অমর একুশে বইমেলার দিন যতই অতিবাহিত হচ্ছে ততই এর আকর্ষণ বেড়ে চলেছে। এবার নানাবিধ কারণে প্রাণের মেলা ভিন্নরূপ পেয়েছে। বিশেষ করে নগরে স্বস্তির যান মেট্রোরেলের কারণে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর পাঠক-দর্শনার্থীদের ভিড় বাড়ছে। মেলায় প্রতিদিন শতাধিক নতুন বই আসার পাশাপাশি বেড়েছে দর্শনার্থীর সংখ্যা, সঙ্গে বাড়ছে বিক্রিও। দিন যত যাচ্ছে মেলার প্রাণ আরও বাড়ছে। আগামীকাল বসন্ত ও ভালোবাসা দিবসে বইমেলা যেন অন্যরকম আমেজ নিয়ে আসবে। বাংলা একাডেমির বহেড়াতলা বটগাছে কোকিলের সুর বলে দিচ্ছে প্রকৃতিতে ফাগুন চলে এসেছে। ঠিক যেমনিভাবে ফাগুনের এই আগুন বইমেলায়ও চলে আসতে শুরু করেছে। সব সময় মেলা ফাগুনের দিনগুলো থেকেই মূলত জমে ওঠে। এবার আরও নবজাগরণে প্রাণের মেলা জমেছে। কেননা গত দুই বছরের ঢিমেতালে চলা বইমেলা এবার পেয়েছে পুরোপুরি জমে ওঠার চিত্র। মেলায় প্রতিবারের মতো এবারও পাঠকদের আগ্রহের শীর্ষে রয়েছে উপন্যাস। এ ছাড়াও ঘুরেফিরে জনপ্রিয় লেখকদের বই বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রকাশক ও বিক্রয়কর্মীরা।
মেলা ঘুরে দেখা গেছে, পাঠকরা স্টলে স্টলে গিয়ে উপন্যাসের বই খুঁজে বেড়াচ্ছেন। প্রিয় লেখকের প্রকাশিত বই পেলেই তা সংগ্রহ করে নিজেদের ব্যাগে গুঁজে নিচ্ছেন বইপ্রেমীরা। এদিকে পূর্ববর্তী বছরগুলোর মতো এবারও হুমায়ূন আহমেদ, হাসান আজিজুল হক, আনিসুল হক, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, ইমদাদুল হক মিলন, সেলিনা হোসেন, মুহম্মদ জাফর ইকবাল, আসিফ নজরুল, মুনতাসীর মামুন, মোশতাক আহমেদ, শাহাদুজ্জামান, হরিশংকর জলদাসসহ বেশ কয়েকজন জনপ্রিয় লেখকের বই বেশি বিক্রি হচ্ছে। তবে মেলায় হুমায়ূন আহমেদের বই-ই বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে প্রকাশনা সূত্রে জানা যায়। জনপ্রিয় এই লেখকের পুরাতন বইগুলো পাঠকরা এখনো কিনছেন। মেলায় প্রতিদিন হুমায়ূনপ্রেমীরা খুঁজতে খুঁজতে চলে যাচ্ছেন অন্যপ্রকাশে। এই প্রকাশনীতে কিংবদন্তি এই কথাসাহিত্যিকের লেখা উপন্যাস দেয়াল, মাতাল হাওয়া, নন্দিত নরকে, শঙ্খনীল কারাগার, মধ্যাহ্ন অখণ্ড বেশি কিনছেন বলে অন্যপ্রকাশ সূত্রে জানা যায়।
সরেজমিন ঘুরে এবং বিভিন্ন স্টলের বিক্রয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এবারও মেলায় বেশি জনপ্রিয় লেখকদের গল্প-উপন্যাস বিক্রি হচ্ছে। নতুন বইয়ের সঙ্গে পুরাতন কালজয়ী বইও বিক্রিতে রয়েছে শীর্ষে।
তাম্রলিপি প্রকাশনীর বিজনেস ডেভেলপমেন্ট এক্সিকিউটিভ মুনালিসা জানান, এ বছর ৪৫টি নতুন বই প্রকাশ করেছে প্রকাশনীটি। নতুন বইয়ের সঙ্গে পুরাতন বইও বেশ বিক্রি হচ্ছে। তার মধ্যে হুমায়ূন আহমেদের শ্রেষ্ঠ হিমু, শ্রেষ্ঠ মিছির আলি ও কিশোর সমগ্র বই বিক্রিতে ওপরে রয়েছে।
কাকলী প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী হুমায়ন কবীর জানান, রকিব হাসানের গোয়েন্দা সিরিজ ও সায়েন্স ফিকশন চলছে বেশি। আর হুমায়ূন আহমেদের ভক্তরা তার বই সমগ্র তো সংগ্রহ করছেই।
অনন্যা প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী আসিফ মাহমুদ বলেন, ইমদাদুল হক মিলনের চোর এসে গল্প করেছিল, অন্ধকারে নামতে পারেনি বই দুটোর বিক্রি তুলনামূলকভাবে বেশি। এ ছাড়াও তৌহিদুর রহমানের নিতু বলছি বইটির তৃতীয় মুদ্রণ চলছে। মুনতাসীর মামুনের ঢাকা সমগ্র বইটিও পাঠকদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। এ ছাড়াও মুনতাসীর মামুনের বঙ্গবন্ধুর জীবন ও লিবারেশন ওয়্যার বই দুটি এ বছর প্রকাশিত হয়েছে। বইগুলো বিক্রিও হচ্ছে বেশ।
অন্বেষা প্রকাশনের বিক্রয়কর্মী রাফিজা নওশীন জানান, সুজন দেবনাথের হেমলকের নিয়ন্ত্রণ ও জাহিদ হাসানের দেশভাগ ১৯৪৭ বেশি বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া হুমায়ূন আহমেদের তিন বিচিত্র, চন্দ্রসখা, মিসির আলীর ভুবন, তোমাদের জন্য ভালোবাসা, নীল হাতি, সবাই গেছে বনে উপন্যাসগুলো একটি আরেকটির চেয়ে কম বিক্রি হচ্ছে না। এ ছাড়াও সাদাত হোসেনের আগুনডানা মেয়ে বইটিও বেশ বিক্রি হচ্ছে।
অন্যপ্রকাশের স্টল ইনচার্জ তৌহিদুল ইসলাম জানান, উপন্যাস আর হুমায়ন আহমেদের বইয়ে পাঠকদের চাহিদা- দুই ক্ষেত্রেই সবচেয়ে বেশি। এ ছাড়াও রউফুল আলমের দেশ, সফল মন্ত্র, আহমদ ছফার যদ্যপি আমার গুরু, অর্ধেক নারী অর্ধেক ইশ্বরী বইগুলো বেশ চলছে। তবে ক্রেতাদের চাহিদা উপন্যাস।
বইমেলায় ঘুরতে আসা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শরমিলা জান্নাত বইগুলো ঘাটতে ঘাটতে বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদ দেশের সাহিত্য অঙ্গনে যে জায়গা সৃষ্টি করে গেছেন, তা এখনও কেউ পূরণ করতে পারেননি। পুরোনোরা তো বটেই, নতুন প্রজন্মের পাঠকও এসে এখনো হুমায়ূন আহমেদের বই খোঁজ করেন।’
মেলায় এখনো কালজয়ী সব সাহিত্যিকের লেখা বই কিনছেন বইপ্রেমীরা। এর মধ্যে রয়েছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, শওকত আলী, বেগম রোকেয়া, মীর মশাররফ হোসেন, উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, জীবনানন্দ দাশ, স্বর্ণকুমারী দেবী, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, জসীম উদ্দীন, আখতারুজ্জামান ইলিয়াস, আবু ইসহাক, আহমেদ ছফাসহ হুমায়ুন আজাদের লেখা সব বই। গুণী এই সাহিত্যিকদের লেখা বিভিন্ন গল্প, উপন্যাস ও সমগ্র সংগ্রহে রাখতে মেলায় এসে বই কিনছেন বইপ্রেমীরা।
