অতীতে বিচার বিভাগ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, দুদক ও মানবাধিকার কমিশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণের পরিণতি রাজনৈতিক দলগুলো দ্রুত ভুলে গেছে। ক্ষমতাসীন দল সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে একচ্ছত্র ক্ষমতা চর্চা করছে, অন্যদিকে বিরোধী জোটও দলীয় স্বার্থে ব্যস্ত।
বিবৃতিতে টিআইবি সব রাজনৈতিক দলকে গণতন্ত্র, সুশাসন ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং কর্তৃত্ববাদী শাসনের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে আন্তরিক হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
সরকারি চাকরি পেতে বছরের পর বছর প্রস্তুতি, লাখো তরুণ-তরুণীর প্রতিযোগিতা আর পরিবারের আর্থিক ত্যাগ—এই বাস্তবতাকে পুঁজি করে গড়ে উঠেছে প্রশ্নপত্র বাণিজ্যের চক্র। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় সাতজনকে গ্রেপ্তারের পর এমনই একটি চিত্র সামনে এসেছে। প্রাথমিক তদন্তে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রশ্ন দেওয়ার চুক্তিতে ৮ থেকে ১০ লাখ টাকা নেওয়ার তথ্য পেয়েছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের পাঁচজনই সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারী। শুধু প্রশ্নপত্রের একটি সেট নয়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে বিভিন্ন পরীক্ষার প্রবেশপত্র, সনদপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংকের চেক, স্ট্যাম্প ও মুঠোফোন। তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রশ্নের ছবি আদান-প্রদান, উত্তর তৈরি এবং সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার্থীদের কাছে তা পৌঁছে দেওয়ার প্রমাণও মিলেছে। তবে প্রশ্নপত্রের মূল উৎস কে বা কারা, কীভাবে তা চক্রটির হাতে পৌঁছাল এবং এই বাণিজ্যে আর কারা জড়িত—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে এসআরবির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান এসআরবি-৩-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফায়েজুল আরেফীন। তিনি জানান, ১৪ থেকে ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মুঠোফোনের কথোপকথন ও চ্যাট পর্যালোচনা করে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্ত এখনো চলছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন পরিবেশ অধিদপ্তরের ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মো. রুবেল ইসলাম (৩৩), চাকরিপ্রত্যাশী মো. মফিজুল ইসলাম (২৩), মো. হাসিনুর রহমান সুজন (৩২), জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) কর্মরত কম্পিউটার অপারেটর এস এম ইমদাদুল ইসলাম (৩৫), প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক আসাদুল ইসলাম (৩৩), এনবিআরের অফিস সহায়ক নূর মোহাম্মদ (৩০) এবং এনবিআরে কর্মরত কম্পিউটার অপারেটর জাহাঙ্গীর (৩৮)।
ভোরের প্রশ্ন, কয়েক ঘণ্টায় ছড়িয়ে পড়ল উত্তর: তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর ভোর ৪টা ৪৩ মিনিটে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে (এনবিআর) কর্মরত নূর মোহাম্মদ একটি সূত্র থেকে প্রশ্নপত্রের অস্পষ্ট ছবি পান। সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে এনবিআরের আরেক কর্মচারী জাহাঙ্গীর তাকে প্রশ্নপত্রের স্পষ্ট ছবি পাঠান। এরপর নূর মোহাম্মদ প্রশ্নগুলোর উত্তর তৈরি করে জাহাঙ্গীর ও ইমদাদুল ইসলামকে পাঠান। পরে প্রশ্নপত্র ও উত্তর চক্রের সদস্য এবং তাদের সঙ্গে যুক্ত পরীক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে এসআরবি।
এ কাজে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী আসাদুল ইসলাম, পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মচারী রুবেল ইসলাম এবং চাকরিপ্রত্যাশী মফিজুল ইসলাম ও হাসিনুর রহমান সুজনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্তকারীদের দাবি, চক্রটি হোয়াটসঅ্যাপে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে যোগাযোগ করত।
তবে প্রশ্নপত্রের প্রথম ছবি কার কাছ থেকে এসেছিল, সেটিই এখন তদন্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র। নূর মোহাম্মদ ও জাহাঙ্গীর ফেসবুকের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র পাওয়ার কথা বললেও তাদের দেওয়া তথ্য এখনো নির্ভরযোগ্য বলে মনে করছে না তদন্ত দল। সংশ্লিষ্ট ফেসবুক গ্রুপ ও আইডি যাচাই করা হচ্ছে। প্রশ্নপত্র তৈরির দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি, ছাপাখানা, পরিবহন কিংবা পরীক্ষার নিরাপত্তাব্যবস্থার কোনো পর্যায়ে অনিয়ম ঘটেছে কি না, তা জানতে তদন্তের ফল গুরুত্বপূর্ণ হবে।
