বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
১৪ ফাল্গুন ১৪৩২

মেলায় জনপ্রিয় লেখকদের বই বেশি বিক্রি হচ্ছে

ছবি: দৈনিক বাংলা
মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ
প্রকাশিত
মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ
প্রকাশিত : ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ২২:৫৭

অমর একুশে বইমেলার দিন যতই অতিবাহিত হচ্ছে ততই এর আকর্ষণ বেড়ে চলেছে। এবার নানাবিধ কারণে প্রাণের মেলা ভিন্নরূপ পেয়েছে। বিশেষ করে নগরে স্বস্তির যান মেট্রোরেলের কারণে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর পাঠক-দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ছে। মেলায় প্রতিদিন শতাধিক নতুন বই আসার পাশাপাশি বেড়েছে দর্শনার্থীর সংখ্যা, সঙ্গে বাড়ছে বিক্রিও। দিন যত যাচ্ছে মেলার প্রাণ আরও বাড়ছে। আগামীকাল বসন্ত ও ভালোবাসা দিবসে বইমেলা যেন অন্যরকম আমেজ নিয়ে আসবে। বাংলা একাডেমির বহেড়াতলা বটগাছে কোকিলের সুর বলে দিচ্ছে প্রকৃতিতে ফাগুন চলে এসেছে। ঠিক যেমনিভাবে ফাগুনের এই আগুন বইমেলায়ও চলে আসতে শুরু করেছে। সব সময় মেলা ফাগুনের দিনগুলো থেকেই মূলত জমে ওঠে। এবার আরও নবজাগরণে প্রাণের মেলা জমেছে। কেননা গত দুই বছরের ঢিমেতালে চলা বইমেলা এবার পেয়েছে পুরোপুরি জমে ওঠার চিত্র। মেলায় প্রতিবারের মতো এবারও পাঠকদের আগ্রহের শীর্ষে রয়েছে উপন্যাস। এ ছাড়াও ঘুরেফিরে জনপ্রিয় লেখকদের বই বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রকাশক ও বিক্রয়কর্মীরা।

মেলা ঘুরে দেখা গেছে, পাঠকরা স্টলে স্টলে গিয়ে উপন্যাসের বই খুঁজে বেড়াচ্ছেন। প্রিয় লেখকের প্রকাশিত বই পেলেই তা সংগ্রহ করে নিজেদের ব্যাগে গুঁজে নিচ্ছেন বইপ্রেমীরা। এদিকে পূর্ববর্তী বছরগুলোর মতো এবারও হ‍ুমায়ূন আহমেদ, হাসান আজিজুল হক, আনিসুল হক, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ইমদাদুল হক মিলন, সেলিনা হোসেন, মুহম্মদ জাফর ইকবাল, আসিফ নজরুল, মুনতাসীর মামুন, মোশতাক আহমেদ, শাহাদুজ্জামান, হরিশংকর জলদাসসহ বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় লেখকের বই বেশি বিক্রি হচ্ছে। তবে মেলায় হ‍ুমায়ূন আহমেদের বই-ই বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে প্রকাশনা সূত্রে জানা যায়। জনপ্রিয় এই লেখকের পুরাতন বইগুলো পাঠকরা এখনো কিনছেন। মেলায় প্রতিদিন হ‍ুমায়ূনপ্রেমীরা খুঁজতে খুঁজতে চলে যাচ্ছেন অন্যপ্রকাশে। এই প্রকাশনীতে কিংবদন্তি এই কথাসাহিত্যিকের লেখা উপন্যাস দেয়াল, মাতাল হাওয়া, নন্দিত নরকে, শঙ্খনীল কারাগার, মধ্যাহ্ন অখণ্ড বেশি কিনছেন বলে অন্যপ্রকাশ সূত্রে জানা যায়।

সরেজমিন ঘুরে এবং বিভিন্ন স্টলের বিক্রয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারও মেলায় বেশি জনপ্রিয় লেখকদের গল্প-উপন্যাস বিক্রি হচ্ছে। নতুন বইয়ের সঙ্গে পুরাতন কালজয়ী বইও বিক্রিতে রয়েছে শীর্ষে।

তাম্রলিপি প্রকাশনীর বিজনেস ডেভেলপমেন্ট এক্সিকিউটিভ মুনালিসা জানান, এ বছর ৪৫টি নতুন বই প্রকাশ করেছে প্রকাশনীটি। নতুন বইয়ের সঙ্গে পুরাতন বইও বেশ বিক্রি হচ্ছে। তার মধ্যে হ‍ুমায়ূন আহমেদের শ্রেষ্ঠ হিমু, শ্রেষ্ঠ মিছির আলি ও কিশোর সমগ্র বই বিক্রিতে ওপরে রয়েছে।

কাকলী প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী হুমায়ন কবীর জানান, রকিব হাসানের গোয়েন্দা সিরিজ ও সায়েন্স ফিকশন চলছে বেশি। আর হ‍ুমায়ূন আহমেদের ভক্তরা তার বই সমগ্র তো সংগ্রহ করছেই।

