অমর একুশে বইমেলার দিন যতই অতিবাহিত হচ্ছে ততই এর আকর্ষণ বেড়ে চলেছে। এবার নানাবিধ কারণে প্রাণের মেলা ভিন্নরূপ পেয়েছে। বিশেষ করে নগরে স্বস্তির যান মেট্রোরেলের কারণে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর পাঠক-দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ছে। মেলায় প্রতিদিন শতাধিক নতুন বই আসার পাশাপাশি বেড়েছে দর্শনার্থীর সংখ্যা, সঙ্গে বাড়ছে বিক্রিও। দিন যত যাচ্ছে মেলার প্রাণ আরও বাড়ছে। আগামীকাল বসন্ত ও ভালোবাসা দিবসে বইমেলা যেন অন্যরকম আমেজ নিয়ে আসবে। বাংলা একাডেমির বহেড়াতলা বটগাছে কোকিলের সুর বলে দিচ্ছে প্রকৃতিতে ফাগুন চলে এসেছে। ঠিক যেমনিভাবে ফাগুনের এই আগুন বইমেলায়ও চলে আসতে শুরু করেছে। সব সময় মেলা ফাগুনের দিনগুলো থেকেই মূলত জমে ওঠে। এবার আরও নবজাগরণে প্রাণের মেলা জমেছে। কেননা গত দুই বছরের ঢিমেতালে চলা বইমেলা এবার পেয়েছে পুরোপুরি জমে ওঠার চিত্র। মেলায় প্রতিবারের মতো এবারও পাঠকদের আগ্রহের শীর্ষে রয়েছে উপন্যাস। এ ছাড়াও ঘুরেফিরে জনপ্রিয় লেখকদের বই বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রকাশক ও বিক্রয়কর্মীরা।
মেলা ঘুরে দেখা গেছে, পাঠকরা স্টলে স্টলে গিয়ে উপন্যাসের বই খুঁজে বেড়াচ্ছেন। প্রিয় লেখকের প্রকাশিত বই পেলেই তা সংগ্রহ করে নিজেদের ব্যাগে গুঁজে নিচ্ছেন বইপ্রেমীরা। এদিকে পূর্ববর্তী বছরগুলোর মতো এবারও হুমায়ূন আহমেদ, হাসান আজিজুল হক, আনিসুল হক, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ইমদাদুল হক মিলন, সেলিনা হোসেন, মুহম্মদ জাফর ইকবাল, আসিফ নজরুল, মুনতাসীর মামুন, মোশতাক আহমেদ, শাহাদুজ্জামান, হরিশংকর জলদাসসহ বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় লেখকের বই বেশি বিক্রি হচ্ছে। তবে মেলায় হুমায়ূন আহমেদের বই-ই বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে প্রকাশনা সূত্রে জানা যায়। জনপ্রিয় এই লেখকের পুরাতন বইগুলো পাঠকরা এখনো কিনছেন। মেলায় প্রতিদিন হুমায়ূনপ্রেমীরা খুঁজতে খুঁজতে চলে যাচ্ছেন অন্যপ্রকাশে। এই প্রকাশনীতে কিংবদন্তি এই কথাসাহিত্যিকের লেখা উপন্যাস দেয়াল, মাতাল হাওয়া, নন্দিত নরকে, শঙ্খনীল কারাগার, মধ্যাহ্ন অখণ্ড বেশি কিনছেন বলে অন্যপ্রকাশ সূত্রে জানা যায়।
সরেজমিন ঘুরে এবং বিভিন্ন স্টলের বিক্রয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারও মেলায় বেশি জনপ্রিয় লেখকদের গল্প-উপন্যাস বিক্রি হচ্ছে। নতুন বইয়ের সঙ্গে পুরাতন কালজয়ী বইও বিক্রিতে রয়েছে শীর্ষে।
তাম্রলিপি প্রকাশনীর বিজনেস ডেভেলপমেন্ট এক্সিকিউটিভ মুনালিসা জানান, এ বছর ৪৫টি নতুন বই প্রকাশ করেছে প্রকাশনীটি। নতুন বইয়ের সঙ্গে পুরাতন বইও বেশ বিক্রি হচ্ছে। তার মধ্যে হুমায়ূন আহমেদের শ্রেষ্ঠ হিমু, শ্রেষ্ঠ মিছির আলি ও কিশোর সমগ্র বই বিক্রিতে ওপরে রয়েছে।
কাকলী প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী হুমায়ন কবীর জানান, রকিব হাসানের গোয়েন্দা সিরিজ ও সায়েন্স ফিকশন চলছে বেশি। আর হুমায়ূন আহমেদের ভক্তরা তার বই সমগ্র তো সংগ্রহ করছেই।
অনন্যা প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী আসিফ মাহমুদ বলেন, ইমদাদুল হক মিলনের চোর এসে গল্প করেছিল, অন্ধকারে নামতে পারেনি বই দুটোর বিক্রি তুলনামূলকভাবে বেশি। এ ছাড়াও তৌহিদুর রহমানের নিতু বলছি বইটির তৃতীয় মুদ্রণ চলছে। মুনতাসীর মামুনের ঢাকা সমগ্র বইটিও পাঠকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। এ ছাড়াও মুনতাসীর মামুনের বঙ্গবন্ধুর জীবন ও লিবারেশন ওয়্যার বই দুটি এ বছর প্রকাশিত হয়েছে। বইগুলো বিক্রিও হচ্ছে বেশ।
অন্বেষা প্রকাশনের বিক্রয়কর্মী রাফিজা নওশীন জানান, সুজন দেবনাথের হেমলকের নিয়ন্ত্রণ ও জাহিদ হাসানের দেশভাগ ১৯৪৭ বেশি বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া হুমায়ূন আহমেদের তিন বিচিত্র, চন্দ্রসখা, মিসির আলীর ভুবন, তোমাদের জন্য ভালোবাসা, নীল হাতি, সবাই গেছে বনে উপন্যাসগুলো একটি আরেকটির চেয়ে কম বিক্রি হচ্ছে না। এ ছাড়াও সাদাত হোসেনের আগুনডানা মেয়ে বইটিও বেশ বিক্রি হচ্ছে।
অন্যপ্রকাশের স্টল ইনচার্জ তৌহিদুল ইসলাম জানান, উপন্যাস আর হুমায়ন আহমেদের বইয়ে পাঠকদের চাহিদা- দুই ক্ষেত্রেই সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়াও রউফুল আলমের দেশ, সফল মন্ত্র, আহমদ ছফার যদ্যপি আমার গুরু, অর্ধেক নারী অর্ধেক ইশ্বরী বইগুলো বেশ চলছে। তবে ক্রেতাদের চাহিদা উপন্যাস।
বইমেলায় ঘুরতে আসা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শরমিলা জান্নাত বইগুলো ঘাটতে ঘাটতে বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদ দেশের সাহিত্য অঙ্গনে যে জায়গা সৃষ্টি করে গেছেন, তা এখনও কেউ পূরণ করতে পারেননি। পুরোনোরা তো বটেই, নতুন প্রজন্মের পাঠকও এসে এখনো হুমায়ূন আহমেদের বই খোঁজ করেন।’
মেলায় এখনো কালজয়ী সব সাহিত্যিকের লেখা বই কিনছেন বইপ্রেমীরা। এর মধ্যে রয়েছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, শওকত আলী, বেগম রোকেয়া, মীর মশাররফ হোসেন, উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, জীবনানন্দ দাশ, স্বর্ণকুমারী দেবী, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, জসীম উদ্দীন, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, আবু ইসহাক, আহমেদ ছফাসহ হুমায়ুন আজাদের লেখা সব বই। গুণী এই সাহিত্যিকদের লেখা বিভিন্ন গল্প, উপন্যাস ও সমগ্র সংগ্রহে রাখতে মেলায় এসে বই কিনছেন বইপ্রেমীরা।
মেলা ঘুরে দেখা গেছে, এখনো পাঠকরা যেসব কালজয়ী বই মেলায় কিনছেন, তার মধ্যে রয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষের কবিতা, গোড়া, শওকত আলীর প্রদোষে প্রাকৃতজন, আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের খোয়াবনামা, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবি, সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহর লালসালু, জহির রায়হানের হাজার বছর ধরে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনী, সৈয়দ শামসুল হকের খেলারাম খেলে যা ও নিষিদ্ধ লোবান, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রথম আলো, সেই সময় এবং পূর্ব-পশ্চিম, হুমায়ূন আহমেদের নন্দিত নরকে, শঙ্খনীল কারাগার এবং জোৎস্না ও জননীর গল্প, হুমায়ুন আজাদের নারী ও ছাপ্পান্নো হাজার বর্গমাইল, আবু ইসহাকের সূর্য দীঘল বাড়ি, হাসান আজিজুল হকের আগুনপাখি, মানিক বন্দোপাধ্যায়ের পদ্মা নদীর মাঝি ও পুতুল নাচের ইতিকথা, ইমদাদুল হক মিলনের নূরজাহান, সৈয়দ মুজতবা আলীর দেশ বিদেশে, শওকত ওসমানের কৃতদাসের হাসি, আনিসুল হকের চার কিশোর গোয়েন্দা, শহীদুল্লাহ কায়সারের সারেং বৌ, সংশপ্তক, জাহানারা ইমামের একাত্তরের দিনগুলি, বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের আদর্শ হিন্দু হোটেল, মুহম্মদ জাফর ইকবালের লেখা ফেরা, আহমদ ছফার যদ্যপি আমার গুরু ও শাহাদুজ্জামানের ক্রাচের কর্নেলসহ আরও কিছু বই। এই বইগুলো প্রকৃত বইপ্রেমীরা দেখলেই তা সংগ্রহে রাখার জন্য হলেও কিনে নিচ্ছেন বলে জানান মেলার বিভিন্ন স্টলের বিক্রয়কর্মীরা।
এখনো জমেনি লিটলম্যাগ চত্বর
