অমর একুশে বইমেলার দিন যতই অতিবাহিত হচ্ছে ততই এর আকর্ষণ বেড়ে চলেছে। এবার নানাবিধ কারণে প্রাণের মেলা ভিন্নরূপ পেয়েছে। বিশেষ করে নগরে স্বস্তির যান মেট্রোরেলের কারণে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর পাঠক-দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ছে। মেলায় প্রতিদিন শতাধিক নতুন বই আসার পাশাপাশি বেড়েছে দর্শনার্থীর সংখ্যা, সঙ্গে বাড়ছে বিক্রিও। দিন যত যাচ্ছে মেলার প্রাণ আরও বাড়ছে। আগামীকাল বসন্ত ও ভালোবাসা দিবসে বইমেলা যেন অন্যরকম আমেজ নিয়ে আসবে। বাংলা একাডেমির বহেড়াতলা বটগাছে কোকিলের সুর বলে দিচ্ছে প্রকৃতিতে ফাগুন চলে এসেছে। ঠিক যেমনিভাবে ফাগুনের এই আগুন বইমেলায়ও চলে আসতে শুরু করেছে। সব সময় মেলা ফাগুনের দিনগুলো থেকেই মূলত জমে ওঠে। এবার আরও নবজাগরণে প্রাণের মেলা জমেছে। কেননা গত দুই বছরের ঢিমেতালে চলা বইমেলা এবার পেয়েছে পুরোপুরি জমে ওঠার চিত্র। মেলায় প্রতিবারের মতো এবারও পাঠকদের আগ্রহের শীর্ষে রয়েছে উপন্যাস। এ ছাড়াও ঘুরেফিরে জনপ্রিয় লেখকদের বই বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রকাশক ও বিক্রয়কর্মীরা।
মেলা ঘুরে দেখা গেছে, পাঠকরা স্টলে স্টলে গিয়ে উপন্যাসের বই খুঁজে বেড়াচ্ছেন। প্রিয় লেখকের প্রকাশিত বই পেলেই তা সংগ্রহ করে নিজেদের ব্যাগে গুঁজে নিচ্ছেন বইপ্রেমীরা। এদিকে পূর্ববর্তী বছরগুলোর মতো এবারও হুমায়ূন আহমেদ, হাসান আজিজুল হক, আনিসুল হক, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ইমদাদুল হক মিলন, সেলিনা হোসেন, মুহম্মদ জাফর ইকবাল, আসিফ নজরুল, মুনতাসীর মামুন, মোশতাক আহমেদ, শাহাদুজ্জামান, হরিশংকর জলদাসসহ বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় লেখকের বই বেশি বিক্রি হচ্ছে। তবে মেলায় হুমায়ূন আহমেদের বই-ই বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে প্রকাশনা সূত্রে জানা যায়। জনপ্রিয় এই লেখকের পুরাতন বইগুলো পাঠকরা এখনো কিনছেন। মেলায় প্রতিদিন হুমায়ূনপ্রেমীরা খুঁজতে খুঁজতে চলে যাচ্ছেন অন্যপ্রকাশে। এই প্রকাশনীতে কিংবদন্তি এই কথাসাহিত্যিকের লেখা উপন্যাস দেয়াল, মাতাল হাওয়া, নন্দিত নরকে, শঙ্খনীল কারাগার, মধ্যাহ্ন অখণ্ড বেশি কিনছেন বলে অন্যপ্রকাশ সূত্রে জানা যায়।
সরেজমিন ঘুরে এবং বিভিন্ন স্টলের বিক্রয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারও মেলায় বেশি জনপ্রিয় লেখকদের গল্প-উপন্যাস বিক্রি হচ্ছে। নতুন বইয়ের সঙ্গে পুরাতন কালজয়ী বইও বিক্রিতে রয়েছে শীর্ষে।
তাম্রলিপি প্রকাশনীর বিজনেস ডেভেলপমেন্ট এক্সিকিউটিভ মুনালিসা জানান, এ বছর ৪৫টি নতুন বই প্রকাশ করেছে প্রকাশনীটি। নতুন বইয়ের সঙ্গে পুরাতন বইও বেশ বিক্রি হচ্ছে। তার মধ্যে হুমায়ূন আহমেদের শ্রেষ্ঠ হিমু, শ্রেষ্ঠ মিছির আলি ও কিশোর সমগ্র বই বিক্রিতে ওপরে রয়েছে।
কাকলী প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী হুমায়ন কবীর জানান, রকিব হাসানের গোয়েন্দা সিরিজ ও সায়েন্স ফিকশন চলছে বেশি। আর হুমায়ূন আহমেদের ভক্তরা তার বই সমগ্র তো সংগ্রহ করছেই।
অনন্যা প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী আসিফ মাহমুদ বলেন, ইমদাদুল হক মিলনের চোর এসে গল্প করেছিল, অন্ধকারে নামতে পারেনি বই দুটোর বিক্রি তুলনামূলকভাবে বেশি। এ ছাড়াও তৌহিদুর রহমানের নিতু বলছি বইটির তৃতীয় মুদ্রণ চলছে। মুনতাসীর মামুনের ঢাকা সমগ্র বইটিও পাঠকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। এ ছাড়াও মুনতাসীর মামুনের বঙ্গবন্ধুর জীবন ও লিবারেশন ওয়্যার বই দুটি এ বছর প্রকাশিত হয়েছে। বইগুলো বিক্রিও হচ্ছে বেশ।
অন্বেষা প্রকাশনের বিক্রয়কর্মী রাফিজা নওশীন জানান, সুজন দেবনাথের হেমলকের নিয়ন্ত্রণ ও জাহিদ হাসানের দেশভাগ ১৯৪৭ বেশি বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া হুমায়ূন আহমেদের তিন বিচিত্র, চন্দ্রসখা, মিসির আলীর ভুবন, তোমাদের জন্য ভালোবাসা, নীল হাতি, সবাই গেছে বনে উপন্যাসগুলো একটি আরেকটির চেয়ে কম বিক্রি হচ্ছে না। এ ছাড়াও সাদাত হোসেনের আগুনডানা মেয়ে বইটিও বেশ বিক্রি হচ্ছে।
অন্যপ্রকাশের স্টল ইনচার্জ তৌহিদুল ইসলাম জানান, উপন্যাস আর হুমায়ন আহমেদের বইয়ে পাঠকদের চাহিদা- দুই ক্ষেত্রেই সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়াও রউফুল আলমের দেশ, সফল মন্ত্র, আহমদ ছফার যদ্যপি আমার গুরু, অর্ধেক নারী অর্ধেক ইশ্বরী বইগুলো বেশ চলছে। তবে ক্রেতাদের চাহিদা উপন্যাস।
বইমেলায় ঘুরতে আসা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শরমিলা জান্নাত বইগুলো ঘাটতে ঘাটতে বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদ দেশের সাহিত্য অঙ্গনে যে জায়গা সৃষ্টি করে গেছেন, তা এখনও কেউ পূরণ করতে পারেননি। পুরোনোরা তো বটেই, নতুন প্রজন্মের পাঠকও এসে এখনো হুমায়ূন আহমেদের বই খোঁজ করেন।’
মেলায় এখনো কালজয়ী সব সাহিত্যিকের লেখা বই কিনছেন বইপ্রেমীরা। এর মধ্যে রয়েছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, শওকত আলী, বেগম রোকেয়া, মীর মশাররফ হোসেন, উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, জীবনানন্দ দাশ, স্বর্ণকুমারী দেবী, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, জসীম উদ্দীন, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, আবু ইসহাক, আহমেদ ছফাসহ হুমায়ুন আজাদের লেখা সব বই। গুণী এই সাহিত্যিকদের লেখা বিভিন্ন গল্প, উপন্যাস ও সমগ্র সংগ্রহে রাখতে মেলায় এসে বই কিনছেন বইপ্রেমীরা।
