বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
১৮ ভাদ্র ১৪৩৩

দেশের উদ্দেশে মিউনিখ ত্যাগ প্রধানমন্ত্রীর

ফাইল ছবি
আপডেটেড
১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১১:২৬
বাসস
প্রকাশিত
বাসস
প্রকাশিত : ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ১১:০০

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন-২০২৪-এ যোগ দিতে তার তিন দিনের সরকারি সফর শেষ করে আজ রাতে দেশের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি নিয়মিত ফ্লাইট রাত ৯টা ৮ মিনিটে (স্থানীয় সময়) জার্মানির মিউনিখ ফ্রাঞ্জ জোসেফ স্ট্রস বিমানবন্দর ত্যাগ করে।

জার্মানিতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানান।

প্রধানমন্ত্রী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ শেষে দায়িত্ব গ্রহণের পর তার প্রথম সরকারি সফরে ১৫ ফেব্রুয়ারি মিউনিখে যান।

মিউনিখে অবস্থানকালে শেখ হাসিনা মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন এবং এর পাশাপাশি বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

প্রধানমন্ত্রী জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শোলৎস, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি, নেদারল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুটে, আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভ, কাতারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল-থানি এবং ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন।

জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শোলৎস, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির জেলেনস্কি এবং আজারবাইজানের প্রেসিডেন্ট ইলহাম আলিয়েভের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনায় শেখ হাসিনা যুদ্ধ, বিশেষ করে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ এবং গাজায় হামলা বন্ধের আহ্বান জানান।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর এবং যুক্তরাজ্যের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী এবং বর্তমান পররাষ্ট্র, কমনওয়েলথ ও উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী লর্ড ক্যামেরন এবং জার্মান ফেডারেল অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন মন্ত্রী সভেনজা শুলজেও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন।

ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী দেশগুলোর মধ্যে ব্যবসা করার জন্য বাংলাদেশ ও ভারতীয় মুদ্রা টাকা ও রুপি ব্যবহারের ওপর জোর দেন।

উইমেন পলিটিক্যাল লিডার (ডব্লিউপিএল) এর প্রেসিডেন্ট সিলভানা কোচ-মেহরিন, সিনিয়র ম্যানেজিং ডিরেক্টর, ডেভেলপমেন্ট পলিসি অ্যান্ড পার্টনারশিপ অ্যাক্সেল ভ্যান টর্টসেনবার্গ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) মহাপরিচালক পেড্রোস আধানম গেব্রিয়াসিস, মেটার গ্লোবাল অ্যাফেয়ার্সের প্রেসিডেন্ট এবং যুক্তরাজ্যের সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী ড. স্যার নিক ক্লেগও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাদাভাবে সাক্ষাৎ করেন।

শেখ হাসিনা মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সে ‘ফ্রম পকেট টু প্ল্যানেট: স্কেলিং আপ ক্লাইমেট ফাইন্যান্স’ শীর্ষক একটি প্যানেল আলোচনায় বক্তৃতা ও ছয়টি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলির জন্য জলবায়ু অর্থায়ন ছাড় করতে এবং অস্ত্র প্রতিযোগিতা বন্ধ করে সে অর্থ জলবায়ু তহবিলে জমা দিতে বিশ্ব নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানান।

তিনি মিউনিখের বার্গারহাউস গার্চিং হোটেলে জার্মানি ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেওয়া সংবর্ধনায়ও যোগ দেন।


নির্বাচিত

হঠাৎ অসুস্থ হয়ে সিসিইউতে ভর্তি জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় রাজধানীর ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে তাঁকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে সিসিইউতে নেওয়া হয় বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে। তবে তাঁর বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে এখনো বিস্তারিত কোনো তথ্য সরবরাহ করেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

মন্ত্রণালয় ও হাসপাতাল সূত্র থেকে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরেই তিনি ভাইরাল ফ্লু, জ্বর এবং কাশিতে ভুগছিলেন। অসুস্থতার কারণে সোমবার ও মঙ্গলবার তিনি দাপ্তরিক কাজ থেকেও বিরত ছিলেন। মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাঁকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। হাসপাতালের একজন কর্মকর্তা জানান যে, মন্ত্রীর শারীরিক সমস্যা ও বর্তমান স্থিতিশীলতা সম্পর্কে পরবর্তী সময়ে চিকিৎসকরা বিস্তারিত জানাবেন।

উল্লেখ্য, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মন্ত্রিসভায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন ইকবাল হাসান মাহমুদ। বর্তমানে তিনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।


নির্বাচিত

বাংলাদেশে ‘গুম-নিপীড়ন’ নিয়ে আইপিইউতে প্রতিবেদন দেবেন মহাসচিব

ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক 

বাংলাদেশে গত আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলে ‘গুম, হত্যাকাণ্ড ও রাজনৈতিক নিপীড়নের’ অভিযোগ নিয়ে ইন্টার পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) গভর্নিং বডির কাছে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেওয়ার কথা বলেছেন সংস্থার মহাসচিব অ্যান্ডা ফিলিপ। জাতীয় সংসদ ভবনে মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) ‘রাজনৈতিকভাবে নিপীড়নের শিকার’ কয়েকজন সংসদ সদস্যের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।

সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অ্যান্ডা ফিলিপ বাংলাদেশে ‘হত্যা, গুম ও বিরোধী মতের মানুষের ওপর নিপীড়নের’ ঘটনাকে অমানবিক ও জঘন্য বলে মন্তব্য করেন। তিনি তার দেশ রোমানিয়ায় নিকোলাই চাউসেস্কুর শাসনামলের দমননীতির সঙ্গে বাংলাদেশের তৎকালীন সরকারপ্রধানের শাসনামলের মিল থাকার কথাও বলেন। সফর শেষে আইপিইউর গভর্নিং বডির কাছে বাংলাদেশে ‘স্বৈরাচারী শাসনামলের গুম, হত্যাকাণ্ড ও নিপীড়ন’ নিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেওয়ার কথা জানান তিনি।

সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ও চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনিও বৈঠকে ছিলেন।

স্পিকার বৈঠকে বলেন, ‘শেখ হাসিনার মাফিয়া শাসনামলে বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে গুম ও ভীতির সংস্কৃতি গড়ে তোলা হয়। বিরোধী রাজনৈতিক মতাদর্শের লোকদের নিপীড়ন, নির্যাতন, গুম ও হত্যার মাধ্যমে দেশের মানুষের বাক স্বাধীনতাকে হরণ করা হয়।

‘শেখ হাসিনার টানা ১৫ বছরের শাসনামলে বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও ভিন্ন মতাবলম্বীদের দমনে গুম, বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ড, আয়নাঘর নামে পরিচিত গোপন বন্দিশালা এবং ডিজিটাল ও সাইবার নিরাপত্তা আইনের অপপ্রয়োগ করা হয়েছিল।’

বৈঠকে সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলি তার ভাই বিএনপি নেতা সাজেদুল ইসলাম সুমনের ‘গুম’ হওয়ার ঘটনা তুলে ধরেন।

এ সময় ‘নিপীড়ন থেকে বিপ্লব: রাষ্ট্রের পদ্ধতিগত মানবাধিকার লঙ্ঘন উন্মোচন’ শিরোনামের একটি ডকুমেন্টেশনও উপস্থাপন করা হয়।

বৈঠকে ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান তার ‘গুম হওয়া’ এবং ‘আয়নাঘরে বন্দি জীবনের’ অভিজ্ঞতার কথা বলেন।

চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী অভিযোগ করেন, তাকে সাত মাস সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার একটি গোপন বন্দিশালায় আটকে রাখা হয়েছিল। সেখানে নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিজ্ঞতা তিনি বৈঠকে তুলে ধরেন।

সিলেট-২ আসনের সংসদ সদস্য তাহসিনা রুশদীর লুনা তার স্বামী বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর গুম হওয়ার প্রসঙ্গ তোলেন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করতে ইলিয়াস আলীকে ‘গুম করে’ বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এসব গুম ও বিচারবর্হিভূত হত্যাকাণ্ডের বিচার করার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেন লুনা।

বৈঠকে উপস্থিত অন্য সংসদ সদস্যরাও বিগত সরকারের সময়ে রাজনৈতিক নিপীড়ন, গুম ও ভয়ভীতির অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে।

বৈঠকে সংসদ সদস্য নওশাদ জমির, জহরত আদিব চৌধুরী, তাহসিনা রুশদীর, মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, আনিসুর রহমান, সানজিদা ইসলাম ও মাধবী মারমা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

অতীত ভোলা যায় না, অতীতে আটকে থাকাও যায় না: দীনেশ ত্রিবেদী

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

অতীত নিয়ে আটকে থাকলে উন্নয়নকাজ হবে না বলেছেন বাংলাদেশের নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেছেন, অতীত ভোলা যায় না। তবে অতীতে আটকে থাকাও যায় না।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খানের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের দীনেশ ত্রিবেদী এ কথা বলেন।

এক প্রশ্নের জবাবে ভারতের হাইকমিশনার বলেন, অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে তিনি কথা বলতে চান না। এ বিষয়ে কথা বলা উচিত নয়। বাংলাদেশের মানুষ যা ভালো বুঝবে, তা–ই হবে। দুই–তৃতীয়াংশ আসনে জয়ী দল ক্ষমতায়, দেশের অবস্থা তারা ভালো বুঝবে।

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, দ্বিপক্ষীয় এই বৈঠকে স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভারতের হাইকমিশনার তাদের দেশের স্থানীয় নির্বাচনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। স্থানীয় নির্বাচন নিয়ে তার অভিজ্ঞতা রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, চলতি অর্থবছরে বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে। এবার নির্বাচন বেশ চ্যালেঞ্জ হবে। কারণ, সরকারকে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে হবে।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, তাদের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে দুই দেশের জনগণের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক। এটা সব সময় থাকবে। তিনি না থাকলে আরেকজন আসবেন। সিদ্ধান্ত একই থাকবে।