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চের পাশে অবস্থিত লিটল ম্যাগ চত্বর ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড় নেই মেলার এ অংশে। যদিও বিক্রয় প্রতিনিধিরা বলছেন, মেলার অন্য অংশ থেকে বরাবরই এ অংশে ভিড় কম থাকে। সেখানকার স্টলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লোকজন এ চত্বরে কম যায়। তেমন বিক্রিও হয় না। বইমেলায় একসময় অন্যতম আকর্ষণ ছিল তারুণ্যের এ ‘লিটল ম্যাগ চত্বর’। মেলার এই অংশে নবীন লেখকদের প্রকাশিত বিভিন্ন ম্যাগাজিন পাঠক-দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরেন লেখক, প্রকাশক। কিন্তু সময়ের আবর্তে একসময়কার তুমুল জনপ্রিয় এই চত্বরে এখন কেবলই হাহাকার। বারবার এর স্থান পরিবর্তন হলেও হারানো গৌরবের দেখা পাচ্ছে না এই চত্বর।
জনপ্রিয় সব লেখক, প্রকাশনী ও পত্রিকার ভিড়ে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে সত্তরের দশকের গণজাগরণের চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত লিটল ম্যাগাজিনগুলো। বিপ্লবী ধারার এসব ম্যাগাজিনের স্থান দখল করে নিয়েছে পত্রিকাগুলো। কিন্তু এতসব বাধা বিপত্তির মাঝেও এখনো টিকে আছে কিছু ম্যাগাজিন। দেড় দশকের বেশি সময় ধরে বাংলা একাডেমির বহেড়াতলায় স্থান পাওয়া বইমেলার অন্যতম আকর্ষণ ‘লিটল ম্যাগ চত্বর’ কখনো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মাঝখানে, কখনো উত্তর পাশে আবার কখনো কালি মন্দিরের পাশে স্থান বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। তবে এ বছর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চের উত্তরাংশের অন্ধকারাচ্ছন্ন জায়গায় স্থান হয়েছে লিটল ম্যাগের। ফলে বিগত দিনের ধারাবাহিক খরা তাতে লেগেই আছে।
আজকের বইমেলা :
আজকের মেলা বিকেল ৩টায় শুরু হয়ে শেষ হয় রাত ৯টায়। ১২তম দিনে মেলায় নতুন বই এসেছে ১১৫টি। বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় জন্মশতবার্ষিক শ্রদ্ধাঞ্জলি : হেনা দাস শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জোবাইদা নাসরীন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ঝর্না রহমান এবং ফওজিয়া মোসলেম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শিরীণ আখতার।
‘লেখক বলছি’ অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন কথাসাহিত্যিক সালমা বাণী, কবি ফারহানা রহমান, গবেষক মিলটন কুমার দেব এবং কথাসাহিত্যিক ইকবাল খন্দকার।
আগামীকালের বইমেলা :
আগামীকাল ১৩তম দিন মেলা শুরু হবে বিকেল ৩টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে স্মরণে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ শীর্ষক আলাচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপনা করবেন আহমদ মোস্তফা কামাল। আলাচনায় অংশগ্রহণ করবন হরিশংকর জলদাস এবং ফারজানা সিদ্দিকা। অনুষ্ঠান সভাপতিত্ব করবেন সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম।
চট্টগ্রামকে দেশের অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করে সেখানকার ব্যবসায়ীদের বিদ্যমান সকল সমস্যা সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। রোববার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিএমসিসিআই) এক প্রতিনিধি দলের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এই আশ্বাস প্রদান করেন।
সভায় চট্টগ্রামের শিল্প ও বাণিজ্যের প্রসার, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে গতিশীলতা আনা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করাসহ ব্যবসা পরিচালনার ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও কারিগরি প্রতিবন্ধকতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। ব্যবসায়ী নেতারা এই সময় চট্টগ্রাম অঞ্চলের বর্তমান বাণিজ্যিক সংকটগুলো মন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন।
আলোচনায় সীতাকুণ্ডের বারবকুণ্ডু এলাকায় অবস্থিত ওজন স্কেলটি নিয়ে ব্যবসায়ীরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তাঁরা জানান, এই স্কেলটি পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে বড় ধরণের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে, যা দ্রুত সরিয়ে নেওয়া জরুরি। এছাড়া এলসি (LC) পেমেন্টের ক্ষেত্রে কোনো কোনো ব্যাংক মূল নথি বা ডকুমেন্ট ছাড়াই অর্থ পরিশোধ করছে বলে অভিযোগ করেন ব্যবসায়ীরা। এই ঝুঁকি এড়াতে মূল নথি যাচাই ছাড়া এলসি পেমেন্ট বন্ধে কঠোর আইন ও ব্যাংকগুলোকে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা প্রদানের দাবি জানান তাঁরা। পাশাপাশি, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদের হারের কারণে ব্যবসা পরিচালনার খরচ বেড়ে যাওয়ায় সুদের হার সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনারও অনুরোধ জানানো হয়।
ব্যবসায়ীদের বক্তব্য শোনার পর আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, জাতীয় অর্থনীতিতে চট্টগ্রামের ভূমিকা অপরিসীম এবং এখানকার বাণিজ্যিক পরিবেশ উন্নত করতে সরকার এরই মধ্যে কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে। তিনি ওজন স্কেল ও এলসি সংক্রান্ত সমস্যাগুলো খতিয়ে দেখে দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন।
সভায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন চেম্বারের প্রেসিডেন্ট আলহাজ খলিলুর রহমান, সহ-সভাপতি মাহবুবুর রহমান, আব্দুস সালাম ও জসীমউদ্দিন চৌধুরীসহ পরিচালনা পর্ষদের অন্যান্য সদস্যগণ উপস্থিত ছিলেন।
পেপারবিহীন, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর সংসদ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ই-পার্লামেন্ট সিস্টেম বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
আজ (রোববার) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের লাইব্রেরি কমিটির সভাপতি ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবং কমিটির সদস্য নায়াব ইউসুফ আহমেদ ও এ বি এম মোশাররফ হোসেন এ বিষয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
সাক্ষাৎকালে চলতি সেপ্টেম্বর মাসের শেষের দিকে ই-পার্লামেন্ট সিস্টেমের ওপর একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপনের জন্যও স্পিকার নির্দেশনা প্রদান করেন। এতে প্রস্তাবিত সিস্টেমের কার্যপদ্ধতি, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, বাস্তবায়ন পরিকল্পনাসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হবে।
সাক্ষাৎকালে সংসদের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল, আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করতে ই-পার্লামেন্ট সিস্টেম বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। প্রস্তাবিত এ ব্যবস্থায় বাংলা ও ইংরেজি ভাষার সংস্করণ থাকবে। এর মাধ্যমে সংসদীয় নথি ব্যবস্থাপনা, তথ্য সংরক্ষণ ও আদান-প্রদান আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর হবে।
