সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
৩ ফাল্গুন ১৪৩২

মেলায় জনপ্রিয় লেখকদের বই বেশি বিক্রি হচ্ছে

ছবি: দৈনিক বাংলা
মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ
প্রকাশিত
মেহেরাবুল ইসলাম সৌদিপ
প্রকাশিত : ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ২২:৫৭

অমর একুশে বইমেলার দিন যতই অতিবাহিত হচ্ছে ততই এর আকর্ষণ বেড়ে চলেছে। এবার নানাবিধ কারণে প্রাণের মেলা ভিন্নরূপ পেয়েছে। বিশেষ করে নগরে স্বস্তির যান মেট্রোরেলের কারণে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর পাঠক-দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ছে। মেলায় প্রতিদিন শতাধিক নতুন বই আসার পাশাপাশি বেড়েছে দর্শনার্থীর সংখ্যা, সঙ্গে বাড়ছে বিক্রিও। দিন যত যাচ্ছে মেলার প্রাণ আরও বাড়ছে। আগামীকাল বসন্ত ও ভালোবাসা দিবসে বইমেলা যেন অন্যরকম আমেজ নিয়ে আসবে। বাংলা একাডেমির বহেড়াতলা বটগাছে কোকিলের সুর বলে দিচ্ছে প্রকৃতিতে ফাগুন চলে এসেছে। ঠিক যেমনিভাবে ফাগুনের এই আগুন বইমেলায়ও চলে আসতে শুরু করেছে। সব সময় মেলা ফাগুনের দিনগুলো থেকেই মূলত জমে ওঠে। এবার আরও নবজাগরণে প্রাণের মেলা জমেছে। কেননা গত দুই বছরের ঢিমেতালে চলা বইমেলা এবার পেয়েছে পুরোপুরি জমে ওঠার চিত্র। মেলায় প্রতিবারের মতো এবারও পাঠকদের আগ্রহের শীর্ষে রয়েছে উপন্যাস। এ ছাড়াও ঘুরেফিরে জনপ্রিয় লেখকদের বই বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রকাশক ও বিক্রয়কর্মীরা।

মেলা ঘুরে দেখা গেছে, পাঠকরা স্টলে স্টলে গিয়ে উপন্যাসের বই খুঁজে বেড়াচ্ছেন। প্রিয় লেখকের প্রকাশিত বই পেলেই তা সংগ্রহ করে নিজেদের ব্যাগে গুঁজে নিচ্ছেন বইপ্রেমীরা। এদিকে পূর্ববর্তী বছরগুলোর মতো এবারও হ‍ুমায়ূন আহমেদ, হাসান আজিজুল হক, আনিসুল হক, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ইমদাদুল হক মিলন, সেলিনা হোসেন, মুহম্মদ জাফর ইকবাল, আসিফ নজরুল, মুনতাসীর মামুন, মোশতাক আহমেদ, শাহাদুজ্জামান, হরিশংকর জলদাসসহ বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় লেখকের বই বেশি বিক্রি হচ্ছে। তবে মেলায় হ‍ুমায়ূন আহমেদের বই-ই বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে প্রকাশনা সূত্রে জানা যায়। জনপ্রিয় এই লেখকের পুরাতন বইগুলো পাঠকরা এখনো কিনছেন। মেলায় প্রতিদিন হ‍ুমায়ূনপ্রেমীরা খুঁজতে খুঁজতে চলে যাচ্ছেন অন্যপ্রকাশে। এই প্রকাশনীতে কিংবদন্তি এই কথাসাহিত্যিকের লেখা উপন্যাস দেয়াল, মাতাল হাওয়া, নন্দিত নরকে, শঙ্খনীল কারাগার, মধ্যাহ্ন অখণ্ড বেশি কিনছেন বলে অন্যপ্রকাশ সূত্রে জানা যায়।

সরেজমিন ঘুরে এবং বিভিন্ন স্টলের বিক্রয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারও মেলায় বেশি জনপ্রিয় লেখকদের গল্প-উপন্যাস বিক্রি হচ্ছে। নতুন বইয়ের সঙ্গে পুরাতন কালজয়ী বইও বিক্রিতে রয়েছে শীর্ষে।

তাম্রলিপি প্রকাশনীর বিজনেস ডেভেলপমেন্ট এক্সিকিউটিভ মুনালিসা জানান, এ বছর ৪৫টি নতুন বই প্রকাশ করেছে প্রকাশনীটি। নতুন বইয়ের সঙ্গে পুরাতন বইও বেশ বিক্রি হচ্ছে। তার মধ্যে হ‍ুমায়ূন আহমেদের শ্রেষ্ঠ হিমু, শ্রেষ্ঠ মিছির আলি ও কিশোর সমগ্র বই বিক্রিতে ওপরে রয়েছে।

কাকলী প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী হুমায়ন কবীর জানান, রকিব হাসানের গোয়েন্দা সিরিজ ও সায়েন্স ফিকশন চলছে বেশি। আর হ‍ুমায়ূন আহমেদের ভক্তরা তার বই সমগ্র তো সংগ্রহ করছেই।

