অমর একুশে বইমেলার দিন যতই অতিবাহিত হচ্ছে ততই এর আকর্ষণ বেড়ে চলেছে। এবার নানাবিধ কারণে প্রাণের মেলা ভিন্নরূপ পেয়েছে। বিশেষ করে নগরে স্বস্তির যান মেট্রোরেলের কারণে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর পাঠক-দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ছে। মেলায় প্রতিদিন শতাধিক নতুন বই আসার পাশাপাশি বেড়েছে দর্শনার্থীর সংখ্যা, সঙ্গে বাড়ছে বিক্রিও। দিন যত যাচ্ছে মেলার প্রাণ আরও বাড়ছে। আগামীকাল বসন্ত ও ভালোবাসা দিবসে বইমেলা যেন অন্যরকম আমেজ নিয়ে আসবে। বাংলা একাডেমির বহেড়াতলা বটগাছে কোকিলের সুর বলে দিচ্ছে প্রকৃতিতে ফাগুন চলে এসেছে। ঠিক যেমনিভাবে ফাগুনের এই আগুন বইমেলায়ও চলে আসতে শুরু করেছে। সব সময় মেলা ফাগুনের দিনগুলো থেকেই মূলত জমে ওঠে। এবার আরও নবজাগরণে প্রাণের মেলা জমেছে। কেননা গত দুই বছরের ঢিমেতালে চলা বইমেলা এবার পেয়েছে পুরোপুরি জমে ওঠার চিত্র। মেলায় প্রতিবারের মতো এবারও পাঠকদের আগ্রহের শীর্ষে রয়েছে উপন্যাস। এ ছাড়াও ঘুরেফিরে জনপ্রিয় লেখকদের বই বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রকাশক ও বিক্রয়কর্মীরা।
মেলা ঘুরে দেখা গেছে, পাঠকরা স্টলে স্টলে গিয়ে উপন্যাসের বই খুঁজে বেড়াচ্ছেন। প্রিয় লেখকের প্রকাশিত বই পেলেই তা সংগ্রহ করে নিজেদের ব্যাগে গুঁজে নিচ্ছেন বইপ্রেমীরা। এদিকে পূর্ববর্তী বছরগুলোর মতো এবারও হুমায়ূন আহমেদ, হাসান আজিজুল হক, আনিসুল হক, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ইমদাদুল হক মিলন, সেলিনা হোসেন, মুহম্মদ জাফর ইকবাল, আসিফ নজরুল, মুনতাসীর মামুন, মোশতাক আহমেদ, শাহাদুজ্জামান, হরিশংকর জলদাসসহ বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় লেখকের বই বেশি বিক্রি হচ্ছে। তবে মেলায় হুমায়ূন আহমেদের বই-ই বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে প্রকাশনা সূত্রে জানা যায়। জনপ্রিয় এই লেখকের পুরাতন বইগুলো পাঠকরা এখনো কিনছেন। মেলায় প্রতিদিন হুমায়ূনপ্রেমীরা খুঁজতে খুঁজতে চলে যাচ্ছেন অন্যপ্রকাশে। এই প্রকাশনীতে কিংবদন্তি এই কথাসাহিত্যিকের লেখা উপন্যাস দেয়াল, মাতাল হাওয়া, নন্দিত নরকে, শঙ্খনীল কারাগার, মধ্যাহ্ন অখণ্ড বেশি কিনছেন বলে অন্যপ্রকাশ সূত্রে জানা যায়।
সরেজমিন ঘুরে এবং বিভিন্ন স্টলের বিক্রয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারও মেলায় বেশি জনপ্রিয় লেখকদের গল্প-উপন্যাস বিক্রি হচ্ছে। নতুন বইয়ের সঙ্গে পুরাতন কালজয়ী বইও বিক্রিতে রয়েছে শীর্ষে।
তাম্রলিপি প্রকাশনীর বিজনেস ডেভেলপমেন্ট এক্সিকিউটিভ মুনালিসা জানান, এ বছর ৪৫টি নতুন বই প্রকাশ করেছে প্রকাশনীটি। নতুন বইয়ের সঙ্গে পুরাতন বইও বেশ বিক্রি হচ্ছে। তার মধ্যে হুমায়ূন আহমেদের শ্রেষ্ঠ হিমু, শ্রেষ্ঠ মিছির আলি ও কিশোর সমগ্র বই বিক্রিতে ওপরে রয়েছে।
কাকলী প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী হুমায়ন কবীর জানান, রকিব হাসানের গোয়েন্দা সিরিজ ও সায়েন্স ফিকশন চলছে বেশি। আর হুমায়ূন আহমেদের ভক্তরা তার বই সমগ্র তো সংগ্রহ করছেই।
অনন্যা প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী আসিফ মাহমুদ বলেন, ইমদাদুল হক মিলনের চোর এসে গল্প করেছিল, অন্ধকারে নামতে পারেনি বই দুটোর বিক্রি তুলনামূলকভাবে বেশি। এ ছাড়াও তৌহিদুর রহমানের নিতু বলছি বইটির তৃতীয় মুদ্রণ চলছে। মুনতাসীর মামুনের ঢাকা সমগ্র বইটিও পাঠকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। এ ছাড়াও মুনতাসীর মামুনের বঙ্গবন্ধুর জীবন ও লিবারেশন ওয়্যার বই দুটি এ বছর প্রকাশিত হয়েছে। বইগুলো বিক্রিও হচ্ছে বেশ।
অন্বেষা প্রকাশনের বিক্রয়কর্মী রাফিজা নওশীন জানান, সুজন দেবনাথের হেমলকের নিয়ন্ত্রণ ও জাহিদ হাসানের দেশভাগ ১৯৪৭ বেশি বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া হুমায়ূন আহমেদের তিন বিচিত্র, চন্দ্রসখা, মিসির আলীর ভুবন, তোমাদের জন্য ভালোবাসা, নীল হাতি, সবাই গেছে বনে উপন্যাসগুলো একটি আরেকটির চেয়ে কম বিক্রি হচ্ছে না। এ ছাড়াও সাদাত হোসেনের আগুনডানা মেয়ে বইটিও বেশ বিক্রি হচ্ছে।
অন্যপ্রকাশের স্টল ইনচার্জ তৌহিদুল ইসলাম জানান, উপন্যাস আর হুমায়ন আহমেদের বইয়ে পাঠকদের চাহিদা- দুই ক্ষেত্রেই সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়াও রউফুল আলমের দেশ, সফল মন্ত্র, আহমদ ছফার যদ্যপি আমার গুরু, অর্ধেক নারী অর্ধেক ইশ্বরী বইগুলো বেশ চলছে। তবে ক্রেতাদের চাহিদা উপন্যাস।
বইমেলায় ঘুরতে আসা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শরমিলা জান্নাত বইগুলো ঘাটতে ঘাটতে বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদ দেশের সাহিত্য অঙ্গনে যে জায়গা সৃষ্টি করে গেছেন, তা এখনও কেউ পূরণ করতে পারেননি। পুরোনোরা তো বটেই, নতুন প্রজন্মের পাঠকও এসে এখনো হুমায়ূন আহমেদের বই খোঁজ করেন।’
মেলায় এখনো কালজয়ী সব সাহিত্যিকের লেখা বই কিনছেন বইপ্রেমীরা। এর মধ্যে রয়েছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, শওকত আলী, বেগম রোকেয়া, মীর মশাররফ হোসেন, উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, জীবনানন্দ দাশ, স্বর্ণকুমারী দেবী, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, জসীম উদ্দীন, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, আবু ইসহাক, আহমেদ ছফাসহ হুমায়ুন আজাদের লেখা সব বই। গুণী এই সাহিত্যিকদের লেখা বিভিন্ন গল্প, উপন্যাস ও সমগ্র সংগ্রহে রাখতে মেলায় এসে বই কিনছেন বইপ্রেমীরা।