ই-পার্লামেন্ট সিস্টেম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ডেপুটি স্পিকারকে চেয়ারম্যান করে একটি কমিটি গঠনের জন্য স্পিকার নির্দেশনা দিয়েছেন। কমিটি প্রস্তাবিত সিস্টেমের কাঠামো, বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া, প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত অবকাঠামো এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করবে।
এসময় উল্লেখ করা হয়, ই-পার্লামেন্ট সিস্টেম বাস্তবায়ন বর্তমান সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হবে। এ ব্যবস্থা চালু হলে সংসদের বিভিন্ন কার্যক্রম ও নথি ডিজিটাল ব্যবস্থায় পরিচালিত হবে। ফলে কাগজের ব্যবহার কমার পাশাপাশি সময় ও প্রশাসনিক ব্যয় সাশ্রয় এবং সংসদীয় কার্যক্রমে গতি, দক্ষতা ও সমন্বয় বৃদ্ধি পাবে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও অন্যান্য সহযোগিতা নিশ্চিত করতে ইউএনডিপি, দাতা দেশ ও দাতা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী প্রকল্পের পরবর্তী পর্যায়ে তাদের সহযোগিতা গ্রহণ করা হবে। পেপারবিহীন ও প্রযুক্তিনির্ভর সংসদ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ই-পার্লামেন্ট সিস্টেম বাস্তবায়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ ও যুগোপযোগী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজমুজ্জামান ভূঁইয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেছেন। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে তাঁকে শপথ পাঠ করান প্রধান বিচারপতি ড. জুবায়ের রহমান চৌধুরী। সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল মুহাম্মদ হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী সম্পূর্ণ অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন।
শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতিগণ, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব, পিএসসির নবনিযুক্ত ও বর্তমান সদস্যবৃন্দ এবং সুপ্রিম কোর্ট রেজিস্ট্রির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ড. নাজমুজ্জামান ভূঁইয়া পিএসসির দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে দেশের সরকারি চাকরিতে জনবল নিয়োগ ও প্রশাসনিক সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
জাতির প্রকৃত পরিচয় তার সংস্কৃতি। সংস্কৃতি মানুষকে বিভক্ত নয়, বরং ঐক্যবদ্ধ করে। সাংস্কৃতিক ঐক্যই সম্প্রীতির সবচেয়ে বড় শক্তি বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী।
আজ বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সংস্কৃতি মন্ত্রীর দপ্তরে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে অনুষ্ঠিত বৈঠকে সংস্কৃতি মন্ত্রী এ কথা বলেন।
প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধন, নজরুল বর্ষ উদযাপন, শিল্পী ও গবেষক বিনিময়, ক্ল্যাসিক্যাল সংগীত, লোকসংস্কৃতি, তরুণ প্রতিভা বিকাশ এবং সামুদ্রিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে যৌথ উদ্যোগ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সংস্কৃতি মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক কেবল প্রতিবেশী রাষ্ট্রের নয়, এটি আত্মার সম্পর্ক। দুই দেশের মানুষের ভাষা, সাহিত্য, সংগীত, লোকঐতিহ্য ও মানবিক মূল্যবোধের মধ্যে যে গভীর সেতুবন্ধন রয়েছে, সেটিই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি।
সংস্কৃতি মন্ত্রী আরো বলেন, উপমহাদেশের কিংবদন্তি শিল্পী মোহাম্মদ রফি, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, অলকা ইয়াগনিক ও পণ্ডিত রবিশঙ্করের শিল্পকর্ম দুই দেশের কোটি মানুষের হৃদয়ে সমানভাবে অনুরণিত হয়েছে। তাঁদের সৃষ্টিশীল অবদান প্রমাণ করে যে শিল্প ও সংস্কৃতি সীমান্তের গণ্ডি অতিক্রম করে মানুষের হৃদয়ের ভাষায় কথা বলে।
তিনি চলমান নজরুল বর্ষ উপলক্ষে বাংলাদেশে আয়োজিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ভারতের খ্যাতিমান নজরুল গবেষক, শিল্পী ও সংস্কৃতিবিদদের অংশগ্রহণের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান। একই সঙ্গে তিনি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, লালন শাহ এবং বাংলা লোকসংগীতকে দুই দেশের অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী বলেন, বর্তমান বিশ্বে ধর্মীয় উগ্রবাদ, অসহিষ্ণুতা ওসাম্প্রদায়িক বিভাজনের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক জাগরণই সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ। সাহিত্য, সংগীত, নাটক ও লোকসংস্কৃতির মাধ্যমে মানবিক মূল্যবোধ ও সম্প্রীতির চর্চা জোরদার করতে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
সাক্ষাতে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী, দুই দেশের মধ্যে একটি ক্ল্যাসিক্যাল মিউজিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন। তিনি প্রাথমিক পর্যায়ে ভারত থেকে দুইজন ক্ল্যাসিক্যাল শিল্পীকে আমন্ত্রণ জানিয়ে বাংলাদেশে কর্মশালা আয়োজনের প্রস্তাব করেন। এছাড়া বাংলাদেশ-ভারত সাংস্কৃতিক সহযোগিতা চুক্তি নবায়নের মাধ্যমে নতুন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।
সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, নবনিযুক্ত সংস্কৃতি সচিব মিজ ইয়াসমিন বেগমসহ, ভারতীয় হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার ও ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারের ডিরেক্টর এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, দুই দেশের ' ইয়াং ট্যালেন্টদের জন্য যৌথ প্রশিক্ষণ, রেসিডেন্সি প্রোগ্রাম ও সাংস্কৃতিক বিনিময় কার্যক্রম চালু করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও সুদৃঢ় হবে। এছাড়া বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে কনজারভেশন অব মেরিটাইম কালচার বা সামুদ্রিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ গবেষণা ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগ গ্রহণেরও যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক আত্মার সম্পর্ক। খাদ্যাভ্যাস, ভাষা, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বহু ক্ষেত্রে আমাদের গভীর অভিন্নতা রয়েছে। বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সংগীত ও সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের দেশ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
হাইকমিশনার কাজী নজরুল ইসলামের জন্মস্থান চুরুলিয়ায় আরো ব্যাপক পরিসরে আন্তর্জাতিক মানের অনুষ্ঠান আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন এবং সেই আয়োজনে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থাকার ইচ্ছা ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নিয়মিত যৌথ অনুষ্ঠান করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