অনন্যা প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী আসিফ মাহমুদ বলেন, ইমদাদুল হক মিলনের চোর এসে গল্প করেছিল, অন্ধকারে নামতে পারেনি বই দুটোর বিক্রি তুলনামূলকভাবে বেশি। এ ছাড়াও তৌহিদুর রহমানের নিতু বলছি বইটির তৃতীয় মুদ্রণ চলছে। মুনতাসীর মামুনের ঢাকা সমগ্র বইটিও পাঠকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। এ ছাড়াও মুনতাসীর মামুনের বঙ্গবন্ধুর জীবন ও লিবারেশন ওয়্যার বই দুটি এ বছর প্রকাশিত হয়েছে। বইগুলো বিক্রিও হচ্ছে বেশ।

অন্বেষা প্রকাশনের বিক্রয়কর্মী রাফিজা নওশীন জানান, সুজন দেবনাথের হেমলকের নিয়ন্ত্রণ ও জাহিদ হাসানের দেশভাগ ১৯৪৭ বেশি বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া হ‍ুমায়ূন আহমেদের তিন বিচিত্র, চন্দ্রসখা, মিসির আলীর ভুবন, তোমাদের জন্য ভালোবাসা, নীল হাতি, সবাই গেছে বনে উপন্যাসগুলো একটি আরেকটির চেয়ে কম বিক্রি হচ্ছে না। এ ছাড়াও সাদাত হোসেনের আগুনডানা মেয়ে বইটিও বেশ বিক্রি হচ্ছে।

অন্যপ্রকাশের স্টল ইনচার্জ তৌহিদুল ইসলাম জানান, উপন্যাস আর হ‍ুমায়ন আহমেদের বইয়ে পাঠকদের চাহিদা- দুই ক্ষেত্রেই সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়াও রউফুল আলমের দেশ, সফল মন্ত্র, আহমদ ছফার যদ্যপি আমার গুরু, অর্ধেক নারী অর্ধেক ইশ্বরী বইগুলো বেশ চলছে। তবে ক্রেতাদের চাহিদা উপন্যাস।

বইমেলায় ঘুরতে আসা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শরমিলা জান্নাত বইগুলো ঘাটতে ঘাটতে বলেন, ‘হ‍ুমায়ূন আহমেদ দেশের সাহিত্য অঙ্গনে যে জায়গা সৃষ্টি করে গেছেন, তা এখনও কেউ পূরণ করতে পারেননি। পুরোনোরা তো বটেই, নতুন প্রজন্মের পাঠকও এসে এখনো হ‍ুমায়ূন আহমেদের বই খোঁজ করেন।’

মেলায় এখনো কালজয়ী সব সাহিত্যিকের লেখা বই কিনছেন বইপ্রেমীরা। এর মধ্যে রয়েছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, শওকত আলী, বেগম রোকেয়া, মীর মশাররফ হোসেন, উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, জীবনানন্দ দাশ, স্বর্ণকুমারী দেবী, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, জসীম উদ্দীন, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, আবু ইসহাক, আহমেদ ছফাসহ হুমায়ুন আজাদের লেখা সব বই। গুণী এই সাহিত্যিকদের লেখা বিভিন্ন গল্প, উপন্যাস ও সমগ্র সংগ্রহে রাখতে মেলায় এসে বই কিনছেন বইপ্রেমীরা।

মেলা ঘুরে দেখা গেছে, এখনো পাঠকরা যেসব কালজয়ী বই মেলায় কিনছেন, তার মধ্যে রয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষের কবিতা, গোড়া, শওকত আলীর প্রদোষে প্রাকৃতজন, আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের খোয়াবনামা, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবি, সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহর লালসালু, জহির রায়হানের হাজার বছর ধরে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনী, সৈয়দ শামসুল হকের খেলারাম খেলে যা ও নিষিদ্ধ লোবান, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রথম আলো, সেই সময় এবং পূর্ব-পশ্চিম, হ‍ুমায়ূন আহমেদের নন্দিত নরকে, শঙ্খনীল কারাগার এবং জোৎস্না ও জননীর গল্প, হুমায়ুন আজাদের নারী ও ছাপ্পান্নো হাজার বর্গমাইল, আবু ইসহাকের সূর্য দীঘল বাড়ি, হাসান আজিজুল হকের আগুনপাখি, মানিক বন্দোপাধ্যায়ের পদ্মা নদীর মাঝি ও পুতুল নাচের ইতিকথা, ইমদাদুল হক মিলনের নূরজাহান, সৈয়দ মুজতবা আলীর দেশ বিদেশে, শওকত ওসমানের কৃতদাসের হাসি, আনিসুল হকের চার কিশোর গোয়েন্দা, শহীদুল্লাহ কায়সারের সারেং বৌ, সংশপ্তক, জাহানারা ইমামের একাত্তরের দিনগুলি, বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের আদর্শ হিন্দু হোটেল, মুহম্মদ জাফর ইকবালের লেখা ফেরা, আহমদ ছফার যদ্যপি আমার গুরু ও শাহাদুজ্জামানের ক্রাচের কর্নেলসহ আরও কিছু বই। এই বইগুলো প্রকৃত বইপ্রেমীরা দেখলেই তা সংগ্রহে রাখার জন্য হলেও কিনে নিচ্ছেন বলে জানান মেলার বিভিন্ন স্টলের বিক্রয়কর্মীরা।