ভারতের হাইকমিশনার বলেন, ‘আমরা যা সিদ্ধান্ত নিই, তার প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর। তাই সাধারণ মানুষের জন্য যা ভালো হয়, আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে তা করা।’

দীনেশ ত্রিবেদী আরও বলেন, ‘প্রতিবেশী হিসেবে আমাদের দায়িত্ব বেড়ে যায়। আমরা সবাই সমান। কেউ বড়, কেউ ছোট নয়।’ স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর সঙ্গে ৩০ মিনিটের বৈঠকে নিজে অনেক কিছু শিখতে পেরেছেন।

বৈঠকে এক প্রশ্নের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, চ্যালেঞ্জ থাকবে। চ্যালেঞ্জ মাথায় রেখে এগিয়ে যেতে হবে। দ্বিপক্ষীয় এ বৈঠকে অবাধ বাণিজ্য নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান তিনি।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী কোনো কথা বলেননি। এ সময় তিনি দুই দেশ মিলেমিশে কাজ করার কথা বলেন।


নির্বাচিত

সরকারি চাকরিজীবীদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশের শর্তে বেতন বাড়ানোর দাবি টিআইবির

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন জাতীয় বেতনকাঠামো (পে-স্কেল) মন্ত্রিসভায় অনুমোদনকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে টিআইবি। তবে এই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের পূর্বশর্ত হিসেবে সরকারি চাকরিজীবী ও পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যদের আয়-ব্যয়ের হিসাব ও সম্পদবিবরণী প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করতে আবারও আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে এই আহ্বান জানায় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।

এতে বলা হয়- বাজেটে নতুন বেতনকাঠামো ঘোষণার পর বাস্তবায়নের পূর্বশর্ত হিসেবে সরকারি কর্মজীবীদের সম্পদবিবরণী প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিতে এর আগে টিআইবি আহ্বান জানিয়েছিল। সরকারের উচ্চপর্যায়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে ফলো-আপ করেছিল।

ওই দাবি পুনর্ব্যক্ত করে বিবৃতিতে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, আর্থিক সক্ষমতার কঠিন সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও তিনটি ধাপে সরকারি কর্মজীবীদের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা খুবই যৌক্তিক। জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সরকারি কর্মজীবীদের বেতন-ভাতা সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে, তাদের কাছ থেকে সর্বোচ্চ পেশাগত উৎকর্ষ ও দুর্নীতিমুক্ত সেবা প্রত্যাশা করা অসম্ভব। পে-স্কেল অনুমোদন, সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার, সর্বোচ্চ ১ লাখ ৫৬ হাজার।

তিনি বলেন, জনগণের করের টাকায় তাদের এই বেতন-ভাতা বৃদ্ধির কাঙ্ক্ষিত সুফল পেতে হলে, সব পর্যায়ের সরকারি কর্মজীবী ও তাদের পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যদের আয় ও সম্পদের হিসাব বাৎসরিক ভিত্তিতে হালনাগাদ করাসহ প্রকাশের বাধ্যবাধকতা বাস্তবায়ন করতে হবে। অর্থাৎ যেসব কর্মজীবী তাদের আয়-ব্যয় ও সম্পদবিবরণী প্রতি বছর হালনাগাদ করাসহ প্রকাশ করবেন, কেবল তাদের জন্যই নতুন বেতন-ভাতা বৃদ্ধি প্রযোজ্য হওয়া উচিত। যারা প্রকাশ করবেন না, তাদের জন্য নতুন পে-স্কেল প্রযোজ্য হওয়া অনুচিত।

এই শর্ত বাস্তবায়িত হলে সরকারি খাতে দুর্নীতি ও হয়রানিমুক্ত সেবার পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা সহজ হবে বলে মনে করেন ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি আরও বলেন, মনে রাখতে হবে, অনেক সরকারি কর্মজীবী আছেন যারা অনিয়ম ও দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থেকে পেশাগত দায়িত্ব পালন ও সৎভাবে জীবন যাপন করেন। তাদের জন্য এই নতুন বেতনস্কেল সম্পূর্ণ ন্যায়সংগত ও অপরিহার্য। অন্যদিকে, যারা অসৎভাবে অনিয়ম ও দুর্নীতিসহ ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে অবৈধ অর্থ-সম্পদ অর্জনে লিপ্ত, তাদের জন্য এই সুবিধা যেমন অযৌক্তিক, তেমনই সম্পূর্ণ নিষ্প্রয়োজন। তাদের অর্থসম্পদের আকাঙ্ক্ষা এতটাই গগনচুম্বী যে, কার্যকর জবাবদিহির উপায় নিশ্চিত না করে ঢালাওভাবে নতুন বেতনস্কেল প্রয়োগ করা হলে, সরকারি খাতে দুর্নীতির মাত্রা আরও বাড়বে।