মেলা ঘুরে দেখা গেছে, এখনো পাঠকরা যেসব কালজয়ী বই মেলায় কিনছেন, তার মধ্যে রয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষের কবিতা, গোড়া, শওকত আলীর প্রদোষে প্রাকৃতজন, আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের খোয়াবনামা, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবি, সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহর লালসালু, জহির রায়হানের হাজার বছর ধরে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনী, সৈয়দ শামসুল হকের খেলারাম খেলে যা ও নিষিদ্ধ লোবান, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রথম আলো, সেই সময় এবং পূর্ব-পশ্চিম, হুমায়ূন আহমেদের নন্দিত নরকে, শঙ্খনীল কারাগার এবং জোৎস্না ও জননীর গল্প, হুমায়ুন আজাদের নারী ও ছাপ্পান্নো হাজার বর্গমাইল, আবু ইসহাকের সূর্য দীঘল বাড়ি, হাসান আজিজুল হকের আগুনপাখি, মানিক বন্দোপাধ্যায়ের পদ্মা নদীর মাঝি ও পুতুল নাচের ইতিকথা, ইমদাদুল হক মিলনের নূরজাহান, সৈয়দ মুজতবা আলীর দেশ বিদেশে, শওকত ওসমানের কৃতদাসের হাসি, আনিসুল হকের চার কিশোর গোয়েন্দা, শহীদুল্লাহ কায়সারের সারেং বৌ, সংশপ্তক, জাহানারা ইমামের একাত্তরের দিনগুলি, বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের আদর্শ হিন্দু হোটেল, মুহম্মদ জাফর ইকবালের লেখা ফেরা, আহমদ ছফার যদ্যপি আমার গুরু ও শাহাদুজ্জামানের ক্রাচের কর্নেলসহ আরও কিছু বই। এই বইগুলো প্রকৃত বইপ্রেমীরা দেখলেই তা সংগ্রহে রাখার জন্য হলেও কিনে নিচ্ছেন বলে জানান মেলার বিভিন্ন স্টলের বিক্রয়কর্মীরা।
এখনো জমেনি লিটলম্যাগ চত্বর
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চের পাশে অবস্থিত লিটল ম্যাগ চত্বর ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড় নেই মেলার এ অংশে। যদিও বিক্রয় প্রতিনিধিরা বলছেন, মেলার অন্য অংশ থেকে বরাবরই এ অংশে ভিড় কম থাকে। সেখানকার স্টলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লোকজন এ চত্বরে কম যায়। তেমন বিক্রিও হয় না। বইমেলায় একসময় অন্যতম আকর্ষণ ছিল তারুণ্যের এ ‘লিটল ম্যাগ চত্বর’। মেলার এই অংশে নবীন লেখকদের প্রকাশিত বিভিন্ন ম্যাগাজিন পাঠক-দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরেন লেখক, প্রকাশক। কিন্তু সময়ের আবর্তে একসময়কার তুমুল জনপ্রিয় এই চত্বরে এখন কেবলই হাহাকার। বারবার এর স্থান পরিবর্তন হলেও হারানো গৌরবের দেখা পাচ্ছে না এই চত্বর।
জনপ্রিয় সব লেখক, প্রকাশনী ও পত্রিকার ভিড়ে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে সত্তরের দশকের গণজাগরণের চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত লিটল ম্যাগাজিনগুলো। বিপ্লবী ধারার এসব ম্যাগাজিনের স্থান দখল করে নিয়েছে পত্রিকাগুলো। কিন্তু এতসব বাধা বিপত্তির মাঝেও এখনো টিকে আছে কিছু ম্যাগাজিন। দেড় দশকের বেশি সময় ধরে বাংলা একাডেমির বহেড়াতলায় স্থান পাওয়া বইমেলার অন্যতম আকর্ষণ ‘লিটল ম্যাগ চত্বর’ কখনো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মাঝখানে, কখনো উত্তর পাশে আবার কখনো কালি মন্দিরের পাশে স্থান বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। তবে এ বছর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চের উত্তরাংশের অন্ধকারাচ্ছন্ন জায়গায় স্থান হয়েছে লিটল ম্যাগের। ফলে বিগত দিনের ধারাবাহিক খরা তাতে লেগেই আছে।
আজকের বইমেলা :
আজকের মেলা বিকেল ৩টায় শুরু হয়ে শেষ হয় রাত ৯টায়। ১২তম দিনে মেলায় নতুন বই এসেছে ১১৫টি। বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় জন্মশতবার্ষিক শ্রদ্ধাঞ্জলি : হেনা দাস শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জোবাইদা নাসরীন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ঝর্না রহমান এবং ফওজিয়া মোসলেম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শিরীণ আখতার।
‘লেখক বলছি’ অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন কথাসাহিত্যিক সালমা বাণী, কবি ফারহানা রহমান, গবেষক মিলটন কুমার দেব এবং কথাসাহিত্যিক ইকবাল খন্দকার।
আগামীকালের বইমেলা :
আগামীকাল ১৩তম দিন মেলা শুরু হবে বিকেল ৩টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে স্মরণে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ শীর্ষক আলাচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপনা করবেন আহমদ মোস্তফা কামাল। আলাচনায় অংশগ্রহণ করবন হরিশংকর জলদাস এবং ফারজানা সিদ্দিকা। অনুষ্ঠান সভাপতিত্ব করবেন সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম।
আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর যতদ্রুত সম্ভব নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের হাতে রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব হস্তান্তর করা হবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, নির্বাচন পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারের দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকার কোনো পরিকল্পনা বা উদ্দেশ্য নেই। বুধবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্যের কড়া সমালোচনা করেন এবং সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন।
আবুল কালাম আজাদ মজুমদার তাঁর স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, নির্বাচনের পরও অন্তর্বর্তী সরকার আরও ১৮০ কার্যদিবস ক্ষমতায় থাকবে বলে যারা দাবি বা প্রচারণা চালাচ্ছেন, তাদের উদ্দেশ্য সম্পূর্ণ অসৎ। তিনি মনে করেন, একটি বিশেষ গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে এই ধরনের প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। এই গোষ্ঠীটি কিছুদিন আগেও নির্বাচন অনুষ্ঠান নিয়ে জনগণের মধ্যে ব্যাপক সংশয় ও অনিশ্চয়তা তৈরি করার চেষ্টা করেছিল। এখন যখন এটি স্পষ্ট যে নির্বাচন যথাসময়েই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, তখন তারা নতুন করে ষড়যন্ত্রতত্ত্ব ও গুজব সামনে এনে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে।
