রোববার, ২৪ মে ২০২৬
১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজ

বাঙালির আত্মপরিচয়ের দিন

ছবি: দৈনিক বাংলা
আপডেটেড
২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ০০:০৬
ফারাজী আজমল হোসেন
প্রকাশিত
ফারাজী আজমল হোসেন
প্রকাশিত : ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ০০:০৬

বাঙালির অধিকার আদায়ের রক্তস্নাত ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিবহ মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস আজ। ইতিহাসের পাতায় রক্ত পলাশ হয়ে ফোটা সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, সফিউরসহ নাম না জানা অসংখ্য শহীদের রক্তে রাঙানো এ দিনটি বাঙালি জাতির মননে অনন্য মহিমায় চিরভাস্বর হয়ে আছে।

মাতৃভাষা আন্দোলনের ৭২ বছর পূর্ণ হলো এ বছর। অমর একুশে ফেব্রুয়ারি আমাদের জাতিসত্তা ও ভাষাভিত্তিক স্বাতন্ত্র্য রক্ষাসহ সব সংগ্রাম ও আন্দোলনের উৎস ও প্রেরণা। ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমেই বাঙালি জাতীয়তাবাদের উম্মেষ ঘটে এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতার বীজ রোপিত হয়।
মাথা নত না করার চির প্রেরণার অমর একুশের এ দিনে কোটি কণ্ঠে উচ্চারিত হচ্ছে একুশের অমর শোকসংগীত ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/ আমি কি ভুলিতে পারি...।’

রাজধানী ঢাকায় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ এবং বিভিন্ন স্থানে আলোচনা সভাসহ নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে একুশের মহান শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হচ্ছে।

দিনের প্রথম প্রহরে অর্থাৎ রাত ১২টা ১ মিনিটে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্য দিয়ে একুশের কর্মসূচি শুরু হয়েছে। প্রথমে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

দিবসটি পালনে কালো ব্যাজ ধারণ, প্রভাতফেরি সহকারে আজিমপুর কবরস্থানে শহীদদের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও শ্রদ্ধা জানানো হবে।

১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি-বিষয়ক সংস্থা (ইউনেসকো) মহান একুশের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে দিবসটি পালিত হচ্ছে।

একুশে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণার বিষয়ে প্রাথমিক উদ্যোগ গ্রহণ করেন কানাডাপ্রবাসী মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম এবং কানাডার বহুভাষিক ও বহুজাতিক সংগঠন ‘মাতৃভাষা প্রেমিক গোষ্ঠী’। কিন্তু বাস্তবে এ সাফল্য এসেছে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা শেখ হাসিনার গুরুত্বপূর্ণ ও সময়োপযোগী উদ্যোগ গ্রহণের ফলে। তারই ত্বরিত প্রচেষ্টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে নির্ধারিত সময়ে ইউনেসকোয় এ প্রস্তাব প্রেরিত হলে তা সর্বসম্মতভাবে গৃহীত হয়।

বাঙালি জাতির জন্য এই দিবসটি হচ্ছে চরম শোক ও বেদনার। অন্যদিকে মায়ের ভাষা বাংলার অধিকার আদায়ের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত। যে কোনো জাতির জন্য সবচেয়ে মহৎ ও দুর্লভ উত্তরাধিকার হচ্ছে মৃত্যুর উত্তরাধিকার- মরতে জানা ও মরতে পারার উত্তরাধিকার। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি শহিদরা জাতিকে সে মহৎ ও দুর্লভ উত্তরাধিকার দিয়ে গেছেন।

১৯৫২ সালের এই দিনে ‘বাংলাকে’ রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে বাংলার (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ছাত্র ও যুবসমাজসহ সর্বস্তরের মানুষ সে সময়ের শাসক গোষ্ঠীর চোখ-রাঙানি ও প্রশাসনের ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমে আসে। মায়ের ভাষা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে দুর্বার গতি পাকিস্তানি শাসকদের শঙ্কিত করে তোলায় সেদিন ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত ও রফিক গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন।

মহান শহীদ দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাণী দিয়েছেন।

আজ সরকারি ছুটির দিন। অর্ধনমিত রাখা হবে জাতীয় পতাকা। একই সঙ্গে সর্বত্র ওড়ানো হবে শোকের কালো পতাকা। সংবাদপত্র, টেলিভিশন ও বেতারে ভাষা দিবসের বিশেষ ক্রোড়পত্র ও অনুষ্ঠানমালা প্রচার করা হচ্ছে। সংবাদপত্রসমূহে ক্রোড়পত্র প্রকাশের ক্ষেত্রে ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর অবদানের বিষয়টি বিশেষভাবে উপস্থাপন করা হবে।