যার দৃষ্টান্ত এর আগে স্থাপিত হয়েছে। নতুন বেতনকাঠামো সরকারি কর্মজীবীদের আর্থিক নিরাপত্তা ও কর্মোদ্দীপনা বাড়ানোর পাশাপাশি, দক্ষ, গতিশীল ও জনবান্ধব জনপ্রশাসন গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সরকার যে আশাবাদ ব্যক্ত করেছে, তা উল্লেখ করে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, এর আগে সর্বশেষ ২০১৫ সালে বাস্তবায়িত অষ্টম পে- স্কেলের ক্ষেত্রে অনেকের মধ্যে একই আশাবাদ ছিল, কিন্তু বাস্তবতা হয়েছে সম্পূর্ণ বিপরীত। বেতন-ভাতা বৃদ্ধির বিপরীতে সরকারি প্রতিষ্ঠানে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষের ব্যাপকতা ও গভীরতা বেড়েছে অধিক হারে। এবার অন্তত তার ব্যতিক্রম হবে- এই বিশ্বাস করতে চাই। এক্ষেত্রে সরকারি খাতে দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে বৈশ্বিক চর্চায় পরীক্ষিত পদ্ধতি হিসেবে সম্পদবিবরণী প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করা না হলে, সরকারি খাতে দুর্নীতির দুষ্টচক্র থেকে জনগণের পরিত্রাণের উপায় নেই। অথচ দুর্নীতির ভুক্তভোগী জনগণের অর্থেই সরকারি কর্মজীবীদের বেতন-ভাতাসহ সব ব্যয় বহন করা হয়।

সর্বোপরি, সরকারি কর্মজীবীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধির ফলে নিত্যপণ্যের দাম বৃদ্ধিসহ মূল্যস্ফীতি ঘটার আশঙ্কাও করেছে টিআইবি। সংস্থাটি বলছে, এরই মধ্যে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে দিশেহারা স্বল্পআয়ের কর্মজীবী নারী-পুরুষসহ সাধারণ জনগণের দুর্দশা আরও বাড়ার কারণ হিসেবে আবির্ভূত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এক্ষেত্রে করণীয় নির্ধারণসহ বেতন-ভাতা বাস্তবায়নের উল্লিখিত শর্ত বাস্তবায়নে সরকারের দূরদর্শিতা প্রত্যাশা করছে টিআইবি।


নির্বাচিত

এনটিআরসিএর মাধ্যমেই হবে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ, পরীক্ষা পদ্ধতিতে পরিবর্তন

ফাইল ছবি
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশের দায়িত্ব বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) কাছেই রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় প্রিলিমিনারি ও মৌখিকের মাঝখানে লিখিত পরীক্ষা যুক্ত করে তিন ধাপের পরীক্ষা পদ্ধতি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগে অনুষ্ঠিত এক সভায় এসব বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। সভায় এনটিআরসিএর শিক্ষক নিয়োগের সংশোধিত অনুসরণীয় পদ্ধতি এবং পরীক্ষার সিলেবাস নিয়ে আলোচনা করা হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক। এতে এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান আলিফ রুদাবা, মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব হেলালুজ্জামান সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নতুন কাঠামোয় শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা হবে তিন ধাপে—প্রিলিমিনারি, লিখিত ও মৌখিক। বর্তমানে প্রিলিমিনারির পর মৌখিক পরীক্ষার যে ব্যবস্থা রয়েছে, তার পরিবর্তে লিখিত পরীক্ষা যুক্ত করার প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রিলিমিনারিতে উত্তীর্ণ হওয়ার পর প্রার্থীদের লিখিত পরীক্ষায় বসতে হবে। লিখিত পরীক্ষায় সফল প্রার্থীরাই এরপর মৌখিক পরীক্ষার সুযোগ পাবেন।

নতুন পদ্ধতি চালুর আগে সংশোধিত অনুসরণীয় পদ্ধতির অনুমোদন নিতে তা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর এ বিষয়ে পরিপত্র জারি করা হবে। এরপর নতুন কাঠামো অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগের কার্যক্রম শুরু করবে এনটিআরসিএ। পরীক্ষার কাঠামোর পাশাপাশি সিলেবাসেও পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশোধিত সিলেবাসের প্রস্তাবও মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে।

এদিকে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ এনটিআরসিএর পরিবর্তে অন্য কোনো প্রক্রিয়ায় নেওয়ার যে উদ্যোগ নিয়ে আগে আলোচনা হয়েছিল, সেখান থেকেও সরে এসেছে সরকার। আগের বিতর্কিত রেজ্যুলেশনটি বাতিল করে এনটিআরসিএর মাধ্যমেই নিয়োগের সুপারিশ করার ব্যবস্থা বহাল রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তবে নতুন পদ্ধতি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ও পরিপত্র জারির পরই পরীক্ষার নতুন কাঠামো এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া কার্যকর হবে।


নির্বাচিত

১১ অঞ্চলে ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের আভাস, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের ১১টি অঞ্চলের ওপর দিয়ে সর্বোচ্চ ৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি অথবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সম্ভাব্য বৈরী আবহাওয়ার কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, দিবাগত রাত ১টার মধ্যে টাঙ্গাইল, ঢাকা, ফরিদপুর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার এবং সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ অথবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে এসব অঞ্চলে বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

এদিকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার নিয়মিত পূর্বাভাসে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বুধবার সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে দেশের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা রয়েছে।

তাপমাত্রার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এ সময়ে সারাদেশে দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে দেশের অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন স্থানে রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


নির্বাচিত

ডিএমপির অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৪২ জন গ্রেফতার, মামলা ১৯

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নিয়মিত অভিযানে গত ২৪ ঘণ্টায় ৪৪২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং ১৯টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

ডিএমপির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে রমনা বিভাগ ৩২ জন, লালবাগ বিভাগ ৩৬ জন, ওয়ারী বিভাগ ৫০ জন, মতিঝিল বিভাগ ৫৬ জন, তেজগাঁও বিভাগ ৫৯ জন, মিরপুর বিভাগ ১৩৩ জন, গুলশান বিভাগ ২৩ জন, উত্তরা বিভাগ ৫০ জন ও গোয়েন্দা বিভাগ ৫ জনকে গ্রেফতার করে।

অভিযানকালে একটি দেশীয় রিভলবার, ৪ রাউন্ড গুলি, ৬ হাজার ৩২৪ পিস ইয়াবা, ৩৩ পুরিয়া গাঁজা ও ৩ হাজার ৪০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


নির্বাচিত

রাষ্ট্রীয় সাইবার সুরক্ষার আওতায় চট্টগ্রাম বন্দর

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

চট্টগ্রাম বন্দরের ডিজিটাল অবকাঠামোকে রাষ্ট্রীয় সাইবার সুরক্ষার আওতায় এনে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার।

সোমবার (৩১ আগস্ট) ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর ধারা ১৫ অনুযায়ী চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো হিসেবে ঘোষণা করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে জারি করা প্রজ্ঞাপনটি অবিলম্বে কার্যকর হয়েছে। আজ (মঙ্গলবার) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়।

দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের সিংহভাগ চট্টগ্রাম বন্দরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। কনটেইনার ব্যবস্থাপনা, জাহাজ চলাচল, শুল্ক ও রাজস্ব প্রক্রিয়াকরণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত বন্দরের ডিজিটাল ব্যবস্থাগুলো জাতীয় অর্থনীতি ও নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এসব ব্যবস্থায় সাইবার হামলা বা কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটলে দেশের বাণিজ্য ও শিল্পোৎপাদনে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সামগ্রিক কার্যক্রম পরিচালনায় ব্যবহৃত ডিজিটাল ব্যবস্থাগুলোর অধিকতর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নির্ধারিত মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর চবক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো সনদ অর্জন করেছে। এর ফলে বন্দরের তথ্য পরিকাঠামোর নিরাপত্তা কার্যক্রম অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পরিচালনা করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে বন্দর ব্যবহারকারী ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের তথ্য সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে।

সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো হিসেবে বন্দরের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাগুলোতে উচ্চতর সাইবার নিরাপত্তা মানদণ্ড প্রতিপালন করতে হবে। এর মধ্যে নিজস্ব নিরাপত্তা পরিচালনা কেন্দ্র ও সাইবার নিরাপত্তা ঘটনা মোকাবিলা দল পরিচালনা, ২৪ ঘণ্টা সাইবার নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ, বার্ষিক নিরাপত্তা নিরীক্ষা, নিয়মিত ঝুঁকি নিরূপণ, দুর্বলতা মূল্যায়ন ও অনুপ্রবেশ পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের সংকেতায়িত ও অফলাইন সংরক্ষণব্যবস্থা, ব্যবসায়িক ধারাবাহিকতা পরিকল্পনা, দুর্যোগ পুনরুদ্ধার ব্যবস্থা এবং সাইবার নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঘটনার নিয়মিত প্রতিবেদন দেওয়ার ব্যবস্থাও নিশ্চিত করতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামোর নিরাপত্তা বিধান লঙ্ঘন কিংবা এতে অননুমোদিত প্রবেশ আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো হিসেবে ঘোষণার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে বিশেষায়িত সাইবার নিরাপত্তা দল গঠন, তথ্য পরিকাঠামোর পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়ন, নিরাপত্তা নীতিমালা হালনাগাদ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান বলেন, সরকারের এ সিদ্ধান্ত চট্টগ্রাম বন্দরের কৌশলগত ও জাতীয় গুরুত্বের একটি সুস্পষ্ট স্বীকৃতি। বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে বন্দরের নিরাপদ, নিরবচ্ছিন্ন ও স্থিতিশীল কার্যক্রম নিশ্চিত করা জাতীয় দায়িত্ব।