উপ-প্রেস সচিব আরও বলেন, এই ধরনের ভিত্তিহীন অপপ্রচার মূলত নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক রূপান্তর নিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরি করার একটি সুকৌশলী অপচেষ্টা। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো এই যে, কিছু উচ্চশিক্ষিত ও সচেতন মানুষও এই ধরনের ভিত্তিহীন প্রচারণায় বিভ্রান্ত হচ্ছেন। তবে বাস্তবতা হলো, এ ধরনের দাবির কোনো আইনি বা দাপ্তরিক ভিত্তি নেই এবং এ নিয়ে বিভ্রান্ত হওয়ারও কোনো সুযোগ নেই। সরকারের একমাত্র লক্ষ্য হলো একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ নির্বাচন উপহার দেওয়া এবং এরপরই নির্বাচিতদের হাতে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়া।
বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, অন্তর্বর্তী সরকারের মূল ম্যান্ডেট বা দায়িত্ব হলো একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা। এর বাইরে কোনো বিশেষ রাজনৈতিক অভিলাষ বা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষমতায় টিকে থাকার লক্ষ্য সরকারের নেই। নির্বাচনোত্তর ক্ষমতার পালাবদল যেন দ্রুত ও নিয়মতান্ত্রিকভাবে সম্পন্ন হয়, সে বিষয়ে সরকার সম্পূর্ণ অঙ্গীকারবদ্ধ। জনগণকে এই ধরনের উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজবে কান না দিয়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আস্থাশীল থাকার আহ্বান জানিয়েছে সরকারের এই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। মূলত নির্বাচনের স্বচ্ছতা এবং সময়মতো ক্ষমতা হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করতেই সরকারের পক্ষ থেকে এই জরুরি ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়েছে।
বাংলাদেশের অনন্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শন ও শিল্পীদের সৃজনশীলতা উদযাপনের লক্ষ্যে ঢাকার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত রিকশা আর্ট ফেস্টিভ্যাল উপভোগ করেছেন নবনিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন ও তাঁর স্ত্রী ডিয়ান। এই উৎসবের মাধ্যমে রিকশাকে শিল্পের এক জীবন্ত ক্যানভাস হিসেবে তুলে ধরা হয়, যা বিদেশি অতিথিদের মধ্যে দারুণ উৎসাহ ও কৌতূহল সৃষ্টি করে। অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের শিল্পীদের অসামান্য সৃজনশীলতা ও দক্ষতার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মার্কিন দূতাবাস এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে যুক্তরাষ্ট্রের দৃঢ় সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করে রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বলেন, রিকশাকে চলমান ক্যানভাসে রূপান্তর করার এই ধারা একদিকে যেমন স্থানীয় ঐতিহ্যকে তুলে ধরে, অন্যদিকে শিল্পে উৎকর্ষ ও উদ্ভাবনের আমেরিকান চেতনাকেও প্রতিফলিত করে। মূলত শিল্পের এই নান্দনিক প্রকাশ ও ঐতিহ্যের সংরক্ষণ দুই দেশের সাংস্কৃতিক সম্পর্কের গভীরতাকে আরও অর্থবহ করে তুলবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এই আয়োজনের মাধ্যমে বাংলাদেশের রিকশা চিত্রকর্মের দীর্ঘ ইতিহাস ও বিশ্বজুড়ে এর ক্রমবর্ধমান গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টিও নতুন করে আলোকপাত করা হয়।
দেশের বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষকে আশ্বস্ত করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী স্পষ্টভাবে জানান যে, “মব ভায়োলেন্স বলে কোনো কিছু নেই। পুলিশের মধ্যে কোনো ভীতি কাজ করছে না। নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে।” তিনি কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, নির্বাচন চলাকালীন যদি কোনো প্রার্থী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে অশোভন আচরণ করেন, তবে তাঁকে সরাসরি জেলখানায় যেতে হবে। বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেল চারটার দিকে রাজশাহী কারা প্রশিক্ষণ একাডেমি মিলনায়তনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে আয়োজিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে জনপ্রতিনিধি ও প্রার্থীদের আচরণের সীমা নির্ধারণ করে দিয়ে বলেন, “আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে কোনো জনপ্রতিনিধি অশুভ আচরণ তাহলে ফলাও করে প্রচার করুন সোজা হয়ে যাবে। কোনো প্রার্থী অশোভন আচরণ করলে, তা সমাজে প্রকাশ পেলে এমনিতেই কোণঠাসা হয়ে যাবে। বেশি করলে পাশে জেলখানা দেখিয়ে বলেন সেখানে চলে যাবে।” এছাড়া তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে পুনর্ব্যক্ত করেন যে, আসন্ন নির্বাচনে কোনো প্রকার সহিংসতার আশঙ্কা নেই এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সব ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলায় পূর্ণ প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের অভিযানও নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রাজশাহী বিভাগের নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে আয়োজিত এই গুরুত্বপূর্ণ সভায় দেশের শীর্ষস্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানগণ উপস্থিত ছিলেন। বর্ডারগার্ড বাংলাদেশের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী, র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-এর মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান এবং বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গনি ও পুলিশের অতিরিক্ত মহা পুলিশ পরিদর্শক খন্দকার রফিকুল ইসলাম সভায় অংশ নেন। মূলত একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করার লক্ষ্যে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদানের পাশাপাশি জনমনে আস্থা ফেরাতে এই সভার আয়োজন করা হয়।