মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
১৫ বৈশাখ ১৪৩৩

প্রাণের মেলায় চাহিদা কম ভাষা আন্দোলনের বইয়ের

মনিরুল ইসলাম
প্রকাশিত
মনিরুল ইসলাম
প্রকাশিত : ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ২৩:০২

সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার ও শফিউরসহ ভাষাশহীদদের রক্তের বিনিময়ে পাওয়া এই বাংলা ভাষা। এই ভাষাশহীদদের শ্রদ্ধা জানিয়ে ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিন শুরু হয় বইমেলা, চলে পুরো মাস। সেই বইমেলায় প্রতিদিন প্রায় শখানেক বই প্রকাশিত হলেও যাদের আন্দোলন এবং রক্তের বিনিময়ে আমরা এই ভাষা পেয়েছি সেই ভাষা আন্দোলন এবং ভাষাশহীদদের ওপর বই প্রকাশ হচ্ছে না বললেই চলে। যদিও প্রকাশকরা বলছেন, এসব বিষয়ে তারা বই প্রকাশে আগ্রহী। কিন্তু ভালো পাণ্ডুলিপি পাওয়া যাচ্ছে না।

বাংলা একাডেমির জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাওয়া তথ্যমতে, গতকাল মঙ্গলবার মেলার ২০তম দিনে ২ হাজার ৯৫টি বই প্রকাশতি হলেও তার মধ্যে ভাষা আন্দোলনের ওপর নতুন বই প্রকাশিত হয়েছে মাত্র চারটি। এর মধ্যে দুটি বই প্রকাশ করেছে ঐতিহ্য প্রকাশনী আর প্রথমা প্রকাশনী এবং ঝিঙেফুল প্রকাশনী প্রকাশ করেছে একটি করে। এ ছাড়া ঐতিহ্য প্রকাশনী এই বইমেলাতে ভাষা আন্দোলনের ওপর আরও তিনটি বই নিয়ে আসার কথা জানিয়েছে।

বাংলা একাডেমি থেকে পাওয়া তথ্যমতে মেলায় ভাষা আন্দোলনের ওপর প্রকাশিত নতুন তিনটি বই হলো ঐতিহ্য থেকে প্রকাশিত পশ্চিমবঙ্গের প্রখ্যাত লেখক-গবেষক বদরুদ্দোজা হারুনের লেখা ‘ভাষাশহীদ আবুল বরকত: নেপথ্যকথা’, প্রয়াত কবি বেলাল চৌধুরীর অমর একুশ-বিষয়ক স্মৃতি ও ভাবনার সংকলন ‘একুশের স্মৃতি ও ভাবনা’ এবং ঝিঙেফুল থেকে প্রকাশিত গাজী হানিফের ‘একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ বইটি। এ ছাড়া মেলায় এসেছে প্রথমা থেকে পুনঃপ্রকাশিত ভাষাসৈনিক মর্তুজা বশিরের লেখা ‘একুশের লেখা, একুশের আঁকা’ বইটি।

বাংলা একাডেমি থেকে পাওয়া তথ্যের সত্যতা পাওয়া গেছে বিভিন্ন প্রকাশনীর বিক্রয় প্রতিনিধিদের কথায়ও।

বাংলা একাডেমি প্যাভিলিয়নের বিক্রয়কর্মী লাভলু আলম বলেন, এই বছর ভাষা আন্দোলন নিয়ে বাংলা একাডেমির নতুন কোনো বই নেই। আগের বইগুলোই রিপ্রিন্ট করা হচ্ছে। এই প্রকাশনীর স্টল ঘুরে অমর একুশ নিয়ে কয়েকটি বইয়ের সন্ধান পাওয়া গেছে। সেগুলো হলো- ড. সরকার আমিনের সম্পাদনায় ‘একুশের প্রবন্ধ ২০২৩’, সাজ্জাদ আরেফিনের সম্পাদনায় ‘একুশের কবিতা-পরিচয়’, জালাল ফিরোজের ‘অমর একুশে বইমেলার ইতিহাস’, আমিনুর রহমান সুলতানের ‘ভাষাসংগ্রামী গাজীউল হক’।

অন্বেষা প্রকাশনীর প্রকাশক শাহাদাত হোসেন বলেন, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং আমাদের দেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে আমরা অনেক কাজ করতে চাই। কিন্তু এসব বিষয়ে আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণে পাণ্ডুলিপি পাই না। ভাষা আন্দোলনের ওপর পাণ্ডুলিপি নেই বললেই চলে। অনেক বছর আগে হয়তো দুই-একটা হয়েছে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে গবেষণার অভাবে আমরা কোনো পাণ্ডুলিপি পাচ্ছি না। হয়তো গবেষকরা এসব বিষয়ে উৎসাহ পাচ্ছেন না অথবা বিভিন্ন কারণে লিখছেন না। এসব কারণে আমরা এসব বিষয়ে কোনো বইও প্রকাশ করতে পারছি না।

তিনি বলেন, প্রতিবছরই আমাদের ইচ্ছা থাকে ভাষা আন্দোলনের ওপর কমপক্ষে একটা বই প্রকাশ করার। কিন্তু পাণ্ডুলিপি না পাওয়ার কারণে সেটি আর সম্ভব হয় না। পুরাতন যে বইগুলো আছে সেগুলো নিয়েই আমাদের চলতে হয়। বর্তমানে আমাদের ডা. শেখ মেহেদী হাসানের ‘ভাষা আন্দোলনের পূর্বাপর’ বইটি আছে।

পাঠক সমাবেশের স্টল ম্যানেজার লিয়ন বলেন, এ বিষয় নিয়ে নতুন কোনো বই আসেনি। আগেরও কোনো বই নেই। তবে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বই আছে।

ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেডের (ইউপিএল) বিক্রয় প্রতিনিধি মোসাদ্দেক হোসাইন বলেন, নতুন কোনো বই আসেনি। তবে আতিউর রহমান স্যারের সম্পাদনায় ‘ভাষা আন্দোলনের আর্থসামাজিক পটভূমি’ শীর্ষক একটি বই ছিল। তবে সেটা এখন নেই। নতুন করে আবার প্রকাশিত হবে।
প্রথমা প্রকাশনীর বিক্রয় প্রতিনিধি আশফাক বলেন, একটা ছাড়া আর কোনো নতুন বই আসেনি। তবে আগের কিছু বই আছে। সেগুলো হলো- আহমদ রফিকের ‘ভাষা আন্দোলন’, ‘একুশের মুহূর্তগুলো’, ছয় ভাষাশহীদদের জীবনগাথা নিয়ে বই ‘একুশের শহীদ’, মতিউর রহমানের সম্পাদনায় ‘একুশের পটভূমি একুশের স্মৃতি’ উল্লেখযোগ্য।