তিনি বলেন, বন্দরের ক্রমবর্ধমান ডিজিটাল রূপান্তরের সঙ্গে সাইবার ঝুঁকিও বাড়ছে। তাই সাইবার নিরাপত্তাকে শুধু তথ্যপ্রযুক্তিগত বিষয় হিসেবে নয়, বন্দরের কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা, জাতীয় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো ও ডিজিটাল সেবা সুরক্ষিত রাখতে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ, নিয়মিত ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং সাইবার হুমকি মোকাবিলার সক্ষমতা আরও জোরদার করা হবে। এ লক্ষ্যে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সি এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করা হবে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, এর আগে বাংলাদেশে ৩৬টি সংস্থাকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। চট্টগ্রাম বন্দরকে এ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার ফলে বন্দরের তথ্যকেন্দ্র, যোগাযোগ ব্যবস্থা, তথ্যভান্ডার, সফটওয়্যারভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং বিভিন্ন সফটওয়্যারের মধ্যে তথ্য আদান-প্রদানের কেন্দ্রসহ সামগ্রিক তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো উচ্চতর সাইবার নিরাপত্তা তত্ত্বাবধানের আওতায় আসবে।

তবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিকাঠামো হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার অর্থ বন্দরের তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবস্থা পরিচালনার দায়িত্ব সরকার গ্রহণ করছে না। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষই নিজস্ব অবকাঠামোর মালিক ও পরিচালনাকারী থাকবে। তবে এসব অবকাঠামো জাতীয় পর্যায়ের উচ্চতর সাইবার নিরাপত্তা তত্ত্বাবধান ও নির্ধারিত নিরাপত্তা বিধান পরিপালনের আওতায় থাকবে।


নির্বাচিত

শিগগিরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের প্রত্যাশা ট্রাম্পের

ছবি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

শিগগিরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের আশা প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত সোমবার প্রধানমন্ত্রীকে পাঠানো এক চিঠিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট এই প্রত্যাশার কথা জানান। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য জানিয়েছেন।

চিঠিতে ট্রাম্প উল্লেখ করেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে গেলেও তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ ও এ দেশের জনগণের একটি উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ রয়েছে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন। চিঠিতে তিনি বাংলাদেশের জনগণের প্রতি তার আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসার কথাও জানান।

এ ছাড়া, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে বোয়িং উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ট্রাম্প আশ্বস্ত করে বলেন, বোয়িং বাংলাদেশকে হতাশ করবে না। একই সঙ্গে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত মনোযোগের কথা তিনি সব সময় মনে রাখবেন বলেও উল্লেখ করেন।


নির্বাচিত

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে আনসার-ভিডিপির প্রতি আহ্বান রাষ্ট্রপতির

বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সাক্ষাত করেন আনসার ও ভিডিপি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৮:১২
নিজস্ব প্রতিবেদক

মাঠ পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষার পাশাপাশি দেশ গঠনমূলক কাজে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আনসার ও ভিডিপি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদের সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ আহ্বান জানান বলে প্রেস উইং থেকে জানানো হয়েছে।

এসময় বিগত গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী জননিরাপত্তা বিধান ও ত্রয়োদশ সাধারণ নির্বাচনসহ রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে আনসার বাহিনীর কাজের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বাহিনীর সদস্যদের পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা, জনসম্পৃক্তি বৃদ্ধির পাশাপাশি বিদেশি ভাষা, কারিগরি ও প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ ও কর্মসংস্থান উপযোগী করে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সাক্ষাতে আনসার ও ভিডিপি মহাপরিচালক রাষ্ট্রপতির দায়িত্বভার গ্রহণ করায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন জানান। এসময় তিনি বাহিনীর বিভিন্ন কার্যক্রম বিশেষ করে দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে আনসার সদস্যের মানসম্মত প্রশিক্ষণ, সদস্যদের ডাটাবেজ তৈরি, ক্ষুদ্রঋণ প্রদান কার্যক্রম এবং সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রান্তিক পর্যায়ে বাহিনীর গৃহীত কর্মসূচি সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। তিনি দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির দিক-নির্দেশনা ও সহযোগিতা কামনা করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, আনসার ও ভিডিপি দেশের সব থেকে বড় জনসম্পৃক্ত নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বাহিনী। তিনি এসময় আনসার বাহিনীর সংস্কার বিশেষ করে আনসার ব্যাটালিয়ন প্রতিষ্ঠায় শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি আনসার বাহিনীর আধুনিকায়ন, বিভিন্ন আইন প্রণয়ন ও আনসার ব্যাংক প্রতিষ্ঠায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকার কথাও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

এ সময় রাষ্ট্রপতি সৌরশক্তি উৎপাদন, মানবসম্পদ উন্নয়ন, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে অর্জন এবং জনমুখী কার্যক্রমে বাহিনীর অবদানের প্রশংসা করে

আগত দিনে আরও কর্মসূচি ও তৎপরতা গ্রহণের আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি তার দায়িত্ব পালনকালে বাহিনীর উন্নয়নে সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আনসার ও ভিডিপি প্রধানকে আশ্বস্ত করেন। সাক্ষাত রাষ্ট্রপতির সচিবগণ ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


নির্বাচিত

দুর্গম সীমান্তে নিরাপত্তা ও নজরদারি সহজ করবে ড্রোন প্রযুক্তি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
অনলাইন ডেস্ক

আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তির ব্যবহার দুর্গম ও বনাঞ্চল বেষ্টিত এলাকা-সহ সামগ্রিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও নজরদারিকে আরো কার্যকর ও সহজতর করবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার সকালে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর সিলেট সেক্টর সদর দপ্তরে “সীমান্ত স্কুল অব সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার (SSSDW)”-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন। তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে নামফলক উন্মোচনের মাধ্যমে এ বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সীমান্তের যেসব দুর্গম ও বনাঞ্চলবেষ্টিত (ওয়াইল্ড) এলাকা রয়েছে, যেখানে সরেজমিন জনবল দিয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত দুষ্কর, সে সমস্ত জায়গায় নাইট ভিশন এবং থার্মাল প্রযুক্তি সংবলিত ড্রোন ব্যবহার করে সার্বক্ষণিক আধুনিক ডিজিটাল সার্ভেইল্যান্স পরিচালনা করা হবে। থার্মাল প্রযুক্তির এই ব্যবহারের ফলে রাতের আঁধারেও সীমান্তের ওপারে অপর পক্ষের তৎপরতা তদারকি এবং চোরাচালান, মাদক ও অবৈধ অস্ত্রের রুট চিহ্নিত করে তা প্রতিহত করা সহজ হবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি প্রাকৃতিক ও মানবিক দুর্যোগেও ড্রোনের এই প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কার্যকর ভূমিকা রাখছে।

তিনি বলেন, সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা এবং সরাসরি দুর্গম পয়েন্টে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছে দিতে বিজিবি সদস্যরা সফলভাবে ড্রোনের ব্যবহার নিশ্চিত করেছেন।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এই ড্রোন স্কুলে বর্তমানে বিজিবি সদস্যদের সীমান্ত নজরদারি ও ড্রোন ওয়ারফেয়ার প্রশিক্ষণ দেওয়া হলেও ভবিষ্যতে বেসামরিক জনবলকেও উন্নত প্রযুক্তি ও ড্রোন পরিচালনায় দক্ষ করে তুলতে এই প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে। সেই সাথে আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে বিশ্বের সব সর্বাধুনিক ড্রোন প্রযুক্তি এ প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানে যুক্ত করে দেশের সর্বাত্মক সুরক্ষা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে।

মাদক মামলার প্রসিকিউশন ও আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারীদের বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনকে যুগোপযোগী করা হয়েছে এবং জেলা পর্যায়ে ল্যাব, হাজতখানা, ডগ স্কোয়াড ও আধুনিক অস্ত্রের মাধ্যমে বাহিনীর কার্যকারিতা বহুগুণ বাড়ানো হচ্ছে। একই সাথে আইনি প্রক্রিয়ায় বাধা দিতে ‘মব’ সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টা প্রচলিত আইনের মাধ্যমে অত্যন্ত কঠোরভাবে মোকাবেলা করা হবে বলে তিনি জানান।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। স্বাগত বক্তৃতা করেন বিজিবি'র সিলেট সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ সালাহ্উদ্দীন।

প্রশিক্ষণ কেন্দ্রটি উদ্বোধনের পূর্বে মন্ত্রীকে 'সীমান্ত স্কুল অব সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার (SSSDW)' সম্পর্কিত বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সার্বিক দিক নিয়ে বিস্তারিত ব্রিফিং প্রদান করা হয়। উদ্বোধনের পর মন্ত্রী ড্রোন স্কুল কমপ্লেক্স ও ডিসপ্লে সেন্টার ঘুরে দেখেন এবং পরবর্তীতে বিজিবি'র দক্ষ পরিচালনায় একটি বাস্তবভিত্তিক অপারেশনাল মহড়া ও ডাইনামিক ড্রোন ডিসপ্লে প্রত্যক্ষ করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিজিবি সদর দপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, তথ্যনির্ভর ও প্রযুক্তিসক্ষম করার লক্ষ্যে বিজিবি'র একটি বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ স্কুল/কেন্দ্র হিসেবে SSSDW-এর যাত্রা শুরু হলো। কেন্দ্রটি উদ্বোধনের মাধ্যমে দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্তে আধুনিক আকাশভিত্তিক ড্রোন প্রযুক্তি ব্যবহারের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো।


নির্বাচিত

আমরা চাই দুই দেশের জনগণের মধ্যে ভালো সম্পর্ক: দীনেশ ত্রিবেদী

ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যকার সুসম্পর্ক কেবল সরকারি পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি দুই দেশের সাধারণ মানুষের হৃদয়ের বন্ধন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেন, “আমরা চাই দুই দেশের জনগণের মধ্যে ভালো সম্পর্ক। আমার জায়গায় যে থাকবে, সে একই জিনিস চাইবে। কারণ, আমরা যে সিদ্ধান্ত নিই, তার প্রভাব পড়ে জনগণের ওপর।” মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ এক বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। একই সাথে তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শুভেচ্ছা বার্তা প্রদান করেন।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে হাইকমিশনার বলেন, “অভ্যন্তরীণ যে রাজনীতি তা নিয়ে কিছু বলতে চাই না। যা দেশের মানুষ ভালো বুঝবে, তা নির্বাচিত সরকার বুঝবে। সাধারণ মানুষের যা কিছু ভালো হয়, সে বিষয়ে আমাদের দায়িত্ব আছে। আমরা স্বপ্ন শেয়ার করি। প্রতিবেশী হিসেবে আমাদের দায়িত্ব বেড়ে যায়। কেউ বড়, কেউ ছোট নয়, আমি এখানে এসে অনেক কিছু শিখছি।” তাঁর মতে, দুই দেশের উন্নয়নে অতীত নিয়ে পড়ে থাকলে চলবে না। বরং বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য বা ফ্রি ট্রেড সম্প্রসারণের গুরুত্ব নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে বলেও তিনি জানান।