দিবসটি পালন উপলক্ষে জাতীয় অনুষ্ঠানের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনসমূহ বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

আজিমপুর কবরস্থানে ফাতেহা পাঠ ও কোরআনখানির আয়োজনসহ দেশের সব উপাসনালয়ে ভাষাশহিদদের রুহের মাগফেরাত কামনায় প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ মিশনসমূহ শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাণী পাঠ, বঙ্গবন্ধু ও ভাষা আন্দোলন-বিষয়ক আলোচনা সভা, পুস্তক ও চিত্র প্রদর্শনীসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করবে যেখানে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক এবং বাঙালি অভিবাসীদের আমন্ত্রণ জানানো হবে।

এ ছাড়া দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপন উপলক্ষে ঢাকা শহরের বিভিন্ন সড়কদ্বীপ সমূহ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সুবিধাজনক স্থানসমূহে বাংলাসহ অন্যান্য ভাষার বর্ণমালা-সংবলিত ফেস্টুন দ্বারা সজ্জিত করা হয়েছে। একুশের বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার এবং ভাষাশহিদদের সঠিক নাম উচ্চারণ, শহিদ দিবসের ভাবগাম্ভীর্য রক্ষা, শহিদ মিনারের মর্যাদা সমুন্নত রাখা, সুশৃঙ্খলভাবে শহিদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ ইত্যাদি জনসচেতনতামূলক বিষয়ে সরকারি ও বেসরকারি গণমাধ্যমসমূহে প্রয়োজনীয় প্রচারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন নানা কর্মসূচি গ্রহণ করছে। এ উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দুই দিনব্যাপী বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে একুশের প্রথম প্রহরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদনের পর কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুস্পার্ঘ্য অর্পণ, সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ভবনসহ সারা দেশে সংগঠনের সব কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন, কালো ব্যাজ ধারণ এবং প্রভাতফেরি।

এ ছাড়া আগামীকাল বৃহস্পতিবার বিকাল ৩টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে সভাপতিত্ব করবেন।


ডিএনসিসির ৩ হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মী পেলেন প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রায় ৩ হাজার পরিচ্ছন্নতাকর্মীর হাতে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে ঈদ উপহারের চেক তুলে দেওয়া হয়েছে। রোববার দুপুরে রাজধানীর গুলশান-২ এ অবস্থিত নগরভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাদের হাতে এই উপহারের চেক হস্তান্তর করা হয়। উপহার হিসেবে প্রত্যেক পরিচ্ছন্নতাকর্মীকে ৫ হাজার টাকার চেক প্রদান করা হয়েছে।

ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উপহারের চেক তুলে দেন ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রশাসক বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবসময় পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কথা ভাবেন এবং তাদের কষ্ট ও শ্রমকে মূল্যায়ন করেন বলেই ধারাবাহিকভাবে ঈদ উপহার প্রদান করছেন। ঈদুল আজহায় কোরবানির কারণে পুরো নগরে অতিরিক্ত বর্জ্যের সৃষ্টি হয়। এই সময় নগরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে আমাদের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিরলসভাবে কাজ করেন। তাদের কষ্টের কথা বিবেচনা করেই প্রধানমন্ত্রী তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।’

পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের কাজের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠে কাজ শুরু করেন। অনেক সময় সকালে নাস্তাও করতে পারেন না। ঢাকা শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা আপনাদের। আপনারা যদি কাজ না করেন তাহলে নগর সুন্দর থাকবে না, দুর্গন্ধমুক্ত থাকবে না। আপনারা আমাদের প্রাণ, আপনারা আমাদের শক্তি। আপনারাও সিটি করপোরেশনের অংশীদার। এই নগর আপনাদেরও। নগরকে পরিষ্কার রাখার সর্বোচ্চ দায়িত্ব আপনাদের কাঁধেই।’

সবুজ ও পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়তে নাগরিক সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করে শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গ্রিন ঢাকা ও ক্লিন ঢাকা গড়তে শুধু সিটি করপোরেশনের প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়। নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে। রাস্তাঘাটে যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলে পরিচ্ছন্ন নগর গঠনে সবাইকে সহযোগিতা করতে হবে।’

ঈদ ও বর্ষা মৌসুম সামনে রেখে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহারের নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘বৃষ্টির সময় যাতে দ্রুত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও জলাবদ্ধতা নিরসন কার্যক্রম পরিচালনা করা যায় সে লক্ষ্যে সিটি করপোরেশন প্রস্তুত রয়েছে।’ এ সময় তিনি পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের জন্য পূর্বে দেওয়া রেইনকোট ব্যবহার করারও আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে ডিএনসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর এই উপহার আসন্ন কোরবানির ঈদে যারা নগর পরিচ্ছন্নতার কাজ করবেন তাদের উদ্যম আরও বাড়িয়ে দেবে। পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা আরও মনোযোগ দিয়ে কাজ করবেন এবং নগরবাসী যাতে কোরবানির বর্জ্যে ভোগান্তিতে না পড়েন সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রকিবুল হাসানসহ সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ঈদুল আজহা ও গ্রীষ্মকালীন ছুটির সময়সূচিতে পরিবর্তন