অনন্যা প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী আসিফ মাহমুদ বলেন, ইমদাদুল হক মিলনের চোর এসে গল্প করেছিল, অন্ধকারে নামতে পারেনি বই দুটোর বিক্রি তুলনামূলকভাবে বেশি। এ ছাড়াও তৌহিদুর রহমানের নিতু বলছি বইটির তৃতীয় মুদ্রণ চলছে। মুনতাসীর মামুনের ঢাকা সমগ্র বইটিও পাঠকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। এ ছাড়াও মুনতাসীর মামুনের বঙ্গবন্ধুর জীবন ও লিবারেশন ওয়্যার বই দুটি এ বছর প্রকাশিত হয়েছে। বইগুলো বিক্রিও হচ্ছে বেশ।

অন্বেষা প্রকাশনের বিক্রয়কর্মী রাফিজা নওশীন জানান, সুজন দেবনাথের হেমলকের নিয়ন্ত্রণ ও জাহিদ হাসানের দেশভাগ ১৯৪৭ বেশি বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া হ‍ুমায়ূন আহমেদের তিন বিচিত্র, চন্দ্রসখা, মিসির আলীর ভুবন, তোমাদের জন্য ভালোবাসা, নীল হাতি, সবাই গেছে বনে উপন্যাসগুলো একটি আরেকটির চেয়ে কম বিক্রি হচ্ছে না। এ ছাড়াও সাদাত হোসেনের আগুনডানা মেয়ে বইটিও বেশ বিক্রি হচ্ছে।

অন্যপ্রকাশের স্টল ইনচার্জ তৌহিদুল ইসলাম জানান, উপন্যাস আর হ‍ুমায়ন আহমেদের বইয়ে পাঠকদের চাহিদা- দুই ক্ষেত্রেই সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়াও রউফুল আলমের দেশ, সফল মন্ত্র, আহমদ ছফার যদ্যপি আমার গুরু, অর্ধেক নারী অর্ধেক ইশ্বরী বইগুলো বেশ চলছে। তবে ক্রেতাদের চাহিদা উপন্যাস।

বইমেলায় ঘুরতে আসা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শরমিলা জান্নাত বইগুলো ঘাটতে ঘাটতে বলেন, ‘হ‍ুমায়ূন আহমেদ দেশের সাহিত্য অঙ্গনে যে জায়গা সৃষ্টি করে গেছেন, তা এখনও কেউ পূরণ করতে পারেননি। পুরোনোরা তো বটেই, নতুন প্রজন্মের পাঠকও এসে এখনো হ‍ুমায়ূন আহমেদের বই খোঁজ করেন।’

মেলায় এখনো কালজয়ী সব সাহিত্যিকের লেখা বই কিনছেন বইপ্রেমীরা। এর মধ্যে রয়েছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, শওকত আলী, বেগম রোকেয়া, মীর মশাররফ হোসেন, উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, জীবনানন্দ দাশ, স্বর্ণকুমারী দেবী, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, জসীম উদ্দীন, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, আবু ইসহাক, আহমেদ ছফাসহ হুমায়ুন আজাদের লেখা সব বই। গুণী এই সাহিত্যিকদের লেখা বিভিন্ন গল্প, উপন্যাস ও সমগ্র সংগ্রহে রাখতে মেলায় এসে বই কিনছেন বইপ্রেমীরা।

মেলা ঘুরে দেখা গেছে, এখনো পাঠকরা যেসব কালজয়ী বই মেলায় কিনছেন, তার মধ্যে রয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষের কবিতা, গোড়া, শওকত আলীর প্রদোষে প্রাকৃতজন, আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের খোয়াবনামা, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবি, সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহর লালসালু, জহির রায়হানের হাজার বছর ধরে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনী, সৈয়দ শামসুল হকের খেলারাম খেলে যা ও নিষিদ্ধ লোবান, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রথম আলো, সেই সময় এবং পূর্ব-পশ্চিম, হ‍ুমায়ূন আহমেদের নন্দিত নরকে, শঙ্খনীল কারাগার এবং জোৎস্না ও জননীর গল্প, হুমায়ুন আজাদের নারী ও ছাপ্পান্নো হাজার বর্গমাইল, আবু ইসহাকের সূর্য দীঘল বাড়ি, হাসান আজিজুল হকের আগুনপাখি, মানিক বন্দোপাধ্যায়ের পদ্মা নদীর মাঝি ও পুতুল নাচের ইতিকথা, ইমদাদুল হক মিলনের নূরজাহান, সৈয়দ মুজতবা আলীর দেশ বিদেশে, শওকত ওসমানের কৃতদাসের হাসি, আনিসুল হকের চার কিশোর গোয়েন্দা, শহীদুল্লাহ কায়সারের সারেং বৌ, সংশপ্তক, জাহানারা ইমামের একাত্তরের দিনগুলি, বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের আদর্শ হিন্দু হোটেল, মুহম্মদ জাফর ইকবালের লেখা ফেরা, আহমদ ছফার যদ্যপি আমার গুরু ও শাহাদুজ্জামানের ক্রাচের কর্নেলসহ আরও কিছু বই। এই বইগুলো প্রকৃত বইপ্রেমীরা দেখলেই তা সংগ্রহে রাখার জন্য হলেও কিনে নিচ্ছেন বলে জানান মেলার বিভিন্ন স্টলের বিক্রয়কর্মীরা।