মওলা ব্রাদার্সের স্টল ম্যানেজার তামিম বলেন, ‘ভাষা আন্দোলনের পঞ্চাশ বছর নামে’ একটি বই ছিল। সেটা গত বইমেলায় শেষ হয়ে গেছে। নতুন করে রিপ্রিন্ট করা হয়নি। তবে এ বছর নতুন কোনো বই আসেনি।

ঐতিহ্য প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী মেহেদী হাসান রিফাত বলেন, ভাষা আন্দোলনের ওপর নতুন আরও তিনটা বই আসবে। সেগুলো হলো- অমর একুশে স্মরণে ‘একুশের ২১ গল্প’। ভাষা আন্দোলনকে কেন্দ্র করে বাংলার বরেণ্য কথাশিল্পীদের একুশটি গল্পের এ সংকলন সম্পাদনা করেছেন কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক। এ ছাড়া ভাষা আন্দোলনের দুই অগ্রসৈনিক শহীদ মুনীর চৌধুরীর ‘দুষ্প্রাপ্য রচনা’ এবং ‘শহীদ জহির রায়হানের আত্মকথা ও অন্যান্য রচনা’। এই দুটি গ্রন্থের সংকলন ও সম্পাদনা করেছেন কাজী জাহিদুল হক।

‘এ ছাড়া আগের কিছু বই যেমন সৈয়দ শামসুল হকের ‘বাহান্নের বিজয়গাথা’, মো. নূরুল আনোয়ারের একুশের গুলিবর্ষণ, মুক্তিযুদ্ধ এবং বঙ্গবন্ধুর কারিশমা’ রয়েছে যোগ করেন মেহেদী হাসান রিফাত।

তবে আগামী প্রকাশনী থেকে এ বছর ভাষা আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট নতুন কোনো বই পাওয়া না গেলেও আগের কিছু বইয়ের সন্ধান পাওয়া গেছে। সেগুলো হলো- ড. এম আবদুল আলীমের ‘ভাষা আন্দোলনে ছাত্রলীগ- কতিপয় দলিল’, ‘ভাষা আন্দোলনে শেখ মুজিব- কতিপয় দলিল’, ‘রাষ্ট্রভাষা-আন্দোলনে রফিকুল ইসলাম’, ‘সিরাজগঞ্জে ভাষা আন্দোলন’, ‘আওয়ামী লীগ ও ভাষা আন্দোলন’, ‘রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন ও ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ’, বশির আল হেলালের ‘ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস’ উল্লেখযোগ্য।

সময় প্রকাশনের বিক্রয় প্রতিনিধি আবির হাসান বলেন, ‘আমাদের নতুন কোনো বই আসেনি। তবে আগের তিনটি বই আছে। সেগুলো হলো- আহমদ রফিকের ‘ভাষা আন্দোলন- ইতিহাস ও উত্তরপ্রভাব’, হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’ এবং মুহাম্মদ হাবিবুর রহমানের ‘একুশে ফেব্রুয়ারি’।

এ ছাড়া সেলিনা হোসেনের ‘যাপিত জীবন’, জহির রায়হানের ‘আরেক ফাল্গুন’, আনিসুর হকের ‘যারা ভোর এনেছিল’, বদরুদ্দীন উমরের ‘পূর্ব বাঙলার ভাষা আন্দোলন ও তৎকালীন রাজনীতি-১’, এম আর আখতার মুকুলের ‘একুশের দলিল’, ‘ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধীনতা’, হুমায়ুন আজাদের ‘ভাষা আন্দোলন’, রফিকুল ইসলামের ‘ভাষা আন্দোলন ও শহীদ মিনার’, মুহাম্মদ শফীর ‘ভাষা আন্দোলনের আগে ও পরে’ এবং আহমদ রফিকের ‘ভাষা আন্দোলনের স্মৃতি ও কিছু জিজ্ঞাসা’ বইগুলো উল্লেখযোগ্য।

২০তম দিনে নতুন বই ৯৯টি

আজ মঙ্গলবার মেলা শুরু হয় বিকেল ৩টায় এবং চলে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত। এদিন নতুন বই এসেছে ৯৯টি। বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় স্মরণ: জামাল নজরুল ইসলাম শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিজ্ঞানবক্তা আসিফ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন সুব্রত বড়ুয়া এবং আরশাদ মোমেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক আবদুল মান্নান।

প্রাবন্ধিক বলেন, অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলাম একজন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন গাণিতিক, পদার্থবিদ ও জ্যোতির্বিজ্ঞানী এবং বিশ্ববরেণ্য কসমোলজিস্ট। আন্তর্জাতিক মহলে তিনি জে এন ইসলাম হিসেবে পরিচিত।

আলোচকবৃন্দ বলেন, অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলামের বিজ্ঞানচিন্তা ও গবেষণার পরিসর ছিল অনেক বিস্তৃত। তিনি আন্তর্জাতিক বুদ্ধিবৃত্তিক পরিমণ্ডলে বিশিষ্ট অবস্থান অধিকার করেছিলেন। তিনি কেবল বড় বিজ্ঞানীই ছিলেন না, একজন সংস্কৃতিবান ও দেশপ্রেমিক মানুষও ছিলেন।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক আবদুল মান্নান বলেন, অধ্যাপক জামাল নজরুল ইসলাম বড় বিজ্ঞানী হয়েও ছিলেন নিরহংকারী, অত্যন্ত আন্তরিক, সদাশয় ও সরল মনের অধিকারী একজন মানুষ। তিনি বিজ্ঞানচর্চার ক্ষেত্রে দেশকে এগিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখতেন।

লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন কবি আতাহার খান, কথাসাহিত্যিক মোস্তফা কামাল, গবেষক চৌধুরী শহীদ কাদের এবং লেখক ও পর্বতারোহী ইকরামুল হাসান শাকিল।