রোহিঙ্গা সংকটকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ের পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য এক বড় হুমকি হিসেবে অভিহিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ‘ইনস্টিটিউট অব গ্লোবাল কোঅপারেশন ফাউন্ডেশন’ (আইজিসি ফাউন্ডেশন) আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এই মন্তব্য করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকট আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি। মাদকসহ বিভিন্ন ইস্যুতে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর নেতিবাচক পরিবেশও আইনশৃঙ্খলার জন্য একটি উদ্বেগের বিষয়। ক্যাম্পের সীমানা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করাও জরুরি।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, রোহিঙ্গাদের এই বিপুল উপস্থিতির কারণে স্থানীয় কক্সবাজারের সাধারণ মানুষকে চরম ভোগান্তি ও নানাবিধ সংকটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে। ক্যাম্পের জনঘনত্ব যত বাড়বে, আইনশৃঙ্খলার ঝুঁকি ও মানবিক সংকট ততটাই তীব্র হবে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
রোহিঙ্গাদের টেকসই সমাধানের পথ নিশ্চিত করার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর আগ পর্যন্ত মানবিক সহায়তা খুবই জরুরি। তবে এই মানবিক সহায়তা অবশ্যই একটি সাময়িক ব্যবস্থা, প্রত্যাবাসনের বিকল্প নয়।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, মর্যাদাপূর্ণ ও দ্রুত প্রত্যাবাসনই একমাত্র সমাধান। এ লক্ষ্যে বিশ্বের প্রভাবশালী রাষ্ট্রসমূহ এবং জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সক্রিয় সমর্থন ও সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ।
পরিশেষে, আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন যে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ইস্যুটি যেন বিশ্বনেতাদের গুরুত্বের তালিকায় থাকে এবং অন্য কোনো বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এই মানবিক সংকটটি চাপা না পড়ে যায়।
রাজধানীর চারপাশের নদ-নদী রক্ষা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বাসযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে দেশবাসীকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে সচিবালয়ে ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর দূষণ নিয়ন্ত্রণ, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং নৌপথের উন্নয়ন সংক্রান্ত এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা সভায় তিনি এই নির্দেশনা প্রদান করেন।
সভায় বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষ্যা, ধলেশ্বরী ও বালু নদীর দূষণ রোধ, বর্জ্য অপসারণ এবং নাব্যতা ফিরিয়ে আনার জন্য গৃহীত পূর্ববর্তী পরিকল্পনাগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি নদী সংলগ্ন খাল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং ঢাকার চারপাশে বৃত্তাকার নৌপথের উন্নয়নের বিষয়গুলো বিশদভাবে পর্যালোচনা করেন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার মধ্যে সমন্বয় নিশ্চিত করে প্রকল্পগুলোর কাজ এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যে ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে বলেন, “নিজেদের পাশাপাশি পরবর্তী প্রজন্মের জন্যও দূষণমুক্ত নদী ও একটি বাসযোগ্য পরিবেশ রেখে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে। এ জন্য শুধু সরকারি নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করলে হবে না, ব্যক্তিগত দায়িত্ববোধ থেকেও কাজ করতে হবে।” তিনি হুঁশিয়ারি দেন যে, পরিবেশ সুরক্ষায় কোনো প্রকার গাফিলতি সহ্য করা হবে না।
উক্ত সভায় স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, পরিবেশ মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি এবং নৌপরিবহন মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমসহ মন্ত্রিসভার বেশ কয়েকজন সদস্য ও সংশ্লিষ্ট প্রতিমন্ত্রীরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, নৌবাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসকরাও এই সভায় অংশগ্রহণ করেন।
চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনকারী হাজীদের জন্য বড় সুখবর দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। সরকারি অধীনে হজ করা ৪ হাজার ৩৪১ জন হাজীর অনুকূলে ব্যয়ের উদ্বৃত্ত মোট ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) এই তথ্য নিশ্চিত করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সরকারি ব্যবস্থাপনার হজযাত্রীদের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের মধ্যে সৌদি আরব অংশে যে পরিমাণ টাকা খরচ হয়নি, সেই অব্যয়িত অর্থই এখন হাজীদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ধর্মবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার (লিংকন)। মূলত স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং হাজিদের প্রাপ্য বুঝিয়ে দিতেই সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে বলে সভায় উল্লেখ করা হয়।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশনে সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ পররাষ্ট্রনীতির আওতায় দেশের জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও উন্নয়নের সুযোগ বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘আসন্ন জাতিসংঘ সম্মেলন ও বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিং’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন। সেন্টার ফর নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশি এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, এবারের অধিবেশন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি একটি নতুন যাত্রা, নতুন সম্ভাবনা ও নতুন আকাক্সক্ষার প্রতীক।
তিনি জানান, নতুন গণতান্ত্রিক সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিচ্ছেন। সরকারের ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ পররাষ্ট্রনীতির আলোকে প্রধানমন্ত্রী বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশকে একটি গণতান্ত্রিক, আত্মবিশ্বাসী, দায়িত্বশীল এবং সম্ভাবনাময় রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করবেন।
আগামী ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের উচ্চপর্যায়ের সম্মেলন শুরু হতে যাচ্ছে। এবারের অধিবেশনে দারিদ্র্য বিমোচন, জলবায়ু পরিবর্তন, মহামারি প্রতিরোধ, পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ এবং টেকসই উন্নয়ন অধিকার ঘোষণার ৪০তম বার্ষিকীর মতো গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে।
শামা ওবায়েদ বলেন, এবারের অধিবেশনটি বাংলাদেশের জন্য বাড়তি তাৎপর্য বহন করছে। কারণ বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সাধারণ পরিষদের এই অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন।