এখনো জমেনি লিটলম্যাগ চত্বর

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চের পাশে অবস্থিত লিটল ম্যাগ চত্বর ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড় নেই মেলার এ অংশে। যদিও বিক্রয় প্রতিনিধিরা বলছেন, মেলার অন্য অংশ থেকে বরাবরই এ অংশে ভিড় কম থাকে। সেখানকার স্টলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লোকজন এ চত্বরে কম যায়। তেমন বিক্রিও হয় না। বইমেলায় একসময় অন্যতম আকর্ষণ ছিল তারুণ্যের এ ‘লিটল ম্যাগ চত্বর’। মেলার এই অংশে নবীন লেখকদের প্রকাশিত বিভিন্ন ম্যাগাজিন পাঠক-দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরেন লেখক, প্রকাশক। কিন্তু সময়ের আবর্তে একসময়কার তুমুল জনপ্রিয় এই চত্বরে এখন কেবলই হাহাকার। বারবার এর স্থান পরিবর্তন হলেও হারানো গৌরবের দেখা পাচ্ছে না এই চত্বর।

জনপ্রিয় সব লেখক, প্রকাশনী ও পত্রিকার ভিড়ে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে সত্তরের দশকের গণজাগরণের চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত লিটল ম্যাগাজিনগুলো। বিপ্লবী ধারার এসব ম্যাগাজিনের স্থান দখল করে নিয়েছে পত্রিকাগুলো। কিন্তু এতসব বাধা বিপত্তির মাঝেও এখনো টিকে আছে কিছু ম্যাগাজিন। দেড় দশকের বেশি সময় ধরে বাংলা একাডেমির বহেড়াতলায় স্থান পাওয়া বইমেলার অন্যতম আকর্ষণ ‘লিটল ম্যাগ চত্বর’ কখনো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মাঝখানে, কখনো উত্তর পাশে আবার কখনো কালি মন্দিরের পাশে স্থান বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। তবে এ বছর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চের উত্তরাংশের অন্ধকারাচ্ছন্ন জায়গায় স্থান হয়েছে লিটল ম্যাগের। ফলে বিগত দিনের ধারাবাহিক খরা তাতে লেগেই আছে।

আজকের বইমেলা :

আজকের মেলা বিকেল ৩টায় শুরু হয়ে শেষ হয় রাত ৯টায়। ১২তম দিনে মেলায় নতুন বই এসেছে ১১৫টি। বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় জন্মশতবার্ষিক শ্রদ্ধাঞ্জলি : হেনা দাস শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জোবাইদা নাসরীন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ঝর্না রহমান এবং ফওজিয়া মোসলেম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শিরীণ আখতার।

‘লেখক বলছি’ অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন কথাসাহিত্যিক সালমা বাণী, কবি ফারহানা রহমান, গবেষক মিলটন কুমার দেব এবং কথাসাহিত্যিক ইকবাল খন্দকার।

আগামীকালের বইমেলা :

আগামীকাল ১৩তম দিন মেলা শুরু হবে বিকেল ৩টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে স্মরণে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ শীর্ষক আলাচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপনা করবেন আহমদ মোস্তফা কামাল। আলাচনায় অংশগ্রহণ করবন হরিশংকর জলদাস এবং ফারজানা সিদ্দিকা। অনুষ্ঠান সভাপতিত্ব করবেন সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম।


জাতীয় ভোটার দিবসের সব কর্মসূচি স্থগিতের নির্দেশ ইসির

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ২ মার্চ অষ্টম ‘জাতীয় ভোটার দিবস’ উদযাপন উপলক্ষে নির্ধারিত কেন্দ্রীয় ও মাঠপর্যায়ের সব কর্মসূচি স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) ইসি সচিবালয়ের উপসচিব মো. রফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

আদেশে বলা হয়েছে, অষ্টম ‘জাতীয় ভোটার দিবস’ উদযাপনের সব কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত থাকবে। নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।


অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বিজিএমইএর পরিচালনা পর্ষদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি-এর সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে পরিচালনা পর্ষদ অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী-এর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, সহ-সভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান, সহ-সভাপতি ভিদিয়া অমৃত খান, সহ-সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী এবং পরিচালকবৃন্দ শাহ রাঈদ চৌধুরী, ফয়সাল সামাদ, মোহাম্মদ আবদুস সালাম, নাফিস-উদ-দৌলা, মজুমদার আরিফুর রহমান ও ড. রশিদ আহমেদ হোসাইনী।

শুরুতে বিজিএমইএ সভাপতি ফুল দিয়ে মন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানান এবং বোর্ড ও পোশাক শিল্প পরিবারের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানান।