অমর একুশের কর্মসূচি

আগামীকাল শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। রাত সাড়ে ১২টায় একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করে দিনের কর্মসূচি শুরু হবে। বইমেলা শুরু হবে সকাল ৮টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। সকাল ৮টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে স্বরচিত কবিতা পাঠের আসর। সভাপতিত্ব করবেন কবি শামীম আজাদ।

অমর একুশে বক্তৃতা ২০২৪

বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে অমর একুশে বক্তৃতা ২০২৪। স্বাগত বক্তব্য প্রদান করবেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহম্মদ নূরুল হুদা। অমর একুশে বক্তৃতা প্রদান করবেন বিশিষ্ট কথাসাহিত্যিক আনোয়ারা সৈয়দ হক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন বাংলা একাডেমির সভাপতি কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেন।


ওয়াসার পানি নিয়ে মির্জা ফখরুলের অসন্তোষ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

ওয়াসার পানির মান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। আজ মঙ্গলবার রাজধানীর কাকরাইলে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে এক আলোচনা সভায় তিনি এই অসন্তোষের কথা জানান।

বিশ্ব পানি দিবস উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমার খুব কষ্ট হয় যখন শুনি ওয়াসার পানি খারাপ।’ তিনি বলেন, ‘সেদিন চিফ হুইপ বললেন, সংসদের পানি খাওয়া যায় না। ঢাকা শহরের সবচেয়ে বড় সংকট এখন নিরাপদ পানি। বাংলাদেশকে বাঁচাতে এসব নিয়ে নতুনভাবে ভাবতে হবে সবাইকে।’

মন্ত্রী আরও বলেন, ‘দেশের নদীগুলোকে দূষণের হাত থেকে বাঁচাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া ছাড়া বিকল্প নেই। এ বিষয়গুলো আমাদের ঠিক করতে হবে এবং পরিবর্তন আমাদেরই আনতে হবে। আমরা যে বড় বড় দামি গাড়িতে চড়ি, তা সব জনগণের করের টাকায়। তাই জনগণের সমস্যার সমাধানকে অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।’

বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ ও ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ডিপ টিউবওয়েল ব্যবহারের পরিবর্তে সারফেস ওয়াটার ব্যবহারে অভ্যস্ত হতে হবে। সে ক্ষেত্রে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণেও জোর দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘সারা বিশ্বে নিরাপদ পানির অভাব রয়েছে। নিরাপদ পানির জন্য অনেক যুদ্ধ-বিগ্রহও হয়। পরবর্তী বিশ্বযুদ্ধ নিরাপদ পানির জন্য হওয়ার আলামত দেখা যাচ্ছে।’


পরিস্থিতি বিবেচনায় ধাপে ধাপে ব্যারাকে ফিরবে সেনাবাহিনী: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও বিশেষ দায়িত্ব পালনে মাঠে থাকা সেনাবাহিনী পরিস্থিতি বিবেচনা করে পর্যায়ক্রমে ব্যারাকে ফিরে যাবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘সরকারের চাহিদা ও বিদ্যমান আইন মেনেই সেনাবাহিনী বর্তমানে মাঠে দায়িত্ব পালন করছে এবং প্রয়োজন শেষ হলে তাঁদের প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।’

আজ মঙ্গলবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের বিদ্যমান আইন অনুসারে এবং সরকারের বিশেষ প্রয়োজনে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। তবে তারা স্থায়ীভাবে মাঠে থাকবে না। পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে এবং দায়িত্বের ধরন অনুযায়ী পর্যায়ক্রমে তাদের ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে সেনাবাহিনীসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠে নামে। নির্বাচনের আগে ও পরে মিলিয়ে মোট সাত দিন তাদের দায়িত্ব পালনের কথা থাকলেও পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় এখনো তারা মাঠপর্যায়ে সক্রিয় রয়েছে।

এদিকে কোস্ট গার্ডের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে বাহিনীর কার্যক্রমের প্রশংসা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের নদীপথ ও সমুদ্রসীমা রক্ষায় কোস্ট গার্ডের ভূমিকা অনন্য। অনুষ্ঠানে কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল জিয়াউল হক জানান, গত এক বছরে নদীপথে চোরাচালান রোধ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাহিনীটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে।

তবে এই সাফল্যের মধ্যেও কিছু সংকটের কথা উঠে এসেছে। মহাপরিচালক জানান, ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে গত এক বছরে ১৬ জন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। এ ছাড়া বাহিনীটিতে এখনো জনবল-সংকট রয়েছে, যা কার্যক্রম পরিচালনায় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

সাহসিকতা ও সেবামূলক কাজের স্বীকৃতি হিসেবে অনুষ্ঠানে কোস্ট গার্ডের ১৪ জন সদস্যকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পদক দেওয়া হয়। এর মধ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড পদক, কোস্ট গার্ড (সেবা) পদক এবং প্রেসিডেন্ট কোস্ট গার্ড পদক অন্তর্ভুক্ত ছিল।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে আশ্বস্ত করেন, কোস্ট গার্ডের জনবল বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নে সরকার বদ্ধপরিকর। অদূর ভবিষ্যতে এই বাহিনীকে আরও শক্তিশালী করতে অত্যাধুনিক সরঞ্জাম ও প্রযুক্তি যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।


শহীদ পরিবারের লোক জামায়াত করলে ডাবল অপরাধ: ফজলুর রহমান

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোক কেউ জামায়াত করতে পারে না, শহীদ পরিবারের লোক জামায়াত করলে ডাবল অপরাধ বলে মন্তব্য করেছেন কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ফজলুর রহমান।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদ অধিবেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় এ বিএনপি নেতা এসব কথা বলেন।

ফজলুর রহমান বলেন, ‘এ বাংলায় শুধু বেলি-চামেলি আর জুঁই ফুল ফোটে না, রক্ত জবাও ফোটে। এ দেশে শুধু কোকিল ডাকে না, এদেশের জঙ্গলে রয়েল বেঙ্গল টাইগারও থাকে।’

‘যতদিন রয়েল বেঙ্গল টাইগার থাকবে, মুক্তিযোদ্ধা জিতবে, রাজাকার কোনোদিন এই দেশে জয়লাভ করতে পারবে না। আমি চ্যালেঞ্জ করে বললাম,’ বলেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘আমার বক্তব্যের পরে তারা বলবে আমরা কি মুক্তিযুদ্ধ করি নাই! বিরোধী দলে যারা বসে আছেন, অনেকেই আমাকে “ফজা পাগলা” বলে ডাকে, তারা নাকি সভ্য।’