মেলা ঘুরে দেখা গেছে, এখনো পাঠকরা যেসব কালজয়ী বই মেলায় কিনছেন, তার মধ্যে রয়েছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শেষের কবিতা, গোড়া, শওকত আলীর প্রদোষে প্রাকৃতজন, আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের খোয়াবনামা, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবি, সৈয়দ ওয়ালিউল্লাহর লালসালু, জহির রায়হানের হাজার বছর ধরে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অসমাপ্ত আত্মজীবনী, সৈয়দ শামসুল হকের খেলারাম খেলে যা ও নিষিদ্ধ লোবান, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রথম আলো, সেই সময় এবং পূর্ব-পশ্চিম, হুমায়ূন আহমেদের নন্দিত নরকে, শঙ্খনীল কারাগার এবং জোৎস্না ও জননীর গল্প, হুমায়ুন আজাদের নারী ও ছাপ্পান্নো হাজার বর্গমাইল, আবু ইসহাকের সূর্য দীঘল বাড়ি, হাসান আজিজুল হকের আগুনপাখি, মানিক বন্দোপাধ্যায়ের পদ্মা নদীর মাঝি ও পুতুল নাচের ইতিকথা, ইমদাদুল হক মিলনের নূরজাহান, সৈয়দ মুজতবা আলীর দেশ বিদেশে, শওকত ওসমানের কৃতদাসের হাসি, আনিসুল হকের চার কিশোর গোয়েন্দা, শহীদুল্লাহ কায়সারের সারেং বৌ, সংশপ্তক, জাহানারা ইমামের একাত্তরের দিনগুলি, বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের আদর্শ হিন্দু হোটেল, মুহম্মদ জাফর ইকবালের লেখা ফেরা, আহমদ ছফার যদ্যপি আমার গুরু ও শাহাদুজ্জামানের ক্রাচের কর্নেলসহ আরও কিছু বই। এই বইগুলো প্রকৃত বইপ্রেমীরা দেখলেই তা সংগ্রহে রাখার জন্য হলেও কিনে নিচ্ছেন বলে জানান মেলার বিভিন্ন স্টলের বিক্রয়কর্মীরা।
এখনো জমেনি লিটলম্যাগ চত্বর
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চের পাশে অবস্থিত লিটল ম্যাগ চত্বর ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতা-দর্শনার্থীদের ভিড় নেই মেলার এ অংশে। যদিও বিক্রয় প্রতিনিধিরা বলছেন, মেলার অন্য অংশ থেকে বরাবরই এ অংশে ভিড় কম থাকে। সেখানকার স্টলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, লোকজন এ চত্বরে কম যায়। তেমন বিক্রিও হয় না। বইমেলায় একসময় অন্যতম আকর্ষণ ছিল তারুণ্যের এ ‘লিটল ম্যাগ চত্বর’। মেলার এই অংশে নবীন লেখকদের প্রকাশিত বিভিন্ন ম্যাগাজিন পাঠক-দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরেন লেখক, প্রকাশক। কিন্তু সময়ের আবর্তে একসময়কার তুমুল জনপ্রিয় এই চত্বরে এখন কেবলই হাহাকার। বারবার এর স্থান পরিবর্তন হলেও হারানো গৌরবের দেখা পাচ্ছে না এই চত্বর।
জনপ্রিয় সব লেখক, প্রকাশনী ও পত্রিকার ভিড়ে ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে সত্তরের দশকের গণজাগরণের চালিকাশক্তি হিসেবে পরিচিত লিটল ম্যাগাজিনগুলো। বিপ্লবী ধারার এসব ম্যাগাজিনের স্থান দখল করে নিয়েছে পত্রিকাগুলো। কিন্তু এতসব বাধা বিপত্তির মাঝেও এখনো টিকে আছে কিছু ম্যাগাজিন। দেড় দশকের বেশি সময় ধরে বাংলা একাডেমির বহেড়াতলায় স্থান পাওয়া বইমেলার অন্যতম আকর্ষণ ‘লিটল ম্যাগ চত্বর’ কখনো সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মাঝখানে, কখনো উত্তর পাশে আবার কখনো কালি মন্দিরের পাশে স্থান বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। তবে এ বছর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের মুক্তমঞ্চের উত্তরাংশের অন্ধকারাচ্ছন্ন জায়গায় স্থান হয়েছে লিটল ম্যাগের। ফলে বিগত দিনের ধারাবাহিক খরা তাতে লেগেই আছে।
আজকের বইমেলা :
আজকের মেলা বিকেল ৩টায় শুরু হয়ে শেষ হয় রাত ৯টায়। ১২তম দিনে মেলায় নতুন বই এসেছে ১১৫টি। বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় জন্মশতবার্ষিক শ্রদ্ধাঞ্জলি : হেনা দাস শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জোবাইদা নাসরীন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন ঝর্না রহমান এবং ফওজিয়া মোসলেম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক শিরীণ আখতার।
‘লেখক বলছি’ অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন কথাসাহিত্যিক সালমা বাণী, কবি ফারহানা রহমান, গবেষক মিলটন কুমার দেব এবং কথাসাহিত্যিক ইকবাল খন্দকার।
আগামীকালের বইমেলা :
আগামীকাল ১৩তম দিন মেলা শুরু হবে বিকেল ৩টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে স্মরণে সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্ শীর্ষক আলাচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপনা করবেন আহমদ মোস্তফা কামাল। আলাচনায় অংশগ্রহণ করবন হরিশংকর জলদাস এবং ফারজানা সিদ্দিকা। অনুষ্ঠান সভাপতিত্ব করবেন সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম।
সারাদেশে হাম ও এর উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য চরম উদ্বেগ তৈরি করেছে। একই সময়ে নতুন করে হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে ভর্তি হয়েছেন আরও এক হাজার ৩০৩ জন রোগী। শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে পাঠানো এক জরুরি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
অধিদপ্তরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত একদিনে সন্দেহজনক হামে আক্রান্ত হয়েছেন এক হাজার ১৯২ জন এবং ল্যাবে নিশ্চিত হওয়া রোগীর সংখ্যা ১১১ জন। সব মিলিয়ে একদিনে নতুন সংক্রমণের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৩০৩ জনে। গত দুই মাসের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ১৫ মার্চ থেকে ১৫ মে পর্যন্ত দেশে সন্দেহজনক হাম রোগীর মোট সংখ্যা ৫৫ হাজার ৬১১ জনে পৌঁছেছে এবং এর মধ্যে সাত হাজার ৪১৬ জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হামের অস্তিত্ব শনাক্ত হয়েছে।
চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্যে জানানো হয়েছে, উল্লিখিত সময়ের মধ্যে সংক্রমণের ভয়াবহতায় ৪০ হাজার ১৭৬ জন রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। এদের মধ্যে যথাযথ চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৩৬ হাজার ৫৫ জন।
ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারকারীদের আর্থিক নিরাপত্তার স্বার্থে এবং সম্ভাব্য জালিয়াতি এড়াতে বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সম্প্রতি কিছু অননুমোদিত প্রতিষ্ঠান সাধারণ প্লাস্টিক কার্ডকে আকর্ষণীয় মেটাল কার্ডে বদলে দেওয়ার প্রলোভন দেখাচ্ছে, যাকে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বৃহস্পতিবার রাতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অ্যাকাউন্টে এক বার্তার মাধ্যমে গ্রাহকদের এই বিষয়ে সচেতন করা হয়। কোনো তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে কার্ডের রূপ পরিবর্তন করা নিরাপত্তাগতভাবে চরম বিপদজনক হতে পারে।
সতর্কবার্তায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে যে, বর্তমানে লক্ষ্য করা যাচ্ছে ‘কিছু অননুমোদিত তৃতীয় পক্ষের (থার্ড-পার্টি) প্রতিষ্ঠান গ্রাহকদের ডেবিট ও ক্রেডিট প্লাস্টিক কার্ডকে মেটাল কার্ডে রূপান্তরের প্রলোভন দেখাচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় গ্রাহকের কার্ড নম্বর, মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ, সিভিভি (CVV)-সহ সংবেদনশীল তথ্য উক্ত প্রতিষ্ঠানের কাছে শেয়ার করতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।’ যেহেতু এসব প্রতিষ্ঠান কোনো ব্যাংক বা নিয়ন্ত্রক সংস্থার দ্বারা অনুমোদিত নয়, তাই এর মাধ্যমে কার্ডের গোপনীয় তথ্য ফাঁস হয়ে জালিয়াতির আশঙ্কা প্রবল হয়। এছাড়া এতে অননুমোদিত লেনদেনের সম্ভাবনা বাড়ার পাশাপাশি গ্রাহকের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতি এবং তথ্য নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, যা সামগ্রিক কার্ড ব্যবস্থাপনাকেও সংকটে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সংশ্লিষ্ট সকলকে এই ধরনের ‘অননুমোদিত প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির কাছে কার্ড সংক্রান্ত তথ্য প্রদানসহ প্লাস্টিক কার্ডকে মেটাল কার্ডে রূপান্তর করা থেকে সব গ্রাহককে বিরত থাকার অনুরোধ’ জানিয়েছে। যেকোনো কার্ড সংক্রান্ত সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের অনুমোদিত চ্যানেল ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলো গ্রাহকদের আর্থিক নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিলেও ব্যবহারকারীদের অসতর্কতার ফলে বড় বিপদ ঘটতে পারে। তাই ‘কোনো অবস্থাতেই ওটিপি বা ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড (011) কিংবা কার্ডের কোনো তথ্য কারও সঙ্গে শেয়ার’ না করার জন্য কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অস্বাভাবিক বা সন্দেহজনক কিছু পরিলক্ষিত হলে দেরি না করে তাৎক্ষণিক সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য গ্রাহকদের বিশেষভাবে বলা হয়েছে।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় বহুতল ভবনের ফ্ল্যাটে জমে থাকা গ্যাস বিস্ফোরণের ঘটনায় দগ্ধ হয়ে একে একে একই পরিবারের পাঁচজনই মৃত্যুবরণ করেছেন। শুক্রবার সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরিবারের সর্বশেষ সদস্য মা সায়মা (৩২) মারা যাওয়ার মাধ্যমে একটি সাজানো সংসার পুরোপুরি বিলীন হয়ে গেল। রাজধানীর জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকরা এই মর্মান্তিক পরিণতির কথা নিশ্চিত করেছেন।
বিস্ফোরণের সেই ভয়াল ঘটনার পর গত সোমবার থেকে শুক্রবারের মধ্যে এই ট্র্যাজেডি সম্পন্ন হয়েছে। ইনস্টিটিউটের আবাসিক সার্জন ডা. শাওন বিন রহমান জানান, গত সোমবার সকালে গৃহকর্তা মো. কালাম (৩৫) দগ্ধ হয়ে প্রথম প্রাণ হারান, যার শরীরের ৯৫ শতাংশই পুড়ে গিয়েছিল। এরপর বুধবার সন্ধ্যায় সাত বছর বয়সী শিশু কথা এবং বৃহস্পতিবার সকালে মুন্না ও দুপুরে মুন্নি (১০) মৃত্যুবরণ করে। চিকিৎসকদের মতে, শিশুদের প্রত্যেকের শরীরের শ্বাসনালীসহ শরীরের বড় একটি অংশ দগ্ধ হয়েছিল। সর্বশেষ আজ শুক্রবার সকালে মা সায়মার মৃত্যুতে পরিবারটি অভিভাবক ও সন্তানহীন হয়ে পড়ল।
উল্লেখ্য, গত ১০ মে সকালে ফতুল্লার গিরিধারা এলাকার একটি ছয়তলা ভবনের নিচতলার ফ্ল্যাটে এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনাটি ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে যে, তিতাস গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে নির্গত গ্যাস ফ্ল্যাটের ভেতরে জমে ছিল, যা পরবর্তীতে কোনোভাবে আগুনের সংস্পর্শে এসে বিস্ফোরিত হয়। অবহেলা ও গ্যাস লিকেজের কারণে এমন মর্মান্তিক মৃত্যু এলাকায় শোকের ছায়া নামিয়ে এনেছে।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার অবসরে গেছেন। তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে ডিএমপির নতুন ভারপ্রাপ্ত কমিশনারের দায়িত্ব পেয়েছেন অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন নজরুল ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাতে বিদায়ী ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ারের কাছ থেকে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এস এন নজরুল ইসলাম। চাকরির মেয়াদ পূর্ণ হওয়ায় অবসরে যান মো. সরওয়ার।
ডিএমপি সূত্রে জানা গেছে, ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী দায়িত্ব ছাড়ার পর সরকার নতুন কোনো কমিশনার নিয়োগ দেয়নি। ফলে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে মো. সরওয়ার ভারপ্রাপ্ত কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