মেলা ঘুরে দেখা গেছে, এখনো পাঠকরা যেসব কালজয়ী বই মেলায় কিনছেন, তার মধ্যে রয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষের কবিতা, গোড়া, শওকত আলীর প্রদোষে প্রাকৃতজন, আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের খোয়াবনামা, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবি, সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহর লালসালু, জহির রায়হানের হাজার বছর ধরে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনী, সৈয়দ শামসুল হকের খেলারাম খেলে যা ও নিষিদ্ধ লোবান, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রথম আলো, সেই সময় এবং পূর্ব-পশ্চিম, হুমায়ূন আহমেদের নন্দিত নরকে, শঙ্খনীল কারাগার এবং জোৎস্না ও জননীর গল্প, হুমায়ুন আজাদের নারী ও ছাপ্পান্নো হাজার বর্গমাইল, আবু ইসহাকের সূর্য দীঘল বাড়ি, হাসান আজিজুল হকের আগুনপাখি, মানিক বন্দোপাধ্যায়ের পদ্মা নদীর মাঝি ও পুতুল নাচের ইতিকথা, ইমদাদুল হক মিলনের নূরজাহান, সৈয়দ মুজতবা আলীর দেশ বিদেশে, শওকত ওসমানের কৃতদাসের হাসি, আনিসুল হকের চার কিশোর গোয়েন্দা, শহীদুল্লাহ কায়সারের সারেং বৌ, সংশপ্তক, জাহানারা ইমামের একাত্তরের দিনগুলি, বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের আদর্শ হিন্দু হোটেল, মুহম্মদ জাফর ইকবালের লেখা ফেরা, আহমদ ছফার যদ্যপি আমার গুরু ও শাহাদুজ্জামানের ক্রাচের কর্নেলসহ আরও কিছু বই। এই বইগুলো প্রকৃত বইপ্রেমীরা দেখলেই তা সংগ্রহে রাখার জন্য হলেও কিনে নিচ্ছেন বলে জানান মেলার বিভিন্ন স্টলের বিক্রয়কর্মীরা।
এখনো জমেনি লিটলম্যাগ চত্বর
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চের পাশে অবস্থিত লিটল ম্যাগ চত্বর ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড় নেই মেলার এ অংশে। যদিও বিক্রয় প্রতিনিধিরা বলছেন, মেলার অন্য অংশ থেকে বরাবরই এ অংশে ভিড় কম থাকে। সেখানকার স্টলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লোকজন এ চত্বরে কম যায়। তেমন বিক্রিও হয় না। বইমেলায় একসময় অন্যতম আকর্ষণ ছিল তারুণ্যের এ ‘লিটল ম্যাগ চত্বর’। মেলার এই অংশে নবীন লেখকদের প্রকাশিত বিভিন্ন ম্যাগাজিন পাঠক-দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরেন লেখক, প্রকাশক। কিন্তু সময়ের আবর্তে একসময়কার তুমুল জনপ্রিয় এই চত্বরে এখন কেবলই হাহাকার। বারবার এর স্থান পরিবর্তন হলেও হারানো গৌরবের দেখা পাচ্ছে না এই চত্বর।
জনপ্রিয় সব লেখক, প্রকাশনী ও পত্রিকার ভিড়ে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে সত্তরের দশকের গণজাগরণের চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত লিটল ম্যাগাজিনগুলো। বিপ্লবী ধারার এসব ম্যাগাজিনের স্থান দখল করে নিয়েছে পত্রিকাগুলো। কিন্তু এতসব বাধা বিপত্তির মাঝেও এখনো টিকে আছে কিছু ম্যাগাজিন। দেড় দশকের বেশি সময় ধরে বাংলা একাডেমির বহেড়াতলায় স্থান পাওয়া বইমেলার অন্যতম আকর্ষণ ‘লিটল ম্যাগ চত্বর’ কখনো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মাঝখানে, কখনো উত্তর পাশে আবার কখনো কালি মন্দিরের পাশে স্থান বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। তবে এ বছর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চের উত্তরাংশের অন্ধকারাচ্ছন্ন জায়গায় স্থান হয়েছে লিটল ম্যাগের। ফলে বিগত দিনের ধারাবাহিক খরা তাতে লেগেই আছে।
আজকের বইমেলা :
আজকের মেলা বিকেল ৩টায় শুরু হয়ে শেষ হয় রাত ৯টায়। ১২তম দিনে মেলায় নতুন বই এসেছে ১১৫টি। বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় জন্মশতবার্ষিক শ্রদ্ধাঞ্জলি : হেনা দাস শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জোবাইদা নাসরীন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ঝর্না রহমান এবং ফওজিয়া মোসলেম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শিরীণ আখতার।
‘লেখক বলছি’ অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন কথাসাহিত্যিক সালমা বাণী, কবি ফারহানা রহমান, গবেষক মিলটন কুমার দেব এবং কথাসাহিত্যিক ইকবাল খন্দকার।
আগামীকালের বইমেলা :
আগামীকাল ১৩তম দিন মেলা শুরু হবে বিকেল ৩টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে স্মরণে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ শীর্ষক আলাচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপনা করবেন আহমদ মোস্তফা কামাল। আলাচনায় অংশগ্রহণ করবন হরিশংকর জলদাস এবং ফারজানা সিদ্দিকা। অনুষ্ঠান সভাপতিত্ব করবেন সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম।
শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও ঢাকা-১৩ আসনের সংসদ সদস্য ববি হাজ্জাজ স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, নতুন সরকার কোনোভাবেই দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ দেবে না। বিশেষ করে মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিঘ্নিতকারী ছিনতাই, চাঁদাবাজি ও কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য বন্ধে ইতিমধ্যে কার্যকর ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। আজ রোববার সকালে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দলীয় নেতাকর্মীদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচনী সহিংসতায় আহত কর্মীদের উন্নত চিকিৎসা ও আইনি সহায়তার বিষয়েও তিনি এ সময় আশ্বস্ত করেন।
