বিশ্বের শক্তিশালী পাসপোর্ট সূচকে এক ধাপ পিছিয়ে ১০২ নম্বর নেমেছে বাংলাদেশের অবস্থান। লন্ডনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান হেনলি অ্যান্ড পার্টনার্স প্রকাশিত সূচকে এ তথ্য উঠে এসেছে। ১৯ বছরের নথির ভিত্তিতে প্রতি বছর হেনলি পাসপোর্ট সূচক প্রকাশিত হয়। নথির ভিত্তিতে ১৯৯টি দেশের পাসপোর্ট নিয়ে এই সূচক তৈরি করা হয়।
এ সূচক তৈরির সময় পৃথিবীর ২২৭টি গন্তব্যে যেতে পারার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হয়। যে দেশের পাসপোর্টধারীরা বিনা ভিসায় সব থেকে বেশি দেশে যাতায়াত করতে পারে, সে দেশের পাসপোর্ট তত শক্তিশালী। বর্তমানে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা অগ্রিম ভিসা ছাড়া ৪২ দেশে ভ্রমণ করতে পারেন।
ভিসা ছাড়া বাংলাদেশিরা যেতে পারবেন যেসব দেশে
অগ্রিম ভিসা না নিয়েও বিশ্বের ৪২টি দেশে যেতে পারবেন বাংলাদেশিরা। এরপর দেশটিতে প্রবেশের আগে বিমানবন্দরে, নৌবন্দর কিংবা স্থলবন্দরে নিয়ে নেওয়া যাবে দেশগুলোর ভিসা। এই দেশগুলো হলো- ভুটান, কম্বোডিয়া, মালদ্বীপ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, পূর্ব তিমুর, বলিভিয়া, বুরুন্ডি, কেপ ভার্দে, কমোরো দ্বীপপুঞ্জ, জিবুতি, গিনি-বিসাউ, লেসোথো, মাদাগাস্কার, মৌরিতানিয়া, মোজাম্বিক, রুয়ান্ডা, সেশেলস, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, গাম্বিয়া, টোগো, কেনিয়া, বাহামা ও বার্বাডোস, ব্রিটিশ ভার্জিন আইল্যান্ড, ডমিনিকা, গ্রানাডা, হাইতি, জ্যামাইকা, মন্টসেরাত, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডাউন, ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো, কুক আইল্যান্ড, ফিজি, মাইক্রোনেশিয়া, নুউয়ে, সামোয়া, টুভালু, ভানুয়াতু এবং কিরিবাতিতে।
নতুন সূচকে সবচেয়ে শক্তিশালী পাসপোর্ট হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে ছয়টি দেশের পাসপোর্ট। এই ৬টি দেশ হচ্ছে: ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, জাপান, সিঙ্গাপুর ও স্পেন। এসব দেশের পাসপোর্টধারীরা ১৯৪ দেশে আগাম ভিসা ছাড়া ভ্রমণ করতে পারবেন।
এদিকে নতুন সূচকে কিছুটা দুর্বল হয়েছে ভারতের পাসপোর্ট। তালিকায় ৮৫তম স্থান পেয়েছে ভারতের পাসপোর্ট। অন্যদিকে, আগের বছরের মতো এবারও ১০৬তম স্থানে রয়েছে পাকিস্তানি পাসপোর্ট।
তবে, দক্ষিণ এশিয়ার আরেক দেশ মালদ্বীপ কিন্তু আগের মতোই সূচকে ৫৮তম স্থানে রয়েছে। মালদ্বীপের পাসপোর্টধারীরা পৃথিবীর ৯৬ দেশে ভিসা ছাড়া যাতায়াত করতে পারবেন।
সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সরকারি ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হওয়া মরিয়ম খাতুনের হাতে লেখা বেশ কয়েকটি পাতায় সম্পর্কের তীব্র টানাপোড়েন, প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ এবং মানসিক যন্ত্রণার করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে। জাতীয় সংসদের অফিশিয়াল প্যাড ও সাধারণ কাগজে লাল-কালো কালিতে লেখা এসব পাতায় নিজের অবস্থান, আক্ষেপ, আত্মমর্যাদা রক্ষার তাগিদ এবং ভবিষ্যৎ পরিণতির হুঁশিয়ারি তুলে ধরেছেন ১৯ বছর বয়সী মরিয়ম।
চিঠির পরতে পরতে ভালোবাসার পাশাপাশি প্রতারিত হওয়ার ক্ষোভ ও নিজেকে নিয়ে হতাশার কথা প্রকাশ পেয়েছে। জাতীয় সংসদের প্যাডে কালো কালিতে লেখা একটি অংশে গভীর আক্ষেপ নিয়ে মরিয়ম লিখেছেন, ‘আমি অতি বিশ্বাস করে যুদ্ধে নেমেছিলাম তার সাথে, কিন্তু জিততে পারিনি হেরে গেলাম ময়দানে। জিতবই বা কেমনে যুদ্ধের শেষ প্রান্তে এসে দেখি তুমিই তো ছিলে বিপক্ষ দলের সেনাপতি।’ সম্পর্কের জটিল রূপরেখা ও অধিকারের দ্বন্দ্ব তুলে ধরে অপর একটি পাতায় তিনি লিখেছেন, ‘সে ছিল অন্য নারীর স্বামী। কাগজে-কলমে অধিকার ছিল তার বউয়ের। আর আমি ছিলাম বোকা...!!! অন্য কারো স্বামীকে বানিয়েছিলাম নিজের শখের পুরুষ...!!! কাউকে অর্ধেক পাওয়ার চেয়ে হারিয়ে ফেলা বেশি সম্মানের কারণ... ভালোবাসা কখনোই ভাগ করে নেওয়ার বিষয় নয়... ভালোবাসা হয় সম্পূর্ণ, না হয় অপূর্ণ!”