চেক-স্ট্যাম্পের ব্যবহার কী ছিল: গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে ১০০ টাকার ১১৬টি ও ৫০ টাকার চারটি স্ট্যাম্প, বিভিন্ন ব্যাংকের চেকের ৪৮ পাতা ও একটি ব্যাংক চেক, বিভিন্ন পরীক্ষার প্রবেশপত্রের ১৯ পাতা, সনদপত্র, জাতীয় পরিচয়পত্র, আটটি মুঠোফোন এবং নগদ চার হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার করা সনদপত্রের সংখ্যা নিয়ে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে কিছু পার্থক্য রয়েছে।
উদ্ধার করা এসব সামগ্রী প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে কীভাবে সম্পর্কিত, তা এখনো তদন্তের বিষয়। স্ট্যাম্প ও চেক অর্থ লেনদেনের নিশ্চয়তা, চুক্তি কিংবা অন্য কোনো কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, তা যাচাই প্রয়োজন। একইভাবে বিভিন্ন পরীক্ষার প্রবেশপত্র ও সনদপত্র কেন একসঙ্গে রাখা হয়েছিল, সেগুলোর মালিক কারা এবং অন্য নিয়োগ পরীক্ষার সঙ্গে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা দরকার।
এসআরবির সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, চক্রের একজন সদস্যের কাছে প্রতারিত হওয়ার পর মফিজুল ইসলাম বেশি অর্থ উপার্জনের আশায় এই কর্মকাণ্ডে যুক্ত হন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ভর্তি-বাণিজ্যসংক্রান্ত আর্থিক লেনদেনের তথ্যও উঠে এসেছে। তবে এসব তথ্যের পূর্ণাঙ্গ সত্যতা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট ভূমিকা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
২৪২ পদের বিপরীতে আবেদন ৩ লাখ ১৯ হাজার: সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে ২৪২টি শূন্যপদের বিপরীতে আবেদন করেছিলেন ৩ লাখ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থী। গত ১০ অক্টোবর সকাল ১১টায় তাদের বাছাই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পরীক্ষা শুরুর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ ওঠে। সকাল ১০টা ৩ মিনিটে প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর পরীক্ষা স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ।
দূরদূরান্ত থেকে আসা অনেক প্রার্থী ততক্ষণে পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছে গিয়েছিলেন। শেষ মুহূর্তে পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্তে তাদের যাতায়াত, থাকা ও খাবারের খরচসহ নানা ভোগান্তিতে পড়তে হয়। ক্ষুব্ধ প্রার্থীদের কেউ কেউ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করেন।
একটি নিয়োগ পরীক্ষায় লাখো প্রার্থীর অংশগ্রহণের প্রস্তুতি, কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা, প্রশ্নপত্র মুদ্রণ ও বিতরণে বড় ধরনের আয়োজন থাকে। সেই ব্যবস্থার মধ্যে প্রশ্নপত্র পরীক্ষার আগেই বাইরে চলে যাওয়ার ঘটনা নিরাপত্তাব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তবে ঠিক কোন পর্যায়ে নিরাপত্তা ভেঙেছে, তা তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে।
সরকারি কর্মচারীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন: গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে এনবিআর, পরিবেশ অধিদপ্তর ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী রয়েছেন। তবে তাদের সরকারি পরিচয় থেকেই প্রশ্নপত্র ফাঁসের মূল উৎস নির্ধারণ করা যায় না। তদন্তে তাদের প্রত্যেকের ভূমিকা, যোগাযোগ, অর্থ লেনদেন এবং প্রশ্নপত্র সংগ্রহের পথ আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
এসআরবি জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর সরাসরি সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে তদন্ত চলমান থাকায় এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়নি।
এ ঘটনায় ১১ অক্টোবর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে মতিঝিল থানায় মামলা করা হয়। পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করেছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়। কমিটির প্রধান করা হয়েছে অতিরিক্ত সচিব মো. মাহফুজুল আলম খানকে। প্রশ্নপত্র ফাঁসের কারণ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং নিয়োগপ্রক্রিয়ায় কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা নির্ধারণে কমিটির তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে যেসব বিষয়ে নজর জরুরি: প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা প্রতিরোধে শুধু গ্রেপ্তার অভিযান যথেষ্ট নয়। প্রশ্নপত্র তৈরি থেকে মুদ্রণ, সংরক্ষণ, পরিবহন ও পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছানো পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে কারা দায়িত্বে ছিলেন, তার নির্ভুল নথি থাকা প্রয়োজন। সীমিত ও অনুমোদিত প্রবেশাধিকার, দায়িত্ব বিভাজন, নিরাপদ ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা এবং প্রশ্নপত্র খোলা ও বিতরণের প্রতিটি ধাপের জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি।
