বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
২২ মাঘ ১৪৩২

মেলায় জনপ্রিয় লেখকদের বই বেশি বিক্রি হচ্ছে

ছবি: দৈনিক বাংলা
মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ
প্রকাশিত
মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ
প্রকাশিত : ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ২২:৫৭

অমর একুশে বইমেলার দিন যতই অতিবাহিত হচ্ছে ততই এর আকর্ষণ বেড়ে চলেছে। এবার নানাবিধ কারণে প্রাণের মেলা ভিন্নরূপ পেয়েছে। বিশেষ করে নগরে স্বস্তির যান মেট্রোরেলের কারণে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর পাঠক-দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ছে। মেলায় প্রতিদিন শতাধিক নতুন বই আসার পাশাপাশি বেড়েছে দর্শনার্থীর সংখ্যা, সঙ্গে বাড়ছে বিক্রিও। দিন যত যাচ্ছে মেলার প্রাণ আরও বাড়ছে। আগামীকাল বসন্ত ও ভালোবাসা দিবসে বইমেলা যেন অন্যরকম আমেজ নিয়ে আসবে। বাংলা একাডেমির বহেড়াতলা বটগাছে কোকিলের সুর বলে দিচ্ছে প্রকৃতিতে ফাগুন চলে এসেছে। ঠিক যেমনিভাবে ফাগুনের এই আগুন বইমেলায়ও চলে আসতে শুরু করেছে। সব সময় মেলা ফাগুনের দিনগুলো থেকেই মূলত জমে ওঠে। এবার আরও নবজাগরণে প্রাণের মেলা জমেছে। কেননা গত দুই বছরের ঢিমেতালে চলা বইমেলা এবার পেয়েছে পুরোপুরি জমে ওঠার চিত্র। মেলায় প্রতিবারের মতো এবারও পাঠকদের আগ্রহের শীর্ষে রয়েছে উপন্যাস। এ ছাড়াও ঘুরেফিরে জনপ্রিয় লেখকদের বই বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রকাশক ও বিক্রয়কর্মীরা।

মেলা ঘুরে দেখা গেছে, পাঠকরা স্টলে স্টলে গিয়ে উপন্যাসের বই খুঁজে বেড়াচ্ছেন। প্রিয় লেখকের প্রকাশিত বই পেলেই তা সংগ্রহ করে নিজেদের ব্যাগে গুঁজে নিচ্ছেন বইপ্রেমীরা। এদিকে পূর্ববর্তী বছরগুলোর মতো এবারও হ‍ুমায়ূন আহমেদ, হাসান আজিজুল হক, আনিসুল হক, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ইমদাদুল হক মিলন, সেলিনা হোসেন, মুহম্মদ জাফর ইকবাল, আসিফ নজরুল, মুনতাসীর মামুন, মোশতাক আহমেদ, শাহাদুজ্জামান, হরিশংকর জলদাসসহ বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় লেখকের বই বেশি বিক্রি হচ্ছে। তবে মেলায় হ‍ুমায়ূন আহমেদের বই-ই বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে প্রকাশনা সূত্রে জানা যায়। জনপ্রিয় এই লেখকের পুরাতন বইগুলো পাঠকরা এখনো কিনছেন। মেলায় প্রতিদিন হ‍ুমায়ূনপ্রেমীরা খুঁজতে খুঁজতে চলে যাচ্ছেন অন্যপ্রকাশে। এই প্রকাশনীতে কিংবদন্তি এই কথাসাহিত্যিকের লেখা উপন্যাস দেয়াল, মাতাল হাওয়া, নন্দিত নরকে, শঙ্খনীল কারাগার, মধ্যাহ্ন অখণ্ড বেশি কিনছেন বলে অন্যপ্রকাশ সূত্রে জানা যায়।

সরেজমিন ঘুরে এবং বিভিন্ন স্টলের বিক্রয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারও মেলায় বেশি জনপ্রিয় লেখকদের গল্প-উপন্যাস বিক্রি হচ্ছে। নতুন বইয়ের সঙ্গে পুরাতন কালজয়ী বইও বিক্রিতে রয়েছে শীর্ষে।

তাম্রলিপি প্রকাশনীর বিজনেস ডেভেলপমেন্ট এক্সিকিউটিভ মুনালিসা জানান, এ বছর ৪৫টি নতুন বই প্রকাশ করেছে প্রকাশনীটি। নতুন বইয়ের সঙ্গে পুরাতন বইও বেশ বিক্রি হচ্ছে। তার মধ্যে হ‍ুমায়ূন আহমেদের শ্রেষ্ঠ হিমু, শ্রেষ্ঠ মিছির আলি ও কিশোর সমগ্র বই বিক্রিতে ওপরে রয়েছে।

কাকলী প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী হুমায়ন কবীর জানান, রকিব হাসানের গোয়েন্দা সিরিজ ও সায়েন্স ফিকশন চলছে বেশি। আর হ‍ুমায়ূন আহমেদের ভক্তরা তার বই সমগ্র তো সংগ্রহ করছেই।