সরল বিশ্বাসে প্রতারিত হওয়ার মর্মস্পর্শী অনুভূতি ব্যক্ত করে অন্য একটি চিরকুটে লেখা হয়েছে, ‘সে বলেছিল, আজ থেকে আমরা বন্ধু...চলো একটা গেমস খেলি। আমিও সরল মনে বিশ্বাস করে রাজি হয়েছিলাম। কিন্তু কে জানত—আমিই ছিলাম তোমার গেমসের দাবার এক গুটি।’ সংসদের প্যাডে লেখা আরেকটি পাতায় ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘আমি হেরেছি...তুমি জিতেছো...কারণ, আমি তোমাকে বিশ্বাস করেছিলাম বলেই তো ঠকিয়ে জিততে পেরেছো। আমি, শৃঙ্গের শেষ বাড়িয়ে ও হাসতে হাসতে মুখে হাসি রেখেছি...দেখে নাও এই হাসির কারণই হবে তোমার ধ্বংসের কারণ।’ এছাড়া লাল কালির একটি লেখায় নিজের আত্মসম্মানের কথা ব্যক্ত করে মরিয়ম লিখেছেন, ‘শুধু মায়ায় পড়েছি বলে বারবার তোমার কাছে নত হই… তা না হলে যতটা সস্তা ভাবছো ততটা সস্তা আমি নই...!’
উদ্ধারকৃত চিঠিগুলোর সঙ্গে ‘১২-০৭-২০২৬’ তারিখাঙ্কিত একটি বিশেষ পাতাও পাওয়া গেছে, যাতে প্রাত্যহিক ধর্মীয় প্রার্থনার বিষয়টি লিপিবদ্ধ রয়েছে। ওই পাতায় লেখা ছিল, ‘১২-০৭-২০২৬ ঘুমানোর আগে ৬টি আমল : কালেমা পড়ে, দুরুদ শরিফ, ঘুমের দোয়া, আয়াতুল কুরসি, বিসমিল্লাহির রহমানির রাহিম ২১ বার, আস্তাগফিরুল্লাহ ৩ বার, আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমুতু ওয়া এহিয়া, দুরুদ শরিফ ১১ বার, ইয়া আরহামার রাহিমিন ১১ বার।’ উদ্ধার হওয়া এসব হাতে লেখা নথিপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বৈবাহিক জীবনে একদিকে তিনি তীব্র মানসিক দ্বন্দ্ব ও প্রতারণার শিকার হয়েছিলেন, অন্যদিকে আত্মমর্যাদা ও ধর্মীয় বিশ্বাসের মধ্যে নিজের মানসিক আশ্রয় খুঁজছিলেন।
দেশের বিশাল জনগোষ্ঠীকে দক্ষ জনশক্তিতে রূপান্তরের পাশাপাশি সমুদ্রের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে শিক্ষা ও গবেষণার পরিধি বিস্তৃত করার তাগিদ দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহসানুল হক মিলন। তিনি জানান, দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রাকে গতিশীল করতে সুনীল অর্থনীতি (ব্লু ইকোনমি) ও সার্কুলার ইকোনমিকে কেন্দ্র করে একটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের ক্রিস্টাল বলরুমে আয়োজিত দ্বিতীয় চীন-বাংলাদেশ প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা বিনিময় বিষয়ক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সমুদ্রসীমায় ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত একচ্ছত্র অর্থনৈতিক অঞ্চল রয়েছে, যা ভবিষ্যৎ অর্থনীতিতে একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় চালিকাশক্তি হতে পারে। এই বিপুল সামুদ্রিক সম্পদকে জাতীয় স্বার্থে ব্যবহার করতে হলে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। চীনের গবেষক ও শিক্ষাবিদরা সুনীল অর্থনীতি নিয়ে উল্লেখযোগ্য কাজ করছেন জানিয়ে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে উভয় দেশের মধ্যে পারস্পরিক জ্ঞান, প্রযুক্তি ও গবেষণার অভিজ্ঞতা বিনিময়ের চমৎকার ক্ষেত্র রয়েছে। একই সাথে সামুদ্রিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আধুনিক প্রযুক্তির কার্যকর প্রয়োগের ওপরও তিনি জোর দেন।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষা খাতের সার্বিক বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা (টিভিইটি) খাতে সুনির্দিষ্ট বিনিয়োগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হবে। সম্প্রতি চীন সফরকালে দেশটির শিল্প খাত ও শিক্ষাঙ্গনের মধ্যকার যে কার্যকর মেলবন্ধন লক্ষ্য করেছেন, সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের শিল্প ও শিক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে সমন্বিত সংযোগ তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষা, গবেষণা ও মানবসম্পদ উন্নয়নে চীনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর মাধ্যমে দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারত্ব আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম এবং চীনের আমন্ত্রিত প্রতিনিধিবৃন্দ বক্তব্য উপস্থাপন করেন।
চার দিনের সরকারি সফর শেষে জাপান থেকে দেশে ফিরেছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রধান ও বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাতে তিনি ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করেন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজের এক বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। এর আগে গত ১৬ সেপ্টেম্বর তিনি জাপানের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছিলেন।
সফরকালীন কর্মসূচির অংশ হিসেবে সেনাপ্রধান জাপানের আইচি-নাগোয়া শহরে আয়োজিত ২০তম এশিয়ান গেমসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সেখানে তিনি বিভিন্ন ক্রীড়া ইভেন্টে উপস্থিত থেকে প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া বাংলাদেশের অ্যাথলেটদের খেলা সরাসরি প্রত্যক্ষ করেন এবং তাদের পারফরম্যান্সে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা জোগান।