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে সারা দেশে নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে এবং আইন-শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে বড় আকারের প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে সারা দেশের নির্বাচনী অপরাধ প্রতিরোধ ও আচরণবিধি তদারকি করার জন্য মোট ১ হাজার ৫১ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। নিয়োগপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তারা সরাসরি নির্বাচনী মাঠে থেকে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং মাঠপর্যায়ের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় দাপ্তরিক নির্দেশনা প্রদান করবেন।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, নিয়োগপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসকদের কাছে যোগদান করবেন এবং তার আগে তাদের বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে। তারা ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত নির্দিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় দায়িত্ব পালন করবেন। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা রোধে তারা তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় দণ্ড প্রদান করতে পারবেন। পাশাপাশি স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্বরত বিজিবি, কোস্টগার্ড ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়ার গুরুদায়িত্বও পালন করবেন এই ম্যাজিস্ট্রেটরা।
সরকারি এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯-এর ৫ ধারা মোতাবেক ভোটগ্রহণের দুই দিন পর পর্যন্ত এই ম্যাজিস্ট্রেটরা তাদের নির্ধারিত এলাকায় মোবাইল কোর্ট পরিচালনার বিশেষ ক্ষমতা ভোগ করবেন। সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেটরা তাদের নিজ নিজ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে এসব ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব বণ্টন এবং সুনির্দিষ্ট এলাকা নির্ধারণ করে দেবেন। এছাড়া নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে প্রতিদিনের কার্যক্রমের তথ্য একটি নির্ধারিত ছকে সংশ্লিষ্ট জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও রিটার্নিং অফিসারকে অবহিত করার জন্য প্রজ্ঞাপনে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই কঠোর প্রশাসনিক নজরদারির ফলে ভোটগ্রহণের আগে ও পরে যেকোনো ধরণের বিশৃঙ্খলা এড়ানো এবং একটি সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
আসন্ন ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এক বড় ধরনের জনমত পরিবর্তনের আভাস মিলেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সাবেক আওয়ামী লীগ সমর্থকদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বর্তমানে বিএনপির দিকে ঝুঁকে পড়েছেন। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ সমর্থকদের প্রায় ৪৮ শতাংশ এখন বিএনপিকে তাদের রাজনৈতিক পছন্দ হিসেবে বেছে নিয়েছেন, আর অবশিষ্ট ৫২ শতাংশ ভোটার অন্যান্য প্রার্থীদের সমর্থন করতে পারেন। বুধবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে ‘আনকাভারিং দ্য পাবলিক পালস’ শীর্ষক এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশ করে কমিউনিকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ফাউন্ডেশন (সিআরএফ) ও বাংলাদেশ ইলেকশন অ্যান্ড পাবলিক ওপিনিয়ন স্টাডিজ (বিইপিওএস)।
লেখক ও গবেষক জাকারিয়া পলাশ কর্তৃক উপস্থাপিত এই গবেষণা প্রতিবেদনে ২০২৬ সালের নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের অংশগ্রহণ, রাজনৈতিক মনোভাব এবং নির্বাচনি পরিবেশের একটি সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শাহাবুল হকের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিশেষজ্ঞ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব রিডিংয়ের অর্থনীতি বিভাগের ভিজিটিং প্রফেসর ড. এম. নিয়াজ আসাদুল্লাহ। গবেষণাটি সম্পন্ন করতে ২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত স্ট্রাটিফাইড র্যান্ডম স্যাম্পলিং পদ্ধতিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ১১ হাজার ৩৮ জন ভোটারের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়।
প্রতিবেদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো নতুন ভোটারদের রাজনৈতিক ঝোঁক। প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ২০০৮ সালের পর প্রথমবার ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন এমন ভোটারদের মধ্যে ৩৭ দশমিক ৪ শতাংশ জামায়াতে ইসলামীকে তাদের পছন্দ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সামগ্রিকভাবে ভোটারদের মাঝে নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে, যেখানে ৯০ শতাংশের বেশি মানুষ ভোট দেওয়ার বিষয়ে সরাসরি আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তবে প্রায় ৮ শতাংশ ভোটার এখনো ভোট দেওয়ার বিষয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন। এই আগ্রহের ক্ষেত্রে লিঙ্গ, বয়স বা ভৌগোলিক অবস্থানের কোনো বড় প্রভাব দেখা যায়নি।
জনমতের ক্ষেত্রে ইস্যুভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, ভোটারদের কাছে সবচেয়ে বড় উদ্বেগের নাম দুর্নীতি ও সুশাসন। জরিপে অংশ নেওয়া ৬৭ দশমিক ৩ শতাংশ ভোটার দুর্নীতিকে দেশের প্রধান সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছেন, যেখানে ধর্মীয় বিষয়কে অগ্রাধিকার দিয়েছেন মাত্র ৩৫ দশমিক ৯ শতাংশ ভোটার। নেতৃত্বের গুণাবলির ক্ষেত্রে ভোটাররা এখন আর কেবল ব্যক্তিগত ক্যারিশমার ওপর নির্ভর করতে রাজি নন; বরং তারা এমন নেতৃত্ব খুঁজছেন যারা জনদরদি এবং সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম। রাজনৈতিক তথ্য পাওয়ার প্রধান উৎস হিসেবে বর্তমানে টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম সবচেয়ে বেশি প্রভাবশালী হয়ে উঠেছে।