আপডেটেড ২৪ মে, ২০২৬ ২২:০৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

ঈদুল আজহা এবং গ্রীষ্মকালীন অবকাশ উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি কলেজসহ দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটির তালিকায় সংশোধনী আনা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে এই সংশোধিত ছুটির তালিকা প্রকাশ করেছে।

সংশোধিত নতুন তালিকা অনুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি কলেজগুলোতে ঈদুল আজহার ছুটি গত শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে এবং এই ছুটি আগামী ৬ জুন পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলো বাদ দিয়ে এই তালিকায় মোট ১০ দিনকে দাপ্তরিক বা একাডেমিক ছুটি হিসেবে গণনা করা হয়েছে। তবে সাপ্তাহিক ছুটিসহ কলেজগুলোতে মোট ১৬ দিন ছুটি থাকবে। উল্লেখ্য, গত ৩০ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত আগের তালিকায় ছুটির সময়কাল ছিল ২৪ মে থেকে ৪ জুন পর্যন্ত।

অন্যদিকে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রকাশিত ২০২৬ সালের শিক্ষাপঞ্জি অনুযায়ী, দেশের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় এবং কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ২৪ মে থেকে ছুটি শুরুর কথা থাকলেও সাপ্তাহিক ছুটির কারণে গত ২১ মে বৃহস্পতিবার ছিল শেষ কর্মদিবস। এসব প্রতিষ্ঠানে আগামী ৪ জুন পর্যন্ত ছুটি চলবে এবং ৫ ও ৬ জুনের সাপ্তাহিক ছুটি শেষে ৭ জুন রোববার থেকে নিয়মিত পাঠদান শুরু হবে। এই পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা সাপ্তাহিক ছুটিসহ টানা ১৬ দিনের অবকাশ পাচ্ছে।

মাদ্রাসা পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য রাখা হয়েছে দীর্ঘ ছুটি। আলিয়া, দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল স্তরের মাদ্রাসাগুলোতে গত ২৪ মে থেকে শুরু হওয়া এই ছুটি আগামী ১১ জুন পর্যন্ত চলবে। ১২ ও ১৩ জুনের সাপ্তাহিক ছুটি শেষে ১৪ জুন রোববার থেকে এসব মাদ্রাসায় ক্লাস শুরু হবে। ফলে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা এবার প্রায় ২৩ দিনের ছুটি উপভোগ করতে পারবে।


ঈদযাত্রায় বাড়তি সতর্কতা, চালকদের জন্য ডিএমপির কঠোর নির্দেশনা

আপডেটেড ২৪ মে, ২০২৬ ২২:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীদের জন্য আজ সোমবার থেকে শুরু হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহার টানা সাত দিনের ছুটি। তবে পরিবারের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে অনেকেই রোববার অফিস শেষ করেই বাড়ির পথে রওনা হবেন।

প্রতি বছর বিপুল সংখ্যক ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা দুর্ঘটনা ও নানা অব্যবস্থাপনার কারণে ভোগান্তিপূর্ণ হয়ে ওঠে। এসব দুর্ভোগ কমাতে পরিবহন মালিক, শ্রমিক ও যাত্রীদের জন্য একগুচ্ছ বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। গতকাল রোববার ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এসব নির্দেশনা দেওয়া হয়।

গণবিজ্ঞপ্তিতে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, বাসযাত্রার নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী টার্মিনাল থেকে বাস ছাড়তে হবে। যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত ভাড়ার অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা যাবে না। যাত্রীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার বা হয়রানি করা যাবে না। একই আসন একাধিক যাত্রীর কাছে বিক্রি করা যাবে না।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সিটের অতিরিক্ত যাত্রী বা বাসের ছাদে যাত্রী বহন করা যাবে না। পণ্য ও পশুবাহী যানবাহনে, বিশেষ করে ফেরার পথে যাত্রী পরিবহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। চালকদের গতিসীমা মেনে গাড়ি চালাতে হবে এবং বেপরোয়া বা অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো যাবে না।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ওভারটেকিং নিষিদ্ধ এলাকা, রাস্তার বাঁক ও সরু সেতুতে ওভারটেকিং করা যাবে না। নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করে, ঘুমঘুম ভাব নিয়ে কিংবা শারীরিক অসুস্থ অবস্থায় গাড়ি চালানো নিষিদ্ধ। বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স ও হালনাগাদ কাগজপত্র ছাড়া গাড়ি চালানো যাবে না। গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন বা ইয়ারফোন ব্যবহার করা যাবে না এবং উচ্চস্বরে গান বাজানোও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। উল্টো পথে গাড়ি চালানো যাবে না। চালক নিয়োগের আগে তার ড্রাইভিং লাইসেন্সের বৈধতা যাচাই করতে হবে।