এখনো জমেনি লিটলম্যাগ চত্বর

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চের পাশে অবস্থিত লিটল ম্যাগ চত্বর ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড় নেই মেলার এ অংশে। যদিও বিক্রয় প্রতিনিধিরা বলছেন, মেলার অন্য অংশ থেকে বরাবরই এ অংশে ভিড় কম থাকে। সেখানকার স্টলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লোকজন এ চত্বরে কম যায়। তেমন বিক্রিও হয় না। বইমেলায় একসময় অন্যতম আকর্ষণ ছিল তারুণ্যের এ ‘লিটল ম্যাগ চত্বর’। মেলার এই অংশে নবীন লেখকদের প্রকাশিত বিভিন্ন ম্যাগাজিন পাঠক-দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরেন লেখক, প্রকাশক। কিন্তু সময়ের আবর্তে একসময়কার তুমুল জনপ্রিয় এই চত্বরে এখন কেবলই হাহাকার। বারবার এর স্থান পরিবর্তন হলেও হারানো গৌরবের দেখা পাচ্ছে না এই চত্বর।

জনপ্রিয় সব লেখক, প্রকাশনী ও পত্রিকার ভিড়ে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে সত্তরের দশকের গণজাগরণের চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত লিটল ম্যাগাজিনগুলো। বিপ্লবী ধারার এসব ম্যাগাজিনের স্থান দখল করে নিয়েছে পত্রিকাগুলো। কিন্তু এতসব বাধা বিপত্তির মাঝেও এখনো টিকে আছে কিছু ম্যাগাজিন। দেড় দশকের বেশি সময় ধরে বাংলা একাডেমির বহেড়াতলায় স্থান পাওয়া বইমেলার অন্যতম আকর্ষণ ‘লিটল ম্যাগ চত্বর’ কখনো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মাঝখানে, কখনো উত্তর পাশে আবার কখনো কালি মন্দিরের পাশে স্থান বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। তবে এ বছর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চের উত্তরাংশের অন্ধকারাচ্ছন্ন জায়গায় স্থান হয়েছে লিটল ম্যাগের। ফলে বিগত দিনের ধারাবাহিক খরা তাতে লেগেই আছে।

আজকের বইমেলা :

আজকের মেলা বিকেল ৩টায় শুরু হয়ে শেষ হয় রাত ৯টায়। ১২তম দিনে মেলায় নতুন বই এসেছে ১১৫টি। বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় জন্মশতবার্ষিক শ্রদ্ধাঞ্জলি : হেনা দাস শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জোবাইদা নাসরীন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ঝর্না রহমান এবং ফওজিয়া মোসলেম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শিরীণ আখতার।

‘লেখক বলছি’ অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন কথাসাহিত্যিক সালমা বাণী, কবি ফারহানা রহমান, গবেষক মিলটন কুমার দেব এবং কথাসাহিত্যিক ইকবাল খন্দকার।

আগামীকালের বইমেলা :

আগামীকাল ১৩তম দিন মেলা শুরু হবে বিকেল ৩টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে স্মরণে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ শীর্ষক আলাচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপনা করবেন আহমদ মোস্তফা কামাল। আলাচনায় অংশগ্রহণ করবন হরিশংকর জলদাস এবং ফারজানা সিদ্দিকা। অনুষ্ঠান সভাপতিত্ব করবেন সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম।


সাংবাদিক আনিস আলমগীর ও পান্নাকে মত প্রকাশের জন্য জেলে যেতে হয়নি: তথ্য উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় মত প্রকাশের জন্য কোন সাংবাদিককে জেলে যেতে হয়নি। সাংবাদিক আনিস আলমগীর ও মঞ্জুরুল আলম পান্নাকে মত প্রকাশের জন্য জেলে যেতে হয়নি। রাষ্ট্রযন্ত্রের কাছে নিশ্চয়ই ভিন্ন কোনো তথ্য ছিল। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীতে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব নিয়ে তিনি বলেন, ১৮ মাসে সফলতা বা ব্যর্থতা– বলার কিছু নাই। আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। জনগণ মূল্যায়ন করবে।

প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারীর দায়িত্ব পালন করা ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের দেশত্যাগ নিয়ে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ফয়েজ তৈয়ব বিদেশে থাকতেন, রাষ্ট্রীয় কাজ শেষ করে ফিরে গেছেন। তিনি দেড় বছর পরিবারের বাইরে ছিলেন। তার পরিবার নেদারল্যান্ডসেই ছিল, তিনি পরিবারের কাছে ফিরে গেছেন। এটি ভিন্নখাতে প্রবাহের সুযোগ নেই।