তার এই নির্বাচনকে জাতীয় গৌরবের বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাইপ্রাস প্রায় এক দশক ধরে এই পদের জন্য প্রচারণা চালালেও বাংলাদেশ এই সভাপতিত্ব লাভ করেছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিদেশে বাংলাদেশের ৮৩টি মিশনের সমন্বিত প্রচেষ্টা এবং দেশে গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও স্থিতিশীলতা ফিরে আসার কারণেই এই কূটনৈতিক সাফল্য সম্ভব হয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, বিশ্বের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মিশনগুলোতে নারীসহ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের সাহস, সহনশীলতা ও আত্মত্যাগের কারণে জাতিসংঘে বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বিশেষ সম্মানজনক অবস্থানে রয়েছে।
অর্থনৈতিক কূটনীতির বিষয়ে শামা ওবায়েদ বলেন, সরকার ব্যাংকিং খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ফিরিয়ে আনতে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারী ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে কাজ করছে। বিনিয়োগকারীদের ওয়ান-স্টপ সেবা দিতে সরকার ‘বাংলাদেশ ইনভেস্ট’ ফ্রেমওয়ার্ক চালু করেছে এবং কোম্পানি নিবন্ধনসহ বিনিয়োগ সংক্রান্ত অন্যান্য প্রক্রিয়ায় ডিজিটাল সুবিধা সম্প্রসারণ করছে।এছাড়া নাগরিকদের সব তথ্য একটি একক ডেটাবেজে নিয়ে আসতে ‘ওয়ান সিটিজেন, ওয়ান কার্ড’ উদ্যোগের কাজ চলছে।
তিনি জানান, প্রবাসী বাংলাদেশিদের সেবা সহজতর করতে প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে ২০২৭ সালের মধ্যে ২ লাখ ‘প্রবাসী কার্ড’ ইস্যু করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। বিশ্বজুড়ে বাংলাদেশের বিনিয়োগের সুযোগ, ঐতিহ্য, পর্যটন, সৃজনশীল শিল্প এবং রপ্তানিযোগ্য পণ্যগুলোর প্রচারণায় প্রবাসীদের নিজস্ব নেটওয়ার্ক ব্যবহারের আহ্বান জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, অনিয়মিত অভিবাসন এবং মানব পাচারকারী চক্রের নানাবিধ কর্মকাণ্ড বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে।
তিনি জানান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ইতিহাসে এই প্রথম একটি পৃথক মাইগ্রেশন উইং (অভিবাসন শাখা) চালু করা হয়েছে। নতুন এই শাখা অবৈধ অভিবাসন, প্রবাসীদের নানা সমস্যা এবং অভিবাসন সংক্রান্ত অন্যান্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কাজ করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
শামা ওবায়েদ বলেন, অবৈধ অভিবাসন রোধ এবং বৈধ উপায়ে দক্ষ শ্রমিকদের বিদেশে কর্মসংস্থানকে উৎসাহিত করতে পররাষ্ট্র ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় যৌথভাবে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সাথে কাজ করছে। ইতোমধ্যে যেসব জেলা থেকে অবৈধ উপায়ে বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা বেশি, সেগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে এবং গ্রাম, ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম শুরু করা হয়েছে।
ব্যবসা, পর্যটন, কর্মসংস্থান ও অন-অ্যারাইভাল ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করতে মন্ত্রিসভা সম্প্রতি বাংলাদেশের ভিসা নীতিতে পরিবর্তন এনেছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের লক্ষ্য হলো বাংলাদেশকে আরও বেশি অতিথিপরায়ণ ও বিনিয়োগবান্ধব করে তোলা। এর পাশাপাশি বিমানবন্দর সেবা ও পর্যটন খাতের সংস্কারের কাজও চলছে বলেও তিনি জানান।
জ্বালানির উৎস বহুমুখীকরণ এবং একক কোনো বাজারের ওপর নির্ভরতা কমানোর ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, সরকার তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) অতিরিক্ত উৎসের পাশাপাশি আফ্রিকার দেশগুলোর সাথে জ্বালানি সহযোগিতার সম্ভাবনা যাচাই করছে। এছাড়া সৌরবিদ্যুৎ, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং ব্লু-ইকোনমি বা সুনীল অর্থনীতির সুযোগগুলোকেও সরকার এগিয়ে নিচ্ছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে ইতোমধ্যে শতভাগ সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনা হয়েছে এবং অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানেও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণের চেষ্টা চলছে।
রপ্তানি বহুমুখীকরণের ওপর আলোকপাত করে তিনি বলেন, সরকার ক্রিয়েটিভ ইকোনমি বা সৃজনশীল অর্থনীতি, বিশেষ করে নারী নেতৃত্বাধীন উদ্যোগ, ঐতিহ্যবাহী শিল্পকলা, মসলিন, কুটির শিল্প এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে।
প্লাস্টিকের বিকল্প হিসেবে পাট একটি আদর্শ পরিবেশবান্ধব পণ্য উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বাংলাদেশ পাট ও পাটজাত পণ্যের প্রচারণা চালাবে। এছাড়া তুরস্কে অনুষ্ঠেয় আসন্ন জলবায়ু সম্মেলনেও টেকসই প্রাকৃতিক আঁশ হিসেবে পাটকে তুলে ধরতে একটি স্টল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণে এ বিষয়ে একটি বিশেষ অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ, আরাকান আর্মি, আঞ্চলিক শক্তি এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন স্বার্থের সংঘাতের কারণে এই সংকট দিন দিন আরও জটিল হয়ে উঠছে।
‘আন্তর্জাতিক চাপ ছাড়া এই সমস্যার সমাধান করা অত্যন্ত কঠিন হবে’ উল্লেখ করে তিনি টেকসই সমাধানের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন আদায়ে প্রবাসী বাংলাদেশি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে আর কেবল বন্যা, দুর্যোগ কিংবা অনথিভুক্ত অভিবাসীদের ফেরত পাঠানোর দেশ হিসেবে তুলে ধরা ঠিক হবে না। পর্যটন, ব্যবসা এবং বিনিয়োগে বাংলাদেশের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে এবং বিশ্ব মানচিত্রে দেশটিকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করার সুযোগ আমাদের আছে।
বর্তমান সরকার প্রকৃত সংস্কারে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, অর্থবহ পরিবর্তনের জন্য সময়ের প্রয়োজন এবং এর জন্য নাগরিক, ব্যবসায়ী, সুশীল সমাজ ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহযোগিতা অপরিহার্য।
তিনি বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশকে সঠিক উপায়ে ব্র্যান্ডিং করার চেষ্টা করছি। সরকার একা সবকিছু করতে পারে না, আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’
অনুষ্ঠানে সেন্টার ফর সেন্টার ফর নন-রেসিডেন্ট বাংলাদেশির চেয়ারম্যান এম এস সেকিল চৌধুরী বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে বাংলাদেশের ইতিবাচক উন্নয়নগুলো তুলে ধরতে তাদের বার্ষিক ‘ওয়ার্ল্ড কনফারেন্স সিরিজ’-এর অংশ হিসেবে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এই উদ্যোগের লক্ষ্য বৈশ্বিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা জোরদার এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশে বিনিয়োগ ও বৈধ পথে রেমিট্যান্স পাঠাতে উৎসাহিত করা।
সূত্র: বাসস
রোদ, বৃষ্টি কিংবা গভীর রাত, যাই হোক না কেন, প্রতিদিনই দুটি নির্দিষ্ট সময়ে কিছু মানুষ রাস্তার পাশে একই জায়গায় ঠায় দাঁড়িয়ে থাকেন, শুধু একজন মানুষকে দেখার অপেক্ষায়।
তাঁর গাড়ি কখন সে পথ দিয়ে যাবে কারও সেটা ঠিক জানা নেই, তবুও প্রতিদিনের আসা-যাওয়ার রুটিন মাথায় রেখে তারা সকালে ও রাতে প্রিয় সেই মানুষটিকে দেখার প্রতীক্ষায় থাকেন। বহুল কাঙ্ক্ষিত সেই ব্যক্তি বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষের নয়নমণি, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