একই সঙ্গে প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত যাচাই, ডিজিটাল প্রমাণ সংরক্ষণ এবং পরীক্ষার্থীদের কাছে নির্ভরযোগ্য তথ্য পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা থাকতে হবে। পরীক্ষার আগে কোনো প্রশ্ন ছড়িয়ে পড়লে সেটি আসল, নাকি প্রতারণার উদ্দেশ্যে তৈরি—তা দ্রুত যাচাই করার সক্ষমতাও প্রয়োজন।
আইনের প্রয়োগের ক্ষেত্রেও অভিযোগ, গ্রেপ্তার ও অপরাধ প্রমাণের মধ্যে পার্থক্য বজায় রাখতে হবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ সংগ্রহ, অর্থ লেনদেনের উৎস অনুসন্ধান এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় দায় নির্ধারণ জরুরি।
এই ঘটনায় সাতজনের গ্রেপ্তার তদন্তে অগ্রগতি হলেও সবচেয়ে বড় প্রশ্ন এখনো অমীমাংসিত—প্রশ্নপত্র প্রথমে কার হাতে ছিল এবং সেখান থেকে কীভাবে তা বাইরে গেল? এই উৎস শনাক্ত করা না গেলে চক্রের কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হলেও প্রশ্নফাঁসের পুরো নেটওয়ার্কের কার্যক্রম সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া কঠিন হবে। লাখো চাকরিপ্রার্থীর আস্থা ফিরিয়ে আনতে তাই শুধু গ্রেপ্তার নয়, প্রশ্নপত্রের উৎস, অর্থের প্রবাহ এবং নিরাপত্তাব্যবস্থার দুর্বলতা সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও কার্যকর সংস্কার প্রয়োজন।
বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ পুনরায় শুরু করতে নতুন মূল্য নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে ওমানের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ওকিউ ট্রেডিং লিমিটেড (ওকিউটি)। প্রতিষ্ঠানটি বিদ্যমান চুক্তিতে নির্ধারিত দামের পরিবর্তে আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ মূল্যে গ্যাস সরবরাহ করতে চায়। প্রস্তাবটি গ্রহণ করা হলে চুক্তির আওতায় কেনা এলএনজির দাম প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে। তবে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে বিদ্যমান চুক্তির শর্ত অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
২০২৭ সালের জন্য ওকিউটির কাছ থেকে ৩২টি এলএনজি কার্গো পাওয়ার কথা বাংলাদেশের। কিন্তু সরবরাহের নিশ্চয়তা চেয়ে পেট্রোবাংলার সহযোগী প্রতিষ্ঠান রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল) চিঠি দেওয়ার পর ১৪ অক্টোবর ওকিউটি মাত্র ১৬টি কার্গো সরবরাহের পরিকল্পনা পাঠিয়েছে। তাও সব কার্গো কাতারের রাস লাফান বন্দর থেকে সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ফলে আগামী বছরের এলএনজি আমদানি পরিকল্পনা নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।
চুক্তির দামের পরিবর্তে জেকেএমভিত্তিক মূল্য: বাংলাদেশের সঙ্গে ওকিউটির দুটি দীর্ঘমেয়াদি এলএনজি সরবরাহ চুক্তি রয়েছে। চুক্তি দুটি অনুযায়ী, ব্রেন্ট ক্রুডের আন্তর্জাতিক বাজারদরের ভিত্তিতে এলএনজির মূল্য নির্ধারিত হয়। কিন্তু ওকিউটি এখন প্রতি মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ) এলএনজির দাম জাপান-কোরিয়া মার্কার (জেকেএম) সূচকের চেয়ে ০.০৪ ডলার কম নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে।
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের (টিবিএস) প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৪ অক্টোবর জেকেএমের দর ছিল প্রতি এমএমবিটিইউ ২৬.২৭৫ ডলার। সেই হিসাবে ওকিউটির প্রস্তাবিত দামে এলএনজির মূল্য দাঁড়ায় ২৬.২৩৫ ডলার।
অন্যদিকে, একই দিনে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ছিল প্রতি ব্যারেল ১০৬.৬৬ ডলার। এই দর ধরে বিদ্যমান চুক্তির ফর্মুলা অনুযায়ী প্রথম চুক্তির এলএনজির দাম প্রতি এমএমবিটিইউ প্রায় ১৩.২০ ডলার এবং দ্বিতীয় চুক্তির দাম প্রায় ১৪.৬৯ ডলার। অর্থাৎ প্রস্তাবিত দাম প্রথম চুক্তির তুলনায় প্রায় ৯৯ শতাংশ এবং দ্বিতীয় চুক্তির তুলনায় ৭৯ শতাংশ বেশি।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর আরপিজিসিএলকে পাঠানো চিঠিতে প্রথমবারের মতো বিকল্প মূল্য নির্ধারণের প্রস্তাব দেয় ওকিউটি। এর আগে ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরুর পর উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তাঝুঁকি, এলএনজি উৎপাদন স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতি এবং হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচলে বিঘ্নের কথা উল্লেখ করে সরবরাহে ‘ফোর্স মেজার’ প্রয়োগ করে প্রতিষ্ঠানটি।