পদত্যাগ করলেন পুলিশ মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম 

বাহারুল আলম। ছবি : সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম তার পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে থাকা পুলিশের এই শীর্ষ কর্মকর্তা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। উল্লেখ্য যে, এই পদত্যাগের আগে তিনি পুলিশ সদরদপ্তরে ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত নিরাপত্তা প্রস্তুতি ও নিয়মিত সভায় সভাপতিত্ব করেন। ওই বৈঠকেই তিনি আকস্মিকভাবে উপস্থিত কর্মকর্তাদের কাছে নিজের পদত্যাগের সিদ্ধান্তের কথা ব্যক্ত করেন।

সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা আইজিপিকে তার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানালেও শেষ পর্যন্ত দুপুরে তিনি মন্ত্রণালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র পাঠান। এই ঘটনায় পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তাদের মধ্যে যেমন বিস্ময় তৈরি হয়েছে, তেমনি বাহিনীর সাধারণ সদস্যদের মধ্যেও খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। পদত্যাগের প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তিনি আগেই নিজের সরকারি পাসপোর্ট জমা দিয়ে সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেছিলেন।

আইজিপি বাহারুল আলমের নিয়োগের প্রেক্ষাপট পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২১ নভেম্বর তাকে দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। এর আগে ২০২০ সালে তিনি নিয়মিত চাকরির মেয়াদ শেষে অবসরে গিয়েছিলেন। বর্তমান চুক্তি অনুযায়ী চলতি বছরের ২১ নভেম্বর তার মেয়াদের পূর্ণতা পাওয়ার কথা ছিল। তবে সেই নির্দিষ্ট সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই তিনি স্বেচ্ছায় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন।


দেশবাসীকে পবিত্র রমজানের শুভেচ্ছা জানালেন প্রধান উপদেষ্টা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে দেশবাসীসহ সারাবিশ্বের মুসলিম উম্মাহকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও মোবারকবাদ জানিয়েছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। আজ রবিবার বিকেলে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিশেষ বাণীতে তিনি এই শুভেচ্ছা জানান। প্রধান উপদেষ্টা তাঁর বার্তায় রমজানের সুমহান শিক্ষাকে ধারণ করে ব্যক্তিগত ও জাতীয় জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন এবং একটি বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, সংযম, ত্যাগ, সহমর্মিতা ও আত্মশুদ্ধির মহান শিক্ষা নিয়ে পবিত্র রমজান আমাদের মাঝে উপস্থিত হয়েছে। এই মাসটি মানবজাতির জন্য শান্তি, কল্যাণ ও উচ্চতর নৈতিকতার বার্তা বহন করে আনে। সিয়াম সাধনা, দান-সদকা ও গভীর ইবাদতের মাধ্যমে মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও ক্ষমা লাভের এক অনন্য সুযোগ তৈরি হয় এই মহিমান্বিত মাসে। তিনি আত্মশুদ্ধি অর্জনের পাশাপাশি একে অপরের প্রতি সহমর্মিতা ও সম্প্রীতি বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

ড. ইউনূসের বাণীতে উঠে এসেছে ন্যায়বিচার ও সুশাসনের সামাজিক গুরুত্ব। তিনি উল্লেখ করেন যে, পবিত্র রমজান আমাদের ব্যক্তিগত ও জাতীয় জীবনে সব ধরনের অন্যায়, দুর্নীতি ও অবিচার পরিহার করে একটি ন্যায় ও কল্যাণভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার অনুপ্রেরণা জোগায়। এই মাসটি কেবল ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি মানুষের মধ্যে সত্যনিষ্ঠা, সততা ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার সময়। বিশেষ করে সমাজের দরিদ্র, বঞ্চিত ও অসহায় মানুষের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং মমত্ববোধ প্রদর্শনের মাধ্যমেই রমজানের প্রকৃত তাৎপর্য ফুটে ওঠে।

প্রধান উপদেষ্টা দেশবাসীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসুন আমরা রমজানের শিক্ষায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সকল প্রকার হিংসা-বিদ্বেষ ও ভোগ-বিলাস পরিহার করি। তিনি পবিত্রতা রক্ষা করে বেশি বেশি সৎকর্ম, কোরআন তেলাওয়াত ও প্রার্থনায় মনোনিবেশ করার পরামর্শ দেন। সবশেষে তিনি মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেন যেন তিনি দেশ ও জাতিকে শান্তি ও সমৃদ্ধি দান করেন এবং সকলের ইবাদত ও নেক আমল কবুল করেন। প্রধান উপদেষ্টার এই সময়োপযোগী বার্তা দেশবাসীর মধ্যে ধর্মীয় ও সামাজিক সংহতির নতুন প্রেরণা জোগাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


আইজিপি বাহারুল আলমের পদত্যাগের গুঞ্জন

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে থাকা পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমের পদত্যাগের খবর নিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ব্যাপক গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে। আজ রোববার দুপুর থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে এই খবরটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। যদিও সরকারের দায়িত্বশীল কোনো পক্ষ বা কোনো উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এখন পর্যন্ত বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেননি, তবে সংশ্লিষ্ট মহলে এ নিয়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তাঁরা বিষয়টি লোকমুখে শুনেছেন এবং এটি নিয়ে পুলিশ বাহিনীর ভেতরে ও বাইরে নানা আলোচনা চলছে।