দেশের প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে প্রতিদিন একই জায়গায় ঠায় দাঁড়িয়ে থাকেন তারা। অপেক্ষা, প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি কখন এই পথ দিয়ে যাবে। প্রত্যাশা একটাই, প্রিয় তারেক রহমানকে এক নজর দেখা। তাদের কেউ কেউ প্রথম দিন থেকেই অফিসে যাওয়ার পথে দাঁড়িয়ে ছিলেন, এখনও থাকেন। আবার কেউ জেনে নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতের পথ।

আবার কখনো দেখা যায়, রিকশার হ্যান্ডেলে হাত রেখে কেউ দাঁড়িয়ে আছেন, কেউ দোকানের সামনে, কেউবা ফুটপাতে নিত্যকার ব্যস্ততার মধ্যেও অপেক্ষা করেন। তাদের অপেক্ষা, সেই কাঙিক্ষত ক্ষণটির জন্য। গাড়ির ভেতরে থাকা মানুষটিকে একবার চোখের দেখা দেখবেন বলে।
দিনের পর দিন একই জায়গায় দাঁড়ানো এই মানুষগুলো এখন প্রধানমন্ত্রীরও চেনা মুখ। গাড়িবহর সেই জায়গাগুলোয় পৌঁছালে গতি একটু ধীর হয়। রাস্তার পাশ থেকে হাত নাড়িয়ে শুভেচ্ছা জানান তারা। গাড়ির ভেতর থেকেও প্রধানমন্ত্রী হাত উঠিয়ে সাড়া দেন হাসিমুখে।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, রমনা থানার পাশে যমুনা ব্যাংকের একটি এটিএম বুথে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন পাবনার এক বৃদ্ধ। প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি এই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় হাতে ধানের শীষ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখে, হাত নেড়ে অভিবাদন জানিয়ে তারপর নাশতা সেরে কাজে যোগ দিতেন।

তিনি বলেন, এখন এটিএম বুথটি স্থায়ীভাবে বন্ধ। চাকরিটিও আর নেই তার। তবু প্রতিদিন সিকিউরিটি গার্ডের সেই ইউনিফর্ম পরে, হাতে ধানের শীষ নিয়ে তিনি চলে আসেন পুরোনো জায়গাটিতে। দাঁড়িয়ে থাকেন প্রধানমন্ত্রীর অপেক্ষায়। একসময় গাড়িবহরটি সামনে আসে। কয়েক সেকেন্ডের দেখা। এই কয়েক মুহূর্তের জন্যই তার এই দীর্ঘ প্রতীক্ষা। দেখা হওয়ার পর মনে একরাশ প্রশান্তি নিয়ে নাশতা সারেন তিনি। চলে যান নিজ গন্তব্যে সেই বৃদ্ধ। এ যেন পথের পাশে অপেক্ষমাণ মানুষ, আর চলন্ত গাড়ির ভেতরের মানুষটির মধ্যে গড়ে ওঠা এক অকৃত্রিম ভালোবাসারই বহিঃপ্রকাশ।

আতিকুর রহমান রুমন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর যাতায়াতের পথে বনানীর দুবাই মার্কেটের কাছে নিয়মিত অপেক্ষা করেন দুজন রিকশাচালক। প্রতিদিনের জীবিকার ব্যস্ততার মধ্যেও প্রধানমন্ত্রীর গাড়ি যাওয়ার অপেক্ষায় থাকেন তারা। গাড়ি কাছাকাছি এলে চোখের তারায় এক অদ্ভুত দ্যুতি খেলে যায়, রচিত হয় এক আবেগময় মুহূর্ত। এ যেন অপেক্ষা আর চোখের দেখায় গড়ে ওঠা হৃদয়ের সংযোগ।
তিনি বলেন, বনানী কাঁচাবাজারের কাছেও আছে কিছু পরিচিত মুখ। ফুল ও ফল বিক্রেতাদের কেউ কেউ প্রতিদিন অপেক্ষা করেন। ফুটপাতের হকারদের মধ্যেও আছেন এমন অনেকে। কাজ থামিয়ে সেই মুহূর্তের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষায় থাকেন, গাড়ির ভেতরে থাকা প্রিয় মানুষটিকে একবার দেখবেন বলে।
অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, আঁধার রাতে কামাল আতাতুর্ক রোডে একজন অপেক্ষা করেন প্রধানমন্ত্রীর বাড়ি ফেরার পথে। কখনো সেই অপেক্ষা গড়িয়ে যায় গভীর রাত পর্যন্ত। নাম জানা নেই, কিন্তু দিনের পর দিন একই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকায় মুখটি আর অপরিচিত থাকেনি। রাতে সেখানে পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রীর গাড়ির গতি একটু কমে যায়। গাড়ির ভেতরের আলো জ্বালিয়ে হাত নেড়ে অপেক্ষমাণ মানুষটির অভিবাদনের জবাব দেন প্রধানমন্ত্রী।
আতিকুর রহমান রুমন বলেন, কাজ শেষে রাতে প্রধানমন্ত্রী যখন ফেরেন, গুলশান ২-এর প্রধান সড়ক থেকে গলির ভেতরের রেস্তোরাঁ ও হোটেলের অনেক কর্মচারী তখন অপেক্ষায় থাকেন। তাদের কাছাকাছি পৌঁছালে প্রধানমন্ত্রী নিজেই গাড়ির ভেতরের বাতি জ্বালিয়ে দেন, যেন পথের ধারে অপেক্ষমাণ মানুষগুলো তাঁকে স্পষ্ট দেখতে পান। আলো জ্বলে উঠতেই চেনা মুখগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে আনন্দ।
তিনি বলেন, কেউ হাত নাড়েন, কেউ অপলক চেয়ে থাকেন। চলন্ত গাড়ির ভেতর থেকে প্রধানমন্ত্রীও হাত তুলে অভিবাদনের জবাব দেন। কথাহীন সেই অভিবাদনেই বিনিময় হয়ে যায় অনেক না-বলা কথা। পুরো ঘটনাটা মাত্র কয়েক মুহূর্তের। গাড়ি থামে না, কাছে এসে কুশল বিনিময় হয় না, কথাও হয় না। তবু দিনের পর দিন এই ক্ষণিক দেখাতেই গড়ে উঠেছে এক অদ্ভুত মায়ার সম্পর্ক।
তিনি আরও বলেন, শুরুর দিকে অপেক্ষাটা ছিল শুধু পথের পাশের মানুষগুলোর। তারা জানতেন, এই পথ দিয়েই প্রধানমন্ত্রী যাবেন। তাই কাজের ফাঁকে কেউ এসে দাঁড়াতেন রাস্তার ধারে, কেউ অপেক্ষা করতেন শুধু একঝলক প্রিয় প্রধানমন্ত্রীকে দেখবেন বলে।
আতিকুর রহমান রুমন বলেন, একসময় সেই অপেক্ষা আর একপক্ষের থাকেনি। পরিচিত জায়গাগুলো কাছাকাছি এলে প্রধানমন্ত্রীও খুঁজে ফেরেন মানুষগুলোকে। সেই চেনা মুখগুলো কি আজও দাঁড়িয়ে আছেন পথের পাশে? এই সম্পর্কের কোনো আনুষ্ঠানিকতা নেই। কোনো মঞ্চ নেই, নেই বক্তৃতা কিংবা করতালির আয়োজন। আছে শুধু অপেক্ষা, পরিচিত কিছু মুখ আর পরস্পরকে খুঁজে নেওয়ার এক নীরব টান। এ যেন অদৃশ্য এক সুতোয় গাঁথা ভালোবাসার মালা।
তিনি বলেন, একদিকে পথের ধারে অপেক্ষমাণ সেইসব মানুষ, অন্যদিকে চলন্ত গাড়ির ভেতর থেকে তাদের খুঁজে ফেরা প্রধানমন্ত্রী। মাঝখানে কয়েক হাতের দূরত্ব, কয়েক মুহূর্তের দেখা-তবু সেই ক্ষণিকের মধ্যেই নীরবে গড়ে উঠেছে এক নিঃস্বার্থ বন্ধন।
সূত্র: বাসস
প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘দেশের চলমান সংকটকে পুঁজি করে কিছু রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তি বিভ্রান্তির মাধ্যমে অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে।’
তিনি বলেন, ‘গত কিছুদিন ধরে খেয়াল করছি, যেসব সমস্যা আমরা ইনহেরিট করেছি, স্বৈরাচার আমলেই হোক অথবা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের রেখে যাওয়া সমস্যাই হোক না কেন, সবগুলোই সমাধানের চেষ্টা করছি। সমস্যা নেই, তা কখনোই বলছি না। অবশ্যই বিভিন্ন ক্ষেত্রে সমস্যা আছে। কিন্তু সমস্যাগুলোকে পুঁজি করে কিছু রাজনৈতিক দল এবং কিছু ব্যক্তি বিভিন্নভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। এর মাধ্যমে দেশে অরাজকতা তৈরি করার চেষ্টা করছেন।’
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক স্লোগানকে ধারণ করে বিকেল পৌনে ৪টায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে এই সভা শুরু হয়।
সরকারের অবস্থান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই যে, বাংলাদেশের জনগণ এই সরকারকে দায়িত্ব দিয়েছে দেশ পরিচালনা করার। অবশ্যই আমরা গণতন্ত্রের ধারাকে সমুন্নত রাখবো। গণতান্ত্রিক নীতি-নৈতিকতাগুলো আপহোল্ড করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো।’
একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘কেউ যদি অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়; সেটিকে কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে তা দেশের আইনে বলে দেওয়া আছে। কাজেই জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সরকার হিসেবে পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, প্রত্যেকের নিজেদের সীমার মধ্যে থাকা দরকার।’
দেশের প্রতিটি সংকটকালীন মুহূর্তে বিএনপি জনগণের পাশে ছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রত্যেকটি সংকটকালীন মুহূর্তে বিএনপি নামক রাজনৈতিক দলটি নেতাকর্মী ও দেশের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে সংকট কাটিয়ে ওঠার জন্য পরিশ্রম করেছে। সংকট থেকে ধীরে ধীরে দেশকে বের করেও নিয়ে এসেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজকে যেহেতু বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এই মুহূর্তে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আছে। শিল্পকারখানার মালিকসহ বহু সাধারণ মানুষ যারা বিদ্যুৎ ও জ্বালানির কষ্টে রয়েছেন, তাদের সকলের কাছে আমি দলের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করছি।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এই মুহূর্তে দেশ পরিচালনার দায়িত্বে আছে। শিল্পকারখানার মালিকসহ বহু সাধারণ মানুষ যারা বিদ্যুৎ ও জ্বালানির কষ্টে রয়েছেন, তাদের সকলের কাছে আমি দলের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ করছি। আগামীতে যেন দেশের মানুষকে এই জ্বালানি সংকটে পড়তে না হয়, সেভাবেই কর্মপরিকল্পনা তৈরি করছে বিএনপি।
স্বৈরাচারী শাসনামলে কিছু রাজনৈতিক দল ‘গুপ্ত’ বেশ ধারণ করে স্বৈরাচারের ভেতরে লুকিয়ে ছিল। বর্তমানে তারাই বিভ্রান্তি ছড়িয়ে অরাজকতা উসকে দিচ্ছে কিনা—এমন প্রশ্ন তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বৈরাচার আমলে দেখেছি একটি রাজনৈতিক দল গুপ্ত বেশ ধারণ করেছিল। তারা স্বৈরাচারের ভেতরে লুকিয়েছিল। পরবর্তীতে আমরা দেখছি তাদের নিজেদের লোকজনই বেরিয়ে এসে তা স্বীকার করেছে।’
দেশের জনগণকে সতর্ক করে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এমনও তো হতে পারে যে, যে গুপ্তরা স্বৈরাচারের আড়ালে লুকিয়ে ছিল; এখন হয়তো তাদের ভেতরে স্বৈরাচারীরা লুকিয়ে থেকে এই অরাজকতা উসকে দিতে চাইছে। যদি তাই হয়, তাহলে তো বলতে হবে, গুপ্তরাই স্বৈরাচারকেই আবার সামনে নিয়ে আসার কাজ করছে। কারণ, কয়েকদিন আগে আমরা দেখলাম, গুপ্তদের এক নেতা বলেছে যে, তারা এলে আমাদের আপত্তি নেই। তাহলে তো দেখাই যাচ্ছে, উভয় পক্ষ একজন আরেকজনকে নানাভাবে গুপ্ত রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।’
দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আসুন আমরা জনগণকে আরও সচেতন করি। কে কাকে মুক্ত করার দায়িত্ব নিচ্ছে, সেটি জনগণের সামনে উন্মুক্ত করে দেই। কারণ, এই গুপ্ত বাহিনী ৭১ সাল থেকে বছরের পর বছর, যুগের পর যুগ বিভিন্ন সময়-অসময়ে একজন আরেকজনকে আড়াল করেছে। একজন আরেকজনকে আশ্রয় দিয়েছে। কাজেই আজ তাদের এই রাজনীতি জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে।
দেশের জনগণের স্বার্থ রক্ষাকারী দলের নাম বিএনপি বলেও উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার যদি কেউ নিশ্চিত করে থাকে, সেই রাজনৈতিক দলটির নাম বিএনপি। সে কারণেই প্রত্যেকটি নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এদেশের মানুষের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করতে সক্ষম হয়েছে। এখন আমরা এমন একটি মানবিক রাষ্ট্র তৈরি করতে চাই, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার নিশ্চিত হবে।
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা থেকে শুরু করে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তন, রেমিট্যান্স ও তৈরি পোশাক (গার্মেন্টস) শিল্পের বিকাশ এবং নারীদের অবৈতনিক শিক্ষা চালু—সবকিছুর পেছনেই জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া এবং বিএনপির যুগান্তকারী অবদান রয়েছে।’
তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া নারীদের অবৈতনিক শিক্ষার ব্যবস্থা করে দেশ গঠনে তাদের সম্পৃক্ত করেছিলেন। এছাড়াও তিনি দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনেন এবং নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তন করেন, যা পরবর্তীতে দেশকে একটি উদীয়মান টাইগার হিসেবে পরিচিতি দেয়।
সংকট মোচনে বিএনপির অবদান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের পর দেশকে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ করা এবং ৯০-এর স্বৈরাচার-পরবর্তী সময়ে ধ্বংসপ্রাপ্ত অর্থনীতি ও দুর্নীতির কলঙ্ক থেকে দেশকে মুক্ত করে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে বিএনপির ভূমিকা অনস্বীকার্য।
গত ১৬-১৭ বছরে সরকারের অন্যায়-অত্যাচার এবং নির্যাতনের পরেও বিএনপি রাজপথে থেকে আন্দোলন পরিচালনা করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনের মূল ‘মাস্টারমাইন্ড’ এবং সফলতা অর্জনের পূর্ণ কৃতিত্ব এ দেশের আমজনতার। তাদের সঙ্গে থেকে বিএনপি এই লড়াই সফল করেছে।’
বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
দলের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকুর সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমানউল্লাহ আমান, ফরহাদ হালিম, ইসমাইল জবিউল্লাহ, যুবদলের সভাপতি এম মোনায়েম মুন্না, কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক রাজীব আহসান, ঢাকা মহানগর বিএনপি দক্ষিণের সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন, উত্তরের সদস্যসচিব মোস্তফা জামান এবং ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, সেলিমা রহমান, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনসহ বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনার শুরুতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দলের সাবেক চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ সকল শহীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
প্রথমে জাতীয় সংগীত এবং পরে দলীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। পরে জাতীয়তাবাদী দলের ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। দিবসটি পালনে গত মঙ্গলবার পাঁচ দিনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি শুরু হয়। আজকের এই আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে তা শেষ হলো।
তৃণমূল পর্যায়ে চাঁদাবাজি নির্মূলের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের দাবি বিশিষ্টজনদের। রাজধানীর ধানমন্ডিতে এক গোলটেবিল আলোচনায় এই দাবি জানানো হয়। এসময়, বাজার নিয়ন্ত্রণের দাবিও জানান আলোচকেরা। তারা বলেন, সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে ঢেলে সাজাতে হবে আমলাতন্ত্র। কেননা এই সরকারের প্রতি জনগণের প্রত্যাশা অনেক।
বিএনপি সরকারের ১৮০ দিনের কার্যক্রম পর্যালোচনায় শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নেন বিশিষ্টজনেরা।