নির্বাচনী সহিংসতার বিষয়ে অভিযোগ তুলে ববি হাজ্জাজ বলেন, নির্বাচনের দিন একাধিক কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মামুনুল হকের সরাসরি উপস্থিতিতে এবং তাঁর নির্দেশে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে। এই নজিরবিহীন হামলায় শতাধিক নেতাকর্মী গুরুতর আহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে অনেকেই এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি দৃঢ়তার সাথে উল্লেখ করেন যে, এই হামলার বিচার আইনি পথেই নিশ্চিত করা হবে এবং কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়া হবে না। প্রতিটি আহত কর্মীর পক্ষ থেকে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে তিনি জানান।
এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সেনাবাহিনী ক্যাম্প সরিয়ে নেওয়ার পর উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ বাহিনীকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় অপরাধ দমনে ৫৫০টি আধুনিক সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। এছাড়া বসিলায় নতুন পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনসহ ওই এলাকায় ২০টি পুলিশ বক্স এবং টহল গাড়ির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি করা হবে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে নাগরিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এলাকাকে অপরাধমুক্ত করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য।
ববি হাজ্জাজ আরও উল্লেখ করেন যে, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়ী হতে অনেক চড়াই-উতরাই ও প্রতিকূল পরিস্থিতি পার করতে হয়েছে। প্রতিপক্ষ দল কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করলেও সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় তা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন যে, বিএনপি সরকার দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি দলীয় পরিচয়ে অন্যায় কাজে লিপ্ত হয়, তবে তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আহত কর্মীদের পাশে থাকার অঙ্গীকার করে তিনি তাঁদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। সংশ্লিষ্ট এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে জনগণের সহযোগিতা কামনা করেছেন সরকারের এই প্রভাবশালী প্রতিনিধি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান তাঁর পদ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেছেন। আজ রোববার সকালে তিনি সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের দপ্তরে সশরীরে উপস্থিত হয়ে নিজের পদত্যাগপত্রটি হস্তান্তর করেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, উপাচার্যের দেওয়া পদত্যাগপত্রটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং এখন নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। দেশের শীর্ষস্থানীয় এই বিদ্যাপীঠের প্রশাসনিক নেতৃত্বে পরিবর্তনের এই খবরটি শিক্ষা অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অধ্যাপক নিয়াজ আহমদ খান এমন এক সময়ে পদত্যাগ করলেন যখন বিশ্ববিদ্যালয়টির সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। এর আগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানিয়েছিলেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘আপৎকালীন পরিস্থিতি’ এখন অনেকাংশে দূর হয়েছে এবং ক্যাম্পাসের পরিবেশ এখন একটি সুশৃঙ্খল ও ভালো পর্যায়ে রয়েছে। তিনি মনে করেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় যে চ্যালেঞ্জগুলো ছিল, তা সফলভাবে মোকাবিলা করার পর এখন সরে দাঁড়ানোর উপযুক্ত সময়। মূলত একটি নতুন রাজনৈতিক সরকার দেশ পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করায়, তারা যেন তাদের নিজস্ব পরিকল্পনা ও পছন্দ অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাজানোর সুযোগ পায়, সেই গণতান্ত্রিক ও নৈতিক দায়বদ্ধতা থেকেই তিনি পদ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
উপাচার্য তাঁর বক্তব্যে আরও উল্লেখ করেছিলেন যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং নতুন নেতৃত্বের জন্য পথ সুগম করে দেওয়াই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। তিনি চান রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের এই সময়ে শিক্ষা কার্যক্রম যেন কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত না হয়। অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানের এই সময়োচিত ও স্বেচ্ছায় পদত্যাগের সিদ্ধান্তকে অনেকেই ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন। শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, উপাচার্য পদত্যাগের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ পদে নতুন নিয়োগের বিষয়ে দ্রুতই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে যাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে কোনো শূন্যতা তৈরি না হয়। এখন সকলের দৃষ্টি পরবর্তী উপাচার্য নিয়োগের দিকে, যার মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নতুন প্রশাসনিক অধ্যায় শুরু হবে।
মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিক ফজল আনসারি সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের বিরুদ্ধে অসহযোগিতা ও পরিকল্পিতভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন। রোববার নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি দাবি করেন, জাতিসংঘের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদে আবেদনের ক্ষেত্রে নিজ সরকারের কাছ থেকে তিনি যে সমর্থন প্রত্যাশা করেছিলেন, তা সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টার কারণে নস্যাৎ হয়ে গেছে। মুশফিক ফজল আনসারির ভাষ্যমতে, লাটভিয়ার ব্র্যান্ডস কেহরিসের মেয়াদ শেষ হলে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সহকারী মহাসচিব পদটি শূন্য হয় এবং এক বিদেশি সহকর্মীর উৎসাহে তিনি এই পদের জন্য আবেদন করার সিদ্ধান্ত নেন। বিষয়টি তিনি তৎকালীন সরকারপ্রধান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে অবহিত করলে তাঁর পরামর্শেই পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।
রাষ্ট্রদূত মুশফিক ফজল আনসারি অভিযোগ করেন যে, তৌহিদ হোসেন শুরুতে মৌখিকভাবে আবেদনের অনুমতি দিলেও আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করার পর আকস্মিকভাবে তাঁকে 'অগ্রসর না হতে' (not to proceed) নির্দেশ দেন। এমনকি আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি আনুষ্ঠানিক সমর্থন বা 'নোট ভারবাল' প্রদানেও অস্বীকৃতি জানানো হয়, যার ফলে তাঁর আবেদনটি আর চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। রাষ্ট্রদূতের দাবি অনুযায়ী, এরপর থেকে তৌহিদ হোসেন তাঁর সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন এবং বারবার ফোন করলেও তিনি তা ধরেননি। মানবাধিকার ও গণতন্ত্র নিয়ে দীর্ঘদিনের কাজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত আক্ষেপ প্রকাশ করেন যে, সদস্য রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের সমর্থন না পাওয়ায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের প্রতিনিধিত্ব করার একটি বড় সুযোগ নষ্ট হয়েছে। তিনি আরও জানান যে, যুক্তরাষ্ট্র থেকেও সমর্থন পাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও তিনি নিজ দেশের আনুষ্ঠানিক সমর্থন নিয়েই এগোতে চেয়েছিলেন।
পোস্টে আরও উল্লেখ করা হয় যে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই অসহযোগিতার কারণ জানতে চাইলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে দাবি করা হয়েছিল মুশফিক ফজল আনসারির নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা কম, তাই সমর্থন দেওয়া হয়নি। তবে রাষ্ট্রদূত এই যুক্তির তীব্র বিরোধিতা করে বলেন, এ ধরনের পদে কোনো ভোটাভুটি হয় না, বরং সদস্য রাষ্ট্রের মনোনয়নের পর জাতিসংঘ সচিবালয় সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করে সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে নিয়োগ চূড়ান্ত করে। এছাড়া রাষ্ট্রদূত অভিযোগ করেছেন যে, দায়িত্ব পালনকালে বিদেশে পোস্টিং এবং জাতিসংঘ অধিবেশনে অংশগ্রহণের মতো স্বাভাবিক প্রশাসনিক বিষয়েও তাঁর পথে বিভিন্ন সময়ে পরিকল্পিতভাবে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছিল।
বিষয়টি নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনলে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন বলেও ফেসবুক পোস্টে দাবি করা হয়। তবে প্রধানমন্ত্রীকে কোনোভাবে বিব্রত করতে চাননি বলে তিনি এই প্রক্রিয়ায় সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করেননি। রাষ্ট্রদূত তাঁর পোস্টে আরও উল্লেখ করেছেন যে, রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব ও পেশাগত বাধ্যবাধকতার কারণে অনেক তথ্যই এই মুহূর্তে প্রকাশ করছেন না, তবে ভবিষ্যতে তাঁর এই তিক্ত অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি বিস্তারিত বই লেখার পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টার এমন আচরণের পেছনে কী রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক কারণ ছিল, তা নিয়ে এখন কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। তাঁর এই ফেসবুক পোস্টটি ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী বেগম সেলিমা রহমান গুরুতর অসুস্থ হয়ে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার রাতে তিনি আকস্মিকভাবে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় চিকিৎসকরা তাঁকে হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের একটি বিশেষ দল তাঁর স্বাস্থ্য পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন এবং প্রয়োজনীয় সকল পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করা হচ্ছে।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, সেলিমা রহমানের হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিএনপির রাজনৈতিক মহলে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। দলের জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ থেকে শুরু করে সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা তাঁর দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, প্রবীণ এই নেত্রীকে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং তাঁর শারীরিক পরিস্থিতির উন্নতির জন্য সম্ভাব্য সব ধরনের চিকিৎসা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় তত্ত্বাবধানে রয়েছেন।