ডিএমপি আরও জানিয়েছে, মালিকপক্ষ কোনো চালককে একটানা পাঁচ ঘণ্টা এবং দিনে আট ঘণ্টার বেশি গাড়ি চালাতে বাধ্য করতে পারবে না।

যাত্রীদের জন্য দেওয়া নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সড়কের যত্রতত্র দাঁড়িয়ে বাসে না উঠে নির্দিষ্ট টার্মিনাল বা কাউন্টার থেকে বাসে উঠতে হবে। অপরিচিত কারও দেওয়া খাবার বা পানীয় গ্রহণ না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

নিজেদের মালামাল নিজ দায়িত্বে রাখতে হবে এবং বাস ছাড়ার নির্ধারিত সময়ের আগেই কাউন্টার বা টার্মিনালে উপস্থিত হতে হবে। এছাড়া চলন্ত গাড়িতে ওঠানামা করা এবং পণ্যবাহী বা পশুবাহী যানবাহনে যাত্রী হিসেবে ভ্রমণ না করারও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

পথচারীদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, জেব্রা ক্রসিং, ফুটওভারব্রিজ ও আন্ডারপাস ব্যবহার করে রাস্তা পারাপার করতে হবে। দৌড়ে বা মোবাইল ফোনে কথা বলতে বলতে রাস্তা পারাপার না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। পাশাপাশি ফুটপাত ব্যবহার করে চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

জরুরি প্রয়োজনে টার্মিনালের পুলিশ কন্ট্রোল রুম বা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ যোগাযোগ করতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ডিএমপি।


হাম ও উপসর্গে একদিনে সর্বোচ্চ ১৬ শিশুর মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৫২৮

আপডেটেড ২৪ মে, ২০২৬ ১৮:৫৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশজুড়ে গত ২৪ ঘণ্টায় (রবিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) হামের উপসর্গে আরও ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও উপসর্গে মারা গেছে ৫২৮ শিশু। আজ রবিবার (২৪ মে) স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গেই ১৬ জন মারা গেছে। ঢাকায় সর্বোচ্চ ১০, ময়মনসিংহে দুই এবং রাজশাহী, রংপুর, বরিশাল ও সিলেটে একজন করে মারা গেছে। এ সময় নতুন করে ১ হাজার ৪৩৪ জনের শরীরে হাম ও এর উপসর্গ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১২৮ জনের নিশ্চিত হাম শনাক্ত হয়েছে। আর হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে ১ হাজার ৩০৬ জনের শরীরে।

এতে আরও বলা হয়, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত এ নিয়ে সন্দেহজনক হামে ৪৪২ জন ও নিশ্চিত হামে ৮৬ জন মারা গেছে। একই সময়ে সারা দেশে হাম সন্দেহে ৫০ হাজার ৫৫৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়। তাদের মধ্যে এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ৪৬ হাজার ২১৪ জন ছাড়পত্র পেয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য বলছে, চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে ৬৩ হাজার ৮১৩ শিশুর। আর এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়েছে ৮ হাজার ৬২২ জন।


পাঁচ থেকে সাত দিনের ভেতরে রামিসা হত্যার বিচারকার্য শেষ হতে পারে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বিএসআরএফ সংলাপে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। ছবি: সগৃহীত
আপডেটেড ২৪ মে, ২০২৬ ১৪:৪৪
নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আজ রবিবারই আদালতে অভিযোগপত্র বা চার্জশিট দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, বিশেষ এই আদালতে মাত্র ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে পুরো বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। আজ রবিবার এক ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘রামিসার ঘটনায় চার্জশিট আজই। বিশেষ এই আদালতে ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যে বিচারকাজ সম্পন্ন করা হবে। যদিও আদালতের বিষয় এটি। আশা করছি, আদালত সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করবেন।’ পুলিশ ইতোমধ্যেই চার্জশিটের কারিগরি প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন করছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এই মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে সরাসরি অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্ত স্বপ্না আক্তারকে ইতোমধ্যে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে হাজির করা হয়েছে। উল্লেখ্য যে, গত বুধবার প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতের বিচারকের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। জবানবন্দিতে সে উল্লেখ করেছে যে, ঘটনার আগে মাদক সেবন করে সে হিতাহিত জ্ঞান হারিয়ে ফেলে এবং এরপরই শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে।