বিদ্যমান চুক্তি মানার দাবি বাংলাদেশের: ৯ অক্টোবর ওকিউটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়ায়েল আল জামালিকে পাঠানো চিঠিতে আরপিজিসিএল ২০২৭ সালের জন্য চুক্তিবদ্ধ ৩২টি কার্গোর সরবরাহ নিশ্চিত করতে ১৫ অক্টোবরের মধ্যে বিস্তারিত পরিকল্পনা চায়। বাংলাদেশের বার্ষিক এলএনজি আমদানি সূচি চূড়ান্ত করার জন্য এ নিশ্চয়তা প্রয়োজন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
আরপিজিসিএলের অবস্থান, চুক্তিতে নির্ধারিত মূল্য ও সরবরাহের শর্ত একতরফাভাবে পরিবর্তনের সুযোগ নেই। সরবরাহ ক্রয় চুক্তির বিভিন্ন ধারা উল্লেখ করে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, চুক্তিবদ্ধ পরিমাণ গ্যাস বিক্রি, পরিবহন, সরবরাহ ও খালাস করার দায়িত্ব বিক্রেতার।
চুক্তি অনুযায়ী, ওকিউটির কাছ থেকে বছরে ৫১ মিলিয়ন এমএমবিটিইউ করে এলএনজি পাওয়ার কথা প্রতিটি চুক্তির আওতায়। প্রতিটি পরিমাণ ১৬টি কার্গোর সমান। দুই চুক্তি মিলিয়ে বছরে ৩২টি কার্গো পাওয়ার কথা বাংলাদেশের।
আরপিজিসিএল আরও বলেছে, সরবরাহের জন্য কেবল কাতারের রাস লাফান বন্দরের ওপর নির্ভর করার প্রয়োজন নেই। চুক্তির শর্ত পূরণ করে অন্য উৎস থেকেও এলএনজি সরবরাহ করা যেতে পারে। অতীতে ওকিউটির মাধ্যমে আলজেরিয়া, নাইজেরিয়া, নিরক্ষীয় গিনি, মিসর, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, যুক্তরাষ্ট্র, অ্যাঙ্গোলা ও নেদারল্যান্ডস থেকে এলএনজি সংগ্রহের নজির রয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটির মতে, চুক্তিতে নির্ধারিত শর্ত অনুযায়ী নির্ধারিত পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করাই বিক্রেতার দায়িত্ব। মূল্য পুনর্মূল্যায়ন বা সম্মত মূল্য নতুন করে নির্ধারণের কোনো বিধান বিদ্যমান চুক্তিতে নেই।
সরবরাহ না দিলে আইনি পদক্ষেপের সুযোগ: ওকিউটি চুক্তি অনুযায়ী এলএনজি সরবরাহে ব্যর্থ হলে বা অস্বীকৃতি জানালে সেটিকে চুক্তির লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করার অধিকার সংরক্ষণ করেছে আরপিজিসিএল। জ্বালানি বিভাগের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে টিবিএস জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি সরবরাহে অস্বীকৃতি অব্যাহত রাখলে পেট্রোবাংলা আইনি পদক্ষেপ নিতে পারে।
৯ অক্টোবরের চিঠিতে আরপিজিসিএল ২০২৭ সালের প্রতিটি প্রান্তিকে কত পরিমাণ এলএনজি সরবরাহ করা হবে, তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জানানোর বাধ্যবাধকতার কথাও স্মরণ করিয়ে দেয়। চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১৫ অক্টোবরের মধ্যে এ-সংক্রান্ত তথ্য দেওয়ার কথা ছিল।
এদিকে, ২৮ সেপ্টেম্বরের চিঠিতে ওকিউটি জানিয়েছিল, রাস লাফানে এলএনজি উৎপাদন স্থাপনার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি, কর্মীদের সুরক্ষা এবং পরিচালনগত প্রতিবন্ধকতা মূল্যায়ন করছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি দিয়ে এলএনজিবাহী জাহাজের নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন চলাচল শুরুর পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
ওকিউটির এলএনজি শাখার এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এরই মধ্যে ১৮ অক্টোবর নির্ধারিত একটি কার্গোর ক্ষেত্রেও ‘ফোর্স মেজার’ প্রয়োগের কথা জানিয়েছেন।
২০২৭ সালে ১১৫ কার্গো আমদানির পরিকল্পনা: ২০২৭ সালে মোট ১১৫টি এলএনজি কার্গো আমদানির প্রাথমিক পরিকল্পনা করেছে পেট্রোবাংলা। তবে চূড়ান্ত পরিকল্পনায় তা কমে ১১২টিতে দাঁড়াতে পারে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওকিউটির কাছ থেকে ৩২টি কার্গো পাওয়ার কথা। বাকি এলএনজি অন্যান্য দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ও স্পট মার্কেট থেকে সংগ্রহ করা হবে।
কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় স্পট মার্কেটের ওপর বাংলাদেশের নির্ভরতা বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বেড়ে গেলে এই নির্ভরতা আমদানি ব্যয়েও চাপ তৈরি করতে পারে।
২০২৬ সালে কাতারএনার্জি ও এক্সিলারেট এনার্জির পক্ষ থেকেও সরবরাহে ‘ফোর্স মেজার’ ঘোষণার মুখে পড়েছে পেট্রোবাংলা। ফলে নির্ধারিত সময়ে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সংগ্রহ এবং আমদানি ব্যয় নিয়ন্ত্রণ—দুই ক্ষেত্রেই বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
ওকিউটির প্রস্তাব এবং চুক্তিবদ্ধ সরবরাহের অনিশ্চয়তার মধ্যে বাংলাদেশের জন্য এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে বিদ্যমান চুক্তির অধিকার নিশ্চিত করা, বিকল্প উৎস থেকে সরবরাহের ব্যবস্থা রাখা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্যঝুঁকি বিবেচনায় রেখে ২০২৭ সালের আমদানি পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা।
অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা, রাজস্ব আয় বাড়ানো, ব্যাংক খাতের সংস্কার এবং বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদার করতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) কাছে সাড়ে ৪ বিলিয়ন ডলার ঋণ চেয়েছে বাংলাদেশ। চলতি বছরের ডিসেম্বর থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ত্রৈমাসিক কিস্তিতে এ অর্থ পাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। ঋণের বিষয়ে ইতিবাচক আশ্বাস পাওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার। পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরের উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে নতুন অংশীদারত্ব কাঠামো চুক্তি চূড়ান্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আইএমএফ ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ২০২৬ সালের বার্ষিক সভার ফাঁকে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আইএমএফের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক নাইজেল ক্লার্কের সঙ্গে বৈঠকেও ঋণ, অর্থনৈতিক সংস্কার ও উন্নয়ন সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী জানান, আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে দুই পক্ষের প্রতিনিধিদল বিস্তারিত আলোচনায় বসবে। এরপর ঋণ ও অংশীদারত্বের বিভিন্ন বিষয় কীভাবে চূড়ান্ত করা হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকসহ (এডিবি) বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী বলেও জানান তিনি।
পাঁচ বছরের উন্নয়ন পরিকল্পনায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা: সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও আগামী পাঁচ বছরের উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে একটি সুনির্দিষ্ট উন্নয়ন কাঠামো তৈরির কাজ চলছে। বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে প্রস্তাবিত অংশীদারত্ব কাঠামো চুক্তির মাধ্যমে সরকারের অগ্রাধিকার, উন্নয়ন পরিকল্পনা ও আন্তর্জাতিক অর্থায়নকে সমন্বিত করার লক্ষ্য রয়েছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, চুক্তির মূল নীতিগত বিষয়গুলোতে কোনো সমস্যা নেই। আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে বৈঠকে যৌথ কর্মপরিকল্পনার ভিত্তিতে বাকি বিষয়গুলো চূড়ান্ত করার চেষ্টা করা হবে।
বার্ষিক সভার ফাঁকে অর্থমন্ত্রী ব্যাংক অব আমেরিকা, গুগল, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক ও মুডিসের প্রতিনিধিদের সঙ্গেও বৈঠক করেন। এসব আলোচনায় দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ঋণ, বিনিয়োগ এবং আর্থিক খাতের সংস্কার নিয়ে কথা হয়।
রাজস্ব বাড়ানো ও ব্যাংক খাতের সংস্কার: রাজস্ব আয় বৃদ্ধি এবং কর-জিডিপি অনুপাত উন্নত করাকে সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার হিসেবে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। তিনি বলেন, নির্বাচনী ইশতেহারেই রাজস্ব আয় বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। অতীতে কর অব্যাহতি, কর জালিয়াতি ও পৃষ্ঠপোষকতার সংস্কৃতির কারণে রাজস্ব আহরণ প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছায়নি। এসব সমস্যা মোকাবিলায় সরকার টাস্কফোর্স গঠন করেছে।
তিতুমীরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরে রাজস্ব আয়ে ৩ শতাংশ প্রবৃদ্ধি হয়েছিল। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর ৩০ জুন পর্যন্ত রাজস্ব আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১২ থেকে ১৩ শতাংশ। সরকারি আর্থিক হিসাবের স্বচ্ছতা ও যাচাইযোগ্যতা নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।
ব্যাংক খাতের সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে অনিয়ম ও অর্থ লুটপাটের কারণে সৃষ্ট সংকট মোকাবিলায় বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে সাধারণ আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা ও আর্থিক খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারীদের অর্থ উত্তোলনের সুযোগ দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, অন্য যেসব ব্যাংকে অনিয়ম হয়েছে, সেগুলোর ক্ষেত্রেও রেজল্যুশন অ্যাক্টের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তার মতে, ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার কমে আসাও ব্যাংক খাতের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফেরার ইতিবাচক ইঙ্গিত।
কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য হ্রাসে নতুন উদ্যোগ: অর্থনৈতিক সংস্কারের পাশাপাশি উৎপাদন, রপ্তানি ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর পরিকল্পনা তুলে ধরেন অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী উৎপাদনশিল্পের কেন্দ্র ও রপ্তানি প্রবেশদ্বার হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানো এবং নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ এ পরিকল্পনার লক্ষ্য।
দারিদ্র্য হ্রাসে ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকদের সহায়তায় ফার্মার্স কার্ড চালুর উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি। দীর্ঘস্থায়ী মূল্যস্ফীতির কারণে দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাওয়া মানুষকে সহায়তা দেওয়া এবং নতুন করে মানুষের দরিদ্র হয়ে পড়া ঠেকাতে সরকার কাজ করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের সংকট ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব প্রসঙ্গে তিতুমীর বলেন, এসব সংকট বাংলাদেশের সৃষ্টি নয়। তবে জ্বালানি, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও সার আমদানির ব্যয়ের পাশাপাশি কৃষক, পরিবহন খাত এবং সাধারণ মানুষের ওপর এর প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে সরকার কাজ করছে।
বিশ্বজুড়ে কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জ: বার্ষিক সভার পূর্ণাঙ্গ অধিবেশনে বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা বৈশ্বিক কর্মসংস্থান পরিস্থিতির গুরুত্ব তুলে ধরেন। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগামী ১৫ বছরে বিশ্বজুড়ে প্রায় ১২০ কোটি তরুণ কর্মবাজারে প্রবেশ করবেন। বিপরীতে এ সময়ে প্রায় ৪০ কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। ফলে তরুণদের জন্য পর্যাপ্ত কর্মসংস্থান সৃষ্টি বিশ্ব অর্থনীতির অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে।
বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা, বেসরকারি বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং উৎপাদনশীল খাতে কর্মসংস্থান বাড়ানো গুরুত্বপূর্ণ। এ লক্ষ্য অর্জনে আন্তর্জাতিক অর্থায়ন ও নীতিগত সহযোগিতা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
আইএমএফের ঋণ প্রস্তাব এবং বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে নতুন অংশীদারত্ব কাঠামো চুক্তি—দুটি উদ্যোগই বাংলাদেশের উন্নয়ন অর্থায়নের পরবর্তী পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ। তবে ঋণের চূড়ান্ত পরিমাণ, শর্ত ও অর্থ ছাড়ের সময়সূচি নির্ধারণের পাশাপাশি সংস্কার কর্মসূচি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলেই এ সহযোগিতার সুফল অর্থনীতি ও মানুষের জীবনে দৃশ্যমান হবে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেছেন, ডেঙ্গু বর্তমানে জাতীয় সংকট। বিরোধী দল ডেঙ্গু প্রতিকারে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো কর্মসূচি দেয়নি।
বিপরীতে তারা লং মার্চের মাধ্যমে জনভোগান্তি সৃষ্টি করছে। ডেঙ্গুর ভ্যাকসিন আনতে উদ্যোগ নেওয়া হবে। আশা করি, অর্থের কোনো সমস্যা হবে না।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) রাজধানীর এফডিসিতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় নিয়ে ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি আয়োজিত ছায়া সংসদে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ‘সরকার ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নির্দেশনা প্রদান করেছেন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রীর নানা উদ্যোগ সবার দায়বদ্ধতা বাড়িয়েছে।
তবে এর প্রকোপ কমাতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনগণকেও সচেতন হতে হবে। জনগণ সচেতন না হলে সরকারের কোনো উদ্যোগেই ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব হবে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে জরিমানা আদায়ের অর্থ ডেঙ্গুতে মৃত দুস্থ নাগরিকদের পরিবারকে প্রদানে প্রধানমন্ত্রীকে প্রস্তাব করা হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় অতীতের ফ্যাসিস্ট সরকারের ব্যর্থতা ছিল। তারা পার্শ্ববর্তী দেশকে অযাচিত সুযোগ-সুবিধা দিতে দেশের সংকটকে অবহেলা করেছে।’
আবদুস সালাম বলেন, ‘ঢাকা শহরের মূল সমস্যা দুটি- হকার ও অটোরিকশা। হকার ও অটোরিকশা চালকদের সঙ্গে আলোচনা চলছে, কিন্তু এখনো সমস্যার সমাধান হয়নি। সরকার ও বিরোধী দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকলে আশা করি অচিরেই এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে।’