জাপান অবস্থানকালে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হিসেবে তিনি অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়ার সভাপতি শেখ জোয়ান বিন হামাদ আল থানির সঙ্গে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন। একই সাথে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অলিম্পিক কমিটির সভাপতিদের সঙ্গেও পৃথক আলোচনা সভায় অংশ নেন সেনাপ্রধান। ক্রীড়াঙ্গনের এই উচ্চপর্যায়ের মতবিনিময় বাংলাদেশের খেলাধুলার সার্বিক বিকাশ, আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থার সাথে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক অঙ্গনে দেশের অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণ কোনো আনুষ্ঠানিক আড়ম্বর বা ক্ষমতার প্রদর্শন নয়, বরং দেশের মানুষের স্বার্থ রক্ষা ও কল্যাণে নিরবচ্ছিন্ন কূটনৈতিক উদ্যোগ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বার্তায় তিনি এ কথা জানান। এর আগে সকালে বৈশ্বিক এ শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর এই রাষ্ট্রীয় সফরের রূপরেখা তুলে ধরে মাহদী আমিন জানান, যাতায়াতের সময় বাদ দিলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রধানমন্ত্রীর কার্যকর অবস্থান মাত্র চার দিন। কোনো সময় অপচয় না করে এই সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যেই একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় বৈঠক, জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের সংলাপ এবং বাংলাদেশের স্বার্থসংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক ও কৌশলগত কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হয়েছে। সফরসঙ্গীর সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত উল্লেখ করে তিনি জানান, সরকারি প্রতিনিধিদলে সর্বমোট ৩৫ জন সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারী রয়েছেন ১৫ জন এবং বাকিরা নিরাপত্তা, গণমাধ্যম ও দাপ্তরিক কাজে নিয়োজিত অত্যাবশ্যকীয় ব্যক্তি।
মুখপাত্র আরও উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ইতিহাসে এই সফরটি একটি বিরল ও বিশেষ মুহূর্তের সৃষ্টি করছে। অতীতে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার পর তাঁদের সন্তান হিসেবে জনগণের প্রত্যক্ষ ম্যান্ডেট নিয়ে বিশ্বমঞ্চে দাঁড়াচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই পরিবারের তৃতীয় ব্যক্তি হিসেবে তিনি বিশ্ববাসীর সামনে বাংলাদেশের সার্বভৌম স্বার্থ, সরকারের গৃহীত নীতি এবং ভবিষ্যৎ পথনকশা তুলে ধরবেন। এছাড়া সফরটির অন্যতম অনন্য দিক হলো, প্রধানমন্ত্রী যখন জাতিসংঘে দেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন, ঠিক সেই সাধারণ অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন তাঁরই মন্ত্রিসভার পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
দীর্ঘ দুই দশকের গণতান্ত্রিক সংগ্রাম ও গণঅভ্যুত্থানের পর বিপুল জনসমর্থন নিয়ে গঠিত সরকারের রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে প্রধানমন্ত্রী বিশ্বমঞ্চে দেশের ১৮ কোটি মানুষের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠছেন বলে ফেসবুক বার্তায় মন্তব্য করেন মাহদী আমিন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এটি নিছক কোনো গতানুগতিক বিদেশ সফর নয়, বরং এটি জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার বৈশ্বিক রূপায়ন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা ও ভবিষ্যৎ সমৃদ্ধি নিশ্চিতের এক নতুন ঐতিহাসিক সূচনা।
রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় আনসার সদস্যদের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। আজ সোমবার বাহিনীর সহকারী পরিচালক ও গণসংযোগ কর্মকর্তা মো. নাজমুস সাকিবের সইকৃত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি এ ঘটনায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে আনসার সদস্যদের সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিষয়টি সঠিক নয় এবং প্রকৃত ঘটনার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
আনসার বাহিনী জানায়, রবিবার রাত আনুমানিক ১১টায় রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) সদস্যদের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। এর প্রতিবাদে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের রাত্রিকালীন পোশাক আনসার সদস্যদের পোশাকের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হওয়ায় কিছু বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ভুলবশত তাদের আনসার সদস্য হিসেবে উল্লেখ করে স্লোগান দেন। পরে শিক্ষার্থীরা বুঝতে পারেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা আনসার সদস্য নন, তারা রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, একই ঘটনায় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের দপ্তরাদেশ অনুযায়ী আরএনবির চার সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ফলে ওই ঘটনার সঙ্গে আনসার সদস্যদের সম্পৃক্ততার কোনো বিষয় নেই।
আনসার বাহিনী বলেছে, প্রকৃত তথ্য যাচাই না করে এ ঘটনায় আনসার সদস্যদের সম্পৃক্ত হিসেবে উপস্থাপন করা বিভ্রান্তিকর। এতে একটি সুশৃঙ্খল ও দায়িত্বশীল বাহিনীর ভাবমূর্তি অযাচিতভাবে ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সংবাদমাধ্যমসহ সবার প্রতি প্রকৃত তথ্য যাচাই করে সংবাদ পরিবেশনের অনুরোধ জানিয়েছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। একই সঙ্গে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আনসার সদস্যদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রয়োজনীয় সংশোধনী প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) পুলিশ ক্যাডারের চারজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে বদলি করে নতুন কর্মস্থলে পদায়ন করেছে সরকার। জনস্বার্থে অবিলম্বে কার্যকরের নির্দেশনা দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব তৌছিফ আহমেদ স্বাক্ষরিত আদেশে এই প্রশাসনিক রদবদল আনা হয়।