অনন্যা প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী আসিফ মাহমুদ বলেন, ইমদাদুল হক মিলনের চোর এসে গল্প করেছিল, অন্ধকারে নামতে পারেনি বই দুটোর বিক্রি তুলনামূলকভাবে বেশি। এ ছাড়াও তৌহিদুর রহমানের নিতু বলছি বইটির তৃতীয় মুদ্রণ চলছে। মুনতাসীর মামুনের ঢাকা সমগ্র বইটিও পাঠকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। এ ছাড়াও মুনতাসীর মামুনের বঙ্গবন্ধুর জীবন ও লিবারেশন ওয়্যার বই দুটি এ বছর প্রকাশিত হয়েছে। বইগুলো বিক্রিও হচ্ছে বেশ।

অন্বেষা প্রকাশনের বিক্রয়কর্মী রাফিজা নওশীন জানান, সুজন দেবনাথের হেমলকের নিয়ন্ত্রণ ও জাহিদ হাসানের দেশভাগ ১৯৪৭ বেশি বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া হ‍ুমায়ূন আহমেদের তিন বিচিত্র, চন্দ্রসখা, মিসির আলীর ভুবন, তোমাদের জন্য ভালোবাসা, নীল হাতি, সবাই গেছে বনে উপন্যাসগুলো একটি আরেকটির চেয়ে কম বিক্রি হচ্ছে না। এ ছাড়াও সাদাত হোসেনের আগুনডানা মেয়ে বইটিও বেশ বিক্রি হচ্ছে।

অন্যপ্রকাশের স্টল ইনচার্জ তৌহিদুল ইসলাম জানান, উপন্যাস আর হ‍ুমায়ন আহমেদের বইয়ে পাঠকদের চাহিদা- দুই ক্ষেত্রেই সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়াও রউফুল আলমের দেশ, সফল মন্ত্র, আহমদ ছফার যদ্যপি আমার গুরু, অর্ধেক নারী অর্ধেক ইশ্বরী বইগুলো বেশ চলছে। তবে ক্রেতাদের চাহিদা উপন্যাস।

বইমেলায় ঘুরতে আসা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শরমিলা জান্নাত বইগুলো ঘাটতে ঘাটতে বলেন, ‘হ‍ুমায়ূন আহমেদ দেশের সাহিত্য অঙ্গনে যে জায়গা সৃষ্টি করে গেছেন, তা এখনও কেউ পূরণ করতে পারেননি। পুরোনোরা তো বটেই, নতুন প্রজন্মের পাঠকও এসে এখনো হ‍ুমায়ূন আহমেদের বই খোঁজ করেন।’

মেলায় এখনো কালজয়ী সব সাহিত্যিকের লেখা বই কিনছেন বইপ্রেমীরা। এর মধ্যে রয়েছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, শওকত আলী, বেগম রোকেয়া, মীর মশাররফ হোসেন, উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, জীবনানন্দ দাশ, স্বর্ণকুমারী দেবী, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, জসীম উদ্দীন, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, আবু ইসহাক, আহমেদ ছফাসহ হুমায়ুন আজাদের লেখা সব বই। গুণী এই সাহিত্যিকদের লেখা বিভিন্ন গল্প, উপন্যাস ও সমগ্র সংগ্রহে রাখতে মেলায় এসে বই কিনছেন বইপ্রেমীরা।

মেলা ঘুরে দেখা গেছে, এখনো পাঠকরা যেসব কালজয়ী বই মেলায় কিনছেন, তার মধ্যে রয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষের কবিতা, গোড়া, শওকত আলীর প্রদোষে প্রাকৃতজন, আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের খোয়াবনামা, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবি, সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহর লালসালু, জহির রায়হানের হাজার বছর ধরে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনী, সৈয়দ শামসুল হকের খেলারাম খেলে যা ও নিষিদ্ধ লোবান, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রথম আলো, সেই সময় এবং পূর্ব-পশ্চিম, হ‍ুমায়ূন আহমেদের নন্দিত নরকে, শঙ্খনীল কারাগার এবং জোৎস্না ও জননীর গল্প, হুমায়ুন আজাদের নারী ও ছাপ্পান্নো হাজার বর্গমাইল, আবু ইসহাকের সূর্য দীঘল বাড়ি, হাসান আজিজুল হকের আগুনপাখি, মানিক বন্দোপাধ্যায়ের পদ্মা নদীর মাঝি ও পুতুল নাচের ইতিকথা, ইমদাদুল হক মিলনের নূরজাহান, সৈয়দ মুজতবা আলীর দেশ বিদেশে, শওকত ওসমানের কৃতদাসের হাসি, আনিসুল হকের চার কিশোর গোয়েন্দা, শহীদুল্লাহ কায়সারের সারেং বৌ, সংশপ্তক, জাহানারা ইমামের একাত্তরের দিনগুলি, বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের আদর্শ হিন্দু হোটেল, মুহম্মদ জাফর ইকবালের লেখা ফেরা, আহমদ ছফার যদ্যপি আমার গুরু ও শাহাদুজ্জামানের ক্রাচের কর্নেলসহ আরও কিছু বই। এই বইগুলো প্রকৃত বইপ্রেমীরা দেখলেই তা সংগ্রহে রাখার জন্য হলেও কিনে নিচ্ছেন বলে জানান মেলার বিভিন্ন স্টলের বিক্রয়কর্মীরা।