সূত্র আরও জানায়, বৃহস্পতিবার ছিল মো. সরওয়ারের চাকরিজীবনের শেষ কর্মদিবস। অবসরকালীন ছুটিতে যাওয়ায় নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এস এন নজরুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত কমিশনারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, নতুন সরকার গঠনের পর গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ‘ব্যক্তিগত ও পারিবারিক’ কারণ দেখিয়ে চাকরি থেকে ইস্তফা দেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। তিনি ২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর ডিএমপির ৩৮তম পুলিশ কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।
বগুড়া পৌরসভা এবং এর সংলগ্ন সম্প্রসারিত এলাকাগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করে দেশের ১৩তম সিটি করপোরেশন হিসেবে ‘বগুড়া সিটি করপোরেশন’ গঠনের চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। বৃহস্পতিবার রাতে স্থানীয় সরকার বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যা ইতোমধ্যে গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়েছে। ২১টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত এই নতুন সিটি করপোরেশনকে স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইনের প্রথম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে আইনি ভিত্তি দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটি (নিকার)-এর এক সভায় গত ৭ মে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে বগুড়া সিটি করপোরেশন গঠনের এই ঐতিহাসিক প্রস্তাবটি অনুমোদিত হয়। নবগঠিত এই সিটি করপোরেশনের সীমানা উত্তর দিকে নিশিন্দারা, রাজাপুর (অংশ) ও শাখারিয়া ইউনিয়ন; দক্ষিণে আশেকপুর, মাদলা ও মাঝিড়া ইউনিয়ন; পূর্ব দিকে সাবগ্রাম, রাজাপুর ও মাদলা ইউনিয়ন এবং পশ্চিম দিকে ফাঁপোড় ও এরুলিয়া ইউনিয়ন পর্যন্ত বিস্তৃত করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালার আলোকে জনমতামত যাচাইয়ের জন্য বগুড়া জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। জেলা প্রশাসক নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এবং স্থানীয়দের মতামতের ভিত্তিতে নতুন এই সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার স্বপক্ষে ইতিবাচক প্রতিবেদন দাখিল করেন। সরকার সেই প্রতিবেদনের সুপারিশগুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
বগুড়াবাসীর দীর্ঘদিনের এই স্বপ্ন পূরণের ফলে এলাকার নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং পরিকল্পিত নগরায়ণের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের এই ক্রান্তিকালে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা সুসংহত করতে এবং সরবরাহ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি যুগান্তকারী কৌশলগত সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থিত মার্কিন জ্বালানি দপ্তরে (ডিওই) এই সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট নিজ নিজ দেশের পক্ষে এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের ফলে যখন বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বিরাজ করছে, তখন এই চুক্তি বাংলাদেশের জন্য এক বিশেষ রক্ষাকবচ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই সমঝোতার ফলে বাংলাদেশ সাশ্রয়ী মূল্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি, এলপিজি এবং অন্যান্য জ্বালানি পণ্য আমদানির সুযোগ পাবে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্যকরণ এবং সরবরাহ শৃঙ্খলের স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার মাধ্যমে এই এমওইউ দেশের দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা বৃদ্ধিতে বিশেষ অবদান রাখবে।
চুক্তির অন্যতম লক্ষ্য হলো তেল, গ্যাস, ভূ-তাপীয় শক্তি এবং জৈব জ্বালানি খাতে দুই দেশের মধ্যে উন্নত প্রযুক্তি ও জ্ঞান বিনিময় করা। এর আওতায় সক্ষমতা বৃদ্ধি ও যৌথ গবেষণার নতুন নতুন পথ উন্মোচিত হবে। অনুষ্ঠানে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এই সমঝোতা স্মারককে “ক্রমবর্ধমান বাংলাদেশ-মার্কিন সম্পর্কের আরেকটি মাইলফলক” হিসেবে অভিহিত করেন। এই বিশেষ উদ্যোগ সফল করতে দিকনির্দেশনা ও সমর্থনের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান।
অন্যদিকে, মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট এই চুক্তিকে বাংলাদেশ-মার্কিন কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক “ঐতিহাসিক অগ্রগতি” বলে মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে ওয়াশিংটন ডিসিস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস উইং এবং মার্কিন জ্বালানি দপ্তরের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সমঝোতা বাংলাদেশের শিল্প ও বিদ্যুৎ খাতের টেকসই উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
ঢাকাসহ দেশের সব জায়গায় হাত বাড়ালেই মাদক। যেমন- মদ, গাঁজা, ইয়াবা, আইস, হিরোইনসহ নানা নেশাদ্রব্য পাওয়া যাচ্ছে হাত বাড়ালেই। এসব মাদকের কারবার ঘিরে দেশে গড়ে উঠেছে অপরাধী চক্র। হত্যা, খুন, ধর্ষণসহ নানা অপরাধের মূলে রয়েছে এসব মাদক। বিশেষ করে তরুণ ও কিশোররা মাদকের ছোবলে পড়ে নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে।
সারাদেশে মাদক কারবারের ফলে হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধ বেড়েই চলেছে। প্রতিদিন গড়ে দেশে ১০-১২টি হত্যাকাণ্ড ঘটছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। খুনের সংখ্যা প্রতিদিন দ্বিগুণ হারে বাড়ছে। এসব নৃশংস খুনের সঙ্গে মাদক জড়িত বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন। দেশে ব্যাপকহারে আসছে মাদক এবং একইভাবে বাড়ছে মাদকাসক্তের সংখ্যা। মাদকাসক্তদের মধ্যে কিশোর-তরুণদের সংখ্যা বেশি।
অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও চিকিৎসকদের মতে, ১৫ থেকে ৩০ বছর বয়সিদের সংখ্যাই সর্বাধিক। তারা ইয়াবা ও গাজায় আসক্ত। রাজধানীসহ দেশব্যাপী পাড়া-মহল্লায় ও গ্রামে গ্রামে কিশোর গ্যাং তৈরির মূলেও এই মাদক। নৃশংস হত্যাকাণ্ডসহ অপরাধ বৃদ্ধির পেছনে মাদকই অন্যতম কারণ।
রাজধানীর মোহাম্মদপুর, বছিলা ও রায়েরবাজার বধ্যভূমি এবং কবরস্থানের আশপাশে অর্ধশতাধিক কিশোর গ্যাং রয়েছে। রামদা, চাপাতি, ছুরি, নানা ধরনের অস্ত্র তাদের সঙ্গে থাকে। মোহাম্মদপুর, মিরপুর, উত্তরা, বাড্ডা, সবুজবাগ, যাত্রাবাড়ী, ডেমরা, লালবাগ, কামরাঙ্গীরচর, পুরান ঢাকাসহ রাজধানী জুড়ে প্রকাশ্যে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা অস্ত্র নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। চাপাতি দিয়ে প্রকাশ্যে কুপিয়ে লোকজনকে হত্যা করে রাস্তার পাশে ফেলে রাখে তারা। অনেক সময় দেহ থেকে হাত-পা বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। এমন নির্মম, নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা করে আসছে।
এছাড়া খুন, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও মাদক ব্যবসাসহ নানা অপরাধে জড়িত হচ্ছে কিশোর গ্যাং। ভাড়ায় খুন, দখলবাজি ও এলাকার চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণসহ সকল অপরাধ করে আসছে। রাজধানীসহ দেশব্যাপী একটি আতঙ্কের নাম কিশোর গ্যাং। এলাকার বড়ভাই, একশ্রেণির রাজনৈতিক নেতা, ভূমিদস্যুসহ প্রভাবশালী ব্যক্তিরা তাদের কর্তৃত্ব ধরে রাখতে এই সব কিশোর গ্যাংদের তাদের স্বার্থে ব্যবহার করে আসছে।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, মাদক হলো কিশোর গ্যাং, পেশাদার কিলারসহ নিষ্ঠুর অপরাধী হওয়ার অন্যতম কারণ। কিশোর বয়সে যাদের থাকার কথা স্কুলে-কলেজে, যাদের হাতে থাকার কথা বই, তাদের বৃহৎ অংশ এখন মাদক বেচাকেনা ও ব্যবসায় জড়িত। বর্তমানে দেশব্যাপী কিশোর গ্যাংয়ের পাড়া-মহল্লা ও এলাকাভিত্তিক তৎপরতা বেড়েই চলছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ইতোমধ্যে নির্দেশনা দিয়েছেন যে, দেশব্যাপী মাদক, অবৈধ অস্ত্র ও অপরাধীদের গ্রেপ্তার অভিযান শুরু করতে। পুলিশ, র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কিশোর গ্যাং সদস্যসহ সকল ধরনের অপরাধীদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের নির্দেশনায় রাজধানী ও ঢাকার বাইরে সকল মেট্রোপলিটন এবং সকল জেলার থানা এলাকায় অভিযান শুরু হয়েছে। কিন্তু সে অনুযায়ী দৃশ্যমান ফলাফল ততটা দেখা যাচ্ছে না। তবে রাজধানীর মোহাম্মদপুর (তেজগাঁও) বিভাগসহ কিছু এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই অর্ধশতাধিক কিশোর, তরুণ গ্রেপ্তার, মাদক ও অস্ত্র উদ্ধার হচ্ছে। তবে কিশোর গ্যাং, মাদক ব্যবসা, নীরব চাঁদাবাজি, দখলবাজিসহ অন্যান্য অপরাধ কমেনি। একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, কিশোর গ্যাংকে মাদক ব্যবসা, মার্কেটসহ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মিল-কারখানার চাঁদাবাজির নিয়ন্ত্রণ ও জমি দখলে একশ্রেণির ‘বড়ভাই’ ব্যবহার করে আসছে। কিশোর গ্যাং সদস্যসহ অপরাধীদের অনেকে ধরা পড়লেও ‘বড় ভাইদের’ সহযোগিতায় তারা সহজে বের হয়ে আসে এবং পুনরায় পূর্ণ উদ্যমে চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, খুন-খারাবি শুরু করে দেয়।
পুলিশ বাহিনীর কোনো সদস্য মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির। পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে আইজিজ ব্যাজ, শিল্ড প্যারেড, অস্ত্র-মাদক উদ্ধারের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন।
আলী হোসেন ফকির বলেছেন, মাদক আমাদের যুব সমাজ ও জাতির ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আমাদের পুলিশ সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দক্ষতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। তবে পুলিশ বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে যদি কোনো মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় তাহলে তাকে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. সরওয়ার বলেন, নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে আমরা আশাতিরিক্ত ফল পেয়েছি। মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, গোয়েন্দা পুলিশ নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। এতে মাদক কারবারিদের অনেকেই আইনের আওতায় এসেছে।
র্যাবের মহাপরিচালক অতিরিক্ত আইজিপি আহসান হাবীব পলাশ বলেছেন, রাজধানীসহ দেশব্যাপী র্যাবের অভিযান চলমান। অনেক অপরাধী গ্রেপ্তার হয়েছে, চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটিত হচ্ছে, খুনিরাও গ্রেপ্তার হচ্ছে। অপরাধে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে তিনি জানান।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিপ্তরের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, সীমান্ত দিয়ে ইয়াবাসহ মাদকের চালান আসা বন্ধ করতে হবে। এই বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত মাদক নিয়ন্ত্রণে আসবে না, মাদকাসক্তও কমবে না এবং কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতাও বন্ধ হবে না।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. হাসান মারুফ বলেন, সীমান্ত দিয়ে ইয়াবাসহ সকল ধরনের মাদক প্রবেশ বন্ধ করতে না পারলে, শুধু মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পক্ষে সীমিত জনবল দিয়ে তা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। সব রাজনৈতিক দল, সমাজ ও অভিভাবকদের মাদক প্রতিরোধে এগিয়ে আসতে হবে। সিংগাপুর, দক্ষিণ কোরিয়া ও থাইল্যান্ডসহ অনেক দেশে ইয়াবাসহ মাদক বিক্রি ও ব্যবহারকারীর বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর সব আইন রয়েছে। এ আইন প্রয়োগের কারণে দ্রুত সময়ের মধ্যে ওই সব দেশে মাদক নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।