‘বিরোধী দলের নেতা বলেছেন উনি নাকি মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোক, শহীদ পরিবারের লোক এবং উনি জামায়াতে ইসলামী করেন। এটা ডাবল অপরাধ।’

‘মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের লোকজন জামায়াত করতে পারে না। আর শহীদ পরিবারের লোক জামায়াত করলে ডাবল অপরাধ,’ বলেন তিনি।

ফজলুর রহমান বলেন, '৫ আগস্টের পরে কী হলো আপনারা জানেন। ইউনূস সরকার ছিল। আমি শিল্পকলার সামনে থাকি। সেখানে একটা গান হতে পারেনি, নাটক হতে পারেনি, লালন গীতি হতে পারেনি। সবকিছু কালো শক্তি ধ্বংস করে দিয়েছিল।'

'তারা বলেছিল কোনো মুক্তিযুদ্ধ হয় নাই। সাতচল্লিশ হয়েছে, আর চব্বিশে যুদ্ধ হয়েছে। আর গন্ডগোল হয়েছে। সেদিন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমি বলেছিলাম, এখনো কিন্তু ফজলুর রহমানদের মতো মুক্তিযোদ্ধারা জীবিত আছে। এদেশে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ সত্য, ৩০ লাখ লোক জীবন দিয়েছে, এটাও সত্য,' বলেন তিনি।

এই সংসদ সদস্য আরো বলেন, 'আমার বাড়ির সামনে মব হয়েছে আমাকে হত্যা করার জন্য। সেদিনের জন্য আমি পুলিশকে ধন্যবাদ দেবো, মিলিটারিকে ধন্যবাদ দেবো। ১০ মিনিটের মধ্যে আমার বাড়ির সামনে তারা গিয়ে উপস্থিত হয়েছে আমাকে বাঁচানোর জন্য।'

'অনেক চক্রান্তের মধ্য দিয়ে ইলেকশন হয়েছে' মন্তব্য করে ফজলুর রহমান বলেন, 'ইলেকশনে তারা কী করেছে, আজকে যারা আমার ডানদিকে বসে আছে তারা কী করেছে? আমরা তো ভাই ছিলাম। তারা যা করেছে সেটা কল্পনা করার মতো না। যত চক্রান্ত করেছে, সেই চক্রান্তের ভেতর দিয়ে যখন তারা প্রচার করতে শুরু করল যে, তারা দুই-তৃতীয়াংশ মেজরিটি পেয়ে পাশ করবে। আমি হতভাগা ফজলুর রহমান বলেছিলাম জামায়াত জোট যদি মেজরিটি পায়, তাহলে আমি বিষ খাব। এই কথাটা আমি বলেছি। কথা সত্য তারা কোনোদিন যুদ্ধে জয় লাভ করতে পারে নাই, কারণ তাদের পূর্বপুরুষ বাংলাদেশ চায় নাই।'


প্রতিহিংসার শিকার হয়ে দীর্ঘদিন কারাগারে থেকেছি: প্রধানমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে দীর্ঘদিন কারাগারে থাকতে হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি ন্যায়বিচার, আইনের শাসন এবং সবার জন্য সমান বিচারপ্রাপ্তির গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নিজের কারাবাসের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বন্দিজীবনে এমন বহু মানুষের সঙ্গে পরিচিত হয়েছি, যারা কেবল আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে আইনি সহায়তা নিতে পারেননি। দীর্ঘদিন ধরে বিচার না পেয়ে কারাগারে আটক ছিলেন।

এই বাস্তবতাকে অত্যন্ত দুঃখজনক ও অন্যায্য বলে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, একজন মানুষ অর্থের অভাবে ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়া রাষ্ট্রের ন্যায়বিচার ব্যবস্থার বড় দুর্বলতার ইঙ্গিত বহন করে।

তিনি আরও বলেন, ন্যায়বিচার কেবল আদালত বা আইনের বিষয় নয়। এটি একটি মানবিক, দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার মূল ভিত্তি। একটি রাষ্ট্র ও সমাজের অগ্রগতি, স্থিতিশীলতা ও শান্তি নির্ভর করে ন্যায়বিচারের ওপর। মানুষ সবসময়ই একটি বৈষম্যহীন সমাজ চেয়েছে, যেখানে সবাই সমান মর্যাদা ও অধিকার নিয়ে বসবাস করতে পারে। সেই লক্ষ্যে সমতা, সহমর্মিতা এবং পারস্পরিক আস্থা অপরিহার্য উপাদান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সংবিধানের ২৭ নম্বর অনুচ্ছেদে সকল নাগরিকের আইনের দৃষ্টিতে সমতা এবং সমান আইনি সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। এই সাংবিধানিক বিধান জাতিসংঘ ঘোষিত মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণাপত্রের সপ্তম অনুচ্ছেদের প্রতিফলন।

তিনি বলেন, ‘এক্সেস টু জাস্টিস’ প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। অর্থের অভাবে কেউ আইনের আশ্রয় বা ন্যায্য বিচার থেকে বঞ্চিত হবে এটি কোনোভাবেই একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে কাম্য নয়।

তারেক রহমান বলেন, যে রাষ্ট্রে আইনের শাসন, ন্যায়বিচার এবং মানবাধিকার নিশ্চিত হয় না, সেই রাষ্ট্র কখনোই প্রকৃত অর্থে গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। তিনি উল্লেখ করেন, দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনব্যবস্থার অবসানের পর বাংলাদেশ নতুন করে গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে এবং এই যাত্রাকে সুসংহত করতে হলে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই।


দেশের ৩ জেলায় বন্যার পূর্বাভাস

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের হাওর এলাকায় আবারও বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিন জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

সর্বশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, হাওর অববাহিকার সুরমা নদী-কুশিয়ারা নদী ও ধনু-বাউলাই নদীর পানি কিছুটা কমলেও ভোগাই নদী-কংস নদী নদীর পানি বাড়ছে। বর্তমানে এসব নদীর পানি প্রাক-মৌসুমি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চল ও উজানে ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর এবং আন্তর্জাতিক আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, আগামী তিন দিনেও এই অঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে।

পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী তিন দিনে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়বে। বিশেষ করে তৃতীয় দিনে সুরমা নদী, কুশিয়ারা নদী, খোয়াই নদী ও জুড়ি নদী-এর পানি বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে সিলেট, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।

এছাড়া ধনু নদী-বাউলাই ও ভোগাই নদী-কংস নদী অববাহিকায়ও পানি বাড়তে পারে। এতে নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ জেলার নদীগুলো তৃতীয় দিনে সতর্কসীমা ছুঁতে পারে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রোসাটমের মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটম-এর মহাপরিচালক (ডিজি) অ্যালেক্সি লিখাচেভ।

মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এই সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।

এসময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী ফকির মাহাবুব আনাম স্বপন, ডাক টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা হিসেবে রেহান আসিফ আসাদ এবং ঢাকায় নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার গ্রিগোরিয়েভিচ খোজিন উপস্থিত ছিলেন।


পারমাণবিক যুগে বাংলাদেশ: রূপপুরে শুরু হচ্ছে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম

আপডেটেড ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:২২
পাবনা জেলা প্রতিনিধি

এক দশকের দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও কারিগরি প্রস্তুতির অবসান ঘটিয়ে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রবেশ করল বাংলাদেশ। পাবনার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে আজ মঙ্গলবার থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হচ্ছে পরমাণু জ্বালানি ইউরেনিয়াম লোডিং কার্যক্রম। গত ১৬ এপ্রিল পারমাণবিক চুল্লিতে জ্বালানি প্রবেশের প্রয়োজনীয় কমিশনিং লাইসেন্স পাওয়ার পর যাবতীয় নিরাপত্তা ও কারিগরি শর্ত পূরণ করে এই ঐতিহাসিক প্রক্রিয়া শুরু করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) গাইডলাইন অনুযায়ী কয়েক দফা সময়সীমা পরিবর্তনের পর প্রথম ইউনিটটি এখন বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

এই অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করার বিশেষ মুহূর্তে উপস্থিত থাকতে রাশিয়ার পারমাণবিক শক্তি সংস্থা ‘রোসাটম’-এর মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ ১৮ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল নিয়ে বাংলাদেশে পৌঁছেছেন। তিনি প্রথমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন এবং পরবর্তীতে সশরীরে রূপপুর প্রকল্প এলাকায় আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। এই বিশাল কর্মযজ্ঞ পরিচালনার জন্য ৫৯ জন বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞ ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক মানের অপারেটিং লাইসেন্স অর্জন করেছেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের উপস্থিতিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি বাংলাদেশের জ্বালানি খাতের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রটি থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের একটি সুনির্দিষ্ট রূপরেখা ইতিমধ্যে চূড়ান্ত করা হয়েছে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং সম্পন্ন করতে অন্তত ৪৫ দিন সময় লাগবে। এরপর পর্যায়ক্রমে তিনটি ধাপে বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া শুরু হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, জুলাইয়ের শেষ বা আগস্টের শুরুর দিকে প্রাথমিক পর্যায়ে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে। সব ঠিক থাকলে চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রথম ইউনিটটি ১,২০০ মেগাওয়াট পূর্ণ ক্ষমতায় নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদনে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

প্রায় ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই মেগা প্রকল্পটি রাশিয়ার আর্থিক ও কারিগরি সহায়তায় বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই কেন্দ্রে ব্যবহৃত হয়েছে বিশ্বের অন্যতম নিরাপদ ও অত্যাধুনিক তৃতীয় প্রজন্মের ‘ভিভিইআর-১২০০’ রিয়্যাক্টর প্রযুক্তি। প্রকল্পের দুটি ইউনিটই পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হলে মোট ২,৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে, যা দেশের সামগ্রিক বিদ্যুৎ চাহিদার ১০ শতাংশেরও বেশি পূরণ করতে সক্ষম হবে। পরিবেশবান্ধব ও টেকসই এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি দীর্ঘমেয়াদে দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


৪ বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত, ঢাকাসহ ১৩ জেলায় ঝড়ের পূর্বাভাস

আপডেটেড ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ ১১:৩৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করায় দেশের চার সমুদ্রবন্দরে সতর্ক সংকেত জারি করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকালে আবহাওয়া অধিদপ্তরের এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়। সাগরে বায়ুচাপের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে উপকূলীয় এলাকায় বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিয়েছেন আবহাওয়াবিদরা।

সমুদ্র উত্তাল থাকার আশঙ্কায় উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বায়ুচাপের তারতম্যের কারণে সাগর এলাকায় দমকা হাওয়া ও বড় ঢেউ সৃষ্টি হতে পারে, যা ছোট নৌযানগুলোর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। গভীর সমুদ্রে যাওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করে জেলেদের সর্বদা সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে যাতে কোনো ধরনের দুর্ঘটনা না ঘটে।

সমুদ্রবন্দরের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরেও কালবৈশাখী ঝড়ের প্রবল শঙ্কা দেখা দিয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্তত ১৩টি জেলায় আজ দুপুর ১টার মধ্যে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ দমকা ও ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। বিশেষ করে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট অঞ্চলে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে শক্তিশালী ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এই তিন অঞ্চলের নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর নৌ হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

সতর্কবার্তার আওতায় থাকা অন্য জেলাগুলো হলো—ঢাকা, টাঙ্গাইল, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার। এসব এলাকায় ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ১০টি অঞ্চলের নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্কসংকেত জারি করা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ নৌপথে চলাচলকারী সব ধরনের লঞ্চ ও স্টিমারকে সাবধানতার সাথে চলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কারণ বৈশাখ মাসের এই ঝড়গুলো খুব দ্রুত তীব্র আকার ধারণ করতে পারে।

আবহাওয়াবিদদের মতে, গ্রীষ্মকালীন বায়ুমণ্ডলের অস্থিরতার কারণে এই ধরনের আবহাওয়া তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না বের হওয়া এবং বজ্রপাতের সময় নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে গ্রামীণ জনপদে গাছপালা ও কাঁচা ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি থাকায় স্থানীয় প্রশাসনকেও সজাগ থাকতে বলা হয়েছে। পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে নতুন কোনো বার্তা দেওয়া হতে পারে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।