সরকারি দলের নেতা-কর্মীরা প্রান্তিক পর্যায়ে দাপট দেখাচ্ছেন অভিযোগ করে তা নিয়ন্ত্রণের দাবি জানান আলোচকেরা। বলেন, রাষ্ট্র সংস্কারের কার্যক্রমও হারিয়ে গেছে। এসময়, ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোর দাবি জানানো হয়।
নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশনের সাবেক প্রধান শিরীন পারভিন হক বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়েছে– সেটা নিয়ন্ত্রণে সরকার চেষ্টা করছে জানি, কিন্তু সরকারি দলের তৃণমূল পর্যায়ের যারা কর্মী তারা যখন সরাসরি চাঁদাবাজিতে যুক্ত হয়, এবং তারা যখন তৃণমূল ও স্থানীয় পর্যায়ে দলের পরিচিতি দিয়ে দাপট দেখায়, তখন এটা একটা বড় সমস্যা।’
আলোচকেরা বলেন, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানোর পাশাপাশি রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ বন্ধ করতে হবে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসান বলেন, ‘আমরা যদি রাজনৈতিক বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয় চালানোর কথা ভাবি, আমরা যদি অতীত স্মরণ করি সেইসময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দেড় হাজার শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। পেশাজীবী সংগঠন আরেকটা ছিল, স্বায়ত্বশাসিত বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা; সেখানে একজন সহকারী অধ্যাপক পাওয়া যায়নি দাঁড়ানোর জন্য।’
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বিদ্যুৎ পরিস্থিতি নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে সরকার। এছাড়া সব জায়গায় যে নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি ছিল তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হচ্ছে।
জহির উদ্দিন স্বপন আরও বলেন, ‘আজকে বিদ্যুতের মতো–জ্বালানির মতো এরকম দরকারি পণ্য নিয়ে আমাদেরকে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এটা আপনারা নিশ্চয়ই বোঝেন। তবে এটা খুবই স্বাভাবিক যে, জনগণ একদিকে যেমন এই দীর্ঘমেয়াদি সংকটের কারণে ভোগান্তির মধ্যে আছেন। আমাদের এই ভোগান্তির মধ্যদিয়ে বেশ কিছুদিন যেতে হবে।’
আলোচনায় সুশাসন, সংসদীয় রাজনীতি, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং বিভিন্ন সংস্কারমূলক কার্যক্রমের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
ভালো শিক্ষার্থী শুধু নয়, ভালো মানুষ হওয়ার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি প্রযুক্তি ব্যবহারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরির্দশক (আইজিপি) প্রধান মো. আলী হোসেন ফকির।
তিনি বলেন, “মেধা মানুষকে এগিয়ে দেয়, কিন্তু সততা, মানবিকতা ও নৈতিক মূল্যবোধ মানুষকে সত্যিকারের মহান করে তোলে। এজন্য শুধু ভালো শিক্ষার্থী হলে চলবে না, ভালো মানুষও হতে হবে।”
শনিবার পুলিশ সদস্যদের সন্তানদের মাঝে ‘পুলিশ মেধাবৃত্তি’ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি বক্তব্য রাখছিলেন বলে পুলিশ সদরদপ্তরের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।
জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি বিনয়, সহমর্মিতা, দায়িত্ববোধ, শৃঙ্খলা ও দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হওয়ার পরামর্শ দেন আইজিপি।
প্রযুক্তি ব্যবহারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “প্রযুক্তি তোমরা ব্যবহার করবে, প্রযুক্তি যেন তোমাদের ব্যবহার করতে না পারে সে ব্যাপারে সতর্ক থাকবে।”
দেশের নাগরিক হিসেবে দেশের আইন মেনে চলা এবং অন্যদের আইন মেনে চলতে উৎসাহিত করার পরামর্শ দেন আলী হোসেন ফকির।
মাদক ব্যবহারে সবচেয়ে বেশি সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে আইজিপি বলেন, “সাময়িক কৌতূহল বা কোনো প্ররোচণা মাদকের ভয়াল থাবা যেন তোমাদেরকে স্পর্শ করতে না পারে, সেজন্য সবসময় সজাগ থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে, মাদক একটি মরণফাঁদ।”
একই সঙ্গে মোবাইল, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইন্টারনেট গেমে অতিরিক্ত আসক্তি অন্যান্য নেশাজাত দ্রব্যের আসক্তির মতোই ক্ষতিকর বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কাজী মো. তানান হোসেন, সৈয়দা সাবিহা মুশাররাত মুমু, মো. আদনান জাওয়াদ ও মুস্তাইনা মঞ্জুর মেধাবৃত্তি পাওয়া নিয়ে তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন।
তারা দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
মেধাবৃত্তি প্রদানের প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান এই শিক্ষার্থীরা।
রাজধানীর রাজারবাগে পুলিশ অডিটরিয়ামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের অর্থায়নে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে এসএসসি, এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় জিপিএ ৫ প্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের সন্তানদের এ মেধাবৃত্তি প্রদান করা হয়।
অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে ঢাকা মহানগর পুলিশ-ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ শিক্ষার্থীদের পড়ালেখায় বেশি করে মনোনিবেশ করার আহ্বান জানান।
মেধাবৃত্তি প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত ডিআইজি শম্পা ইয়াসমিন এবং পুলিশ পরিদর্শক শেখ ফারুকুজ্জামান।
২০২৪ সালের এসএসসি পরীক্ষায় ৮০১ জন, এইচএসসি পরীক্ষায় ২৭২ জন এবং ২০২৫ সালে এসএসসি পরীক্ষায় ৮৪৫ জন, এইচএসসি পরীক্ষায় ১৯৫ জন শিক্ষার্থী জিপিএ ৫ পেয়ে পুলিশ মেধাবৃত্তি পেয়েছে।
তাদের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অনুষ্ঠানে ৩৬০ জনকে বৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। অন্যান্যদের সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের মাধ্যমে মেধাবৃত্তি প্রদান করা হবে।
বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখের ৫৫ তম শাহাদত বার্ষিকী উপলক্ষে আজ তার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছে বিজিবি’র যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি)।
আজ শনিবার সকাল ১০টায় শার্শা উপজেলার কাশিপুর বিওপির সন্নিকটে অবস্থিত সমাধিস্থলে বিজিবি’র পক্ষ থেকে এ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখকে গার্ড অব অনার প্রদান ও পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
এরপর তার রুহের মাগফেরাত কামনায় ফাতেহা পাঠ ও বিশেষ মোনাজাত করা হয়। শেষে উপস্থিত সবার মাঝে তবারক বিতরণ করা হয়।
এ সময় যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি)-এর উপ-অধিনায়ক মেজর নূর উদ্দিন আহমাদ ও সহকারী পরিচালক মো. মাছেদুল ইসলাম খাঁনসহ বীরশ্রেষ্ঠের পরিবারের সদস্য, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
যশোর ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বাসসকে বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ শেখের অবদান শ্রদ্ধাভরে স্মরণীয় করে রাখতে প্রতিবছরের মতো এবারও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিবসটি পালন করা হয়েছে।