সাক্ষাৎকালে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, অর্থমন্ত্রী নিজেও একজন অভিজ্ঞ ও সফল ব্যবসায়ী হওয়ায় ব্যবসায়ীদের সমস্যাগুলো তিনি ভালোভাবে অনুধাবন করতে পারেন। সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকে পোশাক খাতের বর্তমান পরিস্থিতি এবং তা থেকে উত্তরণের উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে প্রধানত নিম্নলিখিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়-

বকেয়া নগদ প্রণোদনা দ্রুত ছাড় পদ্ধতি সহজ করা: বিজিএমইএ সভাপতি মন্ত্রীকে অবহিত করেন যে, বর্তমানে অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের নগদ সহায়তার আবেদন লিয়েন ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের অডিট প্রক্রিয়ার জটিলতায় আটকে আছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বস্ত্র ও পোশাক খাতে এখনো প্রায় ৫৭০০ কোটি টাকার প্রণোদনা অনিষ্পন্ন থাকায় সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো তীব্র অর্থ সংকটে রয়েছে, যা রপ্তানি সক্ষমতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

বিজিএমইএ নেতারা বকেয়া নগদ সহায়তার অর্থ দ্রুত ছাড় করা, একইসঙ্গে এই প্রক্রিয়াটিকে আরও সহজ ও গতিশীল করা এবং কোনো নির্দিষ্ট সময়ের জন্য অপেক্ষা না করে (বর্তমানে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে অর্থ ছাড়ের বিধান রয়েছে) আবেদন জমার সঙ্গে সঙ্গেই যেন অর্থ ছাড়ের ব্যবস্থা করা হয়, সে ব্যাপারে মন্ত্রীর সহযোগিতা কামনা করেন।

অর্থমন্ত্রী এই দাবির যৌক্তিকতা স্বীকার করে বকেয়া অর্থ দ্রুত ছাড় করার বিষয়ে ইতিবাচক সম্মতি জানান এবং পুরো প্রক্রিয়াটিকে আধুনিক ও সহজতর করার আশ্বাস দেন।

পুনঃতফসিলীকরণ ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল: বৈঠকে বিজিএমইএ এর সহ-সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী টেকনিক্যাল বিষয় তুলে ধরেন।

তিনি জানান, তফসিলি ব্যাংকগুলো এনপিএল পারফরম্যান্স ঠিক রাখতে গিয়ে অনেক সময় ঋণ পুনঃতফসিলীকরণ করলেও সংশ্লিষ্ট কারখানাকে প্রয়োজনীয় ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল দেয় না।

ফলে কারখানা সচল হতে পারে না এবং ঋণ পরিশোধও বাধাগ্রস্ত হয়। তিনি একে একটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতিতে রূপান্তরের প্রস্তাব দিয়ে বলেন, পুনঃতফসিলের পাশাপাশি ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল পেলে কারখানা সচল হবে এবং ব্যাংকও তার পাওনা ফেরত পাবে। অর্থমন্ত্রী এই প্রস্তাবটির সঙ্গে একমত পোষণ করেন।

ব্যবসা সহজ করা ব্যবসা পরিচালনা ব্যয় হ্রাস: বৈঠকে বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দ দ্ব্যর্থহীনভাবে উল্লেখ করেন যে, বিশ্ববাজারের তীব্র প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অবস্থান সুসংহত করতে ব্যবসা সহজ করা এবং ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় কমিয়ে আনা এখন সময়ের দাবি। তারা কাস্টমস, বন্দর এবং অন্যান্য প্রশাসনিক স্তরে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করে একটি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য বিশেষ নীতি সহায়তার অনুরোধ জানান।

অর্থমন্ত্রী ব্যবসা সহজ করার পথে বিদ্যমান সুনির্দিষ্ট বাধাগুলো চিহ্নিত করে এবং সেগুলো সমাধানের কার্যকর উপায় সংবলিত একটি পূর্ণাঙ্গ সুপারিশমালা বা তালিকা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে জমা দেয়ার জন্য বিজিএমইএ নেতাদের নির্দেশ দেন। বিজিএমইএ সভাপতি মন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন যে, শিল্পের সক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক একটি বাস্তবধর্মী ও সুনির্দিষ্ট সুপারিশমালা দ্রুততম সময়ের মধ্যে তারা সরকারের কাছে পেশ করবেন।

অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী পোশাক শিল্পকে দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড হিসেবে উল্লেখ করে এই খাতের টেকসই প্রবৃদ্ধিতে সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক নীতি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।


শিগগিরই পুলিশের ১০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগ দেওয়া হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পুলিশ সার্জেন্টের ১৮০টি শূন্য পদে দ্রুত নিয়োগ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। পাশাপাশি শিগগিরই ১০ হাজার কনস্টেবল নিয়োগের পরিকল্পনাও রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব তথ্য জানান।

মন্ত্রী বলেন, পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের দাবি অনুযায়ী পোশাক পরিবর্তনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে পরে তা আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।