জারিকৃত প্রজ্ঞাপনের তথ্যানুযায়ী, বাগেরহাটের পুলিশ সুপার (এসপি) হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার এবং চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানকে বদলি করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
অন্যদিকে পুলিশ অধিদপ্তরের পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলামকে বাগেরহাটের নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সাথে পুলিশের বিশেষ শাখায় (এসবি) কর্মরত পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ারকে চুয়াডাঙ্গার নতুন পুলিশ সুপার হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে আজ সকালে নিউইয়র্কের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এ তথ্য জানিয়ে বলেন, ‘ জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের যোগ দিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিউইয়র্ক যাচ্ছেন। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর তিনি সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। '
হযরত শাহ জালাল আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে বিদায় জানানোর জন্য উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান, বিএনপি'র ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার সহ সরকারি ঊধর্তন কর্মকর্তাগণ।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বলেন , 'প্রধানমন্ত্রী, তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং অন্যান্য সফরসঙ্গীদের নিয়ে তুর্কি এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট সকাল ৬টা ৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করেছে।'
প্রায় আট ঘণ্টা ৪৫ মিনিটের ফ্লাইট শেষে বিমানটি তুরস্কের স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৩৫ মিনিটে ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ইস্তাম্বুলে দুই ঘণ্টা ৩৫ মিনিটের ট্রানজিট শেষে ফ্লাইটটি দুপুর ২টা ১০ মিনিটে (তুরস্ক সময়) নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হবে এবং নিউইয়র্ক সময় বিকেল ৫টা ৫৫ মিনিটে জন এফ কেনেডি (জেএফকে) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করবে।
বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীকে অভ্যর্থনা জানাবেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম।
বিমানবন্দর থেকে মোটর শোভাযাত্রা সহকারে তাঁকে ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউ ইয়র্ক’-এ নিয়ে যাওয়া হবে।
সফরকালে তিনি সেখানেই অবস্থান করবেন।
এর আগে ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম জানান, ২২ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস কর্তৃক রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের সম্মানে আয়োজিত এক স্বাগত প্রাতরাশসভায় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী। পরবর্তীতে তিনি অন্য বিশ্বনেতাদের সঙ্গে সাধারণ পরিষদের উদ্বোধনী অধিবেশনে যোগ দেবেন এবং সন্ধ্যায় রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান এবং তাঁদের জীবনসঙ্গীদের সম্মানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট আয়োজিত একটি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
২৩ সেপ্টেম্বর সকালে প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সাথে একটি প্রাতরাশসভায় মতবিনিময় করবেন। পরবর্তীতে তিনি ব্রাজিল, দক্ষিণ আফ্রিকা, নরওয়ে এবং স্পেনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত 'বৈশ্বিক বৈষম্য সংকট মোকাবিলা' বিষয়ক একটি সভায় বক্তব্য দেবেন।
এছাড়া তিনি জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে আয়োজিত 'জলবায়ু পদক্ষেপ ও ন্যায়ঙ্গত উত্তরণ' শীর্ষক এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও যোগ দেবেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান একই দিনে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে দ্রুততম সময়ে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে কার্যকর আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চেয়ে রোহিঙ্গা সংকট বিষয়ক একটি পার্শ্ব-অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
পররাষ্ট্র সচিব জানান, জলবায়ু সংক্রান্ত বৈঠকগুলোতে প্রধানমন্ত্রী একটি জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবেন, যেখানে জলবায়ু অর্থায়ন, অভিযোজন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, ক্ষয়ক্ষতি ও জলবায়ু ন্যায়বিচারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী ২৪ সেপ্টেম্বর সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে সৃষ্টি হওয়া অস্তিত্বের হুমকি নিয়ে আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন। এছাড়া তিনি বাংলাদেশ আয়োজিত দুটি গুরুত্বপূর্ণ পার্শ্ব-অনুষ্ঠানেও অংশ নেবেন।
একই দিনে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে মাতৃ ও নবজাতকের স্বাস্থ্য এবং ধাত্রীবিদ্যা সংক্রান্ত আরেকটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখবেন। এতে তিনি মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নতুন সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরবেন এবং দক্ষ ও পেশাগতভাবে প্রশিক্ষিত ধাত্রী সেবার গুরুত্বের ওপর জোর দেবেন।
অধিবেশনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রীর সাথে কুয়েতের ক্রাউন প্রিন্স এবং ক্রোয়েশিয়া, ভুটান, থাইল্যান্ড, পাকিস্তান ও হাইতির প্রধানমন্ত্রীদের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, উন্নয়ন সহযোগিতা, রোহিঙ্গা সংকটসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এছাড়া জাতিসংঘ মহাসচিব, ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক গ্রুপের প্রেসিডেন্ট, জাতিসংঘ মহাসচিবের মিয়ানমার বিষয়ক বিশেষ দূত এবং জাতিসংঘের শরণার্থী ও মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারদের সঙ্গেও প্রধানমন্ত্রীর সৌজন্য সাক্ষাতের কথা রয়েছে। তিনি ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও বৈঠক করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকারের অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী মেটা, ওয়াল স্ট্রিট এবং বেশ কয়েকটি ব্যবসায়ী সংগঠনের জ্যেষ্ঠ প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক সময় রাত ১১:০০ টায় এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ইকেটুজিরোটু যোগে জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য জাতিসংঘের সর্বোচ্চ বৈশ্বিক মঞ্চে এটিই প্রথম অংশগ্রহণ। এর মধ্য দিয়ে বিশ্ববাসীর সামনে নতুন সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার এবং ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের রূপরেখা তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে। সূত্র: বাসস
সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ছয়টি নতুন কূপ খনন এবং স্থগিত থাকা আটটি কূপের ওয়ার্কওভারের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ১০৬ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা গ্রহণ করেছে। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে রাষ্ট্রীয় কোম্পানি বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল)। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিজিএফসিএলের মহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী আশরাফুল আলম বলেন, সরকারের ১৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ক্রমবর্ধমান গ্যাসের চাহিদা পূরণে কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলনের লক্ষ্যে বিজিএফসিএল পাঁচটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে।
তিনি বলেন, আরও নয়টি নতুন কূপ খনন এবং বিদ্যমান ১২টি কূপের ওয়ার্কওভারের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটি অতিরিক্ত দৈনিক ১২৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার প্রত্যাশা করছে।
বিজিএফসিএলের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘সরকারের দীর্ঘমেয়াদি মাস্টারপ্ল্যানের আওতায় ২০৩৫ সালের মধ্যে ১৯টি কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক প্রায় ২৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।’
বিজিএফসিএল সূত্র জানায়, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি ছয়টি ( তিতাস, হবিগঞ্জ, বাখরাবাদ, নরসিংদী, মেঘনা ও কামতা) গ্যাসক্ষেত্র পরিচালনা করছে। প্রতিষ্ঠানটি দেশের মোট অভ্যন্তরীণ গ্যাসের প্রায় ৩০ শতাংশ এবং দেশের সামগ্রিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় ১৮ শতাংশ সরবরাহ করে।
ভবিষ্যতে গ্যাস অনুসন্ধান ও উন্নয়নের সম্ভাবনাময় কাঠামো চিহ্নিত করতে বিজিএফসিএল সাইসমিক জরিপ পরিচালনা করছে। বর্তমানে মোট ১ হাজার ৪৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় ত্রিমাত্রিক (৩ডি) সাইসমিক জরিপ পরিচালিত হচ্ছে। এর মধ্যে হবিগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্র ও এর সংলগ্ন এলাকায় ৮৭৫ বর্গকিলোমিটার এবং বাখরাবাদ, নরসিংদী ও মেঘনা গ্যাসক্ষেত্র এলাকায় ৫৭৫ বর্গকিলোমিটার রয়েছে।
এছাড়া তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের উত্তর-পশ্চিম এবং নরসিংদী গ্যাসক্ষেত্রের উত্তর-পূর্ব এলাকায় ৬৩২ বর্গকিলোমিটারজুড়ে ২ডি ও ৩ডি সিসমিক জরিপ পরিচালনা করা হচ্ছে। ‘তিতাস ও কামতা ফিল্ডে চারটি মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপ খনন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় তিতাস-২৮ কূপের খননকাজ ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর শুরু হয়ে ২০২৬ সালের ১৯ জুন শেষ হয়। গতকাল এই কূপটি জাতীয় গ্রিডের জন্য উদ্বোধন করা হয়। কূপটি থেকে দৈনিক সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে।
বিজিএফসিএলের সঙ্গে ২০২৫ সালের ১০ এপ্রিল স্বাক্ষরিত সমন্বিত খনন চুক্তির আওতায় চীনা প্রতিষ্ঠান সিএনপিসি চুয়ানকিং ড্রিলিং ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি লিমিটেড (সিসিডিসি) কূপটির খননকাজ সম্পন্ন করে। কূপটি ৩ হাজার ৬০১ মিটার মাপা গভীরতা (এমডি) এবং ৩ হাজার ৪৭১ মিটার প্রকৃত উল্লম্ব গভীরতা (টিভিডি) পর্যন্ত খনন করা হয়। এছাড়া আরও গ্যাস উত্তোলনের লক্ষ্যে বিজিএফসিএল তিতাস-৩১ ও তিতাস-২৯ গভীর অনুসন্ধান কূপের খননকাজ পরিচালনা করছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের উত্থানের ফলে ছোটখাটো ডিজিটাল কাজের ভবিষ্যৎ এখন বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। কারণ, দেশের ফ্রিল্যান্সারদের বড় একটি অংশ বিভিন্ন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে বিদেশি ক্লায়েন্টদের জন্য ডেটা এন্ট্রি, অনুবাদ, ট্রান্সক্রিপশন এবং ছবি এডিটিংয়ের মতো সহজ ও ছোটখাটো কাজ করে থাকে। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই এখন মুহূর্তের মধ্যে ডিজাইন তৈরি, কোডিং, ছবি এডিটিং এবং অন্যান্য ডিজিটাল কাজগুলো করে ফেলতে পারছে। আর এতে ফ্রিল্যান্সারদের আয় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে।
ফ্রিল্যান্সাররা জানিয়েছেন, বিদেশি ক্লায়েন্টদের কাছ থেকে আগের মতো নিয়মিত কাজের প্রস্তাব আসছে না। আর যেসব কাজ পাওয়া যাচ্ছে, এআইয়ের কল্যাণে সেগুলো শেষ করতে আগের চেয়ে অনেক কম সময় লাগছে।