জানা গেছে, আজ রোববার সকাল থেকেই আইজিপি বাহারুল আলম তাঁর দপ্তরে নিয়মিত দাপ্তরিক কাজ সম্পন্ন করেন। এরপর দুপুরে তিনি সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে যান এবং আসন্ন ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় অংশ নেন। এই সভা শেষ হওয়ার পরপরই তাঁর পদত্যাগের বিষয়টি গুঞ্জন হিসেবে ডালপালা মেলতে শুরু করে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার এবং আইজিপি অফিসের কর্মকর্তারাও এমন খবরের কথা শুনেছেন বলে জানিয়েছেন। তবে বিষয়টি নিশ্চিত হতে আইজিপির ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর পক্ষ থেকে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

আইজিপির পদত্যাগের এই গুঞ্জনের পেছনে কিছু পূর্ববর্তী ঘটনাও নতুন করে সামনে আসছে। গত জানুয়ারি মাসেই বাহারুল আলম তাঁর সরকারি পাসপোর্ট জমা দিয়ে সাধারণ পাসপোর্টের জন্য আবেদন করেছিলেন। ওই সময়েই প্রশাসনের ভেতরে তাঁর দায়িত্ব পালন এবং মেয়াদের পূর্ণতা নিয়ে বিভিন্ন আলোচনা শুরু হয়েছিল। আজকের এই অনানুষ্ঠানিক খবর সেই আলোচনার পালে নতুন করে হাওয়া দিয়েছে বলে মনে করছেন অনেকে। দীর্ঘ দেড় বছর পর দেশে একটি নির্বাচিত সরকার আসার প্রাক্কালে পুলিশ প্রধানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে এমন পরিবর্তনের সম্ভাবনাকে অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিশ্লেষকরা।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গত ২১ নভেম্বর বাহারুল আলমকে দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ২০২০ সালে পুলিশের চাকরি থেকে স্বাভাবিক অবসরে যাওয়া এই অভিজ্ঞ কর্মকর্তাকে বিশেষ পরিস্থিতিতে পুলিশের শীর্ষ পর্যায়ে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। নির্ধারিত চুক্তি অনুযায়ী ২০২৬ সালের ২১ নভেম্বর পর্যন্ত তাঁর দায়িত্বে থাকার কথা ছিল। যদি এই পদত্যাগের গুঞ্জন সত্য প্রমাণিত হয়, তবে নির্ধারিত মেয়াদের প্রায় ৯ মাস আগেই তিনি দেশের পুলিশ প্রধানের পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন। আপাতত সরকারের আনুষ্ঠানিক বিবৃতির অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষ।


সেনাবাহিনী ব্যারাকে ফিরে যাবে: সেনাপ্রধান

আপডেটেড ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৮:৪২
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের নতুন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার প্রাক্কালে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এক ঘোষণা দিয়েছেন সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি জানিয়েছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিজয়ী নবনির্বাচিত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষমতা গ্রহণ করার পরপরই সেনাবাহিনী মাঠ থেকে ব্যারাকে ফিরে যাবে। আজ রোববার বেলা ১১টায় রাজধানীর সিএএস দরবারে সেনাবাহিনীর সকল পদমর্যাদার সদস্য এবং জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া এক বিশেষ ভাষণে তিনি এই সিদ্ধান্তের কথা জানান। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ পুলিশ বাহিনী বুঝে না নেওয়া পর্যন্ত সহায়তার জন্য সেনাবাহিনীর একটি অংশ নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মোতায়েন থাকবে।

সেনাপ্রধান তাঁর বক্তব্যে সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সেনাসদস্যদের ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় অত্যন্ত প্রতিকূল ও সংবেদনশীল পরিবেশে সেনাবাহিনীর সদস্যরা যে চমৎকার দায়িত্বশীলতা, ধৈর্য ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন, তার জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে সবার প্রতি কৃতজ্ঞ। একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখতে সেনাবাহিনীর দক্ষতা দেশের গণতন্ত্রকে সুসংহত করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছে বলে তিনি মনে করেন। জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান আরও বলেন, গত দেড় বছরের অস্থিতিশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি থেকে দেশকে স্থিতিশীল অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সেনাবাহিনী যে ত্যাগ স্বীকার করেছে, তা দেশ ও জাতি দীর্ঘকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ রাখবে।