তিনি আরও জানান, সারাদেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের আইন-শৃঙ্খলা কমিটি পুনর্গঠনের জন্য ইতোমধ্যে পত্র জারি করা হয়েছে।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পরিচালক) ফয়সল হাসান স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পুলিশ সার্জেন্টের ১৮০টি শূন্য পদে প্রচলিত পরীক্ষা পদ্ধতির মাধ্যমে দ্রুত নিয়োগ সম্পন্ন করা হবে।


১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্ব বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে মন্ত্রিসভার বৈঠক। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এতে প্রায় ১২ লাখ কৃষকের মোট দেড় হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা থাকবে না।

সচিবালয়ে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পরে বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি।

শস্য, ফসল, মৎস্য ও পশুপালন খাতে যেসব কৃষক ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ নিয়েছেন, সুদ-আসল মিলিয়ে সেই পুরো অর্থই মওকুফ করা হবে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ সুবিধার আওতায় মোট প্রায় ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের ক্ষেত্রে যত সুদই হোক, সুদ-আসলসহ সম্পূর্ণ অর্থ মওকুফ করা হবে।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর উদ্দেশ্য দরিদ্র কৃষকদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং কৃষি খাতকে শক্তিশালী করা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি বাণিজ্যিক ও বিশেষায়িত ব্যাংক এবং বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে কৃষকদের পাওনা সুদসহ প্রায় ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা, যা এই মওকুফের আওতায় পড়বে। এতে আনুমানিক ১২ লাখ কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন। ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকেরা ঋণের চাপ থেকে মুক্ত হয়ে উৎপাদন কাজে মনোযোগ দিতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ঋণের বোঝা কমে গেলে কৃষকেরা নতুন মৌসুমে আরও উৎসাহ নিয়ে চাষাবাদ শুরু করতে পারবেন। একই সঙ্গে তাঁদের ঋণমান উন্নত হবে, ফলে ব্যাংক থেকে ভবিষ্যতে স্বল্প সুদে ঋণ পাওয়ার সুযোগ বাড়বে এবং উচ্চ সুদের মহাজনী ঋণের ওপর নির্ভরতা কমবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ১৯৯১ থেকে ১৯৯৬ মেয়াদে বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণের সুদ-আসল মওকুফ করা হয়েছিল, যা কৃষকদের আর্থিক চাপ কমিয়ে উৎপাদন বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছিল।


মবকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ব্যাংকে বুধবার ঘটে যাওয়া মবের ঘটনায় জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বৃহস্পতিবার দুপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান মুখপাত্র ও নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নতুন গভর্নর বাংলাদেশ ব্যাংকে সুশাসন প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন। যেসব কর্মকর্তা মব কালচারের সঙ্গে সম্পৃক্ত, এইচআর নীতিমালা অনুযায়ী তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

এর আগে বেলা পৌনে ১১টার দিকে নতুন গভর্নর দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং পরে শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। সেই বৈঠকের সিদ্ধান্ত তুলে ধরতেই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

মুখপাত্র জানান, দায়িত্ব নেওয়ার পর গভর্নর কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বন্ধ কলকারখানা পুনরায় সচল করতে সক্রিয় সহায়তার কথা বলেছেন। অর্থনীতিকে প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানমুখী ধারায় নিতে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহায়তা দেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, বুধবার গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের উপদেষ্টা আহসান উল্লাহকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কয়েকজন কর্মকর্তা ‘মব’ তৈরি করে বের করে দেন। তাকে গাড়িতে তোলার ঘটনায় নেতৃত্ব দেন অতিরিক্ত পরিচালক তৌহিদুল ইসলাম। দুপুর ৩টার দিকে গভর্নরের সামনেই এ ঘটনা ঘটে।

এদিন বিকেলে আরও একটি ঘটনায় পাঁচ কর্মকর্তার বদলি আদেশে ডেপুটি গভর্নর কবির আহমেদের কাছ থেকে জোরপূর্বক সই নেওয়ার অভিযোগ ওঠে কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।


জাতীয় মেধা ও মননের প্রতিচ্ছবি হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে বইমেলা

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৬:০৪
অনলাইন ডেস্ক

বইমেলা জাতীয় মেধা ও মননের প্রতিচ্ছবি হিসেবে পরিচিত হয়ে উঠেছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টার দিকে অমর একুশে বইমেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। এর আগে বিকেল সোয়া ৩টার দিকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন করেন।

তিন দফা তারিখ পরিবর্তন এবং প্রকাশকদের বিভিন্ন দাবি ঘিরে আলোচনা-সমালোচনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত বইপ্রেমীদের জন্য প্রস্তুত হয়েছে বর্ণিল সাংস্কৃতিক আয়োজন।

পবিত্র মাহে রমজানকে সামনে রেখে মেলা ঘিরে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলেছে।


জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে বাংলাদেশের নতুন প্রার্থী পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান

আপডেটেড ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৪:৩৯
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) আসন্ন নির্বাচনে সভাপতি পদের জন্য নিজেদের প্রার্থী পরিবর্তন করেছে বাংলাদেশ। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মনোনীত প্রার্থী সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের পরিবর্তে বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানকে এই পদের জন্য নতুন প্রার্থী হিসেবে চূড়ান্ত করেছে নবনির্বাচিত সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতিমধ্যে ড. খলিলুর রহমানের প্রার্থিতার বিষয়ে সবুজ সংকেত দিয়েছেন এবং খুব শীঘ্রই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রদান করা হবে।

আগামী জুন মাসে অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে এবার এশিয়া মহাদেশ থেকে সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার কথা রয়েছে। শুরুর দিকে এই পদের জন্য বাংলাদেশ ছাড়াও প্যালেস্টাইন ও সাইপ্রাস তাদের প্রার্থিতা ঘোষণা করেছিল। তবে কূটনৈতিক মহলের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে নিয়মিত রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্যালেস্টাইন তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন করে অন্য কোনো দেশ এই দৌড়ে শামিল না হলে সভাপতি পদের জন্য সাইপ্রাসের প্রার্থীর সঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশের জন্য এই পদটি অত্যন্ত সম্মানজনক ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এর আগে ১৯৮৬-৮৭ মেয়াদে বাংলাদেশের প্রখ্যাত কূটনীতিক হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে দেশের জন্য গৌরব বয়ে এনেছিলেন। দীর্ঘ কয়েক দশক পর আবারও সেই গৌরব অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে ড. খলিলুর রহমানকে সামনে রেখে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে ঢাকা। নতুন সরকারের এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের অবস্থান আরও সুসংহত করার একটি বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। জুন মাসের এই নির্বাচনের দিকে এখন তাকিয়ে আছে দেশের কূটনৈতিক মহল।


শিল্প-সাহিত্য ও শিক্ষা চর্চায় রাজনীতিকীকরণ সভ্য সমাজের পরিচায়ক নয়: প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মন্তব্য করেছেন যে, শিক্ষা-গবেষণা এবং শিল্প-সাহিত্য চর্চাকে রাজনীতিকীকরণ করা কখনোই একটি সভ্য সমাজের পরিচায়ক হতে পারে না। বৃহস্পতিবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত ‘একুশে পদক ২০২৬’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, নৈতিক মানসম্পন্ন একটি উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে, যাতে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, সাহিত্য ও শিল্পকলার প্রতিটি শাখায় দেশ বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারে। এই অগ্রযাত্রায় তিনি দেশের বিজ্ঞজনদের গঠনমূলক দিকনির্দেশনা প্রত্যাশা করেন।

একুশে পদকের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এই রাষ্ট্রীয় পদক প্রবর্তন করেছিলেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, একুশে পদক কেবল একটি সম্মাননা নয়, বরং এটি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনসহ দেশের গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহাসিক ঘটনাবলির এক অনন্য স্বীকৃতি। শিক্ষা, সাহিত্য ও গবেষণায় অবদান রাখা ব্যক্তিদের সমাজের সামনে যথাযথভাবে তুলে ধরার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ১৯৭৬ সালে মাত্র তিনটি ক্ষেত্রে পুরস্কার প্রদানের মাধ্যমে এই যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে ১২টি ক্ষেত্রে গুণীজনদের স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে, যা দেশের জন্য একটি বিশাল ইতিবাচক অর্জন।

জাতীয় ইতিহাসে ফেব্রুয়ারি মাসের তাৎপর্য বর্ণনা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই মাস আমাদের আত্মপরিচয় উপলব্ধির মাস এবং আমাদের সংস্কৃতিচেতনার প্রাণপ্রবাহ। তিনি একুশে ফেব্রুয়ারিকে একদিকে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার সংগ্রাম এবং অন্যদিকে অধিকার আদায়ের আন্দোলনের এক অনন্য স্মারক হিসেবে অভিহিত করেন। ভাষা আন্দোলনের ৭৪ বছর অতিক্রম করে ৭৫ বছরে পদার্পণের এই মুহূর্তে তিনি সকল ভাষাশহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, জ্ঞান-বিজ্ঞান ও শিল্প-সাহিত্য চর্চার ধারাকে আরও বিকশিত করতে রাষ্ট্র ও সরকারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

পরিশেষে প্রধানমন্ত্রী এ বছর একুশে পদকে ভূষিত হওয়া সকল জ্ঞানী-গুণী ব্যক্তিত্ব ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের আন্তরিক অভিনন্দন জানান। তিনি গুণীজনদের সৃজনমুখর জীবনের দীর্ঘায়ু ও কল্যাণ কামনা করেন। প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশের ভাষা ও সাহিত্য একদিন বিশ্বসাহিত্যের আঙিনায় উজ্জ্বল আলো ছড়াবে। গুণীজনদের কর্মময় জীবনের সঙ্গে আপামর জনসাধারণের পরিচয় করিয়ে দেওয়াকে তিনি রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন এবং একটি মেধাভিত্তিক সমাজ গঠনে সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণ কামনা করেন।


একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় খালাস পেলেন আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত খান আকরাম