পুলিশের সাবেক আইজিপি মো. নূরুল হুদা বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে রাজধানী থেকে শুরু করে মাঠ পর্যন্ত কঠোর আইন প্রয়োগ করা ছাড়া এটি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে না। পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে সব ধরনের মাদক যেন প্রবেশ করতে না পারে সে বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল বলেন, তার চেম্বারে আসা রোগীদের মধ্যে মাদকাসক্ত কিশোর ও তরুণদের সংখ্যা সর্বাধিক। তারা ফ্রি মাদক পায় এবং সেবন করে। চিকিৎসায় এই আসক্তদের মধ্যে ৯০ শতাংশেরই ভালো হওয়ার সম্ভাবনা কম। নিয়মিত ইয়াবা খেয়ে এই তরুণরা চরম নিষ্ঠুর হয়ে যাচ্ছে। তাদের মধ্যে কোন আবেগ কাজ করে না। তারা আচরণ রূঢ় হয়ে যায়। তাদের পক্ষে খুনসহ সব ধরনের অপরাধই করা সম্ভব।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ কল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, সমাজে মাদকের যত বেশি সহজলভ্যতা থাকবে, মাদকাসক্ত ব্যক্তির সংখ্যাও তত বাড়বে। সেই সঙ্গে বাড়বে অপরাধ প্রবণতা।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, ‘তথ্যের স্বচ্ছতা না থাকলে অযথা সন্দেহ তৈরি হয়। তাই মন্ত্রণালয়ের সব কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।’ সরকার ও রাষ্ট্রকে এক করে দেখার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে জনগণের কল্যাণে জবাবদিহিমূলক, দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসনিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে নিজ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেছেন।
কর্মকর্তাদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে সরকারের জনকল্যাণমূলক প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সবাইকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে। সংবিধান, আইন ও বিধিবিধানের বাইরে গিয়ে কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে না। আমাদের একটি সংবিধান আছে, যা সব আইন ও বিধির মূল ভিত্তি। রাষ্ট্র পরিচালনার প্রতিটি স্তরে সেই আইনের শাসন নিশ্চিত করতে হবে।’
মতবিনিময় সভায় মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দক্ষতা ও সক্ষমতাকে সমন্বিতভাবে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিচ্ছিন্নভাবে থাকা সক্ষমতাকে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যে কেন্দ্রীভূত করতে পারলে প্রশাসনের কার্যকারিতা বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে।
মন্ত্রী কর্মকর্তাদের মুক্তভাবে মতামত ও পরামর্শ দেওয়ার আহ্বান জানান এবং প্রচলিত আমলাতান্ত্রিক দূরত্ব কমিয়ে অংশগ্রহণমূলক কর্মপরিবেশ তৈরির ওপর জোর দেন। সভায় তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানাসহ মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর ও শাখার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
দেশে বর্তমানে ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন ভোটার। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন কমিশনের এনআইডি অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন) মো. সাইফুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।
চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হয় উল্লেখ করে সাইফুল ইসলাম জানান, এখন দেশের ভোটার ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন। এরমধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার ৭৩১ জন; নারী ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ২৬৬ জন এবং হিজড়া ১ হাজার ২৪৩ জন।
১২ ফেব্রুয়ারিতে ভোটার ছিল ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন। দেড় মাসের মধ্যে ৬ লাখ ২৮ হাজার ভোটার বাড়ল।
সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে হালনাগাদে নভেম্বর পর্যন্ত যারা ভোটারযোগ্য ছিল তাদেরও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ভোটের পরে চলমান হালনাগাদ অব্যাহত থাকে।
৩১ মার্চ পর্যন্ত যারা নিবন্ধন করেছেন, তাদের নিয়ে চূড়ান্ত তালিকা ১৪ মে প্রকাশের ঘোষণা দেয় নির্বাচন কমিশন। এক্ষেত্রে ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বরের পরে যারা ভোটার হওয়ার আবেদন করেছেন এবং যাদের জন্ম ২০০৮ সালের ১ জানুয়ারি বা তার আগে, তারাই তালিকায় যুক্ত হন।
ইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, খসড়া তালিকা প্রকাশ করা হয় ২০ এপ্রিল। ভুল সংশোধন বা স্থানান্তরের আবেদন চলে ৩ মে পর্যন্ত। আবেদন নিষ্পত্তির সময় শেষ হয় ৬ মে।
ওমানে একটি গাড়ির ভেতর থেকে প্রবাসী বাংলাদেশি চার ভাইয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ খবরে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার লালানগর ইউনিয়নের বান্দারাজার পাড়ায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গত বুধবার (১৩ মে) ওমানের মুলাদ্দা নামক এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ধারণা করা হচ্ছে, গাড়ির এসির বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হয়ে তাদের মৃত্যু হয়েছে।