সভাপতির বক্তব্যে হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, ‘ডেঙ্গু এখন বছরজুড়ে ভোগান্তির নাম। ঢাকাসহ সারা দেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বেড়েই চলেছে। ডেঙ্গু পরিস্থিতি মহামারি আকার ধারণ না করলেও হাসপাতালগুলোতে গেলে এর ভায়াবহতা দেখা যায়। বিশেষ করে ডেঙ্গু আক্রান্ত নিম্ন ও মধ্যআয়ের মানুষেরা চিকিৎসা খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের হাসপাতালের বারান্দা, মেঝে, সিঁড়ির নিচে অবস্থান করে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। সমন্বিত পদক্ষেপ ও চিকিৎসার অভাবে ডেঙ্গুর কাছে যাতে আমরা অসহায় হয়ে না পড়ি।’
তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গুবিরোধী অভিযানে আদায় করা অর্থ ডেঙ্গুতে মারা যাওয়া দুস্থ পরিবারকে প্রদান করা হোক। পৃথিবীর অনেক উন্নত দেশে ডেঙ্গু প্রতিরোধে টিকার ব্যবহার শুরু হয়েছে। ডেঙ্গুর টিকায় বৈজ্ঞানিক তথ্য—প্রমাণ সঠিক হলেও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি না থাকলে সরকারের ডেঙ্গুর ভ্যাকসিন ক্রয় করার উদ্যোগ নেওয়া উচিত। বিগত শাসনামলে ডেঙ্গু চিকিৎসার নামে নানা ধরনের অনিয়মের স্পষ্ট প্রমাণ গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। মশা মারার ওষুধ কেনা, ডেঙ্গু পরীক্ষার ডিভাইস সরবরাহে অনিয়ম ও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ, কৃত্রিম স্যালাইন সংকট, সরকার নির্ধারিত ফি-এর চেয়ে ডেঙ্গু পরীক্ষায় অতিরিক্ত ফি আদায়সহ নানা অনিয়মের ঘটনা ঘটেছিল।’
তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী শাসনামলে ২০২৩ সালে দেশের ইতিহাসে ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি ১৭০৫ জন মানুষ মৃত্যুবরণ করেন। সেই সময় দুই সিটি করপোরেশন মশার লার্ভা নিধনের জন্য অবিজ্ঞানসম্মতভাবে ডোবা, নালা ও জলাশয়ে ব্যাঙ ও হাঁসের চাষের প্রকল্প গ্রহণ করে হাস্যরসের সৃষ্টি করেছিল আওয়ামী সরকার। সেই সময়ে নানা অনিয়মের কারণে স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা নষ্ট হয়ে গিয়েছিল। বর্তমান সরকার স্বাস্থ্যব্যবস্থায় জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সবার্ত্মক চেষ্টা করছে।’
‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে সরকারি উদ্যোগের চেয়ে নাগরিক সচেতনতা অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ শীর্ষক ছায়া সংসদ বিতর্ক প্রতিযোগিতায় বিরোধী দল কবি নজরুল সরকারি কলেজকে পরাজিত করে সরকারি দল কবি নজরুল সরকারি কলেজ বিজয়ী হয়। প্রতিযোগিতায় বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, সাংবাদিক মো. আতিকুর রহমান, সাংবাদিক প্রতীক ইজাজ, সাংবাদিক মো. মেহেদী হাসান ও সাংবাদিক জেনিয়া কবির সূচনা।
সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে বিধিনিষেধের কারণে বাংলাদেশ থেকে সরাসরি ও ট্রানজিট রুটে চলাচলকারী বিভিন্ন এয়ারলাইন্সের মোট ১০৭টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত ১৬ হাজার ৬২০ জন যাত্রী ভোগান্তিতে পড়েছেন।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক মুহাম্মাদ কাউছার মাহমুদ এ তথ্য জানান।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাতিল ফ্লাইটের মধ্যে ৪৪টি সরাসরি ফ্লাইট এবং ৬৩টি ট্রানজিট ফ্লাইট।
সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনাকারী চারটি এয়ারলাইন্সের মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ১৭টি, ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের ১০টি, সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের ১০টি এবং রিয়াদ এয়ারওয়েজের সাতটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
অন্যদিকে, ট্রানজিট ফ্লাইটের মধ্যে ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের ২২টি, এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ১৪টি, কাতার এয়ারওয়েজের ৯টি, সালামএয়ারের ৭টি, ফ্লাইদুবাইয়ের ৬টি, এয়ার ইন্ডিয়ার ৪টি এবং ইজিপ্টএয়ারের একটি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট তথ্যে বলা হয়েছে, সৌদি আরবের বিমানবন্দরগুলোতে পরিচালনাগত বিধিনিষেধের কারণে এসব ফ্লাইটের যাত্রা ব্যাহত হয়েছে। এতে যাত্রীদের ভ্রমণসূচিতে পরিবর্তন ও ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে।
জাতীয় প্রতিযোগিতার সেরা তরুণদের মেধা, সৃজনশীলতা ও নেতৃত্বের বিকাশে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পাঠাতে সব ধরনের সহযোগিতা সরকার করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।
শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে তুলে ধরতে বিশেষ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশব্যাপী একটি জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতার আয়োজন করলে সেখানে প্রতিটি স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণরা অংশ নেবে। যারা চূড়ান্তভাবে বিজয়ী হবে, সরকার নিজস্ব অর্থায়নে তাদের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে পাঠানোর ব্যবস্থা করবে।’