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত খান আকরাম হোসেনকে খালাস দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত একটি বেঞ্চ দীর্ঘ শুনানি শেষে এই চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন। আদালতের এই আদেশের ফলে দীর্ঘ এক দশকের আইনি লড়াইয়ের পর অভিযোগ থেকে মুক্তি পেতে যাচ্ছেন বাগেরহাটের এই বাসিন্দা।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। এর আগে গত বুধবার খান আকরাম হোসেনের আপিলের ওপর শুনানি শেষ করে রায় ঘোষণার জন্য আজকের দিনটি ধার্য করেছিলেন আদালত। আপিল বিভাগের এই আদেশের মাধ্যমে ২০১৫ সালে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া দণ্ডাদেশ বাতিল হয়ে গেল।

মামলার প্রেক্ষাপট থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১১ আগস্ট আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ বাগেরহাটের তিন আসামির বিরুদ্ধে রায় ঘোষণা করেছিলেন। সেই রায়ে প্রধান আসামি শেখ সিরাজুল হক ওরফে সিরাজ মাস্টারকে পাঁচটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করা হয়। অন্যদিকে, খান মো. আকরাম হোসেনের বিরুদ্ধে আনা তিনটি অভিযোগের মধ্যে একটি প্রমাণিত হওয়ায় তাঁকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। মামলার অপর আসামি আব্দুল লতিফ তালুকদার বিচার চলাকালীন কারাগারে মৃত্যুবরণ করায় তাঁকে আসামির তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল।

ট্রাইব্যুনালের সেই রায়ে সংক্ষুব্ধ হয়ে দণ্ড থেকে খালাস চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেছিলেন খান আকরাম হোসেন। দীর্ঘ সময় পর আপিল বিভাগ তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো পুনর্বিবেচনা করে তাঁকে নির্দোষ হিসেবে খালাস দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলেন। তবে মামলার প্রধান আসামি সিরাজ মাস্টারের মৃত্যুদণ্ডের আদেশটি বহাল রয়েছে। এই রায়ের মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের ইতিহাসে একটি দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার সমাপ্তি ঘটল।


মন্ত্রিপরিষদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিপরিষদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

বেলা পৌনে ১১টার দিকে মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে একুশে পদক প্রদান অনুষ্ঠানে সচিবালয় থেকে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে যান প্রধানমন্ত্রী।

অনুষ্ঠানে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা ছাড়াও মন্ত্রিসভার সদস্য, পদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং আমন্ত্রিত বিশিষ্ট অতিথিরা উপস্থিত রয়েছেন।

এবার দেশের ৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও একটি প্রতিষ্ঠানকে ‘একুশে পদক-২০২৬’ প্রদান করা হবে।

এরপর দুপুর ২টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অমর একুশে বইমেলা ২০২৬ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ‘বহুমাত্রিক বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে এ মেলা চলবে আগামী ১৫ মার্চ পর্যন্ত। বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণ ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানজুড়ে এরই মধ্যে শেষ হয়েছে সার্বিক প্রস্তুতি।


বাংলাদেশ ব্যাংকে যোগদান করেছেন নতুন গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন গভর্নর হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেছেন মো. মোস্তাকুর রহমান। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকাল পৌনে ১০টার দিকে তিনি মতিঝিলস্থ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে পৌঁছালে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। দেশের ১৪তম গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমে তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের শীর্ষ নেতৃত্বের হাল ধরলেন। এর আগে গত বুধবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ থেকে এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাঁকে আগামী চার বছরের জন্য এই পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। একই দিনে পূর্ববর্তী গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের অবশিষ্ট মেয়াদ বাতিল করে সরকার।

নিয়োগের শর্তানুযায়ী, মো. মোস্তাকুর রহমানকে অন্যান্য সব প্রতিষ্ঠান ও সংগঠনের সঙ্গে কর্ম-সম্পর্ক ত্যাগ করে এই গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করতে হয়েছে। তিনি সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তির শর্ত অনুযায়ী বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন। পেশাগত জীবনে ৩৩ বছরেরও বেশি সময়ের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এই কর্মকর্তা দেশের আর্থিক ও শিল্প খাতের একজন বিশেষজ্ঞ হিসেবে সুপরিচিত। কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট (সিএমএ) মোস্তাকুর রহমান করপোরেট ফাইন্যান্স, রপ্তানি, অর্থনীতি, প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন।

শিক্ষাজীবনে মো. মোস্তাকুর রহমান ১৯৮৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাউন্টিং বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। তিনি ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশের (আইসিএমএবি) একজন ফেলো সদস্য। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই শীর্ষ পদে আসার আগে তিনি চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। আর্থিক খাতের গভীর জ্ঞান এবং নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কার্যকর ভূমিকা রাখবেন বলে আশা করা হচ্ছে। জনস্বার্থে জারি করা এই নিয়োগ আদেশ তাঁর যোগদানের তারিখ থেকেই কার্যকর হয়েছে।