এখনো জমেনি লিটলম্যাগ চত্বর

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চের পাশে অবস্থিত লিটল ম্যাগ চত্বর ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড় নেই মেলার এ অংশে। যদিও বিক্রয় প্রতিনিধিরা বলছেন, মেলার অন্য অংশ থেকে বরাবরই এ অংশে ভিড় কম থাকে। সেখানকার স্টলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লোকজন এ চত্বরে কম যায়। তেমন বিক্রিও হয় না। বইমেলায় একসময় অন্যতম আকর্ষণ ছিল তারুণ্যের এ ‘লিটল ম্যাগ চত্বর’। মেলার এই অংশে নবীন লেখকদের প্রকাশিত বিভিন্ন ম্যাগাজিন পাঠক-দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরেন লেখক, প্রকাশক। কিন্তু সময়ের আবর্তে একসময়কার তুমুল জনপ্রিয় এই চত্বরে এখন কেবলই হাহাকার। বারবার এর স্থান পরিবর্তন হলেও হারানো গৌরবের দেখা পাচ্ছে না এই চত্বর।

জনপ্রিয় সব লেখক, প্রকাশনী ও পত্রিকার ভিড়ে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে সত্তরের দশকের গণজাগরণের চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত লিটল ম্যাগাজিনগুলো। বিপ্লবী ধারার এসব ম্যাগাজিনের স্থান দখল করে নিয়েছে পত্রিকাগুলো। কিন্তু এতসব বাধা বিপত্তির মাঝেও এখনো টিকে আছে কিছু ম্যাগাজিন। দেড় দশকের বেশি সময় ধরে বাংলা একাডেমির বহেড়াতলায় স্থান পাওয়া বইমেলার অন্যতম আকর্ষণ ‘লিটল ম্যাগ চত্বর’ কখনো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মাঝখানে, কখনো উত্তর পাশে আবার কখনো কালি মন্দিরের পাশে স্থান বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। তবে এ বছর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চের উত্তরাংশের অন্ধকারাচ্ছন্ন জায়গায় স্থান হয়েছে লিটল ম্যাগের। ফলে বিগত দিনের ধারাবাহিক খরা তাতে লেগেই আছে।

আজকের বইমেলা :

আজকের মেলা বিকেল ৩টায় শুরু হয়ে শেষ হয় রাত ৯টায়। ১২তম দিনে মেলায় নতুন বই এসেছে ১১৫টি। বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় জন্মশতবার্ষিক শ্রদ্ধাঞ্জলি : হেনা দাস শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জোবাইদা নাসরীন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ঝর্না রহমান এবং ফওজিয়া মোসলেম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শিরীণ আখতার।

‘লেখক বলছি’ অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন কথাসাহিত্যিক সালমা বাণী, কবি ফারহানা রহমান, গবেষক মিলটন কুমার দেব এবং কথাসাহিত্যিক ইকবাল খন্দকার।

আগামীকালের বইমেলা :

আগামীকাল ১৩তম দিন মেলা শুরু হবে বিকেল ৩টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে স্মরণে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ শীর্ষক আলাচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপনা করবেন আহমদ মোস্তফা কামাল। আলাচনায় অংশগ্রহণ করবন হরিশংকর জলদাস এবং ফারজানা সিদ্দিকা। অনুষ্ঠান সভাপতিত্ব করবেন সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম।


রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে আমান আযমীর সৌজন্য সাক্ষাৎ

আপডেটেড ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২১:৩৪
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী। সাক্ষাৎকালে তিনি নিজের লেখা গ্রন্থ ‘বিভীষিকাময় আয়নাঘর’ এবং তার বাবা গোলাম আযমের লেখা ৯ খণ্ডের আত্মজীবনী ‘জীবনে যা দেখলাম’ রাষ্ট্রপতিকে উপহার হিসেবে প্রদান করেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অত্যন্ত আগ্রহের সাথে বইগুলো গ্রহণ করেন এবং উল্টেপাল্টে দেখেন।

সাক্ষাৎ শেষে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আযমী লিখেন, আজ মহামান্য রাষ্ট্রপতির সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলাম। আমার লেখা "বিভীষিকাময় আয়নাঘর", আমার বাবাকে নিয়ে সচিত্র (প্রায় সোয়া দুই হাজার ছবি সম্বলিত) বই "প্রেরণার পরশমণি" এবং আমার বাবার লেখা আত্মজীবনী "জীবনে যা দেখলাম" (৯ খন্ড) উপহার দিয়ে এলাম।

এছাড়াও তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে লিখেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতি খুব আগ্রহ সহকারে বই গুলো নিলেন এবং উল্টেপাল্টে দেখলেন। উনার মূল্যবান সময় থেকে আমাকে অনেক সময় দেয়ার জন্য মহামান্য রাষ্ট্রপতির প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।


প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তরে বাংলাদেশ-জাপানের মধ্যে চুক্তি সই

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সই করেছে জাপান ও বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ঢাকায় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান এবং জাপানের পক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি এই চুক্তিতে সই করেন।

জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে, চুক্তিটি সইয়ের দিন থেকেই কার্যকর হয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের সরকারের মধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের জন্য একটি শক্তিশালী আইনি কাঠামো তৈরি হলো, যার আওতায় যৌথভাবে নির্ধারিত প্রকল্প বাস্তবায়নে এবং বিশেষ করে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তায় অবদান রাখে এমন উদ্যোগে এই সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি ব্যবহার করা যাবে। চুক্তিতে প্রতিটি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও যাচাইয়ের সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া নির্ধারণ করার পাশাপাশি হস্তান্তরিত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে মৌলিক নীতিমালাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া তৃতীয় কোনো পক্ষের কাছে এসব সরঞ্জাম বা প্রযুক্তি হস্তান্তর কিংবা নির্ধারিত উদ্দেশ্যের বাইরে ব্যবহার ঠেকাতে কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার কথা চুক্তিতে গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করা হয়েছে।

জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশা প্রকাশ করেছে যে, এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার হবে এবং এটি জাপানের প্রতিরক্ষা শিল্পের উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বজায় রাখার পাশাপাশি উভয় দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করলেন বিদেশি কূটনীতিকরা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার কয়েকদিন আগে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ঢাকায় অবস্থিত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে যে, দুই ঘণ্টাব্যাপী এই পরিদর্শনের শুরুতে কূটনীতিকরা গণঅভ্যুত্থানে শহীদ প্রায় ৪ হাজার মানুষের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।

পরিদর্শনকালে সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এম তৌহিদ হোসেন প্রতিনিধি দলকে জাদুঘরের বিভিন্ন অংশ ও এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ঘুরিয়ে দেখান। জাদুঘরের উদ্দেশ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী বলেন, ‘জাদুঘরের পেছনের উদ্দেশ্য হচ্ছে শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বের যে কোনো জায়গায় এ ধরনের দুঃশাসনের পুনরাবৃত্তি রোধ করা।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই জুলাই জাদুঘরটি বিশ্বের অন্যান্য দেশের অনুরূপ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রাখবে।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এম তৌহিদ হোসেন জাদুঘরটিকে বিগত সরকারের দীর্ঘদিনের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জনগণের সংগ্রামের এক জীবন্ত প্রতিফলন হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ‘জাদুঘরটি জুলাইয়ের বিদ্রোহের ৩৬ দিনের ক্লাইম্যাক্স প্রদর্শন করে, তবে এটি বছরের বছরের দুঃশাসনের উপাদানগুলোও তুলে ধরে।’ তিনি আরও গুরুত্ব দিয়ে বলেন যে, ‘ইতিহাসের আসল পাঠ হলো এটি যাতে পুনরাবৃত্তি না হয় তা নিশ্চিত করা।’ পরিদর্শনে আসা ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, ‘জুলাই জাদুঘর পরিদর্শন করতে পেরে আমি আনন্দিত। ইতিহাস বোঝা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, কীভাবে বিপ্লব ঘটে এবং বাংলাদেশে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের উৎপত্তি কতটা গুরুত্বপূর্ণ তার অনুপ্রেরণামূলক এবং শক্তিশালী স্মরণ করিয়ে দেয়।’

জাদুঘরের চিফ কিউরেটর তানজিম ওয়াহাব অতিথিদের কাছে এই স্থাপনার বিভিন্ন কারিগরি ও শৈল্পিক বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেন। এই বিশেষ পরিদর্শন কর্মসূচিতে আলজেরিয়া, আর্জেন্টিনা, ভুটান, ডেনমার্ক, মিশর, ফ্রান্স, ইরান, ইরাক, ইতালি, কসোভো, লিবিয়া, মরক্কো, নেপাল, নরওয়ে, পাকিস্তান, ফিলিস্তিন, রাশিয়া, সিঙ্গাপুর, স্পেন ও তুরস্কের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), ইউনেস্কো, ডব্লিউএফপি, আইওএম, একেডিএন ও বিমস্টেকের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর শীর্ষ প্রতিনিধিরাও এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় এসডিজি বিষয়ক সিনিয়র সচিব লামিয়া মোর্শেদ, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মফিদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।


কৃতিত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পদক পেলেন ৪০ জন কোস্ট গার্ড সদস্য

আপডেটেড ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২১:০৩
নিজস্ব প্রতিনিধি

যথাযোগ্য মর্যাদা ও আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে আগারগাঁওস্থ কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ৪০ জন সদস্যকে কৃতিত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পদক প্র্রদান করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী কালীন সরকারের মাননীয় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, এনডিসি, পিএসসি (অব:)। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সম্মানিত সিনিয়র সচিব জননিরাপত্তা বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জনাব নাসিমুল গণি।

উক্ত অনুষ্ঠানে মাননীয় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এর ৪০ জন কর্মকর্তা, নাবিক এবং অসামরিক ব্যক্তিবর্গের মধ্যে বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের জন্য ১০ জন কে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পদক, ১০ জন কে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড (সেবা) পদক, ১০ জন কে প্রেসিডেন্ট কোস্ট গার্ড পদক এবং ১০ জন কে প্রেসিডেন্ট কোস্ট গার্ড (সেবা) পদক প্রদান করেন।

মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক এ তথ্য জানান।

প্রতিষ্ঠালগ্ন হতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের প্রতিটি সদস্য দেশের উপকূলীয় দুর্গম এলাকাসমূহ, নদীপথ ও সমুদ্রসীমায় সার্বক্ষণিক উপস্থিতির মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। দেশের অভ্যন্তরীণ নদী ও সমুদ্র পথে এবং উপকূলীয় এলাকায় জনসাধারণের জান ও মাল রক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ, মৎস্য সম্পদ রক্ষা, মাদক পাচার রোধ, বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ত্রাণ এবং উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় এ বাহিনী অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।

দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের মূল কেন্দ্রবিন্দু চট্টগ্রাম বন্দর ও বহিঃনোঙর এলাকায় চুরি-ডাকাতি ও অপরাধ দমনে কোস্ট গার্ড অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এছাড়া দেশের জাতীয় সম্পদ রূপালী ইলিশ সংরক্ষণ, জাটকা নিধন রোধ এবং সমুদ্রে সরকার ঘোষিত মৎস্য অভয়ারণ্য বাস্তবায়নে এ বাহিনীর অবদান অনস্বীকার্য।

তিনি আরও বলেন, দেশের বন্দরসমূহের সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিতে কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক সাড়াশি অভিযানের ফলে বহিঃনোঙ্গর অঞ্চলে দস্যুতা শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে এবং পোর্টের রেটিং পূর্বের তুলনায় বহুলাংশে উন্নত হয়েছে। পাশাপাশি তেলবাহী জাহাজ এমটি বাংলার জ্যোতি, এমটি বাংলার সৌরভ এবং বিএলপিজি সোফিয়ার ভয়াবহ অগ্নি দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড 'ফার্স্ট রেস্পন্ডার' হিসেবে মুহূর্তেই প্রতিটি ঘটনাস্থলে পৌছে সফলভাবে অগ্নি নির্বাপণ এবং উপকূলকে পরিবেশ দূষনের হাত থেকে রক্ষা করে। উন্নত প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষিত এই বাহিনীর অসাধারণ সাহসিকতা ও দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (IMO) হতে মর্যাদাপূর্ন ‘Letter of Commendation’ লাভ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।

সময়ের পরিক্রমায় ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার নিপুণ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডকে কার্যকর, শক্তিশালী ও সুদক্ষ বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলে দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা এগিয়ে নিতে এ বাহিনীর প্রতিটি সদস্য উজ্জীবিত ও বদ্ধপরিকর।


কারাবন্দি বিমানের এমডি সফিকুর রহমানের চুক্তি বাতিল, নতুন দায়িত্বে হুমায়রা সুলতানা

আপডেটেড ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ২০:২৬
নিজস্ব প্রতিবেদক

গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগে বর্তমানে ফৌজদারি মামলায় কারাবন্দী থাকায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ড. মো. সাফিকুর রহমানের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করেছে সরকার। শূন্য হওয়া এই পদে জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থাটির কার্যক্রম সচল ও গতিশীল রাখার স্বার্থে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. হুমায়রা সুলতানাকে নতুন করে অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রণালয় থেকে জারিকৃত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের ‘বিমান-১ শাখা’ থেকে প্রকাশিত ওই আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ড. সাফিকুর রহমান ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে বর্তমানে কারাবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে তার সঙ্গে সরকারের সম্পাদিত চুক্তিভিত্তিক নিয়োগটি তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল বলে গণ্য করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের একই তারিখের একটি প্রজ্ঞাপনের আলোকে ড. সাফিকুর রহমানের নিয়োগ বাতিলের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে, যার ফলে তিনি আর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের এমডি ও সিইও হিসেবে কোনো দায়িত্ব পালন করবেন না। অন্যদিকে, সংস্থাটির দক্ষ ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরবর্তী স্থায়ী পদায়ন না হওয়া পর্যন্ত নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ড. হুমায়রা সুলতানাকে। তিনি বর্তমানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিমান ও সিভিল এভিয়েশন) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। জারিকৃত অফিস আদেশে আইনি ভিত্তি উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে, ‘বাংলাদেশ বিমান (রহিত বাংলাদেশ বিমান অর্ডার, ১৯৭২ পুনর্বহাল এবং সংশোধন) আইন, ২০২৩’ এর ৩০(গ) ধারা অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ড. হুমায়রা সুলতানাকে তার নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এমডি ও সিইও এর দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে এবং স্থায়ী নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত তিনি এই পদে বহাল থাকবেন।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোছা. শাকিলা পারভীনের স্বাক্ষরিত এই আদেশ যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমেই জারি করা হয়েছে। নিয়োগ ও অব্যাহতির এই গুরুত্বপূর্ণ আদেশের অনুলিপি ইতোমধ্যে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, অর্থ মন্ত্রণালয়, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে। বিমানের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে যে, এমডি ও সিইও পরিবর্তনের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তটি সংস্থাটির চলমান প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনাগত সংকটের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মূলত সাম্প্রতিক সময়ে বিমানের ফ্লাইট পরিচালনা, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং যাত্রী সেবার মান নিয়ে বিভিন্ন মহলে চলা আলোচনা ও সমালোচনার মধ্যেই সংস্থাটির শীর্ষ নেতৃত্বে এই বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হলো।


নির্বাচন না হওয়ার কোনো সুযোগ নেই: সেনাপ্রধান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনীসহ সকল পক্ষই অত্যন্ত ইতিবাচক, তাই ‘নির্বাচন না হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) তিন বাহিনীর প্রধানদের গাজীপুর জেলা পরিদর্শন ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, ‘সুন্দর নির্বাচন করার জন্য আমরা সক্ষম। নির্বাচন নিয়ে সবাই আগ্রহী। নির্বাচন নিয়ে সরকার, নির্বাচন কমিশন, পুলিশ ও সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীসহ সবাই আগ্রহী। সেখানে নির্বাচন না হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’