বেগম সেলিমা রহমানের পরিবার এবং বিএনপির পক্ষ থেকে তাঁর আশু রোগমুক্তির জন্য দেশবাসীর কাছে বিশেষ দোয়া প্রার্থনা করা হয়েছে। দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবং নতুন সরকারের কর্মতৎপরতার মধ্যে দলের এই প্রবীণ নীতি নির্ধারকের অসুস্থতা নেতাকর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া ফেলেছে। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন, নিবিড় চিকিৎসার মাধ্যমে তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে আবারও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় হতে পারবেন। হাসপাতালের পক্ষ থেকে তাঁর স্বাস্থ্য সংক্রান্ত নিয়মিত আপডেট তাঁর পরিবার ও দলকে অবহিত করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আজ রবিবার সকালে ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আব্দুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া এক সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন। বেলা ১১টায় সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। নবগঠিত সরকারের প্রধান হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর সাথে রাষ্ট্রদূতের এই সাক্ষাৎকে দুদেশের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। একান্ত এই বৈঠকে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে অর্থনৈতিক সহযোগিতা, জনশক্তি রপ্তানি এবং বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র তৈরি নিয়ে উভয় পক্ষ অত্যন্ত ইতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেন। রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের নতুন সরকারের প্রতি সৌদি আরবের অব্যাহত সমর্থন ও সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। প্রধানমন্ত্রীও সৌদি আরবকে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে অভিহিত করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সচিবালয়ে আজ ছিল প্রধানমন্ত্রীর অত্যন্ত ব্যস্ত এক কর্মদিবস। সকাল ৯টা ৫ মিনিটে তিনি সচিবালয়ে পৌঁছালে তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার। এরপর প্রধানমন্ত্রী তাঁর দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেন। সৌদি রাষ্ট্রদূতের সাথে সাক্ষাতের আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীদের সাথে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মিলিত হন। সেখানে দেশের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও ভবিষ্যৎ বৈদেশিক নীতির গতিপ্রকৃতি নিয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন প্রধানমন্ত্রী। এই বৈঠকে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর এই নিয়মিত উপস্থিতি এবং বিদেশি কূটনীতিকদের সাথে দফায় দফায় বৈঠক প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক অঙ্গনে নতুন গতির সঞ্চার করেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের সাথে বিশেষ আলোচনার পর সৌদি রাষ্ট্রদূতের এই সৌজন্য সাক্ষাৎ দুই দেশের ভ্রাতৃত্বপ্রতিম সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন। সৌদি রাষ্ট্রদূত প্রধানমন্ত্রীকে তাঁর সরকারের পক্ষ থেকে অভিবাদন জানান এবং বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়নে পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। দুপুরের পর প্রধানমন্ত্রীর আরও কিছু দাপ্তরিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। সব মিলিয়ে আজ সচিবালয় ছিল জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণকাজ নিয়ে সৃষ্ট দীর্ঘদিনের আর্থিক বিরোধের অবসান ঘটিয়ে বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষকে (বেবিচক) বড় ধরনের অর্থ পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে একটি আন্তর্জাতিক সালিশি বোর্ড। গত বৃহস্পতিবার ঢাকায় ঘোষিত রায়ে বেবিচককে বিদেশি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘অ্যাভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম’ (এডিসি)-এর পাওনা বাবদ প্রায় ১ হাজার ৬৫০ কোটি টাকা সমপরিমাণ অর্থ অবিলম্বে পরিশোধের নির্দেশ দেওয়া হয়। মালয়েশিয়া, যুক্তরাজ্য ও জার্মানির তিন বিশেষজ্ঞ বিচারকের সমন্বয়ে গঠিত এই বোর্ড উভয় পক্ষের দীর্ঘ শুনানি ও নথি পর্যালোচনার পর এই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রদান করে। মূলত নির্মাণ কাজের বিভিন্ন পর্যায়ের দেনা-পাওনা এবং অর্থ ছাড়ে বিলম্বকে কেন্দ্র করে এই আইনি জটিলতার সূত্রপাত হয়েছিল।
রায়ের বিস্তারিত তথ্য অনুযায়ী, তৃতীয় টার্মিনাল প্রকল্পের এপিসিএস-৪৮ এবং ৫২-৫৪ শিরোনামের কাজের বিপরীতে এডিসিকে ৫৮৯ কোটি ৮৬ লাখ জাপানি ইয়েন এবং ২৭২ কোটি ৯ লাখ টাকা প্রদান করতে হবে। এর পাশাপাশি রিটেনশন মানির দ্বিতীয় কিস্তি হিসেবে আরও দুটি বিশাল অঙ্কের অর্থ—প্রায় ৬০২ কোটি ৭৭ লাখ টাকা এবং ৪০০ কোটি ৪২ লাখ টাকা পরিশোধের নির্দেশ দিয়েছে বোর্ড। পাওনা পরিশোধে বিলম্ব হওয়ার কারণে এবং রিটেনশন মানি ছাড় করতে দেরি করায় সৃষ্ট অতিরিক্ত অর্থায়ন চার্জ বাবদ আরও ২২ কোটি ২৯ লাখ ইয়েন এবং ২৯ কোটি ৯৫ লাখ টাকা যোগ হয়েছে। সব মিলিয়ে এই বিশাল অঙ্কের অর্থ পরিশোধের দায় এখন বেবিচকের ওপর বর্তেছে, যা প্রকল্প ব্যয়ের ওপর অতিরিক্ত প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সালিশি বোর্ডের পর্যবেক্ষণে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আইনি দিক উঠে এসেছে। রায়ে বলা হয়েছে, প্রকল্পের কাজের পরিধি যেভাবে বাড়ানো হয়েছিল, তা আইনগতভাবে পুরোপুরি বৈধ ছিল না। এছাড়া কাজের ডিফেক্ট নোটিফিকেশন পিরিয়ড বা ডিএনপি ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি শেষ হলেও পারফরম্যান্স সার্টিফিকেট দেওয়ার জন্য এখনো উপযুক্ত সময় হয়নি। একারণেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এডিসি’র পারফরম্যান্স সিকিউরিটি ফেরত দেওয়ার আবেদনটি নাকচ করে দিয়েছে বোর্ড। সালিশি বোর্ড স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, তাদের এই সিদ্ধান্ত উভয় পক্ষের জন্য বাধ্যতামূলক এবং পারস্পরিক সমঝোতা বা চূড়ান্ত কোনো আইনি পরিবর্তন ছাড়া এটি অবিলম্বে কার্যকর করতে হবে। অ্যাডজুডিকেশন পদ্ধতির ব্যয় নির্ধারণের ক্ষেত্রে বেবিচকের একক কোনো এখতিয়ার নেই বলেও রায়ে সতর্ক করা হয়েছে।