গুণীজনদের হাতে একুশে পদক তুলে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১২:৩২
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য ও গৌরবোজ্জ্বল অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ৯ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এবং একটি প্রতিষ্ঠানের হাতে রাষ্ট্রের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘একুশে পদক ২০২৬’ তুলে দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে তিনি এই সম্মাননা প্রদান করেন। উল্লেখ্য, এদিন প্রধানমন্ত্রী সচিবালয় থেকে হেঁটে অনুষ্ঠানস্থল ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে পৌঁছান।

এ বছর শিল্পকলা, শিক্ষা, স্থাপত্য ও সাংবাদিকতাসহ নানা ক্ষেত্রে অবদানের জন্য গুণীজনদের এই পদকে ভূষিত করা হয়েছে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের তালিকা অনুযায়ী, অভিনয় বিভাগে পদক পেয়েছেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী ফরিদা আক্তার ববিতা। সংগীতে মরণোত্তর সম্মাননা জানানো হয়েছে প্রয়াত গিটার জাদুকর আইয়ুব বাচ্চুকে। এছাড়া সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের জন্য প্রবীণ সাংবাদিক শফিক রেহমান এবং স্থাপত্যে বিশ্বখ্যাত স্থপতি মেরিনা তাবাসসুম এই গৌরবময় পদক লাভ করেছেন।

অন্যান্য ক্যাটাগরিতে পদকপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন চারুকলায় অধ্যাপক ড. মো. আব্দুস সাত্তার, নৃত্য বিভাগে অর্থী আহমেদ এবং পালাগানে ইসলাম উদ্দিন পালাকার। শিক্ষাক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি পেয়েছেন অধ্যাপক ড. মাহবুবুল আলম মজুমদার এবং ভাস্কর্যে তেজস হালদার জস। পাশাপাশি দেশের সংগীতাঙ্গনে দীর্ঘ চার দশকের যাত্রায় বিশেষ অবদানের জন্য জনপ্রিয় ব্যান্ড ‘ওয়ারফেজ’কে প্রাতিষ্ঠানিক ক্যাটাগরিতে এবারের একুশে পদকে ভূষিত করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে পদকপ্রাপ্ত ব্যক্তি ও তাঁদের প্রতিনিধিদের হাতে পদক, সম্মাননা সনদ ও চেক তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় মন্ত্রিসভার সদস্যবৃন্দ, উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা, বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী এবং আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। জাতীয় জীবনে অসামান্য অবদানের জন্য প্রতিবছর ভাষা আন্দোলনের মাস ফেব্রুয়ারিতে এই সম্মাননা প্রদান করা হয়, যা গুণীজনদের প্রতি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কৃতজ্ঞতার বহিঃপ্রকাশ।


পূর্বানুমতি ছাড়া মেট্রোরেলে ভিডিও ও কনটেন্ট তৈরিতে নিষেধাজ্ঞা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মেট্রোরেল স্টেশন এবং ট্রেনের ভেতরে ব্যক্তিগত বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে সব ধরনের ভিডিও ধারণ ও কনটেন্ট তৈরির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল)। বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ডিএমটিসিএলের পরিচালক (প্রশাসন) এ. কে. এম. খায়রুল আলম স্বাক্ষরিত এক সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে এই নতুন নির্দেশনার কথা জানানো হয়েছে। মূলত যাত্রীসাধারণের স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, এখন থেকে মেট্রোরেলের স্টেশন এলাকা, প্ল্যাটফর্ম, কনকোর্স হল, প্রবেশ ও বহির্গমন পথ এবং ট্রেনের ভেতরে পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো ধরনের ভিডিও ধারণ বা প্রচার করা যাবে না। বিশেষ করে ইউটিউব বা অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য শর্ট ভিডিও তৈরি, লাইভ স্ট্রিমিং এবং ব্যক্তিগত বা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে ফটোগ্রাফি ও শুটিংয়ের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হবে। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হলে বিদ্যমান আইন ও নীতিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

তবে যারা বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে মেট্রোরেল এলাকায় শুটিং বা ফটোগ্রাফি করতে চান, তাদের জন্য নির্দিষ্ট পথ খোলা রাখা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বাণিজ্যিক কাজের ক্ষেত্রে ‘বাণিজ্যিক স্পেস ভাড়া/ইজারা নীতিমালা ২০২৩’ অনুসরণ করতে হবে। এক্ষেত্রে নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় আবেদন করে কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আগেভাগেই লিখিত অনুমতি সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক।

সংশ্লিষ্টদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে মেট্রোরেল প্রাঙ্গণে অপেশাদার কনটেন্ট নির্মাতাদের ভিড় বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ যাত্রীদের চলাচলে বিঘ্ন ঘটছিল। অনেক ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছিল। কর্তৃপক্ষের এই নতুন পদক্ষেপের ফলে মেট্রোরেলে সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াত আরও নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এখন থেকে অনুমতি ছাড়া ক্যামেরা বা মোবাইল ফোন দিয়ে কোনো ধরনের কনটেন্ট তৈরির সুযোগ আর থাকছে না।


banner close