ডিজিটাল সেবাবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পুরো ফ্রিল্যান্সিং বাজারের চিত্রই বদলে দিচ্ছে। এখন আমেরিকার মতো দেশের কোনো কোম্পানি থেকে ১০ ডলারের একটি লোগো ডিজাইনের কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। কারণ এআই টুল ব্যবহার করে ক্লায়েন্টরা নিজেরাই লোগোর প্রথম সংস্করণটি তৈরি করে ফেলছেন।
ডিজিটাল বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ কাজ থেকে জটিল কাজের দিকে সরে আসার এই প্রক্রিয়াটি হয়তো অনেক স্বল্প বেতনের চাকরি বিলুপ্ত করে দেবে, কিন্তু যারা এই পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারবেন, তাদের জন্য অনেক বেশি লাভজনক সুযোগের দুয়ার খুলে যাবে।
আয়ের ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে: কয়েকজন ফ্রিল্যান্সার জানিয়েছেন, তাদের কাজের পরিমাণ নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। বিশেষ করে গ্রাফিক ডিজাইন, ছবি এডিটিং, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, কনটেন্ট প্রোডাকশন ও ফটোগ্রাফির মতো প্রচলিত কাজগুলোর চাহিদা অনেক কমে গেছে।
২০১১ সাল থেকে ফ্রিল্যান্সিং করছেন এমরাজিনা ইসলাম। তিনি বলেন, একটি বড় ক্লায়েন্ট হারানোর পর আমার আয় ৮০ শতাংশেরও বেশি কমে গেছে। আমরা ২০১২ সাল থেকে একটি কোম্পানির কাজ করতাম। একপর্যায়ে আমাদের টিমে ১৫ জন কর্মী ছিল। ওই কোম্পানি তাদের অফিস এবং ল্যাপটপের সুবিধাও দিত। এমনকি কোভিড মহামারির সময়ে ওই কোম্পানির ব্যবসার প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে তাদের টিমের সদস্য সংখ্যাও বেড়েছিল। কিন্তু এই ফ্রিল্যান্সার আক্ষেপ করে বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) আসার পর আমাদের পুরো ব্যবসাটাই বন্ধ হয়ে গেছে।
এমরাজিনার টিম আগে যে ধরনের কাজ করতো—যেমন গ্রাফিক ডিজাইন, ইমেজ এডিটিং এবং প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট—এখন তার সবই এআই দিয়ে করা হচ্ছে।
তিনি জানান, এই প্রভাব কেবল ডিজাইনের ক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়। ওয়েব ডেভেলপমেন্টের কাজও বদলে গেছে। আগে যেসব কাজে বিশাল বড় টিমের প্রয়োজন হতো, এখন এআই টুল ব্যবহার করে খুব অল্প মানুষই সেই কাজগুলো সেরে ফেলছে।
তিনি আরও বলেন, যারা সাধারণ কনটেন্ট রাইটিং, ফটো এডিটিং এবং ডেটা এন্ট্রির মতো মৌলিক দক্ষতার ওপর নির্ভরশীল, তারা এখন সবচেয়ে বেশি চাপের মুখে পড়েছেন।
প্রায় ২০ বছর ধরে ফটোগ্রাফির সঙ্গে যুক্ত ইউসুফ তুষার জানান, এআই দিয়ে তৈরি ছবি বাণিজ্যিক ফটোগ্রাফির চাহিদাকে অনেকটা কমিয়ে দিয়েছে। আগে পণ্য বা মডেলের ছবি কিংবা স্টক ফটোগ্রাফির জন্য ক্লায়েন্টরা ফটোগ্রাফারদের ওপর নির্ভর করতেন। কিন্তু এখন অনেক কোম্পানি কোনো প্রকার শুটিং বা ঝক্কি ছাড়াই এআই ব্যবহার করে প্রয়োজনমতো ছবি তৈরি করে নিচ্ছে। এতে আয় প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেছে।
প্রায় ১৪ বছর ধরে ফ্রিল্যান্সিং করছেন ঢাকার ফ্রিল্যান্সার কাজী মামুন। তিনি জানান, বাজারে কাজের সুযোগ কমে গেছে, অথচ অল্প যেটুকু কাজ বাকি আছে, তা পাওয়ার প্রতিযোগিতা আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে।
মামুন জানান, তার নিজের কাজের পরিমাণ প্রায় ২৫ শতাংশ কমেছে। তবে দীর্ঘদিনের সরাসরি ক্লায়েন্ট থাকার কারণে তিনি পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দিতে পারছেন। তার পাঁচ সদস্যের টিম এখন আপওয়ার্ক বা ফাইভারের মতো বৈশ্বিক ফ্রিল্যান্সিং প্ল্যাটফর্মগুলোর ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে সরাসরি নতুন ক্লায়েন্ট খোঁজার ওপর বেশি জোর দিচ্ছে।
মামুন বলেন, অনেকের কাজের পরিমাণ অর্ধেকে নেমে এসেছে, কারও আবার ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। এমনকি অনেকে ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেস ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়েছেন। ক্লায়েন্টরা এখন অনেক কাজ নিজেরাই করার চেষ্টা করছেন। ছোটখাটো প্রজেক্টের জন্য তারা আগের মতো এখন আর ফ্রিল্যান্সারদের নিয়োগ দিচ্ছেন না।
আপওয়ার্কের গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৫ সালের প্রথম প্রান্তিকে তাদের প্ল্যাটফর্মে এআই-সংক্রান্ত কাজের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে। একই সময়ে প্রম্পট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কাজ বেড়েছে ৫২ শতাংশ। যারা এআই নিয়ে কাজ করছেন, তারা সাধারণ কাজ করা ফ্রিল্যান্সারদের তুলনায় গড়ে ৪০ শতাংশের বেশি পারিশ্রমিক পাচ্ছেন। তবে বাংলাদেশে এর প্রভাব কিছুটা ভিন্নভাবে দেখা যাচ্ছে, কারণ দেশের যে ফ্রিল্যান্সাররা মূলত এন্ট্রি-লেভেল বা সাধারণ মানের কাজ করেন, তাদের সেই কাজগুলো এখন এআই খুব সহজেই করতে পারছে।
এমরাজিনা ইসলাম বলেন, কেউ যদি এআই-তে খুব দক্ষ হয়ে ওঠে, তবে তার ভবিষ্যৎ খুবই উজ্জ্বল। আর যে এআই শিখবে না, সে পিছিয়ে পড়বে।
প্রযুক্তি উদ্যোক্তা এবং বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেসের (বেসিস) সাবেক সভাপতি ফাহিম মাশরুর বলেন, বৈশ্বিক সেবা খাতের বাজার দ্রুত এআই-নির্ভর হয়ে উঠছে। এই বাজারে টিকে থাকার মতো দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে বাংলাদেশকে এখনই জরুরি ভিত্তিতে মনোযোগ দিতে হবে।
ফ্রিল্যান্সার এমরাজিনা বলেন, আগে যেসব সাধারণ কাজের চাহিদা ছিল, সেগুলোর ভবিষ্যৎ খুব একটা উজ্জ্বল নয়। তাই স্থানীয় ফ্রিল্যান্সারদের মূল দক্ষতার পাশাপাশি এখন যৌক্তিক চিন্তাভাবনা, সমস্যা সমাধানের দক্ষতা এবং প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্টের ওপর জোর দিতে হবে।