এই বিশাল নির্মাণ যজ্ঞের সাথে জাপানের মিৎসুবিশি করপোরেশন, ফুজিটা করপোরেশন এবং দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাং সিঅ্যান্ডটি করপোরেশন যুক্ত রয়েছে, যারা যৌথভাবে ‘অ্যাভিয়েশন ঢাকা কনসোর্টিয়াম’ গঠন করে কাজটি সম্পন্ন করছে। বেবিচক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক সালিশি বোর্ডের এই রায়ের কপি তারা হাতে পেয়েছে এবং বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায় ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হবে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী আইনি বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে। টার্মিনালটির নির্মাণ শেষ পর্যায়ে থাকলেও এই বিশাল অঙ্কের আর্থিক জরিমানা এবং বিরোধ নিষ্পত্তি নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ১২ মার্চ বা এর দু-এক দিন আগে শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার রাতে নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি প্রকাশ করেন। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের পর গঠিত নতুন সরকারের অধীনে সংসদীয় কার্যক্রম শুরুর এটিই হবে প্রথম আনুষ্ঠানিক ধাপ। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাচনের ফলাফল সম্বলিত গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সে হিসেবে আগামী ১৪ মার্চের মধ্যে অধিবেশন ডাকার সময়সীমা নির্ধারিত থাকলেও সরকার ১২ মার্চের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে আগ্রহী।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে নিরঙ্কুশ জয় লাভ করে এবং সরকার গঠন করে। অন্যদিকে, এই নির্বাচনে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পেয়ে সংসদে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে জামায়াতে ইসলামী। ইতিমধ্যে সংসদ নেতা হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। নির্বাচনের পর ১৩ ফেব্রুয়ারি বিজয়ী সংসদ সদস্যদের নামের গেজেট প্রকাশিত হয় এবং গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি এই প্রথম অধিবেশন আহ্বান করবেন।
প্রথম অধিবেশনের কার্যসূচি নিয়ে আলোকপাত করতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, এই অধিবেশনে সংসদের অভিভাবক হিসেবে নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে। সংসদীয় গণতন্ত্রের রীতি অনুযায়ী এরপর রাষ্ট্রপতির ভাষণ ও শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। তবে এবারের অধিবেশনটি আইনি দিক থেকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে যাচ্ছে, কারণ এতে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা বিভিন্ন জরুরি অধ্যাদেশসমূহ আলোচনার জন্য উপস্থাপন করা হবে। জাতীয় সংসদে এই অধ্যাদেশগুলো অনুমোদনের মাধ্যমেই সেগুলো স্থায়ী আইনে পরিণত হওয়ার পথে এগিয়ে যাবে।
দীর্ঘদিন পর একটি প্রতিযোগিতামূলক নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত এই সংসদ ঘিরে সাধারণ মানুষের ব্যাপক প্রত্যাশা রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ১২ মার্চ অধিবেশন শুরু হলে তা দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় একটি নতুন মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হবে। বিশেষ করে সরকারি ও বিরোধী দলের অংশগ্রহণে সংসদ কতটা কার্যকর ও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে, সেটিই এখন দেখার বিষয়। প্রশাসনিক সংস্কার, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিলগুলো পাসের মাধ্যমে সংসদীয় কার্যক্রম দ্রুত গতিশীল হবে বলে সরকার পক্ষ থেকে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে। প্রথম অধিবেশনের সুনির্দিষ্ট তারিখ ও সময় খুব শিগগিরই রাষ্ট্রপতি সচিবালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে।
আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি একই দিনে দেশের দুটি বড় জাতীয় উৎসব ও পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে সশরীরে উপস্থিত থাকছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এদিন সকালে তিনি রাজধানীর একটি নির্ধারিত মিলনায়তনে রাষ্ট্রীয় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মাননা ‘একুশে পদক-২০২৬’ প্রদান করবেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অনন্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে নির্বাচিত গুণীজনদের হাতে তিনি এই পদক তুলে দেবেন। অনুষ্ঠানের পরবর্তী অংশে প্রধানমন্ত্রী বিকেলে বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রাঙ্গণে আয়োজিত ‘অমর একুশে বইমেলা’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করবেন। শনিবার সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী সাংবাদিকদের এই কর্মসূচির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। মূলত একুশে ফেব্রুয়ারির ভাবগাম্ভীর্য বজায় রেখে পরবর্তী সপ্তাহেই এই বর্ণাঢ্য আয়োজনগুলো সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।