পুলিশি জেরায় সোহেল রানা আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করেছে। সে জানায়, ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের সময় সে তার স্ত্রী স্বপ্নাকে একটি নির্দিষ্ট কক্ষে আটকে রেখেছিল। পরবর্তীতে লাশ টুকরা করে গুম করার প্রস্তুতি নেওয়ার সময় রামিসার পরিবার ও এলাকাবাসী ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। জনরোষ থেকে বাঁচতে সোহেল ও তার এক সহযোগী জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও স্বপ্নাকে স্থানীয়রা হাতেনাতে ধরে ফেলেন। বর্বরোচিত এই ঘটনার দ্রুত বিচার ও দোষীদের ফাঁসির দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে সাধারণ মানুষ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুততম সময়ে বিচার নিশ্চিত করার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


জাতীয় সংসদ ভবনে নবায়নযোগ্য সৌরবিদ্যুৎ অন-গ্রিড রুফটপ কার্যক্রমের উদ্বোধন

জাতীয় সংসদ ভবনে সৌরবিদ্যুৎ অন-গ্রিড রুফটপ কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথিরা। ছবি: সংগৃহীত
আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদ ভবনে পরিবেশবান্ধব নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহারের এক নতুন মাইলফলক হিসেবে ‘সৌরবিদ্যুৎ অন-গ্রিড রুফটপ’ প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার (২৪ মে) সংসদ ভবনের শপথ কক্ষ হলে আয়োজিত এক আড়ম্বরপূর্ণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ অনুরোধে জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ এই আধুনিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সাথে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এবং জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। এই প্রকল্পটি সংসদ ভবনের অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎ চাহিদার একটি অংশ মেটানোর পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডেও অবদান রাখতে সক্ষম হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসার এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর ক্ষেত্রে সরকারের অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে এই উদ্যোগকে দেখা হচ্ছে।

এছাড়া সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, জাতীয় সংসদের হুইপরা, সংসদ সদস্য, সংসদ সচিবালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের সদস্যরা এবং জাতীয় সংসদে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।


রোহিঙ্গা সংকট জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ সর্বদা শান্তিপূর্ণ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই অভিবাসনে বিশ্বাসী উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, রোহিঙ্গা সংকট বর্তমানে একটি জটিল ও স্পর্শকাতর ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। এটা আমাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।

শনিবার (২৩ মে) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেজনাইকের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় মন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকট নিরসন ও জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন।

দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে দেশের আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি, রোহিঙ্গা সংকট নিরসন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণ, টেকসই উন্নয়ন অভিষ্ট (এসডিজি) বাস্তবায়ন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধিসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ও দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

রোহিঙ্গা সংকটের কথা উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জাতিসংঘ শুরু থেকেই রোহিঙ্গা ইস্যুটিকে বিশ্বসম্প্রদায়ের মনোযোগের কেন্দ্রে রেখেছে, যা অত্যন্ত প্রশংসার যোগ্য এবং আশাব্যঞ্জক।

তিনি বলেন, এই মানবিক ও নিরাপত্তা সংকট মোকাবিলায় জাতিসংঘের ছায়াতলে বাংলাদেশের আরও ব্যাপক ও জোরালো আন্তর্জাতিক সমর্থন এবং বৈশ্বিক তহবিল প্রয়োজন। বর্তমানে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক কয়েকটি সংস্থার মাধ্যমে বলপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের জন্য কয়েকটি মানবিক প্রকল্প চলমান রয়েছে। তবে তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনের কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী বিশ্বের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় দেশ হিসেবে আন্তর্জাতিকভাবে সমাদৃত। জাতিসংঘের বিভিন্ন শান্তিরক্ষা মিশনে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি পুলিশের বিপুল সংখ্যক সদস্য অত্যন্ত নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালন করছেন, যা বৈশ্বিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি ও মর্যাদাকে উজ্জ্বল করেছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে জাতিসংঘের সমর্থন ও সহযোগিতার ভূয়সী প্রশংসা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে জাতিসংঘের দৃশ্যমান ভূমিকার জন্য কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, অদূর ভবিষ্যতে এই সহযোগিতা ও দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্ব আরও গভীর, সুসংহত ও বেগবান হবে।

জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেজনাইক বলেন, জাতিসংঘ বাংলাদেশের সার্বিক উন্নয়ন, সমৃদ্ধি ও জনগণের কল্যাণে অংশীদার হিসেবে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বাংলাদেশের সাথে জাতিসংঘের বিদ্যমান সম্পর্ককে আরও বিস্তৃত ও কার্যকর করার কৌশলগত ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত করতে মন্ত্রীর মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ জানতে চান।