জনগণের শান্তি নষ্ট করার সুযোগ কাউকে দেব না

* ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে ভাগ্য পরিবর্তনের কাজে লাগাতে হবে * নারীদের শিক্ষা স্নাতক পর্যন্ত অবৈতনিক করার ঘোষণা * ঐতিহাসিক উলসী খাল পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন * যারা ৭১ সালে মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে, তাদের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
যশোর প্রতিনিধি

জনগণের শান্তি নষ্ট করে হরতাল করার সেই সুযোগ কাউকে দেয়া হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বিএনপিকে যারা ফ্যাসিবাদের দোসর বলে, তারাই ফ্যাসিবাদের সঙ্গে গোপনে বৈঠক করছে। যারা ৭১ ও ২০০৮ সালে মানুষকে বিভ্রান্ত করেছে, তারা ২০২৬ সালেও মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তাদের বিষয়ে জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে। ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে দেশ গঠনে, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে কাজে লাগাতে হবে। তাহলেই ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটবে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকালে যশোর ঈদগাহ ময়দানে জেলা বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বক্তব্যে দেশের আর্থসামাজিক উন্নয়নে সরকারের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, কৃষকদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হয়েছে এবং তাদের ‘কৃষি কার্ড’ দেওয়া হচ্ছে। বেকারত্ব দূর করতে দেশের বন্ধ হয়ে যাওয়া কলকারখানাগুলো আগামী দুই-চার মাসের মধ্যে চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসময় নারী শিক্ষার প্রসারে মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা স্নাতক পর্যন্ত অবৈতনিক করার ঘোষণা দেন তিনি। পাশাপাশি মেধাবী ছাত্রীদের জন্য উচ্চতর শিক্ষায় উপবৃত্তির ব্যবস্থা করার কথাও জানান। রান্নার কষ্ট লাঘব করতে সরকার ‘এলপিজি কার্ড’ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, সারাদেশের মা-বোনদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি তাদের রান্নার কষ্ট দূর করতে এলপিজি কার্ডও দেওয়া হবে।

ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিন ও ধর্মগুরুদের সম্মানী দেওয়ার প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, মসজিদ-মাদ্রাসার ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিনসহ অন্য ধর্মের ধর্মগুরুদের জন্য সরকারিভাবে সম্মানীর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এ ছাড়া আগামী ২৫ বছরে সারা দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনাও নিয়েছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসব কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের মানুষের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। আজ আমাদের শপথ নিতে হবে।

এ সময়ে হাজার হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থক হাত তুললে প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাজারো-লক্ষ মানুষ দেশ গড়ার জন্য আছেন…আলহামদুলিল্লাহ। আসুন, আজকে আমাদের প্রতিশ্রুতি হবে—‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’। কারণ এদেশ আপনার, এদেশ আমার, এদেশ আমাদের সকলের, সকল বাংলাদেশির।

তিনি আরও বলেন, আমাদের চোখের সামনে দিয়ে গত ৫০ বছর পৃথিবীর অনেক দেশ তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন করেছে, পৃথিবীর অনেক দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন হয়েছে। যেই সিঙ্গাপুরকে নিয়ে আমরা মাঝে মাঝে গল্প করি, সেই সিঙ্গাপুরের অবস্থা ১৯৭১ সালে আমাদের চেয়েও খারাপ ছিল। আজ ৫০ বছরে তারা কোথায় চলে গিয়েছে! তারা যদি পারে আমরা কেন পারবো না? ইনশাল্লাহ আমরাও পারবো; এ দেশের মানুষ পারবে।

দীর্ঘ ১৯ বছর পর রাষ্ট্র ক্ষমতায় ফেরার পর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটাই তারেক রহমানের প্রথম যশোর সফর। তার এই সফর ঘিরে স্থানীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ছিল ব্যাপক উচ্ছ্বাস। বিকেল সাড়ে চারটার পর তিনি সভামঞ্চে উপস্থিত হয়ে হাত উঁচিয়ে উপস্থিত জনতার অভিবাদন গ্রহণ করেন। এদিন তিনি শার্শা উপজেলার উলশী খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। নির্বাচনী অঙ্গীকার অনুযায়ী দেশব্যাপী নদী-নালা, খাল ও জলাধার খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়।

এর আগে হরিনারবিলে পাঁচশ শয্যার যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর ফলক উন্মোচন এবং দড়াটানায় যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি ভবনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় খনন করা উলশী খালটির বর্তমান জরাজীর্ণ অবস্থার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই চার কিলোমিটার খাল পুনঃখনন করা হলে স্থানীয় প্রায় ১৮ হাজার কৃষক সরাসরি উপকৃত হবেন। প্রায় ১ হাজার ৪০০ টন বাড়তি খাদ্যশস্য উৎপাদিত হবে এবং ৭২ হাজার মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটবে। খাল খননের পর দুই পাড়ে তিন হাজার গাছ লাগানো হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যারা জান্নাতের টিকিট বিক্রি করেছে, তারা এখন বিএনপিকে ফ্যাসিবাদের দোসর বলে। যারা বক্তব্যে জোরে জোরে কথা বলে তারাই ফ্যাসিবাদের সাথে এখন বিভিন্ন জায়গায় মিটিং করছে। বিএনপির নানা উন্নয়ন পরিকল্পনা দেশের কিছু মানুষ ও দল বাধাগ্রস্তের চেষ্টা করছে। তবে দেশের মানুষের শান্তি নষ্ট করার সুযোগ কাউকে দেবে না বিএনপি। ১৭৩ দিন হরতালের সুযোগ দেব না।

সরকার প্রধান আরও বলেন, জনগণের ন্যায্য অধিকার বাস্তবায়ন করাই এই সরকারের মূল অগ্রাধিকার। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি দেশ পুনর্গঠনে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার নির্দেশনা দেন। তিনি রাজনৈতিক স্বার্থে গণভোট ও জুলাই সনদকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে এমন ব্যক্তিদের প্রশ্রয় না দিতে জনগণের প্রতি আহ্বান জানান।

জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেরুল হক সাবুর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নার্গিস বেগম, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহেদ আলম, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ প্রমুখ।


জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধন অপরিহার্য : চিফ হুইপ

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
বিশেষ প্রতিবেদক

জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধন অপরিহার্য বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি। বলেছেন, ‘জুলাই সনদের অঙ্গীকার অনুযায়ী রাষ্ট্রীয় সংস্কার এবং জনগণের ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে সংবিধান সংশোধন করা ছাড়া বর্তমান সরকারের সামনে আর কোনো পথ খোলা নেই। এই নির্বাচনে যারা জনগণের ম্যান্ডেট পেয়েছে, তাদের মূল লক্ষ্যই হলো জুলাই সনদের প্রতিটি লাইন, সেমিকোলন ও দাঁড়ি-কমা হুবহু বাস্তবায়ন করা।’

সোমবার (২৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চিফ হুইপ এসব কথা বলেন। মতবিনিময় সভায় হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপু, জি কে গউছ ও আখতারুজ্জমান মিয়া উপস্থিত ছিলেন।

চিফ হুইপ দেশের সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তার ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মূল দর্শন হলো দেশের প্রতিটি মানুষের মুখে খাবার তুলে দেয়া এবং কামার, কুমার, তাঁতী, স্বর্ণকারসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা।’

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, ‘যদি আপনার ভাই কাজ না পায় এবং প্রতিবেশী না খেয়ে থাকে, তবে সেই রাষ্ট্রের সার্থকতা কোথায়? মানুষের জীবনের প্রথম মৌলিক চাহিদা হলো অন্ন। এই চাহিদা পূরণের জন্যই দেশে গণতন্ত্রের সুবাতাস থাকা প্রয়োজন। গণতান্ত্রিক পরিবেশ থাকলে এবং সামাজিকভাবে স্থিতিশীলতা বজায় থাকলে মানুষ অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পায়। যদি দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ না থাকে, তবে সাধারণ রিকশাচালক থেকে শুরু করে বড় ব্যবসায়ী কারো জীবনেরই নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না।’

রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে নূরুল ইসলাম মণি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর একটি বিশেষ শাসনামলে এ দেশের মানুষের ওপর চরম অত্যাচার চালানো হয়েছিল। সেই সময় বিচার বিভাগের কোনো স্বাধীনতা ছিল না এবং সংবাদপত্রের কণ্ঠরোধ করে মাত্র চারটি পত্রিকা চালু রাখা হয়েছিল। বাকশালের সেই অন্ধকার সময়ে মানুষের কথা বলার অধিকার কেড়ে নেয়া হয়েছিল। সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছিলেন এবং দুর্ভিক্ষপীড়িত একটি জাতিকে তিন বছরের মাথায় খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেছিলেন। পরে বেগম খালেদা জিয়াও ধ্বংসপ্রায় অর্থনীতি ও গণতন্ত্রকে সোজা করার কাজ করেছেন। কিন্তু বিগত দেড় দশকের শাসনামলে দেশের গণতন্ত্র ও অর্থনীতিকে আবারো চূর্ণ-বিচূর্ণ করে দেয়া হয়েছে। ২৭ লাখ কোটি টাকা দেশ থেকে পাচার হওয়ার ফলে অর্থনীতি এখন এক ভঙ্গুর অবস্থার মুখে দাঁড়িয়েছে।’ রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

জুলাই সনদ ও সংবিধান সংশোধন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বর্তমানে সংসদ সংবিধানের ১১৫ নম্বর অনুচ্ছেদ ও ১৫৩টি আর্টিকেলের ভিত্তিতেই পরিচালিত হচ্ছে। এমনকি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও নির্বাচন কমিশনও এই সংবিধানের ভিত্তিতেই শপথ নিয়েছে। কিন্তু জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে এই সংবিধান সংশোধন করার বিকল্প নেই।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের নেতা তারেক রহমান জুলাই সনদের প্রতিটি শর্ত মেনে চলার বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সংসদে বর্তমানে ২২০ জন নতুন সদস্য রয়েছেন যাদের সংসদীয় রীতি-নীতি সম্পর্কে শিখতে আরো কয়েকটা অধিবেশন সময় লাগবে। তবে বিরোধীদের মধ্যেও অনেক চৌকস ও শিক্ষিত সদস্য আছেন। তাদের গঠনমূলক অংশগ্রহণ এবং জুলাই সনদের আলোকে কমিশন ও সংসদীয় কমিটির মাধ্যমে আমরা রাষ্ট্রীয় সংস্কারের কাজ এগিয়ে নেব।’

চিফ হুইপ বর্তমান সরকারের কর্মতৎপরতা তুলে ধরে বলেন, ‘মাত্র ২ মাস ১২ দিন বয়সে সরকার প্রতিটি সেক্টরে পরিবর্তনের ছোঁয়া দিয়েছে। ১০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ, কৃষি কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ডের মতো যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। মাত্র ৫ দিনে ১৩৩টি অর্ডিন্যান্সের ওপর কাজ করা একটি অসম্ভব কাজ ছিল, যা এই সরকার করে দেখিয়েছে। সরকার প্রধান সকাল ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত একটানা কাজ করে রাষ্ট্রকে একটি কাঠামোর ওপর দাঁড় করানোর চেষ্টা চলছে।’

সাংবাদিকদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে চিফ হুইপ বলেন, ‘গণতন্ত্রের যে গাছটি আমরা রোপণ করেছি, সেটি পানি দিয়ে বড় করার দায়িত্ব আপনাদেরও। আপনাদের ৫ হাজার সাংবাদিকের কলম ও চিন্তা একটি দেশকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে।’ তাই দেশের স্বার্থে এবং গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।


১ মে থেকে মাদকের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ১ মে থেকে সারাদেশে মাদক, জুয়া ও অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে সমন্বিত এবং কঠোর সাঁড়াশি অভিযানে নামবে সরকার। এই অভিযানে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ।

সোমবার (২৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এই ঘোষণা দিয়েছেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ নোটিশের জবাব দেন মন্ত্রী।