সংস্কৃতি মন্ত্রী জানিয়েছেন যে, ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে গুণীজনদের হাতে পদক তুলে দেবেন। এরপর বিকেলের অধিবেশনে তিনি বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বইমেলার উদ্বোধন করবেন। অনুষ্ঠান দুটি ঘিরে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো প্রয়োজনীয় সকল প্রস্তুতি ইতোমধ্যে সম্পন্ন করেছে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং মেলা প্রাঙ্গণে দর্শকদের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও আয়োজক কর্তৃপক্ষ কাজ শুরু করেছে। এবারের বইমেলায় প্রকাশকদের জন্য একটি বিশেষ ঘোষণা দিয়েছে সরকার; প্রকাশনা শিল্পকে উৎসাহিত করতে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর স্টল ভাড়া সম্পূর্ণ মওকুফ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে বইমেলার প্রস্তুতির মধ্যেই প্রকাশকদের পক্ষ থেকে একটি ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। দেশের প্রকাশকদের সংগঠন ‘প্রকাশক ঐক্য’ এবারের অমর একুশে বইমেলায় অংশ না নেওয়ার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। শনিবার সংগঠনটির পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, স্টল ও প্যাভিলিয়ন বরাদ্দের ক্ষেত্রে বিরাজমান অস্বচ্ছতা নিরসন না হওয়া এবং মেলার প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় না পাওয়ায় তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রকাশকদের একটি বড় অংশের এই বর্জনের ঘোষণার ফলে মেলার আয়োজনে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও বাংলা একাডেমি কর্তৃপক্ষ আশা প্রকাশ করছে যে, আলোচনার মাধ্যমে বিদ্যমান সকল সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে এবং বরাবরের মতো একটি সফল ও উৎসবমুখর বইমেলা আয়োজন করা সম্ভব হবে। সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তেজগাঁও কার্যালয়ে প্রথম দাপ্তরিক কাজ শুরুর পর এই প্রথম কোনো বড় পাবলিক ইভেন্টে তাঁর অংশগ্রহণকে কেন্দ্র করে জনমনে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
রাজধানীর গুলশানে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে অবস্থান নেওয়া পাঁচজন নারী ও একজন পুরুষকে থানায় নিয়ে গেছে পুলিশ। শনিবার সন্ধ্যায় গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানায়, শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তারা সহযোগিতার আবেদন নিয়ে সেখানে আসেন। দায়িত্বে থাকা বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যরা তাদের সরে যেতে অনুরোধ করেন। তবে তারা স্থান ত্যাগে অনড় থাকলে বিষয়টি বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী (এসএসএফ) থেকে গুলশান থানা-কে জানানো হয়।
পরে পুলিশ গিয়ে তাদের থানায় নিয়ে আসে।
ওসি রাকিবুল হাসান বলেন, তারা প্রধানমন্ত্রীর কাছে সহায়তা চাওয়ার উদ্দেশ্যে সেখানে অবস্থান করছিলেন। নিরাপত্তা সদস্যরা বুঝিয়ে সরানোর চেষ্টা করলেও তারা সরে যাননি। পরে পুলিশ তাদের থানায় নিয়ে আসে।
থানায় নেওয়ার পর তাদের ইফতার করানো হয়েছে বলে জানান তিনি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে পরিবারের জিম্মায় তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।
রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানাধীন কুতুবখালী পকেট গেট চেকপোস্টে দায়িত্ব পালনকালে দুই দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে মো. শাহ আলম (২৮) নামে এক পুলিশ কনস্টেবল গুরুতর আহত হয়েছেন।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলের দিকে এই হামলার ঘটনা ঘটে এবং পরবর্তীতে সহকর্মীরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসেন। হামলার শিকার শাহ আলম বর্তমানে যাত্রাবাড়ী থানায় কর্মরত আছেন এবং ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি জানান, “ঘটনার সময় আমি যাত্রাবাড়ী কুতুবখালী পকেট গেটে চেকপোস্টে দায়িত্ব পালন করছিলাম। এ সময় দুজন অজ্ঞাত ব্যক্তির কাছে দুটি ব্যাগ ছিল। আমি সেটি তল্লাশি করতে চাইলে কোনো কিছু বোঝার আগেই তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে আমার ঘাড়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়।” বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢামেক হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানান, “আজ বিকেল পৌনে পাঁচটার দিকে ঘাড়ে জখম অবস্থায় ওই পুলিশ সদস্যকে ঢাকা মেডিকেলের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হয়েছে। বর্তমানে জরুরি বিভাগের অপারেশন থিয়েটারে তার চিকিৎসা চলছে। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানা পুলিশকে জানানো হয়েছে।”