বাংলাদেশ ফ্রিল্যান্সিং ডেভেলপমেন্ট সোসাইটির (বিএফডিএস) চেয়ারম্যান তানজিবা রহমান বলেন, এআই ফ্রিল্যান্সিং বাজারকে দ্রুত বদলে দিচ্ছে ঠিকই, কিন্তু সবচেয়ে বড় উদ্বেগের বিষয় হলো, আমাদের দেশের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা সেই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এগোতে পারছে না। আমরা বর্তমানে যে ধরনের প্রশিক্ষণ দিচ্ছি, তা মূলত প্রাথমিক পর্যায়ের (এন্ট্রি লেভেল)। আর এ কারণেই আমরা আগের মতো কাজ পাচ্ছি না।
রাজধানীর প্রধান ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে (কমলাপুর) দাঁড়িয়ে থাকা একটি যাত্রীবাহী ট্রেনের কোচে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ছয়টি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ছয় মিনিটের যৌথ চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে।
ফায়ার সার্ভিস সদর দপ্তরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটগুলো রাত ৯টা ৪৬ মিনিটে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং ৯টা ৫২ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়। ফায়ার সার্ভিস নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার মো. শাহজাহান জানান, ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনে আগুন লাগার খবর পেয়ে দ্রুত ছয়টি ইউনিট পাঠিয়ে আগুন পুরোপুরি নিভিয়ে ফেলা হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে অগ্নিকাণ্ডের কারণ, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত ট্রেনটির নাম নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
স্টেশনে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা যাত্রীবাহী ট্রেনের একটি কোচে হঠাৎ করেই আগুন ধরে যায়। উপস্থিত লোকজনের প্রাথমিক ধারণা, কোনো দুর্বৃত্ত দল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কোচটিতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে থাকতে পারে।
অগ্নিকাণ্ডের সময় প্ল্যাটফর্মে থাকা অন্যান্য কোচের পাশে ক্ষতিগ্রস্ত বগিটিতে তীব্র শিখা ও চারদিকে ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। এতে স্টেশনে অপেক্ষমাণ সাধারণ যাত্রী ও উপস্থিত লোকজনের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক দেখা দেয়। তবে ফায়ার সার্ভিসের দ্রুত পদক্ষেপের ফলে আগুন ট্রেনের পাশের অন্য বগিগুলোতে ছড়িয়ে পড়তে পারেনি, ফলে বড় ধরনের কোনো বিপর্যয় ঘটেনি।
জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে পি কে হালদারের ভাই প্রিতিশ কুমার হালদারের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তার বিরুদ্ধে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
গতকাল রোববার দুদকের জনসংযোগ শাখার উপপরিচালক আকতারুল ইসলাম চার্জশিট অনুমোদনের বিষয়টি জানান।
দুদক জানায়, আনান কেমিক্যাল লিমিটেডের পরিচালক প্রিতিশ কুমার হালদারের নামে ক্রয় ও বিনিয়োগের মাধ্যমে ৪ কোটি ৮৪ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। এসব সম্পদের বিপরীতে তিনি আগের ব্যবসার পুঁজি এবং ২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বিবিধ ব্যবসা ও ব্যক্তিগত ঋণ খাতে মোট ৪ কোটি ৮৯ লাখ ৪৭ হাজার ৫০০ টাকা আয় দেখিয়েছেন।
তবে দুদকের তদন্তে তার ব্যবসা ও ব্যক্তিগত ঋণ হিসেবে দেখানো ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার পক্ষে কোনো রেকর্ডপত্র বা গ্রহণযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে ওই অর্থকে বৈধ আয় হিসেবে গ্রহণ করেনি দুদক। দুদক মনে করে, অবৈধ আয়কে বৈধ দেখানোর উদ্দেশ্যেই অর্থের উৎস হিসেবে ব্যবসা ও ব্যক্তিগত ঋণের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তে প্রিতিশ কুমার হালদার ও তার ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের নামে-বেনামে থাকা স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, দায়-দেনা এবং আয়ের উৎসের বিবরণী চেয়েছিল দুদক। ২০২১ সালের ৪ এপ্রিল এ বিষয়ে আদেশ জারি করা হয়। নির্ধারিত ঠিকানায় তাকে পাওয়া না যাওয়ায় একই বছরের ২১ সেপ্টেম্বর সম্পদবিবরণীর মূল ফরমসহ নোটিশ তার ঠিকানায় লটকে (বাড়ির দেয়াল বা ফটকে নোটিশ ঝোলানো) জারি করা হয়। এরপরও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি সম্পদ বিবরণী জমা দেননি। এতে দুদক আইনের ২৬(২) ধারায় অপরাধ হয়েছে বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়।
দুদক আরও জানায়, প্রিতিশের নামে ব্যাংক এশিয়ার করপোরেট শাখায় থাকা একটি হিসাবেও অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্ত অনুযায়ী, ২০১৮ সালের ৮ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ১ জুলাই পর্যন্ত ওই হিসাবে মুনাফাসহ ৪ কোটি ১৩ লাখ ১৯ হাজার ৬৩০ টাকা ৮৫ পয়সা জমা হয়। একই সময়ে বিভিন্ন কর্তনসহ উত্তোলন করা হয় ৩ কোটি ৫৮ লাখ ৭৩ হাজার ৭৩৫ টাকা ৪৩ পয়সা। সব মিলিয়ে হিসাবে ৭ কোটি ৭১ লাখ ৯৩ হাজার ৩৬৬ টাকা ২৮ পয়সার লেনদেন হয়েছে।
এর মধ্যে ২০১৮ সালের ৮ অক্টোবর থেকে ২০১৯ সালের ১৯ নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে ওই হিসাবে অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া যায়। তদন্তে এসব লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তর, রূপান্তর ও হস্তান্তরের মধ্য দিয়ে অবৈধ আয় বৈধ করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ২০২২ সালের ১ ডিসেম্বর দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১-এ মামলা করা হয়। মামলার বাদী ছিলেন দুদকের তৎকালীন উপপরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান। মামলাটি তদন্ত করেন দুদকের উপপরিচালক মো. শহীদুল আলম সরকার। কমিশনের তদন্ত শেষে প্রিতিশ কুমার হালদারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় আদালতে চার্জশিট দাখিলের অনুমোদন দিয়েছে কমিশন।