ওমানে বাংলাদেশ দূতাবাস তাদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। নিহতরা হলেন মো. রাশেদ, মো. শাহেদ, মো. সিরাজ ও মো. শহিদ। তারা আবদুল মজিদের ছেলে এবং চারজনই ওমানে কর্মরত ছিলেন। পরিবারের সূত্রে জানা যায়, আগামী ১৫ মে তাদের দেশে ফেরার কথা ছিল।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পরিবারের এক ভাইয়ের বিয়ের আয়োজন উপলক্ষে তাদের মধ্যে দুই ভাইয়ের শিগগিরই দেশে ফেরার কথা ছিল। বিয়ের কেনাকাটার উদ্দেশে চার ভাই একসঙ্গে বের হওয়ার পর ওমানের মুলাদ্দা এলাকায় একটি গাড়ির ভেতরে তাদের অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়।
ওমান পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, দীর্ঘ সময় গাড়ি চালু অবস্থায় থাকায় এসি থেকে নির্গত বিষাক্ত গ্যাসের কারণে তাদের মৃত্যু হতে পারে। তবে এটি দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণ, তা নিশ্চিত হতে ময়নাতদন্ত ও মেডিকেল রিপোর্টের অপেক্ষায় রয়েছে পুলিশ।
রাজধানীর স্কুলপড়ুয়া শিশুদের বড় অংশ দিনে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ডিজিটাল স্ক্রিনে কাটাচ্ছে বলে উঠে এসেছে এক গবেষণায়। শিশুদের অতিরিক্ত স্ক্রিন সময়ের জন্য তাদের মধ্যে ঘুমের ঘাটতি, মাথাব্যথা, চোখের সমস্যা, অতিরিক্ত ওজন ও মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকির সম্পর্ক পেয়েছেন আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) গবেষকরা।
২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ঢাকার ছয়টি স্কুলের ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সী ৪২০ শিশুর ওপর চালানো এই গবেষণার ফলাফল বৃহস্পতিবার (১৪ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে আইসিডিডিআর,বি।
সেখানে বলা হয়, তিনটি বাংলা মাধ্যম ও তিনটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের শিশুদের ওপর এই গবেষণা চালানো হয়েছিল। গবেষণার ফল সম্প্রতি জার্নাল অব মেডিকেল ইন্টারনেট রিসার্চ, জেএমআইআর হিউম্যান ফ্যাক্টরসে প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকার প্রতি পাঁচ শিশুর মধ্যে চারজন, অর্থাৎ ৮৩ শতাংশ দিনে দুই ঘণ্টার বেশি সময় স্ক্রিন ব্যবহার করে। শিশুদের বিনোদনমূলক স্ক্রিন ব্যবহারের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমা দিনে প্রায় দুই ঘণ্টা। অথচ ঢাকায় শিশুরা স্মার্টফোন, টেলিভিশন, ট্যাবলেট, কম্পিউটার ও গেমিং ডিভাইসে দিনে গড়ে প্রায় ৪ দশমিক ৬ ঘণ্টা সময় কাটাচ্ছে।
গবেষকরা শিশুদের সাক্ষাৎকার, শারীরিক পরীক্ষা, ঘুম, আচরণ ও মানসিক স্বাস্থ্য যাচাইয়ে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত প্রশ্নপত্র ব্যবহার করেছেন। এর মধ্যে ছিল ‘পিটসবার্গ স্লিপ কোয়ালিটি ইনডেক্স’, ‘স্ট্রেংদস অ্যান্ড ডিফিকাল্টিস কোয়েশ্চেনেয়ার’ এবং ‘ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড ওয়েল-বিয়িং অ্যাসেসমেন্ট’।
গবেষণায় দেখা যায়, বেশিক্ষণ স্ক্রিনে থাকা এক তৃতীয়াংশের বেশি শিশু চোখের সমস্যায় ভুগছে। ৮০ শতাংশ শিশু প্রায়ই মাথাব্যথার কথা বলেছে।
যারা দিনে দুই ঘণ্টার বেশি স্ক্রিন থাকে, তারা গড়ে মাত্র ৭ দশমিক ৩ ঘণ্টা ঘুমায়। অথচ ৬ থেকে ১৪ বছর বয়সি শিশুদের সুস্থ বিকাশে দৈনিক ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন।
গবেষণায় বলা হয়, ঢাকার প্রায় ১৪ শতাংশ শিশুর অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা পাওয়া গেছে, এ হার সবচেয়ে বেশি স্ক্রিনে বেশিক্ষণ সময় কাটানোদের মধ্যে।
একইভাবে প্রতি পাঁচ শিশুর মধ্যে প্রায় দুইজন দুশ্চিন্তা, অতি চঞ্চলতা বা আচরণগত সমস্যার মতো এক বা একাধিক মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছে বলেও গবেষণায় উঠে এসেছে।
গবেষকরা বলছেন, রাতে স্ক্রিনে সময় কাটানো মস্তিষ্ককে উত্তেজিত করে ঘুমের স্বাভাবিক চক্র ব্যাহত করতে পারে। দীর্ঘক্ষণ বসে থাকায় খেলাধুলা ও শারীরিক পরিশ্রম কমে স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ে। অতিরিক্ত স্ক্রিন সময় চোখের ওপর চাপ, মাথাব্যথা ও মনোযোগ কমে যাওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হয়।
গবেষণার প্রধান গবেষক ও আইসিডিডিআর,বির অ্যাসিস্ট্যান্ট সায়েন্টিস্ট শাহরিয়া হাফিজ বলেন, ‘বাবা-মায়ের উচিত শিশুদের দেরিতে ঘুমানো, বারবার মাথাব্যথা বা চোখের অস্বস্তি, অস্বাভাবিক খিটখিটে মেজাজ বা নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া, বাইরে খেলাধুলার প্রতি অনীহা অথবা মনোযোগ কমে যাওয়ার মত লক্ষণগুলোকে উপেক্ষা না করা। কারণ এগুলো অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারের লক্ষণ হতে পারে; যা তাদের সন্তানদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে।’
শিশুদের চোখের যত্নে গবেষকরা ‘২০-২০-২০’ নিয়ম মানার পরামর্শ দিয়েছেন। অর্থাৎ প্রতি ২০ মিনিট স্ক্রিন ব্যবহারের পর ২০ ফুট দূরের কোনো কিছুর দিকে অন্তত ২০ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকতে হবে।
গবেষকরা বলছেন, প্রযুক্তি ব্যবহার বন্ধ করা কোনো সমাধান নয়, বরং বাড়ি ও স্কুলে শিশুদের স্বাস্থ্যকর ও ভারসাম্যপূর্ণ ডিজিটাল অভ্যাস গড়ে তোলার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে। এ জন্য শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের জন্য সহজ নির্দেশিকা ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালুর পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