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশের এসডিজি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রাসমূহ সময়মতো বাস্তবায়নে জাতিসংঘের সর্বাত্মক ও নিবিড় সহযোগিতা চেয়েছেন।

রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর প্রতি বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের অবারিত উদারতা ও অনন্য সংহতির ভূয়সী প্রশংসা করে ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেজনাইক বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বাংলাদেশের এই মানবিক দৃষ্টান্ত অত্যন্ত নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

তিনি বাস্তবসম্মত উপলব্ধি ব্যক্ত করে বলেন, এত বিশাল সংখ্যক শরণার্থীর এই দীর্ঘমেয়াদি বোঝা বাংলাদেশের একার পক্ষে বহন করা সম্ভব নয়। এ বিষয়ে বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও বেশি মনোযোগ, কার্যকর চাপ এবং দৃশ্যমান সমর্থন প্রয়োজন বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বৈশ্বিক শান্তি, নিরাপত্তা ও সম্প্রীতি রক্ষায় জাতিসংঘের যেকোনো আহ্বানে সাড়া দিতে বাংলাদেশ সর্বদা অঙ্গীকারাবদ্ধ বলে দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীকে বাংলাদেশে তার দায়িত্ব পালনের জন্য উষ্ণ স্বাগত জানান। আবাসিক সমন্বয়কারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে তার নতুন পোর্টফলিওতে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন।

বৈঠকে বাংলাদেশে জাতিসংঘ আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয়ের হেড অব অফিস লুইস বারবার, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান এবং রাজনৈতিক-১ শাখার উপসচিব বেগম মিনারা নাজমীন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


রামিসা হত্যার ঘটনায় পুরো জাতি শোকাহত ও ক্ষুব্ধ: তথ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও দুঃখজনক। পুরো জাতি এ ঘটনায় শোকাহত এবং ক্ষুব্ধ।

শনিবার (২৩ মে) শেরে বাংলা এ. কে. ফজলুল হক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে আর্থিক সহায়তা প্রদান অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তথ্যমন্ত্রী এ মন্তব্য করেছেন।

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, রামিসাসহ এ ধরনের নৃশংস ঘটনাগুলো অত্যন্ত মর্মান্তিক ও দুঃখজনক। পুরো জাতি এ ঘটনায় শোকাহত এবং ক্ষুব্ধ। জাতির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী নিহত শিশুর পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা, সহানুভূতি ও শোক প্রকাশ করেছেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রচলিত আইনের আওতায় দ্রুততম সময়ে অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করতে সরকার সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

এ সময় তথ্যমন্ত্রী গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, এ ধরনের ঘটনায় জনগণের মধ্যে যে ক্ষোভ ও সচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে, তা গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকার ফল। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের তৈরি জনমতের ভিত্তিতেই সরকার আরও কার্যকর আইন ও ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে, যাতে সমাজ থেকে এ ধরনের ঘৃণ্য অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব হয়।

এদিকে, পাড়ায় মহল্লায় গড়ে ওঠা স্কুল কলেজগুলো যেন সরকারি নীতিমালায় চলে সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো হবে বলে নিশ্চিত করেন তিনি।

পরে আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।


ঈদযাত্রায় ট্রেনে বড় শিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কা নেই: রেলসচিব

আপডেটেড ২৩ মে, ২০২৬ ২২:২৫
নিজস্ব প্রতিবেদক

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ট্রেনের ঈদযাত্রা শনিবার (২৩ মে) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। যাত্রীদের নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ রেলওয়ে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে বলে জানিয়ে রেলসচিব বলেন, বর্তমান প্রস্তুতি অনুযায়ী ঈদযাত্রায় বড় ধরনের শিডিউল বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখছে না কর্তৃপক্ষ।

শনিবার (২৩ মে) কমলাপুর রেলস্টেশন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালকসহ রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

রেলসচিব বলেন, ঈদুল আজহার ঈদযাত্রা আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে। সকাল থেকে বিভিন্ন ট্রেনের শিডিউল ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করেছি। কিছুক্ষণের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা ও অন্যান্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে আরও একটি সভা হবে।

তিনি বলেন, গত ঈদুল ফিতরে সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ভালো ছিল। তবে পশ্চিমাঞ্চলে একটি ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়া এবং কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় লেভেল ক্রসিংয়ে বাসের সঙ্গে দুর্ঘটনার মতো দুটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছিল। এ ছাড়া বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। লোকোমোটিভ সংকট মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতির কথাও তুলে ধরেন রেলসচিব।