নির্বাচনের স্বচ্ছতা রক্ষায় মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অবৈধ লেনদেন ও অপরাধীদের তৎপরতা প্রসঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য বিকাশের মাধ্যমে কিছু মানি ট্রানজেকশন হতে পারে। আমরা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কথা বলেছি। কিছু ক্রিমিনাল (অপরাধী) থাকতে পারে। সবাই এ ধরনের অপকর্ম করবে না।’ বিশেষ করে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে সেনাপ্রধান বলেন, ‘নির্বাচনের দিন যারা র‍্যাগিং এবং ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেবে তাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী অ্যাকশন নেবে। অপরাধ করলে যতটুকু আইনে রয়েছে ততটুকু শাস্তি পাবে।’

উক্ত সভায় নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘সবসময় যেন তারা ভয় ও আশঙ্কার মধ্যে থাকে সেই পরিবেশ অব্যাহত রাখতে হবে। আমাদের সবার উদ্দেশ্য একটাই—সুষ্ঠু, সুন্দর এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন।’ একই সঙ্গে বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনের ওপর জোর দিয়ে বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচনি পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে আমাদের। সে উদ্দেশে সাধারণ ভোটারদের মনে আস্থা জোগাতে হবে। যারা মাঠে মোতায়েন থাকবেন তাদের সবার দৃশ্যমান উপস্থিতি বাড়াতে হবে, কাউকে বসে থাকা যাবে না।’

আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, তিন বাহিনী প্রধান গাজীপুর, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ জেলার অসামরিক প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এসময় তারা পেশাদারত্ব, নিরপেক্ষতা ও নাগরিকবান্ধব আচরণের মাধ্যমে অর্পিত দায়িত্ব পালনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন এবং ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’ এর আওতায় মোতায়েনকৃত সদস্যদের কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। এই উচ্চপর্যায়ের পরিদর্শন কার্যক্রমে সামরিক ও অসামরিক প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


নিবার্চনে যারা লোভের বশবর্তী হয়ে অন্যায় কাজ করবেন তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোস্টগার্ড বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিরপেক্ষতার প্রশ্নে সরকার বিন্দুমাত্র শৈথিল্য দেখাবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পদক প্রদান ২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান। কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল জিয়াউল হকের সভাপতিত্বে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নাসিমুল গনির বিশেষ উপস্থিতিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দায়িত্ব পালনে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ৪০ জন কোস্টগার্ড সদস্যকে পদক প্রদান করা হয়। নির্বাচনের পবিত্রতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘নিবার্চনে যারা নীতিবিবর্জিত কাজ করবেন, লোভের বশবর্তী হয়ে অন্যায় কাজ করবেন, দায়িত্ব এড়িয়ে চলবেন, দায়িত্বে অবহেলা করবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে উপকূলীয় নিরাপত্তা, অবৈধ মৎস্য আহরণ প্রতিরোধ এবং মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান দমনে কোস্টগার্ডের সাহসিকতাপূর্ণ ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় এবং রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে বাহিনীটির কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মহলে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার কাছে প্রশংসিত হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচন ও গণভোট প্রসঙ্গে তিনি জানান যে, অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করতে কোস্টগার্ডের ৩ হাজার ৫৮৫ জন সদস্যসহ সারা দেশে প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে, যার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে বরিশাল, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে ১০০ প্লাটুন মোতায়েন করা হয়েছে। দুর্নীতিকে রাষ্ট্রের প্রধান শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি বলেন যে এটি জনগণের আস্থা ধ্বংস করে। পরবর্তীতে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি মন্তব্য করেন যে, পূর্ববর্তী অন্যান্য জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় এ বছর সহিংসতার হার অনেক কম।


সচিবালয় ও প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আগামী বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) থেকে রাজধানী ঢাকার বাংলাদেশ সচিবালয় ও প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনাসহ সংলগ্ন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় সব ধরনের সভা-সমাবেশ ও গণজমায়েত নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।

বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে বলে ডিএমপি সদর দপ্তরের এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। ডিএমপি সদর দপ্তর থেকে জারি করা গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, মিছিল, মানববন্ধন, অবস্থান ধর্মঘট ও শোভাযাত্রার ওপর এই নিষেধাজ্ঞা পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী স্বাক্ষরিত ওই গণবিজ্ঞপ্তিতে জনশৃঙ্খলা ও প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলা হয়েছে যে, ‘সর্বসাধারণের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে, জনশৃঙ্খলা এবং প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা রক্ষার স্বার্থে ডিএমপি অধ্যাদেশের ২৯ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশ সচিবালয় (সংলগ্ন এলাকাসহ) এবং প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় (হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ক্রসিং, কাকরাইল মসজিদ ক্রসিং, অফিসার্স ক্লাব ক্রসিং ও মিন্টো রোড ক্রসিংয়ের মধ্যবর্তী এলাকা) সব ধরনের সভা-সমাবেশ, গণজমায়েত, মিছিল, মানববন্ধন, অবস্থান ধর্মঘট, শোভাযাত্রা ইত্যাদি নিষিদ্ধ করা হলো।’ জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ডিএমপি অধ্যাদেশের বিশেষ ক্ষমতাবলে নেওয়া এই সিদ্ধান্তটি কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে পুলিশ প্রশাসন।