বৈঠক শেষে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম গণমাধ্যমকে জানান যে, ভারতীয় হাইকমিশনার স্থানীয় সরকার নির্বাচন বিষয়ে ভারতের অভিজ্ঞতাগুলো বিনিময় করেছেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা জানিয়েছি, চলতি অর্থবছরে নির্বাচন হবে। স্থানীয় সরকার নির্বাচন আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। এটা অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে হবে। যেহেতু আমরা গণতান্ত্রিক, মানুষের ভোটে নির্বাচিত সরকার।” এই সৌজন্য সাক্ষাৎ মূলত দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল।


নির্বাচিত

বহুদলীয় গণতন্ত্রই নয়, সংসদীয় গণতন্ত্রও বিএনপির হাত ধরে এসেছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সেক্রেটারি আন্দা ফিলিপ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
দৈনিক বাংলা ডেস্ক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি শুধু বহুদলীয় গণতন্ত্রই ফিরিয়ে আনেনি, সংসদীয় গণতন্ত্রও এ দলের হাত ধরে এসেছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা ও জনগণের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ইন্টার-পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের (আইপিইউ) সেক্রেটারি আন্দা ফিলিপ সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি এ কথা বলেন।

আজ বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন এ কথা জানান।

সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন আন্দা ফিলিপ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নিয়মিত জাতীয় সংসদ অধিবেশনে অংশগ্রহণ সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রতি তাঁর দৃঢ় অঙ্গীকারের শক্তিশালী বার্তা বহন করে।

এ সময় তারেক রহমান বলেন, আমরা অত্যন্ত আনন্দিত যে দীর্ঘ সংগ্রামের পর দেশে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পেরেছি। গণতন্ত্রের জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে সংগ্রাম করেছি।

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের দলের অসংখ্য নেতা-কর্মী গুম ও হত্যার শিকার হয়েছেন এবং প্রায় ৪০ লাখ নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। অবশেষে গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা দেশে গণতান্ত্রিক ধারাকে সুগম করতে পেরেছি।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি শুধু বহুদলীয় গণতন্ত্রই ফিরিয়ে আনেনি, সংসদীয় গণতন্ত্রও এ দলের হাত ধরে এসেছে। আমাদের সামনে এখনও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে আমরা আশাবাদী এবং গণতন্ত্রের প্রতি দৃঢ়ভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। গণতন্ত্র নিয়ে মানুষের প্রত্যাশা অনেক।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, একটি কার্যকর ও শক্তিশালী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমেই দেশের টেকসই অগ্রগতি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।’

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘তাঁর সরকার প্রতিটি নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা এবং জনগণের প্রয়োজনীয় সেবা নিশ্চিত করতে কাজ করছে।’

আইপিইউ সেক্রেটারি জানান, তিনি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার পড়েছেন। ইশতেহারে শিক্ষা খাতে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ এবং কমিউনিটিভিত্তিক কর্মসূচির প্রশংসা করেন তিনি।

বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রারও প্রশংসা করে আন্দা ফিলিপ বলেন, এ ধারা অব্যাহত থাকলে জনগণের মধ্যে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি আস্থা আরও শক্তিশালী হবে।

আন্দা ফিলিপ আরো বলেন, আইপিইউ বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহযোগিতা আরও জোরদার করতে আগ্রহী।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, তানজানিয়ায় অনুষ্ঠেয় আইপিইউর ১৫৩তম সম্মেলনে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার অংশ নিচ্ছেন। তাঁর অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আইপিইউর সঙ্গে বাংলাদেশের সংসদের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।

গণতন্ত্রকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে নাগরিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করেন আইপিইউ সেক্রেটারি।

সাক্ষাতে নারীর ক্ষমতায়নের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। তরুণ ও নারী সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠকের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আন্দা ফিলিপ বলেন, তাঁরা অত্যন্ত উদ্যমী ও আগ্রহী।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন তাঁর সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। নারীদের জন্য অনার্স পর্যায় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা এবং নারী শিক্ষার্থীর জন্য উপবৃত্তি চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড প্রকল্পের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য হলো নারীদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করা এবং পরিবারে সিদ্ধান্ত গ্রহণে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানো।

সাক্ষাৎকালে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-১ হুমায়ুন কবির এবং পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী-২ শামা ওবায়েদ ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র: বাসস


নির্বাচিত

banner close