নির্বাচনকালীন পরিবেশ নিয়ে গবেষণায় ভোটারদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগও ধরা পড়েছে। ভোটাররা নির্বাচন পরিচালনার চেয়ে ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে বেশি চিন্তিত। ভয়ভীতি প্রদর্শন, জালিয়াতি এবং ব্যালট দখলের আশঙ্কা সব রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের মধ্যেই কমবেশি বিদ্যমান। এছাড়া ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রার্থীর ব্যক্তিগত যোগ্যতা এখন বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে। গবেষণায় দেখা যায়, ৩০ দশমিক ২ শতাংশ ভোটার কেবল প্রার্থীর যোগ্যতাকে গুরুত্ব দেন এবং ৩৩ দশমিক ২ শতাংশ ভোটার প্রার্থী ও দল উভয় বিষয়কে বিবেচনায় নিয়ে ভোট দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। সামগ্রিকভাবে এই জরিপটি আসন্ন নির্বাচনের আগে দেশের তৃণমূল পর্যায়ের রাজনৈতিক পরিবর্তনের একটি শক্তিশালী ইঙ্গিত প্রদান করছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী শেরপুর জেলা শাখার সেক্রেটারি ও শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতী) আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আলহাজ্ব নুরুজ্জামান বাদল (৫১) আর নেই।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ৩টার দিকে হৃদরোগ ও দীর্ঘদিনের কিডনিজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
জামায়াতে ইসলামীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ এবং জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আবুল কালাম আজাদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পারিবারিক ও হাসপাতাল সূত্রে জনা যায়, মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত শ্রীবরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে ময়মনসিংহ পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়।
ময়মনসিংহে নেওয়ার পথে রাত ৩টার দিকে শহরের ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে তার শারীরিক অবস্থার চূড়ান্ত অবনতি ঘটে। পরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তার মৃত্যুতে শেরপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করে মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করা হয়েছে।
একই আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ও বিএনপি মনোনীত সাবেক সংসদ সদস্য জনাব মাহমুদুল হক রুবেল তার ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি ফেইসবুক পোস্টের মাধ্যমে গভীর শোক প্রকাশের পাশাপাশি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শেরপুর জেলা সেক্রেটারী ও শেরপুর-৩ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী নুরুজ্জামান বাদল সাহেব এর মৃত্যুর খবর দিয়েছেন এবং আল্লাহ তায়ালা যেনো জান্নাত নসিব করেন- এই বলে তিনি আল্লাহর নিকট দোয়াও করেছেন।
মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, সন্তান ও অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার জানাজার সময় ও স্থান পরবর্তীতে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হবে বলে জানা গেছে।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সঙ্গে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী। সাক্ষাৎকালে তিনি নিজের লেখা গ্রন্থ ‘বিভীষিকাময় আয়নাঘর’ এবং তার বাবা গোলাম আযমের লেখা ৯ খণ্ডের আত্মজীবনী ‘জীবনে যা দেখলাম’ রাষ্ট্রপতিকে উপহার হিসেবে প্রদান করেন। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অত্যন্ত আগ্রহের সাথে বইগুলো গ্রহণ করেন এবং উল্টেপাল্টে দেখেন।
সাক্ষাৎ শেষে নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আযমী লিখেন, আজ মহামান্য রাষ্ট্রপতির সাথে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গিয়েছিলাম। আমার লেখা "বিভীষিকাময় আয়নাঘর", আমার বাবাকে নিয়ে সচিত্র (প্রায় সোয়া দুই হাজার ছবি সম্বলিত) বই "প্রেরণার পরশমণি" এবং আমার বাবার লেখা আত্মজীবনী "জীবনে যা দেখলাম" (৯ খন্ড) উপহার দিয়ে এলাম।
এছাড়াও তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে লিখেন, মহামান্য রাষ্ট্রপতি খুব আগ্রহ সহকারে বই গুলো নিলেন এবং উল্টেপাল্টে দেখলেন। উনার মূল্যবান সময় থেকে আমাকে অনেক সময় দেয়ার জন্য মহামান্য রাষ্ট্রপতির প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।
প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তর সংক্রান্ত একটি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি সই করেছে জাপান ও বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ঢাকায় বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসান এবং জাপানের পক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি এই চুক্তিতে সই করেন।
জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে যে, চুক্তিটি সইয়ের দিন থেকেই কার্যকর হয়েছে। এই চুক্তির মাধ্যমে দুই দেশের সরকারের মধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি হস্তান্তরের জন্য একটি শক্তিশালী আইনি কাঠামো তৈরি হলো, যার আওতায় যৌথভাবে নির্ধারিত প্রকল্প বাস্তবায়নে এবং বিশেষ করে আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তায় অবদান রাখে এমন উদ্যোগে এই সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি ব্যবহার করা যাবে। চুক্তিতে প্রতিটি হস্তান্তরের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও যাচাইয়ের সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া নির্ধারণ করার পাশাপাশি হস্তান্তরিত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও প্রযুক্তির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে মৌলিক নীতিমালাও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া তৃতীয় কোনো পক্ষের কাছে এসব সরঞ্জাম বা প্রযুক্তি হস্তান্তর কিংবা নির্ধারিত উদ্দেশ্যের বাইরে ব্যবহার ঠেকাতে কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার কথা চুক্তিতে গুরুত্বের সাথে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশা প্রকাশ করেছে যে, এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার হবে এবং এটি জাপানের প্রতিরক্ষা শিল্পের উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বজায় রাখার পাশাপাশি উভয় দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার কয়েকদিন আগে মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ঢাকায় অবস্থিত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর পরিদর্শন করেছেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে যে, দুই ঘণ্টাব্যাপী এই পরিদর্শনের শুরুতে কূটনীতিকরা গণঅভ্যুত্থানে শহীদ প্রায় ৪ হাজার মানুষের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন।
পরিদর্শনকালে সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী ও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এম তৌহিদ হোসেন প্রতিনিধি দলকে জাদুঘরের বিভিন্ন অংশ ও এর ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ঘুরিয়ে দেখান। জাদুঘরের উদ্দেশ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে মোস্তফা সরওয়ার ফারুকী বলেন, ‘জাদুঘরের পেছনের উদ্দেশ্য হচ্ছে শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বের যে কোনো জায়গায় এ ধরনের দুঃশাসনের পুনরাবৃত্তি রোধ করা।’ তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই জুলাই জাদুঘরটি বিশ্বের অন্যান্য দেশের অনুরূপ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতা বজায় রাখবে।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা এম তৌহিদ হোসেন জাদুঘরটিকে বিগত সরকারের দীর্ঘদিনের দুঃশাসনের বিরুদ্ধে জনগণের সংগ্রামের এক জীবন্ত প্রতিফলন হিসেবে অভিহিত করে বলেন, ‘জাদুঘরটি জুলাইয়ের বিদ্রোহের ৩৬ দিনের ক্লাইম্যাক্স প্রদর্শন করে, তবে এটি বছরের বছরের দুঃশাসনের উপাদানগুলোও তুলে ধরে।’ তিনি আরও গুরুত্ব দিয়ে বলেন যে, ‘ইতিহাসের আসল পাঠ হলো এটি যাতে পুনরাবৃত্তি না হয় তা নিশ্চিত করা।’ পরিদর্শনে আসা ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার নিজের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে বলেন, ‘জুলাই জাদুঘর পরিদর্শন করতে পেরে আমি আনন্দিত। ইতিহাস বোঝা কতটা গুরুত্বপূর্ণ, কীভাবে বিপ্লব ঘটে এবং বাংলাদেশে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের উৎপত্তি কতটা গুরুত্বপূর্ণ তার অনুপ্রেরণামূলক এবং শক্তিশালী স্মরণ করিয়ে দেয়।’
জাদুঘরের চিফ কিউরেটর তানজিম ওয়াহাব অতিথিদের কাছে এই স্থাপনার বিভিন্ন কারিগরি ও শৈল্পিক বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেন। এই বিশেষ পরিদর্শন কর্মসূচিতে আলজেরিয়া, আর্জেন্টিনা, ভুটান, ডেনমার্ক, মিশর, ফ্রান্স, ইরান, ইরাক, ইতালি, কসোভো, লিবিয়া, মরক্কো, নেপাল, নরওয়ে, পাকিস্তান, ফিলিস্তিন, রাশিয়া, সিঙ্গাপুর, স্পেন ও তুরস্কের রাষ্ট্রদূত ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাসহ এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি), ইউনেস্কো, ডব্লিউএফপি, আইওএম, একেডিএন ও বিমস্টেকের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর শীর্ষ প্রতিনিধিরাও এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। এ সময় এসডিজি বিষয়ক সিনিয়র সচিব লামিয়া মোর্শেদ, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মফিদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
যথাযোগ্য মর্যাদা ও আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে আগারগাঁওস্থ কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ৪০ জন সদস্যকে কৃতিত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পদক প্র্রদান করা হয়। উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী কালীন সরকারের মাননীয় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, এনডিসি, পিএসসি (অব:)। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সম্মানিত সিনিয়র সচিব জননিরাপত্তা বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জনাব নাসিমুল গণি।
উক্ত অনুষ্ঠানে মাননীয় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এর ৪০ জন কর্মকর্তা, নাবিক এবং অসামরিক ব্যক্তিবর্গের মধ্যে বীরত্ব ও সাহসিকতাপূর্ণ কাজের জন্য ১০ জন কে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পদক, ১০ জন কে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড (সেবা) পদক, ১০ জন কে প্রেসিডেন্ট কোস্ট গার্ড পদক এবং ১০ জন কে প্রেসিডেন্ট কোস্ট গার্ড (সেবা) পদক প্রদান করেন।
মঙ্গলবার (০৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সিয়াম-উল-হক এ তথ্য জানান।