জুলাই সনদ কালো কালিতে লেখা হলেও এর পটভূমি রক্তের: আলী রীয়াজ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রীয়াজ জুলাই সনদকে রক্তের অক্ষরে শপথের স্বাক্ষর হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেন, এর প্রতিটি অক্ষর কালো কালিতে লেখা হলেও এর পটভূমি রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে। রক্তের অক্ষরে শপথের স্বাক্ষর-ই জুলাই সনদ। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ড. আলী রীয়াজ এসব কথা বলেন।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের ঋণ স্বীকার করে তিনি বলেন, ‘যে তরুণ পথে নেমে এসেছে, যে যুবক কাজ ফেলে রাজপথে নেমেছে, যে বাবা ছেলেকে মিছিলে পাঠিয়ে প্রার্থনায় বসেছে, যে শ্রমিক প্রতিবাদের ঝড় তুলেছে, তাদের সবার কাছে আমাদের অনেক ঋণ। আর সে ঋণ-ই 'জুলাই সনদ'।’ ভবিষ্যতে যাতে কোনো স্বৈরাচার জনগণের অধিকার পদদলিত করতে না পারে এবং গুম ও ভোটাধিকার হরণের পথ রুদ্ধ হয়, সেজন্য তিনি আসন্ন গণভোটে সকলকে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদানের মাধ্যমে জুলাই সনদের প্রতি সম্মতি জ্ঞাপনের আহ্বান জানান। তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন যে, ‘আমরা বিশ্বাস করি অগুনতি শহীদের আত্মাহুতি বৃথা যাবে না, এ দেশের জনগণ জুলাই সনদের পক্ষে কথা বলবে এবং সাফল্য ও সমৃদ্ধির পথে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে।’ অধ্যাপক আলী রীয়াজ দেশের তরুণ প্রজন্মের কথা উল্লেখ করে বলেন যে, দেশের এক-তৃতীয়াংশ মানুষের বয়স ২৭ থেকে ৩৭ বছরের নিচে এবং আগামী ৪০ বছর দেশ কোন পথে যাবে তা নির্ধারণ করার দায়িত্ব এখন সবার ওপর ন্যস্ত।

বিগত সরকারের আমলের সমালোচনা করে ড. আলী রীয়াজ জানান যে, ২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রীর একক সিদ্ধান্তে পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে সংবিধানকে এক ব্যক্তির ইচ্ছার প্রতিফলনে পরিণত করা হয়েছিল। তিনি ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনকে প্রহসন হিসেবে উল্লেখ করে বলেন যে, সংবিধান সংশোধন যেন আর কখনও ছেলেখেলায় পরিণত না হয় তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার বলেন যে, সংবিধান সংস্কারের ৪৮টি সুপারিশ নিয়ে যে গণভোট হতে যাচ্ছে তার মূল প্রশ্ন হলো জনগণ জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষে নাকি বিপক্ষে। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘গণভোট ব্যর্থ হলে ফ্যাসিবাদ আবার ফিরে আসবে এবং সেটি কতটা বীভৎস আর নির্মম ও নৃশংস হতে পারে সেটা আমরা কল্পনাও করতে পারি না।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, গত ৫৪ বছরে সাম্য ও সামাজিক ন্যায়বিচার ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠিত না হলেও জুলাই অভ্যুত্থান সেই লক্ষ্য অর্জনের নতুন সুযোগ করে দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. এসএমএ ফায়েজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় ঢাকার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।


শবেবরাতের পবিত্রতা রক্ষায় আতশবাজি-পটকা নিষিদ্ধ : ডিএম‌পি

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

পবিত্র শবেবরাতের মহিমা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য সমুন্নত রাখতে ঢাকা মহানগর এলাকায় সব ধরনের আতশবাজি, পটকা ফোটানো, ফানুস ও গ্যাস বেলুন ওড়ানোর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর সই করা এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই নির্দেশনার কথা জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ‘মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পবিত্র শবেবরাত উদযাপিত হবে। পবিত্রতা রক্ষা, শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে ডিএমপি অর্ডিন্যান্স, ১৯৭৬ এর ২৮ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’

ডিএমপির এই নির্দেশনা অনুযায়ী, ‘মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরদিন সকাল ৬টা পর্যন্ত ঢাকা মহানগর এলাকায় সব ধরনের আতশবাজি ও পটকা ফোটানো, ফানুস ও গ্যাস বেলুন ওড়ানো ছাড়াও বিস্ফোরক দ্রব্যের ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন ও ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং উৎসবের পবিত্রতা বজায় রাখতেই নগরবাসীকে এই বিধিমালা যথাযথভাবে মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।