অনুষ্ঠানে সেনাসদস্যদের নৈতিক ও মানবিক গুণাবলি অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করে জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান পবিত্র কোরআনের একটি আয়াত উদ্ধৃত করেন। তিনি বলেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের পুরস্কৃত করেন।’ এই চড়াই-উতরাইপূর্ণ সময়ে সেনাসদস্যরা যেভাবে ধৈর্যের পরীক্ষা দিয়ে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করেছেন, সেটিই তাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। একই সাথে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে, বিশেষ করে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে নিয়োজিত সদস্যদের দক্ষতা ও বীরত্বের কথাও তিনি তাঁর ভাষণে তুলে ধরেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা সেনাপ্রধানের এই বক্তব্যকে অত্যন্ত ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, নির্বাচনের পর ক্ষমতা হস্তান্তরের এই সন্ধিক্ষণে সেনাবাহিনীর ব্যারাকে ফিরে যাওয়ার ঘোষণা দেশে একটি সুস্থ ও স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বড় ধরনের প্রেরণা হিসেবে কাজ করবে। নতুন সরকার শপথ নেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করায় সেনাবাহিনীর এই পেশাদার অবস্থান সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ও আস্থা আরও বৃদ্ধি করবে। সেনাপ্রধানের এই সময়োপযোগী নির্দেশনা মাঠপর্যায়ে মোতায়েন থাকা সকল সেনাসদস্যের মনোবল দৃঢ় করবে এবং একটি সুশৃঙ্খল হস্তান্তরের পথ সুগম করবে বলে আশা করা হচ্ছে।


বিএনপির মন্ত্রিসভায় আমার থাকার প্রশ্নই ওঠে না: আসিফ নজরুল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

নিজের সম্ভাব্য ভূমিকা নিয়ে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা আসিফ নজরুল অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে জানিয়েছেন যে, বিএনপির নেতৃত্বাধীন নতুন মন্ত্রিসভায় তাঁর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আজ রবিবার দুপুরে সচিবালয়ে সংবাদকর্মীদের করা এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি তাঁর এই অবস্থান পরিষ্কার করেন।

আগামী মঙ্গলবার ১৭ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য এবং নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের সময়সূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে। এদিন সকাল ১০টায় সংসদ সদস্যদের শপথ এবং বিকেল ৪টায় মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

আসিফ নজরুল জানান যে, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ানোর কথা রয়েছে এবং রাষ্ট্রপতি নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। বিএনপির পরিকল্পনা ও অভিপ্রায় অনুযায়ীই সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় এই রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছে। মন্ত্রিসভায় নিজের থাকা প্রসঙ্গে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, “বিএনপির মন্ত্রিসভায় আমার থাকার প্রশ্নই উঠে না।”

আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকা নিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রথা অনুযায়ী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এটি তদারকি করছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে সার্কভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে। তবে বিদেশি কোনো প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণের বিষয়ে নিজের সীমাবদ্ধতা প্রকাশ করে তিনি বলেন, “কারা কারা আমন্ত্রিত হবেন; সেটি কনভেনশন অনুযায়ী করা হবে, সেটি ক্যাবিনেট ডিভিশন দেখছে। সার্কভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের আমন্ত্রণ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। কোনো প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ বিষয়ে আমি কিছু জানি না।” পরবর্তী মন্ত্রিসভায় তাঁর অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে পুনরায় জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি পুনরায় নিশ্চিত করে বলেন, “মন্ত্রীসভায় আমার থাকার প্রশ্নই ওঠে না।”


প্রস্তুত হচ্ছে সংসদের দক্ষিণ প্লাজা, নতুন সরকারের শপথ মঙ্গলবার

সংসদ ভবন এলাকা। ফাইল ছবি
আপডেটেড ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১৫:০২
অনলাইন ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী নতুন জনপ্রতিনিধিদের বরণ করে নিতে জাতীয় সংসদ ভবনকে এক নতুন ও দৃষ্টিনন্দন রূপে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান ও আসন্ন সংসদ অধিবেশনের যাবতীয় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি বর্তমানে চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

আগামী মঙ্গলবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজাতেই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করবেন।

একই দিন বিকেলে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত নতুন মন্ত্রিসভাও সংসদের এই দক্ষিণ প্লাজায় শপথ নেবে বলে সরকারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন। সংসদ ভবন সূত্র অনুযায়ী, নবনির্বাচিত সদস্যদের জন্য পুরো ভবন ধোয়া-মোছা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে পরিপাটি করা হচ্ছে। সংসদ সদস্যদের জন্য বরাদ্দকৃত কক্ষগুলোও নতুন করে সাজানো হচ্ছে এবং গণঅভ্যুত্থানের সময় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া অংশগুলোর মেরামত কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা হচ্ছে। গত শনিবার থেকেই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সংসদ সচিবালয় এই শপথ অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক আয়োজন শুরু করেছে।

জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা গণমাধ্যমকে বলেন, “দক্ষিণ প্লাজায় মঙ্গলবার সকালে সংসদ সদস্যদের এবং বিকালে নতুন সরকারের শপথের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে এবং একই স্থানে বিকেল ৪টায় নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা শপথ নেবে। উল্লেখ্য যে, সাংবিধানিক নিয়ম অনুসারে গেজেট প্রকাশের পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণ বাধ্যতামূলক। নির্বাচন কমিশন গত শুক্রবার রাতে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯৭টি আসনের গেজেট চূড়ান্তভাবে প্রকাশ করেছে। এবারের নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসন পেয়ে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোট ৭৭টি আসন পেয়ে বিরোধী দলের অবস্থানে থাকতে যাচ্ছে এবং বাকি আসনগুলোতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।


তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে ১৩ দেশের সরকারপ্রধানকে আমন্ত্রণ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী মঙ্গলবার নতুন মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করতে যাচ্ছে। ঐতিহাসিক এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস চীন, ভারত ও পাকিস্তানসহ মোট ১৩টি দেশের সরকারপ্রধানকে আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

আগামী মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে। এর আগে ওই দিন সকালেই নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন।

প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়, আইন মন্ত্রণালয় এবং সরকার গঠন করতে যাওয়া বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক সূত্র থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। গত শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে প্রশাসনের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান যে, নির্বাচনে বিজয়ী দল বিএনপির নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতেই ১৩টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারপ্রধানদের আমন্ত্রণ জানানোর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কূটনৈতিক মহলের তথ্য অনুযায়ী, আমন্ত্রিত দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে চীন, ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনেই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটান।

প্রাসঙ্গিকভাবে উল্লেখ্য যে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে নিরঙ্কুশ জয়লাভ করে। গণমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, আগামী মঙ্গলবার ১৭ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের শপথ গ্রহণের মাধ্যমেই নতুন সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে।


গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও নির্বাচনী সাফল্যে তিন শীর্ষ নেতাকে প্রধান উপদেষ্টার অভিনন্দন বার্তা

ছবি : সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন করতে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের জন্য রাজনৈতিক নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক ধারাকে বেগবান করায় তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান, জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান এবং জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামকে অভিনন্দন ও গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টা পৃথক টেলিফোন আলাপের মাধ্যমে এই তিন নেতার সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের শুভেচ্ছা জানান।

আলাপকালে প্রধান উপদেষ্টা রাজনৈতিক দলগুলোর সংযম ও পরিমিতিবোধের প্রশংসা করে বলেন, দলগুলোর দায়িত্বশীল আচরণের ফলেই সারাদেশে একটি সুন্দর নির্বাচনী পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানিয়েছে, আলাপচারিতার শুরুতে তিনি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দলটির বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিজয়ের জন্য অভিনন্দন জানান। তারেক রহমানের উদ্দেশে পাঠানো এক বার্তায় তিনি উল্লেখ করেন, “গণতান্ত্রিক উত্তরণের ঐতিহাসিক প্রক্রিয়ায় জনগণের এই সুস্পষ্ট রায় দেশের সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে।”

জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমানকে পাঠানো পৃথক বার্তায় অধ্যাপক ইউনূস দলটির সক্রিয় অংশগ্রহণ ও মর্যাদাপূর্ণ আচরণের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “সংসদ নির্বাচনে আপনার নেতৃত্বে দলীয় প্রার্থীদের সক্রিয় ও ব্যাপক অংশগ্রহণ, দৃঢ় প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং পরে নির্বাচনের ফলাফলকে শান্ত ও মর্যাদাপূর্ণভাবে গ্রহণ করার জন্য আপনাকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।”

অন্যদিকে, নবগঠিত দল এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টা এক অভিনন্দন বার্তায় বলেন, “ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আপনার নেতৃত্বে এনসিপি যে সাহস, দৃঢ়তা ও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে অংশগ্রহণ করেছে, তা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।” মাত্র এক বছর আগে চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে জন্ম নেওয়া একটি নবীন দল হিসেবে ৩০টি আসনে লড়াই করে ছয়টিতে জয়লাভ এবং অন্যান্য আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তোলাকে তিনি তরুণ প্রজন্মের স্বপ্নের শক্তিশালী প্রকাশ বলে অভিহিত করেন।

প্রধান উপদেষ্টা আশা প্রকাশ করেন যে, দেশের জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ভবিষ্যতেও রাজনৈতিক দলগুলো এমন ইতিবাচক ও সহযোগিতামূলক ভূমিকা অব্যাহত রাখবে। সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে তিনি সকল রাজনৈতিক পক্ষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।


তারেক রহমানকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও মিষ্টি পাঠিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

ছবি : সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ঐতিহাসিক বিজয় উপলক্ষে তিনি শুভেচ্ছা হিসেবে উপহারস্বরূপ মিষ্টি ও ফুল পাঠিয়েছেন।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় বিএনপির চেয়ারম্যানের গুলশানস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে এই উপহারসমূহ গ্রহণ করা হয়। মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান এগুলো গ্রহণ করেন এবং এসময় গুলশান কার্যালয়ের বিশেষ কর্মকর্তা মেহেদুল ইসলাম সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক বার্তায় তারেক রহমানকে আগাম শুভেচ্ছা জানান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বার্তায় তিনি বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের প্রতিও ভালোবাসা ব্যক্ত করেন।

নিজের পোস্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লেখেন, "বাংলাদেশের সব ভাইবোনকে, জনগণকে জানাই আমার শুভনন্দন, আমার আগাম রমজান মোবারক। বাংলাদেশের এই বিপুল জয়ের জন্য অভিনন্দন জানাই আমার তারেক ভাইকে, তার দলকে ও অন্যান্য দলকে। সবাই ভালো থাকুন, সুখী থাকুন।" তিনি প্রতিবেশী সুলভ সৌহার্দ্য বজায় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করে আরও বলেন, "আমাদের সঙ্গে সবসময় বাংলাদেশের সুসম্পর্ক বজায় থাকবে, এটাই আমরা কামনা করি।"