প্রতিষ্ঠালগ্ন হতে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের প্রতিটি সদস্য দেশের উপকূলীয় দুর্গম এলাকাসমূহ, নদীপথ ও সমুদ্রসীমায় সার্বক্ষণিক উপস্থিতির মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। দেশের অভ্যন্তরীণ নদী ও সমুদ্র পথে এবং উপকূলীয় এলাকায় জনসাধারণের জান ও মাল রক্ষা, চোরাচালান প্রতিরোধ, মৎস্য সম্পদ রক্ষা, মাদক পাচার রোধ, বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ত্রাণ এবং উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় এ বাহিনী অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করছে।
দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের মূল কেন্দ্রবিন্দু চট্টগ্রাম বন্দর ও বহিঃনোঙর এলাকায় চুরি-ডাকাতি ও অপরাধ দমনে কোস্ট গার্ড অত্যন্ত সফলতার সাথে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। এছাড়া দেশের জাতীয় সম্পদ রূপালী ইলিশ সংরক্ষণ, জাটকা নিধন রোধ এবং সমুদ্রে সরকার ঘোষিত মৎস্য অভয়ারণ্য বাস্তবায়নে এ বাহিনীর অবদান অনস্বীকার্য।
তিনি আরও বলেন, দেশের বন্দরসমূহের সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিতে কোস্ট গার্ডের ধারাবাহিক সাড়াশি অভিযানের ফলে বহিঃনোঙ্গর অঞ্চলে দস্যুতা শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে এবং পোর্টের রেটিং পূর্বের তুলনায় বহুলাংশে উন্নত হয়েছে। পাশাপাশি তেলবাহী জাহাজ এমটি বাংলার জ্যোতি, এমটি বাংলার সৌরভ এবং বিএলপিজি সোফিয়ার ভয়াবহ অগ্নি দুর্ঘটনায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড 'ফার্স্ট রেস্পন্ডার' হিসেবে মুহূর্তেই প্রতিটি ঘটনাস্থলে পৌছে সফলভাবে অগ্নি নির্বাপণ এবং উপকূলকে পরিবেশ দূষনের হাত থেকে রক্ষা করে। উন্নত প্রশিক্ষণে প্রশিক্ষিত এই বাহিনীর অসাধারণ সাহসিকতা ও দক্ষতার স্বীকৃতিস্বরূপ, বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশন (IMO) হতে মর্যাদাপূর্ন ‘Letter of Commendation’ লাভ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড।
সময়ের পরিক্রমায় ও সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার নিপুণ বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডকে কার্যকর, শক্তিশালী ও সুদক্ষ বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলে দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রা এগিয়ে নিতে এ বাহিনীর প্রতিটি সদস্য উজ্জীবিত ও বদ্ধপরিকর।
গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগে বর্তমানে ফৌজদারি মামলায় কারাবন্দী থাকায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ড. মো. সাফিকুর রহমানের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল করেছে সরকার। শূন্য হওয়া এই পদে জাতীয় পতাকাবাহী সংস্থাটির কার্যক্রম সচল ও গতিশীল রাখার স্বার্থে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ড. হুমায়রা সুলতানাকে নতুন করে অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রণালয় থেকে জারিকৃত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে সরকারের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের ‘বিমান-১ শাখা’ থেকে প্রকাশিত ওই আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ড. সাফিকুর রহমান ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত হয়ে বর্তমানে কারাবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। এই প্রেক্ষাপটে তার সঙ্গে সরকারের সম্পাদিত চুক্তিভিত্তিক নিয়োগটি তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল বলে গণ্য করা হয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের একই তারিখের একটি প্রজ্ঞাপনের আলোকে ড. সাফিকুর রহমানের নিয়োগ বাতিলের এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে, যার ফলে তিনি আর বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স লিমিটেডের এমডি ও সিইও হিসেবে কোনো দায়িত্ব পালন করবেন না। অন্যদিকে, সংস্থাটির দক্ষ ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরবর্তী স্থায়ী পদায়ন না হওয়া পর্যন্ত নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ড. হুমায়রা সুলতানাকে। তিনি বর্তমানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিমান ও সিভিল এভিয়েশন) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। জারিকৃত অফিস আদেশে আইনি ভিত্তি উল্লেখ করে বলা হয়েছে যে, ‘বাংলাদেশ বিমান (রহিত বাংলাদেশ বিমান অর্ডার, ১৯৭২ পুনর্বহাল এবং সংশোধন) আইন, ২০২৩’ এর ৩০(গ) ধারা অনুযায়ী যথাযথ কর্তৃপক্ষের নির্দেশে ড. হুমায়রা সুলতানাকে তার নিজ দায়িত্বের অতিরিক্ত হিসেবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের এমডি ও সিইও এর দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে এবং স্থায়ী নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত তিনি এই পদে বহাল থাকবেন।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মোছা. শাকিলা পারভীনের স্বাক্ষরিত এই আদেশ যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমেই জারি করা হয়েছে। নিয়োগ ও অব্যাহতির এই গুরুত্বপূর্ণ আদেশের অনুলিপি ইতোমধ্যে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, অর্থ মন্ত্রণালয়, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ (এনবিআর) সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে প্রেরণ করা হয়েছে। বিমানের অভ্যন্তরীণ সূত্র জানিয়েছে যে, এমডি ও সিইও পরিবর্তনের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তটি সংস্থাটির চলমান প্রশাসনিক ও ব্যবস্থাপনাগত সংকটের প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মূলত সাম্প্রতিক সময়ে বিমানের ফ্লাইট পরিচালনা, আর্থিক ব্যবস্থাপনা এবং যাত্রী সেবার মান নিয়ে বিভিন্ন মহলে চলা আলোচনা ও সমালোচনার মধ্যেই সংস্থাটির শীর্ষ নেতৃত্বে এই বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হলো।
সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, আসন্ন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে সরকার, নির্বাচন কমিশন এবং সশস্ত্র বাহিনীসহ সকল পক্ষই অত্যন্ত ইতিবাচক, তাই ‘নির্বাচন না হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’ মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) তিন বাহিনীর প্রধানদের গাজীপুর জেলা পরিদর্শন ও স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, ‘সুন্দর নির্বাচন করার জন্য আমরা সক্ষম। নির্বাচন নিয়ে সবাই আগ্রহী। নির্বাচন নিয়ে সরকার, নির্বাচন কমিশন, পুলিশ ও সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীসহ সবাই আগ্রহী। সেখানে নির্বাচন না হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।’
নির্বাচনের স্বচ্ছতা রক্ষায় মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অবৈধ লেনদেন ও অপরাধীদের তৎপরতা প্রসঙ্গে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনকে প্রভাবিত করার জন্য বিকাশের মাধ্যমে কিছু মানি ট্রানজেকশন হতে পারে। আমরা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে কথা বলেছি। কিছু ক্রিমিনাল (অপরাধী) থাকতে পারে। সবাই এ ধরনের অপকর্ম করবে না।’ বিশেষ করে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে সেনাপ্রধান বলেন, ‘নির্বাচনের দিন যারা র্যাগিং এবং ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা দেবে তাদের বিরুদ্ধে সেনাবাহিনী অ্যাকশন নেবে। অপরাধ করলে যতটুকু আইনে রয়েছে ততটুকু শাস্তি পাবে।’
উক্ত সভায় নৌবাহিনী প্রধান এডমিরাল এম নাজমুল হাসান দুষ্কৃতকারীদের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘সবসময় যেন তারা ভয় ও আশঙ্কার মধ্যে থাকে সেই পরিবেশ অব্যাহত রাখতে হবে। আমাদের সবার উদ্দেশ্য একটাই—সুষ্ঠু, সুন্দর এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন।’ একই সঙ্গে বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খাঁন সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনের ওপর জোর দিয়ে বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচনি পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে আমাদের। সে উদ্দেশে সাধারণ ভোটারদের মনে আস্থা জোগাতে হবে। যারা মাঠে মোতায়েন থাকবেন তাদের সবার দৃশ্যমান উপস্থিতি বাড়াতে হবে, কাউকে বসে থাকা যাবে না।’
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, তিন বাহিনী প্রধান গাজীপুর, নরসিংদী ও নারায়ণগঞ্জ জেলার অসামরিক প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তাদের সঙ্গে আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয় এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এসময় তারা পেশাদারত্ব, নিরপেক্ষতা ও নাগরিকবান্ধব আচরণের মাধ্যমে অর্পিত দায়িত্ব পালনের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন এবং ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’ এর আওতায় মোতায়েনকৃত সদস্যদের কার্যক্রম সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। এই উচ্চপর্যায়ের পরিদর্শন কার্যক্রমে সামরিক ও অসামরিক প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে কোস্টগার্ড বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের নিরপেক্ষতার প্রশ্নে সরকার বিন্দুমাত্র শৈথিল্য দেখাবে না বলে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ কোস্টগার্ড সদর দপ্তরে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পদক প্রদান ২০২৬’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান। কোস্টগার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল জিয়াউল হকের সভাপতিত্বে এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব নাসিমুল গনির বিশেষ উপস্থিতিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দায়িত্ব পালনে কৃতিত্বপূর্ণ অবদানের জন্য ৪০ জন কোস্টগার্ড সদস্যকে পদক প্রদান করা হয়। নির্বাচনের পবিত্রতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার ওপর বিশেষ জোর দিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘নিবার্চনে যারা নীতিবিবর্জিত কাজ করবেন, লোভের বশবর্তী হয়ে অন্যায় কাজ করবেন, দায়িত্ব এড়িয়ে চলবেন, দায়িত্বে অবহেলা করবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
উপদেষ্টা তাঁর বক্তব্যে উপকূলীয় নিরাপত্তা, অবৈধ মৎস্য আহরণ প্রতিরোধ এবং মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান দমনে কোস্টগার্ডের সাহসিকতাপূর্ণ ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে ঘূর্ণিঝড় ও বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় এবং রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে বাহিনীটির কার্যক্রম আন্তর্জাতিক মহলে, বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার কাছে প্রশংসিত হয়েছে। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচন ও গণভোট প্রসঙ্গে তিনি জানান যে, অবাধ ও সুষ্ঠু ভোট নিশ্চিত করতে কোস্টগার্ডের ৩ হাজার ৫৮৫ জন সদস্যসহ সারা দেশে প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে, যার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে বরিশাল, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগে ১০০ প্লাটুন মোতায়েন করা হয়েছে। দুর্নীতিকে রাষ্ট্রের প্রধান শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করে তিনি বলেন যে এটি জনগণের আস্থা ধ্বংস করে। পরবর্তীতে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি মন্তব্য করেন যে, পূর্ববর্তী অন্যান্য জাতীয় নির্বাচনের তুলনায় এ বছর সহিংসতার হার অনেক কম।