দেশে চার ধরনের প্রধান জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা করে বাড়িয়েছে সরকার। নতুন মূল্য অনুযায়ী ডিজেল প্রতি লিটার ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৬০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. এনামুল হক স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে নতুন দাম নির্ধারণের তথ্য জানানো হয়।
নতুন মূল্য কার্যকরের ফলে ডিজেল, কেরোসিন, অকটেন ও পেট্রোল—চার ধরনের জ্বালানি তেলের দামই এক ধাপে ২০ টাকা করে বেড়েছে।
নতুন নির্ধারিত মূল্যে প্রতি লিটার ডিজেল ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, অকটেন ১৬৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৬০ টাকা দরে বিক্রি হবে।
এর আগে সেপ্টেম্বরে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত ছিল। তখন প্রতি লিটার ডিজেল ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা, অকটেন ১৪৫ টাকা এবং পেট্রোল ১৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছিল।
অর্থাৎ নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চার ধরনের জ্বালানি তেলের প্রতিটির দাম আগের তুলনায় ২০ টাকা বেড়েছে।
সর্বশেষ বড় ধরনের জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা হয়েছিল চলতি বছরের এপ্রিলে। তখন ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে ১৫ টাকা বাড়ানো হয়। একই সময়ে অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম যথাক্রমে ২০, ১৯ ও ১৮ টাকা বাড়ানো হয়েছিল।
এর পর সেপ্টেম্বরে দাম অপরিবর্তিত রাখার পর রোববার নতুন করে চার ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দেওয়া হলো।
২০২৪ সাল থেকে দেশে স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতির আওতায় খুচরা জ্বালানি তেলের দাম পর্যালোচনা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম, আমদানি ব্যয়, কর ও শুল্ক, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে নির্দিষ্ট সময় পরপর দাম সমন্বয় করা হয়।
নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এবারও এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে জ্বালানি তেলের খুচরা মূল্য পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে।
জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে হার্টের রিং বা করোনারি স্টেন্ট বিক্রি এবং রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই সঙ্গে রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে হয়রানি করার অভিযোগও খতিয়ে দেখেছে সংস্থাটি।
রোববার দুদকের এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের একটি দল জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে এ অভিযান পরিচালনা করে। দুদকের জনসংযোগ বিভাগের সহকারী পরিচালক মো. তানজির আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুদক সূত্র জানায়, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের নির্ধারিত নতুন মূল্য কার্যকর না করে হাসপাতালে হার্টের রিং বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ কমিশনের কাছে আসে। অভিযোগে বলা হয়, নির্ধারিত মূল্যের বাইরে রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি হাসপাতালে চিকিৎসা ও সেবা নিতে গিয়ে রোগীদের হয়রানির অভিযোগও পাওয়া যায়।
এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে একটি এনফোর্সমেন্ট টিম হাসপাতালে পাঠানো হয়।
অভিযানের সময় সম্প্রতি হাসপাতালে যেসব রোগীর হার্টের রিং পরানো হয়েছে, তাঁদের চিকিৎসাসংক্রান্ত নথিপত্র সংগ্রহ করে দুদকের দল। নির্ধারিত নতুন মূল্যে স্টেন্টের দাম নেওয়া হয়েছে কি না, তা যাচাই করতে দৈবচয়ন বা র্যান্ডম ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট রোগীদের নথি সংগ্রহ করা হয়।
দুদকের কর্মকর্তারা রোগীদের কাছ থেকেও তথ্য নেন। হাসপাতালে ভর্তি থাকা হার্টের রিং পরানো রোগীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের কাছ থেকে নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত কোনো অর্থ নেওয়া হয়েছে কি না, তা জানতে চাওয়া হয়।
একই সঙ্গে চিকিৎসা ও অন্যান্য সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে রোগীদের কোনো ধরনের হয়রানি বা ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে কি না, সে বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করে এনফোর্সমেন্ট টিম।
দুদক জানিয়েছে, অভিযানকালে পাওয়া তথ্য ও সংগৃহীত নথিপত্র এখন বিশদভাবে যাচাই-বাছাই ও বিশ্লেষণ করা হবে। স্টেন্টের নির্ধারিত মূল্য, রোগীদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ এবং সংশ্লিষ্ট নথির মধ্যে কোনো অসঙ্গতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখবে এনফোর্সমেন্ট টিম।
সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণের পর দুদকের এনফোর্সমেন্ট টিম কমিশন বরাবর একটি পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দাখিল করবে। ওই প্রতিবেদনে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করা হবে।
দুদকের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এনফোর্সমেন্ট টিমের প্রতিবেদনের সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের পরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।