অভাবনীয় বিজয়ে বিএনপিকে  ইতালির শুভেচ্ছা, সকল রাজনৈতিক পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অভাবনীয় বিজয়ের জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-কে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছে ইতালি। ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রেরিত এক বার্তার মাধ্যমে বাংলাদেশের এই নতুন রাজনৈতিক সাফল্যকে সাধুবাদ জানানো হয়।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বার্তার মাধ্যমে এই শুভেচ্ছার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়।

ইতালির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাদের বার্তায় উল্লেখ করে যে, বাংলাদেশে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অত্যন্ত সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনে জয়ের জন্য বিএনপিকে অভিনন্দন জানিয়ে বার্তায় বলা হয়, “বাংলাদেশে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু এবং শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হওয়ায় বাংলাদেশকে অভিনন্দন। নির্বাচনে বিজয়ের জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-কে আন্তরিক শুভেচ্ছা। গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহকে আরও শক্তিশালী এবং দেশের উন্নয়ন ও স্থীতিশীলতার জন্য আমরা সকল রাজনৈতিক পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানাই।”

এছাড়া ইতালি সরকার বাংলাদেশের সাথে চলমান ফলপ্রসূ সংলাপ বজায় রাখা এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতামূলক সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও সুদৃঢ় হওয়ার বিষয়ে ব্যাপক আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। গণমাধ্যমের তথ্যানুসারে, ইতালীয় প্রশাসন বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় পাশে থাকার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেছে।


তারেক রহমানকে বিমসটেক মহাসচিবের অভিনন্দন

ছবি : সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জনের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন বিমসটেক মহাসচিব ইন্দ্র মণি পাণ্ডে। নির্বাচনে জয়লাভের মাধ্যমে জনগণের রায় প্রতিফলিত হওয়ায় তিনি বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের প্রতি এই শুভেচ্ছা বার্তা প্রেরণ করেন।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) এক আনুষ্ঠানিক অভিনন্দন বার্তার মাধ্যমে তিনি তারেক রহমানকে এই উষ্ণ অভিবাদন জ্ঞাপন করেন।

বে অব বেঙ্গল ইনিশিয়েটিভ ফর মাল্টি-সেক্টরাল টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক কোঅপারেশন-বিমসটেকের মহাসচিব তার বার্তায় বিএনপির এই নিশ্চিত সাফল্যে তারেক রহমানের বলিষ্ঠ ও সুযোগ্য নেতৃত্বের উচ্চকিত প্রশংসা করেন। আঞ্চলিক এই সহযোগিতামূলক জোটের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং আয়োজক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিমসটেক মূলত সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আন্তঃবাণিজ্য বৃদ্ধি, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা, জ্বালানি ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণসহ জনগণের সঙ্গে জনগণের নিবিড় সম্পর্ক উন্নয়নে নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছে। আগামী দিনেও বাংলাদেশের সাথে এই সহযোগিতার ক্ষেত্র আরও বিস্তৃত হবে বলে বিমসটেক সচিবালয় আশাবাদ ব্যক্ত করেছে।


তারেক রহমানকে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রীর অভিনন্দন: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করার বার্তা

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
প্রতিবেদক, দৈনিক বাংলা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গাহর স্টোর। ঐতিহাসিক এই বিজয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতাকে অভিনন্দন জানিয়ে দুই দেশের বন্ধুত্ব আরও গভীর করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী তার নিজস্ব এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে এক বার্তার মাধ্যমে তারেক রহমানকে এই অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের মধ্যে ২০৯টিতেই জয় ছিনিয়ে নিয়েছে বিএনপি। এছাড়া ফলাফল স্থগিত থাকা আরও দুটি আসনেও বিএনপির প্রার্থীরা জয়ের পথে রয়েছেন এবং দলটির শরিকেরা লাভ করেছে তিনটি আসন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ৬৮টি আসন পেয়েছে এবং তাদের নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের অন্য শরিকেরা ৯টি আসনে বিজয়ী হয়েছে।

অভিনন্দন বার্তায় জোনাস গাহর স্টোর উল্লেখ করেছেন, “ঐতিহাসিক নির্বাচনে বিজয় অর্জনের জন্য তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। নরওয়ে আন্তর্জাতিক আইন, গণতন্ত্র এবং মানবাধিকারের প্রতি সম্মান বৃদ্ধিসহ আমাদের দুই দেশের শক্তিশালী দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার জন্য উন্মুখ।”

উল্লেখ্য যে, তারেক রহমানকে এর আগে ফ্রান্স ও জার্মানি সরকার এবং বিমসটেক মহাসচিবের পক্ষ থেকেও পৃথকভাবে অভিনন্দন জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে নরওয়ের সাথে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার ব্যাপারে দেশ দুটি বিশেষভাবে আশাবাদী।


banner close