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে জাতীয় সংসদের এলডি হলে ‘বাংলাদেশ ইউথ মডেল ইউনাইটেড নেশনস-২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন এসব কথা বলেন। ‘ফিউচার বাংলাদেশ’-এর আয়োজনে দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনে দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণরা জাতীয় ও বৈশ্বিক নীতি নিয়ে বিতর্কে অংশ নেবেন।
শিক্ষার্থীদের মেধা ও সৃজনশীলতার বিকাশে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া-এই তিন ক্ষেত্রের এক অপূর্ব ত্রিভুজ সমন্বয়ের পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রী গ্রহণ করেছেন বলেও জানান তার এই উপদেষ্টা। তিনি বলেন, ‘এর অধীনে দেশজুড়ে আয়োজন করা হবে বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতা। একই সঙ্গে গণিত অলিম্পিয়াড, পদার্থবিজ্ঞান অলিম্পিয়াড, নতুন কুঁড়ি, ক্বিরাআত ও হিফজ প্রতিযোগিতা, বিতর্ক এবং কুইজ প্রতিযোগিতাসহ শিক্ষার্থীদের মেধাবিকাশমূলক সব আয়োজনে সরকারের সর্বাত্মক সহায়তা ও পৃষ্ঠপোষকতা অব্যাহত থাকবে।’
তরুণ শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আজকের তরুণদের মাঝ থেকেই আগামী দিনে অনেকে সংসদ সদস্য ও নীতি নির্ধারক হিসেবে দেশের নেতৃত্ব দেবেন। তরুণদের মাঝ থেকেই আগামী দিনের বাংলাদেশের নেতৃত্ব গড়ে উঠবে, যারা শিক্ষা, সংস্কৃতি, শিল্প, রাজনীতি, নীতি প্রণয়ন ও সাংবাদিকতাসহ সমাজের প্রতিটি স্তরে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। দেশকে ইতিবাচক পরিবর্তনের পথ দেখাবে। তরুণদের পাশে থেকে অভিভাবকত্ব ও সঠিক দিকনির্দেশনা প্রদানসহ সরকারের পক্ষ থেকে আমরা তার সর্বাত্মক সহযোগিতার ব্যবস্থা করব।’
শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, ‘তরুণদের উপস্থিতিই প্রমাণ করে তাদের মধ্যে দেশ নিয়ে একটি সুন্দর স্বপ্ন ও ভিশন রয়েছে। তারা নিজেদের প্রজন্মের সেরা হিসেবে গড়ে তুলতে অদম্য প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে আসছে।’ একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ার জন্য তরুণদের মাঝে সঠিক মূল্যবোধ, আদর্শ, মেধা, যোগ্যতা ও সততার চর্চা অপরিহার্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।
২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে তরুণদের অসামান্য অবদানের কথা স্মরণ করে মাহ্দী আমিন বলেন, ‘রাজপথে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে এই তরুণরাই নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছে। সে সময় তরুণরা একটি বৈষম্যহীন ও মেধাভিত্তিক সমাজের ভিত রচনা করেছে, যেখানে সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বাকস্বাধীনতা ও মানবাধিকার নিশ্চিত করবে।’
প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে মুখপাত্র বলেন, ‘সরকার এমন এক বাংলাদেশ গড়তে বদ্ধপরিকর, যেখানে যেকোনো নাগরিকের সফল হওয়া কিংবা আত্মবিকাশের সুযোগ পাওয়ার জন্য কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের পরিচয়ের প্রয়োজন হবে না। সমাজে বজায় থাকবে ন্যায়বিচার ও সমতা, আর রাষ্ট্র পরিচালনায় থাকবে স্বচ্ছতা ও কার্যকর জবাবদিহিতা।’
অনুষ্ঠানে নিজের শিক্ষার্থী জীবনের স্মৃতিচারণ করে মাহ্দী আমিন জানান, ২০০৭ সালে সিটি ইউনিভার্সিটি অব নিউইয়র্কের বারুক কলেজে অধ্যয়নকালে তিনিও ‘মডেল ইউনাইটেড নেশনস’-এ অংশ নিয়েছিলেন এবং বারুক কলেজের প্রতিনিধিত্ব করে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে গিয়েছিলেন।
বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদের তরুণদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও একাডেমিক দিক থেকে পূর্ণ ক্ষমতায়ন করতে হবে। নীতি প্রণয়নের প্রতিটি স্তরে তরুণদের প্রত্যাশা, দৃষ্টিভঙ্গি ও মতামতকে গুরুত্ব দিতে হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, যুগোপযোগী দক্ষতা তৈরি এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের জন্য পলিসি মেকিং প্রক্রিয়ায় তরুণদের মতামত সরাসরি সম্পৃক্ত করা জরুরি।’ কেবল বক্তব্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে তরুণদের সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা ও উদ্ভাবনী ধারণা মনোযোগ দিয়ে শোনার জন্য আয়োজকদের প্রতি আরও বেশি ‘নীতি সংলাপ’ আয়োজনের আহ্বান জানান মাহ্দী আমিন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এসএম আব্দুল আওয়াল এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. ডেভিড ডাউল্যান্ড।