চট্টগ্রাম বন্দরে অনির্দিষ্টকালের লাগাতার কর্মবিরতি ঘোষণা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আগামীকাল (বুধবার) সকাল আটটা থেকে অনির্দিষ্টকালের লাগাতার কর্মবিরতি ঘোষণা করেছেন শ্রমিক-কর্মচারী সংগঠনের নেতারা।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে বন্দর এলাকায় আয়োজিত এক অবরোধ কর্মসূচি থেকে এই নতুন কর্মসূচির ডাক দেন চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম খোকন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘নৌ-উপদেষ্টা আমাদের বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়েছেন। আমাদের লোকদের বদলি করছেন এবং মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে শাস্তির কথা বলছেন। সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে আগামীকাল সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি ঘোষণা করছি। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আমাদের এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।’ এর আগে মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতির ফলে দেশের প্রধান এই সমুদ্রবন্দরের পণ্য আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ইতোমধ্যে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। শ্রমিকদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে এনসিটি জেটি বিদেশি কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা না দেওয়া, বন্দর চেয়ারম্যানের পদত্যাগ এবং আন্দোলন কেন্দ্র করে দেওয়া সকল বদলির আদেশ বাতিল করা। বর্তমানে এনসিটি, চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ও জেনারেল কার্গো বার্থসহ সকল টার্মিনালে অপারেশনাল কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বন্দরের সামগ্রিক পরিস্থিতি স্থবির হয়ে পড়েছে।

এদিকে শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদের বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ বাধা প্রদান করেছে এবং আন্দোলনকারীরা কর্তৃপক্ষের দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলেছেন। এই অচলাবস্থার কারণে জেটিতে জাহাজ অপেক্ষমাণ থাকায় ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন এবং পোশাক খাতের রপ্তানি শিডিউল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে বিজিএমইএসহ সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক সংগঠনগুলো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে


জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে নিরাপত্তা প্রস্তুতি পর্যবেক্ষণে গাজীপুরে তিন বাহিনী প্রধান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষ্যে নিরাপত্তা প্রস্তুতি ও আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় পর্যালোচনা করতে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) গাজীপুর জেলা পরিদর্শন করেছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, নৌবাহিনী প্রধান অ্যাডমিরাল এম নাজমুল হাসান এবং বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন।

আইএসপিআর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে যে, তিন বাহিনী প্রধান বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের সম্মেলন কক্ষে ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি ঢাকা বিভাগের গাজীপুর, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ জেলার অসামরিক প্রশাসন ও বিভিন্ন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভায় অংশ নেন। উক্ত সভায় আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিন বাহিনী প্রধান পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা, শৃঙ্খলা, ধৈর্য ও নাগরিকবান্ধব আচরণের মাধ্যমে দায়িত্ব পালনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

এছাড়া তারা ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’ এর আওতায় মোতায়েনকৃত সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। পরিদর্শনকালে সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের পাশাপাশি অসামরিক প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


এনবিআরের ওয়েবসাইটে মিলবে এইচএস কোডভিত্তিক পণ্য আমদানির তথ্য

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আমদানি বাণিজ্য সংক্রান্ত তথ্য প্রাপ্তিকে সহজলভ্য করার লক্ষ্যে একটি বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এনবিআর মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, তরুণ উদ্যোক্তা, শিক্ষার্থী, বিনিয়োগকারী, বাণিজ্য গবেষক, ব্যবসায়ী ও সাংবাদিকদের দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে বাণিজ্যিক ও বন্ড সুবিধায় পণ্য আমদানির তথ্য সকলের ব্যবহারের জন্য এখন থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ওয়েবসাইটে নিয়মিত প্রকাশ করা হবে।

এরই ধারাবাহিকতায় গত সপ্তাহে এনবিআরের (nbr.gov.bd) ওয়েবসাইটের publication পোর্টালের customs লিংকে ডিসেম্বর ২০২৫ মাসের বাণিজ্যিক ও বন্ড সুবিধায় পণ্য আমদানির এইচএস কোড (HS Code) ভিত্তিক বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এই প্রকাশিত বিবরণীতে এইচএস কোডভিত্তিক শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী আমদানিকৃত পণ্যের পরিমাণ, ওজন ও মূল্যসংক্রান্ত তথ্য নিখুঁতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। আমদানি সংক্রান্ত তথ্য নিয়মিত প্রকাশের ফলে তথ্যপ্রাপ্তি আরও সহজ, উন্মুক্ত ও স্বচ্ছ হবে এবং এর মাধ্যমে তরুণ উদ্যোক্তা, শিক্ষার্থী, বিনিয়োগকারীসহ বিশ্লেষক ও গবেষকদের জন্য নির্ভরযোগ্য ডেটা ব্যবহারের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে।

এই উদ্যোগের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তুলনামূলক বাজারদর এবং মূল্যের ওঠানামা সম্পর্কে যেমন স্বচ্ছ ধারণা লাভ করা যাবে, তেমনি আমদানির প্রবণতা, মৌসুমি পরিবর্তন ও পণ্যের গতিবিধি বিশ্লেষণ করাও অনেক সহজ হবে। এটি দেশের বাণিজ্য কাঠামো, আমদানি নির্ভরতা, বন্ডেড সুবিধার আওতায় শিল্প উপকরণের প্রবাহ এবং রপ্তানিমুখী শিল্পের সহায়তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য বিশ্লেষণ, কার্যকর নীতি প্রণয়ন ও সঠিক ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত গ্রহণে এটি সহায়ক হবে। ট্রেড ফ্যাসিলিটেশনের জন্য গৃহীত সকল উদ্যোগ চলমান রাখার পাশাপাশি প্রতি মাসে নিয়মিতভাবে এই তথ্য প্রকাশের ব্যবস্থা জাতীয় রাজস্ব বোর্ড অব্যাহত রাখবে।


banner close