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-৩ আসনের সংসদ সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় প্রশাসনকে উদ্দেশ করে বলেছেন, দায়িত্ব পালনে পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে হবে। মন্ত্রী বা সংসদ সদস্যকে খুশি করা প্রশাসনের কাজ নয়। হাসিনা দীর্ঘ ১৭ বছরে প্রশাসনকে দলীয়করণ করা হয়েছে, তার পুনরাবৃত্তি দেখতে চান না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কেরানীগঞ্জের মির্জাপুরে নিজ বাসভবনে দক্ষিণ শাখা বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে নির্বাচন-পরবর্তী মতবিনিময়সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, তিনি মন্ত্রী হওয়ার জন্য রাজনীতি করেননি। কেউ তাকে সান্ত্বনা দিতে এলে সেটিকে অপমান হিসেবে নেবেন। তিনি জনগণের প্রতিনিধি হয়ে মানুষের কথা বলার জন্য নির্বাচন করেছেন। প্রশাসন যদি কাউকে খুশি করতে আইনের বাইরে যায়, তাহলে তিনি সংসদে তার বিরুদ্ধে কথা বলবেন বলেও সতর্ক করেন।
নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিপুল সংখ্যক ব্যাজ বিতরণ করা হলেও প্রত্যাশিত ভোট পাওয়া যায়নি। নিজেদের পরিবার ও সমর্থকদের ভোট নিশ্চিত করতে না পারার বিষয়েও হতাশা প্রকাশ করেন তিনি। কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন কেন্দ্রে ফলাফল সন্তোষজনক হয়নি বলেও উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, দুর্বল মনে করে কাউকে আঘাত করা যাবে না। দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। অতীতে প্রশাসন ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে নির্দেশনা দিয়ে বলেন, থানার কমিটির অনুমতি ছাড়া কেউ থানায় কোনো কাজে যাবেন না।
সভায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরীর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন সাধারণ সম্পাদক মোজাদ্দেদ আলী বাবুসহ স্থানীয় নেতারা।
আগামী ১২ মার্চ অথবা এর দুই একদিন আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসতে পারে বলে জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসবে আগামী মাসের ১২ মার্চ অথবা এর দুই একদিন আগে। এই অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি আরও জানান, অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশ এবং শোক প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে।
এরই মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংসদ নেতা হিসেবে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং বিরোধী দলীয় নেতা হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান নির্বাচিত হয়েছেন।
সংবিধান অনুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে রাষ্ট্রপতিকে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বান করতে হয়। প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শের ভিত্তিতে তিনি তা করেন। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের গেজেট ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করা হয়েছে।
সংবিধান অনুযায়ী, পুরোনো সংসদের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন সংসদের অধিবেশন বসে। বিগত তিনটি নির্বাচনের ক্ষেত্রেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে। দ্বাদশ সংসদের সদস্যরা ২০২৪ সালের ১০ জানুয়ারি শপথ নিলেও প্রথম অধিবেশন বসেছিল ৩০ জানুয়ারি, কারণ একাদশ সংসদের মেয়াদ শেষ হয়েছিল ২৯ জানুয়ারি। এবার সংসদ না থাকায় অধিবেশন শুরুতে অপেক্ষা কম হবে।
উল্লেখ্য, ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯টিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ফলাফল ঘোষণা হয়েছে ২৯৭টির। এর মধ্যে বিএনপি ২০৯টি এবং তাদের জোটের তিন শরিক দল তিনটি আসনে জয়ী হয়েছে। স্থগিত থাকা দুটি আসনেও বিএনপির প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছেন।
অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসনে জয় পেয়েছে। তাদের ১১ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টি ছয়টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি এবং খেলাফত মজলিস একটি আসনে জয়ী হয়েছে। ইসলামী আন্দোলন একটি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে বিজয়ী হয়েছেন। এই স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও বিএনপির বিদ্রোহী বলে জানা গেছে।
দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। আগামী সোমবার আকাশ আংশিক মেঘলা থাকতে পারে এবং কয়েকটি স্থানে বৃষ্টি হতে পারে বলে জানানো হয়েছে।
পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সোমবার সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-একটি জায়গায় হালকা বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। ঢাকাসহ ছয় বিভাগের কিছু এলাকায় এই বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
মঙ্গলবার বৃষ্টির বিস্তার আরও বাড়তে পারে। কোথাও কোথাও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে। বুধবার দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। বৃষ্টির প্রভাবে ওই দিন থেকে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আবহাওয়া অধিদপ্তর আরও জানায়, দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর এবং তৎসংলগ্ন এলাকায় একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। এটি পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে ঘনীভূত হতে পারে। উপমহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ বর্তমানে বিহার ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছে।
এদিকে রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় দিন ও রাতের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়ছে। তবে বৃষ্টিপাত শুরু হলে তাপমাত্রা কমে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।