আইসিডিডিআরবির নির্বাহী পরিচালক তাহমিদ আহমেদ বলেন, ডিজিটাল ডিভাইস এখন জীবনের অংশ হলেও শিশুদের সুস্থতার জন্য সীমা নির্ধারণ করা প্রয়োজন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ অনুযায়ী স্কুলগামী শিশুদের বিনোদনমূলক স্ক্রিন টাইম দিনে ২ ঘণ্টার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা উচিত।
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, বাবা-মায়েদের উচিত সন্তানদের শারীরিক ও মানসিকভাবে বেড়ে উঠতে সাহায্য করার জন্য বাইরের খেলাধুলা, শারীরিক পরিশ্রম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং ডিজিটাল ডিভাইসমুক্ত পারিবারিক সময় কাটাতে উৎসাহিত করা। শিশুদের বিতর্ক, দলবদ্ধভাবে পড়াশোনা, লাইব্রেরিতে যাওয়া এবং গাছের যত্ন নেওয়ার মত ভালো ও সৃজনশীল কাজে অংশ নিতে উৎসাহিত করা প্রয়োজন।
বাংলাদেশ থেকে অবৈধভাবে সমুদ্রপথে ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে ঝুঁকিপূর্ণ অভিবাসনের প্রবণতা বন্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক। তিনি বলেছেন, সাগরপথে বিদেশ যাওয়ার এই প্রবণতা ভয়াবহ এবং এটি বন্ধ করতেই হবে। যারা তরুণদের অনিয়মিত অভিবাসনের নামে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) রাজধানীর একটি হোটেলে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের আয়োজিত ‘ফ্রম রিটার্ন টু রাইজ: স্টোরিজ অব রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড রিইন্টিগ্রেশন’ শীর্ষক জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেছেন।
অনুষ্ঠানে ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এবং ব্র্যাকের সহ-অর্থায়ন ও বাস্তবায়নে পরিচালিত ‘ইমপ্রুভড সাসটেইনেবল রিইন্টিগ্রেশন অব বাংলাদেশি রিটার্নিং মাইগ্র্যান্টস (প্রত্যাশা-২)’ প্রকল্পের অর্জন ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়। বিদেশফেরত অভিবাসীরাও তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বিদেশফেরত মানুষদের পুনর্বাসন ও পুনরেকত্রীকরণে টেকসই উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ও রেইজ প্রকল্পের মাধ্যমে বিদেশফেরত কর্মীদের সহায়তা দিচ্ছে। তিনি বলেন, ‘এই প্রবাসীদের ঘামের টাকায় দেশের অর্থনীতি শক্তিশালী হচ্ছে। তাই তাদের পাশে দাঁড়ানো রাষ্ট্রের দায়িত্ব’।
নুরুল হক বলেন, অনিয়মিত অভিবাসন রোধে রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। যারা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর নীতিগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে বায়রার সদস্যপদ দিতে শুধু সংখ্যার দিকে না তাকিয়ে মানভিত্তিক গ্রেডিং ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, নিরাপদ অভিবাসন ও বিদেশ ফেরত কর্মীদের কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার ও বেসরকারি সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। সমস্যাগুলো বহুমাত্রিক হওয়ায় যৌথ উদ্যোগ ছাড়া কার্যকর সমাধান সম্ভব নয়।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের সহযোগী পরিচালক শরিফুল ইসলাম হাসান। অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. নাজনীন কাওসার চৌধুরী, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোখতার আহমেদ এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাউন্সেলর ইউরাতে স্মালস্কাইটে মেরভিল।
বক্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ কর্মী তৈরি, বৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করা এবং বিদেশফেরত কর্মীদের জন্য মনোসামাজিক ও জীবিকা সহায়তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। তারা সতর্ক করে বলেন, বৈধ ও নিরাপদ অভিবাসনের সুযোগ বাড়ানো না গেলে অনিয়মিত অভিবাসনের ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সাইফুল হক চৌধুরী, ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের মহাপরিচালক মো. আসাদুজ্জামান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিচালক লোকমান হোসেনসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিরা।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য আগামী ২৫ মে থেকে ৩১ মে পর্যন্ত টানা সাত দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। বৃহস্পতিবার (১৪ মে) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়, এই দীর্ঘ ছুটির মাঝেও জনস্বার্থে জরুরি সেবার সাথে সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠান ও দপ্তরগুলো যথারীতি খোলা থাকবে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, ফায়ার সার্ভিস, বন্দর কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা সেবা, টেলিফোন, ইন্টারনেট এবং ডাক সেবায় নিয়োজিত কর্মী ও যানবাহন এই ছুটির আওতামুক্ত থাকবে।
একইভাবে চিকিৎসা সেবার গুরুত্ব বিবেচনা করে হাসপাতাল ও সংশ্লিষ্ট জরুরি পরিষেবাগুলো ছুটির সময় চালু রাখা হবে। এর ফলে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী এবং ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম বহনকারী যানবাহনগুলো নিয়মিত চলাচল করতে পারবে।
এছাড়া ব্যাংকিং কার্যক্রম এবং আদালতের কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সুপ্রিম কোর্ট থেকে পৃথক নির্দেশনা প্রদান করা হবে।
বেসরকারি খাতের শিল্প-কারখানা বা প্রতিষ্ঠানের ছুটির বিষয়ে বাংলাদেশ শ্রম আইন অনুযায়ী শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
মূলত সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখতে এবং জরুরি প্রয়োজন মেটাতেই এই বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।