তিনি বলেন, মিটারগেজ লোকোমোটিভের কিছু সংকট রয়েছে। তাই আগে থেকেই কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ঈদের সময় ৮৫টি মিটারগেজ লোকোমোটিভ সচল রাখার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্তমানে ৭৮ থেকে ৭৯টি প্রস্তুত রয়েছে। আগামীকাল থেকে তা ৮০টির বেশি হবে বলে আশা করছি।

ট্রেনের ছাদে যাত্রী ওঠা ঠেকাতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী, জিআরপি ও ভ্রাম্যমাণ আদালত মোতায়েন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনগুলোতে ম্যাজিস্ট্রেটসহ ভ্রাম্যমাণ আদালত দায়িত্ব পালন করবে।

স্টেশনে টিকিটবিহীন যাত্রী প্রবেশ ঠেকাতে তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে জানিয়ে রেলসচিব বলেন, টিকিট ছাড়া যাত্রীরা যাতে স্টেশনে ঢুকতে না পারে সেজন্য নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তারাই সাধারণত ভিড় ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।

তিনি আরও বলেন, যাত্রীচাপের কারণে এবারও ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট রাখা হয়েছে। ঈদের সময় বিপুল সংখ্যক মানুষ ঢাকা ছাড়ায় রেলের চাহিদা অনেক বেশি থাকে, যা পুরোপুরি পূরণ করা সম্ভব হয় না।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী, জিআরপি, মেট্রোপলিটন পুলিশ, এপিবিএন, র‌্যাব ও আনসার সদস্যরা একসঙ্গে কাজ করছেন বলেও জানান তিনি। কমলাপুর স্টেশনসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ছিনতাই, পকেটমার ও বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।


বিরোধীদলের ছোট বন্ধুরা আসলে মাদকাসক্ত কি না, সন্দেহ হয়: আলাল

আপডেটেড ২৩ মে, ২০২৬ ২০:৫১
নিজস্ব প্রতিবেদক

বিরোধী রাজনৈতিক দলের কনিষ্ঠ নেতাদের আচরণ দেখে তারা মাদকাসক্ত কি না, এমন সন্দেহ প্রকাশ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। শনিবার (২৩ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবে 'মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে নাগরিক সমাজের ভূমিকা' শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

'অপরাজেয় বাংলাদেশ' আয়োজিত এই সভায় আলাল বলেন, 'মতপার্থক্য গণতন্ত্রের সৌন্দর্য এবং বিএনপি সমালোচনাকে সবসময় ভালোভাবে গ্রহণ করতে চায়। কিন্তু একটি রাজনৈতিক দলের ছোট বন্ধুরা যেভাবে ক্রমাগত আক্রমণাত্মক আচরণ করে যাচ্ছে, তা কোনো সুস্থ ধারার রাজনীতি হতে পারে না।'

রাজনীতিতে সক্রিয় না থাকা সত্ত্বেও প্রধানমন্ত্রীর কন্যাকে নিয়ে অশ্রাব্য ভাষায় সমালোচনা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ প্রসঙ্গে আলাল বলেন, 'যারা এই ধরনের নোংরা সমালোচনা করছে, তাদের মুখের ভাষা ও বডি ল্যাঙ্গুয়েজ দেখে আমাদের সন্দেহ হয়—এরা আসলে মাদকাসক্ত কি না।'

একই সভায় দেশে মাদক চোরাচালান ও বিস্তারের পেছনে রাজনৈতিক প্রভাবকে দায়ী করেন আলাল। তার অভিযোগ, 'শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তির কারণেই দেশ থেকে মাদক নির্মূল করা যাচ্ছে না।' পাশাপাশি সমাজে নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো অপরাধ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ার পেছনে মাদককে অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেন তিনি।


পিরোজপুরে এলজিআরডির মাধ্যমে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়েছে: মির্জা ফখরুল

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিইডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ফ্যাসিস্ট আমলে শুধু পিরোজপুর জেলাতেই এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা লোপাট হয়ে গেছে। বিগত সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পের নামে দুর্নীতির তীব্র সমালোচনা করেন তিনি। এ সময় দেশের এই অর্থ অপচয় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

শনিবার (২৩ মে) ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন অব বাংলাদেশের (আইইবি) ৭৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবর্ধনা ও সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণ এবং দেশের সার্বিক উন্নয়নে প্রকৌশলীদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলেও মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিইডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, আগামী দিনগুলোতে দেশের প্রকৌশলীরা তাদের এই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা যথাযথভাবে পালন করবেন।

বক্তব্যে গুম হওয়া ব্যক্তিদের পরিবারের অধিকার আদায়ে গঠিত প্ল্যাটফর্ম ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম তুলির ভূয়সী প্রশংসা করে মির্জা ফখরুল বলেন, শত বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে এগিয়ে গেছেন সানজিদা ইসলাম তুলি। এই সংগঠনের মাধ্যমে তিনি গুম হওয়া পরিবারগুলোর দুঃখ-দুর্দশা ও ন্যায়বিচারের দাবি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে গেছেন।