নোয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নুল আবেদীন ফারুক রাজধানীর অভিজাত এলাকায় আবাসিক ভবন ও রেস্টুরেন্টের আড়ালে অবৈধ ‘সিসা লাউঞ্জ’ পরিচালনার বিষয়টি উত্থাপন করলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তার জবাবে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘জাতির কাছে আমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দেশে মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আগামী ৩০ এপ্রিল সংসদের অধিবেশন শেষ হওয়ার পর আমরা সারাদেশে একটি সুসমন্বিত অভিযান পরিচালনা করব। যুবসমাজকে বাঁচাতে এর কোনো বিকল্প নেই।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলকে অভিযুক্ত করে বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি ও প্রশাসনের কতিপয় কর্মকর্তার ছত্রচ্ছায়ায় গুলশান, বনানী, ধানমন্ডি ও উত্তরার মতো এলাকায় অবৈধ সিসা বার ও মাদক স্পট গড়ে উঠেছিল। বর্তমানে এসব স্থানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও পুলিশ নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে। গত ১৬ ও ২০ এপ্রিল রাজধানীর গুলশানসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ সিসা ও সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।

অভিজাত এলাকায় ঠিকানা পরিবর্তন করে বা প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে যাতে কেউ অবৈধ ব্যবসা করতে না পারে, সে জন্য গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি কোনো পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে এসব অবৈধ ব্যবসায় মদত দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

মন্ত্রী জানান, এরই মধ্যে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের মাধ্যমেও ট্রেড লাইসেন্সবিহীন এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে বন্ধের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। ৩০ এপ্রিলের পর শুরু হতে যাওয়া এই বিশেষ অভিযানে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অংশ নেবে বলে সংসদকে আশ্বস্ত করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।


প্রস্তুতি শেষ হলেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন: স্থানীয় সরকারমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক 

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিষয়টি সরকার সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি শেষ হলে স্থানীয় সরকার পর্যায়ে নির্বাচনী প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু হবে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রী এ কথা জানান। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার আরেকটি প্রশ্নের জবাবে বিএনপির মহাসচিব বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ধাপে ধাপে হয়।

মন্ত্রী আরও জানান, এতে ১০ মাস থেকে এক বছর সময় লাগে। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার জন্য ভোটার তালিকা প্রস্তুত, নির্বাচনী সামগ্রী সংগ্রহ, ধর্মীয় উৎসব, পাবলিক পরীক্ষা, আবহাওয়া, ভোটকেন্দ্র চূড়ান্তকরণ ও মেরামত, নির্বাচনী কর্মকর্তাদের নির্বাচন ও প্রশিক্ষণ ইত্যাদি বিষয় বিবেচনায় নিতে হয়। তফসিল-পূর্ব প্রস্তুতির জন্য অন্তত ৪৫ দিন সময় প্রয়োজন।

নতুন দুই বিভাগ সম্পর্কে তিনি জানান, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে ফরিদপুর ও কুমিল্লা নামে দুটি নতুন বিভাগ গঠনের সুপারিশ করে।

প্রস্তাব অনুযায়ী, বর্তমান ঢাকা বিভাগের পাঁচটি জেলা—ফরিদপুর, মাদারীপুর, রাজবাড়ী, গোপালগঞ্জ ও শরীয়তপুর নিয়ে ফরিদপুর বিভাগ গঠনের কথা বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাস সংক্রান্ত জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির (নিকার) সভায় নেওয়া হবে।

ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে মির্জা ফখরুল বলেন, ২০১৮ সালের জুলাই থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত ৩ হাজার ৮২৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ১ লাখ ৫০ হাজার ইভিএম কেনার একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ডেলিগেটেড পারচেজ পদ্ধতিতে ইভিএমগুলো সংগ্রহ করা হয়। গত বছরের ১৩ মে প্রকল্প সমাপ্তি প্রতিবেদন বাস্তবায়ন মূল্যায়ন বিভাগে পাঠানো হলেও, এখনো মূল্যায়ন প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি।

তিনি জানান, অডিট বিভাগ প্রকল্পটি নিয়ে আপত্তি তুলেছে, যা এখনো নিষ্পত্তি হয়নি। দুর্নীতি দমন কমিশনও বর্তমানে বিষয়টি তদন্ত করছে।

নির্বাচন কমিশন কোনো জাতীয় বা স্থানীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। বলেন, ইভিএমগুলো বর্তমানে বিভিন্ন গুদাম, বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরি (বিএমটিএফ) ও নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের বেজমেন্টে সংরক্ষিত রয়েছে।


গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিতে সরকার বদ্ধপরিকর: তথ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, বর্তমান সরকার গণমাধ্যমের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিতে বদ্ধপরিকর। একইসঙ্গে ভুল তথ্য ও অপতথ্যের ঝুঁকি থেকে জনগণকে সুরক্ষা দেওয়াও সমান জরুরি। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে তথ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে এ কথা বলেন তিনি। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর অফিস কক্ষে সাক্ষাৎ করেন মার্কিন দূত।

সাক্ষাতে পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারসহ দুই দেশের গণমাধ্যম, সংস্কৃতি ও জ্ঞানভিত্তিক সহযোগিতা বৃদ্ধি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকে তথ্যমন্ত্রী বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলোকে একটি নিয়মনীতি ও শৃঙ্খলার মধ্যে আনার ওপরও জোর দেন।

তিনি বলেন, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহার রোধে বিশ্বের সকল দেশকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। মন্ত্রী সংবাদপত্রের স্বাধীনতার পাশাপাশি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিতে প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।

জহির উদ্দিন স্বপন মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে জানান, সরকার গণমাধ্যমের বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে নিয়মিত বৈঠক করছে। এসব বৈঠক থেকে পাওয়া প্রস্তাব পর্যালোচনা করে কার্যকর একটি কর্মপরিকল্পনা বা ‘রোডম্যাপ’ তৈরি করা হবে। এক্ষেত্রে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কারিগরি ও পেশাদার সহযোগিতা কামনা করেন।

এসময় মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানান, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও পেশাজীবীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন বিশেষায়িত ক্যাটাগরিতে নিয়মিত বৃত্তি দিয়ে থাকে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের তরুণ সমাজ ও পেশাজীবীরা বিশেষভাবে উপকৃত হতে পারেন।

বৈঠকে তথ্যমন্ত্রী সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় দুই বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মার্কিন দূতাবাসের প্রতিনিধি দল এসময় তথ্যমন্ত্রীকে অবহিত করেন যে ওই ঘটনায় অভিযুক্ত হত্যাকারীকে ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

বৈঠকে মার্কিন দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


banner close