আইইবির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এই সমাপনী অনুষ্ঠানে দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রকৌশলী, গবেষক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।


হাম রোগ সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের ঈদে ছুটি হবে না : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

আপডেটেড ১ জানুয়ারি, ১৯৭০ ০৬:০০
নিজস্ব প্রতিবেদক

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশের অন্যান্য সরকারি দপ্তরে ছুটি থাকলেও হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় নিয়োজিত ডাক্তার ও নার্সদের কর্মস্থলে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। শনিবার সচিবালয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে তিনি সাংবাদিকদের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান। মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, “হামের রোগী এবং জরুরি স্বাস্থ্য সেবাতে কোনো ডাক্তারের, নার্সের ছুটি হবে না। থাকতে হবে।” এ সংক্রান্ত একটি বিশেষ সার্কুলার ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট সকল হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি নিশ্চিত করেন।

ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা ও সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মন্তব্য করেন যে, শুধুমাত্র ভ্যাকসিন নিলেই কোনো শিশু শতভাগ নিরাপদ—এমনটা নিশ্চিতভাবে বলা কঠিন। তিনি কলেরার উদাহরণ টেনে বলেন, যদি শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় তবে রোগাক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাঁর মতে, “যদি বেশিভাবে ভাইরাসটা ছড়িয়ে যায়, ক্ষেত্র বিশেষে হতেও পারে। এটা কতটুকু গ্যারান্টি আমি জানি না, আই অ্যাম নট এ সায়েন্টিস্ট, যার কারণে আমি জানি না।” মূলত বর্তমানের প্রাদুর্ভাবের মাত্রা বিবেচনা করে তিনি এই সতর্কতা দিয়েছেন।

ঈদের সময় সংক্রমণের বিস্তার রোধে অভিভাবকদের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, মায়েরা যেন আক্রান্ত শিশুদের নিয়ে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে বা কোনো জনাকীর্ণ স্থানে ভ্রমণ না করেন। হামকে ‘হাইলি ছোঁয়াচে রোগ’ হিসেবে বর্ণনা করে তিনি সতর্ক করেন যে শ্বাস-প্রশ্বাস ও সংস্পর্শের মাধ্যমে এটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃতি দিয়ে মন্ত্রী আরও যোগ করেন, ঈদের ছুটিতে বাসে বা ট্রেনে যাতায়াত এবং সামাজিক মেলামেশার ফলে যদি সুস্থ শিশুরা রোগীদের সংস্পর্শে আসে, তবে দেশে হামের সংক্রমণ ভয়াবহ আকার ধারণ করার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। পরিস্থিতির সংবেদনশীলতা মাথায় রেখে সকলকে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।


ময়মনসিংহের পথে প্রধানমন্ত্রী

ময়মনসিংহের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সগৃহীত
আপডেটেড ২৩ মে, ২০২৬ ১১:৫৩
নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তীর রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিতে ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে রাজধানী ত্যাগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার (২৩ মে) বেলা ১১টা ৫ মিনিটে তেজগাঁওস্থ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তিনি ময়মনসিংহের পথে রওনা হন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সরকারপ্রধানের এই সফরকে ঘিরে ইতিমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

সফরসূচি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী দুপুরে ত্রিশাল উপজেলার বৈলর ইউনিয়নে পৌঁছে গুরুত্বপূর্ণ ‘ধরার খাল’ পুনঃখনন প্রকল্পের উদ্বোধন করবেন। এরপর বিকেল ৩টায় ত্রিশালের ঐতিহাসিক নজরুল একাডেমি মাঠে আয়োজিত কবির জন্মজয়ন্তী অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করবেন তিনি। সাংস্কৃতিক ও রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে বিকেল ৫টায় স্থানীয় নজরুল অডিটোরিয়ামে ময়মনসিংহ উত্তর ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক সাংগঠনিক বৈঠকে মিলিত হওয়ার কথা রয়েছে তাঁর। জনসভা ও বৈঠক শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় প্রধানমন্ত্রীর পুনরায় ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। কবির স্মৃতিধন্য ত্রিশালে প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনমনে ব্যাপক উদ্দীপনা ও উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে যাত্রার আগে প্রধানমন্ত্রী সকালে তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে আয়োজিত অত্যাধুনিক প্রযুক্তির স্পোর্টস কার এবং ইভি (ইলেকট্রিক ভেহিকল) গাড়ির একটি বিশেষ প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি বিভিন্ন মডেলের পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর যানবাহন পর্যবেক্ষণ করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।


banner close